(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: -)
تفسير إن إبراهيم كان أمة لابن طولون القسم: كتب السنة
الكتاب: رسالة في تفسير قوله تعالى: إن إبراهيم كان أمة
المؤلف: شمس الدين محمد بن علي بن خمارويه بن طولون الدمشقي الصالحي الحنفي (ت 953هـ)
المحقق: محمد خير رمضان يوسف
الناشر: دار ابن حزم
الطبعة الأولى: 1417 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 71
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে তুলুন কর্তৃক 'নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত' এর তাফসীর বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মহান আল্লাহর বাণী: 'নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত' এর তাফসীর বিষয়ক রিসালাহ
লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে খুমারাওয়াইহ ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকি আস-সালিহি আল-হানাফি (মৃত্যু: ৯৫৩ হিজরি)
তাহকিককারী (সম্পাদক): মুহাম্মদ খাইর রামাদান ইউসুফ
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম
প্রথম সংস্করণ: ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في تفسير قوله تعالى
إن إبراهيم كان أمة
تأليف
شمس الدين محمد بن علي بن طولون الصالحي
المتوفى سنة (953 هـ)
تحقيق
محمد خير رمضان يوسف
دار ابن حزم
1417 هـ - 1997 م
মহান আল্লাহর বাণী তাফসির বিষয়ক পুস্তিকা
“নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত”
রচনায়
শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে তুলুন আস-সালিহি
মৃত্যু: ৯৫৩ হিজরি
সম্পাদনা ও পাণ্ডুলিপি যাচাই
মুহাম্মদ খায়র রামাদান ইউসুফ
দার ইবনে হাজম
১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الله تعالى:
{إن إبراهيم كان أمةً قانتاً لله حنيفاً ولم يك من المشركين. شاكراً لأنعمه اجتباه وهداه إلى صراطٍ مستقيمٍ. وآتيناه في الدنيا حسنةً وإنه في الآخرة لمن الصالحين. ثم أوحينا إليك أن اتبع ملة إبراهيم حنيفاً وما كان من المشركين.} .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{নিশ্চয়ই ইবরাহিম ছিলেন আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠভাবে অনুগত একজন আদর্শ পুরুষ, এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন তাঁর অনুগ্রহসমূহের জন্য কৃতজ্ঞ; আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলেন। আর আমরা তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছি, এবং আখিরাতেও তিনি নিশ্চয়ই নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আমরা আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যে, আপনি একনিষ্ঠ ইবরাহিমের আদর্শ অনুসরণ করুন, এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।} .
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[النبي الأمة]قال الراغب: الأمة: كل جماعةٍ يجمعهم أمرٌ ما: إما دينٌ واحد، أو زمانٌ واحد، أو مكان [واحد] . سواءٌ كان ذلك الأمر الجامع تسخيراً، أو اختياراً.
ثم قال بعد ذلك: وقوله: {إن إبراهيم كان أمةً} أي: قائماً مقام جماعةٍ في عبادة الله، نحو قولهم: فلانٌ في نفسه قبيلةٌ. وكما روي أنه ((يحشر زيد بن عمرو أمةً وحده)) .
[উম্মতরূপী নবী]আর-রাগিব বলেছেন: উম্মত হলো এমন প্রতিটি দল যাদের কোনো একটি বিষয় একত্রিত করে: তা হতে পারে একক কোনো ধর্ম, অথবা একক কোনো কাল (সময়), অথবা একক কোনো স্থান। সেই ঐক্যবদ্ধকারী বিষয়টি বাধ্যবাধকতামূলক হোক কিংবা ঐচ্ছিক।
অতঃপর তিনি এরপরে বলেছেন: এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মত} অর্থাৎ: আল্লাহর ইবাদত পালনে তিনি একটি পূর্ণ দলের স্থলাভিষিক্ত ছিলেন; যেমন আরবদের বক্তব্য: অমুক ব্যক্তি নিজেই একটি গোত্র। আর যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, ((জায়েদ ইবনে আমরকে কিয়ামতের দিন একাকী এক উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে))।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وذكر صاحب الكشاف في معنى قوله تعالى: {إن إبراهيم كان أمةً} وجهين:
أحدهما نحو الذي أشار إليه الراغب، أي: كان وحده أمةً من الأمم، لكماله في جميع صفات الخير، كقول بعضهم:
وليس على الله بمستنكر
… أن يجمع العالم في واحد
قال مجاهد: كان مؤمناً وحده، والناس كلهم كفار.
والوجه الثاني: أن يكون أمةً بمعنى مأموم، أي: يؤمه الناس ليأخذوا منه الخير، أبو بمعنى مؤتم به، كالرحلة وما أشبهها، مما جاء من ((فعلة)) بمعنى مفعول، فيكون مثل قوله تعالى: {قال إني جاعلك للناس إماماً} .
وقال ابن مسعود عند ذكر معاذ – رضي الله عنهما: ((إن معاذاً كان أمةً قانتاً لله)) . ثم قال: ((الأمة)) معلم الخير.
আল-কাশশাফের লেখক মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই ইব্রাহিম ছিলেন এক উম্মাহ} এর অর্থে দুটি দিক উল্লেখ করেছেন:
প্রথমটি হলো আল-রাগিব যেদিকে ইশারা করেছেন সেই অনুরূপ, অর্থাৎ: তিনি একাই ছিলেন জাতিসমূহের মধ্য থেকে একটি জাতি, যাবতীয় কল্যাণকর গুণে তাঁর পূর্ণতার কারণে। যেমন কারো উক্তি:
আর আল্লাহর জন্য এটি কোনো অসম্ভব বিষয় নয়
… যে তিনি সমগ্র বিশ্বকে একজনের মধ্যে পুঞ্জীভূত করবেন
মুজাহিদ বলেন: তিনি একাই মুমিন ছিলেন, অথচ সমস্ত মানুষ ছিল কাফির।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: উম্মাহ শব্দটি 'মামুম' (অনুসৃত) অর্থে হওয়া, অর্থাৎ: মানুষ তাঁর নিকট আসত যাতে তাঁর কাছ থেকে কল্যাণ গ্রহণ করতে পারে; অথবা 'মুতাম্মু বিহি' (যাঁকে আদর্শ মানা হয়) অর্থে, যেমন 'রিহলাহ' এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ, যা 'ফু'লাহ' ওজনে 'মাফউল' (কর্মবাচ্য) এর অর্থে আসে। ফলে এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো হবে: {তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে মানুষের জন্য ইমাম বানাচ্ছি}।
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) মু'আয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর আলোচনার সময় বলেন: "নিশ্চয়ই মু'আয ছিলেন আল্লাহর অনুগত এক উম্মাহ।" অতঃপর তিনি বলেন: "উম্মাহ" হলো কল্যাণের শিক্ষক।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[القانت]والقانت: المطيع لله ورسوله، وأصل القنوت: لزوم الطاعة والخضوع. وفسر بكل منهما قوله تعالى: {وقوموا لله قانتين} .
وقيل: القنوت: القيام، وبه فسر قوله صلى الله عليه وسلم لما سئل: أي الصلاة أفضل؟ قال: ((طول القنوت)) . لكنه ليس مطلق القيام، بل القيام مع الخضوع. فيكون هنا معنى القانت: القائم بما أمره الله به.
