(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: -)
جزء الغضائري   (الغضائري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: جزء فيه أحاديث أبي عبد الله الحسين بن الحسن الغضائري

المؤلف: أَبُو عَبْدِ اللهِ الحُسَيْنُ بنُ الحَسَنِ بنِ مُحَمَّدِ بنِ حَلْبَس المَخْزُوْمِيُّ، الغَضَائِرِيُّ، البَغْدَادِيُّ (ت 414هـ)

المحقق: أبي عبد الله حمزة الجزائري

الناشر: الدار الأثرية [ضمن مجموع كتاب سلوك طريق السلف وستة أجزاء أخرى]

الطبعة: الأولى 2009 م

عدد الصفحات: 184

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জুয আল-গাদাইরি   (আল-গাদাইরি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-গাদাইরির হাদিস সম্বলিত সংকলন

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হালবাস আল-মাখযুমি, আল-গাদাইরি, আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪১৪ হিজরি)

তাহকিক: আবু আব্দুল্লাহ হামজাহ আল-জাযাইরি

প্রকাশক: আদ-দারুল আসারিয়্যাহ [‘সুলুক তরিক আস-সালাফ’ গ্রন্থ এবং আরও ছয়টি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত]

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদারি (নকলকরণ) ، এবং ওয়া ইয়া বাগি আল-খাইর আকবিল (তদারকি/মিলকরণ)

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
الجزء فيه من أحاديث أبي عبد الله الحسين بن الحسن الغضائري عن شيوخه

رواية الرئيس أبي عبد الله القاسم بن الفضل بن أحمد بن محمود الثقفي عنه

رواية الفقيه الحافظ أبي طاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم السلفي عنه
এই খণ্ডটিতে আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-গাদাইরি কর্তৃক তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ রয়েছে।

তাঁর থেকে রাইস আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম ইবনুল ফাদল ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ আস-সাকাফির বর্ণনা।

তাঁর থেকে ফকিহ হাফেজ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আস-সিলাফির বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬১)
بسم الله الرحمن الرحيم

أَخْبَرنَا الشيخ الصالح أبو المنصور ظافر بن طاهر بن ظافر عرف بابن شحم المطرز بقراءتي عليه بثغر الإسكندرية قال: أخبرنا الشيخ الإمام الحافظ أبو طاهر أَحْمَد بن مُحَمَّد بن أَحْمَد بن مُحَمَّد بن إبراهيم السلفي الأصبهاني قراءةً عليه في شهور سنة 488 قال: أنبأنا الشيخ الرئيس أبو عبد الله القاسم بن الفضل بن أَحْمَد بن أَحْمَد بن محمود الثقفي بأصبهان قراءةً عليه في شهور 438 أَنْبَأنَا أبو عبد الله الحُسَين بن الحَسَن بن مُحَمَّد المخزومي الغضائري قال:

1- حَدَّثَنا أبو بَكْر أَحْمَد بن سلمان النجاد إملاء سنة 345 حَدَّثَنا الحُسَين بن مكرم حَدَّثَنا عثمان بن عمر حدثنا شُعْبة عن عون بن أبي جحيفة ، عن أبيه عن البراء بن عازب عن أبي أيوب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج حين وجبت الشمس فقال هذه أصوات يهود تعذب في قبورها.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নেককার শায়খ আবু মানসুর জাফির বিন তাহির বিন জাফির—যিনি ইবনে শাহম আল-মুতাররিজ নামে পরিচিত—আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: শায়খ, ইমাম, হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আস-সালাফি আল-ইসফাহানি ৪৮৮ হিজরি সালের মাসগুলোতে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শায়খুর রাইস আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম বিন আল-ফজল বিন আহমদ বিন আহমদ বিন মাহমুদ আস-সাকাফি ৪৩৮ হিজরি সালের মাসগুলোতে ইসফাহানে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মাখজুমি আল-গাজাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

১- আবু বকর আহমদ বিন সালমান আল-নাজ্জাদ ৩৪৫ হিজরিতে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন বিন মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ আউন বিন আবি জুহাইফা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বারা বিন আযিব থেকে এবং তিনি আবু আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য ডুবে যাওয়ার সময় বের হলেন এবং বললেন, “এগুলো ইহুদিদের আওয়াজ, তাদের কবরে আযাব দেওয়া হচ্ছে।”
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬২)
2- حَدَّثَنا أَحْمَد حَدَّثَنا مُحَمَّد بن الهيثم حَدَّثَنا عمرو بن مرزوق حَدَّثَنا السكن بن المغيرة عن الوليد بن هشام عن فرقد أبي طلحة عن عبد الرحمن بن خباب أنه شهد رسول الله صلى الله عليه وسلم يحث على جيش العسرة فقام عثمان رضي الله عنه فقال عليَّ يا رسول الله مئة بعير بأحلاسها وأقتابها ثم حث على جيش العسرة فقام عثمان فقال يا رسول الله عليَّ مئة بعير بأحلاسها وأقتابها [..] (1) ثم قام الثالثة فحث على جيش العسرة فقال عثمان عليَّ مئة ناقة بأقتابها وأحلاسها قال عبد الرحمن فأنا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما ضر عثمان ما عمل بعد اليوم.

