(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: -)
الجنى الداني في حروف المعاني   (ابن أم قاسم المرادي)

القسم: النحو والصرف

الكتاب: الجنى الداني في حروف المعاني

المؤلف: أبو محمد بدر الدين حسن بن قاسم بن عبد الله بن عليّ المرادي المصري المالكي (ت 749هـ)

المحقق: د فخر الدين قباوة -الأستاذ محمد نديم فاضل

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 622

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জানা আদ-দানি ফি হুরুফ আল-মাআনি   (ইবনে উম্মে কাসিম আল-মুরাদি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)

গ্রন্থ: আল-জানা আদ-দানি ফি হুরুফ আল-মাআনি

লেখক: আবু মুহাম্মদ বদরুদ্দিন হাসান বিন কাসিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-মুরাদি আল-মিসরি আল-মালিকি (মৃত্যু ৭৪৯ হি.)

সম্পাদক: ড. ফখরুদ্দিন কাবাওয়া - উস্তাদ মুহাম্মদ নাদিম ফাদিল

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হি. - ১৯৯২ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله بجميع محامده، على جميل عوائده، وصلاته وسلامه على سيدنا محمد خاتم أنبيائه، ومبلغ أنبائه، وعلى آله الكرام، وأصحابه مصابيح الظلام. وبعد: فإنه لما كانت مقاصد كلام العرب، على اختلاف صنوفه، مبنياً أكثرها على معاني حروفه، صرفت الهمم إلى تحصيلها، ومعرفة جملتها وتفصيلها. وهي مع قلتها، وتيسر الوقوف على جملتها، قد كثر دورها، وبعد غورها، فعزت على الأذهان معانيها، وأبت الإذعان إلا لمن يعانيها.

وهذا كتاب، أرجو أن يكون نافعاً، ولمعاني الحروف جامعاً. جعلته لسؤال بعض الإخوان جواباً، ولصدق رغبته ثواباً. ولما وفى لفظه بمعناه، ودنى من متناوله جناه، سميته ب الجنى الداني في حروف المعاني. ويشتمل على

 

‌‌مقدمة وخمسة أبواب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, তাঁর যাবতীয় প্রশংসার মাধ্যমে, তাঁর সুন্দর দানসমূহের জন্য। আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর, যিনি তাঁর নবীদের সমাপ্তি ঘটানো সিলমোহর এবং তাঁর সংবাদ প্রচারকারী; আরও বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের উপর, যাঁরা অন্ধকারের প্রদীপস্বরূপ। অতঃপর: যেহেতু আরবি ভাষার বিভিন্ন প্রকারের বক্তব্যসমূহের উদ্দেশ্য বা মর্মার্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রে হরফ বা বর্ণসমূহের অর্থের ওপর ভিত্তি করেই নির্মিত, তাই এগুলোর জ্ঞান লাভ এবং এগুলোর সামগ্রিক ও বিস্তারিত বিবরণ জানার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ হয়েছে। আর এই হরফগুলো পরিমাণে অল্প হওয়া এবং এগুলোর সাধারণ পরিচিতি সহজ হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর আবর্তন অত্যন্ত বেশি এবং এগুলোর গভীরতা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী; ফলে প্রখর মেধার অধিকারীদের নিকটেও এগুলোর অর্থ দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে এবং যারা এ নিয়ে কঠোর সাধনা করে তারা ব্যতীত অন্যদের কাছে এটি ধরা দিতে অস্বীকার করে।

আর এটি একটি কিতাব, আমি আশা করি এটি অত্যন্ত উপকারী হবে এবং হরফসমূহের অর্থের একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহশালা হবে। কিছু ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আমি এটি প্রস্তুত করেছি এবং তাঁদের অকৃত্রিম আগ্রহের প্রতিদানস্বরূপ এটি সংকলন করেছি। আর যেহেতু এর শব্দমালা তার অর্থকে পূর্ণরূপে প্রকাশ করে এবং এর ফল আহরণকারীর নিকটবর্তী হয়েছে, তাই আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-জানা আদ-দানি ফি হুরুফ আল-মাআনি' (অর্থবোধক বর্ণসমূহের নিকটবর্তী ফল)। এটি অন্তর্ভুক্ত করে

 

‌‌একটি ভূমিকা এবং পাঁচটি অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الفصل الأول

في حد الحرف

قال بعض النحويين: لا يحتاج في الحقيقة إلى حد الحرف، لأنه كلم محصورة. وليس كما قال. بل هو مما لابد منه، ولا يستغنى عنه، ليرجع عند الإشكال إليه، ويحكم عند الاختلاف بحرفية ما صدق الحد عليه.

وقد حد بحدود كثيرة. ومن أحسنها قول بعضهم: الحرف كلمة تدل على معنى، في غيرها، فقط. فقوله كلمة جنس يشمل الاسم والفعل والحرف. وعلم من تصدير الحد به أن ما ليس بكلمة فليس بحرف: كهمزتي النقل والوصل، وياء التصغير. فهذه من حروف الهجاء، لا من حروف المعاني. فإنها ليست بكلمات بل هي أبعاض كلمات. وهذا أولى من تصدير الحد ب ما، إبهامها.

واعترض بأن تصدير حد الحرف بالكلمة لا يصح، من جهة
প্রথম পরিচ্ছেদ

হরফের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে

কিছু ব্যাকরণবিদ বলেছেন: প্রকৃতপক্ষে হরফের সংজ্ঞার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি একটি সীমাবদ্ধ শব্দসমষ্টি। বিষয়টি আসলে তেমন নয় যেমনটি তিনি বলেছেন। বরং এটি এমন একটি বিষয় যা অপরিহার্য এবং যা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়; যাতে কোনো জটিলতা দেখা দিলে এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় এবং মতভেদের সময় সেই পদের হরফ হওয়ার ব্যাপারে ফয়সালা করা যায় যার ওপর সংজ্ঞাটি যথাযথভাবে প্রযোজ্য হয়।

হরফের অনেক সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর হলো কারো কারো এই উক্তি: হরফ এমন একটি শব্দ যা শুধুমাত্র অন্য পদের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে। এখানে ‘শব্দ’ (কালিমা) শব্দটি একটি সাধারণ পদ যা ইসম, ফে’ল এবং হরফ—সবকটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সংজ্ঞার শুরুতে এটি ব্যবহারের মাধ্যমে জানা গেল যে, যা শব্দ নয় তা হরফও নয়: যেমন ‘নকল’ ও ‘ওয়াসল’-এর হামযাহ এবং ‘তাসগির’-এর ইয়া। এগুলো বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত (হুরূফুল হিজা), অর্থের হরফ (হুরূফুল মা’আনী) নয়। কেননা এগুলো স্বতন্ত্র শব্দ নয় বরং শব্দের অংশবিশেষ মাত্র। আর সংজ্ঞার শুরুতে ‘যা’ (মা) ব্যবহার করার চেয়ে এটিই শ্রেয়, কারণ ‘মা’ শব্দটিতে অস্পষ্টতা রয়েছে।

তবে এই আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, হরফের সংজ্ঞার শুরুতে ‘শব্দ’ (কালিমা) পদটি ব্যবহার করা সঠিক নয়, কারণ...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২১)
أنه يخرج عنه، من الحروف، ما هو أكثر من كلمة واحدة، نحو: إنما وكأنما. والجواب أنه ليس في الحروف ما هو أكثر من كلمة واحدة. وأما نحو: إنما وكأنما، مما هو كلمتان، فهو حرفان، لا حرف واحد، بخلاف نحو كأن مما صيره التركيب كلمة واحدة، فهو حرف واحد.

وقوله تدل على معنى في غيرها فصل، يخرج به الفعل، وأكثر الأسماء، لأن الفعل لا يدل على معنى في غيره. وكذلك أكثر الأسماء.

وقوله فقط فصل ثان، يخرج به من الأسماء، ما يدل على معنى في غيره، ومعنى في نفسه. فإن الأسماء قسمان: قسم يدل على معنى في نفسه، ولا يدل على معنى في غيره، وهو الأكثر. وقسم يدل على معنيين: معنى في نفسه، ومعنى في غيره: كأسماء الاستفهام، والشرط. فإن كل واحد منها يدل، بسبب تضمنه معنى الحرف، على معنى في غيره، مع دلالته على المعنى الذي وضع له. فإذا قلت مثلاً: من يقم أقم معه، فقد دلت من على شخص عاقل بالوضع، ودلت مع ذلك على ارتباط جملة الجزاء بجملة الشرط، لتضمنها معنى إن الشرطية. فلذلك زيد في الحد فقط، ليخرج به هذا القسم.
অব্যয়সমূহের মধ্যে যা একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, তা এর দ্বারা বহির্ভূত হয়ে যায়, যেমন: ইন্নামা এবং কাআন্নামা। এর উত্তর হলো, অব্যয়সমূহের মধ্যে এমন কোনো অব্যয় নেই যা একটির বেশি শব্দ দ্বারা গঠিত। আর ইন্নামা ও কাআন্নামা-এর মতো যা দুটি শব্দ নিয়ে গঠিত, সেগুলো মূলত দুটি পৃথক অব্যয়, একটি অব্যয় নয়; তবে ‘কাআন্না’-এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ গঠনগত সংমিশ্রণ একে একটি শব্দে পরিণত করেছে, তাই এটি একটি অব্যয়।

তাঁর উক্তি—‘যা অন্য বস্তুর সাথে মিলে অর্থ প্রকাশ করে’—হলো একটি ব্যবচ্ছেদক (ফসল), যার মাধ্যমে ক্রিয়া এবং অধিকাংশ বিশেষ্য বের হয়ে যায়; কেননা ক্রিয়া অন্য কোনো কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া অর্থ প্রকাশ করে না। তদ্রূপ অধিকাংশ বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

তাঁর উক্তি—‘শুধুমাত্র’ (ফাকাত)—হলো দ্বিতীয় ব্যবচ্ছেদক, যা দ্বারা বিশেষ্যের ঐ অংশ বের হয়ে যায় যা অন্য বস্তুর মাধ্যমেও অর্থ প্রকাশ করে এবং নিজের সত্তাগত অর্থও প্রকাশ করে। কেননা বিশেষ্য দুই প্রকার: এক প্রকার যা কেবল নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং অন্য বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে না, আর এটিই সংখ্যায় অধিক। অন্য প্রকারটি দুটি অর্থ প্রকাশ করে: একটি সত্তাগত অর্থ এবং অন্যটি অন্য বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত অর্থ; যেমন প্রশ্নবোধক বিশেষ্য এবং শর্তবাচক বিশেষ্যসমূহ। এগুলোর প্রতিটি অব্যয়ের অর্থ ধারণ করার কারণে অন্য বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অর্থ প্রকাশ করে, পাশাপাশি সেই অর্থের ওপরও নির্দেশনা প্রদান করে যার জন্য একে আভিধানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি বলেন: ‘যে দাঁড়াবে, আমি তার সাথে দাঁড়াবো’, তবে এখানে ‘মান’ (যে) শব্দটি আভিধানিক নির্ধারণ অনুযায়ী একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে, এবং একই সাথে শর্তসূচক ‘ইন’ (যদি)-এর অর্থ ধারণ করার কারণে জাযা বা উত্তর-বাক্যের সাথে শর্ত-বাক্যের সংযোগকেও নির্দেশ করছে। এই কারণেই সংজ্ঞার মধ্যে ‘শুধুমাত্র’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে, যাতে বিশেষ্যের এই প্রকারটি বহির্ভূত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২২)
واعترض الفارسي قول من حد الحرف بأنه ما دل على معنى في غيره بالحروف الزائدة، نحو ما في قولهم: إنك ما وخيراً، لأنها لا تدل على معنى في غيرها. وأجيب بأن الحروف الزائدة تفيد فضل تأكيد وبيان، للكثرة، بسبب تكثير اللفظ بها. وقوة اللفظ مؤذنة بقوة المعنى، وهذا معنى لا يتحصل إلا مع كلام.

