(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة القادم (ابن الأبار)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تحفة القادم
المؤلف: ابن الأبار، محمد بن عبد الله بن أبي بكر القضاعي البلنسي (ت 658هـ)
أعاد بناءه وعلّق عليه: الدكتور إحسان عباس
الناشر: دار الغرب الإسلامي
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 252
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তুহফাতুল ক্বাদিম (ইবনে আল-আব্বার)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: তুহফাতুল ক্বাদিম
লেখক: ইবনে আল-আব্বার، মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর আল-কুদায়ী আল-বালানসি (মৃত্যু ৬৫৮ হিজরি)
পুনর্গঠন ও টীকা প্রদান: ডক্টর ইহসান আব্বাস
প্রকাশক: দার আল-গারব আল-ইসলামি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫২
[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمةأسأل الله عوناً على حَمده الفَرض، وصوناً من الرَّفض، لِما يُثمر مُضاعف القَرض، ومحمداً أُصلِّي عليه وعلى آله وصحبه الذين أشبهوا نُجوم السماء في الأرض، صلاةً تُدخلني في زمرة الجنة إذا أُخرجَ بَعث النار يوم العَرض.وبعد، فهذا اقتضاب من بارع الأشعار، بل يانع الأزهار، قصرتُه على أهل الأندلس بلدي، وحصرتُه إلى من سبق وفاتَه منهم مولدي. ثمَّ ألحقتُ بهم أفراداً لحقهم شيوخُ ذلك الأوان، لأُضاهي " أنموذج " أبي عليّ ابن رَشيق، في شُعراء القيروان؛ وأضفت إلى هؤلاء، الطارئين على الجزيرة من الغُرباء، وربأتُ به عمَّا تضمنتْه تصانيف السابقين من الأُدباء؛ ليكون بريعانه وضَيعته، أبعدَ من خُسرانه وضَيعته؛ فجئتُ بجواهر لم يُبتذل مَصونها، وبأزاهر لم تُهتصر غُصونها؛ مسارعاً إلى ما لهم من أبيات سائرة، وآيات سافرة، وشارعاً في تكميل عددهم مائة شاعر وشاعرة؛ وجعلته باكورة ما بين يديّ في هذا الفن، والله المستعان ذو الطَّوْل والمَنّ.
ভূমিকাআমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি তাঁর আবশ্যিক প্রশংসার সামর্থ্য লাভের জন্য এবং বিচ্যুতি থেকে রক্ষার জন্য, যা বহুগুণ সওয়াব প্রদান করে। আর আমি মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীগণের ওপর দরূদ পাঠ করছি, যাঁরা পৃথিবীতে আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়; এমন এক দরূদ যা আমাকে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত করবে যখন বিচারের দিনে জাহান্নামীদের দল বের করা হবে।অতঃপর, এটি চমৎকার কিছু কবিতার সারসংক্ষেপ, বরং বলা যায় প্রস্ফুটিত পুষ্পরাজি; যা আমি আমার নিজ দেশ আন্দালুসের অধিবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি এবং তাঁদের মাঝে নির্দিষ্ট করেছি যাঁদের মৃত্যু আমার জন্মের আগেই হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আমি তাঁদের সাথে এমন কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করেছি যাঁদের সান্নিধ্য সেই সময়ের শায়খগণ পেয়েছিলেন, যাতে আমি কায়রাওয়ানের কবিদের বিষয়ে আবু আলী ইবনে রশিকের 'আনমুনজাজ' গ্রন্থের অনুরূপ কিছু করতে পারি। আর আমি তাঁদের সাথে সেই সকল বহিরাগতদের যুক্ত করেছি যারা এই উপদ্বীপে আগমন করেছিল এবং পূর্ববর্তী সাহিত্যিকদের রচনার বিষয়বস্তু থেকে আমি একে পৃথক রেখেছি; যাতে এর সজীবতা ও বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি বিনাশ ও হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। আমি এখানে এমন সব মণি-মুক্তা নিয়ে এসেছি যার সযত্নে রক্ষিত রূপ কখনো মলিন হয়নি এবং এমন সব পুষ্পরাজি এনেছি যার শাখাগুলো কেউ স্পর্শ করেনি। আমি তাঁদের প্রচলিত পঙ্ক্তি ও সুপ্রকাশিত নিদর্শনসমূহ সংগ্রহের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছি এবং তাঁদের সংখ্যা একশ জন পুরুষ ও নারী কবিতে পূর্ণ করার কাজ শুরু করেছি। আমি একে এই শিল্পে আমার প্রথম অবদান হিসেবে সাব্যস্ত করেছি; আর আল্লাহই সাহায্যকারী, যিনি সুমহান সামর্থ্য ও অনুগ্রহের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولما عارضت به " زاد المسافر " سمَّيته " تحفة القادم " وحميتُه أسجاع الناثر، اكتفاء بقوافي الناظم؛ ناسياً مَن ذَكره في ترجمةٍ أبو بحر ابن إدريس جامعه، وآتياً من روائع البديع ما يهتزّ له مُبصره وسامعه، كتشبيه لابن المُعتز فاضح، وتَشبيب إزراؤه بالرَّضِيّ واضح، أعيا الأول وله السبقُ يوم الرِّهان، وأنسى الثاني ليلةَ السَّفح وظَبية البان؛ إلى فنونٍ ذواتِ فُتون من الآداب، ساحرةٍ للألباب، وساخرةٍ من الكَلِمِ اللُّباب.وهذا أوانُ الشُّروع في المُراد، بهذا المجموع أبدأ: فالأول في الزمان، وربما قدّمت الأكبر بالمكان، إلا أن يعرض من النِّسيان، ما هو مُوكَّل بالإنسان.
যখন আমি এর মাধ্যমে "জাদুল মুসাফির" এর প্রতিতুলনা করেছি, তখন আমি এর নাম দিয়েছি "তুহফাতুল ক্বাধিম" এবং একে গদ্যকারের অনুপ্রাস থেকে মুক্ত রেখেছি, কেবল পদ্যকারের অন্ত্যমিলের ওপর নির্ভর করে। আমি এর সংকলক আবু বাহর ইবনু ইদ্রিস কোনো জীবনী গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা ভুলে গিয়ে এমন সব অলঙ্কারিক চমৎকারিত্ব নিয়ে এসেছি, যা দেখে ও শুনে দর্শক ও শ্রোতা স্পন্দিত হয়; যেমন ইবনুল মু’তাযযের উন্মোচনকারী উপমা এবং এমন প্রেমগাথা যা শরীফ আর-রাযীর কাব্যকেও ম্লান করে দেয়। প্রথমটি প্রতিযোগিতার দিনে অগ্রগামিতার মাধ্যমে অন্যদের ক্লান্ত করে দিয়েছে এবং দ্বিতীয়টি পাহাড়ের পাদদেশের সেই রাত ও বনের হরিণীর কথা ভুলিয়ে দিয়েছে। এর সাথে রয়েছে সাহিত্যের এমন সব মোহনীয় শিল্পকলা যা জ্ঞানীদের মুগ্ধ করে এবং সারগর্ভ বচনকেও হার মানায়।আর এখন উদ্দিষ্ট বিষয়ে শুরু করার উপযুক্ত সময়। এই সংকলনটি আমি শুরু করছি: সময়ের দিক থেকে যা প্রথম, তবে কখনো কখনো আমি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে আগে উপস্থাপন করেছি, যদি না এমন কোনো বিস্মৃতি ঘটে যা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٧)
ابن خلصةأبو عبد الله محمد بن عبد الرحمن بن فتح بن قاسم بن سليمان بن سويد بن خَلصة - بفتح الخاء المعجمة واللام والصاد - اللخمي، من أهل بلنسية، كان أستاذاً في علم اللسان والأدب فصيحاً مفوّهاً حافظاً للغات، أقرأ كتاب سيبويه بدانية وبلنسية، وله يدٌ في النثر، ثمَّ انتقل إلى المريّة وفيها توفي سنة تسع عشرة وخمسمائة، حكى ذلك ابن الصيرفي في تاريخه وقيل سنة عشرين وقيل إحدى وعشرين " وهو الصحيح ". ومن قوله في أبي العلاء ابن زُهر من قصيدة:غدَتْ عنك أفواهُ الغيومِ الدوافقِ … تفيضُ بما تُوري زناد البوارقِأنارَتْ جهاتُ الشَّرقِ لمَّا احتللتَه … فكاد الدُّجى يجلو لنا وجه شارقِ
ইবনে খালাসাহআবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন ফাতহ বিন কাসিম বিন সুলাইমান বিন সুয়াইদ বিন খালাসাহ—বিন্দুযুক্ত ‘খা’, ‘লাম’ ও ‘সাদ’ বর্ণে জবর (ফাতহা) যোগে—আল-লাখমি; তিনি বালানসিয়ার অধিবাসী ছিলেন। তিনি ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্যে একজন উস্তাদ, প্রাঞ্জলভাষী, বাগ্মী এবং ভাষাসমূহের হাফেজ (বিশারদ) ছিলেন। তিনি দানিয়া ও বালানসিয়াতে সিবাওয়াইহের কিতাব পাঠ দান করতেন এবং গদ্য সাহিত্যে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। অতঃপর তিনি আল-মারিয়াতে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে পাঁচশত উনিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে আস-সাইরাফি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে বলা হয়েছে পাঁচশত বিশ হিজরিতে এবং কারো মতে পাঁচশত একুশ হিজরিতে, "আর এটিই সঠিক"। আবু আল-আলা ইবনে যুহর সম্পর্কে তাঁর একটি কাসিদার অংশবিশেষ নিম্নরূপ:প্রবল বর্ষণকারী মেঘের মুখগুলো তোমার বিচ্ছেদে বিষণ্ণ হয়েছে … বিজলীর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ যা প্রজ্বলিত করে, তা যেন উপচে পড়ছে।পূর্ব দিগন্তের সকল দিক আলোকিত হয়ে উঠল যখন তুমি সেখানে অবস্থান করলে … যেন অন্ধকার আমাদের সামনে প্রভাত সূর্যের মুখচ্ছবি উন্মোচন করতে চাইছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٨)
وكم زفرَتْ شوقاً بلنسِيَةُ المُنى … إليكَ ولكنْ رُبَّ حسناءَ طالقِتقلَّدَ منك الدَّهرُ عقداً وصارماً … بهاءً لجيدٍ أو سناءً لعاتقِولو قُسِمَت أخلاقك الغُرّ في الدنا … لما صوَّحَت خُضْر الرُّبى والحدائقِوله يخاطبه وقد استدعى منه كتاباً:يا وَزَراً تُفصحُ اللَّيالي … بأنه سِرُّهَا اللبابُومَنْ معاليه سافراتٌ … والشَّمسُ من دونها نقابُحددتَ لي فامتثلتُ أمراً … ها أنا بالبابِ والكتابوينسب إلى خلصة أيضاً: أبو عبد الله الضرير الداني، وليس من شرطنا لتقدم وفاته في آخر المائة الخامسة، ولأنه أيضاً مذكور في كتاب الذخيرة لابن بسام.وأبو عبد الله محمد بن يوسف بن خلصة المعافري الشاطبي أحد الرواة عن أبي عمر ابن عبد البر، وليس بمعدود في الأدباء. وأردت بهذا الانباء والانباه، التفرقةَ بينهم خيفةَ الاشتباه.
