(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تخريج أحاديث وآثار كتاب في ظلال القرآن   (-)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: تخريج أحاديث وآثار كتاب «في ظلال القرآن»

المؤلف: علوي بن عبد القادر السَّقَّاف

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع

الطبعة: الثانية، 1416 هـ - 1995 م

(تنبيه): النص مأخوذ عن الطبعة الثالثة

عدد الصفحات: 550

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

‘ফি জিলালিল কুরআন’ গ্রন্থের হাদিস ও আছারসমূহের তখরিজ   (-)

বিভাগ: তখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: ‘ফি জিলালিল কুরআন’ গ্রন্থের হাদিস ও আছারসমূহের তখরিজ

লেখক: আলাওয়ী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

(সতর্কবার্তা): মূল পাঠটি তৃতীয় সংস্করণ থেকে সংগৃহীত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[تخريج أحاديث وآثار كتاب في ظلال القرآن، لسيد قطب رحمه الله]ـ

المؤلف: علوي بن عبد القادر السَّقَّاف

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع

الطبعة: الثانية، 1416 هـ - 1995 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

(تنبيه) : النص الإلكتروني مأخوذ عن الطبعة الثالثة (من موقع الشيخ المؤلف - حفظه الله -، على الإنترنت)
[সাইয়্যেদ কুতুব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর 'ফি যিলালিল কুরআন' গ্রন্থের হাদিস ও আসারসমূহের উৎস অনুসন্ধান (তাখরিজ)]

লেখক: আলউয়ি বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

--------------------------------------------

(দ্রষ্টব্য): ইলেকট্রনিক সংস্করণটি তৃতীয় সংস্করণ থেকে সংগৃহীত (সম্মানিত শাইখ লেখক -আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন- এর ইন্টারনেট ওয়েবসাইট থেকে)
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الحمد لله رب العالمين، ولا عدوان إلا على الظالمين، والعاقبة للمتقين، وصلاة الله وسلامه على نبينا محمد سيد المرسلين، وخاتم النبيين، وعلى آله الطاهرين، وأصحابه الطيبين، ومن تبعهم إلى يوم الدين.

أمَّا بعد:

فهذه هي الطبعة الثالثة من كتاب ((تخريج أحاديث وآثار كتاب "في ظلال القرآن" لسيد قطب رحمه الله)) استدركت فيها الأخطاء المطبعية التي وقعت في الطبعتين السابقتين كما أضفت تخريجات يسيرة على بعض الأحاديث والآثار.

 

ولا يفوتني هنا أن أردَّ على شبهتين ذكرهما بعض الناس نصحاً أو تشغيباً على الكتاب أو المؤلِّف، الأولى تقول: إنَّ كتاب "في ظلال القرآن" لسيد قطب رحمه الله مليء بالأخطاء العقدية والضلالات المنهجية، وأنَّ تخريج أحاديثه يزيد من شهرته ومن عدد مقتنيه. والثانية تقول: إنَّ من الخيانة العلمية أن يتصدر المؤلِّف لتخريج أحاديث الكتاب دون التطرق إلى أخطائه العقدية والردِّ عليها.

وللردِّ على هاتين الشبهتين أقول:

أولاً وباديء ذي بدء أقول: نعم! إنَّ في كتاب "في ظلال القرآن" أخطاء عقدية تخالف منهج أهل السنة والجماعة وخاصة في مسائل صفات الله عز وجل ولا يقرُّه عليه سلفي، ومنكر ذلك جاهلٌ أو مكابرٌ متعصبٌ، أمَّا الشبهة الأولى فكأن قائلها ليس على دراية بفعل السلف ومن تبعهم من المعاصرين الذين كانوا يعتنون بتخريج أحاديث ما اشتهر من الكتب وإن كانت فيها أخطاء أو زلات، طالما أنَّ الشهرة سبقت التخريج، وما فائدة تخريج كتاب مغمور لا يعرفه أحد؟! وهؤلاء الذين يتفوهون بهذا القول لا يعرفون الحكمة من التخريج، ولا يعلمون أنَّ المؤلف قبل أن يشرع في تخريج كتابٍ ما ينظر في أهمية هذا الكتاب وكم من الخلق سيستفيد من تخريجه هذا؟ وانظر على سبيل المثال ما قام به كلٌ من ابن الملقن والزيلعي وابن حجر في تخريجهم لكتاب "الشرح الكبير" للرافعي لما له من شهرة في المذهب الشافعي، وانظر إلى صنيع ابن حجر ومن قبلِه الزيلعي اللذين قاما بتخريج أحاديث "الكشاف" للزمخشري الذي ذاع صيته في الآفاق، وإلى صنيع الحافظ العراقي وابن السبكي والزبيدي في تخريج أشهر كتاب في زمانهم على كثرة انحرافاته وضلالاته أعني كتاب "إحياء علوم الدين" للغزالي، وانظر إلى صنيع الشيخ محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله كيف كان ينتقي أشهر الكتب المعاصرة وأكثرها تداولاً وطباعة وإن لم تكن أصفاها وأصوبها منهجاً؛ فقد خرج رحمه الله أحاديث كتاب "الحلال والحرام" للدكتور يوسف القرضاوي، وكتاب "السيرة النبوية" للشيخ محمد الغزالي رحمه الله فهل أثنى عزمه ما فيهما وما عند مؤلفيهما من أخطاء؟! أو قال إنَّ تخريجي لأحاديث هذين الكتابين إشهاراً لهما مع أنه لا يخفى أثر تخريج الشيخ رحمه الله لكتابٍ ما.

أمَّا الشبهة الثانية فتقول: إنَّ تخريج أحاديث الكتاب دون التطرق إلى الأخطاء التي فيه يُعد خيانة علميَّة، وهذا فيه ما فيه من الظلم والتجني، وإن كنت أرى أن التعقيب على أخطاء كتابٍ ما وخاصة العقدية أولى وأفضل، لكن إذا لم يشترط المؤلف هذا على نفسه ولم يتفرغ له فكيف يعد ذلك خيانة علميَّة؟! وكم من كتاب فيه أخطاء عقدية أو فقهية قام بتخريجه علماء أفاضل ولم يتعقبوه بشيء أو تعقبوا شيئاً وتركوا أشياء، ومن ذلك على سبيل المثال: تخريج الحافظ ابن حجر العسقلاني لأحاديث "الكشاف" للزمخشري -المعتزلي- ومعروفٌ عداوة الأشاعرة للمعتزلة وكثرة ردودهم عليهم ومع هذا لم يتعقب ابن حجر الزمخشريَ في أخطائه وضلالاته الاعتزاليَّة، ومن قبله الحافظ الزيلعي لم يتعقبه بشيء ولا محققه الشيخ سلطان الطبيشي ولم ينكر ذلك مقدم الكتاب الشيخ عبد الله السعد، وهكذا صنع الحافظ العراقي والزيلعي مع الغزالي في إحيائه، وانظر إلى صنيع الشيخ الألباني رحمه الله في تخريجه لشرح ابن أبي العز الحنفي للعقيدة الطحاوية فهو لم يتعقبه في شيء بل ولم يتعقب الإمام الطحاوي رغم وجود مسائل تخالف منهج أهل السنة والجماعة في المتن والشرح وإن كان جزاه الله خيراً وفَّى أو كاد في التعليق على الطحاوية لكنه في تخريجه للشرح لم يعقِّب بشيء، وما كل مقتنٍ للشرح لديه التعليق، ثم إن التعليق على المتن وليس على الشرح. والأمثلة كثير وفي هذا كفاية لكل منصف.

 

وفي الختام أسأل الله عز وجل أن يهدينا لأحسن الأخلاق والأعمال، وأن يأخذ بأيدينا إلى ما يرضيه، إنَّه ولي ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله ربِّ العالمين.
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। জালেমদের ওপর ছাড়া আর কোনো বিদ্বেষ নেই। মুত্তাকিদের জন্যই শুভ পরিণাম। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি রাসূলদের সরদার এবং নবীদের সিলমোহর (শেষ নবী), এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর উত্তম সাথীবর্গ (সাহাবী) এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁদের সবার ওপর।

অতঃপর:

এটি সায়্যেদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "ফি জিলালিল কুরআন" বইয়ের হাদিস ও আসারসমূহের উৎসের বর্ণনা (তাখরিজ) সম্বলিত বইটির তৃতীয় সংস্করণ। এতে আমি পূর্ববর্তী দুই সংস্করণে ঘটে যাওয়া মুদ্রণজনিত ভুলগুলো সংশোধন করেছি এবং কিছু হাদিস ও আসারের ক্ষেত্রে সামান্য কিছু তাখরিজ যোগ করেছি।

 

এখানে আমি দুটি সংশয়ের উত্তর দিতে ভুলব না, যা কিছু লোক হিতোপদেশ হিসেবে অথবা বই বা লেখকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো: সায়্যেদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ)-এর "ফি জিলালিল কুরআন" বইটি আকিদাগত ভুল এবং মানহাযগত (পদ্ধতিগত) বিভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ, আর এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করা বইটির জনপ্রিয়তা এবং এর সংগ্রহকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। দ্বিতীয়টি হলো: বইটির আকিদাগত ভুলগুলো আলোচনা না করে এবং সেগুলোর প্রতিবাদ না করে লেখকের কেবল হাদিসসমূহের তাখরিজ করতে উদ্যত হওয়া একটি ইলমি খিয়ানত (শিক্ষাগত বিশ্বাসভঙ্গ)।

এই দুটি সংশয়ের উত্তর দিতে গিয়ে আমি বলছি:

প্রথমত এবং শুরুতেই আমি বলছি: হ্যাঁ! "ফি জিলালিল কুরআন" বইটিতে এমন কিছু আকিদাগত ভুল রয়েছে যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাযের পরিপন্থী, বিশেষ করে মহান আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত মাসআলাগুলোতে। কোনো সালাফিই তা সমর্থন করেন না এবং যিনি তা অস্বীকার করেন তিনি হয় অজ্ঞ অথবা একগুঁয়ে গোঁড়া। আর প্রথম সংশয়টির ব্যাপারে বলা যায় যে, এর প্রবক্তা হয়তো সালাফ এবং তাঁদের অনুসারী সমসাময়িক আলেমদের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নন, যারা প্রসিদ্ধ বইগুলোর হাদিস তাখরিজের প্রতি যত্নবান ছিলেন, যদিও সেগুলোতে ভুল বা পদস্খলন ছিল; যতক্ষণ পর্যন্ত তাখরিজের আগে থেকেই বইটির জনপ্রিয়তা বিদ্যমান থাকে। আর একটি অখ্যাত বই যা কেউ চেনে না, তার তাখরিজ করে লাভ কী?! যারা এই কথা বলেন, তারা তাখরিজের হিকমত বা প্রজ্ঞা সম্পর্কে জানেন না। তাঁরা জানেন না যে, লেখক কোনো বইয়ের তাখরিজ শুরু করার আগে সেই বইটির গুরুত্ব এবং তা থেকে কত মানুষ উপকৃত হবে তা বিবেচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ দেখুন, ইমাম ইবনুল মুলাক্কিন, যায়লায়ি এবং ইবনে হাজার (রহ.) রাফেয়ি-এর "আশ-শারহুল কাবির" বইটির তাখরিজ করার ক্ষেত্রে কী করেছেন, কারণ শাফেয়ি মাজহাবে এর বিশাল জনপ্রিয়তা ছিল। ইবনে হাজার এবং তার আগে যায়লায়ি-এর কাজ দেখুন, যারা যামাখশারির "কাশশাফ" এর হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন, যার খ্যাতি দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছিল। হাফেজ ইরাকি, ইবনুস সুবকি এবং জাবিদির কাজ দেখুন তাঁদের সময়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বইয়ের তাখরিজের ক্ষেত্রে, যদিও তাতে বিচ্যুতি ও বিভ্রান্তি ছিল প্রচুর—অর্থাৎ গাজালির "ইহয়াউ উলুমিদ্দিন" বইটির ক্ষেত্রে। শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপদ্ধতির দিকে তাকান; তিনি কীভাবে সমসাময়িক প্রসিদ্ধ এবং সর্বাধিক প্রচলিত ও মুদ্রিত বইগুলো বেছে নিতেন, যদিও সেগুলো মানহাযের দিক থেকে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সঠিক ছিল না। তিনি ড. ইউসুফ কারাজাভির "আল-হালাল ওয়াল হারাম" এবং শাইখ মুহাম্মদ আল-গাজালির (রহ.) "আস-সিরাতুন নববিয়্যাহ" বই দুটির হাদিস তাখরিজ করেছেন। বই দুটিতে বা লেখকদের মধ্যে যে ভুলগুলো ছিল, তা কি তাঁকে বিরত করতে পেরেছিল? অথবা তিনি কি বলেছিলেন যে, এই বই দুটির হাদিস তাখরিজ করা মানেই সেগুলোকে জনপ্রিয় করা? অথচ কোনো বইয়ের ওপর শাইখের তাখরিজের প্রভাব কারো অজানা নয়।

দ্বিতীয় সংশয়টি হলো: বইটির ভুলগুলোর আলোচনা না করে কেবল হাদিসসমূহের তাখরিজ করা একটি ইলমি খিয়ানত হিসেবে গণ্য হবে। এই বক্তব্যের মধ্যে জুলুম এবং অন্যায্য অভিযোগ রয়েছে। যদিও আমি মনে করি কোনো বইয়ের ভুলগুলোর ওপর বিশেষ করে আকিদাগত ভুলের ওপর টিকা দেওয়া উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কাজ, কিন্তু লেখক যদি নিজের ওপর এটি শর্ত হিসেবে না নেন এবং এর জন্য সময় না পান, তবে কীভাবে এটি ইলমি খিয়ানত হয়?! কত এমন বই আছে যাতে আকিদাগত বা ফিকহগত ভুল রয়েছে এবং মর্যাদাবান আলেমগণ সেগুলোর তাখরিজ করেছেন কিন্তু কোনো প্রতিবাদ বা সমালোচনা করেননি অথবা কিছু বিষয়ে করেছেন আবার কিছু ছেড়ে দিয়েছেন। এর উদাহরণস্বরূপ: মুতাজিলা যামাখশারির "কাশশাফ" বইটির হাদিসসমূহের ওপর হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির তাখরিজ। মুতাজিলাদের সাথে আশআরিদের শত্রুতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচুর খণ্ডন সবারই জানা, তবুও ইবনে হাজার যামাখশারির ইতিজালি (মুতাজিলা) ভুল ও বিভ্রান্তিগুলোর ওপর কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর আগে হাফেজ যায়লায়িও কোনো মন্তব্য করেননি, এমনকি এর মুহাক্কিক (সম্পাদক) শাইখ সুলতান আত-তুবাইশিও করেননি এবং বইটির ভূমিকাতে শাইখ আব্দুল্লাহ আস-সা'দও এর প্রতিবাদ করেননি। হাফেজ ইরাকি এবং যায়লায়িও গাজালির "ইহয়া" এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ করেছেন। ইমাম আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপদ্ধতির দিকে তাকান যখন তিনি ইবনু আবিল ইয আল-হানাফি রচিত "আকিদাহ আত-তাহাবি"-এর ব্যাখ্যার (শারহ) তাখরিজ করেছেন। তিনি তাতে কোনো বিষয়ের ওপর প্রতিবাদমূলক মন্তব্য করেননি, এমনকি ইমাম তাহাবির কোনো বিষয়ের ওপরও নয়, যদিও মূল পাঠ (মতন) ও ব্যাখ্যায় এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাযের পরিপন্থী। যদিও আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন, তিনি "তাহাবিয়্যাহ"-এর টীকা লিখতে গিয়ে প্রায় সবকিছুই পূর্ণ করেছেন, কিন্তু "শারহ" বা ব্যাখ্যার তাখরিজের সময় কোনো মন্তব্য করেননি। কারণ শারহ-এর প্রতিটি সংগ্রহকারীর কাছে মূল টীকাটি থাকে না। অধিকন্তু, টীকাটি ছিল মতনের ওপর, শারহ-এর ওপর নয়। এমন উদাহরণ অনেক আছে এবং যেকোনো ইনসাফকারীর জন্য এটিই যথেষ্ট।

