(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: -)
أخبار النحويين البصريين - السيرافي   (السيرافي، أبو سعيد)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أخبار النحويين البصريين

المؤلف: الحسن بن عبد الله بن المرزبان السيرافي، أبو سعيد (ت 368هـ)

المحقق: طه محمد الزيني، ومحمد عبد المنعم خفاجي - المدرسين بالأزهر الشريف

الناشر: مصطفى البابي الحلبي

الطبعة: 1373 هـ - 1966 م

عدد الصفحات: 82

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বসরাবাসী নাহুবিদদের সংবাদ - আস-সিরাফি   (আস-সিরাফি, আবু সাঈদ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: বসরাবাসী নাহুবিদদের সংবাদ

লেখক: হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মারযুবান আস-সিরাফি, আবু সাঈদ (মৃ. ৩৬৮ হিজরি)

সম্পাদক: ত্বহা মুহাম্মাদ আয-যাইনি, এবং মুহাম্মাদ আব্দুল মুনইম খফাজি - আল-আযহার আশ-শরীফের শিক্ষকদ্বয়

প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি

সংস্করণ: ১৩৭৩ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: -)
ـ[أخبار النحويين البصريين]ـ

المؤلف: الحسن بن عبد الله بن المرزبان السيرافي، أبو سعيد (المتوفى: 368هـ)

المحقق: طه محمد الزيني، ومحمد عبد المنعم خفاجي - المدرسين بالأزهر الشريف

الناشر: مصطفى البابي الحلبي

الطبعة: 1373 هـ - 1966 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[বাসরার ব্যাকরণবিদদের সংবাদ]

লেখক: আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মারজুবান আস-সিরাফি, আবু সাঈদ (মৃত্যু: ৩৬৮ হিজরি)

সম্পাদক: ত্বহা মুহাম্মদ আয-যাইনি এবং মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম খাফাজি - আল-আযহার আশ-শরীফের শিক্ষকবৃন্দ

প্রকাশক: মুস্তাফা আল-বাবি আল-হালাবি

সংস্করণ: ১৩৭৩ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

كتاب فيه ذكر مشاهير النحويين وطرف من أخبارهم وذكر أخذ بعضهم عن بعض والسابق منهم إلى علم النحو.

اختلف الناس في أول من رسم النحو فقال قائلون أبو الأسود الدؤلي وقال آخرون نصر بن عاصم الدؤلي ويقال الليثي وقال آخرون عبد الرحمن بن هرمز وأكثر الناس على أبي الأسود الدؤلي واسمه ظالم بن عمرو بن سليمان بن عمرو بن حلس بن نفاثة بن عدي بن الدؤل بن بكر بن كنانة وكان من سكان البصرة، والنسبة إليه دؤلي كما ينسب إلى نمر نمري فيفتح استثقالاً للكسرة ويجوز تخفيف الهمزة فيقال الدولي بقلب الهمزة واواً محضة لأن الهمزة إذا انفتحت وكان قبلها ضمة فتخفيفها بقلبها واواً محضة كما يقال في جُؤن جُوَنٌ وقد يقال الدّيليّ بقلب الهمزة ياء حين انكسرت. فإذا انقلبت ياء كسرت الدال لتسلم الياء كما تقول قيل وبيع.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে প্রথিতযশা ব্যাকরণবিদগণের আলোচনা, তাঁদের জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা, একে অপরের নিকট হতে জ্ঞান অর্জনের বিবরণ এবং ইলমুন নাহু বা ব্যাকরণশাস্ত্রে তাঁদের অগ্রগামিতার উল্লেখ রয়েছে।

ব্যাকরণশাস্ত্রের রূপরেখা সর্বপ্রথম কে প্রণয়ন করেছেন তা নিয়ে বিশেষজ্ঞগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। জনৈক প্রবক্তাগণ বলেছেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি, আবার কেউ কেউ বলেছেন নাসর বিন আসিম আদ-দুয়ালি—তাঁকে আল-লাইসিও বলা হয়। অন্য একদল বলেছেন আবদুর রহমান বিন হুরমুজ। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালির বিষয়ে একমত। তাঁর নাম হলো জালিম বিন আমর বিন সুলাইমান বিন আমর বিন হিলস বিন নাফাসা বিন আদি বিন আদ-দুয়াল বিন বকর বিন কিনানা। তিনি বসরার অধিবাসী ছিলেন। তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধবাচক নাম হলো 'দুয়ালি', যেমন 'নামির' থেকে 'নামারি' বলা হয়; এখানে জেরের উচ্চারণভার লাঘব করতে যবর ব্যবহার করা হয়েছে। আবার হামজাহ-কে সহজ করার উদ্দেশ্যে তাকে স্পষ্ট 'ওয়াও' বর্ণে রূপান্তর করে 'আদ-দুওয়ালি' বলাও বৈধ; কেননা হামজাহ যখন যবরযুক্ত হয় এবং তার পূর্বের বর্ণ পেশযুক্ত হয়, তখন সহজকরণের জন্য তাকে পূর্ণ ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, যেমনটি 'জুউন' এর ক্ষেত্রে 'জুওয়ান' বলা হয়। আবার হামজাহ যখন যেরযুক্ত হয়, তখন তাকে 'ইয়া' বর্ণে পরিবর্তন করে 'আদ-দাইলি' বলা হয়ে থাকে। আর যখন তা ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়, তখন ইয়া-কে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য দাল বর্ণটিতে যের প্রদান করা হয়, যেমনটি 'কীলা' এবং 'বী’আ' শব্দদ্বয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال الأصمعي أخبرني عيسى بن عمر قال الديل بن بكر الكناني إنما هو الدُّؤل فترك أهل الحجاز الهمز وأنشد لكعب بن مالك.

جاؤوا بجيش لو قِيسَ مُعْرسُه … ما كان إلا كمُعْرَس الدُّئل

والذي يقول أبو الأسود الديلي يريد به النسبة إلى الدؤل على تخفيف الهمزة الذي ذكرناه لأنه لا خلاف في نسبه.

وكان أبو الأسود ممن صحب علياً صلى الله عليه وكان من المتحققين بمحبته ومحبة ولده وفي ذلك يقول:

يقول الأرذلون بنو قشير … طوالَ الدهر لا تنسى عَلِيّا

أحِب محمداً حباً شديدا … وعبَاسا وحَمْزةَ والوصيّا

فإن يك حبُّهم رُشداً أُصِبْه … وليس بمخطئ إن كان غَيّا

وكان نازلاً في بني قشير بالبصرة وكانوا يرجمونه بالليل لمحبته لعلي وولده فإذا أصبح وذكر رجمهم قالوا: الله يرجمك، فيقول لهم: تكذبون لو رجمني الله لأصابني وأنتم ترجمون فلا مصيب.

وقد اختلف الناس في السبب الذي دعا أبا الأسود إلى ما رسمه من النحو، فقال أبو عبيدة معمر بن المثنى:
আসমাঈ বলেন, ঈসা ইবনে উমর আমাকে জানিয়েছেন যে, দীল ইবনে বকর আল-কিনানি প্রকৃতপক্ষে আদ-দুউল; হিজাজবাসীরা এর হামযা বর্জন করেছে। তিনি কা’ব ইবনে মালিকের পঙক্তি আবৃত্তি করেন:

তারা এমন এক বাহিনী নিয়ে এসেছে যে, তাদের বিশ্রামের স্থান যদি পরিমাপ করা হতো … তবে তা আদ-দুউলের বিশ্রামের স্থানের মতোই হতো।

আবু আল-আসওয়াদ আদ-দীলি যা বলেন, তার দ্বারা তিনি আমাদের উল্লিখিত হামযা সহজীকরণের নিয়ম অনুযায়ী আদ-দুউলের দিকে সম্বন্ধ করা বুঝিয়েছেন; কারণ তাঁর বংশপরিচয় নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।

আবু আল-আসওয়াদ আলীর (আল্লাহর রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) সহচরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁর ও তাঁর সন্তানদের প্রতি ভালোবাসায় অত্যন্ত একনিষ্ঠ ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন:

বনু কুশাইরের অধম লোকগুলো বলে … তুমি কি সারাটি জীবন আলীকে ভুলবে না?

আমি মুহাম্মাদকে অত্যন্ত গভীরভাবে ভালোবাসি … এবং আব্বাস, হামযা ও ওয়াসিকেও (আলীকে)।

তাদের প্রতি এই ভালোবাসা যদি সঠিক পথ হয় তবে আমি তা পেয়েছি … আর যদি এটি বিভ্রান্তিও হয়, তবুও আমি লক্ষ্যভ্রষ্ট নই।

তিনি বসরার বনু কুশাইর গোত্রে বসবাস করতেন। আলী ও তাঁর সন্তানদের ভালোবাসার কারণে তারা রাতের বেলা তাঁকে পাথর ছুড়ে মারত। সকাল হলে তিনি তাদের পাথর নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করলে তারা বলত: ‘আল্লাহ তোমাকে পাথর মারছেন’। তিনি তাদের উত্তরে বলতেন: ‘তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ যদি আমাকে পাথর মারতেন তবে তা অবশ্যই আমাকে আঘাত করত; কিন্তু তোমরা পাথর মারছ বলেই তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হচ্ছে।’

আবু আল-আসওয়াদকে নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্র সংকলনে কোন বিষয়টি উদ্বুদ্ধ করেছিল, সে সম্পর্কে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আবু উবায়দাহ মা’মার ইবনে আল-মুসান্না বলেন:
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৩)
أخذ أبو الأسود عن علي بن أبي طالب عليه السلام العربية فكان لا يخرج شيئاً مما أخذه عن علي بن أبي طالب عليه السلام إلى أحد حتى بعث إليه زيادٌ: اعمل شيئاً تكون فيه إماماً ينتفع الناس به وتُعرب به كتاب الله، فاستعفاه من ذلك حتى سمع أبو الأسود قارئاً يقرأ: (أن الله بريء من المشركين ورسوله)، فقال: ما ظننتُ أن أمر الناس صار إلى هذا فرجع إلى زياد فقال: أنا أفعل ما أمر به الأمير فليبغني كاتباً لقناً يفعل ما أقول، فأتى بكاتب من عبد القيس فلم يرضه فأتى بآخر قال أبو العباس أحسبه منهم. فقال له أبو الأسود: إذا رأيتني قد فتحت فمي بالحرف فانقط نقطة فوقه على أعلاه فإن ضممت فمي فانقط نقطة بين يدي الحرف وإن كسرت فاجعل النقطة تحت الحرف فإن أتبعت شيئاً من ذلك غنة فاجعل مكان النقطة نقطتين. فهذا نقط أبي الأسود.

وروى محمد بن عمران بن زياد الضبي قال حدثني أبو خالد قال حدثنا أبو بكر بن عياش عن عاصم قال:
আবু আল-আসওয়াদ আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা করেছিলেন। আলী ইবনে আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে তিনি যা কিছু গ্রহণ করেছিলেন, তার কোনো কিছুই তিনি কারো কাছে প্রকাশ করতেন না, যতক্ষণ না যিয়াদ তাঁর নিকট এই মর্মে বার্তা পাঠালেন: "আপনি এমন কিছু তৈরি করুন যাতে আপনি পথপ্রদর্শক হতে পারেন, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হতে পারে এবং যার সাহায্যে আল্লাহর কিতাবকে ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ রাখা যায়।" তিনি এ কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন, অবশেষে আবু আল-আসওয়াদ জনৈক কারীকে পাঠ করতে শুনলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূল থেকেও (ভুলবশত রাসূল শব্দটিকে কাসরা বা যের দিয়ে পাঠ করা হয়েছিল)।" তখন তিনি বললেন: "আমি ভাবিনি যে মানুষের ভাষাগত অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।" অতঃপর তিনি যিয়াদের নিকট ফিরে গিয়ে বললেন: "আমীর যা আদেশ করেছেন আমি তা পালন করব। সুতরাং আমার জন্য একজন প্রখর মেধার অধিকারী লেখক অনুসন্ধান করুন যে আমি যা বলি তা নিখুঁতভাবে সম্পাদন করবে।" অতঃপর আবদ আল-কায়স গোত্রের একজন লেখককে আনা হলো কিন্তু তিনি তাকে পছন্দ করলেন না। তারপর অন্য একজনকে আনা হলো; আবু আল-আব্বাস বলেন, আমার ধারণা সেও তাদের মধ্য থেকেই ছিল। তখন আবু আল-আসওয়াদ তাকে বললেন: "যখন আপনি আমাকে দেখবেন যে আমি কোনো বর্ণ উচ্চারণের সময় মুখ খুলছি, তখন আপনি সেই বর্ণের ঠিক উপরে একটি বিন্দু দিন। আর যদি আমি আমার মুখ সংকুচিত করি, তবে বর্ণের সামনে একটি বিন্দু দিন। আর যদি আমি নিচের দিকে টানি (নিম্নমুখী স্বর), তবে বর্ণের নিচে বিন্দু দিন। আর যদি আমি এর কোনোটির সাথে গুন্নাহ যুক্ত করি, তবে এক বিন্দুর স্থলে দুটি বিন্দু দিন।" এটিই ছিল আবু আল-আসওয়াদের বিন্দুপ্রদান (নুকতা) পদ্ধতি।

মুহাম্মদ ইবনে ইমরান ইবনে যিয়াদ আদ-দব্বী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু খালিদ আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের নিকট আসিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৪)
جاء أبو الأسود الديلي إلى عبيد الله بن زياد يستأذنه في أن يضع العربية فأبى، قال فأتاه قوم فقال أحدهم: أصلحك الله مات أبانا وترك بنوه، فقال: علي بأبي الأسود ضع العربية، وروى يحيى بن آدم عن أبي بكر بن عياش عن عاصم قال: أول من وضع العربية أبو الأسود الديلي، جاء إلى زياد بالبصرة فقال: إني أرى العرب قد خالطت الأعاجم وتغيرت ألسنتهم أفتأذن لي أن أضع للعرب كلاماً يعرفون أو يقيمون به كلامهم، قال: لا، قال فجاء رجل إلى زياد فقال: أصلح الله الأمير توفي أبانا وترك بنونا، فقال زياد: توفي أبانا وترك بنونا؟ ادع لي أبا الأسود، فقال: ضع للناس الذي نهيتك أن تضع لهم.

ويقال إن السبب في ذلك أنه مر بأبي الأسود سعد وكان رجلاً فارسياً من أهل بوزنجان كان قدم البصرة مع جماعة من أهله فدنوا من قدامة بن مظعون الجمحي فادعوا أنهم أسلموا على يديه وأنهم بذاك من مواليه فمر سعد هذا بأبي الأسود وهو يقود فرسه
আবু আল-আসওয়াদ আদ-দিলি উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের কাছে এসে আরবী ভাষার নিয়মাবলি প্রণয়ন করার অনুমতি চাইলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর এক দল লোক তার কাছে এল এবং তাদের একজন বলল: "আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আমাদের পিতা (আবান) মারা গেছেন এবং তার পুত্ররা (বানুহু) অবশিষ্ট রয়ে গেছে।" তখন তিনি বললেন: "আবু আল-আসওয়াদকে আমার কাছে নিয়ে এসো এবং তাকে বলো আরবী ভাষার নিয়মাবলি প্রণয়ন করতে।" ইয়াহইয়া ইবনে আদম, আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ থেকে এবং তিনি আসিম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "আবু আল-আসওয়াদ আদ-দিলি-ই সর্বপ্রথম আরবী ব্যাকরণ প্রণয়ন করেন। তিনি বসরার যিয়াদের কাছে এসে বললেন: 'আমি দেখছি যে আরবরা অনারবদের সাথে মেলামেশা করছে এবং তাদের ভাষায় পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। আপনি কি আমাকে আরবের জন্য এমন কিছু প্রণয়ন করার অনুমতি দেবেন যার মাধ্যমে তারা তাদের ভাষাকে চিনতে পারবে অথবা তাদের কথা সংশোধন করতে পারবে?'" তিনি বললেন: "না।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর এক ব্যক্তি যিয়াদের কাছে এসে বলল: "হে আমির! আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আমাদের পিতা (আবান) ইন্তেকাল করেছেন এবং আমাদের পুত্ররা (বানুনা) অবশিষ্ট রয়ে গেছে।" যিয়াদ বললেন: "আমাদের পিতা (আবান) ইন্তেকাল করেছেন এবং আমাদের পুত্ররা (বানুনা) অবশিষ্ট রয়ে গেছে? আবু আল-আসওয়াদকে ডাকো।" এরপর তিনি বললেন: "লোকদের জন্য তা-ই প্রণয়ন করো যা প্রণয়ন করতে আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম।"

আর বলা হয়ে থাকে যে, এর কারণ ছিল এই যে— সা’দ নামক এক ব্যক্তি আবু আল-আসওয়াদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন। তিনি বুযানজানের অধিবাসী এক পারস্য দেশীয় ব্যক্তি ছিলেন যিনি তার পরিবারের এক দলের সাথে বসরায় এসেছিলেন। তারা কুদামা ইবনে মাজউন আল-জুমাহির নিকটবর্তী হলেন এবং দাবি করলেন যে তারা তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং সেই সূত্রে তারা তার অনুগত মুক্তদাস। অতঃপর এই সা’দ আবু আল-আসওয়াদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি তার ঘোড়াটি চালিয়ে নিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال: ما لك يا سعد لا تركب؟ قال: إن فرسي ضالع، فضحك به بعض من حضره، قال أبو الأسود: هؤلاء الموالي قد رغبوا في الإسلام ودخلوا فيه فصاروا لنا إخوة فلو علمناهم الكلام، فوضع باب الفاعل والمفعول لم يزد عليه.

وكان أبو الأسود الدؤلي من أفصح الناس، قال قتادة بن دعامة السدوسي قال أبو الأسود الديلي: إني لأجد لِلّحن غَمزاً كغمز اللحم.

ويقال إن ابنته قالت له يوماً: يا أبتِ ما أحسن السماء، قال: أي بنية نجومها، قالت: إني لم أرد أي شيء منها أحسن إنما تعجبت من حسنها، قال: إذاً فتقولي ما أحسن السماء، فحينئذ وضع كتاباً ويقال إن ابنته قالت له: يا أبتِ ما أشد الحر، في يوم شديد الحر، فقال لها: إذا كانت الصقعاء، من فوقك والرمضاء من تحتك، قالت: إنما أردت أن الحر شديد، قال: فقولي إذاً ما أشد الحر، والصقعاء الشمس.

ويروى أن أبا الأسود لقى ابن صديق له فقال له: ما فعل أبوك،
তিনি বললেন: "হে সাদ, তোমার কী হয়েছে যে তুমি আরোহণ করছ না?" সে বলল: "আমার ঘোড়াটি খোঁড়া," তখন উপস্থিতদের কেউ কেউ তাকে নিয়ে উপহাস করল। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: "এই অনারবরা ইসলামের প্রতি অনুরাগী হয়েছে এবং এতে প্রবেশ করেছে, ফলে তারা আমাদের ভাই হয়ে গেছে। যদি আমরা তাদের শুদ্ধ ভাষা শেখাতাম!" অতঃপর তিনি কেবল 'কর্তা' (ফায়েল) ও 'কর্ম' (মাফউল)-এর পরিচ্ছেদটি প্রণয়ন করলেন এবং এর অতিরিক্ত আর কিছু বাড়ালেন না।

আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম প্রাঞ্জলভাষী। কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ আস-সাদুসি বর্ণনা করেন যে, আবু আল-আসওয়াদ আদ-দাইলি বলেছেন: "আমি ভাষার ভুলকে (লাহন) শরীরের গোশতে চিমটি কাটার যন্ত্রণার মতো পীড়াদায়ক মনে করি।"

বর্ণিত আছে যে, তাঁর কন্যা একদিন তাঁকে বলল: "হে পিতা, আকাশের কোন জিনিসটি সবচেয়ে সুন্দর?" তিনি উত্তর দিলেন: "হে প্রিয় কন্যা, এর নক্ষত্ররাজি।" সে বলল: "আমি জানতে চাইনি যে এর কোন অংশটি সুন্দর, বরং আমি তো এর সৌন্দর্যে বিস্ময় প্রকাশ করছিলাম।" তিনি বললেন: "তবে তুমি বলো—আকাশ কতই না সুন্দর!" তখন তিনি ব্যাকরণের একটি কিতাব রচনা করলেন। আরও বর্ণিত আছে যে, এক প্রচণ্ড গরমের দিনে তাঁর কন্যা তাঁকে বলেছিল: "হে পিতা, গরমের কোন সময়টি সবচেয়ে তীব্র?" তিনি তাকে বললেন: "যখন প্রখর সূর্য তোমার মাথার ওপরে থাকে এবং উত্তপ্ত বালুকা তোমার পায়ের নিচে থাকে।" সে বলল: "আমি কেবল বলতে চেয়েছিলাম যে গরম খুব প্রখর।" তিনি বললেন: "তাহলে বলো—গরম কতই না তীব্র!" আর 'আস-সাকআ' অর্থ হলো সূর্য।

বর্ণিত আছে যে, আবু আল-আসওয়াদ তাঁর এক বন্ধুর পুত্রের সাথে দেখা করলেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার পিতা কী করছেন?"
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال: أخذته الحمى ففضخته فضخاً وطبخته طبخاً ورضخته رضخاً فتركته فرخاً، قال أبو الأسود: فما فعلت امرأته التي كانت تزاره وتماره وتشاره وتضاره، قال: طلقها وتزوج غيرها فحظيت عنده ورضيت وبظيت، قال أبو الأسود: فما معنى بظيت؟ قال: حرف من اللغة لم تدرِ من أي بيض خرج ولا في أي عش درج، قال: يا ابن أخي لا خير لك فيما لم أدر.

وروي عن عبد الله بن بريدة قال قيل لأبي الأسود الديلي: أتعرف فلاناً، قال: لا فإنه يتسارع في أطماعكم ويتثاقل عن حوائجكم ولكن عرفوا فلاناً فإنه الأهيس الملد المجلس إن أعطى أنتهز وإن سل أرز.

وأما نصر بن عاصم فقد روى محبوب البكري عن خالد الحذاء قال: سألت نصر بن عاصم وهو أول من وضع العربية: كيف نقرؤها قال قل هو الله أحد الله الصمد، لم ينون، قال: فأخبرته أن
সে বলল: জ্বর তাকে এমনভাবে আক্রমণ করল যে তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল, তাকে দগ্ধ করল এবং তাকে পিষ্ট করে ফেলল, ফলে তাকে একটি দুর্বল পাখির বাচ্চার মতো অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিল। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: তার সেই স্ত্রীর কী হলো, যে তার সাথে ঝগড়া করত, বিতর্ক করত, অনিষ্ট করত এবং ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করত? সে বলল: সে তাকে তালাক দিয়েছে এবং অন্য একজনকে বিয়ে করেছে; ফলে সে তার নিকট সৌভাগ্যবতী হয়েছে, সন্তুষ্ট হয়েছে এবং 'বাজিত' (এক বিশেষ সম্মান বা আনন্দ লাভ) হয়েছে। আবু আল-আসওয়াদ বললেন: 'বাজিত' শব্দের অর্থ কী? সে বলল: এটি ভাষার এমন একটি শব্দ যার উৎপত্তি সম্পর্কে কেউ জানে না যে এটি কোন ডিম থেকে বের হয়েছে এবং কোন বাসায় বড় হয়েছে। তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, যা আমি জানি না তাতে তোমার জন্য কোনো কল্যাণ নেই।

আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আবু আল-আসওয়াদ আদ-দিলী-কে বলা হলো: আপনি কি অমুক ব্যক্তিকে চেনেন? তিনি বললেন: না, কারণ সে তোমাদের লোভনীয় বিষয়গুলোর দিকে ছুটে আসে এবং তোমাদের প্রয়োজনে অলসতা করে। কিন্তু তোমরা অমুককে চেনো, কেননা সে দৃঢ়চেতা, কঠোর এবং মজলিসে অবস্থানকারী; যদি সে দান করে তবে সুযোগ কাজে লাগায় আর যদি তাকে কিছু থেকে বঞ্চিত করা হয় তবে সে ধৈর্য ধরে গুটিয়ে থাকে।

আর নাসর ইবনে আসিমের ব্যাপারে মাহবুর আল-বাকরি খালিদ আল-হাজ্জা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নাসর ইবনে আসিমকে—যিনি আরবি ব্যাকরণ প্রথম প্রবর্তন করেছিলেন—জিজ্ঞেস করলাম: আমরা এটি কীভাবে পাঠ করব? তিনি বললেন: ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদু আল্লাহু সামাদ’ (বলো, তিনি আল্লাহ এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী), এখানে তিনি তানভীন (নুন যুক্ত করা) করেননি। তিনি বললেন: এরপর আমি তাকে সংবাদ দিলাম যে...
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৭)
عروة ينون فقال: بئسما قال وهو للبئس أهل، فأخبرت عبد الله بن أبي إسحاق بقول نصر بن عاصم فما زال يقرأ بها حتى مات.

واختلف عن محبوب في عروة وعزرة فقال خلف بن هشام عروة وقال عمر بن شبة عزرة، وكان نصر بن عاصم أحد القراء والفصحاء وأخذ عنه أبو عمرو بن العلاء والناس.

وروي عن عمرو بن دينار قال: اجتمعت أنا والزهري ونصر بن عاصم فتكلم نصر فقال الزهري: إنه ليفلق بالعربية تفليقاً.

وأما عبد الرحمن بن هرمز فروى ابن لهيعة عن أبي النضر قال كان عبد الرحمن بن هرمز أول من وضع العربية وكان أعلم الناس بأنساب قريش وأحد القراء.
উরওয়াহ তানভীন করতেন, তখন তিনি বললেন: তিনি যা বলেছেন তা কতই না মন্দ, আর তিনি এই মন্দেরই উপযুক্ত। অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাককে নাসর ইবনে আসিমের বক্তব্য সম্পর্কে জানালাম, ফলে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই তিলাওয়াত করতে থাকেন।

উরওয়াহ ও আযরাহ্ নামের ব্যাপারে মাহবূব থেকে বর্ণিত তথ্যে মতভেদ হয়েছে। খালাফ ইবনে হিশাম বলেছেন উরওয়াহ, আর উমর ইবনে শাব্বাহ বলেছেন আযরাহ্। নাসর ইবনে আসিম ছিলেন অন্যতম ক্বারী ও বিশুদ্ধ ভাষী; আবু আমর ইবনুল আলা ও অন্যান্যরা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন।

আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি, যুহরী এবং নাসর ইবনে আসিম একত্রিত হলাম। নাসর যখন কথা বললেন, তখন যুহরী বললেন: সে তো আরবি ভাষাকে বিস্ময়করভাবে বিশ্লেষণ করছে।

আর আবদুর রহমান ইবনে হুরমুয সম্পর্কে ইবনে লাহিয়াহ আবু নাদর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে হুরমুয ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি কুরাইশদের বংশপরিচয় সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন এবং অন্যতম একজন ক্বারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৮)
وأخذ عن أبي الأسود الديلي جماعة منهم يحيى بن يعمر وعنبسة بن معدان وهو عنبسة الفيل وميمون الأقران ويقال ميمون ابن الأقرن، ويقال أن نصر بن عاصم أخذ عن أبي الأسود.

فأما يحيى بن يعمر فهو رجل من عدوان بن قيس بن عيلان بن مضر وكان عداده في بني ليث من كنانة وكان مأموناً عالماً قد روى عنه الحديث ولقي ابن عمر وابن عباس وغيرهما وروى عنه قتادة وغيره.

ويقال إن أبا الأسود لما وضع باب الفاعل والمفعول زاد في ذلك الكتاب رجل من بني ليث أبواباً ثم نظر فإذا في كلام العرب ما لا يدخل فيه فأقصر عنه فيمكن أن يكون الرجل الذي من بني ليث يحيى بن يعمر إذ كان عداده في بني ليث، ويقال أن الحجاج بن يوسف قال ليحيى بن يعمر: أتجدني ألحن؟ قال: الأمير أفصح من ذاك. قال: عزمت عليك لتخبرني وكانوا يعظمون عزائم الأمر، فقال يحيى بن يعمر:
আবু আল-আসওয়াদ আল-দুয়ালি থেকে একদল ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার, আনবাসা বিন মা'দান—যিনি আনবাসা আল-ফিল নামে পরিচিত—এবং মায়মুন আল-আকরান, যাকে মায়মুন ইবনুল আকরানও বলা হয়। বর্ণিত আছে যে, নাসর বিন আসিমও আবু আল-আসওয়াদ থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন।

ইয়াহইয়া বিন ইয়ামারের পরিচয় হলো, তিনি আদওয়ান বিন কায়স বিন আয়লান বিন মুদার বংশের লোক ছিলেন। কিনানা গোত্রের বনু লাইস শাখার মাঝে তাকে গণ্য করা হতো। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য ও বিজ্ঞ ব্যক্তি। তার থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। কাতাদাহ ও অন্যান্যরা তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

বলা হয়ে থাকে যে, আবু আল-আসওয়াদ যখন ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম)-এর অধ্যায় রচনা করেন, তখন বনু লাইস গোত্রের এক ব্যক্তি সেই কিতাবে আরও কিছু পরিচ্ছেদ যোগ করেন। এরপর তিনি লক্ষ্য করলেন যে, আরবদের ভাষার এমন কিছু দিক রয়েছে যা এতে স্থান পাচ্ছে না, তখন তিনি তা থেকে নিবৃত্ত হন। সম্ভবত বনু লাইস গোত্রের সেই ব্যক্তিটি ছিলেন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার, যেহেতু তাকে বনু লাইসের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো। আরও বর্ণিত আছে যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ইয়াহইয়া বিন ইয়ামারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আপনি কি আমার কথায় ব্যাকরণগত ভুল খুঁজে পান?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমির তার চেয়েও অনেক বেশি প্রাঞ্জল ভাষী।" হাজ্জাজ বললেন: "আমি আপনাকে জোরালো আদেশ দিচ্ছি যে আপনি আমাকে জানাবেনই" — আর তারা এ ধরণের জোরালো আদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিতেন। তখন ইয়াহইয়া বিন ইয়ামার বললেন:
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ১৯)
نعم في كتاب الله، قال: ذاك أشنع له ففي أي شيء من كتاب الله؟ قال: قرأت: (قل إن كان أباؤكم وأبناؤكم وإخوانكم وأزواجكم وعشيرتكم وأموالٌ اقترفتموها وتجارة تخشون كسادها ومساكن ترضونها أحبُّ إليكم من الله ورسوله) فترفع أحب وهو منصوب. قال: إذاً لا تسمعني ألحن بعدها. فنفاه إلى خراسان. ويقال إن يزيد بن المهلب كتب من خراسان إلى الحجاج: أنا لقينا العدو ففعلنا واضطررنا هم إلى عرعرة الجبل ونحن بحضيضه. قال فقال الحجاج: ما لابن المهلب ولهذا الكلام؟ قيل له: إن ابن يعمر هناك. فقال: إذاً.

وأما عنبسة بن معدان فإن معدان رجل من أهل ميسان قدم البصرة وأقام بها وكان لعبد الله بن عامر قيل بالبصرة فاستكثر النفقة عليه فأتاه معدان فتقبل به بنفقته وفضل في كل شهر فكان يدعى معدان الفيل. فنشأ له ابن يقال له عنبسة فتعلم النحو وروى الشعر وظرف فادعى إلى مهرة بن حيدان. فبلغ الفرزدق أنه يروي عليه شعر جرير فقال:
হ্যাঁ, আল্লাহর কিতাবে আছে। তিনি বললেন: এটি তো তার জন্য আরও অধিক জঘন্য! আল্লাহর কিতাবের কোথায় আছে? তিনি বললেন: আমি পড়েছি: (বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যার মন্দা হওয়ার তোমরা আশঙ্কা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়...) এখানে আপনি ‘আহাব্বু’ (অধিক প্রিয়) শব্দটিকে পেশ (রফা) দিয়ে পড়েছেন, অথচ এটি জবর (নসব) যুক্ত হবে। তিনি বললেন: তবে এর পরে তুমি আর আমার থেকে কোনো ব্যাকরণগত ভুল শুনবে না। অতঃপর তিনি তাকে খোরাসানে নির্বাসিত করেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইয়াজিদ ইবনে মুহাল্লাব খোরাসান থেকে হাজ্জাজের নিকট লিখেছিলেন: ‘আমরা শত্রুর মোকাবিলা করেছি, অতঃপর আমরা যা করার করেছি এবং তাদের পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে বাধ্য করেছি, আর আমরা তার পাদদেশে ছিলাম।’ হাজ্জাজ বললেন: ‘ইবনে মুহাল্লাবের এই চমৎকার বাচনভঙ্গি কোথা থেকে এলো?’ তাকে বলা হলো: ‘ইবনে ইয়ামার সেখানে আছেন।’ তিনি বললেন: ‘তবে তো কথা পরিষ্কার।’

আর আনবাসা ইবনে মাদানের বিষয়ে কথা হলো, মাদান ছিলেন মায়সানের অধিবাসী এক ব্যক্তি, যিনি বসরায় এসে সেখানে বসবাস শুরু করেন। বসরার আব্দুল্লাহ ইবনে আমিরের একটি জলাধার ছিল যার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক বেশি হতো। মাদান তার নিকট এসে সেই ব্যয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রতি মাসেই কিছু অর্থ উদ্বৃত্ত রাখতেন। এ কারণে তাকে ‘মাদানে ফীল’ (হাতি মাদান) বলে ডাকা হতো। তার আনবাসা নামক এক পুত্র বড় হয়, যে ব্যাকরণ শেখে, কবিতা বর্ণনা করে এবং মার্জিত রুচিসম্পন্ন হয়ে ওঠে; সে নিজেকে মাহরা ইবনে হায়দানের বংশধর বলে দাবি করত। আল-ফারাজদাকের নিকট খবর পৌঁছাল যে, সে তার বিপক্ষে জারীরের কবিতা বর্ণনা করে। তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২০)
لقد كان في معدان والفيل زاجرٌ … لعنبسة الراوي على القصائد

فسأل بعض عمال البصرة عنبسة عن هذا البيت وعن الفيل فقال عنبسة: لم يقل والفيل إنما قال: اللؤم. فقال: إن أمراً فررت منه إلى اللؤم لأمرٌ عظيم.

وقال أبو العباس محمد بن يزيد قال أبو عبيدة: اختلف الناس إلى أبي الأسود يتعلمون منه العربية فكان أبرع أصحابه عنبسة بن معدان المهري. واختلف الناس إلى عنبسة فكان البارع من أصحابه ميمون الأقرن فكان صاحب الناس فخرج عبد الله بن أبي إسحاق الحضرمي. وحدث عمر بن شبة قال حدثني عبد الله بن محمد التوزي الصدوق ما علمت العفيف قال سمعت أبا عبيدة معمر بن المثنى يقول: أول من وضع العربية أبو الأسود الديلي ثم ميمون الأقرن ثم عنبسة الفيل ثم عبد الله بن أبي إسحاق. ففي هذه الحكاية ميمون قبل عنبسة وفي الحكاية التي قبلها عنبسة قبل ميمون.

وذكر محمد بن سلام قال كان بعد عنبسة وميمون الأقرن عبد الله بن
নিশ্চয়ই মাদ্যান এবং হাতির মধ্যে শিক্ষা রয়েছে … কবিতার বর্ণনাকারী আনবাসার জন্য।

বসরার জনৈক কর্মকর্তা আনবাসাকে এই পঙ্ক্তি এবং হাতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আনবাসা বললেন: তিনি 'হাতি' বলেননি, বরং তিনি বলেছিলেন: 'নীচতা'। তখন তিনি বললেন: আপনি এমন এক বিষয় থেকে পালিয়ে নীচতার আশ্রয় নিয়েছেন যা নিশ্চয়ই এক গুরুতর বিষয়।

আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবন ইয়াযিদ বলেন, আবু উবায়দাহ বলেছেন: মানুষ আবু আল-আসওয়াদের নিকট আরবি ভাষা শিখতে আসত, তার ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ ছিলেন আনবাসা ইবন মাদ্যান আল-মাহরি। অতঃপর মানুষ আনবাসার কাছে আসতে শুরু করল, তার ছাত্রদের মধ্যে দক্ষ ছিলেন মায়মুন আল-আকরান। তিনি লোকজনের শিক্ষক হলেন, এরপর আব্দুল্লাহ ইবন আবি ইসহাক আল-হাদরামি আত্মপ্রকাশ করলেন। উমর ইবন শাব্বাহ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আত-তাউজি আস-সাদুক—যিনি আমার জানামতে একজন নিষ্কলুষ ব্যক্তি—বলেছেন, আমি আবু উবায়দাহ মুয়াম্মার ইবনুল মুসান্নাকে বলতে শুনেছি: সর্বপ্রথম যিনি আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন তিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দিলি, এরপর মায়মুন আল-আকরান, তারপর আনবাসা আল-ফীল, অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবন আবি ইসহাক। সুতরাং এই বর্ণনায় মায়মুন আনবাসার পূর্বে, আর পূর্ববর্তী বর্ণনায় আনবাসা মায়মুনের পূর্বে স্থান পেয়েছেন।

মুহাম্মদ ইবন সাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, আনবাসা এবং মায়মুন আল-আকরানের পরে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবন
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২১)
أبي إسحاق الحضرمي وكان في زمان ابن أبي إسحاق عيسى بن عمر الثقفي وأبو عمرو بن العلاء ومات ابن أبي إسحاق قبلهما ويقال أن ابن أبي إسحاق كان أشد تجريداً للقياس وكان أبو عمرو أوسع علماً بكلام العرب ولغاتها وغريبها. وكان بلال بن أبي بردة جمع بينهما وهو على البصرة يومئذ عمله عليها خالد بن عبد الله القسري أيام هشام. قال يونس قال أبو عمرو بن العلاء: فغلبني ابن أبي إسحاق يومئذ بالهمز فنظرت فيه بعد ذاك. قال: وبالغت فيه، وقال محمد بن سلام: سمعت رجلاً يسأل يونس عن ابن أبي إسحاق وعلمه. قال: هو والنحو سواء، أي هو الغاية. قال: فأين علمه من علم الناس اليوم؟ قال: لو كان في الناس اليوم من لا يعلم إلا علمه لضحك به ولو كان فيهم أحد له ذهنه ونفاذه ونظر نظرهم كان أعلم الناس. وكان ابن أبي إسحاق يكثر الرد على الفرزدق والتعنت له

আবু ইসহাক আল-হাদরামি। তিনি ইবনে আবু ইসহাক ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফি এবং আবু আমর ইবনুল আলার সমসাময়িক ছিলেন। ইবনে আবু ইসহাক তাদের উভয়ের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন। বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে আবু ইসহাক কিয়াসের (ভাষাতাত্ত্বিক যুক্তি প্রয়োগ) ক্ষেত্রে অধিকতর কঠোর ছিলেন, আর আবু আমর আরবদের বাকরীতি, তাদের বিভিন্ন ভাষা এবং বিরল শব্দাবলি সম্পর্কে অধিকতর ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বিলাল ইবনে আবু বুরদাহ তাদের উভয়কে একত্রিত করেছিলেন, যখন তিনি বসরার গভর্নর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন; হিশামের শাসনামলে খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরি তাকে সেখানে নিযুক্ত করেছিলেন। ইউনুস বর্ণনা করেন, আবু আমর ইবনুল আলা বলেছেন: সেদিন ইবনে আবু ইসহাক হামজাহর মাসআলায় আমার ওপর বিজয়ী হয়েছিলেন, এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। তিনি বলেন: আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত পরিশ্রম করি। মুহাম্মাদ ইবনে সাল্লাম বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে ইউনুসকে ইবনে আবু ইসহাক এবং তার পাণ্ডিত্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। তিনি উত্তর দিলেন: তিনি এবং নাহু (ব্যাকরণশাস্ত্র) এক ও অভিন্ন; অর্থাৎ তিনি ছিলেন এর চরম শিখর। প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করল: বর্তমান যুগের মানুষের ইলমের তুলনায় তার ইলমের স্তর কোথায়? তিনি বললেন: বর্তমান যুগে যদি এমন কেউ থাকে যে কেবল তার সমান ইলম রাখে, তবে লোকে তাকে নিয়ে উপহাস করবে। কিন্তু যদি তাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত যার মেধা, তীক্ষ্ণতা এবং অন্তর্দৃষ্টি তার মতো হতো, তবে সে হতো সমকালীন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আলিম। আর ইবনে আবু ইসহাক কবি আল-ফারাজদাককে প্রচুর খণ্ডন করতেন এবং তার ভুল ধরার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন।

(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২২)
فلما قال الفرزدق في قصيدة يمدح فيها يزيد بن عبد الملك.

مستقبلين شمال الشأم تضربنا … بحاصبٍ كنديف القطن منشور

على عمائمنا تلقى وأرحلنا … على زواحف ترجى مخها رير

فألح عليه ابن أبي إسحاق وعابه بخفض البيت الأول ورفع الثاني فغيره الفرزدق فقال: على زواحف نرجيها محاسير. وكان ابن أبي إسحاق يرد على الفرزدق كثيراً فقال فيه الفرزدق.

فلو كان عبد الله مولى هجوته … ولكن عبد الله مولى مواليا

وكان عبد الله بن أبي إسحاق مولى آل الحضرمي وهم حلفاء بني عبد شمس بن عبد مناف والحليف عند العرب مولى. من ذلك قول الراعي.

؟ حزى الله مولانا غنياً ملامةً … شرار موالي عامرٍ في العزائم
অতঃপর যখন আল-ফারাযদাক ইয়াযিদ বিন আবদুল মালিকের প্রশংসায় একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

সিরিয়ার উত্তর বায়ুর অভিমুখী হয়ে যা আমাদের আঘাত করছিল … ধুনিত ও বিক্ষিপ্ত তুলার মতো কঙ্করময় ঝড়ের দ্বারা

আমাদের পাগড়ি ও হাওদার ওপর তা পতিত হচ্ছিল … এমন ক্লান্ত উটগুলোর ওপর যাদের অস্থিমজ্জা ক্ষীণ হয়ে পানি হয়ে গিয়েছিল

তখন ইবনে আবি ইসহাক তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং প্রথম চরণের শেষে মাজরুর (জের) ও দ্বিতীয় চরণের শেষে মারফু (পেশ) ব্যবহারের কারণে তার সমালোচনা করেন। ফলে ফারাযদাক তা পরিবর্তন করে বললেন: এমন ক্লান্ত-শ্রান্ত উটগুলোর ওপর যাদেরকে আমরা তাড়িয়ে নিয়ে চলছিলাম। ইবনে আবি ইসহাক প্রায়ই ফারাযদাকের ভুল ধরতেন, তাই ফারাযদাক তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন:

যদি আবদুল্লাহ কোনো আযাদকৃত দাস হতো তবে আমি তার কুৎসা রটাতাম … কিন্তু আবদুল্লাহ তো আযাদকৃত দাসদেরও আযাদকৃত দাস

আর আবদুল্লাহ বিন আবি ইসহাক ছিলেন হাজরামি পরিবারের আযাদকৃত দাস, আর তারা ছিল বনু আবদে শামস বিন আবদে মানাফের মিত্র। আর আরবদের নিকট মিত্রকেও ‘মাওলা’ বলা হয়। এরই প্রেক্ষিতে আর-রায়ী এর উক্তি:

আল্লাহ আমাদের মিত্র গনি গোত্রকে নিন্দার মাধ্যমে প্রতিফল দিন … যারা দৃঢ় সংকল্পের ক্ষেত্রে আমের গোত্রের মিত্রদের মধ্যে নিকৃষ্টতম।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الأخطل لجرير

أتشتم قوماً أثبتوك بنهشلٍ … ولولاهم كنتم لعكل مواليا

يعني حلف الرباب لعكل.

وذكر حسين بن فهم قال حدثنا ابن سلامة قال اخبرنا يونس: أن أبا عمرو كان أشد تسليماً للعرب وكان ابن أبي إسحاق وعيسى بن عمر يطعنان على العرب.

فأما أبو عمرو بن العلاء فهو من الأعلام في القرآن وعنه أخذ يونس بن حبيب والرواية عنه في القراءة والنحو واللغة كثيرة. قال الأصمعي سألت أبا عمرو عن قوله تبارك وتعالى. فعززنا بثالث. مثقلة فقال شددنا وأنشد للمتلمس:

أجدٌ إذا ضمرت تعزز لحمها … وإذا تشد بنسعها لا تنبس
আখতাল জারীরকে বললেন

আপনি কি এমন এক কওমকে গালি দিচ্ছেন যারা আপনাকে নাহশালের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে? ... তারা না থাকলে আপনারা উকল গোত্রের অনুগত মিত্র হয়ে থাকতেন।

অর্থাৎ উকলের সাথে রিবাব গোত্রের মৈত্রী চুক্তি।

হুসাইন ইবনে ফাহম উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন—ইবনে সালামাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন—ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আমর আরবদের (ভাষার) প্রতি অধিক অনুগত ছিলেন, আর ইবনে আবি ইসহাক ও ঈসা ইবনে উমর আরবদের সমালোচনা করতেন।

আর আবু আমর ইবনুল আলার কথা বলতে গেলে, তিনি কুরআনের ইলমের ক্ষেত্রে একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর নিকট থেকেই ইউনুস ইবনে হাবিব শিক্ষা লাভ করেছেন। কিরাত, নাহু (ব্যাকরণ) ও ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত বা বর্ণনা প্রচুর। আসমাঈ বলেন, আমি আবু আমরকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী—"অতঃপর আমি তৃতীয় একজনের মাধ্যমে শক্তিশালী করলাম"—এই শব্দটি তাশদীদসহ পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এর অর্থ হলো "আমরা শক্তিশালী করেছি"। অতঃপর তিনি মুতালামমিসের একটি কবিতাংশ আবৃত্তি করলেন:

সেটি এক শক্তিশালী উষ্ট্রী, যখন সে কৃশ হয় তখন তার গোশত আরও শক্ত হয়ে যায় ... আর যখন তাকে পিঠের রশি দিয়ে কষে বাঁধা হয় তখন সে সামান্য আর্তনাদও করে না।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأنشد المازني قال أنشدنا الأصمعي عن أبي عمرو لرجل من اليمن وقد سماه غيره فقال امرؤ القيس بن عابس:

أيا تملك يا تملي … ذريني وذري عذلي

ذريني وسلاحي ثم … شدى الكف بالعزل

ونبلي وفقاها كعرا … قيب قطاً طحل

وثوباي جديدان … وأرخي شرك النعل

ومني نظرة خلفي … ومني نظرة قبلي

فإما مت يا تملي … فموتي حرة مثلي

قال أبو عمرو: وزادني فيها الجمحي:

وقد أسبأ للندما … ن بالناقة والرحل

وقد أختلس الطعنة … تنفي سنن الرجل
মাযিনী আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আসমায়ী আমাদের নিকট আবু আমর-এর সূত্রে ইয়ামেনের এক ব্যক্তির কবিতা আবৃত্তি করেছেন, যাকে অন্য কেউ ইমরুল কায়স ইবনে আবিস হিসেবে অভিহিত করেছেন:

হে তামলাক, হে তামলি! … আমাকে ছেড়ে দাও এবং তোমার তিরস্কার পরিহার করো

আমাকে এবং আমার অস্ত্রশস্ত্র ছেড়ে দাও, অতঃপর … অস্ত্রহীন অবস্থায় হাতের মুঠি শক্ত করো

আমার তীরসমূহ এবং সেগুলোর খাঁজগুলো যেন … ধুলোবালি রঙের কাতা-পাখির গোড়ালির শিরার মতো

আমার পোশাক দুটি নতুন … এবং আমি জুতোর ফিতা শিথিল রাখি

এক পলক আমার পেছনের দিকে … এবং এক পলক আমার সামনের দিকে

হে তামলি, যদি আমি মারা যাই … তবে আমার মতো স্বাধীন নারী হিসেবে মৃত্যুবরণ করো

আবু আমর বলেন: জুমাহি এই কবিতায় আমার জন্য আরও বর্ধিত করেছেন:

আমি উষ্ট্রী ও হাওদা দিয়ে … সহপায়ীদের জন্য পানীয় ক্রয় করেছি

আমি অকস্মাৎ এমনভাবে বর্শা বিদ্ধ করি … যা পায়ের গতিপথকে রুদ্ধ করে দেয়
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৫)
يقول يخرج منها من الدم ما يمنع الرجل من الطريق.

وقد أختلس الطعنة … لا يدمي له نصل

يعني من السرعة والحذق

كجيب الدفنس الورها … ء ريعت وهي تستفلي

يعني من سعة الطعنة.

وقال محمد بن يزيد المبرد أخبرني المازني قال أنشدني الأصمعي عن أبي عمرو بن العلاء عن شيخ من أهل نجد كان أسنهم.

استقدر الله خيراً وأرضين به … فبينما العسر إذ دارت مياسير

وبينما المرء في الأحياء مغتبطٌ … إذا هو الرمس تعفوه الأعاصير

يبكي عليه غريب ليس يعرفه … وذو قرابته في الحي مسرور

حتى كأن لم يكن إلا تذكره … والدهر أيتما حالٍ دهارير
তিনি বলেন, তা থেকে এত পরিমাণ রক্ত নির্গত হয় যা কোনো ব্যক্তিকে পথ চলতে বাধা দেয়।

আর তিনি এমন ক্ষিপ্রভাবে আঘাত করেছেন … যাতে এর ফলার গায়ে রক্তও লাগেনি।

অর্থাৎ দ্রুততা এবং নিপুণতার কারণে।

শিথিল বসনের প্রশস্ত গ্রীবাদেশের মতো … যা চমকে গিয়েছিল যখন সে উকুন বাছছিল।

অর্থাৎ আঘাতের প্রশস্ততার কারণে।

মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুবররাদ বলেন, আমাকে আল-মাযিনী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-আসমাঈ আমাকে আবু আমর ইবনুল আ’লার সূত্রে নজদ নিবাসী এক বৃদ্ধের কবিতা শুনিয়েছেন, যিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন।

আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকো … কেননা অভাব-অনটনের মাঝেই সচ্ছলতা আবর্তিত হয়।

মানুষ যখন জীবিতদের মাঝে ঈর্ষণীয় অবস্থায় থাকে … তখনই সে কবরে পরিণত হয় যাকে ঘূর্ণিঝড় মুছে দেয়।

তার জন্য এমন এক অচেনা ব্যক্তি কাঁদে যে তাকে চেনে না … অথচ জনপদে তার আত্মীয়স্বজন আনন্দিত থাকে।

এমনকি এক সময় তার স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না … আর মহাকাল যেকোনো অবস্থায় পরিবর্তনশীল ও বিপদসংকুল।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما عيسى بن عمر وهو في طبقة ابن عمرو بن العلاء فهو عيسى بن عمر الثقفي من أهل البصرة وليس بعيسى بن عمر الهمداني من أهل الكوفة وتروى عنه قرآت. وعيسى بن عمر الثقفي البكر من مقدمي نحويي أهل البصرة وكان أخذه من عبد الله بن أبي إسحاق وغيره. وعن عيسى بن عمر الثقفي أخذ الخليل بن أحمد. ولعيسى كتابان في النحو سمى أحدهما الجامع والآخر المكمل. فقال الخليل بن أحمد:

بطل النحو جميعاً كله … غير ما أحدث عيسى بن عمر

ذاك الكمال وهذا جامع … فهما للناس شمس وقمر

وهذان الكتابان ما وقعا إلينا ولا رأيت أحداً يذكر أنه رآهما. وكان عيسى بن عمر فصيحاً ويروى عنه أشياء كثيرة من القرآت واستودعه بعض أصحابه خالد بن عبد الله القسري وديعة فلما نزع خالد بن عبد الله عن إمارة العراق وتقلد مكانه يوسف بن عمر كتب إلى واليه بالبصرة يأمره أن يحمله إليه مقيداً فدعا به ودعا
আর ঈসা ইবনে উমর সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি আবু আমর ইবনে আলা-এর সমপর্যায়ের ছিলেন। তিনি বসরার অধিবাসী ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফি, তিনি কুফার অধিবাসী ঈসা ইবনে উমর আল-হামদানি নন এবং তাঁর থেকে বিভিন্ন কিরাত বর্ণিত হয়েছে। ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফি আল-বকরি ছিলেন বসরার নেতৃস্থানীয় ব্যাকরণবিদদের একজন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক এবং অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান লাভ করেছিলেন। ঈসা ইবনে উমর আস-সাকাফির নিকট থেকেই খলীল ইবনে আহমদ শিক্ষা গ্রহণ করেন। ব্যাকরণ শাস্ত্রে ঈসার দুটি কিতাব রয়েছে, যার একটির নাম আল-জামে এবং অন্যটির নাম আল-মুকাম্মাল। অতঃপর খলীল ইবনে আহমদ বলেছেন:

সমগ্র ব্যাকরণ শাস্ত্রই অসার হয়ে গেছে … কেবল ঈসা ইবনে উমর যা নতুনভাবে আনয়ন করেছেন তা ছাড়া।

একটি হলো আল-মুকাম্মাল আর অন্যটি আল-জামে … মানুষের জন্য এ দুটি যেন সূর্য ও চন্দ্র।

এই কিতাব দুটি আমাদের হস্তগত হয়নি এবং আমি কাউকে এটি দেখার কথা উল্লেখ করতে দেখিনি। ঈসা ইবনে উমর অত্যন্ত বাগ্মী ছিলেন এবং তাঁর থেকে কিরাতের বহু বিষয় বর্ণিত হয়েছে। তাঁর কোনো এক বন্ধু খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাসরি তাঁর নিকট একটি আমানত গচ্ছিত রেখেছিলেন। অতঃপর যখন খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইরাকের শাসনভার থেকে অপসারিত হলেন এবং ইউসুফ ইবনে উমর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন, তখন তিনি বসরার গভর্নরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, তাকে যেন শিকলবদ্ধ অবস্থায় তাঁর নিকট উপস্থিত করা হয়। অতঃপর তিনি তাকে ডেকে পাঠালেন এবং ডেকে...
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৭)
بالحداد فمره بتقييده فقال له: لا بأس عليك إنما أراد الأمير لتؤدب ولده قال: فما بال القيد إذا؟ ً؟ فبقيت مثلاً بالبصرة. فلما أتى به يوسف بن عمر سأله عن الوديعة فأنكر فأمر به يضرب بالسياط فلما أخذه السوط جزع فقال: أيها الأمير إنها كانت أثياب في أسيفاطٍ. فرفع الضرب عنه ووكل به حتى أخذ الوديعة منه. قال علي بن محمد بن سليمان قال أبي: فرأيت طول دهره يحمل في كمه خرقة فيها سكر العشر والإجاص اليابس وربما رأيته عندي وهو واقفٌ علي أو سائرٌ أو عند ولاة أهل البصرة فتصيبه نهكة على فؤاده يخفق بها حتى يكاد أن يغلب فيستغيث بإجاصة وسكرة يلقيها في فيه ثم يتمصصها فإذا تسرط أي بلعه من ذلك شيئاً سكن ما به فسألته عن ذلك فقال: أصابني هذا من الضرب الذي ضربني يوسف فتعالجت له بكل شيء فلم أجد له شيئاً أصلح من هذا. وقال وقلت له يوماً: أخبرني عن هذا الذي وضعت يدخل فيه كلام العرب كله. قال: لا. قلت: فمن تكلم بخلافك واحتذى ما كانت العرب تكلم به أتراه مخطئاً؟ قال: لا. قلت: فما ينفع كتابك؟

তিনি কর্মকারকে ডেকে তাকে শিকলবদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। তখন তাকে বলা হলো: "আপনার কোনো শঙ্কা নেই, আমির কেবল চেয়েছিলেন আপনি যেন তাঁর সন্তানকে শিষ্টাচার শিক্ষা দেন।" তিনি বললেন: "তাহলে এই শিকলের প্রয়োজনীয়তা কী?" বিষয়টি পরবর্তীতে বসরায় প্রবাদে পরিণত হয়। যখন তাঁকে ইউসুফ ইবনে উমরের কাছে আনা হলো, তিনি গচ্ছিত সম্পদ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তিনি তা অস্বীকার করলে তাকে চাবুক মারার নির্দেশ দেওয়া হলো। যখন চাবুকের আঘাত তার শরীরে পড়ল, তিনি অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়লেন এবং বললেন: "হে আমির! সেগুলো ছিল ছোট ঝুড়িতে রাখা কিছু পোশাক।" ফলে প্রহার বন্ধ করা হলো এবং তার ওপর একজন তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হলো যতক্ষণ না তার কাছ থেকে সেই গচ্ছিত মাল বুঝে নেওয়া হয়।

আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন: আমি তাকে আজীবন তার আস্তিনে একটি কাপড়ের টুকরো বহন করতে দেখেছি, যার ভেতরে মিছরি ও শুকনো আলু বোখারা থাকত। কখনো কখনো আমি তাকে আমার কাছে দাঁড়ানো বা হাঁটা অবস্থায় অথবা বসরার শাসকদের মজলিসে দেখতাম; এমতাবস্থায় হঠাৎ তার হৃদপিণ্ডে তীব্র দুর্বলতা অনুভূত হতো এবং বুক ধড়ফড় করত, যা তাকে প্রায় নিস্তেজ করে ফেলত। তখন তিনি একটি আলু বোখারা ও মিছরির টুকরো মুখে নিয়ে চুষতেন। যখন তিনি এর কিছু অংশ গিলে ফেলতেন, তখন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতো। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "ইউসুফের সেই প্রহারের কারণেই আমার এই অবস্থা হয়েছে। আমি এর জন্য নানাবিধ চিকিৎসা গ্রহণ করেছি, কিন্তু এর চেয়ে ফলদায়ক আর কিছু খুঁজে পাইনি।"

বর্ণনাকারী বলেন, আমি একদিন তাকে বললাম: "আপনি যা সংকলন করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন; এতে কি আরবদের সমস্ত বাকরীতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "তবে যে ব্যক্তি আপনার নিয়মের বিপরীতে কথা বলে কিন্তু প্রাচীন আরবরা যেভাবে কথা বলত তা অনুসরণ করে, আপনি কি তাকে ভুলকারী গণ্য করেন?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "তবে আপনার এই গ্রন্থের সার্থকতা কী?"

(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما يونس بن حبيب فإنه بارعٌ في النحو من كتاب أبي عمرو بن العلاء وقد سمع من العرب كما سمع من قبله وقد روى عنه سيبويه وأكثر وله قياس في النحو ومذاهب يتفرد بها. وقد سمع منه الكسائي والفراء وكانت حلقته بالبصرة ينتابها أهل العلم وطلاب الأدب وفصحاء الأعراب والبادية.

وأخبرنا أبو بكر بن السراج قال: قال المبرد أخبرني أبو عثمان المازني: أن مروان بن سعيد بن عباد بن عباد بن حبيب بن المهلب بن أبي صفرة سأل الكسائي بحضرة يونس: أي شيء يشبه أي من الكلام؟ فقال: ما ومن. فقال له: فكيف تقول لأضربن من في الدار؟ قال لأضربن من في الدار. قال: فكيف تقول: لأركبنّ ما تركبُ؟ قال: لأَركبنّ ما تركب. قال: فكيف تقول ضربت من في الدار؟ قال: ضربتُ مَن في الدار. قال: فكيف تقول رَكبتُ ما ركبتَ؟ قال: ركبتُ
আর ইউনুস বিন হাবীবের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তিনি আবু আমর বিন আল-আলা’র কিতাব হতে নাহুশাস্ত্রে (ব্যাকরণ) বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। তাঁর পূর্বসূরিদের ন্যায় তিনিও আরবদের নিকট হতে ভাষাজ্ঞান শ্রবণ করেছেন এবং সিবওয়াইহ তাঁর নিকট হতে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। নাহুশাস্ত্রে তাঁর নিজস্ব কিয়াস (যুক্তি) ও এমন কিছু একক মতাদর্শ ছিল যাতে তিনি অনন্য ছিলেন। আল-কিসাঈ ও আল-ফাররা তাঁর নিকট হতে শ্রবণ করেছেন। বসরায় তাঁর ইলমি মজলিসে আলিম সমাজ, সাহিত্যের শিক্ষার্থী এবং মরুভূমির বিশুদ্ধভাষী বেদুইনরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন।

আবু বকর বিন আস-সাররাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুবররাদ বলেছেন, আবু উসমান আল-মাজিনী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: মারওয়ান বিন সাঈদ বিন আব্বাদ বিন আব্বাদ বিন হাবীব বিন আল-মুহাল্লাব বিন আবি সুফরা ইউনুসের উপস্থিতিতে আল-কিসাঈকে প্রশ্ন করলেন: কালাম বা কথাবার্তায় ‘আইয়্যু’ পদটি কোন বিষয়ের সদৃশ? তিনি উত্তর দিলেন: এটি ‘মা’ এবং ‘মান’ পদের সদৃশ। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তবে ‘বাড়িতে যে আছে আমি অবশ্যই তাকে প্রহার করব’—এই বাক্যটি আপনি কীভাবে বলবেন? তিনি বললেন: ‘আমি অবশ্যই তাকে প্রহার করব যে বাড়িতে আছে’। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি যাতে আরোহণ করো আমি অবশ্যই তাতে আরোহণ করব’—এটি কীভাবে বলবেন? তিনি বললেন: ‘তুমি যাতে আরোহণ করো আমি অবশ্যই তাতে আরোহণ করব’। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: ‘আমি বাড়িতে অবস্থিত ব্যক্তিকে প্রহার করেছি’—এটি কীভাবে বলবেন? তিনি বললেন: ‘আমি বাড়িতে অবস্থিত ব্যক্তিকে প্রহার করেছি’। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন: ‘তুমি যাতে আরোহণ করেছ আমি তাতে আরোহণ করেছি’—এটি কীভাবে বলবেন? তিনি উত্তর দিলেন: ‘আমি আরোহণ করেছি...’
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ما ركبتَ. قال: فكيف تقول لأضربنّ أيهم في الدار؟ قال: لأضربن أيَّهم في الدار. قال: فكيف تقول ضَرِبتُ أيّهم في الدار؟ قال: لا يجوز. قال: لِمَ؟ قال: أيٌّ كذا خلقت. قال فغضب يونس وقال: تؤذون جليسنا ومؤدب أمير المؤمنين.

وحدثنا أبو بكر بن مجاهد قال حدثنا محمد بن الجهم قال حدثنا الفراء قال أنشدنا يونس النحوي:

رب حلم أضاعه عدم الما … ل وجهل غطا عليه النعميم

بتخفيف غطا وروى الأصمعي عن يونس قال: قال لي رؤية بن العجاج: حتام تسألني عن هذه البواطيل وأزخرفها لك أما ترى الشيب قد بلغ في لحيتك. قال أبو سعيد هذا صحف فيه ابن الأعرابي فقال بلغ بالغين وهو أحد ما أخذ عليه.

قال أبو سعيد: بلع الشيب إذا وقع فيه الشيب.

حدثنا ابن مجاهد قال حدثنا أحمد بن يحيى قال حدثنا محمد بن سلام قال حدثنا يونس قال: كنا على باب ابن عمير
যা তুমি আরোহণ করেছ। তিনি বললেন: তবে তুমি কীভাবে বলবে, "আমি অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে যে কেউ ঘরে আছে তাকে প্রহার করব"? তিনি বললেন: "আমি অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে যে কেউ ঘরে আছে তাকে প্রহার করব"। তিনি বললেন: তবে তুমি কীভাবে বলবে "আমি তাদের মধ্য থেকে যে কেউ ঘরে আছে তাকে প্রহার করেছি"? তিনি বললেন: এটি বৈধ নয়। তিনি বললেন: কেন? তিনি বললেন: "আইয়ু" এভাবেই গঠিত হয়েছে। তখন ইউনুস রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: তোমরা আমাদের মজলিসের সাথী এবং আমিরুল মুমিনিনের শিক্ষককে কষ্ট দিচ্ছ।

আবু বকর ইবনে মুজাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল জাহম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-ফাররা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ভাষাবিদ ইউনুস আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:

কত সহিষ্ণুতা যা সম্পদের অভাবে বিনষ্ট হয় ... এবং কত মূর্খতা যা প্রাচুর্য দ্বারা আবৃত থাকে

"গাতা" শব্দটিকে হালকা উচ্চারণে পড়ার মাধ্যমে। আসমায়ি ইউনুস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রু’বাহ ইবনুল আজজাজ আমাকে বললেন: কতকাল তুমি আমাকে এই সব অসার বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে আর আমি তোমার জন্য সেগুলো সুশোভিত করব? তুমি কি দেখছ না যে বার্ধক্য তোমার দাড়িতে পৌঁছে গেছে? আবু সাঈদ বলেন, ইবনুল আরাবি এতে শব্দগত বিভ্রান্তিতে পড়েছেন এবং তিনি একে "গাইন" বর্ণ সহযোগে "বালাগা" বলেছেন, আর এটি তার সেইসব ভুলগুলোর একটি যা তার বিরুদ্ধে আপত্তি হিসেবে ধরা হয়।

আবু সাঈদ বলেন: চুলে যখন সাদা আভা দেখা দেয় তখন তাকে "বালাআশ শাইবু" বলা হয়।

ইবনে মুজাহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে সাল্লাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইউনুস বলেছেন: আমরা ইবনে উমাইরের দরজায় ছিলাম।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩০)
فمرت بنا امرأة يدفع بعضها بعضاً كأنها خلفة فما لبثنا أن أقبل فتى من قريش عليه قميص قوهي ورداء فلما رآنا ارتدع فقلنا: هاهنا طلبتك. فتبعها وقال:

إذا سلكت قصد السبيل سلكته … وإن هي عاجت عجت حيث تعوج

وبهذا الإسناد قال يونس تقول العرب: الآل من غدوة إلى ارتفاع الضحى الأعلى ثم هو سرابٌ سائر اليوم وإذا زالت الشمس فهو فيء وغدوة ظل. وأنشد لأبي ذؤيب.

لعمري لأنت البيت أكرم أهله … وأقعد في أفيانه بالأصائل

وكان كذا وكذا الليلة يقولون ذاك إلى ارتفاع الضحى وإذا جاوز ذاك قالوا كان البارحة. وعنه بهذا الإسناد قال كان عبد الملك بن عبد الله ينشد:

إذا أنت لم تنفع فضر وإنما … يرجى الفتى كيما يضر وينفعا

وذكر عمر بن شبة عن خلاد بن يزيد عن يونس النحوي قال: ثلاثة والله أشتهي أن أمكن من مناظرتهم يوم القيامة آدم عليه السلام فأقول له قد مكنك الله من الجنة وحرم عليك شجرة فقصدت لها
আমাদের পাশ দিয়ে এক নারী হেলেদুলে যাচ্ছিলেন যেন তিনি এক গর্ভবতী উটনী। কিছুক্ষণ পরই কুরাইশ বংশের এক যুবক আসলেন, যার পরনে ছিল কুহী জামা ও চাদর। যখন সে আমাদের দেখল, সে থমকে গেল। আমরা বললাম: তোমার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি তো এখানেই। তখন সে তার অনুসরণ করল এবং বলল:

যখন সে সরল পথ অবলম্বন করে আমিও তা অনুসরণ করি … আর সে যদি পথ পরিবর্তন করে তবে সে যেখানে বাঁক নেয় আমিও সেখানে বাঁকি

এই একই সূত্রে ইউনুস বলেন, আরবরা বলে: 'আল' (মরীচিকা) হলো ভোর থেকে চাশতের উচ্চ সময় পর্যন্ত, এরপর সারা দিন তা হলো 'সারাব' (মরীচিকা)। আর যখন সূর্য ঢলে পড়ে তখন তা হলো 'ফাই' (ছায়া) এবং ভোরের সময় তা হলো 'জিল্ল' (ছায়া)। তিনি আবু জুয়াইবের কবিতা আবৃত্তি করলেন:

আমার জীবনের শপথ, আপনিই সেই ঘর যার অধিবাসীদের আপনি সম্মানিত করেছেন … আর আমি শেষ বিকেলে এর ছায়াতলে অবস্থান করি

তারা চাশতের সময় পর্যন্ত 'গতরাত এমন ও এমন ছিল' বলত। আর যখন সেই সময় পার হয়ে যেত, তখন তারা বলত 'তা ছিল বিগত রাত'। তার থেকে এই একই সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ আবৃত্তি করতেন:

যদি তুমি উপকার করতে না পারো তবে অপকার করো, কেননা … যুবকের কাছে তো এই প্রত্যাশাই করা হয় যে সে অপকার করবে অথবা উপকার করবে

উমর ইবনে শাব্বাহ খাল্লাদ ইবনে ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি ব্যাকরণবিদ ইউনুস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, এমন তিন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের সাথে কিয়ামতের দিন বিতর্ক করার সুযোগ পাওয়া আমি আকাঙ্ক্ষা করি। (তাদের একজন হলেন) আদম আলাইহিস সালাম; আমি তাকে বলব, আল্লাহ আপনাকে জান্নাতে থাকার সুযোগ দিলেন এবং আপনার জন্য একটি বৃক্ষ নিষিদ্ধ করলেন, অথচ আপনি সেই বৃক্ষটির দিকেই ধাবিত হলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩১)
حتى ألقيتنا في هذا المكروه ويوسف عليه السلام أقول له كنت بمصر وأبوك عليه السلام بكنعان بينك وبينه عشر مراحل يبكي عليك لِم لَم ترسل إليه إني في عافية وتريحه مما كان فيه من الحزن وطلحة والزبير أقول لهما علي بن أبي طالب عليه السلام بايعتهماه بالمدينة وخلعتماه بالعراق لم أي شيء أحدث.

وأما الخليل بن أحمد أبو عبد الرحمن الفراهيدي الأزدي فقد كان الغاية في استخراج مسائل النحو وتصحيح القياس فيه وهو أول من استخرج العروض وحصر أشعار العرب بها وعمل أول كتاب العين المعروف المشهور الذي به يتهيأ ضبط اللغة. وكان من الزهاد في الدنيا والمنقطعين إلى العلم ويروى عنه أنه قال: إن لم تكن هذه الطائفة يعني أهل العلم أولياء لله فليس لله ولي. وقد كان وجه إليه سليمان بن علي من الأهواز وكان واليها يلتمس منه الشخوص إليه وتأديب أولاده
যতক্ষণ না আপনি আমাদের এই অপছন্দনীয় অবস্থায় ফেলেছেন। আর ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে আমি তাঁকে বলি: আপনি মিশরে ছিলেন এবং আপনার পিতা আলাইহিস সালাম কেনানে ছিলেন, আপনার ও তাঁর মাঝে মাত্র দশটি মঞ্জিলের দূরত্ব ছিল; তিনি আপনার জন্য কাঁদছিলেন, কেন আপনি তাঁর কাছে এই বার্তা পাঠাননি যে 'আমি সুস্থ ও নিরাপদে আছি', যাতে আপনি তাঁকে সেই দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে পারতেন যা তিনি অনুভব করছিলেন? আর তালহা ও যুবাইর—আমি তাঁদের দুজনকে বলি: আপনারা মদিনায় আলি ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালামের কাছে আনুগত্যের শপথ বা বায়আত করেছিলেন এবং ইরাকে গিয়ে তা ভঙ্গ করেছিলেন; কেন? কী এমন নতুন ঘটনা ঘটেছিল?

আর খলিল বিন আহমদ আবু আব্দুর রহমান আল-ফারাহিদি আল-আজদি সম্পর্কে বলা যায় যে, তিনি নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের মাসয়ালাসমূহ উদ্ঘাটন এবং তাতে কিয়াসের সঠিকতা নিরূপণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম আরুজ বা ছন্দতত্ত্ব উদ্ভাবন করেন এবং এর মাধ্যমে আরবদের কবিতাসমূহকে সংজ্ঞায়িত ও সুবিন্যস্ত করেন। তিনি সুপ্রসিদ্ধ ‘কিতাবুল আইন’ নামক প্রথম অভিধানটি সংকলন করেন, যার মাধ্যমে ভাষার সঠিক বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। তিনি দুনিয়াবিমুখ জাহিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইলম বা জ্ঞানের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: "যদি এই দলটি—অর্থাৎ ইলমের অধিকারীগণ—আল্লাহর ওলি বা প্রিয়পাত্র না হন, তবে আল্লাহর আর কোনো ওলি নেই।" আহওয়াজের গভর্নর সুলাইমান বিন আলি তাঁর কাছে লোক পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর নিকট উপস্থিত হওয়ার ও তাঁর সন্তানদের সুশিক্ষা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ويرغبه ويقال إن الذي وجه إليه سليمان بن حبيب بن المهلب من أرض السند يستدعيه إليه. وكان بالبصرة فأخرج الخليل إلى رسول سليمان بن علي خبزاً يابساً وقال: ما عندي غيره وما دمت أجده فلا حاجة لي في سليمان، فقال الرسول: فماذا أبلغه عنك؟ فأنشأ يقول:

أبلغ سليمان أني عنك في سعة … وفي غنى غير أني لست ذا مال

سخا بنفسي أني لا أرى أحداً … يموت هزلاً ولا يبقى على حال

وكان الخليل يقول الشعر البيتين والثلاثة ونحوها في الآداب كمثل ما يروى له:

لو كنت تعلم ما أقول عذرتني … أو كنت أجهل ما تقول عذلتكا

لكن جهلت مقالتي فعذلتني … وعلمت أنك جاهل فعذرتكا

وكما يروى له في الزهد:

وقبلك داوى المريض الطبيب … فعاش المريض ومات الطبيب

فكن مستعداً لداعي الفنى … فإن الذي هو آت قريب

والخليل أستاذ سيبويه وعامة الحكاية في كتاب سيبويه عن الخليل وكل ما قال سيبويه: وسألته أو قال من غير أن يذكر قائله فهو الخليل.
এবং তিনি তাকে উৎসাহিত করতেন। বলা হয় যে, সিন্ধু অঞ্চল থেকে সুলাইমান ইবন হাবিব ইবনুল মুহাল্লাব তাকে ডাকার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন। তিনি বসরায় ছিলেন। খলীল সুলাইমান ইবন আলীর দূতের সামনে কিছু শুকনো রুটি বের করলেন এবং বললেন: "আমার কাছে এটি ছাড়া আর কিছুই নেই। আর যতক্ষণ আমি এটি পাচ্ছি, ততক্ষণ সুলাইমানের প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই।" তখন দূত বললেন: "তবে আমি আপনার পক্ষ থেকে তাকে কী জানাব?" তখন তিনি বলতে শুরু করলেন:

সুলাইমানকে জানিয়ে দাও যে, আমি তোমার থেকে সচ্ছলতায় আছি … এবং আমি অভাবমুক্ত, যদিও আমি কোনো সম্পদের মালিক নই

আমার প্রাণ এই চিন্তায় সস্থি পেয়েছে যে, আমি কাউকে দেখিনি … যে ক্ষুধায় মারা যায়, আর কোনো অবস্থাই চিরস্থায়ী নয়

খলীল আদব বা শিষ্টাচার বিষয়ে দুই-তিন চরণের কবিতা বলতেন, যেমনটি তার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে:

আমি যা বলছি তা যদি তুমি বুঝতে তবে আমাকে ক্ষমা করতে … অথবা তুমি যা বলছ তা যদি আমি না জানতাম তবে তোমাকে ভর্ৎসনা করতাম

কিন্তু তুমি আমার কথা বুঝতে পারোনি বিধায় আমাকে ভর্ৎসনা করেছ … আর আমি জেনেছি যে তুমি অজ্ঞ, তাই তোমাকে ক্ষমা করেছি

এবং বৈরাগ্য (জুহদ) বিষয়ে তার সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে:

তোমার আগেও চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসা করেছেন … অতঃপর রোগী বেঁচে গিয়েছে কিন্তু চিকিৎসক মারা গিয়েছেন

তাই মৃত্যুর আহ্বায়কের জন্য প্রস্তুত থাকো … কেননা যা আগত তা অতি নিকটে

খলীল ছিলেন সিবওয়াইহ-এর উস্তাদ এবং সিবওয়াইহ-এর কিতাবের অধিকাংশ বর্ণনা খলীল থেকে গৃহীত। সিবওয়াইহ যখনই বলেন: "আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছি" অথবা বক্তার নাম উল্লেখ না করে বলেন "তিনি বলেছেন", তবে তিনি হলেন খলীল।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وممن أخذ عن أبي عمرو بن العلاء أبو محمد يحيى بن المبارك اليزيدي نسب إلى يزيد بن منصور خال المهدي لصحبته إياه وليس هو في النحو من طبقة الخليل ولا من طبقة سيبويه والأخفش وتأخر موته وكان مؤدب المأمون والكسائي مؤدب أخيه محمد الأمين وبينه وبين الكسائي مقارضة بسبب تأديبهما الأخوين. وله قصيدة يمدح نحويي البصرة ويهجو الكسائي وأصحابه. منها:

يا طالبَ النحو ألا فابكهِ … بعد أبي عمرو وحماد

وابن أبي إسحاق في علمه … والزين في المشهد والنادي

عيسى وأشباه لعيسى وهل … يأتي لهم دهرٌ بأنداد

هيهات إلا قائلاً عنهم … أرسوا له الأصل بأوتاد

فهو بمنهاجهم سالك … لفضلهم ليس بجحاد

ويونس النحوي لا تنسه … ولا خليلاً حية الوادي

وقل لمن يطلب علماً ألا … نادٍ بأعلى شرفٍ ناد
যারা আবু আমর ইবনুল আলা-এর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনুল মুবারক আল-ইয়াযিদী অন্যতম। মাহদীর মামা ইয়াযীদ ইবনে মানসূরের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহচর্যের কারণে তাঁকে তাঁর সাথে সম্বন্ধিত করা হয়। নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তিনি খলীল, সিবওয়াইহ কিংবা আখফাশের সমপর্যায়ের ছিলেন না। তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে হয়েছিল এবং তিনি আল-মামুনের শিক্ষক ছিলেন, আর আল-কিসাঈ ছিলেন তাঁর ভাই মুহাম্মদ আল-আমীনের শিক্ষক। দুই ভাইকে শিক্ষা দেওয়ার কারণে তাঁর এবং আল-কিসাঈর মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ ও বাগবিতণ্ডা বিদ্যমান ছিল। তাঁর একটি কাসিদা রয়েছে যাতে তিনি বসরার নাহুবিদদের প্রশংসা করেছেন এবং আল-কিসাঈ ও তাঁর সঙ্গীদের নিন্দা করেছেন। এর অংশবিশেষ হলো:

হে নাহু অন্বেষণকারী! শোনো, তুমি কি এর বিয়োগে রোদন করবে না? … আবু আমর ও হাম্মাদের পরে

এবং ইবনে আবি ইসহাক তাঁর ইলমের কারণে … আর যিনি মজলিস ও সভায় সৌন্দর্যস্বরূপ

ঈসা এবং ঈসার ন্যায় ব্যক্তিবর্গ—আর কাল কি … তাদের জন্য কোনো সমকক্ষ নিয়ে আসতে পারবে?

অসম্ভব! কেবল তাদের সম্পর্কে বলা যায় যে, … তারা এর মূলকে পেরেকের মতো সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত করেছেন

ফলে তিনি তাদের পথেই বিচরণশীল … তাদের শ্রেষ্ঠত্বের তিনি অস্বীকারকারী নন

আর ইউনুস নাহবীকে বিস্মৃত হয়ো না … এবং উপত্যকার সিংহ খলীলকেও ভুলে যেও না

আর জ্ঞান অন্বেষণকারীকে বলো—শোনো, … সর্বোচ্চ মর্যাদার উচ্চশিখর থেকে তুমি উচ্চৈঃস্বরে আহ্বান করো
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
يا ضيعة النحو به مغربٌ … عنقاء أودت ذات اصعاد

أفسده قومٌ وأزروا به … من بين أغتامٍ وأوغاد

ذوى مراء وذوى لكنةٍ … لئام آباد وأجدادِ

؟ لهم قياس أحدثوه هم قياس سوء غير منقاد

فهم من النحو ولو عمروا … أعمار عادٍ في أبي جاد

أما الكسائي فذاك امرؤ … في النحو حارٍ غير مراد

وهو لمن يأتيه جهلاً به … مثل سراب البيد للصاد

وحماد الذي ذكره في النحويين فيما أظن هو حماد بن سلمة لأني لا أعلم في البصريين من ذكر عنه شيء من النحو واسمه حماد إلا حماد بن سلمة. من ذلك ما حدثنا أبو مزاحم موسى بن عبيد الله قال حدثنا عبد الله بن أبي سعد الوراق قال حدثني مسعود بن عمرو
হে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের দুর্ভাগ্য! এতে রয়েছে এক পশ্চিমী … যেন এক ফিনিক্স পাখি যা উঁচুতে উঠে বিলীন হয়ে গেছে।

একদল লোক একে কলুষিত করেছে এবং এর মানহানি করেছে … যারা অস্পষ্টভাষী ও নীচদের অন্তর্ভুক্ত।

তারা ছিল বিতণ্ডাকারী ও জড়ভাষী … যাদের বংশ ও পূর্বপুরুষগণ ছিল নিকৃষ্ট।

তাদের রয়েছে এক স্বরচিত কিয়াস (নীতি), যা এক মন্দ ও নিয়মবহির্ভূত কিয়াস।

তারা নাহু শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এমনই থাকবে, যদিও তারা বর্ণমালার চর্চায় … আদ জাতির ন্যায় দীর্ঘ জীবন লাভ করে।

আর কিসায়ীর কথা বললে, সে এমন এক ব্যক্তি … যে নাহু শাস্ত্রে বিভ্রান্ত এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে অক্ষম।

যে ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত তার নিকট আসে, তার কাছে সে … তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির জন্য মরুভূমির মরিচিকার ন্যায়।

আর ব্যাকরণবিদদের মধ্যে তিনি যে হাম্মাদের কথা উল্লেখ করেছেন, আমার ধারণা অনুযায়ী তিনি হলেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। কারণ বসরার অধিবাসীদের মধ্যে হাম্মাদ নামে এমন কাউকে আমি জানি না যার নিকট থেকে ব্যাকরণ শাস্ত্রের কিছু বর্ণিত হয়েছে, হাম্মাদ বিন সালামাহ ব্যতীত। এরই প্রেক্ষিতে আবু মুযাহিম মুসা ইবনে উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সাদ আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে মাসউদ ইবনে আমর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال حدثنا علي بن حميد الذارع قال سمعت حماد بن سلمة يقول: من لحن في حديثي فقد كذب علي. قال أبو مزاحم وحدثنا ابن أبي سعد قال حدثني مسعود بن عمرو قال حدثني ابن سلام قلت ليونس: أيما أسن أنت أو حماد بن سلمة؟ قال: هو أسن مني ومنه تعلمت العربية. قال: وحدثني مسعود بن عمر وقال حدثني أبو عمر النحوي صالح بن إسحاق الجرمي قال: ما رأيت فقيهاً قط أفصح من عبد الوارث وكان حماد بن سلمة أفصح منه. وذكر نصر بن علي قال كان سيبويه يستملي على حماد فقال حماد يوماً قال رسول الله صلى الله عليه: ما أحد من أصحابي إلا وقد أخذت عليه ليس أبا الدرداء. فقال سيبويه: ليس أبو الدرداء: فقال حماد: لحنت يا سيبويه. فقال سيبويه لا جرم لأطلبن علماً لا تلحنني فيه أبداً. فطلب النحو ولزم الخليل. ولا أظن اليزيدي عني حماداً الراوية وإن كان مشهوراً برواية الشعر والأخبار لأنه من أهل الكوفة وإنما قصد اليزيدي تفضيل أهل البصرة على أنا لا نعرف لحماد الراوية شيئاً في النحو.

قال أبو سعيد ثم وجدت بخط أبي أحمد الجريري عن أبي العباس أحمد بن يحيى ثعلب عن محمد بن سلام في ترتيب النحويين
তিনি বলেন, আমাদের নিকট আলি ইবনে হুমাইদ আদ-জারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার হাদিস বর্ণনায় ব্যাকরণগত ভুল করল, সে যেন আমার নামে মিথ্যা বলল।" আবু মুজাহিম বলেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি সা'দ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মাসউদ ইবনে আমর আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, ইবনে সাল্লাম আমাকে বলেছেন, আমি ইউনুসকে বললাম: বয়সে আপনি বড় নাকি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ? তিনি বললেন: তিনি আমার চেয়ে বয়সে বড় এবং তাঁর নিকট থেকেই আমি আরবি ভাষা শিখেছি। তিনি বলেন: মাসউদ ইবনে আমর আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন, আবু আমর আন-নাহবি সালিহ ইবনে ইসহাক আল-জারমি আমাকে বলেছেন: আমি আব্দুল ওয়ারিসের চেয়ে অধিক শুদ্ধভাষী ও সাবলীল কোনো ফকিহ কখনো দেখিনি, অথচ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ তাঁর চেয়েও অধিক শুদ্ধভাষী ছিলেন। নাসর ইবনে আলি উল্লেখ করেছেন যে, সিবওয়াইহ হাম্মাদের নিকট শ্রুতিলিপি গ্রহণ করতেন। একদিন হাম্মাদ বললেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবিদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার কোনো ভুল আমি ধরিনি, কেবল আবু আদ-দারদা ব্যতীত।" তখন সিবওয়াইহ (ভুল ব্যাকরণ প্রয়োগ করে) বললেন: "কেবল আবু আদ-দারদা ব্যতীত (পেশ যোগে)।" হাম্মাদ বললেন: হে সিবওয়াইহ, তুমি ব্যাকরণগত ভুল করেছ। সিবওয়াইহ বললেন: অবশ্যই আমি এমন এক জ্ঞান অন্বেষণ করব যেখানে আপনি আর কখনো আমার ব্যাকরণগত ভুল ধরতে পারবেন না। অতঃপর তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্র অন্বেষণ শুরু করলেন এবং খলিল ইবনে আহমাদের সান্নিধ্যে থাকলেন। আর আমি মনে করি না যে আল-ইয়াজিদি এখানে হাম্মাদ আর-রাবিয়াহকে বুঝিয়েছেন, যদিও তিনি কবিতা ও ইতিহাস বর্ণনার জন্য সুপরিচিত ছিলেন; কারণ তিনি ছিলেন কুফাবাসী, আর আল-ইয়াজিদি কেবল বসরাবাসীদের শ্রেষ্ঠত্ব দিতে চেয়েছেন। এছাড়া আমরা ব্যাকরণশাস্ত্রে হাম্মাদ আর-রাবিয়াহর কোনো পারদর্শিতা সম্পর্কে জানি না।

আবু সাঈদ বলেন, অতঃপর আমি আবু আহমাদ আল-জারিরির হস্তলিপিতে আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ছা'লাবের সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে সাল্লাম থেকে ব্যাকরণবিদদের ক্রমধারা সম্পর্কে একটি বর্ণনা পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
من البصريين حماد بن الزبرقان وكان يونس يفضله.

وقال اليزيد في الكسائي وأصحابه.

كنا نقيس النحو فيما مضى … على لسان العرب الأول

فجاءنا قوم يقيسونه … على لغى أشياخ قطربل

فكلهم يعمل في نقص ما … به يصاب الحق لا يأتل

إن الكسائي وأشياعه … يرقون في النحو إلى أسفل

ثم إن اليزيدي رثى الكسائي ومحمد بن الحسن الفقيه صاحب أبي حنيفة وكانا قد خرجا مع الرشيد إلى خراسان فماتا في الطريق فقال:

تضرمت الدنيا فليس خلود … وما قاضي القضاة ترى من بهجة سيبيد

لكل امرئ منا من الموت منهلٌ … وليس له إلا عليه ورود

ألم تر شيئاً شاملاً ينذر البلى … وإن الشباب الغض ليس يعود

سيأتيك ما أفنى القرون التي خلت … فكن مستعداً فالفناء عتيد

أسيت على قاضي القضاة محمد … فأذريت دمعي والفؤاد عميد

وقلت إذا ما الخطب أشكل من لنا … بإيضاحه يوماً وأنت فقيد
বসরাবাসীদের মধ্যে ছিলেন হাম্মাদ ইবনে আল-জাবারকান এবং ইউনুস তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন।

এবং আল-ইয়াজিদি আল-কিসায়ি ও তার সাথীদের সম্পর্কে বলেছেন:

আমরা অতীতে নাহু (ব্যাকরণ) পরিমাপ করতাম ... আদি আরবদের ভাষার ভিত্তিতে

অতঃপর আমাদের নিকট এমন এক সম্প্রদায় এল যারা একে পরিমাপ করে ... কুতরাব্বুলের বৃদ্ধদের ভাষার ভিত্তিতে

তারা সকলেই এমন ত্রুটিপূর্ণ কাজ করে ... যার মাধ্যমে সত্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তারা কোনো ত্রুটি করতে ছাড়ে না

নিশ্চয়ই আল-কিসায়ি এবং তার অনুসারীরা ... নাহু শাস্ত্রের ক্ষেত্রে নিচের দিকে আরোহণ করছে

অতঃপর আল-ইয়াজিদি আল-কিসায়ি এবং আবু হানিফার সঙ্গী ফকিহ মুহাম্মদ ইবনুল হাসান-এর মৃত্যুতে শোকগাঁথা রচনা করেন। তারা হারুনুর রশিদের সাথে খোরাসানের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন এবং পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন:

দুনিয়া প্রজ্জ্বলিত হয়েছে, এখানে কোনো অমরত্ব নেই ... আর প্রধান বিচারপতি, তুমি যে জৌলুস দেখছ তা ধ্বংস হয়ে যাবে

আমাদের প্রত্যেকের জন্য মৃত্যুর একটি ঘাট রয়েছে ... এবং সেখানে উপনীত হওয়া ছাড়া কারো কোনো উপায় নেই

তুমি কি এমন কোনো সর্বব্যাপী বিষয় দেখনি যা বিনাশের বার্তা দেয়? ... আর নিশ্চয়ই প্রফুল্ল যৌবন আর ফিরে আসে না

তোমার নিকট তাই আসবে যা গত হওয়া প্রজন্মগুলোকে ধ্বংস করেছে ... সুতরাং প্রস্তুত থাকো, কেননা বিনাশ সুনিশ্চিত

আমি প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদের জন্য ব্যথিত হয়েছি ... তাই অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছি এবং হৃদয় শোকাতুর

আমি বললাম, যখন কোনো বিষয় জটিল হয়ে পড়বে, তখন কে আমাদের জন্য ... তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করবে যখন তুমি অনুপস্থিত।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأقلقني موت الكسائي بعده … وكادت بي الأرض الفضاء تميد

فأذهلني عن كل عيش ولذةٍ … وأرق عيني والعيون هجود

هما عالمانا أوديا وتخرما … وما لهما في العالمين نديد

فحزني أن تخطر على القلب خطرةٌ … بذكرهما حتى الممات جديد

وكان أبو محمد اليزيدي الغاية في قراءة أبي عمرو وبروايته يقرأ أصحابه وكان عدلياً معتزلياً فيما يزعم العدلية ويروون أبياتاً يخاطب بها المأمون وهي:

يا أيها الملك الموحد ربه … قاضيك بشر بن الوليد حمار

ينفي شهادة من يدين بما به … نطق الكتاب وجاءت الآثار

ويعد عدلاً من يقول برأيه … شيخٌ تحيط بجمه الأقدار

عند المريسي اليقين بربه … لو لم يشب توحيده إجبار

لكن من جمع المحاسن كلها … كهلٌ يقال لشيخه مردار

هو عيسى بن صبيح وكان يعرف بأبي موسى بن المردار وكان من الزهاد.
তার পর কিসায়ীর মৃত্যু আমাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে … আর বিশাল পৃথিবী যেন আমার সাথে দুলতে শুরু করেছে।

এটি আমাকে যাবতীয় জীবন ও স্বাদ থেকে বিমুখ করেছে … এবং আমার চোখকে বিনিদ্র করেছে যখন অন্য সব চোখ ছিল ঘুমন্ত।

তাঁরা আমাদের এমন দুই পণ্ডিত ছিলেন যাঁরা বিদায় নিয়েছেন এবং গত হয়েছেন … আর বিশ্বজগতে তাঁদের কোনো সমকক্ষ নেই।

আমার দুঃখ এই যে, মৃত্যু অবধি তাঁদের স্মরণের প্রতিটি স্পন্দন … আমার হৃদয়ে সর্বদা নতুন হয়ে থাকবে।

আবু মুহাম্মদ আল-ইয়াজিদি আবু আমরের কিরাআতের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রামাণ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর ছাত্ররা তাঁর রিওয়ায়াত অনুসারেই কিরাআত পাঠ করতেন। আদলিয়াদের দাবি অনুযায়ী তিনি একজন আদলি মুতাজিলি ছিলেন এবং তাঁরা এমন কিছু কবিতা বর্ণনা করেন যা তিনি আল-মামুনকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, সেগুলো হলো:

হে একত্ববাদী বাদশাহ যিনি তাঁর রবের তাওহিদ ঘোষণা করেন … আপনার বিচারক বিশর ইবনে আল-ওয়ালিদ একটি গাধা।

তিনি সেই ব্যক্তির সাক্ষ্য নাকচ করে দেন যে তা-ই বিশ্বাস করে যা … কিতাবে বর্ণিত হয়েছে এবং আসার বা ঐতিহ্যে এসেছে।

আর তিনি তাকেই ন্যায়পরায়ণ মনে করেন যে কেবল নিজের রায়ের ভিত্তিতে কথা বলে … সে এমন এক বৃদ্ধ যাকে তার তাকদিরসমূহ পরিবেষ্টন করে আছে।

আল-মুরীসীর কাছে তাঁর রব সম্পর্কে এক সুনিশ্চিত বিশ্বাস ছিল … যদি না তাঁর তাওহিদের সাথে 'জবর' বা বাধ্যবাধকতার সংমিশ্রণ ঘটত।

তবে যিনি সমস্ত মহৎ গুণের আধার … তিনি হলেন একজন প্রৌঢ় ব্যক্তি যাঁর উস্তাদকে মুরদার বলা হয়।

তিনি হলেন ঈসা ইবনে সাবিহ এবং তিনি আবু মুসা ইবনে আল-মুরদার নামে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত পরহেজগার বা যুহদ অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আখবারুন নাহউইয়্যিনাল বাসরিইয়্যিন - আস-সিরাফী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وأما سيبويه ويكنى أبا بشر واسمه عمرو بن عثمان بن قنبر مولى بني الحارث بن كعب بن عمرو بن علة بن خالد بن مالك بن أدد. وسيبويه بالفارسية رائحة التفاح وأخذ النحو عن الخليل وهو أستاذه وعن يونس وعيسى بن عمر وغيرهم وأخذ أيضاً اللغات عن أبي الخطاب الأخفش وغيره وعمل كتابه الذي لم يسبقه إلى مثله أحد قبله ولم يلحق به من بعده.

وقال محمد بن يزيد أبو العباس المبرد قال يونس بن حبيب وقد ذكر عنده سيبويه: أظن هذا الغلام يكذب على الخليل. فقيل له: قد روى عنك أشياء فانظر فيها فنظر فقال: صدق في جميع ما قال هو قولي.

ومات سيبويه قبل جماعة قد كان أخذ عنهم كيونس وغيره وقد كان يونس مات في سنة ثلاث وثمانين ومائة. وذكر أبو زيد النحوي اللغوي كالمفتخر بذلك بعد موت سيبويه قال: كل ما قال سيبويه وأخبرني الثقة فأنا أخبرته. ومات أبو زيد بعد سيبويه بنيف وثلاثين سنة ويقال أنه نجم من أصحاب الخليل أربعة عمرو بن عثمان سيبويه والنضر
আর সিবওয়াইহ, যাঁর উপনাম ছিল আবু বিশর এবং নাম আমর ইবনে উসমান ইবনে কানবার; তিনি ছিলেন বনু হারিস ইবনে কাব ইবনে আমর ইবনে ইল্লা ইবনে খালিদ ইবনে মালিক ইবনে আদাদ-এর মুক্তদাস। ফারসি ভাষায় সিবওয়াইহ শব্দের অর্থ হলো আপেলের সুবাস। তিনি তাঁর উস্তাদ খলীল, ইউনুস, ঈসা ইবনে উমর ও অন্যদের নিকট থেকে নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। এছাড়া তিনি আবুল খাত্তাব আল-আখফাশ ও অন্যদের নিকট থেকেও ভাষাতত্ত্ব শিক্ষা করেন এবং তিনি তাঁর সেই কিতাবটি রচনা করেন যার অনুরূপ কোনো গ্রন্থ তাঁর পূর্বে কেউ রচনা করতে পারেনি এবং তাঁর পরবর্তীকালে কেউ সেটির সমকক্ষ হতে পারেনি।

মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযিদ আবু আব্বাস আল-মুবররিদ বলেন যে, ইউনুস ইবনে হাবীবের নিকট সিবওয়াইহ-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলে তিনি বলেছিলেন: "আমার ধারণা এই যুবক খলীলের নামে মিথ্যা বলছে।" তখন তাঁকে বলা হলো: "তিনি আপনার থেকেও কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন, আপনি সেগুলো যাচাই করে দেখুন।" অতঃপর তিনি সেগুলো দেখলেন এবং বললেন: "তিনি যা কিছু বলেছেন সবই সত্য, তা আমারই বক্তব্য।"

সিবওয়াইহ এমন একদল ব্যক্তিবর্গের পূর্বেই ইন্তেকাল করেন যাদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, যেমন ইউনুস ও অন্যান্য। ইউনুস ১৮৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। নাহুবিদ ও ভাষাবিদ আবু যায়েদ সিবওয়াইহ-এর মৃত্যুর পর এ নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলতেন: "সিবওয়াইহ যা কিছু বলেছেন যে 'আমাকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি জানিয়েছেন', মূলত আমিই তাঁকে তা জানিয়েছিলাম।" আবু যায়েদ সিবওয়াইহ-এর ইন্তেকালের ত্রিশ বছরেরও কিছুকাল পরে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, খলীলের ছাত্রদের মধ্যে চারজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন: আমর ইবনে উসমান সিবওয়াইহ এবং নযর...