[আল-কানিত]এবং আল-কানিত হলেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত ব্যক্তি। আর কুনুত-এর মূল অর্থ হলো: আনুগত্য এবং বিনয় ও নম্রতার ওপর অবিচল থাকা। আর মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একান্ত অনুগত হয়ে দাঁড়াও" - এর ব্যাখ্যায় এই উভয় অর্থই করা হয়েছে।
আবার বলা হয়েছে: কুনুত হলো দণ্ডায়মান হওয়া; এবং এই অর্থেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোন সালাত সর্বোত্তম? তিনি বলেছিলেন: "দীর্ঘ কুনুত (দণ্ডায়মানতা) বিশিষ্ট সালাত।" কিন্তু এটি কেবল সাধারণ দণ্ডায়মান হওয়া নয়, বরং বিনয় ও নম্রতা সহকারে দণ্ডায়মান হওয়া। সুতরাং এখানে আল-কানিত-এর অর্থ হবে: আল্লাহ তাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তা পালনকারী ব্যক্তি।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[الحنيف]والحنيف: المائل إلى ملة الإسلام، غير الزائل عنه.
والحنف: هو الميل عن الضلال إلى الاستقامة.
.. ..: تحنف الرجل: إذا تحرى طريق الاستقامة.
وكانت العرب تسمي كل من اختتن أو حج: حنيفاً، تنبيهاً على أنه على دين إبراهيم عليه الصلاة والسلام.
ومنه ما جاء في بعض روايات بدء الوحي: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يجاور في حراء، في كل سنة شهراً)) .
وكان ذلك ما تحنف به قريش في الجاهلية. والتحنف: التبرر.
[আল-হানিফ]এবং হানিফ হলো: ইসলাম ধর্মের দিকে ঝোঁকা ব্যক্তি, যে তা থেকে বিচ্যুত হয় না।
আর ‘হানফ’ হলো: পথভ্রষ্টতা থেকে বিচ্যুত হয়ে সঠিক পথের দিকে ঝোঁকা।
.. ..: ব্যক্তি ‘তাহান্নাফা’ করল: যখন সে সঠিক পথ অন্বেষণ করল।
আর আরবরা প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে ‘হানিফ’ নামে অভিহিত করত যে খতনা করত অথবা হজ করত; এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যে, সে ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দ্বীনের ওপর রয়েছে।
আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা ওহি শুরুর কিছু বর্ণনায় এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর এক মাস হেরা গুহায় অবস্থান করতেন।"
আর এটি ছিল জাহেলিয়াত যুগে কুরাইশদের পুণ্য অর্জনের মাধ্যম। আর ‘তাহান্নুফ’ অর্থ হলো: পুণ্য অর্জন করা।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال السهيلي: لأنه من الحنيفية، دين إبراهيم عليه السلام.
ثم أكد سبحانه وتعالى ذلك بنفي الشرك عنه، رداً على قريش في زعمهم أنهم على ملة إبراهيم عليه السلام، وهم مشركون، وهو عليه الصلاة والسلام، لم يكن مشركاً، بل كان حنيفاً على دين الإسلام.
أخبرنا شيخنا أبو الفضل سليمان بن حمزة، وعيسى بن عبد الرحمن المقدسيان، بقراءتي على كل منهما، قالا: أخبرنا جعفر بن علي المقرئ، أخبرنا أبو طاهر أحمد بن محمد الحافظ، أخبرنا أحمد بن عبد الغفار بن أشتة، حدثنا محمد بن علي الحافظ، أخبرنا الإمام أبو بكر أحمد بن إبراهيم الفقيه، حدثنا القاسم بن زكريا، حدثنا محمد بن عبد الملك بن زنجويه، وأحمد بن سفيان، وفياض بن
সুহাইলি বলেছেন: কারণ এটি হানিফিয়্যাহ অর্থাৎ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্মের অন্তর্ভুক্ত।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর থেকে শিরক নাকচ করার মাধ্যমে তা সুনিশ্চিত করেছেন; এটি কুরাইশদের সেই দাবির খণ্ডনস্বরূপ ছিল যে তারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের ওপর রয়েছে, অথচ তারা ছিল মুশরিক। অথচ তিনি (ইব্রাহিম) আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম মুশরিক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ইসলাম ধর্মের ওপর একজন হানিফ।
আমাদের শায়খ আবুল ফজল সুলাইমান ইবন হামজাহ এবং ঈসা ইবন আবদুর রহমান আল-মাকদিসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি তাদের প্রত্যেকের নিকট পাঠ করেছি—তাঁরা বলেছেন: জাফর ইবন আলী আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু তাহির আহমদ ইবন মুহাম্মদ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবন আবদিল গাফফার ইবন আশতাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন আলী আল-হাফিজ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ইমাম আবু বকর আহমদ ইবন ইব্রাহিম আল-ফকিহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাসিম ইবন জাকারিয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবদিল মালিক ইবন জানজুওয়াইহ, আহমদ ইবন সুফিয়ান এবং ফাইয়াদ ইবন...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
زهير، قالوا: حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر.
ح: وأخبرنا أعلى من هذا بدرجة: البرهاني أبو إسحاق إبراهيم بن محمد الطبري بقراءتي عليه بمنى شرفها الله تعالى، أخبرنا علي بن هبة الله بن سلامة الفقيه، أخبرتنا الكاتبة شهدة بنت أحمد الإبري، أخبرنا الحسين بن أحمد بن طلحة، أخبرنا علي بن محمد بن بشران، أخبرنا إسماعيل بن محمد الصفار، حدثنا أحمد بن منصور الرمادي، حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن أيوب، عن عكرمة، عن ابن عباس –رضي الله عنهما:
أن النبي صلى الله عليه وسلم لما رأى الصور في البيت –يعني الكعبة- لم يدخل حتى أمر بها فمحيت، ورأى إبراهيم وإسماعيل بأيديهما الأزلام، فقال:
((قاتلهم الله! والله ما استقسما بالأزلام قط)) .
هذا لفظ الرواية الثانية.
যুহায়র, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার।
হা (সনদ পরিবর্তন): আর আমাদের নিকট এর চেয়ে এক স্তর উচ্চতর সনদে সংবাদ দিয়েছেন: আল-বুরহানি আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আত-তাবারী, মিনার ময়দানে—আল্লাহ তাআলা সে স্থানকে সম্মানিত করুন—তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন হিবাতুল্লাহ বিন সালামাহ আল-ফকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিদুষী লেখিকা শুহদাহ বিনতে আহমদ আল-ইবরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন তালহা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন মুহাম্মাদ বিন বিশরান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ আস-সাফফার, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মানসুর আর-রামারদি, আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা'মার, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন—থেকে বর্ণনা করেন:
নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাইতুল্লাহ—অর্থাৎ কাবা—এর ভেতর ছবিসমূহ দেখলেন, তিনি প্রবেশ করলেন না যতক্ষণ না তাঁর আদেশে সেগুলো মুছে ফেলা হলো। আর তিনি ইবরাহিম ও ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-কে দেখলেন যে তাঁদের হাতে ভাগ্য নির্ধারণী তীর রয়েছে। তখন তিনি বললেন:
“আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! আল্লাহর কসম, তাঁরা কখনো ভাগ্য নির্ধারণী তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করেননি।”
এটি দ্বিতীয় বর্ণনার শব্দাবলি।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২০)
[ولفظ] الرواية الأولى: ((قاتلهم الله! أم والله لقد علموا أنهما لم يستقسما قط)) .
