(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: -)
معجم الشيوخ للسبكي   (تاج الدين ابن السبكي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: معجم الشيوخ

المؤلف: تاج الدين عبد الوهاب بن تقي الدين السبكي (ت 771هـ)

تخريج: شمس الدين أبي عبد الله ابن سعد الصالحي الحنبلي 703 - 759 هـ

المحقق: الدكتور بشار عواد - رائد يوسف العنبكي - مصطفى إسماعيل الأعظمي

الناشر: دار الغرب الإسلامي

الطبعة: الأولى 2004

عدد الصفحات: 632

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুবকী-র মু'জামুশ শুয়ুখ   (তাজুদ্দিন ইবনে সুবকী)

বিভাগ: জীবনী ও চরিতভিধান


গ্রন্থ: মু'জামুশ শুয়ুখ

লেখক: তাজুদ্দিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন তাকিউদ্দিন আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭১ হি.)

সংকলন: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ আস-সালিহি আল-হাম্বলি ৭০৩ - ৭৫৯ হিজরি

সম্পাদক: ডক্টর বাশার আওয়াদ - রাঈদ ইউসুফ আল-আনবাকী - মুস্তফা ইসমাইল আল-আজমী

প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি

সংস্করণ: প্রথম, ২০০৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৩২

[বইয়ের নম্বরকরণ মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খাইর আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: -)
معجم الشيوخ

 

لتاج الدين عبد الوهاب بن علي السبكي

727 - 771 هـ

 

تخريج

الحافظ شمس الدين أبي عبد الله ابن سعد الصالحي الحنبلي

703 - 759 هـ

 

حققه وعلق عليه

الدكتور بشار عواد - رائد يوسف العنبكي - مصطفى إسماعيل الأعظمي

 

دار الغرب الإسلامي

 

الطبعة الأولى

2004
মু'জামুশ শুয়ূখ

 

তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন আলী আস-সুবকীর

৭২৭ - ৭৭১ হিজরি

 

তাখরীজ করেছেন

আল-হাফিজ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ ইবন সা'দ আস-সালিহী আল-হাম্বলী

৭০৩ - ৭৫৯ হিজরি

 

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন

ডক্টর বাশার আওয়াদ - রায়েদ ইউসুফ আল-আনবাকী - মুস্তাফা ইসমাঈল আল-আ'জমী

 

দারুল গারব আল-ইসলামী

 

প্রথম সংস্করণ

২০০৪
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى نِعَمِهِ الَّتِي طَابَ حَدِيثُهَا، وَطَارَ ذِكْرُ عَوَارِفِهَا، فَمَا آنَ لأَنْجُمِهَا مَغِيبُهَا، وَلا فُقِدَ فِي الشَّدَائِدِ مُغِيثُهَا، وَطَالَ بِنَاءُ مَجْدِهَا فَعَلا عَلَى الْمَجَرَّةِ أَثِيلُهَا، وَأَخْمَلَ نَبْتَ الْخَمَائِلِ أَثِيثُهَا.

نَحْمَدُهُ عَلَى نِعَمِهِ الَّتِي حَشَرَتْنَا فِي زُمْرَةِ مَنْ حَدَّثَ وَأَخْبَرَ، وَجَمَعَ الآثَارَ النَّبَوِيَّةَ فَوَشَّى الطُّرُوسَ بِهَا وَحَبَّرَ، وَأَفَادَ وَاسْتَفَادَ فَأَقْبَلَ عَلَى الْخَيْرِ لَمَّا تَوَلَّى الشَّيْطَانُ عَنْهُ وَأَدْبَرَ، وَنَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ شَهَادَةً مَتْنُهَا الْحَسَنُ صحيحٌ، وَطَرِيقُهَا لَمْ يَمْشِ فِيهِ ضعيفٌ وَلا جريحٌ، وَنَشْهَدُ أَنَّ سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا عَبْدُهُ الْمُرْسَلُ، وَنَبِيُّهُ الَّذِي لا يُرَدُّ حُكْمُهُ وَلا يُهْمَلُ، وَحَبِيبُهُ الَّذِي فَاضَ الْجُودُ عَنْ يَمِينِهِ، وَتَسَلْسَلَ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ الَّذِينَ أَعْضَلَ عَلَى الْبَاطِلِ أمرهم، وأشكل على البهتان ذكرهم وأصبح موقوفاً عَلَى الرِّيَاضِ النَّافِحَةِ بِشْرُهُمْ وَنَشْرُهُمْ، صَلاةً يُصْبِحُ حَدِيثُهَا إِلَى الْفِرْدَوْسِ مَرْفُوعًا، وَفَضْلُهَا بَيْنَ النُّجُومِ الزَّاهِرَةِ مَوْضُوعًا، مَا اتَّصَلَ سندٌ بِالرِّوَايَةِ، وَنُشِرَتْ فِي مَوَاقِفِ السَّمَاعِ مِنَ الطُّرُوسِ رَايَةٌ، وَسَلِّمْ تَسْلِيمًا كَثِيرًا إِلَى يَوْمِ الدِّينِ.

وَبَعْدُ فَلَمَّا كَانَ فَنُّ الرِّوَايَةِ مِنْ أَجَلِّ الْفُنُونِ، وَأَجْمَلِ الْفَضَائِلِ الَّتِي تَشْخَصُ لَهَا الْعُيُونُ، بِهِ يَتَّصِلُ مَا انْقَطَعَ خَبَرُهُ وَطَالَتْ عَلَيْهِ الْمُدَّةُ حَتَّى كَادَ يُمْحَى أَثَرُهُ، فَضَبَطَ الرُّوَاةُ مَا شَذَّ مِنْ طُرُقِهِ وَحَفِظُوهُ، وَمَيَّزُوا الدَّخِيلَ فِيهِ فَجَرُّوهُ إِلَى خَارِجٍ وَخَفَضُوهُ، فَهُمُ الأُصُولُ لِكُلِّ علمٍ، وَأَصْحَابُ الْهِمَمِ الْعَالِيَةِ فِي الْحَرْبِ وَالسِّلْمِ، يَرُدُّونَ كُلَّ قولٍ إِلَى قَائِلِهِ، وَيُحَرِّرُونَ مَا تَأَصَّلَ مِنْهُ وَمَا تَفَرَّعَ فِي مَسَائِلِهِ.

وَكَانَ سَيِّدُنَا وَمَوْلانَا قَاضِي الْقُضَاةِ تَاجُ الدِّينِ سَيِّدُ الْعُلَمَاءِ الأَعْلامِ، جَلالُ الإِسْلامِ، حَبْرُ الأُمَّةِ، قُدْوَةُ الأَئِمَّةِ، لِسَانُ النُّظَّارِ، رِحْلَةُ الْمُحَدِّثِينَ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর সেই নিআমতরাজির ওপর, যার আলোচনা আনন্দদায়ক এবং যার অনুগ্রহের সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর সেই নিআমত রূপ নক্ষত্ররাজির অস্ত যাওয়ার সময় এখনও আসেনি, আর কঠিন বিপদে সেগুলোর সাহায্যকারীও হারিয়ে যায়নি। তাঁর গৌরবের ভিত্তি সুদীর্ঘ হয়েছে এবং তাঁর মহত্ত্ব ছায়াপথকেও ছাড়িয়ে গেছে, আর তাঁর সেই প্রাচুর্য বাগিচার উদ্ভিদরাজির ঘনতাকে ম্লান করে দিয়েছে।

আমরা তাঁর প্রশংসা করি এমন নিআমতের ওপর, যা আমাদের সেই দলের অন্তর্ভুক্ত করেছে যারা হাদীস বর্ণনা ও প্রচার করেছেন এবং নববীয় নিদর্শনসমূহ সংগ্রহ করে তা দিয়ে পাণ্ডুলিপিগুলোকে সুশোভিত ও অলংকৃত করেছেন; আর নিজেরা উপকৃত হয়েছেন ও অন্যদের উপকৃত করেছেন। ফলে শয়তান যখন মুখ ফিরিয়ে পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে যায়, তখন তারা কল্যাণের পথে অগ্রসর হয়েছেন। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক সাক্ষ্য যার মূল পাঠ হাসান ও সহীহ, আর যার পথে কোনো দুর্বল বা বিতর্কিত বর্ণনাকারী পদচারণা করেনি। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর প্রেরিত বান্দা এবং তাঁর এমন নবী যার বিধান প্রত্যাখ্যান করা হয় না এবং অবহেলাও করা হয় না। তিনি আল্লাহর প্রিয়তম, যাঁর ডান হাত থেকে দানশীলতা উপচে পড়েছে এবং যা অবিচ্ছিন্ন। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের ওপর, যাঁদের বিষয়াদি বাতিলের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, যাঁদের কথা মিথ্যা অপবাদের জন্য জটিল হয়ে পড়েছে এবং যাঁদের প্রফুল্লতা ও সুবাস সুগন্ধি ছড়ানো উদ্যানগুলোর ওপর নিবদ্ধ হয়েছে। এমন দরুদ, যার সংবাদ জান্নাতুল ফিরদাউস পর্যন্ত সমুন্নত হয় এবং যার শ্রেষ্ঠত্ব উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মাঝে স্থাপিত হয়; যতক্ষণ পর্যন্ত বর্ণনার মাধ্যমে কোনো সনদ সংযুক্ত থাকবে এবং শ্রবণের মজলিসগুলোতে পাণ্ডুলিপি থেকে জ্ঞানের ঝাণ্ডা উড্ডীন থাকবে। আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর ওপর অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, যেহেতু বর্ণনাবিদ্যা শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং সুন্দরতম গুণাবলির অন্যতম যার দিকে সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকে; এর মাধ্যমেই এমন সব সংবাদকে সংযুক্ত করা হয় যার যোগসূত্র বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে যার চিহ্ন প্রায় মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ফলে বর্ণনাকারীরা এর বিচ্ছিন্ন পথগুলোকে সুবিন্যস্ত করেছেন ও তা সংরক্ষণ করেছেন এবং এর মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করে তা বাইরে নিক্ষেপ করেছেন ও বর্জন করেছেন। তারাই সকল জ্ঞানের মূল ভিত্তি এবং যুদ্ধ ও শান্তিতে সুউচ্চ হিম্মতের অধিকারী। তারা প্রতিটি উক্তিকে তার বক্তার দিকে ফিরিয়ে দেন এবং এর মূল ও শাখা বিষয়গুলোকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেন।

আর আমাদের নেতা ও অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি তাজউদ্দীন, বরেণ্য আলেমদের নেতা, ইসলামের মহিমা, উম্মাহর বিদগ্ধ পণ্ডিত, ইমামদের আদর্শ, তার্কিকদের মুখপাত্র, মুহাদ্দিসদের আশ্রয়স্থল—
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حُجَّةُ الْمُحَقِّقِينَ، أَوْحَدُ الْمُجْتَهِدِينَ، عُمْدَةُ الْحُفَّاظِ، عَلَمُ الرِّوَايَةِ، مُنْتَهَى الدِّرَايَةِ، مُفْتِي الْفِرَقِ، مُؤَيِّدُ الشَّرِيعَةِ، مُفِيدُ الطُّلابِ، رَئِيسُ الأَصْحَابِ أَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْوَهَّابِ ابْنُ سَيِّدِنَا وَمَوْلانَا قَاضِي الْقُضَاةِ تَقِيِّ الدِّينِ شَيْخِ الإِسْلامِ، بَرَكَةِ الأَنَامِ، شَيْخِ الْمُجْتَهِدِينَ، بَقِيَّةِ السَّلَفِ، عُمْدَةِ الْخَلَفِ، نِظَامِ الدَّوْلَةِ، بَهَاءِ الْمِلَّةِ، عِزِّ السُّنَّةِ، سَيِّدِ الْعُلَمَاءِ وَالْحُكَّامِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيٍّ ابْنِ سَيِّدِنَا وَمَوْلانا قَاضِي الْقُضَاةِ زَيْنِ الدِّينِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْكَافِي بْنِ عَلِيِّ بْنِ تَمَّامٍ السُّبْكِيِّ الأَنْصَارِيِّ الْخَزْرَجِيِّ الشَّافِعِيِّ أَدَامَ اللَّهُ أَيَّامَهُ وَبَرَكَتَهُ، وَأَنْفَذَ أَحْكَامَهُ وَأَقْضِيَتَهُ مِمَّنِ اجْتَهَدَ فِي سَمَاعِ الْحَدِيثِ وَدَأَبَ، وَنَسَلَ إِلَى أَخْذِهِ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ، وَقَرَأَ عَلَى الأَشْيَاخِ بِنَفْسِهِ، وَطَرَّزَ مُلاءَةَ أَمَالِيهِ بِعُلُوِّ سَنَدِهِ فِي بَحْثِهِ وَدَرْسِهِ، وَمَلَكَ ثَغْرَ الْفَوَائِدِ وَحَصَّنَهُ بِالْعَوَالِي، وَحَاطَهُ بِمَا يَرُوقُ مِنْ مَحَاسِنِ الأَمَالِي.

جَمَعَ الْفِقْهَ وَالأُصُولَ وَقَوَّى … بِالْحَدِيثِ الشَّرِيفِ تِلْكَ الدَّلائِلْ

قُلْ لِمَنْ قَدْ غَدَا يُسَامِي عُلاهُ … هَكَذَا هَكَذَا تَكُونُ الْفَضَائِلْ

جَمَعْتُ لَهُ هَذِهِ الْمَشْيَخَةَ الْمُبَارَكَةَ لِمَنْ يَسْمَعُهَا عَلَيْهِ، وَيَتَشَرَّفُ إِذَا جَلَسَ فِي حلقةٍ أَوْ تَمَثَّلَ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَقَدْ جَاءَتْ بِحَمْدِ اللَّهِ مَشْيَخَةٌ قَلَّ مَنْ يتفق له فيها ما اتَّفَقَ، أَوْ قَارَبَ حُسْنَهَا وَلَوْ رَكِبَ مِنَ الاجْتِهَادِ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ.

وَقَدْ رَتَّبْتُ شُيُوخَهَا على ترتيب حروف الْمُعْجَمِ لِيَسْهُلَ ذَلِكَ عَلَى الطَّالِبِ وَيَعْلَمَ، فَبَلَغَ عِدَّةُ الشُّيُوخِ بِالسَّمَاعِ وَالإِجَازَةِ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ مئةً واثنين وسبعين شيخاً، فعدة الرجال مئة وَثَلاثَةٌ وَخَمْسُونَ شَيْخًا، وَعِدَّةُ النِّسَاءِ تِسْعَ عَشْرَةَ امرأةً، فشيوخ السماع مئةً وَسِتَّةٌ وَثَلاثُونَ شَيْخًا وَشُيُوخُ الإِجَازَةِ ستةٌ وَثَلاثُونَ شَيْخًا وَهُمُ الْمُعَلَّمُ عَلَيْهِمْ بِالْحُمْرَةِ.

