(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام العيدين القسم: مسائل فقهية
الكتاب : أحكام العيدين في السنة المطهرة
المؤلف : أبو الحارث علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الحلبي
الناشر : المكتبة الإسلامية - دار ابن حزم
الطبعة : الثانية 1414 هـ - 1993 م
عدد الصفحات: 93
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দুই ঈদের বিধানাবলী বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল
বই : পবিত্র সুন্নাহর আলোকে দুই ঈদের বিধানাবলী
লেখক : আবু আল-হারিস আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবী
প্রকাশক : আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া - দার ইবনে হাজম
সংস্করণ : দ্বিতীয় ১৪১৪ হিজরী - ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[أحكام العيدين في السنة المطهرة]ـ
المؤلف: أبو الحارث علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الحلبي
الناشر: المكتبة الإسلامية - دار ابن حزم
الطبعة: الثانية 1414 هـ - 1993 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
[পবিত্র সুন্নাহর আলোকে দুই ঈদের বিধানসমূহ]
লেখক: আবু আল-হারিস আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবি
প্রকাশক: আল-মাকতাবা আল-ইসলামিয়া - দার ইবনে হাজম
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ডের সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এতে টীকা সংযোজন করা হয়েছে]
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২)
حقوق الطبع محفوظة للمكتبة الإسلامية
الطبعة الثانية
1414 هـ - 1993 مـ
رقم الإيداع لدى
مديرية المكتبات والوثائق الوطنية
449/11/1984
المكتبة الإسلامية
ص. ب. (113) الجبيهة - هاتف 2887 84
عمّان - الأردن
دار ابن حزم
للطباعة والنشر والتوزيع
بيروت - ص. ب: 6366/14
আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়ার পক্ষ থেকে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দ্বিতীয় সংস্করণ
১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
জমাদান নম্বর
জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ পরিদপ্তর
৪৪৯/১১/১৯৮৪
আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া
পি.ও. বক্স (১১৩) আল-জুবাইহা - ফোন: ৮৪ ২৮৮৭
আম্মান - জর্দান
দার ইবনে হাজম
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
বৈরুত - পি.ও. বক্স: ১৪/৬৩৬৬
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الطبعة الثانية
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حق حَمْدِهِ، والصلاةُ والسلامُ على نبيِّه وَعَبْدِه، وعلى آله وصحبهِ وَوَفْده.
أمّا بعد:
فهذه هي الطبعة الثانية مِنْ كتابي "أحكام العيدين في السنّة المطهّرة" أقدمها للإخوةِ القرّاءِ بعد نَفَادِ الطبعة الأولى بسنواتٍ.
ولقد زدتُ في هذه الطبْعةِ زياداتٍ عدَةً تُفيد الراغبين، وتنفعُ المُتَّبِعينَ، عسى أن يُعْظِمَ اللهُ سبحانه لي بها الأجرَ والمَثوبةَ.
واللَهُ وليُّ التوفيقِ.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর প্রাপ্য, যেমনটি তাঁর প্রশংসার হক। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও বান্দার প্রতি এবং তাঁর পরিবার, পরিজন ও সঙ্গীদের প্রতি।
অতঃপর:
এটি আমার রচিত গ্রন্থ "আহকামুল ঈদাঈন ফিস সুন্নাহিল মুতাহহারাহ"-এর দ্বিতীয় সংস্করণ; প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর আমি এটি পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি।
আমি এই সংস্করণে বেশ কিছু বিষয় সংযোজন করেছি যা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য ফলপ্রসূ এবং অনুসরণকারীদের জন্য উপকারী হবে। আশা করি মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে আমার নেকি ও প্রতিদান বৃদ্ধি করবেন।
আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الأولى
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، مَن يهده اللهُ فلا مضل له، ومَن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.
وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد:
فإن الإسلامَ هو دينُ الله العظيمُ الذي ارتضاه للبشرية، ليُصلحَ به كل شأنٍ من شؤون حياتها على مرِّ الزمن وتقلب الدهر: (ألَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَطِيْفُ الخَبيرُ) [الملك: 14] .
প্রথম সংস্করণের ভূমিকা
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর মনোনীত সেই মহান দ্বীন, যা তিনি মানবজাতির জন্য পছন্দ করেছেন, যেন এর মাধ্যমে সময়ের আবর্তন ও যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানবজীবনের প্রতিটি বিষয় সংস্কার করা যায়: "যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত।" [আল-মুলক: ১৪]।
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولقد كانت الأمةُ الإِسلاميةُ خيرَ أمة أُخرجت للناس، لتشرفها بحمل هذه الرسالة، والقيام بتوصيلها لغيرها من الأمم، وظلت كذلك إلى يوم ابتعادها عن كتاب رَبِّها سبحانه وتعالى، وسنة نبيّها عليه الصلاة والسلام، فكان الواجب على المسلمين جميعاً في أنحاء هذه البسيطة كلّها أن يرجعوا إلى كتاب الله جل شأنه وتبارك اسمه، وإلى سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم متحدين، واعين، متفقهين، عالمين بشؤون إسلامهم، وبأحكام عبادتهم.
وقد أيقنتُ أنّ من الأسباب التي يطويها الإِسلامُ في غُضونه، وهي في مقدمة أصوله، وفي الذروة من تعاليمه، تكثيره من أسباب وحدة المسلمين وربط بعضهم ببعض.
