(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: -)
تاريخ الرقة   (أبو علي القشيري)

القسم: كتب السنة


الكتاب: تاريخ الرقة ومن نزلها من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعين والفقهاء والمحدثين

المؤلف: محمد بن سعيد بن عبد الرحمن القشيري، أبو علي (ت 334 هـ)

المحقق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]

الناشر: دار البشائر

الطبعة: الأولى 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 188

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তারিখুর রাক্কা   (আবু আলী আল-কুশায়রী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: তারিখুর রাক্কা এবং সেখানে আগমনকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, ফকীহগণ ও মুহাদ্দিসগণের বিবরণ

লেখক: মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আব্দুর রহমান আল-কুশায়রী، আবু আলী (মৃত্যু ৩৩৪ হিজরী)

তাহকীক: ইবরাহীম সালিহ [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরী]

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৯ হিজরী - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৮

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগী আল-খায়র আকবিল

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
تاريخ الرقة

ومن نزلها

من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعين والفقهاء والمحدثين

 

تأليف

الإمام الحافظ أبي علي محمد بن سعيد بن عبد الرحمن

القشيري الحراني

المتوفى سنة (334 هـ)

 

عني بتحقيقه

إبراهيم صالح

 

دار البشائر

 

الطبعة الأولى

1419 هـ - 1998 م
রাক্কার ইতিহাস

এবং সেখানে যারা আবাসন গ্রহণ করেছেন

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, ফকীহগণ এবং মুহাদ্দিসগণের মধ্য থেকে

 

গ্রন্থনায়

ইমাম হাফেজ আবু আলী মুহাম্মদ ইবন সাঈদ ইবন আবদুর রহমান

আল-কুশায়রী আল-হাররানী

মৃত্যু: ৩৩৪ হিজরী

 

সম্পাদনায়

ইবরাহীম সালিহ

 

দারুল বাশায়ির

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৯ হিজরী - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌الجزء الأول من تاريخ الرقة ومن نزلها من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعين والفقهاء والمحدثين

جمع أبي علي محمد بن سعيد بن عبد الرحمن القشيري الحراني الحافظ

رواية أبي أحمد محمد بن عبد الله بن أحمد بن القاسم بن جامع الدهان، عنه

رواية أبي عبد الله الحسين بن جعفر بن السلماسي، عنه

رواية أبي الحسين المبارك بن عبد الجبار بن أحمد الصيرفي، عنه

رواية الإمام الحافظ أبي طاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد السلفي، عنه

رواية شيخنا الجليل، مسند الوقت، بدر الدين أبي القاسم عبد الرحيم بن يوسف بن هبة الله بن الطفيل الدمشقي، أثابه الله الجنة
রাক্কার ইতিহাসের প্রথম খণ্ড এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, ফকীহগণ ও মুহাদ্দিসগণের মধ্য থেকে যারা সেখানে অবস্থান করেছিলেন

হাফিজ আবু আলী মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আব্দুর রহমান আল-কুশায়রী আল-হাররানীর সংকলন

তাঁর থেকে আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-কাসিম বিন জামি আদ-দাহহানের বর্ণনা

তাঁর থেকে আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন জাফর বিন আস-সালমাসীর বর্ণনা

তাঁর থেকে আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমদ আস-সাইরাফীর বর্ণনা

তাঁর থেকে ইমাম হাফিজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আস-সিলাফীর বর্ণনা

আমাদের মহান শাইখ, সমকালীন মুসনিদ, বদরুদ্দীন আবু আল-কাসিম আব্দুর রাহীম বিন ইউসুফ বিন হিবাতুল্লাহ বিন আত-তুফাইল আদ-দিমাশকীর বর্ণনা, আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
بسم الله الرحمن الرحيم رب وفق

أخبرنا الشيخ الجليل، الرئيس الأصيل، بدر الدين، أبو القاسم عبد الرحيم بن يوسف بن هبة الله بن الطفيل الدمشقي، قراءةً عليه ونحن نسمع، في يوم السبت ثالث عشر ربيع الآخر من سنة إحدى وثلاثين وستمئة، بمنزل المسمع، قال: أنبأ الشيخ الحافظ أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد السلفي، قال: أخبرنا الشيخ أبو الحسين المبارك بن عبد الجبار بن أحمد الصيرفي بمدينة السلام، فيما قرأت عليه من أصل سماعه، أنبأ أبو عبد الله الحسين بن جعفر بن السلماسي، أنبأ أبو أحمد محمد بن عبد الله بن أحمد بن القاسم بن جامع الدهان، ثنا أبو علي محمد بن سعيد بن عبد الرحمن بن إبراهيم بن عيسى بن مرزوق، القشيري، الحراني، حافظ الرقة، بالرقة في سنة أربعٍ وثلاثين وثلاثمئة:

1- ثنا أبو داود سليمان بن سيف الحراني، ثنا الحسن بن محمد بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে রব, তাওফিক দান করুন।

মহান শায়খ, সম্ভ্রান্ত প্রধান, বদরুদ্দিন আবুল কাসেম আব্দুর রহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে তুফাইল আদ-দিমাশকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা তা শুনছিলাম, ৬৩১ হিজরি সনের ১৩ই রবিউল আখের শনিবার দিন, শায়খের আবাসে। তিনি বলেন: হাফেজ শায়খ আবু তাহের আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সালাফি আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন: শায়খ আবুল হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জব্বার ইবনে আহমদ আস-সাইরাফি বাগদাদ শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা আমি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তাঁর উপস্থিতিতে পাঠ করেছি। আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে জাফর ইবনে আস-সালমাসি আমাদের জানিয়েছেন। আবু আহমদ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে কাসেম ইবনে জামি আদ-দাহহান আমাদের জানিয়েছেন। আর-রাক্কাহ শহরের হাফেজ আবু আলি মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহিম ইবনে ঈসা ইবনে মারজুক আল-কুশাইরি আল-হাররানি ৩৩৪ হিজরি সনে আর-রাক্কাহ শহরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন:

১- আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে সাইফ আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أعين، ثنا سليمان بن عطاء، عن أبيه، عن من شهد عياض بن غنم حين بعثه أبو عبيدة بن الجراح رضي الله عنه إلى الرها، فوقف على بابها الشرقي، على فرسٍ له محذوفٍ أحمر، وقد أجفل أهل الجزيرة إلى الرها، فدعاهم إلى الإسلام، فأبوا؛ فدعاهم إلى أن يقروا بالصغار، فأقروا على أن يشترطوا؛ فاشترطوا، قالوا: فإنا نشترط كنائسنا وصليبنا، وما لجأ إلى كنائسنا من طيرٍ، وسور مدينتنا، وما كان لكنائسنا من غلةٍ على أن تؤدى خراجها.
আয়ুন, সুলাইমান বিন আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে এবং তার পিতা এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি ইয়াদ বিন গানমকে প্রত্যক্ষ করেছেন যখন আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাকে আর-রুহা অভিমুখে প্রেরণ করেছিলেন। তখন তিনি (ইয়াদ) তার একটি লাল রঙের ছোট লেজবিশিষ্ট ঘোড়ায় আরোহণ করে শহরটির পূর্ব দ্বারে এসে দাঁড়ালেন। জাযিরা অঞ্চলের অধিবাসীরা তখন পলায়ন করে আর-রুহায় সমবেত হয়েছিল। তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। এরপর তিনি তাদেরকে বশ্যতা স্বীকার করার আহ্বান জানালেন। তারা এই শর্তে বশ্যতা স্বীকার করতে রাজি হলো যে, তারা নিজেদের কিছু শর্ত প্রদান করবে। অতঃপর তারা তাদের শর্তাবলি পেশ করল। তারা বলল: "আমরা আমাদের গির্জা ও ক্রুশসমূহ, আমাদের গির্জায় আশ্রয় নেওয়া পাখিকুল, আমাদের শহরের প্রাচীর এবং আমাদের গির্জাগুলোর আওতাধীন জমির ফলন বা আয়ের ব্যাপারে নিরাপত্তার শর্ত দিচ্ছি, এই শর্তে যে এগুলোর খারাজ (ভূমি কর) আদায় করা হবে।"
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
فقال عياضٌ: فإنا نشترط عليكم. قالوا: فاشترط. قال: فإني أشترط عليكم [ألا تحدثوا] كنيسة إلا ما في أيديكم، وألا يرفع صليبٌ ولا يضرب ناقوسٌ إلا في جوف كنسيةٍ، وعلى أن نشاطركم منازلكم ينزلها المسلمون، وعلى ألا [تعمروا خنزيراً] بين أظهر المسلمين، وعلى أن تقروا ضيفهم يوماً وليلةً، وعلى أن تحملوا [راجلهم] من رستاقٍ إلى رستاقٍ، وعلى أن تناصحوهم ولا تغشوهم، ولا تمالئوا عليهم عدواً فإن وفيتم لنا وفينا لكم، ومنعناكم مما نمنع منه أبناءنا ونساءنا؛ وإن استحللتم شيئاً من ذلك استحللنا سفك دمائكم، وسبي أنبائكم ونسائكم وأموالكم. قالوا: فأُشْهِدْ؛ قال: فكتب: أُشْهِدُ الله، {وكفى بالله شهيداً} . فدخل أهل الجزيرة فيما دخل به أهل الرها.

2- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا أبو جعفر ابن نفيل، ثنا سليمان بن عطاء، عن أبيه، عن من شهد عياض بن غنم حين بعثه أبو عبيدة بن الجراح إلى الرها، فوقف على بابها الشرقي، على فرسٍ له محذوفٍ أحمر، وقد أجفل أهل الجزيرة إلى الرها؛ فذكر نحوه.
অতঃপর ইয়ায বললেন: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর কিছু শর্তারোপ করছি। তারা বলল: আপনি শর্ত দিন। তিনি বললেন: আমি তোমাদের ওপর এই শর্ত দিচ্ছি যে, তোমরা বর্তমানে তোমাদের অধিকারে থাকা গির্জাগুলো ছাড়া নতুন কোনো গির্জা নির্মাণ করবে না, প্রকাশ্যে কোনো ক্রুশ উত্তোলন করা হবে না, গির্জার অভ্যন্তর ছাড়া বাইরে কোনো ঘণ্টা বাজানো হবে না। আর এই শর্তে যে, আমরা তোমাদের ঘরগুলো তোমাদের সাথে ভাগ করে নেব যেখানে মুসলিমরা অবস্থান করবে। আর মুসলিমদের জনবসতির মাঝে তোমরা শূকর পালন করবে না। তোমরা তাদের (মুসলিমদের) মেহমানদের একদিন ও একরাত মেহমানদারি করবে। তোমরা তাদের পদচারী মুসাফিরদের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পৌঁছে দেবে। তোমরা তাদের কল্যাণ কামনা করবে এবং তাদের সাথে কোনো প্রতারণা করবে না। তাদের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুকে সাহায্য করবে না। যদি তোমরা আমাদের দেওয়া এই অঙ্গীকারগুলো পূরণ করো, তবে আমরাও তোমাদের প্রতি অঙ্গীকার পূরণ করব এবং আমরা আমাদের সন্তান ও নারীদের যেভাবে রক্ষা করি, তোমাদেরও সেভাবে রক্ষা করব। আর যদি তোমরা এর কোনো একটি লঙ্ঘন করো, তবে তোমাদের রক্তপাত করা এবং তোমাদের সন্তান, নারী ও সম্পদকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করা আমাদের জন্য বৈধ হয়ে যাবে। তারা বলল: তবে আপনি সাক্ষী রাখুন। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: এরপর তিনি লিখলেন: আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি, {আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট}। ফলে জাযিরাবাসীরা সেই সন্ধিতে অন্তর্ভুক্ত হলো যাতে রুহাবাসীরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

২- হিলাল বিন আল-আলা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর ইবনে নুফাইল আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান বিন আতা আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি ইয়ায বিন গানামকে দেখেছিলেন যখন আবু উবাইদাহ বিন আল-জাররাহ তাঁকে রুহার দিকে পাঠিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর একটি লাল বর্ণের লেজকাটা ঘোড়ার পিঠে চড়ে রুহার পূর্ব ফটকে দাঁড়িয়েছিলেন, আর জাযিরাবাসীরা তখন রুহার দিকে পলায়ন করেছিল; অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
3- حدثني جعفر بن محمد بن عمر، ثنا فتح بن سلومة الحمراني، ثنا إسماعيل بن يزيد القصير، ثنا جعفر بن برقان، عن معمر بن صالح، عن العلاء بن أبي عائشة قال: كنت عاملاً لعمر بن عبد العزيز على الرها، فجاءني كتابه: إنه بلغني أن عند أهل الرها صلح الجزيرة، فابعث إلي به حتى أنظر فيه. قال: فبعثت إلى أسقفهم، حتى أتاني به في درجٍ أو حق، فقرأته، فإذا فيه:

بسم الله الرحمن الرحيم

هذا كتابٌ لأهل الرها وأهل الجزيرة، من عياض بن غنم عامل عمر بن الخطاب رضي الله عنه، وقد أتاها حتى وقف على بابها الشرقي على فرسٍ أحمر له محذوفٍ، في بعضة عشر فارساً، فدعاهم إلى الإسلام فأبوا، فدعاهم إلى الصلح فأجابوه، وقالوا: على أن نشترط عليكم؛ قال: اشترطوا؛ قالوا: فإنا [نشترط سور مدينتنا، وكنائسنا] وطواحيننا، وما كان لكنائسنا من غلةٍ على أن نؤدي خراجها.
৩- জাফর বিন মুহাম্মদ বিন উমর আমাকে বর্ণনা করেছেন, ফাতহ বিন সালুমাহ আল-হুমরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন ইয়াজিদ আল-কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মা'মার বিন সালিহ থেকে, তিনি আল-আলা বিন আবি আয়িশাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রুহাতে উমর বিন আব্দুল আজিজের পক্ষ থেকে গভর্নর ছিলাম, তখন আমার কাছে তাঁর পত্র আসলো যে: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রুহাবাসীদের নিকট জাজিরার সন্ধিপত্র রয়েছে, সুতরাং সেটি আমার নিকট প্রেরণ করো যাতে আমি তা পর্যবেক্ষণ করতে পারি। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাদের বিশপের নিকট লোক পাঠালাম, অবশেষে তিনি একটি নথি বা বাক্সের মধ্যে তা নিয়ে আমার নিকট আসলেন, এরপর আমি তা পড়লাম, তাতে ছিল:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি রুহাবাসী ও জাজিরাবাসীর জন্য উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর গভর্নর ইয়াদ বিন গানামের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা; আর তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন এমনকি এর পূর্ব ফটকের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর একটি লাল বর্ণের ক্ষুদ্র লেজ বিশিষ্ট ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে, সাথে ছিল দশ জনের কিছু বেশি অশ্বারোহী সৈন্য। অতঃপর তিনি তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন কিন্তু তারা অস্বীকার করল, এরপর তিনি তাদের সন্ধির আহ্বান জানালেন এবং তারা তাতে সাড়া দিল। তারা বলল: এই শর্তে যে আমরা আপনাদের ওপর কিছু শর্তারোপ করব; তিনি বললেন: তোমরা শর্ত প্রদান করো; তারা বলল: আমরা শর্ত দিচ্ছি আমাদের শহরের প্রাচীর, আমাদের গির্জা এবং আমাদের চাকিগুলোর নিরাপত্তার জন্য, আর আমাদের গির্জাগুলোর যা কিছু উৎপন্ন ফসল বা আয় রয়েছে তার বিনিময়ে আমরা তার নির্ধারিত ভূমি-কর (খরাজ) আদায় করব।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قال عياض: ونحن أيضاً نشترط عليكم. قالوا: فاشترط. قال: نشترط عليكم أن لا تضربوا بناقوسٍ إلا في جوف كنيسةٍ، ولا يعتبر خنزيرٌ في بلاد المسلمين، وعلى أن تقروا ضيفهم يوماً وليلةً، وعلى تحملوا راجلهم من رستاق إلى رستاقٍ، وعلى أن نشاطركم منازلكم ينزلها المسلمون، وعلى أن تنصحونا فلا تشغونا، ولا تمالئوا علينا عدواً من غيركم؛ فإن وفيتم لنا وفينا لكم، وإن غدرتم بنا استحللنا سفك دمائكم وسبي نسائكم. قالوا: فإنا قد رضينا. قال: فإني أشهد الله وملائكته {وكفى بالله شهيداً} فأعاده لهم عمر بن عبد العزيز رحمه الله.
ইয়াদ বললেন: আমরাও তোমাদের ওপর শর্ত আরোপ করছি। তারা বলল: তবে শর্তারোপ করুন। তিনি বললেন: আমরা তোমাদের ওপর এই শর্ত দিচ্ছি যে, গির্জার অভ্যন্তরভাগ ব্যতীত তোমরা ঘণ্টা বাজাবে না, মুসলিমদের ভূখণ্ডে কোনো শুকর রাখা হবে না, তোমরা তাদের মেহমানদের একদিন ও একরাত আতিথেয়তা প্রদান করবে, তাদের পদচারী পথিকদের এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে পৌঁছে দেবে, আমরা তোমাদের ঘরবাড়িগুলোতে অংশীদার হবো যেখানে মুসলিমরা অবস্থান করবে, তোমরা আমাদের প্রতি শুভাকাঙ্ক্ষী হবে এবং আমাদের সাথে প্রতারণা করবে না, আর আমাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো শত্রুকে সহযোগিতা করবে না; যদি তোমরা আমাদের দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করো তবে আমরাও তোমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব, আর যদি তোমরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো তবে আমরা তোমাদের রক্তপাত এবং তোমাদের নারীদের বন্দি করা বৈধ মনে করব। তারা বলল: আমরা এতে সম্মত হলাম। তিনি বললেন: তবে আমি আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাদের সাক্ষী রাখছি {আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট}। অতঃপর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাদের জন্য এটি পুনর্বহাল করলেন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌من نزل الرقة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم

‌‌[1] وابصة بن معبد الأسدي

4- سمعت أبا الهيثم محمد بن عبد الصمد بن عبد الرحمن بن صخر بن عبد الرحمن بن وابصة يقول: وابصة بن معبد بن عتبة بن مالك [بن الحارث بن بشير بن كعب بن سعد] بن الحارث بن ثعلبة بن دودان بن أسد بن خزيمة.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে যারা রাক্কায় বসবাস করেছেন

[১] ওয়াবিসাহ ইবনে মা'বাদ আল-আসাদী

৪- আমি আবুল হাইসাম মুহাম্মাদ ইবনে আবদুস সামাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাখর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াবিসাহকে বলতে শুনেছি: ওয়াবিসাহ ইবনে মা'বাদ ইবনে উতবাহ ইবনে মালিক [ইবনুল হারিস ইবনে বাশির ইবনে কাব ইবনে সা'দ] ইবনুল হারিস ইবনে সা'লাবাহ ইবনে দাওদান ইবনে আসাদ ইবনে খুযাইমাহ।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
[يكنى أبا سالم] .

5- سمعت أبا الهيثم يقول: ولد وابصة أربعةً: عَمْراً، وعتبة، وسالماً، وعبد الرحمن. فحدث عنه من ولده عمروٌ وسالمٌ.

6- سمعت أبا عمر هلال بن العلاء يقول: [قبر وابصة عند منارة جامع] الرافقة.

7- حدثنا محمد [بن علي، ثنا الحسين بن محمد بن حماد، ثنا عبد
[তার উপনাম আবু সালিম] ।

৫- আমি আবুল হাইসামকে বলতে শুনেছি: ওয়াবিসাহর চারজন সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল: আমর, উতবাহ, সালিম এবং আবদুর রহমান। তার সন্তানদের মধ্যে আমর এবং সালিম তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

৬- আমি আবু উমর হিলাল ইবনে আল-আলা’কে বলতে শুনেছি: [ওয়াবিসাহর কবর রাফিকার জামে মসজিদের মিনারের কাছে]।

৭- আমাদের নিকট মুহাম্মাদ [ইবনে আলী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদ...
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
السلام بن عبد الرحمن بن صخر] القاضي. ح وثنا جعفر بن محمد [بن حجاج، نا عبد السلام، عن أبيه، عن بشر بن لاحق الرقي] عن أبي راشد الأزرق، قال: كنت آتي [وابصة بن معبدٍ، وقلما أتيته إلا أصبت] المصحف موضوعاً بين يديه، ثم إن كان ليبكي حق أرى [دموعه قد بلت] الورق. فقلت له: هل [سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن شيء؟ فقال: يا أبا راشدٍ] ، وهل تركت شيئاً [إلا وقد سألته عنه، حتى عن وسخ الأظفار. قال:] فقلت: فماذا قال لك؟ قال: ((ما رابك [فألقه، وما] كان [سوى ذلك فدعه] )) .

8- حدثنا محمد بن إبراهيم بن بنت جناد البغدادي، ثنا بشار بن موسى الخفاف، ثنا عبيد الله بن عمرو الرقي، حدثني أبو عبد الله -وكان من أعوان عمر بن عبد العزيز- قال: بعث إلي عمر بن عبد العزيز [فدفع إلي] مالاً أقسمه بالرقة، وكتب إلى وابصة [كتاباً] يبعث معي بشرطٍ يكفون الناس عني؛ وقال: لا تقسم بينهم
আস-সালাম ইবন আবদুর রহমান ইবন সাখর আল-কাদি। এবং আমাদের নিকট জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুস সালাম বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বিশর ইবন লাহিক আর-রাক্কি থেকে, তিনি আবু রাশিদ আল-আজরাক থেকে, তিনি বলেন: আমি ওয়াবিসাহ ইবন মা'বাদের নিকট আসতাম। আমি যখনই তার কাছে এসেছি, তাকে তার সামনে রাখা মুসহাফ (কুরআন) সহকারে পেয়েছি। এরপর তিনি এমনভাবে কাঁদতেন যে, আমি দেখতাম তার চোখের পানি কাগজের পাতাগুলো ভিজিয়ে দিয়েছে। আমি তাকে বললাম: আপনি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন? তিনি বললেন: হে আবু রাশিদ! আমি কি এমন কিছু বাকি রেখেছি যা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করিনি? এমনকি নখের ময়লা সম্পর্কেও। তিনি (আবু রাশিদ) বললেন: আমি বললাম: তবে তিনি আপনাকে কী বলেছিলেন? তিনি বললেন: "যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা বর্জন করো, আর যা এছাড়া অন্য কিছু তা হতে বিরত থাকো।"

৮- মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম ইবন বিনতে জুনাদ আল-বাগদাদি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, বাশার ইবন মুসা আল-খাফফাফ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবন আমর আর-রাক্কি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুল্লাহ—যিনি উমর ইবন আবদুল আজিজের সাহায্যকারীদের একজন ছিলেন—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবন আবদুল আজিজ আমার নিকট লোক পাঠালেন এবং আমাকে কিছু সম্পদ প্রদান করলেন যা আমি রাক্কায় বণ্টন করব। তিনি ওয়াবিসাহর নিকট একটি পত্র লিখলেন যেন তিনি আমার সাথে কিছু রক্ষীবাহিনী পাঠান যারা মানুষকে আমার নিকট থেকে সংবরণ করবে (ভিড় সামলাবে); এবং তিনি বললেন: তাদের মধ্যে বণ্টন করো না।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
إلا على شاطئ نهرٍ جارٍ، فإني أخاف أن يعطشوا. قال: قلت: يا أمير المؤمنين، إنك تبعثني إلى قومٍ لا أعرفهم، وفيهم غنيٌّ وفقيرٌ. فقال: يا هذا، كل من مد يده إليك فأعطه. قال أبو علي محمد بن سعيد: ولا أظن هذا إلا خطأً لأن وابصة لم يتأخر موته إلى خلافة عمر بن العزيز؛ فلعله أن يكون ((إلى ابن وابصة)) لأن سالماً ذكروا أنه تولى الرقة بعد أبيه.

