(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: -)
شرح نخبة الفكر للخضير   (عبد الكريم الخضير)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: شرح نخبة الفكر

مؤلف الأصل: ابن حجر العسقلاني، أبو الفضل أحمد بن علي (ت 852هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 12 درسا]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

খুদাইরকৃত শরহু নুখবাতিল ফিকার   (আব্দুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: উলূমুল হাদীস


কিতাব: শরহু নুখবাতিল ফিকার

মূল লেখক: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, আবু আল-ফজল আহমদ বিন আলী (মৃ. ৮৫২ হিজরী)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শাইখ খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিখিত পাঠসমূহ

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, খণ্ড সংখ্যাটি পাঠ সংখ্যার অনুরূপ - ১২টি পাঠ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح نخبة الفكر]ـ

مؤلف الأصل: ابن حجر العسقلاني، أبو الفضل أحمد بن علي (المتوفى: 852هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 12 درسا]
—[নুখবাতুল ফিকারের ব্যাখ্যা]—

মূল লেখক: ইবনে হাজার আল-আসকালানী, আবু আল-ফজল আহমদ বিন আলী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরী)

ব্যাখ্যাকারী: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিখিত পাঠসমূহ

[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠ নম্বর - ১২টি পাঠ]
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌شرح نخبة الفكر (1)

‌‌مقدمة عن كتب علم مصطلح الحديث وكتاب نخبة الفكر (شروحها- وحواشيها- ومن نظمها … )

 

الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا، وزدنا علماً وعملاً خالصاً لوجهك، صواباً على سنة نبيك محمد صلى الله عليه وسلم.

أما بعد:

 

مقدمة عن كتب علم مصطلح الحديث:

فقد طلب مني أن أشرح مختصراً وجيزاً، ومتناً متيناً، وأصلاً أصيلاً من المتون العلمية التي هي كالقواعد والأسس الثابتة التي يبنى عليها غيرها، وهذا المختصر هو (نخبة الفكر) للإمام الحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله.

وهذا الكتاب على وجازته إذ لا يزيد على ثلاث أو أربع أو خمس ورقات حسب اختلاف الطبعات إلا أنه حوى علماً عظيماً مباركاً من أهم العلوم وأشرفها يتعلق بالمصدر الثاني من مصادر التشريع، وهو سنة المصطفى صلى الله عليه وسلم، والسنة جاء في أول الأمر النهي عن كتابتها وتدوينها، فقد ثبت في صحيح مسلم وغيره من حديث أبي سعيد أن النبي عليه الصلاة والسلام قال: ((لا تكتبوا عني شيئاً غير القرآن، ومن كتب عني شيئاً غير القرآن فليمحه)) وهذا قاله النبي عليه الصلاة والسلام، خشية منه على اختلاط كلامه بكلام الله عز وجل؛ لأن القرآن لم يكن مجموعاً في مصحف معزولاً عن غيره، فإذا سمع الصحابي الكلام من النبي عليه الصلاة والسلام فيما ينقله عن ربه عز وجل من وحي نوعان:

منه ما هو متعبد بلفظه وهو القرآن، ومنه ما هو متعبد بمعناه دون لفظه وهو السنة.
‌‌নুখবাতুল ফিকারের ব্যাখ্যা (১)

‌‌ইলমে মুসতালাহুল হাদিসের কিতাবসমূহের ভূমিকা এবং নুখবাতুল ফিকার গ্রন্থটি (এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, এর টীকা্সমূহ এবং এর কাব্যরূপসমূহ … )

 

শাইখ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারেনা, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও অজস্র সালাম বর্ষণ করুন।

হে আল্লাহ, আমাদের এমন জ্ঞান দান করুন যা আমাদের উপকারে আসবে এবং আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করুন। আমাদের জ্ঞান ও আমল বৃদ্ধি করে দিন যা একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত এবং আপনার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ মোতাবেক সঠিক হবে।

অতঃপর:

 

ইলমে মুসতালাহুল হাদিসের কিতাবসমূহের ভূমিকা:

আমার কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যেন আমি এমন একটি সংক্ষিপ্ত সারগর্ভ পুস্তিকা, একটি সুদৃঢ় মূলপাঠ এবং একটি আদিম মূলগ্রন্থ ব্যাখ্যা করি, যা এমন কিছু ধ্রুব নিয়ম ও ভিত্তির ন্যায় যার ওপর অন্যান্য বিষয়সমূহ প্রতিষ্ঠিত। আর এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি হলো ইমাম হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) রচিত 'নুখবাতুল ফিকার'।

এই গ্রন্থটি তার সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও—যা বিভিন্ন মুদ্রণভেদে তিন, চার অথবা পাঁচ পৃষ্ঠার বেশি নয়—এটি একটি মহান ও বরকতময় জ্ঞানকে ধারণ করে আছে। এটি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস তথা মনোনীত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ সম্পর্কিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক জ্ঞান। সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইসলামের সূচনালগ্নে তা লিখে রাখা ও সংকলন করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল। সহিহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "তোমরা আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না; আর যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখেছে, সে যেন তা মুছে ফেলে।" নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এটি বলেছিলেন তাঁর কথা আল্লাহর বাণীর (আযযা ওয়া জাল্লা) সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কায়; কারণ তখন কুরআন কোনো পৃথক মুসহাফে (গ্রন্থে) অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে একত্রিত করা ছিল না। সুতরাং সাহাবী যখন নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কাছ থেকে তাঁর রবের (আযযা ওয়া জাল্লা) পক্ষ থেকে প্রেরিত ওহী শুনতেন, তখন সেই ওহী ছিল দুই প্রকার:

তার মধ্যে একটির শব্দ পাঠ করা ইবাদত, আর তা হলো কুরআন; আর অন্যটির কেবল অর্থ অনুসরণ করা ইবাদত, শব্দ নয়, আর তা হলো সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২)
وكلاهما من عند الله عز وجل {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [(3 - 4) سورة النجم] فخشية منه عليه الصلاة والسلام أن يختلط كلامه بكلام الله نهى عن كتابة غير القرآن، فحمل أهل العلم هذا النهي على هذه الصورة، أو خشية منه عليه الصلاة والسلام أن يعتمد الناس على الكتابة ويهملوا الحفظ، ثم بعد ذلكم احتيج إلى الكتابة فأذن بها ((اكتبوا لأبي شاه)) يقول أبو هريرة: "ما كان من أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر مني رواية، وأكثر مني حديثاً إلا ما كان من عبد الله بن عمرو فإنه كان يكتب ولا أكتب"، وبعد ذلك المنع حصل الإجماع على جواز الكتابة، بل على استحباب تدوين العلم.

ومن أهم ما يدون ما يعتمد عليه في إثبات تصرفات المسلم على مراد الله، وعلى مراد رسوله عليه الصلاة والسلام.

كتب الصحابة، كتبوا السنن من عهده عليه الصلاة والسلام، واستمرت الكتابة كتابة فردية، ثم لما تولى عمر بن عبد العزيز الخلافة -رحمة الله عليه- أمر الإمام محمد بن شهاب الزهري بالتدوين الرسمي، فعمر بن عبد العزيز خشي من ضياع السنة لضعف الحافظة لدى الناس، ومعلوم أن العرب كانوا يتميزون بالحفظ ثم لما اختلطوا بغيرهم أخذت هذه الملكة والغريزة تضعف شيئاً فشيئاً، في العادة أن من يعتمد على شيء يعتني به، لما كان عمدتهم الحفظ كانوا يعتنون به، ثم لما توسعوا في أمر الكتابة، ضعفت الحوافظ لدى الناس، وهذا شيء مشاهد، الشيء الذي تعتني به وتودعه حفظك في الغالب أنك تحفظه، أما إن كنت بمجرد سماعه تخرج القلم وتكتب فإن هذا لا يثبت في الحفظ، وإن ثبت في الورق.

ثم تتابع الناس بعد ذلك على الاعتماد على المكتوب، اعتمدوا عليه اعتماداً كلياً، فدونت الأحاديث، ودونت العلوم كلها، بداية من منتصف القرن الثاني يعني بعد أمر عمر بن عبد العزيز لابن شهاب الزهري تتابع الناس في الكتابة حتى وجدت المصنفات من الموطئات والمسانيد والمصنفات، المصنفات نوع من أنواع التأليف في السنة، ثم بعد ذلكم دونت الجوامع من الصحاح والسنن والمعاجم وغيرها، بهذه الطريقة وجدت كتب السنة، لكن ماذا عن كتب علوم الحديث؟
আর এই উভয়ই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে {তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না; এটি তো কেবল প্রত্যাদেশ, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়} [(৩ - ৪) সূরা আন-নাজম]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কথা আল্লাহর কালামের সাথে মিশে যাওয়ার আশঙ্কায় কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখতে নিষেধ করেছিলেন। ইলমের অধিকারীগণ এই নিষেধাজ্ঞাকে এই অর্থেই গ্রহণ করেছেন। অথবা তাঁর এই আশঙ্কা ছিল যে, মানুষ লেখার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং মুখস্থ করার বিষয়টি অবহেলা করবে। অতঃপর এর পরবর্তীতে লেখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তিনি তার অনুমতি প্রদান করেন ((তোমরা আবু শাহ-এর জন্য লিখে দাও))। আবু হুরায়রা বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ব্যতীত আমার চেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী আর কেউ ছিল না, কারণ তিনি লিখে রাখতেন আর আমি লিখতাম না।" সেই নিষেধাজ্ঞার পর লিখনীর বৈধতার ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়, বরং ইলম লিপিবদ্ধ করাকে মুস্তাহাব বা উত্তম কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

আর লিপিবদ্ধ করার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তা-ই, যার ওপর ভিত্তি করে একজন মুসলিমের কর্মকাণ্ড আল্লাহর ইচ্ছা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিপ্রায় অনুযায়ী পরিচালিত হওয়া প্রমাণিত হয়।

সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই সুন্নাহ লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং এই লিখনী ব্যক্তিগত পর্যায়ে অব্যাহত ছিল। এরপর যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি ইমাম মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আল-জুহরীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে তা সংকলনের নির্দেশ দেন। মূলত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে সুন্নাহ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। এটি সুবিদিত যে আরবরা মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল, কিন্তু যখন তারা অনারবদের সাথে মেলামেশা শুরু করল, তখন তাদের এই মেধা ও সহজাত প্রবৃত্তি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করল। সাধারণত মানুষ যে বিষয়ের ওপর নির্ভর করে, সেটির প্রতিই যত্নশীল হয়। যখন তাদের প্রধান অবলম্বন ছিল মুখস্থ রাখা, তখন তারা এর প্রতি যত্নবান ছিল। এরপর যখন তারা লিখনীর বিষয়টিকে বিস্তৃত করল, তখন মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ল। এটি একটি প্রত্যক্ষ বিষয়; যে বিষয়টির প্রতি আপনি যত্নবান হন এবং আপনার স্মৃতিতে গচ্ছিত রাখেন, সাধারণত আপনি সেটি মুখস্থ রাখতে পারেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি কোনো কথা শোনামাত্রই কলম বের করে লিখে ফেলেন, তবে তা কাগজে সংরক্ষিত হলেও স্মৃতিতে স্থায়ী হয় না।

অতঃপর মানুষ ধারাবাহিকভাবে লিখিত বিষয়ের ওপর পূর্ণমাত্রায় নির্ভরশীল হতে শুরু করল। ফলে হাদীসসমূহ লিপিবদ্ধ হলো এবং সমস্ত ইলম বা শাস্ত্র সংকলিত হলো। দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে, অর্থাৎ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ কর্তৃক ইবনে শিহাব আল-জুহরীকে নির্দেশ প্রদানের পর থেকে মানুষ ধারাবাহিকভাবে লিখে যেতে থাকে, যতক্ষণ না মুয়াত্তাত, মুসনাদ এবং মুসান্নাফ জাতীয় গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়। 'মুসান্নাফ' হলো সুন্নাহর সংকলনসমূহের একটি বিশেষ ধরন। এরপর জামে', সহীহ, সুনান, মু'জাম এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়। এই পদ্ধতিতেই সুন্নাহর কিতাবসমূহ অস্তিত্ব লাভ করে। কিন্তু 'উলুমুল হাদীস' (হাদীস শাস্ত্রের মূলনীতি) সংক্রান্ত কিতাবসমূহের বিষয় সম্পর্কে কী বলা যায়?
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৩)
علوم الحديث كغيره من علوم الآلة التي هي وسائل إلى علوم أخرى، علوم الحديث وسيلة يتوصل به إلى تمييز الصحيح من الضعيف من كلام النبي عليه الصلاة والسلام، فهو وسيلة وليس بغاية.

في أول الأمر لم تكن الحاجة داعية إلى التأليف المستقل في هذا العلم، ومثله علوم الآلة كلها، التي هي الوسائل أصول الفقه، علوم القرآن وقواعد التفسير، وعلوم العربية بفروعها العشرة المعروفة.

لما كثر اختلاط العرب بغيرهم، وبعدوا عن عصر الرسالة احتاجوا إلى قواعد وضوابط تعينهم على فهم الكتاب والسنة، ووجد هذا العلم مبثوثاً ومنثوراً في كتب الأئمة، في كتب الإمام الشافعي كالرسالة والأم، وكتب تلميذه الإمام أحمد بن حنبل، وعلي بن المديني ويحيى بن معين والبخاري والترمذي والنسائي وغيرهم، فوجدت هذه القواعد وهذه الضوابط التي يحتاجها طالب العلم لفهم السنن في الكتب المبثوثة.

واختلف أهل العلم في أول ما صنف في هذا العلم على سبيل الاستقلال، فمنهم من يقول: الإمام الشافعي في الرسالة، والرسالة وإن قال أهل العلم: إنها أول ما صنف في أصول الفقه، فهي أول ما دون في علوم الحديث، الرسالة يوجد فيها هذا وهذا، ولا انفكاك لعلوم الحديث من أصول الفقه، كما أنه لا انفكاك لأصول الفقه عن علوم الحديث.

وجد أيضاً في سؤالات الإمام أحمد فيما يسأله عنه تلاميذه كثير من قواعد هذا العلم، وما يتعلق بعلله ورجاله ثم في سؤالات يحيى بن معين، وعلل ابن المديني، وتواريخ الإمام البخاري -رحمة الله عليه-، وجامع أبي عيسى الترمذي فيه كثير مما يحتاجه طالب العلم، ولو قيل: إن أولى ما يتمرن عليه طالب العلم في معرفة المتون والأسانيد ونقد الرجال وتعليل الأحاديث جامع الترمذي لما كان بعيداً، فيه الأنواع كلها، ووجد في سنن النسائي التراجم التي ترجم بها على الأحاديث كثير من ضروب العلل وأصنافها.
হাদিস শাস্ত্র অন্যান্য সহায়ক শাস্ত্রের (উলুমুল আ-লাহ) মতোই, যা অন্য শাস্ত্রসমূহে পৌঁছানোর মাধ্যম। হাদিস শাস্ত্র এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মধ্য থেকে সহিহ ও জয়িফকে পৃথক করা যায়; সুতরাং এটি একটি মাধ্যম, লক্ষ্য নয়।

শুরুর দিকে এই শাস্ত্রের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার প্রয়োজন দেখা দেয়নি। অন্যান্য সকল সহায়ক শাস্ত্রের অবস্থাও এমন ছিল, যা মূলত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে—যেমন উসুলুল ফিকহ, উলুমুল কুরআন ও তাফসিরের মূলনীতিসমূহ এবং আরবি ভাষার সুপরিচিত দশটি শাখা।

যখন অনারবদের সাথে আরবদের মেলামেশা বৃদ্ধি পেল এবং তারা নবুওয়াতের যুগ থেকে দূরে সরে গেল, তখন কিতাব ও সুন্নাহ বোঝার জন্য তাদের এমন কিছু মূলনীতি ও নিয়মকানুনের প্রয়োজন হলো যা তাদের সহায়তা করবে। এই শাস্ত্রের বিষয়বস্তু ইমামগণের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যেত; যেমন ইমাম শাফেয়ির 'আর-রিসালাহ' ও 'আল-উম্ম' গ্রন্থে এবং তাঁর ছাত্র ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, আলি বিন মাদিনি, ইয়াহইয়া বিন মায়িন, বুখারি, তিরমিজি, নাসায়ি ও অন্যান্যদের কিতাবসমূহে। সুতরাং সুন্নাহ অনুধাবনের জন্য ইলম অন্বেষণকারীর যে সকল মূলনীতি ও নিয়মকানুনের প্রয়োজন, তা এই সকল গ্রন্থে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় বিদ্যমান ছিল।

এই শাস্ত্রে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্রভাবে কে গ্রন্থ রচনা করেছেন, এ বিষয়ে আলিমগণ মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন: ইমাম শাফেয়ি তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে এটি করেছেন। যদিও আলিমগণ বলেন যে, এটি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে রচিত প্রথম গ্রন্থ, তবুও এটি হাদিস শাস্ত্রের বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধকরণের ক্ষেত্রেও প্রথম। 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে উভয় বিষয়ই বিদ্যমান। উসুলুল ফিকহ থেকে হাদিস শাস্ত্রকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়, যেমনভাবে হাদিস শাস্ত্র থেকে উসুলুল ফিকহকেও পৃথক করা যায় না।

এছাড়া ইমাম আহমাদের নিকট তাঁর ছাত্রদের করা বিভিন্ন প্রশ্নে (সুয়ালাত) এই শাস্ত্রের অনেক মূলনীতি এবং ইলমে ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও রাবিদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পাওয়া যায়। এরপর ইয়াহইয়া বিন মায়িনের সুয়ালাত, ইবনুল মাদিনির 'আল-ইলাল', ইমাম বুখারি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর তারিখসমূহ এবং আবু ঈসা তিরমিজির 'জামে' গ্রন্থে এমন অনেক কিছু রয়েছে যা একজন তালিবে ইলমের প্রয়োজন। যদি বলা হয় যে, মতন ও সনদ চেনা, রাবিদের সমালোচনা এবং হাদিসের ত্রুটি অনুসন্ধানে একজন তালিবে ইলমের অনুশীলনের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত কিতাব হলো 'জামে তিরমিজি', তবে তা মোটেও অত্যুক্তি হবে না। এতে সকল প্রকারের আলোচনা বিদ্যমান। আর সুনানে নাসায়ির সেই সকল শিরোনামে (তারাজুম), যার মাধ্যমে তিনি হাদিসগুলো বিন্যস্ত করেছেন, ইলমে ইলাল বা হাদিসের ত্রুটির বহু প্রকার ও শ্রেণী পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৪)
نظراً لعدم وجود بداية محددة للتأليف في هذا الفن خرج الحافظ ابن حجر من هذا كله بقوله: "فمن أول من صنف فيه القاضي الحسن بن محمد بن خلاد الرامهرمزي في كتابه (المحدث الفاصل) "، ويعتبره بعضهم هو أول المصنفات في هذا الفن، لكنه لم يستوعب، وهذا أمر طبيعي وعادي أن يكون أول من يؤلف لا يستوعب، ثم يأتي من بعده أهل العلم فيكملون ما بدأه من مشروع، ثم جاء بعده الحاكم أبو عبد الله فصنف المعرفة (معرفة علوم الحديث).

الأول قال عنه الحافظ: لم يستوعب، والثاني قال عنه: لم يهذب ولم يرتب، يعني الحاكم أبا عبد الله في (معرفة علوم الحديث)، وابن خلدون في مقدمته الشهيرة قال عن الحاكم: "إنه أول من هذب هذا العلم ورتبه"، أول من هذب هذا العلم ورتبه الحاكم فهل من اختلاف بين قول الحافظ وقول ابن خلدون؟ في اختلاف واضطراب وإلا ما في؟ نعم، هذاك قال: لم يهذب ولم يرتب، وقال هذا: أول من هذب هذا العلم ورتبه؟

أقول: لعل الحافظ رحمه الله نظر إلى من جاء بعد الحاكم فمن قارن كتاب الحاكم بما ألف بعده من كتب في علوم الحديث حكم على معرفة علوم الحديث أنه لم يهذب ولم يرتب، وابن خلدون نظر إلى ما كتب قبل الحاكم، ولا شك أن الحاكم أبدع في كتابه إذا نظرنا إلى ما ألف في الفن قبله، ترتيب وتهذيب وجمع لا نظير له إذا قسناه بما قبله.

ثم جاء الحافظ أبو نعيم الأصفهاني فعمل على كتاب الحاكم مستخرجاً. . . . . . . . . المستخرج على علوم الحديث، إيش معنى المستخرج؟ يعمد عالم من علماء الحديث إلى كتاب معتبر عند أهل العلم ويخرج أحاديث الكتاب بأسانيده هو من غير طريق صاحب الكتاب، وقد يستغلق عليه الأمر ويضيق عليه فلا يجد الحديث إلا من طريق مؤلف الكتاب وحينئذ هو بين خيارات ثلاثة -كما فعله أصحاب المستخرجات-: إما أن يعلق الحديث ويحذف الإسناد، أو يرويه من طريق صاحب الكتاب، أو يحذف الحديث.
এই শিল্পে রচনার কোনো নির্দিষ্ট সূচনা না থাকায় হাফেজ ইবনে হাজার এই সব থেকে এই বলে উপসংহার টেনেছেন যে: "এ বিষয়ে প্রথম যারা গ্রন্থনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কাজী হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খাল্লাদ আল-রামাহুরমুজি তাঁর ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’ গ্রন্থে।" কেউ কেউ এটিকে এই শিল্পের প্রথম গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করেন, তবে এটি বিষয়বস্তুকে পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেনি। আর এটি একটি স্বাভাবিক ও সাধারণ বিষয় যে, যিনি প্রথম কোনো বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন তিনি সবকিছু পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেন না। এরপর তাঁর পরবর্তী আলেমগণ এসে তাঁর শুরু করা প্রকল্পটিকে পূর্ণতা দান করেন। এরপর আসলেন আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ, তিনি রচনা করলেন ‘আল-মা’রিফা’ (মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস)।

প্রথম জন সম্পর্কে হাফেজ বলেছেন যে তিনি সবকিছু আয়ত্ত করতে পারেননি; আর দ্বিতীয় জন সম্পর্কে বলেছেন যে তিনি একে মার্জিত বা বিন্যস্ত করেননি—অর্থাৎ ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস’ গ্রন্থে আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহর কথা বুঝিয়েছেন। আর ইবনে খালদুন তাঁর বিখ্যাত মুকাদ্দিমায় হাকিম সম্পর্কে বলেছেন: "তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই ইলমকে মার্জিত ও বিন্যস্ত করেছেন।" আল-হাকিমই কি প্রথম ব্যক্তি যিনি এই ইলমকে মার্জিত ও বিন্যস্ত করেছেন? তাহলে হাফেজের বক্তব্য ও ইবনে খালদুনের বক্তব্যের মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য আছে? সেখানে কি কোনো মতভেদ বা অসংগতি আছে নাকি নেই? হ্যাঁ, তিনি (হাফেজ) বলেছেন: তিনি মার্জিত বা বিন্যস্ত করেননি; আর এই ব্যক্তি (ইবনে খালদুন) বলেছেন: তিনিই প্রথম এই ইলমকে মার্জিত ও বিন্যস্ত করেছেন?