فإن قيل: ما معنى قولهم الحرف يدل على معنى في غيره فالجواب: معنى ذلك أن دلالة الحرف على معناه الإفرادي متوقفة على ذكر متعلقه، بخلاف الاسم والفعل. فإن دلالة كل منهما، على معناه الإفرادي، غير متوقفة على ذكر متعلق؛ ألا ترى أنك إذا قلت الغلام فهم منه التعريف. ولو قلت أل مفردة لم يفهم منه معنى. فإذا قرن بالاسم أفاد التعريف. وكذلك باء الجر فإنها لا تدل على الإلصاق، حتى تضاف إلى الاسم الذي بعدها، لأنه يتحصل منها مفردة. وكذلك القول في سائر الحروف.
আল-ফারিসি ওই ব্যক্তির সংজ্ঞার ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন যিনি হরফের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, এটি অন্য শব্দের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে। তিনি অতিরিক্ত হরফসমূহের উদাহরণ দিয়ে এই আপত্তি জানিয়েছেন, যেমন তাদের কথা: 'ইন্নাকা মা ওয়া খাইরান'-এর মধ্যে বিদ্যমান 'মা' হরফটি; কারণ এটি অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে না। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, অতিরিক্ত হরফসমূহ শব্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থের আধিক্য বুঝাতে অতিরিক্ত দৃঢ়তা ও সুস্পষ্টতার সুবিধা প্রদান করে। আর শব্দের আধিক্য বা শক্তি অর্থের গুরুত্ব ও শক্তির পরিচায়ক, আর এটি এমন এক অর্থ যা পূর্ণাঙ্গ বাক্য ছাড়া অর্জিত হয় না।

যদি প্রশ্ন করা হয়: তাদের এই কথা 'হরফ অন্য শব্দে অর্থ প্রকাশ করে'-এর তাৎপর্য কী? তবে উত্তর হলো: এর তাৎপর্য এই যে, হরফের তার একক অর্থের ওপর নির্দেশিকা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উল্লেখের ওপর নির্ভরশীল, যা ইসিম ও ফেল-এর বিপরীত। কেননা ইসিম ও ফেল-এর প্রত্যেকটির নিজস্ব একক অর্থের ওপর নির্দেশিকা কোনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উল্লেখের ওপর নির্ভরশীল নয়। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যখন 'আল-গুলাম' বলেন তখন তা থেকে নির্দিষ্টতা বোঝা যায়? কিন্তু আপনি যদি এককভাবে 'আল' উচ্চারণ করেন তবে তা থেকে কোনো অর্থ অনুধাবন করা যায় না। সুতরাং যখন তা ইসিমের সাথে যুক্ত হয়, তখনই নির্দিষ্টতার অর্থ প্রদান করে। অনুরূপভাবে 'বা' হরফটিও সংযোগের অর্থ প্রকাশ করে না যতক্ষণ না তা তার পরবর্তী ইসিমের সাথে যুক্ত হয়; কারণ এককভাবে তা থেকে কোনো অর্থ অর্জিত হয় না। অন্যান্য হরফের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال السيرافي: المراد من قولنا في الاسم والفعل إنه يدل على معنى في نفسه أن تصور معناه في الذهن غير متوقف على خارج عنه؛ ألا ترى أنك إذا قلت: ما الإنسان؟ فقيل لك: حي ناطق، وإذا قلت: ما معنى ضرب؟ فقيل لك: ضرب في زمان ماض أدركت المعنيين باللفظ المذكور في التفسير. وقولنا في الحرف يدل على معنى في غيره، نعني به أن تصور معناه متوقف على خارج عنه: ألا ترى أنك إذا قلت: ما معنى من، فقيل لك: التبعيض، وخليت وهذا، لم تفهم معنى من إلا بعد تقدم معرفتك بالجزء والكل، لأن التبعيص أخذ جزء من كل.

وقد قيل غير ذلك، ممالا حاجة هنا إلى ذكره. والله الموفق.

 

‌‌الفصل الثاني

في تسميته حرفاً

اختلف النحويون في علة تسميته حرفاً.

فقيل: سمي بذلك، لأنه طرف في الكلام، وفضلة. والحرف، في اللغة، هو الطرف. ومنه قولهم: حرف الجبل، أي: طرفه، وهو
আস-সিরাফী বলেন: ইসম (বিশেষ্য) এবং ফিল (ক্রিয়া) সম্পর্কে আমাদের এই বক্তব্য যে, তা স্বীয় সত্তার মাঝে অর্থ প্রকাশ করে—এর অর্থ হলো, মস্তিষ্কে তার অর্থের ধারণা উদয় হওয়া এর বহির্ভূত কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি প্রশ্ন করেন: মানুষ কী? তখন আপনাকে বলা হয়: বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী। আর যখন আপনি প্রশ্ন করেন: ‘দাবারা’ (ضرب - প্রহার করা) এর অর্থ কী? তখন আপনাকে বলা হয়: অতীতকালে প্রহার করা; তখন আপনি সংজ্ঞায় উল্লিখিত শব্দাবলীর মাধ্যমেই অর্থ দুটি উপলব্ধি করতে পারেন। আর হরফ (অব্যয়) সম্পর্কে আমাদের এই বক্তব্য যে, তা অন্যের মধ্যে অর্থ প্রকাশ করে—এর দ্বারা আমরা উদ্দেশ্য গ্রহণ করি যে, তার অর্থের ধারণা উদয় হওয়া এর বহির্ভূত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি প্রশ্ন করেন: ‘মিন’ (من - থেকে) এর অর্থ কী? তখন আপনাকে বলা হয়: ‘তাবয়িজ’ (অংশ প্রকাশ করা), এমতাবস্থায় আপনি যদি কেবল এই শব্দটির ওপরই স্থির থাকেন, তবে আপনি ‘মিন’ এর অর্থ অনুধাবন করতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনার মাঝে ‘অংশ’ ও ‘সমগ্র’ সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান থাকে; কেননা ‘তাবয়িজ’ মানেই হলো সমগ্র থেকে অংশ গ্রহণ করা।

এছাড়াও আরও কথা বলা হয়েছে, যা এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

একে 'হরফ' নামে নামকরণ প্রসঙ্গে

একে 'হরফ' হিসেবে নামকরণ করার কারণ সম্পর্কে ব্যাকরণবিদগণ (নাহুবিদগণ) মতভেদ করেছেন।

বলা হয়েছে: একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি বাক্যের এক প্রান্তে অবস্থান করে এবং এটি একটি অতিরিক্ত অংশ (ফাজলাহ)। আর আভিধানিক অর্থে ‘হরফ’ হলো প্রান্ত বা কিনারা। এ থেকেই তাদের কথা: ‘পাহাড়ের হরফ’, অর্থাৎ তার প্রান্ত। আর তা হলো...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৪)
أعلاه المحدد. فإن قيل: فإن الحرف قد يقع حشواً، نحو: مررت بزيد، فليست الباء في هذا بطرف! فالجواب أن الحرف طرف في المعنى، لأنه لا يكون عمدة، وإن كان متوسطا.

وقيل: لأنه يأتي على وجه واحد. والحرف، في اللغة، هو الوجه الواحد. ومنه قوله تعالى " ومن الناس من يعبد الله على حرف " أي: على وجه واحد. وهو أن يعبده على السراء دون الضراء، أي يؤمن بالله، ما دامت حاله حسنة. فإن غيرها الله وامتحنه كفر به. وذلك لشكه وعدم طمأنينته. فإن قيل: فإن الحرف الواحد قد يرد لمعان كثيرة! فالجواب أن الأصل في الحرف أن يوضع لمعنى واحد، وقد يتوسع فيه، فيستعمل في غيره. قاله بعضهم. وأجاب غيره بأن الاسم قد يدل، في حالة واحدة، على معنيين، مثل أن يكون فاعلاً ومفعولاً، في وقت واحد. كقولك: رأيت ضارب زيد. ف ضارب زيد في هذه الحالة فاعل ومفعول. والفعل أيضاً يدل على معنيين: الحدث والزمان. والحرف إنما يدل، في حالة واحدة، على معنى واحد.

والظاهر أنه إنما سمي حرفاً، لأنه طرف في الكلام، كما تقدم. وأما قوله تعالى: " ومن الناس من يعبد الله على حرف " فهو راجع
উপরে নির্ধারিত অনুযায়ী। যদি বলা হয়: হরফ তো বাক্যের মাঝখানেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন: 'আমি জায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম', এখানে তো 'বা' বর্ণটি প্রান্তে অবস্থিত নয়! এর উত্তর হলো, হরফ অর্থের বিচারে প্রান্তিক বা গৌণ, কারণ এটি বাক্যের প্রধান স্তম্ভ হতে পারে না, যদিও এটি মাঝখানে অবস্থান করে।

আরও বলা হয়েছে: কারণ এটি একটি মাত্র পন্থায় আসে। আর আভিধানিক ভাষায় 'হরফ' মানে হলো এক দিক বা এক পন্থা। মহান আল্লাহর বাণীও এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এক কিনারায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করে।" অর্থাৎ: একভাবে। আর তা হলো—সে সুখের সময় আল্লাহর ইবাদত করে কিন্তু দুঃখের সময় নয়। অর্থাৎ, যতক্ষণ তার অবস্থা ভালো থাকে, ততক্ষণ সে আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে। কিন্তু যখন আল্লাহ তা পরিবর্তন করে তাকে পরীক্ষায় ফেলেন, তখন সে তাঁকে অস্বীকার করে বসে। আর এটি তার সন্দেহ এবং অন্তরে স্থিরতা না থাকার কারণে। যদি বলা হয়: একটি হরফ তো অনেক অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে! এর উত্তর হলো, হরফের মূল বৈশিষ্ট্য হলো একে একটি অর্থের জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে কখনও এর অর্থের বিস্তৃতি ঘটে এবং ভিন্ন অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এটি কেউ কেউ বলেছেন। অন্য কেউ উত্তর দিয়েছেন যে, বিশেষ্য একই অবস্থায় দুটি অর্থ প্রকাশ করতে পারে, যেমন একই সাথে কর্তা ও কর্ম হওয়া। যেমন আপনার কথা: 'আমি জায়েদকে প্রহারকারীকে দেখেছি'। এখানে 'জায়েদকে প্রহারকারী' একই অবস্থায় কর্তা ও কর্ম। আবার ক্রিয়াও দুটি বিষয় নির্দেশ করে: কাজ এবং কাল। কিন্তু হরফ কেবল এক অবস্থায় একটি মাত্র অর্থই নির্দেশ করে।

আর প্রকাশ্য বিষয় হলো, একে 'হরফ' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি বাক্যের প্রান্ত বা গৌণ অংশ, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: "আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এক কিনারায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করে" প্রসঙ্গে বলা যায় এটি সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৫)
إلى هذا المعنى، لأن الشاك كأنه على طرف من الاعتقاد، وناحية منه. وإلى ذلك ترجع معاني الحروف كلها. كقولهم للناقة الضامرة الصلبة: حرف، تشبيهاً لها بحرف السيف. وقيل: هي الضخمة، تشبيهاً لها بحرف الجبل. وكان الأصمعي يقول: الحرف: الناقة المهزولة.

 

‌‌الفصل الثالث

في جملة معانيه وأقسامه

ذكر بعض النحويين للحرف نحواًَ من خمسين معنى. وزاد غيره معاني أخر. وسأذكر جميع ذلك، مبيناً في مواضعه، إن شاء الله تعالى. وهذه المعاني، المشار إليها، يرجع غالبها إلى خمسة أقسام: معنى في الاسم خاصة، كالتعريف. ومعنى في الفعل خاصة، كالتنفيس. ومعنى في الجملة، كالنفي والتوكيد. وربط بين مفردين، كالعطف في نحو: جاء زيد وعمرو. وربط بين جملتين، كالعطف في نحو: جاء زيد وذهب عمرو.

