(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: -)
أحوال الرجال   (الجوزجاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أحوال الرجال

المؤلف: إبراهيم بن يعقوب بن إسحاق السعدي الجوزجاني، أبو إسحاق (ت 259هـ)

المحقق: عبد العليم عبد العظيم البَستوي

دار النشر: حديث اكادمي - فيصل آباد، باكستان

عدد الصفحات: 366

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহওয়ালুর রিজাল   (আল-জুজাজানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আহওয়ালুর রিজাল

লেখক: ইবরাহিম বিন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-সা'দি আল-জুজাজানি, আবু ইসহাক (মৃ. ২৫৯ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুল আলিম আব্দুল আজিম আল-বাস্তাওয়ি

প্রকাশনী: হাদিস একাডেমি - ফয়সালাবাদ, পাকিস্তান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

أخبرنا الشيخ الإمام أبو الفضل جعفر بن علي بن هبة الله الهمداني قراءة عليه وأنا أسمع في شعبان سنة خمس وثلاثين وست مئة بدمشق قيل له أخبركم الشيخ الأوحد الإمام الحافظ شيخ الإسلام أوحد الأنام الصدر الكبير بقية السلف أبو طاهر أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن إبراهيم السلفي الأصبهاني رضي الله عنه قراءة عليه بالإسكندرية في جمادى الأولى سنة اثنتين وسبعين وخمس مئة أخبرنا الشيخ الأمين الثقة أبو محمد هبة الله بن أحمد بن محمد بن هبة الله بن الأكفاني العدل رحمه الله قراءة عليه بدمشق في جمادى الأولى سنة إحدى عشرة وخمس مئة أخبرنا أبو محمد عبد العزيز بن أحمد بن محمد بن علي الحافظ الكتاني قراءة عليه أخبرنا أبو الحسين عبد الوهاب بن جعفر بن علي الميداني قراءة عليه حدثنا أبو هاشم عبد الجبار بن عبد الصمد بن إسماعيل السلمي حدثنا أبو بكر القاسم بن عيسى بن إبراهيم بن عيسى العصار حدثنا أبو إسحاق إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني حدثنا محمد بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।

শায়খ ইমাম আবুল ফজল জাফর ইবনে আলী ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-হামাদানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—৬৩৫ হিজরি সনের শাবান মাসে দামেশকে তাঁর সামনে পাঠকালে আমি তা শ্রবণ করছিলাম—তাঁকে বলা হলো: অনন্য শায়খ, ইমাম, হাফেজ, শাইখুল ইসলাম, সমকালীন অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, মহান বক্ষ এবং সালাফদের উত্তরসূরি আবু তাহির আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-সিলাফি আল-আসবাহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন—৫৭২ হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাসে আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর নিকট পাঠকালে? তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার শায়খ আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-আকফানি আল-আদল (রাহিমাহুল্লাহ)—৫১১ হিজরি সনের জমাদিউল আউয়াল মাসে দামেশকে তাঁর নিকট পাঠকালে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী হাফেজ আল-কাত্তানি তাঁর নিকট পাঠকালে; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে জাফর ইবনে আলী আল-ময়দানি তাঁর নিকট পাঠকালে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাশিম আবদুল জব্বার ইবনে আবদুল সামাদ ইবনে ইসমাইল আস-সুলামি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর কাসেম ইবনে ঈসা ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ঈসা আল-আসসার; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-জুজাজানি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৪)
عبيد حدثنا الأعمش أول شيء سمعته منه سأله عنه حبان أخو مندل عن عمرو بن مرة عن أبي البختري عن

أبي سعيد الخدري قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحقرن أحدكم نفسه أن يرى أمرا لله فيه مقال ألا يقوم به فيلقى الله تعالى فيقول ما منعك أن تقول يوم كذا وكذا
উবাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাশ থেকে এটিই প্রথম বিষয় যা আমি শ্রবণ করেছি; মানদালের ভ্রাতা হিব্বান তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবু আল-বাখতারি থেকে এবং তিনি

আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: তোমাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান না করে এই কারণে যে, সে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে কথা বলার মতো কোনো বিষয় প্রত্যক্ষ করে অথচ সে সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। ফলশ্রুতিতে সে আল্লাহ তাআলার সম্মুখীন হবে এবং আল্লাহ বলবেন: অমুক অমুক দিনে তোমাকে কথা বলতে কিসে বাধা দিয়েছিল?
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৬)
قال إبراهيم وقد علمت أنه قد ينقم على كتابي هذا فرق من الناس ففرقة تاقت أنفسها إلى مراتب لم يسعوا في توطيدها عند أخذهم من الحديث ما يسع جيب قميصه فإذا ألقيت عليه بعض ذلك بقي متحيرا يستنكف عن التعليم بعد أن سود في نفسه وذو بدعة أيقن أني أكشف عن كلوم أشياعه فأبديها يعج عجيج الناب لثقل ما حمل عليه لا يأوي للإسلام وما حل بساحته من أسلافه

وجاهل لا يحسن ما يأتي ويذر ولا يفصل من هذا ونحوه في المثل بين
ইব্রাহিম বলেন: আমি অবগত হয়েছি যে, আমার এই গ্রন্থটির প্রতি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিদ্বেষ পোষণ করতে পারে। একদল হলো তারা, যাদের অন্তর এমন উচ্চমর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা করে যা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য তারা কোনো শ্রম দেয়নি; তারা হাদিস শাস্ত্র থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করেছে যা তাদের জামার পকেটে সংকুলান হয়। ফলে যখন তাদের নিকট এ বিষয়ক কোনো জ্ঞান পেশ করা হয়, তখন তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে এবং মনে মনে নিজেকে বড় হিসেবে গণ্য করার পর পুনরায় শিখতে অহংকার বোধ করে। অন্য দলটি হলো বিদআতি, যে নিশ্চিত জানে যে আমি তার অনুসারীদের গোপন ত্রুটিসমূহ উন্মোচন করে তা প্রকাশ করে দেব; ফলে তার ওপর অর্পিত সত্যের বোঝার ভারে সে বৃদ্ধ উষ্ট্রের ন্যায় আর্তনাদ করে। সে ইসলামের প্রতি কোনো মমতা বোধ করে না এবং তার পূর্বসূরিদের দ্বারা ইসলামের অঙ্গনে যে বিপর্যয় আপতিত হয়েছে তা নিয়েও সে বিচলিত নয়।

আর একদল হলো অজ্ঞ, যে হিতাহিত জ্ঞান রাখে না এবং এই জাতীয় উদাহরণ ও সদৃশ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে অক্ষম।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৭)
التمرة والجمرة حاطب ليل يحوي نحوه ما استقبله ويوكي في وعائه ما استدف له وقد استمهد الطأة وركن إلى راحة الدعة وقد رضي بالميسور لقرب همته ثم قصدني على كساد بضاعته لبوار سلعته فإذا فوتح من هذا بشيء قال ما لفلان أليس قد روى عنه فلان وفلان وقد ناله المثل السوء الذي ضرب الله تعالى في كتابه حيث يقول) وكذلك ما أرسلنا من قبلك في قرية من نذير إلا قال مترفوها إنا وجدنا آباءنا على أمة وإنا على آثارهم مقتدون (وكنت لا أبالي إذ عزم الله لي على ذلك بعد ما استخرته من رضي ذلك وسخط إذ كنت عن دينه أناضل وعن سنة نبيه أحاول

খেজুর কিংবা জ্বলন্ত অঙ্গার—সে হলো সেই নিশাচর কাষ্ঠসংগ্রাহকের ন্যায়, যে সামনে যা পায় তা-ই কুড়িয়ে নেয় এবং যা-ই হস্তগত হয় তা-ই নিজের ঝুলিতে ভরে মুখ বন্ধ করে নেয়। সে আয়েশি শয্যা গ্রহণ করেছে এবং অলসতার শান্তিতে আশ্রয় নিয়েছে। হিম্মতের স্বল্পতার কারণে সে সামান্যতেই সন্তুষ্ট। অতঃপর সে তার অচল ও অকেজো পণ্য নিয়ে আমার অভিমুখী হলো। যখনই তাকে এ বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়, সে বলে: ‘অমুকের কী হয়েছে? তার থেকে কি অমুক অমুক ব্যক্তি বর্ণনা করেননি?’ তার ক্ষেত্রে সেই মন্দ উদাহরণটিই প্রযোজ্য হয়েছে যা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে দিয়েছেন: ‘আর এভাবেই আপনার পূর্বে কোনো জনপদে যখনই আমি কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখন সেখানকার সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিরা বলেছে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের অনুসারী পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।’ আল্লাহ যখন আমার জন্য এই বিষয়টি নির্ধারিত করে দিলেন এবং আমি তাঁর কাছে ইস্তিখারা করলাম, তখন কে সন্তুষ্ট হলো আর কে অসন্তুষ্ট—তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র পরোয়া করিনি। কারণ আমি তাঁর দীনের সপক্ষে লড়াই করছিলাম এবং তাঁর নবীর সুন্নাহর সংরক্ষণে সচেষ্ট ছিলাম।

(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৮)
وعنها أهل الزيغ أذب وعن الكذابين على رسول الله صلى الله عليه وسلم الملحدين في دين الله اكشف وفريضة الأمر في هذا والنهي أؤدي ليتعلم الجاهل أو يرعوي مستثبت ثقة بالله وركونا إلى ما أدى عن رسوله حدثنا عثمان بن عمر حدثنا شعبة عن واقد عن ابن أبي مليكة عن القاسم عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من أرضى

আর আমি তা থেকে সত্যবিচ্যুতদের প্রতিহত করব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপকারী ও আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানো ধর্মদ্রোহীদের মুখোশ উন্মোচন করব। এই বিষয়ে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের যে আবশ্যিক কর্তব্য রয়েছে, তা আমি পালন করছি; যাতে অজ্ঞ ব্যক্তি শিক্ষা লাভ করতে পারে অথবা বিভ্রান্ত ব্যক্তি নিবৃত্ত হতে পারে। আমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে এবং তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে সুনিশ্চিতভাবে এই দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে উমর, তিনি শু'বা থেকে, তিনি ওয়াকিদ থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি কাসিম থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট করল..."

(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৯)
الله بسخط الناس كفاه الله الناس ومن أسخط الله برضى الناس وكله

الله إلى الناس
যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে, আল্লাহ তাকে মানুষের অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তাকে সোপর্দ করেন

মানুষের ওপর।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১০)
حدثني عبد السلام بن يحمد ونعيم بن حماد قالا حدثنا بقية حدثني بجير بن سعد عن خالد بن معدان قال من اجترأ على الملاوم في موافقة الحق رد الله تلك الملاوم له حمدا ومن التمس المحامد في مخالفة الحق رد الله تلك المحامد عليه ذما

আবদুস সালাম ইবনে ইয়াহমাদ এবং নুআইম ইবনে হাম্মাদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: বাকিয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুজায়র ইবনে সা'দ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবনে মা'দান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি সত্যের সাথে সংগতি বজায় রাখতে গিয়ে লোকনিন্দার শিকার হওয়ার সাহস করে, আল্লাহ সেই নিন্দাকে তার জন্য প্রশংসায় রূপান্তরিত করে দেন। আর যে ব্যক্তি সত্যের বিরোধিতা করে মানুষের প্রশংসা অন্বেষণ করে, আল্লাহ সেই প্রশংসাকে তার জন্য নিন্দায় পরিণত করে দেন।"

(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي الأصل أن طلب محامد الناس والسعي في مرضاتهم غاية لا تدرك وسأصفهم على مراتبهم ومذاهبهم منهم الزائغ عن الحق كذاب في حديثه ومنهم الكذاب في حديثه لم أسمع عنه ببدعة وكفى بالكذب بدعة ومنهم زائغ عن الحق صدوق اللهجة قد جرى في الناس حديثه إذ كان مخذولا في بدعته مأمونا في روايته فهؤلاء عندي ليس فيهم حيلة إلا أن يؤخذ من حديثهم ما يعرف إذا لم يقو به بدعته فيتهم عند ذلك

ومنهم الضعيف في حديثه غير سائغ لذي دين أن يحتج بحديثه وحده إلا أن يقويه حديث من هو أقوى منه فحينئذ يعتبر به.

فأبدأ بذكر الخوارج إذ كانت أول بدعة ظهرت في الإسلام على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أولا أعني التميمي الذي قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم اعدل حين وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم أشياعه وجلاهم
মূলত মানুষের প্রশংসা অন্বেষণ এবং তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা এমন এক লক্ষ্য যা কখনো হাসিল করা সম্ভব নয়। আমি তাদের বিভিন্ন স্তর ও মতাদর্শ অনুযায়ী বর্ণনা করব। তাদের মধ্যে কেউ সত্যচ্যুত এবং নিজ বর্ণনায় চরম মিথ্যাবাদী। আবার কেউ নিজ বর্ণনায় মিথ্যাবাদী হলেও তার থেকে আমি বিশেষ কোনো বিদআতের কথা শুনিনি; অথচ মিথ্যাই বিদআত হিসেবে যথেষ্ট। আবার কেউ সত্যচ্যুত হলেও কথাবার্তায় সত্যবাদী, মানুষের মাঝে তার বর্ণিত হাদীস প্রচলিত রয়েছে; সে তার বিদআতের কারণে পরিত্যক্ত হলেও বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। আমার মতে, এদের ব্যাপারে কেবল সেই সব বর্ণনা গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই যা সুপরিচিত, যদি তা তার বিদআতকে শক্তিশালী না করে; অন্যথায় সে ক্ষেত্রে সে অভিযুক্ত হবে।

তাদের মধ্যে কেউ বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল। কোনো দ্বীনদার ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে তার বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী কোনো বর্ণনাকারীর হাদীস একে শক্তিশালী করে; এমতাবস্থায় তা গ্রহণযোগ্য হবে।

অতএব আমি খারেজীদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি, যেহেতু এটিই প্রথম বিদআত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল। আমি সেই তামিমি গোত্রের ব্যক্তির কথা বুঝাচ্ছি, যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিল ‘আপনি ইনসাফ করুন’, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছিলেন এবং তাদের স্বরূপ স্পষ্ট করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১২)
ونعتهم وأحسن نعتهم ثم هم تحركوا أيضا بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم حين فرقوا جماعة

الأمة وميلوا اعتدال الإلفة فشاموا أنفسهم أولا والأمة بعدها آخرا فنبذ الناس حديثهم اتهاما لهم.

منهم:
এবং তিনি তাদের বর্ণনা করেছেন ও অত্যন্ত উত্তমরূপে তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরেছেন; অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তিরোধানের পর তারা পুনরায় তৎপর হয়ে ওঠে, যখন তারা সেই সংহতি বা জামাআতকে খণ্ডিত করে

যা ছিল উম্মাহর এবং তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্যের ভারসাম্যকে বিচ্যুত করে। ফলে তারা প্রথমে নিজেদের এবং পরবর্তীতে উম্মাহর ওপর অমঙ্গল বয়ে আনে। অতঃপর মানুষ তাদের প্রতি সংশয়বশত তাদের বর্ণনাগুলো বর্জন করে।

তাদের অন্তর্ভুক্ত:
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌1 - عبد الله بن الكواء رأسهم

‌‌2 - وعبد الله بن راسب
‌১ - আবদুল্লাহ ইবনে আল-কাওয়া, তাদের প্রধান

‌‌২ - এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাসিব
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌3 - وشبث بن ربعي أول من حلل الحرورية
৩ - এবং শাবাস ইবনে রিবঈ হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হারুরিয়্যাহ মতবাদকে বৈধ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌4 - ومالك بن الحارث
৪ - এবং মালিক বিন আল-হারিস
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌5 - وأبو بلال مرداس بن أدية

‌‌6 - وأخوه عروة بن أدية
৫ - এবং আবু বিলাল মিরদাস বিন উদাইয়্যাহ

৬ - এবং তাঁর ভাই উরওয়া বিন উদাইয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌7 - ونافع بن الأزرق

‌‌8 - ونجدة بن عامر
৭ - নাফে ইবনুল আজরাক

৮ - নাজদাহ ইবনে আমির
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌9 - وصعصعة بن صوحان

حدثنا إبراهيم بن الصباح وسعيد بن سليمان قالا حدثنا
৯ - সা‘সা‘আহ ইবনে সুহান

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুস সাব্বাহ এবং সাঈদ ইবনে সুলাইমান; তাঁরা উভয়েই বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
إسماعيل بن زكريا عن عاصم عن محمد بن سيرين قال

لم يكونوا يسألون عن إسناد الحديث حتى وقعت الفتنة فلما وقعت نظروا من كان من أهل السنة أخذوا حديثه ومن كان من أهل البدع تركوا حديثه
ইসমাঈল বিন যাকারিয়া আসিম থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন সিরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন

তারা ইতিপূর্বে হাদীসের সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো তখন তারা লক্ষ্য করতে শুরু করল— যারা আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো এবং যারা বিদআতপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল তাদের হাদীস বর্জন করা হতো।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২০)
حدثنا أشهل بن حاتم عن ابن عون عن محمد قال إن هذا العلم دين فلينظر الرجل عمن يأخذ دينه
আশহাল ইবনে হাতিম আমাদের নিকট ইবনে আওন হতে, তিনি মুহাম্মদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন; সুতরাং ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে সে কার নিকট হতে তার দ্বীন গ্রহণ করছে।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২১)
حدثنا أحمد بن يونس حدثنا زائدة عن هشام بن حسان عن الحسن قال لا تجالسوا أهل الأهواء ولا تسمعوا منهم حدثنا إسحاق بن منصور حدثنا عفان حدثني
আহমদ ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়িদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে হাসান থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমরা প্রবৃত্তি পূজারীদের (বিদআতিদের) সাথে বসো না এবং তাদের থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করো না। ইসহাক ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২২)
يحيى بن سعيد قال سألت شعبة وسفيان ومالكا وابن

عيينة عن الرجل يتهم ولا يحفظ الحديث فقالوا جميعا بين أمره
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেন, আমি শু’বাহ, সুফিয়ান, মালিক এবং ইবনে

উয়াইনাহকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যার বিরুদ্ধে (বর্ণনায়) অভিযোগ রয়েছে এবং যে হাদিস যথাযথভাবে মুখস্থ রাখতে পারে না; তারা সকলেই বললেন, “তার প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা করো।”
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
سمعت عليا يقول سمعت يحيى يقول ينبغي في صاحب الحديث خصال يكون ثبت الأخذ ويفهم ما يقال له ويبصر الرجال ثم يتعاهد ذاك
আমি আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: হাদীস বিশারদের মধ্যে কতগুলো বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক—তাকে (হাদীস) গ্রহণের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় হতে হবে, তাকে যা বলা হয় তা অনুধাবন করতে হবে, বর্ণনাকারীদের বিষয়ে বিচক্ষণ হতে হবে এবং অতঃপর এগুলোর নিয়মিত অনুশীলন ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
سمعت أبا قدامة يقول سمعت يحيى بن سعيد يقول رب صالح لو لم يحدث كان خيرا له إنما هو أمانة إنما هو تأدية الأمانة في الذهب والفضة أيسر منه في الحديث.

ثم السبئية إذ غلت في الكفر فزعمت أن عليا إلهها حتى

حرقهم بالنار إنكارا عليهم واستبصارا في أمرهم حين يقول:

لما رأيت الأمر أمرا منكرا … أججت ناري ودعوت قنبرا

وضرب عبد الله بن سبإ حين زعم أن القرآن جزء من تسعة أجزاء وعلمه عند علي ونفاه بعدما كان هم به
আমি আবু কুদামাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: "অনেক পুণ্যবান ব্যক্তি রয়েছেন, যদি তারা হাদিস বর্ণনা না করতেন তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। নিশ্চয় এটি একটি আমানত; আর সোনা-রূপার আমানত রক্ষা করা হাদিসের আমানত রক্ষা করার চেয়ে অধিকতর সহজ।"

অতঃপর সাবায়িয়া গোষ্ঠী, যখন তারা কুফরিতে চরম বাড়াবাড়ি করল এবং দাবি করল যে আলী তাদের ইলাহ, এমনকি

তিনি তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশস্বরূপ এবং তাদের বিষয়ের স্বরূপ উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দিলেন, যখন তিনি বলছিলেন:

যখন আমি বিষয়টি অত্যন্ত গর্হিত হিসেবে দেখলাম … আমি আমার আগুন প্রজ্বলিত করলাম এবং কানবারকে আহ্বান করলাম

আর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাবাকে প্রহার করলেন যখন সে দাবি করল যে, কুরআন নয়টি ভাগের মাত্র এক ভাগ এবং এর প্রকৃত জ্ঞান আলীর নিকট গচ্ছিত; অতঃপর তিনি তাকে নির্বাসিত করলেন, যার সংকল্প তিনি আগেই করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم المختارية من أهل الكوفة حين تنبأ فيهم في قديم الدهر وأصحاب علي وعبد الله متوافرون فغلب عليها بمن تابعه من

السفلة والرعاع حتى كان يعطي الرجل الألف دينار والأقل على أن يروي له في تقوية أمره حديثا
অতঃপর কুফার অধিবাসীদের মধ্য হতে মুখতারিয়া সম্প্রদায়, যখন প্রাচীনকালে তিনি তাদের মাঝে নবুওয়াতের দাবি উত্থাপন করেছিলেন, অথচ তখনো আলী ও আব্দুল্লাহর অনুসারীবৃন্দ বিপুল সংখ্যায় বিদ্যমান ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি তার অনুসারী সেই সব

নিচ ও ইতর শ্রেণীর লোকদের মাধ্যমে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেন, এমনকি তিনি কোনো ব্যক্তিকে তার শাসন ক্ষমতা সুসংহত করার উদ্দেশ্যে একটি হাদিস বর্ণনা করার বিনিময়ে এক হাজার দিনার কিংবা তার চেয়ে কিছু কম স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করতেন।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
حدثنا أبو نعيم ثنا شريك عن أبي إسحاق قال سمعت خزيمة بن نصر العبسي أيام المختار وهو يقولون ما يقولون من الكذب وكان من أصحاب علي قاتلهم الله أي عصابة تشانوا وأي حديث أفسدوا
আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শারীক থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল-মুখতারের সময়কালে খুজাইমাহ ইবনে নাসর আল-আবাসিকে বলতে শুনেছি—আর তারা (তৎকালীন বিভ্রান্ত গোষ্ঠী) তখন যা বলার তা-ই বলত অর্থাৎ চরম মিথ্যাচার করত—আর তিনি (খুজাইমাহ) আলীর (রা.) সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: "আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কতই না ঘৃণ্য এক দলে পরিণত হয়েছে এবং তারা (রাসূলের) হাদীসসমূহকে কতটা বিকৃত ও কলুষিত করেছে!"
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
حدثنا النفيلي ثنا عيسى بن يونس عن أبيه عن أبي إسحاق عن صلة بن زفر العبسي قال قاتل الله المختار أي شعية أفسد وأي حديث شان حدثني أحمد بن حنبل حدثنا أبو بكر بن عياش حدثنا
আমাদের নিকট নুফাইলি বর্ণনা করেছেন, তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি সিলাহ ইবনে যুফার আল-আবসি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহ মুখতারকে ধ্বংস করুন; সে কত অনুসারীকে পথভ্রষ্ট করেছে এবং কত হাদিসকে কলঙ্কিত করেছে! আহমাদ ইবনে হাম্বল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আইয়্যাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
مغيرة قال لم يكن يصدق عن علي في الحديث عنه إلا أصحاب عبد الله حدثنا شبابة بن سوار حدثنا شعبة عن عمرو بن مرة عن ابن أبي ليلى قال صحبت عليا في السفر والحضر فكل ما يحدثون عنه باطل

‌‌10 - قال إبراهيم: الحارث بن عبد الله الهمداني.

روي عن الشعبي أنه كذبه
মুগীরাহ বলেন, আলী (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের সত্যতার ব্যাপারে আব্দুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) সাথীবৃন্দ ব্যতীত অন্য কাউকে নির্ভরযোগ্য মনে করা হতো না। শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, আমি সফরে ও আবাসে আলীর সঙ্গী ছিলাম, অথচ লোকজন তাঁর সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা করে তার সবই ভিত্তিহীন।

১০ - ইব্রাহীম বলেন: আল-হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামদানী।

আশ-শা’বী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
اتهم كان يقول تعلمت القرآن في سنتين والوحي في ثلاث سنين وابن عباس يقول لا وحي إلا ما بين اللوحين وأجمع على ذلك المسلمون وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة لعنهم
তিনি বলতেন, "আমি দুই বছরে কুরআন শিখেছি এবং তিন বছরে ওহি শিখেছি।" ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "দুই মলাটের (মুসহাফের) মাঝখানে যা আছে তা ব্যতীত অন্য কোনো ওহি নেই।" আর মুসলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, "ছয় ব্যক্তি যাদের তিনি অভিশাপ দিয়েছেন..."
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৩০)
الله وكل نبي مجاب منهم الزائد في كتاب الله
আল্লাহ এবং তাঁদের মধ্যকার প্রত্যেক মকবুলুদ দু'আ নবী (অভিশাপ দিয়েছেন) সেই ব্যক্তিকে, যে আল্লাহর কিতাবে কোনো কিছু সংযোজন করে।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৩১)
وأمر الحارث في حديثه بين عند من لم يعم الله قلبه وقد روى عن علي تشهدا خالف فيه الأمة قال كان يقول بسم الله خير الأسماء التحيات لله ما طاب فلله وما خبث فلغيره أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا عبده ورسوله أشهد أنه نعم الرب ونعم الرسول محمد السلام على نبي الله السلام على أنبياء الله السلام على المؤمنين والمؤمنات من غاب منهم ومن شهد ونحو هذا
আল-হারিসের বর্ণনার বিষয়টি সেই ব্যক্তির নিকট সুস্পষ্ট যার অন্তরকে আল্লাহ অন্ধ করে দেননি। তিনি আলীর পক্ষ থেকে এমন এক তাশাহহুদ বর্ণনা করেছেন যাতে তিনি উম্মতের পরিপন্থী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন যে, তিনি (আলী) বলতেন: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি নামসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম। যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহর জন্য; যা কিছু পবিত্র তা আল্লাহরই প্রাপ্য এবং যা কিছু মন্দ তা অন্যদের প্রাপ্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি কতই না উত্তম প্রতিপালক এবং মুহাম্মদ কতই না উত্তম রাসূল। আল্লাহর নবীর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহর সকল নবীর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, অনুপস্থিত ও উপস্থিত সকল মুমিন নর ও নারীর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক; এবং এই জাতীয় আরও কথা।
(খণ্ড: ১) আহওয়ালুর রিজাল (পৃষ্ঠা: ৩২)
والتشهد عن ابن مسعود وأبي موسى وابن عباس كأنهم تكلموا بلسان واحد عن النبي صلى الله عليه وسلم محفوظ مشهور.
ইবনে মাসউদ, আবু মুসা এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত তাশাহহুদ যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে অভিন্ন ভাষায় ব্যক্ত হয়েছে; যা সুসংরক্ষিত ও সুপ্রসিদ্ধ।