আকাঙ্ক্ষার বালেন্সিয়া তোমার প্রতি ব্যাকুলতায় কত দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে … কিন্তু কত সুন্দরীই না তালাকপ্রাপ্তা হয়।কাল তোমার থেকে কণ্ঠহার ও তীক্ষ্ণ তরবারি ধারণ করেছে … গ্রীবার শোভা বা স্কন্ধের দ্যুতি হিসেবে।যদি তোমার মহৎ চরিত্রসমূহ পৃথিবীতে বণ্টন করে দেওয়া হতো … তবে সবুজ টিলা ও বাগানসমূহ কখনও শুষ্ক হতো না।তাঁকে সম্বোধন করে তাঁরই একটি কবিতা, যখন তিনি তাঁর কাছে একটি কিতাব চেয়েছিলেন:হে এমন এক আশ্রয়স্থল, রজনীসমূহ যার সম্পর্কে প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যক্ত করে … যে আপনিই তাদের শ্রেষ্ঠ রহস্য।যাঁহার সুউচ্চ গুণাবলি প্রকাশ্য ও অনাবৃত … অথচ সূর্য তার সামনে একটি আবরণ মাত্র।আপনি আমার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন, আমি সেই আদেশ পালন করেছি … এই যে আমি দরজায় কিতাব নিয়ে হাজির।‘খালসা’ নামের সাথে আবু আব্দুল্লাহ আদ-দারীর আদ-দানিকেও সম্পর্কিত করা হয়; কিন্তু তিনি আমাদের শর্তের অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ পঞ্চম শতাব্দীর শেষভাগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং ইবনে বাসসামের ‘আয-যাখিরা’ গ্রন্থেও তাঁর উল্লেখ রয়েছে।আর আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন খালসা আল-মাআফিরি আশ-শাতিবি হলেন আবু উমর ইবনে আব্দুল বার-এর অন্যতম বর্ণনাকারী, কিন্তু তিনি সাহিত্যিকদের কাতারে গণ্য নন। আমি এই তথ্য ও সতর্কবার্তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করতে চেয়েছি যেন কোনো প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٩)
ابن أبي الصلتأبو الصَّلت أُمية بن عبد العزيز بن أبي الصلت، من أهل إشبيلية، وسكن المَهديَّة، واتصل بأميرها يحيى بن تميم المُعزّ الصِّنهاجي، ثمَّ بابنه عليّ بن يحيى، وبعده بالحسن بن علي، آخر ملوكِ الصّنهاجيين بها. وتُوفي صدر ولايته سنة عشرين وخمسمائة، أو بعدها بيسير. وقيل توفي مع أبي عبد الله المازري في سنة ست وثلاثين، والأول أصحّ.ومن خَبره أنَّه خرج من إشبيلية ابن عشرين سنة، ولزم التعلُّم بمصر
ইবনুল আবিস সালতআবুস সালত উমাইয়া বিন আব্দুল আজিজ বিন আবিস সালত ছিলেন ইশবিলিয়ার অধিবাসী। তিনি মাহদিয়াতে বসবাস করতেন এবং সেখানকার আমির ইয়াহইয়া বিন তামীম আল-মুয়িজ্জ আস-সিনহাজির সান্নিধ্যে আসেন। অতঃপর তাঁর পুত্র আলী বিন ইয়াহইয়া এবং পরবর্তীতে সেখানে সিনহাজি রাজবংশের শেষ রাজা আল-হাসান বিন আলীর সাহচর্যে ছিলেন। তিনি তাঁর শাসনের শুরুর দিকে ৫২০ হিজরিতে অথবা তার কিছুকাল পরে মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ৫৩৬ হিজরিতে আবু আব্দুল্লাহ আল-মাজারির সাথে মৃত্যুবরণ করেন, তবে প্রথম তথ্যটিই অধিকতর সঠিক।তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিশ বছর বয়সে ইশবিলিয়া থেকে বের হন এবং মিসরে শিক্ষাগ্রহণে লিপ্ত থাকেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٠)
عشرين سنة، ثمَّ أوطن المَهديَّة عشرين سنة. حُدثت بهذا عن أبي عبد الله ابن عبد الخالق الخطيب بها، عن بعض مَن أدركه من شيوخها.وله تواليف مُفيدة في الطبّ، وهو كان الغالب عليه، وفي الأدب والعروض والتاريخ.ومن مدائحه في يحيى بن تميم يصف فرساً له كان يُسمَّى هلالاً لغُرَّةٍ في جبهته هِلالية الشكل:شهدتُ لقد فات الجيادَ وبَذَّها … جوادُك هذا من وِرادٍ ومن شُقرِجوادٌ تبدَّت بين عينيه غُرَّةٌ … تُريكَ هلالَ الفطر في غُرة الشهرِوما اعتنَّ إلَاّ قلتُ أسأل صاحبي … بعَيشكَ من أهدى الهلالَ إلى البدرِكأنَّ الصَّباحَ الطَّلْقَ قَبَّلَ وَجْهَهُ … وسالتْ على باقيهِ صافيةُ الخمرِكأنَّك منهُ إذ جَذَبْتَ عِنانَهُ … على منكِبِ الجَوْزاءِ أو مَفْرِق النَّسرِكأنَّك إذ أرسلتَه فوق لُجة … تُدَفِّعها أيدي الرِّياح إلى العبْرِتدفّقتُما بحرَين جُوداً وجَودةً … ومن أعجبِ الأشياءِ بحرٌ على بَحْرِوله أيضاً فيه ويصف بعضَ مبانِيه:قُم يا غلامُ ودَعْ مُخالسةَ الكَرى … لمُهجِّرٍ يصفُ النّوى ومُغلَّسِ
বিশ বছর, অতঃপর তিনি মাহদিয়াকে বিশ বছরের জন্য আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করেন। এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সেখানকার খতিব আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল খালিক, তার সাথে সাক্ষাতকারী সেখানকার কিছু শায়খদের সূত্রে।চিকিৎসাশাস্ত্রে তার বেশ কিছু উপকারী রচনাদি রয়েছে, যা তার ওপর প্রধানত প্রভাব বিস্তার করেছিল; এছাড়াও সাহিত্য, ছন্দতত্ত্ব ও ইতিহাসেও তার পাণ্ডিত্য রয়েছে।ইয়াহইয়া ইবনে তামিামের প্রশংসায় তার রচিত কবিতাগুলোর মধ্যে একটি হলো যেখানে তিনি তার একটি ঘোড়ার বর্ণনা দিয়েছেন, যার কপালে অর্ধচন্দ্রাকৃতির শুভ্র তিলক থাকায় তাকে 'হিলাল' (অর্ধচন্দ্র) বলা হতো:আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, দ্রুতগামী অশ্বরাজির মাঝে আপনার এই তেজস্বী ঘোড়াটি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ও পরাস্ত করেছে … লাল ও পিঙ্গল বর্ণের অশ্বসমূহের মধ্য হতে।এমন এক তেজস্বী ঘোড়া যার দুই চোখের মাঝখানে এক শুভ্র তিলক প্রকাশ পেয়েছে … যা আপনাকে মাসের শুরুতে ঈদুল ফিতরের চাঁদের সৌন্দর্য দেখায়।যখনই তার লাগাম টানা হয়, তখনই আমি আমার সঙ্গীকে বলি … তোমার জীবনের শপথ! কে এই অর্ধচন্দ্রকে পূর্ণিমার চাঁদের নিকট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে?মনে হয় যেন নির্মল প্রভাত তার মুখমণ্ডল চুম্বন করেছে … আর তার শরীরের বাকি অংশে স্বচ্ছ সুরা প্রবাহিত হয়েছে।আপনি যখন তার লাগাম টেনে ধরেন, তখন মনে হয় আপনি যেন … জাওজা (মিথুন) নক্ষত্রের কাঁধে অথবা নাসর (ঈগল) নক্ষত্রের শিখরে অবস্থান করছেন।আপনি যখন তাকে কোনো গভীর জলরাশির ওপর ছেড়ে দেন … তখন মনে হয় যেন বাতাসের হাতগুলো তাকে অপর তীরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।বদান্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বে আপনারা যেন দুটি সমুদ্রের ন্যায় প্রবাহিত হয়েছেন … আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এক সমুদ্রের ওপর আরেক সমুদ্রের সওয়ার হওয়া!তার প্রশংসায় এবং তার কিছু প্রাসাদের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন:হে তরুণ! ওঠো এবং নিদ্রার এই আচ্ছন্নতাকে তাদের জন্য ছেড়ে দাও … যারা তপ্ত দুপুরে বিচ্ছেদের বর্ণনা দেয় অথবা যারা শেষ রাতের অন্ধকারে পথ চলে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١١)
أو ما رأيت النَّوْرَ يَشرقُ بالنَّدى … والفجرَ يَنْصُلُ من خضابِ الحِنْدِسِوالتُّربُ في خَلل الحديقة مُرْتَوٍ … والغصنُ من حُلَلِ الشَّبيهِ مُكْتَسِوالرَّوضُ يبرُزُ في قلائدِ لُؤلُؤٍ … والأرضُ ترفُلُ في غَلائِلِ سُندسِلا تَعْدَمُ الألحاظُ كيف تصرَّفَتْ … وَجَناتِ وَرْدٍ أو لواحظَ نَرْجسِوله كلام في المباني السلطانية يصفُها فمن ذلك قوله:وضَّاحة حلَّتِ الأنوارُ ساحتَها … فأزمعتْ رحلةً عن أُفقها السُّدُفُكأنَّ رَأْدَ الضُّحى مما يُغازلها … عن الغَزالةِ هيمانٌ بها كَلِفُتجمَّعتْ وهي أشتاتٌ محاسنُها … هذا الغَدير وهذِي الرَّوضةُ الأُنُفُيُضاحكُ النُّور فيها النَّوْرَ من كَثَبٍ … مهما بكتْ للغَواني أعينٌ ذُرُفُخُضرٌ خمائلها زُرقٌ جداولها … فالحُسْنُ مُتلفٌ فيها ومختلفُدَوْح وظلٌّ يلذُّ العيشُ بينهما … هذا يَرِفُّ كما تهوَى وذا يَرِفُيَجري النسيمُ على أرجائها دَنِفاً … ومِلؤه أرَجٌ يشفَى به الدَّنِفُحاكَ الربيعُ لها من صوبِهِ حِبَراً … كأنَّها الحُلَلُ الأفوافُ والصُّحفغَريرةٌ من بناتِ الرَّوضِ ناعمةٌ … يَثني معاطفَها في السُّندس التَّرَفتَندى أصائلُها صُفراً غلائلُها … كأنَّ ماءَ نُضارٍ فوقها يَكِفُوله في المَصنع المعروف بأبي فِهر:نَمت صُعُداً في جِدَّةٍ غُرفاتُه … على عَمَدٍ مما استجاد لها الجِدُّتَخَيَّلن قاماتٍ وهُنَّ عقائلٌ … سوى أنَّها لا ناطقاتٌ ولا مُلْدُقُدودٌ كساها ضافيَ الحُسن عُرْيُها … وأمعنَ في تَنعيمها النَّحتُ والقَدُّ
