(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: -)
سؤالات السلفي لخميس الحوزي القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: سؤالات الحافظ السِلفِي لخميس الحَوزي عن جماعة من أهل واسط
المؤلف: خميس بن علي بن أحمد، أبو الكرم الواسطي الحوزي (ت 510هـ)
المحقق: مطاع الطرابيشي
دار النشر: دار الفكر - دمشق
الطبعة: الأولى، 1403هـ، 1983م
عدد الصفحات: 126
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
খামিস আল-হাওযীর প্রতি আস-সিলাফীর প্রশ্নাবলী বিভাগ: হাদিসের ত্রুটিসমূহ ও প্রশ্নাবলী
বই: ওয়াসিতবাসীদের একটি দল সম্পর্কে খামিস আল-হাওযীর প্রতি হাফিজ আস-সিলাফীর প্রশ্নাবলী
লেখক: খামিস বিন আলী বিন আহমাদ, আবু আল-কারাম আল-ওয়াসিতী আল-হাওযী (মৃত ৫১০ হিজরি)
সম্পাদক: মুতা' আত-তারাবিশী
প্রকাশনী: দার আল-ফিকর - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি, ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أخبرنا الشيخ الإمام أبو الفضل جعفر بن علي بن هبة الله الهمداني قراءة عليه وأنا أسمع في ثالث عشري رجب سنة خمس وثلاثين وستمائة بدمشق قيل له
أخبركم الشيخ الامام شيخ الاسلام أوحد الأنام الفقيه الحافظ أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن ابراهيم بن سلفه السلفي الأصبهاني رضي الله عنة قراءة عليه بالاسكندريه وأنا أسمع في المحرم سنة ثلاث وسبعين وخمسمائة قال
سألت الشيخ الأوحد أبا الكرم خميس بن علي بن أحمد بن علي بن ابراهيم بن الحسن بن سلامويه الحوزي الحافظ بواسط سنة خمسمائة
1 - عن أبي القاسم عمر بن علي بن أحمد الميموني فقال هو من قرية ميمون وهي على مقدار نصف فرسخ من واسط كان غلاما لأبي طالب بن مخلد جد أبي المفضل رباه مع ابنه أبي الحسن وسمعه
শায়খ ইমাম আবুল ফজল জাফর বিন আলী বিন হিবাতুল্লাহ আল-হামদানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম ৬৩৫ হিজরি সনের ২৩শে রজব তারিখে দামেস্কে, তাঁকে বলা হলো:
শায়খ ইমাম, শায়খুল ইসলাম, সৃষ্টির অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, ফকিহ হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন সিলাফাহ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট পাঠকালে এবং আমি শ্রবণ করছিলাম ৫৭৩ হিজরি সনের মহররম মাসে আলেকজান্দ্রিয়ায়, তিনি বলেন:
আমি ৫০০ হিজরি সনে ওয়াসিতে অদ্বিতীয় শায়খ আবুল কারাম খামিস বিন আলী বিন আহমদ বিন আলী বিন ইব্রাহিম বিন হাসান বিন সালামুয়াহ আল-হাওজি আল-হাফেজকে জিজ্ঞাসা করেছি:
১ - আবুল কাসিম উমর বিন আলী বিন আহমদ আল-মায়মুনি সম্পর্কে; তিনি বললেন: তিনি মায়মুন গ্রাম থেকে এসেছেন, যা ওয়াসিত থেকে প্রায় অর্ধেক ফারসাখ দূরে অবস্থিত। তিনি আবুল মুফাদদাল-এর দাদা আবু তালিব বিন মাখলাদ-এর গোলাম ছিলেন, যিনি তাঁকে তাঁর পুত্র আবুল হাসানের সাথে লালন-পালন করেছেন এবং তাঁকে হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
من القاضي أبي الفرج الخيوطي وأبي عبد الله العلوي صاحب ابن مبشر وغيرهما مات بعد الخمسين وأربعمائة وكان مكثرا
2 - وسألته عن أبي محمد الغندجاني فقال سمع بافادة أبيه وعمه من المخلص والكتاني والصرصري وابن الصلت والفرضي وابن
তিনি কাজী আবু আল-ফারাজ আল-খুয়ুতি, আবু আব্দুল্লাহ আল-আলাভি—যিনি ইবনে মুবাশশিরের সঙ্গী ছিলেন—এবং অন্যদের নিকট থেকে (হাদিস) গ্রহণ করেছেন। তিনি চারশত পঞ্চাশ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি প্রচুর বর্ণনাকারী ছিলেন।
২ - এবং আমি তাকে আবু মুহাম্মাদ আল-গান্দাজানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তিনি তার পিতা ও চাচার নির্দেশনায় আল-মুখলিস, আল-কাত্তানি, আল-সারসারি, ইবনুল সালত, আল-ফারাদি এবং ইবনে... থেকে শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
المهدي وابن بشران وابن رزقويه ومن في درجتهم نبيل جليل صحيح الأصول صدوق فارق بغداد بعيد الثلاثين وأربعمائة وأقام بواسط متديرا لها وسمع منه أهلها والناس الى أن توفي في أواخر سنة سبع وستين وجاز الثمانين وكان بغدادي المولد ثقه
3 - وسألته عن أبي البركات احمد بن عثمان بن نفيس فقال هو ابن أبي عمرو عثمان بن أحمد بن نفيس بن سعيد المؤدب كان يقول أبي مضري الأصل من مضر بن نزار وجدنا سماعه في الأصول مع أبيه من ابن التباني وابن خزفه وغيرهما وكان يقول قد أجاز لي
আল-মাহদি, ইবনুল বুশরান, ইবনু রিজকুওয়াইহ এবং যারা তাদের স্তরের, তিনি ছিলেন একজন মহান, মর্যাদাবান, নির্ভুল পাণ্ডুলিপির অধিকারী এবং সত্যবাদী ব্যক্তি। তিনি চারশত ত্রিশ হিজরির কিছুকাল পরে বাগদাদ ত্যাগ করেন এবং ওয়াসিতে স্থায়িভাবে বসবাস করেন। সেখানকার অধিবাসী এবং সাধারণ মানুষ তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন, যে পর্যন্ত না তিনি চারশত সাতষট্টি হিজরির শেষভাগে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আশি বছর পার করেছিলেন। তিনি জন্মসূত্রে বাগদাদী এবং নির্ভরযোগ্য ছিলেন।
৩ - এবং আমি তাঁকে আবুল বারাকাত আহমদ বিন উসমান বিন নাফিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন, তিনি হলেন আবু আমর উসমান বিন আহমদ বিন নাফিস বিন সাঈদ আল-মুয়াদ্দিব-এর পুত্র। তিনি বলতেন, আমার পিতা বংশগতভাবে মুদার বিন নিযারের অন্তর্ভুক্ত মুদার গোত্রীয় ছিলেন। আমরা মূল পাণ্ডুলিপিতে তাঁর পিতার সাথে ইবনুত্তাব্বানি, ইবনু খুযফাহ এবং অন্যদের থেকে তাঁর শ্রবণের উল্লেখ পেয়েছি। তিনি বলতেন, তিনি আমাকে ইজাজাহ প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الجاذري وسمعت أنا لم نر سماعه الأصول وكان لا بأس به مولده سنة اثنتين وأربعمائة ومات ببغداد بعد الثمانين وأربعمائة وكان عنده أبو الفضل التميمي سمع منه لما قدم واسط مجتازا الى مهذب الدوله أبي الحسن علي بن نصر أمير البطائح
4 - وسألته عن أبي عبد الله العلوي فقال هو الحسين بن محمد العلوي والد أبي محمد عبد الله المقرئ الصدر في الجامع بواسط كان شاهدا عدلا ورواية ثقه عن أبي الحسن بن مبشر وأبي بكر بن رزق الله الحداد وأبي بكر الخليل بن أبي رافع الطحان حدث عن ابن مبشر
আল-জাযারি। আমি শুনেছি যে আমরা উসুল শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর সরাসরি শ্রবণের কোনো প্রমাণ দেখিনি, তবে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তাঁর জন্ম চারশ দুই হিজরি সনে এবং তিনি চারশ আশি হিজরির পর বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। আবু আল-ফজল আত-তামিমি তাঁর নিকট অবস্থান করতেন; তিনি যখন বাতাহের আমির মুহাজ্জাব আদ-দাওলা আবু আল-হাসান আলি ইবন নাসরের নিকট যাওয়ার পথে ওয়াসিত অতিক্রম করছিলেন, তখন তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
