(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: -)
جزء الحسن بن موسى الأشيب (الحسن بن موسى الأشيب)
القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه أحاديث الحسن بن موسى الأشيب
المؤلف: أبو علي الحسن بن موسى الأَشيَب البغدادي، القاضي (ت 209هـ)
المحقق: أبو ياسر خالد بن قاسم الردادي
الناشر: دار علوم الحديث - الفجيرة، الإمارات
الطبعة: الأولى، 1410 - 1990
عدد الصفحات: 82
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জুজউ আল-হাসান ইবন মুসা আল-আশইয়াব (আল-হাসান ইবন মুসা আল-আশইয়াব)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: হাসান ইবন মুসা আল-আশইয়াবের হাদিস সংবলিত জুজউ
লেখক: আবু আলি আল-হাসান ইবন মুসা আল-আশইয়াব আল-বাগদাদি, আল-কাদি (মৃ. ২০৯ হি.)
তাহকিককারী: আবু ইয়াসির খালিদ ইবন কাসিম আল-রাদ্দাদি
প্রকাশক: দার উলুমিল হাদিস - ফুজাইরাহ, সংযুক্ত আরব আমিরাত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ - ১৯৯০
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮২
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
جزء فيه أحاديث أشيب شيخ الامام أحمد بسم الله الرحمن الرحيم ولا حول ولا قوة إلا باللهأخبرني الشيخ أبو جعفر محمد بن أحمد الصيدلاني بقراءتي عليه في شهر رمضان سنة ثمان وتسعين وخمسمائة بأصبهان قيل له أخبركم أبو علي الحسن بن أحمد بن الحسن الحداد قال أبنا أبو نعيم أحمد بن عبد الله بن أحمد الحافظ سنة تسع وعشرين وأربعمائة ثنا أبو علي محمد بن أحمد بن الحسن الصواف ⦗ص: 26⦘ ببغداد ثنا أبو علي بشر بن موسى بن صالح بن شيخ بن عميرة الأسدي ثنا أبو علي الحسن بن موسى الأشيب
ইমাম আহমদের শায়খ আশইয়াবের বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্বলিত একটি অংশ। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও কোনো শক্তি নেই।আমাকে শায়খ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ আস-সাইদালানি সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, ইসফাহানে পাঁচশত আটানব্বই হিজরি সনের রমজান মাসে। তাঁকে বলা হয়েছিল: আপনাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান বিন আহমদ বিন হাসান আল-হাদ্দাদ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-হাফিজ চারশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান আস-সাওওয়াফ ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ বাগদাদে। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী বিশর বিন মুসা বিন সালিহ বিন শায়খ বিন উমাইরা আল-আসাদি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
1 - ثنا، حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ، ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ، أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ إِذَا آوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مَأْوَى
১ - আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি সাবিত আল-বুনানী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তাঁর বিছানায় শুতে যেতেন তখন বলতেন: " সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং আমাদের আশ্রয় দান করেছেন; কেননা এমন কত মানুষ রয়েছে যাদের কোনো অভাব পূরণকারী নেই এবং কোনো আশ্রয়স্থল নেই।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - حَدَّثَنَا، حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ، عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ، مُرَّةَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: " عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ رَجُلَيْنِ: رَجُلٍ ثَارَ عَنْ وِطَائِهِ وَلِحَافِهِ مِنْ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ، فَيَقُولُ لِمَلَائِكَتِهِ: «انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي ثَارَ عَنْ وِطَائِهِ وَلِحَافِهِ مِنْ بَيْنِ حِبِّهِ وَأَهْلِهِ إِلَى صَلَاتِهِ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي» ، وَرَجُلٍ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَانْهَزَمَ فَعَلِمَ مَا عَلَيْهِ مِنَ الِانْهِزَامِ وَمَا لَهُ فِي الرُّجُوعِ فَرَجَعَ حَتَّى أُهَرِيقَ دَمُهُ، فَيَقُولُ اللَّهُ لِمَلَائِكَتِهِ: " انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي رَجَعَ رَغْبَةً فِيمَا عِنْدِي وَشَفَقَةً مِمَّا عِنْدِي حَتَّى أُهَرِيقَ دَمُهُ
২ - আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে সালামাহ বর্ণনা করেছেন আতা ইবনুল সাইব থেকে, তিনি মুররাহ আল-হামদানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন: " আমাদের রব দুই ব্যক্তির বিষয়ে আশ্চর্য হয়েছেন: এক ব্যক্তি যে তার বিছানা ও লেপ ছেড়ে এবং তার প্রিয়তমা ও পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে তার সালাতের দিকে উঠে দাঁড়িয়েছে; তখন আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলেন: «তোমরা দেখ আমার বান্দার দিকে, সে তার বিছানা ও লেপ ছেড়ে তার প্রিয়জন ও পরিবারের মধ্য থেকে আমার নিকট যা রয়েছে তার আশায় এবং আমার নিকট যা রয়েছে তার ভয়ে তার সালাতের দিকে উঠে দাঁড়িয়েছে»; আর সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, অতঃপর তারা পরাজিত হয়েছে; তখন সে বুঝতে পেরেছে পলায়ন করার মাঝে কী (পরিণতি) রয়েছে এবং ফিরে আসায় কী (প্রতিদান) রয়েছে, তাই সে পুনরায় ফিরে যুদ্ধ করেছে যতক্ষণ না তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে। তখন আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের বলেন: 'তোমরা আমার বান্দার দিকে তাকাও, সে আমার নিকট যা রয়েছে তার আশায় এবং আমার নিকট যা রয়েছে তার ভয়ে ফিরে এসেছে এমনকি তার রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে'।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - وَحَدَّثَنَا، حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ، دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، عَنْ، أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ، ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ أَتَى عَلَى وَادِي الْأَزْرَقِ فَقَالَ: «مَا هَذَا الْوَادِي» فَقِيلَ: «وَادِي الْأَزْرَقِ» ، فَقَالَ: «كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ مُنْهَبِطًا لَهُ جُؤَارٌ أَوْ خُؤَارٌ إِلَى رَبِّهِ بِالتَّلْبِيَةِ» ، ثُمَّ أَتَى عَلَى ثَنِيَّةٍ فَقَالَ: «مَا هَذِهِ الثَّنِيَّةُ؟» فَقِيلَ: «ثَنِيَّةُ كَذَا وَكَذَا» فَقَالَ: " كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ خِطَامُهَا مِنْ لِيفٍ وَهُوَ يُلَبِّي وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ
৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল-আযরাক উপত্যকায় পৌঁছালেন এবং বললেন: “এটি কোন উপত্যকা?” বলা হলো: “এটি আল-আযরাক উপত্যকা।” তখন তিনি বললেন: “আমি যেন মূসা ইবনে ইমরান (আ.)-কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি উচ্চৈঃস্বরে বা অনুনয়-বিনয় সহকারে (উপত্যকা দিয়ে) নিচে নামছেন এবং তালবিয়ার মাধ্যমে তাঁর রবের নিকট ফরিয়াদ করছেন।” এরপর তিনি একটি গিরিপথে পৌঁছালেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: “এটি কোন গিরিপথ?” বলা হলো: “এটি অমুক অমুক গিরিপথ।” তখন তিনি বললেন: “আমি যেন ইউনুস ইবনে মাত্তা (আ.)-কে একটি লাল বর্ণের বলিষ্ঠ উটনীর পিঠে দেখতে পাচ্ছি, যার লাগাম খেজুরের আঁশের তৈরি এবং তিনি তালবিয়া পাঠ করছেন আর তাঁর পরনে একটি পশমি জুব্বা রয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4 - وَحَدَّثَنَا، حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ، أَيُّوبَ، عَنْ، سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: " زِينَةُ الْحَجِّ التَّلْبِيَةُ
৪ - আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যাইদ বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন: " হজ্জের সৌন্দর্য হলো তালবিয়াহ"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
5 - وَعَنْ، أَيُّوبَ، عَنْ، أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ، سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: " عَلَيْكُمْ بِالْبَيَاضِ مِنَ الثِّيَابِ فَلْيَلْبَسْهَا أَحْيَاؤُكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ
৫ - আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি সামুরাহ ইবনে জুনদুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাদা রঙের পোশাক পরিধান করো, তোমাদের জীবিতরা যেন তা পরিধান করে এবং তোমাদের মৃতদের তাতে কাফন দাও; কেননা তা তোমাদের সর্বোত্তম পোশাকের অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
6 - حَدَّثَنَا، أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ، يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ، مُجَاهِدٍ، عَنْ، صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَوْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَفْوَانَ قَالَ: «قَدِمَ النَّبِيُّ فَدَخَلَ الْبَيْتَ فَلَبِسْتُ ثِيَابِيَ ثُمَّ انْطَلَقْتُ وَقَدْ خَرَجَ مِنَ الْبَيْتِ، وَهُوَ وَأَصْحَابُهُ يَسْتَلِمُونَ مَا بَيْنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ وَاضِعِي خُدُودَهُمْ عَلَى الْبَيْتِ، وَإِذَا النَّبِيُّ أَقْرَبُهُمْ إِلَى الْبَابِ، فَدَخَلْتُ بَيْنَ رَجُلَيْنِ» ، فَقُلْتُ: «كَيْفَ صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ؟» فَقَالُوا: " صَلَّى رَكْعَتَيْنِ عَنْ يَمِينِ السَّارِيَةِ الَّتِي قُبَالَةَ الْبَابِ
৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, ইয়াজিদ বিন আবি জিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন আব্দুর রহমান অথবা আব্দুর রহমান বিন সাফওয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আগমন করলেন এবং বাইতুল্লাহতে প্রবেশ করলেন। অতঃপর আমি আমার পোশাক পরিধান করলাম এবং রওয়ানা হলাম, ততক্ষণে তিনি বাইতুল্লাহ থেকে বের হয়ে এসেছেন। তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ পাথর থেকে পাথর পর্যন্ত অংশটি স্পর্শ করছিলেন এবং বাইতুল্লাহর ওপর নিজেদের গাল রাখছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন তাঁদের মধ্যে দরজার সবচেয়ে নিকটবর্তী। তখন আমি দুই ব্যক্তির মাঝখানে প্রবেশ করলাম», অতঃপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী করেছেন?» তাঁরা বললেন: "তিনি দরজার সামনে অবস্থিত খুঁটির ডান দিকে দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
7 - حَدَّثَنَا، أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ، يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ، حَسَّانَ بْنِ زَاهِرٍ، عَنِ، ابْنِ حُدَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ، عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ: " لَا تُقْطَعُ يَدٌ فِي عِذْقٍ وَلَا عَامِ سَنَةٍ
৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবান ইবনে ইয়াযীদ, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি হাসসান ইবনে যাহির থেকে, তিনি ইবনে হুদায়র থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছেন: "খেজুরের ছড়ার জন্য হাত কাটা হবে না এবং দুর্ভিক্ষের বছরেও নয়।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
8 - وَعَنْ، يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ، أَبِيهِ، قَالَ: " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يُصَلِّي بِنَا فَيَقُومُ فَيَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ وَكَانَ يُسْمِعُنَا الْآيَةَ أَحْيَانًا وَيَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُخْرَيَيْنِ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَكَانَ يُطِيلُ عليه السلام أَوَّلَ رَكْعَةٍ مِنْ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَأَوَّلَ رَكْعَةٍ مِنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ
৮ - ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাতাদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: " আল্লাহর রাসূল আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন; তিনি দাঁড়িয়ে জোহর ও আসরের প্রথম দুই রাকাতে উম্মুল কিতাব ও দুটি সূরা পাঠ করতেন। তিনি মাঝে মাঝে আমাদের কোনো আয়াত শোনাতেন এবং শেষ দুই রাকাতে উম্মুল কিতাব পাঠ করতেন। তিনি (আলাইহিস সালাম) ফজরের সালাতের প্রথম রাকাত এবং জোহরের সালাতের প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
9 - وَحَدَّثَنَا، شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّحْوِيُّ، عَنْ، قَتَادَةَ، عَنْ، سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ، مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ، ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ عليه السلام:«أنا يَوْمَ الْقِيَامَةِ عِنْدَ عُقْرِ أَوْ عُفْرِ الْحَوْضِ أَذُودُ عَنْهُ النَّاسَ لِأَهْلِ الْيَمَنِ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَضْرِبُهُمْ بِعَصَايَ حَتَّى يَرْفَضَّ عَلَيْهِمْ»قَالَ: فَقَالَ رَجُلٌ: «يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا سِعَتُهُ؟»قَالَ: «مِثْلُ مَا بَيْنَ الْمَدِينَةِ إِلَى عُمَانَ»قَالَ: «فَمَا شَرَابُهُ؟»⦗ص: 37⦘قَالَ: «أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ، يَغُتُّ أَوُ يَعُبُّ فِيهِ مِيزَابَانِ يَمُدَّانِهِ مِنَ الْجَنَّةَ، أَحَدُهُمَا مِنْ وَرِقٍ، وَالْآخَرُ مِنْ ذَهَبٍ»
৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান ইবন আবদুর রহমান আন-নাহবী, কাতাদাহ থেকে, তিনি সালিম ইবন আবুল জাদ থেকে, তিনি মাদান ইবন আবি তালহা থেকে, তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন:“কিয়ামতের দিন আমি হাউযের কিনারায় থাকব। আমি ইয়েমেনের অধিবাসীদের জন্য (অন্য) মানুষদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেব। আল্লাহর কসম! আমি আমার লাঠি দিয়ে তাদের আঘাত করব যাতে তারা সেখান থেকে সরে পড়ে।”বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রাসূল! এর প্রশস্ততা কতটুকু?”তিনি বললেন, “মদিনা থেকে ওমান পর্যন্ত দূরত্বের ন্যায়।”তিনি বললেন, “এর পানীয় কী?”⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘তিনি বললেন, “তা দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। জান্নাত থেকে আসা দুটি নালা এতে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয় যা একে পূর্ণ রাখে, যার একটি রুপার এবং অন্যটি সোনার।”