আপনি কি দেখেননি কীভাবে শিশিরভেজা পুষ্পরাজি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে … আর ভোর কীভাবে অন্ধকারের রঞ্জক থেকে নিজেকে মুক্ত করছে?বাগানের ফাঁকে ফাঁকে মাটি সিক্ত ও পরিতৃপ্ত হয়েছে … আর ডালপালাগুলো শুভ্র বসনের মতো পোশাকে সজ্জিত হয়েছে।বাগানটি মুক্তার মালায় সজ্জিত হয়ে ফুটে উঠেছে … আর জমিন মিহি রেশমি পোশাকে গর্বের সাথে বিচরণ করছে।দৃষ্টি যেদিকেই ফিরুক না কেন, তা গোলাপের রক্তিম গাল … অথবা নার্গিস ফুলের আঁখি দেখতে ব্যর্থ হবে না।রাজকীয় অট্টালিকা বর্ণনায় তাঁর কিছু পঙ্ক্তি রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিটি অন্যতম:এটি এক উজ্জ্বল প্রাসাদ যার চত্বরে আলো এসে বসত গেড়েছে … ফলে অন্ধকার এর দিগন্ত থেকে প্রস্থানের চূড়ান্ত সংকল্প করেছে।মনে হয় যেন পূর্বাহ্নের প্রথম আলো সূর্যকে ছেড়ে দিয়ে এর সাথে প্রেম নিবেদন করছে … সে এর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ও মোহিত।এর বিক্ষিপ্ত সৌন্দর্যরাজি আজ এখানে এসে একত্রে মিলিত হয়েছে … এই তো সেই জলাধার এবং এই সেই চিরনবীন বাগান।আলো এখানে আলোর সাথে খুব কাছ থেকে হাসাহাসি করে … যখনই সুন্দরী রমণীদের বিরহে অশ্রুসিক্ত চোখগুলো ক্রন্দন করে।এর কুঞ্জগুলো সবুজ এবং এর ঝর্ণাধারাগুলো নীল … এখানে সৌন্দর্য যেমন অতুলনীয়, তেমনি বৈচিত্র্যময়।বিশাল বৃক্ষরাজি আর ছায়া, যার মাঝে জীবন কাটানো অত্যন্ত আনন্দময় … এটিও দুলছে যেমনটি তুমি চাও, আর ওটিও দুলছে।মৃদু সমীরণ এর প্রাঙ্গণে রুগ্ন প্রেমিকের ন্যায় ধীরগতিতে বয়ে যায় … অথচ তা এমন সুগন্ধে পরিপূর্ণ যা রুগ্ন ব্যক্তিকে আরোগ্য দান করে।বসন্তকাল তার বর্ষণ দিয়ে এর জন্য নকশাদার পোশাক বুনেছে … যেন সেগুলো কারুকার্যময় রেশমি বস্ত্র এবং সুসজ্জিত পাণ্ডুলিপি।এ যেন বাগানের কন্যাদের মধ্যে এক লাবণ্যময়ী ও কোমল কিশোরী … বিলাসিতা যার রেশমি পোশাকে তার অঙ্গগুলোকে নুইয়ে দিচ্ছে।এর গোধূলিগুলো আর্দ্র আর এর আচ্ছাদনগুলো পীতবর্ণের … যেন এর ওপর স্বর্ণের পানি চুইয়ে পড়ছে।'আবু ফিহর' নামে পরিচিত স্থাপত্য সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা:এর কক্ষগুলো নতুনত্বের সাথে উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়েছে … এমন সব স্তম্ভের ওপর যা নিপুণ প্রচেষ্টায় দৃঢ়ভাবে নির্মিত।সেগুলোকে দীর্ঘদেহী মানবী বলে ভ্রম হয়, যারা মূলত পর্দানশীন সুন্দরী … তবে পার্থক্য হলো তারা কথা বলে না এবং তারা নমনীয় নয়।এমন এক অবয়ব যাদের অনাবৃত রূপই তাদেরকে পূর্ণ সৌন্দর্য দান করেছে … আর নিপুণ খোদাই ও গঠন শৈলী তাদের মসৃণতাকে চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٢)
تُذكِّرُ جنَّاتِ الخلودِ حدائقٌ … زواهرُ لا الزَّهراءُ منها ولا الخُلدفأسحارُها تُهدي لها الطيبَ مَنْبجٌ … وآصالُها تُهدي الصَّبا نحوها نجدُأنافَ على شُمِّ القُصورِ فلم تَزَلْ … تَنَهَّدُ وجداً للقُصور وتَنهدُّرَحيبُ المَغاني لا يضيق بوَفْدِهِ … ولو أنَّ أهلَ الأرضِ كلَّهُمُ وَفدتلاقَى لديه النَّور والنُّور فانجلتْ … تفاريقَ عن ساحاتهِ الظُّلَمُ الرُّبدوسُجن أبو الصلت بمصر، فقال في ذلك:عَذيريَ من دهرٍ كأنِّي وَترتُه … بباهِرِ فَضلي فاستقادَ به منِّيتَعجَّلني بالشَّيبِ قبلَ أوانهِ … فجرَّعني الدُّرديَّ من أوَّلِ الدَّنّوما مرَّ بي كالسّجنِ فيه مُلمَّةٌ … وشرٌّ من السّجنِ المُصاحَبُ في السّجنأظُنُّ اللَّيالي مُبْقِياتي لحالةٍ … تُبدِّلُ فيها حياتي هذه عنِّيوإلَاّ فما كانتْ لتَبْقَى حُشاشتي … على طولِ ما ألقى من الضَّيمِ والغَبنِوقالوا حديثُ السِّنّ يسْمو إلى العُلا … كأنَّ العُلا وقفٌ على كِبَرِ السنِّوما ضرَّني سنُّ الحَداثة والصِّبا … إذا لم يَضْفُ خُلْقي إلى النَّقصِ والأفْنِفعلْمٌ بلا دَعوى ورأيٌ بلا هوًى … ووعدٌ بلا خُلْفٍ ومنٌّ بلا مَنِّمتى صَفَتِ الدُّنيا لحُرٍّ فأبتغي … بها طيبَ عَيشي أو خُلُوِّي من الحُزْنِوهل هي إلَاّ دارُ كُلِّ مُلِمَّةٍ … أمضُّ لأحشاءِ اللَّبيبِ من الطَّعنِ
চিরস্থায়ী জান্নাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এমন সব প্রস্ফুটিত বাগান … এমন উজ্জ্বল যে যোহরা নক্ষত্র বা জান্নাতুল খুলদও তার সমতুল্য নয়।তার প্রভাতবেলাগুলোতে মানবিজ তাকে সুগন্ধি উপহার দেয় … আর তার বিকেলবেলাগুলোতে নজদ তার দিকে পুবালি হাওয়া প্রবাহিত করে।এটি সুউচ্চ প্রাসাদগুলোর ওপর মাথা তুলেছে, ফলে সেগুলো … এই প্রাসাদগুলোর প্রতি অনুরাগে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবং বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।তার আবাসস্থলসমূহ প্রশস্ত, আগত অতিথিদের জন্য তা কখনো সংকীর্ণ হয় না … যদিও দুনিয়ার সমস্ত মানুষই মেহমান হয়ে আসে।সেখানে আলো ও জ্যোতির মিলন ঘটেছে, ফলে তার প্রাঙ্গণ থেকে … পুঞ্জীভূত কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকারগুলো বিদায় নিয়েছে।আর আবু সালতকে মিশরে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল, তখন তিনি এ বিষয়ে বলেছিলেন:সময়ের আচরণের বিরুদ্ধে কে আমার ওজর গ্রহণ করবে, যেন আমি আমার ভাস্বর শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তাকে আঘাত করেছি … ফলে সে এখন আমার নিকট থেকে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করছে।সে সময়ের আগেই আমাকে বার্ধক্যের শুভ্রতায় ত্বরান্বিত করেছে … ফলে পানপাত্রের শুরুতেই সে আমাকে (জীবনের) তিক্ত তলানি পান করিয়েছে।কারাবাসের মতো কোনো বিপদ আমার ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়নি … আর কারাগারের চেয়েও নিকৃষ্ট হলো কারাগারের মন্দ সঙ্গী।আমি মনে করি মহাকাল আমাকে এমন এক অবস্থার জন্য অবশিষ্ট রাখছে … যাতে আমার এই বর্তমান জীবন পরিবর্তিত হয়ে যাবে।তা না হলে, যে দীর্ঘ যুলুম ও বঞ্চনার শিকার আমি হচ্ছি … তাতে আমার শেষ প্রাণবিন্দু অবশিষ্ট থাকত না।তারা বলে অল্পবয়স্ক ব্যক্তিও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে প্রয়াসী হয় … যেন শ্রেষ্ঠত্ব কেবল বার্ধক্যের জন্যই নির্ধারিত।আমার শৈশব বা যৌবনকাল আমার কোনো ক্ষতি করতে পারে না … যতক্ষণ না আমার চরিত্র কোনো ত্রুটি বা বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতার দিকে ধাবিত হয়।দাবিহীন জ্ঞান এবং প্রবৃত্তিহীন সুচিন্তিত অভিমত … ভঙ্গহীন প্রতিশ্রুতি এবং খোঁটামুক্ত অনুগ্রহ (ই আমার পরিচয়)।দুনিয়া কবে একজন স্বাধীন মানুষের জন্য স্বচ্ছ হয়েছে যে, আমি তাতে … উত্তম জীবন অথবা দুঃখ থেকে মুক্তি অন্বেষণ করব?এটি তো কেবল সকল মুসিবতের ঘর … যা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির হৃদয়ে বর্শার আঘাতের চেয়েও বেশি যাতনাদায়ক।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقال أبو الصَّلت:تَجري الأُمور على حُكم القَضاء وفي … طيِّ الحوادِثِ مَحبوبٌ ومكروهُفربَّما سَرَّني ما بِتُّ أحذرُهُ … وربَّما ساءني ما بِتُّ أرجوهُ
এবং আবুস সালত বলেন:তাকদীরের ফয়সালা অনুযায়ী বিষয়সমূহ পরিচালিত হয় এবং … ঘটনাবলির আবর্তে পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় বিষয় নিহিত থাকে।অনেক সময় আমি যে বিষয়ে আশঙ্কিত থাকতাম তা-ই আমাকে আনন্দিত করেছে … আবার অনেক সময় আমি যে বিষয়ের প্রত্যাশা করতাম তা-ই আমাকে ব্যথিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ابن البراء التجيبيأبو العباس أحمد بن محمد بن عبد الله بن البراء التُّجِيبي: من أهل الجزيرة الخضراء، ومعدودٌ في المجيدين من الشعراء، وله ديوان نظم ونثر كبير. فارق وطنه وهو صغير منتزحاً إلى بلاد الصحراء، وممتدحاً من كان بها من الأمراء، وأراه لم يعد إلى ذَراه، كما لم يعدم الحنين إليه في تأويبه وسُراه، فمن شعره في ذلك:عندي على الخضراءِ دَمْعٌ واكفٌ … والقلبُ أبرَدُ حَرّهِ الرمضاءُأودى ثِقافُ فراقِنَا بقناتنا … فانآدتِ اليَزَنِيَّةُ السمراءُنزحِتْ بيَ الأقدارُ عن دارِ الهوَى … وقَذَفْنَني حيثُ الفؤادُ هواءُفإقامتي ما بينَ أظهرِ معشرٍ … سيَّان عندهُم الدُّجى وذُكاءُوقال أيضاً:أحنُّ إلى أرضٍ لَبِسْتُ بها الصِّبا … فعندي لها من أجل ذِكْرِ الصِّبا وجدُومن أجلِ نَصْلِ السَّيفِ أُكرِمَ جَفْنُهُ … ومن جهَةِ الرّيَّا سما العنبرُ الوردُوقال أيضاً:سقى واكفُ القطرِ الجزيرةَ إنَّني … إليها وإن جَدَّ الفِراقُ لوامقُدياراً بها فارقتُ عَصرَ شبيبتي … فيا حبَّذا عَصْرُ الشَّبابِ المفارقُ
ইবনুল বাররা আত-তুজিবিআবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল বাররা আত-তুজিবি: তিনি আল-জাযিরাতুল খাদরা-র (সবুজ দ্বীপ) অধিবাসী এবং অত্যন্ত দক্ষ কবিদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য। তাঁর গদ্য ও পদ্যের একটি বিশাল সংকলন (দীওয়ান) রয়েছে। তিনি অল্প বয়সে তাঁর জন্মভূমি ত্যাগ করে মরুভূমির দেশগুলোতে প্রবাস জীবন গ্রহণ করেন এবং সেখানকার আমিরদের প্রশংসা করে কবিতা রচনা করতেন। আমার ধারণা, তিনি আর তাঁর আদি বাসভূমিতে ফিরে যেতে পারেননি, যদিও তাঁর সান্ধ্যকালীন ও রাত্রিকালীন ভ্রমণে জন্মভূমির প্রতি গভীর আকুলতা কখনো স্তিমিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে তাঁর কিছু কবিতা হলো:আল-খাদরার বিরহে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে … আর আমার হৃদয়ের দহনের নূন্যতম উত্তাপও যেন তপ্ত মরু-বালুকার ন্যায়।আমাদের বিচ্ছেদের কঠোরতা আমাদের শক্তি রূপী বল্লমকে ভেঙে চূর্ণ করেছে … ফলে তামাটে বর্ণের সুদৃঢ় ইয়াজানি বর্শাটিও নুয়ে পড়েছে।তকদির আমাকে ভালোবাসার আবাসভূমি থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে এসেছে … আর আমাকে এমন এক জায়গায় নিক্ষেপ করেছে যেখানে আমার হৃদয়ে কেবল শূন্যতা বিরাজ করে।এখন আমার অবস্থান এমন এক সম্প্রদায়ের মাঝে … যাদের কাছে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার আর প্রখর সূর্য উভয়ই সমান।তিনি আরও বলেছেন:আমি সেই ভূমির জন্য ব্যাকুল হই যেখানে আমি আমার যৌবনের পোশাক পরিধান করেছিলাম … সেই যৌবনের স্মৃতির কারণেই তার প্রতি আমার অন্তরে গভীর অনুরাগ ও বেদনা রয়েছে।তলোয়ারের ফলার কারণেই তার খাপটি মর্যাদা পায় … আর সুগন্ধের কারণেই আম্বর ও গোলাপের উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ পায়।তিনি আরও বলেছেন:আকাশের বর্ষণ যেন সেই দ্বীপকে সিক্ত রাখে, কেননা … বিচ্ছেদ যতই দীর্ঘ হোক না কেন, আমি তার প্রতি অত্যন্ত গভীর অনুরক্ত।ঐ ঘরবাড়িগুলোতেই আমি আমার যৌবনকাল অতিবাহিত করে এসেছি … হায়, অতিবাহিত হওয়া সেই যৌবনকাল কতই না চমৎকার ছিল!
