(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: -)
حديث ابن مخلد عن ابن كرامة وغيره   (محمد بن مخلد العطار)

القسم: كتب السنة


الكتاب: من حديث محمد بن عثمان بن كرامة وحديث طاهر بن خالد بن نزار الأيلي، رواية محمد بن مخلد العطار عنهما

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن مخلد بن حفص العطار الدوري البغدادي (ت 331هـ)

المحقق: عامر حسن صبري

الناشر: دار البشائر الإسلامية [ضمن سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (21)]

الطبعة: الأولى 1423هـ - 2003م

عدد الصفحات: 200

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

ইবনে কারামা ও অন্যদের থেকে ইবনে মাখলাদের হাদীস   (মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মুহাম্মদ বিন উসমান বিন কারামা ও তাহির বিন খালিদ বিন নিযার আল-আইলীর হাদীস থেকে, তাঁদের থেকে মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তারের বর্ণনা

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বিন হাফস আল-আত্তার আদ-দাওরী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩৩১ হিজরী)

তাহকীক: আমির হাসান সাবরী

প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ [হাদীস শাস্ত্রের কিতাব ও অংশ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত (২১)]

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৩ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগীয়াল খাইর আকবিল

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: -)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (22، 21، 20)

 

مجموع فيه ثلاث رسائل حديثية

 

من حديث أبي عبيدة مجاعة بن الزبير العتكي البصري

 

-[من حديث محمد بن عثمان بن كرامة]-

وحديث طاهر بن خالد بن نزار الأيلي

رواية محمد بن مخلد العطار عنهما

 

الزيادات في كتاب الجود والسخاء

للإمام الحافظ أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني

 

تحقيق

الدكتور عامر حسن صبري

 

دار البشائر الإسلامية

 

الطبعة الأولى

1423هـ - 2003م
হাদিস শাস্ত্রীয় গ্রন্থ ও সংকলন সিরিজ (২২, ২১, ২০)

 

তিনটি হাদিস শাস্ত্রীয় রিসালার (পুস্তিকা) সমষ্টি

 

আবু উবাইদাহ মুজাআ ইবনে জুবাইর আল-আতকি আল-বসরির হাদিস থেকে

 

-[মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে কারামার হাদিস থেকে]-

এবং তাহির ইবনে খালিদ ইবনে নিজার আল-আইলির হাদিস

তাঁদের দুজনের থেকে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তারের বর্ণনা

 

'কিতাবুল জুদ ওয়াস সাখা' (দান ও বদান্যতা গ্রন্থ)-এর পরিশিষ্ট

ইমাম হাফিজ আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানির

 

তাহকিক

ডক্টর আমির হাসান সাবরি

 

দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যাহ

 

প্রথম সংস্করণ

১৪২৩ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٣٣)
سلسلة الأجزاء والكتب الحديثية (21)

 

‌‌من حديث

محمد بن عثمان بن كرامة

 

ومن حديث

طاهر بن خالد بن نزار الأيلي

رواية محمد بن مخلد العطار عنهما

331 هـ
হাদিস বিষয়ক পুস্তিকা ও কিতাব সিরিজ (২১)

 

‌‌হাদিস হতে

মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে কারামাহ

 

এবং হাদিস হতে

তাহির ইবনে খালিদ ইবনে নিজার আল-আইলি

তাদের উভয়ের নিকট হতে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তারের বর্ণনা

৩৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٣)
الجزء فيه

من حديث محمد بن عثمان بن كرامة ومن حديث طاهر بن خالد بن نزار بن المغيرة الأيلي

رواية أبي عبد الله محمد بن مخلد العطار الدوري عنهما

رواية أبي عمر عبد الواحد بن محمد بن عبد الله بن مهدي عنه

رواية أبي مُحَمَّدٍ رِزْق اللَّهِ بْنُ عَبْدُ الْوَهَّابِ التَّمِيمِيّ عنه

رواية أبي القاسم نصر بن نصر العكبري عنه

رواية الشيخ الصالح أبي حفص عمر بن كرم الدينوري عنه

سماع منه لكاتبه محمد بن عبد المنعم بن عمار بن هامل الحراني ببغداد

ومعه من حديث الحسن بن عرفة العبدي

رواية أبي عبد الله محمد بن مخلد العطار عَنْهُ
এই অংশে রয়েছে

মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে কারামাহ-এর হাদিস এবং তাহির ইবনে খালিদ ইবনে নিজার ইবনে আল-মুগীরাহ আল-আইলি-এর হাদিস থেকে

তাঁদের উভয়ের নিকট হতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার আদ-দাওরী-এর বর্ণনা

তাঁর নিকট হতে আবু উমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাহদী-এর বর্ণনা

তাঁর নিকট হতে আবু মুহাম্মাদ রিজকুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামিমী-এর বর্ণনা

