(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأشربة وذكر اختلاف الناس فيها لابن قتيبة القسم: الفقه العام
الكتاب: الأشربة وذكر اختلاف الناس فيها
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276هـ)
المحقق: د حسام البهنساوي، أستاذ علم اللغة المساعد جامعة القاهرة - كلية الدراسات العربية والإسلامية بالفيوم
تقديم: الأستاذ الدكتور رمضان عبد التواب، العميد السابق لكلية الآداب، جامعة عين شمس
الناشر: مكتبة زهراء الشرق - القاهرة
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আশরিবা ওয়া জিকরুইখতিলাফিন নাসি ফিহা - ইবনে কুতাইবা বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আল-আশরিবা ওয়া জিকরুইখতিলাফিন নাসি ফিহা (পানীয়সমূহ এবং এ বিষয়ে মানুষের মতভেদ)
লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারি (মৃ. ২৭৬ হি.)
সম্পাদক: ড. হুসাম আল-বাহনাসাউই, ভাষাবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় - ফ্যাকাল্টি অফ অ্যারাবিক অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল-ফায়ুম
উপস্থাপনা: প্রফেসর ডক্টর রমাদান আবদুস তাওয়াব, আর্টস ফ্যাকাল্টির প্রাক্তন ডিন, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক: মাকতাবাতু জাহরা আশ-শারক - কায়রো
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
أخبرنا الشيخ أبو طاهر محمد بن علي بن محمد بن عبد الله البيع في ما أذن لنا أن نرويه عنه، قال أخبرنا أبو عبد الله الحسين بن المظفر ابن كنداج البزاز قراءة عليه، قال أخبرنا أبو محمد عبد الله بن جعفر بن درستويه النحوي قراءة عليه، قال قال أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِدِينِهِ الْمُرْتَضَى، وَأَكْرَمَنَا بِنَبِيِّهِ الْمُصْطَفَى وَجَعَلَنَا خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ إِيمَانًا بِالْغَيْبِ وَتَصْدِيقًا بِالْوَعْدِ وَشَفَقًا مِنَ الْوَعِيدِ، وَإِخْلَاصًا لِلتَّوْحِيدِ، وَأَعْطَانَا بِالصَّغِيرِ الْكَبِيرَ وَبِالْيَسِيرِ الْكَثِيرَ، وَبِالْحَقِيرِ الْخَطِيرَ، وبالطاعة فِي الْأَيَّامِ الْمَعْدُودَةِ الْخُلُودَ فِي النعيم، وَرَضِيَ مِنَّا بِعَفْوِ الطَّاعَةِ وَفَسَحَ لَنَا فِي التَّوْبَةِ وَجَعَلَ مِنْ وَرَاءِ الصَّغِيرِ الْمَغْفِرَةَ، وَمِنْ وَرَاءِ الكبير الشفاعة،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
শেখ আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-বায়ি আমাদের সেই বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) যা তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের বর্ণনা (رواية) করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-মুজাফ্ফর ইবনে কুনদাজ আল-বাজ্জাজ আমাদের নিকট পাঠের (قراءة) মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন দুরুসতাওয়াইহ আন-নাহবী আমাদের নিকট পাঠের (قراءة) মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا)। আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর মনোনীত দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর মনোনীত নবীর মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করেছেন। তিনি আমাদের শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন যা মানুষের কল্যাণে আবির্ভূত হয়েছে; অদৃশ্যের প্রতি ঈমান, প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস, শাস্তির ভীতি এবং তাওহীদের প্রতি একনিষ্ঠতার কারণে। তিনি আমাদের সামান্যর বিনিময়ে বিশাল, অল্পের বিনিময়ে অনেক এবং তুচ্ছের বিনিময়ে মর্যাদাপূর্ণ বিষয় দান করেছেন। তিনি আমাদের নির্ধারিত কয়েকদিনের আনুগত্যের বিনিময়ে চিরস্থায়ী নেয়ামত দান করেছেন। তিনি আমাদের নিকট হতে সহজসাধ্য আনুগত্য গ্রহণ করেছেন, আমাদের জন্য তাওবার পথ প্রশস্ত করেছেন এবং ছোট গুনাহের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও বড় গুনাহের ক্ষেত্রে সুপারিশ (شفاعة) রেখেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
فلم يهلك عليها لا من نِفَارَ الظَّلِيمِ وَشَرَدَ شِرَادَ الْبَعِيرِ، وَأَوْسَعَ لَنَا مِنْ طَيِّبِ الرِّزْقِ وَحَرَّمَ عَلَيْنَا الْخَبَائِثَ وَلَمْ يَجْعَلْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ وَلَا حظر بالاستعباد إِلَّا مَا جَعَلَ مِنْهُ الْخَلَفَ الْأَطْيَبَ وَالْبَذْلَ الْأَوْفَرَ، رَحْمَةً مِنْهُ وَبِرًّا وَلُطْفًا وَعَطْفًا.
فَحَرَّمَ عَلَيْنَا بِالْكِتَابِ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنْزِيرِ وَبِالسُّنَّةِ سِبَاعَ الْوَحْشِ وَالطَّيْرِ وَعَوَّضَنَا من ذلك بهيمة الأنعام الثَّمَانِيَةِ الْأَزْوَاجِ وَسَائِرَ الْوَحْشِ وَصُنُوفَ الطَّيْرِ، وَحَرَّمَ عَلَيْنَا بِالْكِتَابِ الْمَيْسِرَ وَبِالسُّنَّةِ الْقُمَارَ، وَعَوَّضَنَا مِنْ ذَلِكَ اللهو بالرهان والنضال،
সুতরাং তিনি এর (হেদায়াতের) ওপর আমাদের ধ্বংস হতে দেননি—না উটপাখির পলায়নের ন্যায়, আর না উটের লক্ষ্যহীন বিচরণের মতো। তিনি আমাদের জন্য পবিত্র রিজিক প্রশস্ত করেছেন এবং আমাদের ওপর অপবিত্র বিষয়াদি হারাম করেছেন। তিনি দ্বীনের বিধানে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি এবং দাসত্বের মাধ্যমে এমন কোনো কঠোরতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি, যার পরিবর্তে তিনি পবিত্রতর স্থলাভিষিক্ত বস্তু এবং অধিকতর প্রশস্ততা দান করেননি; আর এটি কেবল তাঁর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত, কল্যাণ, দয়া ও অনুকম্পা স্বরূপ।
অতঃপর তিনি কিতাবের মাধ্যমে আমাদের ওপর মৃত জীব, রক্ত ও শুকরের মাংস হারাম করেছেন এবং সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে হিংস্র বন্য পশু ও শিকারি পাখি হারাম করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি আমাদের জন্য আট জোড়া গবাদি পশু, অন্যান্য বন্য প্রাণী ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দান করেছেন। আর তিনি কিতাবের মাধ্যমে জুয়া এবং সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে বাজি ধরা হারাম করেছেন এবং এর পরিবর্তে বাজি রেখে দৌড় প্রতিযোগিতা ও তীরন্দাজির ন্যায় বিনোদনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
وَحَرَّمَ عَلَيْنَا الرِّبَا وَأَحَلَّ الْبَيْعَ، وَحَرَّمَ السِّفَاحَ وَأَحَلَّ النِّكَاحَ، وَحَرَّمَ بِالسُّنَّةِ الدِّيبَاجَ وَالْحَرِيرَ، وَعَوَّضَنَا الْخَزَّ والوشي والعقم والرقم
এবং তিনি আমাদের ওপর সুদকে হারাম করেছেন ও ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন, এবং তিনি ব্যভিচারকে হারাম করেছেন ও বিবাহকে হালাল করেছেন, আর তিনি সুন্নাহর মাধ্যমে দিবায ও রেশমকে হারাম করেছেন, এবং এর পরিবর্তে আমাদের খাজ, ওয়াশি, উকম ও রাকম দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২০)
وَحَرَّمَ بِالْكِتَابِ الْخَمْرَ وَبِالسُّنَّةِ الْمُسْكِرَ، وَعَوَّضَنَا مِنْهُمَا صُنُوفَ الشَّرَابِ مِنَ اللبن والعسل وحلال النبيذ.
তিনি কিতাবের মাধ্যমে মাদক হারাম করেছেন এবং সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে প্রতিটি নেশাজাতীয় (المسكر) দ্রব্য নিষিদ্ধ করেছেন; আর এগুলোর পরিবর্তে তিনি আমাদের জন্য দুধ, মধু এবং হালাল নবীযের (النبيذ) ন্যায় বিভিন্ন প্রকার পানীয়ের ব্যবস্থা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الِاخْتِلَافُ فِي الْأَشْرِبَةِوَلَيْسَ فِيمَا عازنا مِنْ هَذِهِ الْأُمُورِ الَّتِي وَقَعَ فيها الحظر والإطلاق شيء اختلفت فِيهِ النَّاسُ اخْتِلَافَهُمْ فِي الْأَشْرِبَةِ وكيفية ما يحمل مِنْهَا وَمَا يَحْرُمُ عَلَى قَدِيمِ الْأَيَّامِ، مَعَ قُرْبِ الْعَهْدِ بِالرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَتَوَافُرِ الصَّحَابَةِ وَكَثْرَةِ الْعُلَمَاءِ الْمَأْخُوذِ عَنْهُمْ الْمُقْتَدَى بِهِمْ، حَتَّى يَحْتَاجَ ابْنُ سِيرِينَ مَعَ ثَاقِبِ عِلْمِهِ وَبَارِعِ فَهْمِهِ إِلَى أَنْ يَسْأَلَ عُبَيْدَةَ السَّلْمَانِيَّ عَنِ النَّبِيذِ، وَحَتَّى يَقُولَ لَهُ عُبَيْدَةُ وَقَدْ لَحِقَ خِيَارَ الصَّحَابَةِ وَعُلَمَاءَهُمْ مِنْهُمْ علي وابن مسعود اختلف علما فِي النَّبِيذِ وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى أخذت النَّاسُ أَشْرِبَةً كَثِيرَةً فَمَا لِي شَرَابٌ مُنْذُ عِشْرِينَ سَنَةً إِلَّا مِنْ لَبَنٍ أَوْ مَاءٍ أَوْ عسل.