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٥)
شبابٌ شَفَى نفسي وودَّعَ مسرعاً … كما زار طَيفٌ أو تبوَّجَ بارقُقضيتُ به حقَّ الهوَى وأطعتُهُ … فأيامُهُ في عينِ فكري حدائقُوقال أيضاً:بي جُؤذَرٌ هامَ الفؤادُ بحُبِّهِ … عُنيتْ لواحظُهُ بقتلِ محبِّهِقد أتلفَ المُهَجاتِ بين لَطافَةٍ … في وجنتيهِ وقسوةٍ في قلبهِوإذا رأى المرآةَ هامَ فؤادُهُ … في حُسْنِ صورتِهِ فرقَّ لصبّهولابن البراء في أعرجأبِنْ لي يا أبا موسى بحالٍ … بَدَتْ لي منكَ يضحكُ من رآهاتكيلُ الأرضَ باعاً بَعْدَ باعٍ … كأنَّكَ قد عَزَمتَ على شِراهاوتنبحُكَ الكلابُ بكلِّ أرضٍ … كأنَّكَ قد طُبِعتَ على أذاهاوقال بالقيروان، وقد بلغه أن أبا الفضل يوسف ابن النحوي ذم خطَّ أهل الأندلس، من قصيدة يقول فيها:تنسمْ أريجاً لم يَضُعْ من لطائمِ … وعرِّجْ على ربعٍ لميَّةَ طاسِمِترحلتُ عن أَرضي فأفضتْ بيَ النَّوى … لأرضِ ذئابٍ في ثيابِ ضراغمِفكم فيهمُ من عائبٍ قمرَ الدّجى … ومستنزرٍ منهلَّ قطْرِ الغمائمرمى معشري بالذمِّ منطقُ يوسفٍ … وحُسْنُ الثّريّا مُفْحِمٌ كلَّ ذائمأبا الفضل لا ترتَبْ بأنَّك من فمي … سليمُ أفاعٍ لستَ منها بسالمِأراكَ سفاهاً عبتَ خطَّ مَعَاشرٍ … بهمْ تُسْفِرُ الأيَّامُ عن وجهِ باسمِفإن يكُ فضلاً ما تشي يدُ كاتبٍ … فكلُّ العُلا في ما تشي يدُ راقم
যৌবন আমার আত্মাকে পরিতৃপ্ত করেছিল এবং দ্রুত বিদায় নিয়েছিল … যেমন কোনো কল্পনা দর্শন দিয়ে যায় অথবা বিদ্যুৎ চমকে ওঠে।যৌবনে আমি প্রেমের দাবি পূর্ণ করেছি এবং তার আনুগত্য করেছি … তাই আমার চিন্তার জগতে সেই দিনগুলো বাগানের মতো চিরসবুজ।তিনি আরও বলেন:আমার এক হরিণশাবক সদৃশ প্রিয়তম আছে যার প্রেমে হৃদয় ব্যাকুল … তার চপল দৃষ্টি যেন তার প্রেমিককে হত্যার কাজে নিয়োজিত।সে তার গণ্ডদেশের কোমলতা এবং হৃদয়ের কঠোরতার মাঝে … অনেক প্রাণকে ধ্বংস করে দিয়েছে।আর যখন সে আয়নায় নিজেকে দেখে, তখন নিজের রূপের সৌন্দর্যে তার হৃদয় বিমোহিত হয় … ফলে সে তার আশিকের প্রতি কিঞ্চিৎ সদয় হয়।ইবনুল বাররা জনৈক পঙ্গু ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন:হে আবু মুসা, আমার কাছে তোমার সেই অবস্থাটি বর্ণনা করো … যা আমার সামনে প্রকাশ পেয়েছে এবং যা দেখে প্রত্যক্ষদর্শী হাসছে।তুমি জমিনকে হাত মেপে মেপে পরিমাপ করছ … যেন তুমি তা ক্রয় করার সংকল্প করেছ।আর প্রতিটি জনপদে কুকুর তোমাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে … যেন তোমাকে তাদের কষ্টের কারণ হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছে।তিনি কায়রাওয়ানে থাকাকালীন এটি বলেছিলেন, যখন তার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে আবুল ফজল ইউসুফ ইবনুন নাহবী আন্দালুসীয়দের হস্তলিপির নিন্দা করেছেন; সেই কাসিদার অংশবিশেষে তিনি বলেন:সেই সুঘ্রাণ গ্রহণ করো যা সুগন্ধি বিক্রেতার পাত্র হতে বিচ্ছুরিত হয়নি … এবং মাইয়্যার জরাজীর্ণ বসতিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করো।আমি আমার মাতৃভূমি ত্যাগ করেছি এবং এই প্রবাস আমাকে নিয়ে এসেছে … সিংহের পোশাক পরিহিত নেকড়েদের এক দেশে।তাদের মধ্যে এমন কতজন আছে যারা রজনীর পূর্ণিমার চাঁদের খুঁত ধরে … এবং মেঘমালা হতে বর্ষিত অঝোর ধারাকে অতি সামান্য মনে করে।ইউসুফের বক্তব্য আমার স্বজাতিকে নিন্দার লক্ষ্যবস্তু করেছে … অথচ সুরাইয়া নক্ষত্রের সৌন্দর্য সকল নিন্দুককে নিরুত্তর করে দেয়।হে আবুল ফজল, তুমি এ বিষয়ে মোটেও সন্দেহ করো না যে আমার মুখ থেকে নিঃসৃত বাণী … সেই বিষধর সর্পের দংশনতুল্য যা থেকে তুমি রক্ষা পাবে না।আমি দেখতে পাচ্ছি যে তুমি মূর্খতাবশত এমন এক সম্প্রদায়ের হস্তলিপির নিন্দা করেছ … যাদের মাধ্যমে দিনগুলো হাস্যোজ্জ্বল মুখে উদ্ভাসিত হয়।যদি কোনো লেখকের হাতের কারুকার্য শ্রেষ্ঠত্ব হয় … তবে সকল উচ্চমর্যাদা তো সেই লিপিকারের হাতের কারুকার্যেই নিহিত।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وله من قصيدة:ما خيَّمَ المجدُ إلَاّ في منازلنا … فليس يَعْدِلنا في الأرضِ من أحدِإذا بَلَوْتَ فأخلاقٌ مُهذَّبةٌ … وإن سألتَ فبذلٌ من فمٍ ويدِمن كلِّ مكرُمَةٍ فُزنا بأوفَرِها … حفظُ الجِوارِ لنا والأخذُ بالقَوَدِلنا نفوسٌ عن الجاراتِ معرِضَةٌ … وفي التّقى لأفاعيهنَّ بالرَّصدِإن شئتَ من كَلِمِ الأعرابِ أفصحَها … فخُذْهُ عن والدٍ منَّا وعن وَلَدِتَنْبُو حِدادُ الظُّبَا عن غَرْبِ منطقنا … نبوَّ ظُفرِ الفتَى عن مخلبِ الأسدِومنها في الرّدّ على أبي الفضل إذ ذمَّ أبا عمر ابنَ عبد البرّ:معتوهُ قسطيلةٍ ينفي رياضتنا … ومن يُرِدْ قَنَصَ العنقاءِ لم يصدِتفيظُ دون مُناها نَفْسُ حاسِدِنا … وكيف للغَوْرِ يعلو ذِرْوَةَ السَّنَدِتعساً ليوسفَ أنْ مَنَّاهُ خاطرُهُ … لحاقَنَا وهلِ العرماضُ كالثمدِباحَتْ بذمِّ ابن عبد البر قَوْلَتُهُ … إن الحسودَ على المحسودِ ذو حَرَدكم يُتْعِبُ النفسَ فيما ليس يبلغُهُ … والضبعُ يعظمُ عنها كلُّ ذي لِبَدِلو حلَّ ساحةَ قومي كان مُطَّرَحاً … كَبَهْرَجٍ لَحِظَتْهُ عينُ مُنْتَقِدِدعوى العلومِ تحلَاّها فأَشبههم … كما تشابَهَ لفظُ السَّعْدِ والسُّعْدِوتوفي أبوه وهو على حاله من الاغتراب والاضطراب، فكتب إلى أخيه مع نثر:تَبَّتْ يدُ البينِ كم من مهجةٍ عبثتْ … بها وكم من فؤادٍ وهو مُنْصَدِعُدنوُّ رَبْعَكَ أقصى ما أُؤَمِّلُهُ … لكنْ منالُ الَّذي لم يُقضَ ممتنعُ
তাঁর একটি কবিতা থেকে:আমাদের আবাসস্থল ব্যতীত অন্য কোথাও গৌরব তাঁবু ফেলেনি … সুতরাং জমিনের বুকে আমাদের সমকক্ষ কেউ নেই।তুমি যদি পরীক্ষা করো তবে মার্জিত চরিত্র দেখতে পাবে … আর যদি প্রার্থনা করো তবে মুখ ও হাত থেকে দান দেখতে পাবে।প্রতিটি সম্মানের মধ্য থেকে আমরা তার পূর্ণ অংশ অর্জন করেছি … প্রতিবেশীর সুরক্ষা প্রদান আমাদের বৈশিষ্ট্য এবং আমরা কিসাস গ্রহণ করি।আমাদের এমন আত্মা রয়েছে যা প্রতিবেশিনীদের দিক থেকে বিমুখ … এবং আল্লাহভীতির কারণে তাদের প্রলোভনরূপী সর্পের ব্যাপারে সজাগ।তুমি যদি আরবদের বাক্যের মধ্যে সবচেয়ে সাবলীল কথাটি চাও … তবে তা আমাদের পিতা ও সন্তানদের থেকে গ্রহণ করো।আমাদের বাগ্মিতার ধারের কাছে তলোয়ারের ধার ভোঁতা হয়ে যায় … যেমন সিংহের থাবার সামনে যুবকের নখ তুচ্ছ হয়ে পড়ে।এর মধ্য থেকে আবু আল-ফদলের প্রত্যুত্তরে কিছু পঙক্তি, যখন সে আবু ওমর ইবনে আব্দুল বার-এর নিন্দা করেছিল:কাসতিলার সেই বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি আমাদের সাধনাকে অস্বীকার করছে … অথচ যে ব্যক্তি আনকা পাখি শিকার করতে চায় সে কখনো তা শিকার করতে পারবে না।আমাদের হিংসেকারীর আত্মা তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের আগেই নিভে যায় … নিম্নভূমি কীভাবে সুউচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করবে?ইউসুফের ধ্বংস হোক যে তার মন তাকে এই কুমন্ত্রণা দিয়েছে … আমাদের নাগাল পাওয়ার; শৈবাল কি কখনও স্বচ্ছ জলাধারের মতো হয়?তার উক্তি ইবনে আব্দুল বার-এর নিন্দাকে প্রকাশ করে দিয়েছে … নিশ্চয়ই হিংসেকারী ব্যক্তি যাকে হিংসা করা হয় তার প্রতি ক্ষুব্ধ থাকে।সে নিজেকে এমন কাজে কতটা ক্লান্ত করছে যা সে অর্জন করতে পারবে না … কেশরধারী সিংহের কাছে হায়েনা তো তুচ্ছই বটে।সে যদি আমার জাতির আঙিনায় আসত তবে সে প্রত্যাখ্যাত হতো … যেমন কোনো জহুরির চোখে ধরা পড়া জাল মুদ্রার মতো।জ্ঞানের দাবি নিয়ে সে নিজেকে সজ্জিত করেছে তাই সে তাদের মতো হয়েছে … যেমন 'সা'দ' এবং 'সু'দ' শব্দ দুটির মধ্যে সাদৃশ্য থাকে।তিনি প্রবাসে এবং অস্থির অবস্থার মধ্যে থাকাকালীন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি তাঁর ভাইয়ের নিকট গদ্যসহ লিখে পাঠান:বিচ্ছেদের হাত ধ্বংস হোক, এটি কত প্রাণ নিয়ে খেলা করেছে … আর কত হৃদয়কে এটি বিদীর্ণ করে দিয়েছে।তোমার বাসস্থানের নৈকট্যই আমার সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা … কিন্তু যা তকদীরে নির্ধারিত হয়নি তা অর্জন করা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وكان أبوه أبو بكر أحدَ شيوخ أبي الفضل عياض، رحمه الله.ومما سمعه، قال: أنشدني أبو جعفر ابن الدلال ببلنسية عن أبي الحجاج ابن الشيخ سمعت منه بمالقة عن أبي طاهر السلفي سمعه منه بالإسكندرية، قال: أنشدني الإمام أبو المظفر الأبيوردي لنفسه بهمذان:وقصائدٍ تحكي الرياضَ أضعتُها … في باخلٍ ضاعتْ به الأَحسابُفإذا تناشدها الرواةُ وأبصروا ال … ممدوحَ قالوا ساحرٌ كذَّابُ
