(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
الدعوة والدعاة من ظلال آية   (محمد مهدي قشلان)

القسم: كتب عامة


الكتاب: الدعوة والدعاة من ظلال آية

المؤلف: محمد مهدي قشلان

عدد الصفحات: 12

[البحث غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442

আয়াতের ছায়াতলে দাওয়াত ও দাঈগণ   (মুহাম্মদ মাহদী কাসলান)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: আয়াতের ছায়াতলে দাওয়াত ও দাঈগণ

লেখক: মুহাম্মদ মাহদী কাসলান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২

[গবেষণাটি অপ্রকাশিত]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ১)
الدعوة والدعاة

 

تأملات في قول الله تعالى:

(ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ)

 

بقلم

محمد مهدي قشلان
দাওয়াত ও দাওয়াত প্রদানকারীগণ

 

মহান আল্লাহর বাণীর ওপর কিছু চিন্তা-ভাবনা:

(আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিতর্ক করুন।)

 

কলমে

মুহাম্মদ মাহদী কাশলান
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ২)
عناصر البحث:

1 - الجمهور المستهدف من هذا البحث.

2 - مقدمة: أهميَّة الدعوة إلى الله وفضلها.

3 - ترك الدعوة موجب للهلاك.

4 - مفهوم الحكمة في الدعوة.

5 - مفهوم الموعظة الحسنة في الدعوة.

6 - مفهوم المجادلة بالتي هي أحسن.

7 - من صفات ومقومات الداعية الناجح.
গবেষণার আলোচ্য বিষয়সমূহ:

১ - এই গবেষণার লক্ষ্যভুক্ত পাঠকবর্গ।

২ - ভূমিকা: আল্লাহর পথে দাওয়াতের গুরুত্ব ও মর্যাদা।

৩ - দাওয়াত বর্জন ধ্বংসের কারণ।

৪ - দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার ধারণা।

৫ - দাওয়াতের ক্ষেত্রে উত্তম উপদেশের ধারণা।

৬ - সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের ধারণা।

৭ - একজন সফল দায়ীর গুণাবলি ও যোগ্যতাসমূহ।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌1 - الجمهور المستهدف من هذا البحث:

• رسالتي هذه موجهة إلى طالب العلم الذي بدأ يتلمس طريق الدعوة إلى الله على علم وبصيرة، وهو يحاول أن يسير على هدي الأنبياء في دعوتهم، والعلماء الأتقياء الربانيين في منهجهم.

• كذلك هي للدعاة خير معين، فتنير لهم جوانب لم ينتبهوا لها، فتزيد من إصراهم رغم طول الطريق ومنعرجاته؛ لتنتشر الدعوة السَّمحة المباركة، وتعمَّ الهداية، ويعودَ للدين دورُه، وللمسلمين مجدُهم.

• كما هي إلى الشباب المتحمّس الغيور على دينه الذي يريد أن يكون شعلة إيمان يُستنار بها، لكنه يخشى من العثرات والمعوقات التي قد تحرف بوصلته عن الطريق القويم والصرط المستقيم.

• هي في النهاية مذاكرة وتذكير بما يعين -بعد توفيق الله-للمضي قُدُمًا في الدعوة إلى الله والثبات في سلك الدعاة، واللهَ أسألُ أن ينفع بها الكاتبَ والقارئَ والسامعَ والناشرَ.
‌১ - এই গবেষণার লক্ষ্যভুক্ত পাঠক:

• আমার এই রিসালাহটি (ক্ষুদ্র গবেষণাপত্র) সেই ইলম অন্বেষীর প্রতি নিবেদিত, যে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের পথ অন্বেষণ শুরু করেছে এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবীদের আদর্শ ও খোদাভীরু রব্বানি আলেমদের কর্মপদ্ধতি অনুসরণের চেষ্টা করছে।

• একইভাবে এটি দাঈদের জন্য এক উত্তম সহায়ক, যা তাদের সামনে এমন সব দিক উন্মোচিত করবে যা তারা ইতিপূর্বে লক্ষ্য করেননি। ফলে পথের দীর্ঘতা ও বন্ধুরতা সত্ত্বেও এটি তাদের সংকল্পকে সুদৃঢ় করবে; যাতে এই উদার ও বরকতময় দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে, হেদায়েত ব্যাপক হয় এবং দ্বীনের হারানো ভূমিকা ও মুসলিমদের গৌরব পুনরায় ফিরে আসে।

• তদ্রূপ এটি সেইসব উৎসাহী ও ধর্মপ্রাণ যুবকদের জন্য, যারা ঈমানের এমন এক আলোকবর্তিকা হতে চায় যার মাধ্যমে অন্যরা আলো গ্রহণ করবে, কিন্তু তারা এমন সব পদস্খলন ও বাধার আশঙ্কা করে যা তাদের দিকনির্দেশনাকে সঠিক পথ ও সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে দিতে পারে।

• পরিশেষে এটি এমন এক পর্যালোচনা ও স্মারক যা—আল্লাহর তাওফীকের পর—আল্লাহর দিকে দাওয়াতের পথে এগিয়ে যেতে এবং দাঈদের কাফেলায় অবিচল থাকতে সাহায্য করবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে লেখক, পাঠক, শ্রোতা এবং প্রচারক—সকলকে উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمة:

 

‌‌2 - أهميَّة الدعوة إلى الله وفضلها:

مما لا شكَّ فيه إنَّ أفضلَ وخير ما تصرف فيه الجهود وتبذل فيه الطاقات هو نشر دين الله تعالى وبيانه للناس، ومن أعظم هذه الوسائل التي تستخدم في نشر هذا الدين هو الدعوة إلى الله تعالى، التي هي:

أولاً: مهمة الرُّسلِ والأنبياء الذين هم خيرةُ الله من عباده، وسفراؤُه إلى خلقه.

ثانياً: هي مهمة خلفاء الرّسل وورثتهم من العلماء العاملين، والربانيين الصادقين، وهي أفضل الأعمال بعد الإيمان بالله تعالى؛ لأن ثمرتها هداية الناس إلى الحق، وتحبيبهم في الخير والبرّ، وتنفير هم من الباطل والشر، وإخراجهم من الظلمات إلى النور، {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [سورة فُصِّلت: 33]. والمعنى: لا أحد أحسن قولاً، وأعظم منزلة، ممن دعا غيره إلى طاعة الله تعالى، وإلى المحافظة على أداء ما كلفه به، فتكون كلمة الدعوة حينئذ هي أحسن كلمة تُقال في الأرض، وتصعدُ في مقدمة الكَلِم الطّيب إلى السماء، ولكن بلا ريب مع العمل الصالح الذي يُصدّق الكلمة، فيجعل المدعوين يزدادون استجابة له.

ولعظم شأنها كان جزاء القائمين بأمرها عظيماً، وكان العطاء جزيلاً، قال صلى الله عليه وسلم: «واللهِ لأن يُهدَى بهُداكَ رجلٌ واحدٌ خَير لَكَ مِن حُمْرِ النَّعَمِ» [سنن أبي داود برقم: 3661].

وقال صلى الله عليه وسلم: «مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا» [صحيح مسلم برقم: 2674].

وقال صلى الله عليه وسلم: «لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ عَلَى يَدَيْكَ رَجُلًا خَيْرٌ لَكَ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَغَرَبَتْ». [المستدرك على الصحيحين برقم: 6537].

فالدعوة إلى الله أهميتها عظيمة لا تخفى على أحد، فمتى التزمت الأمة بها صارت أمة متكاملة

البناء، وتحقّقَ لها الخيرُ العظيم الذي بيَّنه ربنا جل جلاله بقوله: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ .. } [سورة آل عِمرَان: 110] ولا شك أن الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والإيمان بالله تعالى، هو من أسمى مقومات الدعوة إلى الله تعالي.
ভূমিকা:

 

‌‌২ - আল্লাহর পথে দাওয়াতের গুরুত্ব ও ফযিলত:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষের প্রচেষ্টা ও শক্তি ব্যয়ের সর্বোত্তম এবং শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হলো মহান আল্লাহর দ্বীন প্রচার করা এবং তা মানুষের সামনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা। আর এই দ্বীন প্রচারের জন্য ব্যবহৃত মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম মহান মাধ্যম হলো মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত, যা হলো:

প্রথমত: এটি রাসূল ও নবীগণের দায়িত্ব, যাঁরা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে তাঁর মনোনীত শ্রেষ্ঠ মানব এবং তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁর প্রেরিত দূত।

দ্বিতীয়ত: এটি রাসূলগণের উত্তরসূরি এবং আমলকারী আলেম ও সত্যনিষ্ঠ রব্বানীগণের দায়িত্ব, যা তাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন। আল্লাহর প্রতি ঈমানের পর এটিই সর্বোত্তম আমল; কারণ এর ফল হলো মানুষকে সত্যের পথে পরিচালিত করা, কল্যাণ ও পুণ্যের প্রতি তাদের অনুরাগী করা, অসত্য ও মন্দ থেকে তাদের দূরে রাখা এবং তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনা। মহান আল্লাহ বলেন: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, সৎকর্ম করে এবং বলে যে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।} [সূরা ফুসসিলাত: ৩৩]। এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি অন্যকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের দিকে এবং তাঁর অর্পিত দায়িত্ব পালনের প্রতি যত্নবান হওয়ার জন্য আহ্বান জানায়, তার চেয়ে উত্তম কথা আর কারো নয় এবং তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা আর কারো নেই। এমতাবস্থায় দাওয়াতের বাণীটিই পৃথিবীতে উচ্চারিত শ্রেষ্ঠ বাণী হিসেবে গণ্য হয় এবং তা উত্তম বাণীসমূহের অগ্রভাগে আসমানে আরোহণ করে। তবে নিঃসন্দেহে এর সাথে সৎ আমল থাকা জরুরি যা দাওয়াতের বাণীকে সত্যায়ন করে, ফলে তা আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের অন্তরে সাড়া প্রদানের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

দাওয়াতের মর্যাদা অত্যন্ত মহান হওয়ার কারণে এর প্রচারকদের প্রতিদানও অত্যন্ত বিশাল এবং এর পুরস্কার অত্যন্ত প্রচুর। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে যদি কোনো একজন ব্যক্তিকেও হেদায়েত দান করা হয়, তবে তা তোমার জন্য মূল্যবান লাল উট লাভ করার চেয়েও উত্তম» [সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩৬৬১]।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য ওই ব্যক্তিদের সমান সওয়াব থাকবে যারা তার অনুসরণ করবে; এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না» [সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৬৭৪]।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমার হাতে আল্লাহর একজন মানুষকে হেদায়েত দান করা তোমার জন্য সূর্য যে সবকিছুর ওপর উদিত ও অস্তমিত হয় তা অপেক্ষা উত্তম»। [আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন, হাদিস নং: ৬৫৩৭]।

আল্লাহর পথে দাওয়াতের গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম যা কারো কাছে গোপন নয়। যখনই উম্মাহ এটি আঁকড়ে ধরেছে, তখনই তা এক সুসংহত জাতিতে পরিণত হয়েছে এবং তাদের জন্য সেই মহা কল্যাণ অর্জিত হয়েছে যা আমাদের মহান রব তাঁর বাণীতে ব্যক্ত করেছেন: {তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে...} [সূরা আলে ইমরান: ১১০]। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সৎকাজের আদেশ দান, অসৎকাজে নিষেধ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করাই হলো মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপাদান।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌3 - ترك الدّعوة موجب للهلاك:

ولما كانت الدعوة إلى الله تعالى هي سفينة النجاة الأخيرة للأمة كان ولا بُدَّ من وقوعها على أفراد من هذه الأمة وهو ما يُعبِّر عنه أهل الأصول بفروض الكفايات، فإذا تعطل هذا الفرض الكفائي أثمت الأمة جميعاً، وإذا فرغَ المجتمعُ من دعاةٍ إلى الله مرشدينَ إلى دينِه؛ آل هذا المجتمع إلى بناءٍ تهاوت دعائمهُ، فيتهاوى هو الآخرُ من وراءِ ذلك، كيفَ لا؟! وإنَّ ربّنا جل جلاله ليقول: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [سورة آل عِمرَان: 104] أي: ولتكن منكم أيها المؤمنون طائفة متميّزة تقوم بالدعوة إلى الله، فتبذل أقصى طاقتها وجهدها في الدعوة إلى الخير الذي يصلح من شأن الناس، وفي أمرهم بالتمسك بتعاليم الإسلام وأخلاقه السَّمحة، وفي نهيهم عن المنكر الذي يأباه شرع الله ويمقته.