9- حدثنا أبو الهيثم محمد بن عبد الصمد، حدثني عمي عبد السلام بن عبد الرحمن بن صخر، عن أبيه، عن شيبان بن عبد الرحمن، عن حصين بن عبد الرحمن، عن هلال بن يساف، قال: قدمت الرقة، فقال بعض أصحابي: هل لك في رجلٍ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقلت: غنيمةٌ. فدفعنا إلى [وابصة بن معبدٍ] ، فقلت
...কেবল একটি প্রবহমান নদীর তীর ব্যতীত নয়, কারণ আমি আশঙ্কা করি যে তারা পিপাসার্ত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি আমাকে এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করছেন যাদের আমি চিনি না, আর তাদের মধ্যে ধনী ও দরিদ্র উভয়ই রয়েছে। তিনি বললেন: হে লোক, যে কেউ তোমার দিকে হাত বাড়াবে তাকে প্রদান করো। আবু আলি মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বলেন: আমি এটিকে ভুল ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না, কারণ ওয়াবিসার মৃত্যু উমর বিন আব্দুল আজিজের খিলাফতকাল পর্যন্ত বিলম্বিত হয়নি; সম্ভবত এটি হবে "ইবনে ওয়াবিসার (ওয়াবিসার পুত্রের) নিকট", কেননা তারা উল্লেখ করেছেন যে সালিম তার পিতার পরে রাক্কার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

৯- আবুল হাইসাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুস সামাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আব্দুল সালাম বিন আব্দুর রহমান বিন সাখর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি শাইবান বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হুসাইন বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাক্কায় আসলাম, তখন আমার একজন সঙ্গী বললেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী? আমি বললাম: এ তো এক মহাসুযোগ। অতঃপর আমরা [ওয়াবিসা বিন মা'বাদ]-এর নিকট পৌঁছালাম, আমি বললাম...
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
لصاحبي -أو لأصحابي-: نبدأ فننظر إلى دله؛ فإذا عليه قلنسوةٌ لاطئةٌ ذات أذنين، وبرنس خز أغبر، وإذا هو قائمٌ يصلي يعتمد على عصاً في صلاته؛ فقلنا له بعد أن سلمنا عليه: ما دعاك إلى العصا؟ قال: حدثتني أم قيس بنت محصن، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أسن وحمل اللحم اتخذ عموداً في مصلاه يعتمد عليه.

10-[حدثنا جعفر بن] محمد بن حجاج، ثنا عبد السلام، ثنا أبي، عن شيبان بن عبد الرحمن [أبي معاوية] ، عن حصين بن عبد الرحمن، عن هلال بن يساف، قال: قدمت الرقة. فذكر نحوه، [وزاد:] و [في] رواية: إمه.

‌‌[2] الوليد بن عقبة بن أبي معيط بن عمرو بن أمية

11- كنيته أبو وهب. وأمه أروى بنت كريز.
আমার এক সাথীকে—অথবা আমার সাথীদেরকে—বললাম: আমরা শুরু করি এবং তাঁর অবস্থা দেখি; দেখা গেল তাঁর মাথায় দুই কান বিশিষ্ট একটি আঁটসাঁট টুপি এবং ধূসর রঙের রেশমি চাদর রয়েছে। তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন এবং সালাতে একটি লাঠির ওপর ভর দিচ্ছিলেন; আমরা তাঁকে সালাম দেওয়ার পর বললাম: কিসে আপনাকে লাঠি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করল? তিনি বললেন: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বৃদ্ধ হলেন এবং তাঁর শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন তিনি তাঁর সালাতের স্থানে একটি খুঁটি গ্রহণ করেছিলেন যার ওপর তিনি ভর দিতেন।

১০-[আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে] মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুস সালাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি শায়বান ইবনে আবদুর রহমান [আবু মুয়াবিয়া] থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হিলাল ইবনে ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাক্কায় আসলাম। অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন, [এবং অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন:] এবং [একটি] বর্ণনায় রয়েছে: ইম্মাহু (তার মা)।

‌‌[২] আল-ওয়ালিদ ইবনে উকবা ইবনে আবি মুআইত ইবনে আমর ইবনে উমাইয়া

১১- তাঁর উপনাম হলো আবু ওয়াহাব। এবং তাঁর মাতা আরওয়া বিনতে কুরায়জ।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وهو أخو عثمان بن عفان رضي الله عنه لأمه. نزل الرقة، ومات في ضيعةٍ به [بالبليخ] ، وقبره بها.

12- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا حسين بن عياش، ثنا [جعفر بن برقان] ، ثنا ثابت بن الحجاج، عن عبد الله الهمداني، قال: قال الوليد بن عقبة: لما فتحت مكة جعل أناسٌ من أهلها يأتون النبي صلى الله عليه وسلم بأولادهم فيمسح رؤوسهم، ويدعو لهم بالبركة. قال: فلم يمنع النبي صلى الله عليه وسلم أن يمسح رأسي ويدعو لي بالبركة إلا أن أمي خلقتني بخلوق.
তিনি মায়ের দিক থেকে উসমান ইবনে আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভাই ছিলেন। তিনি রাক্কাহ-তে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখানকার [বালিখে] অবস্থিত একটি ভূ-সম্পত্তিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁর কবর রয়েছে।

১২- হিলাল ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, [জাফর ইবনে বুরকান] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ আল-হামদানি থেকে, তিনি বলেন: ওয়ালিদ ইবনে উকবা বলেছেন: যখন মক্কা বিজিত হলো, তখন সেখানকার অধিবাসীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসতে শুরু করল। তিনি তাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন এবং তাদের জন্য বরকতের দোয়া করছিলেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে এবং আমার জন্য বরকতের দোয়া করতে কেবল এই বিষয়টিই বাধা প্রদান করেছিল যে, আমার মা আমাকে 'খালুক' (এক প্রকার সুগন্ধি) মাখিয়ে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
13- حدثنا أبو بكر أحمد بن محمد بن صدقة، حدثنا عبد الله بن محمد الأذرمي، ثنا زيد بن أبي الزرقاء، عن جعفر بن برقان، عن ثابت بن الحجاج، عن عبد الله الفزاري، عن أبي موسى، عن الوليد بن عقبة، قال:
১৩- আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাদাকা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আজরমি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জায়েদ বিন আবী আজ-জারকা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন বুরকান থেকে বর্ণিত, সাবিত বিন আল-হাজ্জাজ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ আল-ফাজারি থেকে বর্ণিত, আবু মুসা থেকে বর্ণিত, ওয়ালিদ বিন উকবা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
لما فتح النبي صلى الله عليه وسلم -يعني مكة-. فذكر نحوه.

‌‌[3] عبد الله بن سيدان السلمي، ثم المطرودي

[ذكروا] أنه أدرك النبي صلى الله عليه وسلم. وقد روى عن أبي بكرٍ وعمر رضي الله عنهما.

14- حدثنا محمد بن علي بن ميمون، ثنا الفريابي، عن سفيان، عن جعفر بن برقان، عن ثابت بن الحجاج الكلابي، حدثني عبد الله بن سيدان السلمي، قال: شهدت الجمعة مع أبي بكر رضي الله عنه، فكانت خطبته و [صلاته] قبل نصف [النهار، ثم صلت مع عمر] رضي الله عنه [فكانت خطبته وصلاته] إلى أن [انتصف النهار، ثم صليت] مع عثمان رضي الله عنه، فكانت خطبته وصلاته إلى أن [قلت:] زال النهار
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করলেন। তারপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করলেন।

‌‌[৩] আবদুল্লাহ বিন সাইদান আস-সুলামি, অতঃপর আল-মাতরুদি

[তারা উল্লেখ করেছেন] যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন।

১৪- মুহাম্মাদ বিন আলি বিন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি জাফর বিন বুরকান থেকে, তিনি সাবিত বিন হাজ্জাজ আল-কিলাবি থেকে, আবদুল্লাহ বিন সাইদান আস-সুলামি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে জুমার সালাতে উপস্থিত ছিলাম, তাঁর খুতবা ও [সালাত] ছিল দ্বিপ্রহরের [আগে। অতঃপর আমি উমর] রাদিয়াল্লাহু আনহুর [সাথে সালাত আদায় করলাম, তাঁর খুতবা ও সালাত ছিল] দুপুর [হওয়া পর্যন্ত। এরপর আমি] উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে [সালাত আদায় করলাম], তাঁর খুতবা ও সালাত ছিল যতক্ষণ না [আমি বললাম:] সূর্য ঢলে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
قال: فخنست هذه، فما رأيت أحداً عاب ذلك.

‌‌ومن التابعين:

‌‌[4] زفر بن الحارث الكلابي

15- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا حسين بن عياش، ثنا جعفر، ثنا ثابت ابن الحجاج، عن زفر بن الحارث، قال: كنت رسول معاوية بن أبي سفيان، إلى عائشة أم المؤمنين؛ بوقعة صفين.

16- سمعة هلالاً يقول: إنما سمي تل زفر، لأن زفر بن الحارث نزل عليه.
তিনি বললেন: ফলে এটি দমে গেল, আর আমি কাউকে এ বিষয়ে দোষারোপ করতে দেখিনি।

‌‌এবং তাবেয়ীদের মধ্য থেকে:

‌‌[৪] যুফার ইবনুল হারিস আল-কিলাবি

১৫- হিলাল ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে আয়্যাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যুফার ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সিফফিনের যুদ্ধের সময় মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের পক্ষ থেকে উম্মুল মুমিনীন আয়িশার নিকট প্রেরিত দূত ছিলাম।

১৬- আমি হিলালকে বলতে শুনেছি: 'তাল্লা যুফার' (যুফারের টিলা) নামকরণ করা হয়েছে কেবল এই কারণে যে, যুফার ইবনুল হারিস সেখানে অবস্থান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
‌‌[5] يزيد بن الأصم العامري

كنيته: أبو عوف.