এবং তাঁর পিতা আবু বকর ছিলেন আবুল ফজল ইয়াদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম শাইখ।তিনি যা কিছু শ্রবণ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে, তিনি বলেন: আবু জাফর ইবনুদ দাল্লাল বালানসিয়াতে আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি আবুল হাজ্জাজ ইবনুশ শাইখ থেকে, আমি তাঁর নিকট মালাগাতে শুনেছি, তিনি আবু তাহের আস-সিলাফি থেকে, তিনি তাঁর নিকট ইসকান্দারিয়াতে শুনেছেন, তিনি বলেন: ইমাম আবুল মুজাফফর আল-আবিওয়ার্দি হামাদানে আমাকে তাঁর স্বরচিত এই কবিতা শুনিয়েছেন:এমন অনেক কাসিদা যা বাগানের সদৃশ, আমি তা নষ্ট করেছি … এমন এক কৃপণ ব্যক্তির পেছনে যার দ্বারা আভিজাত্য কলঙ্কিত হয়েছে।অতঃপর যখন বর্ণনাকারীরা সেগুলো আবৃত্তি করে এবং প্রশংসিত … ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ করে, তখন তারা বলে: সে তো এক মিথ্যাবাদী জাদুকর।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ابن الطراوةسليمان بن محمد بن عبد الله أبو الحسين السبائي - بالسين المهملة وبالباء الموحدة - المعروف بابن الطراوة من أهل مالقة. أخذ عن أبي الحجاج الأعلم والأديب أبي بكر المرشاني وأبي مروان ابن سراج، حمل عنهم كتاب سيبويه وكان إمام العربية في عصره وصاحب التواليف المشهورة فيها، وكانت وفاته في رمضان وقيل في شوال سنة ثمان وعشرين وخمسمائة. ومن شعره:وقائلةٍ أتَهْفو للغواني … وقد أضحى بمَفْرِقِكِ النَّهارُفقلتُ لها حَثَثْتِ على التّصابي … أحقُّ الخيلِ بالرَّكضِ المعارُومنه في فقهاء مالقة:إذا رأوا جَملاً يأتي على بُعدٍ … مَدُّوا إليه جميعاً كفَّ مقتنصِ
ইবনুত তরাওয়াহসুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আবুল হুসাইন আস-সাবায়ি—সীন এবং বা বর্ণের সাথে—যিনি ইবনুত তরাওয়াহ নামে পরিচিত। তিনি মালাকার অধিবাসী ছিলেন। তিনি আবুল হাজ্জাজ আল-আলাম, সাহিত্যিক আবু বকর আল-মুরশানি এবং আবু মারওয়ান ইবনে সিরাজের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন। তিনি তাদের নিকট থেকে ‘কিতাবু সিবওয়াইহ’ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর যুগের আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রের ইমাম এবং এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলির রচয়িতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল পাঁচশত আটাশ হিজরি সনের রমজান মাসে, মতান্তরে শাওয়াল মাসে। তাঁর কবিতা থেকে বর্ণিত:এক নারী বলল: আপনি কি রূপসীদের প্রতি আসক্ত হচ্ছেন ... অথচ আপনার কেশরাজি বার্ধক্যের শুভ্রতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে?আমি তাকে বললাম: তুমি তো আমাকে যৌবনোচিত আচরণের প্রতিই উৎসাহিত করলে ... কেননা দ্রুত দৌড়ানোর জন্য ধার করা ঘোড়াই অধিক যোগ্য।মালাকার ফকিহদের সম্পর্কে তাঁর রচিত কবিতা:যখন তারা দূর থেকে কোনো উট আসতে দেখে ... তখন শিকারির ন্যায় তারা সবাই সেদিকে হাত বাড়িয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ١٩)
إن جئتَهم فارغاً لَزُّوك في قَرَنٍ … وإن رأوا رشوةٍ أفْتوك بالرُّخَصِومنه وقد خرجوا ليستسقوا على أثر قحط في يوم غامت سماؤه فزال ذلك عند خروجهم:خرجوا ليستسقوا وقد نَشأتْ … بحريّةٌ قَمِنٌ بها السحُّحتَّى إذا اصطفّوا لدعوتهمْ … وبدا لأعينهمْ بها نَضْحُكُشِفَ الغمامُ إجابةً لهمُ … فكأنَّما خرجوا ليستصْحواهكذا وجدت هذه الأبيات منسوبةً إليه، وقد سبقه إلى معناها أبو عليّ المحسن ابن القاضي أبي القاسم عليّ بن أبي الفهم التنّوخي صاحب كتاب الفرج بعد الشدّة في قوله:خرجنا لنستسقي بيمنِ دعائه … وقد كاد هُدْبُ الغيم أن يُلبسَ الأرضافلمّا ابتدا يدعو تقشّعتِ السَّما … فما تمَّ إلَاّ والغمامُ قد ارفضَّا
আপনি যদি রিক্তহস্তে তাদের নিকট যান, তবে তারা আপনাকে রজ্জুবদ্ধ করবে … আর যদি তারা উৎকোচ দেখে, তবে তারা আপনাকে শিথিলতার ফতোয়া দেবে।এর অন্তর্গত একটি ঘটনা হলো, আকাশ যখন মেঘাচ্ছন্ন ছিল তখন তারা অনাবৃষ্টির পর বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য বের হয়েছিল; অতঃপর তাদের বের হওয়ার সময়ই মেঘ অপসারিত হলো:তারা বৃষ্টির প্রার্থনার নিমিত্তে বের হলো এমতাবস্থায় যে, একটি সামুদ্রিক মেঘমালা উদিত হয়েছিল … যা ছিল প্রবল বারিবর্ষণের উপযুক্ত।অবশেষে তারা যখন তাদের প্রার্থনার জন্য সারিবদ্ধ হলো … এবং তাদের চোখের সামনে জলকণা পরিলক্ষিত হলো।তাদের প্রার্থনার উত্তরস্বরূপ মেঘমালা অপসারিত হলো … যেন তারা রোদ বা পরিষ্কার আকাশের সন্ধানেই বের হয়েছিল।এই কবিতাগুলোকে আমি তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত পেয়েছি। তবে তাঁর পূর্বে ‘আল-ফারাজ বা’দাশ শিদ্দাহ’ গ্রন্থের রচয়িতা আবু আলী আল-মুহাসসিন ইবনুল কাজি আবুল কাসিম আলী বিন আবিল ফাহাম আত-তানুখি তাঁর নিম্নোক্ত উক্তিতে এই একই অর্থের অবতারণা করেছেন:আমরা তাঁর প্রার্থনার বরকতে বৃষ্টির দোয়ার জন্য বের হলাম … যখন মেঘের কিনারা প্রায় ভূমিকে আচ্ছাদিত করে ফেলেছিল।অতঃপর তিনি যখন প্রার্থনা শুরু করলেন, আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেল … আর তাঁর প্রার্থনা শেষ হতে না হতেই মেঘমালা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الأنديأحمد بن خليل أبو عمرو الأُنْدي - بالنون والدال المهملة - من أهل بلنسية، كان طبيباً أديباً شاعراً صاحبَ افتنانٍ ومقطَّعاتٍ حسان، وهو القائل:ومَذعورةٍ من حَلْيها قد ذعرتُها … بسلّةِ مطرورِ الغِرارِ مهنَّدِفما وجدَتْ للحَزم إلَاّ التِفاتَةً … تُرقرِقها ما بين دمع وإثمدِحكمتُ على ألحاظها بعضَ حُكمها … فحسبُكَ منِّي مُعتدٍ غيرُ معتدِوله أيضاً:وهيفاءَ رام الغُصنُ يحكي قوامها … وقالت لها شمسُ الضُّحى أنتِ أملحُيُقِلُّ رداحَ الردفِ منها مخصَّرٌ … بأضيَقَ من خلخالها يتوشّحُتَلاعبُ بالمرآة عُجباً وإنَّما … تُلاعب ظبيَ الموتِ في الماءِ يسبحُوله في فرس:ذو غرّةٍ إن مرَّ تحسبهُ … ريحاً يمرُّ أمامها قَبَسُشهمٌ كطبعكَ في الوغى يقظٌ … سهلٌ كخُلْقِكَ في النَّدى سَلِسُوله أيضاً:بحيث بدتْ خُضْرُ الكتائبِ مقلةً … تخالُ بها من مُشْرَعاتِ القنا شفراوله أيضاً:ومنزلٍ ما به أنيسٌ … يلوح للسَّفْرِ فيه نارُ
আল-উন্দিআহমদ বিন খলিল আবু আমর আল-উন্দি—যিনি নুন এবং দাল (নুকতাহীন) বর্ণযোগে পরিচিত—বালেন্সিয়ার অধিবাসী ছিলেন। তিনি একজন চিকিৎসক, সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন। তিনি বহুমুখী প্রতিভা এবং চমৎকার খণ্ড-কবিতার (মুকাত্তাত) রচয়িতা ছিলেন। তিনি বলেন:তার অলংকারের কারণে ভীত এক নারীকে আমি আরও আতঙ্কিত করে তুললাম … এক ধারালো ও তীক্ষ্ণ ভারতীয় তরবারি কোষমুক্ত করে।সে দৃঢ়তার পরিবর্তে কেবল এক পলক করুণ দৃষ্টিতে ফিরে তাকাল … চোখের অশ্রু আর সুরমার সংমিশ্রণে যা টলমল করছিল।আমি তার চোখের চাহনির ওপর নিজের কিছুটা শাসন প্রয়োগ করলাম … তোমার জন্য আমার এই আক্রমণাত্মক রূপই যথেষ্ট, অথচ আমি প্রকৃত আক্রমণকারী নই।তিনি আরও বলেন:এমন এক কৃশকটি নারী, যার দেহের সুষমাকে বৃক্ষশাখা অনুকরণ করতে চায় … আর পূর্বাহ্নের সূর্য তাকে বলে, ‘তুমিই অধিকতর লাবণ্যময়ী’।তার স্থুল নিতম্বকে বহন করছে এক ক্ষীণ মধ্যদেশ … যা তার অলংকৃত নূপুরের চেয়েও অধিক সংকীর্ণ স্থানে আবৃত।সে দর্পভরে আয়না নিয়ে খেলা করে, অথচ সে যেন … পানির ভেতরে সন্তরণরত মৃত্যুরূপী এক হরিণ শাবকের সাথেই খেলছে।একটি ঘোড়া সম্পর্কে তার বর্ণনা:সে কপালে শুভ্র তিলকধারী, সে যখন ছুটে যায় তখন তোমার মনে হবে … সে যেন এক প্রবল বায়ু যার সম্মুখে অগ্নিনির্ভর আলোকবর্তিকা বয়ে চলছে।সে রণক্ষেত্রে তোমার স্বভাবের ন্যায় তেজস্বী ও সতর্ক … আবার দানশীলতায় তোমার চরিত্রের ন্যায় সাবলীল ও সহজ।তিনি আরও বলেন:যেখানে সবুজ সেনাদলকে একটি চক্ষুর ন্যায় দেখাল … যার মধ্যে উদ্যত বর্শাগুলোকে তোমার চোখের পাতার ন্যায় মনে হবে।তিনি আরও বলেন:এমন এক গৃহ যাতে কোনো সঙ্গী নেই … তবুও পথচারীদের জন্য সেখানে আগুনের আলো দৃশ্যমান হয়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢١)
علَّلتُ طرفي بها بخدٍّ … دخانها حولَه عذارُوله أيضاً:وغديرٍ رقَّتْ حواشيه حتَّى … بان في قَعْرهِ الَّذي كان ساخاوكأنَّ الطيورَ إذ كرعت في … هـ وعلَّتْ تزُقُّ فيه فِراخا