وإنما قلت يرجع غالبها لأن منها ما هو خارج عن هذه الأقسام، كالكف، والتهيئة، والإنكار، والتذكار، وغير ذلك، مما سيأتي ذكره.

وأما أقسام الحرف فثلاثة: مختص بالاسم، ومختص بالفعل، ومشترك بين الاسم والفعل.
এই অর্থের দিকেই [ইঙ্গিত করা হয়েছে], কারণ সংশয়কারী যেন বিশ্বাসের এক প্রান্তে ও পার্শ্বে অবস্থান করে। আর হরফের সকল অর্থ সেই মূলের দিকেই ফিরে যায়। যেমন তারা শীর্ণকায় ও সুদৃঢ় উটনীকে 'হরফ' বলে থাকে, তরবারির ধারের সাথে সাদৃশ্য বজায় রেখে। আবার বলা হয়: এটি সুবৃহৎ উটনী, পাহাড়ের প্রান্তের সাথে সাদৃশ্যতার কারণে। আল-আসমাঈ বলতেন: হরফ হলো জীর্ণশীর্ণ উটনী।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

এর অর্থসমষ্টি ও প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ হরফের প্রায় পঞ্চাশটি অর্থ উল্লেখ করেছেন। অন্যরা আরও কিছু অর্থ যোগ করেছেন। আমি ইনশাআল্লাহ তাআলা সেগুলোর সবকটি তাদের স্ব-স্ব স্থানে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব। আর নির্দেশিত এই অর্থগুলোর অধিকাংশ পাঁচটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়: বিশেষ করে বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অর্থ, যেমন নির্দিষ্টকরণ। বিশেষ করে ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অর্থ, যেমন ভবিষ্যৎকাল জ্ঞাপন। বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অর্থ, যেমন নেতিবাচকতা ও দৃঢ়তা প্রদান। দুটি একক পদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী, যেমন সংযোজন; উদাহরণস্বরূপ: "জায়েদ ও আমর এসেছে"। আর দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী, যেমন সংযোজন; উদাহরণস্বরূপ: "জায়েদ এসেছে এবং আমর চলে গেছে"।

আমি কেন বলেছি 'এগুলোর অধিকাংশ ফিরে আসে', তার কারণ হলো এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা এই প্রকারগুলোর বহির্ভূত, যেমন নিবৃত্তকরণ, উপযোগীকরণ, অস্বীকৃতি, স্মরণ করানো এবং অন্যান্য বিষয় যা সামনে আলোচিত হবে।

আর হরফের প্রকারভেদ তিনটি: বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট, ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট, এবং বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৬)
فأما المختص بالاسم فلا يخلو من أن يتنزل منه منزلة الجزء، أولا. فإن تنزل منه منزلة الجزء لم يعمل، كلام التعريف. وإن لم يتنزل منزلة الجزء فحقه أن يعمل، لأن ما لازم شيئاً، ولم يكن كالجزء منه، أثر فيه غالباً. وإذا عمل فأصله أن يعمل الجر، لأنه العمل المخصوص بالاسم. ولا يعمل الرفع ولا النصب، إلا لشبهه بما يعملهما. ك إن وأخواتها، فإنها نصيب الاسم ورفعت الخبر، لشبهها بالفعل، في أوجه مذكورة في موضعها. ولولا شبه الفعل لكان حقها أن تجر، لأنه الأصل. وقد جروا ب لعل في لغة عقيل، منبهة على الأصل.

وأما المختص بالفعل فلا يخلو أيضاً من أن يتنزل منه منزلة الجزء أولا. فإن تنزل منه منزلة الجزء لم يعمل، كحرف التنفيس، وإن لم يتنزل منه منزلة الجزء فحقه أن يعمل. وإذا عمل فأصله أن يعمل الجزم، لأن الجزم في الفعل نظير الجر في الاسم. ولا يعمل النصب إلا لشبهه بما يعمله، ك أن المصدرية وأخواتها، فإنها لما شابهت نواصب الاسم نصبت. ولولا ذلك لكان حقها أن تجزم. وقد حكي عن بعض العرب الجزم ب أن ولن. وسيأتي الكلام عليه.
বিশেষ্য বা ইসিমের সাথে নির্দিষ্ট অব্যয়গুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যে, তা হয় সেই ইসিমের অংশ হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় তা হবে না। যদি এটি ইসিমের অংশ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা কোনো আমল বা ব্যাকরণিক প্রভাব সৃষ্টি করবে না; যেমন নির্দিষ্টকারী অব্যয়। আর যদি এটি অংশ হিসেবে গণ্য না হয়, তবে আমল করাই তার সংগত বৈশিষ্ট্য। কারণ, যা কোনো বিষয়ের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে অথচ তার অংশ নয়, তা সাধারণত তাতে প্রভাব বিস্তার করে। যখন এটি আমল করে, তখন তার মূল কাজ হলো 'জর' প্রদান করা; কেননা এটিই ইসিমের জন্য নির্দিষ্ট আমল। এটি 'রাফ' বা 'নসব' প্রদান করে না, যদি না তা এমন কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় যা এই আমলগুলো করে থাকে। যেমন 'ইন্না' এবং তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহ; এগুলো ইসিমকে নসব এবং খবরকে রাফ প্রদান করে, কারণ ক্রিয়ার বা ফেলের সাথে এদের কতিপয় সাদৃশ্য রয়েছে যা সংশ্লিষ্ট স্থানে আলোচিত হয়েছে। যদি ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্য না থাকত, তবে এগুলোর ক্ষেত্রে 'জর' প্রদান করাই সংগত হতো; কারণ এটাই হলো মূল নিয়ম। বনু উকাইল গোত্রের ভাষায় 'লাআল্লা' দ্বারা ইসিমকে 'জর' প্রদান করা হয়েছে, যা মূল নিয়মের প্রতি ইঙ্গিত স্বরূপ।

আর যা ক্রিয়া বা ফেলের সাথে নির্দিষ্ট, তার অবস্থাও এমন যে, তা হয় সেই ফেলের অংশ হিসেবে গণ্য হবে, নতুবা হবে না। যদি তা ফেলের অংশ হিসেবে গণ্য হয়, তবে তা আমল করবে না; যেমন ভবিষ্যৎবোধক অব্যয়। আর যদি তা অংশ হিসেবে গণ্য না হয়, তবে আমল করাই তার সংগত বৈশিষ্ট্য। যখন এটি আমল করে, তখন তার মূল আমল হলো 'জজম' প্রদান করা; কেননা ফেলের ক্ষেত্রে জজম হলো ইসিমের ক্ষেত্রে জরের সমান্তরাল। এটি 'নসব' প্রদান করে না, যদি না তা এমন কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয় যা নসব প্রদান করে; যেমন মাসদারিয়্যাহ 'আন' এবং তার সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহ। এগুলো যখন ইসিমের নসব প্রদানকারী অব্যয়গুলোর সদৃশ হয়েছে, তখন এগুলোও নসব প্রদান করেছে। যদি এই সাদৃশ্য না থাকত, তবে এগুলোর ক্ষেত্রেও 'জজম' প্রদান করাই সংগত হতো। কোনো কোনো আরব থেকে 'আন' এবং 'লান' দ্বারা জজম প্রদানের কথা বর্ণিত হয়েছে। এ বিষয়ে সামনে আলোচনা আসছে।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما المشترك فحقه ألا يعمل، لعدم اختصاصه بأحدهما، وقد خالف هذا الأصل أحرف، منها ما الحجازية أعملها أهل الحجاز عمل ليس، لشبهها بها، وأهملها بنو تميم على الأصل.

 

‌‌الفصل الرابع

في بيان عمله

قد علم، مما سبق، أن الحرف قسمان: عامل، وغير عامل. فالعامل هو ما أثر. فيما دخل عليه رفعاً، أو نصباً، أو جراً، أو جزماً. وغير العامل بخلافه، ويسمى المهمل.

ثم إن العامل قسمان: قسم يعمل عملاً واحداً، وقسم يعمل عملين.

فالأول إما ناصب فقط، كنواصب الفعل، وإلا في الاستثناء، وواو مع عند من يراهما عاملين. وإما جار فقط، وهو حروف الجر. وإما جازم فقط، وهو حروف الجزم.

وليس في الكلام حرف يعمل الرفع فقط، خلافاً للفراء في قوله: إن لولا ترفع الاسم الذي يليها، في نحو: لولا زيد لأكرمتك.

ومذهب البصريين أن الاسم، بعدها، مرفوع بالابتداء.
আর সাধারণ অব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো তা আমল করবে না, যেহেতু তা বিশেষ্য বা ক্রিয়া কোনোটির সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়। তবে কিছু হরফ এই মূলনীতির ব্যতিক্রম হয়েছে; সেগুলোর মধ্যে হেজাজি 'মা' অন্যতম, যেটিকে হেজাজবাসীরা 'লাইসা'-এর সদৃশ হওয়ার কারণে সেটির ন্যায় আমল প্রদান করেছে, আর বনু তামীম গোত্র একে মূলনীতি অনুযায়ী আমলহীন রেখেছে।

 

‌‌চতুর্থ অধ্যায়

এর আমল বা কার্যকারিতা বর্ণনায়

পূর্বের আলোচনা থেকে জানা গেছে যে, হরফ দুই প্রকার: আমলকারী এবং আমলহীন। আমলকারী হলো তা, যা তার পরবর্তী শব্দের ওপর রফ', নাসব, জার অথবা জাজম প্রদানের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে। আর আমলহীন এর বিপরীত, যাকে 'মুহমাল' বলা হয়।

অতঃপর আমলকারী হরফ দুই প্রকার: এক প্রকার যা একটি আমল করে এবং অন্য প্রকার যা দুটি আমল করে।

প্রথম প্রকারটি হয় কেবল নাসব প্রদানকারী হবে, যেমন ক্রিয়ার নাসব প্রদানকারী অব্যয়সমূহ, এবং ব্যতিক্রম অর্থে ব্যবহৃত 'ইল্লা' ও 'ওয়াও মাআ'—তাদের মতে যারা এ দুটিকে আমলকারী মনে করেন। অথবা কেবল জার প্রদানকারী হবে, যা হলো হুরুফুল জার। অথবা কেবল জাজম প্রদানকারী হবে, যা হলো হুরুফুল জাজম।

আর আরবি ভাষায় এমন কোনো হরফ নেই যা কেবল রফ' প্রদান করে; ইমাম ফাররা-এর মত এর ব্যতিক্রম, কেননা তার মতে 'লাওলা' তার পরবর্তী বিশেষ্যকে রফ' প্রদান করে, যেমন: 'যদি যাইদ না থাকত তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করতাম' বাক্যে।

আর বসরীয় ব্যাকরণবিদদের মাযহাব হলো, 'লাওলা'-এর পরবর্তী বিশেষ্যটি ইবতিদা-এর কারণে মারফু বা রফ'যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৮)
والثاني قسم واحد، ينصب ويرفع، وهو إن وأخواتها، وما الحجازية وأخواتها.

وزاد بعض المتأخرين قسماً آخر، يجر ويرفع. قال: وهو لعل خاصة، على لغة بني عقيل. وليس كما ذكر، فإن لعل على هذه اللغة جارة فقط. ولرفع الخبر بعدها وجه غير ذلك.

تنبيه قد اتضح، بما ذكرنا، أن الحرف يعمل أنواع الإعراب الأربعة. ولكن عمله الجر والجزم بطريق الأصالة، وعمله الرفع والنصب لشبهه بما يعملهما. والله أعلم.