৪ - এবং আমি তাঁকে আবু আবদুল্লাহ আল-আলাভি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি হলেন আল-হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ আল-আলাভি; তিনি ওয়াসিতের জামে মসজিদের প্রধান ক্বারি আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহর পিতা। তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী এবং আবু আল-হাসান ইবন মুবাশশির, আবু বকর ইবন রিযকুল্লাহ আল-হাদ্দাদ ও আবু বকর আল-খালিল ইবন আবি রাফি আত-তাহহানের সূত্রে একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি ইবন মুবাশশিরের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
عن أحمد بن سنان بمسنده كله آخر من حدث عنه بواسط أبو الحسن بن مخلد والد أبي الفضل
5 - وسألته عن أبي طالب الصيرفي فقال هو محمد بن أحمد بن عثمان الصيرفي سمع بافادة أخيه أبي القاسم عبيد الله بن أحمد الذي يقال له الأزهري كان يتهم بالرفض خرج عن بغداد في أول ما وردت اليها دعاة الإسماعيليه وأقام بواسط مستخفيا فحدث بها الى أن مات وكان صحيح الأصول جيد السماع أكثرها بخط أخيه
6 - وسألته عن كاتب ابن قنطر البيع فقال هو أبو القاسم عبيد
আহমদ বিন সিনান থেকে বর্ণিত, তার পূর্ণ মুসনাদসহ; ওয়াসিতে তার থেকে সর্বশেষ যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন আবুল হাসান বিন মাখলাদ, যিনি আবুল ফদলের পিতা।
5 - এবং আমি তাকে আবু তালিব আস-সায়রাফি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আস-সায়রাফি। তিনি তার ভাই আবু আল-কাসিম উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ, যাকে আল-আজহারি বলা হয়, তার নির্দেশনায় হাদিস শ্রবণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাফয-এর (শীআ মতাদর্শের) অভিযোগ ছিল। বাগদাদে যখন প্রথম ইসমাইলি দাঈদের আগমন ঘটে তখন তিনি বাগদাদ থেকে বের হয়ে যান এবং ওয়াসিতে আত্মগোপন করে অবস্থান করেন; মৃত্যু পর্যন্ত তিনি সেখানেই হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার মূল পাণ্ডুলিপিগুলো সঠিক ছিল এবং তার শ্রবণ ছিল উত্তম, যার অধিকাংশই ছিল তার ভাইয়ের হস্তাক্ষরে।
6 - এবং আমি তাকে ইবনুন কানতার আল-বাই‘-এর লেখক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: তিনি হলেন আবুল কাসিম উবাইদ।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الله بن هارون بن محمد القطان توفي سنة أربع وعشرين آخر من حدث عنه شيخنا أبو الحسن بن أبي الصقر العدل الأديب سمع الحضيني أبا الطيب والمفيد أبا بكر وغيرهما وكان جيد السماع مستقيم الطريقه
7 - وسألته عن أبي الحسن علي بن محمد بن علي بن عبيد الله كاتب الوقف بواسط فقال كان اسمه صدقه فيكره ان يسمى به كان معلما في الأصل بالحوز ثم انتقل عنها مع دخول الأتراك العراق فخدم في الوقف وقربه اسماعيل
আল্লাহ বিন হারুন বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তান চব্বিশ সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর থেকে সর্বশেষ যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন আমাদের শায়খ আবুল হাসান বিন আবিল সাকর আল-আদল আল-আদীব। তিনি আল-হুদাইনী আবু আল-তায়্যিব, আল-মুফীদ আবু বকর এবং অন্যদের থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি শ্রবণে নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক কর্মপদ্ধতির অনুসারী ছিলেন।
৭ - আমি তাঁকে ওয়াসিতের ওয়াকফ-এর লেখক আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন উবাইদুল্লাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তাঁর নাম ছিল সাদাকাহ, তবে তিনি এই নামে অভিহিত হওয়া অপছন্দ করতেন। তিনি মূলত আল-হাওয়জে একজন শিক্ষক ছিলেন, অতঃপর তুর্কিরা ইরাকে প্রবেশ করলে তিনি সেখান থেকে স্থানান্তরিত হন। এরপর তিনি ওয়াকফ-এ নিয়োজিত হন এবং ইসমাইল তাঁকে তাঁর সান্নিধ্যে আনেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
القاضي وأدناه ثم سمع بعد ذلك قوله ابنه أبو المفضل محمد بن اسماعيل وكان عنده عن أبي الحسن العجمي وأبي الحسن بن سمنان المؤدب والقاضي أبي الحسين بن الرؤاسي صاحب ابن الباقلاني الأشعري وأبي بكر أحمد بن محمد بن طاوان السمسار المعروف بشراره وغيرهم وكان عنده القراءات عن أبي علي بن علان ورأينا معه خطه وكان لا بأس به رحمه الله
8 - وسألته عن أبي علي بن المعلى فقال هو محمد بن العلاء بن المعلى بصري الأصل أقام بواسط وحدث بها عن البصريين الى أن مات وروى عنه ابن التباني وغيره لا أخبره جيدا
কাজী এবং তাঁর নিম্নমর্যাদার ব্যক্তিগণ থেকে। অতঃপর তাঁর পুত্র আবুল মোফাদ্বল মুহাম্মদ বিন ইসমাইল তাঁর থেকে শ্রবণ করেন। তাঁর কাছে আবুল হাসান আল-আজামি, আবুল হাসান বিন সিমনান আল-মুয়াদ্দিব, কাজী আবুল হোসেন বিন আর-রুয়াসী (যিনি ইবনুল বাকিল্লানি আশআরির সাথী ছিলেন), আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন তাওয়ান আস-সিমসার (যিনি শারারাহ নামে পরিচিত ছিলেন) এবং অন্যান্যদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা ছিল। তাঁর নিকট আবু আলী বিন আল্লান থেকে বর্ণিত ক্বিরাতসমূহ ছিল এবং আমরা তাঁর কাছে তাঁর হস্তলিপি দেখেছি। তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
৮ - আমি তাঁকে আবু আলী ইবনুল মুআল্লা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আল-আলা বিন আল-মুআল্লা, মূলত বসরার অধিবাসী। তিনি ওয়াসিত শহরে অবস্থান করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানে বসরার অধিবাসীদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইবনুত্তাব্বানি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর সম্পর্কে খুব ভালো জানি না।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
9 - وسألته عن القاضي أبي تمام فقال هو علي بن محمد بن الحسن بن يزداد العبدي وأبوه أبو خازم قاضي القادر أمير المؤمنين على واسط وأعمالها كان غاليا في التسنن فقبض عليه أبو محمد بن سهلان وزير سلطان الدوله وبعث به إلى ابن أبي الشوك فقتله في
৯ - এবং আমি তাকে বিচারক আবু তাম্মাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: তিনি হলেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন ইয়াজদাদ আল-আবদি। তার পিতা আবু খাজিম ওয়াসিত ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলসমূহে আমীরুল মুমিনীন আল-কাদিরের বিচারক ছিলেন। তিনি সুন্নাহর অনুসরণে অত্যন্ত একনিষ্ঠ ছিলেন। অতঃপর সুলতানুদ দাওলার উজির আবু মুহাম্মদ বিন সাহলান তাকে গ্রেফতার করেন এবং তাকে ইবনে আবি আশ-শাওকের নিকট পাঠিয়ে দেন, এরপর তিনি তাকে হত্যা করেন...
