(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من علل الخلال القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: المنتخب من علل الخلال (ومعه تتمة)
المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)
تحقيق: أبي معاذ طارق بن عوض الله بن محمد
الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع
عدد الصفحات: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
ইলালুল খাল্লাল থেকে নির্বাচিত অংশ শাখা: হাদিস বিষয়ক ত্রুটি ও জিজ্ঞাসাবাদ
বই: ইলালুল খাল্লাল থেকে নির্বাচিত অংশ (এবং সাথে একটি পরিশিষ্ট)
লেখক: আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-জামায়িলি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি আল-হাম্বলি, ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরি)
সম্পাদনা: আবু মুআজ তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ
প্রকাশক: দারুর রায়াহ প্রকাশনা ও বিতরণী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
تتمة للمطبوع من كتاب (المنتخب من علل الخلال) (*)
(1) فإنه أقل خطأً.
238 - وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: كَانَ الْقَعْقَاعُ بْنُ يَزِيدَ وَمُغِيرَةُ ومُحل وَشِبَاكٌ عِمْيَانًا أَرْبَعَتَهُمْ، وَهُمْ مِنْ بَنِي ضَبَّةَ، وَمِنْ أَصْحَابِ إِبْرَاهِيمَ (2).
239 - قِيلَ: كَيْفَ مُغِيرَةُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ؟
قَالَ: أَمَّا مَا سَمِعَ؛ فَهُوَ حَسَنُ الْحِفْظِ، وَلَكِنَّهُ رُبَّمَا حَدَّثَ بِالشَّيْءِ عَنْ غَيْرِهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَكَانَ صَاحِبَ سُنَّةٍ، ذَكِيًّا حَافِظًا، وَعَامَّةُ حَدِيثِهِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ مَدْخُولٌ، عَامَّةُ مَا رَوَى عَنْ إِبْرَاهِيمَ إِنَّمَا سَمِعَهُ مِنْ حَمَّادٍ وَمِنْ يَزِيدَ بْنِ الْوَلِيدِ وَالْحَارِثِ الْعُكْلِيِّ وَعَنْ عُبَيْدَةَ وَعَنْ غَيْرِهِ، وَجَعَلَ يُضَعِّفُ حَدِيثَ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ وَحْدَهُ (3).
240 - وَحَدَّثَنَا محمد بن الهيثم، ثنا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أَنَّهُ قَالَ لابْنِ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ: كَلِّمْ لِي أَبَاكَ يُحَدِّثُنِي، قَالَ: فَكَلَّمَهُ، فَقَالَ حَمَّادٌ: مَا يَأْتِينِي أَحَدٌ أَثْقَلُ عليَّ مِنْهُ. فَكُنْتُ أَقُولُ لَهُ: قُلْ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ، فَيَقُولُ: إِنَّ الْعَهْدَ قَدْ طَالَ بِإِبْرَاهِيمَ (4).
241 - قِيلَ: مُغِيرَةُ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ حَمَّادٌ؟
قَالَ: فِيمَا رَوَى سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ عَنْ حَمَّادٍ؛ فَحَمَّادٌ أَحَبُّ إِلَيَّ، إِلا أَنَّ فِي حَدِيثِ الآخَرِينَ عَنْهُ تَخْلِيطًا (5).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল) গ্রন্থের মুদ্রিত অংশের পরিশিষ্ট (*)
(১) কারণ এতে ভুল কম।
২৩৮ - আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) বলেন: কা'কা ইবনে ইয়াযিদ, মুগীরাহ, মুহাল এবং শিবাক—এই চারজনই অন্ধ ছিলেন। তারা বনু দাব্বাহ গোত্রের লোক এবং ইব্রাহিম (আন-নাখায়ী)-র শিষ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (২)।
২৩৯ - জিজ্ঞাসা করা হলো: ইব্রাহিম থেকে মুগীরার বর্ণনা কেমন?
তিনি বললেন: তিনি যা (সরাসরি) শুনেছেন, তার হিফয (স্মৃতিশক্তি) ভালো। তবে কখনও কখনও তিনি অন্য কারও মাধ্যমে ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি সুন্নাহর অনুসারী, মেধাবী ও হাফেয ছিলেন। তবে ইব্রাহিম থেকে তার সাধারণ বর্ণনাগুলো দোষযুক্ত (ত্রুটিপূর্ণ)। ইব্রাহিম থেকে তার বর্ণিত অধিকাংশ হাদীস মূলত হাম্মাদ, ইয়াযিদ ইবনুল ওয়ালিদ, হারিস আল-উক্বলী, উবাইদাহ এবং অন্যদের থেকে শোনা। ইমাম আহমাদ কেবল ইব্রাহিম থেকে মুগীরার একক বর্ণনাকে দুর্বল বলতে শুরু করেন (৩)।
২৪০ - মুহাম্মাদ ইবনুল হাইসাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মূসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (হাম্মাদ) ইবনে হাম্মাদ ইবনে আবু সুলায়মানকে বলেছিলেন: তোমার বাবার সাথে কথা বলো যেন তিনি আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এরপর তিনি তার সাথে কথা বললেন। তখন হাম্মাদ বললেন: আমার কাছে তার (মুগীরার) চেয়ে অপ্রীতিকর আর কেউ আসে না। আমি তাকে বলতাম: আপনি বলুন, 'আমি ইব্রাহিমকে বলতে শুনেছি', কিন্তু তিনি বলতেন: ইব্রাহিমের সাথে সাক্ষাতের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে (৪)।
২৪১ - জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার কাছে মুগীরা বেশি পছন্দনীয় নাকি হাম্মাদ?
তিনি বললেন: সুফিয়ান এবং শু'বাহ হাম্মাদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তাতে হাম্মাদই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। তবে হাম্মাদ থেকে অন্যদের বর্ণনায় অসংগতি রয়েছে (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ২)
242 - قِيلَ: أَبُو مَعْشَرٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَوْ حَمَّادٌ؟
قَالَ: زَعَمُوا أَنَّ أَبَا مَعْشَرٍ كَانَ يَأْخُذُ عَنْ حَمَّادٍ، إِلا أَنَّ أَبَا مَعْشَرٍ عِنْدَ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ أَكْبَرُ، لأَنَّ حَمَّادًا كَانَ يَرَى الإِرْجَاءَ (1).
243 - وَاسْمُ أَبِي مَعْشَرٍ: زِيَادُ بْنُ كُلَيب، وَأَحَادِيثُهُ لَيْسَتْ بِالْقَوِيَّةِ (2).
244 - وَقَالَ الْبَتِّيُّ: كَانَ حَمَّادٌ إِذَا قَالَ بِرَأْيِهِ أَصَابَ، وَإِذَا قَالَ: قَالَ إِبْرَاهِيمُ، أَخْطَأَ (3).
245 - وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ (4) بْنُ حَبِيبٍ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: كَانَ حَمَّادٌ يَقُولُ: قَالَ إِبْرَاهِيمُ:
… (5)، فَقُلْتُ: وَاللَّهِ إِنَّكَ لَتَكْذِبُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، أو إن إبراهيم مخطئ (6).
فَصْلٌ
246 - قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: زَائِدَةُ وَزُهَيْرٌ وَشُعْبَةُ وَسُفْيَانُ ثِقَاتٌ، مِنْ مِثْلِهِمْ؟! لا تَكَادُ تَجِدُ مِثْلَهُمْ (7).
247 - قَالَ حَنْبَلٌ: فَقُلْتُ لَهُ: زَائِدَةُ وزهير يقاربان شعبة وسفيان؟
قال: بل هما مثلهما. وأما السنة؛ فلا نقدم عَلَى زَائِدَةَ أَحَدًا.
248 - قَالَ: وَبَلَغَنِي أَنَّ زَائِدَةَ كَانَ إِذَا بَلَغَهُ أَنَّ إِنْسَانًا ذَهَبَ إِلَى حسن بن صالح؛ لم يحدثه (8).
