(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة القسم: علوم الحديث
الكتاب: كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة
المؤلف: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - درسان]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে ইলম অন্বেষণকারী কীভাবে উপকৃত হতে পারেন বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র
কিতাব: সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে ইলম অন্বেষণকারী কীভাবে উপকৃত হতে পারেন
লেখক: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিলিপিকৃত পাঠসমূহ
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - দুটি পাঠ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররাম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة]ـ
المؤلف: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - درسان]
[একজন ইলম অন্বেষণকারী কীভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হবেন]
লেখক: আবদুল কারীম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন হামদ আল-খুদাইর
শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিখিত পাঠসমূহ
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - দুইটি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة (1) الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فما أدري ما أقول في هذه الساعة لبيان فهم كتب السنة، وكل كتاب يحتاج إلى ساعات، لكن لا بد من الكلام في ضوء ما حدد من موضوع، وما أتيح من فرصة ووقت.
السنة النبوية: وهي ما يضاف إلى النبي عليه الصلاة والسلام من قول أو فعل أو تقرير، حجة ملزمة بإجماع من يعتد بقوله من المسلمين.
وهي ثاني مصادر التشريع بعد القرآن الكريم، وهي المبينة للقرآن، والموضحة له، وحفظ السنة من حفظ القرآن؛ لأنها بيانه {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [(9) سورة الحجر].
فالسنة محفوظة بحفظ القرآن؛ لأنه لا يتم فهم القرآن إلا ببيان النبي عليه الصلاة والسلام بقوله أو فعله أو تقريره، فحفظ السنة من حفظ القرآن.
وللاهتمام -اهتمام النبي عليه الصلاة والسلام بشأن القرآن، والخوف من اختلاطه بغيره، حتى يتم حفظه الموعود به، نهى النبي عليه الصلاة والسلام عن كتابة الحديث في أول الأمر.
جاء في الصحيح في حديث أبي سعيد: ((لا تكتبوا عني شيئاً سوى القرآن، ومن كتب شيئاً غير القرآن فليمحه)) [مخرج في الصحيح، في صحيح مسلم].
وأهل العلم حملوا ذلك على وجوه، مدارها على خشية اختلاط القرآن بغيره، فالنهي عن كتابة السنة مع القرآن، في صفحة واحدة، وحينئذ يلتبس الأمر، فيختلط القرآن بغيره، ولا مانع على هذا القول من كتابة السنة مستقلة عن القرآن.
ومنهم من يقول: في أول الأمر، والحافظة -ملكة الحفظ- عند الجيل الأول تسعف على حفظ جميع السنة، ثم بعد ذلكم لما خشي من ضياع السنة أذن بالكتابة، فالشخص الذي لا يحفظ يكتب، وإذا تصورنا الآثار المترتبة على الكتابة -وكل إنسان يدرك ذلك- عرفنا أن النهي عن الكتابة في أول الأمر له مقصد ومغزىً عظيم.
একজন ইলম অন্বেষী কীভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হবেন (১) শেখ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের উপর। অতঃপর:
সুন্নাহর কিতাবসমূহ বোঝার বিষয়ে আলোচনার জন্য এই সময়ে আমি কী বলব তা জানি না; প্রতিটি কিতাবের জন্যই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু নির্ধারিত বিষয় এবং সুযোগ ও সময়ের আলোকে কিছু বলা আবশ্যক।
সুন্নাহ নববী: এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি হিসেবে যা কিছু তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। এটি মুসলিমদের মধ্যে যাদের কথা গ্রহণযোগ্য, তাদের সকলের ঐকমত্যে একটি অকাট্য দলীল।
এটি পবিত্র কুরআনের পর শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি কুরআনের বর্ণনাকারী এবং এর ব্যাখ্যাকারী। সুন্নাহর সংরক্ষণ কুরআনের সংরক্ষণেরই অন্তর্ভুক্ত; কারণ সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা। {নিশ্চয়ই আমিই যিকর অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী} [সূরা আল-হিজর: ৯]।
অতএব, সুন্নাহ কুরআনের সংরক্ষণের মাধ্যমেই সংরক্ষিত; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা, কাজ বা মৌন সম্মতির ব্যাখ্যা ব্যতীত কুরআন বোঝা সম্ভব নয়। তাই সুন্নাহর সংরক্ষণ কুরআনেরই সংরক্ষণ।
পবিত্র কুরআনের গুরুত্বের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গভীর মনোযোগ এবং অন্য কিছুর সাথে এর মিশ্রণের আশঙ্কার কারণে, যাতে করে প্রতিশ্রুত সংরক্ষণ পূর্ণ হয়—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের শুরুতে হাদীস লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করেছিলেন।
সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ বর্ণিত হাদীসে এসেছে: ((তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।)) [সহীহ মুসলিমে সংকলিত]।
আলিমগণ এই নিষেধাজ্ঞাকে কয়েকটি দিক দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, যার সারকথা হলো কুরআনের সাথে অন্য কিছু মিশে যাওয়ার ভয়। সুতরাং একই পাতায় কুরআনের সাথে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করা নিষিদ্ধ ছিল, যাতে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে না যায় এবং কুরআনের সাথে অন্য কিছুর সংমিশ্রণ না ঘটে। এই মত অনুযায়ী, কুরআন থেকে পৃথকভাবে সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করতে কোনো বাধা নেই।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এটি ছিল ইসলামের শুরুর দিকের কথা, যখন প্রথম প্রজন্মের মুখস্থ করার শক্তি বা মেধা সকল সুন্নাহ সংরক্ষণে যথেষ্ট ছিল। এরপর যখন সুন্নাহ হারিয়ে যাওয়ার ভয় দেখা দিল, তখন লিপিবদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে যে ব্যক্তি মুখস্থ করতে পারতেন না, তিনি লিখে রাখতেন। আমরা যদি লিপিবদ্ধ করার ফলে অর্জিত প্রভাবগুলো কল্পনা করি—যা প্রতিটি মানুষই বুঝতে পারে—তবে আমরা বুঝতে পারব যে শুরুতে লিপিবদ্ধ করতে নিষেধ করার পিছনে একটি মহান উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ছিল।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
فلا شك أن الكتابة على حساب الحفظ، وكل واحد منا يدرك ذلك في أموره العادية، الذي يكتبه لا يعتني به، ولا يودعه سويداء قلبه ليحفظه، ولذا تجد الإنسان إذا لم يكن معه قلم أو ورقة يكتب بها، واحتاج إلى أمر من الأمور، وأظهر ما يوجد الآن الأرقام -أرقام الهواتف- التي صارت هي شغل الناس الشاغل، إذا لم يكن معه قلم حفظه، هذا شيء مجرب، إذا سجله وكتبه هذا آخر عهده به، فجاء النهي عن الكتابة؛ خشية أن يعتمد الناس على الكتابة ويهملوا الحديث، لكن لا مفر ولا مناص ولا محيص عن الكتابة ولا محيد، لماذا؟
لأن الناس لما دخلوا في دين الله، وتعلموا ما تعلموا من كتاب الله وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام، وكثرت أعدادهم، واختلطوا بغيرهم احتيج إلى التدوين، لما كثر الناس ودخلوا في دين الله أفواجاً احتيج إلى التدوين، فجاء الأمر بالكتابة لبعض الناس: ((اكتبوا لأبي شاه)) وقال أبو هريرة: "ما كان أحد أكثر مني حديثاً غير عبد الله بن عمرو؛ فإنه كان يكتب ولا أكتب".
فتتابع الناس على الكتابة، وأجمع أهل العلم على جوازها، وارتفع الخلاف السابق، بل وجد من يمنع الكتابة استدلالاً بحديث أبي سعيد من المتقدمين، تتابع الناس على الكتابة، ودونت الأحاديث في الصحف والكتب، وحصل بذلك خير عظيم، ولذا أو تبعاً لذلك تنوع الحفظ عند أهل العلم، فمنه ما هو حفظ صدر، ومنه ما هو حفظ كتاب، وإن نازع بعض أهل العلم في الاعتماد على حفظ الكتاب وجعلوا الأصل حفظ الصدر، لكن حصل الاتفاق على أن حفظ الكتاب لا يقل أهمية عن حفظ الصدر إن لم يكن أقوى منه وأثبت؛ لأن الحفظ خوَّان.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, লিখন পদ্ধতি মুখস্থ রাখার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের প্রত্যেকেই প্রাত্যহিক জীবনে এটি অনুভব করি যে, মানুষ যা লিখে রাখে, সেটির প্রতি সে আর বিশেষ যত্নবান হয় না এবং তা মুখস্থ রাখার জন্য হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশে গেঁথে রাখে না। এ কারণেই আপনি দেখবেন, যখন কোনো মানুষের কাছে কলম বা কাগজ থাকে না এবং তার কোনো বিষয়ের প্রয়োজন হয়—বর্তমানে যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো টেলিফোন নম্বর যা মানুষের প্রধান ব্যস্ততায় পরিণত হয়েছে—তখন কলম না থাকলে সে তা মুখস্থ করে নেয়। এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়। কিন্তু যখনই সে তা লিপিবদ্ধ করে ফেলে, তখন থেকেই সেটির সাথে তার সম্পর্কের ইতি ঘটে। ফলে হাদিস লিখনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল এই আশঙ্কায় যে, মানুষ লেখার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং হাদিস মুখস্থ করার ক্ষেত্রে অবহেলা করবে। তবে লেখা থেকে বিরত থাকার কোনো উপায়, গত্যন্তর বা বিকল্প ছিল না। কেন?
কারণ যখন মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে যা শেখার শিখল, তাদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেল এবং তারা অন্যদের সাথে মেলামেশা শুরু করল, তখন তা সংকলনের প্রয়োজন দেখা দিল। যখন মানুষ অধিক সংখ্যায় এবং দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল, তখন তা লিপিবদ্ধ করার আবশ্যকতা দেখা দিল। ফলে কিছু মানুষের জন্য লেখার আদেশ প্রদান করা হলো: "তোমরা আবু শাহর জন্য লিখে দাও।" আবু হুরায়রা বলেন: "আবদুল্লাহ বিন আমর ব্যতীত অন্য কেউ আমার চেয়ে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিল না; কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।"
এরপর মানুষ ধারাবাহিকভাবে লিখে রাখা শুরু করল এবং আলেমগণ এর বৈধতার ওপর ঐকমত্য পোষণ করলেন। ফলে পূর্বের মতভেদ নিরসন হয়ে গেল। যদিও পূর্বসূরিদের মধ্যে এমন লোক ছিলেন যারা আবু সাঈদ বর্ণিত হাদিসের ভিত্তিতে লিখতে নিষেধ করতেন। পরবর্তীতে মানুষ ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকে এবং বিভিন্ন সংকলন ও কিতাবসমূহে হাদিসসমূহ লিপিবদ্ধ হয়, যার মাধ্যমে এক মহান কল্যাণ সাধিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আলেমদের নিকট 'সংরক্ষণ' (হিফজ) বিষয়টি বৈচিত্র্য লাভ করে। এর মধ্যে একটি হলো অন্তরে সংরক্ষণ এবং অপরটি হলো কিতাবে সংরক্ষণ। যদিও কোনো কোনো আলেম কিতাবের ওপর নির্ভর করার বিষয়ে আপত্তি করেছেন এবং অন্তরে সংরক্ষণকেই মূল হিসেবে গণ্য করেছেন, তবুও এ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, কিতাবের মাধ্যমে সংরক্ষণ অন্তরে সংরক্ষণের চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী ও সুদৃঢ়; কেননা মানুষের স্মৃতি অনেক সময় প্রতারণা করে।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
استمر الأمر على ذلك في القرن الأول والثاني والثالث والرابع، وجمعت السنة، ولم يفت الأمة منها شيء؛ لأن الأمة معصومة من أن تفرط في شيء من دينها، لكن قد يقول قائل: ماذا عما يحفظه الأئمة من مئات الألوف من الأحاديث، الإمام أحمد يحفظ سبعمائة ألف حديث، الإمام أبو داود يحفظ ستمائة ألف حديث وهكذا، أين ذهبت هذه الأحاديث؟ البخاري بالمكرر لا يزيد على سبعة آلاف ومائتين وخمسين حديث، بالمكررات، مسلم قريب منه، أو يزيد عليه قليلاً، أوصله بعضهم إلى الثمانية، أعظم دواوين الإسلام المسند، أوصلوه إلى أربعين ألف حديث وبالعدد الدقيق والتحري يبلغ الثلاثين، أين ذهبت مئات الألوف من الأحاديث؟
ما ذهب منها شيء مما يحتاج إليه، لم يذهب من هذه الأحاديث شيء مما يحتاج إليه، فالعدد في عرف السلف للطرق، رب حديث واحد يروى من مائة طريق فيعد مائة حديث.
وإذا تصورنا أن أبا إسماعيل الهروي يقول: إن حديث الأعمال بالنيات يروى عن يحيى بن سعيد الأنصاري من سبعمائة طريق، إذن هذه سبعمائة حديث في عرف المتقدمين، وإذا نظرنا إلى ما دون في كتب السنة وحفظ، ونظرنا إلى الطرق سواءً كان المدون منها أو ما لم يدون مما لم يحتج إليه؛ لأنه لا يدون إلا المحتاج إليه، فتبلغ هذه العدة بل تزيد، إضافة إلى أن الحديث في عرف المتقدمين يشمل الآثار، يشمل أقوال الصحابة وفتاويهم، فلم يضِع من سنة النبي عليه الصلاة والسلام شيء؛ لأن الدين محفوظ، والأمة معصومة من أن تفرط بشيء من دينها.
بعد الكتابة وضعف الحفظ ظهر ذلك جلياً حينما اعتمد الناس على الكتابة، وكل قرن يظهر فيه ضعف الحفظ أكثر؛ لاعتماد الناس على الكتابة إلى أن ظهرت الطباعة، ولا شك أن الطباعة يسرت وسهلت تحصيل العلم واقتناء الكتب، لكنها على حساب التحصيل، لماذا؟
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে এবং সুন্নাহ সংকলিত হয়। উম্মত এর কোনো কিছুই হারায়নি; কারণ উম্মত তার দ্বীনের কোনো কিছু অবহেলা বা নষ্ট করা থেকে সংরক্ষিত। তবে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: ইমামগণ যে লক্ষ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন সেগুলোর কী হলো? ইমাম আহমাদ সাত লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন, ইমাম আবু দাউদ ছয় লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন এবং এভাবে আরও অনেকেই। এই হাদিসগুলো কোথায় গেল? বুখারী শরীফে পুনরাবৃত্তিসহ সাত হাজার দুইশত পঞ্চাশটির বেশি হাদিস নেই। মুসলিম শরীফের সংখ্যাও এর কাছাকাছি বা কিছুটা বেশি, কেউ কেউ একে আট হাজারে পৌঁছেছেন। ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন 'আল-মুসনাদ'-কে কেউ কেউ চল্লিশ হাজারে পৌঁছেছেন, কিন্তু সূক্ষ্ম গণনা ও অনুসন্ধানে তা ত্রিশ হাজারে পৌঁছে। তাহলে সেই লক্ষ লক্ষ হাদিস কোথায় গেল?
সেগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় কোনো কিছুই হারিয়ে যায়নি। এই হাদিসগুলোর মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় কোনো অংশই বিলুপ্ত হয়নি। মূলত সালাফদের পরিভাষায় সংখ্যার হিসাব করা হতো 'তুরুক' বা বর্ণনাসূত্রের ভিত্তিতে। হয়তো একটি হাদিস একশটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, ফলে সেটিকে একশটি হাদিস হিসেবে গণ্য করা হতো।
আমরা যদি চিন্তা করি যে, আবু ইসমাঈল আল-হারাবী বলেছেন: 'নিয়তের ওপর আমল নির্ভরশীল' হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে সাতশটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে; তাহলে পূর্ববর্তীদের পরিভাষায় এটি সাতশটি হাদিস। সুন্নাহর কিতাবসমূহে যা লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষিত হয়েছে এবং বর্ণনাসূত্রগুলোর দিকে যদি আমরা তাকাই—তা লিপিবদ্ধ হোক বা অলিপিবদ্ধ (যা প্রয়োজন হয়নি, কারণ শুধুমাত্র প্রয়োজনীয়গুলোই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে)—তবে এই সংখ্যা পূর্ণ হবে বরং আরও ছাড়িয়ে যাবে। এর সাথে যোগ হবে যে, পূর্ববর্তীদের পরিভাষায় 'হাদিস' বলতে আছারসমূহকেও বোঝায়, যা সাহাবীদের কথা ও ফতোয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর কোনো কিছুই হারিয়ে যায়নি; কারণ দ্বীন সংরক্ষিত এবং উম্মত তার দ্বীনের কোনো কিছু বিসর্জন দেওয়া থেকে সংরক্ষিত।
লেখনী শুরু হওয়ার পর এবং মুখস্থ রাখার শক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি তখন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় যখন মানুষ লেখার ওপর নির্ভর করতে শুরু করে। প্রতিটি শতাব্দীতে মুখস্থ রাখার দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে মানুষের লেখার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতার কারণে, যতক্ষণ না মুদ্রণ ব্যবস্থা (ছাপাখানা) আবির্ভূত হলো। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুদ্রণ ব্যবস্থা ইলম অর্জন এবং বই সংগ্রহ করাকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল করে দিয়েছে, তবে তা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের বিনিময়ে। কেন এমন হলো?
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
لأن الشخص -مريد العلم- إذا احتاج إلى شيء من الكتب إما أن ينسخه بنفسه، أو يدفع أجرة لمن ينسخه له، وتكون أو يكون ورود الكتب إليه بالتدريج، وحينئذ يتسنى له قراءة هذا الكتاب ومراجعته، فإذا نسخ الكتاب بيده، نسخ الكتاب –بالتجربة- أفضل من قراءته عشر مرات، هذا بالتجربة، وكذا لو دفع أجرة لمن ينسخه له فإنه لم يفرط في هذا الكتاب الذي حرص عليه واستعاره ودفع أجرة لمن ينسخه، والنسخ كما تعلمون بالتدريج، ما هو مثل المطابع الآن، وجدت المطابع، والخلاف الحاصل في الكتابة في أول الأمر حصل في الطباعة في آخر الأمر، ووجد من أهل العلم من يمنع طباعة كتب العلم الشرعي في المطابع، لماذا؟ لأن الناس يعتمدون على هذه المطبوعات، ويقتنون الكتب المطولة بكميات، وبإمكان الشخص أن يقتني في يوم واحد عشرات بل مئات المجلدات، وما عليه إلا أن يرص هذه المجلدات في الدواليب، ثم لا يتسنى له مراجعة الجميع، فصارت الطباعة مع تيسيرها وتسهيلها صارت على حساب التحصيل، وهذا مشاهد، كان أهل العلم وطلاب العلم يعانون أشد المعاناة من نسخ الكتب، يسهرون الليالي المقمرة على الأنوار الخافتة ينسخون الكتب، وبهذا حصَّلوا، لكن الآن من اليسير جداً أن تخرج إلى المكتبات وتشتري جميع ما تريد في ساعة، لكن إذا رجعت ماذا تصنع؟ ترص هذه الكتب في الدواليب، ويبقى بقية يومك للاستجمام، الآن أنت ضمنت الكتب عندك، ولا عليها فوات، بدل اليوم غداً -وهذا شيء مجرب يا إخوان، ما هو من فراغ- ولذا منع بعض العلماء طباعة كتب العلم الشرعي.
কারণ একজন ব্যক্তি—যিনি ইলম অন্বেষণকারী—যখন কোনো কিতাবের প্রয়োজন বোধ করেন, তখন হয় তিনি তা নিজ হাতে অনুলিপি করেন, অথবা কাউকে পারিশ্রমিক প্রদান করেন তা অনুলিপি করে দেওয়ার জন্য। আর এভাবে কিতাবগুলো তার নিকট পর্যায়ক্রমে পৌঁছাতে থাকে। এমতাবস্থায় তার পক্ষে কিতাবটি পাঠ করা এবং পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়। যদি তিনি নিজ হাতে কিতাবটি অনুলিপি করেন, তবে অভিজ্ঞতার আলোকে এটি প্রমাণিত যে, কিতাব অনুলিপি করা তা দশবার পাঠ করার চেয়েও অধিক উত্তম। এটি একটি পরীক্ষিত সত্য। তদ্রূপ যদি তিনি কাউকে পারিশ্রমিক দিয়ে অনুলিপি করিয়ে নেন, তবে তিনি সেই কিতাবটি অবহেলা করেন না যার প্রতি তিনি অতি আগ্রহী ছিলেন, যা তিনি ধার করেছিলেন এবং যা অনুলিপি করার জন্য অর্থ ব্যয় করেছিলেন। আর আপনারা অবগত আছেন যে, হস্তাক্ষরে অনুলিপি করার বিষয়টি পর্যায়ক্রমে মন্থর গতিতে সম্পন্ন হয়; এটি বর্তমানের ছাপাখানাগুলোর মতো নয়। ছাপাখানা আবিষ্কৃত হয়েছে, এবং সূচনাকালে লেখনী নিয়ে যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছিল, পরবর্তীকালে মুদ্রণ নিয়েও সেই একই মতভেদ দেখা দিয়েছে। আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি ছাপাখানায় শরয়ি ইলমের কিতাব মুদ্রণ করতে নিষেধ করতেন। কেন? কারণ মানুষ এই মুদ্রিত কিতাবগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং তারা বড় বড় কিতাব অধিক পরিমাণে সংগ্রহ করে। একজন ব্যক্তির পক্ষে একদিনেই দশ দশটি, এমনকি শত শত খণ্ড কিতাব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়ে যায়। এরপর তার কাজ কেবল এই খণ্ডগুলো আলমারিতে সাজিয়ে রাখা; ফলে তার পক্ষে সবগুলোর পর্যালোচনা করা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না। মুদ্রণ ব্যবস্থা সহজলভ্য ও আরামদায়ক হওয়া সত্ত্বেও তা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রাচীনকালে আলেম ও তালিবে ইলমরা কিতাব অনুলিপি করতে গিয়ে চরম কষ্টের সম্মুখীন হতেন। তারা জোছনা রাতে মৃদু আলোতে রাত জেগে কিতাব অনুলিপি করতেন, আর এভাবেই তারা ইলম অর্জন করতেন। কিন্তু বর্তমানে লাইব্রেরিতে গিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে আপনার যা প্রয়োজন তার সবই ক্রয় করা অত্যন্ত সহজ। তবে ফিরে এসে আপনি কী করেন? কিতাবগুলো আলমারিতে সাজিয়ে রাখেন এবং দিনের অবশিষ্ট সময়টা বিনোদনে অতিবাহিত করেন। এখন যেহেতু কিতাবগুলো আপনার কাছে নিশ্চিতভাবে সংরক্ষিত আছে এবং সেগুলো হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় নেই, তাই আপনি আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখেন—হে ভাইয়েরা, এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়, নিছক অলীক কল্পনা নয়—আর এই কারণেই কোনো কোনো আলেম শরয়ি ইলমের কিতাব মুদ্রণ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
قد يقول قائل: هذا من جهلهم، والناس أعداء لما يجهلون، وبعض الناس عنده ردة فعل من الأمور المحدثة، سواءً كانت تؤثر في أمور الدين أو لا تؤثر، نعم بعض الناس عنده وقفة لا يستعجل في الأمور، وهذه محمدة، مع أن أثر الطباعة لوحظ في تخلف العلم والتحصيل، وهذا شيء ظاهر، ولذا بعض شيوخ الأزهر قال: تمنع طباعة كتب العلم الشرعي، اطبعوا كتب الأدب والتاريخ وإن شئتم .. ، واللغة أيضاً، لكن كتب الحديث والتفسير والعقائد لا تطبعوها، من أجل إيش؟ من أجل أن يعتني الناس بالكتابة ويتداولون الكتب بحرص وعناية، وهذا أمر مشاهد، لما كانت الكتب قليلة والناس يحرصون على قراءتها واستعارتها ونسخها ويتداولونها، لكن لما كثرت،. . . . . . . . . ثم بعد ذلكم استسلم أهل العلم للأمر الواقع، فأجمعوا على جواز طباعة الكتب، استمر الأمر على ذلك عقود -بل قرون- ثم جاءت هذه الحواسيب، وهذه الآلات التي تيسر لك ما تريد وأنت جالس، بضغطة زر تحصل على جميع ما تريد، تبحث عن حديث تضغط زراً ويظهر لك جميع طرق الحديث، مائة طريق، خمسين طريق، سبعين طريق إلى آخره، لكن النتيجة؟ النتيجة هل يحفظ العلم بهذه الطريقة؟
لا يتخرج طالب علم بهذه الطريقة أبداً، العلم لا بد له من معاناة، تضغط زراً يخرج لك رواة هذا الخبر بجميع ما قيل فيه من جرح وتعديل، ثم ماذا؟ خلاص، يطفأ الكهرب ثم بعد ذلك ترجع عامي لا تحسن شيئاً.