--------------------------------------------

(1) بياض في الأصل.
২- আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন মারজুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আস-সাকান বিন আল-মুগীরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ বিন হিশাম থেকে, তিনি ফারকাদ আবু তালহা থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন খাব্বাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রত্যক্ষ করেছেন যখন তিনি জায়শুল উসরাহ (তাবুক যুদ্ধের সৈন্যবাহিনী)-এর জন্য উৎসাহিত করছিলেন। তখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিন ও হাওদাসহ একশটি উট প্রদানের দায়িত্ব আমার। এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ) পুনরায় জায়শুল উসরাহ-এর জন্য উৎসাহিত করলেন। তখন উসমান দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! জিন ও হাওদাসহ (আরও) একশটি উট প্রদানের দায়িত্ব আমার। [..] (১) এরপর তিনি তৃতীয়বার দাঁড়িয়ে জায়শুল উসরাহ-এর জন্য উৎসাহিত করলেন। তখন উসমান বললেন, হাওদা ও জিনসহ (আরও) একশটি উটনি প্রদানের দায়িত্ব আমার। আবদুর রহমান বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে দেখেছি, "আজকের দিনের পর উসমান যা-ই আমল করুক না কেন, তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।"

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান রয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
3- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا مُحَمَّد بن الهيثم قال سمعت القعنبي يقول قال مالك بن أنس لرجل يا هذا ما تلاعبت به فلا تلعبن بدينك قال القعنبي فما لقيني أبو داود إلا سألني عن هذا من قول مالك.
৩- আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি আল-কা’নবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, মালিক বিন আনাস জনৈক ব্যক্তিকে বলেছিলেন: হে ব্যক্তি! তুমি যা কিছু নিয়েই খেলা করো না কেন, তোমার দ্বীন নিয়ে কক্ষনো খেলা করো না। আল-কা’নবী বলেন: আবু দাউদ যখনই আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তিনি আমাকে মালিকের এই উক্তিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
4- حَدَّثَنا أبو مُحَمَّد جعفر بن مُحَمَّد بن نصير الخلدي إملاء أَخْبَرنَا أبو بَكْر عمر بن حفص السدوسي حَدَّثَنا عاصم بن علي حَدَّثَنا سليمان بن المغيرة عن ثابت عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ولد لي الليلة غلام فسميته باسمي أبي إبراهيم قال فدفعه إلى أم سيف امرأة قين يقال له أبو سيف فانطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتيه فاستبقته فأسرعت المشي بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فانتهيت إلى أبي سيف وهو ينفخ بكيره والبيت قد امتلأ دخانا فقلت يا أبا سيف امسك امسك جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فأمسك فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصبي وضمه إليه وقال ما شاء الله أن يقول قال أنس قد رأيته بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو ⦗ص: 164⦘ يكيد بنفسه فدمعت عينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تدمع العين ويحزن القلب ولا نقول إلا ما يرضي الرب وإنا بك يا إبراهيم لمحزونون.
৪- আবু মুহাম্মাদ জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন নাসির আল-খালদী আমাদের কাছে শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর উমর বিন হাফস আস-সাদূসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আসিম বিন আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন আল-মুগীরা আমাদের কাছে সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আজ রাতে আমার একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে, তাই আমি আমার পিতা ইব্রাহীমের নামে তার নামকরণ করেছি।" তিনি বলেন, অতঃপর তিনি তাকে উম্মে সাইফ নামক এক কর্মকারের স্ত্রীর কাছে সোপর্দ করলেন, যার স্বামী আবু সাইফ নামে পরিচিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, আমি তাঁর আগে দ্রুতপদে চলতে লাগলাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অগ্রভাগে থাকলাম। আমি যখন আবু সাইফের নিকট পৌঁছলাম, তখন তিনি তাঁর হাপর ফুঁকছিলেন এবং ঘরটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল। আমি বললাম, "হে আবু সাইফ! থামুন, থামুন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসেছেন।" তখন তিনি থামলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিশুটিকে ডাকলেন এবং তাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলেন এবং আল্লাহ যা চাইলেন তিনি তা বললেন। আনাস (রা.) বলেন, আমি শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৪⦘ মুমূর্ষু অবস্থায় ছটফট করতে দেখলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয় এবং হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা কেবল তা-ই বলি যা আমাদের পালনকর্তাকে সন্তুষ্ট করে। হে ইব্রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকাহত।"
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
5- حَدَّثَنا جعفر بن حَدَّثَنا أَحْمَد بن مُحَمَّد بن مسروق حَدَّثَنا عمرو بن شبة حَدَّثَنا سعيد بن عامر حَدَّثَنا حزم بن أبي حزم القطعي قال: قال ميمون بن سياه لا تمهر الدنيا دينك فإن من أمهر الدنيا دينه زفت إليه الندم.
