(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: -)
قاعدة في الجرح والتعديل   (تاج الدين ابن السبكي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: قاعدة في الجرح والتعديل (مطبوع مع كتاب «أربع رسائل في علوم الحديث» )

المؤلف: تاج الدين عبد الوهاب بن تقي الدين السبكي (ت 771هـ)

المحقق: عبد الفتاح أبو غدة

الناشر: دار البشائر - بيروت

الطبعة: الخامسة، 1410هـ، 1990م

عدد الصفحات: 65

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সমালোচনা ও মূল্যায়ন (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত একটি মূলনীতি (قاعدة)   (তাজউদ্দীন ইবনুস সুবকী)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


বই: সমালোচনা ও মূল্যায়ন (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত একটি মূলনীতি (قاعدة) («আরবাউ রাসাইল ফি উলূমিল হাদিস» গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত )

লেখক: তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে তাকীয়ুদ্দীন আস-সুবকী (মৃত্যু: ৭৭১ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ

প্রকাশক: দারুল বাশায়ির - বৈরুত

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪১০ হিজরি, ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৫

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌قاعدة في الجرح والتعديل

ضرورية نافعة لا تراها في شيء من كتب الاصول فانك اذا سمعت ان الجرح مقدم على التعديل ورايت الجرح والتعديل وكنت غرا بالامور او فدما مقتصرا على منقول الاصول حسبت ان العمل على جرحه فاياك ثم اياك والحذر كل الحذر من هذا الحسبان بل الصواب عندنا أن‌‌ من ثبتت إمامته وعدالته وكثر مادحوه ومزكوه وندر جارحوه وكانت هناك قرينة دالة على سبب جرحه من تعصب مذهبي أو غيره فإنا لا نلتفت إلى الجرح فيه ونعمل فيه بالعدالة وإلا فلو فتحنا هذا الباب وأخذنا بتقديم الجرح على اطلاقه لما سلم لنا احد
জরাহ ও তাদীল (جرح وتعديل) সংক্রান্ত একটি মূলনীতি

এটি একটি প্রয়োজনীয় এবং ফলপ্রসূ বিষয় যা আপনি উসুল তথা মূলনীতির কিতাবসমূহের কোনোটিতেই পাবেন না। কারণ আপনি যখন শোনেন যে, প্রশংসা (تعديل) এর বিপরীতে সমালোচনা (جرح) প্রাধান্য পাবে এবং আপনি যখন একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে সমালোচনা (جرح) ও প্রশংসা (تعديل) উভয়টিই দেখতে পান, এমতাবস্থায় আপনি যদি এই বিষয়ে অনভিজ্ঞ হন অথবা কেবল উসুলের কিতাবসমূহে বর্ণিত গতানুগতিক নিয়মের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, তবে আপনি ধারণা করে বসবেন যে উক্ত ব্যক্তির সমালোচনার (جرح) ওপরই আমল করতে হবে। সুতরাং সাবধান! এই রূপ ধারণা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকুন। বরং আমাদের নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত হলো এই যে, যার ইমামত ও নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) সাব্যস্ত হয়েছে এবং যার প্রশংসাকারী ও সত্যায়নকারীর (مزكي) সংখ্যা অনেক এবং যার সমালোচনাকারীর (جارح) সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য, আর সেখানে যদি এমন কোনো আলামত বিদ্যমান থাকে যা প্রমাণ করে যে তার বিরুদ্ধে কৃত সমালোচনার (جرح) কারণ হলো মাযহাবী গোঁড়ামি বা অন্য কিছু, তবে আমরা সেই সমালোচনার (جرح) প্রতি ভ্রুক্ষেপ করব না এবং তার নির্ভরযোগ্যতার (عدالة) ওপর ভিত্তি করেই আমল করব। অন্যথায়, আমরা যদি এই দুয়ার উন্মুক্ত করে দেই এবং ঢালাওভাবে প্রশংসার (تعديل) ওপর সমালোচনাকে (جرح) প্রাধান্য দেওয়ার নীতি গ্রহণ করি, তবে আমাদের কাছে একজন ইমামও সমালোচনামুক্ত থাকবে না।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٠)
من الاثم اذ ما من امام الا وقد طعن فيه طاعنون وهلك فيه هالكون وقد عقد الحافظ ابو عمر بن البر في كتاب العلم بابا في حكم قول العلماء بعضهم في بعض بدا فيه بحديث الزبير رضي الله عنه دب اليكم داء الامم قبلكم الحسد والبغضاء الحديث وروى بسنده عن ابن عباس رضي الله عنهما انه قال استمعوا كلام العلماء ولا تصدقوا بعضهم على بعض والذي نفسي بيده لهم اشد تغايرا من التيوس في زروبها وعن مالك بن دينار يؤخذ بقول العلماء والقراء الا بعضهم في بعض
এটি পাপের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এমন কোনো ইমাম (إمام) নেই যাঁর প্রতি সমালোচকরা সমালোচনা (طعن) করেনি এবং যাঁর কারণে ধ্বংসকামীরা ধ্বংস হয়নি। হাফিজ (حافظ) আবু উমর বিন আব্দুল বার তাঁর কিতাবুল ইলম গ্রন্থে আলেমদের একে অপরের সমালোচনা সংক্রান্ত বিধান (حكم) সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন। সেখানে তিনি জুবায়ের (রা.) বর্ণিত হাদিস দিয়ে শুরু করেছেন: "তোমাদের মাঝে তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ব্যাধি সঞ্চারিত হয়েছে, আর তা হলো—হিংসা ও বিদ্বেষ..." হাদিসটি। তিনি তাঁর সনদ (سند) এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন, "তোমরা আলেমদের কথা শোনো, কিন্তু একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য সত্য বলে বিশ্বাস করো না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! তারা তাদের খোঁয়াড়ে থাকা ছাগলের চেয়েও বেশি পরস্পর ঈর্ষাপরায়ণ।" মালিক বিন দিনার থেকে বর্ণিত যে, আলেম ও কারীগণের (القراء) কথা গ্রহণ করা হবে, তবে একে অপরের সমালোচনা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢١)
قلت ورايت في كتاب معين الحكام لابن عبد الرفيع من المالكية وقع في المبسوط من قول عبد الله بن وهب انه لا يجوز
আমি বললাম, এবং আমি মালিকি মাজহাবের আলেম ইবন আব্দুল রাফি-এর মুঈনুল হুক্কাম গ্রন্থে দেখেছি যে, আল-মাবসুত গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহবের বক্তব্য থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি বৈধ নয় (لا يجوز)।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٢)
شهادة القارئ على القارئ يعني العلماء لانهم اشد الناس تحاسدا وتباغضا قاله سفيان الثوري ومالك بن دينار ولعل ابن عبد البر يرى هذا ولاباس به غير انا لا ناخذ به على اطلاقه ولكن نرى ان الضابط ما نقوله من ان ثابت العدالة لا يلتفت فيه الى قول من تشهد القرائن بانه متحامل عليه اما لتعصب مذهبي او غيره يم قال ابو عمر بعد ذلك الصحيح في هذا الباب ان من ثبتت عدالته وصحت في العلم امامته وبانت ثقته وبالعلم عنايته لم يلتفت فيه الى قول احد الا ان ياتي في جرحته ببينة عدالة تصح بها جرحته على طريق الشهادات واستدل بان السلف تكلم بعضهم في بعض بكلام منه ما حمل عليه الغضب او الحسد ومنه ما دعا اليه التاويل واختلاف الاجتهاد مما لا يلزم

একজন ক্বারীর বিরুদ্ধে অন্য ক্বারীর সাক্ষ্য অর্থাৎ আলেমদের সম্পর্কে; কারণ তাঁরা একে অপরের প্রতি ঈর্ষা ও বিদ্বেষ পোষণ করার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর হতে পারেন। কথাটি সুফিয়ান আস-সাওরী এবং মালিক বিন দিনার বলেছেন। সম্ভবত ইবনে আবদিল বার-ও এই অভিমত পোষণ করেন এবং এতে কোনো দোষ নেই। তবে আমরা একে ঢালাওভাবে গ্রহণ করি না, বরং আমরা মনে করি এর মূলনীতি হলো যা আমরা বলে থাকি যে—যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রমাণিত, তার বিরুদ্ধে এমন কারো বক্তব্যের দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না যার সম্পর্কে বিভিন্ন আলামত সাক্ষ্য দেয় যে সে তার প্রতি বিদ্বেষী; হোক তা মাযহাবী গোঁড়ামির কারণে বা অন্য কোনো কারণে। অতঃপর আবু উমর এরপরে বলেন: "এই বিষয়ে সঠিক (صحيح) সিদ্ধান্ত হলো এই যে, যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সাব্যস্ত হয়েছে, ইলমের ক্ষেত্রে যার ইমামত শুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে, যার নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) সুস্পষ্ট এবং ইলমের প্রতি যার বিশেষ যত্ন সুবিদিত, তার ব্যাপারে অন্য কারো কথা গ্রহণ করা হবে না; যতক্ষণ না তার সমালোচনা (جرحة) করার ক্ষেত্রে এমন কোনো ন্যায়নিষ্ঠ প্রমাণ উপস্থাপিত হয় যার মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদানের রীতি অনুযায়ী তার দোষ (جرحة) প্রমাণিত হয়।" তিনি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যে, সালাফদের কেউ কেউ একে অপরের সম্পর্কে এমন কিছু কথা বলেছেন যা কখনো ক্রোধ বা ঈর্ষাবশত ছিল, আবার কখনো তা ভুল ব্যাখ্যা বা ইজতিহাদগত পার্থক্যের কারণে হয়েছিল, যা মেনে নেওয়া অপরিহার্য নয়।

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٣)
المقول به ما قال القائل فيه وقد حمل بعضهم على بض بالسيف تاويلا واجتهادا ثم اندفع ابن عبد البر في ذكر كلام جماعة من النظراء بعضهم في بعض وعدم الاتفات اليه لذلك الى ان انتهى الى كلام ابن معين في الشافعي وقال انه مما نقم على ابن معين وعيب به وذكر قول احمد بن حنبل من اين يعرف يحيى بن معين الشافعي هو لا يعرف الشافعي ولا يعرف ما يقول الشافعي ومن جهل شيئا عاداه قلت وقد قيل ان ابن معين لم يرد الشافعي وانما اراد ابن عمه كما سنحكيه ان شاء الله تعالى في ترجمت الاستاذ ابي منصور وبتقدير ارادته

