(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: -)
منتقى حديث أبي الحسن العبدويي القسم: كتب السنة
الكتاب: منتقى حديث أبي الحسن أحمد بن إبراهيم بن عبدويه بن سدوس العبدويي
المتوفى: 385 هـ
انتقاء: الضياء المقدسي
المحقق: مشهور بن حسن آل سلمان
الناشر: دار ابن حزم - بيروت [طبع ضمن مجموعة أجزاء حديثية]
الطبعة: الأولى، 2001 م
عدد الصفحات: 320
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: أحمد الخضري (نسخ) ، ويا باغي الخير أقبل (مقابلة)
المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 643هـ)
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আবু আল-হাসান আল-আবদুওয়ীর হাদিসের নির্বাচিত সংকলন বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: আবু আল-হাসান আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন আবদুওয়াইহ বিন সাদূস আল-আবদুওয়ীর হাদিসের নির্বাচিত সংকলন
মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরী
চয়ন: যিয়া আল-মাকদিসী
সম্পাদক: মাশহূর বিন হাসান আল সালমান
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - বৈরুত [হাদিস সংকলনসমূহের একটি সেটের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত]
সংস্করণ: প্রথম, ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমাদ আল-খুদারী (অনুলিখন) , এবং ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল (যাচাইকরণ)
লেখক: যিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৬৪৩ হি.)
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
ولا قول إِلا بِاللَّهِ
أَخْبَرنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْعَالِمُ شَمْسُ الدِّينِ أَبُو مُسْلِمٍ الْمُؤَيَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ أَحْمَد بْنِ الإِخْوَةِ الْبَغْدَادِيُّ بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ سَنَةِ ثَمَانٍ وَتِسْعِينَ وخمسمئة بِدَارِهِ بِأَصْبَهَانَ قُلْتُ لَهُ: أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ زَاهِرُ بْنُ طَاهِرِ بْنِ مُحَمَّد بْنِ مُحَمَّد الشَّحَّامِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي رَبِيعٍ الآخِرِ في سنة إحدى وثلاثين وخمسمئة فأقر به: أَخْبَرنَا الشَّيْخُ أَبُو سَعِيدٍ مُحَمَّد بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بن مُحَمَّد الكنجروذي في سنة 451 أَخْبَرنَا الشَّيْخُ أَبُو الحَسَن أَحْمَد بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدُوَيْهِ بْنِ سَدُوسِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بن مسعود المسعودي العبدويي قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ كِتَابِهِ فَأَقَرَّ بِهِ فِي شهر ربيع الآخر سنة سبع وسبعين وثلاثمئة قال:
1- أَخْبَرنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد بْنِ مُسْلِمٍ الإسفرائيني حَدَّثَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد
⦗ص: 288⦘ بْنِ عَمْرٍو الْغَزِّيُّ حَدَّثَنا مُحَمَّد بن يوسف حَدَّثَنا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ
⦗ص: 289⦘ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُسْتَأْمَرُ الْيَتِيمَةُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ سَكَتَتْ فَقَدْ أَذِنَتْ وَإِنْ أنكرت لم تكره.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো বাণী নেই।
শেখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম শামসুদ্দীন আবু মুসলিম আল-মুয়াইয়াদ ইবনে আবদুর রহীম ইবনে আহমদ ইবনুল ইখওয়া আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইস্পাহানে তাঁর বাসভবনে পাঁচশত আটানব্বই হিজরি সালের রমজান মাসে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে। আমি তাঁকে বললাম: আবু কাসিম জাহির ইবনে তাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাহামী আন-নাইসাবুরী কি পাঁচশত একত্রিশ হিজরি সালের রবিউস সানি মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন? (উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ)। শেখ আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-কাঞ্জারুযী ৪৫১ হিজরি সালে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। শেখ আবুল হাসান আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবদওয়াইহ ইবনে সাদূস ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ আল-মাসউদী আল-আবদওয়ায়ী তিনশত ৭৭ হিজরি সালের রবিউস সানি মাসে তাঁর মূল কিতাব থেকে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং তিনি তা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন:
১- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-ইসফারায়িনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ
⦗পৃষ্ঠা: ২৮৮⦘ ইবনে আমর আল-গাযযী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে আবু ইসহাক আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বুরদা থেকে,
⦗পৃষ্ঠা: ২৮৯⦘ তিনি আবু মুসা আল-াশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "পিতৃহীন কন্যার নিকট তার নিজের বিয়ের ব্যাপারে মতামত গ্রহণ করতে হবে। যদি সে চুপ থাকে তবে তা তার অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে, আর যদি সে অস্বীকার করে তবে তাকে বাধ্য করা হবে না।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৮৯)
2- قال العبدويي: حَدَّثَنا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ حَمْدُونِ بْنِ خَالِدٍ حَدَّثَنا عمرو
⦗ص: 291⦘ ابن نوفل حَدَّثَنا مُحَمَّد بن حمير أَخْبَرنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيد بْنِ جَابِرٍ الأَزْدِيِّ حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلانِيِّ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ الْكِلابِيِّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:
الْمِيزَانُ بِيَدِ الرَّحْمَنِ يَرْفَعُ أَقْوَامًا وَيَخْفِضُ آخَرِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَلْبُ ابْنِ آدَمَ بَيْنَ إِصْبُعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ إِذَا شَاءَ أَقَامَهُ ، وَإِذَا شَاءَ أَزَاغَهُ. قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ.