আমি বলব: সম্ভবত হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) হাকিমের পরে যারা এসেছেন তাদের দিকে লক্ষ্য করেছেন। তাই হাকিমের কিতাবকে যদি হাদিস শাস্ত্রের পরবর্তী গ্রন্থগুলোর সাথে তুলনা করা হয়, তবে ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস’ সম্পর্কে এই রায়ই আসবে যে এটি মার্জিত বা বিন্যস্ত নয়। অন্যদিকে ইবনে খালদুন লক্ষ্য করেছেন হাকিমের আগে যা লেখা হয়েছে তার প্রতি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শিল্পে হাকিমের আগে যা রচিত হয়েছে তার তুলনায় তিনি তাঁর গ্রন্থে অনন্য নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। আগের কাজগুলোর তুলনায় তাঁর বিন্যাস, পরিমার্জন ও সংকলন ছিল অতুলনীয়।

এরপর হাফেজ আবু নুআইম আল-আসফাহানি এসে হাকিমের কিতাবের ওপর মুস্তাখরাজ তৈরি করলেন... ‘আল-মুস্তাখরাজ আলা উলুমিল হাদিস’। মুস্তাখরাজ-এর অর্থ কী? হাদিস বিশারদগণের মধ্য থেকে কোনো আলেম যখন আলেমদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাব নির্বাচন করেন এবং সেই কিতাবের হাদিসগুলোকে মূল লেখকের সূত্র ছাড়াই নিজের সনদে বর্ণনা করেন, তখন তাকে মুস্তাখরাজ বলে। তবে কখনো কখনো বিষয়টি তাঁর জন্য কঠিন বা সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং তিনি মূল লেখকের সূত্র ছাড়া হাদিসটি খুঁজে পান না। এমন অবস্থায় তাঁর সামনে তিনটি পথ থাকে—যেমনটি মুস্তাখরাজ রচয়িতাগণ করে থাকেন: হয় হাদিসটিকে ‘মুয়াল্লাক’ হিসেবে বর্ণনা করা ও সনদ বাদ দেওয়া, অথবা মূল লেখকের মাধ্যমেই হাদিসটি বর্ণনা করা, অথবা হাদিসটি বাদ দেওয়া।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৫)
ثم بعد أبي نعيم تتابع أهل العلم في الكتابة في هذا العلم فألف الخطيب البغدادي الذي صنف في علوم الحديث وفي قوانين الرواية كتاباً جامعاً ماتعاً نافعاً أسماه: (الكفاية في قوانين الرواية) وفي آداب الراوية والراوي كتاباً آخر أسماه: (الجامع لأخلاق الراوي وآداب السامع)، وهذا كتاب نفيس لا يستغني عنه طالب علم، ونحن اليوم بأمس الحاجة إلى مثل هذا الكتاب إذا أضيف إليه (جامع بيان العلم وفضله) لابن عبد البر، و (فضل علم السلف على الخلف) لابن رجب، و (مقدمة الموضح في أوهام الجمع والتفريق) للخطيب أيضاً، طالب العلم بحاجة ماسة إلى أن ينظر في مثل هذه الكتب؛ لأننا نلاحظ على كثير من طلاب العلم لا سيما من يتصدى لهذا الفن العظيم -أعني الحديث وعلومه- نلاحظ عليهم بعض الشدة والقسوة وشيء من غمط الآخرين، ولا أقول: إن هذا موجود بكثرة لكنه موجود.

ثم ألف القاضي عياض كتاباً لطيفاً أسماه: (الإلماع إلى أصول الرواية وتقييد السماع) لكنه خاص بطرق التحمل والأداء.

ثم بعد ذلكم جاء الإمام أبو عمرو بن الصلاح فألف مقدمته الشهيرة التي جمع فيها ما تفرق مما كتب قبله في كتب الخطيب وغيرها؛ لأن الخطيب ما من نوع من أنواع علوم الحديث إلا وكتب فيه كتاباً مستقلاً، حتى قال الحافظ أبو بكر بن نقطة: "كل من أنصف علم أن كل من جاء بعد الخطيب عيال على كتبه" عالة على كتب الخطيب، ثم بعد ذلكم يقال: الخطيب أساء إلى علوم الحديث، وأدخل فيه من أصول الفقه وعلم الكلام، لا شك أن الناس في القرن الخامس وما بعده تأثروا بعلم الكلام، ويأتي مزيد بسط لهذا الكلام -إن شاء الله تعالى-.
এরপর আবু নুআইমের পর এই শাস্ত্র রচনায় আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যান। অতঃপর আল-খাতীব আল-বাগদাদী, যিনি হাদীস শাস্ত্র এবং বর্ণনার নিয়মাবলী নিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ, আকর্ষণীয় ও উপকারী কিতাব সংকলন করেন যার নাম দেন: ‘আল-কিফায়া ফী কাওয়ানিনির্ রিওয়ায়াহ’। এছাড়া বর্ণনাকারী ও শ্রোতার আদব প্রসঙ্গে তিনি ‘আল-জামি লি-আখলাকির রাবী ওয়া আদাবিস সামি’ নামে আরেকটি কিতাব রচনা করেন। এটি এমন এক মূল্যবান কিতাব যা থেকে কোনো জ্ঞান অন্বেষণকারীর বিমুখ থাকা চলে না। বর্তমান সময়ে আমাদের এই কিতাবটির অতিশয় প্রয়োজন, বিশেষ করে যদি এর সাথে ইবনে আবদিল বার-এর ‘জামি বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’, ইবনে রাজাবের ‘ফাদলু ইলমিস সালাফি আলাল খালাফ’ এবং আল-খাতীবেরই ‘মুকাদ্দিমাতুল মুওয়াদদিহ ফী আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরীক’ কিতাবগুলোকেও যুক্ত করা হয়। একজন তালিবে ইলমের জন্য এই জাতীয় কিতাবগুলো অধ্যয়ন করা একান্ত জরুরি; কারণ আমরা অনেক তালিবে ইলমের মধ্যে—বিশেষ করে যারা এই মহান শাস্ত্র তথা হাদীস ও এর বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করেন—তাদের মাঝে কিছুটা কঠোরতা, রুক্ষতা এবং অন্যদের খাটো করে দেখার প্রবণতা লক্ষ্য করি। আমি বলছি না যে এটি ব্যাপকভাবে বিদ্যমান, তবে এর অস্তিত্ব রয়েছে।

এরপর কাযী ইয়াদ একটি চমৎকার কিতাব রচনা করেন যার নাম দিয়েছেন: ‘আল-ইলমা’ ইলা উসূলির রিওয়ায়াহ ওয়া তাকয়িদিস সামা’। তবে এটি প্রধানত হাদীস গ্রহণ ও প্রদানের (তাহাম্মুল ও আদা) পদ্ধতির সাথে সুনির্দিষ্ট।

এরপর আসলেন ইমাম আবু আমর ইবনুস সালাহ। তিনি তার বিখ্যাত ‘মুকাদ্দিমা’ রচনা করলেন, যাতে তিনি তার পূর্বে খাতীবের কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য উৎসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন। কারণ হাদীস শাস্ত্রের এমন কোনো শাখা নেই যে বিষয়ে আল-খাতীব স্বতন্ত্র কোনো কিতাব রচনা করেননি। এমনকি হাফেজ আবু বকর ইবনু নুকতাহ বলেছেন: “যে ব্যক্তিই ইনসাফ করবে সে বুঝতে পারবে যে, খাতীবের পরে আসা সকলেই তার কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল।” অর্থাৎ তারা খাতীবের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভরশীল। এরপর আবার বলা হয়ে থাকে যে: খাতীব হাদীস শাস্ত্রের ক্ষতি করেছেন এবং এতে উসূলে ফিকহ ও ইলমুল কালামের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পঞ্চম হিজরী ও তার পরবর্তী সময়ের মানুষজন ইলমুল কালাম দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে সামনে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৬)
علوم الحديث لابن الصلاح جمعه من كتب الخطيب وغيرها ورتبه لما ولي تدريس الحديث بالمدرسة الأشرفية فصار يجمع النوع ويحرره وينقحه ثم يمليه على طلابه، ولذا نلاحظ عليه بعض التقديم والتأخير، تقديم ما حقه التأخير والعكس، لكنه كتاب جامع كتاب نافع ماتع، اشتغل الناس به عن غيره، فكان كما قال الحافظ: "لا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر" وهو أهل لأن يولى هذه العناية، اختصره النووي في كتابيه: (الإرشاد والتقريب)، اختصره الحافظ ابن كثير، اختصره العز بن جماعة، اختصره جمع من أهل العلم، نظمه الحافظ العراقي في ألفيته، ونظمه أيضاً غيره من أهل العلم، ونكت عليه الحافظ العراقي وابن حجر وبرهان الدين الأبناسي وجمع من أهل العلم.

 

‌‌كتاب نخبة الفكر وشروحها:

ثم بعد هذا جاء الحافظ ابن حجر فألف نخبته الشهيرة التي اشتغل الناس بها عن غيرها، ولا شك أنها أساس متين بالنسبة لمن يريد الدخول في هذا الفن، لمن يريد الدخول في هذا الفن أعني علوم الحديث.

اشتغل الناس بها، وعنوا بها، فشرحت شروحاً كثيرة، فشروحها بالعشرات لا بالآحاد، ورغم اختصارها اختصرت ونظمت لكونها منثورة، ولا مانع أن نطلع على شيء من عناية أهل العلم بها.

فممن شرحها مؤلفها الحافظ ابن حجر في كتابه: (نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر)، شرحها أيضاً الشيخ: كمال الدين الشمني في كتاب أسماه: (نتيجة النظر)، شرحها أبو الفضل أحمد بن صدقة، المعروف بابن الصيرفي، وابن موسى المراكشي، ومحمد عبد الرؤوف المناوي، وعبد العزيز بن عبد السلام العثماني، وابن همات الدمشقي، وإسماعيل حقي البروسوي، ومحمد بن عبد الله الخرشي المالكي.

والشرح -أعني نزهة النظر- شرح أيضاً من قبل جمع من أهل العلم منهم: ملا علي سلطان القاري، شرحه معروف ومتداول، ومنهم محمد عبد الرؤوف المناوي في كتاب أسماه: (اليواقيت والدرر) وهو مطبوع أيضاً،

منها: (قضاء الوطر) لبرهان الدين اللقاني، و (إمعان النظر) لمحمد أكرم السندي، و (بهجة النظر) لأبي الحسن السندي أيضاً.

 

‌‌حواشي النخبة:
ইবনে আস-সালাহর 'উলূমুল হাদীস'; এটি তিনি আল-খাতীব ও অন্যদের কিতাবসমূহ থেকে সংকলন করেছেন এবং আশরাফিয়্যাহ মাদরাসায় যখন হাদীস পাঠদানের দায়িত্ব পান তখন এটি বিন্যস্ত করেন। তিনি হাদীসের প্রকারগুলো সংকলন করতেন, সেগুলোকে পরিমার্জন ও সংশোধন করতেন, এরপর তাঁর ছাত্রদের কাছে তা শ্রুতিলিপি করাতেন। একারণে আমরা এতে কিছু আগে-পিছে করার বিষয়টি লক্ষ্য করি; যা পরে আসার কথা ছিল তা আগে এবং যা আগে আসার কথা ছিল তা পরে আনা হয়েছে। কিন্তু এটি একটি অত্যন্ত সংকলিত, উপকারী ও চমৎকার কিতাব। মানুষ অন্য কিতাব ছেড়ে এর চর্চায় আত্মনিয়োগ করেছে। হাফেজ যেমনটি বলেছেন: "এটি কতজন ছন্দবদ্ধ করেছেন, সারসংক্ষেপ করেছেন, এর ওপর সংযোজনী লিখেছেন কিংবা সংক্ষিপ্ত করেছেন, এবং কতজন এর বিরোধিতা বা এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তা গণনা করা সম্ভব নয়।" এটি এই পর্যায়ের গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্যই বটে। ইমাম নববী তাঁর দুটি কিতাব 'আল-ইরশাদ' ও 'আত-তাকরীব'-এ একে সংক্ষেপ করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসীর একে সংক্ষেপ করেছেন। ইয বিন জামা'আহ একে সংক্ষেপ করেছেন এবং একদল আলেম একে সংক্ষেপ করেছেন। হাফেজ ইরাকী তাঁর আলফিয়্যাহতে একে ছন্দবদ্ধ করেছেন এবং অন্যান্য আলেমগণও একে ছন্দবদ্ধ করেছেন। হাফেজ ইরাকী, ইবনে হাজার, বুরহানুদ্দীন আল-আবনাসী এবং একদল আলেম এর ওপর টীকা লিখেছেন।

 

‌‌নুখবাতুল ফিকার ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ:

এরপর হাফেজ ইবনে হাজার এলেন এবং তাঁর প্রসিদ্ধ 'নুখবাহ' রচনা করলেন, যা নিয়ে মানুষ অন্য সব বাদ দিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। নিঃসন্দেহে এটি ঐ ব্যক্তির জন্য একটি মজবুত ভিত্তি যে এই শিল্পে প্রবেশ করতে চায়; আমি হাদীসশাস্ত্রের কথা বোঝাচ্ছি।

মানুষ এটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়। ফলে এর অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচিত হয়; এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা দশে নয় বরং বিশ-ত্রিশের উপরে। কিতাবটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও একে পুনরায় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং গদ্য আকারে হওয়ায় ছন্দবদ্ধ করা হয়েছে। আলেমদের এই কিতাবের প্রতি বিশেষ যত্নের কিছু অংশ দেখে নিতে কোনো বাধা নেই।

যারা এর ব্যাখ্যা লিখেছেন তাদের মধ্যে স্বয়ং লেখক হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর 'নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার' কিতাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়াও শেখ কামালুদ্দীন আশ-শুমান্নী 'নাতীজাতুন নাযার' নামক কিতাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন। আবুল ফাদল আহমাদ ইবনে সাদাকাহ—যিনি ইবনে সাইরাফী নামে পরিচিত, এবং ইবনে মুসা আল-মাররাকুশী, মুহাম্মাদ আব্দুর রাউফ আল-মুনাউয়ী, আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুস সালাম আল-উসমানী, ইবনে হাম্মাত আদ-দিমাশকী, ইসমাঈল হাক্কী আল-বুরুসাউয়ী এবং মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খারশী আল-মালিকী এর ব্যাখ্যা করেছেন।

এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি—অর্থাৎ নুযহাতুন নাযার—আবার একদল আলেম ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের মধ্যে মোল্লা আলী সুলতান আল-ক্বারী রয়েছেন, যাঁর ব্যাখ্যাটি সুপরিচিত ও বহুল প্রচলিত। তাদের মধ্যে মুহাম্মাদ আব্দুর রাউফ আল-মুনাউয়ী রয়েছেন 'আল-ইয়াওয়াকীত ওয়াদ দুরার' নামক কিতাবে, যা মুদ্রিত আকারেও পাওয়া যায়।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বুরহানুদ্দীন আল-লাক্কানীর 'কাদাউল ওয়াতার', মুহাম্মাদ আকরাম আস-সিন্দীর 'ইমআুনন নাযার' এবং আবুল হাসান আস-সিন্দীর 'বাহজাতুন নাযার'।

 

‌‌নুখবাহ-এর টীকাগ্রন্থসমূহ:
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৭)
وعليها حواشي كثيرة منها: حاشية تلميذ المصنف قاسم بن قطلوبغا الحنفي، وهذه الحاشية نفيسة استدرك فيها على الحافظ الشيء الكثير، وحاشية لمحمد بن أبي شريف، وحاشية لرضي الدين الحنبلي، وأبي الحسن الأجهوري، وإبراهيم الشهرزوري، وإبراهيم الكردي، ومن الحواشي المطبوعة: (لقط الدرر) للشيخ عبد الله بن حسين العدوي المالكي.

 

‌‌مختصرات النخبة:

والنخبة على اختصارها لها مختصرات من أشهرها: (بغلة الأريب) للمرتضى الحسيني الزبيدي شارح القاموس، ومنها: (المختصر من نخبة الفكر) لعبد الوهاب بن أحمد بن بركات الأحمدي، وهذا المختصر جيد، شرحه محمود شكري الألوسي في كتاب أسماه: (عقد الدرر)، وهناك مختصر للنخبة لمحمد بن مصطفى الخرماني.

 

‌‌نظم النخبة:

ممن نظم النخبة كمال الدين الشمني الذي سبق ذكره في الشراح، في نظم أسماه: (الرتبة في نظم النخبة) وهو نظم جيد، أوله:

وبعد فاعلم أن نخبة الفكر … أجل ما صنف في علم الأثر

قد جمعت أنواع هذا العلم … وقربت قصيه للفهم

فالله يجزي من لها قد صنفا … أعظم ما جازى به مصنفا

ولابنه تقي الدين أحمد بن محمد الشمني شرح على نظم والده سماه: (العالي الرتبة شرح نظم النخبة).

ممن نظمها أحمد بن إبراهيم بن نصر الله العسقلاني، وبرهان الدين محمد بن إبراهيم المقدشي، وشهاب الدين أحمد الطوفي، وشهاب الدين أحمد بن صدقة الصيرفي، ورضي الدين الغزي، وشرح الغزي هذا موجود ولحفيده شهاب الدين شرح على نظم جده.

وممن نظمها الشيخ: منصور الطبلاوي، ومن أهم منظومات النخبة نظم الأمير الصنعاني رحمه الله اسمه: (قصب السكر في نظم نخبة الفكر) وهو كتاب جميل فيه أكثر من مائتي بيت.

يقول الصنعاني رحمه الله لما تكلم عن النخبة:

ألفها الحافظ في حال السفر … وهو الشهاب بن علي بن حجر

ونسخ النظم تختلف من نسخة إلى أخرى، فهذا البيت -أظن- مروي على وجه آخر:

ألفها الحافظ ثاقب النظر … وهو الشهاب بن علي بن حجر

طالعتها يوماً من الأيامِ … فاشتقت أن أودعها نظامِ

فتم من بكرة ذاك اليومِ … إلى المساء عند قدوم النومِ

نظم النخبة في كم بيت؟ مائتين وزيادة، كم أخذت عليه؟ يوم واحد.
এবং এর উপর অনেক টীকা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: গ্রন্থকারের ছাত্র কাসিম ইবনে কুতলুবুগা আল-হানাফীর টীকা; এই টীকাটি অত্যন্ত মূল্যবান, এতে তিনি হাফেযের অনেক বিষয়ের সংশোধন বা পরিপূরক আলোচনা করেছেন। আরও রয়েছে মুহাম্মদ বিন আবি শরীফের টীকা, রাযিউদ্দীন আল-হাম্বলীর টীকা, আবুল হাসান আল-আজহুরী, ইব্রাহীম আশ-শাহরাযুরী এবং ইব্রাহীম আল-কুরদীর টীকা। মুদ্রিত টীকাগুলোর মধ্যে রয়েছে: শায়খ আবদুল্লাহ বিন হুসাইন আল-আদাবী আল-মালিকী রচিত (লাকতুত দুরার)।

 

‌‌নুখবার সংক্ষিপ্তসারসমূহ:

নুখবা নিজেই সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এর আরও কিছু সংক্ষিপ্তসার রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: কামূস-এর ব্যাখ্যাকার মুরতাদা আল-হুসাইনী আজ-যাবীদী রচিত (বুগলাতুল আরব)। আরও রয়েছে: আবদুল ওয়াহহাব বিন আহমাদ বিন বারাকাত আল-আহমাদী রচিত (আল-মুখতাসার মিন নুখবাতিল ফিকার); এই সংক্ষিপ্তসারটি বেশ উত্তম, যা মাহমুদ শুকরী আল-আলুসী (আকদুদ দুরার) নামক গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়া মুহাম্মদ বিন মুস্তাফা আল-খুরমানীর রচিত নুখবার একটি সংক্ষিপ্তসার রয়েছে।

 

‌‌নুখবার কাব্যরূপ:

যারা নুখবাকে কাব্যাকারে সংকলন করেছেন তাদের মধ্যে কামালুদ্দীন আশ-শুমুন্নী অন্যতম, যার কথা ব্যাখ্যাকারদের আলোচনায় ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি (আর-রুতবাহ ফী নাযমিন নুখবাহ) নামে একটি কাব্য রচনা করেছেন এবং এটি একটি চমৎকার কাব্যগ্রন্থ। এর শুরুটা হলো:

অতঃপর জেনে রাখুন যে, নুখবাতুল ফিকার … হাদীস শাস্ত্রে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মহিমান্বিত

এটি এই শাস্ত্রের সকল প্রকারকে একত্রিত করেছে … এবং এর দূরহ বিষয়গুলোকে বুঝার জন্য সহজবোধ্য করেছে

আল্লাহ এর সংকলককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন … যেভাবে তিনি একজন গ্রন্থকারকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন

এবং তার পুত্র তাকিউদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আশ-শুমুন্নীর তার পিতার এই কাব্যগ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম: (আল-আলী আর-রুতবাহ শারহু নাযমিন নুখবাহ)।

যারা এটি কাব্যাকারে সাজিয়েছেন তাদের মধ্যে আরও আছেন আহমাদ বিন ইব্রাহীম বিন নাসরুল্লাহ আল-আসকালানী, বুরহানুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম আল-মাকদিশী, শিহাবুদ্দীন আহমাদ আত-তূফী, শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন সাদাকা আস-সাইরাফী এবং রাযিউদ্দীন আল-গাযযী। আল-গাযযীর এই ব্যাখ্যাটি বিদ্যমান রয়েছে এবং তার পৌত্র শিহাবুদ্দীনেরও তার দাদার কাব্যরূপের ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।

এবং শায়খ মানসূর আত-তাবলাবীও এটি কাব্যাকারে রচনা করেছেন। নুখবার কাব্যরূপগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো আমির আস-সানআনী (রহিমাহুল্লাহ) এর কাব্য, যার নাম: (কাসাবুস সুক্কার ফী নাযমি নুখবাতিল ফিকার)। এটি একটি চমৎকার গ্রন্থ যাতে দুই শতাধিক পঙ্ক্তি রয়েছে।

আস-সানআনী (রহিমাহুল্লাহ) যখন নুখবা সম্পর্কে বলেন:

হাফেয এটি সফর অবস্থায় রচনা করেছেন … আর তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার

কাব্যটির পাণ্ডুলিপি ভেদে পাঠান্তর পরিলক্ষিত হয়। আমার ধারণা, এই পঙ্ক্তিটি অন্যভাবেও বর্ণিত হয়েছে:

সুক্ষ্মদর্শী হাফেয এটি রচনা করেছেন … আর তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার

আমি একদিন এটি পাঠ করলাম … ফলে এটি কাব্যাকারে সাজানোর আকাঙ্ক্ষা জাগল

অতঃপর সেই দিনের ভোরবেলা থেকে শুরু করে … ঘুমানোর সময় সন্ধ্যা অবধি তা সমাপ্ত হলো

নুখবার এই কাব্যরূপ কত পঙ্ক্তির? দুই শতাধিক। এর জন্য তিনি কত সময় নিয়েছেন? মাত্র একদিন।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৮)
طالعتها يوماً من الأيامِ … فاشتقت أن أودعها نظامِ

فتم من بكرة ذاك اليومِ … إلى المساء عند قدوم النومِ

يوماً معمور بالعلم كعادتهم -رحمة الله عليهم-، بخلاف ما نشاهد ونلاحظه على طلاب العلم في هذه الأزمان، الشخص إذا قرأ ساعة أو أقرأ ساعة ظن أنه جاء بما لم تأتِ به الأوائل، وأن الأمة بكاملها لولا هذه الخدمة ما تيسر لها هذا النصر وهذا التمكين، الله المستعان.

