(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - عبد الكريم الخضير القسم: العقيدة
الكتاب: شرح العقيدة الواسطية
مؤلف الأصل: شيخ الإسلام ابن تيمية (ت 728هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
শরহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদায়র বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: শরহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
মূল লেখক: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (মৃ. ৭২৮ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদায়র
শায়খ আল-খুদায়রের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিলিপি করা পাঠসমূহ
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটিই হলো পাঠ নম্বর - ৮টি পাঠ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح العقيدة الواسطية]ـ
مؤلف الأصل: شيخ الإسلام ابن تيمية (المتوفى: 728هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]
—[আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা]—
মূল রচয়িতা: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইর-এর ওয়েবসাইট থেকে অনুলিপিকৃত পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি পাঠ নম্বর হিসেবে গণ্য - ৮টি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১)
العقيدة الواسطية
الكلام على صفة الرجل لله تعالىالشيخ/عبد الكريم الخضير
هذا يقول: ماذا عليَّ لو استيقظت بعد صلاة الظهر الساعة الواحدة مثلاً، فقلت في نفسي: أكملي النوم إلى قبيل خروج الوقت، أي قبل العصر، ثم أقوم فأصلي؟
إذا فاتت الجماعة وأيس منها، وليس أمامه خيار إلا أن يصلي منفرداً فالوقت فيه سعة، إلا أنه كلما بادر بأداء الفريضة كان أبرأ لذمته وأحوط له، ولكن لو أخرها إلى أثناء وقتها أو إلى آخره ما لم يخرجها عن وقتها فالأمر فيه سعة، مثل ما قلنا: أول الوقت أفضل إلا في شدة الحر، إذا اشتد الحر وأبرد لا مانع، وكل هذا إذا أيس من إدراك الجماعة في المسجد، وإلا فالأصل أنه ما دام يدركها مع الجماعة أنه متعين يجب عليه يأثم لو تركها مع الجماعة حيث ينادى بها في المسجد مع جماعة المسلمين، بل من أهل العلم من يرى أن صلى الجماعة شرط لصحة الصلاة، والنبي عليه الصلاة والسلام يقول لابن أمِّ مكتوم: ((أتسمع النداء؟ )) قال: نعم، قال: ((أجب، لا أجد لك رخصة)) لكن إذا أيس وقام من النوم بعد فراغ الناس من الصلاة ولا يدرك جماعة أخرى لا سيما وإن كان هناك حاجة داعية إلى النوم بأن كان مريضاً أو متعباً فزاد في نومه لمدة ساعة قبل أن يخرج الوقت لا مانع من ذلك -إن شاء الله تعالى-، ولا إثم عليه إلا أنه ترك الأفضل.
يقول: هذا يطلب أن تشرح ألفية ابن مالك، هذا من هولندا -ما شاء الله- يقول: ليته يشرح ألفية ابن مالك كما سبق أن شرح الأجرومية، لكان أجراً عظيماً بإذنه سبحانه، أخوكم الحسين من هولندا؟
والله ألفية ابن مالك على البال -إن شاء الله تعالى-، وهي من أولى ما يشرح في هذه الدروس والدورات، لكن عسى الله أن ييسر الأمر، نشرح بعد الأجرومية -إن شاء الله تعالى- القطر ثم الألفية.
আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ
মহান আল্লাহর পা এর গুণ সম্পর্কিত আলোচনাশায়খ আব্দুল কারিম আল-খুদাইর
একজন প্রশ্নকারী বলছেন: আমি যদি জোহরের নামাজের পর দুপুর একটার দিকে ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং মনে মনে বলি যে, ওয়াক্ত শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে তথা আসরের আগে পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেই, তারপর উঠে নামাজ পড়ব, তবে আমার কী করণীয়?
যদি জামাত ছুটে যায় এবং তা পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়, আর একাকী নামাজ পড়া ছাড়া কোনো উপায় না থাকে, তবে সময়ের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে। তবে সে যত দ্রুত ফরজ নামাজ আদায়ের উদ্যোগ নেবে, তা তার দায়মুক্তির জন্য ততই শ্রেয় এবং অধিকতর সতর্কতামূলক হবে। কিন্তু যদি সে ওয়াক্তের ভেতরে কোনো এক সময়ে বা ওয়াক্তের শেষ দিকে তা বিলম্বিত করে যতক্ষণ না ওয়াক্ত পার হয়ে যায়, তবে তাতে অবকাশ রয়েছে। যেমনটি আমরা বলেছি: ওয়াক্তের শুরুতেই নামাজ পড়া উত্তম, তবে প্রচণ্ড গরমের সময় ছাড়া; যখন প্রচণ্ড গরম পড়বে তখন তা ঠান্ডা করে আদায় করাতে কোনো বাধা নেই। আর এই সব কিছু তখন প্রযোজ্য যখন মসজিদে জামাত পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হওয়া যায়। অন্যথায় মূল নিয়ম হলো, যতক্ষণ জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ততক্ষণ জামাতে শরিক হওয়া তার জন্য আবশ্যক এবং ওয়াজিব। যদি সে মুসলিমদের সাথে মসজিদে জামাতের আজান হওয়া সত্ত্বেও তা বর্জন করে, তবে সে গুনাহগার হবে। এমনকি আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ জামাতে নামাজ পড়াকে নামাজ শুদ্ধ হওয়ার শর্ত মনে করেন। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম ইবনে উম্মে মাকতুমকে বলেছিলেন: "তুমি কি আজান শুনতে পাও?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তবে সাড়া দাও, আমি তোমার জন্য কোনো ছাড় দেখছি না।" কিন্তু যদি কেউ নিরাশ হয় এবং লোকজনের নামাজ শেষ হওয়ার পর ঘুম থেকে ওঠে এবং অন্য কোনো জামাত পাওয়ার সুযোগ না থাকে, বিশেষ করে যদি ঘুমের প্রয়োজন থাকে যেমন সে অসুস্থ বা ক্লান্ত থাকে, আর সে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত অতিরিক্ত ঘুমায়, তবে ইনশাআল্লাহ তাআলা এতে কোনো দোষ নেই। তার কোনো গুনাহ হবে না, তবে সে উত্তম বিষয়টি বর্জন করল।
তিনি বলছেন: জনৈক ব্যক্তি আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি হল্যান্ড থেকে বলছেন—মাশাআল্লাহ—তিনি বলছেন: হায়! তিনি যদি আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক ব্যাখ্যা করতেন যেমনটি আগে আজরুমিয়্যাহ ব্যাখ্যা করেছেন, তবে সুবহানাহু ওয়া তাআলার ইচ্ছায় এটি একটি মহান সওয়াবের কাজ হতো। হল্যান্ড থেকে আপনাদের ভাই আল-হুসাইন?
আল্লাহর কসম, আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক ব্যাখ্যা করার পরিকল্পনা রয়েছে—ইনশাআল্লাহ তাআলা—। এই দরস ও কোর্সগুলোতে যা ব্যাখ্যা করা অধিকতর জরুরি এটি তার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ যেন বিষয়টি সহজ করে দেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা আজরুমিয়্যাহর পর 'ক্বতর' এবং তারপর 'আলফিয়্যাহ' ব্যাখ্যা করব।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ২)
هذا أيضاً يقول: وقع عندي إشكال في قصة آدم {وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَداً حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الْظَّالِمِينَ} [(35) سورة البقرة] ثم أورد آية الأعراف، ثم أورد آية الصافات: {إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِي أَصْلِ الْجَحِيمِ} [(64) سورة الصافات] والإشكال هنا: هل الشجرة موجودة في الجنة أم في النار؟
الآن هذا محل إشكال وإلا لا؟ يعني هل هي شجرة واحدة؟.
الشجرة هذه شجرة الزقوم التي تخرج في أصل الجحيم غير الشجرة التي في الجنة التي نهي آدم عن الأكل منها.
يقول: في قول الله -جل وعلا-: {وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَاّ يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ وَلَكِن لَاّ تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [(44) سورة الإسراء] هل الأجساد تسبح لله فيكون لله تسبيحان بإرادة الشخص نفسه والتسبيح المذكور في الآية؟
يعني وهل جسد الكافر يسبح {وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَاّ يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ} يريد أن يدخل في هذه النكرة (شيء) في سياق النفي تعم كل شيء من الحيوانات والجمادات وغيرها، يقول: بما في ذلك جسد الكفار، يعني المسلم يسبح بلسانه بطوعه واختياره لكن هل جسده يسبح تسبيح غير التسبيح الذي يكون بلسانه؛ لأن الجسد شيء، وبناءً على ذلك فهل جسد الكافر الذي لا يسبح بلسانه يسبح تلقائياً بدلالة هذه الآية؟ يقول: هل الأجساد تسبح لله فيكون لها تسبيحان بإرادة الشخص نفسه؟ يعني حينما يسبح بلسانه والتسبيح المذكور في الآية؟ أقول: مثل هذا تكلف، ولا شك أن الآية فيها دلالة على عظمة الله -جل وعلا- حيث ينزهه كل شيء من الحيوانات والجمادات، وأما التفاصيل التي لم يرد فيها دليل فلا داعي لها، مع أن عموم الحديث يتناول كل شيء.
ما درجة حديث صيام أيام البيض وصيام ثلاثة أيام من كل شهر؟
لا إشكال فيه صحيح، وأما تعيين الثلاثة بالبيض فهو حديث حسن مخرجٌ في السنن وغيرها.
يقول: أحد الأشخاص يصف الشيخ عبد العزيز بن باز -رحمه الله تعالى- بالتشدد، وأن فتاويه قاسية فما قولكم في مثل هذا الشخص؟
ইনিও বলছেন: আদমের কাহিনীতে আমার নিকট একটি সংশয় দেখা দিয়েছে {এবং আমি বললাম, হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং যেখান থেকে ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে আহার কর, কিন্তু এই বৃক্ষটির নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [সূরা আল-বাকারা: ৩৫]। এরপর তিনি সূরা আল-আরাফের আয়াত উল্লেখ করেছেন, অতঃপর সূরা আস-সাফফাতের আয়াত উল্লেখ করেছেন: {নিশ্চয় এটি এমন এক বৃক্ষ যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে উদ্গত হয়} [সূরা আস-সাফফাত: ৬৪]। এখানে সংশয়টি হলো: এই বৃক্ষটি কি জান্নাতে নাকি জাহান্নামে অবস্থিত?
এখন এটি কি কোনো সংশয়ের জায়গা নাকি নয়? অর্থাৎ, এগুলো কি একই বৃক্ষ?।
এই যাক্কুম বৃক্ষটি যা জাহান্নামের তলদেশ থেকে উদ্গত হয়, তা জান্নাতের সেই বৃক্ষটি থেকে ভিন্ন যা থেকে আদমকে খেতে নিষেধ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন: মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে: {এবং এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না} [সূরা আল-ইসরা: ৪৪]। দেহসমূহ কি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে, যার ফলে আল্লাহর জন্য দুটি তসবিহ হবে—একটি ব্যক্তির নিজ ইচ্ছায় এবং আরেকটি আয়াতে উল্লিখিত তসবিহ?
অর্থাৎ, কাফেরের দেহ কি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করে {এবং এমন কোনো কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না}? তিনি এই অনির্দিষ্ট শব্দ (কিছু) যা না-বোধক বাক্যে এসেছে, তার মাধ্যমে প্রাণী, জড় পদার্থ এবং অন্যান্য সব কিছুকেই শামিল করতে চাচ্ছেন। তিনি বলছেন: এর মধ্যে কাফেরদের দেহও কি অন্তর্ভুক্ত? অর্থাৎ, একজন মুসলিম তার জিহ্বা দিয়ে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে তসবিহ পাঠ করে, কিন্তু তার দেহ কি তার জিহ্বার তসবিহ ছাড়াও অন্য কোনো তসবিহ পাঠ করে? কারণ দেহও তো একটি 'জিনিস' বা বস্তু। এর ওপর ভিত্তি করে, কাফেরের দেহ যা জিহ্বা দিয়ে তসবিহ পড়ে না, তা কি এই আয়াতের প্রমাণ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তসবিহ পাঠ করে? তিনি বলছেন: দেহসমূহ কি আল্লাহর তসবিহ পাঠ করে, যার ফলে ব্যক্তির নিজ ইচ্ছায় দুটি তসবিহ হয়? অর্থাৎ যখন সে জিহ্বা দিয়ে তসবিহ পড়ে এবং আয়াতে উল্লিখিত তসবিহ? আমি বলি: এই ধরণের চিন্তা অনাবশ্যক কষ্টকল্পনা (তাকাল্লুফ)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই আয়াতে মহান আল্লাহর মহত্ত্বের প্রমাণ রয়েছে, যেখানে প্রাণী ও জড় পদার্থসহ সব কিছুই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর যে সব বিস্তারিত বিষয়ে কোনো দলীল নেই, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই, যদিও সাধারণ বক্তব্য অনুযায়ী সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত।
আইয়ামে বিযের রোজা এবং প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখার হাদিসের মান কেমন?
এতে কোনো সংশয় নেই, এটি সহিহ। আর তিন দিনকে 'বিয' বা চন্দ্র মাসের উজ্জ্বল দিনগুলো দিয়ে নির্দিষ্ট করার বিষয়টি হাসান পর্যায়ের হাদিস, যা সুনান ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেন: এক ব্যক্তি শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ -রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি- কে কঠোর হিসেবে বর্ণনা করে এবং বলে যে তাঁর ফতোয়াগুলো রূঢ় বা কঠোর; এই ধরণের ব্যক্তি সম্পর্কে আপনাদের বক্তব্য কী?
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৩)
على كل حال الشخص هذا لا شك أنه صاحب هوى، وإلا لو نظر بعين البصيرة في فتاوى الشيخ رحمه الله لوجدها من أعدل الأقوال، يعني نابعة من نصوص الكتاب والسنة.
يقول: ذكرتم في اللقاء الماضي جمع شيخ الإسلام بين رواية ثلث الليل ورواية شطر الليل بأن رواية ثلث الليل قد يكون حسب من غروب الشمس ورواية شطر الليل قد يكون حسب من صلاة العشاء، ويقول: كتب الشيخ ابن عثيمين على الواسطية قوله: الليل يبتدي من غروب الشمس اتفاقاً، لكن حصل الخلاف في انتهائه هل يكون بطلوع الفجر أو بطلوع الشمس، والظاهر أن الليل الشرعي ينتهي بطلوع الفجر، والليل الفلكي ينتهي بطلوع الشمس، فكيف الجمع بين ما قاله شيخ الإسلام في مبدأ الليل، وبين ما قاله الشيخ رحمه الله اتفاقاً؟
هذا ليس فيه تعارض أبداً، يعني في قيام داود عليه السلام هل يمكن أن يقول شخص حتى ممن انضوى تحت هذا الاتفاق أن الليل يبدأ من غروب الشمس، يعني للإنسان أن ينام من غروب الشمس إلى منتصف الليل ويترك صلاة العشاء، هل في أحد يقول بهذا؟ ما يمكن أحد يقال بهذا إطلاقاً، بل الليل يبدأ من صلاة العشاء، ثم بعد ذلك من صلاة العشاء إلى طلوع الفجر يقسمه نصفين، ينام نصفه ثم بعد ذلك يقوم الثلث ثم ينام السدس.
هذا يقول: الرسول عليه الصلاة والسلام أفضل من صلى وقام وصام وهديه خير هدي، ومع ذلك لا نجد هديه يوافق هدي داود عليه السلام، أفلا يكون تفضيل هدي داود من وجهٍ ما من الوجوه؟
النبي عليه الصلاة والسلام لم يقم قيام داود ولم يصم صيام داود، مع أن هذا أفضل الصيام وأفضل القيام، وقد حث النبي عليه الصلاة والسلام على أمور ولم يفعلها رفقاً بالأمة؛ لأنه لو فعل تظافر القول مع العمل لشق ذلك على الأمة مشقةً عظيمة، فليكن في الأمر سعة، يحث على الشيء، ويتركه لئلا يشق على أمته، وقد يفعل الشيء ويندم عليه لئلا يشق على أمته، فلا شك أن هديه عليه الصلاة والسلام أكمل هدي، لكن إذا مدح شيئاً فنحن المعنيون به، بغض النظر عن كونه فعله أو لم يفعله، فيكون فعله خاصاً به وقوله هو العام، والفعل لا عموم له عند أهل العلم.
যাই হোক, এ ব্যক্তি যে প্রবৃত্তি পূজারী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যথায় সে যদি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে শায়খের (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ফতোয়াসমূহ দেখত, তবে সেগুলোকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে পেত, অর্থাৎ সেগুলো কিতাব ও সুন্নাহর নসসমূহ (মূল পাঠ) থেকে উৎসারিত।
তিনি বলছেন: গত বৈঠকে আপনি উল্লেখ করেছিলেন যে, শায়খুল ইসলাম রাতের এক-তৃতীয়াংশের বর্ণনা এবং রাতের অর্ধেকাংশের বর্ণনার মধ্যে এই বলে সমন্বয় করেছেন যে, রাতের এক-তৃতীয়াংশের বর্ণনাটি সূর্যাস্ত থেকে গণনা করা হতে পারে এবং রাতের অর্ধেকাংশের বর্ণনাটি ইশার সালাত থেকে গণনা করা হতে পারে। তিনি বলছেন: শায়খ ইবনে উসাইমীন 'ওয়াসিতিয়্যাহ'র ওপর তাঁর টীকায় লিখেছেন: রাত সূর্যাস্ত থেকে শুরু হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, তবে এর সমাপ্তি নিয়ে মতভেদ হয়েছে যে, তা কি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত নাকি সূর্যোদয় পর্যন্ত? আর স্পষ্টত যে, শরয়ি রাত ফজর উদয় হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয় এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানগত রাত সূর্যোদয়ের মাধ্যমে শেষ হয়। তাহলে রাতের শুরুর ব্যাপারে শায়খুল ইসলাম যা বলেছেন এবং শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ঐকমত্য বলে যা উল্লেখ করেছেন—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে?
এর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। অর্থাৎ, দাউদ আলাইহিস সালামের রাত জাগরণ (কিয়াম) সম্পর্কে কি এমন কেউ—এমনকি যারা এই ঐকমত্যের অন্তর্ভুক্ত তারাও—একথা বলতে পারে যে রাত সূর্যাস্ত থেকে শুরু হয়? অর্থাৎ একজন মানুষ সূর্যাস্ত থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘুমাবে এবং ইশার সালাত ছেড়ে দেবে, এমন কথা কি কেউ বলে? এটা বলা একেবারেই অসম্ভব। বরং (এ ক্ষেত্রে) রাত শুরু হয় ইশার সালাত থেকে। এরপর ইশার সালাত থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত সময়কে তিনি দুই ভাগে ভাগ করতেন; অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, এরপর এক-তৃতীয়াংশ ইবাদত করতেন এবং সবশেষে এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন।
এই ব্যক্তি বলছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন সালাত আদায়কারী, রাত জাগরণকারী এবং সিয়াম পালনকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাঁর আদর্শই সর্বোত্তম আদর্শ। তা সত্ত্বেও আমরা তাঁর আদর্শকে দাউদ আলাইহিস সালামের আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখি না। তাহলে কি কোনো না কোনো দিক থেকে দাউদ আলাইহিস সালামের আদর্শকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না?
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাউদ আলাইহিস সালামের মতো রাত জাগরণ করেননি এবং দাউদ আলাইহিস সালামের মতো সিয়ামও পালন করেননি, যদিও এটিই ছিল সর্বোত্তম সিয়াম এবং সর্বোত্তম রাত জাগরণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে অনেক বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন কিন্তু নিজে তা করেননি। কারণ তিনি যদি কথার সাথে কর্মের সমন্বয় করতেন, তবে তা উম্মতের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়াত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রশস্ততা রাখা প্রয়োজন। তিনি কোনো বিষয়ে উৎসাহিত করেন এবং তা বর্জন করেন যাতে উম্মতের কষ্ট না হয়। কখনও তিনি কোনো কাজ করেন এবং (উম্মতের ওপর তা আবশ্যক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়) তা ছেড়ে দেন যাতে তাদের কষ্ট না হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁর আদর্শই পূর্ণাঙ্গতম আদর্শ। তবে তিনি যখন কোনো কিছুর প্রশংসা করেন, তখন আমরাই তার মূল উদ্দেশ্য, তিনি নিজে সেটি করেছেন কি করেননি তা বিবেচ্য নয়। এক্ষেত্রে তাঁর কর্মটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট হতে পারে এবং তাঁর কথাটি হবে ব্যাপক। আর আলেমদের মতে নবীজির কর্মের মধ্যে (ভাষাগত) ব্যাপকতা নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৪)
يقول: لو صح كون قيام داود من النوم في نصف الليل يوافق نزول الله لبقي سدسان أي ثلث الليل، وفي الحديث: أنه يبقى ثلاثة أسداس يقوم سدسان وينام سدس؟
شو الإشكال؟ يعني موافقة حديث النزول لقيام داود هذه مسألة طولنا فيها جداً، فإعادتها ما لها داعي.