২- আবদুওয়ী বলেন: আমাদের কাছে আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে হামদুন ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আমর
⦗পৃষ্ঠা: ২৯১⦘ ইবনে নাওফাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে হিমইয়ার বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জাবির আল-আযদি থেকে, তিনি আমার কাছে বুসর ইবনে উবাইদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানী থেকে, তিনি নাওয়াস ইবনে সামআন আল-কিলাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
মীযান (পাল্লা) রহমানের হাতের মধ্যে; কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তিনি এর মাধ্যমে কোনো কোনো সম্প্রদায়কে উন্নীত করেন এবং অন্যদের অবনমিত করেন। আদম সন্তানের অন্তর রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে; তিনি চাইলে তাকে সত্যের ওপর অবিচল রাখেন এবং চাইলে বিচ্যুত করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯১)
3- أَخْبَرنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ مَنْصُور الْفَرَنْدَابَاذِيُّ حَدَّثَنا أَحْمَد بْنُ ⦗ص: 292⦘ حَفْصٍ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي مُحَمَّد بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ عَنْ صَفِيَّةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا حَجَّتْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فَلَمَّا أَفَضْنَا مِنْ جَمْعٍ إِلَى مِنًى عَثُرَ بِي بَعِيرِي فَكُسِرَتْ قَارُورَةٌ لِي فِيهَا ذَرِيرَةٌ فَأَخَذْتُ أُعِيدُ الذَّرِيرَةَ مَكَانَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا هَذِهِ الرِّيحُ فَحَدَّثُوهُ بِالَّذِي كَانَ فَقَالَ لا تَمَسِّي الطِّيبَ وَلَمْ يَأْمُرْنِي بكفارة.
৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল আব্বাস ইবনে মানসুর আল-ফারান্দাবাযী, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৯২⦘ হাফস, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ উম্মে কুলসুম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে হজ পালন করেছেন। তিনি (সাফিয়্যাহ) বলেন, যখন আমরা মুজদালিফা থেকে মিনার দিকে অগ্রসর হলাম, তখন আমার উট আমাকে নিয়ে হোঁচট খেল, ফলে আমার একটি সুগন্ধির পাত্র ভেঙে গেল যাতে 'যারীরাহ' (এক প্রকার সুগন্ধি) ছিল। আমি তখন সেই সুগন্ধিগুলো কুড়িয়ে তার স্থানে ফিরিয়ে নিতে লাগলাম। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "এই সুঘ্রাণ কিসের?" তারা তখন তাঁকে প্রকৃত ঘটনা জানালেন। তিনি বললেন, "তুমি সুগন্ধি স্পর্শ করো না।" আর তিনি আমাকে কোনো কাফফারা আদায়ের নির্দেশ দেননি।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯২)
4- أَخْبَرنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد بْنِ الحَسَن الشرقي حَدَّثَنا مُحَمَّد بن يحيى حَدَّثَنا نعيم بن حماد حَدَّثَنا رِشْدِينٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ الإِفْرِيقِيِّ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحِبُّ أَنْ يَحُثَّ أَصْحَابَهُ عَلَى الْمُبَارَزَةِ.
৪- আমাদের সংবাদ প্রদান করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আশ-শারকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, তিনি রিশদিন থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ আল-ইফরিকি থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নুসাই থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গনাম থেকে এবং তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের দ্বৈরথ যুদ্ধে (শত্রুর সাথে একক মোকাবিলায়) উৎসাহিত করতে পছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৩)
5- أَخْبَرنَا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ حَمْدُونِ بْنِ خالد حَدَّثَنا مُحَمَّد بن علي بن ⦗ص: 294⦘ سفيان اليماني أَخْبَرنَا عبد الرزاق أَخْبَرنَا رَبَاحُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ حَفْصٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الأَنْصَارِيِّ ، عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لا يَقْضِي الْقَاضِي إِلا شعبان ريان.
৫- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন হামদুন বিন খালিদ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯৪⦘ সুফিয়ান আল-ইয়ামানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন রাবাহ বিন উবায়দুল্লাহ বিন হাফস, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন মা'মার আল-আনসারী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: কোনো বিচারক যেন ফয়সালা না করেন কেবল শাবান রায়ান ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৪)
6- أَخْبَرنَا الإِمَامُ أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ إِسْحَاقَ بن خزيمة حَدَّثَنا علي بن حجر ⦗ص: 295⦘ حَدَّثَنا إسماعيل بن جعفر حَدَّثَنا رَبِيعَةُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجِلَ الشَّعْرِ لَيْسَ بِالسَّبِطِ وَلا الْجَعْدِ الْقَطِطِ كَانَ أَزْهَرَ لَيْسَ بِالآدَمِ وَلا الأَبْيَضِ الأَمْهَقِ كَانَ رِبْعَةً مِنَ القوم ليس بالقصير ولا بالطويل الْبَائِنِ بُعِثَ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ أَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرًا وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا وَتُوُفِّيَ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً لَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلا لِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شعرة بيضاء.
৬- ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন খুজাইমাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন হাজার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯৫⦘ ইসমাঈল ইবন জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাবিয়াহ ইবন আবি আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আনাস ইবন মালিককে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল ছিল ঢেউখেলানো, যা একেবারে সোজা ছিল না এবং খুব বেশি কোঁকড়ানোও ছিল না। তিনি উজ্জ্বল বর্ণের ছিলেন, তামাটে বর্ণের নন এবং ফ্যাকাশে সাদাও নন। তিনি লোকদের মধ্যে মাঝারি উচ্চতার ছিলেন, বেঁটে ছিলেন না এবং অতিশয় লম্বাও ছিলেন না। তিনি চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন। তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। তিনি ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মাথায় বা দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৫)
7- حَدَّثَنا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ شَرِيكِ بْنِ مُحَمَّد الإسفرائيني أَخْبَرنَا مُحَمَّد بن ⦗ص: 296⦘ الجنيد الإسفرائيني أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يُوسُفَ التِّنِّيسِيَّ حَدَّثَكُمْ: حَدَّثَنا الحكم هِشَامٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبَانٍ عن أبي قرة عَنْ أَبِي خَلادٍ وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ الْمُؤْمِنَ قَدْ أُعْطِيَ زُهْدًا فِي هُدًى وَقِلَّةِ مَنْطِقٍ فَاقْتَرِبُوا مِنْهُ فَإِنَّهُ يلقن الحكمة.