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
نواحي الدينور واستقضى بعد أبيه فلم تستقم طريقته حتى عزل بالقاضي أبي الطيب بن كماري وكان أحد شهوده فبقي معزولا إلى أن قتل أبو الطيب قتله اللصوص في داره سنة اثنتين وعشرين السنه التي مات فيها القادر فرد أبو تمام فبقي قاضيا إلى شوال سنة أربع وثلاثين فنقم عليه الملك العزيز أبو منصور بن جلال الدوله فقبض عليه وأخرج من داره الخمور وآلاتها وقال هذا كان يخفي هذا المنكر فقوم قالوا كان يفعله وقوم قالوا لا بل أدخل إلى داره مع الأجناد وقت دخولهم اليها وخرجوا به طلبا لسوء السمعه الا أنه كان قد سمع أبا الحسين بن المظفر وأبا الفضل وأبو الفضل الزهري وبواسط أبا الفرج الخيوطي
দ্বীনওয়ারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ; তিনি তাঁর পিতার পর বিচারকের দায়িত্ব লাভ করেন, কিন্তু তাঁর কর্মপন্থা সুসংহত হয়নি যতক্ষণ না তাঁকে বিচারক আবু আল-তাইয়িব বিন কুমারির মাধ্যমে অপসারিত করা হয়, যিনি তাঁর অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। তিনি পদচ্যুত অবস্থায় ছিলেন যতক্ষণ না আবু আল-তাইয়িব নিহত হন; চোরেরা তাঁকে তাঁর নিজ গৃহে চারশ বাইশ হিজরি সনে হত্যা করে, যে বছর আল-কাদির মৃত্যুবরণ করেন। অতঃপর আবু তামামকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তিনি চারশ চৌত্রিশ হিজরি সনের শাওয়াল মাস পর্যন্ত বিচারক পদে বহাল থাকেন। এরপর বাদশাহ আল-আজিজ আবু মনসুর বিন জালাল আদ-দাওলাহ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁর ঘর থেকে মদ ও মদ্যপানের সরঞ্জামাদি বের করা হয় এবং বলা হয় যে, "এই ব্যক্তি এই পাপাচার গোপন করে রাখত।" এমতাবস্থায় একদল লোক বলল যে তিনি এটি করতেন, আবার অন্য একদল বলল, "না, বরং সৈন্যরা যখন তাঁর ঘরে প্রবেশ করেছিল তখনই এগুলো সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তা বের করে আনা হয়েছে।" তবে তিনি আবু আল-হুসাইন বিন আল-মুজাফ্ফার, আবু আল-ফজল এবং আবু আল-ফজল আল-জুহরি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছিলেন এবং ওয়াসিত শহরে আবু আল-ফারাজ আল-খুয়ুতির নিকট পাঠ গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
صاحب الزعفراني وأبا عبد الله العلوي وغيرهما وأقام ببغداد بعد عزله وكان رافضيا يتظاهر به ويقول بخلق القرآن ويدعو إليه إلا أنه كان صحيح السماع رحل إليه الناس وسمع منه أهل الآفاق إلى أن مات في شوال من سنة تسع وخمسين
10 - وسألته عن أبي الفتح بن المختار فقال هو محمد بن محمد بن المختار كان نحويا فاضلا جالس أبا القاسم بن كردان وسمع منه وجالس أبا الحسين بن دينار ولم يثبت له عنه رواية إلا أنه سمع من أبي الحسن عبد السلام بن عبد الملك البزاز وأبي عبد الله محمد بن أحمد
তিনি যা’ফরানি, আবু আব্দুল্লাহ আল-আলাভি এবং অন্যদের সঙ্গী ছিলেন। পদচ্যুতির পর তিনি বাগদাদে অবস্থান করেন। তিনি একজন রাফেজি ছিলেন এবং তা প্রকাশ করতেন। তিনি কুরআন সৃষ্টির আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং এর দিকে আহ্বান করতেন; তবে তাঁর বর্ণনা শ্রবণ (হাদীস গ্রহণ) নির্ভুল ছিল। মানুষ তাঁর কাছে সফর করে আসত এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছে। অবশেষে তিনি তিনশ ঊনষাট হিজরির শাওয়াল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
১০ - এবং আমি তাঁকে আবুল ফাতহ ইবনুল মুখতার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুখতার। তিনি একজন বিজ্ঞ ব্যাকরণবিদ ছিলেন। তিনি আবুল কাসিম বিন কুরদানের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি আবু আল-হুসাইন বিন দিনারের মজলিসেও বসেছেন, তবে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা প্রমাণিত নয়। অবশ্য তিনি আবুল হাসান আব্দুস সালাম বিন আব্দুল মালিক আল-বাজ্জাজ এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
السقطي صاحب أبي بكر النقاش وغيرهما وكان حسن الإيراد جيد المحفوظ متيقظا في الشهاده بلغ تسعين إلا شهورا ومات سنة أربع وسبعين وأربعمائة
11 - وسألته عن ابن كردان فقال هو أبو القاسم علي بن طلحة بن كردان النحوي صاحب أبي وعلي بن عيسى الرماني قرأ عليهما كتاب سيبويه والواسطيون يفضلونه على ابن جني والربعي صنف كتابا كبيرا في اعراب القرآن قال لي شيخنا أبو الفتح كان يقارب خمسة عشر مجلدا ثم بد 1 له فيه فغسله قبل موته مات سنة أربع وعشرين وكان
متنزها متصونا ركب اليه فخر
আস-সাকাতী, তিনি আবু বকর আন-নাক্কাশ ও অন্যদের সঙ্গী ছিলেন। তিনি সুন্দর বর্ণনাকারী, উত্তম মুখস্থকারী এবং সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। তিনি কয়েক মাস কম নব্বই বছর বয়সে পৌঁছেছিলেন এবং ৪৭৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
১১ - এবং আমি তাকে ইবন কুরদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: তিনি হলেন আবু কাসিম আলী ইবন তালহা ইবন কুরদান আন-নাহবী, যিনি আমার পিতা এবং আলী ইবন ঈসা আর-রুম্মানীর ছাত্র ছিলেন। তিনি তাদের নিকট সীবাওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করেছেন। ওয়াসিতবাসীরা তাকে ইবন জিন্নি এবং আর-রাবাঈ-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। তিনি কুরআনের ইরাব বিষয়ে একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। আমাদের শায়খ আবুল ফাতহ আমাকে বললেন: এটি প্রায় পনেরো খণ্ডের কাছাকাছি ছিল, তারপর তার নিকট বিষয়টি অন্যভাবে প্রতিভাত হলো এবং তিনি মৃত্যুর পূর্বে তা ধুয়ে ফেলেন। তিনি ৪২৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি ছিলেন
পবিত্র ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন; ফখর তার নিকট আরোহণ করে যেতেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الملك أبو غالب محمد بن علي بن خلف وزير بهاء الدوله وهو سلطان الوقت وبذل له فلم يقبل وكان قد جرت بينه وبين القاضي أبي تغلب أحمد بن عبيد الله العاقولي صديق الوزير المغربي وخليفه السلطان والحكام على واسط في وقته وكان معظما مفخما خصومه فقال له ابن كردان ان صلت علينا بمالك صلنا عليك بقناعتنا حكى ذلك لنا عنه أبو نعيم أحمد بن علي ابن أخي سكرة المقرئ في الجامع بواسط آخر من حدث عنه أبو المعالي محمد بن عبد السلام بن شانده مات سنة أربع وعشرين
12 - وسألته عن ابن شانده فقال هو أبو المعالي محمد بن عبد السلام بن عبيد الله بن احموله الأصبهاني المعروف بابن شانده كان رئيسا محتشما وثقة صدوقا قال لي ولدت في سنة ست وتسعين
আল-মালিক আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আলি বিন খালাফ, যিনি বাহাউদ দাওলার উজির এবং তৎকালীন সুলতান ছিলেন। তাঁর নিকট ধন-সম্পদ পেশ করা হয়েছিল কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তাঁর এবং কাজী আবু তাগলিব আহমদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-আকুলি—যিনি উজির আল-মাগরিবি-র বন্ধু এবং তৎকালে সুলতানের প্রতিনিধি ও ওয়াসিতের বিচারকদের প্রধান ছিলেন—তাদের মধ্যে বিবাদ চলেছিল; আর তিনি (আবু তাগলিব) অত্যন্ত মর্যাদাশীল ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন যার সামনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরাও সম্মান প্রদর্শন করত। ইবনে কুরদান তাকে বলেছিলেন: "যদি আপনি আপনার সম্পদ দিয়ে আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চান, তবে আমরা আমাদের অল্পে তুষ্টির (কানাআত) মাধ্যমে আপনার মোকাবিলা করব।" আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আহমদ বিন আলি ইবনে আখি সাকরাহ আল-মুকরি ওয়াসিতের জামে মসজিদে। তাঁর নিকট থেকে সর্বশেষ বর্ণনাকারী হলেন আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ বিন আবদুস সালাম বিন শানদাহ, যিনি চব্বিশ সনে মৃত্যুবরণ করেন।
১২ - এবং আমি তাঁকে ইবনে শানদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: তিনি হলেন আবু আল-মাআলি মুহাম্মদ বিন আবদুস সালাম bin উবায়দুল্লাহ বিন আহমূলাহ আল-আসবাহানি, যিনি ইবনে শানদাহ নামে পরিচিত। তিনি একজন মর্যাদাবান নেতা এবং বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন: "আমি ছিয়ানব্বই সনে জন্মগ্রহণ করেছি।"
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وثلاثمائة في السنه التي مات فيها أبو بكر احمد بن عبيد بن بيري وكان قد سمع ابن خزفه ما تاريخ ابن أبي خيثمه كان يقول ذلك ووجدنا الأصول بعد وفاته رحمه الله وكان عنده عن عمه أبي محمد التلعكبري مصنف الرافضه كتب من علمهم لا يسمعها أحدا ومددت يدي اليها يوما فاستلبها من يدي وقال هذا لا يصلح لك وكان يتظاهر بالسنه
13 - وسألته عن ابن بيري فقال هو أبو بكر أحمد بن عبيد بن الفضل بن سهل بن بيري سمع البغوي وأبا بكر بن أبي داود وابن
