(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: -)
واقع الترويح المعاصر لدى الطفل المسلم من وجهة نظر الآباء والأمهات القسم: كتب عامة
الكتاب: واقع الترويح المعاصر لدى الطفل المسلم من وجهة نظر الآباء والأمهات
المؤلف: طارق بن عبد الله حجار
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السادسة والثلاثون, العدد الخامس والعشرون بعد المائه 1424هـ
عدد الصفحات: 487
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গিতে মুসলিম শিশুর সমকালীন বিনোদনের বাস্তবতা বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: পিতামাতার দৃষ্টিভঙ্গিতে মুসলিম শিশুর সমকালীন বিনোদনের বাস্তবতা
লেখক: তারিক বিন আব্দুল্লাহ হাজ্জার
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: ৩৬তম বর্ষ, ১২৫তম সংখ্যা, ১৪২৪ হিজরি
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৮৭
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
مقدمةالحمد لله رب العالمين القائل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً..} الآية (التحريم/6) . ثم الصلاة والسلام على أشرف الأنبياء وسيد المرسلين نبينا محمد بن عبد الله وآله وأصحابه أجمعين وسلم تسليماً كثيراً.
إن رياح وأمواج العصر الذي نعايشه هذه الأيام عاتية وهائجة، حيث تعصف وتجري معها المبادئ والقيم والأخلاق الإسلامية من نفوس وقلوب وعقول أبناء الأمة الإسلامية وخصوصاً الأطفال وما هذا إلاّ مما يقذف به على شواطئ أبصار وأسماع أبنائها.
إن عصر العولمة الجارف يحاول هذه الأيام عن طريق وسائل الترويح والملهيات أن يستحوذ على قلوب وعواطف الأطفال إلى التعلق بعادات وتقاليد الكفار الملاحدة من الغربيين والشرقيين ومن ضعاف الإيمان من المسلمين. فهم يقدمون الأفلام والألعاب المختلفة التي تحمل في طياتها الانحراف والانحلال والبعد عن حقيقة الدين الإسلامي تحت شعار الترويح واللهو لإشباع وقت فراغ الأطفال. ونحن وبدون روية وتعقل نرمي بأنفسنا وأطفالنا في أحضان هذه الحضارة التي تباعد بينهم وبين التمسك بالعقيدة الصحيحة والأخلاق الإسلامية الفاضلة.
لذا فإن الباحث وبتوفيق من الله تعالى بحث في مجال الترويح في بعض الدراسات الميدانية حول موضوع الترويح المعاصر للطفل المسلم فلم يجد عملاً ميدانياً في حد قاصر علم الباحث لموضوع ومشكلة الترويح غير أن هناك دراسات نظرية من علماء فضلاء مثل دراسة سعد سيد عويس التي كانت تحت عنوان: (وقت الفراغ والترويح في محيط طلاب كلية التربية بجامعة الملك سعود) ، والتي توصل الباحث فيها إلى النتائج التالية: النشاط الثقافي في المرتبة
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো অগ্নি হতে...} আয়াত (আত-তাহরীম/৬)। অতঃপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূলদের সরদার আমাদের নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
বর্তমানে আমরা যে যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তার হাওয়া ও তরঙ্গ অত্যন্ত প্রচণ্ড ও উত্তাল, যা মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের—বিশেষ করে শিশুদের—অন্তর, হৃদয় ও মন থেকে ইসলামি আদর্শ, মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে বিচ্যুত করে দিচ্ছে। এটি মূলত তাদের দৃষ্টি ও শ্রবণের উপকূলে আছড়ে পড়া নানাবিধ অপসংস্কৃতিরই ফলাফল।
বিশ্বায়নের এই সর্বগ্রাসী যুগ বর্তমানে বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের মাধ্যমে শিশুদের মন ও আবেগকে এমনভাবে গ্রাস করার চেষ্টা করছে, যাতে তারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নাস্তিক কাফির এবং দুর্বল ঈমানসম্পন্ন মুসলিমদের রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। তারা বিনোদন ও খেলার ছলে এমন সব চলচ্চিত্র ও বিভিন্ন গেম সরবরাহ করছে, যা শিশুদের অবসর সময় কাটানোর নামে আদর্শিক বিচ্যুতি, চারিত্রিক অবক্ষয় এবং ইসলামি দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা থেকে বিমুখতা বয়ে আনে। আর আমরা কোনো বিচার-বুদ্ধি ও পরিণাম চিন্তা ছাড়াই নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদের এমন এক সভ্যতার কোলে ঠেলে দিচ্ছি, যা তাদের এবং সঠিক (صحيح) আকিদাহ ও উন্নত ইসলামি চরিত্রের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে দিচ্ছে।
তাই গবেষক আল্লাহর তৌফিকে মুসলিম শিশুদের সমকালীন বিনোদন বিষয়ে কিছু মাঠপর্যায়ের গবেষণার ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করেছেন। গবেষকের সীমিত জ্ঞান অনুযায়ী তিনি বিনোদনের সমস্যা ও প্রসঙ্গের ওপর কোনো মাঠপর্যায়ের কাজ খুঁজে পাননি; তবে গুণী পণ্ডিতদের কিছু তাত্ত্বিক গবেষণা রয়েছে, যেমন সাদ সাইয়্যেদ উওয়াইসের গবেষণা, যার শিরোনাম ছিল: (বাদশাহ সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদের ছাত্রদের মাঝে অবসর সময় ও বিনোদন), যে গবেষণায় গবেষক নিম্নোক্ত ফলাফলে উপনীত হয়েছেন: সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অবস্থান হলো...
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
الأولى يليه الرياضي، والاجتماعي، والفني ثم العلمي.
كما أن هناك دراسات وكتباً عديدة عن إشباع وقت الفراغ، وإن هذه الدراسة خصصت عن ترويح الطفل في الأدوات المعاصرة من حيث: أكثرها ممارسة لها، ثم من الذي يختارها؟ ثم هل يقوم ولي أمر الطفل بمراجعة محتواها قبل ممارسة الطفل لها؟ ثم هل يقوم ولي الأمر (الأب أو الأم) بمتابعة سلوك الطفل أثناء الممارسة لهذه الأداة؟
إذن مشكلة البحث هي واقع الترويح المعاصر لدى الطفل المسلم من وجهة نظر الآباء والأمهات، والبحث قسم إلى جانب نظري بعد المقدمة - وحوى الجانب النظري الفرق بين الترويح المباح وغير المباح. والأحاديث الواردة في ترويحه صلى الله عليه وسلم للأطفال. ثم آراء بعض العلماء من المسلمين حول موضوع الترويح أو اللعب وأخيراً حقوق الأبناء على الآباء من منظور التربية الإسلامية. تلى ذلك الدراسات السابقة ثم الإجراءات التطبيقية على الترويح فالنتائج والتوصيات والمقترحات.
فالباحث قام بهذه الدراسة لأهميتها في المجتمع السعودي المسلم الذي ينظر إليه العالم بأكمله على أنه مجتمع محافظ على دينه الإسلامي الحنيف، وللمحافظة على بناء أبنائه البناء الإسلامي المبني على منهج القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة، كي يحمي مستقبله، لأن بناء الطفل هو القاعدة الأساسية لبناء وثبات المجتمع في المستقبل، فرسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: “كلكم راع وكل مسؤول عن رعيته” رواه البخاري.
প্রথমত, এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে ক্রীড়া, সামাজিক, শৈল্পিক এবং সবশেষে বৈজ্ঞানিক।
অবসর সময় যাপনের বিষয়ে যেমন অসংখ্য গবেষণা ও গ্রন্থ রয়েছে, তেমনি এই গবেষণাটি সমকালীন উপকরণসমূহের মাধ্যমে শিশুর বিনোদনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যথা: কোন উপকরণগুলো শিশু অধিক ব্যবহার করে, সেগুলো কে নির্বাচন করে? এরপর শিশুর ব্যবহারের পূর্বে কি অভিভাবক এর বিষয়বস্তু পর্যালোচনা করেন? এবং এই উপকরণগুলো ব্যবহারের সময় অভিভাবক (পিতা বা মাতা) কি শিশুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন?
সুতরাং গবেষণার মূল সমস্যাটি হলো পিতা-মাতার দৃষ্টিভঙ্গিতে মুসলিম শিশুর সমকালীন বিনোদনের বাস্তবতা। গবেষণাটি ভূমিকার পর একটি তাত্ত্বিক অংশে বিভক্ত—যেখানে তাত্ত্বিক অংশটি বৈধ (مباح) ও অবৈধ (غير مباح) বিনোদনের মধ্যকার পার্থক্য এবং শিশুদের বিনোদনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এরপর বিনোদন বা খেলাধুলা বিষয়ে কয়েকজন মুসলিম পণ্ডিতের মতামত এবং সবশেষে ইসলামি শিক্ষার আলোকে পিতা-মাতার ওপর সন্তানের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর পরবর্তী পর্যায়ে পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ, বিনোদনের ওপর প্রায়োগিক পদক্ষেপসমূহ এবং সবশেষে ফলাফল, সুপারিশ ও প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।
গবেষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সৌদি মুসলিম সমাজে এর গুরুত্বের কারণে, যাকে সমগ্র বিশ্ব তাদের বিশুদ্ধ ইসলামি দ্বীনের এক রক্ষণশীল সমাজ হিসেবে গণ্য করে। এছাড়া সন্তানদের পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আদর্শের ভিত্তিতে ইসলামি কাঠামোর ওপর গড়ে তোলা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে। কারণ শিশুর সঠিক গঠনই হলো ভবিষ্যতে সমাজের স্থায়িত্ব ও বিনির্মাণের মূল ভিত্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।” এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
أهمية الدراسة:ومن المُسَلّم به أن الترويح جانب جبلي مفطور عليه الإنسان وقد أكد القرآن الكريم على أهمية الترويح في قصة يوسف عليه السلام مع إخوته حيث
গবেষণার গুরুত্ব:এটি সর্বজনস্বীকৃত যে, চিত্তবিনোদন মানুষের একটি মজ্জাগত ও স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। পবিত্র কুরআন ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে চিত্তবিনোদনের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেছে, যেখানে
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৩)
جاء: {قَالُوا يَا أَبَانَا مَا لَكَ لا تَأْمَنَّا عَلَى يُوسُفَ وَإِنَّا لَهُ لَنَاصِحُونَ أَرْسِلْهُ مَعَنَا غَداً يَرْتَعْ وَيَلْعَبْ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (يوسف/11 -12) ، وعلق على هذه الآية الكريمة ابن سعدي “أي يتنزه في البرية ويستأنس”1.
ومن ثم فإن أهمية الترويح المباح في حياة الأطفال يحتاج إلى دراسات منها النفسي والاجتماعي والاقتصادي والسياسي والتربوي لأن العصر الذي يعيشه الأطفال اليوم عصر الماديات أكثر من آداب المعنويات، فالمال والمنافسة على جمعه بشتى الطرق والوسائل وخاصةً من المؤسسات الغربية والشرقية المختلفة، فالحياة الغربية المعاصرة قد ارتفع فيها الدخل المالي وكثر فيها اتساع وقت الفراغ لكثرة استعمال التقنيات الحديثة، ذلك مما دفع بعض المؤسسات إلى إقامة صناعات ترويحية منها السياحة والإعلام والسينما وأماكن اللهو المختلفة، ومن المشاهد والظاهر أن المجتمعات الإسلامية أصبحت تساير هذا التيار حيث قامت بجلب هذه الصناعات، والدليل على ذلك أنه عندما ينظر الفرد منا مما حوله في بيته وشارعه ومدينته وقريته فإنه يجد الكثير مما هو معروض في الأسواق أو مقتنى في البيوت. فهذه المقتنيات من أدوات الترفيه غير المباح، لها آثار سلبية في نفوس أبناء المسلمين، يؤيد ذلك ما قام بدراسته عبد المنعم محمد بدر (بدراسة عن المجتمع السعودي نحو اتجاهات الترويح السلبي لعينة بلغت (1000) فرد، فكانت من نتائجه أن المعاكسات بلغت 6.3 %، والتفحيط 8.2 %، مشاهدة الأفلام العنيفة 12.4 %، متابعة البرامج غير الهادفة 9.4 %، السفر إلى الخارج 8.6 %”2.