يقول: حبذا لو توضحون المعنى البلاغي في قول الله تعالى: {قُلْ إِن كَانَ لِلرَّحْمَنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ} [(81) سورة الزخرف].
هذا على سبيل التنزل، أنه لو كان لله -جل وعلا- ولد فأنا أول المتعبدين باعتقاد الولد، لكنه ليس له ولد، وقد نفاه الله -جل وعلا- عن نفسه: {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ} [(3) سورة الإخلاص] ونعى على الكفار الذي قالوا: إن الملائكة بنات الله، وهذا لا شك أنه أمرٌ عظيم، كما جاء في آخر سورة مريم، والله المستعان.
طالب:. . . . . . . . . بعد طلوع الشمس؟
بعد طلوع الشمس؟
طالب: نعم
لا، لا، هذه لا بد من المبادرة إذا قام من نومه وقد خرج الوقت هذا لا بد من المبادرة ((من نام عن صلاة أو نسيها فليصلها إذا ذكرها)) يعني مباشرة، كون النبي عليه الصلاة والسلام لما نام عن صلاة الصبح ولم يوقظهم إلا حر الشمس تأخر قليلاً حتى خرج من الوادي الذي حضر فيه الشيطان هذا لا يعني أن المسألة مطردة، لا بد أن يصلي إذا ذكر، وإذا قام من النوم.
طالب:. . . . . . . . .
لا ما ينفع، ما ينفع، لا بد من المبادرة ((فليصلها إذا ذكرها)).
الحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
قال المؤلف -رحمه الله تعالى-:
وقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا تزال جهنم يلقى فيها وتقول: هل من مزيد؟ حتى يضع رب العزة فيها رجله)) وفي رواية: ((عليها قدمه فينزوي بعضها إلى بعض، وتقول: قط قط)) متفق عليه، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((يقول الله تعالى: يا آدم، فيقول: لبيك وسعديك، فينادي بصوت: إن الله يأمرك أن تخرج من ذريتك بعثاً إلى النار)) متفق عليه، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((ما منكم من أحد إلا سيكلمه ربه وليس بينه وبينه ترجمان)).
তিনি বলছেন: যদি রাতের অর্ধেক বেলা দাউদ (আ.)-এর ঘুম থেকে জাগরণ আল্লাহর অবতরণের সময়ের সাথে মিলে যাওয়া সঠিক হয়, তবে তো দুই-ষষ্ঠাংশ অর্থাৎ রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে; অথচ হাদিসে এসেছে: তিন-ষষ্ঠাংশ বাকি থাকে, যার মধ্যে দুই-ষষ্ঠাংশ তিনি সালাত আদায় করেন এবং এক-ষষ্ঠাংশ ঘুমান?
সমস্যাটি কোথায়? অর্থাৎ অবতরণের হাদিসের সাথে দাউদ (আ.)-এর দণ্ডায়মান হওয়ার সামঞ্জস্যের বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেছি, তাই এটি পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলছেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণীর আলঙ্কারিক অর্থটি যদি স্পষ্ট করতেন: "বলুন, যদি পরম করুণাময় (আল্লাহর) কোনো সন্তান থাকত, তবে আমিই হতাম প্রথম ইবাদতকারী।" [সূরা আয-যুখরুফ: ৮১]।
এটি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়ার ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে, যদি মহান আল্লাহর কোনো সন্তান থাকত, তবে সন্তান হওয়ার বিশ্বাস নিয়ে আমিই প্রথম ইবাদত বা আনুগত্য করতাম। কিন্তু তাঁর কোনো সন্তান নেই। মহান আল্লাহ তাঁর নিজের সত্তা থেকে এটি অস্বীকার করেছেন: "তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি" [সূরা আল-ইখলাস: ৩]। তিনি সেই কাফিরদের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন যারা বলেছিল: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। নিঃসন্দেহে এটি একটি ভয়াবহ বিষয়, যেমনটি সূরা মারইয়ামের শেষে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
ছাত্র: . . . . . . . . . সূর্যোদয়ের পর?
সূর্যোদয়ের পর?
ছাত্র: হ্যাঁ।
না, না, এক্ষেত্রে ঘুম থেকে জাগার পর সময় পার হয়ে গেলেও দ্রুত সালাত আদায় করা আবশ্যক। "যে ব্যক্তি সালাতের কথা ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকে, তবে যখনই তা স্মরণ হবে তখনই যেন সে তা আদায় করে নেয়।" অর্থাৎ সরাসরি আদায় করতে হবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ফজরের সালাতে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই তাদের জাগাতে পারেনি, তখন তিনি সেই উপত্যকা থেকে বের হওয়া পর্যন্ত সামান্য বিলম্ব করেছিলেন যেখানে শয়তান উপস্থিত হয়েছিল—তার অর্থ এই নয় যে বিষয়টি সর্বদা এমনই হবে। বরং স্মরণ হওয়ামাত্র এবং ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ামাত্রই সালাত আদায় করা আবশ্যক।
ছাত্র: . . . . . . . . .
না, এতে হবে না, হবে না। দ্রুত আদায় করা আবশ্যক: "সে যেন তা স্মরণ হওয়ামাত্রই আদায় করে।"
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
লেখক—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলেছেন:
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হতে থাকবে এবং সে বলবে: আরও কি আছে? যতক্ষণ না সম্মানের প্রতিপালক (আল্লাহ) তাতে তাঁর পা রাখবেন।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তার ওপর তাঁর পা রাখবেন, তখন তার এক অংশ অন্য অংশের সাথে গুটিয়ে যাবে এবং সে বলবে: যথেষ্ট হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "আল্লাহ তাআলা বলবেন: হে আদম! তখন তিনি বলবেন: আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও আপনার আদেশ পালনে সচেষ্ট। অতঃপর তিনি উচ্চৈঃস্বরে ডেকে বলবেন: নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন আপনার বংশধর থেকে জাহান্নামের একটি দল বের করে আনতে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার প্রতিপালক সরাসরি কথা বলবেন না, এমতাবস্থায় যে তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না।"
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فيقول المؤلف -رحمه الله تعالى- في الأحاديث النبوية التي أوردها المؤلف في إثبات الصفات مما أثبته النبي عليه الصلاة والسلام لربه عز وجل على ما يليق بجلاله وعظمته، منها قوله عليه الصلاة والسلام: ((لا تزال جهنم)) وجهنم اسم من أسماء النار - نسأل الله السلامة والعافية - ((يلقى فيها)) من أهلها المستحقين لها، ومعلومٌ أن وقودها الناس والحجارة، النار وقودها الناس والحجارة - نسأل الله السلامة والعافية - وقد ضمن الله -جل وعلا- لها أن تمتلئ، فلا تزال يلقى فيها ويدعّون فيها دعّاً يدفعون دفعاً شديداً، ويلقون فيها وهي تقول: {هَلْ مِن مَّزِيدٍ} [(30) سورة ق] والخلاف في هذا التعبير أو الأسلوب، هل هي تطلب المزيد أو تنفي أن يكون فيها محل المزيد؟ وكل هذا جاء عن أهل العلم من المتقدمين والمتأخرين، حينما تقول: {هَلْ مِن مَّزِيدٍ} كما جاء في سورة ق، هل معنى هذا أنها تطلب الزيادة؟ {هَلْ مِن مَّزِيدٍ} فيكون هذا من باب الطلب، أو يكون من باب نفي قبول الزيادة؟ وأنها قد امتلأت، وقد جاء التفسير بهذا وهذا، ولكن المرجح أن هذا طلب، بدليل باقي الحديث: ((حتى يضع فيها رب العزة رجله)) وفي رواية: ((عليها قدمه)).
في فتح الباري يقول: ابن حجر -رحمه الله تعالى-:
باب قوله: وتقول: {هَلْ مِن مَّزِيدٍ}.
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর:
লেখক -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- সেই সকল নববী হাদীস প্রসঙ্গে বলছেন যা তিনি আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন, যেগুলো নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর মহান রবের জন্য তাঁর মর্যাদা ও মহিমার উপযোগী করে সাব্যস্ত করেছেন। তার মধ্যে তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এই বাণীটি অন্যতম: "জাহান্নাম অবিরত..." আর জাহান্নাম আগুনের নামসমূহের একটি নাম -আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি- "তাতে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে" এর যোগ্য অধিবাসীদের মধ্য থেকে। এটি জানা কথা যে এর জ্বালানি হলো মানুষ ও পাথর; আগুনের জ্বালানি মানুষ ও পাথর -আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি- আর আল্লাহ -তিনি অতি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ- একে পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে এতে অবিরত নিক্ষেপ চলতে থাকবে এবং তাদেরকে তাতে কঠোরভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হবে, আর তারা তাতে নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে এমতাবস্থায় যে সেটি বলবে: "আরও কি কিছু আছে?" [সূরা ক্বাফ: ৩০]। এই অভিব্যক্তি বা প্রকাশভঙ্গির ব্যাপারে মতপার্থক্য রয়েছে; সেটি কি আরও বৃদ্ধি চাচ্ছে, নাকি এতে আর কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করছে? আর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের থেকে এই সব কিছুই বর্ণিত হয়েছে। যখন সেটি বলে: "আরও কি কিছু আছে?" যেমনটি সূরা ক্বাফ-এ এসেছে, এর অর্থ কি এই যে সেটি অতিরিক্ত কিছু প্রার্থনা করছে? "আরও কি কিছু আছে?" - এটি কি প্রার্থনার পর্যায়ভুক্ত হবে, নাকি আরও গ্রহণ করার সামর্থ্য নেই এমন অস্বীকৃতির পর্যায়ভুক্ত হবে? অর্থাৎ সেটি পূর্ণ হয়ে গেছে। আর এর ব্যাখ্যায় উভয়টিই বর্ণিত হয়েছে। তবে অগ্রগণ্য মত হলো এটি একটি প্রার্থনা, যার প্রমাণ হলো হাদীসের অবশিষ্ট অংশ: "যতক্ষণ না ইজ্জতের অধিপতি প্রতিপালক তাতে তাঁর পা রাখেন" এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তার ওপর তাঁর পা রাখেন"।
ফাতহুল বারীতে ইবনে হাজার -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- বলেন:
পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: এবং সে বলবে: "আরও কি কিছু আছে?"
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৬)
اختلف النقل عن قول جهنم هل من مزيد، فظاهر أحاديث الباب أن هذا القول منها لطلب المزيد، وجاء عن بعض السلف أنه استفهام إنكار، كأنها تقول: ما بقي فيَّ موضع للزيادة، فروى الطبري من طريق الحكم بن أبان عن عكرمة في قوله: {هَلْ مِن مَّزِيدٍ} أي هل من مدخل؟ قد امتلأت، ومن طريق مجاهد نحوه، وأخرجه بن أبي حاتم من وجه آخر عن عكرمة عن ابن عباس وهو ضعيف، ورجح الطبري أنه لطلب الزيادة على ما دلت عليه الأحاديث المرفوعة -يعني الأحاديث التي منها حديثنا صريح في أنها تطلب المزيد، ولو لم يكن فيها فضل يطلب له المزيد لما احتيج إلى أن يضع رب العزة فيها قدمه لينزوي بعضها إلى بعض، وتنكمش بحيث لا يبقى فيها مكان للزيادة، يعني الحديث صريح، وهو مخرجٌ في الصحيحين وغيرهما.
وقال الإسماعيلي: الذي قاله مجاهد موجه، فيحمل على أنها قد تزاد وهي عند نفسها لا موضع فيها للمزيد يعني كأنها لكثرة ما ألقي فيها خيِّل لها أنها قد امتلأت.
يقول: وقال الإسماعيلي: الذي قاله مجاهد موجه -يعني يمكن توجيهه، فيحمل على أنها قد تزاد وهي عند نفسها لا موضع فيها للزيادة؛ لأنه قد يقول قال: السلف يخفى عليهم مثل هذه الأحاديث فيؤولون القرآن على خلاف ما جاء عن النبي عليه الصلاة والسلام لا سيما مجاهد، الذي قال بعض الصحابة: إذا جاءك التفسير عن مجاهد فحسبك به، معروف مقامه في هذا الباب، يقول: فيحمل على أنها قد تزاد وهي عند نفسها لا موضع فيها للمزيد، فهي لكثرة ما يلقى فيها خيِّل إليها أنها قد امتلأت {يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِن مَّزِيدٍ} [(30) سورة ق] يعني كأنها امتلأت من كثرة ما يلقى فيها.
জাহান্নামের উক্তি "আরও কি কিছু আছে?" সম্পর্কে বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে। এই পরিচ্ছেদের হাদিসগুলোর বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, এই উক্তিটি জাহান্নামের পক্ষ থেকে আরও বেশি পাওয়ার দাবিস্বরূপ। তবে কোনো কোনো সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি একটি অস্বীকারসূচক প্রশ্ন; যেন জাহান্নাম বলছে: "আমার মধ্যে আর বৃদ্ধির কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই"। আত-তাবারী হাকাম বিন আবান-এর সূত্রে ইকরিমা থেকে "আরও কি কিছু আছে?" আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, এর অর্থ হলো: "আর কোনো প্রবেশের জায়গা আছে কি? আমি তো পূর্ণ হয়ে গেছি"। মুজাহিদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আবি হাতিম অন্য একটি সূত্রে ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তা দুর্বল। আত-তাবারী এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, এটি আরও বেশি চাওয়ার জন্য বলা হয়েছে, যা মারফু হাদিসগুলো (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনা) দ্বারা প্রমাণিত। অর্থাৎ যে হাদিসগুলো আমাদের আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে জাহান্নাম আরও বেশি খুঁজবে। যদি জাহান্নামে অতিরিক্ত জায়গা না থাকত যার জন্য আরও আধিক্য চাওয়া হয়, তবে সম্মানিত প্রতিপালকের তাতে তাঁর পা রাখার প্রয়োজন হতো না—যাতে এর একাংশ অন্য অংশের সাথে মিশে যায় এবং তা এমনভাবে সংকুচিত হয় যে তাতে আর কোনো বাড়তি জায়গা অবশিষ্ট না থাকে। অর্থাৎ হাদিসটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট এবং এটি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
আল-ইসমাঈলি বলেন: মুজাহিদ যা বলেছেন তা যৌক্তিক; একে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যে, জাহান্নামে হয়তো আরও নিক্ষেপ করা হবে অথচ সে নিজে মনে করছে যে বৃদ্ধির আর কোনো জায়গা নেই। অর্থাৎ তার মধ্যে যা কিছু নিক্ষেপ করা হয়েছে তার আধিক্যের কারণে তার ধারণা হয়েছে যে সে পূর্ণ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন: আল-ইসমাঈলি বলেছেন: মুজাহিদ যা বলেছেন তা যৌক্তিক—অর্থাৎ এর ব্যাখ্যা করা সম্ভব। একে এভাবে গ্রহণ করা হবে যে, জাহান্নামে হয়তো আরও বাড়ানো হবে অথচ সে নিজে মনে করছে যে আর কোনো জায়গা নেই। কারণ কেউ হয়তো বলতে পারে: সালাফদের নিকট কি এই হাদিসগুলো অজানা ছিল যে তারা নববী বর্ণনার বিপরীতে কুরআনের ব্যাখ্যা করবেন? বিশেষ করে মুজাহিদ, যাঁর সম্পর্কে কোনো কোনো সাহাবী বলেছেন: "যখন তোমার কাছে মুজাহিদের পক্ষ থেকে তাফসির আসবে, তখন তাই তোমার জন্য যথেষ্ট।" এই শাস্ত্রে তাঁর মর্যাদা সুবিদিত। তিনি বলছেন: সুতরাং একে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যে, জাহান্নামে হয়তো আরও বৃদ্ধি করা হবে অথচ সে নিজে মনে করছে যে আর কোনো জায়গা নেই। মূলত তার মধ্যে যা কিছু নিক্ষেপ করা হচ্ছে তার আধিক্যের কারণে তার কাছে মনে হয়েছে যে সে পূর্ণ হয়ে গেছে। "সেদিন আমি জাহান্নামকে বলব, 'তুমি কি পূর্ণ হয়েছ?' সে বলবে, 'আরও কি কিছু আছে?'" [সুরা কাফ: ৩০]। অর্থাৎ তার মধ্যে যা কিছু নিক্ষেপ করা হচ্ছে তার আধিক্যের কারণে যেন মনে হয়েছে সে পূর্ণ হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৭)
والله -جل وعلا- يعلم لا تخفى عليه خافية، فيعرف أن فيها مواضع تقبل الزيادة، والله -جل وعلا- لا يظلم أحداً، فلا ينشئ لها خلقاً يعذبهم دون سابق جرم فيضع فيها رجله فينزوي بعضها بعضاً، وتقول: قطٍ قطٍ، أو قطْ قطْ، أو قطِ قطِ، أو قطي بالياء بإشباع قطي قطي، أو قطني، يعني حسبي ويكفيني، ضبطت اللفظة بهذه الأوجه، المقصود أن هذا الأسلوب هل من مزيد هو "هل" استفهام، فهل هو استفهام طلب كما تدل عليه الأحاديث في الصحيحين وغيرهما منها أحاديث الباب أو هو استفهام نفي لقبول الزيادة؟ وعرفنا القولين.
وهذا الحديث: ((حتى يضع رب العزة فيها رجله)) حتى يضع الله -جل وعلا- والأسلوب أسلوب عظمة من قبل الله -جل وعلا-، فالعزة مناسبة لهذا السياق ((رب العزة فيها رجله)) ففي هذا إثبات الرجل لله -جل وعلا- على ما يليق بجلاله وعظمته، وتثبت حيث ثبتت بها النصوص الصريحة، خلافاً لمن أولها، خلافاً لمن أول الرجل، وقالوا: الرجل الجماعة، كما في حديث داود عليه الصلاة والسلام أنه حينما اغتسل ونزل عليه رجل من جراد يعني جماعة من جراد من ذهب، ولكن هذا التأويل منافرٌ للسياق، يضع الرب –جل وعلا- على سبيل التنزل على قولهم جماعة من أيش؟ من البشر؟! السياق يأباه؛ لأن الله -جل وعلا- يخلق للجنة أقواماً؛ لأنها رحمته، والنار –جهنم- عذابه - نسأل الله السلامة والعافية - ففضله دائم ومتعدي لمن يستحق ولمن لا يستحق، جوده -جل وعلا- وسع كل أحد، فيناسب أن يخلق للجنة أقوام لم يعملوا عمل، لكن كونه يعذب من لا يستحق العذاب هذا ظلم وقد حرمه الله -جل وعلا- على نفسه.
আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা—জানেন, তাঁর নিকট কোনো কিছুই গোপন থাকে না। তিনি জানেন যে সেখানে (জাহান্নামে) আরও বৃদ্ধির অবকাশ রয়েছে। আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা—কারও প্রতি জুলুম করেন না। তাই তিনি এর জন্য এমন কোনো সৃষ্টি তৈরি করবেন না যাদেরকে কোনো পূর্ব অপরাধ ছাড়াই শাস্তি দেবেন। ফলে তিনি এতে তাঁর পা রাখবেন, তখন এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে যাবে এবং তা বলবে: 'কাতিন কাতিন' অথবা 'কাত্ কাত্' অথবা 'কাতি কাতি' কিংবা ইয়া-এর প্রলম্বিত উচ্চারণে 'কাতি কাতি' অথবা 'কাতনি'। অর্থাৎ: 'আমার জন্য যথেষ্ট' এবং 'এটিই আমার জন্য যথেষ্ট'। এই শব্দটিকে এই বিভিন্ন আঙ্গিকে বর্ণনা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, 'আরও কি আছে?'—এই বাচনভঙ্গিতে 'কি' শব্দটি প্রশ্নবোধক। এখন এটি কি কোনো কিছু চাওয়ার জন্য প্রশ্নবোধক, যেমনটি সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থের হাদীসসমূহ দ্বারা নির্দেশিত হয়—যার অন্তর্ভুক্ত এই অধ্যায়ের হাদীসটিও; নাকি এটি অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করার বিষয়টিকে অস্বীকার করার জন্য প্রশ্নবোধক? আমরা উভয় মতই জানতে পারলাম।
এবং এই হাদীস: "যতক্ষণ না ইজ্জতের প্রতিপালক তাতে তাঁর পা রাখবেন" অর্থাৎ যতক্ষণ না আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা—তাতে পা রাখবেন। এখানে বাচনভঙ্গিটি আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা-এর পক্ষ থেকে মহত্ত্বজ্ঞাপক। এই প্রসঙ্গের সাথে 'ইজ্জত' (ক্ষমতা/মহিমা) শব্দটি অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ—"ইজ্জতের প্রতিপালক তাতে তাঁর পা রাখবেন"। এর মধ্যে আল্লাহর জন্য 'পা' সাব্যস্ত করার প্রমাণ রয়েছে, যা তাঁর মহিমা ও মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেহেতু সুস্পষ্ট দলীলসমূহ দ্বারা এটি প্রমাণিত, তাই একে সাব্যস্ত করতে হবে; তাদের বিপরীতে যারা এর অপব্যাখ্যা করেছে। তাদের বিপরীতে যারা 'পা' শব্দের অপব্যাখ্যা করে বলেছে: 'পা' অর্থ হলো 'একদল লোক'; যেমনটি দাউদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর হাদীসে এসেছে যে, যখন তিনি গোসল করছিলেন তখন তাঁর ওপর একদল স্বর্ণের পঙ্গপাল অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এই অপব্যাখ্যাটি প্রসঙ্গের সাথে সংগতিহীন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী—প্রতিপালক—জাল্লা ওয়া আলা—সেখানে কিসের দল রাখবেন? মানুষের দল?! প্রেক্ষাপট এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে; কারণ আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা—জান্নাতের জন্য নতুন সম্প্রদায় সৃষ্টি করেন, কারণ জান্নাত হলো তাঁর রহমত। আর আগুন—জাহান্নাম—হলো তাঁর শাস্তি—আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। তাঁর অনুগ্রহ চিরস্থায়ী এবং তা যোগ্য ও অযোগ্য সকলের নিকট পৌঁছায়। তাঁর দানশীলতা—জাল্লা ওয়া আলা—সবাইকে পরিবেষ্টন করে আছে। সুতরাং জান্নাতের জন্য এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করা সংগত যারা কোনো আমল করেনি; কিন্তু যার শাস্তি প্রাপ্য নয় তাকে শাস্তি দেওয়া হলো জুলুম, আর আল্লাহ—জাল্লা ওয়া আলা—একে নিজের ওপর হারাম করে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৮)
قوله في حديث أنس: ((يلقى في النار وتقول: هل من مزيد؟ )) في رواية سعيد بن أبي عروبة عن قتادة: ((لا تزال جهنم يلقى حتى يضع قدمه فيها)) كذا في رواية شعبة وفي رواية سعيد: ((حتى يضع رب العزة فيها قدمه))، قوله: ((فتقول: قط قط)) في رواية سعيد: ((فيزوي بعضها إلى بعض وتقول: قط قط وعزتك)) وفي رواية سليمان التيمي عن قتادة فتقول: ((قدٍ قدٍ)) بالدال بدل الطاء، وفي حديث أبي هريرة: ((فيضع الرب عليها قدمه فتقول قطٍ قطٍ)) وفي الرواية التي تليها: ((فلا تمتلئ حتى يضع رجله فتقول قطٍ قطٍ)) فهناك تمتلئ ويزوى بعضها إلى بعض، وفي حديث أبي بن كعب عند أبي يعلى: ((وجهنم تسأل المزيد حتى يضع فيها قدمه فيزوي بعضها إلى بعض وتقول: قطٍ قطٍ)) وفي حديث أبي سعيد عند أحمد: ((فيلقى في النار أهلها فتقول: هل من مزيد؟ ويلقي فيها وتقول: هل من مزيد؟ حتى يأتيها عز وجل فيضع قدمه عليها فتنزوي فتقول: قدني قدني)) وقوله: ((قط قط)) أي حسبي حسبي، وثبت بهذا التفسير عند عبد الرزاق من حديث أبي هريرة وقطْ بالتخفيف ساكناً ويجوز الكسر بغير إشباع، ووقع في بعض النسخ عن أبي ذر ((قطى قطى)) بالإشباع، و ((قطني)) بزيادة نون مشبعة، ووقع في حديث أبي سعيد ورواية سليمان التيمي بالدال بدل الطاء وهي لغة أيضاً، وكلها بمعنى يكفي، وقيل: قط صوت جهنم، والأول هو الصواب عند الجمهور. يعني يكفي، حسبي ويكفيني.
يقول: ثم رأيت في تفسير بن مردويه من وجه آخر عن أنس ما يؤيد الذي قبله، ولفظه: ((فيضعها عليها فتقطقط كما يقطقط السقاء إذا امتلأ)) انتهى. فهذا لو ثبت لكان هو المعتمد، لكن في سنده موسى بن مطير وهو متروك، واختلف في المراد بالقدم، فطريق السلف في هذا وغيره مشهورة، وهو أن تمر كما جاءت ولا يتعرض لتأويله بل نعتقد استحالة ما يوهم النقص على الله -جل وعلا-.
আনাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে তাঁর উক্তি: "জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং সে বলবে: আরও কি কিছু আছে?" কাতাদা থেকে সাঈদ ইবনে আবি আরুবার বর্ণনায় রয়েছে: "জাহান্নামে নিক্ষেপ করা অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না তিনি তাতে তাঁর পা রাখেন।" শু'বাহর বর্ণনায় এমনই রয়েছে। আর সাঈদের বর্ণনায় রয়েছে: "যতক্ষণ না ইজ্জতের প্রতিপালক তাতে তাঁর পা রাখেন।" তাঁর কথা: "অতঃপর সে বলবে: যথেষ্ট, যথেষ্ট।" সাঈদের বর্ণনায় আছে: "তখন জাহান্নামের এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে মিশে যাবে এবং সে বলবে: আপনার ইজ্জতের কসম, যথেষ্ট যথেষ্ট।" কাতাদা থেকে সুলাইমান আত-তাইমির বর্ণনায় 'ত্ব' বর্ণের পরিবর্তে 'দাল' যোগে "কাদ কাদ" এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে: "অতঃপর প্রতিপালক তার ওপর তাঁর পা রাখবেন, তখন সে বলবে যথেষ্ট যথেষ্ট।" পরবর্তী বর্ণনায় আছে: "সে পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তিনি তাঁর পা রাখেন, তখন সে বলবে যথেষ্ট যথেষ্ট।" তখনই সেটি পূর্ণ হবে এবং তার এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে মিশে যাবে। আবু ইয়া'লার কিতাবে উবাই ইবনে কা'ব (রা.)-এর হাদিসে আছে: "জাহান্নাম আরও বৃদ্ধির প্রার্থনা করতে থাকবে যতক্ষণ না তিনি তাতে তাঁর পা রাখেন, তখন তার এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে মিশে যাবে এবং সে বলবে: যথেষ্ট যথেষ্ট।" আহমাদ-এর কিতাবে আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিসে আছে: "জাহান্নামে তার অধিবাসীদের নিক্ষেপ করা হবে এবং সে বলবে: আরও কি কিছু আছে? তাতে আরও নিক্ষেপ করা হবে এবং সে বলবে: আরও কি কিছু আছে? অবশেষে মহান ও মহিয়ান আল্লাহ সেখানে আসবেন এবং তার ওপর তাঁর পা রাখবেন, তখন সেটি সংকুচিত হয়ে যাবে এবং বলবে: আমার জন্য যথেষ্ট, আমার জন্য যথেষ্ট।" তাঁর কথা: "কাত কাত" অর্থ হলো আমার জন্য যথেষ্ট, আমার জন্য যথেষ্ট। আবদুর রাজ্জাকের কিতাবে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে এই ব্যাখ্যাটিই প্রমাণিত। 'কাত' শব্দটি সুকুনসহ হালকা উচ্চারণে পঠিত হয়, আবার দীর্ঘস্বর ছাড়া কাসরা (জের) দিয়ে পড়াও জায়েজ। আবু যর-এর কিছু পাণ্ডুলিপিতে দীর্ঘস্বরসহ 'কাতী কাতী' এবং দীর্ঘ 'নূন'সহ 'কাতনী' শব্দটিও এসেছে। আবু সাঈদের হাদিসে এবং সুলাইমান আত-তাইমির বর্ণনায় 'ত্ব' এর পরিবর্তে 'দাল' যোগে এসেছে, যা একটি ভাষাগত রূপান্তর; এবং এগুলোর সবই 'যথেষ্ট' অর্থ প্রদান করে। কেউ কেউ বলেছেন: 'কাত' হলো জাহান্নামের একটি আওয়াজ, তবে অধিকাংশ আলেমদের মতে প্রথম মতটিই সঠিক। অর্থাৎ: যথেষ্ট, আমার জন্য যথেষ্ট এবং আমাকে তুষ্ট করে।
তিনি বলেন: অতঃপর আমি ইবনে মারদুওয়াইহ-এর তাফসিরে আনাস (রা.) থেকে অন্য একটি সূত্রে এমন কিছু দেখেছি যা পূর্বের কথাকে সমর্থন করে, যার শব্দগুলো হলো: "অতঃপর তিনি তার ওপর সেটি (পা) রাখবেন, ফলে তা থেকে কড়কড় শব্দ নির্গত হবে যেমন মশক পূর্ণ হয়ে গেলে কড়কড় শব্দ করে।" সমাপ্ত। এটি যদি প্রমাণিত হতো তবে এটিই হতো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি, কিন্তু এর সনদে মুসা ইবনে মুতায়ের রয়েছেন যিনি একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী। 'পা' (কদম) দ্বারা কী উদ্দেশ্য সে বিষয়ে মতভেদ হয়েছে। তবে এই জাতীয় বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত পথ সুপরিচিত; আর তা হলো—এগুলোকে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই রাখা এবং এর কোনো অপব্যাখ্যার আশ্রয় না নেওয়া; বরং আমরা বিশ্বাস করি যে, মহান ও মহিয়ান আল্লাহর সত্তায় কোনো প্রকার অপূর্ণতার উদ্রেক ঘটায় এমন সব বিষয় তাঁর জন্য অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৯)
نعتقد استحالة ما يوهم النقص -لكن هل في إثبات ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه في كتابه أو على لسانه نبيه عليه الصلاة والسلام ما يظهر منه نقص؟ نعم، الله -جل وعلا- ليس كمثله شيء، وأثبت لنفسه ما ثبت نظيره للمخلوق، لكن للخالق ما يخصه، وللمخلوق ما يخصه، فلا مشابهة، فالله -جل وعلا- ليس كمثله شيء، وليس معنى هذا أننا نبالغ في التنزيه إلى حدٍ نصل فيه إلى نفي ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه، فكما أننا مطالبون بتنزيه الله -جل وعلا- عن مشابهة المخلوقين، فكذلك نحن مطالبون بأدلة، يعني إذا كان التنزيه في قوله -جل وعلا-: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} [(11) سورة الشورى] في نص أو نصوصٍ محدودة، فالإثبات التفصيلي يعني إذا كان النفي الإجمالي موجوداً، ونحن نعتقده كما جاء عن الله وعن رسوله عليه الصلاة والسلام، لكن هل يعني هذا أننا ننفي ما أثبته الله لنفسه -جل وعلا- من إثبات تفصيلي من الأسماء والصفات؟ ولذا هو يقول: ولا يتعرض لتأويله بل نعتقد استحالة ما يوهم النقص على الله -ما يوهم النقص فالله -جل وعلا- منزهٌ عنه، لكن المبتدعة يستغلون مثل هذا الكلام في نفي ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه؛ لأن الإثبات عندهم ملازمٌ لتصور النقص، لكن إذا أثبتنا ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه ونفينا ما نفاه عن نفسه لا يلزم من ذلك تخيل ولا توهم النقص بوجهٍ من الوجوه.
قال: وخاض كثير من أهل العلم في تأويل ذلك، فقال: المراد إذلال جهنم فإنها إذا بالغت في الطغيان وطلب المزيد أذلها الله فوضعها تحت القدم، وليس المراد حقيقة القدم، والعرب تستعمل ألفاظ الأعضاء في ضرب الأمثال ولا تريد أعيانها، كقولهم: رغم أنفه وسقط في يده، وقيل المراد بالقدم: الفرط السابق أي يضع الله فيها ما قدمه لها من أهل العذاب.
আমরা আল্লাহর জন্য ত্রুটি বা অপূর্ণতা নির্দেশ করে এমন বিষয়কে অসম্ভব মনে করি। কিন্তু আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যবানে নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তা সাব্যস্ত করার মধ্যে কি কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়? হ্যাঁ, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র সদৃশ কিছুই নেই। তিনি নিজের জন্য এমন কিছু সাব্যস্ত করেছেন যার অনুরূপ সৃষ্টির মধ্যেও রয়েছে, কিন্তু স্রষ্টার জন্য রয়েছে তাঁর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং সৃষ্টির জন্য রয়েছে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সুতরাং কোনো সাদৃশ্য নেই। কারণ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র সদৃশ কিছুই নেই। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা পবিত্রতা বর্ণনায় এমন বাড়াবাড়ি করব যার মাধ্যমে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করে বসব। আমরা যেমন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-কে মাখলুকের সাথে সাদৃশ্য রাখা থেকে পবিত্র মনে করতে আদিষ্ট, তেমনি আমরা দলিলেরও অনুসারী। অর্থাৎ, যদি পবিত্রতা বর্ণনা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা-র বাণী: "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই" [সূরা আশ-শূরা: ১১] এর মতো একটি বা সীমিত কিছু দলিলে এসে থাকে, তবে বিস্তারিত সাব্যস্তকরণও রয়েছে। অর্থাৎ যদি সামগ্রিক অস্বীকৃতি বিদ্যমান থাকে এবং আমরা তা বিশ্বাস করি যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবে এর অর্থ কি এই যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নিজের জন্য নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে যে বিস্তারিত বিষয়গুলো সাব্যস্ত করেছেন আমরা তা অস্বীকার করব? একারণেই তিনি বলেন: তিনি এর কোনো ব্যাখ্যা (তাউইল) করেন না বরং আমরা আল্লাহর ক্ষেত্রে ত্রুটি নির্দেশকারী সকল বিষয়কে অসম্ভব মনে করি—যা ত্রুটি বা অপূর্ণতার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তা থেকে পবিত্র। কিন্তু বিদআতিরা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে এই জাতীয় কথাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। কারণ তাদের কাছে গুণাবলি সাব্যস্ত করার অর্থই হলো ত্রুটির কল্পনা করা। কিন্তু আমরা যদি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করি এবং তিনি নিজের থেকে যা অস্বীকার করেছেন তা অস্বীকার করি, তবে এর দ্বারা কোনোভাবেই কোনো ত্রুটির কল্পনা বা ধারণা করার আবশ্যকতা তৈরি হয় না।
তিনি বলেন: অনেক আলেম এর ব্যাখ্যার (তাউইল) ভেতরে প্রবেশ করেছেন। তারা বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাহান্নামকে লাঞ্ছিত করা। কেননা জাহান্নাম যখন অবাধ্যতায় সীমা ছাড়িয়ে যাবে এবং আরও বেশি শিকার চাইবে, তখন আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করবেন এবং তাকে আল্লাহর পায়ের নিচে রাখবেন; আর এখানে প্রকৃত আল্লাহর পা উদ্দেশ্য নয়। আর আরবরা দৃষ্টান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শব্দ ব্যবহার করে থাকে কিন্তু এর দ্বারা সেই অঙ্গের সত্তা উদ্দেশ্য নেয় না। যেমন তাদের প্রবাদ: "তার নাক ধুলোমলিন হলো" এবং "সে অনুতপ্ত হয়ে নিজের হাত কামড়ালো"। আবার বলা হয়েছে 'আল্লাহর পা' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পূর্ববর্তী অগ্রগামী দল, অর্থাৎ আল্লাহ জাহান্নামে তাদের নিক্ষেপ করবেন যাদের তিনি আজাবের জন্য আগে থেকেই নির্ধারিত করে রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১০)
القدم إنما سميت قدم؛ لأنها تتقدم الإنسان، تتقدمه في المشي، لا يمكن المشي إلا إذا تقدمت الرجل على الأخرى، ثم الثانية على الأولى وهكذا، وهنا يقول: وقيل المراد بالقدم الفرط السابق، أي يضع الله فيها ما قدمه لها من أهل العذاب، قال الإسماعيلي: القدم قد يكون اسماً لما قدم، كما يسمى ما خيط من ورق خيطاً، فالمعنى ما قدموا من عمل، وقيل المراد بالقدم: قدم بعض المخلوقين فالضمير للمخلوق معلوم، أو يكون هناك مخلوق اسمه قدم، أو المراد بالقدم الأخير؛ لأن القدم آخر الأعضاء فيكون المعنى حتى يضع الله في النار آخر أهلها فيها، ويكون الضمير للمزيد.
لكن هذه كلها تأويلات يأباها السياق، تأويلات يأباها سياق الحديث، وكل هذا فرار من أن يثبت لله -جل وعلا- ما أثبته لنفسه، ولا شك أن هذا مجانب للصراط والمنهج الذي سار عليه سلف هذه الأمة وأئمتها.
يقول: وقال بن حبان في صحيحه: بعد إخراجه، هذا من الإخبار التي أطلقت بتمثيل المجاورة، وذلك أن يوم القيامة يلقى في النار من الأمم والأمكنة التي عُصي الله فيها فلا تزال تستزيد حتى يضع الرب فيها موضعاً من الأمكنة المذكورة فتمتلئ؛ لأن العرب تطلق القدم على الموضع، قال الله -جل وعلا-: {أَنَّ لَهُمْ قَدَمَ صِدْقٍ} [(2) سورة يونس] يريد موضع صدق، قال الداودي: المراد بالقدم قدم صدق وهو محمد صلى الله عليه وسلم، والإشارة بذلك إلى شفاعته وهو المقام المحمود .... إلى آخره.
ثم قال: وزعم ابن الجوزي أن الرواية التي جاءت بلفظ: الرجل تحريف من بعض الرواة؛ لظنه أن المراد بالقدم الجارحة، فرواها بالمعنى فأخطأ، ثم قال: ويحتمل أن يكون المراد بالرجل إن كانت محفوظة الجماعة، كما تقول: رجل من جراد، فالتقدير يضع فيها جماعة وأضافهم إليه إضافة اختصاص.
يعني إذا قال: رجله، الذي يضاف إلى الله -جل وعلا- ألا يقتضي تشريف المضاف، كبيت الله وناقة الله وما أشبه ذلك، هذا يقتضي التشريف، فأي شرف لمن يوضع في النار؟.
'কদম' (পা)-কে 'কদম' নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি মানুষের সামনে অগ্রসর হয়। হাঁটার সময় এটি সামনে এগিয়ে যায়; একটি পা অপরটির সামনে এবং দ্বিতীয়টি প্রথমটির সামনে অগ্রসর হওয়া ছাড়া হাঁটা সম্ভব নয়। এখানে বলা হয়েছে: কেউ কেউ বলেছেন যে, 'কদম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অগ্রবর্তী দল, অর্থাৎ আল্লাহ তাতে জাহান্নামীদের মধ্য হতে যাদের আগে নির্ধারণ করেছেন তাদের রাখবেন। ইসমাঈলী বলেছেন: 'কদম' শব্দটি যা আগে পাঠানো হয়েছে তার নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন সেলাই করা সুতাকে 'খাইত' (সুতা) বলা হয়। সুতরাং এর অর্থ হলো তাদের কৃত আমল যা তারা আগে পাঠিয়েছে। আবার বলা হয়েছে: 'কদম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো সৃষ্টির পা, ফলে এক্ষেত্রে সর্বনামটি কোনো সুপরিচিত সৃষ্টির দিকে ফিরবে। অথবা সেখানে 'কদম' নামক কোনো সৃষ্টি থাকবে। কিংবা 'কদম' দ্বারা শরীরের শেষ অংশ উদ্দেশ্য; কারণ পা হলো শরীরের সর্বশেষ অঙ্গ। ফলে অর্থ দাঁড়াবে—যতক্ষণ না আল্লাহ জাহান্নামে এর সর্বশেষ অধিবাসীদের রাখবেন, আর এক্ষেত্রে সর্বনামটি 'অতিরিক্তের' (যাদের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করা হবে) দিকে ফিরবে।
কিন্তু এই সবগুলোই এমন ব্যাখ্যা যা প্রসঙ্গের পরিপন্থী এবং হাদিসের বর্ণনাভঙ্গি এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে। আর এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা থেকে পলায়ন করা। নিঃসন্দেহে এটি এই উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণ যে সরল পথ ও পদ্ধতির ওপর চলেছেন তা থেকে বিচ্যুত।
তিনি বলেন: ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করার পর বলেছেন, এটি এমন একটি সংবাদ যা রূপক বা পার্শ্ববর্তী উদাহরণের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে। তা এই যে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামে সেই সব জাতি ও স্থানসমূহকে নিক্ষেপ করা হবে যেখানে আল্লাহর নাফরমানি করা হয়েছিল। এরপরও সেটি আরও বেশি চাইতে থাকবে, যতক্ষণ না রব তাতে উল্লিখিত স্থানসমূহের মধ্য হতে একটি স্থান রাখবেন, ফলে সেটি পূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ আরবরা 'কদম' শব্দটিকে 'স্থান' (মাকাম) অর্থে ব্যবহার করে। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলেছেন: {তাদের জন্য তাদের রবের নিকট রয়েছে সত্যের মর্যাদা (কদমে সিদক)} [সূরা ইউনুস: ২]। এখানে উদ্দেশ্য হলো সত্যের স্থান। দাঊদী বলেছেন: 'কদম' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'কদমে সিদক' আর তিনি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর এর দ্বারা তাঁর শাফায়াতের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যা হলো মাকামে মাহমুদ... শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর তিনি বলেন: ইবনুল জাওযী দাবি করেছেন যে, যে বর্ণনায় 'রিজল' (আল্লাহর পা) শব্দ এসেছে তা কোনো কোনো রাবীর পক্ষ থেকে বিকৃতি (তাহরীফ); কারণ তিনি মনে করেছিলেন 'কদম' দ্বারা শরীরের কোনো অঙ্গ উদ্দেশ্য, তাই তিনি মর্ম অনুযায়ী বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: এটিও সম্ভব যে, যদি 'রিজল' শব্দটি সংরক্ষিত হয়ে থাকে তবে তার অর্থ হবে 'জামাত' বা দল। যেমন বলা হয়: এক ঝাঁক পঙ্গপাল। এমতাবস্থায় এর অর্থ হবে যে, আল্লাহ তাতে একটি দল রাখবেন এবং তিনি তাদের নিজের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন বিশেষত্বের খাতিরে।
অর্থাৎ তিনি যখন বলেন: 'তাঁর পা' (আল্লাহর পা), যা আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, তবে কি এই সম্বন্ধটি সেই জিনিসের সম্মান সাব্যস্ত করে না? যেমন আল্লাহর ঘর এবং আল্লাহর উষ্ট্রী এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ। এটি সম্মান সাব্যস্ত করার দাবি রাখে, কিন্তু যারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে তাদের জন্য কীসের সম্মান?