وَذَكَرْتُ تَرْجَمَةَ الشَّيْخِ وَبَعْضَ شُيُوخِهِ وَمَوْلِدَهُ وَوَفَاتَهُ وَبَعْضَ مَسْمُوعَاتِهِ عَلَيْهِ حَسْبَ مَا تَيَسَّرَ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنَّ شُيُوخَهُ بِالسَّمَاعِ وَالإِجَازَةِ فِي الْقَاهِرَةِ وَدِمَشْقَ كثيرةٌ، وَلَمْ يُمْكِنِ الاطِّلاعُ عَلَى أَكْثَرِ مِنْ ذَلِكَ، فَإِنْ وُجِدَ بَعْدَ تَخْرِيجِ هَذِهِ الْمَشْيَخَةِ شيءٌ مِنْ شُيُوخِ السَّمَاعِ أَوْ مِنْ عَوَالِي
গবেষকগণের অকাট্য দলিল, মুজতাহিদগণের মাঝে অনন্য, হাফেজগণের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়, রেওয়ায়েত বা বর্ণনাশাস্ত্রের নিশান, দেরায়াত বা অনুধাবনশাস্ত্রের চূড়ান্ত সীমা, বিভিন্ন মতাবলম্বীদের মুফতি, শরীয়তের সমর্থক, তালিবে ইলমদের হিতাকাঙ্ক্ষী, ইমামগণের নেতা আবু নাসর আব্দুল ওয়াহহাব—যিনি আমাদের সরদার ও অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি তাকীউদ্দীন শাইখুল ইসলাম, সৃষ্টির জন্য বরকতস্বরূপ, মুজতাহিদগণের শাইখ, সালাফ বা পূর্বসূরিদের অবশিষ্টাংশ, খালাফ বা উত্তরসূরিদের স্তম্ভ, রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা, মিল্লাতের সৌন্দর্য, সুন্নাহর সম্মান, উলামা ও বিচারকগণের নেতা আবু হাসান আলী ইবনে আমাদের সরদার ও অভিভাবক প্রধান বিচারপতি যাইনুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাফী বিন আলী বিন তাম্মাম আস-সুবকী আল-আনসারী আল-খাজরাজী আশ-শাফিয়ী-এর পুত্র। আল্লাহ তাঁর আয়ু ও বরকত দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং তাঁর হুকুম ও বিচারসমূহ জারি রাখুন। তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেছেন এবং সবদিক থেকে তা সংগ্রহের জন্য দ্রুত ধাবিত হয়েছেন। তিনি নিজেই শাইখদের নিকট পাঠ করেছেন এবং তাঁর আলোচনা ও পাঠদানে উচ্চ সনদের মাধ্যমে তাঁর ইমলা বা শ্রুতলিপির আবরণকে সুশোভিত করেছেন। তিনি ইলমি ফায়দা বা উপকারিতার দুর্গকে করায়ত্ত করেছেন এবং উচ্চতর সনদের মাধ্যমে সেগুলোকে সুরক্ষিত করেছেন এবং মনোরম সব ইমলা বা পান্ডুলিপির মাধুর্য দিয়ে তা পরিবেষ্টিত করেছেন।

তিনি ফিকহ ও উসুলকে একত্রিত করেছেন এবং শক্তিশালী করেছেন … হাদিসে শরীফের মাধ্যমে সেই সকল দলিলকে।

বলুন তাকে, যে তার উচ্চতার সমকক্ষ হতে চায় … এভাবেই, এভাবেই অর্জিত হয় শ্রেষ্ঠত্বসমূহ।

আমি তাঁর জন্য এই বরকতময় মাশইয়াখাহ (উস্তাদগণের তালিকা) সংকলন করেছি তাদের জন্য যারা তাঁর নিকট এটি শ্রবণ করবে এবং ধন্য হবে যখন তারা মজলিসে বসবে কিংবা তাঁর সামনে উপস্থিত হবে। আল্লাহর প্রশংসায় এটি এমন এক মাশইয়াখাহ হিসেবে প্রণীত হয়েছে যার অনুরূপ খুব কমই সংগৃহীত হয়, অথবা এর সৌন্দর্যের ধারেকাছে পৌঁছানো সম্ভব হয় না, যদিও কেউ সাধনার স্তরের পর স্তর অতিক্রম করে।

আমি এর শাইখদের বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি যাতে শিক্ষার্থীর জন্য তা সহজ হয় এবং সে অবগত হতে পারে। শ্রবণ ও ইজাজাতের ভিত্তিতে পুরুষ ও নারী মিলিয়ে শাইখদের সংখ্যা একশত বাহাত্তরে উপনীত হয়েছে। পুরুষ শাইখদের সংখ্যা একশত তিপ্পান্ন জন এবং নারী শাইখদের সংখ্যা উনিশ জন। শ্রবণের মাধ্যমে উস্তাদ একশত ছত্রিশ জন এবং ইজাজাতের মাধ্যমে উস্তাদ ছত্রিশ জন, যাদের নাম লাল বর্ণে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমি উক্ত শাইখের জীবনী, তাঁর কতিপয় উস্তাদ, জন্ম ও মৃত্যু এবং তাঁর নিকট শ্রুত বিষয়সমূহ যতটুকু সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করেছি। কেননা কায়রো ও দামেস্কে শ্রবণ ও ইজাজাতের মাধ্যমে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা অনেক, আর এর বেশি অবগত হওয়া সম্ভব হয়নি। যদি এই মাশইয়াখাহ সংকলনের পর শ্রবণের কোনো উস্তাদ কিংবা কোনো উচ্চতর সনদ পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
شُيُوخِ الإِجَازَةِ خَرَجَ عَنْهُمْ فِي جُزْءٍ مفردٍ وجعل كالذيل على المشيخة، والله المسؤول فِي دَوَامِ أَيَّامِهِ وَفَوَائِدِهِ، وَبَثِّ مَحَاسِنِهِ لأَهْلِ الْعِلْمِ وَفَرَائِدِهِ، إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قديرٌ، وَبِالإِجَابَةِ جديرٌ، وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
ইজাজত প্রদানকারী শায়খগণ; তাঁদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো একটি পৃথক খণ্ডে সংকলিত করা হয়েছে এবং তা মাশয়াখার পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা তাঁর দিনগুলোর স্থায়িত্ব ও উপকারের ধারাবাহিকতার জন্য, এবং জ্ঞানপিপাসুদের মাঝে তাঁর কল্যাণসমূহ ও অনন্য ইলম ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং প্রার্থনা কবুলের যোগ্য। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الشَّيْخُ الأَوَّلُ

‌‌1- إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ لُؤْلُؤِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ابْنُ صَاحِبِ الْمَوْصِلِ الْمِصْرِيُّ، الأمير قطب الدين أبو إسحاق بن مجاهد الدين ابن بدر الدين

سمع من أَبِي عِيسَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلاقٍ، وَالنَّجِيبِ عَبْدِ اللَّطِيفِ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ ابْنَيْ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحَرَّانِيِّ، وَحَدَّثَ هُوَ وَأَخَوَاهُ مُحَمَّدٌ وَعَلِيٌّ، وَكَانَ هَذَا دَيِّنًا عِنْدَهُ وسواسٌ فِي طَهُورِهِ.

مَوْلِدُهُ فِي لَيْلَةِ الأَحَدِ الثَّالِثِ وَالْعِشْرِينَ مِنَ الْمُحَرَّمِ سَنَةَ سِتِّينَ وست مئة، وَتُوُفِّيَ فِي رَابِعَ عَشَرَ شَوَّالٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وثلاثين وسبع مئة بِمِصْرَ، وَصُلِّيَ عَلَيْهِ مِنَ الْغَدِ وَدُفِنَ بِالْقَرَافَةِ.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ حُضُورًا فِي الرَّابِعَةِ كِتَابَ الْجُمُعَةِ لِلإِمَامِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيِّ، بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ عَلاقٍ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الْبُوصِيرِيِّ، عَنْ أَبِي صَادِقٍ الْمَدِينِيِّ، عَنِ ابْنِ الطَّفَّالِ، عَنِ ابْنِ حَيُّوَيْهِ، عَنْهُ. وَسَمِعْتُ عَلَيْهِ حُضُورًا فِي الْخَامِسَةِ ((أَحَادِيثَ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ بْنِ يَزِيدَ الْعَبْدِيِّ)) بِسَمَاعِهِ مِنَ النَّجِيبِ بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ كُلَيْبٍ، عَنِ ابْنِ بَيَانٍ، عَنِ ابْنِ مَخْلَدٍ، عَنِ الصَّفَّارِ، عَنْهُ.

أَخْبَرَنَا الأَمِيرُ قُطْبُ الدِّينِ أَبُو إسحاق إبراهيم بن إسحاق بن لؤلؤ ابن عَبْدِ اللَّهِ ابْنُ صَاحِبِ الْمَوْصِلِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ نَجِيبُ الدِّينِ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ اللَّطِيفِ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ نَصْرِ
প্রথম শাইখ

‌‌১- ইবরাহীম ইবন ইসহাক ইবন লুলু ইবন আবদুল্লাহ ইবন সাহিবুল মাওসিলি আল-মিসরি, আমির কুতুবুদ্দীন আবু ইসহাক ইবন মুজাহিদুদ্দীন ইবন বদরুদ্দীন

তিনি আবু ঈসা আবদুল্লাহ ইবন আবদুল ওয়াহিদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আল্লাক, এবং নাজীব আবদুল লতিফ ও আবদুল আজিজ ইবন আবদুল মুনইম আল-হাররানি থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি এবং তাঁর দুই ভাই মুহাম্মদ ও আলী হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ধর্মপ্রাণ ছিলেন, তবে তাঁর পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে শুচিবায়ু (অসওয়াসা) ছিল।

তাঁর জন্ম ৬৬০ হিজরি সালের ২৩শে মুহাররম রবিবার দিবাগত রাতে এবং তিনি ৭৩৮ হিজরি সালের ১৪ই শাওয়াল মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তাঁর জানাজা পড়া হয় এবং তাঁকে আল-কারাফায় দাফন করা হয়।

আমি আমার চতুর্থ বর্ষে তাঁর উপস্থিতিতে ইমাম আবু আবদুর রহমান আন-নাসায়ীর 'কিতাবুল জুমুআ' শ্রবণ করেছি; যা তিনি ইবন আল্লাক থেকে, তিনি বুসিরি থেকে, তিনি আবু সাদিক আল-মাদিনি থেকে, তিনি ইবনুত তাফফাল থেকে, তিনি ইবন হাইয়ুওয়াইহ থেকে এবং তিনি নাসায়ী থেকে শ্রবণ করেছেন। আমি আমার পঞ্চম বর্ষে তাঁর উপস্থিতিতে 'হাসান ইবন আরাফাহ ইবন ইয়াযীদ আল-আবদীর হাদিসসমূহ' শ্রবণ করেছি; যা তিনি নাজীব থেকে, তিনি ইবন কুলাইব থেকে, তিনি ইবন বায়ান থেকে, তিনি ইবন মাখলাদ থেকে, তিনি সাফফার থেকে এবং তিনি হাসান ইবন আরাফাহ থেকে শ্রবণ করেছেন।

আমির কুতুবুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবন ইসহাক ইবন লুলু ইবন আবদুল্লাহ ইবন সাহিবুল মাওসিল আমাদের কাছে পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন—যেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম—তিনি বলেন: শাইখ নাজীবুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুল লতিফ ইবন আবদুল মুনইম ইবন আলী ইবন নাসর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ابْنِ الصَّيْقَلِ الْحَرَّانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ سَعْدِ بْنِ صَدَقَةَ بْنِ كُلَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ بَيَانٍ الرَّزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الصَّفَّارُ فِي رَمَضَانَ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلاثِينَ وَثَلاثِ مئة، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ بْنِ يَزِيدَ الْعَبْدِيُّ فِي ذِي الْحَجَّةِ سَنَةَ ست وخمسين ومئتين، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ سَعِيدٍ أَخُو سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((أَيَمْنَعُ أَحَدَكُمْ أَنْ يُكَبِّرَ فِي دُبُرِ كُلِّ صلاةٍ عَشْرًا، وَيُسَبِّحَ عَشْرًا، وَيَحْمَدَ عَشْرًا، فَذَلِكَ فِي خَمْسِ صلواتٍ، خَمْسُونَ ومئة باللسان وألفٌ وخمس مئةٍ فِي الْمِيزَانِ، وَإِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كَبَّرَ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ، وَحَمِدَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَسَبَّحَ ثَلاثًا وثلاثين، فتلك مئةٌ بِاللِّسَانِ وألفٌ فِي الْمِيزَانِ)) قَالَ: ثُمَّ قَالَ ((وَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ أَلْفَيْنِ وَخَمْسَ مئة سيئةٍ؟)) .

أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ يَحْيَى خَيَّاطِ السُّنَّةِ، عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا عَالِيًا بِثَلاثِ دَرَجَاتٍ.
ইবন সাইকাল আল-হাররানি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফরাজ আব্দুল মুনয়িম ইবন আব্দুল ওয়াহহাব ইবন সাদ ইবন সাদাকা ইবন কুলাইব আল-হাররানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলি ইবন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন বায়ান আর-রাজজাজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহিম ইবন মাখলাদ আল-বাজজাজ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলি ইসমাইল ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আস-সাফফার ৩৩৯ হিজরির রমজান মাসে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু আলি হাসান ইবন আরাফাহ ইবন ইয়াজিদ আল-আবদি ২৫৬ হিজরির জিলহজ মাসে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরির ভাই মুবারাক ইবন সাইদ, মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি মুসআব ইবন সাদ থেকে, তিনি সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের কারো পক্ষে কি এটি অসম্ভব যে, সে প্রত্যেক সালাতের পর ১০ বার তাকবীর বলবে, ১০ বার তাসবীহ পাঠ করবে এবং ১০ বার তাহমীদ করবে? আর এটি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মুখে হবে ১৫০ বার এবং মিজানে (আমলের পাল্লায়) হবে ১,৫০০ বার। আর যখন সে তার বিছানায় আশ্রয় গ্রহণ করবে, তখন যেন ৩৪ বার তাকবীর বলবে, ৩৩ বার তাহমীদ করবে এবং ৩৩ বার তাসবীহ পাঠ করবে; এটি মুখে হবে ১০০ বার এবং মিজানে হবে ১,০০০ বার।” তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “আর তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে যে দিনে ও রাতে ২,৫০০টি মন্দ কাজ করে?”

এটি ইমাম নাসাঈ যাকারিয়া ইবন ইয়াহইয়া খইয়্যাত আস-সুন্নাহ-এর সূত্রে ইবন আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; ফলে এটি আমাদের জন্য তিন স্তরের উচ্চতর বদল হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ قُطْبُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ لُؤْلُؤِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ابْنُ صَاحِبِ الْمَوْصِلِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ فِي الرَّابِعَةِ فِي جُمَادَى الآخِرَةِ سَنَةَ إِحْدَى وثلاثين وسبع مئة بِالْجَامِعِ الْعَتِيقِ بِمِصْرَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو عِيسَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلاقٍ الأَنْصَارِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُعُودٍ الأَنْصَارِيُّ الْبُوصِيرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو صَادِقٍ مُرْشِدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْقَاسِمِ الْمَدِينِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ فِي غُرَّةِ رَجَبٍ سَنَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وخمس مئة، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ النَّيْسَابُورِيُّ الْمَعْرُوُف بِابْنِ الطَّفَّالِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أَصْلِ سماعه سنة أربعين وأربع مئة، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ حَيُّوَيْهِ النَّيْسَابُورِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ النَّسَائِيُّ لَفْظًا، قَرَأَهُ علينا من كتابه سنة أربع وتسعين ومئتين، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عن أبي هريرة. وابن طاووس، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ بَيْدَ أَنَّهُمْ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِنَا وَأُوتِينَاهُ مِنْ بَعْدِهِمْ، وَهَذَا الْيَوْمُ الَّذِي كَتَبَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَاخْتَلَفُوا فِيهِ، فَهَدَانَا اللَّهُ لَهُ –يَعْنِي يَوْمَ الْجُمُعَةِ- فَالنَّاسُ لَنَا فِيهِ تبعٌ، الْيَهُودُ غَدًا وَالنَّصَارَى بَعْدَ غدٍ)) .

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّلاةِ عَنْ عَمْرٍو النَّاقِدِ وَابْنِ أَبِي عُمَرَ فَرَّقَهُمَا؛
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ কুতুবুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন ইসহাক বিন লুলু বিন আবদুল্লাহ ইবনু সাহিবিল মাওসিলি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; আর আমি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম চতুর্থ বর্ষে, সাতশত একত্রিশ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে মিসরের জামে আতিক-এ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু ঈসা আবদুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল্লাক আল-আনসারী, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলি বিন সুউদ আল-আনসারী আল-বুসিরী, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদিক মুরশিদ বিন ইয়াহইয়া বিন কাসিম আল-মাদিনী, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি তা শুনছিলাম পাঁচশত সতেরো হিজরি সনের পহেলা রজবে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন হুসাইন আন-নিশাপুরী, যিনি ইবনুত তাফফাল নামে পরিচিত, চারশত চল্লিশ হিজরি সনে তাঁর শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাকারিয়া বিন হাইয়ুওয়াইহি আন-নিশাপুরী, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আবু আবদুর রহমান আহমদ বিন শুআইব বিন আলি আন-নাসাঈ মৌখিকভাবে আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি দুইশত চুরানব্বই হিজরি সনে তাঁর কিতাব থেকে আমাদের নিকট তা পাঠ করেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন আবদুর রহমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। এবং ইবনু তাউস তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমরা শেষে আগমনকারী, কিন্তু (কিয়ামতের দিন) অগ্রবর্তী হব। তবে পার্থক্য এই যে, তাদেরকে আমাদের পূর্বে কিতাব প্রদান করা হয়েছিল এবং আমাদের তা প্রদান করা হয়েছে তাদের পরে। আর এটি সেই দিন যা আল্লাহ তাদের ওপর নির্ধারিত করেছিলেন, কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতভেদ করল। অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ দিনের জন্য—অর্থাৎ জুমার দিনের জন্য—হেদায়াত দান করলেন। সুতরাং মানুষ এ ক্ষেত্রে আমাদের অনুগামী; ইহুদিরা আগামীকাল এবং খ্রিস্টানরা তার পরের দিন))।

এটি মুসলিম 'সালাত' অধ্যায়ে আমর আন-নাকিদ এবং ইবনু আবি উমর থেকে পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣١)
كِلاهُمَا عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا عَالِيًا.

وَبِهِ إِلَى النَّسَائِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعَافَى، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: ((إِنَّ أَوَّلَ جمعةٍ جُمِعَتْ بَعْدَ جمعةٍ جُمِعَتْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ جُمِعَتْ بِجُوَاثَا بِالْبَحْرَيْنِ قريةٍ لِعَبْدِ الْقَيْسِ)) .

انْفَرَدَ بِهِ النَّسَائِيُّ مِنْ هَذَا الطَّرِيقِ. وَقَدْ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ طَرِيقٍ أخرى.
তারা উভয়েই সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের নিকট একটি উচ্চতর স্থলাভিষিক্ত বর্ণনা (বাদাল আলীন) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

এবং তাঁরই সূত্রে ইমাম নাসাঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুয়াফা, ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মক্কায় আদায়কৃত জুমার পর সর্বপ্রথম যে জুমা আদায় করা হয়েছিল, তা ছিল বাহরাইনের জুওয়াসায়—যা আবদ আল-কায়েস গোত্রের একটি গ্রাম।”

ইমাম নাসাঈ এককভাবে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম বুখারী এটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
شيخٌ آخَرُ

‌‌2- إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَرَكَاتِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ بْنِ أَبِي عَلِيِّ بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ الْبَعْلَبَكِّيُّ الصُّوفِيُّ، الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ

رجلٌ حسنٌ معروفٌ بَيْنَ الْمَشَايِخِ، وَالْفُقَرَاءِ، مَلِيحُ الْهَيْئَةِ، حَسَنُ الْعِبَارَةِ، وَأَخْلاقُهُ جميلةٌ.

سَمِعَ مِنَ الشَّيْخِ الْفَقِيهِ الْيُونِينِيِّ، وَابْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ، وَالْجَمَالِ ابْنِ الصَّيْرَفِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَعَّانٍ، وَجَمَاعَةٍ. وَأَجَازَ لَهُ في سنة خمس وخمسين وست مئة العماد ابن عَبْدِ الْهَادِي، وَفِرَاسٌ الْعَسْقَلانِيُّ، وَالنِّظَامُ ابْنُ الْبَانِيَاسِيِّ، وإبراهيم بن إسماعيل بن الدَّرَجِيِّ، وَجَمَاعَةٌ كَثِيرَةٌ.

مَوْلِدُهُ تَقْرِيبًا بِبَعْلَبَكَّ فِي سنة خمسين وست مئة، ثُمَّ كَتَبَهُ بِخَطِّهِ فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وَأَرْبَعِينَ وست مئة. وَمَاتَ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ حَادِي عَشَرَ رَجَبٍ سَنَةَ أربعين وسبع مئة، وَصُلِّيَ عَلَيْهِ مِنَ الْغَدِ عُقَيْبَ الظُّهْرِ بِالْجَامِعِ الْمُظَفَّرِيِّ، وَدُفِنَ بِتُرْبَةِ الشَّيْخِ مُوَفَّقِ الدِّينِ بِسَفْحِ قَاسَيُونَ.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ جُزْءًا مِنْ حَدِيثِ الْقَاسِمِ بْنِ عَلِيٍّ الْحَرِيرِيِّ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الشَّيْخِ الْفَقِيهِ الْيُونِينِيِّ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الْخُشُوعِيِّ، بِإِجَازَتِهِ مِنَ الْحَرِيرِيِّ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَرَكَاتِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ الْبَعْلَبَكِّيُّ الصُّوفِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيُونِينِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وأنا
অন্য একজন শাইখ

‌‌২- ইব্রাহিম ইবনে বারাকাত ইবনে আবুল ফাদল ইবনে আবু আলী ইবনে আবু মুহাম্মদ আল-বালবাক্কি আস-সুফি, শাইখ আবু ইসহাক

তিনি একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি শাইখদের এবং ফুকরাদের (দরিদ্র/সুফিদের) মাঝে সুপরিচিত ছিলেন; তিনি সুন্দর অবয়ব সম্পন্ন, চমৎকার অভিব্যক্তির অধিকারী ছিলেন এবং তার চরিত্র ছিল অত্যন্ত সুন্দর।

তিনি শাইখ আল-ফকিহ আল-ইউনিনি, ইবনে আবদুদ দায়িম, আল-জামাল ইবনুস সাইরাফি, আব্দুল্লাহ ইবনে তা'আন এবং একদল ব্যক্তির নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। ৬৫৫ হিজরি সালে আল-ইমাদ ইবনে আব্দুল হাদি, ফিরাস আল-আসকালানি, আন-নিজাম ইবনুল বানিয়াসি, ইব্রাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে আদ-দারাযি এবং আরও অনেকে তাকে ইজাযত প্রদান করেছেন।

তার জন্ম আনুমানিক ৬৫০ হিজরিতে বালবাক শহরে, তবে তিনি পরবর্তীতে নিজ হস্তাক্ষরে এটি ৬৪৮ হিজরি হিসেবে লিখেছেন। তিনি ৭৪০ হিজরি সালের ১১ই রজব বুধবার মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন জোহরের নামাজের পরপরই জামে আল-মুজাফফারিতে তার জানাজা পড়া হয় এবং কাসিউন পর্বতের পাদদেশে শাইখ মুওয়াফ্ফাকুদ্দীনের সমাধিস্থলে তাকে দাফন করা হয়।

আমি তার নিকট আল-কাসিম ইবনে আলী আল-হারিরির হাদিসের একটি অংশ শ্রবণ করেছি; যা তিনি শাইখ আল-ফকিহ আল-ইউনিনির নিকট শ্রবণ করেছেন, তিনি আল-খুশুয়ি-র নিকট শ্রবণ করেছেন এবং তিনি আল-হারিরি থেকে ইজাযত প্রাপ্ত ছিলেন।

নেককার শাইখ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে বারাকাত ইবনে আবুল ফাদল আল-বালবাক্কি আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তার নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম—তিনি বলেন: ফকিহ শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইউনিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তার নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
أَسْمَعُ فِي جُمَادَى الآخِرَةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَخَمْسِينَ وست مئة بِبَعْلَبَكَّ وَتَفَرَّدْتُ بِالرِّوَايَةِ عَنْهُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ بَرَكَاتُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَاهِرٍ الْخُشُوعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ الْقَاسِمُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ الْبَصْرِيُّ الْحَرِيرِيُّ إِجَازَةً قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْخَطَّابِيُّ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى أَحْمَدَ بْنِ الْفُرَاتِ أَبِي مَسْعُودٍ وَأَنَا حَاضِرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الأَشْعَرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: عَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرِيضًا مِنْ وعكٍ كَانَ بِهِ –يَعْنِي حُمَّى- فَقَالَ: ((أَبْشِرْ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقُولُ: هِيَ نَارِي أُسَلِّطُهَا عَلَى عَبْدِي الْمُؤْمِنِ فِي الدُّنْيَا لِتَكُونَ حَظَّهُ مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)) .

أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي الطِّبِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، بِهِ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا عَالِيًا.

وَبِهِ إِلَى الْحَرِيرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حدثنا
আমি ৬৫৫ হিজরি সালের জুমাদাল আখিরা মাসে বালবাক শহরে (এটি) শুনেছি এবং তাঁর থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি একক হয়েছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের বারাকাত ইবনে ইব্রাহিম ইবনে তাহের আল-খুশুয়ি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: ইমাম আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-বাসরি আল-হারিরি আমাদের ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল কাবির ইবনে উমর ইবনে আবদুর রহমান আল-খাত্তাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু মাসউদ আহমদ ইবনুল ফুরাতের সামনে (এটি) পাঠ করা হয়েছিল এবং আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন: আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু সালিহ আল-আশআরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রোগীকে দেখতে গেলেন যিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি বললেন: "সুসংবাদ গ্রহণ করো, কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা বলেন: এটি আমার আগুন, যা আমি দুনিয়াতে আমার মুমিন বান্দার ওপর চাপিয়ে দিই যেন তা কিয়ামতের দিন আগুনের (শাস্তির) পরিবর্তে তার অংশ হয়ে যায়।"

ইবনে মাজাহ এটি চিকিৎসা অধ্যায়ে আবু বকর ইবনে আবি শাইবা থেকে, তিনি আবু উসামা থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে এটি আমাদের নিকট উচ্চ পর্যায়ের 'বাদাল' (উচ্চ সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

এবং সেই একই সনদে আল-হারিরি পর্যন্ত, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ غَسَّانَ بْنِ جَبَلَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بن حبيب بن الشَّهِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((الآيَتَانِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ مَنْ قَرَأَهُمَا فِي ليلةٍ كَفَتَاهُ)) .

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي الصَّلاةِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، بِهِ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا عَالِيًا.

وَأَبُو مَسْعُودٍ اسْمُهُ عُقْبَةُ بْنُ عَمْرِو بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ أُسَيْرَةَ بْنِ عُسَيْرَةَ بْنِ عَطِيَّةَ بْنِ خُدَارَةَ بْنِ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ الأَنْصَارِيُّ الْبَدْرِيُّ،
আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবন গাসসান ইবন জাবালাহ বলেন, আমাদের নিকট আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবন ইবরাহিম ইবন হাবিব ইবন আল-শাহিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু মুআবিয়াহ বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সূরা আল-বাকারার শেষের দুটি আয়াত, যে ব্যক্তি কোনো রাতে সেগুলো পাঠ করবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।"

এটি ইমাম মুসলিম (তার কিতাবুস) সালাত-এ আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আবু মুআবিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি একটি উচ্চমানের সমান্তরাল সনদ (বাদাল আলি) হিসেবে পৌঁছেছে।

আর আবু মাসউদের নাম হলো উকবাহ ইবন আমর ইবন ছালাবাহ ইবন উসাইরাহ ইবন উসাইরাহ ইবন আতিয়্যাহ ইবন খুদারাহ ইবন আওফ ইবন আল-হারিস ইবন আল-খাজরাজ আল-আনসারি আল-বাদরি।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
يُقَالَ: شَهِدَ بَدْرًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَيُقَالَ: شَهِدَ الْعَقَبَةَ وَلَمْ يَشْهَدْ بَدْرًا، وَإِنَّمَا قِيلَ لَهُ الْبَدْرِيُّ أَنَّهُ مِنْ مَاءِ بَدْرٍ سَكَنَ الْكُوفَةَ وَابْتَنَى بِهَا دَارًا.

قَالَ يَحْيَى الْقَطَّانُ: مَاتَ أَيَّامَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.

وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ كَاتِبُ الْوَاقِدِيِّ، وَالْهَيْثَمُ بْنُ عَدِيٍّ: تُوُفِّيَ بِالْمَدِينَةِ فِي آخِرِ وِلايَةِ مُعَاوِيَةَ.

وَقَالَ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ: وَقَالَ الْوَاقِدِيُّ: تُوُفِّيَ فِي أَوَّلِ خِلافَةِ مُعَاوِيَةَ رضي الله عنهما.

وَبِهِ إِلَى الْحَرِيرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ التَّمِيمِيُّ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ ثَلاثٍ وَخَمْسِينَ وَأَرْبَعِ مئة، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو الْهِزَّانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو رَوْقٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَبِيبٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ: قِيلَ لِخَالِدِ بْنِ صَفْوَانَ: أَيُّ إِخْوَانِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: الَّذِي يَغْفِرُ زَلَلِي، وَيَقْبَلُ عِلَلِي، وَيَسُدُّ خَلَلِي. قَالَ: وَأَوْصَى حَكِيمٌ وَلَدَهُ فَقَالَ: عَلَيْكَ بِصُحْبَةِ مَنْ إِذَا صَاحَبْتَهُ زَانَكَ، وَإِنِ احْتَجْتَ إِلَيْهِ مَانَكَ، وَإِنِ اسْتَعَنْتَهُ عَانَكَ، وَإِنْ خَدَمْتَهُ صَانَكَ. قَالَ وثلاثةٌ لا تُعْرَفْنَ إِلا فِي ثَلاثَةِ مَوَاضِعَ: الْحَلِيمُ عِنْدَ الْغَضَبِ، وَالصَّدِيقُ عِنْدَ النَّائِبَةِ، وَالشُّجَاعُ عِنْدَ اللقاء.
বলা হয়: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। আবার বলা হয়: তিনি আকাবায় উপস্থিত ছিলেন কিন্তু বদরে উপস্থিত ছিলেন না। মূলত তাকে 'আল-বদরি' বলা হতো কারণ তিনি বদর নামক জলাশয়ের নিকটবর্তী অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তিনি কুফায় বসবাস করতেন এবং সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন।

ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন: তিনি আলী ইবনে আবি তালিবের শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন।

ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মদ ইবনে সাদ এবং হাইসাম ইবনে আদি বলেন: তিনি মদিনায় মুয়াবিয়ার শাসনামলের শেষ দিকে ইন্তেকাল করেন।

অন্য এক স্থানে বলা হয়েছে: ওয়াকিদি বলেন: তিনি মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমার খেলাফতের শুরুর দিকে ইন্তেকাল করেন।

এবং সনদের ধারাবাহিকতায় হারিরি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবুল কাসেম আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ আত-তামিমি চারশত তিপ্পান্ন হিজরি সনের রমজান মাসে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর আল-হিজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু রওক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে শাবিব আল-মাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ বিন সাফওয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার ভাইদের মধ্যে আপনার নিকট কে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার পদস্খলন ক্ষমা করে, আমার ওজর কবুল করে এবং আমার ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দেয়। তিনি বলেন: এক জ্ঞানী ব্যক্তি তার পুত্রকে উপদেশ দিয়ে বললেন: তুমি এমন ব্যক্তির সঙ্গ অবলম্বন করো, যার সাহচর্য তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবে, তোমার অভাবের সময় যে তোমার দায়িত্ব নেবে, তুমি সাহায্য চাইলে যে তোমাকে সাহায্য করবে এবং তুমি তার সেবা করলে যে তোমাকে রক্ষা করবে। তিনি আরও বলেন: তিন ব্যক্তিকে তিনটি ক্ষেত্র ছাড়া চেনা যায় না: রাগের সময় ধৈর্যশীলকে, বিপদের সময় বন্ধুকে এবং যুদ্ধের ময়দানে বীরকে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٦)
شيخٌ آخَرُ

‌‌3- إِبْرَاهِيمُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْكَحَّالُ الْعَبَّادِيُّ الدِّمَشْقِيُّ السُّكَّرِيُّ، بُرْهَانُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ.

سَمِعَ مِنَ الْمُسْلِمِ بْنِ عَلانَ، وَابْنِ الْبُخَارِيِّ، وَكَانَ رَجُلا جَيِّدًا دَخَلَ مِصْرَ غَيْرَ مَرَّةٍ، وَذَكَرَهُ الإِمَامُ شَمْسُ الدِّينِ الذَّهَبِيُّ فِي ((مُعْجَمِهِ)) ، وَكَانَ وَالِدُهُ كَحَّالا رَئِيسًا لَهُ تَلامِذَةٌ، وَكَذَلِكَ وَالِدُهُ أَيْضًا.

مَوْلِدُهُ فِي سنة تسع وسبعين وستة مئة. وَمَاتَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ أَرْبَعٍ وأربعين وسبع مئة.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ جَمِيعَ كِتَابِ التِّرْمِذِيِّ بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ عَلانَ، بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ طَبَرْزَدَ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الْكُرُوخِيِّ، عَنْ شُيُوخِهِ الثَّلاثَةِ أَبِي عَامِرٍ الأَزْدِيِّ، وَأَبِي بَكْرٍ الْغَوْرَجِيِّ، وَأَبِي نَصْرٍ التِّرْيَاقِيِّ، ثَلاثَتُهُمْ عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْجَرَّاحِيِّ عَنِ ابْنِ مَحْبُوبٍ، عَنِ التِّرْمِذِيِّ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو إِسْحَاقَ إبراهيم بن جعفر بن إسماعيل بن الْكَحَّالِ الْعَبَّادِيُّ السُّكَّرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الصَّاحِبُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو الْغَنَائِمِ الْمُسْلِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُسْلِمِ بْنِ عَلانَ الْقَيْسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ الْبَغْدَادِيُّ الْمُؤَدِّبُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي سَهْلٍ الْكُرُوخِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشُّيُوخُ الثَّلاثَةُ أبو عامر
অন্য একজন শাইখ

‌‌৩- ইবরাহিম ইবনে জাফর ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম আল-কাহহাল আল-আব্বাদি আদ-দিমাশকি আস-সুক্কারি, বুরহানুদ্দিন আবু ইসহাক.

তিনি মুসলিম ইবনে আল্লান এবং ইবনুল বুখারি থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি একজন উত্তম ব্যক্তি ছিলেন, যিনি একাধিকবার মিশরে প্রবেশ করেছেন। ইমাম শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি তাঁর ‘মুজাম’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন প্রধান চক্ষু চিকিৎসক, যাঁর বহু ছাত্র ছিল; তাঁর দাদাও তেমনই ছিলেন।

তাঁর জন্ম ৬৭৯ হিজরি সালে। এবং তিনি ৭৪৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।

আমি তাঁর নিকট তিরমিজি-র সম্পূর্ণ কিতাব শ্রবণ করেছি; তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে ইবনে আল্লান থেকে, তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে ইবনে তাবারজাদ থেকে, তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে আল-কুরুখি থেকে, তিনি তাঁর তিন শাইখ আবু আমির আল-আজদি, আবু বকর আল-গাওরাজি এবং আবু নাসর আত-তিরয়াকি থেকে, তাঁরা তিনজনে আব্দুল জাব্বার আল-জাররাহি থেকে, তিনি ইবনে মাহবুব থেকে এবং তিনি তিরমিজি থেকে।

শাইখ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে জাফর ইবনে ইসমাইল ইবনুল কাহহাল আল-আব্বাদি আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে আর আমি শুনছিলাম—তিনি বলেন: আস-সাহিব শামসুদ্দিন আবু আল-গানাইম মুসলিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুসলিম ইবনে আল্লান আল-কায়সি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে আর আমি শুনছিলাম—তিনি বলেন: আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মা'মার ইবনে তাবারজাদ আল-বাগদাদি আল-মুয়াদ্দিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আবি সাহল আল-কুরুখি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সেই তিন শাইখ আবু আমির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
مَحْمُودُ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَزْدِيُّ، وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ أَبِي الْفَضْلِ الْغَوْرَجِيُّ التَّاجِرُ، وَأَبُو نَصْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التِّرْيَاقِيُّ، قَالُوا: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَرَّاحِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ الْمَحْبُوبِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سَوْرَةَ التِّرْمِذِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ ذَبَحَهُمَا بِيَدِهِ، وَسَمَّى وَكَبَّرَ وَوَضَعَ رِجْلَهُ عَلَى صِفَاحِهِمَا)) .

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ، عَنْ بُنْدَارٍ، عَنْ غُنْدَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ؛ كِلاهُمَا عَنْ قَتَادَةَ بِهِ. وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ زَكَرِيَّا، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ الْمِقْدَامِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا بِدَرَجَتَيْنِ عَنْ طَرِيقِ النَّسَائِيِّ.
মাহমুদ ইবনুল কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ আল-আযদি, আবু বকর আহমাদ ইবনু আবদিস সামাদ ইবনু আবিল ফাযল আল-গাওরাজী আত-তাজির এবং আবু নাসর আব্দুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম আত-তিরইয়াকী—তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল জাব্বার ইবনু মুহাম্মাদ আল-জাররাহী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু মাহবূব আল-মাহবূবী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফিয আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনু ঈসা ইবনু সাওরা আত-তিরমিযী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কুতায়বা। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানা, কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিংবিশিষ্ট এবং সাদা-কালোর মিশ্রণ বর্ণযুক্ত দুটি মেষ কুরবানী করেছেন। তিনি নিজ হাতে সে দুটি যবেহ করেছেন, আল্লাহর নাম পাঠ করেছেন ও তাকবীর দিয়েছেন এবং নিজের পা সে দুটির পাঁজরের ওপর রেখেছেন।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম—মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু আবী আদী হতে, তিনি সাঈদ ইবনু আবী আরূবা হতে। ইবনু মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন বুন্দার হতে, তিনি গুন্দার হতে, তিনি শু'বা হতে; তারা উভয়ে কাতাদাহ হতে একই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা হতে, তিনি মুসআব ইবনুল মিকদাম হতে, তিনি হাসান ইবনু সালিহ হতে, তিনি শু'বা হতে, তিনি কাতাদাহ হতে; ফলে নাসাঈর সূত্রে এটি আমাদের কাছে দুই স্তর উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
شيخٌ آخَرُ

‌‌4- إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرَانَ النَّابُلُسِيُّ الزَّيْتَاوِيُّ، أَبُو إِسْحَاقَ.

رَوَى عَنْ قَرِيبِهِ عَبْدِ الْحَافِظِ بْنِ بَدْرَانَ جَمِيعَ ((السُّنَنِ)) لابْنِ مَاجَهْ، وَكِتَابَ ((التَّوَّابِينَ)) لابْنِ قُدَامَةَ.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنَ ((السُّنَنِ)) الْمَذْكُورَةِ، وَقَرَأْتُ عَلَيْهِ مَوَاضِعَ مِنْ كِتَابِ ((التَّوَّابِينَ)) .

شيخٌ آخَرُ

‌‌5- إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سِبَاعِ بْنِ ضِيَاءٍ الْفَزَارِيُّ الشَّافِعِيُّ، الشَّيْخُ الإِمَامُ شَيْخُ الإِسْلامِ بُرْهَانُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ ابْنُ شَيْخِ الإِسْلامِ تَاجِ الدِّينِ.

تَفَقَّهَ عَلَى وَالِدِهِ وَتَمَيَّزَ وَأَعَادَ وَدَرَّسَ وَأَفْتَى، وَهُوَ مِنْ أَعْيَانِ الْفُقَهَاءِ، جَمِيلُ السِّيرَةِ، رَضِيُّ الأَخْلاقِ، ذُو مروءةٍ ظَاهِرَةٍ، حَسَنُ الطَّرِيقَةِ، متعهدٌ لِقَضَاءِ حُقُوقِ الإِخْوانِ، كَثِيرُ الْمُسَاعَدَةِ لِلْغُرَبَاءِ، أَسْمَعَهُ وَالِدُهُ وَعَمُّهُ عَلَى جَمَاعَةٍ مِنْهُمُ: ابْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ، وَابْنُ أَبِي الْيُسْرِ، وَخَالِدٌ بن النابلسي،
অন্য একজন শাইখ

‌‌৪- ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বদরান আন-নাবলুসি আজ-জাইতাওয়ি, আবু ইসহাক।

তিনি তাঁর আত্মীয় আব্দুল হাফিজ বিন বদরানের নিকট থেকে ইবনে মাজাহ-এর পূর্ণ ‘আস-সুনান’ এবং ইবনে কুদামার ‘কিতাবুত তাওয়াবিন’ বর্ণনা করেছেন।

আমি তাঁর কাছে উক্ত ‘সুনান’ থেকে চল্লিশটি হাদিস শ্রবণ করেছি এবং তাঁর নিকট ‘কিতাবুত তাওয়াবিন’-এর বিভিন্ন অংশ পাঠ করেছি।

অন্য একজন শাইখ

‌‌৫- ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম বিন সিবা বিন জিয়া আল-ফাজারি আশ-শাফিঈ; শাইখ, ইমাম, শাইখুল ইসলাম বুরহানুদ্দিন আবু ইসহাক বিন শাইখুল ইসলাম তাজউদ্দিন।

তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন এবং বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষকতা করেছেন, পাঠদান করেছেন এবং ফতোয়া প্রদান করেছেন। তিনি ফকিহদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সুন্দর জীবনচরিত, পছন্দনীয় চরিত্র, প্রকাশ্য বীরত্ব ও পৌরুষের অধিকারী এবং উত্তম কর্মপন্থার অনুসারী ছিলেন। তিনি ভাইদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট ছিলেন এবং ভিনদেশিদের অনেক সাহায্য করতেন। তাঁর পিতা ও চাচা তাঁকে একদল আলেমের নিকট হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে আব্দুল দায়িম, ইবনে আবিল ইউসর এবং খালিদ বিন আন-নাবলুসি।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
ويحيى بن الصيرفي، وأبو بكر بن النُّشَبِيِّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ أَخُو أَبِي شَامَةَ، وجماعته وشيوخه نحو المئة، وَسَمِعَ ((صَحِيحَ مُسْلِمٍ)) وَحَدَّثَ بِهِ غَيْرَ مَرَّةٍ، وَسَمِعَ جُمْلَةً مِنَ الْكُتُبِ الْكِبَارِ.