فمن ذلك أن أوجب فيهم الجماعة (1) في كل يومٍ
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহ ছিল মানুষের কল্যাণে আবির্ভূত সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি; এই রিসালাত বহন এবং অন্যান্য জাতির নিকট তা পৌঁছে দেওয়ার মহান দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা এই শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা লাভ করেছিল। তারা এই অবস্থানে অটল ছিল যতক্ষণ না তারা তাদের মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার কিতাব এবং তাঁর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, পৃথিবীর সকল প্রান্তের সকল মুসলমানের ওপর এটি আবশ্যিক (واجب) হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা যেন ঐক্যবদ্ধভাবে, সচেতনভাবে, দ্বীনি জ্ঞানসম্পন্ন (متفقهين) হয়ে এবং তাদের ইসলামের বিষয়াদি ও ইবাদতের বিধানসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়ে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
আমি সুনিশ্চিতভাবে অনুধাবন করেছি যে, ইসলাম তার অভ্যন্তরীণ কাঠামোর মধ্যে যেসব বিষয় নিহিত রেখেছে—যা এর মূলনীতিসমূহের (أصول) অগ্রভাগে এবং এর শিক্ষার শীর্ষবিন্দুতে অবস্থিত—সেগুলোর অন্যতম হলো মুসলমানদের ঐক্যের মাধ্যমসমূহকে প্রসারিত করা এবং তাদের একে অপরের সাথে সুদৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত করা।
তারই একটি দৃষ্টান্ত হলো যে, তিনি তাদের মধ্যে প্রতিদিন জামাত (جماعة) (১) আবশ্যিক (واجب) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৭)
خمس مَرّات، يربطون قلوبهَم جميعاً بإمامٍ واحدٍ يَتَرسَّمُون خطاه وأعماله واحداً واحداً، مُراقبينَ ربهم، عاملين على القيام بما جعلهم مستَخلفين فيه، يرحم بعضُهم بعضاً، ويعطف بعضهم على بعض، مبتعدين عن البغي والفساد في الأرض، ثم ألزمهم بالاجتماعِ في كل مقدار يمكن أن يوقع إبليسُ في قلوبهم شيئاَ مِن همزه ونفخه ونفثه (1) ، أو تُحْدِث بهجةُ الدنيا وبريقُها في أنفسهم اقتراباً منها، وركوناً إلى سرابها، وذلك يوم الجمعة (2) ، وجعله يومَ عيدٍ لهم، يجتمعون
--------------------------------------------
পাঁচ বার, তারা সকলে একজন ইমামের সাথে নিজেদের অন্তরকে আবদ্ধ করে, যার প্রতিটি পদক্ষেপ ও আমল তারা একে একে অনুসরণ করে; তারা তাদের রবের প্রতি মনোযোগী থাকে এবং তাদের যে বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তা পালনে সচেষ্ট হয়। তারা একে অপরের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়; তারা যমীনে বিদ্রোহ ও বিপর্যয় থেকে দূরে থাকে। অতঃপর তিনি তাদের জন্য এমন প্রতিটি নির্দিষ্ট সময়ে একত্রিত হওয়া আবশ্যক করেছেন যখন ইবলিস তাদের অন্তরে তার কুমন্ত্রণা (الهمز), অহংকার (النفخ) ও কু-প্ররোচনা (النفث) (১) এর কিছু নিক্ষেপ করার সম্ভাবনা থাকে, অথবা যখন দুনিয়ার জৌলুস ও চাকচিক্য তাদের মনে এর প্রতি আসক্তি এবং মরীচিকার প্রতি ঝুঁকে পড়ার সৃষ্টি করে। আর তা হলো জুমার দিন (২), যাকে তিনি তাদের জন্য ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন, তারা সমবেত হয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৮)
فيه، فَيُذكِّرُهم المذكِّرُ بآيِ ربهم وآلائه، حتى يستمروا على نقاء وصفاء، مرتبطة قلوبُ بعضهم ببعض، ثم جعل لهم يومَين في كل عام ينظرون فيهما مصالحهم العامة ومرافقهم المشتركة ويؤكدون فيهما أسباب المودة والمحبة، فجعل فيهم عيد الفطر الذي يعقب العبادة الرمضانية (1) ، وأنفسهم إذ ذاك مصفّاة، خالصة إلى الفضيلة وعمل الخير، وجعل فيهم أيضأ عيد الأضحى حيث يكون العباد حينئذ في حرم الله الآمِن، وفي ذلك البلد الطيب الذي انبعث منه نورُ النبوة، وبزغت في جَنَباته شمسُ السعادة العامة، وهم إذ ذاك العباد المخلصون الذي لا يبغون عملاً سوى ما يُقرب إلى الله عز وجل، ولا يبغون عنه حِوَلاً (2) .
--------------------------------------------
এতে উপদেশদাতা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শন ও নেয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দেন, যাতে তারা পবিত্রতা ও স্বচ্ছতার ওপর স্থিতি লাভ করতে পারে এবং একে অপরের হৃদয়ের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকতে পারে। অতঃপর তিনি তাদের জন্য প্রতি বছর এমন দুটি দিন নির্ধারণ করেছেন, যাতে তারা তাদের সাধারণ স্বার্থ ও সামষ্টিক বিষয়াদি নিয়ে পর্যালোচনা করতে পারে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার ভিত্তিগুলোকে সুদৃঢ় করতে পারে। ফলে তিনি তাদের মাঝে ঈদুল ফিতর প্রবর্তন করেছেন যা রমজানের ইবাদত-বন্দেগির পরপরই আসে (১), আর তখন তাদের আত্মাগুলো থাকে পরিশুদ্ধ এবং কেবলই নেক কাজ ও ফযীলত অর্জনে নিবেদিত। তদ্রূপ তিনি তাদের মাঝে ঈদুল আযহাও নির্ধারণ করেছেন যখন বান্দারা আল্লাহর নিরাপদ হারামে এবং সেই পবিত্র ভূখণ্ডে অবস্থান করে যেখান থেকে নবুয়তের নূর বিচ্ছুরিত হয়েছে এবং যার দিগন্ত জুড়ে সার্বজনীন সৌভাগ্যের সূর্য উদিত হয়েছে। আর এমতাবস্থায় তারা আল্লাহর এমন একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে গণ্য হয় যারা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ব্যতীত অন্য কোনো আমল অন্বেষণ করে না এবং তা থেকে বিমুখ হওয়াও পছন্দ করে না (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৯)
لهذا كلِّه، رأيتُ أن أكتب رسالةً مفردةً في عيد الفطر وعيد الأضحى (1) ، وما يتعلق بهما من أحكام،
--------------------------------------------
এসব কারণেই আমি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা (১) এবং এ দুটি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা লেখা সমীচীন মনে করেছি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وذلك بالرغم مما ألمّ بالمسلمين من بلايا ورزايا، وهزائم ومصائب، وما هذا- فيهم- إلا بسبب بعدهم عن النبع الصافي والمنهج الرشيد الذي بينه الله سبحانه في كتابه، وَوَضحه رسولُه صلى الله عليه وسلم في سيرته وسنته.