তাঁর নিকট হতে আবু আল-কাসিম নাসর ইবনে নাসর আল-উকবারী-এর বর্ণনা

তাঁর নিকট হতে পুণ্যবান শাইখ আবু হাফস উমর ইবনে কারাম আদ-দিনাওয়ারী-এর বর্ণনা

বাগদাদে এর লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মুনইম ইবনে আম্মার ইবনে হামিল আল-হাররানী কর্তৃক তাঁর থেকে শ্রুত

এবং এর সাথে হাসান ইবনে আরাফাহ আল-আবদী-এর হাদিস রয়েছে

তাঁর নিকট হতে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার-এর বর্ণনা
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا الشيخ الصالح أبو حفص عمر بن كرم بن أبي الحسن الدينوري قراءة عليه وأنا حاضر أسمع ببغداد يوم الثلاثاء سابع جمادى الآخرة سنة خمس وعشرين وستمائة قال أخبرنا نصر بن نصر بن يونس العكبري قال أخبرنا الشيخ الأجل الإِمَامُ أَبُو مُحَمَّدٍ رِزْقُ اللَّهِ بْنُ عَبْدُ الوهاب التميمي رضي الله عنه قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي مَنْزِلِهِ بِبَابِ الْمَرَاتِبِ وَأَنَا أسمع في شهر ربيع الآخر سنة ثمانين قيل له أخبركم أبو عمر عبد الواحد بن محمد بن عبد الله بن محمد بن مهدي قراءة عليه فأقر به قال

 

‌‌[أحاديث طاهر بن خالد بن نزار]

أخبرنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ الخطيب الدوري قراءة عليه يوم الثلاثاء لليلتين خلتا من صفر من سنة ثلاثين وثلثمائة قال حدثنا طاهر بن خالد بن نزار بن المغيرة بن سليم يعرف بالأيلي قال

1 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ ⦗ص: 156⦘ قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم إِنِّي خَبَّأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأُمَّتِي يوم القيامة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নেককার শায়খ আবু হাফস ওমর ইবন করম ইবন আবিল হাসান আদ-দিনাওয়ারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি বাগদাদে উপস্থিত থেকে শুনছিলাম; ৬২৫ হিজরী সনের ৭ই জুমাদাল আখিরা মঙ্গলবার। তিনি বলেন: নসর ইবন নসর ইবন ইউনুস আল-উকবারী আমাদের খবর দিয়েছেন। তিনি বলেন: মহান শায়খ, ইমাম আবু মুহাম্মদ রিযকুল্লাহ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব আত-তামীমী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের খবর দিয়েছেন—তাঁর নিকট তাঁর বাসভবন 'বাবুল মারাতবি'-তে পাঠ করার সময় আমি শুনছিলাম; চারশত আশি হিজরী সনের রবিউল আখির মাসে। তাঁকে বলা হলো: আবু ওমর আব্দুল ওয়াহিদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন মাহদী কি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যখন তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছিল এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন? তিনি বললেন: (হ্যাঁ)।

 

‌‌[তাহের ইবন খালিদ ইবন নিজারের হাদিসসমূহ]

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মাখলাদ আল-আত্তার আল-খতিব আদ-দাওরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল ৩৩০ হিজরী সনের সফর মাসের দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন তাহের ইবন খালিদ ইবন নিজার ইবনুল মুগীরা ইবন সালিম, যিনি আল-আইলি নামে পরিচিত। তিনি বলেন:

১ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবন তাহমান আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন যিয়াদ আবু হুরায়রা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৬⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আমি কিয়ামতের দিনে আমার উম্মতের সুপারিশের জন্য আমার দোয়াটি সযত্নে সঞ্চয় করে রেখেছি।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٦)
2 - حدثني أبي عن إبراهيم بن طهمان قال حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ شُرَيْحٍ أَنَّهُ قَالَ فِي الْمُضَارِبِ يُؤْتَمَنُ عَلَى الْمَالِ فَإِنَّ اتُّهِمَ حُلِّفَ إِلا أَنْ تُقِيمَ عَلَيْهِ بَيِّنَةً بِخِيَانَةٍ.
২ - আমার পিতা ইব্রাহীম ইবনে তাহমান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদিল আ'লা শুরাইহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুদারিব (ব্যবসা পরিচালনাকারী) সম্পর্কে বলেছেন: তাকে সম্পদের ব্যাপারে আমানতদার বা বিশ্বস্ত মনে করা হবে। তবে যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তবে তাকে শপথ করতে হবে; যদি না আপনি তার খিয়ানত বা বিশ্বাসঘাতকতার সপক্ষে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٦)
3 - حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ شُرَيْحٍ أَنَّهُ قَالَ إِذَا شَرَكَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ وَلَمْ يَنْقُدِ الْمُشْتَرِكَ فَالرِّبْحُ بَيْنَهُمَا وَالْوَضِيعَةُ عَلَى الْمَالِ وَلا يَدْخُلُ عَلَى الَّذِي لَمْ يَنْقُدْ ضُرُّ لأَنَّهُ بِمَنْزِلَةِ الأَجِيرِ إِنْ كَانَ له فضل كَانَ لَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَضْلٌ فَلَيْسَ عليه شيء.
৩ - আমার পিতা ইবরাহীম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আলা আমার নিকট শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে অংশীদারিত্বে আবদ্ধ হয় এবং অংশীদার কোনো মূলধন প্রদান না করে, তবে মুনাফা তাদের উভয়ের মধ্যে বণ্টিত হবে, আর লোকসান মূলধনের ওপর বর্তাবে। যে ব্যক্তি মূলধন প্রদান করেনি তার ওপর কোনো ক্ষতি আসবে না; কেননা সে একজন শ্রমিকের সমতুল্য। যদি কোনো অতিরিক্ত মুনাফা থাকে তবে সে তা পাবে, আর যদি কোনো অতিরিক্ত মুনাফা না থাকে তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٦)
4 - حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ ⦗ص: 157⦘ الْحَجَّاجِ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ عِيسَى عليه السلام نَازِلٌ فَيَقْتُلُ الدَّجَّالَ وَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ.
৪ - আমার পিতা ইব্রাহীম ইবনে তাহমান থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৭⦘ হাজ্জাজ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদ আল-আ’লা ইবনে আবদ রাব্বিহি থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন যে তিনি আবু হুরায়রাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতীর্ণ হবেন, অতঃপর তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন, ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন এবং শুকর নিধন করবেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٧)
5 - حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَتْ عِنْدِي جَارِيَةٌ مِنَ الأَنْصَارِ فِي حِجْرِي فَزَوَّجْتُهَا فَدَخَلَ علي رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَسْمَعْ غِنَاءً فَقَالَ يَا عَائِشَةُ أَلا تُغَنِّينَ فَإِنَّ هَذَا ⦗ص: 158⦘ الْحَيَّ مِنَ الأَنْصَارِ يُحِبُّونَ الغناء.
৫ - আমার পিতা আমাকে ইব্রাহিম বিন তাহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম থেকে, তিনি ইসহাক বিন সাহল বিন আবি হাথমা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার তত্ত্বাবধানে জনৈক আনসারি বালিকা ছিল, আমি তার বিবাহ সম্পন্ন করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং কোনো সঙ্গীত শুনতে পেলেন না। তখন তিনি বললেন: হে আয়েশা, তোমরা কি গান গাইবে না? কেননা আনসারদের এই ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৮⦘ গোত্র সঙ্গীত পছন্দ করে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٨)
6 - حدثني أبي عن إبراهيم بن طهمان قال سَأَلْتُ مَطَرًا عَنْ أُمِّ الْوَلَدِ هَلْ فِي مَالِهَا زَكَاةٌ قَالَ لا.
৬ - আমার পিতা আমার নিকট ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাতারকে উম্মুল ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তার সম্পদের ওপর কি জাকাত আছে? তিনি বললেন: না।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٨)
7 - أَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ قَالَ أَصَبْتُ دَنَانِيرَ فَأَتَيْتُ بِهَا رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَرِّفْهَا حَوْلا فَعَرَّفْتُهَا حَوْلا ثُمَّ رَدَدْتُهَا إِلَيْهِ فَقَالَ احْفَظْ وِعَاءَهَا وَوِكَاءَهَا وَعِدَّتَهَا وَاسْتَنْفِعْ بِهَا.
৭ - আমার পিতা ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাবির আল-জু’ফী সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি সুওয়াইদ ইবনে গাফালাহ থেকে এবং তিনি উবাই ইবনে কা’ব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি কিছু দিনার পেয়েছিলাম, অতঃপর আমি সেগুলো নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: এক বছর পর্যন্ত এগুলোর ঘোষণা দাও। আমি এক বছর ঘোষণা দিলাম। অতঃপর পুনরায় তাঁর নিকট আসলাম। তিনি বললেন: এর পাত্র, বন্ধনী এবং সংখ্যা মনে রাখো এবং এগুলো নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করো।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٨)
8 - حَدَّثَنَا أَبِي أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ ⦗ص: 159⦘ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ قَدِ احْتَرَقُوا فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.