ثم بعد هذه الساعة وقبل هذه الساعة يقضي وقته في القيل والقال، لكن على طالب العلم الحريص المتحري المشفق على نفسه أن يعمر وقته بطاعة الله، وتأصيل نفسه بالعلم الشرعي المتلقى من الكتاب والسنة، والله المستعان.

هذا النظم للأمير الصنعاني مشروح من قبل مؤلفه الصنعاني نفسه وشرحه مطبوع، شرحه أيضاً الشيخ: عبد الكريم بن مراد الأثري، ولي عليه شرح مبسوط.

ممن نظمها أيضاً الشيخ: عبد الله بن عمر اليماني، والشيخ عثمان بن سند البصري، وله شرح على نظمه أسماه: (الغرر شرح بهجة البصر).

 

‌‌طبعات النخبة:

النخبة وشرحها للحافظ ابن حجر طبعت مراراً وعليها تعليقات منها -بل من أقدمها غير الحواشي التي ذكرت سابقاً عند من تقدم- من أول من علق على النزهة شخص يقال له: أبو عبد الرحيم محمد كمال الدين الأدهمي، له تعليقات وله تنبيهات لطيفة ومفيدة، لكن في بعضها تحامل ظاهر على ابن حجر، هناك أيضاً حاشية وتعليق للدكتور نور الدين عتر، ولعلي بن حسن بن عبد الحميد الحلبي له أيضاً حواشي ونكت على النخبة وشرحها.
আমি একদিন এটি পাঠ করলাম … ফলে আমি একে কাব্যিক রূপ দিতে আগ্রহী হলাম

আর তা সেই দিনের ভোর থেকে শুরু হয়ে … ঘুমের সময় অর্থাৎ সন্ধ্যা পর্যন্ত সম্পন্ন হলো

তাঁদের স্বভাব অনুযায়ী জ্ঞানচর্চায় মুখরিত একটি দিন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—বর্তমান সময়ের ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে আমরা যা দেখি বা পর্যবেক্ষণ করি তার ঠিক উল্টো। একজন ব্যক্তি যদি এক ঘণ্টা পড়ে বা এক ঘণ্টা পড়ায়, তবে সে মনে করে যে সে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা পূর্বসূরিরা আনতে পারেননি; এবং এই খিদমত না থাকলে পুরো উম্মাহর জন্য এই বিজয় ও প্রতিষ্ঠা অর্জন সহজ হতো না। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

এরপর এই সময়ের আগে এবং পরে সে তার সময় অনর্থক কথাবার্তায় ব্যয় করে। তবে নিজের ব্যাপারে যত্নশীল, সত্য অনুসন্ধানী এবং হিতাকাঙ্ক্ষী ইলম অন্বেষণকারীর উচিত আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তার সময়কে আবাদ করা এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত শারয়ী ইলমের মাধ্যমে নিজেকে সুদৃঢ় করা। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আমির আস-সান’আনির এই কাব্যগ্রন্থটি স্বয়ং লেখক সান’আনি নিজেই ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর ব্যাখ্যাটি মুদ্রিত। শায়খ আব্দুল কারিম বিন মুরাদ আল-আসারিও এর একটি ব্যাখ্যা লিখেছেন এবং এই কিতাবের উপর আমারও একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে।

আরও যাঁরা এটি কাব্যরূপ দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ আব্দুল্লাহ বিন উমর আল-ইয়ামানি এবং শায়খ উসমান বিন সানাদ আল-বাসরি; তাঁর কাব্যের ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার নাম: (আল-গুরার শারহু বাহজাতিল বাসার)।

 

‌‌নুখবার সংস্করণসমূহ:

হাফিজ ইবনে হাজারের ‘নুখবাহ’ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর ওপর অনেক টীকা রয়েছে। পূর্বে উল্লেখিত টীকাগুলো ছাড়াও—বরং সেগুলোর মধ্যে প্রাচীনতমগুলোর একটি হলো—যিনি সর্বপ্রথম ‘নুজাহ’ এর ওপর টীকা লিখেছেন তিনি হলেন আবু আব্দুর রহিম মুহাম্মদ কামালুদ্দিন আল-আদহামি নামক এক ব্যক্তি। তাঁর কিছু টীকা এবং সূক্ষ্ম ও উপকারী সতর্কতা রয়েছে, তবে এর কয়েকটিতে ইবনে হাজারের প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক আচরণ রয়েছে। এছাড়া ডক্টর নূরুদ্দিন ইতর-এর একটি টীকা ও ব্যাখ্যা রয়েছে এবং আলি বিন হাসান বিন আব্দুল হামিদ আল-হালাবি-রও ‘নুখবাহ’ ও এর ব্যাখ্যার ওপর বেশ কিছু টীকা ও পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ৯)
في مقدمة فتح الباري طبعة بولاق سنة (1301هـ) طبع على صفحة العنوان من هدي الساري طبع عليها ما نصه: "قال في الضوء اللامع في ترجمة الحافظ ابن حجر ما لفظه: "وسمعته يقول -يعني السخاوي يقول: "سمعت ابن حجر يقول: "لست راضياً عن شيء من تصانيفي لأني عملتها في ابتداء الأمر، ثم لم يتهيأ لي من تحريرها سوى شرح البخاري ومقدمته والمشتبه والتهذيب ولسان الميزان، بل كان يقول فيها: "لو استقبلت من أمري ما استدبرت لم أتقيد بالذهبي ولجعلته كتاباً مبتكراً"، يقول: "بل رأيته في مواضع أثنى على شرح البخاري -يعني وحق له ذلك- والتغليق والنخبة"، ثم قال: "وأما سائر المجموعات فهي كثيرة العدد، واهية العُدَد، ضعيفة القوى، ضامية الروى، ولكنها كما قال بعض الحفاظ من أهل المائة الخامسة:

ومالي فيه سوى أنني … أراه هوىً وافق المقصدا

وأرجو الثواب بكتب الصلاة … على السيد المصطفى أحمدا

وهذا الحافظ هو أبو بكر البرقاني، وقبل البيتين قوله:

أعلل نفسي بكتب الحديث … وأحمد فيه لها الموعدا

وأشغل نفسي بتصنيفه … وتخريجه دائماً سرمدا

وهذا الكلام المنسوب إلى الضوء اللامع لم أجده فيه، لم أجده في الضوء اللامع، بل هو موجود أو قريب منه في الجواهر والدرر في ترجمة الحافظ ابن حجر للسخاوي، ويهمنا من ذلك أنه راضي عن النخبة.

طالب:. . . . . . . . .

وفي لسان الميزان، اختصر كلام الحافظ الذهبي في ميزان الاعتدال، ثم زاد عليه، بدأ بتجريد كتاب الذهبي وذكر الزوائد ثم اضطرب في الترتيب؛ لأنه تبع كتاب آخر تقيد بكتاب آخر، لكن لو ألفه ابتداءً كان أجود؛ لأن الإنسان وهو يؤلف ابتداءً حر يرتب كيفما شاء، لكن إذا تقيد بالكتاب مشكلة لا بد أن يتبع ذلك الكتاب.

 

‌‌الدعوة إلى نبذ قواعد المتأخرين في مصطلح الحديث:

هناك دعوة تردد على ألسنة بعض طلبة العلم ممن يعتني بالحديث وعلومه ممن هم فيما نحسبهم -والله حسيبهم- من خيار طلاب العلم ولا يساء بهم الظن، هناك هذه الدعوة التي أثيرت قبل سنوات تدعو إلى نبذ قواعد المتأخرين في مصطلح الحديث، والأخذ مباشرة من كتب المتقدمين، لماذا؟ لأن قواعد المتأخرين قد تختلف أحياناً عن مناهج المتقدمين.
১৩০১ হিজরী সালে প্রকাশিত ফাতহুল বারীর বুলাক সংস্করণের ভূমিকায় হাদী-উস-সারীর শিরোনাম পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত কথাটি মুদ্রিত হয়েছে: "আদ-দাউউল লামি' গ্রন্থে হাফেজ ইবনে হাজারের জীবনীতে যা বলা হয়েছে তার শব্দার্থ হলো: 'আমি তাকে বলতে শুনেছি—অর্থাৎ সাখাবী বলছেন: 'আমি ইবনে হাজারকে বলতে শুনেছি: 'আমি আমার কোনো রচনার প্রতি সন্তুষ্ট নই, কারণ আমি সেগুলো প্রাথমিক অবস্থায় রচনা করেছিলাম। পরবর্তীতে সহীহ বুখারীর শারহ (ফাতহুল বারী) ও এর ভূমিকা, আল-মুশতাবিহ, আত-তাহযীব এবং লিসানুল মিজান ব্যতীত অন্য কোনোটি পরিমার্জন করার সুযোগ আমার হয়নি। বরং তিনি সে সম্পর্কে বলতেন: "আমি যদি আমার কর্মজীবনের পেছনের সময়গুলো বর্তমানে পুনরায় ফিরে পেতাম, তবে আমি আয-যাহাবীর (বিন্যাসের) অনুগামী হতাম না এবং একে একটি সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকের কিতাব হিসেবে তৈরি করতাম।" তিনি বলেন: "বরং আমি তাকে বিভিন্ন স্থানে বুখারীর শারহ—যার তিনি প্রকৃতই যোগ্য—আত-তাগলীক এবং আন-নুখবা-এর প্রশংসা করতে দেখেছি।" অতঃপর তিনি বললেন: "আর অন্যান্য সংকলনগুলোর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও সেগুলোর পাণ্ডিত্যপূর্ণ সরঞ্জাম দুর্বল, শক্তি কম এবং বিষয়বস্তু অপরিপক্ক; তবে সেগুলো এমন যেমনটি পঞ্চম শতাব্দীর জনৈক হাফেজ বলেছেন:

আর এতে আমার কোনো ভূমিকা নেই এ ব্যতীত যে, … আমি একে আমার লক্ষ্য অর্জনের অনুকূল একটি পছন্দ মনে করি।

আর আমি (রাসূলের প্রতি) সালাত বা দরুদ লেখার মাধ্যমে সওয়াবের আশা রাখি … সাইয়িদুল মুস্তফা আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর।

আর এই হাফেজ হলেন আবু বকর আল-বারকানী। এই দুটি পংক্তির আগের কথাটি হলো:

আমি হাদীসের কিতাবগুলো দিয়ে আমার মনকে সান্ত্বনা দেই … এবং এতে তার জন্য করা প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করি।

এবং আমি নিজেকে সর্বদা এর সংকলন … ও তাখরীজের কাজে ব্যস্ত রাখি।

আদ-দাউউল লামি'র প্রতি সম্বন্ধযুক্ত এই কথাটি আমি তাতে খুঁজে পাইনি, আমি এটি আদ-দাউউল লামি'-তে পাইনি। বরং এটি সাখাবী কর্তৃক হাফেজ ইবনে হাজারের জীবনী নিয়ে লিখিত আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার গ্রন্থে বিদ্যমান অথবা এর কাছাকাছি কিছু সেখানে রয়েছে। আমাদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, তিনি 'নুখবা' (নুখবাতুল ফিকার) কিতাবটির প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

ছাত্র: . . . . . . . . .

আর লিসানুল মিয়াজানে তিনি হাফেজ যাহাবীর মীজানুল ইতিদালের কথাগুলোকে সংক্ষেপ করেছেন, অতঃপর তাতে কিছু সংযোজন করেছেন। তিনি যাহাবীর কিতাব থেকে মৌলিক অংশটুকু গ্রহণের মাধ্যমে শুরু করেন এবং অতিরিক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করেন; অতঃপর এর বিন্যাসে কিছুটা অসংলগ্নতা দেখা দেয়। কারণ তিনি অন্য একটি কিতাবকে অনুসরণ করতে গিয়ে সেই কিতাবের বিন্যাসে সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি যদি এটি শুরু থেকেই মৌলিকভাবে রচনা করতেন তবে তা আরও উত্তম হতো; কারণ মানুষ যখন মৌলিকভাবে কিছু রচনা করে তখন সে স্বাধীন থাকে এবং নিজের ইচ্ছামতো বিন্যস্ত করতে পারে। কিন্তু যখন কেউ কোনো কিতাবের ওপর ভিত্তি করে কাজ করতে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তখন সমস্যা দেখা দেয় কারণ তাকে ওই কিতাবটিই অনুসরণ করতে হয়।

 

‌‌মুসতালাহুল হাদীসের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলেমদের নীতিমালা বর্জনের আহ্বান:

ইলমে হাদীস ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করেন এমন কিছু ইলম অন্বেষণকারীর মুখে একটি আহ্বান শোনা যায়—যাদেরকে আমরা মনে করি, আর আল্লাহই তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত, যে তারা ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে উত্তম এবং তাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা হয় না—কয়েক বছর আগে এই আহ্বানটি উথাপিত হয়েছে যা মুসতালাহুল হাদীসের ক্ষেত্রে পরবর্তী যুগের আলেমদের (মুতাআখখিরীন) নীতিমালা বর্জন করে সরাসরি পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের (মুতাকাদদিমীন) কিতাবসমূহ থেকে গ্রহণের দাবি জানায়। কেন? কারণ পরবর্তী যুগের নীতিমালাগুলো মাঝে মাঝে পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের কর্মপদ্ধতি থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১০)
فلو أخذنا على سبيل المثال زيادة الثقة، تعارض الوصل والإرسال، تعارض الوقف مع الرفع، لوجدنا أن المتأخرين في كتبهم يحكمون بأحكام مطردة ثابتة، فيقبلون زيادة الثقة مطلقاً، وإن جنح بعضهم إلى ردها مطلقاً.

واقبل زيادات الثقات منهمُ … ومن سواهم فعليه المعظمُ

"وقيل: لا"، ويحتج من قبل زيادة الثقة مطلقاً بأن معه زيادة علم خفيت على من نقص، كما أن من حكم للوصل مطلقاً يقول: معه زيادة خفيت على من أرسل، وهكذا الشأن فيمن حكم للرفع دون الوقف والعكس، يقول: ترد زيادة الثقة لأنها مشكوك فيها، القول الثاني: يحكم بالإرسال لأنه متيقن، والوصل مشكوك فيه، يحكم للوقف لأنه متيقن والرفع مشكوك فيه، وعلى هذا يطردون الأحكام على الأحاديث، بينما نجد الأئمة الكبار كأحمد والبخاري وأبي حاتم والدارقطني لا يحكمون بأحكام عامة مطردة، فتجدهم أحياناً يقبلون الزيادة وأحياناً يردونها، أحياناً يحكمون بالوصل وأحياناً يحكمون بالإرسال، أحياناً يحكمون بالوقف وأحياناً يحكمون بالرفع، فليس هناك لديهم قواعد مطردة، بل يحكمون على كل حديث بما ترجحه القرائن بالنسبة لهذا الحديث على وجه الخصوص، وهذه الدعوة إلى نبذ قواعد المتأخرين وتقليد المتقدمين أقول: في ظاهرها جيدة، لكن مخاطبة الطالب المبتدئ بها تضييع له، حينما يقال للطالب المبتدئ: انبذ قواعد المتأخرين، اترك النخبة، اترك ابن كثير والباعث، اترك ابن الصلاح وألفية العراقي، كيف يتعلم ويتمرن على علم المتقدمين؟ كيف يخاطب الطالب المبتدئ ويقال له: تبدأ بشرح علل الترمذي لابن رجب، أو تبدأ بالإلزامات والتتبع للدارقطني؟ هو ما يعرف الصحيح من الضعيف حتى يبدأ بمثل هذه الكتب.

وإذا قيل له: قلد المتقدمين، لا شك أن المتأخرين عالة على المتقدمين، والأصل في هذا الباب هم المتقدمون، لكن كيف نتعلم على كتب المتقدمين وعلى أحكام المتقدمين؟
আমরা যদি উদাহরণস্বরূপ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য (যিয়াদাতুত থিকাহ), নিরবচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন বর্ণনার বৈপরীত্য, কিংবা স্থগিত ও উত্থাপিত বর্ণনার (ওয়াকফ ও রাফ‘) বৈপরীত্যকে বিবেচনা করি, তবে দেখব যে পরবর্তী যুগের আলেমগণ (মুতাআখখিরিন) তাদের কিতাবসমূহে অবিচল ও সুনির্দিষ্ট বিধানের মাধ্যমে ফয়সালা দিয়েছেন। তারা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশকে নিঃশর্তভাবে গ্রহণ করেন, যদিও তাদের কেউ কেউ তা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যানের দিকেও ঝুঁকেছেন।

তাদের মধ্যে নির্ভরযোগ্যদের অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করো … আর অন্যরা এর উপরেই অধিকাংশের মত পোষণ করেছেন।

"বলা হয়েছে: না", যারা নিঃশর্তভাবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করেন তারা যুক্তি দেন যে, তার কাছে এমন অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে যা সংক্ষিপ্তকারীর কাছে গোপন ছিল। ঠিক তেমনি যারা নিঃশর্তভাবে নিরবচ্ছিন্ন (ওয়াসল) হওয়ার পক্ষে রায় দেন তারা বলেন: তার কাছে এমন অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যা বিচ্ছিন্নভাবে (ইরসাল) বর্ণনা করার ব্যক্তির কাছে ছিল না। ওয়াকফ (স্থগিত) এর বিপরীতে রাফ‘ (উত্থাপন) এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম এবং এর বিপরীতটাও ঘটে। কেউ বলেন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ প্রত্যাখ্যান করা হবে কারণ এটি সন্দেহযুক্ত। দ্বিতীয় মত হলো: বিচ্ছিন্ন বর্ণনার (ইরসাল) পক্ষেই রায় দেয়া হবে কারণ এটি নিশ্চিত, আর নিরবচ্ছিন্নতা (ওয়াসল) সন্দেহযুক্ত। ওয়াকফের পক্ষেই রায় দেয়া হবে কারণ এটি নিশ্চিত আর রাফ‘ সন্দেহযুক্ত। এভাবেই তারা হাদীসসমূহের ওপর এই বিধানগুলো প্রয়োগ করেন। পক্ষান্তরে আমরা ইমাম আহমাদ, বুখারী, আবু হাতিম এবং দারাকুতনীর ন্যায় বড় ইমামগণকে দেখতে পাই যে তারা এমন কোনো সাধারণ ও অবিচল বিধান প্রয়োগ করেন না। বরং দেখা যায় তারা কখনো অতিরিক্ত অংশ গ্রহণ করেন আবার কখনো তা প্রত্যাখ্যান করেন, কখনো নিরবচ্ছিন্নতার (ওয়াসল) পক্ষে রায় দেন আবার কখনো বিচ্ছিন্নতার (ইরসাল) পক্ষে, কখনো ওয়াকফের পক্ষে আবার কখনো রাফ‘ এর পক্ষে। তাদের নিকট এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই, বরং তারা প্রতিটি হাদীসের ক্ষেত্রে সেই হাদীস সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে যেটি অগ্রগণ্য মনে হয় সে অনুযায়ীই ফয়সালা প্রদান করেন। পরবর্তী যুগের আলেমদের উসুল বর্জন করে পূর্ববর্তী ইমামদের অনুসরণের এই যে আহ্বান, আমি বলব: এটি বাহ্যিকভাবে চমৎকার। কিন্তু একজন নবীন শিক্ষার্থীকে এই কথা বলা তাকে ধ্বংস করার নামান্তর। যখন একজন নবীন শিক্ষার্থীকে বলা হয়: পরবর্তী আলেমদের নিয়মগুলো বর্জন করো, 'নুখবাহ' ছেড়ে দাও, ইবনে কাসীর ও 'আল-বায়িছ' ছেড়ে দাও, ইবনুস সালাহ এবং ইরাকীর 'আলফিয়্যাহ' বাদ দাও; তবে সে কীভাবে পূর্ববর্তী ইমামদের ইলম শিখবে এবং অনুশীলন করবে? একজন নবীন শিক্ষার্থীকে কীভাবে বলা সম্ভব যে তুমি ইবনে রজবের 'শারহু ইলালিত তিরমিযী' দিয়ে পড়া শুরু করো, অথবা দারাকুতনীর 'আল-ইলযামাত ওয়াত তাতাব্বু' দিয়ে শুরু করো? সে তো সহীহ ও যয়ীফ হাদীসের পার্থক্যই বোঝে না, সে কীভাবে এই ধরণের কিতাব দিয়ে শুরু করবে?

আর যদি তাকে বলা হয়: পূর্বসূরিদের অনুসরণ করো; তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে পরবর্তী যুগের আলেমগণ পূর্বসূরিদের কাছে ঋণী এবং এই শাস্ত্রের মূল হলেন পূর্বসূরিগণই। কিন্তু আমরা কীভাবে পূর্বসূরিদের কিতাব এবং তাদের প্রদত্ত বিধান থেকে শিক্ষা লাভ করব?
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১১)
طالب مبتدئ في حكم العامي كيف يتمرن على قواعد المتقدمين؟ لا بد من أن يتمرن على قواعد المتأخرين، ويضبط هذه القواعد ويتقنها، ثم يبدأ بنفسه يخرج وينظر في الأسانيد، وإذا أكثر من ذلك وتأهل وصارت لديه أهلية النظر، وتأهل لمحاكاة المتقدمين في أحكامهم على الحديث بالقرائن، لا بأس هذا فرضه؛ لأن المتأخرين عالة على المتقدمين.

فإذا أراد أن يحكم على حديث: ((لا نكاح إلا بولي)) كيف يحكم عليه؟ وقد حكم البخاري بوصله وأبو حاتم بإرساله؟ كيف يحكم على هذا الحديث؟ هل لديه أهلية لينظر بين أقوال أهل العلم بالقرائن فيرجح ما ترجحه القرائن، ماذا عنده من القرائن؟ أئمة كبار يحفظون مئات الألوف من الأحاديث، يكفيهم من الحديث شمه من أجل أن يحكموا عليه، أحكام المتقدمين فرع عن علم المتقدمين، علم المتقدمين قليل جداً، إيش معنى قليل؟ قليل الكلام وهو علم مبارك، يعني ما تركوا شيء ما حكموا عليه لكنه مبارك، من يطالع في: (فضل علم السلف على الخلف) للحافظ ابن رجب رحمه الله عرف كيف يحكم المتقدمون؟ وكيف يفتي المتقدمون؟ بينما علم المتأخرين كثير، كثير جداً، تجده إذا أراد أن يشرح مسألة يأخذ عليها ساعة، ويكتفي المتقدم بكلمة.

يقول ابن رجب -رحمه الله تعالى-: "من فضل عالماً على آخر بكثرة الكلام فقد فضل الخلف على السلف" ونحن نبهر إذا وجدنا الشخص واضح العبارة بين الأسلوب، وماذا وراء ذلك من العلم والعمل؟! والله المستعان.