أخرجه البخاري في صحيحه، عن إبراهيم بن موسى، عن هشام بن يوسف، عن معمر به.
ورواه أيضاً بنحوه من حديث كريب، عن ابن عباس.
وهو في صحيح مسلم من هذا الوجه.
وتحتمل الآية هنا الرد أيضاً على اليهود والنصارى، في دعوى كل طائفة منهم أن إبراهيم عليه السلام كان منهم، كما في قوله تعالى: {ما كان إبراهيم يهودياً ولا نصرانياً ولكن كان حنيفاً مسلماً وما كان من المشركين} . لأن كلاً من ملة اليهود والنصارى مشتملةٌ على الشرك، كما أخبر الله سبحانه عنهم.
قال ابن عباس، وقتادة، والسدي، وغيرهم من أهل التفسير: اجتمع يهود المدينة ونصارى نجران عند رسول الله صلى الله عليه وسلم، فتنازعوا في إبراهيم عليه السلام، فقالت اليهود: ما كان إلا
[প্রথম বর্ণনার শব্দগুলো হলো]: ((আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! আল্লাহর কসম, তারা অবশ্যই জানত যে তারা কখনো ভাগ্য নির্ধারণকারী তীরের মাধ্যমে বণ্টন করেননি))।
ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে মুসা থেকে, হিশাম ইবনে ইউসুফের সূত্রে, মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিনি কুরাইব থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এটি এই সূত্রেই সহিহ মুসলিমেও রয়েছে।
এই আয়াতটি এখানে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতিও খণ্ডন হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, কারণ তাদের প্রতিটি দলই দাবি করত যে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "ইবরাহীম ইহুদি ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।" কারণ ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মই শিরক সংবলিত, যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন।
ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, সুদ্দি এবং অন্যান্য তাফসিরবিদগণ বলেন: মদিনার ইহুদিরা এবং নাজরানের খ্রিস্টানরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একত্রিত হলো, অতঃপর তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হলো। ইহুদিরা বলল: তিনি কেবল ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২১)
يهودياً، وقالت النصارى: ما كان إلا نصرانياً. فأنزل الله هذه الآية: {ما كان إبراهيم يهودياً ولا نصرانياً} الآية.
ইহুদি, এবং খ্রিস্টানরা বলল: তিনি খ্রিস্টান ব্যতীত অন্য কিছু ছিলেন না। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াত অবতীর্ণ করলেন: {ইব্রাহিম ইহুদি ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না} শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২২)
[الشاكر المضياف]وقوله تعالى: {شاكراً لأنعمه} .
الشكر: تصور النعمة وإظهارها.
وقيل: هو مقلوبٌ من ((الكشر)) أي: الكشف.
والشكر يكون بالقلب، وهو تصور النعمة كما ذكرنا. وباللسان، وهو الثناء على المنعم. وبسائر الجوارح، وهو مكافأة النعمة بالطاعات، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: ((أفلا أكون عبداً شكوراً)) لما عذل في كثرة الصلاة.
قال بعض المفسرين: كان شكر إبراهيم عليه الصلاة والسلام أنه كان لا يتغذى إلا مع ضيف، فلم يجد ذات يومٍ ضيفاً، فأخر غداءه، فإذا هو بفوج من الملائكة في صورة البشر. فدعاهم إلى الطعام، فتجملوا له، وخيلوا له أن بهم جذاماً، فقال: الآن وجبت مؤاكلتكم، شكراً لله على أنه عافاني وابتلاكم.
أخبرنا أبو الربيع بن قدامة الحاكم، أخبرنا جعفر الهمداني،
[কৃতজ্ঞ আতিথেয়তাপরায়ণ]এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ}।
শোকর বা কৃতজ্ঞতা হলো: নিয়ামতকে উপলব্ধি করা এবং তা প্রকাশ করা।
বলা হয়েছে যে: এটি 'কাশর' শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন, যার অর্থ হলো উন্মোচন করা।
কৃতজ্ঞতা হৃদয়ের মাধ্যমে হয়, আর তা হলো নিয়ামতকে উপলব্ধি করা—যেমন আমরা উল্লেখ করেছি। আর জিহ্বার মাধ্যমে হয়, যা হলো নিয়ামতদাতার প্রশংসা করা। এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে হয়, যা হলো আনুগত্য প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়ামতের প্রতিদান দেওয়া। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি কি একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?"—যখন অতিরিক্ত সালাত আদায়ের কারণে তাঁকে অনুযোগ করা হয়েছিল।
কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন: ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম-এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের রীতি ছিল এই যে, তিনি মেহমান ছাড়া আহার গ্রহণ করতেন না। একদিন তিনি কোনো মেহমান পেলেন না, ফলে তিনি তাঁর দুপুরের খাবার বিলম্বিত করলেন। এমতাবস্থায় তিনি মানুষের বেশে একদল ফেরেশতা দেখতে পেলেন। তিনি তাঁদের খাবারের দাওয়াত দিলেন। তাঁরা তাঁর সাথে এক প্রকার কৌশল করলেন এবং তাঁর সামনে এমন ভাব প্রকাশ করলেন যেন তাঁরা কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত। তখন তিনি বললেন: এখন তো তোমাদের সাথে আমার আহার করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ যে তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন এবং তোমাদের পরীক্ষায় ফেলেছেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-রবি বিন কুদামা আল-হাকিম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর আল-হামদানি।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أخبرنا أبو طاهر السلفي، أخبرنا الهيثم بن الفضل، أخبرنا علي بن محمد العكبري، أخبرنا أحمد بن محمد الجوزي، حدثنا عبد الله بن محمد بن أبي الدنيا، حدثنا محمد بن عبد الله بن المبارك، حدثنا أبو أسامة، حدثنا محمد بن عمرو، حدثنا أبو سلمة بن عبد الرحمن، عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
((كان أول من ضيف الضيف إبراهيم عليه الصلاة والسلام) .
هذا حديث حسن.
وأخبرنا إسحاق بن يحيى الأموي، أخبرنا يوسف بن خليل
আবু তাহের আস-সিলাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাইসাম বিন আল-ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন মুহাম্মদ আল-উকবারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-জাওযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবিদ দুনইয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু উসামা আমাদের বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আমর আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
((সর্বপ্রথম যিনি মেহমানকে আতিথেয়তা প্রদান করেছিলেন তিনি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম))।
এটি একটি হাসান হাদিস।
এবং ইসহাক বিন ইয়াহইয়া আল-উমায়বী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউসুফ বিন খলিল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحافظ، أخبرنا خليل بن أبي..
… الرازي، ومحمد بن أحمد.. .. قالا: أخبرنا الحسن بن أحمد المقرئ، والثاني..
… أخبرنا أحمد بن عبد الله الحافظ، حدثنا محمد بن جعفر بن الهيثم، حدثنا إبراهيم بن إسحاق الجرمي حدثنا..