৮ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনে তাহমান আমাকে অবহিত করেছেন, সুলাইমান আল-আ’মাশ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সা’ঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৯⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: একদল লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে যারা পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে, অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٥٩)
9 - حَدَّثَنِي أَبِي أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي بُدَيْلُ الْعُقَيْلِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ اللَّيْثِيِّ عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ طَعَامًا فِي سِتَّةِ رَهْطٍ إِذْ دَخَلَ أَعْرَابِيٌّ فَأَكَلَ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ بِلُقْمَتَيْنِ فَقَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم لَوْ كَانَ ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ عز وجل لَكَفَاكُمْ فَإِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَذْكُرِ اللَّهَ فَإِنَّ نَسِيَ ثُمَّ ذَكَرَ فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ.
৯ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, বুদাইল আল-উকাইলি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর আল-লাইসি থেকে, তিনি উম্মু কুলসুম থেকে এবং তিনি মুমিন জননী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছয়জনের একটি দলের সাথে খাবার খাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় এক বেদুইন প্রবেশ করল এবং তাদের সামনে যা ছিল তা দুই লোকমায় খেয়ে শেষ করে ফেলল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি সে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করত (বিসমিল্লাহ পড়ত), তবে তা তোমাদের সবার জন্য যথেষ্ট হতো। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন খাবার খাবে, সে যেন আল্লাহর নাম স্মরণ করে। আর যদি সে ভুলে যায় এবং পরে স্মরণ হয়, তবে সে যেন বলে: "বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু" (আল্লাহর নামে, এর শুরুতে এবং শেষে)।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٠)
10 - حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْعَدَوِيِّ أَنَّهُ قَالَ مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْرَهُ أَنْ أَصُومَهُ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَلا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَصُومَهُ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَقِيلَ وَكَيْفَ ذَلِكَ قَالَ يُعْجِبُنِي أَنْ أَصُومَهُ فِي أَيَّامٍ مُتَتَابِعَةٍ لِمَا أَعْلَمُ مِنْ فَضِيلَتِهِ وَأَكْرَهُ أَنْ أَخُصَّهُ مِنْ بَيْنِ الأَيَّامِ فَإِنَّ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُخَصَّ وَحْدَهُ مِنْ بَيْنِ الأَيَّامِ.
১০ - আমাদের নিকট আমার পিতা ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনুল হাজ্জাজ আমার নিকট কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আইয়াশ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ আল-আদাওয়ী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: জুমার দিনের চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় আর কোনো দিন আমার কাছে নেই যাতে আমি রোজা রাখি, আবার জুমার দিনের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিন আমার কাছে নেই যাতে আমি রোজা রাখি। জিজ্ঞেস করা হলো, তা কীভাবে? তিনি বললেন: জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে আমি যা জানি, সেই কারণে ধারাবাহিক দিনগুলোর অংশ হিসেবে এই দিনে রোজা রাখা আমাকে আনন্দ দেয়; কিন্তু দিনগুলোর মধ্য থেকে কেবল এই দিনটিকে পৃথকভাবে নির্দিষ্ট করা আমি অপছন্দ করি। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনগুলোর মধ্য থেকে কেবল এই দিনটিকে এককভাবে (রোজার জন্য) নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٠)
11 - حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهُ الْمَشْرِقِيُّ ⦗ص: 161⦘ عَنْ عِكْرِمَةَ فِي قوله عز وجل: {يس}، قَالَ يَعْنِي يَا إِنْسَانُ، {إِنَّكَ لَمِنَ المرسلين على صراط مستقيم}، قَالَ عَلَى دِينٍ مُسْتَقِيمٍ.
১১ - আমার পিতা আমার নিকট ইব্রাহিম বিন তাহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ বিন আল-হাজ্জাজ থেকে, তিনি পূর্বাঞ্চলীয় অধিবাসীদের মধ্যকার এক ব্যক্তি থেকে—যাকে আল-মাশরিকি বলা হয়— ⦗পৃষ্ঠা: ১৬১⦘ তিনি ইকরিমা থেকে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {ইয়া-সিন}, তিনি বলেন, এর অর্থ হলো হে মানুষ, {নিশ্চয়ই আপনি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত, এক সরল পথের ওপর}, তিনি বলেন, (অর্থাৎ) এক সঠিক দ্বীনের ওপর।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦١)
12 - حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّهُ قَالَ لأُقْضِمَنَّ الدَّهْرَ كُلَّهُ ولأُخْضِمَنَّ الدَّهْرَ كُلَّهُ فَقِيلَ لَهُ وَكَيْفَ ذَلِكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ أَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ فَذَاكَ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ. قَالَ أَبُو الطَّيِّبِ القَضْمُ مَا أَكَلْتَ بِأَسْنَانِكَ وَالخَضْمُ مَا أَكَلْتَ بأضراسك.