৫- জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসরুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে শাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজম ইবনে আবি হাজম আল-কাতয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মায়মুন ইবনে সিয়াহ বলেছেন: দুনিয়াকে তোমার দ্বীনের মোহরানা বানিও না; কেননা যে ব্যক্তি দুনিয়াকে স্বীয় দ্বীনের মোহরানা বানাবে, তার নিকট অনুশোচনাকেই পৌঁছে দেওয়া হবে।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
6- حَدَّثَنا جعفر حَدَّثَنا محمد بن الفضل بن جابر حَدَّثَنا أبو نصر التمار حَدَّثَنا بقية بن الوليد عن إبراهيم بن أدهم عن أبي عبد الله قال: قال عمر بن عبد العزيز من خاف الله لم يشف غيظه ومن اتقى الله لم يقنع كل ما يزيد ولولا يوم القيامة كان غير ما ترون.
৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন জাবির, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নাসর আত-তাম্মার, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালীদ, তিনি ইব্রাহিম বিন আদহাম থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল العزيز বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে সে তার ক্রোধ চরিতার্থ করে না, আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে সে যা কিছু (কামনা) বৃদ্ধি পায় তার সব কিছুতে তুষ্ট হয় না (অর্থাৎ কেবল নিজের ইচ্ছানুসারে চলে না); আর যদি কিয়ামত দিবস না থাকত, তবে তোমরা যা দেখছ তা ভিন্ন কিছু হতো।"
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
7- حَدَّثَنا أبو بَكْر أَحْمَد بن سلمان النجاد الفقيه إملاء سنة 345 حَدَّثَنا عبد الله بن أَحْمَد بن حنبل حَدَّثَنا داود بن رشيد إملاء من كتابه سنة 232 حَدَّثَنا مَنْصُور أبو أمية خادم عمر بن عبد العزيز قال رأيت عمر بن عبد العزيز وكان له سفط في كوة مفتاحه في إزاره فكان يتغفلني ، فإذا نظر إلي قد نمت فتح السفط وأخرج منه جبيبة شعر ورداء شعر فصلى فيهما الليل كله ، فإذا نودي بالصبح نزعهما.
৭- আমাদের নিকট আবু বকর আহমদ ইবন সালমান আল-নাজ্জাদ আল-ফকিহ ৩৪৫ হিজরি সনে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবন আহমদ ইবন হাম্বল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট দাউদ ইবন রুশাইদ ২৩২ হিজরি সনে তাঁর কিতাব থেকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উমর ইবন আবদুল আজিজের খাদেম মানসুর আবু উমাইয়াহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবন আবদুল আজিজকে দেখেছি; তাঁর দেয়ালের একটি কুলুঙ্গিতে একটি ছোট সিন্দুক ছিল যার চাবি তাঁর কোমরের কাপড়ে থাকত। তিনি লক্ষ্য করতেন আমি কখন অসতর্ক হই, অতঃপর যখন তিনি দেখতেন যে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, তখন তিনি সিন্দুকটি খুলতেন এবং তা থেকে পশমের একটি ছোট জুব্বা ও পশমের একটি চাদর বের করতেন। অতঃপর তিনি সে দুটি পরিধান করে সারা রাত সালাত আদায় করতেন। যখন ভোরের আজান দেওয়া হতো, তখন তিনি সেগুলো খুলে ফেলতেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
8- أَخْبَرنَا أحمد حَدَّثَنا عبد الله بن أحمد حَدَّثَنِي أبي حَدَّثَنا يَزِيد أَخْبَرنَا جرير بن حازم أَخْبَرنَا زياد بن أبي زياد المديني مولى عبد الله بن عياش بن أبي ربيعة أنه بعثه إلى عمر بن عبد العزيز في حوائج له قال فدخلت عليه وعنده كاتب يكتب فقلت السلام عليكم فقال وعليكم السلام ثم انتبهت فقلت السلام عليكم يا أمير المؤمنين ورحمة الله فقال يا ابن أبي زياد لسنا ننكر الأولى التي قلت والكاتب يقرأ عليه مظالم جاءت من البصرة فقال لي اجلس فجلست على أسكفة الباب وهو يقرأ عليه وعمر يتنفس الصعداء فلما فرغ أخرج من كان في البيت حتى وصيفا كان فيه ثم قام يمشي إلي حتى جلس بين يدي ووضع يداه على ركبتي ، ثم قال: يا ابن أبي زياد استدفأت في مدرعتك هذه قال وعلي مدرعة واسترحت مما نحن فيه ثم سألني عن صلحاء أهل المدينة رجالهم ونسائهم فما ترك منهم أحدا إلا سألني عنه وسألني عن أمور كان قد أمر بها بالمدينة فأخبرته ، ثم قال لي يا ابن أبي زياد ألا ترى ما وقعت فيه قال ⦗ص: 166⦘ قلت أبشر يا أمير المؤمنين إني لأرجو لك خيرا قال هيهات هيهات قال ثم بكى حتى جعلت أرثي له قال قلت يا أمير المؤمنين بعض ما تصنع فإني أرجو لك الخير قال هيهات هيهات أشتم ولا أشتم أضرب ولا أضرب أوذي ولا أوذى ثم بكى حتى جعلت أرثي له قال فما قمت حتى قضى حوائجي وكتب إلى مولاي يسأله أن يبيعني منه ثم أخرج من تحت فراشه عشرون دينارا فقال استعن بهذه فإنه لو كان لك في الفيء حق أعطيناك حقك إنما أنت عبد فأبيت أن آخذها فقال إنما هي نفقتي فلم يزل بي حتى أخذتها وكتب إلى مولاي يسأله أن يبيعني فأبى وأعتقني.
৮- আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারীর ইবনে হাযিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যিয়াদ ইবনে আবি যিয়াদ আল-মাদিনী (যিনি আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ ইবনে আবি রাবিয়াহর মুক্ত দাস ছিলেন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি (আবদুল্লাহ) তাকে তার কিছু প্রয়োজনে উমর ইবনে আবদুল আজিজের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি তার নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তার কাছে একজন লেখক লিখছিলেন। আমি বললাম, "আসসালামু আলাইকুম।" তিনি বললেন, "ওয়া আলাইকুমুস সালাম।" অতঃপর আমি সজাগ হলাম এবং বললাম, "আসসালামু আলাইকুম ইয়া আমিরুল মুমিনীন ওয়া রহমাতুল্লাহ।" তিনি বললেন, "হে ইবনে আবি যিয়াদ, তুমি প্রথমে যা বলেছ তা আমরা অস্বীকার করছি না।" তখন লেখক বসরা থেকে আসা জুলুম-অবিচারের অভিযোগগুলো তাকে পড়ে শোনাচ্ছিল। তিনি আমাকে বললেন, "বসো।" আমি দরজার চৌকাঠের উপর বসলাম। লেখক যখন তাকে পড়ে শোনাচ্ছিল, তখন উমর দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন। যখন তিনি অবসর হলেন, ঘরে যারা ছিল তাদের সবাইকে বের করে দিলেন, এমনকি একজন কিশোর ভৃত্যকেও। তারপর তিনি উঠে আমার দিকে হেঁটে এলেন এবং আমার সামনে বসলেন এবং তার হাত দুটি আমার হাঁটুর ওপর রাখলেন। তারপর তিনি বললেন: "হে ইবনে আবি যিয়াদ! তুমি তো তোমার এই পশমী জুব্বায় উষ্ণতা পাচ্ছ - আর আমার গায়েও তখন একটি পশমী জুব্বা ছিল - এবং আমরা যে অবস্থার মধ্যে আছি তা থেকে তুমি আরামে আছ।" তারপর তিনি আমাকে মদীনার নেককার পুরুষ ও নারীদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি তাদের কাউকেই বাদ দিলেন না যাদের সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেননি। এছাড়া তিনি মদীনার যেসব বিষয়ে আদেশ দিয়েছিলেন, সেগুলো সম্পর্কেও আমাকে জিজ্ঞেস করলেন এবং আমি তাকে তা জানালাম। তারপর তিনি আমাকে বললেন, "হে ইবনে আবি যিয়াদ! আমি যে বিপদে পড়েছি তা কি তুমি দেখছ না?" ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৬⦘ আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনীন! সুসংবাদ গ্রহণ করুন, নিশ্চয়ই আমি আপনার জন্য কল্যাণের আশা করি।" তিনি বললেন, "হায় আফসোস! হায় আফসোস!" তারপর তিনি কাঁদলেন, এমনকি আমি তার জন্য করুণা বোধ করতে লাগলাম। আমি বললাম, "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি নিজের প্রতি কিছুটা সদয় হোন, কারণ আমি আপনার জন্য মঙ্গলের আশা করি।" তিনি বললেন, "হায় আফসোস! হায় আফসোস! আমাকে গালি দেওয়া হয় কিন্তু আমি গালি দেই না, আমাকে প্রহার করা হয় কিন্তু আমি প্রহার করি না, আমাকে কষ্ট দেওয়া হয় কিন্তু আমি কষ্ট দেই না।" তারপর তিনি কাঁদলেন, এমনকি আমি তার জন্য করুণা বোধ করতে লাগলাম। তিনি বলেন, আমি ততক্ষণ উঠলাম না যতক্ষণ না তিনি আমার প্রয়োজনগুলো পূরণ করলেন এবং আমার মালিকের কাছে তাকে বিক্রি করার অনুরোধ করে চিঠি লিখলেন। তারপর তিনি তার বিছানার নিচ থেকে বিশ দিনার বের করলেন এবং বললেন, "এগুলো দিয়ে সাহায্য গ্রহণ করো। যদি ফাই (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) এর মধ্যে তোমার কোনো অধিকার থাকত, তবে আমরা তোমাকে তোমার হক দিতাম। কিন্তু তুমি তো একজন দাস।" আমি তা নিতে অস্বীকার করলাম। তখন তিনি বললেন, "এটি কেবল আমার ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের অর্থ।" তিনি পীড়াপীড়ি করতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি তা গ্রহণ করলাম। তিনি আমার মালিকের কাছে চিঠি লিখেছিলেন যাতে তিনি আমাকে বিক্রি করেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন এবং আমাকে মুক্ত করে দিলেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
9- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله حَدَّثَنا أبي حَدَّثَنا أبو مرداس إبراهيم بن بكار حَدَّثَنا يونس بن أبي شبيب قال شهدت عمر بن عبد العزيز وهو يطوف بالبيت وإن حجزة إزاره لغائبة في عكنة إزاره ثم رأيته بعدما استخلف ولو شئت أن أعد أضلاعه من غير أن أمسها لفعلت.
৯- আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু মিরদাস ইবরাহিম ইবনে বাক্কার বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে আবি শাবিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে কাবা ঘর তাওয়াফরত অবস্থায় দেখেছি, তখন তাঁর লুঙ্গির কোমরবন্ধ তাঁর পেটের মেদের ভাঁজে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। অতঃপর আমি তাঁকে খলিফা হওয়ার পর দেখলাম; (তখন তিনি এতটাই কৃশ হয়ে গিয়েছিলেন যে) আমি যদি তাঁকে স্পর্শ না করেই তাঁর পাঁজরের হাড়গুলো গুনতে চাইতাম, তবে অবশ্যই তা করতে পারতাম।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
10- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله حَدَّثَنا أبي حَدَّثَنا معمر بن سليمان الرقي حَدَّثَنا فرات بن سلمان عن ميمون بن مهران أن عبد الملك بن عمر بن عبد العزيز قال له ⦗ص: 167⦘ يا أبت ما يمنعك أن تمضي لما تريد من العدل فوالله ما كنت أبالي ولو غلت بي وبك القدور قال يا بني إنما أروض رياضة الصعب إني لا أريد أن آتي الأمر من العدل فأوخر ذلك حتى أخرج معه طمعا من طمع الدنيا فيبعدوا من هذه ويسكنوا هذه.
১০- আমাদের কাছে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুয়াম্মার ইবনে সুলাইমান আর-রিক্কী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ফুরাত ইবনে সালমান বর্ণনা করেছেন মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে যে, আব্দুল মালিক ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ তাঁর পিতাকে বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৭⦘ হে প্রিয় পিতা, আপনি যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চান, তা বাস্তবায়ন করতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে? আল্লাহর শপথ, আমি পরোয়া করতাম না যদি আমাকে এবং আপনাকে বড় ডেকচিতে রেখে জ্বাল দেওয়া হতো। তিনি বললেন: হে প্রিয় বৎস, আমি তো কেবল একটি অবাধ্য পশুকে বশ করার মতো (মানুষকে) প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। আমি ন্যায়বিচারের কোনো বিষয় সরাসরি নিয়ে আসতে চাই না, বরং আমি সেটিকে বিলম্বিত করি যাতে তার সাথে দুনিয়াবী কোনো লালসাকে বের করে দিতে পারি; ফলে তারা সেই লালসা থেকে দূরে সরে আসে এবং এই ন্যায়বিচারে স্থির হয়।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
11- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله حَدَّثَنا أبي حَدَّثَنا معمر بن سليمان قال وَحَدَّثَنا فرات بن سلمان عن ميمون بن مهران الرقي قال ما رأيت ثلاثة في بيت خير من عمر بن عبد العزيز وابنه عبد الملك ومولاه مزاحم.