৭- আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ বিন শারিক বিন মুহাম্মদ আল-ইসফরাইনি বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯৬⦘ আল-জুনাইদ আল-ইসফরাইনি যে, আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আত-তিন্নিসি আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাকাম হিশাম বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন আবান থেকে, তিনি আবু কুররাহ থেকে, তিনি আবু খাল্লাদ—যিনি সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা কোনো মুমিন ব্যক্তিকে দেখবে যাকে হিদায়াতের ওপর দুনিয়াবিমুখতা এবং স্বল্পভাষিতার গুণ দান করা হয়েছে, তখন তোমরা তার নিকটবর্তী হও; কেননা তাকে প্রজ্ঞা (হিকমাহ) শিক্ষা দেওয়া হয়।”
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৬)
8- أَخْبَرنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّد بْنُ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ حَدَّثَنا عبيد الله بن جرير بن جبلة حَدَّثَنا مُحَمَّد بْنُ مُطَرِّفٍ أَخْبَرَنِي بَعْضُ إِخْوَانِنَا أَنَّ عيسى ابن مريم ، قال يا ابن آدَمَ الضَّعِيفَ اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَكُنْ فِي الدُّنْيَا ضَيْفًا وَاتَّخِذِ الْمَسَاجِدَ بَيْتًا وَعَلِّمْ عَيْنَيْكَ الْبُكَاءَ وَجَسَدَكَ الصَّبْرَ وَقَلْبَكَ التَّفَكُّرَ وَلا تَهْتَمَّ بِرِزْقِ غَدٍ فَإِنَّهَا خَطِيئَةٌ.
৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আস-সাররাজ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবন জারীর ইবন জাবালাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন মুতাররিফ, তিনি বলেন, আমাদের কোনো এক ভাই আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ঈসা ইবন মারইয়াম বলেছেন: হে দুর্বল আদম সন্তান! তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহকে ভয় করো। দুনিয়াতে একজন মেহমানের ন্যায় অবস্থান করো এবং মসজিদসমূহকে নিজের ঘর বানিয়ে নাও। তোমার দুই চোখকে রোদন করতে শেখাও, তোমার শরীরকে ধৈর্য ধারণ করতে শেখাও এবং তোমার অন্তরকে চিন্তা-গবেষণা করতে শেখাও। আর আগামীকালের রিযিক নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না, কেননা তা একটি গুনাহ।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
9- أَخْبَرنَا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ حَمْدُونِ بْنِ خالد إملاء حَدَّثَنا مُحَمَّد بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ حَبِيبٍ الدِّينَوَرِيُّ حَدَّثَنا علي بن إبراهيم المروزي بمكة حَدَّثَنا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ مِسْعَرٍ وَشُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ هَاجِرْ قَالَ وَمَنْ يُهَاجِرُ مَعِي قَالَ أَبُو بَكْر وهو الصديق.
৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন হামদুন বিন খালিদ শ্রুতিলিপি মারফত, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন হাবীব আদ-দিনাওয়ারী, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলি বিন ইব্রাহিম আল-মারওয়াযী মক্কায়, তিনি বলেন, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ইবনুল মুবারক, মিসআর ও শু'বাহ থেকে, তাঁরা কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিবরাঈল বললেন: "হিজরত করুন।" তিনি বললেন: "আমার সাথে কে হিজরত করবে?" তিনি বললেন: "আবু বকর, আর তিনি হলেন আস-সিদ্দিক।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
10- أَخْبَرنَا العباس بن مَنْصُور الفرند آباذي حَدَّثَنا أَحْمَد بْنُ حَفْصِ بْنِ ⦗ص: 299⦘ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ رَمَى الْجَمْرَةَ الْقُصْوَى يَوْمَ النَّحْرِ فَقَدْ حَلَّ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ إِلا النِّسَاءَ قَالَ فَقِيلَ لَهُ مَا شَأْنُ الطِّيبِ فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ ضَمَخَ رَأْسَهُ بِالْمِسْكِ أَفَتَرَى ذَاكَ كَانَ طيبا.
১০- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবনে মানসুর আল-ফারান্দ আবাদি, তিনি বলেছেন— আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আহমদ ইবনে হাফস ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৯৯⦘ আবদুল্লাহ, তিনি বলেন— আমাকে আমার পিতা হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন— আমাকে ইবরাহিম ইবনে তাহমান হাদিস শুনিয়েছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হাসান আল-উরানি থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি কুরবানির দিন শেষ জামারায় (বড় জামারায়) কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, তার জন্য স্ত্রী ব্যতীত সবকিছু হালাল হয়ে যাবে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সুগন্ধির বিধান কী? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে তিনি তাঁর মাথা কস্তুরী দ্বারা সুগন্ধিযুক্ত করেছিলেন; তবে কি তুমি মনে করো যে সেটি সুগন্ধি ছিল না?
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ২৯৯)
11- أَخْبَرنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّد بْنُ شَبُّوَيْهِ النَّيْسَابُورِيُّ حَدَّثَنا جعفر بن مُحَمَّد ⦗ص: 300⦘ بن شاكر حَدَّثَنا عبيد بن إسحاق حَدَّثَنا قَيْسٌ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ مُحَمَّد بْنِ عَمْرٍو عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ تَرَكَ ثَلاثَ جُمَعٍ مُتَوَالِيَاتٍ تَهَاوُنًا طبع الله على قلبه.
১১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন শাব্বুওয়াইহ আল-নাইসাবুরি, জাফর বিন মুহাম্মদ ⦗পৃষ্ঠা: ৩০০⦘ বিন শাকির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুগিরাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি উবাইদাহ বিন সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু আল-জাদ আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অবহেলাবশত টানা তিনটি জুমুআ বর্জন করবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
12- حَدَّثَنا مُحَمَّد بن أَحْمَد بن دلويه الدقاق حَدَّثَنا مُحَمَّد بن يحيى حَدَّثَنا ⦗ص: 301⦘ عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرنَا مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ ، عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَمِّهِ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ أَيْ عَمِّ قُلْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ كَلِمَةً أُحَاجُّ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ فَنَظَرَ أَبُو طَالِبٍ إِلَى أَبِي جَهْلٍ فَقَالَ لَهُ أَبُو جَهْلٍ أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ وَكَانَ آخِرَ كَلامِهِ أَنْ قَالَ أَنَا عَلَى مِلَّةِ عبد المطلب.
১২- আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন দালোয়াইহ আদ-দাক্কাক, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০১⦘ আবদুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা’মার, তিনি যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন, "হে চাচা, আপনি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলুন, এটি এমন একটি বাক্য যা দিয়ে আমি কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে আপনার পক্ষে দলিল পেশ করব।" রাবী বলেন, তখন আবু তালিব আবু জাহেলের দিকে তাকালেন। তখন আবু জাহেল তাঁকে বলল, "আপনি কি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম থেকে বিমুখ হচ্ছেন?" রাবী বলেন, তাঁর শেষ কথা ছিল যে, তিনি বললেন, "আমি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের ওপর রয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
13- أَخْبَرنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد بْنِ مُسْلِمٍ الإسفرائيني حَدَّثَنا عطية بن بقية حَدَّثَنا أَبِي حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ جَبَلَةَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللَّهَ يَجْمَعُ أَطْفَالَ أُمَّةِ مُحَمَّد فِي حِيَاضٍ تَحْتَ الْعَرْشِ فَيَطَّلِعُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ اطِّلاعَةً فَيَقُولُ لَهُمْ مَا لِي أراكم رافعين رؤوسكم إِلَيَّ فَيَقُولُونَ يَا رَبِّ ، الآبَاءُ وَالأُمَّهَاتُ فِي عَطَشِ الْقِيَامَةِ وَنَحْنُ فِي هَذِهِ الْحِيَاضِ.
১৩- আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আল-ইসফরাইনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আতিয়্যাহ ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, বিশর ইবনে জাবালাহ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আবু রাওয়াদ থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহাম্মাদের উম্মতের শিশুদের আরশের নিচে কতগুলো হাউজে (জলাধারে) একত্রিত করবেন। অতঃপর আল্লাহ তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন এবং তাদের বলবেন: "কী ব্যাপার, আমি তোমাদের আমার দিকে মাথা উঁচু করে থাকতে দেখছি কেন?" তারা বলবে: "হে আমাদের রব! আমাদের পিতা ও মাতারা কিয়ামতের পিপাসায় কাতর, আর আমরা এই হাউজগুলোর মধ্যে রয়েছি।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
14- أَخْبَرنَا أَبُو يَزِيدَ حَاتِمُ بْنُ مَحْبُوبٍ الشَّامِيُّ حَدَّثَنا سعيد بن ⦗ص: 303⦘ عبد الرحمن المخزومي حَدَّثَنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أبو بَكْرٍ مِنَ {الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ وَالرَّسُولِ مِنْ بعد ما أصابهم القرح} تَعْنِي أَبَا بَكْرٍ وَالزُّبَيْرَ.
১৪- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াজিদ হাতিম ইবনে মাহবুব আশ-শামী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৩⦘ আবদুর রহমান আল-মাখযুমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নিশ্চয়ই আবু বকর সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা {আহত হওয়ার পরও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন}, তিনি এর দ্বারা আবু বকর ও যুবাইরকে উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০৩)
15- أَخْبَرنَا مُحَمَّد بن شريك بن مُحَمَّد الإسفرائيني حَدَّثَنِي معاوية بن ⦗ص: 305⦘ حرب أخو علي حَدَّثَنا أبو نعيم حَدَّثَنا يَاسِينُ الْعِجْلِيُّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّد بْنِ الْحَنَفِيَّةِ ، عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: الْمَهْدِيُّ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ يُصْلِحُهُ اللَّهُ في ليلة.
১৫- মুহাম্মাদ বিন শারীক বিন মুহাম্মাদ আল-ইসফারায়িনী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৫⦘ হারব—যিনি আলীর ভাই—আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াসীন আল-ইজলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী বিন আবী তালিব থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মাহদী আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাকে এক রাতেই সংশোধন করবেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
16- أَخْبَرنَا أَبُو يَزِيدَ حَاتِمُ بْنُ مَحْبُوبٍ الشَّامِيُّ حَدَّثَنا الحُسَين بن الحَسَن ⦗ص: 307⦘ المروزي أَخْبَرنَا ابن المبارك أَخْبَرنَا مُحَمَّد بْنُ يَسَارٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ مُحْرِزٍ عَنِ ابْنِ عُمَر ، قَالَ بَيْنَمَا أَنَا أَمْشِي مَعَهُ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يا ابن عُمَرَ كَيْفَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَذْكُرُ فِي النَّجْوَى قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَدْنُو الْمُؤْمِنُ مِنْ رَبِّهِ حَتَّى يَضَعَ عَلَيْهِ كَنَفَهُ يَذْكُرُ صَحِيفَتَهُ فَقَالَ فَيُقَرِّرَهُ بِذُنُوبِهِ هَلْ تَعْرِفُ هَلْ تَعْرِفُ فَيَقُولُ رَبِّ أَعْرِفُ حَتَّى يَبْلُغَ بِهِ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَبْلُغَ ثُمَّ يَقُولُ إِنِّي سَتَرْتُهَا عَلَيْكَ فِي الدُّنْيَا وَإِنِّي أَغْفِرُهَا لَكَ الْيَوْمَ فَيُعْطَى كِتَابَ حسناته، قال فأما الكافر فينادى على رؤوس الأَشْهَادِ قَالَ اللَّهُ عز وجل {وَيَقُولُ الأَشْهَادُ هَؤُلاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَى رَبِّهِمْ أَلا لَعْنَةُ الله على الظالمين} .
১৬- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াজিদ হাতিম ইবনে মাহবুব আশ-শামি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনুল হাসান ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৭⦘ আল-মারওয়াযি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুবারক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াসার, কাতাদা থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে মুহরিয থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি যখন তাঁর সাথে হাঁটছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল, হে ইবনে উমর, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘নাজওয়া’ (একান্ত কথোপকথন) সম্পর্কে কী বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: মুমিন তার রবের নিকটবর্তী হবে, এমনকি তিনি তার ওপর তাঁর আবরণ রেখে দেবেন এবং তার আমলনামা তুলে ধরবেন। এরপর তিনি তাকে তার পাপসমূহ স্বীকার করাবেন এবং বলবেন, ‘তুমি কি এটি চেনো? তুমি কি এটি চেনো?’ সে বলবে, ‘হে আমার রব, আমি চিনি।’ এভাবে আল্লাহ যা পৌঁছাতে চাইবেন তা পৌঁছাবে। এরপর তিনি বলবেন, ‘আমি দুনিয়াতে তোমার এই পাপগুলো গোপন রেখেছিলাম এবং আজ আমি তোমার জন্য সেগুলো ক্ষমা করে দিচ্ছি।’ অতঃপর তাকে তার নেক আমলের কিতাব প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, আর কাফেরদের ব্যাপারে সাক্ষীদের সামনে উচ্চস্বরে ঘোষণা করা হবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন, {এবং সাক্ষীরা বলবে, এরাই তারা যারা তাদের রবের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। সাবধান! যালিমদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ।}
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
17- أَخْبَرنَا مُحَمَّد بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ أَبُو بَكْر الزاهد أَخْبَرنَا إبراهيم بن عبد الله السعدي أَخْبَرنَا يزيد بن هارون أَخْبَرنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ أَنَسٍ قَالَ ⦗ص: 308⦘ مَا كُنَّا نَشَاءُ أَنْ نَرَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًا إِلا رَأَيْنَاهُ وَمَا نَشَاءُ أَنْ نَرَاهُ نَائِمًا إِلا رَأَيْنَاهُ نائما.
১৭- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন উমর বিন হাফস আবু বকর আল-জাহিদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ আস-সাদী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযিদ বিন হারুন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ আত-তবিল, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৮⦘ রাতের বেলা আমরা যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাত আদায়রত অবস্থায় দেখতে চাইতাম, তখনই আমরা তাকে সে অবস্থায় দেখতাম; আর যখনই আমরা তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইতাম, তখনই আমরা তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতাম।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
18- حَدَّثَنا أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ حَمْدُونِ بْنِ خَالِدٍ إملاء حَدَّثَنا مُحَمَّد بن ⦗ص: 309⦘ سليمان القرشي المصري حَدَّثَنا أسد بن موسى حَدَّثَنا سُلَيْمَانُ بْنُ سُفْيَانَ عَنْ بِلالِ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا رَأَى الْهِلالَ قَالَ: اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالإِيمَانِ وَالسَّلامَةِ وَالإِسْلامِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ.
১৮- আমাদের নিকট আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হামদুন ইবনে খালিদ শ্রুতলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৩০৯⦘ সুলাইমান আল-কুরাশি আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আসাদ ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন বিলাল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি এই চাঁদকে আমাদের ওপর বরকত, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে উদিত করুন। (হে চাঁদ!) আমার রব এবং তোমার রব হলেন আল্লাহ।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
19- أَخْبَرنَا الإِمَامُ أَبُو بَكْر مُحَمَّد بْنُ إِسْحَاقَ بن خزيمة حَدَّثَنا علي بن
⦗ص: 310⦘ حجر بن إياس السعدي حَدَّثَنا إسماعيل بن جعفر حَدَّثَنا شَرِيكٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلا دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الجُمُعَة مِنْ بَابٍ كَانَ نَحْوَ دَارِ الْقَضَاءِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ فَاسْتَقْبَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الأَمْوَالُ وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يُغِيثَنَا قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ أَغِثْنَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ
قَالَ أَنَسٌ وَلا وَاللَّهِ مَا نَرَى فِي السَّمَاءِ مِنْ سَحَابٍ وَلا قَزْعَةٍ وَمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ سَلْعٍ مِنْ بَيْتٍ وَلا دَارٍ فَطَلَعَتْ مِنْ وَرَائِهِ سَحَابَةٌ مِثْلُ التُّرْسِ فَلَمَّا تَوَسَّطَتْ يَعْنِي السَّماء انْتَشَرَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ قَالَ فَلا وَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا الشَّمْسَ سِبْتًا ثُمَّ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ ذَلِكَ الْبَابِ فِي الْجُمُعَةِ الْمُقْبِلَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ يَخْطُبُ فَاسْتَقْبَلَهُ قَائِمًا،
⦗ص: 311⦘ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الأَمْوَالُ وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يُمْسِكَهَا عَنَّا. قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلا عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ [قَالَ] : فَأَقْلَعَتْ وَخَرَجْنَا نَمْشِي فِي الشمس.
قال شريك فسألنا أنس أَهُوَ الرَّجُلُ الأَوَّلُ فَقَالَ لا أَدْرِي.
১৯- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে
⦗পৃষ্ঠা: ৩১০⦘ হুজর ইবনে ইয়াস আস-সাদি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে জাফর, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শারিক, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি জুমার দিন ‘দারুল কাজা’র (বিচারালয়) দিকের একটি দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সে দাঁড়িয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখোমুখি হলো। অতঃপর বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দুটি তুললেন, অতঃপর বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন"—একথা তিনবার বললেন।
আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা আকাশে কোনো মেঘ বা মেঘের সামান্য অংশও দেখতে পাচ্ছিলাম না। আর আমাদের ও ‘সাল’ পাহাড়ের মাঝখানে কোনো বাড়ি বা ঘর ছিল না। হঠাৎ তাঁর (পাহাড়ের) পেছন থেকে একটি ঢালের মতো মেঘ উদিত হলো। যখন তা মাঝ আকাশে পৌঁছাল, তখন তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি হতে লাগল। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা টানা এক সপ্তাহ সূর্য দেখতে পাইনি। এরপর পরবর্তী জুমার দিন সেই একই দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সে দাঁড়িয়েই তাঁর মুখোমুখি হলো এবং
⦗পৃষ্ঠা: ৩১১⦘ বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের থেকে বৃষ্টি থামিয়ে দেন।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দুটি তুললেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে (বর্ষণ করুন), আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, উপত্যকার তলদেশ এবং বৃক্ষলতা জন্মানোর স্থানে বৃষ্টি দান করুন।" [বর্ণনাকারী বলেন]: অতঃপর বৃষ্টি থেমে গেল এবং আমরা রোদের মধ্যে হেঁটে বের হলাম।
শারিক বলেন, আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, "তিনি কি সেই প্রথম ব্যক্তিটিই ছিলেন?" তিনি বললেন, "আমি জানি না।"
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
20- وَأَخْبَرنا مُحَمَّد بن خزيمة حَدَّثَنا علي بن حجر حَدَّثَنا إسماعيل بن جعفر ⦗ص: 312⦘ حَدَّثَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرٍ الأَسْلَمِيُّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا فَلَحِقْتُهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَرَاحِلَتُهُ مُتَوَجِّهَةٌ نَحْوَ الْمَشْرِقِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ وَهُوَ يُصَلِّي وَلا أَدْرِي فَلَمَّا فَرَغَ دَعَانِي فَقَالَ سَلَّمْتَ عَلَيَّ يَا جَابِرُ فَلَمْ أَرُدَّ عَلَيْكَ إِنِّي كُنْتُ أُصَلِّي.
২০- এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন খুযাইমাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন হুজর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন জাফর ⦗পৃষ্ঠা: ৩১২⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আমের আল-আসলামী, তিনি আবু যুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে একটি যুদ্ধে ছিলাম। এক রাতে আমি তাঁর নিকট পৌঁছালাম, তখন তাঁর সওয়ারিটি পূর্ব দিকে মুখ করা ছিল। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, কিন্তু তিনি কোনো কথা বললেন না। তিনি তখন সালাত আদায় করছিলেন অথচ আমি তা জানতাম না। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: হে জাবির, তুমি আমাকে সালাম দিয়েছিলে, কিন্তু আমি তোমার সালামের উত্তর দিতে পারিনি কারণ আমি সালাত আদায় করছিলাম।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
21- أَخْبَرنَا أبو علي بن رزين الهروي حَدَّثَنا يعقوب بن إبراهيم الدورقي ⦗ص: 313⦘ حَدَّثَنا يحيى بن زكريا بن أبي زائدة أَخْبَرنَا الْحَجَّاجُ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رَمَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الجمرة يوم النحر راكبا.
২১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন রাজিন আল-হারাবী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব বিন ইবরাহিম আদ-দাওরাকী ⦗পৃষ্ঠা: ৩১৩⦘ তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া বিন আবি যায়দাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাজ্জাজ, আল-হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানির দিনে আরোহী অবস্থায় জামরায় পাথর নিক্ষেপ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১৩)
22- وأخبرنا أبوالحسن العبدويي قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَثَمَانِينَ ⦗ص: 314⦘ وَثَلاثِ مئة أَخْبَرنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَد بْنُ مُحَمَّد بْنِ عَلِيِّ بن رزين حَدَّثَنا مُحَمَّد بن زنبور المكي حَدَّثَنا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ فَهَاجَتْ رِيحٌ مُنْتِنَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُنَافِقِينَ اغْتَابُوا نَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَلِذَلِكَ هَاجَتْ هَذِهِ الرِّيحُ.
২২- এবং আবুল হাসান আল-আবদুয়ী ৩৮১ হিজরী সালে তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩১৪⦘ আবু আলী আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন রাজীন আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাম্বুর আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল বিন ইয়ায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা মদীনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম, এমতাবস্থায় একটি দুর্গন্ধময় বাতাস বয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “নিশ্চয়ই মুনাফিকদের মধ্য থেকে কিছু লোক মুসলিমদের কিছু লোকের গীবত (পরনিন্দা) করেছে, আর সে কারণেই এই (দুর্গন্ধময়) বাতাস প্রবাহিত হয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১৪)
23- حَدَّثَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّد الشَّرْقِيُّ رحمه الله من حفظه حَدَّثَنا ⦗ص: 315⦘ عبد الرحمن بن بشر حَدَّثَنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاةَ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى تُحَاذِيَ مَنْكِبَيْهِ ، وَإِذَا رَكَعَ وَبَعْدَمَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَلا يَرْفَعُ بين السجدتين.
২৩- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শারকি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর স্মৃতি থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩১৫⦘ আবদুর রহমান বিন বিশর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, যুহরি থেকে, সালেম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি যখন সালাত শুরু করতেন তখন তাকবীর দিতেন এবং তাঁর হাত দু’টি কাঁধ বরাবর উঠাতেন; আর যখন তিনি রুকু করতেন এবং রুকু থেকে তাঁর মাথা উঠাতেন তখনও (হাত উঠাতেন), তবে দুই সাজদাহর মাঝে উঠাতেন না।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১৬)
24- وَحَدَّثَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ مِهْرَانَ بْنِ خَالِدِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الحرشي وهو ابن أبي زكريا القاضي (1) رحمه الله حَدَّثَنا أَبُو إِسْمَاعِيلَ مُحَمَّد بْنُ إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ بِبَغْدَادَ قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ عَارِمٍ أَبِي النُّعْمَانِ فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ عَطَاء بْنِ أَبِي رَبَاح فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُهُ رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاةَ وَحِينَ رَكَعَ وَحِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ من الركوع.
--------------------------------------------
২৪- এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন মিহরান বিন খালিদ বিন উসমান বিন আবদুল্লাহ আল-হারাশি, তিনি ইবনে আবি জাকারিয়া আল-কাদি (১) (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বাগদাদে বর্ণনা করেছেন আবু ইসমাঈল মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল আত-তিরমিজি। তিনি বলেন, আমি আরিম আবু আন-নু’মানের পেছনে সালাত আদায় করেছি। তখন আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কী?” তিনি বললেন, আমি হাম্মাদ বিন জাইদের সাথে সালাত আদায় করেছি এবং আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কী?” তিনি বললেন, আমি আইয়ুব আস-সাখতিয়ানির পেছনে সালাত আদায় করেছি এবং আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কী?” তিনি বললেন, আমি আতা বিন আবি রাবাহর পেছনে সালাত আদায় করেছি এবং আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কী?” তিনি বললেন, আমি আবদুল্লাহ বিন আজ-জুবাইরের পেছনে সালাত আদায় করেছি এবং আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কী?” তিনি বললেন, আমি আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাজিয়াল্লাহু আনহু)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি এবং আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “এটি কী?” তিনি বললেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে সালাত আদায় করেছি এবং আমি তাঁকে দেখলাম যে, তিনি সালাত শুরু করার সময়, রুকু করার সময় এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় তাঁর দুই হাত তুললেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১৭)
25- حَدَّثَنا مُحَمَّد بن يعقوب حَدَّثَنا العباس حَدَّثَنا عثمان بن عمر أَخْبَرنَا مُعَاذُ ⦗ص: 318⦘ بْنُ الْعَلاءِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كان يخطب على جِذْعٍ فَلَمَّا اتَّخَذَ الْمِنْبَرَ حَنَّ الْجِذْعُ حَتَّى أَتَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فالتزمه.
২৫- মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্বাস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবন উমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুআজ ⦗পৃষ্ঠা: ৩১৮⦘ ইবনুল আলা নাফি থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করতেন। অতঃপর যখন তিনি মিম্বর গ্রহণ করলেন, তখন সেই কাণ্ডটি ক্রন্দন করতে লাগল যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট আসলেন এবং সেটিকে জড়িয়ে ধরলেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩১৮)
26- حَدَّثَنا مُحَمَّد بن يعقوب حَدَّثَنا العباس حَدَّثَنا أَبُو عَلِيٍّ الحَسَن بْنُ ⦗ص: 319⦘ يُوسُفَ أَخُو الْهرشِ جار أحمد بن حنبل حَدَّثَنا بقية بن الوليد حَدَّثَنِي الضحاك بن حُمرة عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ عَنْ أَنَسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَشْهَدُ لَهُ رَجُلانِ مِنْ جِيرَانِهِ الأَدْنَيْنَ فَيَقُولُونَ اللَّهُمَّ إِنَّا لا نَعْلَمُ إِلا خَيْرًا إِلا قَالَ اللَّهُ عز وجل لِمَلائِكَتِهِ اشْهَدُوا أَنِّي قَدْ قَبِلْتُ شَهَادَتَهُمَا وَغَفَرْتُ لَهُ ما لا يعلمان.
২৬- মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-হাসান বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৩১৯⦘ ইউসুফ—যিনি আল-হারশের ভাই এবং আহমাদ বিন হাম্বলের প্রতিবেশী ছিলেন—তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাহহাক বিন হুমরাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হুমাইদ আত-তাবীল থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে, আর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যখন মৃত্যুবরণ করে এবং তার নিকটতম প্রতিবেশীদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তি তার স্বপক্ষে এই সাক্ষ্য দেয় যে, ‘হে আল্লাহ! আমরা তার সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না’, তখন মহিয়ান ও গরিয়ান আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমি তাদের উভয়ের সাক্ষ্য গ্রহণ করলাম এবং তার সম্পর্কে তারা যা জানে না তা আমি ক্ষমা করে দিলাম’।”
(খণ্ড: ১)
মুনতাকা হাদিসু আবিল হাসান আল-আবদুওয়ী
(পৃষ্ঠা: ৩২০)
27- وَحَدَّثَنا أبو بَكْر حَدَّثَنا أَحْمَد حَدَّثَنا المحاربي حَدَّثَنا مُطَرَّحُ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عِبُيَدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيد عَنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ
⦗ص: 321⦘ اسْتَطَالَ أَبُو بَكْر ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى عُمَرَ فَقَامَ عُمَرُ مُغْضَبًا وَقَامَ أَبُو بَكْر فَأَخَذَ بِطَرَفِ ثَوْبِهِ وَيَقُولُ ارْضَ عَنِّي رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ حَتَّى دَخَلَ الدَّارَ وَأَغْلَقَ الْبَابَ دُونَ أَبِي بَكْرٍ وَلَمْ يُكَلِّمْهُ.