 

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সর্বোত্তম চরিত্র ও আমলের দিকে পরিচালিত করেন এবং যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে তার দিকে আমাদের হাত ধরেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম। আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الثانية

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين؛ نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد:

فهذه هي الطبعة الثانية من هذا الكتاب، تُنشر بعد أن جمعتُ ملاحظات إخواني من طلبة العلم حول الطبعة الأولى، وقد ضمنتها زيادات على الطبعة الأولى، وهي كالتالي:

 

1 - أوردتُ الحديث أو الأثر كاملاً من الأصل ((الظلال)) ، وربما عدَّلتُ تعديلات يسيرة، وذلك تيسيراً للقارئ الكريم معاناة الرجوع إلى الأصل، والاكتفاء بهذا التخريج إن شاء.

2 - عزوتُ كل حديث إلى راويه من الصحابة، ولم يكن هذا مطَّرِداً في الطبعة الأولى.

3 - راجعتُ الأحاديث كلها، وأضفتُ إضافات عند بعضها، خاصة وقد ظهرت بعض الكتب المعينة على ذلك أثناء الفترة بين الطبعتين.

4 - ضممتُ أحاديث فاتتني في الطبعة الأولى؛ حيث بلغ عدد الأحاديث في هذه الطبعة مع المكرر (1020) حديثاً.

هذا؛ وحتى لا يتكلف القارئ الكريم شراء هذه الطبعة في حالة عدم رغبته؛ فقد سردت في آخرها قائمة بأرقام الأحاديث المضافة غير
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তিকারী আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এটি এই কিতাবটির দ্বিতীয় সংস্করণ, যা প্রথম সংস্করণ সম্পর্কে ইলম অন্বেষী ভাইদের মন্তব্যসমূহ সংগ্রহ করার পর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি এতে প্রথম সংস্করণের ওপর কিছু পরিবর্ধন যুক্ত করেছি, যা নিম্নরূপ:

 

১ - আমি মূল গ্রন্থ 'আজ-জিলাল' থেকে হাদিস বা আসার (বর্ণনা) পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছি, এবং সম্ভবত সামান্য কিছু পরিমার্জন করেছি। এটি করা হয়েছে সম্মানিত পাঠকের মূল গ্রন্থের দিকে ফিরে যাওয়ার কষ্ট লাঘব করার জন্য এবং তিনি চাইলে এই তাখরিজের (উৎস নির্দেশিকা) ওপরই নির্ভর করতে পারেন।

২ - আমি প্রতিটি হাদিসকে সাহাবীদের মধ্য থেকে তার বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি, যা প্রথম সংস্করণে নিয়মিতভাবে করা হয়নি।

৩ - আমি সকল হাদিস পুনরায় পর্যালোচনা করেছি এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করেছি, বিশেষ করে দুই সংস্করণের মধ্যবর্তী সময়ে এই বিষয়ে সহায়ক কিছু কিতাব প্রকাশিত হওয়ার কারণে।

৪ - আমি সেই হাদিসগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি যা প্রথম সংস্করণে বাদ পড়েছিল; ফলে এই সংস্করণে পুনরাবৃত্তিসহ হাদিসের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (১০২০) টিতে।

এটি করা হয়েছে এই জন্য; যেন সম্মানিত পাঠক অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই সংস্করণটি ক্রয় করার জন্য কষ্ট না করেন; তাই আমি এর শেষে পরিবর্ধিত হাদিসগুলোর নম্বরের একটি তালিকা প্রদান করেছি যা ব্যতিত...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
المكررة، وأخرى بأرقام الأحاديث التي جرى عليها تعديل كبير، ومقابلها أرقام هذه الأحاديث من الطبعة الأولى.

وأخيراً؛ أسأل الله العلي القدير أن يرزقنا الإخلاص في أعمالنا وأقوالنا، وأن يأخذ بأيدينا.

وصلى الله على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

المؤلف

يوم عرفة (1414 هـ)
পুনরুক্ত হাদিসসমূহ এবং অন্যগুলো সেই সব হাদিসের নম্বরসহ যাতে বড় ধরনের পরিমার্জন সম্পন্ন হয়েছে, এবং তার বিপরীতে রয়েছে প্রথম সংস্করণ থেকে উক্ত হাদিসসমূহের নম্বরসমূহ।

পরিশেষে; আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন এবং আমাদের হাত ধরেন।

আর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর।

লেখক

আরাফার দিন (১৪১৪ হিজরী)
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الأولى

 

إن الحمد لله؛ نحمده، ونستعينُه، ونستغفرُه، ونعوذُ باللهِ من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، مَن يهده الله؛ فلا مضلَّ له، ومَن يُضْلِل؛ فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبدُه ورسوله.

أما بعد؛ فإن أصدَق الحديثِ كتابُ الله، وخير الهدي هديُ محمدٍ صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتُها، وكلَّ محدثةٍ بدعةٌ، وكلَّ بدعة ضلالة، وكلَّ ضلالة في النار.

وبعد:

فهذا تخريج مختصرٌ للأحاديث الواردة في كتاب ((في ظلال القرآن)) لمؤلفه سيد قطب رحمه الله.

والذي دفعني للقيام بهذا العمل كثرةُ تداول هذا الكتاب بين أبناء هذه الصحوة المباركة إن شاء الله.

 

ولما كان معرفة صحيح الأحاديث من ضعيفها عند قراءة أي كتابٍ ـ فضلاً عن كتاب تتربَّى عليه أجيال ـ أمراً مهمّاً، بل واجباً، ولما كان هذا الكتاب من الكتب التي يقرأها الكثير من شباب الدعوة اليوم، وقد لا يملك بعضهم معرفة الصحيح من الضعيف؛ كما أن مؤلفه سيداً لم يكن من
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভট বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভট বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর:

এটি সায়েদ কুতুব (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘ফি যিলালিল কুরআন’ গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ)।

ইনশাআল্লাহ, এই বরকতময় জাগরণের সন্তানদের মাঝে এই কিতাবটির ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের কারণেই আমি এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছি।

 

যেকোনো কিতাব পড়ার সময়—বিশেষ করে যে কিতাবের ওপর ভিত্তি করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে ওঠে—সহিহ হাদিসকে জয়িফ থেকে আলাদা করে চেনা যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ, বরং একটি আবশ্যকীয় বিষয়; এবং যেহেতু এই কিতাবটি এমন একটি কিতাব যা বর্তমানে দাওয়াতের ময়দানের অনেক যুবকই পড়ে থাকেন, যাদের অনেকেরই হয়তো সহিহ ও জয়িফ হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান নেই; তদুপরি এর লেখক সায়েদ নিজেও হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
أصحاب هذا الشأن؛ فهو يورد أحاديث كثيرة، منها الصحيح والضعيف وما لا أصل له؛ رأيت أن من أهمِّ ما ينبغي أن يشتغل به طالب العلم اليوم هو تنقية الكتب ممَّا شابها من أحاديث لا تصحُّ نسبتها إلى المعصوم صلى الله عليه وسلم وهذا منها ـ، حتى تسلك هذه الدعوةُ الجادَّةَ، ولا تخطئ الطريق.

لذا؛ فقد قمت بهذا العمل، لعل الله أن ينفع به، وأن يجعله في ميزان حسناتي يوم ألقاه.

عملي في الكتاب:

 

1 - أحصيت جميع أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم، وآثار الصحابة رضي الله عنهم، وأعطيتُ كلاًّ منها رقماً؛ فبلغت أكثر من (900) حديثاً وأثراً.

 

2 - قمتُ بكتابة طرف الحديث أو الأثر أو ما يشير إليهما، وعلى يمينه رقمه، وأسفل منه بسطر رقم الجزء والصفحة من ((الظلال)) بين قوسين، ثم أذكر تحته مباشرة درجة الحديث من حيث الصحة أو الضعف ـ إن أمكن ـ، ثم أسفل منه مَن خرَّجه من الأئمة، ثم أسفل منه أقول: ((انظر:)) ، وأذكر الكتب التي ورد فيها هذا الحديث؛ من حيث وجوده فيها، أو من حيث كلام أئمة المحدِّثين عنه.

 

3 - ما أكتبه عن درجة الحديث هو خلاصة دراسة كل حديث بمفرده، وقول أئمة هذا الشأن فيه من الأقدمين والمتأخرين، وربما درست سنده إذا لم أجد من تكلَّم عنه؛ لذلك؛ فإنك لن تجد عبارة: ((صحَّحه
এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ; তিনি প্রচুর হাদীস উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে সহীহ, যয়ীফ এবং এমন বর্ণনাও রয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই; আমি মনে করি যে বর্তমান সময়ে একজন ইলম অন্বেষণকারীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হওয়া উচিত কিতাবসমূহকে এমন সব হাদীসের মিশ্রণ থেকে পবিত্র করা যেগুলোর সম্বন্ধ নিষ্পাপ (রাসূল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বিশুদ্ধ নয়—আর এটিও সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত—যাতে এই দাওয়াত সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং পথচ্যুত না হয়।

অতএব, আমি এই কাজটি সম্পন্ন করেছি, এই আশায় যে আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করবেন এবং একে আমার নেক আমলের পাল্লায় জমা করবেন যেদিন আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব।

কিতাবটিতে আমার কাজ:

 

১ - আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত হাদীস এবং সাহাবী রাযিয়াল্লাহু আনহুম-দের আসারসমূহ গণনা করেছি এবং সেগুলোর প্রত্যেকটিকে একটি নম্বর প্রদান করেছি; ফলে এর সংখ্যা ৯০০-এর বেশি হাদীস ও আসারে পৌঁছেছে।

 

২ - আমি হাদীস বা আসারের প্রারম্ভিক অংশ অথবা যা সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তা লিখেছি, এবং তার ডান দিকে তার নম্বর দিয়েছি। তার নিচের লাইনে বন্ধনীর মধ্যে ((যিলাল)) কিতাবের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। এরপর ঠিক তার নিচে হাদীসটির মান (সহীহ বা যয়ীফ হওয়া) উল্লেখ করেছি—যদি সম্ভব হয়—। তারপর তার নিচে কোন ইমামগণ এটি বর্ণনা (তাখরীজ) করেছেন তা উল্লেখ করেছি। এরপর তার নিচে আমি লিখেছি: ((দেখুন:)), এবং সেই কিতাবগুলোর নাম উল্লেখ করেছি যেগুলোতে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে; কিতাবগুলোতে এর বিদ্যমান থাকার বিচারে অথবা এই হাদীস সম্পর্কে মুহাদ্দিস ইমামগণের মন্তব্যের বিচারে।

 

৩ - হাদীসের মান সম্পর্কে আমি যা লিখেছি তা হলো প্রতিটি হাদীসকে পৃথকভাবে পর্যালোচনার নির্যাস এবং এই বিষয়ের প্রাচীন ও পরবর্তী ইমামগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। অনেক সময় আমি এর সনদ (বর্ণনাসূত্র) নিয়ে গবেষণা করেছি যখন এমন কাউকে পাওয়া যায়নি যিনি এটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। এই কারণে, আপনি এমন বাক্য পাবেন না: ((একে সহীহ বলেছেন...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
فلان)) أو ((ضعفه فلان)) ؛ إلا نادراً جدّاً، ولكنَّك إذا ذهبت إلى المصادر التي أُحيل عليها بعد قولي: ((انظر)) ؛ فإنك ستجد فيها مَن روى الحديث، ومن تكلم عنه بصحة أو ضعف ونحو ذلك.

 

4 - استفدت كثيراً من الكتب التي حُقِّقت وأحال أصحابها على مواضع الحديث في أصوله، ولم أشأ إعادة وتكرار هذا العمل، وهو من باب استفادة اللاحق بالسابق، وعدم تكرار الجهود فيما لا طائل تحته، فمثلاً الحديث الذي يرويه الأربعة: أكتب درجته، ثم أقول: ((رواه: أبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه)) ، ثم أقول: ((انظر: جامع الأصول)) (كذا) ، ((سنن ابن ماجه)) (كذا) … )) ، فمن أراد التثبُّت ومعرفة مواضعه من ((سنن)) أبي داود والترمذي والنسائي ومعرفة الكتاب والباب والجزء والصفحة، فعليه مراجعة كتاب ((جامع الأصول)) ، وكثيراً ما كنتُ أتأكد بنفسي من صحة عزو الحديث لمخرجه، لكني لا أسطر ذلك اختصاراً.

 

5 - الحديث الذي يرويه البخاري ومسلم أو أحدهما؛ فعزوه لهما معلمٌ بالصحة؛ لذا؛ فقلَّما أذكر من خرَّجه سواهما؛ اختصاراً أيضاً، لكنك ستجد أيضاً كلمة (صحيح) ، وهذا ليس استدراكاً عليهما، بل هو زيادة بيان، وكي يسير العمل على نسق واحد، وهذا عملٌ قد سُبِقْتُ إليه، والحمد لله.

 

6 - عند ذكر مَن روى الحديث؛ أبدأ بمَن رواه من الستة، ثم أحمد، أو مالك، ثم بقية رواة الحديث؛ مراعياً الترتيب الزمني لوفاتهم ما أمكن، وليس شرطاً.