কথিত কথা হলো যা সম্পর্কে প্রবক্তা যা বলেছেন। তাদের কেউ কেউ তো ব্যাখ্যা (تأويل) ও ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিত্তিতে একে অপরের ওপর তলোয়ার নিয়ে চড়াও হয়েছেন। অতঃপর ইবনে আবদুল বার সমসাময়িক একদল আলিমের একে অপরের সমালোচনা এবং সেই কারণে সেগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার বিষয়ে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে তিনি ইমাম শাফিয়ী সম্পর্কে ইবনে মাঈনের মন্তব্যের প্রসঙ্গে উপনীত হন এবং বলেন যে, এটি ইবনে মাঈনের সেসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যার কারণে তাঁর সমালোচনা ও দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের উক্তিটি উল্লেখ করেন: "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ইমাম শাফিয়ীকে কীভাবে চিনবেন? তিনি তো শাফিয়ীকেও চেনেন না এবং শাফিয়ী যা বলেন তাও বোঝেন না; আর মানুষ যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে, তার প্রতি সে শত্রুতা পোষণ করে।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এটিও বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে মাঈন ইমাম শাফিয়ীকে উদ্দেশ্য করেননি, বরং তিনি তাঁর চাচাতো ভাইকে উদ্দেশ্য করেছিলেন। যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ উস্তাদ আবু মনসুরের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করার সময় বর্ণনা করব; আর তাঁর এই উদ্দেশ্য ধরে নেওয়ার ভিত্তিতে...

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٤)
الشافعي فلا يلتفت اليه وهو عار عليه وقد كان في بكاء ابن معين على إجابته المامون الى القول بخلق القران وتحسره على ما فرط منه ما ينبغي ان يكون شاغلا له عن التعرض الى الامام الشافعي امام الائمة ابن عم المصطفى صلى الله عليه وسلم

ইমাম শাফেয়ী সম্পর্কে (যা বলা হয়েছে) সেদিকে লক্ষ্য করার প্রয়োজন নেই এবং এটি তাঁর (সমালোচকের) জন্য একটি কলঙ্কস্বরূপ। কুরআন সৃষ্টি (خلق القران) সংক্রান্ত মতবাদে মামুনের আহ্বানে ইবনে মাঈনের সাড়া প্রদান এবং এ বিষয়ে তাঁর যে ক্রন্দন ও কৃতকর্মের জন্য পরিতাপ ছিল, তা তাঁকে ইমামগণের ইমাম (إمام الأئمة) এবং মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই ইমাম (إمام) শাফেয়ীর সমালোচনা থেকে বিরত রাখার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত ছিল।

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ثم ذكر ابن عبد البر كلام ابن ابي ذئب وابراهيم بن سعد في مالك ابن انس قال وقد تكلم ايضا في مالك عبد العزيز بن ابي سلمة
এরপর ইবনে আব্দুল বার মালিক ইবনে আনাস সম্পর্কে ইবনে আবি জিব এবং ইব্রাহিম ইবনে সা’দ-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আব্দুল আজিজ ইবনে আবি সালামাও মালিক সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন (تكلم)।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وعبد الرحمن بن زيد بن اسلم ومحمد بن اسحاق وابن ابي يحيى وابن ابي الزناد وعابوا اشياء من مذهب وقد برا الله عز وجل مالكا عما قالوا وكان عند الله وجيها
আর আবদুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, ইবনে আবি ইয়াহিয়া এবং ইবনে আবিয যিনাদ [ইমাম মালিকের] মাজহাবের (مذهب) কিছু বিষয়ের সমালোচনা করেছেন; অথচ মহান আল্লাহ মালিককে তাদের এসব মন্তব্য থেকে পবিত্র রেখেছেন এবং তিনি আল্লাহর নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قال وما مثل من تكلم في مالك والشافعي ونظائر هما الا قال الاعشى كناطح صخرة يوما ليوهنها لم يضرها واوهى قرنه الوعل او كما قال الحسن بن حميد يا ناطه الجبل العلي ليكمله اشفق على الراس لا تشفق على الجبل ولقد احسن ابو العتاهية حيث يقول
তিনি বললেন, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ এবং তাঁদের সদৃশ ব্যক্তিবর্গের সমালোচনা (تكلم في) যারা করে, তাদের দৃষ্টান্ত আল-আ’শা-এর এই উক্তির ন্যায়: "সে তো সেই বন্য ছাগলের মতো, যে কোনো একদিন এক বিশাল শিলাখণ্ডকে দুর্বল করার অভিপ্রায়ে তাতে আঘাত হেনেছিল; কিন্তু সে শিলার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজের শিংটিই চূর্ণ করেছে।" অথবা হাসান বিন হামিদ যেমনটি বলেছেন: "হে সুউচ্চ পাহাড়কে চূর্ণ করার অভিপ্রায়ে তাতে আঘাতকারী! তুমি নিজ মস্তকের প্রতি দয়া করো, পাহাড়ের জন্য শঙ্কিত হয়ো না।" আর আবু আল-আতাহিয়া কতই না চমৎকার বলেছেন যখন তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٨)
من ذا الذي ينجو من الناس سالما وللناس قال بالظنون وقيل وقيل لابن المبارك فلان بكلم في ابي حنيفة فانشد حسدا اذ راوك ضلك الله بما فضلت به النجباء وقيل لابي عاصم النبيل فلان يتكلم في ابي حنيفة فقال هو كما قال نصيب سلمت وهل حي على الناس يسلم وقال ابو الاسود الدولي حسدوا الفتى اذ لم ينالوا سعيه فالقوم اعداء له وخصوم

কে আছে এমন যে মানুষের জিহ্বা থেকে পূর্ণরূপে নিষ্কৃতি পায়? অথচ মানুষের অভ্যাসই হলো অমূলক ধারণা ও শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করা। ইবনুল মুবারককে বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি আবু হানিফা সম্পর্কে সমালোচনা করছেন (يتكلم في); তখন তিনি এই কবিতাটি পাঠ করলেন: “তারা কেবল হিংসাবশতই এমনটি করছে, যেহেতু তারা দেখেছে আল্লাহ আপনাকে সেই শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা ধন্য করেছেন যা দ্বারা তিনি মহৎ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন।” আবু আসিম আন-নাবিলকে বলা হলো যে, অমুক ব্যক্তি আবু হানিফা সম্পর্কে সমালোচনা করছেন (يتكلم في); তিনি বললেন: বিষয়টি কবি নুসাইবের পঙক্তির মতোই— “আপনি কি নিরাপদ থাকতে পেরেছেন? মানুষের মাঝে কি কোনো জীবিত ব্যক্তি আছে যে (নিন্দা থেকে) নিরাপদ থাকে?” আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালি বলেছেন: “তারা সেই যুবকের প্রতি হিংসা পোষণ করেছে যেহেতু তারা তার মতো শ্রম ও সাধনায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি; ফলে তারা তার শত্রু ও প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٢٩)
ثم قال ابن عبد البر من اراد قبول قول العلماء الثقات بعضهم في بعض فليقبل قول الصحابة بعضهم في بعص ان فعل ذلك فقد ضل ضلالا بعيدا وخسر خسرانا مبينا قال وان لم يفعل ولن يفعل ان هداه الله والهمه رشده فليقف عندما شرطناه في ان لا يقبل في صحيح العدالة المعلوم بالعلم عنايته قول قائل لا برهان له قلت هذا كلام ابن عبد البر وهو على حسنه غير صاف من القذى والكدر فانه لم يزد فيه على قوله ان من ثبتت عدالته ومعرفته لا يقبل قول جارجه الا ببرهان وهذا قد اشار اليه العلماء جميعا حيث قالوا لا يقبل الجرح الا مفسرا فما الذي زاده ابن عبد البر عليهم وان اوما الى ان كلام النظير في النظير والعلماء بعضهم في بعض مردود مطلقا كما قدمناه عن المبسوطة فليفصح به ثم هو مما لا ينبغي ان يؤخذ هنا على اطلاقه بل لا بد من زيادة على قولهم ان الجرح مقدم على التعديل او نقصان من قولهم كلام النظير في النظير مردود والقاعدة معقودة لهذه الجملة ولم ينح ابن عبد البر فينا يظهر سواها والا لصرح بان كلام العلماء بعضهم في بعض مردود او لكان كلامه غير ميد فائدة زائدة على ما ذكره الناس ولكن عبارته على ما ترى قاصرة عن المراد فان قلت فنا العبارة الوافية بما ترون قلت ما عرفناك اولا من ان

অতঃপর ইবনে আব্দুল বার বলেন, যে ব্যক্তি একে অপরের ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য (ثقات) আলেমদের বক্তব্য গ্রহণ করতে চায়, সে যেন সাহাবীদের একে অপরের ব্যাপারে বর্ণিত বক্তব্যও গ্রহণ করে। সে যদি তা করে তবে সে সুদূর বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হবে এবং সুস্পষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন, আর যদি সে তা না করে—এবং সে কখনোই তা করবে না যদি আল্লাহ তাকে হেদায়েত দেন এবং সঠিক পথের দিশা দান করেন—তবে তাকে অবশ্যই সেই শর্তের ওপর অটল থাকতে হবে যা আমরা নির্ধারণ করেছি; তা হলো: যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সহিহ হওয়ার বিষয়টি এবং ইলমের প্রতি তার একাগ্রতা সর্বজনবিদিত, তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণহীন উক্তি গ্রহণ করা হবে না।

আমি বলি, এটি ইবনে আব্দুল বারের বক্তব্য, যা সুন্দর হওয়া সত্ত্বেও ত্রুটি ও মালিন্যমুক্ত নয়। কেননা তিনি এই কথার বাইরে নতুন কিছু যোগ করেননি যে, যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং জ্ঞান সাব্যস্ত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো দোষারোপকারীর (جارح) বক্তব্য প্রমাণ ছাড়া গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এই বিষয়ের দিকে সকল আলেমই ইঙ্গিত করেছেন যখন তারা বলেছেন: দোষারোপ (الجرح) বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংবলিত (مفسر) না হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তাহলে ইবনে আব্দুল বার তাদের বক্তব্যের ওপর অতিরিক্ত কী যোগ করলেন?