والترويح المباح في منهج التربية الإسلامية وفقاً للحدود الشرعية مقيد
--------------------------------------------
এসেছে: {তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আপনার কী হয়েছে যে আপনি ইউসুফের ব্যাপারে আমাদের নিরাপদ মনে করছেন না? অথচ আমরা অবশ্যই তার শুভাকাঙ্ক্ষী। আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে পাঠান, যাতে সে স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করে ও খেলাধুলা করে এবং আমরা অবশ্যই তার হিফাযতকারী হব।} (ইউসুফ/১১-১২), এবং এই বরকতময় আয়াতের ওপর ইবনে সাদী মন্তব্য করেছেন যে, “অর্থাৎ সে মরুভূমিতে প্রমোদভ্রমণ করবে এবং আনন্দ লাভ করবে।”১।
ফলস্বরূপ, শিশুদের জীবনে বৈধ (مباح) বিনোদনের গুরুত্বের বিষয়টি মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং শিক্ষামূলক গবেষণার দাবি রাখে; কারণ আজকের শিশুরা যে যুগে বাস করছে তা আধ্যাত্মিক শিষ্টাচারের চেয়ে বস্তুবাদের যুগ। সম্পদ এবং বিভিন্ন উপায়ে তা সংগ্রহের প্রতিযোগিতা, বিশেষ করে বিভিন্ন পশ্চিমা ও প্রাচ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এটি পরিলক্ষিত হয়। সমকালীন পশ্চিমা জীবনে আর্থিক আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আধুনিক প্রযুক্তির অধিক ব্যবহারের ফলে অবসর সময়ও অনেক বেড়েছে। এটি কিছু প্রতিষ্ঠানকে পর্যটন, গণমাধ্যম, সিনেমা এবং বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রসহ বিনোদন শিল্প গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এটি দৃশ্যমান যে মুসলিম সমাজগুলো এই স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে এবং এই শিল্পগুলোকে গ্রহণ করছে। এর প্রমাণ হলো আমাদের মধ্যে যে কেউ যখন তার ঘর, রাস্তা, শহর বা গ্রামে তার চারপাশে তাকায়, তখন সে বাজারে প্রদর্শিত বা ঘরে থাকা এমন অনেক কিছুই দেখতে পায়। অবৈধ (غير مباح) বিনোদনমূলক এই সরঞ্জামগুলোর মুসলিম সন্তানদের মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এটি আব্দুল মোনায়েম মুহাম্মদ বদরের গবেষণার মাধ্যমে সমর্থিত (১০০০ ব্যক্তির একটি নমুনার ভিত্তিতে সৌদি সমাজে নেতিবাচক বিনোদনের প্রবণতা নিয়ে একটি গবেষণা)। তার গবেষণার ফলাফলের মধ্যে ছিল যে: উত্ত্যক্ত করা ৬.৩%, অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো ৮.২%, সহিংস চলচ্চিত্র দেখা ১২.৪%, লক্ষ্যহীন অনুষ্ঠান অনুসরণ করা ৯.৪% এবং বিদেশে ভ্রমণ ৮.৬%।২।
ইসলামী শিক্ষা পদ্ধতিতে বৈধ (مباح) বিনোদন শরয়ি (شرعية) সীমানা অনুযায়ী সীমাবদ্ধ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৪)
بالنوع والكم والكيف ومحدود بالزمان أي متى يقوم باستخدامه الإنسان المسلم، وفي عرض الباحث للجانب النظري للترويح يوضح ما ورد في ذكر الأمثلة القرآنية والنبوية للترويح المباح وخصوصاً للأطفال ومن هذا المنطلق فإن أهمية دراسة الترويح للأطفال ومن وجهة نظر الباحث تمثل موضوعاً هاماً لأن الطفل أمانة عند أبويه، كما جاء عنه صلى الله عليه وسلم: “كلكم راع وكل مسؤول عن رعيته” 1. وما دام الأمر فيه مسؤولية الرعاية والتي تعد أمانة سنسأل عنها يوم القيامة فلا بد من الرجوع إلى أصالة الدين الإسلامي المتمثل في القرآن الكريم والسنة المطهرة وحياة السلف الصالح الذين كان نهجهم اتباع الشرع الحنيف، وفي هذا ما يؤكد أهمية التأصيل التربوي الإسلامي، لكيفية الترويح عن الأطفال ونوعيتها وزمانها كما يرجو الباحث أن تقدم هذه الدراسة خدمة للقائمين على رعاية الأطفال في البيت والمدرسة والمؤسسات المختلفة في المجتمع وخصوصاً في المجالات الترفيهية والترويحية.
ولقلة الدراسات الميدانية في مجال الترويح للطفل المسلم لجأ الباحث لإجراء هذه الدراسة لكي يستفيد منها الآباء والأمهات والقائمون على تربية وبناء الأطفال في المجتمع المسلم العريق.
--------------------------------------------
ধরণ, পরিমাণ ও পদ্ধতির দ্বারা এবং সময়ের গণ্ডিতে এটি সীমাবদ্ধ, অর্থাৎ একজন মুসলিম কখন এটি ব্যবহার করবেন। গবেষক বিনোদনের তাত্ত্বিক দিক উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বৈধ (مباح) বিনোদনের ব্যাপারে পবিত্র কুরআন ও নববী সুন্নাহর যে সকল উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট করেছেন, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শিশুদের বিনোদন সংক্রান্ত গবেষণার গুরুত্ব গবেষকের নিকট একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়; কারণ সন্তান তার পিতামাতার নিকট আমানত। যেমনটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: “তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” ১। আর যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি লালন-পালনের দায়িত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা একটি আমানত হিসেবে কিয়ামতের দিন আমাদের জিজ্ঞাসিত হতে হবে, তাই ইসলাম ধর্মের মৌলিকত্বের দিকে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য; যা পবিত্র কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ এবং সালাফ আস-সালেহীনদের জীবনের মাঝে বিদ্যমান, যাদের পথ ছিল সঠিক শরয়ি বিধিবিধান অনুসরণ করা। এর মাঝেই শিশুদের বিনোদনের পদ্ধতি, ধরণ ও সময়ের ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষাগত ভিত্তির গুরুত্ব প্রমাণিত হয়। গবেষক আশা প্রকাশ করেন যে, এই গবেষণাটি পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিশুদের লালন-পালনে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ করে বিনোদন ও আমোদ-প্রমোদের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
মুসলিম শিশুদের বিনোদনের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের গবেষণার অপ্রতুলতার কারণে গবেষক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন, যাতে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম সমাজের পিতা-মাতা এবং শিশুদের লালন-পালন ও গঠনে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৪)
أهداف الدراسة:تهدف الدراسة إلى:
(1) التعرف إلى واقع الترويح المعاصر للأطفال من وجهة نظر الآباء والأمهات.
(2) معرفة ما إذا كان هناك فروق ذات دلالة إحصائية بين وجهة نظر أفراد العينة نحو واقع أدوات الترويح وفقاً لمتغيرات: المؤهل التعليمي، القرابة،
গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:গবেষণাটির লক্ষ্য হলো:
(১) পিতা-মাতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শিশুদের সমকালীন বিনোদনের বাস্তব অবস্থা নিরূপণ করা।
(২) শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আত্মীয়তার সম্পর্কের ন্যায় বিভিন্ন চলকের (Variables) ভিত্তিতে বিনোদনমূলক উপকরণের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে নমুনাভুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কোনো পরিসংখ্যানগত তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে কি না তা যাচাই করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৫)
الإقامة، مستوى الدخل، عمر أطفال أفراد العينة.
(3) كما تهدف الدراسة الحالية إلى الوصول لبعض التوصيات بناء على النتائج التي من المؤمل أن تسهم في تحسين واقع الترويح المعاصر للأطفال بما يوافق منهج التربية الإسلامية.
বাসস্থান, আয়ের স্তর, নমুনার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সন্তানদের বয়স।
(3) বর্তমান গবেষণার লক্ষ্য হলো ফলাফলের ভিত্তিতে কিছু সুপারিশমালায় উপনীত হওয়া, যা শিশুদের সমকালীন বিনোদনের বাস্তবতাকে ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতির (منهج) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে উন্নত করতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৫)
تساؤلات الدراسة:-ما واقع الترويح المعاصر للطفل المسلم كما يراه الآباء والأمهات من حيث: نموذج الترويح القائم، وأدوات الترويح، ومحتواه، وممارسته ومتابعة أثره؟
-هل هناك فروق ذات دلالة إحصائية في رؤية الآباء والأمهات إزاء واقع الترويح المعاصر للطفل المسلم من حيث نموذجه، وأدواته، ومحتواه وممارسته ومتابعة أثره تعود إلى متغيرات المؤهل التعليمي، وصلة القرابة، ومكان الإقامة، ومستوى الدخل وعمر الطفل؟
গবেষণার প্রশ্নসমূহ:-মুসলিম শিশুর সমসাময়িক বিনোদনের বাস্তবতা সম্পর্কে পিতা ও মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী, বিশেষ করে: বিদ্যমান বিনোদন মডেল, বিনোদনের উপকরণ, এর বিষয়বস্তু, প্রয়োগ এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে?
-মুসলিম শিশুর সমসাময়িক বিনোদনের বাস্তবতা—এর মডেল, উপকরণ, বিষয়বস্তু, প্রয়োগ এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে পিতা ও মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে কি পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পার্থক্য রয়েছে, যা শিক্ষাগত যোগ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক, বসবাসের স্থান, আয়ের স্তর এবং শিশুর বয়সের মতো ভেরিয়েবল বা পরিবর্তনশীল বিষয়ের কারণে ঘটে থাকে?
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৫)
فروض الدراسة:
لقد تضمنت الدراسة الفرضيات التالية:
1 - لا توجد فروق ذات دلالة إحصائية بين رؤية أفراد العينة لواقع ممارسة الأطفال لأدوات الترويح تبعاً لاختلاف كل من: المؤهل العلمي، القرابة، الإقامة، ومستوى الدخل، وعمر أطفال أفراد العينة.
2 - لا توجد فروق ذات دلالة إحصائية بين رؤية أفراد العينة لمراجعة محتوى أدوات الترويح تبعاً لاختلاف كل من: المؤهل العلمي، القرابة، الإقامة، ومستوى الدخل، وعمر أطفال افراد العينة.
3 - لا توجد فروق ذات دلالة إحصائية بين رؤية أفراد العينة للمتابعة أثناء ممارسة الأطفال لأدوات الترويح تبعاً لاختلاف كل من: المؤهل العلمي، القرابة، الإقامة، ومستوى الدخل، وعمر أطفال أفراد العينة
গবেষণার অনুমিত সিদ্ধান্তসমূহ:
গবেষণায় নিম্নোক্ত অনুমিত সিদ্ধান্তসমূহ (হাইপোথিসিস) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
১ - নমুনাভুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক, আবাসন, আয়ের স্তর এবং তাদের সন্তানদের বয়সের ভিন্নতা অনুযায়ী শিশুদের বিনোদনমূলক উপকরণ ব্যবহারের বাস্তব অবস্থার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পার্থক্য নেই।
২ - নমুনাভুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক, আবাসন, আয়ের স্তর এবং তাদের সন্তানদের বয়সের ভিন্নতা অনুযায়ী বিনোদনমূলক উপকরণের বিষয়বস্তু পর্যালোচনার ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পার্থক্য নেই।
৩ - নমুনাভুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক, আবাসন, আয়ের স্তর এবং তাদের সন্তানদের বয়সের ভিন্নতা অনুযায়ী শিশুদের বিনোদনমূলক উপকরণ ব্যবহারের সময় পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৬)
منهج الدراسة:إن المنهج الذي اتبعه الباحث في هذه الدراسة، هو المنهج الوصفي التحليلي نظراً لملاءمته لطبيعة الدراسة. والمنهج الوصفي هو الذي “يعتمد على دراسة الواقع أو الظاهرة كما توجد في الواقع ويهتم بوصفها وصفاً يعبر عنها تعبيراً كيفياً أو تعبيراً كميا”1.
--------------------------------------------
গবেষণার পদ্ধতি:এই গবেষণায় গবেষক যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তা হলো বর্ণনামূলক-বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি; কারণ এটি গবেষণার প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর বর্ণনামূলক পদ্ধতি হলো তা যা “বাস্তবতা বা কোনো বিষয়কে বাস্তবে যেভাবে বিদ্যমান সেভাবেই অধ্যয়ন করার ওপর নির্ভর করে এবং একে এমনভাবে বর্ণনা করতে গুরুত্ব দেয় যা গুণগত বা পরিমাণগতভাবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়”১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৬)
حدود الدراسة:تم تطبيق أداة الدراسة على عينة من المدينة المنورة وعددهم 60، منهم 30 آباء و 30 أمهات، كما طبق في قرية رابغ بواقع 60 فرداً منهم 30آباء و30 أمهات خلال الفصل الدراسي الأول عام 1421هـ
গবেষণার পরিধি:গবেষণার উপকরণটি মদীনা মুনাওয়ারার ৬০ জন ব্যক্তির একটি নমুনার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৩০ জন বাবা এবং ৩০ জন মা ছিলেন। একইভাবে এটি রাবিগ গ্রামেও ৬০ জন ব্যক্তির ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, যেখানে ৩০ জন বাবা এবং ৩০ জন মা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই গবেষণাটি ১৪২১ হিজরি সনের প্রথম শিক্ষাবর্ষে সম্পন্ন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৬)
تعريفات المصطلحات:
أولاً: التعريف اللغوي للترويح:المعنى اللغوي لكلمة الترويح: (الرَّوْحُ يعني السرور والفرح
… وأيضاً الفُرْجَة بعد الكُرْبَةَ
… والراحة ضد التعب
… والتّروِيح قال اللحياني أرَاحَ الرجل إذا راحت عليه إبلُه وغنمه وماله ولا يكون ذلك إلاّ بعد الزوال) 1.
“الرَّوحْ بالفتح من الاستراحة وكذا الراحة، والارتياح يعني النشاط”2.
“أراح تعني تنفس واستراح وراوح بين الشيئين والعملين: تناول هذا مرة وهذا مرة”3.
--------------------------------------------
পারিভাষিক শব্দাবলির সংজ্ঞাসমূহ:প্রথমত: বিনোদনের (الترويح) আভিধানিক সংজ্ঞা:'তারউইহ' (الترويح) শব্দটির আভিধানিক অর্থ: (রওহ (الرَّوْحُ) বলতে আনন্দ ও উল্লাস বোঝায়
… এবং সংকটের পরে প্রশান্তি (الفُرْجَة) লাভ করাও এর অন্তর্ভুক্ত
… আর আরাম (الراحة) হলো ক্লান্তির বিপরীত
… এবং তারউইহ (التّروِيح) সম্পর্কে আল-লিহইয়ানি বলেন, কোনো ব্যক্তির উট, বকরি ও সম্পদ যখন (চারণভূমি থেকে) তার কাছে ফিরে আসে তখন তাকে 'আরাহা' (أرَاحَ) বলা হয়, আর এটি কেবল সূর্য ঢলে পড়ার পরেই ঘটে থাকে) ১।
“ফাতহাহ্ যোগে 'রওহ' (الرَّوحْ) শব্দটি বিশ্রাম (الاستراحة) এবং আরাম (الراحة) থেকে ব্যুৎপন্ন, আর ইরতিয়াহ (الارتياح) অর্থ হলো কর্মতৎপরতা (النشاط)” ২।
“'আরাহা' (أراح) অর্থ হলো শ্বাস গ্রহণ করা ও বিশ্রাম নেওয়া। আর দুটি বস্তু বা কাজের মধ্যে 'রাওয়াহা' (راوح) করার অর্থ হলো: একবার এটি সম্পাদন করা এবং আরেকবার ওটি সম্পাদন করা” ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৭)
ثانياً: التعريف الاصطلاحي والإجرائي للترويح:الترويح بعامة: شغل وقت الطفل بألوان من النشاط الرياضي والفني والثقافي بهدف المتعة.
الترويح الموجه: شغل وقت الطفل بمتعة تتلاءم مع التربية وتسهم في بناء الطفل في عقيدته وعبادته وأخلاقه ومعاملاته.
تعريف الترويح المعاصر: (هو نشاط هادف وممتع يمارس اختيارياً بدافعية ذاتية وبوسائل وأشكال عديدة مباحة شرعاً ويتم غالباً في أوقات الفراغ) .
দ্বিতীয়ত: বিনোদনের (ترويح) পারিভাষিক (اصطلاحي) ও পদ্ধতিগত (إجرائي) সংজ্ঞা (تعريف):সাধারণ বিনোদন: আনন্দের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার ক্রীড়া, শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুর সময়কে নিয়োজিত রাখা।
নির্দেশিত (موجه) বিনোদন: শিশুর সময়কে এমন বিনোদনের মাধ্যমে অতিবাহিত করা যা লালন-পালনের (تربية) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা শিশুর আকিদা (عقيدة), ইবাদত (عبادة), চরিত্র (أخلاق) ও পারস্পরিক লেনদেন (معاملات) গঠনে ভূমিকা রাখে।
সমকালীন বিনোদনের সংজ্ঞা (تعريف): (এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ও আনন্দদায়ক কর্মকাণ্ড, যা নিজস্ব অনুপ্রেরণায় ঐচ্ছিকভাবে এবং শরয়িভাবে বৈধ (مباح) বিভিন্ন মাধ্যম ও পদ্ধতিতে চর্চা করা হয় এবং যা সাধারণত অবসর সময়ে সম্পাদিত হয়)।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৮)
الجانب النظري
أولا: الفرق بين الترويح المباح وغير المباح…الجانب النظري:
بعد عرض المعنى اللغوي والاصطلاحي والإجرائي يود الباحث أن يبين في الجانب النظري بعض أهم النقاط عن الترويح في منهج التربية الإسلامية
أولاً: الفرق بين الترويح المباح وغير المباح:
سمات وخصائص الترويح المباح:
من أكبر النعم على أمة الإسلام أن الله هدى المسلمين لهذا الدين ومن جزيل نعمه عليهم بعد الهداية أن جعل الدين مُيسراً حسب الاستطاعة، يقول تعالى: {وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} (القمر/22) . وقوله جل من قائل: {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا} (التغابن/16) . وقوله جل وعلا في موضع آخر: {هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} ? (الحج/78) .
فالله تبارك وتعالى حين خلق آدم عليه السلام وخلق ذريته وما خلقهم عبثاً فإن خلقه لغرض وهدف سامٍ ألا وهو العبودية لله كما جاء في محكم التنزيل: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (الذاريات/56) ، لذا لا ينبغي لهذا المخلوق المُكلف أن يسلك في حياته إلاّ بما أُمِرَ ولا يقول إلاّ بما هو مطلوب منه، فالإنسان خُلق لهدف فلا يجعل حياته كلها لهواً ولعباً أو أن يتبع هواه، إنما الوقت كما جاء عنه صلى الله عليه وسلم: “لا تزولا قدما عبدٍ يوم القيامة حتى يُسأَلَ عن عمره فيم أفناه، وعن علمه فيم فعل به، وعن ماله من أين اكتسبه وفيم أنفقه، وعن جسمه فيم أبلاه” 1، لذا لا ينبغي للإنسان المكلف أن يضيِّع وقته في الترف واللهو واللعب والخمول والكسل فالحياة هي مزرعة الآخرة.
فيما يتعلق بمنهج التربية الإسلامية من خلال الكتاب والسنة بالنسبة
--------------------------------------------
তাত্ত্বিক দিকপ্রথমত: বৈধ ও অবৈধ বিনোদনের মধ্যে পার্থক্য...তাত্ত্বিক দিক:
শাব্দিক, পারিভাষিক ও প্রায়োগিক অর্থ উপস্থাপনের পর গবেষক তাত্ত্বিক দিক থেকে ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতিতে বিনোদন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় স্পষ্ট করতে চান।
প্রথমত: বৈধ ও অবৈধ বিনোদনের মধ্যে পার্থক্য:
বৈধ বিনোদনের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি:
মুসলিম উম্মাহর ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো যে তিনি মুসলিমদের এই দ্বীনের প্রতি হিদায়াত দান করেছেন। হিদায়াতের পর তাঁর অফুরন্ত নেয়ামতসমূহের মধ্য হতে একটি বড় অনুগ্রহ হলো তিনি দ্বীনকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহজ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “আমি কুরআনকে উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ করে দিয়েছি, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?” (আল-কামার/২২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো এবং শোনো ও আনুগত্য করো” (আত-তাগাবুন/১৬)। মহান আল্লাহ অন্য এক স্থানে বলেন: “তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি” (আল-হাজ্জ/৭৮)।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যখন আদম (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর বংশধরদের সৃষ্টি করেছেন, তখন তিনি তাঁদের নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। বরং এক সুমহান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যেই তাঁদের সৃষ্টি করেছেন, আর তা হলো আল্লাহর দাসত্ব বা ইবাদত করা; যেমনটি সুদৃঢ় ওহীতে এসেছে: “আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি” (আয-যারিয়াত/৫৬)। অতএব, এই দায়িত্বপ্রাপ্ত সৃষ্টির জন্য সংগত নয় যে সে তার জীবনে কেবল আদিষ্ট পথ ব্যতীত অন্য পথে চলবে অথবা তার নিকট যা কাম্য তা ছাড়া অন্য কিছু বলবে। মানুষ এক সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সৃষ্টি হয়েছে, তাই সে তার সমগ্র জীবনকে খেল-তামাশা ও আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত করতে পারে না অথবা কেবল নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে পারে না। বরং সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: “কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার দুই পা সরবে না যতক্ষণ না তাকে তার জীবনকাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে সে তা কিসে অতিবাহিত করেছে; তার জ্ঞান সম্পর্কে যে সে অনুযায়ী কী আমল করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে যে সে তা কোথা থেকে উপার্জন করেছে ও কিসে ব্যয় করেছে এবং তার শরীর সম্পর্কে যে সে তা কিসে ক্ষয় করেছে।” ১। অতএব, দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষের উচিত নয় বিলাসিতা, আমোদ-প্রমোদ, খেল-তামাশা, জড়তা ও অলসতায় নিজের সময় নষ্ট করা; কেননা দুনিয়ার জীবন হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত্র।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতির ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩৯)
للترويح، فقد أباح للفرد أو للجماعة بعد العمل الجاد والكد والمكابدة في الحياة لطلب الرزق الحلال، أن يركن إلى الراحة قليلاً وأن يلهو مع أهله وأطفاله أو يُمازح أصدقاءه ويُسامرهم، أو أن يسير في الأرض للتعرف على قدرة الخالق العظيم في خلقه قال تعالى: {قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ
… } (العنكبوت/20) .
وإنما أمر بالسير في الأرض لأن السير يدني إلى الرائي مشاهداتٍ جمّة من مختلف الأرضين بجبالها وأنهارها ومحوياتها ويمر به على منازل الأمم حاضرها وباديها فيرى كثيراً من أشياء وأحوال لم يعتد رؤية أمثالها، فإذا شاهد ذلك جال نظر فكره في تكوينها بعد العدم جولاناً لم يكن يخطر له ببال حينما كان يشاهد أمثال تلك المخلوقات في ديار قومه، لأنه لما نشأ فيها من زمن الطفولة فما بعده قبل حدوث التفكير في عقله اعتاد أن يمر ببصره عليها دون استنتاج من دلائلها حتى إذا شاهد أمثالها مما كان غائباً عن بصره جالت في نفسه فكرة الاستدلال، فالسير في الأرض وسيلة جامعة لمختلف الدلائل فلذلك كان الأمر به لهذا الغرض من جوامع الحكمة. وجيء في جانب بدء الخلق بالفعل الماضي لأن السائر ليس له من قرار في طريقه فندر أن يشهد حدوث بدء المخلوقات، ولكنه يشهد مخلوقات مبدوءة من قبل فيفطن إلى أن الذي أوجدها إنما أوجدها بعد أن لم تكن وأنه قادر على إيجاد أمثالها فهو بالأحرى قادر على إعادتها بعد عدمها1.
والترويح المباح كثير ولله الحمد ومتنوع ومتعدد في وسائله حتى يتمكن كل فرد أن يجد ما يناسبه، وقبل الحديث عن أقسام الترويح المباح في منهج التربية الإسلامية يود الباحث أن يحدد أهم السمات والخصائص للترويح المباح
--------------------------------------------
বিনোদনের উদ্দেশ্যে, ইসলাম ব্যক্তি বা সমষ্টির জন্য হালাল রিজিক অন্বেষণে পার্থিব জীবনের কঠোর পরিশ্রম, ক্লান্তি ও জীবনসংগ্রামের পর কিছুটা বিশ্রামের আশ্রয় গ্রহণ এবং পরিবার ও সন্তানদের সাথে আনন্দ প্রকাশ কিংবা বন্ধুদের সাথে কৌতুক ও আলাপচারিতা করাকে বৈধ (مباح) ঘোষণা করেছে। অথবা মহান স্রষ্টার সৃষ্টির নিপুণ ক্ষমতা অনুধাবনের উদ্দেশ্যে জমিনে পরিভ্রমণ করার অনুমতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো এবং দেখ, কীভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন...} (আল-আনকাবুত/২০)।
আর জমিনে পরিভ্রমণের নির্দেশ এই কারণে দেওয়া হয়েছে যে, ভ্রমণ দর্শনকারীর সামনে বিভিন্ন ভূখণ্ডের পাহাড়, নদী ও এর অভ্যন্তরীণ বিষয়াদির বহুবিধ দৃশ্যপটকে নিকটবর্তী করে দেয়। এর মাধ্যমে সে বিভিন্ন জাতির শহুরে ও গ্রামীণ জনপদগুলো অতিক্রম করে এবং এমন অনেক বস্তু ও অবস্থা প্রত্যক্ষ করে যা সচরাচর দেখার অভ্যাস তার নেই। যখন সে এসব প্রত্যক্ষ করে, তখন অনস্তিত্ব থেকে সেগুলোর অস্তিত্বে আসার প্রক্রিয়ায় তার চিন্তাশক্তি এমনভাবে ধাবিত হয়, যা নিজ জনপদে অবস্থানকালে একই ধরণের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করার সময় তার মনে উদয় হতো না। কারণ, শৈশব থেকে সেখানে বেড়ে ওঠার কারণে এবং বুদ্ধিবৃত্তি পরিপক্ক হওয়ার পূর্বেই সেগুলোর ওপর দিয়ে দৃষ্টি বুলিয়ে নিতে সে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, ফলে সেগুলোর নিদর্শনাবলি থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ (دليل) গ্রহণের সুযোগ সে পেত না। কিন্তু যখন সে নিজের দৃষ্টির অগোচরে থাকা এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় প্রত্যক্ষ করে, তখন তার অন্তরে প্রমাণ বা দলীল প্রয়োগের (استدلال) মাধ্যমে সত্য অন্বেষণের চিন্তা জাগ্রত হয়। সুতরাং জমিনে পরিভ্রমণ হলো বিভিন্ন নিদর্শনের এক অনন্য সংকলন; তাই এই উদ্দেশ্যে পরিভ্রমণের আদেশ দেওয়া হিকমতের পূর্ণতার (جوامع الحكمة) অন্তর্ভুক্ত। আর সৃষ্টির সূচনার ক্ষেত্রে অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে কারণ পরিভ্রমণকারীর পক্ষে তার পথে স্থায়ীভাবে অবস্থান করা সম্ভব নয়, ফলে সৃষ্টির সূচনা লগ্নটি সরাসরি প্রত্যক্ষ করা তার জন্য বিরল। তবে সে এমন সব সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করে যা পূর্বেই সৃজিত হয়েছে, ফলে সে অনুধাবন করতে পারে যে, যিনি এগুলোকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, তিনি এগুলোকে অনস্তিত্বের পর পুনরায় ফিরিয়ে আনতেও সক্ষম।১
আলহামদুলিল্লাহ, বৈধ (مباح) বিনোদনের ক্ষেত্রসমূহ অনেক এবং এর মাধ্যমগুলো বৈচিত্র্যময় ও বহুমুখী, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তার জন্য উপযুক্ত বিষয়টি খুঁজে নিতে পারে। ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতিতে বৈধ (مباح) বিনোদনের প্রকারভেদগুলো নিয়ে আলোচনার পূর্বে গবেষক বৈধ (مباح) বিনোদনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি নির্ধারণ করতে ইচ্ছুক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪০)
في كل مكان وزمان لأن الترويح في الشرع الحكيم ثابت ومقيد بنوعية وكيفية كما جاء به الدين الحنيف ومن السمات والخصائص ما يلي:
أ - السمات:
- الموافقة للشرع، أي البعد عما حرمه الشرع مثل النرد.
- إحياءً للوقت، لأن الوقت أمانة ومسؤولٌ عنه الفرد كما تقدم.
- التوسط في الأمر، فلا يأخذ وقت الترويح وقتاً كبيراً على حساب العمل أو المذاكرة وغيرها
- البناء السوي، فالطفل مثلاً لا بد أن يبنى من خلال الترويح لمستقبله الديني والحيوي لمصلحة دينه وأسرته وأمته، لذا فإن الترويح إذا لم يحقق هذه السمة يصبح مردوده سلبياً على الطفل والأسرة والأمة بأكملها.
ومما جاء في السنة المطهرة عنه صلى الله عليه وسلم قوله: “لتعلم يهود أن في ديننا فسحة1 “أني أرسلت بحنيفية سمحة” 2.
ب - الخصائص:
1 - الهادفية:
المقصود بها أن يكون النشاط هادفاً، بمعنى أن يساهم في إكساب الفرد - من خلال ممارسته النشاط - المهارات والقيم والاتجاهات التربوية، ويساهم في تنمية وتطوير شخصية الفرد.
2 - تحقيق الدافعية:
يتم الإقبال على ممارسة النشاط الترويحي، وفقاً لرغبات الممارس في
--------------------------------------------
সকল স্থানে ও সকল সময়ে, কারণ প্রজ্ঞাময় শরয়ি বিধানে বিনোদন (الترويح) সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তা ধরন ও প্রকৃতির দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত, যেমনটি এই একনিষ্ঠ (حنيف) দ্বীন নিয়ে এসেছে। এর বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি নিম্নরূপ:
ক - বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- শরয়ি বিধানের অনুসারী হওয়া, অর্থাৎ শরিয়ত যা নিষিদ্ধ করেছে তা থেকে দূরে থাকা, যেমন পাশা বা ছক্কা খেলা।
- সময়ের সদ্ব্যবহার করা, কারণ সময় একটি আমানত (أمانة) এবং ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রত্যেক ব্যক্তি এ ব্যাপারে দায়বদ্ধ ও জিজ্ঞাসিত হবে।
- বিষয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (التوسط) অবলম্বন করা, যাতে বিনোদনের সময় কাজ বা পড়াশোনা ইত্যাদির বদলে অত্যধিক সময় কেড়ে না নেয়।
- সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ গঠন; উদাহরণস্বরূপ, শিশুকে অবশ্যই তার দ্বীন, পরিবার ও উম্মাহর (الأمة) কল্যাণে তার ধর্মীয় ও জাগতিক ভবিষ্যতের জন্য বিনোদনের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। সুতরাং, বিনোদন যদি এই বৈশিষ্ট্যটি অর্জন করতে না পারে, তবে শিশু, পরিবার এবং সমগ্র উম্মাহর ওপর এর প্রভাব নেতিবাচক হয়।
পবিত্র সুন্নাহর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “যাতে ইহুদিরা জানতে পারে যে, আমাদের দ্বীনের মধ্যে প্রশস্ততা (فسحة) ১ রয়েছে” এবং “নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠ ও সহজ-সরল (سمحة) ২ দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি”।
খ - গুণাবলি:
১ - উদ্দেশ্যমুখিতা (الهادفية):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কার্যকলাপটি লক্ষ্যপূর্ণ হওয়া, অর্থাৎ ব্যক্তি সেই কার্যকলাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং শিক্ষামূলক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সক্ষম হওয়া এবং তা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও উন্নয়নে অবদান রাখা।
২ - প্রেষণা (الدافعية) অর্জন:
বিনোদনমূলক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি চর্চাকারীর ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪১)
الاشتراك في النشاط الترويحي وبدافع من ذاته
3 – الاختيارية:
حيث يختار الممارس نوعية النشاط الذي يفضله عن غيره من النشاطات الترويحية التي تتميز بتنوع مجالاتها ما بين ثقافية وفنية، واجتماعية، وأنشطة رياضية.
4 - ارتباطه الوثيق بوقت الفراغ:
يتم النشاط الترويحي في وقت الفراغ، الذي يتحرر فيه الفرد من قيود العمل، بعد الانتهاء من تلبية حاجاته الأساسية، ولذا فإن الترويح يعد أحد الأهداف الأساسية لوظائف وقت الفراغ.
5 - التوازن النفسي:
يحقق الترويح للفرد التوازن النفسي من خلال الأنشطة الترويحية فلكل إنسان أعماله الخاصة التي يؤديها في حياته وهذه الأعمال تكون غير كافية بإشباع الميول المتعددة للفرد، ولذا تبقى لدى الفرد ميول أخرى لا تزال في حاجة إلى إشباع. وهذه الميول يمكن إشباعها وقت الفراغ.
6 - تحقيق الاتزان الانفعالي:
النشاط الترويحي من شأنه جلب السرور والمرح والبهجة إلى نفوس الممارسين وبذلك يكونون في حالة اتزان إنفعالي وسرور زائد أثناء النشاط الترويحي.
فالفراغ والصحة مغبون فيهما صاحبهما كما جاء عنه صلى الله عليه وسلم: “نعمتان مغبون1 فيهما كثير من الناس الصحة والفراغ” 2. فعدم قيام الفرد باستثمار
--------------------------------------------
বিনোদনের কাজে অংশগ্রহণ এবং তা স্বীয় অনুপ্রেরণা থেকে
৩ – ঐচ্ছিকতা:
যেখানে অনুশীলনকারী তার পছন্দমতো বিনোদনের ধরন বেছে নেন, যা সাংস্কৃতিক, শৈল্পিক, সামাজিক এবং ক্রীড়া কর্মকাণ্ডের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় হওয়ার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
৪ - অবসর সময়ের সাথে নিবিড় সম্পৃক্ততা:
বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড অবসর সময়ে সম্পন্ন হয়, যখন ব্যক্তি তার মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর কাজের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত থাকেন। তাই বিনোদনকে অবসর সময়ের কার্যাবলীর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
৫ - মানসিক ভারসাম্য:
বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্য অর্জিত হয়। প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু নির্দিষ্ট কাজ থাকে যা সে পালন করে, কিন্তু এই কাজগুলো ব্যক্তির বহুমুখী ঝোঁক মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে ব্যক্তির মধ্যে এমন কিছু ঝোঁক অবশিষ্ট থেকে যায় যা পূরণ করা প্রয়োজন। আর এই ঝোঁকগুলো অবসর সময়ে পূরণ করা সম্ভব।
৬ - আবেগীয় স্থিরতা অর্জন:
বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড অনুশীলনকারীদের মনে আনন্দ, প্রফুল্লতা ও উল্লাস বয়ে আনে। এর ফলে বিনোদন চলাকালীন তারা আবেগীয় স্থিরতা ও অতিরিক্ত আনন্দ অনুভব করেন।
অবসর ও সুস্থতার বিষয়ে তাদের অধিকারী ব্যক্তিগণ ক্ষতিগ্রস্ত (مغبون), যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: “দুটি নিয়ামত এমন রয়েছে, যেগুলোতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত (مغبون) ১; সেগুলো হলো সুস্থতা ও অবসর।” ২। সুতরাং ব্যক্তির বিনিয়োগ না করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪২)
الصحة والفراغ فيما يرضي الرب تبارك وتعالى فهو خُسْران.
بعد تحديد أهم السمات والخصائص للترويح يود الباحث عرض أنواع الترويح المباح.
ج - أنواع الترويح المباح:
أولاً: الترويح الحركي: ويندرج تحت هذا النوع: السفر، السياحة، ألعاب الكرة باختلاف أشكالها، الصيد والقنص والمخيمات والفسح والرحلات القصيرة الداخلية.
ثانياً: الترويح غير الحركي: ويندرج تحته: الممازحة، ذكر الطُّرَف والحكم والأمثال ورواية الأخبار والمواقف والملاحم والأحداث والوقائع التاريخية، المساجلات الشعرية والمناظرات1.
هذا بالإضافة إلى ما يندرج تحت المباح، مما يُشاهد أو يسمع أو يلعبه الفرد المسلم لأنه مسؤول عنه فقال صلى الله عليه وسلم: "كل شيء ليس من ذكر الله لهو ولعب، إلاّ أن يكون أربعة: ملاعبة الرجل امرأته، وتأديب الرجل فرسه، مشي الرجل بين الغَرَضَين2 وتعليم الرجل السباحة" 3.
د - الترويح المحرم:
بعد العرض الموجز عن الترويح المباح سيعرض الباحث الترويح المحرم الذي يتمثل فيما يلي:
المحرم نقيض الحلال، والحرام هو ما حرمه الله4.
--------------------------------------------
বরকতময় ও মহান রবের সন্তুষ্টি বহির্ভূত কাজে স্বাস্থ্য ও অবসর ব্যয় করা হলো লোকসান (خسران)।
বিনোদনের (الترويح) প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি নির্ধারণ করার পর গবেষক বৈধ (مباح) বিনোদনের প্রকারভেদগুলো উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন।
গ - বৈধ (مباح) বিনোদনের প্রকারভেদ:
প্রথমত: শারীরিক বিনোদন (الترويح الحركي): এই প্রকারের অধীনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: সফর, পর্যটন, বিভিন্ন ধরনের বল খেলা, শিকার ও পশুপাখি ধরা, ক্যাম্পিং, বনভোজন এবং অভ্যন্তরীণ স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণ।
দ্বিতীয়ত: অ-শারীরিক বিনোদন (الترويح غير الحركي): এর অন্তর্ভুক্ত হলো: রসিকতা করা (الممازحة), কৌতুকপূর্ণ ঘটনা, প্রজ্ঞা ও প্রবাদবাক্য উল্লেখ করা এবং সংবাদ, পরিস্থিতি, বীরত্বগাথা (الملاحم), ঘটনাপ্রবাহ ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনা করা, কাব্যিক প্রতিযোগিতা (المساجلات الشعرية) এবং বিতর্ক (المناظرات) ১।
এর সাথে বৈধতার (مباح) অধীনে যা কিছু পড়ে, তা একজন মুসলিম ব্যক্তি দেখে, শোনে বা খেলে থাকে, কারণ তিনি এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহর জিকর বহির্ভূত প্রতিটি বিষয়ই অনর্থক বিনোদন ও খেল-তামাশা (لهو ولعب), তবে চারটি বিষয় ব্যতীত: স্বামীর নিজ স্ত্রীর সাথে ক্রীড়া-কৌতুক করা, ব্যক্তির নিজ ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, দুই লক্ষ্যবস্তুর (الغرضين) ২ মাঝে ব্যক্তির দৌড়ানো এবং সাঁতার শেখানো" ৩।
ঘ - নিষিদ্ধ (محرم) বিনোদন:
বৈধ (مباح) বিনোদন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর, গবেষক এখন নিষিদ্ধ (محرم) বিনোদন সম্পর্কে আলোচনা করবেন যা নিম্নরূপ:
হারাম (محرم) হলো হালালের (حلال) বিপরীত, আর হারাম (حرام) হলো তাই যা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
الترويح المحرم شرعاً: النرد أو الشطرنج، القمار، الألعاب الرياضية التي خرجت عن الآداب الشرعية مثل ظهور العورة أو اللبس الحرام أو الاختلاط بين الجنسين أو استماع الموسيقى أو الرياضات غير المباحة. كل ما ينطبق عليه ذلك من ألوان الترويح.
يقول تبارك وتعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُواً أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ} (لقمان/6) . واللهو المذكور في الآية هو الغناء كما أقسم عبد الله بن مسعود رضي الله عنه على ذلك ثلاثاً وهو من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، وقال بذلك الحسن البصري أيضاً أنه (الغناء والمزامير) 1.
وبعد عرض أنواع الترويح فإن الباحث يستعرض فيما يلي الأحاديث الواردة في ترويحه صلى الله عليه وسلم للأطفال:
--------------------------------------------
শরীয়ত অনুযায়ী নিষিদ্ধ বিনোদন: পাশা বা দাবা, জুয়া, এমন ক্রীড়া যা শরয়ী শিষ্টাচার বহির্ভূত যেমন সতর প্রকাশ পাওয়া অথবা হারাম পোশাক পরিধান করা কিংবা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অথবা গান-বাজনা শোনা অথবা অবৈধ ক্রীড়া। বিনোদনের যে সকল মাধ্যম এর অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: {মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথা ক্রয় করে এবং তাকে উপহাস হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} (লুকমান/৬)। এই আয়াতে উল্লিখিত অসারতা হলো গান, যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এ বিষয়ে তিনবার শপথ করেছেন এবং তিনি সাহাবীগণের (الصحابة) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। হাসান বসরীও এ সম্পর্কে বলেছেন যে এটি হলো (গান ও বাদ্যযন্ত্র)। ১।
বিনোদনের প্রকারভেদ উপস্থাপনের পর, গবেষক নিম্নে শিশুদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিনোদন সম্পর্কিত বর্ণিত হাদিসসমূহ আলোচনা করছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
ثانيا: الأحادبث الواردة في ترويحه صلى الله عليه وسلم للأطفال…ثانياً: الأحاديث الواردة في ترويحه صلى الله عليه وسلم للأطفال:
1 - ومما جاء في مزاحه صلى الله عليه وسلم، أن عبد الله بن الحارث رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصف عبد الله وعبيد الله وكثيراً من أبناء العباس رضي الله عنهم ثم يقول: “من سبق إليّ فله كذا وكذا، قال فيستبقون إليه فيقفون على ظهره وصدره فيقبلهم” 1.
2 - عن أنس رض الله عنه قال: إنه كان النبي صلى الله عليه وسلم ليخالطنا ـ أي يلاطفنا ويمازحنا ـ حتى قال لأخ لي: “يا أبا عمير ما فعل النغير” 2.
3 - عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: “كان رسول الله صلى الله عليه وسلم من
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: শিশুদের আনন্দ ও বিনোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহ…দ্বিতীয়ত: শিশুদের আনন্দ ও বিনোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহ:
১ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কৌতুক ও রসিকতা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আল-হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ, উবায়দুল্লাহ এবং আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর অনেক সন্তানদের এক সারিতে দাঁড় করাতেন, তারপর বলতেন: “যে সবার আগে দৌড়ে আমার কাছে আসবে, তার জন্য এই এই পুরস্কার রয়েছে।” বর্ণনাকারী বলেন: তখন তারা দৌড়ে তাঁর কাছে আসত এবং তাঁর পিঠ ও বুকের ওপর ঝাপিয়ে পড়ত, আর তিনি তাদের চুমু খেতেন। ১
২ - আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে মেলামেশা করতেন — অর্থাৎ আমাদের সাথে সদয় আচরণ করতেন এবং কৌতুক করতেন — এমনকি তিনি আমার এক ছোট ভাইকে বলতেন: “হে আবু উমায়ের! নুগাইর (ছোট পাখিটি) কী করল?” ২
৩ - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
أحسن الناس خُلُقاً، فأرسلنا يوماً لحاجة فقلت والله لا أذهب، وفي نفسي أن أذهب لما أمرني به نبي الله صلى الله عليه وسلم فخرجت حتى أمر على صبيان وهم يلعبون في السوق، فإذا برسول الله صلى الله عليه وسلم بقفاي من ورائي، فنظرت إليه وهو يضحك فقال: يا أنيس: ذهبت حيث أمرتك قال: قلت نعم أنا ذاهب يا رسول الله
… الحديث”1.
4 - عن عائشة رضي الله عنها قالت:”كنت ألعب بالبنات (مصنوعة من العهن ونحوه) ، فربما دخل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وعندي الجواري، فإذا دخل خرجن وإذا خرج دخلن”2.
5 - عن عائشة رضي الله عنها قالت: “تزوجني رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا بنت سبع أو ست
… فأتتني أم رومان وأنا على أُرْجُوحةٍ” 3.
6 - مرَّ النبي صلى الله عليه وسلم على نفرٍ من أَسْلَمَ ينتضلون (أي يرمون بالسهام) فقال النبي صلى الله عليه وسلم: “ارموا بني إسماعيل فإن أباكم كان رامياً ارموا وأنا مع بني فلان"، فأمسك أحد الفريقين بأيديهم، "فقال ما لكم لا ترمون" فقالوا: كيف نرمي وأنت معهم؟ فقال: "ارموا وأنا معكم جميعاً” 4.
7 - عن عائشة رضي الله عنها قالت: “رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يسترني بردائه وأنا أنظر إلى الحبشة يلعبون في المسجد حتى أكون أنا أسام، فاقْدُرُوا قَدْرَ الجارية الحديثة السن، الحريصة على اللهو” 5.
عن عروة رضي الله عنه أن عائشة رضي الله عنها حدثته أن أبا بكر
--------------------------------------------
(তিনি) মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। একদিন তিনি আমাকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম আমি যাব না। অথচ আমার মনে ইচ্ছা ছিল যে, আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে যা আদেশ করেছেন তার জন্য অবশ্যই যাব। আমি বের হলাম এবং বাজারে খেলাধুলা রত বালকদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেছন থেকে আমার ঘাড় ধরে ফেললেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি হাসছেন। তিনি বললেন: ‘হে আনিস! আমি তোমাকে যেখানে যেতে বলেছিলাম সেখানে কি গিয়েছ?’ আমি বললাম: ‘জি হ্যাঁ, আমি যাচ্ছি হে আল্লাহর রাসুল’
… হাদিস” ১।
৪ - আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি পুতুল (পশম বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে তৈরি) নিয়ে খেলতাম। অনেক সময় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসতেন এমতাবস্থায় যে আমার সাথে ছোট মেয়েরা থাকত। তিনি প্রবেশ করলে তারা বেরিয়ে যেত এবং তিনি বেরিয়ে গেলে তারা পুনরায় প্রবেশ করত।” ২।
৫ - আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বিয়ে করেন যখন আমি ছয় অথবা সাত বছরের বালিকা
… অতঃপর উম্মু রুমান আমার নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে আমি একটি দোলনায় ছিলাম।” ৩।
৬ - নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলাম গোত্রের একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় (অর্থাৎ তীর ছুড়ছিল) লিপ্ত ছিল। তখন নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “হে বনু ইসমাইল! তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, কেননা তোমাদের পিতা একজন দক্ষ তীরন্দাজ ছিলেন। তোমরা নিক্ষেপ করো, আর আমি অমুক দলের সাথে আছি।” তখন দুই দলের মধ্যে একদল তীর নিক্ষেপ বন্ধ করে হাত গুটিয়ে নিল। তিনি বললেন: “তোমাদের কী হলো যে তোমরা তীর ছুড়ছ না?” তারা বলল: “আমরা কীভাবে তীর নিক্ষেপ করব যখন আপনি তাদের সাথে আছেন?” তিনি বললেন: “তোমরা তীর নিক্ষেপ করো, আমি তোমাদের সকলের সাথেই আছি।” ৪।
৭ - আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি তিনি তাঁর চাদর দিয়ে আমাকে আড়াল করে রাখতেন আর আমি মসজিদে হাবশিদের খেলা দেখতাম, যতক্ষণ না আমি নিজেই পরিশ্রান্ত হয়ে পড়তাম। সুতরাং তোমরা অল্পবয়স্কা কিশোরীর প্রতি লক্ষ্য রেখো যে খেলাধুলার প্রতি অনুরাগী।” ৫।
উরওয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে আবু বকর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
الصديق رضي الله عنه دخل عليها وعندها جاريتان تضربان بالدف وتغنيان ورسول الله صلى الله عليه وسلم مسجى بثوبه وقال مرة أخرى متسبح ثوبه مكشف عن وجهه فقال: “دعها يا أبا بكر إنها أيام عيد، وهن أيام منى، ورسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ بالمدينة” 1.
8 - عن يعلى بن مرة رضي الله عنه أنهم خرجوا مع النبي صلى الله عليه وسلم إلى طعام دُعوا له، فإذا حسين يلعب في السِّكَّة قال: "فتقدَّم النبي صلى الله عليه وسلم أمام القوم وبسط يديه، فجعل الغلامُ يفرها، هنا وها هنا، ويضاحكه النبي صلى الله عليه وسلم حتى أخذه، فجعل إحدى يديه تحت ذقنه والأخرى في فأس رأسه2 فقبله، وقال: "حسين مِنِّي وأنا من حسين، أَحَبَّ الله مَن أَحَبَّ حسيناً، حسينٌ سبط3 من الأسباط” 4.
9- عن الربيع بنت معوذ رضي الله عنها قالت: “أرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم غداة عاشوراء إلى قرى الأنصار التي حول المدينة، من كان أصبح صائماً فليتم صومه، ومن أصبح مفطراً فليتم بقية يومه. فكنا بعد ذلك نصومه ونصوم صبياننا الصغار منهم إن شاء الله ونذهب إلى المسجد فنجعل لهم اللعبة من العهن5، فإذا بكى أحدهم على الطعام أعطيناها إياه عند الإفطار”6.
10- عن خالد بن سارة عن عبد الله بن جعفر قال: “لو رأيتني وقَثَمَ وعبيد الله ابني عباس رضي الله عنه ونحن صبيان نلعب إذ مر النبي صلى الله عليه وسلم على دابة، فقال: "ارفعوا هذا
--------------------------------------------
সিদ্দিক (রা.) তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন যখন তাঁর কাছে দুটি বালিকা দফ বাজাচ্ছিল এবং গান (কবিতা) গাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন চাদরে আবৃত ছিলেন। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তিনি চাদর মুড়ি দিয়ে ছিলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল উন্মুক্ত ছিল। তিনি বললেন: “হে আবু বকর! এদের ছেড়ে দাও, কারণ এগুলো ঈদের দিন এবং এগুলো মিনার (আইয়ামে তাশরিক) দিনসমূহ। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন মদীনায় অবস্থান করছিলেন।” 1.
8 - ইয়ালা ইবনে মুররা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা নবী (সা.)-এর সাথে একটি খাবারের দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বের হলেন। এমতাবস্থায় হুসাইন (রা.) রাস্তায় খেলা করছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: “নবী (সা.) লোকজনের আগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দুই হাত প্রসারিত করলেন। বালকটি (হুসাইন) এদিকে-ওদিকে দৌড়াতে লাগল এবং নবী (সা.) তাকে হাসাতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি তাকে ধরলেন। অতঃপর তিনি তাঁর এক হাত তার চিবুকের নিচে এবং অন্য হাত তার মাথার উপরিভাগে2 রাখলেন ও তাকে চুম্বন করলেন। তিনি বললেন: ‘হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে। যে হুসাইনকে ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হুসাইন হলো বংশধরদের মধ্যকার একজন বিশেষ বংশধর3’।” 4.
9- রুবাইয়্যি বিনতে মুআউয়িয (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার সকালে মদিনার পার্শ্ববর্তী আনসারদের গ্রামগুলোতে এই বার্তা পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি রোজা রাখা অবস্থায় সকাল অতিবাহিত করেছে সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে, আর যে ব্যক্তি রোজা ছাড়া সকাল অতিবাহিত করেছে সে যেন দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকে। এরপর থেকে আমরা সেই দিন রোজা রাখতাম এবং ইনশাআল্লাহ আমাদের ছোট সন্তানদেরও রোজা রাখালাম। আমরা মসজিদে যেতাম এবং তাদের জন্য পশমের5 তৈরি খেলনা দিতাম। যখন তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদত, তখন ইফতারের সময় হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের সেই খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম।” 6.
10- খালিদ ইবনে সারাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “তুমি যদি আমাকে এবং আব্বাসের দুই পুত্র কাসাম ও উবায়দুল্লাহকে দেখতে! আমরা যখন কিশোর বয়সে খেলাধুলা করছিলাম তখন নবী (সা.) একটি সওয়ারিতে চড়ে আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: ‘একে (উপরে) উঠিয়ে নাও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৬)
لي قال فحملني أمامه". وقال لقثم: "ارفعوا هذا لي فحمله وراءه
… ثم مسح على رأسه ثلاثاً وقال كلما مسح: اللهم اخلف جعفراً في ولده". الحديث”1.
11- عن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال: “كانت وَقْعَةُ بُعَاث وأنا ابن ست سنين وكانت قبل هجرة رسول صلى الله عليه وسلم بخمس سنين، فقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وأنا ابن إحدى عشرة سنة وأُتِي بي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: غلام من الخزرج قد قرأ ست عشرة سورة، فلم أُجَزْ في بدر ولا أحد، وأُجزت في الخندق، قال ابن عمر وكان زيد بن ثابت يكتب الكتابين جميعاً كتاب العربية وكتاب العبرانية وأول مشهد شهده زيد بن ثابت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم الخندق وهو ابن خمس عشرة سنة وكان فيمن ينقل التراب يومئذ مع المسلمين فقال صلى الله عليه وسلم: "أما إنه نعم الغلام” 2.
مما سبق من الأحاديث النبوية العملية للترويح للأطفال نستخرج بعضاً من الأهداف التربوية:
1 - تدريب الأطفال على العبادة من خلال الترويح، كما في حديث الربيع التي كانت تصنع لهم اللعبة من الصوف وتذهب بهم إلى المسجد وهم صيام فإذا بكى أحدهم على الطعام أعطي اللعبة حتى الإفطار.
2 - تدريب الأطفال على العمل الجاد والعمل الجماعي من خلال الترويح، كما في حديث النفر الذين كانوا يرمون بالسهام فجعل صلى الله عليه وسلم يرمى معهم جميعاً.
3 - التدريب على الترويح المباح أثناء المناسبات الدينية كما في حديث عائشة رضي الله عنها حين كان صلى الله عليه وسلم يسترها حتى تنظر إلى الأحباش وهم يلعبون في المسجد بالحراب وغيرها.
--------------------------------------------
আমার জন্য বললেন এবং আমাকে তাঁর সামনে বসালেন।" আর কুসাম সম্পর্কে বললেন: "একে আমার জন্য উঠিয়ে দাও", এরপর তাকে তাঁর পেছনে বসালেন
… তারপর তাঁর মাথায় তিনবার হাত বুলালেন এবং প্রতিবার হাত বুলানোর সময় বললেন: "হে আল্লাহ, জাফরের সন্তানদের মাঝে আপনিই তাঁর উত্তম উত্তরসূরি হোন।" হাদিস ১।
১১- জায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বুআসের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যখন আমি ছয় বছরের বালক। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হিজরতের পাঁচ বছর আগের ঘটনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন তখন আমার বয়স এগারো বছর। আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট নিয়ে আসা হলো এবং উপস্থিত লোকজন বললেন: খাযরাজ গোত্রের এই বালকটি ষোলোটি সূরা পাঠ করেছে। আমাকে বদর কিংবা উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি, তবে খন্দকের যুদ্ধে অনুমতি দেওয়া হলো। ইবনে উমর (রা.) বলেন, জায়েদ বিন সাবিত আরবি এবং হিব্রু উভয় লিপিই লিখতে পারতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে জায়েদ বিন সাবিতের অংশগ্রহণকৃত প্রথম যুদ্ধ ছিল খন্দক, তখন তাঁর বয়স পনেরো বছর। সেদিন তিনি মুসলমানদের সাথে মাটি বহনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন: 'নিশ্চয়ই সে কতই না চমৎকার বালক'।" ২।
শিশুদের চিত্তবিনোদনের বিষয়ে বর্ণিত নবীজি (সা.)-এর প্রায়োগিক হাদিসসমূহ থেকে আমরা নিম্নোক্ত কিছু শিক্ষামূলক উদ্দেশ্য বের করতে পারি:
১ - চিত্তবিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের ইবাদতের প্রশিক্ষণ দেওয়া; যেমনটি রুবাইয়ি (রা.)-এর হাদিসে এসেছে যে, তিনি শিশুদের জন্য পশম দিয়ে খেলনা তৈরি করতেন এবং তারা রোজা রাখা অবস্থায় তাদের নিয়ে মসজিদে যেতেন। খাবারের জন্য তাদের কেউ কান্নাকাটি করলে ইফতার পর্যন্ত তাকে সেই খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা হতো।
২ - বিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের একনিষ্ঠ কাজ এবং দলগত কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া; যেমনটি সেই দলের হাদিসে এসেছে যারা তীর নিক্ষেপ করছিল, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের সকলের সাথে তীর নিক্ষেপে শরিক হলেন।
৩ - ধর্মীয় উৎসব ও বিশেষ মুহূর্তগুলোতে বৈধ (مباح) চিত্তবিনোদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া; যেমন আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে এসেছে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে আড়াল করে রাখতেন যাতে তিনি হাবশিদের মসজিদে বর্শা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে খেলাধুলা করা দেখতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৭)
4 - التدريب على البناء الجسمي والتنافس الشريف أثناء القيام بالترويح فقد حدّث النبي صلى الله عليه وسلم بعضاً من أقاربه ثم حدد صلى الله عليه وسلم جائزة كما سبق.
5 - إشباع الجانب العاطفي للطفل أثناء الترويح كما في حديث يعلى بن مرة رضي الله عنه أنه خرج مع النبي صلى الله عليه وسلم إلى طعام فإذا حسين رضي الله عنه يلعب في السكة فأصبح النبي صلى الله عليه وسلم يداعبه ويلاعبه ثم بعد ذلك أخذ برأسه وقبله.
6 - مراعاة حالة الطفل أثناء الترويح كما جاء في حديث أنس رضي الله عنه حين أمره صلى الله عليه وسلم أن يذهب لقضاء غرض له، لكن أنس رضي الله عنه خرج أولاً على صبيان يلعبون في السوق، فلعب معهم، فإذا بالنبي صلى الله عليه وسلم خلفه فنظر إليه وهو يضحك، وبعد ذلك ذهب أنس حيث أمره صلى الله عليه وسلم.
7 - إشباع الجانب الاجتماعي ذلك كما جاء في حديث عائشة رضي الله عنها أنها كانت تلعب بالبنات المصنوعة من العهن أو غيره ومعها بعض من جارياتها فإذا دخل النبي صلى الله عليه وسلم خرجن وإذا خرج صلى الله عليه وسلم دخلن.
8 - إشباع وقت الفراغ بالقراءة للقرآن الكريم أو حفظه وتعليم اللغات المطلوبة وذلك من حديث زيد بن ثابت رضي الله عنه.
هذه بعض من الأهداف التربوية للترويح الذي ينبغي أن يراعيها الوالدان والقائمون على المؤسسات الترويحية المختلفة في كل بيئة من البيئات الإسلامية لأنهم مسؤولون عن كل ما يراه أو يسمعه أو يقوم بأدائه الأطفال يقول تبارك وتعالى: {إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً} (الإسراء/36) .
بعد عرض بعض من الأحاديث النبوية لترويح الأطفال يود الباحث أن يعرض بعضاً من آراء علماء المسلمين عن الترويح (اللعب) :
4 - বিনোদনের সময় শারীরিক গঠন ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষণ প্রদান; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কিছু নিকটাত্মীয়ের সাথে প্রতিযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতেন এবং পূর্বে বর্ণিত নিয়মে পুরস্কার নির্ধারণ করে দিতেন।
5 - বিনোদনের মাধ্যমে শিশুর আবেগীয় চাহিদাকে তুষ্ট করা; যেমনটি ইয়ালা ইবনে মুররাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কোনো এক ভোজের আমন্ত্রণে যাচ্ছিলেন। পথে দেখলেন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাস্তায় খেলা করছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন তাঁর সাথে কৌতুক ও খেলাধুলা করতে শুরু করলেন, এরপর তাঁর মাথা ধরলেন এবং তাঁকে চুম্বন করলেন।
6 - বিনোদনের সময় শিশুর মানসিক অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা; যেমনটি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে এসেছে, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে একটি প্রয়োজনে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রথমে বাজারে খেলাধুলা করা শিশুদের কাছে গেলেন এবং তাদের সাথে খেলায় মেতে উঠলেন। হঠাৎ দেখলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসছেন। এরপর আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সেদিকেই গেলেন যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে যাওয়ার আদেশ করেছিলেন।
7 - সামাজিক চাহিদাকে তুষ্ট করা; যেমনটি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পশম বা অন্য কিছু দিয়ে তৈরি পুতুল নিয়ে খেলা করতেন এবং তাঁর সাথে তাঁর কিছু খেলার সাথীরাও থাকত। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করতেন, তখন তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যেত এবং যখন তিনি চলে যেতেন, তখন তারা পুনরায় প্রবেশ করত।
8 - কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত বা হিফয এবং প্রয়োজনীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে অবসর সময়কে ফলপ্রসূ করা; যা যায়েদ ইবনে সাবিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে প্রমাণিত।
এগুলো হলো বিনোদনের কিছু শিক্ষামূলক লক্ষ্য যা মুসলিম সমাজের প্রতিটি পরিবেশে পিতামাতা এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খেয়াল রাখা উচিত। কারণ শিশুরা যা কিছু দেখে, শোনে বা পালন করে—তার সবকিছুর জন্যই তাঁরা দায়িত্বশীল। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই কান, চোখ এবং হৃদয়—এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" (সূরা আল-ইসরা: ৩৬)।
শিশুদের বিনোদনের ব্যাপারে কিছু নববী হাদিস উপস্থাপনের পর, গবেষক এখন বিনোদন (খেলাধুলা) সম্পর্কে মুসলিম আলেমদের কিছু অভিমত উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন:
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৮)
ثالثاً: آراء العلماء المسلمين نحو الترويح (اللعب) :
قبل أن ننتقل إلى الجانب الميداني يود الباحث أن يعرض تحليلاً لبعض آراء علماء التربية الإسلامية نحو الترويح أو اللعب وحقوق الأبناء على الآباء.
لقد اهتم كثير من علماء المسلمين بتربية الطفل في مختلف جوانبه الدينية والدنيوية، فإن كان بعضهم لا يطلق عليه بالترويح لكن أدرجه تحت عنوان تأديب الصبيان أو تربية الأولاد أو سياسة الأطفال أو التعليم والتعلم ويعرض الباحث لمثل هذا التوجيه وفق ما يلي من الأفكار والتوجيه الإسلامي الذي إما أن تكون عامة للأطفال أو يختص بالترويح.
1 - الغزالي:
“اعلم أن الطريق في رياضة الصبيان من أهم الأمور وأوكدها والصبيان أمانة عند والديهم، وقلبه الطاهر جوهرة نفسية ساذجة خالية من كل نقش وصورة، وهو قابل لكل ما نقش ومائل إلى كل ما يُمال به إليه، فإن عود الخير وعلمه نشأ عليه وسعد في الدنيا والآخرة وشاركه في ثوابه أبوه وكل معلم له مؤدب، وإن عود الشر وأهمل إهمال البهائم نقش وهلك وكان الوزر في رقبة القيم عليه والوالي له. وقد قال الله عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً} ، ومهما كان الأب يصونه عن نار الدنيا فإنه يصونه عن نار الآخرة أولى، وحسب نيته بأن يؤدبه ويهذبه ويعلمه محاسن الأخلاق ويحفظه من قرناء السوء ولا يعوده التنعم
… ثم يشغل في المكتب (الكُتَّاب) فيتعلم القرآن وأحاديث الأخيار وحكايات الأبرار
… ويُعود في بعض النهار المشي والحركة والرياضة حتى لا يغلب عليه الكسل
… وينبغي له أن يؤذن له بعد الانصراف من الكتاب أن يلعب لعباً جميلاً يستريح إليه من تعب المكتب
… فإن منع الصبي من اللعب وإرهاقه إلى التعلم دائماً يميت قلبه ويبطل ذكاءه، وينغص عليه
তৃতীয়ত: বিনোদন সম্পর্কে মুসলিম আলেমদের মতামত (খেলাধুলা) :
মাঠপর্যায়ের আলোচনায় যাওয়ার আগে গবেষক বিনোদন বা খেলাধুলা এবং পিতামাতার ওপর সন্তানদের অধিকার সম্পর্কে ইসলামী শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের কিছু মতামতের বিশ্লেষণ উপস্থাপন করতে চান।
অনেক মুসলিম আলেম শিশুর ধর্মীয় ও পার্থিব বিভিন্ন দিক থেকে তার প্রতিপালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সরাসরি 'বিনোদন' নামে অভিহিত করেননি, তবে তারা একে শিশুদের শিষ্টাচার শিক্ষা, সন্তান লালন-পালন, শিশুদের পরিচালনা অথবা শিক্ষা ও শিক্ষাদান শিরোনামের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। গবেষক সেই সব ইসলামী চিন্তাধারা ও নির্দেশনার আলোকে বিষয়টি উপস্থাপন করছেন, যা হয় শিশুদের জন্য সাধারণ প্রযোজ্য অথবা বিশেষভাবে বিনোদনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
1 - আল-গাজালী:
“জেনে রাখুন যে, শিশুদের প্রশিক্ষণের পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। শিশুরা তাদের পিতামাতার নিকট আমানতস্বরূপ। তাদের পবিত্র হৃদয় এক অমূল্য, সরল ও অংকনহীন মণিবিশেষ, যা সকল প্রকার নকশা ও চিত্র থেকে মুক্ত। এটি যে কোনো নকশা গ্রহণে সক্ষম এবং একে যে দিকেই ফেরানো হয়, সেদিকেই এটি ঝুঁকে পড়ে। যদি তাকে কল্যাণের অভ্যাস করানো হয় এবং তা শিক্ষা দেওয়া হয়, তবে সে সেভাবেই বেড়ে উঠবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্যবান হবে। তার সওয়াবের অংশীদার হবেন তার পিতা এবং তার প্রত্যেক শিক্ষক ও শিষ্টাচার দানকারী। আর যদি তাকে মন্দের অভ্যাস করানো হয় এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় অবহেলা করা হয়, তবে সে দুর্ভাগা ও ধ্বংস হবে এবং তার পাপের বোঝা তার অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়কের ওপর বর্তাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো}। পিতা যেভাবে তার সন্তানকে পার্থিব আগুন থেকে রক্ষা করেন, তেমনি তাকে আখেরাতের আগুন থেকে রক্ষা করা আরও অধিক বাঞ্ছনীয়। আর তার এই সংরক্ষণের উপায় হলো তাকে শিষ্টাচার শেখানো, চরিত্র সংশোধন করা, উত্তম গুণাবলী শিক্ষা দেওয়া, মন্দ সঙ্গীদের থেকে রক্ষা করা এবং তাকে বিলাসিতায় অভ্যস্ত না করা
… অতঃপর তাকে মকতবে (কুততাবে) ব্যস্ত রাখা হবে, যেখানে সে কুরআন, নেককারদের হাদিস এবং পুণ্যবানদের জীবনকাহিনী শিখবে
… দিনের কিছু সময় তাকে হাঁটাচলা, নড়াচড়া ও ব্যায়ামের অভ্যাস করানো হবে যাতে অলসতা তাকে কাবু করতে না পারে
… মকতব থেকে ফেরার পর তাকে সুন্দর খেলাধুলায় মেতে ওঠার অনুমতি দেওয়া উচিত, যার মাধ্যমে সে মকতবে অর্জিত ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম পেতে পারে
… কারণ শিশুকে খেলাধুলা থেকে বিরত রাখা এবং সর্বদা পড়াশোনার চাপে পিষ্ট রাখা তার অন্তরকে মৃত করে দেয়, তার বুদ্ধিমত্তা নষ্ট করে এবং তার জীবনকে বিষাদময় করে তোলে।”
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
العيش حتى يطلب الحيلة في الخلاص منه رأساً”1.
ومن النص نخلص إلى ما يلي:
- تعليم القراءة ولا سيما للقرآن الكريم والأحاديث النبوية وأخبار الأبرار، في نظر الغزالي يعد أحد الأمور الهامة في إشغال وقت الطفل أثناء ترويحه من عناء الحياة أو التعليم المنظم.
- اللعب فطرة من خلالها يعبر الطفل فيها عن مستقبل حياته وخصوصاً اللعب أو الترويح الموجه.
- الترويح عن طريق اللعب فيه تنمية إيجابية للبناء الجسمي والعاطفي.
- الترويح وسيلة لبناء الجانب الخلقي حتى لا يلجأ الطفل إلى الحيلة من أداء الواجب أو الذهاب إلى طلب العلم.
2 - ابن سحنون:
لقد أجاب ابن سحنون عن سؤال يختص بتحديد أيام إجازة الأطفال في العيدين فقال: “الفطر يوماً واحداً ولا بأس أن يأذن لهم ثلاثة أيام، والأضحى ثلاثة أيام ولا بأس أن يأذن لهم خمسة أيام”2.
ومن توجيهات هذا النص ما يلي:
- ربط الترويح للأطفال في أيام الأعياد الدينية التي هي عيد الفطر والأضحى والتي هي مرتبطة في الجانب العقدي.
- في أيام العيدين فرصة للترويح للأطفال في تعلم كثير من الآداب الإسلامية المرتبطة بالدين منها صلة الأقارب والأرحام، لقاء الأصدقاء،
--------------------------------------------
জীবন যাপন করবে, এমনকি তা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার জন্য কোনো কৌশলের আশ্রয় খুঁজতে থাকবে।”১
এবং উক্ত পাঠ থেকে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লাভ করি:
- পঠন শিক্ষা দেওয়া, বিশেষ করে কুরআন কারিম, নববী হাদিস এবং পুণ্যবানদের জীবনচরিত; ইমাম গাজালির দৃষ্টিতে এটি শিশুর প্রথাগত শিক্ষার ক্লান্তি বা জীবন যাপনের কষ্ট থেকে বিনোদনের সময়কে নিয়োজিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- খেলাধুলা একটি স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة), যার মাধ্যমে শিশু তার ভবিষ্যৎ জীবনের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, বিশেষ করে নির্দেশিত খেলাধুলা বা বিনোদন।
- খেলাধুলার মাধ্যমে বিনোদনের মধ্যে শারীরিক ও আবেগীয় গঠনের ইতিবাচক বিকাশ নিহিত।
- বিনোদন হলো চারিত্রিক দিক গঠনের একটি মাধ্যম, যাতে শিশু তার দায়িত্ব পালন অথবা জ্ঞান অর্জনে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো টালবাহানা বা কৌশলের আশ্রয় না নেয়।
২ - ইবনে সাহনুন:
ইবনে সাহনুন দুই ঈদে শিশুদের ছুটির দিন নির্ধারণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন: “ঈদুল ফিতরে একদিন, তবে তাদের তিন দিনের অনুমতি দিলে কোনো অসুবিধা নেই; আর ঈদুল আযহায় তিন দিন, তবে তাদের পাঁচ দিনের অনুমতি দিলে কোনো অসুবিধা নেই।”২
এই পাঠের নির্দেশনাগুলো থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো পাওয়া যায়:
- ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলোতে শিশুদের বিনোদনকে সম্পৃক্ত করা, যা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা এবং এগুলো আকিদাহ (عقيدة) সংক্রান্ত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত।
- দুই ঈদের দিনগুলোতে শিশুদের বিনোদনের মাধ্যমে দ্বীন সংশ্লিষ্ট অনেক ইসলামি শিষ্টাচার শেখার সুযোগ তৈরি হয়, যার মধ্যে রয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৫০)
اللعب خلال هذه الأيام حسب المتاح من الألعاب النافعة المباحة الموجودة في بيئة الأطفال، ومثل هذه الأمور من الترويح باعثة للفرح والسرور عند الأطفال.
3 - ابن قيم الجوزية:
يشير إلى بعض من واجبات الوالد نحو ولده فيقول: “وينبغي أن يتأمل حال الصبي، وما هو مستعد به من الأعمال، ومهيأ له منها، فيعلم أنه مخلوق له، فلا يحمله على غيره مما كان مأذوناً فيه شرعاً، فإنه إن حمله على غيره ما هو مستعد له لم يفلح فيه، فإنه ما هو مهيأ له، فإذا رآه حسن الفهم صحيح الإدراك جيد الحفظ واعياً، فهذا من علامة قبوله وتَهَيُّئِه للعلم، فلينقش في لوح قلبه ما دام خالياً، فإنه يتمكن فيه ويستقر ويزكو معه، وإن رآه بخلاف ذلك من كل وجه، وهو مستعد للفروسية وأسبابها والركوب واللعب بالرمح وإنه لا فهم له في العلم مكّنه من أسباب الفروسية والتمرن عليها، فإنه أنفع له وللمسلمين”1.
من ثنايا النص نستفيد الآتي:
- لا بد على الوالد أن يتابع طفله حتى يعرف مدى استعداداته الفطرية.
- أن وجهة الوالد طفله إلى العمل الذي هو مستعد له فطرياً فيوجهه إليه حتى يمكن منه.
- الوالد لا يقحم طفله على تخصص ليس له ميل فطري.
- يظهر من النص أن الاستعداد والميل نحو علم وعمل هما سبب النجاح.
4 - ابن مسكويه:
منهج ابن مسكويه في الترويح أو اللعب أو الرياضة للأطفال يكمن في
1 الشرباصي، 1980م، ج3، ص 121.
শিশুদের পরিবেশে বিদ্যমান উপকারী এবং বৈধ (مباح) খেলাধুলা থেকে যতটুকু সুযোগ পাওয়া যায়, এই দিনগুলোতে খেলাধুলা করা; বিনোদনের এই বিষয়গুলো শিশুদের মধ্যে আনন্দ ও খুশির সঞ্চার করে।
৩ - ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ:
তিনি সন্তানের প্রতি পিতার কিছু কর্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: “পিতার উচিত শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সে কোন ধরনের কাজের জন্য প্রস্তুত ও উপযুক্ত তা অনুধাবন করা। অতঃপর তিনি যেন বুঝতে পারেন যে শিশুটি সেই নির্দিষ্ট কাজের জন্যই সৃজিত হয়েছে। সুতরাং শারিয়াহ কর্তৃক অনুমোদিত (مأذون فيه شرعاً) অন্য কোনো বিষয় যেন তার ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া না হয়; কারণ যদি তার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয় যার জন্য সে প্রস্তুত নয়, তবে সে তাতে সফল হবে না। কেননা সে কাজের জন্য তাকে গড়ে তোলা হয়নি। অতঃপর যদি পিতা দেখেন যে শিশুটি প্রখর ধীশক্তি সম্পন্ন, সঠিক উপলব্ধিবোধ ও উত্তম হিফজ (সংরক্ষণ) ক্ষমতার অধিকারী এবং সচেতন, তবে এটি তার জ্ঞানগ্রহণের যোগ্যতা ও প্রস্তুতির লক্ষণ। এমতাবস্থায় তার হৃদয়ের ফলক যতক্ষণ শূন্য থাকে, ততক্ষণ তাতে জ্ঞান অঙ্কন করে দেওয়া উচিত; যাতে তা সেখানে বদ্ধমূল ও স্থায়ী হয় এবং তার সাথে বিকশিত হয়। আর যদি পিতা তাকে সব দিক থেকে এর বিপরীত দেখেন এবং সে অশ্বারোহণ, এর উপকরণাদি, ঘোড়ায় চড়া এবং বর্শা চালনার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং জ্ঞানার্জনে তার কোনো বোধগম্যতা না থাকে, তবে তাকে অশ্বারোহণের উপকরণাদি ও তা অনুশীলনের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। কেননা এটি তার নিজের জন্য এবং মুসলিমদের জন্য অধিক উপকারী।”১
এই মূলপাঠ থেকে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আহরণ করতে পারি:
- পিতাকে অবশ্যই তাঁর সন্তানের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে তিনি তার সহজাত যোগ্যতার পরিধি জানতে পারেন।
- পিতার কাজ হলো তাঁর সন্তানকে সেই কর্মের দিকে পরিচালিত করা যার জন্য সে সহজাতভাবে প্রস্তুত, যাতে সে তাতে পারদর্শিতা অর্জন করতে পারে।
- পিতা তাঁর সন্তানকে এমন কোনো বিশেষায়িত বিষয়ে বাধ্য করবেন না যার প্রতি তার সহজাত কোনো ঝোঁক নেই।
- মূলপাঠ থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, কোনো জ্ঞান বা কর্মের প্রতি প্রস্তুতি ও অনুরাগই হলো সাফল্যের মূল কারণ।
৪ - ইবনু মিসকাওয়াইহ:
শিশুদের বিনোদন, খেলাধুলা বা শরীরচর্চার ক্ষেত্রে ইবনু মিসকাওয়াইহ-এর কর্মপদ্ধতি নিহিত রয়েছে এতে—
১ আশ-শারবাসি, ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দ, ৩য় খণ্ড, ১২১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াকিউত তারউইহিল মুআসিরি লাদাত তিফলিল মুসলিম মিন উইজহাতি নাযারিল আবায়ি ওয়াল উম্মাহাত
(পৃষ্ঠা: ৪৫১)
حفظ الصحة وتنفي الكسل وتطرد البلادة وبعث النشاط للبدن وكذلك تزكية النفس لهم، فقال تحت عنوان (آداب متنوعة) جمل عديدة اخترت منها الآتي:
“وينبغي أن يؤذن للطفل في بعض الأوقات أن يلعب لعباً جميلاً، ليستريح إليه من تعب الأدب، ولا يكون في لعبه ألم ولا تعب شديد
… ويعود على الرياضات التي تحرك الحرارة الغريزية وتحفظ الصحة وتنقي الكسل وتطرد البلاده وتبعث النشاط وتزكي النفس
… ويمنع من النوم الكثير فإنه يقبحه ويغلظ ذهنه ويميت خاطره
… ويعود المشي والحركة والركوب والرياضة حتى لا يتعود أضرارها”1.
بعد هذا العرض الموجز عن آراء علماء المسلمين عن الترويح (اللعب) يود الباحث أن يؤكد على حقوق الأبناء في منهج التربية الإسلامية.
رابعاً: حقوق الأبناء على الآباء من منظور التربية الإسلامية2.
إن حقوق الأبناء على الآباء منصوص عليها في القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة، فجاء في القرآن الكريم: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً
… } الآية (التحريم/6) . ويقول المربي مُعلم الناس الخير صلى الله عليه وسلم: “كلكم راعٍ وكلكم مسؤول عن رعيته،
… ، والرجل راعٍ في أهله وهو مسؤول عن رعيته والمرأة راعية في بيت زوجها ومسؤولة عن رعيتها
… الحديث” 3.
وإذا عرفنا معنى الآية الكريمة والحديث الشريف عرفنا أهمية حقوق
--------------------------------------------
স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে, অলসতা দূর করে, জড়তা দূর করে এবং শরীরে প্রাণচাঞ্চল্যের সঞ্চার করে; একইভাবে তা তাদের আত্মার পরিশুদ্ধিও ঘটায়। তিনি ‘বিবিধ শিষ্টাচার’ শিরোনামের অধীনে বেশ কিছু বাক্য উল্লেখ করেছেন যেখান থেকে আমি নিম্নোক্তগুলো নির্বাচন করেছি:
“শিশুর জন্য সময়ের একটি নির্দিষ্ট অংশে সুন্দরভাবে খেলাধুলা করার অনুমতি থাকা উচিত, যাতে সে শিষ্টাচার শিক্ষার ক্লান্তি থেকে বিশ্রাম নিতে পারে। তবে তার খেলাধুলায় যেন কোনো শারীরিক কষ্ট বা প্রচণ্ড ক্লান্তি না থাকে
… এবং তাকে এমন সব ব্যায়ামে অভ্যস্ত করা উচিত যা শরীরের স্বাভাবিক উত্তাপকে সক্রিয় করে, স্বাস্থ্য রক্ষা করে, অলসতা দূর করে, জড়তা দূর করে, কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করে এবং আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটায়
… তাকে অতিরিক্ত ঘুম থেকে বিরত রাখা উচিত, কারণ এটি তাকে শ্রীহীন করে তোলে, তার মেধাকে স্থবির করে দেয় এবং তার চিন্তাশক্তিকে নিস্তেজ করে ফেলে
… আর তাকে হাঁটা, চলাফেরা, আরোহণ এবং ব্যায়ামে অভ্যস্ত করা উচিত যাতে সে এগুলোর অনুপস্থিতিজনিত অপকারিতায় অভ্যস্ত না হয়ে যায়।”১
বিনোদন (খেলাধুলা) সম্পর্কে মুসলিম আলেমদের মতামতের এই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনার পর, গবেষক ইসলামি শিক্ষা পদ্ধতির আলোকে সন্তানদের অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করতে চান।
চতুর্থত: ইসলামি শিক্ষার আলোকে পিতা-মাতার ওপর সন্তানদের অধিকার।২
পিতা-মাতার ওপর সন্তানদের অধিকার পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো জাহান্নামের আগুন থেকে
… } আয়াত (সূরা আত-তাহরিম: ৬)। মানুষের কল্যাণের শিক্ষক ও প্রশিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে,
… , আর পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক এবং সে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে, আর নারী তার স্বামীর গৃহের অভিভাবিকা এবং সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে
… হাদিস” ৩।
যদি আমরা এই মহিমান্বিত আয়াত এবং সম্মানিত হাদিসের মর্মার্থ অনুধাবন করি, তবে আমরা অধিকারের গুরুত্ব বুঝতে পারব।
--------------------------------------------