(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: -)
الشرح الكبير لمختصر الأصول القسم: أصول الفقه
الكتاب: الشرح الكبير لمختصر الأصول من علم الأصول
المؤلف: أبو المنذر محمود بن محمد بن مصطفى بن عبد اللطيف المنياوي
الناشر: المكتبة الشاملة، مصر
الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م
عدد الصفحات: 641
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع (الطبعة الورقية)]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 ذو الحجة 1432
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসুল বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
বই: আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসুল মিন ইলমিল উসুল
লেখক: আবু আল-মুনজির মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুল লতিফ আল-মিনইয়াভি
প্রকাশক: মাকতাবাতুশ শামিলা, মিশর
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪১
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ (কাগজে মুদ্রিত সংস্করণ)]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জিলহজ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১)
الشرح الكبير
لمختصر الأصول من علم الأصول
للعلامة محمد بن صالح العثيمين
رحمه الله تعالى -
تأليف
الفقير إلى عفو ربه الغني:
أبي المنذر: محمود بن محمد بن مصطفى المنياوي
عفا الله - تعالى - عنه
الطبعة الأولى
1432هـ/ 2011م
المكتبة الشاملة
আশ-শারহুল কাবীর (বৃহৎ ব্যাখ্যা)
উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের ‘মুখতাসার আল-উসুল’ (মূলনীতি সংক্ষেপ)-এর
আল্লামা মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন
আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন -
গ্রন্থনায়
তাঁর অভাবমুক্ত প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী নিঃস্ব:
আবু আল-মুনজির: মাহমুদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুস্তফা আল-মিনইয়াউয়ি
আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন
প্রথম সংস্করণ
১৪৩২ হিজরি/ ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
আল-মাকতাবাহ আশ-শামিলাহ
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১)
حقوق الطبع محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
1432 هـ / 2011 م
رقم الإيداع بالمكتبة الشاملة 8/ 2011
সর্বস্বত্ব লেখকের সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪৩২ হিজরি / ২০১১ খ্রিস্টাব্দ
মাকতাবা শামিলায় জমাদান নম্বর ৮/ ২০১১
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
بيان واعتذارالحمد لله وكفى وصلاة وسلاما على عباده الذين اصطفى.
وبعد ..
فإن أصل هذا الشرح دروس كنت قد ألقيتها في إحدى الدورات العلمية على بعض طلاب العلم ممن سبق لهم التوسع نوعا ما في دراسة علم الأصول عامة، ورسالة الشيخ موضوع الشرح خاصة.
وتزامن قبل الشروع في هذا الشرح أن قمت بشرح مقدمة ابن قدامة المنطقية من الروضة.
ثم بدا لي أن أتخير متنا أصوليا وأقوم بشرحه محاولا من وراءه تحقيق الأهداف التالية:
1 - تطبيق قواعد المنطق والتي سبق وأن درسها الطلاب نظريا على الحدود.
2 - تنمية ملكة الاستنباط واستخراج الفوائد والمسائل من العبارات موضوع الشرح.
3 - تنمية ملكة النقد.
4 - بيان العلاقة بين أصول الفقه وأصول الدين ببيان المسائل التي أدخلها المتكلمون، وبيان ألفاظهم التي استعملوها في الحدود انتصارا لمذهبهم الكلامي الفاسد.
5 - إعداد مدرسين يستطيعون تدريس هذا المتن لغيرهم من طلاب العلم.
وقد وقع اختياري على رسالة الأصول من علم الأصول، وهي وإن كانت قد سبق تدريسها بطريقة مبسطة، إلا أن الدراسة المتوسعة لها سوف تحقق الأهداف السابقة وخاصة وأنها سهلة العبارة ولن نبذل جهدا كبيرا في حل عبارتها.
وأما ما كان من الهدف الرابع فبأضدادها تتميز الأشياء، فمن خلال مناقشة حدود الشيخ فسوف نتبين الخلل في الحدود الكلامية الأخرى.
ومن ثمَّ فقد تم اختيار بعض طلاب العلم المتميزين، وشرح رسالة الأصول من علم الأصول بتوسع لهم.
وبعد أن منَّ الله عليّ بتمام هذه الدورة، وجدت أن الشرح قد بدأ ينتشر بين طلاب
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
বক্তব্য ও কৈফিয়তসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর দরুদ ও সালাম।
অতঃপর...
মূলত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি হলো সেই সব পাঠের সমষ্টি যা আমি একটি ইলমি কোর্সে প্রদান করেছিলাম সেই সব ইলম অন্বেষণকারীদের সামনে যারা ইতোপূর্বে সাধারণভাবে উসুল শাস্ত্রের অধ্যয়নে এবং বিশেষভাবে ব্যাখ্যার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারিত শাইখের পুস্তিকাটির অধ্যয়নে কিছুটা গভীরতা অর্জন করেছেন।
এই ব্যাখ্যা শুরু করার পূর্বমুহূর্তে আমি ‘আর-রওদাহ’ থেকে ইবনে কুদামার যৌক্তিক প্রস্তাবনা (মানতিকি মুকাদ্দিমাহ) ব্যাখ্যা করেছিলাম।
এরপর আমার কাছে সংগত মনে হলো যে, উসুল শাস্ত্রের একটি মাতন (মূল পাঠ) নির্বাচন করি এবং তার ব্যাখ্যা প্রদান করি, যার মাধ্যমে আমি নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের প্রচেষ্টা চালিয়েছি:
১ - মানতিক বা যুক্তিশাস্ত্রের সেই সব নীতিমালার প্রয়োগ করা যা ছাত্ররা ইতোপূর্বে তাত্ত্বিকভাবে সংজ্ঞাসমূহের (হুদুদ) ক্ষেত্রে অধ্যয়ন করেছে।
২ - ব্যাখ্যার বিষয়বস্তু হিসেবে নির্ধারিত পাঠ্য থেকে ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) এবং উপকারিতা ও মাসআলাসমূহ বের করার যোগ্যতা বৃদ্ধি করা।
৩ - পর্যালোচনা ও সমালোচনার যোগ্যতা বৃদ্ধি করা।
৪ - উসুলে ফিকহ এবং উসুলে দ্বীনের (আকিদা) মধ্যবর্তী সম্পর্ক স্পষ্ট করা—সেই সব মাসআলা বর্ণনার মাধ্যমে যা মুতাকাল্লিমগণ (কালামশাস্ত্রবিদগণ) অনুপ্রবেশ করিয়েছেন এবং সংজ্ঞাসমূহের ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহৃত সেই সব শব্দের ব্যাখ্যার মাধ্যমে যা তারা তাদের ভ্রান্ত কালামি মাযহাবের সমর্থনে ব্যবহার করেছেন।
৫ - এমন শিক্ষক তৈরি করা যারা ইলম অন্বেষণকারী অন্যান্য ছাত্রদের কাছে এই মাতনটি পাঠদান করতে সক্ষম হবেন।
আর আমার পছন্দটি নিপতিত হয়েছে ‘আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল’ পুস্তিকাটির ওপর। যদিও এটি ইতোপূর্বে সহজ পদ্ধতিতে পাঠদান করা হয়েছে, তবে এর বিস্তারিত অধ্যয়ন পূর্বোক্ত লক্ষ্যসমূহ অর্জন করবে, বিশেষ করে যেহেতু এর ভাষা অত্যন্ত সহজ এবং এর বাক্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমাদের খুব বেশি শ্রম ব্যয় করতে হবে না।
আর চতুর্থ লক্ষ্যের বিষয়ে কথা হলো, বিপরীত জিনিসের মাধ্যমেই বিষয়বস্তুসমূহ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে; সুতরাং শাইখের দেওয়া সংজ্ঞাসমূহের পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা অন্যান্য কালামি সংজ্ঞাসমূহের ত্রুটিসমূহ স্পষ্ট দেখতে পাব।
ফলশ্রুতিতে, কতিপয় মেধাবী ইলম অন্বেষণকারীকে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাদের নিকট ‘আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল’ পুস্তিকাটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
আল্লাহ যখন এই কোর্সটি পূর্ণ করার মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করলেন, তখন আমি দেখলাম যে এই ব্যাখ্যাটি ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৩)
العلم، فراودتني فكرة طباعته؛ فاستخرت الله العظيم في ذلك فانشرح صدري، وبدأت أعيد النظر فيه، ولكنني عندما عرضت الأمر على بعض أساتذتي استبشر خيرا وأبدى سرورا بهذا الجهد المبذول لخدمة هذا المتن - والذي أحتسبه عند الله - إلا أنه أبدى قلقا من جهتين:
الأولى - أن الشيخ رحمه الله قد وضع هذا المتن مبسطا لطلاب المعاهد الثانوية بما يتناسب مع مستواهم التحصيلي فكيف نطوله ونعرض فيه للخلاف، ومناقشة الحدود بما يخرج المتن عن مقصوده الأصلي.
الثانية - أن تطويل الشرح بهذا الحجم الكبير لهذا المتن المختصر خروج عن المعهود، وأيضا عن مقصود الشيخ.
فقلت بيانا لوجهة نظري:
أما أن يكون هذا الشرح خروجا عن مقصود الشيخ رحمه الله فإنني لم أتعد على الكتاب الأصلي بتغيير، أو تحريف، غاية الأمر أنني شرحته ببعض التوسع، مع سهولة الألفاظ وعرض المسائل، وكما هو معلوم أن من طبيعة الشرح أن يدور بين التطويل والتوسط والاختصار، وكل هذا لا يعدو أن يكون خدمة للمتن.
وأما ما كان من كبر حجم الشرح فما زالت طرائق العلماء منذ القدم مختلفة فمنهم من يجنح للاختصار، ومنهم من يتوسط، ومنهم من يطول.
ومن وجهة نظري فإنه لا إشكال في التطويل للمختصرات بحد ذاته، ولكن الإشكال يكمن في تحميلها ما لا تحتمل، والتوسع بالخلاف عند من لا يفهمه ولا يتحمله من صغار طلاب العلم.
كما أن طريقة التطويل، نافعة لطلاب العلم غير المبتدئين كما لا يخفى، وهي أيضا مفيدة للمبتدئين لما فيها من التطويل في التأسيس.
وقد شرح الشيخ نفسه رسالته في مجلد كبير.
وشرح الشيخ أحمد بن قاسم العبادي شرح المحلى على الورقات شرحا كبيرا، وآخر متوسطا، كما شرح الورقات الشيخ إبراهيم الحلبي شرحا مختصرا، وآخر متوسطا، وثالث مطولا.
وقد شرح الإمام الشيرازي رسالته اللمع في شرح كبير طبع فيما يزيد على الألف
জ্ঞান, তাই এটি মুদ্রণের চিন্তা আমার মনে এল; অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট এ বিষয়ে ইস্তিখারা করলাম এবং এতে আমার বক্ষ প্রশান্ত হলো। আমি এটি পুনঃনিরীক্ষণ করতে শুরু করলাম। তবে যখন আমি বিষয়টি আমার কতিপয় শিক্ষকের নিকট উপস্থাপন করলাম, তিনি এটিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেন এবং এই মূলপাঠের (মতন) খিদমতে নিয়োজিত এই প্রচেষ্টার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন—যা আমি আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায় করছি—তবে তিনি দুটি দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন:
প্রথমত—শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এই মূলপাঠটি মাধ্যমিক মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের মেধা ও অর্জিত স্তরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সহজবোধ্য করে প্রণয়ন করেছেন। এমতাবস্থায় আমরা কীভাবে একে দীর্ঘায়িত করব এবং এতে এমন মতভেদ ও সংজ্ঞার চুলচেরা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করব, যা এই মূলপাঠকে তার আসল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে ফেলে!
দ্বিতীয়ত—এই সংক্ষিপ্ত মূলপাঠের জন্য এত বিশাল কলেবরের দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদান করা প্রচলিত রীতির পরিপন্থী এবং শায়খের উদ্দেশ্যেরও বিপরীত।
আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বললাম:
এই ব্যাখ্যাটি শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য হলো—আমি মূল কিতাবে কোনো পরিবর্তন বা বিকৃতি ঘটিয়ে সীমা লঙ্ঘন করিনি। বড়জোর আমি শব্দগত সহজতা ও মাসআলা উপস্থাপনের সাথে কিছুটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, ব্যাখ্যার প্রকৃতিই হলো দীর্ঘ, মধ্যম ও সংক্ষিপ্ত—এই তিন স্তরের মধ্যে আবর্তিত হওয়া। এর সবকিছুই মূলপাঠের (মতন) খিদমত হিসেবেই গণ্য।
আর ব্যাখ্যার বিশাল কলেবরের বিষয়ে বলতে গেলে, প্রাচীনকাল থেকেই আলেমদের কর্মপদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন ছিল। তাঁদের মধ্যে কেউ সংক্ষিপ্তকরণের দিকে ঝুঁকেছেন, কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছেন, আবার কেউ দীর্ঘায়িত করেছেন।
আমার দৃষ্টিতে, সংক্ষিপ্ত কিতাবের দীর্ঘ ব্যাখ্যা প্রদানে স্বতস্ফূর্তভাবে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যাটি তখনই তৈরি হয় যখন এতে এমন কিছুর ভার চাপানো হয় যা তা সহ্য করার মতো নয়, অথবা যখন এমন নবীন শিক্ষার্থীদের সামনে মতভেদের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয় যারা তা বুঝতে বা ধারণ করতে সক্ষম নয়।
যেমনটি ব্যাখ্যার দীর্ঘ পদ্ধতিটি উচ্চস্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী হওয়া অপ্রকাশ্য কোনো বিষয় নয়, তেমনি এটি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্যও ফলপ্রসূ, কারণ এতে মূল ভিত্তি স্থাপনে বিস্তারিত আলোচনা বিদ্যমান।
স্বয়ং শায়খ নিজেই তাঁর রিসালাহটি (পুস্তিকা) একটি বড় খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন।
শায়খ আহমাদ ইবনে কাসিম আল-আব্বাদি 'আল-ওয়ারাখাত'-এর উপর 'আল-মহল্লি'-র ব্যাখ্যার একটি বড় এবং অপর একটি মধ্যম মানের ব্যাখ্যা লিখেছেন। একইভাবে শায়খ ইব্রাহিম আল-হালাবি 'আল-ওয়ারাখাত'-এর একটি সংক্ষিপ্ত, একটি মধ্যম এবং তৃতীয় একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা লিখেছেন।
ইমাম শিরাজি তাঁর 'আল-লুমা' নামক পুস্তিকাটি একটি বিশাল ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যা এক হাজারেরও অধিক পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৪)
صفحة.
وأيضا شرح الإمام ابن قدامة مختصر الخرقي في تسع مجلدات كبار، في حين أن شرح الزركشي له يقع في ثلاث مجلدات.
وشرح الشيخ أحمد بن عمر الحازمي نظم العمريطي على الورقات شرحا مختصرا في اثنتي عشر شريطا، وله شرح مطول له في خمسة وأربعين شريطا.
وتتبع هذا يطول فالحمد لله أننا لم نأت ببدع من الأمر عندما أطلنا النفس في الشرح.
تنبيه:ما جاء في هذا الشرح من زيادة، أو حذف لبعض القيود من حدود الشيخ العثيمين رحمه الله، فليس فيه استدراك على الشيخ؛ لأنه رحمه الله لم يشترط بداية على نفسه وضع حد جامع مانع - بل كان يرى تحريم تعلم علم المنطق -، وإنما كان غرض الشيخ توصيل المعنى في أبسط عبارة بما يتناسب مع الطلاب المبتدئين الذين ألف لهم هذه الرسالة، وأيضا نظرا لأن الوصول إلى حد جامع مانع من الصعوبة بمكان، ولذلك فحتى الحدود التي وضعتُها وانتهيت إليها قد يستدرك عليها، وإنما كان الهدف تمرين الطلاب على بعض القواعد والشروط في الحدود كما سبق وأن ذكرت، وأيضا التوسع بفتح مداخل لدراسة بعض المسائل الأخرى والتي لها علاقة مباشرة بالمسألة موضوع الدراسة بما يساعد الدارسين على تثبيت المعلومات، وتحرير الفروق بين المسائل.
ويشهد الله أنني لم أقصد إن حدث مني تعقب على الشيخ في حد، أو غير ذلك - التنقص، أو الرد لمجرد الرد، بل إنني انتصرت للشيخ في عدة مواضع، ورددت على من استدرك عليه، ومنزلة الشيخ ومكانته العلمية عندي أكبر من أن يستدرك عليه مثلي، وإنما كان الغرض هو مجرد المذاكرة، وغير ذلك مما ذكرت في صدر كلامي، كما أن المخالفة بالدروان مع الدليل هو المنهج الذي تعلمناه من الشيخ رحمه الله.
والله المستعان، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
পৃষ্ঠা।
এছাড়াও ইমাম ইবনে কুদামা 'মুখতাসার আল-খিরাকি'-এর ব্যাখ্যা নয়টি বড় খণ্ডে করেছেন, যেখানে আজ-যারকাশি এর ব্যাখ্যা তিনটি খণ্ডে করেছেন।
এবং শায়খ আহমাদ বিন উমর আল-হাজিমি 'আল-ওয়ারাকাত'-এর উপর আল-উমরিতির পদ্যের একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা বারোটি অডিও ক্যাসেটে করেছেন এবং তাঁর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা পঁয়তাল্লিশটি অডিও ক্যাসেটে রয়েছে।
আর এর অনুসন্ধান দীর্ঘ হবে, তাই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যে আমরা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করে কোনো নজিরবিহীন কিছু নিয়ে আসিনি।
সতর্কবার্তা:এই ব্যাখ্যায় শায়খ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংজ্ঞাসমূহ থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা যোগ বা বিয়োগ করা হয়েছে, তবে তা শায়খের ওপর কোনো আপত্তি বা সংশোধন হিসেবে নয়; কারণ তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) শুরু থেকেই নিজের ওপর কোনো 'জামে মানি' (পূর্ণাঙ্গ ও বর্জনকারী) সংজ্ঞা প্রদানের শর্ত আরোপ করেননি - বরং তিনি যুক্তিবিদ্যা শেখাকে হারাম মনে করতেন - বরং শায়খের উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সহজ ভাষায় অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া, যা সেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত যাদের জন্য তিনি এই রিসালাটি লিখেছিলেন। এছাড়া একটি 'জামে মানি' সংজ্ঞায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন কাজ, যার ফলে আমি নিজেও যে সংজ্ঞাগুলো নির্ধারণ করেছি এবং যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি সেগুলোর ওপরও আপত্তি আসতে পারে। বরং এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের কিছু নিয়ম এবং সংজ্ঞার শর্তাবলির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া যেমনটি আমি আগে উল্লেখ করেছি, এবং অধ্যয়নাধীন বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত অন্য কিছু মাসআলা অধ্যয়নের পথ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে পরিধি বৃদ্ধি করা, যা শিক্ষার্থীদের তথ্যগুলো মজবুত করতে এবং মাসআলাগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে সহায়তা করবে।
আল্লাহ সাক্ষী যে, শায়খের কোনো সংজ্ঞায় বা অন্য কিছুতে আমার পক্ষ থেকে যদি কোনো পর্যবেক্ষণ এসে থাকে, তবে তার মাধ্যমে তাঁকে হেয় করা বা কেবল খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে খণ্ডন করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং আমি অনেক স্থানে শায়খের পক্ষাবলম্বন করেছি এবং যারা তাঁর ওপর আপত্তি তুলেছিল তাদের জবাব দিয়েছি। আমার কাছে শায়খের মর্যাদা এবং ইলমি মাকাম আমার মতো কারও পক্ষ থেকে তাঁর ওপর আপত্তি করার চেয়েও অনেক বড়। বরং এর উদ্দেশ্য ছিল নিছক আলোচনা এবং আমার বক্তব্যের শুরুতে আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই। এছাড়া দলিলের আলোকে ভিন্নমত পোষণ করা সেই মানহাজ যা আমরা শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছ থেকেই শিখেছি।
আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি, আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপায় বা শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المؤلف:إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبدُه ورسولُه.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}.
أما بعد
…فهذا شرح لرسالة (الأصول من علم الأصول) لفضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين - رحمه الله تعالى - وطريقتي في الشرح سوف تكون - بإذن الله - أولا باختصار عبارة الشيخ قدر المستطاع ثم شرحها.
ومنهجي في الاختصار إن أحافظ على عبارة الشيخ ولا أتصرف فيها.
ومنهجي في الشرح أنني غالبا انقل ما يتضح به مقصود العبارة التي اختصرتها عن الشيخ من الأصل (1) أو من شرحه (2)، وقد أعرج أحيانا على غيرهما من كتب الشيخ؛ لتحقيق مذهب الشيخ في بعض المسائل، وقد أتبع ذلك بالنقول عن غيره من علماء المذهب الحنبلي وقد أضيف إلى ذلك بعض النقول عن غيرهم من علماء المذاهب الأخرى، أو عن بعض المعاصرين ما قد أرى أنه مناسبا وخادما للأفكار الرئيسة للمتن. كل ذلك مع التنبيه على المرجوح بدون استطراد في عرض ومناقشة الخلاف، إلا أن الأمر لا يخلو بإذن الله من بعض التنبيهات التي لها علاقة مباشرة بالمتن.
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকা:নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়ে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}
অতঃপর...
…এটি ফযীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- এর রিসালাহ (আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল) এর একটি ব্যাখ্যা। এই ব্যাখ্যায় আল্লাহর ইচ্ছায় আমার পদ্ধতি হবে—প্রথমে সাধ্যমতো শাইখের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করা এবং এরপর তার ব্যাখ্যা করা।
সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে আমার নীতি হলো শাইখের মূল বক্তব্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা এবং তাতে কোনো পরিবর্তন না করা।
ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমার নীতি হলো—আমি সাধারণত শাইখের মূল গ্রন্থ (১) অথবা তাঁর নিজের কৃত ব্যাখ্যা (২) থেকে এমন সব বিষয় উদ্ধৃত করি যা আমার সংক্ষিপ্ত করা বক্তব্যের উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে। কিছু বিষয়ে শাইখের অভিমত সুনির্দিষ্ট করার জন্য কখনো কখনো আমি তাঁর অন্যান্য কিতাবের দিকেও দৃষ্টিপাত করেছি; আর তার অনুসরণে আমি হাম্বলি মাযহাবের অন্যান্য আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং এর সাথে অন্যান্য মাযহাবের আলেমদের অথবা সমসাময়িক কোনো কোনো আলেমের এমন কিছু উদ্ধৃতি যোগ করেছি যা মূল পাঠের মূল ধারণাগুলোর জন্য উপযুক্ত এবং সহায়ক মনে করেছি। এই সবকিছুই করা হয়েছে অগ্রহণযোগ্য মতের বিষয়ে সতর্ক করার মাধ্যমে, তবে মতভেদের উপস্থাপন বা আলোচনায় কোনো দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করা হয়নি; তবে আল্লাহর ইচ্ছায় বিষয়গুলো এমন কিছু সতর্কবাণী থেকে খালি নয় যেগুলোর সাথে মূল পাঠের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৬)
وسبب اختصاري لعبارة الشيخ أن الشيخ رحمه الله قد صنف هذه الرسالة للتدريس لطلاب السنة الثالثة الثانوية في المعاهد ومن نظر فيها علم أنها كالمتن الممزوج بالشرح المبسط.
فالشيخ - والله أعلم - لم يكن هدفه أن يضع هذه الرسالة على أنه متن يسهل حفظه على الطلاب، وإنما كان غرضه تقريب هذا العلم إليهم.
فقلت: لعلي إن اختصرت عبارتها أن أسهل حفظها على طلاب العلم.
لذلك سوف اختصر أهم النقاط الواردة في الرسالة ثم من خلالها أتوسع بذكر متعلقاتها النافعة بإذن الله.
وقبل الشروع في اختصار وشرح الرسالة سوف أقدم بين يديها بالتعريف بمؤلفها، وبرسالته، فالله المستعان.
المنيا في 14 شوال 1429 هـ الموافق 13/ 10 / 2008م
শায়খের শব্দাবলিকে আমার সংক্ষেপ করার কারণ হলো, শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই রিসালাটি ইনস্টিটিউটগুলোতে মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের পাঠদানের জন্য রচনা করেছিলেন। আর যে ব্যক্তি এটি লক্ষ্য করবে, সে বুঝতে পারবে যে এটি সরল ব্যাখ্যার সাথে মিশ্রিত একটি মূল পাঠের (মতন) মতো।
শায়খের উদ্দেশ্য—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—এই রিসালাটি এমন একটি মতন হিসেবে পেশ করা ছিল না যা ছাত্রদের জন্য মুখস্থ করা সহজ হবে, বরং তাঁর লক্ষ্য ছিল এই ইলমকে তাদের নিকটবর্তী করে দেওয়া।
তাই আমি ভাবলাম, আমি যদি এর শব্দাবলি সংক্ষেপ করি, তবে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তা মুখস্থ করা সহজ হতে পারে।
এজন্য আমি এই রিসালায় উল্লিখিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো সংক্ষেপ করব এবং এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় এর মাধ্যমে এ সংক্রান্ত উপকারী বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব।
আর রিসালাটি সংক্ষেপ ও ব্যাখ্যা করা শুরু করার আগে আমি এর লেখক এবং তাঁর এই রিসালাটির পরিচিতি পেশ করব; আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
আল-মিনিয়া, ১৪ শাওয়াল ১৪২৯ হিজরি, মোতাবেক ১৩/১০/২০০৮ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة الماتن:هو الشيخ محمد بن عثيمين ذلك العالم الجليل والمربي الفاضل والقدوة الصالحة في العلم والزهد والصدق والإخلاص والتواضع والورع والفتوى.
هو شيخ التفسير والعقيدة والفقه والسيرة النبوية والأصول والنحو وسائر العلوم الشرعية.
هو العالم الداعي إلى الله على بصيرة الذي انتفع بعلمه المسلمون في شتى أنحاء العالم الإسلامي والذي أجمعت القلوب على قبوله ومحبته وفضله وعلو مرتبته.
هو فضيلة الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله رحمة واسعة وأسكنه الفردوس الأعلى مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقاً.
وقد أفرد تلاميذ الشيخ وغيرهم سيرة الشيخ بمؤلفات مفردة ومنها:
1 - ابن عثيمين، الإمام الزاهد": كتاب قيم يحمل في طياته سيرة الإمام ابن عثيمين رحمه الله يرويها العلماء وطلبة العلم، مع ما قيل في الشيخ رحمه الله من مراثي وأشعار .. يقع الكتاب في (1022) صفحة.
2 - الجامع لحياة العلامة محمد بن صالح العثيمين": بقلم تلميذه الشيخ "وليد بن أحمد الحسين" رئيس تحرير مجلة "الحكمة"، وهو كتاب جميل، بل من أجمل ما كُتب عن الشيخ رحمه الله، فأنصح طلبة العلم ومحبي الشيخ بقراءته، وترجم له ترجمة أيضا مختصرة في العدد الثاني من مجلة الحكمة، وقد طبعت الترجمة في رسالة مفردة بعنوان: صفحات مضيئة من حياة الشيخ محمد بن صالح العثيمين.
3 - سيرة الشيخ ابن عثيمين رحمه الله": وهي رسالة لطيفة كتبها " إحسان بن محمد بن عايش العتيبي"، وهي من أول ما كُتب في رثاء الشيخ رحمه الله.
4 - صفحات مشرقة من حياة الإمام محمد بن صالح العثيمين" جاء في (176) صفحة من تأليف "حمود بن عبد الله المطر" ..
5 - أربعة عشر عاماً مع سماحة العلامة الشيخ محمد بن صالح العثيمين": وهو للشيخ "عبدالكريم بن صالح المقرن" .. جاء في (93) صفحة.
6 - لمحات من حياة سماحة الشيخ العلامة محمد بن صالح العثيمين": للشيخ
মূল লেখকের জীবনী:তিনি হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন উসাইমীন; সেই মহান আলেম, মর্যাদাবান শিক্ষক এবং ইলম, দুনিয়াবিমুখতা, সত্যবাদিতা, ইখলাস, বিনয়, পরহেজগারি ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এক উত্তম আদর্শ।
তিনি তাফসীর, আকিদা, ফিকহ, সীরাতুন্নবী, উসুল, নাহু এবং অন্যান্য সমস্ত শরয়ী ইলমের শায়খ।
তিনি সেই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন আলেম ও আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী, যাঁর ইলম দ্বারা মুসলিম বিশ্বের প্রান্তরে প্রান্তরে মুসলিমরা উপকৃত হয়েছে এবং যাঁর গ্রহণযোগ্যতা, মহব্বত, শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ মর্যাদার ব্যাপারে সকল অন্তর একমত হয়েছে।
তিনি হলেন ফযীলাতুশ শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন—আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং তাঁকে সেই সকল ব্যক্তিদের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিন, যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত বর্ষণ করেছেন অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলদের সাথে; আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম।
শায়খের ছাত্রগণ এবং অন্যরা তাঁর জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - "ইবনে উসাইমীন, আল-ইমামুয যাহিদ": এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ যাতে ইমাম ইবনে উসাইমীন (রহ.)-এর জীবনী বর্ণিত হয়েছে যা আলেমগণ এবং ইলম অন্বেষণকারীরা বর্ণনা করেছেন, সাথে শায়খ (রহ.)-কে নিয়ে রচিত শোকগাথা ও কবিতাগুলোও রয়েছে। বইটি (১০২২) পৃষ্ঠার।
২ - "আল-জামে' লি-হায়াতি আল-আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন": এটি তাঁর ছাত্র 'হিকমাহ' ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক শেখ ওয়ালীদ বিন আহমদ আল-হুসাইনের লেখা। এটি একটি চমৎকার বই, বরং শায়খ (রহ.) সম্পর্কে লেখা সুন্দরতম বইগুলোর অন্যতম। আমি ইলম অন্বেষণকারী এবং শায়খের অনুরাগী পাঠকদের এটি পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। হিকমাহ ম্যাগাজিনের দ্বিতীয় সংখ্যায় তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীও তুলে ধরা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেই জীবনীটি 'সাফাহাতুন মুদিআত মিন হায়াতিশ শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন' শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে।
৩ - "সীরাতুশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (রহ.)": এটি ইহসান বিন মুহাম্মদ বিন আইয়িশ আল-উতায়েবী লিখিত একটি ছোট পুস্তিকা, যা শায়খের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে লেখা প্রথম দিকের রচনার অন্তর্ভুক্ত।
৪ - "সাফাহাতুন মুশরিকাহ মিন হায়াতি আল-ইমাম মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন": এটি (১৭৬) পৃষ্ঠার একটি বই, যার লেখক হামুদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাতার।
৫ - "আরবাআতা আশারা আমান মাআ সামাহাতিল আল্লামা আশ-শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন": এটি শেখ আব্দুল কারীম বিন সালেহ আল-মুকরিন রচিত। এটি (৯৩) পৃষ্ঠার।
৬ - "লামাহাতুন মিন হায়াতি সামাহাতিশ শায়খ আল-আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন": শায়খ...
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৮)
"متعب بن عبدالرحمن القبيسي" .. جاء في (17) صفحة.
7 - الدر الثمين في ترجمة العلامة ابن عثيمين": شارك في إعدادها أحد عشر باحثاً معظمهم من تلاميذ الشيخ رحمه الله .. وهي رسالة صغيرة في (45) صفحة.
8 - ابن عثيمين، سيرة زاهد": وهي من تأليف "خالد قندس" من اليمن .. تقع في (20) صفحة.
9 - "صفحات من حياة الفقيد العالم الزاهد الشيخ محمد بن عثيمين" رسالة لطيفة للشيخ: عبدالله بن محمد بن احمد الطيار.
10 - وسطر مازن الغامدي (رحلتي إلى النور) وهي قصه يذكر فيها مواقفه وحياته مع الشيخ العلامة بن عثيمين، ومات قبل أن تيمها - رحمهما الله تعالى -.
11 - هذا غير الرسائل الجامعية والمقالات الكثيرة التي كتبت في أكثر المجلات والجرائد العربية وغيرها تتحدث عن حياة هذا العالم الجليل.
وغير ذلك الكثير فرحم الله الشيخ رحمة واسعة.
وسوف ألخص جملا مما وقفت عليه من هذه الكتب والرسائل بما يتضح به المقصود من ترجمة الشيخ رحمه الله، فالله المستعان.
اسمه ونسبه:هو أبو عبد الله محمد بن صالح بن محمد بن سليمان بن عبد الرحمن بن عثمان بن عبدالله بن عبدالرحمن بن أحمد بن مقبل من آل مقبل من آل ريِّس الوهيبي التميمي، وجده الرابع عثمان أطلق عليه عثيمين فاشتهر به، وهو من فخذ وهبه من تميم نزح أجداده من الوشم إلى عنيزة.
مولده:كان مولده في ليلة السابع والعشرين من شهر رمضان المبارك عام 1347هـ، في مدينة عُنَيِّزَة - إحدى مدن القصيم- بالمملكة العربية السعودية.
"মুতইব বিন আবদুর রহমান আল-কুবাইসি" .. যা ১৭ পৃষ্ঠায় এসেছে।
৭ - "আদ-দুররুস সামিন ফি তারজামাতিল আল্লামাহ ইবনে উসাইমিন": এটি প্রস্তুত করতে এগারোজন গবেষক অংশগ্রহণ করেছেন, যাদের অধিকাংশই শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) ছাত্র। এটি ৪৫ পৃষ্ঠার একটি ছোট পুস্তিকা।
৮ - "ইবনে উসাইমিন, সিরাত জাহিদ": এটি ইয়ামেনের "খালিদ কুনদুস" কর্তৃক রচিত। এটি ২০ পৃষ্ঠার।
৯ - "সাফাহাতুম মিন হায়াতিল ফাকিদিল আলিম আল-জাহিদ আশ-শাইখ মুহাম্মাদ বিন উসাইমিন": শাইখ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আত-তাইয়্যারের একটি চমৎকার পুস্তিকা।
১০ - মাজেন আল-গামদি "রিহলাতি ইলান নূর" (আলোর অভিমুখে আমার যাত্রা) রচনা করেছেন, এটি একটি কাহিনী যেখানে তিনি আল্লামাহ ইবনে উসাইমিনের সাথে তাঁর অবস্থান ও জীবনের স্মৃতিচারণ করেছেন। এটি সম্পন্ন করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।
১১ - এছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র এবং প্রচুর প্রবন্ধ রয়েছে যা অধিকাংশ আরবি ও অন্যান্য ভাষার সাময়িকী ও সংবাদপত্রে এই মহান আলিমের জীবন সম্পর্কে লেখা হয়েছে।
এছাড়া আরও অনেক রয়েছে, আল্লাহ শাইখকে প্রশস্ত রহমত দান করুন।
আমি এই সমস্ত গ্রন্থ ও পুস্তিকা থেকে যা অবগত হয়েছি তা সংক্ষেপে বর্ণনা করব, যার মাধ্যমে শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) জীবনীর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হবে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আবদুর রহমান বিন উসমান বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আহমাদ বিন মুকবিল, যিনি আল-মুকবিল গোত্রভুক্ত আল-রাইয়িস আল-উহাইবি আত-তামিমি বংশের সদস্য। তাঁর চতুর্থ পূর্বপুরুষ উসমানকে 'উসাইমিন' বলে ডাকা হতো এবং তিনি সেই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি তামিম গোত্রের 'উহবাহ' শাখার অন্তর্ভুক্ত। তাঁর পূর্বপুরুষগণ আল-ওয়াশম থেকে উনাইজাহতে বসতি স্থাপন করেন।
তাঁর জন্ম:তিনি ১৩৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের সাতাশতম রজনীতে সৌদি আরবের আল-কাসিম প্রদেশের অন্যতম শহর উনাইজাহতে জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
وصفه:قصير القامة معتدل الجسد ـ إلا في مرضه الأخير فقد هزل جدا ـ ذو لحية طويلة إلى صدره بيضاء ـ ما كان يحنيها ـ أبيض البشرة بشوش دائما طلق الوجه.
نشأته العلمية:نشأ الشيخ في عائلة معروفة بالتدين والاستقامة، بل وتتلمذ على بعض أفراد عائلته أمثال جده لأمه الشيخ عبدالرحمن بن سليمان آل دامغ رحمه الله فقرأ عليه القرآن، وحفظه، وقبل أن يتجاوز الخامسة عشر من عمره كان يحفظ - بالإضافة إلى كتاب الله - " زاد المستقنع " و" ألفيَّة ابن مالك " - كما أخبر بذلك هو عن نفسه.
وقد جدَّ الشيخ ونشط في طلب العلم على قلة ذات اليد في ذلك الزمان، وقد حدَّث عن نفسه فقال إنه كان لا يملك إلا " الروض المربع " يقرأ فيه، في غرفة من طين.
ثم درس على فضيلة الشيخ العلامة عبدالرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله -وقد توسم فيه شيخه النجابة، والذكاء، وسرعة التحصيل فكان به حفياً ودفعه إلى التدريس وهو لا يزال طالباً في حلقته.
ولما فتح المعهد العلمي بالرياض أشار عليه الشيخ علي الصالحي أن يلتحق به فاستأذن شيخه عبد الرحمن السعدي فأذن له فالتحق بالمعهد العلمي في الرياض سنة 1372هـ وانتظم في الدراسة سنتين انتفع فيهما بالعلماء الذين كانوا يدرسون في المعهد حينذاك، والتقى هناك بسماحة الشيخ عبدالعزيز بن باز رحمه الله ويعتبر سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز شيخه الثاني في التحصيل والتأثر به.
وتخرج من المعهد العلمي ثم تابع دراسته الجامعية انتساباً حتى نال الشهادة الجامعية من جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية في الرياض.
شيوخه:1. جده من جهة أمه عبد الرحمن بن سليمان الدامغ رحمه الله درس عليه القرآن الكريم.
2. فضيلة الشيخ العلامة عبدالرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله ويعتبر
তাঁর শারীরিক বর্ণনা:তিনি ছিলেন খাটো গড়নের ও সুঠাম দেহের অধিকারী—তবে তাঁর শেষ অসুস্থতার সময় তিনি অত্যন্ত কৃশ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বুক পর্যন্ত লম্বা সাদা দাড়ি ছিল—যাতে তিনি খিযাব (কলপ) লাগাতেন না। তিনি ছিলেন ফর্সা গাত্রবর্ণের এবং সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ও প্রফুল্ল চেহারার অধিকারী।
তাঁর ইলমী শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা:শায়খ দ্বীনদারী ও সততার জন্য সুপরিচিত একটি পরিবারে বেড়ে ওঠেন। এমনকি তিনি তাঁর পরিবারের কিছু সদস্যের নিকটও শিক্ষা লাভ করেছেন, যেমন তাঁর মাতামহ শায়খ আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-দামিঘ (রহিমাহুল্লাহ); যাঁর নিকট তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং তা হিফজ করেন। পনের বছর বয়স হওয়ার আগেই তিনি—আল্লাহর কিতাব ছাড়াও—'যাদুল মুস্তাকনি' এবং 'আলফিয়্যাতু ইবনি মালিক' হিফজ করেছিলেন—যেমনটি তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন।
শায়খ তৎকালীন সময়ের অভাব-অনটনের মাঝেও ইলম অর্জনে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্যমী ছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, তাঁর কাছে পড়ার জন্য 'আর-রাওদুল মুরবি' গ্রন্থটি ছাড়া আর কিছুই ছিল না, যা তিনি একটি মাটির ঘরে বসে পড়তেন।
অতঃপর তিনি বরেণ্য আলেম শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পড়াশোনা করেন। তাঁর উস্তাদ তাঁর মাঝে প্রতিভা, মেধা এবং দ্রুত জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা লক্ষ্য করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন এবং তিনি তাঁর ইলমী মজলিসে ছাত্র থাকাবস্থায়ই তাঁকে পাঠদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।
যখন রিয়াদে 'আল-মা’হাদ আল-ইলমী' (সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউট) খোলা হলো, তখন শায়খ আলী আল-সালিহী তাঁকে সেখানে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি তাঁর উস্তাদ আব্দুর রহমান আস-সা’দীর নিকট অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি ১৩৭২ হিজরীতে রিয়াদের আল-মা’হাদ আল-ইলমীতে ভর্তি হন এবং দুই বছর নিয়মিত পড়াশোনা করেন। এই সময়ে তিনি সেই ইনস্টিটিউটে পাঠদানকারী আলেমদের নিকট থেকে বিপুলভাবে উপকৃত হন। সেখানে তাঁর সাথে শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাক্ষাৎ ঘটে। জ্ঞান অর্জন এবং আদর্শিক প্রভাবের ক্ষেত্রে শায়খ আব্দুল আযীয বিন বাযকে তাঁর দ্বিতীয় প্রধান উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
তিনি আল-মা’হাদ আল-ইলমী থেকে উত্তীর্ণ হন এবং এরপর রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংযুক্ত ছাত্র (দূরশিক্ষণ) হিসেবে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং সেখান থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
তাঁর উস্তাদগণ:১. তাঁর মাতামহ আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আদ-দামিঘ (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট তিনি পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন করেন।
২. বরেণ্য আলেম শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ), যাঁকে গণ্য করা হয়...
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشيخ عبدالرحمن السعدي شيخه الأول الذي نهل من معين علمه وتأثر بمنهجه وتأصيله واتباعه للدليل وطريقة تدريسه.
3. سماحة الإمام العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله فقرأ عليه في المسجد من صحيح البخاري ومن رسائل شيخ الإسلام بن تيمية وانتفع منه في علم الحديث والنظر في آراء فقهاء المذاهب والمقارنة بينها.
4. الشيخ محمد بن عبد العزيز المطوع رحمه الله.
5. قرأ على الشيخ عبد الرحمن بن علي بن عودان رحمه الله في علم الفرائض حال ولايته القضاء في عنيزة.
6. قرأ على الشيخ عبد الرزاق عفيفي رحمه الله في النحو والبلاغة أثناء وجوده في عنيزة.
7. الإمام العلامة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله.
يقول الشيخ: (كنا طلابا في المعهد العلمي في الرياض، وكنا جالسين في الفصل، فإذا بشيخ يدخل علينا، إذا رأيته قلت: هذا بدوي من الأعراب، ليس عنده بضاعة من علم، رث الثياب، ليس عليه آثار الهيبة، لا يهتم بمظهره، فسقط من أعيننا، فتذكرت الشيخ عبدالرحمن السعدي، وقلت في نفسي: أترك الشيخ عبدالرحمن السعدي، وأجلس أمام هذا البدوي؟ فما ابتدأ الشنقيطي درسه انهالت علينا الدرر من الفوائد العلمية من بحر علمه الزاخر، فعلما أننا أمام جهبذ من العلماء وفحل من فحولها، فاستفدنا من علمه، وسمته، وخلقه، وزهده، وورعه).
8. الشيخ عبد العزيز بن ناصر بن رشيد رحمه الله
9. الشيخ عبد الرحمن الأفريقي.
10. قرأ على سماحة الشيخ عبدالله بن عقيل العقيل في الفقه
…وغيرهم.
زواجه:تزوج رحمه الله ثلاث مرات الأولى: ابنة عمه بنت سليمان بن محمد العثيمين التي توفيت أثناء الولادة، ثم تزوج بعد وفاتها من ابنة الشيخ عبدالرحمن بن
শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা'দী তাঁর প্রথম শায়খ, যাঁর জ্ঞানের ঝরনাধারা থেকে তিনি পান করেছেন এবং যাঁর মানহাজ, মৌলিকতা, দলীল অনুসরণ এবং পাঠদান পদ্ধতি দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন।
৩. শায়খুল ইসলাম ইমাম আল্লামা আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি তাঁর নিকট মসজিদে সহীহ বুখারী এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার রিসালাসমূহ পাঠ করেছেন এবং হাদীস বিজ্ঞান ও বিভিন্ন মাযহাবের ফকীহগণের মতামতের পর্যালোচনা ও তুলনামূলক আলোচনার ক্ষেত্রে তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন।
৪. শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আযীয আল-মুতাওয়ওয়া (রহিমাহুল্লাহ)।
৫. শায়খ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন আউদান (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট উত্তরাধিকার বিজ্ঞান (ফারাইয) পাঠ করেছেন, যখন তিনি উনাইজায় বিচারকের (কাযী) দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
৬. শায়খ আব্দুর রাযযাক আফীফী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট উনাইজায় অবস্থানকালে নাহু (ব্যাকরণ) ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) পাঠ করেছেন।
৭. ইমাম আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমীন আশ-শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ)।
শায়খ বলেন: (আমরা রিয়াদের মা'হাদ আল-ইলমীর ছাত্র ছিলাম। আমরা শ্রেণীকক্ষে বসে ছিলাম, হঠাৎ একজন শায়খ আমাদের নিকট প্রবেশ করলেন। তাঁকে দেখলে আপনি বলতেন: ইনি এক গ্রাম্য বেদুইন, যাঁর কাছে কোনো ইলম নেই; জীর্ণ পোশাক, কোনো গাম্ভীর্যের ছাপ নেই, নিজের অবয়ব নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ফলে আমাদের চোখে তিনি তুচ্ছ মনে হলেন। তখন আমি শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা'দীর কথা স্মরণ করলাম এবং মনে মনে বললাম: আমি শায়খ আব্দুর রহমান আস-সা'দীকে ছেড়ে এই বেদুইনের সামনে বসে থাকব? কিন্তু শানকিতী যখন তাঁর পাঠদান শুরু করলেন, তখন তাঁর ইলমের অথৈ সাগর থেকে জ্ঞানগর্ভ মুক্তাসম ফায়দা আমাদের ওপর বর্ষিত হতে লাগল। তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে, আমরা একজন বিজ্ঞ ও শ্রেষ্ঠতম আলিমের সামনে রয়েছি। অতঃপর আমরা তাঁর ইলম, গাম্ভীর্য, চরিত্র, দুনিয়াবিমুখতা ও তাকওয়া থেকে উপকৃত হলাম।)
৮. শায়খ আব্দুল আযীয বিন নাসির বিন রাশিদ (রহিমাহুল্লাহ)
৯. শায়খ আব্দুর রহমান আল-আফ্রিকী।
১০. শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আকীল আল-আকীলের নিকট ফিকহ পাঠ করেছেন
…এবং অন্যান্য।
তাঁর বিবাহ:তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তিনবার বিবাহ করেছিলেন। প্রথমত: তাঁর চাচাতো বোন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীনের কন্যা, যিনি সন্তান প্রসবকালে ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তাঁর মৃত্যুর পর তিনি শায়খ আব্দুর রহমান বিন... এর কন্যাকে বিবাহ করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
الزامل العفيسان وظلت معه خمس سنوات لم ينجب منها فطلقها ثم تزوج بنت محمد بن إبراهيم التركي وهي أم
أولاده، ولم يجمع بين زوجتين.
أولاده:
الذكور: خمسة وهم:
1. عبدالله: موظف في جامعة الملك سعود.
2. عبدالرحمن: ضابط في وزارة الدفاع.
3. إبراهيم: ضابط في الحرس الملكي.
4. عبدالعزيز: ضابط في الجوازات.
5. عبدالرحيم: موظف في الخطوط السعودية.
ولم يطلب العلم أحد من أبناءه عليه رحمه الله، وله ثلاث بنات تزوجتْ اثنتان منهن باثنين من طلابه وهما الشيخ سامي الصقير والشيخ خالد المصلح.
أعماله ونشاطه العلمي:* بدأ التدريس منذ عام 1370هـ في الجامع الكبير بعنيزة في عهد شيخه عبدالرحمن السعدي وبعد أن تخرج من المعهد العلمي في الرياض عين مدرساً في المعهد العلمي بعنيزة عام 1374هـ.
* وفي سنه 1376هـ توفي شيخه عبدالرحمن السعدي فتولى بعده إمامة المسجد بالجامع الكبير في عنيزة والخطابة فيه والتدريس بمكتبة عنيزة الوطنية التابعة للجامع والتي أسسها شيخه عام 1359هـ.
* ولما كثر الطلبة وصارت المكتبة لا تكفيهم صار يدرس في المسجد الجامع نفسه واجتمع إليه طلاب كثيرون من داخل المملكة وخارجها حتى كانو يبلغون المئات وهؤلاء يدرسون دراسة تحصيل لا لمجرد الاستماع - ولم يزل مدرساً في مسجده وإماماً وخطيباً حتى توفي رحمه الله.
* استمر مدرساً بالمعهد العلمي في عنيزة حتى عام 1398هـ وشارك في آخر هذه الفترة في عضوية لجنة الخطط ومناهج المعاهد العلمية في جامعة الإمام محمد بن
আজ-জামিল আল-আফাইসান, যার সাথে তিনি পাঁচ বছর অতিবাহিত করেন কিন্তু কোনো সন্তান জন্মলাভ করেনি, ফলে তিনি তাকে তালাক প্রদান করেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তুর্কির কন্যাকে বিবাহ করেন এবং তিনি তার
সন্তানদের জননী। তিনি কখনো একই সাথে দুই পত্নীকে বিবাহবন্ধনে রাখেননি।
তার সন্তানগণ:
পুত্রসন্তান: পাঁচজন, তারা হলেন:
১. আব্দুল্লাহ: কিং সাউদ ইউনিভার্সিটির একজন কর্মকর্তা।
২. আব্দুর রহমান: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
৩. ইবরাহিম: রাজকীয় রক্ষীবাহিনীর (রয়্যাল গার্ড) একজন কর্মকর্তা।
৪. আব্দুল আজিজ: পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা।
৫. আব্দুর রহিম: সৌদি এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা।
তার সন্তানদের মধ্যে কেউই ইলম অর্জনে ব্রতী হননি, তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তার তিন কন্যা ছিল, যাদের মধ্যে দুইজন তার দুই ছাত্রের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; তারা হলেন শেখ সামি আস-সুকাইর এবং শেখ খালিদ আল-মুসলিহ।
তার কর্ম ও বৈজ্ঞানিক তৎপরতা:* তিনি ১৩৭০ হিজরি থেকে উনাইজার বড় জামে মসজিদে তার শিক্ষক আব্দুর রহমান আস-সাদির যুগে পাঠদান শুরু করেন। রিয়াদের মা'হাদ আল-ইলমি (ইলমি ইনস্টিটিউট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ১৩৭৪ হিজরিতে তিনি উনাইজার মা'হাদ আল-ইলমিতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন।
* ১৩৭৬ হিজরিতে তার শিক্ষক আব্দুর রহমান আস-সাদি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তিনি উনাইজার বড় জামে মসজিদের ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব এবং মসজিদের অন্তর্ভুক্ত উনাইজা ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তার শিক্ষক ১৩৫৯ হিজরিতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
* যখন ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং পাঠাগারটি তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ল, তখন তিনি স্বয়ং জামে মসজিদেই পাঠদান শুরু করেন। সেখানে রাজ্যের অভ্যন্তর ও বাহির হতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রের সমাগম হতো, এমনকি তাদের সংখ্যা কয়েক শত পর্যন্ত পৌঁছাত। তারা কেবল শ্রবণের জন্য নয়, বরং জ্ঞান অর্জনের নিমিত্তে অধ্যয়ন করত। তিনি আমৃত্যু নিজ মসজিদের শিক্ষক, ইমাম এবং খতিব হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।
* তিনি ১৩৯৮ হিজরি পর্যন্ত উনাইজার মা'হাদ আল-ইলমিতে শিক্ষকতায় বহাল থাকেন এবং এই সময়কালের শেষ দিকে তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন (সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের) মা'হাদ আল-ইলমি সমূহের পরিকল্পনা ও পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১২)
سعود الإسلامية وألف بعض المناهج الدراسية.
* ثم لم يزل أستاذاً بفرع جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالقصيم بكلية الشريعة وأصول الدين منذ العام الدراسي 1398 - 1399هـ حتى توفي رحمه الله.
* درّس في المسجد الحرام والمسجد النبوي في مواسم الحج وشهر رمضان والعطل الصيفية.
* شارك في عدة لجان علمية متخصصة عديدة داخل المملكة العربية السعودية.
* ألقى محاضرات علمية داخل المملكة وخارجها عن طريق الهاتف.
* تولى رئاسة جمعية تحفيظ القرآن الكريم الخيرية في عنيزة منذ تأسيسها عام 1405هـ حتى وفاته رحمه الله.
* كان عضواً في مجلس كلية الشريعة وأصول الدين بفرع الجامعة بالقصيم ورئيساً لقسم العقيدة فيها.
* كان عضواً في هيئة كبار العلماء بالمملكة العربية السعودية منذ عام 1407هـ حتى وفاته رحمه الله.
وكان بالإضافة إلي أعماله الجليلة والمسؤوليات الكبيرة حريصاً على نفع الناس بالتعليم والفتوى وقضاء حوائجهم ليلاً ونهاراً حضراً وسفراً وفي أيام صحته ومرضه -رحمه الله تعالى رحمة واسعة-.
أمضى وقته رحمه الله في التعليم والتربية والإفتاء والبحث والتحقيق وله اجتهادات واختيارات موفقة، لم يترك لنفسه وقتاً للراحة حتى إذا سار على قدميه من منزله إلى المسجد وعاد إلى منزله فإن الناس ينتظرونه ويسيرون معه يسألونه فيجيبهم ويسجلون إجاباته وفتاواه.
جهوده الأصولية:خلف الشيخ تراثا ضخما من النتاج الأصولي بين مقروء ومسموع ومما وقفت عليه من ذلك:
- رسالة الأصول من علم الأصول، وهي رسالة مختصرة في أصول الفقه
সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করেছেন।
* অতঃপর তিনি ১৩৯৮ - ১৩৯৯ হিজরী শিক্ষাবর্ষ থেকে আল-কাসিমে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখায় শরীয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদে আমৃত্যু (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
* তিনি হজ্জের মৌসুমে, রমজান মাসে এবং গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে পাঠদান করেছেন।
* তিনি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বেশ কিছু বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক কমিটিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
* তিনি সৌদি আরবের ভেতরে ও বাইরে টেলিফোনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক লেকচার প্রদান করেছেন।
* তিনি ১৪০৫ হিজরীতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উনাইজাহর চ্যারিটেবল সোসাইটি ফর দ্য মেমোরাইজেশন অব দ্য নোবেল কুরআন-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মৃত্যু পর্যন্ত (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।
* তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাসিম শাখার শরীয়াহ ও উসুলুদ্দিন অনুষদের কাউন্সিল সদস্য এবং সেখানকার আকীদাহ বিভাগের প্রধান ছিলেন।
* তিনি ১৪০৭ হিজরী থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সৌদি আরবের উচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য ছিলেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)।
স্বীয় মহান কাজ ও বিশাল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শিক্ষা প্রদান, ফতোয়া দান এবং মানুষের প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমে তাদের উপকার করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; দিনে ও রাতে, অবস্থানকালে ও সফরে এবং সুস্থতা ও অসুস্থতার দিনগুলোতেও -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন-।
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তাঁর সময় ব্যয় করেছেন শিক্ষা, তরবিয়ত, ফতোয়া প্রদান, গবেষণা ও তাহকীকে। তাঁর চমৎকার সব ইজতিহাদ ও জ্ঞানতাত্ত্বিক চয়ন রয়েছে। তিনি নিজের বিশ্রামের জন্য কোনো সময় রাখতেন না; এমনকি যখন তিনি নিজ বাড়ি থেকে মসজিদে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং বাড়ি ফিরতেন, তখনও মানুষ তাঁর অপেক্ষায় থাকতো এবং তাঁর সাথে সাথে চলতো, তাঁকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতো, আর তিনি তাদের উত্তর দিতেন এবং তারা তাঁর উত্তর ও ফতোয়াগুলো সংরক্ষণ করতো।
উসুল সংক্রান্ত তাঁর প্রচেষ্টা:শায়খ উসুল শাস্ত্রের একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন, যার মধ্যে পঠিত ও শ্রুত উভয় মাধ্যমই রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আমি যা সম্পর্কে অবগত হয়েছি তা হলো:
- আল-উসুল মিন ইলমিল উসুল নামক রিসালাহ, এটি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وضعت على وفق المنهج المقرر للسنة الثالثة الثانوية في المعاهد العلمية، وطبعت في دار ابن الجوزي، وتقع في (98) صفحة وهي موضوع كتابنا هذا.
- شرح الأصول من علم الأصول في مجلد كبير يقع في (672) صفحة وطبع بدار البصيرة.
- "منظومة أصول الفقه وقواعده" فيما يزيد على المائة بيت، وقد اشتملت على جملة من القواعد الأصولية، والقواعد الفقهية، والضوابط الفقهية، والفروق الفقهية، وشرحها الشيخ نفسه في مجلد متوسط يقع في (358) صفحة وطبع بدار ابن الجوزي
- التعليق على القواعد والأصول الجامعة والفروق والتقاسيم البديعة النافعة وقد نشرته مؤسسة الشيخ محمد بن صالح العثيمين الخيرية في مجلد كبير (451) صفحة.
- شرح نظم الورقات في أصول الفقه طبعه دار ابن الجوزي في مجلد متوسط (253) صفحة.
- رسالة في الخلاف بين العلماء أسبابه وموقفنا منه.
- شرح خاتمة منظومة السفاريني في العقيدة، وهي في علم المنطق، وذلك ضمن شرحه لنظومة السفاريني.
- مختارات من أعلام الموقعين، وقد طبع في مجلد صغير بمؤسسة آسام للنشر في (153) صفحة.
- "نيل الأرب من قواعد ابن رجب" وهو اختصار الشيخ ابن عثيمين رحمه الله لكتاب القواعد لابن رجب وقد اشتمل على قواعده الحسان، مع حذف فروعها.
- تعليق على التعبيرات الواضحات على شرح الورقات في (9) أشرطة.
- شرح قطعة من مختصر التحرير لابن النجار في (17) شريط.
- شرح قطعة كبيرة من قواعد الأصول ومعاقد الفصول لصفي الدين الحنبلي حتى أول باب القياس في (14) شريط.
- شرح قطعة كبيرة من قواعد ابن رجب حتى القاعدة القاعدة السابعة والعشرين بعد المائة في (18) شريط.
إلى غير ذلك مما لم أقف عليه، فرحم الله الشيخ رحمة واسعة وجزاه خيرا على ما قدم من خدمات جليلة للعلم وطلابه.
এটি বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউটসমূহের মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় বর্ষের নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রণীত হয়েছে এবং এটি দার ইবনুল জাওযী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এটি ৯৮ পৃষ্ঠার এবং এটিই আমাদের এই বইয়ের আলোচ্য বিষয়।
- শারহুল উসুল মিন ইলমিল উসুল: এটি ৬৭২ পৃষ্ঠার একটি বিশাল খণ্ডে রচিত এবং এটি দারুল বাসীরাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
- "মানযুমাতু উসুলিল ফিকহি ওয়া কাওয়াইদিহি": এটি একশটিরও বেশি পঙ্ক্তির সমন্বয়ে গঠিত, যা উসূল সংক্রান্ত কায়দা, ফিকহি কায়দা, ফিকহি মূলনীতি এবং ফিকহি সূক্ষ্ম পার্থক্যের আলোচনা সংবলিত। শায়খ নিজেই এটি ৩৫৮ পৃষ্ঠার একটি মাঝারি খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন এবং এটি দার ইবনুল জাওযী থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
- আত-তালিক আলাল কাওয়াইদি ওয়াল উসুলিল জামিআহ ওয়াল ফুরুকি ওয়াত তাকাসিমিল বাদিআতিন নাফিআহ: এটি শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন ৪৫১ পৃষ্ঠার একটি বিশাল খণ্ডে প্রকাশ করেছে।
- শারহু নাযমিল ওয়ারাতি ফি উসুলিল ফিকহ: এটি দার ইবনুল জাওযী ২৫৩ পৃষ্ঠার একটি মাঝারি খণ্ডে মুদ্রণ করেছে।
- আলেমদের মতবিরোধ: এর কারণ এবং এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান বিষয়ক একটি পুস্তিকা।
- আকিদাহ বিষয়ক মানযুমাতুস সাফফারিনী-এর পরিশিষ্টের ব্যাখ্যা; এটি মূলত যুক্তিবিদ্যা শাস্ত্রের ওপর এবং শায়খের মানযুমাতুস সাফফারিনী-এর ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত।
- মুখতারাত মিন ইলামিল মুয়াক্কিঈন: এটি আসাম পাবলিশিং ফাউন্ডেশন থেকে ১৫৩ পৃষ্ঠার একটি ছোট খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
- "নাইলুল আরাবি মিন কাওয়াইদি ইবনে রাজাব": এটি ইবনে রাজাবের আল-কাওয়াইদ কিতাবটির শায়খ উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক করা একটি সংক্ষিপ্তসার। এতে তিনি কিতাবটির চমৎকার কায়দাগুলো সংকলন করেছেন এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলো বাদ দিয়েছেন।
- শারহুল ওয়ারাতি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাবীরাতুল ওয়াদিহাত'-এর ওপর টিকা, যা ৯টি অডিও ক্যাসেটে সংরক্ষিত।
- ইবনে নাজ্জারের মুখতাসারুত তাহরীর-এর একাংশের ব্যাখ্যা, যা ১৭টি অডিও ক্যাসেটে সংরক্ষিত।
- সফিউদ্দিন হাম্বলীর কাওয়াইদুল উসুল ওয়া মাকাইদুল ফুসুল-এর কিয়াস অধ্যায়ের শুরু পর্যন্ত একটি বিশাল অংশের ব্যাখ্যা, যা ১৪টি অডিও ক্যাসেটে সংরক্ষিত।
- ইবনে রাজাবের কাওয়াইদ-এর ১২৭তম কায়দা পর্যন্ত একটি বিশাল অংশের ব্যাখ্যা, যা ১৮টি অডিও ক্যাসেটে সংরক্ষিত।
এগুলি ছাড়াও আরও অনেক কাজ রয়েছে যা আমার নজরে আসেনি। আল্লাহ শায়খকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং ইলম ও ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য তিনি যে মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তার সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
طلابه:قال الشيخ وليد الزبيري: أذكر في بداية طلبي للعلم عند الشيخ في مطلع (1402 هـ) كنا ربما لا نزيد على عشرة طلاب في المجلس الواحد، ولم تكن للشيخ شهرة على ما هو عليها الآن، ولعل اكتسابه للشهرة، وتوافد طلاب العلم عليه من كل حدب وصوب يرجع إلى عدة عوامل منها:
1 - صدقه وإخلاصه في طلب العلم والتعليم - بحسبه كذلك ولا نزكي على الله أحدا - وبذل نفسه في ذلك.
2 - تصديه للدروس والمحاضرات والفتوى في الحرم المكي في شهر رمضان
3 - وضوحه في الأداء.
4 - سلامة المنهج في العقيدة.
5 - عدم تعصبه وجموده لمذهب معين في جميع مسائل الأحكام.
6 - تقليده بعض المناصب المهمة، مثل: عضويته في هيئة كبار العلماء، ورئاسة قسم العقيدة وجماعة تحفيظ القرآن، ومشاركته في برنامج نور على الدرب الذي يذاع في المذياع.
7 - استجابته لكثير من الدعوات الموجهة إليه لإلقاء المحاضرات في كثير من مدن المملكة.
8 - كثرة الأشرطة العلمية التي سجلت له، والتي وصلت إلى دول أوربا وأمريكا وغيرها من دول الغرب.
9 - كثرة مؤلفاته التي أكثرها صغيرة الحجم، غزيرة الفائدة، واضحة العبارة وترجم بعضها إلى عدة لغات. اهـ
ومنهم:
1. الدكتور إبراهيم بن علي العبيد.
2. الدكتور أحمد بن عبدالرحمن القاضي.
3. الدكتور أحمد بن محمد الخليل.
4. الشيخ خالد بن عبدالله المصلح، زوج بنت الشيخ.
5. الدكتور خالد بن عبدالله المشيقح.
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:শায়খ ওয়ালিদ আয-যুবাইরী বলেন: শায়খের নিকট আমার ইলম অর্জনের শুরুতে ১৪০২ হিজরীর প্রারম্ভের কথা আমার মনে আছে; তখন একটি মজলিসে আমাদের সংখ্যা সম্ভবত দশ জনের বেশি হতো না। তখন শায়খের প্রসিদ্ধি বর্তমানের মতো ছিল না। সম্ভবত তাঁর এই খ্যাতি অর্জন এবং চারদিক থেকে জ্ঞানপিপাসু ছাত্রদের তাঁর কাছে আসার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - ইলম অর্জন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাঁর সত্যবাদিতা ও ইখলাস - আমরা তাঁকে তেমনই মনে করি এবং আল্লাহর ওপর কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না - এবং এই পথে তাঁর আত্মনিয়োগ।
২ - রমজান মাসে মসজিদে হারামে দরস, লেকচার ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন।
৩ - উপস্থাপনায় তাঁর স্পষ্টতা।
৪ - আকীদার ক্ষেত্রে মানহাজের বিশুদ্ধতা।
৫ - আহকামের মাসআলাসমূহে কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের প্রতি গোঁড়ামি ও জড়তা না থাকা।
৬ - বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর নিয়োগ, যেমন: সিনিয়র উলামা কাউন্সিলের সদস্যপদ, আকীদা বিভাগ ও কুরআন হিফজ সোসাইটির সভাপতিত্ব এবং রেডিওতে প্রচারিত 'নূরুন আলাদ দারব' অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ।
৭ - সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে লেকচার প্রদানের জন্য আসা বহু আমন্ত্রণে তাঁর সাড়া দান।
৮ - তাঁর রেকর্ডকৃত প্রচুর সংখ্যক ইলমী অডিও ক্যাসেট, যা ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশসমূহে পৌঁছে গেছে।
৯ - তাঁর রচিত গ্রন্থের প্রাচুর্য, যার অধিকাংশ আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত উপকারী, ভাষা স্পষ্ট এবং যার অনেকগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। [সমাপ্ত]
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
১. ডক্টর ইব্রাহীম বিন আলী আল-উবাইদ।
২. ডক্টর আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-কাদী।
৩. ডক্টর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খালীল।
৪. শায়খ খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুসলিহ, যিনি শায়খের কন্যার স্বামী।
৫. ডক্টর খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুশাইকিহ্।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
6. الشيخ سامي بن محمد الصقير، وهو زوح بنت الشيخ.
7. الأمير الدكتور عبدالرحمن بن سعود الكبير آل سعود.
8. الأستاذ الدكتور عبدالله بن محمد الطيار.
9. الشيخ محمد بن سليمان السلمان.
10. وليد بن أحمد الحسين.
11. الشيخ صالح بن عبدالله بن عبدالكريم الدرويش.
12. الدكتور ناصر بن عبدالله القفاري.
وغيرهم الكثير.
منهجه العلمي:لقد أوضح الشيخ يرحمه الله منهجه، وصرح به مرات عديدة، أنه يسير على الطريقة التي انتهجها شيخه العلامة الشيخ عبد الرحمن الناصر السعدي يقول شيخنا أبو عبدالله: لقد تأثرت كثيرا بشيخي عبدالرحمن السعدي في طريقة التدريس، وعرض العلم، وتقريبه للطلبة بالأمثلة والمعاني.
والمنهج الذي سلكه الشيخ عبد الرحمن السعدي هو منهج خرج به عن المنهج الذي يسير عليه علماء الجزيرة علماء نجد عامتهم أو غالبيتهم، حيث اعتماد المذهب الحنبلي في الفروع من مسائل الأحكام الفقهية، والاعتماد على كتاب زاد المستقنع في فقه الإمام أحمد بن حنبل، فكان الشيخ العلامة عبد الرحمن السعدي معروفا بخروجه عن المذهب الحنبلي وعدم التقيد به في مسائل كثيرة، حتى أخبرني أحد علماء مدينة بريدة التي تبعد عن مدينة الشيخ عنيزة حوالي خمسة وعشرين كيلومترا أن علماء بريدة، رحمهم الله، في عهد الشيخ السعدي كانون ينقمون على الشيخ السعدي بسبب خروجه عن المذهب الحنبلي، حتى رفعوا عليه دعوى إلى الملك عبد العزيز آل سعود يشكونه إليه، حتى أن الشيخ السعدي، إذا أراد أن يجتمع مع محبيه ومناصريه من أهل بريدة لا يجتمع معهم في داخل مدينة بريدة، بل كانوا يخرجون إليه ويجتمعون به في أطراف المدينة، وهكذا اخبرني شيخي أبو عبد الله العثيمين.
ومنهج الشيخ السعدي هو انه كثيراً ما يتبنى آراء شيخ الإسلام ابن تيمية، وتلميذه
৬. শাইখ সামি বিন মুহাম্মাদ আস-সুকাইর, তিনি হলেন শাইখের মেয়ের জামাতা।
৭. আমীর ডক্টর আব্দুর রহমান বিন সাউদ আল-কাবীর আল সাউদ।
৮. প্রফেসর ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আত-তাইয়্যার।
৯. শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আস-সালমান।
১০. ওয়ালিদ বিন আহমদ আল-হুসাইন।
১১. শাইখ সালিহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কারীম আদ-দারওয়ীশ।
১২. ডক্টর নাসের বিন আব্দুল্লাহ আল-কুফারি।
এবং তাঁদের মতো আরও অনেকে।
তাঁর ইলমি মানহাজ:শাইখ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) তাঁর মানহাজ বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন এবং বহুবার তা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি তাঁর উস্তাদ আল্লামা শাইখ আব্দুর রহমান আন-নাসের আস-সা’দী যে পথে চলেছেন তা অনুসরণ করেন। আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমি আমার উস্তাদ আব্দুর রহমান আস-সা’দী দ্বারা শিক্ষকতা পদ্ধতি, জ্ঞান পরিবেশন এবং উদাহরণ ও অর্থের মাধ্যমে ছাত্রদের নিকট তা সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে অনেক প্রভাবিত হয়েছি।
আর শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা’দী যে মানহাজ অবলম্বন করেছিলেন, তা ছিল এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে তিনি জাজিরাতুল আরবের (আরব উপদ্বীপ) উলামায়ে কেরাম—বিশেষ করে নজদ অঞ্চলের সাধারণ বা অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম—যে পদ্ধতির উপর চলতেন তা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। যেখানে ফিকহি আহকামের শাখা প্রশাখায় হাম্বলি মাযহাবের ওপর নির্ভর করা হতো এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব ‘যাদুল মুসতাকনি’ এর ওপর নির্ভর করা হতো। আল্লামা শাইখ আস-সা’দী হাম্বলি মাযহাবের বাইরে অবস্থান করা এবং অনেক মাসআলায় এর গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকার কারণে পরিচিত ছিলেন। এমনকি বুরাইদাহ শহরের একজন আলেম—যা শাইখের শহর উনাইযাহ থেকে প্রায় পঁচিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত—আমাকে জানিয়েছেন যে, বুরাইদাহর উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) শাইখ আস-সা’দীর যুগে হাম্বলি মাযহাবের বাইরে যাওয়ার কারণে তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। এমনকি তাঁরা বাদশাহ আব্দুল আজিজ আল সাউদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেছিলেন। অবস্থা এমন ছিল যে, শাইখ আস-সা’দী যদি বুরাইদাহর তাঁর অনুরাগী ও সমর্থকদের সাথে দেখা করতে চাইতেন, তবে তিনি বুরাইদাহ শহরের ভেতরে তাঁদের সাথে মিলিত হতেন না; বরং তাঁরা শহরের উপকণ্ঠে বেরিয়ে আসতেন এবং সেখানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আমার শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-উসাইমীন আমাকে এভাবেই জানিয়েছেন।
আর শাইখ আস-সা’দীর মানহাজ ছিল এই যে, তিনি প্রায়শই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র...
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ابن القيم ويرجحها على المذهب الحنبلي، فلم يكن عنده الجمود تجاه مذهب معين، بل كان متجرداً للحق، وقد انطبعت هذه الصفة وانتقلت إلى تلميذة محمد الصالح العثيمين.
ولم يكن تبني الشيخ لآراء شيخ الإسلام نابعاً عن هوى أو تقليد أعمى، بل كان متجرداً للحق أيضا، فحيثما وجد الحق فهو ضالته ومطلبه، بل إنه خالف شيخ الإسلام في عشرات المسائل أكثر من مخالفة شيخه السعدي لشيخ الإسلام، ومخالفته لشيخ الإسلام في هذه المسائل لا يدل على استنقاصه لشيخ الإسلام ولا تقليلاً من شأن شيخ الإسلام ومكانته العلمية، ولا يدل على أنه اعلم منه في هذه المسائل، بل ربما يكون الحق في جانب شيخ الإسلام فيما خالفه فيه، ومازال العلماء قديما وحديثاً يخالف بعضهم بعضاً في عشرات أو مئات وربما ألوف المسائل لكن العيب في المخالفة أن تكون نابعة عن هوى أو سوء نية، أو عدم توفر الكفاءة العلمية وعدم الدقة في فهم النصوص واحتواء الخلاف فيها بالنسبة للمخالف، وكل هذه الصفات يتنزه عنها شيخنا رحمه الله فهو معروف بسعة علمه، ودقة فهمه، وآثاره العلمية، من مكتوب ومسموع، شاهدة على أهليته وكفاءته.
وكل مسألة يخالف فيها شيخنا أبو عبد الله العثيمين من هو اعلم منه، له حظ من النظر فيها، وما كان كذلك فلا حرج في المخالفة.
قال الناظم:
وليس كل خلاف جاء معتبراً
… إلا خلافاً له حظ من النظر
ولا بأس في أن نذكر أمثلة لبعض المسائل التي خالف فيها شيخ الإسلام ابن تيمية منها:
1 - يرى شيخ الإسلام ابن تيمية أن الجماعة شرط لصحة الصلاة، ويرى شيخنا أنها واجبة.
2 - يرى شيخ الإسلام أن المتمتع في الحج يكفيه سعي العمرة عن سعي الحج، ويرى شيخنا أن سعي العمرة لا يكفي عن سعي الحج.
3 - يرى شيخ الإسلام جواز سفر المرأة بلا محرم مع الأمن، ويرى شيخنا عدم جواز سفر المرأة بلا محرم مطلقا.
4 - يرى شيخ الإسلام جواز الجمع بين الأختين من الرضاع، ويرى شيخنا
ইবনুল কাইয়্যিম এবং তিনি সেগুলোকে হাম্বলী মাযহাবের ওপর প্রাধান্য দিতেন। নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের প্রতি তাঁর কোনো জড়তা বা অন্ধত্ব ছিল না, বরং তিনি সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন। এই গুণটি তাঁর ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমীনের মাঝেও প্রতিফলিত ও সঞ্চালিত হয়েছে।
শাইখুল ইসলামের মতামতের প্রতি শাইখের সমর্থন কোনো প্রবৃত্তি বা অন্ধ অনুকরণ থেকে উদ্ভূত ছিল না, বরং তিনিও সত্যের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন। যেখানেই তিনি সত্য খুঁজে পেতেন, সেটাই ছিল তাঁর অন্বেষা ও কাম্য। এমনকি তিনি কয়েক ডজন মাসআলায় শাইখুল ইসলামের বিরোধিতা করেছেন, যা তাঁর উস্তাদ আস-সাদীর শাইখুল ইসলামের বিরোধিতার চেয়েও অধিক ছিল। এসব মাসআলায় শাইখুল ইসলামের প্রতি তাঁর এই বিরোধিতা শাইখুল ইসলামের মর্যাদাহানি বা তাঁর ইলমী অবস্থান ও মর্যাদাকে খাটো করার প্রমাণ দেয় না। আবার এটিও প্রমাণ করে না যে তিনি এসব মাসআলায় শাইখুল ইসলাম অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী ছিলেন। বরং সম্ভবত কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলামের পক্ষেই সত্য ছিল যেগুলোতে শাইখ তাঁর বিরোধিতা করেছেন। প্রাচীন ও বর্তমান কালের আলেমরা সবসময়ই একে অপরের কয়েক ডজন, শত শত এমনকি হাজারো মাসআলায় বিরোধিতা করে আসছেন। কিন্তু বিরোধিতার ক্ষেত্রে দোষ তখনই হয় যখন তা প্রবৃত্তি, অসৎ উদ্দেশ্য, ইলমী যোগ্যতার অভাব অথবা দলীলসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে নির্ভুলতার অভাব এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ওপর দখল না থাকার কারণে ঘটে। আমাদের শাইখ (রহ.) এই সকল দোষ থেকে মুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর জ্ঞানের বিশালতা, বুঝের গভীরতা এবং লিখিত ও অডিও আকারে বিদ্যমান তাঁর ইলমী কাজগুলোর জন্য সুপরিচিত, যা তাঁর যোগ্যতা ও দক্ষতার সাক্ষ্য দেয়।
এবং আমাদের শাইখ আবু আব্দুল্লাহ আল-উসাইমীন এমন প্রতিটি মাসআলা যেখানে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তির বিরোধিতা করেছেন, সেখানে তাঁর নিজস্ব সুচিন্তিত দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। আর যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন বিরোধিতার ক্ষেত্রে কোনো দোষ নেই।
কাব্যের রচয়িতা বলেন:
এবং প্রতিটি বিরোধই গ্রহণযোগ্য নয়
… কেবল সেই বিরোধ ছাড়া যার পেছনে সুচিন্তিত দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সাথে তিনি যেসব মাসআলায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তার মধ্য থেকে কিছু উদাহরণ উল্লেখ করায় কোনো বাধা নেই, যেমন:
1 - শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মনে করেন যে, জামায়াত সালাত সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত, আর আমাদের শাইখ মনে করেন যে এটি ওয়াজিব।
2 - শাইখুল ইসলাম মনে করেন যে, হজ্জে তামাচ্ছুকারী ব্যক্তির জন্য উমরার সাঈ হজ্জের সাঈর জন্য যথেষ্ট, আর আমাদের শাইখ মনে করেন যে উমরার সাঈ হজ্জের সাঈর জন্য যথেষ্ট নয়।
3 - শাইখুল ইসলাম নিরাপত্তা থাকলে মাহরাম ব্যতীত নারীর সফরের বৈধতা দেখেন, আর আমাদের শাইখ সাধারণভাবে মাহরাম ব্যতীত নারীর সফর অবৈধ মনে করেন।
4 - শাইখুল ইসলাম দুধ-সম্পর্কের দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা বৈধ মনে করেন, আর আমাদের শাইখ...
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
التحريم لعموم حديث: (يحرم من الرضاع ما يحرم من النسب).
5 - يرى شيخ الإسلام جواز دفع الزكاة في قضاء دين الميت الذي لم يخلف وفاء، ويرى شيخنا عدم الجواز.
6 - يرى شيخ الإسلام جواز تعفير الوجه بالتراب تذللاً لله تعالى ذكرها في الاختيارات ويرى شيخنا ضعف هذا القول، لان الأصل في العبادات المنع والحظر، حتى يقوم دليل على المشروعية.
…7 - يرى شيخ الإسلام أن للأم الثلث مع الأخوة المحجوبين بالأب، ويرى شيخنا أن للأم السدس، أي أن الأخوة، وان كانوا محجوبين بالأب، لكن تأثيرهم على الأم يظل باقياً، فيحجبونها حجب نقصان من الثلث إلى السدس، وهو قول الجمهور.
8 - يرى شيخ الإسلام جواز الزيادة بين الربويين من جنس واحد في مقابلة الصنعة، ويرى شيخنا عدم الجواز للعمومات الدالة على أن الذهب بالذهب لابد فيه من التساوي وزنا بوزن، سواء بسواء، يداً بيد.
9 - يرى شيخ الإسلام أن المأموم تكفيه قراءة إمامه في الصلاة الجهرية، وهو المذهب، ويرى شيخنا وجوب قراء الفاتحة على المأموم في الجهرية.
مؤلفاته:بلغت مؤلفات الشيخ ما يزيد على 125 مؤلفا بين كتاب صغير ومجلدات كبيرة ومنها:
1. مجموع فتاوى الشيخ، ويحوى المجموع حسبما أمر الشيخ كل مؤلفات الشيخ التي تبلغ مجلدين فأقل، وبلغت خمسة عشر مجلد وقد تصل إلى ثلاثين مجلدا.
2. تخريج أحاديث الروض المربع.
3. الشرح الممتع على زاد المستقنع، وهو أكبر مؤلفات الشيخ وأكثرها نفعا وفيها يظهر دقة علم الشيخ وقد يصل إلى خمسة عشر مجلد.
4. فتاوى منار الإسلام. ثلاث مجلدات.
5. نيل الأرب من قواعد ابن رجب.
6. القواعد المثلى.
দুগ্ধপানের কারণে হারাম হওয়া সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাপকতার ভিত্তিতে এটি নিষিদ্ধ: (বংশীয় সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম হয়)।
৫ - শাইখুল ইসলাম সেই মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে যাকাত প্রদান জায়েয মনে করেন যে কোনো সম্পদ রেখে যায়নি; তবে আমাদের শাইখ এটি জায়েয মনে করেন না।
৬ - শাইখুল ইসলাম মহান আল্লাহর প্রতি বিনয় প্রদর্শনার্থে চেহারা মাটিতে ঘষাকে জায়েয মনে করেন, যা তিনি 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে আমাদের শাইখ এই মতটিকে দুর্বল মনে করেন; কারণ ইবাদতের মূল নীতি হলো নিষিদ্ধতা ও বারণ, যতক্ষণ না তার বৈধতার সপক্ষে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়।
...৭ - শাইখুল ইসলাম মনে করেন যে, পিতার কারণে (উত্তরাধিকার থেকে) বঞ্চিত ভাইদের উপস্থিতিতে মা এক-তৃতীয়াংশ পাবেন। তবে আমাদের শাইখ মনে করেন যে মা এক-ষষ্ঠাংশ পাবেন; অর্থাৎ ভাইয়েরা যদিও পিতার কারণে বঞ্চিত হয়, তবুও মায়ের ওপর তাদের প্রভাব বজায় থাকে, ফলে তারা মাকে এক-তৃতীয়াংশ থেকে কমিয়ে এক-ষষ্ঠাংশে নিয়ে আসে (হাজবে নুকসান), আর এটিই জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মত।
৮ - শাইখুল ইসলাম একই জাতীয় দুটি সুদজাত দ্রব্যের লেনদেনে কারুকার্য বা নির্মাণের বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা জায়েয মনে করেন। তবে আমাদের শাইখ সেই সাধারণ দলীলসমূহের ভিত্তিতে একে নাজায়েয মনে করেন যা নির্দেশ করে যে, সোনার বিনিময়ে সোনা লেনদেনের ক্ষেত্রে অবশ্যই ওজনে সমান সমান, হুবহু এক এবং হাতে হাতে (নগদ) হতে হবে।
৯ - শাইখুল ইসলাম মনে করেন যে, উচ্চস্বরে কিরাত বিশিষ্ট (জাহরী) সালাতে মুক্তাদির জন্য ইমামের কিরাত যথেষ্ট, আর এটিই মাযহাবের অভিমত। তবে আমাদের শাইখ জাহরী সালাতেও মুক্তাদির ওপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব মনে করেন।
তাঁর রচনাবলী:শাইখের রচনাবলীর সংখ্যা ১২৫টিরও বেশি, যার মধ্যে ছোট পুস্তিকা থেকে শুরু করে বিশাল খণ্ডও রয়েছে; তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. মাজমুউ ফাতাওয়াশ শাইখ: শাইখের নির্দেশ অনুযায়ী এই সংকলনে তাঁর সেই সকল রচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা দুই খণ্ড বা তার চেয়ে ছোট। এটি বর্তমানে পনের খণ্ডে বিন্যস্ত হয়েছে এবং ত্রিশ খণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
২. তাখরিজু আহাদিসি রওদিল মুরবি'।
৩. আশ-শারহুল মুমতি' আলা যাদিল মুস্তাকনি': এটি শাইখের সর্ববৃহৎ এবং অত্যন্ত উপকারী গ্রন্থ। এতে শাইখের ইলমের সূক্ষ্মতা প্রকাশ পেয়েছে এবং এটি পনের খণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
৪. ফাতাওয়া মানারিল ইসলাম। তিন খণ্ড।
৫. নাইলুল আরাব মিন কাওয়াইদি ইবনি রজব।
৬. আল-কাওয়াইদুল মুসলা।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
7. القول المفيد على كتاب التوحيد. ثلاث مجلدات.
8. فتح ذي الجلال والإكرام بشرح بلوغ المرام.
9. شرح العقيدة الواسطية. مجلدان.
10. شرح رياض الصالحين. سبع مجلدات.
وغيرها الكثير وقد جمعت بعض آثار الشيخ ورسائله وفتاويه فبلغت بضعا وعشرين مجلدا.
عبادتهوعُرف عن الشيخ قيامه بالفرائض والنوافل والطاعات، ومن صور ذلك:
1 - أنه يحج في كل عام منذ سنوات طويلة.
2 - أنه يعتمر في رمضان وفي غيره من مواسم " العطلات ".
3 - أنه يقيم الليل حتى مع شدة تعبه، وقد حدَّث عن ذلك بعض تلامذته - وهو الشيخ حمد العثمان - ومما قال - بالمعنى - أنه سافر مع الشيخ إلى الرياض فمكثوا فيه وقتاً ثم غادروا إلى جدة فأدوا العمرة في مكة، فلما انتهوا من عمرتهم وإذ بالتعب قد سرى لجسدهم فاستسلموا للنوم.
قال الشيخ حمد: فقمت في الليل إلى الحمام لقضاء الحاجة، وإذ بي أرى الشيخ رحمه الله قائماً يصلي!!
فقلت: سبحان الله، أنا شاب واستسلمت للنوم، وهذا شيخ كبير تعب معي مثلي ثم يقوم في الليل ليصلي؟ فتشجع أخونا " حمد " ليصلي فقام وتوضأ ولما أراد أن يصلي وإذ بالنعاس يغالبه! فقال: " يا عمي! إحنا وين والشيخ وين!!؟ " فرجع للنوم! - ولا أدري أصلَّى شيئاً أو لا -.
برنامج الشيخ اليومي:وعن برنامجه اليومي قال ابنه إبراهيم:
إن الوالد رحمه الله كان عادة ما يستيقظ قبل صلاة الفجر ويوتر ثم يصلي
৭. আল-কাওলুল মুফিদ আলা কিতাবিত তাওহীদ। তিন খণ্ড।
৮. ফাতহু যিল জালালি ওয়াল ইকরাম বি-শারহি বুলুগিল মারাম।
৯. শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ। দুই খণ্ড।
১০. শারহু রিয়াদুস সালিহীন। সাত খণ্ড।
এ ছাড়া আরও অনেক রয়েছে। শাইখের কিছু রচনা, পত্রাবলি ও ফতোয়া সংকলিত করা হয়েছে, যা বিশটিরও বেশি খণ্ডে পৌঁছেছে।
তাঁর ইবাদতশাইখ তাঁর ফরজ, নফল ও আনুগত্যের ইবাদতসমূহ পালনের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এর কিছু দৃষ্টান্ত হলো:
১ - তিনি দীর্ঘ অনেক বছর যাবৎ প্রতি বছর হজ পালন করতেন।
২ - তিনি রমজান মাসে এবং ছুটির অন্যান্য মৌসুমে উমরাহ পালন করতেন।
৩ - তিনি প্রচণ্ড ক্লান্তি সত্ত্বেও রাতের নামাজ (কিয়ামুল লাইল) আদায় করতেন। এ সম্পর্কে তাঁর জনৈক ছাত্র—শাইখ হামাদ আল-উসমান—বর্ণনা করেছেন। তিনি যা বলেছেন তার মর্মার্থ হলো—তিনি শাইখের সাথে রিয়াদে সফর করেছিলেন। সেখানে তাঁরা কিছুকাল অবস্থান করার পর জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং মক্কায় উমরাহ সম্পন্ন করেন। উমরাহ শেষ করার পর যখন তাঁদের শরীরে প্রচণ্ড ক্লান্তি ভর করেছিল, তখন তাঁরা ঘুমের কাছে নতি স্বীকার করলেন।
শাইখ হামাদ বলেন: আমি রাতে হাজত পূরণের জন্য শৌচাগারের দিকে উঠলাম, আর তখনই দেখলাম শাইখ রহিমানুল্লাহ দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছেন!!
আমি বললাম: সুবহানাল্লাহ, আমি একজন যুবক হওয়া সত্ত্বেও ঘুমের কাছে হার মানলাম, আর এই বয়োবৃদ্ধ শাইখ আমার মতোই ক্লান্ত হওয়া সত্ত্বেও রাতে নামাজ পড়ার জন্য দাঁড়িয়েছেন? তখন আমাদের ভাই "হামাদ" নামাজ পড়ার জন্য উৎসাহিত হলেন; তিনি উঠলেন এবং অজু করলেন। কিন্তু যখন তিনি নামাজ পড়তে চাইলেন, তখন তন্দ্রা তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলল! তিনি বললেন: "আমরা কোথায় আর শাইখ কোথায়!!?" অতঃপর তিনি পুনরায় ঘুমে ফিরে গেলেন! — আমি জানি না তিনি তখন কিছু নামাজ পড়েছিলেন কি না —।
শাইখের দৈনন্দিন রুটিন:তাঁর দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে তাঁর পুত্র ইবরাহিম বলেছেন:
নিশ্চয়ই আব্বাজান রহিমানুল্লাহ সাধারণত ফজরের নামাজের আগে ঘুম থেকে উঠতেন, বিতর পড়তেন এবং এরপর নামাজ আদায় করতেন...
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفجر ويرجع إلى البيت ويرتاح قليلاً، ثم بعد ذلك يبدأ اليوم إذا كان عنده محاضرة استعد لها، وإلا جلس للكتابة والرد على مكالمات السائلين حتى وقت الظهر، ثم يذهب للمسجد لصلاة الظهر، ثم يرجع للبيت مرة ثانية لمكتبته حتى يحين وقت الغداء، وهي الفرصة التي يلتقي فيها بأبنائه! وحتى في هذه اللحظة يضع التليفون بالقرب منه لمباشرة الرد على الأسئلة، ثم بعد الغداء يجلس ويرد على التليفون ثم يذهب لصلاة العصر ويجلس بعدها بالمسجد قليلاً، حيث يلتقي غالباً ببعض أهل القضايا والحاجات، ثم يعود للبيت ويجلس بالمكتبة حتى صلاة المغرب، ثم يذهب لصلاة المغرب ليبدأ بعدها الدرس إلى العشاء، ثم بعد صلاة العشاء يعود للبيت، ودائماً ما يكون لديه برنامج بعد العشاء وحتى حوالي التاسعة والنصف إما خارج " عنيزة " أو عبر التليفون أي في بلدان المملكة أو أحيانا خارج المملكة في هولندا وألمانيا وكثير من الدول، فيكون على اتصال بالمراكز هناك، ويقوم بإلقاء محاضرة ربما امتدت لساعة عبر التليفون، ثم بعدها يجلس إلى القراءة حتى حوالي الحادية عشرة. هذا هو يومه العادي.
مواقف للشيخ:* دخل على الشيخ رحمه الله صبي دون السادسة من عمره وهو بين طلابه وأمسك بيده وقال: أبي يريد السلام عليك قبل سفره فلاطفه الشيخ والطفل آخذ بيده حتى بلغ به والده فتعجب من هذا الخلق النبيل.
* ركب الشيخ مع أحد محبيه وكانت سيارة الرجل كثيرة الأعطال فتوقفت فيهم أثناء الطريق فنزل الشيخ وقال للرجال: أنت ابق مكانك وأنا أدفع السيارة!! فدفعها رحمه الله حتى تحركت بهم.
* ويحكي مدير المعهد العلمي في عنيزة سابقا فيقول: احتجت مبلغ من المال فاقترضت من الشيخ رحمه الله وذكرت له أنني محتاج المبلغ لأنني سأسافر للرياض فقال لي: بي رغبة بالسفر للرياض هل تأخذني معك؟، فأخذته معي وكانت
ফজর (সালাতের) পর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন এবং সামান্য বিশ্রাম নেন, এরপর যদি তাঁর কোনো লেকচার থাকে তবে সেটির প্রস্তুতি নিয়ে দিন শুরু করেন, অন্যথায় তিনি লেখালেখি করতে বসেন এবং যোহরের ওয়াক্ত পর্যন্ত প্রশ্নকারীদের ফোনের উত্তর দেন, তারপর তিনি যোহরের সালাতের জন্য মসজিদে যান, এরপর পুনরায় দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত নিজের লাইব্রেরিতে ফিরে আসেন, আর এটিই সেই সুযোগ যখন তিনি তাঁর সন্তানদের সাথে মিলিত হন! এমনকি এই মুহূর্তেও তিনি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার জন্য টেলিফোনটি নিজের কাছে রাখেন, তারপর দুপুরের খাবারের পর তিনি বসেন এবং টেলিফোনের উত্তর দেন, অতঃপর আসরের সালাতে যান এবং এরপর মসজিদে কিছুক্ষণ বসেন, সেখানে তিনি প্রায়ই বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজন নিয়ে আসা ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তারপর বাড়িতে ফিরে আসেন এবং মাগরিবের সালাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে অবস্থান করেন, এরপর মাগরিবের সালাতের জন্য যান যাতে এরপর থেকে এশা পর্যন্ত দরস শুরু করতে পারেন, তারপর এশার সালাতের পর বাড়িতে ফিরে আসেন, এবং এশার পর থেকে প্রায় রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত সর্বদা তাঁর কোনো না কোনো কর্মসূচি থাকে, যা হয় "উনাইযা"-এর বাইরে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে অর্থাৎ রাজ্যের বিভিন্ন শহরে অথবা কখনো রাজ্যের বাইরে হল্যান্ড, জার্মানি ও আরও অনেক দেশে, সেখানে তিনি কেন্দ্রগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং টেলিফোনের মাধ্যমে বক্তৃতা প্রদান করেন যা সম্ভবত এক ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হয়, এরপর তিনি রাত প্রায় এগারোটা পর্যন্ত পড়াশোনায় মগ্ন থাকেন। এটিই তাঁর স্বাভাবিক দিনপঞ্জি।
শাইখের জীবনের কিছু ঘটনা:* শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ছাত্রদের মাঝে থাকাকালীন ছয় বছরের কম বয়সী এক বালক তাঁর নিকট প্রবেশ করল এবং তাঁর হাত ধরে বলল: "আমার বাবা সফরের আগে আপনাকে সালাম দিতে চান।" তখন শাইখ তার প্রতি অত্যন্ত মমতা দেখালেন এবং বালকটি তাঁর হাত ধরে ততক্ষণ পর্যন্ত নিয়ে গেল যতক্ষণ না সে তার বাবার কাছে পৌঁছাল। তিনি এই মহান চরিত্রে বিস্ময়াভিভূত হলেন।
* শাইখ তাঁর এক অনুসারীর সাথে গাড়িতে চড়লেন এবং লোকটির গাড়িটি প্রায়ই নষ্ট হতো, ফলে পথিমধ্যে গাড়িটি বন্ধ হয়ে গেল। তখন শাইখ নিচে নামলেন এবং লোকটিকে বললেন: "তুমি তোমার জায়গায় থাকো আর আমি গাড়িটি ধাক্কা দিচ্ছি!!" অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) গাড়িটি ধাক্কা দিলেন যতক্ষণ না সেটি তাদের নিয়ে চলতে শুরু করল।
* উনাইযাহ-এর ইলমি ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক বর্ণনা করে বলেন: আমার কিছু অর্থের প্রয়োজন হলো, তাই আমি শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) নিকট থেকে ঋণ নিলাম এবং তাঁকে জানালাম যে আমার এই অর্থের প্রয়োজন কারণ আমি রিয়াদে সফর করব। তখন তিনি আমাকে বললেন: "আমারও রিয়াদে যাওয়ার ইচ্ছা আছে, তুমি কি আমাকে তোমার সাথে নেবে?" ফলে আমি তাঁকে আমার সাথে নিয়ে নিলাম এবং সেটি ছিল...
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
المواصلات صعبة في تلك الفترة، فلما وصلنا أصر الشيخ على دفع مبلغ مقابل السفر، فرفضت بشدة فقال: لو أنني ما أقرضتك لكان الأمر هينا ولكن أخشى أن يكون قرضا جر نفعا!!.
* أنه دعيَ لافتتاح " تسجيلات إسلامية " ضخمة، وبينما هو يتجول في أنحائها إذ يلاحظ أنه قد جعل لكل صاحب أشرطة من المشايخ لوحة كبيرة فيها اسمه، وبمروره على " زاوية " الشيخ الألباني رحمه الله رأى أن لوحة اسمه صغيرة! فأنكر عليهم الشيخ رحمه الله غاية الإنكار! وأمرهم بتكبير لوحة الشيخ أو تصغير لوحات المشايخ الآخرين.
وكان ذلك، ففي اليوم التالي جاء الناس إلى " التسجيلات " وقد جعلوا لوحة الشيخ مثل أخواتها!
* ولما بشَّره بعض الشباب برؤيا رآها بعض المجاهدين في الشيخ الألباني فرح بها الشيخ رحمه الله وطلب من ناقلها له أن يتصل بالشيخ الألباني من بيته ليبشره بها، لكن قدَّر الله أن لا يكون الشيخ حينذاك في بيته.
وملخص الرؤيا: أن الرائي قد رأى النبيَّ صلى الله عليه وسلم فسأله إذا أشكل عليَّ شيءٌ في الحديث فمَن أسأل؟ فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: سل الشيخ محمد ناصر الدين الألباني!!
* سافر شباب من " الأردن " إلى العمرة، وفي " خيبر " قدَّر الله عليهم حادثاً صدموا به عمود الإنارة! فهرعت الشرطة لمكان الحادث، وأصروا على السائق أن يدفع تكاليف العمود وكانوا قد قدَّروا ذلك بـ (21000) واحد وعشرون ألف ريال!
وهذا السائق - ومعه المعتمرون - لا يقدرون على دفع مثل هذا المبلغ!
فحجز الشرطة جواز سفر السائق لحين تدبير المبلغ ودفعه عند رجعتهم من أداء العمرة.
সেই সময়ে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল কষ্টসাধ্য। যখন আমরা পৌঁছলাম, শাইখ সফরের খরচ বাবদ অর্থ প্রদানের জন্য পিড়াপিড়ি করতে লাগলেন। আমি জোরালোভাবে তা প্রত্যাখ্যান করলাম। তখন তিনি বললেন: "আমি যদি তোমাকে ঋণ না দিতাম, তবে বিষয়টি সহজ হতো। কিন্তু আমি আশঙ্কা করছি যে, এটি এমন ঋণে পরিণত হবে যা কোনো উপকার বয়ে আনে (সুদ হয়ে যায়)!!"
* তাকে একটি বিশাল "ইসলামিক রেকর্ডিং" সেন্টার উদ্বোধনের জন্য দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। যখন তিনি এর চারপাশ ঘুরে দেখছিলেন, তখন লক্ষ্য করলেন যে প্রত্যেক শাইখের ক্যাসেটের জন্য তাদের নাম সম্বলিত বড় একটি নেমপ্লেট লাগানো হয়েছে। শাইখ আলবানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কর্ণারে যাওয়ার সময় তিনি দেখলেন যে তাঁর নামের নেমপ্লেটটি ছোট! শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) এর কঠোর প্রতিবাদ করলেন! তিনি তাদেরকে শাইখের নেমপ্লেট বড় করার অথবা অন্য শাইখদের নেমপ্লেট ছোট করার নির্দেশ দিলেন।
এবং তাই হলো; পরদিন যখন মানুষ "রেকর্ডিং সেন্টারে" এল, তখন তারা দেখল যে শাইখের নেমপ্লেটটিকে অন্যান্যগুলোর মতোই সমান করা হয়েছে!
* যখন কিছু যুবক শাইখ আলবানী সম্পর্কে জনৈক মুজাহিদের দেখা একটি স্বপ্নের সুসংবাদ শাইখকে দিলেন, তখন তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি সংবাদদাতার কাছে অনুরোধ করলেন যেন সে তার বাসা থেকে শাইখ আলবানীকে ফোন করে এই সুসংবাদটি দেয়। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে, তখন শাইখ তার বাসায় ছিলেন না।
স্বপ্নের সারসংক্ষেপ হলো: স্বপ্নদ্রষ্টা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "হাদিসের কোনো বিষয়ে যদি আমার খটকা লাগে, তবে আমি কাকে জিজ্ঞেস করব?" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তুমি শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-বানীকে জিজ্ঞেস করো!!"
* জর্ডান থেকে একদল যুবক উমরাহ পালনের জন্য সফর করছিল। "খায়বারে" আল্লাহর ইচ্ছায় তারা দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং একটি ল্যাম্পপোস্টে সজোরে ধাক্কা মারে! পুলিশ দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং ড্রাইভারকে খুঁটির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ দেয়, যার পরিমাণ তারা নির্ধারণ করেছিল ২১,০০০ (একুশ হাজার) রিয়াল!
এই চালক এবং তার সাথে থাকা উমরাহ পালনকারীরা এতো বিশাল অংকের অর্থ পরিশোধ করতে সক্ষম ছিলেন না!
তাই পুলিশ চালকের পাসপোর্টটি জব্দ করে রাখে যতক্ষণ না অর্থের ব্যবস্থা হয় এবং উমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে তা পরিশোধ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
فغلب الشباب على أمرهم وفكروا في طريقة تحصيل المبلغ، فلم يكن أمامهم إلا عرض الموضوع على بعض المشايخ، فكان أن ذهب واحدٌ منهم - وهو الذي حدثني بالقصة - إلى الشيخ ابن عثيمين رحمه الله في غرفته في الحرم المكي بعد صلاة العصر.
فعرف الشيخ منه القصة، وقال له: " تعال غداً وإن شاء الله يصير خير "!
قال الشاب: فلم أرجع للشيخ لأنني عرفت أن المبلغ كبير، والشيخ لا يعرفنا، ولم يُعرف عن الشيخ أنه يساعد في مثل هذه الأمور، لكنني ذهبت - والكلام لمحدثي - تحقيقاً لرغبة الشباب في أن أكلِّم الشيخ فقط.
ثم رجع القوم إلى " الأردن "، وكان لا بدَّ من المرور على " خيبر "! لأخذ الجواز، ولعلَّ الله أن يكون قد رقق قلوبهم فيسقطوا عنا المبلغ.
ولما دخل الشباب إلى المركز أصرَّ الضابط على إحضار المبلغ كاملاً وإلا لا سفر، فإن أرادوا السفر فمن غير السائق!!
تحيَّر الشباب وسائقهم! ماذا يفعلون؟
توجهوا للشاب الذي ذهب للشيخ ابن عثيمين فقالوا له: ألم تذهب أنت للشيخ ماذا قال لك؟ قال: قال: تعال غداً!!
قالوا: فهل ذهبتَ له؟ قال: لا!!
قالوا: اتَّصل به لعل الله أن يكون الفرج على يديه ونحن محبوسون عن أهلنا هنا ونحن في آخر أيام رمضان!!
قال: فاتَّصلتُ بالشيخ في غرفته فردَّ عليَّ وأخبرته بحالنا!
قال: أنت الشاب الأردني؟؟!!
قلت: نعم يا شيخ!
قال: ألم أقل لك تعال في الغد، لمَ لمْ تأتِ؟
قال: استحييتُ!
قال: فلمَ كلمتني إذن؟؟! على كل حال: المبلغ كان جاهزاً في اليوم نفسه!!!!!
فلم يصدِّقوا، وكاد الشباب أن يطيروا فرحاً - ومعهم السائق بالطبع! -.
قال الشاب: والحل يا شيخ؟
যুবকরা তাদের পরিস্থিতির নিকট পর্যুদস্ত হয়ে পড়ল এবং অর্থ সংগ্রহের উপায় নিয়ে চিন্তা করতে লাগল। তাদের সামনে কিছু মাশায়েখদের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। তাই তাদের মধ্য থেকে একজন—যিনি আমাকে এই গল্পটি শুনিয়েছেন—আসর সালাতের পর মক্কার হারামের ভেতরে শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর কক্ষে তার নিকট গেলেন।
শাইখ তার নিকট থেকে ঘটনাটি জানতে পারলেন এবং তাকে বললেন: "আগামীকাল এসো এবং ইনশাআল্লাহ কল্যাণই হবে!"
যুবকটি বলল: আমি শাইখের কাছে আর ফিরে যাইনি, কারণ আমি জানতাম যে অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি, আর শাইখ আমাদের চেনেন না। তাছাড়া শাইখের ব্যাপারে এমনটা পরিচিত ছিল না যে তিনি এ জাতীয় বিষয়ে সাহায্য করে থাকেন। কিন্তু আমি গিয়েছিলাম—এটি বর্ণনাকারীর বক্তব্য—শুধুমাত্র যুবকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের খাতিরে যেন আমি শাইখের সাথে অন্তত কথা বলি।
অতঃপর দলটি "জর্ডানে" ফিরে যাচ্ছিল, আর পাসপোর্ট নেওয়ার জন্য "খায়বার" হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। সম্ভবত আল্লাহ তাদের অন্তরকে কোমল করে দেবেন এবং তারা আমাদের থেকে অর্থদণ্ডের দাবি তুলে নেবে।
যুবকরা যখন কেন্দ্রে প্রবেশ করল, অফিসার সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য জেদ ধরল, অন্যথায় ভ্রমণ করা যাবে না; আর যদি তারা ভ্রমণ করতে চায়, তবে চালককে ছাড়াই করতে হবে!!
যুবকরা এবং তাদের চালক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল! তারা এখন কী করবে?
তারা সেই যুবকের দিকে ফিরল যে শাইখ ইবনে উসাইমীনের কাছে গিয়েছিল। তারা তাকে বলল: তুমি কি শাইখের কাছে যাওনি? তিনি তোমাকে কী বলেছিলেন? সে বলল: তিনি বলেছিলেন: আগামীকাল এসো!!
তারা বলল: তবে কি তুমি তার কাছে গিয়েছিলে? সে বলল: না!!
তারা বলল: তার সাথে যোগাযোগ করো, হয়তো আল্লাহর পক্ষ থেকে তার মাধ্যমেই মুক্তির পথ বের হবে। আমরা এখানে আমাদের পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকা পড়ে আছি, আর এখন রমজানের শেষ দিনগুলো চলছে!!
সে বলল: অতঃপর আমি শাইখের কক্ষে তাকে ফোন করলাম। তিনি উত্তর দিলেন এবং আমি তাকে আমাদের অবস্থার কথা জানালাম!
তিনি বললেন: তুমি কি সেই জর্ডানি যুবক??!!
আমি বললাম: হ্যাঁ, হে শাইখ!
তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে বলিনি আগামীকাল আসতে? কেন আসোনি?
সে বলল: আমি লজ্জা পেয়েছিলাম!
তিনি বললেন: তাহলে এখন কেন আমাকে ফোন করলে??! যা-ই হোক: অর্থ সেই দিনই প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল!!!!!
তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না, যুবকরা খুশিতে আত্মহারা হওয়ার উপক্রম হলো—অবশ্যই তাদের সাথে চালকও!—।
যুবকটি বলল: এখন সমাধান কী, হে শাইখ?
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال الشيخ: أنا أحوِّل المبلغ للمركز، وأطلب منهم أن ييسروا أمركم وترجعوا إلى أهليكم قبل العيد!!
قال الشيخ: أعطني الضابط المسؤول!
كلَّم الضابطُ الشيخ بنوع من اللامبالاة!
قال الشيخ: المبلغ عندي وأعطني رقم حسابكم وأنا أحوله لكم وأطلقوا الشباب وسائقهم ليذهبوا إلى أهليهم!
ردَّ الضابط بقلة أدب: آسفين يا شيخ! لا بدَّ من إحضار المبلغ نقداً وإلا فلن يسافروا ولن يرجعوا!!
غضب الشيخ جدّاً من الضابط، وقال: أقول لك المبلغ عندي دعهم يذهبوا إلى أهليهم!!
رفض الضابط مرة أخرى!
أغلق الشيخ السماعة.
قال الشاب: فما هي إلا لحظات إلا والمركز ينقلب رأساً على عقب!!
ما الخطب؟؟
إنه أمير المدينة!! - الأمير عبد المجيد - اتصل يسأل عن الضابط الذي رفض طلب الشيخ وبدأ يهدد ويتوعد بالعقوبة!!
حاول الضباط وأفراد الشرطة التستر على زميلهم!!
ورأى الشباب تغير العنجهية بصورة سريعة ومذهلة! إلى رقة وأدب!
فأمرهم أمير المدينة بإطلاق الشباب وسائقهم فوراً وتصليح العمود على حساب الدولة!!
لا يتصور أحد مدى فرحة الشباب بهذا الخبر! فشكروا للشيخ جهوده ووقفته معهم وارتفعت أصواتهم بالدعاء للشيخ، وأكبروا في الأمير احترامه للعلماء وتقديره لمكانتهم في موقف لن ينساه أحد منهم ما عاش أبداً!
* قال الشيخ وليد الحسين: ولقد لمستُ حرص الشيخ على طلابه منذ بداية ملازمتي له، وذلك عندما قصدت هذه البلاد المباركة - المملكة العربية السعودية -
শেখ বললেন: আমি কেন্দ্রে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছি এবং আমি তাদের বলব যেন তারা তোমাদের বিষয়টি সহজ করে দেয় এবং তোমরা ঈদের পূর্বেই তোমাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যেতে পারো!!
শেখ বললেন: দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আমার সাথে কথা বলিয়ে দিন!
কর্মকর্তাটি শেখের সাথে এক ধরণের উদাসীনতার সাথে কথা বলল!
শেখ বললেন: অর্থ আমার কাছে আছে, তোমরা তোমাদের একাউন্ট নম্বর দাও আর আমি তোমাদের কাছে তা পাঠিয়ে দিচ্ছি; তোমরা এই তরুণদের এবং তাদের চালককে ছেড়ে দাও যাতে তারা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে চলে যেতে পারে!
কর্মকর্তাটি অভদ্রতার সাথে উত্তর দিল: দুঃখিত শেখ! অর্থ অবশ্যই নগদ নিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় তারা ভ্রমণ করতে পারবে না এবং ফিরতেও পারবে না!!
শেখ কর্মকর্তার ওপর অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: আমি তোমাকে বলছি যে অর্থ আমার কাছে আছে, তুমি তাদের তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে যেতে দাও!!
কর্মকর্তাটি পুনরায় প্রত্যাখ্যান করল!
শেখ ফোনের রিসিভার রেখে দিলেন।
তরুণটি বলল: মাত্র কয়েক মুহূর্ত পার হতেই পুলিশ কেন্দ্রটি যেন ওলটপালট হয়ে গেল!!
কী ব্যাপার??
তিনি মদীনার আমীর!! - আমীর আব্দুল মাজীদ - তিনি ফোন করে সেই কর্মকর্তার বিষয়ে জানতে চাইলেন যে শেখের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তিনি শাস্তির হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন শুরু করলেন!!
অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা তাদের সহকর্মীকে আড়াল করার চেষ্টা করল!!
আর তরুণরা সেই দাম্ভিকতার দ্রুত ও বিস্ময়কর পরিবর্তন দেখতে পেল! যা নম্রতা ও শিষ্টাচারে রূপ নিল!
অতঃপর মদীনার আমীর তাদের নির্দেশ দিলেন যেন অবিলম্বে সেই তরুণদের ও তাদের চালককে মুক্তি দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রীয় খরচে সেই খুঁটিটি মেরামত করা হয়!!
এই সংবাদে তরুণদের আনন্দের সীমা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না! তারা শেখের প্রচেষ্টা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল এবং তাদের কণ্ঠস্বর শেখের জন্য দোয়ায় উচ্চকিত হলো। তারা আমীরের পক্ষ থেকে আলেমদের প্রতি এই সম্মান এবং তাদের মর্যাদার মূল্যায়নকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করল; এটি এমন এক পরিস্থিতি যা তাদের কেউ কোনোদিন ভুলবে না!
* শেখ ওয়ালীদ আল-হুসাইন বলেন: আমি শেখের সান্নিধ্যে আসার শুরু থেকেই তাঁর ছাত্রদের প্রতি তাঁর প্রবল মমতা অনুভব করেছি, আর তা ছিল যখন আমি এই বরকতময় দেশ - সৌদি আরব রাজ্যে - আসার সংকল্প করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قبل ثلاث عشرة سنة، وقد صحبتُ معي القليل من المال حتى نفد، ولم يبق عندي منه شيء فصبَّرتُ نفسي، وأيقنتُ أن الله سيفرج هذا الضيق:
ضاقت فلما استحكمت حلقاتها
… فرجت وكنت أظن أنها لا تفرج
حتى إذا ما مضى أسابيع، وأنا أعيش هذا الضيق، فإذا بالشيخ يناديني بعد صلاة الفجر، وبيده مبلغ من المال ليس بالقليل، ويعلم الله أنني لم أشكُ له حالي، ولكنه الفرج من الله.
وبعد مدة من الزمن نفد ما عندي من المال، فخشيتُ أن أكون قد أحرجتُ الشيخ في مساعدته لي، أو يظن أنني لازمته من أجل المال، فقررتُ أن أرحل، وأجمع مالاً أتقوى به على طلب العلم، فرحلتُ إلى " الدمام " - حيث معارفي - وتركتُ رسالة للشيخ بيَّنتُ فيها سبب ارتحالي، فساءه ذلك جدّاً، وحاول أن يتعرف على عنواني، فتيسر له الحصول عليه وعلى رقم هاتفي، واتصل بي هاتفيّاً! وألزمني بالرجوع، وألحَّ عليَّ، فأجبتُه إلى طلبه وأنا في حرج، واستأنفتُ ملازمتي له.
وكان رحمه الله لا يبخل عليَّ وعلى زملائي من المغتربين بالإنفاق علينا، ومتابعة أحوالنا، وتذليل الصعاب التي تواجهنا.
* في إحدى عمرات الشيخ كان قد أدى العمرة مع جمع من أصحابه وقد سكنوا جميعاً في مسكن واحدٍ، وفي أثناء رجوعهم من المسجد الحرام إلى المسكن مرَّ الشيخ رحمه الله مع مَن معه على مجموعة من الشباب اللاهي وهم يلعبون " كرة القدم "! فوقف الشيخ بينهم ينصحهم ويوجههم للصلاة، فكان أن قابل أولئك الشباب الشيخَ بشيء من اللامبالاة والاستهزاء! فطلب الشيخ ممن معه أن يذهب إلى السكن ويبقى وحده مع أولئك الشباب!
فكان أن حصل للشيخ ما أراده، فلما رأى الشباب أن الشيخ مصرٌّ على البقاء ليذهبوا معه للصلاة سبَّ عليه واحدٌ منهم سبّاً مقذعاً بكلمات قبيحة نابية!
وقد فعل ذلك حتى لا يجعل مجالاً للشيخ في أن يبقى بينهم، وهم - بطبيعة الحال - لا يعرفون أن هذا هو الشيخ ابن عثيمين!
فتبسم الشيخ! وأصرَّ على البقاء حتى يصلِّي الشباب، وأن يذهب هذا السابُّ معه!
তেরো বছর আগে, আমার সাথে সামান্য কিছু অর্থ ছিল যা একসময় শেষ হয়ে যায় এবং আমার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। তখন আমি নিজেকে ধৈর্যশীল রাখি এবং দৃঢ় বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ এই সংকট দূর করবেন:
সংকীর্ণতা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছাল
… তখনই তা প্রশস্ত হলো, অথচ আমি ভেবেছিলাম তা কখনো প্রশস্ত হবে না
এভাবে যখন কয়েক সপ্তাহ পার হলো এবং আমি এই সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছিলাম, তখন হঠাৎ ফজর সালাতের পর শায়খ আমাকে ডাকলেন। তাঁর হাতে ছিল বেশ ভালো অংকের অর্থ। আল্লাহ জানেন যে আমি তাঁর কাছে আমার অবস্থার অভিযোগ করিনি, কিন্তু এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা প্রশস্তি।
কিছু সময় পর আমার কাছে থাকা অর্থ আবারও শেষ হয়ে গেল। আমি ভয় পেলাম যে শায়খ আমাকে সাহায্য করতে গিয়ে হয়তো লজ্জিত হচ্ছেন, অথবা তিনি হয়তো ভাবছেন যে আমি অর্থের জন্যই তাঁর সাথে থাকছি। তাই আমি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং কিছু অর্থ উপার্জনের কথা ভাবলাম যা দিয়ে জ্ঞান অর্জনে শক্তি পাব। আমি "দাম্মাম" চলে গেলাম—যেখানে আমার পরিচিতরা ছিল—এবং শায়খের উদ্দেশ্যে একটি চিঠি রেখে গেলাম যেখানে আমার চলে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলাম। বিষয়টি তাঁকে অত্যন্ত ব্যথিত করল এবং তিনি আমার ঠিকানা জানার চেষ্টা করলেন। অবশেষে তিনি আমার ঠিকানা ও ফোন নম্বর পেয়ে গেলেন এবং আমাকে ফোনে কল করলেন! তিনি আমাকে ফিরে আসার জন্য বাধ্য করলেন এবং অনেক পিড়াপিড়ি করলেন। আমি লজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর অনুরোধ রাখলাম এবং পুনরায় তাঁর সান্নিধ্যে থাকা শুরু করলাম।
তিনি (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) আমার এবং আমার প্রবাসী সহপাঠীদের ওপর ব্যয় করতে কার্পণ্য করতেন না, আমাদের খোঁজখবর রাখতেন এবং আমাদের সম্মুখীন হওয়া সমস্যাগুলো সহজ করে দিতেন।
* শায়খের একটি উমরাহর সময়, তিনি তাঁর একদল সঙ্গীর সাথে উমরাহ পালন করেছিলেন এবং তারা সবাই একটি বাসস্থানে অবস্থান করছিলেন। মসজিদুল হারাম থেকে বাসস্থানে ফেরার পথে শায়খ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে একদল ক্রীড়ামত্ত যুবকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা "ফুটবল" খেলছিল! শায়খ তাদের মাঝে দাঁড়ালেন, তাদের উপদেশ দিলেন এবং সালাতের দিকে আহ্বান করলেন। কিন্তু সেই যুবকেরা শায়খের সাথে উদাসীনতা ও উপহাসমূলক আচরণ করল! তখন শায়খ তাঁর সঙ্গীদের বললেন যেন তারা বাসস্থানে চলে যায় এবং তিনি একা সেই যুবকদের সাথে থাকলেন!
শায়খ যা চেয়েছিলেন তা-ই হলো। যখন যুবকেরা দেখল যে শায়খ তাদের সাথে সালাতে যাওয়ার জন্য সেখানে অবস্থান করার ব্যাপারে অনড়, তখন তাদের মধ্যে একজন তাঁকে অত্যন্ত কদর্য ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করল!
সে এমনটি করেছিল যাতে শায়খ তাদের মাঝে থাকার আর কোনো সুযোগ না পান। আর স্বাভাবিকভাবেই তারা জানত না যে ইনি শায়খ ইবনে উসাইমিন!
শায়খ মুচকি হাসলেন! এবং যুবকেরা সালাত আদায় না করা পর্যন্ত এবং এই গালি প্রদানকারী ব্যক্তি তাঁর সাথে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকার ব্যাপারে অটল থাকলেন!
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وجلس الشيخ وسطهم على حجر مصرّاً على قوله.
والشباب استاءوا من مسبَّة صاحبهم لمثل هذه " الشيبة "!
فطلبوا من صاحبهم السابّ - لما رأوا إصرار الشيخ - أن يرافق الشيخ، ومعنى كلامهم أن يمشُّوه على قدر عقله!
فذهب الشاب السابُّ أخيراً مع الشيخ!
ولما دخلوا المسكن، استأذن الشيخ من الشاب قليلاً.
فخاطب بعضُ مَن مع الشيخ ذلك الشاب: هل تعرف الشيخ ابن عثيمين من قديم!!
فكاد الشاب أن يُغمى عليه من الصعقة!
وقال: ماذا قلت؟ من هذا الشيخ؟
قال: هذا الشيخ ابن عثيمين! ألا تعرفه؟؟
فما كان من الشاب إلا أن تأثر من موقفه ذاك وبكى، فلما حضر الشيخ قبَّل رأسَه وطلب منه المسامحة!
وما كان من الشيخ إلا أن يسامحه وهو الذي صبر عليه وهو يسبه ويشتمه، ثم علَّمه الوضوء والصلاة، فالتزم ذلك الشاب على يد الشيخ رحمه الله.
فانظر إلى هذه الهمة، وهذا الحرص، وذلك الصبر من الإمام رحمه الله.
* ولما أفتى الشيخ رحمه الله بفتيا معلومة اتهمه بعض الناس بتهم شتى، تتعلق باعتقاده! والشيخ مقتنع بما قال وله في ذلك سلف مثل شيخ الإسلام رحمه الله.
وفي مرَّة زاره شبابٌ من طلبة العلم ومعهم أسئلة، ومن ضمن تلك الأسئلة ما يتعلق بتلك الفتوى، وما قيل في الشيخ رحمه الله.
فأجاب الشيخ، ومن ضمن إجابته قال: إن الناس إذا رأوا إنساناً مشهوراً! تكلموا عليه وطعنوا فيه حسداً من عند أنفسهم
… إلخ.
وراح الشباب ومعهم التسجيل.
وفي الليل اتصل الشيخ رحمه الله بالشاب الذي أحضرهم إليه طالباً منه الشريط!!
فاستغرب الشاب - أولاً - اتصال الشيخ، واستغرب أكثر من هذا الطلب!!
শেখ তাদের মাঝে একটি পাথরের ওপর বসলেন, নিজের বক্তব্যে অটল থেকে।
আর যুবকেরা তাদের সঙ্গীর পক্ষ থেকে এমন একজন "বৃদ্ধকে" গালিগালাজ করায় অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হলো!
যখন তারা শেখের দৃঢ়তা দেখল, তখন তারা সেই গালি প্রদানকারী সঙ্গীকে শেখের সাথে যেতে অনুরোধ করল; তাদের কথার উদ্দেশ্য ছিল তাকে তার বুদ্ধি অনুযায়ী চলতে দেওয়া (বা শান্ত রাখা)!
অবশেষে সেই গালি প্রদানকারী যুবকটি শেখের সাথে গেল!
যখন তারা বাসস্থানে প্রবেশ করল, শেখ যুবকের কাছে কিছুক্ষণের জন্য অনুমতি চাইলেন।
শেখরের সাথে থাকা ব্যক্তিদের কেউ একজন সেই যুবককে সম্বোধন করে বলল: আপনি কি শেখ ইবনে উসাইমিনকে আগে থেকেই চেনেন!!
যুবকটি এই আকস্মিকতায় প্রায় মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হলো!
সে বলল: আপনি কী বললেন? এই শেখ কে?
সে বলল: ইনি শেখ ইবনে উসাইমিন! আপনি কি তাকে চেনেন না??
তখন যুবকটি তার সেই আচরণের জন্য অত্যন্ত প্রভাবিত হলো এবং কেঁদে ফেলল। এরপর যখন শেখ উপস্থিত হলেন, সে তার কপালে চুম্বন করল এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল!
শেখও তাকে ক্ষমা করে দিলেন, অথচ তিনি সেই ব্যক্তি যিনি তার গালিগালাজ ও মন্দ কথার মুখে সবর করেছিলেন। এরপর তিনি তাকে অজু ও সালাত শেখালেন, ফলে সেই যুবক শেখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাতে দ্বীনের ওপর অবিচল হলো।
ইমাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই উচ্চাশা, এই একাগ্রতা এবং এই ধৈর্যের দিকে লক্ষ করুন।
* শেখ (রহিমাহুল্লাহ) যখন একটি পরিচিত ফতোয়া প্রদান করলেন, তখন কিছু লোক তার আকিদা বা বিশ্বাসের বিষয়ে নানা অপবাদ দিল! অথচ শেখ তার বক্তব্যে নিশ্চিত ছিলেন এবং এ বিষয়ে তার পূর্বসূরি ছিলেন শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতো ব্যক্তিগণ।
একবার কিছু ইলম অন্বেষী যুবক তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এল এবং তাদের সাথে কিছু প্রশ্ন ছিল। সেই প্রশ্নগুলোর মধ্যে উক্ত ফতোয়া এবং শেখ (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল সেই সংক্রান্ত প্রশ্নও ছিল।
শেখ উত্তর দিলেন এবং তার উত্তরের মধ্যে তিনি বললেন: মানুষ যখন কোনো প্রসিদ্ধ ব্যক্তিকে দেখে, তখন তারা তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে হিংসাবশত তার বিরুদ্ধে কথা বলে এবং তাকে আক্রমণ করে
… ইত্যাদি।
যুবকেরা তাদের রেকর্ড করা অডিও নিয়ে চলে গেল।
রাতে শেখ (রহিমাহুল্লাহ) সেই যুবকের সাথে যোগাযোগ করলেন যে তাদের নিয়ে এসেছিল এবং তার কাছে অডিও ক্যাসেটটি চাইলেন!!
যুবকটি প্রথমে শেখের যোগাযোগ করায় এবং পরে এই অনুরোধে আরও বেশি বিস্মিত হলো!!
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فطلب الشاب التوضيح من الشيخ عن سبب طلبه الشريط قال الشيخ: هناك كلمة قلتُها ما كان ينبغي لي قولها! وأرى أن تحذف من الشريط! وهي قولي " إنساناً مشهوراً "!! فهذه فيها تزكية للنفس أرى أن تحذف!!!
* صلَّى الشيخ ابن عثيمين في الحرم المكي، وأراد بعد خروجه من الحرم الذهاب إلى مكان يحتاج الذهاب إليه إلى سيارة.
أوقف الشيخ ابن عثيمين سيارة تاكسي، وصعد معه.
وفي الطريق، أراد السائق التعرف على الراكب!
السائق: من الشيخ؟
الشيخ: محمد بن عثيمين!
السائق: الشيخ؟؟؟؟ - وظن أن الشيخ يكذب عليه، إذ لم يخطر بباله أن يركب معه مثل الشيخ -.
الشيخ: نعم، الشيخ!
الشيخ ابن عثيمين: من الأخ؟
السائق: الشيخ عبد العزيز بن باز!!!!!!!!!!
فضحك الشيخ.
الشيخ: أنت الشيخ عبد العزيز بن باز؟؟؟!!! لكن الشيخ عبد العزيز ضرير، ولا يسوق سيارة!!
السائق: ابن عثيمين في نجد وش اللي يجيبه هنا ، تمزح معي أنت؟
هنا ضحك الشيخ ، وأفهمه أنه بالفعل ابن عثيمين.
* سأله سائل: إذا كان القارئ يستمع إلى المسجّل فجاءت سجدة التلاوة فهل يسجد للتلاوة؟ فقال الشيخ: نعم إذا سجد المسجَّل!
* كان الشيخ ابن عثيمين يتكلم في درس عن عيوب النساء في أبواب النكاح، فسأله سائل وقال له: إذا تزوجت ثم وجدت زوجتي ليس لها أسنان، فهل هذا عيب يبيح لي طلب الفسخ؟
যুবকটি শাইখের কাছে ক্যাসেটটি চাওয়ার কারণ জানতে চাইল। শাইখ বললেন: সেখানে আমি এমন একটি কথা বলেছি যা আমার বলা উচিত হয়নি! আমি মনে করি সেটি ক্যাসেট থেকে মুছে ফেলা উচিত! তা হলো আমার এই কথা: "একজন বিখ্যাত ব্যক্তি"!! এর মধ্যে আত্ম-প্রশংসা রয়েছে, তাই আমি মনে করি এটি মুছে ফেলা উচিত!!!
* শাইখ ইবনে উসাইমীন মসজিদুল হারামে সালাত আদায় করলেন এবং হারাম থেকে বের হওয়ার পর এমন এক জায়গায় যেতে চাইলেন যেখানে যাওয়ার জন্য গাড়ির প্রয়োজন ছিল।
শাইখ ইবনে উসাইমীন একটি ট্যাক্সি গাড়ি থামালেন এবং তাতে উঠলেন।
পথিমধ্যে চালক আরোহীর পরিচয় জানতে চাইলেন!
চালক: শাইখ কে?
শাইখ: মুহাম্মদ বিন উসাইমীন!
চালক: শাইখ???? - তিনি মনে করলেন যে শাইখ তার সাথে মিথ্যা বলছেন, কারণ তার কল্পনাতেও ছিল না যে শাইখের মতো একজন ব্যক্তি তার গাড়িতে উঠবেন -।
শাইখ: হ্যাঁ, শাইখ!
শাইখ ইবনে উসাইমীন: ভাইটি কে?
চালক: শাইখ আব্দুল আজীজ বিন বাজ!!!!!!!!!!
এতে শাইখ হাসলেন।
শাইখ: আপনি শাইখ আব্দুল আজীজ বিন বাজ???!!! কিন্তু শাইখ আব্দুল আজীজ তো দৃষ্টিহীন, আর তিনি তো গাড়ি চালান না!!
চালক: ইবনে উসাইমীন তো নজদে, তাকে এখানে কিসে আনবে? আপনি কি আমার সাথে রসিকতা করছেন?
তখন শাইখ হাসলেন এবং তাকে বোঝালেন যে তিনি আসলেই ইবনে উসাইমীন।
* এক প্রশ্নকারী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: যদি কোনো পাঠক রেকর্ডার থেকে তিলাওয়াত শুনেন এবং সিজদায়ে তিলাওয়াত আসে, তবে কি তিনি সিজদা করবেন? শাইখ বললেন: হ্যাঁ, যদি রেকর্ডারটি সিজদা করে!
* শাইখ ইবনে উসাইমীন বিবাহের অধ্যায়ে নারীদের ত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন এক প্রশ্নকারী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আমি যদি বিবাহ করি এবং পরে দেখি যে আমার স্ত্রীর কোনো দাঁত নেই, তবে এটি কি এমন কোনো ত্রুটি যা আমাকে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনের অনুমতি দেবে?
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فضحك الشيخ وقال: هذه امرأة جيدة حتى لا تعضك!
مرض الشيخقال أحد أبناء الشيخ رحمه الله وهو عبد الله الصالح العثيمين (1):
لقد جاء اكتشاف مرض الشيخ رحمه الله متأخراً، وكان اكتشافه أول الأمر في مستشفى الملك فهد بالحرس الوطني، وقد قام المستشفى - إدارة ومختصين - بما يُشكرون عليه من عناية، ثم أجريت له فحوصات أخرى في مستشفى الملك فيصل التخصصي، ونال من إدارته والمختصين به كل عناية ورعاية، فجزى الله الجميعَ في المستشفيين خير الجزاء، وقد اختلفت آراء الأطباء سواء من كشفوا عليه أو من اطلعوا على التقارير عنه، واستشيروا حولها في طريقة علاجه، فكان منهم من رأى علاجه بالأشعة والكيماوي، ومنهم من لم ير ذلك، وفي تلك الظروف كان الشيخ محمد متردداً لِما رآه من اختلاف وجهات نظر الأطباء، ولمزيد من الاطمئنان - تشخيصا وعلاجا - جاءت مشورة ولاة الأمر في هذا الوطن له كي يسافر إلى أمريكا، حفظهم الله ورعاهم وجزاهم أفضل ما يجزي به عباده الصالحين على ما أبدوه تجاهه من عطف وما قاموا به من رعاية، وقد أكدت الفحوصات هناك ما تُوصل إليه من تشخيص في المملكة، واستقر الرأي الطبي على أن يعالج مدةً بالأشعة، مع جرعات مخففة بالكيماوي، ثم يبدأ العلاج بالكيماوي وحده، وسُرَّ الشيخ محمد بذلك، وقدم إلى الوطن ليبدأ في مستشفى الملك فيصل التخصصي ما استقر الرأي الطبي عليه، [وعولج] بالأشعة فعلا، على أن الأطباء رأوا أخيراً أن سلبيات علاجه بالكيماوي أوضح من إيجابياته، ففضلوا عدم علاجه به، وقبِل الشيخ ما فضَّلوه.
الدرس الأخير للشيخ رحمه الله في الحرم المكيوكان صوت الشيخ يشير لما وصلت إليه حاله من تدهور في الصحة العامة، ونحول شديد في جسمه نقله عنه كل من رآه، لا سيما وأن مرض السرطان - أجارنا
--------------------------------------------
শাইখ হাসলেন এবং বললেন: ইনি একজন ভালো নারী যাতে তিনি আপনাকে কামড় না দেন!
শাইখের অসুস্থতাশাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম পুত্র আবদুল্লাহ আস-সালিহ আল-উসাইমিন (১) বলেছেন:
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর রোগ শনাক্তকরণে দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ন্যাশনাল গার্ডের কিং ফাহাদ হাসপাতালে ধরা পড়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ—প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞগণ—যে যত্ন নিয়েছিলেন তার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য। অতঃপর কিং ফয়সাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং সেখানকার প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও তিনি পূর্ণ মনোযোগ ও সেবা লাভ করেন। আল্লাহ উভয় হাসপাতালের সকলকেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। চিকিৎসকদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন ছিল, চাই তারা সরাসরি তাকে পরীক্ষা করেছেন এমন হোক বা যারা তার রিপোর্টগুলো দেখেছেন এবং তার চিকিৎসার পদ্ধতি নিয়ে যাদের সাথে পরামর্শ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিকিরণ ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসার মত দিয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ তা সমীচীন মনে করেননি। সে পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা দেখে শাইখ মুহাম্মাদ দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অধিকতর নিশ্চিন্ত হওয়ার জন্য এ দেশের শাসকবর্গ তাকে আমেরিকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন—আল্লাহ তাদের হেফাযত করুন, তাদের দেখাশোনা করুন এবং তার প্রতি তারা যে সহানুভূতি ও যত্ন দেখিয়েছেন তার জন্য তাদের সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যা তিনি তাঁর সৎকর্মশীল বান্দাদের দিয়ে থাকেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর রাজ্যে (সৌদি আরবে) যে রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল সেটিই নিশ্চিত হয়। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত হলো যে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিকিরণ এবং সেই সঙ্গে কেমোথেরাপির হালকা ডোজের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হবে, এরপর কেবল কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হবে। শাইখ মুহাম্মাদ এতে সন্তুষ্ট হলেন এবং চিকিৎসকদের নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিং ফয়সাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করার জন্য তিনি দেশে ফিরে আসলেন। প্রকৃতপক্ষে বিকিরণের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা পরিশেষে দেখতে পান যে, কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসার সুফলের চেয়ে কুফলই বেশি স্পষ্ট। তাই তারা এর মাধ্যমে চিকিৎসা না করাকেই অগ্রাধিকার দেন এবং শাইখও তাদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেন।
হারামে মক্কিতে শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর শেষ দরসশাইখের কণ্ঠস্বর তার সাধারণ স্বাস্থ্যের অবনতি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল তার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। যারা তাকে দেখেছিলেন তাদের বর্ণনামতে তার শরীর অত্যন্ত জীর্ণ ও কৃশ হয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগ—আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الله وإياكم - معروف عنه أنه يسبب آلاماً رهيبة ومبرحة للمصاب به لا يمكن التغلب عليها إلا بجرعات كثيرة من دواء مخدر (كالمورفين)، ولا أشك في أن الشيخ - قدس الله روحه - وكما سمعنا أيضا - قد رفض تعاطي ذلك الدواء وآثر الاحتساب فعلى الله أجره ولله الأمر من قبل ومن بعد ..
بدأ الشيخ بالحديث بصوت أثقلته الآلام، فتحدث عن العيد وأن الله سبحانه وتعالى جعل للمسلمين ثلاثة أعياد - الأضحى والفطر والجمعة - حق للمسلمين أن يفرحوا فيها بما أنعم الله عليهم من توفيق للأعمال الصالحة، وفصّل فيها قليلا، ثم انتقل إلى الإجابة على الأسئلة ..
ثم قال الشيخ بعدها قولة حُفرت في الذاكرة!!
آخر كلمات نطق بها الشيخ فأوشك على البكاء وأبكى من استمع له .. !!
قال الشيخ بصوته المتعب: وحيث أن هذه الليلة هي ليلة الثلاثين من رمضان فسيكون هذا آخر درس
… وخنقته العبرة: ثم قال: لهذا العام، ولكن كان لسان الحال يقول: بل آخر درس إلى الأبد .. !!!
آخر ساعات الشيخ كانت مع كتاب اللهتحدث الدكتور " عامر رضوي " عن آخر ساعة في حياة فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين بأنه كان يقرأ القرآن الكريم، ثم دخل في غيبوبة وبعدها بساعة انتقل إلى جَوار ربه الكريم قبيل مغرب يوم الأربعاء الخامس عشر من شهر شوال سنة 1421هـ بمدينة جدة بالمملكة العربية السعودية وصلى على الشيخ في المسجد الحرام بعد صلاة العصر يوم الخميس السادس عشر من شهر شوال سنة 1421هـ الآلاف المؤلفة وشيعته إلي المقبرة في مشاهد عظيمة لا تكاد توصف، ودفن بمكة المكرمة رحمه الله رحمة واسعة.
نسأل الله تعالى أن يرحم شيخنا رحمة الأبرار وأن يسكنه فسيح جناته وأن يغفر له ويجزيه عما قدم للإسلام والمسلمين خيراً، ويعوض المسلمين بفقده خيراً، والحمد لله على قضائه، وقدره، وإنا لله وإنا إليه راجعون.
আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের হিফাযত করুন—এটি সুপরিচিত যে, এই ব্যাধি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য প্রচণ্ড ও অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ হয়, যা অনেক পরিমাণ ব্যথানাশক ঔষধ (যেমন মরফিন) ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। আমার কোনো সন্দেহ নেই যে শায়খ—আল্লাহ তাঁর রুহকে পবিত্র করুন—যেমনটি আমরা শুনেছি, তিনি সেই ঔষধ গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন এবং সওয়াবের প্রত্যাশায় ধৈর্য ধারণ করাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। অতএব আল্লাহর নিকটই তাঁর প্রতিদান রয়েছে এবং পূর্বাপর সকল সিদ্ধান্ত আল্লাহরই।
যন্ত্রণায় ভারাক্রান্ত কণ্ঠে শায়খ কথা বলা শুরু করলেন। তিনি ঈদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন এবং বললেন যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিমদের জন্য তিনটি ঈদ নির্ধারণ করেছেন—ঈদুল আযহা, ঈদুল ফিতর এবং জুমুআ। মুসলিমদের অধিকার রয়েছে এসকল দিনে আনন্দ প্রকাশ করার, যেহেতু আল্লাহ তাদের নেক আমল করার তাওফিক দিয়ে ধন্য করেছেন। তিনি এ বিষয়ে সংক্ষেপে বিস্তারিত আলোচনা করলেন, এরপর প্রশ্নোত্তরের দিকে অগ্রসর হলেন।
এরপর শায়খ এমন একটি কথা বললেন যা স্মৃতিতে খোদাই হয়ে আছে!!
শায়খ কর্তৃক উচ্চারিত সর্বশেষ বাক্যগুলো, যার ফলে তিনি প্রায় কেঁদে ফেলেছিলেন এবং যারা শুনছিলেন তাদেরও কাঁদিয়েছিলেন..!!
শায়খ তাঁর ক্লান্ত কণ্ঠে বললেন: যেহেতু এই রাতটি রমযানের ত্রিশতম রাত, তাই এটিই হবে শেষ দরস... তাঁর কণ্ঠ কান্নায় রুদ্ধ হয়ে এল: এরপর বললেন: এই বছরের জন্য। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি যেন বলছিল: বরং এটিই চিরতরের জন্য শেষ দরস..!!!
শায়খের শেষ মুহূর্তগুলো ছিল আল্লাহর কিতাবের সাথেডাক্তার আমের রাদভি শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের জীবনের শেষ মুহূর্ত সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করছিলেন। এরপর তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং এর এক ঘণ্টা পর ১৪২১ হিজরি সনের ১৫ই শাওয়াল বুধবার মাগরিবের কিছুক্ষণ পূর্বে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে তাঁর মহান রবের সান্নিধ্যে চলে যান। ১৪২১ হিজরি সনের ১৬ই শাওয়াল বৃহস্পতিবার আসরের নামাযের পর মসজিদে হারামে হাজার হাজার মানুষ শায়খের জানাযায় অংশগ্রহণ করেন এবং এক অবর্ণনীয় ও বিশাল শোকাতুর পরিবেশে তাঁকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে মক্কাতুল মুকাররমায় দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।
আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের শায়খকে নেককারদের ন্যায় রহমত দান করেন, তাঁকে জান্নাতের বিশালতায় স্থান দেন, তাঁকে ক্ষমা করেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তিনি যা পেশ করেছেন তার উত্তম প্রতিদান দান করেন। তাঁর প্রয়াণে মুসলিম উম্মাহর যে ক্ষতি হয়েছে, আল্লাহ যেন তার উত্তম বিকল্প দান করেন। আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপরই সমস্ত প্রশংসা। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং তাঁরই নিকট আমাদের ফিরে যেতে হবে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শারহুল কাবীর লি মুখতাসারিল উসূল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التعريف بالرسالة:وأما عن الرسالة فهي رسالة مبسطة وضعها الشيخ وفق خطة محددة لتصنيف منهج معين لطلاب السنة الثالثة الثانوية في المعاهد العلمية (1).
ولما كان المذهب المعتمد في هذه المعاهد هو المذهب الحنبلي، فيكون الشيخ قد وضع هذه الرسالة على أصول المذهب الحنبلي. إلا أنه كما سبق فالشيخ يسير في الفروع الفقهية على طريقة شيخه السعدي من عدم التقيد بالمذهب الحنبلي، وكان غالبا ما يوافق ترجيحات شيخ الإسلام وتلميذه ابن القيم هذا المنهج انعكس عليه في تأليفه لهذه الرسالة.
فتراه في بعض المواضع يشير إلى المذهب كما سيأتي - بإذن الله - في مسألة الفاسد والباطل.
وتراه يختار ترجيح تقي الدين ابن تيمية كما في رجوعه عن القول بوقوع المجاز في القرآن واللغة إلى القول بالمنع كما ذهب إليه تقي الدين وابن القيم.
وكما في مسألة الإجماع الظني وهو ما لا يعلم إلا بالتتبع والاستقراء قال: (وقد اختلف العلماء في إمكان ثبوته، وأرجح الأقوال في ذلك رأي شيخ الإسلام ابن تيمية حيث قال في "العقيدة الواسطية": "والإجماع الذي ينضبط ما كان عليه السلف الصالح، إذ بعدهم كثر الاختلاف وانتشرت الأمة).
وكذلك اختياره لقول شيخ الإسلام في تحريم التقليد العام بأن يلتزم مذهباً معيناً يأخذ برخصه، وعزائمه في جميع أمور دينه، حتى أنه قال في الشرح في هذه المسألة (ص/643): (وكلام شيخ الإسلام عليه نور دائما).
ومن نظر للرسالة بوجهة نظر موضعية ترى غالب تعريفاته يظهر فيها النفس الاجتهادي وعدم التقيد بمذهب معين.
فالخلاصة أن صياغة هذه الرسالة كانت حنبلية يخرج فيها الشيخ عما يراه مخالفا للأدلة.
--------------------------------------------
রিসালাহ বা গ্রন্থটির পরিচিতি:আর এই গ্রন্থটি সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি একটি সহজবোধ্য রিসালাহ যা শাইখ বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউটসমূহের মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের জন্য একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম বিন্যাসের পরিকল্পনা অনুযায়ী রচনা করেছেন (১)।
যেহেতু এই ইনস্টিটিউটগুলোতে অনুমোদিত মাযহাব হলো হাম্বলী মাযহাব, তাই শাইখ এই রিসালাহটিকে হাম্বলী মাযহাবের মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করেছেন। তবে যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, শাইখ ফিকহী শাখা-প্রশাখায় (ফুরু‘) তাঁর উস্তাদ আস-সা‘দীর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থাকা। তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিমের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতের সাথে একমত হতেন; এই দৃষ্টিভঙ্গিটি তাঁর এই রিসালাহ রচনার ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে।
আপনি তাঁকে কিছু কিছু স্থানে মাযহাবের দিকে ইঙ্গিত করতে দেখবেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ 'ফাসিদ' ও 'বাতিল' সংক্রান্ত মাসআলায় সামনে আসবে।
আবার তাঁকে তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতটি বেছে নিতে দেখবেন, যেমনটি তিনি কুরআন ও ভাষায় 'মাজায' (রূপক) বিদ্যমান থাকার অভিমত থেকে ফিরে এসে তা না থাকার (নিষেধ) অভিমত গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তাকীউদ্দীন ও ইবনুল কায়্যিম গ্রহণ করেছিলেন।
একইভাবে 'ইজমায়ে যন্নী' বা ধারণাপ্রসূত ঐকমত্যের মাসআলায়, যা কেবল অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জানা সম্ভব, তিনি বলেন: (এর সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিমত হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মত, যা তিনি ‘আল-আকীদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: “যে ইজমা সুসংজ্ঞায়িত তা হলো যা সালাফে সালেহীন বা সৎকর্মশীল পূর্বসূরিদের মাঝে ছিল। কারণ তাঁদের পরে মতভেদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উম্মত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।”)
তদ্রূপ সাধারণ তাকলীদ বা অন্ধ অনুকরণ হারাম হওয়ার বিষয়ে শাইখুল ইসলামের অভিমতটি তিনি গ্রহণ করেছেন—যেখানে কেউ কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরে যে তার সকল সহজ বিষয় ও কঠোর বিষয়সমূহ দীনের সমস্ত বিষয়ে গ্রহণ করে। এমনকি তিনি এই মাসআলার ব্যাখ্যায় (পৃ. ৬৪৩) বলেছেন: (শাইখুল ইসলামের কথার ওপর সর্বদা জ্যোতি বা নূর থাকে)।
কেউ যদি বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই রিসালাহটির দিকে তাকান, তবে দেখবেন তাঁর অধিকাংশ সংজ্ঞায় ইজতিহাদী মেজাজ ফুটে উঠেছে এবং কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের সাথে তিনি নিজেকে আবদ্ধ রাখেননি।
সারকথা হলো, এই রিসালাহটির বিন্যাস ছিল হাম্বলী ঘরানার, যেখানে শাইখ কেবল সেই সকল বিষয় থেকে বেরিয়ে এসেছেন যা তাঁর কাছে দলীল-প্রমাণের পরিপন্থী মনে হয়েছে।
--------------------------------------------