...এবং তিনশত হিজরি সনে, যে বছর আবু বকর আহমদ বিন উবাইদ বিন বিরী ইন্তেকাল করেন। তিনি বলতেন যে, তিনি ইবনে খুজাফাহ-এর নিকট ইবনে আবি খাইসামার ইতিহাস শুনেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আমরা মূল পাণ্ডুলিপিগুলো পেয়েছিলাম। তাঁর কাছে তাঁর চাচা আবু মুহাম্মদ আত-তালআকবারী—যিনি রাফেজীদের কিতাব সংকলনকারী ছিলেন—সূত্রে তাদের মতাদর্শের এমন কিছু কিতাব ছিল যা তিনি কাউকে শোনাতেন না। একদিন আমি সেগুলোর দিকে আমার হাত বাড়িয়েছিলাম, তখন তিনি তা আমার হাত থেকে ছিনিয়ে নিলেন এবং বললেন, "এটি তোমার জন্য উপযুক্ত নয়।" তিনি সুন্নাহর অনুসারী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতেন।
১৩ - এবং আমি তাঁকে ইবনে বিরী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি হলেন আবু বকর আহমদ বিন উবাইদ বিন আল-ফাদল বিন সাহল বিন বিরী। তিনি বাগাওয়ী, আবু বকর বিন আবি দাউদ এবং ইবনে... থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
صاعد والصولي وابن مبشر الواسطي كان ثقة صدوقا كف بأخره آخر من حدث عنه بواسط أبو الحسن بن مخلد والد أبي المفضل
14 - وسألته عن أبي الحسن العجمي فقال هو طرسوسي الأصل كان صالحا مسندا ثقة عنده عن أبي بكر بن مهدي خال أبي عبد الله السقطي وأبي بكر الشمشاطي الخطيب كان بواسط وغيرهما وولده أبو بكر الذي يعرف بالهرمزان كان عنده حديث كثير وقراءات عوال عن الكتاني وغيره وكان صدرا في الجامع بواسط للقراء مشهورا بالصلاح والحفظ للقرآن
15 - وسألته عن الشمشاطي فقال هو أبو بكر محمد بن جعفر بن
সায়িদ, সুলি এবং ইবনে মুবাশির আল-ওয়াসিতি; তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন, শেষ জীবনে দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। ওয়াসিত শহরে তাঁর থেকে বর্ণনা করা সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন আবুল হাসান ইবনে মাখলাদ, যিনি আবু আল-মুফাদ্দালের পিতা।
১৪ - আমি তাঁকে আবুল হাসান আল-আজামি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি মূলত তারসুস বংশোদ্ভূত ছিলেন। তিনি একজন নেককার, মুসনিদ (সনদধারী) ও নির্ভরযোগ্য রাবী ছিলেন। তাঁর নিকট আবু বকর ইবনে মাহদি (যিনি আবু আব্দুল্লাহ আস-সাকতির মামা ছিলেন) এবং খতিব আবু বকর আশ-শিমশাতি—যিনি ওয়াসিত ও অন্যান্য স্থানে অবস্থান করতেন—তাঁদের সূত্রে বর্ণনা ছিল। তাঁর পুত্র আবু বকর, যিনি আল-হুরমুজান হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁর নিকট আল-কাত্তানি ও অন্যদের নিকট থেকে প্রাপ্ত প্রচুর হাদীস এবং উচ্চ সনদসম্পন্ন কিরাত সংগৃহীত ছিল। তিনি ওয়াসিত জামে মসজিদে ক্বারিদের প্রধান বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন এবং নিজের নেক আমল ও কুরআন হিফজের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
১৫ - আমি তাঁকে আশ-শিমশাতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে...
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
أحمد بن عبد الوهاب سمع في صدر الثلاثمائة من أبي عبد الله أحمد بن الحسن بن عبد الجبار وغيره وكان ثقة صدوقا مات بعد الخمسين والثلاثمائة سمعت أبا الحسن علي بن محمد بن الطيب الشاهد المغازلي يقول سمعت أبا غالب محمد بن أحمد بن سهل النحوي يقول سمعت أبا طاهر الريان بن سليمان الفرضي يقول سئل أبو بكر محمد بن جعفر بن أحمد الشمشاطي ما بال الناس تفرقوا فطائفة اشتغلت بالفقه ودقائقه وأخرى بالحديث وطرقه وأخرى بالكلام ومعانيه وأخرى بالأدب ومحاسنه فقال تلك الطرق الى الله فكل طائفة سلكت منها طريقة
16 - وسألته عن أبي غالب النحوي فقال هو محمد بن أحمد بن سهل يعرف بابن الخاله أصله من نهر
আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব তিনশ হিজরীর শুরুর দিকে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ বিন হাসান বিন আব্দুল জব্বার এবং অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী ছিলেন। তিনি তিনশ পঞ্চাশ হিজরীর পরে ইন্তেকাল করেন। আমি আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-তাইয়্যিব আল-শাহিদ আল-মাগাজিলিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু গালিব মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাহল আল-নাহবিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি আবু তাহের আল-রাইয়ান বিন সুলায়মান আল-ফারদিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আহমদ আল-শিমশাতিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মানুষের কী হলো যে তারা বিভক্ত হয়ে পড়েছে? ফলে এক দল ফিকহ ও এর সূক্ষ্ম বিষয়াবলীতে মগ্ন হয়েছে, অন্য দল হাদিস ও এর সূত্রসমূহ নিয়ে, অন্য দল কালামশাস্ত্র ও এর অর্থসমূহ নিয়ে এবং অন্য দল সাহিত্য ও এর সৌন্দর্য নিয়ে। তখন তিনি বললেন: এগুলি আল্লাহর দিকে পৌঁছানোর পথ, আর প্রতিটি দল এগুলোর মধ্য থেকে একটি পথ অবলম্বন করেছে।
১৬ - এবং আমি তাঁকে আবু গালিব আল-নাহবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাহল, যিনি ইবনুল খালাহ নামে পরিচিত, তাঁর আদি নিবাস নহর থেকে।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
سابس ينسب الى خاله ابن بشران وكان أحد الأعيان قدم واسطا فجالس ابن الجلاب وابن دينار وتخصص بابن كردان وقرأ عليه كتاب سيبويه ولازم حلقة أبي اسحاق الرفاعي صاحب السيرافي وكان يقول قرأت عليه من أشعار العرب ألف ديوان
সাবিস তাঁর মামা ইবনে বাশরানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হতেন এবং তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি ওয়াসিতে আগমন করেন এবং ইবনুল জাল্লাব ও ইবনে দীনারের সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি ইবনে কুরদানের নিকট বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন এবং তাঁর কাছে সিবাওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করেন। তিনি সিরাফীর শিষ্য আবু ইসহাক রিফাঈর পাঠচক্রে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তিনি বলতেন: "আমি তাঁর নিকট আরবদের কাব্যগ্রন্থ থেকে এক হাজার দিওয়ান পাঠ করেছি।"
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
وكان مكثرا حسن المحاضره مليح العارضه الا أنه لم ينتفع به أحد بواسط ولم يبرع به أحد في الأدب وكان
جيد الشعر مع ذلك رأينا في كتبه بعده خطوط أشياخ عدة بكتب كثيره في الأدب وغيره الا أنه كان معتزليا وشهد ثم اسماعيل قاضي واسط في آخر شوطه ومات بعد الخمسين منتصف رجب سنة اثنتين وستين
17 - وسألته عن ابن خزفه فقال هو أبو الحسن علي بن أبي بكر محمد بن الحسن بن خزفه الصيدلاني سمع أباه وأبا عبد الله محمد بن الحسين بن سعيد الزعفراني المعدل وروى عنه عن أبي بكر أحمد بن زهير بن حرب تاريخه الجامع الكبير وكان مكثرا صدوقا أملى بعد الأربعمائة الى أن مات في سنة تسع وأربعمائة وكان مداخلا لفخر الملك ومعه كالنديم وأبو القاسم اللالكائي يدلس به فيقول حدثنا
তিনি ছিলেন বিপুল বর্ণনাকারী, সুন্দর বাচনভঙ্গির অধিকারী ও চমৎকার বাগ্মী; তবে ওয়াসিতে তাঁর দ্বারা কেউ উপকৃত হয়নি এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর মাধ্যমে কেউ পারদর্শী হয়ে ওঠেনি। তদুপরি তিনি ছিলেন
উন্নত মানের কবি। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কিতাবসমূহে আমরা আদব ও অন্যান্য বিষয়ের অনেক কিতাবের ওপর বহু শায়খের হস্তলিপি দেখেছি। তবে তিনি মুতাজিলা মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তে ওয়াসিতের কাজী ইসমাইল তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন এবং তিনি চারশত পঞ্চাশ হিজরির পর ৪৬২ হিজরির রজব মাসের মাঝামাঝি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।
১৭ - আমি তাঁকে ইবনে খুজাফাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি হলেন আবুল হাসান আলী ইবনে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে খুজাফাহ আস-সাইদালানি। তিনি তাঁর পিতা এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে সাঈদ আজ-জাফরানি আল-মুআদ্দাল থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে আবু বকর আহমদ ইবনে জুহাইর ইবনে হারব-এর সংকলিত ইতিহাস গ্রন্থ 'আল-জামি আল-কাবীর' বর্ণনা করেছেন। তিনি ছিলেন প্রচুর বর্ণনাকারী ও সত্যবাদী। তিনি চারশত হিজরির পর থেকে ৪০৯ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত হাদিস শ্রুতিলিপি প্রদান করেছেন। তিনি ফাখরুল মুলকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁর সাথে সহচরের মতো থাকতেন। আবু কাসেম আল-লালকায়ী তাঁর ক্ষেত্রে তাদলিস করতেন এবং বলতেন, 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...'