 

7 - إذا أوردت مثلاً ستةً ممَّن روى الحديث، فقلتُ: ((رواه فلان
অমুক)) অথবা ((অমুক একে দুর্বল বলেছেন)); তবে তা খুব সামান্যই। কিন্তু আপনি যদি আমার ‘দেখুন’ নির্দেশের পর উদ্ধৃত উৎসগুলোর দিকে ফিরে যান, তবে সেখানে আপনি পাবেন কে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং কে এর বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

 

4 - আমি সেই সম্পাদিত গ্রন্থগুলো থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি যেখানে লেখকরা মূল উৎসগুলোতে হাদিসের স্থান নির্দেশ করেছেন। আমি এই কাজের পুনরাবৃত্তি করতে চাইনি; এটি মূলত পূর্ববর্তীদের থেকে পরবর্তীদের উপকৃত হওয়া এবং নিরর্থক শ্রমের পুনরাবৃত্তি না করার অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, যে হাদিসটি চারজন (সুনান গ্রন্থকার) বর্ণনা করেছেন: আমি সেটির মান লিখি, তারপর বলি: ((বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি ও ইবনে মাজাহ)), তারপর বলি: ((দেখুন: জামিউল উসুল)) (এভাবে), ((সুনানে ইবনে মাজাহ)) (এভাবে) … )) , সুতরাং যে ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত হতে চায় এবং সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি-তে হাদিসটির অবস্থান এবং কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর জানতে চায়, তার উচিত ‘জামিউল উসুল’ গ্রন্থটি দেখা। অনেক সময় আমি নিজে হাদিসটি তার উৎসের দিকে সম্বন্ধ করার সঠিকতা যাচাই করে নিতাম, কিন্তু সংক্ষেপ করার খাতিরে আমি তা বিস্তারিত লিখিনি।

 

5 - যে হাদিস বুখারি ও মুসলিম অথবা তাদের কোনো একজন বর্ণনা করেছেন, তাদের দিকে সম্বন্ধ করাটাই এর বিশুদ্ধতার প্রমাণ। তাই সংক্ষেপ করার লক্ষ্যে তাদের ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীদের নাম আমি খুব কমই উল্লেখ করি। তবে সেখানে আপনি ‘সহিহ’ শব্দটি পাবেন; এটি তাদের ওপর কোনো সংশোধনী নয়, বরং বিষদ বিবরণের জন্য এবং পুরো কাজটি যাতে একই নিয়মে পরিচালিত হয় সে জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমার আগে অন্যরাও এভাবে কাজ করেছেন।

 

6 - হাদিসের বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করার সময় আমি প্রথমে ‘কুতুবে সিত্তাহ’ বা ছয়টি কিতাবের বর্ণনাকারীদের দিয়ে শুরু করি, এরপর আহমদ অথবা মালিক, তারপর হাদিসের অন্যান্য বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করি। এ ক্ষেত্রে সাধ্যমতো তাদের মৃত্যু সন অনুযায়ী কালানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রাখার চেষ্টা করি, তবে এটি কোনো ধরাবাঁধা শর্ত নয়।

 

7 - যদি আমি হাদিস বর্ণনা করেছেন এমন ছয়জনের কথা উল্লেখ করি এবং বলি: ((বর্ণনা করেছেন অমুক
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
وفلان … إلخ)) ؛ فإنني لا أحيل على جميعهم غالباً، بل أكتفي بذكر ثلاثة أو أربعة، معتمداً على متون الأحاديث، ثم أحيل على كتب مَن تكلَّم عن هذا الحديث من حيث الصحة أو الضعف، وفيه يجد المهتم بقية مَن روى الحديث وذكر مواضعه.

 

8 - نظراً لكثرة ما يورد سيد رحمه الله من أحداث السيرة، حتى إنه يذكر أحياناً أحداث غزوة بكاملها تقريباً؛ مثل غزوة بدر وأحد؛ فقد رأيت أهمية الاعتناء بهذا الجانب ـ من حيث التخريج ـ على صعوبته، وكذا وضع فهرس خاص يضم جميع أحداث السيرة الواردة في ((الظلال)) ؛ مشيراً إلى أرقام الأحاديث في التخريج.

 

9 - وحيث إن هناك مصادر معيَّنة اعتمدتُها عند التخريج؛ فقد قمتُ بوضع فهرس لها؛ إلا أنني لم أعتنِ كثيراً بالكتب المشهورة، والتي ليس لها طبعات متعددة، حيث اكتفيتُ فيها بذكر اسم الكتاب والمؤلف، وما عداها أذكر الطبعة المعتمدة.

 

10 - قمتُ بعمل عدة فهارس، وهي كالتالي:

1) فهرس الموضوعات: وهو مرتب حسب ترتيب السور من القرآن.

2) فهرس لأسباب النزول: وقد وضعته حسب ترتيب السور، ثم رقم الآية، ثم رقم الحديث.

3) فهرس للسير والمغازي: وقد سبقت الإشارة إليه.

4) فهرس للأحاديث حسب حروف المعجم: مشيراً لرقم الحديث.

5) فهرس لأقوال الصحابة: وقد رتَّبتُ الصَّحابة على حروف
এবং অমুক … ইত্যাদি); সেক্ষেত্রে আমি সাধারণত তাদের সকলের রেফারেন্স প্রদান করি না, বরং হাদিসের মূল পাঠের ওপর নির্ভর করে তিন বা চারজনের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হই। এরপর আমি ওই সব কিতাবের রেফারেন্স দেই যেখানে এই হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে আগ্রহী পাঠক হাদিসের অবশিষ্ট বর্ণনাকারী এবং এর উৎসসমূহ খুঁজে পাবেন।

 

৮ - যেহেতু সায়্যিদ (রাহিমাহুল্লাহ) সিরাতের প্রচুর ঘটনাবলি বর্ণনা করেছেন, এমনকি কখনো কখনো তিনি বদর ও উহুদ যুদ্ধের মতো কোনো যুদ্ধের প্রায় পুরো ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করেছেন; তাই আমি এই দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ করা—কঠিন হওয়া সত্ত্বেও এর তাখরিজের (সূত্র নির্দেশনার) ক্ষেত্রে—প্রয়োজনীয় মনে করেছি। সেই সাথে 'জিলাল'-এ বর্ণিত সিরাতের সকল ঘটনাবলি সংবলিত একটি বিশেষ নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি; যেখানে তাখরিজে বর্ণিত হাদিসের নম্বরগুলো নির্দেশ করা হয়েছে।

 

৯ - যেহেতু তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি নির্দিষ্ট কিছু উৎসের ওপর নির্ভর করেছি, তাই সেগুলোর একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি। তবে প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ এবং যেগুলোর একাধিক সংস্করণ নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি খুব একটা বিশদ বিবরণ দিইনি; বরং কিতাব ও লেখকের নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি। এছাড়া অন্যগুলোর ক্ষেত্রে আমি ব্যবহৃত সংস্করণটি উল্লেখ করেছি।

 

১০ - আমি বেশ কিছু নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যা নিম্নরূপ:

১) বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট: এটি কুরআনের সুরাসমূহের ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।

২) শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটের নির্ঘণ্ট: এটি আমি সুরার ক্রম, এরপর আয়াতের নম্বর এবং এরপর হাদিসের নম্বর অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।

৩) সিরাত ও যুদ্ধবিগ্রহের নির্ঘণ্ট: এর প্রতি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৪) বর্ণানুক্রমিক হাদিসের নির্ঘণ্ট: এতে হাদিস নম্বরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৫) সাহাবায়ে কিরামের বাণীর নির্ঘণ্ট: আমি সাহাবীগণের নাম বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
المعجم، ثم كل صحابي رتَّبتُ أقواله حسب ورودها في التخريج؛ مشيراً لرقم الأثر.

6) فهرس للأخبار والقصص.

7) فهرس للمراجع: وقد سبقت الإشارة إليه.

وأخيراً؛ أسأل الله عز وجل أن يتقبَّل هذا العمل مني، وأن ينفع به كل مَن طالعه، وحقِّي عليه أن يتجاوز عن تقصيري أو إخلالي بشرطٍ ممَّا ذكرتُ، وأن يُبدي النصيحة والملاحظات، فكل ابن آدم خطَّاء، فما كان من صواب؛ فمن الله وحده، ومَا كان من خطإٍ؛ فمني ومن الشيطان وأنا منه بريء، وصلى الله على نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

أبو محمد

علوي بن عبد القادر السقَّاف

البريد الإلكتروني aasaggaf@hotmail.com
অভিধান, অতঃপর প্রত্যেক সাহাবীর উক্তিগুলোকে আমি তাখরীজে তাদের উল্লেখ হওয়ার ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি; সাথে আসারের নম্বর নির্দেশ করেছি।

৬) সংবাদ ও ঘটনাবলীর নির্ঘণ্ট।

৭) তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট: যার প্রতি ইতোপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

পরিশেষে; আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমার এই আমলটি কবুল করেন এবং এর দ্বারা প্রত্যেক পাঠককে উপকৃত করেন। আর পাঠকদের নিকট আমার অধিকার হলো যে, তারা যেন আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি অথবা আমার উল্লিখিত শর্তাবলির কোনো লঙ্ঘনকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন এবং সদুপদেশ ও পর্যবেক্ষণ পেশ করেন। কেননা প্রত্যেক আদম সন্তানই ভুলকারী। সুতরাং যা কিছু সঠিক হয়েছে তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি তা থেকে মুক্ত। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

আবু মুহাম্মদ

আলাভী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

ইমেইল: aasaggaf@hotmail.com
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌سُورَةُ الْفَاتِحَةِ

 

1 - حديث عبادة بن الصامت رضي الله عنه مرفوعاً: ((لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب)) .

- (1/21) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والترمذي، وأبو داود، والنسائي، وغيرهم.

انظر: ((جامع الأصول)) (5/326) .

 

2 - حديث ابن عمر رضي الله عنهما مرفوعاً: ((أن عبداً من عباد الله قال: يا رب! لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك. فعضلت الملكين، فلم يدريا كيف يكتبانها، فصعدا إلى الله، فقالا: يا ربنا! إن عبداً قد قال مقالة لا ندري كيف نكتبها. قال الله - وهو أعلم بما قال عبدُه -: وما الذي قال عبدي؟ قالا: يا رب! إنه قال: لك الحمد يا رب كما ينبغي لجلال وجهك وعظيم سلطانك. فقال الله لهما: اكتباها كما قال عبدي حتى يلقاني فأجزيه بها)) .

- (1/22) .

- ضعيف.

رواه: ابن ماجه، والطبراني، وفي إسنادهما: صدقة بن بشير، وقدامة الجمحي، وفيهما مقال، وعزاه المنذري في ((الترغيب والترهيب)) للإمام أحمد، وجزم البوصيري أنه في ((المسند)) ، ولم أجده في المطبوع.

انظر: ((ضعيف سنن ابن ماجه)) (ص306) ، ((معجم الطبراني الكبير)) (12/
সুরা আল-ফাতিহা

 

১ - উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা.) হতে বর্ণিত মারফু হাদিস: ((সেই ব্যক্তির সালাত হবে না যে কিতাবের শুরু (সুরা ফাতিহা) পাঠ করে না))।

- (১/২১)।

- সহিহ।

- বর্ণনায়: বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং অন্যান্য।

দেখুন: ((জামিউল উসুল)) (৫/৩২৬)।

 

২ - ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত মারফু হাদিস: ((আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এক বান্দা বলল: হে রব! আপনার জন্য সকল প্রশংসা, যেমনটি আপনার চেহারার মহিমা এবং আপনার বিশাল ক্ষমতার জন্য সমীচীন। এতে ফেরেশতাদ্বয় বিপাকে পড়ে গেলেন এবং তারা তা কীভাবে লিখবেন বুঝতে পারলেন না। অতঃপর তারা আল্লাহর নিকট আরোহণ করলেন এবং বললেন: হে আমাদের রব! আপনার এক বান্দা এমন এক কথা বলেছে যা আমরা কীভাবে লিখব জানি না। আল্লাহ বললেন—অথচ তাঁর বান্দা কী বলেছে সে বিষয়ে তিনিই অধিক অবগত—: আমার বান্দা কী বলেছে? তারা বলল: হে রব! সে বলেছে: হে রব! আপনার জন্য সকল প্রশংসা, যেমনটি আপনার চেহারার মহিমা এবং আপনার বিশাল ক্ষমতার জন্য সমীচীন। তখন আল্লাহ তাদের বললেন: আমার বান্দা যেমন বলেছে তোমরা তেমনই লিখে রাখো, যতক্ষণ না সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আর আমি তাকে এর প্রতিদান প্রদান করি))।

- (১/২২)।

- জয়িফ।

বর্ণনায়: ইবনে মাজাহ ও তাবারানি। তাদের সনদে সাদাকা বিন বাশির এবং কুদামা আল-জুমাহি রয়েছেন, যাদের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আল-মুনজিরি "আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব"-এ এটি ইমাম আহমদের দিকে নিসবত করেছেন এবং আল-বুসিরি নিশ্চিত করেছেন যে এটি "আল-মুসনাদ"-এ আছে, তবে আমি তা মুদ্রিত কপিতে পাইনি।

দেখুন: ((জয়িফ সুনানে ইবনে মাজাহ)) (পৃ. ৩০৬), ((মু'জামুল কাবির লিত-তাবারানি)) (১২/
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
343) ، ((مصباح الزجاجة)) (4/129) ، ((الترغيب والترهيب)) (2/440) .

 

3 - حديث: ((هذا جبل يحبُّنا ونحبُّه)) .

- (1/26) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والترمذي، ومالك في ((الموطأ)) ؛ بألفاظ متقاربة، من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه، ورواه البخاري تعليقاً من حديث سهل بن سعد رضي الله عنهما.

انظر: ((جامع الأصول)) (9/304 و337) .

 

4 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((يقول الله تعالى: قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين، فنصفها لي ونصفها لعبدي، ولعبدي ما سأل. إذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين؛ قال الله: حمدني عبدي. وإذا قال: الرحمن الرحيم؛ قال الله: أثنى عليَّ عبدي. فإذا قال: مالك يوم الدين؛ قال الله: مجَّدني عبدي. وإذا قال: إياك نعبد وإياك نستعين؛ قال: هذا بيني وبين عبدي، ولعبدي ما سأل. فإذا قال: اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين أنعمت عليهم غير المغضوب عليهم ولا الضالين؛ قال: هذا لعبدي ولعبدي ما سأل)) .

