(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: -)
سؤالات حمزة للدارقطني   (حمزة السهمي)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: سؤالات حمزة بن يوسف السهمي

المؤلف: أبو القاسم حمزة بن يوسف بن إبراهيم السهمي القرشي الجرجاني (ت 427هـ)

المحقق: موفق بن عبد الله بن عبدالقادر

الناشر: مكتبة المعارف - الرياض

الطبعة: الأولى، 1404 - 1984

عدد الصفحات: 281

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

দারা কুতনীকে করা হামজার প্রশ্নসমূহ   (হামজা আস-সাহমী)

বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নসমূহ


বই: হামজা বিন ইউসুফ আস-সাহমীর প্রশ্নসমূহ

লেখক: আবুল কাসেম হামজা বিন ইউসুফ বিন ইব্রাহিম আস-সাহমী আল-কুরাশী আল-জোরজানী (মৃত্যু ৪২৭ হিজরি)

সম্পাদক: মুওয়াফফাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল কাদির

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৪ - ১৯৮৪

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৪)
سؤالات حمزة بن يوسف السهمي للدارقطني وغيره من المشايخ في الجرح والتعديل

دراسة وتحقيق: موفق بن عبد الله بن عبد القادر

مكتبة المعارف - الرياض

حقوق الطبع محفوظة

الطبعة: الأولى 1404 هـ - 1984 م

 

مكتبة المعارف - ص. ب: 3281 - هاتف 4013708 - 4023979

الرياض - المملكة العربية السعودية
জারহ ও তাদীল প্রসঙ্গে দারা কুতনী এবং অন্যান্য মাশায়েখগণের নিকট হামজা বিন ইউসুফ আস-সাহমীর প্রশ্নসমূহ

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুওয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির

মাকতাবাতুল মাআরিফ - রিয়াদ

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সংস্করণ: প্রথম ১৪০৪ হিজরী - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

 

মাকতাবাতুল মাআরিফ - পি.ও বক্স: ৩২৮১ - ফোন ৪০১৩৭০৮ - ৪০২৩৯৭৯

রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم وبعد.

للسنة النبوية المنزلة العظيمة في التشريع الاسلامي فهي تحتل المرتبة الثانية بعد كتاب الله عز وجل، ولقد امرنا الله تعالى بوجوب اتباع السنة والعمل بها.

والرجوع إليها فقال: (من يطع الرسول فقد اطاع الله) وقال: (وما آتاكم الرسول فخذوه، وما نهاكم عنه فانتهوا) وقال: (يا ايها الذين آمنوا اطيعوا الله، واطيعوا الرسول واولي الامر منكم فان تنازعتم في شئ فردوه الى الله والى الرسول ان كنتم تؤمنون بالله واليوم الاخر، ذلك خير واحسن تأويلا.)

وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (تركت فيكم ما ان تمسكتم به لن تضلوا من بعدي: كتاب الله وسنتي) وقال صلى الله عليه وسلم (يوشك رجل منكم متكئا على اريكته يحدث بحديث عني فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه من حرام حرمناه الا وان ما
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নে নববী সুন্নাহর এক সুমহান মর্যাদা রয়েছে। মহান আল্লাহর কিতাবের পর এটি দ্বিতীয় স্থান দখল করে আছে। আর আল্লাহ তাআলা আমাদের ওপর সুন্নাহর অনুসরণ ও তদানুযায়ী আমল করা ওয়াজিব করেছেন।

এবং এর দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল)। তিনি আরও বলেছেন: (রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো)। এবং বলেছেন: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামের দিক থেকে সবচেয়ে সুন্দর।)

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা আমার পরে কখনও পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: (অচিরেই তোমাদের মাঝে এমন এক ব্যক্তির দেখা মিলবে, যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। তার সামনে যখন আমার কোনো হাদীস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। তাতে যা আমরা হারাম পাব কেবল তাকেই হারাম গণ্য করব। জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই যা...)
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৬)
حرمه رسول الله مثل الذي حرم الله.)

وقال تعالى: (فليحذر الذين يخالفون عن امر الله ان تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب اليم) .

ولقد اهتم المسلمون بحفظ سنة نبيهم صلى الله عليه وسلم ، فدونوها وحفظوها وفتشوا عن الطريق الذي وصلت إليهم الاحاديث منه..فانشاوا علم الجرح والتعديل..أو علم معرفة احوال الرجال من حيث قبول روايتهم اوردها..ان علم الجرح والتعديل هو ميزة من مميزات الحضارة الاسلامية عن غيرها من الحضارات، وسمة بارزة اتسم بها المسلمون عن غيرهم من الاقوام والشعوب..ذلك ان قبول الاخبار ورواية الحديث في المجتمع المسلم لا يقبل من كل فرد … بل لا بد ان تتوفر في الناقل شروط وخصال حددها علماء الجرح والتعديل..فعلم معرفة الرجال والبحث عن احوالهم علم تفرد به المسلمون..بل هم اول من ابتكر هذا الفن من الفنون … وما احوج الحضارات الاخرى الى هذا العلم..فلو تساءلنا ما سبب انحراف اليهودية والنصرانية عن حقيقتها كاديان منزلة من عند الله سبحانه وتعالى؟ لكان الجواب البديهي هو لكذب الرواة الذين نقلوا هذه الاديان لاممهم.

في حين ان المسلمين حافظوا على حقيقة دينهم واصالته بتحرزهم في نقل

سنة نبيهم صلى الله عليه وسلم وعدم اخذهم الرواية الا بعد التاكد من صحتها وصدق راويها..ان نشؤ علم الجرح والتعديل يعتبر استجابة طبيعية من المسلمين لتوجيهات الله تعالى، وتعليمات نبيهم صلى الله عليه وسلم .

قال تعالى: (يا ايها الذين آمنوا ان جاءكم فاسق بنبا فتبينوا ان تصيبوا قوما بجهالة فتصبحوا على ما فعلتم نادمين.)
আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন, তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।)

আর মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: (কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে)।

মুসলিমগণ তাঁদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন, ফলে তাঁরা তা লিপিবদ্ধ করেছেন, মুখস্থ করেছেন এবং হাদীসসমূহ যে পথে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করেছেন। ফলে তাঁরা ইলমুল জারহ ওয়াত তাদীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা বিষয়ক শাস্ত্র)... অথবা বর্ণনাকারীদের বর্ণনা গ্রহণ বা বর্জনের প্রেক্ষিত থেকে তাঁদের অবস্থা জানার শাস্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। নিশ্চয়ই ইলমুল জারহ ওয়াত তাদীল হলো অন্যান্য সভ্যতার তুলনায় ইসলামী সভ্যতার অন্যতম একটি বিশেষত্ব এবং এটি একটি উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে মুসলিমরা অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীর থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে। কারণ মুসলিম সমাজে সংবাদ গ্রহণ এবং হাদীস বর্ণনা করা প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকেই গ্রহণ করা হয় না … বরং বর্ণনাকারীর মধ্যে এমন কিছু শর্ত ও গুণাবলী থাকা আবশ্যক যা জারহ ও তাদীলের ইমামগণ নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানা এবং তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা এমন একটি জ্ঞান যা কেবল মুসলিমদেরই একক বৈশিষ্ট্য। বরং তাঁরাই প্রথম এই শাস্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন … আর অন্যান্য সভ্যতাগুলো এই জ্ঞানের জন্য কতই না মুখাপেক্ষী। যদি আমরা প্রশ্ন করি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ধর্ম হওয়া সত্ত্বেও ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের স্বীয় প্রকৃত স্বরূপ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ কী? তবে এর স্বতঃসিদ্ধ উত্তর হবে সেই বর্ণনাকারীদের মিথ্যাচার, যারা এই ধর্মগুলোকে তাদের জাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছিল।

সেখানে মুসলিমগণ তাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ বর্ণনায় পরম সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এবং বর্ণনার বিশুদ্ধতা ও বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা নিশ্চিত না করে কোনো বর্ণনা গ্রহণ না করার মাধ্যমে তাদের দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ ও মৌলিকত্ব রক্ষা করেছেন। ইলমুল জারহ ওয়াত তাদীলের উদ্ভব মহান আল্লাহর নির্দেশনা এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শিক্ষার প্রতি মুসলিমদের এক স্বাভাবিক সাড়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

মহান আল্লাহ বলেন: (হে ঈমানদারগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।)
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৭)
وقال صلى الله عليه وسلم : (لا تحدثوا الا عمن تقبلون شهادته) وهكذا سار السلف الصالح على هذا النهج، قال علي بن ابي طالب رضي الله عنه: (انظروا عمن تأخذون هذا العلم فانما هو الدين) وكذا قال أبو هريرة وابن سرين وغيرهم من علماء الامة الاسلامية ومحدثوها.

قال العز بن عبد السلام رحمه الله تعالى: (القدح في الرواة واجب لما فيه من اثبات الشرع، ولما على الناس في ترك ذلك من الضرر في التحريم والتحليل وغيرهما) .

وقال ابن خلدون: (ومن علوم الحديث النظر في الاسانيد ومعرفة ما يجب العمل به (من) الاحاديث بوقوعه على السند الكامل الشرط لان العمل انما وجب بما يغلب على الظن هدفه من اخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم فيجتهد في الطريق التي تحصل ذلك الظن وهو بمعرفة رواة الحديث بالعدالة والضبط، وانما يثبت ذلك بالنقل عن اعلام الدين بتعديلهم وبراءتهم من الجرح والغفلة، ويكون لنا ذلك دليلا على القبول أو الترك) ولقد بذلك علماء الجرح والتعديل جهودا جبارة في دراسة احوال الرجال الذين نقلوا السنة النبوية، وقلبوهم ظهرا لبطن..وكانوا في دراستهم في غاية التقوى والورع، الموضوعية والتجرد عن الهوى والمحاباة..ولقد برز جهابذة اختصوا بهذا الفن..ومن هؤلاء الامام الحافظ أبو

الحسن علي بن عمر الدارقطني، حيث اتجه إليه المحدثون والنقاد يسالونه عن الجرح والتعديل، وعلل الحديث.. (5)

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (তোমরা কেবল তাদের থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করো যাদের সাক্ষ্য তোমরা গ্রহণ করো)। এভাবেই সালাফে সালেহীন এই পথ অনুসরণ করেছেন। আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: (তোমরা লক্ষ্য করো কার কাছ থেকে এই ইলম গ্রহণ করছ, কারণ এটিই হলো দীন)। আবু হুরায়রা, ইবনে সিরিন এবং উম্মতে ইসলামিয়ার অন্যান্য উলামায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণও অনুরূপ কথা বলেছেন।

ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন: (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করা ওয়াজিব, কারণ এর মাধ্যমেই শরীয়ত সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি বর্জন করলে মানুষের জন্য হারাম, হালাল ও অন্যান্য বিষয়ে যে ক্ষতি হতো তা রোধ করা সম্ভব হয়)।

ইবনে খালদুন বলেন: (হাদীস বিজ্ঞানের অন্যতম বিষয় হলো সনদসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং পূর্ণ শর্তযুক্ত সনদে পৌঁছানোর মাধ্যমে কোন হাদীসগুলোর ওপর আমল করা ওয়াজিব তা অনুধাবন করা। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে আগত সংবাদের ওপর প্রবল ধারণার ভিত্তিতে আমল করা ওয়াজিব। সুতরাং সেই প্রবল ধারণা অর্জনের পন্থার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ বা গবেষণা করা হয়, যা হাদীসের বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের ক্ষমতা জানার মাধ্যমে সম্ভব হয়। এটি কেবল দীনের ইমামদের বর্ণনার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, তাঁরা বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা ঘোষণা করেন এবং সমালোচনা ও অসতর্কতা থেকে তাদের মুক্ত বলে প্রত্যয়ন করেন। আর এটিই আমাদের জন্য গ্রহণ বা বর্জনের দলিল হিসেবে কাজ করে)। বস্তুত জারাহ ও তা'দীল শাস্ত্রের উলামায়ে কেরাম সুন্নাহ বর্ণনাকারী ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন এবং তাঁদের আদ্যোপান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেছেন। তাঁদের গবেষণায় তাঁরা চরম তাকওয়া, পরহেজগারি, বস্তুনিষ্ঠতা এবং প্রবৃত্তি ও পক্ষপাতহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। এই শিল্পে এমন বহু বিশেষজ্ঞের আবির্ভাব ঘটেছে যাঁরা এতে বিশিষ্টতা অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম হাফিজ আবুল হাসান আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনি। তাঁর কাছেই মুহাদ্দিস ও সমালোচকগণ জারাহ-তা'দীল এবং হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জন্য সমবেত হতেন। (৫)

(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৮)
وهذه سؤالات الحافظ أبو القاسم حمزة بن يوسف السهمي للامام الحافظ أبو الحسن الدارقطني ولغيره من المشايخ، من كتب الجرح والتعديل المهمة..ذلك انها سؤالات من حافظ كبير، لطائفة من كبار النقاد في مجال الجرح والتعديل، وعلى رأسهم الامامين الكبيرين ابي الحسن الدارقطني وابي بكر الاسماعيلي..كما ان هذه السؤالات كان لها الاثر الكبير في المصنفات التي جاءت فيما بعدها والفت في مجال الجرح والتعديل ومعرفة احوال الرجال..فقد اقتبس منها الخطيب البغدادي (165) نصا في تاريخ بغداد كما اقتبس منها ابن عساكر في كتابه (تاريخ دمشق) في اكثر من موضع، وكذا ابن الجوزي في كتبه (المنتظم) و (الموضوعات) ، وكذا ابن كثير في (البداية والنهاية) وابن نقطة في (التقييد) ، و (الاستدراك) وقبله ابن ماكولا في (الاكمال) كما اقتبس الذهبي رحمه الله في كتبه (تاريخ الاسلام) و (تذكرة الحفاظ) و (سير اعلام النبلاء) وغير ذلك من المصنفات التي كتبها..وكذا ابن العماد في الشذرات، وابن حجر في مصنفاته..الى غير ذلك من كتب الجرح والتعديل والتراجم مما يدل على الاهمية العظيمة لهذه السؤالات.

ان كل من يشتغل بالحديث وعلومه، ولا سيما المهتم بالجرح والتعديل ليتطلع شوقا الى هذه السؤالات.

ولقد بذلت جهدي في تحقيقها ودراستها وتاصيل نصوصها من المخطوط والمطبوع..فان اصبت فمن الله..وان اخطأت فمني والشيطان واستغفر الله، والله تعالى اسال ان يوفقنا لخدمة ديننا وسنة نبينا صلى الله عليه وسلم وهو حسبنا ونعم

الوكيل وآخر دعوانا ان الحمد لله رب العالمين
এগুলো হলো হাফিজ আবু কাসিম হামযা বিন ইউসুফ আস-সাহমি কর্তৃক ইমাম হাফিজ আবু হাসান আদ-দারাকুতনি এবং অন্যান্য মাশায়েখদের নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (সুয়ালাত), যা জারহ ওয়াত তাদিল-এর গুরুত্বপূর্ণ কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এগুলো একজন বড় হাফিজের পক্ষ থেকে জারহ ওয়াত তাদিল ক্ষেত্রের একদল বিশিষ্ট নকাদ বা সমালোচকদের নিকট করা প্রশ্ন, যাদের শীর্ষে রয়েছেন দুই মহান ইমাম আবু হাসান আদ-দারাকুতনি এবং আবু বকর আল-ইসমাঈলি। তেমনিভাবে এই প্রশ্নাবলীর পরবর্তী গ্রন্থসমূহে ব্যাপক প্রভাব ছিল, যা জারহ ওয়াত তাদিল এবং রাবিদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে সংকলিত হয়েছে। খতিব আল-বাগদাদি তার 'তারিখে বাগদাদ'-এ এখান থেকে ১৬৫টি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। ইবনে আসাকির তার 'তারিখে দিমাশক'-এর একাধিক স্থানে এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। একইভাবে ইবনুল জাওজি তার 'আল-মুনতাজাম' এবং 'আল-মাওজুআত' গ্রন্থে, ইবনে কাসির 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে, ইবনে নুকতাহ 'আত-তাকয়িদ' ও 'আল-ইসতিদরিক' গ্রন্থে এবং তার পূর্বে ইবনে মাকুলা 'আল-ইকমাল' গ্রন্থে এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ইমাম যাহাবি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) তার 'তারিখুল ইসলাম', 'তাযকিরাতুল হুফফাজ', 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' এবং তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থে এখান থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। একইভাবে ইবনুল ইমাদ 'আশ-শাযারাত' গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার তার গ্রন্থাবলীতেও এটি ব্যবহার করেছেন। জারহ ওয়াত তাদিল এবং জীবনী বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থেও এর ব্যবহার রয়েছে, যা এই প্রশ্নাবলীর মহান গুরুত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে।

যারা হাদিস ও হাদিসশাস্ত্র নিয়ে কাজ করেন, বিশেষ করে যারা জারহ ওয়াত তাদিল নিয়ে আগ্রহী, তারা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই প্রশ্নাবলীর দিকে মুখিয়ে থাকেন।

আমি পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির আলোকে এর তাহকিক, অধ্যয়ন এবং পাঠের মূল উৎস নির্ধারণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যদি আমি সঠিক হয়ে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল করি তবে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের দ্বীন এবং আমাদের নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর খিদমত করার তাওফিক দান করেন। তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম

কর্মবিধায়ক। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌التعريف بالامام الحافظ ابي الحسن علي بن عمر الدارقطني

 

بالنظر لشهرة الدارقطني، فاني ساكتفي بهذه الترجمة الموجزة عن حياته وشيوخه وتلاميذه ورحلاته العلمية..مكتفيا بما كتبته عنه في (كتاب الضعفاء والمتروكون) للدارقطني.

اسمه ونسبه وكنيته ولقبه: هو الامام الحافظ أبو الحسن علي بن عمر بن احمد بن مهدي بن مسعود ابن النعمان بن دينار بن عبد الله الدارقطني البغدادي، ودار القطن بفتح الدال وسكون الالف وفتح الراء وسكون الطاء المهملة وفي آخرها نون محلة كانت ببغداد من نهر طابق بالجانب الغربي بين الكرخ ونهر عيسى بن علي، خربت الساعة.
ইমাম হাফিজ আবুল হাসান আলী বিন উমর আদ-দারা কুতনীর পরিচিতি

 

আদ-দারা কুতনীর সুখ্যাতির কারণে আমি তাঁর জীবন, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর ইলমি সফরসমূহ সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত জীবনীর ওপরই নির্ভর করব... আদ-দারা কুতনীর (কিতাবুয যু’আফা ওয়াল মাতরুকীন) গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে যা লিখেছি, তাতেই আমি ক্ষান্ত হচ্ছি।

তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও উপাধি: তিনি হলেন ইমাম হাফিজ আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমদ বিন মাহদী বিন মাসঊদ বিন নুমান বিন দীনার বিন আবদুল্লাহ আদ-দারা কুতনী আল-বাগদাদী। আর ‘দারুল কুতন’—দাল বর্ণে ফাতহাহ, আলিফ বর্ণে সুকুন, রা বর্ণে ফাতহাহ এবং নুকতাহীন ত্ব বর্ণে সুকুন সহযোগে এবং এর শেষে রয়েছে নুন—এটি বাগদাদের একটি মহল্লা ছিল, যা পশ্চিম তীরের নাহরে তাবিকে কারখ ও ঈসা বিন আলী নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল; যা বর্তমানে বিলুপ্ত।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১০)
مولده: ولد سنة ست وثلاثمائة، وقيل سنة خمس وثلاثمائة، ونقل الخطيب القولين، ولكنه صدر كلامه بالقول الاول، ويرجع هذا القول تصريح الدارقطني نفسه به حيث قال: (مات أبو العباس احمد بن محمد بن شريح القاضي الفقيه سنة ست وثلاثمائة..وولدت في هذه السنة) طلبه للعلم: كان والد الدارقطني رجل علم، ومن المحدثين الثقات، فلابد ان يحرص على تعليم ولده وهو صغير، كما انه بدأ الكتابة وهو صبي، فقد قال عن نفسه: (كتبت في اول سنة خمس عشرة وثلاثمائة) وكان يحضر مجلس البغوي منذ

نعومة اظافره، قال يوسف القواس: (كنا نمر الى البغوي والدارقطني صبي يمشي خلفنا بيده رغيف عليه كامخ، وقال الذهبي: (وسمع وهو صبي من ابي القاسم البغوي ويحيى بن محمد بن صاعد، وابي بكر ابن ابي داود) ، والذي يظهر لنا ونحن نقرأ حياة الدارقطني انه حفظ القرآن وهو صغير، فقد قال عن نفسه: (كنت انا والكتاني نسمع الحديث فكانوا يقولون: يخرج الكتاني محدث البلد، ويخرج الداقطني مقرئ البلد،
তাঁর জন্ম: তিনি তিনশত ছয় হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, এবং বলা হয়েছে যে তিনি তিনশত পাঁচ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। আল-খাতিব উভয় মতই বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি আলোচনার শুরুতে প্রথম মতটি উল্লেখ করেছেন। এই মতটি আদ-দারাকুতনীর নিজের স্পষ্ট বক্তব্য দ্বারাও সমর্থিত হয়, যেখানে তিনি বলেছেন: (বিচারক ও ফকিহ আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন শুরাইহ তিনশত ছয় হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন... এবং আমি এই বছরেই জন্মগ্রহণ করেছি)। তাঁর জ্ঞানার্জন: আদ-দারাকুতনীর পিতা একজন আলিম এবং নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাই তিনি শৈশব থেকেই তাঁর সন্তানকে শিক্ষা প্রদানের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। অনুরূপভাবে তিনি বালক থাকাবস্থাতেই লিখতে শুরু করেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: (আমি তিনশত পনেরো হিজরীর শুরুতে লেখা শুরু করি)। এবং তিনি আল-বাগাওয়ীর মজলিসে উপস্থিত হতেন তাঁর শৈশবের একেবারে

শুরু থেকেই। ইউসুফ আল-কাওয়াস বলেন: (আমরা আল-বাগাওয়ীর নিকট যেতাম আর আদ-দারাকুতনী বালক হিসেবে আমাদের পেছনে হাঁটতেন, তাঁর হাতে একটি রুটি থাকত যাতে কামাখ (এক ধরণের আচার) মাখানো ছিল)। আয-যাহাবী বলেন: (তিনি বালক থাকাবস্থাতেই আবু আল-কাসিম আল-বাগাওয়ী, ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়েদ এবং আবু বকর ইবনে আবি দাউদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন)। আদ-দারাকুতনীর জীবনী পাঠ করার সময় আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি শৈশবেই কুরআন হিফজ করেছিলেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: (আমি এবং আল-কাত্তানি হাদিস শ্রবণ করতাম, তখন তারা বলত: আল-কাত্তানি হবে এই শহরের মুহাদ্দিস, আর আদ-দারাকুতনী হবে এই শহরের ক্বারী,
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১১)
فخرجت انا محدثا مقرئا) اضف الى ذلك ان من عادة المسلمين انهم كانوا يحفظون القرآن الكريم لابناءهم وهم في مرحلة الطفولة.

رحلاته العلمية: بعد ان سمع الدارقطني شيوخ بلده ارتحل الى البصرة والكوفة والى غير ذلك من مدن العراق والتي كانت مركزا من مراكز العلم والعلماء، فقد رحل الى البصرة في حدود العشرين وثلاثمائة، كما انه رحل الى الكوفة للسماع من الحافظ ابي عبد الله محمد بن القاسم بن زكريا الكوفي السوداني، قال الدارقطني: (كتبت ببغداد من احاديث السوداني..ثم مضيت الى الكوفة لاسمع منه) ورحل الى الشام ومصر والحجاز، قال الحاكم: (دخل الدارقطني الشام ومصر على كبر السن، وحج، واستفاد وافاد، ومصنفاته يطول ذكرها) رحلته الى مصر: ومن ابرز رحلات الدارقطني رحلته الى مصر، إذ دارت حولها شبهات، وكان لها اثر علمي في اهل مصر، وبيان ذلك ان الوزير ابن حنزابة (اراد ان يصنف مسندا، فخرج أبو الحسن إليه، واقام عنده مدة يصنف له المسند، وحصل له من جهته مال كثير) وقد حدد لنا الدارقطني وقت دخوله مصر

فقال: ( … دخلت مصر في سنة سبع وخمسين..) يعني وثلاثمائة، وقد لام اليافعي الدارقطني لارتحاله الى مصر واخذه المال من الوزير ابن حنزابة، فقال: (..فانه وان كان ظاهره كما قالوا المساعدة له في تخريج المسند المذكور، قلت، لا ارى مثل هذا لائقا باهل العلم، ولا باهل الدين، نعم لو
ফলে আমি একজন মুহাদ্দিস ও ক্বারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলাম) এর সাথে যোগ করুন যে, মুসলমানদের এটি একটি রীতি ছিল যে তারা তাদের সন্তানদের শৈশবকালেই কুরআনুল কারীম মুখস্থ করাতেন।

তাঁর ইলমি সফরসমূহ: আদ-দারাকুতনী তাঁর নিজ শহরের শায়খদের নিকট হাদিস শ্রবণের পর বসরা, কুফা এবং ইরাকের অন্যান্য শহরে সফর করেন, যেগুলো ছিল জ্ঞান ও উলামাদের অন্যতম কেন্দ্র। তিনি ৩২০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে বসরায় সফর করেন, অনুরূপভাবে তিনি হাফেয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন যাকারিয়া আল-কুফি আস-সুদানি থেকে শ্রবণের উদ্দেশ্যে কুফায় সফর করেন। আদ-দারাকুতনী বলেন: (আমি বাগদাদে আস-সুদানির হাদিসসমূহ লিখেছিলাম... অতঃপর আমি তাঁর থেকে শ্রবণের জন্য কুফায় গমন করি)। তিনি শাম, মিশর ও হিজাজেও সফর করেন। আল-হাকিম বলেন: (আদ-দারাকুতনী বার্ধক্যে শাম ও মিশরে প্রবেশ করেন, হজ্জ পালন করেন, ইলম অর্জন ও বিতরণ করেন এবং তাঁর রচনাবলির বিবরণ দীর্ঘ)। মিশর সফর: আদ-দারাকুতনীর সফরগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো তাঁর মিশর সফর, কারণ একে কেন্দ্র করে কিছু সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল এবং মিশরের অধিবাসীদের ওপর এর গভীর ইলমি প্রভাব ছিল। এর ব্যাখ্যা হলো যে, উজির ইবনু হুনযাবাহ (একটি মুসনাদ গ্রন্থ সংকলন করতে চেয়েছিলেন, তাই আবুল হাসান তাঁর নিকট গমন করেন এবং তাঁর নিকট একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে তাঁর জন্য মুসনাদটি সংকলন করে দেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রচুর ধন-সম্পদ লাভ করেন)। আদ-দারাকুতনী আমাদের কাছে মিশরে প্রবেশের সময় উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন: ( … আমি সাতান্ন সালে মিশরে প্রবেশ করি...) অর্থাৎ তিনশত সাতান্ন হিজরি। আল-ইয়াফেয়ী আদ-দারাকুতনীকে মিশরে সফর এবং উজির ইবনু হুনযাবাহর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কারণে ভর্ৎসনা করেছেন। তিনি বলেন: (..কেননা বাহ্যিকভাবে বিষয়টি তেমন হলেও, যেমনটি তারা বলেছে যে, উল্লিখিত মুসনাদ সংকলনে তাকে সহায়তা করা, আমি বলব— আমি এ জাতীয় বিষয়কে আলেম সমাজ বা দ্বীনদার ব্যক্তিদের জন্য শোভনীয় মনে করি না। হ্যাঁ, যদি
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১২)
كانت مثل هذه المساعدة (لبعض) اهل العلم والدين، ولا يشوبها شئ من امور الدنيا، كان حسنا منه وفضلا وحرصا على نشر العلم والمساعدة في الخير) .

وقد دافع الذهبي - رحمه الله تعالى - عن الدارقطني في ذلك بعد ان اورد حكاية تدل على ان الدارقطني لم يكن في حالة ميسرة من العيش، ولم يكن له نصيب وافر من المال (قال أبو الحسن العتيقي: حضرت ابا الحسن وجاءه أبو الحسين البيضاوي بغريب ليقرأ له شيئا، فامتنع واعتل ببعض العلل، فقال: هذا غريب، وساله ان يملي عليه أبو الحسن من حفظه مجلسا تزيد احاديثه على العشرين حديثا متن جميعها (نعم الهدية امام الحاجة) قال: فانصرف الرجل ثم جاءه بعد، وقد اهدى له شيئا ففر به واملى عليه من حفظه بضعة عشر حديثا متون جميعها (إذا اتاكم كريم قوم فأكرموه) .

قال الذهبي: (قلت: هذه حكاية صحيحة..وهي دالة على سعة حفظ هذا الامام، وعلى انه لوح بطلب شئ، وهذا مذهب لبعض العلماء، ولعل الدارقطني كان آذ ذاك محتاجا، وكان يقبل جوائز دعلج السجزي، وكذا وصله الوزير ابن حنزابة بجملة من الذهب لما خرج له المسند.

ويجب ان لا ينسى القارئ ان ابن حنزابة لم يكن وزيرا وصاحب سلطان وجاه فقط، انما هو عالم كبير ورجل عادل بذل نفسه للعلم والعلماء فرحلة

الدارقطني له لمساعدته انما هي رحلة لعالم من العلماء مشهود له بالتقوى والصلاح، وهذا امر لا يلام عليه الدارقطني خاصة وانه لم يقصر نفسه وعلمه على ابن حنزابة بل نشر علمه بين طلابه واستفاد منه الكثير، وتاثروا به، وعرفوا منزلته، وكان من ابرز تلاميذه الحافظ أبو محمد عبد الغني بن
জ্ঞান ও দ্বীনদার এক শ্রেণির মানুষের জন্য এই ধরনের সহায়তা ছিল সম্পূর্ণ পার্থিব উদ্দেশ্যমুক্ত; এটি ছিল তাঁর মহানুভবতা, অনুগ্রহ এবং জ্ঞান প্রচার ও কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করার ঐকান্তিক আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।).

ইমাম যাহাবী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) এ বিষয়ে ইমাম দারাকুতনীর পক্ষ সমর্থন করেছেন। এর পূর্বে তিনি এমন একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, ইমাম দারাকুতনী সচ্ছল অবস্থায় ছিলেন না এবং তাঁর নিকট পর্যাপ্ত অর্থ-সম্পদও ছিল না (আবু হাসান আল-আতিকী বলেন: আমি আবুল হাসানের মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তখন আবু হুসাইন আল-বায়দাউয়ী এক মুসাফিরকে নিয়ে তাঁর কাছে আসলেন যাতে তিনি তাকে কিছু পড়ে শোনান। কিন্তু তিনি অসম্মতি জানালেন এবং কিছু ওজর পেশ করলেন। তখন তিনি (বায়দাউয়ী) বললেন: ইনি একজন মুসাফির। এরপর তিনি আবুল হাসানকে অনুরোধ করলেন যাতে তিনি তাঁর মুখস্থ থেকে বিশটিরও অধিক হাদিস সম্বলিত একটি মজলিস তাকে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিখে দেন, যার প্রতিটির মূল পাঠ ছিল: ‘প্রয়োজনের মুহূর্তে উপহার কতই না চমৎকার’। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর লোকটি চলে গেলেন এবং পরবর্তীতে আবার আসলেন এবং তাঁকে কিছু উপহার দিলেন। এতে তিনি সন্তুষ্ট হলেন এবং তাঁকে তাঁর মুখস্থ থেকে দশটিরও অধিক হাদিস লিখে দিলেন, যার প্রতিটির মূল পাঠ ছিল: ‘যখন তোমাদের কাছে কোনো জাতির সম্মানিত ব্যক্তি আসে, তখন তাকে সম্মান করো’)।

যাহাবী বলেন: (আমি বলি: এটি একটি বিশুদ্ধ ঘটনা... যা এই ইমামের মুখস্থশক্তির বিশালতার প্রমাণ দেয় এবং এটিও নির্দেশ করে যে তিনি কোনো কিছুর প্রত্যাশার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর এটি একদল আলেমের অনুসৃত পদ্ধতি। সম্ভবত তখন দারাকুতনী অভাবগ্রস্ত ছিলেন। তিনি দাউলাজ আস-সিজযীর পুরস্কার গ্রহণ করতেন। অনুরূপভাবে, উজির ইবনে হিজাবাহ তাঁকে প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণ প্রদান করেছিলেন যখন তিনি তাঁর জন্য ‘আল-মুসনাদ’ গ্রন্থটি সংকলন করেছিলেন।

পাঠকের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ইবনে হিজাবাহ কেবল একজন উজির এবং ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির অধিকারী ব্যক্তিই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন বড় আলেম এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি, যিনি জ্ঞান ও জ্ঞানীদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে তাঁর নিকট ইমাম

দারাকুতনীর সফর মূলত তাঁর সহায়তার জন্য এমন একজন আলেমের নিকট সফর ছিল যার তাকওয়া ও পরহেজগারির বিষয়ে সকলে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য ইমাম দারাকুতনীকে তিরস্কার করা যায় না, বিশেষ করে তিনি নিজেকে এবং নিজের জ্ঞানকে কেবল ইবনে হিজাবাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং ছাত্রদের মাঝেও তাঁর জ্ঞান ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং বহু মানুষ তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছিল। তারা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবং তাঁর মর্তবা উপলব্ধি করতে পেরেছিল। তাঁর অন্যতম প্রধান ছাত্র ছিলেন হাফেজ আবু মুহাম্মদ আবদুল গনি বিন
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৩)
سعيد الازدي، قال منصور بن علي الطرطوسي: (لما اراد الدارقطني الخروج من عندنا من مصر، خرجنا نودعه، وبكينا، فقال لنا: تبكون وعندكم عبد الغني بن سعيد وفيه الخلف) .

وهكذا غادر الدارقطني مصر تاركا بعده تلميذه عبد الغني بن سعيد ليتم رسالته في اهل مصر.

عقيدة الدارقطني: بما ان الدارقطني من ائمة الجرح والتعديل، وكتابنا الذي هو موضوع الرسالة في هذا الباب، فلابد من بيان عقيدة الدارقطني لما لها اثر في مجال الجرح والتعديل.

فقد قال الذهبي: (..وكان إليه المنتهى في السنة ومذهب السلف..) وقد وجهت إليه تهمتان: الاولى: هي التشيع، والثانية: انه اشعري.

وسبب التهمة الاولى: ان الدارقطني: (كان يحفظ ديوان السيد الحميري في جملة ما يحفظ من الشعر، فنسب الى التشيع لذلك) ولا شك ان هذا دليل هزيل وميت لا يصلح لان يتهم من اجله حافظ كبير كالدارقطني باتشيع، نعم، السيد الحميري (كان رافضيا خبيثا) ، ولكنه كان شاعرا مطبوعا حلو الشعر، بليغة، كما ان شعره كان منتشرا بين اهل بغداد.

فحفظ الدارقطني لديوانه من باب توسعه في المعرفة، فالى جانب اشتغاله بالحديث وعلله، كان رحمه الله تعالى عالما بالقراءات واللغة والادب، ولو ان

كل من يحفظ ديوان شاعر ما يتهم بعقيدة ذلك الشاعر لكان كل من حفظ ديوان ابي نواس اتهم بالفسق والفجور، وكال من يحفظ دواوين الشعراء الجاهليين يتهم بما يعتقدونه، لما حفظ احد هذه الدواوين..نقل السلمي عن
সাঈদ আল-আজদি, মানসুর বিন আলী আত-তারতুসি বলেছেন: (যখন আদ-দারা কুতনি আমাদের নিকট হতে অর্থাৎ মিশর থেকে প্রস্থান করতে চাইলেন, আমরা তাকে বিদায় দিতে বের হলাম এবং কাঁদতে লাগলাম। তখন তিনি আমাদের বললেন: তোমরা কাঁদছ অথচ তোমাদের মাঝে আব্দুল গনি বিন সাঈদ বিদ্যমান এবং তার মাঝেই সুযোগ্য উত্তরসূরি রয়েছে)।

এভাবেই আদ-দারা কুতনি মিশর ত্যাগ করেন এবং তার পিছনে তার ছাত্র আব্দুল গনি বিন সাঈদকে রেখে যান যেন তিনি মিশরের অধিবাসীদের মাঝে তার ইলমি মিশন অব্যাহত রাখতে পারেন।

আদ-দারা কুতনির আকিদাহ: যেহেতু আদ-দারা কুতনি ‘জারহ ও তাদিল’ (হাদিস বিশারদগণের সমালোচনা ও সত্যায়ন শাস্ত্র) এর অন্যতম ইমাম এবং আমাদের আলোচ্য কিতাবটি এই শাস্ত্রের অন্তর্গত, তাই আদ-দারা কুতনির আকিদাহ বর্ণনা করা আবশ্যক, কারণ জারহ ও তাদিল এর ক্ষেত্রে আকিদাহর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

ইমাম আদ-জাহাবি বলেন: (...সুন্নাহ এবং সালাফদের মাযহাবের ক্ষেত্রে তার জ্ঞান ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের...)। তবে তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল: প্রথমটি হলো শিয়া মতবাদ এবং দ্বিতীয়টি হলো তিনি আশআরি ছিলেন।

প্রথম অভিযোগটির কারণ হলো: আদ-দারা কুতনি: (কবিতা মুখস্থ করার অংশ হিসেবে আস-সাইয়্যেদ আল-হিমইয়ারির কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ রেখেছিলেন, যার ফলে তাকে শিয়া মতবাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে)। নিঃসন্দেহে এটি একটি দুর্বল ও অসার দলিল যা আদ-দারা কুতনির মতো একজন মহান হাফিজের বিরুদ্ধে শিয়া মতবাদের অভিযোগ তোলার জন্য মোটেও সঙ্গত নয়। এটা সত্য যে, আস-সাইয়্যেদ আল-হিমইয়ারি (একজন নিকৃষ্ট রাফিজি ছিল), তবে সে ছিল একজন স্বভাবজাত ও সুমিষ্ট ভাষার প্রাঞ্জল কবি এবং তার কবিতা বাগদাদবাসীর মধ্যে বহুল প্রচলিত ছিল।

সুতরাং আদ-দারা কুতনির পক্ষ থেকে তার কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ রাখা ছিল মূলত জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে। হাদিস এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলাল) নিয়ে গবেষণায় নিমগ্ন থাকার পাশাপাশি তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) কিরাত, ভাষা ও সাহিত্যেরও অগাধ পণ্ডিত ছিলেন। আর যদি

যে কোনো কবির কাব্যগ্রন্থ মুখস্থকারীকে সেই কবির আকিদাহর অনুসারী বলে অভিযুক্ত করা হতো, তবে যারা আবু নুয়াসের কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করেছে তাদের সকলকে পাপাচার ও দুশ্চরিত্রের দায়ে অভিযুক্ত করতে হতো। একইভাবে যারা জাহেলি যুগের কবিদের কাব্যগ্রন্থ মুখস্থ করে তাদের সেই যুগের আকিদাহর অনুসারী বলে গণ্য করতে হতো, আর এমতাবস্থায় কেউ কখনো এই কাব্যগ্রন্থগুলো মুখস্থ করত না... আস-সুলামি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৪)
شيخه الدارقطني (قال الشيخ: اختلف قوم ببغداد من اهل العلم، فقال قوم: عثمان افضل، وقال قوم: علي افضل، فتحاكموا الي فيه، فسألوني عنه، فامسكت وقلت: الامساك عنه خير، ثم لم ارد السكوت وقلت: دعهم يقولون فيما احبوا فدعوت الذي جاءني مستفتيا، وقلت: ارجع إليهم وقل: أبو الحسن يقول: عثمان رضي الله عنه افضل من علي باتفاق جماعة اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ، هذا قول اهل السنة، وهو اول عقد يحل في الرفض) ، كما ان الدارقطني كان يجرح الكثير بسبب تشيعهم الممقوت كما سيأتي في كتاب الضعفاء.

والتهمة الثانية: انه اشعري، وسبب هذه التهمة ما رواه أبو ذر الهروي تلميذ الدارقطني: قال: ( … كنت ماشيا مع الدارقطني فلقينا القاضي ابا بكر فالتزمه الدارقطني وقبل وجهه وعينيه، فلما افترقا قلت: من هذا؟ قال: هذا امام المسلمين والذاب عن الدين القاضي أبو بكر بن الطيب..) ، وهذه الحادثة تدل على سمو اخلاق الدارقطني وتواضعه، فقد قال له أبو ذر: (..من هذا الذي صنعت به ما لم اعتقد انك تصنعه وانت امام وقتك؟..ذلك ان الدارقطني لم يكن مغرورا بنفسه مزهوا بعلمه، وانما كان متواضعا مجلا لاهل العلم والفضل، قال الذهبي بعد ان الورد حكاية ابي ذر بشان ابي بكر الباقلاني: (قلت: هو الذي كان ببغداد يناظر عن السنة وطريقة الحديث

بالجدل والبرهان وبالحضرة روى المعتزلة والرافضة والقدرية والوان البدع،
তাঁর শাইখ আল-দারাকুতনী (শাইখ বলেন: বাগদাদের একদল আলিমদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল; একদল বলল: উসমান শ্রেষ্ঠ, অন্য দল বলল: আলী শ্রেষ্ঠ। এরপর তারা এ বিষয়ে ফয়সালার জন্য আমার কাছে আসল এবং আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। আমি বিরত থাকলাম এবং বললাম: এ বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করাই কল্যাণকর। এরপর আমি আর নীরব থাকতে চাইলাম না এবং বললাম: তারা যা পছন্দ করে তা-ই তাদের বলতে দাও। এরপর যে ব্যক্তি আমার কাছে ফতোয়া জানতে এসেছিল তাকে আমি ডাকলাম এবং বললাম: তাদের কাছে ফিরে যাও এবং বল: আবুল হাসান বলছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের জামাতের সর্বসম্মতিক্রমে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু আলী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এটিই আহলে সুন্নাতের বক্তব্য এবং এটিই রাফেযী (শিয়া) মতবাদের প্রথম গ্রন্থি যা ছিন্ন করা হয়)। অনুরূপভাবে দারাকুতনী অনেকেরই সমালোচনা করেছেন তাদের ঘৃণ্য শিয়া মতবাদের কারণে, যা কিতাবুদ দুয়াফা-তে (দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ক গ্রন্থ) সামনে আসবে।

দ্বিতীয় অভিযোগ: তিনি আশআরী ছিলেন। এই অভিযোগের কারণ হলো দারাকুতনীর ছাত্র আবু যার আল-হারাভী যা বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ( … আমি দারাকুতনীর সাথে হাঁটছিলাম, তখন আমাদের সাথে কাযী আবু বকরের দেখা হলো। দারাকুতনী তাকে আলিঙ্গন করলেন এবং তার কপালে ও চোখে চুম্বন করলেন। যখন তারা পৃথক হলেন, তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি মুসলিমদের ইমাম এবং দ্বীনের প্রতিরক্ষা দানকারী কাযী আবু বকর বিন আল-তাইয়িব...) আর এই ঘটনাটি দারাকুতনীর উন্নত চরিত্র এবং বিনয় প্রকাশ করে। আবু যার তাকে বলেছিলেন: (...ইনি কে যার সাথে আপনি এমন আচরণ করলেন যা আমি ভাবতেও পারিনি যে আপনি করবেন, অথচ আপনি আপনার সময়ের ইমাম?...) এর কারণ হলো দারাকুতনী আত্মগর্বী বা নিজের ইলম নিয়ে অহংকারী ছিলেন না, বরং তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন এবং জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতেন। আবু বকর আল-বাকিল্লানী সম্পর্কে আবু যারের বর্ণনা উল্লেখ করার পর আয-যাহাবী বলেন: (আমি বলছি: তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি বাগদাদে অবস্থান করে সুন্নাহ এবং হাদীসের পদ্ধতির পক্ষে যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে বিতর্ক করতেন এবং মুতাজিলা, রাফেযী, কাদারিয়া ও বিভিন্ন প্রকার বিদআতিদের উপস্থিতিতে তাদের মোকাবিলা করতেন।

(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولهم دولة وظهور بالدولة البويهية، وكان يرد على الكرامية، وينصر الحنابلة عليهم، وبينه وبين اهل الحديث عامر، وان كانوا قد يختلفون في مسائل دقيقة، فلهذا عامله الدارقطني بالاحترام..) وقد قال السلمي: (وسمعت الشيخ ابا الحسن يقول: ما في الدنيا شئ ابغض الي من الكلام) .

وقال الذهبي: (قلت: لم يدخل الرجل في علم الكلام ولا الجدال، ولا خاض في ذلك بل كان سلفيا؟ ، وقد نقل الذهبي عن ابي الحسن انه انشد شعرا قال فيه: حديث الشفاعة في احمد الى احمد المصطفى نسنده وجاء حديث باقعاده على العرش ايضا فلا نجحده امر الحديث على وجهه ولا تدخلوا فيه ما يفسده فسلفية الدارقطني - رحمه الله تعالى - ثابتة، وسلامة عقيدته من البدع والضلال والتشيع امر ثابت اقره العلماء، وشهد به اقران الدارقطني، كما اخبر بذلك الخطيب البغدادي في تاريخه وغير ذلك من العلماء.

اقوال العلماء فيه وثناؤهم عليه: قال الخطيب: (وكان فريد عصره، وقريع دهره، وامام وقته، انتهى إليه علم الاثر والمعرفة بعلل الحديث واماء الرجال واحوال الرجال مع الصدق والامانة والفقه والعدالة وقبول الشهادة وصحة الاعتقاد وسلامة المذهب والاطلاع بعلوم سوى علم الحديث) .

وقال الحاكم: (صار الدارقطني اوحد عصره في الحفظ والفهم والورع،
বুয়াইহি শাসনামলে তাদের একটি রাষ্ট্র ও প্রভাব ছিল। তিনি কাররামিয়াদের খণ্ডন করতেন এবং তাদের বিরুদ্ধে হানবলীদের সমর্থন করতেন। তাঁর এবং আহলে হাদিসের মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান ছিল, যদিও তাঁরা কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করতেন। এই কারণেই আদ-দারা কুতনী তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে বিবেচনা করতেন। আস-সুলামী বলেছেন: (আমি শায়খ আবুল হাসানকে বলতে শুনেছি: দুনিয়াতে ইলমুল কালামের চেয়ে আমার কাছে অধিক ঘৃণিত আর কিছু নেই)।

আয-যাহাবী বলেছেন: (আমি বলি: এই ব্যক্তি ইলমুল কালাম বা বিতর্কে প্রবেশ করেননি এবং এসবে লিপ্ত হননি, বরং তিনি ছিলেন একজন সালাফী)। আয-যাহাবী আবুল হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন যেখানে বলেছিলেন: মুস্তফা আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফাআত বা সুপারিশ বিষয়ক হাদিস আমরা তাঁর পর্যন্তই সূত্রবদ্ধ করি। আর তাঁকে আরশের উপর বসানো সংক্রান্ত যে হাদিস এসেছে তাও আমরা অস্বীকার করি না। হাদিসের বিষয়বস্তুকে তার আপন অর্থেই গ্রহণ করো এবং এতে এমন কিছু প্রবেশ করিও না যা একে নষ্ট করে দেয়। সুতরাং আদ-দারা কুতনী—রহিমাহুল্লাহ তায়ালা—এর সালাফিয়্যাত সুপ্রতিষ্ঠিত। বিদআত, বিভ্রান্তি এবং শিয়া মতবাদ থেকে তাঁর আকিদার বিশুদ্ধতা এমন এক প্রমাণিত বিষয় যা উলামায়ে কেরাম স্বীকৃতি দিয়েছেন। আদ-দারা কুতনীর সমসাময়িকগণ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন, যেমন খতিব আল-বাগদাদী তাঁর ইতিহাসে এবং অন্যান্য আলেমগণ তা উল্লেখ করেছেন।

তাঁর সম্পর্কে আলেমদের উক্তি ও প্রশংসা: আল-খতিব বলেন: (তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ এবং সমসাময়িকদের ইমাম। হাদিসের ইলম, হাদিসের ত্রুটিসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের নাম ও অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান তাঁর কাছে এসেই সমাপ্ত হয়েছে। সেই সাথে তিনি ছিলেন সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ফিকহ, ন্যায়পরায়ণতা, সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা, বিশুদ্ধ আকিদা ও সঠিক মাযহাবের অধিকারী এবং হাদিস শাস্ত্র ছাড়াও অন্যান্য জ্ঞানে পারদর্শী)।

আল-হাকিম বলেছেন: (আদ-দারা কুতনী তাঁর যুগে মুখস্থশক্তি, প্রজ্ঞা এবং খোদাভীতিতে অদ্বিতীয় হয়ে উঠেছিলেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৬)
واماما في القراء، والنحويين، واقمت في سنة سبع وستين ببغداد اشهرا، وكثر اجتماعنا، فصادفته فوق ما وصف لي، وسالته عن العلل والشيوخ، وله مصنفات يطول ذكرها، فاشهد انه لم يخلق على اديم الارض مثله.

وقال الازهري: (كان الدارقطني ذكيا إذا ذكروا شيئا من العلم اي نوع كان وجد عنده منه نصيب وافر) .

وقال الصوري: (سمعت عبد الغني بن سعيد الحافظ بمصر يقول: احسن الناس كلاما على حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثة: علي بن المديني في وقته، وموسى بن هارون في وقته، وعلي بن عمر الدارقطني في وقته) .

وقال ابن كثير: (..الحافظ الكبير استاذ هذه الصنعة، وقبله وبعده الى زماننا هذا، سمع الكثير، وصنف والف واجاد وافاد واحسن النظر والتعليل والانتقاد والاعتقاد، وكان فريد عصره، ونسيج وحده، واما دهره..وكان من صغره موصوفا بالحفظ الباهر، والفهم الثاقب، والبحر الزاخر..) وحين سئل الامام ابن تيمية - رحمه الله تعالى - عن الائمة من اهل الحديث ومذاهبهم، واجتهادهم، اجاب: ( … واما البيهقي، فكان على مذهب الشافعي منتصرا له في عامة اقواله، والدارقطني هو ايضا يميل الى مذهب الشافعي، وائمة المسند والحديث، لكن ليس هو في تقليد الشافعي كالبيهقي، مع ان البيهقي له اجتهاد في كثير من المسائل، واجتهاد الدارقطني اقوى منه، فانه كان اعلم وافقه منه) .

وكان الدارقطني يعرف قيمة نفسه مع التواضع الجم، قال رجاء المعدل: (سالت ابا الحسن الدارقطني فقلت له: راى الشيخ مثل نفسه؟ فقال
এবং তিনি ক্বারি ও ব্যাকরণবিদদের ইমাম ছিলেন। আমি সাতষট্টি হিজরি সনে বাগদাদে কয়েক মাস অবস্থান করেছি এবং আমাদের মাঝে প্রচুর সাক্ষাৎ হতো। আমি তাঁকে আমার কাছে বর্ণিত গুণাবলির চেয়েও উচ্চে পেয়েছি। আমি তাঁকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি এবং শায়খদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির তালিকা অনেক দীর্ঘ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ভূপৃষ্ঠে তাঁর মতো আর কাউকে সৃষ্টি করা হয়নি।

আল-আজহারি বলেছেন: (দারাকুতনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। যখনই ইলমের কোনো বিষয়—তা যে কোনো প্রকারেরই হোক না কেন—আলোচনা করা হতো, তাঁর কাছে সেই বিষয়ের একটি বিশাল অংশ পাওয়া যেত।)

আস-সূরি বলেছেন: (আমি মিশরে হাফিজ আবদুল গনি বিন সাইদকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের উপর আলোচনায় সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন তিনজন: নিজ সময়ে আলি বিন আল-মাদিনি, নিজ সময়ে মুসা বিন হারুন এবং নিজ সময়ে আলি বিন উমর আদ-দারাকুতনি।)

ইবনে কাসির বলেছেন: (..তিনি ছিলেন মহান হাফিজ, এই শাস্ত্রের উস্তাদ—তাঁর পূর্বে এবং পরে আমাদের এ সময় পর্যন্ত। তিনি প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং বহু গ্রন্থ রচনা ও সংকলন করেছেন; তিনি এতে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, উপকৃত করেছেন এবং গবেষণা, ত্রুটি বিশ্লেষণ, সমালোচনা ও আকিদার বিষয়ে চমৎকার বিচারশক্তির পরিচয় দিয়েছেন। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, আপন সত্তায় অতুলনীয় এবং তাঁর সময়ের ইমাম.. তিনি বাল্যকাল থেকেই বিস্ময়কর মুখস্থশক্তি, তীক্ষ্ণ মেধা এবং প্রবহমান সমুদ্রের ন্যায় জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন..।) আর যখন ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আহলে হাদিসের ইমামগণ এবং তাঁদের মাযহাব ও ইজতিহাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি উত্তর দিলেন: ( … আর বায়হাক্বি ছিলেন শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী এবং তাঁর অধিকাংশ বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিতেন। আর দারাকুতনিও শাফেয়ি মাযহাব এবং মুসনাদ ও হাদিসের ইমামগণের মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে ছিলেন। তবে তিনি শাফেয়ি মাযহাবের তাকলিদ বা অনুকরণের ক্ষেত্রে বায়হাক্বির মতো ছিলেন না। যদিও অনেক মাসয়ালায় বায়হাক্বির নিজস্ব ইজতিহাদ রয়েছে, তবে দারাকুতনির ইজতিহাদ তাঁর চেয়েও শক্তিশালী ছিল। কেননা তিনি বায়হাক্বির চেয়েও বড় আলিম ও ফকিহ ছিলেন।)

অত্যধিক বিনয় থাকা সত্ত্বেও আদ-দারাকুতনি নিজের মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন। রাজা আল-মুয়াদ্দাল বলেন: (আমি আবুল হাসান আদ-দারাকুতনিকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং তাঁকে বললাম: শায়খ কি নিজের মতো কাউকে দেখেছেন? তখন তিনি বললেন...
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৭)
لي: قال الله تعالى: (فلا تزكوا انفسكم) .

فقلت له: لم ارد هذا، ان كان في فن

واحد فقد رايت من هو افضل مني، واما من اجتمع فيه ما اجتمع في، فلا) .

وقال الازهري: (رايت محمد بن ابي الفوارس - وقد سال ابا الحسن الدارقطني - عن علة حديث، أو اسم فيه، فاجابه.

ثم قال له: يا ابا الفتح: ليس بين الشرق والغرب من يعرف هذا غيري) .

وكان رحمه الله يشعر انه المدافع عن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الحامل لوائها، فقد قال: (يا اهل بغداد لا تظنون ان احدا يقدر يكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا حي) .

وقال الخطيب: (قرات بخط حمزة بن محمد بن طاهر الدقاق في ابي الحسن الدارقطني: جعلناك فيما بيننا ورسولنا وسيطا فلم تظلم ولم تتحوب فانت الذي لولاك لم يعر الوري ولو جهدوا ما صادق مكذب وفاته: بعد حياة حافلة بخدمة السنة والدفاع عنها قولا وعملا وتعليما وتاليفا، انتهت حياة الحافظ الدارقطني بلقاء ربه تبارك وتعالى ليبقى حيا بيننا بما تركه من المصنفات والآثار العلمية، وقد اتفقت الروايات حول سنة وفاة الدارقطني فقد اشارت جميعها الى ان وفاته كانت سنة خمس وثمانين وثلاثمائة، ولكن وقع اختلاف يسير في تحديد الشهر الذي توفي فيه: هل هو شهر ذي
আমার জন্য: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (তোমরা নিজেদের পবিত্রতা ঘোষণা করো না)।

অতঃপর আমি তাকে বললাম: আমি এটি বোঝাতে চাইনি; যদি কোনো একটি শাস্ত্রের বিষয় হয় তবে আমি এমন ব্যক্তিকে দেখেছি যিনি আমার চেয়েও শ্রেষ্ঠ, কিন্তু যার মধ্যে সেই সব গুণের সমাবেশ ঘটেছে যা আমার মধ্যে ঘটেছে, তেমন কাউকে দেখিনি।

আল-আযহারী বলেন: (আমি মুহাম্মদ বিন আবিল ফাওয়ারিসকে দেখেছি—তিনি আবুল হাসান আদ-দারাকুতনীকে কোনো হাদীসের ত্রুটি অথবা হাদীসে থাকা কোনো নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—অতঃপর তিনি তাকে উত্তর দিলেন।

তারপর তিনি তাকে বললেন: হে আবুল ফাতহ, পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে আমি ছাড়া আর কেউ এটি জানে না)।

আর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অনুভব করতেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর রক্ষক এবং এর পতাকাবাহী। তাই তিনি বলেছিলেন: (হে বাগদাদবাসী, তোমরা মনে করো না যে, আমি জীবিত থাকা অবস্থায় কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করতে সক্ষম হবে)।

আল-খাতীব বলেন: (আমি হামযা বিন মুহাম্মদ বিন তাহির আদ-দাক্কাকের হস্তাক্ষরে আবুল হাসান আদ-দারাকুতনী সম্পর্কে পড়েছি: আমরা আপনাকে আমাদের ও আমাদের রাসূলের মাঝে মাধ্যম বানিয়েছি, আপনি কোনো অবিচার করেননি এবং পাপীও হননি। আপনিই সেই ব্যক্তি যে না থাকলে সৃষ্টিজগত চিনত না—তারা শত চেষ্টা করলেও—কোনটি সত্যবাদী আর কোনটি মিথ্যাবাদীর কথা। তাঁর মৃত্যু: সুন্নাহর সেবা এবং কথা, কাজ, শিক্ষা ও রচনার মাধ্যমে এর প্রতিরক্ষায় পূর্ণ এক জীবনের পর, হাফেয আদ-দারাকুতনীর জীবন তাঁর বরকতময় ও মহান প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, যাতে তিনি তাঁর রেখে যাওয়া গ্রন্থাবলী ও ইলমী নিদর্শনের মাধ্যমে আমাদের মাঝে জীবিত থাকেন। আদ-দারাকুতনীর মৃত্যুর সালের ব্যাপারে বর্ণনাগুলো একমত হয়েছে; সবকটি বর্ণনাই নির্দেশ করে যে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল তিনশ পঁচাশি হিজরি সালে। তবে তাঁর মৃত্যুর মাস নির্ধারণে সামান্য মতভেদ ঘটেছে: সেটি কি যিলকদ মাস নাকি...)
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৮)
القعدة ام شهر ذي الحجة) ورجح الخطيب ان وفاته كانت في شهر ذي القعدة، كما اختلفت الروايات هل كانت وفاته يوم الثلاثاء ودفن يوم الاربعاء ام ان وفاته كانت يوم الاربعاء ودفن يوم الخميس؟ ، ولم اقف على ترجيح في ذلك، ودفن أبو الحسن في مقبرة باب الدير، قريبا من قبر معروف

الكرخي.

وقال صدر الدين أبو علي الحسن بن محمد البكري، المتوفى سنة 656 هـ: وزرت قبره بها.

وبذلك يثبت لنا مكان دفنه.

وروى الخطيب عن ابن ماكولا قوله: (رايت في المنام ليلة من ليالي شهر رمضان كاني اسال عن حال ابي الحسن الدارقطني في الاخرة، وما آل إليه امره؟ فقيل لي: ذاك يدعى في الجنة الامام) .

طائفة من شيوخ الدارقطني: كان توسع الدارقطني في الطلب والرحلة مع ازدهار عصره بالعلم والعلماء سببا في كثرة شيوخه الذين تلقى عنهم، واستفاد منهم، وتأثر بهم، ولا يتسع المقام الاحصاء كل شيوخ الدارقطني، لذا ساكتفي بذكر طائفة منهم مع التركيز على اهم من ظهر لهم اثر في حياته العلمية، والذين سئل عنهم في كتاب الضعفاء وسؤالات حمزة السهمي، وسؤالات الحاكم.

1 - أبو اسحاق ابراهيم بن حماد بن اسحاق بن زيد بن درهم الازدي مولى الجرير بن حازم، سمع احمد بن عبيد الله العنبري، وعلي بن مسلم
জিলকদ নাকি জিলহজ মাস) এবং আল-খতিব প্রাধান্য দিয়েছেন যে, তাঁর মৃত্যু জিলকদ মাসেই হয়েছিল। একইভাবে বর্ণনাগুলোতে মতভেদ রয়েছে যে, তাঁর মৃত্যু কি মঙ্গলবার হয়েছিল এবং দাফন বুধবার হয়েছিল, নাকি তাঁর মৃত্যু বুধবার হয়েছিল এবং দাফন বৃহস্পতিবার হয়েছিল? আমি এ বিষয়ে কোনো অগ্রগণ্য মতের সন্ধান পাইনি। আবুল হাসানকে 'বাবুদ দাইর' গোরস্থানে মারুফ আল-কারখির কবরের সন্নিকটে দাফন করা হয়।

এবং ৬৫6 হিজরি সনে মৃত্যুবরণকারী সদরুদ্দিন আবু আলী হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকরি বলেন: আমি সেখানে তাঁর কবর যিয়ারত করেছি।

এর মাধ্যমে আমাদের নিকট তাঁর দাফনের স্থানটি প্রমাণিত হয়।

আল-খতিব ইবনে মাকুলা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (আমি রমজান মাসের এক রাতে স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি আখেরাতে আবু হাসান আদ-দারাকুতনির অবস্থা এবং তাঁর পরিণতি কী হয়েছে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি। তখন আমাকে বলা হলো: জান্নাতে তাঁকে 'ইমাম' বলে ডাকা হয়)।

আদ-দারাকুতনির একদল শিক্ষক (শায়খ): জ্ঞান অন্বেষণ ও সফরের ক্ষেত্রে আদ-দারাকুতনির ব্যাপকতা এবং তাঁর যুগে জ্ঞান ও আলেমদের সমৃদ্ধি ছিল তাঁর অসংখ্য শিক্ষক হওয়ার কারণ, যাঁদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। এখানে আদ-দারাকুতনির সকল শিক্ষকের পরিসংখ্যান দেওয়ার অবকাশ নেই, তাই আমি তাঁদের মধ্য থেকে একদলের কথা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব। এতে বিশেষভাবে তাঁদের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে যাঁদের প্রভাব তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনে প্রকাশ পেয়েছে এবং যাঁদের সম্পর্কে 'কিতাবুয যুয়াফা', 'সুয়ালাতু হামযা আস-সাহমি' এবং 'সুয়ালাতুল হাকিম'-এ জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

১ - আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন হাম্মাদ বিন ইসহাক বিন যায়েদ বিন দিরহাম আল-আজদি, যিনি আল-জারির বিন হাযিমের মুক্তদাস ছিলেন। তিনি আহমাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-আনবারি এবং আলী বিন মুসলিম থেকে (হাদিস) শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الطوسي..وروى عنه القاضي أبو الحسن الجراحي، وابو الحسن الدارقطني وقال: ثقة فاضل، وقال عنه ايضا: ثقة جبل، توفي سنة ثلاث وعشرين وثلاثمائة) .

2 - أبو اسحاق ابراهيم بن عبد الصمد بن موسى بن محمد الهاشمي، حدث عن ابي مصعب بن ابي بكر الزهري، والحسين بن الحسن المروزي..روى عنه الدارقطني، وابو جعفر الكتاني..قال الحسن بن لولو: لم ار له اصلا صحيحا فتركته، وقال الدارقطني: سمعت ابن ام شيبان

يقول: رايت سماعه بالموطا سمعا قديما صحيحا، وقال أبو الحسن محمد ابن صالح الهاشمي: رايت اصل ابي اسحاق ابراهيم بن عبد الصمد الهاشمي عن ابي مصعب بن ابي بكر الموطا سماعه مع ابيه بالخط العتيق خط الاصل..وقال الذهبي: وهو آخر من روي الموطا عن ابي مصعب، توفي سنة خمس وعشرين وثلاثمائة.

3 - أبو اسحاق ابراهيم بن محمد، وقال: ابراهيم بن علي بن الحسين البزاز، ويعرف بابن بقيرة، حدث عن علي بن المديني، والمفضل بن غسان..روى عنه أبو بكر بن شاذان، وابو الحسن الدارقطني، وضعفه، ونقل حمزة السهمي عن الحسن بن علي البصري قوله: ليس بالمرضي..توفي سنة ثلاث وعشرين وثلاثمائة.

4 - العالم المحدث مسند الوقت أبو بكر احمد بن جعفر بن حمدان بن مالك
আত-তুসি.. এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আল-কাদি আবুল হাসান আল-জাররাহি এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি। তিনি বলেন: নির্ভরযোগ্য ও ফাদিল (মর্যাদাবান)। তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন: পাহাড়ের ন্যায় সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য। তিনি ৩২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২ - আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আবদুস সামাদ বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আল-হাশেমি; তিনি আবু মুসআব বিন আবু বকর আজ-জুহরি এবং আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-মারওয়াজি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আদ-দারা কুতনি এবং আবু জাফর আল-কাত্তানি। আল-হাসান বিন লুলু বলেন: আমি তাঁর কোনো সহিহ মূল পাণ্ডুলিপি দেখিনি, তাই আমি তাঁকে বর্জন করেছি। আদ-দারা কুতনি বলেন: আমি ইবনে উম্মে শায়বানকে বলতে শুনেছি: আমি মুয়াত্তা বিষয়ে তাঁর শ্রবণকে একটি প্রাচীন ও সহিহ শ্রবণ হিসেবে দেখেছি। আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-হাশেমি বলেন: আমি আবু মুসআব বিন আবু বকরের সূত্রে আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আবদুস সামাদ আল-হাশেমির মুয়াত্তার মূল পাণ্ডুলিপিটি দেখেছি; তাঁর সেই শ্রবণ ছিল তাঁর পিতার সাথে এবং তা ছিল প্রাচীন লিপিতে মূল পাণ্ডুলিপির হস্তাক্ষর। আয-যাহাবি বলেন: তিনিই সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি আবু মুসআব থেকে মুয়াত্তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩২৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩ - আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ; এবং বলা হয়েছে: ইবরাহিম বিন আলি বিন আল-হুসাইন আল-বাযযায, এবং তিনি ইবনে বুকাইরা নামে পরিচিত। তিনি আলি বিন আল-মাদিনি এবং আল-মুফাদদাল বিন গাসসান থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন শাযান এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি; এবং তিনি তাঁকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হামজা আস-সাহমি আল-হাসান বিন আলি আল-বাসরি থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: তিনি সন্তোষজনক নন। তিনি ৩২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৪ - আলেম, মুহাদ্দিস, সমসাময়িককালের মুসনিদ আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২০)
البغدادي القطيعي الحنبلي راوي مسند احمد والزهد والفضائل له، سمع محمد بن يونس الكديمي وبشر بن موسى..حدث عنه الدارقطني وقال: ثقة زاهد، سمعت انه مستجاب الدعوة..وتوفي سنة ثمان وستين وثلاثمائة.

5 - أبو الحسين احمد بن سعيد بن سعد وكيل دعلج بن احمد المعدل، سمع منه انه الحسن الدارقطني كتاب الضعفاء للنسائي، وكان شيخا فاضلا، توفي سنة سبعين وثلاثمائة.

6 - أبو بكر احمد بن سلمان بن الحسن بن اسرائيل بن يوني النجاد الفقيه الحنبلي، روي عن هلال بن العلاء، وابي قلابة..ورحل وصنف السنن، روى عنه ابن مردويه، والدارقطني، قال الخطيب: كان

صدوقا عارفا، توفي سنة ثمان واربعين وثلاثمائة.

7 - أبو بكر احمد بن عيسى بن علي الخواص سمع عليا بن حرب الموصلي، وسفيان بن زياد البلدي..روى عنه الدارقطني ووثقه، توفي سنة اثنتين وثلاثين وثلاثمائة.

8 - أبو بكر احمد بن كامل بن خلف بن شجرة بن منصور القاضي..احد اصحاب محمد بن جرير الطبري، تقلد قضاء الكوفة، وكان من العلماء
আল-বাগদাদি আল-কাতিয়ি আল-হাম্বলি, ইমাম আহমদের মুসনাদ, কিতাবুয যুহদ এবং কিতাবুল ফাযায়েল-এর বর্ণনাকারী। তিনি মুহাম্মদ বিন ইউনুস আল-কুদাইমি এবং বিশর বিন মুসা থেকে শ্রবণ করেছেন। তার থেকে আদ-দারা কুতনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত ও দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ), আমি শুনেছি যে তিনি মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়) ছিলেন। তিনি তিনশ আটষট্টি হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৫ - আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন সাঈদ বিন সাদ, দা’লাজ বিন আহমদ আল-মুয়াদ্দাল-এর প্রতিনিধি। তার থেকে আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি ইমাম নাসায়ীর ‘কিতাবুয যুয়াফা’ শ্রবণ করেছেন। তিনি একজন শ্রেষ্ঠ শায়খ ছিলেন, তিনি তিনশ সত্তর হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৬ - আবু বকর আহমদ বিন সালমান bin আল-হাসান বিন ইসরাঈল বিন ইউনুস আল-নাজ্জাদ, হাম্বলি ফকিহ। তিনি হিলাল বিন আল-আলা এবং আবু কিলাবা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইলমের সন্ধানে সফর করেছেন এবং ‘আস-সুনান’ সংকলন করেছেন। তার থেকে ইবনে মারদুইয়াহ এবং আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব বলেন: তিনি

সত্যবাদী ও বিজ্ঞ ছিলেন, তিনি তিনশ আটচল্লিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৭ - আবু বকর আহমদ বিন ঈসা বিন আলী আল-খাওয়াস। তিনি আলী বিন হারব আল-মাওসিলি এবং সুফিয়ান বিন যিয়াদ আল-বালাদি থেকে শ্রবণ করেছেন। তার থেকে আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন এবং তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি তিনশ বত্রিশ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৮ - আবু বকর আহমদ বিন কামিল বিন খালাফ বিন শাজরাহ বিন মানসুর আল-কাজি। তিনি মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারির অন্যতম সহচর ছিলেন। তিনি কুফার বিচারপতির (কাজি) দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২১)
بالاحكام وعلوم القرآن والنحو، وغير ذلك روى عنه أبو الحسن الدارقطني ولينه، ومشاه وغيره، وتوفي سنة خمسين وثلاثمائة.

9 - أبو عبد الله احمد بن محمد بن ابراهيم بن آدم الصلحي، روى عنه الدارقطني وقال: ما علمت الا خيرا، توفي سنة ثلاثين وثلاثمائة.

10 - أبو سعيد احمد بن محمد بن رميح بن عصمة بن وكيع بن رجاء النخعي، من اهل نسا، ولد بالشر معان ونشا بمرو، وسمع العلم بخراسان وغيرها من البلدان، وكتب الكثير وصنف، وجمع، وذاكر العلماء، وكان معدودا في حفاظ الحديث، وقدم بغداد دفعات، وحدث بها عن محمد ابن اسحاق بن خزيمة، ومحمد بن اسحاق السراج..حدث عنه أبو الحسن الدارقطني، وابو حفص بن شاهين، ونحوهما، توفي بالجحفة سنة سبع وخمسين وثلاثمائة.

11 - أبو العباس احمد بن محمد بن سعيد بن عبد الرحمن بن ابراهيم بن زياد ابن عبد الله بن عجلان الكوفي المعروف بابن عقدة، مولى بني هاشم، ابوه نحوي صالح، سمع امما لا يحصون، وكتب العالي والنازل، وكثرة الحديث ورحلته قليلة، الف وجمع، حدث عنه الدارقطني

وقال: اجمع اهل الكوفة انه لم ير بها من زمن ابن مسعود الى زمنه احفظ منه..وقال أبو علي: ما رايت احفظ منه لحديث الكوفيين
বিধিবিধান, কুরআনুল কারীমের জ্ঞান, ব্যাকরণ এবং অন্যান্য বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর থেকে আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে দুর্বল প্রতিপন্ন করেছেন, আবার কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি তিনশত পঞ্চাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৯ - আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আদম আস-সুলহি। আদ-দারাকুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আমি তাঁর সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না।" তিনি তিনশত ত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

১০ - আবু সাঈদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে রুমাইহ ইবনে ইসমাহ ইবনে ওয়াকি ইবনে রাজা আন-নাখয়ি। তিনি নাসা অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। আশ-শার মাজানে জন্মগ্রহণ করেন এবং মার্ভে বেড়ে ওঠেন। তিনি খোরাসান ও অন্যান্য জনপদে ইলম অন্বেষণ করেছেন। প্রচুর লিখেছেন, গ্রন্থনা করেছেন এবং সংগ্রহ করেছেন। তিনি আলেমদের সাথে ইলমি আলোচনা করতেন। তিনি হাফেজুল হাদিসদের মধ্যে গণ্য ছিলেন। কয়েকবার বাগদাদ আগমন করেন এবং সেখানে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি, আবু হাফস ইবনে শাহিন এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিরা বর্ণনা করেছেন। তিনি তিনশত সাতান্ন হিজরিতে আল-জুহফাহ নামক স্থানে মৃত্যুবরণ করেন।

১১ - আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহিম ইবনে জিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আজলান আল-কুফি, যিনি ইবনে উকদাহ নামে পরিচিত। তিনি বনী হাশেমের আযাদ করা গোলাম ছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন এক সৎ ব্যাকরণবিদ। তিনি অগণিত উস্তাদ থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি 'আল-আলি' ও 'আন-নাযিল' উভয় প্রকারের হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তাঁর হাদিসের সংখ্যা ছিল বিপুল কিন্তু সফর ছিল কম। তিনি গ্রন্থ ও সংকলন রচনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন

এবং বলেছেন: "কুফাবাসীরা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন যে, ইবনে মাসউদের যুগ থেকে তাঁর সময় পর্যন্ত কুফায় তাঁর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখা যায়নি।" আবু আলী বলেছেন: "কুফাবাসীদের হাদিসের ক্ষেত্রে আমি তাঁর চেয়ে বড় কোনো হাফেজ দেখিনি।"
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২২)
وعنده تشييع، مات في سنة اثنتين وثلاثين وثلاثمائة.

12 - أبو ذر احمد بن محمد بن محمد بن سليمان بن الحارث بن عبد الرحمن، المعروف بابن الباغندي، سمع عبيد الله بن سعد الزهري، ومحمد بن علي بن خلف العطار، وروى عنه محمد بن عبيد الله بن الشخير..وابو الحسن الدارقطني نقل حمزة عن ابي مسعود قوله: سمعت الزينبي يقول: دخلت على محمد بن محمد الباغندي فسمعته يقول: لا تكتبوا عن ابني فانه يكذب، فدخلت على ابنه ابي ذر فسمعته يقول: لا تكتبوا عن ابي فانه كذاب، وسئل حمزة الدارقطني عنه فقال: ما علمت الا خيرا وكان اصحابنا يؤثرونه على ابيه..توفى أبو ذر سنة ست وعشرين وثلاثمائة.

13 - أبو طلحة احمد بن محمد بن عبد الكريم بن يزيد بن سعيد الغزاري البصري المعروف بالوساوس، سكن بغداد وحدث بها عن نصر بن علي الجهضمي وعبد الله بن خبيق الانطاكي..روى عنه ابن شاذان، وابو حفص بن شاهين، وابو الحسن الدارقطني، ونقل حمزة عن الدارقطني قوله: تكلموا فيه، وسال عنه البرقاني فقال: ثقة، توفي سنة اثنتين وعشرين وثلاثمائة.

14 - أبو بكر احمد بن المطلب بن عبد الله بن هارون الواثق بن محمد المعتصم ابن هارون الرشيد الهاشمي، سمع ابا مسلم الكجي، وموسى بن السحاق الانصاري..روى عنه أبو الحسن الدارقطني، وابو حفص
তার জানাজায় প্রচুর লোকসমাগম হয়েছিল, তিনি ৩৩২ হিজরী সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১২ - আবু যার আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আল-হারিস বিন আবদুর রহমান, যিনি ইবনুল বাগিন্দি নামে পরিচিত। তিনি উবাইদুল্লাহ বিন সা’দ আল-জুহরি এবং মুহাম্মাদ বিন আলী বিন খালাফ আল-আত্তারের নিকট হাদিস শুনেছেন। তার থেকে মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আশ-শিখখির এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। হামজা আবু মাসউদ থেকে তার এই উক্তি বর্ণনা করেছেন: আমি যাইনাবিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বাগিন্দির নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাকে বলতে শুনলাম— তোমরা আমার ছেলের থেকে কিছু লিখো না, কারণ সে মিথ্যা বলে। এরপর আমি তার পুত্র আবু যারের নিকট গেলাম এবং তাকে বলতে শুনলাম— তোমরা আমার পিতার থেকে কিছু লিখো না, কারণ তিনি একজন মিথ্যুক। হামজাকে আদ-দারা কুতনি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি তার সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না এবং আমাদের সহকর্মীরা তাকে তার পিতার চেয়ে অগ্রাধিকার দিতেন। আবু যার ৩২৬ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

১৩ - আবু তালহা আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম বিন ইয়াযিদ বিন সাঈদ আল-গাযারি আল-বাসরি, যিনি আল-ওয়াসাউস নামে পরিচিত। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে নাসর বিন আলী আল-জাহযামি ও আব্দুল্লাহ বিন খাবিক আল-আন্তাকির নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার থেকে ইবনে শাযান, আবু হাফস বিন শাহিন এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। হামজা আদ-দারা কুতনি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: লোকেরা তার সম্পর্কে সমালোচনা করেছে। বারকানি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তিনি বিশ্বস্ত। তিনি ৩২২ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন।

১৪ - আবু বকর আহমাদ বিন আল-মুত্তালিব বিন আব্দুল্লাহ বিন হারুন আল-ওয়াসিক বিন মুহাম্মাদ আল-মু’তাসিম বিন হারুনুর রশিদ আল-হাশিমি। তিনি আবু মুসলিম আল-কাজ্জি এবং মুসা বিন ইসহাক আল-আনসারির নিকট হাদিস শুনেছেন। তার থেকে আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি এবং আবু হাফস বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الاجري..وكان ثقة دينا صالحا..توفي سنة اربع واربعين وثلاثمائة.

15 - أبو بكر احمد بن موسى بن العباس بن مجاهد المقرئ شيخ القراء في وقته ومصنف السبعة، ولد سنة خمس واربعين ومائتين، سمع الرمادي، وسعدان بن نصر..روى عنه الحديث أبو حفص بن شاهين..وابو الحسن الدارقطني وخلق، قال ثعلب: ما بقي في عصرنا اعلم بكتاب الله من ابن مجاهد..توفي سنة اربع وعشرين وثلاثمائة.

16 - الحافظ الامام الثبت أبو طالب احمد بن نصر بن طالب البغدادي، سمع عباسا الدوري، ومنه الدارقطني، وكان يقول: أبو طالب استاذي، توفي سنة ثلاث وعشرين وثلاثمائة.

17 - أبو محمد بن اسماعيل بن علي بن اسماعيل بن يحيى بن بيان، الخطبي، سمع الحارث بن ابي اسامة التميمي، وبشر بن موسى الاسدي..روى عنه الدارقطني وابن شاهين وغيرهما من المتقدمين، وكان فاضلا فهما عارفا بايام الناس واخبار الخلفاء، قال الدارقطني: ما اعرف الا خيرا، كان يتحرى الصدق، وقال ايضا: ثقة..توفي سنة خمسين وثلاثمائة 18 - الحافظ أبو محمد جعفر بن علي بن سهل الدقاق الدوري، حدث عن ابي اسماعيل الترمذي، وعن محمد بن زكريا الغلابي..روى عنه عبد الله ابن ابراهيم بن ماسي، وابو الحسن الدارقطني ضعفه أبو زرعة
আল-আজুরি... তিনি নির্ভরযোগ্য, ধর্মপ্রাণ ও নেককার ছিলেন... তিনি তিনশ চুয়াল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

১৫ - আবু বকর আহমদ বিন মুসা বিন আল-আব্বাস বিন মুজাহিদ আল-মুকরি, তিনি তাঁর সময়ের ক্বারিদের প্রধান এবং 'আস-সাবআ' (সাত কিরাত) বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা; তিনি দুইশ পঁয়তাল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-রমাদি ও সা’দান বিন নাসর-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। তাঁর নিকট থেকে আবু হাফস বিন শাহিন, আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি এবং অসংখ্য মানুষ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ছা’লাব বলেছেন: আমাদের যুগে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে ইবনে মুজাহিদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কেউ অবশিষ্ট নেই। তিনি তিনশ চব্বিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

১৬ - হাফেজ, ইমাম ও সুদৃঢ় আলেম আবু তালিব আহমদ বিন নাসর বিন তালিব আল-বাগদাদি। তিনি আব্বাস আদ-দুরি-এর নিকট হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে দারা কুতনি হাদীস গ্রহণ করেছেন। দারা কুতনি বলতেন: আবু তালিব আমার শিক্ষক। তিনি তিনশ তেইশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

১৭ - আবু মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আলী বিন ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া বিন বায়ান আল-খাতবি। তিনি আল-হারিস বিন আবি উসামাহ আত-তামিমি এবং বিশর বিন মুসা আল-আসাদি-এর নিকট হাদীস শুনেছেন। তাঁর নিকট থেকে দারা কুতনি, ইবনে শাহিন এবং অগ্রবর্তী আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত গুণী, বিচক্ষণ এবং মানুষের ইতিহাস ও খলিফাদের সংবাদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। দারা কুতনি বলেছেন: আমি তাঁর সম্পর্কে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই জানি না, তিনি সর্বদা সত্যনিষ্ঠ থাকতেন। তিনি আরও বলেছেন: নির্ভরযোগ্য। তিনি তিনশ পঞ্চাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ১৮ - হাফেজ আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আলী বিন সাহল আদ-দাক্কাক আদ-দুরি। তিনি আবু ইসমাইল আত-তিরমিজি এবং মুহাম্মদ বিন জাকারিয়া আল-গালাবি থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে আবদুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন মাসি এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআ তাঁকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الجرجاني وقال: كان فاسقا كذابا، توفي سنة ثلاثين وثلاثمائة.

19 - أبو الفضل جعفر بن الفضل بن محمد بن موسى بن حسن بن الفرات

المعروف بابن حنزابة البغدادي نزيل مصر، وزر لصاحب مصر كافور الخادم، وحدث عن محمد بن هارون الحضرمي وغيره وعزم على عمل (المسند) ولذلك رحل إليه الدارقطني واقام عنده مدة، واعطاه جملة، وروى عنه احاديث في (المدبج) ولد سنة ثمان وثلاثمائة، الحنزابة امة كانت ام ولد الفضل، وفي اللغة القصيرة السمينة الغليظة..توفي في ثالث عشر ربيع الاول سنة احدى وتسعين وثلاثمائة.

20 - الحافظ العلامة أبو محمد الحسن بن احمد بن صالح الهمداني سمع قاسم ابن زكريا المطرز، وعبد الله بن ناجية، حدث عنه الدارقطني وابو بكر البرقاني، وكان حافظا ثقة قال أبو العلاء محمد بن علي الواسطي، رايت ابا الحسن الدارقطني، جالسا بين يدي ابي محمد السبيعي، كجلوس الصبي بين يدي المعلم هيبة كان عسرا في الحديث، وكانت له اخلاقا غير مرضية..توفي سنة احدى وسبعين وثلاثمائة وقيل في التي قبلها.

21 - أبو سعيد الحسن بن علي بن زكريا بن صالح بن عاصم بن زفر بن العلاء بن اسلم العدوي البصري سكن بغداد، وحدث بها عن عمرو بن مرزوق، وعروة بن سعيد، روى عنه أبو بكر بن مالك القطيعي وابو الحسن الدارقطني وقال عنه: متروك، قيل مات سنة تسع عشرة
জুরজানি বলেন: তিনি ছিলেন ফাসেক ও চরম মিথ্যাবাদী, তিনি ৩৩০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯ - আবু ফজল জাফর ইবনে ফজল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে হাসান ইবনুল ফুরাত

তিনি ইবনে হিনজাবাহ আল-বাগদাদি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং মিশরে বসবাস করতেন। তিনি মিশরের অধিপতি কাফুর আল-খাদিমের উজির ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-হাদরামি ও অন্যদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ‘আল-মুসনাদ’ সংকলনের সংকল্প করেছিলেন। এ কারণে দারাকুতনি তাঁর কাছে সফর করেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁর নিকট অবস্থান করেন। তিনি তাঁকে বড় অংকের অর্থ প্রদান করেছিলেন। দারাকুতনি তাঁর থেকে ‘আল-মুদাব্বাজ’ গ্রন্থে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ৩০৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। ‘হিনজাবাহ’ ছিলেন এক দাসী, যিনি ফজলের উম্মে ওয়ালাদ ছিলেন। আভিধানিক ভাষায় এর অর্থ খাটো, স্থূলকায় ও মোটা। তিনি ৩৯১ হিজরি সনের ১৩ই রবিউল আউয়াল মৃত্যুবরণ করেন।

২০ - হাফেজ আল্লামা আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আহমদ ইবনে সালেহ আল-হামদানি। তিনি কাসিম ইবনে জাকারিয়া আল-মুতাররিজ এবং আবদুল্লাহ ইবনে নাজিয়াহ থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে দারাকুতনি এবং আবু বকর আল-বারকানি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাফেজ ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন। আবুল আলা মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-ওয়াসিতি বলেন, আমি আবুল হাসান দারাকুতনিকে আবু মুহাম্মদ আস-সুবায়ির সামনে এমন গাম্ভীর্যের সাথে বসে থাকতে দেখেছি, যেমন একজন বালক শিক্ষকের সামনে বসে থাকে। তিনি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে কঠোর ছিলেন এবং তাঁর চরিত্র সন্তোষজনক ছিল না। তিনি ৩৭১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, আবার কেউ বলেছেন এর আগের বছর।

২১ - আবু সাঈদ হাসান ইবনে আলী ইবনে জাকারিয়া ইবনে সালেহ ইবনে আসিম ইবনে জুফার ইবনুল আলা ইবনে আসলাম আল-আদাবি আল-বাসরি। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে আমর ইবনে মারজুক ও উরওয়াহ ইবনে সাঈদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে আবু বকর ইবনে মালিক আল-কাতিয়ি এবং আবুল হাসান দারাকুতনি হাদিস বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত। বলা হয় যে, তিনি ৩১৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وثلاثمائة وقيل سنة ثمان عشرة وثلاثمائة.

22 - أبو محمد دعلج بن احمد بن دعلج بن عبد الرحمن السجستاني ولد سنة ستين ومائتين أو قبلهما، سمع من هشام بن علي السيراقي، وعبد العزيز ابن معاوية، روى عنه الدارقطني والحاكم، وخلق كثير.

قال الحاكم:

سمعت الدارقطني يقول: ضفت لدعلج المسند الكبير، فكان إذا شك في حديث ضرب عليه ولم ار في مشايخنا اثبت منه.

توفي سنة احدى وخمسين وثلاثمائة.

23 - الحافظ العالم المصنف أبو الحسن عبد الباقي بن قانع بن مرزوق بن واثق الاموي مولاهم، البغدادي صاحب (معجم الصحابة) واسع الرحلة، كثير الحديث سمع الحارث بن ابي اسامة ومنه الدارقطني وقال: كان يحفظ ولكنه كان يخطئ ويصر، وقال البرقاني: البغداديون يوثقونه، وهو عندي ضعيف، وقال الخطيب: اختط قبل موته بسنتين..ولد سنة خمس وستين ومائتين توفي سنة احدى وخمسين وثلاثمائة.

24 - الحافظ أبو القاسم عبد الله بن ابراهيم الابند وني الجرجاني، سكن بغداد، وحدث عن ابي خليفة والحسن بن سفيان وطبقتهما وكان احد اركان الحديث، وحدث عنه الدارقطني، والبرقاني..وقال البرقاني: كان محدثا زاهدا متقللا من الدنيا، لم يكن يحدث لسوء ادب الطلبة وحدثهم وقت السماع..توفي سنة ست وستين وثلاثمائة.
৩০০ হিজরি, আর কারো মতে ৩১৮ হিজরি।

২২ - আবু মুহাম্মদ দাল্লাজ ইবন আহমাদ ইবন দাল্লাজ ইবন আব্দুর রহমান আস-সিজিস্তানি। তিনি ২৬০ হিজরিতে অথবা তার আগে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হিশাম ইবন আলি আস-সিরাকি এবং আব্দুল আজিজ ইবন মুয়াবিয়া থেকে হাদিস শুনেছেন। তার থেকে দারা কুতনি, হাকিম এবং আরও অনেক মানুষ হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাকিম বলেন:

আমি দারা কুতনিকে বলতে শুনেছি: আমি দাল্লাজের জন্য মুসনাদে কাবির সংকলন করেছি। তিনি যখন কোনো হাদিসে সন্দেহ করতেন, তখন তা কেটে দিতেন। আমি আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য আর কাউকে দেখিনি।

তিনি ৩৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২৩ - হাফিজ, আলেম ও গ্রন্থকার আবুল হাসান আব্দুল বাকি ইবন কানি' ইবন মারযুক ইবন ওয়াসিক আল-উমায়ি (তাদের মুক্ত দাস), আল-বাগদাদি; 'মু'জামুস সাহাবা' গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি ব্যাপক সফরকারী এবং অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি হারিস ইবন আবি উসামা থেকে হাদিস শুনেছেন এবং তার থেকে দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। তিনি (দারা কুতনি) বলেন: তিনি মুখস্থ রাখতেন, তবে ভুল করতেন এবং ভুল হওয়া সত্ত্বেও তাতে অটল থাকতেন। বারকানি বলেন: বাগদাদবাসীরা তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তবে আমার নিকট তিনি দুর্বল। খতিব বলেন: মৃত্যুর দুই বছর আগে তার স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল। তিনি ২৬৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২৪ - হাফিজ আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ ইবন ইবরাহিম আল-আবান্দুনি আল-জুরজানি। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন। তিনি আবু খলিফা, হাসান ইবন সুফিয়ান এবং তাদের সমসাময়িকদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তার থেকে দারা কুতনি এবং বারকানি হাদিস বর্ণনা করেছেন। বারকানি বলেন: তিনি একজন মুহাদ্দিস ও দুনিয়াবিমুখ যাহিদ ছিলেন। ছাত্রদের আদব বা শিষ্টাচারের অভাবের কারণে তিনি হাদিস বর্ণনা করতে চাইতেন না, তবে পাঠ গ্রহণের সময় তিনি তাদের কাছে বর্ণনা করতেন। তিনি ৩৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৬)
25 - الحافظ المجود العلامة أبو بكر عبد الله بن محمد بن زياد بن واصل الفقيه الشافعي، حدث عن محمد بن يحيى الذهلي واحمد بن يوسف السلمي، روى عنه دعلج بن احمد، والدارقطني وقال: ما رايت احفظ منه كان يعرف زيادات الالفاظ في المتون توفي سنة اربع وعشرين وثلاثمائة.

26 - أبو القاسم عبد الله بن محمد بن عبد العزيز بن المرزبان البغوي الاصل،

البغدادي ابن بنت احمد بن منيع، ولد في رمضان سنة عشرة ومائتين، وسمع ابن الجعد، واحمد بن حنبل وابن المديني..حدث عنه ابن صاعد، والجعابي، والدارقطني، وقال: كان البغوي قل ان يتكلم على حديث، فإذا تكلم كان كلامه كالمسمار في السياج … ثقة جليل امام اقل المشايخ خطا..توفي سنة سبع عشرة وثلاثمائة، عن مائة وثلاث سنين.

27 - عمر بن احمد بن مهدي بن مسعود بن النعمان بن دينار بن عبد الله (والد الدارقطني) حدث عن جعفر الفريابي وابراهيم بن شريك..روى عنه أبو الحسن، قال الخطيب: وكان ثقة..ولم يذكر سنة وفاته.

28 - الحافظ الامام أبو الحسين محمد بن المظفر بن موسى بن عيسى البغدادي، محدث العراق، ولد سنة ست وثمانين ومائتين وسمع الباغندي، وابن جرير وابا عروبة، ومنه الدارقطني وابن شاهين، قال الخطيب: وكان حافظا صادقا..وكان الدارقطني يجله ويعظمه ولا يستند بحضرته، وقال فيه: ثقة مامون يميل الى التشيع قليلا..
২৫ - হাফিজ, মুজাওয়িদ, আল্লামা আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ ইবনে ওয়াসিল আল-ফকিহ আশ-শাফিঈ। তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-যুহলি এবং আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন দা’লাজ ইবনে আহমাদ এবং আদ-দারাকুতনি। তিনি (দারাকুতনি) বলেন: আমি তাঁর চেয়ে বড় হাফিজ দেখিনি; তিনি মূল পাঠের শব্দগত আধিক্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিনি তিনশত চব্বিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

২৬ - আবুল কাসিম আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আল-মারযুবান, আদি নিবাস বাগা, বাগদাদি, আহমাদ ইবনে মানি‘-এর দৌহিত্র। তিনি দুইশত দশ হিজরির রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনুল জা’দ, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইবনুল মাদিনি থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে সা’য়িদ, আল-জুয়াবি ও আদ-দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন। তিনি (দারাকুতনি) বলেন: বাগাওয়ি হাদিসের ওপর খুব কমই কথা বলতেন, তবে যখন কথা বলতেন তখন তাঁর কথা হতো বেড়ার পেরেকের মতো... তিনি নির্ভরযোগ্য, মহান ইমাম এবং শায়খদের মধ্যে সবচেয়ে কম ভুলকারী। তিনি একশত তিন বছর বয়সে তিনশত সতেরো হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

২৭ - উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদি ইবনে মাসউদ ইবনেুন নুমান ইবনে দিনার ইবনে আবদুল্লাহ (আদ-দারাকুতনির পিতা)। তিনি জাফর আল-ফিরইয়াবি এবং ইবরাহিম ইবনে শারিক থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবুল হাসান (আদ-দারাকুতনি) বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বছর উল্লেখ করা হয়নি।

২৮ - হাফিজ, ইমাম আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আল-মুজাফফর ইবনে মুসা ইবনে ঈসা আল-বাগদাদি, ইরাকের মুহাদ্দিস। তিনি দুইশত ছিয়াশি হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-বাগান্দি, ইবনে জারির ও আবু আরুবাহ থেকে শ্রবণ করেন। তাঁর থেকে আদ-দারাকুতনি ও ইবনে শাহিন বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব বলেন: তিনি ছিলেন সত্যবাদী হাফিজ। আদ-দারাকুতনি তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে হেলান দিয়ে বসতেন না। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: নির্ভরযোগ্য, বিশ্বস্ত, শিয়া মতবাদের প্রতি সামান্য ঝোঁক ছিল।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৭)
توفي سنة تسع وسبعين وثلاثمائة.

29 - أبو جعفر محمد بن الحسين بن سعيد بن ابان الهمذاني، قدم بغداد، وحدث بها عن احمد بن محمد بن الشدين المصري، ومحمد بن مشكان الانطاكي..روى عنه أبو الحسين بن البواب..والدارقطني، وقال: ثقة، وقال الذهبي: متهم ساقط في غير الحديث.

30 - أبو عبد الله محمد بن اسماعيل بن اسحاق بن بحر الفارس، ولد سنة تسع

واربعين ومائتين، روى عن ابي زرعة الدمشقي، واسحاق بن ابراهيم..روى عنه الدارقطني، وقد اكثر عنه..وتوفي سنة خمس وثلاثين وثلاثمائة.

31 - أبو بكر محمد بن القاسم بن محمد بن بشار بن الحسن بن بيان بن سماعة ابن فرو بن طعن بن دعامة الانباري النحوي اللغوي، العلامة صاحب المصنفات، سمع من الكديمي واسماعيل القاضي، واخذ عن ابيه، روى عنه الدارقطني، قال الخطيب: وكان صدوقا دينا خيرا من اهل السنة..توفي سنة ثمان وعشرين وثلاثمائة.

32 - أبو جعفر محمد بن عبيد الله بن محمد بن العلاء الكاتب، سمع احمد بن بديل اليامي، وعلي بن حرب الطائي، روى عنه القاضي أبو الحسن الجراحي وابو الحسن الدارقطني، وقال فيه ثقة مامون..توفي سنة تسع وعشرين وثلاثمائة.
তিনি তিনশ উনআশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

২৯ - আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন সাঈদ বিন আবান আল-হামদানি। তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আশ-শাদ্দিন আল-মিসরি ও মুহাম্মদ বিন মিশকান আল-আনতাকি থেকে হাদিস বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে আবুল হুসাইন বিন আল-বাওয়াব এবং আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন। তিনি (দারা কুতনি) বলেন: নির্ভরযোগ্য। যাহাবি বলেন: তিনি হাদিস ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ও পরিত্যক্ত।

৩০ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইসহাক বিন বাহর আল-ফারিস। তিনি দুইশত উনপঞ্চাশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আবু জুরআহ আদ-দিমাশকি এবং ইসহাক বিন ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর থেকে অধিক মাত্রায় বর্ণনা করেছেন। তিনি তিনশত পঁয়ত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩১ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন বাশার বিন আল-হাসান বিন বায়ান বিন সামাআহ বিন ফারউ বিন তান বিন দুআমাহ আল-আনবারি আন-নাহবি আল-লুগাভি। তিনি ছিলেন একজন আল্লামা ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা। তিনি কুদাইমি এবং ইসমাইল আল-কাজি থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর পিতার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আদ-দারা কুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব বলেন: তিনি ছিলেন সত্যবাদী, ধর্মপ্রাণ, উত্তম ব্যক্তি এবং আহলুস সুন্নাহর অনুসারী। তিনি তিনশত আটাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

৩২ - আবু জাফর মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আলা আল-কাতিব। তিনি আহমাদ বিন বাদিল আল-ইয়ামি এবং আলি বিন হারব আত-তাঈ থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর নিকট থেকে কাজি আবু আল-হাসান আল-জাররাহি এবং আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। তিনি তিনশত উনত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৮)
33 - الحافظ أبو بكر محمد بن عمر بن مسلم التميمي البغدادي المعروف بابن الجعابي، ولد سنة اربع وثمانين ومائتين، روى عنه الدارقطني والحاكم وابو نعيم قال أبو علي: ما رايت في المشايخ احفظ من عبدان ولا في اصحابنا احفط من ابن الجعابي ولي قضاء الموصل فلم يحمد، وفيه تشيع، توفي سنة خمس وخمسين وثلاثمائة.

34 - الشيخ المحدث المعمر أبو عبد الله محمد بن القاسم بن زكريا الكوفي السوداني، روى عن ابي كريب، وهو آخر اصحابه، وشعبان بن وكيع..حدث عنه الدارقطني، ومحمد بن عبد الله الجعفي، قال أبو حماد الحافط توفي سنة ست وعشرين وثلاثمائة وما روى له اصل قط،

وقد حدث بكتاب (النهي) عن حسين نصر بن مزاحم، ولم يكن له فيه سماع، وقال الذهبي: ضعيف.

35 - أبو بكر محمد بن مزيد بن محمود بن منصور بن راشد الخزاعي المعروف بابن ابي الازهر، حدث عن اسحاق بن اسرائيل ومحمد بن سليمان لوين..روى عنه أبو بكر بن شاذان، وابو الحسن الدارقطني، وكان يضع الاحاديث على النقاب، وقال محمد بن عمران: انا اقول وكان كذابا قبيح الكذب ظاهره.

36 - أبو الحسن محمد بن نوح بن عبد الله الجند يسابوري، سكن بغداد، وحدث بها عن هارون بن اسحاق الهمذاني، وشعيب بن ايوب الصريفيني..وروى عنه أبو بكر شاذان، والدارقطني، وقال فيه:
33 - আল-হাফিয আবু বকর মুহাম্মাদ বিন উমর বিন মুসলিম আত-তামিমি আল-বাগদাদি, যিনি ইবনুল জা'আবি নামে পরিচিত। তিনি ২৮৪ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আদ-দারা কুতনি, আল-হাকিম এবং আবু নুআইম। আবু আলী বলেছেন: আমি শায়েখদের মধ্যে আবদান-এর চেয়ে বড় হাফিয কাউকে দেখিনি এবং আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে ইবনুল জা'আবি-এর চেয়ে বড় হাফিয কাউকে দেখিনি। তিনি মোসুলের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন কিন্তু সেখানে প্রশংসিত হননি। তাঁর মধ্যে শিয়াতত্ত্বের প্রভাব ছিল। তিনি ৩৫৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।

34 - শায়খ, প্রবীণ মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-কাসিম বিন যাকারিয়া আল-কুফি আস-সুদানি। তিনি আবু কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর শেষ পর্যায়ের সঙ্গীদের অন্তর্ভুক্ত, আরও বর্ণনা করেছেন শা'বান বিন ওয়াকি' থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আদ-দারা কুতনি এবং মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জু'ফি। হাফিয আবু হাম্মাদ বলেছেন, তিনি ৩২৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং তিনি যা বর্ণনা করেছেন তার কোনো মূল ভিত্তি কখনও ছিল না।

তিনি হুসাইন নসর বিন মুযাহিম থেকে '(আন-নাহি)' নামক কিতাব বর্ণনা করেছেন, অথচ সেটির ব্যাপারে তাঁর কোনো শ্রবণ (সামা') ছিল না। আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি দুর্বল।

35 - আবু বকর মুহাম্মাদ বিন মাযিদ বিন মাহমুদ বিন মানসুর বিন রাশিদ আল-খুযা'য়ি, যিনি ইবনু আবিল আযহার নামে পরিচিত। তিনি ইসহাক বিন ইসরাঈল এবং মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান লুওয়াইন থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন শাযান এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি। তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নামে হাদীস জাল করতেন। মুহাম্মাদ বিন ইমরান বলেছেন: আমি বলছি যে সে চরম মিথ্যাবাদী ছিল এবং তার মিথ্যাচার ছিল অত্যন্ত জঘন্য ও প্রকাশ্য।

36 - আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন নুহ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুনদাইসাপুরি। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে হারুন বিন ইসহাক আল-হামদানি ও শুয়াইব বিন আইয়ুব আস-সারিফিনি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বকর শাযান ও আদ-দারা কুতনি। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثقة مامون توفي سنة احدى وعشرين وثلاثمائة.

38 - أبو حامد محمد بن هارون بن عبد الله بن حميد بن سليمان بن مياح، الحضرمي المعروف بالبعراني، سمع خالد بن يوسف السمني، ونصر بن علي الجهضمي، روى عنه محمد بن اسماعيل الوراق، وابو الحسن الدارقطني، وقال: ثقة، توفي سنة احدى وعشرين وثلاثمائة.

38 - الامام المفيد أبو عبيد الله محمد بن مخلد بن حفص السدوري العطار الخضيب مسند العراق، سمع مسلم بن الحجاج والحسن بن عرفة..وصنف وخرج وكان معروفا بالثقة والصلاح، روى عنه الدارقطني وقال: ثقة مامون، توفي سنة احدى وثلاثين وثلاثمائة.

39 - أبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد بن كاتب مولى ابي جعفر المنصور الهاشمي البغدادي، ولد سنة ثمان وعشرين ومائتين، سمع ابن منيع،

ومنه البغوي والدارقطني، وقال: ثقة ثبت حافظ..توفي سنة ثمان عشرة وثلاثمائة.

40 - أبو الحسين يعقوب بن موسى الاردبيلي، سكن بغداد وحدث بها عن احمد بن طاهر بن النجم الميانجي عن سعيد بن عمرو البرذعي، سؤالات وتعاليق عن ابي زرعة، ولم يكن عنده شئ يريه غير ذلك، روى عنه الدارقطني، قال الخطيب: وكان ثقة امينا فاضلا فقيها على مذهب الشافعي..توفي سنة احدى وثمانين وثلاثمائة.
তিনি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ ছিলেন এবং ৩২১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৩৮ - আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন হারুন বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ বিন সুলাইমান বিন মায়্যাহ, আল-হাদরামি, যিনি আল-বারানি নামে পরিচিত। তিনি খালিদ বিন ইউসুফ আস-সামানি এবং নাসর বিন আলি আল-জাহদামি থেকে হাদিস শুনেছেন। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-ওয়াররাক এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (দারা কুতনি) বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত; ৩২১ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৩৮ - ইমাম আল-মুফিদ আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বিন হাফস আস-সাদুরি আল-আত্তার আল-খাদিব, ইরাকের মুসনিদ। তিনি মুসলিম বিন হাজ্জাজ এবং হাসান বিন আরাফাহ থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি গ্রন্থ রচনা ও হাদিস সংকলন করেছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্যতা ও সততার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আদ-দারা কুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ; ৩৩১ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৩৯ - আবু মুহাম্মদ ইয়াহিয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়িদ বিন কাতিব, আবু জাফর আল-মানসুর আল-হাশিমির আযাদ করা গোলাম, বাগদাদি। তিনি ২২৮ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইবনে মানি' থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।

তাঁর থেকে আল-বাগাভি ও আদ-দারা কুতনি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি (দারা কুতনি) বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত, সুদৃঢ় এবং হাফিজ। ৩১৮ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

৪০ - আবু আল-হুসাইন ইয়াকুব বিন মুসা আল-আরদাবিলি। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে আহমদ বিন তাহির বিন আন-নাজম আল-মিয়ানজি-এর সূত্রে সাঈদ বিন আমর আল-বারযায়ি থেকে বর্ণনা করতেন; যা ছিল মূলত আবু যুরআহ-র প্রশ্নোত্তর এবং টিকাসমূহ। এছাড়া তাঁর কাছে প্রদর্শন করার মতো আর কিছু ছিল না। আদ-দারা কুতনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব বলেন: তিনি বিশ্বস্ত, আমানতদার, মর্যাদাবান এবং শাফেয়ী মাযহাবের ফকিহ ছিলেন। ৩৮১ হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩০)
طائفة من تلاميذه: كما كثر شيوخ الدارقطني فقد كثر تلاميذه وظهر اثره فيهم ويعتبر استيعاب تلاميذه امرا خارج نطاق هذه الدراسة، لذا الكتفيت بذكر طائفة من اشهر تلاميذه وخاصة من له.

1 - أبو منصور ابراهيم بن الحسين بن حمكان الصيرفي: المعروف بابن الكرجي، سمع احمد بن عبيد بن اسماعيل الصفار، وابا بكر الشافعي، وابا علي بن الصواف وهذه الطبقة وكان قد اكثر الكتاب..وقد حدث الدارقطني عن ابي منصور الكرجي في كتاب (المدبج) حديثا.

قال البرقاني ولم ار مثل ابي منصور، صحبته نحوا من عشرين سنة ادام فيها الصيام، قال وكان وقت العتمة كل ليلة يصلي اربع ركعات، يقرا فيها سبع القرآن، كل ركعة جزءا، ومات قبل الدارقطمي بسنين كثيرة.

2 - الحافظ أبو مسعود ابراهيم بن محمد الدمشقي، احد من ابرز في العلم سافر الكثير وروى قليلا على سبيل المذاكرة، روى عن الدارقطني،

وسمع منه كتاب (الافراد) ، وحدت عن ابي الحسن بن لو لو الوراق، وعبد العزيز بن محمد السقا الواسطي، حدث عنه حمزة السهمي، وابو ذر الهروي، توفي في بغداد سنة احدى واربعمائة.

3 - العلامة شيخ الشافعية أبو سعد اسماعيل بن الامام شيخ الاسلام ابي بكر احمد بن ابراهيم بن اسماعيل بن العباس الاسماعيلي الجرجاني، ولد سنة ثلاث وثلاثين وثلاثمائة، وحدث عن ابيه قدم الى بغداد وسمع كتاب (الغرائب والافراد) من ابي الحسن الدارقطني - حدث
তাঁর ছাত্রদের একটি দল: দারা কুতনীর উস্তাদগণ যেমন সংখ্যায় অধিক ছিলেন, তেমনি তাঁর ছাত্রগণও সংখ্যায় অধিক ছিলেন এবং তাদের মধ্যে তাঁর প্রভাব সুস্পষ্ট হয়েছে। তাঁর ছাত্রদের সকলকে এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা এই গবেষণার পরিধির বাইরের বিষয়। তাই আমি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কতিপয় প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি, বিশেষ করে যাদের ক্ষেত্রে...

১ - আবু মানসুর ইব্রাহিম বিন আল-হুসাইন বিন হামকান আস-সাইরাফি: যিনি ইবনুল কারজি নামে পরিচিত। তিনি আহমাদ বিন উবাইদ বিন ইসমাঈল আস-সাফফার, আবু বকর আশ-শাফিয়ী, আবু আলী ইবনুল সাওয়াফ এবং এই স্তরের পণ্ডিতদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি অনেক কিতাব লিখেছিলেন। ইমাম দারা কুতনী আবু মানসুর আল-কারজি থেকে তাঁর 'আল-মুদাব্বাজ' গ্রন্থে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আল-বারকানী বলেন, আমি আবু মানসুরের মতো আর কাউকে দেখিনি। আমি প্রায় বিশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলাম, যে সময় তিনি নিয়মিত রোজা রাখতেন। তিনি আরও বলেন, প্রতি রাতে এশার নামাজের সময় তিনি চার রাকাত নামাজ পড়তেন, যাতে তিনি কুরআনের সাত ভাগের এক ভাগ তিলাওয়াত করতেন এবং প্রতি রাকাতে এক জুজ করে পড়তেন। তিনি দারা কুতনীর মৃত্যুর বহু বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন।

২ - আল-হাফিজ আবু মাসউদ ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আদ-দিমাশকি: ইলমে হাদিসে তিনি অন্যতম একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি প্রচুর সফর করেছেন এবং শিক্ষা বিনিময়ের (মুজাকারা) উদ্দেশ্যে সামান্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি দারা কুতনী থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং তাঁর নিকট থেকে 'আল-আফরাদ' কিতাবটি শুনেছেন। তিনি আবুল হাসান বিন লু’লু আল-ওয়াররাক এবং আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মাদ আস-সাক্কা আল-ওয়াসিতী থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে হামজা আস-সাহমি এবং আবু যর আল-হারাউই বর্ণনা করেছেন। তিনি চারশত এক হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

৩ - আল্লামা, শাফিয়ীদের শায়খ আবু সাদ ইসমাঈল বিন ইমাম শায়খুল ইসলাম আবু বকর আহমাদ বিন ইব্রাহিম bin ইসমাঈল বিন আল-আব্বাস আল-ইসমাঈলি আল-জুরজানি। তিনি তিনশত তেত্রিশ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর পিতার নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বাগদাদে আগমন করেন এবং আবুল হাসান দারা কুতনীর নিকট থেকে 'আল-গারায়েব ওয়াল আফরাদ' কিতাবটি শ্রবণ করেন - তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩১)
عنه بنوه المفضل ومسعدة وسعد والسري، وحمزة بن يوسف السهمي، قال حمزة السهمي: كان أبو سعد امام زمانه … وبالغ في تعظيمه..توفي سنة ست وتسعين وثلاثمائة، في صلاة المغرب وهو يقرا (اياك نعبد واياك نستعين) ففاضت نفسه، رحمه الله.

4 - أبو الحسن احمد بن محمد بن احمد بن منصور المجهز، المعروف بالعتيقي، روياني الاصل، ولد ببغداد، وسمع علي بن محمد بن احمد بن حيان النحوي، واسحاق بن سعد النسوي، وابو الحسن الدارقطني، قال الخطيب: كتبت عنه وكان صدوقا، توفي سنة احدى واربعين واربعمائة.

5 - أبو حامد احمد بن محمد بن احمد الاسفراييني، تفقه على ابن المرزبان، والداركي، وحدث عن عبد الله بن عدي والدارقطني، قال الخطيب: كان يحضر مجلسه سبعمائة متفقه وكان الناس يقولون: لو رآه الشافعي لفرح به..توفي سنة ست واربعمائة..) .

6 - أبو ذر عبد بن احمد بن محمد بن عبد الله بن غفير المالكي بن السماك

الهروي، سمع زاهر بن احمد السرخسي، وابن حموية والدارقطني وخلقا..وكان زاهدا عابدا حافظا عالما توفي سنة اربع وثلاثين واربعمائة، وقد روي عن الدارقطني كتاب (الضعفاء والمتروكين) كما ذكر ذلك ابن خير في الفهرس.
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্রগণ—আল-মুফাদদ্বাল, মুস’আদাহ, সা’দ ও আস-সাররি—এবং হামযাহ বিন ইউসুফ আস-সাহমি। হামযাহ আস-সাহমি বলেন: আবু সা’দ ছিলেন তাঁর সময়ের ইমাম … এবং তিনি তাঁর সম্মানে অতিশয়োক্তি করেছেন। তিনি তিনশত ছিয়ানব্বই হিজরি সনে মাগরিবের সালাতে ‘আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং একমাত্র তোমারই সাহায্য চাই’ পাঠরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন; তাঁর প্রাণ বিয়োগ ঘটে, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

৪ - আবুল হাসান আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মানসুর আল-মুজাহহিজ, আল-আতিকি নামে পরিচিত, তাঁর আদি নিবাস রূইয়ান, বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হাইয়ান আন-নাহবি, ইসহাক বিন সা’দ আন-নাসাবি এবং আবুল হাসান আদ-দারা কুতনির নিকট শ্রবণ করেছেন। আল-খাতিব বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে লিখেছি এবং তিনি সত্যবাদী ছিলেন। তিনি চারশত একচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৫ - আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-ইসফিরাইনি, ইবনুল মারযুবান ও আদ-দারাকির নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং আবদুল্লাহ বিন আদি ও আদ-দারা কুতনি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-খাতিব বলেন: তাঁর মজলিসে সাতশত ফিকহ শিক্ষার্থী উপস্থিত হতো এবং মানুষ বলতো: ইমাম শাফেঈ যদি তাঁকে দেখতেন তবে তিনি আনন্দিত হতেন। তিনি চারশত ছয় হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

৬ - আবু যার আবদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন গাফির আল-মালিকি বিন আস-সাম্মাক

আল-হারাওয়ি, তিনি যাহির বিন আহমাদ আস-সারখাসি, ইবনু হামুওয়াইহ, আদ-দারা কুতনি এবং আরও অনেকের নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি ছিলেন একজন যাহেদ (দুনিয়াবিমুখ), ইবাদতগুজার, হাফেয ও আলেম। তিনি চারশত চৌত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আদ-দারা কুতনি থেকে ‘আদ-দুয়াফা ওয়াল-মাতরুকিন’ গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইবনুল খাইর তাঁর ‘আল-ফিহরিস্ত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) সুয়ালাতু হামযা লিদ-দারাকুতনী (পৃষ্ঠা: ৩২)
7 - الحافظ الامام المتقن أبو محمد عبد الغني بن سعيد بن علي بن سعيد بن بشر بن مروان الازدي المصري، مفيد تلك الناحية، وروى عن الدارقطني، قال البرقاني: ما رايت بعد الدارقطني احفظ منه، توفي في سنة تسع واربعمائة.

8 - أبو عبد الرحمن محمد بن الحسين بن موسى النيسابوري الصوفي الازدي، سمع الاصم والدارقطني وساله حول عدد كبير من الرجال سؤال عارف بهذا الشان، وهذه السؤالات قد جمعها في جزء باسم سؤالات للدارقطني وقد تكلم في السلمي وضعف وقيل: كان يضع للصوفية الاحاديث، توفي سنة اثنتين عشرة واربعمائة.

9 - الحافظ المجود أبو الفتح محمد بن احمد بن محمد بن احمد بن فارس المعروف بابن ابي الفوارس، ولد سنة ثمان وثلاثين وثلاثمائة، سمع من احمد بن الفضل بن خزيمة وابي الحسن الدارقطني، قال الخطيب: كان ذا حفظ وامانة مشهور بالصلاح، روى كتاب (الضعفاء والمتروكون) للدارقطني توفي سنة اثنتي عشرة واربعمائة.

10 - الامام الحافظ أبو عبد الله الحسين بن احمد بن عبد الله بن بكير البغدادي الصيرفي، سمع الصفار والنجاد، والدارقطني وساله عن رجال الصحيحين ذكرهم أبو عبد الرحمن النسائي في كتابه الضعفاء،

واجابه الدارقطني على ذلك، توفي سنة ثمان وثمانين وثلاثمائة عن احدى وستين سنة.
৭ - হাফিজ, ইমাম, দক্ষ ও পারদর্শী আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি ইবনে সাঈদ ইবনে আলী ইবনে সাঈদ ইবনে বিশর ইবনে মারওয়ান আল-আজদী আল-মিসরি। তিনি সেই অঞ্চলের ইলম প্রচারক ছিলেন এবং আদ-দারাকুতনি থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-বারকানি বলেন: আদ-দারাকুতনির পরে আমি তাঁর চেয়ে বড় কোনো হাফিজ দেখিনি। তিনি চারশত নয় হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৮ - আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুসা আন-নিশাপুরি আস-সুফি আল-আজদী। তিনি আল-আসাম এবং আদ-দারাকুতনির নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞের ন্যায় বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করেছেন। এই প্রশ্নগুলো তিনি ‘সুয়ালাত লিদ-দারাকুতনি’ নামে একটি খণ্ডে সংকলন করেছেন। আস-সুলামির ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে এবং তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে। বলা হয় যে, তিনি সুফিদের স্বপক্ষে হাদিস তৈরি (জাল) করতেন। তিনি চারশত বারো হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

৯ - হাফিজ ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ফারিস, যিনি ইবনে আবিল ফাওয়ারিস নামে পরিচিত। তিনি তিনশত আটত্রিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আহমদ ইবনে ফজল ইবনে খুজাইমা এবং আবুল হাসান আদ-দারাকুতনির নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আল-খতিব বলেন: তিনি প্রখর মুখস্থশক্তি ও আমানতদারিতার অধিকারী এবং সৎকর্মশীল হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি আদ-দারাকুতনির ‘আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকুন’ কিতাবটি বর্ণনা করেছেন। তিনি চারশত বারো হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

১০ - ইমাম, হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আল-বাগদাদি আস-সাইরাফি। তিনি আস-সাফফার ও আন-নাজ্জাদের নিকট শ্রবণ করেছেন এবং আদ-দারাকুতনিকে সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর এমন কিছু বর্ণনাকারী সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন, যাদের কথা আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী তাঁর ‘আদ-দুয়াফা’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন।

আদ-দারাকুতনি তাঁকে সেই বিষয়ে উত্তর প্রদান করেন। তিনি তিনশত অষ্টাশি হিজরিতে একষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।