قَالَ فَبَلَغَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَغَضِبَ لأَبِي بَكْرٍ قَالَ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ عليه السلام وَالصَّلاةُ الظُّهْرُ جَاءَ عُمَرُ فَجَلَسَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجْهَهُ عَنْهُ فَتَحَوَّلَ عَنْ يَمِينِهِ فَصَرَفَ بِوَجْهِهِ عَنْهُ وَتَحَوَّلَ عَنْ يَسَارِهِ فَصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ بِوَجْهِهِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ عُمَرُ انْتَفَضَ وَبَكَى ، ثُمَّ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَرَى إِعْرَاضَكَ جَلَسْتُ بَيْنَ يَدَيْكَ فَأَعْرَضْتَ عَنِّي ثُمَّ تَحَوَّلْتُ عَنْ يَمِينِكَ فَأَعْرَضْتَ عَنِّي ثُمَّ تَحَوَّلْتُ عَنْ يَسَارِكَ فَأَعْرَضْتَ عَنِّي وَقَدْ عَرَفْتُ أَنَّكَ لَمْ تَفْعَلْ ذَلِكَ إِلا لأَمْرٍ قَدْ بَلَغَكَ عَنِّي وَمَوْجُودٌ فِي نَفْسِكَ عَلَيَّ وَمَا خَيْرُ حَيَاتِي وَأَنْتَ عَلَيَّ سَاخِطٌ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحِبُّ أَنْ أَبْقَى فِي الدُّنْيَا وَأَنْتَ عَلَيَّ سَاخِطٌ وَفِي نَفْسِكَ عَلَيَّ شَيْءٌ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْتَ الْقَائِلُ لأَبِي بَكْرٍ كَذَا وَكَذَا ثُمَّ يَعْتَذِرُ إِلَيْكَ فَلا تَقْبَلُ مِنْهُ
⦗ص: 322⦘ قَالَ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدِ اسْتَعْلاهُ الْغَضَبُ وَعَلَتْ وَجْهَهُ حُمْرَةٌ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى ذِكْرُهُ بَعَثَنِي إِلَيْكُمْ جَمِيعًا فَقُلْتُمْ: كَذَبْتَ وَقَالَ صَاحِبِي صَدَقْتَ فَهَلْ أَنْتُمْ تَارِكُوا لِي صَاحِبِي ثَلاثَ مَرَّاتٍ قَالَ فَقَامَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ رضينا بالله رباً وبالإسلام دينا وبمحمد نَبِيًّا وَيَحْمَرُّ غَضَبًا وَبَيَاضًا حُمْرَةً فَقَالَ فَقَامَ أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ وَاللَّهِ لأَنَا بَدَأْتُهُ وَأَنَا كُنْتُ أَظْلَمَ مِنْهُ قَالَ فَأَقْبَلَ عُمَرُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ ارْضَ عَنِّي رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ قَالَ فَذَهَبَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَضَبُهُ.
آخِرُ مَا انْتَقَيْتُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الحَسَن أَحْمَد بْنَ إِبْرَاهِيمَ العبدويي.
২৭- আমাদের নিকট আবু বকর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমাদ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আল-মুহারিবি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি মুতাররাহ ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর থেকে, তিনি আলী ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৩২১⦘ একদিন আবু বকর ওমরের ওপর কঠোরতা করলেন, ফলে ওমর রাগান্বিত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তখন আবু বকরও উঠে দাঁড়ালেন এবং ওমরের কাপড়ের এক প্রান্ত ধরে বলতে লাগলেন, "আমার ওপর সন্তুষ্ট হোন, আল্লাহ আপনার ওপর সন্তুষ্ট হোন"। এমনকি ওমর নিজ ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আবু বকরের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন এবং তাঁর সাথে কোনো কথা বললেন না।
বর্ণনাকারী বলেন, এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি আবু বকরের পক্ষ হয়ে রাগান্বিত হলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জোহরের সালাত আদায় করলেন, তখন ওমর এসে তাঁর সামনে বসলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিক থেকে চেহারা সরিয়ে নিলেন। ওমর তাঁর ডান দিকে সরে আসলেন, তিনি আবারও তাঁর দিক থেকে চেহারা সরিয়ে নিলেন। ওমর তাঁর বাম দিকে সরে আসলেন, তবুও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিক থেকে চেহারা সরিয়ে নিলেন। ওমর যখন এটি দেখলেন, তখন তিনি বিচলিত হলেন এবং কেঁদে ফেললেন। অতঃপর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার বিমুখতা দেখতে পাচ্ছি। আমি আপনার সামনে বসলাম, আপনি বিমুখ হলেন; এরপর আপনার ডানে সরে আসলাম, আপনি বিমুখ হলেন; এরপর আপনার বামে সরে আসলাম, তবুও আপনি বিমুখ হলেন। আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমার সম্পর্কে কোনো বিষয় আপনার নিকট পৌঁছেছে যা আপনার মনে আমার প্রতি অসন্তুষ্টি তৈরি করেছে। আমার জীবনের কী সার্থকতা যদি আপনি আমার ওপর রাগান্বিত থাকেন? যাঁর হাতে সত্যসহ আপনার প্রেরণ, তাঁর কসম! আপনি আমার ওপর অসন্তুষ্ট থাকা অবস্থায় এবং আপনার মনে আমার প্রতি কোনো ক্ষোভ থাকা অবস্থায় আমি দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে চাই না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমিই কি আবু বকরকে অমুক অমুক কথা বলেছ? এরপর সে তোমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে কিন্তু তুমি তা গ্রহণ করোনি?"
⦗পৃষ্ঠা: ৩২২⦘ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর ক্রোধ প্রবল হয়েছিল এবং তাঁর চেহারা মোবারক রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছিল। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে তোমাদের সকলের নিকট পাঠিয়েছেন, তখন তোমরা বলেছিলে 'তুমি মিথ্যা বলছ', আর আমার এই সাথী বলেছিল 'আপনি সত্য বলেছেন'। সুতরাং তোমরা কি আমার খাতিরে আমার সাথীকে রেহাই দেবে?"—একথা তিনি তিনবার বললেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন ওমর দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।" তখন রাগে ও আবেগে তাঁর চেহারার শুভ্রতা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছিল। এরপর আবু বকর দাঁড়িয়ে বললেন: "আল্লাহর কসম! আমিই আগে শুরু করেছি এবং আমিই তাঁর চেয়ে বেশি অবিচারকারী ছিলাম।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর ওমর আবু বকরের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন, "আমার ওপর সন্তুষ্ট হোন, আল্লাহ আপনার ওপর সন্তুষ্ট হোন।" আবু বকর বললেন, "আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাগ প্রশমিত হলো।
আবুল হাসান আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আল-আবদুওয়ীয়ের হাদিস থেকে আমার সংকলিত অংশের সমাপ্তি।