কেউ হয়তো বলতে পারেন: এটি তাদের মূর্খতা থেকে প্রসূত, আর মানুষ যা জানে না তার শত্রু হয়। কিছু মানুষের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়াবলির প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থাকে, চাই তা দ্বীনি বিষয়ে প্রভাব ফেলুক বা না ফেলুক। হ্যাঁ, কিছু মানুষ রয়েছে যারা কোনো বিষয়ে হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন, আর এটি একটি প্রশংসনীয় গুণ। যদিও ইলম হাসিল ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে মুদ্রণযন্ত্রের প্রভাব জ্ঞানগত অনগ্রসরতার কারণ হিসেবে পরিলক্ষিত হয়েছে এবং এটি একটি স্পষ্ট বিষয়। এই কারণেই আল-আজহারের কোনো কোনো শায়খ বলেছিলেন: শরয়ি ইলমের কিতাবাদি মুদ্রণ করা নিষিদ্ধ করা হোক। আপনারা চাইলে সাহিত্য, ইতিহাস এবং ইচ্ছা করলে ভাষাতত্ত্বের কিতাবসমূহ মুদ্রণ করুন, কিন্তু হাদিস, তাফসির ও আকিদার কিতাবসমূহ মুদ্রণ করবেন না। কী জন্য? এই জন্য যেন মানুষ লিখনের প্রতি যত্নশীল হয় এবং অত্যন্ত গুরুত্ব ও যত্নের সাথে কিতাবসমূহ আদান-প্রদান করে। আর এটি একটি প্রত্যক্ষকৃত বিষয় যে, যখন কিতাব কম ছিল তখন মানুষ তা পাঠ করতে, ধার নিতে, অনুলিপি করতে এবং আদান-প্রদান করতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু যখন কিতাব বৃদ্ধি পেল... এরপর ইলমের ধারকগণ বাস্তব পরিস্থিতির কাছে নতিস্বীকার করেন এবং তারা কিতাব মুদ্রণের বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন। এভাবে কয়েক দশক—বরং কয়েক শতাব্দী—পর্যন্ত বিষয়টি চলতে থাকে। তারপর আসলো এই কম্পিউটারসমূহ এবং এমন সব যন্ত্র যা আপনার যা প্রয়োজন তা বসে বসেই সহজ করে দেয়। একটি বোতাম চাপলেই আপনি যা চান তা পেয়ে যান। আপনি একটি হাদিস খুঁজছেন, একটি বোতাম চাপলেন আর আপনার সামনে হাদিসটির সমস্ত সনদ বা সূত্র ভেসে আসলো—একশটি সূত্র, পঞ্চাশটি সূত্র, সত্তরটি সূত্র ইত্যাদি। কিন্তু এর ফলাফল কী? ফলাফল কি এই যে, এভাবে ইলম সংরক্ষিত হয়?
এভাবে কখনোই কোনো ইলম অন্বেষণকারী তৈরি হয় না। ইলম অর্জনের জন্য অবশ্যই কষ্ট-সাধনা প্রয়োজন। আপনি বোতাম চাপলেন আর আপনার কাছে এই সংবাদের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে জরাহ ও তাদিল সংক্রান্ত যা কিছু বলা হয়েছে সব চলে আসলো। তারপর কী? সব শেষ, বিদ্যুৎ চলে গেলে আপনি পুনরায় এমন একজন সাধারণ মানুষে পরিণত হবেন যে কিছুই জানে না।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وعمد كثير من أهل العلم إلى تعسير العلم، سواءً كان في وسيلة الحصول إلى المعلومة، فغير الترتيب عن الترتيب المألوف، ابن حبان في الأنواع والتقاسيم في صحيحه رتبه على طريقة غريبة مبتكرة لم يصنعها غيره، خشية أن يأتي الطالب الذي يبحث عن الحديث فيجده بسهولة، الحديث في الطهارة في أول الكتاب، في الصلاة، افتح لك زيادة خمسين ستين صفحة وتجده، في الزكاة، وهكذا، وهذا مقصود، ومنهم من عمد إلى تعسير العلم بطريقة أخرى، وهي صعوبة الأسلوب، بعضهم يعقد الأسلوب من أجل أن يعاني الطالب فهم هذا الكتاب، فإذا فهمه بعد معاناة ثبت عنده ورسخ، وهذه طريقة مألوفة عند أهل العلم سواءً كانت في الفقه أوفي أصول الفقه أو في العربية أو في غيرها من العلوم، وجاء في عصرنا من ذلل العلم لطلابه وسهله ويسره بنية صالحة، وهو مأجور على ذلك، لكن من يستفيد من مثل هذه الكتب؟
المبتدئون من الطلبة، وغير المتخصصين في العلم الشرعي، أما من يريد أن يتخرج على طريقة أهل العلم وعلى جادتهم لا بد أن يسلك المسالك التي سلكوها.
متى نحتاج إلى مثل هذه الآلات؟ قد يقول قائل: جامع السنة، وفيه أكثر من نصف مليون حديث، تحصل على جميع ما تريد وأنت جالس، وأي شيء أيسر من هذا، والنبي عليه الصلاة والسلام ما اختار .. ، ما خير بين أمرين إلا اختار أيسرهما، ما خير بين أمرين إلا اختار أيسرهما، لكن ما النتيجة؟
অনেক আলেম ইলম বা জ্ঞান অর্জনকে কঠিন করার পথ অবলম্বন করেছেন, চাই তা তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমের ক্ষেত্রে হোক; ফলে তারা প্রচলিত বিন্যাস পরিবর্তন করে দিয়েছেন। ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থের ‘আল-আনওয়া ওয়া আল-তাকাসিম’-এ এমন এক অদ্ভুত ও উদ্ভাবনী পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন যা অন্য কেউ করেনি; এই আশঙ্কায় যে, হাদিস অনুসন্ধানকারী কোনো ছাত্র যেন তা খুব সহজেই পেয়ে না যায়। যেমন—পবিত্রতা বিষয়ক হাদিস কিতাবের শুরুতে, এরপর নামাজের হাদিস পেতে হলে আরও পঞ্চাশ-ষাট পৃষ্ঠা উল্টাতে হয়, জাকাতের ক্ষেত্রেও তাই; আর এটি ছিল উদ্দেশ্যমূলক। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যভাবে ইলমকে কঠিন করার পথ বেছে নিয়েছেন, আর তা হলো রচনারীতির কাঠিন্য। কেউ কেউ রচনারীতিকে জটিল করে তোলেন যাতে ছাত্র এই কিতাবটি বুঝতে গিয়ে শ্রম দান করে; ফলে যখন সে শ্রমের পর তা বুঝতে পারে, তখন তা তার নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত ও বদ্ধমূল হয়ে যায়। আলেমদের নিকট এটি একটি পরিচিত পদ্ধতি, চাই তা ফিকহ, উসূলে ফিকহ, আরবি ভাষা কিংবা অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রেই হোক। বর্তমান যুগে এমন অনেকে এসেছেন যারা নেক নিয়তে ছাত্রদের জন্য ইলমকে সহজ ও সুগম করেছেন এবং এর জন্য তারা সওয়াবও পাবেন। কিন্তু এ জাতীয় কিতাব থেকে কারা উপকৃত হয়?
শিক্ষানবিশ ছাত্ররা এবং শরয়ী জ্ঞানে যারা বিশেষজ্ঞ নন তারা। তবে যারা আলেমদের পদ্ধতিতে এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৈরি হতে চায়, তাদের অবশ্যই সেই পথই অবলম্বন করতে হবে যা তাঁরা অবলম্বন করেছিলেন।
আমাদের কখন এ জাতীয় উপকরণের প্রয়োজন হয়? কেউ হয়তো বলতে পারেন: ‘জামেউস সুন্নাহ’র কথা, যাতে পাঁচ লক্ষাধিক হাদিস রয়েছে, আপনি বসে বসেই আপনার কাঙ্ক্ষিত সবকিছু পেয়ে যাচ্ছেন; এর চেয়ে সহজ আর কী হতে পারে? অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ পেয়েছেন, তখনই তিনি সহজতর বিষয়টিকেই গ্রহণ করেছেন; তিনি যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে সুযোগ পেয়েছেন, তখনই সহজতরটি বেছে নিয়েছেন। কিন্তু এর ফলাফল কী?
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
هل نقول لطالب العلم: وأنت في عصر الحواسيب انسخ الكتب؟ نقول: لا تنسخ الكتب، اقرأ الكتب، أقل الأحوال، كان المتقدمون لا يفهرسون الكتب، ولا يعنون بترقيمها وحسابها، همتهم أعلى من ذلك؛ لأن طالب العلم إذا أراد الفائدة، طالب العلم إذا أراد الفائدة وبحث عنها بنفسه من غير فهارس، فإنه وهو في طريقه لتحصيل هذه الفائدة يستفيد عشرات الفوائد، كثير منها أهم من هذه الفائدة التي يبحث عنها، الآن اضغط الحاسب للمسألة التي تريد، فتخرج لك نفس المسألة دون غيرها، نعم نستفيد من هذه الآلات، لكن لا نعتمد عليها، نستفيد منها إذا ضاق الوقت، خطيب جمعة، شخص عنده درس أو محاضرة، وعنده حديث يريد أن يتأكد منه، ولم يبق من الوقت ما يسعف، نقول: اضرب الحاسب الآن، اضرب على الكمبيوتر وشوف هل هو صحيح وإلا، الآن ما عندك وقت، أنت مضطر الآن، وآخر يريد أن يختبر عمله، فخرج الحديث حسب قدرته واستطاعته، وجمع ما استطاع بعد أن بذل وسعه واجتهد، جمع الطرق التي في وسعه وفي مقدوره، جمع عشرين طريقاً للحديث، وأراد أن يختبر عمله، هل هناك زيادة؟ لا مانع من أن يضرب الحاسب ويطلع على ما فيه من زيادات، وإذا وجد من الزيادات في هذا الحاسب زيادة على ما تعب عليه، لا شك أنه سوف يعتني بهذه الزيادة ويحفظها، بخلاف ما لو جاء ابتداءً إلى هذا الحاسب.
وأنا أضرب مثال لمن يستعمل هذه الآلات، ومن يعاني العلم من أبوابه: شخص مر بطريق -شارع تجاري- فيه تنبيهات ولوحات ومحلات، وأشياء مكتوبة كثيرة، كثيرة يعني ألوف مؤلفة، تصور لو مر هذا مع هذا الشارع على سيارة تمشي مائة كيلو في الساعة، ماذا سيحفظ من هذه اللوحات؟
هو مثال تقريبي، الظاهر ما يحفظ ولا واحد بالمائة، لكن لو كان يمشي على رجليه، ويتلفت ويناظر يحفظ الكثير، وهذا مثل من يقرأ ومثل من يطلع على هذه الآلات، هذا مثال محسوس، ولا أستبعد أن يقول قائل: الناس وصلوا وما وصلوا، وأنتم تقولون: انسخوا واقرؤوا، إلى متى؟
আমরা কি ইলম অন্বেষণকারীকে বলব: কম্পিউটারের এই যুগে তুমি কিতাবসমূহ অনুলিপি করো? আমরা বলি: কিতাব অনুলিপি করো না, বরং কিতাব পাঠ করো। সর্বনিম্ন অবস্থা এই ছিল যে, পূর্বসূরিগণ কিতাবসমূহের নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) তৈরি করতেন না এবং সেগুলোর পৃষ্ঠা সংখ্যা বা গণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন না; তাঁদের সংকল্প ছিল এর চেয়েও সুউচ্চ। কেননা ইলম অন্বেষণকারী যখন কোনো জ্ঞানীয় উপকার লাভের ইচ্ছা করে এবং নির্ঘণ্ট ব্যতিরেকে নিজে তা অনুসন্ধান করে, তখন সেই কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি অর্জনের পথেই সে আরও বহুবিধ উপকার লাভ করে, যার অনেকগুলোই তার মূল অন্বেষিত বিষয়ের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত মাসআলাটির জন্য কম্পিউটারে কমান্ড দিন, তখন কেবল সেই মাসআলাটিই আপনার সামনে আসবে, অন্য কিছু নয়। হ্যাঁ, আমরা এই যন্ত্রগুলো থেকে উপকৃত হই, কিন্তু আমরা এগুলোর ওপর নির্ভর করি না। আমরা এ থেকে তখনই উপকার গ্রহণ করি যখন সময় অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়; যেমন জুমার খতিব কিংবা এমন ব্যক্তি যার কোনো পাঠদান বা আলোচনা রয়েছে এবং তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান অথচ হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। এমতাবস্থায় আমরা বলি: এখন কম্পিউটার ব্যবহার করুন, কম্পিউটারে দেখে নিন যে সেটি সহিহ কি না। এখন আপনার হাতে সময় নেই, আপনি নিরুপায়। আবার অন্য এক ব্যক্তি নিজের কাজ পরীক্ষা করতে চান; তিনি নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী হাদিসটি তখরিজ করেছেন এবং নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার পর যা সম্ভব সংগ্রহ করেছেন। তিনি হাদিসের বিশটি সূত্র একত্রিত করেছেন এবং এখন নিজের কাজ যাচাই করতে চান যে আরও কোনো বর্ধিত সূত্র আছে কি না। এমতাবস্থায় কম্পিউটার ব্যবহার করে এতে অতিরিক্ত কিছু আছে কি না তা দেখে নিতে কোনো বাধা নেই। আর তিনি যদি কম্পিউটারে নিজের পরিশ্রমের অতিরিক্ত কিছু পান, তবে নিঃসন্দেহে তিনি সেই অতিরিক্ত বিষয়টির প্রতি যত্নবান হবেন এবং তা সংরক্ষণ করবেন; এটি সেই ব্যক্তির অবস্থার চেয়ে ভিন্নতর হবে যে শুরুতেই এই কম্পিউটারের কাছে এসেছে।
আমি যারা এই যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে এবং যারা যথাযথ পন্থায় ইলম অন্বেষণ করেন, তাদের জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি: এক ব্যক্তি একটি বাণিজ্যিক পথ—অর্থাৎ বাণিজ্যিক এলাকা—দিয়ে অতিক্রম করছেন যেখানে অসংখ্য নির্দেশনা, সাইনবোর্ড, দোকান এবং হাজার হাজার লেখা রয়েছে। কল্পনা করুন, এই ব্যক্তি যদি ঘণ্টায় একশ কিলোমিটার বেগে চালিত গাড়িতে চড়ে এই পথ অতিক্রম করেন, তবে এই সাইনবোর্ডগুলোর মধ্য থেকে তিনি কী মনে রাখতে পারবেন?
এটি একটি আনুমানিক উদাহরণ মাত্র। বাহ্যত তিনি এক শতাংশও মনে রাখতে পারবেন না। কিন্তু তিনি যদি পদব্রজে চলতেন এবং চারদিকে গভীর দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতেন, তবে অনেক কিছুই মনে রাখতে পারতেন। কিতাব পাঠকারী এবং কেবল এই যন্ত্রগুলোর সাহায্য গ্রহণকারীর উদাহরণ ঠিক এমনই। এটি একটি বাস্তব উদাহরণ। আমি এটি অসম্ভব মনে করি না যে কোনো বক্তা বলে উঠবেন: মানুষ আজ উন্নতির কোথায় পৌঁছে গেছে, আর আপনারা বলছেন অনুলিপি করো এবং পাঠ করো! এটি আর কতকাল চলবে?
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
لكن ثقوا ثقة تامة أن العلم في الكتب، العلم متين ويحتاج إلى معاناة، ويحتاج أيضاً إلى تردد على الشيوخ، أهل الخبرة، أهل الدراية، أهل العلم والعمل، مع المراجعة بالانفراد والمذاكرة مع الغير، أما شخص يحضر الدروس، وإذا خرج من الدرس هذا آخر عهده بالكتاب، فمثل هذا لا يفلح غالباً، كما قرر ذلك أهل العلم.
فعلينا أن نعتني بالعلم وأجره عظيم، لا تظن أن تعبك على العلم سدى أو هدر، لا، ((من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى الجنة))، الأمر ليس باليسير.
قد يقول قائل: أنا الحافظة لا تسعف، الفهم ضعيف، أنا مجرد تردد على .. ، أتردد على أهل العلم ولا أحفظ ولا أفهم، نقول: تردد يا أخي، الأجر والثواب مرتب على مجرد سلوك الطريق، ((من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى الجنة)).
فعليك أن تسلك الطريق، وتحضِّر الدرس قبل الحضور -قبل حضورك إلى الدرس- تقرأ قبل أن تحضر، وتحفظ ما يحتاج إلى حفظه، وتراجع الشروح، شرح ما تريد، شرح الدرس الذي تريد أن تحضره عند ذلك الشيخ، ثم بعد ذلك تحضر وتتأدب وتحتسب أجرك عند الله عز وجل مخلصاً لله عز وجل في جميع ذلك، فالمدار على الإخلاص، فتنصت للشيخ، وتناقش الشيخ بأدب، ثم بعد ذلك إذا رجعت تراجع ما سمعت وتدون الفوائد.
وبعض أهل العلم يمنع من تدوين الفوائد أثناء الدرس، يقول: انتبه الدرس عليك أن تصغي، أن تصغي للشيخ، ثم بعد ذلك إذا انصرفت بعد هذا الإصغاء والانتباه دوِّن ما تشاء، ومن جرب عرف صدق هذه المقالة؛ لأن بعض الناس ينشغل بالتدوين ويفوت عليه أمور كثيرة، وبعض الناس ينصت ويهتم، ويلح على الله سبحانه وتعالى بأن يثبت هذا العلم في ذهنه، وأن ينفعه به، ثم بعد ذلك إذا انصرف دون ما فهمه وما علق بذهنه، وذاكر إخوانه، لا بد من مذاكرة الإخوان للدروس.
তবে আপনারা পূর্ণ আস্থা রাখুন যে জ্ঞান কিতাবসমূহের মধ্যে নিহিত। জ্ঞান অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং এর জন্য কঠোর সাধনার প্রয়োজন। এর জন্য আরও প্রয়োজন শাইখদের নিকট যাতায়াত করা, যাঁরা অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ এবং ইলম ও আমলের অধিকারী। সাথে সাথে একাকী পর্যালোচনা এবং অন্যের সাথে আলোচনা করাও জরুরি। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি কেবল দরসে উপস্থিত হয় এবং দরস থেকে বের হওয়ার পর কিতাবের সাথে তার আর কোনো সম্পর্ক থাকে না, তবে সাধারণত এ জাতীয় ব্যক্তি সফল হয় না, যেমনটি ইলম অন্বেষণকারীগণ নির্ধারণ করেছেন।
সুতরাং আমাদের উচিত ইলমের প্রতি যত্নবান হওয়া, আর এর প্রতিদান অত্যন্ত মহান। আপনারা মনে করবেন না যে ইলম অর্জনে আপনাদের শ্রম বৃথা যাবে বা নষ্ট হবে; না, বরং "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।" বিষয়টি সহজ নয়।
কেউ বলতে পারে: আমার স্মৃতিশক্তি আমাকে সহায়তা করে না, আমার বুঝশক্তি দুর্বল, আমি কেবল আলিমদের কাছে যাতায়াতই করছি, আমি মুখস্থ করতে পারি না এবং বুঝতেও পারি না। আমরা বলব: হে ভাই, আপনি যাতায়াত জারি রাখুন; কেননা সওয়াব ও প্রতিদান কেবল ইলমের পথে চলার ওপরই নির্ধারিত। "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।"
সুতরাং আপনার কর্তব্য হলো এই পথে চলা এবং দরসে উপস্থিত হওয়ার পূর্বে পাঠ প্রস্তুতি গ্রহণ করা—অর্থাৎ দরসে আসার আগে তা পড়ে নেওয়া। যা মুখস্থ করা প্রয়োজন তা মুখস্থ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো দেখা; যে শাইখের কাছে আপনি দরস নিতে যাচ্ছেন, সেই দরসটির ব্যাখ্যা দেখে নেওয়া। অতঃপর আদবের সাথে উপস্থিত হওয়া এবং মহান আল্লাহর নিকট এর সওয়াবের আশা রাখা, এসবের মূল ভিত্তি হলো ইখলাস বা আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা। সুতরাং শাইখের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন, শিষ্টাচার বজায় রেখে শাইখের সাথে আলোচনা করবেন এবং ফিরে গিয়ে যা শুনেছেন তা পর্যালোচনা করবেন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করবেন।
কোনো কোনো আলিম দরস চলাকালীন সময়ে নোট নেওয়া বা উপকারিতাগুলো লিপিবদ্ধ করা নিষেধ করেন। তাঁরা বলেন: মনোযোগী হোন, আপনার কর্তব্য হলো শাইখের কথা মন দিয়ে শোনা। অতঃপর এই শ্রবণ ও মনোযোগের পর যখন আপনি প্রস্থান করবেন, তখন যা ইচ্ছা লিপিবদ্ধ করুন। যারা এটি পরীক্ষা করে দেখেছেন, তারা এই কথার সত্যতা বুঝতে পেরেছেন; কারণ কিছু মানুষ নোট নেওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের অনেক বিষয় ছুটে যায়। আবার কেউ কেউ অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং মহান আল্লাহর কাছে এই ইলমকে মগজে গেঁথে দেওয়ার ও এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার জন্য আকুল প্রার্থনা করে। এরপর যখন সে প্রস্থান করে, তখন যা বুঝেছে এবং যা তার স্মৃতিতে অবশিষ্ট রয়েছে তা লিখে ফেলে এবং সহপাঠীদের সাথে তা আলোচনা করে। দরস নিয়ে সহপাঠীদের সাথে পারস্পরিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهذا الكلام ليس خاصاً بالسنة، هذا لجميع العلوم، إذا أردت أن تحضر درساً في التفسير، وتعرف طريقة الشيخ أنه في اليوم يشرح آيتين ثلاث، عليك أن تحفظ هاتين الآيتين أو الثلاث، ثم تقرأ في كلام أهل العلم الموثوقين ما يعينك على فهم هاتين الآيتين -الآيتين أو الثلاث- ثم بعد ذلك تذهب إلى الشيخ، وتستفيد ما يزيده الشيخ على ما قرأت، ثم بعد ذلك تذاكر مع إخوانك وزملائك في الدرس، وكل واحد يزيد مما أعطاه الله من العلم على صاحبه، وبهذا يتمكن الطالب من التحصيل.
والشيخ عبد القادر بن بدران في كتاب المدخل قال: إنهم يحضرون عند شيخ درساً في الفقه ويقول: إننا نجتمع خمسة ستة من الأقران قبل الدرس، فنقرأ الدرس جميعاً، ثم نحفظ القدر الذي قراناه، والذي نتوقع أن الشيخ لا يزيد عليه، ثم بعد ذلكم قبل الاطلاع على الشروح كل واحد منا يأخذ ورقة وقلم ويشرح هذا المقروء، المحفوظ، بفهمه، يشرح من تلقاء نفسه، قبل الاطلاع على الشروح، على شان أيش؟
على شان إذا أخطأ في شرحه، ثم قرأ الشرح وتداوله الزملاء فإنه حينئذ يثبت العلم بهذه الطريقة، يقول: نشرح القدر المراد، ثم بعد ذلك نراجع الشروح، فما كان من خطأ نصوبه ونسدده، ثم بعد الشروح نطالع ما كتب عليها من حواشي، ثم بعد ذلكم نذهب إلى الشيخ؛ لنستفيد من علمه ما لا يوجد في الكتب.
وعند الشيوخ ما لا يوجد في الكتب مما أعطاه الله من علوم قدحها بزنده، أو استفادها من كتب ليست مظنة لها، لاطلاعه، ولذا لا يتصور أن يستغني الطالب عن معلم أبداً.
في البلدان التي لا يوجد فيها أحد من أهل العلم يقال: استفد بقدر الإمكان، استفد من الأشرطة، استفد من الإنترنت، استفد من الإذاعات التي تبث العلوم، لا بأس؛ لأن هذه حالة ضرورة، لكن البلدان التي فيها علماء، مثل هذه البلاد المباركة وفيها من أهل العلم والعمل من فيها، نقول: هذه الآلات وهذه الأشرطة مهما بلغت من الصحة والضبط والإتقان لا تغني عن مزاحمة الشيوخ، وهذا الكلام يصلح لجميع العلوم.
ثم بعد ذلكم نأتي إلى ما نحن بصدده، وهو كتب السنة، وتدوين السنة، وترتيب كتب السنة، وفهم كتب السنة، وما يعين على فهم كتب السنة.
كتب السنة، نعم.
طالب:. . . . . . . . .
এবং এই কথাটি কেবল হাদিস শাস্ত্রের জন্য বিশেষ নয়, বরং এটি সমস্ত ইলমের জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি তাফসিরের কোনো দরসে উপস্থিত হতে চান এবং আপনি যদি শাইখের পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন যে তিনি প্রতিদিন দুই বা তিনটি আয়াত ব্যাখ্যা করেন, তবে আপনার উচিত এই দুই বা তিনটি আয়াত মুখস্থ করে নেওয়া। এরপর নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্য থেকে সেই আয়াতগুলো বুঝতে সাহায্য করে এমন বিষয়গুলো পড়ে নেওয়া। তারপর শাইখের কাছে যাওয়া এবং শাইখ আপনার পঠিত বিষয়ের অতিরিক্ত যা কিছু বলবেন তা থেকে উপকৃত হওয়া। এরপর আপনার ভাই ও সহপাঠীদের সাথে তা নিয়ে মুজাকারা (আলোচনা) করা। আল্লাহ যাকে যে ইলম দান করেছেন, তা দিয়ে প্রত্যেকেই তার সঙ্গীকে সমৃদ্ধ করবে। এভাবেই একজন তলেবে ইলমের পক্ষে ইলম অর্জন করা সম্ভব হয়।
আর শাইখ আব্দুল কাদির ইবনে বদরান ‘আল-মাদখাল’ কিতাবে বলেছেন যে, তারা কোনো শাইখের কাছে ফিকহ শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করতে যেতেন। তিনি বলেন: আমরা দরসের আগে পাঁচ-ছয়জন সমমনা বন্ধু একত্রিত হতাম এবং পুরো পাঠটি একসাথে পড়তাম। এরপর যতটুকু আমরা পড়েছি এবং শাইখ যার অতিরিক্ত পড়াবেন না বলে আমরা ধারণা করতাম, সেই অংশটুকু মুখস্থ করতাম। এরপর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ দেখার আগেই আমাদের প্রত্যেকে খাতা ও কলম নিয়ে যা পড়েছি এবং মুখস্থ করেছি তা নিজ বোধশক্তি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতাম। ব্যাখ্যাগ্রন্থ দেখার আগেই নিজের পক্ষ থেকে তা ব্যাখ্যা করতাম। কেন এমন করতাম?
যাতে করে নিজের ব্যাখ্যায় কোনো ভুল হলে, পরবর্তীতে যখন মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করা হবে এবং সহপাঠীদের মাঝে তা নিয়ে আলোচনা হবে, তখন এই পদ্ধতিতে ইলমটি দৃঢ়ভাবে গেঁথে যায়। তিনি বলেন: আমরা কাঙ্ক্ষিত অংশটুকু ব্যাখ্যা করতাম, এরপর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পুনরায় দেখতাম। সেখানে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন ও সঠিক করে নিতাম। এরপর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর লিখিত হাশিয়া বা টীকাগুলো অধ্যয়ন করতাম। এরপর আমরা শাইখের নিকট যেতাম; যেন তার ইলম থেকে এমন কিছু অর্জন করতে পারি যা কিতাবে পাওয়া যায় না।
আর শাইখদের কাছে এমন অনেক কিছু থাকে যা কিতাবে পাওয়া যায় না। আল্লাহ তাদেরকে এমন অনেক ইলম দান করেছেন যা তারা নিজ সাধনায় অর্জন করেছেন, অথবা তাদের ব্যাপক অধ্যয়নের কারণে এমন সব কিতাব থেকে সংগ্রহ করেছেন যেগুলোতে সাধারণত সেই প্রসঙ্গ থাকার কথা নয়। তাই কখনোই কল্পনা করা যায় না যে একজন ছাত্র শিক্ষকের থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারবে।
যেসব দেশে কোনো আলেম নেই, সেখানে বলা হয়: যতটুকু সম্ভব উপকৃত হও; ক্যাসেট থেকে, ইন্টারনেট থেকে কিংবা ইলম প্রচারকারী রেডিও থেকে ফায়দা হাসিল করো। এতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ এটি একটি নিরুপায় অবস্থা। কিন্তু যেসব দেশে আলেম রয়েছেন—যেমন এই বরকতময় দেশ, যেখানে ইলম ও আমলওয়ালা আলেমগণ বিদ্যমান—সেখানে আমরা বলি: এই যন্ত্র বা ক্যাসেটগুলো যতই নির্ভুল ও নিঁখুত হোক না কেন, এগুলো আলেমদের সান্নিধ্য লাভের বিকল্প হতে পারে না। আর এই কথাটি সকল ইলমের জন্যই প্রযোজ্য।
এরপর আমরা আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ে আসব, আর তা হলো—হাদিসের কিতাবসমূহ, হাদিস সংকলন, হাদিসের কিতাবসমূহের বিন্যাস, হাদিসের কিতাবসমূহ অনুধাবন এবং যা হাদিসের কিতাব বুঝতে সহায়ক হয়।
হাদিসের কিতাবসমূহ, হ্যাঁ।
ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
أقول: كتب السنة متنوعة، قصد أهل العلم من تنوعها وتنويعها إفادة جميع المستويات لطلاب العلم، فمنها الكتب المجردة عن الأسانيد التي قصد أهل العلم من تأليفها أن يحفظها مبتدئُو الطلبة، وهذه الكتب عادة هي التي يبدأ بها بالنسبة للسنة، ومن أهم هذه الكتب، بل أول درجة في السلم:
الأربعون النووية: وهي أحاديث جوامع من جوامع كلمه عليه الصلاة والسلام، فعلى طالب العلم أن يبدأ بحفظها ويعتني بفهمها؛ لأن كل حديث منها قاعدة من قواعد الشرع من جوامع كلمه عليه الصلاة والسلام ويقرأ ما كتب عليها من شروح، ويستفيد من أهل العلم في دروسهم التي تشرح في هذه الأحاديث، فالأربعون النووية للإمام الزاهد الحافظ أبي زكريا يحيى بن شرف النووي المتوفى سنة ست وسبعين وستمائة، وهذا الرجل على قِصر عمره رجل مبارك، رجل مبارك، ألف هذا الكتاب الذي جمع فيه هذه القواعد الكلية من قواعد الشريعة، وله رياض الصالحين: الذي هو منذ أن فرغ منه مؤلفه إلى يومنا هذا والمسلمون في مساجدهم يقولون: قال -رحمه الله تعالى- وأي فضل أعظم من هذا، على ما عنده من خلل في العقيدة ناتج عن تقليد وليس من أهل الاجتهاد والتنظير في هذا الباب.
له أيضاً من الكتب النافعة الأذكار: وهو فريد فذ في بابه، له أيضاً: المجموع في شرح المهذب الذي لو كمل لاستغنى به طالب العلم عن جميع كتب الفقه، نعم إذا قلنا: المغني كتاب عظيم، المحلى كتاب مفيد، التمهيد والاستذكار لابن عبد البر كتب عظيمة، لكن المجموع ذكر فيه من الفروع والتنابيه المدللة على طريقة أهل الحديث بالأدلة المعللة المخرجة مما لو اجتمع عليه فئام من الناس ما استطاعوا أن يؤلفوا مثله في هذه العمر القصير خمسة وأربعين سنة عمره، وله أيضاً: شرح مسلم، وله كتب كثيرة مباركة، فيها فوائد عظيمة.
আমি বলছি: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ বৈচিত্র্যময়; আলেমগণ এই বৈচিত্র্য এবং বিন্যাসের মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীদের সকল স্তরকে উপকৃত করতে চেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা সনদ বর্জিত; আলেমগণ এই কিতাবগুলো রচনার মাধ্যমে লক্ষ্য রেখেছেন যাতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এগুলো মুখস্থ করতে পারে। সুন্নাহর ক্ষেত্রে সাধারণত এই কিতাবগুলো দিয়েই শুরু করা হয়। এই কিতাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বরং সোপানের প্রথম ধাপ হলো:
আরবাঈন আন-নববী: এগুলো হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ‘জাওয়ামিউল কালিম’ বা ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এটি মুখস্থ করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এবং এর উপলব্ধির ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া; কারণ এর প্রতিটি হাদিসই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপক অর্থবোধক বাণীসমূহের মধ্য হতে শরিয়তের এক একটি মূলনীতি। আর এর ওপর লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোও তার অধ্যয়ন করা উচিত এবং আলেমদের নিকট হতে তাদের সেই পাঠগুলো থেকে উপকৃত হওয়া উচিত যেখানে এই হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা করা হয়। আরবাঈন আন-নববী হলো জাহিদ, হাফেজ ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববীর (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি) রচনা। এই ব্যক্তি তার স্বল্প হায়াত সত্ত্বেও একজন বরকতময় মানুষ ছিলেন, একজন বরকতময় মানুষ। তিনি এই কিতাবটি রচনা করেছেন যেখানে তিনি শরিয়তের এই সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ একত্রিত করেছেন। তাঁর আরও রয়েছে ‘রিয়াদুস সালিহীন’; লেখক এটি রচনার কাজ শেষ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত মুসলিমগণ তাদের মাসজিদসমূহে বলে আসছেন: “তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন”। এর চেয়ে বড় মর্যাদা আর কী হতে পারে! তবে এই অধ্যায়ে ইজতিহাদ ও তাত্ত্বিক গবেষণার অধিকারী না হয়ে অনুকরণের ফলে তাঁর আকিদায় যে ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে, তা সত্ত্বেও এটি এক মহান কিতাব।
উপকারী কিতাবসমূহের মধ্যে তাঁর আরও রয়েছে ‘আল-আযকার’; এটি স্বীয় ক্ষেত্রে এক অনন্য ও অতুলনীয় কিতাব। তাঁর আরও রয়েছে: ‘আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব’, যা যদি পূর্ণাঙ্গ হতো তবে ইলম অন্বেষণকারীর জন্য ফিকহ শাস্ত্রের অন্য সকল কিতাব থেকে যথেষ্ট হতো। হ্যাঁ, আমরা যদি বলি: ‘আল-মুগনি’ একটি মহান কিতাব, ‘আল-মুহাল্লা’ একটি দরকারী কিতাব, ইবনে আবদিল বার-এর ‘আত-তামহিদ’ ও ‘আল-ইস্তযকার’ মহান কিতাবসমূহ; কিন্তু ‘আল-মাজমু’ কিতাবে তিনি আহলে হাদিসগণের পদ্ধতিতে যেভাবে মাসআলার শাখা-প্রশাখা এবং দলীলভিত্তিক সতর্কবার্তা উল্লেখ করেছেন—যার ভিত্তি হলো তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও গবেষণালব্ধ দলীল—তা এমন যে, যদি একদল মানুষ একত্রিত হতো তবুও তাঁর এই পঁয়তাল্লিশ বছরের স্বল্প জীবনের ন্যায় সময়ে এর অনুরূপ কিছু রচনা করতে সক্ষম হতো না। তাঁর আরও রয়েছে ‘শারহু মুসলিম’ এবং অনেক বরকতময় কিতাব, যেগুলোতে রয়েছে মহান সব উপকারিতা।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
على كل حال النووي معروف أمره، والحديث عنه يطول، لكن الذي يهمنا كتابه الأربعين النووية، فيقرأ عليه شرح المؤلف، شرح الأربعين للنووي نفسه، شرح مختصر ومتقن، ولا مانع أن يقرأه المنتهي مقروناً بشرح الحافظ ابن رجب، المسمى جامع العلوم والحكم، وهذا الكتاب كغيره من مؤلفات هذا الإمام فيها من العلم العجب العجاب، فيها علم السلف، وشرحه للأربعين شاهد لذلك، شرحه للبخاري لو كمل لكان من العجائب، وشرحه للترمذي أيضاً شيء أشيد به، لكن مع الأسف أنه لا يوجد منه إلا القسم الأخير وهو شرح العلل.
إذا حفظ طالب العلم المبتدئ الأربعين، انتقل بعدها إلى عمدة الأحكام، والمقصود بها الصغرى، وهي التي يذكرها أهل العلم في كتب التراجم، فإذا قالوا في ترجمة أحد من أهل العلم: حفظ كذا وكذا وعمدة الأحكام فالمراد بها الصغرى، وتأتي أهميتها من إمامة مؤلفها وانتقاء أحاديثها، فأحاديثها من الصحيحين وهو شرط المؤلف.
ثم بعد ذلكم يقرأ على هذه العمدة إذا حفظها، وهي عمدة تسعف في وقت الحاجة، يقرأ ما كتب عليها، وما كتب عليها مما يناسب الطلبة متوسطي التحصيل، كتاب في غاية الاختصار وهو خلاصة الكلام للشيخ فيصل بن مبارك، وأطول منه وأيسر وأقرب للطلاب وليكونوا غير المتخصصين في العلم الشرعي تيسير العلام للشيخ ابن بسام، هذا كتاب في غاية الوضوح والسهولة، لكن إذا قرناه بشرح ابن دقيق العيد أحكام الأحكام، هذا ينبغي أن يتخرج عليه طالب العلم، إذا فهمه طالب العلم فهو لما سواه أفهم، أحكام الأحكام لابن دقيق العيد وعليه حواشي الصنعاني، الكتاب مطبوع مع حواشيه في أربعة مجلدات.
طالب:. . . . . . . . .
صعب صعب، صعب الكتاب صعب، لكن ليس معنى هذا التنفير، لا، الصعب إذا فهمه الطالب تلذذ بقراءته، نعم؛ لأنه يصير كشف، كل جملة تفهمها فتح، تتلذذ بها.
فنقول: إذا قرأت على العمدة تعليقات الشيخ فيصل بن مبارك، وشرح ابن بسام نعم، وتأهلت لقراءة شرح ابن دقيق العيد لا مانع من ذلك.
فهناك شرح مطول على العمدة وهو الإعلام بفوائد عمدة الأحكام لابن الملقن وهو كتاب مبسوط، لو ترجأ قراءته إلى مرحلة تالية؛ لطوله وتشعب معلوماته لكان أولى، لكن يذكر بمناسبة ذكر العمدة.
যাই হোক, ইমাম নববীর বিষয়টি সুবিদিত এবং তাঁকে নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ। তবে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁর কিতাব 'আরবাঈন নববী'। সুতরাং এর ওপর লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'শারহুল আরবাঈন লিন-নববী' পড়া উচিত; যা একটি সংক্ষিপ্ত ও সুনিপুণ ব্যাখ্যাগ্রন্থ। উচ্চস্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হাফেজ ইবনে রাজাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'জামি'উল উলূম ওয়াল হিকাম'-এর সাথে মিলিয়ে পড়াতে কোনো বাধা নেই। এই কিতাবটি এই ইমামের অন্যান্য রচনার মতোই, যাতে বিস্ময়কর জ্ঞান নিহিত রয়েছে। এতে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) জ্ঞান রয়েছে এবং আরবাঈনের ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি এর প্রমাণ। বুখারীর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি যদি পূর্ণ হতো, তবে তা হতো এক বিস্ময়কর কাজ। তিরমিযীর ওপর তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটিও প্রশংসার যোগ্য ছিল, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এর শেষাংশ তথা 'শারহুল ইলাল' ব্যতীত অন্য কিছু পাওয়া যায় না।
যদি কোনো নবাগত ইলম অন্বেষী আরবাঈন মুখস্থ করে ফেলে, তবে এরপর সে 'উমদাতুল আহকাম'-এর দিকে অগ্রসর হবে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'উমদাতুল আহকাম আস-সুগরা' (ছোটটি); জীবনীকারগণ তাঁদের কিতাবে এটিই উল্লেখ করেন। তারা যখন কোনো আলেমের জীবনীতে বলেন যে, তিনি অমুক অমুক কিতাব এবং 'উমদাতুল আহকাম' মুখস্থ করেছেন, তখন এর দ্বারা ছোটটিই উদ্দেশ্য হয়। এর গুরুত্বের কারণ হলো এর লেখকের ইমামত (নেতৃত্ব) এবং হাদিস নির্বাচনের মানদণ্ড; কেননা এর হাদিসগুলো বুখারী ও মুসলিম থেকে নেওয়া হয়েছে, যা লেখকের শর্ত ছিল।
এরপর এই 'উমদাতুল আহকাম' মুখস্থ করার পর এর ওপর লিখিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পড়বে। এটি এমন এক ভিত্তি যা প্রয়োজনের সময় সহায়তা করে। এর ওপর যা লেখা হয়েছে এবং যা মধ্যম সারির শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী, তা সে পড়বে। এর মধ্যে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি কিতাব হলো শেখ ফয়সাল বিন মুবারকের 'খুলাসাতুল কালাম'। এর চেয়ে দীর্ঘতর কিন্তু সহজ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য (বিশেষ করে যারা শরীয়াহ বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ নন) অধিকতর নিকটবর্তী হলো শেখ ইবনে বাসসামের 'তায়সীরুল আল্লাম'। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সহজ একটি কিতাব। কিন্তু আমরা যদি একে ইবনে দাকীক আল-ঈদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ইহকামুল আহকাম'-এর সাথে তুলনা করি, তবে একজন শিক্ষার্থীর উচিত হবে এই কিতাবের মাধ্যমেই পারদর্শী হওয়া। যদি কোনো শিক্ষার্থী এটি বুঝতে পারে, তবে সে অন্য সব কিতাবও অধিকতর ভালো বুঝবে। ইবনে দাকীক আল-ঈদের 'ইহকামুল আহকাম'-এর সাথে সান'আনীর টীকা রয়েছে। কিতাবটি টীকাসহ চার খণ্ডে মুদ্রিত।
শিক্ষার্থী: . . . . . . . . .
