(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: -)
حقيقه السنة والبدعة = الأمر بالاتباع والنهي عن الابتداع   (الجلال السيوطي)

القسم: العقيدة


الكتاب: حقيقه السنة والبدعة = الأمر بالاتباع والنهي عن الابتداع

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

المحقق: ذيب بن مصري بن ناصر القحطاني

الناشر: مطابع الرشيد

عام النشر: 1409 هـ

عدد الصفحات: 210

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ ও বিদআতের স্বরূপ = অনুসরণের নির্দেশ এবং বিদআতের নিষেধ   (জালালুদ্দিন সুয়ূতী)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: সুন্নাহ ও বিদআতের স্বরূপ = অনুসরণের নির্দেশ এবং বিদআতের নিষেধ

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ওফাত ৯১১ হিজরি)

মুহাক্কিক: জিব বিন মিসরি বিন নাসির আল-কাহতানি

প্রকাশক: মাতাবি আর-রশিদ

প্রকাশকাল: ১৪০৯ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌الآيات التي تأمر بالاتباع

‌‌وتنهى عن الابتداع

قال الله عز وجل: (ورحمتي وسعت كل شيء فسأكتبها للذين يتقون وَيُؤتُونَ الزَكَاةَ وَاَلَذِينَ هم بآياتِنا يؤمنون الذين يتبعون الرسول النبي الأمي) إلى قوله: (فالذين آمنوا بِه وعزروه ونصروه واتبعوا النور الذِي أنزل معه أولئك هم المفلحون) .

وقال تعالى: (واتبعوه لعلكم تهتدون) .

وقال تعالى: (إن كنتم تحبون الله فاتبعوني يحببكم الله ويغفر لكم ذُنُوبَكُمْ) .

وقال تعالى: (يا أيها الذين آمنوا أطيعوا الله ورسوله ولا تولوا عنه وأنتم تَسْمَعُونَ) إلى قوله: (يا أيها الذين آمنوا استجيبوا لله وللرسول إذا دعاكم لما يُحْيكُم) .

وقال تعالى: (وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا) .

وقال تعالى: (وأن هذا صراطي مستقيماً فاتبعوه ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله ذلكم وصاكم به لعلكم تتقون) .

وقال تعالى: (فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

অনুসরণের নির্দেশ সম্বলিত আয়াতসমূহ

এবং বিদআত থেকে নিষেধকারী আয়াতসমূহ

মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর আমার দয়া প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে, সুতরাং আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত প্রদান করে এবং যারা আমার নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে। যারা অনুসরণ করে সেই রসূলের, যিনি উম্মি বা নিরক্ষর নবী) তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: (সুতরাং যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, তাঁকে সাহায্য করেছে এবং সেই নূরের অনুসরণ করেছে যা তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে, তারাই সফলকাম)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা সঠিক পথ প্রাপ্ত হও)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো এবং তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, অথচ তোমরা তা শুনছো) তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: (হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (আর রসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: (সুতরাং যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের উপর কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় আপতিত হবে অথবা তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে)।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৪)
وقال تعالى: (فإن تنازعتم في شيء فردوه إلى الله والرسول إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر) .

قال الإمام الشافعي رحمه الله تعالى في قوله: (فردوه إلى الله والرسول) أي إلى ما قاله الله والرسول.

إلى غير ذلك من الآيات.

 

‌‌الأحاديث التي تأمر بالاتباع

وتنهى عن الابتداع

وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: خط لنا رسول الله (خطاً، ثم قال: " هذا سبيل الله " ثم خط خطوطاً عن يمينه وعن شماله، ثم قال: " هذه سُبل، على كل سبيل منها شيطانٌ يدعو إليه " ثم قرأ " وأنّ هذا صراطي مستقيماً فاتبعوه ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله " الآية.

وعن العرباض بن سارية رضي الله عنه، قال: صلى بنا رسول الله (
মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখো।"

ইমাম শাফেঈ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) আল্লাহর বাণী: "(তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও)"-এর ব্যাখ্যায় বলেন: অর্থাৎ আল্লাহ ও রাসূল যা বলেছেন তার দিকে ফিরিয়ে দাও।

এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।

 

‌‌অনুকরণের নির্দেশদানকারী

এবং বিদআত থেকে নিষেধকারী হাদিসসমূহ

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের জন্য একটি রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন: "এটি আল্লাহর পথ।" এরপর তিনি তাঁর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: "এগুলো ভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথে একটি করে শয়তান রয়েছে যা সেদিকে আহ্বান করে।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।

ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন...
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৫)
ذات يوم، ثم أقبل علينا بوجهه، فوعظنا موعظة بليغة، ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب؛ فقال رجل: يا رسول الله، كأنها موعظة مُودِّع، فماذا تعهد إلينا؟ فقال: " أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن كان عبداً حبشياً؛ فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافاً كثيراً، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ. وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، أخرجه أبو داود والترمذي ".

وعن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله) : " ذروني ما تركتكم فإنما هلك الذين من قبلكم بكثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه، وإذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم " متفق عليه.

وعن بلال بن الحارث أن النبي (قال له: " اعلم قال: ما اعلم يا رسول الله؟ قال: اعلم يا بلال. قال ذروني أعلم يا رسول الله؟ قال: إنه من أحيا سنة من سنتي قد أميتت بعدي فإن له من الأجر مثل من عمل بها من غير أن ينقص من أجورهم شيئاً، ومن ابتدع بدعة
একদিন, এরপর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালেন এবং আমাদের এমন এক হৃদয়স্পর্শী উপদেশ দিলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো; তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটি যেন বিদায়ী উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কী অসিয়ত করছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং কথা শোনা ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন হাবশী গোলাম হয়; কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা প্রচুর মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে, একে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা।" এটি আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যতক্ষণ তোমাদেরকে কোনো নির্দেশ না দিয়ে ছেড়ে রাখি, ততক্ষণ তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও (অধিক প্রশ্ন করো না)। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদেরকে অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোনো কিছু নিষেধ করি, তা থেকে বিরত থাকো; আর যখন কোনো কিছুর নির্দেশ দেই, তখন তা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী পালন করো।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

বিলাল ইবনুল হারিস থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি জেনে রেখো।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কী জানব? তিনি বললেন: "জেনে রেখো হে বিলাল।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে জানান। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতসমূহের মধ্য থেকে এমন কোনো সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করবে যা আমার পরে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তবে তার জন্য সেই ব্যক্তির সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে যে ব্যক্তি সেই অনুযায়ী আমল করবে, এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো বিদআত প্রবর্তন করবে..."
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৬)
ضلالة لا ترضى الله ورسوله كان عليه مثل آثام من عمل بها لا ينقص ذلك من أوزار الناس شيئاً ". رواه الترمذي.

 

‌‌فصل

‌‌في الأمر بلزوم السنة والجماعة

‌‌والنهي عن الفرقة

قال الله تعالى: (وما تفرقوا إلا من بعد ما جاءهم العلم بغياً بينهم) .

وعن ابن عمر رضي الله عنهما: أن عمر رضي الله عنه خطب بالجابية فقال: قام فينا رسول الله (خطيباً فقال: " من أراد منكم بَحبوحَة الجنة فليلزم الجماعة، فإن الشيطان مع الواحد، وهو من الاثنين أبعد ". رواه الترمذي وصححه.
এমন ভ্রষ্টতা যাতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সন্তুষ্ট নন, তবে তার ওপর ওই আমলকারীদের পাপের অনুরূপ গুনাহ বর্তাবে, এতে মানুষের পাপের বোঝা থেকে সামান্যতম হ্রাস করা হবে না।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

‌‌সুন্নাহ ও জামাআতকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ প্রসঙ্গে

‌‌এবং দলাদলি থেকে নিষেধ প্রসঙ্গে

আল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশতই তারা মতভেদ করেছিল)।

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: নিশ্চয়ই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাবিয়াতে ভাষণ প্রদানকালে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বলেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যভাগ কামনা করে, সে যেন জামাআতকে আঁকড়ে ধরে। কেননা শয়তান একজনের সাথে থাকে, আর দুইজনের থেকে সে অধিক দূরে থাকে।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৭)
وقال رسول الله) : " يد الله مع الجماعة، والشيطان مع من يخالف الجماعة ".