আমি আমার দৃষ্টিকে সান্ত্বনা দিলাম এমন এক গণ্ডদেশ দ্বারা … যার চারপাশের ধোঁয়া ছিল গালের লতিকার ন্যায়।তার আরও (কবিতা):এবং এমন এক জলাশয় যার কিনারাগুলো এমন স্বচ্ছ হয়ে গেল যে … এর তলদেশে যা কিছু নিমজ্জিত ছিল তা প্রকাশিত হয়ে পড়ল।আর পাখিরা যেন যখন তাতে চঞ্চু ডুবিয়ে পান করল … এবং বারবার পান করার পর তাতে তাদের ছানাদের খাওয়াতে লাগল।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ابن فرتونأبو القاسم خلف بن يوسف بن فرتون الأبرش النحوي من أهل شنترين، تجول في بلاد الأندلس وغيرها معلماً بالعربية، وكان رأساً في العربية واللغة، حفظ كتاب سيبويه؛ وتوفي بقُرْطُبَة سنة اثنتين وثلاثين وخمسمائة، فمن قوله، أنشدنا أبو الربيع ابن سالم قال أنشدنا أبو القاسم ابن سمجون قال أنشدنا أبو العباس أحمد بن أبي القاسم بن الأبرش لأبيه:لقد كنتُ أخشى أنْ تكونَ ملالةً … فقد وقع الأمرُ الَّذي كنتُ أحذرُفلقِّنْ لساني إن لقيتك حجةً … فعند ارتحالي إن نسيتَ سأذكروله بالإنشاد المذكور:لو لم يكنْ ليَ آباء أَسودُ بهم … ولم يُثبِّتْ رجالُ العُرْبِ لي شَرفاولم أنلْ عند مَلْكِ العصر منزلةً … لكان في سيبويهِ الفخرُ لي وكفى
ইবনে ফারতুনআবু আল-কাসিম খালাফ বিন ইউসুফ বিন ফারতুন আল-আবরাশ আন-নাহবি ছিলেন শান্তারিন অঞ্চলের অধিবাসী। তিনি আরবি ভাষার শিক্ষক হিসেবে আন্দালুস ও অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি আরবি সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং সিবওয়াইহ-এর গ্রন্থ মুখস্থ করেছিলেন। তিনি পাঁচশত বত্রিশ হিজরি সনে কর্ডোভায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কতিপয় পংক্তি সম্পর্কে আবু আল-রবি ইবনে সালিম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আবু আল-কাসিম ইবনে সামজুন আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন যে আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবিল কাসিম বিন আল-আবরাশ তাঁর পিতার এই কবিতাটি আমাদের নিকট আবৃত্তি করেছেন:আমি আশঙ্কা করছিলাম যে এটি বিরক্তির কারণ হবে … পরিশেষে সেই বিষয়টিই ঘটে গেল যা থেকে আমি সতর্ক থাকতাম।সুতরাং আপনার সাথে সাক্ষাতকালে আমার জিহ্বাকে অকাট্য প্রমাণ শিখিয়ে দেবেন … কেননা আমার প্রস্থানকালে আপনি ভুলে গেলেও আমি অবশ্যই স্মরণ করব।উক্ত বর্ণনানুসারে তাঁর আরও কিছু পংক্তি হলো:আমার যদি এমন কোনো পূর্বপুরুষ না থাকতেন যাঁদের মাধ্যমে আমি নেতৃত্ব দান করতাম … আর আরবের বীর পুরুষেরা যদি আমার জন্য কোনো আভিজাত্য সুপ্রতিষ্ঠিত না করতেন,এবং আমি যদি সমকালীন বাদশাহর নিকট কোনো উচ্চমর্যাদা লাভ না-ও করতাম … তবে সিবওয়াইহ-এর জ্ঞানই আমার গর্বের জন্য যথেষ্ট হতো।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وزاد أبو الربيع بيتاً ثالثاً عن ابن حمير بالإنشاد عن ابن الأبرش كذلك:فكيفَ عِلْمٌ ومجدٌ قد جمعتهُما … وكلُّ مختلقٍ في مثلِ ذا وَقَفاوبالإنشاد الأول له:رأيتُ ثلاثةً تَحكي ثلاثاً … إذا ما كنتَ في التشبيهِ تنصِفْفتاجو النّيلُ منفعةً وحُسناً … ومصرٌ شنترينُ وأنت يوسُفْوما أحسن قول شيخنا أبي الحسن ابن حريق في هذا المعنى، وأنشدنيه:أصبحَت تُدميرُ مِصْراً شَبهاً … وأبو يوسف فيها يوسُفاولابن الأبرش يرثي غلاماً وسيماً غرق، قاله أو تمثل به وهو:الحمدُ للهِ على كلِّ حالْ … قد أطفأَ الماءُ سِراجَ الجَمالْأطفأهُ ما قد كانَ مَحْيا له … قد يطفئُ الزيتُ ضياءَ الذُّبالْوقد أكثر الشعراء في رثاء الغريق فأجادوا، من ذلك قول أبي القاسم ابن العطار الإشبيلي في بعض الهَوزَنيين ومات غريقاً في نهر طلبيرة عند فتحها:ولما رأوا أنْ لا مقرَّ لسَيفِهِ … سوَى هامِهم لاذوا بأجرأ منهمُوكان من النَّهر المَعين مُعينُهم … ومن ثَلَم السدّ الحسامُ المثلّمُفيا عجباً للبحرِ غالتهُ نُطفةٌ … وللأسَدِ الضّرغامِ أرداه أرقَمُ
আবু রাবী' ইবন হুমাইর থেকে ইবনুল আবরাশের আবৃত্তির মাধ্যমে একটি তৃতীয় পঙক্তি বৃদ্ধি করেছেন এভাবে:তাহলে জ্ঞান ও গৌরব যা তুমি একত্রিত করেছ তার বর্ণনা কী করে সম্ভব? … অথচ এমন বিষয়ে প্রত্যেক মিথ্যুকই থমকে যায়।এবং তার প্রথম আবৃত্তি অনুযায়ী:আমি তিনটিকে অন্য তিনটির অনুরূপ হতে দেখেছি, … যদি তুমি তুলনার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করো।সুতরাং উপকার ও সৌন্দর্যে ‘তাজো’ যেন নীল নদ, … আর ‘শান্তরিন’ যেন মিসর, আর তুমি হলে ইউসুফ।এই প্রসঙ্গে আমাদের শাইখ আবুল হাসান ইবন হুরিকের কথাটি কতই না চমৎকার, তিনি আমাকে এটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:‘তুদমির’ সাদৃশ্যের দিক থেকে যেন মিসর হয়ে গেছে, … আর তাতে আবু ইউসুফ হলেন স্বয়ং ইউসুফ।এবং ইবনুল আবরাশের একটি পঙক্তি, যা তিনি ডুবে যাওয়া এক সুদর্শন কিশোরের শোকে লিখেছেন অথবা এটি উদ্ধৃত করেছেন, আর তা হলো:সকল অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা; … পানি সৌন্দর্যের প্রদীপকে নিভিয়ে দিয়েছে।একে সেই বস্তুই নিভিয়ে দিল যা তার জীবন ছিল, … যেমন তেল কখনো সলতের আলোকে নিভিয়ে দেয়।কবিরা সলিল সমাধি হওয়া ব্যক্তিদের শোকে অনেক কবিতা লিখেছেন এবং তাতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তার মধ্যে রয়েছে সেভিলির আবু কাসিম ইবনুল আত্তারের উক্তি, যা তিনি জনৈক হাওজানির স্মরণে বলেছিলেন, যিনি তালাভিরা বিজয়ের সময় নদীতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন:যখন তারা দেখল যে তাদের মস্তক ছাড়া তার তরবারির আর কোনো বিশ্রামের জায়গা নেই, … তখন তারা তাদের চেয়েও সাহসী একজনের আশ্রয় নিল।আর প্রবাহমান নদীই ছিল তাদের সাহায্যকারী, … আর বাঁধের ফাটল থেকে বেরিয়ে এসেছিল ধারাল তরবারি।হায় বিস্ময়! সমুদ্রকে সামান্য পানি গ্রাস করল, … আর গর্জনকারী সিংহকে এক বিষধর সাপ ধ্বংস করল।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
العامري النحويأبو بكر محمد بن إبراهيم القرشي العامري الخطيب النحوي من أهل شلب، وأصله من مدينة باجة. له ورسم أن يُكتب على قبره:لئن نفذ القدرُ السَّابقُ … بموتي كما حكمَ الخالقُفقد مات والدُنا آدمٌ … ومات محمّدٌ الصادقُومات الملوكُ وأشياعُهم … ولم يبقَ منْ جمعهم ناطقُفقُلْ للذي سرَّهُ مهلكي … تأهَّبْ فإنَّك بي لاحقُوللناس فيما يكتبون على القبور كثير مستجاد، من ذلك قول أبي إسحاق ابن خفاجة:خليليَّ هل من وقفةٍ بتألُّمِ … على جدثي أو نظرةٍ بترحُّمِخليليَّ هل بعد الرَدى من ثنيّةٍ … وهل بعد بطن الأرض دارُ مخيّمِوإنّا حَيينا أو رَدينا لإخْوَةٌ … فمَنْ مرَّ بي من مسلم فليسلّمِوماذا عليه أن يقول مُحيّياً … ألا عِمْ صباحاً أو يقول ألا اسلمِوفاءً لأشلاءٍ كرُمْنَ على البِلَى … فعاجَ عليها من رُفاتٍ وأعظُمِ
আল-আমিরি আন-নাহবিআবু বকর মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-কুরাশি আল-আমিরি আল-খাতিব আন-নাহবি শিলব শহরের অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাজা শহরে। তাঁর একটি অসিয়ত ছিল যেন তাঁর কবরের ওপর এই পঙক্তিগুলো লেখা হয়:যদি পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য কার্যকর হয়ে থাকে … স্রষ্টার ফয়সালা অনুযায়ী আমার মৃত্যুর মাধ্যমে;তবে আমাদের পিতা আদমও ইন্তেকাল করেছেন … এবং সত্যবাদী মুহাম্মদও ইন্তেকাল করেছেন;মারা গেছেন রাজাধিরাজ ও তাঁদের অনুসারীরা … তাঁদের সেই বিশাল সমাবেশ থেকে আজ কথা বলার মতো কেউ অবশিষ্ট নেই;সুতরাং তাকে বলে দাও যে আমার মৃত্যুতে আনন্দিত হচ্ছে … প্রস্তুত হও, কেননা তুমিও আমার সাথে মিলিত হতে যাচ্ছ।মানুষ কবরের ফলকে যা কিছু লিখে থাকে তার মধ্যে অনেক চমৎকার পঙক্তি রয়েছে, তার মধ্যে আবু ইসহাক ইবনে খাফাজার এই উক্তিটি অন্যতম:হে আমার দুই বন্ধু! আমার কবরের পাশে কি বেদনার সাথে একটু দাঁড়াবে … কিংবা করুণার দৃষ্টিতে একটু তাকাবে?হে আমার দুই বন্ধু! মৃত্যুর পর কি আর কোনো প্রত্যাবর্তন আছে … আর মাটির উদরে কি বসতি স্থাপনের কোনো ঘর আছে?আমরা জীবিত থাকি বা মৃত—আমরা তো ভাই ভাই … অতএব কোনো মুসলিম যদি আমার কবরের পাশ দিয়ে যায়, সে যেন সালাম দেয়।শুভেচ্ছা জানিয়ে তার বলতে কী-ই বা ক্ষতি … ‘তোমার সকাল শুভ হোক’ অথবা বলা ‘তুমি শান্তিতে থেকো’?সেই জীর্ণ দেহাবশেষের প্রতি বিশ্বস্ততাস্বরূপ যা ধ্বংস হয়েও মর্যাদাবান … যার হাড়গোড় ও অবশিষ্টাংশ আজ মাটিতে মিশে বিলীন হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
يردّد طوراً آهةَ الحُزن عندها … ويذرفُ طوراً دمعةَ المترحّمِوقول أبي بكر عبد الرحمن بن محمد بن مُغاوِر الكاتب - بالغين والواو المكسورة والراء:أيُّها الواقفُ اعتباراً بقبري … استمِعْ فيه قولَ عظمي الرميمِأودعوني بطنَ الضريح وخافوا … من ذنوبٍ كلومُها بأديميقلتُ لا تجزعوا عليَّ فإنِّي … حَسَنُ الظنّ بالرءوف الرحيمِواتركوني بما اكتسبتُ رهيناً … غَلِقَ الرهن عند مولًى كريمِأنشدنيهما أبو الربيع ابن سالم قال: أنشدنا أولاهما أبو رجال ابن غلبون بمرسية، قال: أنشدنا أبو إسحاق - يعني ابن خفاجة - لنفسه، وذكرها، قال أبو الربيع: وأنشدنا الثانية قائلها على باب داره بشاطبة.