لكنّ معرفةَ الأحكام الشرعية، والمسائل الفقهية لا يوقفها أمرٌ، ولا يُؤثر فيها شيءٌ، بل هي تحثُّ المسلمين على العلم والعمل ونشر الخير والدعوة إلى الله تبارك وتعالى.
وآثرتُ فيما كتبتُ التيسيرَ والاختصارَ، لكي تكونَ الرسالةُ سهلة الفهم، سريعة القراءة، وافيةً
--------------------------------------------
এবং তা মুসলমানদের ওপর আপতিত হওয়া নানাবিধ বিপদ-আপদ ও মুসিবত এবং পরাজয় ও বিপর্যয় সত্ত্বেও। তাদের মাঝে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার কারণ কেবল সেই নির্মল উৎস এবং সঠিক পদ্ধতি থেকে তাদের বিচ্যুত হওয়া, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সীরাত ও সুন্নাহর মাধ্যমে সুস্পষ্ট করেছেন।
তবে শরয়ী বিধান এবং ফিকহি মাসআলাসমূহের জ্ঞান অর্জন কোনো বিষয়ের মাধ্যমেই রুদ্ধ হয় না এবং কোনো কিছুই এতে প্রভাব ফেলতে পারে না। বরং তা মুসলমানদের ইলম ও আমল, কল্যাণ প্রচার এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার দিকে দাওয়াতের প্রতি উৎসাহিত করে।
আমি আমার লেখায় সহজিকরণ ও সংক্ষিপ্তকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যাতে রিসালাটি অনুধাবনে সহজ, দ্রুত পাঠযোগ্য এবং পর্যাপ্ত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১১)
بالمطلوب، مؤديةً للمرغوب، وحرصتُ على إيراد أصحِّ الأقوال في المسألة، مبتعداً عن الخلاف المذهبي، مؤكداً القول الراجح بدليله.
فإن أصبتُ فبتوفيق الله تعالى، وإن أخطأت، فمن اللهِ المغفرةُ والرحمةُ.
وأخيراً فإنني أسألُ اللَه أن يوفقني إلى إخلاص النية في هذا العمل، وأن يعم المسلمين بنفعه، إنه سميع مجيب.
وَكَتَبَ
أبو الحارثِ علي بنُ حَسَنِ بنِ علي
প্রয়োজন পূরণকারী ও আকাঙ্ক্ষিত ফল দানে সক্ষম; আমি মাসআলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) বক্তব্যসমূহ উপস্থাপনে সচেষ্ট হয়েছি, মাযহাবী মতপার্থক্য এড়িয়ে চলেছি এবং দলিলসহ অগ্রগণ্য (راجح) মতটিকে সুনিশ্চিত করেছি।
যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা মহান আল্লাহর তাওফিকে, আর যদি আমি ভুল করে থাকি তবে আল্লাহর নিকটই ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করছি।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এই কাজে নিয়তের বিশুদ্ধতা দান করেন এবং এর মাধ্যমে সকল মুসলিমকে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
লিখেছেন
আবু আল-হারিস আলী বিন হাসান বিন আলী
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
-1-
الْعِيدُ:هو كلُّ يومٍ فيه جَمْعٌ، واشتقاقه من: عاد يعود، كأنهم عادوا إليه، وقيل: اشتقاقه من: العادة، لأنهم اعتادوه، والجمع أعياد. ويقال: عَيَّدَ المسلمون: شهدوا عِيدهم. قال ابنُ الأعرابيّ: سُمي العيدُ عيداً لأنه يعود كل سنة بفرح مُجدد (1) .
قال العلامة ابنُ عابدين:
سُمِّي العيدُ بهذا الاسم، لأن لله تعالى فيه عوائدَ الِإحسان، أي: أنواع الِإحسان العائدة على عباده في كل يوم، منها: الفطر بعد المنع عن الطعام، وصدقة
--------------------------------------------
-1-
ঈদ:এটি হলো এমন প্রতিটি দিন যাতে সমাবেশ ঘটে। এর বুৎপত্তি হলো ‘ফিরে আসা’ থেকে, যেন তারা সেটির দিকে পুনরায় ফিরে আসে। আবার বলা হয়েছে: এর বুৎপত্তি ‘অভ্যাস’ থেকে, কারণ তারা এতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। এর বহুবচন হলো ‘আ’ইয়াদ’। আর বলা হয়ে থাকে: মুসলিমরা ঈদ উদযাপন করেছে, অর্থাৎ তারা তাদের ঈদে উপস্থিত হয়েছে। ইবনুল আরাবি বলেন: ঈদকে ঈদ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি প্রতি বছর নতুন আনন্দ নিয়ে ফিরে আসে (১)।
আল্লামা ইবনে আবিদিন বলেন:
ঈদকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক অনুগ্রহের আবর্তন ঘটে, অর্থাৎ প্রতিদিন তাঁর বান্দাদের প্রতি আবর্তিত হওয়া বিভিন্ন প্রকারের অনুগ্রহ। এর মধ্যে রয়েছে: আহার নিষিদ্ধ থাকার পর ইফতার এবং সদকা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفطر، وإتمام الحج بطواف الزيارة، ولحوم الأضاحي، وغير ذلك، ولأن العادة فيه الفرح والسرور، والنشاط والْحُبُور (1) .
--------------------------------------------
ফিতর, তাওয়াফে যিয়ারতের মাধ্যমে হজ সম্পাদন করা, কুরবানীর পশুর গোশত এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ; আর যেহেতু সাধারণত এতে আনন্দ-উল্লাস, সক্রিয়তা ও প্রফুল্লতা (১) বিরাজ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
-2-
رَحمَةُ اللهِ للأمّةِ المُحَمَّدِيةِ بالعِيديْنعن أنَس رضي الله عنه قال: قَدِمَ النبي صلى الله عليه وسلم ولأهل المدينة يومان يلعبون فيهما في الجاهلية (1) ، فقال: "قَدِمْتُ عليكم ولكم يومانِ تلعبون فيهما في الجاهلية، وقد أبدلَكُم اللهُ بهما خيراً منهما: يوم النحر ويوم الفطر" (2) .