قَالَ الشَّيْخُ كَمَالُ الدِّينِ ابْنُ الزَّمْلَكَانِيِّ: تَفَقَّهَ عَلَى وَالِدِهِ وَلازَمَ حَلَقَتَهُ، وَرَغِبَ قَاضِي الْقُضَاةِ شِهَابُ الدِّينِ ابْنُ الْخُوَيِّيِّ فِي تَزْوِيجِهِ ابْنَتَهُ، لِمَا كَانَ فِيهِ مِنَ السُّكُونِ، وَحُسْنِ السَّمْتِ، فَنَبِهَ عَلَيْهِ وَوَلاهُ إِعَادَةَ مَدْرَسَتِهِ الْعَادِلِيَّةِ، وَأَذِنَ لَهُ فِي الْفَتْوَى فِي حَيَاةِ وَالِدِهِ، ثُمَّ لَمَّا تُوُفِّيَ وَالِدُهُ رحمه الله تَحَدَّثَ لَهُ الْقَاضِي الْمَذْكُورُ، وَجَمِيعُ أَهْلِ الْبَلَدِ لِكَثْرَةِ حُقُوقِ وَالِدِهِ عَلَيْهِمْ حَتَّى دَرَّسَ مَكَانَ أَبِيهِ بِالْمَدْرَسَةِ الْبَادَرَائِيَّةِ، وَجَلَسَ مَكَانَهُ لِلإِقْرَاءِ وَالْفَتْوَى وَلازَمَهُ طَلَبَةُ أَبِيهِ، وَكَانَ لَهُ سكونٌ فِي مِشْيَتِهِ وخشوعٌ، وَلَدَيْهِ مشاركاتٌ فِي الْفِقْهِ وَأُصُولِهِ وَالنَّحْوِ، وَلَكِنَّ الْغَالِبَ عَلَيْهِ الْفِقْهُ، وَيَعْرِفُ الْفَرَائِضَ، وَلَمْ يَزَلْ يُفْتِي، وَعَلَى كَثْرَةِ فَتَاوِيهِ لا يُخْطِئُ، وَيَقِفُ فِيمَا يُشْكِلُ عَلَيْهِ، وَلَمْ يُرَ مِثْلُهُ فِي مُلازَمَتِهِ لِحَالِهِ مِنَ الإِقْرَاءِ، وَالتَّعْلِيمِ، وَالْفَتْوَى، وَقِلَّةِ الاجْتِمَاعِ بِالنَّاسِ، وَلُزُومِ طَرِيقِ الْخَيْرِ، وَالْمُوَاظَبَةِ عَلَى الإِفَادَةِ وَانْتَفَعَ بِهِ جَمَاعَةٌ كَثِيرَةٌ.

وَقَالَ سَيِّدُنَا قَاضِي الْقُضَاةِ تَاجُ الدِّينِ أَسْبَغَ اللَّهُ ظِلالَهُ: ذَاكَ فَقِيهُ الشَّامِ، وَبَرَكَتُهُ الَّذِي لَيْسَ سِوَى بَرْقِهِ يُشَامُ، وَشَيْخُهُ الَّذِي زَادَ يُمْنُهُ عَلَى أَنْوَاءِ الْغَمَامِ، تَلَقَّى عِلْمًا كَثِيرًا، وَتَوَقَّى فِي نَقْلِهِ الْخَطَأَ فَأَصَابَ أَجْرًا كَبِيرًا، وَتَرَقَّى إِلَى طَبَقَاتٍ عاليةٍ تُطِلُّ مِنْ شُرُفَاتِهَا فَتُبْصِرُ سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا،
ইয়াহইয়া বিন আস-সাইরাফি, আবু বকর বিন আন-নুশাবি, আবু শামার ভাই ইবরাহিম বিন ইসমাঈল এবং তার একটি দল ও শিক্ষকবৃন্দ যাদের সংখ্যা প্রায় একশত। তিনি 'সহীহ মুসলিম' শ্রবণ করেছেন এবং একাধিকবার তা বর্ণনা করেছেন। এ ছাড়া তিনি বেশ কিছু বৃহৎ গ্রন্থ শ্রবণ করেছেন।

শায়খ কামালুদ্দিন ইবনুল জামলাকানি বলেছেন: তিনি তার পিতার নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং তার দরসে উপস্থিত থাকতেন। প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দিন ইবনুল খুওয়াইয়ি তার শান্ত স্বভাব ও সুন্দর আচরণের কারণে নিজের কন্যার সাথে তাকে বিবাহ দিতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তাকে আদিলিয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব প্রদান করেন। তার পিতার জীবদ্দশাতেই তাকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়। অতঃপর যখন তার পিতা—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—মারা যান, তখন উক্ত বিচারক এবং শহরের সকল মানুষ তার পিতার তাদের ওপর অনেক অনুগ্রহ থাকায় তার পক্ষে কথা বলেন, এমনকি তিনি বাদরাঈয়াহ মাদরাসায় তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে পাঠদান শুরু করেন। তিনি কিতাব পাঠ ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তার পিতার আসনে বসেন এবং তার পিতার ছাত্ররা তার নিকট আসা শুরু করে। তার হাঁটাচলায় প্রশান্তি ও বিনয় ছিল। ফিকহ, উসুলুল ফিকহ ও নাহু শাস্ত্রে তার পাণ্ডিত্য ছিল, তবে ফিকহ শাস্ত্রেই তার প্রাধান্য ছিল বেশি। তিনি ফারায়েজ শাস্ত্র জানতেন এবং নিরন্তর ফতোয়া প্রদান করতেন। অসংখ্য ফতোয়া প্রদান সত্ত্বেও তিনি ভুল করতেন না এবং কোনো জটিল বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকতেন। পাঠদান, শিক্ষা প্রদান, ফতোয়া প্রদান, মানুষের সাথে মেলামেশা কমিয়ে দেওয়া, কল্যাণের পথ আঁকড়ে ধরা এবং অন্যের উপকারে নিরবচ্ছিন্ন মনোনিবেশের ক্ষেত্রে তার মতো আর কাউকে দেখা যায়নি। এক বিশাল জামাত তার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে।

আমাদের নেতা প্রধান বিচারপতি তাজউদ্দীন—আল্লাহ তাঁর ছায়া দীর্ঘায়িত করুন—বলেছেন: তিনি সিরিয়ার ফকিহ এবং এর বরকত, যার দ্যুতি ছাড়া অন্য কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত করা যায় না। তিনি এমন এক শায়খ যার কল্যাণ মেঘের বারিধারার চেয়েও অধিক। তিনি প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তা বর্ণনায় ভুল থেকে বেঁচে থেকেছেন, ফলে তিনি বিশাল সওয়াব অর্জন করেছেন। তিনি এমন উচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েছেন যার শিখর থেকে তাকালে প্রদীপ ও উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ দৃষ্টিগোচর হয়।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
وَكَانَ يَغْدُو فِي جَوَانِبِ دِمَشْقَ وَيَرُوحُ، وَيَعْدُو بِنَاؤُهُ. وَهُوَ بِلُطْفِ اللَّهِ ممدودٌ، وَبِثَنَاءِ الْعِبَادِ ممدوحٌ، وَيَبْدُو كَالْقَمَرِ الْمُنِيرِ وَجْهُهُ، فَيَسُرُّ الْقَلْبَ، وَيُمَازِحُ الدَّمَ وَالرُّوحَ.

مَوْلِدُهُ فِي سَنَةِ سِتِّينَ وست مئة فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ مِنْهَا، وَتُوُفِّيَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثَامِنِ جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وسبع مئة، وَصُلِّيَ عَلَيْهِ عُقَيْبَ صَلاةِ الظُّهْرِ بِجَامِعِ دِمَشْقَ، وَدُفِنَ عِنْدَ وَالِدِهِ بِمَقْبَرَةِ الْبَابِ الصَّغِيرِ رَحِمَهُمَا اللَّهُ تَعَالَى.

أَجَازَ لَنَا فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وعشرين وسبع مئة.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَلامَةُ شَيْخُ الإِسْلامِ بُرْهَانُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سِبَاعٍ الْفَزَارِيُّ الشَّافِعِيُّ فِيمَا أُذِنَ لَنَا فِي الرِّوَايَةِ عَنْهُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ زَيْنُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ بْنِ نِعْمَةَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ صَدَقَةَ الْحَرَّانِيُّ (ح) وَأَخْبَرَنَا الْقَاضِي الإِمَامُ أَقْضَى الْقُضَاةِ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ابْنُ الْقَمَّاحِ الشَّافِعِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُضَرٍ الْوَاسِطِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْفَضْلِ الْفُرَاوِيُّ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ أَحْمَدَ الْفُرَاوِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْغَافِرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْغَافِرِ الْفَارِسِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ عَمْرَوَيْهِ الْجُلُودِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْفَقِيهُ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُفْيَانَ النَّيْسَابُورِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقُشَيْرِيُّ، قَالَ: وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ((مَنْ حَمَلَ عَلَيْنَا السِّلاحَ فليس منها)) .
তিনি দামেস্কের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করতেন এবং তাঁর স্থাপত্যকর্ম দ্রুত অগ্রসর হতো। তিনি আল্লাহর অনুগ্রহে ধন্য এবং বান্দাদের প্রশংসায় প্রশংসিত ছিলেন; তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল দেখা যেত, যা হৃদয়কে আনন্দিত করত এবং রক্ত ও প্রাণের সাথে মিলেমিশে থাকত।

তাঁর জন্ম ৬৬০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে এবং তিনি ৭২৯ হিজরি সনের ৮ই জমাদিউল উলা শুক্রবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন। দামেস্কের জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পরপরই তাঁর জানাজার নামাজ পড়ানো হয় এবং তাঁকে তাঁর পিতার পাশে ‘বাব আস-সগির’ কবরস্থানে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

তিনি আমাদের ৭২৮ হিজরি সনে হাদিস বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন।

শায়খ, ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম বুরহানুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম ইবনে সিবা আল-ফাজারি আশ-শাফিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তিনি আমাদের বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: শায়খ জয়নুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুদ দাইম ইবনে নিমাহ ইবনে আহমদ আল-মাকদিসি আমাদের নিকট পাঠ করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে সাদাকাহ আল-হাররানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (হ)। এবং কাযী, ইমাম, প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল কাম্মাহ আশ-শাফিয়ি আমাদের নিকট পাঠ করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে মুদার আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট পাঠ করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন: মনসুর ইবনে আবদুল মুনয়িম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল আল-ফুরাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল ইবনে আহমদ আল-ফুরাওয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবুল হুসাইন আবদুল গাফির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল গাফির আল-ফারিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আমরওয়াইহ আল-জুলুদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ফকিহ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান আন-নিশাপুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইমাম হাফেজ আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিকের নিকট পাঠ করেছি, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤١)
أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ عَنْ أَبِي الطَّاهِرِ بْنِ السَّرْحِ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكٍ، بِهِ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا.

شيخٌ آخَرُ

‌‌6- إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ الْمَجِيدِ التِّزْمَنْتِيُّ الْحِمْيَرِيُّ الشَّافِعِيُّ الْعَدْلُ، كَمَالُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ النَّاسِخُ.

سَمِعَ مِنْ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ يُوسُفَ ابْنِ خَطِيبِ الْمِزَّةِ، وَأَبِي عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمُنْعِمِ بْنِ الْخَيْمِيِّ، وَغَيْرِهِمَا. وَحَدَّثَ وَكَتَبَ لِنَفْسِهِ أَرْبَعِينَ حَدِيثًا مِنْ رِوَايَتِهِ، وَكَانَ يَكْتُبُ خَطًّا حَسَنًا، وَيَجْلِسُ مَعَ الشُّهُودِ.

مَوْلِدُهُ فِي سَادِسَ عَشَرَ مُحَرَّمٍ سنة ثلاث وستين وست مئة، وَتُوُفِّيَ فِي سَابِعَ عَشَرَ شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سنة اثنتين وأربعين وسبع مئة بِالْقَلْعَةِ، وَدُفِنَ بِالْقَرَافَةِ.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ مِنْ ((سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ)) الْجُزْءَ الأَوَّلَ وَالثَّالِثَ، وَمِنْ أَوَّلِ
নাসাঈ এটি আবু তাহির ইবনুল সারাহ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি ইমাম মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার ফলে এটি আমাদের কাছে উচ্চ সনদে পৌঁছেছে।

অন্য একজন শায়খ

৬- ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল মাজিদ আল-তিজমানতি আল-হিময়ারি আশ-শাফিয়ি আল-আদল, কামালুদ্দিন আবু ইসহাক আন-নাসিখ।

তিনি আব্দুর রহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে খাতিব আল-মিযযাহ এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুনয়িম ইবনে আল-খাইমি ও আরও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং নিজের বর্ণনাকৃত চল্লিশটি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি অত্যন্ত সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখতেন এবং সাক্ষীদের সাথে বসতেন।

তাঁর জন্ম ৬৬৩ হিজরি সালের ১৬ই মহররম এবং তিনি ৭৪২ হিজরি সালের ১৭ই রবিউল আউয়াল তারিখে দুর্গে মৃত্যুবরণ করেন; তাঁকে কারাফায় সমাহিত করা হয়।

আমি তাঁর নিকট 'সুনানে আবু দাউদ'-এর প্রথম ও তৃতীয় খণ্ড এবং শুরুর অংশ থেকে শ্রবণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٢)
الْجُزْءِ الرَّابِعِ إِلَى قَوْلِهِ: الصَّلاة عَلَى الْحَصِيرِ، وَالْجُزْءَ الْعَاشِرَ بِكَمَالِهِ، وَالثَّانِي عَشَرَ، وَالثَّالِثَ عَشَرَ، وَالْخَامِسَ عَشَرَ حُضُورًا فِي الرَّابِعَةِ، بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ خَطِيبِ الْمِزَّةِ، بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ طَبَرْزَدَ بِسَنَدِهِ فِي مُسْتَهَلِّ رَمَضَانَ سَنَةَ إِحْدَى وَثَلاثِينَ وسبع مئة بِالْخَانْقَاهِ الشَّرَابِيشِيَّةِ بِالْقَاهِرَةِ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَدْلُ كَمَالُ الدِّينِ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ التِّزْمَنْتِيُّ الْحِمْيَرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حَاضِرٌ فِي الرَّابِعَةِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ يُوسُفَ بْنِ يَحْيَى ابْنُ خَطِيبِ الْمِزَّةِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ الْمُؤَدِّبُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْبَدْرِ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَنْصُورٍ الْكَرْخِيُّ الْفَقِيهُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْخَطِيبُ الْبَغْدَادِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عُمَرَ الْقَاسِمُ بن جعفر بن عبد الْوَاحِدِ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَمْرٍو اللُّؤْلُؤِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الإِمَامُ أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ الأَشْعَثِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ بَشِيرٍ السِّجِسْتَانِيُّ الْحَافِظُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَعَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْخَلاءَ –قَالَ عَنْ حَمَّادٍ- قَالَ: ((اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ)) ، -وَقَالَ عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ- قَالَ: ((أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ)) .

أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى، وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَةَ الضَّبِّيِّ؛ كِلاهُمَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، بِهِ. وَأَخْرَجَهُ
চতুর্থ খণ্ড 'চাটাইয়ের উপর সালাত' পরিচ্ছেদ পর্যন্ত, এবং পূর্ণ দশম খণ্ড, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ ও পঞ্চদশ খণ্ড; চতুর্থ বর্ষ বয়সে উপস্থিত থেকে, ইবন খাতিব আল-মিযযাহর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে, তিনি ইবন তাবারযাদ থেকে তাঁর সনদে শ্রবণ করেছেন; সাতশ একত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসের শুরুতে কায়রোর খানকাহ আশ-শারাবীশিয়্যাহতে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ন্যায়পরায়ণ শায়খ কামালুদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদিস সামাদ আত-তিযমানতি আল-হিময়ারি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি চতুর্থ বর্ষ বয়সে উপস্থিত ছিলাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফাদল আবদুর রাহিম ইবন ইউসুফ ইবন ইয়াহইয়া ইবন খাতিব আল-মিযযাহ, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন মামার ইবন তাবারযাদ আল-মুয়াদ্দিব, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-বদর ইবরাহিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন মানসুর আল-কারখি আল-ফকিহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিয আবু বকর আহমাদ ইবন আলী ইবন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযি আবু উমর আল-কাসিম ইবন জাফর ইবন আবদিল ওয়াহিদ আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আমর আল-লুলুয়ি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান ইবন আল-আশআস ইবন ইসহাক ইবন বাশির আস-সিজিস্তানি আল-হাফিয, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ ইবন মুসারহাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন যায়দ ও আবদুল ওয়ারিস, তাঁরা আবদুল আযীয থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন —হাম্মাদের সূত্রে বর্ণিত— তিনি বলতেন: ((হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)), —এবং আবদুল ওয়ারিসের সূত্রে বর্ণিত— তিনি বলতেন: ((আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র নর ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি))।

এটি ইমাম মুসলিম ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া থেকে রিওয়ায়াত করেছেন, এবং ইমাম তিরমিযী আহমাদ ইবন আবদাহ আদ-দাব্বি থেকে রিওয়ায়াত করেছেন; তাঁরা উভয়ে হাম্মাদ ইবন যায়দ থেকে এই সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং এটি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٣)
النَّسَائِيُّ فِي ((الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ)) عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ، بِهِ فَوَقَعَ لَنَا بَدَلا لَهُمْ.

وَبِهِ إِلَى أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ((لا يَقْبَلُ اللَّهُ صَدَقَةً مِنْ غلولٍ، وَلا صَلاةً بِغَيْرِ طهورٍ)) .

أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي الطَّهَارَةِ عَنْ قُتَيْبَةَ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ فِيهِ عَنْ بُنْدَارٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَغُنْدَرٍ، وَعَنْ أَبِي بِشْرٍ بَكْرِ بْنِ خَلَفٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، وَعَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ سَعِيدٍ وَشَبَابَةَ بْنِ سَوَّارٍ؛ خَمْسَتُهُمْ عَنْ شُعْبَةَ، بِهِ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا.

وَأَبُو الْمَلِيحِ اسْمُهُ: زَيْدٌ، وَيُقَالَ: عَامِرُ بْنُ أُسَامَةَ بْنِ عُمَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْهُذَلِيُّ الْبَصْرِيُّ.
নাসায়ি ‘আল-ইয়াওম ওয়াল-লাইলাহ’ গ্রন্থে ইমরান ইবনে মুসা থেকে, তিনি আব্দুল ওয়ারিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার মাধ্যমে এটি আমাদের জন্য তাঁদের বিপরীতে একটি ‘বাদাল’ (বিকল্প উচ্চ সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

এবং একই সনদে আবু দাউদ পর্যন্ত; তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসলিম ইবনে ইব্রাহিম হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু’বাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ আত্মসাৎকৃত মালের সদকা কবুল করেন না এবং পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করেন না।”

নাসায়ি পবিত্রতা অধ্যায়ে এটি কুতাইবাহ থেকে, তিনি আবু আওয়ানাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন বুন্দার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও গুন্দার থেকে; এবং আবু বিশর বকর ইবনে খালাফ থেকে, তিনি ইয়াযিদ ইবনে যুরাই’ থেকে; এবং আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে সাঈদ ও শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার থেকে—তাঁরা পাঁচজনই শু’বাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যার ফলে এটি আমাদের নিকট ‘আলি’ (উচ্চ সনদ) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।

আর আবুল মালিহ-এর নাম হলো: যাইদ; মতান্তরে: আমির ইবনে উসামাহ ইবনে উমাইর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুযালি আল-বাসরি।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٤)
شيخٌ آخَرُ

‌‌7- أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي الْيُسْرِ شَاكِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ التَّنُوخِيُّ الْمَعَرِّيُّ، شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ.

سَمِعَ كَثِيرًا بِالصَّالِحِيَّةِ مَعَ الشَّيْخِ جَمَالِ الدِّينِ الْمِزِّيِّ مِنْ أَبِي الْحَسَنِ علي بن أحمد بن الْبُخَارِيِّ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ مَكِّيٍّ وَحَدَّثَ، وَهُوَ مِنْ بَيْتِ رِوَايَةٍ وَرِيَاسَةٍ.

تُوُفِّيَ فِي لَيْلَةِ الأَحَدِ ثَامِنَ عَشَرَ جُمَادَى الأُولَى سَنَةَ ثَلاثٍ وَأَرْبَعِينَ وسبع مئة، وَصُلِّيَ عَلَيْهِ بِجَامِعِ دِمَشْقَ، وَدُفِنَ بِسَفْحِ قَاسَيُونَ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ ((جُزْءَ الأَنْصَارِيِّ)) ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الشَّيْخَيْنِ فَخْرِ الدِّينِ ابْنِ الْبُخَارِيِّ وَزَيْنَبَ بِنْتِ مَكِّيٍّ، بِسَمَاعِهِمَا مِنَ ابْنِ طَبَرْزَدَ، وَبِسَمَاعِ ابْنِ الْبُخَارِيِّ أَيْضًا مِنَ الْكِنْدِيِّ؛ كِلاهُمَا عَنِ الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْبَرْمَكِيِّ، عَنِ ابْنِ مَاسِيٍّ، عَنِ الْكَجِّيِّ، عَنِ الأَنْصَارِيِّ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ شِهَابُ الدِّين أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ابْنُ الشَّيْخِ تَقِيِّ الدِّينِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي الْيُسْرِ التَّنُوخِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ الإِمَامُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمَقْدِسِيُّ ابْنُ الْبُخَارِيِّ وَأُمُّ أَحْمَدَ زَيْنَبُ بِنْتُ مَكِّيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ كَامِلٍ الْحَرَّانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا؛ قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ الْبَغْدَادِيُّ الْمُؤَدِّبُ. وَقَالَ ابْنُ الْبُخَارِيِّ أَيْضًا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْيُمْنِ زَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ الْكِنْدِيُّ؛ قَالا: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْبَرْمَكِيُّ حُضُورًا، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ
আরেকজন শাইখ

‌‌৭- আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবু আল-ইউসর শাকির ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-তানুখি আল-মাআররি, শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস.

তিনি সালিহিয়্যাহতে শাইখ জামালুদ্দীন আল-মিজ্জির সাথে আবুল হাসান আলি ইবনে আহমাদ ইবনে আল-বুখারি এবং যাইনাব বিনতে মাক্কির নিকট অনেক হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনা ও নেতৃত্বের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এক পরিবারের সন্তান।

তিনি ৭৪৩ হিজরি সনের ১৮ই জুমাদাল উলা রোববার রাতে ইন্তেকাল করেন। দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর জানাজার নামাজ পড়া হয় এবং তাঁকে কাসিয়ুন পর্বতের পাদদেশে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

আমি তাঁর কাছে 'জুয আল-আনসারি' শ্রবণ করেছি; তিনি এটি দুই শাইখ ফখরুদ্দীন ইবনে আল-বুখারি এবং যাইনাব বিনতে মাক্কির নিকট শ্রবণ করেছেন। তাঁরা উভয়ে ইবনে তাবারজাদ থেকে শ্রবণ করেছেন। এছাড়াও ইবনে আল-বুখারি আল-কিন্দি থেকেও এটি শ্রবণ করেছেন। তাঁরা উভয়েই কাজি আবু বকর আল-আনসারি থেকে, তিনি বারমাকি থেকে, তিনি ইবনে মাসি থেকে, তিনি কাজ্জি থেকে এবং তিনি আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন।

শাইখ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাইখ তাকিউদ্দীন ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবুল ইউসর আল-তানুখি তাঁর নিকট পাঠ করার সময় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শুনছিলাম; তিনি বলেন: ইমাম ফখরুদ্দীন আবুল হাসান আলি ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি ইবনে আল-বুখারি এবং উম্মু আহমাদ যাইনাব বিনতে মাক্কি ইবনে আলি ইবনে কামিল আল-হাররানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন তাঁদের নিকট পাঠ করা হচ্ছিল। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মা'মার ইবনে তাবারজাদ আল-বাগদাদি আল-মুয়াদ্দিব। ইবনে আল-বুখারি আরও বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ইউমন যাইদ ইবনে আল-হাসান ইবনে যাইদ আল-কিন্দি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-আনসারি। তিনি বলেন: আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আল-বারমাকি উপস্থিত থাকাকালীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٥)
أَيُّوبَ بْنِ مَاسِيٍّ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى أُمِّ سُلَيْمٍ فَرَأَى أَبَا عُمَيْرٍ حَزِينًا فَقَالَ: ((يَا أُمَّ سُلَيْمٍ، مَا بَالُ أَبِي عُمَيْرٍ حَزِينًا؟)) فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاتُ نُغَرُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((أَبَا عُمَيْرٍ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ)) .

أَخْرَجَهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ فِي ((مُسْنَدِهِ)) ، عَنِ الأَنْصَارِيِّ فَوَقَعَ لَنَا مُوَافَقَةً عَالِيَةً. وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي ((الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ)) ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ بَكَّارٍ الْحِمْصِيِّ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ خُمَيْرٍ الْحِمْصِيِّ، عَنِ الْجَرَّاحِ بْنِ مَلِيحٍ الْبهرانِيِّ الْحِمْصِيِّ، عَنْ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ حُمَيْدٍ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا عَنْ هَذِهِ الطَّرِيقِ بِخَمْسِ دَرَجَاتٍ.
আইয়ুব ইবনে মাসী আল-বাজ্জাজ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-কাজ্জি আল-বাসরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে সুলাইমের নিকট প্রবেশ করলেন এবং আবু উমাইরকে বিষণ্ণ অবস্থায় দেখলেন। তিনি বললেন: "হে উম্মে সুলাইম, আবু উমাইর বিষণ্ণ কেন?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তার নুগাইর (একটি ছোট পাখি) মারা গেছে। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে আবু উমাইর, নুগাইরটি কী করেছে?"

ইমাম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল এটি তাঁর "মুসনাদ"-এ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি আমাদের কাছে একটি উচ্চ পর্যায়ের (আলি) মুয়াফাকাত হিসেবে পৌঁছেছে। এবং ইমাম নাসায়ি এটি তাঁর "আল-ইয়াউম ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে ইমরান ইবনে বাক্কার আল-হিমসি থেকে, তিনি হাসান ইবনে খুমাইর আল-হিমসি থেকে, তিনি জাররাহ ইবনে মালিহ আল-বাহরানি আল-হিমসি থেকে, তিনি শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কায়স থেকে এবং তিনি হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এই সূত্রটি আমাদের কাছে পাঁচ স্তর বিশিষ্ট একটি উচ্চ (আলি) সনদ হিসেবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٦)
شيخٌ آخَرُ

‌‌8- أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ غَنَائِمَ بْنِ وَافِدِ بْنِ سَعِيدٍ ابْنُ الْمُهَنْدِسِ الْحَنَفِيُّ، شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ.

أَسْمَعَهُ أَخُوهُ كَثِيرًا من أحمد بن شيبان، وعبد الرحمن بن الزَّيْنِ، وَعَلِيِّ بْنِ أَحْمَدَ ابْنِ الْبُخَارِيِّ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ مَكِّيٍّ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ الْعَلَمِ أَحْمَدَ بْنِ كَامِلٍ، وَغَيْرِهِمْ، وَحَدَّثَ.

سَمِعَ مِنْهُ الْحَافِظُ شَمْسُ الدِّينِ الذَّهَبِيُّ وَغَيْرُهُ، وَكَانَ يَجْلِسُ مَعَ الشُّهُودِ، وَيَنْسَخُ، وَيَقُومُ بِأَوْلادِهِ وَعَائِلَتِهِ.

مَوْلِدُهُ فِي ذِي الحجة سنة ثمان وسبعين وست مئة، وَتُوُفِّيَ فِي يَوْمِ الثُّلاثَاءِ ثَالِثِ شَوَّالٍ سَنَةَ سبع وأربعين وسبع مئة بِسَفْحِ قَاسَيُونَ، وَدُفِنَ مِنْ يَوْمِهِ بِالْقُرْبِ مِنَ الْمُعَظِّمِيَّةِ بِسَفْحِ جَبَلِ قَاسَيُونَ.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ ((جُزْءَ الأَنْصَارِيِّ)) ، بِسَمَاعِهِ مِنْ أَرْبَعَةٍ: ابْنِ الْبُخَارِيِّ، وَابْنِ شَيْبَانَ، وَابْنِ الزَّيْنِ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ مَكِّيٍّ، بِسَمَاعِ الأَوَّلِينَ مِنَ ابْنِ طَبَرْزَدَ وَالْكِنْدِيِّ، وَبِسَمَاعِ الثَّالِثِ مِنَ الْكِنْدِيِّ، وَبِسَمَاعِ زَيْنَبَ مِنَ ابْنِ طَبَرْزَدَ، بسماعهما عن الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ بِسَنَدِهِ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْعَدْلُ شِهَابُ الدِّين أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ غَنَائِمَ ابْنُ الْمُهَنْدِسِ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشُّيُوخُ الأَرْبَعَةُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ ابْنُ الْبُخَارِيِّ،
অন্য একজন শাইখ

‌‌৮- আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে গানায়িম ইবনে ওয়াফিদ ইবনে সাঈদ ইবনুল মুহান্দিস আল-হানাফি, শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস.