এটি কঠিন, অনেক কঠিন। কিতাবটি বেশ জটিল, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমি আপনাকে নিরুৎসাহিত করছি। না, কঠিন বিষয় যখন কোনো শিক্ষার্থী বুঝতে সক্ষম হয়, তখন সে তার পাঠে স্বাদ পায়। হ্যাঁ; কারণ তখন বিষয়টি উন্মোচিত হতে থাকে। আপনি যখন প্রতিটি বাক্য বুঝতে পারবেন, তখন তা আপনার জন্য এক নতুন বিজয় হিসেবে গণ্য হবে, যা আপনাকে আনন্দ দেবে।
তাই আমরা বলি: আপনি যদি 'উমদাতুল আহকাম'-এর ওপর শেখ ফয়সাল বিন মুবারকের টীকা এবং ইবনে বাসসামের ব্যাখ্যা পড়েন এবং ইবনে দাকীক আল-ঈদের ব্যাখ্যা পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেন, তবে তাতে কোনো বাধা নেই।
সেখানে 'উমদাতুল আহকাম'-এর ওপর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থও রয়েছে, তা হলো ইবনে মুলাক্কিনের 'আল-ই'লাম বি-ফাওয়াইদি উমদাতিল আহকাম'। এটি একটি বিস্তারিত কিতাব। এর দৈর্ঘ্য এবং তথ্যের ব্যাপকতার কারণে এর পাঠ পরবর্তী কোনো পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখাই হবে শ্রেয়। তবে 'উমদা'র আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি উল্লেখ করা হলো।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
هناك أيضاً من الكتب التي اختصرها أهل العلم وحذفوا أسانيدها لتحفظ: المحرر في الحديث للإمام الحافظ ابن عبد الهادي، وهو كتاب متقن، على اسمه محرر مضبوط، فيه إشارات ودقائق إلى علل الأحاديث قد لا توجد عند غيره، ولكنه لم يُعتَنَ به، لا يوجد له شرح مطبوع، وإن التفت الناس إليه في الأخير، ووضعوا فيه الدروس والدورات وشرحوه بأشرطة، وهو حري وجدير وخليق بالعناية، فعلى طالب العلم أن يعتني به.
ثم بعد ذلكم بلوغ المرام للحافظ ابن حجر العسقلاني، الذي هو أشهر من نار على علم عند طلاب العلم، والعناية به فائقة، وشرح ودرس في جميع الأقطار، منذ تأليفه إلى يومنا هذا وهو عمدة في هذا الباب، عني به أهل العلم عناية فائقة، فلتراجع عليه الشروح ومنها: البدر التمام للقاضي الحسين بن محمد المغربي يماني لكنه -أعني هذا الشرح- فيه حشو كثير، فيه حشو كثير واعتماده على فتح الباري، وشرح النووي على مسلم، والتلخيص الحبير، هذه عمدته، ثم بعد ذلكم ينقل نقول من كتب الزيدية، ويستطرد في ذكر آرائهم ومذاهبهم.
اختصره الأمير محمد بن إسماعيل الصنعاني في كتابه الشهير سبل السلام، وهذا ينبغي أن يعتني به طالب العلم لتجرد مؤلفه، ودورانه مع السنة، فيرجح ما يرجحه، أو ما يترجح له من خلال الدليل، وهو مختصر من البدر التمام، ولكونه أفضل من المختصر صارت العناية به أكثر.
هناك أيضاً شرح معاصر للشيخ ابن بسام اسمه توضيح الأحكام، فائدته تكمل في سهولته وترتيبه، وأيضاً نُقول فتاوى المعاصرين كاللجنة الدائمة، وهيئة كبار العلماء، ومجمع الفقه وغيرها، هذه مهمة.
بعد ذلكم كتاب المنتقى، للمجد ابن تيمية جد شيخ الإسلام، وهو كتاب عظيم حوى جل أحاديث الأحكام، لا يستغني عنه طالب علم، فجمع جل ما يحتاجه طالب العلم من أحاديث الأحكام، وهو مشروح، شرحه الشوكاني، في كتابه المشهور: نيل الأوطار، والكتاب أصله عظيم، وشرحه نفيس؛ لأنه كما قلنا عن سبل السلام، الشوكاني -رحمه الله تعالى- يدور مع الدليل، يدور مع الدليل، ولا يعني أن الشوكاني أو الصنعاني معصومان لا يقعان في الخطأ، لا، هما كغيرهما من أهل العلم معرضون للخطأ والصواب.
আলেমগণ মুখস্থ করার সুবিধার্থে যেসব গ্রন্থকে সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং যেগুলোর সনদসমূহ বিলুপ্ত করেছেন, সেগুলোর মধ্যে একটি হলো ইমাম হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদি-এর 'আল-মুহাররার ফিল হাদিস'। এটি একটি অত্যন্ত নিখুঁত কিতাব, যা এর নাম অনুযায়ীই মার্জিত ও সুসংবদ্ধ। এতে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলল) সম্পর্কে এমন সব ইঙ্গিত রয়েছে যা অন্য কারো কিতাবে সচরাচর পাওয়া যায় না। তবে ইতিপূর্বে এটি তেমন গুরুত্ব পায়নি এবং এর কোনো মুদ্রিত ব্যাখ্যাগ্রন্থও নেই; যদিও বর্তমানে মানুষের দৃষ্টি এর দিকে নিবদ্ধ হয়েছে এবং তারা এর ওপর দরস ও শিক্ষামূলক কোর্স পরিচালনা করছেন এবং অডিওর মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা প্রদান করছেন। জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য এটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা উচিত।
এরপর হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি-এর 'বুলুগুল মারাম' কিতাবটি উল্লেখযোগ্য, যা জ্ঞান অন্বেষণকারীদের নিকট অতি সুপরিচিত। এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং এটি সংকলিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সকল অঞ্চলে পঠিত ও ব্যাখ্যা হয়ে আসছে। আহকামের হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে এটি একটি নির্ভরযোগ্য মূল ভিত্তি। আলেমগণ এর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। সুতরাং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করা উচিত, যার মধ্যে একটি হলো কাজী হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মাগরিবি আল-ইয়ামানি-এর 'আল-বদরুত তামাম'। তবে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিতে অনেক অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে এবং এর মূল ভিত্তি হলো 'ফাতহুল বারি', মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'আত-তালখিসুল হাবির'। তিনি মূলত এগুলোর ওপরই নির্ভর করেছেন, অতঃপর যায়দিয়াদের কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং তাদের অভিমত ও মাযহাব বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
আমির মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আস-সান'আনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'সুবুলুস সালাম'-এ এটিকে সংক্ষিপ্ত করেছেন। জ্ঞান অন্বেষণকারীর উচিত এর প্রতি মনোযোগী হওয়া, কারণ এর লেখক কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অন্ধ অনুসারী ছিলেন না, বরং তিনি সুন্নাহর অনুগামী ছিলেন। দলীলের আলোকে যেটি তার কাছে সঠিক মনে হতো, তিনি সেটিকেই প্রাধান্য দিতেন। এটি 'আল-বদরুত তামাম'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলেও মূল গ্রন্থের চেয়েও উৎকৃষ্ট হওয়ার কারণে এর জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব অনেক বেশি।
এছাড়া শেখ ইবনে বাসসামের একটি সমসাময়িক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম 'তাওদিহুল আহকাম'। এর উপযোগিতা মূলত এর সহজবোধ্যতা ও বিন্যাসের মধ্যে নিহিত। পাশাপাশি এতে সমসাময়িক ফতোয়াসমূহ যেমন স্থায়ী কমিটি (লাজনা দায়েমা), বড় আলেমদের পরিষদ (হাইআতু কিবারিল উলামা), ফিকহ একাডেমি ইত্যাদির উদ্ধৃতি সংযোজিত হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর শাইখুল ইসলামের দাদা মাজদ ইবনে তাইমিয়্যার কিতাব 'আল-মুনতাকা' উল্লেখযোগ্য। এটি একটি মহান গ্রন্থ যা আহকামের অধিকাংশ হাদিসকে ধারণ করেছে। কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারীই এটি থেকে বিমুখ হতে পারে না। তিনি এতে আহকামের প্রয়োজনীয় প্রায় সকল হাদিস একত্রিত করেছেন। ইমাম শাওকানি তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'নাইলুল আওতার'-এ এর ব্যাখ্যা করেছেন। মূল গ্রন্থটি যেমন মহান, এর ব্যাখ্যাটিও তেমনি মূল্যবান। কারণ 'সুবুলুস সালাম' সম্পর্কে যেমনটি বলা হয়েছে, শাওকানি (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) সম্পর্কেও তাই প্রযোজ্য যে, তিনি দলীলের অনুগামী ছিলেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, শাওকানি বা সান'আনি নিষ্পাপ ছিলেন এবং তাদের কোনো ভুল হতে পারে না; বরং তারাও অন্যান্য আলেমদের মতোই ভুল ও সঠিক উভয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وأيضاً: كتبهما حشرت وملئت بأقوال بعض الطوائف المبتدعة، اضطروا إلى ذكرها من أجل روجان هذه الكتب في تلك البلاد؛ لأنهم جل سكان أو غالب سكان اليمن في وقتهم فيحتاجون إلى ذكر مذاهبهم لتروج هذه الكتب.
على كل حال هذه الكتب كتب ينبغي لطالب العلم أن يعتني بها، وهي خاصة بالأحكام.
هناك كتب في الآداب والأخلاق، مثل رياض الصالحين -الذي سبقت الإشارة إليه- فعلى طالب العلم أن يعتني به؛ لأن هذا الباب والجانب من أبواب الدين في غاية الأهمية للمسلم عموماً وطالب العلم على وجه الخصوص.
ونحن نشاهد عزوف من كثير من طلاب العلم عن كثير من أبواب الدين التي هم بأمس الحاجة إليها، كأبواب الأدب -الأدب الشرعي- مَن مِن طلاب العلم يعتني بقراءة أبواب الفتن -أعاذنا الله من شرها ما ظهر منها وما بطن-؟ مَن مِن طلاب العلم يعتني بأبواب الرقاق والزهد؟ يندر؛ لأن همهم في المسائل العملية، لكن ما الذي يحدوا طالب العلم إذا عرف الأحكام العملية إلى العمل، ما الذي يسوقه إلى العمل؟
هذه النصوص التي هي كالسياط لطالب العلم أن يعمل بهذا العلم، وإلا مجرد معرفة هذا حلال وهذا حرام من غير ملامسة للقلوب، قد يغفل طالب العلم، وقد يجفو، مع معرفته بالحلال والحرام -مع الأسف الشديد- يلاحظ على بعض من ينتسب إلى العلم شيء من الجفا، والتخلف في باب العمل وإن وجد العلم، على أن من أهل العلم من يرى أن العلم الذي لا يبعث على العمل ولا يحدوا إليه لا يستحق أن يسمى علماً والله المستعان.
ولذا جاء في الحديث: ((يحمل هذا العلم من كل خلف عدوله))، وهذا أمر للعدول بأن يحملوا العلم، ولا يتركوا المجال للفساق لحمل العلم، فهذا الجانب أو هذا الباب من أبواب الدين على طالب العلم أن يعنى به.
وكان الشيخ فيصل بن مبارك -بل دون ذلك في وصيته- يوصي بحفظ كتاب رياض الصالحين، يوصي بحفظ كتاب رياض الصالحين، إن لم يتمكن أو لم تسعف الحافظة يحفظ .. ، حدد الشيخ من باب كذا إلى باب كذا -نسيت الآن، لكن هذا لبيان أهمية الكتاب- والكتاب مشروح، شرحه ابن علان في دليل الفالحين، كتاب مختصر وجيد، ومتقن ومحرر، والمؤلف أشعري، يعني نكون على حذر في مسائل الاعتقاد.
এছাড়াও, তাঁদের গ্রন্থদ্বয় বিদআতী দলগুলোর বক্তব্যে ভরপুর করা হয়েছে। ঐসব জনপদে বইগুলোর প্রচার ও প্রসারের স্বার্থেই তাঁরা এগুলো উল্লেখ করতে বাধ্য হয়েছিলেন; কারণ তখনকার সময়ে ইয়েমেনের অধিকাংশ বা মূল অধিবাসী ছিল তারা, ফলে গ্রন্থগুলোর গ্রহণযোগ্যতার জন্য তাদের মাযহাব বা মতবাদগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল।
যাই হোক, এগুলো এমন গ্রন্থ যেগুলোর প্রতি ইলম অন্বেষীর যত্নবান হওয়া উচিত এবং এগুলো মূলত বিধান (আহকাম) সংক্রান্ত।
শিষ্টাচার ও আখলাক বিষয়েও অনেক কিতাব রয়েছে, যেমন রিয়াদুস সালিহীন—যার প্রতি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে—তাই ইলম অন্বেষীর উচিত এর প্রতি যত্নবান হওয়া; কারণ দ্বীনের এই অধ্যায় ও দিকটি সাধারণ মুসলিমদের জন্য এবং বিশেষ করে ইলম অন্বেষীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা অনেক ইলম অন্বেষীর মাঝে দ্বীনের এমন অনেক অধ্যায়ের প্রতি অনীহা লক্ষ্য করি যেগুলোর প্রতি তাদের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। যেমন আদব বা শরয়ি শিষ্টাচারের অধ্যায়সমূহ। ইলম অন্বেষীদের মধ্যে কে আছে যে ফিতনার অধ্যায়গুলো—আল্লাহ আমাদের এর প্রকাশ্য ও গোপন অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন—পাঠ করার প্রতি গুরুত্ব দেয়? ইলম অন্বেষীদের মধ্যে কে আছে যে রিাক্ব (হৃদয় বিগলিতকারী বর্ণনা) এবং যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর প্রতি যত্নশীল? এটা বিরল; কারণ তাদের সমস্ত চিন্তা কেবল আমলি বা প্রায়োগিক মাসআলাসমূহ নিয়ে। কিন্তু একজন ইলম অন্বেষী যখন আমলি হুকুমগুলো জানল, তখন তাকে আমল করতে কোন বিষয়টি উদ্বুদ্ধ করবে? কোন জিনিসটি তাকে আমলের দিকে ধাবিত করবে?
এই নাসসমূহ (পাঠগুলো) ইলম অন্বেষীর জন্য কশাঘাতের মতো যাতে সে এই ইলম অনুযায়ী আমল করে। অন্যথায় অন্তরে স্পর্শ করা ছাড়া শুধু এটি হালাল আর এটি হারাম—এটুকু জানার মাধ্যমে ইলম অন্বেষী উদাসীন হয়ে যেতে পারে এবং তার মধ্যে রুক্ষতা চলে আসতে পারে। হালাল ও হারাম জানা সত্ত্বেও—অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়—ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট কারও কারও মাঝে কিছু রুক্ষতা এবং আমলের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্য করা যায়, যদিও তার কাছে ইলম বিদ্যমান। অথচ কোনো কোনো আলিম মনে করেন, যে ইলম আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে না এবং আমলের দিকে চালিত করে না, তা ইলম নাম পাওয়ার যোগ্য নয়। আল্লাহই সাহায্যকারী।
আর এই কারণেই হাদীসে এসেছে: “প্রত্যেক প্রজন্মের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরাই এই ইলম ধারণ করবে।” এটি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি ইলম ধারণ করার একটি নির্দেশ, যাতে তারা পাপাচারীদের জন্য ইলম ধারণের ক্ষেত্রটি ছেড়ে না দেয়। সুতরাং দ্বীনের এই দিক বা এই অধ্যায়ের প্রতি ইলম অন্বেষীর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
শেখ ফয়সাল বিন মুবারক—বরং তিনি এটি তাঁর ওসিয়তনামায় লিপিবদ্ধ করেছেন—রিয়াদুস সালিহীন কিতাবটি মুখস্থ করার নসিহত করতেন, তিনি রিয়াদুস সালিহীন কিতাবটি মুখস্থ করার পরামর্শ দিতেন। যদি সম্ভব না হতো বা মুখস্থ শক্তি সঙ্গ না দিত, তবে তিনি নির্দিষ্ট করে দিতেন যে, অমুক অধ্যায় থেকে অমুক অধ্যায় পর্যন্ত মুখস্থ করো—আমি এখন তা ভুলে গেছি, তবে এটি কিতাবটির গুরুত্ব বুঝানোর জন্য। কিতাবটির ব্যাখ্যাগ্রন্থও রয়েছে, ইবনুল আল্লান ‘দালীলুল ফালিহীন’ নামে এর ব্যাখ্যা লিখেছেন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত, উত্তম, সুসংহত ও পরিমার্জিত কিতাব। তবে লেখক আশআরি ছিলেন, অর্থাৎ আকিদাগত বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
شرحه أيضاً: الشيخ محمد بن صالح العثيمين رحمه الله في شرح مملوء بالفوائد، وهو من أنسب ما يقرأ على العوام؛ لأن الشيخ رحمه الله له طريقة في تسهيل العلم بحيث يناسب جميع المستويات، يستفيد منه المنتهي، ويفهمه المبتدئ.
أيضا كتب الأذكار ألفت فيها الكتب الكثيرة، عمل اليوم والليلة للنسائي، عمل اليوم والليلة لابن السني، الدعاء للطبراني، الأذكار للنووي -الذي سبقت الإشارة إليه- هذه الكتب لا بد لطالب العلم أن يعتني بها؛ لأن الذكر له شأن عظيم في حياة المسلم فضلاً عن من ينتسب إلى العلم، فلا يزال لسانك رطب بذكر الله عز وجل، وكيف تعرف ما جاء عن النبي عليه الصلاة والسلام من الأذكار، إلا بمعرفة هذه الكتب، وما دون في المطولات التي سوف نذكرها إن شاء الله تعالى.
كتاب الأذكار للنووي مشروح، شرحه ابن علان أيضاً في كتاب أسماه الفتوحات الربانية، والأبواب التي أفردت فيها الكتب كثيرة، لا نريد أن تعوقنا أو تصدنا عما نحن بصدده من الكتب الأصلية.
كتب السنة الأصلية قدمت الكتب التي ذكرناها المجردة؛ لأنها تناسب المبتدئين، المبتدئ حفظ هذه الكتب التي ذكرت، وفهمها وعناها، عليه أن يرتقيَ بعد ذلك إلى الكتب المسندة، وكان الناس إلى وقت قريب على يأس تام وقنوط من حفظ هذه الكتب، أعني الكتب المطولة، لكن وجد -ولله الحمد- وجدت الجهود المباركة الموفقة المسددة المرتبة لحفظ السنة، وأثمرت ثماراً كبيرة.
لا تصدقون أيها الإخوان أننا إلى وقت قريب، إلى وقت قريب لا نشاهد في البلد كله من يحفظ القرآن إلا أشخاص معدودين على الأصابع من كبار السن!!
والآن ولله الحمد والمنة من النساء والرجال من الكبار والصغار يحفظون القرآن، بل إن امرأة في الحجاز عمرها سبعون سنة أتمت حفظ القرآن، وكان الناس على يأس تام؛ لأنهم يرون هذه الأوراق كثيرة، ولا لهم سلف، ولا لهم طريقة، ولا .. ، نعم، وقد يكون انشغال المتقدمين الأوائل بالمعيشة له دور، كانت المعيشة شاقة في هذه البلاد، ثم تيسرت الأمور، ووجد المخلصون فرتبوا ونظموا فتبين أن الأمر يسير.
এটি আরও ব্যাখ্যা করেছেন: শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত উপকারী একটি ব্যাখ্যার মাধ্যমে। এটি সাধারণ মানুষের পাঠ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত; কারণ শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) ইলম সহজ করার এমন একটি পদ্ধতি রয়েছে যা সকল স্তরের জন্য উপযোগী, যার দ্বারা বিজ্ঞ আলেমগণ উপকৃত হন এবং নতুন শিক্ষার্থীগণও তা বুঝতে পারেন।
অনুরূপভাবে যিকরের বিষয়েও অনেক কিতাব সংকলিত হয়েছে। যেমন: নাসায়ীর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ', ইবনুস সুন্নীর 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ', তাবারানীর 'আদ-দুআ', ইমাম নববীর 'আল-আযকার'—যার কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কিতাবগুলোর প্রতি একজন ইলম অন্বেষণকারীর যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য; কারণ একজন সাধারণ মুসলিমের জীবনেই যিকরের গুরুত্ব অপরিসীম, আর যারা ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের ক্ষেত্রে তো তা আরও বেশি। আপনার জিহ্বা যেন সর্বদা মহান আল্লাহর যিকরে সিক্ত থাকে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যিকরসমূহ আপনি কীভাবে জানতে পারবেন এই কিতাবসমূহ এবং সেই বিশাল সংকলনসমূহ সম্পর্কে জানা ব্যতীত যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে উল্লেখ করব?
ইমাম নববীর 'আল-আযকার' কিতাবটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইবনে আল্লানও এটি ব্যাখ্যা করেছেন 'আল-ফুতুহাতে রব্বানিয়্যাহ' নামক কিতাবে। এছাড়া এমন অনেক অধ্যায় রয়েছে যেগুলোর উপর স্বতন্ত্রভাবে প্রচুর কিতাব রচিত হয়েছে। তবে আমরা চাই না যে সেগুলো আমাদের মূল কিতাবগুলো আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াক বা আমাদের বিচ্যুত করুক।
সুন্নাহর মূল কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে আমি আগে সেই কিতাবগুলো উল্লেখ করেছি যেগুলো সনদবিহীন বা সারাংশ সম্বলিত; কারণ এগুলো নতুনদের জন্য উপযোগী। একজন নতুন শিক্ষার্থী যখন উল্লিখিত কিতাবগুলো মুখস্থ করবে এবং তা যথাযথভাবে বুঝতে সক্ষম হবে, তখন তাকে সনদযুক্ত কিতাবগুলোর দিকে অগ্রসর হতে হবে। নিকট অতীত পর্যন্ত মানুষ এই বিশদ কিতাবগুলো মুখস্থ করার ব্যাপারে পুরোপুরি হতাশ ও নিরাশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—সুন্নাহ মুখস্থ করার জন্য অত্যন্ত বরকতময়, সফল ও সুশৃঙ্খল প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে এবং এর অত্যন্ত ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া গেছে।
হে ভাইয়েরা, আপনারা বিশ্বাস করবেন না যে, নিকট অতীত পর্যন্ত আমরা পুরো দেশে হাতেগোনা কয়েকজন বৃদ্ধ ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে কুরআন হিফয করতে দেখতাম না!!
কিন্তু এখন—সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহর—নারী-পুরুষ, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলেই কুরআন হিফয করছে। এমনকি হিজাজের সত্তর বছর বয়সী এক নারীও কুরআন হিফয সম্পন্ন করেছেন। একসময় মানুষ পুরোপুরি নিরাশ ছিল; কারণ তারা দেখত কিতাবের পৃষ্ঠা অনেক বেশি, আর তাদের কোনো পূর্বসূরি ছিল না, কোনো পদ্ধতি ছিল না। হ্যাঁ, পূর্ববর্তীদের জীবন জীবিকার ব্যস্ততাও এর পেছনে একটি কারণ হতে পারে, কেননা এই অঞ্চলে জীবনধারণ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ছিল। পরবর্তীতে বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায় এবং একনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এটি সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্ত করেন, ফলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সহজ।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أيضاً بالنسبة للسنة حفظ الناس السنة -ولله الحمد- يوجد شباب يحفظون الكتب الستة على طريقتهم، يعني على اصطلاحهم، وإن كان قولهم الكتب الستة فيه تجوز؛ لأنهم لا يحفظون التكرار، ولا يحفظون الأسانيد، ولا يحفظون .. ، لكن خيراً عظيم هذا، خير عظيم هذا.
المقصود أن الكتب في البداية أو السنة في البداية دونت على قدر الحاجة والحفظ موجود، ثم لما اشتدت الحاجة إلى الحفظ اضطر المسلمون لتدوين السنة التدوين الرسمي، بأمر من الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز، فقام الإمام محمد بن مسلم بن شهاب الزهري بالتدوين، بأمر من الخليفة الراشد في رأس المائة الثانية، ووجدت المصنفات، وهي مجرد جمع بالأسانيد، وبعد ذلكم وجدت موطآت ومصنفات، ومسانيد، وجوامع، وسنن، ومعاجم، ومشيخات، وفوائد، وأجزاء، وغير ذلك من فنون السنة، فالموطآت وهي إلى حد ما شبيهة بالسنن، فعندنا الموطآت والمصنفات والسنن، هذه متقاربة، هذه متقاربة جداً؛ لأنها يجمع فيها، أو الغالب عليها أحاديث الأحكام، لكن تفترق المصنفات عن السنن أن السنن عنايتها بالمرفوع إلى النبي عليه الصلاة والسلام والمصنفات تجمع إلى ذلك الآثار الموقوفة والمقاطيع وغيرها، بل آراء المصنفين كالموطأ.
موطأ الإمام مالك هو من أشهر الموطآت، والموطأ كتاب عظيم، صنفه نجم السنن الإمام مالك بن أنس، ووطأه ومهده ويسره للمتعلمين، وعني به فروي بروايات كثيرة، له أكثر من ست عشر رواية، قد تبلغ العشرين رواية، أيش معنى روايات؟
الآخذون عن الإمام مالك كل له طريقته في التدوين، وفي الزيادة والنقص حسب ما يتيسر له مما يقرؤه على الإمام؛ لأن الإمام مالك -رحمه الله تعالى- ليس من عادته أن يقرأ على الطالب كبقية أهل العلم، بل يعرض عليه العلم عرضاً، وينكر أشد النكير على من يطلب من الإمام مالك أن يحدثه، ويقول: يكفيك العرض في القرآن، ولا يكفيك في السنة؟
একইভাবে সুন্নাহর ক্ষেত্রেও -সকল প্রশংসা আল্লাহর- মানুষ সুন্নাহ হিফজ বা সংরক্ষণ করেছে। এমন কিছু যুবক রয়েছে যারা তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে অর্থাৎ তাদের পরিভাষা অনুযায়ী 'কুতুবে সিত্তাহ' (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ) হিফজ করছে, যদিও তাদের এই 'কুতুবে সিত্তাহ' বলাতে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে; কারণ তারা পুনরাবৃত্তি হিফজ করে না, সনদসমূহ হিফজ করে না এবং... তবে এটি এক মহান কল্যাণ, এক বিরাট কল্যাণ।
মূল বিষয় হলো, শুরুর দিকে কিতাবসমূহ বা সুন্নাহ প্রয়োজনের তাগিদে সংকলিত হয়েছিল এবং মুখস্থের বিষয়টিও বিদ্যমান ছিল। পরবর্তীতে যখন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হলো, তখন মুসলিমরা খলিফা রাশেদ উমর বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্নাহ সংকলন করতে বাধ্য হলেন। ফলে ইমাম মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-জুহরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে খলিফা রাশেদের নির্দেশে সংকলনের কাজ সম্পন্ন করেন এবং 'মুসান্নাফ' গ্রন্থসমূহ আত্মপ্রকাশ করে, যা ছিল মূলত সনদসহ হাদীসের সংকলন। এরপরে মুওয়াত্তাহ, মুসান্নাফ, মুসনাদ, জামে‘, সুনান, মু‘জাম, মাশয়াখাত, ফাওয়ায়িদ, আজযা এবং সুন্নাহর অন্যান্য বিষয়ের কিতাবসমূহ রচিত হয়েছে। মুওয়াত্তাহ গ্রন্থগুলো অনেকাংশে সুনান গ্রন্থগুলোর মতো। সুতরাং আমাদের কাছে মুওয়াত্তাহ, মুসান্নাফ এবং সুনান রয়েছে; এগুলি একে অপরের খুব কাছাকাছি, খুবই কাছাকাছি; কারণ এগুলোতে প্রধানত বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আহকাম বা বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদীসগুলোই জমা করা হয়েছে। তবে সুনানের সাথে মুসান্নাফের পার্থক্য হলো এই যে, সুনান গ্রন্থগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বোধিত 'মারফু' হাদীসগুলোর প্রতি। আর মুসান্নাফগুলোতে মারফু হাদীসের পাশাপাশি 'মাওকুফ' ও 'মাকতু' আসার এবং অন্যান্য বিষয়ও জমা করা হয়; এমনকি মুওয়াত্তার মতো এতে সংকলনকারীদের নিজস্ব মতামতও স্থান পায়।
ইমাম মালিকের মুওয়াত্তাহ হলো মুওয়াত্তাহ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ। এটি একটি মহান কিতাব, যা সুন্নাহর উজ্জ্বল নক্ষত্র ইমাম মালিক বিন আনাস সংকলন করেছেন। তিনি একে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিন্যস্ত, সুগম ও সহজবোধ্য করেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। ফলে এটি বহু 'রেওয়ায়েত' বা পাঠান্তরে বর্ণিত হয়েছে; এর ষোলোটিরও বেশি রেওয়ায়েত রয়েছে, যা বিশটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রেওয়ায়েত বা বর্ণনার অর্থ কী?
ইমাম মালিকের নিকট থেকে যারা ইলম গ্রহণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকেরই লিপিবদ্ধ করার নিজস্ব পদ্ধতি ছিল এবং ইমামের নিকট তারা যা পাঠ করতেন তার সহজলভ্যতা অনুযায়ী তাতে কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি বা কমবেশি হতো। কেননা ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর রীতি অন্যান্য আলেমদের মতো ছাত্রের সামনে পড়ে শোনানো ছিল না, বরং তাঁর সামনে ইলম পেশ করা বা পাঠ করে শোনানো (আরয) হতো। কেউ যদি ইমাম মালিকের নিকট তাকে হাদীস শুনিয়ে বর্ণনা করার (তাহদীস) আবেদন করত, তবে তিনি তাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করতেন এবং বলতেন: "কুরআনের ক্ষেত্রে যদি পাঠ করে শোনানো (আরয) তোমাদের জন্য যথেষ্ট হয়, তবে সুন্নাহর ক্ষেত্রে কি তা যথেষ্ট হবে না?"
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
على كل حال موطأ الإمام مالك كتاب نفيس وموجود، ومختصر، وله روايات كثيرة من أهمها وأشهرها رواية يحيى بن يحيى الليثي، هذه أشهر الروايات، وعليها أكثر الشروح، عليها شروح ابن عبد البر التمهيد والاستذكار، وعليها أيضاً: شرح الباجي، المسمى أيش؟ المنتقى، وهو كتاب نفيس، إضافة إلى كتب ابن عبد البر، يعتنى بها لفهم الموطأ.
هناك رواية أبي مصعب الزهري، وهي من أوفى الروايات وأتمها، وهناك رواية محمد بن الحسن الشيباني، صاحب أبي حنيفة للموطأ، وتأتي أهميتها من إمامة راويها وإدخاله بعض ما ينصر مذهب أبي حنيفة في أحاديث الموطأ.
الراوي له دور في الكتاب، والذي لا يعرف طرائق المتقدمين في التصنيف يشكك في ثبوت هذه الكتب، موطأ الإمام مالك: تأتي إلى موطأ الإمام مالك مستفيض استفاضة أشهر من كل شهير، تأتي إليه فتجده يقول: حدثنا يحيى بن يحيى كيف؟ يحيى بن يحيى هو الراوي عن مالك، حدثنا يحيى بن يحيى قال: قرأت على مالك، والموطأ لمن؟ لمن الموطأ؟ للإمام مالك، فكيف يقال في الكتاب: حدثنا يحيى بن يحيى قال: قرأت على مالك؟
وقل مثل ذلك في كتب المتقدمين كلهم، كتب الشافعي، أخبرنا الربيع قال: قال الشافعي، المسند، مسند الإمام أحمد، حدثنا عبد الله، قال حدثني أبي، كيف يكون للإمام أحمد، والراوي داخل في الكتاب؟
إذن المؤلف من دون عبد الله، هذا إذا عاملنا هذه الكتب بمثل ما نعامل به كتب المتأخرين الذين يتولون التأليف بأيديهم، ولجهل بعض الكتاب المعاصرين بطريقة المتقدمين في التصنيف ألف كتاب حول الأم للإمام الشافعي إصلاح أشنع خطأ في تاريخ التشريع الإسلامي الأم ليست للإمام الشافعي!
إجماع، إجماع أن الأم للإمام الشافعي، ما الذي أوقعه في هذا؟ جهله، ومع الأسف أن من يكتب مثل هذه الكتابة هو شخص لا يمت إلى العلم بصلة، بل لا يمت إلى الاستقامة فضلاً عن العلم الشرعي والله المستعان.
যা-ই হোক, ইমাম মালিকের মুয়াত্তা একটি অত্যন্ত মূল্যবান, বিদ্যমান এবং সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। এর অনেকগুলো বর্ণনা (রেওয়ায়েত) রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ হলো ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-লাইসীর বর্ণনা। এটি সবচেয়ে বিখ্যাত বর্ণনা এবং এর ওপরই অধিকাংশ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়েছে। এর ওপর ইবনে আবদিল বার-এর আল-তামহিদ এবং আল-ইসতিযকার গ্রন্থদ্বয় রয়েছে; আরও রয়েছে আল-বাজীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম কী? আল-মুনতাকা। এটি একটি মূল্যবান কিতাব। ইবনে আবদিল বার-এর কিতাবগুলো ছাড়াও মুয়াত্তা বোঝার জন্য এগুলোর প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়।
সেখানে আবু মুসআব আল-যুহরীর বর্ণনা রয়েছে, যা সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও সংগতিপূর্ণ বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। আবার আবু হানিফার ছাত্র মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-শায়বানীর মুয়াত্তার বর্ণনাও রয়েছে। এর গুরুত্ব মূলত এর বর্ণনাকারীর ইমামত এবং মুয়াত্তার হাদিসগুলোর মধ্যে আবু হানিফার মাযহাবকে সমর্থন করে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কারণে।
কিতাবের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর একটি ভূমিকা থাকে। যারা কিতাব সংকলনের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের পদ্ধতি সম্পর্কে জানে না, তারা এই কিতাবগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে। ইমাম মালিকের মুয়াত্তার কথা ধরুন: ইমাম মালিকের মুয়াত্তার প্রসিদ্ধি যেকোনো প্রসিদ্ধ জিনিসের চেয়েও বেশি। আপনি যখন এটি দেখতে যাবেন, দেখবেন সেখানে বলা হচ্ছে: 'ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন'। এটি কীভাবে সম্ভব? ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া তো মালিক থেকে বর্ণনাকারী। 'ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি মালিকের কাছে পাঠ করেছি'। মুয়াত্তা কার? মুয়াত্তা তো ইমাম মালিকের। তাহলে কিতাবে কেন বলা হচ্ছে: 'ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি মালিকের কাছে পাঠ করেছি'?
পূর্বসূরিদের সকল কিতাবের ব্যাপারেই একই কথা প্রযোজ্য। যেমন ইমাম শাফিঈর কিতাবসমূহ—'আমাদেরকে রাবী অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: শাফিঈ বলেছেন'। মুসনাদে আহমাদ—'আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন'। তাহলে এটি কীভাবে ইমাম আহমাদের কিতাব হতে পারে যেখানে বর্ণনাকারী কিতাবের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত?
তাহলে তো আবদুল্লাহকে বাদ দিয়ে ধরলে লেখক অন্য কেউ হবে—যদি আমরা এই কিতাবগুলোকে পরবর্তীকালের লেখকদের কিতাবের মতো মনে করি যারা নিজ হাতে কিতাব সংকলন করতেন। সংকলনের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের পদ্ধতি সম্পর্কে সমকালীন কিছু লেখকের অজ্ঞতার কারণে একজন ইমাম শাফিঈর 'আল-উম্ম' কিতাব নিয়ে একটি বই লিখেছেন—'ইসলামি আইন প্রণয়নের ইতিহাসে জঘন্যতম ভুল সংশোধন: আল-উম্ম ইমাম শাফিঈর নয়!'
অথচ এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) রয়েছে যে, 'আল-উম্ম' ইমাম শাফিঈর কিতাব। তাকে এই ভুলের মধ্যে কী নিপতিত করেছে? তার অজ্ঞতা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, যিনি এই ধরনের লেখা লিখেছেন তিনি ইলমের সাথে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি নন। এমনকি দ্বীনি ইলমের তো প্রশ্নই আসে না, সাধারণ সততার সাথেও তার কোনো সম্পর্ক নেই। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فعلينا أن نفهم هذه الدقيقة، يأتي من يقول لك: كيف الإمام أحمد .. ، المسند لمن يا أخي؟ للإمام أحمد إجماعاً، ما أحد يخالف في هذا، كيف يقول: حدثنا عبدالله، الإمام أحمد يقول: حدثنا عبد الله ممكن؟ هذا مستحيل!! حدثنا عبد الله قال: حدثني أبي، إذن لا بد من أن نعرف مثل هذه الأمور.
الشيخ أحمد شاكر -رحمه الله تعالى- تصرف وهو شيخ من أهل الفن ومن أهل العلم ومن أهل العمل فيما نحسب تصرف في المسند تصرفاً غير مرضي، فحذف عبد الله وحذف الأب، مباشرة حدثنا فلان من شيوخ الإمام أحمد!!
هذا يا أخي تصرف في كتب الآخرين، مثل هذه التصرفات تجعل الإنسان لا يثق بالكتب، بل على من أراد نشر الكتب وخدمة الكتب أن يبقيها كما هي من غير تصرف، نعم؟
طالب: يا شيخ يعني الرواية عن من دون ابن الإمام أحمد، عن من دون الشيباني؟
كيف؟
طالب: الرواية عن طلاب الإمام مالك، حل الإشكال؟
الآن عندنا أيش؟ الكتاب ما هو للإمام مالك؟
طالب: بلى.
اتفاقاً يعني هو من حديث الإمام مالك؟
طالب: بلى.
جمعه الإمام مالك في البداية، الإمام مالك لما جمع الكتاب قرأه عليه يحيى بن يحيى فأثبت اسمه لبيان أن هذه رواية يحيى، نعم، فجاء من بعده وأبقاه كما هو، فصار برواية يحيى بن يحيى عن مالك، وهكذا بقية الكتب لهم طريقة في التصنيف قد تقول: هي من حيث النظر المعاصر للتصنيف، نعم، قد تقول: إنها غير مستساغة، نعم، تكون غير مستساغة، وأنتم تعرفون الأمور أول ما تبدأ يكون فيها ما فيها، ثم بعد ذلكم تتطور، نعم، هؤلاء لم يسبقهم أحد إلى التأليف، لبنات أولى في بناء التأليف، فهذا عذرهم في هذا الباب، وهي أيضاً أمانة تحملها الراوي عن من روى عنه، وهكذا إلى آخره، أمانة تحملها.
الموطآت -ومثالها موطأ الإمام مالك- والمصنفات -ويمثل لها بمصنف ابن أبي شيبة، ومصنف عبد الرزاق ابن همام الصنعاني- هذه المصنفات فيها ألوف مؤلفة من الأحاديث، وهي شبيهة بالموطآت؛ لكثرة الآثار، وهي شبيهة في التصنيف بالسنن؛ لأن جلها أحاديث أحكام، ولذا لا يرى بعضهم فرق بين الموطآت والمصنفات والسنن.
আমাদের এই সূক্ষ্ম বিষয়টি বুঝতে হবে। কেউ এসে আপনাকে বলতে পারে: কীভাবে ইমাম আহমাদ... ওহে ভাই, মুসনাদ কার? সর্বসম্মতিক্রমে এটি ইমাম আহমাদের। এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না। তাহলে কীভাবে তিনি বলতে পারেন: "আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন"? ইমাম আহমাদ কি বলতে পারেন "আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন"? এটি অসম্ভব!! মূলত (পাঠ্যটি হলো): "আবদুল্লাহ বলেছেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।" সুতরাং আমাদের এজাতীয় বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে।
শাইখ আহমাদ শাকির—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—যিনি আমাদের জানামতে একজন শাস্ত্রীয় বিশেষজ্ঞ, ইলম ও আমলের অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন, তিনি মুসনাদের ক্ষেত্রে এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সন্তোষজনক নয়। তিনি আবদুল্লাহর নাম এবং 'পিতা' শব্দটিকে বাদ দিয়ে সরাসরি "ইমাম আহমাদের উস্তাদদের মধ্য থেকে অমুক ব্যক্তি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" এভাবে উল্লেখ করেছেন!!
ওহে ভাই, এটি অন্যের কিতাবে হস্তক্ষেপের শামিল। এ জাতীয় হস্তক্ষেপ মানুষের মনে কিতাবগুলোর প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করে। বরং যারা কিতাব প্রকাশ এবং এর খিদমত করতে চান, তাদের উচিত কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই কিতাবটিকে তার মূল অবস্থায় রাখা। ঠিক আছে?
ছাত্র: হে শাইখ, অর্থাৎ ইমাম আহমাদের পুত্রের পরবর্তী স্তরের বর্ণনাকারীদের থেকে কি বর্ণনা করা হচ্ছে? শায়বানী থেকে কি?
কীভাবে?
ছাত্র: ইমাম মালিকের ছাত্রদের পক্ষ থেকে বর্ণনা; এটি কি সমস্যার সমাধান করে?
এখন আমাদের নিকট কী আছে? কিতাবটি কি ইমাম মালিকের নয়?
ছাত্র: অবশ্যই।
সর্বসম্মতিক্রমে এটি কি ইমাম মালিকের হাদিস?
ছাত্র: অবশ্যই।
ইমাম মালিক যখন শুরুতে কিতাবটি সংকলন করেছিলেন, তখন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া তা তাঁর নিকট পাঠ করেছিলেন। ফলে তিনি নিজের নাম সেখানে যুক্ত করেছেন এটা বোঝাতে যে, এটি ইয়াহইয়ার বর্ণনা। হ্যাঁ, এরপর যারা এসেছেন তারা একে সেভাবেই বহাল রেখেছেন। ফলে এটি "মালিক থেকে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়ার বর্ণনা" হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এভাবে অন্যান্য কিতাবসমূহের ক্ষেত্রেও তাঁদের সংকলনের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। আপনি হয়তো বলতে পারেন: আধুনিক সংকলন পদ্ধতির বিচারে এটি পছন্দনীয় নয়। হ্যাঁ, এটি অপছন্দনীয় হতে পারে। আপনারা তো জানেনই যে, যেকোনো বিষয় যখন শুরু হয়, তখন তাতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে, এরপর ধীরে ধীরে তা বিকশিত হয়। হ্যাঁ, এই সংকলন কার্যে তাঁদের পূর্বে কেউ ছিল না। এগুলো সংকলন সৌধের প্রথম ইট। সুতরাং এ ক্ষেত্রে এটিই তাঁদের ওজর। আর এটি একটি আমানত যা বর্ণনাকারী তাঁর উস্তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, এবং এভাবেই শেষ পর্যন্ত। এটি একটি আমানত যা তিনি বহন করেছেন।
মুওয়াত্তাসমূহ—যার উদাহরণ ইমাম মালিকের মুওয়াত্তা—এবং মুসান্নাফসমূহ—যার উদাহরণ ইবনে আবি শায়বার মুসান্নাফ এবং আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সান'আনীল মুসান্নাফ—এই মুসান্নাফগুলোতে হাজার হাজার হাদিস রয়েছে। প্রচুর পরিমাণ আছার থাকার কারণে এগুলো মুওয়াত্তার সদৃশ। আবার সংকলন পদ্ধতির দিক থেকে এগুলো সুনান গ্রন্থের সদৃশ; কারণ এগুলোর অধিকাংশ হচ্ছে বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদিস। এ কারণেই কেউ কেউ মুওয়াত্তা, মুসান্নাফ এবং সুনান গ্রন্থের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখেন না।
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هناك الجوامع، وإذا أردنا الترتيب الزمني قلنا: المسانيد قبل الجوامع، المسانيد: ومن أعظمها وأجلها مسند الإمام أحمد بن حنبل، والمترجمون يتفقون على أنه أربعين ألف، لكنه لما طبع بالترقيم وجد ثلاثين، وهذه المسألة لا إشكال فيها.
صحيح مسلم اختلف في عدده من ثمانية آلاف إلى اثنا عشر ألف، يعني هل نقول: ضاع من صحيح مسلم شيء، أو من مسند الإمام أحمد شيء؟
ما ضاع شيء، يعني إن حصل خلل في بعض النسخ، وسقطت أحاديث يسيرة كالمسند مثلاً، ما نقول: ضاع شيء، استدركت، لكن تبقى أنها أحاديث يسيرة، إذن كيف؟ الفرق الربع الآن؟
نقول: المتقدمون ليست لهم عناية بعدّ الأحاديث، هذه الأمور مفضولة عندهم، لا يولونها عناية ..
সেখানে রয়েছে জামে (সংকলনসমূহ), এবং আমরা যদি কালানুক্রমিক বিন্যাস করতে চাই তবে বলব: জামে গ্রন্থসমূহের পূর্বে মাসানিদ (মুসনাদ গ্রন্থসমূহ)। মাসানিদ: আর এগুলোর মধ্যে অন্যতম মহান ও মর্যাদাপূর্ণ হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মুসনাদ। জীবনীকারগণ একমত যে এতে চল্লিশ হাজার হাদীস রয়েছে, কিন্তু যখন এটি নম্বরসহ মুদ্রিত হলো তখন ত্রিশ হাজার পাওয়া গেল, আর এই বিষয়টি কোনো সমস্যা নয়।
সহীহ মুসলিমের হাদীস সংখ্যার ব্যাপারে আট হাজার থেকে বারো হাজার পর্যন্ত মতভেদ রয়েছে। এর অর্থ কি আমরা বলব যে: সহীহ মুসলিম থেকে কিছু হারিয়ে গেছে, অথবা মুসনাদে ইমাম আহমাদ থেকে কিছু হারিয়ে গেছে?
কিছুই হারিয়ে যায়নি; অর্থাৎ যদি কিছু পাণ্ডুলিপিতে কোনো ত্রুটি ঘটে থাকে এবং সামান্য কিছু হাদীস বাদ পড়ে থাকে—যেমন মুসনাদের ক্ষেত্রে—তবে আমরা বলি না যে কিছু হারিয়ে গেছে, বরং সেগুলো সংশোধন বা পূরণ করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো সামান্য কিছু হাদীস হিসেবেই থেকে যায়। তাহলে বিষয়টি কেমন? এখন তো পার্থক্যের পরিমাণ এক-চতুর্থাংশ?
আমরা বলি: পূর্ববর্তীগণ হাদীস গণনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না। এই বিষয়গুলো তাঁদের কাছে গৌণ ছিল, তাঁরা এগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতেন না...
(খণ্ড: ১)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة القسم: علوم الحديث
الكتاب: كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة
المؤلف: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - درسان]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
একজন ইলম অন্বেষী কীভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হবেন বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র
কিতাব: একজন ইলম অন্বেষী কীভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হবেন
লেখক: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনূদিত ও সংগৃহীত পাঠসমূহ
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটিই হলো পাঠ নম্বর - দুটি পাঠ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
كيف يستفيد طالب العلم من كتب السنة (2)الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير
نقول: المتقدمون ليست لهم عناية بعد الأحاديث؛ هذه الأمور مفضولة عندهم، لا يولونها عناية، همهم الحفظ والفهم، فبدلاً من أن يجلس يعد أربعين ألف حديث أو ثلاثين ألف حديث يحفظ مائة حديث في هذه المدة، لكن المتأخرين خف عندهم العناية بالعلم من حيث الحفظ والفهم، اعتنوا بهذه الأشياء التي هي ثانوية بالنسبة للعلم الشرعي، بل ليست معدودة من العلم الشرعي، كونك تعد الأحاديث واحد، اثنين، ثلاثة، أربعة، عدد الأبواب، عدد .. ، أيش من نتيجة؟
وصل الحد عند المتأخرين -الترف العلمي- إلى أن جاء شخص وعد حروف بعض الكتب –الحروف- وهذا حصل لشخص من اليمن أشكل عليه القراءة في تفسير الجلالين، هل يُقرأ بطهارة، أو ما يحتاج إلى وضوء؛ لأن الحكم للغالب، فعد أحاديث التفسير، حروف التفسير وحروف القرآن، فقال: إلى المزمل العدد واحد، من المدثر إلى آخر القرآن زاد التفسير قليلاً، فانحلت عنده المشكلة، صار الغالب تفسيراً، صار يقرأ في تفسير الجلالين من غير طهارة، هل يعنى المتقدمون بمثل هذه الأمور؟ أبداً، ما يهمه إنه يشوف الكتاب مجلد كبير، فيه ألف حديث ألفين حديث. . . . . . . . . وبعدين، نعم، العوام يقولون. . . . . . . . .، نعم، وأيش هو ما يضير يعني، المهم أنه كتاب محفوظ بين الدفتين ما يحتاج إلى أن نعده، وبدلاً من أن تعد واحد اثنين ثلاثة تأخذ لك يوم، احفظ لك كمية من الأحاديث، هذه عنايتهم.
المقصود أن المسند من أهم كتب السنة وأجمعها، وهو مرتب على المسانيد، والمسند في عرف أهل العلم الكتاب الذي يرتب على ترتيب الرواة من الصحابة، على ترتيب الرواة من الصحابة، مثل مسند أحاديث أبي بكر الصديق، أحاديث عمر، أحاديث عثمان، أحاديث علي، وهكذا إلى آخر العشرة، إلى آخر البدريين، إلى آخر كذا، كل له طريقة في ترتيبه، لكن يجمع أحاديث الصحابي الواحد تحت ترجمته.
ولكونه يجمع أحاديث الراوي من غير تمييز جاءت رتبة المسانيد دون رتبة السنن، لماذا؟
ইলমে দীনের ছাত্র কীভাবে সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হতে পারে (২)শাইখ/ আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
আমরা বলি: পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরামের হাদীস গণনার প্রতি কোনো বিশেষ আগ্রহ ছিল না; তাঁদের নিকট এসব বিষয় কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তাঁরা এতে মনোযোগ দিতেন না। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল মুখস্থ করা এবং অনুধাবন করা। বসে বসে চল্লিশ হাজার বা ত্রিশ হাজার হাদীস গণনার পরিবর্তে, সেই সময়ে তাঁরা বরং একশ হাদীস মুখস্থ করতেন। কিন্তু পরবর্তী যুগের লোকদের মাঝে মুখস্থ ও অনুধাবনের দিক থেকে ইলমের প্রতি গুরুত্ব কমে গিয়েছে। তাঁরা এমন সব বিষয়ে মনোযোগ দিয়েছেন যা শরয়ি ইলমের ক্ষেত্রে গৌণ, বরং সেগুলোকে শরয়ি ইলমের অন্তর্ভুক্তও ধরা হয় না। আপনি হাদীস গুনছেন—এক, দুই, তিন, চার; অধ্যায় সংখ্যা গুনছেন, সংখ্যা... এতে ফলাফল কী?
পরবর্তী যুগের লোকদের মাঝে এই 'ইলমি বিলাসিতা' এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি কিছু কিতাবের বর্ণ বা হরফ পর্যন্ত গণনা করেছেন। এটি ইয়ামেনের এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটেছিল, যার নিকট তাফসিরে জালালাইন পাঠ করা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল যে, এটি কি পবিত্র অবস্থায় পড়তে হবে, নাকি ওযুর প্রয়োজন নেই? যেহেতু বিধান নির্ধারিত হয় সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে, তাই তিনি তাফসিরের শব্দসমূহ এবং কুরআনের হরফগুলো গণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন: সূরা আল-মুয্যাম্মিল পর্যন্ত উভয় সংখ্যা সমান, আর সূরা আল-মুদ্দাসসির থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত তাফসিরের অংশ সামান্য বেশি। ফলে তাঁর সমস্যার সমাধান হয়ে গেল; যেহেতু অধিকাংশ অংশ তাফসির, তাই তিনি পবিত্রতা ছাড়াই তাফসিরে জালালাইন পড়তে শুরু করলেন। পূর্ববর্তীগণ কি এই ধরণের বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতেন? কখনোই না। কিতাবটি বড় খণ্ডে কি না, তাতে এক হাজার নাকি দুই হাজার হাদীস আছে—এসব তাঁর নিকট বড় বিষয় ছিল না। . . . . . . . . এরপর, হ্যাঁ, সাধারণ মানুষ বলে থাকে. . . . . . . . . , হ্যাঁ, আর এতে ক্ষতিরই বা কী আছে, মূল বিষয় হলো এটি দুই মলাটের মাঝে সংরক্ষিত একটি কিতাব যা গণনার প্রয়োজন নেই। এক, দুই, তিন করে গণনা করে দিন পার করার চেয়ে কিছু হাদীস মুখস্থ করে নিন; এটিই ছিল তাঁদের অনুসৃত পথ।
মূল কথা হলো, 'মুসনাদ' সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংকলিত গ্রন্থ। এটি 'মাসানিদ' বা মুসনাদসমূহের ভিত্তিতে বিন্যস্ত। ইলম অন্বেষণকারীদের পরিভাষায় মুসনাদ হলো সেই কিতাব যা সাহাবী বর্ণনাকারীদের ক্রমানুসারে সাজানো হয়, সাহাবী বর্ণনাকারীদের ক্রমানুসারে; যেমন আবু বকর সিদ্দিকের হাদীসসমূহের মুসনাদ, উমরের হাদীসসমূহ, উসমানের হাদীসসমূহ, আলীর হাদীসসমূহ এবং এভাবে দশজন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত) সাহাবীর শেষ পর্যন্ত, বদরী সাহাবীদের শেষ পর্যন্ত—এভাবে আরও। বিন্যাসের ক্ষেত্রে একেকজনের পদ্ধতি একেক রকম হতে পারে, তবে মূল বিষয় হলো একজন সাহাবীর বর্ণিত সকল হাদীস তাঁর শিরোনামের অধীনে একত্রিত করা হয়।
যেহেতু এতে বর্ণনাকারীর হাদীসসমূহকে বিষয়ভিত্তিক কোনো বাছবিচার ছাড়াই একত্রিত করা হয়, তাই মুসনাদ গ্রন্থসমূহের মর্যাদা সুনান গ্রন্থসমূহের নিচে রাখা হয়েছে। কেন?
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
لأن مؤلف السنن يترجم بحكم شرعي، باب تحريم كذا، باب وجوب كذا، فهو يترجم بحكم شرعي، وهو ينتقي للاستدلال على هذا الحكم بأقوى ما يجد، بخلاف من يترجم بترجمة صحابي.
الآن إذا ترجم باب وجوب -على سبيل المثال- عيادة المريض، لا بد أن يأتي بأقوى ما يجد مما يؤيد هذا الحكم، لكن إذا قال: أحاديث أبي بكر الصديق، هل يحتاج أن يأتي بأقوى ما رواه أبو بكر الصديق؟ لا، ما يلزم، المهم أن هذه الأحاديث مروية من طريق الصديق رضي الله عنه ولذا تأخرت رتبة المسانيد عن رتبة السنن، ولذا يقول الحافظ العراقي -رحمه الله تعالى-:
ودونها في رتبة ما جعلا
… على المسانيد فيدعى الجفلا
كمسند الطيالسي وأحمدا
… وعده للدارمي انتقد
مسند الإمام أحمد، كتاب عظيم وهو أطول المسانيد، باستثناء مسند بقي الذي لم يوجد، بل هو أطول الكتب المتداولة في السنة، وهو كتاب عظيم، شرطه كما قرر شيخ الإسلام ابن تيمية لا يقل عن شرط أبي داود، والخلاف في أحاديثه هل يوجد فيه شيء موضوع وإلا لا يوجد، وللحافظ ابن حجر كتاب أسماه: (القول المسدد في الذب عن المسند)؛ لأن ابن الجوزي أدخل بعض الأحاديث من المسند في الموضوعات، فدافع عنه الحافظ ابن حجر، وعلى طالب العلم أن يقرأ مقدمة هذا الكتاب؛ فيها من الأدب، وفيها من الاعتراف لأهل الفضل بالفضل، ما ينبغي أن يتأدب عليه طالب العلم.
مسند الطيالسي: وهو أقدم، من مسند الإمام أحمد؛ باعتبار أن الطيالسي متوفى قبل الإمام أحمد -مائتين وأربعة، والإمام أحمد مائتين وواحد وأربعين- لكن باعتبار الجامع يونس بن حبيب الراوي عن الطيالسي من أقران الإمام أحمد، ومسند الطيالسي في مجلد واحد، أحاديثه ليست بالكثيرة بالنسبة لمسند الإمام أحمد، لكنه مسند مشهور معتنى به عند أهل العلم
كمسند الطيالسي وأحمد
… وعده للدارمي انتقدا
কারণ সুনান গ্রন্থসমূহের রচয়িতা শরয়ী বিধান অনুযায়ী অনুচ্ছেদ বিন্যাস করেন, যেমন: অমুক কাজ হারাম হওয়ার অনুচ্ছেদ, অমুক কাজ ওয়াজিব হওয়ার অনুচ্ছেদ। অর্থাৎ তিনি শরয়ী বিধানের শিরোনাম দেন এবং তিনি এই বিধানের সপক্ষে দলীল হিসেবে যা পান তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি নির্বাচন করেন। পক্ষান্তরে যিনি সাহাবীর নামে অনুচ্ছেদ (মুসনাদ) বিন্যাস করেন তার বিষয়টি এমন নয়।
এখন উদাহরণস্বরূপ, যদি তিনি 'রোগী দেখার আবশ্যকতা' বিষয়ক অনুচ্ছেদ রচনা করেন, তবে এই বিধানটিকে সমর্থন করে এমন সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীসটি তাকে অবশ্যই আনতে হবে। কিন্তু তিনি যদি বলেন: 'আবু বকর সিদ্দীকের হাদীসসমূহ', তবে আবু বকর সিদ্দীক বর্ণনা করেছেন এমন সবচেয়ে শক্তিশালী হাদীসটিই কি তাকে আনতে হবে? না, তার প্রয়োজন নেই। মূল বিষয় হলো এই হাদীসগুলো সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর সূত্রে বর্ণিত। আর এ কারণেই সুনান গ্রন্থসমূহের তুলনায় মুসনাদ গ্রন্থসমূহের মর্যাদা নিচের স্তরে। আর তাই হাফেজ ইরাকী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেন:
আর বিন্যাসের দিক থেকে মুসনাদ গ্রন্থসমূহ নিচের স্তরে... যা ব্যাপকতার সাথে সংকলিত হয়েছে।
যেমন তয়ালিসী ও আহমদের মুসনাদ... আর দারেমীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা সমালোচিত হয়েছে।
ইমাম আহমদের মুসনাদ একটি মহান কিতাব এবং এটি মুসনাদ গ্রন্থসমূহের মধ্যে দীর্ঘতম, বাাকী ইবনে মাখলাদ-এর মুসনাদ ব্যতীত যা বর্তমানে পাওয়া যায় না; বরং এটি সুন্নাহর প্রচলিত কিতাবগুলোর মধ্যে দীর্ঘতম। এটি একটি বিশাল গ্রন্থ। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি স্থির করেছেন, এর মানদণ্ড ইমাম আবু দাউদের মানদণ্ডের চেয়ে কম নয়। এর হাদীসগুলোর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে, এতে কোনো জাল হাদীস আছে কি না। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) 'আল-কাওলুল মুসাদ্দাদ ফিদ দাব্বি আনিল মুসনাদ' নামে একটি কিতাব লিখেছেন; কারণ ইবনে জাওযী মুসনাদের কিছু হাদীসকে 'মাওযুআত' (জাল হাদীস)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, ফলে হাফেজ ইবনে হাজার তার পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেছেন। ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এই কিতাবটির ভূমিকা পাঠ করা; এতে এমন শিষ্টাচার এবং গুণীজনের গুণের স্বীকৃতি রয়েছে, যা একজন তালিবে ইলমের আয়ত্ত করা উচিত।
মুসনাদে তয়ালিসী: এটি ইমাম আহমদের মুসনাদের চেয়ে প্রাচীন; কারণ তয়ালিসী ইমাম আহমদের আগে মৃত্যুবরণ করেছেন—তিনি ২০৪ হিজরীতে এবং ইমাম আহমদ ২৪১ হিজরীতে। কিন্তু সংকলক ইউনুস বিন হাবীব—যিনি তয়ালিসী থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি ইমাম আহমদের সমসাময়িক। মুসনাদে তয়ালিসী এক খণ্ডে সমাপ্ত, ইমাম আহমদের মুসনাদের তুলনায় এর হাদীস সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে এটি একটি প্রসিদ্ধ মুসনাদ যা আলেমদের নিকট সমাদৃত।
যেমন তয়ালিসী ও আহমদের মুসনাদ... আর দারেমীকে এর অন্তর্ভুক্ত করা সমালোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
ابن الصلاح عد الدارمي من المسانيد، فانتقد في عده للدارمي من المسانيد، وهو مرتب على الأبواب، لا يقال: إن الحافظ العراقي يريد بالمسانيد المعنى الأعم وهو الأحاديث المروية بالأسانيد كما جاء في تسمية البخاري الجامع الصحيح المسند، المختصر من أخبار النبي عليه الصلاة والسلام وأحواله وسننه وأيامه، هذا بالمعنى الأعم، لكن هو يتحدث عن الأسانيد –المسانيد- بالمعنى الاصطلاحي، فانتقد عليه عده الدارمي من المسانيد، اللهم إلا إن كان يريد المسند الذي أشار إليه الخطيب البغدادي في ترجمة الدارمي مما لم يوقف عليه، هذا شيء آخر، ولعله أراد ذلك.
على كل حال المسانيد هذه طريقتها، وكيفية الاستفادة منها أن يبحث عن أحاديث كل راو تحت ترجمته، الحديث عندك في ترجمة .. ، راويه أبو بكر الصديق، وتفيد كثيراً إذا عرفت الراوي، إذا عرفت الراوي من الصحابة تفيدك المسانيد، لكن لا يكون الراوي من المكثرين كأبي هريرة مثلاً، تبحث في المسند عن أحاديث أبي هريرة ما استفدت؛ يطول عليك الوقت، فتلجأ إلى طريقة أخرى.
هذه المسانيد، وهناك الجوامع، وهي التي تجمع جميع أبواب الدين، تجمع جميع أبواب الدين بخلاف الموطآت والمصنفات والسنن، أبواب الدين كلها ففيها الإيمان، وفيها العلم، وفيها الطهارة، وفيها الصلاة والزكاة، وآخر العبادات، والمعاملات، والمغازي، والفتن، والدعوات، والتوحيد، والاعتصام، جميع أبواب الدين تجمع في الجوامع، ومن أهمهما صحيح البخاري -لجامع الصحيح للإمام البخاري- والجامع الصحيح للإمام مسلم، والجامع أو جامع الترمذي، هذه أهم الجوامع، وفيها جميع ما يحتاجه طالب العلم من أبواب الدين.
والكلام عن الصحيحين لا ينتهي، الآن الزبدة جاءت، وأظن الوقت بعد ..
طالب: أطلت يا شيخ.
هاه.
طالب: أطلت في المقدمة زيادة.
كيف؟ بس هنا تمهيد توطئة مقدمة.
طالب: أعانكم الله، أعانكم الله.
مقدمة توطئة، يحتاجها طالب العلم.
يقول هذا: هل صحيح ما ذكر من وجود مسند بقي بن مخلد في برلين؟
ইবনুস সালাহ আদ-দারিমীকে মুসনাদ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, ফলে আদ-দারিমীকে মুসনাদ হিসেবে গণ্য করার কারণে তার সমালোচনা করা হয়েছে, কারণ এটি অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত। এমনটি বলা যাবে না যে, হাফেয আল-ইরাকি মুসনাদ বলতে এর ব্যাপক অর্থ বুঝিয়েছেন, যা হলো সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হাদিসসমূহ; যেমনটি নবী —তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— এর সংবাদ, অবস্থা, সুন্নাত ও দিনসমূহের সংক্ষিপ্ত সার সম্বলিত ইমাম বুখারীর 'আল-জামি আস-সহীহ আল-মুসনাদ' নামকরণে এসেছে। এটি একটি ব্যাপক অর্থ, কিন্তু তিনি এখানে পারিভাষিক অর্থে মুসনাদ সম্পর্কে কথা বলছেন; ফলে আদ-দারিমীকে মুসনাদ হিসেবে গণ্য করায় তার সমালোচনা করা হয়েছে। তবে তিনি যদি এমন কোনো মুসনাদ বুঝিয়ে থাকেন যেটির দিকে খতীব আল-বাগদাদী আদ-দারিমীর জীবনীতে ইশারা করেছেন এবং যা বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যায় না, তবে সেটি ভিন্ন বিষয়। সম্ভবত তিনি সেটাই বুঝিয়েছেন।
যা-ই হোক, মুসনাদ গ্রন্থসমূহের পদ্ধতি হলো এটি। আর এগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার উপায় হলো প্রত্যেক বর্ণনাকারীর শিরোনামের অধীনে তার হাদিসগুলো অনুসন্ধান করা। হাদিসটি আপনার কাছে থাকা অমুক বর্ণনাকারীর শিরোনামে থাকবে... যার বর্ণনাকারী আবু বকর আস-সিদ্দিক। আপনি যদি বর্ণনাকারীকে চিনতে পারেন তবে এটি খুব উপকারে আসে। যদি আপনি সাহাবীদের মধ্য থেকে বর্ণনাকারীকে চিনতে পারেন তবে মুসনাদগুলো আপনার উপকারে আসবে। কিন্তু বর্ণনাকারী যদি এমন কেউ হন যিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন আবু হুরায়রা, তবে মুসনাদে আবু হুরায়রার হাদিসগুলো খুঁজতে গেলে আপনি লাভবান হবেন না; এতে আপনার অনেক সময় লেগে যাবে। সেক্ষেত্রে আপনাকে অন্য পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হবে।
এগুলো হলো মুসনাদ। আর সেখানে রয়েছে জাওয়ামি (সংকলনসমূহ), যা দ্বীনের সমস্ত অধ্যায়কে একত্রিত করে। মুওয়াত্তা, মুসান্নাফ এবং সুনান গ্রন্থসমূহের বিপরীতে জাওয়ামি দ্বীনের সকল অধ্যায়কে শামিল করে; এতে ঈমান, ইলম (জ্ঞান), পবিত্রতা, সালাত, যাকাত, ইবাদতের শেষ অংশ পর্যন্ত, লেনদেন, যুদ্ধবিগ্রহ, ফিতনা, দুআ, তাওহীদ এবং ই'তিসাম—দ্বীনের সমস্ত অধ্যায় জাওয়ামি গ্রন্থে একত্রিত করা হয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সহীহ বুখারী—অর্থাৎ ইমাম বুখারীর আল-জামি আস-সহীহ—এবং ইমাম মুসলিমের আল-জামি আস-সহীহ এবং আল-জামি বা জামি আত-তিরমিযী। এগুলোই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জামি গ্রন্থ এবং এতে দ্বীনের এমন সমস্ত অধ্যায় রয়েছে যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর প্রয়োজন।
আর সহীহাইন সম্পর্কে আলোচনা শেষ হওয়ার নয়। এখন মূল নির্যাসটুকু এসেছে, এবং আমি মনে করি সময়...
ছাত্র: আপনি অনেক দীর্ঘায়িত করেছেন হে শাইখ।
অ্যাঁ।
ছাত্র: আপনি ভূমিকায় অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত করে ফেলেছেন।
কিভাবে? এখানে তো কেবল একটি উপক্রমণিকা ও ভূমিকা পেশ করা হচ্ছে।
ছাত্র: আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন, আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন।
ভূমিকা ও উপক্রমণিকা, যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর প্রয়োজন।
এই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছেন: বার্লিনে বাকী বিন মাখলাদের মুসনাদ বিদ্যমান থাকার যে কথা উল্লেখ করা হয়, তা কি সঠিক?
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
من قرأ في مقدمة تحفة الأحوذي، قال: لم يفقد من كتب السنة شيء، كلّ الكتب بخطوط الأئمة، كل ما تريد، مسيل اللعاب يسمونه، كل ما تريد، تجد المسند بخط عبد الله بن الإمام أحمد، وعليه خطوط الأئمة من بعده، وكذا وكذا، في الخزانة الجرمنية، وكل خذ من أمثلة كثيرة جداً، خطوط الأئمة، لكن الواقع، أين الأمة عن هذه الكتب؟
وهذا يقول: هل صحيح ....
هو ذكر مسند بقي بن مخلد في الخزانة الجرمنية -في ألمانيا- وين؟ فتحت أبواب ألمانيا وأسوارها، ودخلها الناس وبحثوا ما وجدوا، وجدوا شيئاً يسيراً، لكن على مستوى ما ذكر ما هو بصحيح.
نعود إلى الجوامع والكلام عن الجوامع يطول؛ لأنها تضم أعظم كتب السنة، وهما الصحيحان، هما الصحيحان -صحيح البخاري وصحيح مسلم- وكلام أهل العلم في المفاضلة بينهما كلام معروف، والجمهور على أن البخاري أصح.
أول من صنف في الصحيح
… محمد وخص بالترجيح
ومسلم بعد وبعض الغرب مع
… أبي علي فضلوا ذا لو نفع
فصحيح البخاري أصح الكتب عند جمهور العلماء، أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل يليه صحيح مسلم.
بعض المغاربة مع أبي علي النيسابوري فضلوا صحيح مسلم، لكن الواقع يرد ذلك، فالصحيح أو الأصح في صحيح البخاري أكثر؛ ودليل ذلك أن الأحاديث المنتقدة في صحيح البخاري أقلّ، الرواة المنتقدون في صحيح البخاري أقل من المتقدين في صحيح مسلم، وإن كان الانتقاد في الغالب لا حظ له من النظر، لكن حديث لم ينتقد البتة ما هو مثل حديث انتقد، وراوي لم ينتقد البتة، ليس مثل راوي انتقد وإن كان الانتقاد ضعيف.
الأمر الثاني: إمامة البخاري؛ فالإمام البخاري له يد طولى في هذا الشأن، إمام الحفاظ، ومسلم تلميذه وخريجه، حتى قال الدارقطني وغيره: لولا البخاري ما راح مسلم ولا جاء.
فإذا نظرنا إلى واقع الكتابتين وجدنا الراجح قول الجمهور، وصحيح البخاري أصحّ، والأحاديث المنتقدة فيه أقل، والرواة المنتقدون فيه أقل، فهو أرجح.
যে ব্যক্তি তুহফাতুল আহওয়াযীর ভূমিকা পড়েছেন, তিনি সেখানে পাবেন (বলা হয়েছে): সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে কিছুই হারিয়ে যায়নি, সকল গ্রন্থই ইমামদের হস্তাক্ষরে বিদ্যমান। আপনি যা চান—একে তারা 'লোভনীয়' বলে অভিহিত করেন—আপনি যা চান সবই পাবেন। আপনি ইমাম আহমাদ ইবনে হানবালের পুত্র আবদুল্লাহর হস্তাক্ষরে 'আল-মুসনাদ' খুঁজে পাবেন, যার ওপর পরবর্তী ইমামদের হস্তাক্ষর রয়েছে, অমুক অমুক গ্রন্থ জার্মান গ্রন্থাগারে রয়েছে—এভাবে ইমামদের হস্তাক্ষরে থাকা বহু উদাহরণ গ্রহণ করুন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উম্মাহ এই কিতাবগুলো থেকে কোথায় (কতটা দূরে)?
আর ইনি বলছেন: এটা কি সঠিক... তিনি জার্মান গ্রন্থাগারে—জার্মানিতে—বাকি বিন মাখলাদ-এর 'মুসনাদ'-এর কথা উল্লেখ করেছেন। সেটি কোথায়? জার্মানির দ্বার ও প্রাচীর উন্মুক্ত হয়েছে, মানুষ সেখানে প্রবেশ করে অনুসন্ধান করেছে কিন্তু তা পায়নি; তারা সামান্য কিছু পেয়েছে, তবে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সেই পর্যায়ে তা সঠিক নয়।
আমরা এখন ‘জাওয়ামে’ (সংকলন গ্রন্থ) প্রসঙ্গে ফিরে আসি। জাওয়ামে নিয়ে আলোচনা দীর্ঘ; কারণ এতে সুন্নাহর মহান গ্রন্থদ্বয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর তা হলো ‘সহীহাইন’—সহীহ আল-বুখারী ও সহীহ মুসলিম। এই দুটির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলিমদের বক্তব্য সুবিদিত এবং জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলিমদের মতে বুখারী অধিক বিশুদ্ধ।
সর্বপ্রথম সহীহ গ্রন্থ সংকলন করেছেন
… মুহাম্মাদ (আল-বুখারী), এবং তাকেই প্রাধান্য দিয়ে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
আর এরপর মুসলিম; তবে পশ্চিমের কিছু লোক এবং
… আবু আলী (আন-নাইসাবুরী) একে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, যদি তা ফলপ্রসূ হতো।
সুতরাং জুমহুর উলামায়ে কেরামের নিকট সহীহ আল-বুখারী সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব; মহান আল্লাহর কিতাবের পর এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব, যার পরেই সহীহ মুসলিমের স্থান।
পশ্চিমের (মাগরিব) কিছু আলিম এবং আবু আলী আন-নাইসাবুরী সহীহ মুসলিমকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবতা একে প্রত্যাখ্যান করে। সহীহ আল-বুখারীতে অধিক বিশুদ্ধ হাদীসের সংখ্যা বেশি; এর প্রমাণ হলো যে, সহীহ আল-বুখারীর যেসব হাদীসের সমালোচনা করা হয়েছে তার সংখ্যা খুবই নগণ্য। সহীহ আল-বুখারীতে সমালোচিত বর্ণনাকারীর সংখ্যাও সহীহ মুসলিমের তুলনায় কম। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমালোচনাগুলো ধোপে টেকে না, তবুও যে হাদীসটি একেবারেই সমালোচিত নয় তা সেই হাদীসের মতো নয় যেটির সমালোচনা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে যে বর্ণনাকারী একেবারেই সমালোচিত নন, তিনি সেই বর্ণনাকারীর মতো নয় যাঁর সমালোচনা করা হয়েছে, যদিও সেই সমালোচনা দুর্বল প্রকৃতির হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো: ইমাম বুখারীর ইমামত; এই শাস্ত্রে ইমাম বুখারীর বিশেষ পারদর্শিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, তিনি হাফেজদের ইমাম। আর মুসলিম তাঁর ছাত্র এবং তাঁর কাছেই শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এমনকি আদ-দারাকুতনী ও অন্যান্যরা বলেছেন: যদি বুখারী না থাকতেন, তবে মুসলিম আসতেনও না, যেতেনও না (অর্থাৎ তাঁর কোনো অস্তিত্বই থাকত না)।
সুতরাং আমরা যদি কিতাব দুটির বাস্তব অবস্থার দিকে লক্ষ্য করি, তবে জুমহুর উলামাদের মতকেই অগ্রগণ্য পাবো। সহীহ আল-বুখারীই অধিক বিশুদ্ধ, এতে সমালোচিত হাদীসের সংখ্যা কম এবং সমালোচিত বর্ণনাকারীর সংখ্যাও কম; অতএব এটিই অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المغاربة -ومنهم ابن حزم- فضلوا صحيح مسلم؛ لأنه ليس فيه بعد الخطبة إلا حديث السرد، الحديث سرد، ما فيه ولا تراجم، ما في باب كذا، كتاب كذا، ولا فيه آثار إلا القليل النادر، فالبخاري مملوء بالتراجم والآثار من أقوال الصحابة والتابعين، وفيه المعلقات، فيه ألف وثلاثمائة وأربعين حديث معلَّق، يعني حذفت أسانيدها أو بعض أسانيدها، بينما صحيح مسلم ليس فيه آثار إلا القليل النادر، وليس فيه تراجم، والمعلقات التي فيه عدتها أربعة عشر حديثاً كلها موصولة في صحيح مسلم، إلا واحد موصول في البخاري، إذن لسنا بحاجة إلى بحث معلقات مسلم، يعني وجود هذه المعلقات في صحيح مسلم مؤثر وإلا غير مؤثر؟ غير مؤثر؛ لأنها كلها موصولة في الصحيح نفسه سوى واحد موصول في البخاري.
البخاري عنده ألف وثلاثمائة وأربعين حديث معلق، بمعنى أنها حذفت أوائل أسانيدها، وكلها موصولة في الصحيح سوى مائة وستين أو مائة وتسعة وخمسين هذه هي محل البحث، وهي على قسمين؛ لأن منها ما صدر بصيغة الجزم، ومنها ما صدر بصيغة التمريض، فما صدر بصيغة الجزم مضمون ومصحح إلى من علق عنه؛ لأن البخاري ضمن من حذف، ما دام جزم بنسبته إلى راو من رواته فإنه قد ضمن من حذف، ويبقى النظر فيمن أبرز من رجال الإسناد.
ما صدر بصيغة التمريض منه ما هو صحيح على شرطه، ومنه ما هو صحيح على شرط غيره، ومنه ما هو ضعيف، لكن الضعيف الذي ضعفه شديد ينبه عليه الإمام البخاري، يروى عن أبي هريرة: "لا يتطوع الإمام في مكانه"، ولم يصح، ينبه عليه الإمام -رحمة الله عليه- فحينئذ نقول: صحيح البخاري أصح، وهو أكثر فائدة؛ لأن الفقه في تراجم البخاري، والإمام البخاري في الاستنباط من أفقه الناس وأدقهم وأغزرهم، مسلم ما فيه تراجم، يجمع لك الأحاديث، نعم له طريقة في الاختيار، وله طريقة في السياق، له طريقة في ترتيب الأسانيد والمتون، بارع في هذا الباب، لكن ليس له فقه، فقهه في طريقة -في صناعة- السياق، سياق المتون والأسانيد، هنا يكمن فقه مسلم، ومن هنا رجح
تشاجر قوم في البخاري ومسلم
… لديَّ وقالوا: أي ذين تقدم
قلت: لقد فاق البخاري صحة
… وفاق في حسن الصناعة مسلم
মাগরিবের অধিবাসীগণ—যাদের মধ্যে ইবনে হাজমও রয়েছেন—সহিহ মুসলিমকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন; কারণ এতে ভূমিকা বা মুখবন্ধের পর কেবল হাদিসের ধারাবাহিক বর্ণনা রয়েছে। হাদিসগুলো সেখানে বিরতিহীনভাবে বর্ণিত, এতে কোনো অধ্যায় শিরোনাম (তারাজুম) নেই, নেই 'অমুক অধ্যায়' বা 'অমুক কিতাব'। এতে খুব সামান্য পরিমাণ ছাড়া কোনো আসার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি) নেই। পক্ষান্তরে, সহিহ বুখারি সাহাবী ও তাবেয়ীদের উক্তি সম্বলিত অধ্যায় শিরোনাম ও আসারে পরিপূর্ণ। এতে এক হাজার তিনশ চল্লিশটি মুয়াল্লাক (ঝুলন্ত সনদ) হাদিস রয়েছে; অর্থাৎ যেগুলোর সনদের প্রারম্ভিক অংশ বা সনদের কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সহিহ মুসলিমে অতি সামান্য কিছু ছাড়া কোনো আসার নেই এবং এতে কোনো অধ্যায় শিরোনাম নেই। সেখানে মুয়াল্লাক হাদিসের সংখ্যা মাত্র চৌদ্দটি, যার প্রতিটিই সহিহ মুসলিমের অন্য কোনো স্থানে পূর্ণ সনদে বর্ণিত হয়েছে, কেবল একটি ছাড়া যা সহিহ বুখারিতে পূর্ণ সনদে আছে। অতএব, মুসলিমের মুয়াল্লাক হাদিস নিয়ে আমাদের পর্যালোচনার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ সহিহ মুসলিমে এই মুয়াল্লাকগুলোর উপস্থিতি কি কোনো প্রভাব ফেলে নাকি ফেলে না? এটি কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ বুখারিতে বর্ণিত একটি হাদিস ছাড়া বাকি সবকটিই এই সহিহ মুসলিমের নিজস্ব গ্রন্থেই পূর্ণ সনদে বিদ্যমান।
বুখারিতে এক হাজার তিনশ চল্লিশটি মুয়াল্লাক হাদিস রয়েছে, যার অর্থ হলো এগুলোর সনদের প্রারম্ভিক অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। এগুলোর সবই সহিহ বুখারি গ্রন্থেই পূর্ণ সনদে আছে, কেবল একশ ষাটটি বা একশ ঊনষাটটি হাদিস ছাড়া; আর এগুলোই মূলত গবেষণার বিষয়। এগুলো আবার দুই প্রকার: যার কিছু নিশ্চয়তাবোধক রূপ (সিগাতুল জজম) দ্বারা বর্ণিত এবং কিছু অনিশ্চয়তাবোধক রূপ (সিগাতুত তামরিজ) দ্বারা বর্ণিত। যা নিশ্চয়তাবোধক রূপ দ্বারা বর্ণিত, তা যাঁর থেকে স্থগিত করা হয়েছে তাঁর পর্যন্ত সহিহ হওয়ার ব্যাপারে ইমাম বুখারি নিশ্চয়তা দিয়েছেন; কারণ ইমাম বুখারি যাদের বাদ দিয়েছেন তাদের দায়িত্ব নিজে গ্রহণ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি কোনো বর্ণনাকারীর দিকে তা দৃঢ়তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, ততক্ষণ তিনি উহ্য থাকা বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার জিম্মাদার হয়েছেন। এখন কেবল যাদের নাম সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ অবশিষ্ট থাকে।
অনিশ্চয়তাবোধক রূপ দ্বারা বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে কিছু তাঁর (ইমাম বুখারির) শর্ত অনুযায়ী সহিহ, কিছু অন্যদের শর্ত অনুযায়ী সহিহ এবং কিছু দুর্বল। তবে যেগুলোর দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট, ইমাম বুখারি সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। যেমন আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত: "ইমাম তাঁর নামাজের স্থানে নফল নামাজ পড়বেন না", এটি সহিহ নয়; ইমাম বুখারি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। এমতাবস্থায় আমরা বলি: সহিহ বুখারি অধিক বিশুদ্ধ এবং এটি অধিক ফায়দাজনক; কারণ বুখারির অধ্যায় শিরোনামগুলোর মধ্যেই ফিকহি জ্ঞান নিহিত। হাদিস থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ, অত্যন্ত সূক্ষ্মদর্শী এবং অগাধ জ্ঞানের অধিকারী। মুসলিমে কোনো অধ্যায় শিরোনাম নেই, তিনি কেবল আপনার জন্য হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন। হ্যাঁ, হাদিস নির্বাচনে তাঁর একটি বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে, তাঁর উপস্থাপনা শৈলী স্বতন্ত্র, সনদ ও মূল পাঠ বিন্যাসের ক্ষেত্রেও তাঁর বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে; তিনি এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী। কিন্তু তাঁর ফিকহি বিশ্লেষণ নেই; তাঁর ফিকহ নিহিত রয়েছে তাঁর উপস্থাপনার শৈল্পিক নিপুণতায়—অর্থাৎ মূল পাঠ ও সনদের বর্ণনাক্রমের মাঝে। মুসলিমের ফিকহ এখানেই নিহিত, আর এখান থেকেই অগ্রাধিকারের বিষয়টি এসেছে—
একদল লোক আমার নিকট বুখারি ও মুসলিম নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো
… এবং বলল: এই দুটির মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?
আমি বললাম: বিশুদ্ধতার দিক থেকে বুখারি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে
… আর বর্ণনার শৈল্পিক নিপুণতায় মুসলিম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مسلم لا شك أنه يتصرف تصرفاً بارعاً في تقديم وتأخير بعض الأسانيد والمتون، ومن أدلة ذلك الأثر الذي ذكره بين أحاديث المواقيت مما لا علاقة له بالمواقيت، لما ذكر هذه الأسانيد التي برع رواتها في سياقها، وأبدع في ترتيبها قال: وقال يحيى بن أبي كثير: "لا يستطاع العلم براحة الجسم، لا يستطاع العلم براحة الجسم".
هل يستطيع أحد أن يبرع في أي عمل يتوجه إليه وهو مرتاح؟ يستطيع؟ ما يستطيع، أي عمل من الأعمال، سواءً كان في الدنيا أو في الآخرة، لا بد من التعب، لا يستطاع العلم براحة الجسم، وطلاب العلم وهم على فرشهم وعلى اصطلاح بعض المشايخ يقول، أيش يقول كلمة .. ؟ يعني في الملاحق هذه حق البيوت، جالسين يسولفون يبون يحصلون العلم، بها الآلات والإنترنت والأشرطة، ومع ذلكم من لا يعتني بالعلم لا يعان ولا على سماع الأشرطة، ما يعان، الشاهد .. ، الشاهد حاصل، الذي يريد أن يرتاح ويسمع وهو في فراشه أو في الملحق جالس يسولف مع زملائه فإنه في الغالب لا يعان ولا على السماع، وهذا كما قال يحيى بن أبي كثير: لا يستطاع العلم براحة الجسم، لا بد من التعب.
فإذا تقرر هذا فصحيح البخاري أصح، وعناية الأمة به أكثر، شرح الشروح التي لا حصر لها ولا يزال يشرح إلى الآن، وقد يقول طالب العلم: مئات الشروح، كيف أختار؟ البخاري له مئات الشروح، كيف أختار؟ إذا تركته يختار احتار؟
نقول: من بين هذه الشروح شروح معروفة بني بعضها على بعض، يعني نتجاوز شرح الخطابي وشرح ابن بطال والشروح الأخرى حتى نصل إلى شرح الكرماني، شرح لطيف ونفيس وفيه فوائد، وفيه طرائف تحبب طالب العلم في القراءة، وفيه أوهام، فيه أوهام لم يترك من أجلها، ولذا تجدون كل الشراح يقولون: قال الكرماني، قال الكرماني، أحد ينسب، وأحد ما ينسب بعد، قد ينقل عنه بلا نسبة، وله الفضل في ذلك، ثم عاد يا الله إذا أخطأ، وهم تصدوا للرد عليه، كما يقولون العامة: شعير مأكول مذموم، رحمة الله عليه.
لكن يبقى أن الكتاب نفيس ولطيف وفيه هذه الأوهام، ومن يعرو من الأوهام -من يخلو- ويكفيه أن كل من جاء بعده اعتمد عليه.
ইমাম মুসলিম নিঃসন্দেহে কিছু সনদ এবং মতন আগে-পিছে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত চমৎকার কৌশল অবলম্বন করেছেন। এর একটি প্রমাণ হলো সেই আসার (উদ্ধৃতি) যা তিনি নামাজের সময়ের হাদিসগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন, অথচ নামাজের সময়ের সাথে যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। যখন তিনি এই সনদগুলো উল্লেখ করলেন—যেগুলোর বর্ণনাকারীরা তাদের ধারা বর্ণনায় নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবং তিনি সেগুলোকে সাজানোর ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন—তখন তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির বলেছেন, "শরীরের আরামের মাধ্যমে ইলম অর্জন করা সম্ভব নয়, শরীরের আরামের মাধ্যমে ইলম অর্জন করা সম্ভব নয়।"
আরাম-আয়েশে থেকে কেউ কি তার কোনো কাজে পারদর্শী হতে পারে? পারে কি? পারে না। দুনিয়াবি বা আখেরাতের যেকোনো কাজই হোক না কেন, পরিশ্রম তো করতেই হবে। শরীরের আরাম দিয়ে ইলম অর্জন করা যায় না। আর তালিবে ইলমরা তাদের বিছানায় শুয়ে শুয়ে—কিংবা কিছু শাইখদের পরিভাষায় বলতে গেলে—কী যেন একটা শব্দ আছে... মানে ঘরের সাথে লাগানো বাইরের কামরাগুলোতে বসে গল্পগুজব করছে আর ভাবছে ইলম হাসিল করবে, এই সব আধুনিক যন্ত্রপাতি, ইন্টারনেট আর ক্যাসেটের মাধ্যমে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, যে ব্যক্তি ইলমের ব্যাপারে যত্নশীল নয়, তাকে ক্যাসেট শোনার ক্ষেত্রেও সাহায্য করা হয় না। সারকথা হলো, যে ব্যক্তি আরাম করতে চায় এবং বিছানায় শুয়ে শুনতে চায় অথবা বাইরের বৈঠকখানায় বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে শিখতে চায়, তাকে সাধারণত শোনার ক্ষেত্রেও তাওফিক দেওয়া হয় না। আর বিষয়টি তেমনই যেমনটি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির বলেছেন: শরীরের আরাম দিয়ে ইলম অর্জন করা যায় না, পরিশ্রম অপরিহার্য।
সুতরাং যখন এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন সহিহ বুখারিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ এবং উম্মতের মনোযোগ এর প্রতিই সর্বাধিক। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা অগণিত এবং এখনও এর ব্যাখ্যা লেখা হচ্ছে। একজন তালিবে ইলম হয়তো বলতে পারে: শত শত শারাহ রয়েছে, আমি কোনটি বেছে নেব? বুখারির শত শত শারাহ রয়েছে, আমি কীভাবে পছন্দ করব? তাকে যদি একা বেছে নিতে দেওয়া হয়, তবে সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে।
আমরা বলব: এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে কিছু পরিচিত শারাহ রয়েছে যার একটি অন্যটির ওপর ভিত্তি করে রচিত। অর্থাৎ আমরা যদি খাত্তাবির শারাহ, ইবনে বাত্তালের শারাহ এবং অন্যান্য শারাহগুলো অতিক্রম করে কিরমানির শারাহ পর্যন্ত আসি; এটি একটি সূক্ষ্ম ও মূল্যবান শারাহ এবং এতে প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। এতে এমন সব চমৎকার বিষয় রয়েছে যা একজন তালিবে ইলমকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তোলে। তবে এতে কিছু ভুলভ্রান্তিও রয়েছে, কিন্তু সেই ভুলের কারণে একে বর্জন করা হয়নি। এ কারণেই আপনি দেখবেন সকল ব্যাখ্যাকার বলেন: "কিরমানি বলেছেন, কিরমানি বলেছেন"। কেউ তার নাম উল্লেখ করেন, আবার কেউ করেন না; কখনও তার নাম উল্লেখ ছাড়াই তার থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়, আর এর কৃতিত্ব তারই। এরপর যখন তিনি কোনো ভুল করেন, তখন তারা আবার তাকে খণ্ডন করতে লেগে যান। যেমনটি সাধারণ মানুষ বলে থাকে: "অন্ন খেয়ে নিন্দা করা"। তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
তবে মূল কথা হলো, বইটি অত্যন্ত মূল্যবান ও চমৎকার, যদিও তাতে কিছু ভুলভ্রান্তি রয়েছে। কিন্তু ভুলভ্রান্তি থেকে কে মুক্ত থাকতে পারে? তার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তার পরবর্তী আগত সকলেই তার ওপর নির্ভর করেছেন।
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
هناك شرح الحافظ ابن حجر، واعتمد اعتماد كبير على الكرماني، وتصدى له بالنقد، في جميع أوهامه، وشرح الحافظ شرح عظيم نفيس، لا يستغني عنه طالب علم، لا يستغني عنه طالب علم.
طالب:. . . . . . . . .
إيش تسوي لهم يا أخي الوقت، الوقت ما يسعف، الأسئلة كثيرة؟
طالب:. . . . . . . . .
يا أخي الأسئلة كثيرة ما نستوعب، والكلام باقي كثير، الآن الكتب الستة ما بعد جاءت.
طالب: أحسن الله إليك.
شرح الحافظ ابن حجر رحمه الله المسمى (فتح الباري) شرح عظيم.
طالب: يقول الأسئلة؟
نعم.
طالب: أردت إلغاء الأسئلة.
بس المشكلة اللي برع، هؤلاء الإخوان لهم علينا حق لهم علينا حق، شوف اللي ما لا علاقة بالدرس استبعده.
اجتهد الحافظ -رحمه الله تعالى- في إيضاح الكتاب وبيانه بجميع ما يحتاج إليه من بيان وإيضاح، تكلم على التراجم بكلام وربط الأحاديث وبين مناسباتها وارتباطها بتراجمها، وشرح الأحاديث، وبين روايات الصحيح مما يحتاج إليه، اقتصر على ما يحتاج إليه، معتمداً في ذلك على رواية أبي ذر، ويشير إلى ما عداه عند الحاجة، فطالب العلم لا يستغني عن فتح الباري، كما قيل للشوكاني لما طلب منه أن يشرح البخاري فقال: لا هجرة بعد الفتح، لا هجرة بعد الفتح، يريد بذلك فتح الباري.
ابن خلدون يقول: شرح البخاري دين على الأمة لم يوفَّ بعد، ومعروف أنه قبل الحافظ قبل العيني، يعني لو رأى شرح الحافظ لقال: وفي الدين.
هناك شرح للإمام الحافظ ابن رجب أشرنا إليه إشارة خفيفة، وهو من أمتع الشروح وأنفسها وأنفعها لطالب العلم على أنه لم يكمل، لكن لو كمل لكان من العجائب، وهو شرح بنفس السلف -معتمد على أقوال السلف الصالح- مجرد عن كل علم دخيل.
وهناك شرح للعيني اسمه (عمدة القاري) اعتمد اعتماداً كبيراً على فتح الباري، وتعقبه بعبارات غير مناسبة، ينقل عنه ويتهجم عليه، ومعلوم ما بين الأقران، وما يحدث بينهم من منافسة والله المستعان.
সেখানে হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। তিনি আল-কিরমানির ওপর ব্যাপক নির্ভর করেছেন এবং তার সকল ভুলের ক্ষেত্রে সমালোচনার মাধ্যমে তার মোকাবিলা করেছেন। হাফেজের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অত্যন্ত মহান ও মূল্যবান, কোনো জ্ঞানান্বেষী তা থেকে বিমুখ হতে পারে না, কোনো জ্ঞানান্বেষী তা থেকে বিমুখ হতে পারে না।
ছাত্র: . . . . . . . . .
ভাই, আপনি তাদের জন্য কী করতে পারেন? সময়, সময় তো কুলাচ্ছে না, প্রশ্নও অনেক।
ছাত্র: . . . . . . . . .
ওহে ভাই, প্রশ্ন অনেক, আমরা সব গ্রহণ করতে পারছি না, আর আলোচনাও অনেক বাকি আছে। এখন পর্যন্ত 'কুতুবুস সিত্তাহ' বা ছয়টি কিতাবের আলোচনাই আসেনি।
ছাত্র: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.)-এর 'ফাতহুল বারী' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থটি একটি মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
ছাত্র: তিনি কি প্রশ্নের কথা বলছেন?
হ্যাঁ।
ছাত্র: আমি প্রশ্নগুলো বাতিল করতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু সমস্যা হলো বাইরের লোকজন, এই ভাইদের আমাদের ওপর হক রয়েছে, তাদের আমাদের ওপর হক রয়েছে। দেখুন, পাঠের সাথে যেগুলোর সম্পর্ক নেই সেগুলো বাদ দিন।
হাফেজ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) কিতাবটি স্পষ্ট করতে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ প্রদানে ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। তিনি শিরোনামগুলো (তারাজিম) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং হাদিসগুলোকে সেগুলোর সাথে যুক্ত করেছেন, সেই সাথে শিরোনামের সাথে হাদিসের প্রাসঙ্গিকতা ও সম্পর্ক বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদিসগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন এবং সহিহ (বুখারি)-এর বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে যা প্রয়োজন তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি প্রয়োজনীয় বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, এক্ষেত্রে তিনি আবু জার (রহ.)-এর বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন এবং প্রয়োজনে অন্যান্য বর্ণনার দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। অতএব, একজন জ্ঞানান্বেষী 'ফাতহুল বারী' থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না। যেমনটি ইমাম শাওকানিকে যখন বুখারি শরীফের ব্যাখ্যা লিখতে বলা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "ফাতহের (বিজয়ের/ফাতহুল বারীর) পর আর কোনো হিজরত নেই, ফাতহের পর আর কোনো হিজরত নেই।" এর মাধ্যমে তিনি 'ফাতহুল বারী'কেই বুঝিয়েছেন।
ইবনে খালদুন বলেন: "বুখারির ব্যাখ্যা করা উম্মতের ওপর একটি ঋণ ছিল যা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।" আর এটা জানা কথা যে, তিনি হাফেজ (ইবনে হাজার) এবং আইনি (রহ.)-এর পূর্ববর্তী ছিলেন। অর্থাৎ তিনি যদি হাফেজের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দেখতেন, তবে বলতেন: "ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে।"
সেখানে ইমাম হাফেজ ইবনে রজব (রহ.)-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার প্রতি আমরা সামান্য ইঙ্গিত করেছি। এটি একজন জ্ঞানান্বেষীর জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক, মূল্যবান এবং উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর একটি, যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ নয়। তবে এটি যদি পূর্ণাঙ্গ হতো, তবে তা এক বিস্ময়কর বিষয় হতো। এটি সালাফদের পদ্ধতিতে (সালাফদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে) লিখিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা যাবতীয় বহিরাগত জ্ঞান থেকে মুক্ত।
আর আল-আইনি (রহ.)-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম 'উমদাতুল কারী'। তিনি 'ফাতহুল বারী'র ওপর ব্যাপক নির্ভর করেছেন এবং অনুপযুক্ত শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তার সমালোচনা করেছেন। তিনি তার থেকে উদ্ধৃতিও গ্রহণ করেন আবার তার ওপর আক্রমণাত্মক সমালোচনাও করেন। সমসাময়িকদের মধ্যে যা ঘটে এবং তাদের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয় তা সবারই জানা, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وشرح العيني لا سيما في ربعه الأول شرح ماتع ونافع وجامع، مرتب ترتيباً بديعاً، مرتب ترتيباً بديعاً، ثم بعد ذلك في ربعه الثاني اختصر، ثم في نصفه الأخير أجمل، بينما شرح الحافظ ابن حجر متوازن، يشرح الحديث من أول الكتاب إلى آخره بنفس واحد.
العيني يأتي بكل ما عنده في الموضع الأول، في الموضع الثاني يخفف، وهذه طريقة الشراح، طريقة المفسرين، ينشطون في أول الأمر ثم بعد ذلك يعتريهم الكسل، بينما الحافظ ابن حجر شرح حديث الأعمال بالنيات أول حديث بالنفس الذي شرح فيه حديث: ((كلمتان خفيفتان على اللسان ثقيلتان في الميزان)) آخر حديث في الكتاب، ما تجد فرق بين أول حديث وأثناء الكتاب وآخره، ما تجد فرق، وهذه ميزة لشرح ابن حجر، بينما العيني أطال في شرح أوائل الكتاب الربع الأول، ثم بعد ذلكم أجمل، واعتمد اعتماداً كبيراً على ابن حجر، نقل منه الكلام الكثير وانتقده.
ثم بعد ذلكم شرح اسمه: (إرشاد الساري) للقسطلاني، وهذا أيضاً شرح لا يستغني عنه طالب علم، ميزته في ضبط ألفاظ الصحيح، سواءً ما كان منها متعلقاً بالمتون، وما كان متعلقاً بالأسانيد، وصيغ الأداء، لا يكاد يفلت كلمة واحدة من فرق بين الرواة -رواة الصحيح- والمقصود برواة الصحيح -يا إخوان الآن الوقت يعني ضاق وصرنا نقدم بعض الأمور على بعض، ونجمل في بعض الأشياء التي ينبغي بسطها- الصحيح رواه عن مؤلفيه أكثر من ثمانين ألف راوٍ، والروايات المدونة معروفة عند أهل العلم، عن البخاري، رواية كريمة، رواية أبي ذر، رواية الكشميهني، رواية السرخسي، رواية .. ، وهذه يقبح بطالب العلم أن يجهلها؛ هذه أمور لا بد لطالب العلم أن يعرفها وأن يكون على دراية منها؛ لأنه إذا قرأ في شرح من الشروح كابن حجر كذا في رواية أبي ذر، كذا .. ، شخص متخصص عنده شهادات في السنة ويقول: سبحان الله، الذي نعرف أن أبا هريرة هو حافظ السنة وحافظ الصحابة، أكثر الصحابة رواية للحديث، لكن إذا قرأنا في فتح الباري تغيرت نظرتنا ما يمر حديث إلا ويمر أبو ذر، هذا جهل، جهل والله ما يحسن بآحاد الطلبة فضلاً عن الكبار، يقبح بصغار الطلبة أن يقولوا مثل هذا الكلام، وسببها أن العلم لم يؤت من أبوابه.
আইনী’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, বিশেষত এর প্রথম চতুর্থাংশ অত্যন্ত চমৎকার, উপকারী এবং পূর্ণাঙ্গ একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা এক অপূর্ব বিন্যাসে সজ্জিত। অতঃপর এর দ্বিতীয় চতুর্থাংশে তিনি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং শেষ অর্ধাংশে সারসংক্ষেপ করেছেন; পক্ষান্তরে হাফেজ ইবনে হাজার এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ভারসাম্যপূর্ণ, যা গ্রন্থের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ধারায় হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
আইনী প্রথম দিকে তার নিকট বিদ্যমান সবটুকু তথ্য উপস্থাপন করেন, কিন্তু দ্বিতীয় ভাগে গিয়ে তা কমিয়ে দেন। আর এটিই ব্যাখ্যাকারক ও মুফাসসিরগণের সাধারণ রীতি; তারা শুরুর দিকে বেশ উদ্যমী থাকেন, অতঃপর তাদের ওপর অলসতা ভর করে। পক্ষান্তরে হাফেজ ইবনে হাজার গ্রন্থের প্রথম হাদিস—‘নিয়ত অনুযায়ী আমল কবুল হয়’—যেই উদ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, গ্রন্থের সর্বশেষ হাদিস—‘দুটি বাক্য যা জবানে হালকা এবং মিজানে ভারী’—তাও একই উদ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। আপনি গ্রন্থের শুরু, মধ্যভাগ এবং শেষভাগের বর্ণনার মধ্যে কোনো পার্থক্য পাবেন না; আর এটিই ইবনে হাজারের ব্যাখ্যাগ্রন্থের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে আইনী গ্রন্থের শুরুর দিকে অর্থাৎ প্রথম চতুর্থাংশে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, অতঃপর সংক্ষেপ করেছেন এবং তিনি ইবনে হাজারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন, তার থেকে অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং তার সমালোচনাও করেছেন।
এরপর কাসতালানীর ‘ইরশাদুস সারী’ নামক একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে। এটিও এমন এক ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা থেকে কোনো ইলম অন্বেষীর বিমুখ থাকা সম্ভব নয়। এর বিশেষত্ব হলো ‘সহীহ’ গ্রন্থের শব্দাবলির সূক্ষ্ম বিন্যাস নিশ্চিত করা, চাই তা মূল পাঠ (মতন) সংক্রান্ত হোক কিংবা সনদ এবং হাদিস বর্ণনাভঙ্গী সংক্রান্ত হোক। ‘সহীহ’ এর বর্ণনাকারীদের মধ্যকার পার্থক্যের একটি শব্দও প্রায় তার দৃষ্টি এড়ায় না। আর ‘সহীহ’ এর বর্ণনাকারী বলতে যা বোঝানো হয়েছে—হে ভাইয়েরা, সময়ের স্বল্পতার কারণে আমাদের কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে এবং এমন কিছু বিষয় সংক্ষেপে বলতে হচ্ছে যা বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে—‘সহীহ’ গ্রন্থটি এর মূল রচয়িতাদের নিকট থেকে আশি হাজারের অধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আলেমদের নিকট লিপিবদ্ধ বর্ণনাগুলো সুপরিচিত; যেমন ইমাম বুখারী থেকে কারীমার বর্ণনা, আবু যারের বর্ণনা, কুশমিহানীর বর্ণনা, সারাখসীর বর্ণনা ইত্যাদি। ইলম অন্বেষীর জন্য এসব বিষয়ে অজ্ঞ থাকা অত্যন্ত লজ্জাজনক; এগুলো এমন বিষয় যা একজন ইলম অন্বেষীর অবশ্যই জানা উচিত এবং সে সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকা আবশ্যক। কেননা সে যখন ইবনে হাজারের মতো কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থে পাঠ করে যে, ‘আবু যারের বর্ণনায় এমনটি এসেছে...’, তখন সুন্নাহর ওপর বিশেষজ্ঞ কোনো ব্যক্তিও হয়তো বলে বসতে পারে: ‘সুবহানাল্লাহ! আমরা জানি যে আবু হুরায়রা হলেন সুন্নাহর হাফেজ এবং সাহাবীদের মধ্যে সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী, কিন্তু ফাতহুল বারী পড়লে আমাদের ধারণা বদলে যায়; সেখানে এমন কোনো হাদিস অতিবাহিত হয় না যেখানে আবু যারের নাম আসেনি।’ এটি একটি মূর্খতা। আল্লাহর কসম, সাধারণ স্তরের ছাত্রদের জন্যই এটি শোভনীয় নয়, বড়দের তো প্রশ্নই আসে না। এমনকি ছোট ছাত্রদের পক্ষ থেকেও এমন কথা বলা লজ্জাজনক। আর এর কারণ হলো ইলমকে তার সঠিক প্রবেশদ্বার দিয়ে গ্রহণ না করা।
(খণ্ড: ২)
কাইফা ইয়াসতাফীদু তালিবুল ইলম মিন কুতুবিল সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقصود أن القسطلاني اعتنى بضبط روايات الصحيح اعتنى بألفاظ الصحيح بدقة، ينبه على كل شيء، بينما ابن حجر اعتمد على رواية أبي ذر ونبه على ما سواها عند الحاجة، نعم هناك أمور لا تحتاج إلى تنبيه لم يترتب عليها شيء، لكن القسطلاني لا يفلته، يبين، وله عناية بضبط الصحيح؛ لأنه قرأ الصحيح مراراً على ابن مالك الإمام اليونيني -رحمه الله تعالى- قرأ الصحيح على ابن مالك -عفواً لا ما هو القسطلاني، نأتي بالتدريج- اليونيني هذا أشهر من اعتنى بالصحيح، وأكثر الناس عناية بضبط الصحيح، قرأ الصحيح على ابن مالك مراراً يصوب له الروايات التي تحصلت لدى اليونيني، ويوجه ما خالف العربية منها، واليونيني هذا دون فروق الروايات، نعم، على نسخة سميت اليونينية الأصلية، وهذه اليونينية لها فرع قوبلت عليها، قوبل الفرع عليها مراراً فوجد مضبوطاً متقناً.
القسطلاني - نأتي إلى صاحب الشأن اللي هو القسطلاني- أراد ضبط الصحيح، فوقف على الفرع، فقابل عليه الصحيح ست عشرة مرة حتى ضبطه وأتقنه، ثم وجد المجلد الثاني من الأصل –اليونينية- يباع فاشتراه فقابل عليه، ما وجد فرق بين الأصل والفرع، ولذا تجدونه كثيراً مما يستشكله بعض الطلاب كذا في فرع اليونينية كهي، كيف؟ لأنه كتب الشرح قبل أن يقف على الأصل، فاضطر أن يقول: كذا في فرع اليونينية؛ لأنه ما وقف على الأصل، فلما وقف على الأصل علق (كهي) سهل، لكن قد يقول قائل: لماذا ما حذف فرع، كذا في فرع اليونينية، كذا في اليونينية، والعلو مطلوب، ما دام الأصل موجود، ليش نرجع إلى الفرع؟ هو اعتنى بالفرع، فلا يمكن أن يهمل ما اعتنى به، على كل حال القسطلاني هذه ميزته.
ميزة أخرى له: أنه شرح مختصر محرر مهذب منقح، مأخوذ بجملته من شرحي العيني وابن حجر.
هناك مناقشات طويلة بين العيني وابن حجر، العيني ردَّ على ابن حجر كثيراً فتولى ابن حجر الإجابة عن هذه الردود في كتاب أسماه (انتقاض الاعتراض).
সারকথা হলো, আল-কাসতালানি সহীহ-এর বর্ণনাগুলো সুসংহত করার ক্ষেত্রে এবং সহীহ-এর শব্দাবলির সূক্ষ্মতার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন, তিনি প্রতিটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন। অন্যদিকে ইবনে হাজার আবু যর-এর বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। হ্যাঁ, এমন কিছু বিষয় আছে যাতে সতর্ক করার প্রয়োজন নেই এবং যাতে কোনো বিশেষ প্রভাব পড়ে না, কিন্তু কাসতালানি সেগুলোও বাদ দেননি, বরং বর্ণনা করেছেন। সহীহ্-কে সুসংহত করার প্রতি তার বিশেষ যত্ন ছিল; কারণ তিনি ইমাম আল-ইউনিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর নিকট বারবার সহীহ্ পড়েছেন—দুঃখিত, কাসতালানি নন, আমরা পর্যায়ক্রমে আসছি—আল-ইউনিনি হলেন তিনি যিনি সহীহ্-এর সংরক্ষণে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ এবং সহীহ্-কে সুসংহত করার ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি যত্নবান ছিলেন। তিনি ইবনে মালিকের কাছে বারবার সহীহ্ পাঠ করেছেন যাতে ইউনিনির কাছে থাকা বর্ণনাগুলো তিনি সংশোধন করে নেন এবং আরবি ব্যাকরণের পরিপন্থী বিষয়গুলোর সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। আর এই ইউনিনি বর্ণনার পার্থক্যগুলো একটি পাণ্ডুলিপিতে লিপিবদ্ধ করেছেন যাকে 'মূল ইউনিনিয়্যাহ' বলা হয়। এই ইউনিনিয়্যাহর একটি শাখা বা অনুলিপি ছিল যার সাথে মূল পাণ্ডুলিপিটির বারবার তুলনা করা হয়েছিল, ফলে তা অত্যন্ত সুসংহত ও নিখুঁত হিসেবে পাওয়া যায়।
কাসতালানি—এখন আমরা মূল আলোচ্য ব্যক্তি কাসতালানির প্রসঙ্গে আসি—তিনি সহীহ্-কে সুসংহত করতে চেয়েছিলেন, ফলে তিনি সেই অনুলিপিটি সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি এর সাথে সহীহ্-কে ষোলবার মিলিয়ে দেখেন যতক্ষণ না তিনি এটিকে সুসংহত ও নিখুঁত করেন। এরপর তিনি মূল ইউনিনিয়্যাহর দ্বিতীয় খণ্ডটি বিক্রি হতে দেখেন এবং সেটি ক্রয় করে তুলনা করেন। তিনি মূল পাণ্ডুলিপি এবং অনুলিপির মাঝে কোনো পার্থক্য পাননি। এই কারণে আপনারা অনেক ক্ষেত্রে দেখেন যা কিছু ছাত্রের কাছে অস্পষ্ট মনে হয়, যেমন: 'ইউনিনিয়্যাহর অনুলিপিতে এমন রয়েছে (কাহি)'—এটি কীভাবে হলো? কারণ তিনি মূল কপিটি পাওয়ার আগেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি লিখেছিলেন। তাই তিনি বলতে বাধ্য হয়েছিলেন: 'ইউনিনিয়্যাহর অনুলিপিতে এমন রয়েছে'; কারণ তিনি তখনো মূল কপিটি পাননি। যখন তিনি মূল কপিটি পেলেন, তখন তিনি টীকা যোগ করলেন '(কাহি)', যা সহজ ছিল। তবে কেউ বলতে পারেন: কেন তিনি 'অনুলিপি' শব্দটি মুছে দিলেন না? মূল কপিটি যখন পাওয়া গেল তখন কেন 'ইউনিনিয়্যাহর অনুলিপিতে এমন রয়েছে' এর বদলে সরাসরি 'ইউনিনিয়্যাহতে এমন রয়েছে' বললেন না? যেহেতু মূল কপিটি বিদ্যমান ছিল, তাই উচ্চতর সূত্রের দিকে ফিরে যাওয়াই কাম্য ছিল, তবে কেন আমরা অনুলিপির দিকে ফিরব? আসলে তিনি অনুলিপিটির পেছনে অনেক পরিশ্রম করেছিলেন, তাই যেটির পেছনে তিনি শ্রম দিয়েছেন তা তিনি অবহেলা করতে পারেননি। যা হোক, এটিই হলো কাসতালানির বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
তাঁর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো: তাঁর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সংক্ষিপ্ত, পরিমার্জিত, সুবিন্যস্ত ও পরিশোধিত, যা সামগ্রিকভাবে আল-আইনি এবং ইবনে হাজারের ব্যাখ্যাগ্রন্থদ্বয় থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
আল-আইনি এবং ইবনে হাজারের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। আল-আইনি ইবনে হাজারের অনেক মতের খণ্ডন করেছেন, পরবর্তীতে ইবনে হাজার এই আপত্তিগুলোর উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন 'ইনতিকাদুল ইতিরাদ' নামক একটি গ্রন্থে।