--------------------------------------------
২৪২ - জিজ্ঞাসিত হলো: আবু মাশার কি আপনার কাছে অধিক প্রিয় নাকি হাম্মাদ? তিনি বললেন: তারা ধারণা করেন যে, আবু মাশার হাম্মাদ থেকে গ্রহণ করতেন। তবে হাদিস বিশারদগণের নিকট আবু মাশারই শ্রেষ্ঠ, কারণ হাম্মাদ ইরজা’ (মুরজিয়া মতবাদ) পোষণ করতেন (১)।
২৪৩ - আবু মাশারের নাম হলো: যিয়াদ ইবনে কুলাইব, এবং তাঁর হাদিসসমূহ শক্তিশালী নয় (২)।
২৪৪ - বাত্তি বলেন: হাম্মাদ যখন নিজের রায় (মতামত) থেকে কিছু বলতেন, তখন তা সঠিক হতো; কিন্তু যখন তিনি বলতেন: ‘ইব্রাহিম বলেছেন’, তখন তিনি ভুল করতেন (৩)।
২৪৫ - আবদুল্লাহ (৪) ইবনে হাবিব বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হাম্মাদ বলতেন: ইব্রাহিম বলেছেন: … (৫), তখন আমি বললাম: আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আপনি ইব্রাহিমের নামে মিথ্যা বলছেন, অথবা ইব্রাহিম ভুল করেছেন (৬)।
পরিচ্ছেদ
২৪৬ - আবু আবদুল্লাহ বলেন: যায়িদাহ, যুহাইর, শু'বাহ এবং সুফিয়ান নির্ভরযোগ্য (সিকাহ); তাদের মতো আর কে আছে?! তাদের মতো কাউকে পাওয়া দুষ্কর (৭)।
২৪৭ - হাম্বাল বলেন: আমি তাঁকে বললাম: যায়িদাহ এবং যুহাইর কি শু'বাহ এবং সুফিয়ানের সমপর্যায়ের? তিনি বললেন: বরং তারা তাদের মতোই। আর সুন্নাহর ক্ষেত্রে, আমরা যায়িদাহর ওপর কাউকে প্রাধান্য দেই না।
২৪৮ - তিনি বলেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে, যায়িদাহর কাছে যখন সংবাদ আসত যে কোনো ব্যক্তি হাসান ইবনে সলিহ’র কাছে গিয়েছে, তিনি তাকে হাদিস শোনাতেন না (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৩)
249 - وَقَالَ: عَلِمَ النَّاسُ إِنَّمَا هُوَ عَنْ / هَؤُلاءِ، وَهَؤُلاءِ أَثْبَتُ النَّاسِ، وَأَعْلَمُ بِالْحَدِيثِ مِنْ غَيْرِهِمْ (1).
250 - وَقَالَ: مِسْعَرٌ وَشُعْبَةُ وَسُفْيَانُ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَزَائِدَةُ وَزُهَيْرٌ أَئِمَّةٌ، وَشَرِيكٌ وَإِسْرَائِيلُ وَعَمَّارُ بْنُ رزيق لا يَقُومُونَ مَقَامَ هَؤُلاءِ.
251 - وَقَالَ: مَالِكٌ وَشُعْبَةُ وَسُفْيَانُ حُجَّةٌ، وَكَانَ سُفْيَانُ أَحْفَظُ لأَسْمَاءِ الرِّجَالِ -يَعْنِي: مِنْ شُعْبَةَ-، وَشُعْبَةُ يُخْطِئُ فِي أَسْمَاءِ الرِّجَالِ، وَشُعْبَةُ أَحْسَنُ حَدِيثًا.
ثُمَّ جَعَلَ يَقُولُ فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ، وَيُحَسِّنُهُ، فَجَعَلَ لا يُقَدِّمُ عَلَيْهِ أَحَدًا.
252 - وَقَالَ: شُعْبَةُ أَكْبَرُ مِنْ سُفْيَانَ بِعَشْرِ سِنِينَ (2).
وَقَالَ: نَظَرْنَا فِيمَنْ سَمِعَ مِنْهُمْ شُعْبَةُ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُمْ سُفْيَانُ؛ فَإِذَا هُمْ نحوٌ مِنْ ثَلاثِينَ رَجُلا (3).
وَجَعَلَ يَقُولُ: إِذَا نَظَرْتَ إِلَى مَنْ لَقِيَهُ شُعْبَةُ وَلَقِيَهُ سُفْيَانُ، شُعْبَةُ قَدْ فَضَّلَهُ بِشَيْءٍ كَثِيرٍ.
253 - وَقَالَ أَيْضًا: الثَّوْرِيُّ أَحْفَظُ لِلرِّجَالِ وَالإِسْنَادِ، وَشُعْبَةُ أَحْسَنُ حَدِيثًا، لَمْ يَكُنْ فِي زَمَنِ شُعْبَةَ مِثْلَهُ وَلا أحسن حديثًا منه، وليس تقيس إِلَيْهِ رَجُلا إِلا كَانَ شُعْبَةُ أَحْسَنَ حَدِيثًا مِنْهُ، كَأَنَّ قُسِمَ لَهُ مِنْ هَذَا حظٌّ (4).
254 - قَالَ: وَرَوَى عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ فَأَجَادَ فِيهِ، وَمَا رَوَى شُعْبَةُ إِلا عَنْ ثِقَةٍ، وَكَانَ سُفْيَانُ يَتَجَاوَزُ، وَكَانَ يَعْرِفُ ذَلِكَ -يَعْنِي: سُفْيَانَ، كَانَ يَعْرِفُ تَجَوُّزَهُ-.
255 - وَقَالَ الْمَيْمُونِيُّ: قُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، مَنْ أَكْثَرُ غَلَطًا، شُعْبَةُ أَوْ سُفْيَانُ؟
قَالَ: شُعْبَةُ يَغْلَطُ فِي الأَسْمَاءِ.
قُلْتُ: وَسُفْيَانُ فِي اللَّفْظِ؟
قَالَ: هُوَ أقل غلطًا، ما أقل غلط سفيان.
--------------------------------------------
২৪৯ - এবং তিনি বললেন: মানুষ জানে যে (ইলম) কেবল এদের থেকেই গৃহীত, আর তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং অন্যদের চেয়ে হাদিস সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী (১)।
২৫০ - এবং তিনি বললেন: মিসআর, শু'বাহ, সুফিয়ান, মালিক বিন আনাস, যাইদাহ এবং যুহাইর হলেন ইমাম। আর শারীক, ইসরাঈল এবং আম্মার বিন রুযাইক এদের সমপর্যায়ের নন।
২৫১ - এবং তিনি বললেন: মালিক, শু'বাহ এবং সুফিয়ান হলেন দলিলস্বরূপ। সুফিয়ান বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন—অর্থাৎ শু'বাহর চেয়ে। আর শু'বাহ বর্ণনাকারীদের নামের ক্ষেত্রে ভুল করতেন, তবে শু'বাহর হাদিস বর্ণনা ছিল চমৎকার।
অতঃপর তিনি শু'বাহর হাদিস সম্পর্কে বলতে লাগলেন এবং এর প্রশংসা করতে লাগলেন, এমনকি তিনি শু'বাহর ওপর কাউকে প্রাধান্য দিলেন না।
২৫২ - এবং তিনি বললেন: শু'বাহ সুফিয়ানের চেয়ে দশ বছরের বড় ছিলেন (২)।
এবং তিনি বললেন: আমরা তাদের ব্যাপারে লক্ষ্য করেছি যাদের থেকে শু'বাহ শুনেছেন কিন্তু সুফিয়ান শোনেননি; দেখা গেল তারা সংখ্যায় প্রায় ত্রিশ জন (৩)।
এবং তিনি বলতে লাগলেন: আপনি যখন লক্ষ্য করবেন শু'বাহ কাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সুফিয়ান কাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, দেখবেন শু'বাহ তাকে অনেকখানি ছাড়িয়ে গেছেন।
২৫৩ - তিনি আরও বললেন: সাওরি (সুফিয়ান) বর্ণনাকারী ও সনদের ক্ষেত্রে অধিক স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন, আর শু'বাহর হাদিস ছিল অত্যন্ত চমৎকার। শু'বাহর যুগে তার মতো কেউ ছিল না এবং তার চেয়ে চমৎকার হাদিস বর্ণনাকারীও কেউ ছিল না। আপনি শু'বাহর সাথে যে কারো তুলনা করুন না কেন, শু'বাহর হাদিসই তার চেয়ে উত্তম হবে, যেন এই বিষয়ে তাকে বিশেষ সৌভাগ্য দান করা হয়েছে (৪)।
২৫৪ - তিনি বললেন: তিনি সা'দ বিন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। শু'বাহ কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকেই বর্ণনা করতেন। আর সুফিয়ান শিথিলতা করতেন এবং তিনি তা জানতেন—অর্থাৎ সুফিয়ান তার নিজের সেই শিথিলতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
২৫৫ - আল-মাইমুনি বললেন: আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, কার ভুল বেশি হতো, শু'বাহর না কি সুফিয়ানের?
তিনি বললেন: শু'বাহ নামের ক্ষেত্রে ভুল করতেন।
আমি বললাম: আর সুফিয়ান কি শব্দের ক্ষেত্রে?
তিনি বললেন: তার ভুল ছিল খুবই কম, সুফিয়ানের ভুল কতই না কম ছিল!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪)
قُلْتُ: إِنَّ إِنْسَانًا سَمِعْتُهُ يَذْكُرُ عَنْكَ أَنَّكَ قُلْتَ: إِنَّ سُفْيَانَ إِنَّمَا يَغْلَطُ فِي حَدِيثَيْنِ أَوْ ثَلاثَةٍ؟
قَالَ: وَمَنْ يَضْبِطُ هَذَا؟ مَا عَلِمْتُ أَنِّي قُلْتُ ذَا.
256 - وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ محمد بْنُ الصَّبَّاحِ (1) الزَّعْفَرَانِيُّ: قُلْتُ لِعَفَّانَ بْنِ مُسْلِمٍ: مَنْ كَانَ أَكْثَرَ غَلَطًا فِي الْحَدِيثِ، سُفْيَانُ أو شعبة؟
قال: شعبة بكثير.
قَالَ الْحَسَنُ: فَقُلْتُ لأَحْمَدَ، فَقَالَ: فِي أَسْمَاءِ الرِّجَالِ (2).