১২ - আমার পিতা ইবরাহিম ইবনে তাহমান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজ আমার নিকট কাতাদা থেকে, তিনি হাসান ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি কাসির ইবনে মুররা আল-হাদরামি থেকে এবং তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি অবশ্যই সমগ্র কালকে সামনের দাঁত দিয়ে চিবিয়ে নিঃশেষ করব এবং আমি অবশ্যই সমগ্র কালকে মাড়ির দাঁত দিয়ে চিবিয়ে সাবাড় করব।" তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "হে আবু আব্দুর রহমান! তা কীভাবে সম্ভব?" তিনি বললেন: "আমি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখি, আর সেটিই হলো সমগ্র কাল রোজা রাখা।" আবু আত-তৈয়্যিব বলেন: 'কাদম' হলো যা তুমি সামনের দাঁত দিয়ে খাও এবং 'খাদম' হলো যা তুমি মাড়ির দাঁত দিয়ে খাও।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦١)
13 - حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لا تَصُومَنَّ امْرَأَةٌ إِلا بِإِذْنِ زَوْجِهَا.
১৩ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবন তাহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনুল হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো নারী যেন তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত রোযা না রাখে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٢)
14 - حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ خِلاسِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.
১৪ - আমার পিতা ইবরাহীম বিন তাহমান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি খিলাস বিন আমর থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতের জন্য দণ্ডায়মান হবে, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٢)
15 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ مَيْمُونٍ عَنْ عَلِيُّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَكُونُ لأَهْلِ الإِسْلامِ أَرْبَعَةُ أَمْصَارٍ مِصْرٌ تِلْقَاءَ الْبَحْرَيْنِ وَمِصْرٌ بِالحِيرَةِ وَمِصْرَانِ بِالشَّامِ وَيَفْزَعُ النَّاسُ ثَلاثَ فَزَعَاتٍ ⦗ص: 163⦘ ثُمَّ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي عِرَاضِ جَيْشٍ يَنْهَزِمُ مِنْ قَبْلِ الْمَشْرِقِ فَيَسِيرُ حَتَّى يَنْتَهِي إِلَى الْمِصْرِ الَّذِي تِلْقَاءَ الْبَحْرَيْنِ فَيَفْتَرِقُ أَهْلُهُ عِنْدَ ذَلِكَ ثَلاثَ فِرَقٍ فِرْقَةٌ تَثْبُتُ وَفِرْقَةٌ تَلْحَقُ بِالْمِصْرِ الَّذِي بِالحِيرَةِ وَفِرْقَةٌ تَلْحَقُ بِالشَّامِ وَالقُوَّةُ مِنْهُ الْفُرَّارُ فَيَظْهَرُ عَلَيْهِمُ الدَّجَّالُ ثُمَّ يَسِيرُ حَتَّى يَأْتِي الْمِصْرَ الَّذِي بِالحِيرَةِ فَيَفْتَرِقُ أَهْلُهُ عِنْدَ ذَلِكَ ثَلاثَ فِرَقٍ فِرْقَةٌ تَثْبُتُ وَفِرْقَةٌ تَلْحَقُ بِالبَادِيَةِ وَالقُوَّةُ الَّتِي مِنْهُ الْفُرَّارُ فَيَظْهَرُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ يَنْحَازُ الْمُسْلِمُونَ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَيَثْبَتُونَ حَتَّى يَنْزِلَ عَقَبَةُ أَفِيق فَيُسَرِّحُ الْمُسْلِمُونَ سَرْحَهُمْ فَيُصَابُ [فَيَشْتَدُّ عَلَيْهِمْ وَتُصِيبُهُمْ مَجَاعَةٌ شَدِيدَةٌ] حَتَّى أَنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَدُ إِلَى وَتَرِ قَوْسِهِ فيحرقه فَيَأْكُلَهُ مِنَ الْجَهْدِ فَبَيْنَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا صَوْتَ رَجُلٍ مِنَ السَّحَرِ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَتَاكُمُ الْغَوْثُ فَيَقُولُونَ هَذَا صَوْتُ شَبْعَانَ ثُمَّ يُنَادِي النَّاسَ فَيَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَتَاكُمُ الْغَوْثُ فَيَخْرُجُونَ إِلَيْهِ فَإِذَا هُمْ بِعِيسَى بْنِ مَرْيَمَ فَتُقَامُ الصَّلاةُ فَيَقُولُ لِيُصَلِّي بِكُمْ بَعْضُكُمْ فَإِنَّكُمْ أَحَقُّ فَيُصَلِّي بِهِمْ بَعْضُهُمْ وَيُصَلِّي مَعَهُمْ عِيسَى فَإِذَا فَرَغَ مِنَ الصَّلاةِ سَارَ إِلَى الدَّجَّالِ فَحِينَ يَرَاهُ الدَّجَّالُ يَذُوبُ كَمَا يَذُوبُ الرَّصَاصُ فَيَطْعَنُهُ فَيَقْتُلَهُ فَلا يَبْقَى يَوْمَئِذٍ شَجَرٌ وَلا حَجَرٌ إِلا وَهُوَ ينادي ⦗ص: 164⦘ يا مؤمن هذا كافر تحتي فيجئ فيقتله.
১৫ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে ইবরাহীম ইবন তাহমান বর্ণনা করেছেন, আমাকে খালিদ ইবন মাইমুন বর্ণনা করেছেন আলী ইবন যাইদ ইবন জুদআন থেকে, তিনি আবু নাদাহ থেকে, তিনি উসমান ইবন আবিল আস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ইসলামের অনুসারীদের জন্য চারটি প্রধান শহর থাকবে: একটি শহর বাহরাইন অভিমুখী, একটি হীরায় এবং দুটি শহর শাম দেশে। আর মানুষ তিনবার আতঙ্কিত হবে। ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৩⦘ তারপর দাজ্জাল এক বিশাল বাহিনীর সাথে আত্মপ্রকাশ করবে, যারা পূর্ব দিক থেকে পরাজিত হয়ে আসবে। সে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বাহরাইন অভিমুখী শহরে গিয়ে পৌঁছাবে। তখন সেই শহরের অধিবাসীরা তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে: এক দল অটল থাকবে, এক দল হীরার শহরের সাথে গিয়ে মিলিত হবে এবং অন্য এক দল শাম দেশে চলে যাবে। পলায়নকারীদের শক্তি তার নিকট পর্যুদস্ত হবে এবং দাজ্জাল তাদের ওপর বিজয়ী হবে। এরপর সে অগ্রসর হয়ে হীরায় অবস্থিত শহরে আসবে। তখন সেখানকার অধিবাসীরাও তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে: এক দল অটল থাকবে, এক দল মরুভূমির দিকে চলে যাবে এবং পলায়নকারীদের শক্তি তার কাছে পরাস্ত হবে। সে তাদের ওপরও বিজয়ী হবে। অতঃপর মুসলিমরা বাইতুল মাকদিসের দিকে সরে আসবে এবং সেখানে তারা অটল থাকবে, যতক্ষণ না সে 'আফিক' গিরিপথে অবতরণ করবে। তখন মুসলিমরা তাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলো চরাতে পাঠাবে, কিন্তু সেগুলো আক্রান্ত হবে [তাদের ওপর বিপদ তীব্র হবে এবং তারা চরম দুর্ভিক্ষের শিকার হবে], এমনকি এক ব্যক্তি তার ধনুকের ছিলা হাতে নিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলবে এবং ক্ষুধার তীব্রতায় তা ভক্ষণ করবে। এমতাবস্থায় শেষ রাতে তারা এক ব্যক্তির কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে যে বলছে, 'হে লোকসকল! তোমাদের