কখনও সেখানে দুঃখের দীর্ঘশ্বাস বারবার ফেলে … আবার কখনও দয়াদ্র ব্যক্তির অশ্রু বিসর্জন দেয়।এবং লেখক আবু বকর আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুগাভির-এর উক্তি — (শব্দটি) গইন, কাসরাযুক্ত ওয়াও এবং র দিয়ে:হে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমার কবরের পাশে দণ্ডায়মান ব্যক্তি … সেখানে আমার জীর্ণ অস্থির কথা শ্রবণ করো।তারা আমাকে কবরের অভ্যন্তরে রেখে গেল এবং ভয় পেল … এমন সব গুনাহ হতে যার জখমগুলো আমার চামড়ায় লেগে আছে।আমি বললাম, তোমরা আমার জন্য অস্থির হয়ো না, কেননা আমি … পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবানের প্রতি সুধারণা পোষণ করি।আর আমি যা অর্জন করেছি তার বিনিময়ে আমাকে বন্ধক হিসেবে ছেড়ে দাও … এক মহান মুনিবের নিকট এই বন্ধকটি আটকে আছে।আবু রাবি ইবনে সালিম আমাকে কবিতা দুটি শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রথমটি আমাদের শুনিয়েছেন আবু রিজাল ইবনে গালবুন মুরসিয়াতে; তিনি বলেন, আবু ইসহাক — অর্থাৎ ইবনে খাফাজাহ — এটি নিজের জন্য আবৃত্তি করেছিলেন এবং তিনি তা উল্লেখ করেন। আবু রাবি বলেন, দ্বিতীয় কবিতাটি তার রচয়িতা শাতিবাতে নিজ গৃহের দরজায় আমাদের শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ابن العريفأبو العباس أحمد بن محمد بن موسى بن عطاء الله الصنهاجي، ابن العريف الزاهد، من أهل المرية. ولي الحسبة ببلنسية، وقد أقرأ بسرقسطة، وبعد ذلك بَعُدَ صيته في العبادة. توفي سنة ست وثلاثين وخمسمائة ودفن بمراكش، وقيل إنَّه سُمّ، وله أخبار انظرها في غير هذا الموضع، وله نثر ونظم، فمن ذلك قوله:تمشَّى والعيونُ لهُ سَوامٍ … وفي كلِّ النفوسِ إليه حاجهْوقد مُلِئَتْ غَلائلهُ شُعاعاً … كما مُلئتْ من الخمرِ الزجاجهْوله:إذا نزلَتْ بساحتكَ الرَّزايا … فلا تجزعْ لها جَزعَ الصبيِّفإنَّ لكلّ نازلةٍ عَزاءً … بما قدْ كان من فقدِ النبيّوله أيضاً:إنْ لم أمتْ شوقاً إليكَ فإنني … سأموتُ شوقاً أو أموتُ مشوقا
ইবনুল আরিফআবু আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন আতাউল্লাহ আস-সানহাজি, যাহেদ (তপস্বী) ইবনুল আরিফ, আলমেরিয়ার অধিবাসী। তিনি বালানসিয়ায় হিসবাহর দায়িত্ব পালন করেন এবং সারাগোসায় কিরাত শিক্ষা প্রদান করেন। এরপর ইবাদত-বন্দেগিতে তাঁর সুখ্যাতি চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ৫৩৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং মারাক্কাশে তাঁকে দাফন করা হয়। বলা হয় যে তাঁকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তাঁর জীবনী সংক্রান্ত আরও তথ্যাদি অন্য স্থানে দেখুন। তাঁর গদ্য ও কাব্য সংকলন রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর একটি উক্তি হলো:তিনি হেঁটে চলেন আর দৃষ্টিগুলো তাঁর প্রতি নিবদ্ধ থাকে … এবং প্রতিটি প্রাণেরই তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষিতা রয়েছেতাঁর সূক্ষ্ম বসনরাজি জ্যোতিতে পূর্ণ হয়েছে … যেমনটি সুরা দিয়ে পাত্র পূর্ণ হয়তাঁর আরও পঙক্তি:যদি তোমার আঙিনায় মুসিবত নেমে আসে … তবে শিশুর ন্যায় বিলাপ করো নাকেননা প্রতিটি বিপদের জন্যই প্রবোধ রয়েছে … নবী (সা.)-এর তিরোধানের শোকের মাঝেতাঁর আরও পঙক্তি:যদি আমি তোমার বিরহ-আকাঙ্ক্ষায় মারা না যাই, তবে আমি … বিরহ-আকাঙ্ক্ষাতেই প্রাণ ত্যাগ করব অথবা বিরহকাতর অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করব
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ألبسْتَني ثوبَ الضنى فعَشِقتُهُ … مَنْ ذا رأى قبلي ضنًى معشوقاًلا قرَّ قَلْبي من مَقَرَّ جوانحي … إن لم يَطِرْ قلبي إليكَ خفوقاًوبرئتُ من عيني إذا هي لن تَدَعْ … للدَّمعِ في مجرى الدُّموعِ طريقابحلاوةِ الإخلاصِ جُدْ لي بالرِّضى … إنِّي رأيتُكَ بالعِبادِ رفيقاوله أيضاً:قِفا وقفةً بينَ المحصّبِ والحمى … نصافحْ بأجفانِ العيونِ المغانياولا تنسيا أنْ تسألا سَمُرَ اللِّوَى … متى بات من سُمْرِ الأسنَّةِ عاريافعهدي به والماءُ ينسابُ فوقَهُ … سماءٌ وماءُ الوردِ ينسابُ وادياكأنَّ فؤادي في فمِ الليثِ كلّما … رأيتُ سنا برقِ الحمى أو رآنياأقامَ على أطلالهمْ ضوءُ بارقٍ … من الحسنِ لا يُبقي على الأرضِ سالياسلامٌ على الأحبابِ تحدوه لوعةٌ … من الشَّوق لم يفقد من البينِ حاديا
আপনি আমাকে জীর্ণতার পরিচ্ছদ পরিয়েছেন, অতঃপর আমি তা ভালোবেসে ফেলেছি … আমার পূর্বে এমন কে আছে যে জীর্ণতাকে প্রিয়া হিসেবে দেখেছে?আমার পাজরের ভেতরে আমার হৃদয় শান্ত না হোক … যদি না আমার হৃদয় স্পন্দিত অবস্থায় আপনার পানে উড়ে যায়।আর আমি আমার চক্ষু থেকে বিমুখ হলাম যদি তা … অশ্রুর গতিপথে অশ্রুর জন্য কোনো পথ অবশিষ্ট না রাখে।ইখলাসের মাধুর্যের উসিলায় আমাকে আপনার সন্তুষ্টি দান করুন … নিশ্চয় আমি আপনাকে বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু হিসেবে দেখেছি।তাঁর আরও কবিতা:মুহাসসাব ও হিমার মাঝখানে একটু থামো … এসো আমরা আমাদের চোখের পলক দিয়ে সেই জনপদগুলোকে স্পর্শ করি।আর লিওয়ার বাবলা গাছগুলোকে জিজ্ঞেস করতে ভুলে যেয়ো না … কখন তারা বর্শার ফলক থেকে মুক্ত হয়ে রাত যাপন করেছে।আমার স্মৃতিতে তা এমন যে এর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় … যেন আকাশ এবং গোলাপজল উপত্যকা দিয়ে বয়ে চলেছে।মনে হয় যেন আমার অন্তর সিংহের মুখে রয়েছে, যখনই … আমি হিমার বিদ্যুতের চমক দেখি অথবা তা আমাকে দেখে।তাদের ধ্বংসাবশেষের ওপর সৌন্দর্যের এক বিদ্যুতিক আলো স্থির হয়ে আছে … যা পৃথিবীতে কাউকে শোকমুক্ত রাখে না।প্রিয়জনদের প্রতি সালাম, যা বিরহের তীব্র দহনে চালিত … এমন এক আকাঙ্ক্ষা থেকে যা বিচ্ছেদের মাঝেও কোনো চালককে হারায়নি।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
ابن غتالأبو الحكم جعفر بن يحيى المعروف بابن غتال من أهل دانية، ولسلفه بها نباهة، وهو القائل:حُبُّكَ لذٌّ بكلِّ معنًى … إلى كرًى ملتَ أو سهادِإن كانَ لا بدَّ من منامٍ … فأضلعي هاكَ عن وسادِونمْ على خَفْقِها هُدُوّاً … كالطفلِ في نَهْنَهِ المهادِأبو بكر يحيى بن بقي كان أظرف معنًى وألطف ذهناً، حيث يقول:باعدتُهُ عن أضلعٍ تشتاقُهُ … كي لا ينامَ على وسادٍ خافقِعلى أن بعض الأدباء نسبه إلى الجفاء لما قال: " باعدته عن أضلع تشتاقه " ولم يقل: " باعدت عنه أضلعاً تشتاقه "، وهذا تنبيه حسن.وأنشدنا الربيع ابن سالم قال: أنشدنا عبد الرحمن بن محمد بن مغاور، قال: أنشدنا أبو الحكم ابن غتال ارتجالاً في غلام وسيم لسعته نحلة في شفته:إن لَسَعَتْ لَعْسَاءة نحلةٌ … ولم تَسَعْها رُخْصَةٌ في اللَّمَمْ
ইবনে গাত্তালআবু আল-হাকাম জাফর বিন ইয়াহইয়া, যিনি ইবনে গাত্তাল নামে পরিচিত, তিনি দানিয়ার অধিবাসী ছিলেন। সেখানে তার পূর্বপুরুষদের বিশেষ খ্যাতি ও প্রসিদ্ধি ছিল। তিনি নিম্নোক্ত কবিতাটি বলতেন:তোমার ভালোবাসা সব অর্থেই মধুময় … চাই তুমি নিদ্রার দিকে ঝোঁকো অথবা অনিদ্রায় কাটাওযদি নিদ্রা অনিবার্যই হয় … তবে বালিশের বদলে এই নাও আমার পাঁজরের হাড়আর তার স্পন্দনের ওপর শান্তিতে ঘুমাও … যেমন দোলনার দুলুনিতে শিশু ঘুমায়আবু বকর ইয়াহইয়া বিন বাকি অর্থপ্রকাশে অতি সূক্ষ্ম এবং অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন, যেখানে তিনি বলেন:আমি তাকে সেই পাঁজরগুলো থেকে দূরে রেখেছি যা তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে … যাতে সে স্পন্দিত কোনো বালিশের ওপর না ঘুমায়যদিও কিছু সাহিত্যিক একে রুক্ষতা হিসেবে অভিহিত করেছেন যেহেতু তিনি বলেছিলেন: "আমি তাকে সেই পাঁজরগুলো থেকে দূরে রেখেছি যা তাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে" এবং তিনি বলেননি: "আমি তার থেকে সেই পাঁজরগুলোকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি যা তাকে পেতে চায়"; আর এটি একটি চমৎকার পর্যবেক্ষণ।আর-রাবি ইবনে সালেম আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের শুনিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাগাভির, তিনি বলেন: আবু আল-হাকাম ইবনে গাত্তাল এক সুদর্শন কিশোরের শানে তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিটি পাঠ করেন, যার ঠোঁটে একটি মৌমাছি হুল ফুটিয়েছিল:যদি মৌমাছি সেই রক্তিম ও উজ্জ্বল ঠোঁটে হুল ফুটিয়ে থাকে … তবে সামান্য স্পর্শের ক্ষেত্রেও তার কোনো অব্যাহতি নেই
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
عذرتُها إذ أخذَتْ شَهْدَها … من شفةٍ تشهدُ فيها لفملا غروَ في النحلِ ويُوحى لها … أن تلثمَ الزهرَ إذا ما ابتسمودخل هو وأبو بكر ابن مغاور وصاحبٌ لهما من الأدباء حمام بيار من جهة شاطبة، فصادفوا هواء بارداً فقال ابن مغاور:شَرُفَتْ بحمامِ النوارِ بيار … فدخانه تَعْشَى به الأبصارُوقال الآخر:بينا ترومُ في دفئه … يغشاك قرٌّ ما عليه قراروقال أبو الحكم بن غتال:لو أن لي فيه عصا موسى على … آياتها ما فرَّ عنِّي الفارفقال ابن مغاور: هذا على أنك ابن غتال، وهو اسم الهر مصغراً باللسان الأعجمي.