257 - وَقَالَ وَكِيعٌ: قَالَ شُعْبَةُ: سُفْيَانُ أَحْفَظُ مِنِّي، وَمَا حَدَّثَنِي سُفْيَانُ عَنْ شَيْخٍ، فَلَقِيتُ الشيخ؛ إلا وحدثني كَمَا قَالَ سُفْيَانُ (3).
258 - وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ فيما إِذَا اخْتَلَفَ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ فِي الْحَدِيثِ: فَالْقَوْلُ قول سفيان؛ لأنه أقل خطأً (4)، وَلأَنَّهُ أَحْفَظُ (5).
259 - وَرُوِيَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ: لَيْسَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ شُعْبَةَ، فَإِذَا خَالَفَهُ سُفْيَانُ؛ أَخَذْتَ بِقَوْلِ سُفْيَانَ (6).
260 - قِيلَ لأَحْمَدَ: فَإِذَا اخْتَلَفَ سُفْيَانُ وَزُهَيْرٌ؟
قَالَ: زُهَيْرٌ عِنْدِي فِي كُلِّ شَيْءٍ،
ثُمَّ قَالَ: مَا خَالَفَ زُهَيْرٌ أَحَدًا إِلا أَهَمَّتْهُ نَفْسُهُ (7).
وَقَالَ: قلَّ مَنْ خَالَفَ زُهَيْرًا إِلا قُضِيَ زهير عليه، كان زهير يتثبت فِي الْحَدِيثِ.
261 - وَقَالَ: زَائِدَةُ وَزُهَيْرٌ ثَبْتَانِ فِي الحديث، صاحبا سنة.
--------------------------------------------
আমি বললাম: আমি এক ব্যক্তিকে আপনার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করতে শুনেছি যে আপনি বলেছেন: সুফইয়ান কেবল দুই বা তিনটি হাদিসে ভুল করেছেন?
তিনি বললেন: এটি কে নির্ভুলভাবে আয়ত্ত করতে পারে? আমি এমনটি বলেছি বলে আমার জানা নেই।
২৫৬ - হাসান ইবন মুহাম্মদ ইবন সাব্বাহ আল-জা'ফারানি বলেন: আমি আফফান ইবন মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করলাম: হাদিসে কার ভুল বেশি হতো, সুফইয়ান নাকি শু'বাহ?
তিনি বললেন: শু'বাহর অনেক বেশি।
হাসান বলেন: এরপর আমি ইমাম আহমাদকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: রাবিদের (বর্ণনাকারীদের) নামের ক্ষেত্রে।
২৫৭ - ওয়াকি' বলেন: শু'বাহ বলেছেন: সুফইয়ান আমার চেয়েও বড় হাফেজ (হাদিস মুখস্থকারী)। সুফইয়ান যখনই কোনো শায়খের বরাতে আমার কাছে কোনো হাদিস বর্ণনা করেছেন, পরে আমি সেই শায়খের সাক্ষাৎ পেয়েছি এবং তিনি ঠিক তেমনই বর্ণনা করেছেন যেমনটি সুফইয়ান বলেছিলেন।
২৫৮ - আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) শু'বাহ এবং সুফইয়ান যখন হাদিসের ক্ষেত্রে মতভেদ করতেন তখন বলতেন: সুফইয়ানের কথাই গ্রহণযোগ্য; কারণ তাঁর ভুল কম এবং তিনি অধিকতর হাফেজ।
২৫৯ - ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: আমার কাছে শু'বাহর চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই, কিন্তু যখন সুফইয়ান তাঁর বিরোধিতা করেন, তখন আমি সুফইয়ানের কথাকেই গ্রহণ করি।
২৬০ - ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: যদি সুফইয়ান এবং যুহাইর মতভেদ করেন?
তিনি বললেন: আমার নিকট যুহাইর সব বিষয়েই নির্ভরযোগ্য,
অতঃপর তিনি বললেন: যুহাইর যারই বিরোধিতা করেছেন, সে ব্যক্তি নিজেই সংশয়ে পড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন: খুব কমই এমন হয়েছে যে কেউ যুহাইরের বিরোধিতা করেছে অথচ যুহাইরের সিদ্ধান্তই তার ওপর প্রাধান্য পায়নি; যুহাইর হাদিসের ব্যাপারে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সাবধানী ছিলেন।
২৬১ - তিনি বলেন: যায়িদাহ এবং যুহাইর হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় এবং তাঁরা সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫)
قِيلَ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، هُمَا عِنْدَكَ بمنزلة؟
قال: نعم.
وفي رواية: قال: .......... (1) /
262 - وَسُئِلَ أَحْمَدُ: مَنْ أَحْفَظُ، سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، أَوْ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ؟
فَقَالَ: كَانَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ أَحْفَظَ مِنَ ابْنِ عُيَيْنَةَ، وَأَقَلَّ النَّاسِ غَلَطًا، وَكَانَ ابْنُ عُيَيْنَةَ حَافِظًا، إِلا أَنَّهُ فِي حَدِيثِ الْكُوفِيِّينَ لَهُ غَلَطٌ كَثِيرٌ.
قِيلَ: زَعَمَ فُلانٌ أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ كَانَ أَحْفَظَهُمَا؟
فَضَحِكَ، ثُمَّ قَالَ: فُلانٌ كَانَ حَسَنَ الرَّأْيِ فِي ابْنِ عُيَيْنَةَ، فَمِنْ ثَمّ (2).
263 - وَسُئِلَ: مَنْ أَكْثَرُ غَلَطًا عِنْدَكَ، شُعْبَةُ أَوْ مَالِكٌ؟
فَذَكَرَ شعبةَ بِالْغَلَطِ عَلَى مَالِكٍ، وَقَالَ: مَا أَقَلَّ خَطَأَ مَالِكٍ.
264 - وَذَكَرَ سفيانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، فَقَالَ: هُوَ أَكْثَرُ غَلَطًا مِنْ شُعْبَةَ.
265 - وَقَالَ: شُعْبَةُ وَسَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ وَهِشَامٌ شَيْءٌ وَاحِدٌ، ثِقَاتٌ، إِلا أَنَّ شُعْبَةَ كَانَ صَاحِبَ إِسْنَادٍ، يُوقِفُ الْمَشَايِخَ، وَيَطْلُبُ الإِسْنَادَ.
266 - وَسُئِلَ عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتُوَائِيِّ وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ؟
فَقَالَ: وَأَيُّ شَيْءٍ يُشْبِهُ سعيدٌ هِشَامًا؟! إِنَّمَا كَانَ هِشَامٌ شيخًا فيما يَرْوِي، وَسَعِيدٌ كَانَ مُحَدِّثَ الْبَصْرَةِ.
267 - وَقَالَ عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ سُلَيْمَانَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ أَحْفَظَ مِنْ وَكِيعٍ، وَكَفَاكَ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ إِتْقَانًا، وَمَا رَأَيْتُ أَرْوَى مِنْ غَيْرِ مُحَابَاةٍ وَلا أَشَدَّ تَثَبُّتًا فِي أَمْرِ الرِّجَالِ مِنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَأَبُو نُعَيْمٍ أَقَلُّ الأَرْبَعَةِ خطأ.
قلت: يا أبا عبد الله، يُعطَى ويأخذ (3)!
--------------------------------------------
জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আবু আব্দুল্লাহ, তাঁরা কি আপনার নিকট সমপর্যায়ের?
তিনি বললেন: হ্যাঁ।
অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: তিনি বললেন: .......... (১) /
২৬২ - ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কে অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (হাফেজ); সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ নাকি সুফিয়ান সাওরী?
তিনি বললেন: সুফিয়ান সাওরী ইবনে উয়াইনাহ অপেক্ষা অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন এবং মানুষের মধ্যে তাঁর ভুল ছিল সবচেয়ে কম। আর ইবনে উয়াইনাহও হাফেজ ছিলেন, তবে কুফাবাসীদের থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁর প্রচুর ভুল হতো।
বলা হলো: অমুক ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ তাঁদের দুজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাফেজ ছিলেন?
তিনি হাসলেন, তারপর বললেন: অমুক ব্যক্তির ইবনে উয়াইনাহ সম্পর্কে উচ্চ ধারণা ছিল, সে কারণেই এমনটা বলেছেন (২)।
২৬৩ - তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার নিকট কে অধিক ভুলকারী; শু'বাহ নাকি মালিক?
তিনি মালিকের তুলনায় শু'বাহর অধিক ভুলের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন: মালিকের ভুল কতই না সামান্য!
২৬৪ - তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহর কথা উল্লেখ করে বললেন: তিনি শু'বাহর চাইতেও অধিক ভুলকারী।
২৬৫ - তিনি বললেন: শু'বাহ, সাঈদ বিন আবু আরুবাহ এবং হিশাম একই পর্যায়ের এবং নির্ভরযোগ্য। তবে শু'বাহ ছিলেন সনদের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন, তিনি শায়েখদের বিষয়ে সূক্ষ্ম যাচাই করতেন এবং সনদ অনুসন্ধান করতেন।
২৬৬ - তাঁকে হিশাম দাস্তুওয়ায়ী এবং সাঈদ বিন আবু আরুবাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো?