وعن أبي شريك رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله (يقول: " يد الله على الجماعة، فإذا شذ الشاذ منهم اختطفه الشيطان كما يخطف الذئب الشاة من الغنم ".
এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর হাত জামাতের সাথে থাকে, এবং শয়তান তার সাথে থাকে যে জামাতের বিরোধিতা করে।"

এবং আবু শারিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর হাত জামাতের ওপর থাকে, অতঃপর যখন তাদের মধ্য থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, শয়তান তাকে ছিনিয়ে নেয় যেমন নেকড়ে বকরির পাল থেকে বকরি ছিনিয়ে নেয়।"
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وعن معاذ رضي الله عنه أن النبي (قال: " إن الشيطان ذئب الإنسان كذئب الغنم، يأخذ الشاة القاصية النائية، فإياكم والشعاب، وعليكم بالجماعة والعامة والمسجد ".

وعن أبي ذر رضي الله عنه عن النبي (قال: " اثنان خير من واحد، وثلاثة خير من اثنين، وأربعة خير من ثلاثة؛ فعليكم بالجماعة، فإن الله لم يجمع أمتي إلا على هدى ".

وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما، قال: قال رسول الله) : " لَيَأتيَنَّ على أمتي ما أتى على بني إسرائيل حَذوَ النَّعلِ بالنَّعلِ، حتى إن كان منهم من يأتي أمه علانية لكان في أمتي من يصنع ذلك.
মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের জন্য তেমন নেকড়ে যেমন বকরির পালের জন্য নেকড়ে; সে দলছুট ও দূরবর্তী বকরিকে পাকড়াও করে। সুতরাং তোমরা পাহাড়ের সংকীর্ণ পথগুলো (বিচ্ছিন্নতা) পরিহার করো এবং জামাত, সাধারণ মুসলিম জনসমষ্টি ও মসজিদের সাথে থাকো।"

আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একজনের চেয়ে দুইজন উত্তম, দুইজনের চেয়ে তিনজন উত্তম এবং তিনজনের চেয়ে চারজন উত্তম; সুতরাং তোমরা জামাতবদ্ধ থাকো। কেননা আল্লাহ আমার উম্মতকে কেবল হিদায়াতের ওপরই একত্রিত করবেন।"

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের ওপর তেমন সময় আসবে যা বনী ইসরাঈলের ওপর এসেছিল—এক জোড়া জুতোর একটির সাথে অপরটির হুবহু মিলের মতো। এমনকি যদি তাদের মধ্যে এমন কেউ থেকে থাকে যে প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে কুকর্ম করেছে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন লোক থাকবে যে তা-ই করবে।"
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৬৯)
وإن بني لإسرائيل تفرقوا اثنين وسبعين ملة، وستفترق أمتي على ثلاثة وسبعين فرقة، كلهم في النار إلا ملة واحدة " قالوا: من هي يا رسول الله قال: " ما أنا عليه وأصحابي " أخرجه أبو داود والترمذي.

 

‌‌ما جاء عن السلف في الأمر بالاتباع

وعن معاوية بن أبي سفيان: أنه قام في الناس خطيباً، فقال: ألا إن من قبلكم من أهل الكتاب افترقوا على اثنين وسبعين ملة، وإن هذه الأمة ستفترق على ثلاثة وسبعين ملة، اثنان وسبعون في النار، وواحدة في الجنة، وهي الجماعة.
নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি মিল্লাতে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তেহাত্তরটি ফিরকায় বিভক্ত হবে; তারা সকলেই জাহান্নামে যাবে কেবল একটি মিল্লাত ব্যতীত। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি। এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌অনুসরণের নির্দেশ সম্পর্কে সালাফদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণিত যে, তিনি জনগণের মাঝে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন এবং বললেন: জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ বাহাত্তরটি মিল্লাতে বিভক্ত হয়েছিল, আর এই উম্মত অচিরেই তেহাত্তরটি মিল্লাতে বিভক্ত হবে। বাহাত্তরটি জাহান্নামে যাবে এবং একটি জান্নাতে যাবে; আর সেটি হলো আল-জামাআত।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭০)
وقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: الاقتصاد في السنة خير من الاجتهاد في البدعة.. وقال أبي بن كعب رضي الله عنه: عليكم بالسبيل والسنة، فإنه ليس من عبد على سبيل وسنة ذكر الرحمن ففاضت عيناه من خشية الله فمسته النار أبداً. وإن اقتصاداً في سبيل وسنة خير من اجتهاد في خلاف سبيل وسنة.

وقال ابن عباس رضي الله عنهما: النظر إلى الرجل من أهل السنة يدعو إلى السنة وينهى عن البدعة.
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: সুন্নাহর ওপর পরিমিত আমল করা বিদআতের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম। উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তোমরা সঠিক পথ ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। কারণ এমন কোনো বান্দা নেই যে সঠিক পথ ও সুন্নাহর ওপর থেকে রহমানকে স্মরণ করে আর আল্লাহর ভয়ে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়, যাকে কখনো জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে। আর সঠিক পথ ও সুন্নাহর ওপর পরিমিত আমল করা সঠিক পথ ও সুন্নাহর পরিপন্থী কাজে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এমন ব্যক্তির দিকে তাকানো যে সুন্নাহর দিকে আহ্বান করে এবং বিদআত থেকে নিষেধ করে।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭১)
وقال أبو العالية: عليكم بالأمر الأول الذي كانوا عليه قبل أن يفترقوا.

وقال الأوزاعي رضي الله عنه: اصبر نفسك على السنة، وقف حيث وقف القوم، وقل بما قالوا، وكف عما كفوا عنه، واسلك سبيل سلفك الصالح؛ فإنه يسعك ما وسعهم.

وقال الأوزاعي أيضاً: رأيت رب العزة في المنام، فقال لي: يا أبا عبد الرحمن، أنت الذي تأمر بالمعروف وتنهى عن المنكر، فقلت: بفضلك يا رب. قلت: يا رب أَمتَّنِي على الإسلام، قال: وعلى السنة.
আবু আল-আলিয়াহ বলেন: তোমরা সেই আদি বিষয়ের ওপর অটল থাকো, যার ওপর তারা বিভক্ত হওয়ার পূর্বে ছিলেন।

আল-আওযাঈ (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন: সুন্নাহর ওপর নিজেকে ধৈর্যশীল রাখো, সেই স্থানেই থামো যেখানে কওম থেমেছিলেন, তাঁরা যা বলেছেন তুমিও তা-ই বলো, তাঁরা যা থেকে বিরত থেকেছেন তুমিও তা থেকে বিরত থাকো এবং তোমার নেককার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করো; কারণ তাঁদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল তা তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।

আল-আওযাঈ আরও বলেন: আমি স্বপ্নে মহান প্রতিপালককে দেখেছি, তিনি আমাকে বললেন: হে আবু আবদুর রহমান, তুমিই সেই ব্যক্তি যে সৎকাজের আদেশ দাও এবং অসৎকাজে বাধা প্রদান করো। আমি বললাম: হে আমার প্রতিপালক, আপনার অনুগ্রহে। আমি বললাম: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন। তিনি বললেন: এবং সুন্নাহর ওপর।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭২)
وقال أيوب: إني لأخبر بموت الرجل من أهل السنة، فكأني أفقد بعض أعضائي. وقال أيضاً: إن من سعادة الحدث والأعجمي أن يوفقهما الله لعالم من أهل السنة.

وقال ابن شوذب: إن من نعمة الله على الشاب إذا نسك أن يوافى صاحب سنة يحمله عليها.

وقال ابن أسباط: كان أبي قدرياً، وأخوالي روافض، فأنقذني الله بسفيان.

وقال معتمر بن سليمان: دخلت على أبي وأنا منكسر القلب،
আইয়ুব বলেন: যখন আমাকে আহলুস সুন্নাহর কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়, তখন মনে হয় যেন আমি আমার শরীরের কোনো অঙ্গ হারালাম। তিনি আরও বলেন: কোনো যুবক এবং অনারবের সৌভাগ্যের বিষয় হলো যে, আল্লাহ তাদের আহলুস সুন্নাহর একজন আলেমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেন।

ইবনে শাওযাব বলেন: যুবকের ওপর আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত হলো, সে যখন ইবাদতে মনোনিবেশ করে তখন যেন এমন একজন সুন্নাহর অনুসারী ব্যক্তির সান্নিধ্য লাভ করে যিনি তাকে সুন্নাহর ওপর পরিচালিত করবেন।

ইবনে আসবাত বলেন: আমার পিতা ছিলেন কাদরিয়া এবং আমার মামারা ছিলেন রাফেযি, অতঃপর আল্লাহ আমাকে সুফিয়ানের মাধ্যমে রক্ষা করেছেন।

মুতামির বিন সুলাইমান বলেন: আমি আমার পিতার নিকট ভগ্নহৃদয়ে প্রবেশ করলাম,
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৩)
فقال لي: مالك؟ قلت نعم: فقال لا تحزن عليه.

وقال سفيان الثوري: استوصوا بأهل السنة خيراً، فإنهم غرباء.

وقال أبو بكر بن عياش: السنة في الإسلام أعز من الإسلام في سائر الأديان.

وقال الإمام الشافعي رضي الله عنه: إذا رأيت رجلاً من أصحاب الحديث، فكأني رأيت رجلاً من أصحاب رسول الله.

وقال الجنيد رحمه الله: الطرق كلها مسدودة إلا على المقتفين آثار رسول الله (والمتبعين سنته وطريقته، فإن طرق الخيرات كلها مفتوحة عليه، كما قال تعالى: (لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة) .
তিনি আমাকে বললেন: তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, হ্যাঁ; তিনি বললেন: তুমি তার জন্য বিষণ্ন হয়ো না।

আর সুফিয়ান সাওরি বলেছেন: তোমরা সুন্নাহর অনুসারীদের সাথে সদাচরণের উপদেশ দাও, কেননা তারা এই দুনিয়ায় আগন্তুক।

আর আবু বকর ইবনে আইয়াশ বলেছেন: অন্যান্য সকল ধর্মের মাঝে ইসলাম যেমন মর্যাদাপূর্ণ, ইসলামের ভেতর সুন্নাহ তার চাইতেও বেশি মর্যাদাপূর্ণ।

আর ইমাম শাফেঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) বলেছেন: আমি যখন কোনো হাদীস বিশারদকে দেখি, তখন মনে হয় যেন আমি আল্লাহর রাসূলের একজন সাহাবীকে দেখলাম।

আর জুনাইদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন: আল্লাহর রাসূলের পদাঙ্ক অনুসারী এবং তাঁর সুন্নাহ ও তরীকার অনুসারীদের পথ ব্যতীত অন্য সকল পথ রুদ্ধ। নিশ্চয়ই কল্যাণের সকল পথ তাদের জন্য উন্মুক্ত, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ)।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌فصل

‌‌في ذم البدع والأهواء

‌‌الآيات التي تذم البدع والأهواء

قال الله تعالى: (ومن أضل مِمَّن اتبع هواه بغير هدى من الله) .

وقال تعالى: (ولا تتبع الهوى فيضلك عن سبيل الله) .

 

‌‌الأحاديث التي تذم البدع والأهواء

وعن عائشة رضي الله عنها، قالت: قال رسول الله) : " من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد "، وفي رواية " من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد " متفق عليه.

وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما: عن النبي، أنه قال: " من رغب عن سنتي فليس مني ". أخرجه البخاري.

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله: (" أنا فرطكم على الحوض ولَيَحْتَلِجن رجال دوني، فأقول:
পরিচ্ছেদ

বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির নিন্দা প্রসঙ্গে

বিদআত ও কুপ্রবৃত্তি নিন্দাসূচক আয়াতসমূহ

আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে হেদায়াত ছাড়াই নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে?)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (আর তুমি খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, কেননা তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে)।

 

বিদআত ও কুপ্রবৃত্তি নিন্দাসূচক হাদিসসমূহ

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যার ওপর আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি বা বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যভাবে বর্ণিত)।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: নবী থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর প্রতি বিরাগ প্রকাশ করল, সে আমার দলভুক্ত নয়।" (ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন)।

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ বলেছেন: ("আমি হাউযের নিকট তোমাদের অগ্রবর্তী হব এবং অবশ্যই আমার সম্মুখ থেকে কিছু লোককে সরিয়ে নেওয়া হবে, তখন আমি বলব: "
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৫)
يا رب أصحابي، فيقال: إنك لا تدري ما أحدثوا بعدك ". متفق عليه.

 

‌‌آثار السلف في ذم البدع والأهواء

وقال عبد الله بن محيريز: يذهب الدين سنة سنة كما يذهب الحبل قوة قوة.

وقال معاذ بن جبل: يفتح القرآن على الناس حتى تقرأه المرأة والصبي والرجل فيقول الرجل: قد قرأت القرآن فلم أتبع، والله لأقومن به فيهم لعلي أتبع، فيقوم به فيهم فلا يتبع: فيقول: قد قرأت القرآن فلم أتبع، وقمت به فيهم فلم أتبع لأحْتَضِرَنْ في بيتي مسجداً فيحتضر في بيته مسجداً، فلا يتبع، فيقول: لقد قرأت القرآن فلم أتبع، وقمت به فلم أتبع، وقد احْتَضَرْت في بيتي مسجداً فلم أتبع. والله لآتينهم بحديث لا يجدونه في كتاب الله ولم يسمعوه من رسول الله (لعلي أتبع. فإياكم وما جاء به، فإن ما جاء به ضلالة.

وروى هذا الأثر أبو داود بلفظ آخر، فقال معاذ: إن من ورائكم فتناً يكثر فيها المال، ويفتح فيها القرآن، حتى يأخذه المؤمن والمنافق والرجل والمرأة والصغير والكبير والعبد والحر، فيوشك أن يقول قائل: ما للناس لا يتبعوني وقد قرأت القرآن؟ ما هم بِمُتَّبِعيَّ حتى أبتدع
"হে আমার রব! আমার সাথীরা!" তখন বলা হবে: "নিশ্চয়ই আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

 

‌বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির নিন্দায় সালাফগণের আসার

আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাইরিজ বলেন: দ্বীন একটি একটি সুন্নাহ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে বিদায় নেয়, যেভাবে রশি একটি একটি তন্তু বা পাক খুলে যাওয়ার মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেন: মানুষের জন্য কুরআন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, এমনকি নারী, শিশু ও পুরুষ সকলে তা পাঠ করবে। তখন কোনো ব্যক্তি বলবে: আমি কুরআন পাঠ করেছি কিন্তু কেউ আমাকে অনুসরণ করছে না। আল্লাহর কসম! আমি তাদের মাঝে এটি নিয়ে অবস্থান করব যাতে সম্ভবত তারা আমার অনুসরণ করে। অতঃপর সে তাদের মাঝে তা নিয়ে অবস্থান করবে কিন্তু কেউ তাকে অনুসরণ করবে না। তখন সে বলবে: আমি কুরআন পাঠ করেছি কিন্তু কেউ অনুসরণ করেনি, আমি তা নিয়ে অবস্থান করেছি তবুও কেউ অনুসরণ করেনি; আমি অবশ্যই আমার ঘরে একটি মসজিদ (সালাতের স্থান) তৈরি করে সেখানে অবস্থান করব। অতঃপর সে তার ঘরে মসজিদ তৈরি করে সেখানে অবস্থান করবে, তবুও তাকে অনুসরণ করা হবে না। তখন সে বলবে: আমি কুরআন পাঠ করেছি কেউ অনুসরণ করেনি, আমি তা নিয়ে অবস্থান করেছি কেউ অনুসরণ করেনি এবং ঘরে মসজিদও তৈরি করেছি তবুও কেউ অনুসরণ করেনি। আল্লাহর কসম! আমি তাদের কাছে এমন এক কথা নিয়ে আসব যা তারা আল্লাহর কিতাবে পাবে না এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকেও শোনেনি, যাতে তারা আমার অনুসরণ করে। সুতরাং সে যা নিয়ে আসে তা থেকে তোমরা সতর্ক থাকো, কেননা সে যা নিয়ে আসবে তা ভ্রষ্টতা।

আবু দাউদ এই আসারটি অন্য শব্দে বর্ণনা করেছেন, সেখানে মুয়াজ বলেন: নিশ্চয়ই তোমাদের সামনে এমন সব ফিতনা রয়েছে যাতে সম্পদের প্রাচুর্য হবে এবং কুরআন উন্মুক্ত হবে, এমনকি মুমিন ও মুনাফিক, পুরুষ ও নারী, ছোট ও বড় এবং গোলাম ও স্বাধীন ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে। তখন শীঘ্রই কোনো এক বক্তা বলবে: মানুষের কী হলো যে তারা আমাকে অনুসরণ করছে না অথচ আমি কুরআন পাঠ করেছি? তারা আমাকে অনুসরণ করবে না যতক্ষণ না আমি নতুন কিছু উদ্ভাবন করি।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৬)
لهم غيره فإياكم وما ابتدع فإن ما ابتدع ضلالة، وأحذركم زيفة الحكيم، فإن الشيطان قد يقول كلمة الضلالة على لسان الحكيم. وقد يقول المنافق كلمة الحق.

وقال عبد الله: تعلموا العلم قبل أن يقبض، وقبضه أن يذهب أهله. ألا وإياكم والتنطع والتعمق والبدع، وعليكم بالعتيق.