আমি তাকে ক্ষমা করেছি যখন সে তার মধু আহরণ করল … এমন এক ওষ্ঠাধর থেকে যা মুখের সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়।মৌমাছির জন্য এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, তাকে তো প্রত্যাদেশ করা হয় … ফুল যখন হাস্যোজ্জ্বল হয় তখন তাকে চুম্বন করতে।তিনি, আবু বকর ইবন মুগাভির এবং তাদের সাহিত্যিক বন্ধুদের একজন শাতিবা অঞ্চলের বাইয়ারের একটি হাম্মামে প্রবেশ করলেন; সেখানে তারা শীতল বাতাসের সম্মুখীন হলেন। তখন ইবন মুগাভির বললেন:আন-নাওয়ারের হাম্মামের কারণে বাইয়ার ধন্য হয়েছে … কিন্তু এর ধোঁয়ায় দৃষ্টিশক্তি আচ্ছন্ন হয়ে যায়।এবং অপরজন বললেন:যখন তুমি এর উষ্ণতা অন্বেষণ করবে … তখন তোমাকে এমন এক অস্থির হাড়কাঁপানো শীত গ্রাস করবে।এবং আবু আল-হাকাম ইবন গাত্তাল বললেন:আমার কাছে যদি সেখানে মুসার লাঠিও থাকত তার যাবতীয় নিদর্শনসহ … তবুও ইঁদুর আমার থেকে পলায়ন করত না।তখন ইবন মুগাভির বললেন: এটি এ কারণে যে আপনি ইবন গাত্তাল, আর এটি হলো অনারব ভাষায় বিড়ালের একটি ক্ষুদ্রার্থক নাম।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ابن عَلْقَمَة البَلَنْسيأبو محمد عبد الله بن محمد بن الخَلَف الصَدَفي من أهل بلنسية، ويُعرف بابن عَلْقَمَة، وأبوه الكاتبُ أبو عبد الله هو صاحب " تاريخ بَلَنْسية " وكتب أبو محمد هذا للقاضي أبي الحسين ابن عبد العزيز.وفيه يقول أبو العباس ابن العريف الزاهد، رحمه الله تعالى:منْ عجبِ الدَّهرِ وآياته … سُكَّرَةٌ تُعزَى إلى عَلْقَمَهْخيفَ عليها العينُ من طِيبِها … فهي بأضدادِ الكُنَى مُعْلَمَهْبقيَّةُ المعنى لذي فطنةٍ … لأنَّها في اللفظ عِلْقٌ وَمَهْومن شعر أبي محمد يخاطب الأستاذ أبا عبد الله ابن خَلَصة عقيبَ إبلاله من مرضٍ أُرجِفَ فيه بموتِهِ:نَعَوْك وقاك الله كلَّ مُلمَّةٍ … وما هو نعيٌ بل مُصَحَّفُهُ بَقْيُويَنْعٌ لزهرِ الجسمِ بعد ذُبولِهِ … وبالضِّدِّ من معناه يبدُو لنا الشيُّفهذا صحيحُ الزَّجرِ بادٍ دليلُهُ … وللهِ فينا الحكمُ والأمرُ والنَّهيُ
ইবনে আলকামা আল-বালানসিআবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-খালাফ আস-সাদাফি বালানসিয়া নগরীর অধিবাসী এবং তিনি ইবনে আলকামা নামে পরিচিত। তাঁর পিতা কাতিব (লেখক) আবু আব্দুল্লাহ ছিলেন 'তারিখে বালানসিয়া' (বালানসিয়ার ইতিহাস) গ্রন্থের রচয়িতা। এই আবু মুহাম্মাদ কাদি (বিচারক) আবু আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল আজিজের অধীনে কাজ করতেন।তাঁর সম্পর্কে যাহিদ (সংসারবিরাগী) আবু আল-আব্বাস ইবনুল আরিফ (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন:কালের এক বিস্ময় ও তার নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো … একটি চিনির দলা যার সম্বন্ধ করা হয় 'আলকামা' (তিক্ততা) এর দিকে।তার উৎকৃষ্ট গুণের কারণে তার প্রতি কুদৃষ্টির ভয় করা হয়েছে … তাই তাকে তার গুণের বিপরীত উপনাম দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।বুদ্ধিমানদের জন্য এর অর্থের বাকি অংশ হলো … শাব্দিক বিচারে এটি একটি 'মূল্যবান বস্তু' ও 'উজ্জ্বল জ্যোতি'।আবু মুহাম্মাদের কবিতা থেকে, যা তিনি উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে খালাসাকে সম্বোধন করে লিখেছিলেন তাঁর এমন এক রোগ থেকে আরোগ্য লাভের পর যাতে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল:তারা তোমার মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করেছিল—আল্লাহ তোমাকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করুন—তবে তা মৃত্যু সংবাদ ছিল না, বরং তার লিপিক্রমের সূক্ষ্ম পরিবর্তন করলে হয় 'বেঁচে থাকা'।আর তা হলো কান্তিময় দেহের মলিন হওয়ার পর পুনরায় সজীব হওয়া; আর বস্তুর স্বরূপ তার বিপরীতের মাধ্যমেই আমাদের নিকট প্রতিভাত হয়।এটি একটি সঠিক শুভলক্ষণ যার প্রমাণ সুস্পষ্ট; আর আমাদের বিষয়ে যাবতীয় ফয়সালা, আদেশ ও নিষেধ একমাত্র আল্লাহরই।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٣١)
فجاوبه ابن خَلصة بأبياتٍ منها:لئنْ كنتُ مَنْعِيّاً فما الموتُ وصمةً … لقد نُعِيَتْ قبلي الرسالةُ والوحيُليُغْض عدوٌّ أو ليُظهرْ شماتةً … فعمَّا قليلٍ يَتبعُ الميِّتَ الحيٌّ
অতঃপর ইবনে খালসা তাকে এমন কিছু পংক্তির মাধ্যমে উত্তর দিলেন যার মধ্যে রয়েছে:যদি আমার মৃত্যুর সংবাদ ঘোষিত হয়ে থাকে, তবে মৃত্যু কোনো কলঙ্ক নয় … নিশ্চয়ই আমার পূর্বে রিসালাত ও ওহির বিদায়ের সংবাদ দেওয়া হয়েছেশত্রু তার চোখ অবনত রাখুক অথবা বিদ্বেষপ্রসূত আনন্দ প্রকাশ করুক … কেননা অচিরেই জীবিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির অনুসরণ করবে
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ابن وردأبو القاسم أحمد بن محمد بن عمر بن ورد التميمي، من أهل المرية.سمعت الحافظ أبا الربيع ابن سالم الكلاعي يقول: سمعت أبا الخطاب ابن الحسن، وهو ابن الجميِّل يقول: سمعت أبا موسى عيسى بن عمران - يعني قاضي الجماعة - يقول: لم يكن بالأندلس مثل أبي القاسم ابن ورد:
ইবনে ওয়ারদআবুল কাসিম আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন উমর বিন ওয়ারদ আত-তামিমি, আল-মারিয়া অঞ্চলের অধিবাসী।আমি হাফেজ আবুর রবি ইবনে সালিম আল-কালাইকে বলতে শুনেছি: আমি আবুল খাত্তাব ইবনুল হাসান—যিনি ইবনুল জুমায়্যিল—তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি আবু মুসা ঈসা বিন ইমরানকে—অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি—বলতে শুনেছি: আন্দালুসে আবুল কাসিম ইবনে ওয়ারদের মতো আর কেউ ছিল না।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল কদিম
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
ولا أُحاشي من الأقوام من أحدتوفي سنة أربعين وخمسمائة وله:سُكنَى الفنادقِ ذُلُّ … والبيتُ منهُ أذلُّفإنْ دُفعتَ إليها … فحُجرةٌ لا أقلُّوله:كلُّ خِلًّ صحبْتُهُ … من ذوي المجدِ والعُلىأنا منهُ بواحدٍ … منْ عَظِيمَيْنِ مُبتلَىباصطبارٍ على الأذى … أو فراقٍ على القلىواعتبرْ حالَ من دنا … منهُمُ بالذي عَلاودعِ النَّاسَ كلّهمْ … تُعفَ من فادح البَلاغيرَ تَسْليمةِ اللّقا … والَّذي بعدها فَلاهاكَها من مجرِّبٍ … فاغتَنِمْها معجِّلاوله في ابنٍ صغير:فلذَةُ كِبْدي أَمَسُّها بيدي … يقولُ إن حاول الكلام أَغُلو جمعَ الواصفونَ أن يصفوا … مقدارَ حبّي لهُ لما بَلَغواوحدثني أبو الربيع ابن سالم بلفظه ثمَّ بقراءتي عليه، قال: حدثني أبو عبد الله ابن أبي عمر، هو ابن عيّاد، عن أبيه، قال: حدثني أبو بكر بن إبراهيم بن نجاح الواعظ قال: دخلنا على أبي القاسم ابن ورد عائدين له في مرضه، الَّذي توفي فيه، فسألناه عن حاله فأنشد بعدما استند لنفسه:عَشْرُ الثمانينَ وعمرٌ طويلْ … لم يبقَ للصحبةِ إلَاّ القليلْلا تحسبوني ثاوياً فيكمُ … فقدْ دنا الموتُ وآنَ الرَّحيلْ
আমি লোকেদের মধ্যে কাউকে বাদ দিচ্ছি নাতিনি পাঁচশত চল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর নিম্নোক্ত কবিতা রয়েছে:মুসাফিরখানায় বসবাস করা লাঞ্ছনা … আর মানুষের ঘরবাড়ি তার চেয়েও বেশি অবমাননাকরযদি তুমি সেদিকে যেতে বাধ্য হও … তবে অন্তত একটি কক্ষ যেন হয়, এর চেয়ে কম নয়তাঁর আরও কবিতা:মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী যত বন্ধুর সান্নিধ্য আমি পেয়েছি …আমি তাদের পক্ষ হতে দুটি বড় মুসিবতের … যেকোনো একটির দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিহয় কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ … নতুবা ঘৃণার সাথে বিচ্ছেদতাদের মধ্যে যারা নিকটবর্তী হয়েছে তাদের অবস্থাকে … উচ্চ মর্যাদাসম্পন্নদের সাথে তুলনা করে দেখোআর সকল মানুষকে বর্জন করো … তবেই তুমি ভয়াবহ বিপদ থেকে রেহাই পাবেসাক্ষাতের সময় সালাম বিনিময় ছাড়া … অন্য কোনো সম্পর্ক রেখো নাএকজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই উপদেশ গ্রহণ করো … এবং দ্রুত তা লুফে নাওতাঁর এক ছোট পুত্র সম্পর্কে তিনি বলেন:আমার কলিজার টুকরো, যাকে আমি নিজ হাতে স্পর্শ করি … সে কথা বলার চেষ্টা করলে ‘অ্যাঁ’ বলে শব্দ করেবর্ণনাকারীরা যদি তার প্রতি আমার ভালোবাসার পরিমাণ বর্ণনা করতে চায় … তবে তারা তার শেষ সীমায় পৌঁছাতে পারবে নাআবু আল-রবি ইবনে সালিম আমাকে মৌখিকভাবে এবং পরবর্তীতে তাঁর কাছে আমার পাঠের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি উমর—তিনি হলেন ইবনে আইয়াদ—তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে ইব্রাহিম ইবনে নাজাহ আল-ওয়াইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবুল কাসিম ইবনে ওয়ারদের অসুস্থাবস্থায় তাঁকে দেখতে গেলাম, যে অসুস্থতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আমরা তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ভর দিয়ে উঠে বসে এই কবিতা পাঠ করলেন:আশি বছর ও দীর্ঘ এক জীবন … এখন বন্ধুত্বের জন্য সামান্যই সময় অবশিষ্ট আছেতোমরা আমাকে তোমাদের মাঝে স্থায়ী মনে করো না … কেননা মৃত্যু নিকটবর্তী হয়েছে এবং প্রস্থানের সময় ঘনিয়ে এসেছে