তিনি বললেন: সাঈদ কীভাবে হিশামের সমতুল্য হতে পারেন?! হিশাম যা বর্ণনা করতেন তাতে তিনি ছিলেন একজন শায়েখ মাত্র, আর সাঈদ ছিলেন বসরার মুহাদ্দিস।
২৬৭ - আব্দুস সামাদ বিন সুলাইমান বলেন: আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি: আমি ওয়াকী'র চেয়ে বড় হাফেজ আর কাউকে দেখিনি। আর নির্ভুল বর্ণনার ক্ষেত্রে আব্দুর রহমান (ইবনে মাহদী)-ই তোমার জন্য যথেষ্ট। ইয়াহইয়া বিন সাঈদের চেয়ে পক্ষপাতহীনভাবে অধিক বর্ণনাকারী এবং বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অধিক কঠোর যাচাইকারী আমি আর কাউকে দেখিনি। আর এই চারজনের মধ্যে আবু নুয়াইম সবচেয়ে কম ভুলকারী।
আমি বললাম: হে আবু আব্দুল্লাহ, তিনি দেন এবং গ্রহণ করেন (৩)!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬)
فَقَالَ: أَبُو نُعَيْمٍ عِنْدِي صَدُوقٌ ثِقَةٌ مَوْضِعُ الْحُجَّةِ فِي الْحَدِيثِ (1).
268 - وَقَالَ: إِنَّمَا رَفَعَ اللَّهُ عَفَّانَ وَأَبَا نُعَيْمٍ بِالصِّدْقِ، حَتَّى نُوِّهَ بِذِكْرِهِمَا (2)،
وَقَالَ: ذَهَبَا محمودَيْن (3).
269 - وذُكر عِنْدَهُ أَبُو نُعَيْمٍ، فَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: قَامَ فِي أَمْرِ الامْتِحَانِ بِمَا لَمْ يَقُمْ بِهِ غَيْرَهُ، عَافَاهُ اللَّهُ (4).
270 - وَقَالَ: انْتَهَى الْعِلْمُ إِلَى أَرْبَعَةٍ: إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، وَوَكِيعٍ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ.
فَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ؛ فَأَجْمَعُهُمْ، وَأَمَّا وَكِيعٌ؛ فَأَسْرَدُهُمْ، وَأَمَّا يَحْيَى؛ فَأَتْقَنُهُمْ، وَأَمَّا عَبْدُ الرَّحْمَنِ؛ فجهْبِذٌ (5).
271 - قِيلَ: فَإِذَا اخْتَلَفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَابْنُ المبارك، بأيهما تأخذ؟
قَالَ: بِقَوْلِ يَحْيَى (6).
272 - قِيلَ: أَيُّمَا أَثْبَتُ عِنْدَكَ، وَكِيعٌ أَوْ يَزِيدُ -يَعْنِي: ابْنَ هَارُونَ-؟
قَالَ: مَا مِنْهُمَا -بِحَمْدِ اللَّهِ- إِلا ثَبْتٌ، إِلا أَنَّ يَزِيدَ قَدْ رَوَى عَنْ نحوٍ مِنْ خَمْسِينَ شَيْخًا لَمْ يَرْوِ عَنْهُمْ وَكِيعٌ.
قِيلَ: فَأَيُّهُمَا أَصْلَحُ عِنْدَكَ فِي الأَبْدَانِ؟
قَالَ: مَا منهما -بحمد الله- إلا كل، إلا أن وكيعًا لم يتلطخ بالسلطان (7).
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আবু নুয়াইম আমার নিকট অত্যন্ত সত্যবাদী, নির্ভরযোগ্য এবং হাদীস শাস্ত্রে প্রমাণের স্থলাভিষিক্ত (১)।
২৬৮ - তিনি আরও বলেছেন: আল্লাহ তাআলা আফফান এবং আবু নুয়াইমকে তাঁদের সত্যবাদিতার কারণেই সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন, এমনকি তাঁদের সুখ্যাতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে (২),
তিনি আরও বলেন: তাঁরা উভয়েই প্রশংসিত অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন (৩)।
২৬৯ - তাঁর নিকট আবু নুয়াইমের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন: পরীক্ষার (ফিতনায়ে খালকে কুরআন) সময় তিনি যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, তা অন্য কেউ করতে পারেনি, আল্লাহ তাঁকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন (৪)।
২৭০ - তিনি আরও বলেছেন: ইলম চার ব্যক্তিতে গিয়ে শেষ হয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ওয়াকী, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান।
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক ছিলেন তাঁদের মধ্যে ইলমের সকল শাখার সর্বাধিক সমন্বয়কারী, ওয়াকী ছিলেন তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী, ইয়াহইয়া ছিলেন সর্বাধিক সুনিপুণ এবং আবদুর রহমান ছিলেন একজন গভীর প্রজ্ঞাবান বিশারদ (৫)।
২৭১ - জিজ্ঞেস করা হলো: যদি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং ইবনুল মুবারক কোনো বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন, তবে আপনি কার মত গ্রহণ করবেন?
তিনি বললেন: ইয়াহইয়ার মত (৬)।
২৭২ - জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার নিকট কে অধিক নির্ভরযোগ্য—ওয়াকী নাকি ইয়াযিদ (অর্থাৎ ইবনে হারুন)?
তিনি বললেন: আলহামদুলিল্লাহ, তাঁদের উভয়েই অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, তবে পার্থক্য হলো ইয়াযিদ এমন প্রায় পঞ্চাশ জন শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন যাঁদের থেকে ওয়াকী বর্ণনা করেননি।
পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো: ব্যক্তিগত আমল ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে আপনার নিকট কে অধিক উত্তম?
তিনি বললেন: আল্লাহর প্রশংসায় তাঁরা উভয়েই শ্রেষ্ঠ ও পরিপূর্ণ, তবে ওয়াকী নিজেকে সুলতানের (শাসকগোষ্ঠীর) সংস্পর্শে জড়িয়ে কলুষিত করেননি (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৭)
273 - قِيلَ: فَعَبْدُ الرَّحْمَنِ وَوَكِيعٌ؟
قَالَ: قَدْ رَوَى وَكِيعٌ عَنْ نَحْوِ خَمْسِينَ شَيْخًا لَمْ يَرْوِ عَنْهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَمَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَوْعَى لِلْعِلْمِ مِنْ وَكِيعٍ، وَلا أَشْبَهَ بِأَهْلِ النُّسُكِ، وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لَهُ توقٍّ حَسَنٌ (1).
274 - قِيلَ: فَحَفْصٌ وَابْنُ أَبِي زَائِدَةَ وَوَكِيعٌ؟
فَقَالَ: وَكِيعٌ أطيب (2) هؤلاء، لا تَقْرُنْهُ إِلَيْهِمْ فِي الْحَدِيثِ.
275 - وَسُئِلَ عَنْ يَحْيَى وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ؟
فَقَالَ: كَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فقيهًا، وكان يَحْيَى أَعْرَفَ بِالرِّجَالِ مِنْهُ، وَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ مَا كَانَ عِنْدَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، كَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ / جَالَسَ مَالِكًا بِالْمَدِينَةِ وَابْنَ أَبِي ذِئْبٍ،
276 - وكان سليمان بن حرب يتفقه، نَظَرٌ فِي قَوْلِ الْبَصْرِيِّينَ: الْحَسَنُ وَمُحَمَّدٌ.
277 - وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ: قُلْتُ لأَحْمَدَ: مَنْ تَرَى أَنْ أُجَالِسَ؟
قَالَ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ،
قُلْتُ: فَإِنْ فَاتَنِي؟
قَالَ: سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ.
278 - قِيلَ لأَحْمَدَ: يَجْرِي ابْنُ فُضَيْلٍ عِنْدَكَ مَجْرَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى؟
قَالَ: لا، ابْنُ فُضَيْلِ أَسْتَرُ، وَكَانَ عُبَيْدُ اللَّهِ صَاحِبَ تَخْلِيطٍ، رَوَى أَحَادِيثَ سُوءٍ.
قِيلَ: فَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْرِي مَجْرَاهُمَا؟
قَالَ: لا، أَبُو نُعَيْمٍ كَانَ يَقْظَانَ فِي الْحَدِيثِ، وَقَامَ فِي أَمْرِ الامْتِحَانِ (3).
279 - أَخْبَرَنَا الْمَرُّوذِيُّ، أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: كَانَ بِالْبَصْرَةِ ثَلاثَةٌ يَأْخُذُونَ الْحَدِيثَ بِإِتْقَانٍ، مُسْتَثْبِتِينَ: بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، وَعَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَحِبَّانُ بْنُ هِلالٍ.
قَالَ لَنَا عَفَّانُ: كُنْتُ صَفَّارًا، فَكُنْتُ أَحْيَانًا أَجِيءُ إِلَى السُّوقِ، فَأَتْجَرُ، ثُمَّ أَذْهَبُ فأكتب،
--------------------------------------------
২৭৩ - জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে আব্দুর রহমান ও ওয়াকি‘ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?
