0/0
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: -)
المقاصد القرآنية في سورة «ق»   (حماد بن محمد يوسف)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المقاصد القرآنية في سورة (ق)

المؤلف: حماد بن محمد يوسف

بحث منشور في: مجلة تدبر، السنة الرابعة (العدد الثامن، رجب 1441 هـ - مارس 2020 م).

مجلة تدبر: مجلة علمية سعودية محكّمة تعنى بمجال تدبر القرآن الكريم بدأت في محرم 1438 هـ وتصدر مرتين سنويا

عدد الصفحات: 57

[ترقيم البحث موافق للمجلة، ورقم الجزء هو رقم العدد]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 رمضان 1442

সুরা ‘ক্বাফ’-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ   (হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ ইউসুফ)

বিভাগ: কুরআনুল কারিমের বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: সুরা (ক্বাফ)-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ

লেখক: হাম্মাদ বিন মুহাম্মদ ইউসুফ

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে: মাজাল্লাতু তাদাব্বুর, চতুর্থ বর্ষ (অষ্টম সংখ্যা, রজব ১৪৪১ হিজরি - মার্চ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ).

মাজাল্লাতু তাদাব্বুর: এটি একটি সৌদি বিজ্ঞানভিত্তিক পিয়ার-রিভিউড সাময়িকী যা পবিত্র কুরআনের তাদাব্বুর (গভীর চিন্তাভাবনা) সংক্রান্ত গবেষণায় বিশেষায়িত; এটি মহররম ১৪৩৮ হিজরিতে যাত্রা শুরু করে এবং বছরে দুইবার প্রকাশিত হয়

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭

[গবেষণাপত্রটির পৃষ্ঠা নম্বর সাময়িকীর সাথে মিল রাখা হয়েছে, এবং খণ্ড নম্বরটি ইস্যু নম্বর হিসেবে গণ্য]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌مستخلص البحث

يُعنى هذا البحثُ بدراسة: (المَقاصِد القُرآنيَّة في سُورة «ق»)، معتمدًا في ذلك على المنهج الاستقرائي الاستنباطي.

وتَكْمُنُ أهميَّتُه في فَضْلِ سُورة (ق) ومكانتِها العظيمةِ بين السُّوَرِ القُرآنيَّةِ، وهو مع ذلك لم يَنَلْ حَظَّهُ في الدِّراسات التي تناولت المَقاصِد القُرآنيَّة؛ على الرغم مِن أهميته في فهم القرآن وتدبُّره.

ويَهدف البحثُ إلى استنباط المَقاصِد القُرآنيَّة من سُورة (ق)، ومعرفة القضايا الجوهرية التي تناولتها السُّورة، والوقوف على سِرِّ قِراءة الرَّسول صلى الله عليه وسلم لهذه السُّورة في المجامع الكِبار.

وقد جاء هذا البحثُ في مُقدمة، وثلاثة مباحث، وخاتمة:

واختصَّ المَبْحثُ الأولُ بالتعريف بعِلم المَقاصِد القُرآنيَّة، وبيان أهميته.

أمَّا المَبْحث الثاني: فقد كان مقدمة تعريفية لسورة (ق)؛ بِذكر بعض ما يُعِينُ على الكشف عن المَقاصِد القُرآنيَّة.

أمَّا المَبْحث الثالث: (وهو صُلب البحث)؛ فذكر فيه مَقصد السُّورة إجمالًا مع ذِكر شواهده، ثم موضوعاتها الجزئية، ثم التدبُّر المَقاصِدي لآيات السُّورة تفصيلًا.

وخَلَصَ البحثُ إلى أنَّ سُورة (ق) قد تناولت عِدَّةَ موضوعات رئيسة تخصُّ العقيدةَ الإسلاميَّةَ؛ من تقرير أصول الدِّين من الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، والقَدَرِ، وإعطاءِ تَصَوُّرٍ كامل عن حياة الإنسان،
গবেষণার সারসংক্ষেপ

এই গবেষণাটি ‘সুরা ক্বাফ’-এর কোরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) পর্যালোচনার প্রতি নিবদ্ধ, যেখানে আরোহী (استقرائي) ও অবরোহী (استنباطي) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করা হয়েছে।

এর গুরুত্ব নিহিত রয়েছে সুরা ক্বাফ-এর ফজিলত এবং কোরআনের সুরাসমূহের মধ্যে এর সুউচ্চ মর্যাদার মাঝে। তা সত্ত্বেও কোরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) সংক্রান্ত গবেষণায় এটি তার প্রাপ্য গুরুত্ব পায়নি; যদিও কোরআন অনুধাবন ও এর গভীর চিন্তা-গবেষণার (تدبر) ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

এই গবেষণার লক্ষ্য হলো সুরা ক্বাফ থেকে কোরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) আহরণ (استنباط) করা, সুরার আলোচিত মৌলিক বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং বড় বড় সমাবেশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক এই সুরা পাঠ করার রহস্য উদঘাটন করা।

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদটি কোরআনিক উদ্দেশ্য (المقاصد القرآنية) বিদ্যার পরিচিতি এবং এর গুরুত্ব বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি সুরা ক্বাফ-এর একটি পরিচিতিমূলক ভূমিকা; যেখানে কোরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) উন্মোচনে সহায়ক কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (যা গবেষণার মূল অংশ); এতে সুরার সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও এর সপক্ষে প্রমাণাদি (شواهد) উল্লেখ করার পাশাপাশি এর আংশিক বিষয়সমূহ এবং পরিশেষে সুরার আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যভিত্তিক গভীর চিন্তা-গবেষণা (تدبر) বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

গবেষণার সারসংক্ষেপ এই যে, সুরা ক্বাফ ইসলামী আকিদা সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু প্রধান বিষয় আলোচনা করেছে; যেমন দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ, রসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্য (قدر) সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং মানুষের জীবন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রদান করা।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وغير ذلك من المَقاصِد القرآنيَّة المُهَمَّةِ، ولذلك كان الرَّسول صلى الله عليه وسلم يَقرأ بها في المجامع الكبار.

ويُوصي البحثُ بضرورة العناية بسورة (ق)؛ تلاوة وتدبُّرًا، وإحياءِ سُنَّةِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم في قراءتها في خُطبة الجمعة وصلاة العِيد، ودراسة المَقاصِد القرآنيَّة في السُّوَر؛ خاصَّةً تلك السُّور التي كان الرَّسول صلى الله عليه وسلم يُواظبُ على قِراءتها.

الكلمات المِفتاحيَّة: المَقاصِد القرآنيَّة- التَّدَبُّر المَقاصِدي- التفسير- سُورة (ق) - السُّور المكيَّة- المُفَصَّل.

* * *
এবং এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد قرآنية), আর এই কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় বড় সমাবেশগুলোতে এটি পাঠ করতেন।

এই গবেষণাটি তিলাওয়াত ও গভীর অনুধাবনের (تدبر) মাধ্যমে সূরা 'ক্বাফ'-এর প্রতি যত্নবান হওয়া এবং জুমার খুতবা ও ঈদের সালাতে এটি তিলাওয়াত করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার সুপারিশ প্রদান করে। সেই সাথে সূরাসমূহের কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد قرآنية) অধ্যয়ন করারও পরামর্শ দেয়; বিশেষ করে সেই সকল সূরা যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পাঠ করতেন।

মূলশব্দসমূহ: কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد قرآنية)- উদ্দেশ্যমূলক অনুধাবন (تدبر مقاصدي)- তাফসির- সূরা 'ক্বাফ'- মক্কি সূরাসমূহ (سور مكية)- আল-মুফাসসাল (المفصل)।

* * *
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
The Qur'anic Purposes

of Sura Qaf

Prepared by:

Hammad Mohammed Yusuf

Email: mdhammadyusuf 1@gmail.com

 

Summary:

This piece of research explores the Quranic objectives in the Chapter of Q?f، depending on the deductive and inductive methods. Its significance lies in the merit of this chapter and its great position among the Quranic chapters، and yet the studies that dealt with the Quranic objectives did not examine it adequately despite its being instrumental in understanding and meditating on the Qur'an.

The research aims to extract the Quranic objectives from the chapter of Q?f، highlight the key issues that it tackles and find out why the Prophet (Peace be upon him) used to recite it at his major assemblies.

This research includes an introduction، three sections، and a conclusion. The first section defines the study of the Quranic objectives and clarifies its importance. As for the second section، it presents an introduction to the chapter of Q?f which sheds light on what helps to draw the Quranic objectives. The third section (which is also the crux of
সূরা কাফ-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد)

প্রস্তুতকারক:

হাম্মাদ মুহাম্মদ ইউসুফ

ইমেইল: mdhammadyusuf 1@gmail.com

 

সারসংক্ষেপ:

এই গবেষণাটি অবরোহী (استنباطي) ও আরোহী (استقرائي) পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে সূরা কাফ-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) অন্বেষণ করে। এর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এই সূরার ফযিলত এবং কুরআনের সূরাসমূহের মধ্যে এর সুউচ্চ মর্যাদার মাঝে; তদুপরি কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) নিয়ে কাজ করা গবেষণাগুলোতে একে পর্যাপ্তভাবে পর্যালোচনা করা হয়নি, যদিও কুরআন অনুধাবন ও তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণার (تدبر) ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার লক্ষ্য হলো সূরা কাফ থেকে কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) নিষ্কাশন করা, এটি যেসব মূল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তা তুলে ধরা এবং কেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বড় বড় সমাবেশগুলোতে এটি তিলাওয়াত করতেন তার কারণ অনুসন্ধান করা।

এই গবেষণায় একটি ভূমিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার রয়েছে। প্রথম পরিচ্ছেদে কুরআনিক উদ্দেশ্য (مقاصد) বিষয়ক অধ্যয়নের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে এবং এর গুরুত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সূরা কাফ সম্পর্কে একটি ভূমিকা উপস্থাপন করা হয়েছে যা কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) নিরূপণে সহায়ক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করে। তৃতীয় পরিচ্ছেদ (যা এই গবেষণার মূল
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
the research) discusses the general meaning of the chapter in question، together with its supporting evidence، its sub-themes and the meditative consideration of its verses.

Main Findings:

The research concludes that the chapter of Q?f deals with several primary issues related to the Islamic faith، confirming certain religious fundamentals، including belief in Allah (Exalted be He)، His angels، His sacred books، His prophets، the Doomsday، and predestination and gives a complete picture of man's life. That's why the Prophet (Peace be upon him) was always keen on reciting it on formal occasions.

Primary Recommendations:

- Special attention should be given to the chapter of Q?f in terms of recitation and meditation.

- It should be recited during the Friday Sermon and the Eid prayer to revive the Prophet's established tradition.

- The Quranic objectives of the various chapters should be studied، particularly those chapters which the Prophet (Peace be upon Him) recited regularly.

Key Words: Quranic objectives- meditative consideration-interpretation -the chapter of Qaf- the Meccan chapters-al-mufassal.
(গবেষণাটি) সংশ্লিষ্ট সূরার সাধারণ অর্থ, এর সপক্ষে প্রমাণাদি, এর উপ-প্রসঙ্গসমূহ এবং এর আয়াতসমূহের গভীর ধ্যানে পর্যালোচনা (تدبر)-র বিষয়ে আলোচনা করে।

প্রধান ফলাফলসমূহ:

গবেষণাটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সূরা ক্বাফ ইসলামী আকিদা (عقيدة)-এর সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর পবিত্র কিতাবসমূহ, তাঁর নবীগণ, কিয়ামত এবং তকদির (القدر)-সহ দ্বীনের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি নিশ্চিত করে এবং মানুষের জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরে। একারণেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এটি পাঠ করার বিষয়ে সর্বদা আগ্রহী ছিলেন।

প্রধান সুপারিশসমূহ:

- তেলাওয়াত ও গভীর ধ্যানে পর্যালোচনা (تدبر)-র ক্ষেত্রে সূরা ক্বাফের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা উচিত।

- রাসূলুল্লাহ-এর প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ (سنة) পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে জুমার খুতবা এবং ঈদের সালাতে এই সূরাটি পাঠ করা উচিত।

- বিভিন্ন সূরার কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد القرآن) অধ্যয়ন করা উচিত, বিশেষ করে সেই সূরাগুলো যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়মিত পাঠ করতেন।

মূল শব্দসমূহ: কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد القرآن) - গভীর ধ্যানে পর্যালোচনা (تدبر) - তাফসির (تفسير) - সূরা ক্বাফ - মক্কি সূরাসমূহ (السور المكية) - আল-মুফাসসাল (المفصل)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمدُ لله ربِّ العالمين، والصلاةُ والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، أمَّا بعدُ:

فإنَّ القرآن الكريم هو النور المبين، والحقُّ المستبين، هو حبلُ الله المتين، وصراطه المستقيم، أنزله الله على عباده، ليكون منهاجًا للحياة، ونِبراسًا للهداية، وأمرَهم بالتمسُّك به، وتفهُّمه، وتدبُّره، واستِخراج كنوزه، وإثارة دفائنه، والكشف عن حقائقه، والوقوف على غاياته السامية الكفيلة بمصالح العِباد في المعاش والمعاد، والمُوصلة لهم إلى سبيل الرشاد.

ومِن هذا المنطلق، جاء هذا البحث الموسوم بـ: (المَقاصِد القرآنيَّة في سُورة ق)، ليكون عونًا للقارئ في تدبُّر كلام الله 5.

 

‌‌أهميَّة البحث:

• تنبثق أهميَّة البحث أولًا من فضل السُّورة التي يتناولها البحث، فسورة (ق)، قد كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم يقرأ بها في المجامع العِظام، ويواظب عليها تذكيرًا بما تضمَّنت هذه السُّورة العظيمة من أصول الإيمان والعقيدة، وعملًا بقول الله 5: {فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ}.

• ثانيًا: يستمد البحث قيمته من أهميَّة علم المَقاصِد القرآنيَّة، ودَوره في فهم القرآن وتدبُّره على الوجه الأمثل.
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ নবি ও রাসুলদের প্রতি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন হলো সুস্পষ্ট আলো এবং প্রকাশ্য সত্য; এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রশি এবং তাঁর সরল পথ। আল্লাহ এটি তাঁর বান্দাদের ওপর অবতীর্ণ করেছেন, যাতে এটি জীবন পরিচালনার পদ্ধতি এবং হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হতে পারে। তিনি তাদের এটি আঁকড়ে ধরার, এটি বোঝার, এতে গভীরভাবে চিন্তা করার (تدبر), এর গুপ্তধনসমূহ বের করার, এর সুপ্ত রহস্যসমূহ উদঘাটন করার, এর বাস্তবতাগুলো উন্মোচন করার এবং এর সুমহান লক্ষ্যসমূহের প্রতি সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন; যা ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণের নিশ্চয়তা প্রদানকারী এবং তাদেরকে সঠিক পথের দিকে পরিচালনাকারী।

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে, যার শিরোনাম হলো: (সূরা ক্বাফ-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد)), যাতে এটি আল্লাহর কালাম গভীরভাবে চিন্তা করার (تدبر) ক্ষেত্রে পাঠকের জন্য সহায়ক হতে পারে।

 

‌‌গবেষণার গুরুত্ব:

• গবেষণার গুরুত্ব প্রথমত উদ্ভূত হয়েছে সেই সূরার শ্রেষ্ঠত্ব থেকে যা নিয়ে এই গবেষণায় আলোচনা করা হয়েছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় বড় সমাবেশে সূরা ক্বাফ তিলাওয়াত করতেন এবং এই মহান সূরাটি ঈমান ও আকীদার যেসব মূলনীতি (أصول) ধারণ করে আছে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়মিত এটি পাঠ করতেন। এটি আল্লাহর এই বাণীরই প্রতিফলন: "অতএব, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দাও।"

• দ্বিতীয়ত: এই গবেষণাটি কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) বিজ্ঞানের গুরুত্ব এবং কুরআনকে যথাযথভাবে অনুধাবন ও গভীরভাবে চিন্তা করার (تدبر) ক্ষেত্রে এর ভূমিকা থেকে নিজের গুরুত্ব লাভ করে।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
• وأخيرًا: تزداد أهميَّة البحث لعدم وجود أبحاثٍ ودراسات مستقِلة للمَقاصِد القرآنيَّة في هذه السُّورة -خصوصًا-، وقلة الكتابة في مجال‌‌ المَقاصِد القرآنيَّة -عمومًا- على الرغم من الصَّحوة العِلميَّة في مجال علم المَقاصِد.

 

‌‌أهداف البحث:

يَهدف البحث إلى العناية بالهداية القُرآنيَّة وما أُنزل القرآن لأجله، واستنباط المَقاصِد القُرآنيَّة التي اشتملت عليها سُورة (ق)، ومعرفة القضايا الجوهريَّة التي تناولتها السُّورة، والوقوف على سِر قراءة الرَّسول صلى الله عليه وسلم لهذه السُّورة في المجامع الكبار.

كما يرمي البحث أيضًا إلى إبراز بلاغة القرآن الكريم وإعجازه من خلال دراسة المَقاصِد القُرآنيَّة، والوقوف على أهميتها، والإسهام في تطويرها.

 

‌‌الدِّراسات السابقة:

• لم تخلُ كتب التفسير القديمة والحديثة من المَقاصِد القُرآنيَّة على تفاوُتٍ بينها في العناية بها مقدارًا ودلالةً؛ غير أنها في الغالب منثورة في مواطنَ متفرِّقة مِن كتبهم. ولابن القيم كلامٌ نفيس عن سُورة (ق)، افتتح بها كتابه: (الفوائد)، وأفردته بالذكر لكونه من غير مظانِّه.