পানীয় সংক্রান্ত মতভেদনিষিদ্ধকরণ (حظر) ও বৈধকরণের (إطلاق) বিষয়সমূহের মধ্যে আমাদের নিকট এমন কোনো বিষয় আসেনি যাতে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মাঝে পানীয়ের প্রকারভেদ এবং কোনটি হালাল ও কোনটি হারাম হবে সেই বিষয়ে এত অধিক মতভেদ ঘটেছে, অথচ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ ছিল নিকটবর্তী, সাহাবীগণের উপস্থিতি ছিল পর্যাপ্ত এবং যাদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা হয় ও যাদের অনুসরণ করা হয় এমন আলেমদের প্রাচুর্য ছিল। এমনকি ইবনে সিরিন তার গভীর ইলম ও প্রখর প্রজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উবাইদাহ আস-সালমানিকে 'নাবিজ' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন বোধ করেন। আর উবাইদাহ—যিনি আলী ও ইবনে মাসউদের মতো শ্রেষ্ঠ সাহাবী ও আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেছিলেন—তাকে বলেন: আলেমগণ 'নাবিজ' এর বিষয়ে মতভেদ করেছেন। অন্য এক বর্ণনা (رواية)-এ আছে, মানুষ বহু প্রকারের পানীয় গ্রহণ করেছে, তবে গত বিশ বছর যাবত দুধ, পানি অথবা মধু ব্যতীত আমার অন্য কোনো পানীয় নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২২)
وَإِنَّ شَيْئًا وَقَعَ فِيهِ الِاخْتِلَافُ فِي ذَلِكَ الْعَصْرِ بَيْنَ أُولَئِكَ الأئمة لحري أنَّ يشطل عَلَى مَنْ بَعْدَهُمْ وَتَخْتَلِفَ فِيهِ آرَاؤُهُمْ، وَيَكْثُرَ فِيهِ تَنَازُعُهُمْ، وَقَدْ بَيَّنْتُ مِنْ مَذَاهِبِ النَّاسِ فِيهِ وَحُجَّةَ كُلِّ فَرِيقٍ مِنْهُمْ لِمَذْهَبِهِ وَمَوْضِعِ الِاخْتِيَارِ مِنْ ذَلِكَ بِالسَّبَبِ الَّذِي أَوْجَبَهُ وَالْعِلَّةِ الَّتِي دَلَّتْ عَلَيْهِ مَا حَضَرَنِي مِنْ بَالِغِ العلم والمقدار الطَّاقَةِ، لَعَلَّ اللَّهَ يَهْدِي بِهِ مُسْتَرْشِدًا، وَيَكْشِفُ مِنْ غُمَّةٍ، وَيُنْقِذُ مِنْ حَيْرَةٍ، وَيَعْصِمُ شَارِبًا مَا دَخَلَ عَلَى الْفَاسِدِ مِنَ التَّأْوِيلِ وَالضَّعِيفِ مِنَ الْحُجَّةِ وَيَرْدَعُ طَاعِنًا في خِيَارِ السَّلَفِ بِشُرْبِ الْحَرَامِ، وَأُؤَمِّلُ بِحُسْنِ النِّيَّةِ فِي ذَلِكَ مِنَ اللَّهِ حُسْنَ الْمَعُونَةِ، وَالتَّغَمُّدَ لِلزَّلَّةِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بالله.
قد أجمع الناس عَلَى تَحْرِيمِ الْخَمْرِ بِكِتَابِ اللَّهِ إِلَّا قَوْمًا مِنْ مُجَّانِ أَصْحَابِ الْكَلَامِ وَفُسَّاقِهِمْ لَا يَعْبَأُ اللَّهُ بِهِمْ فَإِنَّهُمْ قَالُوا: لَيْسَتِ الْخَمْرُ مُحَرَّمَةً وَإِنَّمَا نَهَى اللَّهُ عَنْ شُرْبِهَا تَأْدِيبًا كَمَا أَنَّهُ أَمَرَ فِي الْكِتَابِ بِأَشْيَاءَ وَنَهَى فِيهِ عَنْ أَشْيَاءَ عَلَى جِهَةِ التَّأْدِيبِ وَلَيْسَ مِنْهَا فَرْضٌ كَقَوْلِهِ فِي
আর সেই যুগে ঐ সকল ইমামগণের মাঝে যে বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) সংঘটিত হয়েছে, তা সঙ্গতভাবেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জটিল হতে পারে এবং এ বিষয়ে তাদের মতামত ভিন্ন হতে পারে ও বিবাদ বৃদ্ধি পেতে পারে। আমি এ বিষয়ে মানুষের মাযহাবসমূহ, তাদের প্রত্যেক দলের নিজ নিজ মাযহাবের পক্ষে উপস্থাপিত দলীল এবং সঠিকটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রগুলো আমার লব্ধ জ্ঞান ও সাধ্য অনুযায়ী বর্ণনা করেছি; আর তা এমন কারণ ও গূঢ় কারণের (علة) ভিত্তিতে যা তার প্রতি নির্দেশ করে। সম্ভবত আল্লাহ এর মাধ্যমে কোনো হিদায়াতপ্রত্যাশীকে পথ প্রদর্শন করবেন, অন্ধকার দূরীভূত করবেন, বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করবেন এবং পানকারীকে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা ও দুর্বল (ضعيف) দলীলের প্রভাব থেকে হেফাযত করবেন, আর হারাম পান করার দোহাই দিয়ে উত্তম পূর্বসূরিগণের প্রতি কটাক্ষকারীকে বিরত রাখবেন। আমি এ বিষয়ে সৎ নিয়তের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট উত্তম সাহায্য এবং ভুল-ত্রুটি ক্ষমার আশা রাখি; আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।
নিশ্চয়ই মানুষ আল্লাহর কিতাবের ভিত্তিতে মদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছেন, কেবল কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে একদল বেপরোয়া ও পাপাচারী ব্যতীত যাদের প্রতি আল্লাহ ভ্রূক্ষেপ করেন না। কেননা তারা বলে থাকে: মদ হারাম নয়, বরং আল্লাহ কেবল শিষ্টাচার হিসেবে তা পান করা থেকে নিষেধ করেছেন; যেমন তিনি কিতাবে শিষ্টাচার হিসেবে কিছু বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন এবং কিছু বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন যা মূলত আবশ্যকীয় (فرض) বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; যেমন তাঁর বাণী...
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
الْعَبِيدِ وَالْإِمَاءِ) فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فيهم خيرا (وقوله في النساء) فاهجروهن في المضاجع واضربوهن (وَكَقَوْلِهِ) وَلا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلا تَبْسُطْهَا كُلَّ البسط (وَقَالُوا لَوْ أَرَادَ تَحْرِيمَ الْخَمْرِ لَقَالَ حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْخَمْرُ كَمَا قَالَ) حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ (وَلَيْسَ لِلشُّغْلِ بِهَؤُلَاءِ وَجْهٌ وَلَا لِتَشْقِيقِ الْكَلَامِ بِالْحُجَجِ عَلَيْهِمْ مَعْنًى إِذْ كَانُوا مِمَّنْ لَا يَجْعَلُ حجة في إِجْمَاعٍ وَإِذْ كَانَ مَا ذَهَبُوا إليه لا يختل على عاقل ولا جاهل وَأَجْمَعَ النَّاسُ عَلَى أَنَّ مَا غلا وقذف بالزبد مِنْ عَصِيرِ الْعِنَبِ مِنْ غَيْرِ أَنْ تَمَسَّهُ النَّارُ خَمْرٌ وَأَنَّهُ لَا يَزَالُ خَمْرًا حَتَّى يَصِيرَ خلا.
واختلفوا فِي الْحَالِ الَّتِي يَخْرُجُ بِهَا مِنْ مَنْزِلَةِ الْخَمْرِ إِلَى مَنْزِلَةِ الْخَلِّ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ أَنْ يَتَنَاهَى فِي الْحُمُوضَةِ حَتَّى لَا يبقى فيها مستزاد
(দাস ও দাসীদের বিষয়ে) "তবে তাদের সাথে মুক্তির চুক্তিনামা (مكاتبة) সম্পন্ন করো যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে বলে জানো" (এবং নারীদের ব্যাপারে তাঁর বাণী) "তবে বিছানায় তাদের পরিত্যাগ করো এবং তাদের প্রহার করো" (এবং যেমন তাঁর বাণী) "তুমি তোমার হাত তোমার গ্রীবায় আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা পূর্ণভাবে প্রসারিতও করো না" (এবং তারা বলেছিল: যদি তিনি মদ (خمر) নিষিদ্ধ (حرام) করতে চাইতেন, তবে তিনি বলতেন: 'তোমাদের ওপর মদ (خمر) নিষিদ্ধ (حرام) করা হয়েছে' যেমন তিনি বলেছেন) "তোমাদের ওপর মৃত জানোয়ার ও রক্ত নিষিদ্ধ (حرام) করা হয়েছে।" এই সকল লোকদের নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দলিলের (حجة) মাধ্যমে তাদের সাথে বাকবিতণ্ডা বা তর্কের শাখা-প্রশাখা বিস্তারের কোনো অর্থ হয় না; কেননা তারা এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা ঐক্যমতকে (إجماع) দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য করে না এবং তারা যে মত পোষণ করেছে তা কোনো বুদ্ধিমান বা অজ্ঞ কারোর কাছেই অস্পষ্ট নয়। আর মানুষ এ বিষয়ে ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছেছে যে, আঙুরের রস আগুনের স্পর্শ ছাড়াই যখন ফুটে ওঠে এবং ফেনা উগলে দেয়, তখন তা মদ (خمر); আর তা মদ (خمر) হিসেবেই বহাল থাকে যতক্ষণ না তা সিরকায় পরিণত হয়।
আর তারা সেই অবস্থা সম্পর্কে মতভেদ (اختلاف) করেছেন, যার মাধ্যমে এটি মদের (خمر) পর্যায় থেকে বের হয়ে সিরকার পর্যায়ে উপনীত হয়। অতঃপর তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তা হলো টক স্বাদের এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো যাতে তাতে আর অম্লতা বৃদ্ধির কোনো অবকাশ না থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
وَقَالَ آخَرُونَ هُوَ أَنْ تَغْلِبَ عَلَيْهَا الْحُمُوضَةُ وَتُفَارِقَهَا النَّشْوَةُ وَهَذَا هُوَ الْقَوْلُ لِأَنَّ الْخَمْرَ لَيْسَتْ مُحَرَّمَةَ الْعَيْنِ كَمَا حُرِّمَ عَيْنُ الخنازير وَإِنَّمَا حُرِّمَتْ بِعَرَضٍ دَخَلَهَا فَإِذَا زَايَلَهَا ذَلِكَ الْعَرَضُ عَادَتْ حَلَالًا كَمَا كَانَتْ قَبْلَ الْغَلَيَانِ حَلَالًا.
وما أَكْثَرَ مَنْ يَذْهَبُ مِنْ أَهْلِ النَّظَرِ إِلَى أَنَّ الْخَمْرَ إِذَا انقلبت عن عصير
অন্যান্যরা বলেছেন যে, এটি হলো তাতে অম্লতা বা টক ভাব প্রবল হওয়া এবং তা থেকে মত্ততা দূরীভূত হওয়া। আর এটিই হলো সঠিক কথা; কারণ মদ শুকরের ন্যায় সত্তাগতভাবে নিষিদ্ধ (محرمة العين) নয়। বরং এটি এতে প্রবিষ্ট একটি আপতিত গুণের কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিল। সুতরাং যখন সেই গুণটি অপসারিত হয়, তখন তা পুনরায় বৈধ (حلال) হয়ে যায়, ঠিক যেমনটি গাজন প্রক্রিয়ার পূর্বে তা বৈধ (حلال) ছিল।
তাত্ত্বিক আলেমদের (أهل النظر) মধ্যে এমন লোকের সংখ্যা অনেক যারা এই অভিমত পোষণ করেন যে, মদ যখন ফলের রস থেকে রূপান্তরিত হয়ে...
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
والخل إذ انْقَلَبَ عَنْ خَمْرٍ أنَّ عَيْنَ كُلِّ وَاحِدٍ غَيْرُ عَيْنِ الآخَرِ وهذا الْقَوْلِ مَا لَيْسَ بِهِ خَفَاءٌ عَلَى مَنْ تَدَبَّرَهُ وَأَنْصَفَ مِنْ نفسه وكيف يكون ههنا عَيْنَانِ وَالْجِسْمُ وَاحِدٌ لَمْ يَخْرُجْ مِنَ الْوِعَاءِ وَلَمْ يُبَدَّلْ وَإِنَّمَا انْتَقَلَتْ أَعْرَاضُهُ تَارَةً مِنْ حَلَاوَةٍ إِلَى مَرَارَةٍ وَتَارَةً مِنْ مَرَارَةٍ إِلَى حُمُوضَةٍ وَلَمْ يَذْهَبِ الْعَرَضُ الأول جملة واحدة وَلَا أَتَى الْعَرَضُ الثَّانِي جُمْلَةً وَإِنَّمَا زَالَ مِنْ كُلِّ وَاحِدٍ شَيْءٌ بَعْدَ شَيْءٍ كَمَا يَنْتَقِلُ طَعْمُ الثَّمَرَةِ وَهِيَ غَضَّةٌ مِنَ الْحُمُوضَةِ إِلَى الْحَلَاوَةِ وَهِيَ يَانِعَةٌ وَالْعَيْنُ قَائِمَةٌ وَكَمَا يَأْجِنُ الْمَاءُ بول الْمُكْثِ فَيَتَغَيَّرُ طَعْمُهُ وَرِيحُهُ وَالْعَيْنُ قَائِمَةٌ وَكَمَا يَرُوبُ اللَّبَنُ بَعْدَ أَنْ كَانَ صَرِيفًا فَيَتَغَيَّرُ رِيحُهُ وَطَعْمُهُ وَالْعَيْنُ قَائِمَةٌ ومِثْلُ الْخَمْرِ مِمَّا حَلَّ بِعَرَضٍ وَحَرُمَ بِعَرَضٍ المسك كان دما عبيظا حَرَامًا ثُمَّ جَفَّ وَحَدَثَتْ رَائِحَتُهُ فيه فصار طيبا حلالا.
وأما النَّبِيذُ فَاخْتَلَفُوا فِي مَعْنَاهُ فَقَالَ قَوْمٌ هُوَ مَاءُ الزَّبِيبِ وَمَاءُ التَّمْرِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُغْلَيَا فَإِذَا اشْتَدَّ ذَلِكَ وَصَلُبَ فَهُوَ خَمْرٌ وَقَالُوا إِنَّمَا كَانَ الْأَوَّلوُنَ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ يَشْرَبُونَ ذَلِكَ يَتَّخِذُونَهُ فِي صَدْرِ نَهَارِهِمْ وَيَشْرَبُونَهُ فِي آخِرِهِ وَيَتَّخِذُونَهُ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ وَيَشْرَبُونَهُ عَلَى غَدَائِهِمْ وَعَشَائِهِمْ
মদ থেকে যখন সিরকা তৈরি হয়, তখন তাদের প্রত্যেকের মূল সত্তা একে অপরের থেকে ভিন্ন নয়। যারা এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন এবং নিজের প্রতি ন্যায়বিচার করেন, তাদের কাছে এই বক্তব্যটি অস্পষ্ট নয়। এখানে দুটি ভিন্ন সত্তা কীভাবে হতে পারে যখন বস্তুগত দেহ বা কাঠামো একটিই, যা পাত্র থেকে বের করা হয়নি এবং পরিবর্তনও করা হয়নি? বরং এর গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্যগুলো কখনো মিষ্টি থেকে তিক্ততায়, আবার কখনো তিক্ততা থেকে টক স্বাদে স্থানান্তরিত হয়েছে মাত্র। প্রথম বৈশিষ্ট্যটি একেবারে চলে যায়নি এবং দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটিও হঠাৎ করে আসেনি; বরং একে একে একটির পর একটি বৈশিষ্ট্য দূরীভূত হয়েছে। যেমন ফলের স্বাদ যখন কাঁচা থাকে তখন টক হয় এবং যখন তা পরিপক্ব হয় তখন মিষ্টিতে রূপান্তরিত হয়, অথচ তার মূল সত্তা অপরিবর্তিত থাকে। যেমন দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে পানির স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়ে যায়, কিন্তু তার মূল সত্তা অপরিবর্তিত থাকে। যেমন তাজা দুধ দইয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর তার গন্ধ ও স্বাদ বদলে যায়, অথচ তার মূল সত্তা ঠিকই থাকে। মদের বিষয়টিও ঠিক তেমনি, যা বিশেষ গুণের কারণে হালাল হয় এবং বিশেষ গুণের কারণে হারাম হয়। কস্তুরীর উদাহরণও তদ্রূপ, যা প্রথমে রক্ত ছিল এবং হারাম ছিল, অতঃপর তা শুকিয়ে গেল এবং তাতে সুগন্ধি তৈরি হলো, ফলে তা উত্তম ও হালাল হয়ে গেল।
আর নাবিদ-এর অর্থ নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। একদল বলেছেন, তা হলো কিশমিশ বা খেজুরের ভেজানো পানি ফুটে ওঠার বা গাঁজানোর পূর্ব পর্যন্ত। যখন তা তীব্র এবং কড়া হয়ে যায়, তখন তা মদ হিসেবে গণ্য হয়। তারা বলেছেন যে, অগ্রগামী সাহাবী (صحابة) এবং তাবেয়ীগণ (تابعين) এটি পান করতেন। তারা দিনের শুরুতে এটি প্রস্তুত করতেন এবং দিনের শেষে পান করতেন; অথবা রাতের শুরুতে প্রস্তুত করতেন এবং সকাল ও রাতের খাবারের সাথে তা পান করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
وَقَالُوا سُمِّيَ نَبِيذًا لِأَنَّهُمْ كَانُوا يَأْخُذُونَ الْقَبْضَةَ مِنَ التَّمْرِ أَوِ الزَّبِيبِ فَيَنْبِذُونَهَا فِي السِّقَاءِ أَيْ يقلونها فِيهِ وَقَالَ آخَرُونَ النَّبِيذُ مَا اتُّخِذَ مِنَ الزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الْمُسْتَخْرَجِ بِالْمَاءِ أَوْ تُرِكَ حَتَّى يَغْلِيَ وَحَتَّى يَسْكُنَ وَلَا سمى نَبِيذًا حَتَّى يَنْتَقِلَ عَنْ حَالِهِ الْأُولَى كَمَا لَا يُسَمَّى الْعَصِيرُ خَمْرًا حَتَّى يَنْتَقِلَ عَنْ حَلَاوَتِهِ وَلَا يُسَمَّى الْخَمْرُ خَلًّا حَتَّى تَنْتَقِلَ عَنْ مَرَارَتِهَا وَنَشْوَتِهَا وَإِنَّمَا سُمِّيَ نَبِيذًا لِأَنَّهُ كَانَ يُتَّخَذُ وَيُنْبَذُ أَيْ يُتْرَكُ وَيُعْرَضُ عَنْهُ حَتَّى يَبْلُغَ وَهَذَا هُوَ الْقَوْلُ لِأَنَّ النَّبِيذَ لَوْ كَانَ مَاءَ الزَّبِيبِ لَمَا وَقَعَ فِيهِ الِاخْتِلَافُ وَلَأَجْمَعَ النَّاسُ جَمِيعًا عَلَى أَنَّهُ حَلَالٌ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَغْلِيَ
তারা বলেছেন যে, একে ‘নাবিজ’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ তারা এক মুষ্টি খেজুর বা কিশমিশ নিতেন এবং তা মশকে নিক্ষেপ করতেন, অর্থাৎ তারা তাতে ওগুলো ভিজিয়ে রাখতেন। অন্যরা বলেছেন, ‘নাবিজ’ হলো যা কিশমিশ, খেজুর বা অন্য বস্তু থেকে পানির মাধ্যমে নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করা হয় অথবা যা ফুটে ওঠা (গাঁজন হওয়া) এবং থিতিয়ে পড়া পর্যন্ত রেখে দেওয়া হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তা তার প্রাথমিক অবস্থা থেকে পরিবর্তিত না হয় ততক্ষণ তাকে ‘নাবিজ’ বলা হয় না, যেমন ফলের রস যতক্ষণ তার মিষ্টতা থেকে পরিবর্তিত না হয় ততক্ষণ তাকে মদ বলা হয় না এবং মদ যতক্ষণ তার তিক্ততা ও মত্ততা থেকে পরিবর্তিত না হয় ততক্ষণ তাকে সিরকা বলা হয় না। মূলত একে ‘নাবিজ’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি প্রস্তুত করা হতো এবং নিক্ষেপ (ফেলে রাখা) হতো, অর্থাৎ একে ছেড়ে দেওয়া হতো এবং তা পূর্ণতা পাওয়া পর্যন্ত তা থেকে বিমুখ থাকা হতো। আর এটিই হলো সঠিক কথা; কারণ ‘নাবিজ’ যদি কেবল কিশমিশের পানি হতো, তবে এ নিয়ে কোনো মতভেদ সৃষ্টি হতো না এবং ফুটে ওঠার আগে এটি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সকল মানুষ ঐকমত্য পোষণ করত।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
فَفِيمَ اخْتَلَفَ الْمُخْتَلِفُونَ وَعَمَّ سَأَلَ السَّائِلُونَ؟ قَالَ الشَّاعِرُ:
نَبِيذٌ إِذَا مَرَّ الذُّبَابُ بِدَنِّهِ
… تَفَطَّرَ أَوْ خَرَّ الذُّبَابُ وَقِيذَا
وَقَالَ ابْنُ شيرمة:
وَنَبِيذُ الزَّبِيبِ مَا اشْتَدَّ مِنْهُ
… فَهُوَ لِلْخَمْرِ وَالطِّلَاءِ نَسِيبُ
وَقَالَ الآخر:
تَرَكْتُ النَّبِيذَ وَشُرَّابَهَ
… وَصِرْتُ حَدِيثًا لِمَنْ عَابَهُ
شَرَابًا يُضِلُّ سَبِيلَ الرَّشَادِ
… وَيَفْتَحُ لِلشَّرِّ أَبْوَابَهُ
فَسَمَّاهُ نَبِيذًا وَهُوَ يَفْعَلُ هَذَا الْفِعْلَ وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ أَرَادَ مَاءَ الزَّبِيبِ وَلَا مَاءَ التَّمْرِ قَبْلَ أَنَ يُغْلَيَا.
وَرَوَى الْوَاقِدِيُّ عن أخيه سلمة بْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ بْنِ شيبة
তবে মতভেদকারীরা কী বিষয়ে মতভেদ করল এবং জিজ্ঞাসুগণ কী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল? কবি বলেছেন:
এমন এক নাবিয, যার মটকার পাশ দিয়ে মাছি উড়ে গেলে
… তা ফেটে যায় অথবা মাছিটি নিস্তেজ হয়ে লুটিয়ে পড়ে।
ইবনে শুবরুমাহ বলেছেন:
কিশমিশের নাবিয যখন তীব্রতা লাভ করে
… তখন তা মদ্য ও ঘনীভূত আঙুর রসের সমগোত্রীয় হয়ে যায়।
অন্য একজন বলেছেন:
আমি নাবিয ও এর পানকারীদের বর্জন করেছি
… এবং যারা এর নিন্দা করে তাদের কাছে আমি আলোচনার হাদিস হয়ে পড়েছি।
এমন এক পানীয় যা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে
… এবং মন্দের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়।
তিনি একে নাবিয বলে অভিহিত করেছেন অথচ এটি এই জাতীয় কাজ (মাদকতা) করে থাকে। আর এটা হওয়ার অবকাশ নেই যে, তিনি এর দ্বারা কিশমিশ বা খেজুরের সাধারণ রস বুঝিয়েছেন তা ফুটিয়ে তোলার আগে।
আল-ওয়াকিদি বর্ণনা করেছেন (روى) তাঁর ভাই সালামাহ বিন উমর থেকে, তিনি উমর বিন শায়বাহ থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
ابن أبي كبير الْأَشْجَعِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنّ رَسُولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: خِدْرُ الْوَجْهِ مِنَ النَّبِيذِ تَتَنَاثَرُ مِنْهُ الْحَسَنَاتُ وَمَاءُ الزَّبِيبِ لَا يُخْدَرُ مِنْهُ الْوَجْهُ وَلَا تَتَنَاثَرُ مِنْهُ الْحَسَنَاتُ. وَرَوَى شَرِيكٌ عن أبي اسحق عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ قَالَ: سَقَانِي ابْنُ مَسْعُودٍ نَبِيذًا شَدِيدًا من جر أخضر
ইবনে আবি কাবির আল-আশজায়ি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নাবিজ পানের ফলে মুখমণ্ডলে যে অসাড়তা তৈরি হয়, তাতে নেক আমলসমূহ ঝরে পড়ে। তবে কিশমিশের পানির কারণে মুখমণ্ডল অসাড় হয় না এবং তাতে নেক আমলও ঝরে পড়ে না।" আর শারিক আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি আমর ইবনে হুরাইস থেকে বর্ণনা করেছেন (روى); তিনি বলেন: "ইবনে মাসউদ আমাকে একটি সবুজ রঙের মাটির পাত্র থেকে তীব্র নাবিজ পান করিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
وحدثني سبابة بن عمرو بن حميد عن كبير بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَصْحَابُ أَنَسٍ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يَشْرَبُ النَّبِيذَ الصُّلْبَ الَّذِي يَكُونُ فِي الْخَوَابِي وَمَا جَاءَ فِي مِثْلِ هَذَا مِمَّا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ النبيذ ما غلا وأسكر كثيرا وفرق بين النبيذ الزَّبِيبِ وَنَبِيذِ التَّمْرِ وَلَا أَعْلَمُ بينهما فرقا فيكره واحد ويسحب آخَرُ لِأَنَّهُمَا جَمِيعًا مُسْكِرَانِ أَنْشَدَ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ:
أَلَا يَا أَيُّهَا الْمُهْدِي
… إِلَيْنَا الْآسَ مِنْ شَهْرِ
دع الآس ولا تغفل
…
সাবাবাহ ইবনে আমর ইবনে হুমাইদ কাবীর ইবনে সুলাইম থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাস (রা.)-এর সাথীরা তাঁর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মাটির মটকায় রাখা তীব্র নাবীজ পান করতেন। এ জাতীয় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা প্রমাণ করে যে, নাবীজ হলো সেই পানীয় যা গাঁজিয়ে উঠেছে এবং যা অধিক মাত্রায় নেশা উদ্রেককারী। কিসমিসের নাবীজ এবং খেজুরের নাবীজের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে, তবে আমি এ দুটির মধ্যে এমন কোনো পার্থক্য দেখি না যার কারণে একটি অপছন্দনীয় (مكروه) হবে এবং অন্যটি গ্রহণ করা হবে; যেহেতু উভয়টিই মাদক (مسكر)। ইবনুল আরাবী আবৃত্তি করেছেন:
ওহে উপহার প্রদানকারী ব্যক্তি
... যে আমাদের নিকট মাসের শুরুতে সুগন্ধি লতা পাঠিয়েছে
সুগন্ধি লতা ত্যাগ করো এবং বিস্মৃত হয়ো না
...
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
إِذَا جِئْتَ عَنِ التَّمْرِ
فإنَّ الآس لا يسكر
… واللذة فِي السُّكْرِ
حُجَجُ الْمُحَرِّمِينَ لِجَمِيعِ مَا أَسْكَرَوَأَمَّا الْمُسْكِرُ فإنَّ فَرِيقًا يَذْهَبُونَ إِلَى أَنَّ كُلَّ شيء أسكر كثيرا كَائِنًا مَا كَانَ وَلَوْ بَلَغَ فَرَقًا فَقَلِيلُهُ كَائِنًا مَا كَانَ وَلَوْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ حَرَامٌ، فَلَمْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ ابْنِ ثَلَاثِ لَيَالٍ مِنْ نَبِيذِ التمر إذا غلا، وَبَيْنَ ابْنِ ثَلَاثَةِ أَحْوَالٍ مِنْ عتيق المسكر وَعَتِيقِ الْخَمْرِ، وَلَا فَرَّقُوا فِي ذَلِكَ بَيْنَ مُنْفَرِدٍ وَخَلِيطَيْنِ، وَلَا بَيْنَ شَدِيدٍ وَسَهْلٍ وَلَا بَيْنَ مَا اسْتُخْرِجَ بِالْمَاءِ وَمَا اسْتُخْرِجَ بِالنَّارِ، وَقَضَوْا عَلَيْهِ كُلِّهِ بَأَنَّهُ حَرَامٌ وَبِأَنَّهُ خَمْرٌ، وَذَهَبُوا مِنَ الْأَثَرِ إِلَى حَدِيثٍ حَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خِدَاشٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عن أيوب عن نافع عن عُمَرَ أنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وكل مسكر حرام، وحديث
যখন তুমি খেজুর ছেড়ে আসবে
নিশ্চয়ই সুগন্ধি লতা (আস) মত্ততা সৃষ্টি করে না
… আর প্রকৃত আনন্দ তো মত্ততার মধ্যেই নিহিত
সকল প্রকার মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ (حرام) সাব্যস্তকারীদের দলীলসমূহআর মাদকদ্রব্যের বিষয়ে একদল বিশেষজ্ঞ এই অভিমত পোষণ করেন যে, যা কিছু অধিক পরিমাণে পান করলে মত্ততা সৃষ্টি করে, তা যা-ই হোক না কেন এবং পরিমাণে তা এক ফারাক (একটি বিশেষ পরিমাপ) হলেও—তার সামান্য পরিমাণও যা-ই হোক না কেন, এমনকি তা যদি একটি সরিষার দানার ওজন পরিমাণও হয়, তবে তা নিষিদ্ধ (حرام)। তারা তিন রাত অতিক্রান্ত হওয়া খেজুরের নাবীজ (যখন তা গেঁজে ওঠে) এবং তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়া পুরাতন মাদক ও পুরাতন মদের (خمر) মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তারা এক্ষেত্রে একক উপাদানে প্রস্তুত ও মিশ্র উপাদানে প্রস্তুত পানীয়ের মধ্যে, কিংবা তীব্র ও মৃদু পানীয়ের মধ্যে, অথবা যা পানি দ্বারা নিষ্কাসিত ও যা আগুন দ্বারা নিষ্কাসিত—তার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তারা এর সবকিছুর ওপরই নিষিদ্ধ (حرام) হওয়ার এবং একে মদ (خمر) হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন। তারা বর্ণনা (أثر) হিসেবে এমন একটি হাদিসের শরণাপন্ন হয়েছেন যা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে খালিদ ইবনে খিদাশ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি নাফি থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "প্রত্যেক মাদকই মদ (خمر) এবং প্রত্যেক মাদকই নিষিদ্ধ (حرام)," এবং হাদিস
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
حَدَّثَنِيهِ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ عَنِ الْمُعْتَمِرِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ مَهْدِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ الأنصاري عَنْ عَائِشَةَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهَا أنَّ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَا أَسْكَرَ الْفَرَقُ فَالْحَسْوَةُ مِنْهُ حَرَامٌ، وَحَدِيثٍ حَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ
ইসহাক বিন রাহওয়াইহ আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন মুতামির বিন সুলায়মান থেকে, তিনি মাহদী বিন মায়মুন থেকে, তিনি আবু উসমান আল-আনসারী থেকে এবং তিনি আয়িশা (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্যই নিষিদ্ধ (حرام); আর যা অধিক পরিমাণে (الفرق) পান করলে নেশা হয়, তার সামান্য এক ঢোকও (الحسوة) নিষিদ্ধ (حرام)।" এবং অপর একটি হাদিস যা মুহাম্মদ বিন উবাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ أنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم قَالَ: كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ، مَعَ أَشْبَاهٍ لِهَذَا مِنَ الْحَدِيثِ يَطُولُ الْكِتَابُ بِاسْتِقْصَائِهَا وفي ما ذَكَرْنَا مِنْ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ غِنًى عن ذكر جَمِيعِهَا لِأَنَّهَا أَغْلَظُهَا فِي التَّحْرِيمِ وَأَشَدُّهَا إِفْصَاحًا بِهِ، وَأَبْعَدُهَا مِنْ حِيلَةِ الْمُتَأَوِّلِ.
وَقَالُوا وَالشَّاهِدُ عَلَى ذَلِكَ مِنَ النَّظَرِ أَنَّ الْخَمْرَ إِنَّمَا حُرِّمَتْ لِإِسْكَارِهَا وَجَرَائِرِهَا عَلَى شَارِبِهَا، وَلِأَنَّهَا رِجْسٌ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى وَجَلَّ مِنْ قَائِلٍ:) إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ، إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ الله وعن الصلاة فهل أنتهم منتهون. (وَقَدْ كَانَ كَثِيرٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم حَرَّمُوا الْخَمْرَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لِعِلْمِهِمْ بِسُوءِ مَصْرَعِهَا وكثرة جناياتها،
ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রত্যেক পানীয় যা নেশা সৃষ্টি করে তা হারাম (حرام)।" এই প্রকারের আরও সদৃশ হাদিস রয়েছে, যা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে (استقصاء) বর্ণনা করতে গেলে কিতাবটি দীর্ঘ হয়ে যাবে। আমরা এই হাদিসগুলোর মধ্য থেকে যা উল্লেখ করেছি, তা-ই সব হাদিস বর্ণনার জন্য যথেষ্ট। কারণ এগুলো হারাম (حرام) হওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর, অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং অপব্যাখ্যাকারীর অপকৌশল থেকে অনেক দূরে।
তারা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তিনির্ভর প্রমাণ হলো— মদ কেবল তার মাদকতা এবং পানকারীর ওপর এর অশুভ পরিণতির কারণেই নিষিদ্ধ বা হারাম (حرام) করা হয়েছে, এবং একারণে যে এটি একটি অপবিত্র (رجس) বস্তু। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে?" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনেক সাহাবী জাহেলিয়াত আমলেই নিজেদের জন্য মদ হারাম (حرام) করে নিয়েছিলেন, কারণ তারা এর অশুভ পরিণতি এবং এর দ্বারা সংঘটিত বহুবিধ অপরাধ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
قالت عائشة رحمة الله عليها مَا شَرِبَ أَبُو بَكْرٍ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ خَمْرًا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ. وَقَالَ عُثْمَانُ رَحْمَةُ الله عليه ما تغنيت ولا تفتيت وَلَا شَرِبْتُ خَمْرًا فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلَا إِسْلَامٍ، وَلَا مَسَسْتُ فَرْجِي بِيَمِينِي مُنْذُ بَايَعْتُ بِهَا رَسُولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ تَرَكَ شُرْبَهَا وَقَالَ فِيهَا بَيْتًا:
رَأَيْتُ الْخَمْرَ شَارِبَهَا مُعَنَّى
… بِرَجْعِ الْقَوْلِ أَوْ فَصْلِ الْخِطَابِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو ابن دينار عن يحيى بن جعد قَالَ قَالَ عُثْمَانُ: إِيَّاكُمْ وَالْخَمْرَ فإنها مفتاح كل شر.
আয়েশা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহা) বলেন, আবু বকর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) জাহিলিয়াত কিংবা ইসলাম—কোনো যুগেই কখনও মদ পান করেননি। উসমান (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, আমি কখনও গান গাইনি, কখনও মিথ্যাচার করিনি এবং জাহিলিয়াত বা ইসলাম কোনো কালেই মদ পান করিনি। আর যবে থেকে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছি, তবে থেকে কখনও আমার ডান হাত দিয়ে আমার লজ্জাস্থান স্পর্শ করিনি। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মদ পান বর্জন করেছিলেন এবং এ সম্পর্কে একটি পংক্তি বলেছিলেন:
আমি দেখেছি মদ তার পানকারীকে লাঞ্ছিত করে
… কথার প্রত্যুত্তরে কিংবা চূড়ান্ত বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে।
মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আমর ইবনে দীনার হতে (عن), তিনি ইয়াহইয়া ইবনে জা’দ হতে (عن) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা তা সকল অনিষ্টের চাবিকাঠি।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
أُتِيَ بِرَجُلٍ فَقِيلَ لَهُ إِمَّا أَنْ تُخَرِّقَ هَذَا الْكِتَابَ وَإِمَّا أَنْ تَقْتُلَ هَذَا الصَّبِيَّ، وَإِمَّا أَنْ تَسْجُدَ لِهَذَا الْوَثَنِ، وَإِمَّا أَنْ تَشْرَبَ هَذِهِ الْكَأْسَ، وَإِمَّا أَنْ تَقَعَ عَلَى هَذِهِ الْمَرْأَةِ، فَلَمْ يَرَ شَيْئًا أَهْوَنَ عَلَيْهِ مِنْ شُرْبِ الْكَأْسِ فَشَرِبَ، فَوَقَعَ عَلَى الْمَرْأَةِ وَقَتَلَ الصَّبِيَّ، وَخَرَّقَ الْكِتَابَ وَسَجَدَ لِلصَّلِيبِ.
وَقِيلَ لِلْعَبَّاسِ بن مرداس في الجاهلية لِمَ لَا تَشْرَبُ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا تَزِيدُ فِي جُرْأَتِكَ فَقَالَ: مَا أَنَا بِآخِذٍ جَهْلِي بِيَدِي فَأُدْخِلَهُ فِي جَوْفِي وَأُصْبِحُ سَيِّدَ قَوْمِي وأمسي سفيههم. وقيل له بعد ما آمن وَأَسْلَمَ: قَدْ كَبِرَتْ سِنُّكَ، وَدَقَّ عظمك، فلو أخذت هَذَا النَّبِيذِ شَيْئًا يُقَوِّيكَ، فَقَالَ: أُصْبِحُ سَيِّدَ قَوْمِي وَأُمْسِي سَفِيهَهُمْ، وآليت أن لا يَدْخُلَ رَأْسِي مَا يَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَقْلِي.
وَكَانَ قَيْسُ بْنُ عَاصِمٍ يَأْتِيهِ فِي جَاهِلِيَّتِهِ تَاجِرُ خمر فيبتاع منه
এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হলো এবং তাকে বলা হলো, হয় তোমাকে এই কিতাবটি ছিঁড়ে ফেলতে হবে, নতুবা এই শিশুটিকে হত্যা করতে হবে, অথবা এই প্রতিমাকে সিজদা করতে হবে, অথবা এই মদ্যপাত্রটি পান করতে হবে, কিংবা এই মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে হবে। সে মদ্যপানকেই নিজের জন্য সহজতর মনে করল এবং তা পান করল। অতঃপর সে মহিলার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো, শিশুটিকে হত্যা করল, কিতাবটি ছিঁড়ে ফেলল এবং ক্রুশকে সিজদা করল।
জাহেলিয়াত যুগে আব্বাস ইবনে মিরদাসকে বলা হয়েছিল, "আপনি কেন মদ পান করেন না? অথচ তা আপনার সাহসিকতা বৃদ্ধি করে।" তিনি বললেন, "আমি নিজ হাতে নিজের মূর্খতাকে গ্রহণ করে তা আমার উদরে প্রবেশ করাব না; আমি সকালে আমার কওমের সর্দার থাকি আর সন্ধ্যায় তাদের কাছে নির্বোধে পরিণত হই।" ইমান আনা ও ইসলাম গ্রহণের পর তাকে বলা হলো, "আপনার বয়স হয়েছে এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়েছে, সুতরাং আপনি যদি সামান্য এই নবিয গ্রহণ করতেন যা আপনাকে শক্তি জোগাবে!" তিনি বললেন, "আমি সকালে আমার কওমের সর্দার থাকি আর সন্ধ্যায় তাদের কাছে নির্বোধে পরিণত হই। আমি শপথ করেছি যে, আমার মস্তিস্কে এমন কিছু প্রবেশ করাব না যা আমার এবং আমার বিবেকের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াবে।"
জাহেলিয়াত যুগে কায়স ইবনে আসিমের নিকট জনৈক মদ্য ব্যবসায়ী আসত এবং তিনি তার থেকে তা ক্রয় করতেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
وَلَا يَزَالُ الْخَمَّارُ فِي جِوَارِهِ حتى ينفذ مَا عِنْدَهُ، فَشَرِبَ قَيْسٌ ذَاتَ يَوْمٍ فَسكِرَ سُكْرًا قَبِيحًا فَجَذَبَ ابْنَتَهُ وَتَنَاوَلَ ثَوْبَهَا، وَرَأَى الْقَمَرَ فَتَكَلَّمَ بِشَيْءٍ، ثُمَّ أَنْهَبَ مَالَهُ وَمَالَ الْخَمَّارِ، وَأَنْشَأَ يَقُولُ وَهُوَ يَضْرِبُهُ.
مِنْ تَاجِرٍ فَاجِرٍ جَاءَ الْإِلَهُ بِهِ
… كَأَنَّ لِحْيَتَهُ أَذْنَابُ أَجْمَالِ
جَاءَ الْخَبِيثُ بِبَيْسَانِيَّةٍ تَرَكَتْ
… صَحْبِي وَأَهْلِي بِلَا عَقْلٍ وَلَا مَالِ
فَلَمَّا صَحَا خَبَّرَتْهُ ابْنَتُهُ بِمَا صَنَعَ وَمَا قَالَ فَآلَى لَا يَذُوقُ الْخَمْرَ أَبَدًا وَقَالَ:
رأيت الحمر صَالِحَةً وَفِيهَا
… خِصَالٌ تُفْسِدُ الرَّجُلَ الْحَلِيمَا
فَلَا وَاللَّهِ أَشْرَبُهَا صَحِيحًا
… ولا أُشْفَى بِهَا أَبَدًا سَقِيمَا
وَلَا أعطي بها ثمنا حياتي
… ولا أَدْعُو لَهَا أَبَدًا نَدِيمَا
وَكَانَ عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ حَرَّمَ الْخَمْرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَقَالَ: لَا أَشْرَبُ شَرَابًا يَذْهَبُ بِعَقْلِي وَيُضْحِكُ بِي مَنْ هُوَ أَدْنَى مِنِّي وَأُزَوِّجُ كَرِيمَتِي مَنْ لَا أُرِيدُ. فَبَيْنَمَا هُوَ بِالْعَوَالِي إِذْ أَتَاهُ آتٍ فَقَالَ: أَشَعَرْتَ أَنَّ الْخَمْرَ حُرِّمَتْ وَتَلَا عَلَيْهِ الْآيَةَ فِي الْمَائِدَةِ فَقَالَ: تَبًّا لَهَا لَقَدْ كَانَ بصري فيها نافذا.