 

‌‌الفصل الخامس

في عدة الحروف

ذكر بعض النحويين أن جملة حروف المعاني ثلاثة وسبعون حرفاً. وزاد غيره على ذلك حروفاً أخر، مختلفاً في حرفية أكثرها. وذكر بعضهم نيفاً وتسعين حرفاً. وقد وقفت على كلمات أخر مختلف
দ্বিতীয়টি হলো এক প্রকার, যা নসব ও রফ প্রদান করে; আর তা হলো 'ইন্না' ও এর সমগোত্রীয় শব্দসমূহ এবং হিজাজি 'মা' ও এর সমগোত্রীয় শব্দসমূহ।

পরবর্তী যুগের কিছু আলিম অপর একটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন, যা জর ও রফ প্রদান করে। তিনি বলেছেন: এটি বিশেষভাবে 'লাআল্লা' শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বনী উকাইল গোত্রের উপভাষা অনুযায়ী। তবে বিষয়টি তেমন নয় যা তিনি উল্লেখ করেছেন; কেননা এই উপভাষায় 'লাআল্লা' কেবল জর প্রদানকারী অব্যয় হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আর এর পরবর্তী খবরের রফ হওয়ার অন্য কারণ রয়েছে।

সতর্কীকরণ: আমাদের আলোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, অব্যয় ই’রাবের চারটি প্রকারেই আমল বা কাজ করে থাকে। তবে জর ও জজম প্রদান করা এর মৌলিক কাজ, আর রফ ও নসব প্রদান করা হলো সেই সব শব্দের সাথে সাদৃশ্য রাখার কারণে যা এই দুটি আমল করে থাকে। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

অব্যয়সমূহের সংখ্যা প্রসঙ্গে

কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ উল্লেখ করেছেন যে, অর্থবোধক অব্যয়সমূহের মোট সংখ্যা তিয়াত্তরটি। অন্যগণ এর সাথে আরও কিছু অব্যয় যুক্ত করেছেন, যেগুলোর অধিকাংশেরই অব্যয় হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ নব্বইটিরও বেশি অব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। আমি আরও কিছু শব্দের সন্ধান পেয়েছি যেগুলোর বিষয়ে মতভেদ...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ২৯)
في حرفيتها، ترتقي بها عدة الحروف على المائة. وهي منحصرة في خمسة أقسام: أحادي، وثنائي، وثلاثي، ورباعي، وخماسي. فلذلك جعلت لها خمسة أبواب.
এর আক্ষরিক রূপের বিচারে, এতে বর্ণের সংখ্যা একশ অতিক্রম করে। এগুলো পাঁচটি ভাগে বিভক্ত: এক-বর্ণবিশিষ্ট, দ্বি-বর্ণবিশিষ্ট, ত্রি-বর্ণবিশিষ্ট, চতু-বর্ণবিশিষ্ট ও পঞ্চ-বর্ণবিশিষ্ট। তাই আমি এর জন্য পাঁচটি অধ্যায় নির্ধারণ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الباب الأول

في الأحادي

وهو أربعة عشر حرفاً:

 

‌‌الهمزة، والباء، والتاء، والسين، والشين، والفاء، والكاف، واللام، والميم، والنون، والهاء، والواو، والالف، والياء. ويجمعها قولك بكشف سألتمونيها. ولم يذكر بعضهم الشين، فعدها ثلاثة عشر. وأنا أذكرها، واحداً واحداً، على هذا الترتيب. إن شاء الله تعالى.

الهمزة

حرف مهمل، يكون للاستفهام، وللنداء. وما عدا هذين، من أقسام الهمزة، فليس من حروف المعاني.

فأما همزة الاستفهام فهي حرف مشترك: يدخل على الأسماء والأفعال، لطلب تصديق، نحو: أزيد قائم؟ أو تصور، نحو: أزيد عندك أم عمرو؟ وتساويها هل في طلب التصديق الموجب، لا غير.
প্রথম অধ্যায়

একাক্ষর বিশিষ্ট বর্ণসমূহ প্রসঙ্গে

আর তা হলো চৌদ্দটি বর্ণ:

 

হামযাহ, বা, তা, সীন, শীন, ফা, কাফ, লাম, মীম, নূন, হা, ওয়াও, আলিফ এবং ইয়া। তোমার এই উক্তিটি সেগুলোকে একত্রিত করে: "বিকাশফি সাআলতুমূনিহা"। তাদের কেউ কেউ 'শীন' বর্ণটিকে উল্লেখ করেননি, ফলে তারা এগুলোকে তেরটি হিসেবে গণনা করেছেন। আর আমি এই ক্রমধারা অনুযায়ী একে একে সেগুলো উল্লেখ করব, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

হামযাহ

এটি একটি নুকতাহীন বর্ণ, যা প্রশ্নবোধক এবং সম্বোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই দুই প্রকার ব্যতিরেকে হামযাহর অন্যান্য প্রকারসমূহ অর্থবোধক অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর প্রশ্নবোধক হামযাহ হলো একটি সাধারণ অব্যয়: যা সত্যতা নিরূপণের উদ্দেশ্যে বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার পূর্বে যুক্ত হয়, যেমন: যায়েদ কি দণ্ডায়মান? অথবা ধারণা লাভের উদ্দেশ্যে, যেমন: যায়েদ কি তোমার কাছে নাকি আমর? আর এটি কেবল ইতিবাচক সত্যতা নিরূপণের ক্ষেত্রে 'হাল' এর সমতুল্য হয়, অন্য কিছুতে নয়।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩১)
فالهمزة أعم، وهي أصل أدوات الاستفهام. ولأصالتها استأثرت بأمور، منها تمام التصدير بتقديمها على الفاء والواو وثم، في نحو " أفلا تعقلون "، " أو لم يسيروا "، " أثم إذا ما وقع ". وكان الأصل في ذلك تقديم حرف العطف على الهمزة، لأنها من الجملة المعطوفة. لكن راعوا أصالة الهمزة، في استحقاق التصدير، فقدموها بخلاف هل وسائر أدوات الاستفهام. هذا مذهب الجمهور.

وذهب الزمخشري إلى تقدير جملة، بعد الهمزة، لائقة بالمحل، ليكون كل واحد من الهمزة وحرف العطف في موضعه. والتقدير: أتجهلون فلا تعقلون؟ ونحو ذلك. وضعف بعدم اطراده، إذا لا يمكن في نحو " أفمن هو قائم على كل نفس "، وبأن فيه حذف جملة معطوف عليها، من غير دليل. قيل: وقد رجع إلى مذهب الجماعة في سورة الأعراف.

ثم إن همزة الاستفهام قد ترد لمعان أخر، بحسب المقام، والأصل في جميع ذلك معنى الاستفهام.
অতএব হামযা অধিকতর ব্যাপক এবং এটি প্রশ্নবোধক অব্যয়সমূহের মূল। এর মৌলিকত্বের কারণে এটি কতিপয় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যার মধ্যে একটি হলো ফা, ওয়াও এবং ছুম্মা-এর পূর্বে আসার মাধ্যমে বাক্যের শুরুতে পূর্ণ অবস্থান লাভ করা; যেমন "তবে কি তোমরা অনুধাবন করো না?", "অথবা তারা কি ভ্রমণ করেনি?", "তারপর কি যখন তা ঘটবে?"। এক্ষেত্রে মূল নিয়ম ছিল হামযার পূর্বে সংযোজক অব্যয়কে স্থান দেয়া, কারণ এটি সংযোজিত বাক্যের অংশ। কিন্তু ব্যাকরণবিদগণ বাক্যের প্রারম্ভে থাকার যোগ্যতার ক্ষেত্রে হামযার মৌলিকত্ব বিবেচনা করেছেন, ফলে তারা একে 'হাল' এবং অন্যান্য প্রশ্নবোধক অব্যয়ের বিপরীতে অগ্রবর্তী করেছেন। এটিই জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের অভিমত।

পক্ষান্তরে আল-যামাখশারী হামযার পরে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী একটি উহ্য বাক্যের ধারণা পোষণ করেছেন, যাতে হামযা এবং সংযোজক অব্যয়—উভয়ই নিজ নিজ যথার্থ স্থানে অবস্থান করতে পারে। সেই অনুমিত বাক্যটি হবে: "তোমরা কি অজ্ঞতা অবলম্বন করছো, ফলে তোমরা অনুধাবন করো না?" এবং এই জাতীয়। তবে এই মতটিকে তার সার্বজনীন প্রয়োগের অভাবের কারণে দুর্বল গণ্য করা হয়েছে; কারণ "তবে কি তিনি, যিনি প্রতিটি প্রাণের উপর রক্ষণাবেক্ষণকারী" এর মতো উদাহরণে এটি প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, এবং এতে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একটি অনুক্ত বাক্যের বিলোপ সাধিত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি সূরা আল-আ’রাফের তাফসীরে জমহুরের মতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছেন।

অতঃপর প্রশ্নবোধক হামযা প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী অন্যান্য অর্থ প্রদানের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো জিজ্ঞাসার অর্থ প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الأول: التسوية: نحو " سواء عليهم أأنذرتهم أم لم تنذرهم ". قال بعض النحويين: لما كان المستفهم يستوي عنده الوجود والعدم، وكذا المسوي، جرت التسوية بلفظ الاستفهام. وتقع همزة التسوية بعد سواء، وليت شعري، وما أبالي، وما أدري.

الثاني: التقرير: وهو توقيف المخاطب على ما يعلم ثبوته أو نفيه. نحو قوله تعالى " أأنت قلت للناس: اتخذوني ".

الثالث: التوبيخ: نحو " أأذهبتم طيباتكم، في حياتكم الدنيا ". وقد اجتمع التقرير والتوبيخ في قوله تعالى " ألم نر بك فينا وليداً ".

الرابع: التحقيق: نحو قول جرير:

ألستم خير من ركب المطايا … وأندى العالمين، بطون راح

الخامس: التذكير: نحو " ألم يجدك يتيماً فآوى ".
প্রথমত: সমতা (তাসউইয়া): যেমন, "তাদেরকে আপনি সতর্ক করুন আর নাই করুন, তাদের জন্য সমান।" কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ বলেছেন: যেহেতু প্রশ্নকর্তার কাছে (বিষয়টির) অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান, এবং একইভাবে সমতা বিধানকারীর কাছেও, তাই সমতা প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রশ্নের শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আর সমতাসূচক হামজা সাধারণত 'সমান', 'যদি আমি জানতাম', 'আমি পরোয়া করি না' এবং 'আমি জানি না'—এই শব্দগুলোর পরে আসে।

দ্বিতীয়ত: স্বীকৃতি আদায় (তাকরির): আর তা হলো সম্বোধিত ব্যক্তিকে এমন বিষয়ের মুখোমুখি করা যা সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে সে অবগত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি কি মানুষকে বলেছিলে: তোমরা আমাকে গ্রহণ করো?"

তৃতীয়ত: ভর্ৎসনা (তাওবিখ): যেমন, "তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই তোমাদের পবিত্র বস্তুগুলো ভোগ করে নিঃশেষ করে ফেলেছ।" আর স্বীকৃতি আদায় ও ভর্ৎসনা—উভয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীতে একত্রিত হয়েছে: "আমরা কি তোমাকে আমাদের মধ্যে শিশু হিসেবে লালন-পালন করিনি?"

চতুর্থত: নিশ্চিতকরণ (তাহকিক): যেমন কবি জারিরের উক্তি:

তোমরা কি সওয়ারিতে আরোহণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নও … এবং জগতবাসীর মধ্যে অধিক দানশীল নও?

পঞ্চমত: স্মরণ করিয়ে দেওয়া (তাযকির): যেমন, "তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি? অতঃপর তিনি আপনাকে আশ্রয় দান করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
السادس: التهديد: نحو " ألم نهلك الأولين ".