… الأصبهاني، حدثنا علي بن مسهر، عن هشام بن عروة، عن أبيه قال:
كان إبراهيم عليه الصلاة والسلام يأتيه الله بالضيف ليأجره، قال: فاحتبس عليه الضيف ثلاثاً، فقال لسارة: لقد احتبس عنا الضيف، وما نراه احتبس عنا إلا لما يرى مني.. .. على خدمنا. افعلوا وافعلوا، فإن جاء ضيف لا يخدمه غيري وغيرك..
…حدثنا محمد بن سهل، حدثنا عبد الرزاق، حدثنا أبي، أن عمير بن زيد أخبره، عن عمرو بن دينار قال:
لما تضيفت الملائكة إبراهيم عليه السلام، قدَّم العجل،
হাফেজ, আমাদের খবর দিয়েছেন খলিল ইবনে আবি..
… আর-রাজি, এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ.. .. তারা উভয়ে বলেছেন: আমাদের খবর দিয়েছেন হাসান ইবনে আহমদ আল-মুকরি, এবং দ্বিতীয়জন..
… আমাদের খবর দিয়েছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফেজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনুল হাইসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-জারমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন..
… আল-আসফাহানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে মুসহির, হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের নিকট আল্লাহ মেহমান পাঠাতেন যাতে তিনি তাঁকে সওয়াব দান করেন। তিনি বলেন: অতঃপর তিন দিন পর্যন্ত তাঁর নিকট মেহমান আসা বন্ধ রইল। তখন তিনি সারাহকে বললেন: আমাদের নিকট মেহমান আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমার ধারণা, মেহমান আসা বন্ধ হওয়ার কারণ হলো আমাদের খাদেমদের প্রতি আমার যে আচরণ তিনি (আল্লাহ) দেখেছেন.. ..। তোমরা এটা করো, ওটা করো। যদি কোনো মেহমান আসে, তবে আমি আর তুমি ছাড়া আর কেউ তার সেবা করবে না..
…আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাহল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, ওমাইর ইবনে যাইদ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, আমর ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
যখন ফেরেশতাগণ ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের নিকট মেহমান হিসেবে আসলেন, তখন তিনি বাছুর পেশ করলেন,
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فقالوا: لا نأكل إلا بثمن! قال: فكلوه وأدوا ثمنه. قالوا: وما ثمنه؟ قال: تسمون الله إذا أكلتم، وتمجدونه إذا فرغتم.
قال: فنظر بعضهم إلى بعضهم فقالوا: بهذا اتخذك الله خليلاً!.
তারা বললেন: "আমরা মূল্য পরিশোধ করা ব্যতীত খাব না!" তিনি বললেন: "তবে তোমরা এটি ভক্ষণ করো এবং এর মূল্য আদায় করো।" তারা বললেন: "এর মূল্য কী?" তিনি বললেন: "তোমরা আহারের শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করবে এবং আহার শেষে তাঁর মহিমা বর্ণনা করবে।"
বর্ণনাকারী বলেন: তখন তারা একে অপরের দিকে তাকালেন এবং বললেন: "এই গুণাবলির কারণেই আল্লাহ আপনাকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করেছেন!"
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[الخليل المجتبى]والاجتباء: اصطفاء الله سبحانه إياه وتخصيصه بأنواع النعم، من النبوة، والرسالة، والخلة، وغير ذلك.
والهداية: الدلالة والإرشاد.
والمراد بالصراط المستقيم: ملة الإسلام.
واختلف في المراد بالحسنة، من قوله: {وآتيناه في الدنيا حسنةً} .
فقيل: البركة في الأموال والأولاد.
وقيل: هي الخلة التي اصطفاه الله بها. قال: الله تعالى: {واتخذ الله إبراهيم خليلاً} .
[মনোনীত পরম বন্ধু]আর ইজতিবা (মনোনয়ন) হলো: মহান আল্লাহ কর্তৃক তাকে চয়ন করা এবং নবুওয়াত, রিসালাত, পরম বন্ধুত্ব ও এ জাতীয় বিভিন্ন প্রকার নিআমতের মাধ্যমে তাকে বিশেষভাবে ধন্য করা।
আর হিদায়াত হলো: পথপ্রদর্শন ও দিকনির্দেশনা।
আর সরল পথ (সিরাতুম মুস্তাকীম) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ইসলামের মিল্লাত বা আদর্শ।
আল্লাহর বাণী— "আর আমি তাকে দুনিয়াতে হাসানাহ (কল্যাণ) দান করেছি"- এর মধ্যে 'হাসানাহ' দ্বারা কী উদ্দেশ্য, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
কেউ বলেছেন: এটি হলো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির বরকত।
আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো সেই বন্ধুত্ব (খুল্লাত), যার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আল্লাহ ইবরাহীমকে পরম বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال قتادة: هي تنويه الله بذكره، حتى ليس من أهل دين إلا وهم يقولونه.
وقيل: هي صلاة الله عليه، وهي المعنية بقول المصلي منا: ((كما صليت على إبراهيم)) ،
كما أخبرنا عبد القادر بن يوسف الخطيري، ومحمد بن عبد الرحيم القرشي، قال الأول: أخبرنا عبد الوهاب بن ظافر، وقال الثاني: أخبرنا يوسف الشاوي، قالا: أخبرنا أحمد بن محمد الأصبهاني الحافظ، أخبرنا نصر بن أحمد بن البطر، أخبرنا عبد الله بن عبيد الله بن الحسن بن إسماعيل، حدثنا يوسف بن موسى، حدثنا جرير ومحمد بن فضيل –واللفظ لجرير- قالا: حدثنا يزيد بن أبي زياد، عن عبد الرحمن بن أبي ليلى، عن كعب بن عجرة رضي الله عنه قال:
কাতাদাহ (রহ.) বলেন: এটি হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক তাঁর স্মরণের উচ্চ মর্যাদা দান, এমনকি কোনো ধর্মের অনুসারীই এমন নেই যারা তা উচ্চারণ করে না।
আর বলা হয়েছে: এটি তাঁর প্রতি আল্লাহর সালাত, আর সালাত আদায়কারীর "যেমন আপনি ইব্রাহীমের প্রতি সালাত পাঠিয়েছেন" উক্তিটি দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য।
যেমন আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কাদির ইবনে ইউসুফ আল-খাতীরী এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম আল-কুরাশী। প্রথমজন বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহাব ইবনে জাফির। আর দ্বিতীয়জন বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ আশ-শাভী। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসবাহানী আল-হাফিয। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন নাসর ইবনে আহমাদ ইবনুল বাতির। আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনুল হাসান ইবনে ইসমাঈল। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মূসা। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর এবং মুহাম্মাদ ইবনে ফুদ্বাইল—আর শব্দবিন্যাস জারীরের—তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে আবী যিয়াদ, আব্দুর রহমান ইবনে আবী লায়লা থেকে, তিনি কাব ইবনে উজরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لما نزلت: {إن الله وملائكته يصلون على النبي} الآية، سألنا النبي صلى الله عليه وسلم عن الصلاة، قال:
((قولوا: اللهم صل على محمد وآل محمد، كما صليت على إبراهيم وآل إبراهيم، إنك حميد مجيد، وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم وآل إبراهيم إنك حميد مجيد)) .
هذا حديث صحيح، اتفقوا على إخراجه من طرق كثيرة بنحو هذا إلى عبد الرحمن بن أبي ليلى، عن كعب بن عجرة.