মদ বিক্রেতা ততক্ষণ তার প্রতিবেশী হয়ে অবস্থান করত যতক্ষণ না তার নিকট গচ্ছিত সুরা নিঃশেষ হতো। একদিন কায়স মদ পান করলেন এবং অত্যন্ত কদর্যভাবে মাতাল হয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি নিজ কন্যাকে টেনে ধরলেন এবং তার পরিধেয় বস্ত্র ধরে টানাটানি করলেন। এরপর তিনি চাঁদ দেখে বিড়বিড় করে কিছু বললেন। অতঃপর তিনি নিজের সম্পদ এবং মদ বিক্রেতার সম্পদ লুণ্ঠিত হতে দিলেন এবং তাকে প্রহাররত অবস্থায় এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন:
আল্লাহ এমন এক পাপাচারী (فاجر) ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এটি নিয়ে এসেছেন
… যার দাড়ি যেন উটের লেজগুচ্ছের ন্যায়।
এই নিকৃষ্ট (الخبيث) ব্যক্তি এমন বায়সানি মদ নিয়ে এসেছে যা
… আমার সঙ্গী ও পরিবারকে বিবেক ও সম্পদহীন করে ছেড়েছে।
অতঃপর যখন তার নেশা কেটে গেল, তখন তার কন্যা তাকে তার কৃতকর্ম ও উক্তি সম্পর্কে অবহিত করল। তখন তিনি শপথ করলেন যে, তিনি আর কখনো মদ আস্বাদন করবেন না এবং বললেন:
আমি মদকে কল্যাণকর মনে করতাম, অথচ এতে রয়েছে
… এমন সব স্বভাব যা একজন ধৈর্যশীল মানুষকেও কলুষিত করে দেয়।
না, আল্লাহর কসম! সুস্থাবস্থায় আমি তা পান করব না
… এবং রুগ্নাবস্থায়ও কখনো তা দ্বারা আরোগ্য কামনা করব না।
সারা জীবনেও আমি এর বিনিময়ে কোনো মূল্য দেব না
… এবং কখনো এর জন্য কোনো পানসঙ্গীকে আহ্বান করব না।
উসমান ইবনে মাজউন জাহেলি যুগেও মদ নিষিদ্ধ (حرم) করেছিলেন এবং বলতেন: "আমি এমন কোনো পানীয় পান করব না যা আমার বিবেক হরণ করে এবং আমার চেয়ে নিম্নস্তরের লোকদের নিকট আমাকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করে, আর (নেশার ঘোরে) আমি আমার সম্মানিতা কন্যাকে এমন কারো সাথে বিবাহ দিয়ে বসি যাকে আমি চাই না।" এমতাবস্থায় তিনি যখন আওয়ালীতে অবস্থান করছিলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি এসে তাকে বলল: "আপনি কি সংবাদ পেয়েছেন যে, মদ নিষিদ্ধ (حرم) করা হয়েছে?" অতঃপর সে তার নিকট সুরা আল-মায়েদাহর আয়াত পাঠ করল। তখন তিনি বললেন: "মদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য! এ বিষয়ে আমার দূরদৃষ্টি সঠিক ছিল।"
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
قِيلَ لِأَعْرَابِيٍّ أَتَشْرَبُ النَّبِيذَ: فَقَالَ لَا أَشْرَبُ مَا يَشْرَبُ عَقْلِي. وَدَعَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ نُصَيْبًا أَوْ كُثَيِّرًا إِلَى نَدَامَتِهِ فَقَالَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي لَمْ أَصِرْ إِلَى هَذِهِ الْمَنْزِلَةِ بِمَالٍ وَلَا دِينٍ وَإِنَّمَا وَصَلْتُ بلساني وعقلي فإنَّ رأيت أن لا تَحُولَ بَيْنِي وَبَيْنَهُمَا فَافْعَلْ وَقَالَ بَعْضُ الشُّعَرَاءِ:
وَمَنْ تَقْرَعِ الْكَأْسُ الذَّمِيمَةُ سِنَّهُ
… فَلَا بُدَّ يَوْمًا أَنْ يُرِيبَ وَيَجْهَلَا
فَلَمْ أَرَ مشروبا أخس غنيمة
… وأوضع للأشراف منها وأخملا
وأجد أن تلقى بغيها
… ويشربها حتى يخر مجدلا
وقال الآخر:
وَلَسْتُ بِلَاحٍ لِي نَدِيمًا بِزَلَّةٍ
… وَلَا هَفْوَةٍ كَانَتْ وَنَحْنُ عَلَى الخمر
عركت بجبيني قول خدني وصاحبي
… ونحن عَلَى صَهْبَاءَ طَيِّبَةَ النَّشْرِ
وَأَيْقَنْتُ أَنَّ السُّكْرَ طَارَ بِلُبِّهِ
… فَأَغْرَقَ في شتيمتي وقال وما يدري
এক জনৈক বেদুইনকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি কি নাবীজ পান করেন?" সে উত্তর দিল, "যা আমার বুদ্ধিকে গ্রাস করে, আমি তা পান করি না।" ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক নুসাইব অথবা কুসাইরকে তাঁর মদ্যপানের আসরে আমন্ত্রণ জানালেন। তখন সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন! আমি সম্পদ বা দ্বীনের মাধ্যমে এই মর্যাদায় উপনীত হইনি; বরং আমি এখানে পৌঁছেছি আমার বাকপটুতা ও বুদ্ধির কারণে। সুতরাং আপনি যদি আমার এবং এই দুটির মাঝে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি না করা সমীচীন মনে করেন, তবে তাই করুন।" জনৈক কবি বলেছেন:
আর যার দাঁতে সেই নিন্দিত পানপাত্রের আঘাত লাগে
… তবে একদিন তাকে অবশ্যই বিভ্রান্ত ও মূর্খ হতে হবে।
আমি মদের চেয়ে তুচ্ছ কোনো লব্ধ বস্তু
… এবং শরীফদের জন্য এর চেয়ে লাঞ্ছনাকর ও অখ্যাতকারী কোনো পানীয় দেখিনি।
আমি একেই অধিক উপযুক্ত মনে করি যে সে এর অনিষ্টের সম্মুখীন হোক
… এবং সে তা পান করতে থাকুক যতক্ষণ না সে মুখ থুবড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
অন্য এক কবি বলেছেন:
আমি আমার কোনো পানসাথীকে তার স্খলনের জন্য তিরস্কার করি না
… আর না কোনো বিচ্যুতির জন্য, যা ঘটেছিল আমাদের মদ্যপানের অবস্থায়।
আমি ধৈর্য সহকারে আমার প্রাণের বন্ধু ও সঙ্গীর কথাকে সহ্য করে নিয়েছি
… এমতাবস্থায় যে আমরা সুগন্ধযুক্ত রক্তাভ মদের আসরে ছিলাম।
আমি সুনিশ্চিত ছিলাম যে মত্ততা তার বুদ্ধিকে হরণ করেছে
… তাই সে আমাকে গালিগালাজ করতে লিপ্ত হয়েছিল এবং সে জানত না সে কী বলছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
ودخل أمية بْنِ خَالِدِ بْنِ أُسَيْدٍ عَلَى عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ وَبِوَجْهِهِ آثَارٌ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: قُمْتُ اللَّيْلَ فَأَصَابَ الْبَابُ وَجْهِي فقال عبد الملك بن مروان:
رَأَتْنِي صَرِيعَ الْخَمْرِ يَوْمًا فَسُؤْتُهَا
… وللشاربيها الْمُدْمِنِيهَا مَصَارِعُ
فَقَالَ أُمَيَّةُ لَا آخذني الله بسؤ ظَنِّكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَ: بل لا آخذني الله بسؤ مصرعك.
ودخل حارث بْنُ بَدْرٍ الْغُدَانِيُّ عَلَى زِيَادٍ وَكَانَ حَارِثَةُ صَاحِبَ شَرَابٍ وَبِوَجْهِهِ أَثَرٌ فَقَالَ لَهُ زِيَادٌ: مَا هَذَا الْأَثَرُ بِوَجْهِكَ فَقَالَ رَكِبْتُ فرسا لي أشقر
উমাইয়া বিন খালিদ বিন উসাইদ আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় তার মুখমণ্ডলে জখমের চিহ্ন ছিল। তিনি (আব্দুল মালিক) জিজ্ঞেস করলেন: "এটি কী?" উমাইয়া উত্তর দিলেন: "আমি রাতে (ইবাদতের জন্য) উঠেছিলাম, তখন দরজার সাথে ধাক্কা লেগে আমার মুখমণ্ডলে আঘাত লাগে।" তখন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান বললেন:
সে একদিন আমাকে মদ্যপানে ধরাশায়ী হতে দেখে ব্যথিত হয়েছিল
… আর যারা মদ্যপানে আসক্ত, তাদের জন্য ধরাশায়ী হওয়ার বহু জায়গা রয়েছে।
উমাইয়া বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার কুধারণার জন্য আল্লাহ যেন আমাকে পাকড়াও না করেন।" তিনি (আব্দুল মালিক) বললেন: "বরং তোমার এই মন্দ পতনের কারণে আল্লাহ যেন আমাকে পাকড়াও না করেন।"
হারিস বিন বাদর আল-গুদানি যিয়াদের নিকট প্রবেশ করলেন। হারিস মদ্যপানে আসক্ত ছিলেন এবং তার মুখমণ্ডলে একটি জখমের চিহ্ন ছিল। যিয়াদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার মুখমণ্ডলে এই জখমের চিহ্নটি কিসের?" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি আমার একটি লোহিত বর্ণের ঘোড়ায় আরোহণ করেছিলাম..."
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
فَحَمَلَنِي حَتَّى صَدَمَ بِي الْحَائِطَ فَقَالَ لَهُ زِيَادٌ: أَمَا إِنَّكَ لَوْ رَكِبْتَ الْأَشْهَبَ لَمْ يُصِبْكَ مَكْرُوهٌ. وَكَانَ ابْنُ هَرْمَةَ الشَّاعِرُ فِي شَرَفِهِ وَنَسَبِهِ وَجَوْدَةِ شِعْرِهِ يَشْرَبُ الْخَمْرَ بِالْمَدِينَةِ وَيَسْكَرُ فَلَا يَزَالُ الشُّرَطُ وَقَدْ أَخَذُوهُ وَرَفَعُوهُ إِلَى الْوَالِي فِي الْمَدِينَةِ فَحَدَّهُ فَوَفَدَ عَلَى أَبِي جَعْفَرٍ الْمَنْصُورِ وَقَدْ قَالَ فِيهِ الْمِدْحَةَ الَّتِي امْتَدَحَهُ بِهَا وَقَافِيَتُهَا لَامٌ فَاسْتَحْسَنَهَا وَقَالَ لَهُ: سَلْ حَاجَتَكَ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ تَكْتُبُ إِلَى عامل المدينة أن لا يَحُدَّنِي إِنْ وَجَدَنِي سَكْرَانًا فَقَالَ أبو جعفر المنصور: هَذَا حَدٌّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ وَمَا كُنْتُ لِأُعَطِّلَهُ فَهَلْ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَهُ؟ قَالَ لَا وَاللَّهِ يا أمير المؤمنين فاحتمل لي بحلية فَكَتَبَ الْمَنْصُورُ إِلَى عَامِلِهِ مَنْ أَتَاكَ بِابْنِ هَرْمَةَ وَهُوَ سَكْرَانُ فاجلده مائة جلدة وَاجْلِدِ ابْنَ هَرْمَةَ ثَمَانِينَ فَرَضِيَ وَمَضَى بِكِتَابِهِ فَكَانَ الْعَوْنُ إِذَا مر به صرعا قَالَ: مَنْ يَشْتَرِي ثَمَانِينَ بِمِائَةٍ ثُمَّ أَعْرَضَ عَنْهُ. وَكَانَ مَالِكُ بن قيس مِنْ ثَقِيفٍ يَشْرَبُ مَعَ ابْنِ الكاهلية يوم عرفة وهم
অতঃপর সে আমাকে বহন করে নিয়ে চলল এবং এক পর্যায়ে আমাকে দেয়ালের সাথে ধাক্কা দিল। তখন যিয়াদ তাকে বলল: "শোনো, তুমি যদি ছাই রঙের ঘোড়ায় চড়তে তবে তুমি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না।" কবি ইবনে হারমাহ তার মর্যাদা, বংশগৌরব এবং কাব্যের উৎকর্ষ থাকা সত্ত্বেও মদীনায় মদ্যপান করতেন এবং মাতাল হতেন। ফলে প্রহরীরা নিয়মিত তাকে পাকড়াও করত এবং মদীনার গভর্নরের নিকট নিয়ে যেত, আর তিনি তাকে দণ্ড (حد) প্রদান করতেন। অতঃপর তিনি আবু জাফর আল-মানসুরের দরবারে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর প্রশংসায় এমন একটি প্রশংসাগীতি পাঠ করলেন যার অন্ত্যমিল ছিল 'লাম' বর্ণটি। আল-মানসুর সেটি পছন্দ করলেন এবং তাকে বললেন: "তোমার প্রয়োজন ব্যক্ত করো।" সে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি মদীনার প্রশাসকের প্রতি এই মর্মে আদেশ লিখে দিন যেন তিনি আমাকে দণ্ড (حد) না দেন যদি আমাকে মাতাল অবস্থায় পান।" আবু জাফর আল-মানসুর বললেন: "এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধানসমূহের (حدود) অন্তর্ভুক্ত একটি দণ্ড (حد), আর আমি তা স্থগিত করার কেউ নই। তোমার কি এছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজন আছে?" সে বলল: "না, আল্লাহর কসম হে আমিরুল মুমিনীন, তবে আমার জন্য কোনো কৌশলের (حيلة) ব্যবস্থা করুন।" তখন মানসুর তাঁর প্রশাসকের নিকট লিখে পাঠালেন: "যে ব্যক্তি ইবনে হারমাহকে তোমার কাছে মাতাল অবস্থায় নিয়ে আসবে, তাকে তুমি একশ বেত্রাঘাত করবে এবং ইবনে হারমাহকে আশি বেত্রাঘাত করবে।" এতে সে সন্তুষ্ট হলো এবং সেই পত্রটি নিয়ে প্রস্থান করল। এরপর থেকে কোনো প্রহরী যখনই তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মাতাল অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখত, সে বলত: "কে আছে যে একশ বেত্রাঘাতের বিনিময়ে আশি বেত্রাঘাত ক্রয় করবে?" অতঃপর সে তাকে এড়িয়ে চলে যেত। আর সাকিফ গোত্রের মালিক ইবনে কাইস আরাফার দিনে ইবনুল কাহিলিয়ার সাথে মদ্যপান করতেন এবং তারা...
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
محرومون فَغَلَبَهُ السُّكْرُ فَنَامَ حَتَّى فَاتَهُ الْحَجُّ وَأَدْرَكَهُ ابْنُ الْكَاهِلِيَّةِ فَقَالَ:
أَلَيْسَ اللَّهُ يَا مَالِ بْنَ قيس
… وأن غِبْنَا عَلَيْكَ رَقِيبَ عَيْنِ
أَقِمْ صَدْرَ الْمَطِيَّةِ وَانْجُ إِنِّي
… أَرَانِي وَابْنَ نَعْجَةِ هَالِكَيْنِ
فَأَيَّةُ جَرِيرَةٍ أَعْظَمُ مِنْ هَذِهِ وَأَيُّ غَبْنَةٍ أَشَدُّ مِنْ غَبْنَتِهَا وَصَفْقَةٍ أَخْسَرُ مِنْ صَفْقَتِهَا وَمَاذَا يَلْقَى صَاحِبُهَا من تعيير المعيرين فَإِذَا عَاوَدَهَا هَانَ عَلَيْهِ الْقَبِيحُ قَالَ الْقُطَامِيُّ:
أَفِرُّ إِذَا أَصْبَحْتُ من كل عاذل
… وأمسي وَقَدْ هَانَتْ عَلَيَّ الْعَوَاذِلُ
وَقَالَ ابْنُ هَانِئٍ:
اسْقِنِي حَتَّى تَرَانِي
… حَسَنًا عِنْدِي الْقَبِيحُ
وَسَقَى قَوْمٌ أعرابيا مُسْكِرًا فَلَمَّا أَنْكَرَتْ نَفْسَهَا قَالَتْ لَهُمْ: أَيَشْرَبُ هَذَا نِسَاؤُكُمْ؟ قَالُوا: نَعَمْ قَالَتْ: لَئِنْ كُنْتُمْ صَدَقْتُمْ لَا يَدْرِي أَحَدُكُمْ مَنْ أَبُوهُ وَكَانَتِ الْعَرَبُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَصَدْرِ الْإِسْلَامِ يَشْتَدُّونَ عَلَى النِّسَاءِ فِي شُرْبِهِ حَتَّى مَا يُحْفَظُ أنَّ امْرَأَةً شَرِبَتْ وَلَا أنَّ امْرَأَةً سكرت.
তারা বঞ্চিত ছিল। অতঃপর নেশা তাকে আচ্ছন্ন করল, ফলে সে ঘুমিয়ে পড়ল এবং হজ্জ করার সুযোগ হারাল। তখন ইবনে আল-কাহিলিয়্যা তার কাছে এসে বলল:
হে মালিক বিন কায়েস! আল্লাহ কি নেই
… আর আমরা যখন তোমার চোখের আড়ালে থাকি, তখন তিনি কি তোমার রক্ষক নন?
সওয়ারির গ্রীবা সচল করো এবং মুক্তি খোঁজো, নিশ্চয়ই আমি
… নিজেকে এবং ইবনে নাজআকে ধ্বংস হতে দেখছি।
এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কী হতে পারে? এর চেয়ে কঠিন বঞ্চনা আর কী হতে পারে? আর এর চেয়ে ক্ষতিকর লেনদেনই বা কী হতে পারে? আর এর কারণে এর কর্তা তিরস্কারকারীদের কাছ থেকে কতই না গঞ্জনা সইতে হবে! যখন কেউ এতে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তখন তার কাছে মন্দ বিষয়টি তুচ্ছ হয়ে যায়। আল-কুতামি বলেছেন:
আমি ভোরবেলা প্রত্যেক তিরস্কারকারী থেকে পালিয়ে বেড়াই
… আর সন্ধ্যাবেলা এমন অবস্থায় উপনীত হই যে, সব তিরস্কারই আমার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়।
ইবনে হানি বলেছেন:
আমাকে পান করাও যতক্ষণ না তুমি আমাকে এমন অবস্থায় দেখ
… যে মন্দ বিষয়টি আমার কাছে ভালো মনে হয়।
একদল লোক জনৈক বেদুঈন নারীকে নেশাদ্রব্য (مسكر) পান করাল। যখন সে নিজের মধ্যে পরিবর্তন অনুভব করল, তখন সে তাদের বলল: তোমাদের নারীরাও কি এটি পান করে? তারা বলল: হ্যাঁ। সে বলল: তোমরা যদি সত্য বলে থাকো, তবে তোমাদের কেউ জানবে না তার পিতা কে। জাহিলিয়াত (الجاهلية) এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে (صدر الإسلام) আরবরা নারীদের মদপানের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ছিল, এমনকি কোনো নারী মদ পান করেছে বা নেশাগ্রস্ত হয়েছে এমন কোনো বিবরণ সংরক্ষিত নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
وَحَدَّثَنَا الرَّيَاشِيُّ عَنِ الْأَصْمَعِيِّ قَالَ كان عقيل بن علقمة المري غيورا فكان يسافر بنت لَهُ يُقَالُ لَهَا الْجَرْبَاءُ فَسَافَرَ بِهَا مَرَّةً فَقَالَ: قَضَتْ وَطَرًا مِنْ دَارِ سُعْدَى وَرُبَّمَا عَلَى عُرُضٍ نَاطَحْنَهُ بِالْجَمَاجِمِ ثُمَّ قَالَ لِابْنٍ لَهُ يُقَالُ لَهُ عَمَلَّسٌ أَجِزْ فَقَالَ:
فَأَصْبَحْنَ بِالْمَوْمَاةِ يَحْمِلْنَ فِتْيَةً
… نَشَاوَى مِنَ الْإِدْلَاجِ مِيلَ الْعَمَائِمِ
ثُمَّ قَالَ لِابْنَتِهِ أَجِيزِي يَا جَرْبَاءُ فَقَالَتْ:
كَأنَّ الْكَرَى سَقَّاهُمُ صَرْخَدِيَّةً
… عُقَارًا تَمَشَّى فِي الْمَطَا وَالْقَوَائِمِ
فَقَالَ لَهَا وَاللَّهِ ما وصفتها الصِّفَةَ إِلَّا وَقَدْ شَرِبْتِهَا ثُمَّ أحال عليها يضربها
রায়াসি আল-আসমাঈর সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: উকাইল ইবনে আলক্বামাহ আল-মুররি অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন। তিনি তাঁর জারবা নামক এক কন্যাকে সাথে নিয়ে সফর করতেন। একবার তিনি তাকে নিয়ে সফরে বের হলেন এবং বললেন: "সে সু’দার আবাস থেকে নিজের অভীষ্ট পূর্ণ করেছে, আর সম্ভবত কোনো এক প্রশস্ত প্রান্তরে তারা তাদের মস্তক দিয়ে একে অপরকে আঘাত করছিল।" অতঃপর তিনি আমাল্লাস নামক তাঁর এক পুত্রকে বললেন, "তুমি (পরবর্তী চরণটি) পূর্ণ করো।" সে বলল:
"অতঃপর তারা নির্জন মরুভূমিতে এমন কিছু যুবককে বহন করে প্রভাত করল
… যারা শেষ রাতের ভ্রমণের ক্লান্তিতে টলটলায়মান এবং যাদের পাগড়িগুলো হেলে পড়েছে।"
অতঃপর তিনি তাঁর কন্যাকে বললেন, "হে জারবা, তুমিও পূর্ণ করো।" সে বলল:
"যেন তন্দ্রা তাদের সারখাদিয়া নামক
… এমন এক সুরা পান করিয়েছে যা তাদের পিঠ ও পায়ে সঞ্চারিত হয়েছে।"
অতঃপর তিনি তাকে বললেন, "আল্লাহর কসম, তুমি এর এমন নিখুঁত বর্ণনা দিতে পারতে না যদি না তুমি ইতিপূর্বে তা পান করতে।" এরপর তিনি তাকে প্রহার করতে উদ্যত হলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ بَنُوهُ وَثَبُوا عَلَيْهِ فَخَلُّوا فَخْذَهُ بِسَهْمٍ فَقَالَ:
إِنَّ بَنِيَّ زَمَّلُونِي بِالدَّمِ
… مَنْ يلقى أَبْطالَ الرِّجالِ يُكْلَمِ
شِنْشِنَةٌ أَعْرِفُهَا من أخرام
وَقَدْ فَضَحَ اللَّهُ بِالشَّرَابِ أَقْوَامًا مِنَ الْأَشْرَافِ فَحُدُّوا وَدُوِّنَتْ فِي الْكُتُبِ أَخْبَارُهُمْ وَلَحِقَتْ بِتِلْكَ السُّبَّةِ أعقابهم منهم الوليد ابن عُقْبَةَ شَهِدَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْكُوفَةِ بِشُرْبِ الْخَمْرِ وَأَنَّهُ صَلَّى بِهِمُ الْغَدَاةَ وَهُوَ سَكْرَانُ وَقَالَ أَزِيدُكُمْ يشهد اللَّهُ بِذَلِكَ وَبِمُنَادَمَةِ أَبِي زُبَيْدٍ الشاعر وكان نصرانيا فحده هناك
যখন তাঁর পুত্ররা তা দেখল, তারা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁর উরুতে তীর বিদ্ধ করল। তখন তিনি বললেন:
নিশ্চয়ই আমার পুত্ররা আমাকে রক্তে রঞ্জিত করেছে
… যে ব্যক্তি বীর পুরুষদের মোকাবিলা করে, সে আহত হয়।
এটি একটি চিরচেনা স্বভাব যা আমি আখরাম থেকে চিনি।
আল্লাহ তাআলা মদ্যপানের মাধ্যমে সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে বহু সম্প্রদায়কে লাঞ্ছিত করেছেন; ফলে তাদের ওপর শরয়ি দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা হয়েছে এবং গ্রন্থসমূহে তাদের সংবাদ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আর সেই কলঙ্ক তাদের উত্তরসূরিদের মাঝেও রয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওয়ালিদ ইবনে উকবা, যাঁর বিরুদ্ধে কুফাবাসী মদ্যপানের সাক্ষ্য দিয়েছিল এবং তিনি মাতাল অবস্থায় তাদের নিয়ে সকালের নামাজ আদায় করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "আমি কি তোমাদের জন্য (রাকাত) বাড়িয়ে দেব?" আল্লাহ এ বিষয়ে এবং কবি আবু জুবাইদের সাথে তাঁর মদ্যপানের আসরের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছেন—যে ছিল একজন খ্রিস্টান। অতঃপর সেখানে তাঁর ওপর শরয়ি দণ্ড (حد) কার্যকর করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ سِرًّا فَلَمَّا قَدِمَ عَلَى عُمَرَ رضي الله عنه جَلَدَهُ حَدًّا آخَرَ وَمِنْهُمْ العباس ابن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ كَانَ مِمَنْ شُهِرَ بِالشَّرَابِ وَبِمُنَادَمَةِ الْأَخْطَلِ الشَّاعِرِ وَكَانَ نَصْرَانِيًّا وَفِيهِ يَقُولُ:
وَلَقَدْ غَدَوْتُ عَلَى التِّجَارِ بِمِسْمَحٍ
… هَرَّتْ عَوَاذِلُهُ هَرِيرَ الْأَكْلُبِ
لَذٍّ يقبله النعيم كأنه
… مُسِحَتْ تَرَائِبُهُ بِمَاءٍ مُذْهَبِ
لَبَّاسِ أَرْدِيَةِ الْمُلُوكِ يَرُوقُهُ
… مِنْ كُلِّ مرتفع عيون الربرب
ينظر مِنْ خَلَلِ السُّتُورِ إِذَا بَدَا
… نَظَرَ الْهِجَانِ إِلَى الْفَنِيقِ الْمُصْعَبِ
خَضِلِ الْكِيَاسِ إِذَا تَمَشَّى لَمْ يَكُنْ
… خُلُفًا مَوَاعِدُهُ كَبَرْقٍ خُلَّبِ
وإذا تغورت الزُّجَاجَةُ لَمْ يَكُنْ
… عِنْدَ الشَّرَابِ بفاحش متقطب
আমর ইবনুল আস গোপনে (তাকে শাস্তি প্রদান করেন), অতঃপর যখন তিনি ওমর (রা.)-এর নিকট আসলেন, তিনি তাকে নির্ধারিত দণ্ড (حد) স্বরূপ পুনরায় বেত্রাঘাত করলেন। আর তাদের মাঝে ছিলেন আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, যিনি মদ্যপান এবং কবি আল-আখতালের সাহচর্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন; আর সে (কবি) ছিল খ্রিস্টান। তার সম্পর্কে সে (কবি) বলে:
আমি এক অতীব দানশীল ব্যক্তিকে নিয়ে প্রভাতে ব্যবসায়ীদের নিকট গমন করেছিলাম
… যার নিন্দুকেরা কুকুরের ন্যায় ঘেউ ঘেউ করছিল।
এমন এক লাবণ্যময় ব্যক্তি যাকে সুখ স্পর্শ করে, যেন তার
… বক্ষদেশ স্বর্ণজল দ্বারা ধৌত করা হয়েছে।
তিনি রাজকীয় পোশাক পরিধান করেন, প্রতিটি উচ্চ স্থান হতে
… হরিণীদের চক্ষু তাকে বিমুগ্ধ করে।
যখন তিনি আত্মপ্রকাশ করেন, তখন পর্দার অন্তরাল হতে এমনভাবে দৃষ্টিপাত করেন
… যেমনটি কোনো শ্রেষ্ঠ উষ্ট্রী শক্তিশালী পুরুষ উটের দিকে তাকায়।
অত্যন্ত কোমল ও ধীমান স্বভাবের, যখন তিনি পথ চলেন তখন তার প্রতিশ্রুতিসমূহ
… কেবল বৃষ্টিহীন বিজলি চমকের ন্যায় মিথ্যা ছিল না।
যখন পানপাত্র রিক্ত হয়ে যেত, মদ্যপানের আসরে তিনি
… কটুভাষী বা ভ্রুকুটি কুঞ্চনকারী ছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
فأخبره أَنَّهُ غَدَا عَلَى تُجَّارِ الشَّرَابِ بِهِ وَأَخْبَرَ أَنَّهُ يَرُوقُهُ عُيُونُ النِّسَاءِ وَيَرُقْنَهُ. وَكَانَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ مِنْ أَجْمَلِ النَّاسِ وَكَانَ يُقَالُ له المذهب لجماله فمدحه بعض النصارى وكان الشُّهْرَةُ فِي الشِّعْرِ عَلَى حَسَبِ حُسْنِهِ وَرَغْبَةِ النَّاسِ فِي حِفْظِهِ.
وَمِنْهُمْ قُدَامَةُ بْنُ مَظْعُونٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم حَدَّهُ عُمَرُ بِشَهَادَةِ عَلْقَمَةَ الخصي وعليه وغيره من الشَّرَابِ وَمِنْهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الْمَعْرُوفُ بِأَبِي شَحْمَةَ حَدَّهُ أَبُوهُ فِي الشَّرَابِ وَفِي أَمْرٍ آخَرَ فَمَاتَ وَعَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ حَدَّهُ بَعْضُ وُلَاةِ الْمَدِينَةِ فِي الشَّرَابِ
অতঃপর তিনি তাকে অবহিত করলেন যে, তিনি তা নিয়ে খুব ভোরে মদ্য বিক্রেতাদের নিকট গিয়েছিলেন এবং জানালেন যে, নারীদের নেত্রপল্লব তাকে বিমোহিত করত এবং তিনিও তাদের মুগ্ধ করতেন। ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম রূপবান ব্যক্তি এবং তার রূপ-সৌন্দর্যের কারণে তাকে 'আল-মুদাহহাব' বলা হতো। জনৈক খ্রিস্টান তার প্রশংসা করেছিলেন এবং তার সৌন্দর্য ও মানুষের মাঝে তা মুখস্থ করার আগ্রহ অনুযায়ী তার কবিতার প্রসিদ্ধি ছিল।
তাদের মধ্যে রয়েছেন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবী (صحابي) কুদামাহ ইবনে মাজউন। আলকামা আল-খাসি ও অন্যদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ওমর (রা.) মদ্যপানের কারণে তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর করেছিলেন। তাদের মাঝে আরও ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব, যিনি আবু শাহমা নামে পরিচিত ছিলেন; মদ্যপান ও অন্য একটি বিষয়ে তার পিতা তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগ করেছিলেন এবং এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া আসিম ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব, মদ্যপানের কারণে মদিনার জনৈক প্রশাসক তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড কার্যকর করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّهُ هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَخْزُومِيُّ فِي الشَّرَابِ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مَرْوَانَ حَدَّهُ عَمْرُو بْنُ الْأَشْدَقِ فِي الشَّرَابِ.
وَمِمَّنْ فُضِحَ بالشراب بلال بن أبي تردة قَالَ يَحْيَى بْنُ نَوْفَلٍ الْحِمْيَرِيُّ:
وأما بلال فذاك الذي
… تميل الشَّرَابُ بِهِ حَيْثُ مَالَا
يَبِيتُ يمص عقيق الشَّرَابِ
… كَمَصِّ الْوَلِيدِ يَخَافُ الْفِصَالَا
وَيُصْبِحُ مُضْطَرِبًا نَاعِسًا
… تَخَالُ مِنَ السكر فيه أحولالا
ويمشي كمش النَّزِيفِ
… تَخَالُ بِهِ حِينَ يَمْشِي شكالا
আর আবদুল্লাহ ইবনে উরওয়াহ ইবনুল জুবায়েরকে মদ্যপানের কারণে হিশাম ইবনে ইসমাইল আল-মাখজুমি দণ্ড প্রদান করেন এবং আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ানকে মদ্যপানের কারণে আমর ইবনুল আশদাক দণ্ড প্রদান করেন।
যাদের মদ্যপানের কারণে লজ্জিত বা কলঙ্কিত হতে হয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিলাল ইবনে আবি বুর্দা। ইয়াহইয়া ইবনে নওফাল আল-হিময়ারি বলেছেন:
আর বিলালের কথা কী বলব, সে তো এমন এক ব্যক্তি যাকে মদ যেদিকে যায় সেদিকেই হেলিয়ে দেয়।
সে সারা রাত মদের লোহিত সুধা পান করে কাটিয়ে দেয়, ঠিক যেমন এক শিশু বিচ্ছেদের ভয়ে মায়ের স্তন্যপান করে।
সে সকালে ওঠে টলটলায়মান ও তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায়, মাতলামির (سكر) কারণে তাকে দেখলে মনে হয় যেন তার চোখে ট্যারা ভাব রয়েছে।
সে এমনভাবে টলতে টলতে হাঁটে যেমন কোনো রক্তশূন্য বা দুর্বল ব্যক্তি হাঁটে, হাঁটার সময় তাকে দেখলে মনে হয় যেন তার পায়ে শিকল জড়ানো রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-আশরিবা ওয়া যিকরু ইখতিলাফিন নাসি ফিহা লি-ইবনি কুতাইবাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وَمِنْهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ الْقَاضِي بِالْكُوفَةِ فُضِحَ بِمُنَادَمَةِ سَعْدِ بْنِ هَبَّارٍ فَقَالَ حَارِثَةُ بْنُ بَدْرٍ:
نَهَارُهُ فِي قَضَايَا غَيْرِ عَادِلَةٍ
… وَلَيْلُهُ فِي هَوَى سَعْدِ بْنِ هَبَّارِ
مَا تسمع الناس أصواتا عَرَضَتْ
… إِلَّا دَوِيًّا دَوِيَّ النَّحْلِ في الغار
فأصبح القوم أطلاقا أَضَرَّ بِهِمْ
… حَثُّ الْمَطِيِّ وَمَا كَانُوا بِسُفَّارِ
يَدِينُ أَصْحَابَهُ فِيمَا يَدِينُهُمْ
… كَأْسًا بِكَأْسٍ وَتِكْرَارًا بِتِكْرَارِ
وَهَذَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ بَعْدَ اجْتِهَادِهِ فِي الْعِبَادَةِ فَضَحَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي الشَّرَابِ فَكَانَ يَشْرَبُ الْمَقَدِيَّ. وَقَالَ لَهُ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ بَلَغَنِي يَا أَمِيرَ المؤمنين انك
তাদের মধ্যে (অন্যতম) হলেন কুফার বিচারক (قاضي) আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-সাকাফী; সাদ ইবনে হাব্বারের সাথে মদ্যপান ও সহাবস্থানের কারণে তিনি লাঞ্ছিত (فضح) হন। হারিসা ইবনে বদর বলেন:
তাঁর দিন অতিবাহিত হয় অন্যায্য বিচারকার্যে
… আর রাত কাটে সাদ ইবনে হাব্বারের মোহে।
লোকেরা গুহার মৌমাছির গুঞ্জনের মতো ধ্বনি ছাড়া
… অন্য কোনো আওয়াজ শুনতে পায় না।
অতঃপর তারা মুক্ত অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো; সওয়ারিকে দ্রুত চালানোর ফলে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল,
… অথচ তারা মুসাফির ছিল না।
তিনি তাঁর সঙ্গীদের সেভাবেই আপ্যায়ন করেন যেভাবে তারা তাঁকে করে
… পাত্রের পর পাত্র এবং বারবার।
আর এই হলেন আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান; ইবাদতে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের (اجتهاد) পর আল্লাহ তাআলা তাঁকে মদ্যপানের মাধ্যমে লাঞ্ছিত (فضح) করেন; তিনি 'মাকাদি' পান করতেন। সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়িব তাঁকে বলেছিলেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি..."