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
علي بن محمد النديم بواسط حدثنا عنه جماعة
18 - وسألته عن ابن دينار فقال هو أبو الحسين علي بن محمد بن عبد الرحيم بن دينار الكاتب بصري الأصل واسطي الأخير سمع أبا بكر بن مقسم ولقي المتنبي وسمع منه ديوانه ومدحه بقصيدة هي عندنا قوما في ديوانه أولها رب القريض اليك الحل والرحل ضاقت الى العلم إلا نحوك السبل
تضائل الشعراء اليوم ثم فتى صعاب كل قريض عنده ذلل
وكان شاعرا مجيدا شارك المتنبي في أكثر ممدوحيه كسيف الدوله بن حمدان وابن العميد وغيرهما وكان حسن الخط يقال على طريقة ابن مقله توفي سنة تسع وأربعمائة حمل الناس عنه الأدب وأكثروا بواسط وغيرها وكان سهل الخلائق حميد الطريقه سأله الناس
ওয়াসিতে আলী বিন মুহাম্মাদ আন-নাদিম, আমাদের নিকট তার থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন।
১৮ - আমি তাকে ইবনে দীনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি হলেন আবুল হোসেন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রাহীম বিন দীনার আল-কাতিব। তিনি মূলে বসরার অধিবাসী ছিলেন এবং শেষ জীবনে ওয়াসিতের অধিবাসী হন। তিনি আবু বকর বিন মিকসামের নিকট ইলম শ্রবণ করেছেন এবং মুতানাব্বির সাথে সাক্ষাৎ করে তার নিকট থেকে তার দিওয়ান শ্রবণ করেছেন। তিনি মুতানাব্বির প্রশংসায় একটি কাসিদা রচনা করেছেন যা আমাদের নিকট তার দিওয়ানে বিদ্যমান, যার প্রথম পঙ্ক্তি হলো: হে কবিতার প্রভু, আপনার দিকেই সকল যাত্রা ও গন্তব্য; আপনার অভিমুখ ব্যতীত ইলমের সকল পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে কবিরা হীনবল হয়ে পড়েছে, অতঃপর এমন এক যুবক যার নিকট সকল দুর্বোধ্য কবিতাও সহজসাধ্য।
তিনি একজন সুদক্ষ কবি ছিলেন এবং সাইফুদ দাওলা বিন হামদান, ইবনুল আমীদ ও অন্যান্যদের মতো মুতানাব্বির অধিকাংশ প্রশংসিত ব্যক্তিদের প্রশংসায় তিনি শরিক ছিলেন। তার হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল, বলা হয় তা ইবনে মুকলার পদ্ধতিতে ছিল। তিনি চারশত নয় হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন। মানুষ তার নিকট থেকে সাহিত্য বা আদব গ্রহণ করত এবং ওয়াসিত ও অন্যান্য স্থানে তারা তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছে। তিনি অত্যন্ত অমায়িক স্বভাবের এবং প্রশংসনীয় পদ্ধতির অধিকারী ছিলেন। মানুষ তার নিকট (বিভিন্ন বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করত।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
بواسط بعد موت أبي محمد عبد الله بن أبي عبد الله العلوي أن يجلس لهم صدرا فيقرئهم فامتنع وقال أنا أتعمم مدورة وكمي ضيق وليست هذه حلية أهل القرآن أظنني سمعت ذلك من أبي الحسن المغازلي الشاهد
19 - وسألته عن أبي الحسن محمد بن محمد بن مخلد الأزدي البزاز فقال سمع بإفادة أبيه أبي طالب من أبي بكر بن بيري وأبي عبد الله العلوي وأبي علي بن معاذ وأبي الحسين بن دينار وابن خزفة والناس وكان جيد الأصول ثقة فيما يرويه ويقول جيد الخط توفي في سنة ثمان وستين
20 - وسألته عن أبي الحسن عبد السلام بن عبد الملك بن حبيب البزاز فقال لم أر له سماعا إلا من أبي غانم سهل بن اسماعيل بن بلبل
ওয়াসিতে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবি আবদুল্লাহ আল-আলাভির মৃত্যুর পর তাঁকে (মানুষের জন্য) প্রধান হিসেবে বসার এবং তাঁদের কুরআন পড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, "আমি গোল পাগড়ি পরিধান করি এবং আমার জামার হাতা সংকীর্ণ, আর এটি কুরআন বিশেষজ্ঞদের ভূষণ নয়।" আমার মনে হয় আমি এটি সাক্ষী আবুল হাসান আল-মুগাজিলির কাছ থেকে শুনেছি।
১৯ - আর আমি তাঁকে আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আজদি আল-বাজজায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, তিনি তাঁর পিতা আবু তালিবের নির্দেশনায় আবু বকর ইবনে বিরি, আবু আবদুল্লাহ আল-আলাভি, আবু আলি ইবনে মুয়ায, আবুল হুসাইন ইবনে দিনার, ইবনে খুযাফাহ এবং মানুষের কাছ থেকে (হাদিস) শুনেছেন। তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো ছিল উন্নত মানের, তিনি যা বর্ণনা করতেন ও বলতেন সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ছিলেন এবং তাঁর হাতের লেখা ছিল সুন্দর। তিনি আটষট্টি সালে মৃত্যুবরণ করেন।
২০ - আর আমি তাঁকে আবুল হাসান আবদুস সালাম ইবনে আবদুল মালিক ইবনে হাবিব আল-বাজজায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, আমি আবু গানিম সাহল ইবনে ইসমাইল ইবনে বুলবুল ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে তাঁর শোনার প্রমাণ দেখিনি।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
21 - الفقيه الخصاصي وكان أبو غانم ثقة صدوقا صحيح السماع شفعوي المذهب سمع من أبي جعفر محمد بن علي بن مهران الزيتوني عن أحمد بن عبد الجبار العطاردي وكان عنده المغازي بهذا الإسناد
22 - وسألته عن أبي عبد الله الحسين بن أحمد بن التباني البيع فقال سمع أبا محمد بن السقاء وغيره أملى بواسط بعد أبي الحسين بن كماري والد اسماعيل وكان ثقة جيد التحفظ آخر من حدث عنه الرئيس أبو الحسن هبة الله بن محمد بن موسى المعروف بابن الصفار الكاتب المقرئ
23 - وسألته عن أبي علي بن علان فقال هو أحمد بن أبي الحسن محمد بن علان الشاهد قديم الشهاده شهد ثم أبي ابراهيم العلوي
21 - ফকীহ আল-খাসাসি। আবু গানিম ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও বিশুদ্ধ বর্ণনাসূত্রের অধিকারী এবং শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী। তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী বিন মিহরান আল-যাইতুনি থেকে শুনেছেন, যিনি আহমদ বিন আব্দুল জব্বার আল-উতারিদি থেকে বর্ণনা করেছেন। তার নিকট এই সূত্রের মাধ্যমে আল-মাগাজি গ্রন্থটি সংরক্ষিত ছিল।
22 - আমি তাকে আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন আত-তাব্বানি আল-বাই' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি আবু মুহাম্মদ বিন আস-সাক্কা ও অন্যদের থেকে শুনেছেন। তিনি ওয়াসিতে আবু আল-হুসাইন বিন কুমারি—যিনি ইসমাইলের পিতা—তার পরে হাদীস পাঠ করিয়েছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও চমৎকার স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তার থেকে সর্বশেষ যিনি বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন রইস আবু আল-হাসান হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুসা, যিনি ইবনুস সাফফার আল-কাতিব আল-মুকরি হিসেবে পরিচিত।