• كُتبت بعض الأبحاث والرسائل العلميَّة في المَقاصِد القُرآنيَّة عمومًا أو في سُورة معينة (غير سُورة ق)، ومنها:

 

• المَقاصِد القُرآنيَّة: دراسة منهجيَّة، د. محمد بن عبد الله الربيعة، مجلة معهد الإمام الشاطبي للدراسات القُرآنيَّة، العدد 27، (ص 207 - 262)، تناول البحث موضوع المَقاصِد القُرآنيَّة من الجانبين النظري والتطبيقي،
• সবশেষে: বিশেষ করে এই সূরায় কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো গবেষণা ও অধ্যয়ন না থাকায় এবং উদ্দেশ্য বিষয়ক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাত্ত্বিক জাগরণ সত্ত্বেও সাধারণভাবে কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে রচনার স্বল্পতার কারণে এই গবেষণার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

গবেষণার লক্ষ্যসমূহ:

এই গবেষণার লক্ষ্য হলো কুরআনিক হেদায়েত এবং যে উদ্দেশ্যে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে সেদিকে মনোনিবেশ করা, সূরা 'ক্বাফ'-এর অন্তর্ভুক্ত কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ উদ্ভাবন করা, সূরাটিতে আলোচিত মৌলিক বিষয়াবলি অনুধাবন করা এবং বৃহৎ সমাবেশসমূহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই সূরাটি পাঠ করার রহস্য উদ্ঘাটন করা।

এছাড়াও কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর অলৌকিকত্ব ফুটিয়ে তোলা, এর গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং এর উন্নয়নে অবদান রাখা এই গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য।

 

পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

• প্রাচীন ও আধুনিক তাফসির গ্রন্থগুলো কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ থেকে মুক্ত নয়, যদিও এগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপের পরিমাণ ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য রয়েছে; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা তাঁদের গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে। ইবনুল কায়্যিমের সূরা 'ক্বাফ' সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা রয়েছে, যা দিয়ে তিনি তাঁর 'আল-ফাওয়াইদ' গ্রন্থটি শুরু করেছেন; আমি এটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি কারণ এটি এমন একটি স্থানে রয়েছে যা সাধারণত এই বিষয়ের জন্য প্রত্যাশিত নয়।

• সাধারণভাবে কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ বা নির্দিষ্ট কোনো সূরার (সূরা ক্বাফ ব্যতীত) ওপর কিছু গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

 

• কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ: একটি পদ্ধতিগত অধ্যয়ন, ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-রাবিয়াহ, ইমাম শাতিবি ইনস্টিটিউট ফর কুরআনিক স্টাডিজ জার্নাল, সংখ্যা ২৭, (পৃষ্ঠা ২০৭ - ২৬২)। গবেষণাটি তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিক থেকে কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ বিষয়টি আলোচনা করেছে।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩১)
واستفدتُ منه في الكشف عن المَقاصِد، وطُرُق صياغتها، خاصةً في التدبُّر المَقاصِدي للآيات(1).

• المَقاصِد القُرآنيَّة في سُورة ص، شيماء غانية، رسالة ماجستير.

• المَقاصِد القُرآنيَّة في سُورة المزمل: دراسة تحليليَّة، أكرم العمر، رسالة ماجستير.

• تناولَتْ بعض الرسائل العلميَّة بعضَ الجوانب في‌‌ سُورة (ق)، كالجانب الموضوعي واللغوي، وما أشبه ذلك، ومن تلك الدِّراسات(2):

• سُورة (ق): دراسة تحليليَّة موضوعيَّة، عبد الله سعداوي، رسالة ماجستير. وهو يَذكر الموضوعات التي تناولتها سُورة (ق) -كما هو ظاهرٌ من عنوانه-، ولا يتناول الذي نحن بصدده -أعني: المَقاصِد القُرآنيَّة-.

 

• الدِّراسة التحليليَّة لمَقاصِد وأهداف الحزب الثاني والخمسين من القرآن الكريم (سُورة الفتح-الحجرات- (ق) -الذاريات)، نصر سمير رشيد، رسالة ماجستير. وقد ذكرت في بداية الرِّسالة مقدماتٍ تعريفيَّة في المَقاصِد، وسورة (ق). ثم تناولت الباحثة سُورة (ق) في الفصل الثالث الموسوم بـ: (الدِّراسة التحليليَّة لمَقاصِد وأهداف سُورة ق)، وقسمت الفصل إلى ثلاثة مباحث، وكل مبحث إلى عدة مطالب، وتناولت في كل مطلبٍ بعض الآيات، وبينت معاني الكلمات، والمُناسَبة، والمعنى الإجمالي، ومَقاصِد وأهداف النص القرآني. لكنَّ الذي ظهر لي أن طريقة الباحثة أشبه بالتفسير منه إلى المَقاصِد القُرآنيَّة؛ إذ إنها قد ذكرت الفوائد المستنبَطة من الآيات تحت عنوان:

--------------------------------------------

(1). يُنظر (المطلب الرابع: التدبُّر المقاصدي للآيات) من المبحث الثالث.

(2). يُنظر تفاصيل الرسائل الجامعية في ثبت المصادر والمرجع.
এবং আমি এটি থেকে উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) উন্মোচন এবং সেগুলো প্রণয়নের পদ্ধতিসমূহ, বিশেষ করে আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যভিত্তিক অনুধাবন (التدبر المقاصدي) এর ক্ষেত্রে উপকৃত হয়েছি(১)।

• সূরা সোয়াদ-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية), শায়মা গানিয়া, মাস্টার্স থিসিস।

• সূরা আল-মুযাম্মিল-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية): একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন, আকরাম আল-উমর, মাস্টার্স থিসিস।

• কিছু একাডেমিক থিসিস সূরা (ক্বাফ)-এর কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করেছে, যেমন বিষয়ভিত্তিক ও ভাষাগত দিক এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি; আর সেসব গবেষণার মধ্যে রয়েছে(২):

• সূরা (ক্বাফ): একটি বিশ্লেষণাত্মক ও বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়ন, আবদুল্লাহ সা’দাউয়ি, মাস্টার্স থিসিস। এটি সূরা (ক্বাফ)-এ আলোচিত বিষয়সমূহ উল্লেখ করে—যেমনটি এর শিরোনাম থেকে প্রতীয়মান হয়—এবং এটি আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়—অর্থাৎ: কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية)—নিয়ে আলোচনা করে না।

 

• পবিত্র কুরআনের বায়ান্নতম হিযব-এর (সূরা আল-ফাতহ-আল-হুজুরাত-ক্বাফ-আয-যারিয়াত) উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহের বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন, নাসর সামীর রাশিদ, মাস্টার্স থিসিস। তিনি থিসিসের শুরুতে উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) এবং সূরা (ক্বাফ) সম্পর্কে কিছু পরিচয়মূলক ভূমিকা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর গবেষক তৃতীয় অধ্যায়ে সূরা (ক্বাফ) নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার শিরোনাম হলো: (সূরা ক্বাফ-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহের বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়ন)। তিনি অধ্যায়টিকে তিনটি পরিচ্ছেদে (المباحث) এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদকে কয়েকটি অনুচ্ছেদে (المطالب) বিভক্ত করেছেন। তিনি প্রতিটি অনুচ্ছেদে কিছু আয়াত নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং শব্দের অর্থ, প্রাসঙ্গিকতা (المناسبة), সামগ্রিক অর্থ এবং কুরআনিক পাঠ্যের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ বর্ণনা করেছেন। তবে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে তা হলো, গবেষকের পদ্ধতি কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية)-এর চেয়ে তাফসীর (التفسير)-এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ; কেননা তিনি আয়াতসমূহ থেকে আহরিত শিক্ষা ও উপকারিতাগুলো এই শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন:

--------------------------------------------

(১). দ্রষ্টব্য (চতুর্থ অনুচ্ছেদ (المطلب الرابع): আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যভিত্তিক অনুধাবন (التدبر المقاصدي)) তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث) থেকে।

(২). থিসিসগুলোর বিস্তারিত বিবরণ উৎস ও রেফারেন্স তালিকায় দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩২)
(مَقاصِد وأهداف النص القرآني)، ثم شرعت تشرح هذه الفائدة المستنبَطة بذكر الآيات والأحاديث النبويَّة، مما ليس له تعلُّق مباشر بالمَقاصِد، وأهملت النظر في المقصود المباشر للآية.

ولا شك أن المَقاصِدَ غيرُ التفسير، فإنَّ المَقاصِد يُعنى فيها بذِكر مقصد السُّورة إجمالًا، ورَبْط مَقاطِع السُّورة بعضها ببعض، ثم التدبُّر المَقاصِدي للآيات بذِكر المقصود المباشر للآية، مستعينًا في ذلك بمقصد السُّورة، ثم التعبير عن الآية بأسلوبٍ مَقاصِدي، ثم ذِكر هداية الآيات؛ الذي هو المقصود الأهم، كما نبَّه إليه الدكتور محمد الربيعة(1).

وما هذا البحث إلا محاولة لتطبيق هذا المنهج، عسى أن يفيد الباحثين والمشتغِلين في مجال المَقاصِد القُرآنيَّة، الذي لا يزال يُعاني من غموض المفهوم، واضطِراب المنهج.

وهذا البحث وإن كان يشترك مع البحوث السابقة في بعض القضايا والجزئيَّات، إلا أنه يختلف عنها من حيث موضوعُه أو من حيث طريقةُ تناولِه للمَقاصِد القُرآنيَّة، حيث يتناول هذا البحثُ المَقاصِدَ القُرآنيَّة في سُورة (ق) خاصةً، وبالمنهج الذي مرَّ ذكره آنفًا. أسأل الله أن يُوفقني لما يحبه ويرضاه، ويرزقنا الإخلاص في القول والعمل.

 

‌‌منهج البحث:

اعتَمد البحث على المنهج الاستِقرائي الاستِنباطي، وذلك عند تتبُّع كلام أهل العلم في مظانِّه من كتب التفسير والمَقاصِد، واستِنباط المَقاصِد القُرآنيَّة منها.

--------------------------------------------

(1) انظر: المقاصد القرآنية: دراسة منهجية، د. محمد بن عبد الله الربيعة، ص 251.
(কুরআনিক পাঠের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ), এরপর এই উদ্ভাবিত উপকারিতাটি বর্ণনা করতে শুরু করেছে আয়াত ও নববী হাদিসসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে, যার সাথে উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং আয়াতের সরাসরি উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টি দিতে অবহেলা করা হয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد) আর তাফসির এক নয়। কেননা, উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) ক্ষেত্রে সূরার সামগ্রিক উদ্দেশ্য (مقصد) উল্লেখ করা, সূরার অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপন করা, তারপর সূরার উদ্দেশ্যের (مقصد) সাহায্য নিয়ে আয়াতের সরাসরি উদ্দেশ্য উল্লেখ করার মাধ্যমে আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যমূলক অনুধাবন (التدبر المقاصدي) করা, অতঃপর উদ্দেশ্যমূলক শৈলীতে আয়াতটিকে ব্যক্ত করা এবং পরিশেষে আয়াতের হেদায়েত উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়; যা মূলত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য, যেমনটি ডক্টর মুহাম্মদ আর-রাবিআ(১) ইঙ্গিত করেছেন।

এই গবেষণাটি এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র, সম্ভবত এটি কুরআনিক মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد القرآنية) ক্ষেত্রে গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপকারে আসবে, যা এখনো ধারণাগত অস্পষ্টতা এবং পদ্ধতিগত অস্থিরতায় (اضطراب المنهج) ভুগছে।

এই গবেষণাটি যদিও পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহের সাথে কিছু বিষয় ও খুঁটিনাটি ক্ষেত্রে অংশীদার, তবুও এটি তার বিষয়বস্তু কিংবা কুরআনিক মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) উপস্থাপনের পদ্ধতির দিক থেকে ভিন্ন। কেননা এই গবেষণাটি বিশেষভাবে সূরা 'কাফ'-এর কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) নিয়ে এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত পদ্ধতিতে আলোচনা করে। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের কথা ও কাজে একাগ্রতা (الإخلاص) নসিব করেন।

 

‌‌গবেষণার পদ্ধতি:

গবেষণাটি আরোহী ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির (المنهج الاستقرائي الاستنباطي) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়েছে। এটি তাফসির ও মাকাসিদ বা উদ্দেশ্য (المقاصد) বিষয়ক গ্রন্থাবলির যথাযথ উৎসসমূহ হতে আলেমদের বক্তব্য অনুসরণ এবং সেখান থেকে কুরআনিক উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد القرآنية) উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিইয়াহ: দিরাসাহ মানহাজিয়াহ, ডক্টর মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আর-রাবিআ, পৃষ্ঠা ২৫১।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌خُطَّة البحث:

قسمتُ البحث إلى مقدمة، وثلاثة مباحث، وخاتمة:

1 - المقدمة: واشتملت على أهميَّة البحث، وأهدافه، ومنهجه، وخُطته، والدِّراسات السابقة.

2 - المَبْحث الأول: علم المَقاصِد القُرآنيَّة، وفيه مطلبان:

المطلب الأول: تعريف المَقاصِد القُرآنيَّة.

المطلب الثاني: أهميَّة المَقاصِد القُرآنيَّة.

3 - المَبْحث الثاني: التعريف بسورة (ق)، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: اسم السُّورة، وعدد آياتها، ومرحلة نزولها.

المطلب الثاني: فَضْل سُورة (ق).

المطلب الثالث: ترتيب السُّورة في المصحف، وفي النزول.

المطلب الرابع: المُناسَبات في سُورة (ق).

4 - المَبْحث الثالث: التدبُّر المَقاصِدي لسورة (ق)، وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: مقصد السُّورة.

المطلب الثاني: موضوعات السُّورة.

المطلب الثالث: مَقاطِع السُّورة.

المطلب الرابع: التدبُّر المقاصِدي للآيات.

5 - الخاتمة: وقد تضمَّنت أهم النتائج والتوصيات.

واللهَ أسأل أن يجعل أعمالنا خالصةً لوجهه الكريم، وأن يُوفقنا لخدمة كتابه الكريم، وأن يرزقنا فَهمه، وصلى الله على نبينا محمدٍ وعلى آله وصحبه أجمعين.
গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:

১ - ভূমিকা: এতে গবেষণার গুরুত্ব, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, পরিকল্পনা এবং পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২ - প্রথম অধ্যায়: কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ) সংক্রান্ত বিজ্ঞান, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহের গুরুত্ব।

৩ - দ্বিতীয় অধ্যায়: সূরা ক্বাফ-এর পরিচিতি, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরার নাম, আয়াত সংখ্যা এবং অবতরণের পর্যায়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরা ক্বাফ-এর ফজিলত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসহাফের বিন্যাস এবং অবতরণ ক্রমে সূরার অবস্থান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সূরা ক্বাফ-এর প্রাসঙ্গিকতা (মুনাসাবাত)।

৪ - তৃতীয় অধ্যায়: সূরা ক্বাফ-এর উদ্দেশ্যভিত্তিক অনুধ্যান (তাদাব্বুর মাকাসিদি), এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সূরার মূল লক্ষ্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরার আলোচ্য বিষয়সমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরার বিভিন্ন অনুচ্ছেদ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যভিত্তিক অনুধ্যান (তাদাব্বুর মাকাসিদি)।

৫ - উপসংহার: এতে প্রধান ফলাফল ও সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের আমলসমূহকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর সুমহান কিতাবের সেবায় আমাদের তাওফিক দান করেন এবং আমাদের এর সঠিক বুঝ নসিব করেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌المبحث الأول: عِلم المَقاصِد القُرآنيَّة

‌‌المطلب الأول: تعريف المَقاصِد القُرآنيَّة.

•‌‌ أولًا: تعريفه باعتِبارها مركبًا وصفيًّا:

‌‌1 - المَقاصِد لغةً: جَمْع مَقصَد، وهو مصدر مِيميٌّ مأخوذ من الفعل (قصَد) من باب ضرَب، قال ابن فارس (ت 395 هـ): "القاف والصاد والدال، أصول ثلاثة: يدل أحدها على إتيان شيءٍ وأَمِّه، والآخر على اكتِناز في الشيء. فالأصل: قصدتُه قصدًا ومقصدًا. ومن الباب: أَقصَده السهم، إذا أصابه فقَتَل مكانه، وكأنه قيل ذلك لأنه لم يحدْ عنه، … ومنه: أَقصَدته حيَّة، إذا قتلتْه. والأصل الآخر: قصَدْت الشيء: كسَرْته. والقصدة: القطعة من الشيء إذا تكسَّر، والجمع قصد. [ومنه قصد] الرِّماح. ورمح قصد، وقد انقَصَد، والأصل الثالث: الناقة القصيد: المُكتنِزة الممتلئة لحمًا، .... ، ولذلك سُميت القصيدة من الشِّعر قصيدةً لتقصيد أبياتها، ولا تكون أبياتها إلا تامَّةَ الأبنية"(1).

ويأتي في اللغة لمعانٍ متعددة: منها استقامة الطريق، والعدل، والاعتماد والأَمُّ، وإتيان الشيء، والتوسُّط، والكسر(2).

"قال ابن جِنِّي: أصل مادة (ق ص د) ومواقعها في كلام العرب: الاعتزام، والتوجه، والنهود، والنهوض نحو الشيء، على اعتدال كان ذلك أو جَوْر"(3).

--------------------------------------------

(1). معجم مقاييس اللغة، لابن فارس (5/ 95)، مادة (قصد).

(2). انظر: لسان العرب، لابن منظور (3/ 353 - 357) مادة (قصد).

(3). انظر: المحكم والمحيط الأعظم، لابن سيده، (6/ 187). وعزاه الزبيدي في تاج العروس (9/ 36) إلى سر الصناعة، لابن جني، ولم أجده فيه.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের মাকাসিদ (مقاصد) সংক্রান্ত বিজ্ঞান

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআনের মাকাসিদ (مقاصد)-এর সংজ্ঞা.

•‌‌ প্রথমত: বর্ণনামূলক যৌগিক শব্দ (مركب وصفي) হিসেবে এর সংজ্ঞা:

‌‌১ - শাব্দিক অর্থে মাকাসিদ (مقاصد): এটি 'মাকসাদ' (مقصد)-এর বহুবচন, যা 'দরাবা' (ضرب) পরিচ্ছেদভুক্ত 'কাসাদা' (قصد) ক্রিয়া থেকে গৃহীত একটি মাসদারে মিমি (مصدر ميمي)। ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) বলেন: "ক্বাফ, সোয়াদ এবং দাল—এই তিনটি মূলনীতি: যার একটি কোনো কিছুর কাছে আসা এবং লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হওয়া বোঝায়, এবং অন্যটি কোনো কিছুর পূর্ণতা বা প্রাচুর্য বোঝায়। এর মূল প্রয়োগ হলো: 'আমি এটি অর্জনের সংকল্প ও লক্ষ্য (قصدًا ومقصدًا) করেছি'। এই পরিচ্ছেদ থেকেই এসেছে: 'তীর লক্ষ্যভেদী হওয়া' (أقصده السهم), যখন তা লক্ষ্যে আঘাত করে এবং তৎক্ষণাৎ শিকারকে সংহার করে; আর এটি বলা হয় কারণ তীরটি লক্ষ্য বিচ্যুত হয়নি, … এখান থেকেই এসেছে: 'সাপ দংশন করে মেরে ফেলা' (أقصَدته حيَّة)। অন্য একটি মূলনীতি হলো: 'আমি কোনো কিছু ভেঙেছি' (قصَدْت الشيء)। কোনো ভাঙা জিনিসের টুকরোকে 'কাসদাহ' (القصدة) বলা হয় এবং এর বহুবচন হলো 'কাসাদ' (قصد)। এখান থেকেই এসেছে: 'বর্শার টুকরোসমূহ' (قصد الرماح)। বর্শাটি যখন ভেঙে যায় তখন তাকে 'রুমহুন কাসাদ' (رمح قصد) বলা হয়। আর তৃতীয় মূলনীতি হলো: 'মাংসল ও হৃষ্টপুষ্ট উটনী' (الناقة القصيد), .... , এ কারণেই কবিতাকে 'কাসিদা' (قصيدة) বলা হয় এর ছন্দবিন্যাস ও বিন্যাসের কারণে, আর এর শ্লোকগুলো পূর্ণাঙ্গ গঠন ব্যতীত হয় না"(১).

ভাষাগতভাবে এটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়: যেমন পথের সরলতা, ন্যায়বিচার, নির্ভরতা ও লক্ষ্য করা, কোনো কিছুর কাছে আসা, মধ্যপন্থা অবলম্বন এবং ভাঙা(২).

"ইবনে জিন্নি বলেন: আরবি ভাষায় 'কাসাদা' (قصد) ধাতুর মূল উৎস এবং এর প্রয়োগস্থলগুলো হলো: সংকল্প করা, অভিমুখ হওয়া এবং কোনো কিছুর দিকে অগ্রসর হওয়া; চাই তা ভারসাম্যপূর্ণ হোক কিংবা বিপথগামী"(৩).

--------------------------------------------

(১). মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ, ইবনে ফারিস (৫/৯৫), মূল শব্দ (قصد)।

(২). দেখুন: লিসান আল-আরব, ইবনে মানজুর (৩/৩৫৩ - ৩৫৭) মূল শব্দ (قصد)।

(৩). দেখুন: আল-মুহকাম ওয়াল মুহিত আল-আজম, ইবনে সিদাহ, (৬/১৮৭)। আর জুবাইদি তাজুল আরুস (৯/৩৬) গ্রন্থে এটি ইবনে জিন্নির 'সিররুস সিনাআহ' গ্রন্থের উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে আমি তা সেখানে খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومقصد الكلام: هو أن يتوجَّه الكلام واللفظ إلى معنًى معين أو غاية يريدها المتكلم(1).

 

‌‌2 - والقرآن لغةً: مصدر كالغُفران من قرأ 1 - بمعنى (تلا)، بمعنى اسم المفعول؛ أي بمعنى متلوٌّ. 2 - أو بمعنى (جمَع)، فعلى المعنى الأول: (تلا)، يكون مصدرًا، وعلى المعنى الثاني: (جَمَعَ) يكون مصدرًا بمعنى اسم الفاعل؛ أي: بمعنى جامع؛ لجمعه الأخبار والأحكام(2).

وفي الشرع: هو "الكلام المعجِز المُنزل على النبي صلى الله عليه وسلم، المكتوب في المصاحف، المنقول بالتواتر، المتعبَّد بتلاوته"(3).

 

•‌‌ ثانيًا: تعريفه باعتبارها عَلَمًا على فنٍّ معين:

المَقاصِد القُرآنيَّة: هي الغايات التي أرادها الله عز وجل في كتابه، أو هو (مراد الله عز وجل من كلامه)(4)، وعرَّفها د. عبد الكريم حامدي بأنها: "الغايات التي أنزل القرآن لأجلها تحقيقًا لمصالح العِباد"(5).

ويمكن تعريف المَقاصِد القُرآنيَّة بأنها "المعاني الأصليَّة التي نزل القرآن ببيانها وتحصيلها"، وأن نُعبر عن غير المَقاصِد بالمعاني الفرعيَّة، وذلك أن الجزم بأن هذا هو مراد الله من كلامه -مع صعوبته أو استحالته- قد يُظَنُّ به شيءٌ من سوء الأدب مع الله عز وجل، والله أعلم.

وعلى كلٍّ، فإن "المَقاصِد القُرآنيَّة" مصطلح حديث لعلمٍ تبلور عبر

--------------------------------------------

(1). نظرية المقاصد عند الشاطبي، للريسوني (ص 19).

(2). انظر: أصول في التفسير، لابن عثيمين (ص 6).

(3). مناهل العرفان، لمحمد عبد العظيم الزرقاني (1/ 21).

(4). انظر: "المقاصد القرآنية: دراسة منهجية"، د. محمد الربيعة (ص 212).

(5). مقاصد القرآن، للحامدي (ص 29). وانظر أيضًا: الموافقات، للشاطبي (4/ 218).
আলোচনার উদ্দেশ্য (মাকসাদ): এর অর্থ হলো কথা ও শব্দকে একটি নির্দিষ্ট অর্থ বা লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা যা বক্তা কামনা করেন(১).

 

‌‌২ - শাব্দিক অর্থে কুরআন: এটি 'গুফরান'-এর ন্যায় একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যা 'ক্বরাআ' ধাতু থেকে উদ্ভূত। ১ - (তিলাওয়াত করা) অর্থে, যা 'ইসমুল মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য) এর অর্থ প্রদান করে; অর্থাৎ যা পাঠ করা হয়। ২ - অথবা (একত্র করা) অর্থে; প্রথম অর্থ (তিলাওয়াত করা) অনুযায়ী এটি একটি মাসদার, আর দ্বিতীয় অর্থ (একত্র করা) অনুযায়ী এটি 'ইসমুল ফাঈল' (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) এর অর্থে মাসদার; অর্থাৎ 'একত্রকারী'; যেহেতু এটি সংবাদ এবং বিধানসমূহকে একত্রিত করে(২).

শরীয়তের পরিভাষায়: এটি হলো "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ মুজিজাস্বরূপ কালাম, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) এবং যার তিলাওয়াত ইবাদত হিসেবে গণ্য"(৩).

 

•‌‌ দ্বিতীয়ত: একটি নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় নাম হিসেবে এর সংজ্ঞা:

কুরআনের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ): এগুলো হলো সেই লক্ষ্যসমূহ যা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে ইচ্ছা করেছেন, অথবা এটি হলো (তাঁর কালাম থেকে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য)(৪)। ড. আব্দুল করিম হামিদী একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "কুরআন অবতীর্ণ করার মূল লক্ষ্যসমূহ, যা বান্দাদের কল্যাণ হাসিলের জন্য"(৫).

কুরআনের মাকাসিদকে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যে, "সেসব মৌলিক অর্থ যা বর্ণনা ও অর্জনের জন্য কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে"। আর মাকাসিদ ব্যতীত অন্যান্য বিষয়গুলোকে আনুষঙ্গিক অর্থ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে। কারণ, এটিই আল্লাহর কালামের মূল উদ্দেশ্য—একথা দৃঢ়ভাবে বলা—যদিও তা কঠিন বা অসম্ভব—মহান আল্লাহর প্রতি এক ধরণের শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ বলে গণ্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আল্লাহই ভালো জানেন।

সর্বোপরি, "কুরআনের মাকাসিদ" একটি আধুনিক পরিভাষা যা এমন একটি শাস্ত্রের জন্য ব্যবহৃত হয় যা বিকশিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১). রাইসূনী, নাজারিয়াতুল মাকাসিদ ইনদাশ শাতীবী (পৃ. ১৯)।

(২). দেখুন: ইবনে উসাইমীন, উসুলুন ফিত তাফসির (পৃ. ৬)।

(৩). মুহাম্মদ আব্দুল আজিম যারকানী, মানাহিলুল ইরফান (১/ ২১)।

(৪). দেখুন: ড. মুহাম্মদ আর-রাবিআহ, "আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়াহ: দিরাসাতুন মানহাজিয়্যাহ" (পৃ. ২১২)।

(৫). হামিদী, মাকাসিদ আল-কুরআন (পৃ. ২৯)। আরও দেখুন: শাতীবী, আল-মুওয়াফাকাত (৪/ ২১৮)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
القرون، وتراكمت معارفه، ولا يزال ينمو ويتطور وتتشكل معالمه، لذلك لم يحظَ هذا العلم بتعريف جامع مانع؛ لأنه لا يزال في طَور التشكل(1).

 

‌‌المطلب الثاني: أهميَّة المَقاصِد القُرآنيَّة.

تَبْرز أهميَّة المَقاصِد القُرآنيَّة في أنها مفتاح التدبُّر، والتدبُّر هو الغاية المقصودة من إنزال القرآن، قال تعالى: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ} [ص: 29].

وقد ذم الله عز وجل المشركين الذين لا يتدبرون القرآن ولا يفقهونه؛ قال تعالى: {فَمَالِ هَؤُلَاءِ الْقَوْمِ لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78]، وقال تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد: 24].

وقد قرَّر إمام المَقاصِد الشاطبيُّ رحمه الله (ت 790 هـ) أن هذا الذَّم إنما هو من جهة أنهم لا يفهمون مراد الله عز وجل من الخطاب، لا أنهم لا يفهمون نفس الكلام؛ لأن هذا ممتنعٌ، فهم عَرَب، والقرآن مُنزل بلسانهم، فهم يعرفون الكلام بمقتضى سليقتهم العربيَّة، لكنْ فرقٌ بين ظاهر المعنى، والمرادِ منه.

ثم قال: "فالتدبُّر إنما يكون لمن التفت إلى المَقاصِد، وذلك ظاهر في أنهم أعرضوا عن مَقاصِد القرآن؛ فلم يحصل منهم تدبر"(2). اهـ.

ومِن شأن علم المَقاصِد القُرآنيَّة أن يضبط منهجيَّة التعامل مع القرآن بوصفه نصًّا أُنزل لغاية محددة، فتُفهم موضوعاتها في ضوئها؛ لأن معرفة مقصد المخاطِب يؤثِّر في فهم نص الخطاب. ولضبط هذا المقصد الكلي أثرُه

--------------------------------------------

(1). انظر: مركزية المقاصد عند محمد الغزالي: مقاربة في المفهوم والمصطلح والضرورة، أ. د. محمد زرمان (ص 10، 11).

(2). انظر: الموافقات، للشاطبي (4/ 208 - 209).
শতাব্দীকাল ধরে এর জ্ঞান ভাণ্ডার সঞ্চিত হয়েছে, এটি এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিকশিত হচ্ছে এবং এর রূপরেখা গঠিত হচ্ছে। একারণে এই জ্ঞানটি একটি সর্বাঙ্গীণ ও নিবৃত্তকারী (جامع مانع) সংজ্ঞায় ভূষিত হয়নি; কারণ এটি এখনো গঠন প্রক্রিয়ার (طور التشكل) পর্যায়ে রয়েছে(১).

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد القرآنية) গুরুত্ব.

কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد القرآنية) গুরুত্ব এখানে স্পষ্ট হয় যে, এটি হলো গভীর অনুধাবনের (التدبر) চাবিকাঠি; আর কুরআন অবতীর্ণ করার মূল লক্ষ্যই হলো গভীর অনুধাবন (التدبر)। মহান আল্লাহ বলেন: {এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (يدبروا) করে} [সোয়াদ: ২৯]।

আর আল্লাহ তায়ালা সেইসব মুশরিকদের নিন্দা করেছেন যারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (يتدبرون) করে না এবং তা অনুধাবন করে না; মহান আল্লাহ বলেন: {এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা (حديثًا) বুঝতেই চায় না?} [নিসা: ৭৮], এবং তিনি বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা (يتدبرون) করে না, নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?} [মুহাম্মদ: ২৪]।

উদ্দেশ্যতত্ত্বের (المقاصد) ইমাম শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৭৯০ হিজরী) সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই নিন্দা কেবল একারণেই যে তারা সম্বোধনের (الخطاب) মাধ্যমে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য (مراد الله) অনুধাবন করে না; এমন নয় যে তারা খোদ বাক্যগুলোই বোঝে না। কারণ এটি অসম্ভব, যেহেতু তারা ছিল আরব এবং কুরআন তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে তারা তাদের সহজাত আরবি স্বভাব অনুযায়ী কথাগুলো বুঝত। তবে শব্দের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر المعنى) এবং তা থেকে প্রকৃত উদ্দেশ্যের (المراد منه) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

অতঃপর তিনি বলেন: "গভীর অনুধাবন (التدبر) কেবল তারই সম্ভব যে উদ্দেশ্যসমূহের (المقاصد) প্রতি লক্ষ্য রাখে। আর এটা স্পষ্ট যে তারা কুরআনের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد القرآن) থেকে বিমুখ হয়েছিল, ফলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো গভীর অনুধাবন (تدبر) প্রকাশ পায়নি।"(২) সমাপ্ত।

আর কুরআনের উদ্দেশ্যতত্ত্ব (علم المقاصد القرآنية) বিজ্ঞানের কাজ হলো কুরআনের সাথে মিথস্ক্রিয়ার পদ্ধতিকে (منهجية التعامل) সুসংহত করা—এই বিবেচনায় যে এটি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অবতীর্ণ পাঠ বা টেক্সট (نص)। ফলে এর বিষয়বস্তুগুলো সেই লক্ষ্যের আলোকেই বোঝা যাবে। কেননা সম্বোধনকারীর উদ্দেশ্য (مقصد المخاطب) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা সম্বোধনের পাঠ (نص الخطاب) বোঝার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। আর এই সামগ্রিক উদ্দেশ্যকে (المقصد الكلي) সুসংহত করার প্রভাব রয়েছে...

--------------------------------------------

(১). দেখুন: মুহাম্মদ আল-গাজালীর চিন্তায় মাকাসিদের কেন্দ্রীয়তা: ধারণা, পরিভাষা ও প্রয়োজনীয়তার একটি পর্যালোচনা, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ যারমান (পৃ. ১০, ১১)।

(২). দেখুন: আল-মুওয়াফাকাত, ইমাম শাতবি রচিত (৪/ ২০৮ - ২০৯)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
في التأويل، وفهم الآيات وتوجيهها التوجيه الأرجح، وفهم كثير من القضايا الشائكة في التفسير، وحفظ القرآن من التحريف والتأويل والتعسف في التفسير، وليّ أعناق النصوص كالذين يتخذون القرآن مصدرًا لعلوم لم ينزل لبيانها، ويتكلفون في الاستدلال لنظرياتهم وآرائهم الفكريَّة، من القرآن الكريم(1).

قال الشاطبي (ت 790 هـ): "من فهم باطن ما خوطب به لم يحتلْ على أحكام الله حتى ينال منها بالتبديل والتغيير، ومن وقف مع مجرد الظاهر غير ملتفت إلى المعنى المقصود؛ اقتحم هذه المتاهات البعيدة …

فكل من زاغ ومالَ عن الصراط المستقيم؛ فبمقدار ما فاته من باطن القرآن فهمًا وعلمًا، وكل من أصاب الحق وصادف الصواب؛ فعلى مقدار ما حصل له من فهم باطنه"(2).

* * *

--------------------------------------------

(1). مقاربات "مقاصد القرآن الكريم": دراسة تاريخية، عبد الرحمن حللي (ص 228).

(2). الموافقات، للشاطبي (4/ 221 - 223).
ব্যাখ্যা (تأويل), আয়াতসমূহ অনুধাবন ও সেগুলোর অধিকতর অগ্রগণ্য (الأرجح) ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে, তাফসীরের বহু জটিল বিষয় উপলব্ধির ক্ষেত্রে এবং কুরআনকে বিকৃতি (تحريف), অপব্যাখ্যা (تأويل) ও তাফসীরে স্বেচ্ছাচারিতা থেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এবং সেই সাথে ভাষ্যের অপপ্রয়োগ (ليّ أعناق النصوص) থেকে হেফাযত করার ক্ষেত্রে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমনটি সেই সব লোক করে থাকে যারা কুরআনকে এমন সব বিজ্ঞানের উৎস হিসেবে গ্রহণ করে যা বর্ণনা করার জন্য এটি অবতীর্ণ হয়নি এবং যারা পবিত্র কুরআন থেকে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদ ও চিন্তাধারার স্বপক্ষে দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে অনর্থক বাড়াবাড়ি করে(১).

ইমাম শাতবি (মৃত্যু ৭৯০ হিজরী) বলেন: "যাকে সম্বোধন করা হয়েছে তার অভ্যন্তরীণ রহস্য (باطن) যে ব্যক্তি বুঝতে পেরেছে, সে আল্লাহর বিধানাবলি নিয়ে কোনো চাতুর্যের আশ্রয় নেয় না, যার ফলে সে সেগুলোকে পরিবর্তন (تبديل) ও রূপান্তর (تغيير) করার সুযোগ পায় না। কিন্তু যে ব্যক্তি উদ্দিষ্ট অর্থের দিকে লক্ষ্য না করে কেবল বাহ্যিক (ظاهر) রূপের ওপরই স্থির থাকে; সে সুদূরপ্রসারী বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় নিপতিত হয় …

সুতরাং যে ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়েছে এবং সরল পথ থেকে সরে গেছে, তা কুরআনের অভ্যন্তরীণ রহস্য (باطن) অনুধাবন ও তা থেকে জ্ঞান অর্জনে তার ব্যর্থতার অনুপাতে। আর যে ব্যক্তি সত্যে উপনীত হয়েছে এবং সঠিক দিশা লাভ করেছে, তা তার কুরআনের অভ্যন্তরীণ রহস্য (باطن) অনুধাবনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করেই হয়েছে"(২).

* * *

--------------------------------------------

(১). মুকারাবাত "মাকাসিদ আল-কুরআন আল-কারিম": দিরাসাহ তারিখিয়্যাহ, আবদুর রহমান হাল্লালি (পৃ. ২২৮)।

(২). আল-মুওয়াফাকাত, ইমাম শাতবি (৪/ ২২১ - ২২৩)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌المَبْحث الثاني: التعريف بسورة «ق»

‌‌المطلب الأول: اسم السُّورة وعدد آياتها ومرحلة نزولها.

*‌‌ المسألة الأولى: اسم السُّورة (1):

سُميت في عصر الصحابة بسورة (ق)؛ لافتتاحها بحرف الهجاء (قاف)، مثل: سُورة (طه)، و (يس)، و (ص).

وهو اسمٌ توقيفي؛ لأنه قد وردت في ذلك أحاديث وآثار ثابتة(2)، منها ما رواه عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود: أن عمر بن الخطاب سأل أبا واقد اللَّيثي: ما كان يقرأ به رسولُ الله صلى الله عليه وسلم في الأضحى والفطر؟ فقال: كان يقرأ فيهما بـ {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} و {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} [القمر: 1]، [رواه مسلم](3).

وكذلك سُميت بسورة (الباسقات)، لورودها في قوله تعالى: {وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ} [ق: 10]، وهو اسمٌ اجتهادي؛ لأنه لم يَرِد في حديث ولا أثر، بل هي من تسمية بعض المفسرين(4).

 

*‌‌ المسألة الثانية: عدد آياتها وكلماتها وحروفها (5):

اتَّفق العلماء أن عدد آياتها خمس وأربعون (45) آية، لا تُعَد فيها (ق) آيةً

--------------------------------------------

(1). انظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 273)، وأسماء السور وفضائلها، لمنيرة الدوسري (ص 396 - 399).

(2). سيأتي ذكر الأحاديث في المطلب الثاني: فضل سُورة «ق».

(3). رواه مسلم في كتاب صلاة العيدين (ح 891) (3/ 21).

(4). انظر: جمال القراء، للسخاوي (1/ 37)، والإتقان في علوم القرآن، للسيوطي (2/ 362)، وزاد المسير، لابن الجوزي (8/ 3)، ونظم الدرر، للبقاعي (18/ 396).

(5). انظر: البيان في عد آي القرآن، لأبي عمرو الداني (ص 231).
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরা ‘ক্বাফ’ এর পরিচিতি

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: সূরার নাম, আয়াত সংখ্যা এবং অবতীর্ণ হওয়ার সময়কাল.

*‌‌ প্রথম বিষয়: সূরার নাম (১):

সাহাবায়ে কেরামের যুগে একে সূরা ‘ক্বাফ’ নামে অভিহিত করা হতো; কারণ এটি বর্ণমালার ক্বাফ (قاف) অক্ষর দিয়ে শুরু হয়েছে, যেমন: সূরা ‘ত্ব-হা’, ‘ইয়া-সীন’ এবং ‘ছোয়াদ’।

এটি একটি তাওকিফী (توقيفي) [শরীয়ত নির্ধারিত] নাম; কারণ এ বিষয়ে প্রমাণিত (ثابتة) হাদিস এবং আছার (آثار) বর্ণিত হয়েছে(২), তন্মধ্যে উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবাহ বিন মাসউদ কর্তৃক বর্ণিত: উমর বিন খাত্তাব (রা.) আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরে কী পাঠ করতেন? তিনি বললেন: তিনি এ দুটিতে {ক্বাফ, ওয়াল কুরআনিল মাজীদ} এবং {ইকতারাবাতিস সাআতু ওয়ানশাক্কাল কামার} [আল-ক্বামার: ১] পাঠ করতেন [মুসলিম বর্ণনা করেছেন](৩)।

অনুরূপভাবে একে সূরা ‘আল-বাসিক্বাত’ নামেও অভিহিত করা হয়েছে, কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সমারোহপূর্ণ খেজুর গাছসমূহ, যার আছে ঘন সংবদ্ধ মোচা} [ক্বাফ: ১০] এর মধ্যে এই শব্দটি এসেছে। এটি একটি ইজতিহাদী (اجتهادي) [গবেষকগণের চয়নকৃত] নাম; কারণ কোনো হাদিস বা আছারে (أثر) এটি বর্ণিত হয়নি, বরং এটি কোনো কোনো মুফাসসিরের দেওয়া নাম(৪)।

 

*‌‌ দ্বিতীয় বিষয়: সূরার আয়াত, শব্দ এবং বর্ণ সংখ্যা (৫):

আলেমগণ একমত হয়েছেন যে, এর আয়াত সংখ্যা পঁয়তাল্লিশ (৪৫)টি, এতে ‘ক্বাফ’ বর্ণটিকে পৃথক একটি আয়াত হিসেবে গণ্য করা হয় না।

--------------------------------------------

(১). দেখুন: ইবনে আশুর রচিত আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর (২৬/২৭৩), এবং মুনিরা আদ-দাউসারী রচিত আসমাউস সুওয়ার ওয়া ফাদাইলুহা (পৃ. ৩৯৬-৩৯৯)।

(২). দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে হাদিসগুলোর বর্ণনা আসবে: সূরা ‘ক্বাফ’ এর মর্যাদা।

(৩). মুসলিম বর্ণনা করেছেন ‘কিতাবু সালাতিল ঈদাইন’ এ (হাদিস নং ৮৯১) (৩/২১)।

(৪). দেখুন: সাখাভী রচিত জামালুল কুররা (১/৩৭), সুয়ূতী রচিত আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন (২/৩৬২), ইবনুল জাওযী রচিত যাদুল মাসীর (৮/৩), এবং বিক্বায়ী রচিত নাযমুদ দুরার (১৮/৩৯৬)।

(৫). দেখুন: আবু আমর আদ-দানী রচিত আল-বায়ান ফী আদদি আইয়িল কুরআন (পৃ. ২৩১)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
مستقلة. وأمَّا كَلِمها فهي ثلاث مئة وخمس وسبعون (375) كلمة، وحروفها ألف وأربع مئة وأربعة وسبعون (1474) حرفًا.

 

*‌‌ المسألة الثالثة: مرحلة نزول السُّورة (مكيتها ومدنيتها):

هي سُورة مكيَّة عند أغلب المفسرين، ونقل ابن حزم وابن عطيَّة(1) الإجماع على ذلك.

واستثنى السيوطي(2) منها قوله تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق: 38]، ونسبه القرطبي إلى ابن عباس وقتادة(3).

وذلك لِما أخرجه الحاكم وغيره أنها نزلت ردًّا على اليهود في قولهم: إن الله استراح في اليوم السابع وهو يوم السبت(4).

يعني: أن مقالة اليهود سُمعت بالمدينة، وألحقت بهذه السُّورة لمُناسَبة موقعها؛ لكن ابن عاشور ضعَّف هذا القول وعدَّه من التكلف(5).

 

‌‌المطلب الثاني: فضل سُورة «ق».

سُورة (ق) "أول الحزب المفصَّل -على الصحيح-"(6)،

و"قد تضمَّنت

--------------------------------------------

(1). انظر: الناسخ والمنسوخ، لابن حزم (ص 57)، المحرر الوجيز، لابن عطية (5/ 155).

(2). انظر: الإتقان في علوم القرآن، للسيوطي (1/ 102).

(3). انظر: الجامع لأحكام القرآن، للقرطبي (19/ 424).

(4). المستدرك على الصحيحين، للحاكم النيسابوري (4/ 391)، (ح 3728)، و (5/ 7) (ح 4045). فيه أبو سعد سعيد بن المرزبان: ضعيف مدلس، وقال ابن معين: لا يُكتَب حديثه، وقال الذهبي في "التلخيص": رواه عبد الرزاق، عن ابن عيينة، عن أبي سعد مرسلًا، لم يذكر ابن عباس. اهـ. فالحديث ضعيف.

(5). انظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 274، 325).

(6). تفسير ابن كثير (13/ 177). وانظر: مصاعد النظر، للبقاعي (3/ 17).
স্বতন্ত্র। আর এর শব্দসংখ্যা তিনশত পঁচাত্তর (৩৭৫) এবং এর অক্ষরসংখ্যা এক হাজার চারশত চুয়াত্তর (১৪৭৪) টি অক্ষর।

 

*‌‌ তৃতীয় মাসআলা: সূরা অবতীর্ণ হওয়ার পর্যায় (মাক্কী (مكية) ও মাদানী (مدنية) হওয়া):

অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এটি একটি মাক্কী (مكية) সূরা, এবং ইবনে হাযম ও ইবনে আতিয়্যাহ(১) এ বিষয়ে ইজমা (إجماع) বর্ণনা করেছেন।

সুয়ূতী(২) এখান থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীকে ব্যতিক্রম বলেছেন: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ক্বাফ: ৩৮], এবং কুরতুবী একে ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ(৩)-র প্রতি নিসবত করেছেন।

আর এটি এই কারণে যে, হাকেম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে এটি ইহুদিদের এই উক্তির জবাবে নাযিল হয়েছে যে: নিশ্চয় আল্লাহ সপ্তম দিনে অর্থাৎ শনিবার বিশ্রাম নিয়েছেন(৪)।

অর্থাৎ: ইহুদিদের বক্তব্য মদীনায় শোনা গিয়েছিল এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এই সূরার সাথে যুক্ত করা হয়েছে; কিন্তু ইবনে আশুর এই মতটিকে দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করেছেন এবং একে কষ্টকল্পিত হিসেবে গণ্য করেছেন(৫)।

 

‌‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সূরা «ক্বাফ»-এর ফযীলত।

সূরা (ক্বাফ) হলো "হিযবুল মুফাসসালের শুরু -বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে-"(৬),

এবং "নিশ্চয় এটি অন্তর্ভুক্ত করেছে...

--------------------------------------------

(১). দেখুন: আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ, ইবনে হাযম (পৃ. ৫৭), আল-মুহাররার আল-ওয়াজীয, ইবনে আতিয়্যাহ (৫/ ১৫৫)।

(২). দেখুন: আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন, সুয়ূতী (১/ ১০২)।

(৩). দেখুন: আল-জামি লি আহকামিল কুরআন, কুরতুবী (১৯/ ৪২৪)।

(৪). আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন, হাকেম নিশাপুরী (৪/ ৩৯১), (হা: ৩৭২৮), এবং (৫/ ৭) (হা: ৪০৪৫)। এতে আবু সাদ সাঈদ বিন আল-মারযুবান রয়েছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف) ও মুদাল্লিস (مدلس), ইবনে মাঈন বলেছেন: তার হাদিস লেখা যাবে না, এবং যাহাবী 'আত-তালখীস'-এ বলেছেন: এটি আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি আবু সাদ থেকে মুরসাল (مرسلًا) হিসেবে, সেখানে ইবনে আব্বাসের উল্লেখ নেই। সমাপ্ত। সুতরাং হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)।

(৫). দেখুন: আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর (২৬/ ২৭৪, ৩২৫)।

(৬). তাফসীরে ইবনে কাসীর (১৩/ ১৭৭)। এবং দেখুন: মাসায়িদুন নাযার, বিক্বায়ী (৩/ ১৭)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪০)
من أصول الإيمان ما أوجبت أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ بها في المجامع العظام؛ فيقرأ بها في خطبة الجمعة، وفي صلاة العيد، وكان من كثرة قراءته لها يقرأ بها في صلاة الصبح، وكل ذلك ثابت صحيح"(1):

• فعن أم هشام بنت حارثة بن النعمان قالت: لقد كان تَنُّورنا وتَنُّور رسول الله صلى الله عليه وسلم واحدًا، سنتين أو سنة وبعض سنة، وما أخذت {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} إلا عن لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأها كل يوم جمعة على المنبر إذا خطب الناس. [رواه مسلم](2).

• وعن جابر بن سمرة قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في الفجر بـ {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} وكان صلاته بعدُ تخفيفًا. [رواه مسلم](3).

• وعن قطبة بن مالك: قال: صلَّيت وصلَّى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقرأ: {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} حتى قرأ: {وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ} قال: فجعلتُ أُرددها، ولا أدري ما قال. [رواه مسلم](4).

• وعن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة بن مسعود: أن عمر بن الخطاب سأل أبا واقدٍ اللَّيثي: ما كان يقرأ به رسولُ الله صلى الله عليه وسلم في الأضحى والفطر؟ فقال: كان يقرأ فيهما بـ {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} و {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} [القمر: 1]. [رواه مسلم](5).

قال الفخر الرازي (ت 606 هـ) عن مُناسَبة قراءة سُورة (ق) في صلاة العيد: "لقوله تعالى فيها: {ذَلِكَ يَوْمُ الْخُرُوجِ} [ق: 42]، وقوله: {كَذَلِكَ الْخُرُوجُ} [ق:11]،

--------------------------------------------

(1). درء تعارض العقل والنقل، لابن تيمية (7/ 65).

(2). رواه مسلم في الجمعة (ح 873: 52) (3/ 13).

(3). رواه مسلم في الصلاة (ح 458) (2/ 40).

(4). رواه مسلم في الصلاة (ح 457) (2/ 39).

(5). رواه مسلم في كتاب صلاة العيدين (ح 891) (3/ 21).
ঈমানের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা সাব্যস্ত করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বড় বড় সমাবেশগুলোতে তা তিলাওয়াত করতেন; তিনি জুমার খুতবায় এবং ঈদের সালাতে তা পাঠ করতেন। তাঁর অত্যধিক তিলাওয়াতের কারণে তিনি ফজরের সালাতেও তা তিলাওয়াত করতেন এবং এই সবকিছুই সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) ও বিশুদ্ধ (صحيح)।(১):

• উম্মে হিশাম বিনতে হারিসাহ ইবনে নুমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের চুলা এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুলা দুই বছর অথবা এক বছর ও বছরের কিছু সময় যাবৎ একটাই ছিল। আমি সূরা ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ’ সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যবান থেকেই মুখস্থ করেছি; তিনি প্রতি জুমার দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে যখন লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতেন তখন এটি পাঠ করতেন। [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন](২).

• জাবির ইবনে সামুরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাতে ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ’ তিলাওয়াত করতেন এবং এরপর তাঁর সালাত সংক্ষেপ হতো। [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন](৩).

• কুতবাহ ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সালাত আদায় করেছি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সালাতে ইমামতি করেছেন। তিনি ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ’ তিলাওয়াত করলেন, এমনকি তিনি যখন ‘ওয়ান নাখলা বাসিকাত’ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন, তখন বর্ণনাকারী বলেন: আমি এটি মনে মনে আওড়াতে থাকলাম এবং তিনি কী তিলাওয়াত করলেন আমি তা বুঝতে পারলাম না। [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন](৪).

• উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত: উমর ইবনুল খাত্তাব আবু ওয়াকিদ আল-লাইছিকে জিজ্ঞেস করলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে কী তিলাওয়াত করতেন? তিনি বললেন: তিনি এ উভয় সালাতে ‘ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ’ এবং ‘ইকতারাবাতিস সাআতু ওয়ান শাক্কাল কামার’ তিলাওয়াত করতেন। [মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন](৫).

ফখর আল-রাযী (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি) ঈদের সালাতে সূরা ‘ক্বাফ’ তিলাওয়াতের প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে বলেন: "কেননা এতে আল্লাহ তাআলার বাণী রয়েছে: ‘সেটিই হচ্ছে বের হওয়ার দিন’, এবং তাঁর বাণী: ‘অনুরূপভাবেই পুনরুত্থান হবে’।"

--------------------------------------------

(১). দারউ তাআরুদিল আকলি ওয়ান নাকলি, ইবনে তাইমিয়্যাহ (৭/ ৬৫)।

(২). মুসলিম এটি জুমার অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৮৭৩: ৫২) (৩/ ১৩)।

(৩). মুসলিম এটি সালাতের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৪৫৮) (২/ ৪০)।

(৪). মুসলিম এটি সালাতের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৪৫৭) (২/ ৩৯)।

(৫). মুসলিম এটি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা সালাত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন (হাদিস নং ৮৯১) (৩/ ২১)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وقوله: {ذَلِكَ حَشْرٌ عَلَيْنَا يَسِيرٌ} [ق:44]؛ فإن العيد يوم الزينة فينبغي أن لا ينسى الإنسان خروجَه إلى عرصات الحساب، ولا يكون في ذلك اليوم فرِحًا فخورًا، ولا يرتكب فسقًا ولا فجورًا"(1).

 

‌‌المطلب الثالث: ترتيب المصحف وترتيب النزول.

سُورة (ق) هي السُّورة الخمسون بترتيب المصحف، وقبلها سُورة الحجرات وبعدها سُورة الذاريات.

وهي السُّورة الرابعة والثلاثون (34) في ترتيب نزول السُّور عند جابر بن زيد، نزلت بعد سُورة المرسلات (33) وقبل سُورة البلد (35)(2).

 

‌‌المطلب الرابع: المُناسَبات في سُورة «ق».

*‌‌ المسألة الأولى: مُناسَبة أول السُّورة بآخرها (3):

بدأت سُورة (ق) بذِكر القرآن {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ}، وختمت به {فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ}.

وكذلك بُدئت بذِكر البَعْث في قوله تعالى: {أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ذَلِكَ رَجْعٌ بَعِيدٌ}، وختمت به في قوله تعالى: {يَوْمَ تَشَقَّقُ الْأَرْضُ عَنْهُمْ سِرَاعًا ذَلِكَ حَشْرٌ عَلَيْنَا يَسِيرٌ}.

وكذلك ذِكر السماوات والأرض وما بينهما في أول السُّورة: {أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ … } الآيات، وقال في آخرها: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ}.

--------------------------------------------

(1). مفاتيح الغيب، للرازي (28/ 145). وانظر أيضًا: مصاعد النظر للإشراف على مقاصد السور، للبقاعي (3/ 21).

(2). انظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 273).

(3). انظر: مراصد المطالع في تناسُب المقاطع والمطالع، للسيوطي (ص 67)، ومفاتيح الغيب، للرازي (28/ 192).
এবং তাঁর বাণী: {এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ একটি সমবেতকরণ} [ক্বাফ: ৪৪]; কেননা ঈদ হলো সুশোভিত হওয়ার দিন, তাই মানুষের উচিত নয় হিসাবের ময়দানের দিকে স্বীয় যাত্রাকে বিস্মৃত হওয়া, আর সেদিন যেন সে দাম্ভিক ও গর্বিত না হয় এবং কোনো পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হয়"(১).

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাসহাফের ক্রম ও অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম.

সুরা (ক্বাফ) মাসহাফের বিন্যাস অনুযায়ী পঞ্চাশতম সুরা, এর পূর্বে রয়েছে সুরা আল-হুজুরাত এবং পরে সুরা আদ-যারিয়াত।

আর জাবির ইবনে যাইদের মতে সুরা অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুসারে এটি চৌত্রিশতম (৩৪) সুরা; এটি সুরা আল-মুরসালাত (৩৩)-এর পরে এবং সুরা আল-বালাদ (৩৫)-এর পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে(২).

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুরা «ক্বাফ»-এর বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা.

*‌‌ প্রথম মাসআলা: সুরার প্রারম্ভের সাথে সমাপ্তির প্রাসঙ্গিকতা (৩):

সুরা (ক্বাফ) শুরু হয়েছে কুরআনের আলোচনার মাধ্যমে— {ক্বাফ, মহিমান্বিত কুরআনের শপথ}, এবং তা শেষও হয়েছে কুরআনের আলোচনার মাধ্যমে— {সুতরাং যে আমার ধমকিকে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দিন}।

একইভাবে এর শুরুতে পুনরুত্থানের বর্ণনা এসেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখন কি আমাদের পুনরায় জীবিত করা হবে)? সেই ফিরে আসা তো সুদূরপরাহত}, এবং এর সমাপ্তিও হয়েছে পুনরুত্থানের বর্ণনায় মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {যেদিন পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে তারা দ্রুতবেগে বেরিয়ে আসবে; এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ একটি সমবেতকরণ}।

তেমনিভাবে সুরার শুরুতে আসমান, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সৃষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে: {তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আসমানের দিকে তাকায় না, আমি কীভাবে তা নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি এবং তাতে কোনো ফাটল নেই...} আয়াতসমূহ; আর এর শেষে বলা হয়েছে: {আমি আসমানসমূহ, জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি}।

--------------------------------------------

(১). মাফাতিহুল গাইব, ইমাম রাযী (২৮/ ১৪৫)। আরও দেখুন: মাসায়িদুন নাযার লিল-ইশরাফ আলা মাকাসিদিস সুওয়ার, ইমাম বিক্বায়ি (৩/ ২১)।

(২). দেখুন: আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/ ২৭৩)।

(৩). দেখুন: মারাসিদুল মাতালি ফি তানাসুবিল মাক্বাত্বি ওয়াল মাতালি, ইমাম সুয়ূতী (পৃ. ৬৭) এবং মাফাতিহুল গাইব, ইমাম রাযী (২৮/ ১৯২)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪২)
*‌‌ المسألة الثانية: مُناسَبة السُّورة لِما قبلها (سُورة الحجرات):

اعتنى العلماء ببيان مُناسَبات السُّور، وهي مسألةٌ اجتهاديَّة غالبًا، ولذلك تعدَّدت أقوالهم فيها:

فقال الإمام أبو حيان الأندلسي (ت 745 هـ): "ومُناسَبتها لآخِر ما قبلها، أنه تعالى أخبر أن أولئك الذين قالوا: {آمَنَّا} [الحجرات: 14]، لم يكن إيمانهم حقًّا، وانتِفاء إيمانهم دليلٌ على إنكار نبوة الرَّسول صلى الله عليه وسلم، فقال: {بَلْ عَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ} [ق: 2]، وعدم الإيمان أيضًا يدل على إنكار البَعْث، فلذلك أعقبه به"(1).

وقال البقاعي (ت 885 هـ): "مقصودها (أي: سُورة ق) الدلالة على إحاطة القدرة، التي هي نتيجة ما ختمت به الحجرات، من إحاطة العلم لبيان أنه لا بد من البَعْث ليوم الوعيد"(2).

وقال الطبرسي (ت 548 هـ): "لما ختم الله تلك السُّورة بذِكر الإيمان وشرائطه للعبيد، افتتح هذه السُّورة بذِكر ما يجب الإيمان به من القرآن وأدلة التوحيد"(3).

 

*‌‌ المسألة الثالثة: مُناسَبة السُّورة لِما بعدها (سُورة الذاريات):

ذكر في سُورة (ق) البَعْث والجزاء والجنة والنار، وافتتح سُورة الذاريات بالقسم بأن ما وعدوا من ذلك صدقٌ وأن الجزاء واقع. وذكر في سُورة (ق) إهلاك كثير من القرون على وجه الإجمال، وذكر ذلك على وجه التفصيل في سُورة الذاريات(4).

--------------------------------------------

(1). تفسير البحر المحيط، لأبي حيان الأندلسي (9/ 528).

(2). مصاعد النظر للإشراف على مقاصد السور، للبقاعي (3/ 14).

(3). مجمع البيان، للطبرسي (9/ 178).

(4). انظر: تفسير المراغي (26/ 173)، وأسرار ترتيب القرآن، للسيوطي (ص 133).
*‌‌ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পূর্ববর্তী সূরার (সূরা আল-হুজুরাত) সাথে এই সূরার সামঞ্জস্য (مناسبة):

উলামায়ে কেরাম সূরাসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য (مناسبات) বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি মূলত একটি ইজতিহাদলব্ধ (اجتهادية) বিষয়, তাই এ বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন মতামত রয়েছে:

ইমাম আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫ হি.) বলেন: "পূর্ববর্তী সূরার শেষাংশের সাথে এর সামঞ্জস্য (مناسبة) হলো, মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, যারা বলেছিল: {আমরা ঈমান এনেছি} [আল-হুজুরাত: ১৪], তাদের ঈমান প্রকৃত ছিল না। আর তাদের ঈমান না থাকা রাসুলের নবুয়ত অস্বীকার করারই প্রমাণ। তাই তিনি বলেছেন: {বরং তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এসেছেন} [কাফ: ২]। তদুপরি ঈমান না থাকা পুনরুত্থান (البعث) অস্বীকার করারও প্রমাণ দেয়, যার কারণে তিনি এর পরপরই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।"(1)।

আল-বিকায়ি (মৃত্যু ৮৮৫ হি.) বলেন: "এই সূরার (অর্থাৎ সূরা কাফ) উদ্দেশ্য হলো কুদরতের ব্যাপকতা প্রমাণ করা, যা সূরা আল-হুজুরাতের শেষে বর্ণিত ইলমের ব্যাপকতার ফলাফল; যেন স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রতিশ্রুত দিবসের জন্য পুনরুত্থান (البعث) অবশ্যম্ভাবী।"(2)।

আত-তাবারাসি (মৃত্যু ৫৪৮ হি.) বলেন: "আল্লাহ তাআলা যখন পূর্ববর্তী সূরাটি বান্দাদের জন্য ঈমান ও এর শর্তাবলি বর্ণনার মাধ্যমে শেষ করেছেন, তখন এই সূরাটি কুরআনের যেসব বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক (واجب) এবং তাওহিদের (التوحيد) প্রমাণাদি বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন।"(3)।

 

*‌‌ তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরবর্তী সূরার (সূরা আজ-জারিয়াত) সাথে এই সূরার সামঞ্জস্য (مناسبة):

সূরা কাফ-এ পুনরুত্থান (البعث), প্রতিদান (الجزاء), জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর সূরা আজ-জারিয়াত শুরু করা হয়েছে এই শপথের মাধ্যমে যে, তাদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি সত্য এবং প্রতিদান (الجزاء) অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। এছাড়া সূরা কাফ-এ অনেক প্রজন্মের ধ্বংসের কথা সংক্ষিপ্তভাবে (إجمال) উল্লেখ করা হয়েছে, আর সূরা আজ-জারিয়াত-এ তা বিস্তারিতভাবে (تفصيل) বর্ণনা করা হয়েছে(4)।

--------------------------------------------

(1). তাফসিরে আল-বাহরুল মুহিত, আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (৯/ ৫২৮)।

(2). মাসায়িদুন নাজর লিল ইশরাফ আলা মাকাসিদিস সুওয়ার, আল-বিকায়ি (৩/ ১৪)।

(3). মাজমাউল বায়ান, আত-তাবারাসি (৯/ ১৭৮)।

(4). দেখুন: তাফসিরে আল-মারায়ি (২৬/ ১৭৩), এবং আসরারু তারতিবিল কুরআন, আস-সুয়ূতি (পৃ. ১৩৩)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
*‌‌ المسألة الرابعة: المُناسَبة بين سُورة (ق) وما قبلها من حيث النزول (سُورة المرسلات):

تُعالج سُورة المرسلات موضوع المكذِّبين بيوم الدين بالترغيب والترهيب. وتُتابع سُورة (ق) موضوع معالجة المكذبين بيوم الدين بأسلوب آخر.

وهذه المعالجات الفكريَّة والنفسيَّة التي اشتملت عليها سُورة (ق) إنما هي معالجات تكامليَّة لما جاء في سُورة المرسلات، وليست مكررة تكريرًا تطابقيًّا.

وتضيف إليه سُورة (ق) معالجة المكذِّبين برسالة محمد صلى الله عليه وسلم بحجة أنه بشر منهم، ومعالجة نفس الرَّسول صلى الله عليه وسلم وتثبيت قلبه، تجاه ما كان يلقاه من تكذيب قومه، وما يواجهونه به من أقوال جارحة(1).

 

*‌‌ المسألة الخامسة: المُناسَبة بين سُورة «ق» وما بعدها من حيث النزول (سُورة البلد):

يدور موضوع سُورة البلد حول الابتلاء الذي هو الغاية من خلق الإنسان، والذي يستتبع باللزوم العقلي، التكليف، والمسؤوليَّة، ثم المحاسبة، وفصل القضاء، وتحقيق الجزاء.

كذلك جاء في السُّورة بيان بعض صوارف النفس عن الإيمان بيوم الدين، فسورة البلد تتابع استِكمال الإقناع بقانون الجزاء الرباني، الذي دار حوله موضوع سُورة ق(2).

* * *

--------------------------------------------

(1). انظر: معارج التفكر ودقائق التدبُّر، لعبد الرحمن حسن الميداني (2/ 546)، و (3/ 11).

(2). انظر: معارج التفكر ودقائق التدبُّر، لعبد الرحمن حسن الميداني (3/ 172 - 174).
*‌‌ চতুর্থ বিষয়: অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমধারা অনুযায়ী সূরা (ক্বাফ) এবং এর পূর্ববর্তী সূরা (আল-মুরসালাত)-এর মধ্যকার প্রাসঙ্গিকতা (المناسبة):

সূরা আল-মুরসালাত উৎসাহ ও ভীতিপ্রদর্শনের (الترغيب والترهيب) মাধ্যমে কর্মফল দিবসকে (يوم الدين) অস্বীকারকারীদের (المكذبين) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। আর সূরা (ক্বাফ) ভিন্ন আঙ্গিকে কর্মফল দিবসকে (يوم الدين) অস্বীকারকারীদের (المكذبين) বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখে।

সূরা (ক্বাফ)-এ যে সকল বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক আলোচনার অবতারণা করা হয়েছে, তা মূলত সূরা আল-মুরসালাতে যা বর্ণিত হয়েছে তারই পরিপূরক আলোচনা, হুবহু কোনো পুনরাবৃত্তি নয়।

এর সাথে সূরা (ক্বাফ) আরও যুক্ত করেছে—মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতকে এই অজুহাতে অস্বীকারকারীদের (المكذبين) প্রসঙ্গ যে, তিনি তাদের মতোই একজন মানুষ; আর তাঁর কওমের পক্ষ থেকে তিনি যে মিথ্যা প্রতিপন্ন হওয়ার শিকার হতেন এবং তাদের পক্ষ থেকে যেসব কটু কথার সম্মুখীন হতেন, তার বিপরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মনস্তাত্ত্বিক সান্ত্বনা ও তাঁর হৃদয়কে সুদৃঢ় করা।(১)

 

*‌‌ পঞ্চম বিষয়: অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমধারা অনুযায়ী সূরা (ক্বাফ) এবং এর পরবর্তী সূরা (আল-বালাদ)-এর মধ্যকার প্রাসঙ্গিকতা (المناسبة):

সূরা আল-বালাদের মূল আলোচ্য বিষয় হলো পরীক্ষা (الابتلاء), যা মূলত মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্য। আর এই বিষয়টির সাথে যৌক্তিক অনিবার্যতায় যুক্ত হয় শরয়ি বাধ্যবাধকতা (التكليف), দায়িত্বশীলতা (المسؤوليَّة), অতপর জবাবদিহিতা (المحاسبة), চূড়ান্ত ফয়সালা (فصل القضاء) এবং প্রতিদান (الجزاء) প্রদান।

একইভাবে এই সূরায় মানুষের নফসের এমন কিছু বিচ্যুতি বর্ণিত হয়েছে যা কর্মফল দিবসের (يوم الدين) প্রতি ঈমান আনতে বাধা প্রদান করে। সুতরাং সূরা আল-বালাদ মূলত রব্বানি প্রতিদান (الجزاء) সংক্রান্ত আইনের সপক্ষে যুক্তি প্রদানের পূর্ণতা দান করে, যা ছিল সূরা (ক্বাফ)-এর মূল আলোচ্য বিষয়।(২)

* * *

--------------------------------------------

(১). দেখুন: মাআরিজুত তাফাক্কুর ওয়া দাকায়িকুত তাদাব্বুর, আব্দুর রহমান হাসান আল-মায়দানি (২/ ৫৪৬), এবং (৩/ ১১)।

(২). দেখুন: মাআরিজুত তাফাক্কুর ওয়া দাকায়িকুত তাদাব্বুর, আব্দুর রহমান হাসান আল-মায়দানি (৩/ ১৭২ - ১৭৪)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌المَبْحث الثالث: التدبُّر المَقاصِدي لسورة (ق)

‌‌المطلب الأول: مقصد السُّورة.

تُعالج سُورة (ق) -كغيرها من السُّور المكيَّة- موضوعَ المكذبين برسالة محمد صلى الله عليه وسلم، وبما جاء به من نبأ البَعْث والحساب، إلا أنها في معالجة البَعْث أظهر(1).

قال البقاعي (ت 885 هـ): "مقصودها تصديق النبي صلى الله عليه وسلم في الرِّسالة التي معظمها الإنذار وأعظمه الإعلام بيوم الخروج"(2).

• دلائل المقصد:

1 - آية صريحة في المقصد: قال تعالى: {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ (1) بَلْ عَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ فَقَالَ الْكَافِرُونَ هَذَا شَيْءٌ عَجِيبٌ (2) أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ذَلِكَ رَجْعٌ بَعِيدٌ}. والإضراب الانتِقالي من القَسم بالقرآن إلى عرض مقالة المشركين في إنكار النُّبوة وإنكار المعاد، مُشعِرٌ بأهميَّة المنتقل إليه، وأنه محور الكلام.

2 - مُناسَبة فاتحة السُّورة بخاتمتها: أن السُّورة افتُتحت بالقسم بالقرآن، ثم عرضت شُبهة المشركين في إنكار البَعْث، ثم عقبت الشُّبهة بتقرير قدرة الله في آيات الكون وفي إهلاك المكذبين، وختمت كذلك بتقرير وقوع البَعْث، والأمر بالتذكير بالقرآن، مبيِّنةً بذلك أن القرآن المعجز هو من أوضح أدلة البَعْث، وأن التدبُّر في القرآن من أعظم الطرق الموصلة إلى معرفة الحق.

--------------------------------------------

(1). انظر: مفاتيح الغيب، للرازي (28/ 145)، والتحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 275)، ومعارج التفكر، للميداني (3/ 11).

(2). نظم الدرر في تناسب الآيات والسور، للبقاعي (18/ 396).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরা (ক্বাফ)-এর উদ্দেশ্যভিত্তিক (মাকাসিদি) অনুধাবন

প্রথম অনুচ্ছেদ: সূরার মূল উদ্দেশ্য.

সূরা (ক্বাফ) -অন্যান্য মাক্কী সূরার ন্যায়- মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরিত বার্তার প্রতি মিথ্যারোপকারী এবং তিনি পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে যে সংবাদ নিয়ে এসেছেন সে বিষয়ক আলোচনা করে। তবে পুনরুত্থান বা পরকাল সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এই সূরাটি অধিক সুস্পষ্ট(১)।

আল-বিকায়ি (মৃত্যু ৮৮৫ হি.) বলেন: "এর উদ্দেশ্য হলো রিসালাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্যতা প্রমাণ করা, যার অধিকাংশ জুড়েই রয়েছে সতর্কবাণী আর তার মধ্যে সবচাইতে বড় হলো পুনরুত্থান দিবস বা বের হওয়ার দিন সম্পর্কে অবহিত করা"(২)।

• উদ্দেশ্যের প্রমাণসমূহ:

১ - উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট আয়াত: আল্লাহ তাআলা বলেন: {ক্বাফ। মহিমান্বিত কুরআনের শপথ! বরং তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এসেছেন। তাই কাফিররা বলে, ‘এ তো এক অদ্ভুত ব্যাপার! আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখনও কি আমাদের পুনরায় জীবিত করা হবে)? এই ফিরে আসা তো অসম্ভব!’}। কুরআনের শপথ থেকে মুশরিকদের নবুওয়াত ও পরকাল অস্বীকারের বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে যে বিষয়বস্তুর পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তা নির্দেশ করে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

২ - সূরার প্রারম্ভ ও সমাপ্তির মধ্যে সামঞ্জস্য: সূরাটি কুরআনের শপথের মাধ্যমে শুরু হয়েছে, অতঃপর পুনরুত্থান অস্বীকারে মুশরিকদের সংশয় তুলে ধরেছে। এরপর মহাজাগতিক নিদর্শনসমূহ এবং মিথ্যারোপকারীদের ধ্বংসের বর্ণনার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে সংশয় নিরসন করেছে। একইভাবে সূরার সমাপ্তিও করা হয়েছে পুনরুত্থান নিশ্চিত হওয়ার ঘোষণা এবং কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দেওয়ার নির্দেশের দ্বারা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মুজিজাস্বরূপ কুরআন হলো পুনরুত্থানের অন্যতম স্পষ্ট দলিল এবং কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করাই হলো সত্য অনুধাবনের সর্বোত্তম পথ।

--------------------------------------------

(১). দেখুন: মাফাতিহুল গায়িব, আর-রাজি (২৮/ ১৪৫); আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর (২৬/ ২৭৫); এবং মাআরিজুত তাফাক্কুর, আল-মায়দানি (৩/ ১১)।

(২). নাজমুদ দুরার ফি তানাসুবিল আয়াত ওয়াস সুওয়ার, আল-বিকায়ি (১৮/ ৩৯৬)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
3 - وقت نزولها(1): السُّورة مكيَّة، والغالب في السُّور المكيَّة أنها تُقرر التوحيد والعقيدة السليمة، خصوصًا ما يتعلق بتوحيد الألوهيَّة، والإيمان بالبعث؛ لأن غالب المخاطَبين ينكرون ذلك(2).

4 - ترتيب نزولها(3):

نزلت سُورة (ق) بعد سُورة المرسلات، وقد عالجت سُورة المرسلات موضوع المكذِّبين بيوم الدين بالترغيب والترهيب، وما هذه السُّورة إلا معالجة تكامليَّة مع سابقتها في إثبات المعاد بأسلوب الإقناع الفكري، إلا أن سُورة (ق) تزيد عليها في إثبات النُّبوة، وبيان هلاك المكذِّبين من الأمم السابقة.

وقد نزلت سُورة البلد بعد سُورة (ق)، وهي تتابع استكمال الإقناع بقانون الجزاء الرباني.

5 - ترتيب المصحف: ختمت سُورة الحجرات (49) بتقرير شمول علم الله 5، وأكدت سُورة (ق) ذلك أيضًا مع تقرير كمال قدرة الله 5، (وهو من أظهر أدلة البَعْث)، ثم تلتها سُورة الذاريات مبيِّنة حكمة الله من خلق الإنسان بعد التأكيد على عظيم قدرة الله سبحانه.

6 - فضائلها(4): كان النبي صلى الله عليه وسلم يواظب على قراءتها في المحافل الكبار، والمجامع العظام، مما يدل على اشتمالها على أسس العقيدة الإسلاميَّة، ومن أهمها: الإيمان بالبعث والمعاد.

7 - موضوعاتها: تناولت سُورة (ق) عددًا من قضايا العقيدة الإسلاميَّة، وكلها تَؤُول إلى قضيَّة البَعْث بعد الموت، وسيأتي بيانها في المطب التالي.

--------------------------------------------

(1). يراجع: المطلب الأول من المَبْحث الثاني.

(2). انظر: أصول في التفسير، لابن عثيمين (ص 19).

(3). يراجع المطلب الرابع من المَبْحث السابق.

(4). يراجع: المطلب الثاني من المَبْحث السابق.
3 - অবতীর্ণ হওয়ার সময়(১): সূরাটি মাক্কি, আর মাক্কি সূরাগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এগুলো তাওহিদ ও সঠিক আকিদা সুদৃঢ় করে, বিশেষ করে উলুহিয়্যাতের তাওহিদ এবং পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাসের সাথে যা সংশ্লিষ্ট; কারণ অধিকাংশ সম্বোধিত ব্যক্তিই তা অস্বীকার করত(২)।

4 - অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম(৩):

সূরা ক্বাফ অবতীর্ণ হয়েছে সূরা আল-মুরসালাতের পর। সূরা আল-মুরসালাত কিয়ামত দিবস অস্বীকারকারীদের বিষয়টি উৎসাহ দান ও ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আলোচনা করেছে। আর এই সূরাটি তার পূর্ববর্তী সূরার সাথে একটি পরিপূরক আলোচনা মাত্র, যা বুদ্ধিভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে পরকাল সাব্যস্ত করে। তবে সূরা ক্বাফে নবুয়ত প্রমাণ এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে যারা সত্য অস্বীকারকারী ছিল তাদের ধ্বংসের বর্ণনার আধিক্য রয়েছে।

সূরা আল-বালাদ সূরা ক্বাফের পর অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি ঐশী প্রতিদান ও শাস্তির বিধানের মাধ্যমে মানুষকে আশ্বস্ত করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

5 - মুসহাফের ক্রম: সূরা আল-হুজুরাত (৪৯) আল্লাহর জ্ঞানের ব্যাপকতা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে শেষ হয়েছে এবং সূরা ক্বাফ আল্লাহর ক্ষমতার পূর্ণতা সাব্যস্ত করার পাশাপাশি বিষয়টি আরও সুদৃঢ় করেছে (যা পুনরুত্থানের অন্যতম স্পষ্ট প্রমাণ)। অতঃপর সূরা আয-যারিয়াত আল্লাহর সুমহান ক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করার পর মানুষ সৃষ্টির পেছনে আল্লাহর হিকমত বর্ণনা করে তার অনুগামী হয়েছে।

6 - এর ফজিলতসমূহ(৪): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় বড় সমাবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ মজলিসগুলোতে নিয়মিত এটি তিলাওয়াত করতেন, যা এতে ইসলামি আকিদার মূল ভিত্তিগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকার প্রমাণ দেয়; আর এর মধ্যে অন্যতম হলো: পুনরুত্থান ও পরকালের প্রতি ঈমান।

7 - এর বিষয়বস্তু: সূরা ক্বাফে ইসলামি আকিদার বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং তার সবই মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়। পরবর্তী অনুচ্ছেদে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।

--------------------------------------------

(১). দ্রষ্টব্য: দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম অনুচ্ছেদ।

(২). দেখুন: ইবনে উসাইমীন রচিত উসুল ফিত তাফসির (পৃ. ১৯)।

(৩). দ্রষ্টব্য: পূর্ববর্তী অধ্যায়ের চতুর্থ অনুচ্ছেদ।

(৪). দ্রষ্টব্য: পূর্ববর্তী অধ্যায়ের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
8 - خصائصها: تكرَّر فيها حرف القاف سبعًا وخمسين (57) مرة(1)، فقد تكرَّرت فيها الكلمات التي تشتمل على حرف القاف بشكل ملحوظ.

قال ابن القيم (ت 751 هـ): "وتأمَّل السُّور التي اشتملت على الحروف المفردة، كيف تجد السُّورة مبنيَّة على كلمة ذلك الحرف، فمن ذلك: (ق)، والسُّورة مبنيَّة على الكلمات القافِيَّة: من ذِكر القرآن، وذكر الخَلْق، وتكرير القول ومراجعته مرارًا، والقرب من ابن آدم، وتلقِّي الملَكين قول العبد، وذِكر الرقيب، وذِكر السائق، والقرين، والإلقاء في جهنم، والتقدُّم بالوعيد، وذِكر المتقين، وذِكر القلب، والقرون، والتنقيب في البلاد، وذِكر "القَبْل" مرتين، وتشقُّق الأرض، وإلقاء الرواسي فيها، وبسوق النخل، والرزق، وذِكر القوم، وحقوق الوعيد، ولو لم يكن إلا تكرار القول والمحاورة.

وسِرٌّ آخر: وهو أن كل معاني هذه السُّورة مُناسِبةٌ لِما في حرف القاف من الشدة والجهر والعلو والانفتاح"(2). اهـ.

 

‌‌المطلب الثاني: موضوعات السُّورة (3).

اشتملت سُورة (ق) على عدة موضوعات جزئيَّة تخص العقيدة الإسلاميَّة، وكلها تتعلق بمعالجة موضوع البَعْث، والرِّسالة(4)، وإليك بيانها فيما يلي:

--------------------------------------------

(1). مظاهر الإعجاز البياني في القرآن الكريم، أحمد قوفي (ص 127).

(2). بدائع الفوائد، لابن القيم (3/ 1120 - 1121). وقد نقله الزركشي (ت 794 هـ) في البرهان في علوم القرآن (1/ 169)، مع فروق يسيرة، والمطبوع فيه تصحيفات عديدة.

(3). موضوعات السُّورة: هي المعاني الجزئية التي تشتمل عليها أجزاء السُّورة. أما مقصد السُّورة فهو المعنى العام الذي يجمع هذه المقاصد الجزئية ويربط بينها.

(4). انظر: تفسير ابن كثير (13/ 179)، والفوائد، لابن القيم (ص 5 - 6)، وبصائر ذوي التمييز، للفيروزآبادي (1/ 437)، والتحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 275)، ومعارج التفكر، للميداني (3/ 12 - 15).
8 - এর বৈশিষ্ট্যসমূহ: এতে ‘ক্বাফ’ বর্ণটি সাতান্ন (৫৭) বার পুনরাবৃত্তি হয়েছে(১), কেননা এতে ‘ক্বাফ’ বর্ণ সম্বলিত শব্দাবলির উল্লেখযোগ্য পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়।

ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত্যু ৭৫১ হি.) বলেন: “ঐ সকল সূরা নিয়ে চিন্তা করুন যা একক বর্ণসমূহ (হুরূফে মুকাত্তাআত) দ্বারা শুরু হয়েছে; আপনি লক্ষ্য করবেন যে, কীভাবে সূরাটি সেই বর্ণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেমন: ‘ক্বাফ’ সূরাটি ক্বাফ বর্ণ সম্বলিত শব্দাবলির ওপর ভিত্তি করে রচিত: যেমন কুরআনের উল্লেখ, সৃষ্টির উল্লেখ, কথার পুনরাবৃত্তি ও তা বারংবার পর্যালোচনা, আদম সন্তানের নৈকট্য, বান্দার কথা দুই ফেরেশতা কর্তৃক গ্রহণ, ‘রকীব’ (তত্ত্বাবধায়ক)-এর উল্লেখ, ‘সায়েক্ব’ (চালক) ও ‘ক্বারীন’ (সঙ্গী)-এর উল্লেখ, জাহান্নামে নিক্ষেপ, সতর্কবার্তায় অগ্রগামী হওয়া, মুত্তাকীদের আলোচনা, হৃদয়ের আলোচনা, গত হওয়া প্রজন্মসমূহ, জনপদে বিচরণ, ‘ক্ববল’ (পূর্ব) শব্দের দুইবার উল্লেখ, জমিন বিদীর্ণ হওয়া, তাতে অটল পাহাড় স্থাপন, সুউচ্চ খেজুর গাছ, রিযিক্ব, সম্প্রদায়ের আলোচনা এবং সতর্কবার্তার যথার্থতা; এমনকি যদি কেবল কথা ও কথোপকথনের পুনরাবৃত্তিই হতো (তবে তা-ই যথেষ্ট ছিল)।”

অন্য একটি রহস্য: আর তা হলো এই সূরার সকল অর্থ ‘ক্বাফ’ বর্ণের কঠোরতা, স্পষ্টতা, উচ্চতা এবং উন্মুক্ততা বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ(২)। সমাপ্ত।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সূরার বিষয়বস্তুসমূহ (৩)।

সূরা ক্বাফ ইসলামি আকাইদ সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু আংশিক বিষয়বস্তু ধারণ করে আছে, যার সবই পুনরুত্থান এবং নবুওয়াত(৪) সংক্রান্ত বিষয়ের আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট। নিম্নে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো:

--------------------------------------------

(১). মাজাহিরুল ইজাযিল বায়ানি ফিল কুরআনিল কারীম, আহমাদ কূফী (পৃ. ১২৭)।

(২). বাদাইউল ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম (৩/ ১১২০ - ১১২১)। যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হি.) এটি আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন (১/ ১৬৯)-এ সামান্য পার্থক্যসহ উদ্ধৃত করেছেন, তবে এর মুদ্রিত কপিতে বহু পাঠবিকৃতি (تصحيفات) রয়েছে।

(৩). সূরার বিষয়বস্তুসমূহ: এগুলো হলো ঐ সকল আংশিক অর্থ যা সূরার বিভিন্ন অংশ ধারণ করে। আর সূরার উদ্দেশ্য (মাকসাদ) হলো এমন এক সামগ্রিক অর্থ যা এই আংশিক উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করে এবং তাদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে।

(৪). দেখুন: তাফসীর ইবনে কাসীর (১৩/ ১৭৯), আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৫ - ৬), বাসাইরু যাউয়িত তামীয, আল-ফীরোযাবাদী (১/ ৪৩৭), আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর, ইবনে আশুর (২৬/ ২৭৫), মাআরিজুত তাফাক্কুর, আল-মায়দানী (৩/ ১২ - ১৫)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
• التنويه بشأن القرآن وإعجازه، وتصديق من جاء به (محمد صلى الله عليه وسلم)، وبما جاء به (ومنه البَعْث والحساب).

• عرض شُبهات المشركين في التكذيب بالرِّسالة والبَعْث، والرد عليها بتقرير كمال علم الرب سبحانه، وكمال قدرته، وكمال حكمته(1).

• بيان مظاهر قدرة الله في السماوات والأرض، ومنها إنبات الأقوات والثمار بإنزال المطر. وهو من أوضح الأدلة على البَعْث.

• بيان مظاهر قدرة الله في إهلاك المكذِّبين للرسل من الأمم السابقة، وتهديد المشركين المكذِّبين بالبَعْث بالعذاب الدنيوي، وتثبيت قلب النبي صلى الله عليه وسلم، وتسليته.

• تقرير المبدأ والمعاد والتوحيد والنُّبوة والإيمان بالملائكة.

• بيان رقابة الله تعالى وهيمنته على الإنسان التي تبدأ من ولادته، وتمر بالموت، ثم تنتهي بالبَعْث والحساب، ثم المصير إلى الجنة أو النار.

• ذِكر النار وعذابها، والجنة ونعيمها، وبيان صفات أهل كلٍّ منهما.

• إثبات صفات الكمال لله وتنزيهه عما يضادُّ كماله من النقائص والعيوب.

• بيان "أن كمالَ الربِّ تعالى وكمال أسمائه وصفاته تقتضي المعاد وتُوجبه، وأنه مُنَزَّهٌ عما يقولُه منكِروه كما يُنَزَّهُ كمالُه عن سائر العيوب والنقائص"(2).

--------------------------------------------

(1). فائدة: ذكر ابن القيم رحمه الله أن براهين المعاد في القرآن مبنية على ثلاثة أصول: [1 - ] تقرير كمال علم الرب سبحانه، [2 - ] وكمال قدرته، [3 - ] وكمال حكمته. وذلك لأن شبه المُنكِرين للبعث تعود إلى ثلاثة أنواع: [1 - ] إنكار علم الله بالأجزاء المتفرقة المختلطة بأجزاء الأرض على وجه لا يحصل به تمييز أجزاء مختلف الأشخاص، [2 - ] وإنكار قدرة الله على جمع تلك الأجزاء المتفرقة، وإعادة الأرواح إليها، [3 - ] وإنكار الحكمة في إحياء الموتى. (انظر: الفوائد، لابن القيم، ص 7 - 8).

(2). انظر: الفوائد، لابن القيم (ص 9).
• কুরআন ও এর অলৌকিকত্বের মাহাত্ম্য বর্ণনা করা এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তিনি যা নিয়ে এসেছেন (যার অন্তর্ভুক্ত হলো পুনরুত্থান ও হিসাব) তার সত্যায়ন করা।

• রিসালাত ও পুনরুত্থান অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মুশরিকদের সংশয়সমূহ উপস্থাপন এবং রবের (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) জ্ঞানের পূর্ণতা, তাঁর কুদরতের পূর্ণতা ও তাঁর হিকমতের পূর্ণতা প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোর জবাব প্রদান(১)।

• আসমান ও জমিনে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শনসমূহের বর্ণনা, যার অন্যতম হলো বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে জীবনোপকরণ ও ফলমূল উৎপাদন। আর এটি পুনরুত্থানের সপক্ষে স্পষ্টতম প্রমাণগুলোর একটি।

• পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে যারা রাসুলদের অস্বীকার করেছিল তাদের ধ্বংস করার মাধ্যমে আল্লাহর কুদরতের বহিঃপ্রকাশ বর্ণনা করা, পুনরুত্থান অস্বীকারকারী মুশরিকদের পার্থিব আজাবের হুমকি প্রদান এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তরকে সুদৃঢ় করা ও তাঁকে সান্ত্বনা প্রদান।

• সৃষ্টির সূচনা, পরকাল, তাওহিদ, নবুওয়ত এবং ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমানের বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করা।

• মানুষের ওপর আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণ ও আধিপত্যের বর্ণনা, যা তার জন্ম থেকে শুরু হয়, মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় এবং অতঃপর পুনরুত্থান ও হিসাবের মাধ্যমে শেষ হয়, তারপর জান্নাত বা জাহান্নামের পরিণতির দিকে ধাবিত হয়।

• জাহান্নাম ও তার আজাব এবং জান্নাত ও তার নেয়ামতসমূহের উল্লেখ এবং উভয়ের অধিবাসীদের গুণাবলি বর্ণনা করা।

• আল্লাহর জন্য পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং তাঁর পূর্ণতার পরিপন্থী সকল প্রকার ত্রুটি ও খুঁত থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করা।

• এই বিষয়টি বর্ণনা করা যে, "রবের পূর্ণতা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির পূর্ণতা পরকালকে দাবি করে ও তা আবশ্যক করে এবং অস্বীকারকারীরা তাঁর সম্পর্কে যা বলে তিনি তা থেকে পবিত্র, যেভাবে তাঁর পূর্ণতা অন্যান্য সকল খুঁত ও ত্রুটি থেকে পবিত্র"(২)।

--------------------------------------------

(১). ফায়দা: ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে পরকালের প্রমাণাদি তিনটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত: [১ - ] রবের (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) জ্ঞানের পূর্ণতা সুপ্রতিষ্ঠিত করা, [২ - ] তাঁর কুদরতের পূর্ণতা এবং [৩ - ] তাঁর হিকমতের পূর্ণতা। এর কারণ হলো পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের সংশয়সমূহ তিন প্রকারের হয়ে থাকে: [১ - ] মাটির উপাদানের সাথে মিশে যাওয়া ও বিচ্ছন্ন অংশগুলো সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞানকে অস্বীকার করা, এমনভাবে যে বিভিন্ন ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পৃথক করা সম্ভব হবে না, [২ - ] সেই বিচ্ছিন অংশগুলো একত্রিত করতে এবং তাতে পুনরায় রূহ ফিরিয়ে দিতে আল্লাহর সক্ষমতাকে অস্বীকার করা এবং [৩ - ] মৃতদের পুনরায় জীবিত করার মধ্যকার হিকমতকে অস্বীকার করা। (দেখুন: আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম, পৃ. ৭ - ৮)।

(২). দেখুন: আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৯)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌المطلب الثالث: مَقاطِع السُّورة.

يمكن تقسيم سُورة (ق) وَفْق مقصدها إلى ثلاثة مَقاطِع رئيسة:

 

• المقطع الأول: من أول السُّورة إلى قوله تعالى: {أَفَعَيِينَا بِالْخَلْقِ الْأَوَّلِ بَلْ هُمْ فِي لَبْسٍ مِنْ خَلْقٍ جَدِيدٍ}: وفيها عرضُ شُبهة المشركين، والرد عليها بتقرير شمول علمه وكمال قدرته، وعَرْض بعض مظاهر قدرته من آيات الله في الكون، وفي إهلاك الأمم السابقة.

 

• المقطع الثاني: من قوله تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ} إلى قوله 5: {لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ} [الآيات: 16 - 35]: وفيها "بيان رقابة الله تعالى وهيمنته على الإنسان التي تبدأ من ولادته، وتمر بالموت، ثم تنتهي بالبَعْث والحساب، ثم المصير إلى الجنة أو النار".

 

• المقطع الثالث: من قوله تعالى: {وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ} إلى آخر السُّورة [الآيات: 36 - 45]، وفيه تَسْلية الرَّسول صلى الله عليه وسلم، وبيان حقيقة رسالته، وتهديد المشركين، وتقرير البَعْث. ويمكن القول أن أغلبه تأكيدٌ لِما ورد في أوائل السُّورة تصريحًا أو تلميحًا في ترتيب معكوسٍ.

 

‌‌المطلب الرابع: التدبُّر المَقاصِدي للآيات.

*‌‌ المقطع الأول [الآيات: 1 - 15]:

{ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ}(1):

هذه الآية واردةٌ في التنويه بشأن القرآن الكريم، وبيان إعجازه، وأنه المصدر الأصيل لتلقي براهين البَعْث ودلائل النُّبوة؛ فقد أقسم الله عز وجل بالقرآن، الدَّال على شرفه وعظيم منزلته ورفعته وعلوه على كل

--------------------------------------------

(1). انظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 276)، ومعارج التفكر، للميداني (3/ 16 - 19).
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূরার বিভাজনসমূহ.

সূরা (ক্বাফ)-কে এর মূল উদ্দেশ্য অনুযায়ী তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত করা সম্ভব:

 

• প্রথম অংশ: সূরার শুরু থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কি প্রথম সৃষ্টিতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? বরং তারা নতুন সৃষ্টির ব্যাপারে সন্দেহে নিপতিত} পর্যন্ত। এতে মুশরিকদের সংশয়সমূহ উপস্থাপন এবং আল্লাহর জ্ঞানের ব্যাপকতা ও ক্ষমতার পূর্ণতা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তার উত্তর দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে মহাবিশ্বে আল্লাহর নিদর্শনাবলী এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ধ্বংসের মাধ্যমে তাঁর কুদরতের কিছু প্রকাশভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।

 

• দ্বিতীয় অংশ: মহান আল্লাহর বাণী: {আমিই মানুষকে সৃষ্টি করেছি} থেকে {সেখানে তারা যা চাইবে তা-ই পাবে এবং আমার কাছে রয়েছে আরও অতিরিক্ত} [আয়াত: ১৬-৩৫] পর্যন্ত। এতে "মানুষের ওপর মহান আল্লাহর পর্যবেক্ষণ ও আধিপত্যের বর্ণনা রয়েছে যা তার জন্ম থেকে শুরু হয়, মৃত্যুর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় এবং পুনরুত্থান ও হিসাবের মাধ্যমে শেষ হয়, অতঃপর জান্নাত বা জাহান্নামের পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।"

 

• তৃতীয় অংশ: মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তাদের আগে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি} থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত [আয়াত: ৩৬-৪৫]। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সান্ত্বনা প্রদান, তাঁর রিসালাতের স্বরূপ বর্ণনা, মুশরিকদের প্রতি হুমকি এবং পুনরুত্থান সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি বলা সম্ভব যে, এর অধিকাংশ বিষয়ই সূরার শুরুতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যা বর্ণিত হয়েছে, তারই বিপরীত ক্রমে জোরালো সমর্থন বা পুনরুক্তি।

 

‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আয়াতসমূহের উদ্দেশ্যভিত্তিক তাদাব্বুর.

*‌প্রথম অংশ [আয়াত: ১-১৫]:

{ক্বাফ, শপথ মহিমান্বিত কুরআনের}(১):

এই আয়াতটি পবিত্র কুরআনের মর্যাদা বর্ণনা এবং এর অলৌকিকত্ব প্রদর্শনের জন্য এসেছে। আর এটি হলো পুনরুত্থানের প্রমাণাদি এবং নবুওয়তের নিদর্শনসমূহ গ্রহণের মূল উৎস। মহান আল্লাহ কুরআনের শপথ করেছেন, যা এর সম্মান, সুমহান মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে এর উচ্চাসীন হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

--------------------------------------------

(১). দেখুন: আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/২৭৬) এবং মাআরিজুত তাফাক্কুর, আল-মায়দানি (৩/১৬-১৯)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
سائر الكلام؛ لأن التحدي بإعجاز القرآن الكريم، وعجز الكفار بل البشر جميعًا عن معارضته بمثله- أقطعُ برهانٍ على كونه من عند الله، وأسطعُ حجةِ على صدق محمد صلى الله عليه وسلم في ادِّعاء الرِّسالة، وعلى صدق ما جاء به من نبأ البَعْث بعد الموت والجزاء والحساب. وفي هذا تشنيعٌ للكفار وبيانٌ لقبح موقفهم من النبي صلى الله عليه وسلم، ومما جاء به من أمر البَعْث والحساب، وتأكيدٌ على أن القوة الحقيقيَّة هي قوة الحجة والبرهان التي بها أتى القرآن، وعلى أن القرآن هو محور الدعوة، ولهذا افتُتحت هذه السُّورة به، كما خُتمت به: {فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ}.

{بَلْ عَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ فَقَالَ الْكَافِرُونَ هَذَا شَيْءٌ عَجِيبٌ}: هذه الآية واردةٌ في عَرْض مقالة المشركين في إنكار الرِّسالة والتكذيب بالبَعْث، ففيها ذِكر تعجُّبهم الإنكاري من إرسال رسول من جنسهم البشري، متعلِّلين أن كون الرَّسول بشرًا ينافي الحكمة الربانيَّة، وكذلك تعجُّبهم من إنذاره صلى الله عليه وسلم إياهم عذاب الله يوم القيامة، ودعوته إياهم للإيمان بعد البَعْث بعد الموت.

وفي الآية ما يؤكِّد على "تقبيح المماراة في الحق والتعمد في المعارضة اتباعًا للهوى وتقبيح التمسك بالتقاليد الموروثة غير الصائبة"(1)،

فقد "أنكروا رسالته وفَضْل كتابه بألسنتهم نفاسة وحسدًا، وفي هذا دليلٌ على أن الكبر والحسد من موانع قبول الحق، وأنه يفضي إلى السفه … ؛ لأنهم عجبوا أنْ كان الرَّسول بشرًا واستعظموا ذلك، وأوجبوا أن يكون الإله حجرًا، وعجبوا من أن يُعادوا من تراب، وتثبت لهم الحياة، ولم يعجبوا أن يُبتدؤوا من تراب ولم يكن له أصل في الحياة"(2)، وذلك لأن كفرهم "يقوم على ستر الأدلة التي

--------------------------------------------

(1). انظر: التفسير الحديث، لمحمد دروزة عزت (2/ 301).

(2). نظم الدرر في تناسب الآيات والسور، للبقاعي (18/ 404).
অন্যান্য সব বক্তব্যের ঊর্ধ্বে; কারণ পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব দ্বারা যে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এবং কাফেরদের তথা সমগ্র মানবজাতির এর মোকাবিলায় এর সমতুল্য কিছু আনয়নে যে অক্ষমতা—তা এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার অকাট্যতম প্রমাণ এবং রিসালাতের দাবিতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতার ওপর এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থান, প্রতিদান ও হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত তিনি যে সংবাদ নিয়ে এসেছেন তার সত্যতার উজ্জ্বলতম দলিল। এর মধ্যে রয়েছে কাফেরদের প্রতি কঠোর নিন্দা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তিনি যে পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশের বিষয় নিয়ে এসেছেন তার প্রতি তাদের অবস্থানের কদর্যতার বর্ণনা। এটি এই বিষয়েরও তাকিদ দেয় যে, প্রকৃত শক্তি হলো দলিল ও প্রমাণের শক্তি যা কুরআন উপস্থাপন করেছে এবং কুরআনই হলো দাওয়াতের মূল কেন্দ্র। এ কারণেই এই সূরাটি এর মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে, যেমনটি এর মাধ্যমেই শেষ করা হয়েছে: {অতএব, যে আমার শাস্তিকে ভয় করে, তাকে কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দিন}।

{বরং তারা বিস্ময়বোধ করে যে, তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী তাদের কাছে এসেছে। ফলে কাফেররা বলে, এটি এক অদ্ভুত ব্যাপার}: এই আয়াতটি রিসালাত অস্বীকার এবং পুনরুত্থানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়ে মুশরিকদের বক্তব্যের বিবরণে অবতীর্ণ হয়েছে। এতে তাদেরই মানব প্রজাতির মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণের বিষয়ে তাদের বিস্ময়সূচক অস্বীকৃতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা এই অজুহাত পেশ করে যে, রাসূলের মানুষ হওয়া রব্বানী হিকমতের পরিপন্থী। তদ্রূপ কিয়ামতের দিন আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সতর্কবাণী এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের পর ঈমানের প্রতি তাঁর দাওয়াতের বিষয়েও তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে।

আয়াতে এই বিষয়ের তাকিদ রয়েছে যে, "সত্যের ব্যাপারে বিতর্ক করা এবং খেয়াল-খুশির বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিরোধিতা করাকে মন্দ সাব্যস্ত করা এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ভুল প্রথা আঁকড়ে থাকাকে কদর্য হিসেবে তুলে ধরা"(১),

কেননা তারা "বিদ্বেষ ও হিংসাবশত তাদের জিহ্বা দ্বারা তাঁর রিসালাত এবং তাঁর কিতাবের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেছে। এতে প্রমাণ মেলে যে, অহংকার ও হিংসা সত্য গ্রহণের অন্তরায় এবং এটি নির্বুদ্ধিতার দিকে ধাবিত করে...; কারণ তারা রাসূলের মানুষ হওয়াতে বিস্মিত হয়েছে এবং একে অস্বাভাবিক মনে করেছে, অথচ তারা পাথরকে উপাস্য বানানোকে অবধারিত করে নিয়েছে। তারা মাটি থেকে পুনরুত্থিত হওয়া এবং জীবন ফিরে পাওয়া নিয়ে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে, অথচ তারা মাটি থেকে তাদের প্রথমবার সৃষ্টি হওয়া নিয়ে বিস্মিত হয়নি যখন জীবনের কোনো নামনিশানা ছিল না"(২)। এর কারণ হলো তাদের কুফর "এমন সব দলিলকে আড়াল করার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা..."

--------------------------------------------

(১). দেখুন: মুহাম্মদ দারাওয়াজা ইজ্জত রচিত আত-তাফসিরুল হাদিস (২/৩০১)।

(২). আল-বিকায়ি রচিত নাযমুত দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস-সুয়ার (১৮/৪০৪)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৫০)
تثبت الحق ببراهينه، بطرح الشبهات، وإلقاء عبارات التعجب، وادِّعاء أن الأمر غير مقبول عقلًا"(1).

{أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ذَلِكَ رَجْعٌ بَعِيدٌ}: هذه الآية واردةٌ في بيان شُبهة المشركين الساذجة في إنكار البَعْث واستبعاد الحياة بعد الموت، وهي أن بِلى الأجساد وصيرورتها رفاتًا، واختلاطها بالتراب، وتفرُّق أجزائها في مناحي الأرض ومهابِّ الرياح لا تُبقي أملًا في إمكان جمعها، لعدم العلم بمواقع تلك الأجزاء وذرَّاتها، ولو علمت مواقعها فكيف تُعاد إليها أرواحها، ذلك رجوعٌ يستبعد العقل وقوعَه، وتُحيله العادة(2). ففيها ذِكر إنكار المشركين لعلم الله تعالى بالأشياء وقدرته على خَلْق ما يريد، المتضمِّن ذلك إنكار حكمة الله في خلق الإنسان(3).

{قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ وَعِنْدَنَا كِتَابٌ حَفِيظٌ}: هذه الآية ردٌّ موجزٌ على شُبهة المشركين في إنكار البَعْث واستبعاده، ففيها "تقرير كمال علم الله سبحانه"(4)

وتقرير قدرته ضمنًا، وبيان أنه سبحانه "قد علم ما تنقصه الأرض من لحومهم وعظامهم وأشعارهم، وأنه كما هو عالمٌ بتلك الأجزاء، فهو قادرٌ على تحصيلها وجمعها بعد تفرُّقها وتأليفها خلقًا جديدًا"(5).

وفي الآية "تقريرٌ لعقيدة القضاء والقدر بتقرير كتاب المقادير"(6).

وفي التعبير بالنقص دون الإعدام والإفناء في قوله: {مَا تَنْقُصُ الْأَرْضُ

--------------------------------------------

(1). معارج التفكر ودقائق التدبُّر، لعبد الرحمن الميداني (3/ 21، 24).

(2). انظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 280).

(3). معارج التفكر، لعبد الرحمن الميداني (3/ 28). وانظر: الفوائد، لابن القيم (ص 7 - 8).

(4). الفوائد، لابن القيم (ص 8).

(5). الفوائد، لابن القيم (ص 7).

(6). انظر: أيسر التفاسير، للجزائري (5/ 138).
"সত্যকে তার প্রমাণাদির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করা হয়, সংশয়গুলোকে উপস্থাপন করে, বিস্ময়সূচক বাক্য নিক্ষেপ করে এবং বিষয়টি যুক্তিগ্রাহ্য নয় বলে দাবি করার মাধ্যমে"(১)।

{আমরা যখন মরে যাব এবং মাটিতে পরিণত হব (তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে)? এ প্রত্যাবর্তন সুদূরপরাহত}: এই আয়াতটি পুনরুত্থান (بعث) অস্বীকার এবং মৃত্যুর পর জীবনকে অসম্ভব মনে করার বিষয়ে মুশরিকদের সরল সংশয় বর্ণনার ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে। আর তা হলো দেহসমূহ জরাজীর্ণ হওয়া, কঙ্কালে পরিণত হওয়া, মাটির সাথে মিশে যাওয়া এবং জমিনের বিভিন্ন প্রান্তে ও বাতাসের ঝাপটায় এর অংশগুলো বিক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার ফলে তা পুনরায় একত্রিত করার কোনো আশা অবশিষ্ট থাকে না। কারণ সেই অংশ ও অণুগুলোর অবস্থান সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। আর যদি তাদের অবস্থান জানা থাকতোও, তবে কীভাবে সেগুলোতে পুনরায় রুহ ফিরিয়ে আনা হবে? এটি এমন এক প্রত্যাবর্তন যা বুদ্ধি অসম্ভব মনে করে এবং যা ঘটা অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব(২)। এতে আল্লাহ তাআলার সবকিছুর জ্ঞান এবং তিনি যা ইচ্ছা তা সৃষ্টি করার ক্ষমতার মুশরিকদের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মানুষের সৃষ্টির পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞাকে অস্বীকার করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করে(৩)।

{নিশ্চয়ই আমি জানি জমিন তাদের থেকে কী হ্রাস করে এবং আমার নিকট রয়েছে এক সংরক্ষিত কিতাব}: এই আয়াতটি পুনরুত্থান (بعث) অস্বীকার ও একে অসম্ভব মনে করার বিষয়ে মুশরিকদের সংশয়ের একটি সংক্ষিপ্ত উত্তর। এতে "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জ্ঞানের পূর্ণতার স্বীকৃতি" রয়েছে(৪)

এবং পরোক্ষভাবে তাঁর ক্ষমতারও স্বীকৃতি রয়েছে। আরও বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি পবিত্র সত্তা "তাদের গোশত, হাড় ও চুল থেকে যা কিছু জমিন ক্ষয় করে তা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবেই জানেন। আর যেভাবে তিনি সেই অংশগুলো সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, তেমনিভাবে তিনি সেগুলো সংগ্রহ করতে এবং বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর পুনরায় একত্রিত করে নতুন সৃষ্টিতে রূপদান করতে সক্ষম"(৫)।

এই আয়াতে "তাকদীরের লিপি সাব্যস্ত করার মাধ্যমে ফয়সালা ও তকদির (القضاء والقدر) সংক্রান্ত আকিদাহর স্বীকৃতি রয়েছে"(৬)।

এবং তাঁর বাণী: {জমিন যা হ্রাস করে} -এর মধ্যে অস্তিত্বহীন করা বা ধ্বংস করার পরিবর্তে 'হ্রাস' (نقص) শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে—

--------------------------------------------

(১). মাআরিজুত তাফাক্কুর ওয়া দাকাইকুত তাদাব্বুর, আব্দুর রহমান আল-মাইদানি (৩/ ২১, ২৪)।

(২). দেখুন: আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/ ২৮০)।

(৩). মাআরিজুত তাফাক্কুর, আব্দুর রহমান আল-মাইদানি (৩/ ২৮)। আরও দেখুন: আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৭ - ৮)।

(৪). আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৮)।

(৫). আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৭)।

(৬). দেখুন: আইসারুত তাফাসির, আল-জাজায়িরি (৫/ ১৩৮)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৫১)
مِنْهُمْ}، دلالةٌ على ما ورد في حديث: «لَيْسَ مِنَ الإِنْسَانِ شَيْءٌ إِلَّا يَبْلَى، إِلَّا عَظْمًا وَاحِدًا، وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ، وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الخَلْقُ يَوْمَ القِيَامَةِ»(1).

{بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَرِيجٍ}: هذه الآية واردةٌ في تقرير المعاد ببيان بطلان موقف المشركين من التكذيب بالحق بذِكر دليل البطلان -وهو الاضطراب-، وبيان سببه -وهو الاستعجال-. لأن "الاضطراب موجبٌ للاختلاف، وذلك أدلُّ دليلٍ على الإبطال، كما أن الثبات والخلوص مُوجِب للاتفاق، وذلك أدلُّ دليلٍ على الحقيقة"(2)؛ فـ"الجزم الصحيح لا يتغير ولا يتبدل … [أمَّا المشركون] فكان أمرهم مضطربًا"(3)، (وذلك في وصفهم القرآن بأنه: سِحر، وتارة كهانة، وتارة شِعر، وتارة كذب، وتارة ينفون الرِّسالة عن البشر، وأخرى يزعمون أنها لا تليق إلا بأهل الجاه والرئاسة(4).

وسبب هذا الاختلاف: إنما هو ناشئٌ عن استعجالهم في التكذيب بالقرآن، وعدم النظر والتأمل في أدلته. وفي هذا دعوةٌ للمشركين وغيرهم إلى التأمل في القرآن وبراهينه، وتأكيدٌ على أن "عدم التأني والتفكر مانع من موانع الاهتداء للحق"، فينبغي للإنسان أن يقابل "كل فكرة أو دعوة جديدة بالتدبُّر والتروي"(5)؛ لأنه يُعِين على معرفة جوانب الحق فيها ومواطن الخلل، ويعصم -بإذن الله- من الزَّلل.

--------------------------------------------

(1). رواه البخاري في صحيحه، كتاب التفسير، باب {يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَتَأْتُونَ أَفْوَاجًا}، (ح 4935)، (6/ 165). وانظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 283).

(2). نظم الدرر في تناسب الآيات والسور، للبقاعي (18/ 407).

(3). مفاتيح الغيب، للفخر الرازي (28/ 154).

(4). انظر: نظم الدرر، للبقاعي (18/ 407)، والتحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 285)، وتفسير المراغي (26/ 152 - 153).

(5). التفسير الحديث، لمحمد دروزة عزت (2/ 301).
...তাদের মধ্য থেকে}, এটি হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তার প্রতি একটি ইঙ্গিত: «মানুষের শরীরের প্রতিটি অংশই পচে যায় কেবল একটি হাড় ছাড়া, আর তা হলো লেজের হাড় (আজবুয যানাব); তা থেকেই কিয়ামতের দিন সৃষ্টিকে পুনরায় গঠন করা হবে»(১)。

{বরং তারা সত্যকে অস্বীকার করেছে যখন তা তাদের নিকট এসেছে, তাই তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রয়েছে}: এই আয়াতটি মুশরিকদের সত্য প্রত্যাখ্যানের অবস্থানের অসারতা বর্ণনার মাধ্যমে পরকাল সাব্যস্ত করার বিষয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এখানে অসারতার প্রমাণ হিসেবে তাদের অসংলগ্নতা এবং এর কারণ হিসেবে তাদের তড়িঘড়ি করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ "অসংলগ্নতা মতভেদের কারণ হয়ে থাকে, যা অসারতার বড় দলিল; যেমন অবিচলতা ও বিশুদ্ধতা ঐকমত্যের কারণ হয়, যা সত্যের বড় দলিল"(২); ফলে "সঠিক (صحيح) নিশ্চয়তা কখনো পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না... [পক্ষান্তরে মুশরিকদের] বিষয়টি ছিল অসংলগ্ন"(৩), (আর তা কুরআন সম্পর্কে তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে: কখনও একে জাদু, কখনও গণকগিরি, কখনও কবিতা, আবার কখনও মিথ্যা বলা। কখনও তারা মানুষের রাসূল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করত, আবার কখনও দাবি করত যে এটি কেবল প্রতিপত্তি ও নেতৃত্বের অধিকারীদের জন্যই মানানসই)(৪)。

আর এই মতভেদের কারণ: মূলত কুরআনকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের তড়িঘড়ি করা এবং এর দলিলসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা না করা। এর মধ্যে মুশরিক ও অন্যদের প্রতি কুরআনের দলিল ও প্রমাণাদি নিয়ে চিন্তা করার আহ্বান রয়েছে এবং এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, "ধৈর্য ও চিন্তা-ভাবনার অভাব সত্য প্রদর্শনের পথে অন্যতম অন্তরায়"। তাই মানুষের উচিত "যেকোনো নতুন চিন্তা বা দাওয়াতকে গভীর অভিনিবেশ ও ধীরস্থিরভাবে গ্রহণ করা"(৫); কারণ এটি সত্যের দিকগুলো এবং ত্রুটির স্থানগুলো চিনতে সাহায্য করে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পদস্খলন থেকে রক্ষা করে।

--------------------------------------------

(১). বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, কিতাবুত তাফসির, অধ্যায় {যেদিন শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে আসবে}, (হাদিস নং ৪৯৩৫), (৬/১৬৫)। আরও দেখুন: আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/২৮৩)।

(২). নাযমুত দুরার ফি তানাসুবিল আয়াত ওয়াস-সুওয়ার, আল-বিকায়ি (১৮/৪০৭)।

(৩). মাফাতিহুল গায়িব, ফখর রাযি (২৮/১৫৪)।

(৪). দেখুন: নাযমুত দুরার, আল-বিকায়ি (১৮/৪০৭), আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/২৮৫), এবং তাফসির আল-মারায়ি (২৬/১৫২-১৫৩)।

(৫). আত-তাফসিরুল হাদিস, মুহাম্মদ ইজ্জত দারওয়াযা (২/৩০১)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৫২)
{أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ (6) وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ}: هاتان الآيتان واردتان في تقرير عقيدة البَعْث بمظاهر القدرة الإلهيَّة في الكون، وهي التي أنكرها المشركون في سياق إنكارهم للبَعْث، فكما أن الآية السابقة فيها دعوة إلى التفكُّر في القرآن وبراهين صِدقه، فكذلك هذه الآية فيها دعوة الكافرين وسائر الناس إلى التأمل في "العالم العلوي وبنائه وارتفاعه واستوائه وحسنه والتئامه، ثم إلى العالم السفلي وهو الأرض، وكيف بسطها [الله 5] وهيأها بالبسط لما يُراد منها، وثبَّتها بالجبال، وأنبت فيها من كل صنفٍ حسن من أصناف النبات على اختلاف أشكاله وألوانه ومقاديره ومنافعه وصفاته"(1).

فكل ذلك دالٌّ على كمال قدرته سبحانه، وعلمه المحيط بكل شيء، وعلى عظيم حكمته، وبالِغ إتقانه لكل ما خَلَق، ودقيق صنعه، وغير ذلك من صفات الكمال. وفي هذا دلالة على مشروعيَّة النظر والاعتبار فيما يحيط بالإنسان من آيات الله في الكون وما فيها من منافع، ليزداد إيمانه ويصل إلى رتبة اليقين، وليشكرَ نعمة ربه بعبادته، ولا يكفروها بعبادة غيره(2).

{تَبْصِرَةً وَذِكْرَى لِكُلِّ عَبْدٍ مُنِيبٍ}: هذه الآية "تذكيرٌ لمُنكِري البَعْث، وإيقاظ لهم عن سِنة الغفلة، وبيان لإمكان ذلك، وعدم امتناعه"(3)، ففيها بيان أن "التَّبصرة والذكرى من جملة الحكم التي أوجد الله تلك المخلوقات لأجلها"(4). لأن الله قد جعل في آياته الكونيَّة وظيفتين: دنيويَّة للانتفاع بها

--------------------------------------------

(1). الفوائد، لابن القيم (ص 9).

(2). انظر: معارج التفكر، لعبد الرحمن الميداني (3/ 37، 56)، وأيسر التفاسير، للجزائري (5/ 139 - 140)، والتحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 288، 289، 292).

(3). فتح القدير، للشوكاني (5/ 96).

(4). التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 290).
{তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি তা কীভাবে নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই। (৬) আর আমি পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছি এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ জোড়ায় জোড়ায় উদগত করেছি}: এই আয়াতদ্বয় মহাবিশ্বে মহান আল্লাহর কুদরতের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে পুনরুত্থানের আকিদা প্রমাণের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে; যা মুশরিকরা পুনরুত্থান অস্বীকার করার প্রেক্ষাপটে অস্বীকার করেছিল। পূর্ববর্তী আয়াতে যেমন কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং এর সত্যতার প্রমাণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তেমনি এই আয়াতেও কাফেরদের এবং সমস্ত মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে "উচ্চতর জগৎ, এর নির্মাণশৈলী, উচ্চতা, সমতা, সৌন্দর্য ও সুসংহতি নিয়ে চিন্তা করার জন্য। অতঃপর নিম্ন জগৎ অর্থাৎ পৃথিবীর দিকে লক্ষ্য করার জন্য—কীভাবে আল্লাহ একে বিস্তৃত করেছেন এবং এর মাধ্যমে যা উদ্দেশ্য তা অর্জনের জন্য একে প্রস্তুত করেছেন; একে পাহাড়ের মাধ্যমে স্থির করেছেন এবং এতে ভিন্ন ভিন্ন রূপ, রঙ, পরিমাণ, উপকারিতা ও বৈশিষ্ট্যের চমৎকার সব প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছেন"(১)。

এই সবকিছুই সুবহানাহু ওয়া তাআলার পূর্ণ কুদরত, সর্বব্যাপী জ্ঞান, সুমহান প্রজ্ঞা, সৃষ্টির নিখুঁত দক্ষতা ও কারুকার্য এবং তাঁর অন্যান্য পূর্ণ গুণাবলির পরিচায়ক। এর মধ্যে মানুষের চারপার্শ্বে বেষ্টিত আল্লাহর নিদর্শনাবলি এবং তাতে বিদ্যমান উপকারিতা পর্যবেক্ষণ ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের বৈধতার প্রমাণ রয়েছে, যাতে মানুষের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং সে দৃঢ় বিশ্বাসের স্তরে পৌঁছাতে পারে। আর যেন সে ইবাদতের মাধ্যমে তার রবের নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং অন্যের ইবাদত করার মাধ্যমে অকৃতজ্ঞ না হয়(২)。

{আল্লাহর অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য জ্ঞানদান ও উপদেশস্বরূপ}: এই আয়াতটি "পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের জন্য একটি স্মারক, উদাসীনতার তন্দ্রা থেকে তাদের জন্য এক সতর্কতা এবং পুনরুত্থান সম্ভব হওয়া ও তা অসম্ভব না হওয়ার একটি বর্ণনা"(৩)। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, "জ্ঞানদান ও উপদেশ দান সেসব প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত যার জন্য আল্লাহ এই সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন"(৪)। কেননা আল্লাহ তাঁর মহাজাগতিক নিদর্শনাবলিতে দুটি ভূমিকা নিহিত রেখেছেন: একটি পার্থিব, যা থেকে উপকার লাভ করা যায়...

--------------------------------------------

(১). আল-ফাওয়ায়িদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৯)।

(২). দ্রষ্টব্য: মাআরিজুত তাফাক্কুর, আবদুর রহমান আল-মাইদানি (৩/ ৩৭, ৫৬), আইসারুত তাফাসির, আল-জাযাইরি (৫/ ১৩৯ - ১৪০), এবং আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/ ২৮৮, ২৮৯, ২৯২)।

(৩). ফাতহুল কাদির, আশ-শাওকানি (৫/ ৯৬)।

(৪). আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, ইবনে আশুর (২৬/ ২৯০)।
(খণ্ড: ৮) আল-মাকাসিদ আল-কুরআনিয়্যাহ ফী সূরাতি ক্বাফ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
للمصالح الدنيا، وأخرى أخرويَّة، من الدلالة على الله عز وجل وصفاته التي ينتفع بها العبد المنيب(1).

"وفيه إشارةٌ إلى أن الوصول إلى مقام التَّبصرة إنما هو بالعُبوديَّة، والإنابة"(2)، ففي الآية "تشريفٌ لجميع المؤمنين وبيانٌ لفضلهم إذ لا يخلون من تبصُّر وتذكُّر بتلك الأفعال على تفاوُتٍ بينهم في ذلك … ، وتعريضٌ بإهمال الكافرين التبصُّرَ والتذكر"(3).

وفي هذا دلالة على "اعتبار من لا ينتفع بالشيء، عادمًا له"(4)،

وفي هذا ما يؤكد على أنه ينبغي للمؤمن أن يتفكر في مخلوقات الله ويتأمل دقيق صنعه؛ لأنَّه "كُلَّما كَرَّر شَهِد المتفكِّرُ المتأمِّلُ آياتِ الله في الكون، تعلَّم منها أشياء جديدة، وزادته معرفة بحقائق عن خالقها ومبدعها"(5)، وعلم يقينًا أنه ما خُلق عبثًا، بل لأجل حكمة جليلة وغاية سامية، وعلم أنه محاسب على أعماله، وأنه لا بد من جزاء وحساب.

{وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبَارَكًا فَأَنْبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ (9) وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ (10) رِزْقًا لِلْعِبَادِ وَأَحْيَيْنَا بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا كَذَلِكَ الْخُرُوجُ}(6): هذه الآيات واردةٌ في دفع استحالة البَعْث وإظهار تقريبه(7)، بذِكر "أبهر الآيات وأدلها عليه، والتي

--------------------------------------------

(1). انظر: معارج التفكر، للميداني (3/ 63).

(2). روح البيان، للخلوتي (9/ 107).

(3). التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 291).

(4). نظم الدرر في تناسب الآيات والسور، للبقاعي (18/ 411).

(5). معارج التفكر، للميداني (3/ 41).

(6). انظر: الفوائد، لابن القيم (ص 9 - 10)، ونظم الدرر في تناسب الآيات والسور (18/ 414)، والتحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 292)، ومعارج التفكر، للميداني (3/ 42).

(7). انظر: التحرير والتنوير، لابن عاشور (26/ 295).
পার্থিব মঙ্গলের জন্য এবং অন্যটি পরকালীন মঙ্গলের জন্য, যা মহান আল্লাহ এবং তাঁর গুণাবলির প্রমাণ বহন করে, যার দ্বারা প্রত্যাবর্তনকারী বান্দা উপকৃত হয়(১)।

“আর এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, অন্তর্দৃষ্টির স্তরে পৌঁছানো কেবল দাসত্ব ও আল্লাহ-মুখী হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব”(২), সুতরাং আয়াতে “সকল মুমিনের জন্য সম্মান এবং তাদের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা রয়েছে; কারণ তারা এই কাজগুলোর মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি ও উপদেশ লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয় না, যদিও এ ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে... এবং এটি কাফেরদের অন্তর্দৃষ্টি ও উপদেশ গ্রহণের প্রতি অবহেলার প্রতি একটি ইঙ্গিত”(৩)।

আর এতে এই বিষয়ের প্রমাণ রয়েছে যে, “যে ব্যক্তি কোনো কিছু থেকে উপকৃত হয় না, তাকে সেই বস্তুটির অস্তিত্বহীন হিসেবেই গণ্য করা হয়”(৪),

আর এটি এই বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে যে, মুমিনের উচিত আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করা এবং তাঁর নিপুণ কারুকার্য নিয়ে গভীরভাবে ভাবা; কারণ “চিন্তাশীল ও মনোযোগী ব্যক্তি মহাবিশ্বে আল্লাহর নিদর্শনগুলো যতবার পর্যবেক্ষণ করেন, ততবারই তিনি নতুন কিছু শেখেন এবং এটি তাঁর স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের স্বরূপ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানকে আরও বৃদ্ধি করে”(৫), আর তিনি দৃঢ়ভাবে জানতে পারেন যে, তাঁকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি; বরং এক সুমহান প্রজ্ঞা ও উচ্চতর লক্ষ্যের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আরও জানতে পারেন যে, তাঁকে তাঁর কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং অবশ্যই প্রতিদান ও হিসাব রয়েছে।

{আর আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তা দ্বারা আমি বাগান ও কর্তনযোগ্য শস্য উৎপন্ন করেছি (৯) আর সুউচ্চ খেজুর গাছসমূহ, যার রয়েছে সুবিন্যস্ত মোচা (১০) বান্দাদের রিযিকস্বরূপ। আর আমি তা দিয়ে মৃত জনপদকে জীবিত করেছি। এভাবেই পুনরুত্থান ঘটবে}(৬): এই আয়াতগুলো পুনরুত্থান অসম্ভব হওয়ার দাবি খণ্ডন করতে এবং তা নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করতে অবতীর্ণ হয়েছে(৭), যাতে “সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শনাবলি এবং এর স্বপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণগুলোর উল্লেখ করা হয়েছে, যা

--------------------------------------------

(১). দেখুন: মাআরিজুত তাফাক্কুর, আল-মায়দানি (৩/ ৬৩)।

(২). রুহুল বায়ান, আল-খালওয়াতী (৯/ ১০৭)।

(৩). আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর (২৬/ ২৯১)।

(৪). নাযমুত দুরার ফী তানাসুবিল আয়াত ওয়াস-সুওয়ার, আল-বিকাঈ (১৮/ ৪১১)।

(৫). মাআরিজুত তাফাক্কুর, আল-মায়দানি (৩/ ৪১)।

(৬). দেখুন: আল-ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কাইয়্যিম (পৃ. ৯ - ১০), এবং নাযমুত দুরার ফী তানাসুবিল আয়াত ওয়াস-সুওয়ার (১৮/ ৪১৪), এবং আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর (২৬/ ২৯২), এবং মাআরিজুত তাফাক্কুর, আল-মায়দানি (৩/ ৪২)।

(৭). দেখুন: আত-তাহরীর ওয়াত-তানবীর, ইবনে আশুর (২৬/ ২৯৫)।