السابع: التنبيه: نحو " ألم تر أن الله أنزل من السماء ماء ".

الثامن: التعجب: نحو " ألم تر إلى الذين تولوا قوماً، غضب الله عليهم ".

التاسع: الاستبطاء: نحو: " ألم يأن للذين آمنوا ".

العاشر: الإنكار: نحو " أصطفى البنات على البنين ".

الحادي عشر: التهكم: نحو " قالوا: يا شعيب أصلاتك ".

الثاني عشر: معاقبة حرف القسم: كقولك: آلله لقد كان كذا. فالهمزة في هذا عوض من حرف القسم. وينبغي أن تكون عوضاً من الباء دون غيرها، لأصالة الباء في القسم.

واختللف في الجار للاسم المقسم به، بعد الهمزة. فذهب
ষষ্ঠ: ভীতিপ্রদর্শন: যেমন "আমি কি পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করিনি?"

সপ্তম: সতর্কতা প্রদান: যেমন "তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন?"

অষ্টম: বিস্ময় প্রকাশ: যেমন "তুমি কি তাদের দেখনি যারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে যাদের ওপর আল্লাহ রাগান্বিত?"

নবম: বিলম্বিত মনে করা: যেমন: "মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি?"

দশম: অস্বীকৃতি: যেমন "তিনি কি পুত্রদের ওপর কন্যাদের বেছে নিয়েছেন?"

একাদশ: বিদ্রূপ: যেমন "তারা বলল: হে শুআইব, তোমার সালাত কি..."

দ্বাদশ: শপথের অব্যয়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়া: যেমন তোমার উক্তি: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই এমনটি হয়েছিল।" এক্ষেত্রে হামজাহ বর্ণটি শপথের অব্যয়ের পরিবর্তে এসেছে। আর এটি অন্য কোনো বর্ণের পরিবর্তে না হয়ে 'বা' বর্ণের পরিবর্তে হওয়া উচিত, কারণ শপথের ক্ষেত্রে 'বা' বর্ণটিই হচ্ছে মূল বা ভিত্তি।

হামজাহ-র পরে শপথকৃত বিশেষ্যকে 'জার' প্রদানকারী অব্যয়টি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। অতঃপর কেউ মত দিয়েছেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الأخفش إلى أن الجر بالهمزة، لكونها عوضاً عن الجار. واختاره ابن عصفور. وذهب غيره إلى أن الجر بالحرف المحذوف، الذي جيء بالهمزة عوضاً عنه. واختاره ابن مالك.

وذكر بعض النحويين أن التقرير هو المعنى الملازم للهمزة، في غالب هذه المواضع المذكورة، وأن غيره من المعاني، كالتوبيخ والتحقيق، والتذكير، ينجر مع التقرير.

مسألة ذهب قوم إلى أن حذف همزة الاستفهام، لأمن اللبس، من ضرورات الشعر، ولو كانت قبل أم المتصلة. وهو ظاهر كلام سيبويه. وذهب الأخفش إلى جواز حذفها في الاختيار، وإن لم يكن بعدها أم. وجعل من ذلك قوله تعالى " وتلك نعمة تمنها علي، أن عبدت بني إسرائيل ". قال ابن مالك: وأقوى الاحتجاج،
আল-আখফাশের মত হলো যে, কাসরা বা যার হওয়াটি হামযার কারণে, যেহেতু এটি জার (অব্যয়)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ইবনে উসফুর এই মতটি গ্রহণ করেছেন। অন্যান্যের অভিমত হলো, যার হওয়াটি সেই বিলুপ্ত হরফের কারণে যার পরিবর্তে হামযা নিয়ে আসা হয়েছে। ইবনে মালিক এই মতটি পছন্দ করেছেন।

কতিপয় ব্যাকরণবিদ উল্লেখ করেছেন যে, উল্লিখিত অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'তাকরির' বা স্বীকৃতি আদায় করাই হলো হামযার সাথে সংশ্লিষ্ট মূল অর্থ; আর অন্যান্য অর্থ যেমন—তিরস্কার, নিশ্চয়তা প্রদান এবং স্মরণ করিয়ে দেওয়া, এগুলো স্বীকৃতির সাথেই যুক্ত হয়ে আসে।

মাসআলা: একদল বিশেষজ্ঞের মতে, বিভ্রান্তি সৃষ্টির ভয় না থাকলে প্রশ্নবোধক হামযা বিলুপ্ত করা কবিতার অপরিহার্যতার অন্তর্ভুক্ত, এমনকি তা যদি 'আম আল-মুত্তাসিলা'-এর পূর্বেও হয়। এটিই সিবওয়াইহ-এর বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম। আর আল-আখফাশ সাধারণ গদ্যের ক্ষেত্রেও এটি বিলুপ্ত করা বৈধ মনে করেন, যদিও এরপর 'আম' না থাকে। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন: "আর এটাই কি সেই অনুগ্রহ যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছ যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছ?" ইবনে মালিক বলেন: আর সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তি হলো—
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
على ما ذهب إليه، قول رسول الله صلى الله عليه وسلم لجبريل: وإن زنى، وإن سرق؟. فقال: وإن زنى وإن سرق. أراد: أو إن زنى وإن سرق؟ والمختار أن حذفها مطرد إذا كان بعدها أم المتصلة، لكثرته نظماً ونثراً. فمن النظم قول الشاعر:

لعمرك، ما أدري، وإن كنت دارياً: … بسبع، رمين الجمر، أم بثماني؟

وأبيات أخر، لا حاجة إلى التطويل بإنشادها. ومن النثر قراءة ابن محيصن " سواء عليهم أنذرتهم أم لم تنذرهم " بهمزة واحدة.

وأما همزة النداء فهي حرف مختص بالاسم، كسائر أحرف النداء، ولا ينادى بها إلا القريب مسافة وحكماً، كقول أمرىء القيس: أفاطم، مهلاً، بعض هذا التدلل
তিনি যে মতটি গ্রহণ করেছেন সে অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিবরাঈল আলাইহিস সালামের প্রতি উক্তি: "এমনকি যদি সে ব্যভিচার করে এবং এমনকি যদি সে চুরি করে?" তিনি বললেন: "এমনকি যদি সে ব্যভিচার করে এবং এমনকি যদি সে চুরি করে।" তিনি মূলত বুঝাতে চেয়েছেন: "অথবা এমনকি যদি সে ব্যভিচার করে এবং এমনকি যদি সে চুরি করে?" অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো যে, এর পরে ‘আম আল-মুত্তাসিলাহ’ থাকলে একে বিলুপ্ত করা একটি নিয়মিত ব্যাকরণগত নিয়ম, কারণ গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ প্রচুর। পদ্যের উদাহরণের মধ্যে কবির উক্তি হলো:

তোমার জীবনের শপথ, আমি জানি না, যদিও আমি অবগত ছিলাম: … সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল, নাকি আটটি?

আরও অন্যান্য পদ্যের পঙ্‌ক্তি রয়েছে, যা বর্ণনা করে দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই। আর গদ্যের উদাহরণ হলো ইবনে মুহাইসিনের কিরাত "তাদের জন্য সমান, আপনি তাদের সতর্ক করুন কি না করুন" — একটি মাত্র হামযা সহকারে।

আর সম্বোধনের হামযা হলো অন্যান্য সম্বোধনসূচক বর্ণের মতো বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট একটি বর্ণ। এর দ্বারা কেবল দূরত্ব বা অবস্থানের দিক থেকে নিকটবর্তী কাউকেই সম্বোধন করা হয়; যেমন ইমরাউল কায়েসের উক্তি: হে ফাতিমা, শান্ত হও, তোমার এই নখরা কিছুটা পরিহার করো।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وجعل بعضهم من ذلك قراءة الحرمين " أمن هو قانت "، بتخفيف الميم. وتحتمل أن تكون همزة الاستفهام دخلت على من، ومن مبتدأ وخبره محذوف، تقديره، أمن هو قانت كغيره؟ حذف، لدلالة الكلام عليه. والله أعلم.

الباء حرف مختص بالاسم، ملازم لعمل الجر. وهي ضربان زائدة، وغير زائدة.

فأما غير الزائدة فقد ذكر النحويون لها ثلاثة عشر معنى: الأول: الإلصاق: وهو أصل معانيها. ولم يذكر لها سيببويه غيره. قال: إنما هي للإلصاق والاختلاط. ثم قال: فما اتسع من هذا، في الكلام، فهذا أصله. قيل: وهو معنى لا يفارقها.

والإلصاق ضربان: حقيقي نحو: أمسكت الحبل بيدي. قال ابن جني: أي: ألصقتها به. ومجازي، نحو: مررت بزيد. قال
কারো কারো মতে হারামাইনের ক্বিরাত "আমান হুয়া ক্বানিত"-এ 'মীম' বর্ণটি হালকাভাবে (তাশদীদহীন) পড়া এর অন্তর্ভুক্ত। এর সম্ভাবনা রয়েছে যে, এখানে জিজ্ঞাসাবোধক হামযাটি ‘মান’ এর ওপর দাখিল হয়েছে, যেখানে ‘মান’ হলো মুবতাদা এবং এর খবর উহ্য রয়েছে; যার অনুমিত রূপ হলো: "যে ব্যক্তি অনুগত, সে কি অন্যের মতো?" বক্তব্য এর প্রতি ইঙ্গিত করার কারণে এটি উহ্য রাখা হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

‘বা’ বর্ণটি এমন একটি হরফ যা বিশেষ্যের (ইসম) জন্য সুনির্দিষ্ট এবং এটি সর্বদা 'জার' (জের প্রদান) করার আমল করে। এটি দুই প্রকার: অতিরিক্ত এবং অনতিরিক্ত।

অনতিরিক্ত ‘বা’-এর ক্ষেত্রে ব্যাকরণবিদগণ তেরটি অর্থ উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো: ইলশাক বা সংযুক্তিকরণ, যা এর মূল অর্থ। ইমাম সিবাওয়াইহি এটি ছাড়া অন্য কোনো অর্থ উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন: এটি কেবল সংযুক্ত করা এবং সংমিশ্রণের জন্যই আসে। অতঃপর তিনি বলেছেন: কথাবার্তায় এর যে সম্প্রসারিত ব্যবহার রয়েছে, এটিই তার উৎস। বলা হয়েছে যে, এটি এমন এক অর্থ যা এই হরফ থেকে কখনো পৃথক হয় না।

সংযুক্তিকরণ (ইলশাক) দুই প্রকার: প্রকৃত, যেমন: "আমি আমার হাত দিয়ে রশিটি ধরলাম"। ইবন জিন্নি বলেন: অর্থাৎ, আমি আমার হাতকে এর সাথে সংযুক্ত করেছি। আর রূপক, যেমন: "আমি যায়দ-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"। তিনি বলেন-
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الزمخشري: المعنى: التصق مروري بموضع يقرب منه. قلت: وذكر ابن مالك أن الباء في نحو: مررت بزيد، بمعنى على، بدليل " وإنكم لتمرون عليهم ". وحكاه عن الأخفش.

