(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: -)
مسند الفاروق لابن كثير ت قلعجي   (ابن كثير)

القسم: كتب السنة

الكتاب: مسند أمير المؤمنين أبي حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأقواله على أبواب العلم

المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (ت 774هـ)

المحقق: عبد المعطي قلعجي

دار النشر: دار الوفاء - المنصورة

الطبعة: الأولى، 1411هـ - 1991م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে কাসীর রচিত মুসনাদুল ফারুক, কালাজি কর্তৃক সম্পাদিত   (ইবনে কাসীর)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ

গ্রন্থ: আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ এবং ইলমের অধ্যায়সমূহের ওপর তাঁর উক্তিগুলো

লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল বিন ওমর বিন কাসীর আল-কুরাশী আল-বসরী অতঃপর আদ-দামেশকী (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল মুতি কালাজি

প্রকাশনী: দারুল ওয়াফা - মানসুরা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌كتاب الطهارة

قال الامام احمد حدثنا سفيان بن عيينة عن يحيى بن سعيد عن محمد بن ابراهيم التيمى عن علقمة بن وقاص الليثى قال سمعت عمر بن الخطاب رضى الله عنه يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول انما الأعمال بالنيات ولكل امرىء ماتوى فمن كانت هجرته الى الله عز وجل فهجرته الى ما هاجر اليه ومن كانت هجرته لدينا يصيبها اة امرأة ينكحها فهجرته الى ما هاجر اليه هكذا رواه عن سفيان ورواه فى موضع آخر عن يزيد بن هارون عن يحيى بن سعيد به ولفظه انما العمل بالنية وانما لا مرىء مانوى فمن كانت هجرته الى الله والى رسوله فهجرته الى الله الى رسوله ومن كانت هجرته لدينا يصيبها او امرأة يتزوجها فهجرته الى ما هاجر اليه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

পবিত্রতা অধ্যায়

ইমাম আহমাদ বলেন, সুফইয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসি থেকে, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।" সুফইয়ান থেকে এটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তিনি এটি অন্য এক স্থানে ইয়াযিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দবিন্যাস হলো: "নিশ্চয়ই আমল নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং নিশ্চয়ই মানুষের জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৪)
من حديث يحيى بن سعيد الأنصارى القاضى
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী আল-কাদীর বর্ণিত হাদিস হতে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৫)
فرواه ابو عبد الله البخارى رحمه الله فى سبعة مواضيع من كتابه الصحيح ففى اول الكتاب عن الحميدى وهو عبد الله بن الزبير عن سفيان بن عيينة ولفظه انما الأعمال بالنيات وانما لكل امريء مانوى فمن كانت هجرته الى دنيا يصيبها اوالى امرأة ينكحها فهجرته الى ما هاجر اليه ورواه فى كتاب الايمان عن القعنبى وفى النكاح عن يحيى بن قزعة كلاهما عن مالك بن انس عن يحيى بن سعيد به ولفظه فى الايمان ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الأعمال بالنية ولكل امريء مانوى فمن كانت هجرته الى الله ورسوله فهجرته الى الله ورسوله ومن كانت هجرته الى دنيا يصيبها اوالى امراة يتزوجها فهجرته الى ما هاجر اليه ثم رواه البخارى فى الهجرة عن مسدد وفى ترك الحيل عن محمد بن الفضل عارم كلاهما عن حماد بن زيد عن يحيى بن سعيد به ورواه فى العتق عن محمد بن كثير عن الثورى عن يحيى بن سعيد به وفى النذور عن قتيبة عن عبد الوهاب الثقفى عن يحيى بن سعيد به بألفاظ متقاربة

আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থের সাতটি স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন। কিতাবের শুরুতে তিনি আল-হুমায়দী থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি হলেন আব্দুল্লাহ বিন আয-যুবাইর, তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে; এর শব্দাবলি হলো: "নিশ্চয়ই সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার উদ্দেশ্যে হয় অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেদিকেই হবে যার দিকে সে হিজরত করেছে।" তিনি এটি 'ঈমান' অধ্যায়ে আল-ক্বানাবী থেকে এবং 'নিকাহ' অধ্যায়ে ইয়াহইয়া বিন কাযাআ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এই সনদে। 'ঈমান' অধ্যায়ে এর শব্দাবলি হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "আমলসমূহ নিয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে। অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হয়, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হয়, তবে তার হিজরত সেদিকেই হবে যার দিকে সে হিজরত করেছে।" অতঃপর ইমাম বুখারী এটি 'হিজরত' অধ্যায়ে মুসাদ্দাদ থেকে এবং 'তর্কুল হিয়াল' (কৌশল বর্জন) অধ্যায়ে মুহাম্মদ বিন আল-ফাযল আরিম থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই হাম্মাদ বিন যায়েদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এই সনদে। তিনি এটি আরও বর্ণনা করেছেন 'দাসমুক্তি' অধ্যায়ে মুহাম্মদ বিন কাসীর থেকে, তিনি সাওরী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এই সনদে; এবং 'মানত' অধ্যায়ে কুতায়বাহ থেকে, তিনি আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এই সনদে কাছাকাছি শব্দে।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৬)
وأخرجه مسلم فى اواخر كتاب الجهاد من صحيحة عن ابن ابى عمر عن سفيان بن عيينة وعن محمد بن عبد الله بن نمير عن حفص بن غياث ويزيد بن هارون كلهم عن يحيى بن سعيد به ورواه ايضا من حديث الليث بن سعد وعبد الله بن المبارك وابى خالد الأحمر ومن طرق اخر قد رمزنا له عليها كلهم عن يحيى بن سعيد ولفظ مسلم انما الأعمال بالنية وانما لامريء ما نوى فمن كانت هجرته الى الله ورسوله فهجرته الى الله ورسوله ومن كانت هجرته لدينا يصيبها او امرأة يتزوجها فهجرته الى ما هاجر اليه وأخرجه أصحاب السنن الأربعة ابو داود السجستانى وابو عيسى الترمذى وابو عبد الرحمن النسائى وابو عبد الله محمد بن يزيد بن ماجه القزوينى من الطرق التى رمزنا لهم عليها وألفاظهم متقاربة وقد حررناها فى اول شرح البخارى ولله الحمد
মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের জিহাদ অধ্যায়ের শেষ দিকে ইবনে আবু উমর থেকে, তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনা থেকে এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমায়ের থেকে, তিনি হাফস বিন গিয়াস ও ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে—তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি লাইস বিন সাদ, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক এবং আবু খালিদ আল-আহমার থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং অন্যান্য এমন সব সূত্রেও যা আমরা তাঁর জন্য চিহ্নিত করেছি; তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের শব্দাবলী হলো: ‘নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত হবে আল্লাহর দিকে ও তাঁর রাসূলের দিকে, তবে তার হিজরত আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।’ চার সুনান গ্রন্থের সংকলকগণ—আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আল-কাজবিনি—ঐসব সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যা আমরা তাঁদের জন্য চিহ্নিত করেছি। তাঁদের শব্দাবলী পরস্পর কাছাকাছি এবং আমরা তা বুখারীর ব্যাখ্যার শুরুতে বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছি, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৭)
وقد رواه الإمام على بن المدينى فى مسنده عن سفيان بن عيينة وعبد الوهاب بن عبد المجيد الثقفى ويزيد بن هارون كلهم عن يحيى بن سعيد به ثم قال هذا حديث صحيح جامع وهو أصح حديث روى عن عمر مرفوعا ولا نرويه من وجه من الوجوه الا من طريق يحيى بن سعيد الأنصارى ورواه ابو داود الطيالسى فى مسنده عن حماد بن يزيد وزهير بن محمد التميمى
ইমাম আলী ইবনে আল-মাদিনী এটি তাঁর মুসনাদে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল মাজীদ আস-সাকাফী এবং ইয়াযীদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সবাই এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন, "এটি একটি সহীহ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হাদীস এবং এটি উমর থেকে মারফূ' হিসেবে বর্ণিত সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস। আমরা এটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারীর সূত্র ব্যতীত অন্য কোনো সূত্র থেকে বর্ণনা করি না।" আর আবু দাউদ আত-তায়ালিসি এটি তাঁর মুসনাদে হাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ এবং যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আত-তামিমী থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৮)
كلاهما عن يحيى بن سعيد به ورواه ابو يعلى الموصلى فى مسنده عن ابى خيثمة زهير بن حرب عن يزيد بن هارون عن يحيى بن سعيد به وعن اسحاق بن اسماعيل عن سفيان بن عيينة ويزيد بن هارون وجعفر بن عون كلهم عن يحيى بن سعيد به وعن القواريرى عن حماد بن يزيد عن يحيى به ورواه الحافظ ابو بكر احمد بن عمرو بن عبد الخالق البزار فى مسنده عن محمد ابن عبد الملك القرشى بن ابى الشوارب وعبد الرحمن وكا منهم قد تكلم فيه لكن هذا الأثر مشهور عن عمر متداول بين الأئمة والله أعلم وقد رواه الدراقطنى عن الحسين بن اسماعيل عن احمد بن ابراهيم البوشنجى عن سفيان بن عيينة قال حدثونا عن يزيد بن مسلم عن ابيه قال اتيت عمر ابن الخطاب وذكر الحديث وهكذا رواه على بن حرب الطائى عن سفيان بن عيينة