واتفقا على إخراجه من رواية أبي حميد الساعدي.
وانفرد به البخاري من حديث أبي سعيد الخدري.
ومسلم من حديث أبي مسعود الأنصاري.
যখন নাযিল হলো: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করেন} এই আয়াতটি, তখন আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দরূদ পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন:
((তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।))।
এটি একটি সহীহ হাদীস। মুহাদ্দিসগণ আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে কাব ইবনে উজরাহ-এর সূত্রে এর অনুরূপ বহু সনদে এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
আর তাঁরা উভয়ে (বুখারী ও মুসলিম) আবু হুমায়দ আস-সাঈদী-র বর্ণনা থেকে এটি উদ্ধৃত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
আর বুখারী এককভাবে আবু সাঈদ আল-খুদরী-র হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং মুসলিম আবু মাসউদ আল-আনসারী-র হাদীস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[الصالح]وقوله تعالى: {وإنه في الآخرة لمن الصالحين} يعني من أهل الجنة.
أخبرنا يوسف بن محمد بن إبراهيم، ومحمد بن أبي بكر بن مشرف بقراءتي عليهما، قال الأول: أخبرنا إسماعيل بن إبراهيم التنوخي، أخبرنا بركات بن إبراهيم المقدسي، أخبرنا عبد الكريم بن حمزة، أخبرنا الحافظ أحمد بن علي الخطيب.
ح: وقال شيخنا الثاني: أنبأنا علي بن أبي عبد الله البغدادي، عن الفضل بن سهل، عن الخطيب، أخبرنا القاسم بن جعفر الهاشمي، أخبرنا محمد بن أحمد اللؤلؤي، حدثنا سليمان بن الأشعث الحافظ، حدثنا زياد بن أيوب، حدثنا عبد الله بن إدريس، عن مختار بن فلفل، يذكر عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال:
قال رجل لرسول الله صلى الله عليه وسلم: يا خير البرية.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ذاك إبراهيم عليه السلام) .
أخرجه مسلم، والترمذي أيضاً من هذا الوجه، وزاد: ((ذاك إبراهيم خليل الله)) .
[আস-সালিহ (সৎকর্মশীল)]আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর নিশ্চয়ই সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত} অর্থাৎ জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম এবং মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন মুশাররফ, তাদের নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে; প্রথমজন বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন ইবরাহিম আত-তানুখি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বারাকাত বিন ইবরাহিম আল-মাকদিসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল কারিম বিন হামজাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আহমাদ বিন আলী আল-খাতিব।
হ: এবং আমাদের দ্বিতীয় শায়খ বলেছেন: আমাদের অবহিত করেছেন আলী বিন আবু আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি, আল-ফাদল বিন সাহল থেকে, তিনি আল-খাতিব থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আল-কাসিম বিন জাফর আল-হাশেমি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-লু’লুয়ি, তিনি হাদিস শুনিয়েছেন সুলাইমান বিন আল-আশআস আল-হাফিজ, তিনি হাদিস শুনিয়েছেন যিয়াদ বিন আইয়ুব, তিনি হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস, তিনি মুখতার বিন ফুলফুল থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন: হে সৃষ্টির সেরা সত্তা।
তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “তিনি হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম।”
এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযীও এই সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বর্ধিত অংশ রয়েছে: “তিনি হলেন আল্লাহর খলীল (বন্ধু) ইবরাহিম।”
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال:
((أنا سيد ولد آدم، ولا فخر)) .
وطريق الجمع بينه وبين هذا الحديث من وجهين:
أحدهما: أنه صلى الله عليه وسلم قال ذلك قبل أن يعلمه الله بأنه أفضل من سائر الأنبياء والرسل عليهم الصلاة والسلام؛ ثم لما أعلمه الله بذلك نبه الناس.
والثاني: وهو الأقوى: أنه صلى الله عليه وسلم قال ذلك على وجه التواضع والاحترام لإبراهيم صلى الله عليه وسلم، لخلته، وأبوته، ولبيان ما يجب له من التوقير والاحترام. ولذلك لما قال صلى الله عليه وسلم: ((أنا سيد ولد آدم)) أتبعه بقوله: ((ولا فخر)) ليبين صلى الله عليه وسلم أنه لم يقل ذلك على وجه الافتخار والتطاول على من تقدمه، بل قاله بياناً لما أمر ببيانه، والله سبحانه أعلم.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন:
“আমি আদম সন্তানদের সরদার, তবে এতে কোনো অহংকার নেই।”
এই হাদীস এবং ঐ হাদীসের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের পদ্ধতি দুইটি:
প্রথমত: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথাটি বলেছিলেন আল্লাহ তাঁকে অন্যান্য সকল নবী ও রাসূলদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বিষয়ে অবহিত করার আগে; অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁকে এ বিষয়ে অবহিত করেন, তখন তিনি মানুষকে তা জানিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ত: যা অধিক শক্তিশালী মত, তা হলো: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবরাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর প্রতি বিনয় ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছিলেন, তাঁর 'খলীল' হওয়া এবং পিতৃত্বের মর্যাদার কারণে, এবং তাঁর জন্য যে সম্মান ও শ্রদ্ধা আবশ্যক তা বর্ণনা করার জন্য। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন বললেন: “আমি আদম সন্তানদের সরদার”, তখন এর সাথে এই কথাটি যুক্ত করলেন: “তবে এতে কোনো অহংকার নেই”, যাতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি এই কথাটি গর্ব করার জন্য বা তাঁর পূর্ববর্তীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য বলেননি, বরং তিনি যা বর্ণনা করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিলেন তা বর্ণনা করার জন্যই তা বলেছেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[صاحب الملة الحنيفية]وقوله تعالى: {ثم أوحينا إليك أن اتبع ملة إبراهيم حنيفاً} الآية.
ثم في هذه إعلامٌ بتعظيم منزلة نبينا صلى الله عليه وسلم، وإجلال محله، والإيذان بأن من أشرف ما أوتي خليل الله إبراهيم عليه الصلاة والسلام اتباع نبينا صلى الله عليه وسلم أباه، واقتداءه به. فهذا وجه تعلق المعطوف بالمعطوف عليه.
وذكر بعض المفسرين أن أمر النبي صلى الله عليه وسلم في هذه الآية باتباع إبراهيم عليه السلام؛ أريد به اتباعه إياه في مواقف الحج، وذكر في ذلك حديثاً في إسناده ضعف: عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:
((جاء جبريل عليه السلام إلى إبراهيم صلى الله عليه وسلم، فراح به إلى منى)) . فذكر كيفية مناسك الحج، وقال في آخره: ((فأوحى الله إلى محمد صلى الله عليه وسلم: {أن اتبع ملة إبراهيم حنيفاً} )) .
