(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: -)
جمع الوسائل في شرح الشمائل القسم: السيرة النبوية
الكتاب: جمع الوسائل في شرح (الشمائل للترمذي)
المؤلف: علي بن (سلطان) محمد القاري الحنفي [ت 1014 هـ]
وبهامش المطبوع: شرح الشمائل لعبد الرؤوف المناوي (ت 1003 هـ)
الناشر: المطبعة الشرفية - مصر، 1318 هـ
(على نفقة مصطفى البابي الحلبي وأخويه)
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শামায়িলের ব্যাখ্যায় উপায়সমূহের সংকলন বিভাগ: সীরাতুন্নবী
কিতাব: (তিরমিযীর শামায়িল) এর ব্যাখ্যায় উপায়সমূহের সংকলন
লেখক: আলী বিন (সুলতান) মুহাম্মদ আল-কারী আল-হানাফী [মৃত্যু ১০১৪ হিজরি]
এবং মুদ্রিত কিতাবের পার্শ্বটীকায়: আবদুর রউফ আল-মুনাউয়ি (মৃত্যু ১০০৩ হিজরি) রচিত শামায়িলের ব্যাখ্যা
প্রকাশক: আশ-শারাফিয়্যাহ ছাপাখানা - মিসর, ১৩১৮ হিজরি
(মোস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী এবং তাঁর দুই ভাইয়ের অর্থায়নে)
খণ্ড সংখ্যা: ২
[কিতাবের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[جمع الوسائل في شرح الشمائل]ـ
المؤلف: علي بن (سلطان) محمد، أبو الحسن نور الدين الملا الهروي القاري (المتوفى: 1014هـ)
الناشر: المطبعة الشرفية - مصر، طبع على نفقة مصطفى البابي الحلبي وإخوته
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
—[জামউল ওয়াসায়িল ফি শারহিশ শামায়েল]—
লেখক: আলী বিন (সুলতান) মুহাম্মদ, আবুল হাসান নূরুদ্দীন আল-মোল্লা আল-হারাবী আল-কারী (মৃত্যু: ১০১৪ হিজরি)
প্রকাশক: আল-মাতবাআ আশ-শারফিয়্যাহ - মিসর, মোস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ও তাঁর ভাইদের অর্থায়নে মুদ্রিত
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ الْخَلْقَ وَالْأَخْلَاقَ وَالْأَرْزَاقَ وَالْأَفْعَالَ، وَلَهُ الشُّكْرُ عَلَى إِسْبَاغِ نِعَمِهِ الظَّاهِرَةِ وَالْبَاطِنَةِ بِالْإِفْضَالِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى نَبِيِّهِ وَرَسُولِهِ الْمُخْتَصِّ بِحُسْنِ الشَّمَائِلِ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الْمَوْصُوفِينَ بِالْفَوَاضِلِ وَالْفَضَائِلِ، وَعَلَى أَتْبَاعِهِ الْعُلَمَاءِ الْعَامِلِينَ بِمَا ثَبَتَ عَنْهُ بِالدَّلَائِلِ. (أَمَّا بَعْدُ) : فَيَقُولُ أَفْقَرُ عِبَادِ اللَّهِ الْغَنِيِّ الْبَارِي عَلِيُّ بْنُ سُلْطَانَ مُحَمَّدٍ الْقَارِيُّ، لَمَّا كَانَ مَوْضُوعُ عِلْمِ الْحَدِيثِ ذَاتَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَيْثُ إِنَّهُ نَبِيٌّ، وَغَايَتُهُ الْفَوْزَ بِسَعَادَةِ الدَّارَيْنِ وَهُوَ نَعْتُ كُلِّ وَلِيٍّ، - وَمَعْرِفَةُ أَحَادِيثِهِ صلى الله عليه وسلم أَبْرَكَ الْعُلُومِ وَأَفْضَلَهَا. وَأَكْثَرَهَا نَفْعًا فِي الدَّارَيْنِ وَأَكْمَلَهَا بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ عز وجل مَعَ تَوَقُّفِ مَعْرِفَتِهِ عَلَى مَعْرِفَتِهَا ; لِمَا فِيهَا مِنْ بَيَانِ مُجْمَلِهِ وَتَقْيِيدِ مُطْلَقِهِ، وَلِأَنَّهَا كَالرِّيَاضِ وَالْبَسَاتِينِ تَجِدُ فِيهَا كُلَّ خَيْرٍ وَبِرٍّ وَثَمَرَةٍ وَنَتِيجَةٍ بِطُرُقِهِ، وَقَدْ قِيلَ كَمَا أَنَّ أَهْلَ الْقُرْآنِ أَهْلُ اللَّهِ فَأَهْلَ الْحَدِيثِ أَهْلُ رَسُولِ اللَّهِ، وَأَنْشَدَ:
أَهْلُ الْحَدِيثِ هُمُ أَهْلُ النَّبِيِّ وَإِنْ
… لَمْ يَصْحَبُوا نَفْسَهُ أَنْفَاسَهُ صَحِبُوا.
وَمِنْ أَحْسَنِ مَا صُنِّفَ فِي شَمَائِلِهِ وَأَخْلَاقِهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابُ التِّرْمِذِيِّ " الْمُخْتَصَرُ الْجَامِعُ " فِي سِيَرِهِ عَلَى الْوَجْهِ الْأَتَمِّ بِحَيْثُ إِنَّ مُطَالِعَ هَذَا الْكِتَابِ كَأَنَّهُ يُطَالِعُ طَلْعَةَ ذَلِكَ الْجَنَابِ. وَيَرَى مَحَاسِنَهُ الشَّرِيفَةَ فِي كُلِّ بَابٍ. وَقَدْ سَتَرَ قَبْلَ الْعَيْنِ أَهْدَابَهُ وَلِذَا قِيلَ. (وَالْأُذْنُ تَعْشَقُ قَبْلَ الْعَيْنِ أَحْيَانًا) : وَقَدْ قَالَ شَيْخُ مَشَايِخِنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْجَزَرِيُّ قَدَّسَ اللَّهُ سِرَّهُ الْعَلِيَّ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগত, চরিত্রসমূহ, জীবিকা ও কর্মসমূহ সৃষ্টি করেছেন; এবং তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণভাবে দান করার জন্য তাঁরই কৃতজ্ঞতা। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও রাসূলের ওপর, যিনি সর্বোত্তম গুণাবলীতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীগণের ওপর, যারা শ্রেষ্ঠত্ব ও সৎগুণে গুণান্বিত, আর তাঁর অনুসারী আলেমদের ওপর, যারা দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তাঁর থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করেন। (অতঃপর): অভাবমুক্ত স্রষ্টা আল্লাহর হীনতম বান্দা আলী ইবনে সুলতান মুহাম্মদ আল-ক্বারী বলছেন, যেহেতু ইলমে হাদীসের আলোচ্য বিষয় হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্তা—তিনি নবী হওয়ার দিক থেকে—এবং এর লক্ষ্য হলো উভয় জগতের পরম সৌভাগ্য লাভ করা, যা প্রত্যেক আল্লাহর প্রিয়পাত্রের গুণ; আর তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসসমূহের জ্ঞান অর্জন করা সবচেয়ে বরকতময় ও শ্রেষ্ঠ ইলম। এবং তা উভয় জগতের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ইলম, যেহেতু আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান লাভ করা হাদীসের জ্ঞান লাভের ওপর নির্ভরশীল; কারণ এতে কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়ের বর্ণনা ও নিঃশর্ত বিষয়ের সীমাবদ্ধকরণ রয়েছে। আর যেহেতু হাদীসসমূহ বাগান ও কাননের ন্যায়, যেখানে এর বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে প্রতিটি কল্যাণ, নেকি, ফল ও ফলাফল খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন বলা হয়েছে, কুরআনের অনুসারীরা যেমন আল্লাহর পরিজন, তেমনি হাদীসের অনুসারীরা হলেন রাসূলুল্লাহর পরিজন। জনৈক কবি গেয়েছেন:
হাদীসের অনুসারীরাই হলেন নবীর পরিজন, যদিও
… তাঁরা তাঁর দৈহিক সঙ্গ পাননি, কিন্তু তাঁর বাণীর সঙ্গ পেয়েছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী ও চরিত্রের ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর মধ্যে ইমাম তিরমিযীর কিতাব "আল-মুখতাসার আল-জামি" অন্যতম, যা তাঁর জীবনচরিত বর্ণনায় অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ, এমনভাবে যে এই কিতাবটি পাঠকারী যেন সেই মহান ব্যক্তিত্বের পবিত্র চেহারার দিকেই তাকাচ্ছেন। এবং তিনি প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর মহান সৌন্দর্য অবলোকন করেন। এটি চোখের সম্মুখের আবরণ সরিয়ে দেয়, তাই তো বলা হয়েছে: (কান কখনো চোখের আগেই প্রেমে পড়ে যায়)। আর আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাযারি (আল্লাহ তাঁর সুউচ্চ রহস্যকে পবিত্র করুন) বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৩)
أَخِلَّايَ إِنْ شَطَّ الْحَبِيبُ وَرَبْعُهُ
… وَعَزَّ تَلَاقِيهِ وَنَاءَتْ مَنَازِلُهُ
وَفَاتَكُمُ أَنْ تُبَصِرُوهُ بِعَيْنِكُمْ
… فَمَا فَاتَكُمْ بِالْعَيْنِ هَذِي شَمَائِلُهُ.
وَلِلْأَدِيبِ مُحْيِي الدِّينِ عَبْدِ الْقَادِرِ الزَّرْكَشِيِّ مُضَمِّنًا لِعَجُزَيْ بَيْتَيْنِ مِنْ قَصِيدَةِ الْبَهَاءِ زُهَيْرٍ وَكَتَبَهَا عَلَى الشَّمَائِلِ:
يَا أَشْرَفَ مُرْسَلًا كِرِيمًا
… مَا أَلْطَفَ هَذِي الشَّمَايِلْ
مَنْ يَسْمَعْ وَصْفَهَا تَرَاهُ
… كَالْغُصْنِ مَعَ النَّسِيمِ مَايِلْ.
وَلِبَعْضِهِمْ فِي هَذَا الْمَعْنَى.
يَا عَيْنُ إِنْ بَعُدَ الْحَبِيبُ وَدَارُهُ
… وَنَأَتْ مَرَابِعُهُ وَشَطَّ مَزَارُهْ
فَلَقَدْ ظَفِرْتِ مِنَ الْحَبِيبِ بِطَائِلٍ
… إِنْ لَمْ تَرِيهِ فَهَذِهِ آثَارُهْ.
رَزَقَنَا اللَّهُ طُلُوعَ حَضَرْتِهِ وَحُضُورَ طَلْعَتِهِ الشَّرِيفَةِ عِنْدَ رَوْضَتِهِ الْمُنِيفَةِ وَحُصُولَ صُورَتِهِ الْكَرِيمَةِ مَنَامًا وَكَشْفًا فِي الدُّنْيَا، وَوُصُولَ رُؤْيَتِهِ الْحَقِيقَةَ فِي الْعُقْبَى مُنْضَمَّةً إِلَى رُؤْيَةِ الْمَوْلَى عَلَى الْوَجْهِ الْأَعْلَى وَالطَّرِيقِ الْأَغْلَى، أَحْبَبْتُ أَنْ أَدْخُلَ فِي زُمْرَةِ الْخَادِمِينَ بِشَرْحِ ذَلِكَ الْكِتَابِ وَأَنْ أَسْلُكَ فِي سِلْكِ الْمَخْدُومِينَ بِهَذَا الْبَابِ ; رَجَاءَ دَعْوَةٍ مِنْ أُولِي الْأَلْبَابِ، فَإِنَّ الدَّعْوَةَ بِظَهْرِ الْغَيْبِ تُسْتَجَابُ، وَسَمَّيْتُهُ. (جَمْعُ الْوَسَائِلِ فِي شَرْحِ الشَّمَائِلِ) : فَأَقُولُ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ، وَبِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ تَمَامُ التَّحْقِيقِ، قَالَ الْمُصَنِّفُ مُسْتَعِينًا بِذِكْرِ الْمَلِكِ الْمُتَعَالِ، مُقَدَّمًا عَلَى كُلِّ مَقَالٍ كَمَا هُوَ دَأْبُ أَرْبَابِ الْكَمَالِ.
(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) : أَيْ بِاسْتِعَانَةِ اسْمِ الْمَعْبُودِ بِالْحَقِّ الْوَاجِبِ الْوُجُودِ الْمُطْلَقِ الْمُبْدِعِ لِلْعَالَمِ الْمُحَقِّقِ أُصَنِّفُ هَذَا الْكِتَابَ إِجْمَالًا وَأُؤَلِّفُ بَيْنَ كُلِّ بَابٍ وَبَابٍ تَفْصِيلًا وَفِي تَأْخِيرِ الْمُتَعَلِّقِ إِيمَاءً لِإِفَادَةِ الِاخْتِصَاصِ وَإِشْعَارٍ بِاسْتِحْقَاقِ تَقْدِيمِ ذِكْرِ اسْمِهِ الْخَاصِّ لَا سِيَّمَا وَمَا هُوَ السَّابِقُ فِي الْوُجُودِ وَالْفِكْرِ يَسْتَحِقُّ السَّبْقَ فِي الذِّكْرِ وَالْفِكْرِ، وَلِذَا قَالَ بَعْضُ الْمُحَقِّقِينَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا إِلَّا وَرَأَيْتُ اللَّهَ قَبْلَهُ وَهُوَ أَعْلَى مَرْتَبَةً وَأَغْلَى مَقَامًا مِمَّنْ قَالَ: مَا رَأَيْتُ شَيْئًا إِلَّا وَرَأَيْتُ اللَّهَ بَعْدَهُ أَوْ مَعَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى كَانَ وَلَمْ يَكُنْ مَعَهُ شَيْءٌ، وَفِي نَظَرِ أَهْلِ التَّوْحِيدِ هُوَ الْآنَ عَلَى مَا عَلَيْهِ كَانَ (وَاللَّهُ) : اسْمُ لِذَاتِ الْحَقِّ مِنْ حَيْثُ هِيَ هِيَ لَا بِاعْتِبَارِ اتِّصَافِهِ بِالصِّفَاتِ، وَلَا بِاعْتِبَارِ لَا اتِّصَافِهِ ; وَلِذَا قِيلَ إِنْ كُلَّ اسْمٍ لِلتَّخَلُّقِ إِلَّا اللَّهَ فَإِنَّهُ لِلتَّعَلُّقِ، وَهُوَ الِاسْمُ الْأَعْظَمُ عَلَى الْقَوْلِ الْأَتَمِّ، وَلَكِنْ يُشْتَرَطُ لِتَأْثِيرِهِ أَنْ تَقُولَ: اللَّهُ. وَلَيْسَ فِي قَلْبِكَ سِوَاهُ.
(وَالرَّحْمَنُ) : هُوَ الْمُفِيضُ لِلْوُجُودِ وَالْكَمَالِ عَلَى الْكُلِّ بِحَسَبِ مَا تَقْتَضِيهِ الْحِكْمَةُ وَتَحْتَمِلُ الْقَوَابِلُ عَلَى وَجْهِ الْبِدَايَةِ.
(وَالرَّحِيمُ) : هُوَ الْمُفِيضُ لِلْكَمَالِ الْمَعْنَوِيِّ الْمَخْصُوصِ بِالنَّوْعِ الْإِنْسَانِيِّ بِحَسَبِ النِّهَايَةِ، وَفَائِدَةُ لَفْظِ الِاسْمِ بَقَاءُ هَيَاكِلِ الْخَلْقِ بِتَعَلُّقِ الرَّسْمِ إِذْ لَوْ قِيلَ بِاللَّهِ لَذَابَ تَحْتَ حَقِيقَةِ الْحَقِّ جَمِيعُ الْخَلْقِ، وَمَعَ هَذَا لَمَّا قَدَّمَ لَفْظَ اللَّهِ اضْمَحَلَّتِ الْعُقُولُ فِي ابْتِدَاءِ عَظَمَتِهِ وَتَلَاشَتِ الْأَرْوَاحُ فِي بِحَارِ أُلُوهِيَّتِهِ فَأَتْبَعَهُ بِالرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ لِيُسَلِّيَ قُلُوبَ الْمُوَحِّدِينَ وَيَشْفِيَ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ، وَالِاقْتِصَارُ عَلَى الصِّفَتَيْنِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّ رَحْمَتَهُ سَبَقَتْ غَضَبَهُ فِي النَّشْأَتَيْنِ، وَهَذَا مَعْنَى قَوْلِهِ عليه السلام " رَحْمَنُ الدُّنْيَا وَرَحِيمُ الْآخِرَةِ ".
ثُمَّ لَمَّا شَاهَدَ الْمُصَنِّفُ الْمُنْعِمَ الْحَقِيقِيَّ وَرَأَى فِي ضِمْنِ الْوَصْفَيْنِ عُمُومَ الْإِنْعَامِ الدُّنْيَوِيِّ وَالْأُخْرَوِيِّ أَرْدَفَ
الْبَسْمَلَةَ بِالْحَمْدَلَةِ فَقَالَ. (الْحَمْدُ لِلَّهِ) :، وَإِيثَارُهُ عَلَى الشُّكْرِ لِيَعُمَّ النِّعْمَةَ وَغَيْرَهَا، مَعَ أَنَّ غَيْرَهَا لَيْسَ غَيْرَهَا فَلَيْسَ فِي الْكَوْنِ غَيْرُ الْمُنْعِمِ وَنِعَمِهِ ; وَلِذَا وَرَدَ: الْحَمْدُ رَأْسُ الشُّكْرِ، مَا شَكَرَ اللَّهَ مَنْ لَمْ يَحْمَدْهُ، وَالْحَمْدَلَةُ خَبَرِيَّةٌ لَفَظًا وَإِنْشَائِيَّةٌ مَعْنًى وَاللَّامُ لِلِاسْتِغْرَاقِ الْعُرْفِيِّ بَلِ الْحَقِيقِيِّ أَيْ كُلُّ حَمْدٍ صَدَرَ مِنْ كُلِّ حَامِدٍ فَهُوَ مُخْتَصٌّ وَمُسْتَحِقٌّ لَهُ تَعَالَى حَقِيقَةً وَإِنْ كَانَ قَدْ يُوجَدُ لِغَيْرِهِ صُورَةٌ بَلِ الْمَصْدَرُ بِالْمَعْنَى الْأَعَمِّ مِنَ الْفَاعِلِيَّةِ وَالْمَفْعُولِيَّةِ فَهُوَ الْحَامِدُ وَهُوَ الْمَحْمُودُ سِوَى اللَّهِ، وَاللَّهُ مَا فِي الْوُجُودِ وَوَجْهُ تَخْصِيصِ اسْمِ الذَّاتِ دُونَ سَائِرِ الصِّفَاتِ لِلْإِيمَاءِ إِلَى أَنَّهُ الْمُسْتَحِقُّ لِجَمِيعِ الْمَحَامِدِ بِذَاتِهِ مَعَ قَطْعِ
হে আমার বন্ধুগণ! যদি প্রিয়জন এবং তাঁর বসতি দূরে চলে যায়... এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ কঠিন হয়ে পড়ে ও তাঁর আবাসস্থল দূরে সরে যায়।
আর তোমরা যদি তাঁকে চর্মচক্ষে দেখা থেকে বঞ্চিত হও... তবে যা তোমরা চর্মচক্ষে দেখার মাধ্যমে হারিয়েছ, তা এই তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।
আর সাহিত্যিক মুহিউদ্দীন আব্দুল কাদির আল-যারকাশি বাহাউদ্দীন যুহাইরের একটি কাসিদার দুটি চরণের শেষাংশ সংযোজন করে রাসূলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য (শামায়েল) সম্পর্কে লিখেছেন:
হে সম্মানিত শ্রেষ্ঠ রাসূল!... কতই না মনোমুগ্ধকর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ!
যে ব্যক্তি এর বর্ণনা শ্রবণ করবে, তাকে তুমি দেখতে পাবে... মৃদুমন্দ বাতাসে দোদুল্যমান পল্লবের মতো।
এবং একই অর্থে অন্য আরও কারো কবিতা:
হে চক্ষু! যদি প্রিয়জন ও তাঁর গৃহ দূরে হয়ে যায়... এবং তাঁর আবাসস্থল দূরে সরে যায় ও তাঁর যিয়ারতগাহ্ দূরবর্তী হয়।
তবে তুমি তো প্রিয়জনের কাছ থেকে প্রভূত কল্যাণ অর্জন করেছ... যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে এই তো তাঁর স্মৃতিচিহ্নসমূহ।
আল্লাহ যেন আমাদের তাঁর সান্নিধ্যের উদয় এবং তাঁর সুউচ্চ রওজা মুবারকের নিকট তাঁর পবিত্র উপস্থিতিতে হাজির হওয়া নসীব করেন; এবং স্বপ্নে ও জাগ্রত অবস্থায় দুনিয়াতে তাঁর মহান আকৃতি লাভ করা এবং পরকালে তাঁর প্রকৃত দর্শন প্রাপ্তি নসীব করেন, যা সর্বোচ্চ পন্থায় ও সর্বোত্তম উপায়ে মহান রবের দর্শনের সাথে যুক্ত হবে। আমি চেয়েছি এই কিতাবের ব্যাখ্যা (শারহ) করার মাধ্যমে খাদেমদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে এবং এই দ্বারের মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীদের সিলসিলায় প্রবেশ করতে; এই আশায় যে জ্ঞানীদের পক্ষ থেকে কোনো দুআ পাব, কারণ অগোচরে করা দুআ কবুল হয়। আর আমি এর নাম রেখেছি: (জামউল ওয়াসায়েল ফী শারহিশ শামায়েল)। আমি বলছি আল্লাহর তৌফিকের সাহায্য নিয়ে, এবং তাঁর ক্ষমতা ও শক্তিতেই গবেষণার পূর্ণতা লাভ হয়। গ্রন্থকার সুউচ্চ মহান বাদশাহর যিকিরের সাহায্য নিয়ে তাঁর কথা শুরু করেছেন, প্রত্যেক কথার পূর্বে যেভাবে পূর্ণতার অধিকারীদের রীতি হয়ে থাকে।
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে): অর্থাৎ সত্য উপাস্য, যাঁর অস্তিত্ব অপরিহার্য, যিনি পরম সত্তা এবং এই বিশ্বজগতের নিখুঁত উদ্ভাবক—সেই সত্তার নামের সাহায্য নিয়ে আমি এই কিতাবটি সংক্ষেপে সংকলন করছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের মাঝে বিস্তারিতভাবে বিন্যাস করছি। এখানে সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াটিকে শেষে উল্লেখ করার মাধ্যমে একচ্ছত্র অধিকারের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং আল্লাহর বিশেষ নামের যিকিরকে অগ্রগণ্য করার হকদার হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিশেষত যা অস্তিত্বে ও চিন্তায় অগ্রগামী, তা যিকির ও ধ্যানেও অগ্রগামী হওয়ার যোগ্য। এজন্যই কোনো কোনো গবেষক বলেছেন: 'আমি যা কিছু দেখেছি, তার আগে আল্লাহকেই দেখেছি।' আর এটি সেই ব্যক্তির চেয়ে উচ্চতর স্তর ও মর্যাদাপূর্ণ স্থান, যে বলে: 'আমি যা কিছু দেখেছি, তার পরে বা সাথে আল্লাহকে দেখেছি।' কেননা আল্লাহ তাআলা ছিলেন যখন তাঁর সাথে কিছুই ছিল না। আর তাওহীদপন্থীদের দৃষ্টিতে তিনি বর্তমানেও ঠিক তেমনই আছেন যেমনটি তিনি ছিলেন। (আল্লাহ): এটি সত্য সত্তার নাম, যা কেবল সত্তার দিক থেকেই বিবেচিত, তাঁর গুণাবলীতে গুণান্বিত হওয়া বা না হওয়ার বিবেচনা ব্যতিরেকে। এজন্যই বলা হয়েছে যে, প্রতিটি নামই চারিত্রিক গুণ অর্জনের জন্য, কেবল 'আল্লাহ' নাম ব্যতিরেকে, কেননা এটি কেবল সম্পর্কের জন্য। পূর্ণাঙ্গ মতানুসারে এটিই ইসমে আজম বা মহান নাম। তবে এর প্রভাবের জন্য শর্ত হলো—তুমি যখন 'আল্লাহ' বলবে, তখন তোমার অন্তরে তিনি ছাড়া আর কেউ থাকবে না।
(পরম করুণাময়): তিনি সেই সত্তা যিনি প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী এবং গ্রহণকারীর সক্ষমতা অনুযায়ী প্রারম্ভিক হিসেবে সকলের ওপর অস্তিত্ব ও পূর্ণতা বর্ষণ করেন।
(অসীম দয়ালু): তিনি সেই সত্তা যিনি সমাপ্তি হিসেবে মানবজাতির জন্য নির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক পূর্ণতা বর্ষণ করেন। এখানে 'নাম' শব্দটি ব্যবহারের উপকারিতা হলো এই সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্টির অবয়বসমূহ অবশিষ্ট থাকা। কারণ যদি সরাসরি 'আল্লাহর মাধ্যমে' বলা হতো, তবে সত্যের হাকীকতের নিচে সমস্ত মাখলুক বিগলিত হয়ে যেত। তা সত্ত্বেও, যখন 'আল্লাহ' নামটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন তাঁর মাহাত্ম্যের শুরুতে জ্ঞানসমূহ বিলীন হয়ে গেছে এবং তাঁর উলুহিয়্যাতের সমুদ্রে রূহসমূহ লয়প্রাপ্ত হয়েছে। অতঃপর তিনি এর অনুগামী করেছেন 'পরম করুণাময়' ও 'অসীম দয়ালু' শব্দ দুটিকে, যাতে তা একত্ববাদীদের অন্তরকে শান্ত করে এবং মুমিন সম্প্রদায়ের বক্ষকে প্রশান্তি দান করে। কেবল এই দুটি গুণ উল্লেখ করার মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, উভয় জগতেই তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর অগ্রগামী। আর এটিই নবী করীম আলাইহিস সালামের এই বাণীর মর্মার্থ: "দুনিয়ার রহমান এবং আখিরাতের রাহীম।"
অতঃপর গ্রন্থকার যখন প্রকৃত নিয়ামতদাতার দর্শন পেলেন এবং এই দুটি গুণের মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের নিয়ামতের ব্যাপকতা দেখতে পেলেন, তখন তিনি বিসমিল্লাহর পর প্রশংসা যুক্ত করে বললেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য): শুকরিয়ার পরিবর্তে হামদ বা প্রশংসা শব্দটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যাতে তা নিয়ামত এবং নিয়ামত ছাড়া অন্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও প্রকৃতপক্ষে নিয়ামতদাতা ও তাঁর নিয়ামত ছাড়া এই মহাবিশ্বে অন্য কিছুই নেই। এজন্যই বর্ণিত হয়েছে: "হামদ হলো শোকরের মূল। যে আল্লাহর প্রশংসা করল না, সে তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করল না।" এই প্রশংসা শব্দটি উচ্চারণের দিক থেকে সংবাদবাচক হলেও অর্থের দিক থেকে প্রশংসা জ্ঞাপক। এখানে 'লাম' বর্ণটি প্রচলিত বা প্রকৃত ব্যাপকতা বুঝানোর জন্য এসেছে। অর্থাৎ প্রতিটি প্রশংসাকারীর পক্ষ থেকে নির্গত প্রতিটি প্রশংসা প্রকৃতপক্ষে কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্দিষ্ট এবং তিনিই তার প্রকৃত প্রাপ্য, যদিও রূপকভাবে অন্য কারও প্রশংসা পাওয়া যেতে পারে। বরং মূল শব্দটি এখানে কর্তা ও কর্ম উভয়ের চেয়ে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া আর কেউ প্রকৃত প্রশংসাকারীও নন, আর প্রকৃত প্রশংসিতও নন। অস্তিত্বে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই। আর অন্যান্য গুণাবলীর পরিবর্তে কেবল সত্তাগত নামকে (আল্লাহ) নির্দিষ্ট করার কারণ হলো এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, তিনি স্বয়ং নিজের সত্তার গুণেই সমস্ত প্রশংসার দাবিদার।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৪)
النَّظَرِ عَنْ صِفَاتِهِ وَمُلَاحَظَةِ نُعُوتِهِ وَبَرَكَاتِهِ فَسَوَاءٌ حُمِدَ أَوْ لَمْ يُحْمَدْ وَعُبِدَ أَوْ لَمْ يُعْبَدْ لَهُ الْكَمَالُ الْمُطْلَقُ لَا يَزِيدُ وَلَا يَنْقُصُ بِوُجُودِ الْخَلْقِ وَعَدَمِهِمْ وَعِبَادَتِهِمْ وَحَمْدِهِمْ وَتَرْكِهِمْ وَجُهْدِهِمْ وَعَمَلِهِمْ وَجَهْلِهِمْ وَإِقْرَارِهِمْ وَجَحْدِهِمْ فَإِنَّ الْمَخْلُوقَاتِ وَالْمَوْجُودَاتِ إِنَّمَا هُمْ مَظَاهِرُ الصِّفَاتِ فَبَعْضُهُمْ مَرَائِي النُّعُوتِ الْجَمَالِيَّةِ وَبَعْضُهُمْ مَجَالِي الْأَوْصَافِ الْجَلَالِيَّةِ، فَمَنْ عَبَدَهُ أَوْ حَمِدَهُ لَا لِذَاتِهِ بَلْ لِأَغْرَاضِ حَقِّهِ وَتَعَلُّقَاتِهِ فَلَيْسَ بِعَابِدٍ وَحَامِدٍ بَلْ وَلَا مُؤْمِنٍ مُوَحِّدٍ.
(وَسَلَامٌ) : أَيُ تَسْلِيمٌ عَظِيمٌ مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ أَوْ سَلَامٌ كَثِيرٌ مِنَّا أَوْ ثَنَاءٌ حَسَنٌ مِنْ جَانِبِنَا.
(عَلَى عِبَادِهِ) : الْمُخْتَصِّينَ بِشَرَفِ الْعِبَادَةِ وَالْعُبُودِيَّةِ الْقَائِمِينَ بِوَظَائِفِ الْعَبْدِيَّةِ عَلَى مُقْتَضَى أَحْكَامِ الرُّبُوبِيَّةِ الْوَاصِلِينَ إِلَى مَرْتَبَةِ الْعِنْدِيَّةِ لَا مِنْ عِنْدِهِمْ بَلْ بِمُوجَبِ مَا أَعْطَاهُمْ مِنَ الصِّفَاتِ الِاصْطِفَائِيَّةِ.
(الَّذِينَ اصْطَفَى) : أَيْ هُمُ الَّذِينَ اصْطَفَاهُمْ وَاجْتَبَاهُمْ وَارْتَضَاهُمْ وَصَفَّاهُمْ عَمَّا كَدَّرَ بِهِ سِوَاهُمْ، وَهُمُ الرُّسُلُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ وَمِنَ النَّاسِ وَسَائِرُ الْأَنْبِيَاءِ وَجَمِيعُ أَتْبَاعِهِمْ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالْأَوْلِيَاءِ الْأَصْفِيَاءِ، فَدَخَلَ الْمُصْطَفَى وَآلُ الْمُرْتَضَى وَصَحْبُهُ الْمُجْتَبِي فِيهِمْ دُخُولًا أَوَّلِيًّا فَلَا وَجْهَ لِمَنْ ذَكَرَ هُنَا كَلَامًا اعْتِرَاضِيًّا مَعَ أَنَّ الْمُصَنِّفَ إِنَّمَا أَتَى بِهَذِهِ الْجُمْلَةِ اقْتِدَاءً بِهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ بِلُوطٍ عليه السلام، عَلَى اخْتِلَافٍ بَيْنَ الْمُفَسِّرِينَ فِي الْمُرَادِ بِالْخِطَابِ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى فِي الْكِتَابِ: (قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى) : أَوِ ابْتِدَاءً بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِالْخِطَابِ خِطَابُ الْعَامِّ ; فَفِيهِ اقْتِبَاسٌ مِنْ كَلَامِ اللَّهِ، وَتَضَمُّنٌ لِمَعْنَى حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " سُبْحَانَكَ لَا نُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ ".
وَهَاهُنَا مَبَاحِثُ صَدَرَتْ مِنَ الشُّرَّاحِ بَعْضُهَا ضِعَافٌ وَبَعْضُهَا صِحَاحٌ فَلَا بُدَّ مِنْ ذِكْرِهَا وَتَقْرِيرِهَا وَتَوْضِيحِهَا وَتَحْرِيرِهَا ; مِنْهَا قَوْلُ
بَعْضِهِمْ: مَعْنَاهُ السَّلَامَةُ مِنَ الْآفَاتِ وَالْآلَامِ الوَاقِعَةِ عَلَى عِبَادِهِ، وَهُوَ ضَعِيفٌ لِمَا فِي الصَّحِيحِ: " أَشَدُّ النَّاسِ بَلَاءً الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ "، وَلِأَنَّهُ مُخَالِفٌ لِلْمُشَاهَدِ.
وَمِنْهَا قَوْلُهُ: لَا خَفَاءَ فِي حُسْنِ تَنْكِيرِ السَّلَامِ عَلَى الْعِبَادِ الْمُنْبِئِ عَلَى التَّحْقِيرِ فِي مُقَابَلَةِ تَعْرِيفِ الْحَمْدِ لِلَّهِ الْكَبِيرِ انْتَهَى. وَلَا يَخْفَى فَسَادُ هَذَا الْكَلَامِ عَلَى الْفَطِنِ بِالْمَرَامِ ; لِأَنَّهُ إِنْ أَرَادَ تَحْقِيرَ الْعِبَادِ فَهُوَ كَلَامٌ فِي غَايَةِ السُّقُوطِ وَنِهَايَةِ الِاسْتِبْعَادِ، وَإِنْ أَرَادَ تَحْقِيرَ السَّلَامِ فَلَا مَعْنَى لَهُ فِي الْمَقَامِ، وَإِنْ أَرَادَ أَنَّ السَّلَامَ أَدْنَى رُتْبَةً مِنَ الْحَمْدِ فَالتَّنْكِيرُ لَا يَدُلُّ عَلَيْهِ وَلَوْ بِالْجَهْدِ.
وَمِنْهَا قَوْلُهُ: مَنْ كَرِهَ إِفْرَادَ السَّلَامِ عَنِ الصَّلَاةِ، حَمَلَ الْآيَةَ عَلَى أَنَّهَا
তাঁর সিফাত বা গুণাবলি এবং তাঁর বৈশিষ্ট্য ও বরকতসমূহের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া ব্যতিরেকেই, তাঁর প্রশংসা করা হোক বা না হোক এবং তাঁর ইবাদত করা হোক বা না হোক, তাঁর জন্য রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা। সৃষ্টির অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের কারণে, তাদের ইবাদত ও প্রশংসা করা বা না করা এবং তাদের প্রচেষ্টা, আমল, অজ্ঞতা, স্বীকৃতি কিংবা অস্বীকারের কারণে তা বৃদ্ধি পায় না বা হ্রাস পায় না। কেননা মাখলুকাত বা সৃষ্ট বস্তুসমূহ এবং বিদ্যমান বিষয়াবলি মূলত সিফাত বা গুণাবলিরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ফলে তাদের কেউ কেউ হলো সৌন্দর্যমন্ডিত গুণাবলির দর্পণ, আবার কেউ কেউ হলো মহিমা ও গাম্ভীর্যপূর্ণ গুণাবলির বিকাশস্থল। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর ইবাদত করল বা তাঁর প্রশংসা করল তাঁর সত্তার জন্য নয়, বরং নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উদ্দেশ্যে, সে প্রকৃত ইবাদতকারী বা প্রশংসাকারী নয়, বরং সে তো মুমিন মুওয়াহহিদও (একত্ববাদী বিশ্বাসী) নয়।
(এবং সালাম): অর্থাৎ দয়াময় রবের পক্ষ থেকে মহান অভিবাদন, অথবা আমাদের পক্ষ থেকে প্রচুর শান্তি বর্ষণ অথবা আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রশংসা।
(তাঁর বান্দাদের ওপর): যারা ইবাদত ও দাসত্বের সম্মানে বিশেষিত, যারা রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের বিধানের দাবি অনুযায়ী দাসত্বের দায়িত্বসমূহ পালনকারী, যারা ‘নৈকট্যের’ (ইনদিয়্যাহ) মর্তবায় উপনীত হয়েছেন—তাঁদের নিজেদের পক্ষ থেকে নয় বরং আল্লাহ তাঁদেরকে যে মনোনীত গুণাবলি দান করেছেন তার বদৌলতে।
(যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন): অর্থাৎ তাঁরাই সেই ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন, পছন্দ করেছেন, যাঁদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং অন্যদেরকে যা কলুষিত করেছে তা থেকে তাঁদেরকে পবিত্র করেছেন। তাঁরা হলেন ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে প্রেরিত রাসূলগণ এবং অন্যান্য নবীগণ, আর তাঁদের সকল অনুসারী তথা উলামায়ে কেরাম ও নির্মল চরিত্রের আউলিয়ায়ে কেরাম। ফলে মুস্তফা (সা.), আল-ই মুর্তজা এবং তাঁর পছন্দনীয় সাহাবায়ে কেরাম সর্বাগ্রে এদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এখানে যে ব্যক্তি কোনো আপত্তিজনক কথা উল্লেখ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই; যদিও গ্রন্থকার এই বাক্যটি নিয়ে এসেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা লূত আলাইহিস সালামের অনুসরণে। কিতাবে মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি তাঁর ঐ সকল বান্দাদের ওপর যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন)—এই সম্বোধনের উদ্দেশ্য কী, এ ব্যাপারে মুফাসসিরগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অথবা এটি সূচনা করা হয়েছে এই ভিত্তিতে যে, এই সম্বোধনের দ্বারা সাধারণ সম্বোধন উদ্দেশ্য। সুতরাং এতে আল্লাহর কালাম থেকে ইকতিবাস (উদ্ধৃতি) রয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীসের অর্থ এতে নিহিত রয়েছে: “আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন।”
আর এখানে ব্যাখ্যাকারগণের পক্ষ থেকে কিছু আলোচনা উত্থাপিত হয়েছে, যার কিছু দুর্বল এবং কিছু বিশুদ্ধ। তাই সেগুলো উল্লেখ করা, সুপ্রতিষ্ঠিত করা, স্পষ্ট করা এবং লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কারো কারো এই উক্তি:
কারো কারো মতে: এর অর্থ হলো তাঁর বান্দাদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ ও যাতনা থেকে মুক্তি। এটি একটি দুর্বল মত, কারণ সহীহ হাদীসে এসেছে: “মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ, অতঃপর তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিগণ, তারপর তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিগণ।” এছাড়া এটি দৃশ্যমান বাস্তবতারও পরিপন্থী।
সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তাঁর এই কথা: মহান আল্লাহর প্রশংসার ক্ষেত্রে ‘আল-হামদু’ (নির্দিষ্টবাচক) ব্যবহারের বিপরীতে বান্দাদের জন্য ‘সালাম’ শব্দটিকে অনির্দিষ্টবাচক (নাকিরাহ) ব্যবহারের সৌন্দর্য অত্যন্ত স্পষ্ট, যা তুচ্ছতা প্রকাশ করে। (উক্তি সমাপ্ত)। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তির কাছে এই কথার অসারতা গোপন নয়। কারণ তিনি যদি বান্দাদের তুচ্ছ করা বুঝিয়ে থাকেন, তবে এটি অত্যন্ত হীন ও চরম অগ্রহণযোগ্য কথা। আর যদি সালামকে তুচ্ছ করা বুঝিয়ে থাকেন, তবে এই স্থানে তার কোনো অর্থ হয় না। আর যদি তিনি বুঝিয়ে থাকেন যে, সালামের মর্যাদা প্রশংসার (হামদ) চেয়ে কম, তবে আপ্রাণ চেষ্টা করলেও অনির্দিষ্টবাচক ব্যবহার তা প্রমাণ করে না।
সেগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে তাঁর এই উক্তি: যারা দরুদ (সালাত) ব্যতীত কেবল সালাম বলা অপছন্দ করেছেন, তাঁরা এই আয়াতটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৫)
فِي أَوَائِلِ الْإِسْلَامِ وَهُوَ مَرْدُودٌ بِأَنَّهُ لَمْ يُنْقَلْ عَنْ أَحَدٍ مِنَ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ جَائِزًا فِي أَوَائِلِ الْإِسْلَامِ ثُمَّ نُسِخَ، وَأَغْرَبَ مِيرَكُ حَيْثُ قَالَ: لَمْ يُنْقَلْ أَنَّهُ صَارَ مَنْسُوخًا فِي أَوَاخِرِ زَمَانِهِ أَوْ فِي زَمَنِ الصَّحَابَةِ أَوِ التَّابِعِينَ انْتَهَى ; لِأَنَّهُ لَا يُتَصَوَّرُ النَّسْخُ فِي غَيْرِ زَمَانِهِ صلى الله عليه وسلم وَلَعَلَّ مُرَادَهُ ظُهُورُ نَسْخِهِ فِي زَمَنِ غَيْرِهِ، ثُمَّ الصَّحِيحُ مَا ذَكَرَهُ الْجَزَرِيُّ فِي مِفْتَاحِ الْحِصْنِ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ هُوَ الْأَوْلَى وَلَوِ اقْتَصَرَ عَلَى أَحَدِهِمَا جَازَ مِنْ غَيْرِ كَرَاهَةٍ فَقَدْ جَرَى عَلَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنَ السَّلَفِ وَالْخَلَفِ مِنْهُمُ الْإِمَامُ مُسْلِمٌ فِي أَوَّلِ صَحِيحِهِ وَهَلُمَّ جَرَّا، حَتَّى الْإِمَامِ وَلِيِّ اللَّهِ أَبِي الْقَاسِمِ الشَّاطِبِيِّ فِي قَصِيدَتِهِ الرَّائِيَةِ وَاللَّامِيَّةِ، وَأَمَّا قَوْلُ النَّوَوِيِّ: وَقَدْ نَصَّ الْعُلَمَاءُ أَوْ مَنْ نَصَّ مِنْهُمْ عَلَى كَرَاهَةِ الِاقْتِصَارِ عَلَى الصَّلَاةِ مِنْ غَيْرِ السَّلَامِ ; فَلَيْسَ بِذَاكَ فَإِنِّي لَا أَعْلَمُ أَحَدًا نَصَّ عَلَى ذَلِكَ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَلَا مِنْ غَيْرِهِمُ. انْتَهَى، مَعَ أَنَّ مَفْهُومَ كَلَامِ النَّوَوِيِّ أَنَّ إِفْرَادَ السَّلَامِ عَنِ الصَّلَاةِ غَيْرُ مَكْرُوهٍ، وَلَكَ أَنْ تَقُولَ: تَبِعَ الْمُصَنِّفُ فِي ذَلِكَ الطَّرِيقَ الْأَقْدَمَ، فَإِنَّ السَّلَفَ كَانُوا لَمْ يَكُونُوا مُوَشِّحِينَ صُدُورَ الْكُتُبِ وَالرَّسَائِلِ بِالصَّلَاةِ ; فَإِنَّهُ أَمْرٌ حَدَثَ فِي الْوِلَايَةِ الْهَاشِمِيَّةِ إِلَّا أَنَّ الْأُمَّةَ لَمْ تُنْكِرْهَا وَعَمِلُوا بِهَا عَلَى مَا فِي الشِّفَاءِ، ثُمَّ الظَّاهِرُ مِنْ كَلَامِ النَّوَوِيِّ أَنَّ كَرَاهَةَ الْإِفْرَادِ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا هُوَ فِي خُصُوصِ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا) مَعَ أَنَّ الْوَاوَ لِمُطْلَقِ الْجَمْعِ فَلَا يَلْزَمُ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا فِي كُلِّ مَرْتَبَةٍ مِنَ الْمَرَاتِبِ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِ كَلَامُهُ فِي الْأَذْكَارِ: إِذَا صَلَّيْتَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلْتَجْمَعْ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ وَلَا تَقْتَصِرْ عَلَى أَحَدِهِمَا، وَإِفْرَادُ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ مَكْرُوهٌ فَلَا تَقُلْ: صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ فَقَطْ، وَلَا عليه السلام فَقَطْ، انْتَهَى. وَيُؤَيِّدُهُ مَا ذَكَرَهُ الْعَسْقَلَانِيُّ مِنْ أَنَّ الْعُلَمَاءَ اخْتَلَفُوا فِي أَنَّهُ هَلْ يَجُوزُ أَنْ يُصَلَّى عَلَى غَيْرِ الْأَنْبِيَاءِ أَوْ يُسَلَّمَ عَلَيْهِمُ اسْتِقْلَالًا أَوْ لَا يَجُوزُ ; فَجَوَّزَهُ بَعْضُهُمْ وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ، وَأَمَّا مَنْ صَلَّى وَسَلَّمَ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَغَيْرِهِمْ عَلَى سَبِيلِ الْإِجْمَالِ فَهُوَ جَائِزٌ، وَقَالَ ابْنُ الْقَيِّمِ: الْمُخْتَارُ الَّذِي عَلَيْهِ الْمُحَقِّقُونَ مِنَ الْعُلَمَاءِ أَنَّ الصَّلَاةَ وَالسَّلَامَ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ وَالْمَلَائِكَةِ وَآلِ النَّبِيِّ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ وَأَهْلِ الطَّاعَةِ عَلَى سَبِيلِ الْإِجْمَالِ جَائِزٌ عِنْدَ كَافَّةِ الْعُلَمَاءِ وَيُكْرَهُ فِي غَيْرِ الْأَنْبِيَاءِ بِشَخْصٍ مُفْرَدٍ بِحَيْثُ يَصِيرُ شِعَارًا وَلَا سِيَّمَا إِذَا تُرِكَ فِي حَقِّ مِثْلِهِ أَوْ أَفْضَلَ مِنْهُ، فَلَوِ اتَّفَقَ وُقُوعُ ذَلِكَ فِي بَعْضِ الْأَحَايِينِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُتَّخَذَ شِعَارًا لَمْ يَكُنْ بِهِ بَأْسٌ عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ.
وَمِنْهَا قَوْلُ بَعْضِهِمْ: إِنَّ الْمُصَنِّفَ جَعَلَ غَيْرَ الْأَنْبِيَاءِ تَبَعًا لَهُمْ فِي السَّلَامِ مَعَ أَنَّ ذَلِكَ غَيْرُ جَائِزٍ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْفِقْهِ وَهُوَ غَيْرُ صَحِيحٍ ; إِذْ عَدَمُ الْجَوَازِ عِنْدَ الْبَعْضِ مَحْمُولٌ عَلَى أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيْهِمِ اسْتِقْلَالًا، وَلَا شَكَّ أَنَّهُمْ فِي ضِمْنِ الْأَنْبِيَاءِ
مَذْكُورُونَ عَلَى سَبِيلِ الْغَلَبَةِ وَالتَّبَعِيَّةِ مَعَ أَنَّ الْآيَةَ حُجَّةٌ قَاطِعَةٌ عَلَيْهِ وَعَلَى ذَلِكَ الْبَعْضِ إِنْ أَرَادُوا الْإِطْلَاقَ.
وَمِنْهَا قَوْلُ بَعْضِهِمْ: إِنَّ الْمُرَادَ بِعِبَادِهِ هُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ وَهُوَ مَرْدُودٌ لِاتِّفَاقِ الْمُفَسِّرِينَ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ خُصُوصُ الْمُرْسَلِينَ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ) ، أَوْ عُمُومُ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُؤْمِنِينَ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: (ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا) ، وَلِقَوْلِهِ تَعَالَى: (اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ) .
وَمِنْهَا قَوْلُ بَعْضِهِمْ: وَرَدَ فِي الْحَدِيثِ الْمَشْهُورِ: " كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا تَشَهُّدٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ "، أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ وَالْمُؤَلِّفُ فِي جَامِعِهِ، فَقِيلَ لَعَلَّهُ تَشَهَّدَ نُطْقًا وَلَمْ يَكْتُبْهُ اخْتِصَارًا، وَقِيلَ لَعَلَّهُ تَرَكَهُ إِيمَاءً إِلَى عَدَمِ صِحَّةِ الْحَدِيثِ عِنْدَهُ أَوْ مَحْمُولٌ عِنْدَهُ عَلَى خُطْبَةِ النِّكَاحِ، وَالصَّحِيحُ مَا قَالَهُ التُّورِبِشْتِيُّ وَغَيْرُهُ مِنْ أَنَّ الْمُرَادَ بِالتَّشَهُّدِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ الْحَمْدُ وَالثَّنَاءُ، وَأَمَّا قَوْلُ الْجَزَرِيِّ: وَالصَّوَابُ أَنَّهُ عِبَارَةٌ عَنِ الشَّهَادَتَيْنِ لِمَا فِي الرِّوَايَةِ الْأُخْرَى: " كُلُّ خُطْبَةٍ لَيْسَ فِيهَا شَهَادَةٌ فَهِيَ كَالْيَدِ الْجَذْمَاءِ "، وَكَذَا تَصْرِيحُ الْعَسْقَلَانِيِّ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِهِ الشَّهَادَتَانِ فَلَا يُنَافِي التَّأْوِيلَ الْمَذْكُورَ ; إِذْ مُرَادُهُ أَنَّ التَّشَهُّدَ هُوَ الْإِتْيَانُ بِكَلِمَتَيِ الشَّهَادَةِ، وَسُمِّيَ تَشَهُّدُ الصَّلَاةِ تَشَهُّدًا لِتَضَمُّنِهِ إِيَّاهُمَا، لَكِنِ اتُّسِعَ فِيهِ فَاسْتُعْمِلَ فِي الثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى وَالْحَمْدِ لَهُ، وَأَمَّا اعْتِرَاضُ شَارِحٍ بِأَنَّ ارْتِكَابَ الْمَجَازِ بِلَا قَرِينَةٍ صَارِفَةٍ عَنِ الْمَعْنَى الْحَقِيقِيِّ غَيْرُ مَقْبُولٍ ; فَهُوَ صَحِيحٌ مَنْقُولٌ لَكِنَّهُ لَمَّا تَرَكَ أَكْثَرُ الْعُلَمَاءِ الْمُصَنِّفِينَ الْعَمَلَ بِظَاهِرِ هَذَا الْحَدِيثِ دَلَّ عَلَى أَنَّ ظَاهِرَهُ غَيْرُ مُرَادٍ فَيُؤَوَّلُ بِأَحَدِ التَّأْوِيلَاتِ الْمُتَقَدِّمَةِ، وَالْأَظْهَرُ عِنْدِي أَنْ تُحْمَلَ الْخُطْبَةُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَلَى الْخُطَبِ الْمُتَعَارِفَةِ فِي زَمَانِهِ صلى الله عليه وسلم أَيَّامَ الْجُمُعَةِ وَالْأَعْيَادِ وَغَيْرِهَا، فَإِنَّ التَّصْنِيفَ حَدَثَ بَعْدَ ذَلِكَ ثُمَّ الشُّرَّاحُ اتَّفَقُوا عَلَى أَنَّ قَوْلَهُ الَّذِينَ اصْطَفَى فِي مَحَلِّ جَرٍّ عَلَى أَنَّهُ صِفَةٌ أَوْ رَفْعٍ عَلَى أَنَّهُ خَبَرُ مُبْتَدَأٍ مَحْذُوفٍ أَوْ نَصْبٍ عَلَى الْمَدْحِ، ثُمَّ جُمْلَةُ (سَلَامٌ) مُحْتَمَلٌ أَنْ يَكُونَ إِخْبَارًا إِجْمَالِيًّا وَإِنْشَاءً دُعَائِيًّا وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُ إِخْبَارٌ مُتَضَمِّنٌ لِلْإِنْشَاءِ، وَلَمَّا كَانَ عِنْدَ ذِكْرِ الصَّالِحِينَ تَنْزِلُ الرَّحْمَةُ وَتَكْثُرُ الْبَرَكَةُ وَهَذَا الْكِتَابُ بِكَمَالِهِ مَخْصُوصٌ بِنُعُوتِ جَمَالِهِ
ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি প্রচলিত ছিল বলে যে মত দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাখ্যাত, কারণ আলেমদের কারো থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে ইসলামের প্রাথমিক যুগে এটি বৈধ ছিল এবং পরবর্তীতে রহিত হয়েছে। মীরক আশ্চর্যজনক কথা বলেছেন যে, নবীজির শেষ জীবনে কিংবা সাহাবী বা তাবেয়ীদের যুগে এটি রহিত হওয়ার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। এর কারণ হলো নবীজির সময়কাল ছাড়া অন্য কারো সময়ে কোনো বিধান রহিত হওয়া কল্পনা করা যায় না। সম্ভবত তার উদ্দেশ্য ছিল অন্য কারো যুগে বিষয়টি রহিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়া। অতঃপর জাযারী 'মিফতাহুল হিসন' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তাই সঠিক যে, সালাত ও সালাম উভয়কে একত্রিত করা উত্তম। তবে যদি কেউ কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় হওয়া ছাড়াই বৈধ হবে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের একটি দল এভাবেই আমল করেছেন, যাদের মধ্যে ইমাম মুসলিম তার সহীহের শুরুতে এ পথ অবলম্বন করেছেন এবং এভাবেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এমনকি আল্লাহর ওলী ইমাম আবুল কাসিম আশ-শাতিবী তার 'রায়িয়্যাহ' ও 'লামিয়্যাহ' কাসিদায় এটি করেছেন। ইমাম নববীর উক্তি সম্পর্কে—যেখানে তিনি বলেছেন যে আলেমগণ বা তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল সালাম ছাড়া সালাতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে অপছন্দনীয় বলেছেন—সেটি তেমন শক্তিশালী নয়। কেননা আমি আলেমদের বা অন্য কারো থেকে এমন কোনো স্পষ্ট বক্তব্য জানি না। অথচ নববীর কথার মর্মার্থ হলো, সালাত ছাড়া কেবল সালাম বলা অপছন্দনীয় নয়। আপনি বলতে পারেন যে, গ্রন্থকার এক্ষেত্রে প্রাচীন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কারণ সালাফগণ কিতাব ও চিঠিপত্রের শুরুতে সালাত (দরুদ) দিয়ে সাজাতেন না। এটি হাশেমী খেলাফতের সময় উদ্ভূত একটি বিষয়। তবে উম্মত এটিকে অস্বীকার করেনি এবং তারা 'আশ-শিফা' কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী এর ওপর আমল করেছেন। অতঃপর ইমাম নববীর কথা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সালাত ও সালামের মধ্যে একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি এককভাবে ব্যবহার করার অপছন্দনীয়তা কেবল আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পেশ করো।" যদিও এখানে 'এবং' অক্ষরটি কেবল একত্রিত করার জন্য এসেছে, তাই সব ক্ষেত্রে দুটির একত্রীকরণ অপরিহার্য নয়। আল-আযকার গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য এর প্রমাণ দেয়: যখন তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করবে, তখন সালাত ও সালাম উভয়কে একত্রিত করবে এবং কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। তাঁর ওপর এককভাবে সালাত পাঠ করা অপছন্দনীয়, সুতরাং শুধু 'আল্লাহর সালাত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক' বলো না, আবার শুধু 'তাঁর ওপর সালাম বর্ষিত হোক'ও বলো না। হাফেজ আসকালানী যা উল্লেখ করেছেন তা একে সমর্থন করে যে, আলেমগণ নবীগণ ব্যতীত অন্যদের ওপর এককভাবে সালাত বা সালাম পাঠ করা বৈধ কি না তা নিয়ে মতভেদ করেছেন। কেউ এটিকে বৈধ বলেছেন, আবার কেউ অপছন্দ করেছেন। আর যারা নবীগণ এবং অন্যদের ওপর একত্রে সাধারণভাবে সালাত ও সালাম পাঠ করেন, তা বৈধ। ইবনুল কাইয়্যেম বলেন: মুহাক্কিক আলেমদের পছন্দনীয় মত হলো—নবীগণ, ফেরেশতাগণ, নবীজির পরিবার-পরিজন, তাঁর স্ত্রীগণ, বংশধর এবং অনুগত বান্দাদের ওপর সামগ্রিকভাবে সালাত ও সালাম পাঠ করা সমস্ত আলেমের নিকট বৈধ। তবে নবীগণ ব্যতীত অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য একে এমনভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করা অপছন্দনীয় যা একটি প্রতীকে পরিণত হয়, বিশেষ করে যদি তার সমমর্যাদার বা তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা বর্জন করা হয়। কিন্তু যদি মাঝেমধ্যে প্রতীকে পরিণত করা ছাড়াই এমনটি ঘটে, তবে সাধারণ আলেমদের নিকট এতে কোনো অসুবিধা নেই।
এর মধ্যে একটি হলো কারো কারো বক্তব্য: গ্রন্থকার সালামের ক্ষেত্রে নবীগণ ছাড়া অন্যদের তাঁদের অনুগামী করেছেন, অথচ কোনো কোনো ফকীহর মতে এটি বৈধ নয়। তবে এই কথা সঠিক নয়। কারণ কেউ কেউ যে বৈধ নয় বলেছেন, তা মূলত তাদের ওপর এককভাবে সালাম পাঠ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নিঃসন্দেহে তাঁরা নবীগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রধানত ও অনুগামী হিসেবে উল্লিখিত হয়েছেন। তদুপরি, আয়াতটি তাঁর এবং সেইসব আলেমদের বিপক্ষে অকাট্য দলিল, যদি তারা বিষয়টিকে নিঃশর্তভাবে নিষিদ্ধ বুঝাতে চান।
এর মধ্যে আরেকটি হলো কারো কারো বক্তব্য যে, 'তাঁর বান্দাদের' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ। এই বক্তব্যটি প্রত্যাখ্যাত, কারণ মুফাসসিরগণ একমত যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিশেষভাবে রাসূলগণ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর।" অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে নবীগণ ও মুমিনগণ, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আমি কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি তাদের, যাদের আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন।"
এর মধ্যে আরেকটি হলো কারো কারো উক্তি: প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে, "যে খুতবায় তাশাহহুদ নেই তা কাটা হাতের মতো।" এটি আবু দাউদ তার সুনানে এবং লেখক তার জামে গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, সম্ভবত তিনি মুখে তাশাহহুদ পাঠ করেছেন কিন্তু সংক্ষেপ করার জন্য তা লেখেননি। আবার কেউ বলেছেন যে, সম্ভবত তিনি হাদিসটি তাঁর নিকট সহীহ না হওয়ার দিকে ইশারা করে তা বর্জন করেছেন অথবা তাঁর নিকট এটি বিবাহের খুতবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সঠিক হলো তূরবিশতী ও অন্যদের বক্তব্য যে, এই হাদিসে তাশাহহুদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান। আর জাযারীর বক্তব্য—যেটি সঠিক তা হলো এটি শাহাদাতাইনের অভিব্যক্তি, কারণ অন্য বর্ণনায় এসেছে: "যে খুতবায় শাহাদাত নেই তা কাটা হাতের মতো।" একইভাবে আসকালানীর এই স্পষ্ট বক্তব্য যে এর দ্বারা শাহাদাতাইন উদ্দেশ্য, তা উল্লিখিত ব্যাখ্যার পরিপন্থী নয়। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য হলো তাশাহহুদ মানে দুই কালিমা শাহাদাত পাঠ করা। নামাজের তাশাহহুদকে 'তাশাহহুদ' বলা হয় কারণ তাতে এই দুটি কালিমা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরবর্তীতে এর ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে। একজন ব্যাখ্যাকারীর আপত্তি যে, প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো সংকেত ছাড়া রূপক অর্থ গ্রহণ করা গ্রহণযোগ্য নয়—এটি একটি সঠিক ও বর্ণিত কথা। কিন্তু অধিকাংশ গ্রন্থকার আলেম যখন এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ওপর আমল করা ছেড়ে দিয়েছেন, তখন এটিই প্রমাণ করে যে এর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়। ফলে পূর্বোক্ত ব্যাখ্যাগুলোর কোনো একটি গ্রহণ করা হবে। আমার নিকট অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো, এই হাদিসের খুতবাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের প্রচলিত জুমার খুতবা, ঈদের খুতবা ইত্যাদির ওপর প্রয়োগ করা হবে। কারণ গ্রন্থ রচনার কাজ এর পরে উদ্ভূত হয়েছে। অতঃপর ব্যাখ্যাকারগণ একমত হয়েছেন যে, "যাদের তিনি মনোনীত করেছেন" বাক্যটি গুণের কারণে 'জের' অবস্থায় আছে অথবা উহ্য উদ্দেশ্যের সংবাদ হিসেবে 'রফা' অবস্থায় আছে অথবা প্রশংসা হিসেবে 'নসব' অবস্থায় আছে। এরপর "সালাম" বাক্যটি সামগ্রিক সংবাদ বা দোয়ামূলক বাক্য হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তবে অধিকতর স্পষ্ট হলো যে এটি এমন একটি সংবাদ যা দোয়ার অর্থ বহন করে। আর যখন পুণ্যবানদের স্মরণে রহমত নাযিল হয় এবং বরকত বৃদ্ধি পায়, তখন এই সম্পূর্ণ কিতাবটি তাঁর সৌন্দর্যের গুণাবলীতে বিশেষিত।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৬)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ ذَكَرَ السَّلَامَ بِطَرِيقِ الْعَامِّ فِي هَذَا الْمَقَامِ عَلَى جَمِيعِ عِبَادِهِ الصَّالِحِينَ لِتَعُمَّ بَرَكَاتُهُمْ عَلَيْنَا أَجْمَعِينَ إِلَى يَوْمِ الدِّينِ آمِينَ، وَفِي ذِكْرِ هَذَا الْعَامِّ إِشَارَةٌ لَطِيفَةٌ إِلَى الْخَاصِّ بِالشَّمَائِلِ الْمُصْطَفَوِيَّةِ عَلَى صَاحِبِهَا أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَأَكْمَلُ التَّحِيَّةِ.
(قَالَ الشَّيْخُ) : هُوَ مَنْ كَانَ أُسْتَاذًا كَامِلًا فِي فَنٍّ يَصِحُّ أَنْ يُقْتَدَى بِهِ وَلَوْ كَانَ شَابًّا، وَأَمَّا قَوْلُ مَوْلَانَا عِصَامِ الدِّينِ: وَنَحْنُ نَقُولُ الشَّيْخُ فِي اللُّغَةِ مِنَ الْخَمْسِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ، وَهُوَ السَّنُّ الَّذِي يُسْتَحَبُّ أَنْ يَكُونَ إِسْمَاعُ الْحَدِيثِ فِيهِ بِلَا خِلَافٍ فَخِلَافُ الصَّحِيحِ ; لِأَنَّ مَدَارَ صِحَّةِ الْإِسْمَاعِ عَلَى اسْتِحْقَاقِ الْمُحَدِّثِ وَاحْتِيَاجِ النَّاسِ إِلَيْهِ، أَلَا تَرَى أَنَّ كَثِيرًا مِنَ الصَّحَابَةِ حَدَّثُوا فِي زَمَنِ شَبَابِهِمْ وَجَمَاعَةً مِنْ أَحْدَاثِ التَّابِعِينَ رَوَوْا لِأَصْحَابِهِمْ، وَقَدْ قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ فِي حَقِّ الْبُخَارِيِّ: يَا مَعْشَرَ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّابِّ وَاكْتُبُوا عَنْهُ فَإِنَّهُ لَوْ كَانَ فِي زَمَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ لَاحْتَاجَ إِلَيْهِ لِمَعْرِفَتِهِ بِالْحَدِيثِ، وَقَدْ ثَبَتَ أَنَّهُ لَمَّا بَلَغَ إِحْدَى عَشْرَةَ سَنَةً رَدَّ عَلَى بَعْضِ مَشَايِخِهِ غَلَطًا وَقَعَ لَهُ فِي سَنَدٍ حَتَّى أَصْلَحَ كِتَابَهُ مِنْ حِفْظِ الْبُخَارِيِّ، وَقَدْ أَفَادَ مَالِكٌ وَهُوَ ابْنُ سَبْعَ عَشْرَةَ سَنَةً أَوْ عِشْرُونَ سَنَةً، وَالشَّافِعِيُّ تَلْمَذَهُ الْعُلَمَاءُ وَهُوَ فِي حَدَاثَةِ السِّنِّ، وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ
لَمْ يَبْلُغِ الْأَرْبَعِينَ، قَالَ الشَّيْخُ ابْنُ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ، وَقَالَ ابْنُ خَلَّادٍ: إِذَا بَلَغَ الْخَمْسِينَ وَلَا يُنْكَرُ عِنْدَ الْأَرْبَعِينَ وَتُعِقِّبَ بِمَنْ حَدَّثَ قَبْلَهَا كَمَالِكٍ. (الْحَافِظُ) : الْمُرَادُ بِهِ حَافِظُ الْحَدِيثِ لَا الْقُرْآنِ، كَذَا ذَكَرَهُ مِيرَكُ وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ كَانَ حَافِظًا لِلْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، ثُمَّ الْحَافِظُ فِي اصْطِلَاحِ الْمُحَدِّثِينَ: مَنْ أَحَاطَ عِلْمُهُ بِمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ مَتْنًا وَإِسْنَادًا، وَالطَّالِبُ هُوَ: الْمُبْتَدِئُ الرَّاغِبُ فِيهِ، وَالْمُحَدِّثُ وَالشَّيْخُ وَالْإِمَامُ هُوَ: الْأُسْتَاذُ الْكَامِلُ، وَالْحُجَّةُ: مَنْ أَحَاطَ عِلْمُهُ بِثَلَاثِمِائَةِ أَلْفِ حَدِيثٍ مَتْنًا وَإِسْنَادًا، وَأَحْوَالِ رُوَاتِهِ جَرْحًا وَتَعْدِيلًا وَتَارِيخًا، وَالْحَاكِمُ هُوَا: الَّذِي أَحَاطَ عِلْمُهُ بِجَمِيعِ الْأَحَادِيثِ الْمَرْوِيَّةِ كَذَلِكَ، وَقَالَ الْجَزَرِيُّ: الرَّاوِي نَاقِلُ الْحَدِيثِ بِالْإِسْنَادِ، وَالْمُحَدِّثُ: مَنْ تَحَمَّلَ رِوَايَتَهُ وَاعْتَنَى بِدِرَايَتِهِ، وَالْحَافِظُ: مَنْ رَوَى مَا يَصِلُ إِلَيْهِ وَوَعَى مَا يَحْتَاجُ لَدَيْهِ.
(أَبُو عِيسَى) : قَالَ فِي شَرْحِ شِرْعَةِ الْإِسْلَامِ: وَلَا يُسَمَّى مَنْ وَلَدُهُ عِيسَى أَبَا عِيسَى لِإِيهَامِهِ أَنَّ لِعِيسَى عليه السلام أَبًا ; لِمَا رُوِيَ أَنَّ رَجُلًا تَسَمَّى أَبَا عِيسَى فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ عِيسَى لَا أَبَ لَهُ " فَكَرِهَ ذَلِكَ، انْتَهَى. لَكِنْ تُحْمَلُ الْكَرَاهَةُ عَلَى تَسْمِيَتِهِ ابْتِدَاءً بِهِ، فَأَمَّا مَنِ اشْتُهِرَ بِهِ فَلَا يُكْرَهُ كَمَا يَدُلُّ عَلَيْهِ إِجْمَاعُ الْعُلَمَاءِ وَالْمُصَنِّفِينَ عَلَى تَعْبِيرِ التِّرْمِذِيِّ بِهِ لِلتَّمْيِيزِ. (مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى) : مَرْفُوعٌ عَلَى أَنَّهُ بَدَلٌ أَوْ عَطْفُ بَيَانٍ وَلَوْ نُصِبَ عَلَى الْمَدْحِ جَازَ (بْنِ سَوْرَةَ) : بِالْجَرِّ عَلَى أَنَّهُ صِفَةُ عِيسَى وَيَجُوزُ رَفْعُهُ عَلَى حَذْفِ مُبْتَدَئِهِ وَنَصْبُهُ لِمَا تَقَدَّمَ، وَسَوْرَةُ بِفَتْحِ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ بَعْدَهَا وَاوٌ سَاكِنَةٌ ثُمَّ رَاءٌ وَفِي آخِرِهَا هَاءٌ ; عَلَى وَزْنِ طَلْحَةَ وَأَصْلُهَا لُغَةً الْحِدَّةُ، ابْنِ عِيسَى بْنِ الضَّحَّاكِ السُّلَمِيِّ بِضَمِّ السِّينِ مَنْسُوبٌ إِلَى بَنِي سُلَيْمٍ مُصَغَّرٌ قَبِيلَةٍ مِنْ قَيْسِ بْنِ عَيْلَانَ، وَهُوَ أَحَدُ أَئِمَّةِ عَصْرِهِ وَأَجِلَّةِ حُفَّاظِ دَهْرِهِ قِيلَ وُلِدَ أَكْمَهَ سَمِعَ خَلْقًا كَثِيرًا مِنَ الْعُلَمَاءِ الْأَعْلَامِ وَحُفَّاظِ مَشَايِخِ الْإِسْلَامِ مِثْلَ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ وَالْبُخَارِيِّ وَالدَّارِمِيِّ وَنُظَرَائِهِمْ، وَجَامِعُهُ دَالٌّ عَلَى اتِّسَاعِ حِفْظِهِ وَوُفُورِ عِلْمِهِ فَإِنَّهُ كَافٍ لِلْمُجْتَهِدِ وَشَافٍ لِلْمُقَلِّدِ. وَنُقِلَ عَنِ الشَّيْخِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ: جَامِعُ التِّرْمِذِيُّ عِنْدِي أَنْفَعُ مِنْ كِتَابِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ. وَمِنْ مَنَاقِبِهِ أَنَّ الْإِمَامَ الْبُخَارِيَّ رَوَى عَنْهُ حَدِيثًا وَاحِدًا خَارِجَ الصَّحِيحِ وَأَعْلَى مَا وَقَعَ لَهُ فِي الْجَامِعِ حَدِيثٌ ثُلَاثِيُّ الْإِسْنَادِ وَهُوَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: " يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ الصَّابِرُ عَلَى دِينِهِ كَالْقَابِضِ عَلَى الْجَمْرِ (التِّرْمِذِيُّ) : بِالرَّفْعِ وَيَجُوزُ فِيهِ
আল্লাহ তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। এই স্থানে তিনি সাধারণ পদ্ধতিতে তাঁর সকল নেককার বান্দাদের ওপর সালামের উল্লেখ করেছেন, যাতে তাদের বরকত বিচার দিবস পর্যন্ত আমাদের সবার ওপর ব্যাপক হয়, আমিন। আর এই সাধারণ বর্ণনার মধ্যে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ শামায়েল বা বৈশিষ্ট্যের প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে, যাঁর প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণতম সালাম বর্ষিত হোক।
(শায়খ বললেন): তিনি হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি কোনো শাস্ত্রে একজন পূর্ণাঙ্গ উস্তাদ, যাঁকে অনুসরণ করা শুদ্ধ, যদিও তিনি যুবক হন। আর আমাদের মাওলা ইশামুদ্দিনের উক্তি: "আমরা বলি অভিধানে শায়খ বলা হয় পঞ্চাশ থেকে আশি বছর বয়সীদের, আর এটিই সেই বয়স যে সময়ে হাদিস শোনানো সর্বসম্মতিক্রমে মুস্তাহাব"—এই কথাটি সঠিক মতের পরিপন্থী; কারণ হাদিস শোনানোর শুদ্ধতার ভিত্তি হলো মুহাদ্দিসের যোগ্যতা এবং তাঁর প্রতি মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া। আপনি কি দেখেন না যে অনেক সাহাবী তাঁদের যৌবনকালে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং অল্পবয়সী তাবেয়ীদের একদল তাঁদের সাথীদের কাছে বর্ণনা করেছেন? ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বুখারীর ব্যাপারে বলেছেন: "হে হাদিস অন্বেষীগণ! তোমরা এই যুবকের দিকে তাকাও এবং তাঁর কাছ থেকে হাদিস লিখে নাও। কারণ তিনি যদি হাসান বসরীর যুগেও থাকতেন, তবে হাদিস শাস্ত্রে তাঁর জ্ঞানের কারণে হাসান বসরীও তাঁর মুখাপেক্ষী হতেন।" এবং এটি প্রমাণিত যে, যখন তাঁর বয়স এগারো বছর ছিল, তখন তিনি তাঁর জনৈক শিক্ষকের একটি সনদে ভুল ধরেছিলেন, এমনকি সেই শিক্ষক বুখারীর মুখস্থ জ্ঞান থেকে তাঁর কিতাব সংশোধন করেছিলেন। মালিক সতেরো বা বিশ বছর বয়সে জ্ঞান দান শুরু করেছিলেন। শাফেয়ী অল্প বয়সেই আলেমদের উস্তাদ হয়েছিলেন। আর ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ
চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছাননি। শায়খ ইবনে হাজার আসকালানী বলেন, ইবনে খাল্লাদ বলেছেন: হাদিস বর্ণনার বয়স যখন পঞ্চাশে পৌঁছায়, তবে চল্লিশে হলেও তা অস্বীকার করা হয় না। কিন্তু এর আগে যাঁরা হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমন ইমাম মালিক—তাঁদের উদাহরণ দ্বারা এর প্রতিবাদ করা হয়েছে। (আল-হাফিয): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হাদিসের হাফিয, কুরআনের নয়; মীরাক এমনই উল্লেখ করেছেন। তবে এটিও সম্ভব যে তিনি কুরআন ও সুন্নাহ উভয়েরই হাফিয ছিলেন। এরপর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় হাফিয হলেন তিনি, যাঁর জ্ঞান মতন ও সনদসহ এক লক্ষ হাদিসকে পরিবেষ্টন করে। আর তালেব হলেন: হাদিসের প্রতি আগ্রহী ও সন্ধানী প্রারম্ভিক শিক্ষার্থী। মুহাদ্দিস, শায়খ এবং ইমাম হলেন: পূর্ণাঙ্গ উস্তাদ। হুজ্জাহ হলেন: যাঁর জ্ঞান মতন ও সনদসহ তিন লক্ষ হাদিস এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা, জরাহ-তাদীল (ত্রুটি ও নির্ভরযোগ্যতা) ও ইতিহাসকে পরিবেষ্টন করে। আর হাকিম হলেন তিনি, যাঁর জ্ঞান একইভাবে বর্ণিত সমস্ত হাদিসকে পরিবেষ্টন করে। জাযারি বলেন: রাবী হলেন সনদের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনাকারী। মুহাদ্দিস হলেন তিনি, যিনি হাদিসের রেওয়ায়েত গ্রহণ করেন এবং এর দেরায়েত বা সূক্ষ্ম তত্ত্বের যত্ন নেন। হাফিয হলেন তিনি, যিনি তাঁর কাছে পৌঁছানো হাদিস বর্ণনা করেন এবং যা তাঁর প্রয়োজন তা মুখস্থ রাখেন।
(আবু ঈসা): শিরআতিল ইসলাম-এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলা হয়েছে: যার সন্তানের নাম ঈসা তাকে আবু ঈসা উপনামে ডাকা হবে না, যাতে এই ভ্রান্ত ধারণা না হয় যে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর কোনো পিতা আছে। কারণ বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি আবু ঈসা উপনাম গ্রহণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই ঈসার কোনো পিতা নেই।" তাই তিনি এটি অপছন্দ করেছেন। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। তবে এই অপছন্দনীয়তা প্রারম্ভিকভাবে এই নাম রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু যিনি এই নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন, তাঁর ক্ষেত্রে এটি মাকরূহ হবে না; যেমনটি আলেম ও লেখকগণের ইমাম তিরমিযীকে স্বাতন্ত্র্য বুঝাতে এই নামে সম্বোধন করার ঐকমত্য থেকে প্রমাণিত হয়। (মুহাম্মাদ বিন ঈসা): এটি রফ' বা পেশযুক্ত হয়েছে বদল অথবা আতফে বয়ান হিসেবে; আর প্রশংসাসূচক হিসেবে নসব বা জবরযুক্ত হওয়াও জায়েজ ছিল। (বিন সাওরাহ): এটি জেরযুক্ত, যেহেতু এটি ঈসার সিফাত বা বিশেষণ। আবার এর মুক্তাদা উহ্য ধরে রফ' অথবা পূর্বে উল্লিখিত কারণে নসব হওয়াও জায়েজ। সাওরাহ শব্দটি সীন হরফে ফাতহা, এরপর সাকিন ওয়াও, তারপর রা এবং শেষে হা যুক্ত; এটি তালহা-এর ওজনে, যার আভিধানিক অর্থ তেজস্বিতা। ইবনে ঈসা ইবনে দাহহাক আস-সুলামী। সুলামী শব্দটি সীন হরফে পেশযুক্ত, যা কায়েস বিন আয়লান গোত্রের বনু সুলাইম-এর দিকে সম্পৃক্ত (তাসগীর বা ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ)। তিনি তাঁর যুগের অন্যতম ইমাম এবং তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ হাফিযদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। তিনি কুতাইবা ইবনে সাঈদ, বুখারী, দারেমী এবং তাঁদের সমকক্ষ বহু প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামের হাফিয মাশায়েখদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর জামে কিতাবটি তাঁর মুখস্থ শক্তির ব্যাপকতা এবং জ্ঞানের প্রাচুর্যের প্রমাণ। এটি মুজতাহিদের জন্য যথেষ্ট এবং মুকাল্লিদের জন্য নিরাময়স্বরূপ। শায়খ আব্দুল্লাহ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমার নিকট বুখারী ও মুসলিমের কিতাব অপেক্ষা জামে তিরমিযী অধিক উপকারী।" তাঁর অন্যতম মর্যাদা হলো ইমাম বুখারী তাঁর থেকে সহীহ বুখারীর বাইরে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর জামে গ্রন্থে সর্বোচ্চ উচ্চ সনদ হলো সুলাসি বা তিন স্তর বিশিষ্ট সনদ, যা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন দ্বীনের ওপর ধৈর্যধারণকারী ব্যক্তি জ্বলন্ত কয়লা মুষ্টিবদ্ধকারীর মতো হবে।" (আত-তিরমিযী): রফ' বা পেশসহ পাঠ করা হবে, এবং এতে জায়েজ আছে...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৭)
الْجَرُّ وَالنَّصْبُ، قَالَ النَّوَوِيُّ: فِيهِ ثَلَاثَةُ أَوْجُهٍ: كَسْرُ التَّاءِ وَالْمِيمِ وَهُوَ الْأَشْهَرُ وَضَمُّهَا وَفَتَحُ التَّاءِ وَكَسْرُ الْمِيمِ، وَهِيَ بَلْدَةٌ قَدِيمَةٌ عَلَى طَرَفِ نَهْرِ بَلْخٍ الْمُسَمَّى بِالْجَيْحُونِ، وَيُقَالُ لَهَا مَدِينَةُ الرِّجَالِ
مَاتَ بِهَا سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَتَيْنِ وَلَهُ سَبْعُونَ سَنَةً، نُقِلَ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ كَانَ جَدِّي مَرْوَزِيًّا فِي أَيَّامِ لَيْثِ بْنِ سَيَّارٍ ثُمَّ انْتَقَلَ مِنْهُ إِلَى تِرْمِذَ.
قِيلَ: قَالَ الشَّيْخُ. . . إِلَى آخِرِهِ ; وَقَعَ مِنْ تَلَامِذَةِ الْمُصَنِّفِ، وَأَمَّا الْحَمْدُ فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ، وَنُكْتَةُ تَأْخِيرِ هَذَا الْكَلَامِ عَنِ الْحَمْدِ وُقُوعُ الِافْتِتَاحِ بِالْبَسْمَلَةِ وَيَحْتَمِلُ احْتِمَالًا بَعِيدًا أَنْ يَكُونَ مِنْ كَلَامِ تَلَامِذَتِهِ، وَقِيلَ يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ الْوَصْفُ مِنْ نَفْسِهِ لِلِاعْتِمَادِ لَا لِلِافْتِخَارِ، وَالْأَوْلَى عِنْدِي أَنْ يُنْسَبَ الْبَسْمَلَةُ وَالْحَمْدَلَةُ إِلَى الْمُصَنِّفِ عَمَلًا بِحُسْنِ الظَّنِّ بِهِ وَيَدُلُّ عَلَيْهِ إِبْدَاعُ لَفْظِ الْحَمْدِ وَالسَّلَامِ فِي أَوَّلِ كِتَابِهِ ثُمَّ إِنَّ تَلَامِذَتَهُ كَتَبُوا قَالَ الشَّيْخُ أَبُو عِيسَى. . . إِلَى آخِرِهِ، وَلِمَا قَالَ الْخَطِيبُ: وَيَنْبَغِي أَنْ يَكْتُبَ الْمُحَدِّثُ بَعْدَ الْبَسْمَلَةِ اسْمَ شَيْخِهِ وَكُنْيَتَهُ وَنِسْبَتَهُ ثُمَّ يَسُوقَ مَا سَمِعَهُ مِنْهُ هَذَا وَيَحْتَمِلُ احْتِمَالًا قَرِيبًا أَنْ يَكُونَ فِي نُسْخَةِ الْمُصَنِّفِ، قَالَ أَبُو عِيسَى. . . إِلَخْ، وَزِيَادَةُ الشَّيْخِ الْحَافِظِ مِنَ التَّلَامِذَةِ إِجْلَالًا وَتَعْظِيمًا لَكِنَّ الْأَوْلَى أَنْ لَا يَقَعَ التَّصَرُّفُ فِي الْأُصُولِ أَصْلًا بَلْ تُحْفَظُ عَلَى وُجُوهٍ وَقَعَتْ مِنَ الْمَشَايِخِ، وَكَذَا لَوْ وَقَعَ سَهْوٌ فِي تَصْنِيفٍ وَلَوْ مِنْ أَلْفَاظِ الْقُرْآنِ فَإِنَّهُ لَا يُغَيَّرُ بَلْ يُنَبَّهُ عَلَيْهِ.
باب ما جاء في خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم(بَابُ مَا جَاءَ) : أَيْ مِنَ الْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ. (فِي خَلْقِ رَسُولِ اللَّهِ) : بِفَتْحِ الْخَاءِ صُورَتُهُ وَشَكْلُهُ. صلى الله عليه وسلم :
জের এবং নসব; নববী বলেন: এতে তিনটি রূপ রয়েছে: তা এবং মিম অক্ষরে কাসরা প্রদান করা যা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ, উভয় অক্ষরে পেশ প্রদান করা, এবং তা অক্ষরে ফাতহা ও মিম অক্ষরে কাসরা প্রদান করা। এটি জাইহুন নামক বলখ নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর এবং একে পুরুষদের শহর বলা হয়।
তিনি সেখানে দুইশত ঊনআশি হিজরি সনে সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন: আমার দাদা লাইস ইবনে সাইয়ারের সময় মার্ভের অধিবাসী ছিলেন, অতঃপর তিনি সেখান থেকে তিরমিযে স্থানান্তরিত হন।
বলা হয়েছে: "শাইখ বলেছেন..." শেষ পর্যন্ত; এটি গ্রন্থকারের ছাত্রদের পক্ষ থেকে ঘটেছে। তবে প্রশংসামূলক বাক্যটি (হামদ) সম্ভবত গ্রন্থকারের নিজের উক্তি। প্রশংসার পরে এই কথাটি আনার নিগূঢ় রহস্য হলো বিসমিল্লাহর মাধ্যমে সূচনা করা। এটি ছাত্রদের উক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেউ কেউ বলেছেন, নির্ভরতা বা প্রামাণিকতার জন্য নিজের এমন গুণবাচক বর্ণনা প্রদান করা বৈধ, অহংকারের জন্য নয়। তবে আমার নিকট গ্রন্থকারের প্রতি সুধারণা পোষণ করে বিসমিল্লাহ ও হামদ-কে তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা অধিকতর উত্তম এবং তাঁর কিতাবের শুরুতে চমৎকারভাবে হামদ ও সালামের শব্দ চয়ন এরই প্রমাণ দেয়। এরপর তাঁর ছাত্ররা লিখেছেন: "শাইখ আবু ঈসা বলেছেন..." শেষ পর্যন্ত। খতিব বাগদাদী যেহেতু বলেছেন: "মুহাদ্দিসের উচিত বিসমিল্লাহর পর তাঁর শাইখের নাম, উপনাম ও বংশপরিচয় উল্লেখ করা, অতঃপর তাঁর থেকে যা শুনেছেন তা বর্ণনা করা।" এমতাবস্থায় এটি হওয়ার নিকটবর্তী সম্ভাবনা রয়েছে যে, গ্রন্থকারের মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "আবু ঈসা বলেছেন..." ইত্যাদি। আর "শাইখুল হাফিজ" শব্দটির সংযোজন ছাত্রদের পক্ষ থেকে সম্মান ও মহিমা প্রকাশের উদ্দেশ্যে হয়েছে। তবে উত্তম হলো মূল পাণ্ডুলিপিতে একেবারেই কোনো পরিবর্তন না করা, বরং শাইখদের থেকে যেভাবে প্রাপ্ত হয়েছে সেভাবেই তা সংরক্ষণ করা। এমনকি যদি কোনো রচনায় ভুল পরিলক্ষিত হয়, তা কুরআনের শব্দের ক্ষেত্রে হলেও, সেটি পরিবর্তন করা যাবে না বরং সে সম্পর্কে সতর্ক করে দিতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক গঠন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়(যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়): অর্থাৎ বর্ণিত হাদীসসমূহ থেকে। (রাসূলুল্লাহর শারীরিক গঠন প্রসঙ্গে): 'খ' বর্ণে ফাতহা বা জবর যোগে, যার অর্থ তাঁর শারীরিক অবয়ব ও আকৃতি। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম:
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৮)
قَالَ مِيرَكُ شَاهْ رحمه الله: هَكَذَا وَقَعَ فِي أَصْلِ سَمَاعِنَا وَالنُّسَخِ الْمُعْتَبَرَةِ الْمَقْرُوءَةِ عَلَى الْمَشَايِخِ الْعِظَامِ وَالْعُلَمَاءِ الْأَعْلَامِ، وَلَمْ أَرَ فِي نُسْخَةٍ مُعْتَبِرَةٍ خِلَافَ ذَلِكَ، وَزَعَمَ بَعْضُ النَّاسِ أَنَّهُ وَقَعَ فِي أَكْثَرِ النُّسَخِ فِي خَلْقِ النَّبِيِّ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ الرَّسُولِ، وَشَرَعَ بِنَاءً عَلَى زَعْمِهِ الْفَاسِدِ فِي تَحْقِيقِ مَعْنَى النَّبِيِّ وَالرَّسُولِ لُغَةً وَاصْطِلَاحًا وَجَعْلَ أَلْ عَلَى التَّقْدِيرَيْنِ لِلْعَهْدِ الْخَارِجِيِّ وَعَلَى مَا وَقَعَ فِي نُسْخَتِنَا الْمُصَحَّحَةِ وَأُصُولِ مَشَايِخِنَا الْمُعْتَبَرَةِ لَا يَحْتَاجُ إِلَى الْعَهْدِ الْخَارِجِيِّ فَإِنَّ لَفْظَ رَسُولِ اللَّهِ فِي عُرْفِ هَذَا الْفَنِّ وَغَيْرِهِ مِنَ الْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ صَارَ كَالْعَلَمِ لِذَاتِ أَشْرَفِ الْكَوْنَيْنِ صلى الله عليه وسلم، انْتَهَى. وَقَدْ كَرِهَ الشَّافِعِيُّ إِطْلَاقَ الرَّسُولِ لِلْإِيهَامِ، وَقَالَ لَا بُدَّ أَنْ يَقُولَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا يَخْفَى أَنَّ هَذَا الْمَقَامَ لَا يَسْتَدْعِي الْفَرْقَ بَيْنَ النُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ وَإِنْ تَحَقَّقَتَا فِي حَقِّهِ أَيْضًا بِاعْتِبَارِ الْمَبْدَأِ وَالْمُنْتَهَى ; لِأَنَّ الْمُرَادَ بِأَنَّ النَّبِيَّ وَالرَّسُولَ هُنَا هُوَ الْمَوْصُوفُ بِهِمَا الْمُسَمَّى بِمُحَمَّدٍ وَلَوْ قَبْلَ الِاتِّصَافِ بِهِمَا، قَالَ الْكَافِيَجِيُّ: النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَيِّ بْنِ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ بْنِ إِلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ، إِلَى هَاهُنَا بِإِجْمَاعِ الْأُمَّةِ وَمَا بَعْدَهُ مُخْتَلَفٌ فِيهِ، وَالنَّضْرُ أَبُو قُرَيْشٍ فِي قَوْلِ الْجُمْهُورِ وَقِيلَ فِهْرٌ وَقِيلَ غَيْرُ ذَلِكَ. ثُمَّ أُمُّهُ صلى الله عليه وسلم آمِنَةُ بِنْتُ وَهْبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ زُهْرَةَ بْنِ كِلَابٍ الْمَذْكُورِ. وَأَمَّا مَوْلِدُهُ صلى الله عليه وسلم فَالصَّحِيحُ أَنَّهُ عَامَ الْفِيلِ، وَقِيلَ بَعْدَهُ بِثَلَاثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ وَأَنَّهُ يَوْمُ الْإِثْنَيْنِ مِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ ثَانِيهِ أَوْ ثَامِنِهِ أَوْ عَاشِرِهِ أَوْ ثَانِي عَشَرِهِ وَهُوَ الْمَشْهُورُ، وَقَدْ ضَبَطْتُ هَذِهِ الْأَسْمَاءَ فِي الْمَوْرِدِ الرَّوِيِّ لِلْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ.
قِيلَ الْبَابُ لُغَةً اسْمٌ لِمَدْخَلِ الْأَمْكِنَةِ كَبَابِ الْمَدِينَةِ وَالدَّارِ، وَفِي عُرْفِ الْعُلَمَاءِ الْبُلَغَاءِ يُقَالُ لِمَا تُوُصِّلَ مِنْهُ إِلَى الْمَقْصُودِ وَهُوَ هُنَا مَعْرِفَةُ أَحَادِيثَ جَاءَتْ فِي بَيَانِ
خَلْقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَنُوقِشَ فِيهِ بِأَنَّ الْبَابَ اسْمٌ لِطَائِفَةٍ مِنَ الْكِتَابِ لَهُ أَوَّلٌ وَآخِرٌ مَعْلُومَانِ، وَلَيْسَتْ مَدْخَلًا فِي شَيْءٍ، بَلْ هِيَ بَيْتٌ مِنَ الْمَعَانِي، نَعَمْ لَوْ كَانَ الْبَابُ اسْمًا لِلْجُزْءِ الْأَوَّلِ مِنْهَا لَكَانَ لَهُ وَجْهٌ، فَالْوَجْهُ أَنْ يُقَالَ هُوَ بِمَعْنَى الْوَجْهِ إِذْ هُوَ مِنْ مَعَانِيهِ عَلَى مَا فِي الْقَامُوسِ، وَكُلُّ بَابٍ وَجْهٌ مِنْ وُجُوهِ الْكَلَامِ سُمِّيَ بَابًا لِلِاخْتِلَافِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ آخَرَ كَاخْتِلَافِ الْوُجُوهِ إِلَّا أَنَّ جَمْعَ الْمُؤَلِّفِينَ لَهُ عَلَى الْأَبْوَابِ يُلَائِمُ الْأَوَّلَ إِذْ جَمْعُ الثَّانِي بَابَانِ، وَالْأَظْهَرُ عِنْدِي أَنَّ الْكِتَابَ بِمَنْزِلَةِ الْجِنْسِ وَالْبَابُ بِمَنْزِلَةِ النَّوْعِ وَالْفَصْلُ بِمَنْزِلَةِ الصِّنْفِ، ثُمَّ إِنَّهُ شَبَّهَ الْمَعْقُولَ بِالْمَحْسُوسِ فَالْكِتَابُ كَالدَّارِ الْمُشْتَمِلَةِ عَلَى الْبُيُوتِ فَكُلُّ نَوْعٍ مِنَ الْمَسَائِلِ كَبَيْتٍ وَأَوَّلُهُ كَبَابِهِ الَّذِي يُدْخَلُ مِنْهُ فِيهِ، وَبِالْجُمْلَةِ هُوَ مُضَافٌ إِلَى قَوْلِهِ مَا جَاءَ وَلَمْ يَقِلْ بَابُ خَلْقِ رَسُولِ اللَّهِ ; لِأَنَّ مَوْضُوعَ الْبَابِ لَيْسَ الْخَلْقَ بَلْ مَا جَاءَ فِي الْخَلْقِ مِنَ الْأَحَادِيثِ الدَّالَّةِ عَلَى الْخَلْقِ، قَالَ مِيرَكُ شَاهْ: اعْلَمْ أَنَّ الرِّوَايَةَ الْمَشْهُورَةَ الْمَسْمُوعَةَ فِي أَفْوَاهِ الْمَشَايِخِ بَابُ مَا جَاءَ إِلَى آخِرِهِ بِطَرِيقِ إِضَافَةِ الْبَابِ إِلَى مَا بَعْدَهُ وَهُوَ خَبَرُ مُبْتَدَأٍ مَحْذُوفٍ أَيْ هَذَا الْبَابُ أَوْ مُبْتَدَأٌ خَبَرُهُ مَحْذُوفٌ ; قُلْتُ: الْأَظْهَرُ أَنْ يُقَالَ خَبَرُهُ مَا بَعْدَهُ مِنْ قَوْلِهِ حَدَّثَنَا إِلَى آخِرِ الْبَابِ بِتَأْوِيلِ هَذَا الْكَلَامِ ثُمَّ قَالَ وَيَجُوزُ أَنْ يُقْرَأَ بَابٌ بِالتَّنْوِينِ وَهُوَ خَبَرُ مُبْتَدَأٍ مَحْذُوفٍ أَيْضًا، وَيَكُونُ مَا جَاءَ اسْتِئْنَافًا كَأَنَّ الطَّالِبَ لَمَّا سَمِعَ قَوْلَهُ «بَابٌ» خَطَرَ فِي بَالِهِ أَنْ يَسْأَلَ عَنْهُ، وَيَقُولَ: أَيُّ شَيْءٍ يُورَدُ فِي هَذَا الْبَابِ؟ فَيُجِيبَ بِقَوْلِهِ: مَا جَاءَ فِي الْأَخْبَارِ الْمَرْوِيَّةِ فِي بَيَانِ خَلْقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ تَكَلَّفَ وَقَالَ: فَإِنْ قُلْتَ: الِاسْتِئْنَافُ ; يَكُونُ جُمْلَةً. وَقَوْلُهُ: مَا جَاءَ صِلَةٌ وَمَوْصُولٌ أَوْ صِفَةٌ وَمَوْصُوفٌ وَعَلَى التَّقْدِيرَيْنِ لَا يَكُونُ جُمْلَةً، فَكَيْفَ يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ اسْتِئْنَافًا؟ قُلْتُ: يُمْكِنُ أَنْ يُقَدَّرَ مُبْتَدَأٌ أَيِ الْمَوْرُودُ فِي هَذَا الْبَابِ مَا جَاءَ وَيُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَ اسْتِفْهَامِيَّةً بِمَعْنَى أَيُّ شَيْءٍ جَاءَ كَمَا فِي قَوْلِ الْبُخَارِيِّ بَابُ كَيْفَ كَانَ بَدْءُ الْوَحْيِ؟ تَأَمَّلْ، وَجَوَّزَ الشَّارِحُ الْكَرْمَانِيُّ فِي أَوَّلِ شَرْحِ الْبُخَارِيِّ وَجْهًا ثَالِثًا وَهُوَ بَابٌ بِالْوَقْفِ عَلَى سَبِيلِ التَّعْدَادِ لِلْأَبْوَابِ وَحِينَئِذٍ لَا يَكُونُ لَهُ مَحَلٌّ مِنَ الْإِعْرَابِ وَمَا بَعْدَهُ اسْتِئْنَافٌ كَمَا سَبَقَ، لَكِنْ يَخْدِشُ فِي هَذَا الْوَجْهِ أَنَّ التَّعْدَادَ فِي عُرْفِ الْبُلَغَاءِ إِنَّمَا يَكُونُ لِضَبْطِ الْعَدَدِ مِنْ غَيْرِ فَصْلٍ بَيْنَ أَجْزَاءِ الْمَعْدُودِ بِشَيْءٍ آخَرَ فَضْلًا عَنْ إِيرَادِ الْأَحْوَالِ الْكَثِيرَةِ بَيْنَ الْمَعْدُودَاتِ.
وَالْخَلْقُ بِفَتْحِ الْخَاءِ الْمُعْجَمَةِ وَسُكُونِ اللَّامِ فِي اللُّغَةِ التَّقْدِيرُ الْمُسْتَقِيمُ الْمُوَافِقُ لِلْحِكْمَةِ ; يُقَالُ: خَلَقَ الْخَيَّاطُ الثَّوْبَ إِذَا قَدَّرَهُ قَبْلَ الْقَطْعِ، وَعَلَيْهِ وَرَدَ قَوْلُهُ تَعَالَى: (فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ) ، وَيُسْتَعْمَلُ فِي إِبْدَاعِ الشَّيْءِ مِنْ غَيْرِ أَصْلٍ، وَفِي إِيجَادِ الشَّيْءِ عَنْ شَيْءٍ آخَرَ. وَالْخُلُقُ بِضَمَّتَيْنِ وَبِضَمٍّ وَسُكُونٍ عَلَى مَا فِي النِّهَايَةِ الدِّينُ وَالطَّبْعُ وَالسَّجِيَّةُ وَحَقِيقَتُهُ أَنَّهُ لِصُورَةِ الْإِنْسَانِ الْبَاطِنَةِ وَهِيَ نَفْسُهُ وَأَوْصَافُهَا وَمَعَانِيهَا الْمُخْتَصَّةُ بِهَا بِمَنْزِلَةِ الْخَلْقِ بِفَتْحِ اللَّامِ لِصُورَتِهِ الظَّاهِرَةِ وَأَوْصَافِهَا وَمَعَانِيهَا، قِيلَ: وَقَدَّمَ الْأَوْصَافَ الظَّاهِرَةَ عَلَى الْبَاطِنَةِ مَعَ أَنَّ مَنَاطَ الْكَمَالِ هُوَ الْبَاطِنُ، وَلِذَا
মীরক শাহ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: আমাদের শ্রুত মূল পাণ্ডুলিপিতে এবং মহান শায়খ ও প্রখ্যাত আলেমদের নিকট পঠিত নির্ভরযোগ্য অনুলিপিগুলোতে এভাবেই এসেছে। আমি কোনো নির্ভরযোগ্য অনুলিপিতে এর বিপরীত কিছু দেখিনি। তবে কিছু লোক ধারণা করেছেন যে, অধিকাংশ অনুলিপিতে 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৈহিক গঠন' এবং কিছু অনুলিপিতে 'রাসূল' শব্দ এসেছে। তিনি তাঁর সেই ভ্রান্ত ধারণার ওপর ভিত্তি করে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'নবী' ও 'রাসূল' শব্দের তাৎপর্য বিশ্লেষণে লিপ্ত হয়েছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই 'আলিফ লাম'-কে 'আহদে খারেজী' (পূর্বপরিচিত সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিনির্দেশক) হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ আমাদের সংশোধিত অনুলিপি এবং আমাদের নির্ভরযোগ্য শায়খদের মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী 'আহদে খারেজী'-র প্রয়োজন নেই; কেননা এই শাস্ত্রের এবং অন্যান্য শরয়ী বিজ্ঞানের পরিভাষায় 'রাসূলুল্লাহ' শব্দটি উভয় জগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য একটি নির্দিষ্ট নামের মতো হয়ে গিয়েছে। সমাপ্ত। ইমাম শাফেয়ী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) অস্পষ্টতার আশঙ্কায় কেবল 'রাসূল' বলা অপছন্দ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)' বলা আবশ্যক। এটি স্পষ্ট যে, এই ক্ষেত্রটি নবুওয়াত ও রিসালাতের মধ্যে পার্থক্যের দাবি রাখে না, যদিও সূচনা ও সমাপ্তির বিবেচনায় তাঁর ক্ষেত্রে উভয়টিই বাস্তবায়িত। কেননা এখানে 'নবী' ও 'রাসূল' বলতে সেই সত্তাকেই বোঝানো হয়েছে যাঁর গুণ এই উভয়টি এবং যাঁর নাম মুহাম্মদ, এমনকি এই গুণাবলীতে গুণান্বিত হওয়ার আগের সময় বিবেচনায় নিলেও। কাফিয়াজী বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকা ইবনে ইলয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিজার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান। উম্মতের ঐকমত্য অনুযায়ী এখান পর্যন্ত তাঁর বংশধারা নিশ্চিত এবং এর পরবর্তী অংশ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। জমহুর উলামার মতে 'নাদর' হলেন কুরাইশদের আদি পিতা; কেউ বলেছেন 'ফিহর' এবং অন্য মতামতও রয়েছে। অতঃপর তাঁর মা হলেন আমিনা বিনতে ওয়াহাব ইবনে আব্দে মানাফ ইবনে জুহরাহ ইবনে কিলাব—যাঁর নাম উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর জন্ম সম্পর্কে বিশুদ্ধ মত হলো, এটি হাতির বছর ছিল। কেউ বলেছেন এর ত্রিশ বা চল্লিশ বছর পর। দিনটি ছিল রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার—যা ছিল মাসের দ্বিতীয়, অষ্টম, দশম বা দ্বাদশ তারিখ। আর দ্বাদশ তারিখই প্রসিদ্ধ। আমি 'আল-মাওরিদুর রাওয়ী ফী মাওলিদিন নববী' কিতাবে এই নামগুলো নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করেছি।
বলা হয়েছে যে, আভিধানিক অর্থে 'বাব' (অধ্যায়) হলো কোনো স্থানে প্রবেশের পথ, যেমন শহরের বা ঘরের দরজা। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ আলেমদের পরিভাষায় এটি এমন বিষয়কে বলা হয় যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। এখানে উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৈহিক গঠন বর্ণনায় আসা হাদিসগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। এ বিষয়ে বিতর্ক করা হয়েছে যে, 'বাব' কিতাবের এমন একটি অংশকে বলা হয় যার শুরু ও শেষ নির্ধারিত থাকে, এবং এটি কোনো কিছুর প্রবেশপথ নয় বরং এটি অর্থ ও তাৎপর্যের একটি ঘর। হ্যাঁ, 'বাব' যদি সেই অংশের শুরুর নামের নাম হতো তবে প্রবেশের অর্থের একটি দিক থাকত। সুতরাং সঠিক দিক হলো এটি 'অঙ্গ' বা 'দিক' অর্থে ব্যবহৃত, কারণ কামুস অভিধান অনুযায়ী এটি এর অন্যতম অর্থ। বক্তব্যের প্রতিটি অংশই একেকটি দিক, যা একটি থেকে অন্যটি ভিন্ন হওয়ার কারণে 'বাব' বলা হয়। তবে লেখকদের দ্বারা 'আবওয়াব' (বহুবচন) হিসেবে জমা করা প্রথম অর্থের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার নিকট অধিক স্পষ্ট হলো যে, 'কিতাব' হলো শ্রেণির মতো, 'বাব' হলো প্রকারের মতো এবং 'ফাসল' হলো উপ-প্রকারের মতো। অতঃপর তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়কে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সাথে তুলনা করেছেন। সুতরাং 'কিতাব' হলো অনেকগুলো কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘরের মতো, যেখানে প্রতিটি বিষয়ের প্রকার হলো একটি কক্ষের মতো এবং এর শুরু হলো সেই দরজার মতো যা দিয়ে তাতে প্রবেশ করা হয়। মোটকথা, এটি 'যা বর্ণিত হয়েছে' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। তিনি 'রাসূলুল্লাহর দৈহিক গঠনের অধ্যায়' বলেননি, কারণ অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় সরাসরি দৈহিক গঠন নয় বরং দৈহিক গঠন সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ যা সেই গঠনের ওপর প্রমাণ বহন করে। মীরক শাহ বলেছেন: জেনে রেখো যে, শায়খদের মুখে মুখে শ্রুত প্রসিদ্ধ বর্ণনাটি হলো 'অধ্যায়: যা বর্ণিত হয়েছে...'—এখানে 'বাব' শব্দটিকে পরবর্তী অংশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর, অর্থাৎ 'এটি একটি অধ্যায়'। অথবা এটি নিজেই মুবতাদা যার খবর উহ্য। আমি বলি: অধিক স্পষ্ট হলো এটি বলা যে, এর খবর হলো পরবর্তী 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' থেকে অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত কথাগুলো। অতঃপর তিনি বলেছেন: এটি তানভীনসহ 'বাবুন' পড়াও জায়েয এবং তখনও এটি উহ্য মুবতাদার খবর হবে। সেক্ষেত্রে 'যা বর্ণিত হয়েছে' অংশটি নতুন বাক্য হিসেবে গণ্য হবে। যেন পাঠক যখন 'বাবুন' (একটি অধ্যায়) শব্দ শুনল, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগল যে এই অধ্যায়ে কী বর্ণনা করা হবে? তখন উত্তর দেওয়া হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দৈহিক গঠন বর্ণনায় যে সকল সংবাদ বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন: তুমি যদি বলো যে, নতুন বাক্য তো পূর্ণ বাক্য হতে হয়, কিন্তু 'যা বর্ণিত হয়েছে' অংশটি তো সম্বন্ধযুক্ত পদ বা বিশেষণ—যা কোনোভাবেই পূর্ণ বাক্য নয়, তবে তা কীভাবে নতুন বাক্য হতে পারে? আমি উত্তরে বলব: এখানে একটি মুবতাদা উহ্য ধরা সম্ভব, অর্থাৎ 'এই অধ্যায়ে যা পেশ করা হয়েছে তা হলো ওই সকল বিষয় যা বর্ণিত হয়েছে...'। অথবা এটি প্রশ্নবোধক হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে, অর্থাৎ 'কী বর্ণিত হয়েছে?' যেমন বুখারী শরীফের শুরুতে রয়েছে 'ওহী কীভাবে শুরু হয়েছিল?' চিন্তা করে দেখো। ভাষ্যকার আল-কিরমানী বুখারীর শরহের শুরুতে তৃতীয় একটি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, যা হলো 'বাব' শব্দের ওপর থামা বা অধ্যায় গণনা করা। সেক্ষেত্রে এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান থাকবে না এবং পরের অংশটি নতুন বাক্য হবে। তবে এই মতের ত্রুটি হলো, আলঙ্কারিকদের মতে গণনা কেবল সংখ্যার নির্ভুলতার জন্য হয় যেখানে গণনাকৃত বিষয়গুলোর মাঝে অন্য কিছু দিয়ে ব্যবধান করা হয় না, সেখানে অনেক দীর্ঘ বর্ণনা দিয়ে ব্যবধান করা তো দূরের কথা।
আর 'খালক' (খ-বর্ণে জবর ও লাম-বর্ণে জজমসহ) এর আভিধানিক অর্থ হলো প্রজ্ঞা ও হিকমতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সঠিক পরিমাপ। বলা হয়: দর্জি পোশাকটি পরিমাপ করেছে, যখন সে কাটার আগে তার পরিমাপ ঠিক করে। এ অর্থেই আল্লাহ তাআলার বাণী: "অতএব আল্লাহ বরকতময়, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।" এটি কোনো মূল উপাদান ছাড়াই কোনো কিছু উদ্ভাবন করা কিংবা এক বস্তু থেকে অন্য বস্তু সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আর 'খুলুক' (উভয় বর্ণে পেশসহ অথবা পেশ ও জজমসহ—নিহায়া কিতাব অনুযায়ী) এর অর্থ হলো দ্বীন, স্বভাব ও চরিত্র। এর হাকিকত হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ অবয়ব অর্থাৎ তার নফস এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য। এটি বাহ্যিক অবয়ব ও তার গুণাবলির জন্য ব্যবহৃত 'খালক' (লামে জবরসহ) এর সমান্তরাল। বলা হয়েছে: তিনি বাহ্যিক গুণাবলিকে অভ্যন্তরীণ গুণাবলির আগে উল্লেখ করেছেন, যদিও পূর্ণতার মূল মানদণ্ড হলো অভ্যন্তরীণ অবস্থা। আর একারণেই...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ৯)
سُمِّيَ الْكِتَابُ بِالشَّمَايِلِ بِالْيَاءِ جَمْعُ شِمَالٍ بِالْكَسْرِ بِمَعْنَى الطَّبِيعَةِ لَا جَمْعُ شَمْأَلٍ بِفَتْحِ الْفَاءِ وَالْهَمْزِ ; لِأَنَّهُ مُرَادِفٌ لِلْمَكْسُورِ الَّذِي هُوَ بِمَعْنَى الرِّيحِ الْغَيْرِ الْمُنَاسِبِ لِمَا نَحْنُ فِيهِ ; لِأَنَّهُمَا الْجُزْءُ الْأَشْرَفُ مِنْهُ فَغَلَبَ عَلَى الْجُزْءِ الْأَوَّلِ أَوْ سُمِّيَ الْكُلُّ بِاسْمِهِ سُلُوكًا بِطَرِيقِ التَّرَقِّي وَرِعَايَةً لِتَرْتِيبِ الْوُجُودِ أَوْ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَا يَبْدُو لِلْإِنْسَانِ وَلِأَنَّهُ كَدَلِيلٍ عَلَيْهِ
وَلِذَا قِيلَ: عُنْوَانُ الظَّاهِرِ عُنْوَانُ الْبَاطِنِ، ثُمَّ قِيلَ: الْمُرَادُ بِالْخَلْقِ الَّذِي وَقَعَ فِي التَّرْجَمَةِ هُنَا هُوَ الْأَوَّلُ أَيْ صُورَتُهُ وَشَكْلُهُ الَّذِي يُطَابِقُ كَمَالَهُ، وَقِيلَ: الْمُرَادُ بِهِ الْحَاصِلُ بِالْمَصْدَرِ وَهُوَ الْخِلْقَةُ وَنُوزِعَ فِيهِ بِأَنَّ الْخِلْقَةَ مَصْدَرٌ أَيْضًا لَكِنَّهُ مَصْدَرٌ نَوْعِيٌّ بِمَعْنَى الْخَلْقِ الْحَسَنِ وَغَيْرُ نَوْعِيٍّ بِمَعْنَى التَّرْكِيبِ كَمَا فِي الْمُغْرِبِ وَكِلَاهُمَا غَيْرُ حَاصِلٍ بِالْمَصْدَرِ كَمَا تَرَى، نَعَمْ قَدْ تُطْلَقُ الْخِلْقَةُ عَلَى الصُّورَةِ بِطَرِيقِ الْمَجَازِ إِلَّا أَنَّهُ خَارِجٌ عَمَّا نَحْنُ فِيهِ، وَقِيلَ الْمُرَادُ بِالْخَلْقِ اسْمُ الْمَفْعُولِ الَّذِي هُوَ هَيْئَةُ الْإِنْسَانِ الظَّاهِرَةُ وَالْإِضَافَةُ لِلْبَيَانِ، وَهُوَ بَعِيدٌ مُوهِمٌ وَلَا يَبْعُدُ أَنْ يُقَالَ الْخَلْقُ فِي التَّرْجَمَةِ مُضَافٌ إِلَى مَفْعُولِهِ وَالْمَعْنَى بَابُ مَا جَاءَ مِنَ الْأَحَادِيثِ الَّتِي وَرَدَتْ فِي بَيَانِ خَلْقِ اللَّهِ تَعَالَى صُورَةَ رَسُولِهِ الْأَعْظَمِ وَنَبِيِّهِ الْأَكْرَمِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْوَجْهِ الْأَتَمِّ ; وَلِذَا قِيلَ مِنْ تَمَامِ الْإِيمَانِ بِهِ اعْتِقَادُ أَنَّهُ لَمْ يَجْتَمِعْ فِي بَدَنِ آدَمِيٍّ مِنَ الْمَحَاسِنِ الظَّاهِرَةِ الدَّالَّةِ عَلَى مَحَاسِنِهِ الْبَاطِنَةِ مَا اجْتَمَعَ فِي بَدَنِهِ صلى الله عليه وسلم وَمِنْ ثَمَّ نَقَلَ الْقُرْطُبِيُّ عَنْ بَعْضِهِمْ أَنَّهُ لَمْ يَظْهَرْ تَمَامُ حُسْنِهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَّا لَمَا أَطَاقَتْ أَعْيُنُ الصَّحَابَةِ النَّظَرَ إِلَيْهِ، انْتَهَى. وَأَمَّا الْكُفَّارُ فَكَانُوا كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (وَتَرَاهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ) ، وَقَالَ بَعْضُ الصُّوفِيَّةِ: أَكْثَرُ النَّاسِ عَرَفُوا اللَّهَ عز وجل وَمَا عَرَفُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ; لِأَنَّ حِجَابَ الْبَشَرِيَّةِ غَطَّتْ أَبْصَارَهُمْ، ثُمَّ مَا ذَكَرَهُ بَعْضُ شُرَّاحٍ مِنْ بَعْضِ الْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ فِي ابْتِدَاءِ خَلْقِهِ صلى الله عليه وسلم فَلَا شَكَّ أَنَّهُ فِي مَحَلِّهِ بَلِ الْمَقَامُ يَسْتَدْعِي أَكْثَرَ مِنْهُ بِاسْتِيفَاءِ جَمِيعِ أَحْوَالِهِ وَسِيَرِهِ مِنْ مَوْلِدِهِ إِلَى أَنْ بُعِثَ بَعْدَ أَرْبَعِينَ سَنَةً، لَكِنْ قَوْلُهُ وَإِنْ أَغْفَلَهُ الْمُصَنِّفُ لَيْسَ وَارِدًا عَلَيْهِ ; لِأَنَّهُ مَا الْتَزَمَهُ وَإِنَّمَا يَذْكُرُ فِي كِتَابِهِ مَا ثَبَتَ عِنْدَهُ بِإِسْنَادِهِ.
وَاعْلَمْ أَنَّ الْمُصَنِّفَ ذَكَرَ فِي هَذَا الْبَابِ أَرْبَعَةَ عَشَرَ حَدِيثًا وَقَالَ: (أَخْبَرَنَا) وَفِي نُسْخَةٍ حَدَّثَنَا، وَفِي نُسْخَةٍ أَنَا تَخْفِيفُ كِتَابَةِ أَخْبَرَنَا، قَالَ النَّوَوِيُّ: جَرَتِ الْعَادَةُ بِالِاقْتِصَارِ عَلَى الرَّمْزِ فِي حَدَّثَنَا وَأَخْبَرَنَا، وَاسْتَمَرَّ الِاصْطِلَاحُ مِنْ قَدِيمِ الْأَعْصَارِ إِلَى زَمَانِنَا، وَاشْتُهِرَ ذَلِكَ بِحَيْثُ لَا يَخْفَى فَيَكْتُبُونَ مِنْ حَدَّثَنَا: ثَنَا بِالثَّاءِ الْمُثَلَّثَةِ وَالنُّونِ وَالْأَلِفِ، وَرُبَّمَا حَذَفُوا الْمُثَلَّثَةَ وَيَقْتَصِرُونَ بِالنُّونِ وَالْأَلِفِ، وَرُبَّمَا يَكْتُبُونَ دَنَا بِالدَّالِ قَبْلَ نَا، انْتَهَى. وَيُفْهَمُ مِنْ كَلَامِ ابْنِ الصَّلَاحِ وَابْنِ الْعِرَاقِيِّ أَنَّهُمْ يَكْتُبُونَ فِي حَدَّثَنَا: دَثَنَا بِزِيَادَةِ الْمُثَلَّثَةِ أَيْضًا، قَالَ وَيَكْتُبُونَ مِنْ أَخْبَرَنَا: أَنَا، زَادَ ابْنُ الصَّلَاحِ فِيهِ أَرَنَا، وَزَادَ الشَّيْخُ الْجَزَرِيُّ فِيهِ ابْنَا وَرَنَا، قَالَ مِيرَكُ وَنَقَلَ بَعْضٌ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ فِي وُجُوهِ اخْتِصَارِ أَخْبَرَنَا: بَنَا أَيْضًا بِالْمُوَحَّدَةِ وَالنُّونِ، وَلَمْ أَرَهُ فِي كَلَامِهِ لَا فِي الْبِدَايَةِ وَالنِّهَايَةِ وَلَا فِي تَصْحِيحِ الْمَصَابِيحِ، وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ افْتِرَاءٌ مَحْضٌ عَلَيْهِ وَلَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنَ الْكُتُبِ الْأُصُولِ الْمُعْتَمَدَةِ وَالْغَالِبُ عَلَى الظَّنِّ أَنَّ ذَلِكَ لَا يَجُوزُ لِأَنَّهُ رُبَّمَا يَشْتَبِهُ بِاخْتِصَارِ حَدَّثَنَا ثَنَا لِاتِّحَادِ صُورَتِهِمَا، قَالَ ابْنُ الصَّلَاحِ: وَلَيْسَ يَحْسُنُ مَا يَفْعَلُهُ طَائِفَةٌ مِنْ كِتَابَةِ أَخْبَرَنَا بِالْأَلِفِ مَعَ عَلَامَةِ بَنَا فَيَكُونُ ابَنَا وَإِنْ كَانَ الْحَافِظُ الْبَيْهَقِيُّ مِمَّنْ فَعَلَهُ. قَالَ مِيرَكُ: وَكَانَ وَجْهُ عَدَمِ الْحُسْنِ أَنَّهُ رُبَّمَا يَشْتَبِهُ بِاخْتِصَارِ أَنْبَأَنَا فَإِنَّهُمْ يَقْتَصِرُونَهُ بِأَنْبَأَ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا فَرْقَ بَيْنَ التَّحْدِيثِ وَالْإِخْبَارِ وَالْإِنْبَاءِ وَالسَّمَاعِ عِنْدَ الْمُتَقَدِّمِينَ كَالزُّهْرِيِّ وَمَالِكٍ وَابْنِ عُيَيْنَةَ وَيَحْيَى الْقَطَّانِ وَأَكْثَرِ الْحِجَازِيِّينَ وَالْكُوفِيِّينَ وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَصَاحِبَيْهِ وَعَلَيْهِ اسْتَمَرَّ عَمَلُ الْمَغَارِبَةِ وَرَأَى
بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ التَّفْرِقَةَ بَيْنَ صِيَغِ الْأَدَاءِ بِحَسَبَ افْتِرَاقِ التَّحَمُّلِ فَيَخُصُّونَ الْحَدِيثَ وَالسَّمَاعَ بِمَا يَلْفِظُ بِهِ الشَّيْخُ وَسَمِعَ الرَّاوِي عَنْهُ وَالْإِخْبَارَ بِمَا يَقْرَأُ التِّلْمِيذُ عَلَى الشَّيْخِ وَهَذَا مَذْهَبُ ابْنِ جُرَيْجٍ وَالْأَوْزَاعِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَجُمْهُورِ أَهْلِ الشَّرْقِ ثُمَّ أَحْدَثَ أَتْبَاعُهُمْ
বইটির নামকরণ করা হয়েছে 'শামায়েল' (Shama'il), যা 'শিমাল' (shimal)-এর বহুবচন; এখানে 'শিমাল' শব্দটি কাসরা (জের) যোগে পঠিত এবং এর অর্থ স্বভাব বা প্রকৃতি। এটি 'শাম’আল' (sham’al)-এর বহুবচন নয়—যা ফাতহা (জবর) ও হামজা যোগে পঠিত হয়; কারণ সেটি 'রিহ' বা বাতাসের সমার্থক, যা এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। (শামায়েল শব্দটি ব্যবহারের কারণ হতে পারে) যেহেতু স্বভাব ও প্রকৃতি মানুষের শ্রেষ্ঠ অংশ, তাই এর দ্বারা প্রথম অংশের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে অথবা উন্নতির পথ অনুসরণ করে এবং অস্তিত্বের ক্রমিক বিন্যাস রক্ষা করে সম্পূর্ণ সত্তাকেই এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। অথবা এটি এ কারণে যে, মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম এটিই প্রকাশ পায় এবং এটি তার জন্য একটি প্রমাণের ন্যায় কাজ করে।
এ কারণেই বলা হয়: বাহ্যিক রূপ হলো অভ্যন্তরীণ অবস্থার পরিচয়। এরপর বলা হয়েছে: এখানে শিরোনামে 'খালক' (সৃষ্টি/গঠন) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রথমটি, অর্থাৎ তাঁর অবয়ব ও গঠন যা তাঁর পূর্ণতার সাথে সংগতিপূর্ণ। আবার কেউ বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মূল ধাতুমূল থেকে অর্জিত রূপ, যা হলো শারীরিক গঠন (খিলকাহ)। তবে এই মতে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, 'খিলকাহ' শব্দটিও একটি মাসদার বা ধাতুমূল, তবে এটি মূলত 'নাউয়ি' বা প্রকারবাচক মাসদার যা উত্তম সৃষ্টির অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো এটি অবয়ব বা গঠন অর্থেও আসে যেমনটি 'মুগরিব' গ্রন্থে উল্লেখ আছে। কিন্তু আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, এই দুটি অর্থের কোনটিই সরাসরি ধাতুমূল থেকে অর্জিত ফল নয়। হ্যাঁ, রূপকভাবে 'খিলকাহ' শব্দটিকে অবয়ব অর্থে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা আমাদের বর্তমান আলোচনার বাইরে। কেউ কেউ বলেছেন 'খালক' দ্বারা এখানে 'ইসমুল মাফউল' বা সৃষ্টি উদ্দেশ্য, যা মানুষের বাহ্যিক অবয়বকে বোঝায় এবং এখানে সম্বন্ধটি বর্ণনামূলক (ইদাফাতুল বয়ানিয়া)। তবে এই মতটি দূরবর্তী এবং বিভ্রান্তিকর। এটি বলা খুব একটা অসমীচীন হবে না যে, শিরোনামে 'খালক' শব্দটি তার মাফউল বা কর্মের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। তখন এর অর্থ দাঁড়াবে: মহান আল্লাহ তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও সম্মানিত নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবয়বকে যেভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে সৃষ্টি করেছেন, সেই বর্ণনায় আগত হাদিসসমূহের অধ্যায়। এ কারণেই বলা হয়েছে: নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমানের পূর্ণতা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, কোনো মানুষের দেহে এমন বাহ্যিক সৌন্দর্য একত্রিত হয়নি যা তার অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের পরিচায়ক, যেমনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেহে একত্রিত হয়েছিল। আর সেখান থেকেই আল-কুরতুবি জনৈক আলেমের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সৌন্দর্যের পূর্ণতা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা হয়নি, যদি তা করা হতো তবে সাহাবায়ে কেরামের চোখ তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকার শক্তি রাখত না। আর কাফেরদের অবস্থা ছিল তেমন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (তুমি দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখতে পাচ্ছে না)। কিছু সুফি গবেষক বলেছেন: অধিকাংশ মানুষ মহান আল্লাহকে চিনেছে কিন্তু আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চিনতে পারেনি; কেননা মানবিকতার পর্দা তাদের চোখকে ঢেকে দিয়েছিল। এরপর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে যেসব হাদিস উল্লেখ করেছেন, তা নিঃসন্দেহে নিজ স্থানে সঠিক। বরং এই প্রসঙ্গের দাবি হলো তাঁর জন্ম থেকে শুরু করে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত তাঁর সমস্ত অবস্থা ও জীবনী বিস্তারিত আলোচনা করা। তবে ব্যাখ্যাকারদের এই উক্তি যে 'যদিও গ্রন্থকার এ বিষয়ে অবহেলা করেছেন' তা সঠিক নয়; কারণ গ্রন্থকার এটি (বিস্তারিত জীবনী) বর্ণনা করার দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেননি। তিনি কেবল তাঁর গ্রন্থে সেই হাদিসগুলোই উল্লেখ করেন যা তাঁর নিকট তাঁর নিজস্ব সনদে প্রমাণিত হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, গ্রন্থকার এই অধ্যায়ে চৌদ্দটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: (আখবারানা/আমাদের সংবাদ দিয়েছেন); কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে 'হাদ্দাসানা', আবার কোনোটিতে রয়েছে 'আনা', যা 'আখবারানা' শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। ইমাম নববী বলেছেন: 'হাদ্দাসানা' ও 'আখবারানা' লেখার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত প্রতীক ব্যবহারের রীতি প্রচলিত রয়েছে এবং প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এই পরিভাষা অব্যাহত আছে। এটি এতই প্রসিদ্ধ যে কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। তারা 'হাদ্দাসানা'র পরিবর্তে 'সানা' (ছা, নুন ও আলিফ দিয়ে) লেখে। কখনো কখনো 'ছা' বর্জন করে কেবল 'না' (নুন ও আলিফ) লিখে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার কখনো 'না'-এর আগে 'দাল' যুক্ত করে 'দানা' লেখে। ইবনুল সালাহ এবং ইবনুল ইরাকির বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তারা 'হাদ্দাসানা'র ক্ষেত্রে 'দাছানা' (দাল ও ছা যুক্ত করে) লেখে। তিনি বলেন, 'আখবারানা'র ক্ষেত্রে তারা লেখে 'আনা'। ইবনুল সালাহ এর সাথে 'আরানা' যুক্ত করেছেন। শায়খ জাজারি এর সাথে 'আবনা' এবং 'রানা' যুক্ত করেছেন। মীরাক বলেছেন, কেউ কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'আখবারানা' সংক্ষিপ্ত করার ক্ষেত্রে 'বানা' (বা ও নুন) শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। তবে আমি (মীরাক) তাঁর কোনো কিতাবে এটি দেখিনি—না 'বিদায়া ওয়ান নিহায়া'তে, না 'তাসহিহুল মাসাবিহ' গ্রন্থে। স্পষ্টতই এটি তাঁর ওপর একটি অপবাদ। নির্ভরযোগ্য মূল কিতাবগুলোর কোনোটিতেই এটি নেই। প্রবল ধারণা এই যে এটি জায়েজ নয়, কারণ এতে 'হাদ্দাসানা'র সংক্ষিপ্ত রূপ 'সানা'র সাথে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, যেহেতু উভয়ের গঠন একই রকম। ইবনুল সালাহ বলেছেন: একটি দলের করা কাজ শোভনীয় নয়, যারা 'আখবারানা' লেখার সময় আলিফ-এর সাথে 'বানা' প্রতীক ব্যবহার করে 'আবনা' লেখে; যদিও হাফেজ বাইহাকি এটি করেছেন। মীরাক বলেছেন: এটি শোভনীয় না হওয়ার কারণ হলো, সম্ভবত এটি 'আনবাআনা'র সংক্ষিপ্ত রূপের সাথে মিলে যেতে পারে, কারণ তারা সেটিকে 'আনবা' লিখে থাকে। জেনে রাখুন যে, প্রাচীন ইমামগণ যেমন যুহরি, মালিক, ইবনে উয়াইনা, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান এবং হিজাজ ও কুফার অধিকাংশ ফকিহদের মতে 'তাহদিস', 'ইখবার', 'ইনবা' এবং 'সামা'-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটি ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথীরও অভিমত এবং মাগরিববাসীদের আমলও এর ওপর ভিত্তি করেই চলে আসছে। তবে
পরবর্তীকালের কিছু আলেম গ্রহণের পদ্ধতির ভিন্নতা অনুযায়ী বর্ণনার শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্যের কথা বলেছেন। তাঁরা 'হাদ্দাসানা' ও 'সামা' শব্দ দুটিকে সেই সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করেছেন যেখানে শায়খ নিজে শব্দ উচ্চারণ করেন এবং রাবি (বর্ণনাকারী) তা সরাসরি শোনেন। আর 'আখবারানা' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করেছেন যেখানে ছাত্র শায়খের সামনে পাঠ করে শোনায়। এটি ইবনে জুরাইজ, আওজায়ি, শাফেয়ি এবং প্রাচ্যের অধিকাংশ আলেমদের মাজহাব। পরবর্তীতে তাঁদের অনুসারীরা নতুন নিয়ম তৈরি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১০)
تَفْصِيلًا آخَرَ ; فَمَنْ سَمِعَ وَحْدَهُ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ أُفْرِدَ فَقَالَ: حَدَّثَنِي وَسَمِعْتُ، وَمَنْ سَمِعَ مَعَ غَيْرِهِ جَمَعَ فَقَالَ: حَدَّثَنَا وَسَمَّعَنَا، وَمَنْ قَرَأَ بِنَفْسِهِ عَلَى الشَّيْخِ أَفْرَدَ فَقَالَ: أَخْبَرَنِي، وَمَنْ سَمِعَ بِقِرَاءَةِ غَيْرِهِ فَقَالَ: أَخْبَرَنَا. وَكَذَا خَصُّوا الْإِنْبَاءَ بِالْإِجَازَةِ الَّتِي يُشَافِهُ بِهَا الشَّيْخُ مَنْ يُجِيزُهُ، وَكُلُّ هَذَا مُسْتَحْسَنٌ عِنْدَهُمْ وَلَيْسَ بِوَاجِبٍ عِنْدَهُمْ وَإِنَّمَا أَرَادُوا التَّمْيِيزَ بَيْنَ أَحْوَالِ التَّحَمُّلِ، وَظَنَّ بَعْضُهُمْ أَنَّ ذَلِكَ عَلَى سَبِيلِ الْوُجُوبِ فَتَكَلَّفَ بِالِاحْتِجَاجِ لَهُ وَعَلَيْهِ بِمَا لَا طَائِلَ تَحْتَهُ، نَعَمْ يَحْتَاجُ الْمُتَأَخِّرُونَ إِلَى مُرَاعَاةِ الِاصْطِلَاحِ الْمَذْكُورِ لِأَنَّهُ صَارَ حَقِيقَةً عُرْفِيَّةً عِنْدَهُمْ فَمَنْ يَجُوزُ عَنْهَا احْتَاجَ إِلَى الْإِتْيَانِ بِقَرِينَةٍ تَدُلُّ عَلَى مُرَادِهِ وَإِلَّا فَلَا يُؤْمَنُ اخْتِلَاطُ الْمَسْمُوعِ بِالْمَجَازِ وَبَعْدَ تَقُرُّرِ الِاصْطِلَاحِ لَا يُحْمَلُ مَا وَرَدَ مِنْ أَلْفَاظِ الْمُتَأَخِّرِينَ عَلَى مَحَلٍّ وَاحِدٍ بِخِلَافِ الْمُتَقَدِّمِينَ، هَذَا وَاخْتَلَفُوا فِي الْقِرَاءَةِ عَلَى الشَّيْخِ ; هَلْ تُسَاوِي السَّمَاعَ مِنْ لَفْظِهِ أَوْ هِيَ دُونَهُ أَوْ فَوْقَهُ عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْوَالٍ: فَذَهَبَ مَالِكٌ وَأَصْحَابُهُ وَمُعْظَمُ أَهْلِ الْحِجَازِ وَالْكُوفَةِ وَالْبُخَارِيُّ إِلَى التَّسْوِيَةِ بَيْنَهُمَا، وَذَهَبَ أَبُو حَنِيفَةَ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ إِلَى تَرْجِيحِ الْقِرَاءَةِ عَلَى الشَّيْخِ عَلَى السَّمَاعِ مِنْ لَفْظِهِ، وَرَوَاهُ الْخَطِيبُ فِي الْكِفَايَةِ عَنْ مَالِكٍ أَيْضًا وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَشُعْبَةَ وَابْنِ لَهِيعَةَ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَيَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ وَغَيْرِهِمْ، وَذَهَبَ جُمْهُورُ أَهْلِ الشَّرْقِ إِلَى تَرْجِيحِ السَّمَاعِ مِنْ لَفْظِ الشَّيْخِ عَلَى الْقِرَاءَةِ عَلَيْهِ، قَالَ زَيْنُ الدِّينِ الْعِرَاقِيُّ: وَهُوَ الصَّحِيحُ، قُلْتُ: وَلَعَلَّ وَجْهَهُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَالْحَدِيثَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَيَأْخُذُونَ عَنْهُ وَكَذَا كَانُوا يُؤَدُّونَهُمَا إِلَى التَّابِعِينَ وَأَتْبَاعِهِمْ فَيُمْكِنُ أَنْ يُقَالَ: هَذَا الِاخْتِلَافُ اخْتِلَافُ عَصْرٍ فَإِنَّ الْمُتَقَدِّمِينَ كَانَ لَهُمْ قَابِلِيَّةٌ تَامَّةٌ بِحَيْثُ أَنَّهُمْ كَانُوا يَأْخُذُونَ الْقِرَاءَةَ وَالْحَدِيثَ بِمُجَرَّدِ السَّمَاعِ أَخْذًا كَامِلًا مُسْتَوْفِيًا يَصْلُحُ لِلِاعْتِمَادِ فِي التَّحَمُّلِ بِخِلَافِ الْمُتَأَخِّرِينَ لِقِلَّةِ اسْتِعْدَادَاتِهِمْ وَبُطْءِ إِدْرَاكَاتِهِمْ فَهُمْ إِذَا قَرَءُوا الْقِرَاءَةَ عَلَى الشَّيْخِ أَوِ الْحَدِيثَ عَلَى الْمُحَدِّثِ وَقَرَّرَهُ فِي قِرَاءَتِهِ وَإِذَا أَخْطَأَ بَيَّنَ لَهُ مَوْضِعَ خَطَأِهِ كَانَ أَقْوَى فِي الِاعْتِمَادِ، وَاعْلَمْ أَنَّ الشُّرَّاحَ لَهُمْ هُنَا إِطْنَابٌ فِي الْإِعْرَابِ مَعَ كَثِيرٍ مِنَ الِاضْطِرَابِ أَضْرَبْنَا عَنْ ذِكْرِهِ لِقِلَّةِ فَائِدَتِهِ عِنْدَ أُولِي الْأَلْبَابِ.
(أَبُو رَجَاءٍ) : بِفَتْحِ الرَّاءِ وَجِيمٍ بَعْدَهُ أَلِفٌ بَعْدَهُ هَمْزَةٌ.
(قُتَيْبَةُ) : بِقَافٍ مَضْمُومَةٍ وَفَوْقِيَّةٍ مَفْتُوحَةٍ وَتَحْتِيَّةٍ سَاكِنَةٍ بَعْدَهَا مُوَحَّدَةٌ قَبْلَ هَاءٍ وَهُوَ ثِقَةٌ ثَبْتٌ مِنْ مَشَايِخِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ.
(ابْنُ سَعِيدٍ) : بِفَتْحِ الْمُهْمَلَةِ وَكَسْرِ الْعَيْنِ وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ مَوْلَاهُمْ مِنْ قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى بَلْخٍ، قِيلَ: إِنَّ اسْمَهُ يَحْيَى وَلَقَبُهُ قُتَيْبَةُ وَقِيلَ: اسْمُهُ عَلِيٌّ، رَحَلَ إِلَى الْعِرَاقِ وَالْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ وَالشَّامِ وَمِصْرَ وَسَمِعَ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ وَخَلْقًا كَثِيرًا مِنَ الْأَعْلَامِ، رَوَى عَنْهُ الْبُخَارِيُّ وَالتِّرْمِذِيُّ وَخَلْقٌ كَثِيرٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ، وُلِدَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةٍ وَتُوُفِّيَ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَمِائَتَيْنِ فِي شَعْبَانَ وَكَانَ ثَبْتًا.
(عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ) : الْإِمَامِ الْمَشْهُورِ مِنَ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ وَهُوَ مِنْ كِبَارِ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ، أَخَذَ عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى ابْنِ عَمْرَ وَعَنِ الزُّهْرِيِّ وَغَيْرِهِمَا قِيلَ بَلَغَ مَشَايِخُهُ
تِسْعَمِائَةٍ وَأَخْذَ عَنْهُ الشَّافِعِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ وَأَمْثَالُهُمَا، وُلِدَ سَنَةَ خَمْسٍ وَتِسْعِينَ مِنَ الْهِجْرَةِ، قِيلَ مَكَثَ فِي بَطْنِ أُمِّهِ ثَلَاثَ سِنِينَ، وَمَاتَ بِالْمَدِينَةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَسَبْعِينَ وَمِائَةٍ وَلَهُ أَرْبَعٌ وَثَمَانُونَ سَنَةً، وَقَدِ اجْتَمَعَ بِالْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَخَذَ عَنْهُ وَقِيلَ أَخَذَ كُلٌّ عَنِ الْآخَرِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَالْجَارُّ يَتَعَلَّقُ بِأَخْبَرَنَا أَوْ حَالٌ مِنَ الْفَاعِلِ الْمَذْكُورِ أَوْ مِنَ الْمَفْعُولِ الْمُقَدَّرِ أَيْ أَخْبَرَنَا أَبُو رَجَاءٍ هَذَا الْحَدِيثَ حَالَ كَوْنِهِ نَاقِلًا أَوْ مَنْقُولًا وَجُوِّزَ كَوْنُهُ اسْتِئْنَافًا جَوَابًا لِمَنْ قَالَ عَمَّنْ يُحَدِّثُهُ.
(عَنْ رَبِيعَةَ) : بِفَتْحِ الرَّاءِ وَكَسْرِ الْمُوَحَّدَةِ بَعْدَهَا تَحْتِيَّةٌ سَاكِنَةٌ، وَقَدْ بَالَغَ الْأَئِمَّةُ فِي جَلَالَتِهِ أَيْ حَالَ كَوْنِ مَالِكٍ نَاقِلًا عَنْ رَبِيعَةَ (بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ) : حَالَ كَوْنِهِ نَاقِلًا (عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ) : وَهُوَ أَبُو النَّضْرِ الْأَنْصَارِيُّ الْبُخَارِيُّ الْخَزْرَجِيُّ خَادِمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَشْرَ سِنِينَ وَعُمْرُهُ مِائَةُ سَنَةٍ، وَهُوَ آخِرُ مَنْ مَاتَ بِالْبَصْرَةِ مِنَ الصَّحَابَةِ سَنَةَ إِحْدَى وَسَبْعِينَ وَقِيلَ وُلِدَ لَهُ مِائَةُ وَلَدٍ مِنْهَا ثَمَانِيَةٌ وَسَبْعُونَ ذَكَرًا، رَوَى عَنْهُ الزُّهْرِيُّ وَغَيْرُهُ. (أَنَّهُ) : أَيْ أَنَّ رَبِيعَةَ وَقِيلَ أَنَّهُ ضَمِيرُ الشَّأْنِ. (سَمِعَهُ) : أَيْ سَمِعَ رَبِيعَةَ أَنَسًا، وَفِيهِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّ رَبِيعَةَ أَخَذَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَنَسٍ بِطَرِيقِ التَّحْدِيثِ لَا بِالْإِخْبَارِ. (يَقُولُ) : حَالٌ أَيْ قَائِلًا، وَقِيلَ بَيَانٌ،
অপর একটি বিস্তারিত বর্ণনা হলো; যে ব্যক্তি একাকী শায়খের মুখ থেকে (হাদিস) শুনেছেন, তিনি একবচন ব্যবহার করে বলবেন: "তিনি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন" (হাদ্দাসানী) এবং "আমি শুনেছি" (সামি'তু)। আর যিনি অন্যের সাথে একত্রে শুনেছেন, তিনি বহুবচন ব্যবহার করে বলবেন: "তিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন" (হাদ্দাসানা) এবং "তিনি আমাদের শুনিয়েছেন" (সাম্মা'আনা)। যে ব্যক্তি নিজে শায়খের নিকট পাঠ করেছেন, তিনি একবচন ব্যবহার করে বলবেন: "তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন" (আখবারানি)। আর যে ব্যক্তি অন্যের পাঠ করার সময় উপস্থিত থেকে শুনেছেন, তিনি বলবেন: "তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন" (আখবারানা)। একইভাবে তারা 'ইনবা' (সংবাদ প্রদান) শব্দটিকে সেই 'ইজাযাহ' বা অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা শায়খ সরাসরি মৌখিকভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে প্রদান করেন। এই সবই তাদের নিকট উত্তম বলে বিবেচিত, তবে তা ওয়াজিব বা আবশ্যিক নয়। তারা কেবল হাদিস গ্রহণের বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করতে চেয়েছেন। কিছু লোক মনে করেছেন যে এটি ওয়াজিব, তাই তারা এর পক্ষে-বিপক্ষে এমন নিরর্থক যুক্তিতর্কের অবতারণা করেছেন যার কোনো ফায়দা নেই। হ্যাঁ, পরবর্তী যুগের আলেমদের জন্য উল্লিখিত পরিভাষাগুলোর অনুসরণ করা প্রয়োজন, কারণ এটি তাদের নিকট একটি প্রথাগত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। সুতরাং যারা এর ব্যতিক্রম করবেন, তাদের উদ্দেশ্যের ওপর কোনো সংকেত বা প্রমাণ পেশ করতে হবে; অন্যথায় শ্রুত (মাসমু') এবং অনুমতিপ্রাপ্ত (মাজায) হাদিসের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটার সম্ভাবনা থেকে নিরাপদ থাকা যাবে না। পরিভাষাগুলো স্থির হওয়ার পর পরবর্তী আলেমদের ব্যবহৃত শব্দগুলোকে ঢালাওভাবে কেবল একটি অর্থে গ্রহণ করা যাবে না, যা পূর্ববর্তী আলেমদের ক্ষেত্রে সম্ভব ছিল। শায়খের নিকট পাঠ করা (কিরাআত আলাশ শায়খ) এবং শায়খের মুখ থেকে শোনার (সামা' মিন লাফযিশ শায়খ) শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে তিনটি মত রয়েছে: ইমাম মালিক ও তাঁর অনুসারীগণ, হিজায ও কুফার অধিকাংশ আলেম এবং ইমাম বুখারী এই দুই পদ্ধতিকে সমান মনে করেন। ইমাম আবু হানিফা এবং ইবন আবি যিব শায়খের নিকট পাঠ করাকে শায়খের মুখ থেকে শোনার চেয়ে উত্তম বলেছেন। আল-খতিব 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে এই মতটি মালিক, লাইস ইবন সাদ, শু'বাহ, ইবন লাহিয়া, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকাইর এবং অন্যদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। প্রাচ্যের অধিকাংশ আলেম শায়খের মুখ থেকে শোনাকে শায়খের নিকট পাঠ করার চেয়ে উত্তম মনে করেন। যাইন উদ্দিন আল-ইরাকি বলেছেন: "এটিই সঠিক।" আমি (গ্রন্থকার) বলি: এর কারণ সম্ভবত এই যে, নবী (সা.) সাহাবীদের নিকট কুরআন ও হাদিস পাঠ করতেন এবং তাঁরা তাঁর থেকে তা গ্রহণ করতেন; একইভাবে তাঁরাও তাবিঈদের নিকট এবং তাবিঈগণ তাঁদের পরবর্তীদের নিকট তা পৌঁছে দিতেন। এটাও বলা সম্ভব যে, এই মতভেদটি যুগভেদে ভিন্ন হতে পারে; কারণ পূর্ববর্তী আলেমদের এমন পূর্ণ সক্ষমতা ছিল যে তাঁরা কেবল শোনার মাধ্যমেই হাদিস ও কিরাআতকে পরিপূর্ণ ও নিখুঁতভাবে ধারণ করতে পারতেন, যা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভরতার যোগ্য ছিল। কিন্তু পরবর্তী যুগের আলেমদের অবস্থা ভিন্ন; তাঁদের প্রস্তুতি ও অনুধাবন ক্ষমতা কম হওয়ায় তাঁরা যখন শায়খের নিকট কিরাআত বা মুহাদ্দিসের নিকট হাদিস পাঠ করেন এবং শায়খ তা অনুমোদন করেন কিংবা ভুল হলে ভুল হওয়ার স্থানটি ধরিয়ে দেন, তখন সেটি অধিক নির্ভরযোগ্য হয়। জেনে রাখুন, ব্যাখ্যাকারগণ এখানে ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলার সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যা জ্ঞানীদের নিকট সামান্যই ফলপ্রসূ হওয়ায় আমি তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।
(আবু রাজা): 'রা' বর্ণে ফাতহা, এরপর 'জীম', তারপর আলিফ ও হামযা।
(কুতাইবাহ): 'কাফ' বর্ণে পেশ, 'তা' বর্ণে ফাতহা, এরপর সুকুনযুক্ত 'ইয়া', তারপর 'বা' এবং শেষে 'হা'। তিনি ইমাম বুখারী ও মুসলিমের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় শায়খ।
(ইবন সাঈদ): প্রথম বর্ণে ফাতহা ও 'আইন' বর্ণে কাসরা। তিনি আব্দুল্লাহ আস-সাকাফী, তাদের আযাদকৃত গোলাম। তিনি বলখ অঞ্চলের একটি গ্রামের অধিবাসী। বলা হয় তাঁর নাম ইয়াহইয়া এবং লকব বা উপাধি কুতাইবাহ। কেউ কেউ বলেছেন তাঁর নাম আলী। তিনি ইরাক, মদীনা, মক্কা, সিরিয়া ও মিশরে ভ্রমণ করেছেন। তিনি ইমাম মালিক ইবন আনাস এবং আরও অনেক প্রথিতযশা আলেমের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। বুখারী, তিরমিযী এবং আরও অনেক ইমাম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৪৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪০ হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অত্যন্ত সুদৃঢ় রাবী ছিলেন।
(মালিক ইবন আনাস থেকে): তিনি চার ইমামের অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম। তিনি বড় মাপের তাবি-তাবিঈ ছিলেন। তিনি ইবন উমরের আযাদকৃত গোলাম নাফি' এবং যুহরীসহ অন্যদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। বলা হয় তাঁর শায়খের সংখ্যা নয়শ। ইমাম শাফিঈ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তিনি ৯৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয় তিনি মায়ের গর্ভে তিন বছর ছিলেন। ১৭৯ হিজরীতে ৮৪ বছর বয়সে তিনি মদীনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইমাম আবু হানিফার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। আবার বলা হয় যে তাঁরা একে অন্যের থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। আর ব্যাকরণগতভাবে 'আন' (থেকে) শব্দটি 'আখবারানা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা এটি বর্ণনাকারী থেকে 'হাল' হিসেবে ব্যবহৃত। অর্থাৎ আবু রাজা আমাদের নিকট এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এমন অবস্থায় যে তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করছেন। কেউ কেউ একে নতুন বাক্য (ইস্তিনাফ) হিসেবেও বৈধ বলেছেন যা "কার থেকে বর্ণনা করছেন?"—এই প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ।
(রবীআহ থেকে): 'রা' বর্ণে ফাতহা ও 'বা' বর্ণে কাসরা, এরপর সুকুনযুক্ত 'ইয়া'। ইমামগণ তাঁর মহান মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ মালিক রবীআহ থেকে বর্ণনা করছেন এমন অবস্থায়। (ইবন আবি আব্দুর রহমান): তাঁর থেকে বর্ণনা করা অবস্থায়। (আনাস ইবন মালিক থেকে): তিনি হলেন আবু নাযর আনসারী বুখারী খাযরাজী। তিনি দশ বছর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খাদেম ছিলেন এবং তাঁর বয়স ছিল একশ বছর। তিনি সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি ৭১ হিজরীতে বসরার মৃত্যুবরণ করেন। বলা হয় তাঁর একশ সন্তান ছিল যার মধ্যে ৭৮ জনই পুত্র। যুহরী ও অন্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। (নিশ্চয়ই তিনি): অর্থাৎ রবীআহ, আবার বলা হয় এটি একটি বিশেষ অব্যয়। (তাঁকে শুনেছেন): অর্থাৎ রবীআহ আনাস (রা.)-কে শুনেছেন। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে রবীআহ এই হাদিসটি আনাস (রা.) থেকে সরাসরি বর্ণনার পদ্ধতিতে (তাহদীস) নিয়েছেন, কেবল সংবাদ হিসেবে (ইখবার) নয়। (বলছেন): এটি 'হাল' বা অবস্থা নির্দেশক শব্দ। কেউ কেউ একে বর্ণনা বা ব্যাখ্যাও বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ وَغَيْرُهُ بَدَلٌ أَيْ بَدَلُ اشْتِمَالٍ وَالْفِعْلُ بِمَعْنَى الْمَصْدَرِ فَيَكُونُ مِنْ قَبِيلِ أَعْجَبَنِي زَيْدٌ عِلْمُهُ، وَلَا يَخْفَى مَا فِيهِ مِنَ التَّكَلُّفِ، وَقَالَ الْحَنَفِيُّ وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ مَفْعُولًا ثَانِيًا لِسَمِعَهُ وَالسَّمَاعُ يَتَعَدَّى إِلَى مَفْعُولَيْنِ عَلَى مَا فِي التَّاجِ، وَقَدْ سَمِعْتُ أَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَفْعُولًا أَخْبَرَنَا، انْتَهَى. وَهُوَ فِي غَايَةٍ مِنَ الْبُعْدِ كَمَا لَا يَخْفَى، وَقَالَ الْعِصَامُ: سَمِعَ يَتَعَدَّى إِلَى مَفْعُولٍ وَاحِدٍ لَوْ دَخَلَ عَلَى الصَّوْتِ يَقُولُ: سَمِعْتُ قَوْلَ زِيدٍ، وَيَتَعَدَّى إِلَى مَفْعُولَيْنِ لَوْ دَخَلَ عَلَى غَيْرِ الصَّوْتِ وَيَجِبُ حِينَئِذٍ أَنْ يَكُونَ مَفْعُولُهُ الثَّانِي فِعْلًا مُضَارِعًا، وَالْعَارِي عَنِ الْقَوَاعِدِ رُبَّمَا يَقُولُ فِيهِ مَا يَشَاءُ، وَقَالَ مِيرَكُ: لَا يَخْفَى أَنَّ السَّمَاعَ لَا يَتَعَلَّقُ إِلَّا بِالْقَوْلِ فَهُوَ إِمَّا مَحْمُولٌ عَلَى أَنَّ كَلِمَةَ مِنْ مَحْذُوفَةٌ أَيْ سَمِعَ مِنْهُ يَقُولُ أَيْ هَذَا الْقَوْلَ وَهُوَ مَحْمُولٌ عَلَى حَذْفِ الْمُضَافِ أَيْ سَمِعَ قَوْلَهُ وَحِينَئِذٍ يَقُولُ بَيَانٌ لَهُ فَإِنْ قِيلَ الْمُنَاسِبُ لَسَمِعَ قَالَ لِيَتَوَافَقَا مُضِيًّا فَمَا الْفَائِدَةُ فِي الْعُدُولِ إِلَى الْمُضَارِعِ أُجِيبَ بِأَنَّ فَائِدَتَهُ اسْتِحْضَارُ صُورَةِ الْقَوْلِ لِلْحَاضِرِينَ وَالْحِكَايَةُ عَنْهَا كَأَنَّهُ يُرِيهِمْ أَنَّهُ قَائِلٌ بِهِ الْآنَ.
(كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : قِيلَ كَانَ يُفِيدُ التَّكْرَارَ لُغَةً، وَقِيلَ عُرْفًا، وَقِيلَ لَا يُفِيدُهُ مُطْلَقًا وَعَلَيْهِ الْأَكْثَرُونَ.
(لَيْسَ بِالطَّوِيلِ) : الْجُمْلَةُ خَبَرُ كَانَ
وَالْمُنَاسِبُ هُنَا مَذْهَبُ غَيْرِ ابْنِ الْحَاجِبِ أَنَّهَا لِنَفْيِ مَضْمُونِ الْجُمْلَةِ حَالًا لَا مَاضِيًا كَمَا هُوَ مَذْهَبُهُ حَتَّى يُحْتَاجَ إِلَى تُكَلِّفُ حِكَايَةِ حَالٍ مَاضِيَةٍ قُصِدَ دَوَامُ نَفْيِهَا.
(الْبَائِنُ) : بِالْهَمْزِ وَوَهِمَ مَنْ جَعَلَهُ بِالْيَاءِ وَهُوَ اسْمُ فَاعِلٍ مِنْ بَانَ أَيْ ظَهَرَ عَلَى غَيْرِهِ، أَوْ مِنْ بَانَ بِمَعْنَى بَعُدَ، وَالْمُرَادُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ بَعِيدًا مِنَ التَّوَسُّطِ أَوْ مِنْ بَانَ بِمَعْنَى فَارَقَ مَنْ سِوَاهُ، وَسُمِّيَ فَاحِشُ الطُّولِ بَائِنًا لِأَنَّ مَنْ رَآهُ يَتَصَوَّرُ أَنْ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ أَعْضَائِهِ مُبَانٌ عَنِ الْآخَرِ أَوْ لِأَنَّهُ يُبَايِنُ الِاعْتِدَالَ أَوْ كَأَنَّ طُولَهُ يَظْهَرُ عِنْدَ كُلِّ أَحَدٍ.
(وَلَا بِالْقَصِيرِ) : أَيِ الْمُتَرَدِّدِ الدَّاخِلِ بَعْضُهُ فِي بَعْضٍ كَمَا سَيَأْتِي، وَهُوَ عَطْفٌ عَلَى بِالطَّوِيلِ وَلَا مُذَكِّرَةٌ لِلنَّفْيِ وَالْمَعْنَى أَنَّهُ كَانَ مُتَوَسِّطًا بَيْنَ الطُّولِ وَالْقِصَرِ لَا زَائِدَ الطُّولِ وَلَا الْقِصَرِ، وَفِي نَفْيِ أَصْلِ الْقِصَرِ وَنَفْيِ الطُّولِ الْبَائِنِ لَا أَصْلِ الطُّولِ إِشْعَارٌ بِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ مَرْبُوعًا مَائِلًا إِلَى الطُّولِ وَأَنَّهُ كَانَ إِلَى الطُّولِ أَقْرَبُ كَمَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ، وَلَا يُنَافِيهِ وَصْفُهُ الْآتِي بِأَنَّهُ رَبْعَةٌ لِأَنَّهَا أَمْرٌ نِسْبِيٌّ وَيُوَافِقُهُ خَبَرُ الْبَرَاءِ كَانَ رَبْعَةً وَهُوَ إِلَى الطُّولِ أَقْرَبُ، وَقَدْ وَرَدَ عِنْدَ الْبَيْهَقِيِّ وَابْنِ عَسَاكِرَ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ يُمَاشِيهِ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ إِلَّا طَالَهُ صلى الله عليه وسلم وَلَرُبَّمَا اكْتَنَفَهُ الرَّجُلَانِ الطَّوِيلَانِ فَيَطُولُهُمَا فَإِذَا فَارَقَاهُ نُسِبَ إِلَى الرَّبْعَةِ، وَفِي خَصَائِصِ ابْنِ سَبْعٍ كَانَ إِذَا جَلَسَ يَكُونُ كَتِفُهُ أَعْلَى مِنَ الْجَالِسِ، قِيلَ وَلَعَلَّ السِّرَّ فِي ذَلِكَ أَنَّهُ لَا يَتَطَاوَلُ عَلَيْهِ أَحَدٌ صُورَةً كَمَا لَا يَتَطَاوَلُ عَلَيْهِ مَعْنًى.
(وَلَا بِالْأَبْيَضِ الْأَمْهَقِ) : أَيِ الشَّدِيدِ الْبَيَاضِ الْخَالِي عَنِ الْحُمْرَةِ وَالنُّورِ كَالْجَصِّ وَهُوَ كَرِيهُ الْمَنْظَرِ وَرُبَّمَا تَوَهَّمَهُ النَّاظِرُ أَبْرَصَ، بَلْ كَانَ بَيَاضُهُ نَيِّرًا مُشْرَبًا بِحُمْرَةٍ كَمَا فِي رِوَايَاتٍ أُخَرَ مِنْهَا: أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ أَزْهَرَ اللَّوْنِ، فَالنَّفْيُ لِلْقَيْدِ فَقَطْ، وَأَمَّا رِوَايَةُ أَمْهَقَ لَيْسَ بِأَبْيَضَ فَمَقْلُوبَةٌ أَوْ وَهْمٌ كَمَا قَالَهُ عِيَاضٌ.
(وَلَا بِالْآدَمِ) : أَفْعَلُ صِفَةٌ مَهْمُوزُ الْفَاءِ وَأَصْلُهُ
ইবনে হাজার এবং অন্যান্যরা বলেছেন, এটি 'বদল' তথা 'বদলুল ইশতিমাল' এবং এখানে ক্রিয়াটি মূল ক্রিয়ামূলের (মাসদার) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এটি "যায়েদের জ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করেছে" বাক্যরীতির অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে এতে যে কৃত্রিমতা (তাকাল্লুফ) রয়েছে তা গোপন নয়। হানাফী আলেমগণ বলেছেন, এটি 'সামিয়া' (শুনেছেন) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (মাফউলে সানী) হওয়া সম্ভব; কারণ 'তাজ' গ্রন্থে যা আছে সেই অনুযায়ী 'সামা' ক্রিয়াটি দুটি কর্ম গ্রহণ করতে পারে। আমি এও শুনেছি যে, এটি 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) এর কর্ম হওয়াও জায়েজ। তবে এটি অত্যন্ত দূরবর্তী একটি সম্ভাবনা, যা স্পষ্ট। আল-ইসাম বলেছেন: 'সামিয়া' ক্রিয়াটি একটি মাত্র কর্ম গ্রহণ করে যদি তা কোনো শব্দের (সাউত) ওপর আপতিত হয়, যেমন কেউ বলে: "আমি যায়েদের কথা শুনেছি"। আর যদি শব্দ ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর আপতিত হয়, তবে তা দুটি কর্ম গ্রহণ করে এবং সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় কর্মটি অবশ্যই বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (মুদারে) হতে হবে। আর ব্যাকরণিক নিয়ম সম্পর্কে যার জ্ঞান নেই, সে এ বিষয়ে যা ইচ্ছা তা-ই বলতে পারে। মীরাক বলেছেন: এটি অস্পষ্ট নয় যে, শ্রবণ কেবল কথার সাথেই সংশ্লিষ্ট। তাই এটি হয় এমন যে 'মিন' অব্যয়টি উহ্য আছে (অর্থাৎ তিনি তাঁর থেকে শুনেছেন যে তিনি বলছেন), অথবা এটি সম্বন্ধপদ (মুদাফ) উহ্য থাকার ভিত্তিতে (অর্থাৎ তিনি তাঁর কথা শুনেছেন) এবং এমতাবস্থায় "ইয়াকুলু" (বলছেন) শব্দটি হবে তার ব্যাখ্যা। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, 'সামিয়া' (অতীতকাল) এর সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য 'ক্বলা' (তিনি বললেন - অতীতকাল) হওয়া উচিত ছিল, তবে কেন 'মুদারে' (বর্তমানকাল) ব্যবহার করা হলো? এর উত্তরে বলা হয় যে, এর উপকারিতা হলো উপস্থিতদের সামনে সেই কথার দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা এবং এমনভাবে বর্ণনা করা যেন তিনি তাদের দেখাচ্ছেন যে বক্তা এখনই তা বলছেন।
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন : বলা হয়েছে যে, 'কানা' শব্দটি ভাষাগতভাবে পুনরাবৃত্তি বোঝায়; কেউ বলেছেন এটি প্রথাগতভাবে বোঝায়, আবার অধিকাংশের মতে এটি কোনোভাবেই পুনরাবৃত্তি বোঝায় না।
(অধিক লম্বা ছিলেন না) : এই বাক্যটি 'কানা' এর খবর।
এখানে ইবনুল হাজিব ব্যতীত অন্যদের মতটিই অধিক মানানসই যে, এটি বর্তমান কালের প্রেক্ষাপটে বাক্যের বিষয়বস্তুকে অস্বীকার করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অতীত কালের জন্য নয়—যেমনটি তাঁর (ইবনুল হাজিবের) মত। ফলে অতীতকালীন অবস্থার বর্ণনাকে প্রলম্বিত করার যে কৃত্রিম প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়, তার আর প্রয়োজন পড়বে না।
(স্পষ্টত পৃথককারী বা অতি দীর্ঘ) : এটি হামজা সহযোগে। যারা একে 'ইয়া' দিয়ে পড়েছেন তারা ভুল করেছেন। এটি 'বানা' থেকে নির্গত কর্তাবাচক বিশেষ্য, যার অর্থ হলো অন্যের ওপর প্রকাশ পাওয়া বা জাহির হওয়া। অথবা এর অর্থ হলো দূরবর্তী হওয়া; অর্থাৎ তাঁর উচ্চতা মধ্যম পর্যায় থেকে দূরে ছিল না। অথবা এর অর্থ পৃথক হওয়া; অর্থাৎ তিনি অন্যদের থেকে পৃথক ছিলেন। অতি দীর্ঘ ব্যক্তিকে 'বায়িন' বলা হয় কারণ তাকে দেখলে মনে হয় তার প্রতিটি অঙ্গ অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন, অথবা সে পরিমিত ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত, অথবা তার দৈর্ঘ্য সবার কাছে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
(খাটোও ছিলেন না) : অর্থাৎ এমন সংকুচিত ও খাটো ছিলেন না যার এক অংশ অন্য অংশের ভেতর ঢুকে থাকে, যা সামনে আলোচিত হবে। এটি 'অধিক লম্বা' এর ওপর সংযোজক এবং 'না' অব্যয়টি না-বোধক অর্থকে পুনর্ব্যক্ত করার জন্য এসেছে। এর অর্থ হলো তিনি লম্বা ও খাটোর মাঝামাঝি মধ্যম আকৃতির ছিলেন; অতিরিক্ত লম্বা বা অতিরিক্ত খাটো ছিলেন না। খাটো হওয়াকে সরাসরি অস্বীকার করা এবং অতিরিক্ত লম্বাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে (সরাসরি লম্বা হওয়াকে নয়) ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যম গড়নের হলেও লম্বার দিকে কিছুটা ঝুঁকে ছিলেন এবং তিনি লম্বার কাছাকাছি ছিলেন, যেমনটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে তাঁকে 'রাবআ' (মধ্যমাকৃতি) বলে যে বর্ণনা আসবে তা এর বিরোধী নয়, কারণ এটি একটি আপেক্ষিক বিষয়। বাররা ইবনে আযিব (রা.) এর বর্ণিত হাদিস এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, "তিনি মধ্যমাকৃতির ছিলেন এবং দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি ছিলেন।" বায়হাকী ও ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় এসেছে যে, কোনো মানুষ তাঁর সাথে হাঁটলে তিনি তার চেয়ে লম্বা হয়ে যেতেন। অনেক সময় দুজন দীর্ঘকায় লোক তাঁর দুই পাশে থাকলেও তিনি তাদের চেয়ে দীর্ঘ দেখাতেন; কিন্তু যখন তাঁরা আলাদা হয়ে যেতেন তখন তাঁকে মধ্যমাকৃতির মনে হতো। ইবনে সাব' এর 'খাসায়েস' গ্রন্থে আছে, তিনি যখন বসতেন তখন তাঁর কাঁধ অন্যদের চেয়ে উঁচুতে থাকত। বলা হয়েছে, এর রহস্য সম্ভবত এই যে, রূপক অর্থে যেমন কেউ তাঁর ওপরে যেতে পারত না, তেমনি দৃশ্যতও যেন কেউ তাঁর চেয়ে অধিক উচ্চতায় থাকতে না পারে।
(একেবারে ধবধবে সাদাও ছিলেন না) : অর্থাৎ এমন তীব্র সাদা যা লাল আভা এবং উজ্জ্বলতা বর্জিত, যা চুনের মতো দেখায়। এটি দেখতে অপ্রীতিকর এবং দর্শক একে শ্বেতী রোগ বলে ভুল করতে পারে। বরং তাঁর শুভ্রতা ছিল উজ্জ্বল এবং লাল আভা মিশ্রিত, যেমনটি অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উজ্জ্বল বর্ণের। সুতরাং এখানে নেতিবাচকতা কেবল নির্দিষ্ট গুণটির (অতিরিক্ত সাদার) জন্য। আর যে বর্ণনায় এসেছে যে তিনি "সাদা ছিলেন না", তা বর্ণনাকারীর ভ্রম অথবা ভুল, যেমনটি কাজী ইয়াজ বলেছেন।
(শ্যামবর্ণও ছিলেন না) : এটি একটি বিশেষণ যার প্রথম বর্ণে হামজা রয়েছে এবং এর মূল হলো...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১২)
أَءْدَمُ أُبْدِلَتِ الْفَاءُ أَلِفًا وَالْأُدْمَةُ شِدَّةُ السُّمْرَةِ وَهِيَ مَنْزِلَةٌ بَيْنَ الْبَيَاضِ وَالسَّوَادِ، فَنَفْيُهُ لَا يُنَافِي إِثْبَاتَ السُّمْرَةِ الَّتِي فِي الْحَدِيثِ الثَّانِي، قَالَ الْعَسْقَلَانِيُّ تَبَيَّنَ مِنْ مَجْمُوعِ الرِّوَايَاتِ أَنَّ الْمُرَادَ بِالْبَيَاضِ الْمَنْفِيِّ مَا لَا يُخَالِطُهُ الْحُمْرَةُ وَالْمُرَادُ بِالسُّمْرَةِ الْحُمْرَةُ الَّتِي
يُخَالِطُهَا الْبَيَاضُ.
(وَلَا بِالْجَعْدِ) : بِفَتْحِ الْجِيمِ وَسُكُونِ الْعَيْنِ مِنَ الْجُعُودَةِ وَهِيَ فِي الشَّعْرِ أَنْ لَا يَتَكَسَّرَ تَكَسُّرًا تَامًّا وَلَا يَسْتَرْسِلُ.
(الْقَطَطُ) : بِفَتْحَتَيْنِ وَبِكَسْرِ الثَّانِي وَهُوَ شِدَّةُ الْجُعُودَةِ.
(وَلَا بِالسَّبِطِ) : بِفَتْحِ الْمُهْمَلَةِ وَكَسْرِ الْمُوَحَّدَةِ وَتُسَكَّنُ وَتُفْتَحُ، وَالسُّبُوطَةُ فِي الشَّعْرِ ضِدُّ الْجُعُودَةِ وَهُوَ الِامْتِدَادُ الَّذِي لَيْسَ فِيهِ تَعَقُّدٌ وَلَا نُتُوءٌ أَصْلًا، وَالْمُرَادُ أَنَّ شَعْرَهُ صلى الله عليه وسلم مُتَوَسِّطٌ بَيْنَ الْجُعُودَةِ وَالسُّبُوطَةِ.
(بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى) : خَبَرٌ ثَانٍ لِكَانَ ; أَيْ أَرْسَلَهُ الْحَقُّ إِلَى الْخَلْقِ لِلنُّبُوَّةِ وَالرِّسَالَةِ وَتَبْلِيغِ الْأَحْكَامِ وَالْحُكْمِ لِلْأُمَّةِ، قِيلَ وُلِدَ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَأُنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَخَرَجَ مِنْ مَكَّةَ مُهَاجِرًا يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَقَدِمَ الْمَدِينَةَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَتُوُفِّيَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ.
(عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً) : حَالٌ مِنَ الْمَفْعُولِ، وَقِيلَ عَلَى بِمَعْنَى فِي، وَقِيلَ الرَّأْسُ مُقْحَمٌ وَيُؤَيِّدُهُ مَا فِي رِوَايَةِ الْبُخَارِيِّ: أُنْزِلَ عَلَيْهِ أَيِ الْوَحْيُ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعِينَ سَنَةً، قَالَ شُرَّاحُ الْحَدِيثِ الْمُرَادُ بِالرَّأْسِ الطَّرَفُ الْأَخِيرُ مِنْهُ لِمَا عَلَيْهِ الْجُمْهُورُ مِنْ أَهْلِ السِّيَرِ وَالتَّوَارِيخِ مِنْ أَنَّهُ بُعِثَ بَعْدَ اسْتِكْمَالِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، قَالَ الطِّيبِيُّ: الرَّأْسُ هُنَا مَجَازٌ عَنْ آخِرِ السَّنَةِ كَقَوْلِهِمْ رَأْسُ الْآيَةِ أَيْ آخِرُهَا، وَتَسْمِيَةُ آخِرِ السَّنَةِ رَأْسَهَا بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ مَبْدَأٌ مِثْلُهُ مِنْ عَقْدٍ آخَرَ، انْتَهَى. وَأَمَّا لَفْظُ الْأَرْبَعِينَ فَتَارَةً يُرَادُ بِهِ مَجْمُوعُ السِّنِينَ مِنْ أَوَّلِ الْوِلَادَةِ إِلَى اسْتِكْمَالِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، وَتَارَةً يُرَادُ بِهِ السَّنَةُ الَّتِي تَنْضَمُّ إِلَى تِسْعَةٍ وَثَلَاثِينَ، وَالِاسْتِعْمَالَانِ شَائِعَانِ ; فَالْأَوَّلُ كَمَا يُقَالُ عُمْرُ فُلَانٍ أَرْبَعُونَ، وَالثَّانِي كَقَوْلِهِمُ الْحَدِيثُ الْأَرْبَعُونَ ; وَإِيرَادُ التَّمْيِيزِ وَهُوَ قَوْلُهُ سَنَةً يُؤَيِّدُ الْمَعْنَى الْأَوَّلَ، قَالَ الْحَافِظُ الْعَسْقَلَانِيُّ: هَذَا إِنَّمَا يَتِمُّ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّهُ بُعِثَ فِي الشَّهْرِ الَّذِي وُلِدَ فِيهِ وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ الْجُمْهُورِ أَنَّهُ وُلِدَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ وَبُعِثَ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ، فَعَلَى هَذَا يَكُونُ لَهُ حِينَ بُعِثَ أَرْبَعُونَ سَنَةً وَنِصْفٌ أَوْ تِسْعَةٌ وَثَلَاثُونَ وَنِصْفٌ، فَمَنْ قَالَ أَرْبَعُونَ أَلْغَى الْكَسْرَ أَوْ جَبَرَهَا، لَكِنْ قَالَ الْمَسْعُودِيُّ وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ أَنَّهُ بُعِثَ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ وَهُوَ الصَّحِيحُ فَعَلَى هَذَا يَكُونُ
'আদম' (ধূসর-শ্যামল) শব্দটি, এখানে 'ফা' বর্ণটিকে 'আলিফ' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। 'উদমা' বলতে গাঢ় শ্যামল বর্ণকে বোঝায়, যা শ্বেত এবং কৃষ্ণাভ বর্ণের মধ্যবর্তী একটি পর্যায়। সুতরাং এটি (অত্যধিক শুভ্রতা) অস্বীকার করা দ্বিতীয় হাদিসে বর্ণিত শ্যামল বর্ণ সাব্যস্ত করার পরিপন্থী নয়। আসকালানী (রহ.) বলেছেন, সকল বর্ণনার সমষ্টি থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, যে শুভ্রতা অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো সেই শুভ্রতা যার সাথে লালিমা মিশ্রিত নেই; আর যে শ্যামল বর্ণ উদ্দেশ্য তা হলো সেই লালিমা যার সাথে
শুভ্রতা মিশ্রিত রয়েছে।
(অধিক কোঁকড়ানো নয়): 'জীম' বর্ণে ফাতহাহ এবং 'আইন' বর্ণে সুকুনসহ, এটি 'জু'উদাহ' শব্দ থেকে উদ্ভূত। চুলের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো এমন চুল যা পুরোপুরি কোঁকড়ানো নয়, আবার একেবারে সোজাও নয়।
(আল-কাতাত): দুই বর্ণে ফাতহাহ অথবা দ্বিতীয় বর্ণে কাসরাহ সহ; এর অর্থ হলো অত্যাধিক কোঁকড়ানো।
(এবং একেবারে সোজাও নয়): প্রথম বর্ণে ফাতহাহ এবং দ্বিতীয় বর্ণে কাসরাহ সহ, কখনও সুকুন বা ফাতহাহও পড়া হয়। চুলের ক্ষেত্রে 'সুবুতাহ' হলো কোঁকড়ানো ভাবের বিপরীত, অর্থাৎ এমন মসৃণতা যাতে কোনো জট বা ভাঁজ নেই। এর উদ্দেশ্য হলো, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চুল ছিল কোঁকড়ানো এবং সোজার মাঝামাঝি।
(আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রেরণ করেছেন): এটি 'কানা' এর দ্বিতীয় খবর; অর্থাৎ সত্য পালনকর্তা তাঁকে সৃষ্টিজগতের নিকট নবুওয়াত, রিসালাত, বিধিবিধান পৌঁছে দেওয়া এবং উম্মতের মাঝে বিচার ফয়সালার জন্য পাঠিয়েছেন। বলা হয়ে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন, সোমবার তাঁর নিকট ওহি নাজিল হয়েছে, সোমবার তিনি হিজরত করে মক্কা ত্যাগ করেছেন, সোমবার মদিনায় পৌঁছেছেন এবং সোমবারই তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
(চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রারম্ভে): এটি মাফ'উল থেকে হাল হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এখানে 'আলা' অব্যয়টি 'ফি' (মধ্যে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন 'রাস' (মাথা/প্রান্ত) শব্দটি অতিরিক্ত। বুখারীর বর্ণনা একে সমর্থন করে: "তাঁর নিকট ওহি নাজিল করা হয় যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর।" হাদিস বিশারদগণ বলেছেন, 'রাস' দ্বারা এখানে মেয়াদের শেষ প্রান্ত বোঝানো হয়েছে, কারণ সীরাত বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহাসিকদের অধিকাংশের মত হলো যে, তাঁকে চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর প্রেরণ করা হয়েছে। আল-তিবী বলেছেন: এখানে 'রাস' শব্দটি বছরের শেষ ভাগ বুঝাতে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন বলা হয় 'রাসুল আয়াত' অর্থাৎ আয়াতের শেষ অংশ। বছরের শেষ অংশকে 'রাস' বলা হয় এই বিবেচনায় যে এটি পরবর্তী বছরের শুরুর সাথে যুক্ত। সমাপ্ত। আর 'চল্লিশ' শব্দটি কখনো জন্মের শুরু থেকে চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত মোট বছরগুলোকে বোঝায়, আবার কখনো ঊনচল্লিশের সাথে যুক্ত হওয়া বছরটিকে বোঝায়। উভয় ব্যবহারই প্রচলিত। প্রথমটি যেমন বলা হয়, অমুকের বয়স চল্লিশ; আর দ্বিতীয়টি যেমন বলা হয়, 'চল্লিশতম হাদিস'। আর 'সানাতান' (বছর) শব্দটি তাময়ীজ হিসেবে উল্লেখ করা প্রথম অর্থকেই সমর্থন করে। হাফেজ আসকালানী বলেন: এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন বলা হবে যে, তিনি যে মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেই মাসেই নবুওয়াত পেয়েছেন। অথচ জমহুর ওলামাদের নিকট প্রসিদ্ধ হলো যে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং রমজান মাসে নবুওয়াত পেয়েছেন। এই হিসেবে নবুওয়াতের সময় তাঁর বয়স ছিল সাড়ে চল্লিশ বছর অথবা সাড়ে উনচল্লিশ বছর। যারা চল্লিশ বলেছেন, তারা ভগ্নাংশ বাদ দিয়েছেন অথবা পূর্ণ সংখ্যা ধরেছেন। তবে মাসউদী এবং ইবনে আবদুল বার বলেছেন যে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসেই নবুওয়াত পেয়েছেন এবং এটিই সঠিক মত। সেই হিসেবে তাঁর বয়স হবে...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً سَوَاءٌ، وَقِيلَ بُعِثَ وَلَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً وَعَشَرَةُ أَيَّامٍ، وَقِيلَ عِشْرُونَ يَوْمًا، وَحَكَى الْقَاضِي عِيَاضٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ رِوَايَةً شَاذَّةً أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم بُعَثَ عَلَى رَأْسِ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ سَنَةً، انْتَهَى. وَلَعَلَّ الْجَمْعَ بَيْنَهُمَا بِأَنَّ بَعْثَ النُّبُوَّةِ فِي أَوَّلِ الْأَرْبَعِينَ وَبَعْثَ الرِّسَالَةِ
فِي رَأْسِ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعِينَ، وَيُؤَيِّدُ قَوْلَهُ. (فَأَقَامَ) : أَيْ بَعْدَ الْبَعْثَةِ. (بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ) : بِسُكُونِ الشِّينِ أَيْ رَسُولًا وَثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً نَبِيًّا وَرَسُولًا ; لِأَنَّ الْعُلَمَاءَ مُتَّفِقُونَ عَلَى أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ بِمَكَّةَ بَعْدَ النُّبُوَّةِ وَقَبْلَ الْهِجْرَةِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً، فَقَوْلُهُ أَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ مُحْتَاجٌ إِلَى تَأْوِيلٍ وَهُوَ مَا ذَكَرْنَاهُ، وَيُحْتَمَلُ أَنِ الرَّاوِيَ اقْتَصَرَ عَلَى الْعَقْدِ وَتَرَكَ الْكَسْرَ، وَلَا خِلَافَ فِي قَوْلِهِ (وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ) : لَكِنْ يَشْكُلُ قَوْلُهُ. (فَتَوَفَّاهُ اللَّهُ تَعَالَى) : أَيْ قَبَضَ رُوحَهُ. (عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً) : لِأَنَّهُ يَقْتَضِي أَنْ يَكُونَ سِنُّهُ سِتِّينَ، وَالْمُرَجَّحُ أَنَّهُ ثَلَاثٌ وَسِتُّونَ وَقِيلَ خَمْسٌ وَسِتُّونَ وَجُمِعَ بِأَنَّ مَنْ رَوَى الْأَخِيرَ عَدَّ سَنَتَيِ الْمَوْلِدِ وَالْوَفَاةِ وَمَنْ رَوَى ثَلَاثًا لَمْ يَعُدَّهُمَا، وَمَنْ رَوَى السِّتِّينَ لَمْ يَعُدَّ الْكَسْرَ، وَاعْلَمْ أَنَّ ابْتِدَاءَ التَّارِيخِ الْإِسْلَامِيِّ مِنْ هِجْرَتِهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ وَقَدْ قَدِمَ بِهَا يَوْمَ الِاثْنَيْنِ ضُحًّى لِثِنْتَيْ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ.
(وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ) : بِكَسْرِ اللَّامِ وَيَجُوزُ فَتْحُهَا. (عِشْرُونَ شَعْرَةً) : بِسُكُونِ الْعَيْنِ فَقَطْ وَقَدْ يُفْتَحُ وَأَمَّا الشَّعْرُ فَبِالْفَتْحِ وَيُسَكَّنُ. (بَيْضَاءَ) : صِفَةٌ لِشَعْرَةٍ وَالْجُمْلَةُ حَالٌ مِنْ مَفْعُولِ تَوَفَّاهُ وَجَعْلُهُ مَعْطُوفًا يُفْسِدُ الْمَعْنَى خِلَافًا لِمَنْ وَهِمَ فِيهِ، وَأَخْرَجَ ابْنُ سَعْدٍ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: مَا كَانَ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلِحْيَتِهِ إِلَّا سَبْعَ عَشْرَةَ أَوْ ثَمَانِ عَشْرَةَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ، وَأَمَّا مَا جَاءَ مِنْ نَفْيِ الشَّيْبِ فِي رِوَايَةٍ فَالْمُرَادُ بِهِ نَفْيُ كَثْرَتِهِ لَا أَصْلِهِ وَمِنْ ثَمَّ صَحَّ عَنْ أَنَسٍ وَلَمْ يُشِنْهُ اللَّهُ بِالشَّيْبِ، وَحِكْمَةُ قِلَّةِ شَيْبِهِ مَعَ أَنَّهُ وَرَدَ أَنَّ الشَّيْبَ وَقَارٌ وَنُورٌ وَمَنْ شَابَ شَيْبَةً فِي الْإِسْلَامِ كَانَتْ لَهُ نُورًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ; أَنَّ النِّسَاءَ بِالطَّبْعِ يَكْرَهْنَهُ غَالِبًا فَلَا يَحْصُلُ الْمُلَائَمَةُ وَالْمُمَايَلَةُ كَامِلًا، وَقَوْلُ ابْنِ حَجَرٍ وَمَنْ كَرِهَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا كَفَرَ لَا يَصِحُّ عَلَى إِطْلَاقِهِ ; لِأَنَّ الْكَرَاهَةَ الطَّبِيعِيَّةَ خَارِجَةٌ عَنِ الْأُمُورِ التَّكْلِيفِيَّةِ. وَسَيَأْتِي مَزِيدُ الْبَحْثِ لِبَحْثِ عُمْرِهِ وَشَيْبِهِ فِي بَابَيْهِمَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
قَالَ الْمُصَنِّفُ
(حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ) : بِالتَّصْغِيرِ. (ابْنُ مَسْعَدَةَ) : بِفَتْحِ الْمِيمِ وَالْعَيْنِ. (
তাঁর বয়স ঠিক চল্লিশ বছর ছিল। আবার বলা হয়েছে যে, তিনি যখন প্রেরিত হন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর দশ দিন, আবার বলা হয়েছে বিশ দিন। কাজী ইয়াদ ইবনে আব্বাস ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে একটি বিরল বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তেতাল্লিশ বছর বয়সের শুরুতে প্রেরিত হন; সমাপ্ত। সম্ভবত এ দুটির মধ্যে সমন্বয় এভাবে হতে পারে যে, নবুওয়াতের সূচনা হয়েছিল চল্লিশের শুরুতে এবং রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ হয়েছিল তেতাল্লিশের শুরুতে, যা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে। (অতঃপর তিনি অবস্থান করলেন): অর্থাৎ নবুওয়াত প্রাপ্তির পর। (মক্কায় দশ বছর): শিন অক্ষরে সুকুন যোগে; অর্থাৎ রাসূল হিসেবে দশ বছর, এবং নবী ও রাসূল হিসেবে তেরো বছর। কেননা উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত প্রাপ্তির পর হিজরতের আগে মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেছেন। সুতরাং তাঁর বক্তব্য 'মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছেন'—এটি ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী, আর তা আমরা উল্লেখ করেছি। অথবা এমনও হতে পারে যে, বর্ণনাকারী দশকের সংখ্যাটি (দশ) গ্রহণ করেছেন এবং ভগ্নাংশটি (তিন) বর্জন করেছেন। আর তাঁর এই বক্তব্যে কোনো মতভেদ নেই যে, (মদিনায় দশ বছর): তবে তাঁর এই বক্তব্যটি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয় যে, (অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর ওফাত ঘটালেন): অর্থাৎ তাঁর রূহ কবজ করলেন। (ষাট বছর বয়সের মাথায়): কেননা এর দাবি হলো তাঁর বয়স ষাট বছর হওয়া, অথচ অগ্রগণ্য মত হচ্ছে তেষট্টি বছর। আবার বলা হয়েছে পয়ষট্টি বছর। এগুলোর মধ্যে সমন্বয় এভাবে করা হয়েছে যে, যিনি শেষোক্ত মতটি বর্ণনা করেছেন তিনি জন্ম ও মৃত্যুর উভয় বছরকে গণনা করেছেন। আর যিনি তেষট্টি বর্ণনা করেছেন তিনি এ দুটি বছরকে গণনা করেননি। আর যিনি ষাট বর্ণনা করেছেন তিনি ভগ্নাংশটুকু গণনা করেননি। জেনে রাখুন যে, ইসলামি ইতিহাসের সূচনা হয়েছে মক্কা থেকে মদিনায় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের সময় থেকে। তিনি রবিউল আউয়াল মাসের বারো দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিন চাশতের সময় সেখানে পৌঁছেছিলেন।
(এবং তাঁর মাথা ও দাড়িতে ছিল না): লাম অক্ষরে কাসরা দিয়ে, তবে ফাতহা দেওয়াও জায়েজ। (বিশটি চুল): কেবল আইন অক্ষরে সুকুন দিয়ে, তবে কখনো ফাতহাও দেওয়া হয়। আর 'চুল' অর্থে 'শা'র' শব্দটিতে ফাতহা ও সুকুন উভয়ই পড়া যায়। (সাদা): এটি 'চুল' শব্দের বিশেষণ এবং বাক্যটি 'ওফাত দান করেছেন' ক্রিয়ার কর্মপদ থেকে অবস্থা (হাল) হিসেবে এসেছে। একে সংযোজক হিসেবে গণ্য করা অর্থকে বিকৃত করবে, যারা এ ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করেছেন তাদের বিপরীত। ইবনে সাদ সহিহ সনদে সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথা ও দাড়িতে সতেরো বা আঠারোটির বেশি সাদা চুল ছিল না। আর কোনো বর্ণনায় চুল পাকার বিষয়টি যে অস্বীকার করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো এর আধিক্যকে অস্বীকার করা, এর মূল অস্তিত্বকে নয়। এই কারণেই আনাস (রা.) থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে: "আল্লাহ তাঁকে সাদা চুলের মাধ্যমে বার্ধক্যের ত্রুটিযুক্ত করেননি।" তাঁর চুল কম পাকার রহস্য হলো—যদিও বর্ণিত হয়েছে যে বার্ধক্যের শুভ্রতা গাম্ভীর্য ও নূর, আর যে ব্যক্তি ইসলামে থাকা অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হয় তা কিয়ামতের দিন তার জন্য নূর হবে—নারীরা স্বভাবজাতভাবেই সাধারণত একে অপছন্দ করে, ফলে পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্য ও আকর্ষণ তৈরি হয় না। আর ইবনে হাজারের এই উক্তি যে, 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো কিছুকে যে ব্যক্তি অপছন্দ করবে সে কাফির হয়ে যাবে'—এটি ঢালাওভাবে সঠিক নয়; কারণ স্বভাবজাত অপছন্দ শরয়ি বাধ্যবাধকতার বহির্ভূত। ইনশাআল্লাহ তাআলা, তাঁর বয়স এবং চুল পাকার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়গুলোতে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
গ্রন্থকার বলেন
(আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হুমায়দ): তাসগির (ক্ষুদ্রতাবোধক বিশেষ্য) রূপে। (ইবনে মাসআদাহ): মীম ও আইন অক্ষরে ফাতহা যোগে। (
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الْبَصْرِيُّ) : بِفَتْحِ الْبَاءِ وَتُكْسَرُ وَحُكِيَ الضَّمُّ، وَهُوَ أَبُو عَلِيٍّ السَّامِيُّ مِنْ بَنِي سَامَةَ بْنِ لُؤَيٍّ، وَاسِعُ الرِّوَايَةِ، كَثِيرُ الْحَدِيثِ، وَرَوَى عَنْهُ مُسْلِمٌ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَغَيْرُهُمْ، سَمِعَ أَيُّوبَ وَيَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيَّ وَغَيْرَهُمَا، قِيلَ تَغَيَّرَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِثَلَاثِ سِنِينَ وَهُوَ مِنْ أَوْسَاطِ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ (قَالَ) : أَيْ حُمَيْدٌ (حَدَّثَنَا) : وَفِي نُسْخَةٍ بِدُونِ قَالَ فَقِيلَ التَّقْدِيرُ إِنَّهُ قَالَ، وَقِيلَ إِنَّهُ حَدَّثَنَا ثُمَّ قَالَ أَهْلُ الصِّنَاعَةِ لَفْظُ قَالَ إِنْ كَانَ مَكْتُوبًا قَبْلَ حَدَّثَنَا الثَّانِي وَالثَّالِثِ وَهَلُمَّ جَرَّا فَبِهَا وَإِلَّا فَهُوَ مَحْذُوفٌ خَطًّا وَيَنْبَغِي لِلْقَارِئِ أَنْ يَتَلَفَّظَ بِهِ، كَذَا ذَكَرَهُ مِيرَكُ.
(عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ) : بِفَتْحَتَيْنِ نِسْبَةً إِلَى ثَقِيفٍ قَبِيلَةٍ.
(عَنْ حُمَيْدٍ) : أَيْ أَبِي عُبَيْدٍ الْخُزَاعِيِّ الْبَصْرِيِّ، يُقَالُ لَهُ حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، رَوَى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَإِنَّمَا قِيلَ لَهُ الطَّوِيلُ لِقِصَرِهِ أَوْ لِطُولِ يَدِهِ أَوْ لِكَوْنِ جَارِهِ طَوِيلًا ثِقَةٌ مُدَلِّسٌ، وَعَابَهُ زَائِدَةُ لِدُخُولِهِ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْأُمَرَاءِ، وَهُوَ مِنْ صِغَارِ التَّابِعِينَ.
(عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ) : أَيْ نَاقِلًا عَنْهُ. (قَالَ) : أَيْ أَنَّهُ قَالَ وَالْقَائِلُ أَنَسٌ وَأَبْعَدَ الْعِصَامُ فَقَالَ الْقَائِلُ حُمَيْدٌ. (كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَبْعَةً) : بِفَتْحِ الرَّاءِ وَسُكُونِ الْمُوَحَّدَةِ وَيَجُوزُ فَتْحُهَا بِمَعْنَى الْمَرْبُوعِ الْخَلْقِ، وَالتَّأْنِيثُ بِاعْتِبَارِ النَّفْسِ ; يُقَالُ رَجُلٌ رَبْعَةٌ وَامْرَأَةٌ رَبْعَةٌ، وَمَعْنَاهُ الْمُتَوَسِّطُ بَيْنَ الطَّوِيلِ وَالْقَصِيرِ. (وَلَيْسَ بِالطَّوِيلِ) : أَيِ الْبَائِنِ الْمُفْرِطِ فِي الطُّولِ، فَيُصْرَفُ الْمَفْهُومُ الْمُرَادُ إِلَى الْكَامِلِ فَيَكُونُ مُوَافِقًا لِلْحَدِيثِ السَّابِقِ. (وَلَا بِالْقَصِيرِ) : أَيِ الْمُتَرَدِّدِ فَلَا يُنَافِي مَا يُذْكَرُ بَعْدُ أَنَّهُ أَطْوَلُ مِنَ الْمَرْبُوعِ، وَالْجُمْلَةُ عَطْفُ تَفْسِيرٍ وَيُرْوَى لَيْسَ بِدُونِ الْوَاوِ فَيَكُونُ بَيَانًا لَهُ، كَذَا ذَكَرَهُ السَّيِّدُ أَصِيلُ الدِّينِ، وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُ خَبَرٌ بَعْدَ خَبَرٍ وَقَالَ مُلَّا حَنَفِيٌّ: الْجُمْلَةُ عَطْفٌ عَلَى رَبْعَةٍ وَلَا بُعْدَ فِي عَطْفِ جُمْلَةٍ لَهَا مَحَلٌّ مِنَ الْإِعْرَابِ عَلَى مُفْرَدٍ وَلَا حُسْنَ فِي عَطْفِهِ عَلَى قَوْلِهِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ; لِأَنَّ قَوْلَهُ حَسَنُ الْجِسْمِ يَحْتَاجُ إِلَى تَكَلُّفٍ تَامٍّ وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ بِدُونِ الْوَاوِ كَمَا فِي جَامِعِ الْأُصُولِ
بِعَلَامَةِ التِّرْمِذِيِّ فَهُوَ خَبَرٌ بَعْدَ خَبَرٍ. (حَسَنَ الْجِسْمِ) : أَيْ لَوْنًا وَنُعُومَةً وَاعْتِدَالًا فِي الطُّولِ وَاللَّحْمِ وَنَصْبُهُ عَلَى أَنَّهُ خَبَرٌ آخَرُ لِكَانَ وَهُوَ تَعْمِيمٌ بَعْدَ تَخْصِيصٍ. (وَكَانَ شَعَرُهُ) : بِفَتْحِ الْعَيْنِ وَيُسَكَّنُ. (لَيْسَ بِجَعْدٍ) : أَيْ قَطَطٍ ; لِلْقَاعِدَةِ الْمُقَرِّرَةِ أَنَّ الْمُطْلَقَ يُحْمَلُ عَلَى الْمُقَيَّدِ فَلَا تَدَافُعَ بَيْنَهُمَا. (وَلَا سَبِطَ) : وَمَرَّ مَعْنَاهُمَا وَجَعَلَهُمَا هُنَا وَصْفًا لِلشَّعْرِ، وَفِيمَا مَرَّ وَصْفًا لِصَاحِبِهِ لِبَيَانِ أَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا يُوصَفُ بِذَلِكَ، كَذَا ذَكَرَهُ ابْنُ حَجَرٍ تَبَعًا لِلْعِصَامِ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ نِسْبَتَهُمَا هُنَا عَلَى الْحَقِيقَةِ وَهُنَاكَ عَلَى حَذْفِ مُضَافٍ أَوْ لِلْمُبَالَغَةِ عَلَى حَدِّ رَجُلٍ عَدْلٍ. (أَسْمَرَ اللَّوْنِ) : يُرِيدُ نَفْيَ الْبَيَاضِ الْقَوِيِّ مَعَ حُمْرَةٍ قَلِيلَةٍ فَلَا يُنَافِي مَا سَبَقَ مَعَ قَوْلِهِ وَلَا بِالْآدَمِ الْمُرَادِ بِهِ شَدِيدِ السُّمْرَةِ، وَقَالَ الْعِرَاقِيُّ: هَذِهِ اللَّفْظَةُ انْفَرَدَ بِهَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ وَرَوَاهُ غَيْرُهُ مِنَ الرُّوَاةِ عَنْهُ بِلَفْظِ أَزْهَرَ اللَّوْنِ، ثُمَّ نَظَرْنَا إِلَى مَنْ رَوَى صِفَةَ لَوْنِهِ صلّى الله عليه
(আল-বাসরি): বা বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে, তবে কাসরা (যের) দিয়েও পড়া যায় এবং পেশ দিয়ে পড়ার বর্ণনাও রয়েছে। তিনি হলেন বনু সামাহ বিন লুআই গোত্রের আবু আলী আস-সামি। তিনি বিপুল সংখ্যক বর্ণনার অধিকারী ও প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী। তার নিকট থেকে ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি আইয়ুব ও ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারি এবং আরও অনেকের নিকট থেকে শুনেছেন। বলা হয় যে, মৃত্যুর তিন বছর আগে তার স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। তিনি মধ্যম স্তরের তাবে-তাবেঈনদের অন্তর্ভুক্ত। (তিনি বলেন): অর্থাৎ হুমাইদ। (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন): কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'তিনি বলেন' কথাটি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে। এমতাবস্থায় বলা হয় যে, এখানে 'তিনি বলেন' কথাটি উহ্য রয়েছে। আবার বলা হয় যে, তিনি 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' বলার পর 'তিনি বলেন' বলেছেন। ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞগণ বলেন, যদি দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' শব্দটির পূর্বে 'তিনি বলেন' শব্দটি লিখিত থাকে তবে তো ভালো, অন্যথায় তা লেখার ক্ষেত্রে উহ্য থাকলেও পাঠকারীর জন্য তা মুখে উচ্চারণ করা উচিত। মীরাক এভাবেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
(আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি): উভয় বর্ণে ফাতহা যোগে, যা সাকীফ গোত্রের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত।
(হুমাইদ থেকে বর্ণিত): অর্থাৎ আবু উবাইদ আল-খুজায়ি আল-বাসরি, যাকে হুমাইদ আত-তবিল (দীর্ঘকায়) বলা হয়। তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। তাকে 'আত-তবিল' বা দীর্ঘকায় বলার কারণ ছিল তার খাটো হওয়া (বিপরীত অর্থে), অথবা তার হাত লম্বা হওয়ার কারণে, কিংবা তার প্রতিবেশী দীর্ঘকায় হওয়ার কারণে। তিনি নির্ভরযোগ্য তবে মুদাল্লিস (বর্ণনাসূত্র গোপনকারী) ছিলেন। যায়িদাহ নামক বর্ণনাকারী তার সমালোচনা করেছেন কারণ তিনি শাসকদের কোনো কোনো বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি ছোট স্তরের তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত।
(আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত): অর্থাৎ তার নিকট থেকে উদ্ধৃত করে। (তিনি বলেন): অর্থাৎ আনাস (রা.) বলেন; তবে ইশাম এখানে ভিন্নমত পোষণ করে বক্তা হিসেবে হুমাইদের কথা বলেছেন, যা সঠিকতা থেকে দূরে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন): রা বর্ণে ফাতহা এবং বা বর্ণে সুকুন যোগে, তবে বা বর্ণে ফাতহা দিয়ে পড়াও জায়েয, যার অর্থ সুঠাম গড়ন। এখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ব্যক্তির সত্তার (নাফস) বিবেচনায়; যেমন বলা হয় 'মাঝারি গড়নের পুরুষ' বা 'মাঝারি গড়নের নারী'। এর অর্থ হলো দীর্ঘ ও খাটোর মাঝামাঝি অবস্থান। (এবং তিনি অত্যধিক দীর্ঘ ছিলেন না): অর্থাৎ এমন অস্বাভাবিক দীর্ঘ নন যা দৃষ্টিকটু। এখানে উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ ভারসাম্যপূর্ণ দৈর্ঘ্য বুঝানো, যা পূর্ববর্তী হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (এবং তিনি খাটোও ছিলেন না): অর্থাৎ এমন খাটো নন যা শারীরিক কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট করে। এটি পরবর্তী বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয় যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি মাঝারি গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন। এই বাক্যটি পূর্ববর্তী কথার ব্যাখ্যাস্বরূপ। কোনো কোনো বর্ণনায় 'ওয়াও' (এবং) ছাড়াই 'লাইসা' বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে এটি পূর্ববর্তী শব্দের বর্ণনা হিসেবে গণ্য হবে; সাইয়্যেদ আসীলুদ্দীন এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তবে অধিক স্পষ্ট মত হলো এটি দ্বিতীয় সংবাদ বা খবর। মোল্লা হানাফি বলেন: এই বাক্যটি 'রাব'আহ' শব্দের উপর আতফ বা সংযুক্ত হয়েছে। কোনো বাক্য যদি ইরাবের (ব্যাকরণিক অবস্থান) স্থানে থাকে, তবে তাকে একক শব্দের সাথে সংযুক্ত করায় কোনো বাধা নেই। তবে একে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন' অংশের সাথে সংযুক্ত করা সুন্দর দেখায় না; কারণ সেক্ষেত্রে 'সুন্দর দেহের অধিকারী' কথাটিকে প্রাসঙ্গিক করতে অনেক কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়। জামিউল উসুলের তিরমিজির প্রতীকে কোনো কোনো বর্ণনায় 'ওয়াও' ছাড়াই এসেছে, ফলে এটি হবে খবরের পর খবর। (সুন্দর দেহের অধিকারী ছিলেন): অর্থাৎ বর্ণে, মসৃণতায় এবং দৈর্ঘ্য ও মাংসল গঠনের ভারসাম্যতায়। ব্যাকরণগতভাবে এটি 'কানা' ক্রিয়ার আরেকটি খবর হওয়ার কারণে মানসুব বা জবরযুক্ত হয়েছে, যা বিশেষ বর্ণনার পর সাধারণ বর্ণনা প্রদানের নামান্তর। (এবং তার চুল ছিল): এখানে আইন বর্ণে ফাতহা ও সুকুন উভয়টিই বৈধ। (অত্যধিক কোঁকড়ানো ছিল না): অর্থাৎ জট পাকানো কোঁকড়া নয়; কারণ প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো অনির্দিষ্ট অর্থকে নির্দিষ্ট অর্থের আলোকে ব্যাখ্যা করা হবে, তাই এগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। (আবার একদম সোজাও ছিল না): পূর্বে এই শব্দ দুটির অর্থ অতিবাহিত হয়েছে। এখানে শব্দ দুটিকে চুলের বিশেষণ হিসেবে আনা হয়েছে, আর আগে যা অতিবাহিত হয়েছে সেখানে একে চুলের অধিকারীর (রাসূলুল্লাহর) বিশেষণ হিসেবে আনা হয়েছিল। এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো যে, এই উভয়টির মাধ্যমেই গুণাগুণ বর্ণনা করা যায়। আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) ইশামের অনুসরণে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। তবে প্রকাশ্য অর্থ হলো—এখানে সরাসরি চুলের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, আর ওখানে হয় কোনো উহ্য শব্দের (মুদাফ) ভিত্তিতে বিশেষণ হয়েছে অথবা আধিক্য বুঝানোর জন্য সরাসরি ব্যক্তির বিশেষণ করা হয়েছে। (শ্যামল বর্ণের): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অত্যন্ত কড়া শুভ্রতার সাথে কিঞ্চিৎ লালিমা মিশ্রিত হওয়া, যা পূর্বের বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আর 'আদহাম' (চরম শ্যামল বা কালো) না হওয়ার যে কথা বর্ণিত হয়েছে, তার অর্থ হলো অতিমাত্রায় কালো না হওয়া। ইরাকি বলেন: হুমাইদ এককভাবে আনাস (রা.) থেকে এই 'আসমার' (শ্যামল) শব্দটি বর্ণনা করেছেন, অথচ অন্য বর্ণনাকারীরা তার থেকে 'আজহার' (উজ্জ্বল শুভ্র) শব্দে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমরা লক্ষ্য করলাম যে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক বর্ণের বর্ণনা দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وسلم غَيْرَ أَنَسٍ فَكُلُّهُمْ وَصَفُوهُ بِالْبَيَاضِ دُونَ السُّمْرَةِ وَهُمْ خَمْسَةَ عَشَرَ صَحَابِيًّا، انْتَهَى. وَقِيلَ هَذَا يُنَافِي مَا سَيَجِيءُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ أَبْيَضَ كَأَنَّمَا صُبِغَ مِنْ فِضَّةٍ، وَجُمِعَ بِأَنَّ السُّمْرَةَ كَانَتْ فِيمَا يَبْرُزُ لِلشَّمْسِ وَالْبَيَاضَ فِيمَا تَحْتَ الثَّوْبِ وَرُدَّ بِأَنَّهُ وَرَدَ أَنَّ رَقَبَتَهُ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ كَالْفِضَّةِ الْبَيْضَاءِ مَعَ أَنَّ الرَّقَبَةَ بَارِزَةٌ، انْتَهَى. وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ أَنَّهَا كَالْفِضَّةِ بِاعْتِبَارِ الصَّفَاءِ وَاللَّمَعَانِ، قَالَ الْعِصَامُ: وَنَحْنُ نَقُولُ تَصَرُّفُ الشَّمْسِ فِيهِ يُنَافِي مَا وَرَدَ أَنَّهُ كَانَ تَظَلُّهُ سَحَابَةٌ، قَالَ ابْنُ حَجْرٍ وَهُوَ غَفْلَةٌ إِذْ ذَاكَ كَانَ إِرْهَاصًا مُتَقَدِّمًا عَلَى النُّبُوَّةِ وَأَمَّا بَعْدَهَا فَلَمْ يُحْفَظْ ذَلِكَ كَيْفَ وَأَبُو بَكْرٍ قَدْ ظَلَّلَ عَلَيْهِ بِثَوْبِهِ لَمَّا وَصَلَ الْمَدِينَةَ وَصَحَّ أَنَّهُ ظُلِّلَ بِثَوْبٍ وَهُوَ يَرْمِي الْجَمَرَاتِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ مَنْصُوبٌ خَبَرٌ آخَرُ لِكَانَ الْأَوَّلِ وَحِينَئِذٍ قَوْلُهُ: وَكَانَ شَعْرُهُ. . . إِلَخْ ; جُمْلَةٌ حَالِيَّةٌ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ أَخْبَارِهِ ; إِذْ لَا يَسْتَقِيمُ جَعْلُ «أَسْمَرَ اللَّوْنِ» خَبَرًا لِكَانَ الثَّانِي، وَلَوْ قُدِّرَ قَبْلَ قَوْلِهِ «أَسْمَرَ» كَلِمَةٌ وَكَانَ لِئَلَّا يَلْزَمَ الِاعْتِرَاضُ لَكَانَ لَهُ وَجْهٌ، وَقِيلَ ضَمِيرُ كَانَ الثَّانِي إِلَيْهِ صلى الله عليه وسلم وَالْجُمْلَةُ بَعْدَهُ خَبَرُ الْأَوَّلِ، «وَأَسْمَرَ اللَّوْنِ» خَبَرُهُ الثَّانِي، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ «أَسْمَرُ» بِالرَّفْعِ أَيْ هُوَ أَسْمَرُ (إِذَا مَشَى يَتَكَفَّأُ) : بِتَشْدِيدِ الْفَاءِ بَعْدَهُ هَمْزٌ مُوَافِقًا لِمَا فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ، وَقَدْ يُتْرَكُ هَمْزُهُ تَخْفِيفًا، قِيلَ وَرُوِيَ «يَتَكَفَّا» بِقَلْبِ هَمْزَتِهِ أَلِفًا، وَلَا وَجْهَ لَهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مُرَادُهُ وَقْفًا أَيْ يَتَمَايَلُ إِلَى قُدَّامٍ كَالسَّفِينَةِ فِي جَرْيِهَا وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ يَتَوَكَّأُ أَيْ يَعْتَمِدُ
وَالْمُرَادُ التَّثَبُّتُ وَهَذَا لَا يُنَافِي سُرْعَةَ الْمَشْيِ بَلْ يُؤَيِّدُهَا، وَالْحَاصِلُ مِنْهُمَا أَنَّ خُطُوَاتِهِ كَانَتْ مُتَّسِعَةً لَا مُتَقَارِبَةً كَخُطُوَاتِ الْمُخْتَالِينَ، وَيَتَكَفَّأُ اسْتِقْبَالٌ بِالنَّظَرِ إِلَى مَا قَبْلَهُ، فَإِنَّ التَّكَفُّأَ بَعْدَ الشُّرُوعِ فِي الْمَشْيِ وَنَظِيرُهُ سِرْتُ حَتَّى أَدْخُلَ الْبَلَدَ، أَوْ لِاسْتِحْضَارِ الْحَالِ الْمَاضِيَةِ، أَوْ يَجْعَلُ كَانَ مَحْذُوفًا، وَفِي رِوَايَةِ الصَّحِيحَيْنِ: إِذَا مَشَى تَكْفَّأَ، بِصِيغَةِ الْمَاضِي كَمَا سَيَأْتِي فِي حَدِيثِ عَلِيٍّ رضي الله عنه.
(حَدَّثَنَا) : وَفِي نُسْخَةٍ ثَنَا. (مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ) : بِفَتْحِ الْمُوَحَّدَةِ وَفَتْحِ الْمُعْجَمَةِ الْمُشَدَّدَةِ وَهُوَ ابْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَيْسَانَ الْبَصْرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِبُنْدَارٍ، كُنْيَتُهُ أَبُو بَكْرٍ، سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ وَخَلْقًا، رَوَى عَنْهُ ابْنُ إِسْحَاقَ وَخَلْقٌ، وَهُوَ مِنْ كِبَارِ الْآخِذِينَ عَنْ تَبَعِ التَّابِعِينَ مِمَّنْ لَمْ يَلْقَ التَّابِعِينَ. (يُعْنَى الْعَبْدِيَّ) : قَالَ شَيْخُنَا مِيرَكُ شَاهْ: كَذَا وَقَعَ فِي أَصْلِ سَمَاعِنَا يَعْنَى بِصِيغَةِ الْغَائِبِ، فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ قَائِلُهُ الْمُصَنِّفُ عَلَى طَرِيقِ الِالْتِفَاتِ وَهُوَ الظَّاهِرُ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ كَلَامِ بَعْضِ تَلَامِذَتِهِ وَقَدْ جَرَتْ عَادَةُ الرُّوَاةِ إِدْرَاجَ كَلَامِهِمْ فِي تَصَانِيفِ مَشَايِخِهِمْ كَصَنِيعِ مَنْ رَوَى الصَّحِيحَيْنِ عَنِ الشَّيْخَيْنِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ، وَيَجُوزُ أَنْ يُقْرَأَ «نَعْنِي» بِالنُّونِ عَلَى وَزَانِ حَدَّثَنَا
আনাস (রা.) ব্যতিরেকে অন্যান্য সকল সাহাবী তাঁর গায়ের রঙকে শ্যামলতার পরিবর্তে গৌরবর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সংখ্যায় পনেরোজন সাহাবী ছিলেন। সমাপ্ত। আরও বলা হয়েছে যে, এই বর্ণনাটি পরবর্তীতে আগত সেই বর্ণনার পরিপন্থী যেখানে বলা হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন শুভ্র ছিলেন যেন মনে হতো তাঁকে রূপা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সমন্বয় করে বলা হয়েছে যে, শরীরের যে অংশগুলো রোদের সংস্পর্শে আসত তা কিছুটা শ্যামল ছিল এবং পোশাকের নিচের অংশগুলো শুভ্র ছিল। তবে এই মতটি খণ্ডন করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে, বর্ণিত আছে যে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘাড় ছিল সাদা রূপার মতো, অথচ ঘাড় শরীরের প্রকাশিত অংশগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত। আবার এটিও সম্ভব যে, এখানে স্বচ্ছতা ও উজ্জ্বলতার বিচারে রূপার সাথে তুলনা করা হয়েছে। ইমাম ইসাম বলেন: আমরা বলি যে, রোদের প্রভাব তাঁর শরীরের ওপর পড়ার বিষয়টি সেই বর্ণনার পরিপন্থী যাতে বলা হয়েছে যে, মেঘ তাঁকে ছায়া দান করত। ইবনে হাজার বলেন: এটি একটি অসতর্কতা; কারণ মেঘের ছায়া দান করার বিষয়টি ছিল নবুওয়াত লাভের পূর্বের একটি অলৌকিক নিদর্শন (ইরহাস)। আর নবুওয়াত লাভের পর এমন কিছু সংরক্ষিত নেই। কীভাবে তা সম্ভব? অথচ যখন তিনি মদিনায় পৌঁছেছিলেন, তখন আবু বকর (রা.) নিজের কাপড় দিয়ে তাঁর ওপর ছায়া করেছিলেন। আর এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, বিদায় হজের সময় যখন তিনি জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করছিলেন, তখন তাঁর ওপর কাপড় দিয়ে ছায়া করা হয়েছিল। 'আসমার' শব্দটি প্রথম 'কানা' ক্রিয়ার আরেকটি 'খবর' হিসেবে জবরযুক্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় 'তাঁর চুল ছিল...' এই বাক্যটি খবরসমূহের মাঝখানে একটি অবস্থা বর্ণনাকারী মধ্যবর্তী বাক্য হিসেবে গণ্য হবে। কারণ 'শ্যামল বর্ণের' কথাটিকে দ্বিতীয় 'কানা'-এর খবর হিসেবে ধরা সঠিক হবে না। তবে যদি 'আসমার' শব্দের পূর্বে একটি 'কানা' শব্দ উহ্য ধরা হয় যাতে বাক্যটির মধ্যবর্তিতা এড়ানো যায়, তবে তার একটি দিক থাকে। আবার কেউ কেউ বলেন, দ্বিতীয় 'কানা' ক্রিয়ার সর্বনামটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে ফিরবে এবং এর পরবর্তী বাক্যটি প্রথম 'কানা'-এর খবর হবে, আর 'শ্যামল বর্ণ' হবে তাঁর দ্বিতীয় খবর। কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'আসমারু' পেশযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, যার অর্থ হলো— তিনি ছিলেন শ্যামল বর্ণের। (যখন তিনি হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতেন): এখানে 'ফা' বর্ণে তাশদিদ এবং শেষে হামযা রয়েছে, যা মুসলিম শরীফের ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কখনও কখনও সহজ করার জন্য হামযা বর্জন করা হয়। বর্ণিত আছে যে, হামযাকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে 'ইয়াতাকফ্ফা' পড়া হয়েছে। এর কোনো জোরালো ভিত্তি নেই, তবে বিরতির স্থলে এমনটি হতে পারে। অর্থাৎ, জাহাজ যেভাবে চলার সময় দুলতে দুলতে সামনের দিকে অগ্রসর হয়, তিনি সেভাবে হাঁটতেন। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'ইয়াতাওয়াক্কাউ' শব্দ এসেছে, যার অর্থ হলো তিনি ভর দিয়ে হাঁটতেন।
এর উদ্দেশ্য হলো হাঁটার দৃঢ়তা বোঝানো, যা দ্রুত হাঁটার পরিপন্থী নয় বরং তার সহায়ক। এই দুই বর্ণনার নির্যাস হলো— তাঁর পদক্ষেপগুলো দীর্ঘ হতো, দাম্ভিক ব্যক্তিদের মতো ছোট ছোট হতো না। পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে 'ইয়াতাকফ্ফাউ' বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ হাঁটা শুরু করার পরই ঝুঁকে চলার বিষয়টি ঘটে। এর উদাহরণ হলো— 'আমি চললাম যতক্ষণ না শহরে প্রবেশ করি'। অথবা এটি অতীতকালের অবস্থাকে বর্তমানে চিত্রায়িত করার জন্য হতে পারে। অথবা এখানে 'কানা' শব্দটিকে উহ্য ধরা হতে পারে। বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনায় এটি 'তাকাফ্ফা' অর্থাৎ অতীতকালের শব্দে এসেছে, যেমনটি সামনে আলী (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে আসবে।
(আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন): কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে সংক্ষেপে 'ছানা' এসেছে। (মুহাম্মদ ইবনে বাশার): এখানে 'বা' এবং 'শিন' বর্ণে জবর এবং শিনে তাশদিদ রয়েছে। তিনি হলেন উসমান ইবনে কায়সান আল-বাসরির পুত্র, যিনি 'বুন্দার' নামে পরিচিত। তাঁর উপনাম হলো আবু বকর। তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে ইবনে ইসহাক এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাবে-তাবেয়ীদের মধ্য থেকে সেই উচ্চপর্যায়ের রাবীদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাবেয়ীদের সাক্ষাৎ পাননি। (অর্থাৎ আল-আবদিকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে): আমাদের উস্তাদ মীরক শাহ বলেন: আমাদের পাণ্ডুলিপিতে 'ইয়ানি' (তিনি উদ্দেশ্য করেছেন) শব্দ এসেছে নামপুরুষে। সুতরাং এটি সম্ভব যে, বক্তা স্বয়ং গ্রন্থকার এবং এটি তাঁর একটি বর্ণনাভঙ্গি, যা অধিক সুস্পষ্ট। আবার এটিও সম্ভব যে, এটি তাঁর কোনো ছাত্রের কথা। বর্ণনাকারীদের অভ্যাস হলো উস্তাদদের কিতাবের মধ্যে নিজেদের কথা সংযোজন করা, যেমনটি বুখারী ও মুসলিম থেকে বর্ণনা করা রাবীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আর এটি নুন দিয়ে 'নানি' (আমরা উদ্দেশ্য করছি) পড়াও বৈধ, যা 'হাদ্দাসানা' শব্দের ওজনের সাথে মিল রাখে।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَحِينَئِذٍ لَا شَكَّ فِي أَنَّهُ مِنْ كَلَامِ الْمُؤَلِّفِ، لَوْ كَانَ الرِّوَايَةُ مُسَاعَدَةً لَهُ، هَذَا وَقَدْ سَرَقَ بَعْضُ الْمُنْتَحِلِينَ هَذَا التَّحْقِيقَ مِنْ كَلَامِنَا وَأَوْرَدَهُ فِي شَرْحِهِ إِظْهَارًا أَنَّهُ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ فَلَا تَغْتَرَّ بِهِ فَإِنَّهُ لَيْسَتْ لَهُ رِوَايَةٌ مُعْتَبَرَةٌ فِي هَذَا الْكِتَابِ، وَاللَّهُ الْهَادِي لِلصَّوَابِ، انْتَهَى. وَأَرَادَ بِبَعْضِ الْمُنْتَحِلِينَ مُلَّا حَنَفِي فَإِنَّهُ ذَكَرَ مَا ذَكَرَ بِعَيْنِهِ وَأَقُولُ الظَّاهِرُ أَنَّهُ مِنْ كَلَامِ التَّلَامِذَةِ لِتَكُفَّ الِالْتِفَاتَ وَعَدَمِ صِحَّتِهِ إِلَّا عَلَى مَذْهَبِ السَّكَاكِيِّ، وَلَوْ قِيلَ عَلَى التَّجْرِيدِ لَكَانَ لَهُ وَجْهٌ أَيْضًا، وَلَوْ قُرِئَ مَجْهُولًا لَكَانَ أَوْجَهُ لَوْلَا أَنَّهُ مُخَالِفٌ لِلنُّسَخِ الْمَضْبُوطَةِ لَكِنْ يُؤَيِّدُهُ مَا قَالَهُ الْعِصَامُ أَوْ لِتَنْزِيلِهِ مَنْزِلَةَ أَيِ الْمُفَسِّرَةِ إِذْ لَا قَصْدَ إِلَّا التَّفْسِيرُ وَيُعْنَى عَلَى صِيغَةِ الْغَيْبَةِ رِوَايَةً وَدِرَايَةً إِذْ لَا يُلَائِمُ جَعْلُهُ كَحَدَّثَنَا لِعَدَمِ مُشَارَكَتِهِمَا فِي تَشْرِيكِ الْغَيْرِ إِذِ التَّشْرِيكُ فِي التَّحْدِيثِ دُونَ الْعِنَايَةِ بِلَفْظِ مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ، انْتَهَى. وَمِمَّا يُؤَيِّدُ أَنَّهُ مِنْ كَلَامِ غَيْرِهِ أَنَّهُ لَوْ كَانَ مِنْ كَلَامِهِ لَمَا احْتَاجَ إِلَى قَوْلِهِ يَعْنِي بَلْ قَالَ مِنْ أَوَّلِ الْوَهْلَةِ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ كَمَا فِي سَائِرِ الْأَسْمَاءِ الْمَنْسُوبَةِ، ثُمَّ الْعَبْدِيُّ عَلَى مَا فِي الْقَامُوسِ نِسْبَةً إِلَى عَبْدِ قَيْسٍ وَهُوَ قَبِيلَةٌ مِنْ رَبِيعَةَ.
(حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ) : أَيْ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبَصْرِيُّ الْمَعْرُوفُ بِغُنْدَرٍ، أَخْرَجَ حَدِيثَهُ الْأَئِمَّةُ السِّتَّةُ فِي صِحَاحِهِمْ، رَوَى عَنْ شُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ وَجَالَسَهُ نَحْوًا مِنْ عِشْرِينَ سَنَةً، وَرَوَى عَنْهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَيَحْيَى بْنُ مَعِينٍ. (حَدَّثَنَا شُعْبَةُ) : كَانَ الثَّوْرِيُّ يَقُولُ هُوَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي الْحَدِيثِ وَهُوَ ابْنُ
بِسْطَامَ - بِكَسْرِ الْمُوَحَّدَةِ وَسُكُونِ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ - بْنِ الْحَجَّاجِ الْعَتْكِيُّ مَوْلَاهُمْ بَصْرِيُّ الْأَصْلِ كَانَ إِمَامًا مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَرُكْنًا مِنْ أَرْكَانِ الدِّينِ بِهِ حَفِظَ اللَّهُ أَكْثَرَ الْحَدِيثِ، قَالَ الشَّافِعِيُّ: لَوْلَا شُعْبَةُ مَا عُرِفَ الْحَدِيثُ بِالْعِرَاقِ، سَمِعَ الْحَسَنَ وَالثَّوْرِيَّ وَخَلْقًا كَثِيرًا، وَهُوَ مِنْ كِبَارِ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ. (عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ) : أَيْ رَاوِيًا عَنْهُ، وَقَالَ الْعِصَامُ مُتَعَلِّقٌ بِحَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ مِيرَكُ: اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ السَّبِيعِيُّ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ رَأَى عَلِيًّا وَخَلْقًا، وَهُوَ تَابِعِيٌّ مَشْهُورٌ كَثِيرُ الرِّوَايَةِ، وُلِدَ لِسَنَتَيْنِ مِنْ خِلَافَةِ عُثْمَانَ. (قَالَ) : أَيْ أَنَّهُ قَالَ: (سَمِعْتُ الْبَرَاءَ) : عَلَى وَزْنِ سَحَابٍ وَحُكِيَ فِيهِ الْقَصْرُ، وَهُوَ أَبُو عِمَارَةَ أَوَّلُ مَشْهَدٍ شَهِدَهُ الْخَنْدَقُ، وَهُوَ مِنَ الْمَشَاهِيرِ، نَزَلَ الْكُوفَةَ وَافْتَتَحَ الرَّيَّ وَمَاتَ بِالْكُوفَةِ أَيَّامَ مُصْعَبِ بْنِ الزُّبَيْرِ. (ابْنُ عَازِبٍ) : بِكَسْرِ الزَّايِ صَحَابِيَّانِ. (يَقُولُ) : حَالٌ وَقَالَ الْعِصَامُ مَفْعُولٌ ثَانٍ. (كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا) : بِفَتْحِ الرَّاءِ وَكَسْرِ الْجِيمِ وَهُوَ الَّذِي بَيْنَ الْجُعُودَةِ وَالسُّبُوطَةِ، قَالَ الْأَصْمَعِيُّ وَغَيْرُهُ وَفِي الْجَامِعِ شَعْرُ رَجُلٍ إِذَا لَمْ يَكُنْ شَدِيدَ الْجُعُودَةِ وَلَا شَدِيدَ السُّبُوطَةِ بَيْنَهُمَا، وَوَقَعَ فِي الرِّوَايَاتِ الْمُعْتَمَدَةِ بِضَمِّ الْجِيمِ فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ الْمَعْنَى الْمُتَبَادِرَ الْمُتَعَارَفَ الَّذِي يُرَادُ بِلَفْظِ الرَّجُلِ وَهُوَ الْمُقَابِلُ لِلْمَرْأَةِ وَمَعْنَاهُ وَاضِحٌ، وَهُوَ خَبَرٌ مُوَطِّئٌ لِأَنَّ الْخَبَرَ فِي الْحَقِيقَةِ قَوْلُهُ. (مَرْبُوعًا) : إِذْ هُوَ يُفِيدُ الْفَائِدَةَ الْمُعْتَدَّ بِهَا وَالْمُرَادُ بِهِ أَنَّهُ كَانَ لَا طَوِيلًا وَلَا قَصِيرًا، فَيُوَافِقُ مَا تَقَدَّمَ
এমতাবস্থায় এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি লেখকের বক্তব্য, যদি বর্ণনাটি তার অনুকূলে হতো। ঘটনা হলো, কিছু আত্মসাৎকারী আমাদের বক্তব্য থেকে এই তাহকিকটি চুরি করেছে এবং একে নিজের পক্ষ থেকে বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছে। সুতরাং আপনি তার দ্বারা প্রতারিত হবেন না; কারণ এই কিতাবের ক্ষেত্রে তার কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি। এখানেই বক্তব্য শেষ। আর 'কিছু আত্মসাৎকারী' বলতে তিনি মোল্লা হানাফীকে বুঝিয়েছেন; কেননা তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হুবহু আমাদের বক্তব্যের মতোই। আমি বলব, বাহ্যত এটি ছাত্রদের কথা হতে পারে যাতে মনোযোগ নিবদ্ধ থাকে, আর সাক্কাকীর মাযহাব ব্যতীত এর সঠিকতা নেই। যদি একে 'তাজরিদ' (বিমূর্তকরণ) এর ওপর ভিত্তি করে ধরা হয়, তবে তারও একটি দিক রয়েছে। যদি একে মাজহুল (কর্মবাচ্য) হিসেবে পাঠ করা হয়, তবে তা অধিকতর যুক্তিযুক্ত হতো যদি না তা নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিরোধী হতো। তবে আল্লামা ইসাম যা বলেছেন তা একে সমর্থন করে। অথবা একে 'আই' (ব্যাখ্যামূলক অব্যয়) এর স্থলাভিষিক্ত ধরা হয়েছে, কারণ এখানে ব্যাখ্যা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। আর 'ইয়া'নি' (অর্থাৎ) শব্দটি গায়িবের সিগা (নাম পুরুষ) হিসেবে বর্ণনা ও গবেষণার বিচারে যথাযথ; কারণ একে 'হাদ্দাসানা' (আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন) এর মতো করা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেহেতু অন্যের অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে মিল নেই। কারণ হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব রয়েছে, কিন্তু মুহাম্মদ বিন বাশারের শব্দের ব্যাপারে কোনো বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সমাপ্ত। এটি যে অন্যের বক্তব্য তার একটি প্রমাণ হলো, যদি এটি তার নিজস্ব বক্তব্য হতো তবে তিনি 'ইয়া'নি' (অর্থাৎ) বলার প্রয়োজন বোধ করতেন না, বরং শুরুতেই 'মুহাম্মদ বিন বাশার আল-আবদি' বলতেন, যেমনটি অন্যান্য সম্বন্ধযুক্ত নামের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। অতঃপর 'আল-আবদি' শব্দটি 'কামুস' অভিধান অনুযায়ী 'আবদে কাইস' এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা রাবিয়া গোত্রের একটি শাখা।
(আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন): অর্থাৎ আবু আব্দুল্লাহ আল-বাসরি, যিনি 'গুন্দার' নামে পরিচিত। ছয়জন ইমাম তাদের সহিহ গ্রন্থসমূহে তার হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং প্রায় বিশ বছর তার সাহচর্যে ছিলেন। তার থেকে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বর্ণনা করেছেন। (আমাদের নিকট শু'বা বর্ণনা করেছেন): সুফিয়ান সাওরী বলতেন, তিনি হাদিস শাস্ত্রে 'আমিরুল মুমিনিন'। তিনি হলেন বিসতাম -বা এর নিচে কাসরা এবং সিন সাকিন যোগে- ইবনুল হাজ্জাজ আল-আতকি। তারা তাদের মুক্ত করা গোলাম ছিলেন। তিনি মূলত বাসরা নিবাসী ছিলেন। তিনি মুসলমানদের অন্যতম ইমাম এবং দ্বীনের অন্যতম রুকন ছিলেন। তার মাধ্যমেই আল্লাহ অধিকাংশ হাদিস সংরক্ষণ করেছেন। ইমাম শাফিয়ী বলেন: 'শু'বা না থাকলে ইরাকে হাদিস পরিচিতি লাভ করত না।' তিনি হাসান বসরী, সাওরী এবং অসংখ্য ব্যক্তির নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি প্রবীণ তাবে-তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (আবু ইসহাক থেকে): অর্থাৎ তার থেকে বর্ণনাকারী হিসেবে। আল্লামা ইসাম বলেন, এটি 'হাদ্দাসানা শু'বাহ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। মীরাক বলেন: তার নাম আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাবিঈ আল-হামদানি আল-কুফি। তিনি আলী (রা.) এবং আরও অনেককে দেখেছেন। তিনি একজন বিখ্যাত তাবেয়ী এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী। তিনি উসমান (রা.) এর খিলাফতকালের দুই বছর অবশিষ্ট থাকতে জন্মগ্রহণ করেন। (তিনি বলেন): অর্থাৎ তিনি বলেছেন: (আমি বারা'কে বলতে শুনেছি): বারা শব্দটি 'সাহাব' এর ওজনে, আবার এতে 'কসর' ও বর্ণিত হয়েছে। তিনি হলেন আবু উমারা। তিনি প্রথম যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা হলো খন্দক। তিনি প্রখ্যাত সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি কুফায় বসবাস শুরু করেন এবং 'রাই' অঞ্চল জয় করেন। তিনি মুসআব ইবনে জুবায়েরের আমলে কুফায় ইন্তেকাল করেন। (ইবনে আযিব): যায় বর্ণে কাসরা যোগে। পিতা-পুত্র উভয়েই সাহাবী ছিলেন। (বলছেন): এটি 'হাল' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আর আল্লামা ইসাম বলেন এটি দ্বিতীয় মাফউল। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একজন মাঝারি চুলের অধিকারী পুরুষ): রা বর্ণে ফাতহা এবং জিম বর্ণে কাসরা যোগে 'রাজুলান' পাঠ করলে এর অর্থ হয় এমন চুল যা অতিরিক্ত কোঁকড়ানো এবং একদম সোজা এর মাঝামাঝি। আসমায়ি এবং অন্যান্যরা বলেন, 'জামে' গ্রন্থে রয়েছে যে, 'শাউরুন রাজুলুন' বলা হয় যখন তা অতিরিক্ত কোঁকড়ানোও না হয় আবার একদম সোজাও না হয়, বরং উভয়ের মাঝামাঝি হয়। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাগুলোতে জিম বর্ণে পেশ যোগে 'রুজুলান' এসেছে, এমতাবস্থায় এর দ্বারা প্রচলিত ও পরিচিত অর্থই উদ্দেশ্য হতে পারে যা 'রজুল' (পুরুষ) শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়, অর্থাৎ যা নারীর বিপরীত। এর অর্থ সুস্পষ্ট। আর এটি পরবর্তী বাক্যের ভূমিকা স্বরূপ এসেছে, কেননা প্রকৃত খবর হলো তার এই কথাটি: (মাঝারি গড়নের): যেহেতু এটিই মূল অর্থ প্রদান করে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি দীর্ঘদেহীও ছিলেন না আবার খর্বকায়ও ছিলেন না। সুতরাং এটি পূর্ববর্তী আলোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فِي الْحَدِيثِ السَّابِقِ «كَانَ رَبْعَةً» ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يُرَادَ بِهِ شَعْرُهُ الْأَطْهَرُ صلى الله عليه وسلم إِذِ الرَّجِلُ بِكَسْرِ الْجِيمِ وَفَتْحِهَا وَضَمِّهَا وَسُكُونِهَا بِمَعْنًى وَاحِدٍ وَهُوَ الَّذِي فِي شَعْرِهِ تَكَسُّرٌ يَسِيرٌ كَمَا يُفْهَمُ مِنْ كَلَامِ الشَّيْخِ ابْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيِّ فِي شَرْحِ صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ وَيُؤَيِّدُهُ مَا صَحَّ فِي بَعْضِ النُّسَخِ بِكَسْرِ الْجِيمِ وَسُكُونِهَا وَحِينَئِذٍ لَا يُحْتَاجُ إِلَى تَوْطِئَةِ الْخَبَرِ، وَكَانَ هَذَا الْمَعْنَى أَصْوَبُ ; إِذْ لَا يَلِيقُ بِحَالِ الصَّحَابِيِّ وَصْفُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِكَوْنِهِ رَجُلًا بِالْمَعْنَى الْمُتَبَادِرِ مِنْهُ، وَلَمْ يُسْمَعْ فِي غَيْرِ هَذَا الْخَبَرِ ذِكْرُ أَحَدٍ مِنَ الصَّحَابَةِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُنْوَانٍ كَانَ رَجُلًا كَذَا بَلِ الظَّاهِرُ أَنَّهُ مِنْ زِيَادَةِ بَعْضِ الرُّوَاةِ مِمَّنْ دُونَ الصَّحَابِيِّ فَإِنَّ الْحَدِيثَ سَيَأْتِي فِي بَابِ شَعْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبَرَاءِ بِلَفْظِ «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرْبُوعًا» إِلَى آخِرِهِ، وَكَذَا أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ أَيْضًا بِدُونِ لَفْظِ «رَجُلٌ» ، كَذَا حَقَّقَهُ مِيرَكُ شَاهْ رحمه الله، لَكِنَّ الطَّعْنَ فِي الرُّوَاةِ مُسْتَبْعَدٌ لِأَنَّ زِيَادَةَ الثِّقَةِ مَقْبُولَةٌ إِجْمَاعًا وَالْأَحْسَنُ أَنْ يُحْمَلَ عَلَى الْمَعْنَى الْمُرَادِفِ أَوْ عَلَى الْمُتَعَارَفِ، وَيُرَادُ بِهِ كَامِلُ الرُّجُولِيَّةِ أَوْ مُوِّطِئٌ لِلْخَبَرِ، وَهُوَ كَثِيرٌ فِي الْعُرْفِ يُقَالُ فُلَانٌ رَجُلٌ كَرِيمٌ وَرَجُلٌ صَالِحٌ، قَدْ جَاءَ فِي الْقُرْآنِ «أَنْتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ» ، «أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ» ، فَقَوْلُهُ «مَرْبُوعًا» صِفَةٌ لِرَجُلٍ عَلَى هَذَا الْمَعْنَى وَخَبَرٌ آخَرُ لِكَانَ عَلَى
ذَلِكَ الْمَعْنَى، وَكَذَا إِعْرَابُ قَوْلِهِ. (بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ) : وَالْبَعِيدُ ضِدُّ الْقَرِيبِ وَيُقْرَأُ مُضَافًا إِلَى مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ، وَقِيلَ وَقَعَ فِي بَعْضِ نُسَخِ الْبُخَارِيِّ بَعِيدًا مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ بِدُونِ الْإِضَافَةِ وَمَا مَوْصُولَةٌ أَوْ مَوْصُوفَةٌ وَقِيلَ زَائِدَةٌ وَلَا وَجْهَ لَهُ، وَأَرَادَ بِبَعِيدِ مَا بَيْنَهُمَا السِّعَةَ ; إِذْ هِيَ عَلَامَةُ النَّجَابَةِ، وَقِيلَ «بُعْدُ مَا بَيْنَهُمَا» كِنَايَةٌ عَنْ سِعَةِ الصَّدْرِ وَشَرْحِهِ الدَّالِّ عَلَى الْجُودِ وَالْوَقَارِ، قَالَ الْعَسْقَلَانِيُّ: الْمَنْكِبُ مَجْمَعُ عَظْمِ الْعَضُدِ وَالْكَتِفِ وَمَعْنَاهُ عَرِيضُ أَعْلَى الظَّهْرِ، انْتَهَى. وَهُوَ مُسْتَلْزِمٌ لِعَرْضِ الصَّدْرِ وَمِنْ ثَمَّ وَقَعَ عِنْدَ أَبِي سَعْدٍ رَحِيبَ الصَّدْرِ، وَوَقَعَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ بِصِيغَةِ التَّصْغِيرِ وَهُوَ تَصْغِيرُ تَرْخِيمٍ كَغُلَامٍ وَغُلَيْمٍ، وَالْأَصْلُ فِي تَصْغِيرِهِمَا بُعَيِّدٌ وَعُلَيِّمٌ بِتَشْدِيدِ الْيَاءِ فِيهِمَا، ثُمَّ فِي هَذَا التَّصْغِيرِ إِشَارَةٌ إِلَى تَصْغِيرِ الْبُعْدِ الْمَذْكُورِ أَيْ أَنَّ طُولَ مَا بَيْنَ مَنْكِبَيْهِ الشَّرِيفَيْنِ لَمْ يَكُنْ مُتَنَاهِيًا إِلَى الْعَرْضِ الْوَافِي الْمُنَافِي لِلِاعْتِدَالِ الْكَافِي، وَأَمَّا قَوْلُ الْعِصَامِ: وَقَدْ يُرْوَى مُصَغَّرًا فَمَحَلُّ نَظَرٍ ; إِذْ لَا يَلْزَمُ مِنَ النُّسْخَةِ الرِّوَايَةُ وَلِذَا قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَقِيلَ بِالتَّصْغِيرِ وَهُوَ غَرِيبٌ بَلْ فِي صِحَّتِهِ نَظَرٌ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ بِعِيدٌ بِالرَّفْعِ عَلَى تَقْدِيرِ هُوَ، وَكَذَا. (عَظِيمَ الْجُمَّةِ) : بِضَمِّ الْجِيمِ وَتَشْدِيدِ الْمِيمِ أَيْ كَثِيفَهَا، فِي النِّهَايَةِ: الْوَفْرَةُ الشَّعْرُ إِلَى شَحْمَتَيِ الْأُذُنِ وَاللُّمَّةُ دُونَ الْجُمَّةِ ; سُمِّيَتْ بِذَلِكَ لِأَنَّهَا أَلَمَّتْ بِالْمَنْكِبَيْنِ، وَالْجُمَّةُ مِنْ شَعْرِ الرَّأْسِ: مَا سَقَطَ عَلَى الْمَنْكِبَيْنِ، وَنَقَلَ الْجَزَرِيُّ أَنَّ هَذَا قَوْلُ أَهْلِ اللُّغَةِ قَاطِبَةً، وَفِي الْمُقَدِّمَةِ لِلزَّمَخْشَرِيِّ أَنَّ الْجُمَّةَ هِيَ الشَّعْرُ إِلَى شَحْمَتَيِ الْأُذُنِ، قَالَ مِيرَكُ: وَهَذَا هُوَ الْمُوَافِقُ لِكَلَامِ جُمْهُورِ أَهْلِ اللُّغَةِ كَمَا نَقَلَهُ الْعَسْقَلَانِيُّ عَنْ بَعْضِ مَشَايِخِهِ، قَالَ مُلَّا حَنَفِي: يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ فِي حَالِ جَمْعِهَا إِلَى شَحْمَةِ الْأُذُنِ وَيُلَائِمُهُ عِظَمُهَا وَوُصُولُهَا إِلَى الْمَنْكِبِ فِي حَالِ إِرْسَالِهَا، انْتَهَى. وَيُؤَيِّدُهُ مَا فِي الصِّحَاحِ: الْجُمَّةُ ; الشَّعْرُ الْمَجْمُوعُ عَلَى الرَّأْسِ، وَمَا فِي دِيوَانِ الْأَدَبِ: أَنَّ الْجُمَّةَ ; الشَّعْرُ مُطْلَقًا، وَيَنْصُرُهُ كَلَامُ الْعَسْقَلَانِيِّ: أَنَّ الْجُمَّةَ هِيَ مُجْتَمَعُ الشَّعْرِ إِذَا تَدَلَّى مِنَ الرَّأْسِ إِلَى شَحْمَةِ الْأُذُنِ وَإِلَى الْمَنْكِبَيْنِ وَإِلَى أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ، وَأَمَّا الَّذِي لَا يُجَاوِزُ الْأُذُنَيْنِ فَهُوَ الْوَفْرَةُ وَيُعَضِّدُهُ قَوْلُهُ: (إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ) : بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ صِفَةٌ لِلْجُمَّةِ بِتَقْدِيرِ الْوَاصِلَةِ مُعَرَّفًا بِاللَّامِ أَوْ حَالٌ مِنْهَا أَيْ
পূর্ববর্তী হাদিসে আছে "তিনি ছিলেন মধ্যমাকৃতির (রাব'আহ)"। এর দ্বারা তাঁর পবিত্র চুল (রাজিলে) উদ্দেশ্য হওয়াও সম্ভব; কেননা 'জিম' বর্ণে কাসরা (জের), ফাতহা (জবর), যম্মাহ (পেশ) বা সুকুন (জযম) - যেভাবেই পড়া হোক না কেন, এর অর্থ একই। আর তা হলো এমন চুল যাতে সামান্য ঢেউ বা কোঁকড়ানো ভাব আছে। যেমনটি শাইখ ইবনে হাজার আসকালানি 'সহীহ বুখারী'র ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। কিছু নির্ভরযোগ্য কপিতে জিম বর্ণে কাসরা ও সুকুনসহ বর্ণিত হওয়া একে সমর্থন করে। এমতাবস্থায় সংবাদটিকে দীর্ঘায়িত বা কোনো উপক্রমণিকা হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। এই অর্থটিই অধিকতর সঠিক; কেননা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাধারণ অর্থে একজন 'ব্যক্তি' বা 'পুরুষ' হিসেবে বর্ণনা করা সংগত নয়। আর এই হাদিস ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনায় কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে এমন শব্দ শোনা যায়নি যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অমুক ধরনের 'ব্যক্তি' হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন। বরং বাহ্যত এটি সাহাবীর পরবর্তী পর্যায়ের কোনো বর্ণনাকারীর সংযোজন। কারণ 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের বর্ণনা' অধ্যায়ে হযরত বারা (রা.) থেকে হাদিসটি আসবে এভাবে: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মধ্যমাকৃতির (মারবু'আন)"। ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমও হাদিসটি 'ব্যক্তি' শব্দটি ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। মীরক শাহ (রহ.) এভাবেই বিষয়টি তাহকীক করেছেন। তবে বর্ণনাকারীদের ওপর আপত্তি করা ঠিক নয়; কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর সংযোজন সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য। সবচেয়ে উত্তম হলো একে সমার্থক অর্থে গ্রহণ করা অথবা প্রচলিত অর্থে ধরা। এর দ্বারা পরিপূর্ণ পুরুষত্ব উদ্দেশ্য নেওয়া হতে পারে অথবা বর্ণনার একটি সাধারণ সূচনাও হতে পারে। আরবীয় রীতিতে এমনটি প্রায়ই দেখা যায়, যেমন বলা হয়: অমুক একজন সম্মানিত ব্যক্তি বা নেককার ব্যক্তি। কুরআনেও এসেছে, "তোমরা এক অজ্ঞ জাতি", "তোমরা এক অপব্যয়কারী জাতি"। এই অর্থ অনুযায়ী 'মারবু'আন' শব্দটি 'ব্যক্তি' এর গুণবাচক শব্দ হবে এবং পরবর্তী অংশটি 'কানা' এর আরেকটি সংবাদ হবে।
(দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল): 'বাঈদ' (দূরবর্তী) হলো 'কারীব' (নিকটবর্তী) এর বিপরীত। এটি 'দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান'-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হিসেবে পঠিত হয়। বলা হয়েছে যে, বুখারীর কোনো কোনো কপিতে সম্বন্ধ ছাড়াই 'বাঈদান মা বাইনাল মানকিবাঈন' এসেছে। এখানে 'মা' শব্দটি সম্বন্ধসূচক বা গুণবাচক। কেউ কেউ একে অতিরিক্ত বলেছেন, তবে এর কোনো ভিত্তি নেই। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী দূরত্বের দ্বারা তিনি প্রশস্ততা বুঝিয়েছেন; কারণ এটি আভিজাত্যের লক্ষণ। আবার বলা হয়েছে, এটি বক্ষ প্রশস্ত হওয়ার রূপক অর্থ, যা দানশীলতা ও গাম্ভীর্যের পরিচায়ক। আসকালানি বলেন: 'মানকিব' হলো বাহুর হাড় ও কাঁধের মিলনস্থল। এর অর্থ হলো পিঠের উপরিভাগ চওড়া হওয়া। এটি বক্ষ প্রশস্ত হওয়াকেও আবশ্যক করে। এ কারণেই আবু সা'দ-এর বর্ণনায় 'প্রশস্ত বক্ষবিশিষ্ট' শব্দ এসেছে। কোনো কোনো কপিতে এটি ক্ষুদ্রতাবোধক রূপে এসেছে, যেমন 'বালক' শব্দের ক্ষুদ্র রূপ। এই ক্ষুদ্রতাবোধক শব্দের মধ্যে পূর্বোক্ত দূরত্বের সীমাবদ্ধতার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে; অর্থাৎ তাঁর সম্মানিত দুই কাঁধের মধ্যবর্তী প্রশস্ততা অস্বাভাবিক রকমের বেশি ছিল না যা শারীরিক ভারসাম্যের পরিপন্থী হয়। ইমাম ইসাম যে বলেছেন এটি ক্ষুদ্রতাবোধক রূপে বর্ণিত হয়েছে, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ কোনো কপিতে থাকা মানেই সেটি মূল বর্ণনা হওয়া আবশ্যক নয়। তাই ইবনে হাজার বলেছেন: এটি ক্ষুদ্রতাবোধক রূপে বলা হয়েছে, যা একটি বিরল মত এবং এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে সন্দেহ আছে। কোনো কোনো কপিতে 'বাঈদ' শব্দটি উহ্য 'তিনি' এর সংবাদ হিসেবে এসেছে।
(ঘন চুলবিশিষ্ট): 'জুম্মাহ' শব্দটি জিম বর্ণে পেশ এবং মীম বর্ণে তাশদীদসহ। অর্থাৎ যার চুল অনেক ঘন। 'নিহায়া' কিতাবে বলা হয়েছে: 'ওয়াফরাহ' হলো কানের লতি পর্যন্ত চুল। আর 'লুম্মাহ' হলো 'জুম্মাহ'র চেয়ে একটু ছোট চুল; একে এ কারণে লুম্মাহ বলা হয় যেহেতু তা কাঁধের কাছাকাছি পৌঁছায়। মাথার চুলের ক্ষেত্রে 'জুম্মাহ' হলো যা কাঁধের ওপর গিয়ে পড়ে। আল-জাযারি বর্ণনা করেছেন যে, এটিই সকল ভাষাবিদদের অভিমত। আবার যামাখশারির 'মুকাদ্দিমা'য় আছে যে, 'জুম্মাহ' হলো কানের লতি পর্যন্ত লম্বা চুল। মীরক বলেন: এটিই অধিকাংশ ভাষাবিদদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমনটি আসকালানি তাঁর জনৈক উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। মোল্লা হানাফী বলেন: সম্ভবত চুল যখন একত্রিত করে রাখা হতো তখন তা কানের লতি পর্যন্ত থাকতো এবং এর ঘনত্বের কারণে ছেড়ে দিলে তা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাতো। এর সপক্ষে 'সিহাহ' কিতাবের বক্তব্য হলো: 'জুম্মাহ' অর্থ মাথার একত্রিত চুল। 'দিওয়ানুল আদব' গ্রন্থে আছে: 'জুম্মাহ' হলো সাধারণভাবে যেকোনো চুল। আসকালানির বক্তব্য একে সমর্থন করে যে, চুল যখন গুচ্ছাকারে মাথা থেকে ঝুলে কানের লতি পর্যন্ত বা কাঁধ পর্যন্ত অথবা তার চেয়েও বেশি লম্বা হয়, তখন তাকে 'জুম্মাহ' বলে। আর যা কানের লতি অতিক্রম করে না তাকে 'ওয়াফরাহ' বলে। তাঁর পরবর্তী এই বক্তব্যও একে শক্তিশালী করে:
(তাঁর দুই কানের লতি পর্যন্ত): এটি 'জুম্মাহ' শব্দের গুণবাচক শব্দ অথবা অবস্থা হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَاصِلَةٌ إِلَى شَحْمَةِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْ أُذُنَيْهِ، وَهِيَ مَا لَانَ مِنْهَا فِي أَسْفَلِهَا وَهُوَ مَحَلُّ الْقُرْطِ وَمُعَلَّقُهُ مِنْهَا، وَالْأُذُنُ بِضَمَّتَيْنِ وَسُكُونِ الذَّالِ لُغَتَانِ، وَالْأَوَّلُ أَكْثَرُهَا وَالثَّانِي أَشْهَرُ، وَأَفْرَدَ الشَّحْمَةَ مَعَ إِضَافَتِهَا إِلَى التَّثْنِيَةِ كَرَاهَةَ اجْتِمَاعِ التَّثْنِيَتَيْنِ مَعَ ظُهُورِ الْمُرَادِ، وَقِيلَ أَنَّهُ ظَرْفٌ لَغْوٌ لِعَظِيمٍ ; لِبَيَانِ أَنَّ عَظِيمَ جُمَّتِهَا
وَكَثْرَتَهَا مُنْتَهِي إِلَى شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ فَالْمُرَادُ بِهِ بَيَانُ نِهَايَةِ غِلَظِهَا وَعِظَمِهَا لَا بَيَانُ نِهَايَةِ الْجُمَّةِ، وَفِي رِوَايَةٍ كَانَ شَعْرُهُ بَيْنَ أُذُنَيْهِ وَعَاتِقِهِ، وَفِي أُخْرَى إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ، وَفِي أُخْرَى إِلَى أُذُنَيْهِ، وَفِي أُخْرَى يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ، وَفِي أُخْرَى إِلَى كَتِفَيْهِ، وَجَمَعَ الْقَاضِي عِيَاضٌ بِأَنَّ ذَلِكَ لِاخْتِلَافِ الْأَوْقَاتِ فَكَانَ إِذَا تَرَكَ تَقْصِيرَهَا بَلَغَتِ الْمَنْكِبَ وَإِذَا قَصَّرَهَا كَانَتْ إِلَى الْأُذُنِ أَوْ شَحْمَتِهَا أَوْ نَصِفِهَا فَكَانَتْ تَطُولُ وَتَقْصُرُ بِحَسَبِ ذَلِكَ. (عَلَيْهِ حُلَّةٌ) : بِضَمِّ الْحَاءِ وَتَشْدِيدِ اللَّامِ. (حَمْرَاءُ) : وَقِيلَ حَالٌ بِالضَّمِيرِ وَحْدَهُ وَيُؤَيِّدُهُ رِوَايَةُ مُسْلِمٍ: «وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ» بِالْوَاوِ، وَفِي الْقَامُوسِ الْحُلَّةُ بِالضَّمِّ إِزَارٌ وَرِدَاءٌ مِنْ بُرْدٍ أَوْ غَيْرِهِ، وَلَا يَكُونُ حُلَّةً إِلَّا مِنْ ثَوْبَيْنِ أَوْ ثَوْبٍ لَهُ بِطَانَةٌ، انْتَهَى. وَقَالَ النَّوَوِيُّ فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ: قَالَ أَهْلُ اللُّغَةِ: الْحُلَّةُ لَا تَكُونُ إِلَّا ثَوْبَيْنِ وَيَكُونُ غَالِبًا إِزَارًا، وَقَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: الْحُلَلُ بُرُودُ الْيَمَنِ، وَالْحُلَّةُ إِزَارٌ وَرِدَاءٌ وَلَا تُسَمَّى حُلَّةً حَتَّى تَكُونَ ثَوْبَيْنِ مِنْ جِنْسٍ وَاحِدٍ فَإِفْرَادُ الْوَصْفِ إِمَّا بِالنَّظَرِ إِلَى لَفْظِ الْحُلَّةِ أَوْ بِالنَّظَرِ إِلَى أَنَّ الثَّوْبَيْنِ بِمَنْزِلَةِ ثَوْبٍ وَاحِدٍ لِلِاحْتِيَاجِ إِلَيْهِمَا مَعًا فِي سَتْرِ الْبَدَنِ أَوْ لِأَنَّهُمَا مِنْ جِنْسٍ وَاحِدٍ، قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: الْحَدِيثُ صَحِيحٌ وَبِهِ اسْتَدَلَّ إِمَامُنَا الشَّافِعِيُّ عَلَى حِلِّ لُبْسِ الْأَحْمَرِ وَإِنْ كَانَ قَانِيًا، وَحَمَلَهُ عَلَى ذِي الْخُطُوطِ - سَيَأْتِي رَدُّهُ -، قُلْتُ: قَالَ الْعَسْقَلَانِيُّ: هِيَ ثِيَابٌ ذَاتُ خُطُوطٍ، انْتَهَى. أَيْ لَا حَمْرَاءَ خَالِصَةً وَهُوَ الْمُتَعَارَفُ فِي بُرُودِ الْيَمَنِ وَهُوَ الَّذِي اتَّفَقَ عَلَيْهِ أَهْلُ اللُّغَةِ ; وَلِذَا أَنْصَفَ مِيرَكُ حَيْثُ قَالَ: فَعَلَى هَذَا أَيْ نَقْلِ الْعَسْقَلَانِيِّ لَا يَكُونُ الْحَدِيثُ حُجَّةً لِمَنْ قَالَ بِجَوَازِ لُبْسِ الْأَحْمَرِ - وَسَيَأْتِي زِيَادَةُ تَحْقِيقٍ فِي بَابِ لِبَاسِهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَغْرَبَ الْعِصَامُ حَيْثُ غَفَلَ عَنْ مَذْهَبِهِ وَقَالَ: قَوْلُهُ: حَمْرَاءُ يُنَافِي مَا وَرَدَ مِنَ الْمَنْعِ عَنْ لُبْسُ الْأَحْمَرِ ; فَلِذَا أُوِّلَ بِأَنَّهُ كَانَ مِنَ الْبُرُودِ الْيَمَانِيَةِ الَّتِي فِيهَا خُطُوطٌ حُمْرٌ غَلَبَتْ حُمْرَتُهُ، انْتَهَى. وَالْحَاصِلُ أَنَّ عِنْدَنَا يُؤَوَّلُ الْحَمْرَاءُ بِالَّتِي لَهَا خُطُوطٌ حَمْرَاءُ أَوْ يُعَدُّ مِنْ خَصَائِصِهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ تَسْلِيمِ صِحَّةِ الْحَدِيثِ أَوْ يُحْمَلُ لُبْسُهُ عَلَى مَا قَبْلَ نَهْيِهِ. (مَا رَأَيْتُ شَيْئًا) : أَيْ مِنَ الْمَخْلُوقَاتِ. (قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهُ) : إِعْرَابُهُ كَمَا تَقَدَّمَ وَيُحْتَمَلُ الِاسْتِئْنَافُ
তাঁর উভয় কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছেছিল; আর লতি হলো কানের নিচের নরম অংশ, যেখানে দুল পরা হয় এবং তা ঝুলিয়ে রাখা হয়। 'উযুন' (কান) শব্দটি যাল বর্ণে পেশ দিয়ে (উযুুন) এবং সাকিন দিয়ে (উয্ন) — উভয়টিই দুটি ভাষাগত রূপ; প্রথমটি অধিক ব্যবহৃত এবং দ্বিতীয়টি অধিক প্রসিদ্ধ। এখানে 'লতি' শব্দটিকে একবচনে ব্যবহার করে 'উভয় কান' দ্বিবচনের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, যাতে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও দুটি দ্বিবচনের একত্রে সমাবেশ ঘটা অপছন্দনীয় না হয়। বলা হয়েছে যে, এটি 'আযীম' (বিশাল) শব্দের জন্য একটি যরফে লাগূ (অপ্রধান অধিকরণ); এর উদ্দেশ্য হলো তাঁর চুলের বিশালতা ও আধিক্য যে তাঁর কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছেছিল তা বর্ণনা করা। মূলত এর দ্বারা চুলের পুরুত্ব ও বিশালতার শেষ সীমা বর্ণনা করা হয়েছে, চুলের দৈর্ঘ্যের শেষ সীমা নয়। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, তাঁর চুল ছিল তাঁর কান ও কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত। অপর এক বর্ণনায় কানের অর্ধেক পর্যন্ত, আরেক বর্ণনায় উভয় কান পর্যন্ত, অন্য এক বর্ণনায় কাঁধ স্পর্শ করত এবং আরও এক বর্ণনায় উভয় স্কন্ধ পর্যন্ত আসার কথা রয়েছে। কাজী ইয়াদ রহ. এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, এটি সময়ের ভিন্নতার কারণে হতো। যখন তিনি চুল ছোট করা ছেড়ে দিতেন, তখন তা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে যেত; আর যখন ছোট করতেন, তখন তা কান বা কানের লতি অথবা কানের অর্ধেক পর্যন্ত থাকত। সুতরাং সে অনুযায়ী চুল কখনও লম্বা হতো, আবার কখনও ছোট হতো। (তাঁর পরিধানে ছিল একটি হুল্লাহ): 'হা' বর্ণে পেশ এবং 'লাম' বর্ণে তাশদীদ সহযোগে। (লাল): বলা হয়েছে এটি শুধুমাত্র সর্বনামের মাধ্যমে হাল (অবস্থা) হয়েছে; ইমাম মুসলিম রহ.-এর বর্ণনা একে সমর্থন করে: "তাঁর পরিধানে ছিল একটি লাল হুল্লাহ" — এখানে 'ওয়াও' যুক্ত রয়েছে। কামূস অভিধানে বলা হয়েছে: হুল্লাহ (পেশ যোগে) হলো লুঙ্গি ও চাদর যা 'বুরদ' বা অন্য কাপড় দ্বারা তৈরি হয়। তবে একই সাথে দুই প্রস্থ কাপড় অথবা আস্তরযুক্ত একটি কাপড় ছাড়া তাকে 'হুল্লাহ' বলা হয় না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। ইমাম নববী রহ. শারহে মুসলিমে বলেছেন: ভাষাবিদগণ বলেছেন, হুল্লাহ দুই প্রস্থ কাপড় ছাড়া হয় না এবং সাধারণত এটি লুঙ্গি ও চাদর হয়ে থাকে। আবু উবাইদ রহ. বলেন: 'হুলাল' হলো ইয়ামানি চাদর; আর হুল্লাহ হলো লুঙ্গি ও চাদর। একই জাতীয় দুই প্রস্থ কাপড় না হওয়া পর্যন্ত তাকে হুল্লাহ বলা হয় না। সুতরাং গুণের একবচন হওয়া হয় 'হুল্লাহ' শব্দের দিকে লক্ষ্য করে, অথবা এই বিবেচনায় যে শরীরের আবরণের প্রয়োজনে কাপড় দুটি একত্রে একটি কাপড়ের স্থলাভিষিক্ত, অথবা যেহেতু কাপড় দুটি একই জাতীয়। ইবনে হাজার রহ. বলেন: হাদিসটি সহিহ, আর এটি দিয়েই আমাদের ইমাম শাফেয়ি রহ. লাল রঙের পোশাক পরিধান করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে দলিল পেশ করেছেন, যদিও তা গাঢ় লাল হয়। তিনি একে রেখা বিশিষ্ট কাপড়ের ওপর প্রয়োগ করেছেন — যার খণ্ডন সামনে আসবে। আমি বলি: আল্লামা আসকালানি রহ. বলেছেন, এগুলো ছিল রেখা বিশিষ্ট কাপড় (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। অর্থাৎ এটি নিরেট লাল ছিল না, বরং ইয়ামানি চাদরে সাধারণত এমনটাই হতো এবং ভাষাবিদগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই কারণেই মীরক ইনসাফ করে বলেছেন: আসকালানি রহ.-এর এই বর্ণনা অনুযায়ী, যারা লাল রঙের কাপড় পরিধান করা বৈধ বলেন, তাদের জন্য এই হাদিসটি দলিল হতে পারে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাকের অধ্যায়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা সামনে আসবে। ইমাম ইসাম রহ. আশ্চর্যের বিষয় যে তিনি নিজের মাযহাব থেকে অসতর্ক হয়ে বলেছেন: তাঁর উক্তি "লাল" — এটি লাল পোশাক পরিধানে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে তার পরিপন্থী; তাই একে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, এটি ছিল ইয়ামানি চাদর যাতে লাল রেখা ছিল এবং তার লাল ভাব প্রবল ছিল। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সারকথা হলো, আমাদের নিকট 'লাল' শব্দটিকে লাল রেখা বিশিষ্ট কাপড়ের ওপর ব্যাখ্যা করা হয়, অথবা হাদিসের বিশুদ্ধতা স্বীকার করার পর একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, অথবা তাঁর এই পরিধানকে নিষেধাজ্ঞা আসার আগের সময়ের ওপর ধরা হয়। (আমি কোনো কিছু দেখিনি): অর্থাৎ মাখলুকাত বা সৃষ্টির মধ্যে। (তাঁর চেয়ে সুন্দর কখনো): এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ পূর্বের ন্যায়, অথবা একে নতুন বাক্য হিসেবেও ধরা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لِبَيَانِ إِجْمَالِ جَمَالِهِ لِتَعَذُّرِ تَفْصِيلِ أَحْوَالِ كَمَالِهِ ثُمَّ الْأَحْسَنُ أَنَّ «أَحْسَنَ» مَفْعُولٌ ثَانٍ لِرَأَيْتَ عَلَى أَنَّ الرُّؤْيَةَ عَمَلِيَّةٌ فَإِنَّهَا أَبْلَغُ مِنْ تَكْمِيلِ الْوَصْفِيَّةِ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ صِفَةً لِشَيْئًا عَلَى أَنَّ الرُّؤْيَةَ بَصَرِيَّةٌ وَهُوَ ظَاهِرٌ وَالْمُرَادُ بِنَفْيِ رُؤْيَةِ شَيْءٍ أَحْسَنَ مِنْهُ نَفْيُ رُؤْيَةِ الْأَحْسَنِ وَالْمُسَاوِي مَعًا كَمَا يُقَالُ لَيْسَ فِي الْبَلَدِ أَفْضَلُ مِنْ زَيْدٍ بِمَعْنَى أَنَّهُ أَفْضَلُ مِنْ كُلِّ وَاحِدٍ بِدَلَالَةِ الْعُرْفِ وَالسِّرُّ فِيهِ أَنَّ الْغَالِبَ مِنْ حَالِ كُلِّ اثْنَيْنِ هُوَ التَّفَاضُلُ دُونَ التَّسَاوِي فَإِذَا نُفِيَ أَفْضَلِيَّةُ أَحَدِهِمَا ثَبَتَ أَفْضَلِيَّةُ الْآخَرِ كَذَا
ذَكَرَهُ الْمُحَقِّقُونَ وَحَاصِلُهُ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطُّ كَانَ حُسْنُهُ مِثْلَ حُسْنِهِ صلى الله عليه وسلم بَلْ هُوَ كَانَ أَحْسَنَ مِنْ كُلِّ حَسَنٍ، وَأَمَّا قَوْلُ ابْنِ حَجْرٍ يَعْنِي مِثْلَ حُسْنِهِ ; إِذْ أَفْعَلُ قَدْ يُرَادُ بِهِ أَصْلُ الْفِعْلِ إِثْبَاتًا وَنَفْيًا وَإِنْ قُرِنَ بِمَنْ خِلَافًا لِمَا يُوهِمُهُ كَلَامُ غَيْرِ وَاحِدٍ، وَمِنْ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ: الْعَسَلُ أَحْلَى مِنَ الْخَلِّ وَالصَّيْفُ أَحَرُّ مِنَ الشِّتَاءِ، فَمَحَلُّ بَحْثٍ إِمَّا أَوَّلًا فَلِأَنَّ نَفْيَ أَفْعَلَ لَا يَصِحُّ أَنْ يَكُونَ بِمَعْنَى أَصْلِ الْفِعْلِ ; إِذْ لَا يُوجَدُ لَهُ مِثَالٌ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ، وَتَقْدِيرُ الْمِثْلِ خِلَافُ الظَّاهِرِ بَعْدَ خِلَافِ الظَّاهِرِ مَعَ الِاتِّفَاقِ عَلَى نَفْيِهِ، وَإِمَّا ثَانِيًا فَلِأَنَّ مَنْ قَالَ لَا يَكُونُ أَفْعَلُ بِمَعْنَى أَصْلِ الْفِعْلِ إِذَا قُرِنَ بِمَنْ مَحَلُّهُ إِذَا كَانَ يُمْكِنُ مُشَارَكَةُ أَصْلِ الْفِعْلِ كَزَيْدٍ أَفْضَلُ مِنْ عَمْرٍو، وَالْمِثَالَانِ الْمَذْكُورَانِ فِي كَلَامِهِ خَارِجَانِ عَمَّا نَحْنُ فِيهِ بَلْ يُعَدَّانِ فِي الْحَقِيقَةِ مِنَ الْمَجَازِ فَتَنَبَّهْ، وَاعْلَمْ أَنَّهُ ذَكَرَ الرَّضِيُّ وَالدَّمَامِينِيُّ فِي شَرْحِ التَّسْهِيلِ أَنَّ أَفْعَلَ إِذَا كَانَ عَارِيًا عَنِ أَلْ وَالْإِضَافَةِ وَمِنْ قَدْ يُسْتَعْمَلُ مُجَرَّدًا عَنْ مَعْنَى التَّفْضِيلِ مُؤَوَّلًا بِاسْمِ الْفَاعِلِ كَهُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ أَيْ عَالِمٌ أَوْ صِفَةٍ مُشَبَّهَةٍ كَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ أَيْ هَيِّنٌ، وَأَمَّا مَعَ إِحْدَاهِمَا فَلَا، وَفِي التَّسْهِيلِ: وَاسْتِعْمَالُهُ دُونَ مِنْ مُجَرَّدًا عَنْ مَعْنَى التَّفْضِيلِ مُؤَوَّلًا بِاسْمِ الْفَاعِلِ وَالصِّفَةِ الْمُشَبَّهَةِ مُطَّرِدٌ عِنْدَ أَبِي الْعَبَّاسِ الْمُبَرِّدِ، وَالْأَصَحُّ أَنَّهُ مَقْصُورٌ عَلَى السَّمَاعِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، ثُمَّ قِيلَ: قَدْ بَالَغَ الصَّحَابِيُّ حَيْثُ قَالَ: «مَا رَأَيْتُ شَيْئًا» دُونَ أَنْ يَقُولَ مَا رَأَيْتُ إِنْسَانًا لِيُفِيدَ التَّعْمِيمَ حَتَّى يَتَنَاوَلَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ، قَالَ الْعِصَامُ: وَهَذَا مَعَ إِظْهَارِ جَمَالِهِ صلى الله عليه وسلم إِبْرَازُ كَمَالِ إِيمَانِهِ رضي الله عنه ; لِأَنَّ هَذَا فَرْعُ كَمَالِ الْمَحَبَّةِ، وَفِي لَفْظِ قَطُّ إِشْعَارٌ بِأَنَّهُ كَانَ مِنْ أَوَّلِ مَا صَارَ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ كَانَ كَذَلِكَ، وَفِيهِ يَعْلَمُ الْمُؤْمِنُ مَا يَنْبَغِي لَهُ حَتَّى يَكُونَ مُؤْمِنًا صَادِقًا وَلِذَا قَالَ: «مَا رَأَيْتُ» وَلَمْ يَقُلْ «مَا كَانَ شَيْءٌ أَحْسَنَ مِنْهُ» ، انْتَهَى. وَفِيهِ أَنَّهُ لَوْ قَالَ كَذَلِكَ لَكَانَ صَادِقًا أَيْضًا إِذْ نَفِيُهُ كَانَ مَحْمُولًا عَلَى رُؤْيَتِهِ أَوْ عَمَلِهِ، ثُمَّ إِنَّ «قَطُّ» مِنَ الظُّرُوفِ الْمَبْنِيَّةِ مَفْتُوحَ الْقَافِ مَضْمُومَ الطَّاءِ الْمُشَدَّدَةِ، وَهَذَا أَشْهَرُ اللُّغَاتِ، وَقَدْ تُخَفَّفُ الطَّاءُ الْمَضْمُومَةُ وَقَدْ يُضَمُّ الْقَافُ إِتْبَاعًا لِضَمَّةِ الطَّاءِ الْمُشَدَّدَةِ أَوِ الْمُخَفَّفَةِ، وَجَاءَ «قَطْ» سَاكِنَةُ الطَّاءِ مِثْلَ قَطِ الَّذِي هُوَ اسْمُ فِعْلٍ ; فَهَذِهِ خَمْسُ لُغَاتٍ لِلْمَاضِي الْمَنْفِيِّ، كَذَا فِي الْكُتُبِ الْمُعْتَبَرَةِ الْمَشْهُورَةِ فِي النَّحْوِ.
(حَدَّثَنَا) : وَفِي نُسْخَةٍ دَثَنَا ; وَلِذَا قَالَ الْعِصَامُ أَيْ حَدَّثَنَا. (مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ) : بِفَتْحِ الْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ وَسُكُونِ التَّحْتِيَّةِ، أَخْرَجَ حَدِيثَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ، وَهُوَ أَبُو أَحْمَدَ الْمَرْوَزِيُّ، سَمِعَ الْفَضْلَ بْنَ مُوسَى وَغَيْرَهُ، ثِقَةٌ مِنْ كِبَارِ الْآخِذِينَ عَنْ تَبَعِ التَّابِعِينَ مِمَّنْ لَمْ يَلْقَ التَّابِعِينَ. (حَدَّثَنَا) :، وَفِي نُسْخَةٍ ثَنَا، وَفِي نُسْخَةٍ قَالَ حَدَّثَنَا، قَالَ الْعِصَامُ: هُوَ بَيَانٌ لِحَدَّثَنَا مَحْمُودٌ كَقَوْلِهِ تَعَالَى: «فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ» فَاسْتَغْنَى عَمَّا يُقَالُ فِي أَمْثَالِهِ أَنَّهُ جَوَابُ مَا حَدَّثَكَ. (وَكِيعٌ) : أَيِ ابْنُ الْجَرَّاحِ، مِنْ كِبَارِ الطَّبَقَةِ السَّابِعَةِ أَبُو سُفْيَانَ الْكُوفِيُّ، ثِقَةٌ حَافِظٌ عَابِدٌ، قِيلَ أَصْلُهُ مِنْ قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى نَيْسَابُورَ، سَمَعَ الثَّوْرِيَّ وَخَلْقًا، رَوَى عَنْهُ قُتَيْبَةُ وَخَلْقٌ، قَدِمَ بَغْدَادَ وَحَدَّثَ بِهَا، وَهُوَ مِنْ مَشَايِخِ الْحَدِيثِ الثِّقَةِ الْمَعْمُولِ بِحَدِيثِهِمُ الْمَرْجُوعِ إِلَى
قَوْلِهِمْ كَبِيرُ الْقَدْرِ، وَكَانَ يُفْتِي بِقَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ، وَكَانَ قَدْ سَمِعَ مِنْهُ شَيْئًا كَثِيرًا، مَاتَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهُوَ رَاجِعٌ مِنْ مَكَّةَ فِي مَوْضِعٍ يُقَالُ لَهُ فَيْدٌ. (حَدَّثَنَا) : وَفِي نُسْخَةٍ ثَنَا. (سُفْيَانُ) : بِضَمِّ السِّينِ عَلَى الْمَشْهُورِ وَجَعَلَهُ ابْنُ السِّكِّيتِ مُثَلَّثَةً كَمَا فِي شَرْحِ مُسْلِمٍ، قَالَ: مِيرَكُ شَاهْ وَهُوَ الثَّوْرِيُّ جَزْمًا كَمَا صَرَّحَ بِهِ الْمُؤَلِّفُ فِي جَامِعِهِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ بِعَيْنِهِ فَبَطَلَ تَرَدُّدُ بَعْضِ الشُّرَّاحِ فِي كَوْنِهِ ابْنَ عُيَيْنَةَ أَوِ الثَّوْرِيَّ، وَسَقَطَ عَلَى دَرَجَةِ الِاعْتِبَارِ قَوْلُ بَعْضِ الشُّرَّاحِ هُوَ ابْنُ عُيَيْنَةَ جَزْمًا، انْتَهَى. وَلَعَلَّهُ أَرَادَ بِالْأَخِيرِ مَوْلَانَا الْعِصَامُ ; حَيْثُ قَالَ فِي شَرْحِهِ الْأَوَّلِ: سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ لِيَمْتَازَ عَنِ الثَّوْرِيِّ، انْتَهَى. ثُمَّ رَأَيْتُ شَارِحًا آخَرَ ذَكَرَ فِي تَرْجَمَتِهِ أَنَّهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ بَعْدَ مَا ذَكَرَ أَنَّهُ سَمِعَ الثَّوْرِيَّ، وَقَالَ: سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ كُنْيَتُهُ أَبُو أَحْمَدَ، وُلِدَ بِالْكُوفَةِ، كَانَ إِمَامًا عَالِمًا ثَبْتًا حُجَّةً زَاهِدًا وَرِعًا مُجْمَعًا عَلَى صِحَّةِ حَدِيثِهِ وَرِوَايَتِهِ، سَمِعَ الزُّهْرِيَّ وَغَيْرَهُ، وَرَوَى عَنْهُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ مَاتَ بِمَكَّةَ وَدُفِنَ بِالْحَجُونِ، وَكَانَ حَجَّ سَبْعِينَ حَجَّةً، انْتَهَى. وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ الثَّوْرِيُّ، وَهُوَ مَنْسُوبٌ إِلَى أَحَدِ أَجْدَادِهِ، رُوِيَ أَنَّ أَبَا جَعْفَرٍ الْخَلِيفَةَ تَوَجَّهَ إِلَى مَكَّةَ وَقَدْ أَرْسَلَ النَّجَّارِينَ لِيَنْصِبُوا الْخُشْبَانَ فِي مَكَّةَ لِيَصْلِبَهُ عَلَيْهَا، وَسُفْيَانُ كَانَ مَضْطَجِعًا وَرَأْسُهُ فِي حِجْرِ فُضَيْلِ بْنِ عِيَاضٍ وَرِجْلُهُ فِي حِجْرِ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَقَالُوا لَهُ: يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ اخْتَفِ لَا تُشْمِتْ بِنَا أَعْدَاءَنَا،
তাঁর পূর্ণতার অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা করা অসম্ভব হওয়ার কারণে তাঁর সৌন্দর্যের সারসংক্ষেপ প্রকাশের জন্য এই বর্ণনা। এরপর অধিক উত্তম মত হলো এই যে, 'আহসান' শব্দটি 'রাআইতা' (দেখেছি) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম, এই বিবেচনায় যে এখানে দর্শনটি একটি বুদ্ধিভিত্তিক বা জ্ঞানমূলক ক্রিয়া; কারণ এটি গুণবাচক পূর্ণতার বর্ণনার চেয়েও অধিক অর্থবহ। আর এটিও সম্ভব যে, এটি 'শাইয়ান' (কিছু) শব্দের বিশেষণ, এই বিবেচনায় যে দর্শনটি এখানে চাক্ষুষ; আর এটিই প্রকাশ্য অর্থ। আর তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো কিছু না দেখার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর এবং তাঁর সমকক্ষ—উভয়টিকেই একসাথে অস্বীকার করা। যেমন বলা হয়: 'শহরে জায়েদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কেউ নেই', যার অর্থ হলো সে প্রত্যেকের চেয়ে শ্রেষ্ঠ—এটি প্রচলিত ভাষাগত প্রমাণের ভিত্তিতে বলা হয়। এর রহস্য হলো, সাধারণত যে কোনো দুই ব্যক্তির অবস্থার মধ্যে সমতার চেয়ে একজনের শ্রেষ্ঠত্বই বেশি প্রকাশ পায়। সুতরাং যখন একজনের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করা হয়, তখন অপরজনের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয়। মুহাক্কিকগণ এভাবেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এর সারকথা হলো, আমি কখনোই এমন কিছু দেখিনি যার সৌন্দর্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৌন্দর্যের মতো ছিল; বরং তিনি প্রতিটি সুন্দর বস্তুর চেয়েও অধিক সুন্দর ছিলেন। আর ইবনে হাজারের উক্তি যে এর অর্থ 'তাঁর সৌন্দর্যের মতো'; কেননা কখনো কখনো 'আফ'আলু' (অধিকতর) দ্বারা মূল ক্রিয়া (যেমন সৌন্দর্য) সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করা বোঝানো হয়, যদিও তা 'মিন' (অপেক্ষা) অব্যয়ের সাথে যুক্ত থাকে—যা অনেকের কথার বিপরীত ধারণা দেয়। এর উদাহরণ হলো তাদের কথা: 'মধু সিরকার চেয়ে মিষ্টি' এবং 'গ্রীষ্মকাল শীতকালের চেয়ে গরম'। এই বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে; প্রথমত, 'আফ'আলু' এর নেতিবাচক রূপ মূল ক্রিয়ার অর্থে হওয়া সঠিক নয়; কারণ আরবি ভাষায় এর কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না। আর প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে গিয়ে 'সমতুল্য' অর্থ গ্রহণ করা এবং সেই অর্থের বিপরীতেও আবার প্রকাশ্য অর্থের বিরোধিতা করা—সব মিলিয়ে এটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা বলেন যে 'মিন' যুক্ত থাকলে 'আফ'আলু' মূল ক্রিয়ার অর্থে হয় না, তাদের সেই বক্তব্য তখনই প্রযোজ্য যখন মূল ক্রিয়াতে উভয়ের অংশীদারিত্ব সম্ভব হয়, যেমন 'জায়েদ আমরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ'। তাঁর উল্লেখিত উদাহরণ দুটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের বাইরে, বরং এগুলো প্রকৃতপক্ষে রূপক হিসেবে গণ্য হয়, সুতরাং এ বিষয়ে সচেতন হোন। জেনে রাখুন যে, আল-রাজি এবং দামামিনি 'শারহুত তাসলিল'-এ উল্লেখ করেছেন যে, 'আফ'আলু' যখন আলিফ-লাম, ইদাফাত এবং 'মিন' থেকে মুক্ত থাকে, তখন এটি আধিক্যের অর্থ ছাড়াই ইসমু ফায়েল-এর অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে; যেমন 'তিনি তোমাদের সম্পর্কে পরিজ্ঞাত' অর্থাৎ তিনি জানেন। অথবা সিফাতে মুশাব্বাহ-এর অর্থে হতে পারে; যেমন 'এটি তাঁর জন্য সহজ' অর্থাৎ এটি সহজ। কিন্তু উক্ত তিনটির কোনো একটির সাথে থাকলে এমনটি হয় না। 'তাসলিল' কিতাবে আছে: 'মিন' ব্যতীত একে আধিক্যের অর্থ ছাড়া ইসমু ফায়েল ও সিফাতে মুশাব্বাহ-এর অর্থে ব্যবহার করা আবু আব্বাস আল-মুবররাদের মতে একটি নিয়মিত নিয়ম। তবে সঠিকতর মত হলো এটি কেবল আরবদের থেকে শ্রুতির ওপর নির্ভরশীল, আর আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর বলা হয়েছে: সাহাবী যখন বলেছেন 'আমি কোনো বস্তু দেখিনি'—'আমি কোনো মানুষ দেখিনি' না বলে—তখন তিনি ব্যাপকতা বুঝিয়েছেন যাতে সূর্য ও চন্দ্রও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আল-ইসসাম বলেন: এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সৌন্দর্য প্রকাশের সাথে সাথে সেই সাহাবীর (রাজিআল্লাহু আনহু) ঈমানের পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ; কারণ এটি ভালোবাসার পূর্ণতার একটি শাখা। আর 'কাত্তু' শব্দটির মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি যখন থেকে জ্ঞানসম্পন্ন হয়েছেন তখন থেকেই এমনটি ছিল। এর মাধ্যমে একজন মুমিন জানতে পারে যে, তাকে কেমন হতে হবে যাতে সে একজন সত্যবাদী মুমিন হতে পারে। এজন্যই তিনি বলেছেন 'আমি দেখিনি' এবং 'তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো কিছু ছিল না'—এভাবে বলেননি। এখানেই আলোচনা শেষ। তবে কথা হলো, তিনি যদি ওভাবেও বলতেন তবুও তিনি সত্যবাদী হতেন, কারণ তাঁর সেই অস্বীকারও তাঁর দেখা বা জ্ঞানের ওপরই নির্ভরশীল হতো। এরপর 'কাত্তু' হলো একটি মাবনি অব্যয় যা কাফ বর্ণে জবর এবং তাশদীদযুক্ত ত বর্ণে পেশ দিয়ে গঠিত, এটিই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উচ্চারণ। কখনো কখনো তাশদীদযুক্ত ত বর্ণে পেশ হালকা করা হয়, আবার কখনো ত বর্ণের পেশের অনুসরণে কাফ বর্ণেও পেশ দেওয়া হয়। আবার 'কাত' ত বর্ণে জজম দিয়েও এসেছে, যেমন 'কাতি' যা একটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য; অতীতকালীন নেতিবাচক অর্থের জন্য এই পাঁচটি রূপান্তর নাহু শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
(আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) : কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে কেবল 'দাসানা' রয়েছে; তাই আল-ইসসাম বলেছেন যে এর অর্থ 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন'। (মাহমুদ ইবনে গাইলান) : গাইন বর্ণে জবর এবং ইয়া বর্ণে জজম। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হলেন আবু আহমাদ আল-মারওয়াযি। তিনি ফজল ইবনে মুসা এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি অনু-তাবেয়ীদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, যারা তাবেয়ীদের সাক্ষাৎ পাননি। (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) : কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'সানা' রয়েছে, আবার কোনোটিতে আছে 'তিনি বলেছেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন'। আল-ইসসাম বলেন: এটি মাহমুদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন—এর ব্যাখ্যা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, সে বলল, হে আদম!" সুতরাং এক্ষেত্রে 'তিনি তোমাকে কী বর্ণনা করেছেন'—এর উত্তর হিসেবে যা বলা হয় তার প্রয়োজন নেই। (ওয়াকি) : অর্থাৎ ইবনুল জাররাহ। তিনি সপ্তম স্তরের বড় ইমামদের একজন, আবু সুফিয়ান আল-কুফি। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, হাফিজে হাদিস এবং ইবাদতগুজার ছিলেন। বলা হয় তাঁর আদি নিবাস নিশাপুরের কোনো এক গ্রামে। তিনি সাওরি এবং অসংখ্য মানুষের কাছে শুনেছেন। তাঁর নিকট থেকে কুতাইবা এবং বহু ফকিহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বাগদাদে এসে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদিসের নির্ভরযোগ্য শায়খদের একজন, যাদের হাদিসের ওপর আমল করা হয় এবং যাদের কথা দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি ইমাম আবু হানিফার মত অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর ইলম অর্জন করেছিলেন। তিনি হজ্জ থেকে ফেরার পথে মক্কা ও কুফার মধ্যবর্তী 'ফায়দ' নামক স্থানে আশুরার দিনে মৃত্যুবরণ করেন। (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) : কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'সানা' রয়েছে। (সুফিয়ান) : প্রসিদ্ধ মতে সিন বর্ণে পেশ যোগে। ইবনে সিক্কীত এটিকে তিন হারাকাত দিয়েই পড়া বৈধ বলেছেন যেমনটি শারহে মুসলিমে রয়েছে। মীরাক শাহ বলেন: তিনি নিশ্চিতভাবেই 'সাওরি', যেমনটি লেখক তাঁর জামে কিতাবে এই হাদিসটির বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ফলে কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর এই সংশয় যে তিনি ইবনে উইয়াইনা না কি সাওরি—তা বাতিল হয়ে গেল। আর কোনো ব্যাখ্যাকারীর এই দাবি যে তিনি নিশ্চিতভাবেই ইবনে উইয়াইনা—তা গ্রহণযোগ্যতার স্তর থেকে পড়ে গেল। সম্ভবত তিনি এই শেষোক্ত কথা দ্বারা মাওলানা ইসসামকে বুঝিয়েছেন; যিনি তাঁর প্রথম ব্যাখ্যায় বলেছেন যে 'সুফিয়ান' হলেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা যাতে তাঁকে সাওরি থেকে আলাদা করা যায়। এরপর আমি আরেকজন ব্যাখ্যাকারীকে দেখলাম যিনি তাঁর জীবনীতে ইবনে উইয়াইনা হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার কুনিয়াত আবু আহমাদ, তিনি কুফায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি একজন ইমাম, আলেম, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব, দুনিয়াবিমুখ ও মুত্তাকী ছিলেন। তাঁর হাদিস ও বর্ণনার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য রয়েছে। তিনি যুহরি এবং অন্যদের কাছে শুনেছেন এবং তাঁর থেকে সাওরি ও শাফিঈ বর্ণনা করেছেন। তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং 'হাজুন' নামক স্থানে সমাহিত হন। তিনি সত্তর বার হজ্জ করেছিলেন। তবে সঠিক হলো তিনি 'সাওরি', এটি তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। বর্ণিত আছে যে, খলিফা আবু জাফর যখন মক্কার দিকে রওনা হলেন, তিনি কাঠমিস্ত্রিদের পাঠিয়েছিলেন মক্কায় শূল তৈরি করার জন্য যাতে তাঁকে (সাওরিকে) তাতে চড়ানো যায়। তখন সুফিয়ান শুয়ে ছিলেন, তাঁর মাথা ছিল ফুজাইল ইবনে ইয়াজের কোলে এবং তাঁর পা ছিল ইবনে উইয়াইনার কোলে। তাঁরা তাঁকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি আত্মগোপন করুন, আমাদের শত্রুদের হাসাবেন না।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২০)
فَقَامَ وَدَخَلَ الْمَسْجِدَ وَتَعَلَّقَ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ وَقَالَ: أَنَا بَرِيءٌ مِنْهَا إِنْ دَخَلَ أَبُو جَعْفَرٍ مَكَّةَ، فَمَاتَ أَبُو جَعْفَرٍ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ مَكَّةَ، وَذَهَبَ سُفْيَانُ إِلَى بَصْرَةَ مُخْتَفِيًا بِهَا إِلَى أَنْ تُوُفِّيَ فِيهَا وَدُفِنَ لَيْلًا فِي سَنَةِ سِتِّينَ وَمِائَةٍ، وَأَكْثَرُ الْأَقْوَالِ أَنَّ قَبْرَهُ فِي عَزِيٍّ الْمَعْرُوفِ بِالنَّجَفِ الْآنَ وَيُزَارُ وَيُتَبَرَّكُ بِهِ. (عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ) : يَعْنِي الْهَمْدَانِيَّ نِسْبَةً إِلَى قَبِيلَةٍ مِنَ الْيَمَنِ مَنْزِلُهُ كُوفَةُ، مُكْثِرٌ عَابِدٌ مِنَ الطَّبَقَةِ الثَّالِثَةِ. (عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ) : وَقَالَ مِيرَكُ: هَكَذَا قَالَ أَكْثَرُ أَصْحَابِ أَبِي إِسْحَاقَ وَخَالَفَهُمْ أَشْعَثُ بْنُ سَوَّارٍ فَقَالَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ، وَقَالَ: إِسْنَادُ جَابِرٍ خَطَأٌ وَالصَّوَابُ عَنِ الْبَرَاءِ، وَأَشْعَثُ بْنُ سَوَّارٍ ضَعِيفٌ، انْتَهَى. وَأَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي جَامِعِهِ وَحَسَّنَهُ وَنَقَلَ عَنِ الْبُخَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ حَدِيثُ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْبَرَاءِ وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ صَحِيحَانِ وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ، كَذَا أَفَادَهُ الشَّيْخُ ابْنُ حَجَرٍ فِي شَرْحِ صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ، أَقُولُ وَسَيَأْتِي حَدِيثُ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ فِي هَذَا الْبَابِ، وَهُوَ الَّذِي أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ وَغَيْرُهُ أَيْضًا، لَكِنْ بَيْنَ سِيَاقِهِ وَسِيَاقِ حَدِيثِ الْبَرَاءِ تَفَاوُتٌ كَثِيرٌ بِحَيْثُ يَغْلِبُ عَلَى الظَّنِّ أَنَّهُمَا حَدِيثَانِ فَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثَانِ مَعًا عِنْدَ أَبِي إِسْحَاقَ فَلَا مَعْنَى لِتَخْطِئَةِ أَشْعَثَ بْنِ سَوَّارٍ وَقَدْ وَثَّقَهُ بَعْضُهُمْ وَأَخْرَجَ لَهُ مُسْلِمٌ مُتَابَعَةً. (قَالَ) : أَيْ أَنَّهُ قَالَ: (مَا رَأَيْتُ) : حَمْلُهُ عَلَى الْبَصَرِيَّةِ أَظْهَرُ هُنَا بَلْ مُتَعَيَّنٌ كَمَا لَا يَخْفَى مِنْ تَقْيِيدِهِ بِالْأَوْصَافِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْحَدِيثِ وَحِينَئِذٍ قَوْلُهُ. (مِنْ ذِي لِمَّةٍ) : بِكَسْرِ اللَّامِ، وَسَبَقَ مَعْنَاهَا مَفْعُولٌ عَلَى زِيَادَةِ مِنْ لِتَأْكِيدِ النَّفْيِ وَالتَّنْصِيصِ عَلَى اسْتِغْرَاقِهِ لِجَمِيعِ الْأَفْرَادِ، وَإِنَّمَا قِيلَ لَهَا زَائِدَةٌ لِأَنَّهَا لَوْ تُرِكَتْ لَمْ يَخْتَلَّ أَصْلُ الْمَعْنَى فَهِيَ لِلْمُبَالَغَةِ، وَقَوْلُهُ. (فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ) : صِفَةٌ، وَقَوْلُهُ. (أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : مَجْرُورًا أَوْ مَنْصُوبًا صِفَةٌ بَعْدَ صِفَةٍ لِذِي لِمَّةٍ أَوْ حَالٌ عَنْهُ، وَجُوِّزَ أَنْ تَكُونَ الرُّؤْيَةُ عِلْمِيَّةً وَ (ذِي لِمَّةٍ)
مَفْعُولَهُ الْأَوَّلَ (وَأَحْسَنَ) مَفْعُولَهُ الثَّانِيَ، وَقَوْلُهُ فِي حُلَّةٍ إِمَّا صِفَةُ ذِي لِمَّةٍ أَوْ ظَرْفٌ لَرَأَيْتُ. (لَهُ شَعْرٌ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ) : يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ بَيَانًا لِقَوْلِهِ ذِي لِمَّةٍ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ جُمْلَةً مُسْتَأْنِفَةً عَلَى نَمَطِ التَّعْدِيدِ وَإِيرَادُهُ بِالْجُمْلَةِ الِاسْمِيَّةِ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الرَّاوِيَ كَأَنَّهُ حِينَ الْوَصْفِ مِنْ غَلَبَةِ الْمَحَبَّةِ جَعَلَهُ حَاضِرًا مَوْجُودًا فِي خَيَالِهِ وَكَمَالِ وِصَالِهِ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يُقَدَّرَ قَبْلَهُ لَفْظُ كَانَ، قَالَ مِيرَكُ: وَرِوَايَتُنَا فِي الشَّعَرِ فَتْحُ الْعَيْنِ وَيَجُوزُ إِسْكَانُهَا أَيْضًا، وَالضَّرْبُ كِنَايَةٌ عَنِ الْوُصُولِ. (بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ) : قَالَ مِيرَكُ: مَنْصُوبٌ عَلَى أَنَّهُ خَبَرُ كَانَ الْمُقَدَّرُ أَوْ مَرْفُوعٌ خَبَرُ مُبْتَدَأٍ وَالْجُمْلَةُ مُسْتَقِلَّةٌ، وَضُبِطَ فِي الرِّوَايَةِ بِالْوَجْهَيْنِ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ (بُعَيْدِ) بِالتَّصْغِيرِ، انْتَهَى. وَبِهِ يُعْلَمُ أَنَّ عِبَارَةَ الْعِصَامِ وَالْحَنَفِيِّ مَرْفُوعًا وَمَنْصُوبًا وَمُصَغَّرًا وَمُكَبَّرًا غَيْرُ مَرْضِيَّةٍ فِي اصْطِلَاحِ الْمُحَدِّثِينَ. (لَمْ يَكُنْ بِالْقَصِيرِ وَلَا بِالطَّوِيلِ) : إِعْرَابُهُ كَإِعْرَابِ سَابِقِهِ وَالتَّقْيِيدُ فِي الْمَوْضِعَيْنِ مُرَادٌ كَمَا تَقَدَّمَ وَكَمَا سَيَأْتِي فِي حَدِيثِ عَلِيٍّ جَمْعًا بَيْنَ الرِّوَايَاتِ.
(حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ) : أَيِ الْبُخَارِيُّ صَاحِبُ الصَّحِيحِ إِمَامُ الْمُحَدِّثِينَ، كُنْيَتُهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ رُوِيَ أَنَّهُ رُؤِيَ فِي الْبَصْرَةِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ لِحْيَتُهُ وَخَلْفَهُ أُلُوفٌ مِنْ طَلَبَةِ الْحَدِيثِ، وَرَوَى أَنَّهُ كَانَ يَكْتُبُ بِالْيَمِينِ وَالْيَسَارِ، وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: أَحْفَظُ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ صَحِيحٍ وَمِائَتَيْ أَلْفِ حَدِيثٍ غَيْرِ صَحِيحٍ. (حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ) : بِضَمِّ النُّونِ وَفَتْحِ عَيْنٍ مُهْمَلَةٍ وَسُكُونِ التَّحْتِيَّةِ، وَهُوَ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ بِضَمِّ الدَّالِ الْمُهْمَلَةِ مِنْ كِبَارِ شُيُوخِ الْبُخَارِيِّ، ذَكَرَ الرَّافِعِيُّ فِي كِتَابِ التَّدْوِينِ أَنَّهُ رُمِيَ بِالتَّشَيُّعِ، قِيلَ وَكَانَ مَزَّاحًا ذَا دُعَابَةٍ مَعَ فِقْهِهِ وَدِينِهِ وَكَانَ فِي غَايَةِ الْإِتْقَانِ وَالْحِفْظِ وَهُوَ حُجَّةٌ. (حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ) : اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ الْكُوفِيُّ الْمَسْعُودِيُّ، ذَكَرَهُ مِيرَكُ، قَالَ الْعِصَامُ: صَدُوقٌ اخْتَلَطَ قَبْلَ مَوْتِهِ وَمَنْ سَمِعَ عَنْهُ بِبَغْدَادَ فَبَعْدَ الِاخْتِلَاطِ، انْتَهَى. وَقَالَ النَّسَائِيُّ لَا بَأْسَ بِهِ وَهُوَ مِنْ كِبَارِ أَتْبَاعِ التَّابِعِينَ. (عَنْ عُثْمَانَ مُسْلِمِ بْنِ هُرْمُزٍ) : بِضَمِّ الْهَاءِ وَالْمِيمِ وَسُكُونِ الرَّاءِ وَفَتْحِ الزَّايِ وَفِي نُسْخَةٍ مُنْصَرِفٌ، وَهُوَ نَسَائِيٌّ وَعُثْمَانُ هَذَا فِيهِ لِينٌ، أَخْرَجَ
তিনি উঠে দাঁড়ালেন, মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং কাবার গিলাফ জড়িয়ে ধরে বললেন: "আবু জাফর যদি মক্কায় প্রবেশ করে, তবে আমি তার থেকে মুক্ত।" অতঃপর আবু জাফর মক্কায় প্রবেশ করার আগেই মৃত্যুবরণ করলেন। সুফিয়ান আত্মগোপন অবস্থায় বসরায় চলে গেলেন এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৬০ হিজরীতে রাতে তাকে দাফন করা হয়। অধিকাংশ বক্তব্য অনুযায়ী তার কবর আযী-তে অবস্থিত, যা বর্তমানে নাজাফ হিসেবে পরিচিত, সেখানে তার জিয়ারত করা হয় এবং তার মাধ্যমে বরকত হাসিল করা হয়। (আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত): অর্থাৎ হামদানী, যা ইয়েমেনের একটি গোত্রের দিকে সম্পৃক্ত। তার আবাসস্থল ছিল কুফা। তিনি ছিলেন প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী, ইবাদতকারী এবং তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। (বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণিত): মীরাক বলেন: আবু ইসহাকের অধিকাংশ ছাত্র এভাবেই বলেছেন, তবে আশআস ইবনে সাওয়ার তাদের বিরোধিতা করেছেন। তিনি আবু ইসহাক থেকে জাবির ইবনে সামুরাহ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: জাবিরের সনদটি ভুল এবং সঠিক হলো বারা থেকে বর্ণিত হওয়া। আর আশআস ইবনে সাওয়ার একজন দুর্বল বর্ণনাকারী, সমাপ্ত। ইমাম তিরমিযী তার জামে গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন। তিনি ইমাম বুখারী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলেছেন: বারা এবং জাবির ইবনে সামুরাহ উভয় থেকে বর্ণিত আবু ইসহাকের হাদিসটি সহিহ। হাকেমও একে সহিহ বলেছেন। শেখ ইবনে হাজার সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আমি বলি, এই অধ্যায়ে জাবির ইবনে সামুরার হাদিসটি সামনে আসবে, যা নাসাঈ এবং অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন। তবে সেই বর্ণনার প্রাসঙ্গিক বক্তব্য এবং বারা-এর হাদিসের প্রাসঙ্গিক বক্তব্যের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে, যার ফলে প্রবল ধারণা হয় যে এই দুটি আলাদা হাদিস। হতে পারে আবু ইসহাকের নিকট উভয় হাদিসই বিদ্যমান ছিল, তাই আশআস ইবনে সাওয়ারকে ভুল সাব্যস্ত করার কোনো অর্থ হয় না; কেননা কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইমাম মুসলিম তার থেকে সমর্থক বর্ণনা (মুতাবেআত) হিসেবে হাদিস গ্রহণ করেছেন। (তিনি বললেন): অর্থাৎ তিনি বলেছেন: (আমি দেখিনি): এখানে একে চাক্ষুষ দেখার অর্থে গ্রহণ করাই অধিকতর স্পষ্ট, বরং এটিই সুনির্ধারিত, যেমনটি হাদিসে উল্লিখিত গুণাবলির বর্ণনা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা থেকে স্পষ্ট হয়। আর এমতাবস্থায় তার উক্তি— (জুলফাধারী ব্যক্তি থেকে): 'লাম' বর্ণে কাসরা যোগে, যার অর্থ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি নেতিবাচকতাকে জোরদার করার জন্য এবং সকল ব্যক্তিবিশেষকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত ‘মিন’ যোগে মাফঊল হয়েছে। একে অতিরিক্ত বলা হয়েছে কারণ এটি বাদ দিলেও মূল অর্থের কোনো ব্যাঘাত ঘটে না, তাই এটি আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর তার উক্তি— (লাল পোশাকে): এটি সিফাত বা গুণ। আর তার উক্তি— (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে সুন্দর): এটি যর বা নসব অবস্থায় 'জুলফাধারী ব্যক্তি'-এর একের পর এক সিফাত অথবা হাল। আর একে জ্ঞানগত দেখার অর্থ হিসেবেও ধরা বৈধ, সেক্ষেত্রে 'জুলফাধারী ব্যক্তি' প্রথম মাফঊল এবং 'সুন্দর' দ্বিতীয় মাফঊল হবে। আর 'লাল পোশাকে' অংশটি হয় 'জুলফাধারী ব্যক্তি'-এর গুণ অথবা 'দেখেছি' ক্রিয়ার যরফ।
(তার এমন চুল ছিল যা তার কাঁধ পর্যন্ত স্পর্শ করত): সম্ভাবনা রয়েছে এটি ‘জুলফাধারী ব্যক্তি’ উক্তির ব্যাখ্যা। আবার এটি একটি নতুন বাক্য হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে যা গুণের পরিক্রমার ধারায় এসেছে। একে বিশেষ্যমূলক বাক্য হিসেবে আনা হয়েছে এই ভিত্তিতে যে, বর্ণনাকারী যেন বর্ণনার সময় ভালোবাসার প্রাবল্যের কারণে তাকে তার কল্পনায় উপস্থিত ও বিদ্যমান অনুভব করছিলেন। আবার এর আগে ‘ছিলেন’ শব্দ ঊহ্য থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। মীরাক বলেন: চুলের বর্ণনায় আমাদের রেওয়ায়েতে ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা রয়েছে, তবে সাকিন করাও জায়েজ। আর স্পর্শ করা শব্দটি পৌঁছানোর রূপক। (দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল): মীরাক বলেন: এটি মানসূব কারণ এটি ঊহ্য ‘ছিলেন’-এর খবর, অথবা মারফূ হিসেবে উদ্দেশ্য-বিধেয় বা মুবতাদার খবর এবং বাক্যটি স্বতন্ত্র। রেওয়ায়েতে উভয় ভাবেই এটি বর্ণিত হয়েছে। কিছু পাণ্ডুলিপিতে ক্ষুদ্রতা বুঝাতে ‘বুআইদ’ শব্দ এসেছে, সমাপ্ত। এর দ্বারা জানা যায় যে, ইসাম এবং হানাফীর বর্ণনা— মারফু, মানসূব, তাসগীর ও তাকবীর সহকারে— মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় গ্রহণযোগ্য নয়। (তিনি খাটো ছিলেন না এবং দীর্ঘকায়ও ছিলেন না): এর ব্যাকরণগত অবস্থান পূর্বেরটির মতোই। উভয় স্থানে এই সীমাবদ্ধতাটিই উদ্দেশ্য, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে বর্ণনাগুলোর সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সামনে আসবে।
(আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন): অর্থাৎ সহিহ গ্রন্থের রচয়িতা ইমামুল মুহাদ্দিসীন আল-বুখারী। তার উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। বর্ণিত আছে যে, দাড়ি ওঠার আগেই তাকে বসরায় দেখা গিয়েছিল এবং তার পেছনে হাজার হাজার হাদিসের ছাত্র থাকত। আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি ডান ও বাম উভয় হাতে লিখতেন। তার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: আমি এক লক্ষ সহিহ হাদিস এবং দুই লক্ষ গইরে-সহিহ হাদিস মুখস্থ জানি। (আমাদের নিকট আবু নুয়াইম বর্ণনা করেছেন): ‘নূন’ বর্ণে পেশ, ‘আইন’ বর্ণে জবর এবং ‘ইয়া’ বর্ণে জযম যোগে। তিনি হলেন ফাযল ইবনে দুকাইন— ‘দাল’ বর্ণে পেশ যোগে। তিনি ইমাম বুখারীর বড় উস্তাদদের অন্যতম। রাফিয়ী ‘তাদভীন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে শিয়া হওয়ার অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছে যে, তার ফিকহ ও দীনদারির সাথে সাথে তিনি কৌতুকপ্রিয় ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নিখুঁত ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন এবং তিনি একজন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব। (আমাদের নিকট মাসউদী বর্ণনা করেছেন): তার নাম হলো আব্দুর রহমান ইবনে উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-কুফি আল-মাসউদী, এটি মীরাক উল্লেখ করেছেন। ইসাম বলেন: তিনি সত্যবাদী ছিলেন তবে মৃত্যুর আগে স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছিলেন; যারা তার থেকে বাগদাদে শুনেছেন তারা তার স্মৃতিভ্রমের পরই শুনেছেন, সমাপ্ত। ইমাম নাসাঈ বলেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই এবং তিনি তাবে-তাবেঈদের বড়দের অন্তর্ভুক্ত। (উসমান মুসলিম ইবনে হুরমুজ থেকে বর্ণিত): ‘হা’ এবং ‘মীম’ বর্ণে পেশ, ‘রা’ বর্ণে জযম এবং ‘যা’ বর্ণে জবর যোগে। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি তানভীনসহ। তিনি নাসাঈ-এর বর্ণনাকারী এবং এই উসমানের বর্ণনায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২১)
حَدِيثَهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ فِي مُسْنَدِ عَلِيٍّ لَهُ. (عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ) : بِالتَّصْغِيرِ. (بْنِ مُطْعِمٍ) : كَمُسْلِمٍ وَهُوَ تَابِعِيٌّ جَلِيلٌ، سَمِعَ عَلِيًّا وَعِدَّةً مِنَ الْأَصْحَابِ، وَأَبَوْهُ مِنْ كِبَارِ الصَّحَابَةِ. (عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ) : قَالَ الْعِصَامُ: يَعْنِي بِهِ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ مِنْ رُوَاةِ الْحَدِيثِ تِسْعَةٌ، فَتَرْكُ وَصْفِهِ بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ خِلَافُ الْأَوْلَى، انْتَهَى. وَهَذَا غَفْلَةٌ عَنِ اصْطِلَاحِ الْمُحَدِّثِينَ مِنْ أَنَّهُ إِذَا أُطْلِقَ عَلِيٌّ فِي آخِرِ الْإِسْنَادِ فَهُوَ الْمُرَادُ كَمَا إِذَا أُطْلَقَ عَبْدُ اللَّهِ فَهُوَ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَإِذَا أُطْلِقَ الْحَسَنُ فَهُوَ الْبَصْرِيُّ، وَنَظِيرُهُ إِطْلَاقُ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ، وَلَمْ أَرَ مَنْ ذَكَرَهُمْ بِقَيْدِ الْمُؤْمِنِينَ مَعَ أَنَّهُ لَا شُبْهَةَ فِي عَدَمِ مُشَارَكَةِ الْأَسْمَاءِ الْمَذْكُورَةِ لِهَذَا الْوَصْفِ بَلْ وَلَا يُعْرَفُ مِنَ الصَّحَابَةِ مَنْ يُسَمَّى بِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ غَيْرُهُ، فَهَذَا نِشَأَ مِنْ عِرْقِ الْعَجَمِ - وَإِنْ كُنْتُ مِنْهُمْ - وَهُوَ أَبُو الْحَسَنِ وَأَبُو تُرَابٍ، وَاسْمُ أَبِي طَالِبٍ عَبْدُ مَنَافٍ الْهَاشِمِيُّ الْقُرَشِيُّ، وَأُمُّهُ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَسَدٍ الْهَاشِمِيَّةُ أَسْلَمَتْ وَهَاجَرَتْ، وَهُوَ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ أَوَّلُ مَنْ أَسْلَمَ مِنَ الصِّبْيَانِ وَقِيلَ مِنَ الذُّكُورِ، وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي سِنِّهِ يَوْمَئِذٍ فَقِيلَ كَانَ لَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ وَقِيلَ أَرْبَعَ عَشْرَةَ وَقِيلَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ
وَقِيلَ ثَمَانِي سِنِينَ وَقِيلَ عَشْرُ سِنِينَ شَهِدَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْمَشَاهِدَ كُلَّهَا غَيْرَ تَبُوكَ فَإِنَّهُ خَلَّفَهُ فِي أَهْلِهِ وَفِيهَا، قَالَ لَهُ: أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي، اسْتُخْلِفَ يَوْمَ قُتِلَ عُثْمَانُ وَهُوَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ لِثَمَانِيَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ، وَضَرَبَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُلْجِمٍ الْمُرَادِيُّ بِالْكُوفَةِ صَبِيحَةَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ لِسَبْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ أَرْبَعِينَ وَمَاتَ بَعْدَ ثَلَاثِ لَيَالٍ مِنْ ضَرْبَتِهِ وَغَسَّلَهُ ابْنَاهُ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ وَصَلَّى عَلَيْهِ الْحَسَنُ وَدُفِنَ سَحَرًا وَلَهُ مِنَ الْعُمْرِ ثَلَاثٌ وَسِتُّونَ سَنَةً، وَكَانَتْ خِلَافَتُهُ أَرْبَعَ سِنِينَ وَتِسْعَةَ أَشْهُرٍ وَأَيَّامًا، رَوَى عَنْهُ خَلْقٌ كَثِيرٌ مِنَ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ، وَكَانَ يَوْمَ مَاتَ أَفْضَلَ الْأَحْيَاءِ مِنْ بَنِي آدَمَ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ السُّنَّةِ، ثُمَّ رَأَيْتُ الِاسْتِيعَابَ لِابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ فِي ذِكْرِ الْأَصْحَابِ فَلَمْ يَذْكُرْ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ غَيْرَهُ وَإِنَّمَا ذَكَرَ الْمُسَمَّى بِعَلِيٍّ خَمْسَةَ أَنْفُسٍ أَحَدُهُمْ لَمْ يَثْبُتْ لَهُ صُحْبَةٌ. (قَالَ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ) : كَأَنَّ الْمُرَادَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ فِي سَنٍّ، فَإِنَّهُ فِي كُلِّ سَنٍّ مِنْ سِنِي النُّبُوَّةِ كَانَ رَبْعَةً، وَالْمَعْنَى أَنَّهُ كَانَ دَائِمًا يُوصَفُ بِالِاعْتِدَالِ. (شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ) : قَالَ مِيرَكُ: الرِّوَايَةُ فِيهِ بِالرَّفْعِ فَيَكُونُ خَبَرًا لِهُوَ الْمَحْذُوفِ، وَيَجُوزُ النَّصْبُ لِيُكُونَ خَبَرًا لِكَانَ الْمُقَدَّرِ وَلَا يَخْلُو تَكَلُّفُهُ وَلَيْسَ هُوَ رِوَايَةَ الْمُحَدِّثِينَ وَالْمُنْتَحِلِينَ، وَقَالَ الْعِصَامُ: يُرْوَى مَرْفُوعًا خَبَرَ مُبْتَدَأٍ مَحْذُوفٍ أَتَى بِالْجُمْلَةِ الِاسْمِيَّةِ بَعْدَ الْمَاضَوِيَّةِ لِأَنَّهُ خَيَّلَهُ غَلَبَانُ مَحَبَّتِهِ عليه السلام عِنْدَ ذِكْرِهِ أَنَّهُ مَوْجُودٌ مُتَحَقِّقٌ فَجَرَى لِسَانُهُ فِي الْوَصْفِ جَرَيَانَهُ فِي وَصْفِ الْمَوْجُودِ بِمَا يَتَّصِفُ بِهِ فِي الْحَالِ، وَفِيهِ تَنْبِيهٌ نَبِيهٌ عَلَى أَنَّ ذِكْرَهُ صلى الله عليه وسلم يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ، وَالشَّثْنُ جَعْلُهُ حَالًا أَوِ اسْتِئْنَافًا لَيْسَ بِذَلِكَ فَرِوَايَةُ النَّصْبِ عَلَى أَنَّهُ حَالٌ لَيْسَتْ بِتِلْكَ الْجَزَالَةِ وَجَعْلُهُ خَبَرًا لِكَانَ بِحَسَبِ الْمَفْهُومِ لِأَنَّ قَوْلَهُ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ فِي مَعْنَى كَانَ رَبْعَةً تَكَلُّفٌ جَدًّا، انْتَهَى.
وَقَدْ أَغْرَبَ ابْنُ حَجَرٍ حَيْثُ رَجَّحَ النَّصْبَ عَلَى الرَّفْعِ، ثُمَّ الشَّثْنُ بِفَتْحِ الشِّينِ الْمُعْجَمَةِ وَسُكُونِ الثَّاءِ الْمُثَلَّثَةِ وَيُقَالُ بِفَتْحِهَا أَوْ كَسْرِهَا أَيْضًا بَعْدَهَا نُونٌ فَسَّرَهُ الْأَصْمَعِيُّ فِيمَا نَقَلَهُ عَنْهُ الْمُؤَلِّفُ - كَمَا سَيَأْتِي بَيَانُهُ - بِالْغَلِيظِ الْأَصَابِعِ مِنَ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ، وَقَالَ الشَّيْخُ ابْنُ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ: أَيْ غَلِيظُ الْأَصَابِعِ وَالرَّاحَةِ، وَفِي رِوَايَةٍ أُخْرَى ضَخْمُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ، قَالَ: وَفَسَّرَهُ الْخَطَّابِيُّ بِالْغِلَظِ وَالِاتِّسَاعِ وَهُوَ الْمُرَادُ هُنَا، قَالَ: وَنُقِلَ عَنِ الْأَصْمَعِيِّ أَنَّهُ فَسَّرَ فِي مَوْضُوعٍ آخَرَ الشَّثْنَ بِالْخَشِنِ فَقِيلَ لَهُ أَنَّهُ وَرَدَ فِي وَصْفِ كَفِّهِ صلى الله عليه وسلم اللِّينُ وَالنُّعُومَةُ فَآلَى عَلَى نَفْسِهِ أَنْ لَا يُفَسِّرَ شَيْئًا فِي الْحَدِيثِ، وَقَالَ غَيْرُهُ
তিরমিযী এবং নাসাঈ তাঁর রচিত আলীর মুসনাদে তাঁর বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন। (নাফে বিন জুবায়ের থেকে): 'নাফে' শব্দটি তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ)। (বিন মুতয়িম): 'মুতয়িম' শব্দটি মুসলিম-এর ওজনে। তিনি একজন মহান তাবেয়ী, তিনি আলী এবং আরও কজন সাহাবীর নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন। তাঁর পিতা বড় বড় সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (আলী বিন আবি তালিব থেকে): ইসাম বলেন: এর দ্বারা আমীরুল মুমিনীনকে বোঝানো হয়েছে। আলী বিন আবি তালিব নামে হাদীস বর্ণনাকারী নয়জন রয়েছেন, তাই তাঁকে আমীরুল মুমিনীন উপাধিতে বিশেষিত না করা অনুত্তম হয়েছে। - ইতি। এটি মূলত মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা সম্পর্কে অসাবধানতা; কেননা সনদের শেষে যখন কেবল আলী বলা হয়, তখন তাঁকেই উদ্দেশ্য করা হয়, যেমনটি কেবল আবদুল্লাহ বললে ইবনে মাসউদকে বোঝানো হয় এবং কেবল হাসান বললে হাসান বসরীকে বোঝানো হয়। এর অনুরূপ হলো কেবল আবু বকর, উমর ও উসমানের নাম উল্লেখ করা। আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি মুমিনীনদের শর্ত (উপাধি) সহকারে তাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন, অথচ উল্লিখিত নামগুলোর সাথে এই উপাধি যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংশয় নেই। বরং সাহাবীদের মাঝে আলী বিন আবি তালিব নামে তিনি ছাড়া আর কেউ পরিচিতও নন। এটি মূলত অনারবীয় প্রভাব থেকে সৃষ্টি হয়েছে - যদিও আমি নিজেও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর কুনিয়াত হলো আবুল হাসান ও আবু তুরাব। আবু তালিবের নাম হলো আবদে মানাফ আল-হাশেমী আল-কুরাইশী। তাঁর মাতা ফাতেমা বিনতে আসাদ আল-হাশেমীয়া ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিজরত করেছিলেন। তিনি - আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন - বালকদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন, আর বলা হয় যে পুরুষদের মধ্যেও। তাঁর তৎকালীন বয়স নিয়ে মতভেদ আছে; বলা হয়েছে তাঁর বয়স ছিল পনেরো বছর, কেউ বলেন চৌদ্দ বছর, কেউ বলেন তেরো বছর।
কেউ বলেন আট বছর এবং কেউ বলেন দশ বছর। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাবুক ব্যতীত সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। নবীজি তাঁকে তাঁর পরিবারের দায়িত্বে রেখে গিয়েছিলেন এবং সেই প্রেক্ষিতে নবীজি তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার কাছে হারূনের স্থলাভিষিক্ত যেমন ছিলে মূসার কাছে? তবে পার্থক্য এই যে, আমার পরে কোনো নবী নেই।" উসমান যেদিন শহীদ হন, সেদিন তাঁকে খলীফা হিসেবে গ্রহণ করা হয়; আর তা ছিল ৩৫ হিজরীর যিলহজ্জ মাসের আঠারো তারিখ শুক্রবার। আবদুর রহমান বিন মুলজিম আল-মুরাদী ৪০ হিজরীর রমজান মাসের সতেরো তারিখ শুক্রবার সকালে কুফায় তাঁকে আঘাত করে এবং আঘাতের তিন দিন পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন এবং আবদুল্লাহ বিন জাফর তাঁকে গোসল করান। হাসান তাঁর জানাযার নামায পড়ান এবং তাঁকে শেষ রাতে দাফন করা হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর। তাঁর খিলাফতকাল ছিল চার বছর নয় মাস এবং কয়েক দিন। সাহাবী ও তাবেয়ীদের এক বিশাল দল তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন তিনি আহলে সুন্নাতের ঐকমত্যে পৃথিবীর বুকে আদম সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জীবিত ব্যক্তি ছিলেন। অতঃপর আমি ইবনে আবদিল বার-এর আল-ইসতিআব কিতাবে সাহাবীদের আলোচনায় দেখেছি যে, তিনি আলী বিন আবি তালিব ছাড়া অন্য কাউকে এই পূর্ণ নামে উল্লেখ করেননি, কেবল আলী নামে পাঁচজনের উল্লেখ করেছেন যাদের মধ্যে একজনের সাহাবী হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। (তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি দীর্ঘ ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না): সম্ভবত এর উদ্দেশ্য হলো কোনো নির্দিষ্ট বয়সেই তিনি এমন ছিলেন না। কেননা নবুওয়াতের প্রত্যেক বছরই তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন। এর অর্থ হলো তিনি সর্বদা ভারসাম্যপূর্ণ দৈহিক গঠনের অধিকারী হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন। (উভয় হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল মাংসল): মীরাক বলেন: এখানে বর্ণনাটি রাফ' (পেশ) সহযোগে এসেছে, ফলে এটি হবে উহ্য 'তিনি' মুবতাদার খবর। এবং এখানে নসব (যবর) হওয়াও সম্ভব যাতে এটি উহ্য 'ছিলেন'-এর খবর হয়, তবে এতে কষ্টকল্পনা রয়েছে এবং এটি মুহাদ্দিস ও পারদর্শীদের বর্ণনা নয়। ইসাম বলেন: এটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর হিসেবে রাফ' সহযোগে বর্ণিত হয়; অতীতকালীন বাক্যের পর নামবাচক বাক্য আনা হয়েছে কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মরণের সময় তাঁর প্রতি ভালোবাসার আধিক্য তাঁকে এমনভাবে কাল্পনিকভাবে উপস্থিত করেছে যেন তিনি বিদ্যমান ও বাস্তব, ফলে তাঁর গুণাগুণ বর্ণনায় তাঁর জিহ্বা সেভাবেই চলছে যেভাবে বর্তমানে বিদ্যমান কোনো সত্তার গুণ বর্ণনা করা হয়। এতে এক মহান সতর্কতা রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আলোচনা এমনই হওয়া উচিত। আর 'শাশনুন' শব্দটিকে হাল (অবস্থা) বা নতুন বাক্য হিসেবে ধরা যুক্তিযুক্ত নয়। নসব হওয়ার বর্ণনাটি 'হাল' হিসেবে তেমন সাবলীল নয়। আর অর্থগত দিক থেকে একে 'ছিলেন'-এর খবর হিসেবে ধরাও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, কারণ "তিনি অতি দীর্ঘ বা অতি খাটো ছিলেন না" কথাটির অর্থই হলো "তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন"। - ইতি।
ইবনে হাজার এক্ষেত্রে বিস্ময়কর মত দিয়েছেন যেখানে তিনি রাফ'-এর পরিবর্তে নসব হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অতঃপর 'শাশন' শব্দটি শীন বর্ণে ফাতহা এবং সা বর্ণে সুকুন সহযোগে; কেউ কেউ এতে ফাতহা বা কাসরা হওয়ার কথাও বলেছেন এবং শেষে নূন রয়েছে। লেখক তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে আসমাঈ এর ব্যাখ্যা করেছেন - যা পরবর্তীতে আসবে - হাতের এবং পায়ের আঙ্গুলগুলো মোটা হওয়া। শায়খ ইবনে হাজার আসকালানী বলেন: অর্থাৎ আঙ্গুল এবং হাতের তালু পুরু হওয়া। অন্য এক বর্ণনায় আছে, বড় হাতের তালু ও বড় পায়ের পাতা। তিনি বলেন: খাত্তাবী এর ব্যাখ্যা করেছেন স্থূলতা ও প্রশস্ততা দ্বারা এবং এখানে এটাই উদ্দেশ্য। তিনি বলেন: আসমাঈ থেকে অন্য এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি 'শাশন' এর অর্থ করেছেন খসখসে হওয়া। তখন তাঁকে বলা হয়েছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালুর বর্ণনায় কোমলতা ও মসৃণতা এসেছে, তখন তিনি শপথ করেছিলেন যে তিনি হাদীসের আর কোনো ব্যাখ্যা করবেন না। এবং অন্যরা বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২২)
هُوَ غِلَظٌ فِي الرَّاحَةِ وَالْأَخْمَصِ أَيْضًا، قَالَ ابْنُ بَطَّالٍ: كَانَتْ كَفُّهُ صلى الله عليه وسلم مُمْتَلِئَةً لَحْمًا غَيْرَ أَنَّهَا مَعَ غَايَةِ ضَخَامَتِهَا وَغِلْظَتِهَا كَانَتْ لَيِّنَةً كَمَا ثَبَتَ فِي حَدِيثِ أَنَسٍ الْمَرْوِيِّ فِي الصَّحِيحِ مَا مَسِسْتُ خَزًّا وَلَا حَرِيرًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: وَعَلَى تَقْدِيرِ تَسْلِيمِ مَا فَسَّرَ الْأَصْمَعِيُّ بِهِ الشَّثْنَ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الرَّاوِي وَصَفَ حَالَتَيْ كَفِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا عَمِلَ فِي الْجِهَادِ أَوْ مِهْنَةِ أَهْلِهِ صَارَ كَفُّهُ خَشِنًا لِلْعَارِضِ الْمَذْكُورِ وَإِذَا تَرَكَ ذَلِكَ صَارَ كَفُّهُ إِلَى أَصْلِ جِبِلَّتِهِ مِنَ النُّعُومَةِ
وَقَالَ الْقَاضِي: فَسَّرَ أَبُو عُبَيْدَةَ اللُّغَوِيُّ: الشَّثْنُ بِغِلَظِ الْأَصَابِعِ وَالْكَفِّ مَعَ الْقِصَرِ، وَتُعُقِّبَ بِأَنَّهُ ثَبَتَ فِي وَصْفِهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ سَائِلَ الْأَطْرَافِ - كَمَا سَيَأْتِي فِي الْبَابِ أَيْضًا - وَيُؤَيِّدُهُ مَا ثَبَتَ فِي حَدِيثٍ آخَرَ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ بَسِطُ الْكَفَّيْنِ، أَوْرَدَ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ مُعَلَّقًا. . . وَوَصَلَهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّلَائِلِ: وَالْبَسِطُ بِالْمُوَحَّدَةِ وَالْمُهْمَلَتَيْنِ، وَفِي رِوَايَةٍ: سَبِطُ بِمُهْمَلَتَيْنِ بَيْنَهُمَا مُوَحَّدَةٌ وَهْمَا بِمَعْنًى، وَالْمُرَادُ أَنَّ فِي كَفِّهِ وَأَصَابِعِهِ صلى الله عليه وسلم طُولًا غَيْرَ مُفْرِطٍ وَهُوَ مِمَّا يُحْمَدُ فِي الرِّجَالِ لِأَنَّهُ أَشَدُّ لِقَبْضِهِمْ وَيُذَمُّ فِي النِّسَاءِ، قَالَ الْعَسْقَلَانِيُّ: أَمَّا مَنْ فَسَّرَ الْبَسْطَ بِبَسْطِ الْعَطَاءِ فَإِنَّهُ وَإِنْ كَانَ الْوَاقِعُ كَذَلِكَ لَكِنْ لَيْسَ مُرَادًا هُنَا، وَالتَّحْقِيقُ أَنَّ الشَّثْنَ الْوَاقِعَ فِي صِفَتِهِ صلى الله عليه وسلم مَعْنَاهُ الْغِلَظُ مِنْ غَيْرِ قَيْدِ قِصَرٍ وَلَا خُشُونَةٍ، انْتَهَى. وَفِي النِّهَايَةِ أَنَّهُمَا يَمِيلَانِ إِلَى الْغِلَظِ وَالْقِصَرِ وَهُوَ الظَّاهِرُ جَمَعًا بَيْنَ الرِّوَايَاتِ وَاللُّغَاتِ، وَأَمَّا قَوْلُ الْعِصَامِ: وَالشَّثْنُ بِمُثَلَّثَتَيْنِ أَوْ بِمُثَلَّثَةٍ وَمُثَنَّاةٍ فَوْقَانِيَّةٍ كَمَا فِي بَعْضِ النُّسَخِ فَمُخَالِفٌ لِمَا فِي الْأُصُولِ الْمُصَحَّحَةِ وَإِنْ كَانَ لُغَةً عَلَى مَا فِي الْقَامُوسِ. (ضَخْمَ الرَّأْسِ) : بِالضَّادِ الْمُعْجَمَةِ عَلَى وَزْنِ الضَّرْبِ الْغَلِيظِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ وَفِي رِوَايَةٍ عَظِيمَ الْهَامَةِ، وَوَصْفُهُ بِذَلِكَ وَرَدَ عَنْ غَيْرِ عَلِيٍّ أَيْضًا مِنْ طُرُقٍ صَحِيحَةٍ، وَهُوَ دَالٌّ عَلَى كَمَالِ الْقُوَى الدِّمَاغِيَّةِ وَبِكَمَالِهَا يَتَمَيَّزُ الْإِنْسَانُ عَنْ غَيْرِهِ. (ضَخْمَ الْكَرَادِيسِ) : أَيْ رُءُوسِ الْعِظَامِ نَحْوَ الْمَنْكِبَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ وَالْوَرِكَيْنِ عَلَى مَا فِي الْفَائِقِ، جَمْعُ كُرْدُوسٍ بِضَمَّتَيْنِ: كُلُّ عَظْمَتَيْنِ الْتَقَيَا فِي مَفْصِلٍ عَلَى مَا فِي الْقَامُوسِ، أَرَادَ أَنَّهُ جَسِيمُ الْأَعْضَاءِ وَهُوَ وَمَا قَبْلُهُ يَدُلُّ عَلَى نَجَابَةِ صَاحِبِهِ، وَلَمَّا لَمْ يَكُنْ مُنَاسَبَةٌ بَيْنَ الرَّأْسِ وَالْكَرَادِيسِ أُفْرِدَ كُلٌّ بِالْإِضَافَةِ بِخِلَافِ الْكَفِّ وَالْقَدَمَيْنِ. (طَوِيلَ الْمَسْرُبَةِ) : بِفَتْحِ الْمِيمِ وَسُكُونِ السِّينِ الْمُهْمَلَةِ وَضَمِّ الرَّاءِ وَبِالْمُوَحَّدَةِ وَهُوَ شَعْرٌ بَيْنَ الصَّدْرِ وَالسُّرَّةِ عَلَى مَا فِي الْمُهَذَّبِ، وَفِي رِوَايَةِ ذُو مَسْرُبَةٍ وَفِي أُخْرَى عِنْدَ الْبَيْهَقِيِّ لَهُ شَعَرَاتٌ مِنْ سُرَّتِهِ تَجْرِي كَالْقَضِيبِ لَيْسَ عَلَى صَدْرِهِ وَلَا عَلَى بَطْنِهِ غَيْرُهَا، وَعِنْدَ الطَّيَالِسِيِّ وَالطَّبَرَانِيِّ مَا رَأَيْتُ بَطْنَهُ إِلَّا ذَكَرْتُ الْقَرَاطِيسَ الْمُثَنَّى بَعْضُهَا عَلَى بَعْضٍ، وَالْحَاصِلُ أَنَّهُ مَا دَقَّ مِنْ شَعْرِ الصَّدْرِ سَائِلًا إِلَى السُّرَّةِ - كَمَا سَيُذْكَرُ فِي حَدِيثِ عَلِيٍّ رضي الله عنه الْمَسْرُبَةُ الشَّعْرُ الدَّقِيقُ الَّذِي كَأَنَّهُ قَضِيبٌ مِنَ الصَّدْرِ إِلَى السُّرَّةِ. (إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا) : بِالْهَمْزِ فِيهِمَا، وَفِي نُسْخَةٍ تَكَفَّى بِالْأَلِفِ الْمُنْقَلِبَةِ عَنْ يَاءٍ تَكَفِّيًا بِكَسْرِ الْفَاءِ الْمُشَدَّدَةِ بَعْدَهَا يَاءٌ تَحْتِيَّةٌ أَيْ تَمَايَلَ إِلَى قُدَّامٍ، وَهِيَ جُمْلَةٌ أُخْرَى مُسْتَأْنَفَةٌ، قَالَ مِيرَكُ: وَتَكَفُّؤًا مَصْدَرٌ مُؤَكِّدٌ وَهُوَ فِي الْأَصْلِ مَهْمُوزٌ وَيُخَفَّفُ، فَإِذَا رُوِيَ عَلَى الْأَصْلِ يُقْرَأُ بِضَمِّ الْفَاءِ كَتَقَدَّمَ تَقَدُّمًا، وَإِذَا خُفِّفَ يُقْرَأُ تَكَفَّى تَكَفِّيًا بِكَسْرِ الْفَاءِ كَتَسَمَّى تَسَمِّيًا، وَكَذَا وَقَعَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ، انْتَهَى. وَفِي النِّهَايَةِ هَكَذَا رُوِيَ غَيْرُ مَهْمُوزٍ وَالْأَصْلُ الْهَمْزُ، وَبَعْضُهُمْ يَرْوِيهِ مَهْمُوزًا ; لِأَنَّ مَصْدَرَ تَفَعَّلَ مِنَ الصَّحِيحِ تَفَعُّلٌ كَتَقَدَّمَ تَقَدُّمًا وَتَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا وَالْهَمْزَةُ حَرْفٌ صَحِيحٌ وَأَمَّا إِذَا اعْتُلَّ انْكَسَرَ عَيْنُ الْمَصْدَرِ مِنْهُ نَحْوَ تَخَفَّى تَخَفِّيًا فَإِذَا خُفِّفَتِ الْهَمْزَةُ الْتَحَقَ بِالْمُعْتَلِّ فَصَارَ تَكَفِّيًا بِالْكَسْرِ، وَقَالَ النَّوَوِيُّ: وَزَعَمَ كَثِيرٌ أَنَّ أَكْثَرَ مَا يُرْوَى بِلَا هَمْزَةٍ وَلَيْسَ كَذَلِكَ. (كَأَنَّمَا) : وَفِي نُسْخَةٍ كَأَنَّهُ. (يَنْحَطُّ) : وَهُوَ بِتَشْدِيدِ الطَّاءِ. (مِنْ صَبَبٍ) : قَرِيبٌ مِنْ مَعْنَى التَّكَفُّؤِ فَهُوَ مُبَيِّنٌ
এর অর্থ হলো হাতের তালু এবং পায়ের তালুর মধ্যভাগেও স্থূলতা। ইবনে বাত্তাল বলেন: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতের তালু ছিল মাংসল, তবে তা অত্যন্ত সুঠাম ও স্থূল হওয়া সত্ত্বেও অনেক নরম ছিল, যেমনটি সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের তালুর চেয়ে অধিক নরম কোনো পশমি বা রেশমি কাপড় স্পর্শ করিনি।" তিনি আরও বলেন: আল-আসমাঈ 'আশ-শাছন' (স্থূলতা) শব্দের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা মেনে নিলেও সম্ভাবনা থাকে যে, বর্ণনাকারী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতের দুই অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন। যখন তিনি জিহাদে বা পরিবারের কাজে লিপ্ত হতেন, তখন উল্লিখিত কারণে তাঁর হাত অমসৃণ হয়ে যেত; আর যখন তিনি তা থেকে বিরত থাকতেন, তখন তাঁর হাত সহজাত কোমলতায় ফিরে আসত।
কাযী (আইয়ায) বলেন: ভাষাবিদ আবু উবাইদাহ 'আশ-শাছন' শব্দটিকে আঙ্গুল ও হাতের তালুর স্থূলতার সাথে খাটো হওয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে এর সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনায় এটি প্রমাণিত যে তাঁর হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো দীর্ঘ ছিল — যেমনটি সামনে এই অধ্যায়েও আসবে। একে সমর্থন করে অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত তথ্য যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশস্ত হাতের তালু বিশিষ্ট ছিলেন। বুখারি আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি 'মুআল্লাক' হিসেবে উদ্ধৃত করেছেন এবং বায়হাকি 'দালায়িল' গ্রন্থে এটি 'মাওসুল' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 'বাসিত' শব্দটি 'বা' এবং দুই 'সিন' দ্বারা গঠিত। এক রেওয়ায়েতে এটি 'সাবিদ' হিসেবে এসেছে, যা একই অর্থ প্রকাশ করে। এর উদ্দেশ্য হলো, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাতের তালু ও আঙ্গুলে অতিরিক্ত নয় এমন দীর্ঘতা ছিল। আর এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়, কারণ এটি কোনো কিছু শক্ত করে ধরার জন্য বেশি সহায়ক; তবে মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি নিন্দনীয়। আসকালানি বলেন: যারা 'বাসত' (প্রশস্ততা) শব্দটিকে দান-শীলতা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন, যদিও বাস্তবে তিনি এমনই ছিলেন, কিন্তু এখানে তা উদ্দেশ্য নয়। সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলির বর্ণনায় উল্লিখিত 'আশ-শাছন' শব্দের অর্থ হলো স্থূলতা, যার সাথে খাটো হওয়া বা অমসৃণ হওয়ার কোনো শর্ত নেই। সমাপ্ত। 'নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এই দুটি শব্দ স্থূলতা ও কিছুটা খাটো হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে, যা বিভিন্ন বর্ণনা ও আভিধানিক অর্থের সমন্বয়ে প্রকাশ পায়। আর ইশাম-এর উক্তি: 'আশ-শাছন' শব্দটি দুই 'ছা' (ث) দিয়ে অথবা এক 'ছা' ও এক 'তা' (ت) দিয়ে হবে — যেমনটি কিছু পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে — তা সংশোধিত মূল পাঠের বিরোধী, যদিও 'কামুস' অভিধান অনুযায়ী এটি একটি ভাষাগত রূপ। (বিশাল মস্তক বিশিষ্ট): এখানে 'দাদ' বর্ণের ওপর জবর দিয়ে এর অর্থ হলো কোনো জিনিসের স্থূলতা। এক বর্ণনায় এসেছে, 'বিশাল মস্তক বিশিষ্ট'। তাঁর এই গুণটি আলী (রা.) ছাড়াও অন্যান্য সাহাবীদের থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এটি মস্তিষ্কের শক্তির পূর্ণতার পরিচায়ক, আর এই পূর্ণতার মাধ্যমেই মানুষ অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র হয়ে থাকে। (অস্থিগ্রন্থি বা জোড়াগুলো মোটা): অর্থাৎ হাড়ের প্রান্তসমূহ যেমন কাঁধ, হাঁটু এবং নিতম্বের হাড়, যেমনটি 'আল-ফাইক' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এটি 'কুরদুস' শব্দের বহুবচন। 'কামুস' অনুযায়ী, যে কোনো দুটি হাড় যেখানে সন্ধিস্থলে মিলিত হয় তাকেই কুরদুস বলে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিল সুঠাম ও বিশাল, যা পূর্বের গুণের মতো তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্যের প্রমাণ দেয়। যেহেতু মাথা এবং অস্থির জোড়ার মধ্যে সরাসরি মিল নেই, তাই হাতের তালু ও পায়ের বিপরীতে এখানে প্রতিটি অংশকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। (দীর্ঘ মাসরুবাহ বিশিষ্ট): 'মিম'-এ জবর, 'সিন'-এ সাকিন এবং 'রা'-তে পেশ সহযোগে গঠিত এই শব্দটি দ্বারা বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের রেখাকে বোঝানো হয়, যা 'মুহাজ্জাব' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। এক বর্ণনায় এসেছে 'মাসরুবাহ যুক্ত', আবার বায়হাকির বর্ণনায় রয়েছে: তাঁর নাভি থেকে কিছু পশম ছিল যা সরু লাঠির মতো প্রবাহিত ছিল, তাঁর বুক বা পেটে এ ছাড়া অন্য কোনো পশম ছিল না। তায়ালিসি ও তাবারানির বর্ণনায় এসেছে: "আমি যখনই তাঁর পেট দেখতাম, তখনই একটির ওপর আরেকটি রাখা ভাঁজ করা কাগজের কথা মনে পড়ত।" মূলকথা হলো, এটি বুকের পশমের সেই সরু রেখা যা নাভি পর্যন্ত নেমে গিয়েছে — যেমনটি আলী (রা.)-এর হাদিসে উল্লেখ করা হবে যে, 'মাসরুবাহ' হলো সেই সূক্ষ্ম পশম যা বুক থেকে নাভি পর্যন্ত দণ্ডের মতো দেখায়। (যখন তিনি হাঁটতেন, সামনের দিকে ঝুঁকে দ্রুতপদে হাঁটতেন): উভয় শব্দে হামজা যুক্ত। এক পাণ্ডুলিপিতে 'তাকাফফা' এবং 'তাকাফফিয়ান' এসেছে অর্থাৎ সামনের দিকে ঝুঁকে চলা। এটি একটি নতুন বাক্য। মিরক বলেন: 'তাকাফফুআন' শব্দটি এখানে তাকিদ বা গুরুত্বের জন্য মাজদার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি মূলে হামজা যুক্ত হলেও কখনো সহজ করার জন্য হামজা ছাড়া পড়া হয়। মূল অনুযায়ী পড়লে 'তাকাদদুমান'-এর মতো 'তাকাফফুআন' পড়তে হবে। আর সহজ করে পড়লে 'তাকাফফিয়ান' পড়তে হবে। কিছু পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে। 'নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এটি এভাবেই হামজা ছাড়া বর্ণিত হয়েছে তবে মূল হলো হামজা যুক্ত। কেউ কেউ হামজা দিয়েই বর্ণনা করেছেন; কারণ 'তাফা'আলা' বাব থেকে সহিহ শব্দের মাজদার 'তাকাফফুআন' হয়ে থাকে। হামজা একটি সহিহ বর্ণ। তবে যদি এটি হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) হয় তবে মাজদারের দ্বিতীয় বর্ণে কাসরা হয়। আর হামজাকে সহজ করে পড়লে তা হরফে ইল্লতের সাথে যুক্ত হয়ে 'তাকাফফিয়ান' হয়ে যায়। নববী বলেন: অনেকে দাবি করেন যে অধিকাংশ বর্ণনা হামজা ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে, তবে বিষয়টি তেমন নয়। (যেন): কোনো এক পাণ্ডুলিপিতে 'যেন তিনি' শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। (নেমে আসছেন): এটি 'তা' বর্ণে তাশদিদ যুক্ত। (উঁচু ভূমি থেকে বা ঢালু জায়গা থেকে): এটি 'তাকাফফু' শব্দের অর্থের কাছাকাছি, যা পূর্বের বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لِمَفْهُومِ إِذَا
مَشَى كَذَا قِيلَ وَالْأَظْهَرُ أَنَّهُ حَالٌ مِنْ فَاعِلِ تَكَفَّأَ، وَالِانْحِطَاطُ النُّزُولُ وَالْإِسْرَاعُ وَأَصْلُهُ الِانْحِدَارُ مِنْ عُلُوٍّ إِلَى سُفْلٍ، وَأَسْرَعُ مَا يَكُونُ الْمَاءُ جَارِيًا إِذَا كَانَ مُنْحَدِرًا فَمِنْ بِمَعْنَى فِي كَمَا فِي نُسْخَةٍ، وَالصَّبَبُ بِفَتْحَتَيْنِ الْحُدُورُ فَالْمَعْنَى فَكَأَنَّمَا يَنْزِلُ فِي مَوْضِعٍ مُنْحَدِرٍ، وَقِيلَ: هُوَ مَا انْحَدَرَ مِنَ الْأَرْضِ، وَفِي حَدِيثِ الطَّوَافِ حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ فِي بَطْنِ الْوَادِي أَيِ انْحَدَرَتْ فِي الْمَسْعَى وَفِي رِوَايَةٍ كَأَنَّمَا يَهْوَى فِي صُبُوبٍ وَهُوَ بِالضَّمِّ جَمْعُ صَبَبٍ، قَالَ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ: يُرِيدُ أَنَّهُ كَانَ يَمْشِي مَشْيًا قَوِيًّا يَرْفَعُ رِجْلَيْهِ مِنَ الْأَرْضِ رَفْعًا ثَابِتًا لَا كَمَنْ يَمْشِي اخْتِيَالًا وَيُقَارِبُ خُطَاهُ تَنَعُّمًا، قِيلَ: وَلَمْ يُدْغَمْ صَبَبٌ لِئَلَّا يَلْتَبِسَ بِالصَّبِّ الَّذِي هُوَ بِمَعْنَى الْعَاشِقِ. (لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ) : جُمْلَةٌ أُخْرَى مُنْبِئَةٌ عَنْ جَمَالِهِ وَكَمَالِهِ وَتُسْتَعْمَلُ هَذِهِ الْعِبَارَةُ فِي نَفْيِ الشَّبِيهِ مِنْ غَيْرِ مُلَاحِظَةِ الْقَبْلِيَّةِ وَالْبَعْدِيَّةِ وَمَفْهُومُهَا فِي الْخَارِجِ حَتَّى يَرِدَ أَنَّ عَلِيًّا لَمْ يَرَ أَحَدًا قَبْلَهُ صلى الله عليه وسلم، وَيُجَابُ بِأَنَّ التَّقْدِيرَ لَمْ أَرَ قَبْلَ مَوْتِهِ وَبَعْدَهُ مِثْلَهُ، مَعَ أَنَّهُ يُمْكِنُ أَنْ تَكُونَ الرُّؤْيَةُ عِلْمِيَّةً، ثُمَّ نَفْيُ الْمِثْلِ يَدُلُّ عُرْفًا عَلَى كَوْنِهِ أَحْسَنَ مِنْ كُلِّ أَحَدٍ كَمَا يُقَالُ فِي لَيْسَ فِي الْبَلَدِ مِثْلُ زَيْدٍ، وَالسِّرُّ فِيهِ أَنَّهُ إِذَا نُفِيَ الْمِثْلُ الَّذِي هُوَ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنَ الْأَحْسَنِ فِي مَقَامِ ذِكْرِ الْمَحَاسِنِ فَكَانَ نَفْيُ الْأَحْسَنِ بِالْأَوْلَى وَالْأَحْرَى.
(حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ) : أَيُ ابْنُ الْجَرَّاحِ بْنِ مَلِيحٍ، وَهُوَ أَبُو مُحَمَّدٍ الرُّوَاسِيُّ الْكُوفِيُّ، كَانَ صَدُوقًا إِلَّا أَنَّهُ ابْتُلِيَ بِالْوِرَاقَةِ وَهِيَ حِرْفَةُ ضَرْبِ الدَّرَاهِمِ فَأُدْخِلَ عَلَيْهِ مَا لَيْسَ مِنْ حَدِيثِهِ فَنُصِحَ فَلَمْ يَقْبَلْ فَسَقَطَ حَدِيثُهُ، أَخْرَجَ حَدِيثَهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ قِيلَ وَكَانَ مِنَ الْمُكْثِرِينَ فِي الْحَدِيثِ وَجَمْعِهِ، يَرْوِي عَنْ أَبِيهِ وَمُطَلِّبِ بْنِ زِيَادٍ، قِيلَ: هُوَ ضَعِيفٌ. (قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي) : يُرِيدُ أَبَاهُ وَكِيعًا. (عَنِ الْمَسْعُودِيِّ) : مُتَعَلِّقٌ بِحَدَّثَنَا أَبِي. (بِهَذَا الْإِسْنَادِ) : مُتَعَلِّقٌ بِكُلٍّ مِنْ قَوْلِهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَقَوْلِهِ حَدَّثَنَا أَبِي
عَلَى سَبِيلِ التَّنَازُعِ، وَالْإِسْنَادُ رَفْعُ الْحَدِيثِ إِلَى قَائِلِهِ، وَالسَّنَدُ الْإِخْبَارُ عَنْ طَرِيقِ الْمَتْنِ وَهُمَا مُتَقَارِبَانِ وَلِذَا يَسْتَعْمِلُهُمَا الْمُحَدِّثُونَ لِشَيْءٍ وَاحِدٍ. (نَحْوَهُ) : أَيْ نَحْوَ الْحَدِيثِ الْمَذْكُورِ قَبْلَهُ. (بِمَعْنَاهُ) : أَيْ بِلَفْظٍ آخَرَ مُفِيدٍ لِمَعْنَى الْمُتَقَدِّمِ، قَالَ مِيرَكُ: وَاعْلَمْ أَنَّهُ قَدْ جَرَتْ عَادَةُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ أَنَّ الْحَدِيثَ إِذَا رُوِيَ بِإِسْنَادَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ وَسَاقُوا الْحَدِيثَ بِإِسْنَادٍ أَوَّلًا ثُمَّ سَاقُوا إِسْنَادًا آخَرَ يَقُولُونَ فِي آخِرِهِ مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ اخْتِصَارًا،
যখন তিনি-র ধারণার জন্য
হাঁটতেন, এভাবে বলা হয়েছে। আর অধিক প্রকাশ্য মত এই যে, এটি সামনের দিকে ঝুঁকে চলা (তাকাফ্ফাআ) ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা বর্ণনা করছে। "ইনহিতাত" অর্থ হলো নিচে নামা ও দ্রুত চলা এবং এর মূল অর্থ হলো উঁচু থেকে নিচু স্থানে অবতরণ করা। পানি যখন ঢালু পথে প্রবাহিত হয় তখন তা সবচেয়ে দ্রুত হয়। এখানে "থেকে" শব্দটি "মধ্যে" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি একটি পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়। আর "সাবাব" (উভয় অক্ষরে ফাতহা বা যবরসহ) অর্থ হলো ঢালু পথ; সুতরাং অর্থ হলো—তিনি যেন কোনো ঢালু স্থানে নামছেন। কেউ কেউ বলেছেন, এটি হলো ভূমির ঢালু অংশ। তাওয়াফ সংক্রান্ত হাদীসে এসেছে—"এমনকি যখন তাঁর পা দুটি উপত্যকার তলদেশে ধাবিত হলো", অর্থাৎ যখন তা সাঈ করার স্থানে ঢালু পথে নামলো। এক বর্ণনায় এসেছে, "যেন তিনি কোনো ঢাল বেয়ে নিচে নামছেন", এখানে "সুবুব" শব্দটি পেশ যোগে "সাবাব" শব্দের বহুবচন। শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে হাঁটতেন, মাটি থেকে তাঁর পা দুটি দৃঢ়ভাবে উঠাতেন; যারা অহংকারবশত হাঁটে কিংবা বিলাসিতাবশত ছোট কদমে হাঁটে তাদের মতো নয়। বলা হয়েছে, "সাবাব" শব্দটিতে ইদগাম করা হয়নি যাতে এটি "সাব্ব" শব্দের সাথে গুলিয়ে না যায়, যার অর্থ হলো আশেক বা প্রেমিক। (আমি তাঁর পূর্বে এবং তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি): এটি তাঁর সৌন্দর্য ও পূর্ণতা প্রকাশকারী অন্য একটি বাক্য। এই অভিব্যক্তিটি কোনো সদৃশ বা সমতুল্যকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে আগে বা পরের সময়ের বিষয়টিকে আক্ষরিকভাবে লক্ষ্য করা হয় না। বাহ্যিক বিচারে এর অর্থ এমন দাঁড়াতে পারে যে আলী (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পূর্বে কাউকে দেখেননি। এর উত্তর হিসেবে বলা হয় যে, এখানে প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো—তাঁর ওফাতের পূর্বে বা পরে আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি। এর সাথে এই সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এখানে দেখা বলতে জ্ঞানগত উপলব্ধিকে বোঝানো হয়েছে। অতঃপর সমতুল্যকে অস্বীকার করা প্রথাগতভাবে এটিই প্রমাণ করে যে তিনি সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, যেমনটি বলা হয়ে থাকে যে এই শহরে যায়েদের মতো কেউ নেই। এর রহস্য হলো, যখন প্রশংসার ক্ষেত্রে সমতুল্যের অস্তিত্ব (যা উত্তমের তুলনায় নিকটবর্তী) অস্বীকার করা হয়, তখন শ্রেষ্ঠতর হওয়া তো স্বভাবতই এবং অধিকতর সংগতভাবে প্রমাণিত হয়।
(সুফইয়ান ইবনে ওয়াকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন): অর্থাৎ ইবনুল জাররাহ ইবনে মালীহ। তিনি হলেন আবু মুহাম্মাদ আর-রুওয়াসি আল-কুফি। তিনি সত্যবাদী ছিলেন, তবে তিনি মুদ্রা তৈরির পেশায় লিপ্ত হয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হন, ফলে তাঁর হাদীসের মধ্যে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যা তাঁর বর্ণিত হাদীস ছিল না। তাঁকে এ বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি, ফলে তাঁর বর্ণিত হাদীস পরিত্যক্ত হয়। ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। বলা হয়ে থাকে তিনি প্রচুর হাদীস বর্ণনাকারী ও সংগ্রহকারী ছিলেন। তিনি তাঁর পিতা এবং মুত্তালিব ইবনে যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ তাঁকে দুর্বল বলেছেন। (তিনি বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেছেন): এখানে তিনি তাঁর পিতা ওয়াকী'কে বুঝিয়েছেন। (আল-মাসউদী হতে): এটি "আমার পিতা বর্ণনা করেছেন" এর সাথে সংশ্লিষ্ট। (এই ইসনাদের মাধ্যমে): এটি "সুফইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" এবং "আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" উভয় বক্তব্যের সাথেই সংশ্লিষ্ট
প্রতিদ্বন্দ্বিতার (তানাজু') ভিত্তিতে। ইসনাদ হলো হাদীসকে তার মূল প্রবক্তার দিকে উন্নীত করা। আর সনদ হলো মতনের বা মূল পাঠের পথ সম্পর্কে অবহিত করা। এ দুটি শব্দ পরস্পর কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে, তাই মুহাদ্দিসগণ এগুলোকে একই অর্থে ব্যবহার করেন। (অনুরূপ): অর্থাৎ এর পূর্বে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (এর অর্থে): অর্থাৎ ভিন্ন শব্দে কিন্তু আগের হাদীসের অর্থ প্রদানকারী। মীরক বলেন: জেনে রাখা উচিত যে, মুহাদ্দিসগণের রীতি হলো যখন কোনো হাদীস দুই বা ততোধিক ইসনাদে বর্ণিত হয় এবং তাঁরা প্রথমে একটি ইসনাদে পূর্ণ হাদীস উল্লেখ করেন, তখন অন্য ইসনাদ বর্ণনা করার সময় সংক্ষেপ করার জন্য তার শেষে "অনুরূপ" বা "এর কাছাকাছি" শব্দ ব্যবহার করেন।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَالْمِثْلُ يُسْتَعْمَلُ بِحَسَبِ الِاصْطِلَاحِ فِيمَا إِذَا كَانَتِ الْمُوَافَقَةُ بَيْنَ الْحَدِيثَيْنِ فِي اللَّفْظِ وَالْمَعْنَى وَالنَّحْوِ يُسْتَعْمَلُ إِذَا كَانَتِ الْمُوَافَقَةُ فِي الْمَعْنَى فَقَطْ هَذَا هُوَ الْمَشْهُورُ فِيمَا بَيْنَهُمْ وَقَدْ يُسْتَعْمَلُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَقَامَ الْآخَرِ فَعَلَى هَذَا قَوْلُهُ بِمَعْنَاهُ لَا إِرَادَةَ أَنَّ النَّحْوَ يُسْتَعْمَلُ فِي هَذَا الْمَقَامِ لِلْمَعْنَى دُونَ اللَّفْظِ مَجَازًا، انْتَهَى. وَقَالَ الْعِصَامُ: نَحْوَهُ ; مَفْعُولُ حَدَّثَنَا الثَّانِي أَوِ الْأَوَّلُ وَمَفْعُولُ الْأَخِيرِ مَحْذُوفٌ، وَالرَّاجِحُ عِنْدَ الْبَصْرِيِّينَ الْأَوَّلُ، فَإِنْ قُلْتَ: قَدْ تَحَقَّقَ أَنَّ سُفْيَانَ سَاقِطُ الْحَدِيثِ فَكَيْفَ ذُكِرَ الْحَدِيثُ بِإِسْنَادِهِ بَعْدَ الْإِسْنَادِ الْعَالِي؟ قُلْتَ: صَارَ سَاقِطَ الْحَدِيثِ آخِرًا وَرِوَايَةُ مَنْ لَا يُحْتَجُّ بِهِ رُبَّمَا تُذْكَرُ فِي الْمُتَابَعَةِ وَالشَّاهِدِ فَأَرَادَ تَأْيِيدَ حَدِيثِ الْبُخَارِيِّ بِالشَّاهِدِ، وَالشَّاهِدُ مَا يُوَافِقُ الْحَدِيثَ الْمُسْنَدَ بِهَذَا الْإِسْنَادِ فِي الْمَعْنَى، وَالْمُتَابِعُ مَا يُؤَيِّدُهُ مِنَ الْمُوَافِقِ فِي اللَّفْظِ الْمُخَالِفِ فِي الْإِسْنَادِ لَكِنْ بِشَرْطِ الْمُوَافَقَةِ فِي مَرْتَبَةٍ مِنْ مَرَاتِبِ الْإِسْنَادِ، فَإِنْ وَافَقَ فِي شَيْخِ الرَّاوِي فَالْمُتَابَعَةُ تَامَّةٌ وَإِلَّا فَنَاقِصَةٌ، وَتَفْصِيلُ هَذَا الْبَحْثِ فِي شَرْحِ النُّخْبَةِ.
(حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ) : بِعَيْنٍ مَفْتُوحَةٍ وَسُكُونِ الْمُوَحَّدَةِ. (الضَّبِّيُّ) : بِفَتْحِ الضَّادِ الْمُعْجَمَةِ وَتَشْدِيدِ الْمُوَحَّدَةِ نِسْبَةً إِلَى بَنِي ضَبَّةَ قَبِيلَةٍ مِنَ الْعَرَبِ مِنْ سُكَّانِ الْبَصْرَةِ ; وَلِذَا قَالَ: (الْبَصْرِيُّ) : وَهُوَ بِفَتْحِ الْبَاءِ وَتُكْسَرُ، قِيلَ احْتَرَزَ بِالضَّبِّيِّ مِنَ الْأُبُلِّيِّ وَهُوَ أَوْثَقُ مِنَ الْأُبُلِّيِّ فَإِنَّ الضَّبِّيَّ ثِقَةٌ، رُمِيَ بِالنَّصْبِ يَعْنِي بِكَوْنِهِ مِنَ الْخَوَارِجِ دُونَ الْأُبُلِّيِّ، وَفِيهِ أَيْضًا سُوءُ الْمَذْهَبِ، قَالَ شَارِحٌ: رَوَى عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ وَخَلْقٍ، وَعَنْهُ الْبُخَارِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَخَلْقٌ، وَثَّقَهُ. . . أَبُو حَاتِمٍ وَالنَّسَائِيُّ. (وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ) : بِضَمِّ مُهْمَلَةٍ وَسُكُونِ جِيمٍ، ثِقَةٌ حَافِظٌ، أَخْرَجَ حَدِيثَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ، وَقَالَ شَارِحٌ: هُوَ عَلِيُّ بْنُ حُجْرِ بْنِ إِيَاسِ بْنِ مُقَاتِلِ بْنِ مُخَادِشٍ السَّعْدِيُّ الْمَرْوَزِيُّ، أَحَدُ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ، سَمِعَ كَثِيرًا مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ. (وَأَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ وَهُوَ) : أَيِ الْحُسَيْنُ عَلَى مَا ذَكَرَ مِيرَكُ وَالْحَنَفِيُّ، وَقَالَ الْعِصَامُ: هُوَ رَاجِعٌ إِلَى مُحَمَّدٍ إِذْ لَوْ كَانَ رَاجِعًا إِلَى الْحُسَيْنِ لَقَالَ: الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي حَلِيمَةَ لَكِنْ فِي شَرْحَيْنِ لِهَذَا الْكِتَابِ أَنَّ الضَّمِيرَ لِلْحُسَيْنِ وَلَا رَيْبَ فِي أَنَّهُ سَهْوٌ إِذْ ذُكِرَ فِي أَحَدِ هَذَيْنِ الشَّرْحَيْنِ فِي تَكْمِلَةِ شَرْحِهِ فِي ضَبْطِ أَسْمَاءِ الرِّجَالِ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ أَبُو جَعْفَرِ بْنُ أَبِي حَلِيمَةَ، انْتَهَى. وَفِيهِ بَحْثٌ لَا يَخْفَى إِذْ يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ مِنْ كَلَامِ الْمُصَنِّفِ بَيَانًا لِمَا أَجْمَلَهُ أَوَّلًا وَأَنْ يَكُونَ مِنْ كَلَامِ أَحَدِ تَلَامِذَتِهِ بَيَّنَ إِجْمَالَ كَلَامِهِ وَتَحْقِيقَ مَرَامِهِ وَالْوَاوُ لِلْحَالِ عَلَى كُلِّ مَقَالٍ. (ابْنُ أَبِي حَلِيمَةَ) : بِفَتْحِ الْحَاءِ وَاللَّامِ الْمَكْسُورَةِ مَقْبُولٌ، أَخْرَجَ حَدِيثَهُ التِّرْمِذِيُّ وَكَأَنَّهُ لِعَدَمِ اشْتِهَارِهِ بَالَغَ فِي تَوْضِيحِهِ. (وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ) : بِالْوَاوِ فِي النُّسَخِ الْمُصَحَّحَةِ حَالٌ مِنَ الْفَاعِلِ أَيْ حَدَّثُونَا حَالَ كَوْنِ الْمَعْنَى فِي أَحَادِيثِهِمْ وَاحِدًا، قَالَ مِيرَكُ: أَيْ مَرْوِيَّاتُهُمْ وَقَعَتْ بِأَلْفَاظٍ مُخْتَلِفَةٍ وَمَعْنَى الْكُلِّ
وَاحِدٌ فِي بَعْضِ النُّسَخِ الْمَعْنَى وَاحِدٌ وَهُوَ حَالٌ مِنَ الْفَاعِلِ بِغَيْرِ وَاوٍ، وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: جُمْلَةٌ حَالِيَّةٌ مِنَ الْفَاعِلِ أَوِ الْمَفْعُولِ ; أَيْ حَالَ كَوْنِ الْمَعْنَى فِي أَحَادِيثِهِمْ وَاحِدًا، وَالْأَحَادِيثِ حَالَ كَوْنِهَا بِحَسَبِ الْمَعْنَى وَاحِدٌ، وَفِي نُسْخَةٍ بِحَذْفِ الْوَاوِ صِفَةٌ لِمَفْعُولِ حَدَّثَنَا ; أَيِ الْأَحَادِيثُ الْمَعْنَى فِيهَا وَاحِدٌ، انْتَهَى. وَتَوْضِيحُهُ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ إِلَى آخِرِهِ الْأَحَادِيثَ الْمَعْنَى فِيهَا وَاحِدٌ، قَالَ الْعِصَامُ: أَيْ حَدَّثَنَا بِعِبَارَاتٍ مُخْتَلِفَةٍ وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ، وَنَبَّهَ عَلَى أَنَّ اللَّفْظَ الْمَرْوِيَّ لَا يُعْلَمُ أَنَّهُ لَفْظُ عَلِيٍّ بِعَيْنِهِ وَهُنَا بَحْثٌ هُوَ مِنْ أَسْرَارِ الْمَبَاحِثِ وَهُوَ أَنَّ الِاتِّحَادَ فِي اللَّفْظِ لَيْسَ عِبَارَةً عَنْ أَنْ لَا تَخْتَلِفَ الْعِبَارَةُ بَلْ أَنْ لَا يَخْتَلِفَ اللَّفْظَانِ فِي الصِّيغَةِ لِحُكْمٍ وَاحِدٍ وَالِاتِّحَادُ فِي الْمَعْنَى أَنْ يَكُونَ كُلٌّ مِنْهُمَا مَسُوقًا لِمَعْنًى وَيَلْزَمُ مَا سِيقَ لَهُ أَحَدُهُمَا مِنَ الْآخَرِ فَإِنَّهُمْ فِي الْفَرْقِ بَيْنَ الشَّاهِدِ وَالتَّابِعِ قَدْ ذَكَرُوا أَنَّ الشَّاهِدَ حَدِيثٌ بِمَعْنَى حَدِيثٍ وَالتَّابِعُ مَا يَكُونُ بِلَفْظِهِ، وَذَكَرُوا فِي أَمْثَالِ الْمُتَابَعَةِ قَوْلَهُ عليه الصلاة والسلام: «أَلَا نَزَعْتُمْ جِلْدَهَا فَدَبَغْتُمُوهُ فَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهِ» ، وَجَعَلُوهُ مُتَابِعًا لِقَوْلِهِ: «لَوْ أَخَذُوا إِهَابَهَا فَدَبَغُوهُ فَاسْتَمْتَعُوا بِهِ» ، وَذَكَرُوا شَاهِدًا لَهُ قَوْلَهُ: «أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ» فَأَحْسِنِ التَّأَمُّلَ لَوْ بَلَغْتَ حَقِيقَةَ التَّحْقِيقِ بِمَعُونَةِ التَّوْفِيقِ. (قَالُوا) : هُوَ اسْتِئْنَافُ بَيَانٍ لِحَدَّثَنَا الْأَوَّلِ أَيْ «حَدَّثَنَا أَحْمَدُ وَعَلِيٌّ وَمُحَمَّدٌ» ، وَمَعْنَى كَلَامِهِمْ وَاحِدٌ حَيْثُ قَالُوا أَيْ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ. (حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ) : ثِقَةٌ مَأْمُونٌ، أَخْرَجَ حَدِيثَهُ الْأَئِمَّةُ السِّتَّةُ، رَأَى جَدَّهُ أَبَا إِسْحَاقَ السَّبِيعِيَّ وَسَمِعَ مِنْهُ، وَرَوَى عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالْأَوْزَاعِيِّ وَغَيْرِهِمَا، وَعَنْهُ أَبُوهُ يُونُسُ وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ وَجَمَاعَةٌ، سَكَنَ الشَّامَ، وَيُقَالُ لَمَّا حَجَّ الرَّشِيدُ دَخَلَ الْكُوفَةَ أَمَرَ أَبَا يُوسُفَ أَنْ يَأْمُرَ الْمُحَدِّثِينَ بِمُلَاقَاتِهِ فَأَطَاعُوهُ إِلَّا اثْنَيْنِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ إِدْرِيسَ وَعِيسَى بْنَ يُونُسَ، فَأَرْسَلَ وَلَدَيْهِ الْمَأْمُونَ وَالْأَمِينَ أَنْ يَرُوحَا إِلَيْهِ وَيَقْرَأَا بِالْحَدِيثِ عَلَيْهِ فَفَعَلَا، فَأَمَرَ لَهُ بِعَشَرَةِ آلَافِ دِرْهَمٍ فَامْتَنَعَ، فَظَنُّوا أَنَّهُ اسْتَقَلَّهَا فَضُوعِفَتْ لَهُ فَقَالَ: إِنْ مَلَأْتُمُ الْمَسْجِدَ إِلَى السَّقْفِ ذَهَبًا لَمْ آخُذْ شَيْئًا عَلَى الْحَدِيثِ. كَانَ عَلَمًا فِي الْعِلْمِ وَالْعَمَلِ، كَانَ يَغْزُو سَنَةً وَيَحُجُّ سَنَةً قِيلَ، حَجَّ خَمْسًا وَأَرْبَعِينَ حَجَّةً وَغَزَا خَمْسًا
পরিভাষা অনুযায়ী 'মিছল' (তদ্রূপ) শব্দটি তখন ব্যবহৃত হয় যখন দুটি হাদিসের শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রে মিল থাকে। আর 'নাহউ' (অনুরূপ) শব্দটি তখন ব্যবহৃত হয় যখন শুধুমাত্র অর্থের ক্ষেত্রে মিল থাকে। এটিই তাঁদের নিকট প্রসিদ্ধ মত। অবশ্য কখনো একটিকে অপরটির স্থলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই হিসেবে তাঁর বক্তব্য 'অনুরূপ অর্থে' এর দ্বারা এমন উদ্দেশ্য নয় যে, এই স্থানে 'নাহউ' শব্দটি রূপকভাবে শব্দের পরিবর্তে কেবল অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। সমাপ্ত। ইসাম বলেন: 'নাহউহু' শব্দটি দ্বিতীয় অথবা প্রথম 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন)-এর মাফউল (কর্মপদ), আর শেষোক্তটির মাফউল উহ্য রয়েছে। বসরার ব্যাকরণবিদদের নিকট প্রথমটিই অগ্রগণ্য। আপনি যদি বলেন: এটি প্রমাণিত যে সুফিয়ান পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (সাকিতুল হাদিস), তাহলে একটি উচ্চতর সনদের পর তাঁর সনদে কেন হাদিসটি উল্লেখ করা হলো? আমি বলব: তিনি শেষ বয়সে পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী হয়েছিলেন। আর যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গৃহীত হয় না, তাকে অনেক সময় মুতাবাআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) এবং শাহিদ (সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এখানে তিনি ইমাম বুখারীর হাদিসকে শাহিদ দ্বারা শক্তিশালী করতে চেয়েছেন। শাহিদ হলো সেই বর্ণনা যা এই সনদে বর্ণিত হাদিসের অর্থের সাথে মিল রাখে। আর মুতাবি' হলো সেই বর্ণনা যা শব্দের মিলের মাধ্যমে সমর্থন দেয় কিন্তু সনদ ভিন্ন হয়, তবে শর্ত হলো সনদের কোনো স্তরে মিল থাকতে হবে। যদি বর্ণনাকারীর উস্তাদের স্তরে মিল থাকে তবে সেটি 'মুতাবাআতে তাম্মাহ' (পূর্ণ সমর্থন), অন্যথায় তা 'নাকিসাহ' (অপূর্ণ সমর্থন)। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা 'শরহু মুখবাতিল ফিকার'-এ রয়েছে।
(আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদাহ): আইন বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং বা বর্ণে সুকুন (জযম) সহযোগে। (আদ-দাব্বি): দদ বর্ণে ফাতহা এবং বা বর্ণে তাশদিদ সহযোগে; আরবের বনু দাব্বাহ গোত্রের সাথে সম্পর্কিত যারা বসরার অধিবাসী। একারণেই তিনি বলেছেন: (আল-বাসরি): যা বা বর্ণে ফাতহা অথবা কাসরা (যের) সহযোগে পঠিত হয়। বলা হয়েছে যে, 'দাব্বি' বলার মাধ্যমে 'উবুল্লি' থেকে পৃথক করা হয়েছে এবং তিনি উবুল্লি অপেক্ষা অধিক নির্ভরযোগ্য। কেননা দাব্বি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তবে তাঁর বিরুদ্ধে 'নসব' (খারেজি মতাদর্শের প্রতি ঝোঁক) এর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা উবুল্লির ক্ষেত্রে ছিল না। তাঁর মধ্যে ভ্রান্ত মাযহাবের প্রভাবও ছিল। জনৈক ব্যাখ্যাকার বলেন: তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ এবং আরও অনেক থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইমাম বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম ও নাসাঈ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। (এবং আলী ইবনে হুজর): হা বর্ণে দম্মা (পেশ) এবং জীম বর্ণে সুকুন সহযোগে। তিনি নির্ভরযোগ্য এবং হাফেজ। ইমাম বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী এবং নাসাঈ তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। জনৈক ব্যাখ্যাকার বলেন: তিনি হলেন আলী ইবনে হুজর ইবনে ইয়াস ইবনে মুকাতিল ইবনে মুখাদিশ আস-সা’দী আল-মারওয়াযী। তিনি হাদিসের ইমামদের অন্যতম ছিলেন এবং অনেক হাদিস বিশারদ থেকে শ্রবণ করেছেন। (এবং আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, আর তিনি): অর্থাৎ মীরাক এবং হানাফীর বর্ণনা অনুযায়ী এখানে 'তিনি' বলতে হুসাইনকে বোঝানো হয়েছে। ইসাম বলেন: এটি মুহাম্মদের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, কারণ যদি তা হুসাইনের দিকে হতো তবে বলা হতো 'হুসাইন ইবনে আবি হালীমাহ'। তবে এই কিতাবের দুটি শরহে (ব্যাখ্যাগ্রন্থে) বর্ণিত হয়েছে যে সর্বনামটি হুসাইনের দিকে ফিরেছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি ভুল। কারণ এই দুটি শরহের একটিতে বর্ণনাকারীদের নামের বর্ণনায় 'মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আবু জাফর ইবনে আবি হালীমাহ' উল্লেখ করা হয়েছে। সমাপ্ত। এখানে একটি সূক্ষ্ম আলোচনা রয়েছে, কারণ হতে পারে এটি গ্রন্থকারের নিজস্ব বক্তব্য যা তিনি অস্পষ্ট অংশ স্পষ্ট করার জন্য বলেছেন অথবা তাঁর কোনো ছাত্রের কথা যা তাঁর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করার জন্য যুক্ত করা হয়েছে। সকল মতেই এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (ইবনে আবি হালীমাহ): হা বর্ণে ফাতহা এবং লাম বর্ণে কাসরা সহযোগে। তিনি 'মাকবুল' (গ্রহণযোগ্য)। ইমাম তিরমিযী তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। সম্ভবত তিনি অধিক প্রসিদ্ধ না হওয়ার কারণে তাঁকে স্পষ্টভাবে চেনার জন্য এতোটা বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। (এবং অর্থ এক): সংশোধিত কপিগুলোতে 'ওয়াও' সহযোগে এটি ফায়েল (কর্তা) থেকে 'হাল' (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। অর্থাৎ তারা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন এমতাবস্থায় যে তাদের হাদিসগুলোর অর্থ এক। মীরাক বলেন: অর্থাৎ তাঁদের বর্ণিত হাদিসগুলো ভিন্ন শব্দে এসেছে কিন্তু সবগুলোর অর্থ
এক। কোনো কোনো কপিতে 'ওয়াও' ছাড়া 'আল-মানু ওয়াহিদুন' রয়েছে, যা 'ফায়েল' থেকে 'হাল' হিসেবে গণ্য। ইবনে হাজার বলেন: এটি ফায়েল বা মাফউল থেকে হালিয়া জুমলা (অবস্থা জ্ঞাপক বাক্য); অর্থাৎ এমতাবস্থায় যে তাঁদের হাদিসের অর্থ এক অথবা হাদিসগুলো অর্থের দিক থেকে এক। এক কপিতে 'ওয়াও' বাদ দিয়ে এটি 'হাদ্দাসানা'-এর মাফউলের সিফাত বা গুণ হিসেবে এসেছে; অর্থাৎ এমন হাদিসসমূহ যার অর্থ এক। সমাপ্ত। ইসাম বলেন: অর্থাৎ তারা আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন কিন্তু অর্থ এক। তিনি এই দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, বর্ণিত শব্দগুলো আলী (রা.)-এর কি না তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। এখানে একটি সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে: শব্দের অভিন্নতা মানে এই নয় যে বক্তব্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না, বরং এর অর্থ হলো একই বিধানের ক্ষেত্রে শব্দদ্বয়ের গঠনগত পার্থক্য না থাকা। আর অর্থের অভিন্নতা হলো উভয়টি একই লক্ষ্য বা অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া এবং একটি থেকে অপরটি অপরিহার্য হওয়া। শাহিদ ও তাবিকের পার্থক্যের ক্ষেত্রে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, শাহিদ হলো সেই হাদিস যা অন্য হাদিসের অর্থের সাথে মিল রাখে, আর তাবি' হলো যা শব্দের সাথে মিল রাখে। মুতাবাআতের উদাহরণ হিসেবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: "তোমরা কেন এর চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে তা প্রক্রিয়াজাত (দাবাগাত) করলে না, তাহলে তোমরা তা ব্যবহার করতে পারতে।" তাঁরা এটিকে এই বাণীর মুতাবি' সাব্যস্ত করেছেন: "যদি তারা এর চামড়া নিত এবং তা প্রক্রিয়াজাত করত তবে তা ব্যবহার করতে পারত।" আর এর শাহিদ হিসেবে তাঁরা এই বাণীটি উল্লেখ করেছেন: "যে কোনো চামড়া যখন প্রক্রিয়াজাত করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" সুতরাং আল্লাহর তৌফিক ও সঠিক গবেষণার মাধ্যমে সত্যে পৌঁছাতে চাইলে গভীরভাবে চিন্তা করুন। (তাঁরা বলেছেন): এটি প্রথম 'হাদ্দাসানা'-এর স্পষ্টীকরণ; অর্থাৎ 'আহমদ, আলী এবং মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন'। তাঁদের বক্তব্যের সারমর্ম এক যে তাঁরা বলেছেন, অর্থাৎ তাঁদের প্রত্যেকেই বলেছেন। (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস): তিনি নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার। ছয়জন ইমামই তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর দাদা আবু ইসহাক আস-সাবিঈকে দেখেছেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি মালিক ইবনে আনাস, আওযাঈ এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর পিতা ইউনুস, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি এবং এক জামাত বর্ণনা করেছেন। তিনি সিরিয়ায় বসবাস করতেন। বলা হয় যে, যখন হারুনুর রশীদ হজ্জে গিয়ে কুফায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি আবু ইউসুফকে আদেশ দিলেন যাতে মুহাদ্দিসগণ খলিফার সাথে সাক্ষাত করেন। দুইজন ব্যতীত সবাই তাঁর আনুগত্য করলেন; তাঁরা হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীস এবং ঈসা ইবনে ইউনুস। অতঃপর খলিফা তাঁর দুই পুত্র মামুন ও আমীনকে তাঁর নিকট পাঠালেন যাতে তারা সেখানে যায় এবং তাঁর কাছে হাদিস পাঠ করে। তারা তাই করল। এরপর খলিফা তাঁকে দশ হাজার দিরহাম দেওয়ার নির্দেশ দিলেন কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। তারা মনে করল হয়তো তিনি একে কম মনে করেছেন, তাই তা দ্বিগুণ করে দেওয়া হলো। তখন তিনি বললেন: "যদি আপনারা পুরো মসজিদ ছাদ পর্যন্ত স্বর্ণ দিয়ে পূর্ণ করে দেন, তবুও আমি হাদিসের বিনিময়ে কিছুই নেব না।" তিনি ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে এক অনন্য আদর্শ ছিলেন। তিনি এক বছর যুদ্ধ করতেন এবং এক বছর হজ্জ করতেন। বলা হয় যে, তিনি পয়তাল্লিশবার হজ্জ করেছেন এবং পাঁচবার যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَأَرْبَعِينَ غَزْوَةً. (عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ) : كَثِيرُ الْإِرْسَالِ أَخْرَجَ حَدِيثَهُ التِّرْمِذِيُّ وَغَيْرُهُ، يُقَالُ أَدْرَكَ ابْنَ عَبَّاسٍ وَسَمِعَ الْحَدِيثَ مِنْ أَنَسٍ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَضَعَّفَهُ النَّسَائِيُّ. (مَوْلَى غُفْرَةَ) : بِضَمِّ الْمُعْجَمَةِ وَسُكُونِ الْفَاءِ بَعْدَهَا رَاءٌ فَهَاءٌ. (قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ) : صَدُوقٌ، رَوَى عَنْهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ. (مِنْ وَلَدِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ) : صِفَةٌ لِإِبْرَاهِيمَ، وَهَذَا بِالْمَقَامِ أَنْسَبُ اهْتِمَامًا بِحَالِ الرَّاوِي، قَالَ الْجَوْهَرِيُّ: الْوَلَدُ بِفَتْحَتَيْنِ قَدْ يَكُونُ مُفْرَدًا وَجَمْعًا، وَكَذَلِكَ الْوُلْدُ بِضَمِّ أَوَّلِهِ وَسُكُونِ ثَانِيهِ، وَقَدْ يَكُونُ الثَّانِي جَمْعًا لِلْأَوَّلِ مِثْلَ أَسَدٍ وَأُسْدٍ، وَالْوِلْدُ بِالْكَسْرِ لُغَةٌ فِي الْوَلَدِ، وَقَالَ مِيرَكُ: الرِّوَايَةُ بِالْوَاوِ وَاللَّامِ الْمَفْتُوحَتَيْنِ، قَالَ الْعِصَامُ: وَمِنْ تَبْعِيضِيَّةٌ أَوْ بَيَانِيَّةٌ وَالْجُمْلَةُ لِبَيَانِ مُحَمَّدٍ كَمَا هُوَ الظَّاهِرُ مِنَ الْوَلَدِ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ، يَعْنِي بِهِ مُحَمَّدَ بْنَ الْحَنَفِيَّةِ الْمُكَنَّى بِأَبِي الْقَاسِمِ الْمُشْتَهِرَ بِالْعِلْمِ وَالشَّجَاعَةِ وَالْعِبَادَةِ، وَهُوَ أَفْضَلُ أَوْلَادِ عَلِيٍّ بَعْدَ السِّبْطَيْنِ، انْتَهَى. وَالْحَاصِلُ أَنَّهُ جُمْلَةٌ مُعْتَرِضَةٌ لِبَيَانِ تَعْيِينِ مُحَمَّدٍ وَقِيلَ (مِنْ وَلَدِ) حَالٌ
مِنْ إِبْرَاهِيمَ لَكِنْ لَا حُسْنَ فِي تَقْيِيدِ الْعَامِلِ، قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَالْحَنَفِيَّةُ أُمُّهُ حَصَلَتْ لِعَلِيٍّ مِنْ سَبْيِ بَنِي حَنِيفَةَ، قِيلَ مِنْ سَخَافَةِ عُقُولِ طَائِفَةٍ مِنَ الرَّافِضَةِ أَنَّهُمْ يَعْتَقِدُونَ فِي مُحَمَّدٍ هَذَا الْأُلُوهِيَّةَ مَعَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ هُوَ الْمُعْطِي عَلِيًّا أُمَّهُ فَلَوْلَا إِعْطَاؤُهُ لَهُ لِحَقِيَّةِ كَوْنِهِ الْإِمَامَ الْأَعْظَمَ لَكَانَ إِلَهَهُمْ دَعِيًّا، ثُمَّ أَغْرَبَ الْعِصَامُ فِي هَذَا الْمَقَامِ أَيْضًا حَيْثُ قَالَ: الْأَوْلَى أَنْ يَقُولَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ وَسَبَقَ تَحْقِيقُ الْمَرَامِ. (قَالَ كَانَ عَلِيٌّ) : قَالَ مِيرَكُ: فِيهِ انْقِطَاعٌ لِأَنَّ إِبْرَاهِيمَ هَذَا لَمْ يَسْمَعْ مِنْ جِدِّهِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيٍّ، وَلِذَا قَالَ الْمُؤَلِّفُ فِي جَامِعِهِ بَعْدَ إِيرَادِ هَذَا الْحَدِيثِ بِهَذَا الْإِسْنَادِ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ. (إِذَا وَصَفَ رَسُولَ اللَّهِ) : وَفِي نُسْخَةٍ (النَّبِيَّ) . صلى الله عليه وسلم قَالَ:) : أَيْ عَلِيٌّ. (لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالطَّوِيلِ الْمُمَّغِطِ) : قَالَ مِيرَكُ: بِتَشْدِيدِ الْمِيمِ الثَّانِيَةِ بَالِغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ الْمَكْسُورَةِ بَعْدَهَا طَاءٌ مُهْمَلَةٌ اسْمُ فَاعِلٍ مِنَ الِانْمِغَاطِ مِنْ بَابِ الِانْفِعَالِ أَيِ الْمُتَنَاهِي فِي الطُّولِ، مِنْ قَوْلِهِمْ: امَّغَطَ النَّهَارُ إِذَا امْتَدَّ، وَأَصُلُهُ مُنْمَغِطٌ وَالنُّونُ لِلْمُطَاوَعَةِ فَقُلِبَتْ مِيمًا وَأُدْغِمَتْ فِي الْمِيمِ هَذَا هُوَ الصَّوَابُ فِي تَصْحِيحِ هَذَا اللَّفْظِ، قَالَ ابْنُ الْأَثِيرِ فِي جَامِعِ الْأُصُولِ: هُوَ بِتَشْدِيدِ الْمِيمِ، وَبَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ يَقُولُونَهُ بِتَشْدِيدِ الْغَيْنِ وَلَيْسَ بِشَيْءٍ وَكَذَا النِّهَايَةُ أَيْضًا بِتَشْدِيدِ الْمِيمِ، قَالَ: وَيُقَالُ بِالْعَيْنِ الْمُهْمَلَةِ وَهُوَ بِمَعْنَاهُ وَصَحَّحَهُ الْجَوْهَرِيُّ بِضَمِّ الْمِيمِ الْأُولَى وَفَتْحِ الثَّانِيَةِ وَتَشْدِيدِ الْعَيْنِ الْمُعْجَمَةِ الْمَفْتُوحَةِ، وَهُوَ اسْمُ مَفْعُولٍ مِنَ التَّفْعِيلِ، وَاخْتَارَ الشَّيْخُ الْجَزَرِيُّ فِي تَصْحِيحِ الْمَصَابِيحِ قَوْلَهُ: وَأَغْرَبَ شَارِحُ الْمَصَابِيحِ الْمَعْرُوفُ بِزَيْنِ الْعَرَبِ فَقَالَ: هُوَ اسْمُ مَفْعُولٍ بِتَشْدِيدِ الْمِيمِ بِالْغَيْنِ الْمُعْجَمَةِ وَلَمْ أَرَهُ لِغَيْرِهِ. (وَلَا بِالْقَصِيرِ الْمُتَرَدِّدِ) : أَيِ الْمُتَنَاهِي فِي الْقِصَرِ كَأَنَّهُ رُدَّ بَعْضُ خَلْقِهِ عَلَى بَعْضٍ وَتَدَاخَلَتْ أَجْزَاؤُهُ كَذَا فِي النِّهَايَةِ. (وَكَانَ رَبْعَةً مِنَ الْقَوْمِ) : عُطِفَ عَلَى قَوْلِهِ لَمْ يَكُنْ بِالطَّوِيلِ، وَفِي كَثِيرٍ مِنَ النُّسَخِ كَانَ بِدُونِ الْوَاوِ وَعَلَى التَّقْدِيرَيْنِ فَهُوَ كَالْمُبَيِّنِ أَوِ الْمُؤَكِّدِ لِمَا قَبْلَهُ، وَيَنْبَغِي
এবং চল্লিশটি যুদ্ধ। (উমর বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত): তিনি অধিক পরিমাণে ইরসাল (মুরসাল বর্ণনা) করতেন। ইমাম তিরমিজি এবং অন্যান্যরা তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। বলা হয় যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে পেয়েছেন এবং আনাস ও সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে হাদিস শুনেছেন। ইমাম নাসায়ী তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। (মাওলা গুফরাহ): গাইন বর্ণে পেশ এবং ফা বর্ণে সুকুন, এরপর রা এবং তারপর হা। (তিনি বলেন: ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন): তিনি সত্যবাদী, ইমাম তিরমিজি, নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। (আলী বিন আবি তালিবের বংশধর থেকে): এটি ইবরাহিমের বিশেষণ। বর্ণনাকারীর অবস্থার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের কারণে এই স্থানে এটিই অধিক উপযুক্ত। জাওহারি বলেন: 'ওয়ালাদ' (দুই জবর বিশিষ্ট) শব্দটি একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে। তেমনিভাবে 'উলদ' (প্রথম বর্ণে পেশ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন) একই রূপ। আবার দ্বিতীয়টি প্রথমটির বহুবচনও হতে পারে, যেমন 'আসাদ' ও 'উসুদ' শব্দদ্বয়। আর 'উইলাদ' (জের বিশিষ্ট) হলো 'ওয়ালাদ' শব্দেরই একটি উপভাষা। মীরাক বলেন: রেওয়ায়েতটি ওয়াও এবং লাম উভয়ই জবর বিশিষ্ট। ইসাম বলেন: এখানে 'মিন' অব্যয়টি আংশিকত্ব অথবা বর্ণনামূলক অর্থে এসেছে। এই বাক্যটি মুহাম্মদের পরিচয়ের জন্য, যেমনটি 'ওয়ালাদ' শব্দ থেকে সরাসরি প্রতীয়মান হয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ, যাঁর উপনাম আবুল কাসিম এবং যিনি জ্ঞান, বীরত্ব ও ইবাদতের জন্য সুপ্রসিদ্ধ। তিনি হাসনাইন (হাসান ও হুসাইন)-এর পর আলীর সন্তানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। (সমাপ্ত)। সারকথা হলো, এটি মুহাম্মদের পরিচয় সুনির্দিষ্ট করার জন্য একটি মধ্যবর্তী বাক্য। কেউ কেউ বলেছেন, (বংশধর থেকে) অংশটি ইবরাহিম থেকে 'হাল' হিসেবে এসেছে
কিন্তু ক্রিয়ার অর্থকে সীমাবদ্ধ করার মধ্যে কোনো বিশেষ সৌন্দর্য নেই। ইবনে হাজার বলেন: আল-হানাফিয়্যাহ ছিলেন তাঁর মা, যাকে আলী বনু হানিফা গোত্রের যুদ্ধবন্দীদের মধ্য থেকে লাভ করেছিলেন। বলা হয় যে, রাফেজিদের একটি দলের বুদ্ধিহীনতার কারণে তারা এই মুহাম্মদের ক্ষেত্রে খোদায়ি গুণাবলি বা ঐশ্বরিকতা আরোপ করে, অথচ আবু বকরই আলীকে তাঁর মা দান করেছিলেন। যদি আবু বকরের দান করা এবং তাঁর প্রকৃত ইমাম (খলিফা) হওয়ার বিষয়টি না থাকত, তবে তাদের ইলাহ অবৈধ বা ভিত্তিহীন সাব্যস্ত হতো। এরপর ইসাম এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিস্ময়কর কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন: এখানে 'আমিরুল মুমিনীন' বলা অধিকতর শ্রেয় ছিল। আর উদ্দিষ্ট বিষয়ের অনুসন্ধান পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। (তিনি বলেন, আলী ছিলেন): মীরাক বলেন: এতে বর্ণনাসূত্রে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, কারণ এই ইবরাহিম তাঁর দাদা আমিরুল মুমিনীন আলী থেকে হাদিস শোনেননি। একারণেই গ্রন্থকার তাঁর 'জামি' গ্রন্থে এই সনদে হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেছেন যে, এর সনদটি নিরবচ্ছিন্ন নয়। (যখন তিনি রাসূলুল্লাহর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতেন): একটি পাণ্ডুলিপিতে (নবী) শব্দটি রয়েছে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। (তিনি বললেন): অর্থাৎ আলী। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক দীর্ঘকায় ছিলেন না): মীরাক বলেন: দ্বিতীয় মিম বর্ণে তাশদিদ এবং গাইন বর্ণে জের ও পরবর্তী ত-সহ এটি 'ইনমিগাত' থেকে ইসমে ফায়েল, যা 'ইনফিআল' অনুচ্ছেদ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো দৈর্ঘ্যের চরম সীমা। এটি আরবদের উক্তি 'দিনটি প্রসারিত হয়েছে' থেকে গৃহীত। এর মূল রূপ ছিল 'মুনমাগিত', এখানে 'নুন' বর্ণটি 'মিম'-এ রূপান্তরিত হয়ে পরবর্তী মিমের সাথে সন্ধি বা ইদগাম হয়েছে। এই শব্দটির শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে এটিই সঠিক মত। ইবনুল আসির 'জামি উল উসুল' গ্রন্থে বলেন: এটি মিম বর্ণে তাশদিদ সহকারে। কোনো কোনো মুহাদ্দিস গাইন বর্ণে তাশদিদ দিয়ে উচ্চারণ করেন, যা সঠিক নয়। 'নিহায়াহ' গ্রন্থেও মিম বর্ণে তাশদিদ সহকারেই এসেছে। তিনি আরও বলেন: এটি আইন (মুহমালাহ) বর্ণ দিয়েও উচ্চারিত হয় এবং উভয়টি একই অর্থ প্রদান করে। জাওহারি একে প্রথম মিমে পেশ, দ্বিতীয় মিমে জবর এবং গাইন বর্ণে জবর ও তাশদিদ দিয়ে শুদ্ধ বলেছেন, যা 'তাফঈল' অনুচ্ছেদ থেকে ইসমে মাফউল। শেখ জাযারি 'তাসহিহুল মাসাবিহ' গ্রন্থে তাঁর এই অভিমতটিকেই গ্রহণ করেছেন। 'মাসাবিহ'-এর ব্যাখ্যাকার জয়নুল আরব একটি বিরল মত ব্যক্ত করেছেন যে, এটি মিম বর্ণে তাশদিদ এবং গাইন বর্ণসহ ইসমে মাফউল, যা তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে বলতে দেখিনি। (এবং তিনি অতিশয় খর্বকায়ও ছিলেন না): অর্থাৎ খাটো হওয়ার চরম সীমা, যেন তাঁর শরীরের এক অংশ অন্য অংশের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং অঙ্গসমূহ সংকুচিত হয়ে গেছে। 'নিহায়াহ' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। (এবং তিনি লোকদের মধ্যে মাঝারি গড়নের ছিলেন): এটি 'তিনি দীর্ঘকায় ছিলেন না' বাক্যের ওপর সংযুক্ত হয়েছে। অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এটি 'ওয়াও' (এবং) অব্যয় ছাড়াই এসেছে। উভয় বিচারেই এটি পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের ব্যাখ্যাকারী বা দৃঢ়তাপ্রদানকারী হিসেবে গণ্য। আর সমীচীন হলো...
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أَنْ يُرَادَ بِرَبْعَةٍ نَوْعًا مِنْهُ وَهُوَ الْمَائِلُ إِلَى الطُّولِ فَلَا يُنَافِي مَا وَرَدَ أَنَّهُ كَانَ أَطْوَلَ مِنَ الْمَرْبُوعِ. (لَمْ يَكُنْ بِالْجَعْدِ الْقَطِطِ) : بِكَسْرِ الطَّاءِ الْأُولَى وَيُفْتَحُ. (وَلَا بِالْسَّبِطِ) : بِكَسْرِ الْمُوَحَّدَةِ وَيُسَكَّنُ وَيُفْتَحُ وَسَبَقَ مَعْنَاهُمَا. . (كَانَ) : بِلَا وَاوٍ بَيَانٌ لِمَا قَبْلَهُ. (جَعْدًا رَجِلًا) : قَالَ الْعَسْقَلَانِيُّ: بِفَتْحِ الرَّاءِ وَكَسْرِ الْجِيمِ وَقَدْ يُضَمُّ وَقَدْ يُفْتَحُ وَقَدْ يُسَكَّنُ أَيْ فِيهِ تَكَسُّرٌ يَسِيرٌ فَكَانَ بَيْنَ السُّبُوطَةِ وَالْجُعُودَةِ. . . .