17- والأصم: اسمه عبد عمرو بن عدس بن معاوية بن عبادة بن البكاء ابن عامر بن ربيعة بن صعصعة. وأم يزيد بن الأصم: برزة بنت الحارث الهلالية، أخت ميمونة بنت الحارث زوج النبي صلى الله عليه وسلم.

18- سمعت هلالاً يقول: كنت عند عمرو بن عثمان الكلابي، فقال: هذا رجلٌ من ولد يزيد بن الأصم.
[৫] ইয়াজিদ ইবনে আল-আসম আল-আমিরী

তাঁর উপনাম: আবু আউফ।

১৭- এবং আল-আসম: তাঁর নাম আবদে আমর ইবনে আদাস ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে উবাদাহ ইবনে আল-বাক্কা ইবনে আমির ইবনে রাবিআ ইবনে সা’সাআ। ইয়াজিদ ইবনে আল-আসমের মা হলেন বারজাহ বিনতে আল-হারিস আল-হিলালিয়্যাহ, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী মায়মুনা বিনতে আল-হারিসের বোন।

১৮- আমি হিলালকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে উসমান আল-কিলাবীর নিকট ছিলাম, তখন তিনি বললেন: এই ব্যক্তি ইয়াজিদ ইবনে আল-আসমের বংশধরদের একজন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
فسمعت الرجل يقول: مات يزيد بن الأصم سنة إحدى ومئة. فحدث عنه من أهله: ابن أخيه عبيد الله بن عبد الله بن الأصم. حدث عنه: مروان بن معاوية الفزاري، وغيره.

19- حدثنا أبو عمر هلال بن العلاء، ثنا عمرو بن عثمان، ثنا بعض أصحابنا عن سفيان بن عيينة، قال: كتب يزيد بن الأصم إلى الحسين بن علي حين خرج: أما بعد: فإن أهل الكوفة قد أبوا إلا أن ينغضوك، وقل من أنغض إلا قلق؛ وإني أعيذك بالله أن تكون كالمغتر بالبرق، وكالمهريق ماءً للسراب؛ فاصبر إن وعد الله حق، ولا يستخفنك أهل الكوفة الذين لا يوقنون.

20- حدثنا هلال، ثنا ابن نفيل، ثنا أبو المليح الرقي، عن يزيد بن
আমি লোকটিকে বলতে শুনেছি: ইয়াজিদ ইবনুল আসম একশ এক হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর পরিবারের মধ্য থেকে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল আসম। তাঁর থেকে আরও বর্ণনা করেছেন মারওয়ান ইবনে মুআবিয়া আল-ফাজারি এবং অন্যান্যরা।

১৯- আবু উমর হিলাল ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের কিছু সাথী সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াজিদ ইবনুল আসম হুসাইন ইবনে আলীর নিকট তাঁর (কুফার উদ্দেশ্যে) বের হওয়ার সময় লিখেছিলেন: অতঃপর, কুফাবাসীরা আপনাকে অস্থির করে তোলা ছাড়া ক্ষান্ত হবে না, আর যাকে অস্থির করা হয় সে খুব কমই স্থির থাকে; আমি আপনার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন আপনি বিজলির চমকে প্রতারিত ব্যক্তির মতো এবং মরীচিকা দেখে (নিজের কাছে থাকা) পানি ঢেলে দেওয়া ব্যক্তির মতো না হন; সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, নিশ্চয় আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।

২০- হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনু নুফাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মালিহ আল-রিক্কি ইয়াজিদ ইবনে... থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
يزيد، عن يزيد بن الأصم، قال: كنت غلاماً عارماً، فقاتلت الغلمان يوماً فهزموني، فدخلت بيت ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم[قال: وكانت خالته- فقمت أصلي في المسجد، وعندها] نسوةٌ، فقال بعضهن: أما ترين ما يصنع هذا الخبيث؟ قالت: دعوه، [فإن الخير بالعادة] .

‌‌[6] سالم بن وابصة بن معبد

حدث عن أبيه.

21- حدثنا هلال [بن العلاء] ، ثنا عمرو بن عثمان، ثنا أصبغ بن محمد، ثنا جعفر بن برقان، عن شدادٍ مولى [عياض] العامري، [عن وابصة] :
ইয়াজিদ, ইয়াজিদ ইবনুল আসম্ম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি একজন দুষ্ট বালক ছিলাম। একদিন আমি বালকদের সাথে মারামারি করলাম এবং তারা আমাকে পরাজিত করল। তখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী মায়মুনার ঘরে প্রবেশ করলাম [বর্ণনাকারী বলেন: তিনি ছিলেন তাঁর খালা—অতঃপর আমি মসজিদে নামাজ আদায় করতে দাঁড়ালাম এবং তাঁর কাছে] কিছু নারী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন: আপনি কি দেখছেন না এই পাপিষ্ঠ কী করছে? তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও, [কেননা কল্যাণ অভ্যাসের মাধ্যমেই অর্জিত হয়]।

‌‌[৬] সালিম ইবনু ওয়াবিসাহ ইবনু মাবাদ

তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন।

২১- হিলাল [ইবনুল আলা] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনু উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসবাগ ইবনু মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনু বুরকান আমাদের নিকট শাদ্দাদ—যিনি আইয়াদ আল-আমিরির মুক্তদাস—হতে বর্ণনা করেছেন, [তিনি ওয়াবিসাহ হতে]:
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
أنه كان يقوم في الناس [يوم الأضحى ويوم الفطر، فيقول: إني شهدت رسول الله] صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع، وهو يقول: ((أيها الناس، أي يوم أحرم؟)) . فقال الناس: هذا اليوم -وهو يوم النحر- قال: ((أي شهرٍ أحرم؟)) . قال الناس: هذا الشهر. قال: ((فإن دماءكم وأموالكم وأعراضكم محرمةٌ عليكم كحرمة يومكم هذا، في بلدكم هذا، إلى يوم تلقونه؛ ألا هل بلغت؟)) . قال الناس: نعم؛ فرفع يديه إلى السماء: ((اللهم اشهد)) يقولها ثلاثاً، ثم قال: ((ليبلغ الشاهد منكم الغائب)) . قال وابصة: إنا شهدنا وغبتم، ونحن نبلغكم. قال عمرو بن عثمان: [وزادني] في هذا الحديث [أبوسلمة الحذاء]- يعني الحكم بن الحكم بن أبي تحية، أن جعفراً حدث بمثل هذا [الحديث، قال: صلى بنا سالم بن] وابصة يوم جمعةٍ بالرقة. فذكر حديث وابصة، فقال: نشهد [عليكم كما أشهد عليه] .

‌‌[7] أخوه: عمرو بن وابصة بن معبد

حدث عن أبيه.

22- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا أبي، قال: ثنا جعفر بن برقان، قال:
তিনি ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিন মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতেন: আমি বিদায় হজ্জে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি বলছিলেন: "হে লোকসকল! কোন দিনটি সবচেয়ে সম্মানিত?" তখন মানুষ বলল: এই দিনটি—আর তা ছিল কোরবানির দিন। তিনি বললেন: "কোন মাসটি সবচেয়ে সম্মানিত?" মানুষ বলল: এই মাসটি। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য তেমনিভাবে হারাম (সম্মানিত), যেমন তোমাদের আজকের এই দিনটি তোমাদের এই শহরে হারাম; সেই দিন পর্যন্ত যতক্ষণ না তোমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে। শোনো, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" মানুষ বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি আকাশের দিকে নিজের দুই হাত তুললেন: "হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন"—একথা তিনি তিনবার বললেন। এরপর বললেন: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।" ওয়াবিসা বললেন: আমরা উপস্থিত ছিলাম আর তোমরা অনুপস্থিত ছিলে, তাই আমরা তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। আমর ইবনে উসমান বলেন: আবু সালামা আল-হাদ্দা—অর্থাৎ হাকাম ইবনে আল-হাকাম ইবনে আবি তাহিয়্যা—এই হাদিসে আমার কাছে আরও বৃদ্ধি করেছেন যে, জাফর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ওয়াবিসার পুত্র সালিম রাক্কায় জুমার দিন আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। অতঃপর তিনি ওয়াবিসার হাদিস উল্লেখ করে বললেন: আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে সেভাবেই সাক্ষ্য দিচ্ছি যেভাবে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