الثاني: التعدية: وباء التعدية هي القائمة مقام الهمزة، في إيصال معنى اللازم إلى المفعول به. نحو " ذهب الله بنورهم "، و " لذهب بسمعهم ". وقد وردت مع المتعدي في قولهم: صككت الحجر بالحجر، ودفعت بعض الناس ببعض. فلذلك قيل: الصواب قول بعضهم: هي الداخلة على الفاعل، فتصيره مفعولاً. ليشمل المتعدي واللازم. فإن قيل: هذه العبارة أيضاً لا تشمل المثالين، لأن الباء فيهما هي الداخلة على ما كان مفعولاً. إذ الأصل: صك الحجر الحجر، ودفع بعض الناس بعضاً! قلت: ليس كذلك، بل هي شاملة لهما. والباء فيهما داخلة على ما كان فاعلاً، لا مفعولاً، والأصل: صك الحجر الحجر، ودفع بعض الناس بعض. بتقديم المفعول، لأن المعنى أن المتكلم صير البعض، الذي دخلت عليه الباء، دافعاً للبعض المجرد منها.
আল-জামাখশারি: অর্থ: আমার অতিক্রম করা এমন একটি স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে যা তার নিকটবর্তী। আমি বলি: ইবনে মালিক উল্লেখ করেছেন যে, 'আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম' এর মতো বাক্যে 'বা' বর্ণটি 'উপরে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; এর প্রমাণ হলো "আর নিশ্চয়ই তোমরা তাদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করো"। তিনি এটি আখফাশ থেকেও বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়: তা’দিয়াহ (সকর্মক করা): আর তা’দিয়াহ-র ‘বা’ হলো সেটি যা হামজার স্থলাভিষিক্ত হয়, অকর্মক ক্রিয়ার অর্থকে কর্মের নিকট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে। যেমন: "আল্লাহ তাদের জ্যোতি নিয়ে গেছেন" এবং "অবশ্যই তিনি তাদের শ্রবণশক্তি নিয়ে যেতেন"। এটি সকর্মক ক্রিয়ার সাথেও ব্যবহৃত হয়েছে তাদের এই কথায়: "আমি পাথরকে পাথর দিয়ে আঘাত করেছি" এবং "আমি একদল মানুষকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত করেছি"। এজন্য বলা হয়েছে: কারো কারো এই মতটিই সঠিক যে, এটি কর্তার ওপর প্রবেশ করে তাকে কর্মে রূপান্তরিত করে, যাতে এটি সকর্মক ও অকর্মক উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। যদি বলা হয়: এই উক্তিটিও উদাহরণ দুটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ ওই দুটিতে 'বা' এমন শব্দের ওপর প্রবেশ করেছে যা কর্ম ছিল। কেননা মূল বাক্য ছিল: 'পাথর পাথরকে আঘাত করেছে' এবং 'মানুষের একদল অন্য দলকে প্রতিহত করেছে'! আমি বলি: বিষয়টি এমন নয়, বরং এটি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। ওই দুটি উদাহরণে 'বা' এমন শব্দের ওপর প্রবেশ করেছে যা কর্তা ছিল, কর্ম নয়। মূল বাক্যটি ছিল: 'পাথর পাথরকে আঘাত করেছে' এবং 'মানুষের একদল অন্য দলকে প্রতিহত করেছে'—এখানে কর্মকে আগে আনা হয়েছে। কারণ এর অর্থ হলো, বক্তা সেই পক্ষকে—যার ওপর 'বা' প্রবেশ করেছে—অন্য পক্ষের (যা 'বা' মুক্ত) জন্য প্রতিহতকারী বানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ومذهب الجمهور أن باء التعدية بمعنى همزة التعدية، لا تقتضي مشاركة الفاعل للمفعول. وذهب المبرد والسهيلي إلى أن باء التعدية، تقتضي مصاحبة الفاعل للمفعول في الفعل، بخلاف الهمزة. قال السهيلي: إذا قلت: قعدت به، فلا بد من مشاركة، ولو باليد. ورد عليهما بقوله تعالى " ذهب الله بنورهم "، لأن الله، تعالى، لا يوصف بالذهاب مع النور. وأجيب بأنه يجوز أن يكون، تعالى، وصف نفسه بالذهاب، على معنى: يليق به، كما وصف نفسه بالمجيء، في قوله " وجاء ربك ". وهذا ظاهر البعد. ويؤيد أن باء التعدية بمعنى الهمزة قراءة اليماني " أذهب الله نورهم ".

الثالث: الاستعانة: وباء الاستعانة هي الداخلة على آلة الفعل. نحو: كتبت بالقلم، وضربت بالسيف. ومنه في أشهر الوجهين " بسم الله الرحمن الرحيم ".

ولم يذكر في التسهيل باء الاستعانة، وأدرجها في باء
অধিকাংশের মত এই যে, সকর্মকতার 'বা' (বা-য়ে তা’দিয়া) সকর্মকতার 'হামজা'র অর্থ প্রদান করে; এটি কর্মের সাথে কর্তার অংশগ্রহণের দাবি রাখে না। আর মুবাররাদ এবং সুহাইলী এই মত পোষণ করেছেন যে, সকর্মকতার 'বা' ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্মের সাথে কর্তার সাহচর্যের দাবি রাখে, যা হামজার ক্ষেত্রে হয় না। সুহাইলী বলেন: আপনি যখন বলেন— 'আমি তাকে নিয়ে বসলাম', তখন সেখানে অবশ্যই (কর্তার) অংশগ্রহণ থাকতে হবে, হোক তা কেবল হাতের দ্বারা। মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তাদের উভয়ের মত খণ্ডন করা হয়েছে: "আল্লাহ তাদের নূর নিয়ে গেছেন"; কারণ মহান আল্লাহকে নূরের সাথে 'যাওয়ার' গুণে গুণান্বিত করা যায় না। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ নিজেকে 'যাওয়ার' গুণে গুণান্বিত করতে পারেন এমন এক অর্থে যা তাঁর সাথে মানানসই, যেমনটি তিনি নিজেকে 'আগমনের' গুণে গুণান্বিত করেছেন তাঁর এই বাণীতে— "এবং আপনার রব আসলেন"। তবে এই উত্তরটি স্পষ্টতই দূরবর্তী। আর সকর্মকতার 'বা' যে হামজার অর্থে ব্যবহৃত হয়, তার সমর্থন পাওয়া যায় ইয়ামানীর কিরাআতে— "আল্লাহ তাদের নূরকে দূরীভূত করেছেন"।

তৃতীয় প্রকার: সাহায্য গ্রহণ (ইস্তি’আনাহ): সাহায্য গ্রহণের 'বা' হলো সেটি যা ক্রিয়ার যন্ত্র বা উপকরণের পূর্বে যুক্ত হয়। যেমন: "আমি কলম দিয়ে লিখলাম" এবং "আমি তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলাম"। আর "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম"-এর প্রসিদ্ধ দুটি ব্যাখ্যার একটিতে এটি এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত।

আর 'আত-তাসহীল' গ্রন্থে সাহায্য গ্রহণের 'বা'-কে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং সেটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে 'বা'-এর...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
السبيبة، وقال في شرحه: باء السببية هي الداخلة على صالح للاستغناء به عن فاعل معداها مجازاً. نحو " فأخرج به من الثمرات "، فلو قصد إسناد الإخراج إلى الهاء لحسن، ولكنه مجاز. قال: ومنه: كتبت بالقلم، وقطعت بالسكين. فإنه يقال: كتب القلم، وقطعت السكين. والنحويون يعبرون عن هذه الباء بالاستعانة. وآثرت على ذلك التعبير بالسببية، من أجل الأفعال المنسوبة إلى الله، تعالى. فإن استعمال السببية فيها يجوز، واستعمال الاستعانة لا يجوز.

الرابع: التعليل: قال ابن مالك: هي التي تصلح غالباً في موضعها اللام. كقوله تعالى " إنكم ظلمتم أنفسكم، باتخاذكم العجل "، " فبظلم، من الذين هادوا، حرمنا "، " فكلا أخذنا بذنبه ". واحتزر بقوله غالباً من قول العرب: غضبت لفلان، إذا غضبت من أجله وهو حي. وغضبت به، إذا غضبت من أجله وهو ميت.

ولم يذكر الأكثرون باء التعليل، استغناء بباء السببية، لأن
কারণবাচকতা; তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: কারণবাচক ‘বা’ হলো এমন শব্দের ওপর প্রবেশকারী যা রূপকভাবে তার কার্যের কর্তার পরিবর্তে ব্যবহৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। যেমন- “অতঃপর তিনি এর মাধ্যমে ফলমূল উৎপন্ন করলেন”। এখানে যদি উৎপন্ন করার সম্বন্ধটি সর্বনামের (অর্থাৎ বৃষ্টির পানির) দিকে করা হতো তবে তা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হতো, কিন্তু তা হতো রূপক। তিনি বলেন: এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: ‘আমি কলম দিয়ে লিখলাম’ এবং ‘আমি ছুরি দিয়ে কাটলাম’। কেননা বলা হয়ে থাকে: ‘কলম লিখেছে’ এবং ‘ছুরি কেটেছে’। ব্যাকরণবিদগণ এই ‘বা’-কে ‘সহায়তা গ্রহণ’ হিসেবে ব্যক্ত করেন। কিন্তু মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধকৃত কার্যাবলির খাতিরে আমি এর পরিবর্তে ‘কারণবাচকতা’ পরিভাষাটি ব্যবহার করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। কেননা মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে কারণবাচকতার ব্যবহার বৈধ, কিন্তু ‘সহায়তা গ্রহণ’ শব্দের ব্যবহার বৈধ নয়।

চতুর্থ: কারণ বর্ণনা; ইবনে মালিক বলেন: এটি এমন যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার স্থলে ‘লাম’ ব্যবহারের উপযুক্ত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় তোমরা বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করার কারণে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ”, “অতঃপর ইহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেছি”, “অতঃপর আমি তাদের প্রত্যেককেই তাদের পাপের কারণে পাকড়াও করেছি”। তিনি ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে’ কথাটি দ্বারা আরবদের এই উক্তি থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেছেন: ‘আমি অমুকের জন্য রাগান্বিত হলাম’, যখন আপনি তার জীবিত থাকা অবস্থায় তার জন্য রাগান্বিত হন; আর ‘আমি তার কারণে রাগান্বিত হলাম’ (বা যোগে), যখন আপনি তার মৃত্যুর পর তার কারণে রাগান্বিত হন।

অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ কারণ বর্ণনার ‘বা’ আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি, কারণবাচক ‘বা’-এর মাধ্যমেই সেই অর্থ পূর্ণ হয়ে যায় বলে, কেননা...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪০)
التعليل والسبب عندهم واحد. ولذلك مثلوا باء السببية بهذه المثل التي مثل بها ابن مالك للتعليل.

الخامس: المصاحبة: ولها علامتان: إحداهما أن يحسن في موضعها مع. والأخرى أن يغني عنها وعن مصحوبها الحال، كقوله تعالى " قد جاءكم الرسول بالحق " أي: مع الحق، أو محقاً. و " يا نوح اهبط بسلام " أي: مع سلام، أو مسلماً عليك. ولصلاحية وقوع الحال موقعها، سماها كثير من النحويين باء الحال.

السادس: الظرفية: وعلامتها أن يحسن في موضعها في. نحو " ولقد نصركم الله ببدر "، " وإنكم لتمرون عليهم مصبحين، وبالليل ". وهي كثيرة في الكلام.