১১- আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুয়াম্মার ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করে বলেছেন এবং ফুরাত ইবনে সালমান আমাদের নিকট মায়মুন ইবনে মিহরান আর-রাক্কি হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি এক ঘরে উমর ইবনে আবদুল আজিজ, তাঁর পুত্র আবদুল মালিক এবং তাঁর মুক্তদাস মুজাহিমের চেয়ে উত্তম কোনো তিন ব্যক্তিকে দেখিনি।"
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
12- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله حَدَّثَنا أبي حدثنا هارون حَدَّثَنا ضمرة حَدَّثَنا حفص بن عمر قال لما مات عبد الملك بن عمر بن عبد العزيز جعل يثني عليه قال فقال له مسلمة يا أمير المؤمنين أرأيت لو بقي أكنت تعهد إليه قال لا قال ⦗ص: 168⦘ ولم وأنت تثني عليه هذا الثناء قال إني أخاف أن يكون قد زين في عيني من أمره ما زين في عين الوالد من ولده.
১২- আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দামরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাফস ইবনে উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন উমর ইবনে আবদুল আজিজের পুত্র আবদুল মালিক ইবনে উমর ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি তাঁর প্রশংসা করতে শুরু করলেন। তখন মাসলামা তাঁকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার কি মনে হয় যদি সে বেঁচে থাকত তবে কি আপনি তার অনুকূলে (খিলাফতের) অঙ্গীকার করতেন? তিনি বললেন: না। তিনি (মাসলামা) বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৮⦘ কেন? অথচ আপনি তো তাঁর এরূপ প্রশংসা করছেন! তিনি বললেন: আমি আশঙ্কা করি যে, সন্তানের বিষয়টি একজন পিতার চোখে যেভাবে সুশোভিত হয়, তাঁর বিষয়টিও হয়তো আমার চোখে সেভাবেই সুশোভিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
13- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله حَدَّثَنِي أبي حَدَّثَنا سفيان قال مات عمر بن عبد العزيز حيث مات وما يزاد عاما بعد عام إلا فضلا وقال رجل لعمر بن عبد العزيز جزاك الله عن الإسلام خيرا فقال بل جزى الله الإسلام عني خيرا.
১৩- আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল আব্দুল আজিজ যখন ইন্তেকাল করার তখন ইন্তেকাল করেছেন, আর বছর বছর কেবল তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধিই পাচ্ছে। জনৈক ব্যক্তি উমর ইবনুল আব্দুল আজিজকে বললেন, "আল্লাহ আপনাকে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।" তখন তিনি বললেন, "বরং আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে ইসলামকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।"
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
14- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا مُحَمَّد بن غالب بن حرب حَدَّثَنا عبد الله بن أبي بكر حَدَّثَنا عون بن معمر قال كتب الحَسَن إلى عمر بن عبد العزيز سلام عليك أما بعد فكأنك بالدنيا لم تكن وبالآخرة لم تزل.
১৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে গালিব ইবনে হারব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওন ইবনে মুআম্মার। তিনি বলেন, হাসান (বসরি) উমর ইবনে আবদুল আজিজের নিকট লিখেছিলেন: আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, দুনিয়া যেন এমন যে আপনি সেখানে কখনোই ছিলেন না, আর পরকাল যেন এমন যে আপনি সেখানেই সর্বদা ছিলেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
15- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا مُحَمَّد بن غالب حَدَّثَنا عبد الله بن أبي بكر حَدَّثَنا عون بن معمر قال دخل عمر بن عبد العزيز على فاطمة فقال يا فاطمة عندك درهم نشتري به عنبا قالت أنت يا أمير المؤمنين لا تقدر على درهم فقال عمر يا فاطمة هذا أهون من معالجة الأغلال غدا في النار قال وقال رجل لعمر بن عبد العزيز لو تفرغت لنا فقال عمر وأين الفراغ ذهب الفراغ فلا فراغ إلا عند الله.
১৫- আমাদের কাছে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ বিন গালিব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আউন বিন মা’মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ ফাতেমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন, হে ফাতেমা! তোমার কাছে কি এক দিরহাম আছে যা দিয়ে আমরা কিছু আঙুর কিনতে পারি? তিনি বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন! আপনার কি এক দিরহাম খরচ করার সামর্থ্য নেই? উমর বললেন, হে ফাতেমা! কাল জাহান্নামে শিকল ও বেড়ি সামলানোর চেয়ে এটি অনেক সহজ। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, জনৈক ব্যক্তি উমর বিন আব্দুল আজিজকে বললেন, আপনি যদি আমাদের জন্য কিছুটা অবসর সময় বের করতেন। উমর বললেন, অবসর কোথায়? অবসর শেষ হয়ে গেছে, আল্লাহর নিকট ছাড়া আর কোনো অবসর নেই।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
16- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا الحارث بن مُحَمَّد حَدَّثَنا الحكم بن موسى حَدَّثَنا ضمرة قال: قال عبد العزيز بن أبي الخطاب قال: قال عبد العزيز بن عمر قال لي رجاء بن حيوة ما رأيت أحدا أكمل عقلا من أبيك سهرت معه ذات ليلة فعشا السراج فقال لي يا رجاء إن السراج قد عشا قال ووصيف نائم إلى جانبنا فقلت له فأنبه الوصيف قال قد نام قال فقلت له أقوم أنا فأصلحه قال ليس من مروءة الرجل استخدام ضيفه قال فقام ووضع ساجه وأتى السراج ففتله وأخذ بطة ففتحها وصب [في] السراج منها ثم رجع وقال قمت وأنا عمر بن عبد العزيز ورجعت وأنا عمر بن عبد العزيز.