‌‌[৭] তাঁর ভাই: আমর ইবনে ওয়াবিসা ইবনে মাবাদ

তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

২২- হিলাল ইবনুল আলা আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাফর ইবনে বুরকান আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤١)
قال عمرو بن وابصة: قال وابصة: ضرب [بابي] عبد الله بن مسعود، [وهو يومئذ] بالكوفة، ففتحنا له الباب، فدخل؛ قلت: [ما أخرجك من] منزلك [هذه الساعة يا أبا عبد الرحمن؟] قال: استيقظت من [قائلتي فاشتهيت الحديث؛ قال فكان فيما حدث: تكون فتنةٌ، القاعد] فيها خيرٌ من القائم، والقائم فيها خيرٌ من الماشي، والماشي فيها خيرٌ من الساعي، والساعي فيها خيرٌ من الراكب؟ قلت: متى ذاك يا أبا عبد الرحمن؟ قال: أيام الهرج، حين لا يأمن المرء جليسه، قلت: فإذا كان ذلك فما أصنع؟ قال: ادخل دارك؛ [قلت: دخلت داري؛ قال: ادخل بيتك؛] قلت: دخل علي بيتي؛ قال: ادخل مسجدك، [ثم اضرب] بإحدى يديك على الأخرى، فقل: ربي الله، حتى تموت على ذلك. قال: فلما قتل عثمان رضي الله عنه، طار قلبي مطيره؛ فأتيت دمشق، فلقيت بها خريم بن فاتك الأسدي -من بني عمرو بن راشد- فحدثته بحديث عبد الله بن مسعود، قال: وأنا سمعت هذه من نبي الله صلى الله عليه وسلم. قال: فكنت على صاحبي أجرأ [مني على] عبد الله بن مسعود، فاستحلفته بالله الذي لا إله إلا هو، لأنت سمعت الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فحلف لي بالله: لهو سمعه.

আমর ইবনে ওয়াবিদাহ বলেন: ওয়াবিদাহ বলেছেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের দরজায় করাঘাত করলাম, তিনি তখন কুফায় ছিলেন; আমরা তাঁর জন্য দরজা খুলে দিলাম এবং তিনি প্রবেশ করলেন। আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! এই সময়ে আপনাকে আপনার ঘর থেকে কিসে বের করে আনল? তিনি বললেন: আমি আমার দুপুরবেলার ঘুম থেকে জেগে উঠলাম এবং কথা বলার আকাঙ্ক্ষা অনুভব করলাম। তিনি যা বর্ণনা করলেন তার মধ্যে ছিল: একটি ফিতনা সংঘটিত হবে, যাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম, দণ্ডায়মান ব্যক্তি পথচারীর চেয়ে উত্তম, পথচারী ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে উত্তম এবং ধাবমান ব্যক্তি আরোহী ব্যক্তির চেয়ে উত্তম। আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! সেটি কখন হবে? তিনি বললেন: যখন হারজ (বিশৃঙ্খলা ও হত্যাকাণ্ডের) দিনগুলো আসবে, যখন মানুষ তার পাশে বসা ব্যক্তি থেকেও নিরাপদ বোধ করবে না। আমি বললাম: যদি তেমনটি হয়, তবে আমি কী করব? তিনি বললেন: তোমার ঘরে প্রবেশ করো। আমি বললাম: আমি আমার ঘরে প্রবেশ করলাম; তিনি বললেন: তোমার কামরায় প্রবেশ করো; আমি বললাম: যদি আমার কামরাতেও কেউ প্রবেশ করে? তিনি বললেন: তোমার সালাতের স্থানে প্রবেশ করো এবং তোমার এক হাতের ওপর অন্য হাত মারো এবং বলো: ‘আমার রব আল্লাহ’, মৃত্যু পর্যন্ত এই অবস্থাতেই থাকো। তিনি বললেন: যখন উসমান (রাদিআল্লাহু আনহু) শহীদ হলেন, তখন আমার অন্তর অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ল। এরপর আমি দামেস্কে আসলাম এবং সেখানে বনু আমর ইবনে রাশিদ গোত্রের খুরাইম ইবনে ফাতিক আল-আসাদির দেখা পেলাম। আমি তাঁকে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীসটি শোনালাম। তিনি বললেন: আমিও আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি শুনেছি। তিনি বললেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের তুলনায় আমার এই সাথীর সাথে কথা বলতে অধিক সাহসী ছিলাম, তাই আমি তাঁকে সেই আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম যাঁর ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই—আপনি কি সত্যিই এই হাদীসটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন? তিনি আল্লাহর কসম খেয়ে বললেন: অবশ্যই তিনি এটি শুনেছেন।

(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
23- حدثنا إبراهيم بن [أبي حميد الحراني] ، ثنا محمد بن سليمان، ثنا أبي، عن عبد الحميد بن عبد الرحمن بن زيد بن الخطاب، عن عمرو بن وابصة، قال: طرق بابي عبد الله بن مسعود بالكوفة؛ فذكر حديث الفتنة بطوله.

‌‌[8] ميمون بن مهران أبو أيوب

نزل الرقة، وعقبه بها.

24- سمعت عبد الملك بن عبد الحميد بن عبد الحميد بن ميمون بن
২৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে [আবু হুমাইদ আল-হাররানি], আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনুল খাত্তাব থেকে, তিনি আমর ইবনে ওয়াবিসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কুফায় আমার দরজায় করাঘাত করলেন; অতঃপর তিনি ফেতনা সম্পর্কিত হাদিসটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করলেন।

‌‌[৮] মাইমুন ইবনে মিহরান আবু আইয়ুব

তিনি রাক্কায় বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং সেখানেই তার উত্তরসূরিগণ রয়েছেন।

২৪- আমি আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুল হামিদ ইবনে মাইমুন ইবনে... এর নিকট থেকে শুনেছি।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
مهران، يقول: نحن من سبي إصطخر.

25- قال: وسمعت أبي يقول: ولد ميمون بن مهران سنة أربعين، ومات سنة سبع عشرة ومئة.

26- حدثنا هلال، ثنا حسين بن عياش، ثنا جعفر، قال: سمعت ميمون بن مهران يقول: أتاني مولى أمي، فقال: ما تريد أن تدعي إلى غير مواليك، وقد علمت ما قيل في ذلك؟ قال: قلت: وفعلت. قال: فأخرج براءةً، فإذا هي: براءةٌ إلى ميمون بن مهران، مولى بني نصر. فقلت له: إنما نسبت نفسي إلى أبي، ونسبت أبي إلى مواليه بني نصر.

27- حدثنا علي بن عثمان النفيلي، ثنا أبو مسهر، ثنا سلمة بن العيار،
মেহরান বলেন: আমরা ইস্তাখর-এর বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।

25- তিনি বললেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: মাইমুন ইবনে মেহরান চল্লিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং একশত সতেরো হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

26- হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাইমুন ইবনে মেহরানকে বলতে শুনেছি: আমার মায়ের আযাদকৃত গোলাম আমার কাছে এলেন এবং বললেন: তুমি কেন তোমার আযাদকারী ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধিত হতে চাও, অথচ এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তা তুমি জানো? তিনি বললেন: আমি বললাম: আমি তো তা-ই করেছি। তিনি বলেন: অতঃপর তিনি একটি দায়মুক্তি পত্র বের করলেন, আর সেটি ছিল: বনু নাসরের আযাদকৃত গোলাম মাইমুন ইবনে মেহরানের জন্য একটি দায়মুক্তি পত্র। আমি তাকে বললাম: আমি কেবল নিজেকে আমার পিতার দিকে সম্বন্ধিত করেছি, আর আমার পিতাকে তার আযাদকারী বনু নাসরের দিকে সম্বন্ধিত করেছি।

27- আলী ইবনে উসমান আন-নুফাইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুসহির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালামাহ ইবনুল আইয়্যার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
ثنا جعفر بن برقان عن ميمون بن مهران، قال: قال لي عمر بن عبد العزيز: من مواليك؟ [قال: قلت: كان أبي عبداً لبني نصر،] وأمي مولاةً للأزد [قال:] فقال لي: مواليك موالي أمك.