উভয়েই ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে তার মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তার মুসনাদে এটি আবু খাইসামাহ যুহাইর বিন হারব থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন হারুন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে তার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইসহাক বিন ইসমাঈল থেকে বর্ণিত, তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ, ইয়াজিদ বিন হারুন এবং জাফর বিন আওন থেকে, তারা সকলে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে তার মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-কাওয়ারীরি থেকে বর্ণিত, তিনি হাম্মাদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে তার মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আব্দুল খালিক আল-বাজার তার মুসনাদে এটি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক আল-কুরাশি বিন আবিল শাওয়ারিব এবং আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারেই সমালোচনা করা হয়েছে। তবে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত এই আসারটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং এটি ইমামগণের মাঝে বহুল প্রচলিত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আদ-দারা কুতনি এটি আল-হুসাইন বিন ইসমাঈল থেকে, তিনি আহমদ বিন ইবরাহিম আল-বুশানজি থেকে, তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে ইয়াজিদ বিন মুসলিম থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি (পিতা) বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এসেছিলাম, এরপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেন। এভাবেই আলী বিন হারব আত-তাঈ সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১০৯)
حديث آخر قال الامام احمد حدثنا يحيى بن غيلان حدثنا رشدين بن سعد حدثنى ابو عبد الله الغافقى عن زيد بن اسلم عن ابيه عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه توضأ عام تبوك واحدة واحدة رواه ابن ماجة عن ابى كريب عن رشدين بن سعد عن الضحاك بن شرحبيل عنه به ثم رواه احمد عن حسن بن موسى الأشيب عن ابن لهيعة حدثنا الضحاك بن
অপর একটি হাদিস। ইমাম আহমাদ বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে গায়লান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রিশদিন ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-গাফিকী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাবুকের বছর একবার করে অঙ্গ ধৌত করে ওজু করেছিলেন। এটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব থেকে, তিনি রিশদিন ইবনে সাদ থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে শুরাহবিলের মাধ্যমে তাঁর থেকে। অতঃপর আহমাদ এটি হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, দাহহাক ইবনে...
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১০)
شرحبيل وهو عبد الله الغافقى عن زيد بن أسلم عن ابيه عن عمر قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ مرة مرة وهذا اسناد حسن حديث آخر قال الامام احمد حدثنا عبد الله بن يزيد حدثنا حيوة اخبرنا ابو عقيل زهرة بن معبد عن ابن عمة عن عقبة بن عامر انه خرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى غزوة تبوك فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم يحدث اصحابه فقال من قام اذا استقلت الشمس فتوضأ فأحسن الوضوء قم قام فصلى ركعتين خرج من ذنوبه كيوم ولدته امه قال عقبة ابن عامر فقلت الحمد لله الذى رزقنى ان اسمع هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمر بن الخطاب رضى الله عنه وكان تجاهى جالسا اتعجب من هذا وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أعجب من هذا قبل ان تأتى فقلت وماذاك بأبى انت وامى فقال عمر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من توضأ فأحسن الوضوء ثم رفع بصره او نظره الى السماء فقال اشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده ورسوله فتحت له ثمانية ابواب الجنة يدخل من ايها شاء
শুরাহবিল—যিনি হলেন আবদুল্লাহ আল-গাফেকি—যাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একবার একবার করে অজু করতে দেখেছি। এটি একটি হাসান সনদ। অন্য একটি হাদিস: ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হায়ওয়াহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আকিল জুহরাহ ইবনে মাবাদ তাঁর ফুফাতো ভাই থেকে, তিনি উকবাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুক যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। এরপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে তাঁর সাহাবীদের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন: "সূর্য যখন উপরে উঠে যায়, তখন যে ব্যক্তি উঠে উত্তমরূপে অজু করে, এরপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয় যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।" উকবাহ ইবনে আমির বলেন: তখন আমি বললাম, "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে এটি শোনার তৌফিক দান করেছেন।" তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), যিনি আমার সামনেই বসা ছিলেন, বললেন: "তুমি কি এতেই আশ্চর্য হচ্ছ? অথচ তোমার আসার আগে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়েও বিস্ময়কর কথা বলেছেন।" আমি বললাম: "আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, সেটি কী?" উমর বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে, এরপর আকাশের দিকে তার দৃষ্টি বা নজর উত্তোলন করে বলে—'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল'—তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়; সে এর মধ্যে যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১১)
وأخرجه ابو داود والنسائى من حديث حيوة بن شريح عن زهرة بن معبد به وقال على بن المدينى هذا حديث حسن ورواه أبو داود أيضا عن هارون بن عبد الله عن عبد الله يزيد وهو أبو عبد الرحمن المقريء عن سعيد بن ابى ايوب عن زهرة بن معبد وأخرحه مسلم فى صحيحه وابو داود والنسائى من طرق عن معاوية بن صالح عن ربيعة بن يزيد عن ابى ادريس الخولانى عن عقبة بن عامر قال معاوية بن صالح وحدثنى ابو عثمان وهو سعيد بن هانىء عن جبير بن نفير عن عقبة بن عامر عن عمر بن الخطاب به ولفظ مسلم قال عقبة كانت علينا رعاية الإبل فجاءت نوبتى فروحتها بعشى فأدركت رسول الله صلى الله عليه وسلم قائما يحدث الناس فأدركت من قوله ما من مسلم يتوضأ فيحسن وضوءه ثم يقوم فيصلى ركعتين مقبلا عليها بقبلة ووجهه الا وجبت له الجنة قال فقلت ما اجود هذا قائل بين يدى يقول التى قبلها اجود فنظرت فإذا عمر فقال انى قد رأيتك جئت آنفا قال ما منكم من احد يتوضأ فيبلغ او فيسبغ الوضوء ثم يقال اشهد ان لا اله الا الله وان محمدا عبدا رسوله الا فتحت له ابواب الجنة الثمانية يدخل من ايها شاء وقد رواه ابن ماجة عن علقمة بن عمرو الدارمى عن ابى بكر بن عياش عن ابى

এটি আবু দাউদ এবং নাসাঈ হাইওয়া বিন শুরাইহ-এর সূত্রে জুহরা বিন মা'বাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আলী বিন আল-মাদিনী বলেন, এটি একটি হাসান হাদিস। আবু দাউদ এটি হারুন বিন আব্দুল্লাহর সূত্রেও বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন ইয়াযীদ (যিনি আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি) থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, তিনি জুহরা বিন মা'বাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এবং আবু দাউদ ও নাসাঈ বিভিন্ন সূত্রে মুয়াবিয়া বিন সালেহ থেকে, তিনি রাবিয়া বিন ইয়াযীদ থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী থেকে এবং তিনি উকবা বিন আমের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মুয়াবিয়া বিন সালেহ বলেন, আমার কাছে আবু উসমান—যিনি সাঈদ বিন হানি—জুবায়ের বিন নুফাইর থেকে, তিনি উকবা বিন আমের থেকে এবং তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের বর্ণনা মতে, উকবা বলেন: আমাদের ওপর উট চড়ানোর দায়িত্ব ছিল। যখন আমার পালা এলো, আমি সন্ধ্যায় উটগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আসলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাঁড়িয়ে লোকদের উদ্দেশ্যে কথা বলতে দেখলাম। আমি তাঁর কথা থেকে এতটুকু শুনতে পেলাম: "যে কোনো মুসলিম সুন্দরভাবে ওযু করে, এরপর দাঁড়িয়ে একাগ্রচিত্তে ও মনেপ্রাণে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।" উকবা বলেন, আমি বললাম, "এটি কতই না চমৎকার!" তখন আমার সামনে থাকা একজন ব্যক্তি বললেন, "এর আগের কথাটি আরও চমৎকার ছিল।" আমি তাকিয়ে দেখলাম তিনি উমর। তিনি বললেন, "আমি দেখেছি তুমি মাত্রই এসেছ।" তিনি বললেন, "তোমাদের মধ্যে যে কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে বা উত্তমরূপে ওযু করে, এরপর বলে—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল—তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হয়, সে তার যেটি দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করতে পারবে।" ইবনে মাজাহ এটি আলকামা বিন আমর আদ-দারিমি থেকে, তিনি আবু বকর বিন আইয়াশ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১২)
إسحاق عن عبد الله بن عطاء عن عقبة بن عامر عن عمر بن الخطاب به وروى من طريق اخرى عن عمر فقال الترمذى حدثنا جعفر بن محمد بن عمران الثعلب الكوفى عن زيد بن الحباب عن معاوية بن صالح عن ربيعة بن يزيد الدمشقى عن ابى ادريس الخولانى وابى عثمان كلاهما عن عمر بن الخطاب به ثم قال فى اسناده اضطراب قال البخارى ابو ادريس لم يسمع من عمر شيئا قلت الظاهر انه قد سقط على بعض الرواة عقبة بن عامر فقد تقدم من رواية مسلم ذكر عقبة بينهما والله أعلم حديث آخر قال الإمام احمد حدثنا موسى بن داود حدثنا ابو لهيعة عن ابى الزبير عن جابر ان عمر بن الخطاب اخبره انه راى رجلا توضأ للصلاة فترك موضع ظفر على ظهر قدمه فأبصره النبى صلى الله عليه وسلم فقال ارجع فأحسن وضوءك فرجع فتوضأ ثم صلى ثم رواه أحمد عن حسن بن موسى عن ابن لهيعة حدثنا ابو الزبير عن جابر عن عمر به وأخرجه ابن ماجة عن حرملة عن ابن وهب وعن محمد بن حميد عن زيد بن الحباب كلاهما عن ابن لهيعة به وهذا اسناد جيد حسن من هذا الوجه لأن ابن لهيعة انما يخشى من تدليسه فإذا