(لَمْ يَكُنْ بِالْمُطَهَّمِ وَلَا بِالْمُكَلْثَمِ) : قَالَ مِيرَكُ: الرِّوَايَةُ فِيهِمَا بِلَفْظِ اسْمِ الْمَفْعُولِ لَا غَيْرِ، الْأَوَّلُ مِنَ التَّطْهِيمِ وَالثَّانِي مِنَ الْكَلْثَمَةِ، انْتَهَى. وَقَالَ الْحَنَفِيُّ: وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ التَّكَلْثُمُ مِنَ الْمُتَكَلْثِمِ عَلَى وَزْنِ التَّفَعُّلِ، وَكَلَامُ الْمُصَنِّفِ فِي شَرْحِ غَرِيبِ الْحَدِيثِ يَدُلُّ عَلَى الْأَوَّلِ، انْتَهَى. وَمَعْنَى الْمُطَهَّمِ: الْمُنْتَفِخُ الْوَجْهِ الَّذِي فِيهِ جَهَامَةٌ أَيْ عُبُوسٌ مِنَ السِّمَنِ، وَقِيلَ النَّحِيفُ الْجِسْمِ وَهُوَ مِنَ الْأَضْدَادِ، وَالْمُكَلْثَمُ الْمُدَوَّرُ الْوَجْهِ، وَقَالَ الشَّارِحُ: التُّورِبِشْتِيُّ: لَمَّا كَانَ الْمُكَلْثَمُ الْمُسْتَدِيرُ بَيَّنَهُ بِقَوْلِهِ: (وَكَانَ فِي وَجْهِهِ تَدْوِيرٌ) : وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ: «فِي الْوَجْهِ» بَدَلَ «فِي وَجْهِهِ» ، وَأَمَّا جَعْلُ الْحَنَفِيِّ «فِي الْوَجْهِ» أَصْلًا، وَقَوْلُهُ فِي بَعْضِ النُّسَخِ «وَجْهَهُ» فَلَا وَجْهَ لَهُ لِمُخَالَفَتِهِ الْأُصُولَ ; أَيْ لَمْ يَكُنْ مُسْتَدِيرًا كُلَّ الِاسْتِدَارَةِ بَلْ كَانَ فِيهِ بَعْضُ ذَلِكَ وَيَكُونُ مَعْنَاهُ فِي وَجْهِهِ تَدْوِيرٌ مَا، وَيُعَبَّرُ عَنْهُ بِأَنَّهُ كَانَ فِيهِ سُهُولَةٌ وَهِيَ أَحْلَى عِنْدَ الْعَرَبِ، وَالسُّهُولَةُ ضِدُّ الْحُزُونَةِ وَهِيَ فِي الْأَصْلِ مَا غَلُظَ مِنَ الْأَرْضِ، وَالْحَاصِلُ أَنَّهُ كَانَ بَيْنَ الِاسْتِدَارَةِ وَالْإِسَالَةِ كَذَا قَالَهُ الْبَيْضَاوِيُّ وَأَبُو عُبَيْدٍ عَلَى مَا ذَكَرَهُ مِيرَكُ. (أَبْيَضُ) : أَيْ هُوَ أَبْيَضُ. (مُشْرَبٌ) : صِفَةُ أَبْيَضَ أَيْ مُشْرَبٌ حُمْرَةً كَمَا فِي رِوَايَةٍ وَهُوَ بِصِيغَةِ الْمَفْعُولِ مِنَ الْإِفْعَالِ، وَفِي نُسْخَةٍ بِالتَّشْدِيدِ، وَالْإِشْرَابُ خَلْطُ لَوْنٍ بِلَوْنٍ كَأَنَّ أَحَدَ اللَّوْنَيْنِ سَقَى اللَّوْنَ الْآخَرَ، يُقَالُ بَيَاضٌ مَشْرَبٌ حُمْرَةً بِالتَّخْفِيفِ فَإِذَا شُدِّدَ كَانَ لِلتَّكْثِيرِ وَالْمُبَالَغَةِ فَعَلَى هَذَا الْبَيَاضُ الْمُثْبَتُ هُنَا مَا يُخَالِطُهُ الْحُمْرَةُ وَالْبَيَاضُ الْمَنْفِيُّ فِيمَا سَبَقَ مَا لَا يُخَالِطُهُ الْحُمْرَةُ. (أَدْعَجُ الْعَيْنَيْنِ) : أَيْ شَدِيدُ سَوَادِ حَدَقَتِهِمَا كَمَا فِي رِوَايَةٍ عَنْ عَلِيٍّ أَيْضًا: «كَانَ أَسْوَدَ الْحَدَقَةِ» لَكِنْ قُيِّدَ مَعَ سِعَةِ الْعَيْنِ وَشِدَّةِ بَيَاضِهَا. (أَهْدَبَ الْأَشْفَارِ) : بِفَتْحِ الْهَمْزَةِ جَمْعُ شُفْرٍ بِضَمِّ أَوَّلِهِ وَقَدْ يُفْتَحُ وَهُوَ حَرْفُ جَفْنِ الْعَيْنِ الَّذِي يَنْبُتُ عَلَيْهِ الشَّعْرُ، وَيُقَالُ لَهُ: الْهُدْبُ بِضَمِّ الْهَاءِ وَسُكُونِ الْمُهْمَلَةِ بَعْدَهُ مُوَحَّدَةٌ، فَفِي الْقَامُوسِ هَدِبَ الْعَيْنُ كَفَرِحَ طَالَ أَهْدَابُهَا أَيْ أَشْفَارُهَا، وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْأَهْدَبَ هُوَ
الَّذِي شَعْرُ أَجْفَانِهِ كَثِيرٌ مُسْتَطِيلٌ. (جَلِيلُ الْمُشَاشِ) : بِضَمِّ الْمِيمِ وَتَخْفِيفِ الشِّينِ ; أَيْ عَظِيمُ رُءُوسِ الْعِظَامِ كَالْمِرْفِقَيْنِ وَالْكَتِفَيْنِ وَالرُّكْبَتَيْنِ. (وَالْكَتَدِ) :
'রাবআ' (মধ্যমাকৃতি) দ্বারা এমন এক প্রকার উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব যা দীর্ঘাকৃতির দিকে ঝুঁকে থাকে, তাই এটি এমন বর্ণনার পরিপন্থী নয় যে তিনি মধ্যমাকৃতির চেয়ে দীর্ঘ ছিলেন। (তিনি অতিরিক্ত কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী ছিলেন না): এখানে প্রথম 'ত' বর্ণটি যেরযুক্ত হবে, তবে জবরও হতে পারে। (এবং একেবারে সোজা চুলেরও ছিলেন না): এখানে 'বা' বর্ণটি যেরযুক্ত হবে, তবে এটি সাকিন বা জবরও হতে পারে; এ দুটির অর্থ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (তিনি ছিলেন): এখানে 'ওয়াও' ব্যতিরেকে শব্দটি পূর্ববর্তী বিষয়ের বর্ণনা স্বরূপ। (ঈষৎ কোঁকড়ানো ও ঢেউখেলানো): আসকালানি বলেন: এটি 'রা' বর্ণে জবর ও 'জীম' বর্ণে যের যোগে হবে, তবে এটি পেশ, জবর বা সাকিনযুক্তও হতে পারে। অর্থাৎ এতে সামান্য ঢেউ ছিল, ফলে তা ছিল একেবারে সোজা ও অতিরিক্ত কোঁকড়ানোর মাঝামাঝি।
(তিনি অত্যন্ত স্থূলকায় বা ভারি মুখমন্ডল বিশিষ্ট ছিলেন না এবং গোলাকার মুখমন্ডল বিশিষ্টও ছিলেন না): মীরক বলেন: এই শব্দ দুটির বর্ণনা শুধুমাত্র ইসম মাফউল-এর শব্দে বর্ণিত হয়েছে। প্রথমটি 'তাতহীম' থেকে এবং দ্বিতীয়টি 'কালসামাহ' থেকে নির্গত। ইতি। হানাফি বলেন: কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে এটি 'তাফাউল'-এর ওজনে 'তাকালসুম' থেকে 'মুতাকালসিম' হিসেবে এসেছে। তবে 'গারীবুল হাদিস'-এর ব্যাখ্যায় গ্রন্থকারের বক্তব্য প্রথমটির দিকেই নির্দেশ করে। ইতি। 'মুতাহহাম' এর অর্থ: ফোলা মুখমন্ডল যাতে স্থূলতার কারণে রুক্ষতা বা কঠোরতা প্রকাশ পায়। আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ কৃশকায় শরীর; সুতরাং এটি বিপরীতার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত। আর 'মুকালসাম' হলো গোলাকার মুখমন্ডল বিশিষ্ট। ব্যাখ্যাকার তূরিবিশতী বলেন: যেহেতু 'মুকালসাম' মানে গোলাকার, তাই তিনি এর স্পষ্টীকরণ করেছেন এই কথা দ্বারা: (এবং তাঁর চেহারা মুবারকে গোলাকার ভাব ছিল)। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'তাঁর চেহারায়' পদের পরিবর্তে 'চেহারায়' শব্দটি বর্ণিত হয়েছে। হানাফির 'চেহারায়' শব্দটিকে মূল ধরা এবং কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'তাঁর চেহারা' থাকার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক; কেননা এটি মূলনীতির পরিপন্থী। অর্থাৎ তাঁর চেহারাটি একেবারে গোলাকার ছিল না, বরং তাতে গোলাকার ভাবের কিছু আভা ছিল। এর অর্থ হলো তাঁর মুখমণ্ডলে কিছুটা গোলাকার ভাব ছিল। একে এভাবেও ব্যক্ত করা হয় যে, তাঁর চেহারায় নম্রতা বা কমনীয়তা ছিল, যা আরবদের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়। কমনীয়তা হলো রুক্ষতার বিপরীত, যা মূলত শক্ত ভূমির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সারকথা হলো, তাঁর চেহারা গোলাকার ও লম্বাটে অবয়বের মাঝামাঝি ছিল। মীরকের বর্ণনামতে বাইযাভি এবং আবু উবাইদ এমনই বলেছেন। (শ্বেতবর্ণ): অর্থাৎ তিনি ছিলেন শ্বেতবর্ণের। (রক্তিম মিশ্রিত): এটি শ্বেতবর্ণের গুণবাচক শব্দ, অর্থাৎ লালিমা মিশ্রিত শ্বেতবর্ণ, যেমনটি এক বর্ণনায় এসেছে। এটি ইসম মাফউল-এর শব্দ। একটি পাণ্ডুলিপিতে তাশদীদসহ বর্ণিত হয়েছে। 'ইশরাব' মানে হলো এক রঙের সাথে অন্য রঙের মিশ্রণ, যেন এক রঙ অন্য রঙকে পান করিয়েছে। হালকা উচ্চারণে লালিমা মিশ্রিত শুভ্রতা বলা হয়, আর যদি তাশদীদসহ বলা হয় তবে তা আধিক্য ও অতিশয়তা বুঝাবে। সুতরাং এখানে যে শ্বেতবর্ণের কথা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা হলো লালিমা মিশ্রিত শ্বেতবর্ণ, আর পূর্বে যে শ্বেতবর্ণকে নাকচ করা হয়েছিল তা হলো লালিমা বিহীন শ্বেতবর্ণ। (গাঢ় কালো চক্ষুদ্বয় বিশিষ্ট): অর্থাৎ চোখের মণি ছিল অত্যন্ত কালো, যেমনটি আলীর অন্য এক বর্ণনায়ও রয়েছে: "তাঁর চোখের মণি ছিল কালো"। তবে এটি চোখের প্রশস্ততা এবং শুভ্র অংশের তীব্র সাদা হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত। (দীর্ঘ পল্লব বিশিষ্ট): হামযায় জবর সহকারে এটি 'শুফর' এর বহুবচন; যা প্রথম বর্ণে পেশ অথবা জবর উভয়ভাবেই পড়া যায়। এটি হলো চোখের পাতার কিনারার সেই অংশ যেখানে লোম গজায়। একে 'হুদব'ও বলা হয় যা 'হা' বর্ণে পেশ এবং পরবর্তী বর্ণ সাকিন ও 'বা' বর্ণ যোগে গঠিত। কামূস অভিধানে রয়েছে: 'হাদিবা' এর অর্থ চোখের পাপড়ি অর্থাৎ পল্লব দীর্ঘ হওয়া। সারকথা হলো, 'আহদাব' সেই ব্যক্তি যার চোখের পাতার লোম প্রচুর ও দীর্ঘ।
(বৃহৎ গ্রন্থি বিশিষ্ট): মীম বর্ণে পেশ ও শীন বর্ণে হালকা উচ্চারণ সহকারে; অর্থাৎ হাড়ের সংযোগস্থলের মাথাগুলো বড় হওয়া, যেমন দুই কনুই, দুই কাঁধ এবং দুই হাঁটু। (এবং কাঁধের হাড়):
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بِفَتْحِ التَّاءِ وَيُكْسَرُ أَيْ مَجْمَعِ الْكَتِفَيْنِ وَهُوَ الْكَاهِلُ أَيْ عَظِيمُ ذَلِكَ كُلِّهِ، وَهُوَ يَدُلُّ عَلَى غَايَةِ الْقُوَّةِ وَفَخَامَةِ الشَّجَاعَةِ. (أَجْرَدَ) : أَيْ هُوَ أَجْرَدُ أَيْ غَيْرُ أَشْعَرَ، وَهُوَ مَنْ عَمَّ الشَّعْرُ جَمِيعَ بَدَنِهِ، فَالْأَجْرَدُ مَنْ لَمْ يَعُمَّهُ الشَّعْرُ فَيَصْدُقُ بِمَنْ فِي بَعْضِ بَدَنِهِ شَعْرٌ كَالْمَسْرُبَةِ وَالسَّاعِدَيْنِ وَالسَّاقَيْنِ وَقَدْ كَانَ لَهُ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ شَعْرٌ، فَوَصْفُهُ صلى الله عليه وسلم بِهِ بِاعْتِبَارِ أَكْثَرِ مَوَاضِعِهِ إِمَّا بِجَعْلِ الْأَكْثَرِ فِي حُكْمِ الْكُلِّ أَوْ تَغْلِيبِ مَا لَا شَعْرَ لَهُ عَلَى مَا لَهُ شَعْرٌ، قَالَ الْعِصَامُ: وَمَنْ قَالَ أَنَّهُ جَاءَ أَجْرَدَ، بِمَعْنَى صَغِيرِ الشَّعْرِ، فَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْغَرَضُ وَصْفُهُ صلى الله عليه وسلم بِصِغَرِ شَعْرِ بَدَنِهِ، فَفِيهِ أَنَّهُ مَعَ أَنَّهُ لَا يَصِحُّ فِي شَعْرِ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ وَالْأَهْدَابِ وَالْحَاجِبَيْنِ يَرُدُّهُ مَا فِي الْقَامُوسِ أَنَّ الْأَجْرَدَ إِذَا جُعِلَ وَصْفًا لِلْفَرَسِ كَانَ بِمَعْنَى صِغَرِ شَعْرِهِ، وَأَمَّا إِذَا جُعِلَ وَصْفًا لِلرَّجُلِ فَمَعْنَاهُ أَنَّهُ لَا شَعْرَ عَلَيْهِ، انْتَهَى. وَقِيلَ أَجْرَدُ أَيْ لَيْسَ فِيهِ غِلٌّ وَلَا غِشٌّ فَهُوَ عَلَى أَصْلِ الْفِطْرَةِ فَنُورُ الْإِيمَانِ يُزْهِرُ فِيهِ وَفِيهِ أَنَّهُ بِإِشَارَاتِ الصُّوفِيَّةِ أَشْبَهُ. (ذُو مَسْرُبَةٍ شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ) : مَرَّ الْكَلَامُ عَلَيْهِمَا. (إِذَا مَشَى تَقَلَّعَ) : جُمْلَةٌ مُسْتَقِلَّةٌ عَلَى طَرِيقِ التَّعْدِيدِ، وَقَوْلُهُ. (كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ) : فِي مَوْقِعٍ الْبَيَانِ لِلْجَزَاءِ يُقَالُ تَقَلَّعَ فِي مَشْيِهِ إِذَا كَانَ كَأَنَّهُ يُقْلِعُ رِجْلَهُ مِنْ رَجَلَ إِذَا أَرَادَ قُوَّةَ مَشْيِهِ كَأَنَّهُ يَرْفَعُ رِجْلَيْهِ مِنَ الْأَرْضِ رَفْعًا بَائِنًا لَا كَمَنْ مَشَى اخْتِيَالًا وَيُقَارِبُ خُطَاهُ فَإِنَّ ذَلِكَ مِنْ مَشْيِ النِّسَاءِ، فَالتَّقَلُّعُ قَرِيبٌ مِنَ التَّكَفِّي وَقَدْ سَبَقَ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ كَمَا فِي رِوَايَةٍ عَنِ التِّرْمِذِيِّ يَمْشِي بَدَلَ يَنْحَطُّ، وَقَوْلُهُ. (فِي صَبَبٍ) : قِيلَ بِمَعْنَى مِنْ صَبَبٍ كَمَا فِي رِوَايَةٍ وَلِأَنَّهُ بِالتَّقَلُّعِ أَنْسَبُ، وَيَجُوزُ وُقُوعُ قِيَامِ بَعْضِ حُرُوفِ الْجَرِّ مَقَامَ بَعْضٍ، ثُمَّ الظَّاهِرُ أَنَّ مِنْ هُنَا ابْتِدَائِيَّةٌ، وَالْأَظْهَرُ أَنَّ فِي ظَرْفِيَّةٌ إِذْ هِيَ مُنَاسِبَةٌ لِلِانْحِطَاطِ كَمَا لَا يَخْفَى. (وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ مَعًا) : أَيْ جَمِيعًا يَعْنِي أَنَّهُ لَا يُسَارِقُ النَّظَرَ، وَقِيلَ أَرَادَ أَنَّهُ لَا يَلْوِي عُنُقَهُ يَمْنَةً وَيَسْرَةً إِذَا نَظَرَ إِلَى الشَّيْءِ وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ الطَّائِشُ الْخَفِيفُ وَلَكِنْ كَانَ يُقْبِلُ جَمِيعًا إِظْهَارًا لِلِاهْتِمَامِ بِشَأْنِ مَنْ أَقْبَلَ إِلَيْهِ وَيُدْبِرُ جَمِيعًا بَعْدَ مَا قَضَى حَاجَتَهُ عَنْهُ، وَحَاصِلُهُ أَنَّهُ إِذَا تَوَجَّهَ إِلَى إِنْسَانٍ لِلتَّكَلُّمِ أَوْ غَيْرِهِ يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ بِجَمِيعِهِ وَلَا يَتَوَجَّهُ إِلَيْهِ بِلَيِّ الْعُنُقِ لِأَنَّهُ فِعْلُ الْمُخْتَالِينَ، قِيلَ وَلَعَلَّ الْمَعْنَى الْأَخِيرَ أَظْهَرُ لِمَا سَيَأْتِي فِي وَصْفِهِ «جُلُّ نَظَرِهِ الْمُلَاحَظَةُ» أَيِ النَّظَرُ بِلِحَاظِ الْعَيْنِ. (بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ) : بِفَتْحِ التَّاءِ وَكَسْرِهَا مَا يُخْتَمُ بِهِ الْأَوَّلُ اسْمٌ وَالثَّانِي صِفَةٌ فَعَبَّرَ عَنِ الْآلَةِ بِاسْمِ الْفَاعِلِ وَإِضَافَتُهُ إِلَى النُّبُوَّةِ لِأَنَّهُ خُتِمَ بِهِ بَيْتُ النُّبُوَّةِ حَتَّى لَا يَدْخُلَ بَعْدَهُ أَحَدٌ، وَقِيلَ لِأَنَّهُ عَلَامَةُ تَمَامِهَا لِأَنَّ الشَّيْءَ يُخْتَمُ بَعْدَ تَمَامِهِ - وَسَيَأْتِي مَزِيدُ الْكَلَامِ عَلَيْهِ -، وَهُوَ جُمْلَةٌ مِنْ غَيْرِ عَطْفٍ عَلَى مَا قَبْلَهَا لِعَدَمِ الْمُنَاسَبَةِ بَيْنَهُمَا، وَقَوْلُهُ
(وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ) : يُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَ جُمْلَةً حَالِيَّةً مُكَمِّلَةً لِمَا قَبْلَهَا وَأَنْ تَكُونَ مَعْطُوفَةً عَلَى مَا قَبْلَهَا لِوُجُودِ الْمُنَاسَبَةِ، وَهُوَ كَالْخَاتَمِ الْمَذْكُورِ لَفْظًا وَمَعْنًى أَيْ خَاتَمُ نُبُوَّةِ النَّبِيِّينَ بِمَعْنَى عَلَامَةِ تَمَامِهَا أَوْ عَلَامَةِ الْوُثُوقِ بِالنُّبُوَّةِ أَوْ خَاتِمِ بَيْتِ نُبُوَّتِهِمْ، وَالْحَاصِلُ أَنَّ كَسْرَ التَّاءِ بِمَعْنَى أَنَّهُ خَتَمَهُمْ أَيْ جَاءَ آخِرَهُمْ فَلَا نَبِيَّ بَعْدَهُ أَيْ لَا يُتَنَبَّأُ أَحَدٌ بَعْدَهُ فَلَا يُنَافِي نُزُولَ عِيسَى عليه السلام مُتَابِعًا لِشَرِيعَتِهِ مُسْتَمِدًّا مِنَ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ، وَأَمَّا فَتْحُ التَّاءِ فَمَعْنَاهُ أَنَّهُمْ بِهِ خُتِمُوا فَهُوَ الطَّابَعُ وَالْخَاتَمُ لَهُمْ. (أَجْوَدُ النَّاسِ صَدْرًا) : جَعَلَ صَدْرَهُ أَجْوَدَ لِأَنَّ الْجُودَ فَرْعُ انْشِرَاحِ الصَّدْرِ وَالصَّدْرُ مَحَلُّ الْقَلْبِ الَّذِي فِيهِ الْجُودُ فَيَكُونُ مِنْ تَسْمِيَةِ الشَّيْءِ بِاسْمِ مَحَلِّهِ أَوْ مُجَاوَرِهِ، وَالْمَعْنَى أَجْوَدُ النَّاسِ قَلْبًا
‘তা’ বর্ণে ফাতহাহ (যবর) ও কাসরাহ (যের) উভয় যোগে পড়া যায়। অর্থাৎ দুই কাঁধের মিলনস্থল, যা হলো পিঠের উপরের অংশ (কাহিল)। এর অর্থ হলো সেই পুরো অংশটিই বিশাল। আর এটি চূড়ান্ত শক্তি ও সাহসিকতার মাহাত্ম্য নির্দেশ করে। (আজরাদ): অর্থাৎ তিনি ছিলেন আজরাদ বা পশমহীন। ‘আশ‘আর’ বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যার সমস্ত শরীর পশমে আবৃত। সুতরাং ‘আজরাদ’ হলেন তিনি যার শরীর পশমে আবৃত নয়। এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যার শরীরের কিছু অংশে পশম রয়েছে, যেমন: সিনার পশমের রেখা (মাসরুবাহ), দুই হাত এবং দুই পায়ের গোছা। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শরীরের এসকল স্থানে পশম বিদ্যমান ছিল। সুতরাং তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে তাঁর শরীরের অধিকাংশ স্থানের বিবেচনায়; হয় অধিকাংশকে পুরো শরীরের স্থলাভিষিক্ত ধরে, অথবা পশমহীন অংশকে পশমযুক্ত অংশের ওপর প্রাধান্য দিয়ে। ইসাম (রহ.) বলেন: যারা বলেছেন যে ‘আজরাদ’ শব্দটি স্বল্প পশম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হতে পারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শরীরের পশমের ক্ষুদ্রতা বর্ণনা করা। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, যদিও এটি মাথার চুল, দাড়ি, চোখের পলক ও ভ্রুর ক্ষেত্রে সঠিক নয়, তদুপরি ‘কামুস’ অভিধানের বক্তব্য একে খণ্ডন করে। সেখানে বলা হয়েছে যে, ‘আজরাদ’ যখন ঘোড়ার গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয় পশমের ক্ষুদ্রতা; কিন্তু যখন মানুষের গুণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হলো তার শরীরে কোনো পশম না থাকা। কথা শেষ। আরও বলা হয়েছে যে, ‘আজরাদ’ মানে তাঁর অন্তরে কোনো বিদ্বেষ বা প্রতারণা নেই, বরং তিনি আদি প্রকৃতির (ফিতরাত) ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। ফলে ঈমানের নূর তাঁর মাঝে প্রজ্জ্বলিত। তবে এই ব্যাখ্যাটি সুফিবাদী রূপক ইঙ্গিতের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (সিনা থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের চিকন রেখা বিশিষ্ট এবং উভয় হাতের তালু ও পায়ের পাতা মাংসল): এ দুটির আলোচনা ইতোপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (যখন তিনি হাঁটতেন, দৃঢ়তার সাথে পা উঠাতেন): এটি গুণাবলি বর্ণনার ধারায় একটি স্বতন্ত্র বাক্য। আর তাঁর বক্তব্য— (যেন তিনি নিচু স্থানে নামছেন): এটি পূর্বোক্ত অবস্থার ব্যাখ্যাস্বরূপ। বলা হয়, কেউ যখন হাঁটার সময় এমনভাবে পা তোলে যেন সে মাটি থেকে পা উপড়ে নিচ্ছে, তখন তাকে ‘তাকাল্লু’ বলা হয়। এটি হাঁটার শক্তির পরিচয় দেয়, যেন তিনি মাটি থেকে স্পষ্টভাবে পা টেনে তুলছেন। এটি দাম্ভিকদের মতো নয় এবং ছোট ছোট কদমে নারীদের মতো হাঁটার মতোও নয়। সুতরাং ‘তাকাল্লু’ হলো ‘তাকাফ্ফু’ (সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটা) এর কাছাকাছি, যার আলোচনা আগে হয়েছে। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ইমাম তিরমিযীর বর্ণনা অনুযায়ী ‘ইয়ানহাতু’ (নামা) এর স্থলে ‘ইয়ামশি’ (হাঁটা) শব্দ এসেছে। আর তাঁর উক্তি— (উঁচু স্থান থেকে নিচু স্থানে নামার মতো): বলা হয়েছে যে, এখানে ‘ফি’ বর্ণটি ‘মিন’ (থেকে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি অন্য বর্ণনায় এসেছে এবং এটি ‘তাকাল্লু’ বা দৃঢ়ভাবে পা তোলার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক অব্যয় বা হরফে জার অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হওয়া ব্যাকরণগতভাবে বৈধ। তবে বাহ্যত এখানে ‘মিন’ অব্যয়টি প্রারম্ভিকতা (ইবতিদাইয়্যাহ) বোঝাতে এবং ‘ফি’ অব্যয়টি আধেয়তা (যারফিয়্যাহ) বোঝাতে আসাটাই অধিক স্পষ্ট, যা অবতরণ বা নিচের দিকে নামার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। (আর যখন তিনি ফিরে তাকাতেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন): অর্থাৎ শরীরের পুরো অংশ নিয়ে ফিরতেন। এর অর্থ হলো তিনি আড়চোখে তাকাতেন না। আরও বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো কিছুর দিকে তাকানোর সময় তিনি কেবল ঘাড় ডানে বা বামে বাঁকাতেন না। কারণ এমনটি অস্থির ও চপল ব্যক্তিরাই করে থাকে। বরং তিনি যার দিকে মনোনিবেশ করতেন, তার প্রতি গুরুত্ব প্রকাশের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরতেন এবং প্রয়োজন শেষে একইভাবে ফিরে যেতেন। সারকথা হলো, তিনি যখন কোনো মানুষের সাথে কথা বলতে বা অন্য কোনো কারণে তার দিকে মনোযোগী হতেন, তখন পুরোপুরি ফিরে তাকাতেন; অহংকারীদের মতো কেবল ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেন না। বলা হয়েছে যে, এই শেষোক্ত অর্থটিই অধিক স্পষ্ট, কারণ সামনে তাঁর বর্ণনায় আসছে— ‘তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল আড়চোখে পর্যবেক্ষণমূলক’। (তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে ছিল নবুওয়াতের মোহর): ‘তা’ বর্ণে ফাতহাহ এবং কাসরাহ উভয়ই পড়া যায়, যার দ্বারা কোনো কিছু মোহর করা হয়। প্রথমটি বিশেষ্য এবং দ্বিতীয়টি গুণবাচক শব্দ; এখানে মোহর করার যন্ত্রটিকে ‘ইসমু ফায়িল’ বা কর্তৃবাচক বিশেষ্য দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। একে নবুওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত করার কারণ হলো— এর মাধ্যমেই নবুওয়াতের প্রাসাদে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁর পরে আর কেউ প্রবেশ করতে না পারে। আরও বলা হয়েছে যে, এটি নবুওয়াত পূর্ণতার নিদর্শন; কারণ কোনো কিছু পূর্ণ হওয়ার পরই তাতে মোহর মারা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে। এটি পূর্ববর্তী বাক্যের সাথে সমম্বয়হীনতার কারণে কোনো অব্যয় ছাড়াই স্বতন্ত্র বাক্য হিসেবে এসেছে। আর তাঁর উক্তি—
(এবং তিনি হলেন নবীগণের পরিসমাপ্তি): সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি একটি ‘হাল’ বা অবস্থাজ্ঞাপক বাক্য যা পূর্ববর্তী বাক্যের পরিপূরক, অথবা সামঞ্জস্য থাকায় এটি পূর্ববর্তী বাক্যের ওপর সংযোজিত (আতফ)। এটি শব্দ ও অর্থের দিক থেকে উল্লিখিত মোহরের মতোই; অর্থাৎ তিনি নবীগণের নবুওয়াতের মোহর—যার অর্থ হলো নবুওয়াত পূর্ণ হওয়ার নিদর্শন, অথবা নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ, কিংবা তাঁদের নবুওয়াত-ভবনের পরিসমাপ্তি। সারকথা হলো, ‘তা’ বর্ণে কাসরাহ পড়ার অর্থ হলো তিনি তাঁদের সমাপ্তকারী, অর্থাৎ তিনি সবার শেষে এসেছেন এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। অর্থাৎ তাঁর পরে কেউ নবুওয়াত প্রাপ্ত হবে না। এটি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণের পরিপন্থী নয়; কারণ তিনি তাঁর শরীয়তের অনুসারী হয়ে এবং কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরণকারী হিসেবেই অবতরণ করবেন। আর ‘তা’ বর্ণে ফাতহাহ পড়ার অর্থ হলো তাঁর মাধ্যমেই সকল নবীকে সমাপ্ত করা হয়েছে, সুতরাং তিনি তাঁদের জন্য মোহর বা সমাপ্তি চিহ্নস্বরূপ। (তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে প্রশস্ততম হৃদয়ের অধিকারী): এখানে তাঁর বক্ষকে দানশীলতার আধার বলা হয়েছে; কারণ দানশীলতা হলো বক্ষ প্রশস্ত হওয়ারই একটি শাখা। আর বক্ষ হলো হৃদয়ের স্থান যেখানে দানশীলতার বাস। সুতরাং এটি কোনো বস্তুকে তার স্থানের নামে বা পার্শ্ববর্তী বিষয়ের নামে নামকরণ করার অন্তর্ভুক্ত। এর অর্থ হলো তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু ও উদার হৃদয়ের অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أَيْ قَلْبُهُ أَجْوَدُ الْقُلُوبِ فَإِنَّهُ لَا يَبْخَلُ شَيْئًا مِنْ زَخَارِفِ الدُّنْيَا وَلَا مِنْ عَوَارِفِ الْمَوْلَى، وَالْمُرَادُ أَنَّ جُودَهُ كَانَ عَنْ طِيبِ قَلْبٍ وَشَرْحِ صَدْرٍ وَسَجِيَّةِ طَبْعٍ لَا عَنْ تَكَلُّفٍ وَتَصَلُّبٍ، وَقِيلَ أَنَّهُ مِنَ الْجَوْدَةِ بِفَتْحِ الْجِيمِ بِمَعْنَى السِّعَةِ أَيْ أَوْسَعُهُمْ قَلْبًا بِمَعْنَى أَنَّهُ لَا يَمَلُّ وَلَا يَضْجَرُ قَلْبُهُ، وَيُؤَيِّدُهُ مَا أَخْرَجَهُ ابْنُ سَعْدٍ فِي كِتَابِ الطَّبَقَاتِ مِنْ طَرِيقِ سَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ وَالْحَكَمِ بْنِ مُوسَى، قَالَا: ثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، بِهَذَا الْإِسْنَادِ بِلَفْظِ «أَجْوَدُ النَّاسِ كَفًّا وَأَرْحَبُ النَّاسِ صَدْرًا» وَالرُّحْبَ بِمَعْنَى السِّعَةِ، قِيلَ: وَيُحْتَمَلُ أَنَّهُ سَقَطَ مِنْ رَاوِيَةِ التِّرْمِذِيِّ شَيْءٌ، وَقِيلَ: أَجْوَدُ مَأْخُوذٌ مِنَ الْجَوْدَةِ بِفَتْحِ الْجِيمِ مَصْدَرُ جَادَ إِذْ صَارَ جَيِّدًا أَيْ أَحْسَنُهُمْ قَلْبًا بِسَلَامَتِهِ مِنْ كُلِّ رَذِيلَةٍ مِنْ بُخْلٍ وَغِشٍّ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الْأَدْنَاسِ الْبَاطِنِيَّةِ وَالصِّفَاتِ الدَّنِيَّةِ كَيْفَ وَقَدْ صَحَّ أَنَّ جِبْرِيلَ شَقَّهُ وَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً، وَقَالَ: هَذَا حَظُّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ. ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَسْتِ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ. (وَأَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً) : بِفَتْحَتَيْنِ وَيُسَكَّنُ الثَّانِي أَيْ لِسَانًا عَلَى مَا فِي الْمُهَذَّبِ أَوْ تَحْرِيكُهُ عَلَى مَا فِي الْفَائِقِ وَالْمَعْنَى أَصْدَقُهُمْ قَوْلًا، وَأَغْرَبَ شَارِحٌ وَقَالَ: يُرِيدُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ لِسَانُهُ أَصْدَقَ الْأَلْسِنَةِ فَيَتَكَلَّمُ بِمَخَارِجِ الْحُرُوفِ كَمَا يَنْبَغِي بِحَيْثُ لَا يَقْدِرُ عَلَيْهِ أَحَدٌ. (وَأَلْيَنُهُمْ عَرِيكَةً) : أَيْ طَبِيعَةً وَزْنًا وَمَعْنًى أَيْ سَلِسًا مُطَاوِعًا مُنْقَادًا قَلِيلَ الْخِلَافِ وَالنُّفُورِ، وَهَذِهِ الْجُمْلَةُ مُنْبِئَةٌ عَنْ كَمَالِ مُسَامَحَتِهِ صلى الله عليه وسلم وَوُفُورِ حِلْمِهِ وَتَوَاضُعِهِ مَعَ أُمَّتِهِ. (وَأَكْرَمُهُمْ عَشِيرَةً) : بِوَزْنِ الْقَبِيلَةِ وَمَعْنَاهُ وَهُوَ كَذَلِكَ فِي الْمَصَابِيحِ، وَوَقَعَ فِي بَعْضِ النُّسَخِ الْمُوَافِقِ لِلتِّرْمِذِيِّ وَجَامِعِ الْأُصُولِ عِشْرَةً بِكَسْرِ أَوَّلِهَا وَسُكُونِ ثَانِيهَا صُحْبَةً وَيُؤَيِّدُهُ مَا نَقَلَهُ الْمُصَنِّفُ عَنِ الْأَصْمَعِيِّ وَكِلَا الْمَعْنَيَيْنِ صَادِقٌ فِي حَقِّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَنَّ قَبِيلَتَهُ أَشْرَفُ الْقَبَائِلِ كَمَا وَرَدَ: «إِنَّ اللَّهَ اخْتَارَ الْقَبَائِلَ فَجَعَلَنِي مِنْ خَيْرِهِمْ قَبِيلَةً» ، وَقَالَ تَعَالَى: (لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفَسِكُمْ) بِفَتْحِ الْفَاءِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْهُ مَرْفُوعًا وَمُعَاشَرَتُهُ وَمُخَالَطَتُهُ أَكْرَمُ مِنْ جَمِيعِ
مُخَالَطَةِ النَّاسِ كَمَا يَدُلُّ عَلَيْهِ قَوْلُهُ: (مَنْ رَآهُ بَدِيهَةً) : أَيْ رُؤْيَةَ بَدِيهَةٍ فَهُوَ مَفْعُولٌ مُطْلَقٌ أَيْ أَوَّلَ رُؤْيَةٍ مِنْ غَيْرِ مَعْرِفَةٍ. (هَابَهُ) : أَيْ خَافَهُ لِأَنَّ مَعَهُ الْهَيْبَةَ وَالْمَهَابَةَ السَّمَاوِيَّةَ. (وَمَنْ خَالَطَهُ) : أَيْ عَاشَرَهُ وَصَاحَبَهُ. (مَعْرِفَةً) : أَيْ خَالَطَهُ مَعْرِفَةً تَبَيَّنَ بِهَا حُسْنَ خُلُقِهِ. (أَحَبَّهُ) : لِكَمَالِ مُعَاشَرَتِهِ وَبَاهِرِ عَظِيمِ مُؤَالَفَتِهِ حُبًّا شَدِيدًا حَتَّى صَارَ عِنْدَهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدَيْهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. (يَقُولُ نَاعِتُهُ) : أَيْ وَاصِفُهُ إِجْمَالًا عَجْزًا عَنْ بَيَانِ جَمَالِهِ وَكَمَالِهِ تَفْصِيلًا. (
অর্থাৎ তাঁর অন্তর ছিল সকল অন্তরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও দানশীল; কেননা তিনি পার্থিব চাকচিক্য কিংবা প্রভুর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অনুগ্রহ—কোনো কিছুই বিলিয়ে দিতে কার্পণ্য করতেন না। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তাঁর এই দানশীলতা ছিল হৃদয়ের সন্তুষ্টি, প্রশস্ত বক্ষ এবং সহজাত স্বভাবজাত, কোনো প্রকার লৌকিকতা বা কৃত্রিমতা থেকে নয়। কেউ কেউ বলেন, এটি জিম বর্ণে জবর দিয়ে 'জাওদাহ' শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ প্রশস্ততা; অর্থাৎ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, যার অর্থ হলো তাঁর অন্তর কখনো ক্লান্ত বা বিরক্ত হতো না। ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে সাঈদ বিন মানসুর এবং হাকাম বিন মুসা থেকে বর্ণিত রিওয়ায়েত দ্বারা এটি সমর্থিত হয়েছে। তারা উভয়ে বলেন: ঈসা বিন ইউনুস আমাদের কাছে এই সনদে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল হাতের অধিকারী এবং সর্বাধিক প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী।" এখানে প্রশস্ততা অর্থেই শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়েছে যে, ইমাম তিরমিজির বর্ণনাকারী থেকে হয়তো কোনো শব্দ বাদ পড়েছে। আবার বলা হয়েছে, 'আজিওয়াদ' শব্দটি জিম বর্ণে জবরসহ 'জাওদাহ' থেকে গৃহীত, যা 'জাদা' এর ক্রিয়ামূল, যখন কোনো কিছু উত্তম হয়। অর্থাৎ সকল প্রকার মন্দ গুণ যেমন কার্পণ্য, প্রতারণা এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতা ও নীচ স্বভাব থেকে মুক্ত থাকার কারণে তিনি ছিলেন সর্বোত্তম হৃদয়ের অধিকারী। কেনই বা হবে না, অথচ এটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত যে জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেছিলেন এবং তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করে বলেছিলেন: "এটি তোমার মধ্যে শয়তানের অংশ।" এরপর তিনি সেটি জমজমের পানি দিয়ে একটি স্বর্ণের তশতরিতে ধৌত করেন। (এবং তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী জবানের অধিকারী): এখানে শব্দটির দ্বিতীয় বর্ণে জবর দিয়ে অথবা সুকুন দিয়ে উভয়ভাবেই পড়া যায়; 'আল-মুহাজ্জাব' কিতাব অনুযায়ী এর অর্থ জবান বা জিহ্বা, অথবা 'আল-ফাইক' কিতাব অনুযায়ী এর অর্থ হলো কথার ক্ষেত্রে সর্বাধিক সত্যবাদী। একজন ব্যাখ্যাকারী একটি বিরল মত ব্যক্ত করে বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবান ছিল সকল জবানের মধ্যে সর্বাধিক সত্যনিষ্ঠ, তিনি হরফগুলোর উচ্চারণস্থল যথাযথভাবে আদায় করে কথা বলতেন, যা অন্য কেউ করতে সক্ষম হতো না। (এবং তিনি ছিলেন স্বভাবে সর্বাধিক কোমল): অর্থাৎ স্বভাবে; ওজনে এবং অর্থে এর অর্থ হলো সহজবোধ্য, অনুগত এবং মতভেদ ও বিমুখতা থেকে দূরে থাকা। এই বাক্যটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ণ ক্ষমাশীলতা, অঢেল ধৈর্য এবং তাঁর উম্মতের প্রতি তাঁর বিনম্রতার পরিচায়ক। (এবং বংশমর্যাদায় সর্বাধিক সম্মানিত): শব্দটি 'কাবিলাহ' এর ওজনে এবং অর্থও তাই; 'আল-মাসাবিহ' গ্রন্থে এমনই এসেছে। তিরমিজি এবং 'জামিউল উসুল'-এর সাথে মিল রেখে কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে প্রথম বর্ণে জের এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন দিয়ে 'সহচর্য' অর্থেও শব্দটি এসেছে। গ্রন্থকার আসমায়ি থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা এটিকে সমর্থন করে। উভয় অর্থই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্ষেত্রে সত্য। কেননা তাঁর গোত্র ছিল সর্বাধিক সম্মানিত গোত্র, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ গোত্রসমূহ নির্বাচন করেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম গোত্রভুক্ত করেছেন।" আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "অবশ্যই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন", এখানে ফা বর্ণে জবর দিয়ে 'সর্বাধিক মূল্যবান' অর্থেও একটি রিওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। আর তাঁর সাথে মেলামেশা ও সান্নিধ্য অন্য সকল মানুষের মেলামেশার চেয়ে অধিক সম্মানজনক ছিল, যেমনটি পরবর্তী বাক্য দ্বারা বুঝা যায়: (যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত): অর্থাৎ প্রথম দেখাতেই, কোনো পূর্ব পরিচয় ছাড়াই। (সে তাঁকে ভয় পেত): অর্থাৎ তাঁর প্রতি গভীর সম্ভ্রম ও ভয় অনুভব করত, কারণ তাঁর সাথে ছিল আসমানি গাম্ভীর্য ও মর্যাদা। (আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে মেলামেশা করত): অর্থাৎ তাঁর সাহচর্য ও সান্নিধ্য লাভ করত। (পরিচয় লাভ করত): অর্থাৎ মেলামেশার মাধ্যমে তাঁর উত্তম চরিত্র সম্পর্কে অবগত হতো। (সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত): তাঁর পূর্ণাঙ্গ সহচর্য এবং চমৎকার মহান সৌহার্দ্যের কারণে সে তাঁকে এমন তীব্রভাবে ভালোবাসত যে, তিনি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হয়ে উঠতেন। (তাঁর বর্ণনাকারী বলে): অর্থাৎ তাঁর রূপ-লাবণ্য ও পূর্ণতার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে অক্ষম হয়ে সংক্ষেপে তাঁর বৈশিষ্ট্য বর্ণনাকারী বলে: (
(খণ্ড: ১)
জামউল ওয়াসাইল ফী শারহিশ শামাইল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ مِثْلَهُ) : إِذْ لَيْسَ فِي النَّاسِ مَنْ يُمَاثِلُهُ فِي الْجَمَالِ وَلَا فِي خُلُقٍ مَنْ يُشَابِهُهُ عَلَى وَجْهِ الْكَمَالِ. (قَالَ أَبُو عِيسَى:) : كَذَا فِي الْأُصُولِ الْمُصَحَّحَةِ وَلَمْ يُوجَدْ فِي بَعْضِ النُّسَخِ لَفْظُ «أَبُو عِيسَى» ، قَالَ السَّيِّدُ أَصِيلُ الدِّينِ: يُرِيدُ بِهِ نَفْسَهُ إِذْ هَذِهِ كُنْيَتُهُ، وَيُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ مِنْ كَلَامِ الرُّوَاةِ عَنْهُ كَمَا سَبَقَ مِثْلُهُ فِي أَوَّلِ الْكِتَابِ وَيُشْعِرُ بِهِ ذِكْرُ الْكُنْيَةِ. (سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ) : يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَلِيمَةَ، وَهُوَ أَحَدُ الشُّيُوخِ الثَّلَاثَةِ الَّذِينَ رُوِيَ عَنْهُمْ هَذَا الْحَدِيثُ
قِيلَ: وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ. (يَقُولُ:) : قَالَ الْحَنَفِيُّ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ قَالَ: قَالَ الْعِصَامُ: يَقُولُ مَفْعُولٌ ثَانٍ لِقَوْلِهِ: «سَمِعْتُ» ، وَقَدْ عَرَفْتَ أَنَّهُ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ مُضَارِعًا فَمَا فِي بَعْضِ النُّسَخِ بَدَلُ يَقُولُ قَالَ، لَيْسَ كَمَا يَنْبَغِي، انْتَهَى. وَالْأَظْهَرُ أَنَّ يَقُولَ حَالٌ. (سَمِعْتُ الْأَصْمَعِيَّ) : لُغَوِيٌّ مَشْهُورٌ مَنْسُوبٌ إِلَى جَدِّهِ أَصْمَعَ، بَصْرِيٌّ، رَوَى الْحَدِيثَ عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ، وَرَوَى عَنْهُ جَمَاعَةٌ، قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: سَمِعْتُ الْأَصْمَعِيَّ يَقُولُ: سَمِعَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَاتَّفَقُوا عَلَى أَنَّهُ ثِقَةٌ، قِيلَ: وَكَانَ هَارُونُ الرَّشِيدُ اسْتَخْلَصَهُ لِمَجْلِسِهِ، وَكَانَ يُقَدِّمُهُ عَلَى أَبِي يُوسُفَ الْقَاضِي، وَكَانَ عِلْمُهُ عَلَى لِسَانِهِ، وَرَوَى الْأَزْهَرِيُّ عَنِ الرِّيَاشَيِّ قَالَ: كَانَ الْأَصْمَعِيُّ شَدِيدَ التَّوَقِّي لِتَفْسِيرِ الْقُرْآنِ، وَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: كَانَ شَدِيدَ التَّوَقِّي لِلتَّفْسِيرِ وَالْحَدِيثِ. (يَقُولُ فِي تَفْسِيرِ صِفَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : أَيْ فِي شَرْحِ بَعْضِ اللُّغَاتِ الْوَاقِعَةِ فِي الْخَبَرِ الْمَرْوِيِّ، وَاعْتُرِضَ بِأَنَّ الْمُصَنِّفَ لَمْ يُرَاعِ تَرْتِيبَ الْحَدِيثِ فِي تَفْسِيرِ غَرِيبِهِ وَلَيْسَ بِشَيْءٍ لِأَنَّهُ رَوَى كَلَامَ الْأَصْمَعِيِّ كَمَا سَمِعَ، وَالْأَصْمَعِيُّ لَمْ يُذْكُرْهُ فِي تَفْسِيرِ هَذَا الْحَدِيثِ، وَلَقَدْ نَبَّهَ عَلَيْهِ الْمُصَنِّفُ بِقَوْلِهِ فِي تَفْسِيرِ صِفَةِ النَّبِيِّ دُونَ أَنْ يَقُولَ فِي تَفْسِيرِ هَذَا الْحَدِيثِ. (الْمُمَّغِطُ) : وَسَبَقَ ضَبْطُهُ. (الذَّاهِبُ طُولًا) : أَيِ الشَّخْصُ الَّذِي يَكُونُ طُولُ قَامَتِهِ مُفْرِطًا، وَطُولًا تَمْيِيزٌ عَنْ نِسْبَةِ الذَّاهِبِ إِلَى فَاعِلِهِ أَوْ مَفْعُولٌ لَهُ، كَذَا ذَكَرَهُ الْحَنَفِيُّ، وَقَالَ الْعِصَامُ: الطُّولُ الِامْتِدَادُ عَلَى مَا فِي الْقَامُوسِ أَيِ الذَّاهِبُ طُولُهُ، وَالْإِسْنَادُ إِلَى مَفْعُولِهِ بِوَاسِطَةِ فِي أَيِ الذَّاهِبِ فِي طُولِهِ، وَمَنْ جَعَلَهُ مَفْعُولًا لَهُ لَا أَظُنُّ أَنَّهُ صَارَ مَفْعُولًا لَهُ. (قَالَ:) أَيِ الْأَصْمَعِيُّ، وَوَهِمَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ فَاعِلَهُ أَبُو جَعْفَرٍ، وَأَبْعَدَ مَنْ جَوَّزَ احْتِمَالَ رُجُوعِهِ إِلَى الْمُصَنِّفِ. (وَسَمِعْتُ أَعْرَابِيًّا) : قِيلَ: وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ بِتَقْدِيمِ الْوَاوِ عَلَى مَا قَالَ، وَفِي بَعْضٍ آخَرَ لَا وَاوَ أَصْلًا. (يَقُولُ:) : أَيِ الْأَعْرَابِيُّ وَهُوَ مَنْسُوبٌ إِلَى الْإِعْرَابِ ; أَهْلِ الْبَادِيَةِ مِنَ الْعَرَبِ وَهُمْ أَفْصَحُ مِنَ الْعَرَبِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُ الْحَضَرِ مِنَ الْقُرَى لِمُخَالَطَتِهِمُ الْعَجَمَ يَقُولُ: (فِي كَلَامِهِ) : أَيْ فِي أَثْنَاءِ عِبَارَاتِهِ. (تَمَغُّطٌ) : إِنَّمَا أَتَى بِهَذَا الْكَلَامِ لِلْمُنَاسَبَةِ بَيْنَ مَعْنَاهُ وَبَيْنَ أَصْلِ الْمَعْنَى الْمُرَادِ مِنَ الْحَدِيثِ، وَهُوَ الِامْتِدَادُ وَإِلَّا فَمَا فِي الْحَدِيثِ اسْمُ الْفَاعِلِ مِنْ بَابِ الِانْفِعَالِ - كَمَا سَبَقَ - لَا مِنْ بَابِ التَّفَعُّلِ، وَأَمَّا مَا ذَكَرَهُ ابْنُ حَجَرٍ مِنْ أَنَّهُ لَيْسَ هَذَا مِنَ الْمَادَّةِ الَّتِي الْكَلَامُ فِيهَا وَهُوَ الْمُمَّغِطُ فَذِكْرُهُ لِبَيَانِ أَنَّ الْمَادَّتَيْنِ تَقَارَبَتَا لَفْظًا وَمَعْنًى فَبَعِيدٌ جِدًّا لِأَنَّ مَادَّتَهُمَا مُتَّحِدَةٌ غَايَةُ مَا فِي الْبَابِ أَنَّ بَابَهُمَا مُخْتَلِفٌ، وَقِيلَ: إِنَّمَا ذَكَرَهُ لِأَنَّهُ نَظِيرُ الْمَبْحُوثِ عَنْهُ، وَذِكْرُهُ فِي أَحَادِيثَ أُخَرَ وَاقِعٌ وَتَفْسِيرُهُ نَافِعٌ. (فِي نُشَّابَتِهِ) : بِضَمِّ النُّونِ وَشَدِّ الْمُعْجَمَةِ وَفَتْحِ الْمُوَحَّدَةِ، وَفِي بَعْضِ النُّسَخِ بِحَذْفِ الْفَوْقِيَّةِ
(আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি): কারণ মানুষের মধ্যে সৌন্দর্যের দিক দিয়ে তাঁর সমতুল্য কেউ নেই এবং চরিত্রের পূর্ণতার দিক দিয়েও তাঁর সদৃশ কেউ নেই। (আবু ঈসা বলেন:): নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই রয়েছে, তবে কিছু সংস্করণে 'আবু ঈসা' শব্দটি পাওয়া যায় না। সাইয়্যেদ আসীলুদ্দীন বলেন: এর মাধ্যমে তিনি নিজেকেই বুঝিয়েছেন, কারণ এটিই তাঁর কুনিয়াত (ডাকনাম)। আবার এমনও সম্ভাবনা আছে যে এটি তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের কথা, যেমনটি কিতাবের শুরুতে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং কুনিয়াত উল্লেখ করা সেই দিকেই ইঙ্গিত করে। (আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন থেকে শুনেছি): অর্থাৎ ইবনে আবি হালিমা। তিনি সেই তিন জন শাইখের অন্যতম যাঁদের থেকে এই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
বলা হয়েছে: কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে' বর্ণিত হয়েছে। (তিনি বলছেন:): হানাফি বলেন, এবং কোনো কোনো সংস্করণে রয়েছে 'তিনি বললেন'। আল-ইসাম বলেন: 'বলছেন' শব্দটি 'আমি শুনেছি' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্মপদ। আর আপনি তো জানেন যে এটি বর্তমান কাল হওয়া আবশ্যক। সুতরাং কোনো কোনো সংস্করণে 'বলছেন'-এর পরিবর্তে 'বললেন' থাকাটা যথাযথ নয়। সমাপ্ত। তবে অধিক স্পষ্ট মত হলো 'বলছেন' শব্দটি এখানে অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। (আমি আসমায়িকে বলতে শুনেছি): তিনি একজন প্রসিদ্ধ ভাষাবিদ, তাঁর দাদা আসমা-এর নামানুসারে তাঁকে আসমায়ি বলা হয়। তিনি বসরা নিবাসী ছিলেন। তিনি একদল ইমামের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকেও একদল বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন বলেন: আমি আসমায়িকে বলতে শুনেছি, তিনি মালিক ইবনে আনাস থেকে শুনেছেন। উলামাগণ একমত যে তিনি নির্ভরযোগ্য। বলা হয়ে থাকে, হারুনুর রশীদ তাঁকে তাঁর মজলিসের জন্য বিশেষভাবে নির্বাচন করেছিলেন এবং তিনি তাঁকে কাজী আবু ইউসুফের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁর ইলম তাঁর মুখস্থ ছিল। আজহারি রিয়াশি থেকে বর্ণনা করেন যে, আসমায়ি কুরআনের তাফসির করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। আবু জাফর বলেন: তিনি তাফসির ও হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। (তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলির ব্যাখ্যায় বলেন:): অর্থাৎ বর্ণিত খবরে আসা কিছু শব্দের ব্যাখ্যায়। এক্ষেত্রে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, গ্রন্থকার দুর্বোধ্য শব্দগুলোর ব্যাখ্যায় হাদিসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেননি। তবে এটি তেমন কোনো জোরালো আপত্তি নয়, কারণ তিনি আসমায়ির কথা যেভাবে শুনেছেন সেভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর আসমায়ি এই হাদিসের ব্যাখ্যা হিসেবে এটি উল্লেখ করেননি। গ্রন্থকার নিজেই 'নবীর গুণাবলির ব্যাখ্যায়' বলে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন, 'এই হাদিসের ব্যাখ্যায়' না বলে। (আল-মুমমাগিত): এর উচ্চারণ পদ্ধতি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (দৈর্ঘ্যে বর্ধিত): অর্থাৎ এমন ব্যক্তি যার দেহের উচ্চতা অত্যধিক। আর 'দৈর্ঘ্যে' শব্দটি এখানে ক্রিয়া সম্পাদনকারীর সাথে সম্পৃক্ততার দিক থেকে পার্থক্যকারী (তাময়িজ) অথবা এটি উদ্দেশ্যবাচক কর্ম (মাফউল লাহ)। হানাফি এমনটিই উল্লেখ করেছেন। আল-ইসাম বলেন: অভিধান অনুযায়ী 'তুল' অর্থ দীর্ঘ হওয়া, অর্থাৎ যার দৈর্ঘ্য বর্ধিত। আর এটি কর্মপদের দিকে সম্বন্ধিত হয়েছে 'মধ্যে' অব্যয় ব্যবহারের মাধ্যমে, অর্থাৎ যার দৈর্ঘ্যের মধ্যে প্রসারণ রয়েছে। আর যিনি একে উদ্দেশ্যবাচক কর্ম সাব্যস্ত করেছেন, আমি মনে করি না যে তা সঠিক হয়েছে। (তিনি বললেন:): অর্থাৎ আসমায়ি। যিনি ধারণা করেছেন এর কর্তা আবু জাফর, তিনি ভুল করেছেন। আর যিনি একে গ্রন্থকারের দিকে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, তিনি আরও দূরবর্তী কথা বলেছেন। (আমি এক বেদুইনকে বলতে শুনেছি): বলা হয়েছে, কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'তিনি বললেন'-এর আগে 'এবং' যুক্ত রয়েছে, আবার কোনোটিতে আদৌ কোনো 'এবং' নেই। (বলছেন:): অর্থাৎ সেই বেদুইন। বেদুইন বলতে আরবদের মরুবাসী লোকজনকে বোঝায়; তারা শহরের অধিবাসী আরবদের চেয়ে বেশি বাকপটু, কারণ শহরবাসীরা অনারবদের সাথে মেলামেশা করে থাকে। তিনি বলেন: (তাঁর কথাবার্তায়): অর্থাৎ তাঁর বাক্যসমূহের মাঝে। (প্রসারিত হওয়া): তিনি এই শব্দটি এনেছেন হাদিসের মূল উদ্দিষ্ট অর্থের সাথে এর অর্থের সামঞ্জস্য থাকার কারণে, আর তা হলো দৈর্ঘ্য বা প্রসারণ। নতুবা হাদিসে তো 'ইনফিয়াল' অধ্যায় থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়েছে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—'তাফাউল' অধ্যায় থেকে নয়। আর ইবনে হাজার যে উল্লেখ করেছেন যে, এটি সেই মূল ধাতু থেকে নয় যা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে—অর্থাৎ 'আল-মুমমাগিত'—বরং তিনি এটি উল্লেখ করেছেন শব্দ ও অর্থের সাদৃশ্য বোঝাতে, তাঁর এই বক্তব্যটি অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য। কারণ উভয়ের মূল ধাতু একই, বড়জোর তাদের ব্যাকরণগত রূপ ভিন্ন। বলা হয়েছে, তিনি এটি এজন্য উল্লেখ করেছেন কারণ এটি আলোচ্য বিষয়ের সদৃশ। অন্য হাদিসগুলোতেও এর প্রয়োগ রয়েছে এবং এর ব্যাখ্যা ফলপ্রসূ। (তাঁর তীরের মধ্যে): নুশশাবাহ (তীর) শব্দটি নূন বর্ণে পেশ, শীন বর্ণে তাশদিদ এবং বা বর্ণে জবরসহ। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে শেষে 'তা' বর্ণটি ছাড়াই রয়েছে।