নিকট সাহায্য পৌঁছেছে।' তারা বলবে, 'এটি তো কোনো তৃপ্ত ব্যক্তির কণ্ঠস্বর।' এরপর সে আবার লোকজনকে ডেকে বলবে, 'হে লোকসকল! তোমাদের নিকট সাহায্য এসেছে।' তখন তারা বের হয়ে আসবে এবং দেখবে যে তিনি ঈসা ইবন মারইয়াম। এরপর সালাতের ইকামত দেওয়া হবে। তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) বলবেন, 'তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ ইমামতি করুক, কারণ তোমরাই এর বেশি হকদার।' তখন তাদের একজন তাদের নিয়ে সালাত আদায় করবেন এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাদের সাথে সালাত পড়বেন। সালাত শেষ হলে তিনি দাজ্জালের দিকে অগ্রসর হবেন। দাজ্জাল যখন তাকে দেখবে, তখন সে সীসা গলার মতো গলতে শুরু করবে। এরপর তিনি তাকে আঘাত করে হত্যা করবেন। সেদিন এমন কোনো গাছ বা পাথর অবশিষ্ট থাকবে না যা চিৎকার করে বলবে না— ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৪⦘ 'হে মুমিন! এই তো আমার নিচে একজন কাফির রয়েছে।' তখন সে এসে তাকে হত্যা করবে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٤)
16 - حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلالٍ عَنْ مُطَرَّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ رَأَى عَلَى رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم نَعْلَيْنِ مَخْصُوفَيْنِ.
১৬ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম ইবনে তাহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু’বাহ ইবনুল হাজ্জাজ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ ইবনে হিলাল থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাকে এমন এক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তালি লাগানো একজোড়া জুতা পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٤)
17 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي السوَّارِ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا رَافِعٍ عَنْ رَجُلٍ ذَبَحَ وَنَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ قَالَ كله.
১৭ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাজ্জাজ আমাকে কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আবু আস-সাওয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু রাফিকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে পশু জবাই করেছে কিন্তু আল্লাহর নাম নিতে ভুলে গেছে। তিনি বললেন: তা খাও।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٤)
18 - حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا ⦗ص: 165⦘ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ أُنَاسٌ مِنَ النَّارِ قَدِ احْتَرَقُوا حتى كانوا كالحمم فَيُلْقَوْنَ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ فَيَرُشُّ عَلَيْهِمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ مِنَ الْمَاءِ فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْغُثَاءُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ.
১৮ - আমাদের নিকট আমার পিতা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে তাহমান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৫⦘ আল-আ'মাশ আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "জাহান্নাম থেকে এমন কিছু লোক বের হবে যারা দগ্ধ হয়ে কয়লার মতো হয়ে যাবে। অতঃপর তাদের জান্নাতের দরজায় রাখা হবে এবং জান্নাতবাসীরা তাদের ওপর পানি ছিটাবেন। ফলে তারা এমনভাবে গজিয়ে উঠবে যেভাবে প্লাবনের স্রোতে বয়ে আসা পলি বা আবর্জনার মধ্যে চারা গজিয়ে ওঠে।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٥)
19 - حدثني أبي عن إبراهيم بن طهمان قال وَحَدَّثَنِي عَبَّادُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الْمُسْلِمِينَ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَلْيَدْفَعْهُ إِلَيَّ وَمَنْ تَرَكَ مَالا فَلِعَصَبِتِهِ مَنْ كَانُوا. قَالَ عَبَّادُ أَوْ قَالَ لِلوُلاةِ مِنْ كَانُوا قَالَ عَبَّادٌ وَالوُلاةُ الأَوْلِيَاءُ.
১৯ - আমার পিতা ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এবং আব্বাদ ইবনে ইসহাক আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আ’রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিমদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঋণ অথবা অসহায় পরিবার রেখে যায়, সে যেন তা আমার নিকট সোপর্দ করে। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, তা তার আসাবার (উত্তরাধিকারী) জন্য হবে, তারা যে-ই হোক না কেন।" আব্বাদ বলেন: অথবা তিনি বলেছেন, "অভিভাবকদের (উলাত) জন্য তারা যে-ই হোক না কেন।" আব্বাদ বলেন: আর ‘উলাত’ অর্থ হলো অভিভাবকবৃন্দ।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٦)
20 - حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ زَيْدٍ يَقُولُ مَشَيْتُ إِلَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَسَأَلْنَاهُ عَنْهُ فَقَالَ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أُمَّةً وَحْدَهُ يَعْنِي زَيْدَ بْنَ عَمْرٍو بْنِ نُفَيْلٍ.
২০ - আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনে আবিয-যিনাদ অবহিত করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি সাঈদ ইবনে যায়েদকে বলতে শুনেছেন: আমি এবং উমর ইবনুল খাত্তাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে হেঁটে গেলাম, অতঃপর আমরা তাঁকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: "কিয়ামতের দিন তাঁকে একাই একটি উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে।" অর্থাৎ যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٦)
21 - حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ كَانَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِذَا سُئِلَ عَنِ الشَّيْءِ يَقُولُ كَانَ هَذَا فَإِنْ قَالُوا ⦗ص: 167⦘ لا قَالَ دَعُوهُ حَتَّى يَكُونَ.