তিনি বললেন: ওয়াকি‘ এমন প্রায় পঞ্চাশ জন শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন যাদের থেকে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেননি। আর আমি ওয়াকি‘র চেয়ে অধিক ইলম ধারণকারী এবং ইবাদতগুজার ও পরহেযগারদের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ কাউকে দেখিনি। আর আব্দুর রহমানের মধ্যে উত্তম সতর্কতা ছিল (১)।
২৭৪ - জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে হাফস, ইবনে আবি জায়েদা এবং ওয়াকি‘ সম্পর্কে কী বলেন?
তিনি বললেন: ওয়াকি‘ এদের মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট (২), হাদীসের ক্ষেত্রে তাকে তাদের সমপর্যায়ে রেখো না।
২৭৫ - ইয়াহইয়া ও আব্দুর রহমান সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো।
তিনি বললেন: আব্দুর রহমান ছিলেন ফকীহ, আর ইয়াহইয়া তার চেয়ে রিজাল (বর্ণনাকারী) শাস্ত্র সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। ইয়াহইয়ার কাছে তা ছিল না যা আব্দুর রহমানের কাছে ছিল; আব্দুর রহমান মদীনায় মালিক ও ইবনে আবি যিবের মজলিসে বসেছিলেন।
২৭৬ - আর সুলায়মান বিন হারব ফিকহ অর্জন করতেন; তিনি বসরার আলেম হাসান ও মুহাম্মদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি রাখতেন।
২৭৭ - ইসহাক বিন রাহওয়াই বলেন: আমি আহমদকে বললাম: আপনি কার মজলিসে বসার পরামর্শ দেন?
তিনি বললেন: আব্দুর রহমান বিন মাহদী।
আমি বললাম: যদি তাকে না পাই?
তিনি বললেন: সুলায়মান বিন হারব।
২৭৮ - আহমদকে বলা হলো: ইবনে ফুযাইল কি আপনার কাছে উবাইদুল্লাহ বিন মূসার স্থলাভিষিক্ত?
তিনি বললেন: না, ইবনে ফুযাইল অধিক স্বচ্ছ, আর উবাইদুল্লাহ ছিলেন সংমিশ্রণকারী, তিনি অনেক মন্দ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে আবু নুয়াইম কি তাদের মতই?
তিনি বললেন: না, আবু নুয়াইম হাদীসের ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন এবং তিনি পরীক্ষার (মিহনার) বিষয়ে অটল ছিলেন (৩)।
২৭৯ - মাররূযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: বসরায় তিনজন ব্যক্তি ছিলেন যারা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে এবং দৃঢ়তার সাথে হাদীস গ্রহণ করতেন: বাহয বিন আসাদ, আফফান বিন মুসলিম এবং হিব্বান বিন হিলাল।
আফফান আমাদের বলেছেন: আমি পিতলশিল্পী ছিলাম, মাঝে মাঝে বাজারে আসতাম ও ব্যবসা করতাম, তারপর গিয়ে হাদীস লিখতাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَكَانَ بَهْزٌ مُعَلِّمًا، وَحِبَّانُ لا أَدْرِي مَا كَانَ يَعْمَلُ، وَكَانَ عَفَّانُ أَكْثَرَهُمْ كِتَابًا.
وَقَالَ: كَانَ هَؤُلاءِ الثَّلاثَةُ أَصْحَابَ حِفْظٍ لِلْحَدِيثِ، وَتَقْيِيدٍ وَشَكْلٍ.
وَقَالَ بَشَّارٌ الْخَفَّافُ يَوْمًا عِنْدَ أَحْمَدَ: هؤلاء الثلاثة ثبت في الحديث، وأثبتهم بَهْزٌ ثُمَّ عَفَّانُ ثُمَّ حِبَّانُ، فَقَالَ أَحْمَدُ: مَا صَنَعْتُ شَيْئًا، أَثْبَتُهُمْ عَفَّانُ ثُمَّ بَهْزٌ، وقال: هؤلاء كانوا يوقفون الشيخ عَلَى الأَخْبَارِ.
قِيلَ: فَإِذَا اخْتَلَفُوا فِي الْحَدِيثِ، يُرْجَعُ إِلَى قَوْلِ مَن مِنْهُمْ؟
قَالَ: إِلَى قَوْلِ عَفَّانَ، هُوَ فِي نَفْسِي أَكْثَرُ، وَبَهْزٌ أَفْضَلُ، إِلا أَنَّ عَفَّانَ أَضْبَطُ للأَسَامِي.
280 - وَقَالَ عَفَّانُ: مَا سَمِعْتُ حَدِيثًا مِنْ أَحَدٍ قَطُّ إِلا قَرَأْتُهُ عَلَيْهِ، إِلا شُعْبَةَ.
281 - وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بن الحسن: أَخْرَجَ إِلَيَّ عَفَّانُ كِتَابًا مِنْ أَصْلِهِ، فَجَعَلَهُ فِي حِجْرِهِ، فَجَعَلَ يَقْرَأُ عَلَيَّ، فَنَظَرْتُ فِيهِ؛ فَرَأَيْتُ خَطًّا جَلِيلا، وَإِذَا قَدْ قيَّد كُلَّ حَرْفٍ كَمَا حَدَّثَنَا.
282 - وَقَالَ أَحْمَدُ: كَانَ أَصْحَابُ الْحَدِيثِ بِبَغْدَادَ: أَبُو سَلَمَةَ الْخُزَاعِيُّ مَنْصُورُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ، وَأَبُو كَامِلٍ،
وَكَانَ الْهَيْثَمُ أَحْفَظَ الثَّلاثَةِ،
وَكَانَ أَبُو كَامِلٍ أَتْقَنَ لِلْحَدِيثِ مِنْهُمْ، وَكَانَ بَصِيرًا بِالْحَدِيثِ مُتْقِنًا يُشْبِهُ النَّاسَ، لا يَتَكَلَّمُ إِلا أَنْ يُسْأَلَ فَيُجِيبُ أَوْ يَسْكُتُ، لَهُ عَقْلٌ سَدِيدٌ،
وَأَبُو سَلَمَةَ الخزاعي كان من أبصر الناس بأيام النَّاسُ، لا تَسْأَلُهُ عَنْ أَحَدٍ إِلا جَاءَكَ بمعرفته، وكان يتفقه،
وهؤلاء (1) الثَّلاثَةُ كَانَ لَهُمْ بَصَرٌ بِالْحَدِيثِ وَالرِّجَالِ، وَلَمْ يكتبوا إلا عن الثقات (2).
--------------------------------------------
বাহয ছিলেন একজন শিক্ষক, আর হিব্বান কী কাজ করতেন তা আমি জানি না, এবং আফফান ছিলেন তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক পাণ্ডুলিপির অধিকারী।
তিনি বললেন: এই তিনজনই ছিলেন হাদিস মুখস্থ রাখা, তা লিখে রাখা এবং তাতে হরকত প্রদানের মাধ্যমে নির্ভুল করার অধিকারী।
বাশশার আল-খাফফাফ একদিন আহমাদের নিকট বললেন: হাদিসের ক্ষেত্রে এই তিনজনই নির্ভরযোগ্য, আর তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হলেন বাহয, এরপর আফফান, এরপর হিব্বান। আহমাদ বললেন: আপনি তো কিছুই মূল্যায়ন করতে পারেননি, তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য হলেন আফফান, এরপর বাহয। এবং তিনি বললেন: তাঁরা শায়খদের (উস্তাদদের) বর্ণনার ভুল ধরিয়ে দিতেন।
জিজ্ঞাসা করা হলো: যদি তাঁরা হাদিসের ব্যাপারে মতপার্থক্য করেন, তবে তাঁদের মধ্যে কার কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করা হবে?