- (1/26) .

- صحيح.

- رواه: مسلم، وأبو داود، والترمذي، والنسائي، ومالك في ((الموطأ)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (5/327) .
৩৪৩) ((মিসবাহুজ জুজাজাহ)) (৪/১২৯), ((আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)) (২/৪৪০)।

 

৩ - হাদিস: ((এই পাহাড় আমাদের ভালোবাসে এবং আমরা একে ভালোবাসি))।

- (১/২৬)।

- সহিহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি এবং মালিক ((আল-মুয়াত্তা)) গ্রন্থে; কাছাকাছি শব্দে, আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে। বুখারি এটি সাহল ইবনে সা'দ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকে তালীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দেখুন: ((জামিউল উসুল)) (৯/৩০৪ ও ৩৩৭)।

 

৪ - আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((মহান আল্লাহ বলেন: আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, এর অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে। যখন বান্দা বলে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক; তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। যখন সে বলে: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু; তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করল। যখন সে বলে: বিচার দিবসের মালিক; তখন আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করল। যখন সে বলে: আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই; তখন আল্লাহ বলেন: এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে। যখন সে বলে: আমাদের সরল পথ দেখান, তাদের পথ যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার ক্রোধের শিকার এবং যারা পথভ্রষ্ট; তখন তিনি বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে))।

- (১/২৬)।

- সহিহ।

- বর্ণনা করেছেন: মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ এবং মালিক ((আল-মুয়াত্তা)) গ্রন্থে।

দেখুন: ((জামিউল উসুল)) (৫/৩২৭)।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌سُورَةُ الْبَقَرَةِ

 

5 - أثر ابن عباس رضي الله عنهما؛ قال: ((قلت لعثمان بن عفان: ما حملكم أن عمدتم إلى الأنفال - وهي من المثاني - وإلى براءة - وهي من المئين - وقرنتم بينهما، ولم تكتبوا سطر: {بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} ، ووضعتموها في السبع الطوال؟ وما حملكم على ذلك؟ فقال عثمان: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان مما يأتي عليه الزمان وهو ينزل عليه السور ذوات العَدَد، فكان إذا نزل عليه الشيء؛ دعا بعض من كان يكتب، فيقول: ضعوا هذه الآية في السورة التي يذكر فيها كذا وكذا. وكانت الأنفال من أول ما نزل بالمدينة، وكانت براءة من آخر ما نزل من القرآن، وكانت قصتها شبيهة بقصتها، وخشيتُ أنها منها، وقُبض رسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يبين لنا أنها منها؛ فمن أجل ذلك قَرَنت بينهما، ولم أكتب بينهما سطر: {بسم الله الرحمن الرحيم} ، ووضعتها في السبع الطوال)) .

- (1/27) .

- ضعيف.

- رواه: الترمذي، وأبو داود، وأحمد، والحاكم؛ كلهم من طريق يزيد الفارسي البصري؛ قال عنه الحافظ: ((مقبول)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (2/151) ، ((المسند)) (1/329-شاكر) ، ((الفتح السماوي)) (2/663) ، ((ضعيف سنن أبي داود) (ص78) .

 

6 - حديث ابن عباس رضي الله عنهما؛ قال: ((كان النبي صلى الله عليه وسلم أجود الناس بالخير، وكان أجود ما يكون في رمضان، حين يلقاه جبريل، وكان
সূরা আল-বাকারা

 

৫ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছার; তিনি বলেন: ((আমি উসমান ইবন আফফানকে বললাম: আপনাদের কীসে উদ্বুদ্ধ করল যে আপনারা সূরা আল-আনফাল—যা মাসানির অন্তর্ভুক্ত—এবং সূরা বারাআত—যা মিঈন-এর অন্তর্ভুক্ত—এর প্রতি মনোনিবেশ করলেন এবং সেগুলোকে একত্রে মেলালেন, অথচ এগুলোর মাঝে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ লিখলেন না এবং সেগুলোকে দীর্ঘ সাতটি সূরার অন্তর্ভুক্ত করলেন? কিসে আপনাদেরকে এমন করতে প্ররোচিত করল? তখন উসমান বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দীর্ঘ সময় যাবত বিভিন্ন সংখ্যক আয়াত সংবলিত সূরাসমূহ অবতীর্ণ হতো। যখন তাঁর ওপর কোনো কিছু অবতীর্ণ হতো, তখন তিনি তাঁর ওহী লেখকদের কাউকে ডাকতেন এবং বলতেন: এই আয়াতটি সেই সূরায় রাখো যাতে অমুক অমুক বিষয় আলোচিত হয়েছে। আর আল-আনফাল ছিল মদীনায় অবতীর্ণ হওয়া প্রাথমিক সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, এবং বারাআত ছিল কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ হওয়া অংশগুলোর মাঝে অন্যতম। এর বিষয়বস্তু ওই সূরার বিষয়বস্তুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল। ফলে আমি আশঙ্কা করলাম যে এটি সম্ভবত তারই অংশ। এমতাবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেন এবং তিনি আমাদের কাছে পরিষ্কার করে বলে যাননি যে এটি তার অংশ কি না; এই কারণেই আমি সে দুটির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছি এবং এগুলোর মাঝে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ লিখিনি এবং সেটিকে দীর্ঘ সাতটি সূরার অন্তর্ভুক্ত করেছি))।

- (১/২৭)।

- যঈফ (দুর্বল)।

- এটি বর্ণনা করেছেন: তিরমিযী, আবু দাউদ, আহমাদ এবং হাকেম; তাঁরা সকলেই ইয়াজিদ আল-ফারসি আল-বসরীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ((মকবুল))।

দেখুন: ((জামি’উল উসুল)) (২/১৫১), ((আল-মুসনাদ)) (১/৩২৯-শাকের), ((আল-ফাতহ আস-সামাভি)) (২/৬৬৩), ((যঈফ সুনান আবি দাউদ)) (পৃষ্ঠা ৭৮)।

 

৬ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: ((নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণকর কাজে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। রমজানে জিবরীল যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন, আর তিনি...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
جبريل عليه السلام يلقاه كل ليلة في رمضان حتى ينسلخ، يعرض عليه النبي صلى الله عليه وسلم القرآن (وفي رواية: فيدارسه القرآن) ، فإذا لقيه جبريل عليه السلام؛ كان أجود بالخير من الريح المرسلة)) .

- (1/27) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (11/286) .

 

7 - حديث: ((اللهم! أشكو إليك ضعف قوتي، وقلة حيلتي، وهواني على الناس، يا أرحم الراحمين! أنت رب المستضعفين، وأنت ربي، إلى من تكلني؟ إلى عدوٍّ ملَّكْتَه أمري، أم بعيد يتجهمني؟ إن لم يكن بك غضب عليَّ؛ فلا أبالي، ولكن عافيتك أوسع لي، أعوذ بنور وجهك الذي أشرقت به الظلمات، وصَلُح عليه أمر الدنيا والآخرة، أن تنزل بي غضبك، أو تحل علي سخطك، لك العتبى حتى ترضى، ولا حول ولا قوة إلا بك)) .

- (1/29) .

- مرسل.

- رواه: الطبراني في ((الكبير)) ، وابن جرير في ((التاريخ)) ، وابن سعد في ((الطبقات)) ؛ عن ابن إسحاق؛ بدون سند؛ حيث قال: ((وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما ذُكِرَ لي)) .

وروي مرسلاً: عن محمد بن كعب القرظي، وعن الزهري.

انظر: ((السيرة النبوية)) (2/71) ، ((مجمع الزوائد)) (6/35) ، ((فقه السيرة)) للغزالي (ص132 - تخريج الألباني) ، ((تاريخ الطبري)) (1/345) .
জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রমজানের প্রতি রাতে মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে কুরআন পেশ করতেন (অন্য বর্ণনায়: তাঁর সাথে কুরআন পরস্পর পাঠ করতেন), যখনই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন, তিনি কল্যাণের ক্ষেত্রে প্রবাহিত বায়ুর চেয়েও অধিক দানশীল হতেন।

- (১/২৭) ।

- সহীহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারী, মুসলিম ও নাসায়ী।

দেখুন: ((জামেউল উসূল)) (১১/২৮৬) ।

 

৭ - হাদিস: ((হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার শক্তির দুর্বলতা, আমার কৌশলের হীনতা এবং মানুষের কাছে আমার তুচ্ছতার অভিযোগ করছি। হে দয়াময়দের শ্রেষ্ঠ দয়াময়! আপনি দুর্বলদের প্রতিপালক, আর আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি আমাকে কার কাছে সঁপে দিচ্ছেন? এমন কোনো শত্রুর কাছে কি যে আমার প্রতি ভ্রুকুটি করে, নাকি এমন কোনো দূরের মানুষের কাছে যাকে আপনি আমার বিষয়ের মালিক করে দিয়েছেন? যদি আমার ওপর আপনার কোনো ক্রোধ না থাকে, তবে আমি পরোয়া করি না। কিন্তু আপনার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নিরাপত্তা আমার জন্য অধিক প্রশস্ত। আমি আপনার চেহারার নূরের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যা দ্বারা অন্ধকারসমূহ আলোকিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় বিষয় সংশোধিত হয়েছে; যেন আপনি আমার ওপর আপনার ক্রোধ অবতীর্ণ না করেন অথবা আপনার অসন্তুষ্টি যেন আমার ওপর আপতিত না হয়। আপনার সন্তুষ্টি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনার কাছেই অভিযোগ (বা ক্ষমা) পেশ করি। আর আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই)) ।

- (১/২৯) ।

- মুরসাল।

- বর্ণনা করেছেন: তাবারানি ((আল-কাবীর)) গ্রন্থে, ইবনে জারীর ((আত-তারিখ)) গ্রন্থে এবং ইবনে সাদ ((আত-তাবাকাত)) গ্রন্থে; ইবনে ইসহাক থেকে; কোনো সনদ ছাড়াই; যেখানে তিনি বলেছেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন বলে আমার কাছে বর্ণিত হয়েছে)) ।

আর এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি এবং যুহরি থেকে।

দেখুন: ((আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ)) (২/৭১) , ((মাজমাউয যাওয়াইদ)) (৬/৩৫) , গাজালি রচিত ((ফিকহুস সিরাহ)) (পৃ. ১৩২ - আলবানী কৃত তাহকীক) , ((তারিখুত তাবারী)) (১/৩৪৫) ।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
8 - حديث محمد بن كعب القرظي: قال عبد الله بن رواحة رضي الله عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم (يعني: ليلة العقبة) : اشترط لربك ولنفسك ما شئت. فقال: ((أَشترطُ لربي أن تعبدوه ولا تشركوا به شيئاً، وأشترط لنفسي أن تمنعوني مما تمنعون منه أنفسكم وأموالكم)) ، قال: فما لنا إذا فعلنا ذلك؟ قال: ((الجنة)) . قالوا: ربح البيع، ولا نقيل ولا نستقيل.

- (1/30) .

- رواه: ابن جرير في ((التفسير)) من مرسل محمد بن كعب القرظي، وهو من أوساط التابعين، عالم ثقة؛ كما في ((التقريب)) .

ورواه أيضاً: أبو نعيم في ((الدلائل)) ، والدولابي في ((الكنى)) ، وأحمد في ((المسند)) ؛ من مرسل الشعبي.

ورواه أيضاً: أبو نعيم من مرسل عقيل بن أبي طالب ومن مرسل عروة، وفي سنده ابن لهيعة.

ورواه أيضاً: عبد بن حميد، والإمام أحمد؛ موصولاً، من حديث أبي مسعود الأنصاري، وفي سندهما مجالد بن سعيد، وهو ضعيف.

وللحديث شواهد كثيرة قد يتقوَّى بها.

انظر: ((المسند)) (4/120) ، ((مسند عبد بن حميد)) (1/230) ، ((تفسير الطبري)) (14/499 - شاكر) ، ((الكنى)) للدولابي (1/13) ، ((الدلائل)) لأبي نعيم (1/402 و409) ، ((السيرة)) للذهبي (ص299) ، ((تخريج الكشاف)) (81/156) ، ((أحاديث الهجرة)) (ص75-86) .

 

9 - أثر عمر بن الخطاب رضي الله عنه: ((سأل أبيَّ بن كعب عن التقوى؟ فقال له: أما سلكت طريقاً ذا شوك؟ قال: بلى. قال: فما عملت؟ قال: شمرت واجتهدت. قال: فذلك التقوى)) .

- (1/39) .
৮ - মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি বর্ণিত হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন (অর্থাৎ: আকাবার রাতে): "আপনি আপনার রবের জন্য এবং নিজের জন্য যা ইচ্ছা শর্ত করুন।" তিনি বললেন: "আমি আমার রবের জন্য শর্ত করছি যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর নিজের জন্য শর্ত করছি যে, তোমরা আমাকে সেভাবে রক্ষা করবে যেভাবে তোমরা নিজেদের জীবন ও সম্পদকে রক্ষা করো।" তিনি বললেন: "যদি আমরা তা করি তবে আমাদের জন্য কী রয়েছে?" তিনি বললেন: "জান্নাত।" তারা বললেন: "এই কেনাবেচা লাভজনক হয়েছে, আমরা এটি ভঙ্গ করব না এবং এর বিলুপ্তিও চাইব না।"

- (১/৩০) .

- বর্ণনা করেছেন: ইবনে জারির তাঁর 'আত-তাফসির' গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজির মুরসাল বর্ণনা হিসেবে; তিনি মধ্যবর্তী স্তরের তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত, নির্ভরযোগ্য আলেম; যেমনটি 'আত-তাকরিব' গ্রন্থে রয়েছে।

এটি আরও বর্ণনা করেছেন: আবু নুয়াইম 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে, আদ-দুলাবি 'আল-কুনা' গ্রন্থে এবং আহমাদ 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে; যা আশ-শা'বি থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণিত।

এটি আবু নুয়াইম উকাইল ইবনে আবি তালিব ও উরওয়াহ থেকে মুরসাল হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে ইবনে লাহিয়াহ রয়েছেন।

এটি আবদ বিন হুমাইদ এবং ইমাম আহমাদ মুত্তাসিল (সংযুক্ত) সনদে আবু মাসউদ আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাদের সনদে মুজালিদ ইবনে সাঈদ রয়েছেন, যিনি দুর্বল।

এই হাদিসটির অনেক শাহেদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে যার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হতে পারে।

দেখুন: 'আল-মুসনাদ' (৪/১২০), 'মুসনাদ আবদ বিন হুমাইদ' (১/২৩০), 'তাফসিরুত তাবারী' (১৪/৪৯৯ - শাকের), আদ-দুলাবি রচিত 'আল-কুনা' (১/১৩), আবু নুয়াইম রচিত 'আদ-দালাইল' (১/৪০২ ও ৪০৯), আয-যাহাবি রচিত 'আস-সিয়ার' (পৃ. ২৯৯), 'তাখরিজুল কাশশাফ' (৮১/১৫৬), 'আহাদিসুল হিজরাহ' (পৃ. ৭৫-৮৬)।

 

৯ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর আসর: "তিনি উবাই ইবনে কাবকে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত পথে চলেছেন? উমর বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তখন আপনি কী করেছিলেন? উমর বললেন: আমি সতর্ক হয়ে কাপড় গুটিয়ে সচেষ্ট হয়ে পথ চলেছি। উবাই বললেন: এটাই তাকওয়া।"

- (১/৩৯) .
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
- روى البيهقي في ((الزهد الكبير)) من طريق ابن أبي الدنيا نحوه؛ إلا أن المسؤول أبو هريرة رضي الله عنه، والسائل رجل لم يسمَّ.