وفي رواية أخرى: أيها الناس إنكم ستحدثون ويحدث لكم، فإذا رأيتم مُحَدَثَةً فعليكم بالأمر الأول.

وعن قيس بن أبي حازم، دخل أبو بكر رضي الله عنه على امرأة من أحمس يقال لها زينب، فرآها لا تتكلم، فقال: ما لها؟ فقيل: حجت. فقال لها تكلمي فإن هذا لا يحل هذا من عمل الجاهلية.

وعن زياد بن حدير قال: قال عمر رضي الله عنه: هل تدري ما يهدم دين الإسلام؟ قلت: لا، قال: يهدمه زلة العالم، وجدال منافق
তাদের জন্য তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। সুতরাং তোমরা নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ যা কিছু নব-উদ্ভাবিত তা ভ্রষ্টতা। আর আমি তোমাদের প্রাজ্ঞ ব্যক্তির বিচ্যুতি সম্পর্কে সতর্ক করছি, কেননা শয়তান কখনও প্রাজ্ঞ ব্যক্তির মুখ দিয়ে ভ্রষ্টতার কথা বলে থাকে। আবার কখনও মুনাফিক সত্য কথা বলতে পারে।

আব্দুল্লাহ বলেন: ইলম উঠিয়ে নেওয়ার পূর্বেই তোমরা তা অর্জন করো, আর ইলম উঠিয়ে নেওয়া হলো এর বাহকদের (বিদ্বানদের) চলে যাওয়া। সাবধান! তোমরা কঠোরতা, অতিরঞ্জন এবং নব-উদ্ভাবন (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকো, আর তোমরা প্রাচীন পথকে আঁকড়ে ধরো।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমরা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে এবং তোমাদের সামনে নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন করা হবে। সুতরাং যখন তোমরা কোনো নব-উদ্ভাবিত বিষয় দেখবে, তখন তোমাদের জন্য প্রাচীন পন্থায় অটল থাকা অপরিহার্য।

কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে বর্ণিত, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আহামস গোত্রের যায়নাব নামক এক মহিলার নিকট প্রবেশ করলেন। তিনি দেখলেন যে সে কথা বলছে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তার কী হয়েছে? বলা হলো: সে চুপ থেকে হজ পালন করছে। তখন তিনি তাকে বললেন: কথা বলো, কারণ এটি বৈধ নয়; এটি জাহেলিয়াত আমলের কাজ।

যিয়াদ ইবনে হুদাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: তুমি কি জানো ইসলাম ধর্মকে কোনটি ধ্বংস করে দেয়? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: একে ধ্বংস করে আলেম ব্যক্তির পদস্খলন এবং মুনাফিকের বিতর্ক।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৭)
بالآيات، وحكم الأئمة المضلين.

وعن عمر رضي الله عنه قال: سيأتي قوم يجادلونكم بشبهات القرآن، فخذوهم بالسنن، فإن أهل السنة أعلم بكتاب الله عز وجل.

وعن عثمان الأزدي، قال: دخلت على ابن عباس رضي الله عنهما، فقلت له: أوصني فقال: عليك بتقوى الله والاستقامة، اتبع ولا تبتدع.

وروى البيهقي عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه قال: إن أبغض الأمور إلى الله تعالى البدع، وإن من البدع الاعتكاف في المساجد التي في الدور.

وروى أبو داود في سننه عن حذيفة رضي الله عنه، قال: كل عبادة لم يتعبد بها أصحاب رسول الله (فلا تتعبدوا بها؛ فإن الأول لم يدع للآخر مقالاً؛ فاتقوا الله يا معشر القراء، خذوا طريق من كان قبلكم.
আয়াতের মাধ্যমে এবং পথভ্রষ্ট ইমামদের শাসনের মাধ্যমে।

উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: অচিরেই এমন এক সম্প্রদায় আসবে যারা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তোমাদের সাথে বিতর্ক করবে, তোমরা সুন্নাহর মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করো; কেননা আহলুস সুন্নাহর অনুসারীগণ মহান আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক অবগত।

উসমান আল-আযদী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট প্রবেশ করে বললাম: আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: তুমি আল্লাহর তাকওয়া ও ইস্তিকামাত (অটল থাকা) অবলম্বন করো; অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন (বিদআত) করো না।

বায়হাকী ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: মহান আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য বিষয় হলো বিদআত; আর গৃহস্থিত মসজিদসমূহে ইতিকাফ করা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ইবাদত আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ পালন করেননি, তোমরা তা পালন করো না; কেননা পূর্ববর্তীগণ পরবর্তীদের জন্য নতুন কিছু বলার অবকাশ রেখে যাননি। অতএব হে ক্বারীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করো।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৮)
ومن كلام عمر بن عبد العزيز رحمه الله: أوصيكم بتقوى الله، والاقتصاد في أمره، واتباع أمر رسول الله (، وترك ما أحدث المحدثون بعده.

وقال ابن سيرين رحمه الله: ما أحدث رجل بدعة فراجع سنة.

 

‌‌أعمال صاحب البدعة لا تقبل حتى يدعها

وقال الحسن: لا يقبل الله لصاحب البدعة صوماً، ولا صلاة ولا حجاً، ولا عمرة، حتى يدعها.

وقال محمد بن أسلم: من وقر صاحب بدعة، فقد أعان على هدم الإسلام.
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত: আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির, তাঁর নির্দেশের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশের অনুসরণের এবং তাঁর পরে নব-উদ্ভাবনকারীরা যা কিছু প্রবর্তন করেছে তা বর্জনের অসিয়ত করছি।

এবং ইবনে সিরিন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: কোনো ব্যক্তিই কোনো বিদআত উদ্ভাবন করেনি যে সে পুনরায় সুন্নাহর দিকে ফিরে এসেছে।

 

‌বিদআতকারীর আমল ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করা হয় না যতক্ষণ না সে তা বর্জন করে

হাসান বলেছেন: আল্লাহ কোনো বিদআতকারীর রোজা, নামাজ, হজ কিংবা উমরাহ কবুল করেন না, যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে।

এবং মুহাম্মদ ইবনে আসলাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো বিদআতকারীকে সম্মান করল, সে ইসলামকে ধ্বংস করার কাজে সহযোগিতা করল।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وقال أبو مغشر: سألت إبراهيم عن شيء من هذه الأهواء، فقال: ما جعل الله في شيء منها مثقال ذرة من خير، ما هي إلا نزغة من الشيطان، عليك بأول الأمر.

وعن ابن عمر رضي الله عنه، قال: كل بدعة ضلالة وإن رآها الناس حسنة.

وقال عمر: كان طاووس جالساً يوماً وعنده ابنه، فجاء رجل من المعتزلة، فتكلم في شيء، فأدخل طاووس إصبعيه في أذنيه، وقال: يا بني أدخل إصبعك في أذنيك حتى لا تسمع من قوله شيئاً؛ فإن هذا القلب ضعيف. ثم قال: أي بني أشدد، فما زال يقول أشدد حتى قام الرجل.
আবু মুআশির বলেন: আমি ইবরাহিমকে এই সকল প্রবৃত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: আল্লাহ এগুলোর কোনোটির মধ্যেই অণু পরিমাণ কল্যাণ রাখেননি; এগুলো শয়তানের প্ররোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তুমি আদি রীতির ওপর অবিচল থাকো।

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ সেটাকে উত্তম মনে করে।

উমর বলেন: একদিন তাউস বসা ছিলেন এবং তাঁর পাশে তাঁর পুত্র উপস্থিত ছিল। এমতাবস্থায় মুতাজিলা সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি এসে কোনো বিষয়ে কথা বলতে শুরু করল। তখন তাউস তাঁর দুই কানে দুই আঙুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং বললেন: হে বৎস! তোমার কানেও আঙুল ঢুকাও যাতে তার কথার কিছুই শুনতে না পাও; কারণ এই অন্তর অত্যন্ত দুর্বল। এরপর তিনি বলতে লাগলেন: হে বৎস! আরও শক্ত করে চেপে ধরো। তিনি অনবরত 'শক্ত করে ধরো' বলতে থাকলেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তিটি উঠে চলে গেল।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮০)
‌‌مقاطعة وتجنب من يترددون على الفرق المخالفة لأهل السنة مثل المرجئة

وعن محمد العيني، قال: كان رجل معنا يختلف إلى إبراهيم، فبلغ إبراهيم أنه دخل في الإرجاء، فقال إبراهيم: إذا قمت من عندنا فلا تعد.

وقال محمد بن داود الحرائي: قلت لسفيان بن عيينة: إن هذا يتكلم في القدر - يعني إبراهيم بن أبي يحيى - فقال سفيان: عرفوا الناس أمره، واسألوا ربكم العافية.

وقال صالح المري: دخل رجل على ابن سيرين وأنا شاهد، فتح باباً من أبواب القدر، فتكلم فيه. وقال ابن سيرين: إما أن تقوم وإما أن نقوم.
আহলুস সুন্নাহর বিরোধী ফেরকাগুলোতে (যেমন- মুরজিয়া) যাতায়াতকারীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং তাদের বর্জন করা

মুহাম্মাদ আল-আইনী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সাথে এক ব্যক্তি ছিল যে ইবরাহীমের নিকট যাতায়াত করত। ইবরাহীমের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, সে ব্যক্তি ইরজা' মতবাদে জড়িয়ে পড়েছে। তখন ইবরাহীম বললেন: তুমি যখন আমাদের নিকট থেকে উঠে যাবে, তখন আর ফিরে এসো না।

মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ আল-হাররাঈ বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহকে বললাম: এই ব্যক্তি তাকদীর সম্পর্কে কথা বলে—অর্থাৎ ইবরাহীম ইবনে আবি ইয়াহইয়া। সুফিয়ান বললেন: তোমরা মানুষকে তার অবস্থা সম্পর্কে জানাও এবং তোমাদের রবের কাছে নিরাপত্তা (আফিয়াত) প্রার্থনা করো।

সালেহ আল-মুররী বলেন: আমার উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি ইবনে সিরীনের নিকট প্রবেশ করল এবং সে তাকদীরের কোনো একটি বিষয়ে আলোচনার দ্বার উন্মোচন করে সে সম্পর্কে কথা বলল। তখন ইবনে সিরীন বললেন: হয় তুমি এখান থেকে উঠে যাও, না হয় আমরাই উঠে যাব।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮১)
وقال سلام بن مطيع: قال رجل من أهل الأهواء لأيوب: لا أكلمه بكلمة، فقال: ولا بنصف كلمة.

وقال أيوب ما ازداد صاحب بدعة اجتهاداً إلا ازداد من الله بعداً.

 

‌‌البدعة أحب إلى إبليس من المعصية

وقال سفيان الثوري رحمه الله: البدعة أحب إلى إبليس من المعصية، المعصية يُتاب منها، والبدعة لا يُتابُ منها.

وقال: من سمع مبتدعاً لم ينفعه الله بما سمع، ومن صافحه فقد نقض الإسلام عروة عروة.

ولما مرض سليمان الهيثمي بكى بكاء شديداً فقيل له: ما يبكيك؟ الجزع من الموت؟ فقال: لا، ولكن مررت على قدري فسلمت عليه فأخاف أن يحاسبني ربي عليه.

وقال الفضيل بن عياض: من جلس إلى صاحب بدعة أحبط الله عمله، وأخرج نور الإيمان - أو قال الإسلام - من قبله.

وقال: إذا رأيت مبتدعاً في طريق فخذ في طريق آخر، ولا يرفع لصاحب بدعة إلى الله عمل، ومن أعان صاحب بدعة فقد أعان على هدم الإسلام.

وقال: من زَوَّج
সালাম ইবনে মুতী' বর্ণনা করেছেন: প্রবৃত্তির অনুসারী এক ব্যক্তি আইয়ুবকে বলল, "আমি তার সাথে একটি কথাও বলব না।" তিনি বললেন, "অর্ধেক কথাও না।"

আইয়ুব বলেছেন, "বিদআতী ব্যক্তি ইবাদতে যতই পরিশ্রম বৃদ্ধি করে, সে আল্লাহর থেকে ততই দূরে সরে যায়।"

 

‌‌ইবলিসের নিকট পাপাচারের চেয়ে বিদআত অধিক প্রিয়

সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইবলিসের নিকট পাপাচারের চেয়ে বিদআত অধিক প্রিয়; কারণ পাপাচার থেকে তওবা করা হয়, কিন্তু বিদআত থেকে তওবা করা হয় না।"

তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীর কথা শুনল, আল্লাহ তাকে তার শ্রবণকৃত বিষয় দ্বারা কোনো উপকার করবেন না। আর যে ব্যক্তি তার সাথে করমর্দন করল, সে ইসলামের প্রতিটি রজ্জু একে একে ছিঁড়ে ফেলল।"

সুলায়মান আল-হাইসামি যখন অসুস্থ হলেন, তখন তিনি অত্যন্ত ক্রন্দন করলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি কেন কাঁদছেন? মৃত্যুর ভয়ে?" তিনি বললেন, "না, বরং আমি এক কাদারিয়ার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাম দিয়েছিলাম; আমি ভয় পাচ্ছি যে আমার প্রতিপালক এজন্য আমাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করবেন।"

ফুদাইল ইবনে ইয়াজ বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীর কাছে গিয়ে বসল, আল্লাহ তার আমলসমূহ নিষ্ফল করে দেন এবং তার অন্তর থেকে ঈমানের—বা তিনি বলেছিলেন ইসলামের—আলো কেড়ে নেন।"

তিনি আরও বলেছেন: "তুমি যদি পথে কোনো বিদআতীকে দেখ, তবে ভিন্ন পথ অবলম্বন কর। বিদআতীর কোনো আমল আল্লাহর নিকট উন্নীত হয় না। আর যে ব্যক্তি কোনো বিদআতীকে সাহায্য করল, সে ইসলামকে ধ্বংস করতেই সহযোগিতা করল।"

তিনি আরও বলেছেন: যে ব্যক্তি বিয়ে দিল
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮২)
كريمته من مبتدع فقد قطع رحمها.

وقال: من جلس مع صاحب بدعة لم يعط الحكمة، وإذا علم الله من رجل أنه مبغض لصاحب بدعة رجوت أن يغفر الله له! وقال محمد بن نصر الحارثي: من أصغى بسمعه إلى صاحب بدعة نُزعت منه العصمة، ووكل إلى نفسه.

وقال الليث بن سعد: لو رأيت صاحب هوى يمشي على الماء ما قبلته.

وقال الإمام الشافعي رضي الله عنه: أما إنه قد قصد لو رأيته يمشي في الهواء ما قبلته.

وسأل رجل عمر بن عبد العزيز عن الأهواء، فقال: الزم دين الصبي في المكتب، والْهُ عما سوى ذلك.
যে ব্যক্তি তার কোনো আত্মীয়াকে কোনো বিদআতির সাথে বিবাহ দিল, সে তার আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করল।

তিনি বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিদআতির সাথে উপবেশন করে তাকে হিকমত বা প্রজ্ঞা দান করা হয় না। আর আল্লাহ যদি কোনো ব্যক্তির অন্তরে বিদআতির প্রতি ঘৃণা আছে বলে জানেন, তবে আমি আশা করি আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন! মুহাম্মদ বিন নাসর আল-হারিসী বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিদআতির প্রতি কান পাতে, তার থেকে সুরক্ষা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে তার নিজের নফসের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।

লাইস বিন সাদ বলেন: আমি যদি কোনো প্রবৃত্তিপূজারীকে পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে দেখি, তবুও আমি তাকে গ্রহণ করব না।

ইমাম শাফেঈ (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন: তিনি যথার্থই বলেছেন; আমি যদি তাকে বাতাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে দেখি তবুও তাকে গ্রহণ করব না।

এক ব্যক্তি উমর বিন আব্দুল আজিজকে নানাবিধ ভ্রান্ত প্রবৃত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তুমি মক্তবের বালকের ন্যায় দ্বীনকে আঁকড়ে ধরো এবং এছাড়া অন্য সবকিছু থেকে বিমুখ থাকো।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৩)
‌‌مدلول البدع عند مالك بن أنس

وقال مالك بن أنس: إياكم والبدع، قيل: يا أبا عبد الله، وما البدع؟ قال: أهل البدع الذين يتكلمون في أسماء الله وصفاته وكلامه وعلمه وقدرته، ولا يسكتون عما سكت عنه الصحابة والتابعون لهم بإحسان. وقالوا: لو كان الكلام علماً لتكلم فيه الصحابة والتابعون كما تكلموا في الأحكام، ولكنه باطل يدل على باطل.

وسئل سفيان الثوري عن الكلام، فقال: دع الباطل، أين أنت من الحق؟ اتبع السنة، ودع البدعة.

وقال: وجدت الأمر بالاتباع.

وقال: عليكم بما عليه الحمالون والنساء في البيوت والصبيان في المكاتب من الإقرار والعمل.

وقال الإمام الشافعي رضي الله عنه: لأن يلقى الله العبد بكل ذنب ما خلا الشرك خير له من أن يلقاه بشيء من الأهواء.

وقال أيضاً: لأن يبتلى المرء بما نهى الله عنه ما خلا الشرك بالله خير له من أن يبتليه بالكلام.

وقال ما ابتدأ أحد بالكلام فأفلح. وقال أيضاً: حكمي في أصحاب الكلام أن يضربوا بالجريد، ويحملوا على الإبل، ويطاف بهم في العشائر والقبائل، ويقال: هذا جزاء من ترك الكتاب والسنة وأخذ في الكلام.

وقال مالك: بئس القوم هؤلاء أهل الأهواء لا يسلم عليهم.
মালিক ইবনে আনাসের নিকট বিদআতের তাৎপর্য

মালিক ইবনে আনাস বলেন: তোমরা বিদআত থেকে বেঁচে থাকো। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আবু আব্দুল্লাহ, বিদআত কী? তিনি বললেন: বিদআতী হলো তারা যারা আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি, তাঁর কথা, তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে কথা বলে, এবং সাহাবী ও উত্তমভাবে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ যা থেকে নীরব ছিলেন, তারা তা থেকে নীরব থাকে না। এবং তাঁরা বলেন: যদি কালাম (তাত্ত্বিক বিতর্ক) জ্ঞান হতো, তবে সাহাবী এবং তাবিঈগণ সে বিষয়ে কথা বলতেন যেমনটি তাঁরা বিধি-বিধান নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু এটি বাতিল যা বাতিলের দিকেই পথ দেখায়।

সুফিয়ান আস-সাওরীকে কালাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: বাতিল ত্যাগ করো। তুমি সত্য থেকে কোথায় আছ? সুন্নাহর অনুসরণ করো এবং বিদআত বর্জন করো।

তিনি বলেন: আমি কেবল অনুসরণেরই নির্দেশ পেয়েছি।

তিনি বলেন: বোঝা বহনকারী শ্রমিক, গৃহিনী নারী এবং মক্তবের শিশুরা যে ধরণের স্বীকৃতি ও আমলের উপর আছে, তোমরা তা-ই আঁকড়ে ধরো।

ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: একজন বান্দা শিরক ছাড়া অন্য সব গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা তার জন্য প্রবৃত্তির খেয়াল-খুশির কিছু নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার চেয়ে উত্তম।

তিনি আরও বলেন: কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তাতে লিপ্ত হওয়া—শিরক ব্যতীত—তার জন্য কালামশাস্ত্রে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে উত্তম।

তিনি বলেন: যে কেউ কালামশাস্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সে সফল হয়নি। তিনি আরও বলেন: কালামপন্থীদের ব্যাপারে আমার ফয়সালা হলো—তাদেরকে খেজুরের ডাল দিয়ে পেটানো হবে, উটের পিঠে চড়ানো হবে এবং গোত্র ও উপজাতিদের মাঝে ঘুরানো হবে, আর বলা হবে: এটিই সেই ব্যক্তির শাস্তি যে কিতাব ও সুন্নাহ ছেড়ে কালামশাস্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

মালিক বলেন: এই প্রবৃত্তিপূজারীরা কতই না নিকৃষ্ট লোক, তাদের সালাম দেওয়া যাবে না।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৪)
وقال أبو الحسن البغوي: قد مضت الصحابة والتابعون وأتباعهم وعلماء السنة على معاداة أهل البدع ومهاجرتهم.

وقال ابن عمر في أهل القدر: خبرهم أني برئ منهم وأنهم برآء مني.

وقال أبو قلابة: لا تجالسوا أصحاب الأهواء، فإني لا آمن من أن يغمسوكم في ضلالهم ويُلبسوا عليكم بعض ما تعرفون.

وقال سفيان: من سمع بدعة فلا يحكها لجلسائه ولا يلقها في قلوبهم.

وقال أبو الحسن البغوي: قد كفر بعض أهل العلم طوائف منهم، فروي عن جماعة من السلف تكفير من قال بخلق القرآن، وروي ذلك عن مالك، وابن عُيَيْنة وابن المبارك، والليث بن سعد، ووكيع بن الجراح،
আবু হাসান আল-বাগাভি বলেন: সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, তাঁদের অনুসারীগণ এবং আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ বিদআতিদের সাথে শত্রুতা পোষণ এবং তাদের বর্জনের ওপর অতিবাহিত হয়েছেন।

ইবনে উমর কাদারিয়াদের সম্পর্কে বলেন: তাদের জানিয়ে দাও যে, আমি তাদের থেকে বিমুখ এবং তারাও আমার থেকে বিমুখ।

আবু কিলাবা বলেন: তোমরা প্রবৃত্তি পূজারীদের সাথে উপবেশন করো না, কেননা আমি এ বিষয়ে নিরাপদ বোধ করি না যে, তারা তোমাদের তাদের ভ্রষ্টতার মাঝে নিমজ্জিত করবে এবং তোমাদের জানা বিষয়ের ব্যাপারে তোমাদের বিভ্রান্তিতে ফেলবে।

সুফিয়ান বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বিদআতের কথা শুনবে, সে যেন তার মজলিসের সঙ্গীদের কাছে তা বর্ণনা না করে এবং তাদের অন্তরে তা ঢেলে না দেয়।

আবু হাসান আল-বাগাভি বলেন: কোনো কোনো আলেম তাদের বিভিন্ন দলকে কাফের সাব্যস্ত করেছেন। সালাফদের একটি জামাতের পক্ষ থেকে কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের কাফের বলার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে; এটি বর্ণিত হয়েছে মালিক, ইবনে উইয়াইনা, ইবনুল মুবারক, লাইস বিন সাদ এবং ওয়াকি ইবনুল জাররাহ থেকে।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৫)
وناظر الإمام الشافعي لحفص الفرد، وكان يسميه لحفص الفرد، فقال: القرآن مخلوق، فقال الشافعي: كفرت بالله العظيم.

وقال محمد بن إسماعيل البخاري: نظرت في كلام اليهود والنصارى والمجوس، فما رأيت قوماً أضل في كفرهم من الجهمية، وإني لاستجهل من لا يكفرهم إلا من لا يعرف كفرهم وقال: ما باليت صليت خلف اليهود والنصارى.

وحكي عن عبد الله بن أحمد عن أبيه، فيمن قال بخلق القرآن: أنه لا يصلى خلفه الجمعة ولا غيرها، إلا أنه لا يدع إتيانها، فإن صلى أعاد الصلاة.

وقال مالك بن أنس: من يبغض أحداً من أصحاب النبي (، وكان في قلبه عليهم غلّ، فليس له حق في فئ المسلمين، ثم قرأ: (ما أفاء الله على رسوله من أهل القرى فلله وللرسول ولذي القربى) إلى قوله: (والذين جاءوا من بعدهم يقولون ربنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان) . الآية.

وذكر بين يديه رجل ينتقص أصحاب رسول الله (فقرأ مالك هذه الآية: (محمد رسول الله والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم) إلى
ইমাম শাফেয়ী হাফস আল-ফারদের সাথে বিতর্ক করেছিলেন, আর তিনি তাকে হাফস আল-ফারদ বলে ডাকতেন। তখন সে (হাফস) বলল: কুরআন সৃষ্ট (মাখলুক)। তখন শাফেয়ী বললেন: তুমি মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করলে।

মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী বলেছেন: আমি ইয়াহুদি, নাসারা এবং মজুসিদের বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করেছি। কিন্তু আমি এমন কোনো সম্প্রদায় দেখিনি যারা তাদের কুফরিতে জাহমিয়াদের চেয়ে বেশি পথভ্রষ্ট। আর যে ব্যক্তি তাদের কাফির মনে করে না, আমি তাকে মূর্খ মনে করি, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তাদের কুফরি সম্পর্কে অবগত নয়। তিনি আরও বলেছেন: আমি ইয়াহুদি ও নাসারাদের পেছনে সালাত আদায় করার মাঝে (এবং জাহমিয়াদের পেছনে পড়ার মাঝে) কোনো পার্থক্য দেখি না।

আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি কুরআন সৃষ্টি হওয়ার কথা বলে, তার পেছনে জুমুআ কিংবা অন্য কোনো সালাত আদায় করা যাবে না। তবে সে (জুমুআয়) যাওয়া ত্যাগ করবে না। আর যদি সে (তাদের পেছনে) সালাত আদায় করে ফেলে, তবে তা পুনরায় পড়বে।

মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: যে ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে এবং তার অন্তরে তাদের প্রতি ঘৃণা থাকবে, মুসলমানদের অর্জিত সম্পদে (ফাই) তার কোনো অধিকার নেই। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: (আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রাসূলকে যা দিয়েছেন তা আল্লাহর জন্য, রাসূলের জন্য এবং আত্মীয়-স্বজনের জন্য...) তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: (আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন)। আয়াত।

তাঁর সামনে এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের অবমাননা করছিল। তখন মালিক এই আয়াতটি পাঠ করলেন: (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়ালু...) থেকে...
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৬)
قوله: (ليغيظ بهم الكفار) . ثم قال: من أصبح من الناس في قلبه غل على أحد من أصحاب رسول الله (فقد أصابته هذه الآية. وقال سفيان الثوري: من قدم علياً على أبي بكر وعمر فقد أزرى وقال أبو الحسن البغوي: وهذا الهجران والتبرُّء والمعاداة لأهل البدع والمخالفين في الأصول، أما الاختلاف في الفروع بين العلماء فاختلاف رحمة، أراد الله أن لا يكون على المؤمنين حرج في الدين. فعلى المسلم إذا رأى رجلاً يتعاطى شيئاً من الأهواء والبدع معتقداً ويتهاون بشيء من السنن أن يهجره ويتبرأ منه، ويتركه حياً وميتاً، فلا يسلم عليه إذا لقيه، ولا يُجيبه إذا ناداه.

والنهي عن الهجران فوق الثلاث فيما يقع بين الرجلين من التقصير في حقوق الصحبة دون ما كان في حق الدين، فإن هجر أهل البدع والأهواء دائم إلى أن يتوبوا.

 

‌‌كلمات جوامع

فعليك يا أخي باتباع السنة وقبولها، وموالاة أهلها، واجتناب البدع وردها، ومعاداة أهلها. قال أحدهم لعبد الله بن مسعود رضي الله عنه: علمني كلمات
তাঁর বাণী: (যাতে তাদের দ্বারা তিনি কাফিরদের ক্রোধান্বিত করেন)। অতঃপর তিনি বললেন: মানুষের মধ্য থেকে যার অন্তরে রাসূলুল্লাহর কোনো একজন সাহাবীর প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে প্রভাত হলো, সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হলো। সুফিয়ান আস-সাওরী বলেন: যে ব্যক্তি আলীকে আবু বকর ও উমরের ওপর প্রাধান্য দিল, সে মূলত অবজ্ঞা করল। আবু হাসান আল-বাগাওয়ী বলেন: এই বর্জন, সম্পর্কচ্ছেদ ও শত্রুতা হলো বিদআতী এবং যারা দ্বীনের মূলনীতির ক্ষেত্রে বিরোধিতা করে তাদের জন্য; পক্ষান্তরে আলেমদের মাঝে শাখা-প্রশাখার মাসআলাগত মতভেদ হলো রহমতস্বরূপ। আল্লাহ চেয়েছেন যেন মুমিনদের জন্য দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে। সুতরাং একজন মুসলমান যখন দেখবে কোনো ব্যক্তি কুপ্রবৃত্তি ও বিদআতের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং আকিদাগতভাবে সুন্নাহর কোনো বিষয়কে অবজ্ঞা করছে, তখন তাকে বর্জন করা, তার থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা এবং জীবিত ও মৃত সর্বাবস্থায় তাকে ত্যাগ করা তার দায়িত্ব। তাই সে তার সাথে সাক্ষাৎ হলে সালাম দেবে না এবং সে ডাকলে তার উত্তর দেবে না।

আর তিন দিনের অধিক সময় বর্জন করার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের হক পালনে ত্রুটিবিচ্যুতির বিষয়; দ্বীনের হকের ক্ষেত্রে নয়। কেননা বিদআতী ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের বর্জন করার বিষয়টি তারা তাওবা না করা পর্যন্ত স্থায়ী।

 

‌‌সারগর্ভ বাণীসমূহ

অতএব হে আমার ভাই! আপনার কর্তব্য হলো সুন্নাহর অনুসরণ করা ও তা গ্রহণ করা, সুন্নাহর অনুসারীদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা এবং বিদআত বর্জন ও তা প্রত্যাখ্যান করা এবং বিদআতীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা। জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন: আমাকে কিছু কথা শিখিয়ে দিন।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৭)
جوامع موانع فقال: لا تشرك بالله شيئاً، وزل مع القرآن حيث زال، ومن جاءك بالحق فاقبل منه وإن كان بعيداً بغيضاً، ومن جاءك بالباطل فرده عليه وإن كان قريباً حبيباً.

وعليك بما قال ابن عمر رحمه الله: ثلاث أحب لنفسي ولإخواني: هذه السُّنَّة أن يتعلموها ويسألوا عنها، والقرآن أن يتفقهوه ويسألوا عنه، ويدعوا الناس إلى الخير. وربما قال الأوزاعي رحمه الله تعالى: خمس كان عليها أصحاب النبي) : لزوم الجماعة، واتباع السنة، وعمارة المسجد، وتلاوة القرآن، والجهاد في سبيل الله عز وجل.

رزقنا الله الاتباع، وإحياء السنن، وجنبنا البدع والأهواء في السرّ والعلن.
ব্যাপক ও সংক্ষেপিত উপদেশ হিসেবে তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবেন না; কুরআন যেখানেই যায় আপনিও সেখানেই থাকুন; যে ব্যক্তি আপনার নিকট সত্য নিয়ে আসবে, তার নিকট থেকে তা গ্রহণ করুন যদিও সে আপনার দূরবর্তী বা অপ্রিয় ব্যক্তি হয়; আর যে ব্যক্তি আপনার নিকট বাতিল নিয়ে আসবে, তা তার নিকটেই প্রত্যাখ্যান করুন যদিও সে আপনার নিকটবর্তী বা প্রিয় ব্যক্তি হয়।

আর ইবনে উমর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যা বলেছেন তা আপনার জন্য আবশ্যক: তিনটি বিষয় আমি নিজের জন্য এবং আমার ভাইদের জন্য পছন্দ করি: এই সুন্নাহ—যা তারা শিখবে এবং সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে; কুরআন—যা তারা গভীরভাবে অনুধাবন করবে এবং সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে; আর তারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে। আর আল-আওযায়ী (রহমাতুল্লাহি তাআলা) সম্ভবত বলেছেন: পাঁচটি বিষয়ের ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন: জামাতের সাথে থাকা, সুন্নাহর অনুসরণ করা, মসজিদ আবাদ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং মহান আল্লাহর পথে জিহাদ করা।

আল্লাহ আমাদের অনুসরণ করার এবং সুন্নাতসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করার তাওফিক দান করুন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে বিদআত ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আমাদের দূরে রাখুন।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৮)
‌‌‌‌فصل

‌‌في تمييز البدعة من السنة

‌‌ما السنة؟

اعلم رحمك الله إن السنة في اللغة الطريق، ولا ريب في أن أهل النقل والأثر، المتبعين آثار رسول الله (وآثار الصحابة، هم أهل السنة؛ لأنهم على تلك الطريق التي لم يحدث فيها حادث، وإنما وقعت الحوادث والبدع بعد رسول الله (وأصحابه.

 

‌‌ما البدعة؟

والبدعة عبارة عن فعلة تصادم الشريعة بالمخالفة، أو توجب التعاطي عليها بزيادة أو نقصان. وقد كان جمهور السلف يكرهون ذلك، وينفرون من كل مبتدع. وإن كان جائزاً حفاظاً للأصل، وهو الاتباع، وقد قال زيد بن ثابت لأبي بكر وعمر رضي الله عنهما حين قالا له " اجمع القرآن ": كيف تفعلان شيئاً لم يفعله رسول الله (؟ وعن عبد الله بن أبي سلمة: أن سعد بن مالك رحمه الله تعالى سمع رجلاً يقول: " لبيك ذا المعارج " فقال: ما كنا نقول هذا على عهد رسول الله (.
‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

‌‌সুন্নাহ থেকে বিদআতকে পৃথক করা প্রসঙ্গে

‌‌সুন্নাহ কী?

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—ভাষাগতভাবে সুন্নাহ হলো পথ। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্ণনানির্ভর ও হাদীস অনুসারী ব্যক্তিবর্গ, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং সাহাবীগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তারাই হলেন আহলুস সুন্নাহ; কারণ তারা এমন এক পথের ওপর রয়েছেন যাতে নতুন কোনো বিষয়ের উদ্ভব ঘটেনি। বস্তুত নতুন বিষয়সমূহ ও বিদআতের উদ্ভব তো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের পরেই ঘটেছে।

 

‌‌বিদআত কী?

বিদআত বলতে এমন কাজকে বোঝায় যা বিরোধিতার মাধ্যমে শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, অথবা এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের আবশ্যকতা তৈরি করে। অধিকাংশ সালাফ একে অপছন্দ করতেন এবং প্রত্যেক বিদআতপন্থী থেকে বিমুখ থাকতেন; যদিও তা মূলনীতি অর্থাৎ অনুসরণের সুরক্ষার খাতিরে জায়েয ছিল। যায়েদ বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে বলেছিলেন—যখন তাঁরা তাঁকে "কুরআন সংকলন করো" বলেছিলেন—"আপনারা এমন কাজ কীভাবে করবেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেননি?" আবদুল্লাহ বিন আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত: সাদ বিন মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: "লাব্বাইকা যাল মা'আরিজ" (আমি হাজির, হে সুউচ্চ মাকামসমূহের অধিপতি); তখন তিনি বললেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে এরূপ বলতাম না।"
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৮৯)
وعن أبي البحتري قال: أخبر رجل ابن مسعود رضي الله عنه أن قوماً يجلسون في المسجد بعد المغرب، فيهم رجل يقول: كبروا الله كذا، وسبحوا الله كذا وكذا، واحمدوا كذا وكذا. وقال عبد الله فإذا رأيتهم فعلوا ذلك فأتني فاخبرني بمجلسهم. فلما جلسوا أتاه الرجل فاخبره، فجاء عبد الله بن مسعود، فقال: والذي لا إله غيره لقد جئتم ببدعة ظلماً أو لقد فضلتم أصحاب محمد علماً! فقال عمر بن عتبة: نستغفر الله، فقال: عليكم بالطريق فالزموه ولئن أخذتم يميناً وشمالاً لتضلن ضلالاً بعيداً.

وعن عبد الله بن عون قال: كنا عند إبراهيم النخعي، فجاء رجل فقال: يا أبا عمر وأنا أدعو الله أن يشفيني، فرأيت أنه كرهه كراهية شديدة حتى عرفنا كراهية ذلك في وجهه. وذكر إبراهيم السنة، فرغب فيها، وذكرنا
আবু আল-বাখতারী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সংবাদ দিলেন যে, একদল লোক মাগরিবের পর মসজিদে বসে থাকে। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি আছে যে বলে: আল্লাহর তাকবীর এভাবে দাও, আল্লাহর তাসবীহ এভাবে পাঠ করো এবং আল্লাহর প্রশংসা এভাবে করো। আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) বললেন: যখন তুমি তাদের এরূপ করতে দেখবে, তখন আমার কাছে এসে তাদের মজলিস সম্পর্কে সংবাদ দেবে। অতঃপর যখন তারা বসল, তখন সেই ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে সংবাদ দিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আসলেন এবং বললেন: সেই সত্তার কসম, যাঁর ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তোমরা নিশ্চয়ই এক অন্ধকারাচ্ছন্ন বিদআত নিয়ে এসেছ অথবা তোমরা জ্ঞানে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়ে গেছ! তখন উমর ইবনে উতবাহ বললেন: আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন: তোমরা মূল পথকে (সুন্নাহকে) আঁকড়ে ধরো এবং তা দৃঢ়ভাবে পালন করো। যদি তোমরা ডানে বা বামে বিচ্যুত হও, তবে তোমরা ঘোর বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আওন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা ইবরাহীম আন-নাখায়ীর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু উমর, আমি আল্লাহর কাছে দুআ করছি যেন তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেন। আমি দেখলাম যে, তিনি এটি অত্যন্ত অপছন্দ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারায় আমরা সেই অপছন্দের চিহ্ন দেখতে পেলাম। অতঃপর ইবরাহীম সুন্নাহর কথা উল্লেখ করলেন এবং এর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করলেন এবং আমরা উল্লেখ করলাম...
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৯০)
ما أحدث الناس فكرهه، وقال فيه.

وجاء أصحاب الحديث إلى ذي النون، فسألوه عن الخطرات والوساوس، فقال: أنا لا أتكلم في شيء من هذا، فإن هذا محدث، سلوني عن شيء من الحديث أو الصلاة.

وقال محمد بن زياد: رأى ذي النون عليَّ خفا أحمر فقال: انزع هذا يا بني، فإنه شُهْرَة، ما لبسه رسول الله (، إنما لبس رسول الله (خفين أسودين ساذجين.

فقد تبين لك أن القوم كانوا يتحرزون عن بدعة، وإن لم يكن بها بأس لئلا يحدثوا ما لم يكن.
মানুষ যা নতুন উদ্ভাবন করেছিল তিনি তা অপছন্দ করতেন এবং সে বিষয়ে কথা বলতেন।

হাদীস অন্বেষণকারীগণ যুন-নূনের কাছে এসে তাঁকে মনের কল্পনা ও কুমন্ত্রণা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি বললেন: "আমি এসবের কোনো কিছু নিয়ে কথা বলব না, কারণ এগুলো নব-উদ্ভাবিত বিষয়। তোমরা আমাকে হাদীস অথবা সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো।"

মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ বলেন: যুন-নূন আমার পায়ে লাল রঙের চামড়ার মোজা দেখে বললেন: "হে বৎস, এটি খুলে ফেলো; কারণ এটি প্রসিদ্ধি লাভের পোশাক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি পরিধান করেননি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল দুটি সাধারণ কালো মোজা পরিধান করেছিলেন।"

সুতরাং আপনার কাছে এটি স্পষ্ট হলো যে, সেই ব্যক্তিবর্গ বিদআত থেকে বেঁচে থাকতেন, এমনকি যদি তাতে আপাতদৃষ্টিতে কোনো সমস্যা না-ও থাকত, তবুও তাঁরা তা পরিহার করতেন যাতে যা পূর্বে ছিল না এমন কিছু নতুন করে প্রবর্তিত না হয়।
(খণ্ড: ১) হাকীকাতুস সুন্নাহ ওয়াল বিদাআহ = আল-আমরু বিল ইত্তিবা ওয়ান নাহয়ু আনিল ইবতিদা (পৃষ্ঠা: ৯১)
فصل

 

‌‌محدثات وبدع لا تصادم الشريعة

وقد جرت محدثات لا تصادم الشريعة؛ ولم تتعاط عليها، فلم يروا بفعلها بأساً بل قال بعضهم: إنها قربة وهو صحيح كما رُوي أن الناس كانوا يصلون في رمضان وحداناً، وكان الرجل يصلي فيصلي بصلاته الجماعة، فجمعهم عمر رضي الله عنه، فلما خرج فرآهم قال: نعمت البدعة هذه، والتي ينامون عنها أفضل من هذه - يعني صلاة آخر الليل.

وكان الناس يقومون أوله. وقال الحسن: القصص بدعن ونعمت البدعة؛ كم من أخ يستفاد، ودعوة تُستجاب.

 

‌‌أنواع البدع

والحوادث تنقسم إلى: بدعة مستحسنة، وإلى بدع مستقبحة،
পরিচ্ছেদ

 

‌‌নতুন উদ্ভাবন ও বিদআত যা শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয়

এমন কিছু নতুন বিষয় উদ্ভাবিত হয়েছে যা শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এবং এর পরিপন্থী নয়। তাই উলামায়ে কেরাম সেগুলো করাতে কোনো দোষ দেখেননি, বরং তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি নেক আমল, আর এটিই সঠিক। যেমন বর্ণিত আছে যে, মানুষ রমজান মাসে একাকী সালাত আদায় করত এবং কোনো ব্যক্তি যখন সালাত আদায় করত তখন তার সাথে একটি জামাতও সালাত আদায় করত। অতঃপর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাদের সকলকে একত্রিত করে দিলেন। এরপর যখন তিনি বের হয়ে তাদের দেখলেন, তখন বললেন: ‘এটি কতই না উত্তম বিদআত! আর রাতের যে অংশে তারা ঘুমিয়ে থাকে সেটি এর চেয়েও উত্তম’—অর্থাৎ শেষ রাতের সালাত।

মানুষ রাতের প্রথম ভাগে কিয়াম (সালাত) আদায় করত। হাসান (বসরী) বলেন: ‘ওয়াজ-নসিহত বা কাহিনী বর্ণনা করা একটি বিদআত, তবে এটি কতই না উত্তম বিদআত; এর মাধ্যমে কত ভাই উপকৃত হয় এবং কত দুআ কবুল হয়!’

 

‌‌বিদআতের প্রকারভেদ

আর নবোদ্ভূত বিষয়সমূহ দুই ভাগে বিভক্ত: পছন্দনীয় বিদআত এবং অপছন্দনীয় বিদআত।