[একনিষ্ঠ মিল্লাতের অধিকারী]এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহি পাঠালাম যে, আপনি একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের মিল্লাতের অনুসরণ করুন} আয়াত।
অতঃপর এর মধ্যে আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার মাহাত্ম্য এবং তাঁর অবস্থানের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা রয়েছে। এতে এই সংকেত প্রদান করা হয়েছে যে, আল্লাহর খলিল ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লামকে যা কিছু শ্রেষ্ঠ বিষয় প্রদান করা হয়েছে, তার অন্তর্ভুক্ত হলো আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁর পিতার অনুসরণ এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা। এটিই হলো পরবর্তী বাক্যের সাথে পূর্ববর্তী বাক্যের সংশ্লিষ্টতার দিক।
কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের অনুসরণের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা দ্বারা হজের কার্যাবলিতে তাঁর অনুসরণ করা উদ্দেশ্য। এই বিষয়ে তাঁরা একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যার সনদে দুর্বলতা রয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ইব্রাহিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে নিয়ে মিনার দিকে যাত্রা করলেন।” অতঃপর তিনি হজের কার্যাবলির নিয়ম বর্ণনা করলেন এবং এর শেষে বললেন: “অতঃপর আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহি পাঠালেন যে: {আপনি একনিষ্ঠ ইব্রাহিমের মিল্লাতের অনুসরণ করুন}।”
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وهذا الحديث غير ثابت، لما بينا من ضعف إسناده.
والأقرب حمل الأمر هنا على العموم، في اتباع إبراهيم عليه الصلاة والسلام في كل شيء، إلا ما نسخه الله من ذلك، لأنه تقدم أن هذه الآيات بين الله بها أن إبراهيم كان حنيفاً مسلماً ولم يكن مشركاً؛ رداً على المشركين في دعواهم أنهم على دين إبراهيم عليه الصلاة والسلام، وهم مشركون، وهو –صلوات الله عليه- لم يكن مشركاً، فناسب ذلك الأمر النبي صلى الله عليه وسلم باتباع ملة إبراهيم في دين الإسلام والتوحيد وأعماله. وتندرج أفعال الحج تحت ذلك. وحملُ اللفظ على العموم مهما أمكن أولى. والله أعلم.
أخبرنا أبو بكر بن إبراهيم بن عبد الدائم، أخبرنا محمد بن إبراهيم الإربلي، أخبرتنا شهدة بنت أحمد الإبري. (ح) : وقرأت على محمد بن عبد الرحيم، أخبرك يوسف بن محمود الصوفي، أخبرنا أبو طاهر أحمد بن محمد السلفي قالا: أخبرنا نصر بن البطر، أخبرنا عبد الله بن البيع، حدثنا الحسين المحاملي، حدثنا علي بن شعيب، حدثنا سفيان بن عيينة قال: سمع عمرو –يعني ابن دينار- عمرو بن عبد الله بن صفوان يحدث عن يزيد بن شيبان رضي الله عنه قال:
এই হাদীসটি সাব্যস্ত নয়, কারণ আমরা এর সনদের দুর্বলতা স্পষ্ট করেছি।
আর অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো, এখানে নির্দেশটিকে সাধারণ অর্থে গ্রহণ করা, যাতে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে প্রতিটি বিষয়ে অনুসরণ করা উদ্দেশ্য হয়, তবে আল্লাহ তা'আলা এর মধ্য থেকে যা রহিত করেছেন তা ব্যতীত। কেননা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এই আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা স্পষ্ট করেছেন যে ইব্রাহিম একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি মুশরিক ছিলেন না; এটি মুশরিকদের দাবির প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছে যে তারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দ্বীনের উপর রয়েছে, অথচ তারা মুশরিক, আর তিনি—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—মুশরিক ছিলেন না। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসলাম ধর্ম, তাওহীদ এবং এর আমলসমূহে ইব্রাহিমের মিল্লাত অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া সমীচীন হয়েছে। হজ্জের কার্যাবলিও এর অন্তর্ভুক্ত। শব্দের অর্থকে যতটুকু সম্ভব ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করাই উত্তম। আর আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন ইবরাহিম বিন আব্দুল দায়েম, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ইরবিলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাহদাহ বিনতে আহমাদ আল-ইবরি। (হ) : এবং আমি মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহীমের নিকট পাঠ করেছি, আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ বিন মাহমুদ আস-সুফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নাসর বিন আল-বতর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আল-বাই', আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হুসাইন আল-মাহামিলি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আলী বিন শুআইব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনা, তিনি বলেছেন: আমর—অর্থাৎ ইবনে দীনার—আমর বিন আব্দুল্লাহ বিন সাফওয়ানকে ইয়াজিদ বিন শাইবান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كنا وقوفاً بعرفة في مكان بعيد من الموقف، يباعده عمرو، فأتانا ابن مربع الأنصاري رضي الله عنه فقال: إني رسول رسول الله إليكم، يقول: ((كونوا على مشاعركم هذه، فإنكم على إرث إبراهيم عليه السلام) .
أخرجه أبو داود عن عبد الله بن محمد النفيلي.
والترمذي، والنسائي عن قتيبة بن سعيد.
وابن ماجه عن أبي بكر بن أبي شيبة.
ثلاثتهم عن سفيان بن عيينة به، فوقع بدلاً لهم عالياً.
وقال الترمذي: حديث حسن، وابن مربع اسمه يزيد بن مربع الأنصاري، وإنما يعرف له هذا الحديث الواحد.
قلت: وذكر غيره أن اسم مربع هذا: زيد، وقيل: عبد الله. وهو من الأوس. رضي الله عنه.
ومربع: بكسر الميم، ثم راء ساكنة، ثم باء موحدة مفتوحة، وعين مهملة.
أخبرنا علي بن محمد البنديجي، أخبرنا محمد بن علي
আমরা আরাফায় মূল অবস্থানস্থল থেকে দূরে এক স্থানে দাঁড়িয়েছিলাম, আমরের কারণে যা দূরে ছিল। তখন ইবনে মিরবা' আল-আনসারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট এসে বললেন: "আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূলের প্রেরিত দূত, তিনি বলছেন: (তোমরা তোমাদের হজের এই পবিত্র স্থানগুলোর ওপরই অবস্থান করো, কারণ তোমরা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের উত্তরাধিকারের ওপর রয়েছ)।"
আবু দাউদ এটি আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-নুফাইলি থেকে বর্ণনা করেছেন।
তিরমিজি ও নাসায়ি এটি কুতাইবা বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইবনে মাজাহ এটি আবু বকর বিন আবি শাইবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁরা তিনজনই সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি তাঁদের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের 'বাদাল' (বিকল্প সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
তিরমিজি বলেছেন: হাদিসটি হাসান; ইবনে মিরবা'-এর নাম ইয়াজিদ বিন মিরবা' আল-আনসারি। তাঁর থেকে কেবল এই একটি হাদিসই পরিচিত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, এই মিরবা'-এর নাম হলো যায়েদ; আবার কেউ বলেছেন আবদুল্লাহ। তিনি আউস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন।
আর 'মিরবা' শব্দটি: মিম বর্ণে কাসরা (জের), এরপর রা বর্ণে সুকুন, এরপর এক নুকতাযুক্ত বা বর্ণে ফাতহা (জবর) এবং নুকতাহীন আইন বর্ণ।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি বিন মুহাম্মদ আল-বানদিজি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আলি...