فإذا أهملت هذه الدعوة واستطاع أهل الباطل أن يَدكُّوا بمعاول باطلهم سفينة النجاة، فلم يُؤخَذ على أيدهم وتُكْسَر معاوِلُهم، فإنَّ الغرق سيُهدّد المجتمعَ بأكمله. قال صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ أَوَّلَ مَا دَخلَ النَّقصُ عَلى بَنِي إِسرائيلَ أَنهُ كَانَ الرَّجلُ يَلقَى الرَّجلَ فيَقولُ: يَا هذَا! اتِّقِ اللهَ ودَعْ مَا تَصنعُ فَإنهُ لَا يَحلُّ لَكَ، ثُمَّ يَلقاهُ مِنَ الغَدِ فلَا يَمنعهُ ذلكَ أنْ يَكونَ أَكيلهُ وشَريبهُ وقَعيدهُ، فلمَّا فَعلُوا ذلكَ ضَربَ اللهُ قُلوبَ بَعضهمْ ببَعضٍ». قال الله تعالى: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ، كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ} ثم قال: «كلَاّ واللهِ لتأمُرنَّ باِلمعروفِ، ولتَنهونَّ عنِ المُنكرِ، ولتأخُذنَّ عَلى يَدِ الظَّالمِ، وَلَتَأْطُرُنَّهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا أَوْ ليَضربنَّ اللهُ بقُلوبِ بَعضكمْ عَلى بَعضٍ، ثُمَّ يلْعنكمْ كَمَا لَعنهمْ». [أخرجه أبو داود والترمذي].
৩ - দাওয়াত বর্জন ধ্বংসের কারণ:

যেহেতু আল্লাহর পথে দাওয়াত হলো উম্মতের জন্য নাজাতের সর্বশেষ নৌকা, তাই এই উম্মতের নির্দিষ্ট একদল ব্যক্তির ওপর এটি অর্পিত হওয়া অনিবার্য। আর একেই মূলনীতি বিশেষজ্ঞগণ (أهل الأصول) সমষ্টিগত আবশ্যিক বিধান (فروض الكفايات) হিসেবে অভিহিত করেন। যদি এই সমষ্টিগত আবশ্যিক (كفائي) বিধানটি অচল হয়ে পড়ে, তবে সমগ্র উম্মত পাপী হবে। আর সমাজ যদি আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ও তাঁর দ্বীনের দিকে পথপ্রদর্শনকারীদের থেকে শূন্য হয়ে যায়, তবে সেই সমাজ এমন এক ভবনে পরিণত হবে যার স্তম্ভগুলো ধসে পড়েছে, ফলে সমাজটিও পরবর্তীতে ধসে পড়বে। কেনই বা তা হবে না?! মহান প্রতিপালক তো বলছেন: {তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম} [সূরা আলে ইমরান: ১০৪]। অর্থাৎ: হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে এমন একটি স্বতন্ত্র দল থাকা উচিত যারা আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেবে; তারা মানুষের অবস্থা সংশোধন করে এমন কল্যাণের দিকে দাওয়াত দিতে এবং ইসলামের শিক্ষা ও এর মহৎ চরিত্র অনুসরণের নির্দেশ দিতে এবং আল্লাহর শরিয়ত যা প্রত্যাখ্যান করে ও ঘৃণা করে সেই মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করতে নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি ও প্রচেষ্টা ব্যয় করবে।

যদি এই দাওয়াতকে অবহেলা করা হয় এবং বাতিলপন্থীরা তাদের বাতিলের কুঠার দিয়ে নাজাতের নৌকাকে চূর্ণ করতে সক্ষম হয়, আর তাদের হাত ধরে প্রতিহত করা না হয় এবং তাদের কুঠারগুলো ভেঙে ফেলা না হয়, তবে পুরো সমাজই নিমজ্জিত হওয়ার হুমকির মুখে পড়বে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বনী ইসরায়েলের মধ্যে সর্বপ্রথম যে বিচ্যুতি প্রবেশ করেছিল তা হলো, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে দেখা হলে বলত: হে অমুক! আল্লাহকে ভয় করো এবং তুমি যা করছ তা বর্জন করো, কারণ এটি তোমার জন্য বৈধ নয়। এরপর পরদিন তার সাথে দেখা হলে সেই ব্যক্তির কৃতকর্ম তাকে তার সাথে একত্রে পানাহার করতে এবং উঠাবসা করতে বাধা দিত না। যখন তারা এরূপ করল, তখন আল্লাহ তাদের একজনের অন্তরকে অপরের অন্তরের মতো করে দিলেন।’ আল্লাহ তায়ালা বলেন: {বনী ইসরায়েলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তাদের প্রতি দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে লানত করা হয়েছে; এটি এজন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা যেসব মন্দ কাজ (منكر) করত তা থেকে একে অপরকে বারণ করত না; তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট}। এরপর তিনি বললেন: «কখনো নয়, আল্লাহর কসম! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করবে, জালেমের হাত ধরে তাকে প্রতিহত করবে এবং তাকে সত্যের ওপর চলতে বাধ্য করবে; অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের একজনের অন্তরকে অন্যের অন্তরের মতো করে দেবেন, অতঃপর তাদের মতো তোমাদেরকেও লানত করবেন।» [আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌4 - مفهوم الحكمة في الدعوة:

بما أن الدعوة إلى الله عز وجل هي مهمة الرُّسلِ والأنبياء وورَثَتُهم من العلماء العاملين، والربانيين الصادقين، وخُلَّص عباده المؤمنين، كان من الطبيعي أن تكون دعوتهم مقترنة بالحكمة التي تُرغِّب وتجذبُ المدعوين إلى تلك الرسالة التي يُدعون لها، فتتغير طباعهم، وتعتدل مسالكهم، ويصح توجيههم.

ولذلك كان النداء الإلهي بهذا الأسلوب الرفيق الحاني: (ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَن … ). [سورة النحل: 125]

أي: ادع الناس إلى دين ربك وشريعته بالقول المُحْكَم الصحيح الموضِّح للحق، المزيل للباطل، مع تلطف ولين، بعيداً عن المخاشنة والتعنيف؛ ليقع في النفس أجمل موقع.

وأضاف-سبحانه-السبيل إليه؛ للإشارة إلى أنه الطريق الحق، الذي من سار فيه سعد وفاز وأفلح ونجح، ومن انحرف عنه شقي وخسر.

وأصل الحِكْمة مأخوذ من الحكَمَة - بفتح الكاف والميم - وهو ما يوضع للدابة من حديدة بحنكها كي يُذلّلها راكِبُها فيمنَعُ جِمَاحَها. ومنه اشتقت الحِكْمَة قالوا: لأنها تمنع صاحبها من أخلاق الأراذل. (المصباح المنير 1/ 200)

وأجمل وأصح ما قيل في تعريف الحكمة: "أنه وضع الشيء في محله" [فتح الباري للحافظ ابن حجر 7/ 205].

والحكمة: مفتاح القلوب، وطريق ميسَّر إلى النفوس، بل هي نور يقذفه الله سبحانه وتعالى-في قلب العبد على قدر تضحيته وثباته، وهي عطاء من الله عز وجل بعد أخذ الأسباب. قال الله سبحانه وتعالى: {كَذَلِكَ كِدْنَا لِيُوسُف} [سورة يوسف آية 76] أي: علمناه الحكمة بوضع صواع الملك في وعاء أخيه ويبدأ بالتفتيش بوعاء الآخرين، فمن أوتي الحكمة فقد أوتي خيراً كثيراً، ومن حُرِمَها فقد حُرِم خيراً كثيراً.

والحكمة -بلا شك-تحتاج إلى تمرين وتدريب وتعليم وصحبة ممن سبقوا وجالوا في ميدان الدعوة إلى الله، وتحتاج إلى دراسة وتحليل لحياة الأنبياء عليهم السلام-في الدعوة إلى الله، وكذلك أتباع الأنبياء عليهم السلام.

أما في حياة الرسول صلى الله عليه وسلم-ففيها الكثير من مواقف سادت فيها الحكمة، والأمثلة كثيرة اخترت لكم منها واحدة:

فها هو رسول الله صلى الله عليه وسلم-حين قسم غنائم حنين قسَّمها في المهاجرين من الطلقاء، ولم يُعط الأنصار شيئاً، فوجد بعض الأنصار في نفوسهم من ذلك شيء، وقالوا: إذا كانت الشدائد فنحن نُدعى، ويعطي الغنيمةَ غيرنا.

وهنا تجلت حكمة رسول الله في حلّ هذا الموقف العصيب، الذي قد يكون سبباً لتباغض وشق الصف ..

تأملوا حكمة رسول الله في هذا الموقف الجليل الذي يحتاج لتدخل وحلٍّ سريع .. !

بلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأرسل إلى الأنصار فاجتمعوا في مكان أُعد لهم، ولم يدعُ معهم أحداً غيرهم، ثم قام فيهم، فحمد الله وأثنى عليه بما هو أهله، ثم قال:

«يا معشر الأنصار، مَا قَالَةٌ بلغتني عنكم؟! ألم آتكم ضُلاّلاً فهداكم الله بي، وكنتم متفرقين فألّفكم الله بي، وكنتم عالة فأغناكم الله بي»، (كلما قال لهم من ذلك شيئاً قالوا بلى، اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمَنُّ وَأَفْضَلُ)، ثم قال: «ألا تجيبوني يا معشر الأنصار؟» قالوا: بماذا نجيبك يا رسول الله؟ لله ولرسوله المنُّ والفضل. فقال صلى الله عليه وسلم: «أَمَا وَاَللَّهِ لَوْ شِئْتُمْ لَقُلْتُمْ، فَلَصَدَقْتُمْ وَلَصُدِّقْتُمْ: أتيتنا مُكذّباً فصدقناك، ومخذولاً فنصرناك، وطريداً فآويناك، وعائلاً فآسيناك»، فصاحوا: بل المنُّ علينا لله ورسوله.

ثم تابع رسول الله صلى الله عليه وسلم قائلاً: «أوجدتم يا معشر الأنصار في أنفسكم من أجل لُعَاعَةٍ -اللعاعة: بقلة خضراء تستهوي العين، شبّه بها الدنيا-من الدنيا تألّفت بها قوماً ليسلموا، وَوَكَلْتُكُمْ إِلَى إِسْلَامِكُمْ! ألا ترضون يا معشر الأنصار أن يذهب الناس بالشاة والبعير وترجعوا برسول الله إلى رحالكم؟ فو الله لما تنقلبون به خير مما ينقلبون به، والذي نفس محمد بيده لولا الهجرة لكنت امرأً من الأنصار، ولو سلك الناس شعباً وسلكت الأنصار شعباً، لسلكتُ شعب الأنصار. وإنكم ستلقون أثرة من بعدي فاصبروا حتى تلقوني على الحوض، اللهمَّ ارحمِ الأنصارَ وأبناءَ الأنصارِ وأبناءَ أبناءِ الأنصار». [رواه البخاري ومسلم، وابن إسحاق، وابن سعد، بنصوص متقاربة في الزيادة والنقصان.]

فبكى القوم حتى اخضلّت لحاهم، وقالوا رضينا بالله ورسوله قَسْمًا وَنَصِيبًا». [رواه البخاري ومسلم بألفاظ متقاربة].

لقد أراد الشيطان بجماعة من الأنصار أن يتصوروا أن النبي صلى الله عليه وسلم قد أدركته محبة قومه وبني وطنه فنسي في جنبهم الأنصار!

لكن حكمة رسول الله في دعوته، وحكمته في خطابه استطاع أن يُذهب عنهم هذه الوساوس، فقال كلمات تفيض بمعاني الرّقة والذوق الرفيع، ومشاعر المحبة الشديدة، ولقد لا مست هذه الرّقة والخفقات مشاعرهم فهزتها هزاً، ونفضت منها ما كان قد علق بها من الوساوس والهواجس، فارتفعت أصواتهم بالبكاء فرحاً بنبيِّهم، وابتهاجاً بقسمتهم ونصيبهم.

وهكذا شأن من يحمل لواء الدعوة إلى لله لا بُدَّ أن يكون حكيماً فطناً لكل حَدَث، يتحلّى دائماً بطول الأناة والصبر، وبذلك يجني ثمرة سعيه وجهاد نفسه في سبيل تثبيت دعائم الحق وهداية الناس بالتي هي أحسن، لذلك قال تعالى: {يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا .. } [سورة البَقَرَة: 269] لأن الإنسان إذا أوتي الحكمة يكون قد اهتدى إلى العلم النافع، فيكون سراجاً منيراً لكل من انحرف عن طريق الجادة الصحيحة؛ لذلك قال صلى الله عليه وسلم: «لَا حَسَدَ - أي لا غبطة- إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ أَعْطَاهُ اللَّهُ مَالًا فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْحِكْمَةَ فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا». [متفق عليه]
৪ - দাওয়াহর ক্ষেত্রে হিকমতের (প্রজ্ঞা) ধারণা:

যেহেতু মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে দাওয়াহ প্রদান করা রাসুলগণ, নবীগণ এবং তাঁদের উত্তরসূরি আমলকারী আলেম, সত্যবাদী রব্বানি ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁর খাঁটি মুমিন বান্দাদের দায়িত্ব, তাই এটিই স্বাভাবিক যে তাঁদের দাওয়াহ এমন হিকমতের সাথে সম্পৃক্ত হবে যা দাওয়াতপ্রাপ্তদের সেই বার্তার প্রতি আকৃষ্ট ও আগ্রহী করে তোলে যার দিকে তাদের আহ্বান করা হচ্ছে। ফলে তাদের স্বভাব পরিবর্তিত হয়, তাদের কর্মপন্থা সঠিক হয় এবং তাদের দিকনির্দেশনা যথার্থ হয়।

এ কারণেই ঐশী আহ্বান ছিল এই কোমল ও দয়ালু শৈলীতে: (তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পন্থায় … )। [সুরা আন-নাহল: ১২৫]

অর্থাৎ: মানুষকে তোমার রবের দ্বীন ও তাঁর শরিয়তের দিকে এমন সুদৃঢ় ও সঠিক কথার মাধ্যমে আহ্বান করো যা সত্যকে স্পষ্ট করে এবং বাতিলকে অপসারিত করে। আর এটি হবে অত্যন্ত নমনীয়তা ও কোমলতার সাথে, রুক্ষতা ও কঠোরতা থেকে দূরে থেকে; যাতে তা অন্তরে অত্যন্ত চমৎকারভাবে প্রভাব ফেলে।

মহান আল্লাহ 'পথ' শব্দটিকে নিজের দিকে নিসবত (সম্পর্কিত) করেছেন; এটি ইঙ্গিত দিতে যে এটিই সত্য পথ, যাতে যে ব্যক্তি চলবে সে সৌভাগ্যবান, সফল ও কামিয়াব হবে, আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হবে সে দুর্ভাগা ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হিকমত (الحكمة) শব্দের মূল উৎস 'আল-হাকামাহ' (الحكَمَة - কাফ ও মিম বর্ণে ফাতহসহ) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা হলো পশুর মুখে লাগানো লোহার লাগাম যা আরোহী তাকে বশ করার জন্য ব্যবহার করে যেন তার অবাধ্যতা রোধ করা যায়। হিকমত শব্দটি এখান থেকেই নেওয়া হয়েছে। ভাষাবিদগণ বলেন: কারণ এটি তার অধিকারীকে হীন স্বভাব থেকে বিরত রাখে। (আল-মিসবাহুল মুনির ১/২০০)

হিকমতের সংজ্ঞায় সবচেয়ে সুন্দর ও সঠিক যা বলা হয়েছে তা হলো: "কোনো বস্তুকে তার সঠিক স্থানে স্থাপন করা।" [হাফিজ ইবনে হাজার রচিত ফাতহুল বারি ৭/২০৫]।

হিকমত হলো হৃদয়ের চাবিকাঠি এবং আত্মার কাছে পৌঁছানোর সহজ পথ। বরং এটি এমন এক নূর যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার ত্যাগ ও অবিচলতার অনুপাতে তার অন্তরে ঢেলে দেন। আর এটি উপকরণ গ্রহণের পর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে একটি দান। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {এভাবেই আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করেছিলাম} [সুরা ইউসুফ, আয়াত ৭৬]। অর্থাৎ: আমি তাকে তার ভাইয়ের পাত্রে বাদশাহর পানপাত্র রাখার মাধ্যমে হিকমত শিক্ষা দিয়েছিলাম এবং তিনি অন্যদের পাত্র দিয়ে তল্লাশি শুরু করেছিলেন। যাকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে প্রভূত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

হিকমত—নিঃসন্দেহে—এর জন্য অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াহর ময়দানে যারা অগ্রগামী ও অভিজ্ঞ তাদের সাহচর্যের প্রয়োজন। এর জন্য নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) দাওয়াহর জীবন এবং তাঁদের অনুসারীদের জীবন নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে হিকমতের এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে হিকমত প্রাধান্য পেয়েছে। উদাহরণ অনেক, তার মধ্য থেকে আমি আপনাদের জন্য একটি বেছে নিয়েছি:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করলেন, তখন তিনি তা মক্কার নওমুসলিম মুহাজিরদের মধ্যে বণ্টন করলেন এবং আনসারদের কিছুই দিলেন না। এতে কিছু আনসার সদস্য মনে কষ্ট পেলেন এবং বললেন: যখন কঠিন সময় আসে তখন আমাদের ডাকা হয়, আর গনিমতের মাল দেওয়া হয় অন্যদের।

এখানে এই কঠিন পরিস্থিতি সমাধানে রাসুলুল্লাহর হিকমত প্রকাশ পেয়েছে, যা পারস্পরিক বিদ্বেষ ও বিভেদের কারণ হতে পারত...

রাসুলুল্লাহর হিকমত নিয়ে চিন্তা করুন এই মহান মুহূর্তে যা দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সমাধানের দাবি রাখছিল! !

এই খবর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছালে তিনি আনসারদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা তাদের জন্য নির্ধারিত এক স্থানে সমবেত হলেন এবং তিনি তাদের সাথে অন্য কাউকে ডাকেননি। অতঃপর তিনি তাদের মাঝে দাঁড়ালেন, আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন যা তাঁর শান অনুযায়ী প্রযোজ্য। তারপর বললেন:

«হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে এ কেমন কথা আমার কাছে পৌঁছাল?! আমি কি তোমাদের কাছে পথভ্রষ্ট অবস্থায় আসিনি, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের হেদায়েত দান করেছেন? তোমরা কি বিচ্ছিন্ন ছিলে না, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন? তোমরা কি অভাবগ্রস্ত ছিলে না, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে তোমাদের অভাবমুক্ত করেছেন?», (তিনি যখনই তাদের এসব বলছিলেন, তারা বলছিলেন: অবশ্যই, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই বেশি দয়ালু এবং শ্রেষ্ঠ), এরপর তিনি বললেন: «হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি আমাকে উত্তর দেবে না?» তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনাকে কী উত্তর দেব? আল্লাহ ও তাঁর রাসুলেরই সকল অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আল্লাহর কসম! তোমরা যদি চাইতে তবে বলতে পারতে এবং তোমরা সত্য বলতে এবং তোমাদের সত্য বলে মেনে নেওয়া হতো: আপনি আমাদের কাছে এসেছিলেন এমন অবস্থায় যে মানুষ আপনাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, কিন্তু আমরা আপনাকে বিশ্বাস করেছি; আপনি নিঃসঙ্গ ছিলেন, আমরা আপনাকে সাহায্য করেছি; আপনি বিতাড়িত ছিলেন, আমরা আপনাকে আশ্রয় দিয়েছি; আপনি অভাবী ছিলেন, আমরা আপনাকে সহায়তা করেছি», তখন তারা চিৎকার করে বলে উঠল: বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলেরই আমাদের ওপর বেশি অনুগ্রহ।

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা চালিয়ে গেলেন: «হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি দুনিয়ার সামান্য নগণ্য জিনিসের (লুআআহ: এটি একটি সবুজ উদ্ভিদ যা চোখকে আকৃষ্ট করে, তিনি দুনিয়াকে এর সাথে তুলনা করেছেন) জন্য মনে কষ্ট পেয়েছ, যার মাধ্যমে আমি একটি কওমের মন জয় করতে চেয়েছি যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে, আর তোমাদের আমি সঁপে দিয়েছি তোমাদের ইসলামের ওপর! হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ উট ও বকরি নিয়ে বাড়ি ফিরবে আর তোমরা তোমাদের বাহনে আল্লাহর রাসুলকে নিয়ে বাড়ি ফিরবে? আল্লাহর কসম! তোমরা যা নিয়ে ফিরবে তা তারা যা নিয়ে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর কসম! যদি হিজরত না থাকত তবে আমি আনসারদেরই একজন হতাম। যদি মানুষ কোনো এক উপত্যকায় চলে আর আনসাররা অন্য উপত্যকায় চলে, তবে আমি আনসারদের উপত্যকাতেই চলব। নিশ্চয়ই আমার পরে তোমরা অগ্রাধিকারের বৈষম্য দেখবে, তাই ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না তোমরা হাউজে (কাউসারে) আমার সাথে সাক্ষাৎ করো। হে আল্লাহ! আনসারদের ওপর রহম করুন, আনসারদের সন্তানদের ওপর এবং আনসারদের সন্তানদের সন্তানদের ওপর রহম করুন।» [বর্ণনা করেছেন (رواه) বুখারি ও মুসলিম, ইবনে ইসহাক এবং ইবনে সাদ; শব্দগত কিছু কমবেশি পার্থক্যসহ।]

তখন তারা এত কাঁদলেন যে তাদের দাড়ি ভিজে গেল এবং বললেন: আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বণ্টনকারী ও অংশ হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।» [বর্ণনা করেছেন (رواه) বুখারি ও মুসলিম কাছাকাছি শব্দে]।

শয়তান আনসারদের একটি দলের মনে এমন ধারণা দিতে চেয়েছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো তাঁর স্বগোত্রীয়দের প্রতি ভালোবাসায় আবিষ্ট হয়েছেন এবং তাদের পাশে আনসারদের কথা ভুলে গেছেন!

কিন্তু দাওয়াহর ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহর হিকমত এবং তাঁর ভাষণের হিকমত এসব কুমন্ত্রণা দূর করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি এমন কিছু কথা বললেন যা মমতা ও উচ্চতর রুচিবোধ এবং গভীর ভালোবাসার অনুভূতিতে ভরপুর ছিল। এই মমতা ও হৃদস্পন্দন তাদের অনুভূতিকে প্রবলভাবে স্পর্শ করল এবং নাড়া দিল, আর তাদের মাঝে জমা হওয়া সকল কুমন্ত্রণা ও দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলল। ফলে তাদের কান্নার আওয়াজ চড়ে গেল তাদের নবীর জন্য আনন্দিত হয়ে এবং নিজেদের প্রাপ্তি ও অংশের ওপর খুশি হয়ে।

আল্লাহর দাওয়াহর পতাকা যারা বহন করেন তাদের এভাবেই প্রতিটি ঘটনায় প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ হতে হয়। সর্বদা ধৈর্য ও সহনশীলতার গুণ ধারণ করতে হয়। এর মাধ্যমেই সত্যের ভিত্তি মজবুত করার পথে এবং মানুষকে সর্বোত্তম পন্থায় হেদায়েতের পথে নিজের প্রচেষ্টা ও আত্মসংগ্রামের ফল লাভ করা সম্ভব। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত দান করেন; আর যাকে হিকমত দান করা হয়েছে তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে...} [সুরা আল-বাকারাহ: ২৬৯]। কারণ মানুষকে যখন হিকমত দান করা হয়, তখন সে উপকারী ইলমের দিকে পথপ্রাপ্ত হয় এবং যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের জন্য সে এক আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে। এজন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দুইটি বিষয় ছাড়া অন্য কিছুতে ঈর্ষা (গিবতাহ) নেই: সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে সত্যের পথে তা ব্যয় করার সামর্থ্য দিয়েছেন; আর সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত দান করেছেন এবং সে অনুযায়ী সে ফয়সালা করে ও তা শিক্ষা দেয়।» [সর্বসম্মত (متفق عليه)]
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌5 - مفهوم الموعظة الحسنة في الدعوة:

هي النصح والتوجيه والتذكير بالعواقب بأسلوب لطيف محبّب، وبطريقة مقبولة وكما أن الحكمة في القول مطلوبة، فإن الموعظة أسلوب من أساليب حكمة القول، وقد وردت إشارات إلى تطبيقات الموعظة في آيات عديدة، من ذلك ما ساقه الأنبياء لأقوامهم ينذرونهم ويحذرونهم خشيةً عليهم من العذاب:

فهذا شعيب يقول لقومه: {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ وَلَا تَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِنِّي أَرَاكُمْ بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ} [سورة هُود: 84]

فقد ناداهم متحبباً إليهم بقوله: {يا قوم}: أي يا عشيرتي أنا منكم وأنتم مني .. !، وبعد أن جذبهم إليه بهذا النّداء الحاني بدأ بدعوتهم إلى توحيد الله وعبادته والاستقامة على أمره، واختتم نُصحه بعبارةٍ لطيفة تجذب القلوب وتهزّه هزاً عنيفاً فقال لهم: إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ .. ، وهل يخاف عليك إلا من أراد الخير والسعادة لك … ؟! "وإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُحِيطٍ" فأنا أشفق عليكم وأخشى أن يَحِلَّ بِكم عذابُ يومٍ يُهلككم جميعاً في الدنيا، ويحيط بكم في الآخرة.

كيف طبَّق النبي صلى الله عليه وسلم الموعظة الحسنة في دعوته

ولننظر لهذا المشهد الجليل الذي يرسم للداعية المنهج القويم في دعوته .. ، بينما هو جالس ذات يوم بين كوكبة من أصحابه الكرام إذا بشاب يدخل على النبي صلى الله عليه وسلم ونار الشهوة تتأجج في أضلاعه، والغريزة الجنسية قد تغلّبت على نفسه وعقله وقلبه. ويقول بأعلى صوته: يا رسول الله " اِئْذَنْ لِي بِالزِّنَا، اِئْذَنْ لِي بِالزِّنَا "، يالها من كلمة .. !! كيف َجرُؤَ الشاب أن يُقدِم على قولها بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! كيف تجرَّأ أن يُقدِم على قولها بين يدي قائد المسلمين ورسول رب العالمين؟! ثار الجالسون .. ، غضب الصحابة الكرام، همّوا بزجره وطرده .. لكن صاحب الخلق العظيم قال لهم: دعوه وخلّو بيني وبينه، وقال للشاب: "اُدْنُ يا هذا" أي: اقترب.

تعال إلى جوار من قال فيه ربّه (بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ) فأدناه النبي صلى الله عليه وسلم وقرَّبه. وقَالَ له برفق ولين يا هذا:

«أَتُحِبُّهُ لأِمِّكَ؟» قَالَ: لَا وَالله جَعَلَنِي الله فِدَاءَكَ، قَالَ: «وَلَا النَّاسُ يُّحِبُّونَهُ لأِمَّهَاتِهِمْ»، قَالَ: «أَفَتُحِبُّهُ لاِبْنَتِكَ؟» قَالَ: لَا، وَالله يَا رَسُولَ الله جَعَلَنِي الله فِدَاءَكَ، قَالَ: «وَلَا النَّاسُ يُّحِبُّونَهُ لِبَنَاتِهِمْ»،

قَالَ: «أَفَتُحِبُّهُ لأِخْتِكَ؟» قَالَ: لَا وَالله، جَعَلَنِي الله فِدَاءَكَ، قَالَ: «وَلَا النَّاسُ يُّحِبُّونَهُ لأِخَوَاتِهِمْ»، قَالَ: «أَفَتُحِبُّهُ لِعَمَّتِكَ؟» قَالَ: لَا، وَالله جَعَلَنِي الله فِدَاءَكَ، قَالَ: «وَلَا النَّاسُ يُّحِبُّونَهُ لِعَمَّاتِهِمْ»، قَالَ: «أفَتُحِبُّهُ لِخَالَتِكَ؟» قَالَ: لَا وَالله جَعَلَنِي الله فِدَاءَكَ، قَالَ: «وَلَا النَّاسُ يُّحِبُّونَهُ لِخَالَاتِهِمْ».

وإذا بالحبيب يمد يده الشريفة الكريمة التي ملئت رحمة وعطفاً وحناناً وخوفاً على صدر ذلك الشاب ويدعو الله قائلاً: «اللَّهمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ، وَطَهِّرْ قَلْبَهُ، وَحَصِّنْ فَرْجَهُ» [مسند الإمام أحمد بن حنبل 36/ 545].

ثلاث دعوات مباركات تَفَتَّحَتْ لها أبواب السماوات. ثلاث دعوات نحن بحاجة أن نصدقَ الله في دعائنا بها لشبابنا وبناتنا، فتلهج الألسن مع القلوب صباح مساء إلى ربِّ الأرض والسماء بأن يغفر الله ذنبهم وأن يطهِّر قلوبهم، وأن يحصن فروجهم.

فقام الشاب من بين يدي رسول الله وهو يقول: "والله ما برحت مكاني إلا وكان الزنا من أبغض الأشياء إلى قلبي "

نعم إنها أثر الموعظة الحسنة الرفيقة الرقيقة في القلوب، أما الشّدة والغلاظة في الدعوة فهو تقَسِّي القلوب، وتَسُدُّ طرق الهداية، بل ربما كان الداعية بأسلوبه سبب شقاية لا هداية. كما قال النبي: "إنَّ منكم مُنَفِّرِين " [صحيح البخاري برقم: 672]
৫ - দাওয়াতের ক্ষেত্রে সদুপদেশের (الموعظة الحسنة) ধারণা:

এটি হলো একটি কোমল ও প্রিয় শৈলীর মাধ্যমে এবং গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে নসিহত করা, দিকনির্দেশনা প্রদান করা এবং পরিণাম সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। যেমনটি কথার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞার প্রয়োজন হয়, তেমনি সদুপদেশ (الموعظة) হলো কথার প্রজ্ঞার অন্যতম একটি পদ্ধতি। বিভিন্ন আয়াতে সদুপদেশের (الموعظة) প্রয়োগের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো যা নবীগণ তাঁদের কওমের কাছে পেশ করেছিলেন, যাতে তাঁরা আজাবের আশঙ্কায় তাঁদের সতর্ক ও সাবধান করতে পারেন:

যেমন শুয়াইব (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন: {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। আর তোমরা মাপ ও ওজনে কম দিও না। আমি তোমাদেরকে সচ্ছল অবস্থায় দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের আশঙ্কা করছি।} [সুরা হুদ: ৮৪]

তিনি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে 'হে আমার সম্প্রদায়' বলে সম্বোধন করেছিলেন। অর্থাৎ, হে আমার আত্মীয়-স্বজন, আমি তোমাদেরই একজন এবং তোমরাও আমার...! এই মমতাময়ী আহ্বানের মাধ্যমে তাঁদের আকৃষ্ট করার পর, তিনি তাঁদেরকে আল্লাহর তাওহিদ, তাঁর ইবাদত এবং তাঁর নির্দেশের ওপর অবিচল থাকার দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তিনি তাঁর নসিহত একটি কোমল বাক্যের মাধ্যমে শেষ করেন যা অন্তরকে জয় করে এবং গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি তাঁদের বললেন: 'আমি তোমাদের ওপর আশঙ্কা করছি...'। প্রকৃতপক্ষে যে তোমার কল্যাণ ও সৌভাগ্য চায়, সে ছাড়া আর কে তোমার জন্য আশঙ্কা বোধ করতে পারে? 'আর আমি তোমাদের ওপর এক পরিবেষ্টনকারী দিনের আজাবের আশঙ্কা করছি।' অর্থাৎ, আমি তোমাদের প্রতি দয়া পরবশ হয়ে ভয় পাচ্ছি যে, তোমাদের ওপর এমন একদিনের আজাব আপতিত না হয় যা দুনিয়াতে তোমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেবে এবং আখিরাতে তোমাদের পরিবেষ্টন করবে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কীভাবে তাঁর দাওয়াতে সদুপদেশ (الموعظة الحسنة) প্রয়োগ করেছিলেন

আসুন আমরা এই মহান দৃশ্যটি লক্ষ্য করি যা একজন দায়ী (দাওয়াতদানকারী)-র জন্য সঠিক কর্মপন্থা অঙ্কন করে... একদিন তিনি যখন তাঁর একদল সম্মানিত সাহাবীর মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন হঠাৎ এক যুবক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশ করল। তার পাজরে কামনার আগুন জ্বলছিল এবং তার নফস, বুদ্ধি ও অন্তরের ওপর যৌন প্রবৃত্তি জয়ী হয়েছিল। সে উচ্চস্বরে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! "আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দিন, আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দিন"। এটি কতই না অদ্ভুত কথা...!! রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলার সাহস যুবকটি কীভাবে পেল?! মুসলিমদের নেতা এবং রাব্বুল আলামীনের রাসুলের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলার দুঃসাহস সে কীভাবে দেখাল?! উপস্থিত সাহাবীগণ উত্তেজিত হয়ে পড়লেন... সম্মানিত সাহাবীগণ রাগান্বিত হলেন এবং তাকে ধমক দিয়ে বের করে দেওয়ার উপক্রম করলেন... কিন্তু মহান চরিত্রের অধিকারী নবী তাঁদের বললেন: ওকে ছেড়ে দাও এবং আমার ও ওর মাঝখানে জায়গা করে দাও। এরপর যুবকটিকে বললেন: "হে যুবক, কাছে এসো"। অর্থাৎ: নিকটে এসো।

সেই মহান সত্তার পাশে আসো যার সম্পর্কে তাঁর রব বলেছেন (মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান ও পরম করুণাময়), অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিজের আরও কাছে নিয়ে আসলেন এবং অত্যন্ত নম্রতা ও কোমলতার সাথে তাকে বললেন:

«তুমি কি এটি তোমার মায়ের জন্য পছন্দ করো?» সে বলল: আল্লাহর কসম, না; আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। তিনি বললেন: «মানুষও তাদের মায়েদের জন্য এটি পছন্দ করে না»। তিনি বললেন: «তবে কি তুমি এটি তোমার কন্যার জন্য পছন্দ করো?» সে বলল: আল্লাহর কসম, না; হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। তিনি বললেন: «মানুষও তাদের কন্যাদের জন্য এটি পছন্দ করে না»।

তিনি বললেন: «তবে কি তুমি এটি তোমার বোনের জন্য পছন্দ করো?» সে বলল: আল্লাহর কসম, না; আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। তিনি বললেন: «মানুষও তাদের বোনদের জন্য এটি পছন্দ করে না»। তিনি বললেন: «তবে কি তুমি এটি তোমার ফুফুর জন্য পছন্দ করো?» সে বলল: আল্লাহর কসম, না; আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। তিনি বললেন: «মানুষও তাদের ফুফুদের জন্য এটি পছন্দ করে না»। তিনি বললেন: «তবে কি তুমি এটি তোমার খালার জন্য পছন্দ করো?» সে বলল: আল্লাহর কসম, না; আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন। তিনি বললেন: «মানুষও তাদের খালাদের জন্য এটি পছন্দ করে না»।

অতঃপর প্রিয় নবী তাঁর সেই সম্মানিত বরকতময় হাত—যা রহমত, স্নেহ, মমতা ও আশঙ্কায় পূর্ণ ছিল—যুবকটির বুকের ওপর রাখলেন এবং আল্লাহর কাছে এই বলে দোয়া করলেন: «হে আল্লাহ! তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, তার অন্তর পবিত্র করে দিন এবং তার লজ্জাস্থানকে হেফজত করুন» [মুসনাদ ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল ৩৬/ ৫৪৫]।

তিনটি বরকতময় দোয়া যার জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে গিয়েছিল। তিনটি এমন দোয়া যা নিয়ে আমাদের যুবক-যুবতীদের জন্য আল্লাহর কাছে সত্যনিষ্ঠার সাথে প্রার্থনা করা প্রয়োজন। ফলে সকাল-সন্ধ্যা অন্তর ও মুখ দিয়ে যমিন ও আসমানের রবের কাছে প্রার্থনা ধ্বনিত হবে—যাতে আল্লাহ তাদের গুনাহ ক্ষমা করেন, তাদের অন্তরকে পবিত্র করেন এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফজত করেন।

অতঃপর যুবকটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে থেকে এই বলতে বলতে উঠে দাঁড়াল: "আল্লাহর কসম, আমি যতক্ষণ পর্যন্ত ওই স্থান থেকে সরে যাইনি, তার আগেই ব্যভিচার আমার কাছে সবচেয়ে ঘৃণ্য বস্তুতে পরিণত হয়েছিল।"

হ্যাঁ, এটিই হলো অন্তরের ওপর নম্র ও কোমল সদুপদেশের (الموعظة الحسنة) প্রভাব। অন্যদিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কঠোরতা ও রূঢ়তা অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং হিদায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। বরং অনেক সময় দায়ী (দাওয়াতদানকারী) তার শৈলীর কারণে হিদায়াতের পরিবর্তে দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ান। যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা (মানুষকে দীন থেকে) দূরে সরিয়ে দেয়" [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৬৭২]
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌6 - مفهوم المجادلة بالتي هي أحسن:

يعني الجدل في القرآن الكريم المحاورة لإظهار الحق، فقد يضطر الداعي في موقفه أمام خصمه العنيد إلى استعمال الحجج المقنعة والمجادلة المفحمة، فالجدال لم يكن مسلكاً مقصود بذاته، ولكن قد يضطر له الداعي عندما يكون الخصم مشاغباً، فالجدال إذن لا يكون إلا بقدر الحاجة، والإرشاد القرآني أن يكون الجدال بالتي هي أحسن، فقوله-تعالى-: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} هي بيان لوسيلة ثالثة من وسائل الدعوة السليمة. أي: وجادل المعاند منهم بالطريقة التي هي أحسن الطرق وأجملها، بأن تكون مجادلتك لهم مبنيّة على حسن الإقناع، وعلى الرفق واللين وسعة الصدر فإن ذلك أبلغ في إطفاء نار غضبهم، وفي التقليل من عنادهم، وفي إصلاح شأن أنفسهم، وفي إيمانهم بأنك إنما تريد من وراء مجادلتهم، الوصول إلى الحق دون أيّ شيء سواه.

وقد وردت "للمجادلة" ألفاظٌ مرادفة كالمحاجة والمخاصمة، فإن كانت الغاية حقاً كان الجدال محموداً، وإلا كان مذموماً، فالغاية هي التي تُفرّق بين الجدال المذموم والمحمود. والوسيلة إن كانت حسنة كان الجدال محموداً، وإلا كان مذموماً.
৬ - সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের (المجادلة بالتي هي أحسن) ধারণা:

পবিত্র কুরআনে বিতর্ক (الجدل) বলতে সত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে আলোচনা করাকে বোঝানো হয়েছে। একজন দাঈ (আহ্বায়ক) তার জেদি প্রতিপক্ষের সামনে অনেক সময় জোরালো যুক্তি ও মোক্ষম বিতর্ক (المجادلة) ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারেন। মূলত বিতর্ক (الجدال) নিজে কোনো স্বতন্ত্র উদ্দিষ্ট পথ নয়, বরং যখন প্রতিপক্ষ বিশৃঙ্খলাকারী হয় তখন দাঈ এর আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। অতএব, বিতর্ক (الجدাল) কেবল প্রয়োজনের পরিমাপ অনুযায়ী হতে হবে। কুরআনী নির্দেশনা হলো—বিতর্ক (الجدال) হতে হবে সর্বোত্তম পন্থায়। মহান আল্লাহর বাণী: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়); এটি দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতিসমূহের মধ্যে তৃতীয় একটি পদ্ধতির বর্ণনা। অর্থাৎ: তাদের মধ্যে যারা হঠকারী, তাদের সাথে সর্বোত্তম ও সুন্দরতম পদ্ধতিতে বিতর্ক (وجادل) করুন; আর আপনার বিতর্ক (مجادلتك) হতে হবে সুন্দরভাবে বোঝানো, নম্রতা, বিনম্র আচরণ ও উদারতার ভিত্তিতে। কারণ এটি তাদের ক্রোধ প্রশমিত করতে, তাদের হঠকারিতা কমাতে, তাদের আত্মশুদ্ধিতে এবং তাদের মনে এই বিশ্বাস জন্মাতে অধিক কার্যকর যে, আপনার এই বিতর্কের (مجادلتهم) মূল লক্ষ্য কেবল সত্যে উপনীত হওয়া, অন্য কিছু নয়।

"বিতর্ক" (للمجادلة) শব্দের সমার্থক হিসেবে যুক্তি প্রদর্শন (المحاجة) এবং বিবাদ (المخاصمة) শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। যদি বিতর্কের উদ্দেশ্য হয় সত্য প্রতিষ্ঠা, তবে সেই বিতর্ক (الجدال) প্রশংসনীয় (محموداً); অন্যথায় তা নিন্দনীয় (مذموماً)। বস্তুত লক্ষ্যই নিন্দনীয় (المذموم) এবং প্রশংসনীয় (المحمود) বিতর্কের (الجدال) মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। অনুরূপভাবে, বিতর্কের মাধ্যম যদি ভালো হয় তবে সেই বিতর্ক (الجدال) প্রশংসনীয় (محموداً), নতুবা তা নিন্দনীয় (مذموماً) বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌صورة حيّة من السيرة النبوية رسمت معنى المجادلة بالتي هي أحسن:

ومن الوقائع العملية في تطبيق معنى المجادلة بالتي هي أحسن التي أرشد إليها القرآن الكريم، مجادلة النبي-صلى الله عليه وسلم-وحواره لرجل من سادات قريش، فبعد أن أدرك زعماء قريشٍ فشلهم في مختلف الأساليب التي منها عرضهم على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم الملك والمال والسلطان والجاه، أرسلوا إليه أحدهم وهو عتبة بن ربيعة، وكان سيَّد قومه، فجاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فكلمه واستعمل معه كل وسائل الإغراء بأسلوب مؤثر، ورسول الله عليه الصلاة والسلام-يسمع لقوله، دون أن يقاطع حديثه، أو يقسو عليه منتهجاً الحكمة والموعظة الحسنة في مناظرته، حتى إذا ما فرغ عتبة من كلامه، قال له عليه الصلاة والسلام: «أَفَرَغْتَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ؟» قال: نعم. قال صلى الله عليه وسلم:

«فَاسْتَمِعْ مِنِّي».

بسم الله الرحمن الرحيم

{حم (1) تَنزِيلٌ مِنْ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (2) كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ (3) بَشِيراً وَنَذِيراً فَأَعْرَضَ أَكْثَرُهُمْ فَهُمْ لا يَسْمَعُونَ (4) وَقَالُوا قُلُوبُنَا فِي أَكِنَّةٍ مِمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ وَفِي آذَانِنَا وَقْرٌ وَمِنْ بَيْنِنَا وَبَيْنِكَ حِجَابٌ فَاعْمَلْ إِنَّنَا عَامِلُونَ (5)} [سُورَةُ فُصِّلَتْ].حتى انتهى إلى آية السجدة فسجد، ثم قال: «قَدْ سَمِعْتَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ مَا سَمِعْتَ، فَأَنْتَ وَذَاكَ». فقام عتبة إلى قومه، فقال بعضهم لبعض: نحلف بالله لقد جاءكم أبو الوليد بغير الوجه الذي ذهب به! فلما جلس إليهم قالوا: ما وراءك؟ قال: ورائي أني سمعت قولاً، والله ما سمعت مثله قط، والله ما هو بالشعر، ولا بالسحر، ولا بالكهانة، يا معشر

قريش: أطيعوني، واجعلوها بي وخلوا بين هذا الرجل، وبين ما هو عليه، فاعتزلوه، فو اللهِ لَيَكُونَنَّ لِقَوْلِهِ الَّذِي سَمِعْتُ مِنْهُ نَبَأٌ عَظِيمٌ، فَإِنْ تُصِبْهُ الْعَرَبُ فَقَدْ كُفِيتُمُوهُ بِغَيْرِكُمْ، وَإِنْ يَظْهَرْ عَلَى الْعَرَبِ فَمُلْكُهُ مُلْكُكُمْ، وَعِزُّهُ عِزُّكُمْ، وَكُنْتُمْ أَسْعَدَ النَّاسِ بِهِ، قالوا: سَحَرَكَ وَاَللَّهِ يَا أَبَا الْوَلِيدِ بِلِسَانِهِ، قَالَ: هَذَا رَأْيِي فِيهِ، فَاصْنَعُوا مَا بَدَا لَكُمْ. [السيرة النبوية لابن هشام 1/ 262]

كما أن الصحابة الكرام-رضي الله عنهم اتبعوا في دعوتهم ذات أسلوب اللين والرفق والحلم والصبر، تجاه المستضعفين المسالمين، فنالوا بذلك ثقتهم، وبادرت جماهيرهم إلى اعتناق الإسلام طواعية، وذلك من خلال ما لمسوه لديهم من حسن المسلك، ونقاوة السيرة، وما يتفق مع العقل والمنطق.

ما كان الإسلام ليقر مبدأ التعسّف لنشر دعوته ولا التضليل بالناس والتغرير بهم، وإنما جاء ليناصب العداء للرذائل ويمحو الزيف والبطلان، فالغاية الطيبة تستلزم دون شكٍ الوسيلة الطيبة.
সীরাতে নববীর একটি জীবন্ত চিত্র যা সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্কের তাৎপর্য চিত্রায়িত করেছে:

কুরআন মাজীদে নির্দেশিত 'সর্বোত্তম পন্থায় বিতর্ক' করার পদ্ধতিটির বাস্তব প্রয়োগের অন্যতম একটি উদাহরণ হলো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুরাইশদের অন্যতম নেতা উতবাহ ইবনে রাবীয়াহর বিতর্ক ও কথোপকথন। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ যখন অনুধাবন করল যে, আমাদের সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাজত্ব, সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির প্রস্তাব পেশ করার মতো বিভিন্ন কৌশল ব্যর্থ হয়েছে, তখন তারা তাদের অন্যতম গোত্রপতি উতবাহ ইবনে রাবীয়াহকে তাঁর নিকট প্রেরণ করল। সে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে কথা বলল এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী ঢঙে প্রলোভনের সবধরণের মাধ্যম ব্যবহার করল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে তার কথা শুনছিলেন; বিতর্কের ক্ষেত্রে হিকমত ও সদুপদেশের নীতি অবলম্বন করে তিনি তার কথা মাঝপথে কেটে দেননি বা তার প্রতি কোনো কঠোরতা প্রদর্শন করেননি। যখন উতবাহ তার কথা শেষ করল, তখন তিনি তাকে বললেন: «হে আবুল ওয়ালিদ, তোমার বলা কি শেষ হয়েছে?» সে বলল: হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

«তাহলে আমার পক্ষ থেকে শোনো।»

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

{হা-মীম। (১) এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (২) এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবি কুরআনরূপে এমন কওমের জন্য যারা জ্ঞান রাখে। (৩) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে; কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিমুখ হয়েছে, ফলে তারা শোনে না। (৪) তারা বলে, ‘তুমি যার প্রতি আমাদের দাওয়াত দিচ্ছ, সে বিষয়ে আমাদের অন্তরসমূহ আবরণে ঢাকা, আমাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং তোমার ও আমাদের মাঝখানে রয়েছে এক অন্তরাল। অতএব তুমি তোমার কাজ করো, আমরাও আমাদের কাজ করছি।’ (৫)} [সূরা ফুসসিলাত]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন এবং সিজদাহ আদায় করলেন। অতঃপর বললেন: «হে আবুল ওয়ালিদ, যা শোনার তা তো তুমি শুনলে, এখন তোমার যা ইচ্ছা তা-ই করো (সিদ্ধান্ত তোমার হাতে)।’ অতঃপর উতবাহ তার কওমের নিকট ফিরে গেল। তাকে আসতে দেখে তারা একে অপরকে বলল: আমরা আল্লাহর কসম করে বলছি, আবুল ওয়ালিদ যে চেহারা নিয়ে গিয়েছিল, এখন সে ভিন্ন এক চেহারা নিয়ে ফিরেছে! সে যখন তাদের কাছে বসল, তারা জিজ্ঞেস করল: তোমার সংবাদ কী? সে বলল: আমার সংবাদ এই যে, আমি এমন এক বাণী শুনে এসেছি, আল্লাহর কসম, যার সমতুল্য কিছু আমি ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। আল্লাহর কসম, এটি কোনো কবিতা নয়, কোনো যাদু নয় এবং কোনো গণকবিদ্যাও নয়। হে

কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আমার কথা শোনো এবং এই বিষয়টি আমার ওপর ছেড়ে দাও। তোমরা এই ব্যক্তিকে তাঁর অবস্থার ওপর ছেড়ে দাও এবং তাঁর থেকে দূরে থাকো। আল্লাহর কসম, আমি তাঁর থেকে যে বাণী শুনেছি, তার এক বিশাল ভবিষ্যৎ রয়েছে। যদি আরবরা তাঁকে শেষ করে দেয়, তবে তোমরা অন্যের মাধ্যমে তাঁর থেকে মুক্তি পেয়ে গেলে। আর যদি তিনি আরবদের ওপর বিজয়ী হন, তবে তাঁর রাজত্ব হবে তোমাদেরই রাজত্ব, তাঁর সম্মান হবে তোমাদেরই সম্মান এবং তোমরা হবে তাঁর মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ। তারা বলল: ওহে আবুল ওয়ালিদ, আল্লাহর কসম, সে তার যবান দিয়ে তোমাকে যাদু করেছে। সে বলল: এটিই তাঁর সম্পর্কে আমার অভিমত, এখন তোমাদের যা মনে চায় তা-ই করো। [ইবনে হিশামের সীরাতুন্নবী ১/ ২৬২]

অনুরূপভাবে মহান সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্বল ও শান্তিকামী লোকদের প্রতি নম্রতা, কোমলতা, সহনশীলতা ও ধৈর্যের নীতি অনুসরণ করেছিলেন। এর ফলে তারা তাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন এবং সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করে। কারণ তারা তাঁদের মধ্যে উত্তম আচরণ ও পবিত্র জীবন প্রত্যক্ষ করেছিল, যা ছিল বুদ্ধি ও যুক্তির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।

ইসলাম কখনোই তার দাওয়াত প্রচারের জন্য জবরদস্তি বা মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও ধোঁকা দেওয়ার নীতি সমর্থন করে না। বরং ইসলাম এসেছে অনাচার-অশ্লীলতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং মিথ্যা ও অসারতাকে মুছে ফেলতে। কেননা সৎ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য নিঃসন্দেহে সৎ পন্থারই প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌أهداف الحوار ومقاصده:

1 - الدعوة: فالحوار الهادي مفتاح القلوب، وطريق مُيسَّر إلى النفوس.

2 - تقريب وجهات النظر: فمن ثمرات الحوار: تضييق هوة الخلاف، وتقريب وجهات النظر، وإيجاد حَلٍّ وسط يُرضي الأطراف في زمن كثر فيه التباغض والتناحر.

3 - إقامة الحجة: فالغاية من الحوار إقامة الحجة، ودفع الشبهة والفاسد من القول والرأي،

والسير بطرق الاستدلال الصحيح للوصول إلى الحق.

4 - کشف الشبهات والرد على الأباطيل، لإظهار الحق وإزهاق الباطل، كما قال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ} [الأنعام: 55].
সংলাপের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

1 - দাওয়াহ (دعوة): শান্ত সংলাপ হলো অন্তরের চাবিকাঠি এবং হৃদয়ের কাছে পৌঁছানোর এক সুগম পথ।

2 - দৃষ্টিভঙ্গির নৈকট্য অর্জন: সংলাপের অন্যতম ফল হলো মতভেদের ব্যবধান কমিয়ে আনা, দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে আসা এবং এমন এক মধ্যম পন্থার সমাধান খুঁজে বের করা যা সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করে; বিশেষ করে এমন এক যুগে যখন পারস্পরিক ঘৃণা ও কলহ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

3 - প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠা করা: সংলাপের মূল লক্ষ্য হলো প্রমাণ (حجة) উপস্থাপন করা এবং সংশয় (شبهة) ও ভ্রান্ত বক্তব্য ও মতামত খণ্ডন করা,

এবং সত্যে উপনীত হওয়ার জন্য সঠিক দলিল উপস্থাপন (استدلال) পদ্ধতির অনুসরণ করা।

4 - সংশয়সমূহ (شبهات) উন্মোচন করা এবং অসার বিষয়াবলীর জবাব প্রদান করা, যাতে সত্য প্রকাশিত হয় এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়।" [আল-আনআম: ৫৫]।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌7 - صفات ومقومات الداعية الناجح:

لا بُدَّ للداعية إلى الله من أن يَتحلّى بصفاتٍ تميّزه عن غيره، حتى يكونَ له الأثرُ النافعُ الناجعُ في المجتمع، هذه الصفات إن تحقّقت في الداعية إلى الله كانت نصيحته مسموعة محفوظة، يستطيع بكل يُسر حمل الناس على تغيير تصوراتهم وقناعاتهم من جهة، ثم حملهم على تغيير سلوكهم وأنماط حياتهم من جهة أخرى طوعاً لا كرهاً. وسأذكر أهم الصفات وأبرزها:

 

‌‌1 - أن يكون مخلصاً صداقاً في نفسه وفي دعوته:

فهو لا يريد بدعوته رياءً ولا سُمعةً ولا ثناءً ولا مدحاً من أحد، وإنما يريد بلوغ رضا الله عز وجل، ولهذا فإن الداعية المخلص لا يكون همّه كثرة أتباعه أو ذيوع صيته أو نحو ذلك، وإنما همّه وكدّه هداية الناس لمنهج الله ومنهج رسوله؛ ليكون لهم الفلاح والنجاح في الدنيا قبل الآخرة.

فهو إذن يعمل لله لا ينتظرُ مدحَ أحد ولا ثناء أحد، ها هو رجلٌ يأتي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم-ويقول يا حبيب الله، «إني أَتَصَدَّقُ بِالصَّدَقَةِ وَأَلْتَمِسُ بِهَا مَا عِنْدَ اللَّهِ، وَأُحِبُّ أَنْ يُقَالَ لِي خَيْرٌ، وقبل أن يُجيبَ المصطفى نَزَلَ جبريل بقوله تعالى: {فَمَن كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا}» [أخرجه الإمام هناد بن السري في الزهد عن مجاهد].

وكان من وصية النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ بن جبل رضي الله عنه-عندما أرسله إلى اليمن داعياً: «أَخلصْ دِينكَ يَكْفِكَ القليلُ مِنَ العملِ» [الحاكم في المستدرك على الصحيحين برقم: (7844)]

 

‌‌2 - أن يمتلك الزاد العلمي الضروري:

فلا بُد للداعية إلى الله عز وجل من التّسلح بالعلم الشرعي الضروري، حتى يدعو إلى الله بعلم وبصيرة، فمن تكلم فيما لا يعلم كان إفساده أكثر من إصلاحه، وهدمه أعظم من بنائه، يقول الله تعالى مبيّناً نهج النبي عليه الصلاة والسلام وأتباعه من بعده في الدعوة إليه: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي .. } [سورة يوسف: 108]

والبصيرة: هي العلم والمعرفة التي يتميّز بها الحق من الباطل؛ ببصيرة مستنيرة، وحجة واضحة.

إذن يشترط في الداعية إلى الله أن يكون على علم، يعلم به أن ما يأمر به معروف، وأن ما ينهى عنه منكر؛ لأنه إن كان جاهلاً في الأحكام الشرعية العامة فقد يأمر بما ليس بمعروف، وينهى عما ليس بمنكر، وهذا ما يغفل عنه كثير من الجماعات اليوم فإن كثيراً من الجماعات اليوم التي دخلت في هذا المضمار، بل دخلته من أوسع أبوابه قد نسيت وتناست السِّلاح المهم، وهو العامل الأقوى والأمضى الذي هو العلم.

وهذه ركيزة هامة لكل من نذر نفسه للدعوة إلى الله، فكم سمعت من أُناسٍ دفعهم حبّهم للدين والقيام بهذه الشعيرة؛ لكنهم لم يتعلموا العلم الشرعي الضروري فوقعوا في الطامات، وأساؤوا من حيث أردوا أن يحسنوا.

يرحم الله الشيخ محمد الغزالي عندما كان يقول: " إن انتشار الكفر في العالم يحمل نصف أوزاره متدينون بغضوا الله إلى خلقه بسوء صنيعهم وسوء كلامهم"

وأذكر مرة أنني قلت لأحد الشباب المقصرين بصلاتهم بعد موعظة حسنة؛ لِمَ تُقصر في صلاتك .. ؟! فقال لي: عملي لا يسمح لي بالخروج لوقت كل صلاة، وقد قال لي أحد الناس: لا تصح صلاتك إلا في المسجد. قلت له، هذا الكلام غير دقيق .. فصلاتك حيثُ كنت؛ في معملك، في محلك، في رِحلتك، صحيحة كاملة كما ذهب إليه جمهور الفقهاء رحمهم الله لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ» [صحيح البخاري برقم: 328] وينقصك فقط أجر الذهاب إلى المسجد .. ففرح الشاب فرحاً كبيراً … ، وكأني أزلت له عقبةً كؤود من طريقه، وقال لي: "عهداً عليَّ لن أترك الصلاة بعد اليوم إن شاء الله".

 

‌‌3 - أن يتحلى برحابة الصدر والرفق بالمدعو:

فالداعية الناجح هو الذي يرفق بالمدعوين، فيستخدم في دعوته أرق أسلوب وأنجعه متحلّياً بالحكمة والموعظة الحسنة وحسن المعشر والمخالطة؛ وذلك ليستوعب الداعية من حوله من الناس، فإنه كما جاء في الأثر: "إنكم لن تسعوا الناس بأموالكم، ولكن تسعوهم بأخلاقكم ".

وللناس مطالب كثيرة، وتساؤلات عديدة، تحتاج من الداعية إلى الاحتمال؛ وسعة الصدر، وهذا له أثر عميق في قلوب من يدعوهم، فهذا رجل جاء إلى أبي إسحاق الشيرازي -فقيه الشافعية في عصره-فجالسه ثم قال: " .. فشاهدت من حسن أخلاقه ولطافته وزهده، ما حبّبَ إلىَّ لزوم صحبته فصحبته إلى أن مات". [سير أعلام النبلاء 18/‌‌ 461]

 

4 - أن يبدأ بالأهم فالأهم:

فلا بُدّ للداعية من أن يهتم في دعوته بالأولويات والأساسيات، ففقه الأولويات ضرورة شرعية وتعليمية ودعوية، فالداعية لا ينجح في دعوته ولا يكون موفقًا في تبليغه، حتى يعرف ماذا يقدم لمن يدعوهم، وماذا يؤخر، وما القضايا التي يعطيها أهمية وأولوية قبل غيرها.

… وأذكر مرة موقفاً لا أنساه أبداً فقد كان أثره في نفسي عميقاً وفهمت من خلاله مدى أهمية الأولويات في الدعوة إلى الله … ، فبينما كنت أجلس ذات يوم مع أحد الدعاة بعد خطبة الجمعة إذا بشاب يأتي متردداً خجلاً يقدم رجلاً ويؤخر أخرى!، فقال له: تعال يا بنيَّ أقبل ولا تترد … ما حاجتك؟! -

قال يا سيدي: سمعتُ خطبتك وتأثّرت بها، وأريد الالتزام وحضور مجالس العلم، لكن لا أريد تربية لحيتي، ولا تغير قصة شعري، ولا تغير اللباس الذي ألبسه-وكان يلبس ما يُسمى بالجينز، وكان حليق اللحية، ووو .. الخ-

فتبسم الداعية ابتسامة هادئة عذبة، وقال له: يا بنيَّ من قال أني أريد منك أن تغير لباسك وقصة شعرك؟!، بل إني أراكً جميلٌ أنيقٌ بها، لا تغير من ذلك شيء … ، وما عليك إلا أن تحضر كما أنت إلى الدرس، بلباسك الجميل هذا.

ففرح الشاب فرحاً شديداً، وأصبح ممن يحضر مجلس الشيخ، ومرت الأيام والسنون .. ، وإذا بي أرى هذا الشاب يمسك حلقة قرآن في المسجد يدرس طلاباً شباباً صغاراً .. ، وقد تغير ظاهراً وباطناً …

فأدركت مدى الحكمة التي امتلكها ذاك الداعية عندما ترك تفاصيل الشكل، وبحث عن تغير الجوهر الذي هو الأصل.

نعم لقد جاءت دعوة الإسلام بالتّدرّج، وبدأت بالأهمّ فالأهمّ، وتقديم الأصول على الفروع ومثال ذلك، حديث إرسال معاذ-رضي الله عنه-إلى اليمن والذي يصوّر التّطبيق العمليّ والطّريقة المثلى لفقه الأولويّات في دعوة النّبيّ صلى الله عليه وسلم، عندما قال لمعاذ: "إنّك ستأتي قوماً أهل كتاب، فإذا جئتهم فادعهم إلى أنْ يشهدوا أنْ لا إله إلا الله وأنّ محمّدًا رسول الله، فإنْ هم أطاعوا لك بذلك فأخبرهم أنّ الله قد فرض عليهم خمس صلوات في كلّ يوم وليلة، فإن هم أطاعوا لك بذلك فأخبرهم أنّ الله قد فرض عليهم صدقةً تؤخذ من أغنيائهم فتردّ على فقرائهم، فإنْ هم أطاعوا لك بذلك فإيّاك وكرائم أموالهم واتق دعوة المظلوم فإنّه ليس بينه وبين الله حجاب» [صحيح البخاري برقم: 1496]

فمن خلال الحديث النّبويّ السّابق نلاحظ كيف طلب النّبيّ صلى الله عليه وسلم من معاذ أن يتدرّج مع أهل اليمن في الدّعوة وأن يبدأ بالأهمّ فالأهمّ وألّا ينتقل من مطلب إلى آخر حتّى يتمّ تطبيقه دون تهاونٍ نقصان، وذلك تلطّفًا بالدّعوة والخطاب، ولو أنّه طالبهم بالجميع دفعةً واحدة لما أمن من النّفرة، وشبيه هذا المثال أيضاً التّدرّج في تحريم الخمر في القرآن الكريم، والأمثلة كثيرة في ذلك لن أسهب في الحديث عنه إنما سيكون في بحث مستقل إن شاء الله.

 

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
‌‌৭ - একজন সফল দাঈর গুণাবলী ও উপাদানসমূহ:

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর (দাঈ) জন্য এমন কিছু গুণাবলীতে ভূষিত হওয়া আবশ্যক যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে, যাতে সমাজে তার দাওয়াতের কার্যকর ও ফলপ্রসূ প্রভাব পড়ে। এই গুণগুলো যদি আল্লাহর পথের একজন আহ্বানকারীর মধ্যে বিদ্যমান থাকে, তবে তার নসিহত বা উপদেশ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সংরক্ষিত হয়। এর মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত সহজভাবে একদিকে যেমন মানুষের চিন্তা ও বিশ্বাস পরিবর্তন করতে পারেন, তেমনি অন্যদিকে তাদের আচরণ ও জীবনধারাকেও বাধ্য করে নয় বরং স্বতস্ফূর্তভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম হন। আমি এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য গুণাবলীসমূহ উল্লেখ করছি:

 

‌‌১ - নিজের মধ্যে এবং দাওয়াতের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ ও সত্যবাদী হওয়া:

তিনি তার দাওয়াতের মাধ্যমে কোনো লৌকিকতা, খ্যাতি, সুনাম কিংবা কারো প্রশংসা কামনা করবেন না; বরং তার একমাত্র উদ্দেশ্য হবে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই কারণে, একজন একনিষ্ঠ দাঈর লক্ষ্য কেবল অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি বা নিজের নাম ছড়িয়ে দেওয়া হয় না; বরং তার মূল লক্ষ্য ও প্রচেষ্টা থাকে মানুষকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রদর্শিত পথের দিকে পরিচালিত করা; যাতে তারা পরকালের আগে ইহকালেও কল্যাণ ও সফলতা লাভ করতে পারে।

অতএব, তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করেন এবং কারো প্রশংসা বা স্তুতির অপেক্ষায় থাকেন না। একজন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর প্রিয় হাবিব, «আমি দান-সদকা করি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট যা রয়েছে (প্রতিদান) তা কামনা করি, তবে আমি এটিও পছন্দ করি যে লোকে আমার প্রশংসা করুক। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো উত্তর দেওয়ার আগেই জিবরাঈল (আ.) আল্লাহর এই বাণী নিয়ে অবতীর্ণ হলেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে}» [ইমাম হান্নাদ ইবনুস সারী তার আল-জুদ গ্রন্থে মুজাহিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন]।

মুআয ইবনে জাবাল (রা.)-কে যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঈ হিসেবে ইয়ামেনে প্রেরণ করেন, তখন তাকে এই অসিয়ত করেছিলেন: «তোমার দ্বীনের কাজে একনিষ্ঠ হও, তবে অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে» [আল-হাকিম তার আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর: ৭৮৪৪]।

 

‌‌২ - প্রয়োজনীয় ইলমী পাথেয় অর্জন করা:

আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য অপরিহার্য হলো প্রয়োজনীয় শরয়ী জ্ঞান দ্বারা সজ্জিত হওয়া, যাতে তিনি ইলম ও অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিতে পারেন। কেননা, যে ব্যক্তি না জেনে কোনো বিষয়ে কথা বলে, তার সংশোধনের চেয়ে নষ্ট করার পরিমাণ বেশি হয় এবং গড়ার চেয়ে ধ্বংস করার মাত্রা হয় অধিক। আল্লাহ তাআলা দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের কর্মপন্থা বর্ণনা করে বলেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই জাগ্রত অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা...} [সূরা ইউসুফ: ১০৮]।

আর 'বসিরত' বা অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) হলো এমন জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যার মাধ্যমে আলোকিত উপলব্ধি এবং স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করা যায়।

সুতরাং, আল্লাহর পথে আহ্বানকারীর জন্য শর্ত হলো তাকে জ্ঞানী হতে হবে, যার মাধ্যমে তিনি জানবেন যে তিনি যেটির আদেশ দিচ্ছেন তা সৎকাজ (معروف) এবং যা থেকে নিষেধ করছেন তা অসৎকাজ (منكر)। কারণ তিনি যদি সাধারণ শরয়ী আহকাম বা বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ হন, তবে তিনি এমন কিছুর আদেশ দিতে পারেন যা সৎকাজ নয় এবং এমন কিছু থেকে নিষেধ করতে পারেন যা অসৎকাজ নয়। বর্তমানের অনেক দল বা গোষ্ঠী এই বিষয়টি সম্পর্কে গাফেল বা অসচেতন। বর্তমান যুগে যারা দাওয়াতের ময়দানে নেমেছেন, বরং যারা খুব বড় পরিসরে কাজ করছেন, তাদের অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারের কথা ভুলে গেছেন বা এড়িয়ে গেছেন, যা হলো ইলম বা জ্ঞান—আর এটিই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর মাধ্যম।

এটি প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি যারা নিজেদের আল্লাহর দাওয়াতের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আমি এমন অনেক মানুষের কথা শুনেছি যাদের দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা এবং এই মহান দায়িত্ব পালন করার আবেগ রয়েছে; কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় শরয়ী জ্ঞান অর্জন করেননি, ফলে তারা বড় বড় ভুল ও বিপর্যয়ের মধ্যে নিপতিত হয়েছেন। তারা ভালো করতে গিয়ে উল্টো মন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

শেখ মুহাম্মদ আল-গাজালি রহমাতুল্লাহি আলাইহি যথার্থই বলতেন: "পৃথিবীতে কুফরের বিস্তারের অর্ধেক দায়ভার সেই সব ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর বর্তায়, যারা তাদের মন্দ আচরণ এবং কটু কথার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টিকে আল্লাহর প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছে।"

আমার মনে পড়ছে, একবার এক যুবককে নামাজের ব্যাপারে গাফিলতি করতে দেখে আমি তাকে সুন্দর নসিহত করার পর জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নামাজে অবহেলা করো কেন? সে আমাকে উত্তর দিল: "আমার কাজের চাপের কারণে প্রতি ওয়াক্তে নামাজের জন্য বাইরে যাওয়া সম্ভব হয় না, আর একজন লোক আমাকে বলেছে যে, মসজিদে না পড়লে তোমার নামাজ হবে না।" আমি তাকে বললাম, এই কথাটি সঠিক নয়। তুমি যেখানেই থাকো না কেন—তোমার কারখানায়, দোকানে কিংবা ভ্রমণে—সেখানেই তোমার নামাজ শুদ্ধ ও পূর্ণাঙ্গ হবে; যেমনটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ফকিহগণ অভিমত দিয়েছেন। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পুরো জমিনকে আমার জন্য সিজদাহর স্থান (মসজিদ) ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে; সুতরাং আমার উম্মতের যে কোনো ব্যক্তির যখন নামাজের সময় হবে, সে যেন সেখানেই নামাজ আদায় করে নেয়» [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ৩২৮]। তোমার কেবল মসজিদে যাওয়ার সওয়াবটুকু কম হবে। এতে যুবকটি অত্যন্ত আনন্দিত হলো... যেন আমি তার পথ থেকে এক বিশাল বাধা দূর করে দিলাম। সে আমাকে বলল: "আপনার কাছে ওয়াদা করছি, ইনশাআল্লাহ আজকের পর আমি আর কখনো নামাজ ছাড়ব না।"

 

‌‌৩ - প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হওয়া এবং যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তার প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা:

একজন সফল দাঈ তিনি যিনি দাওয়াত গ্রহণকারীদের প্রতি নম্র ও কোমল হন। তিনি দাওয়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করেন এবং প্রজ্ঞা (حكمة), উত্তম উপদেশ (موعظة حسنة) ও সদ্ব্যবহারের গুণে গুণান্বিত হন। এটি এই জন্য যাতে দাঈ তার চারপাশের মানুষকে আপন করে নিতে পারেন। যেমনটি একটি বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা তোমাদের অর্থ দিয়ে মানুষকে তুষ্ট করতে পারবে না, বরং তোমাদের উত্তম চরিত্র দিয়ে তাদের তুষ্ট করো।"

মানুষের অনেক চাহিদা এবং অজস্র প্রশ্ন থাকে, যার জন্য দাঈর ধৈর্য ও প্রশস্ত হৃদয়ের প্রয়োজন। এটি দাওয়াত গ্রহণকারীদের অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলে। জনৈক ব্যক্তি আবু ইসহাক আল-শিরাজি—যিনি তার যুগের শাফেঈ মাজহাবের ফকিহ ছিলেন—তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁর সাথে কিছুক্ষণ বসলেন। এরপর তিনি বললেন: "...আমি তাঁর সুন্দর চরিত্র, নম্রতা এবং দুনিয়াবিমুখতা প্রত্যক্ষ করেছি যা আমাকে তাঁর সাহচর্যে থাকতে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত আমি তাঁর সাথেই ছিলাম।" [সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৮/৪৬১]

 

৪ - অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে শুরু করা:

একজন দাঈর জন্য দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ও মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। অগ্রাধিকারের জ্ঞান (ফিকহুল আওলাউইয়্যাত) অর্জন করা শরয়ী, শিক্ষামূলক এবং দাওয়াতী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা। একজন দাঈ তার দাওয়াতে সফল হতে পারেন না এবং তার প্রচারে কামিয়াব হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি জানেন যে কাদের সামনে কোন বিষয়টি আগে পেশ করতে হবে এবং কোনটি পরে, আর কোন বিষয়গুলোকে অন্য বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার দিতে হবে।

...আমার এমন একটি ঘটনার কথা মনে পড়ছে যা আমি কখনোই ভুলব না। এর প্রভাব আমার মনে অত্যন্ত গভীর এবং এর মাধ্যমেই আমি আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের গুরুত্ব কতটুকু তা বুঝতে পেরেছি। একদিন জুমার খুতবার পর আমি একজন দাঈর সাথে বসে ছিলাম, এমন সময় এক যুবক ইতস্তত ও লজ্জিত অবস্থায় এগিয়ে এল। দাঈ তাকে বললেন: এসো বাবা, এগিয়ে এসো, দ্বিধা করো না... তোমার কী প্রয়োজন?

সে বলল, হে জনাব: আমি আপনার খুতবা শুনেছি এবং আমি এতে প্রভাবিত হয়েছি। আমি দ্বীনের পথে চলতে চাই এবং ইলমী মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতে চাই, কিন্তু আমি দাড়ি রাখতে চাই না, আমার চুলের কাটিং পরিবর্তন করতে চাই না এবং আমার পোশাকও পরিবর্তন করতে চাই না—সে তখন জিন্স প্যান্ট পরা ছিল, তার দাড়ি কামানো ছিল ইত্যাদি।

তখন সেই দাঈ মৃদু ও শান্ত হাসি দিয়ে বললেন: হে প্রিয় বৎস, কে তোমাকে বলেছে যে আমি চাই তুমি তোমার পোশাক বা চুলের কাটিং পরিবর্তন করো? বরং আমি তো তোমাকে এই পোশাকে অত্যন্ত সুন্দর ও পরিপাটি দেখছি, তোমার এগুলোর কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই... তোমার কাজ হলো তুমি যেমন আছ তেমনভাবেই আমাদের দরসে আসবে, তোমার এই সুন্দর পোশাকেই আসবে।

যুবকটি এতে অত্যন্ত খুশি হলো এবং সে শেখের মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত হতে শুরু করল। এরপর অনেক দিন ও বছর কেটে গেল... একদিন আমি দেখলাম সেই যুবকটি মসজিদে একটি কুরআনের হালাকা বা চক্র পরিচালনা করছে এবং ছোট ছোট যুবকদের তালিম দিচ্ছে... বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তার আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে...

আমি তখন বুঝতে পারলাম সেই দাঈর হিকমত বা প্রজ্ঞা কত গভীর ছিল, যখন তিনি বাহ্যিক খুঁটিনাটি বিষয়গুলো ছেড়ে দিয়ে মূল সত্তা বা অন্তরের পরিবর্তনের সন্ধান করেছিলেন—যা আসলে মূল ভিত্তি।

হ্যাঁ, ইসলামের দাওয়াত পর্যায়ক্রমে এসেছে এবং এটি শুরু হয়েছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে। এর মূলনীতি হলো শাখা-প্রশাখার আগে মূল বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া। এর উদাহরণ হলো মুআয (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণের হাদিস, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের ফিকহের বাস্তব প্রয়োগ ও সর্বোত্তম পদ্ধতির চিত্র তুলে ধরে। তিনি মুআযকে বলেছিলেন: "তুমি আহলে কিতাবদের একটি জাতির কাছে যাচ্ছ। যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের দাওয়াত দেবে যেন তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল। যদি তারা এটি মেনে নেয়, তবে তাদের জানাবে যে আল্লাহ তাদের ওপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে তাদের জানাবে যে আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (যাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করা হবে। যদি তারা এটিও মেনে নেয়, তবে তাদের মূল্যবান সম্পদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো (যাতে তা যাকাত হিসেবে না নেওয়া হয়) এবং মজলুমের বদদোয়াকে ভয় করো, কারণ তার এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই" [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর: ১৪৯৬]।

পূর্বোক্ত হাদিস থেকে আমরা লক্ষ্য করি যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআযকে ইয়ামেনবাসীদের সাথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি অবলম্বন করতে এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে শুরু করতে বলেছেন। এক দাবি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অন্য দাবিতে না যেতে বলেছেন, যাতে দাওয়াত ও সম্বোধনের ক্ষেত্রে নম্রতা বজায় থাকে। তিনি যদি একবারে সবকিছুর দাবি জানাতেন, তবে তারা বিমুখ হতে পারত। এই উদাহরণের অনুরূপ হলো পবিত্র কুরআনে মদ হারাম করার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক বিধান। এই বিষয়ে উদাহরণ অনেক, আমি এখানে বিস্তারিত আলোচনা করব না, বরং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে একটি স্বতন্ত্র গবেষণায় তা তুলে ধরব।

 

আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওয়াতু ওয়াদ দুআতু মিন যিলালি আয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أهم مراجع البحث:

1 - جامع الأصول في أحاديث الرسول. لمجد الدين أبو السعادات المشهور بابن الأثير (المتوفى: 606 هـ) الناشر: مكتبة الحلواني - مطبعة الملاح - مكتبة دار البيان ط: 1

2 - مجمع الزوائد ومنبع الفوائد. للحافظ نور الدين علي بن أبي بكر الهيثمي. الناشر: مكتبة القدسي، القاهرة.

3 - التفسير الوسيط للقرآن الكريم. د محمد سيد طنطاوي. دار نهضة، مصر للطباعة والنشر والتوزيع، الفجالة - القاهرة ط: 1

4 - ثقافة الداعية. د. يوسف القرضاوي. دار الرسالة، ط: 11

5 - فقه السيرة النبوية مع موجز لتاريخ الخلافة الراشدة. د. محّمد سَعيد رَمضان البوطي

الناشر: دار الفكر - دمشق- ط: 25

6 - فضل الدعوة إلى الله الشيخ د. عبد الله الطيار

7 - كلمات مضيئة في الدعوة إلي الله أ. محمد علي محمد إمام. الناشر: مطبعة السلام - مصر-ط:1

8 - كلمة هادئة في أدب الحوار "من سلسلة مفاهيم يجب أن تصحح" د. عمر عبد الله كامل. دار المصطفى ط:1

9 - الدعوة والجهاد في العهد النبوي آداب وأحكام. د. علي بن عبد الرحمن الطيار. ط 1.الرياض
গবেষণার প্রধান তথ্যসূত্রসমূহ:

১ - জামিউল উসুল ফি আহাদিসির রাসূল। মাজদুদ্দীন আবুস সাআদাত, যিনি ইবনুল আসীর নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬০৬ হি.)। প্রকাশক: মাকতাবাতুল হুলওয়ানি - মাতবাআতুল মাল্লাহ - মাকতাবাতু দারিল বায়ান, সংস্করণ: ১

২ - মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ। হাফিজ (الحافظ) নূরুদ্দীন আলী বিন আবু বকর আল-হাইসামি। প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুদসি, কায়রো।

৩ - আত-তাফসিরুল ওয়াসিত লিল কুরআনিল কারিম। ড. মুহাম্মদ সাইয়িদ তানতাওয়ি। দারুন নাহদাহ, মিশর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, ফাজ্জালা - কায়রো, সংস্করণ: ১

৪ - সাকাফাতুদ দাঈয়াহ। ড. ইউসুফ আল-কারজাভি। দারুর রিসালাহ, সংস্করণ: ১১

৫ - ফিকহুস সিরাতিন নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ। ড. মুহাম্মদ সাঈদ রমাদান আল-বুতি

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক - সংস্করণ: ২৫

৬ - ফাদলুদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ। শায়খ ড. আব্দুল্লাহ আত-তাইয়ার

৭ - কালিমাতুম মুদিআতুন ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ। জনাব মুহাম্মদ আলী মুহাম্মদ ইমাম। প্রকাশক: মাতবাআতুস সালাম - মিশর - সংস্করণ: ১

৮ - কালিমাতুন হাদিআতুন ফি আদাবিল হিওয়ার "যেসব ধারণা সংশোধন করা আবশ্যক সিরিজ থেকে"। ড. উমর আব্দুল্লাহ কামিল। দারুল মুস্তফা, সংস্করণ: ১

৯ - আদ-দাওয়াতু ওয়াল জিহাদু ফিল আহদিন নাবাবি আদাবুন ওয়া আহকাম। ড. আলী বিন আব্দুর রহমান আত-তাইয়ার। ১ম সংস্করণ, রিয়াদ