যদি তিনি এই ইঙ্গিত করে থাকেন যে, সমসাময়িকদের একে অপরের সমালোচনা এবং আলেমদের একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য ঢালাওভাবে প্রত্যাখ্যাত (مردود), যেমনটি আমরা 'আল-মাবসুতা' থেকে আগে উল্লেখ করেছি, তবে তার উচিত ছিল বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা। তাছাড়া এটি এমন বিষয় যা এখানে ঢালাওভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং তাদের এই উক্তি—যে প্রশংসার (التعديل) তুলনায় দোষারোপ (الجرح) অগ্রগণ্য (مقدم)—এর ওপর কিছু সংযোজন প্রয়োজন, অথবা তাদের এই উক্তি—যে সমসাময়িকদের একে অপরের সমালোচনা প্রত্যাখ্যাত (مردود)—তা থেকে কিছু বিয়োজন প্রয়োজন। এই বাক্যসমষ্টির ওপরই মূল নীতিটি প্রতিষ্ঠিত। ইবনে আব্দুল বারও বাহ্যত এর বাইরে অন্য কোনো পথ অবলম্বন করেননি; অন্যথায় তিনি স্পষ্টভাবে বলতেন যে, ওলামায়ে কেরামের একে অপরের সমালোচনা প্রত্যাখ্যাত (مردود), নতুবা তার এই বক্তব্যে মানুষের জানা বিষয়ের বাইরে বাড়তি কোনো উপকারিতা থাকতো না। কিন্তু তার অভিব্যক্তি, যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন, উদ্দিষ্ট অর্থ প্রকাশে অপর্যাপ্ত। আপনি যদি বলেন, তবে আপনার মতে পূর্ণাঙ্গ অভিব্যক্তিটি কী হবে? আমি বলব, যা আমরা আপনাকে প্রথমেই অবহিত করেছি যে—

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٠)
الجارح لا يقبل منه الجرح وان فسره في حق من غلبت طاعاته على معاصيه ومادحوه على ذاميه ومزكوه على جارحيه اذ كانت هناك قرينة يشهد العقل بان مثلها حامل على الوقيعة في الذي جرحه من تعصب مذهبي او منافسة دنيوية كما يكون بين النظراء او غير ذلك فنقول مثلا لا يلتفت الى كلام ابن ابي ذئب في مالك
সমালোচকের (الجارح) পক্ষ থেকে করা সমালোচনা (الجرح) গ্রহণযোগ্য হবে না, এমনকি যদি তিনি তা সবিস্তারে ব্যাখ্যাও (فسره) করেন—যদি তা এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয় যার আনুগত্য তার অবাধ্যতার ওপর এবং যার প্রশংসাকারীরা তার নিন্দাকারীদের ওপর এবং যার সততার সাক্ষ্য প্রদানকারীরা (مزكوه) তার সমালোচনাকারীদের (جارحيه) ওপর প্রবল হয়। কারণ সেখানে যদি এমন কোনো আলামত থাকে যা দেখে বিচারবুদ্ধি সাক্ষ্য দেয় যে, এ জাতীয় বিষয় সমালোচিত ব্যক্তির মানহানি বা কুৎসা রটনায় উদ্বুদ্ধ করেছে—যেমন মাযহাবগত গোঁড়ামি (تعصب مذهبي) বা পার্থিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা (منافسة دنيوية), যা সাধারণত সমসাময়িকদের (النظراء) মধ্যে হয়ে থাকে অথবা অন্য কোনো কারণ। উদাহরণস্বরূপ, আমরা বলতে পারি যে, ইমাম মালিকের ব্যাপারে ইবনে আবি যিব-এর মন্তব্যের প্রতি কোনো ভ্রূক্ষেপ করা হবে না।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وابن معين في الشافعي والنسائي في احمد بن
এবং শাফেয়ীর ব্যাপারে ইবনে মাঈন এবং আহমদ বিন-এর ব্যাপারে আন-নাসায়ী।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٤)
صالح لان هؤلاء ائمة مشهورون صار الجارح لهم كالاتي بخير غريب لو صح لتوفرت الدواعي على نقله وكان القاطع قائما على كذبه فيما
গ্রহণযোগ্য (صالح); কারণ তারা সুপ্রসিদ্ধ ইমাম, তাই তাদের প্রতি সমালোচক (الجارح) এমন ব্যক্তির ন্যায় হয়ে যায় যে কোনো এক বিরল (غريب) সংবাদ নিয়ে এসেছে। যদি তা বিশুদ্ধ (صحيح) হতো, তবে তা বর্ণনা করার পর্যাপ্ত কারণ ও উপাদান বিদ্যমান থাকতো এবং সে যা বর্ণনা করেছে তাতে তার মিথ্যাচারের (كذب) বিপরীতে অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত থাকতো।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٥)
قاله ومما ينبغي ان يتفقد عند الجرح حال العقائد واختلافها بالنسبة الى الجارح والمجروح فربما خالف الجارح المجروح في العقيدة فجره لذلك واليه اشار الرافعي بقوله وينبغي ان يكون المزكون براء من الشحناء والعصبية في المذهب خوفا من ان يحملهم ذلك على جرح عدل او تزكية فاسق وقد وقع هذا لكثير من الائمة جرحوا بناء على معتقدهم وهم المخطئون والمجروح مصيب وقد اشار شيخ الاسلام سيد المتاخرين تقي الدين ابن دقيق العيد في كتابه الاقتراح الى هذا وقال اعراض المسلمين حفرة من حفر النار

তিনি এটি বলেছেন। আর ত্রুটি নির্ণয় (الجرح) করার সময় যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা আবশ্যক তা হলো— ত্রুটি বর্ণনাকারী (الجارح) এবং যাঁর ত্রুটি বর্ণনা করা হচ্ছে (المجروح), তাঁদের উভয়ের আকিদা এবং আকিদাগত মতভেদ। কেননা অনেক সময় ত্রুটি বর্ণনাকারী (الجارح) আকিদাগত পার্থক্যের কারণে অপর পক্ষকে অভিযুক্ত (الجرح) করে থাকেন। ইমাম রাফেয়ি এ দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, যাঁরা সত্যায়নকারী হবেন, তাঁদেরকে অবশ্যই মাযহাবগত বিদ্বেষ ও গোঁড়ামি থেকে মুক্ত হতে হবে; এই আশঙ্কায় যে, পাছে এই মনোভাব তাঁদেরকে কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির ত্রুটি বর্ণনা (الجرح) করতে অথবা কোনো পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য (تزكية) বলে ঘোষণা করতে প্ররোচিত না করে। অনেক ইমামের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে যে, তাঁরা তাঁদের নিজ আকিদার ভিত্তিতে অন্যদের অভিযুক্ত (الجرح) করেছেন; অথচ এক্ষেত্রে তাঁরাই ছিলেন ভ্রান্ত এবং যাঁর ত্রুটি বর্ণনা করা হয়েছিল (المجروح), তিনিই ছিলেন সত্যনিষ্ঠ। পরবর্তী যুগের আলেমদের সর্দার শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন ইবনে দাকিক আল-ঈদ তাঁর আল-ইকতিরাহ গ্রন্থে এই প্রসঙ্গের অবতারণা করে বলেছেন, "মুসলিমদের মান-সম্মান হলো জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য হতে একটি গর্ত।"

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٦)
وقف على شفيرها طائفتان من الناس المحدثون والحاكام قلت ومن امثلة ما قدمنا قول بعضهم في البخاري تركه ابو زرعة وابو حاتم من اجل مسالة اللفظ فيالله والمسلمين ايجوز لاحد ان يقول البخاري متروك وهو حامل لواء الصانعة ومقدم اهل السنة والجماعة ثم يالله والمسلمين اتجعل ممادحه مذام فان الحق في مسالة اللفظ معه اذ لا يستريب عاقل من المخلوقين في ان تلفظه من افعاله الحادثة التي هي مخلوق لله تعالى وانما انكرها الامام احمد رضي الله عنه لبشاعة لفظها ومن ذلك قول بعض المجسمة في ابي حاتم ابن حبان لم يكن له كبيردين نحن اخرجناه من سحستان لانه انكدر الحد لله فيا ليت شعري
মানুষের দুটি দল এর দ্বারপ্রান্তে অবস্থান নিয়েছে: মুহাদ্দিসগণ এবং বিচারকগণ। আমি বলি, আমরা ইতিপূর্বে যা পেশ করেছি তার অন্যতম উদাহরণ হলো ইমাম বুখারি সম্পর্কে জনৈক ব্যক্তির উক্তি যে, আবু জুরআ এবং আবু হাতিম তাকে বর্জন করেছেন (ترك); আর এটি ছিল ‘লফজ’ (উচ্চারণ) সংক্রান্ত মাসআলার কারণে। আল্লাহর দোহাই এবং মুসলিমদের প্রতি আরজি! কারো জন্য কি এটা বলা বৈধ যে, বুখারি বর্জনীয় (متروك)? অথচ তিনি এই শাস্ত্রের পতাকাবাহী এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অগ্রপথিক। পুনরায় আল্লাহর দোহাই এবং মুসলিমদের প্রতি আরজি! আপনি কি তার প্রশংসনীয় গুণাবলিকে নিন্দনীয় বিষয়ে পরিণত করবেন? বস্তুত ‘লফজ’ সংক্রান্ত মাসআলায় সত্য তারই সপক্ষে ছিল। কেননা মাখলুকাতের মধ্যে কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, বান্দার উচ্চারণ তার নব্য সৃষ্ট কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত, যা মহান আল্লাহর সৃষ্টি। ইমাম আহমদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কেবল শব্দটির প্রয়োগগত ভয়াবহতার কারণে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর আরেকটি উদাহরণ হলো আবু হাতিম ইবনে হিব্বান সম্পর্কে জনৈক দেহবাদীর উক্তি যে: “তার তেমন বড় কোনো দ্বীনদারি ছিল না; আমরা তাকে সিজিস্তান থেকে বহিষ্কার করেছি কারণ তিনি আল্লাহর জন্য সীমা অস্বীকার করেছিলেন।” হায়! আমি যদি জানতাম...
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٧)
من احق بالاخراج من يجعل ربه محدودا او من ينزهه عن الجسمية وامثلة هذا تكثر
বহিষ্কারের (الإخراج) অধিক উপযুক্ত কে—যে তার প্রতিপালককে সীমাবদ্ধ (محدود) সাব্যস্ত করে, নাকি যে তাঁকে দেহবিশিষ্টতা (الجسمية) থেকে পবিত্র ঘোষণা করে? এ জাতীয় উদাহরণ অনেক।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٣٨)
وهذا شيخنا الذهبي رحمه الله تعالى من هذا القبيل
আর আমাদের শায়খ (شيخ) আয-যাহাবী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) এই শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٣)
له علم وديانة وعنده على اهل السنة تحامل مفرط لا يجوز ان يعتمد عليه ونقلت من خط الحافظ صلاح الدين خليل بن كيكلدي العلائي رحمه الله ما نصه الشيخ الحافظ شمس الدين الذهبي لا اشك في دينه وورعه وتحريه فيما يقول الناس ولكنه غلب عليه مذهب الاثبات ومنافرة التاويل واغفلة عن التنزيه حتى اثر ذلك في طبعه انحرافا شديدا عن اهل التنزيه وميلا قويا الى اهل الاثبات فاذا ترجم واحد منهم يطنب في وصفه بجميع ما قيل يه من المحاسن ويبالغ في وصفه ويتغافل عن غلطاته ويتأول له ما امكن واذا ذكر احدا من الطرف الاخر كامام الحرمين والغزالي ونحوهما لا يبالغ في وصفه ويكثر من قول من طعن به ويعيد ذلك ويبديه ويعتقده دينا وهو لا يشعر ويعرض عن محاسنهم الطافحة فلا يستوعبها واذا ظفر