28- حدثنا محمد بن علي المري، ثنا أبو يوسف، ثنا فياض، عن جعفر، عن ميمون بن مهران، قال: قال لي عمر بن عبد العزيز: [أنتسبت] لأبيك يا ميمون؟ قلت: كانت أمي مولاةً للأزد، وكان أبي مكاتباً لبني نصر. قال عمر: يا ميمون، أنت مولى الأزد.

29- حدثنا هلال، ثنا حسين بن عياش، ثنا جعفر، قال: سمعت ميموناً يقول: ولدت سنة أربعين.

30- سمعت عبد الملك بن عبد الحميد الميموني، يقول: قبر ميمون في الحير [الكبير] .
জাফর বিন বুরকান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন বিন মিহরান থেকে, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ আমাকে বললেন: তোমার মওলা (অভিভাবক/মনিব) কারা? [তিনি বলেন: আমি বললাম: আমার পিতা বনু নাসরের দাস ছিলেন,] এবং আমার মা ছিলেন আজদ গোত্রের আযাদকৃত দাসী। [তিনি বলেন:] অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: তোমার মওলা তারাই যারা তোমার মায়ের মওলা।

২৮- মুহাম্মদ বিন আলী আল-মুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফাইয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি মাইমুন বিন মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর বিন আব্দুল আজিজ আমাকে বললেন: হে মাইমুন, তুমি কি তোমার পিতার সাথে বংশীয় সম্বন্ধ করো? আমি বললাম: আমার মা আজদ গোত্রের আযাদকৃত দাসী ছিলেন এবং আমার পিতা বনু নাসরের সাথে চুক্তিবদ্ধ দাস (মুকাতাব) ছিলেন। উমর বললেন: হে মাইমুন, তুমি আজদ গোত্রেরই মওলা।

২৯- হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন বিন আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাইমুনকে বলতে শুনেছি: আমি চল্লিশ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছি।

৩০- আমি আব্দুল মালিক বিন আব্দুল হামিদ আল-মাইমুনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মাইমুনের কবর আল-হায়র [আল-কাবীর]-এ অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
31- حدثنا جعفر بن محمد بن الحجاج، ثنا عبيد بن جناد، ثنا عطاء، عن جعفر وفراتٍ، قالا: كان عمر بن عبد العزيز إذا [نظر] إلى ميمون، قال: إذا ذهب هذا وقرنه، صار الناس من بعدهم [رجاجاً] .

32-[حدثنا هلال، ثنا عبد الله] بن جعفر، قال: سمعت [أبا المليح يقول: ما رأيت أفضل من ميمون بن مهران؛] قال له رجلٌ يوماً: يا أبا أيوب، أتشتكي؟ [أراك مصفراً؛ قال: نعم، لما يبلغني من أقطار] الأرض.

33- سمعت [عبد الملك أبا الحسن الميموني، يقول:
31- আমাদের নিকট জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, উবাইদ বিন জুনাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ও ফুরাত থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: উমর বিন আবদুল আজিজ যখন মাইমুনের দিকে [তাকাতেন], তখন বলতেন: "যখন এই ব্যক্তি এবং তাঁর সমসাময়িকরা চলে যাবেন, তখন তাদের পরবর্তী মানুষেরা [অসার ও অকর্মণ্য] হয়ে পড়বে।"

32- [আমাদের নিকট হিলাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ] বিন জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি [আবুল মালিহকে বলতে শুনেছি: আমি মাইমুন বিন মিহরানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি;] একদিন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: হে আবু আইয়ুব, আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন? [আমি আপনাকে বিবর্ণ দেখছি; তিনি বললেন: হ্যাঁ, পৃথিবীর (বিভিন্ন) প্রান্তসমূহ থেকে আমার নিকট যা পৌঁছে তার কারণে]।

33- আমি [আবদুল মালিক আবুল হাসান আল-মাইমুনিকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٦)
سمعت] عمي عَمْراً يقول: [ما كان أبي يكثر الصيام ولا الصلاة، كان يكره أن يعصى الله تعالى] .

34-[سمعت عبد الملك الميموني، يقول: سمعت أبي يقول: سمعت عمي عَمْراً يقول: سمعت أبي -يعني ميموناً- يقول: وددت أن إصبعي قطعت من هاهنا] ، وأني لم أل. [قلت: ولا لعمر؟ قال: لا لعمر ولا لغيره] .

35-[حدثنا عمرو] بن نوفل بن خلاد الثقفي الرقي، ثنا النفيلي، ثنا أبو المليح، قال: سمعت ميموناً يقول: لا خير في الدنيا إلا لأحد رجلين؛ رجلٍ تائبٍ، أو رجلٍ يعمل في الدرجات.

36- حدثنا هلال، ثنا سعيد بن عبد الملك بن واقد، ثنا عطاء بن مسلم، عن جعفر بن برقان، أو عن شيخٍ من أهل الرقة، قال: سمعت ميمون بن مهران يقول: بنفسي العلماء، وجدت صلاح قلبي في مجالستهم؛ هم بغيتي في أرضٍ غريبةٍ، وهم ضالتي إذا لم أجدهم.

37- حدثنا محمد بن جعفر، ثنا عبيد بن جناد، ثنا عطاء بن مسلم، عن جعفر بن برقان، قال: قال ميمون بن مهران؛ فذكر نحوه.
আমি] আমার চাচা আমরকে বলতে শুনেছি: [আমার পিতা খুব বেশি রোজা রাখতেন না বা নামাজ পড়তেন না, (বরং) তিনি আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হওয়াকে অপছন্দ করতেন]।

৩৪-[আমি আব্দুল মালিক আল-মায়মুনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে —অর্থাৎ মায়মুনকে— বলতে শুনেছি: আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম যে আমার আঙুলটি এখান থেকে কেটে ফেলা হতো], আর যদি আমি কোনো দায়িত্ব (শাসনভার) গ্রহণ না করতাম। [আমি বললাম: উমরের জন্যও নয়? তিনি বললেন: উমরের জন্যও নয়, আর অন্য কারও জন্যও নয়]।

৩৫-[আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর] ইবনে নাওফাল ইবনে খাল্লাদ আস-সাকাফি আর-রাক্কি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আন-নুফাইলি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-মালিহ, তিনি বলেন: আমি মায়মুনকে বলতে শুনেছি: দুই শ্রেণির মানুষ ছাড়া দুনিয়াতে কোনো কল্যাণ নেই; একজন তাওবাকারী ব্যক্তি, অথবা এমন ব্যক্তি যে (জান্নাতের) সুউচ্চ স্তরের জন্য আমল করে।

৩৬- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিলাল, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ওয়াকিদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে মুসলিম, জাফর ইবনে বুরকান থেকে অথবা রাক্কার অধিবাসী জনৈক শায়খ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মায়মুন ইবনে মিহরানকে বলতে শুনেছি: আলেমগণ আমার প্রাণের প্রিয়, আমি তাঁদের সাহচর্যে আমার অন্তরের সংশোধন খুঁজে পেয়েছি; প্রবাসে তাঁরাই আমার কাম্য এবং যখন আমি তাঁদের খুঁজে পাই না, তখন তাঁরাই আমার হারানো সম্পদ।