তাঁর ভাই তাঁকে আহমদ ইবনে শাইবান, আবদুর রহমান ইবনুল যাইন, আলি ইবনে আহমদ ইবনুল বুখারি, যায়নাব বিনতে মাক্কি, যায়নাব বিনতে আল-আলাম আহমদ ইবনে কামিল এবং অন্যদের থেকে প্রচুর শ্রবণ করিয়েছেন এবং তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাফিজ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি এবং অন্যান্যেরা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি সাক্ষীদের সাথে বসতেন, পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করতেন এবং তাঁর সন্তান ও পরিবারের দেখাশোনা করতেন।

তাঁর জন্ম ৬৭৮ হিজরি সনের জিলহজ মাসে এবং তিনি ৭৪৭ হিজরি সনের ৩রা শাওয়াল মঙ্গলবার কাসিউনের পাদদেশে মৃত্যুবরণ করেন। ওই দিনই তাঁকে জাবালে কাসিউনের পাদদেশে মুয়াযযামিয়ার সন্নিকটে দাফন করা হয়।

আমি তাঁর কাছে ‘জুযউল আনসারি’ শ্রবণ করেছি; চারজন থেকে তাঁর শ্রবণের মাধ্যমে: ইবনুল বুখারি, ইবনে শাইবান, ইবনুল যাইন এবং যায়নাব বিনতে মাক্কি। প্রথম দু’জন ইবনে তাবারযাদ ও আল-কিন্দি থেকে শ্রবণের মাধ্যমে, তৃতীয় জন আল-কিন্দি থেকে শ্রবণের মাধ্যমে এবং যায়নাব ইবনে তাবারযাদ থেকে শ্রবণের মাধ্যমে; তাঁরা উভয়ে কাজি আবু বকর থেকে তাঁর সনদে শ্রবণ করেছেন।

ন্যায়পরায়ণ শাইখ শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে গানায়িম ইবনুল মুহান্দিস আমাদের কাছে পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি শ্রবণ করছিলাম। তিনি বললেন: চারজন শাইখ—ফাখরুদ্দিন আবুল হাসান আলি ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনুল বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٧)
وَشَمْسُ الدِّينِ أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنِ الزَّيْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُثْمَانَ الْمَقْدِسِيَّانِ، وَبَدْرُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ بْنِ تَغْلِبَ الشَّيْبَانِيُّ، وَأُمُّ أَحْمَدَ زَيْنَبُ بِنْتُ مَكِّيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ كَامِلٍ الْحَرَّانِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِمْ، قَالَ ابْنُ الْبُخَارِيِّ وَابْنُ شَيْبَانَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ أَبُو الْيُمْنِ زَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ الْكِنْدِيُّ وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ. وَقَالَ ابْنُ الزَّيْنِ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْيُمْنِ الْكِنْدِيُّ حُضُورًا. وَقَالَتْ زَيْنَبُ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ ابْنُ طَبَرْزَدَ؛ قَالا: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْبَرْمَكِيُّ حُضُورًا، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ مَاسِيٍّ الْبَزَّازُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُسْلِمٍ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَاللَّهِ لا أَسْمَعُ أَحَدًا بَعْدَهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: ((إِنَّ الْحَلالَ بينٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بينٌ، وَإِنَّ بَيْنَ ذَلِكَ أُمُورًا مشتبهاتٍ –وَرُبَّمَا قَالَ مُشْتَبِهَةً- وَسَأَضْرِبُ لَكُمْ فِي ذَلِكَ مَثَلا: إِنَّ اللَّهَ حَمَى حِمًى، وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَا حَرَّمَ اللَّهُ، وَإِنَّهُ مَنْ يَرْعَ حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُخَالِطَ الْحِمَى، وَرُبَّمَا قَالَ: مَنْ يُخَالِطُ الرِّيبَةَ يُوشِكُ أَنْ يَجْسُرَ)) .

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي عَدِيٍّ. وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ نَافِعٍ الْحَنَّاطِ. وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ. وَعَنْ حُمَيْدِ بْنِ مَسْعَدَةَ الْبَصْرِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، أَرْبَعَتُهُمْ
শামসুদ্দিন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনুল জাইন আহমদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে উসমান আল-মাকদিসিদ্বয়, এবং বদরুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে শায়বান ইবনে তাগলিব আশ-শায়বানি, এবং উম্মে আহমদ জয়নব বিনতে মাক্কি ইবনে আলী ইবনে কামিল আল-হাররানি—তাঁদের নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। ইবনুল বুখারি এবং ইবনে শায়বান বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শাইখ—আবুল ইয়ুমন জায়েদ ইবনুল হাসান আল-কিন্দি এবং আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মা’মার ইবনে তাবারজাদ। ইবনুল জাইন বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ইয়ুমন আল-কিন্দি তাঁর উপস্থিতিতে। জয়নব বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস ইবনে তাবারজাদ। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাজি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-বারমাকি তাঁর উপস্থিতিতে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আইয়ুব ইবনে মাসি আল-বাযযায। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসলিম ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম আল-কাজ্জি আল-বাসরি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারি। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আউন, আশ-শা’বি থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমান ইবনে বশির (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি—এবং আল্লাহর কসম, তাঁর পরে আমি আর কাউকে বলতে শুনব না যে ‘আমি আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছি’—তিনি বলছিলেন: ((নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং নিশ্চয়ই হারাম স্পষ্ট, আর এই দুইয়ের মাঝে রয়েছে বহু অস্পষ্ট বিষয়—এবং সম্ভবত তিনি ‘মুশতাবিহাহ’ (অস্পষ্ট) বলেছেন—আর আমি তোমাদের জন্য এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দিচ্ছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করেছেন, আর আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো যা আল্লাহ হারাম করেছেন। আর নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সংরক্ষিত এলাকার আশেপাশে (পশু) চরায়, অচিরেই তার সেই সংরক্ষিত এলাকায় লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর সম্ভবত তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি সন্দেহের সাথে জড়ায়, অচিরেই তার (হারামে) দুঃসাহস দেখানোর সম্ভাবনা থাকে))।

এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবি আদি থেকে। এবং ইমাম আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি আবদে রাব্বিহি ইবনে নাফি আল-হান্নাত থেকে। এবং ইমাম নাসায়ি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আলা থেকে, তিনি খালিদ ইবনুল হারিস থেকে; এবং হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ আল-বাসরি থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে জুরাই থেকে—তাঁরা চারজনই।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٨)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَوْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ. وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ طُرُقٍ مِنْهَا: عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلالٍ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا، فَكَأَنَّ ابْنَ طَبَرْزَدَ سَمِعَهُ مَعَ مُسْلِمٍ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.

شيخٌ آخَرُ

‌‌9- أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْد اللَّهِ بْن عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ الْحَنَفِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْكَيَّالِ، شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ.

سَمِعَ مِنَ الشَّيْخِ شَمْسِ الدِّينِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ، وَابْنِ الْبُخَارِيِّ، وَنَشَأَ فِي الاشْتِغَالِ بِكِتَابَةِ الدِّيوَانِ، ثُمَّ تَرَكَهَا وَسَكَنَ حَلَبَ مُدَّةً، وَحَدَّثَ بِهَا وَبِدِمَشْقَ.

مَوْلِدُهُ فِي مُسْتَهَلِّ رجب سنة اثنتين وسبعين وست مئة، وَمَاتَ بِالْبِيمَارِسْتَانِ الْقَيْمُرِيِّ بِالصَّالِحِيَّةِ فِي لَيْلَةِ الأَحَدِ الْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحَجَّةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَخَمْسِينَ وسبع مئة، وَدُفِنَ مِنَ الْغَدِ بِسَفْحِ قَاسَيُونَ، وَصَلَّى عَلَيْهِ قَاضِي الْقُضَاةِ جَمَالُ الدِّينِ الْحَنْبَلِيُّ وَحَضَرَ جَنَازَتَهُ.
আবদুল্লাহ ইবনে আউন থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি নুমান ইবনে বাশির থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম মুসলিম এটি একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: আবদুল মালিক ইবনে শুআইব ইবনে লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি খালিদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি আউন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে। এভাবে আমাদের কাছে এটি উচ্চ সনদে পৌঁছেছে, যেন ইবনে তাবারযাদ এটি ইমাম মুসলিমের সাথেই শুনেছেন; আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

অন্য একজন শাইখ

‌‌৯- আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আদ-দিমাশকি আল-হানাফি, যিনি ইবনুল কাইয়াল নামে পরিচিত, শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস.

তিনি শাইখ শামসুদ্দিন ইবনে আবি উমর এবং ইবনুল বুখারি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি প্রশাসনিক দপ্তরে লেখালেখির কাজে (দিওয়ান) নিয়োজিত থেকে বড় হয়েছেন, এরপর তিনি তা ছেড়ে দেন এবং এক সময় আলেপ্পোতে (হালাব) বসবাস করেন। সেখানে এবং দামেস্কে তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

তাঁর জন্ম ৬৭২ হিজরি সালের রজব মাসের শুরুতে এবং তিনি ৭৫৩ হিজরি সালের ২০শে জিলহজ রবিবার রাতে সালিহিয়ার কাইমারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। পরদিন তাঁকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়। প্রধান বিচারপতি জামালুদ্দিন আল-হাম্বলি তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٤٩)
سَمِعْتُ عَلَيْهِ ((جُزْءَ الأَنْصَارِيِّ)) ، بِسَمَاعِهِ مِنَ ابْنِ الْبُخَارِيِّ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الشَّيْخَيْنِ الْكِنْدِيِّ وَابْنِ طَبَرْزَدَ، بِسَمَاعِهِمَا مِنَ الْقَاضِي أَبِي بَكْرٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْبَرْمَكِيِّ، عَنِ ابْنِ مَاسِيٍّ، عَنِ الْكَجِّيِّ، عَنِ الأَنْصَارِيِّ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الصَّالِحُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو العباس أحمد بن الشَّيْخِ الإِمَامِ عِمَادِ الدِّينِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَحْيَى بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَحْمَدَ ابْنِ الْكَيَّالِ الْحَنَفِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الإِمَامُ فَخْرُ الدِّينِ أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ ابْنُ الْبُخَارِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ أَبُو الْيُمْنِ زَيْدُ بْنُ الْحَسَنِ الْكِنْدِيُّ وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزَدَ الْمُؤَدِّبُ؛ قَالا: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْبَرْمَكِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدُ بْنُ مَاسِيٍّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((لا هِجْرَةَ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ فَوْقَ ثَلاثَةِ أيامٍ)) أَوْ قَالَ ((ثَلاثِ ليالٍ)) .

هَذَا حديثٌ صحيحٌ متفقٌ عَلَى صِحَّتِهِ، وَأَنَسٌ رضي الله عنه فَمَا دُونَهُ إِلَى أَبِي مُسْلِمٍ بَصْرِيُّونَ. وَهُوَ مخرجٌ فِي ((الصَّحِيحَيْنِ)) فِي آخِرِ حَدِيثِ: ((لا تَبَاغَضُوا وَلا تَحَاسَدُوا)) مِنْ طَرِيقِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ. وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا عَنْ حَاجِبِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا بِثَلاثِ دَرَجَاتٍ. وَكَأَنَّ الْقَاضِي أَبَا بَكْرٍ الأَنْصَارِيَّ سَمِعَهُ مِنْ مُسْلِمٍ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ.
আমি তার কাছে 'জুযউল আনসারী' শুনেছি, যা তিনি ইবনুল বুখারী থেকে শুনেছেন, তিনি দুই শায়খ কিন্দী ও ইবনে তাবারযাদ থেকে শুনেছেন, তারা দু’জন কাযী আবু বকর আল-আনসারী থেকে শুনেছেন, তিনি বারমাকী থেকে, তিনি ইবনে মাসী থেকে, তিনি কাজ্জী থেকে এবং তিনি আনসারী থেকে শুনেছেন।

নেককার শায়খ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন শায়খ ইমাম ইমাদুদ্দীন ইবরাহীম বিন ইয়াহইয়া বিন আহমাদ বিন আহমাদ ইবনুল কাইয়্যাল আল-হানাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি তা শ্রবণরত অবস্থায় তাকে পড়ে শোনানো হয়েছে—তিনি বলেন: ইমাম ফখরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল বুখারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাকে পড়ে শোনানো হয়েছে—তিনি বলেন: দুই শায়খ আবুল ইয়ুম্ন যায়েদ বিন হাসান আল-কিন্দী এবং আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মা'মার বিন তাবারযাদ আল-মুয়াদ্দিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তারা বলেন: কাযী আবু বকর আল-আনসারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-বারমাকী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ বিন মাসী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুসলিম আল-কাজ্জী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আনসারী আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান আত-তায়মী আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিমদের মাঝে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়" অথবা তিনি বলেছেন "তিন রাত"।

এটি একটি সহীহ হাদিস, যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শুরু করে আবু মুসলিম পর্যন্ত সকল বর্ণনাকারীই বসরার অধিবাসী। হাদিসটি 'সহীহাইন'-এ যুহরী থেকে আনাসের সূত্রে বর্ণিত "তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না এবং হিংসা করো না" হাদিসটির শেষাংশে সংকলিত হয়েছে। ইমাম মুসলিম এটি হাজিব বিন ওয়ালিদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন হারব থেকে, তিনি যুবায়দী থেকে, তিনি যুহরী থেকে এবং তিনি আনাসের সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের কাছে তিন স্তর বিশিষ্ট উচ্চ সনদে পৌঁছেছে। মনে হচ্ছে যেন কাযী আবু বকর আল-আনসারী এটি সরাসরি ইমাম মুসলিমের কাছ থেকেই শুনেছেন। সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٥٠)
شيخٌ آخَرُ

‌‌10- أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ طَيِّ بْنِ حَاتِمِ بْنِ جَيْشِ بْنِ بَكَّارٍ الزُّبَيْرِيُّ الْمِصْرِيُّ، شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ.