ইসহাক বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে—এই সূত্রে। এটি উমর থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী বলেন, আমাদের কাছে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইমরান আস-সালাব আল-কুফি বর্ণনা করেছেন যায়িদ ইবনুল হুবাব থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি রাবিয়া ইবনে ইয়াযিদ আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি ও আবু উসমান থেকে—তাঁরা উভয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এর সনদে ইযতিরাব (অসংগতি) থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী বলেছেন, আবু ইদ্রিস উমর থেকে সরাসরি কিছুই শ্রবণ করেননি। আমি বলি, আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় কোনো কোনো বর্ণনাকারীর কাছ থেকে উকবা ইবনে আমিরের নাম বাদ পড়ে গেছে, কেননা মুসলিমের বর্ণনায় তাঁদের উভয়ের মাঝে উকবার উল্লেখ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

অন্য হাদিস: ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের কাছে মুসা ইবনে দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন সে সালাতের জন্য অজু করল কিন্তু তার পায়ের পাতার উপরিভাগে একটি নখের পরিমাণ জায়গা শুকনো রেখে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে বললেন, "ফিরে যাও এবং সুন্দরভাবে তোমার অজু সম্পন্ন করো।" অতঃপর সে ফিরে গিয়ে পুনরায় অজু করল এবং সালাত আদায় করল। এরপর ইমাম আহমাদ এটি হাসান ইবনে মুসা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে, তিনি উমর থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ এটি হারমালা থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ থেকে, তিনি যায়িদ ইবনুল হুবাব থেকে—তাঁরা উভয়ে ইবনে লাহিয়া থেকে এই সূত্রে উদ্ধৃত করেছেন। আর এই সনদটি এই দিক থেকে উত্তম ও হাসান, কারণ ইবনে লাহিয়ার ক্ষেত্রে কেবল তাঁর তাদলীসের ভয় করা হয়। সুতরাং যখন...

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৩)
صرح بالسماع كما ها هنا فقد زال المحذور وقد أخرجه مسلم فى صحيحة عن سلمة بن شبيب عن الحسن بن محمد بن اعين عن معقل بن عبيد الله عن ابى الزبير عن جابر عن عمر بمثله سواء حديث آخر عن يزيد بن هارون انه قال اخبرنا عمرو عن عمران بن مسلم عن سويد بن غفلة قال كنت عند عمر وعنده على رضى الله عنهما فقالا سمعنا رسول الله صلى الله وعليه وسلم يقول لا يحب على مسلم وضوء من طعام أحل الله له أكله هكذا رواه الحافظ أبو بكر الإسماعيلي في مسند عمر من مسند عمر من حديث يزيد بن هارون وذكرالبخاري في صحيحه أثرا معلقا في معناه فإنه قال اثر وأكل أبكر وعمر وعثمان رضي اله عنهم لحما فلم يتوضأ وروا هـ في سننه من حديث المغيرة بن شعلان عن الزارع بن نافع عن
এখানে শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ফলে আশঙ্কাটি দূরীভূত হয়েছে। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে সালামাহ বিন শাবীব থেকে, তিনি হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আয়ুন থেকে, তিনি মা’কিল বিন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি হাদীস ইয়াযীদ বিন হারুন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমরান বিন মুসলিম থেকে, তিনি সুওয়াইদ বিন গাফালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি উমর (রা.)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং তাঁর কাছে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-ও ছিলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ কোনো মুসলিমের জন্য যে খাদ্য হালাল করেছেন তা আহার করার কারণে ওযু করা আবশ্যক নয়। হাফিয আবু বকর আল-ইসমাঈলী তাঁর ‘মুসনাদে উমর’-এ ইয়াযীদ বিন হারুনের হাদীস থেকে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই একই মর্মার্থের একটি মুআল্লাক আসার উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেন যে, আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) গোশত খেয়েছিলেন এবং তাঁরা ওযু করেননি। আর তিনি এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে আল-মুগীরা বিন শা’লানের হাদীস থেকে, আল-যারি’ বিন নাফি’ থেকে...
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৪)
سالم عن ابن عمر عن عمر عن ابى بكر به وليس هذا الاسناد يساوى الصحيح الأول والله أعلم حديث آخر قال الحافظ ابو يعلى الموصلى فى مسنده حدثنا لالنضر يعنى ابن منصور حدثنا ابو الجنوب قال رأيت عليا رضى الله عنه يستقى ماء الوضوء فبادرته استقى له فقال مه يا ابا الجنوب فإنى رأيت عمر يستقى ماء لوضوء فبادرته أستقى له فقال مه يا ابا الحسن فإنى رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يستقى ماء لوضوء فبادرته استقى له فقال مه يا عمر فإنى اكره ان يشركنى فى طهورى احد النضر بن منصور الباهلى ضعفه عدول من الأءمة وشيخه ابو الجنوب عقبة بن علقمة ضعفة ابو حاتم الرازى فى المذى قال على بن حرب الشيبانى حدثنا سفيان هو ابن عيينة عن زيد بن أسلم سمعت ابى يقول سمعت عمر بن الخطاب على المنبر يقول انه يخرج من احدثنا مثل الجمانة وفى لفظ مثل الخريزة فإذا وجد أحدكم ذلك فليغسل ذكره وليتوضأ وضوءه للصلاة يعنى المذى اسناده صحيح ورواه مالك مرفوعا عن زيد من
সালেম ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর থেকে, তিনি আবু বকর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে এই সনদটি প্রথম সহীহ সনদের সমতুল্য নয়। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ। অন্য একটি হাদীস: হাফেয আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী তাঁর মুসনাদে বলেছেন, আমাদের নিকট আন-নাদর অর্থাৎ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবুল জানুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে ওযুর পানি সংগ্রহ করতে দেখলাম। তখন আমি তাঁর জন্য পানি সংগ্রহ করতে দ্রুত অগ্রসর হলাম। তখন তিনি বললেন, হে আবুল জানুব! থামো। কেননা আমি উমরকে ওযুর পানি সংগ্রহ করতে দেখেছিলাম এবং তাঁর জন্য পানি সংগ্রহ করতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, হে আবু হাসান! থামো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওযুর পানি সংগ্রহ করতে দেখেছিলাম এবং তাঁর জন্য পানি সংগ্রহ করতে দ্রুত অগ্রসর হয়েছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন, হে উমর! থামো। কারণ আমি অপছন্দ করি যে আমার পবিত্রতা অর্জনের কাজে অন্য কেউ অংশীদার হোক। নাদর ইবনে মানসুর আল-বাহিলীকে নির্ভরযোগ্য একদল ইমাম যঈফ বলেছেন। আর তাঁর উস্তাদ আবুল জানুব উকবা ইবনে আলকামা-কেও আবু হাতিম আর-রাযী মযী-এর বিষয়ে যঈফ বলেছেন। আলী ইবনে হারব আশ-শায়বানী বলেন, আমাদের নিকট সুফিয়ান (অর্থাৎ ইবনে উয়াইনা) বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, আমাদের কারো কারো থেকে মুক্তার দানার মতো (পদার্থ) নির্গত হয়; অন্য শব্দে: ছোট পুঁতির দানার মতো। তোমাদের কেউ যখন এমন কিছু দেখবে, তখন সে যেন তার লিঙ্গ ধুয়ে ফেলে এবং নামাযের ওযুর মতো ওযু করে। অর্থাৎ মযী। এর সনদ সহীহ। আর ইমাম মালেক এটি যায়েদ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৫)
اسلم اثر آخر فيه قال ابة غبيد حدثنا ابو معاوية عن الأعمش عن سليمان بن ضمرة عن خرشة بن الحر عن عمر أنه سئل عن المذى فقال هو الفطر وفيه الوضوء وقال ابو عبيد مأخوذ من فطرت الناقة أفطرها فطرا وهو الحلب بأطراف الأصابع فلا يخرج اللبن الا قليلا وكذلك يخرج المذى فأما المنى فإنه يخرج خذفا يقال امنى الرجل يمنى ويقال فى المنى امنيت بالألف لا اعرف منه غير ذلك اما المذى فيقال فيه امذى ومذى فيه لغتان مذيت وامذيت واما الموذى فهو ما يخرج من الذكر بعد البول ولم اسمع بأثر أسبق منه الا فى حديث يروى عن عائشة اثر عن عمر قال عبد الرزاق عن ابن عيينة عن يحيى بن سعيد عن ابى بكر بن محمد بن عمرو بن حرم عن عبد الله بن عبد الله بن عمر ان عاتكة ابنة زيد قبلت عمر بن الخطاب وهو صائم فلم ينهها قال وهو يريد الى الصلاة ثم مضى فصلى ولم يتوضأ صححه ابو عمر بن عبد البر فى الاستذكار

উমর (রা.) হতে বর্ণিত অন্য একটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা রয়েছে যেখানে আবু উবাইদ বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আ'মাশ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি খারাশাহ ইবনুল হার থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে মাযী (যৌন উত্তেজনার সময় নির্গত পাতলা তরল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'এটি হলো ফিতর এবং এতে ওজু করা আবশ্যক।' আবু উবাইদ বলেন, শব্দটি উটনীর দুধ দোহন (ফাতরাতুন্নাকাহ) থেকে গৃহীত; আমি তার দুধ 'ফাতরান' পদ্ধতিতে দোহন করেছি। আর এটি হলো আঙুলের ডগা দিয়ে দোহন করা, যার ফলে সামান্য পরিমাণ দুধ নির্গত হয়। মাযীও একইভাবে অল্প পরিমাণে নির্গত হয়। পক্ষান্তরে মনি (বীর্য) বেগে নির্গত হয়। বলা হয়ে থাকে 'আমনাল রাজুলু ইউমনি' (ব্যক্তিটি বীর্যপাত করেছে)। মনির ক্ষেত্রে 'আমনাইতু' (আলিফ যোগে) বলা হয়; এছাড়া অন্য কোনো রূপ আমার জানা নেই। তবে মাযীর ক্ষেত্রে 'আমযা' এবং 'মাযা'—উভয় রূপই প্রচলিত। এতে দুটি ভাষাগত প্রয়োগ রয়েছে: 'মাযাইতু' এবং 'আমযাইতু'। আর 'মাওযী' হলো তা, যা প্রস্রাবের পর লিঙ্গ হতে নির্গত হয়। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত একটি হাদিস ব্যতীত এর চেয়ে প্রাচীন কোনো বর্ণনা আমার শ্রুতিগোচর হয়নি। উমর (রা.) হতে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনা: আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন ইবনে উয়াইনাহ হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হতে, তিনি আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেন যে, আতিকা বিনতে যায়েদ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে চুম্বন করলেন এমতাবস্থায় যে তিনি রোজা ছিলেন, কিন্তু উমর (রা.) তাকে নিষেধ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তখন নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন; অতঃপর তিনি চলে গেলেন এবং নামাজ আদায় করলেন কিন্তু ওজু করেননি। আবু উমর ইবনে আবদিল বার তাঁর 'আল-ইসতিযকার' গ্রন্থে একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৬)
اثر وقال ابو القاسم البغوى حدثنا الحكم بن موسى حدثنا يحيى بن حمزة عن زيد بن واقد حدثنى بسر بن عبيد الله قال كانت تحت عمر بن الخطاب امرأة تسمى عاصية فسماها رسول الله صلى الله عليه وسلم جميلة وكانت امرأة جميلة وكان عمر يحبها فكان اذا خرج الي صلاة مشت معه من فراشها الى الباب فإذا اراد الخروج قبلته ثم مضى ورجعت الى فراشها وهذا اسناد رجاله كلهم ثقات الا ان بسرا لم يدرك ايام عمر ومن زوجات امير المؤمنين عمر جميلة بنت ثابت بن ابى الأقلح الأنصارى أخت عاصم امير سرية الرجيع وهى ام عاصم بن عمر فلعلهاهذه والله أعلم ثم قال واسم ام عاصمة عاصية فسماها رسول الله صلى الله وعليه وسلم جميلة هذه صحيح وقد رواه اسد بن مرسى عن قيس بن الزمع عن ابن سيرين عن عمر فذكره وهذا يقتضى ان عمر كان لا يدرى القبلة ناقضة للوضوء

বর্ণনা। আবুল কাসেম আল-বাগাভী বলেছেন, আল-হাকাম ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে হামজা যাইদ ইবনে ওয়াকিদ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, বুসর ইবনে উবাইদুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের বিবাহে জনৈক নারী ছিলেন যার নাম ছিল আসিয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম পরিবর্তন করে জামীলা রাখেন। তিনি একজন সুন্দরী নারী ছিলেন এবং উমর তাঁকে ভালোবাসতেন। উমর যখন সালাতের উদ্দেশ্যে বের হতেন, তখন তিনি (স্ত্রী) তাঁর বিছানা থেকে দরজা পর্যন্ত তাঁর সাথে হেঁটে আসতেন। যখন উমর বের হতে চাইতেন, তখন তিনি তাঁকে চুম্বন করতেন; অতঃপর উমর চলে যেতেন এবং তিনি তাঁর বিছানায় ফিরে আসতেন। এই সনদের বর্ণনাকারীরা সকলেই নির্ভরযোগ্য, তবে বুসর উমরের যুগ পাননি। আমিরুল মুমিনীন উমরের স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন জামীলা বিনতে সাবিত ইবনে আবিল আকলাহ আল-আনসারী, যিনি রাজী’র যুদ্ধের সেনাপতি আসিমের বোন এবং তিনি আসিম ইবনে উমরের মাতা। সম্ভবত এটিই সেই নারী, আল্লাহ-ই ভালো জানেন। এরপর তিনি বলেন, আসিমের মায়ের নাম ছিল আসিয়া, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম রেখেছিলেন জামীলা—এটি সহীহ। আসাদ ইবনে মুসা এটি কায়স ইবনে যামআ থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে এবং তিনি উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি একথাই দাবি করে যে, উমর জানতেন না যে চুম্বন ওজু ভঙ্গকারী।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৭)
ولكن قد روى الدراقطنى عنه ما يقتضى خلاف هذا فقال اثر حدثنا القاضى الحسين بن اسماعيل حدثنا عبد الله بن شبيب حدثنا يحيى إبن ابراهيم بن ابى قتيلة حدثنى عبد العزيز بن محمد عن محمد بن عبد الله بن عمرو بن عثمان عن الزهرى عن سالم عن ابن عمر ان عمر بن الخطاب قال ان القبلة من اللمس فتوضأوا منها وهذا بهذا الاسناد لا يثبت لأن عبد الله بن شبيب ضعفة الحافظ ابو احمد الحاكم وابن حبان وابن عدى قال فضلك الرازى يحل ضرب عنقه ومع هذا فقد رواه الإمام مالك وعبيد الله العمرى وعبد الرزاق عن معمر كلهم عن الزهرى عن سالم عن ابن عمر فذكره وهذا أصح وقال ابو بكر بن ابى شيبة حدثنا هشيم وحفص عن الأعمش عن ابراهيم عن ابى عبيدة قال قال عبد الله القبلة من اللمس وفيها الوضوء حديث آخر قال الامام أحمد حدثنا قتيبة بن سعيد حدثنا ابن لهيعة عن ابى النضر عن ابى سلمة عن ابن عمر انه قال رأيت سعد بن ابى وقاص يمسح على خفيه بالعراق حين يتوضأ فأنكرت ذلك عليه قال فلما رجعنا عند عمر قال لى سل اباك عما أنكرت على من مسح الخفين قال فذكرت ذلك له فقال اذا حدثك سعد بشيء فلا ترد عليه فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يمسح على الخفين
কিন্তু দারাকুতনী তাঁর থেকে এমন বর্ণনা করেছেন যা এর বিপরীত সাব্যস্ত করে। তিনি একটি আসার উল্লেখ করে বলেন: আল-কাজী আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল্লাহ ইবনে শাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবি কুতায়লা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আমাকে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে উসমান থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: "নিশ্চয়ই চুম্বন করা স্পর্শ করার অন্তর্ভুক্ত, তাই তোমরা এর কারণে অজু করো।" আর এই বর্ণনাটি এই সনদে সাব্যস্ত নয়; কেননা হাফেজ আবু আহমদ আল-হাকিম, ইবনে হিব্বান এবং ইবনে আদি আবদুল্লাহ ইবনে শাবিবকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। ফাযলাক আল-রাজি বলেছেন যে, তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়া বৈধ। তবে এটি ইমাম মালিক, উবাইদুল্লাহ আল-উমারি এবং আবদুর রাজ্জাক মা'মার থেকে, তাঁরা সকলে যুহরী থেকে, তিনি সালিম থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই অধিকতর সহীহ। আবু বকর ইবনে আবি শায়বা বলেন, হুশাইম এবং হাফস আমাদের নিকট আ'মাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি আবু উবাইদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন, "চুম্বন করা স্পর্শ করার অন্তর্ভুক্ত এবং এতে অজু রয়েছে।" অন্য একটি হাদিস: ইমাম আহমাদ বলেন, কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে লাহিয়া আমাদের নিকট আবুল নাদর থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসকে ইরাকে অজু করার সময় তাঁর মোজার ওপর মাসাহ করতে দেখেছি, তখন আমি তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ করলাম। তিনি বলেন: অতঃপর যখন আমরা উমরের নিকট ফিরে এলাম, তখন তিনি (সা'দ) আমাকে বললেন, 'তুমি মোজার ওপর মাসাহ করার যে প্রতিবাদ করেছ, সে সম্পর্কে তোমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করো।' তিনি বলেন, আমি উমরের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলাম। তখন তিনি বললেন: "সা'দ যখন তোমাকে কোনো কিছুর সংবাদ দেয়, তখন তা প্রত্যাখ্যান করো না; কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোজার ওপর মাসাহ করতেন।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৮)
هذا الحديث جيد الاسناد محفوظ من حديث ابى النضر سالم مولى ابى امية المدينى احد الائمة الثقات فقد رواه عبد الله بن احمد عن هارون بن معروف عن ابن وهب عن عمرو بن الحارث عن ابى النضر به ولهذا الحديث طرق اخر عن عمر رضى الله عنه فمنها قال الامام احمد حدثنا عبد الرزاق انبأنا عبيد الله بن عمر عن نافع قال راى ابن عمر سعد بن مالك يمسح علي خفيه فأنكره عليه حتى اجتمعنا عند عمر فذكره قال نافع فكان ابن عمر يسمح علي الخفين مالم يخلعهما ولم يوقت لذلك وقتا قال عبد الرزاق فحدثت به معمرا فقال حدثيه ايوب عن نافع مثله قلت هذا ظاهره انه منقطع وهو فى المعنى متصل لأن نافعا انما سمعه من ابن عمر وهكذا وقع فى رواية ابن ماجه فإنه قال حدثنا عمران بن موسى الليثى حدثنا محمد بن سواء حدثنا سعيد بن ابى عروبة عن ايوب عن نافع عن ابن عمر انه راى سعد بن مالك يمسح على الخفين فقال انكم لتفعلون ذلك فاجتمعنا عند عمر فقال سعد لعمر افت بن اخى فى المسح على الخفين فقال عمر كنا مع النبى صلى الله عليه وسلم نمسح خفافنا لا نرى بذلك بأسا فقال ابن عمر وان جاء من الغائط قال نعم

এই হাদীসটির সনদ উত্তম এবং এটি বিশ্বস্ত ইমামদের অন্যতম আবু আন-নযর সালিম মাওলা আবু উমাইয়াহ আল-মাদীনীর হাদীস থেকে সংরক্ষিত। আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ এটি হারুন ইবনে মা'রুফ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি আমর ইবনুল হারিস থেকে এবং তিনি আবু আন-নযর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটির ওমর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আরও অন্যান্য সূত্র রয়েছে। এর মধ্যে ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমাদের কাছে আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর নাফে' থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনে ওমর সা'দ ইবনে মালিককে তার চামড়ার মোজার (খুফ) ওপর মাসেহ করতে দেখে তার প্রতি অসম্মতি প্রকাশ করলেন। পরিশেষে আমরা ওমরের নিকট একত্রিত হলাম এবং তিনি বিষয়টি আলোচনা করলেন। নাফে' বলেন: এরপর ইবনে ওমর মোজা না খোলা পর্যন্ত তার ওপর মাসেহ করতেন এবং এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতেন না। আবদুর রাজ্জাক বলেন: আমি এটি মা'মারকে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আইয়ুব নাফে' থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি বলছি: এটি বাহ্যিকভাবে বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি') মনে হলেও অর্থের দিক থেকে সংযুক্ত (মুত্তাসিল), কারণ নাফে' এটি সরাসরি ইবনে ওমর থেকেই শুনেছেন। ইবনে মাজাহর বর্ণনাতেও অনুরূপ এসেছে। তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে ইমরান ইবনে মুসা আল-লায়সী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে সাওয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে সাঈদ ইবনে আবু আরুবাহ আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সা'দ ইবনে মালিককে মোজার ওপর মাসেহ করতে দেখলেন এবং বললেন, "আপনারা কি এটি করেন?" এরপর আমরা ওমরের নিকট সমবেত হলাম। সা'দ ওমরকে বললেন, "আপনার ভাতিজাকে মোজার ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে ফতোয়া দিন।" তখন ওমর বললেন, "আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আমাদের মোজার ওপর মাসেহ করতাম এবং এতে কোনো দোষ মনে করতাম না।" ইবনে ওমর বললেন, "মলত্যাগ করে আসলেও কি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ"‌।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১১৯)
طريق اخرى قال الامام احمد حدثنا عثمان حدثنا خالد عن زيد بن ابى زياد عن عاصم بن عبيد الله عن ابيه عن جده عن عمر قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الحدث توضأ ومسح على الخفين وقال ايضا حدثنا وكيع عن حسن بن صالح عن عاصم بن عبيد الله عن سالم عن ابن عمر قال قال عمر رضى الله عنه رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم يمسح على خفيه فى السفر اسناد جيد طريق اخرى قال ابو يعلى الموصلى حدثنا ابو كريب حدثنا زيد بن الحباب حدثنا خالد بن ابى بكر بن عبيد الله العمرى حدثنا سالم عن ابن عمر عن عمر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمرنا بالمسح على الخفين للمسافر ثلاثة ايام ولياليهن وللمقيم يوم وليلة قال الإمام على بن المدينى لم يرفع هذا الحديث الا شيخ ضعيف يقال له خالد ابن ابى بكر بن عبيد الله فقد رواه سالم ونافع وعبد الله بن دينار وابو سلمة فلم يرفعوه

অন্য একটি সূত্র। ইমাম আহমাদ বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান, তিনি বর্ণনা করেছেন খালিদ থেকে, তিনি যায়িদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি আসিম বিন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অপবিত্রতা অর্জনের পর ওযু করতে এবং মোজার ওপর মাসাহ করতে দেখেছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়াকি, তিনি হাসান বিন সালিহ থেকে, তিনি আসিম বিন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি সালিম থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, উমর (রা.) বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সফরে থাকাকালীন তাঁর মোজার ওপর মাসাহ করতে দেখেছি। এর সনদটি উত্তম।

অন্য একটি সূত্র। আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন আল-হুবাব থেকে, তিনি খালিদ বিন আবি বকর বিন উবায়দুল্লাহ আল-উমরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আমাদের আদেশ করতে শুনেছি যে, মুসাফির ব্যক্তি তিন দিন তিন রাত এবং মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) এক দিন এক রাত মোজার ওপর মাসাহ করবে।

ইমাম আলী ইবনুল মাদিনি বলেন, খালিদ বিন আবি বকর বিন উবায়দুল্লাহ নামক একজন দুর্বল শায়খ ছাড়া অন্য কেউ এই হাদীসটিকে মারফূ হিসেবে (রাসূলুল্লাহর বাণী হিসেবে) বর্ণনা করেননি। কেননা সালিম, নাফি, আবদুল্লাহ বিন দিনার এবং আবু সালামাহ এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা একে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেননি।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২০)
وقال الدارقطنى ليس هذا الحديث بالقوى قلت انما ينكر من هذا الحديث ذكر التوقيت فيه والا فأصله محفوظ ثم ان المحفوظ عن عمر رضى الله عنه عدم التوقيت فى مسح الخفين كما رواه الدار قطنى سننه حدثنا ابو بكر النيسابورى حدثنا يونس بن عبد الأعلى اخبرنا ابن وهب اخبرنى حيوة سمعت يزيد بن ابى حبيب حدثنى الحكم بن عبد الله البلوى عن على بن ربا حان عقبة بن عامر حدثه انه قدم على عمر بفتح دمشق قال وعلى خفان فقال ياعقبة منذ كم لم تنزع خفيك فذكرت من الجمعة الى الجمعة فقلت منذ ثمانية ايام فقال احسنت واصبت السنة ورواه ابن ماجة من حديث ابى عاصم عن حيوة بن شريح عن يزيد بن ابى حبيب عن الحكم بن عبد الله البلوى عن على بن رباح عن عقبة عن عمر به وكذا رواه موسى بن على عن ابيه وقال يحيى بن ايوب عن يزيد عن على بن رباح لم يذكر الحكم بن عبد الله وكلهم قالوا اصبت السنة وقال عمرو بن الحارث ويحيى بن ايوب والليثى بن سعد عن يزيد بن ابى حبيب عن الحكم بن عبد الله عن على بن رباح عن عقبة عن عمر انه قال اصبت ولم يقولوا السنة قال الدراقطنى وهو المحفوظ قلت هذا مذهب طائفة من العلماء عدم توقيت المسح وهو المشهور عن مالك وقول قديم للشافعى وكل الجمهور على التوقيت ورخص بعهم فى عدم التوقيت فى السير الجاد كما فعل عقبة بن عامر واستوصبه عمر رضى الله عنه وان صح قوله اصبت السنة كان فى حكم المرفوع عند جمهور الأصوليين وغيرهم

দারাকুতনী বলেন, এই হাদীসটি শক্তিশালী নয়। আমি বলি, এই হাদীসের মধ্যে কেবল সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিই অস্বীকৃত, অন্যথায় এর মূল বিষয়টি সংরক্ষিত। অতঃপর, ওমর (রা.) থেকে যা সংরক্ষিত আছে তা হলো মোজার ওপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে কোনো সময়সীমা না থাকা, যেমনটি দারাকুতনী তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আবু বকর আন-নিশাপুরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস বিন আব্দুল আলা বর্ণনা করেছেন, ইবনুল ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাইওয়াহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে শুনেছেন, তিনি বলেন আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আল-বালাউই আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন রাবাহ থেকে যে, উকবা বিন আমের তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি দামেস্ক বিজয়ের সংবাদ নিয়ে ওমরের নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি বললেন, আমার পায়ে তখন দুটি মোজা ছিল। তিনি (ওমর) বললেন, হে উকবা! তুমি কতদিন যাবত তোমার মোজা দু’টি খুলোনি? আমি জুম্মা থেকে জুম্মা পর্যন্ত উল্লেখ করলাম এবং বললাম যে আট দিন যাবত। তিনি (ওমর) বললেন, তুমি উত্তম কাজ করেছ এবং সুন্নাহর সঠিক পথ লাভ করেছ। ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন আবু আসেমের সূত্রে, তিনি হাইওয়াহ বিন শুরাইহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে, তিনি আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ আল-বালাউই থেকে, তিনি আলী বিন রাবাহ থেকে, তিনি উকবা থেকে এবং তিনি ওমরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে মুসা বিন আলী তাঁর পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি আলী বিন রাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহর নাম উল্লেখ করেননি। তাঁরা সকলেই বলেছেন, "তুমি সুন্নাহর সঠিক পথ লাভ করেছ।" আমর ইবনুল হারিস, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব এবং লাইস বিন সাদ ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে, তিনি আল-হাকাম বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আলী বিন রাবাহ থেকে, তিনি উকবা থেকে এবং তিনি ওমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছিলেন, "তুমি সঠিক কাজ করেছ", কিন্তু তাঁরা "সুন্নাহ" শব্দটি বলেননি। দারাকুতনী বলেন, এটিই সংরক্ষিত। আমি বলি, এটি আলেমদের একটি দলের মাযহাব যে মোজার ওপর মাসেহ করার কোনো সময়সীমা নেই। এটি মালিকের প্রসিদ্ধ মত এবং শাফেয়ীর একটি পুরাতন মত। জুমহুর (অধিকাংশ) আলেম সময়সীমা নির্ধারণের পক্ষে। তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কঠিন সফরের সময় সময়সীমা না মানার অনুমতি দিয়েছেন, যেমনটি উকবা বিন আমের করেছিলেন এবং ওমর (রা.) সেটিকে সঠিক বলে গণ্য করেছিলেন। আর যদি তাঁর "তুমি সুন্নাহর সঠিক পথ লাভ করেছ" কথাটি সহীহ হয়ে থাকে, তবে তা অধিকাংশ উসুলবিদ এবং অন্যদের নিকট মারফু হাদীসের হুকুমে গণ্য হবে।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২১)
وله شاهد ايضا من حديث ابى بن عمارة رضى الله عنه كما سيأتى عند ابى داود وابن ماجة وان كان فى اسناده غرابة ورواه ايضا عن ابى بكر النيسابورى عن سليمان بن شعيب عن بشر بن بكر عن موسى بن على عن ابيه عن عقبة به وقال فيه اصبت السنة ثم قال وقد قال ابو بكر النيسابورى هذا حديث غيره قال الدارقطنى وهو صحيح الأسناد حديث اخر قال الحافظ ابو بكر احمد بن عمر بن عبد الخالق البزار حدثنا الحسين بن مهدى حدثنا عبد الرزاق عن معمر عن عبد الكريم عن نافع عن ابن عمر عن عمر قال رآنى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابول قائما فقال مه فقال عمر فما عدت لها بعد ورواه ابن ماجه عن محمد بن يحيى الذهلى عن عبد الرزاق به ولفظه قال رآنى رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا ابول قائما فقال يا عمر لاتبل قائما فما بلت قائما بعد وقال الترمذى عبد الكريم بن ابى المخارق ابو امية هذا ضعيف عند اهل الحديث قال وروى عبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال قال عمر اثر ما بلت قائما منذ اسلمت وهذا اصح كذا قال اثر وقد قال الحافظ ابو بكر الاسماعيلى حدثنا احمد بن ابراههيم الشلا ثائى حدثنا ابراهيم بن بشار حدثنا سفيان حدثنا الزهيرى عن سالم عن ابيه
উবাই ইবন আম্মারাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস থেকে এর একটি সাক্ষ্য (শাহিদ) রয়েছে, যেমনটি সামনে আবু দাউদ ও ইবন মাজাহ-এর নিকট আসবে, যদিও এর সনদে কিছুটা বিরলতা (গারাবাহ) রয়েছে। এবং তিনি এটি আবু বকর আন-নিশাপুরী থেকে, তিনি সুলাইমান ইবন শুআইব থেকে, তিনি বিশর ইবন বকর থেকে, তিনি মুসা ইবন আলী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উকবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এতে তিনি বলেছেন, "তুমি সুন্নাহ প্রাপ্ত হয়েছ (সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করেছ)।" অতঃপর তিনি বলেন, আবু বকর আন-নিশাপুরী বলেছেন, এটি একটি ভিন্ন হাদীস। আদ-দারাকুতনী বলেছেন, এটি সহীহ সনদের হাদীস। অন্য একটি হাদীস: হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবন উমর ইবন আব্দুল খালিক আল-বাযযার বলেন, হুসাইন ইবন মাহদী আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি আব্দুল কারীম থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে, তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (উমর) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন, "থামো।" উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, এরপর আমি আর কখনো এমনটি করিনি। ইবন মাজাহ এটি মুহাম্মদ ইবন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী থেকে, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দগুলো হলো: তিনি (উমর) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখলেন, তখন তিনি বললেন, "হে উমর! দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না।" এরপর আমি আর কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এই আব্দুল কারীম ইবন আবিল মুখারিক আবু উমাইয়াহ হাদীস বিশারদদের নিকট দুর্বল। তিনি আরও বলেন, উবায়দুল্লাহ নাফে’ থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, "আমি যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি, তখন থেকে আর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি।" আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ। তিনি এভাবেই একে একটি 'আসার' (বর্ণনা) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ আবু বকর আল-ইসমাঈলী বলেন, আহমাদ ইবন ইব্রাহিম আশ-শালাসাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবন বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আয-যুহরী সালিম থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২২)
أن عمر انى سباطة قوم فبال قائما ففرج حتى وجمته وهذا الاسناد جيد قوى اثر طريق اخرى قال عبد الرزاق عن ابن عيينة عن الأعمش عن زيد بن وهب قال رأيت عمر بن الخطاب يبول قائما ففرج حتى رحمته وهذا ايضا صحيح اثر اخر قال عبد الرزاق عن ابن عيينة عن مطرف عن سعيد بن عمر بن سعيد قال قال عمر بن الخطاب البول قائما احصن للدين قال واحسبه قال والبول جالسا ارخى للدبر رواهما ابو بكر بن زياد اليسابورى عن اسحاق بن مسعود عن عبد الرزاق وقد روى البول قائما عن على وابن عمر وزيد بن ثابت وروى عن حذيفة ان النبى صلى الله عليه وسلم أئى سباطة بنى فلان فبال قائما فتنحيت فدعا بماء فتوضأ ومسح على خفيه

নিশ্চয়ই উমর (রা.) এক গোত্রের আস্তাকুঁড়ে আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। তিনি (পা দুটি) এতখানি প্রশস্ত করেছিলেন যে আমি তাতে ব্যথিত হলাম। এই সনদটি উৎকৃষ্ট ও শক্তিশালী। অপর একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন ইবনে উয়াইনাহ থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি যায়দ ইবনে ওয়াহাব থেকে; তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাবকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখেছি, এমতাবস্থায় তিনি পা দুটি এত প্রশস্ত করেছিলেন যে আমি তার প্রতি দয়াপরবশ হলাম। এটিও সহীহ। অন্য একটি বর্ণনায় আবদুর রাজ্জাক ইবনে উয়াইনাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে উমর ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা দ্বীনের (পবিত্রতা রক্ষায়) জন্য অধিক সুরক্ষামূলক। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি আরও বলেছিলেন: আর বসে প্রস্রাব করা মলদ্বারকে অধিক শিথিল করে। এই উভয় বর্ণনা আবু বকর বিন যিয়াদ আল-নিসাবুরি বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মাসউদ থেকে, তিনি আবদুর রাজ্জাক থেকে। দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বিষয়টি আলী, ইবনে উমর এবং যায়দ বিন সাবিত (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি গোত্রের আস্তাকুঁড়ে আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। আমি দূরে সরে গেলে তিনি পানি চাইলেন, এরপর ওযু করলেন এবং নিজের মোজা দুটির ওপর মাসাহ করলেন।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৩)
اثر اخر حدثنا ابو عبيد فى كتابه الغريب حدثنا ابن علية عن ايوب عن ابن سيرين عن عمر انه خرج من الخلاء فدعا بطعام فقيل له الا تتوضأ فقال لولا التنطس ما بالبيت ان لا اغسل يدى فسئل ابن علية عن التنطس فقال هو التقذر وقال الأصمعى وهو المبالغة فى الطهور وكل من أدق النظرفى الامور واستقصى عليها فهو متنطس ومنه قيل طبيب نطاسي ونطيس
অপর একটি বর্ণনা: আবু উবাইদ তার ‘আল-গারিব’ গ্রন্থে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উলাইয়্যাহ আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শৌচাগার থেকে বের হয়ে খাবার চাইলেন। তখন তাকে বলা হলো, "আপনি কি ওযু করবেন না?" তিনি বললেন, "যদি ‘তানাত্তুস’ (অতি-সূক্ষ্মতা) না থাকত, তবে হাত ধৌত না করাতেও আমি কোনো পরোয়া করতাম না।" অতঃপর ইবনে উলাইয়্যাহকে ‘তানাত্তুস’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "এটি হলো অপবিত্রতা বা নোংরামি নিয়ে অতি-সতর্ক হওয়া।" আল-আসমাঈ বলেন, "এটি হলো পবিত্রতা অর্জনে বাড়াবাড়ি করা।" মূলত যে ব্যক্তিই কোনো বিষয়ের অতি-সূক্ষ্ম বিচার করে এবং এর শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান করে, তাকেই ‘মুতানাত্তিস’ বলা হয়। আর এ থেকেই বিজ্ঞ চিকিৎসককে ‘নাতাসি’ এবং ‘নাতিস’ বলা হয়।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৪)
اثر اخر قال ابو القاسم البغوى حدثنا هدبة حدثنا حماد بن سلمة عن ايوب عن محمد بن سيرين ان عمر بن الخطاب خرج من الخلاء فقرأ القرآن فقال له اتؤمهم يا امير المؤمنين اتقرأ وانت غير طاهر فقال له مسيلمة امرك بهذا اسناد جيد وفيه انقطاع اثر اخر فى الاستطابة بالماء قال عبد الرزاق عن معمر عن الزهرى ان عمر بن الخطاب اتى الغائط وهو فى بصرى ثم استطاب بالماء بين راحلتين فجعل اصحاب الرسول الله صلى الله عليه وسلم يضحكون ويقولون توضأ كما تتوضأ المرأة هذا منقطع بل منفصل بين الزهرى وعمر وانما انكروا من ذلك ضرورة لأنهم كان يغلب عليهم لاسيما بالحج ولا سيما فى الأسفار والا فقد بينت السنة بذلك فى غير ماسفر عن انس وغيره اثر اخر قال عبد الرزاق عن عبد الله بن كثير عن شعبة عن الحكم عن عبد الرحمن ابن ابى ليلى قال كان عمر بن الخطاب يبول ثم يمسح ذكره بحجر او بغيره فإذا توضأ لم يمس ذكره بالماء

অন্য একটি বর্ণনা। আবুল কাসেম আল-বাগাওয়ী বলেছেন, হুদবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আইয়ুব থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব শৌচাগার থেকে বের হয়ে কুরআন পাঠ করলেন। তখন তাকে এক ব্যক্তি বলল, হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি কি তাদের ইমামতি করবেন? আপনি কি অপবিত্র অবস্থায় (অযুহীন অবস্থায়) কুরআন পাঠ করছেন? তিনি তাকে বললেন, মুসায়লিমা কি তোমাকে এই আদেশ দিয়েছে? এর সনদ উত্তম, তবে এতে ইনকিতা (সূত্রবিচ্ছিন্নতা) রয়েছে।

পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কিত অন্য একটি বর্ণনা। আবদুর রাজ্জাক মা'মার থেকে এবং তিনি জুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব যখন বুসরা নামক স্থানে ছিলেন তখন তিনি মলত্যাগ করতে গেলেন, অতঃপর তিনি দুই উটের মাঝখানে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করলেন। এতে রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীগণ হাসতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, আপনি নারীদের মতো পবিত্রতা অর্জন করছেন। এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), বরং জুহরী এবং উমরের মাঝে এটি মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন)। তারা এটি কেবল অভ্যাসের কারণে অদ্ভুত মনে করেছিলেন, কারণ তাদের নিকট এটিই (পাথর ব্যবহার) প্রধান রীতি ছিল, বিশেষ করে হজের সময় এবং বিশেষ করে সফরের সময়। অন্যথায়, আনাস ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত একাধিক সফরে সুন্নাহর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে।

অন্য একটি বর্ণনা। আবদুর রাজ্জাক আবদুল্লাহ ইবনে কাসীর থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আল-হাকাম থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব প্রস্রাব করতেন, অতঃপর পাথর বা অন্য কিছু দিয়ে তাঁর অঙ্গ মুছে নিতেন; এরপর যখন তিনি অযু করতেন, তখন পুনরায় সেখানে পানি স্পর্শ করাতেন না।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৫)
هذا الاثر جيد الاسناد مع ان فيه انقطاع والله اعلم وقد روى مثله عن انس وليس فيه نزاع حديث اخر قال الامام احمد حدثنا يعقوب حدثنا ابى عن ابن اسحاق حدثنى نافع عن عبد الله بن عمر عن ابيه قال سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم كيف يصنع احدنا اذا هو اجنب ثم اراد ان ينام قبل ان يغتسل قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ليتوضأ وضوءه للصلاة ثم لينم ثم رواه احمد عن عبيدة بن حميد عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر عن عمر قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم ايرقد الرجل اذا اجنب قال نعم اذا توضأ وكذا رواه مسلم والترمذى والنسائى من حديث ايوب كلاهما عن نافع به قال الترمذى وهو احسن واصح طريق

طريق اخرىقال أحمد حدثنا سفيان عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر عن عمر أنه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم اينام احدنا وهو جنب قال يتوضأ وينام ان شاء وقال سفيان مرة ليتوضأ ولينم
এই আছরটির সনদ উত্তম, যদিও এতে সূত্রবিচ্ছিন্নতা রয়েছে এবং আল্লাহ-ই ভালো জানেন। আনাস (রা.) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এতে কোনো বিরোধ নেই। অন্য একটি হাদিস: ইমাম আহমাদ বলেন, ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (উমর) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অপবিত্র হয়, অতঃপর গোসল করার পূর্বেই ঘুমানোর ইচ্ছা করে, তখন সে কী করবে? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে যেন নামাজের ওজুর ন্যায় ওজু করে এবং এরপর ঘুমিয়ে পড়ে। এরপর আহমাদ এটি উবাইদাহ বিন হুমাইদ থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোনো ব্যক্তি কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যখন সে ওজু করে নেয়। একইভাবে মুসলিম, তিরমিজি ও নাসায়ি আইয়ুবের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ই নাফে‘ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেন, এটিই অধিক উত্তম ও বিশুদ্ধতম সূত্র।

অন্য একটি সূত্র: আহমাদ বলেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি বললেন: সে ওজু করবে এবং চাইলে ঘুমাবে। সুফিয়ান একবার বলেছেন: সে যেন ওজু করে এবং ঘুমিয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৬)
اسناد صحيح ورواه احمد ايا عن محمد بن عبد الله الزبيرى عن سفيان عن عبد الله بن دينار به قال النسائى حدثنا هلال بن العلاء عن معلى بن اسد عن ايوب عن ابى قلابة عبد الله بن زيد الجرمى البصرى عن عمر انه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم اينام أحدنا وهو جنب الحديث وهذا منقطع فإن ابا قلابة لم يرولعمر رضى الله عنه طريق اخرى ورواه النسائى من حديث الاوزاعى عن يحيى عن ابى سلمة عن ابن عمر عن عمر فذكره طريق اخرى قال النسائى حدثنا محمد بن عبد الله بن المبارك المخرمى عن قراد ابى نوح عن مالك عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر عن عمر انه سأل النبى صلى الله عليه وسلم اينام احدنا وهو جنب فقال اغسل ذكرك ثم توضأ ونم هكذا رواه من حديث مالك وقد رواه جماعة عن مالك عن عبد الله بن دينار

সনদটি সহীহ। এটি আহমদও বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আজ-যুবাইরী থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে এই একই সূত্রে। নাসায়ী বলেন, আমাদের নিকট হিলাল ইবনুল আলা বর্ণনা করেছেন মুয়াল্লা বিন আসাদ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ আল-জারমি আল-বাসরি থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আমাদের কেউ কি অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় ঘুমাতে পারে?"—পুরো হাদিস। আর এটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি); কারণ আবু কিলাবা উমর (রা.) থেকে সরাসরি বর্ণনা করেননি। অন্য একটি সূত্র: নাসায়ী এটি আওযায়ী-এর সূত্রে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তা উল্লেখ করেছেন। অন্য আরেকটি সূত্র: নাসায়ী বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক আল-মাখরামি বর্ণনা করেছেন কুরাদ আবু নূহ থেকে, তিনি ইমাম মালিক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: "আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে?" তিনি বললেন: "তোমার লজ্জাস্থান ধৌত করো, এরপর অজু করো এবং ঘুমাও।" ইমাম মালিকের হাদিস থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে এবং একদল বর্ণনাকারী এটি মালিক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৭)
عن ابن عمر فجعلوه من مسنده كما سيأتى بيانه وكذا رواه الدارمى عن عبيد الله بن موسى عن سفيان عن عبد الله بن دينار وكذلك هو فى الصحيح من حديث الليث وعبيد الله عن نافع عن ابن عمر من مسنده وقد تكلم الإمام على بن المدينى فى علله فى كونه من مسند عبد الله بن عمر او ابيه كلاما طويلا والأمر فى ذلك سهل ولعل عبد الله بن عمر سمع اباه سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك فتارة يرويه عن ابيه وتارة لا يذكر اباه والترمذى يميل الى ان الحديث من مسند عمر رضى الله عنه حديث اخر قال الحافظ ابو يعلى الموصلى حدثنا عبيد اللهحدثنا معتمر بن سليمان عن ليث عن عاصم عن ابى المستهل عن عمر رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم أنه قال اذا اتى الرجل اهله ثم اراد ان يعود فليغسل فرجه هذا حديث غريب من هذا الوجه وابو المستهل هذا لا أعرفه ولم يذكره ابن ابى حاتم وله شاهد فى صحيح مسلم عن ابى سعيد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اذا انى احدكم اهله ثم اراد ان يعود فليحدث بينهما وضوءا
ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তাই তারা এটিকে তাঁর 'মুসনাদ'-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেমনটি সামনে বর্ণিত হবে। একইভাবে দারেমি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে এটি লাইস এবং উবাইদুল্লাহর সূত্রে নাফে' থেকে এবং তিনি ইবনে উমরের সূত্রে তাঁর 'মুসনাদ'-এ সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আলি ইবনুল মাদিনি তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থে এটি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের মুসনাদ নাকি তাঁর পিতার মুসনাদ—এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। তবে বিষয়টি সহজ; সম্ভবত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর তাঁর পিতাকে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছিলেন, তাই কখনো তিনি তা তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন আবার কখনো পিতার কথা উল্লেখ করেন না। তিরমিযি এ অভিমতের দিকে ঝুঁকেছেন যে, হাদিসটি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদভুক্ত। অন্য একটি হাদিস: হাফেজ আবু ইয়া'লা আল-মাওসিলি বলেছেন, আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মু'তামির ইবনে সুলাইমান লাইস থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি আবুল মুস্তাহিল থেকে, তিনি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং পুনরায় তা করতে চায়, তবে সে যেন তার গুপ্তাঙ্গ ধুয়ে নেয়।" এই সূত্রে হাদিসটি 'গরিব'। আর এই আবুল মুস্তাহিলকে আমি চিনি না এবং ইবনে আবি হাতিমও তাঁর কথা উল্লেখ করেননি। তবে সহিহ মুসলিম-এ আবু সাঈদ থেকে এর একটি সমর্থনকারী বর্ণনা (শাহিদ) রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং পুনরায় তা করতে চায়, তবে সে যেন উভয়ের মাঝে অজু করে নেয়।"
(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৮)
أثر اخر قال ابو عبيد القاسم بن سلام رحمه الله فى كتاب فضائل القرآن حدثنا ابو معاوية عن الأعمش عن سفيان بن سلمة عن عبيدة السلمانى عن عمر انه كره للجنب ان يقرأ شيئا من القرآن هذا اسناد صحيح وقال ابو عبيد حدثنا ابن ابى مريم وسعيد بن عقير كلاهما عن ابن لهيعة عن عبد الله بن يزيد عن ثعلبة ابى الكنود او ابن ابى الكنود قال ابن ابى مريم عن مالك ابن خالد الغافقى وقال ابن عقير عن عبد الله بن مالك الغافقى انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لعمر اذا توضأ وانا جنب أكلت وشربت ولا أصلى ولا أقرأ حتى أغتسل اسناده مقارب حديث اخر قال الامام احمد حدثنا محمد بن جعفر حدثنا شعبة سمعت عاصم بن عمرو البجلى يحدث عن رجل من القوم الذين سألوا عمر بن الخطاب فقالوا له انما اتيناك نسألك عن الثلاث عن الصلاة الرجل فى بيته تطوعا وعن الغسل من الجنابة وعن الرجل ما يصلح له من امرأته اذا كانت حائضا فقال اسحار انتم لقد سألتمونى عن شىء ما سألنى عنه احد منذ سألت عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال صلاة الرجل فى بيته تطوعا نور فمن شاء نور بيته وقال فى الغسل من الجنابه يغسل فرجه ثم يتوضأ ثم يفيض على رأسه ثلاثا وقال فى الحائض له ما فوق الازار

অন্য একটি বর্ণনা। আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনুল সালাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর 'ফাযায়িলুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি উবাইদাহ আস-সালমানী থেকে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জুনুবী (অপবিত্র) ব্যক্তির জন্য কুরআনের কোনো কিছু পাঠ করা অপছন্দ করতেন। এই সনদটি সহীহ।

আবু উবাইদ বলেন: ইবনে আবি মারইয়াম এবং সাঈদ ইবনে উফাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি ছালাবা আবু আল-কানুদ অথবা ইবনে আবি আল-কানুদ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি মারইয়াম মালিক ইবনে খালিদ আল-গাফেকী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে উফাইর আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আল-গাফেকী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: "আমি যদি জুনুবী অবস্থায় ওযু করি, তবে আমি পানাহার করি, কিন্তু গোসল না করা পর্যন্ত নামায পড়ি না এবং কুরআন পাঠ করি না।" এর সনদটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের।

অন্য একটি হাদীস। ইমাম আহমাদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আসিম ইবনে আমর আল-বাজালীকে এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে প্রশ্নকারী দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা তাকে বলেছিল: "আমরা আপনার নিকট তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি: ঘরে কোনো ব্যক্তির নফল নামায সম্পর্কে, জানাবাত (নাপাকি) থেকে গোসল সম্পর্কে এবং ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে একজন পুরুষের জন্য কী বৈধ তা সম্পর্কে।" তিনি (উমর) বললেন: "তোমরা কি জাদুকর? তোমরা আমাকে এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ যা আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করার পর থেকে আর কেউ আজ পর্যন্ত আমাকে জিজ্ঞাসা করেনি।" তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "ঘরে কোনো ব্যক্তির নফল নামায হলো নূর (আলো), সুতরাং যে চায় সে যেন তার ঘরকে আলোকিত করে।" আর জানাবাতের গোসল সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন: "সে যেন তার লজ্জাস্থান ধৌত করে, অতঃপর ওযু করে এবং এরপর নিজের মাথায় তিনবার পানি প্রবাহিত করে।" আর ঋতুবতী নারীর বিষয়ে তিনি বলেছিলেন: "তার (স্বামীর) জন্য ইজারের (নিম্নাংশের পোশাকের) উপরের অংশ বৈধ।"

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১২৯)
قال على بن المدينى هذا الحديث مرسل وعاصم بن عمرو لم يلق عمر بن الحطاب قلت انما رواه عن رجل عن الرهط الذين سألوه وقد رواه ابن ماحه عن محمد بن ابى الحسين عن عبد الله بن جعفر عن عبيد الله بن عمرو الرقى عن زيد بن ابى انيسة عن ابى اسحاق عن عاصم بن عمرو عن عمير مولى عمر عن عمر به وقال الحافظ ابو يعلى حدثنا ابو خالد عن زياد عن معاوية ابن قرة قال حدثنى الثلاثة الرهط الذين سألوا عمر يقصة الصلاة فقط فهذه شواهد تدل على صحة هذا الحديث والله سبحانه وتعالى أعلم حديث اخر قال الحافظ ابو بكر احمد بن ابراهيم الاسماعيلى حدثنا محمد بن عمير حدثنا ابراهيم بن الحجاج الصنعانى حدثنا محمد بن يوسف الحذافى حدثنا عبد الملك الذمارى عن ابى عصام رواد بن الجراح العسقلانى عن الاوزاعى عن حسان بن

আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, এই হাদীসটি মুরসাল এবং আসিম ইবনে আমর উমর ইবনুল খাত্তাবের সাক্ষাৎ পাননি। আমি বলছি, তিনি মূলত এটি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি সেই দলটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। ইবনে মাজাহ এটি মুহাম্মদ ইবনে আবিল হুসাইন থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আমর আর-রাক্কী থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে আবী আনীসা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে আমর থেকে, তিনি উমরের মুক্তদাস উমাইর থেকে এবং তিনি উমরের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আবু ইয়ালা বলেন, আবু খালিদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে; তিনি বলেন, সেই দলের তিনজন ব্যক্তি যারা উমরকে কেবল সালাতের ঘটনা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন, তারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এগুলো এমন সাক্ষ্য যা এই হাদীসটির বিশুদ্ধতা নির্দেশ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে সর্বাধিক অবগত। অন্য একটি হাদীস: হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-ইসমাঈলী বলেন, মুহাম্মদ ইবনে উমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনুল হাজ্জাজ আস-সানআনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-হুযাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক আদ-যামারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসাম রুওয়াদ ইবনুল জাররাহ আল-আসকালানী থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি হাসসান ইবনে...

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১৩০)
عطية عن عمر قال قال الرجل يا رسول الله ان امرأتى لا تزال تحتاض على وانى وقعت عليها فى بعض كذبها من ذلك فإذا هى حائض فأمره ان يتصدق بخمسى دينار اسناده غريب جدا وفيه انقطاع حديث فى الأمر بغسل الجمعة وتأكيده قال الإمام أحمد حدثنا حسن بن موسى وحسين بن محمد قالا حدثنا شيبان عن يحيى عن ابى سلمة عن ابى هريرة ان عمر بن الخطاب يينا هو يخطب يوم الجمعة اذا جاء رجل فقال عمر لما تحتبسون عن الصلاة فقال الرجل ماهو الا ان سمعت النداء فتوضأت فقال ايضا او لم تسمعوا ان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اذا جاء احدكم الى الجمعة فليغتسل رواه البخارى عن ابى نعيم عن شيبان وهو ابن عبد الرحمن ثم رواه احمد عن عبد الصمد عن ابيه عن حسين المعلم وعن عبد الصمد عن حرب بن شداد كلاهما عن يحيى بن ابى كثير به وأخرجه مسلم عن اسحاق بن راهوية عن الوليد بن مسلم عن الاوزاعى وابو داود عن ابى توبة الربيع بن نافع عن معاوية بن سلام كلاهما عن يحيى بن ابى كثير به

আতিয়্যাহ উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী ঋতুবতী থাকাকালীনও আমার সাথে (সহবাসের জন্য) মিথ্যা বলে এবং এমতাবস্থায় আমি তার সাথে সহবাস করে ফেলি যে সে ঋতুবতী। তখন তিনি তাকে দুই-পঞ্চমাংশ দীনার সদকা করার নির্দেশ দিলেন। এর সানাদ অত্যন্ত বিরল এবং এতে বিচ্ছিন্নতা (ইনকিতা) রয়েছে।

জুমার গোসলের নির্দেশ এবং এর গুরুত্ব সংক্রান্ত হাদিস।

ইমাম আহমাদ বলেন, হাসান ইবনে মূসা এবং হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন, শায়বান আমাদের নিকট ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব একদা জুমার দিনে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন। উমর বললেন, তোমরা কেন সালাত আদায়ে দেরি করো? লোকটি বলল, আযান শোনার পর আমি কেবল ওযু করতে পেরেছি। তিনি বললেন, তোমরা কি শোনোনি যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন জুমার সালাতে আসবে, সে যেন অবশ্যই গোসল করে নেয়। এটি বুখারী আবু নুআইম থেকে, তিনি শায়বান থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি ইবনে আবদুর রহমান। অতঃপর আহমাদ এটি আবদুস সামাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে এবং আবদুস সামাদ হারব ইবনে শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে উক্ত সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি ইসহাক ইবনে রাহওয়াই থেকে, তিনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে এবং আবু দাউদ আবু তাওবাহ রাবী ইবনে নাফে থেকে, তিনি মুআবিয়াহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে উক্ত সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) মুসনাদুল ফারূক লিইবনি কাছীর ত কালাআজী (পৃষ্ঠা: ১৩১)
طريق اخرى رواه الامام احمد والبخارى من حديث مالك عن الزهرى عن سالم عمر ان عمر بن الخطاب بينما هو قائم فى الخطبة يوم الجمعة اذ دخل رجل من المهاجرين الاولين من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فناداه عمر ايه ساعة هذه قال انى شغلت فلم انقلب الى اهل حتى سمعت التأذين فلم ازد على ان توضأت قال والوضوء ايضا وقد علمت ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمر بالغسل وهذا لفظ البخارى ورواه مسلم من حديث يونس بن زيد والنسائى من حديث الزبيدى كلاهما عن الزهيرى بمثله

অন্য একটি সূত্র: ইমাম আহমাদ এবং বুখারি এটি মালিকের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি জুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে এবং তিনি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব যখন জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্যে প্রথম হিজরতকারীদের একজন প্রবেশ করলেন। উমর তাকে ডেকে বললেন, “এটি কোন সময়?” তিনি বললেন, “আমি ব্যস্ত ছিলাম, ফলে আযান শোনা পর্যন্ত আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারিনি এবং অজু করার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারিনি।” উমর বললেন, “অজুও (কেবল)? অথচ আপনি জানেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসলের নির্দেশ দিতেন।” এটি বুখারির শব্দবিন্যাস। ইমাম মুসলিম এটি ইউনুস ইবনে যায়দ-এর হাদিস থেকে এবং নাসায়ি জুবাইদির হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ই জুহরি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।