وفي إسناده هشام بن زياد، وهو ضعيف، وفيه سهيل بن أبي صالح، وقد اختلط بآخره.

وكذا أورده ابن رجب في ((شرحه للأربعين النووية)) (حديث رقم 18) ، ولم يذكر السند.

ونسبه لابن أبي الدنيا السيوطي في ((الدر المنثور)) .

وأورده ابن كثير بنصه في أول سورة البقرة، ولم يَعْزُه لأحد، وجعل المسؤول أبيَّاً رضي الله عنه.

وأورده البغوي في ((التفسير)) أيضاً، وجعل المسؤول كعب الأحبار.

انظر: ((الزهد الكبير)) (ص367) ، ((تفسير البغوي)) (1/60 - طيبة)

 

10 - حديث فاطمة بنت قيس رضي الله عنها مرفوعاً: ((إن في المال حقَّاً سوى الزكاة)) .

- (1/41) .

- ضعيف.

- رواه: الترمذي، وابن ماجه، وابن جرير، والدارمي، والبيهقي؛ كلهم من طريق أبي حمزة ميمون الأعور، وهو ضعيف.

لكن ورد عن ابن عمر رضي الله عنهما موقوفاً بإسناد لا بأس به عند أبي عبيد وابن زنجويه قوله لقَزَعة: ((في مالك حقٌّ سوى الزكاة)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (6/455) ، ((تفسير الطبري)) (3/342 و343ـ شاكر)) ، ((تخريج مشكلة الفقر)) للألباني (ص69) ، ((الأموال)) لأبي عبيد (ص366، رقم 927) ، ولابن زنجويه (2/789 رقم 1365) .

 

11 - أثر ابن عباس رضي الله عنهما؛ قال: ((الأنداد: هو الشرك،
বায়হাকী ‘আয-যুহদুল কাবীর’-এ ইবনু আবিদ দুনইয়ার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; তবে এখানে যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তিনি হলেন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আর প্রশ্নকারী জনৈক ব্যক্তি যার নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এর সনদে হিশাম বিন যিয়াদ রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল। এতে সুহাইল বিন আবি সালিহ রয়েছেন, জীবনের শেষ দিকে তাঁর স্মৃতিভ্রম (ইখতিলাত) ঘটেছিল।

ইবনে রাজাবও তাঁর ‘শারহুল আরবাঈন আন-নববী’-তে (হাদিস নং ১৮) একইভাবে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তিনি সনদ উল্লেখ করেননি।

আর সুয়ূতী ‘আদ-দুররুল মানসুর’-এ এটিকে ইবনু আবিদ দুনইয়ার দিকে নিসবত করেছেন।

ইবনে কাসীর সূরা বাকারার শুরুতে এটি হুবহু উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এটি কারো দিকে নিসবত করেননি, আর যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তাকে উবাই (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলে উল্লেখ করেছেন।

বাগাওয়ী তাঁর ‘তাফসীর’-এও এটি উল্লেখ করেছেন এবং যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তাকে কা’ব আল-আহবার বলে উল্লেখ করেছেন।

দেখুন: ‘আয-যুহদুল কাবীর’ (পৃষ্ঠা ৩৬৭), ‘তাফসীরে বাগাওয়ী’ (১/৬০ - তাইয়িবাহ)

 

১০ - ফাতিমা বিনতে কাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিস: “নিশ্চয়ই সম্পদে যাকাত ছাড়াও হক (পাওনা) রয়েছে।”

- (১/৪১)।

- দুর্বল।

- এটি বর্ণনা করেছেন: তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারীর, দারেমী এবং বায়হাকী; তাঁরা সবাই আবু হামযাহ মাইমুন আল-আ’ওয়ারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি দুর্বল।

তবে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মাওকুফ সূত্রে আবু উবাইদ ও ইবনে যানজুওয়াইহ-এর নিকট একটি নির্ভরযোগ্য সনদে কাযা’আ-কে উদ্দেশ্য করে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণিত হয়েছে: “তোমার সম্পদে যাকাত ছাড়াও হক রয়েছে।”

দেখুন: ‘জামিঊল উসূল’ (৬/৪৫৫), ‘তাফসীরে তাবারী’ (৩/৩৪২ ও ৩৪৩ - শাকির), আলবানীর ‘তাখরীজু মুশকিলাতিল ফাকর’ (পৃষ্ঠা ৬৯), আবু উবাইদের ‘আল-আমওয়াল’ (পৃষ্ঠা ৩৬৬, নং ৯২৭), এবং ইবনে যানজুওয়াইহ (২/৭৮৯, নং ১৩৬৫)।

 

১১ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর আসার; তিনি বলেছেন: “সমকক্ষসমূহ হলো শিরক,
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
أخفى من دبيب النمل على صفاة سوداء في ظلمة الليل، وهو أن يقول: والله، وحياتك يا فلان، وحياتي. ويقول: لولا كلبة هذا؛ لأتانا اللصوص البارحة، ولولا البط في الدار؛ لأتى اللصوص، وقول الرجل لصاحبه ما شاء الله وشئت، وقول الرجل: لولا الله وفلان.. هذا كله به شرك)) .

- (1/48) .

- حسن.

- رواه ابن أبي حاتم.

انظر: ((تفسير ابن أبي حاتم)) (1/81) ، ((تفسير ابن كثير)) (1/110 - تخريج الوادعي) ، ((النهج السديد)) (ص221 رقم 462) .

 

12 - حديث ابن عباس رضي الله عنهما: أن رجلاً قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم: ما شاء الله وشئت. قال: ((أجعلتني لله تندَّاً؟!)) .

- (1/48) .

- حسن.

- رواه ابن ماجه، وأحمد، والنسائي في ((عمل اليوم والليلة)) ، والطبراني في ((الكبير)) ، والبخاري في ((الأدب المفرد)) ، والطحاوي في ((مشكل الآثار)) ، وابن أبي الدنيا في ((الصمت)) ؛ بألفاظ مختلفة.

 

انظر: ((المسند)) (3/253ـ شاكر) ، ((المعجم الكبير)) (12/244) ، ((عمل اليوم والليلة)) للنسائي (ص546) ، ((صحيح سنن ابن ماجه)) (1/362) ، ((السلسلة الصحيحة)) (1/216) ، ((النهج السديد)) (ص47) ، ((الصمت)) لابن أبي الدنيا (رقم 342 - تخريج الحويني) .

 

13 - حديث حذيفة رضي الله عنه؛ قال: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذا حَزَبَهُ أَمْرٌ؛ فزع إلى الصلاة)) .
রাতের অন্ধকারে কালো পাথরের উপর দিয়ে পিঁপড়ার হাঁটার গতির চেয়েও সূক্ষ্ম; আর তা হলো এই বলা: আল্লাহর কসম এবং হে অমুক, আপনার জীবনের কসম ও আমার জীবনের কসম। এবং বলা: যদি এই কুত্তিটি না থাকত, তবে গত রাতে চোরেরা আমাদের কাছে আসত; এবং যদি বাড়িতে হাঁসগুলো না থাকত, তবে চোরেরা আসত। এবং কোনো ব্যক্তির তার সাথীকে এই কথা বলা: আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন; এবং কোনো ব্যক্তির বলা: যদি আল্লাহ এবং অমুক না থাকতেন... এই সবই শিরকের অন্তর্ভুক্ত।

- (১/৪৮) ।

- হাসান।

- ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন।

দেখুন: ((তাফসীর ইবনে আবি হাতিম)) (১/৮১), ((তাফসীর ইবনে কাসীর)) (১/১১০ - আল-ওয়াদিয়ি এর তাহকীক), ((আন-নাহজুস সাদীদ)) (পৃষ্ঠা ২২১, নম্বর ৪৬২)।

 

১২ - ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত হাদীস: জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন: আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন। তিনি বললেন: ((তুমি কি আমাকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে দিলে?!))।

- (১/৪৮) ।

- হাসান।

- ইবনে মাজাহ, আহমাদ, নাসাঈ 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে, তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে, বুখারী 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে, ত্বহাবী 'মুশকিলুল আসার' গ্রন্থে এবং ইবনু আবিদ দুনইয়া 'আস-সামত' গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

দেখুন: ((আল-মুসনাদ)) (৩/২৫৩- শাকের), ((আল-মু'জামুল কাবীর)) (১২/২৪৪), নাসাঈর ((আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ)) (পৃষ্ঠা ৫৪৬), ((সহীহ সুনান ইবনে মাজাহ)) (১/৩৬২), ((আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ)) (১/২১৬), ((আন-নাহজুস সাদীদ)) (পৃষ্ঠা ৪৭), ইবনু আবিদ দুনইয়ার ((আস-সামত)) (নম্বর ৩৪২ - আল-হুয়াইনি এর তাহকীক)।

 

১৩ - হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীস; তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন দ্রুত সালাতের দিকে ধাবিত হতেন))।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
- (1/69) .

- إسناده ضعيف.

- رواه أبو داود، وأحمد، وابن جرير في ((التفسير)) ، والبيهقي في ((الدلائل)) ؛ كلهم من طريق محمد بن عبد الله الدؤلي (ويقال: هو محمد بن عبيد بن أبي قدامة) عن عبد العزيز بن اليمان، وهما مجهولان، وقال الحافظ عن الأول: ((مقبول)) .

انظر: ((المسند)) (5/388) ، ((جامع الأصول)) (9/395) ، ((تفسير ابن جرير)) (2/12 - شاكر) ، ((الفتح السماوي)) (1/168) ، ((صحيح الجامع)) (رقم 4579) ، ((مشكاة المصابيح)) (1/416/ رقم 1325) .

 

14 - حديث: ((مضى عهد النوم يا خديجة)) .

- (1/76) .

- لم أجده.

 

15 - حديث: ((المسلمون تتكافأ دماؤهم، وهم يَدٌ على من سواهم، يسعى بذمتهم أدناهم)) .

- (1/94) .

- صحيح.

- رواه: أحمد، وأبو داود، والنسائي، والحاكم؛ من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه.

ورُوي أيضاً من حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده، وابن عباس، ومعقل بن يسار، وعائشة؛ رضي الله عنهم.

وفي رواية: ((المؤمنون)) بدل ((المسلمون)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (10/254 و255) ، ((مصابيح السنة)) (3/92) ، ((صحيح سنن النسائي)) (3/982-984) .
- (১/৬৯) .

- এর সনদ দুর্বল।

- এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আহমাদ, ইবনে জারীর ((আত-তাফসীর)) গ্রন্থে এবং বায়হাকী ((আদ-দালাইল)) গ্রন্থে; তাঁরা সকলে মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দুয়ালী (বলা হয়: তিনি মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন আবী কুদামা) এর সূত্রে আব্দুল আযীয বিন আল-ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই অজ্ঞাত, এবং হাফিজ প্রথম জন সম্পর্কে বলেছেন: ((গ্রহণযোগ্য))।

দেখুন: ((আল-মুসনাদ)) (৫/৩৮৮), ((জামি আল-উসুল)) (৯/৩৯৫), ((তাফসীর ইবনে জারীর)) (২/১২ - শাকির), ((আল-ফাতহ আস-সামাবী)) (১/১৬৮), ((সহীহ আল-জামি)) (নং ৪৫৭৯), ((মিশকাত আল-মাসাবীহ)) (১/৪১৬/ নং ১৩২৫)।

 

১৪ - হাদীস: ((হে খাদীজা, ঘুমের সময় শেষ হয়ে গেছে)) ।

- (১/৭৬) ।

- আমি এটি খুঁজে পাইনি।

 

১৫ - হাদীস: ((মুসলিমদের রক্ত সমান বা সমমানের, তারা অন্যদের বিরুদ্ধে এক হাত স্বরূপ, তাদের মধ্যকার সাধারণ ব্যক্তিও তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে)) ।

- (১/৯৪) ।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: আহমাদ, আবু দাউদ, আন-নাসায়ী এবং আল-হাকিম; আলী বিন আবী তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বর্ণিত হাদীস থেকে।

এটি আরও বর্ণিত হয়েছে আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, এবং ইবনে আব্বাস, মা'কিল বিন ইয়াসার ও আয়েশা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে।

এবং এক বর্ণনায়: ((মুসলিমদের)) পরিবর্তে ((মুমিনদের)) শব্দ এসেছে।

দেখুন: ((জামি আল-উসুল)) (১০/২৫৪ ও ২৫৫), ((মাসাবীহ আস-সুন্নাহ)) (৩/৯২), ((সহীহ সুনান আন-নাসায়ী)) (৩/৯৮২-৯৮৪)।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
16 - قوله: ((ولقد كتب أبو عبيدة رضي الله عنه، وهو قائد لجيش عمر رضي الله عنه، وهو الخليفة، يقول: إن عبداً أمن أهل بلدٍ بالعراق، وسأله رأيه، فكتب إليه عمر: إن الله عظم الوفاء، فلا تكونون أوفياء حتى تفوا. فوفوا لهم، وانصرفوا عنهم)) .

- (1/94) .

- لم أجده بهذا اللفظ.

لكن روى: ابن أبي شيبة، وعبد الرزاق في ((مصنفيهما)) ، وسعيد بن منصور في ((سننه)) ، وأبو عبيد في ((الأموال)) ؛ نحوه؛ كلهم من طريق فضيل بن زيد الرقاشي، وهو تابعي، ذكره ابن حبان في ((الثقات)) ، وترجم له البخاري في ((التاريخ)) ، وابن أبي حاتم في ((الجرح والتعديل)) ، ولم يذكرا فيه جرحاً ولا تعديلاً.