سَمِعَ مِنَ الْمُعِينِ الدِّمَشْقِيِّ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلاقٍ، وَعَبْدِ الْهَادِي بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْقَيْسِيِّ، وَالنَّجِيبِ عَبْدِ اللَّطِيفِ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ ابْنَيْ عَبْدِ الْمُنْعِمِ الْحَرَّانِيِّ، وَابْنِ خَطِيبِ الْمِزَّةِ، وَغَازِي الْحَلاوِيِّ وَجَمَاعَةٍ، وَرَحَلَ إِلَى الإِسْكَنْدَرِيَّةِ وَسَمِعَ بِهَا مِنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الْفُرَاتِ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَارِسٍ، وَأَجَازَ لَهُ جَمَاعَةٌ كَثِيرَةٌ، وَحَدَّثَ قَدِيمًا.

سَمِعَ مِنْهُ الذَّهَبِيُّ وَذَكَرَهُ فِي ((مُعْجَمِهِ)) وَقَالَ: أَحَدُ طَلَبَةِ الْحَدِيثِ، انْتَهَى كَلامُهُ، وَكَتَبَ بِخَطِّهِ، وَقَرَأَ بِنَفْسِهِ، وَحَصَّلَ الأَجْزَاءَ بِخَطِّهِ وَبِخَطِّ غَيْرِهِ، وَعَلَى ذِهْنِهِ حكاياتٌ وَنَوَادِرُ.

تُوُفِّيَ يَوْمَ السَّبْتِ السَّابِعِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ شَعْبَانَ سنة أربعين وسبع مئة بِمِصْرَ، وَدُفِنَ بِالْقَرَافَةِ.

سَمِعْتُ عَلَيْهِ مَجْلِسَ الْبِطَاقَةِ حُضُورًا فِي الرَّابِعَةِ بِسَمَاعِهِ مِنَ الْمُعِينِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ وَابْنِ عَلاقٍ، بِسَمَاعِهِمَا مِنَ الْبُوصِيرِيِّ، بِسَمَاعِهِ مِنْ أَبِي صَادِقٍ الْمَدِينِيِّ بسنده. و ((كتاب الْجُمُعَةِ)) لِلنَّسَائِيِّ بِسَمَاعِهِ مِنَ الْمُعِينِ الْمَذْكُورِ، بِسَمَاعِهِ مِنَ الْبُوصِيرِيِّ، عَنْ أَبِي صَادِقٍ، عَنِ ابْنِ الطَّفَّالِ، عَنِ ابْنِ حَيُّوَيْهِ، عَنْهُ.

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْمُحَدِّثُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ طَيٍّ الزُّبَيْرِيُّ الْمِصْرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حاضرٌ فِي الرَّابِعَةِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخَانِ مُعِينُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بن القاضي زين الدين علي
অন্য একজন শায়খ

‌‌১০- আহমদ বিন আবু বকর বিন তাইয়ি বিন হাতিম বিন জাইশ বিন বক্কার আয-যুবায়রী আল-মিসরী, শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস.

তিনি মুঈন আদ-দিমাশকী, আব্দুল্লাহ বিন আল্লাক, আব্দুল হাদী বিন আব্দুল কারীম আল-কাইসী, আন-নাজীব আব্দুল লতিফ ও আব্দুল আযীয (উভয়ে আব্দুল মুনইম আল-হাররানীর পুত্র), ইবনে খাতীব আল-মিযযাহ, গাজী আল-হালাওয়ী এবং এক জামাত উলামা থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেন এবং সেখানে আব্দুল ওয়াহহাব বিন হাসান বিন আল-ফুরাত ও আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ফারিস থেকে হাদীস শোনেন। এক বিশাল জামাত তাঁকে ইজাযাহ (বর্ণনার অনুমতি) প্রদান করেছেন এবং তিনি প্রাচীনকাল থেকেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইমাম যাহাবী তাঁর নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর 'মু'জাম'-এ তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি হাদীসের একজন তালিবে ইলম (ছাত্র)।" তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। তিনি নিজ হাতে লিখেছেন, নিজে পাঠ করেছেন এবং নিজ হাতে ও অন্যের হস্তাক্ষরে বিভিন্ন সংকলন (আজযা) সংগ্রহ করেছেন। তাঁর স্মৃতিতে অনেক কাহিনী ও দুর্লভ তথ্য সংরক্ষিত ছিল।

তিনি সাতশ চল্লিশ হিজরী সালের সাতাশে শাবান শনিবার মিশরে ইন্তেকাল করেন এবং আল-কারাফায় তাঁকে দাফন করা হয়।

আমি চার বছর বয়সে উপস্থিত থেকে তাঁর নিকট 'মাজলিসুল বীতাকাহ' শুনেছি, যা তিনি মুঈন আহমদ বিন আলী বিন ইউসুফ ও ইবনে আল্লাকের নিকট শ্রবণ করেছেন, তাঁরা উভয়ে আল-বূসীরীর নিকট থেকে এবং তিনি তাঁর সনদে আবু সাদিক আল-মাদিনীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। এছাড়া ইমাম নাসায়ী রচিত 'কিতাবুল জুমুআহ' (শুনেছি), যা তিনি উল্লিখিত মুঈনের নিকট থেকে, তিনি আল-বূসীরী থেকে, তিনি আবু সাদিক থেকে, তিনি ইবনে আত-তাফফাল থেকে, তিনি ইবনে হাইয়্যুইহ থেকে এবং তিনি তাঁর (ইমাম নাসায়ী) থেকে শ্রবণ করেছেন।

শায়খ, ইমাম, মুহাদ্দিস শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবু বকর বিন তাইয়ি আয-যুবায়রী আল-মিসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁকে পড়ে শোনানো হয়েছে এবং আমি তখন চার বছর বয়সে উপস্থিত ছিলাম—তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দুই শায়খ মুঈনুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন কাযী যায়নুদ্দীন আলী...
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٥١)
ابن يُوسُفَ الدِّمَشْقِيُّ، وَأَبُو عِيسَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَلاقٍ الْمِصْرِيُّ؛ قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُعُودٍ الْبُوصِيرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو صَادِقٍ مُرْشِدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْقَاسِمِ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الصَّوَّافُ الْحَرَّانِيُّ بِمِصْرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْكِنَانِيُّ الْحَافِظُ إِمْلاءً، قَالَ: أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ حُمَيْدٍ الطَّبِيبُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ يَحْيَى الْمُعَافِرِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو رضي الله عنهما يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((يُصَاحُ برجل من أمتي على رؤوس الْخَلائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُنْشَرُ لَهُ تسعةٌ وَتِسْعُونَ سِجِلا كُلُّ سجلٍ مِنْهَا مَدُّ الْبَصَرِ، ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ عز وجل لَهُ: أَتُنْكِرُ مِنْ هذا شيئاً، فيقول: لا يارب، فَيَقُولُ عز وجل: أَلَكَ عذرٌ أَوْ حسنةٌ فيهاب الرجل فيقول: لا يارب. فَيَقُولُ عز وجل: بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَاتٍ، وَإِنَّهُ لا ظُلْمَ عَلَيْكَ فَتَخْرُجُ لَهُ بطاقةٌ فِيهَا: أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، فيقول: يارب مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلاتُ، فَيَقُولُ عز وجل: إِنَّكَ لا تُظْلَمُ، قَالَ: فَتُوضَعُ السِّجِلاتُ فِي كفةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كفةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلاتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ)) .

قَالَ حَمْزَةُ: وَلا نَعْلَمُ ورى هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرَ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، وَهُوَ مِنْ أَحْسَنِ الْحَدِيثِ. وَقَالَ لَنَا شَيْخُنَا أَبُو الْحَسَنِ الْحَرَّانِيُّ: لَمَّا أَمْلَى عَلَيْنَا حَمْزَةُ هَذَا الْحَدِيثَ، صَاحَ غريبٌ مِنَ الْحَلَقَةِ صَيْحَةً فَاضَتْ نَفْسُهُ مَعَهَا وَأَنَا مِمَّنْ حَضَرَ جَنَازَتَهُ وَصَلَّى عَلَيْهِ.

أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْ سُوَيْدٍ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي مَرْيَمَ؛ كِلاهُمَا عَنِ اللَّيْثِ فَوَقَعَ لَنَا عَالِيًا بِدَرَجَتَيْنِ.
ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকি এবং আবু ঈসা আবদুল্লাহ বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আল্লাক আল-মিসরি; তারা উভয়ই বলেছেন: আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলি বিন সুউদ আল-বুসিরি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু সাদিক মুর্শিদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-কাসিম আল-মাদিনি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবুল হাসান আলি বিন উমর আস-সাওয়াফ আল-হাররানি মিসরে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হাফেজ আবুল কাসিম হামজাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি আল-কিনানি আমাদের কাছে শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইমরান বিন মুসা বিন হুমাইদ আত-তবিব আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: লাইস বিন সাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমির বিন ইয়াহইয়া আল-মুআফিরি থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন সমগ্র সৃষ্টির সামনে আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাকা হবে। অতঃপর তার সামনে নিরানব্বইটি আমলনামার খাতা উন্মুক্ত করা হবে, যার প্রতিটি খাতা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তারপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে বলবেন: ‘তুমি কি এর মধ্য থেকে কিছু অস্বীকার করো?’ সে বলবে: ‘না, হে আমার রব!’ এরপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: ‘তোমার কি কোনো ওজর বা কোনো নেকি আছে?’ তখন লোকটি ভীত হয়ে পড়বে এবং বলবে: ‘না, হে আমার রব!’ তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: ‘অবশ্যই, আমাদের কাছে তোমার নেকি রয়েছে এবং আজ তোমার প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।’ এরপর তার জন্য একটি কার্ড বের করা হবে যাতে লেখা থাকবে: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।’ লোকটি বলবে: ‘হে আমার রব! এই বিশাল সব আমলনামার বিপরীতে এই সামান্য কার্ডটি কী কাজে আসবে?’ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলবেন: ‘তোমার প্রতি জুলুম করা হবে না।’ তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) বলেন: ‘অতঃপর পাল্লার এক পাশে আমলনামাগুলো রাখা হবে এবং অন্য পাশে কার্ডটি রাখা হবে; এতে আমলনামাগুলোর পাল্লা হালকা হয়ে উপরে উঠে যাবে এবং কার্ডের পাল্লাটি ভারী হবে।’"

হামজাহ বলেন: লাইস বিন সাদ ছাড়া অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই, এবং এটি অত্যন্ত উত্তম হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের শায়খ আবুল হাসান আল-হাররানি আমাদের বলেছেন: যখন হামজাহ আমাদের কাছে এই হাদিসটি শ্রুতলিপি হিসেবে প্রদান করছিলেন, তখন মজলিস থেকে এক আগন্তুক সজোরে চিৎকার করে উঠলেন এবং তার সাথেই তার প্রাণবায়ু নির্গত হলো। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যারা তার জানাজায় উপস্থিত ছিল এবং তার জানাজার সালাত আদায় করেছিল।

এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ থেকে, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে। এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি ইবনে আবি মারইয়াম থেকে; তারা উভয়েই লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের নিকট দুই স্তরের উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুশ শুয়ূখ লিস সুবকী (পৃষ্ঠা: ٥٢)
وأَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُسْنِدُ شِهَابُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أحمد بن أبي بكر ابن طَيٍّ الزُّبَيْرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا حاضرٌ فِي الرَّابِعَةِ فِي جُمَادَى الآخِرَةِ سَنَةَ إِحْدَى وَثَلاثِينَ وسبع مئة، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ مُعِينُ الدِّينِ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْقَاضِي زَيْنِ الدِّينِ عَلِيِّ بْنِ يُوسُفَ الدِّمَشْقِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُعُودٍ الْبُوصِيرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو صَادِقٍ مُرْشِدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ الْقَاسِمِ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ الطَّفَّالِ النَّيْسَابُورِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ أَرْبَعِينَ وَأَرْبَعِ مئة، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ حَيُّوَيْهِ النَّيْسَابُورِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَلِيٍّ النَّسَائِيُّ لَفْظًا قَرَأَهُ علينا من كتابه سنة أربع وتسعين ومئتين، قَالَ: أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ سُفْيَانَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ، وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ((مَنْ تَرَكَ ثَلاثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا طَبَعَ اللَّه عَلَى قَلْبِهِ)) .

أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي الصَّلاةِ عَنْ مُسَدَّدٍ، عَنْ يَحْيَى. وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ خَشْرَمٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ؛ كِلاهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، بِهِ، وَقَالَ: سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنِ اسْمِ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ فَلَمْ يَعْرِفِ اسْمَهُ، وَقَالَ: لا أَعْرِفُ لَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلا هَذَا الْحَدِيثِ، وَلا يُعْرَفُ إِلا مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو. وَأَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي الصَّلاةِ
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখুল মুসনিদ শিহাবুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবি বকর ইবনে তই আয-যুবাইরি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি উপস্থিত ছিলাম তাঁর চতুর্থ বর্ষে ৭৩১ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ মুঈনুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আল-কাদি যাইনুদ্দীন আলি বিন ইউসুফ আদ-দিমাশকি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আলি বিন সুউদ আল-বুসিরি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদিক মুরশিদ বিন ইয়াহইয়া বিন আল-কাসিম আল-মাদিনি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আত-তফ্ফাল আন-নিশাপুরি, ৪৪০ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যাকারিয়া বিন হাইয়ুওয়াইহি আন-নিশাপুরি, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান আহমাদ বিন শুআইব বিন আলি আন-নাসায়ি ২৯৪ হিজরি সনে মৌখিকভাবে তাঁর কিতাব থেকে এটি পাঠ করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন সাইদ, মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি উবাইদাহ বিন সুফিয়ান আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবুল জা'দ আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেন—আর তিনি একজন সাহাবি ছিলেন—তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি অবহেলাবশত তিনটি জুমা পরিত্যাগ করবে, আল্লাহ তাঁর অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"

এটি আবু দাউদ সালাত অধ্যায়ে মুসাদ্দাদ হতে, তিনি ইয়াহইয়া হতে বর্ণনা করেছেন। এবং তিরমিযি এটি একই বিষয়ে আলি বিন খাশরাম হতে, তিনি ঈসা বিন ইউনুস হতে বর্ণনা করেছেন; তারা উভয়েই মুহাম্মদ বিন আমর থেকে একই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং তিনি (তিরমিযি) বলেছেন: আমি মুহাম্মদকে আবুল জা'দ আদ-দামরির নাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি কিন্তু তিনি তাঁর নাম জানতে পারেননি। এবং তিনি বলেছেন: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর এই একটি মাত্র হাদিসই আমি জানি, এবং এটি কেবল মুহাম্মদ বিন আমরের হাদিস হিসেবেই পরিচিত। এবং ইবনে মাজাহ এটি সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।