২১ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন আবি আয-যিনাদ আমাদের নিকট তাঁর পিতা থেকে, তিনি খারিযাহ বিন যাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: যাইদ বিন সাবিতকে যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি বলতেন, “এটি কি ঘটেছে?” যদি তারা বলত ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৭⦘ “না”, তবে তিনি বলতেন, “এটি ঘটা পর্যন্ত একে ছেড়ে দাও।”
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٧)
22 - حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ إِذَا غَدَا إِلَى الْعِيدِ وَحِينَ يَخْرُجُ إِلَى الْمَسْجِدِ حَتَّى يَبْلُغَ الْمُصَلَّى ثُمَّ يُكَبِّرُ في المصلى.
২২ - আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবন আবিয যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা আবুয যিনাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন ঈদের সকালে বের হতেন এবং যখন মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হতেন, তখন থেকে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন; অতঃপর তিনি ঈদগাহেও তাকবির পাঠ করতেন।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٧)
23 - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ قَالَ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} [المطففين: 6] حَتَّى يَغيبَ أَحَدُكُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ.
২৩ - আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম বিন তাহমান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মূসা বিন উকবা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যেদিন মানুষ জগতসমূহের রবের সামনে দাঁড়াবে} [আল-মুতাফফিফিন: ৬], এমনকি তোমাদের কেউ কেউ নিজের ঘামে কানের অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে যাবে।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٧)
24 - حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ مَنِ احْتَلَمَ مِنَ اللَّيْلِ فَأَصْبَحَ قَبْلَ أَنْ يَغْتَسِلَ فَلا يَصُومَنَّ ذَلِكَ الْيَوْمَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فَأَرْسَلَنِي مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ إِلَى عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ ⦗ص: 168⦘ زَوْجَيّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ أَشْهَدُ أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبِيتُ جُنُبًا مِنْ نِكَاحٍ غَيْرِ احْتِلامٍ ثُمَّ يُصْبِحُ فَيَغْتَسِلُ وَيَصُومُ ذَلِكَ الْيَوْمِ فَقَالَ لِي مَرْوَانُ اذْهَبْ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فَأَخْبِرهُ هَذَا قَالَ فَذَهَبْتُ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ فَأَخْبَرْتُهُ ذَلِكَ فَقَالَ أَخْبَرَنِي ذَلِكَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ.
২৪ - আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু হুরায়রা বলতেন: "রাতে যার স্বপ্নদোষ হয়েছে, অতঃপর গোসল করার পূর্বেই ভোর হয়ে গেছে, সে যেন ওই দিন রোজা না রাখে।" আবু বকর বলেন, অতঃপর মারওয়ান ইবনুল হাকাম আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পত্নী আয়েশা ও উম্মে সালামার নিকট পাঠালেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৮⦘। তাঁরা বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বপ্নদোষ ব্যতীত স্ত্রী সহবাসের কারণে অপবিত্র অবস্থায় রাত অতিবাহিত করতেন; অতঃপর তিনি ভোর করতেন এবং গোসল করে ওই দিন রোজা পালন করতেন।" মারওয়ান আমাকে বললেন: "আবু হুরায়রার নিকট যাও এবং তাঁকে এটি অবহিত করো।" তিনি (আবু বকর) বলেন, অতঃপর আমি আবু হুরায়রার নিকট গেলাম এবং তাঁকে তা জানালাম। তখন তিনি বললেন: "ফজল ইবনে আব্বাস আমাকে এটি জানিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٨)
25 - حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ ذَكَرَهُ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُحْيِي مِنْ رَمَضَانَ شَيْئًا كَمَا يُحْيِي لَيْلَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ وَلَيْلَةَ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ وَلا كَإِحْيَائِهِ لَيْلَةَ سَبْعِ عَشْرَةَ فَقِيلَ لَهُ يَا أَبَا سَعِيدٍ مَا شَأْنُ لَيْلَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ فَيَقُولُ إِنَّ اللَّهِ عز وجل فَرَّقَ فِي صَبِيحَتِهِمَا بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ وَأَذَلَّ فِي صَبِيحَتِهَا الْكُفْرِ قَالَ فَيُصْبِحُ عَلَى وَجْهِهِ السَّهَرُ وَالصُّفْرَةُ.
২৫ - আমাদের পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন আবি আয-যিনাদ তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খারিজাহ বিন যাইদ থেকে এবং তিনি এটি যাইদ বিন সাবিত থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি রমজানের অন্য কোনো রজনীকে সেভাবে (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত রাখতেন না যেভাবে সতেরো ও তেইশতম রাতকে জাগ্রত রাখতেন। আর সতেরোতম রাতের ইবাদতের ন্যায় অন্য কোনো কিছুই ছিল না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আবু সাঈদ! সতেরোতম রাতের রহস্য কী? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী উক্ত দুই রাতের প্রভাতে সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছেন এবং সেই সকালে কুফরকে লাঞ্ছিত করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে প্রভাতে তাঁর চেহারায় রাত জাগার চিহ্ন ও ফ্যাকাশে ভাব ফুটে উঠত।
(খণ্ড: ১) হাদীসু ইবনে মাখলাদ আন ইবনে কারামাহ ওয়া গইরিহি (পৃষ্ঠা: ١٦٩)
‌‌[أَحَادِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ]