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
البغدادي.. .. أخبرنا عبد العزيز بن الأخضر الحافظ، أخبرنا عبد الملك بن أبي القاسم الكروخي. (ح) : قال شيخنا: وأنبأنا عبد الخالق بن أنجب، عن الكروخي هذا، أخبرنا محمود بن القاسم الأزدي، وعبد العزيز بن محمد الترياقي، وأحمد بن عبد الصمد الغورجي، قالوا: أنبأنا عبد الجبار بن محمد الجراحي. (ح) : وقرأت على القاسم بن مظفر الدمشقي، أخبرك القاضي أبو نصر محمد بن هبة الله بن سميل حضوراً، أخبرنا نصر بن سيار كتابة، أخبرنا أبو عامر الأزدي، أخبرنا الجراحي، أخبرنا محمد بن أحمد المحبوبي، حدثنا محمد بن عيسى الحافظ، حدثنا محمود بن غيلان، حدثنا أبو أحمد –يعني الزبيري-، حدثنا سفيان، عن أبيه، عن أبي الضحى، عن مسروق، عن عبد الله –هو ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((إن لكل نبيٍ ولاةً من النبيين، وإن وليي أبي وخليل ربي)) .
আল-বাগদাদী... আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আযীয বিন আল-আখদার আল-হাফিয, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল মালিক বিন আবুল কাসিম আল-কারুখী। (হ): আমাদের শাইখ বলেছেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল খালিক বিন আনজাব, তিনি এই আল-কারুখী থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মাহমুদ বিন আল-কাসিম আল-আযদি, আবদুল আযীয বিন মুহাম্মদ আত-তিরইয়াকি এবং আহমাদ বিন আবদুল সামাদ আল-গাওরজি, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল জাব্বার বিন মুহাম্মদ আল-জাররাহি। (হ): এবং আমি আল-কাসিম বিন মুযাফফর আদ-দিমাশকির নিকট পাঠ করেছি, কাযী আবু নাসর মুহাম্মদ বিন হিবাতুল্লাহ বিন সামীল আপনাকে উপস্থিত থেকে সংবাদ দিয়েছেন, নাসর বিন সাইয়্যার আমাদের লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমির আল-আযদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-জাররাহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আহমাদ আল-মাহবুবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-হাফিয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মাহমুদ বিন গাইলান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আহমাদ—অর্থাৎ আয-যুবাইরি—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবুয যুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ—যিনি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
((নিশ্চয়ই প্রত্যেক নবীর জন্য নবীদের মধ্য থেকে অভিভাবক রয়েছে, আর আমার অভিভাবক হলেন আমার পিতা এবং আমার রবের খলীল।))
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثم قرأ: {إن أولى الناس بإبراهيم للذين اتبعوه وهذا النبي والذين آمنوا والله ولي المؤمنين} .
هكذا أخرجه الترمذي في جامعه.
ثم رواه من حديث أبي نعيم، عن سفيان الثوري، ولم يذكر فيه مسروقاً، وقال: هذا أصح.
এরপর তিনি পাঠ করলেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ইব্রাহিমের সর্বাধিক নিকটবর্তী তারা, যারা তাঁর অনুসরণ করেছে এবং এই নবী ও যারা ঈমান এনেছে; আর আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক।"
তিরমিযী তাঁর 'জামে' গ্রন্থে এভাবেই এটি উদ্ধৃত করেছেন।
অতঃপর তিনি এটি আবু নুআইমের সূত্রে, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে মাসরুক-এর উল্লেখ করেননি, আর তিনি বলেছেন: এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
[وصفه]أخبرنا العلامة أبو إسحاق العباس أحمد بن إبراهيم الفزاري الخطيب قراءة عليه وأنا أسمع سنة 753هـ، أخبرنا العلامة أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن بن الصلاح، أخبرنا المؤيد بن محمد الطوسي، أخبرنا محمد بن الفضل الساعدي، أخبرنا عبد الغافر بن محمد الفارسي، أخبرنا أحمد بن عمرويه، حدثنا إبراهيم بن سفيان، حدثنا مسلم بن الحجاج، حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا الليث. (ح) : قال: وحدثنا محمد بن رمح، أخبرنا الليث، عن أبي الزبير، عن جابر رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
((عرض علي الأنبياء عليهم السلام، فإذا موسى ضرب من الرجال كأنه من رجال شنوءة، ورأيت إبراهيم صلوات الله عليه، وإذا أقرب من رأيت به شبهاً صاحبكم.
[তাঁর বর্ণনা]আল্লামা আবু ইসহাক আব্বাস আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-ফাযারি আল-খাতিব আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর উপস্থিতিতে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম ৭৫৩ হিজরি সালে—তিনি বলেন: আল্লামা আবু আমর উসমান বিন আব্দুর রহমান বিন আস-সালাহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুআইয়াদ বিন মুহাম্মাদ আত-তুসি আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আস-সাঈদি আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিসি আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন আমরাওয়াইহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম বিন সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। (সূত্রান্তর): তিনি বলেন: এবং মুহাম্মাদ বিন রুমহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“আমার সামনে নবীগণকে (আলাইহিমুস সালাম) উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে মূসা (আলাইহিস সালাম) ছিলেন দোহারা ও সুঠাম গড়নের পুরুষ, যেন তিনি শানুয়াহ গোত্রের একজন। আর আমি ইব্রাহিমকে (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহি) দেখেছি; আমি যাঁদের দেখেছি তাঁদের মধ্যে তোমাদের এই সাথী (অর্থাৎ স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাথে সবচাইতে বেশি সদৃশ।”
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
يعني نفسه صلى الله عليهما وسلم)) . وذكر بقية الحديث.
كذا أخرجه مسلم في الصحيح.
ورواه أيضاً من حديث أبي هريرة:
أخبرنا أبو محمد بن أبي غالب العساكري سماعاً عليه، عن أبي الوفاء محمود بن إبراهيم العبدي، أخبرنا الحسن بن العباس الرستمي، أخبرنا عبد الوهاب بن محمد بن إسحاق بن مندة، أخبرنا أبي، أخبرنا محمد بن الحسين بن الحسن، حدثنا أحمد بن يوسف السلمي. (ح) : قال: وأخبرنا علي بن العباس، حدثنا محمد بن حماد، قالا: حدثنا عبد الرزاق، أخبرنا معمر، عن الزهري، أخبرني سعيد بن المسيب، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
((حين أسري بي لقيت موسى عليه الصلاة والسلام، فنعته، قال رجلٌ: حسبته قال: مضطربٌ، رجل الرأس، كأنه من رجال شنوءة. ولقيت عيسى عليه الصلاة والسلام، قال: ربعةٌ، أحمر، كأنما خرج من ديماس. قال: ورأيت إبراهيم عليه الصلاة والسلام، وأنا أشبه ولده به صلى الله عليه وسلم) .
أخرجه البخاري عن محمود. ومسلم عن محمد بن
(অর্থাৎ তিনি নিজেই [আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁদের উভয়ের ওপর বর্ষিত হোক])। এবং তিনি হাদিসের অবশিষ্ট অংশ উল্লেখ করেছেন।
এভাবেই ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে:
আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ ইবনে আবু গালিব আল-আসাকিরি তাঁর কাছে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-ওয়াফা মাহমুদ ইবনে ইব্রাহিম আল-আবদি থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আল-আব্বাস আল-রুস্তামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহাব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি। (হা) : তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবনে আল-আব্বাস, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাদ, তাঁরা উভয়ই বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
((যখন আমাকে নৈশভ্রমণে (ইসরা) নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। অতঃপর তিনি তাঁর বর্ণনা দিলেন। একজন বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন: তিনি ছিলেন সুঠাম দেহের অধিকারী ও সুবিন্যস্ত চুলের অধিকারী, যেন তিনি শানুআ গোত্রের একজন লোক। আর আমি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি বলেন: তিনি ছিলেন মাঝারি গড়নের ও লালচে বর্ণের, যেন তিনি সদ্য স্নানাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। তিনি বলেন: আর আমি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কেও দেখেছি, এবং আমিই হলাম তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম))।
এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন মাহমুদ থেকে এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে... থেকে।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
رافع، وعبد بن حميد، والترمذي عن محمود بن غيلان، كلهم عن عبد الرزاق به على البدلية.