তিনি বললেন: আফফানের কথার দিকে; আমার দৃষ্টিতে তাঁর পাণ্ডুলিপি অধিক, আর বাহয হলেন অধিকতর শ্রেষ্ঠ; তবে আফফান নামসমূহ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অধিকতর নির্ভুল।
২৮০ - আফফান বলেন: আমি শু'বাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে যখনই কোনো হাদিস শুনেছি, তখনই তা তাঁকে পড়ে শুনিয়েছি।
২৮১ - ইবরাহিম ইবনুল হাসান বলেন: আফফান আমার সামনে তাঁর একটি মূল পাণ্ডুলিপি বের করলেন এবং সেটি তাঁর কোলের ওপর রাখলেন। অতঃপর তিনি আমাকে পড়ে শোনাতে লাগলেন। আমি তাতে তাকালাম এবং অত্যন্ত চমৎকার হস্তাক্ষর দেখতে পেলাম; তিনি প্রতিটি বর্ণ সেভাবেই লিপিবদ্ধ করে রেখেছিলেন যেভাবে আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করা হয়েছিল।
২৮২ - আহমাদ বলেন: বাগদাদে হাদিস বিশারদগণ ছিলেন: আবু সালামাহ আল-খুজায়ি মানসুর ইবনে সালামাহ, হাইসাম ইবনে জামিল এবং আবু কামিল।
আর হাইসাম ছিলেন তাঁদের তিনজনের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থ শক্তির অধিকারী।
আবু কামিল হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁদের চেয়েও অধিক নিপুণ ছিলেন। তিনি হাদিসের বিষয়ে অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও দক্ষ ছিলেন, তিনি দেখতে সাধারণ মানুষের মতোই ছিলেন। তাঁকে কোনো প্রশ্ন করা না হলে তিনি কথা বলতেন না; হয় উত্তর দিতেন নয়তো চুপ থাকতেন। তাঁর ছিল অত্যন্ত সুসংহত বুদ্ধি।
আর আবু সালামাহ আল-খুজায়ি ছিলেন মানুষের ইতিহাস ও ঘটনাবলী সম্পর্কে সমকালীনদের মধ্যে অন্যতম প্রাজ্ঞ ব্যক্তি। আপনি তাঁকে যার সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করবেন, তিনি তাঁর পরিচয় আপনার সামনে তুলে ধরবেন। তিনি ফিকহ চর্চাও করতেন।
এই (১) তিন ব্যক্তিরই হাদিস ও বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে প্রজ্ঞা ছিল এবং তাঁরা কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের থেকেই হাদিস লিপিবদ্ধ করতেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: -)
المنتخب من علل الخلال القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: المنتخب من علل الخلال (ومعه تتمة)
المؤلف: أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة الجماعيلي المقدسي ثم الدمشقي الحنبلي، الشهير بابن قدامة المقدسي (ت 620هـ)
تحقيق: أبي معاذ طارق بن عوض الله بن محمد
الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع
عدد الصفحات: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল বিভাগ: হাদিসের ইল্লাল (ত্রুটি) এবং প্রশ্নাবলী
গ্রন্থ: আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল (এবং এর সাথে পরিশিষ্ট রয়েছে)
লেখক: আবু মুহাম্মাদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামাহ আল-জামাঈলী আল-মাকদিসী অতঃপর আদ-দিমাশকী আল-হাম্বালী, যিনি ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২০ হিজরী)
তাহকীক বা সম্পাদনা: আবু মুয়ায তারিক বিন আওয়াদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ
প্রকাশক: দারুর রাইয়াহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২রা রবিউল আউয়াল ১৪৩৩ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
*
الجزء العاشر من المنتخب*سمعه الحسن بن. . . عن جدي وغيره عن الصلاح بن أبي عمر عن الفخر بن البخاري، عن الشيخ موفق الدين ولدي أبي بكر عبد الله وأمه. . . وولدي بدر الدين حسن وأمه بلبل بنت عبد الله وأجزت لهم أن يرووه عني وكتب يوسف بن عبد الهادي.
আল-মুনতাখাব-এর দশম খণ্ডআল-হাসান বিন... এটি আমার দাদা ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন, তিনি আল-সালাহ বিন আবি উমর থেকে, তিনি আল-ফখর বিন আল-বুখারি থেকে, তিনি আল-শাইখ মুওয়াফফাক আদ-দীন থেকে; এবং আমার পুত্র আবু বকর আবদুল্লাহ ও তার মা... এবং আমার পুত্র বদর আদ-দীন হাসান ও তার মা বুলবুল বিনতে আবদুল্লাহ। আমি তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করার অনুমতি প্রদান করলাম। এটি লিখেছেন ইউসুফ বিন আব্দ আল-হাদি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
*
الزُّهْدُ فِي الدُّنْيَا وذمها*1 - أخبرنا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُشَيْش، أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ عَنْ حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعَظَ رَجُلا، فقال: "فِي الدُّنْيَا يُحِبَّكَ اللَّهُ، وَازْهَدْ فِي مَا فِي أَيْدِي النَّاسِ يُحِبَّكَ النَّاسُ".
فَقَالَ: لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ! تَعَجُّبًا مِنْهُ! مَنْ يَرْوِي هَذَا، أَوْ عَنْ مَنْ هَذَا؟!.
فَقُلْتُ: خَالِدُ بْنُ عَمْرٍو.
فَقَالَ: وَقَعْنَا فِي خَالِدِ بْنِ عمرو. ثم سكت.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
*
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি এবং এর নিন্দা*১ - মুহাম্মদ বিন আলী আমাদের অবহিত করেছেন: মুহাম্মদ বিন মুসা বিন মুশায়েশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু আব্দুল্লাহকে সাহল বিন সাদ আস-সাঈদী বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন: "দুনিয়ার প্রতি বিমুখ হও, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন; আর মানুষের হাতে যা আছে তার প্রতি নির্লোভ হও, মানুষ তোমাকে ভালোবাসবে।"
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ! কে এটি বর্ণনা করছে, অথবা এটি কার সূত্র থেকে বর্ণিত?!.
আমি বললাম: খালিদ বিন আমর।
তিনি বললেন: আমরা খালিদ বিন আমরের পাল্লায় পড়েছি। তারপর তিনি নীরব হলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
2 - أخبرنا الدُّورِيُّ: ثنا مُحَاضِرٌ: ثنا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي السَّفَرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: مرَّ بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نُعَالِجُ خُصّاً لَنَا. فَقَالَ: "مَا هَذَا يَا عَبْدَ اللَّهِ؟ ". قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! خُصَّ لنا وهَى، ونحن نعالجه. قال: "الأَمْرُ [أَيْسَرُ] مِمَّا تَرَوْنَ".
قَالَ يَحْيَى: اسْمُ أَبِي السَّفَرِ: سَعِيدُ بْنُ أَحْمَدَ، سَمِعَ مِنْ عبد الله بن عمرو، وقد روى سُفْيَانُ، وَشُعْبَةُ وَزَكَرِيَّا بْنُ
২ - আদ-দুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাদির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আল-আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুস সাফার থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যখন আমরা আমাদের একটি কুঁড়েঘর মেরামত করছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "হে আবদুল্লাহ, এটি কী?" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের একটি কুঁড়েঘর জীর্ণ হয়ে গেছে, তাই আমরা এটি মেরামত করছি।" তিনি বললেন: "বিষয়টি (মৃত্যু বা পরকাল) তোমাদের ধারণার চেয়েও সহজতর।"
ইয়াহইয়া বলেন: আবুস সাফারের নাম হলো সাঈদ ইবনে আহমাদ, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে শ্রবণ করেছেন। সুফিয়ান, শু’বাহ এবং যাকারিয়া ইবনে... বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
أَبِي زَائِدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السفر.
3 - أخبرنا عبد الله: حَدَّثَنِي أَبِي: ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ: ثنا حُرَيْثُ بْنُ السَّائِبِ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ يَقُولُ: حَدَّثَنِي حمران، عن عثمان، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "كُلُّ شَيْءٍ سِوَى ظِلِّ بَيْتٍ وَجِلْفِ الْخُبْزِ وَثَوْبٍ يُوَارِي عَوْرَتَهُ وَالْمَاءِ، فَمَا فَضَلَ عَنْ هَذَا فَلَيْسَ لابْنِ آدَمَ فِيهِ حَقٌّ".
أَخْبَرَنِي عِصْمَةُ: ثنا حَنْبَلٌ قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ عَنْ حُرَيْثِ بْنِ السَّائِبِ؟.
قَالَ: مَا كَانَ بِهِ بَأْسٌ؛ إِلا أَنَّهُ رَوَى حَدِيثًا مُنْكَرًا، عَنْ عُثْمَانَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؛وَلَيْسَ هُوَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي هَذَا الْحَدِيثَ.
আবি জাইদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আস-সাফার থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আমার পিতা আমাকে বলেছেন: আবদুস সামাদ আমাদের বলেছেন: হুরাইস ইবনুন সায়েব বলেছেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি: হুমরান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঘরের ছায়া, রুটির টুকরো, সতর ঢাকার কাপড় এবং পানি ব্যতীত যা কিছু আছে, তার অতিরিক্ত অংশে আদম সন্তানের কোনো অধিকার নেই।"
ইসমাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: হাম্বল আমাদের বলেছেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে হুরাইস ইবনুন সায়েব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
তিনি বললেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল না; তবে তিনি উসমান থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে একটি মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন; অথচ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত নয় - অর্থাৎ এই হাদিসটি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
4 - أخبرني مُوسَى: ثنا حَنْبَلٌ: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ: ثنا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزهري، عن عبيد اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِشَاةٍ مَيِّتَةٍ قَدْ أَلْقَاهَا أَهْلُهَا، فَقَالَ: "وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ! لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا".
قَالَ أبو عبد الله: هو عندي خطأ.
৪ - মুসা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মাদ ইবন মুসআব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আল-আওযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি মৃত বকরির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যা তার মালিকরা ফেলে দিয়েছিল। তিনি বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দুনিয়া তার মালিকদের নিকট এটি (মৃত বকরি) যতটা তুচ্ছ তার চেয়েও অধিক তুচ্ছ।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এটি আমার নিকট ভুল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
5 - وحدثني أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: ثنا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ: ثنا دويد، عن أبي إِسْحَاقَ، عَنْ زُرْعَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الدُّنْيَا دار من لا دار له، ولها يَجْمَعُ مَنْ لا عَقْلَ لَهُ".
قَالَ: هَذَا حديث منكر.