23 - আমি তাকে আবু আলী বিন আল্লান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি হলেন আহমদ বিন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল্লান আশ-শাহিদ। তিনি দীর্ঘকাল যাবত সাক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং আবু ইব্রাহিম আল-আলাউয়ির নিকট সাক্ষ্য প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
قاضي واسط فمن بعده وكان يترفض ويكتمه وجلس صدرا للقراء في جامع واسط ثم عجز عن ذلك فلزم بيته وكان عنده عن أبي ابراهيم القاضي أحاديث فيها تشيع وسمع من أبي الطيب عبد الغفار بن عبيد الله
بن السري الحضيني وقرأ عليه وتخصص به ومات بعد الأربعين وأربعمائة آخر من حدث عنه أبو الفضل بن السوادي الشيخ الصالح
24 - وسألته عن أبي الحسن علي بن عبيد الله بن علي المعروف بابن القصاب البيع فقال رحل به أبوه الى أبي بكر المفيد الجرجرائي فسمع منه وكان ثقة موسرا حسن المواساة لأهل العلم حدثني سبطة أبو عبد الله بن السوادي أنه مات فجاءه بعد عوده من صلاة العصر وكان صلاها في الجامع فاتكأ فمات وأصحابنا قد قالوا سمع ابن السقاء وما أحق ذلك
ওয়াসিতের কাজি এবং তাঁর পরবর্তী ব্যক্তি। তিনি রাফিজি মতাদলম্বী ছিলেন এবং তা গোপন রাখতেন। তিনি ওয়াসিতের জামে মসজিদে কারীদের প্রধান হিসেবে বসতেন। পরবর্তীতে তিনি অক্ষম হয়ে পড়লে নিজ গৃহে অবস্থান করতে থাকেন। তাঁর নিকট আবু ইবরাহিম আল-কাজির সূত্রে এমন কিছু হাদিস ছিল যাতে শিয়া মতবাদের প্রভাব ছিল। তিনি আবু তাইয়্যেব আব্দুল গাফফার বিন উবাইদুল্লাহ বিন আস-সারী আল-হুসাইনির নিকট হাদিস শুনেছেন এবং তাঁর নিকট পাঠ করেছেন ও তাঁর অধীনে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি চারশ চল্লিশ হিজরির পরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর থেকে সর্বশেষ হাদিস বর্ণনা করেছেন নেককার শায়খ আবুল ফজল বিন আস-সাওয়াদি।
২৪ - এবং আমি তাঁকে আবুল হাসান আলী বিন উবাইদুল্লাহ বিন আলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যিনি ইবনুল কাসসাব আল-বাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বললেন: তাঁর পিতা তাঁকে আবু বকর আল-মুফিদ আল-জারজারাঈ-এর নিকট নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সচ্ছল ছিলেন এবং জ্ঞানপিপাসুদের প্রতি অত্যন্ত সদয় ছিলেন। তাঁর দৌহিত্র আবু আব্দুল্লাহ বিন আস-সাওয়াদি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আসরের সালাত থেকে ফেরার পর ইন্তেকাল করেন। তিনি জামে মসজিদে সালাত আদায় করেছিলেন, এরপর হেলান দিলেন এবং ইন্তেকাল করলেন। আমাদের সঙ্গীরা বলেছেন যে তিনি ইবনুস সাক্কার নিকট থেকেও হাদিস শুনেছেন, আর এটিই অধিকতর সঠিক।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
25 - وسألته عن الحضيني فقال هو أبو الطيب عبد الغفار بن عبيد الله كوفي الأصل تدير واسطا وتصدر بجامعها للقراء الى ان مات سمع ابن مجاهد ومن هو أقدم منه أظن أنه توفي سنة سبع وستين وثلاثمائة وكان ثقة
26 - وسألته عن أبي نعيم بن خصية فقال هو محمد بن عبد الواحد بن عبد العزيز كان عدلا مستقيما سمع ابن خزفه ورأينا سماعه في الأصول
27 - وسألته عن أبي البركات ابراهيم بن محمد بن خلف الجماري ويعرف بالبني فقال كان سقطيا سمع ابن خزفه والناس
25 - আমি তাঁকে আল-হুদাইনি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন: তিনি হলেন আবু তাইয়্যেব আব্দুল গাফফার ইবনে উবাইদুল্লাহ; তাঁর আদি নিবাস ছিল কুফা। তিনি ওয়াসিত শহরে বসবাস শুরু করেন এবং মৃত্যু অবধি সেখানকার জামে মসজিদে কিরাআত পাঠদানের প্রধান হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ইবনে মুজাহিদ এবং তাঁর চেয়েও প্রাচীনদের নিকট থেকে শুনেছেন। আমার ধারণা তিনি তিনশ সাতষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন।
26 - আমি তাঁকে আবু নুয়াইম ইবনে খাসিয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আব্দুল আজিজ। তিনি ন্যায়পরায়ণ ও অটল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ইবনে খুজাফাহ থেকে শুনেছেন এবং আমরা মূল পাণ্ডুলিপিতে তাঁর শ্রুতির প্রমাণ দেখেছি।
27 - আমি তাঁকে আবুল বারাকাত ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ আল-জুমারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম—যিনি আল-বান্নি নামে পরিচিত ছিলেন—তিনি বললেন: তিনি খুচরা পণ্য বিক্রেতা ছিলেন, তিনি ইবনে খুজাফাহ ও অন্যান্যদের থেকে শুনেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
28 - وولده أبو نعيم محمد بن ابراهيم الذي حدث بمسند مسدد وكان سمعه بإفادته وكلاهما ثقه
29 - وسألته عن أبي غالب محمد بن الحسين بن أبي صالح المقرئ فقال كان شيخا صالحا جيد الحفظ للقرآن وله بواسط مسجد يعرف به وعقب من جهة ابنته حدث عن أبي الحسين بن دينار وابن خزفه وسمع ببغداد من ابن مهدي وشهد بأخرة
فبلغه عن ابن فضلان اليهودي الناظر كان بواسط من جهة السلطان أنه قال ترى هذا الشيخ يشهد ثم منكر ونكير فترك الشهادة ولم يعد فيها حتى مات وكانت شهادته ثم اسماعيل قاضي واسط وكان متقشفا
30 - وسألته عن القاضي اسماعيل فقال هو أبو علي اسماعيل بن محمد
২৮ - এবং তাঁর পুত্র আবু নুআইম মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম, যিনি মুসনাদ-এ-মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর (পিতার) নির্দেশনায় এটি শ্রবণ করেছিলেন এবং তাঁরা উভয়েই নির্ভরযোগ্য।
২৯ - এবং আমি তাঁকে আবু গালিব মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আবি সালিহ আল-মুকরি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি একজন নেককার শাইখ এবং কুরআনের উত্তম হাফেজ ছিলেন। ওয়াসিত শহরে তাঁর নামে পরিচিত একটি মসজিদ রয়েছে এবং তাঁর কন্যার পক্ষ থেকে তাঁর বংশধারা বিদ্যমান। তিনি আবুল হুসাইন ইবনে দিনার ও ইবনে খুজাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বাগদাদে ইবনে মাহদি থেকে শ্রবণ করেছেন; আর জীবনের শেষ ভাগে তিনি সাক্ষ্য প্রদানের কাজও করেছেন।
অতঃপর সুলতানের পক্ষ থেকে ওয়াসিত শহরের পরিদর্শক (নাজির) ইহুদি ইবনে ফাযলানের একটি বক্তব্য তাঁর কাছে পৌঁছাল। সে বলেছিল, "তুমি কি এই বৃদ্ধকে দেখছ যে সাক্ষ্য দিচ্ছে? অথচ এরপর তো মুনকার ও নাকির (কবরের ফেরেশতা) রয়েছে!" ফলে তিনি সাক্ষ্য প্রদান করা ছেড়ে দিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত আর কখনও তা করেননি। তাঁর সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি ওয়াসিতের বিচারক ইসমাইলের কাছে ছিল এবং তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বর জীবনযাপনকারী ছিলেন।
৩০ - এবং আমি তাঁকে বিচারক ইসমাইল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি হলেন আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
ابن أحمد بن كماري سمع من ابن بيري وحدث عنه بتاريخ بحشل عن أبي بكر محمد بن عثمان بن سمعان المعدل عن بحشل وسمع من أبيه وابن خزفه وقرأ الأدب على ابن دينار وكان كاتبا مترسلا فصيحا حسن العقل والتثبت فقيها على مذهب أبي حنيفه وأصحابه قرأ على أبيه أبي الحسين محمد بن أحمد وكان أبوه قرأ على أبي بكر الرازي وهم بيت معروف بالصون والعلم والمعرفه بالقضاء
31 - والأحكام وكان ابنه أبو المفضل محمد بن اسماعيل قاضيا بعده على واسط وكان لين الجانب كيس الأخلاق إلا أنه كان يزعم أنهم من ولد
ইবনে আহমদ বিন কামারি ইবনে বিরি-র নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর সূত্রে ‘তারিখে বাহশাল’ (বাহশালের ইতিহাস) বর্ণনা করেছেন, যা আবু বকর মুহাম্মদ বিন উসমান বিন সামআন আল-মুআদ্দিল বাহশাল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর পিতা এবং ইবনে খুজাফাহ-র নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং ইবনে দিনারের নিকট সাহিত্য পাঠ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন কুশলী লেখক ও বাগ্মী এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। তিনি ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সহচরদের মাযহাব অনুযায়ী ফকিহ ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদের নিকট পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর পিতা আবু বকর আল-রাজির নিকট পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁরা এমন এক পরিবার যারা মর্যাদা রক্ষা, ইলম এবং বিচারকার্য ও বিধিবিধানের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
৩১ - এবং তাঁর পুত্র আবু আল-মুফাযযাল মুহাম্মদ বিন ইসমাইল তাঁর পরে ওয়াসিতের বিচারক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নম্র এবং সচ্চরিত্রবান ছিলেন, তবে তিনি দাবি করতেন যে তাঁরা... এর বংশধর।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
علي بن محمد صاحب الزنج بالبصره ولم يثبت ذلك ورأيت بخطه بعد موته أشياء تدل على رفضه والله يرحمه
32 - وسألته عن أبي الحسن علي بن محمد بن محمد بن الطيب المغازلي فقال كان مالكي المذهب شهد ثم أبي المفضل محمد بن اسماعيل وكان عارفا بالفقه والشروط والسجلات وسمع الحديث الكثير عن عالم من الناس من أهل
واسط وغيرهم وجمع التاريخ المجدد التالي لتاريخ بحشل وأصحاب شعبة وأصحاب يزيد بن هارون وأصحاب مالك وكان مكثرا خطيبا على المنبر يخلف صاحب الصلاه بواسط وكان مطلعا على كل علم من علوم الشريعه غرق ببغداد بعد الثمانين وأحدر الى واسط فدفن بها وكان يومه مشهودا
33 - وسألته عن أبي طالب سعد بن محمد الوحيد فقال ما أعرفه
আলী বিন মুহাম্মদ, বসরায় জিঞ্জ বিদ্রোহের নেতা; তবে তা প্রমাণিত হয়নি। তার মৃত্যুর পর আমি তার হস্তাক্ষরে এমন কিছু বিষয় দেখেছি যা তার রাফযি হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আল্লাহ তাকে রহম করুন।
৩২ - আর আমি তাকে আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আত-তাইয়িব আল-মাগাযিলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি মালিকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি আবুল মুফাযযাল মুহাম্মদ বিন ইসমাঈলের নিকট সাক্ষ্য প্রদান করতেন। তিনি ফিকহ, আইনি শর্তাবলি ও দলিলাদি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং ওয়াসিত ও অন্যান্য অঞ্চলের এক বিশাল আলিম সমাজের নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি বাহশালের ইতিহাসের পরবর্তী নতুন ইতিহাসগ্রন্থ এবং শু'বাহর ছাত্রবর্গ, ইয়াযিদ বিন হারুনের ছাত্রবর্গ ও মালিকের ছাত্রবর্গের সংকলন তৈরি করেছেন। তিনি ছিলেন বহু হাদিস বর্ণনাকারী এবং মিম্বরে ভাষণদানকারী খতিব; তিনি ওয়াসিতে সালাতের ইমামের স্থলাভিষিক্ত হতেন। তিনি শরিয়তের প্রতিটি ইলম সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। চারশ আশি হিজরির পর তিনি বাগদাদে পানিতে ডুবে মারা যান এবং তাকে ওয়াসিতে নিয়ে আসা হয় ও সেখানেই দাফন করা হয়। তার জানাজার দিনটি ছিল এক জনবহুল ও স্মরণীয় দিন।
৩৩ - আর আমি তাকে আবু তালিব সাদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াহিদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি তাকে চিনি না।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
في رجال واسط إلا أن أبا الحسن المغازلي أنشدنا قال أنشدنا أبو غالب النحوي قال أنشدنا أبو طالب الوحيد لنفسه
لو تخليت للزمان للاقى مسمعاه مني عتابا المطلوب
انما تكثر النوائب في الدنيا لأن الكرام فيها قليل
34 - وسألته عن أبي البركات محمد بن الحسن الهاشمي فقال هذا يعرف بابن ملوك خرج عن واسط وهو صبي فأقام بمكه وسمع بها من كريمة وغيرها وأقام بالقدس وسمع من اسماعيل الأستراباذي ثم قدم واسط وقد أسن فلازمته وعولت على أن أسمع منه مغازي الواقدي فنهاني أبو المفضل عنه وقال هذا كان قيما في الحمام في مبتدئه فرغبت عنه
35 - وسألته عن ابن الصقر فقال هو أبو الحسن محمد بن علي
ওয়াসিতের বর্ণনাকারীদের বর্ণনায়, তবে আবুল হাসান আল-মাগাজিলি আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন যে আবু গালিব আন-নাহবী আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন যে আবু তালিব আল-ওয়াহিদ তার নিজের রচিত কবিতা আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:
আমি যদি কালের জন্য অবসর পেতাম, তবে তার দুই কান আমার পক্ষ থেকে কাম্য তিরস্কার শুনতে পেত।
দুনিয়াতে বিপদ-আপদ কেবল এজন্যই বৃদ্ধি পায় কারণ এতে মহৎ ব্যক্তিদের সংখ্যা অতি নগণ্য।
৩৪ - আমি তাকে আবুল বারাকাত মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-হাশিমী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি ইবনে মুলুক নামে পরিচিত। তিনি বালক থাকাবস্থায় ওয়াসিত ত্যাগ করেন এবং মক্কায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি করিমা ও অন্যদের থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন। তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসেও অবস্থান করেন এবং ইসমাইল আল-আস্তারাবাদীর নিকট শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে ওয়াসিতে ফিরে আসেন। তখন আমি তার সংশ্রবে থাকতাম এবং তার নিকট থেকে ওয়াকিদীর 'মাগাযী' শোনার সংকল্প করলাম। কিন্তু আবুল মুফাদ্দাল আমাকে তার নিকট থেকে শুনতে নিষেধ করলেন এবং বললেন, প্রাথমিক জীবনে তিনি গোসলখানার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ফলে আমি তার থেকে বিমুখ হলাম।