তাঁর জ্ঞান ও ধর্মপরায়ণতা রয়েছে, তবে আহলুস সুন্নাহর একটি অংশের প্রতি তাঁর চরম বিদ্বেষ ও পক্ষপাতিত্ব বিদ্যমান, যার ফলে তাঁর ওপর নির্ভর করা সমীচীন নয়। আমি হাফিজ (حافظ) সালাহ উদ্দিন খলিল বিন কায়কালদি আল-আলাই (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নিম্নোক্ত পাঠটি নকল করেছি: "শায়খ হাফিজ (حافظ) শামসুদ্দিন আয-যাহাবি—আমি তাঁর দ্বীনদারি, পরহেজগারী এবং মানুষের বিষয়ে তিনি যা বলেন, সেই বক্তব্যের সত্যাসত্য যাচাইয়ের (تحري) ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না। কিন্তু তাঁর ওপর গুণাবলি সাব্যস্তকরণের মাযহাব এবং ব্যাখ্যাকরণ বর্জনের প্রবণতা প্রবল ছিল। মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করার বিষয়টি তাঁর নিকট উপেক্ষিত ছিল, যা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যে পবিত্রতা ঘোষণাকারীদের প্রতি চরম বিমুখতা এবং গুণাবলি সাব্যস্তকারীদের প্রতি প্রবল অনুরাগের সৃষ্টি করেছিল। ফলে যখন তিনি তাঁদের মধ্য থেকে কারো জীবনী (ترجمة) তুলে ধরেন, তখন তিনি তাঁর প্রশংসায় বর্ণিত সকল গুণাবলি অতিশয়োক্তিসহ উল্লেখ করেন, তাঁর বর্ণনায় বাড়াবাড়ি করেন, তাঁর ভুলত্রুটিগুলো এড়িয়ে যান এবং সাধ্যমতো সেগুলোর অনুকূলে ব্যাখ্যা দাঁড় করান। পক্ষান্তরে, যখন তিনি অপর পক্ষের কাউকে উল্লেখ করেন—যেমন ইমামুল হারামাইন, আল-গাযালি এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ—তখন তিনি তাঁদের গুণকীর্তনে কোনো বাড়াবাড়ি করেন না। বরং যাঁরা তাঁদের সমালোচনা করেছেন, তাঁদের উক্তিগুলোই তিনি অধিক হারে উল্লেখ করেন এবং সেগুলো বারবার উপস্থাপন ও প্রকাশ করেন; এমনকি অবচেতনভাবেই একে তিনি দ্বীনি দায়িত্ব বলে বিশ্বাস করেন। তিনি তাঁদের সুমহান গুণাবলি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন এবং সেগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন না। আর যখন তিনি কোনো দোষ খুঁজে পান..."

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٤)
لاحد منهم بغلطة ذكرها وكذلك فعله في اهل عصرنا اذا لم يقدر على احد منهم بتصريح يقول في ترجمته والله يصلحه ونحو ذلك وسببه المخالفة في العقائد انتهى والحال في حق شيخنا الذهبي أزيد مما وصف وهو شيخنا ومعلمنا غير ان الحق احق ان يتبع وقد وصل من التعصب المفرط الى حد يسخر منه وانا اخشى عليه يوم القيام من غالب علماء المسلمين وائمتهم الذين حملوا لنا الشريعة النبوية فان غالبهم علماء المسلمين وائمتهم الذين حملوا لنا الشريعة النبوية فان غالبهم اشاعرة وهو اذا وقع باشعري لا يبقى ولا يذر والذي اعتقده انهم خصماؤه يوم القيامة عند من لعل ادناهم عنده اوجه منه فالله المسئول ان يخفف عنه وان يلهمهم العفو عنه وان يشفعهم فيه (*)

 

والذي ادركنا عليه المشايخ النهى عن النظر في كلامه وعدم اعتبار قوله ولم يكن يستجري ان يظهر كتبه التاريخية الا لمن يغلب على ظنه انه لا ينقل عنه ما يعاقب عليه

--------------------------------------------

(*) قال محقق الكتاب: ما عاب به شيخه الإمام شمس الدين الذهبي وقاله فيه - رحمهما الله تعالى - لا يخلو من مبالغة وتحامل بسبب المخالفة في العقيدة أيضا، نسأل الله أن يرزقنا العدل في الرضا والغضب. . . .
তাদের কারো কোনো ভুলের কারণে তিনি তা উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তিনি আমাদের সমসাময়িকদের ক্ষেত্রেও করেন; যখন তিনি কারো সম্পর্কে স্পষ্টভাবে (تصريح) সমালোচনা করতে সক্ষম হন না, তখন তাঁর জীবনী আলোচনায় (ترجمة) বলেন, "আল্লাহ তাঁকে সংশোধন করুন" এবং এই জাতীয় কথা। এর কারণ হলো আকিদাগত মতভেদ। সমাপ্ত। আমাদের শায়খ আয-যাহাবীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বর্ণিত বর্ণনার চেয়েও অধিক। তিনি আমাদের শায়খ এবং আমাদের শিক্ষক, তবে সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। তিনি চরম গোঁড়ামির এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যা উপহাসের যোগ্য। আমি কিয়ামতের দিন মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ আলেম ও ইমামদের পক্ষ থেকে তাঁর ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করছি, যাঁরা আমাদের কাছে নববী শরিয়ত বহন করে নিয়ে এসেছেন; কেননা তাঁদের অধিকাংশ ছিলেন মুসলিম উম্মাহর আলেম ও ইমাম যাঁরা আমাদের নিকট নববী শরিয়ত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন আশআরি। তিনি যখন কোনো আশআরি ব্যক্তির মুখোমুখি হন, তখন তিনি কোনো কিছুই ছাড় দেন না। আমি বিশ্বাস করি যে, কিয়ামতের দিন তাঁরা আল্লাহর দরবারে তাঁর প্রতিপক্ষ হবেন, যেখানে সম্ভবত তাঁদের মাঝে সর্বনিম্ন স্তরের ব্যক্তিটিও আল্লাহর নিকট তাঁর চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি তাঁর শাস্তি লাঘব করেন, তাঁদেরকে ক্ষমা করার প্রেরণা দান করেন এবং তাঁর ব্যাপারে তাঁদের সুপারিশ কবুল করেন।(*)

 

আমরা আমাদের শায়খদের কাছ থেকে যা পেয়েছি তা হলো—তাঁর কথা দেখা থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য মনে না করা। তিনি তাঁর ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থগুলো প্রকাশ করার সাহস করতেন না, কেবল তাঁদের কাছেই প্রকাশ করতেন যাঁদের সম্পর্কে তিনি প্রবল ধারণা পোষণ করতেন যে, তাঁরা তাঁর কাছ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করবেন না যার জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হতে পারে।

--------------------------------------------

(*) গ্রন্থের মুহাক্কিক (محقق) বলেছেন: তিনি তাঁর শায়খ ইমাম শামসুদ্দিন আয-যাহাবীর যে সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে যা বলেছেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন—তা আকিদাগত পার্থক্যের কারণে অতিশয়োক্তি ও পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে মুক্ত নয়। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের সন্তুষ্টি ও ক্রোধ উভয় অবস্থায় ন্যায়পরায়ণতা দান করেন। . . .
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٥)
واما قول العلائي لا اشك في دينه وورعه وتحريه فيما يقوله فقد كنت اعتقد ذلك واقول عند هذه الاشياء انه ربما اعتقدها دينا ومنها امور اقطع بانه يعرفها بانها كذب واقطع بانه لا يختلقها واقطع بانه يحب وضعها في كتبه لتنشر واقطع بانه يحب ان بعتقد سامعها صحتها بغضا للمتحد فيه وتنفيرا للناس عنه مع قلة معرفته بمدلولات الالفاظ ومع عدم ممارسته لعلوم الشريعة غير اني لما اكثرت بعد موته النظر في كلامه عند الاحتياج الى النظر فيه توقت في تحريه فيما يقوله ولا ازيد على هذا غير االاحالة على كلامه لينظر كلامه من شاء ثم يبصر هل الرجل متحر عند غضبه او غير متحر واعني بغضبه وقت ترجمته لواحد من علماء المذاهب الثلاثة المشهورين من الحنفية والمالكية والشافعية فاني اعتقد ان الرجل كان اذا مد القلم لترجمة احدهم غضب غضبا مفرطا ثم قرطم الكلام ومزقه وفعل من التعصب ما لا يخفى على ذي بصيرة ثم هو مع ذلك غير خبير بمدلولات الالفاظ كما ينبغي ربما ذكر لفظة من الذم لو عقل معناها لما نطق لما بها (*) ودائما اتعجب من ذكره الامام

--------------------------------------------

(*) قال محقق الكتاب: فيه مبالغة طافحة، وتحامل مكشوف! ومتى كان هذا الإمام الفذ الفريد الصاعقة في الحفظ والذكاء والفهم ولمعان الذهن، المِدْرَهُ: (لا يَعقل ما ينطق به) نسأل الله السلامة من الشطط وسوء الأدب
আলায়িয়্যির বক্তব্যের ব্যাপারে—যে তিনি তার ধর্মপ্রাণতা, খোদাভীতি এবং তার বক্তব্যের সত্যতা অনুসন্ধানের (تحري) ব্যাপারে কোনো সন্দেহ পোষণ করেন না—আমিও একসময় তাই বিশ্বাস করতাম এবং এসব ক্ষেত্রে বলতাম যে, সম্ভবত তিনি একে ধর্মীয় কর্তব্য মনে করেছেন। এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত যে তিনি জানেন সেগুলো মিথ্যা (كذب), আবার এটাও নিশ্চিত যে তিনি নিজে সেগুলো জাল (يختلق) করেননি। আমি নিশ্চিত যে তিনি এগুলো তার কিতাবসমূহে অন্তর্ভুক্ত করা পছন্দ করতেন যেন তা প্রচারিত হয়, এবং আমি নিশ্চিত যে তিনি চাইতেন যেন শ্রোতারা যার বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে তার প্রতি বিদ্বেষবশত এবং মানুষকে তার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সেগুলোর বিশুদ্ধতাকে (صحة) বিশ্বাস করে। এর সাথে শব্দের তাৎপর্য সম্পর্কে তার জ্ঞান ছিল সীমিত এবং শরিয়াহর জ্ঞানসমূহেও তার পর্যাপ্ত চর্চা ছিল না। তবে তার মৃত্যুর পর যখন আমি প্রয়োজনে বারবার তার বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম, তখন তার বক্তব্যের সত্যতা অনুসন্ধানের (تحري) ব্যাপারে আমি দ্বিধান্বিত হলাম। আমি এর অতিরিক্ত আর কিছু বলব না, কেবল তার বক্তব্যের প্রতিই উদ্ধৃতি প্রদান করছি যেন যে কেউ তার কথাগুলো দেখতে পারে এবং অনুধাবন করতে পারে যে, এই ব্যক্তি ক্রোধের সময় সত্যতা অনুসন্ধানে নির্ভুল (متحر) থাকেন কি না। আর আমি ক্রোধ বলতে হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ি—এই তিন প্রসিদ্ধ মাযহাবের কোনো আলেমের জীবনী (ترجمة) রচনার সময়কে বোঝাচ্ছি। কারণ আমার বিশ্বাস, এই ব্যক্তি যখন তাদের কারো জীবনী (ترجمة) লেখার জন্য কলম ধরতেন, তখন তিনি প্রচণ্ড ক্রোধান্বিত হতেন, তারপর কথা কাটছাঁট ও ছিন্নভিন্ন করতেন এবং এমন গোঁড়ামি (تعصب) প্রদর্শন করতেন যা কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছে গোপন থাকে না। তদুপরি, তিনি শব্দের তাৎপর্য সম্পর্কে যথাযথ অভিজ্ঞ ছিলেন না; সম্ভবত তিনি এমন নিন্দাসূচক (ذم) শব্দ উল্লেখ করতেন যে, যদি তিনি এর মর্ম বুঝতেন তবে তা উচ্চারণ করতেন না। (*) এবং আমি সর্বদা ইমামকে তাঁর উল্লেখ করার বিষয়ে বিস্ময়বোধ করি

--------------------------------------------

(*) কিতাবের মুহাক্কিক (محقق) বলেছেন: এতে চরম অতিরঞ্জন এবং স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব রয়েছে! মুখস্থ শক্তি, প্রজ্ঞা, বোধশক্তি এবং তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী এই অনন্য ও ক্ষুরধার ইমাম কখন এমন ছিলেন যে তিনি ‘কী বলছেন তা বুঝতেন না’? আমরা সীমা লঙ্ঘন ও বেয়াদবি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٦)
فخر الدين الرازي في كتاب الميزان في الضعفاء وكذلك السيف الامدي واقول يا لله العجب هذان لا رواية لهما ولا جرحهما احد ولا سمع من احد انه ضعفهما فيما ينقلانه من علومهما أي مدخل لهما في هذا الكتاب (*) ثم انا لم نسمع احدا سمى الامام فخر الدين بالفخر بل اما الامام واما ابن الخطيب واذا ترجم كان من المحمدين فجعله في حرف الفاء وسماه الفخر ثم حلف في اخر الكتاب انه لم يتعمد فيه هوى نفسه فاي هوى نفس اعظم من هذا فاما ان يكون ورى في يمينه او استثنى غير الرواة فيقال له لم ذكرت غيرهم واما ان يكون اعتقد ان هذا ليس هوى نفس واذا وصل الى هذا الحد والعياذ بالله فهو مطبوع على قلبه (**) ولنعد الى ما كنا بصدده فنقول

--------------------------------------------

(*) قال محقق الكتاب: صحيح اَن أَصل الكتاب: "ميزان الاعتدال" بني على نَقد الرواة من حَمَلة الأثار، ولكنْ العلماءَ- بصرف النظر عن الفخر الرازي والسيف الآمدي- الذين وقع منهم ما ينتقد في سيرتهم أوعقيدتهم، ولا رواية لهم، هل يؤاخذ الذهبى رحمه الله نعالى إذا تَرجم لهم بما هم عليه، ليعرَفوا لمن بعدهم؟ وقانا الله العصبية لغير الحق وأَهله.

(**) قال محقق الكتاب: لقد أَسرف الشيخ تاج الدين في حق شيخه الإمام شمس الدين الذهبي- لقباً ومعنى، وبالغَ حتى أَفرط! ومال حتى قسط! ووقع في الشطط والغلط! وكيف ساغ له التعبير بهذه الكلمة الكبيرة؟ وإنها لكبيرة. وإذا كان الإمام شمى الدين الذهبي (مطبوعا على قلبه) وحاشاه من ذلك، فمن الذي أَعاذه الله من (الطبع على قلبه) ؟ نسأل الله العدل في الرضا والغضب، والعافية من الإفراط والتفريط. . .
ফখর উদ্দিন আল-রাজি এবং সাইফ উদ্দিন আল-আমিদিকে দুর্বলদের (الضعفاء) বিষয়ক গ্রন্থ ‘মিজান’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি বলি, আল্লাহর কসম! এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়। তাদের দুজনের কোনো রওয়ায়াত (رواية) নেই, আর কেউ তাদের আহত (جرحهما) বা সমালোচিত করেননি। এমনকি কেউ তাদের নিজ নিজ শাস্ত্রীয় জ্ঞানের বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন (ضعفهما) বলেও শোনা যায়নি। তবে এই গ্রন্থে তাদের অন্তর্ভুক্তির কী কারণ থাকতে পারে? এরপর আমি কাউকে ইমাম ফখর উদ্দিনকে ‘আল-ফখর’ নামে ডাকতে শুনিনি; বরং তাকে হয় ‘আল-ইমাম’ নয়তো ‘ইবনুল খাতিব’ বলা হয়। জীবনী রচনার ক্ষেত্রে তাকে ‘মুহাম্মদ’ নামীয় ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল, কিন্তু তিনি (আল-জাহাবি) তাকে ‘ফা’ বর্ণের অধীনে উল্লেখ করেছেন এবং ‘আল-ফখর’ নাম দিয়েছেন। অতঃপর তিনি গ্রন্থের শেষে শপথ করেছেন যে, তিনি এতে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ (هوى نفسه) করেননি। এর চেয়ে বড় প্রবৃত্তির অনুসরণ (هوى نفسه) আর কী হতে পারে? হয় তিনি তার শপথে দ্ব্যর্থবোধকতা করেছেন অথবা বর্ণনাকারীগণ (الرواة) ব্যতীত অন্যদের এর বাইরে রেখেছেন। সেক্ষেত্রে তাকে প্রশ্ন করা যায় যে, তবে কেন আপনি অন্যদের কথা উল্লেখ করলেন? অথবা তিনি হয়তো বিশ্বাস করেছেন যে এটি প্রবৃত্তির অনুসরণ (هوى نفسه) নয়। আর যদি বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছে যায়—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—তবে তার অন্তর মোহরকৃত (مطبوع على قلبه)। আমরা যা আলোচনা করছিলাম সেদিকে ফিরে আসি এবং বলি...

--------------------------------------------

(*) গ্রন্থের মুহাক্কিক বা গবেষক বলেছেন: এটি সত্য যে, ‘মিজানুল ইতিদাল’ গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো আসারের বাহক বর্ণনাকারীদের (الرواة) সমালোচনা (نقد) করা। কিন্তু সেই সকল আলেম—ফখর আল-রাজি ও সাইফ আল-আমিদি বাদে—যাদের জীবনচরিত বা আকিদাহ (عقيدتهم) নিয়ে সমালোচনা রয়েছে এবং যাদের কোনো রওয়ায়াত (رواية) নেই, ইমাম আল-জাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) যদি তাদের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্য জীবনী উল্লেখ করেন যাতে পরবর্তী প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানতে পারে, তবে কি তাকে দোষারোপ করা যায়? আল্লাহ আমাদের সত্য ও সত্যপন্থীদের বাদ দিয়ে অন্ধপক্ষপাত (العصبية) থেকে রক্ষা করুন।

(**) গ্রন্থের মুহাক্কিক বা গবেষক বলেছেন: শেখ তাজ উদ্দিন তার উস্তাদ ইমাম শামস উদ্দিন আল-জাহাবির ক্ষেত্রে উপাধি ও অর্থ—উভয় দিক থেকেই বাড়াবাড়ি করেছেন এবং সীমা লঙ্ঘন করেছেন! তিনি সত্য বিচ্যুত হয়ে অবিচার করেছেন এবং ভুল ও বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন। তার জন্য এই ধরনের কঠোর শব্দ ব্যবহার করা কীভাবে বৈধ হলো? এটি সত্যিই একটি গুরুতর কথা। যদি ইমাম শামস উদ্দিন আল-জাহাবির অন্তর মোহরকৃত (مطبوعا على قلبه) হয়—আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করুন—তবে এমন কে আছে যাকে আল্লাহ অন্তর মোহর হওয়া (الطبع على قلبه) থেকে রক্ষা করেছেন? আমরা সন্তুষ্টি ও ক্রোধ উভয় অবস্থায় আল্লাহর কাছে ইনসাফ কামনা করি এবং অতিশয়তা ও অবহেলা থেকে মুক্তি চাই। . . .
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٧)
فان قلت قولكم لا بد من تفقد حال العقائد هل تعنون به انه لا يقبل قول مخالف عقيدة فيمن خالفه مطلقا سواء السني على المبتدع وعكسه او غير ذلك قلت هذا مكان معضل يجب على طالب التحقيق التوقف عنده لفهم ما يلقى عليه وان لا يبادر لانكار شيء قبل التامل فيه واعلم انا عندنا ما هو اعم من ذلك ولسنا نقول لا تقيل شهادة السني على المبتدع مطلقا معاذ الله ولكن نقول من شهد على اخر وهو مخالف له في العقيدة واوجبت مخالفته له في العقيدة ريبة عند الحاكم المتبصر لا يجدها اذا كانت الشهادة صادرة من غير تخالف في العقيدة ولا ينكر ذلك الا فدم اخرق ثم المشهود يه يختلف باختلاف الاحوال والغراض فربما وضح
আপনি যদি বলেন, "আকিদাগত অবস্থা তদারকি করা অপরিহার্য"—এই কথা দ্বারা কি আপনারা এটি বুঝাতে চাচ্ছেন যে, আকিদাগত বিরোধীর বক্তব্য তার বিরুদ্ধবাদীর বিরুদ্ধে নিঃশর্তভাবে গৃহীত হবে না? চাই তা বিদআতি (مبتدع)-এর বিরুদ্ধে সুন্নির সাক্ষ্য (شهادة) হোক কিংবা এর বিপরীত অথবা অন্য কিছু? আমি বলব, এটি একটি জটিল বিষয়; তত্ত্বানুসন্ধানী শিক্ষার্থীর উচিত এখানে থামা, যেন সে তার সামনে উপস্থাপিত বিষয়গুলো বুঝতে পারে এবং পর্যাপ্ত চিন্তাভাবনা ব্যতিরেকে কোনো কিছু অস্বীকার করতে তাড়াহুড়ো না করে। জেনে রাখুন, আমাদের কাছে বিষয়টি এর চেয়েও ব্যাপক। আমরা এটি বলি না যে, বিদআতি (مبتدع)-এর বিরুদ্ধে সুন্নির সাক্ষ্য (شهادة) নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করা হবে না; আল্লাহর পানাহ! বরং আমরা বলি, যে ব্যক্তি তার আকিদাগত বিরোধীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য (شهادة) দেয় এবং এই আকিদাগত বিরোধ যদি কোনো বিচক্ষণ বিচারকের মনে এমন কোনো সন্দেহ (ريبة) উদ্রেক করে, যা আকিদাগত মিল থাকলে তৈরি হতো না (তবেই তা বিচার্য)। জ্ঞানহীন নির্বোধ ছাড়া কেউ এটি অস্বীকার করবে না। তদুপরি, যে বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করা হচ্ছে তা বিভিন্ন অবস্থা ও লক্ষ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়; ফলে কখনও তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٨)
غرض الشهادة على المشهود عليه ايضاحا لا يخفى على احد وذلك لقربه من نصر معتقده او ما اشبه ذلك وربما دق وغمض بحيث لا يدركه الا الفطن من الحكام ورب شاهد من اهل السنة ساذج قد مقت المبتدع مقتا زائدا على ما يطلبه الله منه واساء الظن به اساءة او جبت له ما يبلغه عنه فبلغه عنه شيء فغلب على ظنه صدقه لما قدمناه فشهد به فسبيل الحاكم التوقف في مثل هذا الى ان يتبين له الحال فيه وسبيل الشاهد الورع لو كان من اصلب اهل السنة ان يعرض على نفسه ما نقل له عن هذا المبتدع وقد صدق وعزم على ان يشهد عليه به ان يعرض على نفسه مثل هذا الخبر بعينه وهذا المخبر بعينه لو كان عن شخص من اهل عقيدته هل كان يصدقه وبتقدير انه كان يصدقه هل كان يبادر الى الشهادة عليه به وبتقديري انه كان يادر ليوازن ما بين المبادرتين فان وجدهما سواء فدونه والا فليعلم ان حظ النفس داخله وازيد من ذلك ان الشيطان استولى عليه فخيل له ان هذه قربة وقيام في نصر الحق وليعلم من هذه سبيله انه اتي من جهل وقلة دين وهذا قولنا في سني يجرح مبتدعا فما الظن بمبتدع يجرح سني كما قدمناه وفي المبتدعة لا سيما المجسمة زيادة لا توجد في غيرهم وهو انهم يرون الكذب لنصرة مذهبهم والشهادة على من يخالفهم في العقيدة بما في نفسه وماله بالكذب تأييدا لاعتقادهم ويزداد حنقهم وتقربهم الى الله بالكذب عليه بمقدار زيادته في النيل منهم فهؤلاء لا يحل لمسلم ان يعتبر كلامهم فان قلت اليس ان الصحيح في المذهب قبول شهادة المبتدع اذا لم نكفره قلت قبول شهادته لا يوجب دفع الريبة عند شهادته على مخالفه في

কারও বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদানের উদ্দেশ্য হলো বিষয়টি এমনভাবে স্পষ্ট করা যা কারো কাছে অস্পষ্ট না থাকে। কারণ এটি স্বীয় আকিদাকে বিজয়ী করার বা অনুরূপ কোনো বিষয়ের নিকটবর্তী। কখনও কখনও বিষয়টি এত সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট হয় যে, বিজ্ঞ বিচারক ব্যতীত কেউ তা অনুধাবন করতে পারে না। আহলে সুন্নাতের অনেক সরলমনা সাক্ষী এমন হতে পারেন যারা বিদআতী (مبتدع)-কে আল্লাহর সন্তুষ্টির সীমার চেয়েও বেশি ঘৃণা করেন এবং তার প্রতি চরম কুধারণা পোষণ করেন। এর ফলে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো সংবাদ পৌঁছালে তিনি আমাদের পূর্বোক্ত কারণে সেটিকে সত্য বলে প্রবল ধারণা করেন এবং সেই অনুযায়ী সাক্ষ্য দেন। এমতাবস্থায় বিচারকের দায়িত্ব হলো বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকা। আর সেই পরহেজগার সাক্ষীর দায়িত্ব হলো—তিনি আহলে সুন্নাতের যতই কট্টর অনুসারী হোন না কেন—বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তি সম্পর্কে যে সংবাদ তার কাছে পৌঁছেছে এবং যার ভিত্তিতে তিনি সাক্ষ্য দেওয়ার সংকল্প করেছেন, তা নিজের বিবেকের কাছে এভাবে পেশ করা: যদি এই একই সংবাদ এবং এই একই সংবাদবাহক তার নিজ আকিদার কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে হতো, তবে কি তিনি তাকে বিশ্বাস করতেন? যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় যে তিনি তাকে বিশ্বাস করতেন, তবে কি তিনি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ক্ষিপ্রতা প্রদর্শন করতেন? তিনি উভয় অবস্থার মধ্যে তুলনা করবেন। যদি উভয়কে সমান পান, তবে তিনি অগ্রসর হতে পারেন; অন্যথায় তাকে জেনে নিতে হবে যে এখানে নফসের খাহেশ সক্রিয় রয়েছে। এর চেয়েও বড় কথা হলো শয়তান তাকে প্ররোচিত করেছে এবং তার কাছে এটিকে একটি পুণ্যময় কাজ ও সত্যের সাহায্যকারী কাজ হিসেবে চিত্রায়িত করেছে। যার অবস্থা এমন, তার জানা উচিত যে এটি তার অজ্ঞতা ও দ্বীনদারির স্বল্পতার ফসল। একজন সুন্নী যখন কোনো বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তির অযোগ্যতা বর্ণনা (يجرح) করেন তখন যদি আমাদের বক্তব্য এটি হয়, তবে একজন বিদআতী (مبتدع) যখন কোনো সুন্নী ব্যক্তির অযোগ্যতা বর্ণনা (يجرح) করে তখন পরিস্থিতি কী হবে তা বলাই বাহুল্য। বিদআতীদের মধ্যে বিশেষ করে দেহবাদী (مجسمة) ফেরকার অনুসারীদের মাঝে এমন অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যদের মধ্যে পাওয়া যায় না। তা হলো, তারা নিজেদের মাযহাবের সমর্থনে মিথ্যা বলা এবং আকিদাগত বিরোধীদের জান ও মালের ক্ষতি করতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়াকে তাদের আকিদারই অংশ মনে করে। তাদের ক্রোধ যত বৃদ্ধি পায়, বিরোধীদের অপদস্থ করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টাও তত বেড়ে যায়। সুতরাং এদের কথা গ্রহণ করা কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। আপনি যদি প্রশ্ন করেন যে, মাযহাবের বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী কি বিদআতী (مبتدع) ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় যদি আমরা তাকে কাফির না বলি? আমি বলব, তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তার মতাদর্শের বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রদানের সময় তার প্রতি বিদ্যমান সংশয় দূরীভূত হয়ে যাবে।

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٤٩)
العقيدة والريبة توجب الفحص والتكشف والتثبت وهذه امور تظهر الحق ان شاء الله تعالى اذا اعتمدت على ما ينبغي وفي تعليقة القاضي حسين لا يجوز ان يبغض الرجل لانه من مذهب كذا فان ذلك يوجب رد الشهادة انتهى ومراده لانه مذهب من المذاهب المقبولة اما اذا ابغضه لكونه مبتدعا فلا ترد شهادته واعلم ان ما ذكرناه من قبول شهادة المبتدع هو ما صححه النووي وهو مصادم لنص الشافعي على عدم قبول شهادة الخطابية وهو طريقة الاصحاب واصحاب هذه الطريقة يقولون لو شهد خطابي وذكر في شهادته ما يقطع احتمال الاعتماد على قول المدعي بان قال سمعت فلانا يقر بكذا لفلان او رايته افرض قبلت شهادته وهذا منهم بناء على ان الخطابي يرى جواز الشهادة لصاحبه اذا سمعه يقول لي فلان كذا صدقه واليه اشار الشافعي وقد تزايد الحال بالخطابية وهم المجسمة في زمان هذا صاروا يرون الكذب على مخالفيهم في العقيدة لا سيما القائم عليهم بكل ما يسوءه في نفسه وماله وبلغني ان كبيرهم استفتى في شافعي ايشهد عليه بالكذب فقال الست تعتقد ان دمه حلال قال نعم قال فما دون ذلك دون دمه فاشهد وادفع فساده عن المسلمين هذه عقيدتهم وبرون انهم المسلمون وانهم اهل السنة ولو عدوا عددا لما بلغ علماؤهم ولا عالم فيهم على الحقيقة مبلغا يعتبر ويكفرون غالب علماء الامة ثم يعتزرون الى الامام احمد بن حنبل رضي الله عنه وهو منهم بريء ولكنه كما قال بعض العارفين ورايته بخط الشيخ تقي الدين ابن الصلاح امامان ابتلاهما الله باصحابهما وهما بريئان منهم احمد بن حنبل ابتلي بالمجسمة وجعفر الصادق ابتلي بالرافضة

আকিদা (العقيدة) এবং সন্দেহ কোনো বিষয়ে তদন্ত, উন্মোচন এবং সত্যতা যাচাই (التثبت) করাকে আবশ্যক করে তোলে; আর এই বিষয়গুলো আল্লাহ তাআলা চাইলে সত্যকে প্রকাশ করে দেয়, যদি যথাযথ বিষয়ের ওপর নির্ভর করা হয়। কাজি হুসাইনের 'তালিকাহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে কেবল অমুক মাজহাবের অনুসারী হওয়ার কারণে ঘৃণা করা জায়েজ নয়; কারণ এটি সাক্ষ্য (الشهادة) প্রত্যাখ্যানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (সমাপ্ত)। তার উদ্দেশ্য হলো, সেটি যদি গ্রহণযোগ্য মাজহাবগুলোর কোনোটি হয়। পক্ষান্তরে, যদি তাকে বিদয়াতি (مبتدع) হওয়ার কারণে ঘৃণা করা হয়, তবে তার সাক্ষ্য (الشهادة) প্রত্যাখ্যান করা হবে না। জেনে রাখুন, বিদয়াতিদের (مبتدع) সাক্ষ্য (الشهادة) কবুল করার বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তা ইমাম নববী বিশুদ্ধ (صححه) বলে গণ্য করেছেন। তবে এটি খাত্তাবিয়া (الخطابية) সম্প্রদায়ের সাক্ষ্য (الشهادة) কবুল না করার বিষয়ে ইমাম শাফেয়ির সুস্পষ্ট বক্তব্যের পরিপন্থী, যা তার অনুসারীদের অনুসৃত পথ। এই পথের অনুসারীরা বলেন যে, যদি কোনো খাত্তাবিয়া (الخطابية) ব্যক্তি সাক্ষ্য (الشهادة) দেয় এবং তার সাক্ষ্যে এমন বিষয় উল্লেখ করে যা কেবল বাদীর কথার ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনাকে সমূলে বিনাশ করে—যেমন সে বলল, "আমি অমুককে অমুকের জন্য এত কিছুর স্বীকৃতি দিতে শুনেছি" অথবা "আমি তাকে তা করতে দেখেছি"—তবে তার সাক্ষ্য (الشهادة) কবুল করা হবে। তাদের এই মতের ভিত্তি হলো, খাত্তাবিয়া (الخطابية) সম্প্রদায় তাদের সঙ্গীদের অনুকূলে সাক্ষ্য (الشهادة) দেওয়া জায়েজ মনে করে যখন সে তাকে বলতে শোনে যে, "অমুকের কাছে আমার অমুক পাওনা আছে" এবং সে তাকে সত্যবাদী মনে করে; ইমাম শাফেয়ি এই দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। বর্তমানে খাত্তাবিয়াদের অবস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা হলো এই সময়ের মুজাসসিমা (المجسمة)। তারা আকিদা (العقيدة) বিষয়ে তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা (الكذب) বলা জায়েজ মনে করে, বিশেষ করে তাদের বিরুদ্ধে যারা তাদের জান ও মালের ক্ষতি হতে পারে এমন সব বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করে। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তাদের একজন বড় নেতাকে কোনো এক শাফেয়ি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা (الكذب) সাক্ষ্য (الشهادة) দেওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। সে বলল, "তুমি কি বিশ্বাস করো না যে তার রক্ত হালাল?" সে উত্তর দিল, "হ্যাঁ।" তখন সে বলল, "রক্তের চেয়ে নিম্নতর বিষয়গুলো তো রক্তের চেয়েও তুচ্ছ; সুতরাং তুমি সাক্ষ্য (الشهادة) দাও এবং মুসলমানদের থেকে তার অনিষ্ট দূর করো।" এটিই তাদের আকিদা (العقيدة), এবং তারা নিজেদের মুসলিম ও আহলে সুন্নাত (اهل السنة) বলে মনে করে। অথচ তাদের সংখ্যা গণনা করা হলেও দেখা যাবে যে, তাদের আলেমদের মধ্যে অথবা তাদের মাঝে বাস্তবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো কোনো আলেম নেই; বরং তারা উম্মাহর অধিকাংশ আলেমকে কাফির ঘোষণা (يكفرون) করে। অতঃপর তারা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর দোহাই দেয়, অথচ তিনি তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। বিষয়টি এমন, যেমনটি কোনো কোনো আরিফ (عارف) ব্যক্তি বলেছেন—যা আমি শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনুস সালাহ-এর হস্তলিপিতে দেখেছি—"আল্লাহ তাআলা দুইজন ইমামকে তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলেছেন, অথচ তারা উভয়েই তাদের থেকে মুক্ত; আহমাদ বিন হাম্বল মুজাসসিমা (المجسمة) দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছেন এবং জাফর আস-সাদিক রাফেজি (الرافضة) দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছেন।"

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٥٠)
ثم هذا الذي ذكرناه هو على طريقة النووي رحمه الله والذي اراه ان لا تقبل شهادته على سني فان قلت هل هذا راي الشيخ ابي حامد ومن تابعه ان اهل الاهواء كلهم لا تقبل لهم الشهادة قلت لا بل هذا قول بان شهادتهم على مخالفيهم في العقيدة غير مقبولة ولو كان مخالفهم في العقيدة مبتدعا وهذا لا اعتقد ان النووي ولا غيره يخالف فيه والذي قاله النووي قبول شهادة المبتدع اذا لم نكفره على الجملة اما ان شهادته تقبل بالنسبة الى مخالفه في العقيدة مع ما هنالك من الريبة لم يقل النووي وفى غيره ذلك فان قلت غاية المخالة في العقيدة ان توجب عداوة وهي دينية لا توجب رد الشهادة قلت انما لا توجب رد الشهادة من المحق على المبطل كما قال الاصحاب تقبل شهادة السني على المبتدع وكذا من ابغض الفاسق لفسقه ثم ساعرفك ما فيه واما عكسه وهو المبتدع على السني فلم يقله احد من اصحابنا ثم اقول فيما ذكره الاصحاب من قبول شهادة السني على المبتدع انما ذلك قي سني لم يصل في حق المبتدع وبغضه له لي ان يصير عنده حظ نفس قد يحمله على التعصب عليه وكذا الشاهد على الفاسق فمن وصل من السني والشاهد على الفاسق الى هذا الحد لم اقبل شهادته عليه لان عندهما زيادة على ما طلبه الشارع منهما اوجبت عندي الريبة في امرهما فكم من شاهد رايته يبغض انسانا ويشهد عليه بالفسق تدينا وجاءني وادى الشهادة عندي باكيا وقت تاديته الشهادة الدين فرقا خائفا يخسف بالمسلمين لوجود المشهود عليه بين اظهرنا

অতঃপর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী। তবে আমার অভিমত হলো, সুন্নাহর অনুসারীদের (সুননি) বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। যদি আপনি বলেন—এটি কি শেখ আবু হামিদ এবং তাঁর অনুসারীদের অভিমত যে, সকল প্রবৃত্তি পূজারি বা বিদআতিদের (أهل الأهواء) সাক্ষ্যই অগ্রহণযোগ্য? আমি বলব, না; বরং এটি এই বিষয়ে যে, তাদের আকিদাগত বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, এমনকি তাদের আকিদাগত বিরোধী ব্যক্তিটি বিদআতি (مبتدع) হলেও। আমি মনে করি না যে ইমাম নববী বা অন্য কেউ এর বিরোধিতা করবেন। ইমাম নববী যা বলেছেন তা হলো বিদআতির (مبتدع) সাক্ষ্য সাধারণভাবে গ্রহণ করা হবে যদি আমরা তাকে কাফির (كافر) ঘোষণা না করি। কিন্তু আকিদাগত বিরোধীদের ক্ষেত্রে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে—সংশয় (الريبة) থাকা সত্ত্বেও—এমন কথা ইমাম নববী বা অন্য কেউ বলেননি। যদি আপনি বলেন যে, আকিদাগত পার্থক্যের চূড়ান্ত ফল হলো শত্রুতা সৃষ্টি করা, যা ধর্মীয় কারণে হয়ে থাকে এবং তা সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানের (رد الشهادة) কারণ হওয়া উচিত নয়। আমি বলব, সত্যপন্থীর পক্ষ থেকে মিথ্যাশ্রয়ীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যানের (رد الشهادة) কারণ হয় না, যেমন ফকিহগণ (الصحاب) বলেছেন যে বিদআতির (مبتدع) বিরুদ্ধে সুননির সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। তেমনিভাবে কোনো পাপাচারীর (فاسق) পাপাচারের কারণে তাকে ঘৃণা করা হলেও তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। আমি অচিরেই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব। পক্ষান্তরে এর বিপরীত দিকটি অর্থাৎ সুননির বিরুদ্ধে বিদআতির (مبتدع) সাক্ষ্যদানের বিষয়টি আমাদের ফকিহদের মধ্য থেকে কেউ বলেননি। অতঃপর ফকিহগণ (الصحاب) বিদআতির (مبتدع) বিরুদ্ধে সুননির সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা কেবল এমন সুননির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার বিদআতির প্রতি ঘৃণা ব্যক্তিস্বার্থে পৌঁছায়নি, যা তাকে অন্ধ পক্ষপাতের (تعصب) দিকে ধাবিত করতে পারে। পাপাচারীর (فاسق) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদাতার ক্ষেত্রেও একই কথা। সুতরাং কোনো সুননি বা পাপাচারীর (فاسق) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদাতা যদি এই পর্যায়ে পৌঁছান, তবে আমি তার সাক্ষ্য গ্রহণ করব না। কারণ শারিয়াত প্রণেতা তাদের কাছে যা দাবি করেছেন, তাদের মাঝে তার অতিরিক্ত কিছু রয়েছে, যা আমার নিকট তাদের ব্যাপারে সংশয় (الريبة) তৈরি করে। আমি এমন অনেক সাক্ষীকে দেখেছি যারা কোনো ব্যক্তিকে ঘৃণা করে এবং ধার্মিকতার আবরণে তার পাপাচারের (الفسق) সাক্ষ্য দেয়। তারা আমার কাছে এসে সাক্ষ্য প্রদানের সময় কাঁদতে থাকে এই ভয়ে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিটি আমাদের মধ্যে উপস্থিত থাকলে মুসলমানদের ওপর আসমানি গজব নাজিল হতে পারে।

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٥١)
وانا والذي نفسي بيده اعتقد واتيقن ان المشهود عليه خير منه ولا اقول انه كذب عليه عامدا بل انه بنى على الظن وصدق اقوالا ضعيفة ابغض المشهود عليه بسببها منذ ابغضه لحقه هوى النفس واستولى عليه الشيطان وصار الحامل له في نفس الامر حظ نفسه وفيما يخطر له الدين هذا ما شاهدته وابصرته ولي في القضاء سنين عديدة فليتق الله امرؤ وقف على حفر النار فلا حول ولا قوة الا بالله قد جعلني الله قاضيا ومحدثا وقد قال ابن دقيق العيد اعراض الناس حفرة من حفر النار وقف عليها المحدثون والحكام

আমি সেই সত্তার শপথ করছি যার হাতে আমার প্রাণ, আমি বিশ্বাস করি এবং নিশ্চিত যে, যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে সে সাক্ষ্যদাতার চেয়ে উত্তম। আমি এটি বলছি না যে সে ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছে; বরং সে ধারণার ওপর ভিত্তি করেছে এবং কিছু দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছে, যার কারণে সে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেছে। যখন থেকে নফসের খেয়াল-খুশি তাকে পেয়ে বসেছে, তখন থেকেই সে তাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে এবং শয়তান তার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে তার কর্মের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে নফসের স্বার্থ, যদিও তার মনে হচ্ছিল যে সে এটি দ্বীনের জন্যই করছে। এটিই আমি প্রত্যক্ষ ও অনুধাবন করেছি এবং বিচারকার্যে আমার দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সুতরাং সেই ব্যক্তির আল্লাহকে ভয় করা উচিত যে জাহান্নামের গর্তের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই। আল্লাহ আমাকে বিচারক এবং হাদিস বিশারদ (محدث) হিসেবে নিয়োজিত করেছেন। ইবনে দাকীক আল-ঈদ বলেছেন, 'মানুষের মান-সম্মান হলো জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্যে একটি গর্ত, যার কিনারায় হাদিস বিশারদগণ (محدثون) এবং শাসকবৃন্দ দাঁড়িয়ে থাকেন।'

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٥٢)
ومما يؤيد ما قلته ان اصحابنا قالوا من استباح دم غيره من المسلمين ولم يقدر على قتله فشهد بقتله لم يقتل ذكره الروياني في البحر في باب من تجوز شهادته نقلا عن بعض اصحابنا سكنا عليه ولا يعر في المذهب خلافه فان قلت قد قال عقيبه ومن شتم متاولا ثم شهد عليه قبل او غير متاول فلا

আর আমি যা বলেছি তার সমর্থনে এটিও উল্লেখ করা যায় যে, আমাদের মাযহাবের অনুসারীগণ বলেছেন—যে ব্যক্তি অন্য কোনো মুসলমানের রক্তপাত বৈধ মনে করে অথচ তাকে হত্যা করতে সক্ষম হয় না, অতঃপর সে তার হত্যার সপক্ষে সাক্ষ্য (شهادة) প্রদান করে, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না। আল-রুয়ানি এটি ‘আল-বাহর’ গ্রন্থের ‘যাদের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য’ অধ্যায়ে আমাদের কতিপয় সঙ্গীর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং আমরা এর ওপর স্থির রয়েছি; আর মাযহাবের মধ্যে এর কোনো বিপরীত মত জানা নেই। আপনি যদি বলেন যে, তিনি এর পরপরই বলেছেন—যে ব্যক্তি ব্যাখ্যামূলক (متأول) কারণে গালি দেয় এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য (شهادة) দেওয়া হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য (قبول) হবে; আর যদি ব্যাখ্যামূলক (متأول) না হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন ফিল জারহি ওয়াত তাদীল (পৃষ্ঠা: ٥٣)
قلت يعني بالقبول بعد الشتم متاولا الشهادة بامر معين ونحن نعلم انه لا يحمله عليها بغض فليس كمن وصفناه ومما ينبغي ان بتقد عند الجرح ايضا حال الجارح في الخبرة بمدلولات الالفاظ فكثيرا ما رايت من يسمع لفظة فيفهمهما على غير وجهها والخبرة بمدلولات الالفاظ ولا سيما الالفاظ العرفية التي تختل باختلاف عرف الناس وتكون في بعض الازمان مدحا وفي بعضها ذما امر شديد لا يدركه الا فقيه بالعلم ومما ينبغي ان يتفقد ايضا حاله في العلم بالاحكام الشرعية فرب جاهل ظن الحلال حراما فجرح به ومن اوجب الفقهاء التفسير ليتوضح الحال وقال الشافعي رضي الله عنه حضرت بمصر رجلا مزكيا يجرح رجلا سئل عن سببه والح عليه فقال رايته يبول قائما قيل وما في ذلك قال يريد الريح من رشاشه على يده وثيابه فيصلي فيه قيل هل رايته قد اصابه الرشاش وصلى قبل ان يغتسل ما اصابه قال لا ولكن اراه سيفعل قال صاحب البحر وحكي ان رجلا جرح رجلا وقال انه طين سطحه بطين استخرج من حوض السبيل

আমি বলছি, গালমন্দ করার পর তা গ্রহণ করার (القبول) অর্থ হলো কোনো বিশেষ বিষয়ে সাক্ষ্যকে ব্যাখ্যা করে নেওয়া; আর আমরা জানি যে বিদ্বেষ তাকে এর দিকে পরিচালিত করেনি, তাই সে আমাদের বর্ণিত ব্যক্তির মতো নয়। আর সমালোচনা (الجرح) করার সময় সমালোচকের (الجارح) শব্দের তাৎপর্য সম্পর্কে অভিজ্ঞতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। আমি প্রায়শই এমন লোক দেখেছি যারা একটি শব্দ শোনে এবং সেটিকে তার সঠিক প্রসঙ্গের বাইরে বোঝে। শব্দের অর্থ এবং বিশেষ করে সেই সব প্রচলিত শব্দাবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করা—যা মানুষের প্রথা ও ব্যবহারের পরিবর্তনের সাথে সাথে বদলে যায় এবং কোনো এক সময়ে প্রশংসা ও অন্য সময়ে নিন্দা হিসেবে গণ্য হয়—অত্যন্ত কঠিন বিষয়, যা কেবল প্রাজ্ঞ ফকিহ ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না। এছাড়া শরয়ি বিধান সম্পর্কে তার জ্ঞানের অবস্থাও যাচাই করা উচিত; কারণ অনেক সময় কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি একটি হালাল বিষয়কে হারাম মনে করে এবং তার ভিত্তিতে সমালোচনা (جرح) করে বসে। এজন্যই ফকিহগণ প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করার জন্য কারণ ব্যাখ্যা (التفسير) করা আবশ্যক করেছেন। ইমাম শাফেয়ি (রা.) বলেন: আমি মিসরে একজন নির্ভরযোগ্যতা প্রত্যয়নকারী (مزكي) ব্যক্তির নিকট উপস্থিত ছিলাম যিনি এক ব্যক্তিকে ত্রুটিযুক্ত (يجرح) বলে সাব্যস্ত করছিলেন। যখন তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো এবং পিড়াপিড়ি করা হলো, তখন তিনি বললেন: আমি তাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখেছি। বলা হলো: তাতে কী সমস্যা? তিনি বললেন: প্রস্রাবের ছিটা তার হাত ও কাপড়ে লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সে ওই অবস্থাতেই নামাজ আদায় করে। তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি দেখেছেন যে তার ওপর ছিটা পড়েছে এবং সে তা ধৌত করা ছাড়াই নামাজ পড়েছে? তিনি বললেন: না, তবে আমি মনে করি সে এমনটি করবে। 'সাহিবুল বাহর' এর লেখক বলেন: বর্ণিত আছে যে এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত (جرح) করে বলল যে, সে জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত পানির আধার থেকে মাটি সংগ্রহ করে তার ঘরের ছাদ লেপন করেছে।