انظر: ((مصنف ابن أبي شيبة)) (12/453 و454) ، ((مصنف عبد الرزاق)) (5/222) ، ((سنن سعيد بن منصور)) (2/274) ، ((الأموال)) (ص200، رقم 500) .

 

17 - حديث عبد الله بن عباس رضي الله عنهما مرفوعاً: ((من دخل المسجد الحرام؛ فهو آمن)) .

- (1/105) .

- صحيح بشواهده.

- رواه: أبو داود، وابن جرير، وابن إسحاق، والطبراني في ((الأوسط)) ؛ ضمن حديثٍ طويل في فتح مكة.

وفي ((صحيح مسلم)) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه بلفظ آخر.

انظر: ((جامع الأصول)) (8/367) ، ((فقه السيرة)) للغزالي (ص411) ، ((مجمع الزوائد)) (6/165) .

 

18 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً: ((إن اليهود والنصارى
১৬ - তাঁর বক্তব্য: "আবু উবায়দাহ (রা.)—যিনি উমর (রা.)-এর বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন এবং উমর (রা.) তখন খলিফা—লিখেছেন: এক দাস ইরাকের একটি শহরের অধিবাসীদের নিরাপত্তা প্রদান করেছে এবং তিনি এ ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চেয়েছিলেন। তখন উমর তাঁকে লিখে পাঠালেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ অঙ্গীকার পূর্ণ করাকে মহিমান্বিত করেছেন। সুতরাং তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত অঙ্গীকার পূর্ণকারী হতে পারবে না যতক্ষণ না তা পূরণ করো। অতএব তোমরা তাদের প্রতি কৃত অঙ্গীকার পূরণ করো এবং তাদের নিকট থেকে ফিরে এসো।"

- (১/৯৪)।

- আমি এই শব্দসমষ্টিতে এটি পাইনি।

তবে ইবন আবি শায়বাহ এবং আবদুর রাজ্জাক তাঁদের ‘মুসান্নাফ’দ্বয়ে, সাঈদ ইবন মানসুর তাঁর ‘সুনান’-এ এবং আবু উবায়দ ‘আল-আমওয়াল’-এ এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে ফুযাইল ইবন যাইদ আল-রাকাশি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি একজন তাবিঈ। ইবন হিব্বান তাঁকে ‘আস-সিকাত’-এ উল্লেখ করেছেন এবং বুখারি ‘আত-তারিখ’-এ ও ইবন আবি হাতিম ‘আল-জারহ ওয়াত-তাদিল’-এ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন; তাঁরা তাঁর ব্যাপারে কোনো জারহ (সমালোচনা) বা তাদিল (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি।

দেখুন: ‘মুসান্নাফ ইবন আবি শায়বাহ’ (১২/৪৫৩ ও ৪৫৪), ‘মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক’ (৫/২২২), ‘সুনান সাঈদ ইবন মানসুর’ (২/২৭৪), ‘আল-আমওয়াল’ (পৃষ্ঠা ২০০, নং ৫০০)।

 

১৭ - আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস: "যে ব্যক্তি মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ।"

- (১/১০৫)।

- এর সাক্ষ্যমূলক বর্ণনাসমূহের কারণে এটি সহিহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ইবন জারির, ইবন ইসহাক এবং তাবারানি ‘আল-আওসাত’-এ মক্কা বিজয় সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ হিসেবে।

এবং ‘সহিহ মুসলিম’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এটি ভিন্ন শব্দে এসেছে।

দেখুন: ‘জামি আল-উসুল’ (৮/৩৬৭), গাজালির ‘ফিকহুস সিরাহ’ (পৃষ্ঠা ৪১১), ‘মাজমাউয যাওয়াইদ’ (৬/১৬৫)।

 

১৮ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস: "নিশ্চয়ই ইয়াহুদি ও নাসারারা..."
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
لا يصبغون؛ فخالفوهم)) .

- (1/128) .

- صحيح.

- رواه البخاري، ومسلم، وأبو داود، والنسائي، وغيرهم.

انظر: ((جامع الأصول)) (4/734) .

 

19 - حديث أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه مرفوعاً: ((لا تقوموا كما تقوم الأعاجم؛ يعظِّم بعضها بعضاً)) .

- (1/128) .

- ضعيف، ومعناه صحيح.

- رواه: أبو داود، وابن ماجه، وأحمد، وابن أبي شيبة في ((مصنفه)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (6/536) ، ((المصنف)) (8/397) ، ((السلسلة الضعيفة)) (1/351) ، ((الفتح)) (11/49) .

 

20 - حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه: ((لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم، إنما أنا عبد، فقولوا عبد الله ورسوله)) .

- (1/128) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، وأحمد، والترمذي في ((الشمائل)) ، والدارمي، والبغوي في ((شرح السنة)) ، وغيرهم.

انظر: ((الفتح)) (12/144) ، ((مختصر الشمائل)) (ص174/ رقم 284) ، ((المسند)) (1/222/ رقم 154 - شاكر) .

 

21 - حديث البراء بن عازب رضي الله عنه؛ قال: ((أول ما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة؛ نزل على أجداده (أو: قال أخواله) من الأنصار،
তারা রঞ্জিত করে না; সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করো))।

- (১/১২৮)।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং অন্যান্যরা।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৪/৭৩৪)।

 

১৯ - আবু উমামা আল-বাহিলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীস: ((তোমরা সেভাবে দণ্ডায়মান হয়ো না যেভাবে অনারবরা দাঁড়ায়; তারা একে অপরকে অতি-সম্মান প্রদর্শন করে))।

- (১/১২৮)।

- যঈফ (দুর্বল), তবে এর অর্থ সঠিক।

- এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ এবং ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর ((মুসান্নাফ))-এ।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/৫৩৬), ((আল-মুসান্নাফ)) (৮/৩৯৭), ((আস-সিলসিলাতুদ দাঈফাহ)) (১/৩৫১), ((আল-ফাতহ)) (১১/৪৯)।

 

২০ - উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস: ((তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না যেভাবে খ্রিষ্টানরা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে; আমি কেবল একজন বান্দা, সুতরাং বলো আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল))।

- (১/১২৮)।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারী, আহমাদ, তিরমিযী তাঁর ((শামাইল)) গ্রন্থে, দারেমী, বাগাবী তাঁর ((শারহুস সুন্নাহ)) গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা।

দেখুন: ((আল-ফাতহ)) (১২/১৪৪), ((মুখতাসারুশ শামাইল)) (পৃ. ১৭৪/ নং ২৮৪), ((আল-মুসনাদ)) (১/২২২/ নং ১৫৪ - শাকির)।

 

২১ - বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস; তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম মদীনায় আসলেন; তখন তিনি আনসারদের মধ্যে তাঁর দাদাদের (অথবা তিনি বলেছেন: মামাদের) বংশে অবতরণ করলেন,
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأنه صلى قبل بيت المقدس ستة عشر شهراً أو سبعة عشر شهراً، وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت، وأنه صلى أول صلاة صلاها صلاة العصر، وصلى معه قوم، فخرج رجل ممن صلى معه، فمر على أهل مسجد وهم راكعون، فقال: أشهد بالله؛ لقد صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل الكعبة، فداروا كما هم قبل البيت، وكانت اليهود قد أعجبهم إذ كان يصلي قبل بيت المقدس، فلما ولَّى وجهه قبل البيت؛ أنكروا ذلك، فنزلت: {قَدْ نَرَى تَقُلَّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ..} ، فقال السفهاء (وهم اليهود) : {مَا وَلاَّهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا} )) .

- (1/130) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والترمذي، والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (2/10) .

 

22 - حديث: ((لا أشك ولا أسأل)) .

- (1/136) .

- إسناده ضعيف.

- رواه: عبد الرزاق، وابن جرير؛ من مرسل قتادة.

وورد من مرسل سعيد بن جبير نحوه.

انظر: ((مصنف عبد الرزاق)) (6/125/ رقم 10211) ، ((تخريج الكشاف)) (86/185) ، ((الفتح السماوي)) (2/716) ، ((تفسير الطبري)) ، (15/202 - شاكر) ، ((دفاع عن الحديث)) للألباني (ص15) .

 

23 - حديث: ((من ذكرني في نفسه؛ ذكرتُهُ في نفسي، ومن ذكرني في ملأ؛ ذكرته في ملأ خير منه)) .
এবং নিশ্চয়ই তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে ষোলো মাস বা সতেরো মাস নামাজ আদায় করেছিলেন। তিনি এটি পছন্দ করতেন যে তার কিবলা যেন কাবার দিকে হয়। তিনি প্রথম যে নামাজটি (কাবার দিকে) আদায় করেছিলেন তা ছিল আসরের নামাজ। একদল লোক তাঁর সাথে নামাজ পড়েছিলেন। অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি নামাজ শেষে বেরিয়ে এক মসজিদের লোকদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা রুকুতে ছিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়েছি। তখন তারা যে অবস্থায় ছিলেন সে অবস্থাতেই কাবার দিকে ঘুরে গেলেন। ইয়াহুদিরা এটি পছন্দ করত যে তিনি বায়তুল মাকদিসের দিকে নামাজ পড়ছেন, কিন্তু যখন তিনি তাঁর চেহারা কাবার দিকে ফেরালেন, তারা বিষয়টিকে অস্বীকার করল। তখন নাযিল হলো: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখ আসমানের দিকে বারবার তাকাতে দেখছি...}। অতঃপর নির্বোধরা (তারা হলো ইয়াহুদি) বলল: {কিসে তাদের সেই কিবলা থেকে ফিরিয়ে দিল যার ওপর তারা ছিল?})।

- (১/১৩০)।

- সহিহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি এবং নাসাঈ।

দেখুন: ((জামিউল উসুল)) (২/১০)।

 

২২ - হাদিস: ((আমি সন্দেহ করি না এবং আমি জিজ্ঞাসা করি না))।

- (১/১৩৬)।

- এর সনদ দুর্বল।

- বর্ণনা করেছেন: আবদুর রাজ্জাক এবং ইবনে জারির; কাতাদাহ-এর মুরসাল বর্ণনা থেকে।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের-এর মুরসাল থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

দেখুন: ((মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক)) (৬/১২৫/ নম্বর ১০২১১), ((তাখরিজুল কাশশাফ)) (৮৬/১৮৫), ((আল-ফাতহুস সামাভি)) (২/৭১৬), ((তাফসির তাবারী)) (১৫/২০২ - শাকির), আলবানি-এর ((দিফা আনিল হাদিস)) (পৃষ্ঠা ১৫)।

 

২৩ - হাদিস: ((যে ব্যক্তি আমাকে নিজের সত্তায় স্মরণ করে, আমি তাকে আমার নিজের সত্তায় স্মরণ করি। আর যে ব্যক্তি আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি))।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
- (1/140) .

انظر: ما بعده.

 

24 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((قال الله عز وجل: يا ابن آدم! إن ذكرتني في نفسك؛ ذكرتك في نفسي، وإن ذكرتني في ملأ؛ ذكرتك في ملأ من الملائكة (أو قال: في ملأ خير منه) ، وإن دنوت مني شبراً؛ دنوت منك ذراعاً، وإن دنوت مني ذراعاً؛ دنوت منك باعاً، وإن أتيتني تمشي؛ أتيتك هرولة)) .

- (1/140) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والترمذي.

وأوله: ((يقول الله تعالى: أنا عند ظن عبدي بي)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (4/476) .

 

25 - حديث: ((أرحنا بها يا بلال!)) ؛ يعني الصلاة.

- (1/142) .

- صحيح.

- رواه: أبو داود، وأحمد، والبغوي، والطبراني.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/263) ، ((المسند)) (5/364) ، ((المعجم الكبير)) (6/339) ، ((مشكاة المصابيح)) (1/393) ، ((تخريج إحياء علوم الدين)) (1/369 - للحداد) ، ((إحياء علوم الدين)) (1/165 - تخريج العراقي) .

 

26 - حديث خباب بن الأرتِّ رضي الله عنه؛ قال: شكونا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو متوسد بردة في ظل الكعبة، فقلنا: ألا تستنصر لنا؟ ألا تدعو لنا؟ فقال: ((قد كان من قبلكم، يؤخذ الرجل، فيحفر له في
(১/১৪০) ।

দেখুন: এর পরবর্তী অংশ।

 

২৪ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((আল্লাহ পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: হে আদম সন্তান! যদি তুমি আমাকে তোমার নিজের মনে স্মরণ করো, তবে আমিও তোমাকে আমার নিজের মনে স্মরণ করব। আর যদি তুমি আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করো, তবে আমি তোমাকে ফেরেশতাদের সমাবেশে (অথবা তিনি বলেছেন: তার চেয়েও উত্তম সমাবেশে) স্মরণ করব। আর যদি তুমি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসো, তবে আমি তোমার দিকে এক হাত এগিয়ে যাব। আর যদি তুমি আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসো, তবে আমি তোমার দিকে দুই হাত (এক ‘বা’) এগিয়ে যাব। আর যদি তুমি আমার দিকে হেঁটে আসো, তবে আমি তোমার দিকে দৌড়ে আসব))।

- (১/১৪০) ।

- সহিহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারি, মুসলিম ও তিরমিজি।

এর প্রথমাংশ হলো: ((আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটেই আছি, যেমন সে আমার প্রতি ধারণা পোষণ করে))।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৪/৪৭৬) ।

 

২৫ - হাদিস: ((হে বিলাল! এর মাধ্যমে (নামাজের মাধ্যমে) আমাদের প্রশান্তি দাও!)); অর্থাৎ নামাজ।

- (১/১৪২) ।

- সহিহ।

- বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, আহমাদ, বাগাভী ও তাবারানি।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/২৬৩) , ((আল-মুসনাদ)) (৫/৩৬৪) , ((আল-মু’জামুল কাবীর)) (৬/৩৩৯) , ((মিশকাতুল মাসাবিহ)) (১/৩৯৩) , ((তাখরিজু ইহয়ায়ি উলুমিদ্দিন)) (১/৩৬৯ - আল-হাদ্দাদ) , ((ইহয়ায়ু উলুমিদ্দিন)) (১/১৬৫ - আল-ইরাকির তাখরিজ) ।

 

২৬ - খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অভিযোগ করলাম, তখন তিনি কাবার ছায়ায় একটি চাদরে হেলান দিয়ে ছিলেন। আমরা বললাম: আপনি কি আমাদের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? তিনি বললেন: ((তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এমন লোক ছিল, যাকে পাকড়াও করা হতো, অতঃপর তার জন্য গর্ত খনন করা হতো...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الأرض، فيجعل فيها، ثم يؤتى بالمنشار، فيوضع على رأسه، فيجعل نصفين، ويمشط بأمشاط الحديد ما دون لحمه وعظمه، ما يصده ذلك عن دينه، والله؛ لَيُتِمَّنَّ الله تعالى هذا الأمر حتى يسير الراكب من صنعاء إلى حضرموت فلا يخاف إلا الله والذئب على غنمه، ولكنكم تستعجلون)) .