قال الشيخ أحمد عبد الرحمن البنَّا:
أي: لأنّ يومي الفطرِ والنحرِ بتشريع الله تعالى، واختياره لخلقه، ولأنهما يعقبان أداء ركنين عظيمين من أركان الِإسلام، وهما: الحج والصيام، وفيهما
--------------------------------------------
-2-
উম্মতে মুহাম্মদিয়ার জন্য দুই ঈদের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতআনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন মদীনার অধিবাসীদের দুটি নির্দিষ্ট দিন ছিল যাতে তারা জাহেলি (الجاهلية) যুগে খেলাধুলা করত (১)। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের নিকট এসেছি এমতাবস্থায় যে, তোমাদের দুটি দিন ছিল যাতে তোমরা জাহেলি (الجاهلية) যুগে খেলাধুলা করতে। আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে সেই দুটির পরিবর্তে তাদের চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন: কুরবানির দিন (يوم النحر) ও ঈদুল ফিতরের দিন (يوم الفطر)" (২)।
শায়খ আহমদ আব্দুর রহমান আল-বান্না বলেন:
অর্থাৎ: কারণ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন দুটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিধিবদ্ধ (تشريع) এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য তাঁরই মনোনীত। আর যেহেতু এ দুটি দিন ইসলামের মহান দুটি স্তম্ভ (أركان) পালনের অব্যবহিত পরে আসে, আর তা হলো: হজ (الحج) ও সিয়াম (الصيام), এবং এগুলোতে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يغفر الله للحجاج والصائمين، وينشر رحمته على جميع خلقه الطائعين، أما النيروز والمهرجان، فإنهما باختيار حُكماء ذاك الزمان، لما فيهما من اعتدال الزمن والهواء ونحو ذلك من المزايا الزائلة، فالفرق بين المَزِيّتَيْنِ ظاهر لمن تأمل ذلك (1) .
-3-
الِإذْنُ بسماع الدُّفِّ من الجُوَيْريَاتعن عائشة رضي الله عنها قالت: دخل عَليّ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعندي جاريتان تُغَنِّيان (2) بغناء بُعاث، فاضطجع على الفراش وحَوّل وجهه، ودخل أبو بكر فانتهرني وقال: مزمارة الشيطان عند النبي صلى الله عليه وسلم!؟ فأقبل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: "دعهما"، فلما غفل غمزتُهما، فخرجتا.
--------------------------------------------
আল্লাহ হাজীদের এবং রোযাদারদের ক্ষমা করেন এবং তাঁর সকল অনুগত সৃষ্টির ওপর তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। আর নওরোজ ও মেহেরজান উৎসবের কথা বলতে গেলে, তা ছিল সেকালের জ্ঞানীদের পছন্দের বিষয়, কারণ সে সময়ে আবহাওয়া ও বায়ুর ভারসাম্য এবং এই জাতীয় কিছু ক্ষণস্থায়ী সুবিধা বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যারা এ নিয়ে চিন্তা করে তাদের নিকট এই দুই বৈশিষ্ট্যের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট (১)।
-৩-
কিশোরীদের নিকট থেকে দফ শোনার অনুমতিআয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আমার নিকট দুটি কিশোরী বুআছ যুদ্ধের বীরত্বগাথা গাইছিল। তিনি বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তাঁর মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এরপর আবু বকর প্রবেশ করলেন এবং আমাকে ধমক দিয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট শয়তানের বাদ্য!? তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিকে ফিরে বললেন: "ওদের ছেড়ে দাও"। এরপর যখন তিনি অন্যমনস্ক হলেন, আমি তাদের ইঙ্গিত করলাম এবং তারা চলে গেল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي روايةٍ أخرى: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا أبا بكر، إن لكل قوم عيداً، وهذا عيدنا" (1) .
قال الإمام البغوي في "شرح السنة" (4/322) : بُعاث (2) يومٌ مشهور من أيام العرب، كانت فيه مقتلةٌ عظيمةٌ للأوس على الخزرج، وبقيت الحربُ بينهما مئة وعشرون سنة، إلى أن قام الإسلامُ، وكان الشعرُ الذي تُغَنَِّيان به في وصف الحرب والشجاعة، وفي ذِكْرِه معونةٌ لأمر الدين.
فاما الغناءُ بذكر الفواحش، والابتهارِ (3) بالحُرَمِ، والمجاهرةِ بالمنكر من القول، فهو المحظورُ من
--------------------------------------------
অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আবু বকর! প্রতিটি জাতিরই ঈদ রয়েছে, আর এটি আমাদের ঈদ।" (১)
ইমাম বগভী তাঁর "শারহুস সুন্নাহ" (৪/৩২২) গ্রন্থে বলেন: বু’আছ (২) হলো আরবদের ইতিহাসের একটি প্রসিদ্ধ দিবস; যাতে আউস গোত্রের হাতে খাযরাজ গোত্রের বিপুল লোক হতাহত হয়েছিল। তাদের মধ্যকার যুদ্ধ একশত বিশ বছর যাবৎ স্থায়ী ছিল, যতক্ষণ না ইসলামের আবির্ভাব ঘটে। সেই বালিকাদ্বয় যে কবিতাগুলো গেয়েছিল তা ছিল যুদ্ধ ও বীরত্বের বর্ণনায় এবং তা চর্চা করা দ্বীনি বিষয়ের জন্য সহায়ক ছিল।
পক্ষান্তরে অশ্লীলতা চর্চা, সম্মানহানি (৩) এবং মন্দ কথাবার্তা প্রকাশ্যে প্রচারের মাধ্যমে যে গান গাওয়া হয়, তা নিষিদ্ধ (محظور) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الغناء، وحاشاه أن يَجْري شيءٌ من ذلك بحضرته عليه الصلاة والسلام، فَيُغفل النكيرَ له..
وقولُه: هذا عيدنا؛ يعتذرُ به عنها أن إظهارَ السرورِ في العيدين شعارُ الدين، وليس هو كسائر الأيام. اهـ.
وقال الحافظ ابن حَجَر:
وفي هذا الحديثِ من الفوائد: مشروعيّةُ التوسعةِ على العيال في أيام الأعياد بأنواعِ ما يُحَصِّل لهم بسط النفس وترويح البدن من كلف العبادة، وأنَّ الإعراضَ عن ذلك أَوْلى، وفيه أنَّ إظهار السرور في الأعياد مِن شعار الدين (1) .