السابع: البدل: وعلامتها أن يحسن في موضعها بدل. كقول الحماسي:

فليت لي، بهم قوماً، إذا ركبوا … شنوا الإغارة، فرساناً، وركبانإ
তাদের নিকট কারণ দর্শানো এবং হেতু অভিন্ন। আর এই কারণেই তারা কারণবাচক 'বা'-কে সেই সকল উদাহরণের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন যা ইবনে মালিক কারণ দর্শানোর জন্য উদাহরণ হিসেবে দিয়েছেন।

পঞ্চম: অনুষঙ্গ: এর দুটি চিহ্ন রয়েছে: একটি হলো এর স্থলে 'সাথে' শব্দটি বসানো সংগত হওয়া। অন্যটি হলো এটি এবং এর পরবর্তী শব্দটি মিলে 'হাল' বা অবস্থার অর্থ প্রদান করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের নিকট রাসূল সত্য নিয়ে এসেছেন", অর্থাৎ: সত্যের সাথে, অথবা সত্য প্রকাশকারী অবস্থায়। এবং "হে নূহ! শান্তির সাথে অবতরণ করুন", অর্থাৎ: সালামের সাথে, অথবা আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত অবস্থায়। 'হাল' বা অবস্থার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার যোগ্যতার কারণে অনেক ব্যাকরণবিদ একে 'হাল'-এর 'বা' বলে অভিহিত করেছেন।

ষষ্ঠ: আধার বা কালবাচকতা: এর চিহ্ন হলো এর স্থলে 'মধ্যে' বা 'এ' অর্থবোধক অব্যয় বসানো সংগত হওয়া। যেমন: "অবশ্যই আল্লাহ বদরে তোমাদের সাহায্য করেছেন", এবং "নিশ্চয়ই তোমরা তাদের অতিক্রম করো সকালে এবং রাতে"। কথাবার্তায় এর ব্যবহার প্রচুর।

সপ্তম: বিনিময়: এর চিহ্ন হলো এর স্থলে 'পরিবর্তে' শব্দটি বসানো সংগত হওয়া। যেমন হামাসি কবির উক্তি:

হায়, যদি তাদের পরিবর্তে আমার এমন এক জাতি থাকত, যারা সওয়ার হলে … অশ্বারোহী ও উষ্ট্রারোহী অবস্থায় অতর্কিত আক্রমণ শানাত।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪১)
وفي الحديث ما يسرني بها حمر النعم أي: بدلها.

الثامن: المقابلة: قال ابن مالك: هي الباء الداخلة على الأثمان والأعواض. نحو: اشتريت الفرس بألف، وكافأت الإحسان بضعف. وقد تسمى باء العوض.

ولم يذكر أكثرهم هذين المعنيين، أعني: البدل والمقابلة. وقال بعض النحويين: زاد بعض المتأخرين في معاني الباء أنها تجيء للبدل والعوض، نحو: هذا بذاك، أي: هذا بدل من ذلك وعوض منه. قال: والصحيح أن معناها السبب؛ ألا ترى أن التقدير: هذا مستحق بذاك، أي بسببه.

التاسع: المجاوزة: وعبر بعضهم عن هذا بموافقة عن. وذلك كثير بعد السؤال. نحو " فاسأل به خبيراً "، و " سأل سائل بعذاب واقع ". وقال علقمة:

فإن تسألوني، بالنساء، فإنني … خبير، بأدواء النساء، طبيب
হাদিসে রয়েছে: ‘এর বিনিময়ে লাল উট পাওয়াও আমাকে এতটা আনন্দিত করত না’, অর্থাৎ: এর বদলে।

অষ্টম: মুকাবিলা (বিনিময়): ইবনে মালিক বলেন: এটি সেই ‘বা’ যা মূল্য এবং প্রতিদানের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়। যেমন: ‘আমি এক হাজারের বিনিময়ে ঘোড়াটি ক্রয় করেছি’ এবং ‘আমি উপকারের দ্বিগুণ প্রতিদান দিয়েছি’। একে প্রতিদানের ‘বা’-ও বলা হয়।

অধিকাংশ ভাষাবিদ এই দুটি অর্থ অর্থাৎ বদল এবং মুকাবিলা উল্লেখ করেননি। জনৈক ব্যাকরণবিদ বলেছেন: পরবর্তীকালের কেউ কেউ ‘বা’-এর অর্থের মধ্যে এটি বৃদ্ধি করেছেন যে এটি বদল ও প্রতিদান অর্থে আসে। যেমন: ‘এটি ওটির বিনিময়ে’, অর্থাৎ এটি ওটির বিকল্প এবং ওটির প্রতিদান স্বরূপ। তিনি বলেন: সঠিক মত হলো এর অর্থ কারণ বা হেতু; আপনি কি দেখছেন না যে এর প্রচ্ছন্ন ব্যাখ্যা হলো: ‘এটি ওটির কারণে প্রাপ্য’, অর্থাৎ ওটির হেতুতে।

নবম: মুজাওয়াজাহ (অতিক্রম করা): কেউ কেউ একে ‘আন’ অব্যয়ের সমার্থক হিসেবে অভিহিত করেছেন। ‘জিজ্ঞাসা করা’ ক্রিয়ার পরে এর প্রয়োগ প্রচুর। যেমন: “অতএব এ সম্পর্কে আপনি কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করুন” এবং “এক যাঞ্চাকারী এক অবধারিত শাস্তি সম্পর্কে যাঞ্চা করেছে”। আলকামা বলেছেন:

যদি তোমরা আমাকে নারী জাতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো, তবে নিশ্চয়ই আমি নারী জাতির রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক।…
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪২)
وقليل بعد غيره، نحو " ويوم تشقق السماء بالغمام " أي: وعن أيمانهم. كذا قال الأخفش. قلت: أما كونها بمعنى عن بعد السؤال فهو منقول عن الكوفيين، وتأوله الشلوبين على أن الباء في ذلك سببية، أي: فاسأل بسببه. وقال بعضهم: هو من باب التضمين، أي: فاعتن به، أو فاهتم به.

العاشر: الاستعلاء: وعبر بعضهم عنه بموافقة على. وذكروا لذلك أمثلة منها قوله تعالى " ومن أهل الكتاب من إن تأمنه بقنطار " أي: على قنطار، كما قال " هل آمنكم عليه ". ومنها " وإذا مروا بهم " أي: عليهم، كما قال " وإنكم لتمرون عليهم ". ومنه قول الشاعر:
অন্যান্য শব্দের পরে এটি কম ঘটে, যেমন "যেদিন মেঘমালার মাধ্যমে আকাশ বিদীর্ণ হবে" অর্থাৎ: তাদের ডান দিক থেকে। আল-আখফাশ এমনই বলেছেন। আমি বলি: জিজ্ঞাসার পরে এটি 'আন' অর্থে হওয়া কুফীদের থেকে বর্ণিত। আশ-শালুবীন এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, এক্ষেত্রে 'বা' হলো কারণবাচক, অর্থাৎ: তাঁর কারণে জিজ্ঞাসা করো। কেউ কেউ বলেছেন: এটি 'তাদমীন'-এর পর্যায়ভুক্ত, অর্থাৎ: এর প্রতি যত্নবান হও অথবা এর প্রতি গুরুত্ব দাও।

দশম: আল-ইস্তি'লা: কেউ কেউ একে 'আলা' এর সমার্থক হওয়া দ্বারা প্রকাশ করেছেন। তারা এর জন্য কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: "আর আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যাকে তুমি যদি বিপুল সম্পদের আমানত দাও" অর্থাৎ: বিপুল সম্পদের ওপর, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আমি কি তার ওপর তোমাদের বিশ্বাস করতে পারি?"। এর মধ্যে আরও রয়েছে: "এবং যখন তারা তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে" অর্থাৎ: তাদের ওপর দিয়ে, যেমনটি তিনি বলেছেন: "এবং নিশ্চয়ই তোমরা তাদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে থাকো"। কবির উক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত:
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أرب يبول الثعلبان برأسه … لقد هان من بالت، عليه، الثعالب

الحادي عشر: التبعيض: وعبر بعضهم عن هذا بموافقة من، يعني التبعيضية، وفي هذا المعنى خلاف، وممن ذكره الأصمعي، والفارسي في التذكرة. ونقل عن الكوفيين، وقال به القتبي وابن مالك. واستدلوا على ذلك بقوله تعالى " يشرب بها عباد الله " أي: منها. وقول الشاعر:

شربن بماء البحر، ثم ترفعت … متى لجج، خضر، لهن نئيج

وبقول الآخر:
কি এমন এক রব যার মাথায় শিয়াল প্রস্রাব করে … সে তো নিশ্চয়ই লাঞ্ছিত যার ওপর শিয়ালরা প্রস্রাব করে

একাদশ: অংশবাচকতা: কেউ কেউ এটিকে ‘মিন’ এর সমার্থক হিসেবে ব্যক্ত করেছেন, অর্থাৎ অংশবাচকতা অর্থে। এই অর্থের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। যারা এটি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আসমায়ী এবং ‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে আল-ফারিসি। এটি কুফী পণ্ডিতদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং আল-কুতাবি ও ইবনে মালিক এই মত পোষণ করেছেন। তারা এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী “আল্লাহর বান্দারা তা দিয়ে পান করবে” অর্থাৎ “তা থেকে” দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। আর কবির উক্তি:

তারা সমুদ্রের পানি পান করল, অতঃপর উপরে উঠল … সবুজ গভীর জলরাশির দিকে, যেগুলোর প্রবল গর্জন রয়েছে

এবং অন্যজনের উক্তি দ্বারা:
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪৪)
فلثمت فاها، آخذاً بقرونها … شرب النزيف، ببرد ماء الحشرج

وجعل قوم من ذلك الباء في قوله تعالى " وامسحوا برؤوسكم. وجعلها قوم زائدة. وجعلها قوم للإلصاق على الأصل. وقال بعضهم: إنها باء الاستعانة، فإن مسح يتعدى إلى مفعول بنفسه، وهو المزال عنه، وإلى آخر بحرف الجر، وهو المزيل. فيكون تقدير الآية: فامسحوا أيديكم برؤوسكم.

ولم ترد باء التبعيض عند مثبتيها إلا مع الفعل المتعدي. وقد أنكر قوم، منهم ابن جني، ورود باء التبعيض، وتأولوا ما استدل به مثبتو ذلك، على التضمين. قال ابن مالك: والأجود تضمين شربن معنى: روين. وجعل الزمخشري الباء في الآية كالباء في: شربت الماء بالعسل. والمعنى: يشرب بها عباد الله الخمر.

واعترض بعضهم كلام ابن جني، وقال: شهادة على النفي، وهي
তার চুলের বিনুনিগুলো ধরে আমি তার অধরে চুম্বন করলাম ... যেন অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির কলসীর শীতল পানি পান করা।

একদল আলেম মহান আল্লাহর বাণী "তোমাদের মাথা মাসেহ করো"-এর 'বা' অক্ষরটিকে এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একদল একে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। অন্য একদল একে এর মূল অর্থ তথা 'সংস্পর্শ' হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এটি হচ্ছে 'সাহায্য গ্রহণ' অর্থে ব্যবহৃত 'বা', কারণ মাসেহ করা ক্রিয়াটি সরাসরি একটি কর্মপদ গ্রহণ করে (যার ওপর থেকে কিছু সরানো হয়) এবং অব্যয়ের মাধ্যমে অন্য একটি কর্মপদ গ্রহণ করে (যা দ্বারা সরানো হয়)। এমতাবস্থায় আয়াতের প্রচ্ছন্ন অর্থ হবে: তোমরা তোমাদের হাত দিয়ে তোমাদের মাথা মাসেহ করো।

আংশিকত্ব বুঝানো 'বা'-এর অস্তিত্ব যারা স্বীকার করেন, তাদের মতে এটি কেবল সকর্মক ক্রিয়ার সাথেই ব্যবহৃত হয়। ইবনে জিন্নিসহ একদল আলেম এই 'বা'-এর ব্যবহার অস্বীকার করেছেন এবং এর প্রবক্তারা যা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন সেগুলোকে তারা 'অন্তর্নিহিত অর্থ ধারণ' (তাযমিন)-এর ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছেন। ইবনে মালিক বলেন: 'তারা পান করেছে' শব্দটির মধ্যে 'তারা তৃপ্ত হয়েছে' অর্থটি অন্তর্ভুক্ত করা অধিকতর উত্তম। যামাখশারী এই আয়াতের 'বা' অক্ষরটিকে 'আমি মধুর সাথে পানি পান করেছি' বাক্যের 'বা'-এর ন্যায় গণ্য করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়: আল্লাহর বান্দাগণ এর মাধ্যমে পানীয় পান করবেন।

কেউ কেউ ইবনে জিন্নির বক্তব্যের ওপর আপত্তি প্রকাশ করে বলেছেন: এটি অভাব বা নেতিবাচক বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য প্রদান, আর তা হলো—
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪৫)
غير مقبولة. وأجيب بأن الشهادة على النفي ثلاثة أقسام: معلومة نحو: إن العرب لم تنصب الفاعل. وظنية عن استقراء صحيح نحو: ليس في كلام العرب اسم متمكن، آخره واو لازمة، قبلها ضمة. وشائعة غير منحصرة نحو: لم يطلق زيد امرأته، من غير دليل، فهذا هو المردود. وكلام ابن جني من الثاني، لأنه شديد الاطلاع على لسان العرب.