৫ - এবং আবু আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: হুসাইন বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: দুওয়াইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি জুরআহ থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দুনিয়া তার ঘর যার কোনো ঘর নেই, এবং এর জন্যই সে সম্পদ জমা করে যার কোনো বুদ্ধি নেই।"
তিনি বলেন: এটি একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
6 - أخبرني عصمة: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: ثنا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عْنَ دُوَيْدٍ، عَنْ سَلْمِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الْتَقَى مُؤْمِنَانِ عَلَى بَابِ الْجَنَّةِ: مُؤْمِنٌ غَنِيٌّ، وَمُؤْمِنٌ فَقِيرٌ، كَانَا فِي الدُّنْيَا، فَأُدْخِلَ الْفَقِيرُ الْجَنَّةَ، وَحُبِسَ الغني ما شاء الله أن يحبس، وأدخل الْجَنَّةَ، فَلَقِيَهُ الْفَقِيرُ فَقَالَ: أَيْ أَخِي! مَاذَا حَبَسَكَ؟ فَوَاللَّهِ لَقَدِ احتبستَ حَتَّى خِفْتُ عَلَيْكَ! فَيَقُولُ: أَيْ أَخِي! إِنِّي حُبِسْتُ بَعْدَكَ مَحْبَسًا فَظِيعًا كَرِيهًا" - فَذَكَرَ الْحَدِيثَ.
قَالَ أَبُو عَبْدِ الله: هذا حديث منكر.
৬ - ইসমা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ্ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন: হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, দুওয়াইদ থেকে, তিনি সালম ইবনে বাশির থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাতের দরজায় দুই মুমিন ব্যক্তির সাক্ষাৎ হবে: একজন ধনী মুমিন এবং একজন দরিদ্র মুমিন, যারা দুনিয়াতে ছিল। অতঃপর দরিদ্র ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং ধনী ব্যক্তিকে আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছা আটকে রাখবেন। এরপর তাকেও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং দরিদ্র ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করে বলবে: হে আমার ভাই! কী তোমাকে আটকে রেখেছিল? আল্লাহর কসম, তোমাকে এত দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছিল যে আমি তোমার ব্যাপারে আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম! তখন সে বলবে: হে আমার ভাই! তোমার পরে আমাকে এক ভয়াবহ ও অপ্রীতিকর স্থানে আটকে রাখা হয়েছিল" - অতঃপর তিনি হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা করলেন।
আবু আব্দুল্লাহ্ বলেন: এটি একটি মুনকার হাদীস।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
*
في الشبع*7 - قال مهنّا: سَأَلْتُ أَحْمَدَ وَيَحْيَى، قُلْتُ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ ابن يَحْيَى: ثنا شَرِيكٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: أَكَلْتُ خُبْزَ شَعِيرٍ بلحمٍ سمينٍ، فلقيت رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَجَشَّأْتُ عِنْدَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "اكْفُفْ جُشَاءَكَ يَا أَبَا جُحَيْفَةَ؛ فَإِنَّ أَكْثَرَكُمْ شَبَعًا الْيَوْمَ أَكْثَرُكُمْ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ".
فَقَالا: لَيْسَ بِصَحِيحٍ.
قُلْتُ لأَحْمَدَ: يُرْوَى مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ؟.
قَالَ: كَانَ عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ يُحَدِّثُ بِهِ، عْنَ مَالِكِ بْنِ مِغْوَل، عن علي بن الأقمر، عن أبي جحيفة، ثُمَّ تَرَكَهُ بَعْدُ.
ثُمَّ سَأَلْتُه عَنْهُ بَعْدُ؟.
فقال: ليس بصحيحٍ.
তৃপ্তিভরে আহার প্রসঙ্গে৭ - মুহান্না বলেন: আমি আহমাদ এবং ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম। আমি বললাম: আব্দুল আজীজ ইবনে ইয়াহইয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন: শারীক আমাদের নিকট আলী ইবনুল আকমার থেকে, তিনি আবু জুহাইফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আবু জুহাইফাহ) বলেন: আমি চর্বিযুক্ত গোশত দিয়ে যবের রুটি খেয়েছিলাম, এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আমার দেখা হলো এবং আমি তাঁর সামনে ঢেকুর তুললাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আবু জুহাইফাহ, তোমার ঢেকুর সংবরণ করো; কেননা তোমাদের মধ্যে যারা দুনিয়াতে সর্বাধিক তৃপ্তিভরে আহার করবে, কিয়ামতের দিন তারাই দীর্ঘতম সময় ক্ষুধার্ত থাকবে।"
তাঁরা (আহমাদ ও ইয়াহইয়া) বললেন: এটি সহীহ নয়।
আমি আহমাদকে বললাম: এটি কি অন্য কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে?
তিনি বললেন: আমর ইবনে মারযূক এটি মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি আলী ইবনুল আকমার থেকে এবং তিনি আবু জুহাইফাহ সূত্রে বর্ণনা করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি এটি বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
অতঃপর আমি পুনরায় তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম?
তিনি বললেন: এটি সহীহ নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
8 - أخبرنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ، أَنَّ مُحَمَّدًا حَدَّثَهُمْ، أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ حَدِيثِ عِمْرَانَ بن حصين: "ما شبع آل محمد من خبر برًّ"؟.
فَقَالَ: هَذَا عَمْرُو بْنُ عُبْيَدٍ، اضْرِبْ عَلَيْهِ!.
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান, যে মুহাম্মদ তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু আব্দুল্লাহকে ইমরান বিন হুসাইনের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "মুহাম্মাদের পরিবার কখনো পেট ভরে গমের রুটি খাননি"?
অতঃপর তিনি বললেন: "এটি আমর ইবন উবাইদ বর্ণনা করেছে, এটি কেটে দাও!"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
*
في البنات والأخوت*9 - أخبرنا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبِي عَنْ حَدِيثٍ حَدَّثَنَا بِهِ خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْبَزَّارُ: ثنا عُبيسُ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: سَمِعْتُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَقَامَتْ نَفْسَهَا عَلَى ثَلاثِ بنات لها [إلا] كَانَتْ مَعِي فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا"، وَأَهْوَى بِأُصْبُعِهِ، "وَأَيُّمَا رَجُلٍ أَنْفَقَ عَلَى ثَلاثِ بَنَاتٍ أَوْ مِثْلِهِنَّ مِنَ الأَخَوَاتِ كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ هَكَذَا"، وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ.
কন্যা এবং বোনদের প্রসঙ্গে৯ - আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা আমাদের নিকট খালাফ বিন হিশাম আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন: উবাইস বিন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাবিত থেকে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে কোনো নারী তার তিনটি কন্যার (লালন-পালনের) জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবে, সে জান্নাতে আমার সাথে এভাবে থাকবে", এবং তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করলেন, "আর যে কোনো ব্যক্তি তিনটি কন্যা অথবা অনুরূপ সংখ্যক বোনের ভরণপোষণের জন্য ব্যয় করবে, সে জান্নাতে আমার সাথে এভাবে থাকবে", এবং তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে ইশারা করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
قال أبي: هذا حديث منكر.
আমার পিতা বলেছেন: এটি একটি মুনকার হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
*
الأطفال*10 - أخبرنا الْمَيْمُونِيُّ أَنَّهُمْ ذَاكَرُوا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَطْفَالَ الْمُؤْمِنِينَ، فَذَكَرُوا لَهُ حَدِيثَ عَائِشَةَ فِي قِصَّةِ ابْنِ الأَنْصَارِيِّ، وَقَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ.
فَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ غَيْرَ مرة يقول: هذا حَدِيثٌ! وَذَكَرَ فِيهِ رَجُلا ضَعَّفَهُ: طَلْحَةُ.
وَسَمِعْتُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ يَقُولُ: وأحدٌ يَشُكُّ أَنَّهُمْ فِي الْجَنَّةِ، هُوَ يَرْجَى لأَبِيهِ، كَيْفَ يَشُكُّ فِيهِ؟! إِنَّمَا اخْتَلَفُوا فِي أَطْفَالِ الْمُشْرِكِينَ.
قَالَ: فَأَبْنَاؤُكُمْ يكونون قدر كم؟ قَالَ: بَلَّغَنَا فِي أَبْنَائِكُمْ، وَأَمْلَى عَلَيْنَا الأَحَادِيثَ من.