৩৭- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদ ইবনে জুনাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে মুসলিম, জাফর ইবনে বুরকান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মায়মুন ইবনে মিহরান বলেছেন; অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
38- حدثنا أبو جعفر محمد بن عبدوس الدقاق الحراني، ثنا يزيد بن قبيس، ثنا علي بن الحسن الحلبي، حدثني عمرو بن ميمون بن مهران، قال: إني خرجت بأبي أقوده في بعض سكك البصرة، فمررت بجدول فلم يستطع الشيخ يتخطاه، فاضطجعت له، فمر على ظهري، ثم قمت فأخذت بيده، فدفعنا إلى منزل الحسن، فطرقت الباب، فخرجت جاريةٌ سداسيةٌ، فقالت: من هذا؟ فقلت: هذا ميمون بن مهران أراد لقاء الحسن. فقالت: كاتب عمر بن عبد العزيز؟ قلت لها: نعم. قالت: يا شقي، ما بقاؤك إلى هذا الزمان السوء؟ قال: فبكى الشيخ، فسمع الحسن بكاءه، فخرج إليه فاعتنقا ثم دخلا، فقال ميمون: يا أبا سعيد، إني قد أنست من قلبي غلظةً فاسللن لي منه. فقرأ الحسن: {بسم الله الرحمن الرحيم} {أفرأيت إن متعناهم سنين. ثم جاءهم ما كانوا يوعدون. ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون} . قال: فسقط الشيخ، فرأيته يفحص برجله كما تفحص الشاة المذبوحة؛ فأقام طويلاً، ثم أفاق؛ فجاءت الجارية فقالت: قد أتعبتم الشيخ، قوموا تفرقوا.
৩৮- আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আব্দুস আদ-দাক্কাক আল-হাররানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ বিন কুবাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী বিন হাসান আল-হালাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন মাইমুন বিন মিহরান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার হাত ধরে তাঁকে নিয়ে বসরার কোনো এক রাস্তায় বের হলাম। অতঃপর আমি একটি ছোট নালা বা খালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যা বৃদ্ধ (পিতা) অতিক্রম করতে পারছিলেন না। তখন আমি তাঁর জন্য শুয়ে পড়লাম এবং তিনি আমার পিঠের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হলেন। এরপর আমি দাঁড়ালাম এবং তাঁর হাত ধরলাম। অতঃপর আমরা হাসান (আল-বাসরী)-এর বাড়িতে পৌঁছালাম। আমি দরজায় করাঘাত করলে ছয় বছর বয়সী এক বালিকা বের হয়ে এল। সে জিজ্ঞেস করল: "ইনি কে?" আমি বললাম: "ইনি মাইমুন বিন মিহরান, হাসানের সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।" সে বলল: "উমর বিন আব্দুল আযীযের লেখক?" আমি তাকে বললাম: "হ্যাঁ।" সে বলল: "হে দুর্ভাগা, এই মন্দ সময় পর্যন্ত আপনি কেন বেঁচে রইলেন?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন বৃদ্ধ কেঁদে ফেললেন। হাসান তাঁর কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন এবং তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করলেন। তখন মাইমুন বললেন: "হে আবু সাঈদ, আমি আমার অন্তরে কঠোরতা অনুভব করছি, তাই আমার জন্য তা (উপদেশ দিয়ে) দূর করুন।" তখন হাসান পাঠ করলেন: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমি যদি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগবিলাস করতে দেই, অতঃপর তাদের নিকট সেই আযাব এসে উপস্থিত হয় যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল, তখন তাদের সেই ভোগবিলাস তাদের কোনো উপকারে আসবে না?" বর্ণনাকারী বলেন: তখন বৃদ্ধ (মাইমুন) লুটিয়ে পড়লেন। আমি তাঁকে যবেহ করা ছাগলের ন্যায় পা আছড়াতে দেখলাম। তিনি দীর্ঘক্ষণ সেভাবেই পড়ে রইলেন, অতঃপর তাঁর জ্ঞান ফিরল। তখন সেই বালিকাটি এসে বলল: "আপনারা বৃদ্ধ লোকটিকে ক্লান্ত করে ফেলেছেন, আপনারা উঠে পড়ুন এবং বিদায় নিন।"
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
فأخذت بيد أبي فخرجت به، ثم قلت: يا أبتاه، هذا الحسن؟ قد كنت أحسب أنه أكبر من هذا! قال: فوكز في صدري وكزةً، ثم قال: يا بني، لقد قرأ علينا آيةً، لو تفهمتها بقلبك لألفيت لها فيه كلوماً.

39- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا علي بن جميل، ثنا أبو المليح، قال: قال رجلٌ لميمون بن مهران: يا أبا أيوب، ما يزال الناس بخيرٍ ما أبقاك الله لهم.

فقال له ميمون: أقبل على شأنك أيها الرجل؛ فما يزال الناس بخيرٍ ما اتقوا ربهم.

40- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا علي بن جميل، ثنا أبو المليح، عن ميمونٍ، قال: ما بلغني عن أخٍ لي مكروهٌ قط، إلا كان إسقاط المكروه عنه أحب إلي من تحقيقه عليه؛ فإن قال: لم أفعل، كان قوله أحب إلي من بينةٍ تشهد عليه [بقوله] ، وإن قال: قد قلت: ولم يعتذر؛ أبغضته من حيث أحببته. وقال: سمعت ابن عباس يقول: ما بلغني عن أخٍ لي مكروهٌ قط، إلا أنزلته أحد ثلاث منازل، إن كان فوقي عرفت له قدره، وإن كان نظيري تفضلت عليه،
তখন আমি আমার পিতার হাত ধরে তাকে নিয়ে বের হলাম এবং বললাম: হে আব্বাজান, ইনিই কি আল-হাসান? আমি তো মনে করেছিলাম তিনি এর চেয়ে বড় হবেন! তিনি বলেন: তখন তিনি আমার বুকে এক ধাক্কা দিলেন এবং বললেন: হে বৎস, তিনি আমাদের সামনে এমন একটি আয়াত তিলাওয়াত করেছেন, তুমি যদি তা অন্তর দিয়ে বুঝতে, তবে তোমার হৃদয়ে তার দরুন ক্ষত খুঁজে পেতে।

৩৯- হিলাল বিন আল-আলা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী বিন জামিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মালিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মাইমুন বিন মিহরানকে বললেন: হে আবু আইয়ুব, মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ আপনাকে তাদের মাঝে জীবিত রাখবেন।

তখন মাইমুন তাকে বললেন: হে ব্যক্তি, তুমি নিজের কাজে মনোযোগ দাও; কেননা মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তারা তাদের রবকে ভয় করবে।

৪০- হিলাল বিন আল-আলা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলী বিন জামিল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আল-মালিহ মাইমুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কোনো ভাইয়ের ব্যাপারে যখনই কোনো অপ্রীতিকর সংবাদ আমার কাছে পৌঁছেছে, তখন তা সত্য বলে সাব্যস্ত করার চেয়ে তাকে সেই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়াই আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল; যদি সে বলত: "আমি তা করিনি", তবে তার এই কথাটি আমার কাছে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া প্রমাণের চেয়ে অধিক প্রিয় মনে হতো। আর যদি সে বলত: "আমি তা বলেছি" এবং কোনো ওজর পেশ না করত, তবে আমি তাকে সেই দিক থেকেই ঘৃণা করতাম যেখান থেকে তাকে ভালোবাসতাম। তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: আমার কোনো ভাইয়ের ব্যাপারে যখনই কোনো অপ্রীতিকর কথা আমার কাছে পৌঁছেছে, তখন আমি তাকে তিনটি মর্যাদার যেকোনো একটিতে স্থান দিয়েছি—যদি সে আমার চেয়ে বড় হয়, তবে আমি তার মর্যাদা রক্ষা করেছি; আর যদি সে আমার সমপর্যায়ের হয়, তবে আমি তার প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শন করেছি;
(খণ্ড: ১) তারীখুর রাক্কাহ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
وإن كان دوني لم أحفل به؛ هذه سيرتي في نفسي، فمن رغب عنها فأرض الله واسعةٌ.

41- حدثنا هلال بن العلاء، ثنا حسين بن عياش، ثنا فرات، قال: سمعت ميموناً يقول: لو نشر فيكم رجلٌ من السلف ما عرف إلا قبلتكم.

42- حدثنا محمد بن علي بن حبيب المري، ثنا أبو أمية عمرو بن هشام، ثنا محمد بن سلمة، عن أبي [عبد الرحيم خالد بن يزيد، عن] ميمون [بن مهران، عن عمر] بن عبد العزيز: أن خـ....

43-[حدثنا هلال] بن العلاء، ثنا عمرو بن عثمان، ثنا سفيان بن عقبة النخعي، [عن أبان] بن أبي راشد القشيري، قال:
আর যদি সে আমার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের হয়, তবে আমি তার পরোয়া করি না; এটিই আমার নিজের ব্যাপারে আমার অনুসৃত নীতি। সুতরাং যে ব্যক্তি এ থেকে বিমুখ হয়, আল্লাহর জমিন প্রশস্ত।

৪১- হিলাল ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুরাত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাইমুনকে বলতে শুনেছি: যদি তোমাদের মাঝে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) মধ্য হতে কোনো ব্যক্তিকে পুনরুত্থিত করা হতো, তবে তিনি তোমাদের কিবলা ছাড়া আর কিছুই চিনতে পারতেন না।

৪২- মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাবীব আল-মাররী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমাইয়াহ আমর ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু [আব্দুর রাহীম খালিদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি] মাইমুন [ইবনে মিহরান থেকে, তিনি উমর] ইবনে আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন যে...

৪৩- [হিলাল] ইবনুল আলা [আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন], আমর ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উকবাহ আন-নাখায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, [আবান] ইবনে আবি রাশিদ আল-কুশাইরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: