(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: -)
الإخوة والأخوات - الدارقطني   (الدارقطني)

القسم: الأنساب


الكتاب: الإخوة والأخوات

المؤلف: أبو الحسن علي بن عمر بن أحمد الدارقطني (ت 385 هـ)

المحقق: باسم فيصل أحمد الجوابرة

الناشر: دار الراية للنشر والتوزيع، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 72

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 شعبان 1442

ভাই ও বোন - আদ-দারা কুতনী   (আদ-দারা কুতনী)

বিভাগ: বংশলতিকা


কিতাব: ভাই ও বোন

লেখক: আবুল হাসান আলী ইবনে ওমর ইবনে আহমদ আদ-দারা কুতনী (মৃত্যু ৩৮৫ হিজরী)

তাহকীক: বাসিম ফয়সাল আহমদ আল-জওয়াবিরাহ

প্রকাশক: দারুর রায়াহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজী, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরী - ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭২

[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ শাবান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩)
الأُخوة والأَخوات

«الجزء الأول»

 

للحافظ

أبي الحسن علي بن عمر بن أحمد الدارقطني

المتوفى سنة (385) هجريّة

رحمه اللَّه تعالى

 

تحقيق

الدكتور باسم فيصل أحمد الجوابرة

الأستاذ المشارك بكلية أصول الدين

بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض

 

دار الراية للنشر والتوزيع
ভাই ও বোনসমূহ

«প্রথম খণ্ড»

 

হাফিয

আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ আদ-দারাকুতনী

মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরী

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন

 

তাহকীক (সম্পাদনা)

ড. বাসিম ফয়সাল আহমদ আল-জওয়াবেরা

সহযোগী অধ্যাপক, উসূলুদ্দীন অনুষদ

ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ

 

দারুর রায়াহ প্রকাশনী ও পরিবেশনী
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إنَّ الحمدَ لله نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ باللهِ مِن شرورِ أنفُسنا وسيّئات أعمالنا، مَن يهدِه اللَّه فَلا مُضلَّ له، ومَن يُضلل فلا هاديَ لهُ.

وأشهَدُ أنْ لا إله إلّا اللَّه، وحدَه لا شريكَ لهُ.

وأشهَدُ أنَّ محمَّدًا عبدُه ورسولُه، صَلَّى اللَّهُ عليهِ وعلى آلِهِ وصحبهِ وسلَّم.

أمَّا بعد:

فهذا هو الجزء الأوّل من كتاب "الأُخوة(1) والأخوات" للإمام الدَّارقطني، أُقدِّمهُ -اليوم- للأخوة الباحثين وطلّاب العلم، وكنتُ -قبلَه- قد حقَّقتُ كتاب "الأُخوة الذين رُويَ عنهم الحديث" لأبي داود السِّجِسْتاني، وكتاب "تسمية من رُويَ عنه من أولاد العشرة" للإمامِ علي بن المَدِينيِّ، وفيه مبحث كبير في الأُخوة والأخوات ممن لهم رواية، وقد طبعتها في مجلد واحد وسميته "الرّواة من الأُخوة والأخوات".

وهذا الكتابُ مختصٌّ فى ذكر الأُخوة من أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ممَّن روى عنه أو رآهُ ولم يَروِ عنه أو وُلدَ في عَهدِه أو وُلدَ أخوه بعد وفاة النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم من الرجال والنساء.

--------------------------------------------

(1) تُضبَط همزتُها بالضَّمِّ، وتجوزُ -أيضًا- بالكَسرِ.

ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

ইমাম আদ-দারাকুতনী রচিত "আল-উখওয়াহ ওয়াল আখওয়াত" (ভাই ও বোন) গ্রন্থের এটি প্রথম খণ্ড; আমি আজ এটি গবেষক ও জ্ঞানান্বেষী ভাইদের সম্মুখে পেশ করছি। এর পূর্বে আমি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী রচিত "আল-উখওয়াহ আল্লাযিনা রুউয়িয়া আনহুমুল হাদীস" (ঐসব ভাই যাদের থেকে হাদিস বর্ণিত হয়েছে) এবং ইমাম আলী ইবনুল মাদীনী রচিত "তাসমিয়াতু মান রুউয়িয়া আনহু মিন আওলাদিল আশারাহ" (দশজন জান্নাতী সাহাবীর সন্তানদের মধ্য থেকে যাদের থেকে বর্ণনা পাওয়া যায় তাদের নামকরণ) গ্রন্থ দুটি সম্পাদনা করেছি। শেষোক্ত গ্রন্থটিতে বর্ণনাকারী ভাই-বোনদের বিষয়ে একটি দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে; আমি সেগুলো একটি একক খণ্ডে মুদ্রণ করেছি এবং তার নামকরণ করেছি "আর-রুওয়াতু মিনাল উখওয়াহ ওয়াল আখওয়াত" (ভাই-বোনদের মধ্য হতে বর্ণনাকারীগণ)।

এই গ্রন্থটি বিশেষত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মধ্য থেকে ঐসব ভাইদের আলোচনায় নিবেদিত, যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন কিন্তু কোনো বর্ণনা করেননি কিংবা তাঁর যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর যাদের ভাই জন্মগ্রহণ করেছেন—চাই তারা পুরুষ হোন বা নারী।

--------------------------------------------

(১) এর হামযাটি পেশ (যম্মাহ) যোগে উচ্চারিত হয়, তবে যের (কাসরাহ) যোগে পড়াও জায়েয।

(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৬)
وهو يختلف عن الكتابين السابقين بما يلي:

1 - هذا الكتاب خاص بالصحابة، أمَّا الكتابان السابقان فهما عامّان في جميع الرواة، صحابة وتابعين وأتباع تابعين وغيرهم.

2 - هذا الكتاب في جميع الصحابة سواءٌ أكانوا من الرواة أم لا، أمَّا االكتابان السابقان فهما خاصّان في رواة الحديث.

3 - يترجم الدارقطني للأسماء التي يذكرها ترجمة موجزة مفيدة، أمَّا في الكتابين السابقين فلا يوجَد تراجمُ للرواة.

4 - ذكر الدارقطني أحاديث في كتابه بعضها بإسناده والبعض الآخر بدون إسناد، أمَّا في الكتابان السابقان فلم يُذكر فيهما أحاديث، إلّا بعض الأحاديث القليلة في آخر كتاب علي بن المديني وهي من زيادات ابن الدقاق من غير رواية علي بن المديني.

 

‌‌عملي فى الكتاب:

1 - حقَّقت النّص؛ فقد بذلت جهدي في ضبط النّص وإخراجه سليمًا صحيحًا.

2 - ترجمت لجميع (الأُخوة) المذكورين في الكتاب ترجمة موجزة.

3 - وثّقت النص بالرجوع إلى كتب النّسب وكتب الرجال والطبقات والتراجم.

4 - خرّجت الأحاديث الموجودة في الكتاب.

5 - ذكرت عددًا من مصادر كل ترجمة وردت في الكتاب، مقتصرًا على
এটি পূর্ববর্তী গ্রন্থদ্বয় হতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ভিন্ন:

১ - এই গ্রন্থটি সাহাবীগণের জন্য নির্দিষ্ট, পক্ষান্তরে পূর্ববর্তী গ্রন্থ দুটি সকল স্তরের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে সাধারণ ছিল—সাহাবী, তাবেয়ী, তাবে-তাবেয়ী এবং অন্যান্য।

২ - এই গ্রন্থটি সকল সাহাবীর অন্তর্ভুক্তিতে সংকলিত, তারা বর্ণনাকারী হোন বা না হোন। পক্ষান্তরে পূর্ববর্তী গ্রন্থ দুটি কেবল হাদিস বর্ণনাকারীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।

৩ - দারাকুতনী এখানে উল্লেখিত নামগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত ও উপকারী জীবনী পেশ করেছেন, পক্ষান্তরে পূর্ববর্তী গ্রন্থ দুটিতে বর্ণনাকারীদের কোনো জীবনী উল্লেখ করা হয়নি।

৪ - দারাকুতনী তাঁর গ্রন্থে কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, যার কিছু সনদসহ এবং কিছু সনদবিহীন। অন্যদিকে পূর্ববর্তী গ্রন্থ দুটিতে কোনো হাদিস উল্লেখ করা হয়নি, কেবল আলী ইবনুল মাদীনীর গ্রন্থের শেষে সামান্য কিছু হাদিস ব্যতীত; যা ইবনুদ্দাক্কাক কর্তৃক সংযোজিত এবং আলী ইবনুল মাদীনীর বর্ণনাভুক্ত নয়।

 

‌‌গ্রন্থে আমার কাজ:

১ - আমি পাঠ্যটি তাহকীক (সম্পাদনা) করেছি; পাঠ্যটিকে নির্ভুলভাবে বিন্যস্ত করতে এবং এটি সঠিকভাবে উপস্থাপনে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।

২ - আমি গ্রন্থে উল্লেখিত সকল (ভাইদের) একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রস্তুত করেছি।

৩ - আমি বংশপরম্পরা, রিজালশাস্ত্র, তবাকাত এবং জীবনীগ্রন্থসমূহের সহায়তায় পাঠ্যটির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করেছি।

৪ - আমি গ্রন্থে বিদ্যমান হাদিসসমূহের তাখরীজ সম্পন্ন করেছি।

৫ - আমি গ্রন্থে বর্ণিত প্রতিটি জীবনীর বেশ কিছু উৎসের কথা উল্লেখ করেছি, তবে কেবল সীমাবদ্ধ থেকেছি...
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৭)
"الطبقات الكبرى"، و"السِّير"، و"الإصابة"، و"أُسد الغابة"، وقد أزيدُ غيرها لفائدةٍ تعرضُ.

6 - عملت فهرسين للكتاب:

أ - فهرس الأحاديث الواردة في الكتاب.

ب - فهرس التراجم.

وأطلب من الله سبحانه وتعالى أن يكود عملي خالصًا لوجهه الكريم، أن أكون قد وُفِّقت فيه؛ إنَّهُ سميعٌ مجيبٌ.

وآخر دعوانا أن الحمدُ للَّه ربِّ العالمين.

 

باسم فيصل الجوابرة

الرياض

السبت: 14/ 4 / 1413 هـ
"আত্ব-ত্বাবাকাতুল কুবরা", "আস-সিয়ার", "আল-ইসাবাহ" এবং "উসদুল গাবাহ"; আর প্রয়োজনে উপকারের উদ্দেশ্যে আমি এর বাইরেও অন্যান্য কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি।

৬ - আমি বইটির জন্য দুটি নির্ঘণ্ট (সূচী) তৈরি করেছি:

ক - বইটিতে বর্ণিত হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট।

খ - জীবনীসমূহের নির্ঘণ্ট।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমার এই কাজ কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হয় এবং আমি যেন এতে সফল হতে পারি; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

বাসিম ফয়সাল আল-জাওয়াবেরা

রিয়াদ

শনিবার: ১৪/ ০৪ / ১৪১৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌تعريف مختصر بالإمام الدّارقطني (1):

لقد كُتب عن هذا الإمام الكثيرُ من البحوث المُفردة والرسائل الجامعية(2)، وسأقتصر على تعريفٍ موجزٍ بهذا الإمام:

هو: "الإمام الحافظ المُجوِّد شيخ الإسلام عَلَم الجهابذة أبو الحسن علي بن عمر ابن أحمد بن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار بن عبد اللَّه البغدادي المقرئ المحدِّث، من أهل محلّة دار القطن ببغداد، وُلد سنة ست وثلاث مئة".

قال الذهبي في "السير": وكان من بحور العلم، ومن أئمَّة الدنيا، انتهى إليه الحفظ ومعرفة علل الحديث ورجاله، مع التقدم في القراءات وطرقها وقوَّة المشاركة

--------------------------------------------

(1) بعض مصادر ترجمته:

"تاريخ بغداد" (12/ 34) للخطيب، "الأنساب" (5/ 425) للسمعاني، "سير أعلام النبلاء" (16/ 449)، "تذكرة الحفاظ" (3/ 991) للذهبي، "طبقات الشافعية الكبرى" (3/ 463) للسبكي، "البداية والنهاية" (11/ 317) لابن كثير، "النجوم الزاهرة" (1/ 683) لابن تَغْري بَرْدي.

(2) منها: رسالة دكتوراة قدمت لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية كلية أصول الدين قسم السُّنَّة؛ وعنوانها "الإمام الدارقطني وكتابه السنن" أعدها الأخ الفاضل الدكتور عبد الله ضيف الله الرحيلي.

وقد كتب الأخ الدكتور موفق عبد الله دراسة مطولة عن الدارقطني في مقدمة كتاب "المؤتلف والمختلف" وهي رسالة دكتوراة مقدمة لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية كلية أصول الدين قسم السُّنَّة.

ইমাম দারা কুতনী-র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি (১):

এই ইমাম সম্পর্কে অনেক স্বতন্ত্র গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক থিসিস লেখা হয়েছে(২), আমি এই ইমামের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব:

তিনি হলেন: "ইমাম, হাফেজ, মুজাওয়িদ, শায়খুল ইসলাম, বিজ্ঞ পণ্ডিতদের আদর্শ, আবুল হাসান আলী বিন উমর ইবনে আহমাদ বিন মাহদী বিন মাসউদ বিন নুমান বিন দিনার বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-মুকরি আল-মুহাদ্দিস। তিনি বাগদাদের 'দারুল কুতন' মহল্লার অধিবাসী ছিলেন এবং ৩০৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।"

যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে বলেন: তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্র এবং দুনিয়ার ইমামদের অন্যতম। মুখস্থ করার ক্ষমতা এবং হাদিসের ত্রুটি (ইলল) ও বর্ণনাকারীদের জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য ও চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ। এর পাশাপাশি তিনি কিরাত ও তার পদ্ধতিসমূহে অগ্রগামী ছিলেন এবং এ সকল শাস্ত্রে তাঁর শক্তিশালী দক্ষতা ও বিচরণ ছিল।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর কিছু উৎস:

খতিব বাগদাদীর "তারিখে বাগদাদ" (১২/ ৩৪), সাম'আনী-র "আল-আনসাব" (৫/ ৪২৫), যাহাবীর "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/ ৪৪৯) ও "তাজকিরাতুল হুফফাজ" (৩/ ৯৯১), সুবকী-র "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা" (৩/ ৪৬৩), ইবনে কাসীরের "আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ" (১১/ ৩১৭), ইবনে তাগরী বারদীর "আন-নুজুমুজ জাহেরা" (১/ ৬৮৩)।

(২) সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের সুন্নাহ বিভাগে উপস্থাপিত একটি ডক্টরেট থিসিস; যার শিরোনাম "ইমাম দারা কুতনী ও তাঁর কিতাব আস-সুনান", যা প্রস্তুত করেছেন শ্রদ্ধেয় ভাই ডক্টর আব্দুল্লাহ দ্বয়ফুল্লাহ আর-রুহাইলী।

জনৈক ভাই ডক্টর মুওয়াফফাক আব্দুল্লাহ "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ" গ্রন্থের ভূমিকায় দারা কুতনী সম্পর্কে একটি দীর্ঘ গবেষণা লিখেছেন, যা ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের সুন্নাহ বিভাগে উপস্থাপিত একটি ডক্টরেট থিসিস।

(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৯)
في الفقه والاختلاف، والمغازي وأيام الناس وغير ذلك". ا. هـ.

وقد بلغت مصنفاته أكثر من ثمانين مصنفًا نافعًا، وبعضها وصل إلى أكثر من عشرة مجلدات، وقد أحصاها الدكتور موفّق -وفّقه الله- في مقدمة كتاب "المؤتلف والمختلف"، فَلتُراجع.

توفِّي رحمه الله تعالى -سنةٍ خمسٍ وثمانين وثلاث مئة، بعد حياةٍ حافلةٍ بالعلمِ والتعليمِ، والدعوةِ والتّصنيفِ.

* * * * *
"ফিকহ, মতভেদ, যুদ্ধাভিযান ও ইতিহাসের ঘটনাবলি এবং অন্যান্য বিষয়ে।" ইতি।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ আশিটিরও বেশি উপকারী সংকলনে পৌঁছেছে, যার কোনো কোনোটি দশ খণ্ডেরও অধিক। ডক্টর মুয়াফফাক —আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন— 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থের ভূমিকায় সেগুলোর পরিসংখ্যান দিয়েছেন, যা সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।

ইলম অর্জন ও শিক্ষা প্রদান, দাওয়াত এবং গ্রন্থ রচনার এক কর্মমুখর জীবনের পর, তিনশত পঁচাশি হিজরি সনে তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— ইন্তেকাল করেন।

* * * * *
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌التعريف بالمخطوط:

لقد اعتمدت في التحقيق على نسخة فريدة مُصوَّرة من مكتبة شستربتي بإيرلندا.

وقد حصلت عليها من مكتبة جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية قسم المخطوطات.

وتتكون هذه المخطوطة من ثماني لوحات، وكل لوحة من وجهين، وكل وجه فيه (8 - 19) سطرًا.

وهي مروية بالإسناد كما جاء في أوَّل ورقة، وعليها سماعات في آخر ورقة كما سيأتي إن شاء اللَّه.

والموجود من هذا الكتاب القيّم هو الجزء الأول فقط، وقد بحثت عن بقية الكتاب فلم أجده إلى الآن، فعسى اللَّه سبحانه وتعالى أن يُيسّر العثور على بقية الكتاب.

وقد وَقعَ في هذا الجزء سَقطٌ من وسطه في الورقة الخامسة، وهذا السّقط في آخر ترجمة الأُخوة من ولد العباس بن عبد المطّلب، ومن أوّل ترجمة أبي بكر وأولاده.

وأُقدِّرُ هذا السَّقط بحوالي ورقتين، واللَّه أعلم.

* * * * *
পাণ্ডুলিপির পরিচিতি:

আমি এই সম্পাদনার কাজে আয়ারল্যান্ডের চেস্টার বিটি লাইব্রেরির একটি অনন্য অনুলিপি বা ফটোকপির ওপর নির্ভর করেছি।

আমি এটি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ থেকে সংগ্রহ করেছি।

এই পাণ্ডুলিপিটি আটটি ফলক নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি ফলক দুই পৃষ্ঠার। প্রতিটি পৃষ্ঠায় (৮ - ১৯)টি করে লাইন রয়েছে।

এটি সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি প্রথম পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে; আর এর শেষ পৃষ্ঠায় শ্রবণলিপি (সামাআত) রয়েছে, যা আল্লাহ চাইলে সামনে আসবে।

এই মূল্যবান কিতাবটির কেবল প্রথম খণ্ডটিই বর্তমানে পাওয়া গেছে। আমি কিতাবটির বাকি অংশ অনুসন্ধান করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত তা পাইনি। আশা করা যায়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কিতাবটির অবশিষ্টাংশ খুঁজে পাওয়া সহজ করে দেবেন।

এই খণ্ডটির মাঝখানে পঞ্চম পাতায় কিছু অংশ বাদ পড়েছে। এই বিচ্যুতি বা বাদ পড়া অংশটুকু আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের মধ্য থেকে ভাইদের জীবনীর শেষে এবং আবু বকর ও তাঁর সন্তানদের জীবনীর শুরুতে ঘটেছে।

আমি ধারণা করি যে, এই বাদ পড়া অংশটি প্রায় দুই পাতার সমান। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

* * * * *
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌صحّة نسبة الكتاب للدارقطني:

أجزم بأن هذا الكتاب مِن تصنيف الدارقطني؛ للأسباب التالية:

1 - الإسناد الذي في أوّل الكتاب يدل على ذلك.

2 - الأسانيد داخل الكتاب؛ فقد رواها الدارقطني عن شيوخه؛ مثل ترجمة رقم (33) حيث قال فيه: حدثنا به يحيى بن محمد بن صاعد …

وهو من شيوخ الدارقطني.

3 - نقل الحافظ ابن حجر في "الإصابة" وفي "التهذيب" من هذا الكتاب مواضعَ كثيرةً، وهي موجودةٌ في هذا الكتاب تمامًا:

انظر على سبيل المثال في "تهذيب التهذيب" (8/ 362، 421)، (11/ 72)، وفي "الإصابة" في ترجمة تمام بن العباس (1/ 376).

وفي ترجمة ربيعة بن الحارث بن عبد المطّلب (1/ 376).

وفي ترجمة عبد الله بن الحارث بن عبد المطّلب (2/ 462).

وفي ترجمة هند بن أبي هالة (6/ 558).

وفي ترجمة نوفل بن الحارث (6/ 480).

وفي ترجمة أروى بنت ربيعة (7/ 479).

وفي ترجمة أُمامة بنت أبي العاص (7/ 504).

وفي ترجمة هند بنت عَتيق (8/ 157).
দারাকুতনী-র প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা:

আমি দৃঢ়ভাবে বলছি যে এই গ্রন্থটি ইমাম দারাকুতনী-র সংকলিত; নিম্নোক্ত কারণসমূহের ভিত্তিতে:

১ - গ্রন্থের শুরুতে বিদ্যমান সনদটি (সূত্রপরম্পরা) একথাই প্রমাণ করে।

২ - গ্রন্থের অভ্যন্তরীণ সনদসমূহ; ইমাম দারাকুতনী এগুলো তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণনা করেছেন; যেমন (৩৩) নম্বর জীবনীতে তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়েদ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন …

আর তিনি দারাকুতনী-র অন্যতম উস্তাদ।

৩ - হাফেজ ইবনে হাজার "আল-ইসাবাহ" এবং "আত-তাহজীব" গ্রন্থে এই কিতাব থেকে অনেক উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যা হুবহু এই কিতাবটিতেই বিদ্যমান রয়েছে:

উদাহরণস্বরূপ দেখুন: "তাহজীবুত তাহজীব" (৮/ ৩৬২, ৪২১), (১১/ ৭২), এবং "আল-ইসাবাহ" গ্রন্থে তাম্মাম বিন আল-আব্বাস-এর জীবনীতে (১/ ৩৭৬)।

এবং রাবিয়াহ বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব-এর জীবনীতে (১/ ৩৭৬)।

এবং আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব-এর জীবনীতে (২/ ৪৬২)।

এবং হিন্দ বিন আবি হালাহ-র জীবনীতে (৬/ ৫৫৮)।

এবং নাওফাল বিন আল-হারিস-এর জীবনীতে (৬/ ৪৮০)।

এবং আরওয়া বিনতে রাবিয়াহ-র জীবনীতে (৭/ ৪৭৯)।

এবং উমামাহ বিনতে আবিল আস-এর জীবনীতে (৭/ ৫০৪)।

এবং হিন্দ বিনতে আতিক-এর জীবনীতে (৮/ ১৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي ترجمة أُم الوليد بنت عمر بن الخطاب (8/ 322).

4 - نقل السخاوي في "فتح المغيث" عنه (3/ 163).

5 - تَداوَلتهُ المعاجمُ والمشيخاتُ، كما في "صِلَةِ الخَلَف بموصول السَّلف" (ص: 133 - طبع دار الغرب) للرُّوداني.
এবং উম্মুল ওয়ালিদ বিনতে উমর ইবনুল খাত্তাবের জীবনীতে (৮/ ৩২২)।

৪ - সাখাবী তাঁর থেকে "ফাতহুল মুগিস" গ্রন্থে (৩/ ১৬৩) এটি বর্ণনা করেছেন।

৫ - এটি বিভিন্ন অভিধান এবং মাশাইখদের নথিপত্রসমূহে আবর্তিত হয়েছে, যেমনটি রুদানীর "সিলাতুল খালাফ বি-মাওসুলিস সালাফ" (পৃষ্ঠা: ১৩৩ - দারুল গারব মুদ্রণ) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৩)
صورة غلاف النسخة المخطوطة
পাণ্ডুলিপি সংস্করণের প্রচ্ছদ চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৪)
صورة الصفحة الأُولى من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة الصفحة الأخيرة من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৬)
صورة بعض السَّماعات الملُحقة في المخطوطة
পাণ্ডুলিপিতে সংযুক্ত কিছু শ্রবণ-সনদের চিত্র।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৭)
الجزء الأول من كتاب "الأُخوة والأخوات"

تأليف

أبي الحسن علي بن عمر بن أحمد بن مهدي الحافظ الدارقطني

رواية أبي الحسن محمد بن عبد الواحد بن محمد بن جعفر بن العَدْل عنه

وعنه الشيخ أبو الحسين المبارك بن عبد الجبار بن أحمد الصَّيْرَفي.

وعنه الحافظ السِّلَفي أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد

ابن إبراهيم الأصبهاني.

مكي بن أحمد بن علي بن عبد الله المِكْنَاسي

وولده أبو العباس أحمد جبره الله
"ভাই ও বোন" গ্রন্থের প্রথম খণ্ড

সংকলনে

হাফেজ আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদী আদ-দারাকুতনী

তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-আদল

এবং তাঁর সূত্রে শেখ আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক বিন আব্দুল জাব্বার বিন আহমদ আস-সাইরাফী।

এবং তাঁর সূত্রে হাফেজ আস-সিলাফী আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ

বিন ইবরাহীম আল-আসবাহানী।

মাক্কী বিন আহমদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-মিকনাসী

এবং তাঁর পুত্র আবুল আব্বাস আহমদ, আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

رَبِّ يَسِّر برَحمَتِك

أخبرنا الشيخ الفقيه الإمام العالم الشريف أبو محمد(1) عبد اللَّه بن عبد الجبار بن عبد اللَّه العثماني، قراءةً عليه وأنا أسمع في منزله بالإسكندرية، أخبرنا الشيخ الحافظ أبو طاهر(2) أحمد بن محمد بن أحمد السِّلَفي الأصبهاني رضي الله عنه، قال: أنا الشيخ أبو الحسين(3) المبارك بن عبد الجبار غير مرَّة -فيما قرأت عليه في شوال سنة أربع وتسعين وأربع مئة-، قال: أنا أبو الحسن محمد بن عبد الواحد بن محمد بن جعفر ابن العدل(4)، أنا أبو الحسن علي بن عمر بن أحمد بن مهدي الدارقطني الحافظ قراءةً عليه.

--------------------------------------------

(1) قال المنذري في "التكملة لِوفيات النقلة" (2/ 416): الشيخ الأجل أبو محمد. وانظر "شذرات الذهب" (5/ 60).

(2) قال الذهبي في "السير" (21/ 5): هو الإمام العلامة المحدث الحافظ المفتي شيخ الإسلام وشرف المُعمّرين.

(3) قال الذهبي في "السير" (19/ 213): الشيخ الإمام العالم المفيد بقية النقلة المكثرين … ولد سنة إحدى عشرة وأربع مئة … مات في نصف ذي القععدة، سنة خمس مئة عن تسعين سنة.

(4) لعله المعروف بابن زوج الحرة، قال الخطيب البغداي في "تاريخه" (2/ 361): =
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব, আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ফকিহ, ইমাম, আলিম, শরিফ আবু মুহাম্মদ(১) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল জাব্বার ইবনে আবদুল্লাহ আল-উসমানি; ইস্কান্দারিয়ায় তাঁর বাসভবনে আমি শ্রবণরত অবস্থায় তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, হাফেজ আবু তাহের(২) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), তিনি বলেন: আমাকে শাইখ আবুল হোসেন(৩) আল-মুবারক ইবনে আবদুল জাব্বার একাধিকবার সংবাদ দিয়েছেন—যা আমি তাঁর নিকট চারশত চুরানব্বই হিজরি সনের শাওয়াল মাসে পাঠ করেছি—তিনি বলেন: আমাকে আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনুল আদল(৪) সংবাদ দিয়েছেন, এবং আমাকে আবুল হাসান আলি ইবনে ওমর ইবনে আহমদ ইবনে মাহদি আদ-দারাকুতনি আল-হাফেজ তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনজিরি 'আত-তাকমিলা লি-ওয়াফাইয়াতিন নুকলাহ' (২/৪১৬) গ্রন্থে বলেছেন: মহান শাইখ আবু মুহাম্মদ। আরও দেখুন: 'শাযারাতুজ যাহাব' (৫/৬০)।

(২) আল-যাহাবি 'আস-সিয়ার' (২১/৫) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, হাফেজ, মুফতি, শাইখুল ইসলাম এবং দীর্ঘায়ু প্রাপ্তদের গৌরব।

(৩) আল-যাহাবি 'আস-সিয়ার' (১৯/২১৩) গ্রন্থে বলেছেন: শাইখ, ইমাম, আলিম, মুফিদ, অধিক হাদিস বর্ণনাকারী উত্তরসূরিদের অবশিষ্টাংশ... তিনি চারশত এগারো হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন... এবং পাঁচশত হিজরি সনের জিলকদ মাসের মাঝামাঝি সময়ে নব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

(৪) সম্ভবত তিনি 'ইবনে জাওজুল হুররাহ' হিসেবে পরিচিত। আল-খতিব আল-বাগদাদি তাঁর 'তারিখ' (২/৩৬১) গ্রন্থে বলেছেন: =
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২০)
ذكر الأُخوة ممن صحب النبي صلى الله عليه وسلم وروى عنه، أو رآه ولم يروِ عنه، أو وُلدَ في عهدِه، أو وُلدَ أَخوهُ بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم من الرجال والنساء.

أول من نُقدِّم ذكره من الأخوة مَن كان منهم من بني هاشم بن عبد مناف.

ونبدأ منهم بذكر أولاد رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ كانت ابنتاه فاطمة وزينب عليهما السلام قد رُويَ عنهما الحديث؛ فنذكرُهما وأخوتهما، ونبين من روى عنه منهم ومن لم يروِ عنه.

والله الموفق للصواب.

* * * * *

--------------------------------------------

= وكتبنا عنه وكان صدوقًا، وسمعته يقول: ولدت في سنة إحدى وسبعين وثلاث مئة، ومات في ليلة الأحد للنصف من جمادى الآخرة سنة اثنتين وأربعين وأربع مئة.
সেই সকল ভাই-বোনদের আলোচনা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, অথবা তাঁকে দেখেছেন কিন্তু তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি, অথবা তাঁর যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন, অথবা যাঁর ভাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর জন্মগ্রহণ করেছেন, পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্য হতে।

ভাই-বোনদের মধ্যে যাদের আলোচনা আমরা প্রথমে উপস্থাপন করছি তাঁরা হলেন বনী হাশিম বিন আবদে মানাফ গোত্রের।

তাঁদের মধ্য হতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি, যেহেতু তাঁর দুই কন্যা ফাতিমা এবং যয়নাব আলাইহাস সালাম হতে হাদিস বর্ণিত হয়েছে; সুতরাং আমরা তাঁদের এবং তাঁদের অন্যান্য ভাই-বোনদের কথা উল্লেখ করব এবং তাঁদের মধ্যে কারা বর্ণনা করেছেন আর কারা বর্ণনা করেননি তা স্পষ্ট করব।

আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনের তাওফিকদাতা।

* * * * *

--------------------------------------------

= এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে লিখেছি আর তিনি ছিলেন সত্যবাদী, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: আমি তিনশ একাত্তর হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছি, আর তিনি চারশ বিয়াল্লিশ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসের ১৫ তারিখ দিবাগত রবিবারের রাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২১)
*‌‌ أولاد رَسول الله صلى الله عليه وسلم-:

1 - فاطمة.

2 - وزينب.

3 - ورُقَيّة.

4 - وأم كلثوم.

--------------------------------------------

1 - فاطمة الزهراء: سيدة نساء هذه الأُمة، تزوجها عليّ في السَّنة الثانية من الهجرة، وماتت بعد النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم بستَّة أشهر، وقد جاوزت العشرين بقليل. "الطبقات الكبرى" (8/ 19)، "الاستيعاب" (4/ 373)، "أسد الغابة" (7/ 220)، "الآحاد والمثاني" (6/ 354)، "السير" (2/ 118)، "الإصابة" (8/ 53)، "التهذيب" (12/ 440).

2 - أكبر أخواتها من المهاجرات، وكانت أول بنات رسول الله تزوُّجًا، ماتت في عهد النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم. "الطبقات الكبرى" (8/ 30)، "أسد الغابة" (7/ 130)، "السير" (2/ 246)، "الإصابة" (7/ 665).

3 - زوجة عثمان بن عفان، وهاجرت معه إلى الحبشة الهجرتين، توفيت ورسول الله صلى الله عليه وسلم ببدر. "الطبقات الكبرى" (8/ 36)، "أسد الغابة" (7/ 113)، "السير" (2/ 250)، "الإصابة" (7/ 648).

4 - تزوجها عثمان لما توفيت أختها رقية، ولم تلد له، وتوفيت في شعبان سنة تسع. "الطبقات الكبرى" (8/ 37)، "أسد الغابة" (7/ 384)، "السير" (2/ 252)، "الإصابة" (8/ 188).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানগণ-:

১ - ফাতিমা।

২ - এবং যায়নাব।

৩ - এবং রুকাইয়্যাহ।

৪ - এবং উম্মু কুলসুম।

--------------------------------------------

১ - ফাতিমা আয-যাহরা: তিনি এই উম্মতের নারীদের নেত্রী; হিজরীর দ্বিতীয় বর্ষে আলী তাঁকে বিবাহ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের ছয় মাস পর তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স বিশ বছরের কিছু বেশি ছিল। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৮/ ১৯), "আল-ইসতিয়াব" (৪/ ৩৭৩), "উসদুল গাবাহ" (৭/ ২২০), "আল-আহাদ ওয়াল মাসানি" (৬/ ৩৫৪), "আস-সিয়ার" (২/ ১১৮), "আল-ইসাবাহ" (৮/ ৫৩), "আত-তাহযীব" (১২/ ৪৪০)।

২ - মুহাজির বোনদের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়, এবং রাসূলুল্লাহর কন্যাদের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁরই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল; তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় ইন্তেকাল করেন। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৮/ ৩০), "উসদুল গাবাহ" (৭/ ১৩০), "আস-সিয়ার" (২/ ২৪৬), "আল-ইসাবাহ" (৭/ ৬৬৫)।

৩ - উসমান ইবনে আফফানের স্ত্রী; তিনি তাঁর সাথে হাবাশায় (আবিসিনিয়া) দুইবার হিজরত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বদরে ছিলেন, তখন তিনি ইন্তেকাল করেন। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৮/ ৩৬), "উসদুল গাবাহ" (৭/ ১১৩), "আস-সিয়ার" (২/ ২৫০), "আল-ইসাবাহ" (৭/ ৬৪৮)।

৪ - তাঁর বোন রুকাইয়্যাহ যখন ইন্তেকাল করেন, তখন উসমান তাঁকে বিবাহ করেন; তাঁর গর্ভে কোনো সন্তান জন্মায়নি এবং তিনি নবম হিজরীর শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৮/ ৩৭), "উসদুল গাবাহ" (৭/ ৩৮৪), "আস-সিয়ার" (২/ ২৫২), "আল-ইসাবাহ" (৮/ ১৮৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২২)
*‌‌ ومن الذكور:

5 - القاسم؛ وبه كان يُكنَى، وهو أكبر ولده.

6 - وعبد اللَّه؛ وهو الطيِّب، ويقال له: الطاهر(1).

وُلدا بعد النبوة(2)، وماتا صغيرين، وقيل أيضًا: إنَّ أولاده الذكور من خديجة ثلاثة: القاسم، وعبد اللَّه وهو الطاهر، والطيب.

وقيل: إنَّهم أربعة(3): القاسم، وعبد اللَّه، والطيب، والطاهر، والأول أثبت.

--------------------------------------------

5 - قال الحافظ: أول مولود له، ولد قبل البعثة، ومات صغيرًا. "أسد الغابة" (4/ 377)، "الإصابة" (5/ 515).

6 - ولد بعد النبوَّة، ومات صغيرًا. "الإصابة" (3/ 549).

(1) قال الحافظ في "الإصابة" (3/ 549) في ترجمة الطاهر: "قال الزبير بن بكار في ترجمة خديجة من "كتاب النَّسب": حدثنى عمي مصعب قال: وَلَدَت خديجة للنَّبيُّ صلى الله عليه وسلم القاسم والطاهر، وكان يقال له: الطيب، وولد الطاهر بعد النبوَّة، ومات صغيرًا، واسمه عبد الله، وذكر البنات الأربع".

ثم قال الحافظ: وكذا اقتصر يزيد بن عياض عن الزهري، على القاسم وعبد اللَّه.

(2) أخرج ابن ماجه في "سننه" كتاب الجنائز (1/ 484) من طريق الحسين بن على قال: لما توفى القاسم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم وسلم قالت خديجة: يا رسول اللَّه درّت لُبَينَة فلو كان اللَّه أبقاه حتى يستكمل رضاعه، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إنَّ تمام رضاعه في الجنة … " الحديث.

قال الحافظ فى "الإصابة" (5/ 516): وهذا ظاهر جدًّا فى أنَّهُ مات بعد الإسلام، ولكن في السند ضعف. أ. هـ.

قلت: فيه هشام بن أبي الوليد، وهو متروك.

(3) روى ابن إسحاق في "السِّيرة" (245) عن ابن عباس قال: ولدت خديجة لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم غلامين وأربع نسوة: القاسم، وعبد اللَّه، وفاطمة، وأم كلثوم، وزينب، ورقية. =
এবং পুত্রদের মধ্য থেকে:

৫ - আল-কাসিম; তাঁর মাধ্যমেই তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) কুনিয়াত (উপনাম) গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর সন্তানদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন।

৬ - এবং আবদুল্লাহ; তিনি 'আত-তাইয়িব' (পবিত্র) নামে পরিচিত, আর তাঁকে 'আত-তহির'ও (পূত-পবিত্র) বলা হয়।

তারা নবুওয়াতের পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং শৈশবে ইন্তেকাল করেছিলেন। এটিও বলা হয়েছে যে: খাদীজাহর গর্ভে তাঁর পুত্রসন্তান ছিল তিনজন: আল-কাসিম, আবদুল্লাহ এবং আত-তহির ও আত-তাইয়িব।

আবার বলা হয়েছে যে: তারা ছিলেন চারজন: আল-কাসিম, আবদুল্লাহ, আত-তাইয়িব এবং আত-তহির। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর নির্ভরযোগ্য।

--------------------------------------------

৫ - হাফিয (ইবনে হাজার) বলেছেন: তিনি তাঁর প্রথম সন্তান, নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে ইন্তেকাল করেন। 'উসদুল গাবাহ' (৪/৩৭৭), 'আল-ইসাবাহ' (৫/৫১৫)।

৬ - নবুওয়াতের পর জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে ইন্তেকাল করেন। 'আল-ইসাবাহ' (৩/৫৪৯)।

(১) হাফিয 'আল-ইসাবাহ' (৩/৫৪৯)-তে 'আত-তহির'-এর জীবনীতে বলেছেন: 'যুবাইর ইবনে বাক্কার খাদীজাহর জীবনীতে 'কিতাবুন নাসাব'-এ উল্লেখ করেছেন: আমার চাচা মুসআব আমাকে বলেছেন: খাদীজাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য আল-কাসিম এবং আত-তহিরকে প্রসব করেছিলেন, তাঁকে (তহিরকে) আত-তাইয়িবও বলা হতো। আত-তহির নবুওয়াতের পর জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবে ইন্তেকাল করেন, তাঁর নাম ছিল আবদুল্লাহ। তিনি চার কন্যার কথাও উল্লেখ করেছেন' ।

অতঃপর হাফিয বলেন: অনুরূপভাবে ইয়াযীদ ইবনে আইয়ায আয-যুহরী থেকে বর্ণনা করে কেবল আল-কাসিম এবং আবদুল্লাহর বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।

(২) ইবনে মাজাহ তাঁর 'সুনান'-এর জানাযা অধ্যায়ে (১/৪৮৪) হুসাইন ইবনে আলীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পুত্র আল-কাসিম ইন্তেকাল করলেন, তখন খাদীজাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! স্তনে দুধ এসেছে, আল্লাহ যদি তাঁকে তাঁর দুগ্ধপানের সময়কাল পূর্ণ করা পর্যন্ত জীবিত রাখতেন! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'জান্নাতে তাঁর দুগ্ধপান পূর্ণ হবে...' (হাদীস)।

হাফিয 'আল-ইসাবাহ' (৫/৫১৬)-তে বলেছেন: এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে তিনি ইসলামের পর (অর্থাৎ নবুওয়াত পরবর্তীকালে) ইন্তেকাল করেছেন, তবে এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি: এর সনদে হিশাম ইবনে আবুল ওয়ালীদ রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত।

(৩) ইবনে ইসহাক 'আস-সিরাহ' (২৪৫)-তে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: খাদীজাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য দুই পুত্র এবং চার কন্যা প্রসব করেন: আল-কাসিম, আবদুল্লাহ, ফাতিমা, উম্মু কুলসুম, যাইনাব এবং রুকাইয়াহ। =
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأُمهم جميعًا خديجة(1) بنت خُويلد بن أسد بن عبد العُزَّى بن قُصَي.

7 - وإبراهيم ابن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؛ أمه مارية(2) بنت شمعون القبطية، عاش بضعة عشر شهرًا(3)، وتوفي في شهر ربيع الأول سنة عشر(4)، ولم يتم رضاعه، فقال

--------------------------------------------

= قال الحافظ في "الإصابة" (3/ 549): قال الزبير بن بكار: وحدثني إبراهيم بن حمزة قال: ولدت خديجة القاسم والطاهر -ويقولون: عبد اللَّه والطيب-، وذكر البنات، ومن طريق ابن لهيعة عن أبي الأسود يتيم عروة قال: ولدت خديجة: القاسم والطيب والطاهر وعبد اللَّه، وذكر البنات، انظر "سيرة ابن هشام" (1/ 187 - 160).

(1) سيدة نساء العالمين في زمانها، وأم أولاد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وأوَّل من آمن به وصدّقه قبل كل أحد، وثبّتت جأشه، ماتت قبل الهجرة بثلاث سنين. "الطبقات الكبرى" (8/ 52، 1/ 131)، "أسد الغابة" (7/ 78)، "السير" (2/ 109)، "الإصابة" (7/ 600).

7 - ولد في ذي الحجة سنة ثمان، وسُرّ النبيُّ صلى الله عليه وسلم بولادته كثيرًا، وولد بالعالية. "أسد الغابة" (1/ 49)، "الإصابة" (1/ 172).

(2) مولاة رسول اللَّه، وسُرّيّته، أهداها له المقوقس صاحب الاسكندرية، وتوفيت سنة ست عشرة فى خلافة عمر، وكان عمر يجمع الناس بنفسه لشهود جنازتها، وصلَّى عليها عمر، رضي الله عنها. "الطبقات الكبرى" (8/ 212)، "أسد الغابة" (7/ 261)، "الإصابة" (8/ 113).

(3) قال الحافظ في "الإصابة" (1/ 174): وفي "صحيح البخاري" أنَّهُ عاش سبعة عشر شهرًا أو ثمانية عشر شهرًا؛ على الشك.

روى أحمد فى "المسند" (6/ 266) عن عائشة: أنَّه مات وهو ابن ثمانية عشر شهرًا.

وقال الحافظ في "الإصابة" (1/ 173): ورواه البزار وأبو يعلى، وإسناده حسن، وصححه ابن حزم.

(4) قال الحافظ في "الإصابة" (1/ 172): قال مصعب الزبيري: ومات سنة عشرة، جزم به الواقدي، وقال: يوم الثلاثاء لعشر خلون من شهر ربيع الأول.

وانظر "الفتح" (2/ 529).
তাদের সবার মা হলেন খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই-এর কন্যা খাদিজা(১)।

৭ - এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম; তাঁর মা হলেন শামউন কিবতির কন্যা মারিয়া(২)। তিনি দশ মাসের কিছু বেশি সময়(৩) জীবিত ছিলেন এবং দশম হিজরি সনের(৪) রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। তখনো তাঁর দুধপানের সময়কাল পূর্ণ হয়নি। অতঃপর তিনি বললেন—

--------------------------------------------

= হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ইসাবা' (৩/ ৫৪৯) গ্রন্থে বলেছেন: যুবাইর ইবনে বাক্কার বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে হামযাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খাদিজা আল-কাসিম এবং আত-তাহিরকে জন্ম দিয়েছেন—আর তারা (অন্যরা) বলেন: আবদুল্লাহ ও আত-তাইয়্যেব—এবং তিনি কন্যাদের কথা উল্লেখ করেছেন। ইবনে লাহিয়াহর সূত্রে উরওয়ার পালিত পুত্র আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: খাদিজা জন্ম দিয়েছেন: আল-কাসিম, আত-তাইয়্যেব, আত-তাহির এবং আবদুল্লাহকে; এবং তিনি কন্যাদের কথা উল্লেখ করেছেন। দেখুন: 'সিরাতে ইবনে হিশাম' (১/ ১৬০-১৮৭)।

(১) তাঁর সময়ের বিশ্বজাহানের নারীদের নেত্রী এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তানদের জননী। তিনি সবার আগে তাঁর (রাসুলের) ওপর ঈমান আনয়নকারী ও তাঁকে সত্যায়নকারী প্রথম ব্যক্তি এবং তিনি তাঁর অন্তরকে স্থির রেখেছিলেন। হিজরতের তিন বছর পূর্বে তিনি ইন্তেকাল করেন। 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' (৮/ ৫২, ১/ ১৩১), 'উসুদুল গাবাহ' (৭/ ৭৮), 'আস-সিয়ার' (২/ ১০৯), 'আল-ইসাবা' (৭/ ৬০০)।

৭ - অষ্টম হিজরি সনের জিলহজ মাসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্মতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। তিনি 'আল-আলিয়া' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। 'উসুদুল গাবাহ' (১/ ৪৯), 'আল-ইসাবা' (১/ ১৭২)।

(২) আল্লাহর রাসুলের দাসী ও তাঁর উম্মে ওয়ালাদ। আলেকজান্দ্রিয়ার অধিপতি মুকাওকিস তাঁকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে ষোলো হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন। উমর (রা.) নিজে মানুষকে তাঁর জানাজায় শরিক হওয়ার জন্য সমবেত করতেন এবং উমর (রা.) তাঁর জানাজা পড়িয়েছেন, রাদিয়াল্লাহু আনহা। 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' (৮/ ২১২), 'উসুদুল গাবাহ' (৭/ ২৬১), 'আল-ইসাবা' (৮/ ১১৩)।

(৩) হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ইসাবা' (১/ ১৭৪) গ্রন্থে বলেছেন: 'সহিহ বুখারি'-তে এসেছে যে, তিনি সতেরো মাস অথবা আঠারো মাস জীবিত ছিলেন; এটি বর্ণনাকারীর সন্দেহ।

আহমদ 'আল-মুসনাদ' (৬/ ২৬৬) গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো মাস।

এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ইসাবা' (১/ ১৭৩) গ্রন্থে বলেছেন: এটি আল-বাত্তার এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, এর সনদ 'হাসান' এবং ইবনে হাজম একে 'সহিহ' বলেছেন।

(৪) হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ইসাবা' (১/ ১৭২) গ্রন্থে বলেছেন: মুসআব আয-যুবাইরি বলেছেন: তিনি দশম হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আল-ওয়াকিদি এ ব্যাপারে নিশ্চিত মত দিয়েছেন এবং বলেছেন: রবিউল আউয়াল মাসের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মঙ্গলবার দিন তিনি ইন্তেকাল করেন।

এবং দেখুন 'আল-ফাতহ' (২/ ৫২৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৪)
النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم "إنَّ له مرضعًا يتم رضاعة في الجنة"(1).

* * * * *

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري كتاب الجنائز (3/ 244) (رقم: 1382)، وكتاب بدء الخلق (6/ 320) (رقم: 3255)، وكتاب الأدب (10/ 577)، وأحمد في "المسند" (4/ 284، 289، 300، 302، 304) عن البراء قال: لما مات إبراهيم عليه السلام، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنَّ له مرضعًا في الجنة".
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "জান্নাতে তার জন্য একজন স্তন্যদাত্রী রয়েছে যে তার দুধপানের সময়কাল পূর্ণ করবে"(১).

* * * * *

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, জানাজা অধ্যায় (৩/ ২৪৪) (হাদিস নং: ১৩৮২), সৃষ্টির সূচনা অধ্যায় (৬/ ৩২০) (হাদিস নং: ৩২৫৫), আদব অধ্যায় (১০/ ৫৭৭); এবং আহমদ "আল-মুসনাদ" গ্রন্থে (৪/ ২৮৪, ২৮৯, ৩০০, ৩০২, ৩০৪)। বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মৃত্যুবরণ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জান্নাতে তার জন্য একজন স্তন্যদাত্রী রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৫)
*‌‌ وأخوة أولاد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من أُمهم خديجة:

8 - هند بنت عتيق بن عابد(1) بن عبد اللَّه بن عمر بن مخزوم؛ أسلمت(2) وتزوجت، ولم يُروَ عنها شيءٌ(3).

9 - وهند.

10 - وهالة؛ ابنا أبي هالة مالك(4) بن النبّاش بن زُرارة.

وقيل: إنَّ اسم أبي هالة(5): هند بن زُرارة بن النبّاش حليف بني عبد الدار بن

--------------------------------------------

8 - قال الحافظ في "الإصابة" (8/ 157): قال ابن سعد في ترجمة خديجة: خلف على خديجة بعد أبي هالة عتيقُ ين عابد بن عبد اللَّه بن عمر بن مخزوم، فولدت له جارية يقال لها: هند، فتزوجها صيفي بن أمية بن عابد وهو ابن عمها.

(1) ضبطه المصنِّف في "المؤتلف" (1540) بالحروف.

(2) أشار الحافظ في "الإصابة" (8/ 157) إلى ترجمة المصنِّف لها.

(3) كذا في "الأصل"، وفي "الإصابة" نقلًا عن "الأخوة": "لم ترو عنه شيئًا".

9 - ربيب النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، قيل: استشهد يوم الجمل مع علي، وقيل: عاش بعد ذلك. "الاستيعاب" (3/ 600)، "أسد الغابة" (5/ 417)، "الإصابة" (6/ 557)، "والتهذيب" (11/ 72).

10 - له صحبة. "أسد الغابة" (5/ 378)، "الإصابة" (6/ 517).

(4) في "الإصابة" (6/ 558): قال الزبير: اسمه: مالك بن النباش بن زرارة.

(5) في "الإصابة" (6/ 558): وقال أبو محمد ابن حزم: اسم أبي هالة: هند بن زرارة ابن النباش. وقال الحافظ في "التهذيب" (11/ 72): حكى الدارقطني في كتاب "الأُخوة": اسم أبي هالة: مالك بن النباش، ويقال: هند بن النباش حليف بنى عبد الدار.
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তানদের তাদের মাতা খাদিজার পক্ষ থেকে ভাইবোনরা:

৮ - হিন্দ বিনতে আতীক ইবনে আবিদ(১) ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম; তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং বিবাহ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর থেকে কিছুই বর্ণিত হয়নি(৩)।

৯ - এবং হিন্দ।

১০ - এবং হালা; আবু হালা মালিক(৪) ইবনে নাব্বাশ ইবনে যুরারাহ-এর দুই পুত্র।

এবং বলা হয়েছে যে: আবু হালার নাম ছিল(৫): হিন্দ ইবনে যুরারাহ ইবনে নাব্বাশ, যিনি বনু আবদুদ দারের মিত্র ছিলেন...

--------------------------------------------

৮ - হাফিজ ইবনে হাজার 'আল-ইসাবা' (৮/১৫৭) গ্রন্থে বলেন: ইবনে সাদ খাদিজার জীবনীতে বলেছেন: আবু হালার পর খাদিজাকে বিবাহ করেছিলেন আতীক ইবনে আবিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম, অতঃপর তাঁর গর্ভে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয় যাকে হিন্দ বলা হয়, পরে তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই সাইফি ইবনে উমাইয়া ইবনে আবিদ বিবাহ করেন।

(১) লেখক এটি 'আল-মু'তালিফ' (১৫৪০) গ্রন্থে বর্ণের সাহায্যে নির্ধারণ করেছেন।

(২) হাফিজ ইবনে হাজার 'আল-ইসাবা' (৮/১৫৭) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে লেখকের দেওয়া জীবনীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।

(৩) 'মূল' গ্রন্থে এমনই আছে, আর 'আল-ইসাবা' গ্রন্থে 'আল-উখওয়াহ' থেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে: "তাঁর থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়নি"।

৯ - তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিপালিত পুত্র, বলা হয়েছে: তিনি আলীর সাথে জঙ্গে জামালের দিন শহীদ হন, আবার বলা হয়েছে: তিনি এরপরও জীবিত ছিলেন। "আল-ইস্তিআব" (৩/৬০০), "উসদুল গাবাহ" (৫/৪১৭), "আল-ইসাবা" (৬/৫৫৭), এবং "আত-তাহযীব" (১১/৭২)।

১০ - তাঁর সাহচর্য রয়েছে। "উসদুল গাবাহ" (৫/৩৭৮), "আল-ইসাবা" (৬/৫১৭)।

(৪) 'আল-ইসাবা' (৬/৫৫৮) গ্রন্থে রয়েছে: যুবায়ের বলেন: তাঁর নাম: মালিক ইবনে নাব্বাশ ইবনে যুরারাহ।

(৫) 'আল-ইসাবা' (৬/৫৫৮) গ্রন্থে রয়েছে: এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজম বলেন: আবু হালার নাম: হিন্দ ইবনে যুরারাহ ইবনে নাব্বাশ। হাফিজ ইবনে হাজার 'আত-তাহযীব' (১১/৭২) গ্রন্থে বলেন: আদ-দারা কুতনী 'আল-উখওয়াহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবু হালার নাম: মালিক ইবনে নাব্বাশ, আর বলা হয়: হিন্দ ইবনে নাব্বাশ, যিনি বনু আবদুদ দারের মিত্র ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৬)
قُصَي، أمها خديجة أيضًا، وهند بن أبي هالة هو الذي روى عنه ابنا(1) أختِه(2) الحسن والحسين أبناء علي رضي الله عنهم، حديثَه في صفة(3) النبيِّ صلى الله عليه وسلم.

وكان فصيحًا(4)، وشهد مع علي يوم الجمل وقتل(5) يومئذ.

وأمَّا فاطمة(6) بنت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فروَت عن أبيها صلى الله عليه وسلم، وروى عنها علي

--------------------------------------------

(1) لأنَّهُ أخو أمه من أُمها، أي: لأنَّ هالة أخت فاطمة بنت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.

(2) جاء في "الأصل": أخيه، والصواب ما أثبت.

(3) رواه الترمذي في "الشمائل" (22)، وابن سعد في "الطبقات" (1/ 422 - 423) وابن عدي في "الكامل" (2/ 59) عن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال: سألت خالي هند ابن أبي هند -وكان وصّافًا حلية النبيّ صلى الله عليه وسلم، … الحديث.

قال الحافظ في "التهذيب" (11/ 72) عن الحديث: وفي حديثه من لا يعرف.

وقال الآجُرِّي عن أبي داود: وأخشى أن يكون موضوعًا.

قال الشيخ ناصر في "السلسلة الصحيحة" (5/ 85): وهذا إسناد ضعيف، وله علتان: الأولى: جهالة أبي عبد الله التميمي، والثانية: ضعف جُميع. بن عُمير هذا، واتهمه بعضهم.

(4) قال ابن عبد البر في "الاستيعاب" (3/ 602): كان هند فصيحًا بليغًا وَصَفَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فأحسن وأتقن.

(5) في "الاستيعاب" و "الإصابة": قال الزبير: قتل هند مع على بن أبي طالب يوم الجمل، وزاد في "الإصابة": وكذا قال الدارقطني في كتاب "الأُخوة".

(6) قال ابن عبد البر في "الاستيعاب" (4/ 373): كانت هي وأختها أم كلثوم أصغر بنات رسول الله صلى الله عليه وسلم، واختُلف في الصغرى منهما، وقد قيل: إنَّ رقيَّة أصغر منهما، وليس ذلك عندي بصحيح … وقد اضطرب مصعب والزبير -في بنات النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم أيتهن أصغر وأكبر؟ - اضطرابًا يوجب أن لا يُلتفت إليه فى ذلك، والذي تسكن إليه النَّفس على ما تواترت به الأخبار ترتيبُ بنات رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أنَّ زينب الأولى، ثم الثَّانية رقيّة، ثم الثالثة أم كلثوم، ثم الرابعة =
কুসাই, তার মা-ও ছিলেন খাদিজা। আর হিন্দ ইবনে আবি হালাহ হলেন তিনি, যার থেকে তার দুই ভাগ্নে হাসান ও হুসাইন—যারা আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পুত্র—আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করেছেন।

তিনি অত্যন্ত বাকপটু ছিলেন এবং আলীর সাথে জঙ্গে জামালে (উটের যুদ্ধ) অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং সেদিনই শাহাদাত বরণ করেন।

আর আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কন্যা ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তার পিতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আলী বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) কারণ তিনি ছিলেন তাদের মায়ের বৈমাত্রেয় ভাই, অর্থাৎ: হালাহ আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কন্যা ফাতিমার বোন ছিলেন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'তার ভাই' এসেছে, তবে সঠিকটিই এখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

(৩) তিরমিযী এটি 'শামায়েল' (২২), ইবনে সাদ 'তাবাকাত' (১/ ৪২২ - ৪২৩) এবং ইবনে আদি 'কামিল' (২/ ৫৯)-এ হাসান ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবি হিন্দকে জিজ্ঞাসা করলাম—যিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবয়বের বিবরণ প্রদানে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন... (হাদীসটি শেষ পর্যন্ত)।

হাফেজ ইবনে হাজার 'তাহযীব' (১১/ ৭২)-এ এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন একজন আছেন যিনি অপরিচিত।

আর আল-আজুররি আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমার আশঙ্কা এটি জাল হতে পারে।

শেখ নাসির (আলবানী) 'সিলসিলাতুস সহীহাহ' (৫/ ৮৫)-এ বলেছেন: এই সনদটি দুর্বল, এর দুইটি ত্রুটি রয়েছে: প্রথমত: আবু আবদুল্লাহ আল-তামিমির পরিচয় না থাকা, এবং দ্বিতীয়ত: জুমাই বিন উমাইরের দুর্বলতা; কেউ কেউ তাকে অভিযুক্তও করেছেন।

(৪) ইবনে আবদিল বার 'আল-ইসতিআব' (৩/ ৬০২)-এ বলেছেন: হিন্দ অত্যন্ত বাকপটু ও সাবলীল ছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণাবলি এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত হয়েছে।

(৫) 'আল-ইসতিআব' ও 'আল-ইসাবাহ'-তে রয়েছে: যুবায়ের বলেছেন: হিন্দ আলীর সাথে জঙ্গে জামালের দিন নিহত হন। 'আল-ইসাবাহ'-তে আরও যুক্ত করা হয়েছে: দারা কুতনীও 'কিতাবুল উখওয়াহ'-তে একই কথা বলেছেন।

(৬) ইবনে আবদিল বার 'আল-ইসতিআব' (৪/ ৩৭৩)-এ বলেছেন: তিনি এবং তার বোন উম্মে কুলসুম ছিলেন আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কনিষ্ঠতম কন্যা। তাদের মধ্যে কে ছোট তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: রুকাইয়া তাদের চেয়েও ছোট ছিলেন, তবে এটি আমার কাছে সঠিক নয়... মুসআব এবং যুবায়ের—আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কন্যাদের মধ্যে কে বড় আর কে ছোট সেই বিষয়ে—এতটাই বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন যা উপেক্ষা করা জরুরি। তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহ থেকে যা দিয়ে মন প্রশান্ত হয় তা হলো আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কন্যাদের জন্মক্রম ছিল: প্রথমত যয়নব, দ্বিতীয়ত রুকাইয়া, তৃতীয়ত উম্মে কুলসুম, এরপর চতুর্থত =
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ابن أبي طالب، وعائشة، وأم سلمة أُمّا المؤمنين رضي الله عنهم، وغيرهم من أصحاب النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وتزوجها(1) علي بن أبي طالب، فولدت الحسن والحسين ومُحَسِّنًا وأم كلثوم وزينب. فأمَّا:

11 - الحسن.

12 - والحسين؛ فحفظا عن جدِّهما رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ورويا عنه. وأمَّا:

13 - مُحَسِّن؛ فمات صغيرًا. وأمَّا:

--------------------------------------------

= الزهراء رضي الله عنهن، واللَّه أعلم.

(1) تزوجها بعد وقعة أحد، كما في "الاستيعاب" (4/ 374)، و "السير" (2/ 119).

11 - سِبط رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وريحانته، وقد صحبه وحفظ عنه، مات شهيدًا بالسم سنة تسع وأربعين وهو ابن سبع وأربعين، وخيل: مات سنة خمسين، وقيل: بعدها. "التاريخ الكبير" (2/ 386)، "الجرح والتعديل" (3/ 19)، "أسد الغابة" (2/ 9)، "تهذيب الكمال" (6/ 220)، "السير" (3/ 245)، "التهذيب" (2/ 295)، "الإصابة" (2/ 68)، "الآحاد والمثاني" (1/ 297).

12 - سِبط رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وريحانته، حفظ عنه، استشهد يوم عاشوراء سنة إحدى وستين، وله ست وخمسون سنة. "التاريخ الكبير" (2/ 381)، "الجرح والتعديل" (3/ 55)، "الآحاد والمثاني" (1/ 305)، "أسد الغابة" (2/ 81)، "تهذيب الكمال" (6/ 396)، "السير" (3/ 280)، "التهذيب" (2/ 345)، "الإصابة" (2/ 76).

13 - قال الحافظ في "الإصابة" (6/ 234): بتشديد السين المهملة، استدركه ابن فتحون على ابن عبد البر، وقال: أراه مات صغيرًا، واستدركه أبو موسى على ابن منده. أ. هـ.

وفي "الذرية الطاهرة" (114): فذهب مُحَسِّن صغيرًا، ثم ذكر الحافظ في "الإصابة" حديثًا رواه الإمام أحمد في "مسنده" عن سبب تسمية الحسن والحسين ومُحَسِّن، ثم قال الحافظ: إسناده صحيح. وانظر "تبصير المنتبه" (4/ 1264).
ইবনে আবি তালিব, আয়েশা এবং উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্যান্য সাহাবীগণ। আর তাঁর সাথে আলী বিন আবি তালিবের বিবাহ হয়(১), এরপর তিনি হাসান, হুসাইন, মুহসিন, উম্মে কুলসুম ও যয়নবকে প্রসব করেন। অতঃপর:

১১ - হাসান।

১২ - এবং হুসাইন; তাঁরা উভয়ে তাঁদের নানা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (হাদীস) সংরক্ষণ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর:

১৩ - মুহসিন; তিনি শৈশবে মৃত্যুবরণ করেন। আর:

--------------------------------------------

= আয-যাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না), আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

(১) উহুদ যুদ্ধের পর তিনি তাঁকে বিবাহ করেন, যেমনটি 'আল-ইস্তিআব' (৪/৩৭৪) এবং 'আস-সিয়ার' (২/১১৯)-এ রয়েছে।

১১ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৌহিত্র ও তাঁর সুগন্ধি ফুল। তিনি তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর থেকে (হাদীস) সংরক্ষণ করেছেন। তিনি উনপঞ্চাশ হিজরীতে সাতচল্লিশ বছর বয়সে বিষপ্রয়োগে শহীদ হন। বলা হয়ে থাকে: তিনি পঞ্চাশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন, আবার বলা হয়: এর পরে। 'আত-তারীখুল কাবীর' (২/৩৮৬), 'আল-জারহু ওয়াত-তাদীল' (৩/১৯), 'উসদুল গাবাহ' (২/৯), 'তাহযীবুল কামাল' (৬/২২০), 'আস-সিয়ার' (৩/২৪৫), 'আত-তাহযীব' (২/২৯৫), 'আল-ইসাবাহ' (২/৬৮), 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানী' (১/২৯৭)।

১২ - রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৌহিত্র ও তাঁর সুগন্ধি ফুল। তিনি তাঁর থেকে (হাদীস) সংরক্ষণ করেছেন। তিনি একষট্টি হিজরীর আশুরার দিনে ছাপ্পান্ন বছর বয়সে শাহাদাত বরণ করেন। 'আত-তারীখুল কাবীর' (২/৩৮১), 'আল-জারহু ওয়াত-তাদীল' (৩/৫৫), 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানী' (১/৩০৫), 'উসদুল গাবাহ' (২/৮১), 'তাহযীবুল কামাল' (৬/৩৯৬), 'আস-সিয়ার' (৩/২৮০), 'আত-তাহযীব' (২/৩৪৫), 'আল-ইসাবাহ' (২/৭৬)।

১৩ - হাফেয (ইবনে হাজার) 'আল-ইসাবাহ' (৬/২৩৪) গ্রন্থে বলেছেন: 'সিন' বর্ণে তাসদীদ সহকারে; ইবনে ফাতহুন এটি ইবনে আব্দুল বার-এর ওপর সংযোজন করেছেন এবং বলেছেন: আমি মনে করি তিনি শৈশবে মারা গেছেন। আবু মুসা এটি ইবনে মান্দাহ-এর ওপর সংযোজন করেছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

এবং 'আয-যুররিয়্যাতুত তাহিরাহ' (১১৪) গ্রন্থে রয়েছে: মুহসিন ছোট থাকতেই চলে যান। এরপর হাফেয 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে ইমাম আহমাদ কর্তৃক তাঁর 'মুসনাদ'-এ বর্ণিত একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন হাসান, হুসাইন ও মুহসিনের নামকরণের কারণ সম্পর্কে। অতঃপর হাফেয বলেন: এর সানাদ সহীহ। দেখুন 'তাবসীরুল মুনতাব্বিহ' (৪/১২৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৮)
14 - أُم كلثوم؛ فتزوجها عمر بن الخطاب، فولدت له: زيدًا(1)، ورقية(2)؛ وقتل عنها عمر(3)، فتزوجها محمد(4) بن جعفر فمات(5) عنها،

--------------------------------------------

14 - أم كلثوم بنت علي بن أبي طالب، شقيقة الحسن والحسين، ولدت في حدود سنة ست من الهجرة، ورأت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، ولم تروِ عنه شيئًا. "طبقات ابن سعد" (8/ 463)، "الاستيعاب" (4/ 41)، "أسد الغابة" (7/ 387)، "الإصابة"، (8/ 293).

(1) في "السير" (3/ 502): وكان ابنها زيد من سادة أشراف قريش، توفى شابًّا ولم يُعقِب. وفي "الإصابة" قال الزبير: وَلدت لعمر زيدًا ورقية، وماتت أم كلثوم وولدها في يوم واحد …

في "الطبقات" (8/ 464) أنّ ابن عمر صلَّى على أم كلثوم بنت علي وابنها زيد، فجعله مما يليه وكبَّر عليهما أربعًا، قال الحافظ في "الإصابة"، (8/ 295): وسنده صحيح.

(2) في "السير" (3/ 501): ونقل الزهري وغيره: أنَّها ولدت لعمر زيدًا وقيل: ولدت له رقية. وتقدم قول الزبير في ترجمة أخيها.

(3) قال الحافظ في "الإصابة" (8/ 294): وذكر الدارقطني في كتاب "الأُخوة": أنَّ عونًا مات عنها، فتزوجها أخوه محمد، ثم مات عنها، فتزوجها أخوه عبد اللَّه بن جعفر فماتت عنده.

قلت: الذي في نسختِنا من كتاب "الأُخوة" أنَّ محمدًا تزوج أم كلثوم بعد عمر، ثم عون ثم عبد الله، وهو الصحيح كما سيأتي.

(4) هو محمد بن جعفر بن أبي طالب الهاشمي، ابن عم النبيّ صلى الله عليه وسلم، وُلد بأرض الحبشة، أُمه أسماء بنت عميس. "الاستيعاب" (3/ 346)، "أسد الغابة" (5/ 83)، "الإصابة" (6/ 8).

(5) جاء في "الاستيعاب" في ترجمة محمد: وهو الذي تزوج أم كلثوم بنت علي بعد موت عمر بن الخطاب، ومثله في "أسد الغابة"، وقال الحافظ في "الإصابة": وذكر أبو عمر عن الواقدي أنَّهُ تزوج أم كلثوم بنت علي بعد عمر. وجاء فى "السيرة" لابن إسحاق (250)، =
১৪ - উম্মে কুলসুম; উমর ইবনুল খাত্তাব তাকে বিবাহ করেন, ফলে তিনি তার জন্য জন্ম দেন: জায়েদকে(১) ও রুকাইয়াহকে(২); উমর শহীদ হয়ে তাকে ছেড়ে যাওয়ার পর(৩) মুহাম্মাদ(৪) বিন জাফর তাকে বিবাহ করেন এবং তিনিও তাকে রেখে মারা যান(৫),

--------------------------------------------

১৪ - উম্মে কুলসুম বিনতে আলী বিন আবি তালিব, হাসান ও হুসাইনের সহোদরা বোন, হিজরী ষষ্ঠ সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন, তবে তাঁর থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করেননি। "তাবাকাত ইবনে সাদ" (৮/ ৪৬৩), "আল-ইসতিআব" (৪/ ৪১), "উসুদুল গাবাহ" (৭/ ৩৮৭), "আল-ইসাবাহ" (৮/ ২৯৩)।

(১) "আস-সিয়ার" (৩/ ৫০২)-এ আছে: তার পুত্র জায়েদ কুরাইশের সম্মানিত সরদারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তিনি যুবক অবস্থায় ইন্তেকাল করেন এবং কোনো উত্তরসূরি রেখে যাননি। "আল-ইসাবাহ"-তে জুবায়ের বলেছেন: তিনি উমরের জন্য জায়েদ ও রুকাইয়াহকে জন্ম দিয়েছেন, এবং উম্মে কুলসুম ও তার পুত্র একই দিনে মারা যান...

"তাবাকাত" (৮/ ৪৬৪)-এ এসেছে যে, ইবনে উমর আলীর কন্যা উম্মে কুলসুম এবং তার পুত্র জায়েদের জানাজা পড়িয়েছিলেন, তিনি তাকে (জায়েদকে) নিজের নিকটবর্তী রাখেন এবং উভয়ের জন্য চার তাকবির পাঠ করেন। হাফেজ "আল-ইসাবাহ" (৮/ ২৯৫)-তে বলেছেন: এর সনদ সহীহ।

(২) "আস-সিয়ার" (৩/ ৫০১)-এ আছে: যুহরী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে: তিনি উমরের জন্য জায়েদকে জন্ম দিয়েছেন, এবং বলা হয়েছে: তিনি রুকাইয়াহকেও জন্ম দিয়েছেন। আর তার ভাইয়ের জীবনীতে জুবায়েরের উক্তি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

(৩) হাফেজ "আল-ইসাবাহ" (৮/ ২৯৪)-তে বলেছেন: আদ-দারা কুতনী "আল-উখওয়াহ" কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে: আউন তার আগে মারা যান, এরপর তার ভাই মুহাম্মাদ তাকে বিবাহ করেন, তারপর তিনি মারা যান, এরপর তার ভাই আব্দুল্লাহ বিন জাফর তাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তাঁর নিকট থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

আমি বলছি: "আল-উখওয়াহ" কিতাবের আমাদের কপিতে যা আছে তা হলো, মুহাম্মাদ উমরের পর উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করেন, এরপর আউন, তারপর আব্দুল্লাহ; আর এটাই সঠিক যেমনটা সামনে আসবে।

(৪) তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন আবি তালিব আল-হাশিমী, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই, তিনি হাবাশা ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন, তার মা হলেন আসমা বিনতে উমাইস। "আল-ইসতিআব" (৩/ ৩৪৬), "উসুদুল গাবাহ" (৫/ ৮৩), "আল-ইসাবাহ" (৬/ ৮)।

(৫) মুহাম্মাদের জীবনীতে "আল-ইসতিআব"-এ এসেছে: তিনিই উমর বিন আল-খাত্তাবের মৃত্যুর পর আলীর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করেছিলেন, এবং "উসুদুল গাবাহ"-তেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ "আল-ইসাবাহ"-তে বলেছেন: আবু উমর ওয়াকিদি থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি উমরের পর আলীর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করেছিলেন। আর ইবনে ইসহাকের "আস-সিরাহ" (২৫০)-এ এসেছে যে, =
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتزوجها عون(1) بن جعفر فمات عنها، فتزوجها عبد الله(2) بن جعفر فماتت عنده(3). وأمَّا:

15 - زينب بنت علي بن أبي طالب، فزوَّجها أبوها عبدَ الله بن جعفر فولدت(4) له: علي بن عبد اللَّه، وأم كلثوم، ورقية(5).

--------------------------------------------

= و"الذرية الطاهرة" (114 - 117): أن عونًا تزوج أم كلثوم بعد عمر.

وقال الذهبي في "السير" (3/ 501): قال ابن إسحاق: توفي عنها عمر، فتزوجها عون.

وفي "الطبقات" مثله.

(1) ولد بأرض الحبشة، وقدم به أبوه في غزوة خيبر، وجاء في "الاستيعاب": استشهد في غزوة تُستر، وذلك في خلافة عمر، وما له عقب.

قلت: كذا جاء، وهو خطأ لأنَّه تزوج برقية بعد استشهاد عمر، وغزوة تُستر سنة ثمان عشرة في خلافة عمر. "الاستيعاب" (3/ 161)، وقال الحافظ في "الإصابة" (4/ 744): اختلف في أي ولدي جعفر محمد وعون كان أسن؟ فأما عبد الله فكان أسن منهما.

(2) أحد الأجواد، ولد بأرض الحبشة وله صحبة، مات سنة ثمانين، وهو ابن ثمانين.

(3) ذكر ابن سعد في "الطبقات" (8/ 463): أن أم كلثوم قالت: إني لأستحي من أسماء بنت عُميس، إن ابنيها ماتا عندي وإني لأتخوف على هذا الثالث، فهلكت عنده ولم تلد لأحد منهم شيئًا.

15 - ولدت في حياة النبيِّ صلى الله عليه وسلم وكانت عاقلة جزلة. "الطبقات الكبرى" (8/ 465) "الذرية الظاهرة" (119)، "أسد الغابة" (7/ 132)، "الإصابة" (7/ 684).

(4) في "الطبقات الكبرى": تزوجها عبد الله بن جعفر فولدت له عليًا وعونًا الأكبر وعباسًا ومحمدًا وأم كلثوم. وفي "الذرية الطاهرة" (119): لها علي وجعفر وعون وعباس وأم كلثوم بنو عبد الله بن جعفر.

(5) لم أجد لهؤلاء الثلاثة تراجم مستقلةً.
এরপর আউন(১) ইবনে জাফর তাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তাকে (বিধবা) রেখে ইন্তেকাল করেন। তারপর আব্দুল্লাহ(২) ইবনে জাফর তাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তার কাছে থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন(৩)। আর:

১৫ - যয়নাব বিনতে আলী ইবনে আবি তালিব; তার পিতা তাকে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের সাথে বিবাহ দেন এবং তিনি তার গর্ভে(৪) আলী ইবনে আব্দুল্লাহ, উম্মু কুলসুম ও রুকাইয়াহর(৫) জন্ম দেন।

--------------------------------------------

= এবং "আদ-যুররিয়্যাহ আত-তাহিরাহ" (১১৪ - ১১৭): আউন ওমরের পরে উম্মু কুলসুমকে বিবাহ করেছিলেন।

আয-যাহাবী "আস-সিয়ার" (৩/ ৫০১) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে ইসহাক বলেছেন: ওমর তাকে রেখে ইন্তেকাল করেন, এরপর আউন তাকে বিবাহ করেন।

"আত-তাবাকাত" গ্রন্থেও এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

(১) তিনি হাবাশা (আবিসিনিয়া) ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা তাকে নিয়ে খায়বর যুদ্ধের সময় আগমন করেন। "আল-ইসতিআব" গ্রন্থে এসেছে: তিনি তুস্তার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন, আর তা ছিল ওমরের খিলাফতকালে। তার কোনো উত্তরসূরি ছিল না।

আমি বলছি: বিষয়টি এভাবেই এসেছে, তবে এটি ভুল; কারণ তিনি ওমরের শাহাদাতের পর রুকাইয়াহকে বিবাহ করেন, অথচ তুস্তার যুদ্ধ ওমরের খিলাফতকালে হিজরি আঠারো সনে সংঘটিত হয়েছিল। "আল-ইসতিআব" (৩/ ১৬১)। হাফেজ (ইবনে হাজার) "আল-ইসাবাহ" (৪/ ৭৪৪) গ্রন্থে বলেছেন: জাফরের দুই পুত্র মুহাম্মাদ ও আউনের মধ্যে কে বড় ছিল তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে আব্দুল্লাহ তাদের দুজনের চেয়েই বড় ছিলেন।

(২) তিনি অন্যতম দানবীর ছিলেন। হাবাশা ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি একজন সাহাবী ছিলেন। তিনি আশি হিজরিতে আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) ইবনে সাদ "আত-তাবাকাত" (৮/ ৪৬৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: উম্মু কুলসুম বলেছিলেন, "আমি আসমা বিনতে উমাইসকে দেখে লজ্জিত হই; তার দুই পুত্র আমার স্ত্রী থাকাবস্থায় মারা গেছেন এবং আমি এই তৃতীয়জনের ব্যাপারেও আশঙ্কা করছি।" এরপর তিনি তার কাছে থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তাদের কারো পক্ষেই কোনো সন্তান জন্ম দেননি।

১৫ - তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ও গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৮/ ৪৬৫), "আদ-যুররিয়্যাহ আত-তাহিরাহ" (১১৯), "উসদুল গাবাহ" (৭/ ১৩২), "আল-ইসাবাহ" (৭/ ৬৮৪)।

(৪) "আত-তাবাকাতুল কুবরা" গ্রন্থে রয়েছে: আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর তাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তার গর্ভে আলী, আউনে আকবার, আব্বাস, মুহাম্মাদ এবং উম্মু কুলসুমকে জন্ম দেন। আর "আদ-যুররিয়্যাহ আত-তাহিরাহ" (১১৯) গ্রন্থে রয়েছে: তার আলী, জাফর, আউন, আব্বাস এবং উম্মু কুলসুম নামে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফরের সন্তানরা ছিল।

(৫) আমি এই তিনজনের জন্য কোনো স্বতন্ত্র জীবনীমূলক আলোচনা খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وأمَّا زينب بنت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فتزوجها أبو العاص(1) بن الربيع بن عبد العُزّى ابن عبد شمس، وهو ابن خالتها أم هالة بنت خويلد أخت خديجة لأبيها وأمها(2)، فولدت زينب لأبي العاص: عليًا، وأُمامة. فأما:

16 - علي: فأردفه رسول الله صلى الله عليه وسلم على راحلته يوم الفتح(3)، وتوفي وقد ناهز الحُلُم(4). وأما:

17 - أُمامة: فهي التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحملها على عاتقه وهو قائمٌ يصلي؛ فإذا أرادَ أن يسجد وضعها بالأرض(5)، وبلغت وتزوجَّها علي بن أبي

--------------------------------------------

(1) اختلف في اسمه قيل: لقيط، وقيل: الزبير، وقيل: هشيم … كان يقال له: الأمين، أسلم قبل الحديبية بخمسة أشهر، وتوفي سنة اثنتي عشرة في خلافة الصديق. "تاريخ خليفة" (119)، "الاستيعاب" (4/ 125)، "أسد الغابة" (6/ 185)، "السير" (1/ 330)، "الإصابة" (7/ 248).

(2) كما في "الاستيعاب" (4/ 125)، وانظر "الذرية الظاهرة" (45).

16 - كان علي مسترضعًا فى بني غاضرة فضمَّه رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه، وأبوه مشرك. "الاستيعاب" (3/ 68)، "أسد الغابة" (4/ 126)، "الإصابة" (4/ 570).

(3) أورد هذا الخبر الهيثمي في "مجمع الزوائد" (19/ 212) وعزاه للطبراني، ثم قال: "وعمرو بن أبي بكر: متروكٌ".

(4) انظر "الإصابة" (4/ 571)، و "السيرة" (246) لابن إسحاق، وفيهما أنَّه تُوفِّي وهو غلامٌ.

17 - انظر ترجمتها في "الطبقات الكبرى" (8/ 39)، "الاستيعاب" (4/ 244)، "أسد الغابة" (7/ 22)، "السير" (1/ 335).

(5) رواه البخاري في "صحيحه" كتاب الصلاة (1/ 590) رقم (516)، وكتاب الأدب (10/ 426) رقم (5996)، ومسلم كتاب المساجد (1/ 385 - 386) رقم (543)، =
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা জয়নাব (রা.)-এর প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তাঁকে বিয়ে করেছিলেন আবু আল-আস(১) ইবনে আল-রাবি ইবনে আবদ আল-উজ্জা ইবনে আবদ শামস। তিনি ছিলেন তাঁর খালাতো ভাই, অর্থাৎ খাদিজা (রা.)-এর আপন বোন উম্মে হালা বিনতে খুওয়ায়লিদের পুত্র(২)। জয়নাব আবু আল-আসের ঔরসে আলী এবং উমামাহকে জন্ম দেন। আর:

১৬ - আলী: মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে তাঁর বাহনের পিঠে নিজের পেছনে বসিয়েছিলেন(৩), এবং তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি সময়ে ইন্তেকাল করেন(৪)। আর:

১৭ - উমামাহ: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় নিজের কাঁধে বহন করতেন; যখন তিনি সিজদা করতে চাইতেন তখন তাঁকে মাটিতে নামিয়ে রাখতেন(৫), তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাঁকে বিয়ে করেন আলী ইবনে আবি...

--------------------------------------------

(১) তাঁর নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে: লাকিত, বলা হয়েছে: যুবাইর, আবার বলা হয়েছে: হুশাইম... তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) বলা হতো। তিনি হুদায়বিয়ার পাঁচ মাস পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং বারো হিজরিতে সিদ্দিকের খিলাফতকালে ইন্তেকাল করেন। "তারিখ খলিফা" (১১৯), "আল-ইসতিয়াব" (৪/ ১২৫), "উসদুল গাবাহ" (৬/ ১৮৫), "আস-সিয়ার" (১/ ৩৩০), "আল-ইসাবাহ" (৭/ ২৪৮)।

(২) যেমনটি "আল-ইসতিয়াব" (৪/ ১২৫)-এ রয়েছে, আরও দেখুন "আয-যুররিয়্যাতুয যাহিরাহ" (৪৫)।

১৬ - আলী বনু গাদীরা গোত্রে দুগ্ধপোষ্য ছিলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন, তখন তাঁর পিতা মুশরিক ছিলেন। "আল-ইসতিয়াব" (৩/ ৬৮), "উসদুল গাবাহ" (৪/ ১২৬), "আল-ইসাবাহ" (৪/ ৫৭০)।

(৩) এই সংবাদটি আল-হাইতামী "মাজমাউয যাওয়াইদ" (১৯/ ২১২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং একে তাবারানির দিকে নিসবত করেছেন, এরপর তিনি বলেছেন: "এবং আমর ইবনে আবি বকর: মাতরুক (পরিত্যক্ত)।"

(৪) দেখুন "আল-ইসাবাহ" (৪/ ৫৭১), এবং ইবনে ইসহাকের "আস-সিরাহ" (২৪৬), আর তাতে রয়েছে যে তিনি বালক অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

(৫) বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায় (১/ ৫৯০) নম্বর (৫১৬), এবং আদব অধ্যায় (১০/ ৪২৬) নম্বর (৫৯৯৬), এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন মসজিদ অধ্যায় (১/ ৩৮৫ - ৩৮৬) নম্বর (৫৪৩), =
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩১)
طالب بعد وفاة فاطمة عليها السلام(1).

وقيل: إن فاطمة كانت أوصته بذلك، وقتل عنها علي ولم تلد له(2)، فتزوجها(3) بعده المغيرة بن نوفل بن الحارث وقيل: لا، بل تزوجها بعد علي أبو الهيَّاج ابن أبي سفيان بن الحارث بن عبد المطلب.

وأمَّا: رقية بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فتزوجها(4) عثمان بن عفان وهاجرت معه

--------------------------------------------

= وأبو داود كتاب الصلاة (1/ 241) رقم (918)، والنسائي كتاب الصلاة (2/ 45، 3/ 10) كلهم من طريق أبي قتادة.

(1) قال ابن إسحاق في "السيرة" (246): بقيت أُمامة حتى تزوجها علي بعد فاطمة، فتزوجت بعد قتل علي المغيرةَ بن نوفل بن الحارث فهلكت عنده، انظر "الذرية الطاهرة" (45)، و "المعرفة والتاريخ" (3/ 270).

(2) في "الإصابة" (7/ 503) قال الزبير: ليس لزينب عقب، وقال أبو عمر في "الاستيعاب": وقد قيل: إنَّها لم تلد لعلي، ولا للمغيرة كذلك.

(3) قال الحافظ في "الإصابة" (6/ 201) في ترجمة مغيرة: قال الزبير بن بكّار: خطب معاوية أُمامة بعد قتل علي فجعلت أمرها للمغيرة بن نوفل فتوثق منها ثم زوجها نفسه فماتت عنده.

وقال الحافظ في "الإصابة" (7/ 504): وقد قال الدارقطني في كتاب "الأُخوة": تزوجها بعد علي المغيرة بن نوفل، وقيل: بل تزوجها بعده أبو الهياج بن أبي سفيان بن الحارث بن عبد المطلب.

(4) قال ابن سعد (8/ 36): كان تزوجها عُتبة بن أبي لهب قبل النبوة.

قال الذهبي في "السير" (2/ 251): "كذا قال، وصوابه: قبل الهجرة، فلما أُنزلت: {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ} قال أبوه: رأسي من رأسك حرام إن لم تطلق بنته، ففارقها قبل الدخول، وأسلمت مع أمها وأخواتها ثم تزوجها عثمان. وانظر "الذرية الطاهرة" (52).
তালিব ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-এর ইন্তেকালের পর তাকে বিবাহ করেন(১)।

এবং বলা হয় যে: ফাতিমা তাকে এ ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন। আলী তাকে বিবাহিত অবস্থায় রেখে শাহাদাতবরণ করেন এবং তার পক্ষ থেকে আলীর কোনো সন্তান জন্মেনি(২)। অতপর তার পরে তাকে(৩) মুগিরা বিন নওফাল বিন আল-হারিস বিবাহ করেন। আর কেউ কেউ বলেন: না, বরং আলীর পরে তাকে আবু আল-হায়্যাজ ইবনে আবি সুফিয়ান বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব বিবাহ করেন।

আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা রুকাইয়্যাহর কথা হলো, তাকে(৪) উসমান বিন আফফান বিবাহ করেন এবং তিনি তার সাথে হিজরত করেন।

--------------------------------------------

= এবং আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত (১/ ২৪১), হাদিস নং (৯১৮); এবং নাসাঈ, কিতাবুস সালাত (২/ ৪৫, ৩/ ১০), তারা সকলেই আবু কাতাদার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(১) ইবনে ইসহাক 'আস-সিরাহ' (২৪৬)-এ বলেন: উমামাহ জীবিত ছিলেন যতক্ষণ না ফাতিমার ইন্তেকালের পর আলী তাকে বিবাহ করেন। অতপর আলী নিহত হওয়ার পর তাকে মুগিরা বিন নওফাল বিন আল-হারিস বিবাহ করেন এবং তিনি তার কাছে থাকাকালীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। দেখুন: 'আয-যুররিয়্যাতুত তাহিরাহ' (৪৫) এবং 'আল-মা'রিফাতু ওয়াত তারিখ' (৩/ ২৭০)।

(২) 'আল-ইসাবা' (৭/ ৫০৩)-এ যুবাইর বলেন: যাইনবের কোনো বংশধর ছিল না। আর আবু ওমর 'আল-ইসতিয়াব'-এ বলেন: এবং বলা হয়েছে যে, তিনি আলীর কোনো সন্তান জন্ম দেননি এবং তেমনিভাবে মুগিরারও না।

(৩) হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-ইসাবা' (৬/ ২০১)-এ মুগিরার জীবনীতে বলেন: যুবাইর বিন বাক্কার বলেন: আলী নিহত হওয়ার পর মুআবিয়া উমামাহকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন তিনি তার বিষয়টি মুগিরা বিন নওফালকে ন্যস্ত করেন। অতপর তিনি তার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন এবং নিজেই তাকে বিবাহ করেন। পরে তিনি তার নিকট থাকাকালীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

এবং হাফেজ 'আল-ইসাবা' (৭/ ৫০৪)-এ বলেন: দারা কুতনি 'কিতাবুল উখওয়াহ'-তে বলেছেন: আলীর পরে তাকে মুগিরা বিন নওফাল বিবাহ করেন। আর বলা হয়েছে যে, বরং তার পরে তাকে আবু আল-হায়্যাজ বিন আবি সুফিয়ান বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব বিবাহ করেন।

(৪) ইবনে সাদ (৮/ ৩৬) বলেন: নবুওয়াতের পূর্বে উতবা বিন আবি লাহাব তাকে বিবাহ করেছিল।

যাহাবি 'আস-সিয়ার' (২/ ২৫১)-এ বলেন: "তিনি এরূপই বলেছেন, তবে সঠিক হলো: হিজরতের পূর্বে। যখন 'তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব' (সুরা লাহাব) অবতীর্ণ হলো, তখন তার বাবা (আবু লাহাব) বলল: যদি তুমি তার (মুহাম্মাদের) মেয়েকে তালাক না দাও, তবে তোমার সাথে আমার দেখা-সাক্ষাৎ হারাম। ফলে তিনি বাসর যাপনের পূর্বেই তাকে তালাক দেন এবং তিনি (রুকাইয়্যাহ) তার মা ও বোনদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন, এরপর উসমান তাকে বিবাহ করেন।" এবং দেখুন: 'আয-যুররিয়্যাতুত তাহিরাহ' (৫২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩২)
الهجرتين(1) إلى أرض الحبشة، ثم إلى المدينة، وولدت له عبد اللَّه(2)، وبه كان يُكنى، وماتت بالمدينة ورسول الله صلى الله عليه وسلم بَبدر(3)، وشهد عثمان دفنها، وقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم من بدر فزوَّج عثمان أختها أم كلثوم(4)، وماتت عنده ولم تلد له، ولا رواية لهما.

ورُقيّة ذِكرُها في حديثٍ حدَّثَناه عبدُ اللَّه(5) بن محمد بن عبد العزيز ثنا الخليل(6) بن عمرو ثنا محمد بن سلمة(7) عن أبي

--------------------------------------------

(1) جاء في "الطبقات الكبرى" هاجرت مع عثمان الهجرتين جميعًا.

(2) قال ابن سعد: كانت في الهجرة الأولى قد أسقطت من عثمان سِقطًا ثم ولدت له بعد ذلك ابنًا فسماه عبد الله وكان عثمان يكنى به في الإسلام وبلغ ست سنين فنقره ديك في وجهه فطمر وجهه فمات.

انظر "الذرية الطاهرة" (53)، و "تاريخ الفسوي" (3/ 159 - 163).

(3) قال ابن سعد: ومرضت ورسول الله يتجهز إلى بدر فخلف عليها رسول الله عثمان ابن عفان فتوفيت ورسول الله صلى الله عليه وسلم ببدر في شهر رمضان.

(4) قال ابن سعد (8/ 37): تزوجها عتبة بن أبي لهب ثم فارقها قبل أن يدخل بها، فلما توفيت رقية خلف عثمان عليها وكانت بكرًا فلم تزل عنده إلى أن ماتت ولم تلد له شيئًا، ماتت في شعبان سنة تسع من الهجرة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لو كن عشرًا لزوجتهن لعثمان".

وهذا الحديث له طُرقٌ أشارَ إليها الهيثمي في "المجمع" (9/ 83) تُثبِّتهُ.

وانظر "الذرية الطاهرة" (56)، و "المعرفة والتاريخ" (3/ 159، 269، 270).

(5) هو أبو القاسم البغوي الحافظ. انظر ترجمته "السير" (14/ 440).

(6) الثقفي أبو عمرو البزار البغوي، صدوق من العاشرة مات سنة (242/ ق). "التهذيب" (3/ 168).

(7) ابن عبد الله الباهلي الحراني، ثقة من التاسعة مات سنة (191 على الصحيح). "التهذيب" (9/ 193).
হাবাশা (আবিসিনিয়া) অভিমুখে এবং পরবর্তীতে মদিনা অভিমুখে—উভয় হিজরতই তিনি করেছিলেন(১)। তাঁর গর্ভে উসমানের পুত্র আবদুল্লাহ(২) জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর নামানুসারেই উসমান (রা.)-এর কুনিয়াত (উপনাম) রাখা হয়েছিল। তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদর প্রান্তরে ছিলেন(৩)। উসমান (রা.) তাঁর দাফন কার্যে উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদর থেকে ফিরে আসার পর উসমান (রা.)-এর সাথে তাঁর বোন উম্মে কুলসুমকে(৪) বিয়ে দেন। তিনি তাঁর (উসমানের) নিকট থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। তাঁদের দুজনের থেকে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না।

রুকাইয়াহ সম্পর্কে আলোচনা সেই হাদিসে এসেছে যা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ(৫) ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল আজিজ; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খলিল(৬) ইবনে আমর; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ(৭), তিনি তাঁর পিতা থেকে...

--------------------------------------------

(১) 'আত-তাবাকাত আল-কুবরা'-তে এসেছে যে, তিনি উসমানের সাথে উভয় হিজরতেই শরিক ছিলেন।

(২) ইবনে সাদ বলেন: প্রথম হিজরতের সময় উসমানের পক্ষ থেকে তাঁর একটি গর্ভপাত হয়েছিল। এরপর তাঁর একটি পুত্র সন্তান জন্মায় যার নাম তিনি আবদুল্লাহ রেখেছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর উসমান এই নামেই কুনিয়াত গ্রহণ করেছিলেন। শিশুটির বয়স যখন ছয় বছর হলো, তখন একটি মোরগ তার চেহারায় ঠোকর দেয়, ফলে তার মুখ ফুলে যায় এবং সে মৃত্যুবরণ করে।

দেখুন: 'আয-যুররিয়্যাত আত-তাহিরা' (৫৩), এবং 'তারিখ আল-ফাসাওয়ি' (৩/ ১৫৯ - ১৬৩)।

(৩) ইবনে সাদ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বদরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উসমান ইবনে আফফানকে তাঁর দেখাশোনার জন্য স্থলাভিষিক্ত করে রেখে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বদরে ছিলেন, তখন রমজান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।

(৪) ইবনে সাদ (৮/ ৩৭) বলেন: উতবা ইবনে আবি লাহাব তাঁকে বিয়ে করেছিল, তবে বাসর হওয়ার আগেই সে তাঁকে তালাক দিয়ে দেয়। যখন রুকাইয়াহ ইন্তেকাল করলেন, উসমান তাঁর স্থলাভিভিক্ত হিসেবে তাঁকে (উম্মে কুলসুমকে) বিয়ে করেন। তিনি তখন কুমারী ছিলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি উসমানের স্ত্রী হিসেবেই ছিলেন এবং তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। হিজরি নবম সনের শাবান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: "যদি আমার দশটি মেয়েও থাকতো, তবে আমি একের পর এক উসমানের সাথেই তাদের বিয়ে দিতাম।"

এই হাদিসটির একাধিক সূত্র রয়েছে যা হাইসামি 'আল-মাজমা' (৯/ ৮৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এটি একে শক্তিশালী করে।

দেখুন: 'আয-যুররিয়্যাত আত-তাহিরা' (৫৬), এবং 'আল-মারিফাহ ওয়াত তারিখ' (৩/ ১৫৯, ২৬৯, ২৭০)।

(৫) তিনি হলেন হাফিজ আবু কাসেম আল-বাগাওয়ী। তাঁর জীবনী দেখুন: 'আস-সিয়ার' (১৪/ ৪৪০)।

(৬) আস-সাকাফি আবু আমর আল-বাযযার আল-বাগাওয়ী, তিনি দশম স্তরের একজন সত্যবাদী (সদুক) রাবী, তিনি ২৪২ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। 'আত-তাহযীব' (৩/ ১৬৮)।

(৭) ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাহিলি আল-হাররানি, তিনি নবম স্তরের একজন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী, বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি ১৯১ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। 'আত-তাহযীব' (৯/ ১৯৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইখওয়াতু ওয়াল আখাওয়াত - আদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
عبد الرحيم(1) عن زيد بن أبي أُنَيسة(2) عن محمد بن عبد اللَّه(3) عن المُطَّلب(4) عن أبي هريرة قال: دخلت على عثمان بن عفان فرأيت عنده رقية … فذكر الحديث(5).

وفي الحديث نظر؛ لأن رقية ماتت يوم بدر وأبو هريرة أسلم عام خيبر.

--------------------------------------------

(1) هو خالد بن أبي يزيد بن سمَّال (أ) بن رستم الأموي مولاهم الحراني ثقة من السادسة مات (144/ بخ م د س).

(2) الجزري أبو أسامة ثقة له أفراد من السادسة مات سنة (119) وقيل: (124/ع).

(3) في "تهذيب الكمال" في ترجمة زيد: شيخ يروي عن المطلب عن أبي هريرة.

فى "المستدرك" للحاكم، قال: عن محمد بن عبد الله بن عمرو بن عثمان. قلت: هو الديباج صدوق/ ق.

(4) هو المطلب بن عبد الله المخزومي صدوق كثير التدليس والإرسال من الرابعة.

(5) الحديث رواه الفسوي في "المعرفة والتاريخ" (3/ 162) وقال: حدثنا الخليل به نحوه، ورواه الدولابي في "الذرية الطاهرة" رقم (63، 74) من طريق الخليل بن عمرو به، وذكر في الأول: دخلت على رقية، ورواه الطبراني في "الكبير" (1/ 32) رقم (99) من طريق الخليل ثنا محمد بن سلمة عن أبي عبد الرحيم عن زيد بن أبي أنيسة عن محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ابن عبد الله عن أبي هريرة، ورواه ابن أبي عاصم في "الآحاد" (5/ 376)، والحاكم في "المستدرك" (4/ 48) من طريق محمد بن سلمة عن أبي عبد الرحيم عن زيد بن أبي أنيسة عن محمد بن عبد الله بن عمرو بن عثمان عن المطلب بن عبد الله عن أبي هريرة.

قال الحاكم: صحيح الإسناد، واهي المتن فإن رقية ماتت سنة ثلاث من الهجرة عند فتح بدر وأبو هريرة إنَّما أسلم بعد فتح خيبر والله أعلم، وقد كتبناه بإسناد آخر.

ورواه الحاكم في "المستدرك" (4/ 48) من طريق وهب بن مغنبّه عن أبي هُريرة.

وقال الحاكم رحمه الله: لا شك أنَّ أبا هرورة روى هذا الحديث عن متقدم من =

_________

(أ) انظر "المؤتلف" (3/ 1242) للمصنّف، و "الإكمال" (4/ 354) لابن ماكولا.
আবু আবদুর রহিম(১) যাইদ বিন আবি উনাইসাহ(২) থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ(৩) থেকে, তিনি মুত্তালিব(৪) থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উসমান বিন আফফানের নিকট প্রবেশ করলাম এবং সেখানে রুকাইয়াহকে দেখলাম … এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন(৫)।

এই হাদিসটির ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে; কারণ রুকাইয়াহ বদরের যুদ্ধের দিন ইন্তেকাল করেন এবং আবু হুরাইরাহ খায়বারের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন খালিদ বিন আবি ইয়াযিদ বিন সাম্মাল (আ) বিন রুস্তম আল-উমাইয়ি, তাদের মুক্তদাস, আল-হাররানি; তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারী, মৃত্যু (১৪৪ হিজরি/ বুখারি মুয়াল্লাক, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)।

(২) আল-জাযারি আবু উসামাহ; নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তার কিছু একক বর্ণনা (আফরাদ) রয়েছে, তিনি ষষ্ঠ স্তরের বর্ণনাকারী, মৃত্যু ১১৯ হিজরি, মতান্তরে ১২৪ হিজরি (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থে তার বর্ণনা আছে)।

(৩) 'তাহযিবুল কামাল'-এ যাইদ-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে: তিনি একজন শায়খ যিনি মুত্তালিব থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন।

হাকিমের 'আল-মুস্তাদরাক'-এ আছে, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান থেকে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি হলেন আদ-দিবাজ, সত্যবাদী (সাদুক)/ ইবনে মাজাহ।

(৪) তিনি হলেন মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ আল-মাখযুমি; সত্যবাদী (সাদুক), তবে প্রচুর তাদলিস ও ইরসাল (বিচ্ছিন্নতা) করেন, তিনি চতুর্থ স্তরের বর্ণনাকারী।

(৫) হাদিসটি ফাসাউয়ি 'আল-মারিফাহ ওয়াত তারিখ' (৩/ ১৬২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: খলিল আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর দুলাবি এটি 'আয-যুররিয়াতুত ত্বাহিরাহ' (নং ৬৩, ৭৪) গ্রন্থে খলিল বিন আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রথম বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: আমি রুকাইয়াহর কাছে প্রবেশ করলাম। তাবারানি 'আল-কাবির' (১/ ৩২, নং ৯৯) গ্রন্থে খলিলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আবদুর রহিম থেকে, তিনি যাইদ বিন আবি উনাইসাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে। ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ' (৫/ ৩৭৬) গ্রন্থে এবং হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক' (৪/ ৪৮) গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন সালামাহর সূত্রে আবু আবদুর রহিম থেকে, তিনি যাইদ বিন আবি উনাইসাহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন উসমান থেকে, তিনি মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাকিম বলেন: সনদ সহিহ, তবে মতন (মূল পাঠ) দুর্বল; কারণ রুকাইয়াহ হিজরি তৃতীয় বর্ষে বদর বিজয়ের সময় ইন্তেকাল করেন, আর আবু হুরাইরাহ মূলত খায়বার বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা এটি অন্য সনদেও লিখেছি।

হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক' (৪/ ৪৮) গ্রন্থে ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আবু হুরাইরাহ এই হাদিসটি তার পূর্বসূরি কারো কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন =

_________

(আ) দ্রষ্টব্য: গ্রন্থকারের 'আল-মু'তালিফ' (৩/ ১২৪২) এবং ইবনে মাকুলার 'আল-ইকমাল' (৪/ ৩৫৪)।