- (1/142) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، وأبو داود، والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/435) .

 

27 - حديث ابن مسعود رضي الله عنه؛ قال: ((كأني أنظر إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يحكي نبيَّاً من الأنبياء عليهم السلام، ضربه قومه فأدموه، وهو يمسح الدم عن وجهه، وهو يقول: اللهم! اغفر لقومي؛ فإنهم لا يعلمون)) .

- (1/143) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/440) .

 

28 - حديث: ((المسلم الذي يخالط الناس ويصبر على أذاهم خير من الذي لا يخالطهم ولا يصبر على أذاهم)) .

- (1/143) .

- صحيح.

- رواه: الترمذي، وابن ماجه، وأحمد، والطيالسي، وابن أبي شيبة، والبيهقي.
মাটিতে (গর্ত করা হতো), তাকে তাতে রাখা হতো, এরপর করাত আনা হতো এবং তার মাথার ওপর রাখা হতো, ফলে তাকে দুই খণ্ড করে ফেলা হতো। লোহার চিরুনি দিয়ে তার গোশত ও হাড়ের নিচের অংশ আঁচড়ানো হতো, তবুও এ সব তাকে তার দীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। আল্লাহর কসম! আল্লাহ তাআলা অবশ্যই এই বিষয়টি (ইসলাম) পূর্ণতা দান করবেন, এমনকি একজন আরোহী সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে এমতাবস্থায় যে সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না এবং তার মেষপালের ব্যাপারে নেকড়ের ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ।

- (১/১৪২) .

- সহীহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারী, আবু দাউদ এবং নাসায়ী।

দেখুন: ((জামি’উল উসুল)) (৬/৪৩৫) .

 

২৭ - ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস; তিনি বলেন: "আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকিয়ে দেখছি, তিনি আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামগণের মধ্য থেকে একজন নবীর কথা বলছেন যাকে তাঁর কওম প্রহার করে রক্তাক্ত করেছিল, আর তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন এবং বলছিলেন: হে আল্লাহ! আপনি আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন; কেননা তারা জানে না।"

- (১/১৪৩) .

- সহীহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারী ও মুসলিম।

দেখুন: ((জামি’উল উসুল)) (৬/৪৪০) .

 

২৮ - হাদীস: "যে মুসলিম মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে, সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে না এবং তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে না।"

- (১/১৪৩) .

- সহীহ।

- বর্ণনা করেছেন: তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, তায়ালিসি, ইবনে আবি শায়বাহ এবং বায়হাকী।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وعند بعضهم بلفظ: ((المؤمن)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (6/441) ، ((المسند)) (7/94) (رقم 5022 - شاكر) ، ((مسند الطيالسي)) (ص256) ، ((المصنف)) (8/565) ، ((سنن البيهقي)) ، (10/89) ، ((الفتح)) (10/512) ، ((السلسلة الصحيحة)) (2/602/ رقم 339) .

 

29 - حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه مرفوعاً: ((إن أرواح الشهداء في حواصل طيور خضر، تسرح في الجنة حيث شاءت، ثم تأوي إلى قناديل معلقة تحت العرش، فاطلع عليهم ربك اطلاعة، فقال: ماذا تبغون؟ فقالوا: يا ربنا! وأي شيء نبغي وقد أعطيتنا ما لم تعطِ أحداً من خلقك؟! ثم عاد عليهم بمثل هذا، فلما رأوا أنهم لا يتركون من أن يسألوا؛ قالوا: نريد أن تردنا إلى الدار الدنيا، فنقاتل في سبيلك حتى نقتل فيك مرة أخرى (لما يرون من ثواب الشهادة) ، فيقول الرب جل جلاله: إني كتبت أنهم إليها لا يرجعون)) .

- (1/144) .

- صحيح.

- رواه: مسلم، والترمذي بنحوه، وليس عندهما: ((فيقول الرب جل جلاله: إني كتبت … )) إلخ.

انظر: ((جامع الأصول)) (9/499) ، ((صحيح سنن الترمذي))

(3/35) .

 

30 - حديث أنس رضي الله عنه؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ما أحد يدخل الجنة يحب أن يرجع إلى الدنيا وله ما على الأرض من شيء؛ إلا الشهيد؛ ويتمنى أن يرجع إلى الدنيا، فيقتل عشر مرات؛ لما يرى من الكرامة)) .
এবং তাদের কারো কারো নিকট ‘মু'মিন’ শব্দে বর্ণিত হয়েছে।

দেখুন: ((জামি'উল উসুল)) (৬/৪৪১), ((আল-মুসনাদ)) (৭/৯৪) (নং ৫০২২ - শাকির), ((মুসনাদ আত-তায়ালিসি)) (পৃ. ২৫৬), ((আল-মুসান্নাফ)) (৮/৫৬৫), ((সুনানে বায়হাকী)) (১০/৮৯), ((আল-ফাতহ)) (১০/৫১২), ((আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ)) (২/৬০২/ নং ৩৩৯)।

 

২৯ - আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদীস: ((নিশ্চয়ই শহীদদের রূহসমূহ সবুজ পাখির উদরে থাকে, জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা তারা বিচরণ করে। অতঃপর তারা আরশের নিচে ঝুলন্ত প্রদীপসমূহে আশ্রয় গ্রহণ করে। এরপর তোমার রব তাদের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টিপাত করেন এবং বলেন: তোমরা কী চাও? তারা বলে: হে আমাদের রব! আমরা আর কী চাইব, অথচ আপনি আমাদের এমন কিছু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টির আর কাউকে দান করেননি?! এরপর তিনি পুনরায় তাদের কাছে অনুরূপ প্রশ্ন করেন। যখন তারা দেখল যে, কোনো কিছু না চাওয়া পর্যন্ত তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে না; তখন তারা বলল: আমরা চাই আপনি আমাদের পুনরায় দুনিয়ার জীবনে ফেরত পাঠান, যেন আমরা আপনার পথে লড়াই করতে পারি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য পুনরায় শহীদ হতে পারি (শাহাদাতের সাওয়াব প্রত্যক্ষ করার কারণে)। তখন মহান রব বলবেন: নিশ্চয়ই আমি অবধারিত করে দিয়েছি যে, তারা আর সেখানে ফিরে যাবে না))।

- (১/১৪৪)।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: মুসলিম এবং তিরমিযী অনুরূপ শব্দে, তবে তাঁদের নিকট এ অংশটি নেই: ((অতঃপর রব জাল্লা জালালুহু বলবেন: আমি লিখে দিয়েছি...)) ইত্যাদি।

দেখুন: ((জামি'উল উসুল)) (৯/৪৯৯), ((সহীহ সুনানে তিরমিযী))

(৩/৩৫)।

 

৩০ - আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীস; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((জান্নাতে প্রবেশকারী এমন কেউ নেই যে দুনিয়াতে ফিরে আসতে পছন্দ করবে—যদিও তার জন্য যমীনের সবকিছু দিয়ে দেওয়া হয়—একমাত্র শহীদ ব্যতীত; সে দুনিয়াতে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করে যেন সে দশবার নিহত হতে পারে; শাহাদাতের মর্যাদা প্রত্যক্ষ করার কারণে))।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
- (1/144) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم. وبنحوه: الترمذي والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (9/500) .

 

31 - حديث أبي موسى رضي الله عنه؛ قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الرجل يقاتل شجاعة، ويقاتل حمية، ويقاتل رياء؛ أي ذلك في سبيل الله؟ فقال: ((من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا؛ فهو في سبيل الله)) .

- (1/144) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والترمذي، واللفظ لهم، وأبو داود، والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (2/581) .

 

32 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه: أن رجلاً قال: يا رسول الله! رجل يريد الجهاد في سبيل الله وهو يبتغي عرضاً من الدنيا؟ فقال: ((لا أجر له)) . فأعاد عليه ثلاثاً، كل ذلك يقول: ((لا أجر له)) .

- (1/144) .

- صحيح لغيره.

- رواه: أبو داود واللفظ له، وأحمد وابن حبان والحاكم والنسائي بلفظ: ((لا شيء له)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (2/582) ، ((المشكاة)) (2/1129) ، ((المسند)) (15/16 - شاكر) ، ((تخريج الإحياء للعراقي)) (4/384) ، ((صحيح سنن النسائي)) (2/659) .

 

33 - حديث أبي هريرة رضي الله عنه؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
- (১/১৪৪) .

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারী ও মুসলিম। এবং অনুরূপ: তিরমিযী ও নাসাঈ।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৯/৫০০) .

 

৩১ - আবু মূসা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, আত্মমর্যাদার জন্য যুদ্ধ করে এবং লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? তিনি বললেন: ((যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে; সে-ই আল্লাহর পথে)) ।

- (১/১৪৪) .

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী—শব্দসমূহ তাঁদেরই, এবং আবু দাউদ ও নাসাঈ।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (২/৫৮১) .

 

৩২ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস: জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এক ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে চায় অথচ সে দুনিয়াবি স্বার্থ কামনা করে? তিনি বললেন: ((তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই)) । সে তিনবার এটি পুনরাবৃত্তি করল, প্রতিবারই তিনি বললেন: ((তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই)) ।

- (১/১৪৪) .

- সহীহ লি-গাইরিহি।

- এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ এবং শব্দসমূহ তাঁরই, আহমদ, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং নাসাঈ—তারা এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ((তার জন্য কিছুই নেই)) ।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (২/৫৮২) , ((আল-মিশকাত)) (২/১১২৯) , ((আল-মুসনাদ)) (১৫/১৬ - শাকের) , ((ইরাকী কৃত তাখরীজুল ইহয়া)) (৪/৩৮৪) , ((সহীহ সুনানে নাসাঈ)) (২/৬৫৯) ।

 

৩৩ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
((تضمَّن الله تعالى لمن خرج في سبيل الله، لا يخرجه إلا جهادٌ في سبيلي، وإيمان بي، وتصديق برسلي؛ فهو عليَّ ضامن: أن أدخله الجنة، أو أرجعه إلى مسكنه الذي خرج منه نائلاً ما نال من أجر أو غنيمة، والذي نفس محمد بيده؛ ما من كلم يُكْلَم في سبيل الله؛ إلا جاء يوم القيامة كهيئته يوم كُلِمَ، لونه لون دم، وريحه ريح مسك. والذي نفس محمد بيده؛ لولا أن أشق على المسلمين؛ ما قعدت خلاف سرية تغزو في سبيل الله عز وجل أبداً، ولكن لا أجد سعة فأحملهم، ولا يجدون سعة فيتبعوني، ويشق عليهم أن يتخلفوا عني، والذي نفس محمد بيده؛ لوددت أن أغزو في سبيل الله فأقتل، ثم أغزو فأقتل، ثم أغزو فأقتل)) .

- (1/144) .

- صحيح.

روى بعضه البخاري، ورواه: مسلم (واللفظ له) ، ومالك، والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (9/476) .

 

34 - حديث عبد الرحمن بن أبي عقبة عن أبيه (وكان مولى من أهل فارس) ؛ قال: شهدت مع النبي صلى الله عليه وسلم أحداً، فضربت رجلاً من المشركين، فقلت: خذها وأنا الغلام الفارسي، فالتفت إليَّ النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: ((هلا قلت: وأنا الغلام الأنصاري؟ إن ابن أخت القوم منهم، وإن مولى القوم منهم)) .

- (1/144) .

- ضعيف.

- رواه: أبو داود، وابن ماجه، وابن أبي شيبة، وأحمد؛ كلهم من طريق ابن إسحاق، ولم يصرِّح بالسماع.
((মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জামিন হয়েছেন যে আল্লাহর পথে বের হয়েছে, যাকে কেবল আমার পথে জিহাদ, আমার প্রতি ঈমান এবং আমার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসই বের করেছে; সে আমার জিম্মায় রয়েছে: হয় আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব অথবা তাকে তার সেই আবাসে সওয়াব বা গনীমতসহ ফিরিয়ে দেব যেখান থেকে সে বের হয়েছে। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ; আল্লাহর পথে যে কোনো যখম প্রাপ্ত হয়, সে কিয়ামতের দিন সেই অবস্থাতেই উপস্থিত হবে যেমনটি সে যখম হওয়ার দিনে ছিল, যার রঙ হবে রক্তের রঙের মতো আর ঘ্রাণ হবে মিশকের ঘ্রাণের মতো। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ; আমি যদি মুসলিমদের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে আল্লাহর পথে যুদ্ধকারী কোনো ছোট সেনাদলের পেছনে আমি কখনও বসে থাকতাম না। কিন্তু আমি তাদের সওয়ারির জন্য সংস্থান পাচ্ছি না এবং তারাও সংস্থান পাচ্ছে না যে আমার অনুসরণ করবে, আর আমার থেকে পেছনে থাকা তাদের জন্য কষ্টদায়ক। যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ; আমি অবশ্যই কামনা করি যে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি এবং শহীদ হই, তারপর পুনরায় যুদ্ধ করি ও শহীদ হই, তারপর পুনরায় যুদ্ধ করি ও শহীদ হই।)) .

- (১/১৪৪) .

- সহীহ।

এর একাংশ বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং এটি বর্ণনা করেছেন: মুসলিম (শব্দাবলি তাঁর), মালিক ও নাসাঈ।

দেখুন: ((জামিউল উসুল)) (৯/৪৭৬) .

 

৩৪ - আব্দুর রহমান ইবনে আবী উকবাহ তাঁর পিতা (যিনি পারস্যের অধিবাসী ও আযাদকৃত দাস ছিলেন) থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উহুদ যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম, এরপর আমি মুশরিকদের এক ব্যক্তিকে আঘাত করলাম এবং বললাম: এটি গ্রহণ করো, আর আমি একজন পারসিক যুবক। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: ((তুমি কেন বললে না: আর আমি একজন আনসারী যুবক? নিশ্চয় কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত এবং কোনো সম্প্রদায়ের আযাদকৃত দাসও তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।)) .

- (১/১৪৪) .

- যঈফ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে আবী শাইবাহ এবং আহমাদ; তাঁরা সকলেই ইবনে ইসহাকের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি সরাসরি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
إلا أن قوله: ((ابن أخت القوم منهم)) : صحيح.

وقوله: ((مولى القوم منهم)) : أخرجه البخاري بلفظ: ((من أنفسهم)) .

انظر: ((جامع الأصول)) (2/586 و4/660) ، ((المصنف)) (12/505) ، ((المسند)) (5/295) ، ((الفتح)) (12/48) ، ((السلسلة الصحيحة)) (2/420) ، ((المشكاة)) (3/1374)

 

35 - حديث عاصم بن سليمان؛ قال: سألت أنساً عن الصفا والمروة؟ قال: ((كنا نرى أنهما من أمر الجاهلية، فلما جاء الإسلام؛ أمسكنا عنهما، فأنزل الله عز وجل: {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللهِ} )) .

- (1/149) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والترمذي.

انظر: ((جامع الأصول)) (2/19) .

 

36 - أثر سعيد بن جبير في قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِصَاصُ فِي الْقَتْلَى الْحُرُّ بِالْحُرِّ..} الآية: ((وذلك أن حَيَّين من العرب اقتتلوا في الجاهلية قبل الإسلام بقليل، فكان بينهم قتل وجراحات، حتى قتلوا العبيد والنساء، فلم يأخذ بعضهم من بعض حتى أسلموا، فكان أحد الحيين يتطاول على الآخر في العدة والأموال، فحلفوا ألا يرضوا حتى يقتل بالعبد منا الحر منهم، والمرأة منا الرجل منهم.. فنزل فيهم: {الْحُرُّ بِالْحُرِّ وَالْعَبْدُ بِالْعَبْدِ وَالأُنثَى بِالأُنثَى} ؛ منسوخة، نسختها: النَّفس بالنَّفس)) .

- (1/165) .
তবে তাঁর এই কথা: ((কোনো কওমের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত)) : সহীহ।

এবং তাঁর এই কথা: ((কোনো কওমের আযাদকৃত দাস তাদেরই অন্তর্ভুক্ত)) : ইমাম বুখারী এটি ((তাদের নিজেদের মধ্য থেকেই)) শব্দে বর্ণনা করেছেন।

দেখুন: ((জামি উল উসুল)) (২/৫৮৬ এবং ৪/৬৬০), ((আল-মুসান্নাফ)) (১২/৫০৫), ((আল-মুসনাদ)) (৫/২৯৫), ((আল-ফাতহ)) (১২/৪৮), ((আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ)) (২/৪২০), ((আল-মিশকাত)) (৩/১৩৭৪)

 

৩৫ - আসেম বিন সুলাইমানের হাদীস; তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে সাফা ও মারওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম?

তিনি বললেন: ((আমরা মনে করতাম যে এ দু’টি জাহেলী যুগের কাজ, অতঃপর যখন ইসলাম আসলো; আমরা এ থেকে বিরত থাকলাম, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করলেন: {নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত}))।

- (১/১৪৯)।

- সহীহ।

- বর্ণনা করেছেন: বুখারী, মুসলিম এবং তিরমিযী।

দেখুন: ((জামি উল উসুল)) (২/১৯)।

 

৩৬ - আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীনের বদলে স্বাধীন...} আয়াতটি সম্পর্কে সাঈদ ইবনে জুবাইরের আসার:

((তা এই যে, আরবের দুটি গোত্র ইসলামের সামান্য পূর্বে জাহেলী যুগে একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ও আহতের ঘটনা ঘটেছিল, এমনকি তারা দাস ও নারীদেরও হত্যা করেছিল। তারা ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত একে অপরের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেনি। পরে এক গোত্র অন্য গোত্রের ওপর জনবল ও সম্পদের শক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে শুরু করল। তারা শপথ করল যে, আমাদের দাসের বদলে তাদের স্বাধীন ব্যক্তি এবং আমাদের নারীর বদলে তাদের পুরুষকে হত্যা না করা পর্যন্ত তারা সন্তুষ্ট হবে না... তখন তাদের সম্পর্কে নাযিল হলো: {স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী}; এটি রহিত, একে রহিত করেছে: প্রাণের বদলে প্রাণ))।

- (১/১৬৫)।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
- ضعيف.

رواه ابن أبي حاتم، وفي سنده عبد الله بن لهيعة.

ورواه ابن جرير موقوفاً على قتادة.

انظر: ((تفسير الطبري)) (3/359 - شاكر) ، ((تفسير ابن كثير))

(1/364 - تحقيق الوادعي) ، ((الفتح السماوي)) (1/214) ، ((تخريج الكشاف)) (14/102) . وانظر إن شئت: ((نواسخ القرآن)) لابن الجوزي (ص155) ، و ((النسخ في القرآن)) لمصطفى زيد (2/632) .

 

37 - حديث عمرو بن خارجة رضي الله عنه مرفوعاً: ((إن الله قد أعطى كل ذي حقٍّ حقَّه، ولا وصية لوارث)) .

- (1/166) .

- صحيح لغيره.

- رواه: الترمذي، والنسائي، وأبو داود، وابن ماجه، والدارقطني، وابن عدي، وعبد الرزاق، والبيهقي؛ بألفاظ مختلفة.

انظر: ((جامع الأصول)) (11/632 و633) ، ((صحيح سنن النسائي)) (2/774) ، ((مسند الشاميين)) للطبراني (1/309 و360) ، ((الفتح)) (5/372) ، ((نصب الراية)) (4/57 و403 و404) ، ((التلخيص الحبير)) (3/92) ، ((طريق الرشد إلى تخريج بداية ابن رشد)) (ص432) .

 

38 - حديث جابر رضي الله عنه؛ قال: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفتح إلى مكة في رمضان، فصام، حتى بلغ كراع الغميم، فصام الناس، ثم دعا بقدح من ماء، فرفعه، حتى نظر الناس، ثم شرب، فقيل له بعد ذلك: إن بعض الناس قد صام، فقال: ((أولئك العصاة، أولئك العصاة)) .

- (1/169) .
দুর্বল।

এটি ইবনে আবি হাতেম বর্ণনা করেছেন, এবং এর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া রয়েছেন।

আর ইবনে জারীর এটি কাতাদাহ থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

দেখুন: ((তাফসিরে তবারি)) (৩/৩৫৯ - শাকির), ((তাফসিরে ইবনে কাসির)) (১/৩৬৪ - ওয়াদায়ি তাহকিক), ((আল-ফাতহুস সামায়ি)) (১/২১৪), ((তাখরিজুল কাশশাফ)) (১৪/১০২)। এবং আপনি চাইলে আরও দেখতে পারেন: ইবনুল জাওযি রচিত ((নাওয়াসিখুল কুরআন)) (পৃ. ১৫৫), এবং মুস্তফা যাইদ রচিত ((আন-নাসখু ফিল কুরআন)) (২/৬৩২)।

 

৩৭ - আমর ইবনে খারিজা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করেছেন, সুতরাং উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই))।

- (১/১৬৬)।

- সহিহ লি-গাইরিহি (অন্যান্য বর্ণনার মাধ্যমে সহিহ)।

- বর্ণনা করেছেন: তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারাকুতনি, ইবনে আদি, আবদুর রাজ্জাক এবং বায়হাকি; বিভিন্ন শব্দে।

দেখুন: ((জামি’উল উসুল)) (১১/৬৩২ ও ৬৩৩), ((সহিহ সুনানে নাসাঈ)) (২/৭৭৪), তাবারানি রচিত ((মুসনাদুশ শামিয়্যিন)) (১/৩০৯ ও ৩৬০), ((আল-ফাতহ)) (৫/৩৭২), ((নাসবুর رایাহ)) (৪/৫৭, ৪০৩ ও ৪০৪), ((আত-তালখিসুল হাবির)) (৩/৯২), ((তারিকুর রুশদ ইলা তাখরিজি বিদায়াত ইবনে রুশদ)) (পৃ. ৪৩২)।

 

৩৮ - জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: মক্কা বিজয়ের বছর রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি সিয়াম পালন করলেন যতক্ষণ না ‘কুরাউল গামিম’ নামক স্থানে পৌঁছালেন। লোকেরাও সিয়াম পালন করল। এরপর তিনি এক পাত্র পানি চাইলেন এবং তা উপরে উঠালেন যাতে মানুষ দেখতে পায়। এরপর তিনি পান করলেন। পরবর্তীতে তাঁকে বলা হলো যে, কিছু লোক তখনও সিয়াম পালন করছে। তখন তিনি বললেন: ((তারা নাফরমান, তারা নাফরমান))।

- (১/১৬৯)।
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
- صحيح.

- رواه: مسلم، والنسائي، والترمذي.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/394) .

 

39 - حديث أنس رضي الله عنه؛ قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فمنا الصائم ومنا المفطر، فنزلنا منزلاً في يوم حار، أكثرنا ظلاً صاحب الكساء، ومنا من يتقي الشمس بيده، فسقط الصوام، وقام المفطرون فضربوا الأبنية، وسقوا الركاب، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((ذهب المفطرون اليوم بالأجر)) .

- (1/169) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، والنسائي.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/394) .

 

40 - حديث جابر رضي الله عنه؛ قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فرأى رجلاً قد اجتمع عليه الناس، وقد ظُلِّلَ عليه، فقال: ((ما له؟)) ، فقالوا: رجل صائم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((ليس من البر الصوم في السفر)) .

- (1/169) .

- صحيح.

- رواه: البخاري، ومسلم، وأبو داود، والترمذي.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/395) .

 

41 - حديث عمرو بن أمية الضمري رضي الله عنه؛ قال: قدمت
- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: মুসলিম, নাসায়ি এবং তিরমিযি।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/৩৯৪)।

 

৩৯ - আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক সফরে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কেউ রোজা পালনকারী ছিল এবং কেউ রোজা বিহীন ছিল। আমরা এক উত্তপ্ত দিনে এক স্থানে অবতরণ করলাম। আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি ছায়া পাচ্ছিল যার নিকট চাদর ছিল। আর আমাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের হাত দিয়ে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিল। তখন রোজাদাররা (ক্লান্তিতে) ঢলে পড়ল এবং যারা রোজা রাখেনি তারা দাঁড়িয়ে গেল; তারা তাবু স্থাপন করল এবং সওয়ারীদের পানি পান করাল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আজ রোজা বিহীনরাই সওয়াব নিয়ে গেল।"

- (১/১৬৯)।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি, মুসলিম এবং নাসায়ি।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/৩৯৪)।

 

৪০ - জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সফরে ছিলেন। তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার নিকট মানুষ ভিড় করে আছে এবং তার ওপর ছায়া দেওয়া হচ্ছে। তিনি বললেন: "তার কী হয়েছে?" তারা বলল: এক রোজাদার ব্যক্তি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "সফরে রোজা রাখা কোনো পুণ্যের কাজ নয়।"

- (১/১৬৯)।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিযি।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/৩৯৫)।

 

৪১ - আমর বিন উমাইয়া আদ-দমারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আমি উপস্থিত হলাম...
(খণ্ড: ১) তাখরীজু আহাদীসা ওয়া আসারি কিতাবি ফী যিলালিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
على رسول الله صلى الله عليه وسلم من سفر، فقال: ((انتظر الغداء يا أبا أمية!)) . قلت: يا رسول الله! إني صائم. قال: ((إذاً أُخبركَ عن المسافر: إن الله تعالى وضع عنه الصيام ونصف الصلاة)) .

- (1/169) .

- صحيح.

- رواه: النسائي، والطحاوي، والبيهقي، وغيرهم؛ بألفاظ متقاربة، وبتعدد في القصة، وروى نحوه: أحمد، والترمذي.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/406) ، ((صحيح سنن النسائي)) (2/483 و484) ، ((تلخيص الحبير)) (2/203) ، ((الهداية في تخريج البداية)) (3/308-315) .

 

42 - حديث أنس بن مالك رضي الله عنه؛ قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إن الله تعالى وضع شطر الصلاة عن المسافر، وأرخص له في الإفطار، وأرخص فيه للمرضع والحبلى إذا خافتا على ولديهما)) .

- (1/170) .

- حسن.

- رواه: أبو داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، وأحمد.

انظر: ((جامع الأصول)) (6/407) ، ((المسند)) (4/347 و5/29) ، ((صحيح سنن النسائي)) (2/484) . وانظر: ما قبله.

- فائدة: أنس بن مالك هنا هو الكعبي القشيري، صحابي، ليس له إلا هذا الحديث، وهو ليس أنس بن مالك بن النضر الأنصاري خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم المشهور.

 

43 - حديث عائشة رضي الله عنها؛ قالت: سأل حمزة بن عمرو
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সফর থেকে আসার পর তিনি বললেন: ((হে আবু উমাইয়া! দুপুরের খাবারের জন্য অপেক্ষা করো!))। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি রোজা রেখেছি। তিনি বললেন: ((তাহলে আমি তোমাকে মুসাফির সম্পর্কে অবহিত করি: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তার ওপর থেকে রোজা এবং অর্ধেক সালাত রহিত করেছেন))।

- (১/১৬৯)।

- সহীহ।

- এটি বর্ণনা করেছেন: নাসায়ী, ত্বহাবী, বায়হাকী এবং আরও অনেকে; কাছাকাছি শব্দে এবং ঘটনার ভিন্নতা সহ। এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন: আহমাদ ও তিরমিযী।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/৪০৬), ((সহীহ সুনানে নাসায়ী)) (২/৪৮৩ ও ৪৮৪), ((তালখিসুল হাবীর)) (২/২০৩), ((আল-হিদায়াহ ফী তাখরিজিল বিদায়াহ)) (৩/৩০৮-৩১৫)।

 

৪২ - আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মুসাফিরের ওপর থেকে অর্ধেক সালাত রহিত করেছেন এবং তাকে রোজা ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন; আর তিনি দুগ্ধদানকারী ও গর্ভবতী নারীকেও রোজা ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন যদি তারা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে আশঙ্কা করে))।

- (১/১৭০)।

- হাসান।

- এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও আহমাদ।

দেখুন: ((জামেউল উসুল)) (৬/৪০৭), ((আল-মুসনাদ)) (৪/৩৪৭ ও ৫/২৯), ((সহীহ সুনানে নাসায়ী)) (২/৪৮৪)। এবং দেখুন: এর পূর্ববর্তীটি।

- ফায়দা: এখানে আনাস বিন মালিক হলেন আল-কাব্বী আল-কুশায়রী, তিনি একজন সাহাবী, যার এই একটি মাত্র হাদিস রয়েছে। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রসিদ্ধ খাদেম আনাস বিন মালিক বিন আন-নাযর আল-আনসারী নন।

 

৪৩ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদিস; তিনি বলেন: হামযাহ বিন আমর জিজ্ঞাসা করলেন...