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
10 - حَدَّثَنَا، شَيْبَانُ، عَنْ، قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا، أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ عليه السلام قَالَ: " يُرَى فِيهِ أَبَارِيقُ الْفِضَّةِ كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ
১০ - শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: " তাতে আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায় সংখ্যক রূপার পানপাত্র দেখা যাবে।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
11 - وَبِهِ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ عليه السلام كَانَ يَقُولُ: " مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيِ الدَّجَّالِ كَافِرٌ، يَقْرَأُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ
১১ - এবং উক্ত সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর নবী (আলাইহিস সালাম) বলতেন: "দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে ‘কাফির’ লিখিত থাকবে, যা প্রত্যেক মুমিন পাঠ করতে পারবে।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
12 - حَدَّثَنَا، فَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ، حَدَّثَنِي، عَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ أَبُو عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ، الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ، أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: " إِنَّ اللَّهَ بَعَثَنِي رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ، وَأَمَرَنِي رَبِّي بِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ وَالْأَوْثَانِ وَالصُّلُبِ وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ، وَحَلَفَ رَبِّي بِعِزَّتِهِ لَا يَشْرَبُ عَبْدٌ مِنْ عَبِيدِي جَرْعَةً مِنْ خَمْرٍ مُتَعَمِّدًا إِلَّا سَقَيْتُهُ مِثْلَهَا مِنَ الصَّدِيدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْفُورًا لَهُ أَوْ مُعَذَّبًا، وَلَا يَسْقِيهَا صَغِيرًا ضَعِيفًا مُسْلِمًا إِلَّا سَقَيْتُهُ مِثْلَهَا مِنَ الصَّدِيدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَغْفُورًا لَهُ أَوْ مُعَذَّبًا، وَلَا يَتْرُكُهَا مِنْ مَخَافَتِي إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنْ حِيَاضِ الْقُدُسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يَحِلُّ بَيْعُهُنَّ وَلَا شِرَاهُنَّ وَلَا تَعْلِيمُهُنَّ وَلَا تِجَارَةٌ فِيهِنَّ، وَثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ يَعْنِي الضَّارِبَاتِ
১২ - ফরাজ ইবনে ফাদালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ইয়াযীদ আবু আবদিল মালিক আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল-কাসিম ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত এবং বিশ্বজগতের জন্য হেদায়েতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন; আর আমার প্রতিপালক আমাকে বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, মূর্তি, ক্রুশ এবং জাহিলিয়াতের রীতিনীতি নিশ্চিহ্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমার প্রতিপালক তাঁর সম্মানের শপথ করে বলেছেন যে, আমার বান্দাদের মধ্যে কোনো বান্দা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ঢোক মদ পান করে, তবে আমি কিয়ামতের দিন তাকে সমপরিমাণ রক্ত-পূঁজ পান করাবো, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হোক কিংবা শাস্তিপ্রাপ্ত। আর যে ব্যক্তি কোনো ছোট ও দুর্বল মুসলিমকে তা পান করাবে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে সমপরিমাণ রক্ত-পূঁজ পান করাবো, সে ক্ষমাপ্রাপ্ত হোক কিংবা শাস্তিপ্রাপ্ত। আর যে ব্যক্তি আমার ভয়ে তা বর্জন করবে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে পবিত্র ঝর্ণাধারা থেকে পান করাবো। তাদের (গায়িকাদের) ক্রয়-বিক্রয়, শিক্ষা দান এবং তাদের নিয়ে ব্যবসা করা বৈধ নয়; আর তাদের মূল্য হারাম। অর্থাৎ গায়িকাদের (বাদ্যসহ গান গায় যারা) কথা বোঝানো হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪০)
13 - حَدَّثَنَا، مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، ثنا، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ، بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَّامٍ، قَالَ: بَيْنَمَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانُ يَخْطُبُ النَّاسَ، إِذْ قَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ: لَا يَمْنَعُكُ مَكَانُ ابْنِ سَلَّامٍ أَنْ تَسُبَّ فُلَانًا؛ فَإِنَّهُ مِنْ شِيعَتِهِ، قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ: لَقَدْ قُلْتَ الْقَوْلَ الْعَظِيمَ فِي يَوْمِ الْقِيَامَةِ لِلْخَلِيفَةِ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ
১৩ - মাহদী ইবন মায়মুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আবী ইয়াকুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবন শাগাফ থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবন সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা আমীরুল মুমিনীন উসমান যখন লোকদের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে গেল। তখন তাঁর সাথীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাকে বলল: ইবন সাল্লামের উপস্থিতি আপনাকে অমুককে গালি দেওয়া থেকে বিরত রাখবে না; কারণ সে তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি (ইবন সাল্লাম) বললেন: তখন আমি তাকে বললাম: তুমি কিয়ামতের দিনে নূহ (আ.)-এর পরবর্তী খলীফার ব্যাপারে এক গুরুতর কথা বলেছ।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪১)
14 - وَحَدَّثَنَا، حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ، زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ، عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ قُلْتُ: إِنَّا نَغْزُوا هَذَا الْمَغْرِبَ وَأَكْثَرُ جُلُودِ أَسْقِيَتِهِمُ الْمَيْتَةُ. فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: «دِبَاغُهَا طَهُورُهَا»
১৪ - এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ওয়া'লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি বললাম: আমরা এই মাগরিব (পশ্চিমাঞ্চল) অভিমুখে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করি এবং তাদের পানির পাত্রের অধিকাংশ চামড়া হলো মৃত পশুর চামড়া। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: «সেটি পাকা করাই হলো তার পবিত্রতা»
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪২)
15 - وَحَدَّثَنَا، حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ، ابْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّهُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ {وَفَضَّلَ اللَّهُ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ أَجْرًا عَظِيمًا دَرَجَاتٍ مِنْهُ} [النساء: 96] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، قَالَ: سَبْعُونَ دَرَجَةً ، بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ مَسِيرَةُ أَرْبَعِينَ عَامًا للجَوَادِ الضَّامِرِ
১৫ - হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাইরিজ থেকে বর্ণনা করেন যে, এই আয়াতের ব্যাপারে {আর আল্লাহ মুজাহিদদের বসে থাকা ব্যক্তিদের ওপর মহা পুরস্কার দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তাঁর পক্ষ থেকে অনেক মর্যাদা} [আন-নিসা: ৯৬] আয়াতের শেষ পর্যন্ত, তিনি বলেছেন: সত্তরটি স্তর, প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো একটি দ্রুতগামী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃশ ঘোড়ার জন্য চল্লিশ বছরের পথ।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
16 - وَحَدَّثَنَا، ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنِي، أَبُو عُشَانَةَ الْمَعَافِرِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ، عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ: لَا أَقُولُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ مَا لَمْ يَقُلْ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: «مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مَا لَمْ أَقُلْ فَلْيَتَبَوَّأْ بَيْتًا مِنْ جَهَنَّمَ»
১৬ - ইবন লাহিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু উশানাহ আল-মাআফিরি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উকবাহ ইবন আমির আল-জুহানিকে বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূলের ওপর এমন কিছু বলি না যা তিনি বলেননি। আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি আমার ওপর এমন মিথ্যা আরোপ করবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার একটি ঘর নির্ধারণ করে নেয়।»
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ: " رَجُلَانِ مِنْ أُمَّتِي يَقُومُ أَحَدُهُمْ مِنَ اللَّيْلِ يُعَالِجُ نَفْسَهُ إِلَى الطُّهُورِ وَعَلَيْهِ عُقَدٌ، فَيَتَوَضَّأُ فَإِذَا وَضَّأَ يَدَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا وَضَّأَ وَجْهَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، وَإِذَا وَضَّأَ رِجْلَيْهِ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَيَقُولُ اللَّهُ لِلَّذِي وَرَاءَ الْحِجَابِ: انْظُرْ إِلَى عَبْدِي هَذَا يُعَالِجُ نَفْسَهُ يَسْأَلُنِي، مَا سَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا فَهُوَ لَهُ، مَا سَأَلَنِي عَبْدِي هَذَا فَهُوَ لَهُ "
আর আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি: " আমার উম্মতের দুই ব্যক্তি; তাদের একজন রাতে উঠে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিজের নফসের সাথে সংগ্রাম করে, অথচ তার ওপর (শয়তানের) গিটসমূহ থাকে। অতঃপর সে অজু করে; যখন সে তার হাত দুটি ধৌত করে একটি গিট খুলে যায়, যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন একটি গিট খুলে যায়, যখন সে তার মাথা মাসেহ করে তখন একটি গিট খুলে যায় এবং যখন সে তার পা দুটি ধৌত করে তখন একটি গিট খুলে যায়। তখন আল্লাহ পর্দার আড়ালে থাকাদের (ফেরেশতাদের) উদ্দেশ্যে বলেন: তোমরা আমার এই বান্দার প্রতি লক্ষ্য করো, সে নিজের নফসের সাথে সংগ্রাম করছে এবং আমার নিকট প্রার্থনা করছে। আমার এই বান্দা আমার নিকট যা প্রার্থনা করেছে তা তারই জন্য; আমার এই বান্দা আমার নিকট যা প্রার্থনা করেছে তা তারই জন্য।"
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
17 - حَدَّثَنَا، أَبُو هِلَالٍ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمٍ، ثنا، مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، عَنْ، أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَطُوفُ عَلَى تِسْعِ نِسْوَةٍ فِي ضَحْوَةٍ
১৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হিলাল মুহাম্মদ বিন সুলাইম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাতার আল-ওয়াররাক, আনাস বিন মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল এক পূর্বাহ্নে তাঁর নয়জন স্ত্রীর নিকট যাতায়াত করতেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
18 - وَحَدَّثَنَا، شَيْبَانُ، عَنْ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ، أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ لِي: يَا بُنَيَّ لَوْ شَهِدْتَنَا وَنَحْنُ مَعَ النَّبِيِّ عليه السلام إِذْ أَصَابَتْنَا السَّمَاءُ لَحَسِبْتَ أَنَّ رِيحَنَا رِيحُ الضَّأْنِ
১৮ - শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি আমাকে বললেন: হে বৎস! তুমি যদি আমাদের দেখতে যখন আমরা নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সাথে ছিলাম এবং আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছিল, তখন তুমি অবশ্যই মনে করতে যে আমাদের গায়ের ঘ্রাণ ছিল ভেড়ার ঘ্রাণের মতো।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
19 - وَسَمِعْتُ، جَرِيرَ بْنَ حَازِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ، قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا، أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ يَحْتَجِمُ بِثَلَاثٍ: اثْنَتَيْنِ عَلَى الْأَخْدَعَيْنِ، وَوَاحِدَةٍ عَلَى الْكَاهِلِ
১৯ - আমি জারীর ইবনে হাযিমকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি কাতাদাহকে বলতে শুনেছি, আমাদের নিকট আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল তিনটি স্থানে শিঙা গ্রহণ করতেন: দুইটি ঘাড়ের দুই পাশের রগে এবং একটি কাঁধের উপরিভাগে।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
20 - وَحَدَّثَنَا، ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنَا، ابْنُ هُبَيْرَةَ، عَنْ، حَنَشِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «إِنَّ فِي أَبْوَالِ الْإِبِلِ وَأَلْبَانِهَا شِفَاءً لِلذَّرِبَةِ بُطُونُهُمْ»
২০ - এবং আমাদের নিকট ইবনে লাহীআহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে হুবাইরাহ বর্ণনা করেছেন হানাশ বিন আব্দুল্লাহ হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন: «নিশ্চয়ই উটের মূত্র ও দুধে তাদের জন্য আরোগ্য রয়েছে যাদের পেটে রোগ রয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
21 - وَحَدَّثَنَا، أَبُو شِهَابٍ عَبْدُ رَبِّهِ، عَنِ، الْأَعْمَشِ، قَالَ: قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: " إِنَّ مِنْ أَبْغَضِ عِبَادِ اللَّهِ مَنْ يَقْتَدِي بِسَيِّئَةِ الْمُؤْمِنِ وَيَتْرُكُ حَسَنَتَهُ
২১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু শিহাব আবদু রাব্বিহি, আমাশ থেকে, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: " নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য সেই ব্যক্তি, যে মুমিনের মন্দ কাজের অনুসরণ করে এবং তার ভালো কাজ বর্জন করে।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
22 - وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ، قَالَ: كَانَ بِالْكُوفَةِ خِيَارُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ عليه السلام عَلِيٌّ، وَعَبْدُ اللَّهِ، وَحُذَيْفَةُ، وَأَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ، وَعَمَّارٌ، أَخْبَرَنِي مَنْ رَمَقَهُمْ كُلَّهُمْ فَمَا رَأَى أَحَدًا مِنْهُمْ يُصَلِّي قَبْلَ
২২ - শায়বান ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশ'আছ ইবনে আবিশ শা'ছা থেকে, তিনি ইবরাহিম আন-নাখায়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কূফায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ সাহাবাগণ ছিলেন—আলী, আবদুল্লাহ, হুযাইফা, আবু মাসউদ আল-আনসারি এবং আম্মার। যিনি তাদের সকলকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি তাদের কাউকে এর পূর্বে সালাত আদায় করতে দেখেননি।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
23 - وَعَنْ، أَشْعَثَ، عَنْ، عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ، حَيَّانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ وَهُوَ أَمِيرُ الْكُوفَةِ، وَفِي يَدِهِ صَحِيفَةٌ فَرَمَى بِهَا إِلَيَّ وَقَالَ: هَذِهِ مِنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَإِذَا فِيهَا: أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ عَامِلَ كُورَةِ كَذَا وَكَذَا مِنَ الشَّامِ كَتَبَ إِلَيَّ أَنْ كَرِهَ لِلْمُسْلِمِينَ مُبَاحَتَهُ الْمَاءَ وَغَلَّا عَلَيْهِمُ الْعَسَلَ، وَأَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْأَرْضِ ذَكَرَ لَهُ أَنَّهُمْ يَصْنَعُونَ مِنَ الْعَصِيرِ شَرَابًا يُطْبَخُ حَتَّى يَذْهَبَ الثُّلُثَانِ وَيَبْقَى ثُلُثُ الثُّلُثِ فَيَذْهَبُ غُثَاؤُهُ وَأَذَاهُ وَيَبْقَى صَفْوُهُ وَطَيِّبُهُ، فَإِذَا أَتَاكَ كِتَابِي هَذَا فَاشْرَبْهُ وَصِفْهُ لِمَنْ قِبَلَكَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَابْعَثْ إِلَى صَاحِبِ السَّيْلَحِينَ، فَأَقْرِئْهُ كِتَابِي هَذَا وَكَتَبَ مَعِي كِتَابًا، فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ جَوْسَقَةٍ، فَأَقْرَأْتُهُ الْكِتَابَ، فَقَالَ: كُلُّ هَذَا عِنْدَنَا، الْعَصِيرُ وَالْقُدُورُ وَالْحَطَبُ، وَسَأُرِيكُمْ مِقْدَارَهُ، ثُمَّ نَصَبَ قُدُورَهُ، وَصَبَّ فِيهِ الْعَصِيرَ، وَأَوْقَدَ عَلَيْهِ حَتَّى آلَ إِلَى مِقْدَارِهِ، فَجَعَلْنَاهُ فِي الزِّقَاقِ، ثُمَّ حَمَلْنَاهُ فَأَتَيْنَاهُ بِهِ فَشَرِبَ وَسَقَى مَنْ حَوْلَهُ
২৩ - আশআস থেকে বর্ণিত, তিনি আমির আশ-শাবি থেকে, তিনি হাইয়্যান বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আম্মার বিন ইয়াসিরের নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি কুফার গভর্নর ছিলেন। তাঁর হাতে একটি পত্র ছিল, তিনি সেটি আমার দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেন: "এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের পক্ষ থেকে প্রেরিত।" তাতে লেখা ছিল: অতঃপর, সিরিয়ার অমুক অমুক অঞ্চলের গভর্নর আমার নিকট লিখেছেন যে, তিনি মুসলমানদের জন্য পানির অবাধ ব্যবহারকে (বিকল্প পানীয়র অভাবে) অপছন্দ করেছেন এবং তাদের জন্য দুর্মূল্য হয়ে পড়েছে মধু। আর সেই অঞ্চলের কিছু লোক তাকে জানিয়েছে যে, তারা ফলের রস থেকে এমন পানীয় তৈরি করে যা ততক্ষণ পর্যন্ত জ্বাল দেওয়া হয় যতক্ষণ তার দুই-তৃতীয়াংশ চলে যায় এবং এক-তৃতীয়াংশের এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে; ফলে তার গাদ ও ক্ষতিকর ময়লা দূর হয়ে যায় এবং তার স্বচ্ছ ও উত্তম অংশটুকু অবশিষ্ট থাকে। সুতরাং তোমার কাছে যখন আমার এই পত্র পৌঁছাবে, তখন তুমি তা পান করো এবং তোমার নিকটস্থ মুসলমানদের কাছে এর বিবরণ দাও। আর সাইলাহিনের অধিপতির নিকট লোক পাঠাও এবং তাকে আমার এই পত্রটি পড়ে শোনাও। তিনি (আম্মার) আমার সাথে একটি পত্র লিখে দিলেন; অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম এবং তিনি তখন একটি ক্ষুদ্র প্রাসাদের ছায়ায় বসা ছিলেন। আমি তাকে পত্রটি পড়ে শোনালাম। তিনি বললেন: এই সবই আমাদের কাছে আছে—রস, ডেকচি এবং জ্বালানি কাঠ; আমি অচিরেই তোমাদের এর তৈরির পরিমাণ দেখিয়ে দিচ্ছি। অতঃপর তিনি ডেকচি স্থাপন করলেন, তাতে রস ঢাললেন এবং তার নিচে আগুন জ্বালালেন যতক্ষণ না তা নির্দিষ্ট পরিমাণে পৌঁছাল। এরপর আমরা তা মস্কে ভরলাম এবং তা নিয়ে তাঁর নিকট এলাম। তখন তিনি তা পান করলেন এবং তাঁর আশেপাশে যারা ছিল তাদেরও পান করালেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৫০)
24 - حَدَّثَنَا، شَيْبَانُ، عَنْ، أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ، جَعْفَرِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ، جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ يَأْمُرُنَا بِصِيَامِ عَاشُورَاءَ، وَيَحُثُّنَا عَلَيْهِ، وَيَتَعَاهَدُنَا عِنْدَهُ، فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ لَمْ يَأْمُرْنَا بِهِ، وَلَمْ يَنْهَنَا عَنْهُ، وَلَمْ يَتَعَاهَدْنَا عِنْدَهُ