--------------------------------------------
গান-বাজনা; আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে এমন কিছু ঘটবে এবং তিনি তা উপেক্ষা করবেন কিংবা প্রতিবাদ করবেন না—তা একেবারেই অসম্ভব।
এবং তাঁর উক্তি: "এটি আমাদের ঈদ"; এর মাধ্যমে তিনি এটিই স্পষ্ট করেছেন যে, দুই ঈদে আনন্দ প্রকাশ করা দ্বীনের নিদর্শন (شعار الدين), এবং এটি অন্য সাধারণ দিনগুলোর মতো নয়। সমাপ্ত।
আর হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন:
এই হাদিসের উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ঈদের দিনগুলোতে পরিবার-পরিজনের ওপর বিভিন্নভাবে ব্যয়ের প্রশস্ততা করার বৈধতা (مشروعيّة), যা তাদের মনে প্রফুল্লতা আনে এবং ইবাদতের কষ্ট থেকে শরীরের প্রশান্তি নিশ্চিত করে। তবে এ থেকে বিমুখ থাকাই উত্তম। এতে আরও রয়েছে যে, ঈদের দিনগুলোতে আনন্দ প্রকাশ করা দ্বীনের নিদর্শনের (شعار الدين) অন্তর্ভুক্ত (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
-4-
التَّجَمُّلُ في العيدِعن ابن عُمر رضي الله عنهما قال: أخذ عمر جُبَّةً من إستبرق تُباع في السوق، فأخذها، فأتى رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، ابْتَع هذه، تَجمَّل بها للعيد والوفود، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنما هذه لباس من لا خَلاق له"، فلبث عمر ما شاء الله أن يلبث، ثم أرسل إليه رسولُ الله صلى الله عليه وسلم بِجُبَّةِ ديباج، فأقبل بها عمر فأتى بها رسولَ الله صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله، إنك قلت: "إنما هذه لباس من لا خَلاق له"، وأرسلتَ إليّ بهذه الجُبّة، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تبيعها أو تُصيب بها حاجتك" (1) .
--------------------------------------------
-4-
ঈদে সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়াইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রা.) রেশমের তৈরি একটি জুব্বা বাজারে বিক্রি হতে দেখলেন। তিনি সেটি গ্রহণ করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটি ক্রয় করুন, ঈদ এবং (বিদেশি) প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের সময় এটি পরিধান করে সৌন্দর্যমণ্ডিত হবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: "এটি তো কেবল তাদের পোশাক যাদের (পরকালে) কোনো অংশ নেই।" এরপর আল্লাহ যতটুকু চাইলেন উমর (রা.) ততটুকু সময় অতিবাহিত করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর নিকট রেশমি বস্ত্রের তৈরি একটি জুব্বা পাঠালেন। উমর (রা.) সেটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো বলেছিলেন— "এটি কেবল তাদের পোশাক যাদের কোনো অংশ নেই", অথচ আপনি আমার কাছে এই জুব্বাটি পাঠালেন! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: "তুমি এটি বিক্রি করে দাও অথবা এর দ্বারা তোমার প্রয়োজন পূরণ করো।" (১) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال العلّامة السِّنديُّ:
منه عُلم أنَّ التجمُّلَ يوم العيد كان عادة متقررة بينهم، ولم ينكرها النبى صلى الله عليه وسلم فعُلم بقاؤها (1) .
وقال الحافظ ابن حجر:
روى ابنُ أبي الدُنيا والبيهقي بإسناد صحيح إلى ابن عمر: أنه كان يلبس أحسن ثيابه في العيدين (2) .
وقال أيضاً:
وجهُ الاستدلال به من جهةِ تقريره صلى الله عليه وسلم لِعُمَرَ على أصلِ التجمُّل للجمعة، وقَصَرَ الإنكارَعلى لُبْسِ مثل تلك الحُلّة، لكونِها كانت حريراً (3) .
--------------------------------------------
আল্লামা সিন্দি বলেছেন:
এর থেকে জানা যায় যে, ঈদের দিনে সুসজ্জিত হওয়া তাদের মাঝে একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা ছিল এবং নবী (সা.) তা অস্বীকার করেননি, ফলে এর বৈধতা অব্যাহত থাকার বিষয়টি জানা গেল (১) ।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন:
ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি দুই ঈদের দিনে তাঁর সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন (২) ।
তিনি আরও বলেছেন:
এর মাধ্যমে দলীল (استدلال) গ্রহণের দিকটি হলো জুমার জন্য সুসজ্জিত হওয়ার মূল বিষয়ের ওপর উমর (রা.)-এর প্রতি নবী (সা.)-এর মৌনসম্মতি (تقرير); আর তিনি কেবল সেই ধরনের পোশাক পরিধানের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলেন, কারণ সেটি রেশমের তৈরি ছিল (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال ابنُ قُدامة في "المُغْني" (2/228) :
وهذا يدلُّ على أن التَجمُّلَ عندهم في هذه المواضعِ كان مشهورأ.
قال مالكٌ: سمعتُ أهل العلم يستحبُّون الطيبَ والزينةَ في كل عيد.
وقال ابنُ القيم في "زاد المعاد" (1/441) :
وكان يلبسُ للخروج إليهما أجملَ ثيابه، فكان له حُلّةٌ يلبسُها للعيدين والجمعة، ومرةً كان يلبس بُردين أخضرين، ومرة بُرداً أحمر (1) ، وليس هو أحمر مُصْمَتاً (2) كما يظنُّه بعض الناس، فإِنه لو كان كذلك، لم يكن بُرداً، وإنما فيه خُطوطٌ حُمْرٌ كالبرودِ اليمنيّة..
--------------------------------------------
এবং ইবনে কুদামা "আল-মুগনি" (২/২২৮) গ্রন্থে বলেছেন:
এটি নির্দেশ করে যে, তাঁদের নিকট এই ক্ষেত্রগুলোতে সৌন্দর্য অবলম্বন করা প্রসিদ্ধ ছিল।
ইমাম মালেক বলেন: আমি আলেমদের বলতে শুনেছি যে, তাঁরা প্রতিটি ঈদে সুগন্ধি ব্যবহার ও সৌন্দর্য অবলম্বন করাকে মুস্তাহাব (مستحب) মনে করতেন।
এবং ইবনুল কাইয়্যিম "যাদুল মা’আদ" (১/৪৪১) গ্রন্থে বলেছেন:
তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) এই দুই ঈদে বের হওয়ার জন্য তাঁর সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন; তাঁর এক জোড়া বিশেষ পোশাক ছিল যা তিনি দুই ঈদ ও জুমার দিনে পরিধান করতেন। কখনো তিনি দুটি সবুজ চাদর পরিধান করতেন, আবার কখনো লাল চাদর (১) পরিধান করতেন; আর তা নিরেট লাল (২) ছিল না যেমনটি কিছু মানুষ মনে করে থাকে। কারণ এটি যদি তেমন হতো তবে তা 'বুরদ' হতো না, বরং তাতে ইয়ামানি চাদরের মতো লাল রেখা বা ডোরা ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২২)
-5-
الخروجُ إلى المُصَلَّىعن أبي سعيد الخُدريّ رضي الله عنه، قال:
"كان رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يخرج يوم الفطر والأضحى إلى المُصلى، فأوّلُ شيءٍ يبدأ به الصلاةُ.." (1) .
