(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: -)
إخبار العلماء بأخبار الحكماء القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: إخبار العلماء بأخبار الحكماء
المؤلف: جمال الدين أبو الحسن علي بن يوسف بن إبراهيم الشيباني القفطي (ت 646 هـ)
المحقق: إبراهيم شمس الدين
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى 1426 هـ - 2005 م
عدد الصفحات: 324
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
প্রাজ্ঞদের সংবাদ সম্পর্কে পণ্ডিতদের অবহিতকরণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
গ্রন্থ: প্রাজ্ঞদের সংবাদ সম্পর্কে পণ্ডিতদের অবহিতকরণ
লেখক: জামাল উদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে ইব্রাহিম আশ-শায়বানি আল-কিফতি (মৃ. ৬৪৬ হি.)
সম্পাদক: ইব্রাহিম শামস উদ্দিন
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৬ হি. - ২০০৫ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[إخبار العلماء بأخبار الحكماء]ـ
المؤلف: جمال الدين أبو الحسن علي بن يوسف القفطي (المتوفى: 646 هـ)
المحقق: إبراهيم شمس الدين
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى 1426 هـ - 2005 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[প্রাজ্ঞজনদের সংবাদ সম্পর্কে আলেমদের বর্ণনা]
লেখক: জামালুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন ইউসুফ আল-কিফতি (মৃত্যু: ৬৪৬ হিজরি)
সম্পাদক: ইব্রাহিম শামসুদ্দিন
প্রকাশনী: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله خالق الكل وعالم مَا قلّ وجلّ وواهب العدل. وباعث مخلوقاته يوم الفصل. وصلى الله عَلَى أنبيائه الأكرمين. وأخص بصلاته وتحيته نبيه محمد الَّذِي شفعه يوم الدين اختلف علماء الأمم فِي أول من تكلم فِي الحكمة وأركانها من الرياضة والمنطق والطبيعي والإلهي فكل فرقة ذكرت الأول عندها وَلَيْسَ ذَلِكَ عَلَى إدريس النبي صلى الله عليه وسلم وكلّ الأوائل المذكورة عند العالم نوعاً هم من تلاميذه أَوْ تلاميذ تلاميذه الأقرب فالأقرب وَقَدْ عزمت بتأييد الله عَلَى ذكر من اشتهر من الحكماء من كل قبيلة وأمة قديمها وحديثها إِلَى زماني وَمَا حفظ عنه من قول انفرد بِهِ أَوْ كتاب صنفه أَوْ حكمة علية ابتدعها ونسبت إِلَيْهِ فإني رأيت ذَلِكَ من الأمور الَّتِي جهلت والتواريخ الَّتِي هجرت وَفِي مطالعة هَذَا اعتبار بمن مضى وذكر من خلف وهو اعتبار أرجو بِهِ الثواب لي ولقارئه إِن شاء الله تعالى وَقَدْ قفيته ليسهل تناوله والله الموفق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সবকিছুর স্রষ্টা, ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সবকিছুর পরিজ্ঞাতা এবং ইনসাফ দাতা; এবং ফয়সালার দিনে স্বীয় সৃষ্টিজগতকে পুনরুত্থানকারী। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত নবীগণের ওপর। বিশেষভাবে তাঁর রহমত ও অভিবাদন বর্ষিত হোক তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাকে তিনি বিচার দিবসে সুপারিশকারী করবেন। প্রজ্ঞা (হিকমাহ) এবং গণিত, যুক্তিবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা ও ইলাহিয়াত (ধর্মতত্ত্ব)-এর মতো এর স্তম্ভগুলো সম্পর্কে সর্বপ্রথম কে কথা বলেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন জাতির আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রত্যেক দল তাদের নিজেদের দৃষ্টিতে প্রথম ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে, তবে তা নবী ইদরিস (আলাইহিস সালাম)-এর ঊর্ধ্বে নয়। আর বিশ্বে বিভিন্ন শাস্ত্রের প্রথম উদ্ভাবক হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়, তারা মূলত তাঁরই ছাত্র অথবা তাঁর ছাত্রদের ক্রমান্বয়ে নিকটবর্তী কোনো ছাত্র। আমি আল্লাহর সাহায্যে সংকল্প করেছি যে, প্রাচীনকাল থেকে আমার সময় পর্যন্ত প্রতিটি গোত্র ও জাতির মধ্যে প্রসিদ্ধ প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের (হাকিম) কথা উল্লেখ করব এবং তাদের থেকে সংরক্ষিত সেই সব বাণী যা তারা এককভাবে বলেছেন, অথবা যে কিতাব তারা সংকলন করেছেন, কিংবা যে উচ্চাঙ্গের হিকমাহ তারা উদ্ভাবন করেছেন এবং যা তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। কারণ আমি দেখেছি যে, এটি এমন একটি বিষয় যা অজ্ঞাত রয়ে গেছে এবং এমন এক ইতিহাস যা পরিত্যক্ত হয়েছে। এটি অধ্যয়নের মাধ্যমে অতীতদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং পরবর্তীদের স্মৃতিচারণ করা যাবে; এটি এমন এক শিক্ষা যার মাধ্যমে আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা আমার নিজের এবং এর পাঠকের জন্য সওয়াবের আশা করি। আমি এটিকে ক্রমানুসারে সাজিয়েছি যাতে এটি আয়ত্ত করা সহজ হয়। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٨)
حرف الهمزة فِي أسماء الحكماءإدريس النبي صلى الله عليه وسلم. قَدْ ذكر أهل التواريخ والقصص وأهل التفسير من أخباره مَا أنا فِي غنى من إعادته وأنا ذاكر مَا قاله الحكماء خاصة اختلف الحكماء فِي مولده ومنشئه وهمن أخذ العلم قبل النبوة فقالت فرقة ولد بمصر وسموه هرمس الهرامسة ومولده بمنف وقالوا هو باليونانية أرميس وعرب بهرمس ومعنى أرميس عطارد وقال آخرون اسمه باليونانية طرميس وهو عند العبرانيين اسمه خنوخ وعرب أخنوخ وسماه الله عز وجل فِي كتابه العربي المبين أدونيس وقال هؤلاء ام معلمه اسمه الغوثاذيمون وقيل وقيل اغثاذيمون المصري وَلَمْ يذكروا من كَانَ هَذَا الرجل إِلَاّ أنهم قالوا أنه كَانَ أحد الأنبياء اليونانيين والمصريين وسموه أيضاً أورين الثاني وإدريس عندهم أورين الثالث وتفسير غوثاذيموس السعيد الجد وقالوا خرج هرمس من مصر وجاب الأرض كلها ثُمَّ عاد إِلَيْهَا ورفعه الله إِلَيْهِ بِهَا وذلك بعد اثنين وثمانين سنة من عمره وقالت فحرقة أخرى أن إدريس ولد ببابل ونشأ وأنه أخذ فِي أول عمره بعلم شيث بن آدم وهو جد جد أبيه لإدريس بن يارد بن مهلائيل بن قينان بن أنوش قال الشهرستاني أن أغثاذيمون هو شيث ولما كبر إدريس آتاه الله النبوة فنهى المفسدين من بني آدم عن مخالفتهم شريعة آدم وشيث فأطاعه أقلهم وخالفهم جلهم تنوي الرحلة عنهم وأمر من أطاعه منهم بذلك الثقل عليهم الرحيل عن أَوْطانهم فقالوا لَهُ وأين نجد إِذَا رحلنا مثل بابل وبابل بالسريانية النهر وكأنهم عنوا بذلك دجلة والفرات فقال إِذَا هاجرنا لله رزقنا غيره فخرج وخرجوا وساروا إِلَى أن وافوا هَذَا الإقليم الَّذِي سمي بابليون فرأوا النيل وراؤه وادياً خالياً من ساكن فوقف إدريس عَلَى النيل
প্রজ্ঞাবানদের নামের তালিকায় হামযা বর্ণনবী ইদরীস (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ইতিহাসবিদগণ, কাহিনীকারগণ এবং তাফসীরবিদগণ তাঁর সংবাদসমূহ থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা আমি বোধ করছি না। আমি বিশেষভাবে কেবল প্রজ্ঞাবানগণ তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন তা উল্লেখ করব। প্রজ্ঞাবানগণ তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং নবুয়তের পূর্বে তিনি কার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন, সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। একদল বলেছেন যে, তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তারা তাঁকে ‘হারামিসার হারমিস’ নামে অভিহিত করেছেন; তাঁর জন্মস্থান ছিল মানফ। তারা বলেন, গ্রিক ভাষায় তাঁর নাম আরমিস এবং একে আরবীতে হারমিস করা হয়েছে; আরমিস শব্দের অর্থ হলো বুধ। অন্যরা বলেন, গ্রিক ভাষায় তাঁর নাম তরমিদ এবং হিব্রুভাষীদের নিকট তাঁর নাম খানুখ, যা আরবীতে আখনুখ করা হয়েছে; আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর সুস্পষ্ট আরবী কিতাবে তাঁকে আদনিস হিসেবে নামকরণ করেছেন। তারা আরও বলেন যে, তাঁর শিক্ষকের নাম গুসাদিমুন, আবার কেউ বলেন মিশরীয় অগাসাদিমুন। তারা এই ব্যক্তিটি কে ছিলেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বর্ণনা করেননি, কেবল এটুকুই বলেছেন যে তিনি গ্রিক ও মিশরীয় নবীদের অন্যতম ছিলেন। তারা তাঁকে ‘দ্বিতীয় অরিন’ নামেও ডাকতেন এবং তাঁদের নিকট ইদরীস হলেন ‘তৃতীয় অরিন’। গুসাদিমুস-এর অর্থ হলো সৌভাগ্যবান। তারা আরও বলেন যে, হারমিস মিশর থেকে বের হয়ে পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করেন এবং পুনরায় সেখানেই ফিরে আসেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে সেখানে তাঁর নিকট তুলে নেন, আর তা ছিল তাঁর জীবনের বিরাশি বছর পূর্ণ হওয়ার পর। অন্য এক দল বলেন যে, ইদরীস বাবেলে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হয়েছেন। জীবনের শুরুতে তিনি আদমের পুত্র শীষের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন। শীষ ছিলেন তাঁর প্রপিতামহের পিতা— অর্থাৎ ইদরীস ইবনে ইয়ারদ ইবনে মাহলাঈল ইবনে কানান ইবনে আনূশ। শাহরাস্তানি বলেন যে, অগাসাদিমুনই হলেন শীষ। ইদরীস যখন বয়ঃপ্রাপ্ত হলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে নবুয়ত দান করলেন। তিনি আদম সন্তানদের মধ্যকার ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের আদম ও শীষের শরিয়তের বিরোধিতা করতে নিষেধ করলেন। খুব সামান্য সংখ্যক লোক তাঁর আনুগত্য করল এবং অধিকাংশ মানুষই তাঁর বিরোধিতা করল। তখন তিনি তাদের ছেড়ে হিজরত করার সংকল্প করলেন। যারা তাঁর আনুগত্য করেছিল, তাদেরও তিনি হিজরতের নির্দেশ দিলেন, কিন্তু স্বদেশ ত্যাগ করা তাদের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো। তারা তাঁকে বলল, “আমরা যদি দেশত্যাগ করি, তবে বাবেলের মতো স্থান আর কোথায় পাব?” সুরইয়ানি ভাষায় বাবেল শব্দের অর্থ হলো নদী; সম্ভবত তারা এর দ্বারা দজলা ও ফোরাত নদীকে বুঝিয়েছিল। তিনি বললেন, “যদি আমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হিজরত করি, তবে তিনি আমাদের এর উত্তম বিকল্প দান করবেন।” অতঃপর তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বেরিয়ে পড়লেন এবং তারা এই অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছে গেলেন যাকে ‘বাবিলুন’ বলা হয়। তারা নীল নদ দেখতে পেলেন এবং এর ওপারে একটি জনমানবহীন উপত্যকা দেখতে পেলেন। অতঃপর ইদরীস নীল নদের তীরে যাত্রাবিরতি করলেন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٩)
وسبح الله وقال لجماعته بابليون واختلف فِي تفسيره فقيل نهر كبير وقيل نهر كنهركم وقيل نهر مبارك وقيل أن بون فِي السريانية مثل افعل الَّتِي للمبالغة فِي كلام العرب وكأن معناه نهراً كبر فسمى الإقليم عند جميع الأمم بابليون وسائر فرق الأمم عَلَى ذَلِكَ إِلَاّ العرب فأنهم يسمونه إقليم مصر نسبة إِلَى مصر بن حام النازل بِهِ بعد الطوفان والله أعلم بكل ذَلِكَ. وأقام إدريس ومن مع بمصر يدعو الخلائق إِلَى الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وطاعة الله عز وجل وتكلم الناس فِي أيامه باثنين وسبعين لساناً وعلمه الله عز وجل منطقهم ليعلم كل فرقة منهم بلسانهم ورسم لَهُ تمدين المدن وجمع لَهُ طالبي العلم بكل مدينة فعرفهم السياسة المدنية وفرو لهم قواعدهم فبنت كل فرقة من الأمم مدناً فِي أرضها وَكَانَتْ عدة المدن الَّتِي أنشأت فِي زمانه مائة مدينة وثماني وثمانين مدينة أسفرها الرها وعلمهم العلوم .. وهو أول من استخرج الحكمة وعلم النجوم فإن الله عز وجل أفهمه سر الفلك وتركيبه ونقطة اجتماع الكواكب فِيهِ وأفهمه عدد السنين والحساب ولولا ذَلِكَ لَمْ تصل الخواطر لاستقرائها إِلَى ذَلِكَ وأقام للأمم سنناً فِي كل إقليم تليق كل سنة بأهلها وقسم الأرض أربعة أرباع وجعل عَلَى كل ربع ملكاً بسوس أمر المعمور من ذَلِكَ الربع وتقدم إِلَى كل ملك بأن يلزم أهل كل ربع بشريعة سأذكر بعضها وأسماء الأربعة الملوك الذين ملكوا. الأول إيلاوس وتفسيره الرحيم. والثاني أوس. والثالث سقلبيوس والرابع أوس آمون وقيل أيلاوس أمون وقيل بَسيلوخَس وهو آمون الملك.
ذكر بعض مَا سنة لقومه المطيعين لَهُ. دعا إِلَى دين الله والقول بالتوحيد وعبادة الخالق وتخليص النفوس من العذاب فِي الآخرة بالعمل الصالح فِي الدنيا وحض عَلَى الزهد فِي الدنيا والعمل بالعدل وأمرهم بصلوات ذكرها لهم عَلَى صفات بينها وأمرهم بصيام أيام معروفة من كل شهر وحثهم عَلَى الجهاد لأعداء دينهم وأمرهم بزكاة الأموال معونة للضعفاء بِهَا وغلظ عليهم فِي الطهارة من الجناية وحرم عليهم لحم الحمار والكلب وحرم السكر من كل شيء من المشروبات وشدد فِيهِ أعظم
এবং তিনি আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করলেন এবং তাঁর কওমকে ‘ব্যাবিলন’ বললেন। এর ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে এটি একটি বিশাল নদী, আবার বলা হয়েছে এটি তোমাদের নদীর ন্যায় একটি নদী, কিংবা এটি একটি বরকতময় নদী। আরও বলা হয়েছে যে, সুরয়ানি ভাষায় ‘বুন’ শব্দটি আরবির ‘আফ’আল’ (আধিক্যবোধক) ছাঁচের মতো, যার অর্থ দাঁড়ায় একটি অত্যন্ত বৃহৎ নদী। ফলে সমস্ত জাতির নিকট এই অঞ্চলটি ‘ব্যাবিলন’ নামে পরিচিতি পায়, কেবল আরবরা ছাড়া; তারা একে ‘মিসর অঞ্চল’ বলে অভিহিত করে, যা মহাপ্লাবনের পর সেখানে বসতি স্থাপনকারী হামের পুত্র মিসরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর আল্লাহই এসব বিষয়ে সম্যক অবগত। ইদ্রিস এবং তাঁর সঙ্গীরা মিসরে অবস্থান করলেন এবং সৃষ্টিজগতকে সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ ও মহান আল্লাহর আনুগত্যের দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন। তাঁর সময়ে মানুষ বাহাত্তরটি ভাষায় কথা বলত এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাদের সকলের ভাষা শিক্ষা দিয়েছিলেন যাতে তিনি প্রত্যেক দলকে তাদের নিজ নিজ ভাষায় শিক্ষা দিতে পারেন। তাঁর জন্য শহর বিনির্মাণের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং তিনি প্রতিটি শহরে জ্ঞানান্বেষীদের একত্রিত করেছিলেন। তিনি তাদের নাগরিক রাজনীতি শিক্ষা দেন এবং তাদের জন্য নিয়ম-নীতি নির্ধারণ করে দেন। ফলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ ভূমিতে শহর গড়ে তোলে। তাঁর সময়ে প্রতিষ্ঠিত শহরের সংখ্যা ছিল একশ আটাশিটি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘রুহা’। তিনি তাদের বিভিন্ন বিজ্ঞান শিক্ষা দেন। তিনিই সর্বপ্রথম হিকমত বা প্রজ্ঞা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান উদ্ভাবন করেন; কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁকে মহাকাশ ও এর গঠন এবং সেখানে গ্রহসমূহের মিলনস্থলের রহস্য বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে বর্ষগণনা ও গণিত শাস্ত্রের জ্ঞান দান করেন। যদি তা না হতো, তবে মানুষের চিন্তা ও গবেষণা কখনোই এ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারত না। তিনি প্রতিটি অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীর জন্য এমন সব নিয়ম ও বিধান প্রবর্তন করেন যা তাদের জন্য উপযোগী ছিল। তিনি পৃথিবীকে চার ভাগে বিভক্ত করেন এবং প্রত্যেক ভাগের জন্য একজন করে রাজা নিযুক্ত করেন, যারা সেই ভাগের জনবসতিপূর্ণ এলাকা শাসন করতেন। তিনি প্রত্যেক রাজাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদের একটি বিশেষ শরীয়ত বা বিধান মেনে চলতে বাধ্য করেন, যার কিছু অংশ এবং শাসনকারী চারজন রাজার নাম আমি উল্লেখ করব। প্রথমজন হলেন ‘ইলাউস’, যার অর্থ দয়ালু। দ্বিতীয়জন ‘আউস’। তৃতীয়জন ‘সাকলাবিউস’ এবং চতুর্থজন ‘আউস আমুন’। কারো মতে ‘ইলাউস আমুন’, আবার কেউ বলেছেন ‘বাসিলুখাস’, যিনি আমুন রাজা নামে পরিচিত।
তাঁর অনুগত কওমের জন্য তিনি যেসব বিধান প্রবর্তন করেছিলেন তার কিছু বিবরণের উল্লেখ: তিনি আল্লাহর দ্বীন, তাওহিদের বাণী এবং স্রষ্টার ইবাদতের দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন। দুনিয়াতে নেক আমলের মাধ্যমে পরকালে আজাব থেকে আত্মাগুলোকে মুক্ত করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি দুনিয়াবিমুখতা ও ইনসাফ কায়েমের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন। তিনি তাদের এমন কিছু সালাতের আদেশ দেন যার পদ্ধতি তিনি বর্ণনা করেছিলেন। তিনি তাদের প্রতি মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে রোজা রাখার নির্দেশ দেন এবং তাদের দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার উৎসাহ দেন। তিনি দুর্বলদের সাহায্যের লক্ষ্যে সম্পদের জাকাত প্রদানের আদেশ প্রদান করেন। তিনি অপবিত্রতা (জানাবত) থেকে পবিত্র হওয়ার বিষয়ে তাদের ওপর কঠোর বিধান আরোপ করেন। তিনি তাদের জন্য গাধা ও কুকুরের মাংস হারাম করেন এবং সকল প্রকার পানীয় থেকে নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম ঘোষণা করেন এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
التشديد وجعل لهم أعياداً كثيرة فِي أوقات معروفة وقربانات منها لدخول الشمس رؤوس البروج ومنها لرؤية الهلال وكلما صارت الكواكب فِي بيوتها وشرفها وناظرت كواكب أخر.
ذكر مَا أمر بِهِ من القرابين .. أمر بتقريب ثلاثة أشياء البخور والذبائح والخمر وتقريب كل باكورة فمن الرياحين الورد ومن الحبوب الحنطة ومن الفواكه العنب ووعد أهل ملته بأنبياء يأتون من بعده عدة وعرفهم صفة النبي صلى الله عليه وسلم فقال يكون برياً من المذمات والآفات كلما كامل في الفضائل الممدوحات لا يقصر عن مسألة يسأل عنها مما فِي الأرض والسماء ومما فِيهِ دواء وشفاء من كل ألم وأن يكون مستجاب الدعوة فِي كل مَا يطلبه وأن يكون مذهبه ودعوته المذهب الَّذِي يصلح بِهِ العالم ولما ملك إدريس الأرض رقب الناس ثلاث طبقات كهنة وملوكاً ورعية وجعل مرتبة الكاهن فَوْقَ مرتبة الملك لأن الكاهن يسأل الله فِي نفسه وَفِي الملك وَفِي الرعية وَلَيْسَ للملك أن يسأل الله إِلَاّ فِي نفسه وَفِي ملكه وَفِي العرية وَمَا لَهُ أن يسأله فِي الكاهن أقرب إِلَى الله منه فقد نقصت منزلة الملك بهذا عن منزلة الكاهن وَلَيْسَ للرعية أن تسأل الله فِي شيء إِلَاّ فِي نفسها لأن الملك أجل منزلة عنها عند الله الَّذِي ملكه عَلَى الرعية فنقصوا بذلك مرتبة عن الملك ومرتبتين عن الكاهن فلز يزالوا عَلَى هَذِهِ القاعدة من الفعل فِي العبادة وآداب الأثمار بهذه الشريعة إِلَى أن رفع الله إدريس إِلَيْهِ وخلفه أصحابه عَلَى شريعته وَكَانَ أقوى الملوك عزماً من الأربعة اسقلبيوس فإنه اجتهد لحفظ الكلمة وقوانين الشريعة الإدريسية وحَزِن لرفه إدريس من بين أظهرهم وصورته فِي الهياكل وصورة رفعه وَكَانَ اسقلبيوس ملكاً فِي الجهة الَّتِي ملكها يونان بعد الطوفان فوجدوا صورة أدريس ورفعه وعلموا علو قدر إسقلبيوس وتدوينه الحكم لهم فِي الهياكل الَّتِي لَمْ يفسدها الطوفان فظنوا أن إسقلبيوس هو الَّذِي ارتفع إِلَى السماء وغلطوا فِي ذَلِكَ غلطاً بيناً لأنهم أخذوه بالحدس وسيأتي بعض ذَلِكَ فِي أخبار إسقلبيوس إِن شاء الله تعالى وشريعته يعني إدريس هي
কঠোরতা এবং তিনি তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়ে অনেক উৎসব ও উৎসর্গ নির্ধারণ করেছিলেন; যার মধ্যে ছিল সূর্যের বিভিন্ন রাশিতে প্রবেশকালীন উৎসব, নতুন চাঁদ দেখার উৎসব এবং যখনই গ্রহগুলো তাদের নিজ নিজ কক্ষে ও উচ্চস্থানে আসত এবং অন্য গ্রহের মুখোমুখি হতো।
তিনি যেসকল উৎসর্গের আদেশ দিয়েছিলেন তার বর্ণনা... তিনি তিনটি জিনিস উৎসর্গ করার আদেশ দেন: ধূপ, জবেহকৃত পশু ও শরাব এবং প্রতিটি জিনিসের প্রথম ফল বা অংশ উৎসর্গ করার। সুগন্ধি ফুলের মধ্যে গোলাপ, দানাদার শস্যের মধ্যে গম এবং ফলের মধ্যে আঙুর। তিনি তাঁর আদর্শের অনুসারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তাঁর পরে অনেক নবী আসবেন এবং তিনি তাঁদের কাছে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছিলেন যে, তিনি সকল প্রকার নিন্দনীয় গুণ ও ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকবেন, প্রশংসনীয় সকল গুণাবলিতে পরিপূর্ণ হবেন এবং আসমান ও জমিনের যেকোনো বিষয়ে কিংবা যেকোনো ব্যথার ঔষধ ও আরোগ্য সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি কোনো অপূর্ণতা রাখবেন না। তিনি যা কিছু প্রার্থনা করবেন তাতে তিনি হবেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ এবং তাঁর পথ ও দাওয়াত হবে এমন এক পথ যার মাধ্যমে বিশ্ব সংশোধিত হবে। ইদ্রিস যখন পৃথিবীর রাজত্ব লাভ করেন, তখন তিনি মানুষকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করেন: পুরোহিত, রাজা ও প্রজা। তিনি পুরোহিতের মর্যাদা রাজার মর্যাদার উপরে নির্ধারণ করেন; কারণ পুরোহিত নিজের জন্য, রাজার জন্য এবং প্রজাদের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। পক্ষান্তরে রাজার জন্য নিজের জন্য, তার রাজ্যের জন্য এবং প্রজাদের জন্য প্রার্থনা করার সুযোগ থাকলেও পুরোহিতের জন্য প্রার্থনা করার অধিকার ছিল না, কারণ পুরোহিত তার তুলনায় আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী ছিলেন। এর ফলে রাজার মর্যাদা পুরোহিতের মর্যাদার চেয়ে কমে গেল। আর প্রজাদের জন্য নিজের বিষয় ছাড়া আল্লাহর কাছে অন্য কিছু প্রার্থনা করার সুযোগ ছিল না; কারণ আল্লাহর কাছে রাজার মর্যাদা প্রজাদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল যেহেতু তিনি তাকে প্রজাদের ওপর রাজত্ব দান করেছিলেন। এভাবে তারা মর্যাদার দিক থেকে রাজার চেয়ে এক স্তর এবং পুরোহিতের চেয়ে দুই স্তর নিচে পড়ে গেল। তারা ইবাদতের এই নিয়ম এবং এই শরীয়তের ফলের শিষ্টাচারের ওপর অটল ছিল, যতক্ষণ না আল্লাহ ইদ্রিসকে তাঁর নিজের কাছে তুলে নিলেন এবং তাঁর সঙ্গীরা তাঁর শরীয়তের ওপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন। সেই চারজন রাজার মধ্যে আসকালিবিউস ছিলেন সবচেয়ে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ; তিনি ইদ্রিসী শরীয়তের বাণী ও আইনসমূহ সংরক্ষণে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে ইদ্রিসের উঠে যাওয়ার কারণে তিনি ব্যথিত হন এবং মন্দিরগুলোতে তাঁর প্রতিকৃতি ও তাঁর উপরে উঠে যাওয়ার দৃশ্য স্থাপন করেন। প্লাবনের পর ইউনান যে অঞ্চলে রাজত্ব করেছিলেন, আসকালিবিউস সেখানকার রাজা ছিলেন। পরবর্তীকালে লোকজন ইদ্রিসের প্রতিকৃতি ও তাঁর উপরে ওঠার দৃশ্য দেখতে পায় এবং তারা আসকালিবিউসের সুউচ্চ মর্যাদা ও মন্দিরগুলোতে (যা প্লাবনে ধ্বংস হয়নি) তাঁর প্রজ্ঞা সংকলনের কথা জানতে পারে। ফলে তারা ধারণা করে বসে যে, আসকালিবিউসই আকাশে উঠে গিয়েছেন এবং তারা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ভ্রান্তিতে পতিত হলো, কারণ তারা কেবল অনুমানের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ইনশাআল্লাহ তাআলা আসকালিবিউসের বৃত্তান্তে এর কিছু অংশ সামনে আসবে। আর তাঁর অর্থাৎ ইদ্রিসের শরীয়ত হলো...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١١)
الممكة الحقيقية وتعرف فِي ملة الصابئين بالقيمة وطبقة المعمور من الأرض وَكَانَتْ قبلته إِلَى حقيقة الجنوب عَلَى خط نصف النهار.
صورة هرمس الهرامسة وهو إدريس قيل أنه كَانَ عليه السلام رجل آدم تام القامة أجلح حسن الوجه كث اللحية مليح الشمائل والتخاطيط تام الباع عريض المنكبين ضخم العظام قليل اللحم براق العينين أكحلهما متأنياً فِي كلامه كثير الصمت ساكن الأعضاء إِذَا مشي أكثر نظره إِلَى الأرض كثير الفكرة بِهِ عبسة وإذا اغتلظ احتد يحرك سبابته إِذَا تكلم وكانت مدو مقامه فِي الأرض اثنين وثمانين سنة وَكَانَ عَلَى فص خاتمه الصبر مع الإيمان بالله يورث الظفر وَعَلَى المنطقة الَّتِي يلبسها فِي الأعياد حفظ الفروض والشريعة من تمام الدين وتمام الدين كمال المروءة وَعَلَى المنطقة الَّتِي يلبسها وقت الصلاة عَلَى الميت السعيد من نظر لنفسه وشفاعته عند ربه أعماله الصالحة وَكَانَتْ لَهُ مواعظ وآداب استخرجها كل فرقة بلسانها تجري مجرى الأمثال والرموز فاذكر بعضه إِن شاء الله تعالى فمن ذَلِكَ. قوله لن يستطيع أحد أن ينكر الله عَلَى نعمه بمثل الأنعام عَلَى خلقه. وقال من أراد بلوغ العلم وصالح العمل فليترك من يده أداة الجهل وسيئ العمل كما ترى الصانع الَّذِي يعرف الصنائع كلها إِذَا أراد الخياطة أخذ ألئها وترك النجارة فحب الدنيا وحب الآخرة لا يجتمعان فِي قلب أبدا. وقال خير الدنيا حسرة وشرها ندم. وقال إِذَا دعوتم الله سبحانه وتعالي فأخلصوا النية وكذا الصيام والصلاة فافعلوا. وقال لا تحلفوا كاذبين ولا تهجعوا عَلَى الله سبحانه وتعالى باليمين ولا خلفوا الكاذبين فتشاركوهم فِي الإثم. وقال تجنبوا المكاسب الدنيئة. وقال أطيعوا واخضعوا لأكابركم واملؤوا أفواهكم بحمد الله.
প্রকৃত রাজত্ব; যা সাবীয়ি মিল্লাতে 'কায়িমা' এবং পৃথিবীর জনপদগুলোর স্তর হিসেবে পরিচিত; এর কিবলা ছিল মধ্যাহ্ন রেখা বরাবর প্রকৃত দক্ষিণের দিকে।
হিরমিস আল-হারামিসা তথা ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম)-এর বর্ণনা। বর্ণিত আছে যে, তিনি ছিলেন বাদামী বর্ণের, সুঠাম গড়নের, প্রশস্ত ললাট ও সুন্দর চেহারার অধিকারী। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন, অবয়ব ও শারীরিক গঠন ছিল সুশ্রী। তাঁর বাহু ছিল দীর্ঘ, কাঁধ প্রশস্ত এবং হাড় ছিল মজবুত। তাঁর শরীরে মাংস ছিল কম এবং দুই চোখ ছিল উজ্জ্বল ও সুরমা মাখা। কথা বলার সময় তিনি ধীরস্থির থাকতেন, অধিকাংশ সময় নীরবতা পালন করতেন এবং চলাফেরার সময় তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শান্ত থাকত। হাঁটার সময় তিনি অধিকাংশ সময় জমিনের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তিনি অতিশয় চিন্তাশীল ছিলেন এবং তাঁর চেহারায় গাম্ভীর্য ছিল। রাগান্বিত হলে তিনি কঠোর হতেন এবং কথা বলার সময় তর্জনী আঙুল নাড়াতেন। পৃথিবীতে তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল বিরাশি বছর। তাঁর আংটির পাথরে খোদাই করা ছিল: ‘আল্লাহর প্রতি ঈমানের সাথে ধৈর্য ধারণ সাফল্য বয়ে আনে’। উৎসবের দিনগুলোতে তিনি যে কোমরবন্ধনী পরিধান করতেন তাতে লেখা ছিল: ‘ফরজসমূহ ও শরিয়তের হেফাজত করা পূর্ণ দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত; আর পূর্ণ দ্বীন হলো পূর্ণাঙ্গ মানবিকতা’। জানাজার নামাজের সময় তিনি যে কোমরবন্ধনী পরতেন তাতে লেখা ছিল: ‘সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে এবং তাঁর রবের কাছে তাঁর নেক আমলগুলোই তাঁর জন্য সুপারিশকারী’। তাঁর অনেক উপদেশ ও শিষ্টাচার ছিল যা প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব ভাষায় গ্রহণ করেছে এবং সেগুলো প্রবাদ ও প্রতীকের রূপ লাভ করেছে। মহান আল্লাহ চাইলে আমি তার কিছু অংশ উল্লেখ করছি। যেমন তাঁর এই উক্তি: ‘সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহ করার মতো অন্য কোনো উপায়ে কেউ আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে সক্ষম হবে না’। তিনি আরও বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন ও সৎ কর্ম করতে চায়, সে যেন তার হাত থেকে অজ্ঞতার সরঞ্জাম ও মন্দ কাজগুলো ত্যাগ করে। যেমন তুমি দেখ একজন কারিগর যে সব শিল্প সম্পর্কে জানে, সে যখন সেলাই করতে চায় তখন সেলাইয়ের সরঞ্জাম গ্রহণ করে এবং ছুতারের কাজ ছেড়ে দেয়। সুতরাং দুনিয়ার ভালোবাসা এবং আখিরাতের ভালোবাসা কখনো এক হৃদয়ে একত্রিত হতে পারে না’। তিনি আরও বলেছেন: ‘দুনিয়ার কল্যাণ হলো আক্ষেপ আর এর অকল্যাণ হলো অনুতাপ’। তিনি আরও বলেছেন: ‘তোমরা যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ডাকবে, তখন নিয়তকে বিশুদ্ধ করবে; রোজা ও নামাজের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করো’। তিনি আরও বলেছেন: ‘তোমরা মিথ্যা কসম করো না এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নামে অবজ্ঞার সাথে শপথ করো না। আর মিথ্যাবাদীদের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তোমরা তাদের পাপে অংশীদার হবে’। তিনি আরও বলেছেন: ‘হীন উপার্জন বর্জন করো’। তিনি আরও বলেছেন: ‘তোমাদের বড়দের আনুগত্য করো ও তাদের সামনে বিনয়াবনত থাকো এবং আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে তোমাদের মুখ পূর্ণ করো’।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وقال حياة النفس فِي الحكمة. وقال اجتنبوا مصاحبة الأشرار. وقال لا تحسدوا الناس عَلَى مواتاة الخط فإن استمتاعهم بِهِ قليل. وقال من تجاوز الكفاف لَمْ يغنه شيء. قال سليمان بن حسان المعروف بابن جلجل الهرامسة ثلاثة أولهم هرمس الَّذِي كَانَ قبل الطوفان ومعني هرمس لقي كما يقال قيصر وكسرى وتسميه الفرس فِي سيرها ابُهَجُل وتذكر الفرس إِن وجد جيومرت وتسميه العبرانيون خنوخ وهو عندهم إدريس أيضاً قال أبو معشر وهو أول من تحكم فِي الأشياء العلوية من الحركات النجومية وهو أول من بنى الهياكل ومجد الله فِيهَا وهو أول من نظر فِي الطب وتكلم فِيهِ وألف لأهل زمانه قصائد موزونة وأشعاراً معلومة فِي الأشياء الأرضية والعلوية وهو أول من أنذر بالطوفان وذلك أنه رأى أن آفة سماوية تلحق الأرض من الماء والنار وَكَانَ مسكنه صعيد مصر تخير ذَلِكَ فبنى هياكل الأهرام ومدائن البرابي وخاف ذهاب العلم بالطوفان فبنى البرابي وصور فِيهَا جميع الصناعات وصانعيها نقشاً وصور جميع آلات الصناع وأشار إِلَى صفات العلوم برسوم لمن بعده خشية أن يذهب رسم تِلْكَ العلوم وثبت فِي الأثر المرويّ عن السلف أن إدريس أول من درس الكتب ونظر فِي العلوم وأنزل الله عَلَيْهِ ثلاثين صحيفة وهو أول من خاط الثياب ولبسها ورفعه الله إِلَيْهِ مكاناً علياً وحكى عنه أبو معشر حكايات شنيعة أتيت بأخفها وأقربها لتقضي كلام ابن جلجل.
أمون الملك الحكيم هَذَا لقب لَهُ واسمه الحقيقي بسيلوخس وهو أحد الملوك الأربعة الَّذِينَ أخذوا الحكمة عن هرمس الأول وَكَانَ هرمس قَدْ ولاه ربع الأرض وَكَانَ أمون هَذَا معدوداً فِي الحكماء إِلَاّ أنه لَمْ يخرج من كلامه شيء إِلَى العربية ولما ولاه رمس الملك أوصاه بوصايا خرج بعضها وترجم أنه قال فمنه أنه قال أَول مَا أوصيك بِهِ تقوى الله عز وجل وإيثار طاعته ومن توليه أمور الناس فيجب عَلَيْهِ أن يكون ذاكراً ثلاثة أشياء أولها أن يده تكون عَلَى قوم كثير والثاني أن الذين يده مطلقة عليهم أحرار لا عبيد والثالث أن سلطانه لا يلبث
তিনি বলেন, প্রজ্ঞার মধ্যেই আত্মার জীবন নিহিত। তিনি আরও বলেন, তোমরা মন্দ লোকদের সঙ্গ এড়িয়ে চলো। তিনি বলেন, ভাগ্যের আনুকূল্যের কারণে মানুষকে হিংসা করো না, কারণ তাতে তাদের ভোগ সামান্যই। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি পরিমিত জীবন যাপন অতিক্রম করে, কোনো কিছুই তাকে অভাবমুক্ত করতে পারে না। সুলায়মান বিন হাসান, যিনি ইবনে জুলজুল নামে পরিচিত, তিনি বলেন যে হরমস তিনজন; তাদের প্রথমজন হলেন সেই হরমস যিনি মহাপ্লাবনের পূর্বে ছিলেন। 'হরমস' শব্দের অর্থ হলো উপাধি, যেমন কায়সার এবং কিসরা বলা হয়। পারস্যবাসীরা তাদের ইতিহাসে তাকে 'আবুহাজাল' নামে অভিহিত করে এবং তারা উল্লেখ করে যে সে হলো গায়ূমারত। হিব্রুরা তাকে 'খানূখ' বলে ডাকে এবং তাদের কাছে তিনি ইদরীস নামেও পরিচিত। আবু মাশার বলেন, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নক্ষত্রসমূহের গতির মতো ঊর্ধ্বজগত নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনিই প্রথম যিনি উপাসনালয় নির্মাণ করেছেন এবং সেখানে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করেছেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি চিকিৎসা শাস্ত্র নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সময়কার লোকদের জন্য পার্থিব ও মহাজাগতিক বিষয়াবলী নিয়ে ছন্দবদ্ধ কাসিদা ও পরিচিত কাব্য রচনা করেছেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মহাপ্লাবন সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন, কারণ তিনি দেখেছিলেন যে আকাশ থেকে আসা এক বিপর্যয় পানি ও আগুনের মাধ্যমে পৃথিবীতে আঘাত হানবে। তাঁর বাসস্থান ছিল ঊর্ধ্ব মিশরে, তিনি সেটিই বেছে নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি পিরামিডের মতো স্থাপত্য ও বারাবি শহরসমূহ নির্মাণ করেন। তিনি মহাপ্লাবনের কারণে জ্ঞান বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন, তাই তিনি বারাবি নির্মাণ করেন এবং সেখানে খোদাই করে সকল শিল্প ও কারিগরদের চিত্র অঙ্কন করেন। এছাড়াও তিনি কারিগরদের সকল যন্ত্রপাতির চিত্র সেখানে ফুটিয়ে তোলেন। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য চিত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্দেশ করে গেছেন যাতে সেই বিজ্ঞানের চিহ্ন মুছে যাওয়ার ভয় না থাকে। সালাফদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে এটি প্রমাণিত যে, ইদরীস প্রথম ব্যক্তি যিনি কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেছেন এবং বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর ৩০টি সহীফা নাজিল করেছেন। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি কাপড় সেলাই করেছেন ও তা পরিধান করেছেন এবং আল্লাহ তাঁকে এক সুউচ্চ স্থানে উন্নীত করেছেন। আবু মাশার তাঁর সম্পর্কে কিছু অপ্রীতিকর কাহিনী বর্ণনা করেছেন, যা থেকে আমি কেবল সবচেয়ে হালকা এবং ইবনে জুলজুলের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কথাগুলোই ইবনে জুলজুলের বক্তব্য শেষ করার জন্য উল্লেখ করেছি।
প্রজ্ঞাবান রাজা আমুন; এটি তাঁর উপাধি এবং তাঁর প্রকৃত নাম হলো বাসিলুখাস। তিনি সেই চারজন রাজার একজন যারা প্রথম হরমসের নিকট থেকে প্রজ্ঞা শিক্ষা করেছিলেন। হরমস তাঁকে পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশের শাসনভার প্রদান করেছিলেন। আমুনকে প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্ভুক্ত করা হতো, তবে তাঁর কোনো কথা আরবিতে অনূদিত হয়ে আসেনি। যখন রাজা হরমস তাঁকে দায়িত্ব অর্পণ করেন, তখন তাঁকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন, যার কিছু অংশ প্রকাশিত ও অনূদিত হয়েছে। তাতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছিলেন: আমি তোমাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি তা হলো মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা এবং তাঁর আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া। আর যে ব্যক্তি মানুষের বিষয়াবলীর দায়িত্ব গ্রহণ করে, তার জন্য তিনটি বিষয় স্মরণ রাখা আবশ্যক: প্রথমত, তার হাত এক বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর। দ্বিতীয়ত, যাদের ওপর তার হাত অবারিত তারা স্বাধীন মানুষ, ক্রীতদাস নয়। তৃতীয়ত, তার রাজত্ব চিরস্থায়ী নয়।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقال لَهُ وإياك وأن تهمل الحرب والجهاد لمن لا يؤمن بالله جل اسمه ولا يتبع سنتي وشريعتي وأعلم أن الرعية تسكن إِلَى من أحسن إِلَيْهَا وتنفر عمن أساء والسلطان برعيته فإذا نفروا عنه كَانَ سلطان نفسه. أصلح آخرتك تصلح لَكَ دنياك. اكتم السر واستيقظ فِي الأمور وجد فِي الطلب وإذا هممت فافعل. وعليك بحفظ أهل الكيميا العظمى وهم الفلاحون فإن الجند بهم يكثرون وبيوت الأموال تعمر. وأكرم أهل العلك وقدمهم لئلا تجهل الرعية حقهم من طلب العلم أكرم ليصفو ذهنه. من قدح فِي الملك اضرب عنقه وشهره ليحذر سواه فإن الملك إِذَا فسد فسدت الرعية. ومن سرق اقطع يده. ومن قطع الطريق اضرب عنقه. ومن وجدته ذكر مثله فحرقه بالنار. ومن وجدته مظلوماً فخذ بيده. تعهد أمر المحبوسين فِي كل شهر تأمن سجن المظلوم. شاور من علمته عاقلاً تأمن خلل الانفراد. لا تعاجل صغار الذنوب بالعقوبة واجعل بَيْنَهما للاعتذار طريقاً ثُمَّ قال لَهُ عند انفصاله عنه سبيل الملك أن يبتدئ بسلطانه عَلَى نفسه ليستقيم لَهُ سلطانه عَلَى غيره.
إسقلبيوس الحكيم وربما قيل إسقلابيوس وربما قيل اسقلبياذس. وهذا هو أحد الملوك الأربعة الَّذِين صحبوا هرمس وأخذوا عنه الحكمة وَكَانَ هَذَا أكثرهم أخذاً لها وأشهرهم بذكرها وولاه هرمس ربع الأرض المعمورة يومئذ وهذا الربع هو الَّذِي ملكته اليونانيون بعد الطوفان وَكَانَ هرمس لما رفعه الله إِلَيْهِ وبلغ إسقلبيوس هَذَا من أمره حزن لذلك حزناً شديداً تأسفاً عَلَى مَا فات أهل الأرض من بركته وعلمه وصر صورته فِي هيكل
তিনি তাকে বললেন: সাবধান! যারা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না এবং আমার সুন্নাত ও শরীয়তের অনুসরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও জিহাদ বর্জন করা থেকে বিরত থাকো। জেনে রেখো, প্রজাসাধারণ তার প্রতি আসক্ত হয় যে তাদের সাথে সদাচরণ করে এবং তার থেকে দূরে সরে যায় যে তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করে। একজন সুলতানের কর্তৃত্ব তার প্রজাদের ওপর নির্ভরশীল; সুতরাং তারা যখন তাকে ত্যাগ করে, তখন সে কেবল নিজের ওপরই শাসক হয়ে থাকে। তোমার পরকাল সংশোধন করো, তবে তোমার ইহকাল সংশোধিত হয়ে যাবে। গোপনীয়তা রক্ষা করো, বিষয়াবলীতে সতর্ক থাকো, লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট হও এবং যখন কোনো সংকল্প করো তখন তা বাস্তবায়ন করো। মহান কিমিয়া বা রসায়নের অধিকারীদের অর্থাৎ কৃষকদের রক্ষণাবেক্ষণ করা তোমার জন্য আবশ্যক, কারণ তাদের মাধ্যমেই সৈন্যবাহিনী বৃদ্ধি পায় এবং বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) সমৃদ্ধ হয়। আলেমদের সম্মান করো এবং তাঁদের অগ্রগণ্য করো যাতে প্রজারা তাঁদের হকের ব্যাপারে অজ্ঞ না থাকে; আর যে জ্ঞান অন্বেষণ করে তাকে সম্মানিত করো যাতে তার মেধা নির্মল হয়। যে রাজতন্ত্রের প্রতি কটাক্ষ করে তার শিরশ্ছেদ করো এবং তাকে দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রচার করো যাতে অন্যরা সতর্ক হয়; কেননা রাজার শাসন কলুষিত হলে প্রজাসাধারণও কলুষিত হয়ে যায়। যে চুরি করে তার হাত কেটে দাও। যে পথপ্রতিরোধ বা ডাকাতি করে তার শিরশ্ছেদ করো। আর যাকে তুমি সমলিঙ্গের সাথে অপকর্মে লিপ্ত দেখবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে দাও। যাকে মজলুম দেখবে তার হাত ধরো (তাকে সাহায্য করো)। প্রতি মাসে বন্দীদের অবস্থা তদারকি করো, তবেই তুমি নির্দোষকে বন্দী রাখার দায় হতে নিরাপদ থাকবে। যাকে তুমি বুদ্ধিমান হিসেবে চেনো তার সাথে পরামর্শ করো, তবেই তুমি একাকী সিদ্ধান্তের ত্রুটি থেকে নিরাপদ থাকবে। ছোটখাটো অপরাধের জন্য শাস্তি প্রদানে তাড়াহুড়ো করো না এবং অপরাধ ও শাস্তির মাঝে ওজর পেশ করার একটি পথ উন্মুক্ত রেখো। অতঃপর তিনি তার থেকে বিদায় নেওয়ার সময় তাকে বললেন: রাজত্বের মূল পন্থা হলো এই যে, শাসক প্রথমে নিজের নফসের ওপর স্বীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে অন্যের ওপর তার কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রাজ্ঞ এস্ক্লেপিয়াস, তাঁকে এস্ক্লাপিওস বা এস্ক্লেপিয়াদেসও বলা হয়ে থাকে। তিনি সেই চারজন রাজার অন্যতম যারা হারিসের (Hermes) সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে হিকমত (প্রজ্ঞা) অর্জন করেছিলেন। হারিসের শিষ্যদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বাধিক হিকমত অর্জনকারী এবং এর প্রচারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। হারিস তৎকালীন আবাদকৃত পৃথিবীর এক-চতুর্থাংশ শাসনের ভার তাঁর ওপর অর্পণ করেছিলেন; এই সেই এক-চতুর্থাংশ অঞ্চল যা মহাপ্লাবনের পর গ্রীকরা শাসন করেছিল। আল্লাহ যখন হারিসকে নিজের দিকে তুলে নিলেন এবং এস্ক্লেপিয়াস যখন এই সংবাদ অবগত হলেন, তখন তিনি হারিসের বরকত ও ইলম থেকে পৃথিবীবাসীর বঞ্চিত হওয়ার আক্ষেপে অত্যন্ত শোকাতুর হলেন এবং একটি উপাসনালয়ে তাঁর প্রতিকৃতি অংকন করলেন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
عبادته وَكَانَتْ الصورة عَلَى غاية مَا يمكن من إظهار أهبة الوقار عَلَيْهَا والعظمة فِي هيأتها ثُمَّ صوره مرتفعاً إِلَى السماء وَكَانَ إِذَا دخل الهيكل جلس بَيْنَ يدي الصورة معظماً لَهَا كحالته فِي حالة الوجود وَلَمْ يزل عَلَى ذَلِكَ إِلَى أن مات وَقَدْ قيل أن هَذَا سبب عبادة الأصنام فإن صاب بن إدريس وقيل ابن ملك عظم الأصنام وجعلها آلهة لتعظيم إسثقلبيوس لهذه الصورة الَّتِي وجدت فِي هيكله ولما استولى اليونانيون بعد الطوفان عَلَى الأرض الَّتِي بِهَا إسقلبيوس ملكاً ورأوا الهيكل والصورة فِي حالة جلوسها عَلَى كرسيها وحالة ارتفاعها إِلَى السماء ظنوا أنها صورة اسقلبيوس وبعد عليهم حديث هرمس فعظموا إسقلبيوس وظنوه أول من تكلم فِي الحكمة عَلَى الإطلاق ونسبوا أنه أول من تكلم بِهَا فِي أرضهم لا غير حَتَّى قال جالينوس فِي ذكره أنه لَمْ يكن بحث المتقدمين من يونان عن إسقلبيوس بحثاً يسيراً ولقد أقسمت بِهِ يونان عَلَى متعلميهم مقترناً بالقسامة بالله تعظيماً لَهُ قال بقراط فِي عهوده أقسم عليكم معاشر الأولاد بخالق الموت والحياة وبأبي وأبيكم إسقلبيوس هكذا رأيته فِي تراجم كتاب العهود قال جالينوس فِي تفسيره لهذا الكتاب الَّذِي يتناهى إلينا من قصة إسقلبيوس قولان أحدهما لغز والآخر طبيعي أما اللغز فيذهب فِيهِ إِلَى أنه قوة الله تبارك واشتق وتعالى واشتق لهذا الاسم من فعلها وهو منع اليبس وذكر ابن جلجل أن إسقلبيوس هَذَا تلميذ لهرمس المصري وَكَانَ مسكنه أرض الشام وذكر جالينوس فِي كتابه الَّذِي ألفه فِي الحث عَلَى الطب أن الله أوحى إلي اسقلبياذس لأن اسميك ملكاً أقرب من أن أسميك إنساناً وكر بقراط فِي كتاب إيمانه وعهده أن هَذَا الاسم أعني إسقلبياذس فِي لسان اليونانيين مشتق من البهاء والنور والطب صناعة إسقلبيوس وأنه لا يجب تعاطيها إِلَاّ لمن كَانَ عَلَى سيرة إسقلبيوس من الطهارة العفاف والتقى وأنه لا بجل أن يعلم الشرار ولا ذوي الأنفس الخبيثة وإنما يجب أن يتعلمها الأشراف والمتألهون أعني العارفين بالله عز وجل وذكر بقراط فِي هَذَا الكتاب أنه ارتفع إِلَى الهواء فِي عمود من نور وذكر جالينوس فِي مقالته الأولى إِلَى اغلوقن الفيلسوف فقال لو كنت
তাঁর উপাসনা এবং মূর্তিটি গাম্ভীর্যের পূর্ণ প্রকাশ ও তার অবয়বে মহিমা প্রদর্শনের সর্বোচ্চ স্তরে ছিল। তারপর তিনি তাকে আকাশের দিকে উঠে যাওয়া অবস্থায় চিত্রিত করেন। তিনি যখন উপাসনালয়ে প্রবেশ করতেন, তখন মূর্তির সামনে এমনভাবে সম্মানের সাথে বসতেন যেন তিনি জীবিত অবস্থায় আছেন এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই অবস্থাতেই ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটিই ছিল মূর্তিপূজার কারণ; কেননা সাবে বিন ইদ্রিস—কেউ বলেন ইবনে মালিক—মূর্তিদের সম্মান করতেন এবং সেগুলোকে উপাস্য সাব্যস্ত করেছিলেন এই কারণে যে, আসক্লেপিয়াস তাঁর উপাসনালয়ে পাওয়া এই মূর্তিটিকে সম্মান করতেন। আর মহাপ্লাবনের পর গ্রীকরা যখন সেই ভূখণ্ড দখল করল যেখানে আসক্লেপিয়াস রাজত্ব করতেন, এবং তারা উপাসনালয় ও মূর্তিটিকে তার আসনের ওপর বসা ও আকাশের দিকে উঠে যাওয়া অবস্থায় দেখল, তখন তারা ধারণা করল যে এটি আসক্লেপিয়াসেরই ছবি। তাদের কাছে হারমিসের বিবরণ অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ফলে তারা আসক্লেপিয়াসকে সম্মান করতে শুরু করল এবং তাকে নিরঙ্কুশভাবে প্রজ্ঞার প্রথম প্রবক্তা মনে করল। তারা দাবি করল যে, তিনিই তাদের ভূমিতে প্রথম প্রজ্ঞার কথা বলেছেন। এমনকি গ্যালেন তাঁর আলোচনায় বলেছেন যে, প্রাচীন গ্রীকদের কাছে আসক্লেপিয়াস সম্পর্কে অনুসন্ধান কোনো সাধারণ বিষয় ছিল না। গ্রীকরা তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য তাদের শিক্ষার্থীদের কাছে আল্লাহর নামে শপথের সাথে তাঁর নামেও শপথ করাত। হিপোক্রেটিস তাঁর অঙ্গীকারনামায় বলেছেন: 'হে সন্তানগণ, আমি তোমাদের কাছে জীবন ও মৃত্যুর স্রষ্টার নামে এবং আমার ও তোমাদের পিতা আসক্লেপিয়াসের নামে শপথ করছি।' 'কিতাবুল উহুদ'-এর অনুবাদে আমি এভাবেই দেখেছি। গ্যালেন এই বইটির ব্যাখ্যায় বলেছেন, আসক্লেপিয়াসের কাহিনী থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তাতে দুটি মত রয়েছে; একটি রূপক এবং অন্যটি প্রাকৃতিক। রূপক মতটির ক্ষেত্রে বলা হয় যে, তিনি ছিলেন বরকতময় ও মহান আল্লাহর এক শক্তি, এবং এই নামটি তাঁর কর্ম থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যা হলো শুষ্কতা রোধ করা। ইবনে জুলজুল উল্লেখ করেছেন যে, এই আসক্লেপিয়াস ছিলেন মিশরীয় হারমিসের ছাত্র এবং তাঁর বাসস্থান ছিল শাম দেশে। গ্যালেন চিকিৎসাবিদ্যায় উৎসাহ প্রদানের জন্য লেখা তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ আসক্লেপিয়াসের প্রতি ওহী পাঠিয়েছিলেন যে, 'তোমাকে রাজা হিসেবে নামকরণ করা তোমাকে মানুষ ডাকার চেয়ে অধিকতর নিকটবর্তী।' হিপোক্রেটিস তাঁর বিশ্বাস ও অঙ্গীকারনামার বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, গ্রীক ভাষায় এই নাম অর্থাৎ 'আসক্লেপিয়াস' শব্দটি সৌন্দর্য ও জ্যোতি থেকে উদ্ভূত। আর চিকিৎসাবিদ্যা হলো আসক্লেপিয়াসের শিল্প, এবং এটি কেবল তাদের জন্যই গ্রহণ করা উচিত যারা আসক্লেপিয়াসের আদর্শ অনুযায়ী পবিত্রতা, সতীত্ব ও তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এবং এটি দুষ্ট বা কলুষিত আত্মার অধিকারীদের শেখানো উচিত নয়; বরং এটি কেবল উচ্চবংশীয় ও আধ্যাত্মিক সাধক অর্থাৎ মহান আল্লাহর মারেফাত অর্জনকারীদেরই শেখা উচিত। হিপোক্রেটিস এই বইয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এক জ্যোতির স্তম্ভের মাধ্যমে শূন্যে উঠেছিলেন। গ্যালেন দার্শনিক অগ্লুকন-এর প্রতি লেখা তাঁর প্রথম প্রবন্ধে উল্লেখ করে বলেছেন, যদি আমি হতাম...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أقدر أن أكون مثل إسقلبيوس وقال جالينوس أيضاً فِي صدر كتاب حيلة البرء مما يجب أن يحقق الطب عند العامة مَا يرونه من الطب الإلهي فِي هيكل إسقلبيوس عَلَى مَا حكاه هروسيس صاحب القصص أن بيتاً كَانَ فِي مدينة رومية كَانَتْ فِيهِ صورة تكلمهم ويسألونها وَكَانَ المستنبط لَهَا فِي القديم إسقلبيوس وزعم مجوس رومية أن تِلْكَ الصورة كَانَتْ منصوبة عَلَى حركات نجومية وأنه كَانَ فِيهَا روحانية كوكب من الكواكب السبعة وَكَانَ دين أهل رومية قبل النصرانية عبادة النجوم هكذا حكاه هروسيس.
ولإسقلبيوس أخبار شنيعة سائرة ذكرنا أقربها إِلَى العقل قال أفلاطون فِي كتابه المعروف بالنواميس أن إسقلبيوس كَانَ مشتغلاً فِي هيكل بالتقديس إذ تحاكم إِلَيْهِ رجل وامرأة فِي جنين كَانَ فِي بطن المرأة قال إسقلبيوس للمرأة أنه كَانَ زوجك فِي هيكل عبدة الشمس يدعو لَكِ بالبقاء والسلامة وأنت قَدْ واقعك غلام من بني فلان وستلدين بعد ثلاث خلفاً مشوهاً فولدت لَهُ فِي صدره يدان ثُمَّ عطف عَلَى الرجل فقال يَا هَذَا عقدت نكاح هَذِهِ المرأة عَلَى مَا لا ينبغي فحصدت منها أكثر مما زرعت. وحكي عنه أنه أيضاً أفلاطون فِي هَذَا الكتاب أن رجلاً خبأ لَهُ مالاً فقال يَا نور الألباب ضاع لي مال فأثره لي فنهض معه إِلَى منزله فأثاره لَهُ ثُمَّ قال للرجل حقبق لمن يسخر بأنعم الله أن يسلبه إياها وسيذهب لَكَ هَذَا المال ثو لا يعود وَكَانَ كذلك.
وذكر بقراط أن عصا إسقلبيوس كَانَتْ من شجرة الخطمى معتدلة فِي الحر والبرد وَكَانَ يراعى فِي أموره الاعتدال فلم ير أن يتخذ عصا إِلَاّ من شجرة معتدلة وإنما صور حولها حية لأنها من بين جميع الحيوانات أطولها عمراً فجعل ذَلِكَ مثالاً للعلم الَّذِي لا يدثر ولا يبيد وَلَهُ أخبار عند النصارى وَفِي كتبهم تجري مجرى الأسمار لا يلامسها العقل فأضربت عن ذكرها.
واعلم وفقك الله أن الكلام فِي أولية الطب ومن أحدثه وَفِي أي زمن وجد عسِر جداً وذلك أن الذين يقولون يقدم العالم يقولون أن الطب قديم
আমি এসক্ল্যাপিয়াসের মতো হতে সক্ষম হব। জালিনুস (গ্যালেন) তাঁর 'হিলাতুল বুর' (রোগমুক্তির উপায়) গ্রন্থের শুরুর দিকে জনসাধারণের মাঝে চিকিৎসাশাস্ত্রের যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন সে সম্পর্কে বলেছেন—যা তারা এসক্ল্যাপিয়াসের মন্দিরে ঐশ্বরিক চিকিৎসা হিসেবে প্রত্যক্ষ করত। ইতিহাসবেত্তা হোরোসিস বর্ণনা করেছেন যে, রোম শহরে একটি গৃহ ছিল যেখানে একটি মূর্তি ছিল যা তাদের সাথে কথা বলত এবং তারা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত। প্রাচীনকালে এসক্ল্যাপিয়াসই এটি উদ্ভাবন করেছিলেন। রোমের অগ্নিউপাসকদের দাবি ছিল যে, সেই মূর্তিটি নক্ষত্রমন্ডলীর গতির ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত হয়েছিল এবং তাতে সাতটি গ্রহের কোনো একটির আধ্যাত্মিক শক্তি বিদ্যমান ছিল। খ্রিস্টধর্মের পূর্বে রোমবাসীদের ধর্ম ছিল নক্ষত্রপূজা; হোরোসিস এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
এসক্ল্যাপিয়াসের ব্যাপারে বহু অদ্ভুত ও প্রচলিত কাহিনী রয়েছে, আমরা তার মধ্যে বিবেকের নিকটবর্তী বিষয়গুলো উল্লেখ করছি। আফলাতুন (প্লেটো) তাঁর 'আল-নাওয়ামিস' (আইনসমূহ) নামক গ্রন্থে বলেছেন যে, এসক্ল্যাপিয়াস একবার মন্দিরে পবিত্রকরণে মগ্ন ছিলেন, তখন এক নারী ও এক পুরুষ তাদের গর্ভস্থ ভ্রূণ সম্পর্কে বিচার নিয়ে তাঁর কাছে এল। এসক্ল্যাপিয়াস সেই নারীকে বললেন, "তোমার স্বামী সূর্যপূজারিদের মন্দিরে তোমার দীর্ঘায়ু ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছে, অথচ তুমি অমুক বংশের এক যুবকের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছ। তুমি তিন দিন পর এক বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসব করবে।" পরবর্তীতে সেই নারী এমন এক সন্তান প্রসব করল যার বুকে দুটি হাত ছিল। এরপর তিনি লোকটির দিকে ফিরে বললেন, "হে ব্যক্তি! তুমি এই নারীর সাথে অনুপযুক্ত পন্থায় বিবাহের বন্ধন গড়েছ, তাই যা বপন করেছিলে তার চেয়ে বেশি ফসল তুমি কাটলে।" এই গ্রন্থে আফলাতুন থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট কিছু সম্পদ লুকিয়ে রেখে বলল, "হে প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা! আমার কিছু সম্পদ হারিয়ে গেছে, তা আমার জন্য খুঁজে বের করুন।" তিনি লোকটির সাথে তাঁর বাড়িতে গেলেন এবং তা বের করে দিলেন। এরপর লোকটিকে বললেন, "আল্লাহর নেয়ামত নিয়ে যে উপহাস করে, তার থেকে তা কেড়ে নেওয়া সমীচীন। অচিরেই তোমার এই সম্পদ চলে যাবে এবং আর কখনো ফিরে আসবে না"; এবং বাস্তবেও তা-ই ঘটেছিল।
বুকরাত (হিপোক্রেটিস) উল্লেখ করেছেন যে, এসক্ল্যাপিয়াসের লাঠিটি ছিল বনগোলাপ (আল-খাতমি) গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি, যা শীতলতা ও উষ্ণতায় ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। তিনি তাঁর সকল কাজে ভারসাম্যের প্রতি খেয়াল রাখতেন, তাই ভারসাম্যপূর্ণ গাছ ছাড়া অন্য কোনো গাছের লাঠি গ্রহণ করা তিনি সমীচীন মনে করতেন না। আর লাঠির চারপাশে সাপের ছবি দেওয়া হয়েছিল কারণ সকল প্রাণীর মধ্যে সাপ দীর্ঘজীবী। একে তিনি এমন এক জ্ঞানের প্রতীক হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন যা কখনো বিলুপ্ত বা ধ্বংস হয় না। নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) নিকট এবং তাদের কিতাবসমূহে এসক্ল্যাপিয়াসের ব্যাপারে এমন কিছু কাহিনী প্রচলিত আছে যা রূপকথার মতো এবং সুস্থ মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করে না, তাই আমি সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—চিকিৎসাশাস্ত্রের সূচনা, এর উদ্ভাবক এবং এটি কোন যুগে আবিষ্কৃত হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। এর কারণ হলো, যারা জগতের অনাদিত্বে (বিশ্ব চিরন্তন হওয়ায়) বিশ্বাসী, তারা মনে করেন যে চিকিৎসাশাস্ত্রও অনাদি বা অতি প্রাচীন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
بقدم العالم لأن الطب ملازم للإنسان فِي حالة وجوده والإنسان قديم فالطب قديم. والفرقة الأخرى الَّتِي تعتقد حدوث الأجسام تقول الطب محدث لأن الأجسام الَّتِي يستعمل فِيهَا الطب محدثة وأصحاب الحدوث ينقسمون فِي القول فالقسم الواحد يقول أن الطب خلق مع الإنسان إذ كَانَ من الأشياء الَّتِي بِهَا صلاحه وبعضهم يقول أن الطب خلق بعد خلق الإنسان فأما سقلبيوس هَذَا فليس حديثه إِلَاّ عَلَى سبيل السمر هَذَا مع إجماع الأطباء عَلَى أنه أول من استخرج الطب واستنبطه وقالوا جاءه الطب عَلَى سبيل الوحي فأما حصر زمانه وزمان من جاء بعده فقد ذكروا من عدة السنين مما بينه وبين جالينوس مَا يزيد عَلَى خمسة آلاف سنة فهذا يدل عَلَى أنه كَانَ قبل الطوفان وكل مَا هو قبل الطوفان لا تعلم حقيقته لعدم المخبر بِهِ على الوجه ومن ادعى النسبة إِلَيْهِ مثل مَا قيل فِي بقراط أنه من نسله فهو كلام لا يصح لأن الإجماع من الجمهور واقع عَلَى أن نسل آدم انقطع إِلَاّ من نسل أولاد نوح الثلاثة وهم سام وحام ويالث فلا يصح اتصال ينسب إِلَى إسقلبيوس الأول والله أعلم .. وذكر يحيى النحوي أول من أظهر عَلَى مَا تناهى إلينا فِي الكتب المكتوبة والأحاديث المشهورة من العلماء بذلك الثقات هو إسقلبيوس الأول وهو الَّذِي استخرج الطب بالتجربة ومن إسقلبيوس إِلَى جالينوس خاتم الطباء من الأطباء ثمانية وهم إسقلبيوس الأول وغورس وميلس وبرماغيذس وأفلاطون الطبيب وإسقلبيوس الثاني وبقراط وجالينوس ومدة مَا بَيْنَ ظهور أولهم وإلى وفاة أخرهم خمسة آلاف وخمسمائة وستون سنة منها الفترات بَيْنَ كل واحد من هؤلاء الأطباء الثمانية منذ وقت وفاته بموجب مَا فضل يكون خمسة آلاف وإحدى عشر سنة وإلى ظهور الآخر أربعة آلاف وثمانمائة وتسع وثمانون سنة من ذَلِكَ منذ وقت وفاة إسقلبيوس الأول وإلى ظهور غورس ثمانمائة وست وخمسون سنة ومنذ وقت وفاة غورس وإلى ظهور ميلس خمسمائة وستون سنة ومنذ وقت وفاة ميلس وإلى ظهور برمانيذس
জগতের অনাদিত্বের সপক্ষে যুক্তি হলো যে, চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ; আর যেহেতু মানুষ অনাদি, তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানও অনাদি। অন্যদিকে, যে গোষ্ঠী দেহের নশ্বরতা বা সৃষ্টির তত্ত্বে বিশ্বাসী, তারা বলে যে চিকিৎসা বিজ্ঞানও সৃষ্ট, কারণ যে দেহের ওপর চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয় তা নশ্বর বা সৃষ্ট। এই সৃষ্টির তত্ত্বে বিশ্বাসীরা আবার বিভিন্ন মতে বিভক্ত। একদল বলে যে, চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষের সাথেই সৃষ্টি করা হয়েছে, কারণ এটি মানুষের জীবন ধারণ ও কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। আবার কেউ কেউ বলে যে, মানুষ সৃষ্টির কিছুকাল পর চিকিৎসা বিজ্ঞান সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে এই প্রথম এসক্লেপিয়াস সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তা নিছক গল্পের পর্যায়ভুক্ত; যদিও চিকিৎসকদের মধ্যে এ বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে যে, তিনিই প্রথম চিকিৎসা বিজ্ঞান উদ্ভাবন ও নিরূপণ করেছেন। তারা বলেন, ওহী বা ঐশী প্রত্যাদেশের মাধ্যমেই তার নিকট চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান এসেছে। তবে তার সময়কাল এবং তার পরবর্তীগণের সময়কাল নির্ধারণের ক্ষেত্রে তারা উল্লেখ করেছেন যে, তার এবং গ্যালেনের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি। এটি প্রমাণ করে যে তিনি মহাপ্লাবনের পূর্ববর্তী সময়ের ছিলেন। আর মহাপ্লাবনের পূর্বের কোনো বিষয়ের প্রকৃত সত্যতা যথাযথভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদদাতার অভাবে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। কেউ যদি তার সাথে বংশীয় সম্পর্ক দাবি করে, যেমন হিপোক্রেটিসের ক্ষেত্রে বলা হয় যে তিনি তার বংশধর, তবে সেই দাবি সঠিক নয়। কারণ জমহুর বা অধিকাংশের ঐক্যমত্য হলো, আদমের বংশধারা নূহের তিন সন্তান—সাম, হাম ও ইয়াফিসের বংশধর ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং প্রথম এসক্লেপিয়াসের সাথে কোনো বংশীয় যোগসূত্র থাকা প্রমাণিত নয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ইয়াহইয়া আন-নাহবী উল্লেখ করেছেন যে, নির্ভরযোগ্য আলেমদের সূত্রে লিখিত গ্রন্থাবলি ও প্রসিদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে সে অনুযায়ী প্রথম যিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রকাশ করেছেন তিনি হলেন প্রথম এসক্লেপিয়াস। তিনিই পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞান উদ্ভাবন করেন। প্রথম এসক্লেপিয়াস থেকে চিকিৎসকদের শেষ প্রতিনিধি গ্যালেন পর্যন্ত প্রধান চিকিৎসক ছিলেন আটজন। তারা হলেন: প্রথম এসক্লেপিয়াস, গোরুস, মাইলুস, বারমানিদাস, চিকিৎসক প্লাটো, দ্বিতীয় এসক্লেপিয়াস, হিপোক্রেটিস এবং গ্যালেন। তাদের প্রথমজনের আবির্ভাব থেকে শেষজনের মৃত্যু পর্যন্ত মোট সময়কাল হলো পাঁচ হাজার পাঁচশত ষাট বছর। এর মধ্যে এই আটজন চিকিৎসকের প্রত্যেকের অন্তর্বর্তীকালীন বিরতিগুলোও অন্তর্ভুক্ত। হিসাব অনুযায়ী সেই ব্যবধান ছিল পাঁচ হাজার এগারো বছর এবং পরবর্তী চিকিৎসকের আবির্ভাব পর্যন্ত সময়কাল ছিল চার হাজার আটশত উননব্বই বছর। এর মধ্যে প্রথম এসক্লেপিয়াসের মৃত্যু থেকে গোরুসের আবির্ভাব পর্যন্ত ছিল আটশত ছাপ্পান্ন বছর, গোরুসের মৃত্যু থেকে মাইলুসের আবির্ভাব পর্যন্ত ছিল পাঁচশত ষাট বছর এবং মাইলুসের মৃত্যু থেকে বারমানিদাসের আবির্ভাব পর্যন্ত...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
سبعمائة وخمس عشر سنة ومنذ وقت وفاة برمانيذس وإلى ظهور أفلاطون سبعمائة وخمس وثلاثون سنة ومنذ وقت وفاة أفلاطون وإلى ظهور إسقلبيوس الثاني ألف وأربعمائة وعشرون سنة ومنذ وقت وفاة إسقلبيوس الثاني وإلى ظهور بقراط ستون سنة ومنذ وقت وفاة بقراط وإلى ظهور جالينوس ستمائة وخمس وستون سنة ومنها مَا عاش كل واحد من هؤلاء الأطباء الثمانية منذ وقت مولده وإلى وقت وفاته ستمائة وثلاث عشرة سنة من ذَلِكَ إسقلبيوس الأول عاش تسعين سنة صبي وفتى وقبل أن تفتح لَهُ القوة الإلهية خمسين سنة عالم معلم ثلاثين سنة ميلس عاش أربعاً وثمانين سنة صبي ومتعلم أربعاً وستين سنة عالم معلم عشرين سنة برمانيذس عاش أربعين سنة صبي ومتعلم خمساً وعشرين سنة عالم معلم خمس عشرة سنة أفلاطون عاش ستين سنة صبي ومتعلم أربعين سنة عالم معلم عشرين سنة إسقلبيوس الثاني عاش مائة وعشر سنين صبي ومتعلم خمس عشرة سنة عالم متعلم تسعين سنة عطل خمس سنين بقراط عاش خمساً وتسعين سنة صبي ومتعلم ست عشرة سنة عالم معلم تسعاً وسبعين سنة جالينوس عاش سبعاً وثمانين سنة صبي ومتعلم ست عشرة سنة عالم معلم إحدى وسبعين سنة ولكل واحد من هؤلاء الأطباء الأصول من علموه هَذِهِ الصناعة وخلفوه بعدهم لثبات ذكرهم من الأولاد والتلاميذ من بين العصبة والكلالة إذ كَانَتْ بينهم العهود والمواثيق ألا يعلموا هَذِهِ الصناعة غريباً عَلَى رسم إسقلبيوس الأول وخلف إسقلبيوس من التلاميذ من بين ولد وقرابة ستة وهم ماغينوس
সাতশত পনেরো বছর। বারমানিদিসের মৃত্যুর সময় থেকে আফলাতুনের আবির্ভাব পর্যন্ত সাতশত পঁয়ত্রিশ বছর। আফলাতুনের মৃত্যুর সময় থেকে দ্বিতীয় আসকলাবিউসের আবির্ভাব পর্যন্ত এক হাজার চারশত বিশ বছর। দ্বিতীয় আসকলাবিউসের মৃত্যুর সময় থেকে বকরাতের আবির্ভাব পর্যন্ত ষাট বছর। বকরাতের মৃত্যুর সময় থেকে জালিনুসের আবির্ভাব পর্যন্ত ছয়শত পঁয়ষট্টি বছর। এই আটজন চিকিৎসকের প্রত্যেকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনকালের মোট সমষ্টি ছিল ছয়শত তেরো বছর। তন্মধ্যে প্রথম আসকলাবিউস নব্বই বছর বেঁচে ছিলেন; শৈশব ও কৈশোরে এবং তার মাঝে ঐশী শক্তি বিকশিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পঞ্চাশ বছর এবং বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে ত্রিশ বছর। মিলাস বেঁচে ছিলেন চুরাশি বছর; শিশু ও শিক্ষার্থী হিসেবে চৌষট্টি বছর এবং বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে বিশ বছর। বারমানিদিস বেঁচে ছিলেন চল্লিশ বছর; শিশু ও শিক্ষার্থী হিসেবে পঁচিশ বছর এবং বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে পনেরো বছর। আফলাতুন বেঁচে ছিলেন ষাট বছর; শিশু ও শিক্ষার্থী হিসেবে চল্লিশ বছর এবং বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে বিশ বছর। দ্বিতীয় আসকলাবিউস বেঁচে ছিলেন একশত দশ বছর; শিশু ও শিক্ষার্থী হিসেবে পনেরো বছর, বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে নব্বই বছর এবং পাঁচ বছর কর্মহীন অবস্থায় ছিলেন। বকরাত বেঁচে ছিলেন পঁচানব্বই বছর; শিশু ও শিক্ষার্থী হিসেবে ষোলো বছর এবং বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে ঊনআশি বছর। জালিনুস বেঁচে ছিলেন সাতাশি বছর; শিশু ও শিক্ষার্থী হিসেবে ষোলো বছর এবং বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে একাত্তর বছর। এই আদি চিকিৎসকদের প্রত্যেকেরই এমন শিক্ষক ছিলেন যারা তাদের এই শিল্প (চিকিৎসা শাস্ত্র) শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং তারা নিজেদের নাম ও স্মৃতির স্থায়িত্বের জন্য নিজ সন্তান ও শিষ্যদের মধ্য থেকে নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের উত্তরসূরি হিসেবে রেখে গেছেন। কেননা তাদের মধ্যে এই মর্মে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি ছিল যে, প্রথম আসকলাবিউসের রীতি অনুযায়ী তারা কোনো বহিরাগতকে এই শিল্প শিক্ষা দেবেন না। আসকলাবিউস তার সন্তান ও নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে ছয়জন শিষ্যকে উত্তরসূরি হিসেবে রেখে যান, তারা হলেন মাগিনুস...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وسقراطون وأخروسيوس الطبيب ومهراريس المكذب عَلَيْهِ والمزور نفسه فِي الكتب أنه لحق سليمان بن داود وبينهما ألوف سنين وصور بذوس وميساوس وَكَانَ كل واحد من هؤلاء يتاحل رأي أستاذه إسقلبيوس وهو رأى التجربة إذ كَانَ الطب خرج لَهُ بالتجربة وقال جالينوس فِي صورة إسقلبيوس الَّتِي يجدونها فِي هياكلهم أنه صورة رجل ملتحي متزين بجمة ذات ذوائب قال وإذا تأملته وجدته قائماً مشمراً مجموع الثياب فيدل هَذَا الشكل عَلَى أنه ينبغي للأطباء أن يتفلسفوا فِي جميع الأوقات قال وثري الأعضاء منه الَّتِي يستحي من تكشفها مستورة
والأعضاء الَّتِي تحتاج إِلَى استعمال الصناعة بِهَا معراة مكشوفة قال ويصور آخذ بيده عصا معوجة ذات شعب من شجرة الخطمى فيدل بذلك عَلَى أنه يمكن فِي صناعة الطب ان يبلغ من استعملها من السن أن يحتاج إِلَى عصا يتكئ عَلَيْهَا وبالعصا أيضاً ينبه النيام وأما تصويرهم تِلْكَ العصا من شجرة الخطمى فلأنه يطرد بِهَا وينفي كل مرض وقال حنين ابن إسحاق نبات الخطمى لما كَانَ دواه يسخن إسخاناً معتدلاً تهيأ فِيهِ أن يكون علاجاً كثير المنافع إنما إذَا استعمل مفرداً وحده وإذا خلط بما هو أسخن منه أَوْ أبرد ولهذا تجد اسمه فِي اللسان اليوناني مشتقاً من اسم العلاجات وذلك بأنهم يدلون بهذا الاسم عَلَى أن الخطمى فِيهِ منافع كثيرة قال جالينوس أما اعوجاجها وكثرة شعبها فيدل عَلَى كثرة الأصناف والتفنن الموجود فِي صناعة الطب ولست تجدهم أيضاً تركوا هَذِهِ العصا بغير زينة ولا تهيئة لكنهم صوروا عَلَيْهَا صورة حيوان طويل الشعر يلتف عَلَيْهَا وهو التنين ويقرب هَذَا الحيوان من إسقلبيوس لأسباب كثيرة أحدها أنه حيوان حاد النظر كثير السهر لا ينام فِي وقت من الأوقات وَقَدْ ينبغي لمن قصد تعلم صناعة الطب أن لا يتشاغل عنها بالنوم ويكون فِي غاية الذكاء ليمكنه أن يتقدم فينذر بما هو حاضر وبما من شأنه أن يحدث وقالوا هَذَا الحيوان أعني التنين طويل العمر جداً حَتَّى أن حياته يقال أنها الدهر كله وَقَدْ يمكن فِي المستعملين لصناعة الطب أن تطول أعمارهم قال وإذا صور إسقلبيوس جعل عَلَى رأسه إكليل يتخذ من شجرة الغار لأن من شأن هَذِهِ الشجرة أن تذهب بالحزن ولهذا تجد هرمس إذَا سمى المهيب كليل بمثل هَذَا الإكليل ولذلك ينبغي للأطباء أن يصرفوا عنهم الحزان لأن إسقلبيوس كلل بإكليل يذهب بالحزن ولأن الشجرة هَذِهِ أيضاً فِيهَا قوة تشفي الأمراض من ذَلِكَ أنك تجدها إذَا ألقيت فِي موضع هربت من ذَلِكَ الموضع الهوام وذوات السموم. لأعضاء الَّتِي تحتاج إِلَى استعمال الصناعة بِهَا معراة مكشوفة قال ويصور آخذ بيده عصا معوجة ذات شعب من شجرة الخطمى فيدل بذلك عَلَى أنه يمكن فِي صناعة الطب ان يبلغ من استعملها من السن أن يحتاج إِلَى عصا يتكئ عَلَيْهَا وبالعصا أيضاً ينبه النيام وأما تصويرهم تِلْكَ العصا من شجرة الخطمى فلأنه يطرد بِهَا وينفي كل مرض وقال حنين ابن إسحاق نبات الخطمى لما كَانَ دواه يسخن إسخاناً معتدلاً تهيأ فِيهِ أن يكون علاجاً كثير المنافع إنما إذَا استعمل مفرداً وحده وإذا خلط بما هو أسخن منه أَوْ أبرد ولهذا تجد اسمه فِي اللسان اليوناني مشتقاً من اسم العلاجات وذلك بأنهم يدلون بهذا الاسم عَلَى أن الخطمى فِيهِ منافع كثيرة قال جالينوس أما اعوجاجها وكثرة شعبها فيدل عَلَى كثرة الأصناف والتفنن الموجود فِي صناعة الطب ولست تجدهم أيضاً تركوا هَذِهِ العصا بغير زينة ولا تهيئة لكنهم صوروا عَلَيْهَا صورة حيوان طويل الشعر يلتف عَلَيْهَا وهو التنين ويقرب هَذَا الحيوان من إسقلبيوس لأسباب كثيرة أحدها أنه حيوان حاد النظر كثير السهر لا ينام فِي وقت من الأوقات وَقَدْ ينبغي لمن قصد تعلم صناعة الطب أن لا يتشاغل عنها بالنوم ويكون فِي غاية الذكاء ليمكنه أن يتقدم فينذر بما هو حاضر وبما من شأنه أن يحدث وقالوا هَذَا الحيوان أعني التنين طويل العمر جداً حَتَّى أن حياته يقال أنها الدهر كله وَقَدْ يمكن فِي المستعملين لصناعة الطب أن تطول أعمارهم قال وإذا صور إسقلبيوس جعل عَلَى رأسه إكليل يتخذ من شجرة الغار لأن من شأن هَذِهِ الشجرة أن تذهب بالحزن ولهذا تجد هرمس إذَا سمى المهيب كليل بمثل هَذَا الإكليل ولذلك ينبغي للأطباء أن يصرفوا عنهم الحزان
সুক্রাতুন, চিকিৎসক আকরুসিউস, মেহরারিস—যিনি মিথ্যাচারী এবং কিতাবসমূহে নিজেকে এমনভাবে জালকারী যে তিনি সুলাইমান ইবন দাউদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন, অথচ তাঁদের উভয়ের মধ্যে হাজার বছরের ব্যবধান—আরও ছিলেন জুস ও মিসাউসের প্রতিকৃতি। তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের শিক্ষক আসকালিবিউসের মতাদর্শ অনুসরণ করতেন, আর সেটি ছিল অভিজ্ঞতানির্ভর মতবাদ; কেননা তাঁর নিকট চিকিৎসাবিদ্যার উদ্ভব ঘটেছিল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে। জালিনুস তাঁদের উপাসনালয়গুলোতে প্রাপ্ত আসকালিবিউসের প্রতিকৃতি সম্পর্কে বলেছেন যে, সেটি এক দাড়িবিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি, যিনি সুবিন্যস্ত দীর্ঘ কেশরাজি দ্বারা সজ্জিত ছিলেন। তিনি বলেন, আপনি যদি তাঁকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তাঁকে দণ্ডায়মান, কর্মতৎপর এবং পরিধেয় বস্ত্রসমূহ সংকুচিত অবস্থায় দেখতে পাবেন। এই অবয়ব একথার ইঙ্গিত দেয় যে, চিকিৎসকদের সর্বদাই প্রজ্ঞার চর্চা করা আবশ্যক। তিনি আরও বলেন, তাঁর দেহের যে অঙ্গগুলো প্রকাশ করা লজ্জাজনক সেগুলো ঢাকা ছিল, আর যে অঙ্গগুলো পেশার কাজে ব্যবহারের প্রয়োজন হয় সেগুলো অনাবৃত ও উন্মুক্ত ছিল। তিনি বলেন, তাঁকে খাতমি বৃক্ষের তৈরি একটি বাঁকা ও বহু শাখা বিশিষ্ট লাঠি হাতে ধারণ করা অবস্থায় চিত্রিত করা হয়। এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, চিকিৎসাবিদ্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এমন বয়সে উপনীত হতে পারেন যে তাঁদের লাঠির ওপর ভর দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এই লাঠির মাধ্যমে তিনি নিদ্রিতদের জাগ্রত করেন। আর খাতমি বৃক্ষ দ্বারা তাঁদের লাঠি তৈরির চিত্রায়নের কারণ হলো, এটি দ্বারা প্রতিটি রোগ দূর ও দূরীভূত করা হয়। হুনাইন ইবন ইসহাক বলেন, খাতমি উদ্ভিদের ঔষধ যখন পরিমিত উত্তাপ প্রদান করে, তখন এটি বহুবিধ উপকারি চিকিৎসায় পরিণত হওয়ার উপযোগী হয়, বিশেষ করে যখন এটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, কিংবা যখন এটি অধিকতর উষ্ণ বা শীতল কোনো উপাদানের সাথে মিশ্রিত করা হয়। এই কারণেই গ্রিক ভাষায় এর নাম চিকিৎসার নাম থেকে উদ্ভূত, যার মাধ্যমে তারা একথারই ইঙ্গিত দেয় যে খাতমি উদ্ভিদে অনেক উপকারিতা রয়েছে। জালিনুস বলেন, লাঠিটির বক্রতা এবং এর অধিক শাখা-প্রশাখা চিকিৎসাবিদ্যার প্রকারভেদের আধিক্য ও এতে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে। আপনি আরও দেখতে পাবেন যে তারা এই লাঠিটিকে অলংকরণ ও প্রস্তুতিহীন অবস্থায় ছেড়ে দেয়নি, বরং তারা এর ওপর দীর্ঘ লোমবিশিষ্ট এক প্রাণীর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছে যা একে পেঁচিয়ে আছে; আর তা হলো ড্রাগন। আসকালিবিউসের সাথে এই প্রাণীর নৈকট্যের বহু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো এটি একটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন প্রাণী যা অধিকাংশ সময় সজাগ থাকে এবং কোনো সময়ই ঘুমায় না। যারা চিকিৎসাবিদ্যা শিখতে চায় তাদের উচিত ঘুমের মাধ্যমে এতে অবহেলা না করা এবং অত্যন্ত মেধাবী হওয়া, যাতে তারা বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে আগাম সতর্কতা প্রদান করতে পারে। তারা বলে, এই প্রাণীটি অর্থাৎ ড্রাগন দীর্ঘ আয়ু লাভ করে, এমনকি বলা হয় যে এর জীবনকাল যেন অনন্ত কালব্যাপী; আর চিকিৎসাবিদ্যায় চর্চাকারীদের জীবনও দীর্ঘ হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, যখন আসকালিবিউসকে চিত্রিত করা হয়, তখন তাঁর মাথায় লরেল বৃক্ষের তৈরি একটি মুকুট দেওয়া হয়; কারণ এই বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য হলো এটি দুঃখ-বিষাদ দূর করে। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যখন মহিমান্বিত হরমিসকে নামকরণ করা হয়, তখন তাকে এই ধরণের মুকুট দ্বারা ভূষিত করা হয়। সুতরাং চিকিৎসকদের উচিত তাঁদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করা, কারণ আসকালিবিউস এমন মুকুট পরিহিত ছিলেন যা দুঃখ দূর করে এবং কারণ এই বৃক্ষটির রোগ নিরাময়ের ক্ষমতাও রয়েছে; যার প্রমাণ হলো, আপনি দেখবেন এটি কোনো স্থানে রাখা হলে সেখান থেকে বিষাক্ত কীটপতঙ্গ পালিয়ে যায়।
যে অঙ্গগুলো পেশার কাজে ব্যবহারের প্রয়োজন হয় সেগুলো অনাবৃত ও উন্মুক্ত ছিল। তিনি বলেন, তাঁকে খাতমি বৃক্ষের তৈরি একটি বাঁকা ও বহু শাখা বিশিষ্ট লাঠি হাতে ধারণ করা অবস্থায় চিত্রিত করা হয়। এর দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, চিকিৎসাবিদ্যায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা এমন বয়সে উপনীত হতে পারেন যে তাঁদের লাঠির ওপর ভর দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এই লাঠির মাধ্যমে তিনি নিদ্রিতদের জাগ্রত করেন। আর খাতমি বৃক্ষ দ্বারা তাঁদের লাঠি তৈরির চিত্রায়নের কারণ হলো, এটি দ্বারা প্রতিটি রোগ দূর ও দূরীভূত করা হয়। হুনাইন ইবন ইসহাক বলেন, খাতমি উদ্ভিদের ঔষধ যখন পরিমিত উত্তাপ প্রদান করে, তখন এটি বহুবিধ উপকারি চিকিৎসায় পরিণত হওয়ার উপযোগী হয়, বিশেষ করে যখন এটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, কিংবা যখন এটি অধিকতর উষ্ণ বা শীতল কোনো উপাদানের সাথে মিশ্রিত করা হয়। এই কারণেই গ্রিক ভাষায় এর নাম চিকিৎসার নাম থেকে উদ্ভূত, যার মাধ্যমে তারা একথারই ইঙ্গিত দেয় যে খাতমি উদ্ভিদে অনেক উপকারিতা রয়েছে। জালিনুস বলেন, লাঠিটির বক্রতা এবং এর অধিক শাখা-প্রশাখা চিকিৎসাবিদ্যার প্রকারভেদের আধিক্য ও এতে বিদ্যমান বৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে। আপনি আরও দেখতে পাবেন যে তারা এই লাঠিটিকে অলংকরণ ও প্রস্তুতিহীন অবস্থায় ছেড়ে দেয়নি, বরং তারা এর ওপর দীর্ঘ লোমবিশিষ্ট এক প্রাণীর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেছে যা একে পেঁচিয়ে আছে; আর তা হলো ড্রাগন। আসকালিবিউসের সাথে এই প্রাণীর নৈকট্যের বহু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো এটি একটি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন প্রাণী যা অধিকাংশ সময় সজাগ থাকে এবং কোনো সময়ই ঘুমায় না। যারা চিকিৎসাবিদ্যা শিখতে চায় তাদের উচিত ঘুমের মাধ্যমে এতে অবহেলা না করা এবং অত্যন্ত মেধাবী হওয়া, যাতে তারা বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে সে সম্পর্কে আগাম সতর্কতা প্রদান করতে পারে। তারা বলে, এই প্রাণীটি অর্থাৎ ড্রাগন দীর্ঘ আয়ু লাভ করে, এমনকি বলা হয় যে এর জীবনকাল যেন অনন্ত কালব্যাপী; আর চিকিৎসাবিদ্যায় চর্চাকারীদের জীবনও দীর্ঘ হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, যখন আসকালিবিউসকে চিত্রিত করা হয়, তখন তাঁর মাথায় লরেল বৃক্ষের তৈরি একটি মুকুট দেওয়া হয়; কারণ এই বৃক্ষের বৈশিষ্ট্য হলো এটি দুঃখ-বিষাদ দূর করে। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যখন মহিমান্বিত হরমিসকে নামকরণ করা হয়, তখন তাকে এই ধরণের মুকুট দ্বারা ভূষিত করা হয়। সুতরাং চিকিৎসকদের উচিত তাঁদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করা।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
لأن إسقلبيوس كلل بإكليل يذهب بالحزن ولأن الشجرة هَذِهِ أيضاً فِيهَا قوة تشفي الأمراض من ذَلِكَ أنك تجدها إذَا ألقيت فِي موضع هربت من ذَلِكَ الموضع الهوام وذوات السموم.
أبيذقليس حكيم كبير من حكماء يونان وهو أول الحكماء الخمسة المعروفين بأساطين الحكمة وأقدمهم زماناً والخمسة هم أبيذقليس هَذَا ثُمَّ فيثاغورس ثُمَّ سقراط ثُمَّ أفلاطون ثُمَّ ارسطوطاليس بن نيقوماخس الغبثاغوري الجهراسني فهؤلاء الخمسة هم المجمع عَلَى استحقاقهم اسم الحكمة عند اليونانيين ولغة اليونانيين ولغة اليونانيين تسمى الإغريقية وهي من أوسع اللغات وأجلها وكانت رامة اليونانيين صابئة يعظمون الكواكب ويدينون بعبادة الأصنام وعلماؤهم يسمون فلاسفة وأحدهم فيلسوف وهو اسم معناه باللغة العربية محب الحكمة وفلاسفة اليونانيين من أرفع الناس طبقة وأجل أهل العلم منزلة لما ظهر منهم من الاعتناء الصحيح بفنون الحكمة من العلوم الرياضية والمنطقية والمعارف الطبيعية والإلهية والسياسات المنزلية والمدنية .. فأما أبيذقليس هَذَا لكان فِي زمن داود النبي عليه السلام عَلَى مَا ذكره العلماء بتواريخ الأمم وقيل أنه أخذ الحكمة عن لقمان الحكيم بالشام ثُمَّ انصرف إِلَى بلاد اليونانيين فتكلم فِي خلقة العالم بأشياء تقدح ظواهرها فِي أمر المعاد فهجره بعضهم وله تصنيف فِي ذَلِكَ رأيته فِي كتب الشيخ أبي الفتح نصر ابن إبراهيم المقدسي الَّتِي وقفها عَلَى البيت المقدس الشريف وأرسطوطاليس عَلَيْهِ كلام وردود ومن الفرقة الباطنية من يقول برأيه وينتمي فِي ذَلِكَ إِلَى مذهبه ويزعمون أن لَهُ رموزاً قلما يوقف عَلَيْهَا وهي فِي غالب الظن إيهامات منهم فاتنا مَا رأينا شيئاً منها والكتاب الَّذِي رأيته لَيْسَ فِيهِ شيء مما زعموه.
ومن المشتهرين فِي الملة الإسلامية بالانتماء إِلَى مذهبه محمد بن عبد الله الجبلي الباطني من أهل قرطبة كَانَ كلاماً بفلاسفته ملازماً لدراستها وهو محمد بن عبد الله بن ميسرة بن تجبح القرطبي أبو عبد الله سمع من أبيه ومن ابن وضاح والخشني وخرج إِلَى المشرق فارّاً لما اتهم بالزندقة لإكثاره من النظر فِي فلسفة أبيذقليس ولهجه بِهَا وتردد فِي المشرق مدة واشتغل بملاحاة أهل
কারণ এস্কলেপিয়াসকে এমন এক মুকুট পরানো হয়েছিল যা বিষণ্ণতা দূর করে এবং এই বৃক্ষের মধ্যেও এমন শক্তি রয়েছে যা রোগ নিরাময় করে। এর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, আপনি একে কোনো স্থানে রাখলে সেখান থেকে বিষধর সরীসৃপ ও বিষাক্ত কীটপতঙ্গ পালিয়ে যায়।
আবিদাকলিস (এম্পেডোক্লিস) গ্রিসের বিজ্ঞ হেকিমদের মধ্যে একজন মহান হেকিম এবং তিনি প্রজ্ঞার স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত পাঁচজন প্রধান হেকিমের মধ্যে প্রথম ও সর্বপ্রাচীন। এই পাঁচজন হলেন: এই আবিদাকলিস, অতঃপর ফিাসাগোরাস (পিথাগোরাস), অতঃপর সুকরাত (সক্রেটিস), অতঃপর আফলাতুন (প্লেটো) এবং অতঃপর এরিস্টটলেস ইবনে নিকোমাকাস আল-গাবাসাগুরি আল-জাহরাসনি। এই পাঁচজনই গ্রিকদের নিকট প্রজ্ঞাবান বা হেকিম নামের যোগ্য হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ ব্যক্তি। গ্রিকদের ভাষাকে ইগরিকিয়া (গ্রিক) বলা হয় এবং এটি অন্যতম প্রশস্ত ও মর্যাদাপূর্ণ ভাষা। গ্রিকদের সাধারণ ধর্ম ছিল সাবেয়ি; তারা নক্ষত্রপুঞ্জকে সম্মান করত এবং মূর্তিপূজার ধর্ম অনুসরণ করত। তাদের আলেমদের 'ফালাসিফা' (দার্শনিক) বলা হতো এবং এর একবচন হলো 'ফাইলাসুফ', আরবি ভাষায় যার অর্থ হলো 'প্রজ্ঞাপ্রেমী' (মুহিব্বুল হিকমাহ)। গ্রিক দার্শনিকরা মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ ছিলেন, কারণ তাদের মধ্যে গাণিতিক বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, প্রাকৃতিক ও ঐশ্বরিক জ্ঞান এবং পারিবারিক ও নাগরিক রাজনীতির মতো প্রজ্ঞার বিভিন্ন শাখার প্রতি সঠিক মনোযোগ পরিলক্ষিত হয়েছিল। আর এই আবিদাকলিস নবী দাউদ আলাইহিস সালামের সমসাময়িক ছিলেন, যেমনটি উম্মতদের ইতিহাসের পণ্ডিতগণ উল্লেখ করেছেন। বলা হয় যে, তিনি সিরিয়ায় লোকমান হাকিমের নিকট থেকে হিকমত বা প্রজ্ঞা অর্জন করেছিলেন, অতঃপর গ্রিক ভূখণ্ডে ফিরে যান। এরপর তিনি জগতের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে এমন কিছু আলোচনা করেন যার বাহ্যিক দিক পরকাল বা পুনরুত্থান বিষয়ের পরিপন্থী ছিল, ফলে তাদের কেউ কেউ তাকে পরিত্যাগ করে। এই বিষয়ে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে যা আমি শায়খ আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসির বইসমূহের মধ্যে দেখেছি, যা তিনি পবিত্র বাইতুল মাকদিসের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। আর এরিস্টটলের উপর অনেক সমালোচনা ও খণ্ডন রয়েছে। বাতেনি ফিরকার মধ্যে এমন একদল রয়েছে যারা তার মতানুসরণ করে এবং নিজেদের তার মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে। তারা ধারণা করে যে, তার কিছু সাংকেতিক চিহ্ন বা রহস্য রয়েছে যা খুব কমই উন্মোচিত হয়; তবে আমাদের প্রবল ধারণা অনুযায়ী এগুলো তাদের কল্পনাপ্রসূত মাত্র, কারণ আমরা এর কোনো কিছুই দেখিনি এবং আমি যে বইটি দেখেছি তাতে তাদের দাবিকৃত কোনো কিছুর অস্তিত্ব ছিল না।
ইসলামি মিল্লাতের মধ্যে তার মাযহাবের অনুসারী হিসেবে যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কর্ডোভার বাতেনি মতাদর্শী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জাবালি। তিনি দার্শনিকদের কথা নিয়ে পড়ে থাকতেন এবং সর্বদা সেগুলো অধ্যয়ন করতেন। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মাইসারা বিন তাজবাহ আল-কুরতুবি আবু আব্দুল্লাহ। তিনি তার পিতা, ইবনে ওয়াজ্জাহ এবং আল-খুশানির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আবিদাকলিসের দর্শনের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ এবং সেটির প্রতি প্রবল অনুরাগের কারণে তিনি যখন জিন্দিক হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন, তখন তিনি পালিয়ে প্রাচ্যের দিকে পাড়ি জমান। তিনি বেশ কিছুকাল প্রাচ্যে অবস্থান করেন এবং তথাকার লোকদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الجدل وأصحاب الكلام والمعتزلة ثُمَّ عاد إِلَى الأندلس وأظهر النسك والورع واغتر الناس بظاهره واختلفوا إِلَيْهِ وسمعوا منه ثُمَّ ظهروا عَلَى معتقده وقبح مذهبه فانقبض عنه بعض ولازمه ودانوا بنحلته وَكَانَ لَهُ لسان خلوب يتوصل بِهِ إِلَى مراده وَكَانَ مولده ليلة الثلاثاء لسبع مضين من شعبان سنة تسع وستين ومائتين وتوفي يوم الأربعاء لأربع خلون من شوال سنة تسع عشرة وستمائة وهو ابن خمسين سنة وثلاثة أشهر والمشتهر من أمر أبيذقليس أنه أول من ذهب إِلَى الجمع بَيْنَ معاني صفات الله تعالى وأنها كلها تؤدي إِلَى شيء واحد وأنه إن وصف بالعلم والجود والقدرة فليس هو ذا معان متميزة تختص بهذه الأسماء المختلفة بل هو الواحد بالحقيقة الَّذِي لا يتكثر بوجه مَا أصلاً بخلاف سائر الموجودات فإن الوحدانيات العالمية معرضة للتكثر إما بأجزائها وإما بمعانيها وإما بنظائرها وذات الباري سبحانه وتعالى متعالية عن هَذَا كله إِلَى هَذَا المذهب فِي الصفات ذهب أبو الهذيل محمد بن الهذيل العلاّف البصري أفلاطون بن أرسطون أحد أساطين الحكمة الخمسة من يونان كبير القدر فيهم مقبول القول بليغ فِي مقاصده أخذ عن فيثاغورس اليوناني وشارك سقراط فِي الأخذ عنه وَلَمْ يشتهر ذكره بَيْنَ علماء يونان إِلَاّ بعد موت سقراط وَكَانَ أفلاطون شريف النسب فِي بيوت يونان من بيت علم واحتوى عَلَى جميع فنون الطبيعة وصنف كتباً كثيرة مشهورة فِي فنون الحكمة وذهب فِيهَا إِلَى الرمز والإغلاق واشتهر جماعة من تلاميذه المتخرجين عَلَيْهِ وسادوا بانتسابهم إِلَيْهِ وَكَانَ يعلم الطالبين الفلسفة وهو ماش وسمى الناس فرقته المشائين وفوض فِي آخر عمره المفاوضة والتعليم والتدريس إِلَى أرشد أصحابه وانقطع إِلَى العبادة والاعتزال وعاش ثمانين سنة وَكَانَ أفلاطون فِي قديم يميل إِلَى الشعر وأخذ منه بخط متوفر ثُمَّ حضر مجلس سقراط فرآه يذم الشعر وأهله ويقول هي خيالات تشعر بالخلائق لا
বিতর্ক, ইলমুল কালামের অনুসারী এবং মুতাযিলাগণ; অতঃপর তিনি আন্দালুসে ফিরে আসলেন এবং পরহেজগারি ও তাকওয়া প্রকাশ করলেন। মানুষ তার বাহ্যিক অবস্থা দেখে প্রতারিত হলো এবং তার নিকট আসা-যাওয়া শুরু করল ও তার কথা শুনল। অতঃপর তারা তার আকিদা ও তার মাযহাবের কুশ্রীতা সম্পর্কে জানতে পারল। ফলে কেউ কেউ তার থেকে সরে গেল, আবার কেউ তার সাথে লেগে রইল এবং তার মতাদর্শ গ্রহণ করল। তার ছিল এক সম্মোহনী জিহ্বা, যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করত। তার জন্ম ছিল ২৬৯ হিজরি সালের শাবান মাসের সাত তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে। আর তিনি মৃত্যুবরণ করেন ৬১৯ হিজরি সালের শাওয়াল মাসের চার তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার দিনে। তখন তার বয়স ছিল পঞ্চাশ বছর তিন মাস। এম্পেদোক্লেসের ব্যাপারে যা প্রসিদ্ধ তা হলো, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহ তাআলার সিফাতসমূহের অর্থের মধ্যে সমন্বয় করার পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে, এগুলোর সবই একটি জিনিসের দিকেই ধাবিত করে। আর তাকে যদি জ্ঞান, দানশীলতা ও ক্ষমতার গুণে গুণান্বিত করা হয়, তবে তিনি এমন কোনো স্বতন্ত্র অর্থবিশিষ্ট সত্তা নন যা এই ভিন্ন ভিন্ন নামের সাথে নির্দিষ্ট; বরং তিনি প্রকৃতপক্ষে এক, যিনি কোনোভাবেই বহুত্ব গ্রহণ করেন না। যা অন্যান্য বিদ্যমান বস্তুর বিপরীত; কেননা জাগতিক একত্বগুলো বহুত্বের সম্মুখীন হয়—হয় তার অংশের মাধ্যমে, অথবা তার অর্থের মাধ্যমে, অথবা তার সদৃশ বস্তুর মাধ্যমে। আর স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সত্তা এসব কিছু থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত এই মাযহাবের দিকেই ঝুঁকেছিলেন আবুল হুযাইল মুহাম্মাদ ইবনুল হুযাইল আল-আল্লাফ আল-বাসরি। প্লেটো বিন আরিস্টন ছিলেন গ্রিসের প্রজ্ঞার পাঁচজন প্রধান স্তম্ভের একজন। তাদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান, গ্রহণযোগ্য বক্তা এবং স্বীয় উদ্দেশ্যে সাবলীল ছিলেন। তিনি গ্রিক পিথাগোরাসের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণে সক্রেটিসের অংশীদার ছিলেন। গ্রিক পণ্ডিতদের মধ্যে সক্রেটিসের মৃত্যুর আগে তার নাম প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। প্লেটো গ্রিসের উচ্চবংশীয় ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সকল শাখা আয়ত্ত করেছিলেন এবং হিকমতের বিভিন্ন শাখায় অনেক প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। সেগুলোতে তিনি রূপক ও দুর্বোধ্যতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার একদল ছাত্র যারা তার কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করেছিল, তারা প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তার সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নেতৃত্ব লাভ করে। তিনি হাঁটা অবস্থায় ছাত্রদের দর্শন শিক্ষা দিতেন এবং মানুষ তার দলকে 'মাশশায়িন' (পদচারী) নামে অভিহিত করত। জীবনের শেষভাগে তিনি আলোচনা, শিক্ষা প্রদান ও পাঠদানের দায়িত্ব তার সাথীদের মধ্যে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তির ওপর অর্পণ করেন এবং ইবাদত ও নির্জনবাসে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি আশি বছর জীবিত ছিলেন। প্লেটো পূর্বকালে কবিতার প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তাতে প্রচুর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। অতঃপর তিনি সক্রেটিসের মজলিসে উপস্থিত হলেন এবং তাকে কবিতা ও কবিদের নিন্দা করতে দেখলেন। তিনি বলতেন যে, এগুলো এমন সব কল্পনা যা সৃষ্টিজগত সম্পর্কে অনুভব করায়, কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
عَلَى الحقيقة وطلب الحقائق أولي فتركه عند ذَلِكَ أفلاطون ثُمَّ انتقل إِلَى قول فيثاغورس فِي الأشياء المعقولة ويقال أنه عاش إحدى وثمانين سنة وعنه أخذ أرسطوطاليس وخلفه بعد موته وقال إسحاق أنه أخذ عن سقراط وتوفي أفلاطون فِي السنة الَّتِي ولد فِيهَا الإسكندر وعي السنة الثالثة عشر من ملك الأوخس وكان ملك مقدونية فِي ذَلِكَ الوقت فلبس وهو أبو الإسكندر.
وَقَدْ ذكر ثاؤن مَا صنفه أفلاطون من الكتب ورتبه وهو كتاب السياسة فسره حنين بن إسحاق فِي كتاب النواميس ثقله حنين ويحيى بن عدي وَكَانَ يسمي كتباً بأسماء الرجال الطالبين لَهَا وهي فِي فنون متعددة منها. كتاب الجنس فِي الفلسفة. كتاب لاخس فِي الشجاعة. كتاب أرسطوطاليس فِي الفلسفة. كتاب خرميذس فِي العفة. كتابان سماهما الفيناذس فِي الجميل. كتاب أوثوذيمس فِي الحكمة. كتابان سماهما اقتاه. كتاب غورجياس. كتاب أوتوفرن. كتاب أسين. كتاب فاذن. كتاب قريطن. كتاب ثالطلطس. كتاب قيلوطوقن. كتاب قراطولس. كتاب سوفسطس. كتاب طيماؤس أصلحه يحيى بن عدي. كتاب فرمانيذس. كتاب فدرس. كتاب ماثن. كتاب مينس. كتاب أبرخيس. كتاب مانكسانس. كتاب أطليطغرس. كتاب طيماؤس ثلاث مقالات. كتاب المناسبات. كتاب التوحيد. كتاب فِي العقل والنفس والجوهر والعرض. كتاب الحس واللذة. كتاب مسطسطس. كتاب تأديب الأحداث كتاب أصول الهندسة وله رسائل موجودة. وقال ثاؤن أفلاطون يرتب كتبه فِي القراءة وهو أن يجعل كل مرتبة أربعة كتب يسمي ذَلِكَ رابوعاً وعُرفَ أفلاطون وشُهر فِي زمن أرطخشاشت من ملوك الفرس وهو المعروف بالطويل اليد وهو يشتاسف الملك الَّذِي خرج إِلَيْهِ زرداشت واله أعلم. وقال ثاؤن أن أفلاطون بن أرسطون بن أرسطوقليس من أهل أثنيس وكانت أمه فاريقطيوني ابنة غلوقون وكان من كلا الوالدين شريف الآباء وأمه هَذِهِ المذكورة من نسل سولن الَّذِي وضع نواميس لأهل أثينس ورد عليهم مدينة سلمينا الَّتِي انتزعها منهم أهل ماغارا وَكَانَ لسولون أخ يقال لَهُ ذرونيذس يذكره أفلاطون كثيراً فِي شعره وَكَانَ لذرونيذس ابن يقال لَهُ أقريطس وَقَدْ ذكره أفلاطون فِي كتاب طيماؤس وابن أقريطس فلسخروس وابن المسخوري
বাস্তবতা ও সত্য অনুসন্ধানে অগ্রাধিকার দিয়ে, তাই আফলাতুন সেই পর্যায়ে তাকে পরিত্যাগ করেন। এরপর তিনি বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে পিথাগোরাসের মতবাদের দিকে ধাবিত হন। বলা হয় যে তিনি একাশী বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে এরিস্টটল শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ইসহাক বলেন যে তিনি সক্রেটিসের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। যে বছর আলেকজান্ডার জন্মগ্রহণ করেন, সে বছরই আফলাতুন মৃত্যুবরণ করেন; আর এটি ছিল ওখাসের রাজত্বের ত্রয়োদশ বর্ষ। সেই সময় ফিলিপ মেসিডোনিয়ার রাজা ছিলেন, যিনি আলেকজান্ডারের পিতা।
থাউন আফলাতুনের রচিত ও বিন্যস্ত গ্রন্থরাজির কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন কিতাবুস সিয়াসা (রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ), যা হুনাইন ইবনে ইসহাক ব্যাখ্যা করেছেন। কিতাবুন নাওয়ামিস (আইন বিষয়ক গ্রন্থ) অনুবাদ করেছেন হুনাইন এবং ইয়াহইয়া ইবনে আদি। তিনি বইগুলোর নামকরণ করতেন সেইসব ব্যক্তিদের নামে যারা সেগুলো অন্বেষণ করত। বইগুলো বিভিন্ন বিষয়ের ছিল, তার মধ্যে রয়েছে: দর্শনে কিতাবুল জিনস। সাহসিকতা বিষয়ক কিতাব লাখেস। দর্শন বিষয়ক কিতাব এরিস্টটল। পবিত্রতা বিষয়ক কিতাব খারমিদিস। সৌন্দর্য বিষয়ক আল-ফিনাতিস নামক দুটি গ্রন্থ। প্রজ্ঞা বিষয়ক কিতাব ইউথিডিমাস। ইকতা নামক দুটি গ্রন্থ। কিতাব গরজিয়াস। কিতাব ইউটিফ্রো। কিতাব আসিন। কিতাব ফিডো। কিতাব ক্রিটো। কিতাব থিয়েটিটাস। কিতাব ফিলোটোকুন। কিতাব ক্র্যাটিলাস। কিতাব সোফিস্ট। কিতাব টিমায়েস (ইয়াহইয়া ইবনে আদি এটি সংশোধন করেন)। কিতাব পারমেনাইডস। কিতাব ফিড্রাস। কিতাব ম্যাথেন। কিতাব মিনোস। কিতাব হিপ্পার্কাস। কিতাব মেনেক্সেনাস। কিতাব অটোলাইকাস। কিতাব টিমায়েস (তিনটি প্রবন্ধ)। কিতাবুল মুনাসাবাত (উপযোগিতা বিষয়ক গ্রন্থ)। কিতাবুত তাওহিদ (একত্ববাদ বিষয়ক গ্রন্থ)। বুদ্ধি, আত্মা, সত্তা ও গুণ বিষয়ক গ্রন্থ। অনুভূতি ও আনন্দ বিষয়ক গ্রন্থ। কিতাব মেসটোস্টস। কিশোরদের শিষ্টাচার শিক্ষা বিষয়ক গ্রন্থ। জ্যামিতির মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থ। এবং তাঁর আরও কিছু পত্রাবলি বর্তমান রয়েছে। থাউন বলেন যে আফলাতুন তাঁর বইগুলো পাঠের জন্য বিন্যস্ত করতেন এবং প্রতিটি স্তরে চারটি করে বই রাখতেন, যাকে তিনি 'রাবু' (চতুষ্টয়) বলতেন। আফলাতুন পারস্য সম্রাটদের মধ্যে আরতাশাশতা-এর যুগে পরিচিত ও প্রসিদ্ধ ছিলেন, যিনি 'লম্বা হাত' বিশিষ্ট হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনিই ছিলেন রাজা বিশতাসপ যার নিকট জরথুস্ত্র আগমন করেছিলেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। থাউন বলেন যে আফলাতুন ছিলেন অ্যারিস্টন বিন অ্যারিস্টোক্লিসের পুত্র এবং তিনি এথেন্সের অধিবাসী ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন গ্লুকনের কন্যা পেরিকটিওন। তিনি উভয় দিক থেকেই অভিজাত বংশোদ্ভূত ছিলেন। তাঁর উল্লিখিত এই মাতা ছিলেন সোলোনের বংশধর, যিনি এথেন্সবাসীদের জন্য আইন প্রণয়ন করেছিলেন এবং তাদের নিকট সালামিস শহরটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যা মেগারাবাসীরা তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। সোলোনের ড্রপাইডস নামে এক ভাই ছিল, যার কথা আফলাতুন তাঁর কবিতায় প্রচুর উল্লেখ করেছেন। ড্রপাইডসের এক পুত্র ছিল যার নাম ক্রিটিয়াস, যার কথা আফলাতুন তাঁর টিমায়েস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর ক্রিটিয়াসের পুত্র ছিলেন ফ্লেসকোরাস এবং আল-মাসখুরির পুত্র।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
غلوقن وابن غلوقن خرميذس وأخت خرميذس فاريقطيوني وتسمى أيضاً يقطعوني وأفلاطون ابنها فأفلاطون سادس من سولن وأما جنس أبيه أرسطون فإنه ينتهي فِي النسب إِلَى قودرس بن مالنتوس المنتسب إِلَى فيسذون وكان مالنتوس جده شجاعاً مقداماً ذا رأي وخديعة ولما حارب أهل بواطيا أهل اثينس لفساد جرى بينهم ودامت الحرب فيما بينهم وقتل المقاتلة فيما بَيْنَ الفريقين ملّ كل وتحد منهم مَا هو فِيهِ وَكَانَ المستولي يومئذ عَلَى ملك بواطيا اقسانتس وَعَلَى اثينتس أوموطي فطلب اقسانتس مبارزة أوموطي فذل وَلَمْ يبارزه وجبن عن ذَلِكَ فخرج مالنتوس حدثنا أفلاطون من اثينس وقال أنا أبلوزه عَلَى شرط أن غلبته ملّكت فرضي أوطوي بذلك اقسالتس ملك بواطيا وبارزه مالنتوس بعد أفلاطون فلما تقاربا قال لَهُ مالنتوس انطلق ثُمَّ عد إليّ فلها حوّل اقسانتس وجهه ضربه مالنتوس من خلفه خدعة فقتله ومن ذَلِكَ الوقت عمل ذَلِكَ اليوم عيداً عند أهل اثينتس وسمى عيد الخدعة وَكَانَ يسمى فِي ذَلِكَ الوقت باليونانية أبا طينوريا والآن يسمى أباطوريا وَكَانَ هَذَا الأمر سبب هَذَا العيد وابنه قودرس سلم نفسه إِلَى العدو ليخلص أهل مدينته ورضي بأن يلبس لباساً رثاً وأم يموت دونهم.
ويونان يبالغون فِي أفلاطون ويعظمونه ويقولون كَانَ مولده إلهياً وَكَانَ طالعه طالعاً جليلاً ويحكون فِي ذَلِكَ حكايات هي بالأسمار أشبه فأضربت عن ذكرها وقالوا أنه لما عزم عَلَى ترك الشعر الَّذِي كَانَ يعانيه ويبالغ فِي تعلمه عندما سمع عن سقراط مَا سمعه فِي أمره عزم عَلَى المضي إِلَى سقراط والأخذ عنه فلسفة فيثاغورس وذد كَانَ شاركه فِيهَا عَلَى فيثاغورس إِلَاّ أنه لَمْ يبالغ فِيهَا لاشتغاله بالشعر وأن سقراط رأى فِي المنام كَأَنَّ رخ كركي قاعد عَلَى حجره وأنه زغب وطلع ريشه للوقب فطار نحو السماء وهو يصوت بصوت إلهي مطرب جميع الناس فلما جاءه أفلاطون للتعلم تأوله ذَلِكَ الطائر وأن صوته وكلامه سيشغل الناس بهما عن غيرهما وَقَدْ قيل أنه فِي أول أمره اشتغل بالشعر إِلَى أن بلغ فِيهِ الغاية وصنف وسمع كلام فيثاغورس وهو ابن دون العشرين سنة ووضع كتباً فِي الألحان ثُمَّ بعد ذَلِكَ أراد الفلسفة فمشى إِلَى أصحاب أراقليطوس وَكَانَتْ لهم طريقة فِي الفلسفة وهي اليوم مجهولة فسمع منهم وتحقق أن طريقتهم فِي الحكمة يتعين
গ্লকন এবং গ্লকনের পুত্র চারমিডিস, চারমিডিসের বোন পেরিকটিওন—যাকে ইয়াকতুনিও বলা হয়—এবং প্লেটো ছিলেন তাঁরই পুত্র। প্লেটো ছিলেন সোলনের ষষ্ঠ বংশধর। আর তাঁর পিতা অ্যারিস্টনের বংশধারা মেলানথাসের পুত্র কডরাস পর্যন্ত পৌঁছায়, যিনি পসেইডনের সাথে সম্পর্কিত ছিলেন। তাঁর দাদা মেলানথাস ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, অগ্রগামী, প্রাজ্ঞ এবং সমরকৌশলে নিপুণ। যখন বিয়োশিয়ার অধিবাসীরা অ্যাথেন্সের অধিবাসীদের সাথে তাদের মধ্যকার বিরোধের কারণে যুদ্ধে লিপ্ত হলো এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলো এবং উভয় পক্ষের বহু যোদ্ধা নিহত হলো, তখন প্রত্যেকেই তাদের পরিস্থিতির কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। সে সময় বিয়োশিয়ার রাজত্ব ছিল জানথাসের হাতে এবং অ্যাথেন্সের রাজত্ব ছিল থাইমোয়েটিসের হাতে। জানথাস তখন থাইমোয়েটিসকে দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানালেন, কিন্তু থাইমোয়েটিস তাতে অপদস্থ হলেন এবং ভীরুতা প্রদর্শন করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন না। তখন অ্যাথেন্স থেকে মেলানথাস (প্লেটো আমাদের জানিয়েছেন) এগিয়ে এলেন এবং বললেন: "আমি এই শর্তে তার মোকাবিলা করব যে, যদি আমি তাকে পরাজিত করি তবে আমাকে রাজত্ব প্রদান করতে হবে।" থাইমোয়েটিস এতে রাজি হলেন। এরপর মেলানথাস জানথাসের সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধে নামলেন। যখন তারা একে অপরের কাছাকাছি হলেন, তখন মেলানথাস তাকে বললেন: "ফিরে যাও এবং পুনরায় আমার কাছে এসো।" জানথাস যখন তাঁর মুখ ফিরালেন, তখন মেলানথাস পেছন থেকে চাতুরতার সাথে তাকে আঘাত করলেন এবং হত্যা করলেন। সেই থেকে অ্যাথেন্সের অধিবাসীরা ঐ দিনটিকে উৎসব হিসেবে পালন করতে শুরু করে এবং এর নাম দেওয়া হয় 'প্রতারণার উৎসব'। গ্রীক ভাষায় তখন একে 'আবাটিনুরিয়া' বলা হতো এবং বর্তমানে একে 'অ্যাপাটুরিয়া' বলা হয়। এই ঘটনাই ছিল ঐ উৎসবের মূল কারণ। তাঁর পুত্র কডরাস নিজের শহরের অধিবাসীদের রক্ষা করার জন্য নিজেকে শত্রুর হাতে সঁপে দিয়েছিলেন এবং জীর্ণ পোশাক পরিধান করে তাদের পরিবর্তে মৃত্যুবরণ করতেও সম্মত হয়েছিলেন।
গ্রীকরা প্লেটোর ব্যাপারে অনেক অতিরঞ্জন করে এবং তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করে। তারা বলে যে, তাঁর জন্ম ছিল ঐশ্বরিক এবং তাঁর জন্মলক্ষণ ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। তারা এই বিষয়ে এমন সব কাহিনী বর্ণনা করে যা উপকথার মতো শোনায়, তাই আমি সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম। তারা আরও বলে যে, যখন তিনি কবিতা চর্চা ত্যাগ করার সংকল্প করলেন—যা তিনি অত্যন্ত গভীরতার সাথে শিখছিলেন—তখন সক্রেটিসের কথা শুনে তিনি তাঁর কাছে যাওয়ার এবং পিথাগোরাসের দর্শন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইতিপূর্বেও পিথাগোরাসের দর্শনে যুক্ত ছিলেন, কিন্তু কবিতার প্রতি অতিশয় মগ্নতার কারণে তখন তাতে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারেননি। বর্ণিত আছে যে, সক্রেটিস স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন একটি তরুণ সারস পাখি তাঁর কোলে বসে আছে। এরপর সেটির কোমল পালক গজালো এবং ডানা মেলে সে আকাশে উড়ে গেল। পাখিটি এমন এক সুমধুর ঐশ্বরিক স্বরে গান গাইতে শুরু করল যা সমস্ত মানুষকে মোহিত করল। প্লেটো যখন তাঁর কাছে শিক্ষা নিতে এলেন, তখন তিনি সেই পাখির মাধ্যমে তাঁর ব্যাখ্যা দিলেন এবং বললেন যে, প্লেটোর আওয়াজ ও কথা মানুষকে অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ করে রাখবে। বলা হয়ে থাকে যে, জীবনের প্রারম্ভে তিনি কাব্যচর্চায় নিয়োজিত ছিলেন এবং তাতে চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন। তিনি সুর ও ছন্দের ওপর কিতাবও রচনা করেছিলেন। বিশ বছর বয়সের পূর্বেই তিনি পিথাগোরাসের বাণী শুনেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি দর্শনের প্রতি আগ্রহী হন এবং হেরাক্লিটাসের অনুসারীদের নিকট গমন করেন। দর্শনে তাদের একটি বিশেষ পদ্ধতি ছিল যা বর্তমানে অজ্ঞাত। তিনি তাদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন এবং নিশ্চিত হন যে, প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে তাদের এই পথটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
عَلَيْهَا الرد وأراد أن يجاهد نفسه فِي طلب الفلسفة الحقيقية فقصد سقراط لأن فيثاغورس كَانَ قَدْ مات وتصدر بعده سقراط فصادف سقراط وهو يخطب الجماعة المجتمعة إِلَيْهِ وَكَانَ قَدْ جمعهم إِلَيْهِ ذبونوسيوس فلما سمع كلامه حرص كل الحرص عَلَى طلب الحكمة الفيثاغورية وترك مَا كَانَ عَلَيْهِ وأحرف كتب الشعر والأحاديث وأنشأ يقول:
يَا أَيُّها أدنى من أفلاطون
… فإن بِهِ الآن إِلَيْكَ حاجة مَا
وهذه طريقة الشعر اليوناني وَكَانَ عمره إذ ذَاكَ عشرين سنة وسمع من سقراط بعد ذَلِكَ ولازمه مدة خمسين سنة حَتَّى بلغ فِي الأمور العقلية إِلَى منزلة فيثاغورس وَفِي سياسة المدينة الفاضلة إِلَى مرتبة سقراط وشهد لَهُ بذلك أهل العلم فِي زمانه وَكَانَ لرغبته فِي العلم شديد الطلب لَهُ كثير الحث والبحث فِي تحصيله منفقاً فِي تحصيل الكتب بما يمكنه حَتَّى أنه أمر ديون أن يبتاع لَهُ من فيلولاؤس ثلاثة كتب مخزونة عنده من كتب فيثاغورس فابتاعها لَهُ بمائة دينار ولشدة طلبه فِي العلم وحرصه عَلَى جميع الكتب سافر إِلَى صقلية ثلاث دفعات ليحصل عَلَى أسرار حكمة الأمور الإلهية فأول دفعة سافر فِيهَا إِلَيْهَا كَانَ لعزمه أن يري النار الَّتِي تخرج هناك من الأرض دائماً تخف فِي الصيف وتزيد فِي الشتاء وَكَانَ المستولى عَلَى صقلية فِي ذَلِكَ الوقت رجل يوناني قَدْ تغلب عَلَيْهَا اسمه دبونوسيوس وَكَانَ جباراً قَدْ ملك البلاد باليد لا بالإعالة ولما سمع بقدوم أفلاطون أمر بإحضاره فلما حضر إِلَيْهِ صادف عنده سقراط وَقَدْ جمع لَهُ علماء الجزيرة وهو يخطبهم عَلَى مَا تقدم ذكره وشرحه ولما حضر أفلاطون المجلس طلب منه جبار صقلية هَذَا المذكور أن يتكلم بشيء من خطبه وشعره فخطب خطباً كثيرة بحضرته وَكَانَ فصيحاً عذب الألفاظ محكماً لما يورده من طريقته الَّتِي هو عَلَيْهَا وقال فِي بعض خطبه أن أجود السير وأفضلها الَّتِي تكون عَلَى الناموس والسنن وطن الجبار ذيونوسيوس أنه قصده بهذا القول لأجل تغلبه بغير استحقاق لما وليه فأسرها فِي نفسه وَلَمْ يبدها وَكَانَ هَذَا الجبار يعاني الشعر وشيئاً من الحكمة الغير محققة وَلَهُ تلاميذ فِي ذَلِكَ وأصحاب وإذا سمع بعالم تحيل فِي إحضاره ومناظرته وإقامة الحجة عَلَى صحة قصده الَّذِي هو عَلَيْهِ
তিনি সেই পথে ফিরতে চাইলেন এবং প্রকৃত দর্শনের সন্ধানে আত্মনিয়োগ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তাই তিনি সুকরাতের সান্নিধ্য লাভের সংকল্প করলেন, কারণ তখন ফিথাগোরাস মারা গিয়েছিলেন এবং তাঁর পরে সুকরাত প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তিনি সুকরাতকে পেলেন যখন তিনি সেখানে সমবেত এক জনসমষ্টির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন, আর দিওনুসিউস তাদের সেখানে সমবেত করেছিলেন। যখন তিনি তাঁর কথা শুনলেন, তখন ফিথাগোরাসীয় প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তিনি পূর্বে যা কিছুর ওপর ছিলেন তা পরিত্যাগ করলেন এবং কবিতা ও কাহিনীর কিতাবগুলো পুড়িয়ে ফেললেন। তিনি বলতে লাগলেন:
হে আফলাতুনের নিকটের ব্যক্তিগণ
… এখন তোমার কাছে তাঁর কিছু প্রয়োজন আছে।
এটি ছিল গ্রিক কবিতার রীতি। তখন তাঁর বয়স ছিল বিশ বছর। এরপর তিনি সুকরাতের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পঞ্চাশ বছর যাবৎ তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। অবশেষে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে ফিথাগোরাসের মর্যাদায় এবং আদর্শ নগরের শাসনব্যবস্থায় সুকরাতের স্তরে পৌঁছালেন। তাঁর সমসাময়িক আলেম সমাজ এই বিষয়ে তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। ইলমের প্রতি তাঁর অনুরাগের কারণে তিনি এর সন্ধানে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন এবং তা অর্জনে ব্যাপক গবেষণা ও অনুসন্ধান চালাতেন। কিতাব সংগ্রহের জন্য তিনি সাধ্যমতো ব্যয় করতেন। এমনকি তিনি ডিওনকে আদেশ করেন যেন তিনি ফিলোলাউসের নিকট রক্ষিত ফিথাগোরাসের তিনটি কিতাব কিনে আনেন। তিনি সেগুলো তাঁর জন্য একশত দিনারের বিনিময়ে ক্রয় করেন। ইলমের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং সকল কিতাব সংগ্রহের নেশায় তিনি তিনবার সিসিলি ভ্রমণ করেন, যাতে ঐশ্বরিক বিষয়াবলির প্রজ্ঞার রহস্যসমূহ অর্জন করতে পারেন। প্রথমবার যখন তিনি সেখানে ভ্রমণ করেন, তখন তাঁর সংকল্প ছিল সেখানকার সেই আগুন দেখা যা সর্বদা ভূমি থেকে নির্গত হয়, যা গ্রীষ্মকালে কমে যায় এবং শীতকালে বেড়ে যায়। সেই সময় সিসিলির অধিপতি ছিল এক গ্রিক ব্যক্তি যে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেছিল, তার নাম ছিল দিওনুসিউস। সে ছিল একজন স্বৈরাচারী, যে দেশের শাসনভার উত্তরাধিকার সূত্রে নয় বরং হাতের জোরে (শক্তির মাধ্যমে) দখল করেছিল। যখন সে আফলাতুনের আগমনের কথা শুনল, তখন তাকে উপস্থিত করার নির্দেশ দিল। যখন তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি সেখানে সুকরাতকে পেলেন। রাজা দ্বীপের আলেমদের তাঁর জন্য সমবেত করেছিলেন এবং তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন, যেমনটি আগে উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যখন আফলাতুন মজলিসে উপস্থিত হলেন, তখন সিসিলির সেই উল্লিখিত স্বৈরাচারী শাসক তাঁর কাছে তাঁর ভাষণ ও কবিতার কিছু অংশ শুনতে চাইলেন। তখন তিনি তাঁর সামনে অনেকগুলো ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি ছিলেন বাগ্মী, মিষ্টভাষী এবং নিজের অনুসৃত পদ্ধতিতে যা কিছু উপস্থাপন করতেন তাতে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি তাঁর কোনো এক ভাষণে বলেছিলেন যে, সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ জীবন পদ্ধতি হলো তা যা আইন ও রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। স্বৈরাচারী দিওনুসিউস ধারণা করল যে, আফলাতুন এই কথার মাধ্যমে তাকেই উদ্দেশ্য করেছেন, কারণ সে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দখল নিয়েছিল। তাই সে বিষয়টি নিজের মনে গোপন রাখল এবং তা প্রকাশ করল না। এই স্বৈরাচারী শাসক কবিতা এবং কিছু অপরিপক্ক দর্শনের চর্চা করত এবং এই বিষয়ে তার কিছু ছাত্র ও সঙ্গীও ছিল। সে যখনই কোনো আলেমের কথা শুনত, তাকে উপস্থিত করার কৌশল অবলম্বন করত এবং তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতো, যাতে নিজের উদ্দেশ্যের সঠিকতা প্রমাণ করার জন্য যুক্তি দাঁড় করানো যায়।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
واتفق أن قال لأفلاطون هلا ترى فِي أصحابي سعيداً وظن أن أفلاطون سيقول بحضور الجمع أنك سعيد فيحصل لَهُ بهذا القول مرتبة توجب لَهُ الاستحقاق لما تغلب عَلَيْهِ فقال لَهُ أفلاطون غير محاش لَهُ لَيْسَ فِي أصحابك سعيد فسأله بعد ذَلِكَ وقال فهل ترى أنه كَانَ من القدماء سعيد فقال كَانَ فيهم سعداء غير مشهوريين وأشقياء اشتهروا وعناه بذلك فأسرها الجبار وَلَمْ يبدها لَهُ ثُمَّ قال لَهُ الجبار فأراك علي هَذَا القول لا ترى أن أرقليس من أهل السعادة أيضاً وأرقليس هَذَا كَانَ شاعراً من شعراء يونان وَكَانَ قَدْ عمل أشعاراً وذكر فِيهَا هَذَا الجبار ووصفه ولحّن تِلْكَ الأشعار وجعلها فِي هياكل جزيرة صقلية يذكر بِهَا فِي كل وقت وَكَانَ هَذَا الجبار يعظم الشعر والشعراء لأجل ذَلِكَ يثبت لمدحه أصلاً فقال لَهُ أفلاطون مجيباً عن سؤاله أن كنا ترى أن أرقليس كَانَ كالذي ينبغي أن يكون من كَانَ من نسل أذيا يعني المشترى فباضطرار ينبغي أن تظن بِهِ أنه سعيد وأما إِن كَانَ كما وصفتموه أنتم معاشر الشعراء وَكَانَتْ سيرته عَلَى مَا تذكرون فإنه عندي من الأشقياء وذوي رداءة البخت فلما سمع ذبونوسيوس الجبار منه هَذَا القول لَمْ يحتمل جرأته وأمر بِهِ فدفع إِلَى بوليذس الَّذِي كَانَ من أهل الاقاذامونيا وَكَانَ قَدْ وفد عَلَى هَذَا الجبار ليهادنه عَلَى بلاده وأمره الجبار بقتل أفلاطون فأخذه بوليذ وذهب بِهِ إِلَى أثينا مدينته وأبقى عَلَيْهِ وَلَمْ يقتله وباعه من رجل من أهل النهروان اسمه أناقرس وَكَانَ هَذَا الرجل يحب أفلاطون وينشبه بأخلاقه وإن لَمْ يره قبل ذَلِكَ وإنما كَانَ يسمع مَا يُنقل إِلَيْهِ من أخباره وَكَانَ الثمن الَّذِي ابتاعه بِهِ ثلاثين مناقضة وَكَانَ لذيونوسيوس الجبار نسيب اسمه ذيون قَدْ حضر مجالس أفلاطون بصقلية وسمع كلامه ومال إِلَيْهِ كل ميل ولما سمع مَا جرى عَلَى أفلاطون عزّ عَلَيْهِ وَلَمْ يمكنه مجاهرة الجبار فسيَّر فِي السر ثمن أفلاطون وهو ثلاثون مناً إِلَى النهرواني مبتاعه وسأل بيعه منه فلم يفعل النهرواني ذَلِكَ وقال هَذَا حكيم مطلق لنفسه وإنما وزنت المال لأنقذه من أسره وسيصير إِلَى بلاده فِي سلامة وخير فلما سمع ذيون نسيب الجبار هَذَا القول استرجع الثمن وسيره إِلَى أقاذاميا واشترى بِهِ بساتين هناك ووهبها لأفلاطون فمنها كَانَتْ معيشته مدة حياته ولما تحقق ذيونزسيوس خلاص أفلاطون وسلامته ندم
عَلَى فعله وتحيل
আর এমনটি ঘটল যে, তিনি আফলাতুনের উদ্দেশ্যে বললেন, "তুমি কি আমার সঙ্গীদের মধ্যে কাউকে সৌভাগ্যবান হিসেবে দেখ না?" তিনি ধারণা করেছিলেন যে আফলাতুন জনসমক্ষে বলবেন, "আপনিই সৌভাগ্যবান," যার ফলে এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার জন্য এমন এক মর্যাদা অর্জিত হবে যা তাকে তার বিজিত রাজ্যসমূহের যোগ্য অধিকারী হিসেবে সাব্যস্ত করবে। তখন আফলাতুন কোনো প্রকার সংকোচ ছাড়াই তাকে বললেন, "আপনার সঙ্গীদের মধ্যে কোনো সৌভাগ্যবান ব্যক্তি নেই।" এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তবে আপনি কি মনে করেন যে প্রাচীনদের মধ্যে কেউ সৌভাগ্যবান ছিল?" তিনি উত্তর দিলেন, "তাদের মধ্যে এমন অনেক সৌভাগ্যবান ছিলেন যারা প্রসিদ্ধ ছিলেন না, আবার এমন অনেক দুর্ভাগা ছিল যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।" এই কথা দ্বারা তিনি সেই স্বৈরশাসককেই উদ্দেশ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক মনে মনে এটি চেপে রাখলেন এবং তার কাছে তা প্রকাশ করলেন না। তারপর সেই স্বৈরশাসক তাকে বললেন, "আপনার এই কথা অনুযায়ী আমি দেখছি যে আপনি আরক্লিসকেও সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত মনে করেন না।" আর এই আরক্লিস ছিলেন গ্রিক কবিদের একজন। তিনি কিছু কবিতা রচনা করেছিলেন যাতে এই স্বৈরশাসকের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং তার গুণকীর্তন করেছিলেন। তিনি সেই কবিতাগুলোতে সুরারোপ করেছিলেন এবং সিসিলি দ্বীপের মন্দিরগুলোতে সেগুলো স্থাপন করেছিলেন যাতে প্রতিনিয়ত তার কথা স্মরণ করা হয়। এই স্বৈরশাসক কবিতা ও কবিদের অত্যন্ত সম্মান করতেন এবং এই কারণেই তিনি নিজের প্রশংসার একটি ভিত্তি স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। আফলাতুন তার প্রশ্নের উত্তরে তাকে বললেন, "যদি আমরা মনে করি যে আরক্লিস তেমন ছিলেন যেমনটি 'আযিয়া' অর্থাৎ বৃহস্পতির বংশধরদের হওয়া উচিত, তবে আবশ্যিকভাবেই তাকে সৌভাগ্যবান মনে করতে হবে। কিন্তু কবি সম্প্রদায় হিসেবে তোমরা তাকে যেভাবে বর্ণনা করেছ এবং তার জীবনচরিত তোমরা যেভাবে উল্লেখ করছ, সেরূপ হলে আমার দৃষ্টিতে সে দুর্ভাগা এবং মন্দ ভাগ্যের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত।" যখন স্বৈরশাসক দিওনুসিয়াস তার কাছ থেকে এই কথা শুনলেন, তখন তিনি তার এই ধৃষ্টতা সহ্য করতে পারলেন না। তিনি তাকে পাকড়াও করার আদেশ দিলেন এবং তাকে পলিডিসের হাতে তুলে দিলেন, যিনি লাসেডাইমোনিয়ার অধিবাসী ছিলেন এবং এই স্বৈরশাসকের কাছে স্বদেশের সন্ধিচুক্তি করতে এসেছিলেন। স্বৈরশাসক তাকে আফলাতুনকে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। পলিডিস তাকে সাথে নিলেন এবং নিজের শহর এথেন্সে নিয়ে গেলেন। তবে তিনি তার প্রতি দয়া করলেন এবং তাকে হত্যা করলেন না; বরং তাকে নাহরাওয়ানের অধিবাসী 'আনাকারিস' নামক এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিলেন। এই ব্যক্তি আফলাতুনকে পছন্দ করতেন এবং তার চরিত্রের অনুরাগী ছিলেন, যদিও ইতিপূর্বে তিনি তাকে দেখেননি; কেবল তার কাছে পৌঁছানো আফলাতুনের সংবাদসমূহ শুনতেন। যে মূল্যে তিনি তাকে ক্রয় করেছিলেন তা ছিল ত্রিশ 'মানা'। স্বৈরশাসক দিওনুসিয়াসের দিওন নামক এক আত্মীয় ছিল, যিনি সিসিলিতে আফলাতুনের মজলিসে উপস্থিত হতেন, তার কথা শুনতেন এবং তার প্রতি পূর্ণরূপে অনুরক্ত ছিলেন। যখন তিনি আফলাতুনের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। কিন্তু স্বৈরশাসকের অবাধ্যতা করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই তিনি গোপনে আফলাতুনের মূল্য বাবদ ত্রিশ মানা সেই নাহরাওয়ানি ক্রেতার কাছে পাঠালেন এবং তার কাছ থেকে তাকে কিনে নিতে চাইলেন। কিন্তু সেই নাহরাওয়ানি ব্যক্তি তাতে সম্মত হলেন না এবং বললেন, "ইনি তো আপন সত্তার দিক থেকে একজন স্বাধীন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি; আমি তো কেবল তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার জন্যই অর্থ প্রদান করেছি। তিনি নিরাপদে ও কল্যাণের সাথে নিজের দেশে ফিরে যাবেন।" স্বৈরশাসকের আত্মীয় দিওন যখন এই কথা শুনলেন, তখন তিনি সেই অর্থ ফেরত নিলেন এবং তা একাডেমিয়ায় পাঠিয়ে সেখানে কিছু বাগান ক্রয় করলেন এবং তা আফলাতুনকে দান করে দিলেন। সেখান থেকেই আজীবন তার জীবিকা নির্বাহ হতো। যখন দিওনুসিয়াস আফলাতুনের মুক্তি ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে পারলেন, তখন তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হলেন এবং কৌশল অবলম্বন করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
فِي استصلاحه وكتب إِلَيْهِ يستميله وتعذر إِلَيْهِ من فعله ويسأله أن لا يذكره بشر فِي خطبه وأشعاره فأجابه أفلاطون بأن قال لَيْسَ عندي هَذَا الفراغ ولا يمكنني أن أتفرغ لَهُ ولا أجد زماناً خالياً أذكر فِيهِ ذيونوسيوس وسار أفلاطون إِلَى صقلية مرة ثانية ليأخذ من الجبار المقدم ذكره كتاباً فِي النواميس كَانَ وعده بِهِ وَلَمْ يعطه إياه وَكَانَ أفلاطون قَدْ عزم عَلَى تصنيف كتاب فِي السير وهذا الكتاب من مواده فلما وصل إِلَى صقلية وجد ذيونوسيوس الجبار مضطرب الأمر ذد فسدت عَلَيْهِ البلاد والرجال وهو فِي شغل عما قصده بسببه فتركه وعاد ثُمَّ سار إِلَى صقلية دفعة ثالثة وسببه أن ذيون نسيب الجبار قام عَلَيْهِ وتغلب عَلَى أكثر البلاد وَكَانَ ام يستولي وعلم أفلاطون بذلك فسار مصلحاً بَيْنَ الجبار ذيونوسيوس ونسيبه ذيون لعلمه بمحبة ذيون لَهُ وقبوله من قوله وَكَانَ أفلاطون يرى أن إصلاح المدن من الفساد الداخل عَلَيْهَا من المتكلمين لازم لَهُ من طريق الحكمة والسياسة المدنية ويريد بذلك إيصال الراحة إِلَى الرعية فلما وصل إِلَى صقلية أصلح بَيْنَ الرجلين ونزل كل واحد منهما منزلته ووعظهما فاتعظا وعاد إِلَى بلاده وَقَدْ كَانَ أهل بلاده اثينس عَلَى سيرة وسياسة لا يرضاها أفلاطون فقيل لَهُ لِم لَمْ تغيرها فقال هَذِهِ سياسة قديمة قَدْ مرَّت عَلَيْهَا الدهور ونقلهم عنها فِيهِ عناء شديد وربما أدى إِلَى قيل وقال أحتاج أن أستعين فِيهِ عَلَى قومي بغيرهم فيكون ذَلِكَ سبب هلاكهم بوساطتي فلا أفعل ثُمَّ حبسهم فثاروا فسكنهم وثبتهم وتركهم عَلَى مَا هم عَلَيْهِ وانبسط عذره عند من قال لَهُ مَا قال ولازم مدرسته وارتزق من مغل البساتين وتزوج امرأتين إحداهما يقال لَهَا الستانيا من بلاد ارقاديا والأخرى اقسوئيا بلاد فليوس وَكَانَتْ نفسه فِي التعليم مباركة تخرج عَلَيْهِ جماعة علماء اشتهروا من بعده فمنهم اسبوسبتوس من أهل أثينس وهو ابن أخت أفلاطون واقسنوطراطيس من أهل خلقيدونا وأرسطوطاليس من أهل اسطاغيرا وبرقلوس من أهل نيطس واسطياؤس من بارنتوس وارخوطس من أهل طارلطيني وذيون من سوراقوسا وامقلاس من أهل اسطنادس وأرسطوس وقورسقس من أهل اسكبسيس وطيمالاؤس من أهل قوزيقوس وأواؤن من لمساقون ومناديموس من أهل أراثرس وأراقليدس من إيوس وتيانالس وقالبّوس من أينس وديمطريوس من انفيبوليس وغير هؤلاء كثير وَكَانَ أفلاطون إِذَا حضره أصحابه للتعلم قام عَلَى رجليه وألقى عليهم الدروس من العلم وهو يمشي حول البساتين الَّتِي وقفها عَلَيْهِ ذيون فيأخذون عنه مَا يلقيه عليهم وهم عَلَى تِلْكَ الحالة فسموا المشائين بذلك. فعله وتحيل فِي استصلاحه وكتب إِلَيْهِ يستميله وتعذر إِلَيْهِ من فعله ويسأله أن لا يذكره بشر فِي خطبه وأشعاره فأجابه أفلاطون بأن قال لَيْسَ عندي هَذَا الفراغ ولا يمكنني أن أتفرغ لَهُ ولا أجد زماناً خالياً أذكر فِيهِ ذيونوسيوس وسار أفلاطون إِلَى صقلية مرة ثانية ليأخذ من الجبار المقدم ذكره كتاباً فِي النواميس كَانَ وعده بِهِ وَلَمْ يعطه إياه وَكَانَ أفلاطون قَدْ عزم عَلَى تصنيف كتاب فِي السير وهذا الكتاب من مواده فلما وصل إِلَى صقلية وجد ذيونوسيوس الجبار مضطرب الأمر ذد فسدت عَلَيْهِ البلاد والرجال وهو فِي شغل عما قصده بسببه فتركه وعاد ثُمَّ سار إِلَى صقلية دفعة ثالثة وسببه أن ذيون نسيب الجبار قام عَلَيْهِ وتغلب عَلَى أكثر البلاد وَكَانَ ام يستولي وعلم أفلاطون بذلك فسار مصلحاً بَيْنَ الجبار ذيونوسيوس ونسيبه ذيون لعلمه بمحبة ذيون لَهُ وقبوله من قوله وَكَانَ أفلاطون يرى أن إصلاح المدن من الفساد الداخل عَلَيْهَا من المتكلمين لازم لَهُ من طريق الحكمة والسياسة المدنية ويريد بذلك إيصال الراحة إِلَى الرعية فلما وصل إِلَى صقلية أصلح بَيْنَ الرجلين ونزل كل واحد منهما منزلته ووعظهما فاتعظا وعاد إِلَى بلاده وَقَدْ كَانَ أهل بلاده اثينس عَلَى سيرة وسياسة لا يرضاها أفلاطون فقيل لَهُ لِم لَمْ تغيرها فقال هَذِهِ سياسة قديمة قَدْ مرَّت عَلَيْهَا الدهور ونقلهم عنها فِيهِ عناء شديد وربما أدى إِلَى قيل وقال أحتاج أن أستعين فِيهِ عَلَى قومي بغيرهم فيكون ذَلِكَ سبب هلاكهم بوساطتي فلا أفعل ثُمَّ حبسهم فثاروا فسكنهم وثبتهم وتركهم عَلَى مَا هم عَلَيْهِ وانبسط عذره عند من قال لَهُ مَا قال ولازم مدرسته وارتزق من مغل البساتين وتزوج امرأتين إحداهما يقال لَهَا الستانيا من بلاد ارقاديا والأخرى اقسوئيا بلاد فليوس وَكَانَتْ نفسه فِي التعليم مباركة تخرج عَلَيْهِ جماعة علماء اشتهروا من بعده فمنهم اسبوسبتوس من أهل أثينس وهو ابن أخت أفلاطون واقسنوطراطيس من أهل خلقيدونا وأرسطوطاليس من أهل اسطاغيرا وبرقلوس من أهل نيطس واسطياؤس من بارنتوس وارخوطس من أهل طارلطيني وذيون من سوراقوسا وامقلاس من أهل اسطنادس وأرسطوس وقورسقس من أهل اسكبسيس وطيمالاؤس من أهل قوزيقوس وأواؤن من لمساقون ومناديموس من أهل أراثرس وأراقليدس من إيوس وتيانالس
তাকে সংশোধনের চেষ্টা করা হয় এবং তাকে নিজের অনুকূলে আনার জন্য পত্র লেখা হয়। তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং অনুরোধ করেন যেন আফলাতুন (প্লেটো) তার ভাষণ ও কবিতায় তাকে মন্দভাবে উল্লেখ না করেন। উত্তরে আফলাতুন তাকে বলেন, "আমার কাছে এমন অবসর নেই, আর না আমি এ কাজের জন্য সময় বের করতে পারি। দিউনুসিয়ুসকে (ডায়োনিসিয়াস) স্মরণ করার মতো কোনো ফাঁকা সময় আমি পাই না।"
আফলাতুন দ্বিতীয়বার সিসিলি যাত্রা করেন যেন সেই উল্লেখিত স্বৈরশাসকের কাছ থেকে 'কাওয়ানীন' (আইন) বিষয়ক একটি কিতাব গ্রহণ করতে পারেন, যা সে তাকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু দেয়নি। আফলাতুন 'সিরাত' (জীবনচরিত) বিষয়ক একটি কিতাব রচনার সংকল্প করেছিলেন এবং এই কিতাবটি ছিল তার রচনার অন্যতম উপকরণ। তিনি যখন সিসিলিতে পৌঁছালেন, তখন দেখলেন স্বৈরশাসক দিউনুসিয়ুসের অবস্থা সংকটাপন্ন; দেশ ও মানুষ তার বিরুদ্ধে চলে গেছে। তিনি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, দিউনুসিয়ুস সে কাজে ব্যস্ত হতে পারলেন না। ফলে আফলাতুন তাকে ছেড়ে ফিরে এলেন।
এরপর তিনি তৃতীয়বারের মতো সিসিলি গমন করেন। এর কারণ ছিল স্বৈরশাসকের আত্মীয় দিউন (ডিওন) তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দেশের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছিলেন। আফলাতুন তা জানতে পেরে স্বৈরশাসক দিউনুসিয়ুস ও তার আত্মীয় দিউনের মধ্যে সমঝোতা করার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন; কারণ তিনি জানতেন দিউন তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন এবং তার কথা গ্রহণ করেন। আফলাতুনের অভিমত ছিল যে, বাচাল বা তার্কিকদের দ্বারা নগরীগুলোতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা দূর করে সংশোধন করা হিকমত (প্রজ্ঞা) ও নাগরিক রাজনীতির দিক থেকে তার ওপর আবশ্যক। এর মাধ্যমে তিনি প্রজাসাধারণের কাছে শান্তি ও স্বস্তি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন।
সিসিলিতে পৌঁছে তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দেন এবং তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থানে আসীন করেন। তিনি তাদের উপদেশ প্রদান করেন এবং তারা তা গ্রহণ করে। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন। তার নিজ দেশ এথেন্সের (আসিনুস) অধিবাসীরা এমন এক জীবনধারা ও রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল যা আফলাতুন পছন্দ করতেন না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি কেন তা পরিবর্তন করেন না?" তিনি বললেন, "এটি একটি প্রাচীন রাজনীতি যার ওপর দিয়ে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তাদের এই অবস্থা থেকে সরিয়ে আনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ। এর ফলে হয়তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যে, আমাকে আমার স্বজাতির বিরুদ্ধে অন্যদের সাহায্য নিতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত আমার মাধ্যমেই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমি তা করব না।" এরপর তিনি তাদের সংযত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা বিদ্রোহ করে। তখন তিনি তাদের শান্ত করেন এবং তাদের স্বীয় অবস্থায় ছেড়ে দেন। যারা তাকে প্রশ্ন করেছিল, তাদের কাছে তার ওজর বা যুক্তি স্পষ্ট হলো।
এরপর তিনি তার মাদরাসায় (শিক্ষালয়ে) নিবিষ্ট হন এবং বাগানের আয় থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। তিনি দুই নারীকে বিবাহ করেন, যাদের একজনের নাম আলস্তানিয়া (আর্কাদিয়া অঞ্চলের) এবং অন্যজন আকসুয়াইয়া (ফ্লিয়াস অঞ্চলের)। তার শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বরকতময়; তার তত্ত্বাবধানে একদল আলেম তৈরি হন যারা পরবর্তীকালে বিশ্বখ্যাত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: এথেন্সের আসবুসাবতুস (স্পিউসিয়াস), যিনি আফলাতুনের ভাগ্নে; চালকিডনের আকসুনুতরাতিস (জেনোক্রেটিস); স্টাগিরার আরস্তুতালিস (অ্যারিস্টটল); নিটাসের বারকালুস (প্রোক্লাস); প্যারেন্টোসের ইস্তিয়াউস; ট্যারেন্টামের আরখুতাস (আর্কিটাস); সিরাকিউসের দিউন (ডিওন); স্টানাদাসের আমকিলাস; আরস্তুস; আসকাবসিসের কুরাসকাস; সাইজিকাসের তিমালাউস; ল্যাম্পসাকাসের আওয়ান; ইরেত্রিয়ার মুনাদিমুস; আইওসের আরাকলিদাস (হেরাক্লিডেস); তিয়ানালস; এথেন্সের কালিব্বুস; এবং এমফিপোলিসের দিমিত্রিউস। এছাড়া আরও অনেকে ছিলেন।
আফলাতুনের কাছে যখন তার ছাত্ররা শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসতেন, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দিউনের ওয়াকফকৃত বাগানের চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে তাদের সবক প্রদান করতেন। ছাত্ররা সেই অবস্থাতেই তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন, আর এ কারণেই তাদের 'মাশশায়িন' (পদচারী দার্শনিক) বলা হতো।
তিনি তাকে সংশোধনের চেষ্টা করেন এবং তাকে নিজের অনুকূলে আনার জন্য পত্র লেখেন। তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং অনুরোধ করেন যেন আফলাতুন তার ভাষণ ও কবিতায় তাকে মন্দভাবে উল্লেখ না করেন। উত্তরে আফলাতুন তাকে বলেন, "আমার কাছে এমন অবসর নেই, আর না আমি এ কাজের জন্য সময় বের করতে পারি। দিউনুসিয়ুসকে স্মরণ করার মতো কোনো ফাঁকা সময় আমি পাই না।" আফলাতুন দ্বিতীয়বার সিসিলি যাত্রা করেন যেন সেই উল্লেখিত স্বৈরশাসকের কাছ থেকে 'কাওয়ানীন' (আইন) বিষয়ক একটি কিতাব গ্রহণ করতে পারেন, যা সে তাকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু দেয়নি। আফলাতুন 'সিরাত' (জীবনচরিত) বিষয়ক একটি কিতাব রচনার সংকল্প করেছিলেন এবং এই কিতাবটি ছিল তার রচনার অন্যতম উপকরণ। তিনি যখন সিসিলিতে পৌঁছালেন, তখন দেখলেন স্বৈরশাসক দিউনুসিয়ুসের অবস্থা সংকটাপন্ন; দেশ ও মানুষ তার বিরুদ্ধে চলে গেছে। তিনি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, দিউনুসিয়ুস সে কাজে ব্যস্ত হতে পারলেন না। ফলে আফলাতুন তাকে ছেড়ে ফিরে এলেন।
এরপর তিনি তৃতীয়বারের মতো সিসিলি গমন করেন। এর কারণ ছিল স্বৈরশাসকের আত্মীয় দিউন তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দেশের অধিকাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছিলেন। আফলাতুন তা জানতে পেরে স্বৈরশাসক দিউনুসিয়ুস ও তার আত্মীয় দিউনের মধ্যে সমঝোতা করার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন; কারণ তিনি জানতেন দিউন তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন এবং তার কথা গ্রহণ করেন। আফলাতুনের অভিমত ছিল যে, বাচাল বা তার্কিকদের দ্বারা নগরীগুলোতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা দূর করে সংশোধন করা হিকমত ও নাগরিক রাজনীতির দিক থেকে তার ওপর আবশ্যক। এর মাধ্যমে তিনি প্রজাসাধারণের কাছে শান্তি ও স্বস্তি পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। সিসিলিতে পৌঁছে তিনি দুই ব্যক্তির মধ্যে মীমাংসা করে দেন এবং তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থানে আসীন করেন। তিনি তাদের উপদেশ প্রদান করেন এবং তারা তা গ্রহণ করে। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন। তার নিজ দেশ এথেন্সের অধিবাসীরা এমন এক জীবনধারা ও রাজনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল যা আফলাতুন পছন্দ করতেন না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি কেন তা পরিবর্তন করেন না?" তিনি বললেন, "এটি একটি প্রাচীন রাজনীতি যার ওপর দিয়ে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তাদের এই অবস্থা থেকে সরিয়ে আনা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ। এর ফলে হয়তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে যে, আমাকে আমার স্বজাতির বিরুদ্ধে অন্যদের সাহায্য নিতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত আমার মাধ্যমেই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমি তা করব না।" এরপর তিনি তাদের সংযত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা বিদ্রোহ করে। তখন তিনি তাদের শান্ত করেন এবং তাদের স্বীয় অবস্থায় ছেড়ে দেন। যারা তাকে প্রশ্ন করেছিল, তাদের কাছে তার ওজর বা যুক্তি স্পষ্ট হলো।
এরপর তিনি তার মাদরাসায় নিবিষ্ট হন এবং বাগানের আয় থেকে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন। তিনি দুই নারীকে বিবাহ করেন, যাদের একজনের নাম আলস্তানিয়া (আর্কাদিয়া অঞ্চলের) এবং অন্যজন আকসুয়াইয়া (ফ্লিয়াস অঞ্চলের)। তার শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বরকতময়; তার তত্ত্বাবধানে একদল আলেম তৈরি হন যারা পরবর্তীকালে বিশ্বখ্যাত হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: এথেন্সের আসবুসাবতুস, যিনি আফলাতুনের ভাগ্নে; চালকিডনের আকসুনুতরাতিস; স্টাগিরার আরস্তুতালিস; নিটাসের বারকালুস; প্যারেন্টোসের ইস্তিয়াউস; ট্যারেন্টামের আরখুতাস; সিরাকিউসের দিউন; স্টানাদাসের আমকিলাস; আরস্তুস; আসকাবসিসের কুরাসকাস; সাইজিকাসের তিমালাউস; ল্যাম্পসাকাসের আওয়ান; ইরেত্রিয়ার মুনাদিমুস; আইওসের আরাকলিদাস এবং তিয়ানালস।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وقالبّوس من أينس وديمطريوس من انفيبوليس وغير هؤلاء كثير وَكَانَ أفلاطون إِذَا حضره أصحابه للتعلم قام عَلَى رجليه وألقى عليهم الدروس من العلم وهو يمشي حول البساتين الَّتِي وقفها عَلَيْهِ ذيون فيأخذون عنه مَا يلقيه عليهم وهم عَلَى تِلْكَ الحالة فسموا المشائين بذلك.
ولما استكمل إحدى وثمانين سنة من عمر مات وذفن بالبساتين فِي اقاذاميا وتبع جنازته كل من كَانَ بأثينس والذي خلفه من التركة البساتين المذكورة وخلف مملوكين وقدحاً وجاماً وقرطاً من ذهب كَانَ يلبسه وهو غلام وهو لباس أشراف يونان فِي ذَلِكَ الزمان وأما مَا صار إِلَيْهِ من ذيونوسيوس جبار صقلية ومن غيره من الأصدقاء فإنه أنفقه فِي تزويج بنات أخته وَفِي الإحسان إِلَى الأصدقاء لأنه كَانَ من أهل الرياضة والإينار يعلم غيره الساسة فكيف لا يستعملها ولما قبر كتب عَلَى قبره بالرومي مَا تفسيره بالعربي ههنا موضع رجل وهو ارستوقليس الإلهي وَقَدْ تقدم الناس وعلاهم بالعفة وأخلاق العدل فمن كَانَ يمدح الحكمة أكثر من سائر جميع الأشياء فإنه يمدح هَذَا جداً لأن فِيهِ أكثر الحكمة وَلَيْسَ فِي ذَلِكَ حد هَذَا من الجهة الواحدة عَلَى القبر ومن الجهة الأخرى أما الأرض فإنها تغطى جسد أفلاطون هَذَا وَمَا نفسه فإنها فِي مرتبة من لَمْ يموت. وذكر حنين بن إسحاق الترجمان وأبو نصر محمد بن محمد الفارابي المنطقي وغيرهما من العلماء بالفلسفة أن فلاسفة اليونانيين سبعت فرق سميت بأسماء اتقت لَهَا من سبعة أشياء أحدها من اسم الرجل المعلم الفلسفة والثاني من اسم البلد الَّذِي كَانَ فِيهِ مبدأ ذَلِكَ العلم والثالث من اسم الموضع الَّذِي كَانَ يعلم فِيهِ والرابع من التدبير الَّذِي كَانَ يتدبر بِهِ والخامس من الآراء الَّتِي كَانَ يراها فِي علم الفلسفة والسادس من الآراء الَّتِي كلن يراها فِي الغرض الَّذِي كَانَ يقصد إِلَيْهِ فِي تعلم الفلسفة والسابع من الأفعال الَّتِي كَانَتْ تظهر عَلَيْهِ فِي تعليم الفلسفة أما الفرقة المسماة من اسم الرجل المعلم الفلسفة فشيعة فيثاغورس وأما الفرقة المسماة من اسم البلد الَّذِي كَانَ فِيهِ الفيلسوف فشيعة ارسطيِّس من أهل قورينا وأما الفرقة المسماة من اسم الموضع الَّذِي كَانَ يعلم فِيهِ الفلسفة فشيعة كرسبس وهم أصحاب المظلة سموا بذلك لأن تعلمهم كَانَ فِي رواق
এথেন্সের কালিপ্পাস, অ্যামফিপোলিসের ডেমেট্রিউস এবং এঁদের মতো আরও অনেকেই ছিলেন। আফলাতুন যখন তাঁর শিষ্যদের জ্ঞানদানের জন্য উপস্থিত হতেন, তখন তিনি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দিওন তাঁর জন্য যে বাগানগুলো উৎসর্গ করেছিলেন, সেগুলোর চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে তাঁদের পাঠ দান করতেন। তাঁরাও সেই অবস্থায় তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান গ্রহণ করতেন। এই কারণেই তাঁদেরকে মাশশায়িন (পরিভ্রমণকারী) বলা হতো।
যখন তাঁর বয়স একাশি বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং একাডেমিয়ার বাগানসমূহে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এথেন্সের সকলেই তাঁর জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উত্তরাধিকার হিসেবে উপরে উল্লিখিত বাগানসমূহ, দু'জন দাস, একটি পেয়ালা, একটি পানপাত্র এবং একটি স্বর্ণের কানের দুল রেখে গিয়েছিলেন যা তিনি কিশোর বয়সে পরিধান করতেন—আর এটি ছিল সেই সময়ের গ্রীক অভিজাতদের ভূষণ। আর সিসিলির শাসক দিওনিসিয়াস এবং অন্যান্য বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি যা অর্জন করেছিলেন, তা তিনি তাঁর ভাগ্নিদের বিয়েতে এবং বন্ধুদের কল্যাণে ব্যয় করতেন। কারণ তিনি ছিলেন আত্মসংযম ও পরোপকারের অধিকারী এবং অন্যকেও সুশাসন শিক্ষা দিতেন; সুতরাং তিনি নিজে কেন তা প্রয়োগ করবেন না? যখন তাঁকে সমাহিত করা হলো, তাঁর কবরের ওপর গ্রীক ভাষায় যা লেখা হয়েছিল, তার বাংলা অনুবাদ হলো: 'এখানে একজন ব্যক্তির স্থান, আর তিনি হলেন ঐশ্বরিক আরিস্টোক্লিস। তিনি পবিত্রতা ও ন্যায়ের চরিত্রে মানুষের অগ্রগামী ও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। অতএব, যে ব্যক্তি অন্য সকল বিষয়ের চেয়ে প্রজ্ঞার প্রশংসা বেশি করে, সে যেন অবশ্যই এই ব্যক্তির অত্যন্ত প্রশংসা করে, কারণ তাঁর মাঝে ছিল প্রজ্ঞার পূর্ণতা এবং এর কোনো সীমা নেই।' এটি ছিল কবরের এক দিকের লেখা। আর অন্য দিকে লেখা ছিল: 'মৃত্তিকা এই আফলাতুনের দেহকে আবৃত করে রেখেছে, কিন্তু তাঁর আত্মা অবিনশ্বর স্তরের।' অনুবাদক হুনাইন ইবনে ইসহাক এবং যুক্তিবিদ আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারাবি ও অন্যান্য দার্শনিক পণ্ডিতগণ উল্লেখ করেছেন যে, গ্রীক দার্শনিকগণ সাতটি দলে বিভক্ত ছিলেন। এই সাতটি দলের নামকরণ করা হয়েছে সাতটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে: প্রথমত, দর্শন শিক্ষাদানকারী ব্যক্তির নামানুসারে; দ্বিতীয়ত, সেই শহরের নামানুসারে যেখানে সেই জ্ঞানের সূচনা হয়েছিল; তৃতীয়ত, সেই স্থানের নামানুসারে যেখানে শিক্ষা দেওয়া হতো; চতুর্থত, সেই জীবনপদ্ধতি বা পরিচালনার ওপর ভিত্তি করে যা দ্বারা তারা পরিচালিত হতো; পঞ্চমত, দর্শনশাস্ত্রে তাঁর যে মতাদর্শ ছিল তার ওপর ভিত্তি করে; ষষ্ঠত, দর্শন শিক্ষার যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছিল তার ওপর ভিত্তি করে; এবং সপ্তমত, দর্শন শিক্ষাদানের সময় তাঁর যে কার্যাবলি প্রকাশ পেত তার ওপর ভিত্তি করে। শিক্ষাদানকারী ব্যক্তির নামানুসারে যে দলটি পরিচিত, তারা হলো ফিতাগোরাস (পিথাগোরাস)-এর অনুসারী। আর যে দলটি শহরের নামানুসারে পরিচিত, তারা হলো কুরয়েনার অধিবাসী আরিস্টিপ্পাসের অনুসারী। আর যে দলটি দর্শন শিক্ষার স্থানের নামানুসারে পরিচিত, তারা হলো ক্রিসিপ্পাসের অনুসারী, তারা ছাউনিতলাবাসী হিসেবে পরিচিত; তাদের এই নামে ডাকার কারণ ছিল এই যে, তাদের শিক্ষা একটি বারান্দায় প্রদান করা হতো।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
هيكل مدينة أثينة وأما الفرقة المسماة من تدبير أصحابها وأخلاقهم فشيعة ذيوجالس ويعرفون بالكلابية وسموا بذلك لأنهم كانوا يرون إطراح الفرائض المفترضة فِي المدن عَلَى الناس ومحبة أقاربهم وبُغض غيرهم من ستائر الناس وإنما يوجد هَذَا الخلق فِي الكلاب وأما الفرقة المسماة من الآراء الَّتِي كَانَ يراها أصحابها فِي الفلسفة فشيعة وأما الفرقة المسماة من الآراء الَّتِي كَانَ يراها أصحابها فِي الغرض الَّذِي كَانَ يقصد إِلَيْهِ فِي تعلم الفلسفة فشيعة افيفورس ويسمون أصحاب اللذة لأنهم كانوا يرون الغرض المقصود إِلَيْهِ فِي تعلم الفلسفة اللذة التابعة لمعرفتها وأما الفرقة المسماة من الأفعال الَّتِي كَانَتْ تظهر عَلَيْهَا فشيعة أفلاطون وشيعة أرسطوطاليس ويعرفون بالمشائين لأنهم كانوا يعلمون الناس وهم يمشون كيما يرتاض البدن مع رياضة النفس فهذه فرق الفلاسفة اليونانيين وأجلهم فرقتان فرقة فيثاغورس وفرقة أفلاطون وأرسطوطاليس وهما ركنا الفلسفة وعموداها وَكَانَ حكماء يونان ينتحلون الفلسفة الأولى الطبيعية الَّتِي كَانَ يذهب إِلَيْهَا فيثاغورس وثاليس الملطيّ وعوام الصائبة من اليونانيين والمصريين ثُمَّ مال متأخروهم إِلَى الفلسفة المدنية كسقراط وأفلاطون وأرسطوطاليس وأشياعهم وَقَدْ ذكر ذَلِكَ أرسطوطاليس فِي كتابه فِي الحيوان فقال لما كَانَ منذ مائة سنة وذلك منذ زمن سقراط مال الناس عن الفلسفة الطبيعية إِلَى الفلسفة المدنية وانتهى إِلَى أفلاطون رئاسة علوم اليونانيين.
وبتان أمه عظيمة القدر فِي الأمم ظاهرة الذكر فِي الآفاق فخمة الملوك عند جميع الأقاليم منهم الإسكندر بن فيلبس الماقدوني المعروف بذي القرنين الَّذِي غزا دارا بن دارا ملك الفرس فِي عقر داره فاستلبه ملكه بعد إهلاكه وتخطاه إِلَى المشرق من الهند والصين فجرى لَهُ من الاستيلاء عَلَى تِلْكَ الجهات مَا شهدت بِهِ التواريخ.
ثُمَّ ملك بعد الإسكندر البطالمة وربما قيل البطالسة ودان لهم الملك وذلت لهم الرقاب واستمروا واحداً بعد واحد إِلَى أن ملكتهم الروم فتنقرض ملكهم من الأرض وانتظمت مملكتهم مع مملكة الروم فصارت مملكة واحدة مثل مملكة الفرس والبابليين وَكَانَتْ بلاد يونان فِي الربع الغربي الشمالي من الأرض فحدها من جهة الجنوب البحر الرومي والثغور الشامية والثغور الجزرية ومن جهة الشمال بلاد
এথেন্স শহরের কাঠামো; আর সেই সম্প্রদায় যাদের নামকরণ করা হয়েছে তাদের অনুসারীদের ব্যবস্থাপনা ও স্বভাব অনুযায়ী, তারা হলো দিওজেনেসের অনুসারী। তারা 'কাল্লাবিয়া' (কুকুর-সদৃশ) নামে পরিচিত, কারণ তারা মনে করত যে শহরগুলোতে মানুষের ওপর আরোপিত বাধ্যতামূলক দায়িত্বসমূহ বর্জন করা উচিত এবং কেবল নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে ভালোবাসা ও অন্য সাধারণ মানুষকে ঘৃণা করা উচিত; আর এই স্বভাব কেবল কুকুরদের মধ্যেই পাওয়া যায়। আর সেই সম্প্রদায় যাদের নামকরণ করা হয়েছে দর্শনের ক্ষেত্রে তাদের অনুসারীদের মতামতের ভিত্তিতে, তারা হলো... আর সেই সম্প্রদায় যাদের নামকরণ করা হয়েছে দর্শন শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাদের অনুসারীদের মতামতের ভিত্তিতে, তারা হলো এপিকিউরাসের অনুসারী। তাদের 'সুখবাদী' বলা হয়, কারণ তারা মনে করত যে দর্শন শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো সেই আনন্দ যা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর সেই সম্প্রদায় যাদের নামকরণ করা হয়েছে তাদের প্রকাশিত কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে, তারা হলো প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের অনুসারী। তারা 'মাশশাঈন' (পরিভ্রমণকারী) নামে পরিচিত, কারণ তারা হাঁটাচলা করা অবস্থায় মানুষকে শিক্ষা দিতেন যাতে আত্মার অনুশীলনের সাথে সাথে শরীরেরও ব্যায়াম হয়। এগুলোই হলো গ্রিক দার্শনিকদের বিভিন্ন সম্প্রদায়, আর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো দুটি সম্প্রদায়—পিথাগোরাসের সম্প্রদায় এবং প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের সম্প্রদায়। এরাই দর্শনের দুই মূল ভিত্তি ও স্তম্ভ। গ্রিক প্রজ্ঞাবানগণ আদি প্রাকৃতিক দর্শনের অনুসারী ছিলেন, যা পিথাগোরাস ও মাইলেটাসের থেলিস এবং গ্রিক ও মিশরীয়দের সাধারণ সাবীয়রা অনুসরণ করত। পরবর্তীতে তাদের উত্তরসূরিরা সক্রেটিস, প্লেটো ও অ্যারিস্টটল এবং তাদের অনুসারীদের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক দর্শনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অ্যারিস্টটল তার প্রাণী বিষয়ক কিতাবে এটি উল্লেখ করে বলেছেন যে, একশ বছর আগে অর্থাৎ সক্রেটিসের সময় থেকে মানুষ প্রাকৃতিক দর্শন ছেড়ে সামাজিক দর্শনের দিকে ধাবিত হয়েছে। আর গ্রিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের নেতৃত্ব প্লেটোর নিকট এসে পূর্ণতা পায়।
তারা এমন এক জাতি যাদের মর্যাদা অন্যান্য জাতিসমূহের মধ্যে স্বীকৃত, সারা বিশ্বে যাদের খ্যাতি সুপরিচিত এবং সকল অঞ্চলের নিকট যাদের বাদশাহগণ অত্যন্ত প্রতাপশালী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফিলিপ ম্যাসেডোনীয়র পুত্র আলেকজান্ডার, যিনি যুল-কারনাইন নামে পরিচিত; তিনি পারস্য সম্রাট দারা ইবনে দারাকে তার নিজ দেশেই আক্রমণ করেন এবং তাকে ধ্বংস করার পর তার রাজত্ব কেড়ে নেন। এরপর তিনি ভারত ও চীনের পূর্বদিকের অঞ্চলসমূহে অগ্রসর হন এবং সেই সব এলাকা বিজয়ের মাধ্যমে এমন ইতিহাস সৃষ্টি করেন যার সাক্ষ্য কালপঞ্জিসমূহ প্রদান করে।
আলেকজান্ডারের পর বাতালেমা—যাদের বাতালিসাও বলা হয়—সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজত্ব তাদের অনুগত হয় এবং সবার গর্দান তাদের সামনে অবনত হয়। তারা একে একে শাসনকার্য পরিচালনা করতে থাকেন যতক্ষণ না রোমানরা তাদের ওপর বিজয়ী হয়। ফলে পৃথিবী থেকে তাদের রাজত্বের অবসান ঘটে এবং তাদের সাম্রাজ্য রোমান সাম্রাজ্যের সাথে একীভূত হয়ে পারস্য ও ব্যাবিলনীয়দের সাম্রাজ্যের ন্যায় একটি একক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। গ্রিস ভূখণ্ড পৃথিবীর উত্তর-পশ্চিম চতুর্থাংশে অবস্থিত ছিল। এর দক্ষিণ দিকে ভূমধ্যসাগর, শাম বা সিরিয়ার সীমান্ত এবং জাযিরার সীমান্ত অবস্থিত। আর উত্তর দিকে...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
اللان وَمَا حاذاها من ممالك الشمال ومن جهة المغرب تخوك بلاد اليمانية الَّتِي قاعدتها مدينة رومية من جهة المشرق تخوم بلاد أرمينية وباب الأبواب والخليج المعترض مَا بَيْنَ بحر الروم وبحر نيطس الشمال يتوسط بلاد اليونانيين ولغة اليونانيين تسنى الإغريقية وهي من أوسع اللغات وأجلها وَكَانَتْ عامة اليونانيين صابئة معظمة للكواكب دائنة بعبادة الأصنام وعلماءهم يسمون الفلاسفة وأحدهم فيلسوف وهو اسم معناه باللغة اليونانية محب الحكمة واليونانيين أحد الأمم الثمان الذين عوا بالعلم واستنباطه وهم الهند والفرس والكلدانيون واليونانيون والروم وأهل مصر والعرب والعبرانيون وهذه الأمم المذكورة هم الَّذِي اعتنوا بالعلوم واستخراجها وباقي الأمم لَمْ تعن بشيء من ذَلِكَ ولا ظهر لَهَا شيء منه حالها كحال البهائم تأكل وتشرب وتنكح لا غير.
وَكَانَ دعاء أفلاطون يلووحاتيني بالروح الأعلى تضرعي إِلَى العلة الَّتِي أنت معلولة من جهتها لتتضرع عني إِلَى العقل الفعال فِي صحة مزاجي مَا دمت فِي عالم التركيب.
أرسطوطاليس بن نيقوماخس الفيثاغوري الجهراشني وتفسير أرسطوطاليس تام الفضيلة وَكَانَ أرسطوطاليس تلميذ أفلاطون المتصدر بعده بعهده فِي الموضعين اللذين تقدم بهما أصحابه ولازم أفلاطون ليتعلم منه مدة عشرين سنة وَكَانَ أفلاطون يؤثره عَلَى سائر تلاميذه ويسميه العقل وإلى أرسطوطاليس انتهت فلسفة اليونانيين وهو خاتمة حكماءهم وسيد علماءهم وهو أول من خلص صناعة البرهان من سائر الصناعات المنطقية وصورها بالأشكال الثلاثة وجعلها آلة للعلوم النظرية حَتَّى لقب بصناعة المنطق وَلَهُ فِي جميع العلوم الفلسفية كتب شريفة كلية وجزئية فالجزئية رسائله الَّتِي يُتعلم منها معنى واحد فقط والكلية بعضها تذاكير يتذكر بقراءتها مَا قَدْ علم من علمه وهي السبعون كتاباً الَّتِي وضعها لأوفارس وبعضها تعاليم يتعلم منها ثلاثة أشياء أحدها علوم
আল-লান এবং উত্তরের রাজ্যসমূহের এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ; এবং পশ্চিম দিক হতে রোমান দেশের সীমানা যার কেন্দ্র হলো রোম শহর; পূর্ব দিক হতে আরমিনিয়া দেশের সীমানা এবং বাব আল-আবওয়াব ও ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগরের মধ্যবর্তী সংযোগপ্রণালী। গ্রিকদের দেশ এর মাঝামাঝি অবস্থিত। গ্রিকদের ভাষাকে ইগরিকিয়াহ বলা হয় এবং এটি অন্যতম প্রশস্ত ও মর্যাদাপূর্ণ ভাষা। অধিকাংশ গ্রিক ছিল সাবেয়ী যারা নক্ষত্রের সম্মান করত এবং মূর্তিপূজায় লিপ্ত ছিল। তাদের পণ্ডিতদের দার্শনিক বলা হয় এবং তাদের একজনকে দার্শনিক বলা হয়, গ্রিক ভাষায় যার অর্থ প্রজ্ঞাপ্রেমী। গ্রিকরা হলো সেই আটটি জাতির অন্তর্ভুক্ত যারা জ্ঞানার্জন এবং তা উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করেছিল। তারা হলো: ভারত, পারস্য, ক্যালডীয়, গ্রিক, রোমান, মিশরীয়, আরব এবং হিব্রু। উল্লিখিত এই জাতিসমূহ বিজ্ঞানের চর্চা ও তা আহরণে মনোযোগী ছিল। অবশিষ্ট জাতিসমূহ এগুলোর কোনো কিছুর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি এবং তাদের নিকট থেকে এর কোনো নিদর্শনও প্রকাশ পায়নি। তাদের অবস্থা হলো চতুষ্পদ জন্তুর মতো, যারা কেবল আহার, পানীয় এবং বংশবিস্তার ছাড়া আর কিছুই করে না।
আর প্লেটোর প্রার্থনা ছিল: হে উচ্চতর আত্মা, আমার আকুতি সেই পরম কারণের নিকট যার মাধ্যমে তুমি অস্তিত্ব লাভ করেছ, যাতে তুমি আমার পক্ষ থেকে সক্রিয় বুদ্ধির নিকট আমার মেজাজ বা শারীরিক সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করো, যতক্ষণ আমি এই সংমিশ্রিত জগতে অবস্থান করি।
এরিস্টটল বিন নিকোমাকাস, পিথাগোরীয় স্থাগিরাতি। এরিস্টটলের ব্যাখ্যা ছিল পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব সম্পন্ন। এরিস্টটল ছিলেন প্লেটোর ছাত্র, যিনি তার আদেশে সেই দুটি স্থানে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন যেগুলোতে তার সহকর্মীরা তার অগ্রবর্তী ছিল। তিনি দীর্ঘ বিশ বছর প্লেটোর নিকট শিক্ষা অর্জনের জন্য তার সান্নিধ্যে ছিলেন। প্লেটো তাকে তার অন্য সকল ছাত্রের ওপর প্রাধান্য দিতেন এবং তাকে বিবেক বলে সম্বোধন করতেন। গ্রিক দর্শনের সমাপ্তি ঘটেছিল এরিস্টটলের মাধ্যমেই। তিনি ছিলেন তাদের প্রাজ্ঞদের শ্রেষ্ঠ এবং পণ্ডিতদের সর্দার। তিনিই সর্বপ্রথম যুক্তিবিদ্যার অন্যান্য শিল্প থেকে প্রমাণ পদ্ধতিকে পৃথক করেন এবং একে তিনটি রূপে চিত্রিত করেন। তিনি একে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে নির্ধারণ করেন, এমনকি একে যুক্তিবিদ্যা নামে অভিহিত করা হয়। দর্শনশাস্ত্রের সকল শাখায় তার মূল্যবান মৌলিক ও আংশিক গ্রন্থাবলী রয়েছে। আংশিক গ্রন্থসমূহ হলো তার পত্রাবলী যেখান থেকে কেবল একটি মাত্র বিষয় জানা যায়। আর মৌলিক গ্রন্থসমূহের মধ্যে কিছু হলো স্মারকলিপি যা পাঠ করলে ইতিপূর্বে অর্জিত জ্ঞান স্মরণ করা যায়— এগুলো হলো সেই সত্তরটি কিতাব যা তিনি ইউফারেসের জন্য রচনা করেছিলেন— এবং কিছু হলো শিক্ষামূলক যা থেকে তিনটি বিষয় শেখা যায়, যার একটি হলো বিজ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الفلسفة والثاني أعمال الفلسفة والثالث الآلة المستعملة فِي علم الفلسفة وغيره من العلوم فالكتب الَّتِي فِي علوم الفلسفة بعضها فِي العلوم التعليمية وبعضها فِي العلوم الطبيعية وبعضها فِي العلوم الإلهية وأما الكتب الَّتِي فِي العلوم التعليمية لكتابه فِي المناظر وكتابه فِي الخطوط وكتابه فِي الحيل وأما الكتب الَّتِي فِي العلوم الطبيعية فمنها مَا يُتعلم منه الأمور الَّتِي تخص كل واحد من الطبائع ومنها مَا يُتعلم منه الأمور الَّتِي تعم جميع الطبائع فالتي يُتعلم منها الأمور الَّتِي تعم جميع الطبائع هي كتابه المسمى بسمع الكيان فهذا الكتاب يعرّف بعدد المبادئ لجميع الأشياء والني هي كالمبادئ وبالأشياء التوالي للمبادئ المشاكلة للتوالي وأما المبادئ فالعنصر والصورة وأما الَّتِي هي كالمبادئ فليست مبادئ بالحقيقة بل بالتقريب كالعدم وأما التوالي فالزمان والمكان وأما المشاكلة للتوالي فالخلاء وَمَا لا نهاية لَهُ وَعَلَى هَذَا الترتيب تترتب كتبه كلها لمن ينعم النظر فِيهَا ولما لَمْ يكن التاريخ محل ذكر ذَلِكَ أضربت عن ذكر ترتيبها إذ هو شرط تأليف آخر يمنع من سطرها جهل المعاصرين وبلادة الشركاء فِي الطلب والله المستعان.
وَكَانَ أرسطوطاليس معلم الإسكندر بن فيلبس ملك مقدونية وبآدابه عمل فِي سياسة رعيته وسيرة ملكه وانقمع بِهِ الشرك فِي بلاد اليونانيين وظهر الخير وقاض العدل ولأرسطوطاليس إِلَيْهِ رسائل كثيرة معروفة مدونة وبسبب أرسطوطاليس كثرت الفلسفة وغيرها من العلوم القديمة فِي البلاد الإسلامية.
شرح السبب فِي ذَلِكَ. حكى محمد بن إسحاق النديم فِي كتابه أن المأمون رأى فِي منامه كَأَنَّ رجلاً أبيض مشرباً بحمرة واسع الجبين مقرون الحاجبين أجلح الرأس أشهل العينين حسن الشمائل جالس عَلَى سريره قال المأمون وكأني بَيْنَ يديه وَقَدْ ملئت لَهُ هيبة فقلت لَهُ من أنت فقال أنا أرسطوطاليس فسررت بِهِ وقلت أَيُّها الحكيم أسألك قال سل قلن مَا الحسن قال مَا حسن فِي العقل قلت ثُمَّ مَاذَا قال مَا حسن فِي الشرع فقلت ثُمَّ مَاذَا ثُمَّ لا ثُمَّ قلت زدني فقال من يصحبك فِي الذهب فليكن عندك كالذهب وعليك بالتوحيد
দর্শন এবং দ্বিতীয়টি হলো দর্শনের কার্যাবলি এবং তৃতীয়টি হলো দর্শন ও অন্যান্য বিদ্যায় ব্যবহৃত উপকরণ। দর্শনের কিতাবসমূহের কিছু শিক্ষামূলক বা গাণিতিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত, কিছু প্রাকৃতিক বা পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত এবং কিছু ইলাহিয়াত বা ঐশীবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষামূলক বা গাণিতিক বিজ্ঞানের কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে তাঁর 'আল-মানাজির' (দৃষ্টিবিজ্ঞান), 'আল-খুতুত' (রেখা বিজ্ঞান) এবং 'আল-হিয়াল' (যান্ত্রিক কৌশল) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ। আর প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কিতাবসমূহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা থেকে প্রতিটি প্রকৃতির বিশেষ বিষয়াদি শিক্ষা করা যায়, আবার এমন কিছু রয়েছে যা থেকে সমস্ত প্রকৃতির সাধারণ বিষয়াদি শিক্ষা করা যায়। যে কিতাব থেকে সকল প্রকৃতির সাধারণ বিষয়াদি শিক্ষা করা যায় তা হলো তাঁর 'সামআ আল-কিয়ান' (পদার্থবিদ্যা) নামক গ্রন্থ। এই কিতাবটি সমস্ত বস্তুর মূলনীতির সংখ্যা এবং যা মূলনীতির মতো এবং মূলনীতির অনুবর্তী বিষয়সমূহ যা মূলনীতির সদৃশ, সে সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়। আর মূলনীতিসমূহ হলো উপাদান ও রূপ। যা মূলনীতির মতো কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মূলনীতি নয় বরং নিকটবর্তী, তা হলো অভাব বা অবিদ্যমানতা। আর মূলনীতির অনুবর্তী বিষয়সমূহ হলো কাল ও স্থান। আর অনুবর্তী বিষয়ের সদৃশ হলো শূন্যতা ও অসীমতা। যারা গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা করেন তাদের জন্য তাঁর সকল কিতাব এই ক্রমধারায় বিন্যস্ত। ইতিহাস যেহেতু এসব আলোচনার স্থান নয়, তাই আমি এদের বিন্যাস বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকলাম। কারণ এটি স্বতন্ত্র রচনার বিষয়, যার পথে প্রতিবন্ধক হলো সমসাময়িকদের অজ্ঞতা এবং জ্ঞান অন্বেষণে অংশীদারদের স্থবিরতা। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
অ্যারিস্টটল ছিলেন মেসিডোনিয়ার রাজা ফিলিপের পুত্র আলেকজান্ডারের শিক্ষক। তাঁর প্রদত্ত শিষ্টাচারের মাধ্যমেই তিনি প্রজাশাসন ও রাজকার্য পরিচালনা করতেন। তাঁর দ্বারা গ্রিকদের দেশসমূহে শিরক বা অংশীবাদ দমিত হয়েছিল এবং কল্যাণ ও ন্যায়বিচার প্রকাশিত হয়েছিল। আলেকজান্ডারের প্রতি অ্যারিস্টটলের অনেক সুপরিচিত ও সংকলিত পত্রাবলি রয়েছে। আর অ্যারিস্টটলের কারণেই ইসলামি দেশসমূহে দর্শন ও অন্যান্য প্রাচীন বিজ্ঞানের প্রসার ঘটেছিল।
এর কারণের ব্যাখ্যা: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-নাদিম তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন যে, মামুন স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন একজন গৌরবর্ণের মানুষ, যাঁর চেহারায় লালাভ আভা ছিল, প্রশস্ত কপাল, জোড়া ভ্রু, মাথার সম্মুখভাগ কেশহীন, কটা চোখ এবং সুন্দর স্বভাবের অধিকারী, তিনি তাঁর সিংহাসনে বসে আছেন। মামুন বলেন, যেন আমি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছি এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় ও গাম্ভীর্যে আমি অভিভূত হলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি অ্যারিস্টটল’। আমি এতে আনন্দিত হলাম এবং বললাম, ‘হে হেকিম! আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করতে চাই’। তিনি বললেন, ‘জিজ্ঞাসা করো’। আমি বললাম, ‘উত্তম কী?’ তিনি বললেন, ‘যা বুদ্ধির নিকট উত্তম’। আমি বললাম, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, ‘যা শরীয়তের নিকট উত্তম’। আমি বললাম, ‘তারপর কী?’ তিনি বললেন, ‘যা জনগণের নিকট উত্তম’। আমি বললাম, ‘আরো বলুন’। তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি স্বর্ণের ব্যাপারে তোমার সঙ্গী হয়, সে যেন তোমার কাছে স্বর্ণের মতোই হয়। আর তোমার ওপর তাওহীদ বা একত্ববাদ আবশ্যক’।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فلما استيقظ المأمون من منامه حدثته نفسه وحثته همته عَلَى تطلب كتب أرسطوطاليس فلم يجد منها شيئاً ببلاد الإسلام قال غير ابن إسحاق فراسل المأمون ملك الروم وَكَانَ قَدْ استطال عَلَيْهِ وأذل دين الكفر وطلب منه كتب الحكمة من كلام أرسطوطاليس فطلبها ملك الروم فلم يجد لَهَا ببلاده فاغتم لذلك وقال يطلب مني ملك المسلمين علم سلفي من يونان فلا أجده أي عذر يكون لي أم أي قيمة تبقى لهذه الفرقة الرومية عند المسلمين وأخذ فِي السؤال والبحث فحضر إِلَيْهِ أحد الرهبان المتقطعين فِي بعض الأديرة النازحة عن القسطنطينية وقال لَهُ عندي علم مَا تريد فقال لَهُ أدركني فقتال إِن البت الفلاني فِي موضع كذا الَّذِي يقفل كل ملك عَلَيْهِ قفلاً إِذَا ملك مَا فِيهِ عَلَى مَا يقال مال الملوك وكل ملك يجيء يقفل عَلَيْهِ حَتَّى لا يقال قَدْ احتاج إِلَى مَا فِيهِ لسوء تدبيره ففتحه فقال لَهُ الراهب لَيْسَ الأمر كذلك وإنما فِي ذَلِكَ الموضع هيكل كَانَتْ يونان تتعبد فِيهِ قبل استقرار ملة المسيح فلما تقررت ملته بهذه الجهات فِي أيام قسطنطين بت الثلاثة جمعت كتب الحكمة من أيدي الناس وجعلت فِي ذَلِكَ البيت وأغلق بابه وقفل الملوك عَلَيْهِ أقفالاً كما سمعت فجمع الملك مقدمي دولته وعرفهم الأمر واستشارهم فِي فتح البيت فأشاروا بذلك فاستشار الراهب فِي تسييرها إِذَا وجدت إِلَى بلد الإسلام وَعَلَى عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ خطر فِي الدنيا أم إثم فِي الأخرى فقال لَهُ الراهب سيرها فإنك تثاب عَلَيْهِ فإنها مَا دخلت فِي ملة إِلَاّ وزلزلت قواعدها فسار إِلَى البيت وفتحه ووجد الأمر فِيهِ كما ذكر الراهب ووجدوا فِيهِ كتباً كثيرة فأخذوا من جانبها بغير علم ولا فحص خمسة أحمال وسيرت إِلَى المأمون فأحضر لَهَا المأمون المترجمين فاستخرجوها من الرومية إِلَى العربية ثُمَّ تنبه الناس بعد ذَلِكَ عَلَى تطلبها بعد المأمون وتحيلوا إِلَى أن حصلوا منها الجملة الكثيرة ولما سيرت الكتب إِلَى المأمون جاء بعضها تاماً وبعضها ناقصاً فالناقص منها ناقص إِلَى اليوم لَمْ يجد أحد تمامه وقال أبو سليمان المنطقي السجستاني نزيل بغداد وَكَانَ نبيهاً فِي هَذِهِ الفرقة أن بني المنجم كانوا يرزقون جماعة من النقلة منهم حُنين بن إسحاق وحبيش بن الحسن وثابت بن قرة وعيهم لهم فِي الشهر خمسمائة دينار لنقل
যখন আল-মামুন তাঁর নিদ্রা থেকে জাগ্রত হলেন, তখন তাঁর মন তাঁকে প্ররোচিত করল এবং তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে এরিস্টটলের কিতাবসমূহ অনুসন্ধানের জন্য উদ্বুদ্ধ করল। তিনি ইসলামি ভূখণ্ডে সেগুলোর কিছুই খুঁজে পেলেন না। ইবনে ইসহাক ব্যতীত অন্যরা বলেছেন যে, মামুন রোম সম্রাটের নিকট পত্র পাঠালেন। মামুন তাঁর ওপর প্রবল হয়েছিলেন এবং কুফরির ধর্মকে লাঞ্ছিত করেছিলেন। তিনি তাঁর কাছে এরিস্টটলের বচন সম্বলিত হিকমতের (প্রজ্ঞার) কিতাবসমূহ চাইলেন। রোম সম্রাট সেগুলো খুঁজলেন, কিন্তু তাঁর রাজ্যে তা খুঁজে পেলেন না। এতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন এবং বললেন, "মুসলিমদের সম্রাট আমার কাছে আমার গ্রিক পূর্বপুরুষদের জ্ঞান চাচ্ছেন অথচ আমি তা খুঁজে পাচ্ছি না; এমতাবস্থায় আমার কী ওজর থাকবে, আর মুসলিমদের নিকট এই রোমান সম্প্রদায়েরই বা কী মর্যাদা অবশিষ্ট থাকবে?"
অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান শুরু করলেন। তখন কনস্টান্টিনোপল থেকে দূরবর্তী কোনো এক মঠে অবস্থানরত জনৈক নিভৃতচারী সন্ন্যাসী তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, "আপনি যা চাচ্ছেন সে বিষয়ে আমার কাছে তথ্য আছে।" সম্রাট বললেন, "আমাকে উদ্ধার করুন!" সন্ন্যাসী বললেন, "অমুক স্থানে একটি ঘর রয়েছে, যার ওপর প্রত্যেক রাজা তাঁর রাজত্বকালে একটি করে তালা লাগিয়ে দেন। জনশ্রুতি আছে যে, সেখানে রাজাদের ধন-সম্পদ রয়েছে। প্রত্যেক রাজা এসে তাতে তালা লাগিয়ে যেতেন যাতে তাঁর অদূরদর্শিতার কারণে ভেতরের সম্পদের প্রয়োজন হয়েছে বলে কেউ অপবাদ দিতে না পারে।" সম্রাট সেটি খুললেন। সন্ন্যাসী তাকে বললেন, "বিষয়টি সেরূপ নয়। বরং সেই স্থানে একটি মন্দির রয়েছে যেখানে খ্রিষ্টধর্ম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে গ্রিকরা উপাসনা করত। অতঃপর যখন কনস্টানটাইনের যুগে এই অঞ্চলে খ্রিষ্টধর্ম সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন মানুষের নিকট থেকে হিকমতের কিতাবসমূহ সংগ্রহ করা হলো এবং সেই ঘরে রেখে তার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো। আর রাজারা তার ওপর তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন, যেমনটি আপনি শুনেছেন।"
অতঃপর সম্রাট তাঁর রাষ্ট্রের প্রধানদের একত্রিত করলেন এবং তাঁদের বিষয়টি অবহিত করে ঘরটি খোলার ব্যাপারে পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা ঘরটি খোলার পক্ষে মত দিলেন। এরপর তিনি সন্ন্যাসীর নিকট পরামর্শ চাইলেন যে, কিতাবগুলো পাওয়া গেলে তা ইসলামি ভূখণ্ডে পাঠিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে দুনিয়াবি কোনো বিপদ বা পরকালীন কোনো পাপ আছে কি না। সন্ন্যাসী তাকে বললেন, "সেগুলো পাঠিয়ে দিন, এতে আপনি সওয়াব পাবেন। কেননা এই কিতাবগুলো যে ধর্মেই প্রবেশ করেছে, তার মূল ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে।" অতঃপর সম্রাট সেই ঘরের দিকে যাত্রা করলেন এবং তা খুললেন। সেখানে সন্ন্যাসীর বর্ণনা অনুযায়ী সবকিছুই দেখতে পেলেন। তাঁরা সেখানে প্রচুর কিতাব পেলেন। তাঁরা সেখান থেকে কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই বা পরীক্ষা ছাড়াই পাঁচ উটের বোঝাই কিতাব গ্রহণ করলেন এবং সেগুলো মামুনের নিকট প্রেরণ করা হলো। মামুন সেগুলোর জন্য অনুবাদকদের উপস্থিত করলেন এবং তাঁরা কিতাবগুলোকে রোমান ভাষা থেকে আরবি ভাষায় রূপান্তর করলেন। এরপর মামুনের পরবর্তী সময়েও মানুষ এই কিতাবগুলোর অনুসন্ধানে সজাগ হলো এবং নানা কৌশলে সেগুলোর এক বিশাল সংকলন হস্তগত করল। মামুনের নিকট যখন কিতাবগুলো পাঠানো হয়েছিল, তখন সেগুলোর কিছু ছিল পূর্ণাঙ্গ আর কিছু ছিল অপূর্ণাঙ্গ। সেগুলোর মধ্যে যা অপূর্ণাঙ্গ ছিল, তা অদ্যাবধি অপূর্ণাঙ্গই রয়ে গেছে, কেউ তার অবশিষ্টাংশ খুঁজে পায়নি। বাগদাদের অধিবাসী আবু সুলাইমান আল-মানতিকি আস-সিজিস্তানি—যিনি এই জ্ঞান-শাখায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ছিলেন—বলেন যে, বনু মুনাজ্জিম অনুবাদকদের একটি দলকে পারিশ্রমিক প্রদান করত, যাদের মধ্যে ছিলেন হুনাইন ইবনে ইসহাক, হুবাইশ ইবনুল হাসান এবং সাবিত ইবনে কুররা। অনুবাদের কাজের বিনিময়ে তাঁদেরকে প্রতি মাসে পাঁচশত দিনার করে প্রদান করা হতো।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٣١)
والترجمة والملازمة وممن يُعنى بإخراج الكتب بعد ذَلِكَ من بلاد الروم محمد وأحمد والحسن بنوا موسى بن الشاكر المنجم وسيجيء خبرهم فِي تراجمهم وبذلوا فِي ذَلِكَ الرغائب وأحضروا الغرائب منها فِي الفلسفة والهندسة والموسيقى والارثماطيقي والطب وغيرها وَكَانَ قُسطا بن لوقا البعلبكي لما حضر إِلَى بغداد قَدْ أحضر معه منها شيئاً ونقله من لغة إِلَى لغة ونقل لَهُ أيضاً وذكر محمد بن إسحاق النديم قال سمعت أبا إسحاق بن شهرام يحدث فِي مجلس عام أن ببلد الروم هيكلاً قديم البناء عَلَيْهِ باب لَمْ يرقط أعظم منه بمصراعي حديد كَانَ اليونانيون قديماً عند عبادتهم يعظمونه ويدعون فِيهِ قال فسألت ملك الروم أن يفتحه أي فامتنع عن ذَلِكَ لأنه أغلق منذ وقت تنصرت الروم فلم أزل بِهِ أراسله وأسأله شفاهاً عند حضور مجلسه قال فتقدم بفتحه وإذا ذَلِكَ البيت من المرمر والصخر العظام ألواناً وعليه من الكتابات والنقوش ما لَمْ أر وَلَمْ أسمع بمثله كثرة وحسناً وَفِي هَذَا الهيكل من الكتب القديمة مَا يحمل عَلَى عدة أحمال وكثر ذَلِكَ حَتَّى قال عَلَى ألف جمل بعض ذَلِكَ قَدْ أخلق وبعضه عَلَى حاله وبعضه قَدْ أكلته الأرضة قال ورأيت فِيهِ من آلات القرابين من الذهب وغيره أشياء ظريفة قال وأغلق الباب بعد خروجي
وامتن عَلي بما يفعل معي من ذَلِكَ قال وذلك فِي أيام سيف الدولة رحمه الله قال والبيت عَلَى ثلاثة أيام من القسطنطينية والمجاورون لذلك البيت قوم من الصابئة الكلدانيين قَدْ أقرهم الروم عَلَى مذهبهم ويأخذون منهم الجزية وذكر محمد بن إسحاق النديم فِي كتابه أرسطوطاليس فقال معنى اسمه محب الحكمة ويقال الفاضل الكامل ويقال التام الفاضل وهو أرسطوطاليس بن نيقوماخس بن ماخاؤن من ولد اسقلبياذس الَّذِي أخرج الطب لليونانيين كذا ذكر بطليموس الغريب وَكَانَ اسمه اقسطيا ويرجع إِلَى اسقلبياذس وَكَانَ من مدينة لليونانيين تسمي اسطاغاريا وَكَانَ أبوه نيقومتخس متطبباً لفليس أبي الإسكندر وهو من تلاميذ أفلاطون وقال بطليموس الغريب أن تسليم أرسطوطاليس إِلَى أفلاطون كَانَ يوحي من الله ي هيكل بوثيون قال ومكث فِي التعليم عشرين سنة وإنه لما غاب أفلاطون إِلَى صقلية كَانَ أرسطوطاليس يخلفه عَلَى دار التعليم ويقال أنه نظر فِي الفلسفة بعد أن أتي عَلَيْهِ من عمره ثلاثون سنة وَكَانَ بليغ اليونانيين ومترسلهم وأجل علماءهم بعد أفلاطون عظيم المحل عند الملوك وعن رأيه كَانَ الإسكندر يمضي الأمور ولما توجه الإسكندر إِلَى محاربة الأمم تخلى أرسطوطاليس وتبتل وصار إِلَى أبنية حديثة منها موضع التعليم وهو الموضع الَّذِي ينسب إِلَيْهِ الفلاسفة المشائين وأقبل عَلَى العناية بمصالح الناس ورفد الضعفاء وجدد بناء مدينة ناميطا وأحدث فِيهَا غيون وتوفى أرسطوطاليس فِي أول ملك بطليموس لاغوس وخلفه عَلَى التعليم ثاؤقرسطس بن أخته. ن عَلي بما يفعل معي من ذَلِكَ قال وذلك فِي أيام سيف الدولة رحمه الله قال والبيت عَلَى ثلاثة أيام من القسطنطينية والمجاورون لذلك البيت قوم من الصابئة الكلدانيين قَدْ أقرهم الروم عَلَى مذهبهم ويأخذون منهم الجزية وذكر محمد بن إسحاق النديم فِي كتابه أرسطوطاليس فقال معنى اسمه محب الحكمة ويقال الفاضل الكامل ويقال التام الفاضل وهو أرسطوطاليس بن نيقوماخس بن ماخاؤن من ولد اسقلبياذس الَّذِي أخرج الطب لليونانيين كذا ذكر بطليموس الغريب وَكَانَ اسمه اقسطيا ويرجع إِلَى اسقلبياذس وَكَانَ من مدينة لليونانيين تسمي اسطاغاريا وَكَانَ أبوه نيقومتخس متطبباً لفليس أبي الإسكندر وهو من تلاميذ أفلاطون وقال بطليموس الغريب أن تسليم أرسطوطاليس إِلَى أفلاطون كَانَ يوحي من الله ي هيكل بوثيون قال ومكث فِي التعليم عشرين سنة وإنه لما غاب أفلاطون إِلَى صقلية كَانَ أرسطوطاليس يخلفه عَلَى دار التعليم ويقال أنه نظر فِي الفلسفة بعد أن أتي عَلَيْهِ من عمره ثلاثون سنة وَكَانَ بليغ اليونانيين ومترسلهم وأجل علماءهم بعد
অনুবাদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যাবলি এবং পরবর্তীতে রোম দেশ থেকে কিতাবসমূহ সংগ্রহের ব্যাপারে যারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন, তারা হলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মুসা বিন শাকিরের পুত্রত্রয়—মুহাম্মদ, আহমদ ও হাসান। তাদের জীবনীতে পরবর্তীতে তাদের সংবাদ বিস্তারিত আসবে। তারা এই কাজে প্রচুর ধন-সম্পদ ব্যয় করেন এবং দর্শন, জ্যামিতি, সংগীত, পাটিগণিত, চিকিৎসাশাস্ত্রসহ বিভিন্ন শাস্ত্রের দুর্লভ ও বিস্ময়কর গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করেন। কুস্তা বিন লুকা আল-বালবাকি যখন বাগদাদে আসেন, তখন তিনি রোম থেকে কিছু গ্রন্থ সাথে নিয়ে এসেছিলেন এবং সেগুলো এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন এবং তার জন্য অনুবাদ করাও হয়েছিল। মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-নাদিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু ইসহাক বিন শাহরামকে একটি জনাকীর্ণ মজলিসে বলতে শুনেছেন যে, রোম দেশে প্রাচীন নির্মাণের একটি সুউচ্চ মন্দির রয়েছে, যার লৌহ নির্মিত বিশাল কপাট দুটির মতো বৃহৎ কপাট কখনও দেখা যায়নি। প্রাচীনকালে গ্রিকরা তাদের উপাসনার সময় একে সম্মান করত এবং সেখানে প্রার্থনা করত। তিনি বলেন, আমি রোম সম্রাটকে সেটি খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম, কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জানালেন। কারণ রোমানরা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পর থেকে সেটি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমি নিরন্তর তাকে পত্রের মাধ্যমে এবং তার মজলিসে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে অনুরোধ করতে থাকলাম। তিনি বলেন, এরপর সম্রাট সেটি খোলার নির্দেশ দিলেন। হঠাৎ দেখা গেল ঘরটি মার্বেল পাথর ও বিশাল রঙিন শিলাখণ্ড দিয়ে নির্মিত। সেখানে লিপি ও নকশা এত অধিক ও চমৎকার ছিল যা আমি কখনও দেখিনি এবং এর সদৃশ কিছু শুনিনি। এই মন্দিরে এত অধিক প্রাচীন কিতাব ছিল যে তা বহনের জন্য বহু বাহনের প্রয়োজন হতো, এমনকি বলা হয় যে তা এক হাজার উটের বোঝার সমান ছিল। তার কিছু অংশ জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, কিছু অক্ষত ছিল এবং কিছু অংশ উইপোকায় খেয়ে ফেলেছিল। তিনি বলেন, আমি সেখানে স্বর্ণ ও অন্যান্য ধাতুর তৈরি উৎসর্গের অনেক সূক্ষ্ম ও চমৎকার সরঞ্জামাদি দেখলাম। তিনি বলেন, আমার বেরিয়ে আসার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হলো।
সম্রাট আমার সাথে এই যে আচরণ করেছেন তার জন্য তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, এটি ছিল সাইফুল দাওলা (রহিমাহুল্লাহ)-এর শাসনামলের ঘটনা। তিনি আরও বলেন, সেই ঘরটি কনস্টান্টিনোপল থেকে তিন দিনের দূরত্বে অবস্থিত। সেই ঘরের আশপাশে কালদানীয় সাবায়ী সম্প্রদায়ের একদল লোক বাস করে, রোমানরা তাদের নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ দিয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করে। মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-নাদিম তার কিতাবে এরিস্টটল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তার নামের অর্থ হলো প্রজ্ঞাপ্রেমী। তাকে 'গুণী ও পূর্ণ'ও বলা হয়, আবার 'পরিপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ'ও বলা হয়। তিনি হলেন নিকোমাখাস বিন মাখাউন বিন আসক্লিয়াপিয়াদাসের বংশধর, যিনি গ্রিকদের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। প্টলেমি আল-গারিব এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তার নাম ছিল আকস্তিয়া এবং তার বংশপরম্পরা আসক্লিয়াপিয়াদাস পর্যন্ত পৌঁছায়। তিনি স্তাগিরা নামক এক গ্রিক শহরের অধিবাসী ছিলেন। তার পিতা নিকোমাখাস সিকান্দারের (আলেকজান্ডার) পিতা ফিলিপের চিকিৎসক ছিলেন। তিনি প্লেটোর শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্টলেমি আল-গারিব বর্ণনা করেন যে, এরিস্টটলকে প্লেটোর কাছে সমর্পণ করার বিষয়টি বুথিয়ন মন্দিরে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত ছিল। তিনি বলেন, তিনি শিক্ষাদীক্ষায় বিশ বছর অতিবাহিত করেন। যখন প্লেটো সিসিলিতে অনুপস্থিত ছিলেন, তখন এরিস্টটল তার শিক্ষাকেন্দ্রের স্থলাভিষিক্ত হতেন। বলা হয় যে, তিনি ত্রিশ বছর বয়সে পদার্পণ করার পর দর্শনের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি গ্রিকদের মধ্যে অত্যন্ত সাবলীল ভাষী ও পত্রলেখক ছিলেন। প্লেটোর পর তিনি ছিলেন গ্রিকদের শ্রেষ্ঠ আলেম এবং রাজদরবারে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। সিকান্দার (আলেকজান্ডার) তার পরামর্শেই রাষ্ট্রীয় কার্যাদি সম্পাদন করতেন। যখন সিকান্দার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে অগ্রসর হলেন, তখন এরিস্টটল নির্জনতা অবলম্বন করেন এবং ইবাদতে মগ্ন হন। তিনি কিছু আধুনিক দালানকোঠায় চলে যান, যার মধ্যে ছিল তার শিক্ষালয়; আর এই স্থানের দিকেই 'মাশশায়ী' (পেরিপ্যাটেটিক) দার্শনিকদের সম্বন্ধ করা হয়। তিনি মানুষের কল্যাণে মনোনিবেশ করেন এবং দুর্বলদের সাহায্য করতে থাকেন। তিনি নামিটা শহরটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং সেখানে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করেন। এরিস্টটল প্রথম টলেমি ল্যাগোসের রাজত্বকালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তার ভাগ্নে থিওফ্রাস্টাস তার শিক্ষাদানের স্থলাভিষিক্ত হন। সম্রাট আমার সাথে এই যে আচরণ করেছেন তার জন্য তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, এটি ছিল সাইফুল দাওলা (রহিমাহুল্লাহ)-এর শাসনামলের ঘটনা। তিনি আরও বলেন, সেই ঘরটি কনস্টান্টিনোপল থেকে তিন দিনের দূরত্বে অবস্থিত। সেই ঘরের আশপাশে কালদানীয় সাবায়ী সম্প্রদায়ের একদল লোক বাস করে, রোমানরা তাদের নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ দিয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করে। মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-নাদিম তার কিতাবে এরিস্টটল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তার নামের অর্থ হলো প্রজ্ঞাপ্রেমী। তাকে 'গুণী ও পূর্ণ'ও বলা হয়, আবার 'পরিপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ'ও বলা হয়। তিনি হলেন নিকোমাখাস বিন মাখাউন বিন আসক্লিয়াপিয়াদাসের বংশধর, যিনি গ্রিকদের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। প্টলেমি আল-গারিব এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তার নাম ছিল আকস্তিয়া এবং তার বংশপরম্পরা আসক্লিয়াপিয়াদাস পর্যন্ত পৌঁছায়। তিনি স্তাগিরা নামক এক গ্রিক শহরের অধিবাসী ছিলেন। তার পিতা নিকোমাখাস সিকান্দারের (আলেকজান্ডার) পিতা ফিলিপের চিকিৎসক ছিলেন। তিনি প্লেটোর শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্টলেমি আল-গারিব বর্ণনা করেন যে, এরিস্টটলকে প্লেটোর কাছে সমর্পণ করার বিষয়টি বুথিয়ন মন্দিরে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত ছিল। তিনি বলেন, তিনি শিক্ষাদীক্ষায় বিশ বছর অতিবাহিত করেন। যখন প্লেটো সিসিলিতে অনুপস্থিত ছিলেন, তখন এরিস্টটল তার শিক্ষাকেন্দ্রের স্থলাভিষিক্ত হতেন। বলা হয় যে, তিনি ত্রিশ বছর বয়সে পদার্পণ করার পর দর্শনের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি গ্রিকদের মধ্যে অত্যন্ত সাবলীল ভাষী ও পত্রলেখক ছিলেন এবং প্লেটোর পরবর্তী শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أفلاطون عظيم المحل عند الملوك وعن رأيه كَانَ الإسكندر يمضي الأمور ولما توجه الإسكندر إِلَى محاربة الأمم تخلى أرسطوطاليس وتبتل وصار إِلَى أبنية حديثة منها موضع التعليم وهو الموضع الَّذِي ينسب إِلَيْهِ الفلاسفة المشائين وأقبل عَلَى العناية بمصالح الناس ورفد الضعفاء وجدد بناء مدينة ناميطا وأحدث فِيهَا غيون وتوفى أرسطوطاليس فِي أول ملك بطليموس لاغوس وخلفه عَلَى التعليم ثاؤقرسطس بن أخته.
ولما حضرته الوفاة قال إني قَدْ جعلت وصيتي أبداً فِي جميع مَا خلفت إِلَى انطيبطرس والي أن يقدم نيقاتر فليكن أرسطوطاليس وطيمرخس وأبرّخس وذيوطاليس عانين يتفقد مَا يحتاج إِلَى تفقده والعناية بما ينبغي أن يعنوا بِهِ من أمر أهل بيتي وأربلس خادمي وسائر جوارئ وعبيدي وَمَا خلفت وإن سهل عَلَى ثاؤفرسطس وأمكنه القيام معهم فِي ذَلِكَ كَانَ معهم ومتى أدركت ابنتي فولى أمرها نيقائر وإن حدث بِهَا حدث الموت قبل أن تتزوج أَوْ بعد ذَلِكَ من غير أن يكون لَهَا ولد فالأمر مردود إِلَى نيقاتر فِي أمر ابني نيقوماخس ووصيتي إياه فِي ذَلِكَ أن يجري التدبير فيما يعمل بِهِ عَلَى مَا يشتهي وَمَا يليق بِهِ وإن حدث بنيقاتر حدث الموت قبل تزويج ابنتي أَوْ بعد تزويجها من غير أن يكون لَهَا ولد فأوصى نيقاتر فيما خلفت بوصية فهي جائرة نافذة وإن مات نيقاتر عن غير وصية فسهل عَلَى ثاؤفرسطس وأحب أن يقوم فِي الأمر مقامه فِي أمر ولدي وغير ذَلِكَ مما خلفت وإن لَمْ يحب ثاؤفرسطس القيام بذلك فليرجع الأوصياء الذين سميت إِلَى انطيبطرس فليشاوروه فيما يعملونه فيما خلفت وليمضوا الأمر عَلَى مَا ينفقون عَلَيْهِ وليحفظني الأوصياء ونيقاتر فِي أربلس فإنها تستحق مني ذَلِكَ لما رأيت من عنايتها بخدمتي واجتهادها فيما وافق مسرتي وليعنوا لَهَا بجميع مَا تحتاج إِلَيْهِ وإن هي أحبت التزويج فلا توضع إِلَاّ عند رجل فاضل وليدفع إِلَيْهَا من الفضة سوي مَا لَهَا طالنطن واحد وهو مائة وخمسة وعشرون درهماً ومن الإماء ثلاثة ممن تختار مع جاريتها الَّتِي لَهَا وغلامها وإن أحبت المقام بخلقيس فلها السكني فِي داري دار الضيافة الَّتِي إِلَى جانب البستان وإن اختارت السكنى فِي المدينة باسطاً غيرا فلتسكن فِي منازل آبائي وأي المنازل اختارت فليتخذ الأوصياء لَهَا فِيهِ مَا تذكر أنها محتاجة إِلَيْهِ وأما أهلي وولدي فلا حاجة أي إِلَى أن أوصيهم بحفظهم والعناية بأمرهم وليعن نيقاتر بمرقس الغلام حَتَّى يرده إِلَى بلده ومعه جميع ماله عَلَى الحال الَّتِي يشتهيها ولتضق
রাজন্যবর্গের নিকট প্লেটো অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং তাঁরই পরামর্শক্রমে আলেকজান্ডার রাষ্ট্রীয় কার্যাদি সম্পাদন করতেন। আলেকজান্ডার যখন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন, তখন এরিস্টটল নির্জনতা অবলম্বন ও একাগ্রতা সাধনের পথ বেছে নিলেন এবং তিনি কিছু আধুনিক ইমারতের দিকে গমন করলেন, যার মধ্যে শিক্ষালয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটিই সেই স্থান যার দিকে 'মাশশাঈ' (পেরিফ্যাটিক) দার্শনিকগণ নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকেন। তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে মনোনিবেশ করলেন, অসহায়দের সাহায্য করলেন, নামিতা নগরীর পুনর্নির্মাণ করলেন এবং সেখানে পানির প্রস্রবণ তৈরি করলেন। প্রথম টলেমি ল্যাগোসের রাজত্বের প্রারম্ভে এরিস্টটল মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর ভাগ্নে থিওফ্রাস্টাস তাঁর শিক্ষাদানের স্থলাভিষিক্ত হন।
যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন তিনি বললেন: আমি আমার রেখে যাওয়া সকল সম্পদের বিষয়ে চিরস্থায়ীভাবে এই অসিয়ত করছি যে, নিকানর আগমন না করা পর্যন্ত তা এন্তিপাতারের তত্ত্বাবধানে থাকবে। এরিস্টটল, টাইমারকাস, হিপ্পারকাস এবং ডিওটেলস যেন তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সে বিষয়গুলো তদারকি করেন যা তদারকি করা প্রয়োজন, এবং আমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আমার পরিচারিকা হার্পিলিস, আমার অন্যান্য দাস-দাসী এবং আমার রেখে যাওয়া সম্পদের প্রতি যথাযথ যত্নশীল থাকেন। থিওফ্রাস্টাসের জন্য যদি সহজ হয় এবং তাদের সাথে এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম হন, তবে তিনি যেন তাদের সাথেই থাকেন। আমার কন্যা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে, তখন নিকানর যেন তার অভিভাবকত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যদি বিবাহের পূর্বে অথবা বিবাহের পর সন্তানহীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, তবে আমার পুত্র নিকোম্যাকাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিকানরের নিকট ন্যস্ত হবে। তার ব্যাপারে আমার অসিয়ত হলো, সে যেভাবে চায় এবং যা তার জন্য উপযুক্ত হয়, সেই অনুযায়ী যেন তার কার্যাদি পরিচালিত হয়। যদি আমার কন্যার বিবাহের পূর্বে অথবা বিবাহের পর সন্তানহীন অবস্থায় নিকানরের মৃত্যু ঘটে এবং নিকানর আমার রেখে যাওয়া সম্পদ সম্পর্কে কোনো অসিয়ত করে যান, তবে তা বৈধ ও কার্যকর বলে গণ্য হবে। যদি নিকানর কোনো অসিয়ত না করেই মৃত্যুবরণ করেন এবং থিওফ্রাস্টাস যদি সহজ মনে করেন ও আমার সন্তান এবং অন্যান্য পরিত্যক্ত সম্পদের বিষয়ে নিকানরের স্থলাভিষিক্ত হতে পছন্দ করেন, তবে তিনি তা করবেন। যদি থিওফ্রাস্টাস এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে না চান, তবে আমার মনোনীত অসিগণ (তত্ত্বাবধায়কগণ) যেন এন্তিপাতারের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন এবং আমার পরিত্যক্ত সম্পদের বিষয়ে তারা কী করবেন সে সম্পর্কে তাঁর সাথে পরামর্শ করেন, এবং তাঁরা যে বিষয়ে একমত হবেন সেই অনুযায়ী বিষয়টি কার্যকর করবেন। অসিগণ এবং নিকানর যেন হার্পিলিসের প্রতি আমার পক্ষ থেকে বিশেষ লক্ষ্য রাখেন; কেননা আমার সেবায় তার যত্নশীলতা এবং আমার সন্তুষ্টির কাজে তার যে পরিশ্রম আমি দেখেছি, তাতে সে আমার পক্ষ থেকে এর যোগ্য। তাঁরা যেন তার প্রয়োজনীয় সকল কিছুর ব্যবস্থা করেন। যদি সে বিবাহ করতে চায়, তবে কোনো সচ্চরিত্রবান ব্যক্তি ছাড়া যেন অন্য কোথাও তার বিয়ে না দেওয়া হয়। তার নিজস্ব সম্পদ ছাড়াও তাকে এক 'তালান্ত' রৌপ্য প্রদান করতে হবে, যার পরিমাণ একশত পঁচিশ দিরহাম। আর তার বর্তমান দাসী ও গোলাম ছাড়াও তার পছন্দমতো আরও তিনজন পরিচারিকা তাকে প্রদান করতে হবে। সে যদি চ্যালসিসে অবস্থান করতে পছন্দ করে, তবে বাগানের পার্শ্ববর্তী আমার মেহমানখানায় তার বসবাসের অধিকার থাকবে। আর যদি সে স্টাগিরা শহরে বসবাস করা বেছে নেয়, তবে সে যেন আমার পিতৃপুরুষদের গৃহে বসবাস করে। সে যে গৃহই পছন্দ করুক না কেন, অসিগণ যেন সেখানে তার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করে দেন। আমার পরিবার ও সন্তানদের রক্ষার বিষয়ে তাঁদেরকে অসিয়ত করার প্রয়োজন নেই (তাঁরা এমনিতেই তা করবেন)। আর নিকানর যেন বালক মারমেক্সের যত্ন নেন যতক্ষণ না তাকে তার নিজ দেশে সকল সম্পদসহ তার পছন্দসই অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়...
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
جاريتي أمارقيس وإن هي بعد العتق أقامت عَلَى الخدمة لابنتي إلي أن تتزوج فليدفع إِلَيْهَا خمسمائة درخى وجاريتها ويدفع إِلَى ثاليس الصبية الَّتِي ملكناها قريباً غلام كم مماليكنا وألف درخي ويدفع إِلَى سيمس ثمن غلام يبتاعه لنفسه سوى الغلام الَّذِي كَانَ دفع إِلَيْهِ ثمنه ويوهب لَهُ سوى ذَلِكَ مَا يرى الأوصياء ومتى تزوجت ابنتي فليعتق غلماني ثاخن وفيلن وأولمبيوس ولا يباع ابن أولمبيوس ولا يباع أحد من غلماني ولكن يقرون فِي الخدمة إِلَى أن يدركوا مدرك الرجال فإذا بلغوا فليعتقوا وبفعل بهم فيما يوهب لهم عَلَى حسب مَا يستحقون.
قال إسحاق بن حنين عاش أرسطوطاليس سبعاً وستين سنة والله أعلم.
أما ترتيب تصانيفه فهي عَلَى أربع مراتب المنطقيات. الطبيعيات. الإلهيات. الخلفيات الكلام عَلَى كتبه المنطقيات وذكر من نقلها من عبارة إِلَى أخرى ومن شرحها واختصرها حسب مَا أدى إِلَيْهِ النظر والاجتهاد. قاطيغورياس معناها لمقولات. باري أرميلياس ومعناه الصبارة. أنولوطيقا الأول ومعناه تحليل القياس. أبو ديقطيقا وهو أتولوطيقا الثاني ومعناه البرهان. طوبيقا ومعناه الجدل. سوقسطيقا ومعناه المغالطون ويقال الحكمة المموهة. ويطوريقا ومعناه الخطابة. أبو طيقا ويقال بوطيقا ومعناه الشعر.
الكلام عَلَى قاطيغورياس ومن نقله وشرحه نقله من الرومية إِلَى العربية حنين بن إسحاق وشرحه وقسره من بوتان ومن العرب منهم فرفوريوس يوناني اصطقن ابن إسكندراني رومي الليس رومي يحيى النحوي بطرك الإسكندرية أمونيوس رومي ثامسكيوس رومي ثاؤفرسطس يوناني سنبليقيوس ولرجل يعرف بناؤن سرياني وعربي ومن غريب تفاسيره قطعة منه لأمليخس. قال أبو زكريا يحيى بن عدي ينبغي أن يكون هَذَا منحولاً إِلَى أمليخس لأني رأيت فِي تصانيف الكلام قال الإسكندر قلت وهذا الكلام غير مانع فإنه يحتمل أن يكون بعض المتأخرين قَدْ أضاف كلام الإسكندر إِلَى كلام الآخر
আমার দাসী অ্যামারকিস, সে যদি আযাদ হওয়ার পরও আমার কন্যার বিয়ের আগ পর্যন্ত তার সেবায় নিয়োজিত থাকে, তবে তাকে যেন পাঁচশ দ্রাখাই ও তার দাসীকে প্রদান করা হয়। আর থালিস নামক যে কিশোরীকে আমরা সম্প্রতি মালিকানায় এনেছি, তাকে আমাদের দাসদের মধ্য থেকে একজন কিশোর এবং এক হাজার দ্রাখাই প্রদান করা হবে। সিমসকে তার নিজের জন্য একটি দাস কেনার মূল্য প্রদান করতে হবে, যা তাকে ইতিপূর্বে প্রদানকৃত দাসের মূল্যের অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া অভিভাবকরা যা সমীচীন মনে করেন তা তাকে দান করা হবে। যখন আমার কন্যার বিবাহ হবে, তখন আমার দাস থাখন, ফিলন এবং অলিম্পিয়াসকে আযাদ করে দিতে হবে। অলিম্পিয়াসের পুত্রকে বিক্রয় করা যাবে না এবং আমার দাসদের মধ্যে কাউকেই বিক্রয় করা যাবে না; বরং তারা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত সেবায় নিয়োজিত থাকবে। যখন তারা সাবালক হবে, তখন তাদের আযাদ করে দেওয়া হবে এবং তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী যা কিছু দান করা হয়, তা তাদের ক্ষেত্রে কার্যকর করা হবে।
ইসহাক ইবন হুনাইন বলেন, এরিস্টটল সাতষট্টি বছর জীবিত ছিলেন এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তার রচনাবলীর বিন্যাস চারটি স্তরে বিভক্ত: যুক্তিবিদ্যা (মানতিকিয়াত), পদার্থবিদ্যা (তাবিয়্যাত), অধিবিদ্যা (ইলাহিয়াত) এবং নীতিবিদ্যা (খালকিয়াত)। তার যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থসমূহ এবং যারা তা এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করেছেন এবং যারা স্বীয় বিচার-বুদ্ধি ও গবেষণার মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা ও সারসংক্ষেপ করেছেন, তাদের বিবরণ নিম্নরূপ: কাতিগোরিয়াস, যার অর্থ হলো মাকুলাত বা ক্যাট্যাগরি। বারী আরমিনিয়াস, যার অর্থ আল-ইবারাহ বা ব্যাখ্যা। প্রথম আনুলতিকা, যার অর্থ কিয়াসের বিশ্লেষণ। আবু দিক্তিকা, যা হলো দ্বিতীয় আনুলতিকা, এবং এর অর্থ বুরহান বা প্রমাণ। তুবিকা, যার অর্থ জাদাল বা বিতর্ক। সুফাস্তিকা, যার অর্থ ভ্রান্তিবাদ (মুগালিতুন) এবং একে ছদ্ম-প্রজ্ঞা বলা হয়। রিতুরিকা, যার অর্থ অলঙ্কারশাস্ত্র বা ভাষণ। আবু তিকা, যাকে বুতিকা বলা হয় এবং এর অর্থ হলো কাব্য।
কাতিগোরিয়াস বিষয়ক আলোচনা এবং কারা এটি অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেছেন: এটি গ্রীক ভাষা থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন হুনাইন ইবন ইসহাক। এটি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন গ্রীক ও আরবদের মধ্য হতে ফুরফুরিয়াস, আলেকজান্দ্রীয় ইস্তাকান ইবন রুমি, লিস রুমি, আলেকজান্দ্রিয়ার প্যাট্রিয়ার্ক ইয়াহইয়া আন-নাহবী, রুমী আমোনিয়াস, রুমী থামিস্টিয়াস, গ্রীক থাওফরাস্তাস, সিনবলিকিয়াস এবং সিরীয় ও আরবি ভাষায় পারদর্শী নাউন নামক এক ব্যক্তি। এর বিরল ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে আমিলিখাসের একটি খণ্ডাংশ রয়েছে। আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবন আদি বলেন, এটি আমিলিখাসের দিকে সম্পৃক্ত করাটা ভুল হতে পারে, কারণ আমি কালাম শাস্ত্রের রচনাবলীতে দেখেছি যে, আলেকজান্ডার বলেছেন... আমি (লেখক) বলছি, এটি অসম্ভব নয়, কারণ হতে পারে পরবর্তীকালের কেউ আলেকজান্ডারের কথাকে অন্য কোনো ব্যক্তির কথার সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ইখবারুল উলামা বি আখবারিল হুকামা
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
وَلَيْسَ بممتنع وقال أبو سليمان المنطقي السجستاني استقل هَذَا الكتاب أبو زكريا يحيى ابن عدي بتفسير القروديسيّ يعني الإسكندر فِي نحو ثلاثمائة ورقة وممن فسر هَذَا الكتاب من فلاسفة المسلمين أبو نصر الفارابي وأبو بشر متى ولهذا الكتاب مختصرات وجوامع مشجرة وغير مشجرة لجماعة منهم ابن المقفع وابن بهرين والكندي وإسحاق بن حنين وأحمد بن الطيب والرازي.
الكلام عَلَى باريرميلياس وهو العبارة نقل النص حنين إِلَى السرياني وإسحاق إِلَى العربي والذين تولوا تفسيره الإسكندر الأفروديسيّ وَلَمْ يوجد ويحيى النحوي وأمليخس وفرفوريوس جوامع اصطفن وهو غريب غير موجود ولجالينوس تفسير وقويري وأبو بشر متي والفارابي وثاؤقرسطس والذين اختصروه حنين وابن المقفع والكندي وابن بهرين والرازي وثابت بن قرة وأحمد بن الطيب.
الكلام عَلَى أنولوطيقا الأول وهو تحليل القياس نقله نياذورس إِلَى العربي ويقال عرضه عَلَى حنين فأصلحه ونقل حنين قطعة إِلَى السرياني ونقل إسحاق الباقي إِلَى السرياني ذكر من فسره فسر الإسكندر إِلَى الأشكال الجميلة تفسيرين أحدهما أتم من الآخر وفسر ثامسطيوس المقالتين فِي ثلاث مقالات وفسر يحيى النحوي إِلَى الأشكال أيضاً وفسر أبو بشر متى المقالتين جميعاً وللكندي تفسير هَذَا الكتاب.
الكلام عَلَى أنولوطيقا الثاني وهو البرهان نقل حنين بعضه إِلَى السرياني ونقل إسحاق الكل إِلَى السرياني ومقل متى نقل إسحاق إِلَى العربي ذكر من فسره شرح ثامسطيوس هَذَا الكتاب شرحاً تاماً وشرحه الإسكندر وَلَمْ يوجد
এটি অসম্ভব নয়। আবু সুলাইমান আল-মানতিকি আস-সিজিস্তানি বলেন, আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আদি আফরোডিশিয়াস অর্থাৎ আলেকজান্ডারের ব্যাখ্যা সংবলিত এই গ্রন্থটির প্রায় তিনশ পৃষ্ঠার একটি স্বতন্ত্র কাজ সম্পন্ন করেছেন। মুসলিম দার্শনিকদের মধ্যে যারা এই কিতাবের ব্যাখ্যা লিখেছেন তাদের মাঝে রয়েছেন আবু নাসর আল-ফারাবি এবং আবু বিশর মাত্তা। এই কিতাবটির সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ এবং বৃক্ষ-চিত্র সম্বলিত ও চিত্রহীন সংকলন তৈরি করেছেন একদল বিদ্বান, যাদের মধ্যে ইবনুল মুকাফফা, ইবনে বাহরিন, আল-কিন্দি, ইসহাক ইবনে হুনাইন, আহমাদ ইবনুত তায়্যিব এবং আর-রাজি অন্যতম।
পারি-হারমেনিয়াস সংক্রান্ত আলোচনা, যা মূলত 'আল-ইবারাহ' (প্রকাশভঙ্গি)। হুনাইন এর মূল পাঠ সিরীয় ভাষায় এবং ইসহাক আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। যারা এর ব্যাখ্যা প্রদানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারা হলেন আলেকজান্ডার আফরোডিশিয়াস (যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না), ইয়াহইয়া আন-নাহবি, আম্বলিকাস এবং পরফিরি। ইস্তেফানের সংকলনগুলো দুর্লভ এবং বর্তমানে তা বিদ্যমান নেই। এছাড়া গ্যালেন, কুয়াইরি, আবু বিশর মাত্তা, আল-ফারাবি এবং থিওফ্রাস্টাসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। আর যারা এটি সংক্ষেপ করেছেন তারা হলেন হুনাইন, ইবনুল মুকাফফা, আল-কিন্দি, ইবনে বাহরিন, আর-রাজি, সাবিত ইবনে কুররা এবং আহমাদ ইবনুত তায়্যিব।
প্রথম আনালুটিকা সংক্রান্ত আলোচনা, যা হলো ন্যায়ের বিশ্লেষণ। নিয়াধুরস এটি আরবিতে অনুবাদ করেন; বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এটি হুনাইনের নিকট পেশ করলে তিনি তা সংশোধন করে দেন। হুনাইন এর একাংশ সিরীয় ভাষায় এবং ইসহাক বাকি অংশ সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করেন। যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের বিবরণ: আলেকজান্ডার 'সুন্দর আকৃতিসমূহ' পর্যন্ত দুটি ব্যাখ্যা লিখেছেন, যার একটি অন্যটির চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ। থামিস্টিয়াস দুটি প্রবন্ধকে তিনটি প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছেন। ইয়াহইয়া আন-নাহবিও 'আকৃতিসমূহ' পর্যন্ত ব্যাখ্যা করেছেন। আবু বিশর মাত্তা উভয় প্রবন্ধেরই ব্যাখ্যা করেছেন এবং আল-কিন্দিও এই কিতাবের একটি ব্যাখ্যা লিখেছেন।
দ্বিতীয় আনালুটিকা সংক্রান্ত আলোচনা, যা হলো প্রমাণ। হুনাইন এর কিছু অংশ সিরীয় ভাষায় এবং ইসহাক সম্পূর্ণ অংশ সিরীয় ভাষায় অনুবাদ করেন। আর মাত্তা ইসহাকের অনুবাদটিকে আরবিতে রূপান্তর করেন। যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের বিবরণ: থামিস্টিয়াস এই কিতাবের একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং আলেকজান্ডারও এর ব্যাখ্যা লিখেছিলেন, তবে তা বর্তমানে পাওয়া যায় না।