أخبرنا أبو عبد الله محمد بن أبي العز بن بيان وآخرون قالوا: أخبرنا الحسين بن المبارك، أخبرنا عبد الأول بن عيسى، أخبرنا عبد الرحمن بن محمد، أخبرنا عبد الله بن أحمد، أخبرنا محمد بن يوسف، حدثنا الإمام محمد بن إسماعيل، حدثنا مؤمل، حدثنا إسماعيل، حدثنا عوف، حدثنا أبو رجاء، حدثنا سمرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((أتاني الليلة آتيان، فأتينا على رجلٍ طويلٍ، لا أكاد أرى رأسه طولاً، وإنه إبراهيم عليه الصلاة والسلام) .
كذا رواه مختصراً.
রাফি, আবদ ইবনে হুমাইদ এবং মাহমুদ ইবনে গাইলানের সূত্রে তিরমিযী—তারা সকলেই এটি আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে পূর্বের বর্ণনার বিপরীতে (বদল হিসেবে) বর্ণনা করেছেন।
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবিল ইযয ইবনে বায়ান এবং অন্যান্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেছেন: হুসাইন ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুআম্মাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আউফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু রাজা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“আজ রাতে আমার নিকট দুজন আগন্তুক আসলেন, অতঃপর আমরা একজন দীর্ঘকায় ব্যক্তির নিকট পৌঁছালাম, যাঁর উচ্চতার কারণে আমি প্রায় তাঁর মাথা দেখতেই পাচ্ছিলাম না; তিনি ছিলেন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)।”
এভাবেই তিনি এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
[أول من اختتن]وبهذا الإسناد إلى الإمام البخاري قال: حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن القرشي، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
((اختتن إبراهيم عليه الصلاة والسلام وهو ابن ثمانين سنة بالقدوم)) .
وبه قال: حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، حدثنا أبو الزناد به، وقال: بالقدوم، مخففة. كذا وقع في صحيح البخاري بالروايتين.
ورواة صحيح مسلم متفقون على رواية هذا الحديث فيه بالقدوم مخففة.
[সর্বপ্রথম যিনি খতনা করেছেন]এবং এই সনদে ইমাম বুখারী পর্যন্ত পৌঁছে তিনি বলেন: আমাদের নিকট কুতায়বা ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুগীরা ইবনে আবদুর রহমান আল-কুরাশী বর্ণনা করেছেন, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আশি বছর বয়সে ‘কাদুম’ (একটি যন্ত্র বা স্থান) দ্বারা খতনা করেছিলেন।”
এবং এই সনদেই তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল ইয়ামান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শুআইব সংবাদ দিয়েছেন, আবুয যিনাদ আমাদের নিকট এই সূত্রেই বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: ‘কাদুম’ শব্দটি (দাল বর্ণে) তাশদীদ বিহীন। সহীহ বুখারীতে উভয় বর্ণনায় এভাবেই এসেছে।
আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনাকারীগণ এই হাদিসটি তাতে ‘কাদুম’ শব্দটি তাশদীদ বিহীনভাবে বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত।
(খণ্ড: ১)
তাফসীরু ইন্না ইবরাহীমা কানা উম্মাতান লিবনি তুলুন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وهذه اللفظة تحتمل أن تكون الآلة التي للنجار، فيكون إبراهيم –صلوات الله عليه- اختتن بها، ويحتمل أن يكون موضعاً اختتن به. قالوا: وهو مكان بالشام، ويقال له ((قدوم)) بالتشديد والتخفيف. وأما آلة النجار فيقال بالتخفيف لا غير، وجمهور الرواة على التخفيف. والأكثرون على أن المراد به الآلة. والله أعلم.
والختان هذا من جملة الكلمات التي أخبر الله سبحانه عنها بقوله تعالى: {وإذ ابتلى إبراهيم ربه بكلمات فأتمهن} الآية، في قول جمهور المفسرين. والمعنى: وإذ ابتلى إبراهيم ربه بإقامة كلمات، أو بتوفية كلمات.
قال ابن عباس رضي الله عنهما:
أوحى الله تعالى إلى إبراهيم: يا خليلي تطهر. فتمضمض.
فأوحى إليه: أن تطهر. فاستاك.
فأوحى إليه: أن تطهر. فأخذ من شاربه.
فأوحى إليه: أن تطهر. ففرق شعره.
فأوحى إليه: أن تطهر. فحلق عانته.
فأوحى إليه: أن تطهر. فنتف إبطيه.
فأوحى إليه: أن تطهر. فقلم أظافره.
এই শব্দটির অর্থ কাঠমিস্ত্রীর যন্ত্র বা বাশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দ্বারা ইব্রাহিম—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—খতনা করেছিলেন; আবার এটি এমন এক স্থানের নাম হওয়ারও অবকাশ রাখে যেখানে তিনি খতনা করেছিলেন। উলামায়ে কেরাম বলেন: এটি সিরিয়ার একটি স্থান, একে 'কাদুম' (দ্বিত্ব উচ্চারণসহ বা ছাড়া) বলা হয়। তবে কাঠমিস্ত্রীর যন্ত্রের ক্ষেত্রে কেবল দ্বিত্বহীন উচ্চারণই প্রচলিত, এবং অধিকাংশ বর্ণনাকারীও এর পক্ষেই মত দিয়েছেন। অধিকাংশের মতে এখানে যন্ত্রটিই উদ্দেশ্য। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে, এই খতনা সেই সকল 'কালিমাত' বা বিধানের অন্তর্ভুক্ত যা সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর এই বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন: "আর যখন ইব্রাহিমকে তাঁর প্রতিপালক কয়েকটি নির্দেশ দ্বারা পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করলেন" (আয়াত)। এর অর্থ হলো: যখন ইব্রাহিমকে তাঁর প্রতিপালক কিছু বিধান পালন করার বা কিছু বিষয় বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন:
আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিমের প্রতি ওহী পাঠালেন: হে আমার বন্ধু, আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি কুলি করলেন।
অতঃপর তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি মেসওয়াক করলেন।
অতঃপর তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি তাঁর গোঁফ ছেঁটে ছোট করলেন।
অতঃপর তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি তাঁর চুলের সিঁথি করলেন।
অতঃপর তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি তাঁর নাভির নিচের লোম মুণ্ডন করলেন।
অতঃপর তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি তাঁর বগলের লোম উপড়ে ফেললেন।
অতঃপর তাঁর প্রতি ওহী পাঠালেন: আপনি পবিত্রতা অর্জন করুন। তখন তিনি তাঁর নখ কাটলেন।