১৬- আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাকাম ইবনে মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দামরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে আবু আল-খাত্তাব বলেছেন: আবদুল আজিজ ইবনে উমর বলেছেন: রাজা ইবনে হাইওয়াহ আমাকে বললেন, আমি তোমার পিতার চেয়ে অধিক পূর্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন কাউকে দেখিনি। এক রাতে আমি তাঁর সাথে জেগেছিলাম, তখন প্রদীপের আলো স্তিমিত হয়ে এল। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে রাজা! প্রদীপটি স্তিমিত হয়ে গেছে। রাজা বলেন, আমাদের পাশে একজন ভৃত্য ঘুমাচ্ছিল। আমি তাঁকে বললাম, তবে কি আমি ভৃত্যটিকে জাগিয়ে দেব? তিনি বললেন, সে তো ঘুমিয়ে পড়েছে। রাজা বলেন, আমি বললাম, তবে কি আমি উঠে এটি ঠিক করে দেব? তিনি বললেন, মেহমানকে দিয়ে কাজ করানো মানুষের পৌরুষোচিত শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাজা বলেন, অতঃপর তিনি উঠলেন এবং তাঁর চাদরটি রাখলেন, এরপর প্রদীপের কাছে গিয়ে সলতেটি ঠিক করলেন। তারপর একটি তেলের পাত্র নিলেন এবং তা খুলে প্রদীপে তেল ঢাললেন। এরপর ফিরে এসে বললেন, আমি যখন উঠেছিলাম তখন উমর ইবনে আবদুল আজিজ ছিলাম, আর যখন ফিরে এলাম তখনও আমি উমর ইবনে আবদুল আজিজই আছি।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭০)
17- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا الحارث بن مُحَمَّد وبشر بن موسى قالا حَدَّثَنا عفان بن مسلم حَدَّثَنِي عمر بن علي عن عبد الرحمن بن أبي هلال رجل من أهل الجزيرة سمعته منه غير مرة عن ميمون بن مهران قال قلت لعمر بن عبد العزيز ليلة يا أمير المؤمنين ما بقاؤك على ما أرى أما في أول الليل فأنت في حاجات الناس وأما وسط الليل مع جلسائك وأما آخر الليل فالله أعلم إلى ما تصير قال فضرب على كتفي وقال ويحك يا ميمون إني وجدت لقاء الرجال يلقح ألبابهم.
১৭- আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ এবং বিশর ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট আফফান ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ওমর ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে আবি হিলাল থেকে, যিনি জাজিরা অঞ্চলের একজন লোক ছিলেন, আমি তাঁর নিকট থেকে এটি একাধিকবার শুনেছি, তিনি মায়মুন ইবনে মেহরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এক রাতে ওমর ইবনে আবদুল আজিজকে বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন! আমি যা দেখছি, তাতে আপনি কীভাবে টিকে আছেন? রাতের প্রথমাংশে আপনি মানুষের প্রয়োজন মেটানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন, রাতের মধ্যভাগে আপনার সহচরদের সাথে সময় কাটান, আর রাতের শেষাংশে আপনার অবস্থা কী হয় তা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি বলেন: তখন তিনি আমার কাঁধে হাত চাপড়ালেন এবং বললেন: হে মায়মুন, তোমার কল্যাণ হোক! নিশ্চয়ই আমি দেখেছি যে, গুণী ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিকে প্রস্ফুটিত করে।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭০)
18- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا بشر بن موسى حَدَّثَنا مالك بن هانئ أبو عثمان حَدَّثَنا هارون البربري عن إبراهيم الثقفي عن عمر بن عبد العزيز قال شكا إلي غيلان مولاه فقال يا غيلان والله قد ضجرت من الخلافة وبرمت منها وما أخلقني سأهملها قال قلت يا أمير المؤمنين اتق الله يوم تفعل إذن والله يحلون ما حرم الله ويحرمون ما أحل الله تعالى يا أمير المؤمنين لو رأيتني في حمأة إلى صدري كنت تأخذ بيدي منها قال نعم يا غيلان ولكني أخاف التلطخ.
১৮- আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে হানি আবু উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারুন আল-বারবারি ইব্রাহিম আস-সাকাফি থেকে এবং তিনি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (উমর) বলেন: গায়লান—তার আযাদকৃত দাস—আমার কাছে অভিযোগ করল। তখন তিনি (উমর) বললেন: হে গায়লান! আল্লাহর কসম, আমি খিলাফতের দায়িত্বে বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি এবং সম্ভবত আমি এটি ছেড়ে দেব। তিনি (গায়লান) বললেন: আমি বললাম, হে আমিরুল মুমিনিন! যেদিন আপনি এমনটি করবেন সেদিন আল্লাহকে ভয় করুন; কেননা আল্লাহর কসম, তখন তারা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল করবে এবং মহান আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাকে হারাম করবে। হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি যদি আমাকে বুক পর্যন্ত গভীর কাদার মধ্যে দেখতেন, তবে আপনি কি আমার হাত ধরে সেখান থেকে আমাকে টেনে তুলতেন না? তিনি বললেন: হ্যাঁ হে গায়লান! কিন্তু আমি ময়লায় মাখামাখি হওয়ার ভয় করি।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭০)
19- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله حَدَّثَنِي أبي حَدَّثَنا أبو كامل حَدَّثَنا حماد يعني ابن سلمة ⦗ص: 171⦘ عن حماد قال لما استخلف عمر بكى فقال يا أبا فلان هل تخشى علي فقال كيف حبك للدرهم قال لا أحبه قال لا تخف إن الله سيعينك.
১৯- আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু কামিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাদ অর্থাৎ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৭১⦘ হাম্মাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উমর খলিফা নিযুক্ত হলেন তখন তিনি কাঁদলেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে অমুকের পিতা! আপনি কি আমার ব্যাপারে আশঙ্কা করেন? তিনি বললেন, দিরহামের প্রতি আপনার ভালোবাসা কেমন? তিনি বললেন, আমি তা ভালোবাসি না। তিনি বললেন, তবে ভয় পাবেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭১)
20- حَدَّثَنا أحمد حَدَّثَنا عبد الله بن الحَسَن الحراني حَدَّثَنا هشام بن الوليد حَدَّثَنا أبو بَكْر بن عياش قال قال الفرزدق لما مات عمر بن عبد العزيز:

كم من شريعة حق قد شرعت لهم … كانت أميتت وأخرى منك تنتظر

يالهف نفسي ولهف اللاهفين معي … مع العدول التي تنعى لها الحفر
২০- আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-হাররানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হিশাম বিন আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু বকর বিন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন আল-ফারাযদাক বললেন:

কতই না সত্য বিধান তুমি তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছ … যা মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিল এবং তোমার পক্ষ থেকে অন্যটির প্রতীক্ষা করা হচ্ছিল

হায় আমার প্রাণের আক্ষেপ এবং আমার সাথে যারা ব্যথিত তাদের আক্ষেপ … সেই ন্যায়নিষ্ঠদের বিদায়ে যাদের জন্য কবরগুলো শোকগাঁথা গাইছে
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭১)
21- حَدَّثَنا أحمد حدثنا عَبْد الله بن أحمد حدثني أبي حدثنا محمد بن عَبْد الله بن الزبير حدثنا سفيان أن رجلا قال لعمر بن عبد العزيز أبقاك الله قال هذا قد فرغ منه ادع الله لي بالصلاح.
২১- আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি উমর ইবনে আবদুল আজিজকে বললেন, "আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন।" তিনি বললেন, "এটি তো নির্ধারিত হয়ে গেছে; বরং আল্লাহর কাছে আমার সংশোধনের জন্য দোয়া করুন।"
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭১)
22- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله حدثني أبي حدثني محمد بن عَبْد الله حدثنا سفيان عن عمر بن عبد العزيز قال من عمل بغير علم كان ما يفسد أكثر مما يصلح.
২২- আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আবদুল আজিজ থেকে, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি জ্ঞান ব্যতীত আমল করে, সে সংশোধনের চেয়ে নষ্টই বেশি করে।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭২)
23- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله حدثني أبي حدثنا محمد بن عَبْد الله حدثنا سفيان عن جعفربن برقان قال كتب عمر بن عبد العزيز إن أناسا يلتمسون الدنيا بعمل الآخرة وإن مصيرهم ومرجعهم إلى الله وإن أناسا من هؤلاء القصاص يصلون على خلفائهم وأمرائهم فمروهم فليدعو للمؤمنين عامة وليتركوا ما سوى ذلك.
২৩- আহমাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর বিন বুরকান থেকে; তিনি বলেন: উমর বিন আবদুল আজিজ লিখে পাঠিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই কিছু মানুষ পরকালের আমল দ্বারা দুনিয়া অন্বেষণ করে, অথচ তাদের শেষ গন্তব্য ও প্রত্যাবর্তন আল্লাহর কাছেই। আর এই সব কাহিনীকারদের (ওয়ায়েজ) মধ্য থেকে একদল লোক তাদের খলিফা ও আমিরদের জন্য বিশেষ দোয়া করে; সুতরাং তোমরা তাদের নির্দেশ দাও যেন তারা সাধারণভাবে সকল মুমিনের জন্য দোয়া করে এবং এ ছাড়া অন্য সব কিছু যেন বর্জন করে।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭২)
24- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله بن أحمد حدثني أبي حدثنا علي بن إسحاق حدثنا عَبْد الله يعني ابن المبارك حدثنا جعفر بن حيان حدثنا توبة العنبري قال أرسلني صالح بن عَبْد الرَّحْمن إلى سليمان قال فقدمت إليه فقلت لعمر بن عبد العزيز هل لك حاجة إلى صالح قال له عليك بالذي يبقى عند الله فإنه ما بقي عند الله يبقى عند الناس وما لم يبق عند الله لم يبق عند الناس.
২৪- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে হাইয়ান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাওবাহ আল-আনবারী, তিনি বলেন: সালেহ ইবনে আবদুর রহমান আমাকে সুলাইমানের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন, অতঃপর আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজকে বললাম, "সালেহ-এর নিকট কি আপনার কোনো প্রয়োজন আছে?" তিনি তাকে বললেন, "তুমি সেই বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হও যা আল্লাহর নিকট অবশিষ্ট থাকে; কেননা যা আল্লাহর নিকট অবশিষ্ট থাকে, তা মানুষের নিকটও অবশিষ্ট থাকে। আর যা আল্লাহর নিকট অবশিষ্ট থাকে না, তা মানুষের নিকটও অবশিষ্ট থাকে না।"
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭২)
25- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله بن أحمد حدثني أبي حدثنا علي أَخْبَرنا عَبْد الله حدثنا وهيب أو غيره عن عمر بن عبد العزيز قال من عد كلامه من عمله قل كلامه.
২৫- আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট উহাইব অথবা অন্য কেউ উমর বিন আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি নিজের কথাকে নিজের কর্মের অন্তর্ভুক্ত মনে করে, তার কথা কমে যায়।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭২)
26- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله حدثني أبي حدثنا إبراهيم بن إسحاق الطالقاني حدثنا ابن المبارك عن جرير بن حازم عن رجل عن فاطمة بنت عبد الملك قالت اشتهى عمر بن عبد العزيز عسلا فلم يكن عندنا فوجهنا رجلا على دابة من دواب البريد إلى بعلبك فأتى بعسل فقلت يوما إنك ذكرت لنا عسلا وعندنا عسل فهل لك فيه فقال نعم فأتيناه به فشربه ثم قال من أين لكم هذا ⦗ص: 173⦘ العسل قلت وجهت رجلا على دابة من دواب البريد بدينار إلى بعلبك فاشترى لنا عسلا فأرسل إلى الرجل فجاء به فقال انطلق بهذا العسل فبعه واردد إلينا مالنا وانظر إلى الفضل فاجعله في علف دواب البريد.
২৬- আমাদের নিকট আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আত-তালকানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন জারির ইবনে হাযিম থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে আবদুল মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে আবদুল আজিজ মধু খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করলেন, কিন্তু আমাদের নিকট কোনো মধু ছিল না। তাই আমরা সরকারি ডাক বিভাগের একটি পশুর পিঠে আরোহণ করিয়ে এক ব্যক্তিকে বালবাক শহরে পাঠালাম এবং সে মধু নিয়ে এল। একদিন আমি বললাম: আপনি আমাদের নিকট মধুর আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করেছিলেন, এখন আমাদের নিকট মধু আছে; আপনি কি তা গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর আমরা তা তাঁর নিকট নিয়ে এলাম এবং তিনি তা পান করলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের নিকট এই ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৩⦘ মধু কোথা থেকে এল? আমি বললাম: আমি ডাক বিভাগের একটি পশুর পিঠে চড়িয়ে এক দিনার দিয়ে এক ব্যক্তিকে বালবাক পাঠিয়েছিলাম, সে আমাদের জন্য মধু কিনে এনেছে। তখন তিনি সেই লোকটিকে ডেকে পাঠালেন। সে এলে তিনি বললেন: এই মধু নিয়ে যাও এবং এটি বিক্রি করে দাও; আমাদের মূলধন আমাদের নিকট ফেরত দাও আর যা অতিরিক্ত মুনাফা হবে তা ডাক বিভাগের পশুদের খাদ্যের জন্য দিয়ে দাও।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
27- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله حدثني أبي حدثنا يحيى بن عبد الملك بن أبي غنية حدثنا حفص بن عمر قال كتب عمر بن عبد العزيز إلى أبي بكر بن عمرو أما بعد فقد قرأت كتابك الذي كتبت به إلى سليمان وكنت المبتلى بالنظر فيه دونه كتبت تسأله أن يعطيكم من الشمع مثل الذي كان يعطي لمن كان قبلك وتذكر أن الشمع الذي قبلك قد نفذ ولعمري لطال ما رأيتك تخرج من منزلك إلى مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في الليلة الوحلة بغير ضياء ولعمري لأنت اليوم خير من قبل اليوم والسلام.
২৭- আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমার নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল মালিক ইবনে আবি গুনিয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাফস ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে আবদুল আজিজ আবু বকর ইবনে আমরের নিকট লিখেছেন: অতঃপর, আমি আপনার সেই পত্রটি পাঠ করেছি যা আপনি সুলাইমানের কাছে লিখেছিলেন, আর তাঁর পরিবর্তে সেটি পর্যালোচনা করার পরীক্ষায় আমিই পতিত হয়েছি। আপনি তাঁর কাছে আবেদন করেছিলেন যেন তিনি আপনাকে সেই পরিমাণ মোমবাতি প্রদান করেন যেমনটি তিনি আপনার পূর্ববর্তীদের প্রদান করতেন, এবং আপনি উল্লেখ করেছিলেন যে আপনার পূর্বের মোমবাতি শেষ হয়ে গেছে। আমার জীবনের কসম, দীর্ঘকাল আমি আপনাকে কর্দমাক্ত রাতে কোনো আলো ছাড়াই আপনার গৃহ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদের দিকে বের হতে দেখেছি। আর আমার জীবনের কসম, আজকের আপনি বিগত দিনগুলোর চেয়েও অধিক উত্তম। ওয়াসসালাম।
(খণ্ড: ১) জুযউল গদাইরী (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
28- حدثنا أحمد حدثنا عَبْد الله حدثنا أبي حدثنا يحيى بن عبد الملك بن أبي غنية عن أبي عثمان الثقفي قال كان لعمر بن عبد العزيز غلام يعمل على بغل له يأتيه بدرهم كل يوم فجاءه يوما بدرهم ونصف فقال ما بدا لك قال نفقت السوق قال لا ولكنك أتعبت البغل أرحه ثلاثة أيام.
২৮- আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল মালিক বিন আবি গুনিইয়াহ আমাদের নিকট আবু উসমান আস-সাকাফী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজের একজন দাস ছিল যে তাঁর একটি খচ্চরের মাধ্যমে কাজ করত এবং প্রতিদিন তাঁকে এক দিরহাম এনে দিত। একদিন সে তাঁর নিকট দেড় দিরহাম নিয়ে আসল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার কী হলো (অর্থাৎ দিরহাম বৃদ্ধি পেল কেন)?" সে বলল, "বাজারে বেচাকেনা চড়া ছিল।" তিনি বললেন, "না, বরং তুমি খচ্চরটিকে ক্লান্ত করে ফেলেছ। একে তিন দিন বিশ্রাম দাও।"