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১১)
يقول: وأضافهم إليه إضافة اختصاص، وبالغ بن فورك: فجزم بأن الرواية بلفظ الرجل غير ثابتة عند أهل النقل، وهو مردود لثبوتها في الصحيحين، وقد أوّلها غيره بنحو ما تقدم في القدم فقيل: رجل بعض المخلوقين، وقيل: إنها اسم مخلوق من المخلوقين، وقيل: إن الرجل تستعمل في الزجر، كما تقول: وضعته تحت رجلي، وقيل: إن الرجل تستعمل في طلب الشيء على سبيل الجد، كما تقول: قام في هذا الأمر على رجل، وقال أبو الوفاء بن عقيل: تعالى الله عن أنه لا يعمل أمره في النار حتى يستعين عليها بشيء من ذاته أو صفاته، وهو القائل للنار: {كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا} [(69) سورة الأنبياء] فمن يأمر ناراً أججها غيره أن تنقلب عن طبعها وهو الإحراق فتنقلب فكيف يحتاج في نار يؤججها هو إلى استعانة؟! انتهى.
المقصود أن هذا الكلام كله من التأويل المذموم المردود، الذي يراد منه نفي ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه، واعتقده واتفق عليه سلف هذه الأمة وأئمتها، فلا محيد عن إثبات ما أثبته الله لنفسه، الله -جل وعلا- يثبت لنفسه ونحن نقول: لا يُثبت، لا شك أن هذه محادة ومعاندة، فهؤلاء -أعني الذي ينفون ما أثبته الله لنفسه- كيف يتصورون يقوم القيامة إذا جاء الله -جل وعلا- على الصفة التي يعرفونها؟ كيف يعرفون الصفة وهم ينفون الصفات؟! يعني إذا جاء عن الصفة التي يعرفونها يسجدون له، هؤلاء كيف يسجدون؟ هل عرفوه من أجل أن يسجدوا له؟ لا يمكن أن يعرف إلا من خلال ما جاء عنه -جل وعلا- في كتابه أو على لسان نبيه عليه الصلاة والسلام، هل يمكن أن يعرف شخص دون وصف؟ يعرف شيء ما رؤي سابقاً ولا وصف؟ ما يمكن أن يعرف، والله -جل وعلا- وصف نفسه في كتابه وعلى لسان نبيه -علي الصلاة والسلام- وأجمع سلف الأمة على هذه الأوصاف فصاروا يعرفونه بهذه الأوصاف التي جاءت عنه، فإذا جاءهم على صفته عرفوه، فكيف يعرفه من ينكر صفاته؟ كيف يعرفه من ينكر الصفات؟ هل يمكن معرفته مع إنكار الصفات؟! بأي شيء يعرفونه؟!
তিনি বলেন: আর তিনি সেগুলোকে বিশেষ সম্পৃক্ততায় নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। ইবনে ফুরাক এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি করেছেন; তিনি নিশ্চিতভাবে দাবি করেছেন যে, ‘আল্লাহর পা’ শব্দে বর্ণিত হাদিসটি হাদিস বিশারদদের নিকট সাব্যস্ত নয়। তবে তাঁর এই দাবি প্রত্যাখ্যাত, কারণ এটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে সাব্যস্ত রয়েছে। অন্যদের পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেভাবে আগে ‘আল্লাহর পা’ (কদম) এর ক্ষেত্রে করা হয়েছিল; সুতরাং বলা হয়েছে: এটি কোনো এক সৃষ্টির পা, আবার বলা হয়েছে: এটি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য থেকে কোনো এক সৃষ্টির নাম। আরও বলা হয়েছে: ‘পা’ শব্দটি ধমক দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি বলা হয়: ‘আমি তাকে আমার পায়ের নিচে রেখেছি’। আবার বলা হয়েছে: ‘পা’ শব্দটি গুরুত্বের সাথে কোনো বিষয় অন্বেষণ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি বলা হয়: ‘সে এই কাজে এক পায়ে দাঁড়িয়েছে’। আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল বলেন: আল্লাহ এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যে, তাঁর সত্তা বা তাঁর গুণাবলির কোনো অংশের সাহায্য নেওয়া ছাড়া আগুনের ওপর তাঁর নির্দেশ কার্যকর হবে না। অথচ তিনিই আগুনের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: “তুমি শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও” [(৬৯) সূরা আল-আম্বিয়া]। সুতরাং যিনি অন্যের প্রজ্বলিত আগুনকে তার স্বভাবজাত দহন ক্ষমতা থেকে পরিবর্তন করার নির্দেশ দেন এবং তা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তিনি নিজের প্রজ্বলিত আগুনের ক্ষেত্রে কেন সাহায্য গ্রহণের মুখাপেক্ষী হবেন?! সমাপ্ত।
উদ্দেশ্য হলো, এই সকল কথা হলো সেই নিন্দনীয় ও প্রত্যাখ্যাত ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করা উদ্দেশ্য থাকে এবং এই উম্মতের সালাফ ও ইমামগণ যার ওপর বিশ্বাস রাখতেন এবং একমত ছিলেন। অতএব, মহান আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। মহান আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করছেন আর আমরা বলছি: সাব্যস্ত নয়—নিঃসন্দেহে এটি অবাধ্যতা ও হঠকারিতা। সুতরাং যারা মহান আল্লাহ নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করে—তারা কিয়ামতের দিনটিকে কীভাবে কল্পনা করে যখন মহান আল্লাহ সেই বৈশিষ্ট্যে আসবেন যা তারা চেনে? তারা বৈশিষ্ট্য কীভাবে চিনবে যখন তারা গুণাবলিকেই অস্বীকার করে?! অর্থাৎ তিনি যখন সেই বৈশিষ্ট্যে আসবেন যা তারা চেনে, তখন তারা তাঁকে সিজদা করবে; এরা কীভাবে সিজদা করবে? তারা কি তাঁকে চিনেছে যে তাঁকে সিজদা করবে? মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে তা ছাড়া তাঁকে চেনা অসম্ভব। কোনো সত্তাকে কি বর্ণনা ছাড়া চেনা সম্ভব? এমন কিছু কি চেনা যায় যা আগে দেখা হয়নি এবং যার কোনো বর্ণনাও নেই? তা চেনা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর নবীর (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) মাধ্যমে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং উম্মতের সালাফগণ এই সকল বর্ণনার ওপর একমত হয়েছেন, ফলে তারা তাঁর পক্ষ থেকে আসা এই বর্ণনাগুলোর মাধ্যমেই তাঁকে চিনতে পেরেছেন। অতএব, যখন তিনি তাঁর নিজ বৈশিষ্ট্যে তাদের নিকট আসবেন, তারা তাঁকে চিনে নেবে। কিন্তু যে ব্যক্তি তাঁর গুণাবলি অস্বীকার করে, সে তাঁকে কীভাবে চিনবে? যে গুণাবলি অস্বীকার করে সে তাঁকে কীভাবে চিনবে? গুণাবলি অস্বীকার করার পাশাপাশি কি তাঁকে চেনা সম্ভব?! কিসের মাধ্যমে তারা তাঁকে চিনবে?!
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১২)
فلا شك أن هذا خطر عظيم؛ لأنهم مع إنكارهم لهذه الصفات يعبدون غير ما جاءت صفاته في الكتاب والسنة؛ لأن ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه في كتابه وعلى لسان نبيه عليه الصلاة والسلام وما أجمع عليه سلف هذه الأمة هو بمجموعه ما يمكن أن يعرف به إذا جاء على صفته، كما أننا لا نعرف النبي عليه الصلاة والسلام إلا من خلال ما جاء في كتب الشمائل، في كتب السيرة، يعني لو لم نعرف أن الرسول عليه الصلاة والسلام أبيض وربعة وبعيد ما بين المنكبين وضليع الفم وشذن الكفين كيف نعرفه؟ ما يمكن أن نعرفه إلا بهذه الأوصاف، فإذا جاء الرب -جل وعلا- على صفته التي نعرفها من خلال ما جاءنا عنه -جل وعلا- في كتابه وعلى لسان نبيه يسجد له من كان يعبده في الدنيا، لكن من ينفي الصفات كيف يعرف؟! أنا لا أتصور أن شخصاً ينفي الصفات ثم يقول: إنه سوف يعرف الرب -جل وعلا-، هو لا يتصور صفات مثبتة، إنه يعبد شيء لا أوصاف له وهذا أشبه ما يكون بالعدم؛ لأن وجوده في الأذهان، لا يمكن أن يتصور في الأعيان شيء لا أوصاف له، هل ممكن تتصور إنسان لا وجه له، ولا يد له، ولا رجل له، ولا شيء من الصفات؟ يمكن تتصور إنسان بهذه الكيفية؟ ما يمكن، يعني إذا كان الأذهان والخيالات يمكن أن تسرح مسارح ويمكن تثبت مثل هذه الأمور التي لا حقائق لها فالأعيان لا يمكن أن يوجد فيها مثل هذا، فلا بد من إثبات ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه، ولا يلزم من الإثبات التشبيه، لا يلزم من ذلك أن يكون الخالق مثل المخلوق، فالخالق له وجه وله رجل وقدم ويد وعين وسمع وبصر -جل وعلا- عن مشابهة المخلوقين، وتعالى الله عما يقول الظالمون علواً كبيراً، فله هذه الأوصاف ولا يعني أننا إذا أثبتنا شيء من ذلك أنه نشبه به أحد من خلقه.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি এক ভয়াবহ বিপদ; কারণ তারা এই গুণাবলি অস্বীকার করার মাধ্যমে এমন কিছুর ইবাদত করছে যার গুণাবলি কিতাব ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়নি। কেননা আল্লাহ—মহামহিম ও সুউচ্চ—নিজের কিতাবে নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর নবী—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—এর যবানে যা ব্যক্ত হয়েছে এবং এই উম্মতের পূর্বসূরিগণ যে বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, সেই সবকিছুর সমষ্টির মাধ্যমেই তাঁকে চেনা সম্ভব যখন তিনি তাঁর নিজ গুণ অনুযায়ী আত্মপ্রকাশ করবেন। যেমন আমরা নবী—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—কে কেবল শামায়েল ও সীরাত গ্রন্থসমূহে বর্ণিত বিবরণের মাধ্যমেই চিনতে পারি। অর্থাৎ, আমরা যদি না জানতাম যে রাসূল—তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—গৌরবর্ণ, মাঝারি গড়ন, চওড়া কাঁধ বিশিষ্ট, প্রশস্ত মুখ এবং মজবুত হাতের তালু বিশিষ্ট ছিলেন, তবে আমরা তাঁকে কীভাবে চিনতাম? এই সকল গুণাবলি ছাড়া তাঁকে চেনা সম্ভব নয়। সুতরাং রব—মহামহিম ও সুউচ্চ—যখন তাঁর সেই গুণাবলি অনুযায়ী আসবেন যা আমরা তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর যবানে প্রাপ্ত বর্ণনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি, তখন তারা তাঁকে সিজদা করবে যারা দুনিয়াতে তাঁর ইবাদত করত। কিন্তু যারা গুণাবলি অস্বীকার করে তারা কীভাবে চিনবে?! আমি কল্পনা করতে পারি না যে কোনো ব্যক্তি গুণাবলি অস্বীকার করবে এবং এরপর বলবে যে সে রব—মহামহিম ও সুউচ্চ—কে চিনতে পারবে। সে কোনো প্রমাণিত গুণাবলি কল্পনা করতে পারে না; সে এমন কিছুর ইবাদত করে যার কোনো গুণ নেই, যা মূলত অনস্তিত্বের সমতুল্য। কারণ এর অস্তিত্ব কেবল মনেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয় যার কোনো গুণাবলি নেই। আপনি কি এমন কোনো মানুষের কথা কল্পনা করতে পারেন যার কোনো মুখ নেই, হাত নেই, পা নেই এবং কোনো গুণাবলি নেই? এই অবস্থায় কি কোনো মানুষকে কল্পনা করা সম্ভব? মোটেও সম্ভব নয়। অর্থাৎ মন ও কল্পনা যদিও এমন সব বিষয় নিয়ে বিচরণ ও সাব্যস্ত করতে পারে যার কোনো বাস্তবতা নেই, কিন্তু বাস্তব জগতে এমন কিছুর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং আল্লাহ—মহামহিম ও সুউচ্চ—নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা অপরিহার্য। আর এই সাব্যস্তকরণের ফলে সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান করা আবশ্যক হয় না। এর থেকে এটি জরুরি হয় না যে সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টির মতো হবেন। সৃষ্টিকর্তার মুখ আছে, আল্লাহর পা ও পায়ের পাতা আছে, আল্লাহর হাত, চোখ এবং শ্রবণ ও দর্শন আছে—তিনি মাখলুকের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র। জালিমরা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি মহান ও উচ্চ। তাঁর এই সকল গুণাবলি রয়েছে এবং এর অর্থ এই নয় যে আমরা যখন এর কোনো কিছু সাব্যস্ত করি তখন আমরা তাঁকে তাঁর সৃষ্টির কারো সাথে সাদৃশ্য দান করছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الإمام ابن خزيمة رحمه الله في كتاب التوحيد: لما أثبت الوجه لله -جل وعلا- قال: لا يستلزم مشابهة وجوه المخلوقين بحال من الأحوال ولا بوجهٍ من الوجوه، وإذا تأملنا في المخلوقين وهم يشتركون في القدر المشترك من الخلق وجدنا تبيان كبير بين وجوه المخلوقين، فهل يستطيع أحد أن يقول: وجه الإنسان مثل وجه القرد؟ أو وجه النملة مثل وجه الحمار؟ أو وجه الذئب مثل وجه الجمل؟ ما يمكن، فالإنسان له وجهل والجمل له وجهل والحمار له وجه، والنملة لها وجه والجرادة لها وجه، ولا يلزم من ذلك المشابهة، وهذا بين المخلوقين، الذين يجمعهم وصفٌ واحد، يشملهم وصفٌ واحد وهو الخلق، فكيف بالتفاوت والتباين بين الخالق والمخلوق؟!.
في حديث أبي هريرة عند البخاري -رضي الله تعالى عنه- قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((تحاجت الجنة والنار، فقالت النار: أوثرت بالمتكبرين والمتجبرين، وقالت الجنة: ما لي لا يدخلني إلا ضعفاء الناس وسخطهم! قال الله تبارك وتعالى للجنة: أنتِ رحمتي، أرحم بك من أشاء من عبادي، وقال للنار: إنما أنتِ عذابٌ أعذب بك من أشاء من عبادي، ولكل واحدةٍ منهما ملأها، فأما النار فلا تمتلئ حتى يضع الله عليها رجله فتقول: قطٍ قطٍ، فهنالك تمتلي، ويزوى بعضها إلى بعض -يعني ينضم بعضها إلى بعض- ولا يظلم الله عز وجل من خلقه أحدا ً -يعني لا يضع فيها ولا يدخل في هذه النار –جهنم- من لا يستحق العقوبة- وأما الجنة فإن الله عز وجل ينشئ لها خلقاً)) وهذا السياق يأبى جميع التأويلات التي أبداها من ينكر هذه الصفات.
قول النار: هل هو بلسان المقال أو بلسان الحال؟ يعني هل تنطق أو بلسان الحال؟
طالب:. . . . . . . . .
ইমাম ইবনে খুযাইমাহ (রহিমাহুল্লাহ) ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এ আল্লাহর জন্য চেহারা সাব্যস্ত করার পর বলেন: এটি কোনোভাবেই বা কোনো দিক থেকেই সৃষ্টিজীবের চেহারার সদৃশ হওয়াকে আবশ্যক করে না। আর আমরা যদি সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করি, যারা সৃষ্টির সাধারণ গুণের ক্ষেত্রে অংশীদার, তবে আমরা সৃষ্টিজীবদের চেহারার মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখতে পাই। সুতরাং কেউ কি বলতে সক্ষম যে, মানুষের চেহারা বানরের চেহারার মতো? কিংবা পিঁপড়ার চেহারা গাধার চেহারার মতো? অথবা নেকড়ের চেহারা উটের চেহারার মতো? এটি সম্ভব নয়। মানুষের চেহারা আছে, উটের চেহারা আছে, গাধার চেহারা আছে, পিঁপড়ার চেহারা আছে এবং ফড়িংয়েরও চেহারা আছে; কিন্তু এর দ্বারা তাদের মধ্যে সাদৃশ্যতা আবশ্যক হয় না। আর এটি তো সৃষ্টিজীবদের মধ্যকার বিষয়, যাদেরকে একটি সাধারণ গুণ তথা ‘সৃষ্টি হওয়া’র বৈশিষ্ট্যটি শামিল করে। তাহলে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার পার্থক্য ও বৈসাদৃশ্যের অবস্থা কেমন হবে?!
বুখারীতে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসে আছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((জান্নাত ও জাহান্নাম বিতর্কে লিপ্ত হলো। জাহান্নাম বলল: আমাকে অহংকারী ও স্বৈরাচারীদের দিয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জান্নাত বলল: আমার কী হলো যে, কেবল দুর্বল ও সাধারণ মানুষরাই আমার মধ্যে প্রবেশ করছে! আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা জান্নাতকে বললেন: তুমি আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দয়া করি। আর জাহান্নামকে বললেন: তুমি কেবলই আমার আযাব, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিই। তাদের প্রত্যেকের জন্যই পূর্ণতা রয়েছে। তবে জাহান্নাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তার ওপর তাঁর পা রাখেন; তখন সে বলবে: যথেষ্ট, যথেষ্ট। তখনই তা পূর্ণ হবে এবং এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে গুটিয়ে আসবে—অর্থাৎ একে অপরের সাথে মিশে যাবে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর সৃষ্টির কারো ওপর যুলুম করবেন না—অর্থাৎ তিনি এই জাহান্নামে এমন কাউকে দেবেন না বা প্রবেশ করাবেন না যে শাস্তির যোগ্য নয়—আর জান্নাতের জন্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল নতুন এক সৃষ্টি তৈরি করবেন।)) আর এই প্রসঙ্গের বর্ণনাভঙ্গি ঐ সকল ব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে যা এই গুণাবলি অস্বীকারকারীরা প্রকাশ করে থাকে।
জাহান্নামের এই উক্তি: এটি কি সরাসরি মুখে বলা কথা নাকি অবস্থার বর্ণনা? অর্থাৎ সে কি সত্যিই কথা বলবে নাকি এটি কেবল অবস্থার বহিঃপ্রকাশ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
نعم، تتكلم، القدرة الإلهية صالحة لمثل هذا، وقال -جل وعلا- عن السماوات والأرض: {قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ} [(11) سورة فصلت] يقول النووي: هذا الحديث على ظاهره، وأن الله يخلق في الجنة والنار تمييزاً يدركان به ويقدران على المراجعة والاحتجاج، ويحتمل أن يكون بلسان الحال، لكن الأصل في الكلام أنه بلسان المقال، ثم بعد ذلك بعضهم يقول: هل لها لسان وأسنان وفم يخرج منه الكلام وحنجرة وما أشبه ذلك؟ نقول: لا يلزم، لا يلزم من هذا كله شيء، ولذلك حينما نفى المبتدعة صفة الكلام عن الله -جل وعلا- بناءً على أن إثبات الصفة يوهم وجود مثل هذه الأشياء، نعم لو ثبتت عن الله -جل وعلا- هذه الأمور أثبتناها على ما يليق بجلاله وعظمته، لكن الذي لم يثبت عنه لا نثبته إلا بدليلٍ ملزم، والقدرة صالحة لمثل هذا، فتتكلم النار وتتكلم الجنة ويتكلم الجماد تكلم الذئب وتكلمت البقرة، والله المستعان.
طالب:. . . . . . . . .
الشيخ: كيف صارت صفة نقص؟
طالب:. . . . . . . . .
يعني النقص بالنسبة للخالق وإلا المخلوق؟ يعني المقعد هذا الذي ما له رجلين أكمل من اللي له رجلين؟ كيف تصير صفة نقص؟
طالب:. . . . . . . . .
شوف يا أخي الإهانة والإكرام أمور نسبية، يعني كون شيء فوق شيء هل نقول: أن الأسفل مهان ما يلزم يا أخي، ما يلزم أبداً.
طالب:. . . . . . . . .
القدم أيش فيها؟
طالب:. . . . . . . . .
القدم قالوا: هو الشيء الذي يتقدم على غيره، فيقدم لها أناس أو مخلوقات تمتلئ بهم، مثل ما مرّ بنا، على كل حال هذه كلها تأويلات مردودة القصد منها ومن ورائها نفي ما أثبته الله -جل وعلا- لنفسه.
طالب: إضافة رب العزة؟
إضافة رب العزة، العزة معروف أنها صفة من صفات الله -جل وعلا- وهي معنىً من المعاني فتكون الإضافة من باب؟
طالب: إضافة الموصوف.
من إضافة الموصوف إلى صفته.
হ্যাঁ, তারা কথা বলে; ঐশ্বরিক ক্ষমতা এ ধরণের বিষয়ের ওপর সক্ষম। মহান আল্লাহ আসমান ও জমিন সম্পর্কে বলেছেন: {তারা উভয়ে বলল: আমরা অনুগত হয়ে আসলাম} [সূরা ফুসসিলাত: ১১]। ইমাম নববী বলেন: এই হাদিসটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপরই বহাল থাকবে, আর আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নামে এমন এক হিতাহিত জ্ঞান সৃষ্টি করবেন যার মাধ্যমে তারা অনুধাবন করতে পারবে এবং উত্তর প্রদান ও যুক্তি পেশ করতে সক্ষম হবে। সম্ভাবনা আছে যে এটি অবস্থার ভাষায় হতে পারে, কিন্তু বাচনিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো সরাসরি কথার ভাষা হওয়া। এরপর তাদের কেউ কেউ বলে: তাদের কি জিহ্বা, দাঁত ও মুখ আছে যেখান থেকে কথা বের হয় এবং কণ্ঠনালি বা অনুরূপ কিছু আছে? আমরা বলব: এর কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। এই কারণেই যখন বিদআতিরা আল্লাহর কথা বলার গুণটিকে অস্বীকার করেছিল এই যুক্তিতে যে, এই গুণটি সাব্যস্ত করলে সৃষ্টির সদৃশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকার ধারণা জন্মায়; তবে হ্যাঁ, যদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসব বিষয় সাব্যস্ত হতো তবে আমরা তা তাঁর মহিমা ও মহত্ত্বের উপযোগী করে সাব্যস্ত করতাম। কিন্তু যা তাঁর পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়, তা আমরা অকাট্য দলিল ছাড়া সাব্যস্ত করি না। আর আল্লাহর ক্ষমতা সবকিছুর ওপর কার্যকর, তাই জাহান্নাম কথা বলবে, জান্নাত কথা বলবে এবং জড়বস্তুও কথা বলবে—যেমন নেকড়ে কথা বলেছিল এবং গাভী কথা বলেছিল। আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
ছাত্র: . . . . . . . . .
শায়খ: এটি কীভাবে অপূর্ণতার গুণ হলো?
ছাত্র: . . . . . . . . .
অর্থাৎ অপূর্ণতা কি স্রষ্টার সাপেক্ষে নাকি সৃষ্টির সাপেক্ষে? এই যে আসনটি যার পা নেই, সে কি যার পা আছে তার চেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ? এটি কীভাবে অপূর্ণতার গুণ হতে পারে?
ছাত্র: . . . . . . . . .
দেখুন ভাই, অপমান ও সম্মান আপেক্ষিক বিষয়। কোনো কিছু অন্য কিছুর ওপর হওয়ার অর্থ কি এই যে নিচেরটি অপমানিত? এটি মোটেও আবশ্যক নয় ভাই, মোটেও আবশ্যক নয়।
ছাত্র: . . . . . . . . .
পা (আল-কদম) এর ব্যাপারে কী বলা হয়েছে?
ছাত্র: . . . . . . . . .
পা সম্পর্কে তারা বলেছে: এটি এমন বিষয় যা অন্যের অগ্রবর্তী হয়; সুতরাং সেখানে এমন একদল মানুষ বা সৃষ্টিকে এগিয়ে দেওয়া হবে যারা তা পূর্ণ করবে, যেমনটি আমাদের আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। মোদ্দাকথা হলো, এগুলি সবই প্রত্যাখ্যাত অপব্যাখ্যা, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ মহান নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন তা অস্বীকার করা।
ছাত্র: 'রব্বুল ইজ্জাহ' এর সংযুক্তি?
'রব্বুল ইজ্জাহ' এর সংযুক্তি; 'ইজ্জত' তো পরিচিত যে এটি মহান আল্লাহর একটি গুণ এবং এটি একটি অর্থবাচক গুণ, সুতরাং এই সংযুক্তিটি কিসের অন্তর্ভুক্ত হবে?
ছাত্র: গুণীর দিকে গুণের সংযুক্তি।
এটি গুণী বা মাউসুফের দিকে তার গুণের সংযুক্তি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقوله: ((يقول الله تعالى: يا آدم، فيقول: لبيك وسعديك)) ينادي الرب -جل وعلا- آدم وهو أبو البشر فيجيبه آدم عليه السلام لبيك وسعديك، وهما بلفظ التثنية والمقصود بلبيك إجابة بعد إجابة، وسعديك إسعاداً بعد إسعاد، فآدم يجيب ويقيم على إجابة الله -جل وعلا- ويطلب منه أن يسعده إسعاداً بعد إسعاد ((فينادي بصوت)) ينادي النداء من لازمه الصوت، فقوله: بصوت، تأكيد، وإذا أكد اللفظ امتنع إرادة المجاز، إذا أكد اللفظ سواءً كان بلفظه تأكيداً لفظياً أو تأكيداً معنوياً بمعناه، كما هنا انتفى إرادة المجاز، فينادي بصوتٍ ففي هذا إثبات الكلام لله -جل وعلا-، وأنه بصوت ((فينادي بصوتٍ إن الله يأمرك)) يعني يا آدم ((إن الله يأمرك)) وهذا من باب التعظيم، تعظيم الله -جل وعلا- نفسه، حيث لم يقل: إني آمرك، وبعض المبتدعة يقولون: إن المنادي غير الله -جل وعلا-، ولو كان الرب -جل وعلا- لقال: إني آمرك، فنسب الأمر إلى نفسه، يعني فماذا عن قول الله -جل وعلا-: {إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّواْ الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} ذ (58) سورة النساء] فمن المتكلم هنا؟ هو الله -جل وعلا-، لكن كونه -جل وعلا- يعبر عن نفسه بهذا الأسلوب لا شك أنه من باب التعظيم، يعني كما يقول الملك في حاشيته: إن الملك يأمركم بكذا، أو لرعيته؛ لأن المتكلم العادي يضيف الأمر إلى نفس مباشرة بالضمير، يكني عن نفسه بالضمير ولا إشكال في هذا، إني أفعل كذا وآمر بكذا، لكن ليس هذا من أساليب التعظيم، إنما قاله: {إِنَّ اللهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّواْ الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} لا شك أنه مع كونه أمر يحمل استشعار عظمة الآمر.
এবং তাঁর (রাসূলের) বাণী: ((আল্লাহ তাআলা বলেন: হে আদম, তখন তিনি বলেন: লাব্বাইকা ওয়া সা'দাইকা (আমি আপনার সেবায় হাজির এবং আপনার সন্তুষ্টির ওপর অবিচল))) রব -জাল্লা ওয়া আলা- আদমকে ডাকেন, যিনি মানবজাতির পিতা, অতঃপর আদম আলাইহিস সালাম তাঁকে জবাব দেন 'লাব্বাইকা ওয়া সা'দাইকা'। এই শব্দ দুটি দ্বিবচনরূপে ব্যবহৃত এবং লাব্বাইকা-এর উদ্দেশ্য হলো একের পর এক সাড়া প্রদান, আর সা'দাইকা হলো একের পর এক আনুগত্য বা সাহায্য প্রার্থনা। সুতরাং আদম সাড়া দিচ্ছেন এবং আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর আহ্বানে অটল থাকছেন এবং তাঁর কাছে বারবার সৌভাগ্যমন্ডিত করার প্রার্থনা করছেন। ((অতঃপর তিনি একটি আওয়াজের মাধ্যমে ডাকেন)) ডাক বা আহ্বানের জন্য আওয়াজ হওয়া অপরিহার্য, তাই তাঁর উক্তি: "আওয়াজের মাধ্যমে", এটি একটি তাকিদ বা গুরুত্বারোপ। আর যখন কোনো শব্দকে গুরুত্বারোপ করা হয়, চাই তা শব্দগত তাকিদ হোক কিংবা অর্থের মাধ্যমে অর্থগত তাকিদ, যেমনটি এখানে ঘটেছে, তখন রূপক বা মেজাজি অর্থ গ্রহণের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়। সুতরাং তিনি আওয়াজের মাধ্যমে ডাকেন—এর মাধ্যমে আল্লাহর -জাল্লা ওয়া আলা- জন্য 'কালাম' বা কথা বলার বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত হয় এবং এটিও প্রমাণিত হয় যে তাঁর কথা আওয়াজযুক্ত। ((অতঃপর তিনি আওয়াজের মাধ্যমে ডাকেন: নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন)) অর্থাৎ হে আদম ((নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন)) এবং এটি মহান আল্লাহর নিজের মহিমা বা তাজিম প্রকাশের একটি পদ্ধতি, যেখানে তিনি বলেননি: "আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি"। কিছু বিদআতি বলে থাকে যে: আহ্বানকারী আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- ছাড়া অন্য কেউ, আর যদি তিনি স্বয়ং রব -জাল্লা ওয়া আলা- হতেন তবে বলতেন: "আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি" এবং নির্দেশটি নিজের দিকে সম্বন্ধ করতেন। তবে আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর এই বাণীর ব্যাপারে কী বলা হবে: {নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও} [সূরা আন-নিসা: ৫৮]। এখানে বক্তা কে? তিনি আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা-। তবে তাঁর পক্ষ থেকে নিজের সম্পর্কে এই শৈলীতে ব্যক্ত করা নিঃসন্দেহে মহানত্ব প্রকাশের উদ্দেশ্যে। যেমন একজন রাজা তার পারিষদবর্গ বা প্রজাদের উদ্দেশ্যে বলেন: "রাজা তোমাদের অমুক কাজের নির্দেশ দিচ্ছেন"; কারণ সাধারণ বক্তা নির্দেশকে সর্বনামের মাধ্যমে সরাসরি নিজের দিকে সম্বন্ধ করে এবং নিজের পরিচয় দেয়, এতে কোনো সমস্যা নেই, যেমন: "আমি এটি করছি" বা "আমি অমুক নির্দেশ দিচ্ছি"। কিন্তু এটি মহানত্ব প্রকাশের শৈলী নয়। বরং তাঁর এই বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও}—এটি নির্দেশ হওয়ার পাশাপাশি নিঃসন্দেহে নির্দেশদাতার মহানত্বের অনুভূতি বহন করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يقول المؤلف -رحمه الله تعالى-: ((فينادي بصوتٍ: إن الله يأمرك أن تخرج من ذريتك بعثاً إلى النار)) الذين هم أهل النار وسكانها، وبعث النار جمعٌ غفير، هم السواد الأعظم، من كل ألف تسعمائة وتسعة وتسعين، وأما بالنسبة لأهل الجنة فهم واحد من ألف، الصحابة -رضوان الله عليهم- خافوا وفزعوا فمن هذا الواحد؟ قال: ((ما أنتم بالنسبة للأمم إلا كالشعرة السوداء في جنب الثور الأبيض، أو الشعرة البيضاء في جنب الثور الأسود)). وجاء في الحديث الصحيح أن من يأجوج ومأجوج تسعمائة وتسعة وتسعين، ومن سائر الخلق واحد، فمثل هذا لا شك أنه يطمأن لكن على الإنسان ينظر لنفسه بمفرده؛ لأنه ما ضاع من ضاع وضل ومن ضل إلا بالمقارنة، يعني مثلاً بعض الناس يقول: الآن الكفار تجده يسافر إلى بلد من البلدان وينظر إلى هؤلاء الملايين المتكاثرة، فيخيل إليه أنه ليس له مكان في النار، ويبشر قومه أنهم كلهم في الجنة، ما دام يشهدون أن لا إله إلا الله، وهؤلاء المليارات كفار لكن بهذه المقارنة يضل الإنسان ويضيع، ويأمن من مكر الله.
فعلى الإنسان أن ينظر إلى نفسه بمفرده ماذا قدم مما ينجيه من عذاب الله؟ ولو نظر في حال سلف هذه الأمة لوجد الخوف من الله -جل وعلا- يستولي عليهم، بحيث لا يصل إلى حد القنوط واليأس من رحمة الله، لكن هو الخوف الباعث عن العمل، وجاء في الحديث الصحيح حديث ابن مسعود ((وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخل النار)) نسأل الله السلامة والعافية، فالإنسان لا يغتر، يعني إذا سمع أن من يأجوج ومأجوج تسعمائة وتسعة وتسعين قال خلاص: ما لنا مكان، يا أخي عليك أن تنظر إلى نفسك بمفردك، وتنظر فيما ينجيك من عذاب الله -جل وعلا-، فتأتمر بما أمرت به وتنتهي عما نهيت عنه.
লেখক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—বলেন: ((তিনি উচ্চস্বরে ডাক দেবেন: আল্লাহ তোমাকে আদেশ দিচ্ছেন যে, তুমি তোমার বংশধরদের মধ্য থেকে একদলকে জাহান্নামের আগুনের জন্য বের করে আনো))। তারা হলো জাহান্নামের অধিবাসী ও সেখানে বসবাসকারী। আর জাহান্নামের দলটি হবে এক বিশাল জনসমষ্টি, তারা হবে বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠ, প্রতি এক হাজারের মধ্যে নয়শত নিরানব্বই জন। আর জান্নাতবাসীদের ক্ষেত্রে তারা হবে হাজারে একজন। সাহাবীগণ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন—ভীত ও আতঙ্কিত হলেন যে, সেই একজন ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: ((তোমরা অন্যান্য উম্মতদের তুলনায় একটি সাদা ষাঁড়ের শরীরে একটি কালো লোমের মতো অথবা একটি কালো ষাঁড়ের শরীরে একটি সাদা লোমের মতো।)) আর সহীহ হাদীসে এসেছে যে, ইয়াজুজ ও মাজুজ থেকে নয়শত নয়শত নিরানব্বই জন হবে এবং অবশিষ্ট সৃষ্টি থেকে হবে একজন। নিঃসন্দেহে এমন সংবাদ আশ্বস্ত করে, তবে মানুষের উচিত কেবল নিজের দিকে নজর দেওয়া; কারণ যারা ধ্বংস হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তারা কেবল তুলনার মাধ্যমেই তা হয়েছে। অর্থাৎ উদাহরণস্বরূপ, কিছু মানুষ বলে: বর্তমানে কাফেরদের দেখা যায়, কেউ কোনো একটি দেশে সফর করে এবং এই বিপুল সংখ্যক কোটি কোটি মানুষের দিকে তাকায়, তখন তার মনে হয় যে জাহান্নামে তার কোনো স্থান নেই। সে তার কওমকে সুসংবাদ দেয় যে তারা সবাই জান্নাতে যাবে, যতক্ষণ তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আর ওই বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ তো কাফের। কিন্তু এই তুলনার মাধ্যমেই মানুষ পথভ্রষ্ট হয়, ধ্বংস হয় এবং আল্লাহর কৌশল থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।
সুতরাং মানুষের উচিত কেবল নিজের দিকে তাকানো যে, সে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার জন্য কী পেশ করেছে? আর সে যদি এই উম্মতের সালাফদের অবস্থার দিকে তাকাত, তবে দেখতে পেত যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার ভয় তাদের ওপর কর্তৃত্ব করত, যদিও তা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশা ও হতাশ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাত না, বরং তা ছিল আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী ভয়। আর সহীহ হাদীসে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীসে এসেছে: ((তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে, এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, তখন তার ওপর তকদীর প্রবল হয় এবং সে জাহান্নামীদের আমল শুরু করে দেয়, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে।)) আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি। সুতরাং মানুষের প্রতারিত হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ যখন সে শুনে যে ইয়াজুজ ও মাজুজ থেকে নয়শত নিরানব্বই জন হবে, তখন সে বলে: ‘ব্যাস, আমাদের আর কোনো চিন্তা নেই (জাহান্নামে আমাদের জায়গা নেই)’। হে ভাই! তোমার উচিত কেবল নিজের দিকে তাকানো এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার আযাব থেকে যা তোমাকে মুক্তি দেবে তা দেখা। সুতরাং যা তোমাকে আদেশ করা হয়েছে তা পালন করো এবং যা নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকো।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا شك أن النصوص جاءت بما يبعث على الخوف، وجاء من النصوص ما يبعث على الأمل والرجاء، وعلى هذا حال المسلم ينبغي أن يكون متعبداً لله -جل وعلا- عابداً له مستصحباً الخوف والرجاء، فلا يحمله الخوف على اليأس من رحمة الله والقنوط، ولا يحمله الرجاء إلى أن يأمن من مكر الله، فعليه أن يكون بين هذين الأمرين، وبعض الناس سمعتم وسمع غيركم سافر ورأى الجموع الغفيرة من الكفار فيقول: أبشروا كلكم في الجنة، مع أن المعتمد عند أهل السنة والجماعة أنه لا يشهد لأحدٍ من أهل الجنة إلا من شهد له النبي عليه الصلاة والسلام، وأما بقية الناس فلا يشهد لهم، إنما يرجى للمحسن ويخاف على المسيء.
((إن الله يأمرك أن تخرج من ذريتك بعثاً إلى النار)) متفقٌ عليه.
يا سلعة الرحمن ليس ينالها
… في الألف إلا واحدٌ لا اثنانِ
يعني بعث الجنة واحد وبعث النار تسعمائة وتسعة وتسعون.
وقوله: ((ما منكم من أحد إلا سيكلمه ربه وليس بينه وبينه ترجمان)) فالحديث السابق فيه إثبات صفة الكلام لله -جل وعلا- على ما يليق بجلاله وعظمته، وتقدم ذكر المذاهب في هذه الصفة.