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ حَفْصٍ الْعَطَّارُ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَرَامَةَ قَالَ

26 - حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سَمِعْتُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي كُلِّ إِبِلٍ سَائِمَةٍ مِنْ كُلِّ أرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَلا يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مِنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا أَخَذْنَاهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ إِبِلِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عز وجل وَلا يَحِلُّ لآلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم منها شيء.
[মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন কারামাহর হাদিসসমূহ]

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ বিন হাফস আল-আত্তার, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন কারামাহ, তিনি বলেন:

২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসামাহ, বাহয বিন হাকিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, চরে বেড়ানো প্রতিটি উটের পালের ক্ষেত্রে প্রতি চল্লিশটি উটের জন্য একটি 'বিনতু লাবুন' (দুই বছর বয়সী উষ্ট্রী) যাকাত দিতে হবে। যাকাতের হিসাব থেকে বাঁচার জন্য উটগুলোকে পৃথক করা যাবে না। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তা প্রদান করবে, আমরা তা গ্রহণ করব। আর যে ব্যক্তি তা প্রদানে বিরত থাকবে, আমরা তা এবং তার উটের পালের অর্ধেক (জরিমানা হিসেবে) গ্রহণ করব; এটি আমাদের মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রবের নির্ধারিত বিধানসমূহের একটি। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবারের জন্য এর কোনো অংশই হালাল নয়।