৩৫ - আমি তাকে ইবনুস সাকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি হলেন আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আলী।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وعلي يكنى أبا طالب بن أبي الصقر واسم أبي الصقر الحسن كان يقول أنا من ولد أبي الصقر اسماعيل بن بلبل الوزير قدم جدي مع القاضي يوسف بن يعقوب الى واسط وكيلا بين يديه فتديرها وكان شاعرامجيدا وكاتبا سديدا حسن الخط والعقل والمروءه وكان قد سمع من أبي القاسم كاتب ابن قنطر وسمعته يقول كان زوج خالتي وكان قد رحل الى بغداد ولازم الشيخ أبا اسحاق الشيرازي وعلق عنه كتبه كلها ولما وقعت الفتنه بين الحنابله والأشعريه كان قائما فيها قاعدا وعمل في ذلك أشعارا سماها الشافعيات رويت عنه وهي مدونه في شعره وبلغ تسعين سنه إلا شهورا قال لي ولدت يوم الأحد ثالث عشر ذي القعده من سنة تسع وأربعماية وقال خميس توفي ابن أبي الصقر في جمادى الأولى سنة ثمان وتسعين
36 - وسألته عن أبي الفرج أحمد بن علي بن جعفر بن المعلى الخيوطي فقال كان مكثرا عن الزعفراني أبي عبد الله محمد بن الحسين
আলী আবু তালিব ইবনে আবু সাকর উপনামে পরিচিত ছিলেন এবং আবু সাকরের নাম ছিল হাসান। তিনি বলতেন, "আমি উজির আবু সাকর ইসমাইল ইবনে বুলবুলের বংশধর।" আমার দাদা কাযী ইউসুফ ইবনে ইয়াকুবের সাথে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াসিতে এসেছিলেন এবং সেখানেই বসতি স্থাপন করেছিলেন। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ কবি এবং দক্ষ লেখক ছিলেন; তাঁর হস্তাক্ষর ছিল সুন্দর এবং তিনি প্রজ্ঞা ও সুমহান চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ইবনে কানতারের লেখক আবুল কাসেমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, তিনি (আবুল কাসেম) আমার খালার স্বামী ছিলেন। তিনি বাগদাদ সফর করেছিলেন এবং শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর সান্নিধ্যে থেকে তাঁর সকল গ্রন্থ অনুলিপি করেছিলেন। যখন হানবালি ও আশআরিদের মধ্যে গোলযোগ সৃষ্টি হলো, তখন তিনি তাতে সক্রিয়ভাবে লিপ্ত ছিলেন। তিনি এ বিষয়ে কিছু কবিতা রচনা করেছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন 'আশ-শাফিয়্যিয়াত'। সেগুলো তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে। তিনি কয়েক মাস কম নব্বই বছর বয়সে উপনীত হয়েছিলেন। তিনি আমাকে বলেছেন, "আমি চারশত নয় হিজরী সনের তেরোই জিলকদ রবিবার জন্মগ্রহণ করেছি।" খামিস বলেন, ইবনে আবু সাকর চারশত আটানব্বই হিজরীর জমাদিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেছেন।
৩৬ - আমি তাঁকে আবুল ফারাজ আহমাদ ইবনে আলী ইবনে জাফর ইবনুল মুআল্লা আল-খায়ুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তিনি জাফরানি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন থেকে অধিক বর্ণনা শ্রবণকারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৭১)
ابن سعيد صاحب ابن أبي خيثمه قال لي أبو الحسن المغازلي قرأ على الزعفراني تاريخ ابن أبي خيثمه لنفسه وللناس نيفا وثمانين مره وأراد الانحدار الى البصره الى ابن داسه ليسمع منه سنن أبي داود فكتب له الزعفراني اليه قد انحدر أبو الفرج اليك وهو عيني مذ ذهبت عيني فاصغ اليه واقض حاجته ورده الي مسرعا أو ما هو نحوه وكان حسن الخط صحيح النقل والواسطيون يقولون كان حافظا متقنا وقد كان فيه
37 - وسألته عن أبي طاهر الريان بن سليمان الفرضي فقال كان من أهل باب الزاب قيما بالفرائض اماما في القراءة لا أعرف ذلك
38 - وسألته عن أبي طاهر محمد بن عبد الله بن حامد الناقد
ইবনে আবু খাইসামার সহচর ইবনে সাঈদ বলেন, আবুল হাসান আল-মাগাজেলি আমাকে বলেছেন: জাফরানি নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য ইবনে আবু খাইসামার ইতিহাস গ্রন্থটি আশিবারেরও বেশি পাঠ করেছেন। তিনি সুনানে আবু দাউদ শ্রবণের উদ্দেশ্যে ইবনে দাসা-এর নিকট বসরা অভিমুখে যাত্রা করতে চাইলেন, তখন জাফরানি তার নিকট পত্র লিখলেন যে, আবুল ফারাজ আপনার নিকট আসছেন; আমার দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর থেকে তিনি আমার চোখের সমতুল্য। অতএব আপনি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, তার প্রয়োজন পূরণ করবেন এবং তাকে দ্রুত আমার নিকট পাঠিয়ে দেবেন—অথবা এই জাতীয় কিছু লিখেছিলেন। তিনি সুন্দর হস্তাক্ষরের অধিকারী ও নির্ভুল বর্ণনাকারী ছিলেন। ওয়াসিতবাসীরা বলতেন যে, তিনি একজন সুনিপুণ হাফেজ ছিলেন এবং তার মাঝে ছিল...
৩৭ - আমি তাকে আবু তাহের রাইয়ান বিন সুলাইমান আল-ফারজি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: তিনি বাব আল-জাব অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন, উত্তরাধিকার আইন বা ফরায়েজ শাস্ত্রে পারদর্শী এবং কিরাআত শাস্ত্রের ইমাম ছিলেন; আমি তা জানি না।
৩৮ - আমি তাকে আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন হামিদ আন-নাক্বিদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।
(খণ্ড: ১)
সুআলাতুস সালাফী লি খামীসিল হাওযী
(পৃষ্ঠা: ৭২)
الكاتب في دار البطيخ فقال قد سمع من ابي التباني شيئا من أماليه سمعناها منه وكان شيخا له رواء صالحا من شيوخ أهل القرآن
39 - وسألته عن أبي طاهر محمد بن علي البيع فقال بغدادي قدم واسطا ثم احتلال بغداد وخروج الخليفه عنها وكان يذم الأجزاء المفاريد ويقول لا يعجبني الجزء العاشر والجزء الثلاثون والجزء الثاني والتسعون وما أشبه ذلك
وكان يروي المصنفات الصغار مما هو جزء الى اثنين الى ثلاثه لا يزيد على ذلك وكان عنده من هذا كثير حدثني بذلك كله أبو الحسن المغازلي
40 - وسألته عن أبي نعيم بن زبزب فقال مولده سنة ثمان
দারুল বাত্তিখের লেখক সম্পর্কে তিনি বললেন, তিনি আবু আত-তাব্বানি থেকে তার 'আমালি' (শ্রুতলিপি) এর কিছু অংশ শুনেছেন, যা আমরা তার থেকে শুনেছি। তিনি ছিলেন একজন নেককার ও সুন্দর অবয়বের অধিকারী শায়খ এবং আহলে কুরআনের শায়খদের অন্তর্ভুক্ত।
৩৯ - এবং আমি তাকে আবু তাহির মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-বায়্যি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তিনি একজন বাগদাদী, যিনি বাগদাদ দখল এবং সেখান থেকে খলিফার প্রস্থানের সময় ওয়াসিতে এসেছিলেন। তিনি একক খণ্ডগুলোর সমালোচনা করতেন এবং বলতেন: দশম খণ্ড, ত্রিশতম খণ্ড, বিরানব্বইতম খণ্ড এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো আমার পছন্দ নয়।
তিনি ছোট ছোট সংকলনগুলো বর্ণনা করতেন যা এক থেকে দুই বা তিন খণ্ড পর্যন্ত হতো, এর বেশি হতো না। তার নিকট এই ধরণের অনেক কিতাব ছিল। আবুল হাসান আল-মাগাজেলি আমাকে এই সব বর্ণনা করেছেন।
৪০ - এবং আমি তাকে আবু নুয়াইম ইবনে জুবজুব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তার জন্ম আট সালে।