নিঃসন্দেহে দলিলসমূহে এমন কিছু এসেছে যা ভীতি সঞ্চার করে এবং এমন কিছু এসেছে যা আশা ও আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে। এই ভিত্তিতে একজন মুসলিমের অবস্থা এমন হওয়া উচিত যে সে আল্লাহ—যাঁর মহিমা সুউচ্চ ও যিনি মহান—তাঁর ইবাদত করবে ভয় ও আশাকে সাথে রেখে। ভয় যেন তাকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশা ও হতাশার দিকে ঠেলে না দেয়, আবার আশা যেন তাকে আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ বোধ করার দিকে ধাবিত না করে। বরং তাকে এই দুই বিষয়ের মাঝে থাকতে হবে। আপনারা এবং অন্যরা শুনেছেন যে, কিছু লোক সফর করে কাফেরদের বিশাল জনসমষ্টি দেখে বলে: 'তোমরা সবাই জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ করো', অথচ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট নির্ভরযোগ্য মত হলো—নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যার জন্য সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি ছাড়া আর কারো জান্নাতি হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। অবশিষ্ট লোকেদের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না, বরং সৎকর্মশীলের জন্য আশা পোষণ করা হবে এবং পাপাচারীর জন্য আশঙ্কা করা হবে।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে জাহান্নামের জন্য একটি অংশ বের করে আনেন।” (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
ওহে রহমানের পণ্য (জান্নাত)! হাজারে একজন ছাড়া তা কেউ লাভ করতে পারে না … দুইজন নয়।
অর্থাৎ জান্নাতের প্রেরিত অংশ হবে একজন এবং জাহান্নামের প্রেরিত অংশ হবে নয়শত নিরানব্বই জন।
এবং তাঁর বাণী: “তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার রব কথা বলবেন না এবং তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না।” সুতরাং পূর্বোক্ত হাদীসে আল্লাহ—যাঁর মহিমা সুউচ্চ ও যিনি মহান—তাঁর জন্য কথা বলার গুণটি তাঁর মর্যাদা ও মহত্ত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে, আর ইতিপূর্বে এই গুণটির ব্যাপারে বিভিন্ন মতবাদের কথা আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
((ما منكم من أحد)) (ما) هذه نافية، ومنكم الخطاب لكل من يتأتى أو يمكن أن يتجه إليه الخطاب من هذه الأمة، والكلام هذا يشمل الجميع، كل من يتجه إليه الخطاب من المكلفين ((إلا سيكلمه ربه ليس بينه وبينه ترجمان)) وهذا الكلام كلام تقرير وليس بكلام تشريف بحيث يختص بالمؤمنين، إنما كلٌ سيكلم وكلٌ سيحاسب ((ليس بينه وبينه ترجمان)) يعني بلغته، إنما الترجمان إنما يطلب حينما تختلف اللغة، لغة المتحدث والمحدَث، فالترجمان هو الذي ينقل الكلام من لغة إلى لغة، وقد يطلق على من يبلغ الكلام ولو كان باللغة نفسها، فقد جاء في صحيح البخاري عن أبي جمرة نصر بن عمران الضبعي أنه كان يترجم بين يدي ابن عباس، يعني أنه يبلغ كلام ابن عباس إلى من لا يسمعه، وهذا يسمى عند أهل العلم يسمونه المستملي، المستملي هو الذي يبلغ كلام الشيخ إلى الجموع التي لا تسمع، والترجمان هو الذي ينقل من لغة إلى لغة، هذا الأصل وقد يستعمل في اللغة نفسها في تبليغ الكلام الذي لا يسمع ((ما منكم من أحد)) أحد هذه نكرة في سياق النفي، فتعمُّ كل من يمكن أن يوجه إليه الخطاب ((إلا سيكلمه ربه)) وهذا في القيامة ((وليس بينه وبينه ترجمان)) فيقرره على أعماله ويحاسبه ويناقشه، أحدٌ يحاسب وأحدٌ تعرض أعماله عرض، والله المستعان. وفي هذا إثبات صفة الكلام ((سيكلمه ربه)) صفة الكلام لله -جل وعلا- على ما يليق بجلاله وعظمته.
وأما مسألة أو صفة العلو التي أورد فيها المؤلف -رحمه الله تعالى- نصوص قد تكون أكثر من غيرها فتؤجل إلى استئناف الدروس -إن شاء الله تعالى-، وسوف يعلن عنها، وأما هذا الدرس فهو آخر الدروس بالنسبة لهذه السنة، والله أعلم.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
طالب: هل يفهم من ذلك أن الله عز وجل تكلم بلغة؟
كلٌ يكلمه بكلامٍ يفهمه لا يحتاج فيه إلى ترجمان هذا مقتضى النص.
((তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই)) এখানে (মা) শব্দটি না-বাচক। (তোমাদের মধ্য হতে) সম্বোধনটি এই উম্মতের প্রত্যেকের জন্য যাদেরকে সম্বোধন করা সম্ভব বা যাদের প্রতি সম্বোধন করা যেতে পারে। এই বক্তব্যটি শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য (মুকাল্লাফ) এমন সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। ((অবশ্যই তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বলবেন, তাঁর এবং বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না)) এটি একটি হিসাব গ্রহণের বক্তব্য, কেবল মুমিনদের সম্মানের জন্য বিশেষায়িত কোনো বক্তব্য নয়। বরং প্রত্যেকের সাথেই কথা বলা হবে এবং প্রত্যেকেরই হিসাব নেওয়া হবে। ((তাঁর এবং বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না)) অর্থাৎ তার নিজ ভাষায়। দোভাষীর প্রয়োজন কেবল তখনই হয় যখন বক্তা এবং যাকে সম্বোধন করা হচ্ছে তাদের ভাষা ভিন্ন হয়। দোভাষী হলো সেই ব্যক্তি যে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কথা স্থানান্তর করে। তবে কখনও কখনও এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে যে একই ভাষা হওয়া সত্ত্বেও কথা পৌঁছে দেয়। সহীহ বুখারীতে আবু জামরা নাসর বিন ইমরান আদ-দাবায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ইবনে আব্বাসের সামনে দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। এর অর্থ হলো, তিনি ইবনে আব্বাসের কথা তাদের কাছে পৌঁছে দিতেন যারা তা শুনতে পেত না। ইলম অর্জনকারীদের পরিভাষায় একে মুস্তামলী বলা হয়। মুস্তামলী হলো সেই ব্যক্তি যে শাইখের কথা সেই জনসমষ্টির কাছে পৌঁছে দেয় যারা শুনতে পায় না। আর দোভাষী হলো সে যে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর করে; এটিই মূল অর্থ। তবে একই ভাষায় কথা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে যা শোনা যাচ্ছে না। ((তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই)) এখানে “কেউ” শব্দটি না-বাচক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট হিসেবে এসেছে, যা সম্বোধনযোগ্য সকলকে শামিল করে। ((অবশ্যই তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বলবেন)) আর এটি কিয়ামতের দিন ঘটবে। ((এবং তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো দোভাষী থাকবে না)) অতঃপর তিনি তাকে তার আমলসমূহ স্বীকার করাবেন, তার হিসাব নিবেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। কাউকে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে, আবার কারো আমল কেবল পেশ করা হবে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। এর মাধ্যমে আল্লাহর জন্য কথা বলার গুণটি সাব্যস্ত হয়— ((তার প্রতিপালক তার সাথে কথা বলবেন))। মহান আল্লাহর কথা বলার গুণটি তাঁর মর্যাদা ও মহত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আর উচ্চতার গুণের বিষয়টি, যে সম্পর্কে লেখক -রাহিমাহুল্লাহু তাআলা- হয়তো অন্যান্য প্রসঙ্গের চেয়ে বেশি নصوص বা পাঠ উল্লেখ করেছেন, তা পাঠ পুনরায় শুরু হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হলো -ইনশাআল্লাহ তাআলা-। পরবর্তীতে এ সম্পর্কে ঘোষণা দেওয়া হবে। আর এই পাঠটিই এই বছরের জন্য শেষ পাঠ। আল্লাহই ভালো জানেন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
ছাত্র: এ থেকে কি বুঝা যায় যে মহান আল্লাহ কোনো ভাষায় কথা বলেন?
প্রত্যেকের সাথেই তিনি এমনভাবে কথা বলবেন যা সে বুঝতে পারবে এবং সেখানে কোনো দোভাষীর প্রয়োজন হবে না—এটিই এই ভাষ্যের দাবি।
(খণ্ড: ১)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - عبد الكريم الخضير القسم: العقيدة
الكتاب: شرح العقيدة الواسطية
مؤلف الأصل: شيخ الإسلام ابن تيمية (ت 728هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর বিভাগ: আকিদাহ
বই: শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ
মূল লেখক: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও পাঠের অনুলিপি
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, খণ্ড নম্বরটি হলো পাঠের নম্বর - ৮টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররাম ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح العقيدة الواسطية
معية اللهالشيخ/ عبد الكريم الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
الآيات الدالة على معية الله:الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فقد قال شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى-: وقوله: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاء وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [(4) سورة الحديد] وقوله: {مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [(7) سورة المجادلة] وقوله: {لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللهَ مَعَنَا} [(40) سورة التوبة] وقوله: {إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [(46) سورة طه] وقوله: {إِنَّ اللهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَواْ وَّالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ} [(128) سورة النحل] وقوله: {وَاصْبِرُواْ إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [(46) سورة الأنفال] وقوله: {كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللهِ وَاللهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} [(249) سورة البقرة].
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা
আল্লাহর সাথে থাকা (মা'ইয়াতুল্লাহ)শায়খ/ আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
আল্লাহর সাথে থাকা নির্দেশক আয়াতসমূহ:সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
শায়খুল ইসলাম -আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন- বলেছেন: এবং তাঁর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সাথে আছেন। আর তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।} [(৪) সূরা আল-হাদীদ] এবং তাঁর বাণী: {তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থজন না থাকেন, আর পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও না যাতে তিনি ষষ্ঠজন না থাকেন। আর এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথেই আছেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [(৭) সূরা আল-মুজাদালাহ] এবং তাঁর বাণী: {তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।} [(৪০) সূরা আত-তাওবাহ] এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি এবং দেখি।} [(৪৬) সূরা ত্বহা] এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।} [(১২৮) সূরা আন-নাহল] এবং তাঁর বাণী: {আর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [(৪৬) সূরা আল-আনফাল] এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহর ইচ্ছায় কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [(২৪৯) সূরা আল-বাকারাহ]।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য, আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ২)
فيقول المؤلف -رحمه الله تعالى- بعد أن أثبت وذكر الشيخ -رحمه الله تعالى- ما جاء عن الله في صفة الاستواء والعلو، ذكر -رحمه الله تعالى- أن الله -جل وعلا- مع كونه مستوياً على عرشه بائناً من خلقه فوق سماواته، له صفة العلو المطلق بأنواعه، علو الذات، وعلو القدر، وعلو القهر، أثبت مع ذلك أن الله -جل وعلا- مع خلقه، معهم معية عامة ومعية خاصة، معهم بعلمه، وسمعه وبصره، ومعهم بحفظه ونصره وتأييده؛ لأن العلو قد يفهم منه أنه يخفى عليه شيء ما دام عالياً عنهم بائناً منهم، بينه وبينهم هذه السماوات، أنه قد يخفى عليه شيء من أمرهم، فأردف ذلك بما يدل على معيته لهم، وأنه لا تخفى عليه منهم خافية، وأنه -جل وعلا- معهم بعلمه وإحاطته بنصره وتأييده، وأن المعية ثابتة لله -جل وعلا- على ما يليق بجلاله وعظمته، وليست كمعية المخلوق.
معنى المعية العامة:وهذه الصفة -أعني صفة المعية- جاء عن جمهور السلف بالنسبة للمعية العامة، المعية العامة جاء عن كثير من السلف أنها بمعنى العلم {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ} [(4) سورة الحديد] يعني بعلمه؛ لئلا يُظن أنه معهم -جل وعلا- بذاته فيقتضي ذلك الحلول، وأنه حالٌ بكل مكان؛ لأنهم منتشرون في كل كان، فما دام هو معهم وهم منتشرون في كل مكان قد يخطر على بال بعض الناس وقد خطر، وقد قالوا به أن الله -جل وعلا- معهم بذاته في كل مكان؛ لما يقتضيه لفظ "مع"، فضل طائفة من الناس فظنوا أنه معهم {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ} وهم منتشرون في الأماكن كلها، ويدخلون الأماكن الشريفة، وغير الشريفة من الأماكن القذرة، فلم ينزهوا الله -جل وعلا- عن حلول هذه الأماكن.
والقول بالحلول والاتحاد قولٌ معروف عند فئة وفرقة ضالة، هم جماعة من المتصوفة قادهم الضلال إلى أن وصلوا أن الله -جل وعلا- حالٌ في كل شيء، وأنه -تعالى الله عما يقولون علواً كبيراً- موجود في كل مكان وحالٌ فيه.
شبهة حول تأويل المعية:
লেখক -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- বলেন: শেখ -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- আল্লাহর আরশের ওপর উঠা (ইস্তিওয়া) এবং উচ্চতা সংক্রান্ত যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা প্রমাণ ও উল্লেখ করার পর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা স্বীয় আরশের ওপর উঠেছেন এবং তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক ও আসমানসমূহের ঊর্ধ্বে হওয়া সত্ত্বেও তিনি সব ধরনের নিরঙ্কুশ উচ্চতার অধিকারী; যেমন- সত্তাগত উচ্চতা, মর্যাদাগত উচ্চতা এবং পরাক্রমশালীতার উচ্চতা। এর পাশাপাশি তিনি এটিও সাব্যস্ত করেছেন যে, আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁর সৃষ্টির সাথেই আছেন; তাদের সাথে তাঁর সাধারণ সাথিত্ব এবং বিশেষ সাথিত্ব রয়েছে। তিনি তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ ও দৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সাথে আছেন, এবং তাঁর হেফাজত, সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যমেও তাদের সাথে আছেন। কারণ উচ্চতা থেকে কেউ হয়তো এমনটা বুঝতে পারে যে, যেহেতু তিনি তাদের থেকে অনেক উঁচুতে এবং পৃথক অবস্থায় আছেন আর তাঁর ও তাদের মাঝে এই আসমানসমূহ রয়েছে, তাই হয়তো তাদের কোনো বিষয় তাঁর কাছে গোপন থাকে। ফলে তিনি এর পরপরই এমন বিষয় নিয়ে এসেছেন যা তাদের সাথে তাঁর সাথিত্ব প্রমাণ করে, এবং এটি নির্দেশ করে যে তাদের কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন নয়। আর তিনি জল্লা ওয়া আলা তাঁর জ্ঞান, পরিব্যাপ্তি, সাহায্য ও সমর্থনের মাধ্যমে তাদের সাথেই আছেন। আল্লাহর জন্য এই সাথিত্ব তাঁর মর্যাদা ও মহিমা অনুযায়ী সাব্যস্ত, এবং এটি সৃষ্টির সাথিত্বের মতো নয়।
সাধারণ সাথিত্বের (মা'ইয়াহ আম্মাহ) অর্থ:এই গুণটি -অর্থাৎ সাথিত্বের গুণ- সাধারণ সাথিত্বের ক্ষেত্রে জুমহুর সালাফ (পূর্বসূরি অধিকাংশ আলেম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনেক সালাফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাধারণ সাথিত্বের অর্থ হলো জ্ঞান। যেমন আল্লাহর বাণী: "তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন" [সূরা আল-হাদিদ: ৪]। অর্থাৎ তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে; যাতে এমনটা মনে করা না হয় যে, আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা স্বীয় সত্তাসহ তাদের সাথে আছেন, যার ফলে সৃষ্টির ভেতরে তাঁর অনুপ্রবেশ (হুলুল) আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং তিনি সব জায়গায় বিরাজমান হয়ে যান। কারণ মানুষ তো সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে; এখন তিনি যদি তাদের সাথে থাকেন আর তারা সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে, তবে কিছু মানুষের মনে এই ধারণা আসতে পারে -আর তারা তা বলেছেও- যে আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা তাঁর সত্তাসহ প্রত্যেক স্থানে আছেন। "সাথে" (মা'আ) শব্দের শাব্দিক দাবির কারণে একদল লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং ধারণা করেছে যে তিনি তাদের সাথে আছেন - "তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন" - অথচ তারা সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে, তারা পবিত্র স্থানেও যায় আবার অপবিত্র ও নোংরা স্থানেও প্রবেশ করে; ফলে তারা আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা-কে এই সব স্থানে অনুপ্রবেশ করা থেকে পবিত্র রাখেনি।
আর হুলুল (সৃষ্টিতে অনুপ্রবেশ) এবং ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির এক হয়ে যাওয়া)-এর মতবাদটি একটি পথভ্রষ্ট গোষ্ঠী ও দলের মাঝে সুপরিচিত। তারা সুফিদের একটি দল যাদের পথভ্রষ্টতা তাদের এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তারা মনে করে আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা সবকিছুর মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে আছেন এবং তিনি -তারা যা বলে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে ও সুমহান- সব জায়গায় বিদ্যমান এবং তাতে অনুপ্রবেশ করে আছেন।
সাথিত্বের (মা'ইয়াহ) ব্যাখ্যার বিষয়ে একটি সংশয়:
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৩)
قد يقول قائل: إذا كان السلف أو جمهور السلف أولوا المعية بالعلم، تقول هذا تأويل وإلا ليس بتأويل؟ نعم تأويل، قد يتذرع بهذا من يقول ما داموا أولوا المعية بالعلم، لماذا لا نؤل الرحمة بالثواب، والغضب بالانتقام، وما أشبه ذلك، ما دام التأويل سائغ لماذا لا يطلق؟
الرد على الشبهة:نقول: نحن ملزمون بنصوص؛ لأن هذا الباب، أعني ما يتعلق بالله -جل وعلا- وما لا يدركه العقل من الإيمان بالغيب نحن ملزمون بنصوص بما جاء عن الله وعن رسوله عليه الصلاة والسلام ولذا نقف عند هذه النصوص، فالسلف وقفوا عند هذه النصوص، الرحمة أثبتوها، ولم يؤولوها بلازمها، الغضب والمقت أثبتوهما، ولم يؤولوا ذلك بلازمهما، لكن جاء عنهم ونحن ملزمون بفهمهم، جاء عنهم تأويل المعية بالعلم، فنحن -أعني أهل السنة والجماعة- أهل اتباع، ولسنا بأهل ابتداع، فما دام السلف أولوا المعية بالعلم يسوغ لنا ذلك.
وعلى هذا فكل ما اتفق عليه السلف نحن ملزمون به، وبالقول به لا يجوز لنا أن نحدث رأياً جديداً غير ما اتفقوا عليه، وإذا اختلفوا، إذا اختلفوا في إثبات صفة أو نفيها فإن كانت الأقوال متعادلة فالذي لديه آلية النظر والاجتهاد له أن يختار من أقوالهم ما يشاء، حسب ما يترجح عنده، لا على حسب تشهيه ورأيه، إنما حسب ما يترجح عنده بالدليل.
وجمهور السلف أولوا المعية بالعلم، ومنهم من وقف، وجعل المعية كغيرها من الصفات، وأنها معية حقيقية تثبت لله -جل وعلا- على ما يليق بجلاله وعظمته، وبهذا يقول شيخ الإسلام ابن تيمية، وأنه كونه معهم لا يقتضي ذلك الامتزاج، ولا الاختلاط، فهو معهم وهو على عرشه، فهو -جل وعلا- مع خلقه {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ} [(4) سورة الحديد] وهو على عرشه بائنٌ من خلقه، هذا ما يختاره شيخ الإسلام ابن تيمية، ويقول إذا تصور هذا في المخلوق فلأن يتصور في الخالق الذي لا تدركه الأفهام ولا تبلغه الأوهام من باب أولى، فإذا قال القائل: سرنا والقمر معنا، هل يعني هذا ممتزجٌ بهم مخالطٌ لهم؟!
কেউ বলতে পারেন: যদি সালাফ বা সালাফদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ সাথিত্বকে (মাঈয়্যাহ) জ্ঞান (ইলম) দ্বারা তাবিল করে থাকেন, তবে আপনি কি একে তাবিল বলবেন না কি বলবেন না? হ্যাঁ, এটি তাবিল। যারা এটি বলে তারা এই বলে অজুহাত দিতে পারে যে, যেহেতু তারা মাঈয়্যাহ-কে ইলম দ্বারা তাবিল করেছেন, তবে কেন আমরা রহমতকে সওয়াব দ্বারা, এবং গযবকে প্রতিশোধ বা এই জাতীয় কিছু দ্বারা তাবিল করব না? যেহেতু তাবিল করা বৈধ, তবে কেন তা অবারিতভাবে প্রয়োগ করা হবে না?
সংশয়ের নিরসন:আমরা বলি: আমরা দলীল বা নুসূস মেনে চলতে বাধ্য; কারণ এই অধ্যায়টি, অর্থাৎ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আ'লার সাথে যা কিছু সংশ্লিষ্ট এবং গায়েবের ওপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত যা বিবেক দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়—সেক্ষেত্রে আমরা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পক্ষ থেকে যা এসেছে সেই নুসূস বা দলীলগুলোর অনুসারী হতে বাধ্য। আর একারণেই আমরা এই নুসূসগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি। সুতরাং সালাফগণ এই নুসূসগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ ছিলেন; তাঁরা রহমতকে সাব্যস্ত করেছেন এবং একে এর অনিবার্য ফলাফলের মাধ্যমে তাবিল করেননি। তাঁরা গযব ও ঘৃণা (মাকত)-কে সাব্যস্ত করেছেন এবং এগুলোকে এগুলোর অনিবার্য ফলাফলের মাধ্যমে তাবিল করেননি। কিন্তু তাঁদের থেকে মাঈয়্যাহ-কে ইলম দ্বারা তাবিল করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এবং আমরা তাঁদের বুঝ বা ফাহম অনুসরণ করতে বাধ্য। তাঁদের থেকে মাঈয়্যাহ-র তাবিল ইলম দ্বারা এসেছে, আর আমরা—অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত—হলাম ইত্তিবা বা অনুকরণের অনুসারী, আমরা ইবতিদা বা নব-উদ্ভাবনের অনুসারী নই। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত সালাফগণ মাঈয়্যাহ-কে ইলম দ্বারা তাবিল করেছেন, ততক্ষণ আমাদের জন্য তা করা বৈধ হবে।
এর ওপর ভিত্তি করে, সালাফগণ যে বিষয়ে একমত হয়েছেন আমরা তা মেনে নিতে এবং সে অনুযায়ী কথা বলতে বাধ্য। তাঁরা যে বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন তার বাইরে কোনো নতুন মত তৈরি করা আমাদের জন্য জায়েজ নেই। আর যদি তাঁরা মতভেদ করেন—অর্থাৎ কোনো সিফাত সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে যদি তাঁরা মতভেদ করেন—তবে যদি মতগুলো সমপর্যায়ের হয়, সেক্ষেত্রে যার গবেষণা বা ইজতিহাদ করার যোগ্যতা আছে তিনি তাঁদের মতামতের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা বেছে নিতে পারেন, তবে তা হতে হবে তাঁর নিকট যেটি দলীলের ভিত্তিতে অগ্রগণ্য মনে হয় সে অনুযায়ী; নিজের খেয়ালখুশি বা মর্জিমতো নয়, বরং দলীলের ভিত্তিতে তাঁর কাছে যা প্রাধান্য পাবে সে অনুযায়ী।
সালাফদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মাঈয়্যাহ-কে ইলম দ্বারা তাবিল করেছেন। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না করে থেমে গেছেন এবং মাঈয়্যাহ-কে অন্যান্য সিফাতের মতোই গণ্য করেছেন; অর্থাৎ এটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আ'লার জন্য একটি প্রকৃত মাঈয়্যাহ যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে মানানসই। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই কথাই বলেন যে, তাঁর সৃষ্টিজগতের সাথে থাকার বিষয়টি তাদের সাথে সংমিশ্রণ বা একীভূত হওয়াকে আবশ্যক করে না। তিনি তাদের সাথে আছেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর আরশের ওপর আছেন। তিনি—জাল্লা ওয়া আ'লা—তাঁর সৃষ্টির সাথে আছেন {এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} [সূরা আল-হাদীদ: ৪] অথচ তিনি তাঁর আরশের ওপর তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ পছন্দ করেছেন। তিনি বলেন, যদি সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটি কল্পনা করা সম্ভব হয়, তবে স্রষ্টার ক্ষেত্রে এটি কল্পনা করা আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত, যাঁর সত্তাকে কোনো জ্ঞান উপলব্ধি করতে পারে না এবং কোনো কল্পনাও যাঁর নাগাল পায় না। সুতরাং যদি কেউ বলে: আমরা চলছিলাম আর চাঁদ আমাদের সাথে ছিল—এর অর্থ কি এই যে চাঁদ তাদের সাথে মিশে গিয়েছিল বা একীভূত হয়ে গিয়েছিল?!
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৪)
لا يقتضي ذلك، لا يقتضي المخالطة ولا الممازجة، و"مع" تأتي بالمخالطة وتأتي بما لا يقتضي المخالطة ولا الممازجة، فإذا قلت: سرنا والقمر معنا، لا يقتضي هذا أن القمر مخالطٌ ممازج، وإذا قلت: شربت اللبن معه الماء اقتضى ذلك أن يكون اللبن مختلطاً بالماء، أو تقول: أكلت التمر ومعه السمن صار مخلوطاً، السمن بالتمر وهكذا. فـ"مع" تأتي بلغة العرب بمعنى المخالطة والممازجة، وتأتي أيضاً مع عدم اقتضاء المخالطة والممازجة، وشيخ الإسلام يرى أنها المعية حقيقية لكنها لا تقتضي مخالطة ولا ممازجة.
الله معنا حقيقة ومع ذلك هو على العرش:فالله -جل وعلا- مع خلقه حقيقة لا مجازاً، ومع ذلكم هو على عرشه بائنٌ من خلقه، وإذا كان شيخ الإسلام -رحمه الله تعالى- يقرر في صفة النزول الإلهي في الثلث الأخير من الليل، إذا كان يقرر أنه ينزل في آخر كل ليلة، في الثلث الأخير من كل ليلة إلى السماء الدنيا، ولا يخلو منه العرش.
فإذا سلمنا مثل هذا التسليم فإننا لا نلتزم باللوازم الباطلة التي التزمها المبتدعة وقالوا بها، فمنهم من نفى العلو ونفى الاستواء؛ لأن الله معنا، فكيف يكون عالياً؟ وكيف يكون مستوياً؟! وهذا تقدم، وهذا لا شك أنه تعطيل لنصوص كثيرة، ومنهم من نفى المعية نفياً مطلقاً، عملاً ببعض النصوص، وأنها تقتضي ما تقتضيه من اللوازم الباطلة، ومنهم من التزم باللوازم الباطلة، ومع ذلك أهل السنة يثبتون الاستواء، ويثبتون العلو، ويثبتون النزول، ويثبتون المعية على ما يليق بجلال الله وعظمته، وعلى هذا المرجح في هذا قول جمهور السلف، وأننا إذا أول السلف تبعناهم -ولا يمكن أن يؤولوا مثل هذا التأويل إلا وقد وقفوا فيه مع نصٍ عن النبي صلى الله عليه وسلم المبلغ عن الله -جل وعلا- ما نزل عليه- فنحن ملزمون بفهم السلف، لا سيما في هذا الباب الذي لا تدركه العقول، فالسلف أعرف وأعلم، ومذهبهم أحكم وأسلم؛ لأنهم عاصروا النبي عليه الصلاة والسلام وعايشوه وعايشوا التنزيل، فعرفوا ملابسات القضايا، وما احتف بها، فهم أعلم من غيرهم، لا سيما وقد زكاهم النبي عليه الصلاة والسلام وشهد لهم بالخيرية.
شبهة والرد عليها:
এটি সংমিশ্রণ বা একীভূত হওয়াকে অপরিহার্য করে না। ‘সাথে’ (মা’য়া) শব্দটি সংমিশ্রণ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আবার এমন ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যেখানে সংমিশ্রণ বা একীভূত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। যেমন আপনি যদি বলেন: ‘আমরা ভ্রমণ করেছি আর চাঁদ আমাদের সাথে ছিল’, এর অর্থ এই নয় যে চাঁদ আমাদের সাথে মিশে আছে। আবার যদি বলেন: ‘আমি পানির সাথে দুধ পান করেছি’, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় দুধ পানির সাথে মিশ্রিত ছিল। অথবা আপনি বললেন: ‘আমি ঘি দিয়ে খেজুর খেয়েছি’, তখন ঘি খেজুরের সাথে মিশ্রিত হয়ে গেল। সুতরাং আরবি ভাষায় ‘সাথে’ শব্দটি সংমিশ্রণ ও একীভূত হওয়ার অর্থেও আসে, আবার সংমিশ্রণ ছাড়াও ব্যবহৃত হয়। শাইখুল ইসলাম মনে করেন যে, এটি প্রকৃত অর্থেই ‘সাথে থাকা’, তবে তা সংমিশ্রণ বা একীভূত হওয়াকে অপরিহার্য করে না।
আল্লাহ প্রকৃতপক্ষেই আমাদের সাথে আছেন এবং তা সত্ত্বেও তিনি আরশের উপর আছেন:আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর সৃষ্টির সাথে প্রকৃতপক্ষেই আছেন, রূপক অর্থে নয়। তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর আরশের উপর আছেন এবং সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক। শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহর অবতরণের গুণের বিষয়ে যখন সাব্যস্ত করেন যে, তিনি প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং আরশ তাঁর থেকে শূন্য হয় না।
যদি আমরা এই বিষয়টিকে এভাবেই মেনে নিই, তবে আমরা সেইসব বাতিল বিষয়গুলো গ্রহণ করব না যা বিদআতিরা আঁকড়ে ধরেছে এবং প্রচার করেছে। তাদের কেউ কেউ আল্লাহর উচ্চতা এবং তাঁর আরশের উপরে উঠাকে অস্বীকার করেছে; যেহেতু আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন, তবে তিনি কীভাবে উচ্চতায় থাকতে পারেন? আর কীভাবে তিনি আরশের উপরে উঠতে পারেন?! এ বিষয়ে আগেই আলোচনা হয়েছে এবং এটি নিঃসন্দেহে অসংখ্য দলীলের অকার্যকরকরণ। আবার তাদের কেউ কেউ কোনো কোনো দলীল অনুসরণ করে ‘সাথে থাকা’কে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে এই ভয়ে যে, এটি কিছু বাতিল বিষয়কে অপরিহার্য করে তুলবে। আবার কেউ কেউ সেই বাতিল বিষয়গুলোকেই গ্রহণ করে নিয়েছে। এতদসত্ত্বেও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত আল্লাহর মর্যাদা ও মহত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আরশের উপরে উঠা, উচ্চতা, অবতরণ এবং সাথে থাকাকে সাব্যস্ত করে। এ বিষয়ে জমহুর সালাফদের অভিমতটিই অগ্রগণ্য। সালাফগণ যদি এ ধরনের কোনো ব্যাখ্যা করেন তবে আমরা তাঁদের অনুসরণ করব—আর তাঁরা ততক্ষণ পর্যন্ত এমন ব্যাখ্যা করেন না যতক্ষণ না তাঁরা এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো দলীল পেয়েছেন, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাই আমরা সালাফদের বুঝ অনুসরণ করতে বাধ্য, বিশেষ করে এমন সব বিষয়ে যা মানুষের বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। কেননা সালাফগণ সর্বাধিক অবগত ও জ্ঞানী ছিলেন এবং তাঁদের পথই সবচেয়ে প্রজ্ঞাপূর্ণ ও নিরাপদ; কারণ তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সমসাময়িক ছিলেন, তাঁর সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন। ফলে তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ের প্রেক্ষাপট ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে জানতেন। তাই তাঁরা অন্যদের তুলনায় বেশি জ্ঞানী, বিশেষ করে যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
একটি সংশয় ও তার খণ্ডন:
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৫)
قد يقول قائل: في قوله عليه الصلاة والسلام: ((رب مبَلغٍ أوعى سامع)) أنه قد يأتي من يفهم النصوص ممن تأخر زمنه أفضل من فهم وأوعى من فهم من تقدم زمنه، هذا الكلام يُسلَّم أو ما يُسلَّّم؟
((ربَ مبَلغٍ أوعى من سامع)) لكن قد يسلم شيء من هذا إذا كان مرد ذلك إلى الفهم، وما يدخله الفهم، أما هذا الباب، باب الغيبيات لا يدخله الفهم، فلا بد من اتباع السلف في هذا، هذا لا يدخله الفهم، قد يقول قائل: إن السلف مثلاً -في مسألة يدخلها الفهم من الأحكام العملية مثلاً- قد يقول قائل: أن السلف فهموا من هذه الآية فهماً، وهي تدل على حكم شرعي، ثم جاء بعدهم من فهم غير هذا الفهم؟
نقول إذا اختلف السلف في شيء، وصار لهم أقوال، إذا اتفقوا على شيء لا يجوز مخالفتهم إطلاقاً، لا فيما يدخله الفهم ولا ما لا يدخله الفهم إذا اتفقوا، ولا يجوز إحداث قولٍ جديد لم يقل به السلف، حتى قال أهل العلم: أن السلف إذا اختلفوا على قولين أو ثلاثة، لا يجوز إحداث قول ثالث أو رابع؛ لأنه خروجٌ عما اتفق عليه السلف في الجملة.
إذاً كيف نفهم حديث: ((رب مبلغٍ أوعى من سامع))؟:
قد يكون هذا السامع فهم من هذا النص شيئاً، ثم بلغ هذا النص شخصاً آخر فهم منه غير هذا الفهم، وهو أفضل من فهم من تقدم، لكن موافق لفهم بعض من تقدم، قد يكون فهم الثاني يخالف فهم الأول للنص مع الاتحاد في الحكم، كلاهما يتفقان على الحكم، لكن مأخذ الحكم من هذا النص يختلف فيه هذا عن هذا، والأمثلة على ذلك كثيرة جداً، يعني يأتي المتأخر ويذكر حديثاً يستدل به استدل به من قبله من الأئمة، ثم يبدي وجه استدلال أوضح مما أبداه مَن قبله، هذا موجود وإلا غير موجود؟ موجود، يعني لو نظرنا في المجموع للنووي، أو في المغني لابن قدامة، تجدهم يستدلون بأدلة استدل بها الأئمة، لكن يبدون وجه استدلال قد لا يبديه من تقدم قبلهم، لكنهم مع ذلك لم يختلفوا في الحكم مع الأئمة، ولذا بعضهم يقول: أنه ((رب مبلغٍ أوعى من سامع)) أن المتأخر يفهم من النص حكم يختلف عما فهمه المتقدم.
কেউ হয়তো বলতে পারেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে—"অনেকে আছে যাদের কাছে (বার্তা) পৌঁছে দেওয়া হয়, তারা শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি অনুধাবনকারী"—এখানে কি এমন হতে পারে যে পরবর্তী যুগে আগত কেউ নসসমূহ (শরয়ি পাঠ) থেকে পূর্ববর্তী যুগের কারও তুলনায় অধিকতর উত্তম ও গভীর সমঝ-বোঝ অর্জন করবেন? এই কথাটি কি গ্রহণযোগ্য নাকি গ্রহণযোগ্য নয়?
"অনেকে আছে যাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, তারা শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি অনুধাবনকারী"—তবে এটি তখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে যখন বিষয়টি বুঝ বা উপলব্ধির সাথে সম্পৃক্ত হয় এবং যাতে বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার অবকাশ থাকে। কিন্তু এই অধ্যায়টি অর্থাৎ অদৃশ্যের বিষয়াবলির অধ্যায়টি মানুষের বুদ্ধি বা উপলব্ধির বিষয় নয়। সুতরাং এক্ষেত্রে সালাফদের অনুসরণ করা আবশ্যক; এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার কোনো প্রবেশাধিকার নেই। কেউ হয়তো বলতে পারেন: সালাফগণ—উদাহরণস্বরূপ বাস্তব আমলি বিধানের এমন কোনো বিষয়ে যাতে বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার সুযোগ রয়েছে—সালাফগণ এই আয়াত থেকে একটি বিশেষ অর্থ বুঝেছিলেন যা একটি শারয়ি বিধান নির্দেশ করে, অতঃপর তাদের পরে এমন কেউ এলেন যিনি এর থেকে ভিন্ন কিছু বুঝলেন?
আমরা বলব, সালাফগণ যদি কোনো বিষয়ে মতভেদ করেন এবং তাদের একাধিক মত থাকে, (তবে কথা ভিন্ন), কিন্তু তারা যদি কোনো বিষয়ে একমত হন তবে তাদের বিরোধিতা করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়; সেটি বুঝ ও উপলব্ধির বিষয় হোক বা না হোক। যখন তারা ঐকমত্য পোষণ করেন, তখন সালাফগণ বলেননি এমন কোনো নতুন মত উদ্ভাবন করা বৈধ নয়। এমনকি আলিমগণ বলেছেন: সালাফগণ যদি দুই বা তিনটি মতে বিভক্ত হন, তবে চতুর্থ বা পঞ্চম কোনো নতুন মত উদ্ভাবন করা জায়েজ নেই; কারণ এটি সামগ্রিকভাবে সালাফদের ঐকমত্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার নামান্তর।
তাহলে আমরা এই হাদিসটি কীভাবে বুঝব: (("অনেকে আছে যাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, তারা শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি অনুধাবনকারী"))?:
হতে পারে যে এই শ্রবণকারী এই নস থেকে একটি বিষয় বুঝেছেন, অতঃপর এই নসটি অন্য এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছালো যিনি এটি থেকে ভিন্ন কিছু বুঝলেন, যা পূর্ববর্তীদের বুঝের চেয়ে উত্তম, কিন্তু সেটি পূর্ববর্তী অন্য কোনো সালাফের বুঝের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। হতে পারে দ্বিতীয় ব্যক্তির বুঝ নসের ক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তির বুঝের পরিপন্থী, যদিও বিধানের (হুকুম) ক্ষেত্রে তারা এক। উভয়েই একই বিধানের ব্যাপারে একমত, কিন্তু এই নস থেকে বিধান আহরণের উৎসের ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে ভিন্ন। এর উদাহরণ অনেক। অর্থাৎ পরবর্তী যুগের কেউ এসে কোনো হাদিস উল্লেখ করলেন যা তার পূর্ববর্তী ইমামগণও দলিল হিসেবে পেশ করেছিলেন, অতঃপর তিনি পূর্ববর্তীদের চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট দলিল উপস্থাপনের ভঙ্গি প্রকাশ করলেন। এটি কি বিদ্যমান নাকি বিদ্যমান নেই? অবশ্যই বিদ্যমান। যেমন আমরা যদি নববীর 'আল-মাজমু' অথবা ইবনে কুদামার 'আল-মুগনি'র দিকে তাকাই, তবে দেখব যে তারা এমন সব দলিল দিয়ে প্রমাণ পেশ করছেন যা ইমামগণও করেছিলেন, কিন্তু তারা দলিলের এমন দিক ফুটিয়ে তুলছেন যা হয়তো তাদের পূর্ববর্তীরা করেননি। তাসত্ত্বেও তারা বিধানের ক্ষেত্রে ইমামদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেননি। একারণেই কেউ কেউ বলেন: (("অনেকে আছে যাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়, তারা শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি অনুধাবনকারী")) এর অর্থ হলো পরবর্তী সময়ের কেউ নস থেকে এমন কোনো বিধান বুঝতে পারেন যা পূর্ববর্তীদের বুঝ থেকে ভিন্ন।
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৬)
لا، لا يخرج عن دائرة فهم من تقدم، لكنه هذا المبلغ زيد بلغ عمراً، فهم عمرو من هذا النص غير ما فهمه زيد، واختلف معه في الحكم، لكن وافق غيره من العلماء، فلا يجوز لنا أن نحدث قول جديد غير ما فهمه السلف.
وللمتأخر أن ينظر في النصوص، لكن ليس له أن يحدث أقوال جديدة لم يقل بها من تقدمه، لا سيما في مواطن الإجماع، ظاهر وإلا ما هو بظاهر؟ يعني لو أتينا بمثال ماذا نقول؟ ماذا نقول؟
مثال كررناه مراراً لا مانع أن نذكره هنا؛ لأنه واضح، حينما نأتي إلى مسألة البروك، كيف نفهم البروك؟ يعني لو فهمنا مثل فهم ابن القيم على العين والرأس، وفهم غيره أيضاً لا يعطل، وثقتنا بابن القيم وبعلم ابن القيم يعني شيء متقرر في النفوس ومعروف، ولو الإنسان يستدرك على هؤلاء الجبال، يقول ابن القيم: أن الحديث انقلب على راويه؛ لأنه لا يمكن أن يقدم يديه قبل ركبتيه فيكون عاملاً بصدر الحديث؛ لأن الحديث: ((إذا سجد أحدكم فلا يبرك كما يبرك البعير، وليضع يديه قبل ركبتيه)) رأى ابن القيم أن هذا الحديث عجزه ينقض صدره؛ لأنه إذا قدم يديه قبل ركبتيه برك مثل البعير، ولذا يقول ابن القيم إن الحديث انقلب على راويه، يعني ما قال جمعٌ غفير من أهل العلم أن السنة تقديم اليدين قبل الركبتين؟ وأيش مقتضى هذا؟
مقتضى هذا أن يكون الحديث مقلوب، يعني كيف يتصور أن الإنسان يقدم يديه قبل ركبتيه ولا يبرك مثل ما يبرك البعير؟
না, এটি পূর্ববর্তীদের উপলব্ধির গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায় না। তবে এই যে বার্তা পৌঁছানো হয়েছে, জায়েদ যখন আমরের নিকট তা পৌঁছাল, আমর এই বক্তব্য থেকে এমন কিছু বুঝল যা জায়েদ বোঝেনি এবং সে বিধানের ক্ষেত্রে তার সাথে দ্বিমত পোষণ করল। কিন্তু সে অন্য আলেমদের সাথে একমত হয়েছে। সুতরাং সালাফগণ যা বুঝেছেন তা ছাড়া আমাদের জন্য নতুন কোনো মত তৈরি করা জায়েজ নেই।
পরবর্তী আলেমদের জন্য দলিলসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য এমন কোনো নতুন বক্তব্য পেশ করা বৈধ নয় যা তাদের পূর্ববর্তীরা বলেননি; বিশেষ করে ইজমার ক্ষেত্রগুলোতে। বিষয়টি কি স্পষ্ট, নাকি অস্পষ্ট? অর্থাৎ আমরা যদি একটি উদাহরণ দিই, তবে কী বলব? আমরা কী বলব?
এমন একটি উদাহরণ যা আমরা বারবার উল্লেখ করেছি, সেটি এখানে উল্লেখ করতে বাধা নেই; কারণ এটি স্পষ্ট। যখন আমরা উট যেভাবে বসে (বুরূক) সেই মাসআলায় আসি, তখন আমরা সেই বসা বা হাঁটু গেড়ে বসাকে কীভাবে বুঝব? অর্থাৎ আমরা যদি ইবনুল কায়্যিমের উপলব্ধির মতো বুঝি তবে তা অত্যন্ত সম্মানজনক, আবার অন্যদের বোঝাপড়াও বাতিলযোগ্য নয়। ইবনুল কায়্যিম এবং তাঁর ইলমের ওপর আমাদের যে আস্থা রয়েছে তা অন্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সুবিদিত। এমনকি কোনো মানুষ যদি এই পাহাড়সম জ্ঞানীদের ভুল ধরিয়ে দেয়— ইবনুল কায়্যিম বলেন: হাদীসটি তার বর্ণনাকারীর কাছে উল্টে গেছে; কারণ এমনটি অসম্ভব যে কেউ তার হাঁটুর আগে তার দুই হাত রাখবে এবং একই সাথে হাদীসের প্রথম অংশের ওপর আমলকারী হবে। কেননা হাদীসটি হলো: “তোমাদের কেউ যখন সিজদা করবে, সে যেন উট যেভাবে বসে সেভাবে না বসে, এবং সে যেন তার হাঁটুর আগে তার দুই হাত রাখে।” ইবনুল কায়্যিম মনে করেছেন যে, এই হাদীসের শেষাংশ এর প্রথমাংশকে নাকচ করে দিচ্ছে; কারণ সে যদি হাঁটুর আগে হাত রাখে তবে সে উটের মতোই বসল। এই কারণে ইবনুল কায়্যিম বলেন যে, হাদীসটি বর্ণনাকারীর কাছে উল্টে গেছে। তবে এক বিশাল সংখ্যক আলেম কি বলেননি যে, সুন্নাত হলো হাঁটুর আগে হাত রাখা? আর এর দাবি কী?
এর দাবি হলো হাদীসটি উল্টে যাওয়া, অর্থাৎ কীভাবে কল্পনা করা যায় যে একজন মানুষ তার হাঁটুর আগে তার হাত রাখবে অথচ সে উট যেভাবে বসে সেভাবে বসবে না?
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأئمة عملوا بالحديث، ولا أبدوا لنا وجه لاتفاق بين صدر الحديث وعجزه، لكن ما يمنع أن نفهم نبحث، أيش معنى البروك؟ في الأصل أيش معناه؟ يعني لو قدم ركبتيه بقوة ما نقول برك؟! برك عمر -رضي الله تعالى عنه- بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم برك، هل برك مثلما برك البعير؟ برك على ركبتيه كما في الحديث الصحيح، برك على ركبتيه بين يدي النبي عليه الصلاة والسلام هل معنى ذلك أنه كل من قدم يديه قبل ركبتيه نقول برك؟ أو كل من نزل بقوة على الأرض نقول برك؟ نعم، كل من نزل بقوة نقول برك، لكن إذا نزل برفق وطمأنينة نقول برك وضع يديه قبل ركبتيه يكون الحديث متفق، هل نكون بهذا أحدثنا قول جديد؟ أو فهمنا الخبر ولم نأتي بقول المسبق إليه في الحكم نفسه، قد يكون التعليل موجود عند المتقدمين ما أبدوه، ونكون حينئذٍ فهمنا من الحديث ما يجعله متسق، عجزه يشهد لصدره، فالممنوع أن ينزل الإنسان بقوة على الأرض سواءً قدم يديه وإلا قدم ركبتيه، لا يبرك مثلما يبرك البعير بحيث يثير الغبار، ويفرق الحصا، ويخلخل البلاط، أحياناً تسمعون إذا نزل بعض الناس حتى على ركبتيه يكون بروكه أشد من بروكه على يديه لو نزل عليهما، ويبقى أن الحديث لا قلب فيه، وآخره يشهد لأوله، ولا فيه أدنى إشكال؛ لأن الحديث: ((وليضع)) لا يبرك يعني لا ينزل بقوة، لكن يضع يديه قبل ركبتيه.
الأمر الثاني: أنه لا يمكن موافقة بروك البعير بأي وجه من الوجوه إلا بالنزول بالقوة؛ لأن مجرد تقديم اليدين على الركبتين وأنت واقف، هل هذا يشابه بروك البعير الذي من الأصل يديه على الأرض؟ هل تكون مشابهة للبعير وأنت واقف يديك ليست على الأرض؟ هو يديه على الأرض من الأصل البعير.
طالب:. . . . . . . . .
ইমামগণ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন, এবং তাঁরা হাদীসের প্রথমাংশ ও শেষাংশের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের কোনো দিক আমাদের সামনে প্রকাশ করেননি। তবে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা ও বুঝার চেষ্টা করব তাতে বাধা কোথায়? 'বুরুক' (উটের ন্যায় বসা) এর প্রকৃত অর্থ কী? মূলত এর অর্থ কী? অর্থাৎ, যদি কেউ সজোরে তার দুই হাঁটু আগে বাড়িয়ে দেয় তবে কি আমরা বলব না যে সে 'বুরুক' করেছে?! ওমর (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে বসেছিলেন; তিনি কি উটের মতো বসেছিলেন? তিনি তাঁর দুই হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসেছিলেন যেমনটি সহীহ হাদীসে এসেছে, নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে তিনি তাঁর দুই হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসেছিলেন। এর অর্থ কি এই যে, যে ব্যক্তিই তার হাঁটুর আগে হাত রাখবে তাকেই আমরা বলব সে 'বুরুক' করেছে? অথবা যে ব্যক্তিই সজোরে মাটিতে নামবে তাকে আমরা বলব সে 'বুরুক' করেছে? হ্যাঁ, যে ব্যক্তিই সজোরে নামবে তাকে আমরা বলব সে 'বুরুক' করেছে। কিন্তু যদি সে নম্রতা ও প্রশান্তির সাথে নামে এবং হাঁটুর আগে হাত রাখে, তবে হাদীসটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এর মাধ্যমে কি আমরা নতুন কোনো মত উদ্ভাবন করেছি? নাকি আমরা হাদীসটি অনুধাবন করেছি এবং মূল বিধানের ক্ষেত্রে কোনো নতুন বক্তব্য পেশ করিনি যার দিকে আগে ইঙ্গিত করা হয়নি? হতে পারে পূর্বসূরিদের কাছে এই কারণটি বিদ্যমান ছিল যা তাঁরা প্রকাশ করেননি, এবং এমতাবস্থায় আমরা হাদীসটি থেকে এমন কিছু বুঝেছি যা একে সুসংগত করে তোলে; এর শেষাংশ প্রথমাংশের সাক্ষ্য দেয়। সুতরাং নিষিদ্ধ বিষয় হলো মানুষের সজোরে মাটিতে নামা, চাই সে হাত আগে রাখুক কিংবা হাঁটু। সে যেন উটের মতো সজোরে না বসে যার ফলে ধুলো ওড়ে, কাঁকর ছিটকে যায় কিংবা মেঝে নড়ে ওঠে। আপনারা কখনো কখনো শুনতে পান যে কিছু মানুষ যখন এমনকি হাঁটুর ওপর ভর দিয়েও নামে, তখন তাদের সেই বসাটা হাতের ওপর ভর দিয়ে নামার চেয়েও অনেক বেশি জোরালো হয়। পরিশেষে কথা হলো, হাদীসের শব্দবিন্যাসে কোনো ওলটপালট নেই, এর শেষাংশ প্রথমাংশের সাক্ষ্য দেয় এবং এতে সামান্যতম কোনো সমস্যা নেই; কারণ হাদীসে এসেছে: 'এবং সে যেন রাখে'—অর্থাৎ সে যেন 'বুরুক' না করে তথা সজোরে না নামে, বরং হাঁটুর আগে হাত রাখে।
দ্বিতীয় বিষয়: কোনোভাবেই উটের বসার সাথে সাদৃশ্য হওয়া সম্ভব নয় কেবল সজোরে নামা ব্যতীত; কারণ আপনি যখন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কেবল হাঁটুর আগে হাত রাখছেন, তখন এটি কি সেই উটের বসার সদৃশ হয় যার হাত (সামনের পা) আগে থেকেই মাটিতে থাকে? আপনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় যখন আপনার হাত মাটিতে নেই, তখন কি উটের সাথে সাদৃশ্য হওয়া সম্ভব? উটের হাত তো শুরু থেকেই মাটিতে থাকে।
ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৮)
لا لا لا ركبتيه ولا شيء، هذا القول ما يخدم المصلحة، لا هذا القول ولا الثاني، المقصود أن البعير من الأصل يديه على الأرض، فلا يمكن مشابهة الإنسان للبعير في الصورة بحال من الأحوال، ما يمكن مشابهته؛ لأن الإنسان واقفٌ، ويداه على صدره، هذا الأصل، وأما البعير في الصورة يداه على الأرض من الأصل، فليست فيهما مشابهة بالصورة، لكن المشابهة المنهي عنها النزول على الأرض بقوة مثل ما يفعل البعير، نحن فهمنا الحديث على هذا الفهم، هل نقول: أننا أتينا بجديد، واخترعنا قولاً لم يقل به أحد؟ القول بتقديم اليدين على الركبتين قول معروف عند أهل العلم، الحكم متقرر عند أهل العلم، لكن كوننا فهمنا العلة، وقد فهمها من قبلنا، وهذا يلزم كل من صحح الحديث أن يقول بهذا القول، كل من صحح الحديث ورجح تقديم اليدين على الركبتين يلزمه أن يقول بهذا القول، وإلا أيش معنى البروك؟ يعني كوننا لم نطلع على أحد قال بهذا القول معناه أننا أحدثنا في الدين ما لم يقل به سلف هذه الأمة، الإشكال في إحداث حكم شرعي لم يقال به من قبل، هذا الإشكال، أما كوننا نفهم .. طيب اختلف السلف في فهم آية: {وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ} [(279) سورة البقرة] {وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ} يعني هل معنى هذا أن لنا رأس المال وقت الدخول في التجارة أو وقت التوبة؟ يعني كون الإنسان يرجح أحد الوجهين الذين تحتملهما الآية أو الحديث لا يعني أنه أحدث قولاً جديداً، لكن لا يأتي بفهمٍ يترتب عليه حكم شرعي غير مسبوق إليه.
طالب:. . . . . . . . .
هذه مسألة مثل ما ذكرنا –خلافية- منهم من يقول: أنه ما دام الخلاف موجود والممنوع مخالفة الإجماع فلا مانع من أن نحدث قول ثالث، أو نلفق بين القولين قولاً ثالثاً، لا مانع من هذا، ومنهم من يقول: لا بد أن يتقيد بما جاء عن سلف هذه الأمة في الأحكام، فلا يحدث قول، ولا يلفق بين قولين، مسألة معروفة في أصول الفقه.
না, না, না, তার হাঁটুও নয় এবং অন্য কিছুও নয়; এই কথাটি কোনো লক্ষ্য পূরণ করে না, এই বক্তব্যটিও না, দ্বিতীয়টিও না। উদ্দেশ্য হলো উটের হাত (সামনের পা) আদিতেই মাটিতে থাকে, সুতরাং কোনোভাবেই অবয়বের দিক থেকে মানুষের সাথে উটের সাদৃশ্য হওয়া সম্ভব নয়। সাদৃশ্য হওয়া সম্ভব নয়; কারণ মানুষ দণ্ডায়মান থাকে এবং তার হাত থাকে তার বুকের ওপর—এটাই হলো স্বাভাবিক অবস্থা। আর উটের ক্ষেত্রে অবয়বগতভাবে তার হাতগুলো শুরু থেকেই মাটিতে থাকে, তাই অবয়বের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই। তবে যে সাদৃশ্যটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে তা হলো উটের মতো সজোরে মাটিতে নেমে আসা। আমরা হাদীসটিকে এভাবেই বুঝেছি। আমরা কি বলব যে আমরা নতুন কিছু নিয়ে এসেছি এবং এমন এক কথা উদ্ভাবন করেছি যা ইতিপূর্বে কেউ বলেনি? হাঁটুর আগে হাত রাখার বিষয়টি আলেমদের নিকট একটি সুপরিচিত মত। আলেমদের কাছে এই বিধানটি প্রতিষ্ঠিত। তবে বিষয়টি হলো আমরা এর অন্তর্নিহিত কারণ (ইল্লত) বুঝতে পেরেছি, যা আমাদের পূর্ববর্তীগণও বুঝেছিলেন। আর যারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের জন্য এই কথাটি বলা আবশ্যক। যারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং হাঁটুর আগে হাত রাখাকে প্রাধান্য দিয়েছেন, তাদের জন্য এই কথাটি বলা আবশ্যক, নতুবা 'বুরুক' (উটের বসা) শব্দের অর্থ কী দাঁড়াবে? অর্থাৎ, আমরা এই মতের কোনো প্রবক্তা খুঁজে পাইনি বলে এর অর্থ এই নয় যে আমরা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করেছি যা এই উম্মতের সালাফগণ বলেননি। সমস্যা হলো এমন একটি শারঈ বিধান উদ্ভাবন করা যা আগে কখনো বলা হয়নি; এটাই হলো মূল সমস্যা। আর আমাদের বোঝার বিষয়টি হলো... আচ্ছা, সালাফগণ এই আয়াতের মর্ম উপলব্ধির ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন: {আর যদি তোমরা তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না} [সূরা বাকারা: ২৭৯]। {আর যদি তোমরা তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে}—এর অর্থ কি এই যে ব্যবসায় প্রবেশের সময়ের মূলধন আমাদের থাকবে, নাকি তাওবা করার সময়ের মূলধন থাকবে? অর্থাৎ, আয়াত বা হাদীসের সম্ভাব্য দুটি দিকের কোনো একটিকে কেউ প্রাধান্য দিলে তার মানে এই নয় যে তিনি নতুন কোনো মত উদ্ভাবন করেছেন; তবে তিনি যেন এমন কোনো ব্যাখ্যা প্রদান না করেন যার ফলে এমন কোনো শারঈ বিধান তৈরি হয় যা আগে কখনো কেউ বলেনি।
ছাত্র: . . . . . . . . .
এটি একটি মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলা, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: যতক্ষণ মতভেদ বিদ্যমান থাকে এবং যা নিষিদ্ধ তা হলো ইজমার বিরোধিতা করা, ততক্ষণ নতুন কোনো তৃতীয় মত উপস্থাপন করতে বা দুই মতের সমন্বয়ে তৃতীয় কোনো মত তৈরিতে বাধা নেই, এতে কোনো দোষ নেই। আবার কেউ কেউ বলেন: বিধানের ক্ষেত্রে এই উম্মতের সালাফদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক; সুতরাং নতুন কোনো মত তৈরি করা যাবে না এবং দুই মতের সমন্বয়ও করা যাবে না। এটি উসূলে ফিকহের একটি সুপরিচিত মাসআলা।
(খণ্ড: ২)
শারহু আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقصود أننا ملزمون بفهم السلف، ولا يجوز لنا الخروج عن فهمهم، لا سيما في باب الغيبيات التي لا تدركها العقول والآراء، وأما في المسائل التي تدركها الآراء، ومردها إلى الاجتهاد فإن لنا أن نجتهد، وباب الاجتهاد مفتوح إلى قيام الساعة، فيمن توفرت لديه الأهلية، لكن يبقى أنه لا يحدث حكم لم يسبق إليه، أو يبتدع قولاً أو يبتدع عبادة أو شيء لم يسبق إليه.
طالب:. . . . . . . . .؟
هو الأصل لو لم يوجد من يسأل ما تُطرق إلى هذه المسائل؛ لأن التوسع فيها يفتح للأوهام آفاق، لكن ما دام وجد من يسأل لابد من الرد عليه، وجدت شبهة لا بد من كشفها، شيخ الإسلام أورد شبهات في شرح حديث النزول وأجاب عليها، وإذا كان اقتضى ذلك في عصر شيخ الإسلام ففي عصرنا من باب أولى؛ لأن الشبهات الآن دخلت على العوام في بيوت المسلمين، فلا بد من كشفها؛ لأن القائل .. يعني سيأتي في أحاديث النزول بسطه إن شاء الله تعالى، القائل يقول: إذا كان الثلث الأخير في المشرق الذي يليه الثلث الأوسط من الليل، وفي المغرب الثلث الأول، فإذا انتقل من المشرق من المغرب صار ثلث أخير، ثم ينتقل إلى المغرب ثلث أخير، فعلى هذا يكون الليل كله ثلث أخير، لا بد من الإجابة على هذا، فيكون مقتضى الحديث أن الله -جل وعلا- نازل في الليل كله، وهذا لا يمكن أن يقال به؛ لأنه يترتب عليه تعطيل العلو والاستواء، وما أشبه ذلك، لكن لا بد من كشف هذه الشبهات، وإذا تصورنا في المخلوق مثل هذه الأمور الدقائق التي لا يمكن أن يسلم الشخص إلا بالتسليم المطلق في المخلوقات فكيف بالخالق؟
মূল কথা হলো, আমরা সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বুঝ অনুযায়ী চলতে বাধ্য এবং আমাদের জন্য তাদের বুঝের বাইরে যাওয়া বৈধ নয়, বিশেষ করে অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয়গুলোতে যা মানুষের বুদ্ধি ও মতামত দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। আর যেসব বিষয় মতামতের মাধ্যমে অনুধাবনযোগ্য এবং যেগুলোর ভিত্তি ইজতিহাদের ওপর, সেখানে আমরা ইজতিহাদ করতে পারি। কিয়ামত পর্যন্ত ইজতিহাদের দরজা সেই ব্যক্তির জন্য খোলা রয়েছে যার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আছে। তবে শর্ত হলো, এমন কোনো নতুন বিধান উদ্ভাবন করা যাবে না যার কোনো পূর্বসূত্র নেই, অথবা এমন কোনো উক্তি, ইবাদত বা এমন কিছু উদ্ভাবন করা যাবে না যার উদাহরণ আগে ছিল না।
ছাত্র: . . . . . . . . .?
মূলত প্রশ্নকারী না থাকলে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হতো না; কারণ এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা বিভ্রান্তি বা অলীক ধারণার পথ উন্মুক্ত করে দেয়। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত প্রশ্নকারী বিদ্যমান আছে, ততক্ষণ তাকে উত্তর দেওয়া আবশ্যক। যদি কোনো সংশয় দেখা দেয়, তবে তা নিরসন করা জরুরি। শায়খুল ইসলাম হাদীসে নুযূলের (আল্লাহর নেমে আসা সংক্রান্ত হাদীস) ব্যাখ্যায় বিভিন্ন সংশয় উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর জবাব দিয়েছেন। যদি শায়খুল ইসলামের যুগে এর প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে আমাদের যুগে এর প্রয়োজন আরও অনেক বেশি; কারণ বর্তমানে মুসলিমদের ঘরে ঘরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব সংশয় ঢুকে পড়েছে, তাই এগুলো উন্মোচন করা আবশ্যক। কেননা আপত্তিকারী... অর্থাৎ হাদীসে নুযূলের আলোচনায় ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে বিস্তারিত আসবে। আপত্তিকারী বলে থাকে: যখন প্রাচ্যে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হয়, তখন তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রাতের মধ্যভাগ এবং প্রতীচ্যে রাতের প্রথম ভাগ থাকে। এভাবে সময় যখন প্রাচ্য থেকে প্রতীচ্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখন সেখানে শেষ তৃতীয়াংশ হতে থাকে। এরপর আরও পশ্চিমে গেলে সেখানেও শেষ তৃতীয়াংশ হয়। এই হিসেবে তো পুরো রাতই শেষ তৃতীয়াংশ হয়ে দাঁড়ায়। এই আপত্তির উত্তর দেওয়া জরুরি। এর ফলে হাদীসের দাবি অনুযায়ী আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা সারা রাত ধরে অবতরণরত থাকেন—এমনটি বলতে হয়, যা বলা সম্ভব নয়। কারণ এর ফলে আল্লাহর উচ্চতা এবং আরশের উপর উঠার (ইস্তিওয়া) মতো গুণাবলি অস্বীকার করা সাব্যস্ত হয়। কিন্তু এসব সংশয় নিরসন করা অপরিহার্য। আর সৃষ্টির মধ্যেই যদি এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় আমরা দেখি যেখানে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই, তবে স্রষ্টার ক্ষেত্রে তা কেমন হতে পারে?