الثاني عشر: القسم: نحو: بالله لأفعلن. وهي أصل حروف القسم، ولذلك فضلت سائر حروفه بثلاثة أمور، أحدها أنها لا يجب حذف الفعل معها، بل يجوز إظهاره. نحو: أقسم بالله. والثاني أنها تدخل على المضمر. نحو: بك لأفعلن. والثالث أنها تستعمل في الطلب وغيره، بخلاف سائر حروفه. فإن الفعل معها لا يظهر، ولا تجر المضمر، ولا تستعمل في الطلب. وزاد بعضهم رابعاً، وهو أن الباء تكون جارة في القسم وغيره، بخلاف واو القسم وتائه، فإنهما لا تجران إلا في القسم. قلت: ويشاركها في هذا بعض حروف القسم كاللام.

الثالث عشر: أن تكون بمعنى إلى نحو قوله تعالى " وقد أحسن بي " أي: إلي. وأول على تضمين أحسن معنى: لطف.
অগ্রহণযোগ্য। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, নেতিবাচক বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য প্রদান তিন প্রকার: প্রথমত, সুনিশ্চিত জ্ঞানপ্রসূত, যেমন: আরবরা ফায়েল বা কর্তাকে নসব (যবর) দেয় না। দ্বিতীয়ত, সঠিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ধারণাপ্রসূত, যেমন: আরবদের ভাষায় এমন কোনো পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (ইসম মুতামাক্কিন) নেই যার শেষে একটি অপরিহার্য 'ওয়াও' আছে এবং তার পূর্বে পেশ রয়েছে। তৃতীয়ত, অনির্দিষ্ট জনশ্রুতিমূলক, যেমন: কোনো প্রমাণ ছাড়াই বলা যে যায়েদ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়নি—মূলত এই প্রকারটিই প্রত্যাখ্যাত। আর ইবনে জিন্নির বক্তব্য দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি আরব্য ভাষাশৈলীর বিষয়ে অত্যন্ত প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী।

দ্বাদশ: শপথ বা কসমের ক্ষেত্রে: যেমন: আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তা করব। এটি শপথের অক্ষরগুলোর মূল ভিত্তি, আর একারণেই এটি অন্য অক্ষরগুলোর চেয়ে তিনটি বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। প্রথমত, এর সাথে শপথের ক্রিয়াটি বিলুপ্ত করা আবশ্যক নয়, বরং তা উল্লেখ করা বৈধ। যেমন: আমি আল্লাহর নামে শপথ করছি। দ্বিতীয়ত, এটি সর্বনামের পূর্বে যুক্ত হতে পারে। যেমন: আপনার কসম, আমি অবশ্যই তা করব। তৃতীয়ত, এটি প্রার্থনা বা অনুরোধ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যা অন্য অক্ষরগুলোর ক্ষেত্রে হয় না। কারণ অন্য অক্ষরগুলোর সাথে ক্রিয়াটি প্রকাশ পায় না, সেগুলো সর্বনামকে 'জার' প্রদান করে না এবং অনুরোধের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না। কেউ কেউ চতুর্থ একটি কারণ যুক্ত করেছেন, তা হলো: 'বা' অক্ষরটি শপথ ও শপথ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও 'জার' প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা শপথের 'ওয়াও' এবং 'তা' অক্ষরের ক্ষেত্রে হয় না, কারণ সেগুলো কেবল শপথের ক্ষেত্রেই 'জার' প্রদান করে। আমি বলব: শপথের কিছু অক্ষর যেমন 'লাম' এই চতুর্থ বৈশিষ্ট্যে এর অংশীদার।

ত্রয়োদশ: 'ইলা' (দিকে বা প্রতি) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন" অর্থাৎ আমার প্রতি। এখানে 'আহসানা' (অনুগ্রহ করা) শব্দটির মাঝে 'লাতুফা' (দয়া করা) শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত ধরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪৬)
تنبيه رد كثير، من المحققين، سائر معاني الباء إلى معنى الإلصاق، كما ذكر سيبوبه. وجعلوه معنى لا يفارقها، وقد ينجر معه معان أخر. واستبعد بعضهم ذلك، وقال: الصحيح التنويع. وما تقدم من نيابة الباء عن غيرها من حروف الجر هو جار على مذهب الكوفيين، ومن وافقهم، في أن حروف الجر قد ينوب بعضها عن بعض. ومذهب البصريين إبقاء الحرف على موضوعه الأول، إما بتأويل يقبله اللفظ، أو تضمين الفعل معنى فعل آخر، يتعدى بذلك الحرف. وما لا يمكن فيه ذلك فهو من وضع أحد الحرفين موضع الآخر على سبيل الشذوذ.

وذكر صاحب رصف المباني في معاني الباء ثلاثة معان، لا تحقيق في ذكرها. وهي: السؤال نحو " سأل سائل بعذاب واقع ". والتعجب نحو: أحسن بزيد. قال: ولا يصح أن
সতর্কবার্তা: সিবওয়াইহ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, অনেক মুহাক্কিক (গবেষক) ‘বা’ অব্যয়ের অন্যান্য সকল অর্থকে ‘ইল্সাক’ বা সংযুক্তির অর্থের দিকেই ফিরিয়েছেন। তাঁরা ইহাকে এমন এক অর্থ হিসেবে গণ্য করেছেন যা ‘বা’ থেকে কখোনোই বিচ্ছিন্ন হয় না এবং অনেক সময় এর সাথে অন্যান্য অর্থও যুক্ত হয়ে থাকে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টিকে দূরবর্তী মনে করেছেন এবং বলেছেন: সঠিক মত হলো অর্থগুলোর বৈচিত্র্যায়ন। ইতিপূর্বে অন্যান্য হারফে জার বা অব্যয়ের পরিবর্তে ‘বা’-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়টি যা আলোচিত হয়েছে, তা মূলত কুফী ভাষাবিদ এবং তাঁদের সাথে ঐকমত্য পোষণকারীদের মাযহাব অনুযায়ী বর্ণিত, যাঁরা মনে করেন যে হারফে জার বা অব্যয়সমূহ একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। পক্ষান্তরে বসরার ভাষাবিদদের মাযহাব হলো, অব্যয়কে তার মৌলিক অর্থেই বহাল রাখা; হয় এমন কোনো ব্যাখ্যার মাধ্যমে যা শব্দের সাথে সংগতিপূর্ণ, অথবা ক্রিয়ার মধ্যে অন্য কোনো ক্রিয়ার অর্থ নিহিত করার মাধ্যমে যা সংশ্লিষ্ট অব্যয়টির সাহায্যে পরিব্যপ্ত (মুতাআদ্দি) হয়। আর যেখানে এমনটি করা সম্ভব নয়, সেখানে বিরল ও ব্যতিক্রম হিসেবে একটি অব্যয়কে অন্যটির স্থলাভিষিক্ত ধরা হয়।

‘রাস্ফুল মাবানি’ গ্রন্থের লেখক ‘বা’-এর অর্থসমূহের বর্ণনায় আরও তিনটি অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর বর্ণনায় তেমন কোনো সূক্ষ্ম যাচাই নেই। সেগুলো হলো: প্রশ্ন করা বা চাওয়া, যেমন: "এক যাচ্ঞাকারী আসন্ন আযাব সম্পর্কে যাচ্ঞা করল।" এবং বিস্ময় প্রকাশ, যেমন: যায়েদ কতই না চমৎকার! তিনি বলেছেন: আর এটি সঠিক নয় যে...
(খণ্ড: ১) আল-জানাদ দানী ফী হুরুফিল মাআনী (পৃষ্ঠা: ৪৭)
تكون هذه الباء زائدة، لئلا يفسد معناها، ويخرج الكلام عن التعجب. والتشبيه نحو: لقيت به الأسد، وواجهت به الهلال.

قلت: أما الباء التي بعد السؤال فهي بمعنى عن عند قوم، وللسببية عند آخرين، كما تقدم. والسؤال مستفاد من الفعل، لا منها.

وأما باء التعجب ففيها مذهبان: أشهرهما أنها زائدة، وهذا مذهب أكثر النحويين. ثم اختلف هؤلاء، فذهب سيبويه، وجمهور البصريين، إلى أنها زائدة مع الفاعل، مثلها في " كفى بالله شهيداً ". وذهب الفراء والزجاج، ومن قال بقولهما، إلى أنها زائدة مع المفعول، وجعلوا فاعل أحسن ضمير المخاطب. وكذلك قال ابن كيسان، لكنه جعل الفاعل ضمير الحسن، كأنه قال: أحسن يا حسن بزيد، أي: دم به. والمذهب الثاني أنها للتعدية، وليست بزائدة، والهمزة في أحسن للصيرورة، وهو أمر للسبب،
এই 'বা' বর্ণটি অতিরিক্ত (যাইদাহ), যাতে এর অর্থ নষ্ট না হয় এবং কথাটি বিস্ময়বোধক (তাআজ্জুব) ভাব থেকে বিচ্যুত না হয়। আর উপমা (তাশবিহ) যেমন: ‘আমি তার মাধ্যমে সিংহের সাক্ষাত পেলাম’ এবং ‘আমি তার মাধ্যমে নতুন চাঁদের মুখোমুখি হলাম’।

আমি বলি: প্রশ্নের (সুয়াল) পরে আসা ‘বা’ বর্ণটি একদল আলিমের নিকট ‘আন’ (عن)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং অন্যদের নিকট এটি কারণ দর্শানোর (সাবাবিয়াহ) জন্য আসে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর প্রশ্নবোধক ভাবটি ক্রিয়া থেকে গৃহীত, এই বর্ণটি থেকে নয়।

আর বিস্ময়বোধক (তাআজ্জুব) ‘বা’ সম্পর্কে দুটি মত রয়েছে: তাদের মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো এটি অতিরিক্ত (যাইদাহ), আর এটিই অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মত। অতঃপর তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন; সিবওয়াইহি এবং বসরার অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ মনে করেন যে, এটি কর্তার (ফায়েল) সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যেমনটি "আল্লাহ সাক্ষ্যদাতা হিসেবে যথেষ্ট" বাক্যে রয়েছে। আল-ফাররা ও আয-যাজ্জাজ এবং যারা তাদের মত পোষণ করেন, তারা মনে করেন যে এটি কর্মের (মাফউল) সাথে অতিরিক্ত হয়েছে এবং তারা ‘আহসিন’ ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে সম্বোধনবাচক সর্বনামকে গণ্য করেছেন। ইবনে কাইসানও অনুরূপ বলেছেন, তবে তিনি এর কর্তাকে ‘সৌন্দর্য’ (হুসন)-এর সর্বনাম হিসেবে গণ্য করেছেন, যেন তিনি বলেছেন: ‘হে সৌন্দর্য, তুমি যায়িদের সাথে যুক্ত হও’, অর্থাৎ: তার সাথে স্থায়ী হও। আর দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি সকর্মক (তাআদিয়্যাহ) করার জন্য এসেছে, অতিরিক্ত নয়; এবং ‘আহসিন’ শব্দের হামযাহটি কোনো অবস্থায় উপনীত হওয়া (সাইরুরাহ) বুঝায়, যা মূলত কারণের জন্য একটি নির্দেশ।