قال العلامةُ ابن الحاجِّ المالكي:
والسُّنَّةُ الماضية في صلاة العيدين أن تكون في المُصَلّى، لأن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "صلاة في مسجدي هذا أفضل مِن ألف صلاة فيما سواه إلا المسجد الحرام " (2) ، ثم هو مع هذه الفضيلةِ العظيمةِ، خرجَ صلى الله عليه وسلم وتَرَكَهُ (3) ..
--------------------------------------------
-৫-
সালাতের স্থানের (المصلى) উদ্দেশ্যে গমনআবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে সালাতের স্থানের (المصلى) উদ্দেশ্যে বের হতেন। তিনি সর্বপ্রথম যে কাজটি শুরু করতেন তা হলো সালাত..." (১)।
আল্লামা ইবনুল হাজ আল-মালিকী বলেন:
দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (السنة) হলো তা সালাতের স্থানে (المصلى) সম্পন্ন করা। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার এই মসজিদে এক ওয়াক্ত সালাত মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্য যেকোনো মসজিদে এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম" (২)। এত বড় ফযিলত থাকা সত্ত্বেও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [সালাতের স্থানের উদ্দেশ্যে] বের হতেন এবং তা (মসজিদ) ত্যাগ করতেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال الِإمام ابن قُدامة المقدسي (1) :
السنة أن يُصَلّى العيد في المُصلّى، أمَرَ بذلك عليٌّ رضي الله عنه واسْتَحْسَنه الأوزاعيُ وأصحابُ الرّأيِ، وهو قولُ ابنِ المنذر (2) .
فمن ضَعُفَ عن الخُروج إلى المصفى لِمَرَضٍ أو كِبَرِ سِنٍّ، صلّى في المسجدِ، ولا حَرَج عليه إنْ شاء الله (3) .
وها هُنا تنبيهٌ لا بُدَّ منه، وهو أن الهَدَفَ مِن الصلاةِ في المُصَلّى اجتماعُ عُظْمِ المسلمين في مكانٍ واحدٍ.
--------------------------------------------
ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি (১) বলেছেন:
সুন্নাহ (السنة) হলো ঈদের সালাত ঈদগাহে (المصلى) আদায় করা। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আওযায়ী ও আসহাবুর রায় (أصحاب الرأي) একে উত্তম মনে করেছেন। এটি ইবনুল মুনযিরেরও (২) বক্তব্য।
অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে যে ব্যক্তি ঈদগাহে বের হতে অক্ষম (ضعف), সে মসজিদে সালাত আদায় করবে; এতে তার কোনো দোষ (حرج) নেই, ইনশাআল্লাহ (৩)।
এখানে একটি অত্যাবশ্যকীয় সতর্কতা (تنبيه) প্রয়োজন, আর তা হলো— ঈদগাহে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য হলো এক স্থানে মুসলমানদের বিশাল জনসমষ্টির সমবেত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بينما الذي نراه اليومَ في كثيرٍ من البلاد تعدُد (المُصَلَّيات) ولو مِن غير حاجةٍ، وهذا أمر قد نبَّه العُلَماءُ على كراهيتهِ (1) .
بل قد أصبحتْ بعضُ (المُصَلَّيات) منابرَ حزبيَّةً لتفريق كلمةِ المسلمين.
ولا حول ولا قوة إلّا باللهِ.
-6-
الذهابُ والِإياب إلى المُصَلَّىعن جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: "كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا كان يوم عيدٍ خالَفَ الطريقَ" (2) .
قال الإمام ابن قيم الجَوْزِيَّة:
وكان صلى الله عليه وسلم يخالف الطريق يوم العيد، فيذهب في
--------------------------------------------
অথচ বর্তমানে আমরা অনেক জনপদে প্রয়োজন ব্যতিরেকেই নামাজের স্থানের (مصلى) সংখ্যাধিক্য দেখতে পাচ্ছি; এটি এমন একটি বিষয় যার অপছন্দনীয়তা (كراهية) সম্পর্কে ওলামায়ে কিরাম সতর্ক করেছেন (১)।
বরং কিছু নামাজের স্থান মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য দলীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।
-৬-
নামাজের স্থানে যাওয়া এবং ফিরে আসাজাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সা.) যখন ঈদের দিন বের হতেন, তখন তিনি পথ পরিবর্তন করতেন" (২)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ বলেন:
আর নবী (সা.) ঈদের দিন পথ পরিবর্তন করতেন; তিনি এক পথে যেতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
طريق، ويرجع في آخر، فقيل: ليُسلّم على أهل الطريقين، وقيل: لينال بركتَه الفريقان، وقيل: ليقضي حاجةَ من له حاجةٌ منهما، وقيل: ليُظهر شعائر الِإسلام
… وقيل - وهو الأصح-: إنه لذلك كلِّه، ولغيره من الحِكَم التي لا يخلو فعله صلى الله عليه وسلم منها (1) .
وقال الِإمام النووي رحمه الله بعد أن ذكر الأقوال السابقة: وإذا لم يُعلم السبب، استُحبَّ التأسي قطعاً، والله أعلم (2) .
