(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
طريق الهجرتين وباب السعادتين - ط عطاءات العلم القسم: الرقائق والآداب والأذكار
الكتاب: طريق الهجرتين وباب السعادتين
المؤلف: الإمام أبي عبد اللَّه محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (691 - 751)
حققه: محمد أجمل الإصلاحي
خرج أحاديثه: زائد بن أحمد النشيري
راجعه: سعود بن عبد العزيز العريفي - علي بن محمد العمران
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الرابعة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 رمضان 1442
তরিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা’আদাতাইন - আতাআত আল-ইলম প্রকাশনী বিভাগ: হৃদয়স্পর্শী আলোচনা, শিষ্টাচার ও জিকিরসমূহ
বই: দুই হিজরতের পথ ও দুই সৌভাগ্যের দুয়ার
লেখক: ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া (৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)
সম্পাদনা: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি
হাদিস যাচাই ও তখরিজ: জায়েদ বিন আহমদ আল-নাশিরি
পর্যালোচনা: সাউদ বিন আব্দুল আজিজ আল-আরিফি - আলী বিন মুহাম্মদ আল-উমরান
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দার ইবনে হাজম (বৈরুত)
সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দার ইবনে হাজম কর্তৃক প্রথম সংস্করণ)
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রমজান ১৪৪২ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১)
آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (13)
طريق الهجرتين وباب السعادتين
تأليف
الإمام أبي عبد اللَّه محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية
(691 - 751)
حققه: محمد أجمل الإصلاحي
خرج أحاديثه: زائد بن أحمد النشيري
إشراف
بكر بن عبد اللَّه أبو زيد
دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি ও সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (১৩)
ত্বরিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সা’আদাতাইন (দুই হিজরতের পথ ও দুই সৌভাগ্যের দ্বার)
রচনায়
ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ
(৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)
সম্পাদনায়: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি
হাদিস বিশ্লেষণে: জায়েদ বিন আহমদ আল-নাশিরি
তত্ত্বাবধানে
বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ
দারু আতাআতিল ইলম - দারু ইবনে হাজম
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩)
راجع هذا الجزء
سعود بن عبد العزيز العريفي
علي بن محمد العمران
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন
সাঊদ বিন আব্দুল আযীয আল-আরিফী
আলী বিন মুহাম্মাদ আল-উমরান
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৪)
مؤسسة سليمان بن عبد العزيز الراجحي الخيرية
حقوق الطبع محفوظة لمؤسسة سليمان بن عبد العزيز الراجحي الخيرية
الطبعة الأولى 1429 هـ
دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
مكة المكرمة ص. ب 2928 هاتف 5505305 فاكس 5542309
الصف والإخراج دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-রাজহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
সর্বস্বত্ব সুলাইমান বিন আব্দুল আজিজ আল-রাজহি চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন কর্তৃক সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ ১৪২৯ হিজরী
দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ
মক্কা আল-মুকাররামা, পো. বক্স ২৯২৮, ফোন ৫৫০৫৩০৫, ফ্যাক্স ৫৫৪২৩০৯
টাইপসেটিং ও অঙ্গসজ্জা: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مقدمة التحقيقالحمد للَّه رب العالمين، القائل في كتابه الحكيم: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ (15) يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (16)} [المائدة/ 15 - 16]. والصلاة والسلام على رسوله الذي بعثه في الأميين، يتلو عليهم آياته، ويعلمهم الكتاب والحكمة، ويزكيهم؛ فبلغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح للأمة. ومضى إلى ربه محمودًا بعدما أقام الدين، وترك الأمة على المحجة البيضاء، ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك.
أما بعد، فإن كتاب "طريق الهجرتين وباب السعادتين" للإمام ابن قيم الجوزية رحمه اللَّه تعالى لكتاب نفيس نادر في بابه. فقد وضعه لبيان قواعد السلوك والسير إلى اللَّه على الطريقة التي شرعها اللَّه ورسوله صلى الله عليه وسلم. والمقصود بالهجرتين -كما فسَّر المؤلف في مقدمة هذا الكتاب وفي كتبه الأخرى- هجرة العبد إلى اللَّه سبحانه بالتوحيد والإخلاص والإنابة والحب والخوف والرجاء والتوكل والعبودية، وهجرته إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بمتابعته والتأسِّي به في كل شأن من شؤون حياته من عقائده وعباداته ومعاملاته. وهذا هو مضمون الشهادتين اللتين لا يقوم الإيمان والإسلام إلّا بهما.
ولا تخفى أهمية الهجرتين المذكورتين في باب الإحسان وتزكية النفس والسير إلى اللَّه. فإنّ الصوفية منذ أن جعلوه سرًّا مكتومًا، زاعمين أنه علم خصّ به النبي صلى الله عليه وسلم بعض أصحابه، ثم حكَّموا فيه الذوق
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবে বলেছেন: {তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। (১৫) এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টি অনুসরণ করে তাদেরকে শান্তির পথ দেখান এবং তাঁর অনুমতিতে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন। (১৬)} [আল-মায়িদা: ১৫ - ১৬]। এবং দরুদ ও সালাম তাঁর রাসূলের প্রতি, যাকে তিনি উম্মীদের মাঝে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তাদেরকে পবিত্র করেন; তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মাহর কল্যাণ কামনা করেছেন। দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করার পর তিনি প্রশংসিত অবস্থায় তাঁর প্রতিপালকের সান্নিধ্যে চলে গেছেন এবং উম্মাহকে এক উজ্জ্বল রাজপথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতোই উজ্জ্বল, যেখান থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়।
অতঃপর, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) রচিত "তারিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সা’দাতাইন" কিতাবটি তার নিজ বিষয়ে এক অনন্য ও মূল্যবান গ্রন্থ। তিনি এটি রচনা করেছেন আল্লাহর দিকে পথচলা ও সুলুকের নিয়মাবলি বর্ণনার জন্য, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিধিবদ্ধ করেছেন। দুই হিজরতের উদ্দেশ্য—যেমনটি লেখক এই বইয়ের ভূমিকায় এবং তাঁর অন্যান্য বইয়ে ব্যাখ্যা করেছেন—তা হলো বান্দার তাওহীদ, ইখলাস, তওবা, ভালোবাসা, ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল ও দাসত্বের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে হিজরত করা; এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে হিজরত করা, তাঁর অনুসরণ এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—আকীদা, ইবাদত এবং লেনদেনে তাঁর আদর্শ অনুকরণের মাধ্যমে। আর এটিই হলো সেই দুই শাহাদাতের মূল বক্তব্য যা ছাড়া ঈমান ও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
ইহসান, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর দিকে পথচলার ক্ষেত্রে উল্লিখিত দুই হিজরতের গুরুত্ব গোপন নয়। কেননা সূফীরা যখন থেকে একে একটি গোপন রহস্যে পরিণত করেছে এবং দাবি করেছে যে এটি এমন এক জ্ঞান যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কিছু নির্দিষ্ট সাহাবীর জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন, এরপর তারা এতে তাদের নিজস্ব 'যাওক' বা আধ্যাত্মিক আস্বাদনকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করেছে...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৬)
والوجدان والكشف والإلهام = فتحوا بابًا واسعًا للزيغ والانحراف والتأويل والتحريف. ثمّ تعدَّوا إلى تقسيم الدين إلى شريعة وطريقة، وعلم الظاهر وعلم الباطن، وقرّروا أن الأول حجاب دون الآخر، حتى صار التصوف في بعض صوره دينًا مناهضًا لدين رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم.
ومن ثم لم يكن شيخ الإسلام ابن تيمية وصاحبه الإمام ابن القيم رحمهما اللَّه ليصرفا النظر، في المهمة العظيمة التي قاما بها لإصلاح الأمة وتجديد معالم الدين، عن الردّ على مزاعم الصوفية، والكشف عن انحرافاتهم، وبيان هدي النبي صلى الله عليه وسلم في التزكية والإحسان.
وقد أوتي الشيخان الربّانيّان قدرةً عجيبةً على الخوض في غوامض علوم العارفين ودقائق أحوالهم والكلام عليها. وذلك لما فتح اللَّه عليهما من علوم الكتاب والحكمة، ثم وفقهما للظهور على معارج العبودية والإشراف على مقامات الإحسان. ومن هنا أصبحت كتابات الشيخين في التصوف والسلوك، الجامعة بين خطر الموضوع، وسلفيّة المنهج في التمسّك بالكتاب والسنّة دون تحيّز لأحدٍ كائنًا من كان، وقدرةٍ على الخوض في الدقائق، وقوّة البيان ووضوح التعبير = أصبحت منظومةً نادرةً في المكتبة الإسلامية الزاخرة.
ومن أجلّ تلك الكتب كتابنا هذا. وقد افتتحه ابن القيّم رحمه الله "بباب الفقر والعبودية، إذ هو باب السعادة الأعظم وطريقها الأقوم الذي لا سبيل إلى دخولها إلّا منه". ثم تكلم على قواعد نافعة منها قاعدة في الإنابة ودرجاتها، وقاعدة في الابتلاء، وقاعدة في ذكر طريق قريب موصل إلى الاستقامة في الأحوال والأقوال والأعمال، وقاعدة في أقسام العباد في سفرهم إلى الدار الآخرة. وختم الكتاب بباب جامع في مراتب
অনুভূতি, কাশফ এবং ইলহাম—বিচ্যুতি, বিভ্রান্তি, অপব্যাখ্যা এবং বিকৃতির এক প্রশস্ত দ্বার উন্মোচন করেছে। এরপর তারা দ্বীনকে শরীয়ত ও তরীকত এবং বাহ্যিক জ্ঞান ও অভ্যন্তরীণ জ্ঞানে বিভক্ত করার পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তারা সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে প্রথমটি দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে অন্তরায় স্বরূপ। এমনকি সুফিবাদ তার কিছু রূপে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের বিপরীত এক ধর্মে পরিণত হয়েছে।
তাই উম্মতের সংস্কার এবং দ্বীনের নিদর্শনসমূহ পুনরুজ্জীবনের মহান দায়িত্বে নিয়োজিত শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর সঙ্গী ইমাম ইবনুল কায়্যিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)—সুফিদের দাবি খণ্ডন, তাদের বিচ্যুতি উন্মোচন এবং আত্মশুদ্ধি ও ইহসানের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথ বর্ণনার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারতেন না।
এই দুই রাব্বানি শায়খ আরেফদের গুঢ় জ্ঞান এবং তাদের সূক্ষ্ম অবস্থাগুলোর গভীরে প্রবেশ করে সে বিষয়ে আলোচনার এক বিস্ময়কর সক্ষমতা লাভ করেছিলেন। আর এটি ছিল এজন্য যে, আল্লাহ তাঁদের জন্য কিতাব ও হিকমতের জ্ঞান উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, অতঃপর তাঁদেরকে দাসত্বের সোপানে আরোহণ এবং ইহসানের মাকামসমূহ পর্যবেক্ষণের তাওফিক দান করেছিলেন। এখান থেকেই তাসাউফ ও সুলুক বিষয়ে শায়খদ্বয়ের রচনাগুলো—যা বিষয়ের গুরুত্ব, কারো প্রতি পক্ষপাতহীনভাবে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে সালাফি মানহাজ, সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে প্রবেশের ক্ষমতা এবং জোরালো ও প্রাঞ্জল বর্ণনার এক অনন্য সমন্বয়—ইসলামি সাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডারে এক বিরল সংগ্রহে পরিণত হয়েছে।
আর সেই মহান গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো আমাদের এই বইটি। ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এটি শুরু করেছেন "ফকর ও দাসত্বের অধ্যায় দিয়ে; কেননা এটিই হলো পরম সৌভাগ্যের শ্রেষ্ঠ দ্বার এবং সঠিকতম পথ, যা ছাড়া সেখানে প্রবেশের কোনো উপায় নেই।" এরপর তিনি কিছু উপকারী মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইনাবাহ (আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন) ও তার স্তরসমূহ সম্পর্কিত নিয়ম, পরীক্ষা সম্পর্কিত নিয়ম, অবস্থা, কথা ও কাজে ইস্তিকামাত লাভের নিকটবর্তী পথ সম্পর্কিত নিয়ম এবং পরকালীন যাত্রায় বান্দাদের প্রকারভেদ সংক্রান্ত নিয়ম। এবং তিনি গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন বিভিন্ন স্তরের ওপর একটি ব্যাপক অধ্যায়ের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৭)
المكلفين في الدار الآخرة وطبقاتهم فيها.
وقد تطرّق الكلام في أثناء البابين والقواعد إلى مباحث عظيمة ومسائل مشكلة اقتضت أهميتها إشباع القول فيها، كمبحث القضاء والقدر الذي استغرق أكثر من مائتي صفحة. ولكن أهمّ أقسام الكتاب وأنفسها -وهو من صميم الموضوع فلا يعدّ استطرادًا- هو القسم الذي تكلم فيه المؤلف رحمه الله على علل مقامات السلوك. وقد اختار لبيان غلط المشايخ في هذا الباب كتاب محاسن المجالس لأبي العباس ابن العريف الصنهاجي من أكابر صوفية الأندلس. فتناوله فصلًا فصلًا بالنقد والنقض، وبيّن ما له وما عليه، فتكلم على ما قاله في منزلة الإرادة مثلًا، من اثني عشر وجهًا، وعلى التوكل من خمسة عشر وجهًا، وعلى الخوف من ثلاثة عشر وجهًا، وهكذا.
ومما يستغرب أن المستشرق الإسباني الذي نشر محاسن المجالس في باريس سنة 1933 م لم يكن على علم بنقد ابن القيم إياه في طريق الهجرتين، مع كونه مطبوعًا قبل المحاسن بأكثر من ثلاثين سنة.
وقد صدرت أول طبعة من كتابنا عن المطبعة الميمنية سنة 1320 هـ = 1902 م، على حاشية كتاب آخر لابن القيم، وهو إغاثة اللهفان. ثم طبعته إدارة الطباعة المنيرية سنة 1358 هـ، وتلتها طبعة المكتبة السلفية سنة 1375 هـ. ولكن لم تتهيأ لهذه الطبعات نسخة موثقة عالية من الكتاب، فكثرت فيها الأسقاط والتصحيفات والتحريفات، إلا ما صحح منها باجتهاد المشرفين عليها، غير أن اجتهادهم قد أدّى في أحيان كثيرة إلى مزيد من الأخطاء.
وعن هذه الطبعات الثلاث -وبخاصة طبعة المكتبة السلفية-
পরকালে দায়বদ্ধ ব্যক্তিগণ এবং সেখানে তাদের স্তরসমূহ সম্পর্কে।
এই দুই অধ্যায় ও মূলনীতিগুলোর আলোচনায় এমন সব মহান বিষয় ও জটিল মাসআলাগুলো উঠে এসেছে, যার গুরুত্বের কারণে সেগুলোতে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। যেমন তাকদিরের (কাজা ও কদর) বিষয়টি, যা দুইশ পৃষ্ঠারও বেশি স্থান দখল করেছে। তবে এই বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান অংশ হলো—যা মূল বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত, তাই একে অবান্তর আলোচনা বলা যায় না—সেই অংশ যেখানে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) আধ্যাত্মিক সাধনার (সুলোকের) মাকামগুলোর ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই বিষয়ে শায়খদের ভুলভ্রান্তি স্পষ্ট করার জন্য তিনি আন্দালুসের অন্যতম প্রধান সুফি আবু আব্বাস ইবনুল আরিফ আস-সানহাজির 'মাহাসিনুল মাজালিস' কিতাবটি নির্বাচন করেছেন। তিনি এর প্রতিটি অধ্যায় সমালোচনা ও খণ্ডনের মাধ্যমে পর্যালোচনা করেছেন এবং এর সবল ও দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরেছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি 'ইরাদা'র (সংকল্প) মাকাম সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা বারোটি দিক থেকে আলোচনা করেছেন, 'তাওয়াক্কুল' (ভরসা) পনেরোটি দিক থেকে এবং 'খাওফ' (ভীতি) তেরোটি দিক থেকে—এভাবেই অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ১৯৩৩ সালে প্যারিস থেকে 'মাহাসিনুল মাজালিস' প্রকাশকারী স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ ইবনুল কায়্যিমের 'তারিকুল হিজরাতাইন' গ্রন্থে করা এই সমালোচনা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না; অথচ 'মাহাসিনুল মাজালিস' প্রকাশের ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে এটি মুদ্রিত হয়েছিল।
আমাদের এই কিতাবটির প্রথম সংস্করণ ১৩২০ হিজরি মুতাবিক ১৯০২ সালে মায়মানিয়া প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়, যা ইবনুল কায়্যিমের অন্য একটি কিতাব 'ইগাসাতুল লাহফান'-এর হাশিয়া বা পাদটীকায় মুদ্রিত হয়েছিল। এরপর ১৩৫৮ হিজরিতে ইদারাতুত তিবায়াতিল মুনিরিয়্যাহ এটি মুদ্রণ করে এবং পরবর্তীতে ১৩৭৫ হিজরিতে মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ থেকে এর সংস্করণ বের হয়। কিন্তু এই সংস্করণগুলোর জন্য কিতাবটির কোনো নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের পাণ্ডুলিপি সংগৃহীত হয়নি। ফলে এতে প্রচুর শব্দ বিলোপ, বানান বিভ্রাট ও বিকৃতি রয়ে গেছে—কেবল সেই অংশগুলো ছাড়া যা তত্ত্বাবধায়কদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সংশোধিত হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের সেই ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা আরও ভুলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই তিনটি সংস্করণ থেকে—বিশেষ করে মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহর সংস্করণ থেকে—
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৮)
صدرت عشرات الطبعات، وصوّرت مرّات ومرّات. وزعمت طبعتان منها -وهما طبعة دار ابن كثير بتحقيق يوسف علي البديوي، وطبعة دار البيان بتحقيق بشير محمد عيون- أنهما اعتمدتا على نسخة الظاهرية، وأثبتت الأخيرة أرقام أوراقها أيضًا في الحواشي، ولكن مقارنة متن الطبعتين بالنسخة المذكورة لا تصدّق دعواهما العريضة. ولو اعتمدت إحداهما عليها لكانت خليقةً بأن تكون أصحّ الطبعات، غير أنهما لم تزيدا على مراجعتها في مواضع متفرقة تحلّةً للقسم!
وكان من فضل اللَّه سبحانه أن وفقني لإخراج هذه النشرة التي هي أول نشرة علمية للكتاب، وقد اعتمدت فيها على خمس نسخ خطيّة، أهمّها نسختان: إحداهما نسخة الظاهرية التي هي مسودة الكتاب بخط المصنف، والأخرى نسخة منقولة من نسخة المصنف حسب تصريح ناسخها.
وقد تبيّن لي أنّ المؤلف رحمه الله قد ترك الكتاب مسوّدة مع إضافاته وإلحاقاته الكثيرة، فلا أمكنه تبييضه، ولا قرئ عليه، ومن ثم قد بقي فيه من السهو وسبق القلم شيء كثير. وقد ضاع بعض كلامه أيضًا لكونه في أطراف الأوراق التي أكل منها البلى. وكان في خطه كذلك من السرعة وإهمال النقط وتداخل الكلمات وغيره ما يؤدي إلى صعوبة واختلاف في القراءة. وقد اجتهدت في قراءة النص مستعينًا بالنسخة المنقولة من الأصل وغيرها، ومستأنسًا بأسلوب المؤلف وعباراته المألوفة، وأرجو أن أكون قد وفقت في خدمة الكتاب وأدائه أداءً مقاربًا لما وضعه المؤلف رحمه الله.
ডজন ডজন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং বারবার মুদ্রিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সংস্করণ—একটি ইউসুফ আলী আল-বাদিউয়ির তাহকীকে দার ইবনে কাসিরের মুদ্রণ এবং অন্যটি বশীর মুহাম্মদ উয়ুনের তাহকীকে দার আল-বায়ানের মুদ্রণ—দাবি করেছে যে তারা জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্বিতীয় সংস্করণটি পাদটীকায় পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরও উল্লেখ করেছে, তবে উক্ত পাণ্ডুলিপির সাথে এই দুই সংস্করণের মূল পাঠের তুলনা করলে তাদের এই বিশাল দাবির সত্যতা পাওয়া যায় না। যদি তাদের মধ্যে কোনো একটি তার ওপর নির্ভর করত, তবে সেটিই সবচেয়ে নির্ভুল সংস্করণ হওয়ার যোগ্য হতো; কিন্তু তারা দায়সারাভাবে বিচ্ছিন্ন কিছু স্থানে তা দেখা ছাড়া আর বেশি কিছু করেনি!
এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ যে তিনি আমাকে এই সংস্করণটি বের করার তাওফিক দিয়েছেন, যা এই কিতাবটির প্রথম ইলমি সংস্করণ। এতে আমি পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার মধ্যে দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: একটি হলো জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপি যা লেখকের নিজ হাতের খসড়া, এবং অন্যটি এমন এক পাণ্ডুলিপি যা লেখকের মূল কপি থেকে নকল করা হয়েছে বলে এর লিপিকার স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন।
আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবটিকে তাঁর অসংখ্য সংযোজন ও পরিশিষ্টসহ খসড়া অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন। তিনি এটি চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপিতে রূপান্তর করতে পারেননি এবং তাঁর সামনে এটি পাঠও করা হয়নি। ফলে এতে অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং লিখনশৈলীর ত্রুটি অনেক রয়ে গেছে। পৃষ্ঠার কিনারে থাকা তাঁর কিছু কথা হারিয়েও গিয়েছে, কারণ কাগজের ওই অংশগুলো জীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাঁর হস্তাক্ষরেও দ্রুততা, নুকতা বা বিন্দুর অনুপস্থিতি এবং শব্দের পরস্পর মিশে যাওয়ার মতো বিষয় ছিল, যা পাঠোদ্ধারে জটিলতা ও পাঠভেদের সৃষ্টি করে। আমি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকলকৃত কপি ও অন্যান্য কপির সাহায্যে এবং লেখকের লিখনশৈলী ও পরিচিত শব্দাবলির ওপর ভিত্তি করে মূল পাঠটি উদ্ধারে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। আমি আশা করি যে, আমি কিতাবটির খিদমতে এবং লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যেভাবে এটি লিখেছিলেন তার প্রায় কাছাকাছি রূপটি উপস্থাপনে সফল হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد مهّدت للكتاب بدراسة اشتملت على الفصول الآتية:
1 - توثيق نسبة الكتاب.
2 - عنوان الكتاب.
3 - تاريخ تأليف الكتاب.
4 - مقصد الكتاب.
5 - ترتيب الكتاب وبعض مباحثه المهمة، وفيه إشارة إلى بعض طرائق التاليف اللطيفة عند المصنف.
6 - أهمية الكتاب.
7 - موارد الكتاب.
8 - طبع الكتاب وتحقيقه واختصاره وترجمته.
9 - مخطوطات الكتاب.
10 - منهج التحقيق، مع نماذج مصورة من النسخ المعتمدة.
وأشكر الأخ الشيخ زائد بن أحمد النشيري الذي تولّى تخريج الأحاديث الواردة في الكتاب ما عدا أحاديث الصحيحين، فجزاه اللَّه خير الجزاء.
وقبل أن أضع القلم آمل من القراء، لا سيما العلماء والباحثون، إذا وقفوا على خلل أو زلل في خدمة الكتاب، أن لا يضنّوا عليّ بإفاداتهم وتنبيهاتهم. فالأمانة ثقيلة، والإنسان مهما اجتهد وبالغ فإنه إلى الضعف والنسيان ما هو! وخدمة هذا التراث العظيم لا تتم عندي إلا بتعاون
আমি এই গ্রন্থটির জন্য একটি ভূমিকা প্রস্তুত করেছি যাতে নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
১ - গ্রন্থটির নিসবত বা সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই।
২ - গ্রন্থের শিরোনাম।
৩ - গ্রন্থ রচনার ইতিহাস।
৪ - গ্রন্থের উদ্দেশ্য।
৫ - গ্রন্থের বিন্যাস এবং এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা; এতে গ্রন্থকারের কিছু সূক্ষ্ম রচনাশৈলীর প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৬ - গ্রন্থের গুরুত্ব।
৭ - গ্রন্থের উৎসসমূহ।
৮ - গ্রন্থের মুদ্রণ, তাহকীক (সম্পাদনা), সারসংক্ষেপ ও অনুবাদ।
৯ - গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ।
১০ - তাহকীক পদ্ধতি, সাথে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর চিত্রিত নমুনা।
আমি ভাই শায়খ জায়েদ বিন আহমাদ আন-নাশিরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি সহীহাইনের হাদীস ব্যতীত এই গ্রন্থে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসসমূহের তাখরীজের দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
কলম রাখার পূর্বে আমি পাঠকদের কাছে, বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম ও গবেষকদের কাছে আশা রাখি, যদি তারা এই গ্রন্থের খেদমতে কোনো ভুল বা বিচ্যুতি দেখতে পান, তবে যেন তারা তাদের মূল্যবান পরামর্শ ও সতর্কবার্তার মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা করতে কৃপণতা না করেন। আমানত অত্যন্ত ভারী বস্তু, আর মানুষ যত চেষ্টাই করুক না কেন, সে তো দুর্বলতা ও বিস্মৃতির আধার! এই মহান ঐতিহ্যের সেবা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয় বরং সহযোগিতার মাধ্যমেই তা পূর্ণতা পায়।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১০)
المحقق الخبير والناقد البصير؛ وإني إذ لم أكن بذاك، أرجو أن لا أعدم ناقدًا بصيرًا يُهدي إليّ عيوبي.
أسأل اللَّه أن ينفع بهذا الكتاب، وأن يغفر لمؤلفه، ويرفع درجاته، ويجزيه عنا خير ما يجزي العلماء الربانيين. وصلى اللَّه وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
الرياض
محمد أجمل أيوب الإصلاحي
22/ 12/ 1427 هـ
অভিজ্ঞ গবেষক এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সমালোচক; আর আমি যেহেতু তেমন কেউ নই, তাই আমি আশা করি এমন একজন অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সমালোচক থেকে বঞ্চিত হব না যিনি আমার কাছে আমার ত্রুটিগুলো উপহার হিসেবে পেশ করবেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবের মাধ্যমে উপকার সাধন করেন, এর লেখককে ক্ষমা করেন, তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং রব্বানী আলেমদেরকে যে সর্বোত্তম প্রতিদান তিনি দান করেন, আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সেই শ্রেষ্ঠ প্রতিদান প্রদান করেন। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের ওপর।
রিয়াদ
মুহাম্মদ আজমল আইয়ুব আল-ইসলাহী
২২/ ১২/ ১৪২৭ হিজরি
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১১)
توثيق نسبة الكتابلم يكن هذا الكتاب بحاجة إلى توثيق نسبته إلى الإمام ابن القيم رحمه الله، فإننا لا نعرف أحدًا شكّ في ذلك، لولا ما وجد على ظهر نسخة منه، وهي محفوظة في مكتبة الدولة في برلين برقم 8795، وناقصة من أولها بقدر ستين ورقة تقريبًا، فكتب بعضهم في أعلى الورقة الأولى: "كتاب نهج العمل لابن حجر"، وفي ورقة أخرى قبلها كتب: "نهج العمل لابن حجر في السلوك". ولعل من كتب هذه العبارة قصد المغالاة في ثمن النسخة وإغراء من يعرضها عليه بالشراء. وذلك لأن النسخة كتبت سنة 816 هـ كما جاء في خاتمتها، فإذا كان مؤلفها الحافظ ابن حجر المتوفى سنة 852 هـ، فهي على هذا قد نسخت في حياة المؤلف قبل وفاته بستة وثلاثين عامًا، فلا شكّ إذن في كونها نسخة ثمينة جدَّا! ولكن لا أدري من أين جاء هذا الكاتب بعنوان "نهج العمل"، إذ لم أره عنوانًا لكتاب مطلقًا في كشف الظنون وذيله، فضلًا عن أن يكون عنوانًا لكتاب من كتب الحافظ ابن حجر رحمه الله. والجدير بالذكر أن في بداية بعض الكراريس تصريحًا بكونه "حادي عشر من طريق الهجرتين" مثلًا.
وبعد، فإن الشواهد على نسبة الكتاب إلى ابن القيم كثيرة جدًّا ومتنوعة. ومن أبرزها:
(1) أن المخطوطة التي اعتمدنا عليها في هذه الطبعة مسودة الكتاب بخط المؤلف. وفي صفحة العنوان كتب اسمه واسم الكتاب مصرّحًا بأنه من تأليفه، كما سيأتي في وصف المخطوطة.
গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার সত্যতা যাচাইইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি এই গ্রন্থটির সম্পৃক্ততা প্রমাণের কোনো প্রয়োজন ছিল না—কারণ আমরা এমন কাউকে জানি না যে এটি নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন—যদি না এর একটি পাণ্ডুলিপির ওপর প্রাপ্ত তথ্যটি বিদ্যমান থাকত। পাণ্ডুলিপিটি বার্লিনের স্টেট লাইব্রেরিতে ৮৭৯৫ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে এবং এর শুরু থেকে প্রায় ষাটটি পৃষ্ঠা কম রয়েছে। জনৈক ব্যক্তি প্রথম পৃষ্ঠার উপরিভাগে লিখেছে: "ইবনে হাজারের গ্রন্থ নাহজুল আমাল", এবং এর পূর্বের অন্য একটি পাতায় লিখেছে: "আচরণ বিধি (সুলুক) বিষয়ে ইবনে হাজারের নাহজুল আমাল"। সম্ভবত যিনি এই বাক্যটি লিখেছেন, তিনি পাণ্ডুলিপিটির দাম বৃদ্ধি করা এবং যার কাছে এটি পেশ করা হয়েছে তাকে ক্রয়ে প্রলুব্ধ করার উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন। কারণ পাণ্ডুলিপিটির সমাপ্তিতে যেমনটি উল্লেখ আছে, এটি ৮১৬ হিজরীতে অনুলিপি করা হয়েছে। সুতরাং যদি এর লেখক হাফেজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী) হন, তবে সেই অনুযায়ী এটি লেখকের জীবদ্দশায় তাঁর মৃত্যুর ছত্রিশ বছর পূর্বেই অনুলিপি করা হয়েছে; এমতাবস্থায় নিঃসন্দেহে এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য হবে! কিন্তু আমি জানি না এই লেখক "নাহজুল আমাল" শিরোনামটি কোথা থেকে পেলেন, যেহেতু আমি 'কাশফুয যুনুন' এবং এর পরিশিষ্টে কোনো গ্রন্থের এই শিরোনাম কখনোই দেখিনি; হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কোনো গ্রন্থের শিরোনাম হওয়া তো দূরের কথা। উল্লেখ্য যে, কিছু পাণ্ডুলিপির শুরুতে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এটি উদাহরণস্বরূপ "তারিকুল হিজরাতাইন-এর একাদশ অংশ"।
পরকথা এই যে, ইবনুল কাইয়্যিমের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার প্রমাণাদি অত্যন্ত প্রচুর এবং বৈচিত্র্যময়। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
(১) যে পাণ্ডুলিপিটির ওপর ভিত্তি করে আমরা এই সংস্করণটি প্রস্তুত করেছি, সেটি লেখকের নিজ হাতের মূল খসড়া। এর শিরোনামের পৃষ্ঠায় তাঁর নাম ও বইয়ের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে লেখা হয়েছে যে এটি তাঁরই রচনা, যেমনটি পাণ্ডুলিপির বর্ণনায় সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১২)
(2) أن المؤلف نفسه ذكره أربع مرّات في كتابه مدارج السالكين، والمباحث التي أحال فيها على كتابنا كلها موجودة فيه. فذكر في الموضع الأول (1/ 155) مذهب نفاة الحكمة والتعليل الذين لا فرق عندهم بين المأمور والمحظور في نفس الأمر، والمشيئة هي التي اقتضت أمره ونهيه عن هذا. ثم أشار إلى أنه بيّن فساد هذا الأصل من نحو ستين وجهًا في كتابه مفتاح دار السعادة، وأنه ذكره أيضًا في كتابه المسمى بسفر الهجرتين وطريق السعادتين. وهذا المبحث موجود في كتابنا في ص (246).
وفي الموضع الثاني (1/ 480) أورد فصلًا في مشاهد الخلق في المعصية وقال: "ولعلك لا تظفر به في كتاب سواه إلّا ما ذكرناه في كتابنا المسمى سفر الهجرتين في طريق السعادتين". وهذا الفصل يوجد في كتابنا في ص (350).
وفي الموضع الثالث (1/ 567) عندما فسّر ابن القيم كلام صاحب منازل السائرين في رياضة خاصة الخاصة، وأن منها "قطع المعاوضات" نبّه على أن سؤال المحبّ الصادق أن يثيبه اللَّه سبحانه الجنة والقرب منه والتنعم بحبه ليس قادحًا في عبوديته، ثم قال: "وقد استوفينا ذكر هذا الموضع في كتاب سفر الهجرتين عند الكلام على علل المقامات". ولعل المؤلف يشير إلى المسألة الخامسة من المسائل الخمس في المحبة والشوق، التي تكلم عليها في كتابنا في ص (729).
وأشار في الموضع الرابع (2/ 74) إلى مسألة في الشوق، هل يبقى عند لقاء المحبوب أو يزول، فقال: "ولقد ذكرنا هذه المسألة مستقصاة وتوابعها في كتابنا الكبير في المحبة، وفي كتاب سفر الهجرتين". وهذه
(২) লেখক নিজে তাঁর 'মাদারিজুস সালিকিন' গ্রন্থে চারবার এর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি সেখানে আমাদের এই বইটির দিকে যে আলোচনাগুলোর রেফারেন্স দিয়েছেন, তার সবগুলোই এতে বিদ্যমান রয়েছে। তিনি প্রথম স্থানে (১/১৫৫) প্রজ্ঞা (হিকমত) ও কারণতত্ত্ব (তা'লীল) অস্বীকারকারীদের মতবাদ উল্লেখ করেছেন, যাদের নিকট প্রকৃত বিচারে আদেশকৃত বিষয় ও নিষিদ্ধ বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; বরং কেবল ইচ্ছাই (মাশিয়াত) তাঁর আদেশ ও নিষেধকে এই রূপ দান করেছে। অতঃপর তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি তাঁর 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' গ্রন্থে প্রায় ষাটটি দিক থেকে এই মূলনীতির অসারতা বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর 'সিফরুল হিজরাতাইন ওয়া তরিকুস সাআদাতাইন' নামক কিতাবেও এর উল্লেখ করেছেন। আর এই আলোচনাটি আমাদের বইয়ের ২৪৬ নং পৃষ্ঠায় বিদ্যমান।
দ্বিতীয় স্থানে (১/৪৮০) তিনি গুনাহের ক্ষেত্রে সৃষ্টির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি পরিচ্ছেদ এনেছেন এবং বলেছেন: "সম্ভবত আপনি এটি এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও পাবেন না, তবে আমরা আমাদের 'সিফরুল হিজরাতাইন ফি তরিকুস সাআদাতাইন' নামক গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত।" এই পরিচ্ছেদটি আমাদের বইয়ের ৩৫০ নং পৃষ্ঠায় রয়েছে।
তৃতীয় স্থানে (১/৫৬৭) যখন ইবনুল কায়্যিম বিশেষের বিশেষদের (খাসসাতুল খাসসাহ) সাধনা প্রসঙ্গে 'মানাজিলুস সায়িরীন' এর লেখকের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন, যার অন্তর্ভুক্ত হলো "বিনিময়ের আশা ত্যাগ করা"; তখন তিনি সতর্ক করেছেন যে, সত্যনিষ্ঠ প্রেমিকের আল্লাহর নিকট জান্নাত, তাঁর নৈকট্য এবং তাঁর ভালোবাসার নেয়ামত পাওয়ার প্রার্থনা করা তার দাসত্বের (উবুদিয়াত) পরিপন্থী নয়। অতঃপর তিনি বলেছেন: "আমরা 'সিফরুল হিজরাতাইন' গ্রন্থে মাকামাতসমূহের ত্রুটিবিচ্যুতি (ইলালুল মাকামাত) নিয়ে আলোচনার সময় এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি।" সম্ভবত লেখক এখানে মহব্বত ও শওক (প্রেম ও ব্যাকুলতা) বিষয়ক পাঁচটি মাসআলার মধ্যে পঞ্চম মাসআলাটির দিকে ইঙ্গিত করছেন, যা আমাদের বইয়ের ৭২৯ নং পৃষ্ঠায় আলোচিত হয়েছে।
চতুর্থ স্থানে (২/৭৪) তিনি শওক (ব্যাকুলতা) বিষয়ক একটি মাসআলার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রিয়তমের সাথে সাক্ষাতের সময় তা কি অবশিষ্ট থাকে নাকি দূর হয়ে যায়। তিনি বলেছেন: "আমরা আমাদের মহব্বত বিষয়ক বৃহৎ গ্রন্থে এবং 'সিফরুল হিজরাতাইন' গ্রন্থে এই মাসআলাটি এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো সবিস্তারে উল্লেখ করেছি।" আর এই
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المسألة هي المسألة الثالثة من المسائل الخمس المذكورة. انظر ص (724).
(3) ومنها أن ابن القيم أحال في هذا الكتاب على مؤلفات أخرى له نحو قوله في ص (86): "وقد ذكرنا في كتاب الكلم الطيب والعمل الصالح من فوائد الذكر استجلاب ذكر اللَّه لعبده، وذكرنا قريبًا من مائة فائدة تتعلق بالذكر، وكل فائدة منها لا خطر لها، وهو كتاب عظيم النفع جدًّا". والكتاب المذكور معروف مطبوع، وقد صدرت منه نشرة جديدة ضمن هذا المشروع أيضًا بعنوان "الوابل الصيب ورافع الكلم الطيب".
وكذلك أحال فيه على كتابه "التحفة المكية" مرتين (425، 454)، وهو من الكتب التي ذكرها الحافظ ابن رجب وغيره من مؤلفات ابن القيم. وقد أشار ابن القيم أيضَا إليه في عدة مواضع من كتابه بدائع الفوائد.
وأحال أيضًا على كتاب كبير له في المحبة قائلًا: "وقد ذكرنا مجموع هذه الطرق في كتابنا الكبير في المحبة الذي سميناه "المورد الصافي والظل الضافي" في المحبة وأقسامها وأنواعها وأحكامها، وبيان تعلقها بالإله الحق دون ما سواه، وذكرنا من ذلك ما يزيد على مائة وجه" (124). وهذا الكتاب هو الذي أشار إليه في مدارج السالكين (2/ 598) -وإن لم يسمّه- فقال: "وجميع طرق الأدلة عقلًا ونقلًا وفطرةً وقياسًا واعتبارًا وذوقًا ووجدًا تدلّ على إثبات محبة العبد لربه والرب لعبده، وقد كرنا من ذلك قريبًا من مائة طريق في كتابنا الكبير في المحبة". وهو غير كتاب "روضة المحبين" المطبوع.
وقد أشار أيضًا إلى تابين آخرين لم يسمّهما، فقال في موضع:
মাসআলাটি হলো উল্লিখিত পাঁচটি মাসআলার মধ্যে তৃতীয় মাসআলা। দেখুন পৃষ্ঠা (৭২৪)।
(৩) এর মধ্যে একটি হলো, ইবনুল কাইয়্যিম এই কিতাবে তাঁর অন্যান্য রচনার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমন পৃষ্ঠা (৮৬)-তে তাঁর এই বক্তব্য: "আমরা ‘আল-কালিমুত তায়্যিব ওয়াল আমালুস সালিহ’ কিতাবে জিকিরের উপকারিতা হিসেবে বান্দার প্রতি আল্লাহর জিকির আকর্ষণ করার বিষয়টি উল্লেখ করেছি। আর আমরা জিকির সংশ্লিষ্ট প্রায় একশটি উপকারিতা উল্লেখ করেছি, যার প্রতিটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি কিতাব।" কিতাবটি সুপরিচিত এবং মুদ্রিত। এই প্রকল্পের অধীনেও এর একটি নতুন সংস্করণ ‘আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব ওয়া রাফিউল কালিমিত তায়্যিব’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।
একইভাবে তিনি এতে তাঁর ‘আত-তুহফাতুল মাক্কিয়্যাহ’ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়েছেন দুইবার (৪২৫, ৪৫৪)। এটি হাফেজ ইবনে রজব এবং অন্যান্যরা ইবনুল কাইয়্যিমের রচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম নিজেও তাঁর ‘বাদায়িউল ফাওয়াইদ’ কিতাবের বেশ কয়েকটি স্থানে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
তিনি মহব্বত বা ভালোবাসা বিষয়ে তাঁর একটি বৃহৎ কিতাবের উদ্ধৃতিও দিয়েছেন এই বলে: "আমরা এই সমস্ত পন্থা মহব্বত বিষয়ক আমাদের সেই বৃহৎ কিতাবে উল্লেখ করেছি, যার নাম আমরা রেখেছি ‘আল-মাওরিদুস সাফি ওয়াজ জিল্লুদ দাফি’। এতে মহব্বত, এর প্রকারভেদ, ধরন ও আহকাম এবং একমাত্র সত্য ইলাহের সাথে এর সম্পৃক্ততা ও অন্য কারো সাথে এর সম্পর্কহীনতার বর্ণনা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে একশ’রও বেশি দিক উল্লেখ করেছি" (১২৪)। আর এটিই সেই কিতাব যার প্রতি তিনি ‘মাদারিজুস সালিকিন’ (২/৫৯৮) গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন—যদিও সেখানে এর নাম উল্লেখ করেননি—তিনি বলেছেন: "যুক্তি, বর্ণনা, ফিতরাত, কিয়াস, বিবেচনা, স্বাদ ও অনুভবের সকল প্রমাণাদি সাব্যস্ত করে যে, বান্দার জন্য তাঁর রবের প্রতি এবং রবের জন্য তাঁর বান্দার প্রতি ভালোবাসা রয়েছে। আমরা মহব্বত বিষয়ক আমাদের বৃহৎ কিতাবে এ সম্পর্কে প্রায় একশটি পন্থা উল্লেখ করেছি।" এটি মুদ্রিত ‘রওজাতুল মুহিব্বিন’ কিতাব থেকে ভিন্ন একটি কিতাব।
তিনি আরও দুটি কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি। এক স্থানে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"وقد ذكرنا مائتي دليل على فضل العلم وأهله في كتاب مفرد" (770). ولا يخفى أن المقصود كتاب فضل العلماء الذي ذكره ابن رجب في ترجمة ابن القيم
(1).
وفي موضع آخر تطرق الكلام إلى الأنفع والأفضل من النخيل والعنب وأنّ طائفة رجحت النخل وأخرى رجحت العنب، فقال: "وذكرت كل طائفة حججًا لقولها قد ذكرناها في غير هذا الموضع" (808). والظاهر أن المؤلف رحمه الله يشير إلى كتابه مفتاح دار السعادة الذي تضمن هذا المبحث (2/ 117).
(4) ومنها المباحث المشتركة بين هذا الكتاب والكتب الأخرى للمؤلف، ولا خلاف بينها إلا في الاختصار والتفصيل أو التقديم والتأخير. أما نفسه وبيانه ومنهجه في ذكر الأقوال والمذاهب والموازنة بينها، فهو هو، بل تجد اللفظ بعينه بعض الأحيان.
ومن أمثلتها مبحث طويل في مذاهب الناس في أطفال المشركين (842 - 877). وقد ورد المبحث نفسه في كتاب أحكام أهل الذمة (1086 - 1130)، وفي حاشية المؤلف على سنن أبي داود (12/ 320).
ومن ذلك أيضًا تفسير المؤلف لدعاء النبي صلى الله عليه وسلم: "اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن، والعجز والكسل، والجبن والبخل، وضلع الدين وغلبة الرجال" (605). وقد فسره أيضًا في بدائع الفوائد (714) ومفتاح
--------------------------------------------
"এবং আমরা ইলম ও আলিমদের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে দুইশত দলিল উল্লেখ করেছি" (৭৭০)। এটা অস্পষ্ট নয় যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো 'ফাদলুল উলামা' গ্রন্থটি, যা ইবনে রজব ইবনুল কাইয়্যিমের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন
(১)।
অন্য এক স্থানে খেজুর ও আঙ্গুরের মধ্যে কোনটি অধিক উপকারী ও উত্তম সেই প্রসঙ্গে আলোচনা এসেছে; এক দল খেজুরকে প্রাধান্য দিয়েছে এবং অন্য দল আঙ্গুরকে। তিনি বলেন: "প্রত্যেক দলই তাদের মতের সপক্ষে দলিল পেশ করেছে, যা আমরা এই স্থান ব্যতীত অন্য জায়গায় উল্লেখ করেছি" (৮০৮)। স্পষ্টত যে, লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' গ্রন্থের দিকে ইঙ্গিত করছেন, যা এই আলোচনাটি অন্তর্ভুক্ত করেছে (২/ ১১৭)।
(৪) এর মধ্যে রয়েছে সেইসব যৌথ আলোচনা যা এই গ্রন্থ এবং লেখকের অন্যান্য গ্রন্থের মাঝে বিদ্যমান; এগুলোর মধ্যে সংক্ষিপ্তকরণ ও বিস্তারিত বর্ণনা অথবা আগে-পিছে করা ছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই। তবে মতভেদ ও মাযহাবসমূহ উল্লেখ করা এবং সেগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর সত্তা, বর্ণনাভঙ্গি ও পদ্ধতি একই রকম; বরং কখনো কখনো আপনি হুবহু একই শব্দাবলি খুঁজে পাবেন।
এর উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি হলো মুশরিকদের শিশুদের ব্যাপারে মানুষের বিভিন্ন মতের ওপর একটি দীর্ঘ আলোচনা (৮৪২ - ৮৭৭)। এই একই আলোচনা 'আহকামু আহলিয যিম্মাহ' গ্রন্থে (১০৮৬ - ১১৩০) এবং সুনানে আবু দাউদের ওপর লেখকের টিকায় (১২/ ৩২০) এসেছে।
অনুরূপভাবে এর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই দোয়ার লেখকের কৃত ব্যাখ্যা: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের প্রবলতা থেকে" (৬০৫)। তিনি এটি 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' (৭১৪) এবং মিফতাহু...-এ ও ব্যাখ্যা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
دار السعادة (1/ 375) والداء والدواء (118).
ومن ذلك تفسيره لكلام صاحب منازل السائرين على الفقر والغنى والتجريد والشوق. وقد فسره في كتابنا هذا (19، 63، 67، 729) ثم فسره في مدارج السالكين (2/ 497، 503)، (3/ 21، 408). والمقارنة بينهما تكشف عن وجوه المشابهة والمفارقة، ولكن تؤكد في الوقت نفسه أن الكلامين لمؤلف واحد.
(5) ومنها نقول المؤلف عن شيخه شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله. وبعضها من كتبه وبعضها رواية شفوية عنه. وسيأتي الحديث عنها عند الكلام على موارد المؤلف في هذا الكتاب.
(6) وأخيرًا اتفاق كتب التراجم على نسبته إلى ابن القيم، وبعضها لتلامذته ومعاصريه، كما سيتبين من الفقرة الآتية.
দারুস সাআদাহ (১/ ৩৭৫) এবং আদ-দাউ ওয়াদ-দাওয়া (১১৮)।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'মানাজিলুস সায়িরীন' গ্রন্থের রচয়িতার দারিদ্র্য, সচ্ছলতা, নির্লিপ্ততা ও আকাঙ্ক্ষা বিষয়ক বক্তব্যের ওপর তাঁর ব্যাখ্যা। তিনি আমাদের এই কিতাবে তা ব্যাখ্যা করেছেন (১৯, ৬৩, ৬৭, ৭২৯) এবং পরবর্তীতে 'মাদারিজুস সালিকীন' (২/ ৪৯৭, ৫০৩), (৩/ ২১, ৪০৮) গ্রন্থেও এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। উভয়ের মধ্যে তুলনা করলে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো উন্মোচিত হয়, তবে এটি একই সাথে নিশ্চিত করে যে, উভয় বক্তব্যই একজন লেখকের।
(৫) এর মধ্যে রয়েছে লেখকের স্বীয় উস্তাদ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিসমূহ। এর কিছু তাঁর কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত এবং কিছু তাঁর থেকে বর্ণিত মৌখিক বর্ণনা। এই কিতাবে লেখকের উৎসসমূহ আলোচনার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
(৬) পরিশেষে, জীবনীগ্রন্থসমূহের ঐকমত্য যে এটি ইবনুল কাইয়্যিমের রচনা; যার কয়েকটি তাঁর ছাত্র ও সমসাময়িকদের লেখা, যা পরবর্তী অনুচ্ছেদ থেকে স্পষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عنوان الكتابذكر الكتاب في المصادر -ومنها بعض كتب المؤلف- بعدّة عناوين وصلت إلى ستة وجوه، وهي:
1 - سفر الهجرتين وطريق السعادتين.
بهذا العنوان سمّاه المؤلف في مدارج السالكين (1/ 156)، فقال: ". . . وذكرنا أيضًا في كتابنا المسمّى بـ (سفر الهجرتين وطريق السعادتين) ".
وهذا العنوان هو الذي ذكره الصفدي (764 هـ) في الوافي (2/ 271) وأعيان العصر (4/ 369)، وابن تغري بردي (874 هـ) في المنهل الصافي (3/ 62).
2 - سفر الهجرتين في طريق السعادتين.
هذا العنوان أيضًا ورد في كتاب مدارج السالكين (1/ 480) قال: ". . . ذكرناه في كتابنا المسمّى (سفر الهجرتين في طريق السعادتين) ". وغريب أن يختلف العنوان في كتاب واحد في موضعين متقاربين.
3 - سفر الهجرتين وباب السعادتين.
ذكره تلميذه الحافظ ابن رجب (795 هـ) في ترجمته في ذيل طبقات الحنابلة (5/ 175). ومنه نقل ابن ناصر الدين (842 هـ) في الرد الوافر (68) والداودي (945 هـ) في طبقات المفسرين (2/ 92) ومرعي بن يوسف الحنبلي (1033 هـ) في الشهادة الزكية (34) وابن العماد (1089 هـ) في شذرات الذهب (3/ 169).
গ্রন্থের শিরোনামবিভিন্ন উৎসসমূহে—যার মধ্যে লেখকের নিজস্ব কিছু গ্রন্থও রয়েছে—বইটি বিভিন্ন শিরোনামে উল্লেখিত হয়েছে যা ছয়টি রূপ পর্যন্ত পৌঁছেছে, সেগুলো হলো:
১ - সাফারুল হিজরাতাইন ওয়া ত্বরীকুস সা’আদাতাইন।
এই শিরোনামেই লেখক ‘মাদারিজুস সালিকিন’ গ্রন্থে (১/ ১৫৬) বইটির নামকরণ করেছেন, তিনি বলেছেন: “. . . এবং আমরা আমাদের ‘সাফারুল হিজরাতাইন ওয়া ত্বরীকুস সা’আদাতাইন’ নামক গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছি।”
আর এই শিরোনামটিই আস-সাফাদি (৭৬৪ হি.) ‘আল-ওয়াফি’ (২/ ২৭১) ও ‘আ’য়ানুল আসর’ (৪/ ৩৬৯) গ্রন্থে এবং ইবনে তাগরি বারদি (৮৭৪ হি.) ‘আল-মানহালুস সাফি’ (৩/ ৬২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
২ - সাফারুল হিজরাতাইন ফী ত্বরীকিস সা’আদাতাইন।
এই শিরোনামটিও ‘মাদারিজুস সালিকিন’ গ্রন্থে (১/ ৪৮০) এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন: “. . . আমরা এটি আমাদের ‘সাফারুল হিজরাতাইন ফী ত্বরীকিস সা’আদাতাইন’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।” এটি আশ্চর্যের বিষয় যে, একই গ্রন্থের দুটি কাছাকাছি স্থানে শিরোনামটি ভিন্নভাবে এসেছে।
৩ - সাফারুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সা’আদাতাইন।
তাঁর ছাত্র হাফেজ ইবনে রাজাব (৭৯৫ হি.) ‘যায়লু তাবাকাতিল হানাবিলাহ’ (৫/ ১৭৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন। তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন ইবনে নাসিরুদ্দিন (৮৪২ হি.) ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’ (৬৮) গ্রন্থে, আদ-দাউদি (৯৪৫ হি.) ‘তাবাকাতুল মুফাসসিরিন’ (২/ ৯২) গ্রন্থে, মারয়ী বিন ইউসুফ আল-হানবালি (১০৩৩ হি.) ‘আশ-শাহাদাতুয যাকিইয়্যাহ’ (৩৪) গ্রন্থে এবং ইবনুল ইমাদ (১০৮৯ হি.) ‘শাযারাতুয যাহাব’ (৩/ ১৬৯) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
4 - سفر الهجرتين.
بهذا سمّاه المؤلف في موضعين في مدارج السالكين (1/ 567) و (2/ 47). وهو ليس عنوانًا جديدًا، وإنما هو اختصار صالح للعناوين الثلاثة السابقة. وكذا ذكره السيوطي في بغية الوعاة (1/ 63).
5 - طرق السعادتين.
وهذا أيضًا جاء على وجه الاختصار. ولكن الذي يلفت النظر أن "الطريق" صارت هنا "طرقًا"، وكذا سمّاه الحافظ ابن حجر (852 هـ) في الدرر الكامنة (3/ 402). وكلمة "طرق" -فيما يظهر- ليست تحريفًا في مطبوعة الدرر، بل كذا ورد في الأصل الذي بخط السخاوي. ثم كذا نقله الشوكاني (1250 هـ) منه في البدر الطالع (2/ 144).
6 - طريق الهجرتين وباب السعادتين.
هذا العنوان ورد بخط المصنف مرتين في الأصل الذي اعتمدنا عليه في تحقيق هذا الكتاب: أولًا في صفحة العنوان، وثانيًا في مقدمة الكتاب التي قال فيها: ". . . وسميناه (طريق الهجرتين وباب السعادتين)، وابتدأناه بباب الفقر والعبودية، إذ هو باب السعادة الأعظم وطريقها الأقوم. . . ".
ولعلّ الصيغ الثلاث الأولى التي ذكرها المؤلف ومعاصره الصفدي وتلميذه ابن رجب، كان المؤلف رحمه الله يميّل رأيه بينها، ثم استقرّ على العنوان الأخير الذي أثبته في المقدمة وفي صفحة العنوان.
وهذا العنوان هو الوارد في سائر النسخ الخطيّة إلّا نسختين لا يعوّل عليهما. إحداهما نسخة الشيخ محمد بن إبراهيم الضويّان، وقد كتب
৪ - সফরুল হিজরাতাইন।
লেখক স্বয়ং ‘মাদারিজুস সালিকিন’-এর (১/ ৫৬৭) এবং (২/ ৪৭) দুটি স্থানে একে এই নামে অভিহিত করেছেন। এটি কোনো নতুন নাম নয়, বরং পূর্বের তিনটি শিরোনামের একটি গ্রহণযোগ্য সংক্ষেপিত রূপ। একইভাবে সুয়ূতী ‘বুগইয়াতুল ওয়াত’ (১/ ৬৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
৫ - তুরুকুস সাআ’দাতাইন।
এটিও সংক্ষেপিত রূপ হিসেবে এসেছে। তবে যা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তা হলো, এখানে ‘তরিক’ (একবচন পথ) শব্দটি ‘তুরুক’ (বহুবচন পথসমূহ) হয়ে গিয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার (৮৫২ হি.) ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (৩/ ৪০২) গ্রন্থে একে এই নামে উল্লেখ করেছেন। দৃশ্যত ‘তুরুক’ শব্দটি আদ-দুরার-এর মুদ্রিত সংস্করণের কোনো ভুল নয়, বরং সাখাভীর স্বহস্তে লিখিত মূল পাণ্ডুলিপিতেও এভাবেই এসেছে। এরপর শাওকানী (১২৫০ হি.) ‘আল-বদরুত তালি’ (২/ ১৪৪) গ্রন্থে সেখান থেকেই এটি উদ্ধৃত করেছেন।
৬ - তরিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআ’দাতাইন।
এই শিরোনামটি গ্রন্থকারের স্বহস্তে দুবার সেই মূল পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া গেছে যার ওপর ভিত্তি করে আমরা এই কিতাবটির তাহকিক সম্পন্ন করেছি: প্রথমত শিরোনামের পাতায়, এবং দ্বিতীয়ত কিতাবের ভূমিকায় যেখানে তিনি বলেছেন: “. . . আর আমরা এর নাম রেখেছি (তরিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআ’দাতাইন), এবং আমরা এটি শুরু করেছি ফাকর (অভাবগ্রস্ততা) ও উবুদিয়্যাহ (দাসত্ব) অধ্যায় দিয়ে, যেহেতু এটিই হলো সৌভাগ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ দুয়ার এবং এর সুদৃঢ়তম পথ . . .”।
সম্ভবত লেখক, তাঁর সমসাময়িক সাফাদী এবং তাঁর ছাত্র ইবনে রজব কর্তৃক উল্লিখিত প্রথম তিনটি শিরোনামের বিষয়ে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মত পোষণ করতেন, অবশেষে তিনি সর্বশেষ শিরোনামটির ওপর স্থির হন যা তিনি ভূমিকা এবং শিরোনামের পাতায় লিখে গিয়েছেন।
দুটি অনির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি ব্যতীত অন্যান্য সকল পাণ্ডুলিপিতে এই শিরোনামটিই এসেছে। তার একটি হলো শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আদ-দুওয়াইয়ানের পাণ্ডুলিপি, যা তিনি লিখেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
العنوان في الورقة الأولى: "كتاب سفر الهجرتين وباب السعادتين" مع أن العنوان المعروف هو الثابت في مقدمة المؤلف (ق 2/ ب)، فأخشى أن يكون ذلك من اجتهاد الناسخ. والنسخة الأخرى في مكتبة جامعة ليدن بخط حديث، وقد كتب اسم الكتاب في صفحة العنوان هكذا: "سفر الهجرتين وطريق السعادتين أو طريق الهجرتين وباب السعادتين".
প্রথম পাতায় শিরোনামটি হলো: "দুই হিজরতের সফর ও দুই সৌভাগ্যের প্রবেশদ্বার নামক কিতাব", যদিও পরিচিত শিরোনামটি হলো সেটি যা লেখকের ভূমিকায় (পত্র ২/খ) সাব্যস্ত হয়েছে; এমতাবস্থায় আমি আশঙ্কা করছি যে এটি লিপিকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে। আর লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত অপর পাণ্ডুলিপিটি আধুনিক হস্তাক্ষরে লিখিত, এবং সেখানে শিরোনামের পাতায় কিতাবটির নাম এভাবে লেখা হয়েছে: "দুই হিজরতের সফর ও দুই সৌভাগ্যের পথ অথবা দুই হিজরতের পথ ও দুই সৌভাগ্যের প্রবেশদ্বার"।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تاريخ تأليف الكتابلم أجد في مخطوطات الكتاب أو غيرها نصَّا على التاريخ الذي فرغ المؤلف فيه من تأليف هذا الكتاب، ولكن أذكر فيما يلي بعض الإشارات التي تعين على تقديره.
خرج الإمام ابن القيم رحمه الله من السجن بعد وفاة شيخه فيه سنة 728 هـ. "وكان في مدة حبسه مشتغلًا بتلاوة القرآن وبالتدبر والتفكر، ففتح عليه من ذلك خير كثير، وحصل له جانب عظيم من الأذواق والمواجيد الصحيحة. وتسلّط بسبب ذلك على الكلام في علوم أهل المعارف والخوض في غوامضهم. وتصانيفه ممتلئة بذلك"، كما يقول تلميذه الحافظ ابن رجب في ترجمته
(1). وإذا استعرضنا مؤلفات ابن القيم لم نجد كتابًا تصدق عليه كلمة ابن رجب هذه صدقها على كتابنا طريق الهجرتين وكتاب مدارج السالكين. فكلاهما وضع في علم السلوك، وهما يشهدان حقًا بما أوتي المؤلف من "تسلّط" على الكلام في العلوم والحقائق التي تنقطع عندها العبارة، وتجفو عنها الإشارة، كما يقول أصحابها. فالظاهر أن الكتابين من الكتب التي ألّفت بعد خروج المؤلف من السجن سنة 728 هـ. وقد تبيّن ممّا سبق أن طريق الهجرتين ألّف قبل مدارج السالكين لأن المؤلف قد أحال في المدارج أربع مرات على كتابنا هذا.
ثم في طريق الهجرتين مبحث طويل في القدر، جاء على سبيل الاستطراد ولكنه طال جدًّا لأهميته البالغة. وللمؤلف كتاب مستقلّ في
--------------------------------------------
গ্রন্থের রচনার ইতিহাসএই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিগুলোতে বা অন্য কোথাও লেখক এই গ্রন্থটি রচনা থেকে কখন অবসর হয়েছেন সে সম্পর্কে আমি কোনো সুনির্দিষ্ট বর্ণনা খুঁজে পাইনি, তবে নিচে আমি এমন কিছু ইঙ্গিত উল্লেখ করছি যা এর সময়কাল অনুমানে সহায়তা করবে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ৭২৮ হিজরিতে কারাগারে তাঁর শাইখের ইন্তিকালের পর সেখান থেকে মুক্তি পান। তাঁর ছাত্র হাফেজ ইবনে রজব তাঁর জীবনীতে বলেন, "তিনি তাঁর কারাবাসের সময়ে কুরআন তিলাওয়াত এবং তা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণায় মশগুল ছিলেন। ফলে তাঁর ওপর অনেক কল্যাণের দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল এবং তিনি বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিক স্বাদ ও অনুভূতির এক বিশাল অংশ লাভ করেছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞানীদের (আহলুল মা’রিফাত) ইলম নিয়ে আলোচনা এবং তাঁদের সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে অবগাহন করার ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। আর তাঁর রচনাসমূহ এসব বিষয়ে পরিপূর্ণ," যেমনটি হাফেজ ইবনে রজব তাঁর জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন
(১)। আমরা যদি ইবনুল কাইয়্যিমের রচনাবলি পর্যালোচনা করি, তবে হাফেজ ইবনে রজবের এই কথাটি আমাদের এই গ্রন্থ 'তারিকুল হিজরাতাইন' এবং 'মাদারিজুস সালিকিন' গ্রন্থের ওপর যতটা সার্থকভাবে প্রযোজ্য হয়, অন্য কোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে তেমনটি হয় না। কারণ এই উভয় গ্রন্থই 'ইলমুস সুলুক' (আধ্যাত্মিক পথপরিক্রমার জ্ঞান) বিষয়ে রচিত এবং এই উভয় গ্রন্থই লেখককে দান করা সেই 'পারদর্শিতা'র সত্য সাক্ষ্য দেয় যা তিনি এমন সব জ্ঞান ও হাকীকত বর্ণনায় অর্জন করেছিলেন যেখানে সাধারণ বর্ণনা থমকে দাঁড়ায় এবং ইশারা-ইঙ্গিতও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, যেমনটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ বলে থাকেন। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, এই গ্রন্থদ্বয় ঐসব গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত যা লেখক ৭২৮ হিজরিতে কারাগার থেকে মুক্তির পর রচনা করেছিলেন। আর ইতিপূর্বে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, 'তারিকুল হিজরাতাইন' গ্রন্থটি 'মাদারিজুস সালিকিন' রচনার পূর্বে রচিত হয়েছে, কারণ লেখক 'মাদারিজ' গ্রন্থে চারবার আমাদের এই কিতাবের হাওয়ালা (সূত্র) প্রদান করেছেন।
অতঃপর 'তারিকুল হিজরাতাইন' গ্রন্থে তাকদীর সম্পর্কে একটি দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যা প্রাসঙ্গিক আলোচনার খাতিরে এসেছে কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে তা দীর্ঘায়িত হয়েছে। লেখকের এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا الموضوع، وهو "شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل". فلو كان ألفه قبل طريق الهجرتين لأحال عليه في هذا، ولم يسهب ذلك الإسهاب. وهذا ينبئ بأن شفاء العليل ألّف بعد طريق الهجرتين.
ويوجد في حاشية المؤلف على سنن أبي داود (12/ 315) بحث في القدر أيضًا، وهناك قال المؤلف: "وقد نظرت في أدلة إثبات القدر والردّ على القدرية والمجوسية، فإذا هي تقارب خمسمائة دليل. وإن قدر اللَّه تعالى أفردت لها مصنّفًا مستقلًا، وباللَّه عز وجل التوفيق". وهذا الكتاب الذي نوى المؤلف تأليفه هو "شفاء العليل" المذكور. ومن حسن الحظ قد عرفنا تاريخ تأليف حاشية السنن، إذ نصّ المؤلف في خاتمته للكتاب أنه فرغ من تأليفه في مكة في آخر شوّال سنة 732 هـ. فلما جاء بحث القدر في طريق الهجرتين ولم يشر المؤلف إلى كتاب شفاء العليل ولا نيته لإفراد الموضوع بتأليف مستقلّ، وبدا له ذلك في أثناء تهذيب مختصر السنن والتعليق عليه الذي فرغ منه سنة 732 هـ = علمنا أن طريق الهجرتين ألّف قبل سنة 732 هـ. واللَّه أعلم.
এই বিষয়টি হলো "শিফাউল আলীল ফি মাসায়িলিল কাজা ওয়াল কদর ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তা’লীল"। যদি তিনি এটি "তারিকুল হিজরাতাইন" গ্রন্থের পূর্বে রচনা করতেন, তবে তিনি এখানে সেটির উদ্ধৃতি প্রদান করতেন এবং বিষয়টির এতটা দীর্ঘ অবতারণা করতেন না। আর এটিই প্রমাণ করে যে, "শিফাউল আলীল" গ্রন্থটি "তারিকুল হিজরাতাইন"-এর পরে রচিত হয়েছে।
সুনানে আবু দাউদের উপর লেখকের টীকাগ্রন্থেও (১২/৩১৫) তাকদির সম্পর্কে একটি আলোচনা রয়েছে, সেখানে লেখক বলেছেন: "আমি তাকদির সাব্যস্ত করার এবং কাদারিয়া ও মাজুসিয়াদের খণ্ডনের দলীলসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি, যা প্রায় পাঁচশত দলীলের কাছাকাছি। আর যদি আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করেন, তবে আমি এর জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করব; আর আল্লাহর কাছেই সকল সামর্থ্য।" আর লেখক যে কিতাবটি রচনার নিয়ত করেছিলেন, সেটিই হলো উল্লিখিত "শিফাউল আলীল"। সৌভাগ্যবশত আমরা সুনানের টীকাগ্রন্থটি রচনার তারিখ জানতে পেরেছি, কারণ লেখক বইটির উপসংহারে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ৭৩২ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শেষ দিকে মক্কায় এর রচনা সমাপ্ত করেছেন। সুতরাং যেহেতু "তারিকুল হিজরাতাইন" গ্রন্থে তাকদিরের আলোচনা আসার সময় লেখক "শিফাউল আলীল" কিতাবটির কোনো উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার নিয়তের কথাও প্রকাশ করেননি, বরং মুখতাসার সুনানের পরিমার্জন ও টীকা প্রদানের সময় (যা তিনি ৭৩২ হিজরিতে সমাপ্ত করেছেন) তাঁর মাঝে এই সংকল্প তৈরি হয়েছিল—এ থেকে আমরা জানতে পারি যে, "তারিকুল হিজরাতাইন" কিতাবটি ৭৩২ হিজরি সনের পূর্বেই রচিত হয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقصد الكتابموضوع هذا الكتاب قواعد السلوك والسير إلى اللَّه على المنهج الشرعي الذي بينه النبي صلى الله عليه وسلم. فالمؤمن يجب عليه أن يوحد اللَّه بعبادته ومحبته وخوفه ورجائه، وأن يكون قدوته في ذلك هو النبي صلى الله عليه وسلم، فيتبع هديه وشرعه ومنهاجه. وهذان الأمران: إفراد اللَّه بالعبادة، وإفراد الرسول بالمتابعة، هما المقصودان بالهجرتين في عنوان الكتاب. فيقول المؤلف رحمه الله في مقدمته: "فله -يعني للمؤمن- في كل وقت هجرتان: هجرة إلى اللَّه بالطلب والمحبة والعبودية، والتوكل والإنابة، والتسليم والتفويض، والخوف والرجاء، والإقبال عليه، وصدق اللجأ والافتقار في كل نفَس إليه. وهجرة إلى رسوله في حركاته وسكناته الظاهرة والباطنة، بحيث تكون موافقة لشرعه الذي هو تفصيل محاب اللَّه ومرضاته، ولا يقبل اللَّه من أحد دينًا سواه. وكل عمل سواه، فعيش النفس وحظّها لا زاد المعاد".
وقد عني المؤلف في كتبه ببيان أهمية الهجرتين في حياة المسلمين عناية بالغة، فتكلم عليهما في مواطن عديدة؛ لأنهما مضمون الشهادتين ومقتضاهما، ولا يقوم الإيمان والإسلام إلّا بهما. فقال في مدارج السالكين (2/ 520): "وللَّه على كل قلب هجرتان، وهما فرض لازم له على [مدى] الأنفاس: هجرة إلى اللَّه سبحانه بالتوحيد والإخلاص والإنابة والحب والخوف والرجاء والعبودية. وهجرة إلى رسوله صلى الله عليه وسلم بالتحكيم له والتسليم والتفويض والانقياد لحكمه، وتلقي أحكام الظاهر والباطن من مشكاته، فيكون تقيده به أعظم من تقيد الركب بالدليل الماهر في ظلم الليل ومتاهات الطريق. فما لم يكن لقلبه هاتان الهجرتان فليحث على
গ্রন্থের উদ্দেশ্যএই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো সেই শরয়ী পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর দিকে পথচলা ও আচরণের নিয়মাবলী, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন। মুমিনের জন্য আবশ্যক হলো তার ইবাদত, ভালোবাসা, ভয় ও আশার ক্ষেত্রে আল্লাহকে এক জানা, এবং এক্ষেত্রে তার আদর্শ হবেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; ফলে সে তাঁর হেদায়েত, শরিয়ত ও পদ্ধতির অনুসরণ করবে। এই দুটি বিষয়: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক করা এবং অনুসরণের ক্ষেত্রে রাসূলকে একক করা—গ্রন্থের শিরোনামে ‘দুই হিজরত’ বলতে এই দুটিকেই বোঝানো হয়েছে। লেখক রহিমাহুল্লাহ তাঁর ভূমিকায় বলেন: "মুমিনের জন্য প্রতিটি সময়ে দুটি হিজরত রয়েছে: অন্বেষণ, ভালোবাসা, দাসত্ব, তাওয়াক্কুল, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন, আত্মসমর্পণ, সোপর্দ করা, ভয় ও আশা, তাঁর অভিমুখী হওয়া এবং প্রতি নিশ্বাসে তাঁর কাছে ঐকান্তিক আশ্রয় ও মুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে হিজরত। আর তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত হলো নিজের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল নড়াচড়া ও স্থিরতায় রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফেরা, যাতে তা তাঁর শরিয়তের অনুগামী হয়, যা আল্লাহর প্রিয় ও সন্তোষজনক বিষয়সমূহের বিস্তারিত বিবরণ; আর আল্লাহ কারো কাছ থেকে এটি ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না। তদ্ব্যতীত প্রতিটি কাজই প্রবৃত্তির ভোগ ও অংশ মাত্র, তা পরকালের পাথেয় নয়।"
লেখক তাঁর গ্রন্থসমূহে মুসলিমদের জীবনে এই দুই হিজরতের গুরুত্ব বর্ণনায় অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং বহু স্থানে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন; কারণ এই দুটি হলো দুই শাহাদাতের মূল নির্যাস ও দাবি, আর ঈমান ও ইসলাম এই দুটি ব্যতীত প্রতিষ্ঠিত হয় না। তিনি মাদারিজুস সালিকীন (২/৫২০) গ্রন্থে বলেন: "প্রত্যেক হৃদয়ের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুটি হিজরত রয়েছে, যা প্রতি নিশ্বাসে তার ওপর অপরিহার্য ফরয: তাওহীদ, ইখলাস, ইনাবাত, ভালোবাসা, ভয়, আশা ও দাসত্বের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দিকে হিজরত। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে হিজরত হলো তাঁকে ফয়সালাকারী মানা, আত্মসমর্পণ করা, সোপর্দ করা এবং তাঁর বিধানের আনুগত্য করা, আর তাঁর নবুয়তের প্রদীপ হতে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিধানসমূহ গ্রহণ করা। ফলে তাঁর সাথে মুমিনের সংলগ্নতা হবে রাতের অন্ধকার ও গোলকধাঁধাপূর্ণ পথে দক্ষ পথপ্রদর্শকের সাথে কাফেলার সংলগ্নতার চেয়েও সুদৃঢ়। সুতরাং যার হৃদয়ে এই দুই হিজরত নেই, সে যেন..."
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২২)
رأسه الرماد، وليراجع الإيمان من أصله، فيرجع وراء، ليقتبس نورًا قبل أن يحال بينه وبينه، ويقال له ذلك على الصراط من وراء السور، واللَّه المستعان".
وقد عقد فصلًا كاملًا في قصيدته النونية (870) بعنوان "فصل في تعيّن الهجرة من الآراء والبدع إلى سنّته، كما كانت فرضًا من الأمصار إلى بلدته صلى الله عليه وسلم" يشتمل على 57 بيتًا، افتتحه بقوله:
يا قوم فرضُ الهجرتين بحاله
… واللَّهِ لم يُنسخ إلى ذا الآنِ
فالهجرة الأولى إلى الرحمن بالـ
… إخلاص في سرّ وفي إعلان
إلى أن قال:
والهجرة الأخرى إلى المبعوث بالـ
… إسلام والإيمان والإحسان
وفي رسالته التي بعث بها من تبوك إلى أصحابه بالشام، أفاض القول في بيان أهمية الهجرتين بأسلوب أدبي بليغ، وذكر أن الهجرة إلى اللَّه ورسوله فرض عين على كل أحد في كل وقت، وهي مطلوب اللَّه ومراده من العباد. وهذه الهجرة هي الهجرة الحقيقية، وهي الأصل، وهجرة الجسد تابعة لها. وبعد ما فسّر الهجرة إلى اللَّه قال: "والذي يُقضى منه العجب أنّ المرء يوسّع الكلام، ويفرّع المسائل في الهجرة من دار الكفر إلى دار الإسلام، وفي الهجرة التي انقطعت بالفتح، وهذه هجرة عارضة ربما لا تتعلق به في العمر أصلًا. وأما هذه الهجرة التي هي واجبة على مدى الأنفاس [فإنه] لا يحصل [فيها] علمًا ولا إرادة. وما ذاك إلا للإعراض عما خلق له والاشتغال عما لا ينجيه غيره" (20 - 21).
وأما الهجرة إلى الرسول صلى الله عليه وسلم فكلام المؤلف عليها في الرسالة
...তার মস্তক ভস্মীভূত, এবং সে যেন তার ঈমানকে পুনরায় গোড়া থেকে যাচাই করে নেয়। অতঃপর সে যেন পেছনে ফিরে গিয়ে আলো সংগ্রহ করে, তার এবং আলোর মাঝে অন্তরায় তৈরি হওয়ার আগেই। আর পুলসিরাতের ওপর প্রাচীরের আড়াল থেকে তাকে এমনই বলা হবে। আল্লাহই সাহায্যস্থল।"
তিনি তাঁর নুনিয়া কবিতায় (৮৭০) একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম হলো— "মতামত ও বিদআত বর্জন করে সুন্নাহর দিকে হিজরত করা অবধারিত হওয়া প্রসঙ্গে, যেমনটি বিভিন্ন জনপদ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের দিকে হিজরত করা ফরজ ছিল"। এটি ৫৭টি পঙক্তি সম্বলিত, যার শুরুটা করেছেন এভাবে:
হে কওম! দুই হিজরতের বিধান এখনও স্বস্থানে বহাল
… আল্লাহর কসম! এখন পর্যন্ত তা রহিত করা হয়নি।
প্রথম হিজরত হলো পরম করুণাময় আল্লাহর দিকে—
… গোপনে ও প্রকাশ্যে একনিষ্ঠতার সাথে।
এভাবে বলতে বলতে তিনি বলেন:
আর দ্বিতীয় হিজরত হলো সেই প্রেরিত রাসূলের দিকে—
… ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সহকারে।
আর তিনি তাবুক থেকে সিরিয়াবাসী সঙ্গীদের নিকট যে পত্র প্রেরণ করেছিলেন, তাতে অত্যন্ত সাবলীল ও অলংকারপূর্ণ ভাষায় দুই হিজরতের গুরুত্ব বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করা প্রতিটি মানুষের ওপর প্রতিটি মুহূর্তে ফরজে আইন। এটিই আল্লাহর দাবি এবং বান্দার প্রতি তাঁর উদ্দেশ্য। এই হিজরতই হলো প্রকৃত হিজরত এবং এটিই মূল ভিত্তি, আর দৈহিক হিজরত এর অনুগামী মাত্র। আল্লাহর দিকে হিজরতের ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তিনি বলেন: "সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো এই যে, মানুষ কুফর রাষ্ট্র থেকে ইসলামি রাষ্ট্রে হিজরত করা এবং মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়ে যাওয়া হিজরতের মাসআলা-মাসায়েল নিয়ে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা করে; অথচ এটি এমন এক সাময়িক হিজরত যা হয়তো জীবনে কখনোই তার ক্ষেত্রে ঘটার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু যে হিজরত প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে ওয়াজিব, সেই হিজরত সম্পর্কে না তার কোনো জ্ঞান আছে, না আছে কোনো সংকল্প। আর এটা কেবল সেই উদ্দেশ্য থেকে বিমুখ হওয়ার কারণেই হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এমন বিষয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকার কারণে হয়েছে যা তাকে ছাড়া অন্য কিছুই মুক্তি দিতে পারবে না।" (২০ - ২১)।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে হিজরত প্রসঙ্গে সেই পত্রে লেখকের বক্তব্য হলো...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المذكورة ينطوي على تألم شديد لما آل إليه أمر المسلمين في عهده من إعراض عن سنة الرسول صلى الله عليه وسلم في عقائدهم وعباداتهم ومعاملاتهم، واشتغال بأفكار ومذاهب وبدع وعادات ما أنزل اللَّه بها من سلطان، فقال: "وأمّا الهجرة إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، فمعلم لم يبق منه سوى رسمه، ومنهج لم تترك منه بنيّات الطريق سوى اسمه، ومحجّة سفت عليها السوافي فطمست رسومها، وأغارت عليها الأعادي فغوّرت مناهلها وعيونها. فسالكها غريب بين العباد، فريد بين كل حيّ وناد، بعيد على قرب المكان، وحيد على كثرة الجيران، مستوحش ممّا [به]، يستأنسون، مستأنس ممّا به يستوحشون. . . والمقصود أن هذه الهجرة النبوية شأنها شديد، وطريقها على غير المشتاق وعير بعيد" (21 - 22).
ثمّ بين حدّ هذه الهجرة بقوله: "فحدّ هذه الهجرة: سفر الفكر في كل مسألة من مسائل الإيمان، ونازلة من نوازل القلب، وحادثة من حوادث الأحكام إلى معدن الهدى، ومنبع النور المتلقى من فم الصادق المصدوق الذي لا ينطق عن الهوى {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)}. فكل مسألة طلعت عليها شمس الرسالة وإلا فاقذف بها في بحار الظلمات، وكل شاهد عدّله هذا المزكّي الصادق وإلّا فعدّه من أهل الريب والشبهات. فهذا هو حدّ هذه الهجرة" (23 - 24).
فهذه الهجرة شاملة محيطة بحياة المؤمن كلها. فلا تخصّ جانبًا منها دون جانب، ولا يحتاج إليها في وقت دون وقت. وليست أهميتها في أحكام الفقه أكثر منها في مسائل الاعتقاد ومنازل السلوك ومقامات الإحسان. بل لها أهمية خاصة في وادي السلوك، فإن المقرر عند كثير من أصحابه أنّ الشرع فيه معزول، والعقل فيه معقول، والحكم فيه
উল্লিখিত বিষয়টি অত্যন্ত তীব্র মনোকষ্টকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা তাঁর যুগে মুসলমানদের পরিণতির কারণে সৃষ্টি হয়েছিল; কারণ তারা তাদের আকীদা, ইবাদত এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং এমন সব চিন্তা-চেতনা, মাযহাব, বিদআত ও রসম-রেওয়াজে লিপ্ত হয়েছিল যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি। তিনি বলেন: "আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিমুখে হিজরতের বিষয়টি এমন এক নিদর্শন যার কেবল বাহ্যিক রেখাচিত্রই অবশিষ্ট আছে, আর এমন এক পথ যার মূল চিহ্ন ছাড়া শাখা পথগুলো আর কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি। এটি এমন এক রাজপথ যার ওপর দিয়ে ধূলিঝড় বয়ে গেছে এবং তার চিহ্নগুলোকে মিটিয়ে দিয়েছে; শত্রুরা এর ওপর আক্রমণ চালিয়ে এর পানির উৎস ও ঝর্ণাধারাগুলোকে বিলীন করে দিয়েছে। ফলে এই পথের যাত্রী মানুষের মাঝে এক আগন্তুক, প্রতিটি জনপদ ও মজলিসে সে অনন্য ও একক, ভৌগোলিক নৈকট্য সত্ত্বেও সে অনেক দূরে, প্রতিবেশীর প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও সে নিঃসঙ্গ; মানুষ যা নিয়ে স্বস্তি পায় সে তাতে অস্বস্তি বোধ করে, আর মানুষ যা দেখে আতঙ্কিত হয় সে তাতেই প্রশান্তি খুঁজে পায়... মূল কথা হলো, এই নববী হিজরতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর পথ অনুরাগহীনদের জন্য অত্যন্ত দুর্গম ও সুদূরপ্রসারী।" (২১ - ২২)।
অতঃপর তিনি এই হিজরতের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে বলেন: "এই হিজরতের সংজ্ঞা হলো: ঈমানের প্রতিটি মাসআলা, অন্তরের প্রতিটি উদ্ভূত বিষয় এবং শরঈ বিধানের প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে চিন্তাশক্তিকে হিদায়াতের খনি এবং নূরের উৎসের দিকে ধাবিত করা, যা সেই সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ রাসূলের পবিত্র মুখ থেকে প্রাপ্ত, যিনি নিজের খেয়াল-খুশি থেকে কথা বলেন না; {তা তো কেবল ওহী যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয় (৪)}। সুতরাং যে মাসআলার ওপর রিসালাতের সূর্য উদিত হয়েছে (তা গ্রহণ করো), নতুবা তাকে অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করো। আর যে সাক্ষীকে এই সত্যবাদী পরিশোধনকারী গ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন তাকেই গ্রহণ করো, নতুবা তাকে সন্দেহ ও সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করো। এটাই হলো এই হিজরতের সংজ্ঞা।" (২৩ - ২৪)।
সুতরাং এই হিজরত মুমিনের সমগ্র জীবনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এটি জীবনের কোনো একটি বিশেষ দিককে বাদ দিয়ে অন্য দিকের জন্য নির্দিষ্ট নয়, কিংবা বিশেষ কোনো সময়ের জন্যও নির্দিষ্ট নয়। ফিকহী আহকামের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আকীদা-বিশ্বাসের মাসআলা, সুলুকের স্তরসমূহ এবং ইহসানের মাকামগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বরং সুলুকের ময়দানে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে; কারণ সুলুকের অনেক অনুসারীদের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত যে, সেখানে শরীয়ত অকার্যকর, বিবেক সেখানে রুদ্ধ এবং সেখানে ফয়সালা...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
للذوق والوجدان والكشف والإلهام، لا للشرع والحجة والبرهان. فالشريعة شيء، وأصحابها أصحاب الظاهر. والطريقة شيء، وأصحابها أصحاب الباطن. هذا علم الصدور، وذاك علم السطور. هذا علم اللبّ وذاك علم القشور. بل هذا العلم حجاب دون ذلك العلم. وبهذا التفريق المزعوم قد انفسح مجال الانحراف والضلال في علم السلوك الذي هو أهمّ العلوم، فإن سعادة الإنسان في الدارين منوطة به، وانفتح الباب لكل دخيل غريب، فتشعبت الطرق، وكثرت المزالق، ولا نهاية للترّهات بعد العدول عن قصد السبيل وسواء الصراط.
فالهجرة الثانية -وهي الهجرة إلى ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم من الكتاب والسنة واتباعُه في كل منازل السلوك- هي التي توصل العبد إلى اللَّه، وتصونه عن الجور والانحراف، وتضمن له السعادة في الدنيا والآخرة. يقول المؤلف رحمه الله في مقدمة هذا الكتاب: "ولما كانت السعادة دائرة نفيًا وإثباتًا مع ما جاء به كان جديرًا بمن نصح نفسه أن يجعل لحظات عمره وقفًا على معرفته، وإرادته مقصورة على محابّه. وهذه أعلى همة شمّر إليها السابقون، وتنافس فيها المتنافسون. فلا جرم ضمنًا هذا الكتاب قواعد من سلوك طريق الهجرة المحمدية".
فهذا هو مقصود الكتاب، ولكن كيف تناوله المؤلف، وما المباحث التي اشتمل عليها الكتاب؟ هذا سنبينه في الصفحات الآتية.
আস্বাদ, অনুভূতি, উন্মোচন এবং ইলহামের জন্য; শরীয়ত, দলীল এবং প্রমাণের জন্য নয়। সুতরাং শরীয়ত এক জিনিস এবং তার অনুসারীরা হলো বহিরাঙ্গ বা যাহেরের অনুসারী; আর তরীকা ভিন্ন জিনিস এবং তার অনুসারীরা হলো অভ্যন্তরীণ বা বাতেনের অনুসারী। এটি হলো অন্তরের জ্ঞান আর ওটি হলো লেখনীর জ্ঞান। এটি হলো সারবস্তুর জ্ঞান আর ওটি হলো খোসার জ্ঞান। বরং এই জ্ঞান সেই জ্ঞানের অন্তরায়। আর এই ভিত্তিহীন বিভাজনের মাধ্যমে 'ইলমুস সুলুক' বা আধ্যাত্মিক সাধনার জ্ঞানে বিচ্যুতি ও ভ্রষ্টতার পথ প্রশস্ত হয়েছে, যা কিনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিজ্ঞান; কারণ উভয় জগতে মানুষের সৌভাগ্য এর ওপরই নির্ভরশীল। এর ফলে প্রতিটি বহিরাগত ও বিজাতীয় বিষয়ের অনুপ্রবেশের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ফলে পথসমূহ বহুধা বিভক্ত হয়েছে, পদস্খলনের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সঠিক পথ ও সরল গন্তব্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার পর অসার কথার কোনো শেষ নেই।
সুতরাং দ্বিতীয় হিজরত—যা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিতাব ও সুন্নাহ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং আধ্যাত্মিক সাধনার সকল স্তরে তাঁরই অনুসরণ করা—এটাই বান্দাকে আল্লাহর নিকট পৌঁছে দেয়, তাকে অন্যায় ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তার সৌভাগ্য নিশ্চিত করে। লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই কিতাবের ভূমিকায় বলেন: "যেহেতু সৌভাগ্য—পাওয়া বা না পাওয়া—সবই রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর নির্ভরশীল, তাই যে ব্যক্তি নিজের কল্যাণ চায় তার জন্য এটাই সমীচীন যে সে তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে তাঁর (রাসূলের) পরিচিতি অর্জনে ওয়াকফ করবে এবং তার ইচ্ছাকে তাঁর ভালোবাসার বিষয়গুলোর মাঝে সীমাবদ্ধ রাখবে। এটাই সেই সুউচ্চ সংকল্প যার জন্য পূর্ববর্তীগণ সচেষ্ট হয়েছিলেন এবং প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করেছিলেন। সুতরাং কোনো সন্দেহ নেই যে, আমি এই কিতাবে মুহাম্মাদী হিজরতের পথ অনুসরণের মূলনীতিসমূহ সন্নিবেশিত করেছি।"
এটাই হলো এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য। তবে লেখক এটি কীভাবে উপস্থাপন করেছেন এবং এই কিতাবটি কী কী আলোচ্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে? তা আমরা পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ترتيب الكتاب وبعض مباحثه المهمّةقد رتب المؤلف رحمه الله معظم كتبه على المنهج المألوف، فقسمها إلى أبواب أو فصول أو مسائل تقسيمًا محكمًا، وصرّح بعددها، وسرد عناوينها في مقدمة الكتاب؛ كما ترى في شفاء العليل، وإغاثة اللهفان، وروضة المحبين، وعدة الصابرين، وغيرها. وقد أشار إلى اجتهاده في الترتيب والتبويب في مقدمة كتاب حادي الأرواح إذ قال: "وهذا كتاب اجتهدت في جمعه وترتيبه وتفصيله وتبويبه. . . وقد قسمت الكتاب سبعين بابًا". ثم ذكر عناوينها كلها.
أمّا كتابنا هذا فلم يرتبه ذلك الترتيب. بل اقتصر في مقدمته على الإشارة إلى مبحثين، وهما المبحث الأول والمبحث الأخير من الكتاب فقال: "وابتدأناه بباب الفقر والعبودية، إذ هو باب السعادة الأعظم وطريقها الأقوم الذي لا سبيل إلى دخولها إلا منه، وختمناه بذكر طبقات المكلفين من الجن والإنس في الآخرة ومراتبهم في دار السعادة والشقاء. فجاء الكتاب غريبًا في معناه، عجيبًا في مغزاه. . . ".
وهذه نظرة في البناء العام للكتاب:
1 - خطبة الكتاب (5 - 11).
2 - "فصل" في الفقر والغنى (12 - 115).
3 - "قاعدة شريفة عظيمة القدر حاجة العبد إليها أعظم من حاجته إلى الطعام والشراب والنفس، بل وإلى الروح التي بين جنبيه" في كون اللَّه سبحانه هو المطلوب المعبود المحبوب وحده لا شريك له، وهو وحده المعين للعبد على حصول مطلوبه. (116 - 346).
গ্রন্থের বিন্যাস ও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়লেখক (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ পরিচিত পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছেন; তিনি সেগুলোকে সুসংহতভাবে বিভিন্ন অধ্যায়, অনুচ্ছেদ বা মাসআলায় বিভক্ত করেছেন, সেগুলোর সংখ্যা স্পষ্ট করেছেন এবং গ্রন্থের ভূমিকায় সেগুলোর শিরোনামসমূহ বর্ণনা করেছেন; যেমনটি আপনি শিফাউল আলীল, ইগাছাতুল লাহফান, রওদাতুল মুহিব্বীন, উদ্দাতুস সাবেরীন এবং অন্যান্য গ্রন্থে দেখতে পান। হাদি আল-আরওয়াহ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি বিন্যাস ও অধ্যায় বিন্যাসের ক্ষেত্রে নিজের প্রচেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "এটি এমন একটি গ্রন্থ যা সংগ্রহ, বিন্যাস, বিস্তারিত আলোচনা ও অধ্যায় বিন্যাসে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি... এবং আমি গ্রন্থটিকে সত্তরটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি।" অতঃপর তিনি সবগুলোর শিরোনাম উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু আমাদের এই গ্রন্থটি তিনি সেভাবে বিন্যস্ত করেননি। বরং তিনি এর ভূমিকায় কেবল দুটি আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা গ্রন্থের প্রথম এবং শেষ আলোচ্য বিষয়। তিনি বলেছেন: "আমরা এটি শুরু করেছি দারিদ্র্য ও দাসত্বের অধ্যায় দিয়ে, কারণ এটিই হলো সৌভাগ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বার এবং সবচেয়ে সুদৃঢ় পথ, যা ব্যতীত সেখানে প্রবেশের কোনো উপায় নেই। আর আমরা এটি শেষ করেছি পরকালে জিন ও মানুষের মধ্য থেকে মুকাল্লাফদের (দায়িত্বপ্রাপ্তদের) স্তরসমূহ এবং সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের আবাসে তাদের মর্যাদার বর্ণনার মাধ্যমে। ফলে গ্রন্থটি এর অর্থের দিক থেকে হয়েছে অভিনব এবং এর উদ্দেশ্যের দিক থেকে বিস্ময়কর...।"
এটি গ্রন্থের সাধারণ কাঠামোর উপর একটি দৃষ্টিপাত:
১ - গ্রন্থের খুতবাহ বা ভূমিকা (৫ - ১১)।
২ - দারিদ্র্য ও স্বচ্ছলতা বিষয়ে "অনুচ্ছেদ" (১২ - ১১৫)।
৩ - "একটি মহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন মূলনীতি, যার প্রতি বান্দার মুখাপেক্ষিতা তার খাদ্য, পানীয় ও নিঃশ্বাসের মুখাপেক্ষিতার চেয়েও বেশি, এমনকি তার দুই পাঁজরের মাঝে থাকা আত্মার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি"—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলাই হলেন একমাত্র অন্বেষিত, উপাস্য এবং প্রিয়, যার কোনো শরিক নেই; এবং বান্দার উদ্দেশ্য অর্জনে তিনিই একমাত্র সাহায্যকারী। (১১৬ - ৩৪৬)।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4 - "قاعدة" في أن كمال العبد وصلاحه يتخلف عنه من إحدى جهتين (347).
5 - "قاعدة" في الابتلاء (348 - 349).
6 - "قاعدة في مشاهد الناس في المعاصي والذنوب" (350 - 372).
7 - "قاعدة" في الإنابة ودرجاتها (373 - 376).
8 - "قاعدة في ذكر طريق قريب موصل إلى الاستقامة في الأحوال والأقوال والأعمال" (377 - 382).
9 - "قاعدة شريفة" في أن الطريق إلى اللَّه واحد (383 - 396).
10 - "قاعدة" في أن السير إلى اللَّه لا يتم إلا بقوتين علمية وعملية (397 - 402).
11 - "قاعدة نافعة" في أقسام العباد في سفرهم إلى الدار الآخرة، ووصف أحوالهم (403 - 760).
12 - "فصل في مراتب المكلّفين في الدار الآخرة وطبقاتهم فيها. وهم ثمان عشرة طبقة" (761 - 931).
ونلاحظ هنا أن المؤلف لم يذكر موضوع الفصل أو القاعدة إلّا في ثلاثة مواضع (6، 8، 12). وفي غيرها اكتفى بكلمة "فصل" أو "قاعدة" أو "قاعدة شريفة" أو "قاعدة نافعة".
أما حجم هذه القواعد، فالقاعدة الأولى جاءت في 230 صفحة، والقاعدة الأخيرة في 357 صفحة. وبين هاتين القاعدتين الكبيرتين سبع
৪ - "নীতিমালা": বান্দার পূর্ণতা ও কল্যাণ যে দুটি কারণের কোনো একটির ফলে বিচ্যুত হয় (৩৪৭)।
৫ - "নীতিমালা": পরীক্ষা প্রসঙ্গে (৩৪৮ - ৩৪৯)।
৬ - "পাপ ও গুনাহের ক্ষেত্রে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ক নীতিমালা" (৩৫০ - ৩৭২)।
৭ - "নীতিমালা": ইনাবাহ (আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন) ও তার স্তরসমূহ প্রসঙ্গে (৩৭৩ - ৩৭৬)।
৮ - "কথা, কাজ ও অবস্থায় অটলতা (ইস্তিকামাত) অর্জনের নিকটবর্তী পথ বর্ণনা সংক্রান্ত নীতিমালা" (৩৭৭ - ৩৮২)।
৯ - "মর্যাদাপূর্ণ নীতিমালা": আল্লাহর দিকে যাওয়ার পথ একটিই (৩৮৩ - ৩৯৬)।
১০ - "নীতিমালা": আল্লাহর পথে চলা জ্ঞানগত (ইলমি) ও কর্মগত (আমলি) উভয় শক্তি ছাড়া সম্পন্ন হয় না (৩৯৭ - ৪০২)।
১১ - "উপকারী নীতিমালা": পরকালের সফরে বান্দাদের শ্রেণিবিভাগ এবং তাদের অবস্থার বর্ণনা প্রসঙ্গে (৪০৩ - ৭৬০)।
১২ - "পরকালে মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান মানতে বাধ্য ব্যক্তি) স্তর ও সেখানে তাদের পর্যায়সমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ। তারা আঠারোটি স্তরে বিভক্ত" (৭৬১ - ৯৩১)।
এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, লেখক কেবল তিনটি স্থানে (৬, ৮, ১২) পরিচ্ছেদ বা নীতিমালার বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছেন। এছাড়া অন্য সব জায়গায় তিনি কেবল "পরিচ্ছেদ" বা "নীতিমালা" বা "মর্যাদাপূর্ণ নীতিমালা" অথবা "উপকারী নীতিমালা" শব্দগুলো ব্যবহার করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
এই নীতিমালাগুলোর আয়তন বা পরিধির ক্ষেত্রে বলা যায় যে, প্রথম নীতিমালাটি ২৩০ পৃষ্ঠা এবং শেষ নীতিমালাটি ৩৫৭ পৃষ্ঠা জুড়ে বর্ণিত হয়েছে। আর এই দুটি বৃহৎ নীতিমালার মাঝখানে সাতটি...
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قواعد لطيفة تراوح حجمها بين 6 أسطر و 22 صفحة. والقواعد التسع وقعت بين فصلين استغرق أحدهما 104 صفحة والآخر 170 صفحة. وتحت كل فصل وقاعدة -إلّا القواعد القصار- فصول كثيرة تطول أو تقصر حسب مقتضى الكلام.
هذا البناء العام للكتاب قد انطوى على عدد كبير من المباحث العظيمة والمطالب الشريفة والمسائل المشكلة، يستحق بعضها أن يفرد بالتأليف، وبعضها إذا استخرج من هذا الكتاب صار رسالة مستقلة في موضوعها. ونشير هنا بصفة خاصة إلى مبحثين عظيمين، قد وردا في الظاهر عرضًا، ثم استتبع الكلام عليهما مسائل أخرى، وسيقف القارئ من خلال عرضهما على بعض طرائق المؤلف رحمه الله في التأليف.
1 - مبحث في القضاء والقدر:هذا المبحث الذي جاء استطرادًا استغرق نحو 210 صفحة (137 - 346)، ومن المعلوم أن للمؤلف كتابًا مفردًا في هذا الموضوع كما سبق، ولكن الظاهر أنّه لم يكن ألفه إلى ذلك الحين، وإلّا لأحال عليه، وأوجز الكلام على المسألة حسب الاقتضاء. فلننظر كيف تطرق الحديث إلى هذا الموضوع؟
ذكر المؤلف في أحد فصول القاعدة الأولى أن الإنسان ليس عالمًا بمصلحته ولا قادرًا عليها، واللَّه تعالى هو الذي يعلم ويقدر، ويحب الجود والبذل، ويعطي من فضله لا لمعاوضة ولا لمنفعة، فإذا حبس فضله عن الإنسان فهناك أمران لا ثالث لهما. وذكر الأمر الأول وهو أن يكون الإنسان نفسه واقفًا في طريق مصالحه ومعوقًا لوصول فضله إليه. فإن نعمة اللَّه لا تنال إلا بطاعته ولا تستدام إلا بشكره، فآفته من نفسه
সূক্ষ্ম নিয়মাবলি যার কলেবর ৬ লাইন থেকে ২২ পৃষ্ঠার মধ্যে। নয়টি নিয়ম এমন দুটি পরিচ্ছেদের মাঝখানে এসেছে যার একটি ১০৪ পৃষ্ঠা এবং অন্যটি ১৭০ পৃষ্ঠা জুড়ে বিস্তৃত। প্রতিটি পরিচ্ছেদ ও নিয়মের অধীনে—সংক্ষিপ্ত নিয়মগুলো ব্যতীত—অনেকগুলো উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে যা আলোচনার প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত হয়েছে।
বইটির এই সাধারণ কাঠামো অনেকগুলো মহান গবেষণা, উচ্চমার্গীয় উদ্দেশ্য এবং জটিল মাসআলা ধারণ করে আছে, যার কতকাংশ পৃথক গ্রন্থ রচনার যোগ্য, আর কতকাংশ এই গ্রন্থ থেকে বের করা হলে নিজ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র রিসালায় পরিণত হবে। আমরা এখানে বিশেষভাবে দুটি মহান গবেষণার দিকে ইঙ্গিত করছি, যা বাহ্যিকভাবে প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে, অতঃপর সেগুলোর আলোচনার সূত্র ধরে অন্যান্য মাসআলা চলে এসেছে। পাঠক এই উপস্থাপনার মাধ্যমে গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাশৈলীর কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।
১ - কজ্বা ও কদর (তাকদির) সংক্রান্ত আলোচনা:এই আলোচনাটি যা প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে তা প্রায় ২১০ পৃষ্ঠা (১৩৭ - ৩৪৬) জুড়ে বিস্তৃত। এটি জানা কথা যে, এই বিষয়ে গ্রন্থকারের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রয়েছে যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে প্রতীয়মান হয় যে তিনি সেই সময় পর্যন্ত তা রচনা করেননি, অন্যথায় তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করতেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাসআলাটির সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতেন। তাহলে দেখা যাক এই বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত কীভাবে হলো?
গ্রন্থকার প্রথম নিয়মের একটি পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ তার নিজের কল্যাণ সম্পর্কে অবগত নয় এবং তা অর্জনে সক্ষমও নয়। আল্লাহ তাআলাই হলেন তিনি যিনি জানেন এবং সামর্থ্য দান করেন। তিনি দান ও বদান্যতা পছন্দ করেন, আর তিনি তাঁর অনুগ্রহ দান করেন কোনো বিনিময় বা উপকারের প্রত্যাশা ছাড়াই। সুতরাং তিনি যদি মানুষের থেকে তাঁর অনুগ্রহ রুদ্ধ করেন, তবে এর পেছনে দুটি কারণ হতে পারে যার তৃতীয়টি নেই। তিনি প্রথম কারণটি উল্লেখ করেছেন যে, মানুষ নিজেই নিজের কল্যাণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাঁর অনুগ্রহ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহর নিয়ামত কেবল তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমেই অর্জিত হয় এবং তাঁর শুকরিয়ার মাধ্যমেই তা স্থায়ী হয়, সুতরাং মানুষের এই বিপদ তার নিজের পক্ষ থেকেই।
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبلاؤه منه. ثم قال (137): "فإن أصررت على اتهام القدر وقلت: فالسبب الذي أُصبتُ به وأُتِيتُ منه ودُهيت منه قد سبق به القدر والحكم، وكان في الكتاب مسطورًا، فلا بدّ منه على الرغم منّي. . . ". وهكذا فتح المؤلف لنفسه بابًا واسعًا للكلام على القدر. فأورد على لسان هذا المحتج بالقدر ما جاء في إثبات القدر من الآيات والأحاديث والآثار. ولما اختلفت الروايات في وقت كتابة المقدور للجنين عقد فصلًا في الجمع بينها، ثم عاد إلى سرد الأحاديث الأخرى في إثبات القدر.
وبعدما فرغ من ذلك شرع في الردّ على الذي احتج بالقدر فقال (178): "فالجواب أن ههنا مقامين: مقام إيمان وهدى ونجاة، ومقام ضلال وردى وهلاك. زلّت فيه أقدام فهوت بأصحابها إلى دار الشقاء. . . ". فهذا الجواب في ص (178) عن قوله: "فإن أصررت على اتهام القدر. . . " الذي سبق في ص (137). وقد ذكر في مقام الضلال حكايات وأقوالًا للمحتجين بالقدر من خصماء اللَّه، ثم نقل عن شيخ الإسلام ابن تيمية أن القدرية المذمومين في السنة وعلى لسان السلف ثلاث فرق: القدرية النفاة، والقدرية الإبليسية، والقدرية المشركية. وذكر أن أربعة مواضع في القرآن بين سبحانه فيها أن الاحتجاج بالقدر من فعل المشركين، وأن الناس تفرقوا في الكلام على هذه الآيات أربع فرق، وبيّن مذاهبها. ثم ذكر مراتب القضاء والقدر عند أهل السنة والجماعة، وأوضح صلة القدر بالقدرة والعلم والحكمة وقال (199): "فكما لا يخرج مقدور عن علمه وقدرته ومشيئته، فهكذا لا يخرج عن حكمته وحمده، وهو محمود على جميع ما في الكون من خير وشر حمدًا استحقه لذاته، وصدر عنه خلقه وأمره، فمصدر ذلك كله عن الحكمة".
এবং তাঁর পক্ষ থেকেই তাঁর পরীক্ষা। অতঃপর তিনি বললেন (১৩৭): "যদি তুমি তাকদিরকে অভিযুক্ত করতে নাছোড়বান্দা হও এবং বলো: যে কারণে আমি মুসিবতে পড়েছি, আক্রান্ত হয়েছি এবং বিপদে পড়েছি, তা তো তাকদির ও ফয়সালায় পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং কিতাবে লিখিত ছিল, সুতরাং আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা ঘটবেই..."। এভাবে লেখক তাকদির বিষয়ে আলোচনার জন্য নিজের সামনে একটি প্রশস্ত দ্বার উন্মোচন করেছেন। অতঃপর তিনি তাকদিরের সপক্ষে যুক্তিদানকারী ব্যক্তির মুখে তাকদির সাব্যস্ত করার বিষয়ে আসা আয়াত, হাদিস ও আসারসমূহ উপস্থাপন করেছেন। আর যখন ভ্রূণের ভাগ্য লিখনের সময় সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোতে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, তখন তিনি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য একটি অধ্যায় রচনা করেছেন; অতঃপর পুনরায় তাকদির সাব্যস্ত করার বিষয়ে অন্যান্য হাদিস বর্ণনায় ফিরে গেছেন।
এসব শেষ করার পর তিনি তাকদিরের মাধ্যমে ওজর পেশকারীর খণ্ডন শুরু করেন এবং বলেন (১৭৮): "উত্তর হলো, এখানে দুটি অবস্থান রয়েছে: ঈমান, হেদায়েত ও নাজাতের অবস্থান এবং গোমরাহি, বিনাশ ও ধ্বংসের অবস্থান। এতে বহু পা পিছলে গেছে এবং তাদের অধিকারীদের দুর্ভাগ্যের আবাসে নিপতিত করেছে..."। ১৭৮ পৃষ্ঠার এই উত্তরটি ১৩৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত তাঁর সেই কথার প্রেক্ষিতে— "যদি তুমি তাকদিরকে অভিযুক্ত করতে নাছোড়বান্দা হও..."। তিনি গোমরাহির অবস্থানে আল্লাহর শত্রুদের মধ্য হতে যারা তাকদিরের মাধ্যমে যুক্তি দেয়, তাদের বিভিন্ন কাহিনী ও বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, সুন্নাহ এবং সালাফদের বাণীতে নিন্দিত ক্বদরিয়া সম্প্রদায় হলো তিনটি দল: ক্বদরিয়া নুফাত (তাকদির অস্বীকারকারী), ক্বদরিয়া ইবলিসিয়্যাহ এবং ক্বদরিয়া মুশরিকিয়্যাহ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনের চারটি স্থানে মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তাকদিরের মাধ্যমে ওজর পেশ করা মুশরিকদের কাজ। আর মানুষ এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় চারটি দলে বিভক্ত হয়েছে এবং তিনি তাদের মতবাদসমূহ স্পষ্ট করেছেন। এরপর তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট কাযা ও কদরের স্তরসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং কুদরত, ইলম ও হিকমতের সাথে তাকদিরের সম্পর্ক স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন (১৯৯): "যেভাবে কোনো নির্ধারিত বিষয় তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছার বাইরে যায় না, তেমনিভাবে তা তাঁর হিকমত ও প্রশংসার বাইরেও যায় না। মহাবিশ্বের সকল কল্যাণ ও অকল্যাণের জন্য তিনি প্রশংসিত—এমন এক প্রশংসা যা তিনি তাঁর সত্তাগতভাবে পাওয়ার যোগ্য। তাঁর সৃষ্টি ও আদেশ তাঁর থেকেই নির্গত হয়েছে, সুতরাং এ সবকিছুর উৎস হলো হিকমত।"
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهنا واجه مسألة كبيرة أخرى من المعضلات، قد أشكلت على الفلاسفة وغيرهم من أصحاب الديانات والمقالات قديمًا وحديثًا، فخبطوا فيها خبط عشواء. هي مصدر الشرّ الموجود في العالم وحكمة خلق الأضداد. فناقش المؤلف هذه المسألة من وجوه مختلفة، وأعاد فيها وأبدأ ذاكرًا مذاهب الناس في دخول الشر في القضاء الإلهي، والأصول التي تفرّعت عنها تلك المذاهب، وفي أثنائها تعرض لمسألة إيلام الأطفال والبهائم. وفي الأخير نقل فصلًا لفخر الدين الرازي في هذه المسألة من كتابه المباحث المشرقية، وعقّب عليه.
وقد اتضح من هذا العرض المقتضب لمسألة القضاء والقدر وما يتصل بها كيف تطرق الكلام إليها، ثم اقتضى خطرها وكثرة التنازع فيها أن يتوسع في مناقشتها. ولعلك تذكر قول المؤلف في بداية الفصل أن اللَّه سبحانه لا يحبس فضله عن الانسان إلا لأمرين، وأنه ذكر الأمر الأول الذي قاده إلى هذه المسألة العظيمة الواسعة الأطراف، فذهب عليه مع استطالة الكلام أن يذكر الأمر الثاني. وهذا الموضع ومواضع أخرى تدلّ على أن المؤلف رحمه الله لم يتمكن من إعادة النظر في الكتاب بعد تسويده.
2 - نقد كتاب محاسن المجالس لابن العريف في علل المقاماتأبو العباس أحمد بن محمد بن موسى الصنهاجي الأندلسي المعروف بابن العريف من أكابر صوفية الأندلس. ولد في المرية، ومات في مرّاكش. كانت له عناية بالقراءات ومشاركة في عدة علوم. وكان أديبًا شاعرًا، وكانت بينه وبين القاضي عياض مكاتبات حسنة
(1). وله كتاب
--------------------------------------------
এখানে তিনি আরও একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, যা প্রাচীন ও আধুনিককালের দার্শনিক এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও মতবাদীদের কাছে অত্যন্ত জটিল বলে মনে হয়েছে; ফলে তারা এই বিষয়ে লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়িয়েছেন। তা হলো পৃথিবীতে বিদ্যমান মন্দের উৎস এবং বিপরীতমুখী বিষয়সমূহ সৃষ্টির হিকমত বা রহস্য। লেখক এই বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করেছেন এবং ঐশ্বরিক ফয়সালায় মন্দের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ এবং সেই মতবাদগুলো যেসব মূলনীতি থেকে উৎসারিত হয়েছে, তা বারংবার সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি শিশু এবং পশুদের কষ্ট পাওয়ার বিষয়টিও অবতারণা করেছেন। পরিশেষে তিনি এই বিষয়ে ফখরুদ্দিন রাজীর ‘আল-মাবাহিছ আল-মাশরিকিয়্যাহ’ গ্রন্থ থেকে একটি পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন এবং তার ওপর পর্যালোচনা করেছেন।
ক্বাযা ও ক্বদর এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, কীভাবে এর আলোচনা অবতারণা করা হয়েছে; অতঃপর এর গুরুত্ব ও এ নিয়ে বিতর্কের আধিক্যের কারণে এর বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সম্ভবত আপনার স্মরণে আছে যে, লেখক পরিচ্ছেদের শুরুতে বলেছিলেন—আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কেবল দুটি কারণ ছাড়া মানুষের ওপর থেকে তাঁর অনুগ্রহ আটকে রাখেন না। তিনি প্রথম কারণটি উল্লেখ করেছিলেন যা তাঁকে এই সুবৃহৎ ও সুদূরপ্রসারী বিষয়ের দিকে ধাবিত করেছিল; কিন্তু আলোচনার দীর্ঘতার কারণে দ্বিতীয় বিষয়টি উল্লেখ করতে তিনি বিস্মৃত হয়েছিলেন। এই স্থানটি এবং আরও অন্যান্য স্থান নির্দেশ করে যে, লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের পর কিতাবটি পুনরায় নিরীক্ষণ করার সুযোগ পাননি।
২ - ইবনুল আরিফ রচিত ‘মাহাসিনুল মাজালিস’ কিতাবের সমালোচনাআবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-সনহাজি আল-আন্দালুসি, যিনি ইবনুল আরিফ নামে পরিচিত, তিনি ছিলেন আন্দালুসের অন্যতম প্রধান সুফি। তিনি আলমেরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং মারাকেশ-এ মৃত্যুবরণ করেন। কিরাআতের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ছিল এবং তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তিনি একজন সাহিত্যিক ও কবি ছিলেন। তাঁর এবং কাযী আয়াযের মধ্যে চমৎকার পত্রালাপ হতো
(১)। তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ত্বরীকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন - ত আতায়াতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في علل المقامات سمّاه "محاسن المجالس". وقد نشره المستشرق الإسباني آسين بلاسيوس في باريس 1933 م. وعن هذه النشرة أعاد نشره نهاد خياطة في مجلة المورد العراقية (المجلد 19 العدد 4 سنة 1980) وجاء النص فيها في 25 صفحة. فهو كتاب لطيف. وقد ذكر شيخ الإسلام أنه اعتمد فيه على كتاب "علل المقامات" للشيخ الهروي، فقال في كلام له على التوكل: "فقد تبيّن أنّ من ظنّ التوكل من مقامات عامّة أهل الطريق فقد غلط غلطًا شديدًا، وإن كان من أعيان المشايخ كصاحب "علل المقامات"، وهو من أجل المشايخ. وأخذ ذلك عنه صاحب "محاسن المجالس""
(1).
ويؤكد ذلك المقارنة بين محاسن المجالس ومنازل السائرين. ونذكر هنا مثالًا واحدًا من فصل الرجاء. قال صاحب المنازل: "الرجاء أضعف منازل المريدين، لأنه معارضة من وجه، واعتراض من وجه. وهو وقوع في الرعونة في مذهب هذه الطائفة إلا ما فيه من فائدة واحدة نطق بها التنزيل والسنة، ودخل في مسالك المحققين. وتلك الفائدة هي كونه يبرّد حرارة الخوف حتى لا يفضي بصاحبه إلى الإياس". ثم ذكر درجاته حسب طريقته
(2).
وقال صاحب المجالس: "وأما الرجاء فهو من منازل العوام. وهو انتظار غائب وطلب مفقود، وهو من أضعف منازل القوم في هذا الشأن؟ لأنه معارضة من وجه، واعتراض من وجه آخر. وهو وقوع في الرعونة. ولفائدة واحدة نطق بها التنزيل فقال تعالى: {أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ}
--------------------------------------------
"ইলালুল মাকামাত" গ্রন্থে তিনি এর নাম দিয়েছেন "মাহাসিনুল মাজালিস"। স্পেনীয় প্রাচ্যবিদ আসিন প্যালাসিওস ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে এটি প্রকাশ করেন। এই প্রকাশনার ভিত্তিতে নিহাদ খায়াতাহ ইরাকি সাময়িকী "আল-মাওয়ারিদ"-এ (ভলিউম ১৯, সংখ্যা ৪, ১৯৮০ সাল) এটি পুনরায় প্রকাশ করেন এবং এতে মূল পাঠটি ২৫ পৃষ্ঠায় স্থান পায়। এটি একটি চমৎকার বই। শায়খুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে শায়খ আল-হারওয়ীর "ইলালুল মাকামাত" গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। তাওয়াক্কুলের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন: "এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, যারা তাওয়াক্কুলকে আধ্যাত্মিক পথের সাধারণ অনুসারীদের স্তরগুলোর অন্তর্ভুক্ত মনে করেন, তারা গুরুতর ভুল করেছেন; এমনকি যদি তারা 'ইলালুল মাকামাত'-এর লেখকের মতো বরেণ্য শায়খও হন। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান শায়খদের অন্তর্ভুক্ত। আর 'মাহাসিনুল মাজালিস'-এর লেখক তাঁর কাছ থেকেই বিষয়টি গ্রহণ করেছেন"
(১).
"মাহাসিনুল মাজালিস" এবং "মানাযিলুস সায়িরীন"-এর মধ্যবর্তী তুলনা বিষয়টি নিশ্চিত করে। আমরা এখানে "রাজা" (আশা) অধ্যায় থেকে একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। "মানাযিল"-এর লেখক বলেছেন: "রাজা বা আশা হলো মুরিদদের দুর্বলতম স্তর; কারণ এটি একদিক থেকে বিরোধ এবং অন্যদিক থেকে আপত্তি। এই সম্প্রদায়ের পথ অনুযায়ী এটি এক প্রকার মূর্খতা বা খামখেয়ালিপনার অন্তর্ভুক্ত, তবে এতে এমন একটি উপকারিতা রয়েছে যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা বর্ণিত এবং যা মুহাক্কিকদের পদ্ধতিতে প্রবেশ করেছে। সেই উপকারিতাটি হলো—এটি ভয়ের তীব্রতাকে শীতল করে দেয়, যাতে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরাশার দিকে ধাবিত না করে।" এরপর তিনি তাঁর পদ্ধতি অনুযায়ী এর বিভিন্ন স্তর বর্ণনা করেছেন
(২).
"মাজালিস"-এর লেখক বলেছেন: "আর 'রাজা' বা আশা হলো সাধারণ মানুষের স্তর। এটি হলো অনুপস্থিত জিনিসের প্রতীক্ষা এবং হারানো জিনিসের অন্বেষণ। এই বিষয়ে এটি এই কাওমের দুর্বলতম স্তরগুলোর একটি। কারণ এটি একদিক থেকে বিরোধ এবং অন্যদিক থেকে আপত্তি। এটি এক প্রকার মূর্খতা। একটি বিশেষ উপকারিতার কারণে কুরআন একে ব্যক্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারাই আল্লাহর রহমতের আশা করে}"
--------------------------------------------