২৪ - শায়বান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আশ’আস ইবনে আবুশ শা’সা হতে, তিনি জাফর ইবনে আবু সাওর হতে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের আশুরার রোজা পালনের নির্দেশ দিতেন, এর প্রতি উৎসাহিত করতেন এবং এর জন্য আমাদের তদারকি করতেন। অতঃপর যখন রমজান ফরজ করা হলো, তখন তিনি আমাদের আর নির্দেশ দিতেন না এর জন্য, এবং তিনি আমাদের তা হতে নিষেধও করেননি এবং সে ব্যাপারে আমাদের তদারকিও করতেন না।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৫১)
25 - وَعَنْ، جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ أَنْ نَتَوَضَّأَ مِنْ لُحُومِ الْإِبِلِ وَلَا نَتَوَضَّأَ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ، وَأَنْ نُصَلِّيَ فِي دِمَنِ الْغَنَمِ وَلَا نُصَلِّيَ فِي عَطَنِ الْإِبِلِ
25 - জাবির বিন সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের উটের গোশত খাওয়ার কারণে ওযু করার এবং বকরির গোশত খাওয়ার কারণে ওযু না করার নির্দেশ দিয়েছেন; আর বকরির খোঁয়াড়ে সালাত আদায় করার এবং উটের আস্তাবলে সালাত আদায় না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৫২)
26 - وَحَدَّثَنَا، شَيْبَانُ، عَنْ، أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي، أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ، ضُبَيْعَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا مَعَ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، فَذَكَرْنَا الْفِتْنَةَ، فَقَالَ حُذَيْفَةُ: إِنِّي لَأَعْرِفُ رَجُلًا لَا تُنْقِصُهُ الْفِتْنَةُ شَيْئًا، قَالَ: قُلْنَا: مَنْ هُوَ؟ قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ: فَلَمَّا مَاتَ حُذَيْفَةُ وَكَانَتِ الْفِتْنَةُ خَرَجْتُ فِيمَنْ خَرَجَ، فَإِذَا أَنَا بِفُسْطَاطٍ مَضْرُوبٍ تَضْرِبُهُ الرِّيَاحُ، فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا؟ فَقِيلَ: لِمُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ، فَقُلْتُ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، إِنَّكَ مِنْ خِيَارِ الْمُسْلِمِينَ وَصَالِحِيهِمْ، وَتَرَكْتَ بَلَدَكَ وَدَارَكَ وَأَهْلَكَ وَمَهَاجِرَكَ؟ قَالَ: قَدْ تَرَكْتُهُ كَرَاهِيَةَ الشَّرِّ حَتَّى تَنْجَلِيَ عَمَّا انْجَلَتْ
২৬ - এবং শায়বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আশ’আছ ইবনে আবুশ শা’ছা হতে, তিনি বলেন: আমাকে আবু বুরদাহ ইবনে আবু মুসা সংবাদ দিয়েছেন দুবাইয়াহ ইবনে হুসাইন হতে, তিনি বলেন: আমরা হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযি.)-এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন আমরা ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন হুযাইফা (রাযি.) বললেন: নিশ্চয় আমি এমন এক ব্যক্তিকে চিনি যাকে ফিতনা বিন্দুমাত্র প্রভাবিত করতে পারবে না। তিনি (দুবাইয়াহ) বলেন: আমরা বললাম, তিনি কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ আল-আনসারী। তিনি বলেন: অতঃপর যখন হুযাইফা (রাযি.) ইন্তেকাল করলেন এবং ফিতনার সূত্রপাত হলো, তখন আমি অন্যান্যদের সাথে বের হলাম। হঠাৎ আমি একটি খাটানো তাবু দেখতে পেলাম যা বাতাসে দুলছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এটি কার? বলা হলো: মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ-র। আমি তাকে বললাম: আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি তো সর্বোত্তম ও নেককার মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত, তবুও আপনি আপনার শহর, ঘর-বাড়ি, পরিবার-পরিজন এবং আপনার হিজরতের স্থান ত্যাগ করলেন? তিনি বললেন: আমি অনিষ্টের প্রতি বিমুখ হয়ে এগুলো ত্যাগ করেছি, যতক্ষণ না তা (ফিতনা) বিদূরিত হওয়ার তা বিদূরিত হয়।
(খণ্ড: ১)
জুজউল হাসান বিন মুসা আল-আশইয়াব
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
27 - وَعَنْ، أَشْعَثَ، حَدَّثَنِي، الْحَسَنُ بْنُ سَعْدٍ، مَوْلَى عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ: إِذَا عُمِلَ فِي النَّاسِ الْخَطِيئَةُ، فَمَنْ رَضِيَهَا مِمَّنْ غَابَ عَنْهَا فَهُوَ كَمَنْ شَهِدَهَا، وَمَنْ كَرِهَهَا مِمَّنْ شَهِدَ فَهُوَ كَمَنْ غَابَ عَنْهَا
২৭ - এবং আশআছ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনে সাদ—যিনি আলীর মুক্তদাস—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে উমায়ের থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে বলতে শুনেছি: যখন মানুষের মাঝে কোনো পাপ কাজ করা হয়, তখন যে ব্যক্তি সেখানে অনুপস্থিত থেকেও তাতে সন্তুষ্ট থাকে, সে যেন ওই ব্যক্তির মতো যে সেখানে উপস্থিত ছিল। আর যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত থেকেও তা ঘৃণা করে, সে যেন ওই ব্যক্তির মতো যে সেখান থেকে অনুপস্থিত ছিল।