أعود إلى المسألة فأقول: إذا كان الطالب ينصح وهو مبتدئ بمحاكاة المتقدمين في أحكامهم على الأحاديث، حديث: ((لا نكاح إلا بولي)) حكم الإمام البخاري بوصله وحكم أبو حاتم بإرساله بما تحكم أنت؟ هل أنت مطالب بتقليد الأئمة في كل حديث تبعاً لهذه الدعوى؟ الأئمة ما اتفقوا في الحكم على حديث واحد، كيف تقلدهم؟ تقلد من؟ هل لديك أهلية وأنت مبتدئ أن تقول: أنا أقلد الإمام أحمد أو أقلد البخاري بإطلاق؟ ما استفدت قد يكون الصواب مع البخاري أو مع أحمد أحياناً.
একজন শিক্ষানবিস ছাত্র, যে একজন সাধারণ ব্যক্তির পর্যায়ে পড়ে, সে কীভাবে পূর্বসূরিদের মূলনীতিগুলোর ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে? তাকে অবশ্যই উত্তরসূরিদের মূলনীতিগুলোর ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং এই মূলনীতিগুলো আয়ত্ত ও সুনিপুণ করতে হবে। এরপর সে নিজেই সূত্রগুলো যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার কাজ শুরু করবে। যখন সে এই কাজে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে, দক্ষ হবে এবং পর্যালোচনার যোগ্যতা অর্জন করবে, আর পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে হাদিসের ব্যাপারে পূর্বসূরিদের সিদ্ধান্তের অনুকরণ করার যোগ্যতা লাভ করবে, তখন তাতে কোনো বাধা নেই; বরং এটাই তার দায়িত্ব, কারণ উত্তরসূরিরা তো পূর্বসূরিদেরই মুখাপেক্ষী।

এখন সে যদি 'অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই' এই হাদিসটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে চায়, তবে কীভাবে দিবে? অথচ ইমাম বুখারি একে নিরবচ্ছিন্ন বলেছেন এবং আবু হাতিম একে বিচ্ছিন্ন বলেছেন। সে কীভাবে এই হাদিসটির ব্যাপারে হুকুম দিবে? পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আলেমদের মতামতের পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো যোগ্যতা কি তার আছে? তার কাছে কী প্রমাণ রয়েছে? বড় বড় ইমামগণ লক্ষ লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখতেন, তাদের জন্য হাদিসের সুঘ্রাণ পাওয়াই যথেষ্ট ছিল সেটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য। পূর্বসূরিদের সিদ্ধান্তগুলো ছিল তাদের ইলমেরই বহিঃপ্রকাশ। পূর্বসূরিদের ইলম ছিল খুব সামান্য। সামান্য এর অর্থ কী? তাদের কথা ছিল অল্প কিন্তু সেই ইলম ছিল বরকতপূর্ণ। অর্থাৎ এমন কোনো বিষয় নেই যার ওপর তারা সিদ্ধান্ত দেননি, কিন্তু তা ছিল বরকতপূর্ণ। হাফেজ ইবনে রজব (রহ.)-এর 'ফাদলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ' গ্রন্থটি যে পাঠ করবে, সে জানতে পারবে পূর্বসূরিরা কীভাবে হুকুম দিতেন এবং কীভাবে ফতোয়া দিতেন। পক্ষান্তরে উত্তরসূরিদের ইলম অনেক, অনেক বেশি। আপনি দেখবেন, তারা যখন কোনো একটি মাসয়ালা ব্যাখ্যা করতে যান তখন এক ঘণ্টা সময় নেন, অথচ একজন পূর্বসূরি একটি মাত্র শব্দেই তা সেরে ফেলতেন।

ইবনে রজব (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি কথার প্রাচুর্যের কারণে একজন আলেমকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করে, সে মূলত পূর্বসূরিদের ওপর উত্তরসূরিদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করল।" আমরা তো তখন অভিভূত হই যখন দেখি কোনো ব্যক্তির প্রকাশভঙ্গি অনেক সাবলীল ও স্পষ্ট; কিন্তু সেই বাচনভঙ্গির পেছনে ইলম ও আমলের কী অবস্থা?! আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আমি পূর্বের আলোচনায় ফিরে বলছি: কোনো শিক্ষার্থীকে যদি তার শুরু অবস্থায় হাদিসের ব্যাপারে পূর্বসূরিদের সিদ্ধান্তের অনুকরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়—যেমন: 'অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই' হাদিসটি সম্পর্কে ইমাম বুখারি নিরবচ্ছিন্ন হওয়ার এবং আবু হাতিম বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন, এমতাবস্থায় আপনি কী ফয়সালা দেবেন? এই দাবির প্রেক্ষিতে আপনি কি প্রতিটি হাদিসে ইমামদের তাকলিদ করতে বাধ্য? ইমামগণ তো কোনো একটি হাদিসের হুকুমের ব্যাপারে একমত হননি। আপনি কীভাবে তাদের তাকলিদ করবেন? কার তাকলিদ করবেন? শুরু করা একজন ছাত্র হিসেবে আপনার কি এই যোগ্যতা আছে যে আপনি বলবেন: "আমি নিঃশর্তভাবে ইমাম আহমাদ কিংবা ইমাম বুখারির তাকলিদ করি"? এতে আপনি লাভবান হতে পারলেন না, কারণ কখনো বুখারির কথা সঠিক হতে পারে আবার কখনো আহমাদের কথা সঠিক হতে পারে।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১২)
إذا حكم البخاري بأن حديث رفع اليدين بعد الركعتين مرفوع إلى النبي عليه الصلاة والسلام، واعتمد عليه من حديث ابن عمر في صحيحه وحكم عليه الإمام أحمد بالوقف تقلد من من المتقدمين؟ إن كان المقصود تقليد المتقدمين في كل حديث حديث فلا شك أنه مستحيل؛ لأن أحكام المتقدمين متباينة في الأحكام على الحديث، بل وفي أحكامهم على الرجال، فمن نقلد من المتقدمين؟ إن كان المقصود محاكاة المتقدمين في أحكامهم على الأحاديث فنقول: كلام جميل وطيب وممكن، لكن كيف مبتدئ؟ كيف يحاكي المتقدمين فيحكم على الحديث بالقرائن وهو ما يعرف القرائن؟ قد يكون الشاهد لهذا الحديث أو المتابع لهذا الحديث بعد ورقة من الحديث الذي يدرسه، وهو لا يعرفه ولم يطلع عليه، كيف يحكم على الأحاديث بالقرائن؟ نقول: لا بد من معاناة كتب المتأخرين، وإدامة النظر فيها وفهمها وإتقانها ثم بعد ذلكم التمرين والتخرج على هذه الكتب بالإكثار من تخريج الأحاديث، ودراسة أسانيدها، وجمع طرقها وشواهدها ومتابعاتها، ثم بعد ذلكم إذا تأهل الطالب يقال له: فرضك محاكاة المتقدمين ولا تقلد المتأخرين، ونظير هذه الدعوى دعوى سبقتها بأكثر من عشرين سنة تدعو إلى نبذ كتب الفقه والتفقه مباشرة من الكتاب والسنة، لا نختلف مع أحد في أن الأصل الكتاب والسنة، وأنه لا علم إلا من الكتاب والسنة، لكن كيف يتفقه الطالب المبتدئ من الكتاب والسنة؟ هل لديه من الأهلية ما يمكنه من ذلك؟ هل حفظ من النصوص ما يدفع به التعارض ويتمكن من الجمع بينها؟ هل عرف المطلق والمقيد، والناسخ والمنسوخ، والعموم والخصوص؟ هذا الطالب الذي يخاطب بمثل هذا الكلام، اترك كتب الفقه، هذه أقوال الرجال، بل وجد من أحرق بعض الكتب كالزاد وغيره، ويتندرون بطلاب العلم ويقولون لمن حفظ الزاد: صار حكماً بين العباد، مبالغة في التنفير من هذه الكتب، نقول: لا، الطالب المبتدئ لا بد أن يتفقه على الجادة، فيفهم الزاد، أو غيره من الكتب، من غير إلزام بكتاب معين، المقصود أنه يسلك الجادة، يأتي إلى الزاد وهو على سبيل المثال من أجمع الكتب، والزاد من أجمع الكتب وأكثرها مسائل، يأتي إليه الطالب فيفهم المسائل، إن كان ممن تسعفه الحافظة فيحفظ وإلا

ইমাম বুখারি যদি এই রায় প্রদান করেন যে, দুই রাকাতের পর হাত তোলার হাদিসটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত এবং তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসের ওপর নির্ভর করেন, অথচ ইমাম আহমাদ একে সাহাবী পর্যন্ত সীমিত বলে রায় দেন, তবে আপনি পূর্ববর্তীদের মধ্যে কার অনুসরণ করবেন? যদি উদ্দেশ্য হয় প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের অন্ধ অনুসরণ করা, তবে নিঃসন্দেহে তা অসম্ভব; কারণ হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের রায়সমূহ ভিন্ন ভিন্ন, এমনকি বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও তাদের সিদ্ধান্তগুলো পৃথক। এমতাবস্থায় আমরা পূর্ববর্তীদের কার অনুকরণ করব? যদি উদ্দেশ্য হয় হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তীদের পদ্ধতির অনুসরণ করা, তবে আমরা বলব: এটি অত্যন্ত চমৎকার, উত্তম এবং সম্ভব। কিন্তু একজন শিক্ষানবিশ তা কীভাবে করবে? সে কীভাবে পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে হাদিসের ওপর হুকুম দেবে, অথচ সে পারিপার্শ্বিক প্রমাণ কী তা-ই চেনে না? হতে পারে সংশ্লিষ্ট হাদিসের কোনো সমর্থক বা সহযোগী বর্ণনাটি সে যে হাদিসটি অধ্যয়ন করছে তার ঠিক পরের পৃষ্ঠাতেই রয়েছে, অথচ সে তা জানে না এবং দেখেনি। সে কীভাবে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে হাদিসের বিচার করবে? আমরা বলি: অবশ্যই পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং সেগুলোতে নিয়মিত গভীর দৃষ্টি রেখে তা বুঝতে ও আয়ত্ত করতে হবে। এরপর এই কিতাবগুলোর ওপর অনুশীলন ও পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে—প্রচুর পরিমাণে হাদিসের উৎস অনুসন্ধান করা, বর্ণনাসূত্রসমূহ অধ্যয়ন করা এবং হাদিসের বিভিন্ন পথ, সমর্থক ও সহযোগী বর্ণনাগুলো সংকলন করার মাধ্যমে। অতঃপর যখন ছাত্রটি যোগ্য হয়ে উঠবে, তখন তাকে বলা হবে: আপনার জন্য এখন পূর্ববর্তীদের পদ্ধতির অনুসরণ করা আবশ্যক এবং পরবর্তীদের অন্ধ অনুকরণ করবেন না। এই দাবির সমরূপ একটি দাবি এর আগে বিশ বছরেরও বেশি সময় পূর্বে উত্থাপিত হয়েছিল, যা ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ বর্জন করে সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জনের আহ্বান জানাত। কুরআন ও সুন্নাহ যে মূল ভিত্তি এবং কুরআন ও সুন্নাহ ছাড়া যে কোনো প্রকৃত জ্ঞান নেই—এ বিষয়ে আমরা কারো সাথে দ্বিমত পোষণ করি না। কিন্তু একজন শিক্ষানবিশ ছাত্র কীভাবে সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করবে? তার কি সেই যোগ্যতা আছে যা তাকে এতে সক্ষম করবে? সে কি এমন পরিমাণ মূল পাঠ মুখস্থ করেছে যার দ্বারা সে বৈপরীত্য দূর করতে এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে সক্ষম হবে? সে কি শর্তহীন ও শর্তযুক্ত, রহিতকারী ও রহিত এবং সাধারণ ও বিশেষ বিধান সম্পর্কে অবগত? এই সেই ছাত্র যাকে সম্বোধন করে এমন কথা বলা হচ্ছে—'ফিকহের কিতাবসমূহ ত্যাগ করো, এগুলো তো মানুষের কথা'। এমনকি এমন লোকও পাওয়া গেছে যারা 'যাদ' ও অন্যান্য কিতাব পুড়িয়ে ফেলেছে। তারা ইলমে দীনের ছাত্রদের বিদ্রূপ করে এবং যারা 'যাদ' মুখস্থ করে তাদের সম্পর্কে বলে: 'সে তো এখন সৃষ্টির মাঝে বিচারক হয়ে গেছে'—এই কিতাবগুলোর প্রতি মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করার ক্ষেত্রে চরম বাড়াবাড়ি হিসেবেই তারা এমনটি বলে থাকে। আমরা বলি: না, শিক্ষানবিশ ছাত্রকে অবশ্যই স্বীকৃত মূল ধারার ওপর ফিকহ অর্জন করতে হবে। সে 'যাদ' কিংবা অন্য কোনো কিতাব বুঝবে, কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই। উদ্দেশ্য হলো সে যেন সঠিক পথ অনুসরণ করে। সে 'যাদ' কিতাবটির কাছে আসবে—যা উদাহরণস্বরূপ অত্যন্ত সংকলিত একটি কিতাব এবং এতে প্রচুর মাসআলা রয়েছে। ছাত্রটি সেখানে আসবে এবং মাসআলাগুলো বুঝবে। যদি তার স্মৃতিশক্তি তাকে সহায়তা করে তবে সে তা মুখস্থ করবে, অন্যথায়...

(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৩)
يقتصر على الفهم، يأتي إلى الزاد مسألة مسألة فينظر في هذه المسألة في قول المؤلف كذا، يراجع الشرح، يتصور المسألة على وجهها، يستدل لهذه المسألة، يلتمس الدليل لهذه المسألة، ثم ينظر من قال بما قاله المؤلف من أهل العلم؟ وبما استدلوا؟ من خالف هذا القول؟ وبما استدل؟ ثم يوازن بين الأدلة، وهذه مرحلة لاحقة، يعني المبتدئ يكفيه أن يعرف هذه المسائل ويتصورها على الوجه الصحيح ثم مرحلة ثانية يستدل لهذه المسائل، ثم مرحلة ثالثة يقارن بين أقوال الأئمة مع أدلتها، ويرجح القول الراجح إذا تأهل، ليس معنى هذا أن الزاد دستور مثل القرآن لا يحاد عنه، لا، الزاد فيه أكثر من ثلاثين مسألة خالف فيها المذهب، فضلاً عن القول الراجح، حينما ينصح بالزاد أو بغيره من الكتب ليس معنى هذا أنها ضربة لازب، لا، لا يحاد عنها، إنما يتمرن عليه، مثل خطة البحث، تتخذ هذا الكتاب خطة ومنهج تسير عليه، تتفقه عليه، فإذا تصورت مسائله وذكرت الأدلة وعرفت من خالف بدليله واستطعت أن توازين بين الأقوال بأدلتها، ورجحت القول الراجح وما تدين الله به، وهذه –مثلما ذكرنا- مرحلة ثالثة، حينئذ تتأهل لأن تتفقه من الكتاب والسنة، أما تتفقه من الكتاب والسنة كيف تتفقه منه؟ تجد آية عامة تخصيصها في حديث مثلاً قد لا تقف عليه إلا بعد سنوات، تجد آية مطلقة حديثها مقيدها حديث لا تقف عليه إلا بعد مدة طويلة، حديث تنظر فيه في أوائل صحيح البخاري لا تقف على ناسخه إلا آخر ابن ماجه، متى تتفقه على الكتاب والسنة؟ نعم إذا تأهلت فرضك الاجتهاد، ولا يجوز لك أن تقلد الرجال، إذا تأهلت لكن قبل أن تتأهل الطالب المبتدئ في حكم العامي فرضه التقليد، اسألوا أهل الذكر، فرضه سؤال أهل العلم، في حكم العامي، لكن إذا تأهل، يعني شخص يقرأ في كتاب من كتب السنة: باب الأمر بقتل الكلاب، ويتفقه من السنة، ثم يأخذ المسدس وما شاف من كلب قتله، درسه في الكتاب نفسه من الغد: باب نسخ الأمر بقتل الكلاب، فمثل هذا يتفقه من الكتاب والسنة؟ وفي كتب الفقه مباشرة والأمر بقتل الكلاب منسوخ ينتهي الإشكال، ينظر كيف جاء الأمر بقتل الكلاب؟ من خلال هذه الجملة ينظر في أحاديث .. ، لأنه دُل على أن هناك أمر بقتل

তিনি কেবল উপলব্ধি বা বুঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তিনি যদ-এর প্রতিটি মাসআলা একে একে ধরেন এবং এই মাসআলাটি সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য দেখেন, ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করেন, মাসআলাটিকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করেন, এই মাসআলার পক্ষে দলীল তালাশ করেন, এই মাসআলার সপক্ষে প্রমাণ খুঁজেন। এরপর তিনি দেখেন আলেমগণের মধ্যে আর কে লেখকের মতের সপক্ষে কথা বলেছেন? এবং তারা কী দলীল দিয়েছেন? কে এই মতের বিরোধিতা করেছেন? এবং তিনি কী দলীল পেশ করেছেন? এরপর তিনি দলীলসমূহের মধ্যে তুলনা করেন। এটি একটি পরবর্তী ধাপ। অর্থাৎ, একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য এই মাসআলাগুলো জানা এবং সেগুলো সঠিকভাবে উপলব্ধি করাই যথেষ্ট। এরপর দ্বিতীয় ধাপে এই মাসআলাগুলোর দলীল তালাশ করা হয়। এরপর তৃতীয় ধাপে ইমামদের বক্তব্যসমূহকে তাদের দলীলসহ তুলনা করা হয় এবং যোগ্য হলে রাজেহ বা অধিকতর বিশুদ্ধ মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর অর্থ এই নয় যে, যদ (কিতাবটি) কুরআনের মতো কোনো সংবিধান যা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না; না, যদ-এ এমন তিরিশটিরও বেশি মাসআলা রয়েছে যা মাযহাবেরই পরিপন্থী, রাজেহ বা বিশুদ্ধ মতের কথা তো বলাই বাহুল্য। যখন যদ বা অন্য কোনো কিতাব পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তখন তার অর্থ এই নয় যে এটি কোনো অলঙ্ঘনীয় বিষয় যা থেকে সরে আসা যাবে না। বরং এর মাধ্যমে অনুশীলন করা হয়, যেমনটি কোনো গবেষণার রূপরেখা হয়ে থাকে। আপনি এই কিতাবটিকে একটি পরিকল্পনা ও পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করবেন যার ওপর ভিত্তি করে আপনি অগ্রসর হবেন এবং ফিকহ অর্জন করবেন। যখন আপনি এর মাসআলাগুলো উপলব্ধি করবেন, দলীলগুলো উল্লেখ করবেন এবং কে দলীলসহ এর বিরোধিতা করেছেন তা জানবেন, আর মতগুলোর মধ্যে তাদের দলীলসহ তুলনা করতে সক্ষম হবেন এবং রাজেহ মতটি ও যার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর দ্বীন পালন করবেন তা চিহ্নিত করতে পারবেন—আর এটি যেমন আমরা উল্লেখ করেছি একটি তৃতীয় ধাপ—তখন আপনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আর সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করা—সেটি আপনি কীভাবে করবেন? আপনি হয়ত একটি সাধারণ (আম) আয়াত পাবেন যার সুনির্দিষ্টকরণ (তাখসিস) কোনো হাদিসে রয়েছে যা পেতে আপনার কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। আপনি একটি শর্তহীন (মুতলাক) আয়াত পাবেন যার শর্তযুক্তকারী (মুকাইয়িদ) হাদিসটি দীর্ঘ সময় পর ছাড়া আপনি খুঁজে পাবেন না। সহীহ বুখারীর শুরুর দিকে আপনি একটি হাদিস দেখলেন অথচ এর রহিতকারী (নাসিখ) হাদিসটি ইবনে মাজাহর শেষে ছাড়া আপনি পাবেন না। তাহলে কখন আপনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করবেন? হ্যাঁ, আপনি যখন যোগ্য হবেন তখন ইজতিহাদ করা আপনার ওপর ফরয এবং তখন আপনার জন্য ব্যক্তিদের তাকলীদ করা জায়েয হবে না। তবে আপনি যোগ্য হওয়ার পূর্বে, একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থী একজন সাধারণ মানুষের হুকুমভুক্ত, যার কর্তব্য হলো তাকলীদ করা। ‘তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো’; তার কর্তব্য হলো আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা, কারণ সে তখন সাধারণ মানুষের পর্যায়ে। কিন্তু যখন সে যোগ্য হবে (তখন ভিন্ন কথা)। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি সুন্নাহর কোনো কিতাবে পড়ল: ‘কুকুর হত্যার নির্দেশ সংক্রান্ত অধ্যায়’, এবং সে সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করতে চাইল। এরপর সে একটি পিস্তল নিয়ে যে কুকুর দেখল তাকেই মেরে ফেলল। পরদিন সে একই কিতাবে পরবর্তী পাঠে পেল: ‘কুকুর হত্যার নির্দেশ রহিত হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়’। এখন এমন ব্যক্তি কি সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করছে? অথচ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে সরাসরি বলা থাকে যে কুকুর হত্যার নির্দেশটি রহিত হয়ে গেছে, ফলে সংশয়টি সেখানেই নিরসন হয়। তখন সে দেখে কীভাবে কুকুর হত্যার নির্দেশ এসেছিল? এই বাক্যের মাধ্যমেই সে হাদিসগুলো পর্যবেক্ষণ করে... কারণ তাকে পথনির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে সেখানে হত্যার একটি নির্দেশ ছিল।

(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৪)
الكلاب، ودُل من خلال هذه الجملة أن هناك نسخ لهذا الأمر بجملة واحدة، لا يعني هذا أننا ندعو إلى التقليد، لا والله، بل فرض طالب العلم المتأهل الاجتهاد، الاجتهاد حسب القدرة والطاقة، وإلا الاجتهاد المطلق لو قيل باستحالته لما بعد، وقد أغلقه الأئمة من قديم، أغلقه العلماء، أغلقوا باب الاجتهاد، لكنه مفتوح، وشرطوا له شرائط، لكن إيش معنى الاجتهاد المطلق الذي هو مفتوح؟ هل معناه الاجتهاد في كل مسألة مسألة بجميع ما تطلبه هذه المسألة؟ يعني إذا أردنا حكم من الأحكام وبحثنا فيما جاء في هذا الحكم من نصوص جئنا إلى ما جاء في القرآن، جئنا إلى ما ذكر في السنة من أحاديث وجمعنا طرق هذه الأحاديث ونظرنا في رجال هذه الطرق واحداً بعد واحد، فبدأنا بأول إسناد وفيه خمسة ستة من الرواة، ولك راوٍ من الرواة فيه أقوال تصل أحياناً إلى العشرين عن أهل العلم، عن أهل الشأن.

فإن أردت أن تحكم على هؤلاء الخمسة والستة والسبعة من خلال هذه الأقوال العشرين، وأردت أن ترجح وتوازن بين هذه الأقوال، الراوي الواحد يحتاج إلى وقت طويل، ثم الذي يليه، ثم الذي يليه، ثم الذي يليه، إلى ستة، ثم بعد ذلكم الطريقة الثاني، إن احتجت إليه، ثم الثالث إن احتجت إليه، وهكذا، وهذا كله في مسألة واحدة تأتي إلى المسألة التي تليها فتصنع بها مثل ما صنعت بالمسألة الأولى، هذا إذا أردت أن تجتهد في الاستنباط وفي إثبات عمدة الاستنباط، .... إثبات الدليل، لا شك أن هذا يحتاج إلى وقت طويل.

وإذا عرفنا أن شيخنا الشيخ عبد العزيز بن باز أو الألباني أو غيرهما -رحمة الله على الجميع- ممن يشار إليه بالتفرد في هذا العلم لم يخرجوا عن ربقة التقليد في هذا العلم، كيف ذلك؟
কুকুরসমূহ; এবং এই বাক্যের মাধ্যমে নির্দেশিত হয়েছে যে, একটি বাক্যের মাধ্যমেই এই আদেশের রহিতকরণ বা নাসখ ঘটেছে। এর অর্থ এই নয় যে আমরা তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের দিকে আহ্বান করছি, আল্লাহর কসম, না; বরং একজন যোগ্য ইলম অন্বেষণকারীর ওপর তার শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী ইজতিহাদ করা ফরজ। অন্যথায় 'পরিপূর্ণ ইজতিহাদ' বা ইজতিহাদে মুতলাক সম্পর্কে যদি একে অসম্ভব বলা হয়, তবে তা অবাস্তব কিছু হবে না। আইম্মায়ে কেরাম প্রাচীনকাল থেকেই এটি বন্ধ করে দিয়েছেন; উলামায়ে কেরাম ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন, যদিও তা প্রকৃতপক্ষে উন্মুক্ত এবং তাঁরা এর জন্য কিছু শর্তারোপ করেছেন। কিন্তু সেই উন্মুক্ত 'পরিপূর্ণ ইজতিহাদে'র অর্থ কী? এর অর্থ কি প্রতিটি মাসআলায় সেই মাসআলার প্রয়োজনীয় সকল বিষয় নিয়ে ইজতিহাদ করা? অর্থাৎ, যদি আমরা কোনো বিধান জানতে চাই এবং সেই বিধান সম্পর্কে বর্ণিত নصوص বা দলিলসমূহ নিয়ে গবেষণা করি, তবে আমরা কুরআনে যা এসেছে তা দেখি, সুন্নাহর হাদিসসমূহ দেখি এবং সেই হাদিসগুলোর সূত্র বা তরিকসমূহ একত্র করি এবং এই সূত্রগুলোর বর্ণনাকারীদের ওপর একের পর এক দৃষ্টিপাত করি। এরপর আমরা প্রথম ইসনাদ দিয়ে শুরু করি যাতে পাঁচ বা ছয়জন বর্ণনাকারী রয়েছেন, আর এই বর্ণনাকারীদের প্রত্যেকের ব্যাপারে ইলম ও বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের কখনও কখনও বিশটি পর্যন্ত মতামত থাকে।

এখন যদি আপনি এই বিশটি মতামতের আলোকে ওই পাঁচ, ছয় বা সাতজন বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান এবং এই মতগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার প্রদান ও ভারসাম্য বিধান করতে চান, তবে কেবল একজন বর্ণনাকারীর জন্যই দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। এরপর তার পরের জন, এরপর তার পরের জন, এরপর তার পরের জন—এভাবে ছয়জন পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় সূত্র, যদি আপনার প্রয়োজন হয়; এরপর তৃতীয় সূত্র, যদি প্রয়োজন হয়—এভাবেই চলতে থাকে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র একটি মাসআলার ক্ষেত্রে। এরপর আপনি পরবর্তী মাসআলায় এসে আগের মাসআলার মতো একই কাজ করবেন। আপনি যদি মাসআলা উদ্ভাবন বা ইস্তিনবাতের ক্ষেত্রে এবং ইস্তিনবাতের মূল ভিত্তি অর্থাৎ দলিল সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করতে চান, তবে নিঃসন্দেহে এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

আর আমরা যদি জানি যে আমাদের শায়খ, শায়খ আবদুল আজিজ বিন বাজ অথবা আলবানি অথবা তাঁদের ব্যতীত অন্য আলেমগণ—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন—যাঁরা এই ইলমে অনন্য হিসেবে স্বীকৃত, তাঁরাও এই ইলমের ক্ষেত্রে তাকলিদের গণ্ডি থেকে বের হতে পারেননি। সেটা কীভাবে?
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৫)
أنت إذا أردت أن تجمع حديث بطرقه يمكن يجتمع لك من الرجال في هذا الحديث في مجموع طرقه أكثر من مائة رجل، مائة رجل في كل راوٍ ثلاثة أقوال خمسة عشرة، وصل بعضهم إلى عشرين، كم عندك من قول لأهل العلم في حديث واحد، في رواة هذا الحديث، قد تتداخل بعض الطرق مع بعض، لكن افرض أن عندك كم؟ كمٍ هائل، ألف قول لرجال طرق هذا الحديث، تحتاج إلى عمر، فأنت إن اتجهت إلى هذا وعنيت بالرواية لا شك أنه على حساب الدراية، وهذا ظاهر في صنيع من؟ الألباني -رحمه الله تعالى-.

وإن اتجهت إلى الدراية مع العناية بالاعتماد على الكتاب والسنة لا شك أنه على حساب الرواية، وهذا ما يصنعه الشيخ عبد العزيز رحمه الله، يكفيه أن يثبت الخبر، أو يثبته أحد الأئمة، وهما –أعني الشيخ عبد العزيز والشيخ الألباني -رحمة الله على الجميع- يعتمدان اعتماداً أغلبياً على التقريب، وهذا تقليد ما خرجنا من التقليد؛ لأن التقريب يحكي وجهة نظر ابن حجر رحمه الله، تجد هناك التقريب التقريب، وهو عمدة كثير من أهل العلم، لكن نضرب مثال بهذين الإمامين لأنهما بلغا الغاية في نظرنا، وأفنيا العمر الطويل في خدمة هذا العلم، فإذا أردنا أن نقلد ابن حجر في الحكم على الرجال -ولا مفر من التقليد- رأينا أن ابن حجر أيضاً وقعت له أوهام في التقريب، له أوهام في التقريب، ليس بمعصوم.
আপনি যদি কোনো হাদীস তার সকল সূত্রসহ একত্র করতে চান, তবে আপনার কাছে সেই হাদীসের সমস্ত সূত্রে একশ’রও বেশি বর্ণনাকারী জমা হতে পারে। একশ জন বর্ণনাকারী—প্রতিজন বর্ণনাকারী সম্পর্কে তিন বা পনেরোটি উক্তি, এমনকি কোনো ক্ষেত্রে তা বিশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাহলে একটি মাত্র হাদীসের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে আপনার কাছে আলেমদের কতগুলো উক্তি জমা হচ্ছে? কিছু সূত্র একে অপরের সাথে মিশে যেতে পারে, কিন্তু ধরে নিন আপনার কাছে কী পরিমাণ উক্তি আছে? এক বিশাল পরিমাণ; এই হাদীসের বর্ণনাকারীদের বিষয়ে এক হাজার উক্তি। এর জন্য একটি পূর্ণ জীবন প্রয়োজন। সুতরাং আপনি যদি এই দিকে মনোনিবেশ করেন এবং বর্ণনাসূত্রের প্রতি গুরুত্ব দেন, তবে নিঃসন্দেহে তা গভীর উপলব্ধি ও সমঝের (দিরায়েত) বিনিময়ে হবে। আর এটি কার কর্মপদ্ধতিতে স্পষ্ট? আলবানী -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন-।

আর আপনি যদি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি গভীর উপলব্ধি ও সমঝের (দিরায়েত) দিকে মনোনিবেশ করেন, তবে তা নিঃসন্দেহে বর্ণনাসূত্র (রেওয়ায়েত) অনুসন্ধানের বিনিময়ে হবে। আর এটিই শাইখ আব্দুল আজিজ -রাহিমাহুল্লাহ- করে থাকেন। কোনো হাদীস প্রমাণিত হওয়াই তাঁর জন্য যথেষ্ট, অথবা কোনো ইমাম তা সাব্যস্ত করলে তিনি যথেষ্ট মনে করেন। আর তাঁরা উভয়ই—অর্থাৎ শাইখ আব্দুল আজিজ ও শাইখ আলবানী, আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন—অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'তাকরীব' গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেন। আর এটি এক প্রকার অনুসরণ (তাকলীদ), আমরা তো তাকলীদ থেকে বের হতে পারিনি; কারণ 'তাকরীব' ইবনে হাজার -রাহিমাহুল্লাহ- এর দৃষ্টিভঙ্গিই তুলে ধরে। আপনি সেখানে তাকরীবই দেখতে পাবেন, যা অনেক আলেমের প্রধান অবলম্বন। তবে আমরা এই দুই ইমামের উদাহরণ দিচ্ছি কারণ আমাদের দৃষ্টিতে তাঁরা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন এবং এই ইলমের সেবায় সুদীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছেন। এখন আমরা যদি বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইবনে হাজারের অনুসরণ করতে চাই—আর অনুসরণ করা ছাড়া কোনো উপায়ও নেই—তবে আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে হাজারও 'তাকরীব' গ্রন্থে ভুল করেছেন। তাঁর 'তাকরীব' গ্রন্থে কিছু ভ্রান্তি রয়েছে, তিনি তো আর নির্ভুল নন।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৬)
على كل حال على الإنسان أن يسلك الجادة ويتمرن والعلم يجتمع شيئاً فشيئاً، وإذا علم الله سبحانه وتعالى صدق النية أعان، وإذا كان الإنسان ممن أوتي الحافظة مع الفهم وأخلص وصدق النية مع الله سبحانه وتعالى، وسلك الطريق المتبع عند أهل العلم فإنه يرجى له أن يحتاج إليه في يوم من الأيام، أما إذا كان يتخبط يوم كذا ويوم كذا ويوم كذا، فهذا في الغالب وإن أوتي ذكاءً أو أوتي حفظاً فإنه في الغالب يضيع وقته متردد متحير، ولا نسيء الظن بالإخوة الذين يدعون إلى تقليد الأئمة، نقول: الأئمة هم الأصل، لكن الطالب المبتدئ كيف يخاطب بأن يبدأ شرح علل الترمذي؟ والعلل أغمض أنواع علوم الحديث، كيف يشرح لطلاب مبتدئين الإلزامات والتتبع للدارقطني؟ لا يا أخي، مرن الطلاب على صغار العلم قبل كباره لتكون ربانياً، والرباني كما قال ابن عباس: "من يعلم الناس صغار العلم قبل كباره"، يعني لو أن شخص سمع كلام الحافظ ابن كثير بعلل الدارقطني، وقال: "ما دام هذا الكتاب العظيم بهذه المثابة لماذا لا أعتني بهذا الكتاب؟ " وهو مبتدئ، نقول: لا تلبث أن تنقطع، أولاً: لن تفهم، الأمر الثاني: تبي تنقطع ولا بد، لو سمع آخر ثناء ابن القيم على درء تعارض العقل والنقل لشيخ الإسلام.

واقرأ كتاب العقل والنقل الذي … ما في الوجود له نظير ثانِ

يقول: هذا الكتاب ما دام ما في الوجود له نظير ثان لماذا لا أعتني به؟ والله لن يستمر في قراءة هذا الكتاب، وإذا كان من شهد له بالتقدم في هذا العلم، وبخبرة تامة بكلام شيخ الإسلام يطوي عشرات الصفحات لا يفهمها من هذا الكتاب فيكف بالطالب المبتدئ؟ وهذا مثال نضربه في كل العلوم يمشي الطالب متدرج الأصغر ثم الأكبر وهكذا، نعم بهذه الطريقة يستطيع الطالب التحصيل.

 

‌‌كتاب: (المنهج المقترح لفهم المصطلح) للعوني:
যাই হোক, মানুষের উচিত মূল পথ অবলম্বন করা এবং অনুশীলন করা, আর জ্ঞান অল্প অল্প করে অর্জিত হয়। যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিয়তের সততা সম্পর্কে অবগত হন, তবে তিনি সাহায্য করেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি এমন হয় যাকে অনুধাবন ক্ষমতার পাশাপাশি মুখস্থ শক্তিও দেওয়া হয়েছে এবং সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি একনিষ্ঠ থাকে ও নিয়তের সততা বজায় রাখে, এবং ইলমের পণ্ডিতদের অনুসৃত পথ অনুসরণ করে, তবে আশা করা যায় যে কোনো এক সময় তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। কিন্তু সে যদি লক্ষ্যহীনভাবে আজ এটা, কাল ওটা করে বেড়ায়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে—তাকে মেধা বা মুখস্থ শক্তি দেওয়া হলেও—সে দ্বিধাগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে নিজের সময় নষ্ট করে। আর আমরা ঐসব ভাইদের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করি না যারা ইমামদের অনুসরণের (তাকলীদ) প্রতি আহ্বান জানান। আমরা বলি: ইমামরাই হলেন মূলভিত্তি, কিন্তু একজন প্রাথমিক স্তরের ছাত্রকে কীভাবে তিরমিযীর 'ইলাল' (সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ) এর ব্যাখ্যা দিয়ে শুরু করার কথা বলা যায়? অথচ 'ইলাল' হলো হাদীস শাস্ত্রের সবচেয়ে জটিল শাখা। কীভাবে প্রাথমিক ছাত্রদের কাছে দারাকুতনীর 'আল-ইলযামাত ওয়াত-তাতাব্বু' ব্যাখ্যা করা যায়? না হে আমার ভাই, রব্বানী হওয়ার জন্য বড় বিষয়ের আগে ছোট ছোট ইলমী বিষয়গুলো দিয়ে ছাত্রদের প্রশিক্ষিত করুন। রব্বানী সম্পর্কে ইবনে আব্বাস যেমনটি বলেছেন: "যিনি মানুষকে বড় ইলম শিক্ষার আগে ছোট ইলম শিক্ষা দেন।" অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি দারাকুতনীর ইলাল সম্পর্কে হাফেজ ইবনে কাসীরের বক্তব্য শুনে বলে: "যেহেতু এই মহান কিতাবটি এই পর্যায়ের, তবে কেন আমি এর প্রতি মনোনিবেশ করব না?" অথচ সে একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থী; আমরা বলব: অচিরেই আপনার এই পথ চলা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রথমত: আপনি বুঝতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত: আপনার বিচ্ছিন্ন হওয়া অনিবার্য। যদি অন্য কেউ শায়খুল ইসলামের 'দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি' কিতাবের ওপর ইবনুল কায়্যিমের প্রশংসা শুনতে পায়।

এবং সেই আকল ও নাকল কিতাবটি পড়ো যা ... পৃথিবীতে যার দ্বিতীয় কোনো নজির নেই।

সে বলবে: যেহেতু পৃথিবীতে এই কিতাবের দ্বিতীয় কোনো নজির নেই, তবে কেন আমি এটি নিয়ে চর্চা করব না? আল্লাহর কসম, সে এই কিতাব পাঠ চালিয়ে যেতে পারবে না। যেখানে এমন ব্যক্তি যাকে এই বিদ্যায় অগ্রগামী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং শায়খুল ইসলামের বক্তব্যের ওপর পূর্ণ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি এই কিতাবের কয়েক দশ পৃষ্ঠা না বুঝেই পার করে যান, সেখানে একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর কী অবস্থা হবে? এটি এমন একটি উদাহরণ যা আমরা সকল শাস্ত্রের ক্ষেত্রে দিয়ে থাকি; ছাত্র ধাপে ধাপে প্রথমে ছোট এবং তারপর বড় বিষয়গুলো পড়বে, এভাবেই। হ্যাঁ, এই পদ্ধতিতেই একজন ছাত্র ইলম অর্জনে সক্ষম হয়।

 

‌‌কিতাব: আল-আওনী রচিত (আল-মানহাজ আল-মুতারাহ লি-ফাহমিল মুসতালাহ):
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৭)
من هذه الكتب التي ظهرت في الأخير تنادي بالتقليل من شأن كتب علوم الحديث كتاب ألفه الشريف حاتم بن عارف العوني سماه: (المنهج المقترح لفهم المصطلح - دراسة تاريخية تأصيلية لمصطلح الحديث) والكتاب حقيقة يدل على حرص من الرجل، وهو معروف بذلك ومن خيار طلاب العلم فيما نحسبه، وعلى دقة فهم وسبر واستقراء، لكن هو مثل ما ذكرت لكم مثل هذه الدعوة لا توجه إلى مبتدئين.

انتقد المؤلف فيه بعض المصطلحات التي شاع استعمالها عند المتأخرين كالمتواتر والآحاد، وغيرهما وشدد في هذه المسألة، وهي مجرد اصطلاح، والخلاف فيها لفظي، ولا مشاحة في الاصطلاح، إذ لا نزاع بين أحد من أهل العلم بل ومن العامة أن الأخبار متفاوتة، الخبر الذي يأتيك من قبل ثلاثة ما هو مثل الخبر الذي يأتيك من قبل واحد، الخبر الذي تسمعه من مائة ما هو مثل الخبر الذي تسمعه من عشرة، الأخبار متفاوتة.

كون أهل العلم اصطلحوا على أن الخبر الذي يأتي بطرق كثيرة جداً يسمونه متواتر، والتي أقل منها آحاد هذا مجرد اصطلاح، وهم يقررون ألا مشاحة في الاصطلاح، يعني التسميات وجدت في العلوم كلها.
সম্প্রতি প্রকাশিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা ইলমে হাদিসের কিতাবসমূহের গুরুত্ব কমানোর আহ্বান জানায়। এর মধ্যে শরীফ হাতিম ইবনে আরিফ আল-আউনি রচিত একটি গ্রন্থ রয়েছে, যার নাম: (পরিভাষা বোঝার জন্য প্রস্তাবিত পদ্ধতি - হাদিসের পরিভাষার একটি ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক গবেষণা)। গ্রন্থটি প্রকৃতপক্ষে লেখকের নিষ্ঠার পরিচয় দেয়, তিনি এর জন্য সুপরিচিত এবং আমাদের জানামতে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। গ্রন্থটিতে গভীর উপলব্ধি, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও বিচার-বিবেচনার স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু আমি যেমনটি বলেছি, এ জাতীয় আহ্বান প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রতি জানানো উচিত নয়।

লেখক এতে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে প্রচলিত কিছু পরিভাষার সমালোচনা করেছেন, যেমন মুতাওয়াতির, আহাদ এবং অন্যান্য। তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, অথচ এটি নিছক একটি পারিভাষিক বিষয় এবং এ সংক্রান্ত মতভেদ কেবল শাব্দিক। পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই; কেননা আলেম সমাজ তো বটেই, এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে সংবাদের স্তরে পার্থক্য থাকে। তিনজনের পক্ষ থেকে আপনার কাছে আসা সংবাদ আর একজনের পক্ষ থেকে আসা সংবাদ সমান নয়। একশত জনের কাছ থেকে শোনা সংবাদ আর দশজনের কাছ থেকে শোনা সংবাদ এক নয়। সংবাদগুলো বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে।

আলেমগণ এই পরিভাষা স্থির করেছেন যে, যে সংবাদ অনেকগুলো সূত্রে আসে সেটিকে তারা 'মুতাওয়াতির' বলবেন এবং এর চেয়ে কম সংখ্যক সূত্রে আগত সংবাদকে 'আহাদ' বলবেন—এটি নিছক একটি পারিভাষা মাত্র। আর তারা এ নীতি নির্ধারণ করেছেন যে পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই, অর্থাৎ নামকরণের এই প্রক্রিয়া সকল শাস্ত্রেই বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৮)
نأتي إلى النحو، هل يوجد من العرب من قال: إن هذا فاعل وهذا مفعول؟ نعم، ما في من قال: هذا حال وهذا تمييز؟ ما في أحد قال هذا، لكنهم .. ، لكن العلماء الذين صنفوا في النحو فهموا من هذا اللفظ أنه يبين هيئة الفاعل فسموه حال، وأنه وقع منه الفعل فسموه فاعل، الأول سموه حال والثاني سموه فاعل، الثاني وقع عليه الفعل فسموه مفعول وهكذا، فهذه اصطلاحات، وأهل العلم يقررون ألا مشاحة في الاصطلاح، لا مشاحة في الاصطلاح، اللهم إلا إذا تضمن الاصطلاح مخالفة لما تقرر في أي علم من العلوم بحيث يحصل فيه الإيهام والتلبيس مثل هذا يمنع ويشاحح صاحبه، لو قال: أنا باصطلح لنفسي أن أسمي الشمال جنوب والجنوب شمال، نقول: لا، لا يا أخي ما يصلح، يُشاحح في اصطلاحه، نسمي المشرق مغرب والمغرب مشرق، نقول: لا، كيف تصنع بحديث: ((بين المشرق والمغرب قبلة))؟ لو قال: أنا باصطلح لنفسي أألف في الجغرافيا وأقول: السماء تحت والأرض فوق، نقول: لا، لكن لو قال: أنا لا أغير من الواقع شيء الشمال شمال والجنوب جنوب، الشرق شرق والغرب غرب، لكن إذا رسمت الخارطة بدل الناس ما يحطون الشمال فوق بالخارطة أنا با قلبها، هذا ما يغير من الواقع شيء، نقول: اقلبها خلي الجنوب فوق ما يضر، لو قال: أنا أسمي جد الأولاد أبو الزوجة عم، نقول: سمه عم ما يخالف؛ لأنه ما يترتب عليه شيء، لو قال: أسميه خال، قلنا له: كذلك سميه ما شئت؛ لأنه ما يترتب عليه تغيير حكم، لكن لو قال: أنا با ألف في الفرائض وبا أسمي أخ الأب خال وأخ الأم عم، قلنا: لا، قف، يُشاحح في اصطلاحه؛ لأن هذا يغير الأحكام.

ولذا لما البغوي رحمه الله اصطلح في كتابه: (المصابيح)، وقسم أحاديثه إلى قسمين: الصحاح والحسان.

والبغوي إذ قسم المصابحا … إلى الصحاح والحسان جانحا

أن الحسان ما رووه في السنن … رد عليه إذا بها غير الحسن

يرد عليه، يشاحح؛ لأن السنن ما هي بكل أحاديث حسان فيها صحاح وفيها ضعاف، فيرد مثل هذا الاصطلاح.
আমরা নাহু (ব্যাকরণ) প্রসঙ্গে আসি; আরবদের মাঝে কি এমন কেউ ছিলেন যিনি বলেছিলেন যে: এটি ফায়িল (কর্তা) আর এটি মাফউল (কর্ম)? হ্যাঁ, এমন কি কেউ ছিলেন যিনি বলেছিলেন: এটি হাল (অবস্থা বর্ণনা কারী) আর এটি তাময়ীয (পার্থক্যকারী)? এমনটি কেউ বলেননি, তবে তারা... তবে যে সকল আলিম নাহু শাস্ত্র সংকলন করেছেন, তারা এই শব্দ থেকে বুঝতে পেরেছেন যে এটি কর্তার অবস্থা বর্ণনা করছে, তাই তারা এর নামকরণ করেছেন হাল। আর যেহেতু এটি থেকে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়েছে, তাই তারা একে ফায়িল (কর্তা) হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রথমটিকে তারা হাল এবং দ্বিতীয়টিকে ফায়িল নাম দিয়েছেন। দ্বিতীয়টির ওপর ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়েছে তাই তারা এর নাম দিয়েছেন মাফউল (কর্ম), এভাবেই পরিভাষাগুলো গঠিত হয়েছে। সুতরাং এগুলো হলো পারিভাষিক সংজ্ঞা। আর ইলম অন্বেষণকারীগণ এই নীতি স্থির করেছেন যে, 'পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই', পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই; তবে যদি কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা এমন কোনো বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের বিপরীতে যায় এবং যার ফলে বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়, তবে তা নিষিদ্ধ হবে এবং এর প্রবর্তকের সাথে বিতর্ক করা হবে। যদি কেউ বলে: আমি নিজের জন্য এমন পরিভাষা স্থির করব যেখানে উত্তরকে দক্ষিণ আর দক্ষিণকে উত্তর বলব; তবে আমরা বলব: না, না হে ভাই, এটি সঠিক নয়। তার এই পরিভাষার বিরোধিতা করা হবে। (একইভাবে) যদি আমরা পূর্বকে পশ্চিম আর পশ্চিমকে পূর্ব বলি, তবে আমরা বলব: না, আপনি এই হাদীসের কী করবেন যেখানে বলা হয়েছে: "পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানই হলো কিবলা"? যদি কেউ বলে: আমি ভূগোলের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করার ক্ষেত্রে নিজের জন্য এই পরিভাষা নির্ধারণ করব যে, আকাশ নিচে আর পৃথিবী উপরে, তবে আমরা বলব: না। কিন্তু সে যদি বলে: আমি বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন করছি না, উত্তর উত্তরই থাকছে, দক্ষিণ দক্ষিণই, পূর্ব পূর্ব এবং পশ্চিম পশ্চিমই থাকছে; তবে মানুষ যখন মানচিত্র আঁকে তখন উত্তর দিককে উপরে রাখে, আমি সেটাকে উল্টে দেব। এটি বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন করে না। আমরা বলব: আপনি এটি উল্টে দিন এবং দক্ষিণ দিককে উপরে রাখুন, এতে কোনো ক্ষতি নেই। যদি কেউ বলে: আমি সন্তানদের নানা বা স্ত্রীর পিতাকে চাচা বলে ডাকব, তবে আমরা বলব: তাকে চাচা ডাকুন, এতে কোনো সমস্যা নেই; কারণ এর ওপর কোনো বিধান নির্ভর করে না। যদি সে বলে: তাকে মামু বলে ডাকব, তবে আমরা তাকে বলব: একইভাবে আপনি যা ইচ্ছা তা-ই ডাকুন; কারণ এর মাধ্যমে কোনো শরয়ী বিধানের পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু যদি সে বলে: আমি ফারায়েয (উত্তরাধিকার শাস্ত্র) বিষয়ে একটি গ্রন্থ লিখব এবং সেখানে বাবার ভাইকে মামু আর মায়ের ভাইকে চাচা বলব, তবে আমরা বলব: না, থামুন! তার এই পরিভাষার বিরোধিতা করা হবে; কারণ এটি বিধানসমূহকে পরিবর্তন করে দেয়।

একারণেই ইমাম বাগভী (রহিমাহুল্লাহ) যখন তাঁর আল-মাসাবীহ কিতাবে পারিভাষিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন এবং সেখানকার হাদীসগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেন: সহীহ এবং হাসান।

এবং ইমাম বাগভী যখন মাসাবীহ গ্রন্থকে বিভক্ত করলেন … সহীহ ও হাসানের দিকে ঝুঁকে পড়ে,

যেহেতু সুনান গ্রন্থসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে তিনি হাসান বলেছেন … তার এই মতটি খণ্ডন করা হয়েছে যেহেতু সেখানে হাসান ছাড়াও অন্য হাদীস রয়েছে।

তাঁর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং তার সাথে বিতর্ক করা হবে; কারণ সুনান গ্রন্থসমূহের সকল হাদীসই হাসান নয়, বরং সেখানে সহীহ হাদীসও আছে আবার যয়ীফ (দুর্বল) হাদীসও আছে। সুতরাং এই জাতীয় পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করা হবে।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ১৯)
تقسيم الأخبار إلى متواتر وآحاد إيش المحظور منه؟ المحظور شيء واحد وهو أن خبر الواحد عند المبتدعة لا يثبت به عقائد، فنفي كثير من مسائل الاعتقاد بهذه الحجة أنه خبر واحد وخبر الواحد .. ، نقول: لا، خبر الواحد تثبت به الحجة، ويقبل في العقائد والأحكام وغيرها، وهو خبر آحاد، نسميه آحاد ولا نلتزم باللازم الباطل.

شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- وهو من أئمة أهل السنة، ومن أشد الناس على البدع والمبتدعة، يقسم الأخبار إلى متواتر وآحاد، ويمثل بالأمثلة نفسها التي يمثل بها أهل العلم، مثل للمتواتر بحديث: ((من كذب)) ويمثل به أهل العلم متواتر لفظي.

ومثل للمتواتر المعنوي بفضائل أبي بكر وعمر، قال: متواترة تواتر معنوي، بدل من أن يمثل بأحاديث الحوض والشفاعة والمسح على الخفين مثل بمثال يناسب الكتاب الذي يتحدث فيه، مثل بفضائل أبي بكر وعمر، قال: متواترة تواتر معنوي، إذاً شيخ الإسلام يقسم الأخبار إلى متواتر وآحاد، ويمثل بأمثلة يمثل بها أهل العلم، لا نختلف مع شيخ الإسلام أن فضائل أبي بكر وعمر متواترة تواتر معنوي، يعني مفرداتها آحاد، لكن بمجموعها متواترة تواتر معنوي.

فلا محظور من أن نقسم الأخبار إلى متواتر وآحاد، وسيأتي مزيد بسط لذلك عند الكلام على المتواتر والآحاد -إن شاء الله تعالى-.

أقول: أكثر ما يخاف من استعمال بعض المصطلحات الالتزام بلوازمها الباطلة عند المخالفين من المتكلمين كقولهم: إن الآحاد لا يفيد إلا الظن، والعقائد لا تثبت بالآحاد تعباً لذلك، وسيأتي ما يفيده خبر الواحد -إن شاء الله تعالى-، وأنه إذا تجرد عن القرائن لا يفيد إلا الظن، ومع كونه لا يفيد إلا الظن يجب العمل به، وتثبت به العقائد، وتثبت به الأحكام والفضائل وغيرها من فروع الشرع.
সংবাদকে মুতাওয়াতির এবং আহাদ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার মধ্যে আপত্তির বিষয় কোনটি? আপত্তির বিষয় মাত্র একটি, আর তা হলো—বিদআতিদের নিকট 'খবরে ওয়াহেদ' (একক সংবাদ) দ্বারা আকিদা প্রমাণিত হয় না। ফলে তারা এই অজুহাতে আকিদার বহু বিষয়কে অস্বীকার করেছে যে, এটি খবরে ওয়াহেদ এবং খবরে ওয়াহেদ (আকিদার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়)... আমরা বলি: না, খবরে ওয়াহেদ দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আকিদা, বিধি-বিধান ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও তা গ্রহণযোগ্য। এটি খবরে আহাদ; আমরা একে আহাদ বলি ঠিকই কিন্তু এর মাধ্যমে যে বাতিল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, আমরা তা মেনে নিই না।

শায়খুল ইসলাম —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— যিনি আহলে সুন্নাহর ইমামদের অন্যতম এবং বিদআত ও বিদআতিদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, তিনিও সংবাদসমূহকে মুতাওয়াতির ও আহাদে বিভক্ত করেছেন। তিনি সেই উদাহরণগুলোই দিয়েছেন যা আলেমগণ দিয়ে থাকেন। যেমন— তিনি মুতাওয়াতির-এর উদাহরণ হিসেবে ঐ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "যে ব্যক্তি (ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল)"; আলেমগণ এটিকে 'মুতাওয়াতির লাফযি' (শব্দগত মুতাওয়াতির) হিসেবে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেন।

আর তিনি 'মুতাওয়াতির মানাভী' (অর্থগত মুতাওয়াতির)-এর উদাহরণ দিয়েছেন আবু বকর ও উমরের ফজিলতসমূহের মাধ্যমে। তিনি বলেছেন: এগুলো মুতাওয়াতির মানাভী। হাউয, শাফাআত ও মোজার ওপর মাসহ করার হাদিসগুলো উদাহরণ হিসেবে না দিয়ে তিনি এমন একটি উদাহরণ দিয়েছেন যা তাঁর আলোচিত কিতাবটির সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; সেটি হলো আবু বকর ও উমরের ফজিলত। তিনি বলেছেন: এগুলো মুতাওয়াতির মানাভী। সুতরাং শায়খুল ইসলামও সংবাদকে মুতাওয়াতির ও আহাদে বিভক্ত করেন এবং আলেমদের ব্যবহৃত উদাহরণগুলোই পেশ করেন। শায়খুল ইসলামের সাথে আমাদের এই বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, আবু বকর ও উমরের ফজিলতগুলো মুতাওয়াতির মানাভী— অর্থাৎ এর একক বর্ণনাগুলো আহাদ হলেও সামগ্রিকভাবে তা মুতাওয়াতির মানাভী।

সুতরাং সংবাদকে মুতাওয়াতির ও আহাদে বিভক্ত করার মধ্যে কোনো দোষ নেই। ইনশাআল্লাহ তাআলা, মুতাওয়াতির ও আহাদ সম্পর্কে আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

আমি বলি: কিছু পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধান ভয়ের কারণ হলো মুতাকাল্লিমদের মতো বিরোধীদের পক্ষ থেকে সেগুলোর বাতিল সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেওয়া। যেমন তাদের দাবি: "আহাদ কেবল 'যান' (প্রবল ধারণা) প্রদান করে এবং এর ওপর ভিত্তি করে আকিদা সাব্যস্ত হয় না"। খবরে ওয়াহেদ কী ফায়দা দেয় তা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে। এটি যখন কোনো আনুষঙ্গিক আলামত থেকে মুক্ত থাকে তখন তা কেবল 'যান'-ই প্রদান করে; তবে তা 'যান' প্রদান করা সত্ত্বেও এর ওপর আমল করা ওয়াজিব এবং এর দ্বারা আকিদা সাব্যস্ত হয়। তদ্রূপ এর মাধ্যমে আহকাম (বিধি-বিধান), ফজিলত এবং শরীয়তের অন্যান্য শাখাসমূহও প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২০)
يقول الشيخ أحمد شاكر بعد أن اعتمد التقسيم: "ودع عنك تفريق المتكلمين في اصطلاحاتهم بين العلم والظن فإنما يريدون بهما معنى آخر غير ما نريد"، ونقرر في إفادة هذا العلم -إفادة هذا الظن- أن المعلومات الناتجة عن هذه الأدلة متفاوتة وهم يريدون أن يفرقوا بين ما يثبت به العقيدة وما لا تثبت به العقيدة، يقول: "دع عنك تفريق المتكلمين في اصطلاحاتهم بين العلم والظن، فإنما يريدون بهما معنى آخر غير ما نريد"، لكن إذا تنصلنا عن اللازم فلا شيء في إثبات التقسيم، وقد اعتمده أهل العلم.

الظن جاء في النصوص الشرعية لمعان كثيرة، فقد جاء بمعنى اليقين، كما في قوله تعالى: {الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ} [(46) سورة البقرة] {وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ} [(28) سورة القيامة] {أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ} [(4) سورة المطففين] هنا ما يكفي الظن الذي هو الاحتمال الراجح، بل لا بد من اليقين.

ولذا قال الراغب الأصبهاني في المفردات: "الظن اسم لما يحصل عن أمارة، ومتى قويت -يعني الأمارة- أدت إلى العلم، ومتى ضعفت جداً لم تتجاوز حد التوهم"، لا شك أن الأخبار تتفاوت، فإذا جاءك شخص وقال: جاء زيد فمدى ثقتك بهذا المخبر يقوى صحة الخبر عندك، إيش نسبة صحة الخبر عندك؟ حسب ثقتك بهذا الرجل، فإذا انضم إليه آخر قوي الاحتمال، إذا انضم إليه ثالث وهكذا.

وفي البصائر -بصائر ذوي التمييز للفيروز آبادي-: "قد ورد الظن في القرآن مجملاً على أربعة أوجه: بمعنى اليقين، وبمعنى الشك، وبمعنى التهمة، وبمعنى الحسبان، فالذي بمعنى اليقين في عشرة مواضع" فذكر ما تقدم وزاد عليه، وأما الذي بمعنى الشك والتهمة فعلى وجوه مختلفة، {فَظَنَّ أَن لَّن نَّقْدِرَ عَلَيْهِ} [(87) سورة الأنبياء] {مَن كَانَ يَظُنُّ أَن لَّن يَنصُرَهُ اللَّهُ} [(15) سورة الحج] {إِنْ هُمْ إِلَاّ يَظُنُّونَ} [(78) سورة البقرة].

فإذا قلنا: بأن ما دون المتواتر يفيد الظن، وقلنا: بأن الآحاد تثبت به العقائد والأحكام والفضائل وجميع ما ينسب إلى الشرع، فما المانع من ذلك؟
শায়খ আহমদ শাকির এই বিভাজন গ্রহণ করার পর বলেন: "কালামশাস্ত্রবিদগণ তাদের পরিভাষায় নিশ্চিত জ্ঞান (ইলম) এবং প্রবল ধারণার (যন) মধ্যে যে পার্থক্য করেন তা বর্জন করুন; কারণ তারা এর মাধ্যমে আমরা যা উদ্দেশ্য করি তা ছাড়া ভিন্ন অর্থ বুঝাতে চান।" আমরা এই নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ এই প্রবল ধারণা প্রদানের ক্ষেত্রে—সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, এই দলীলসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে। তারা মূলত আকিদা যা দ্বারা সাব্যস্ত হয় এবং আকিদা যা দ্বারা সাব্যস্ত হয় না, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে চান। তিনি বলেন: "কালামশাস্ত্রবিদগণ তাদের পরিভাষায় নিশ্চিত জ্ঞান এবং প্রবল ধারণার মধ্যে যে পার্থক্য করেন তা বর্জন করুন; কারণ তারা এর মাধ্যমে আমরা যা উদ্দেশ্য করি তার বাইরে ভিন্ন অর্থ বুঝাতে চান।" তবে আমরা যদি এর অনিবার্য ফলাফলগুলো থেকে মুক্ত থাকি, তবে এই বিভাজন সাব্যস্ত করাতে কোনো দোষ নেই, এবং উলামায়ে কেরাম এটি গ্রহণ করেছেন।

শরয়ী দলীলসমূহে 'যন' শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনও এটি নিশ্চিত বিশ্বাস বা ইয়াকীনের অর্থে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে: {যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে} [(৪৬) সূরা আল-বাকারা], {এবং সে নিশ্চিত হলো যে এটিই বিদায় মুহূর্ত} [(২৮) সূরা আল-কিয়ামাহ], {তারা কি নিশ্চিত বিশ্বাস করে না যে তারা পুনরুত্থিত হবে?} [(৪) সূরা আল-মুতাফফিফীন]। এখানে কেবল সেই ধারণা যথেষ্ট নয় যা কেবল প্রবল সম্ভাবনা বুঝায়, বরং এখানে নিশ্চিত বিশ্বাস থাকা আবশ্যক।

এ কারণেই রাগেব আল-ইসফাহানী তার 'মুফরাদাত' গ্রন্থে বলেছেন: "যন হলো এমন এক বিষয়ের নাম যা কোনো নিদর্শনের ভিত্তিতে অর্জিত হয়। যখন সেই নিদর্শন শক্তিশালী হয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়; আর যখন তা অত্যন্ত দুর্বল হয়, তখন তা কেবল অলীক কল্পনার সীমানা অতিক্রম করে না।" এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সংবাদ বা খবরগুলো বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। যদি কোনো ব্যক্তি আপনার কাছে এসে বলে: "যায়েদ এসেছে", তবে সেই সংবাদদাতার প্রতি আপনার আস্থা সংবাদটির সঠিকতাকে আপনার কাছে শক্তিশালী করবে। আপনার কাছে সংবাদটির সঠিকতার অনুপাত কতটুকু হবে? তা নির্ভর করবে ওই ব্যক্তির প্রতি আপনার আস্থার ওপর। যদি তার সাথে অন্য একজন যুক্ত হয়, তবে সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়। যদি তার সাথে তৃতীয় একজন যুক্ত হয়, তবে বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকে।

ফিরোযাবাদীর 'বাসায়িরু যাওয়িত তাময়িয' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "কুরআনে 'যন' শব্দটি সামগ্রিকভাবে চারটি অর্থে এসেছে: নিশ্চিত বিশ্বাস, সন্দেহ, অপবাদ এবং ধারণা। এর মধ্যে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্থে দশটি স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে।" এরপর তিনি পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বর্ণনা করেন এবং আরও কিছু যোগ করেন। আর যা সন্দেহ ও অপবাদ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তা বিভিন্ন অবস্থায় এসেছে: {ফলে সে ধারণা করেছিল যে, আমি তার ওপর ক্ষমতা প্রয়োগ করব না} [(৮৭) সূরা আল-আম্বিয়া], {যে ব্যক্তি ধারণা করে যে আল্লাহ তাকে কখনোই সাহায্য করবেন না} [(১৫) সূরা আল-হাজ্জ], {তারা কেবল ধারণাই পোষণ করে} [(৭৮) সূরা আল-বাকারা]।

সুতরাং আমরা যদি বলি যে: মুতাওয়াতির পর্যায়ের নিচের বর্ণনাগুলো প্রবল ধারণা বা যন প্রদান করে, এবং আমরা যদি বলি যে: একক বর্ণনা বা আহাদ সংবাদের মাধ্যমে আকিদা, বিধি-বিধান, ফযীলত এবং শরীয়তের সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয় সাব্যস্ত হয়, তবে তাতে বাধা কোথায়?
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২১)
الكتاب المذكور -المنهج المقترح- تناول بعض كتب المصطلح، فذكر المحدث الفاصل وأشاد به، ثم قال: "غير أنه فقير في باب أقسام الحديث وشرح مصطلحاته"، إذاً نحن بحاجة إلى تقسيم الحديث، ونحن بحاجة أيضاً إلى شرح مصطلحات هذا التقسيم، وهذا ما تولاه المتأخرون الذين انتقد كتبهم، "حيث لم يكن ذلك من أغراض مصنفه".

ثم ذكر كتاب الحاكم (معرفة علوم الحديث) وذكر أنه مختص بما كان أهمله الرامهرمزي من الاعتناء بمصطلح الحديث، وشرح معناه، وضرب الأمثلة له، وقد صار في ذلك كله على فهم أهل الحديث أنفسهم؛ لأن الحاكم يعلم أن غير أهل هذا العلم وغير أهل السنة، وغير المتبحر في صنعة الحديث وغير الفرسان نقاد الحديث لا يفقه هذا العلم كما كان يعبر الحاكم بذلك كثيراً، وعلى هذا المنهج نفسه في الأغلب صنف الحافظ أبو نعيم الأصبهاني مستخرجه على معرفة علوم الحديث للحاكم؛ لأن طبيعة المستخرجات تلزم بذلك.

ثم تحدث –أعني صاحب المنهج المقترح- عن الخطيب ومؤلفاته، ثم قال: "فهل سار الخطيب على المنهج السليم في شرح مصطلح الحديث؟ " يجيب عن ذلك الخطيب نفسه في مقدمة الكفاية في حين ذكر السبب في تصنيف الكتاب، قال: "وقد استفرغت طائفة من أهل زماننا وسعها في كتب الحديث والمثابرة على جمعه من غير أن يسلكوا مسلك المتقدمين، وينظروا نظر السلف الماضين في حال الراوي والمروي، وتمييز المرذول والمرضي … " هذا هو المنهج النظري الذي قرره الخطيب في مقدمة كتابه.

يقول صاحب الكتاب: "إلا أنه لم ينجُ تماماً من أثر العلوم العقلية على علوم الحديث الذي توسع نطاقه في عصره فهو ابن عصره".

ثم تحدث عن أثر أصول الفقه في كتابه، ثم قال: "وهذا التأثر من الخطيب بأصول الفقه مع وضوحه" يقول: إن الخطيب تأثر بأصول الفقه، يعني ويريد أن يقرر أن كتب أصول الفقه تأثرت بكتب الكلام، علم الكلام، يقول: "وهذا التأثر من الخطيب بأصول الفقه مع وضوحه إلا أن إمامته في علم الحديث وعدم تعمق أثر أصول الفقه عليه جعل ذلك الأثر الأصولي على كتابه غير مخوف؛ لأنه أثر مفضوح لا يشتبه بعلوم الحديث ومسائله عند أهل الاصطلاح التي ملأ الخطيب غالب كتابه بها" كذا قال.
উল্লিখিত কিতাবটি -প্রস্তাবিত মানহাজ- হাদিসের পরিভাষা সংক্রান্ত কিছু কিতাব নিয়ে আলোচনা করেছে। সেখানে ‘আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল’ কিতাবটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার প্রশংসা করা হয়েছে। অতঃপর লেখক বলেছেন: "তবে হাদিসের প্রকারভেদ এবং এর পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে এটি অপ্রতুল।" সুতরাং আমাদের হাদিসের প্রকারভেদের প্রয়োজন রয়েছে, এবং সেই প্রকারভেদগুলোর পরিভাষা ব্যাখ্যা করারও প্রয়োজন রয়েছে। আর পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই দায়িত্বই পালন করেছেন যাদের কিতাবসমূহের সমালোচনা করা হয়েছে; "যেহেতু এটি উক্ত গ্রন্থকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল না।"

অতঃপর তিনি আল-হাকিমের কিতাব ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস’-এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি হাদিসের পরিভাষার প্রতি গুরুত্বারোপ, তার অর্থ ব্যাখ্যা এবং উদাহরণ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে রামাহুরমুজি যা বাদ রেখেছিলেন, সেই বিষয়গুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট। আল-হাকিম এই সব ক্ষেত্রে স্বয়ং আহলে হাদিসদের বুঝ অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছেন; কারণ আল-হাকিম জানতেন যে, যারা এই ইলমের অন্তর্ভুক্ত নয়, যারা আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, যারা হাদিস শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন নয় এবং যারা হাদিস সমালোচনায় পারদর্শী নয়, তারা এই ইলম অনুধাবন করতে পারে না—যেমনটি আল-হাকিম এটি প্রায়ই ব্যক্ত করতেন। এই একই মানহাজের ওপর ভিত্তি করেই হাফেজ আবু নুআইম আল-আসবাহানি আল-হাকিমের ‘মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস’-এর ওপর তাঁর ‘মুস্তাখরাজ’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন; কারণ মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের প্রকৃতি এটাই দাবি করে।

অতঃপর তিনি—অর্থাৎ প্রস্তাবিত মানহাজের লেখক—আল-খতিব এবং তাঁর রচনাবলী সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তারপর বলেছেন: "তাহলে আল-খতিব কি হাদিসের পরিভাষা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে সঠিক মানহাজ অনুসরণ করেছেন?" আল-খতিব নিজেই তাঁর ‘আল-কিফায়া’ কিতাবের ভূমিকায় গ্রন্থটি রচনার কারণ উল্লেখ করার সময় এর উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "আমাদের যুগের একদল লোক হাদিসের কিতাবসমূহের পিছনে এবং তা সংগ্রহের নিরলস প্রচেষ্টায় নিজেদের সামর্থ্য ব্যয় করেছেন, কিন্তু তারা পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করেননি এবং বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং মন্দ ও গ্রহণযোগ্য বিষয়ের পার্থক্যের ক্ষেত্রে অতীত সালাফদের দৃষ্টিভঙ্গিতে দৃষ্টিপাত করেননি …।" এটিই হলো সেই তাত্ত্বিক মানহাজ যা আল-খতিব তাঁর কিতাবের ভূমিকায় নির্ধারণ করেছেন।

কিতাবের লেখক বলেন: "তবে হাদিস শাস্ত্রের ওপর যুক্তিনির্ভর বিদ্যার যে প্রভাব তাঁর যুগে ব্যাপকতা লাভ করেছিল, তিনি তা থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেননি; কেননা তিনি তো তাঁর যুগেরই সন্তান।"

এরপর তিনি তাঁর কিতাবে উসুলুল ফিকহের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। অতঃপর বলেছেন: "উসুলুল ফিকহ দ্বারা আল-খতিবের এই প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সাথে সাথে..." অর্থাৎ তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, আল-খতিব উসুলুল ফিকহ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তিনি এটি সাব্যস্ত করতে চাচ্ছেন যে উসুলুল ফিকহের কিতাবসমূহ ইলমুল কালাম দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তিনি বলছেন: "উসুলুল ফিকহ দ্বারা আল-খতিবের এই প্রভাব স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও, হাদিস শাস্ত্রে তাঁর ইমামত এবং উসুলুল ফিকহের প্রভাব তাঁর ওপর গভীর না হওয়ার কারণে তাঁর কিতাবে সেই উসুলি প্রভাবটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি; কেননা এটি এমন এক প্রকাশ্য প্রভাব যা পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণের নিকট হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান ও মাসয়ালাসমূহের সাথে সংশয় তৈরি করে না, যা দ্বারা আল-খতিব তাঁর কিতাবের অধিকাংশ স্থান পূর্ণ করেছেন।" তিনি এভাবেই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২২)
ولا أدري كيف صار تأثر بعض العلوم الشرعية ببعض عيباً وشيناً يعاب به من مزج بين هذه العلوم التي هي في الأصل علوم مترابطة لا غنى لبعضها عن بعض؟ كيف وعلماء الأصول -لا سيما الأوائل منهم- هم المفسرون وهم المحدثون كالشافعي وغيره؟! وهل الأصول إلا قواعد استنبطها أتباع الأئمة من أقوالهم وتصرفاتهم؟ وهؤلاء الأئمة أرباب المذاهب هم أصحاب الحديث كمالك والشافعي وأحمد، وهم حملة رايته وهم المفسرون كالبخاري وابن أبي حاتم والطبري وغيرهم، ثم إن كثيراً من مباحث الأصول المدونة في كتب الأصول تشارك ما يبحثه المحدثون في علوم الحديث لا سيما ما يتعلق بالسنة منها، يعني وتشارك علوم القرآن فيما يتعلق بالأصل الأول الذي هو الكتاب.

نعم كثير من كبت الأصول تأثر بعلم الكلام والجدل، ولكنه لا يعدو أن يكون تأثراً في كيفية العرض والوسيلة دون المقصد، ثم إن علم الأصول كغيره من علوم الوسائل التي يسميها بعضهم علوم الآلة هي وسائل لغيرها كالعربية وعلوم القرآن وأصول الحديث، لا ينبغي لطالب العلم أن يفرغ نفسه لها دون مقاصدها، يعني الأصل حينما تدرس علوم القرآن، تدرسه لماذا؟ لكي يخدم الأصل، الذي هو القرآن، تدرس علوم الحديث لكي تفهم وتستطيع أن توازن بين الأحاديث، تعرف المقبول من المردود، إذاً هذا وسيلة وليس بغاية، فأنت إذا فهمت الوسيلة وألقيت بثقلك –بكليتك- على الغاية ما ضرتك هذه الوسيلة -إن شاء الله تعالى-.

"فإنها إنما دونها العلماء لتكون وسائل لفهم المقاصد التي هي نصوص الكتاب والسنة، وما يستنبط منهما، وما يستند إليهما".

ثم ذكر صاحب الكتاب الإرشاد للخليلي وذكر مقدمته وأنها من معين المحدثين، ثم تحدث عن البيهقي في المدخل ومقدمة دلائل النبوة، ومقدمة معرفة السنن والآثار، وانتقد ما ينتقد فيها من تأثير النزعة الأصولية بل والأشعرية.

ثم ذكر مقدمة ابن عبد البر لكتابه التمهيد وذمه أهل الكلام والأشعرية، ثم قال: "وعلى هذا فلن يكون للمذاهب الكلامية أثر على ابن عبد البر من جهة العقيدة، لكن ابن عبد البر ممن استبق جيلهم التأثر بأصول الفقه، وهو ابن جيله، فلا بد أن يكون لأصول الفقه أثر عليه.
আমি জানি না কীভাবে কিছু শরয়ী জ্ঞান দ্বারা অন্য কিছু প্রভাবিত হওয়া একটি ত্রুটি ও কলঙ্ক হয়ে দাঁড়াল, যার মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে দোষারোপ করা হয় যিনি এই জ্ঞানগুলোকে মিশ্রিত করেছেন যা মূলত একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের জন্য অপরিহার্য? কীভাবে, অথচ উসূলবিদগণ—বিশেষ করে তাঁদের প্রথম প্রজন্ম—তাঁরাই তো মুফাসসির এবং মুহাদ্দিস ছিলেন, যেমন শাফেয়ী ও অন্যান্যরা?! আর উসূল কী, ইমামদের কথা ও কর্ম থেকে তাঁদের অনুসারীদের আহরিত কতিপয় মূলনীতি ছাড়া? আর মাযহাবের এই ইমামগণই হলেন মুহাদ্দিস, যেমন মালিক, শাফেয়ী ও আহমাদ; এবং তাঁরাই এর পতাকাবাহী। তাঁরাই হলেন মুফাসসির, যেমন বুখারী, ইবনে আবি হাতিম, তাবারী ও অন্যান্যরা। অধিকন্তু, উসূলের কিতাবগুলোতে লিপিবদ্ধ উসূলের অনেক আলোচনা মুহাদ্দিসগণ হাদীস বিজ্ঞানে যা আলোচনা করেন তার সাথে অংশীদারিত্ব রাখে, বিশেষ করে সুন্নাহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে। অর্থাৎ, তা কুরআনের বিজ্ঞানের সাথেও অংশীদারিত্ব রাখে প্রথম মূল উৎস তথা কিতাবুল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে।

হ্যাঁ, উসূলের অনেক কিতাব ইলমুল কালাম ও তর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, তবে এটি উপস্থাপনার ধরণ ও মাধ্যমের প্রভাব ছাড়া আর কিছুই নয়, উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে নয়। তদুপরি, উসূল শাস্ত্রও অন্যান্য মাধ্যমগত জ্ঞানের (উলূমুল ওয়াসাইল)—যাকে কেউ কেউ যন্ত্রগত বিদ্যা (উলূমুল আলাহ) বলেন—সেগুলোর মতোই; এগুলো অন্য সবকিছুর মাধ্যম, যেমন আরবি ভাষা, কুরআন বিজ্ঞান ও উসূলুল হাদীস। জ্ঞান অন্বেষণকারীর উচিত নয় যে, এর মূল লক্ষ্য বাদ দিয়ে কেবল নিজেকে এগুলোর জন্যই উজাড় করে দেওয়া। অর্থাৎ, মূলত আপনি যখন কুরআন বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন, তখন কেন তা করেন? যাতে তা মূল উৎস তথা কুরআনকে সেবা করতে পারে। আপনি হাদীস বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেন যাতে আপনি হাদীসগুলো বুঝতে পারেন এবং হাদীসগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেন, এবং গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় হাদীস সম্পর্কে জানতে পারেন। সুতরাং এটি একটি মাধ্যম, লক্ষ্য নয়। তাই আপনি যদি মাধ্যমটি বুঝতে পারেন এবং আপনার পূর্ণ গুরুত্ব লক্ষ্যের ওপর নিবদ্ধ করেন, তবে এই মাধ্যমটি আপনার কোনো ক্ষতি করবে না—ইনশাআল্লাহ তায়ালা।

"কেননা আলেমগণ এগুলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন যাতে এগুলো কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ এবং তা থেকে যা আহরিত হয় এবং যার ওপর এগুলো নির্ভর করে, সেই উদ্দেশ্যসমূহ বোঝার মাধ্যম হতে পারে।"

অতঃপর গ্রন্থকার খলীলীর 'আল-ইরশাদ' গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেন যে এটি মুহাদ্দিসদের প্রস্রবণ থেকে উৎসারিত। এরপর তিনি আল-বায়হাকীর 'আল-মাদখাল', 'দালাইলুন নুবুওয়াহ'-এর ভূমিকা এবং 'মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার'-এর ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাতে উসূলী প্রবণতা ও এমনকি আশআরী মতবাদের প্রভাবের যা কিছু সমালোচিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি ইবনে আব্দুল বার কর্তৃক তাঁর 'আত-তামহীদ' গ্রন্থের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন এবং কালাম শাস্ত্রবিদ ও আশআরীদের প্রতি তাঁর নিন্দার কথা বলেছেন। তারপর তিনি বলেছেন: "এর ভিত্তিতে আকিদার দিক থেকে ইবনে আব্দুল বারের ওপর কালামী মাযহাবগুলোর কোনো প্রভাব থাকবে না; কিন্তু ইবনে আব্দুল বার এমন একজন ব্যক্তি যাঁর প্রজন্ম উসূলুল ফিকহ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া শুরু করেছিল, আর তিনি তাঁর সমকালেরই মানুষ ছিলেন, তাই উসূলুল ফিকহের প্রভাব তাঁর ওপর থাকা অনিবার্য।"
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৩)
يعني كون الشخص لأصول الفقه أثر عليه يذم؟ يا أخي علم الكلام وهو علم الكلام المذموم الذي ذمه السلف اطلع عليه أهل العلم، بل من أهل العلم من عرفه أكثر من أهله، وأتقنه وضبطه أكثر من أهله، ونفع الله به نفعاً عظيماً.

شيخ الإسلام ابن تيمية كيف يتسنى له أن يرد على المتكلمين؟ يعني كون العلوم تعرض بعرض مناسب لفهم أهل العصر وكل عصر له طريقته ومنهجه، يعني إذا قارنت بين التأليف عند المتقدمين وعند المتوسطين وعند المتأخرين، تجد فرق كبير جداً جداً، من سيؤلف على طريقة الشافعي في الرسالة؟ أو على طريقته في الأم؟ المتأخرون لما تحيروا في فهم طريقة التأليف عند المتقدمين اضطربوا، شخص يؤلف كتاب اسمه: (إصلاح أشنع خطأ في تاريخ التشريع الإسلامي الأم ليست للإمام الشافعي) إصلاح أشنع خطأ في تاريخ التشريع الإسلام الأم يعني ليس من تصنيف الإمام الشافعي، إيش الكلام هذا؟ لماذا؟ لأنه ما يعرف كيف يؤلف المتقدمون، يعني إذا جئت إلى المسند هل يتردد أحد في الحلف على أن المسند للإمام أحمد؟ نعم، ما في أحد بيتردد، إذا قيل: المسند لمن؟ قال: للإمام أحمد وأقسم على ذلك، الرسالة للإمام الشافعي مثل الأم، والعلة التي في الأم موجودة قي الرسالة، وموجودة في المسند، وموجودة في الموطأ، وموجودة في كتب المتقدمين كلهم، يعني كون الأم فيها قال الربيع: قال الشافعي يعني الأم ليس للشافعي؟

المسند على كبره كله قال عبد الله: حدثني أبي، جهل بطريقة المتقدمين في التأليف، لو ألف شخص من المعاصرين على طريقة المتقدمين، اتجهت ألسنة الناس إليه بالذم والقدح، الطريقة تختلف تماماً أن الإنسان يكتب كتابه بنفسه أو يمليه على غيره ولا يثبت اسم الطالب عنه، المتقدمون يثبتون اسم الطالب؛ لأنها أنساب الكتب هذه.
অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির ওপর উসূলে ফিকহের প্রভাব থাকা কি নিন্দনীয়? হে আমার ভাই, ইলমুল কালাম—যা সেই নিন্দিত ইলমুল কালাম যা সালাফগণ নিন্দা করেছেন—আহলুল ইলমগণ তা অধ্যয়ন করেছেন। বরং আহলুল ইলমদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা একে এর প্রবক্তাদের চেয়েও বেশি জানতেন এবং তাদের চেয়েও বেশি সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করেছিলেন। আল্লাহ এর মাধ্যমে অনেক বড় উপকার সাধন করেছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ কীভাবে মুতাকাল্লিমদের খণ্ডন করতে সক্ষম হলেন? অর্থাৎ জ্ঞানসমূহকে সমসাময়িক যুগের মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করা হয়, আর প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব পদ্ধতি ও মানহাজ রয়েছে। আপনি যদি পূর্বসূরি (মুতাক্বাদ্দিমীন), মধ্যবর্তী এবং উত্তরসূরিদের (মুতায়াখখিরীন) রচনাসমগ্রের মধ্যে তুলনা করেন, তবে আপনি অনেক বড় ব্যবধান দেখতে পাবেন। আর-রিসালাহ গ্রন্থে ইমাম শাফিয়ীর পদ্ধতিতে কে রচনা করবে? কিংবা আল-উম্ম গ্রন্থে তাঁর পদ্ধতিতে? উত্তরসূরিরা যখন পূর্বসূরিদের রচনাশৈলী বুঝতে বিভ্রান্ত হলেন, তখন তারা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গেলেন। একজন ব্যক্তি একটি বই রচনা করেছেন যার নাম: (ইসলামি আইন প্রণয়নের ইতিহাসে জঘন্যতম ভুলের সংশোধন: 'আল-উম্ম' ইমাম শাফিয়ীর রচিত নয়)। ইসলামি আইন প্রণয়নের ইতিহাসে জঘন্যতম ভুলের সংশোধন—অর্থাৎ এটি ইমাম শাফিয়ীর সংকলন নয়। এগুলো কী ধরনের কথা? কেন? কারণ তিনি জানেন না যে পূর্বসূরিরা কীভাবে গ্রন্থ রচনা করতেন। অর্থাৎ আপনি যদি মুসনাদের কথা ধরেন, তবে মুসনাদ যে ইমাম আহমাদের—এ ব্যাপারে শপথ করতে কি কেউ দ্বিধা করবে? হ্যাঁ, কেউই দ্বিধা করবে না। যদি বলা হয়: মুসনাদ কার? সে বলবে: ইমাম আহমাদের, এবং সে বিষয়ে কসম খাবে। ইমাম শাফিয়ীর নিকট 'আর-রিসালাহ' ও 'আল-উম্ম' একই। আল-উম্ম-এ যে বৈশিষ্ট্য বা চিহ্ন রয়েছে, তা আর-রিসালাহ-তেও বিদ্যমান, মুসনাদেও বিদ্যমান, মুয়াত্তা-তেও বিদ্যমান এবং পূর্বসূরিদের সকল কিতাবেই বিদ্যমান। অর্থাৎ, আল-উম্ম গ্রন্থে "রাবি' বলেছেন: শাফিয়ী বলেছেন" আছে বলেই কি আল-উম্ম শাফিয়ীর হবে না?

মুসনাদ এতো বিশাল হওয়া সত্ত্বেও তার আগাগোড়া সবটুকুতেই আছে "আবদুল্লাহ বলেছেন: আমার পিতা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন"। এটি আসলে পূর্বসূরিদের রচনাশৈলী সম্পর্কে অজ্ঞতা। বর্তমান সময়ের কোনো ব্যক্তি যদি পূর্বসূরিদের পদ্ধতিতে কোনো কিতাব রচনা করেন, তবে মানুষের জিহ্বা তার প্রতি নিন্দা ও সমালোচনায় মুখর হবে। পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন যে, মানুষ তার কিতাব নিজে লিখবে অথবা অন্যের কাছে তা শ্রুতলিপি (ইমলা) করাবে এবং সেখানে ছাত্রের নাম উল্লেখ করবে না। কিন্তু পূর্বসূরিরা ছাত্রের নাম উল্লেখ করতেন; কারণ এগুলোই হলো কিতাবসমূহের বংশপরম্পরা।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৪)
أقول: كون الإنسان يقرأ العلوم لا سيما ما يحتاج إليه للذب عن الكتاب والسنة كعلم الكلام مثل هذا الأمور بمقاصدها، قرأ علم الكلام لأي شيء؟ لكي يرد على المتكلمين يؤجر، شريطة ألا يتأثر بهذا العلم، أما إذا خشي على نفسه فلا يجوز له أن ينظر في هذا العلم، أما إذا كان ممن لديه من الفهم ما يؤهله لفهم هذا العلم وعنده من العلم الشرعي ما يكون سبباً في تحصينه من التأثر بهذا العلم المحدث فإنه حينئذ لا مانع من أن يقرأ في هذا العلم وينقد هذا العلم، وشيخ الإسلام صنع ذلك، وإن كان عموم طلاب العلم ليسو بحاجة إليه، قد يحتاج إليه بعض الناس دون بعض، يعني كما تحتاج الأمة إلى مترجمين بلغات، لكن الأمة ليست بحاجة إلى أن يكونوا كلهم يتقنون اللغات لنطلع على ما عند الأعداء من خطط، ونرد عليهم شبههم، لا بد أن نعرف لغاتهم، لكن يتصدى لذلك أفراد من الناس تقوم بهم الحاجة، ومثله ما نحن بصدده من معرفة علم الكلام.

وأشد الناس انتقاد ومنع وتحريم لعلم الكلام من ينتقدهم ابن الصلاح ومن جاء بعده.

فابن الصلاح والنووي حرما … . . . . . . . . .

يعني حرما النظر في علم الكلام.

. . . . . . . . . … وقال قوم: ينبغي أن يعلما

المقصود أن مثل هذا نقول: الأمور بمقاصدها، شخص يقرأ الإنجيل ليرد على النصارى من خلاله، شخص يقرأ كتب المبتدعة، يقرأ كتب الرافضة ليرد عليهم، نقول: أنت تنظر في كتب المبتدعة؟ الأمور بمقاصدها، كون بعض هذه الأمور الشكلية التي أثرت في كيفية عرض العلم دخلت إلينا وافدة لا شك أن الذي ينفع استفاد، لكن الكلام في جوهر العلم هل تأثر وإلا ما تأثر؟ ما تأثر.

يقول: "أما التأثر بالمنطق وصناعة المعرفات فلم يظهر لها أثر على ابن عبد البر في شرحه للمصطلحات وتعريفها".
আমি বলি: মানুষের বিভিন্ন শাস্ত্র পাঠ করা, বিশেষ করে যা কুরআন ও সুন্নাহর প্রতিরক্ষায় প্রয়োজন হয়, যেমন ইলমুল কালাম; এই জাতীয় বিষয়গুলো তাদের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল। সে কেন ইলমুল কালাম পাঠ করেছে? যদি সে মুতাকাল্লিমদের প্রতিবাদ করার জন্য তা পাঠ করে থাকে, তবে সে সওয়াব পাবে—এই শর্তে যে সে যেন এই শাস্ত্র দ্বারা প্রভাবিত না হয়। কিন্তু যদি সে নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করে, তবে তার জন্য এই শাস্ত্রের দিকে দৃষ্টি দেওয়া বৈধ নয়। তবে যার এমন বোধশক্তি রয়েছে যা তাকে এই শাস্ত্র বোঝার যোগ্য করে তোলে এবং যার নিকট এমন শারঈ জ্ঞান রয়েছে যা এই নবউদ্ভুদ শাস্ত্রের প্রভাব থেকে তাকে সুরক্ষিত রাখার মাধ্যম হবে, তবে তখন তার জন্য এই শাস্ত্র পাঠ করা এবং এর সমালোচনা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আর শাইখুল ইসলাম এটিই করেছেন। যদিও সাধারণ ইলম অন্বেষণকারীদের এর প্রয়োজন নেই। কারও কারও এর প্রয়োজন হতে পারে, অন্যদের নয়। অর্থাৎ, উম্মাহর যেমন বিভিন্ন ভাষার অনুবাদকের প্রয়োজন হয়; কিন্তু শত্রুদের কী পরিকল্পনা রয়েছে তা জানার জন্য এবং তাদের সংশয়ের উত্তর দেওয়ার জন্য উম্মাহর সকলের ভাষা পারদর্শী হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের তাদের ভাষা জানা আবশ্যক, কিন্তু এটি একদল লোক সম্পন্ন করবে যাদের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ হয়। আর আমরা যে ইলমুল কালামের বিষয়ের ওপর রয়েছি, এটিও ঠিক তদ্রূপ।

এবং ইলমুল কালামের সমালোচনা, নিষেধ এবং একে হারাম করার ক্ষেত্রে ইবনুল সালাহ এবং তাঁর পরবর্তীগণ সবচেয়ে কঠোর।

সুতরাং ইবনুল সালাহ এবং আন-নববী হারাম করেছেন … . . . . . . . . .

অর্থাৎ তারা ইলমুল কালামের দিকে দৃষ্টি দেওয়া বা অধ্যয়ন করা হারাম করেছেন।

. . . . . . . . . … এবং একদল বলেছেন: এটি জানা উচিত।

উদ্দেশ্য হলো এই যে, আমরা বলি: কাজগুলো নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোনো ব্যক্তি ইনজীল পাঠ করে যেন এর মাধ্যমেই নাসারাদের উত্তর দিতে পারে। কোনো ব্যক্তি বিদআতিদের বই পড়ে, রাফেজিদের বই পড়ে তাদের খণ্ডন করার জন্য। আমরা কি বলব: তুমি কেন বিদআতিদের বই দেখছ? বিষয়গুলো উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই কাঠামোগত বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু বিষয় যা জ্ঞান উপস্থাপনের পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলেছে এবং আমাদের কাছে বহিরাগত হিসেবে এসেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে যা উপকারী তা থেকে ফায়দা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কথা হলো জ্ঞানের সারসত্তায়; সেটি কি প্রভাবিত হয়েছে নাকি হয়নি? তা প্রভাবিত হয়নি।

তিনি বলেন: "যুক্তিবিদ্যা এবং সংজ্ঞায়নের কলাকৌশল দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি ইবনে আব্দিল বার-এর ওপর তাঁর পরিভাষা ও সংজ্ঞার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়নি।"
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৫)
لو نظرنا في كتب المتقدمين هل نجد الإمام أحمد حينما يدون عنه الفقه هل نجده في كل باب تعريفه لغة واصطلاحاً؟ ما يعرف شيء إطلاقاً إنما يقتصر على الأحكام، الشافعي كذلك، مالك كذلك، كل الأئمة المتقدمين على هذا، بينما في كتب المتأخرين أول ما يبدءون بالتعريف لغة واصطلاحاً، والرابط بين التعريف اللغوي والاصطلاحي، نقول: تجرد الكتب من التعريفات لأنها وافدة؟ نقول: هذا وإلا ما نقول؟ ما نقول هذا، احتجنا إلى مثل هذا، كانت هذه المصطلحات عندهم بدهية، ما يحتاجون إلى تدوينها، لما احتاجها المتأخرون دونوها، نقول: هذه طريقة محدثة عند المتأخرين لا بد أن نحاكي المتقدمين فيها؟ لا، ما يلزم يا أخي.

আমরা যদি পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহের দিকে তাকাই, তবে আমরা কি ইমাম আহমাদকে দেখতে পাই যে, যখন তাঁর থেকে ফিকহ সংকলিত হচ্ছে, তিনি কি প্রতিটি অধ্যায়ে তার আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করছেন? তিনি মোটেও কোনো সংজ্ঞা প্রদান করেন না, বরং শুধুমাত্র বিধানাবলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। ইমাম শাফিয়ীও তদ্রূপ, ইমাম মালিকও তদ্রূপ; পূর্বসূরি সকল ইমামই এই পদ্ধতির উপর ছিলেন। পক্ষান্তরে উত্তরসূরিদের কিতাবসমূহে দেখা যায়, তারা প্রথমেই আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা এবং আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞার মধ্যকার যোগসূত্র দিয়ে আলোচনা শুরু করেন। আমরা কি তবে বলব যে, কিতাবসমূহকে সংজ্ঞা বিবর্জিত করতে হবে কারণ এগুলো পরে যুক্ত হয়েছে? আমরা কি এটি বলব নাকি বলব না? আমরা এটি বলব না, কারণ আমাদের এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই পরিভাষাগুলো তাঁদের নিকট স্বতঃসিদ্ধ ছিল, তাই সেগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন তাঁদের ছিল না। কিন্তু যখন উত্তরসূরিদের এর প্রয়োজন হলো, তখন তাঁরা তা লিপিবদ্ধ করলেন। আমরা কি বলব যে, এটি উত্তরসূরিদের মাঝে একটি নতুন পদ্ধতি, তাই আমাদের এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্বসূরিদের অনুকরণ করতে হবে? না, হে আমার ভাই, এটি আবশ্যক নয়।

(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويعلم الله سبحانه وتعالى أنني لا أقصد القدح بهذا الرجل، بل هو من خير من عرفت من طلاب العلم في هذا الشأن هو وأمثاله ممن يقول بهذا الكلام، إنما أريد أن أوضح الحقيقة، وقد طلب مني ردود مستقلة على كتبه فرفضت؛ لأنه ليس من منهجي أن أتصدى وأقصد الرد على شخص بعينه، لا سيما من أعرف منه حسن المقصد، لكن كون الكلام يأتي عرضاً، هم تكلموا في النخبة كلاماً طويلاً، حتى قال بعضهم: "هي زبالة كتب المصطلح" فاحتجنا إلى أن نقول مثل هذا الكلام، نعم احتجنا إلى أن نقول مثل هذا الكلام عرضاً لا نذكره استقلالاً؛ لأنه ليس من المنهج المستقيم عند أهل العلم أن يتصدى للكتب النافعة التي عظم نفعها فتبرز مساويها، لا، من الذي يسلم من الأخطاء؟ لا أحد يسلم من الأخطاء، يعني لو أظهرنا أخطاء ابن حجر في فتح الباري في مجلد، أنا عندي استعداد أبرزه في مجلد كبير، سواءً كان في العقائد أو في أحكامه على الأحاديث، أو في أحكامه في الاستنباط وغيرها، لكن إذا رأى الطالب المبتدئ هذا المجلد وقال: هذا مجلد كبير في أخطاء هذا الكتاب، قال: ليش أقرأ كتاب كل هذه الأخطاء فيه؟ فنزهد طالب العلم بهذا الكتاب مع أنه عظم نفعه، لو أردنا أن نجرد أخطاء النووي في شرح مسلم كذلك، أخطاء القرطبي في تفسيره كذلك، لكن لا مانع أن يعلق على هذه الكتب على فخامتها بتنبيهات يسيرة يعني كما فعل الشيخ ابن باز -رحمة الله عليه-، لا مانع أن نعلق على النووي، لا مانع أن علق على القرطبي وهكذا، يبين الحق لا بد من بيان الحق، لكن إبراز المساوئ بهذه الطريقة بحيث نزهد طلاب العلم بهذه الكتب هذا ليس بمنهج، نعم إذا عظم الضرر بالكتاب، وصار ضرره أعظم من نفعه لا مانع أن يصرف عنه طلاب العلم، لا مانع أن تبرز أخطاء الزمخشري في الكشاف، لا مانع أن تبرز أخطاء الرازي في تفسيره؛ لأن الضرر من هذين الكتابين على طلاب العلم أكبر من نفعهما، فكون طالب العلم يزهد في تفسير الكشاف أو تفسير الرازي لن يخسر شيء، لكن كونه يزهد في فتح الباري هذه مشكلة.

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা জানেন যে, আমি এই ব্যক্তির নিন্দা করার উদ্দেশ্য করছি না; বরং তিনি এবং তাঁর মতো যারা এই কথা বলেন, তারা এই বিষয়ে আমার পরিচিত ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। আমি কেবল সত্য স্পষ্ট করতে চাই। তাঁর বইগুলোর ওপর স্বতন্ত্র খণ্ডনমূলক আলোচনার জন্য আমার কাছে আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি; কারণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মোকাবিলা করা বা তাঁকে লক্ষ্য করে খণ্ডন করা আমার পদ্ধতি নয়, বিশেষ করে এমন ব্যক্তি যার সম্পর্কে আমি জানি যে তাঁর উদ্দেশ্য সৎ। কিন্তু কথাটি প্রসঙ্গক্রমে এসেছে। তারা 'নুখবাহ' সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, এমনকি তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "এটি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থগুলোর আবর্জনা।" ফলে আমাদের এই ধরনের কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। হ্যাঁ, আমরা প্রসঙ্গক্রমে এই কথাটি বলার প্রয়োজন মনে করেছি, স্বতন্ত্রভাবে নয়; কারণ ইলমের ধারক-বাহকদের নিকট এটি সঠিক পদ্ধতি নয় যে, অত্যন্ত উপকারী কোনো গ্রন্থের মোকাবিলা করতে গিয়ে কেবল তার ভুলত্রুটিগুলোই ফুটিয়ে তোলা হবে। না, ভুল থেকে কে মুক্ত? কেউই ভুল থেকে মুক্ত নয়। অর্থাৎ, আমরা যদি 'ফাতহুল বারী'তে ইবনে হাজারের ভুলগুলো একটি খণ্ডে প্রকাশ করি—আমি একটি বড় খণ্ডে তা ফুটিয়ে তুলতে প্রস্তুত আছি, চাই তা আকিদা বিষয়ক হোক বা হাদিসের ওপর তাঁর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে হোক কিংবা বিধান আহরণ বা অন্য কোনো বিষয়ে হোক। কিন্তু একজন শিক্ষানবিশ শিক্ষার্থী যদি এই খণ্ডটি দেখে এবং বলে: "এটি এই কিতাবের ভুলগুলোর ওপর একটি বিশাল খণ্ড," তবে সে বলবে: "আমি কেন এমন একটি বই পড়ব যাতে এত ভুল রয়েছে?" এভাবে আমরা সেই কিতাবটির ব্যাপারে শিক্ষার্থীর মনে অনীহা সৃষ্টি করব, অথচ এর উপকারিতা অপরিসীম। যদি আমরা একইভাবে ইমাম নববীর 'শারহু মুসলিম'-এর ভুলগুলো এবং ইমাম কুরতুবীর 'তাফসীর'-এর ভুলগুলো আলাদা করতে চাইতাম, তবে তাও সম্ভব হতো। তবে এই মহৎ গ্রন্থগুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত সতর্কতামূলক টীকা প্রদান করতে কোনো বাধা নেই, যেমনটি শেখ ইবনে বাজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) করেছেন। নববীর ওপর টীকা দিতে কোনো বাধা নেই, কুরতুবীর ওপর টীকা দিতে কোনো বাধা নেই এবং এভাবেই সত্য স্পষ্ট করতে হবে। সত্য স্পষ্ট করা অপরিহার্য, কিন্তু এমনভাবে দোষত্রুটি ফুটিয়ে তোলা যার ফলে শিক্ষার্থীরা এই কিতাবগুলোর প্রতি বিমুখ হয়ে পড়ে, তা কোনো সঠিক পদ্ধতি নয়। হ্যাঁ, যদি কোনো কিতাবের ক্ষতি অত্যন্ত প্রবল হয় এবং এর উপকারিতার চেয়ে ক্ষতির দিকটিই বড় হয়ে দাঁড়ায়, তবে শিক্ষার্থীদের তা থেকে সরিয়ে রাখতে কোনো বাধা নেই। যামাখশারীর 'কাশশাফ'-এর ভুলগুলো ফুটিয়ে তুলতে বাধা নেই, রাজীর 'তাফসীর'-এর ভুলগুলো ফুটিয়ে তুলতে বাধা নেই; কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এই দুটি কিতাবের ক্ষতির দিকটি তাদের উপকারের চেয়ে বেশি। ফলে একজন শিক্ষার্থী যদি 'তাফসীরে কাশশাফ' বা 'তাফসীরে রাজী'র প্রতি বিমুখ হয়, তবে সে কিছুই হারাবে না; কিন্তু সে যদি 'ফাতহুল বারী'র প্রতি বিমুখ হয়, তবে সেটি হবে একটি বড় সমস্যা।

(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم انتقل المؤلف إلى الطور الثاني لكتب علوم الحديث كتاب ابن الصلاح فما بعده فقال: "إن معرفة أنواع علوم الحديث لابن الصلاح من الكتب النادرة في العلوم الإسلامية التي ما إن صنفت حتى أصبحت إماماً لأهل فنها، وهماً لطلاب ذلك العلم ولعلمائه، وأصلاً أصيلاً يرجعون إليه، ومورداً لا يصدرون إلا عنه، ولا يحومون إلا عليه".

ثم ذكر تأثره بالخطيب، لا شك أن ابن الصلاح متأثر بالخطيب، ليش؟ لأن الخطيب ما ترك نوع من أنواع علوم الحديث إلا وكتب فيه مصنف، يعني هل يلام ابن الصلاح أو غير ابن الصلاح أن يتأثر بالخطيب إذا جاء إلى باب كامل من علوم الحديث ما وجد إلا كتاب الخطيب؟ ذكر تأثره بالخطيب البغدادي، وأنه تبعاً له تأثر بالعلوم العقلية، لكنه زاد على الخطيب نتيجة لتأخره عنه بما يقارب القرنين من الزمان، ثم ذكر أمثلة تأثر ابن الصلاح بالأصول، ثم قال: "ومع هذا التأثر الكبير بالأصول عند ابن الصلاح إلى درجة ترجيح رأي الأصوليين على رأي أهل الفن من المحدثين إلا أنه زاد في بيان عمق هذا الأثر، وأنه تعمد مخالفة المحدثين إلى رأي الأصوليين" لكن هل قصد ابن الصلاح ترجيح أقوال الأصوليين على أقوال المحدثين؟ هو نظر إلى هذه الأقوال ورجح ما يدين الله به، كون الراجح وافقه عليه الأصوليون أو خالفه، أولاً: ابن الصلاح قسم الفريقين قال: الحديث كذا وقال: الفقه كذا، نعم ينقل أقوال أهل الحديث والأثر وأقوال الفقه والنظر، لكن كثير من أهل الفقه وأهل النظر هم أهل حديث في الجملة.

الأمر الثاني: أنه ما من قول من أقوال أهل الفقه إلا وقد قال به بعض أهل الحديث فكونه يرجح أقوال أهل الفقه والنظر، لا يعني أنه حيدة عن أقوال أهل الحديث والأثر، ولو افترضنا أنه أخطأ في ترجيح أو ترجحين أو ثلاثة أو عشرة، ويكفيه أنه عرض المادة ولك أن تنظر، ولا ننكر ولا نخالف في أن من أهل الأصول من ليسوا من أهل الحديث، بل إن منهم من بضاعته في الحديث مزجاة، لكن ما المانع أنه إذا قال كلمة تدرس هذه الكلمة؟ في ما يمنع؟ وتعرض على أقوال أهل الحديث فهم أهل الشأن، أما المطالبة بتجريد كتب الحديث أو علوم الحديث من أقوال الأصوليين أتصور أنها مطالبة لا قيمة لها.
অতঃপর লেখক হাদিস শাস্ত্রের কিতাবসমূহের দ্বিতীয় পর্যায়—ইবনুল সালাহর কিতাব ও তার পরবর্তী সময়ের দিকে অগ্রসর হয়ে বলেন: "ইবনুল সালাহ রচিত ‘মা’রিফাতু আনওয়া’ই উলূমিল হাদীস’ ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সেই বিরল কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা সংকলিত হওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট আদর্শ বা ইমামে পরিণত হয়েছে এবং এই শাস্ত্রের ছাত্র ও আলেমদের প্রধান চিন্তার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটি একটি সুদৃঢ় ভিত্তি যার দিকে তারা ফিরে আসেন এবং এমন একটি উৎস যা থেকে তারা জ্ঞান আহরণ করেন এবং একে কেন্দ্র করেই তারা আবর্তিত হন।"

অতঃপর তিনি খতিব (আল-বাগদাদি) দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইবনুল সালাহ খতিব দ্বারা প্রভাবিত। কেন? কারণ খতিব হাদিস শাস্ত্রের এমন কোনো শাখা বাকি রাখেননি যাতে তিনি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেননি। অর্থাৎ, হাদিস শাস্ত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় আলোচনা করতে গিয়ে যেখানে খতিবের কিতাব ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায় না, সেখানে ইবনুল সালাহ বা অন্য কেউ খতিব দ্বারা প্রভাবিত হলে কি তাঁদের নিন্দা করা যায়? তিনি খতিব আল-বাগদাদি দ্বারা তাঁর প্রভাবিত হওয়ার কথা এবং তাঁর অনুকরণে বুদ্ধিবৃত্তিক বা আকলি জ্ঞান দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তবে খতিবের প্রায় দুই শতাব্দী পরবর্তী হওয়ায় তিনি খতিবের আলোচনার ওপর আরও সংযোজন করেছেন। অতঃপর তিনি উসুল বা মূলনীতির দ্বারা ইবনুল সালাহর প্রভাবিত হওয়ার উদাহরণসমূহ উল্লেখ করে বলেন: "ইবনুল সালাহর ওপর উসুল বা মূলনীতির এই ব্যাপক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, যা এমনকি মুহাদ্দিসদের মতের ওপর উসুলিবিদদের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে, তিনি এই প্রভাবের গভীরতা বর্ণনায় আরও অগ্রসর হয়েছেন এবং বলেছেন যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মুহাদ্দিসদের বিরোধিতা করে উসুলিবিদদের মত গ্রহণ করেছেন।" কিন্তু ইবনুল সালাহ কি সত্যিই মুহাদ্দিসদের মতের বিপরীতে উসুলিবিদদের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন? তিনি মূলত এই মতগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং যেটিকে আল্লাহর নিকট অধিক সঠিক বা সত্য বলে মনে করেছেন সেটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন; সেই প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতটি উসুলিবিদদের অনুকূলে যাক বা প্রতিকূলে। প্রথমত: ইবনুল সালাহ দুই পক্ষকে বিভক্ত করে বলেছেন: হাদিস শাস্ত্রের বক্তব্য এটি এবং ফিকহ শাস্ত্রের বক্তব্য এটি। হ্যাঁ, তিনি আহলে হাদিস ও আসার এবং আহলে ফিকহ ও নজরের বাণী উদ্ধৃত করেন; তবে সাধারণভাবে ফিকহ ও নজরের অনুসারীদের অনেকেই হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।

দ্বিতীয়ত: ফিকহ শাস্ত্রবিদদের এমন কোনো বক্তব্য নেই যা কোনো না কোনো হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিত ইতিপূর্বে বলেননি। সুতরাং তাঁর ফিকহ ও নজরের প্রবক্তাদের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি আহলে হাদিস ও আসারের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। আর যদি আমরা ধরেও নেই যে তিনি এক, দুই, তিন বা দশটি বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবুও তাঁর জন্য এটাই যথেষ্ট যে তিনি বিষয়বস্তুগুলো আপনার সামনে পেশ করেছেন এবং আপনার পর্যালোচনার সুযোগ রেখেছেন। আমরা এটি অস্বীকার করি না এবং এতে দ্বিমত পোষণ করি না যে, উসুলিবিদদের মধ্যে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ নন; এমনকি তাদের মধ্যে এমন লোকও আছেন যাদের হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানভাণ্ডার অত্যন্ত নগণ্য। তবে তাদের কোনো বক্তব্য পর্যালোচনা করতে বাধা কোথায়? এতে বাধা কিসে? সেই বক্তব্যটি সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ তথা হাদিস শাস্ত্রবিদদের মতামতের আলোকে বিচার করা হবে। কিন্তু হাদিস শাস্ত্র বা উলূমুল হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে উসুলিবিদদের মতামতকে পুরোপুরি বর্জন করার যে দাবি করা হয়, আমি মনে করি সেই দাবির কোনো মূল্য নেই।
(খণ্ড: ১) শারহু নুখবাতিল ফিকার লিল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ২৮)
إيش المانع أن يكون طبيب، طبيب من الأطباء وقد وجد من الأطباء ابن النفيس طبيب، تذكر أقواله في علوم الحديث، وأحياناً تكون جانب الإصابة معه، إيش المانع؟ عندنا من الأطباء المعاصرين الآن من يصدر بعض الأحكام على بعض المسائل المتعلقة بالطب فهمها من خلال مهنته وصنعته مما خفي على بعض الفقهاء، إيش المانع؟ ليس هناك ما يمنع، هم مسلمون اطلعوا على نصوص الكتاب والسنة، وهم يفهمون وإيش المانع؟ يعني يوجد عند بعض الناس ما لا يوجد عند غيرهم، العلم ليس بمحصور كله على فلان أو علان أو على هذه الجهة أو تلك الجهة.

الرسول عليه الصلاة والسلام قال لأبي هريرة: ((صدقك –يعني الشيطان- وهو كذوب)) صدقك، يقول: ((صدقك)) وكم من طالب صغير نبه شيخاً كبيراً على خطأ وقع فيه، وكم استفدنا، وكم، وكم، وكم استفدنا من طلابنا، نبهونا على أشياء كثيرة، هذا شيء موجود ننكر للناس كلهم تبعاً لهذا التقعيد وهذا التقرير ما هو بصحيح.

ثم تحدث عن ابن دقيق العيد وكتابه الاقتراح وانتقده ولم يطل في ذلك، ومثله في الكلام على الذهبي وكتابه الموقضة، ثم خصص بقية الكلام على كتب المصطلح للحافظ ابن حجر وكتابه النخبة وشرحها نزهة النظر وأطال في ذلك معللاً ذلك بما لنزهة النظر من قدسية، من قدسية لا تنال عند أهل عصره –أعني الآن عصرنا إحنا- وكأنها كتاب ناطق أو سنة ماضية" ومن قال هذا الكلام؟ النخبة كغيرها من تصانيف البشر فيها الراجح وهو كثير، وفيها المرجوح، والإنسان إذا تأهل ما الذي يمنعه أن يرجح الراجح ويترك المرجوح؟ لا حجر على أحد، يقول: "وكأنها كتاب ناطق أو سنة ماضية".

انتقد ترتيب النزهة لماذا؟ يقول: "لأنه مغاير لكل الكتب في علوم الحديث، فالكتاب مبني في ترتيبه على أساس التقسيم العقلي عند المناطقة"، نعم الترتيب الذي سلكه الحافظ ابن حجر في النخبة ترتيب بديع، ترتيب بديع بناه على اللف والنشر المرتب عند أهل العلم، وهو طريقة مسلوكة جاءت بها النصوص الشرعية، اللف والنشر: أن يذكر أكثر من شيء على سبيل الإجمال، ثم تفصل هذه الأشياء، والكتاب كله مبني على هذا.
একজন চিকিৎসক হতে বাধা কোথায়? চিকিৎসকদের মধ্যে ইবনুল নাফিস একজন চিকিৎসক ছিলেন; উলূমুল হাদীসে (হাদীস বিজ্ঞানে) তাঁর বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত হয়, এবং কখনও কখনও সঠিক হওয়ার বিষয়টি তাঁর পক্ষেই থাকে। এতে বাধা কোথায়? আমাদের সমসাময়িক চিকিৎসকদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে এমন সব ফয়সালা দেন যা তারা তাঁদের পেশা ও কারিগরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছেন, যা কিছু ফকীহদের (আইনবিদদের) নিকট অস্পষ্ট ছিল। এতে বাধা কোথায়? এর পেছনে কোনো বাধা নেই। তাঁরা মুসলিম, তাঁরা কুরআন ও সুন্নাহর মূল পাঠ্যসমূহ পাঠ করেছেন এবং তাঁরা তা বোঝেন; এতে বাধা কোথায়? অর্থাৎ কিছু মানুষের কাছে এমন কিছু থাকে যা অন্যদের কাছে থাকে না। জ্ঞান পুরোপুরি অমুক বা তমুক ব্যক্তি কিংবা এই পক্ষ বা ওই পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু হুরায়রাকে বলেছিলেন: “সে (অর্থাৎ শয়তান) তোমাকে সত্য বলেছে, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী।” তিনি বলেছেন: “সে তোমাকে সত্য বলেছে”। কত ছোট ছাত্র বড় কোনো শাইখকে তাঁর করা কোনো ভুলের বিষয়ে সচেতন করে দিয়েছে। আমরা আমাদের ছাত্রদের কাছ থেকে কতই না উপকৃত হয়েছি, কত কত বার তারা আমাদের অনেক বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি একটি বিদ্যমান বাস্তবতা। এই নিয়ম বা আলোচনার প্রেক্ষিতে সবার অবদানকে অস্বীকার করা সঠিক নয়।

এরপর তিনি ইবন দাকীক আল-ঈদ এবং তাঁর কিতাব ‘আল-ইকতিরাহ’ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং তাঁর সমালোচনা করেন, তবে তাতে দীর্ঘ আলোচনা করেননি। তেমনিভাবে আয-যাহাবী এবং তাঁর কিতাব ‘আল-মুকিজাহ’ সম্পর্কেও আলোচনা করেন। এরপর তিনি হাদীস পরিভাষা শাস্ত্রের (মুসত্বলাহ) কিতাবসমূহের মধ্যে হাফিজ ইবন হাজারের কিতাব ‘আন-নুখবাহ’ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নুযহাতুন নাযার’-এর জন্য বাকি আলোচনা নির্দিষ্ট করেন এবং এর কারণ হিসেবে ‘নুযহাতুন নাযার’-এর এমন এক বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করে দীর্ঘ আলোচনা করেন যা হাফিজ ইবন হাজারের সমসাময়িকদের—অর্থাৎ আমি আমাদের বর্তমান সময়ের কথা বোঝাচ্ছি—নিকট এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যেন এটি একটি কথা বলা কিতাব বা চিরন্তন সুন্নাহ। এই কথা কে বলেছে? ‘নুখবাহ’ মানুষের লেখা অন্যান্য রচনার মতোই, এতে সঠিক মত যেমন রয়েছে—যা সংখ্যায় অনেক—তেমনি এতে দুর্বল মতও রয়েছে। একজন মানুষ যখন যোগ্য হয়ে ওঠেন, তখন সঠিকটিকে গ্রহণ করা এবং দুর্বলটিকে বর্জন করা থেকে তাঁকে কে বাধা দেবে? কারও ওপর কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তিনি বলেন: “এটি যেন একটি কথা বলা কিতাব বা চিরন্তন সুন্নাহ।”

তিনি ‘নুযাহ’-এর বিন্যাসের সমালোচনা করেছেন কেন? তিনি বলেন: “কারণ এটি উলূমুল হাদীসের অন্যান্য সকল কিতাব থেকে ভিন্ন। কিতাবটির বিন্যাস যুক্তিবিদদের নিকট প্রচলিত যৌক্তিক বিভাজনের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।” হ্যাঁ, হাফিজ ইবন হাজার ‘নুখবাহ’ কিতাবে যে বিন্যাস অনুসরণ করেছেন তা অত্যন্ত চমৎকার একটি বিন্যাস। তিনি এটি আলিমদের নিকট প্রচলিত ‘আল-লাফ্ফ ওয়াল নাশর আল-মুরাত্তাব’ (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ও সুশৃঙ্খল বিস্তারিত বিবরণ)-এর ভিত্তিতে সাজিয়েছেন, যা একটি অনুসৃত পদ্ধতি এবং শারয়ী দলীলসমূহেও তা এসেছে। ‘আল-লাফ্ফ ওয়াল নাশর’ হলো: সংক্ষিপ্তভাবে একাধিক বিষয় উল্লেখ করা এবং এরপর সেই বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা। পুরো কিতাবটিই এর ওপর ভিত্তি করে রচিত।