تنبيهان:
أولاً: قال الإمامُ البغويُّ في "شرح السنة" (4/302- 303) : "ويُستحبُّ أن يَغْدُوَ الناسُ إلى المُصَلّى بعدما صَلَّوُا الصبحَ لأخذ مجالسهم،
--------------------------------------------
এক পথে গমন এবং অন্য পথে প্রত্যাবর্তন। বলা হয়েছে: যেন তিনি উভয় পথের অধিবাসীদের সালাম দিতে পারেন; বলা হয়েছে: যেন উভয় দল তাঁর বরকত লাভ করতে পারে; বলা হয়েছে: যেন তিনি সেই উভয় পথে অবস্থানকারী অভাবীদের প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন; এবং বলা হয়েছে: যেন তিনি ইসলামের নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করতে পারেন
… আর বলা হয়েছে—যা অধিক বিশুদ্ধ (الأصح)—এটি মূলত এই সবকিছুর জন্য এবং এ ছাড়াও আরও অনেক হিকমতের কারণে যা থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো কাজই মুক্ত নয় (১)।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) পূর্বোক্ত মতসমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন: আর যদি কারণ জানা না-ও যায়, তবে নিশ্চিতভাবে তাঁর অনুসরণ করা মুস্তাহাব (مستحب) হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন (২)।
দু’টি সতর্কতা:
প্রথমত: ইমাম বাগাবী ‘শারহুস সুন্নাহ’ (৪/৩০২-৩০৩) গ্রন্থে বলেছেন: “লোকদের জন্য মুস্তাহাব (مستحب) হলো ফজরের সালাত আদায়ের পর ঈদগাহের দিকে গমন করা যাতে তারা নিজ নিজ স্থান গ্রহণ করতে পারে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ويُكَبِّرون، ويكونُ خروجُ الإمامِ في الوقت الذي يُوافي فيه الصلاة".
ثانياً: روى الترمذي (530) وابن ماجه (161) عن عليٍّ رضي الله عنه قال: "مِن السُّنَّة أن تَخْرُج إلى العيد ماشياً" (1) .
-7-
التَّكْبيرُ في العِيدَيْنِيقولُ اللهُ تعالى: (وَلِتُكْملوا العِدَّةَ ولِتُكَبِّروا اللهَ على ما هداكم ولعلّكم تَشْكُرون) .
وقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم:
"كان يخرج يوم الفطر،. فَيُكَبِّر حتى يأتي
--------------------------------------------
তারা তাকবির পাঠ করবেন এবং ইমামের বের হওয়া এমন সময়ে হবে যখন তিনি সালাতের জন্য উপস্থিত হবেন।
দ্বিতীয়ত: তিরমিজি (৫৩০) এবং ইবনে মাজাহ (১৬১) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত হলো ঈদের নামাজে পায়ে হেঁটে যাওয়া" (১)।
-৭-
দুই ঈদে তাকবির পাঠমহান আল্লাহ তাআলা বলেন: (যাতে তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দিয়েছেন সেজন্য তাঁর মহিমা ঘোষণা করো এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো)।
এবং এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:
"ঈদুল ফিতরের দিন (ঈদগাহের উদ্দেশ্যে) বের হতেন, অতঃপর তিনি তাকবির পাঠ করতেন যতক্ষণ না তিনি পৌঁছাতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المُصلى، وحتى يقضيَ الصلاة، فإذا قضى الصلاةَ قطع التكبير" (1) .
قال المحدِّث الألبانيُّ:
"وفي الحديث دليلٌ على مشروعيّةِ ما جرى عليه عملُ المسلمين من التكبير جهراً في الطريق إلى المصلى، وإنْ كان كثير منهم بدؤوا يتساهلون بهذه السنَّة حتى كادت تصبح في خبر كان..
وممّا يَحْسُنُ التذكيرُ به بهذه المناسبة، أن الجهر بالتكبير هنا لا يُشرع فيه الاجتماع عليه بصوت واحد كما يفعله البعض، وكذلك كل ذِكْرٍ يُشرع فيه رفع الصوت أو لا يشرع، فلا يُشرع فيه الاجتماع
--------------------------------------------
"...ঈদগাহ পর্যন্ত, এমনকি সালাত শেষ করা পর্যন্ত। অতঃপর যখন তিনি সালাত শেষ করতেন, তখন তাকবির পাঠ বন্ধ করতেন।" (১) .
মুহাদ্দিস আলবানী বলেছেন:
"এই হাদিসটিতে মুসলমানদের প্রচলিত আমল—অর্থাৎ ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবির পাঠের বৈধতার প্রমাণ রয়েছে। যদিও বর্তমানে তাদের অনেকে এই সুন্নাহর প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন শুরু করেছেন, এমনকি এটি প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে...
এই প্রসঙ্গে যা স্মরণ করিয়ে দেওয়া সমীচীন তা হলো, এখানে উচ্চস্বরে তাকবির পাঠের ক্ষেত্রে একযোগে সমস্বরে পাঠ করা শরিয়তসম্মত নয়, যেমনটি কেউ কেউ করে থাকেন। একইভাবে যে সকল জিকিরে উচ্চস্বরে আওয়াজ করা বিধিবদ্ধ কিংবা বিধিবদ্ধ নয়—সেগুলোর কোনোটিতেই সম্মিলিত হওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المذكور، فلنكن على حَذَرٍ من ذلك (1) ، وَلْنَضَعْ نُصْبَ أعْيُينَا داثماً أنَ خيرَ الهدي هديُ محمد صلى الله عليه وسلم ".
وسُئل شيخُ الإسلامِ ابنُ تيميّة عن وقت التكبير في العيدين، فقال رحمه الله:
الحمدُ للهِ، أصحُّ الأقوال في التًكْبيرِ، الذي عليه جمهورُ السّلَف والفُقَهاء من الصحابة والأئمة: أن يُكَبِّر من فجر يوم عرفة، إلى آخر أيام التشريق، عَقِبَ كل صلاة، وُيشْرَعُ لكل أحد أن يجهر بالتكبير عند الخروج إلى العيد، وهذا باتفاقِ الأئمةِ الأربعةِ (2) .
قلتُ:
قولُه رحمه الله: "عَقِبَ كُل صلاةٍ" - خُصوصاً-
--------------------------------------------
উল্লিখিত বিষয়, সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত (১), এবং সর্বদা আমাদের দৃষ্টির সম্মুখে রাখা প্রয়োজন যে, সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া-কে দুই ঈদের তাকবীরের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছিলেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; তাকবীরের বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) মত—যা সাহাবী ও ইমামদের মধ্য থেকে সালাফ এবং ফকিহদের অধিকাংশের (جمهور) অভিমত—তা হলো: আরাফার দিনের ফজর থেকে আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের পর তাকবীর পাঠ করা। আর ঈদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করা প্রত্যেকের জন্য বিধিবদ্ধ এবং এটি চার ইমামের ঐকমত্য (اتفاق) দ্বারা স্বীকৃত (২)।
আমি বলছি:
তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্তি: "প্রত্যেক সালাতের পর" - বিশেষভাবে-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لا دليلَ عليه، والصوابُ أنَّه في كُل وقتٍ، ودون تخصيص.
ويَدُلُّ على ذلك ما قاله الإمامُ البخاريُّ في كتاب العيدين من "صحيحه " (2/461) :
بابُ التكبير أيام منى، وإذا غدا الى عرفة.
وكان عمر- رضي الله عنه يُكَبّر في قُبَّتِه بمنى، فيسمعُه أهلُ المسجد فَيُكَبِّرون، ويُكَبِّر أهل الأسواق حتى ترتجّ منىً تكبيراً.
وكان ابنُ عمر يُكَبِّر بمنى تلك الأيامَ وخَلْفَ الصلوات، وعلى فراشِه، وفي فِسْطاطِه، ومجلسِه، وممشاه تلك الأيام جميعاً.
وكانت ميمونةُ تُكَبِّر يوم النحر، وكُن النساءُ يُكَبّرن خلف أبانَ بن عثمان وعمر بن عبد العزيز لياليَ التشريقِ مع الرجالِ في المسجدِ.
وكان ابنُ عمر إذا غدا يوم الفطر، ويوم
এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ (دليل) নেই; বরং সঠিক মত হলো এটি কোনো বিশেষত্বারোপ ব্যতিরেকেই সর্বসময়ের জন্য প্রযোজ্য।
আর এর সপক্ষে ইমাম বুখারি তাঁর ‘সহিহ’ (২/৪৬১) গ্রন্থের ‘দুই ঈদের অধ্যায়’-এ যা বর্ণনা করেছেন তা প্রমাণ (دليل) স্বরূপ নির্দেশ করে:
পরিচ্ছেদ: মিনার দিনগুলোতে এবং যখন আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে তখন তাকবির পাঠ করা।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মিনায় তাঁর গম্বুজাকৃতির তাঁবুতে তাকবির পাঠ করতেন, যা শুনে মসজিদের মুসল্লিগণ তাকবির বলতেন এবং বাজারের লোকেরাও তাকবির ধ্বনি দিত, যার ফলে সমগ্র মিনা তাকবিরের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠত।
ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) মিনার ওই দিনগুলোতে নামাজের পর, নিজের বিছানায়, তাঁবুতে, মজলিসে এবং হাঁটাচলার সময় অর্থাৎ ওই দিনগুলোর সর্বাবস্থায় তাকবির পাঠ করতেন।
মায়মুনা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নহরের দিন (কোরবানির দিন) তাকবির পাঠ করতেন। আর মহিলারা আইয়ামে তাশরিকের রাতগুলোতে মসজিদে পুরুষদের সাথে আবান বিন উসমান ও উমর বিন আব্দুল আজিজের পেছনে তাকবির পাঠ করতেন।
আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বের হতেন এবং...
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأضحى، يجهر بالتكبير حتى يأتي المصلى، ثم يكبر حتى يأتي الإِمامُ (1) .
ولم يَصِحّ حديثٌ نبوي في كيفيّةِ التكبيرِ- فيما أعلمُ-، إنما ورد عن بعض الصحابة رضوان الله عليهم:
فكان ابن مسعود يقول: الله أكبر الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد (2) .
وكان ابن عباس يقول:
الله أكبر الله أكبر، الله أكبر ولله الحمد، الله أكبر وأجلُّ، الله أكبر على ما هَدَانا (3) .
وأخرج عبدُ الرزّاق (4) - ومِن طريقهِ البيهقيُّ في
--------------------------------------------
ঈদুল আযহার দিন, সে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করবে যতক্ষণ না সে ঈদগাহে পৌঁছে, এরপর সে তাকবীর বলতে থাকবে যতক্ষণ না ইমাম আসেন (১)।
আমার জানামতে তাকবীরের পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো নবিপ্রদত্ত হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হয়নি (يصح); বরং তা কেবল কিছু সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ (২)।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলতেন:
আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ, আল্লাহু আকবার ওয়া আজাল্লু, আল্লাহু আকবার আলা মা হাদানা (৩)।
আর আব্দুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন (৪)—এবং তাঁর সূত্রে বায়হাকী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামুল ঈদাইন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
"السنن الكبرى" (3/316) - بسند صحيح عن سَلْمان الخير رضي الله عنه قال:
"كبِّروا اللهَ: اللهُ أكبر، اللهُ أكبر، اللهُ أكبر كبيراً".
ولقد خالَفَ كثير من العامّةِ هذا الذكْرَ الواردَ عن السَّلَف بأذكارٍ، وزياداتٍ، ومُخترعاتٍ لا أصل لها، مِمّا جعل الحافظ ابن حجر- رحمه الله يقول في "فتح الباري" (2/536) :
"وقد أُحدث في هذا الزمان زيادةٌ (1) في ذلك لا أصلَ لها".
-8-
متى يأْكُلُ في العيدَيْنِ؟
عن أنس رضي الله عنه قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يغدو يوم الفطر حتى يأكل تمرات" (2) .
--------------------------------------------
"সুনান আল-কুবরা" (৩/৩১৬) - সালমান আল-খায়ের (রা.) হতে একটি সহিহ (صحيح) সনদের (سند) মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করো: আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার কাবিরা।"
সাধারণ জনগণের অনেকেই সালাফগণ হতে বর্ণিত এই জিকিরের বিপরীতে এমন সব জিকির, পরিবর্ধন এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয় নিয়ে এসেছেন যার কোনো ভিত্তি নেই। এরই প্রেক্ষিতে হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) "ফাতহুল বারী" (২/৫৩৬)-তে বলেছেন:
"বর্তমান সময়ে এতে এমন কিছু পরিবর্ধন (زيادة) (১) উদ্ভাবিত হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই।"
-৮-
দুই ঈদে কখন আহার করবেন?আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর আহার না করে সকালে বের হতেন না" (২)।
--------------------------------------------