أخبرنا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ: ثنا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى الطلحُّي، عَنْ عَمَّتِهِ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: دعي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِغُلامٍ مِنْ غِلْمَانِ الأَنْصَارِ يُصَلِّي عَلَيْهِ، فَقُلْتُ: طُوبَى لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ، لَمْ يَعْمَلْ خَطِيئَةً وَلَمْ يَدْرِ بِهَا. فَقَالَ: "أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلا،
শিশুসন্তানগণ১০ - আল-মাইমুনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) নিকট মুমিনদের সন্তানদের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তাঁরা তাঁর নিকট আনসারী বালকের ঘটনায় আয়েশার বর্ণিত হাদিস এবং সে বিষয়ে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর কথা উল্লেখ করেন।
অতঃপর আমি একাধিকবার আবু আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: এটি একটি হাদিস! এবং তিনি এতে এমন একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যাকে তিনি দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন: তিনি হলেন তালহা।
আমি তাঁকে একাধিকবার বলতে শুনেছি: তারা জান্নাতে যাবে—এ বিষয়ে কি কেউ সন্দেহ পোষণ করে? সে তো তার পিতার জন্য (জান্নাতের) আশাস্বরূপ, সুতরাং কীভাবে সে বিষয়ে সন্দেহ করা যেতে পারে?! তাঁরা কেবল মুশরিকদের সন্তানদের বিষয়ে মতভেদ করেছেন।
তিনি বললেন: তাহলে তোমাদের সন্তানদের মর্যাদা কেমন হবে? তিনি বললেন: তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে এবং তিনি আমাদের নিকট হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ করিয়েছেন।
আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মাদ বিন বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: তালহা বিন ইয়াহইয়া আত-তালহি তাঁর ফুফু আয়েশা বিনতে তালহা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আনসারদের এক বালকের জানাজার সালাত পড়ানোর জন্য ডাকা হলো। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! তার জন্য সুসংবাদ, সে তো জান্নাতের চড়ুইপাখিদের মধ্যে একটি চড়ুই। সে কোনো পাপ করেনি এবং পাপ সম্পর্কে সে অবগতও ছিল না। তখন তিনি বললেন: "অথবা অন্য কিছু হতে পারে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জান্নাতের জন্য একদল অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন,
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلابِ آبَائِهِمْ، وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلا، خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلابِ آبَائِهِمْ".
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ بريد بن أبي بردة؛ بريد يَرْوِي أَحَادِيثَ مَنَاكِيرَ، وَطَلْحَةُ يُحَدِّثُ بِحَدِيثِ: "عُصْفُورٍ من عصافير الجنة".
"তিনি তাদেরকে সেটির জন্যই সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের পিতাদের পৃষ্ঠদেশে ছিল, এবং তিনি জাহান্নামের জন্য অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন; তিনি তাদেরকে সেটির জন্যই সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের পিতাদের পৃষ্ঠদেশে ছিল।"
আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ত্বালহা বিন ইয়াহইয়া আমার নিকট বুরাইদ বিন আবি বুরদাহ অপেক্ষা অধিক প্রিয়; বুরাইদ আপত্তিকর (মুনকার) হাদিসসমূহ বর্ণনা করে, আর ত্বালহা বর্ণনা করেন: "জান্নাতের চড়ুইপাখি সমূহের মধ্য হতে একটি চড়ুইপাখি" হাদিসটি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
*
بدأ الإسلام غريباً*11 - قال حنبل: حدثني أبو عبد الله: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ: ثنا حَفْصُ بن غياث، [عن الأعمش]، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الإِسْلامَ بَدَأَ غَرِيبًا وسيعود غريباً كَمَا بَدَأَ، فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ". قِيلَ: وَمَنِ الْغُرَبَاءُ؟ قَالَ: "النُّزُّاع مِنَ الْقَبَائِلِ".
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ.
ইসলাম অপরিচিত হিসেবে শুরু হয়েছিল১১ - হাম্বল বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: হাফস বিন গিয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, [আল-আ’মাশ থেকে], আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং অচিরেই তা আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে যেভাবে শুরু হয়েছিল; সুতরাং অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ।" জিজ্ঞাসা করা হলো: অপরিচিত কারা? তিনি বললেন: "বিভিন্ন গোত্র থেকে (দীনের খাতিরে) বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা ব্যক্তিরা।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এটি একটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬০)
*
أمّتي مثل المطر *12 - أخبرنا عبد الله: ثنا محمد بن جعفر الوركاني: نا [حماد] الأَبَحُّ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " [مثل] أُمَّتِي مِثْلُ الْمَطَرِ، لا يُدرى أَوَّلُهُ خَيْرٌ أَوْ آخِرُهُ".
سَأَلْتُ أَبِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ؟.
فَقَالَ: هَذَا خَطَأٌ؛ إِنَّمَا يُروى، عَنِ الْحَسَنِ.
قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَبِي: ثنا حَسَنُ بْنُ مُوسَى الأَشْيَبُ: ثنا حَمَّادُ بْنُ يَحْيَى الأَبَحُّ، نا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - مِثْلَهُ.
قَالَ أَبِي: وَحَدَّثَنَاهُ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ وَحُمَيْدٍ وَيُونُسَ، عن الحسن، [عَنْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم] قَالَ: "مثل
আমার উম্মত বৃষ্টির মতো ১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-ওয়ারকানি: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন [হাম্মাদ] আল-আবাহ, সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "[যেমন] আমার উম্মতের উপমা বৃষ্টির মতো, জানা যায় না এর প্রথম অংশ উত্তম নাকি শেষ অংশ।"
আমি আমার পিতাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম?
তিনি বললেন: এটি ভুল; এটি কেবল হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বললেন: আমার পিতা আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আবাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সাবিত, আনাস (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে - অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আমার পিতা বললেন: এবং তিনি আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত, হুমাইদ এবং ইউনুস থেকে, তারা হাসান থেকে, [রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে] তিনি বলেন: "উপমা
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬১)
أمّتي" -فذكر نحوه.
আমার উম্মত" -অতঃপর তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
*
في السباحة والمغزل *13 - أخبرنا مُوسَى بْنُ حَمْدُونٍ، ثنا حَنْبَلٌ: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: نا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ: "نِعْمَ لَهْوُ الْمُؤْمِنَةِ الْمِغْزَلُ، وَنِعْمَ لَهْوَ الْمُؤْمِنِ السِّبَاحَةُ".
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: كَانَ فِي كِتَابِهِ: "عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم "، وَلَكِنَّهُ أَبَى أن يرفعه، وقال: إنه [شَنِعٌ]-يعني: ابن فضيل.
সাঁতার এবং চরকা প্রসঙ্গে *১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মূসা ইবনে হামদুন, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন হাম্বল, তিনি বলেন আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ফুযাইল, লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন: "মুমিন নারীর জন্য উত্তম বিনোদন হলো চরকা, এবং মুমিন পুরুষের জন্য উত্তম বিনোদন হলো সাঁতার।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: তাঁর কিতাবে ছিল: "মুজাহিদ থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে", কিন্তু তিনি একে মারফু হিসেবে বর্ণনা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন: এটি অদ্ভুত — অর্থাৎ: ইবনে ফুযাইল।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
*
في عدن الزنج والبربر*14 - أخبرني عِصْمَةُ: نا حَنْبَلٌ: ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: ثنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ النُّعْمَانِ الأَفْطَسِ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "يَخْرُجُ مِنْ عَدَنِ أَبْيَنَ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا يَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَهُمْ خَيْرُ مَنْ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ".
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: الْمُنْذِرُ بْنُ النعمان ثقة صَنْعَانِيٌّ، لَيْسَ فِي حَدِيثِهِ مُسْنَدٌ غَيْرَ هَذَا.
জাঞ্জ ও বার্বারদের আদন প্রসঙ্গে১৪ - ইসমাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: হানবাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট মুনযির বিন নুমান আল-আফতাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওয়াহবকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আদন আবইয়ান থেকে বারো হাজার লোক বের হবে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করবে, তারা আমার ও তাদের মধ্যবর্তী সময়ের লোকেদের মাঝে শ্রেষ্ঠ।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: মুনযির বিন নুমান একজন নির্ভরযোগ্য সানআনী বর্ণনাকারী, তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে এটি ব্যতীত অন্য কোনো মুসনাদ বর্ণনা নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
15 - أخبرنا الدوري قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى يَقُولُ: مَسْلَمَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ لَيْسَ حَدِيثُهُ بِشَيْءٍ، يَرْوِي عَنْ هِشَامِ بْنِ عروة، عن أبيه، عن عائشة [قالت]: "إياكم والزنج، فإنه خلق مشوه".
১৫ - আদ-দাওরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: মাসলামাহ ইবনে মুহাম্মাদ—তার বর্ণিত হাদিস উল্লেখযোগ্য কিছু নয়—তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা [রাদিয়াল্লাহু আনহা] থেকে বর্ণনা করেছেন [তিনি বলেন]: "তোমরা কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, কেননা তারা বিকৃত সৃষ্টি।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুন্তাখাব মিন ইলালিল খাল্লাল
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
16 - أخبرني عِصْمَةُ: نا حَنْبَلٌ: حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: ثنا سُرَيْجٌ: ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، ثنا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ صَالِحٍ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ، عْنَ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ: "مِنْ أَيْنَ أَنْتَ؟ ". قَالَ: بربري. قاله لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "قم عنّي!، ومال بِمِرْفَقِهِ كَذَا، فَلَمَّا قَامَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: "إِنَّ الإيمان لا يجوز حَنَاجِرَهُمْ".
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: هَذَا حَدِيثٌ منكر.
১৬ - ইসমাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন: হানবাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন: সুরাইজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি যিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাওয়ামাহর মুক্তদাস সালিহ থেকে, আবু হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটে বসল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কোথা থেকে এসেছ?"। সে বলল: "বারবারী (বার্বার বংশোদ্ভূত)"। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "আমার নিকট থেকে সরে যাও!", এবং তিনি তাঁর কনুই দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন। অতঃপর সে যখন উঠে গেল, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।"
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদীস।