(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: -)
سد الذرائع في مسائل العقيدة   (عبد الله الجنيدي)

القسم: العقيدة


الكتاب: سد الذرائع في مسائل العقيدة على ضوء الكتاب والسنة الصحيحة (السنة الرابعة والثلاثون العدد (114))

المؤلف: عبد الله بن شاكر الجنيدي

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة الرابعة والثلاثون العدد (114) ، 1422هـ/2002هـ

عدد الصفحات: 256

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদার মাসয়ালাসমূহে অশুভ পথ রুদ্ধকরণ   (আবদুল্লাহ আল-জুনাইদী)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে আকিদার মাসয়ালাসমূহে অশুভ পথ রুদ্ধকরণ (চৌত্রিশতম বর্ষ, সংখ্যা (১১৪))

লেখক: আবদুল্লাহ বিন শাকির আল-জুনাইদী

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: চৌত্রিশতম বর্ষ, সংখ্যা (১১৪) ، ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
سد الذرائع في مسائل العقيدة

على ضوء الكتاب والسنة الصحيحة

تأليف الدكتور/ عبد الله شاكر محمد الجنيدى

رئيس قسم الدراسات الإسلامية بكلية المعلمين

بالقنفذة - السعودية

بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى0

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله0

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 10

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 20

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 30

أما بعد:

فلعل من نافلة القول ومكرور الكلام أن يقال: إن التوحيد وإفراد الله بجميع أنواع العبادة أساس دعوة الأنبياء والمرسلين فما من نبي بُعث في قومه إلا أمرهم به ودعاهم إليه كما قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 4، وهو مفتتح دعوة الأنبياء والمرسلين، فكل منهم قال لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} ، والمتتبع لكتاب الله الكريم يجد هذا واضحاً فيه غاية الوضوح، كما أنه كان من أعظم ما اعتنى به نبينا الأمين صلى الله عليه وسلم حيث مكث في مكة ثلاثة عشر عاماً يركز ويكرر ويؤكد الدعوة إلى هذا

--------------------------------------------

1 آل عمران / آية: 102.

2 النساء / آية: 1.

3 الأحزاب / آية: 70، 71.

4 الأنبياء / آية: 25.
আকিদার মাসআলাসমূহে অনিষ্টের পথ বন্ধ করা

কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর আলোকে

লেখক: ডক্টর আব্দুল্লাহ শাকের মুহাম্মদ আল-জুনাঈদী

শিক্ষক প্রশিক্ষণ অনুষদের ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রধান

আল-কুনফুদাহ - সৌদি আরব

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} ৩

অতঃপর:

সম্ভবত এটি একটি অতিরিক্ত ও পুনরাবৃত্ত কথা হবে যদি বলা হয় যে: তাওহিদ এবং ইবাদতের সকল প্রকারের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করাই হলো নবী ও রাসুলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তি। এমন কোনো নবী প্রেরিত হননি যিনি তাঁর কওমকে এর নির্দেশ দেননি এবং এর দিকে আহ্বান করেননি, যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসুল প্রেরণ করিনি, যাঁর কাছে এই ওহি পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো} ৪। আর এটিই ছিল নবী ও রাসুলগণের দাওয়াতের সূচনা। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ কওমকে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই}। আল্লাহর সম্মানিত কিতাব যে অনুসন্ধান করবে, সে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে। তদ্রূপ এটি সেই মহান বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল যার প্রতি আমাদের বিশ্বস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গভীর মনোযোগ দিয়েছিলেন। তিনি মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করে এই দাওয়াতের ওপরই গুরুত্বারোপ, পুনরাবৃত্তি এবং জোরালো তাকিদ দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

১ আলে ইমরান / আয়াত: ১০২।

২ আন-নিসা / আয়াত: ১।

৩ আল-আহযাব / আয়াত: ৭০, ৭১।

৪ আল-আম্বিয়া / আয়াত: ২৫।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
التوحيد، ثم بعد هجرته كان ينافح ويدافع ويزيل العقبات التي تعترض طريقه حتى يُبَلَّغ ما أوحى الله به ويدخل الناس بهذا التوحيد إلى الدين الذي ارتضاه الله لهم، ووضع القواعد اللازمة لصيانته، وقضى على كل وسيلة مفضية إلى الإخلال به، وسدَّ كل ذريعة يمكن أن تؤدى إلى شائبة فيه – كما سيتضح من خلال هذا البحث – إن شاء الله تعالى – وهذا من كمال الشريعة ومقاصدها الحميدة0

يقول العلامة ابن القيم – رحمه الله: "لما كانت المقاصد لا يتوصل إليها إلا بأسباب وطرق تفضي إليها كانت طرقها وأسبابها تابعة لها معتبرة بها، فوسائل المحرمات والمعاصي في كراهتها والمنع منها بحسب إفضائها إلى غاياتها وارتباطاتها بها، ووسائل الطاعات والقربات في محبتها والإذن فيها بحسب إفضائها إلى غايتها، فوسيلة المقصود تابعة للمقصود وكلاهما مقصود لكنه مقصود قصد الغايات، وهى مقصودة قصد الوسائل، فإذا حرَّم الرب تعالى شيئاً وله طرق ووسائل تفضي إليه فإنه يحرمها ويمنع منها، تحقيقاً لتحريمه وتثبيتاً له، ومنعا أن يقرب حماه، ولو أباح الوسائل والذرائع المفضية إليه لكان ذلك نقضا للتحريم، وإغراءً للنفوس به، وحكمته تعالى وعلمه يأبى ذلك كل الإباء" 10

ولأهمية هذا الموضوع وتجليته، وعدم وجود كتاب يجمع شتات ما تفرق من أقوال لعلماء السلف فيه0 استعنت الله عز وجل في الكتابة حوله سائلا العلى الأعلى أن ينفع به0

وقد تضمن البحث بعد هذه المقدمة والتمهيد خمسة فصول وخاتمة، وبيان ذلك فيما يلي:

--------------------------------------------

1 إعلام الموقعين جـ3 / 147.
তাওহিদ; অতঃপর তাঁর হিজরতের পর তিনি সংগ্রাম করেছেন, প্রতিরক্ষা করেছেন এবং তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো প্রতিবন্ধকতাগুলোকে দূর করেছেন, যাতে আল্লাহর অবতীর্ণ ওহি পৌঁছে দেওয়া যায় এবং মানুষ এই তাওহিদের মাধ্যমে আল্লাহর মনোনীত দ্বীনে প্রবেশ করতে পারে। তিনি এটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মাবলি প্রণয়ন করেছেন এবং এতে বিঘ্ন ঘটানোর প্রতিটি উপায়কে নির্মূল করেছেন। আর এর মধ্যে ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে এমন প্রতিটি পথ রুদ্ধ করেছেন—যেমনটি এই গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা। এটি শরিয়তের পূর্ণতা এবং এর প্রশংসনীয় লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লামা ইবনুল কায়্যিম—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন—বলেন: "যেহেতু লক্ষ্যসমূহে পৌঁছানো সেসব মাধ্যম ও পথ ব্যতীত সম্ভব নয় যা সেদিকে নিয়ে যায়, তাই এর পথ ও মাধ্যমসমূহ সেই লক্ষ্যেরই অনুগামী এবং সেই অনুযায়ী বিবেচিত। সুতরাং হারাম ও পাপকাজের মাধ্যমসমূহ অপছন্দ করা এবং সেগুলো নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নির্ভর করে সেগুলো মূল গন্তব্যের দিকে ধাবিত হওয়া এবং তার সাথে সংশ্লিষ্টতার ওপর। আর আনুগত্য ও নৈকট্য লাভের মাধ্যমগুলোর প্রতি ভালোবাসা এবং সেগুলোর অনুমতির বিষয়টি নির্ভর করে সেগুলো মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর ওপর। অতএব, উদ্দিষ্ট বিষয়ের মাধ্যমটি সেই উদ্দিষ্টের অনুগামী এবং উভয়ই কাঙ্ক্ষিত, তবে একটি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য হিসেবে আর অন্যটি কাঙ্ক্ষিত মাধ্যম হিসেবে। সুতরাং যখন মহান রব কোনো কিছু হারাম করেন এবং সেটির দিকে পৌঁছানোর কিছু পথ ও মাধ্যম থাকে, তখন তিনি সেই হারামকে কার্যকর করার জন্য এবং সেটিকে সুদৃঢ় করার জন্য সেগুলোকেও হারাম ও নিষিদ্ধ করেন, যাতে কেউ তাঁর সীমানার ধারেকাছে না যায়। তিনি যদি এর দিকে নিয়ে যাওয়া মাধ্যম ও পথগুলোকে বৈধ করে দিতেন, তবে তা হারামের বিধানকে লঙ্ঘন করত এবং মানুষের মনকে সেদিকে প্রলুব্ধ করত। তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এটি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে।" ১০

এই বিষয়ের গুরুত্ব ও তা স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা এবং এতে সালাফ আলেমদের বিক্ষিপ্ত উক্তিগুলো একত্রিত করে এমন কোনো কিতাব না থাকার কারণে আমি এ বিষয়ে লেখার জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়েছি। আমি সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন।

এই ভূমিকা ও প্রারম্ভিকার পর গবেষণাটিতে পাঁচটি অধ্যায় ও একটি উপসংহার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

--------------------------------------------

১ ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন, খণ্ড ৩ / ১৪৭।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
- المقدمة: وقد بينت فيها أهمية دراسة هذا الموضوع والكتابة حوله0

- التمهيد: وقد بينت فيه مفهوم الذريعة، والأدلة على وجوب سدها من القرآن والسنة وأقوال بعض الأئمة0

- الفصل الأول: سد الذرائع المؤدية إلى الشرك الأكبر0

وتحته ثلاثة مباحث:

1- المبحث الأول: تعريف الشرك الأكبر وبيان خطورته0

2- المبحث الثاني: بعض الآيات والأمثلة المتعلقة بسد الذرائع إلى الشرك الأكبر0

3- المبحث الثالث: بعض أحاديث سد الذرائع المتعلقة بالشرك الأكبر0

- الفصل الثاني: سد الذرائع المؤدية إلى الشرك الأصغر0

وتحته مبحثان:

1- المبحث الأول: سد الذرائع في الألفاظ0

2- المبحث الثاني: سد الذرائع في الأعمال0

- الفصل الثالث: سد الذرائع في توحيد المعرفة والإثبات0

وتحته مبحثان:

1- المبحث الأول: سد الذرائع في مضاهاة أفعال الله تعالى0

2- المبحث الثاني: سد الذرائع في توحيد الأسماء والصفات0

- الفصل الرابع: سد الذرائع المتعلق بالنبوة والرسالة0

وتحته أربعة مباحث:

1- المبحث الأول: تأييد الأنبياء بمعجزات لا تحصل لغيرهم0

2- المبحث الثاني: النهى عن المفاضلة بين الأنبياء0

3- المبحث الثالث: إرسال المرسلين بلسان أقوامهم ليعقلوا خطابهم0

4- المبحث الرابع: نهى المؤمنين عن مخاطبة النبي صلى الله عليه وسلم بلفظ "راعنا"0
- ভূমিকা: এতে আমি এই বিষয়টি অধ্যয়ন এবং এ বিষয়ে লেখালেখির গুরুত্ব বর্ণনা করেছি।

- উপক্রমণিকা: এতে আমি 'যারিয়া' (উপায়)-এর ধারণা এবং কুরআন, সুন্নাহ ও কিছু ইমামের বক্তব্যের আলোকে তা বন্ধ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে দলীলসমূহ বর্ণনা করেছি।

- প্রথম অধ্যায়: শিরকে আকবরের দিকে ধাবিতকারী উপায়সমূহ বন্ধ করা।

এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১- প্রথম পরিচ্ছেদ: শিরকে আকবরের সংজ্ঞা ও এর ভয়াবহতার বর্ণনা।

২- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরকে আকবরের দিকে ধাবিতকারী উপায়সমূহ বন্ধ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কিছু আয়াত ও উদাহরণ।

৩- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শিরকে আকবর সংশ্লিষ্ট উপায়সমূহ বন্ধ করার বিষয়ে কিছু হাদীস।

- দ্বিতীয় অধ্যায়: শিরকে আসগারের দিকে ধাবিতকারী উপায়সমূহ বন্ধ করা।

এর অধীনে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১- প্রথম পরিচ্ছেদ: শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপায়সমূহ বন্ধ করা।

২- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কর্মের ক্ষেত্রে উপায়সমূহ বন্ধ করা।

- তৃতীয় অধ্যায়: তাওহীদুল মারেফাহ ওয়াল ইসবাতের ক্ষেত্রে উপায়সমূহ বন্ধ করা।

এর অধীনে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১- প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তায়ালার কার্যাবলীর সাদৃশ্য অবলম্বনের ক্ষেত্রে উপায়সমূহ বন্ধ করা।

২- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের (নাম ও গুণাবলী) ক্ষেত্রে উপায়সমূহ বন্ধ করা।

- চতুর্থ অধ্যায়: নবুওয়াত ও রিসালাত সংশ্লিষ্ট উপায়সমূহ বন্ধ করা।

এর অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

১- প্রথম পরিচ্ছেদ: নবীগণকে এমন মুজিযার মাধ্যমে সাহায্য করা যা অন্য কারো পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়।

২- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবীদের মধ্যে একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে (তর্কাতর্কির উদ্দেশ্যে) নিষেধ করা।

৩- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূলগণকে তাঁদের স্বজাতির ভাষায় প্রেরণ করা যাতে তাঁরা তাঁদের বক্তব্য অনুধাবন করতে পারেন।

৪- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুমিনদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে "রায়িনা" শব্দ দ্বারা সম্বোধন করতে নিষেধ করা।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
- الفصل الخامس: سد الذرائع المتعلق بالإمامة والخروج على الحاكم0

وتحته مبحثان:

1- المبحث الأول: وجوب تنصيب إمام واحد والاجتماع عليه0

2- المبحث الثاني: ترك الخروج على الحاكم وطاعته في غير معصية الله0

الخاتمة:

هذا وقد جعلته بين التطويل الممل والتقصير المخل، مع رغبة في العودة إليه عند فسحة من الوقت0

وأسأل الله عز وجل أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن يثيبني عليه خيرا يوم الدين، وأن يغفر لي ولوالدي ولجميع المسلمين0

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين0
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইমামত এবং শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংক্রান্ত পথ রুদ্ধ করা (সাদদ আল-জারায়ে‘)০

এর অধীনে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

১- প্রথম অনুচ্ছেদ: একজন ইমাম নিয়োগ এবং তাঁর ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া আবশ্যক হওয়া০

২- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ত্যাগ করা এবং আল্লাহর অবাধ্যতা নয় এমন বিষয়ে তাঁর আনুগত্য করা০

উপসংহার:

আমি এটি বিরক্তিকর দীর্ঘতা এবং ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্ততার মাঝামাঝি রেখেছি, সাথে ভবিষ্যতে সময়ের সুযোগ হলে এর প্রতি পুনরায় মনোনিবেশ করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছি০

আমি মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ আমল হিসেবে গ্রহণ করেন, এবং বিচার দিবসে আমাকে এর উত্তম প্রতিদান দান করেন, আর আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন০

আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য০
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
ال‌‌تمهيد: ويشتمل على ما يلي:

1- تعريف الذريعة ومفهوم سد الذرائع0

2- الأدلة على وجوب سد الذرائع0

أولاً: تعريف الذريعة:

الذريعة: هي الوسيلة والسبب إلى الشيء، وأصلها عند العرب: الناقة التي يستتر بها رامي الصيد حتى يصل إلى صيده 10

قال ابن تيمية: "والذريعة: ما كان وسيلة وطريقا إلى الشيء، لكن صارت في عرف الفقهاء عبارة عما أفضت إلى فعل محرم، ولو تجردت عن ذلك الإفضاء لم يكن فيها مفسدة، ولهذا قيل: الذريعة: الفعل الذي ظاهره أنه مباح وهو وسيلة إلى فعل المحرم" 20

وقال الشاطبي: "حقيقة الذريعة: التوسل بما هو مصلحة إلى مفسدة" 30

والذرائع بذلك تختلف عن الحيل، فسد الذرائع مطلوب، والحيل محرمة لا تجوز، لأن حقيقتها: تقديم عمل ظاهر الجواز لإبطال حكم شرعي وتحويله في الظاهر إلى حكم آخر، كالواهب ماله عند رأس الحول فرارا من الزكاة 40

قال ابن تيمية:"واعلم أن تجويز الحيل يناقض سد الذرائع مناقضة ظاهرة، فإن الشارع سد الطريق إلى ذلك المحرم بكل طريق، والمحتال يريد أن يتوسل إليه" 50

--------------------------------------------

1 لسان العرب جـ8/96، والقاموس المحيط جـ3 /24.

2 مجموعة الفتاوى الكبرى جـ3 /139.

3 الموافقات جـ3 /199.

4 المرجع السابق جـ3 /201.

5 مجموعة الفتاوى الكبرى جـ3 /145.
উপক্রমণিকা: এবং এটি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১- যারীআহ-এর সংজ্ঞা এবং সাদ্দুজ যারীআহ-এর ধারণা।

২- সাদ্দুজ যারীআহ ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলীলসমূহ।

প্রথমত: যারীআহ-এর সংজ্ঞা:

যারীআহ: এটি কোনো বিষয়ের মাধ্যম ও কারণ; আরবদের নিকট এর মূল অর্থ হলো: এমন উট যার আড়ালে শিকারি লুকিয়ে থেকে শিকারের নিকট পৌঁছায়।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "যারীআহ হলো: যা কোনো কিছুর মাধ্যম ও পথ হয়, কিন্তু ফকীহগণের পরিভাষায় এটি এমন কাজকে বোঝায় যা কোনো হারামে উপনীত করে; যদি হারামে উপনীত হওয়ার বিষয়টি না থাকতো, তবে তাতে কোনো অকল্যাণ থাকতো না। এজন্যই বলা হয়েছে: যারীআহ এমন কাজ যা বাহ্যত বৈধ, কিন্তু তা হারামে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যম।"

আশ-শাত্বেবী বলেছেন: "যারীআহ-এর হাকীকত হলো: কোনো কল্যাণকর বিষয়ের মাধ্যমে অকল্যাণে পৌঁছানো।"

এর দ্বারা যারীআহ এবং হিলার (কৌশল) মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়; যারীআহ বন্ধ করা কাম্য, কিন্তু হিলা হারাম ও নাজায়েজ। কেননা হিলার হাকীকত হলো: কোনো শরঈ হুকুম বাতিল করার জন্য বাহ্যত বৈধ এমন আমল পেশ করা এবং বাহ্যিকভাবে সেটিকে অন্য হুকুমে পরিবর্তন করা। যেমন: যাকাত থেকে পলায়ন করার জন্য বছর পূর্ণ হওয়ার সময় সম্পদ দান করে দেওয়া।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "জেনে রাখুন, হিলাকে বৈধ করা এবং সাদ্দুজ যারীআহ পরস্পরের প্রকাশ্য বিরোধী। কেননা শরীয়ত প্রণেতা সেই হারামের সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছেন, অথচ হিলা অবলম্বনকারী সেই হারামে পৌঁছাতে চায়।"

--------------------------------------------

১. লিসানুল আরব, খণ্ড ৮/৯৬; আল-কামূসুল মুহীত, খণ্ড ৩/২৪।

২. মাজমুউল ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৩/১৩৯।

৩. আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ৩/১৯৯।

৪. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৩/২০১।

৫. মাজমুউল ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৩/১৪৫।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
وقال ابن القيم: "وتجويز الحيل يناقض سد الذرائع مناقضة ظاهرة فإن الشارع يسد الطريق إلى المفاسد بكل ممكن، والمحتال يفتح الطريق إليها بحيلة، فأين من يمنع من الجائز خشية الوقوع في المحرم إلى من يعمل الحيلة في التوصل إليه" 10

ثانياً: الأدلة على وجوب سد الذرائع:

دل القرآن والسنة والإجماع على وجوب سد الذرائع وإليكم بعض ما جاء من ذلك0

أولاً: أدلة القرآن الكريم:

1- قال تعالى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ} 20

ووجه الدلالة من الآية: أن الله سبحانه وتعالى نهى المؤمنين عن سب آلهة المشركين، وإن كان فيه مصلحة، إلا أنه يترتب عليه مفسدة أعظم منها، وهى سب المشركين لله عز وجل، فكان النهى سدَّا لهذه الذريعة، وهذا دليل على المنع من الجائز إذا كان يؤدى إلى محرم0

قال القرطبي:"في هذه الآية ضرب من الموادعة، ودليل على وجوب الحكم بسد الذرائع"30

ونقل القاسمي عن بعض العلماء قوله في الآية:"إنه متى خيف من سب الكفار وأصنامهم أن يسبوا الله، أو رسوله، أو القرآن لم يجز أن يُسَبُّوا ولا دينهم، قال: وهى أصل في قاعدة سد الذرائع"40

--------------------------------------------

1 إعلام الموقعين جـ3 /171.

2 الأنعام / آية: 108.

3 الجامع لأحكام القرآن جـ4/2497.

4 محاسن التأويل جـ6 /2463.
ইবনে আল-কাইয়্যিম বলেন: "কৌশল (হিলা) বৈধ করা 'সাদুজ জারায়ে' বা অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার সাথে প্রকাশ্যভাবে সাংঘর্ষিক। কেননা শরিয়ত প্রণেতা সম্ভাব্য সকল উপায়ে অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করেন, আর কৌশলী ব্যক্তি কৌশলের মাধ্যমে সেই পথ উন্মুক্ত করে। সুতরাং বৈধ কাজকে হারামে পতিত হওয়ার ভয়ে যে ব্যক্তি নিষেধ করে, তার সাথে সেই ব্যক্তির তুলনা কোথায় যে হারামে পৌঁছানোর জন্য কৌশল অবলম্বন করে?" 10

দ্বিতীয়ত: অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (সাদুজ জারায়ে) ওয়াজিব হওয়ার দলীলসমূহ:

কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এর মধ্য থেকে কিছু নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রথমত: পবিত্র কুরআনের দলীলসমূহ:

১- মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদেরকে ডাকে, তোমরা তাদেরকে গালি দিও না। অন্যথায় তারা শত্রুতা বশত না বুঝে আল্লাহকে গালি দেবে।" 20

আয়াতটি থেকে প্রমাণের দিক হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুমিনদেরকে মুশরিকদের উপাস্যদের গালি দিতে নিষেধ করেছেন। যদিও এতে উপকারিতা ছিল, তবুও এর ফলে তার চেয়ে বড় অনিষ্ট সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, যা হলো মুশরিকদের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহকে গালি দেওয়া। অতএব, এই নিষেধ ছিল সেই অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার (সাদুজ জারায়ে) মাধ্যম। আর এটি একটি দলীল যে, কোনো বৈধ কাজ যদি হারামের দিকে নিয়ে যায়, তবে তা নিষিদ্ধ করা হবে।

ইমাম কুরতুবী বলেন: "এই আয়াতটিতে এক প্রকারের সমঝোতা বিদ্যমান এবং এটি 'সাদুজ জারায়ে' বা অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করার হুকুম ওয়াজিব হওয়ার একটি দলীল।" 30

আল-কাসিমী কতিপয় আলেম থেকে এই আয়াত সম্পর্কে তাদের এই বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন: "যখনই কাফের ও তাদের মূর্তিদের গালি দেওয়ার কারণে তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল অথবা কুরআনকে গালি দেবে বলে আশঙ্কা করা হবে, তখন তাদেরকে বা তাদের ধর্মকে গালি দেওয়া জায়েজ হবে না। তিনি বলেন: এটি 'সাদুজ জারায়ে' (অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা) এর মূলনীতির একটি ভিত্তি।" 40

--------------------------------------------

১. ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, ৩য় খণ্ড / ১৭১।

২. আল-আনআম / আয়াত: ১০৮।

৩. আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন, ৪র্থ খণ্ড / ২৪৯৭।

৪. মাহাসিনুত তাবীল, ৬ষ্ঠ খণ্ড / ২৪৬৩।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
وقال الشيخ/ عبد الرحمن السعدي:"وفى هذه الآية الكريمة دليل للقاعدة الشرعية، وهو أن الوسائل تعتبر بالأمور التي توصل إليها، وأن وسائل المحرم، ولو كانت جائزة تكون محرمة إذا كانت تفضي إلى الشر"10

1- وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا وَاسْمَعُوا وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 20

ووجه الدلالة من الآية: أن الله سبحانه وتعالى نهى المؤمنين عن كلمة "راعنا"، ومعناها عندهم راعنا سمعك، أي: اسمع لنا ما نريد أن نسأل عنه ونراجعك فيه، وهذا معنى صحيح، ولكن الله نهاهم عنها سدا للذريعة، لأن اليهود كانوا يقولونها لاوين بها ألسنتهم، لتوافق كلمة شتم عندهم، أو نسبة النبي صلى الله عليه وسلم إلى الرعونة0

وسيأتي كلام على هذه الآية – إن شاء الله تعالى – في الفصل الخامس من هذا البحث0

ثانياً: الأدلة من السنة النبوية:

1- عن عبد الله بن عمرو – رضي الله عنهما – قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "إن من أكبر الكبائر أن يلعن الرجل والديه قيل" يا رسول الله، وكيف يلعن الرجل والديه؟ قال: "يسب الرجل أبا الرجل فيسب أباه، ويسب أمه فيسب أمه" 30

--------------------------------------------

1 تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان جـ2 /454،455.

2 البقرة / آية: 104.

3 أخرجه البخاري في كتاب الأدب باب 4 جـ10 /403،ومسلم كتاب الإيمان باب 38 ط/92 وأبو داود في كتاب الأدب باب 129 جـ5 /352.
এবং শেখ আবদুর রহমান আস-সা'দী বলেন: "আর এই মহিমান্বিত আয়াতে শারঈ মূলনীতির একটি দলিল রয়েছে, আর তা হলো—মাধ্যমসমূহকে সেই বিষয়গুলোর নিরিখে বিবেচনা করা হয় যেগুলোর দিকে সেগুলো পৌঁছে দেয়। এবং হারামের মাধ্যমসমূহ, যদিও সেগুলো বৈধ হয়, তথাপি তা হারাম বলে গণ্য হবে যদি তা মন্দের দিকে ধাবিত করে।"১

১- এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা 'রায়িনা' বলো না, বরং বলো 'উনযুরনা' এবং শ্রবণ করো; আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} ২

আয়াতটি থেকে দালীলিক দিকটি হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মুমিনদেরকে 'রায়িনা' শব্দ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তাদের নিকট এর অর্থ ছিল 'আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন', অর্থাৎ: আমরা যে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে ও আপনার সাথে আলোচনা করতে চাই তা শুনুন। এটি একটি সঠিক অর্থ। কিন্তু আল্লাহ মন্দের পথ রুদ্ধ করার (সাদ্দুদ যারিয়াহ) জন্য তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করেছেন। কারণ ইয়াহুদিরা তাদের জিহ্বা কুঞ্চিত করে এই শব্দটি বলত, যাতে তা তাদের নিকট প্রচলিত কোনো গালির সমার্থক হয়ে যায় অথবা এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি নির্বুদ্ধিতার সম্বন্ধ করা যায়।

এবং ইনশাআল্লাহ তা'আলা এই গবেষণার পঞ্চম অধ্যায়ে এই আয়াত সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহে নববী থেকে দলিলসমূহ:

১- আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেওয়া বড় কবীরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" জিজ্ঞেস করা হলো, "হে আল্লাহর রাসূল! একজন মানুষ কীভাবে তার পিতা-মাতাকে অভিশাপ দেয়?" তিনি বললেন: "কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, ফলে সে (বিনিময়ে) তার পিতাকে গালি দেয়; এবং সে তার মাকে গালি দেয়, ফলে সেও তার মাকে গালি দেয়।" ৩

--------------------------------------------

১ তায়সীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান, ২য় খণ্ড / ৪৫৪, ৪৫৫।

২ আল-বাকারাহ / আয়াত: ১০৪।

৩ এটি বুখারী 'কিতাবুল আদব' এর ৪ নং অনুচ্ছেদ, ১০ম খণ্ড / ৪০৩; এবং মুসলিম 'কিতাবুল ঈমান' এর ৩৮ নং অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৯২; এবং আবু দাউদ 'কিতাবুল আদব' এর ১২৯ নং অনুচ্ছেদ, ৫ম খণ্ড / ৩৫২-তে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮০)
ووجه الدلالة من هذا الحديث: أن النبي صلى الله عليه وسلم جعل الرجل لاعنا لأبويه إذا كان سببا في ذلك، وإن لم يقصده 0

قال النووى – رحمه الله – في شرحه للحديث:"فيه دليل على أن من تسبب في شيئ جاز أن ينسب إليه ذلك الشيء، وإنما جعل هذا عقوقاً لكونه يحصل منه ما يتأذى به الوالد تأذيا ليس بالهين، وفيه قطع الذرائع، فيؤخذ منه النهى عن بيع العصير ممن يتخذ الخمر، والسلاح ممن يقطع الطريق ونحو ذلك0 والله أعلم"10

وقال ابن حجر:"قال ابن بطال: هذا الحديث أصل في سد الذرائع، ويؤخذ منه أن من آل فعله إلى محرم يحرم عليه ذلك الفعل، وإن لم يقصد إلى ما يحرم، والأصل في هذا الحديث: قوله تعالى: {وَلا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ} 20

1- قال عبد الله بن أبى بن سلول في غزوة بنى المصطلق:"أما والله لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل، فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقام عمر فقال: يا رسول الله: دعني أضرب عنق هذا المنافق، فقال النبي صلى الله عليه وسلم "دعه لا يتحدث الناس أن محمدا يقتل أصحابه" 30

ووجه الدلالة من قول النبي صلى الله عليه وسلم هذا، أنه كان يكف عن قتل المنافقين مع كونه مصلحة، لئلا يكون ذريعة لتنفير الناس عنه وقولهم: إن محمدا يقتل أصحابه0

يقول ابن تيمية في ذلك:"إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يكف عن قتل المنافقين مع كونه مصلحة لئلا يكون ذريعة إلى قول الناس أن محمدا صلى الله عليه وسلم يقتل أصحابه

--------------------------------------------

1 شرح النووي على مسلم جـ2 /88.

2 فتح البارى شرح صحيح البخاري جـ10 /404.

3 أخرجه البخاري في كتاب التفسير جـ8 /648، ومسلم في كتاب البر باب 16 جـ4 /1998.
এই হাদীস থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে তার পিতামাতার প্রতি অভিশাপকারী হিসেবে গণ্য করেছেন যদি সে এর কারণ হয়ে থাকে, যদিও সে তা উদ্দেশ্য না করে। ০

ইমাম নববী -রহিমাহুল্লাহ- হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন: "এতে এই দলীল রয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ের কারণ হবে, তার দিকে সেই বিষয়টি নিসবত করা (আরোপ করা) বৈধ। আর এটিকে পিতামাতার অবাধ্যতা (উকূক) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে কারণ এর মাধ্যমে পিতামাতা এমন কষ্ট পান যা সামান্য নয়। এর মধ্যে অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার (সাদদুজ যারায়ে) মূলনীতি রয়েছে। অতএব, এখান থেকে এমন ব্যক্তির নিকট ফলের রস বিক্রি করার নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করা হয় যে তা দিয়ে মদ তৈরি করবে, এবং এমন ব্যক্তির নিকট অস্ত্র বিক্রি করাও নিষিদ্ধ যে তা দিয়ে ডাকাতি করবে বা অনুরূপ কাজ করবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।" ১০

ইবনে হাজার বলেন: "ইবনে বাত্তাল বলেছেন: এই হাদীসটি অকল্যাণের পথ বন্ধ করার (সাদদুজ যারায়ে) একটি মূল ভিত্তি। এখান থেকে সাব্যস্ত হয় যে, যার কর্ম কোনো হারামের দিকে নিয়ে যায়, তার জন্য সেই কাজটি হারাম, যদিও সে হারামের উদ্দেশ্য না করে থাকে। আর এই হাদীসের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকে, তাদের তোমরা গালি দিও না।}" ২০

১- বনু মুস্তালিকের যুদ্ধে আব্দুল্লাহ বিন উবাই ইবনে সালুল বলেছিল: "আল্লাহর কসম! আমরা যদি মদিনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সেখান থেকে অধিক সম্মানিত ব্যক্তি লাঞ্ছিত ব্যক্তিকে বের করে দেবে।" বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে ওমর (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এই মুনাফিকের শিরশ্ছেদ করতে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও, পাছে মানুষ বলাবলি করবে যে, মুহাম্মদ তার সাহাবীদের হত্যা করেন।" ৩০

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: তিনি মুনাফিকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকতেন যদিও তাতে কল্যাণ ছিল, যাতে এটি মানুষকে তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম না হয় এবং তারা যেন এই কথা না বলে যে: মুহাম্মদ তার সাহাবীদের হত্যা করেন।

এ বিষয়ে ইবনে তাইমিয়া বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকদের হত্যা করা থেকে বিরত থাকতেন যদিও তাতে কল্যাণ ছিল, যাতে এটি মানুষের এই কথা বলার মাধ্যম না হয় যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদের হত্যা করেন।"

--------------------------------------------

১. শারহু নববী আলা মুসলিম, খণ্ড ২/৮৮।

২. ফাতহুল বারী শারহু সহীহিল বুখারী, খণ্ড ১০/৪০৪।

৩. ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুত তাফসীরে খণ্ড ৮/৬৪৮, এবং ইমাম মুসলিম কিতাবুল বির-এ, অনুচ্ছেদ ১৬, খণ্ড ৪/১৯৯৮।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮১)
لأن هذا القول يوجب النفور عن الإسلام ممن دخل فيه، وممن لم يدخل فيه، وهذا النفور حرام"10

ثالثاً: الإجماع:

أجمع الصحابة على بعض المسائل التي يمكن أن يستدل بها على وجوب سد الذرائع، وقد اعتبرها أهل العلم أدلة على سد الذرائع واحتجوا بها، كما عمل بها كثير من الأئمة، وإليكم بعض الأدلة0

1- إن السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار ورثوا المطلقة المبتوتة في مرض الموت، حيث يتهم بقصد حرمانها من الميراث بلا تردد، وإن لم يقصد الحرمان، لأن الطلاق ذريعة وأما حيث لا يتهم ففيه خلاف معروف 20

وقد رجح ابن قدامة توريثها فقال:"وإن كان الطلاق في المرض المخوف، ثم مات من مرضه ذلك في عدتها ورثته، ولم يرثها إن ماتت، وروى عن عتبة بن عبد الله بن الزبير لا ترث مبتوته، ولنا: أن عثمان – رضي الله عنه – ورث تماضر بنت الأصبغ الكلبية من عبد الرحمن بن عوف، وكان طلقها في مرضه فبتها، واشتهر ذلك في الصحابة فلم ينكر فكان إجماعا" 30

إجماع الصحابة – رضي الله عنهم – وعامة الفقهاء على قتل الجماعة بالواحد، وإن كان قياس القصاص يمنع ذلك، لئلا يكون عدم القصاص ذريعة إلى التعاون على سفك الدماء، قال ابن قدامة:"

--------------------------------------------

1 مجموعة الفتاوى الكبرى جـ3 /140.

2 انظر مجموعة الفتاوى الكبرى لابن تيمية جـ4 /143.

3 المغنى جـ6 /329،330.
কারণ এই বক্তব্যটি যারা ইসলামে প্রবেশ করেছে এবং যারা এখনও প্রবেশ করেনি, তাদের সকলের মনে ইসলামের প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে; আর এই অনীহা সৃষ্টি করা হারাম।"১০

তৃতীয়ত: ইজমা (ঐক্যমত্য):

সাহাবীগণ এমন কিছু বিষয়ের ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন যার মাধ্যমে 'সাদ্দুজ যারায়ে' (অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করা) ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল পেশ করা সম্ভব। আলেম সমাজ সেগুলোকে সাদ্দুজ যারায়ে-এর দলিল হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তা দ্বারা প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন; তদ্রূপ অনেক ইমামও এর ওপর আমল করেছেন। নিচে কিছু দলিল উল্লেখ করা হলো—

১- মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে প্রথম যুগের অগ্রগামী ব্যক্তিবর্গ মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা (মাবতুতাহ) স্ত্রীকে উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত করেছেন। এক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশ্যের অভিযোগ থাকে, যদিও সেই ব্যক্তি বঞ্চনার ইচ্ছা না-ও করে থাকে; কেননা তালাক প্রদান এখানে একটি (বঞ্চনার) মাধ্যম। আর যেখানে এই অভিযোগের সুযোগ নেই, সেখানে সুপরিচিত মতভেদ রয়েছে। ২০

ইবনে কুদামা তাকে উত্তরাধিকারী করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন: "যদি তালাকটি আশঙ্কাজনক রোগের অবস্থায় হয়, অতঃপর সে ব্যক্তি সেই রোগেই ইদ্দত চলাকালীন মারা যায়, তবে স্ত্রী তার উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু স্ত্রী যদি মারা যায়, তবে স্বামী তার উত্তরাধিকারী হবে না। উতবা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী উত্তরাধিকারী হয় না। আমাদের দলিল হলো: উসমান (রা.) আবদুর রহমান ইবনে আউফ-এর স্ত্রী তামাদুর বিনতে আসবাগ আল-কালবিয়াহ-কে উত্তরাধিকারী করেছিলেন; অথচ আবদুর রহমান ইবনে আউফ অসুস্থ অবস্থায় তাকে চূড়ান্ত তালাক দিয়েছিলেন। বিষয়টি সাহাবীদের মাঝে ব্যাপকভাবে জানাজানি হয়েছিল এবং কেউ এর প্রতিবাদ করেননি, ফলে এটি ইজমায় পরিণত হয়েছে।" ৩০

সাহাবীগণ (রা.) এবং সাধারণ ফকিহগণের ঐক্যমত হলো—একজন ব্যক্তির হত্যার বিনিময়ে একাধিক ব্যক্তিকে (যারা হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত ছিল) হত্যা করা হবে; যদিও কিয়াস বা যুক্তির দাবি অনুযায়ী কিসাস তা হতে বাধা দেয়। এটি এজন্য যাতে কিসাস বর্জন রক্তপাতে একে অপরকে সহযোগিতা করার মাধ্যম না হয়ে দাঁড়ায়। ইবনে কুদামা বলেন:

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৩ / ১৪০।

২ ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মাজমুউল ফাতাওয়া আল-কুবরা দেখুন, খণ্ড ৪ / ১৪৩।

৩ আল-মুগনি, খণ্ড ৬ / ৩২৯, ৩৩০।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮২)
1- ولأن القصاص لو سقط بالاشتراك أدى إلى التسارع إلى القتل به، فيؤدى إلى إسقاط حكمة الردع والزجر"10

وقد تتابع كثير من العلماء على اعتبار سد الذرائع، وحكَّمها الإمام مالك في أكثر أبواب الفقه، كما ذكر الشاطبي 2، وقال بعد أن ذكر خلافا بين الإمامين مالك والشافعي:"فقد ظهر أن قاعدة سد الذرائع متفق على اعتبارها في الجملة"30

وقال ابن بدران:"سد الذرائع هو مذهب مالك وأصحابنا"40 يعنى الحنابلة0

وقد قال بها ابن تيمية، وذكر لها ثلاثين شاهدا من الشريعة يدل عليها 5، وتوسع ابن القيم فذكر تسعة وتسعين دليلا عليها، وختم كلامه بقوله:"ولنقتصر على هذا العدد من الأمثلة الموافق لأسماء الله الحسنى التي من أحصاها دخل الجنة، وباب سد الذرائع أحد أرباع التكليف، فإنه أمر ونهى، والأمر نوعان: أحدهما: مقصود لنفسه، والثاني: وسيلة إلى المقصود، والنهى نوعان: أحدهما: ما يكون المنهي عنه مفسدة في نفسه0 والثاني: ما يكون وسيلة إلى المفسدة، فصار سد الذرائع المفضية إلى الحرام أحد أرباع الدين" 60

--------------------------------------------

1 المرجع السابق جـ7 /672، ومجموعة الفتاوى الكبرى جـ4 /143.

2 الموافقات جـ4 /198.

3 المرجع السابق جـ4 /200،201.

4 المدخل إلى مذهب أحمد /138.

5 مجموعة الفتاوى الكبرى جـ3 /138 – 145.

6 إعلام الموقعين جـ3/171.
১- কারণ যদি অংশগ্রহণের কারণে কিসাস রহিত হয়ে যেত, তবে তা হত্যার দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়ার কারণ হতো, ফলে তা প্রতিরোধ ও দমনের হিকমতকে বিলুপ্ত করার দিকে পরিচালিত করত। ১০

অনেক আলেম ধারাবাহিকভাবে 'সাদ্দুজ যারায়ে' (অশুভ পথ বন্ধ করা)-কে গ্রহণ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইমাম মালিক ফিকহের অধিকাংশ অধ্যায়ে একে প্রয়োগ করেছেন, যেমনটি আশ-শাতিবি উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ীর মধ্যকার মতপার্থক্য উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সাদ্দুজ যারায়ে-এর মূলনীতিটি সামগ্রিকভাবে গ্রহণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।" ৩০

ইবনে বাদরান বলেন: "সাদ্দুজ যারায়ে হলো ইমাম মালিক এবং আমাদের সঙ্গীদের অর্থাৎ হাম্বলিদের মাযহাব।" ৪০

ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি সমর্থন করেছেন এবং এর সপক্ষে শরীয়ত থেকে ত্রিশটি প্রমাণ উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম বিষয়টি আরও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং নিরানব্বইটি দলিল প্রদান করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের সমাপ্তি টেনেছেন এই বলে: "আসুন আমরা উদাহরণের এই সংখ্যার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকি যা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের (আসমাউল হুসনা) সংখ্যার সাথে সংগতিপূর্ণ, যে ব্যক্তি এগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাদ্দুজ যারায়ে-এর অধ্যায়টি শরয়ী বিধানের এক-চতুর্থাংশ। কারণ শরীয়ত হলো আদেশ ও নিষেধের সমষ্টি। আদেশ দুই প্রকার: একটি হলো যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্দেশ্য, আর দ্বিতীয়টি হলো উদ্দেশ্যের মাধ্যম। নিষেধও দুই প্রকার: একটি হলো যা নিজেই অনিষ্টকর, আর দ্বিতীয়টি হলো যা অনিষ্টের দিকে পরিচালিত করার মাধ্যম। ফলে হারামের দিকে ধাবিত করার পথ বন্ধ করা দ্বীনের এক-চতুর্থাংশে পরিণত হয়েছে।" ৬০

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৭ / ৬৭২, এবং মাজমুআ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৪ / ১৪৩।

২. আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ৪ / ১৯৮।

৩. পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ৪ / ২০০, ২০১।

৪. আল-মাদখাল ইলা মাযহাবি আহমাদ / ১৩৮।

৫. মাজমুআ আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খণ্ড ৩ / ১৩৮ – ১৪৫।

৬. ইলামুল মুওয়াক্কিঈন, খণ্ড ৩ / ১৭১।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
‌‌الفصل الأول: سد الذرائع المؤدية إلى الشرك الأكبر

‌‌المبحث الأول: تعريف الشرك الأكبر وبيان خطورته

الشرك الأكبر: هو أن يجعل العبد لله شريكاً وندا في ربوبيته وإلهيته، وأغلب شرك المشركين وقع في توحيد الإلهية كدعاء غير الله، أو صرف أي لون من ألوان العبادة لغير الله كالذبح والنذر والخوف والرجاء والمحبة وما إلى ذلك0

والشرك بالله أعظم ذنب عصى الله به، فهو أظلم الظلم، وأكبر الكبائر، وما هلكت الأمم الغابرة وأعدت لهم النيران في الآخرة إلا بالشرك، وما أرسل الله الأنبياء والمرسلين وأنزل عليهم الكتب بالحق المبين إلا للتحذير منه وبيان قبحه وشؤمه، ودعوة الناس إلى ضده ألا وهو تحقيق التوحيد لله رب العالمين0

والشرك خطره عظيم وضرره على العبد كبير، وذلك للأسباب التالية:

1- لأنه تشبيه للمخلوق العاجز الضعيف بالواحد الأحد المتفرد بالجلال والكمال، ومن أشرك مع الله أحدا فقد شبهه به، وهذا أعظم الظلم كما في الصحيحين 10 من حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه – قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي الذنب أعظم عند الله؟ قال: " أن تجعل لله ندا وهو خلقك" قال النووى: "الند: الضد والشبه، وفلان ند فلان ونديده ونديدته أي: مثله.. أما أحكام هذا الحديث: ففيه أن أكبر المعاصي الشرك، وهذا ظاهر لا خفاء فيه"20

2- أن الله لا يغفر لمشرك مات على الشرك دون توبة0 قال الله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ} 30

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري في مواضع منها كتاب التفسير باب 3 جـ8 /163، وكتاب التوحيد باب 46 جـ13/503، ومسلم كتاب الإيمان0 باب كون الشرك أقبح الذنوب جـ1 /90.

2 شرح النووي على مسلم جـ2 /80،81.

3 النساء / آية: 48،117.
প্রথম পরিচ্ছেদ: বড় শিরকের দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমসমূহ বন্ধ করা

প্রথম অনুচ্ছেদ: বড় শিরকের সংজ্ঞা এবং এর ভয়াবহতার বর্ণনা

বড় শিরক হলো: বান্দা আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) এবং উলুহিয়্যাত (ইবাদত)-এ কাউকে তাঁর অংশীদার ও সমকক্ষ সাব্যস্ত করা। মুশরিকদের অধিকাংশ শিরক সংঘটিত হয়েছে তাওহীদে উলুহিয়্যাতের ক্ষেত্রে; যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকা, অথবা ইবাদতের যেকোনো প্রকার আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য নিবেদন করা—যেমন জবেহ করা, মানত করা, ভয় পাওয়া, আশা রাখা, ভালোবাসা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

আল্লাহর সাথে শিরক করা হলো জঘন্যতম গুনাহ যার মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতা করা হয়েছে। সুতরাং এটি চরম জুলুম এবং কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড়। অতীত জাতিসমূহ ধ্বংস হয়েছে এবং আখেরাতে তাদের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করা হয়েছে কেবল শিরকের কারণেই। আল্লাহ তাআলা নবী ও রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং সত্য স্পষ্টকারী কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন কেবল শিরক সম্পর্কে সতর্ক করতে এবং এর কুৎসিত রূপ ও অশুভ পরিণতি বর্ণনা করতে; আর মানুষকে এর বিপরীত বিষয়ের দিকে আহ্বান করতে—যা হলো রাব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা।

শিরকের ঝুঁকি অত্যন্ত ভয়ানক এবং বান্দার ওপর এর ক্ষতি অনেক বড়, আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:

১- কারণ এটি হলো অক্ষম ও দুর্বল সৃষ্টিকে ওই একক ও অদ্বিতীয় সত্তার সাথে তুলনা করা, যিনি মহিমা ও পূর্ণতায় অনন্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করল, সে মূলত তাকে আল্লাহর সদৃশ সাব্যস্ত করল। আর এটি হলো সবচেয়ে বড় জুলুম, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে—তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" ইমাম নববী বলেন: "নিদ (Nidd) হলো প্রতিপক্ষ ও সদৃশ। অমুক ব্যক্তি অমুকের নিদ বা নিদীদ বা নিদীদাহ—অর্থাৎ সে তার সমতুল্য। আর এই হাদীসের বিধান হলো: বড় গুনাহসমূহের মধ্যে শিরক সর্ববৃহৎ, আর এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।"

২- নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো মুশরিককে ক্ষমা করেন না যে তওবা না করে শিরকের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করেন না, তবে এছাড়া অন্য যেকোনো গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।}

--------------------------------------------

১ ইমাম বুখারী এটি একাধিক স্থানে বর্ণনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: কিতাবুত তাফসীর, অধ্যায় ৩, খণ্ড ৮/১৬৩; এবং কিতাবুত তাওহীদ, অধ্যায় ৪৬, খণ্ড ১৩/৫০৩; এবং মুসলিম: কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: শিরক জঘন্যতম গুনাহ হওয়া প্রসঙ্গে, খণ্ড ১/৯০।

২ শরহুন নববী আলা মুসলিম, খণ্ড ২/৮০, ৮১।

৩ আন-নিসা / আয়াত: ৪৮, ১১৭।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
1- أن الله حرم الجنة على كل مشرك 0 قال تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} 10

2- أن الشرك يحبط جميع الأعمال التي يعملها العبد، وتصير هباءً منثوراً في يوم الدين 0قال تعالى: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ} 20

--------------------------------------------

1 المائدة / آية: 72.

2 الزمر / آية: 65، 66.
১- নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক মুশরিকের ওপর জান্নাত হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।} ১০

২- শিরক বান্দার করা সমস্ত আমলকে নষ্ট করে দেয় এবং কিয়ামতের দিন তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বরং আপনি আল্লাহরই ইবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হোন।} ২০

--------------------------------------------

১ আল-মায়িদাহ / আয়াত: ৭২।

২ আয-যুমার / আয়াত: ৬৫, ৬৬।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
‌‌المبحث الثاني: بعض الآيات والأمثلة المتعلقة بسد الذرائع إلى الشرك الأكبر0

بعد الوقوف على خطورة الشرك الأكبر ومفاسده وأضراره أتعرض لذكر نماذج يسيرة من القرآن والسنة جاء بها الشرع الحكيم لقطع علائق الشرك كله وما يؤدى إليه، حتى يتبين لنا كيف أن الإسلام سدَّ الذرائع المؤدية إلى الشرك، وأحكم الحديث في هذا الباب أيما إحكام ليحذر العباد من الشرك ومن الوسائل المفضية إلى حصوله ووقوعه، فمن ذلك:

1- الآيات الدالة على عبودية عيسى – عليه السلام – وأنه بشر رسول مخلوق، ليس بإله، أو فيه جزء من الإله، أو أنه ابن الله - تعالى الله عما يقول الظالمون علوا كبيرا-، وذلك سدَّا لذريعة الشرك، واتخاذه إلها من دون الله أو مع الله، ودفعا لأي شبهة ترد على الطريقة التي خلق بها 0 قال تعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} 10

قال ابن تيمية:" فأعنى بقوله {مَثَلَ عِيسَى} إشارة إلى البشرية المأخوذة من مريم الطاهرة، لأنه لم يذكر هنا اسم المسيح، إنما ذكر عيسى فقط، فإنه سبحانه خلق هذا النوع البشرى على الأقسام الممكنة ليبين عموم قدرته، فخلق آدم من غير ذكر ولا أنثى، وخلق زوجته حواء من ذكر بلا أنثى، كما قال: {وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا} ، وخلق المسيح من أنثى بلا ذكر، وخلق سائر الخلق من ذكر وأنثى، وكان خلق آدم وحواء أعجب من خلق المسيح، فإن حواء خلقت من ضلع آدم، وهذا أعجب من خلق المسيح في بطن مريم، وخلق آدم أعجب من هذا وهذا، وهو أصل خلق حواء فلهذا شبهه الله بخلق آدم الذي هو أعجب من خلق المسيح، وهذا كله يبين به أن المسيح عبدُ ليس بإله، وأنه مخلوق كما خلق آدم"20

--------------------------------------------

1 آل عمران / آية: 59.

2 الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح جـ2 / 293 – 295.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শিরকে আকবরের দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমসমূহ বন্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু আয়াত ও উদাহরণ০

শিরকে আকবরের ভয়াবহতা, এর অনিষ্টতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে জানার পর, আমি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে কিছু সংক্ষিপ্ত নমুনা উল্লেখ করব, যা হিকমতপূর্ণ শরিয়ত শিরকের সমস্ত সম্পর্ক ও এর দিকে ধাবিতকারী বিষয়গুলোকে ছিন্ন করার জন্য নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে যে, ইসলাম কীভাবে শিরকের দিকে ধাবিতকারী মাধ্যমগুলোর পথ রুদ্ধ করেছে এবং এই বিষয়ে অত্যন্ত সুদৃঢ় আলোচনা পেশ করেছে, যাতে বান্দাদেরকে শিরক এবং শিরক সংঘটিত হওয়ার পেছনে প্রভাব বিস্তারকারী মাধ্যমগুলো থেকে সতর্ক করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে:

১- ঈসা —আলাইহিস সালাম— এর দাসত্বের প্রমাণ বহনকারী আয়াতসমূহ, এবং তিনি যে একজন মানুষ, প্রেরিত রাসূল এবং সৃষ্টি; তিনি কোনো ইলাহ নন, কিংবা তাঁর মধ্যে কোনো ঐশ্বরিক অংশ নেই এবং তিনি আল্লাহর পুত্রও নন —জালিমরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে বহুগুণ ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র—। এটি শিরকের পথ রুদ্ধ করার জন্য এবং তাঁকে আল্লাহ ব্যতীত বা আল্লাহর সাথে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখার জন্য এবং তাঁর সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিয়ে উত্থাপিত যেকোনো সংশয় নিরসনের জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের সদৃশ। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে বললেন: 'হও', ফলে সে হয়ে গেল।} ১০

ইবনে তাইমিয়া বলেন: "আমি {ঈসার দৃষ্টান্ত} কথাটি দ্বারা পবিত্র মারইয়াম থেকে গ্রহণকৃত তাঁর মানবীয় সত্তার দিকে ইঙ্গিত করছি। কারণ এখানে মসীহ নামটি উল্লেখ করা হয়নি, বরং কেবল ঈসা নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই মানব প্রজাতিকে সম্ভবপর সকল প্রকারে সৃষ্টি করেছেন যাতে তাঁর ক্ষমতার ব্যাপকতা প্রকাশ পায়। তিনি আদমকে কোনো পুরুষ বা নারী ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন কোনো নারী ছাড়া, যেমন তিনি বলেছেন: {এবং তিনি তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন}। আর মসীহকে তিনি নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন কোনো পুরুষ ছাড়াই এবং অবশিষ্ট সকল সৃষ্টিকে পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন। আদম ও হাওয়ার সৃষ্টি ছিল মসীহ-এর সৃষ্টির চেয়েও বিস্ময়কর। কেননা হাওয়া আদমের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি হয়েছেন, যা মারইয়ামের গর্ভে মসীহ-এর সৃষ্টির চেয়েও বিস্ময়কর। আর আদমের সৃষ্টি তো এই উভয় প্রকারের চেয়েও বিস্ময়কর, যা ছিল হাওয়ার সৃষ্টির মূল উৎস। এজন্যই আল্লাহ তাকে আদমের সৃষ্টির সাথে তুলনা করেছেন যা মসীহ-এর সৃষ্টির চেয়েও অধিক বিস্ময়কর। এ সবকিছুর মাধ্যমেই তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মসীহ একজন বান্দা মাত্র, ইলাহ নন এবং তিনি আদম সৃষ্টির ন্যায় একজন সৃষ্টি।"২০

--------------------------------------------

১. আল ইমরান / আয়াত: ৫৯।

২. আল-জাওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মসীহ, ২য় খণ্ড / ২৯৩ – ২৯৫।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
وقال ابن كثير:"يقول تعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِنْدَ اللَّهِ} في قدرة الله تعالى حيث خلقه من غير أب {كَمَثَلِ آدَمَ} فإنه الله تعالى خلقه من غير أب ولا أم، بل {خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} والذي خلق آدم قادر على خلق عيسى بطريق الأولى والأحرى، وإن جاز ادعاء البنوة في عيسى بكونه مخلوقاً من غير أب، فجواز ذلك في آدم بالطريقة الأولى، ومعلوم بالاتفاق أن ذلك باطل فدعواها في عيسى أشد بطلانا وأظهر فسادا، ولكن الرب عز وجل أراد أن يظهر قدرته حين خلق آدم لا من ذكر ولا من أنثى، وخلق حواء من ذكر بلا أنثى، وخلق عيسى من أنثى بلا ذكر، كما خلق البرية من ذكر وأنثى" 10

ويقرر ربنا في آيات أخرى بشرية عيسى وأمه – عليهما السلام وأنهما من جنس البشر، ويسلكان في الطبيعة البشرية ما يسلكه غيرهم0 قال تعالى: {مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَاّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ انْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الآياتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ} 20

يعنى أن عيسى رسول من رسل الله تعالى الذين أرسلوا لهداية البشرية ودعوتها إلى توحيد الله وعبادته، وأمه صديقة من فضليات النساء، وحقيقتهما مساوية لحقيقة غيرهما من أفراد نوعهما وجنسهما بدليل أنهما كان يأكلان الطعام، وكل من يأكل الطعام فهو مفتقر إلى ما يقيم بنيته ويمد حياته، إلى جانب أن أكل الطعام يستلزم الحاجة إلى دفع الفضلات، وعليه فلا يمكن أن يكون ربا خالقا، ولا ينبغي أن يكون ربا معبودا0

قال الشوكاني في تفسيره للآية: {مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَاّ رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} ، أي: هو مقصور على الرسالة لا يجاوزها كما زعمتم، وجملة {قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} صفة لرسول، أي ما هو إلا رسول من جنس الرسل الذين

--------------------------------------------

1تفسير القرآن العظيم لابن كثير جـ1/40.

2 المائدة / آية: 79.

ইবনে কাসীর বলেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত} আল্লাহ তাআলার কুদরতের ক্ষেত্রে, যেহেতু তিনি তাকে পিতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন {আদমের দৃষ্টান্তের মতো}। কেননা আল্লাহ তাআলা তাকে পিতা এবং মাতা উভয় ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন, বরং {তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তাকে বললেন: 'হও', ফলে সে হয়ে গেল}। আর যিনি আদমকে সৃষ্টি করেছেন তিনি ঈসাকে সৃষ্টি করতে আরও বেশি সক্ষম ও যোগ্য। যদি পিতা ছাড়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে ঈসার ক্ষেত্রে পুত্রত্বের দাবি করা বৈধ হয়, তবে আদমের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। অথচ ঐকমত্যের ভিত্তিতে জানা আছে যে, তা বাতিল; সুতরাং ঈসার ক্ষেত্রে সেই দাবি আরও বেশি বাতিল এবং এর অসারতা আরও স্পষ্ট। তবে রব আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর কুদরত প্রকাশ করতে চেয়েছেন যখন তিনি আদমকে পুরুষ বা নারী ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন, এবং হাওয়াকে নারী ছাড়াই পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন, এবং ঈসাকে পুরুষ ছাড়াই নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন, যেমনভাবে অন্য সৃষ্টিজগতকে তিনি পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন।" ১০

আমাদের রব অন্যান্য আয়াতে ঈসা ও তাঁর মাতা—তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—এর মানবীয় সত্তা হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁরা যে মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত তা স্পষ্ট করেছেন। অন্যান্য মানুষের ক্ষেত্রে মানবীয় প্রকৃতি যেমন হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও তা-ই কার্যকর ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মরিয়ম তনয় মসীহ তো কেবল একজন রাসূল; তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছেন এবং তাঁর জননী ছিলেন সত্যনিষ্ঠ। তাঁরা উভয়েই আহার গ্রহণ করতেন। লক্ষ্য করুন, আমি কীভাবে তাদের জন্য নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি, তারপর লক্ষ্য করুন, তারা কীভাবে সত্যবিচ্যুত হয়} ২০

অর্থাৎ ঈসা আল্লাহ তাআলার রাসূলগণের মধ্যে একজন রাসূল ছিলেন, যাঁদেরকে মানবজাতির হিদায়াতের জন্য এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও তাঁর ইবাদতের দিকে ডাকার জন্য পাঠানো হয়েছিল। আর তাঁর মা ছিলেন শ্রেষ্ঠ নারীদের মধ্যে একজন সত্যনিষ্ঠ নারী। তাঁদের বাস্তবতা তাঁদের প্রজাতির অন্য ব্যক্তিবর্গের বাস্তবতার মতোই ছিল, যার প্রমাণ হলো যে তাঁরা উভয়েই আহার গ্রহণ করতেন। আর যে ব্যক্তি আহার গ্রহণ করে, সে তার শারীরিক গঠন ঠিক রাখতে এবং জীবন টিকিয়ে রাখতে খাবারের মুখাপেক্ষী। পাশাপাশি আহার গ্রহণের সাথে মলমূত্র ত্যাগের প্রয়োজনীয়তাও জড়িত। অতএব, তিনি সৃষ্টিকর্তা রব হতে পারেন না এবং তাঁর উপাস্য রব হওয়াও সমীচীন নয়।

শাওকানী তাঁর তাফসীরে এই আয়াত সম্পর্কে বলেন: {মরিয়ম তনয় মসীহ তো কেবল একজন রাসূল; তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছেন}, অর্থাৎ: তাঁর মর্যাদা কেবল রিসালাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তোমরা যা দাবি করছো সেভাবে তা অতিক্রম করে না। আর {তাঁর পূর্বে অনেক রাসূল গত হয়েছেন} বাক্যটি ‘রাসূল’ শব্দের বিশেষণ; অর্থাৎ তিনি কেবল সেই শ্রেণির রাসূলদেরই একজন রাসূল যাঁরা...

--------------------------------------------

১. ইবনে কাসীরের তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, খণ্ড ১/৪০।

২. আল-মায়িদাহ / আয়াত: ৭৯।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
خلوا من قبله، وما وقع منه من المعجزات لا يوجب كونه إلها، فقد كان لمن قبله من الرسل مثلها، فإن الله أحيا العصا في يد موسى، وخلق آدم من غير أب، فكيف جعلتم إحياء عيسى للموتى ووجوده من غير أب يوجبان كونه إلها، فإن كان كما تزعمون إلها لذلك، فمن قبله من الرسل الذين جاءوا بمثل ما جاء به آلهة، وأنتم لا تقولون بذلك 0 قوله: {وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ} عطف على المسيح، أي: وما أمه إلا صديقة، وذلك لا يستلزم الإلهية لها، بل هي كسائر من يتصف بهذا الوصف من النساء0 قوله: {كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ} استئناف يتضمن التقرير لما أشير إليه من أنهما كسائر أفراد البشر: أي من كان يأكل الطعام كسائر المخلوقين فليس برب، بل هو عبد مربوب ولدته النساء، فمتى يصلح لأن يكون ربا" 10

وقال الشيخ عبد الرحمن السعدي في تفسيره:"أي: هذا غاتيه ومنتهى أمره، أنه من عباد الله المرسلين، الذين ليس لهم من الأمر، ولا من التشريع إلا ما أرسلهم به الله، وهو من جنس الرسل قبله، لا مزية له عليهم تخرجه عن البشرية إلى مرتبة الربوبية، {وَأُمُّهُ} مريم {صِدِّيقَةٌ} أي: هذا أيضا غايتها، أن كانت من الصديقين الذين هم أعلى الخلق رتبة بعد الأنبياء، فإذا كان عيسى –عليه السلام – من جنس الأنبياء والرسل من قبله، وأمه صديقة، فلأي شيئا تخذهما النصارى إلهين مع الله؟، وقوله: {كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ} دليل ظاهر على أنهما عبدان فقيران محتاجان كما يحتاج بنو آدم إلى الطعام والشراب، فلو كانا إلهين لاستغنيا عن الطعام والشراب ولم يحتاجا إلى شيء، فإن الإله هو الغنى الحميد" 20

--------------------------------------------

1 فتح القدير جـ2 /64.

2 تيسير الكريم الرحمن جـ2/ 326،327.
যারা তাঁর পূর্বে গত হয়েছেন। তাঁর থেকে প্রকাশিত মুজিজাসমূহ তাঁর ইলাহ হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি করে না। কারণ তাঁর পূর্ববর্তী রসূলগণের নিকটও অনুরূপ মুজিজা ছিল। কেননা আল্লাহ মূসার হাতে লাঠিকে জীবিত করেছিলেন এবং আদমকে পিতা ছাড়াই সৃষ্টি করেছিলেন। সুতরাং তোমরা কীভাবে ঈসা কর্তৃক মৃতকে জীবিত করা এবং পিতা ব্যতীত তাঁর অস্তিত্ব লাভ করাকে তাঁর ইলাহ হওয়ার কারণ হিসেবে নির্ধারণ করলে? যদি তোমাদের দাবি অনুযায়ী এই কারণে তিনি ইলাহ হন, তবে তাঁর পূর্ববর্তী যে সকল রসূল অনুরূপ মুজিজা নিয়ে এসেছিলেন তারাও ইলাহ, অথচ তোমরা তা বলো না। তাঁর বাণী: "এবং তাঁর মা অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ" এটি মাসীহ-এর ওপর সংযুক্ত, অর্থাৎ: তাঁর মা একজন সত্যনিষ্ঠ নারী ব্যতীত আর কিছু নন। আর এটি তাঁর জন্য উপাস্য হওয়ার দাবি রাখে না, বরং তিনি এই গুণাবলীতে গুণান্বিত অন্যান্য নারীদের মতোই। তাঁর বাণী: "তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন" এটি একটি নতুন বাক্য যা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে তাঁরা অন্য সকল মানুষের মতোই ছিলেন। অর্থাৎ, যারা অন্যান্য সৃষ্টির মতো খাবার খায় তারা রব বা প্রভু হতে পারে না। বরং সে একজন সৃষ্টি ও দাস যাকে নারীরা জন্ম দিয়েছে। সুতরাং সে কখন রব হওয়ার যোগ্যতা রাখে?

এবং শাইখ আব্দুর রহমান আস-সা'দী তাঁর তাফসীরে বলেন: "অর্থাৎ, এটিই তাঁর চূড়ান্ত সীমা যে, তিনি আল্লাহর প্রেরিত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। কোনো বিষয়ের পরিচালনা বা শরীয়ত প্রবর্তনে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই, কেবল আল্লাহ যা দিয়ে তাঁদের পাঠিয়েছেন তা ব্যতীত। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী রসূলগণের সমগোত্রীয়। তাঁদের ওপর তাঁর এমন কোনো বিশেষত্ব নেই যা তাঁকে মানবীয় পর্যায় থেকে বের করে রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের মর্যাদায় উন্নীত করবে। এবং তাঁর মা মারইয়াম অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ। অর্থাৎ, এটিই তাঁর সর্বোচ্চ মর্যাদা যে তিনি সিদ্দীকগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা নবীদের পর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। অতএব, ঈসা (আলাইহিস সালাম) যদি তাঁর পূর্ববর্তী নবী ও রসূলগণের সমগোত্রীয় হন এবং তাঁর মা অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ হন, তবে কেন খ্রিস্টানরা আল্লাহকে ছেড়ে তাঁদের দুইজনকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করল? এবং তাঁর বাণী: "তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন" এটি একটি সুস্পষ্ট দলিল যে তাঁরা উভয়ই অভাবী ও মুখাপেক্ষী বান্দা ছিলেন, যেমন আদম সন্তানরা খাদ্য ও পানীয়ের মুখাপেক্ষী হয়। যদি তাঁরা ইলাহ হতেন তবে খাদ্য ও পানীয় থেকে অমুখাপেক্ষী হতেন এবং কোনো কিছুরই প্রয়োজন বোধ করতেন না। কারণ ইলাহ হলেন অভাবমুক্ত ও পরম প্রশংসিত।"

--------------------------------------------

১ ফাতহুল কাদির, ২য় খণ্ড, ৬৪ পৃষ্ঠা।

২ তায়সীরুল কারীমুর রহমান, ২য় খণ্ড, ৩২৬, ৩২৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
وقال تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ} 1 وأن مريم ولدت إلها، ولذلك رد الله عليهم هذا البهتان وعليه فكيف يدَّعون الإلهية لمن يعترف على نفسه بأنه عبد مثلهم كما أن دلائل الحدوث ظاهرة عليه 20

وقال تعالى: {وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَاّمُ الْغُيُوبِ مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَاّ مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيداً مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} 30

قال القاسمي في تفسيره:" لا ذكر تعالى أنه يعدد نعمه على عيسى بحضرة الرسل واحدة فواحدة إشعاراً بعبوديته، فإن كل واحد من تلك النعم المعدودة عليه، تدل على أنه عبد وليس بإله ثم أتبع ذلك باستفهامه لينطق بإقراره – عليه السلام – على رؤوس الأشهاد بالعبودية، وأمره لهم بعبادة الله عز وجل إكذابا لهم في افترائهم عليه، وتثبيتا للحجة على قومه، فهذا سر سؤاله تعالى له، مع علمه بأنه لم يقل ذلك، وكل ذلك لتنبيه النصارى الذين كانوا في وقت نزول الآية ومن تأثر بهم على قبح مقالتهم وركاكة مذهبهم واعتقادهم"40

ومثل ذلك ما جاء في قوله تعالى: {قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيّاً} إلى قوله: {إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} 50

--------------------------------------------

1 المائدة /آية:72.

2 انظر الدين الخالص لصديق حسن خان جـ1 /25.

3 المائدة /آية:116، 117

4 محاسن التأويل جـ6 /2219.

5 مريم الآيات من 30 – 36.
মহান আল্লাহ বলেন: "তারা অবশ্যই কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন মারইয়াম-পুত্র মাসীহ।" ১ এবং (তারা আরও বলে) যে, মারইয়াম একজন ইলাহকে জন্ম দিয়েছেন। এজন্যই আল্লাহ তাদের এই অপবাদের প্রতিবাদ করেছেন। এমতাবস্থায়, তারা কীভাবে এমন একজনের জন্য ইলাহ হওয়ার দাবি করে যিনি নিজের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেন যে তিনি তাদের মতোই একজন বান্দা, আর তার মধ্যে সৃষ্ট হওয়ার নিদর্শনাবলীও স্পষ্ট। ২০

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যখন আল্লাহ বলবেন, হে মারইয়াম-পুত্র ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে দুই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো? তিনি বলবেন, আপনি সুমহান ও পবিত্র! যা বলার অধিকার আমার নেই, তা বলা আমার জন্য শোভনীয় নয়। আমি যদি তা বলতাম, তবে আপনি অবশ্যই তা জানতেন। আপনি আমার অন্তরের কথা জানেন, কিন্তু আমি আপনার অন্তরের কথা জানি না। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। আপনি আমাকে যা আদেশ করেছেন তা ছাড়া আমি তাদের অন্য কিছু বলিনি; তা এই যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব এবং তোমাদেরও রব। আর আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম যতক্ষণ আমি তাদের মাঝে ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে তুলে নিলেন, তখন আপনিই ছিলেন তাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সর্ববিষয়ের ওপর প্রত্যক্ষদর্শী।" ৩০

আল-কাসিমী তার তাফসীরে বলেন: "মহান আল্লাহ রাসূলগণের উপস্থিতিতে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি তাঁর নিয়ামতসমূহ একে একে গণনা করার কথা উল্লেখ করেছেন তাঁর দাসত্বের প্রতি ইঙ্গিত প্রদানের লক্ষ্যে। কারণ তাঁর প্রতি গণনাকৃত প্রতিটি নিয়ামত একথাই প্রমাণ করে যে তিনি একজন বান্দা, ইলাহ নন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এর অনুবর্তী করেছেন যাতে তিনি (আলাইহিস সালাম) সবার সামনে নিজ দাসত্বের স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইবাদতের আদেশ তাদের দিয়েছিলেন বলে ব্যক্ত করেন। এর উদ্দেশ্য হলো তাঁর ওপর তাদের মিথ্যা অপবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং তাঁর কওমের বিরুদ্ধে হুজ্জত বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত করা। মহান আল্লাহ তিনি সেটি বলেননি তা জানা সত্ত্বেও তাঁকে এই প্রশ্ন করার রহস্য এটাই। আর এ সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো সেই খ্রিস্টানদের এবং যারা তাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল—যারা এই আয়াত নাজিলের সময় বিদ্যমান ছিল—তাদের বক্তব্যের কদর্যতা এবং তাদের মতবাদ ও বিশ্বাসের অসারতা সম্পর্কে সতর্ক করা।" ৪০

আর অনুরূপ বিষয় মহান আল্লাহর এই বাণীতেও এসেছে: "তিনি বললেন, আমি তো আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।" তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব; সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। এটাই সরল পথ।" ৫০

--------------------------------------------

১ আল-মায়িদাহ / আয়াত: ৭২।

২ দেখুন সিদ্দিক হাসান খানের আদ-দীনুল খালিস, খণ্ড ১ / ২৫।

৩ আল-মায়িদাহ / আয়াত: ১১৬, ১১৭।

৪ মাহাসিনুত তাবীল, খণ্ড ৬ / ২২১৯।

৫ মারইয়াম, আয়াত: ৩০ – ৩৬।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
قال ابن كثير في تفسيره:"ومما أمر عيسى به قومه وهو في مهده: أن أخبرهم إذ ذاك أن الله ربهم وربه وأمرهم بعبادته فقال: {فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} أي: هذا الذي جئتكم به عن الله صراط مستقيم، أي: قويم0 من اتبعه رشد وهدى، ومن خالفه ضل وغوى"10

وعن عبادة بن الصامت – رضي الله عنه – عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، وأن عيسى عبد لله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه والجنة حق والنار حق أدخله الله الجنة على ما كان من العمل" 20

--------------------------------------------

1 تفسير ابن كثير جـ4 /225.

2 أخرجه البخاري في كتاب الأنبياء باب 47 جـ6 /474، ومسلم كتاب الإيمان جـ1 /58،59، وأحمد في مسنده جـ5 /313،314.
ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে বলেন: "ঈসা (আলাইহিস সালাম) দোলনায় থাকাবস্থায় তাঁর কওমকে যেসব বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি হলো: তিনি তখন তাঁদেরকে জানিয়েছিলেন যে আল্লাহ তাঁদের রব এবং তাঁরও রব, এবং তিনি তাঁদেরকে তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন: {কাজেই তোমরা তাঁরই ইবাদত করো, এটিই সরল পথ} অর্থাৎ: আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছি তা-ই সরল পথ, অর্থাৎ সঠিক পথ। যে ব্যক্তি এটি অনুসরণ করবে সে সঠিক পথ ও হিদায়াত প্রাপ্ত হবে, আর যে এর বিরোধিতা করবে সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হবে।"

উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আসা এক রূহ; আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য; আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যেমনই হোক না কেন।"

--------------------------------------------

১ তাফসীর ইবনে কাসীর, খণ্ড ৪ / ২২৫।

২ এটি বুখারী তাঁর 'নবীদের কাহিনী' কিতাবের ৪৭ নম্বর পরিচ্ছেদে, খণ্ড ৬ / ৪৭৪; মুসলিম 'ঈমান' কিতাবে, খণ্ড ১ / ৫৮, ৫৯; এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে, খণ্ড ৫ / ৩১৩, ৩১৪-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯০)
1- الآيات الدالة على عبودية النبي صلى الله عليه وسلم

جاءت آيات كثيرة في القرآن الكريم تدل وترشد إلى حقيقة هامة ألا وهى أن النبي صلى الله عليه وسلم بشر كسائر البشر، ولكنه فضل عليهم بالنبوة والرسالة التي توجب محبته وطاعته والانقياد لأمره صلى الله عليه وسلم، كما نهى صلى الله عليه وسلم عن الغلو والإطراء في شخصه، وذلك سدَّا لذريعة اتخاذه شريكا مع الله، أو صرف أي لون من ألوان العبادة له صلى الله عليه وسلم قال تعالى: {قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَلا ضَرّاً إِلَاّ مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَاّ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} 10 ولهذا كانت العبودية هي أشرف مقام للنبي صلى الله عليه وسلم وقد خاطبه ربه بها في أشرف المناسبات وأعظم المقامات قال تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ} 2، وقال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجَا} 30 وقال سبحانه: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيراً} 4، وقال تعالى: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ كَادُوا يَكُونُونَ عَلَيْهِ لِبَداً قُلْ إِنَّمَا أَدْعُو رَبِّي وَلا أُشْرِكُ بِهِ أَحَداً قُلْ إِنِّي لا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرّاً وَلا رَشَداً} 50

وإذا كان رسول رب العالمين الذي هو أكمل الخلق وأقربهم إلى الله عز وجل لا يملك ضرا ولا رشدا بنص كتاب الله الكريم فغيره من سائر الخلق ممن هم دونه صلى الله عليه وسلم من باب أولى وأحرى، بل إنه صلى الله عليه وسلم ما سبق غيره إلا بكمال عبوديته لربه0

قال ابن القيم: "أكمل الخلق أكملهم عبودية وأعظمهم شهودا لفقره وضرورته وحاجته إلى ربه وعدم استغنائه عنه طرفة عين، ولهذا كان من

--------------------------------------------

1 الأعراف / آية: 188.

2 الإسراء / آية: 1.

3 الكهف / آية: 1.

4 الفرقان / آية: 1.

5 الجن / الآيات من 19 – 21.
১- নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাসত্ব নির্দেশক আয়াতসমূহ

পবিত্র কুরআনে এমন অনেক আয়াত এসেছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের দিকে নির্দেশ করে এবং পথ দেখায়, আর তা হলো—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ, কিন্তু নবুওয়াত ও রিসালাতের মাধ্যমে তাঁকে তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে, যা তাঁর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য এবং তাঁর আদেশের অনুসারী হওয়াকে আবশ্যক করে। তদ্রূপ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে অতিরঞ্জন ও অতিপ্রশংসা করতে নিষেধ করেছেন, যাতে তাঁকে আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করার অথবা তাঁর জন্য কোনো প্রকার ইবাদত নিবেদন করার পথ রুদ্ধ করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আমার নেই। আর আমি যদি গায়েব (অদৃশ্য) জানতাম, তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতাম এবং কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।} ১ এই কারণেই দাসত্ব (উবুদিয়্যাত) ছিল নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য শ্রেষ্ঠতম মর্যাদা। তাঁর রব তাঁকে সবচেয়ে সম্মানিত উপলক্ষ্যসমূহে এবং মহান মাকামগুলোতে এই সম্বোধনই করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {পবিত্র ও মহিমাময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন।} ২, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।} ৩ এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বরকতময় সেই সত্তা যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান নাযিল করেছেন যেন তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন।} ৪, আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল, তখন তারা যেন তাঁর ওপর ভিড় জমাল। বলুন, আমি তো কেবল আমার রবকেই ডাকি এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করি না। বলুন, আমি তোমাদের কোনো অপকার বা উপকারের মালিক নই।} ৫

যদি রাব্বুল আলামীনের রাসূল—যিনি সৃষ্টির মধ্যে পূর্ণতম এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সবচেয়ে নিকটতম—পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী নিজের কোনো অপকার বা সঠিক পথের মালিক না হন, তবে সৃষ্টির অন্য যারা তাঁর নিচে রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে তো এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। বরং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রবের প্রতি দাসত্বের পূর্ণতার মাধ্যমেই অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণ সেই ব্যক্তি, যার দাসত্ব সবচেয়ে পূর্ণ এবং যে তার রবের প্রতি তার অভাব, মুখাপেক্ষিতা ও প্রয়োজনের ব্যাপারে এবং চোখের পলকের জন্যও তাঁর থেকে অমুখাপেক্ষী না হওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন। এই কারণেই..."

--------------------------------------------

১ আল-আরাফ / আয়াত: ১৮৮।

২ আল-ইসরা / আয়াত: ১।

৩ আল-কাহফ / আয়াত: ১।

৪ আল-ফুরকান / আয়াত: ১।

৫ আল-জিন / আয়াত: ১৯ – ২১।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯১)
دعائه صلى الله عليه وسلم "أصلح لي شأني كله، ولا تكلني إلى نفسي طرفة عين، ولا إلى أحد من خلقك" 1، وكان يدعو: "يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك" 2، يعلم صلى الله عليه وسلم أن قلبه بيد الرحمن عز وجل لا يملك منه شيئاً، وأن الله سبحانه يصرفه كما يشاء، وهو يتلو قوله تعالى: {وَلَوْلا أَنْ ثَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئاً قَلِيلاً} 3، فضرورته صلى الله عليه وسلم إلى ربه وفاقته إليه بحسب معرفته به، وحسب قربه منه ومنزلته عنده..، ولهذا كان أقرب الخلق إلى الله وسيلة وأعظمهم جاها وأرفعهم عنده منزلة لتكميله مقام العبودية والفقر إلى ربه ....، وذكره الله سبحانه بسمة العبودية في أشرف مقاماته، مقام الإسراء، ومقام الدعوة، ومقام التحدي فقال: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً} 40وقال: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ} 50 وفى حديث الشفاعة:"أن المسيح يقول لهم: اذهبوا إلى محمد عبد غفر الله له ما تقدم من ذنبه وما تأخر"6، فنال ذلك المقام بكمال عبوديته لله وبكمال مغفرة الله له"70 وللعلامة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي – رحمه الله – كلام جميل على هذا الموضوع يحسن إيراد شيئا منه هنا لتتم الفائدة0 قال وهو يفسر أوائل سورة الحجرات: "مسألتان: الأولى: اعلم أن عدم احترام النبي صلى الله عليه وسلم المشعر بالغض منه، أو تنقيصه صلى الله عليه وسلم والاستخفاف به، أو الاستهزاء به ردة عن الإسلام وكفر بالله، وقد قال تعالى في الذين استهزءوا بالنبي صلى الله عليه وسلم وسخروا منه في غزوة

--------------------------------------------

1 أخرجه أبوداود في كتاب الأدب باب 11 جـ5 /326، وأحمد في مسنده جـ5 /42.

2 أخرجه الترمذي في أبواب الدعوات جـ9 /504، ومسند أحمد جـ3 /257،والسنة لابن ابى عاصم جـ1 /101، والآجرى في الشريعة /317.

3 الإسراء / آية: 74.

4 الإسراء / آية:1.

5 الجن / آية: 19.

6 أخرجه البخاري في كتاب التوحيد باب 19 جـ13/ 392، ومسلم كتاب الإيمان باب 84 جـ1 /180، 181.

7 طريق الهجرتين وباب السعادتين ص 10،11.
তাঁর দুআ ছিল: "আমার সকল বিষয় সংশোধন করে দিন এবং চোখের পলকের জন্য হলেও আমাকে আমার নিজের কাছে বা আপনার সৃষ্টির অন্য কারও কাছে সোপর্দ করবেন না।"১ তিনি আরও দুআ করতেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।"২ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, তাঁর অন্তর পরম করুণাময় রহমানের হাতের মধ্যে রয়েছে, এর ওপর তাঁর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একে যেভাবে ইচ্ছা পরিবর্তন করেন। তিনি আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করতেন: {আর আমি যদি আপনাকে অবিচল না রাখতাম, তবে আপনি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তেন}৩। সুতরাং আল্লাহর প্রতি তাঁর মুখাপেক্ষিতা এবং অভাবের বোধ ছিল তাঁর মারেফত এবং আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর কাছে প্রাপ্ত মর্যাদার স্তর অনুযায়ী। এই কারণেই তিনি আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকটতম ওসিলা এবং সবচেয়ে বেশি সম্মান ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন; কারণ তিনি বন্দেগি (উবুদিয়্যাত) এবং তাঁর রবের প্রতি অভাবগ্রস্ততার স্তরকে পূর্ণতা দান করেছিলেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁকে তাঁর শ্রেষ্ঠতম স্থানসমূহে বন্দেগির বৈশিষ্ট্যে উল্লেখ করেছেন— ইসরা (নৈশ ভ্রমণ)-এর স্থানে, দাওয়াতের স্থানে এবং চ্যালেঞ্জের স্থানে। তিনি বলেছেন: {পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন}৪ এবং বলেছেন: {আর যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দাঁড়াল}৫। শাফায়াত সংক্রান্ত হাদিসে এসেছে: "মসীহ (আলাইহিস সালাম) তাদের বলবেন: তোমরা মুহাম্মাদের কাছে যাও, তিনি এমন এক বান্দা যার পূর্বের ও পরের সকল ভুল-ত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন"৬। সুতরাং তিনি সেই মর্যাদা লাভ করেছেন আল্লাহর প্রতি তাঁর পূর্ণাঙ্গ বন্দেগি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণাঙ্গ ক্ষমার মাধ্যমে"৭। আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী —রহিমাহুল্লাহ— এর এই বিষয়ে সুন্দর বক্তব্য রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ উপকারের স্বার্থে এখানে উল্লেখ করা সমীচীন হবে। সূরা আল-হুজুরাত-এর প্রারম্ভিক অংশের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: "দুটি মাসআলা: প্রথমটি: জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অভাব যা তাঁকে তুচ্ছ করা বা খাটো করার ইঙ্গিত দেয়, কিংবা তাঁকে অবজ্ঞা করা বা উপহাস করা— তা ইসলাম থেকে বিচ্যুতি এবং আল্লাহর সাথে কুফরি। আল্লাহ তায়ালা সেইসব লোকদের সম্পর্কে বলেছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে উপহাস ও ঠাট্টা করেছিল যুদ্ধের সময়...

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আদব অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ১১, খণ্ড ৫/৩২৬; এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে, খণ্ড ৫/৪২।

২ এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি, দুআসমূহ অধ্যায়, খণ্ড ৯/৫০৪; মুসনাদে আহমদ, খণ্ড ৩/২৫৭; ইবনে আবি আসিম কৃত আস-সুন্নাহ, খণ্ড ১/১০১; এবং আল-আজুরি কৃত আশ-শরীয়াহ, পৃষ্ঠা ৩১৭।

৩ আল-ইসরা / আয়াত: ৭৪।

৪ আল-ইসরা / আয়াত: ১।

৫ আল-জিন / আয়াত: ১৯।

৬ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, তাওহিদ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ১৯, খণ্ড ১৩/৩৯২; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ৮৪, খণ্ড ১/১৮০, ১৮১।

৭ তরিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুস সাআদাতাইন, পৃষ্ঠা ১০, ১১।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯২)
تبوك لما ضلت راحلته: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} 10

المسألة الثانية: وهى من أهم المسائل، اعلم أنه يجب على كل إنسان أن يميز بين حقوق الله تعالى التي هي من خصائص ربوبيته التي لا يجوز صرفها لغيره، وبين حقوق خلقه كحق النبي صلى الله عليه وسلم ليضع كل شيئ في موضعه على ضوء ما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم في هذا القرآن العظيم والسنة الصحيحة0

وإذا عرفت ذلك فاعلم: أن من الحقوق الخاصة بالله التي هي من خصائص ربوبيته التجاء عبده إليه إذا دهمته الكروب التي لا يقدر على كشفها إلا الله، فالتجاء المضطر الذي أحاطت به الكروب ودهمته الدواهي لا يجوز إلا لله وحده، لأنه من خصائص الربوبية، فصرف ذلك الحق لله وإخلاصه له هو عين طاعة الله ومرضاته، وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم ومرضاته، وهو عين التوقير والتعظيم للنبي صلى الله عليه وسلم لأن أعظم أنواع توقيره وتعظيمه هو اتباعه والاقتداء به في إخلاص التوحيد والعبادة له وحده جل وعلا، وقد بين جل وعلا في آيات كثيرة من كتابه أن التجاء المضطر من عباده إليه وحده في أوقات الشدة والكرب من خصائص ربوبيته تعالى … قال تعالى: {قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ} 2، ثم بين من خصائص ربوبيته الدالة على أنه المعبود وحده فقال: {أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ} فهذه المذكورات التي هي خلق السماوات والأرض وإنزال الماء من السماء وإنبات الحدائق ذات البهجة التي لا يقدر على إنبات شجرها إلا الله من خصائص ربوبيه الله، ولذا قال تعالى بعدها {أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ} يقدر على خلق

--------------------------------------------

1 التوبة / آية:65، 66.

2 النمل / آية: 59، 60.
তাবুক (অভিযান), যখন তাঁর বাহনটি হারিয়ে গিয়েছিল: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আমরা তো কেবল আলাপ-আলোচনা ও খেলাধুলা করছিলাম’। বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে? তোমরা ওজর পেশ করো না; তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করেছ’।} ১০

দ্বিতীয় মাসআলাহ: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত। জেনে রাখুন যে, প্রত্যেক মানুষের জন্য অপরিহার্য হলো আল্লাহ তাআলার হকসমূহ—যা তাঁর রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং যা তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য নিবেদন করা বৈধ নয়—এবং তাঁর সৃষ্টির হকসমূহ—যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হক—এর মধ্যে পার্থক্য করা; যাতে প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক স্থানে রাখা যায় সেই আলোর ভিত্তিতে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মহান কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহর মাধ্যমে নিয়ে এসেছেন।

যখন আপনি এটি জানলেন, তখন জেনে রাখুন: আল্লাহর সেই বিশেষ হকসমূহের অন্যতম, যা তাঁর রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্য, তা হলো কোনো বান্দার তাঁর কাছে আশ্রয় নেওয়া যখন এমন কোনো বিপদ তাকে গ্রাস করে যা দূর করার ক্ষমতা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। সুতরাং বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির আশ্রয় প্রার্থনা—যাকে মুসিবত ঘিরে ধরেছে এবং দুর্যোগ গ্রাস করেছে—একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে করা বৈধ নয়। কারণ এটি রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। অতএব সেই হককে আল্লাহর জন্য নিবেদন করা এবং তাতে একনিষ্ঠ হওয়া খোদ আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য ও সন্তুষ্টি। আর এটিই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদাদান। কারণ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের শ্রেষ্ঠতম ধরন হলো তাওহীদকে বিশুদ্ধ করায় এবং একমাত্র পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর ইবাদতে তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ করা। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, বিপদ ও সংকটের সময় তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির একমাত্র তাঁরই সমীপে আশ্রয় প্রার্থনা করা আল্লাহ তাআলার রুবুবিয়্যাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য … আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের ওপর যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ, নাকি তারা যাদের শরিক করে?} ২, অতঃপর তিনি তাঁর রুবুবিয়্যাতের এমন বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছেন যা প্রমাণ করে যে তিনিই একমাত্র উপাস্য (মা’বুদ)। তিনি বলেন: {বরং কে তিনি, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন? অতঃপর আমি তা দিয়ে মনোরম উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছি; যার বৃক্ষাদি উৎপাদন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা (সত্য থেকে) বিচ্যুত হয়।} সুতরাং এই উল্লিখিত বিষয়গুলো, যা হলো আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা, আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করা এবং মনোরম উদ্যানসমূহ উৎপন্ন করা—যার বৃক্ষাদি আল্লাহ ব্যতীত কেউ জন্মাতে সক্ষম নয়—তা আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা এর পরে বলেছেন {আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে?} যে সৃষ্টি করতে সক্ষম...

--------------------------------------------

১. আত-তাওবাহ / আয়াত: ৬৫, ৬৬।

২. আন-নামল / আয়াত: ৫৯, ৬০।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
السماوات والأرض وإنزال الماء من السماء وإنبات الحدائق به، والجواب "لا" لأنه لا إله إلا الله وحده"10

3- الآيات الدالة على أن دعاء غير الله واللجوء إليه شرك0

جاء آيات كثيرة في القرآن الكريم تبين أن الدعاء والاستعاذة والاستغاثة لا تكون إلا بالله وحده لا شريك له، وأن الآلهة الباطلة التي عبدت من دونه لا تملك لنفسها نفعاً ولا ضرا، فكيف يرجو العبد منها شيئا لا تملكه، وذلك سدَّا لذريعة التعلق بها، أو اعتقاد نفع فيها، ويسلك القرآن الكريم في ذلك مسلكا عظيما يضيق المقام عن استقصائه، ولكن تكفى الإشارة إلى بعض من ذلك 20

بيان عجز هذه الآلهة المزعومة وإبراز فقرها وضعفها كقوله تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلا تَحْوِيلاً أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُوراً} 30 وكقوله تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ ائْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ} 4 0 فقد بينت هذه الآيات بيانا شافيا قاطعا للعذر أن غير الله لا يدعى لأنه إلى جانب أنه لا ينفع ولا يضر لم يخلق شيئا بالاستقلال، كما لم يخلق شيئا بالشركة، وليس عند المشركين أي دليل على ما يفعلون ثم بينت الآيات ضلال من يدعو من دون الله من لا يستجيب له إلى يوم القيامة، بل نصَّت على أن المدعو غافل عن دعاء الداعي مما يبين عجزه وضعفه وشدة

--------------------------------------------

1 أضواء البيان في إيضاح القرآن بالقرآن جـ7 /617 – 621.

2 باختصار وتصرف من كتاب دعوة التوحيد للدكتور /محمد خليل هراس ص 35 - 40.

3 الإسراء آية: 56 – 57.

4 الأحقاف الآيات من 4 – 6.
আসমানসমূহ ও জমিন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ ও তা দিয়ে উদ্যানসমূহ উৎপন্ন করা, আর উত্তর হলো "না", কারণ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।"১০

৩- আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট দোয়া করা এবং কারো আশ্রয় গ্রহণ করা যে শিরক, তার প্রমাণবাহী আয়াতসমূহ।০

কুরআনুল কারীমে এমন বহু আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে যে, দোয়া, আশ্রয় প্রার্থনা এবং সাহায্য প্রার্থনা একমাত্র শরীকবিহীন আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হতে হবে। আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব বাতিল উপাস্যদের ইবাদত করা হয়েছে, তারা নিজেদের জন্য কোনো উপকার বা অপকারের মালিক নয়; এমতাবস্থায় একজন বান্দা তাদের কাছে এমন কিছুর প্রত্যাশা কীভাবে করে যা তাদের মালিকানাধীন নয়? এটি করা হয়েছে তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের অথবা তাদের মধ্যে কোনো উপকার আছে বলে বিশ্বাস করার পথকে রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। কুরআনুল কারীম এই বিষয়ে এমন এক মহান পদ্ধতি অবলম্বন করে যা বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্র এখানে অত্যন্ত সংকীর্ণ, তবে এর কিছু বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট। ২০

এই স্বঘোষিত উপাস্যদের অক্ষমতার বর্ণনা এবং তাদের অভাব ও দুর্বলতা প্রকাশ করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা যাদেরকে আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য মনে করো তাদের আহ্বান করো, তারা তো তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা যাদেরকে আহ্বান করে, তারাই তো তাদের রবের নিকট নৈকট্য লাভের মাধ্যম সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত নিকটতর হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের আযাব অত্যন্ত ভীতিপ্রদ।} ৩০ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের ডাকো, তাদের বিষয়ে আমাকে ভেবে দেখেছ কি? তারা জমিনের কী সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও, নাকি আসমানসমূহে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোনো জ্ঞান আমার কাছে নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যে আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? আর তারা তাদের ডাক সম্পর্কে বেখবর। আর যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে।} ৪ ০ এই আয়াতসমূহ অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে বর্ণনা করেছে যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা যাবে না। কারণ তারা উপকার বা অপকার করার ক্ষমতার ঊর্ধ্বে থেকে কোনো কিছু স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করেনি, আবার অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেও কোনো কিছু সৃষ্টি করেনি। আর মুশরিকদের নিকট তাদের কৃতকর্মের সপক্ষে কোনো দলিল নেই। অতঃপর আয়াতসমূহ সেই ব্যক্তির পথভ্রষ্টতা বর্ণনা করেছে যে আল্লাহ ছাড়া এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না। বরং এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাদের ডাকা হচ্ছে তারা আহ্বানকারীর দোয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর, যা তাদের অক্ষমতা, দুর্বলতা এবং তীব্রতাকে ফুটিয়ে তোলে

--------------------------------------------

১ আদওয়াউল বায়ান ফি ইদাহিল কুরআনি বিল কুরআন, খণ্ড ৭ / ৬১৭-৬২১।

২ ডক্টর মুহাম্মদ খলীল হাররাস রচিত দাওয়াতুত তাওহীদ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত, পৃষ্ঠা ৩৫-৪০।

৩ আল-ইসরা, আয়াত: ৫৬ - ৫৭।

৪ আল-আহকাফ, আয়াত: ৪ - ৬।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৪)
أ - احتياجه إلى خالقه وربه، وقد ذكر القاسمي –رحمه الله – في الآيات الأخيرة لطيفة جميلة نقلها عن من يعرف بالناصر وإليك نصها:"لطيفة: قال الناصر: في قوله {إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ} نكتة حسنة، وذلك أنه جعل يوم القيامة غاية لعدم الاستجابة، ومن شأن الغاية انتهاء المُغيَّا عندها لكن عدم الاستجابة مستمر بعد هذه الغاية، لأنهم في يوم القيامة أيضا لا يستجيبون لهم، فالوجه – والله أعلم – أنها من الغايات المشعرة بأن ما بعدها، وإن وافق ما قبلها، إلا أنه أزيد منه زيادة بينة تلحقه بالثاني، حتى كأن الحالتين وإن كانتا نوعا واحدا لتفاوت ما بينهما كال شيئ وضده، وذلك أن الحالة الأولى التي جعلت غايتها القيامة، لا تزيد على عدم الاستجابة، والحالة الثانية التي في القيامة زادت على عدم الاستجابة بالعداوة والكفر بعبادتهم إياهم، فهو من وادي ما تقدم آنفا في سورة الزخرف في قوله: {بَلْ مَتَّعْتُ هَؤُلاءِ وَآبَاءَهُمْ حَتَّى جَاءَهُمُ الْحَقُّ وَرَسُولٌ مُبِينٌ وَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ وَإِنَّا بِهِ كَافِرُونَ} 10

ومثل هذه الآيات ما جاء في قوله تعالى: {يُولِجُ اللَّيْلَ فِي النَّهَارِ وَيُولِجُ النَّهَارَ فِي اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمّىً ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ إِنْ تَدْعُوهُمْ لا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} 20

فقد أخبر الله فيها عن حال المدعويين من دونه من الملائكة والأنبياء وغيرهم بما يدل على عجزهم وضعفهم، وأنهم قد انتفت عنهم الأسباب التي تكون في المدعو، وهى الملك، وسماع الدعاء، والقدرة على استجابته، فمتى لم توجد هذه الشروط تامة بطلت دعوته، فكيف إذا عدمت بالكلية؟ 30

--------------------------------------------

1 محاسن التأويل جـ15 /5338، 5339، والآيتين من سورة الزخرف 29،30.

2 فاطر / آية: 13، 14.

3 انظر فتح المجيد شرح كتاب التوحيد / 188.
ক - তার স্রষ্টা ও প্রতিপালকের প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা। আল-কাসিমী (আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন) শেষদিকের আয়াতগুলোতে একটি চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা তিনি আন-নাসির হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করেছেন। তার পাঠ নিম্নরূপ: "সূক্ষ্ম বিষয়: আন-নাসির বলেন: মহান আল্লাহর বাণী {কিয়ামত দিবস পর্যন্ত}-এর মধ্যে একটি উত্তম সূক্ষ্ম তাৎপর্য রয়েছে। আর তা হলো এই যে, তিনি কিয়ামত দিবসকে সাড়া না পাওয়ার শেষ সীমা নির্ধারণ করেছেন। আর সীমার বৈশিষ্ট্য হলো যে বিষয়টির সীমা নির্ধারণ করা হয়, তা সেখানে গিয়ে শেষ হওয়া। কিন্তু সাড়া না পাওয়ার বিষয়টি এই সীমার পরেও অব্যাহত থাকবে, কারণ কিয়ামতের দিনেও তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। সুতরাং এর ব্যাখ্যা হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—এটি এমন সব সীমার অন্তর্ভুক্ত যা নির্দেশ করে যে, এর পরবর্তী অবস্থাটি যদিও আগের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু তা আগেরটির তুলনায় এতই সুস্পষ্টভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত যে তা তাকে দ্বিতীয় আরেকটি স্তরের সাথে যুক্ত করে দেয়। এমনকি অবস্থা দুটি এক প্রকারের হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যকার পার্থক্যের কারণে মনে হবে যেন তারা পরস্পর বিপরীত। আর তা এই কারণে যে, প্রথম অবস্থাটি—যার শেষ সীমা কিয়ামত পর্যন্ত রাখা হয়েছে—তা সাড়া না পাওয়ার অতিরিক্ত কিছু নয়। আর কিয়ামতের সময়ের দ্বিতীয় অবস্থাটি সাড়া না পাওয়ার সাথে সাথে তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করা ও শত্রুতা পোষণ করার মাধ্যমে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সূরা আয-যুখরুফের সেই বাণীর অনুরূপ যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে: {বরং আমিই এদেরকে এবং এদের পিতৃপুরুষদেরকে ভোগবিলাস করতে দিয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে সত্য ও একজন সুস্পষ্ট রাসূল আসল। আর যখন তাদের কাছে সত্য আসল, তারা বলল, ‘এ তো জাদু এবং আমরা একে অবশ্যই অস্বীকার করি।’}" 10

আর এই আয়াতগুলোর মতোই মহান আল্লাহর এই বাণী: {তিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান; তিনি সূর্য ও চাঁদকে বশীভূত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক; রাজত্ব কেবল তাঁরই। আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকো, তারা খেজুরের আঁটির পাতলা আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না, আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। আর কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। আর কোনো অভিজ্ঞ সত্তার মতো কেউ তোমাকে সংবাদ দিতে পারবে না।} 20

নিশ্চয়ই আল্লাহ এতে তাঁকে বাদ দিয়ে যাদের ডাকা হয়—যেমন ফেরেশতা, নবী ও অন্যান্যরা—তাদের অবস্থা সম্পর্কে এমন সংবাদ দিয়েছেন যা তাদের অক্ষমতা ও দুর্বলতা প্রমাণ করে। এবং তাদের থেকে সেই সব গুণাবলী বা কারণ বিলুপ্ত হয়েছে যা একজন ‘আহ্বানকৃত’ সত্তার মধ্যে থাকা আবশ্যক; আর তা হলো মালিকানা, ডাক শোনা এবং তাতে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। সুতরাং যখন এই শর্তগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায় না, তখন তার প্রতি আহ্বান বাতিল হয়ে যায়। তবে সেই ক্ষেত্রে কী হবে যেখানে এগুলো পুরোপুরিই অনুপস্থিত? 30

--------------------------------------------

1 মাহাসিনুত তাবীল, ১৫তম খণ্ড / ৫৩৩৮, ৫৩৩৯; এবং আয়াত দুটি সূরা আয-যুখরুফ ২৯, ৩০ থেকে।

2 ফাতির / আয়াত: ১৩, ১৪।

3 দেখুন: ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ / ১৮৮।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৫)
أ - التشنيع بحال العابدين لهذه الآلهة الباطلة ورميهم بالضلال والسفه وعدم التعقل والتفكر، حيث رضوا لأنفسهم أن يعبدوا من لا يستحق العبادة ممن لا يملك لهم ولا لغيرهم نفعا ولا ضرا ولا يسمع ولا يبصر، ولا يملك من أمر نفسه شيئا، وذلك لأن الإله يجب أن يكون متصفا بصفات الجلال والكمال منزها عن صفات العجز والنقص والحدوث والاحتياج، لأن كل ذلك مناف للإلهية 0 قال تعالى على لسان إبراهيم – عليه السلام – في خطابه لقومه: {أُفٍّ لَكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ} 10 وقال تعالى: {لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لا يَسْتَجِيبُونَ لَهُمْ بِشَيْءٍ إِلَاّ كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَاّ فِي ضَلالٍ} 20

جـ- تصوير ما سيكون وسيقع يوم القيامة بين العابدين والمعبودين، وبين الأتباع

والمتبوعين من التبرؤ والمعاداة وتنصل المعبودين من جناية هؤلاء العابدين، وإنكارهم أن يكون لهم يد في إضلالهم وشركهم، ومن ذلك ما جاء في قوله تعالى: {وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعاً ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا مَكَانَكُمْ أَنْتُمْ وَشُرَكَاؤُكُمْ فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَاؤُهُمْ مَا كُنْتُمْ إِيَّانَا تَعْبُدُونَ فَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيداً بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِنْ كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغَافِلِينَ هُنَالِكَ تَبْلُو كُلُّ نَفْسٍ مَا أَسْلَفَتْ وَرُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلاهُمُ الْحَقِّ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَا كَانُوا يَفْتَرُونَ} 30

يقول ابن كثير في هذه الآيات:"وفى هذا تبكيت عظيم للمشركين الذين عبدوا مع الله غيره، ممن لا يسمع ولا يبصر، ولا يغنى عنهم شيئا، ولم يأمرهم بذلك ولا رضي به ولا أراده، بل تبرأ منهم في وقت أحوج ما يكونون إليه،

--------------------------------------------

1 الأنبياء / آية: 67.

2 الرعد / آية: 14.

3 يونس الآيات من 28 – 30.
ক - এই সকল বাতিল উপাস্যদের ইবাদতকারীদের অবস্থার তীব্র নিন্দা জানানো এবং তাদের পথভ্রষ্টতা, নির্বুদ্ধিতা ও বিচার-বুদ্ধিহীনতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা। কেননা তারা নিজেদের জন্য এমন কিছুর ইবাদত করতে পছন্দ করেছে যারা ইবাদতের যোগ্য নয়; যারা না নিজেদের, না অন্যের কোনো উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে, না তারা শোনে, না তারা দেখে এবং নিজেদের কোনো বিষয়েই যাদের কোনো অধিকার নেই। এটি এই কারণে যে, ইলাহ বা উপাস্যকে অবশ্যই মহিমা ও পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত হতে হবে এবং অক্ষমতা, ত্রুটি, নতুন সৃষ্টি হওয়া ও মুখাপেক্ষিতার বৈশিষ্ট্য থেকে পবিত্র হতে হবে। কারণ এই সব কিছুই উপাস্য হওয়ার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জবানে তাঁর কওমের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেন: {ধিক তোমাদের জন্য এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের জন্য! তবে কি তোমরা বুঝবে না?} ১০ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {সত্যের আহ্বান কেবল তাঁরই। যারা তাঁর পরিবর্তে অন্যকে ডাকে, তারা তাদের কোনো সাড়া দিতে পারে না; তাদের অবস্থা তো সেই ব্যক্তির মতো, যে পানির দিকে নিজের দুহাত বাড়িয়ে দেয় যেন তা তার মুখে পৌঁছে, অথচ তা সেখানে পৌঁছাবে না। আর কাফেরদের ডাক কেবল পথভ্রষ্টতাতেই নিমজ্জিত।} ২০

গ- কিয়ামতের দিন ইবাদতকারী ও উপাস্যদের মধ্যে এবং অনুসারী ও অনুসৃতদের মধ্যে যা ঘটবে এবং সংঘটিত হবে তার চিত্রায়ণ;

যেমন একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, শত্রুতা এবং উপাস্যদের পক্ষ থেকে এই ইবাদতকারীদের অপরাধ থেকে দায়মুক্ত হওয়া। উপাস্যরা অস্বীকার করবে যে তাদের পথভ্রষ্টতা ও শিরকের পেছনে তাদের কোনো হাত ছিল। যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে এসেছে: {যেদিন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর যারা শিরক করেছে তাদের বলব, ‘তোমরা এবং তোমাদের শরীকরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো’। অতঃপর আমি তাদের একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব এবং তাদের শরীকরা বলবে, ‘তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না। সুতরাং আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট যে, আমরা তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে বেখবর ছিলাম’। সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তিই ইতিপূর্বে যা করেছে তার পরীক্ষা দেবে এবং তারা তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করত তা তাদের থেকে হারিয়ে যাবে।} ৩০

ইবনে কাসীর এই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় বলেন: "আর এতে সেই মুশরিকদের জন্য এক ভয়াবহ তিরস্কার রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অন্যের ইবাদত করত, যারা শোনে না, দেখে না এবং তাদের কোনো উপকারও করতে পারে না। তারা (উপাস্যরা) তাদের এই ইবাদতের নির্দেশ দেয়নি, এতে সন্তুষ্ট ছিল না এবং তা চায়নি। বরং যখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে, তখনই তারা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে নেবে।"

--------------------------------------------

১ আল-আম্বিয়া / আয়াত: ৬৭।

২ আর-রা'দ / আয়াত: ১৪।

৩ ইউনুস, আয়াত: ২৮ – ৩০।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৬)
وقد تركوا عبادة الحي القيوم السميع البصير، القادر على كل شيء، العليم بكل شيء، وقد أرسل رسله وأنزل كتبه آمرا بعبادته وحده لا شريك له ناهيا عن عبادة ما سواه، كما قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} 1، وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} 2، وقال: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} 30

والمشركون أنواع وأقسام كثيرون قد ذكرهم الله في كتابه، وبين أحوالهم وأقوالهم ورد عليهم فيما هم فيه أتم رد"40

--------------------------------------------

1 النحل / آية:36.

2 الأنبياء / آية: 25.

3 الزخرف / آية: 45.

4 تفسير ابن كثير جـ3 /201، 202، وراجع ما بعدها من صفحات فإنه كلام جيد ونفيس0
তারা চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, সর্ববিষয়ে সক্ষম এবং সর্বজ্ঞাত সত্তার ইবাদত বর্জন করেছে। অথচ তিনি তাঁর রাসূলদের প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়ে, যাঁর কোনো শরিক নেই, এবং তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করতে নিষেধ করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু লোককে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং কিছু লোকের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে} ১, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার কাছে আমি এই ওহী নাযিল করিনি যে, আমি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো} ২, এবং তিনি বলেন: {আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের জিজ্ঞাসা করুন, আমি কি রহমান ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য স্থির করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হবে?} ৩

মুশরিকরা অনেক প্রকার ও শ্রেণিতে বিভক্ত যাদের কথা আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, এবং তাদের অবস্থা ও বক্তব্য বর্ণনা করেছেন এবং তারা যে পথে রয়েছে তার পরিপূর্ণ খণ্ডন করেছেন।" ৪

--------------------------------------------

১ আন-নাহল / আয়াত: ৩৬।

২ আল-আম্বিয়া / আয়াত: ২৫।

৩ আজ-জুখরূফ / আয়াত: ৪৫।

৪ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৩য় খণ্ড / ২০১, ২০২; এবং এর পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো দেখুন, কারণ সেগুলো চমৎকার ও অমূল্য বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৭)
‌‌المبحث الثالث: بعض أحاديث سد الذرائع المتعلقة بالشرك الأكبر0

بعث رسول الهدى صلى الله عليه وسلم رحمة للعالمين وهداية للناس أجمعين، وكان صلى الله عليه وسلم حريصا كل الحرص على رجوع العباد إلى ربهم وعبادتهم له وحده، وكان توحيد العبادة على رأس المهمات التي ركز عليها صلى الله عليه وسلم، بل هو لُبَّ دعوته ودعوة إخوانه من الأنبياء والمرسلين، ولذلك لا نجد عجبا حينما نجد كتب السنة قد امتلأت بكثير من الأحاديث التي حذر فيها النبي صلى الله عليه وسلم أمته من الشرك، واحتاط صلى الله عليه وسلم لهذا الأمر احتياطا عظيما بالغا، فسد الذرائع وأغلق أي باب يؤدى إلى الشرك، وأكَّد وكرر ونهى وحذر في مواقف مختلفة متعددة، حتى وقع ذلك منه صلى الله عليه وسلم وهو على فراش الموت0

يقول شيخ الإسلام ابن تيمية:"وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يحقق هذا التوحيد لأمته، ويحسم عنهم مواد الشرك، إذ هذا تحقيق قولنا "لا إله إلا الله"، فإن الإله هو الذي تألهه القلوب لكمال المحبة والتعظيم والإجلال والإكرام والرجاء والخوف" 10

وهذه نبذة يسيرة مما قاله صلى الله عليه وسلم في ذلك0

1- نهى عن الغلو فيه حتى لا يكون ذلك ذريعة إلى عبادته من دون الله، أو مع الله0

فعن عمر بن الخطاب – رضي الله عنه – قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم، فإنما أنا عبده فقولوا: عبد الله ورسوله" 2 والإطراء هو مجاوزة الحد في المدح والكذب فيه 3، ولذلك نهى عنه النبي صلى الله عليه وسلم حتى لا تقع أمته فيه، وتفعل كما فعلت النصارى بعيسى بن مريم0

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى جـ1 /136.

2 أخرجه البخاري في كتاب الأنبياء باب 48 جـ6 / 478، والدرامي في كتاب الرقائق جـ2 /320، وأحمد في مسنده جـ1/23، 24، 47، 55.

3 النهاية في غريب الحديث والأثر جـ3/123.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বড় শিরক সংক্রান্ত 'সুদ আল-যারায়ে' (পথ রুদ্ধকরণ) সম্পর্কিত কিছু হাদিস

হেদায়েতের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল জগতের জন্য রহমত এবং সকল মানুষের জন্য হেদায়েত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বান্দাদেরকে তাদের রবের দিকে ফিরিয়ে আনা এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। ইবাদতের তাওহীদ ছিল সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শীর্ষে যার উপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বারোপ করেছেন, বরং এটিই ছিল তাঁর এবং তাঁর ভাই নবী ও রাসূলগণের দাওয়াতের মূল নির্যাস। তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যখন আমরা দেখি যে, সুন্নাহর কিতাবসমূহ এমন অনেক হাদিসে পরিপূর্ণ যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে শিরক থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। তিনি শিরকের পথসমূহ (যারায়ে) রুদ্ধ করেছেন এবং শিরকের দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বারংবার তাকিদ দিয়েছেন, নিষেধ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, এমনকি মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থায়ও তাঁর পক্ষ থেকে এমনটি ঘটেছে।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য এই তাওহীদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাদের জন্য শিরকের উৎসগুলোকে সমূলে বিনাশ করেছেন। কারণ এটিই আমাদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বাণীর প্রকৃত বাস্তবায়ন। কেননা 'ইলাহ' বা উপাস্য তিনিই, যাঁর প্রতি অন্তরের চূড়ান্ত ভালোবাসা, মহিমা, মর্যাদা, সম্মান, আশা এবং ভয়ের কারণে অন্তর ঝুঁকে থাকে।" ১

এ সম্পর্কে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো।

১- তাঁর (রাসূলের) ব্যাপারে অতিরঞ্জন করতে নিষেধ করেছেন, যাতে এটি আল্লাহকে ছেড়ে বা আল্লাহর সাথে তাঁর ইবাদত করার মাধ্যম বা পথ হয়ে না দাঁড়ায়।

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা আমার প্রশংসায় এমন অতিরঞ্জন করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ইবনে মারিয়ামের ক্ষেত্রে করেছে। আমি তো কেবল তাঁর বান্দা, তাই তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" ২ আর 'ইতরা' (অতিরঞ্জন) হলো প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করা এবং তাতে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া। ৩ একারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি থেকে নিষেধ করেছেন যাতে তাঁর উম্মত এতে লিপ্ত না হয় এবং খ্রিস্টানরা ঈসা ইবনে মারিয়ামের সাথে যা করেছে তারা তেমনটি না করে।

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ১ / ১৩৬।

২ বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'কিতাবুল আম্বিয়া' অধ্যায় ৪৮, খণ্ড ৬ / ৪৭৮; দারেমি 'কিতাবুর রিকাক' খণ্ড ২ / ৩২০; এবং আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে খণ্ড ১ / ২৩, ২৪, ৪৭, ৫৫।

৩ আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, খণ্ড ৩ / ১২৩।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৮)
قال الشيخ عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ في شرحه للحديث:"أي لا تمدحوني فتغلوا في مدحي كما غلت النصارى في عيسى – عليه السلام فادَّعوا فيه الإلهية، وإنما أنا عبد الله ورسوله فصفوني بذلك كما وصفني ربى فقولوا عبد الله ورسوله…"10

وقد بين النبي صلى الله عليه وسلم أن الغلو بصفة عامة أهلك الأمم السابقة، وكان سببا في القضاء عليها، ومن هنا حذر أمته منه حتى لا تهلك كهلاكهم، فعن ابن عباس – رضي الله عنه – قال:"قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم غداه جمع 2 "هلَّم القط لي"، فلقطت له حصيات من حصى الخذف 3، فلما وضعهن في يده قال: "نعم بأمثال هؤلاء، وإياكم والغلو في الدين فإنما هلك من كان قبلكم بالغلو في الدين" 40

ولمسلم عن ابن مسعود – رضي الله عنه – قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "هلك المتنطعون" قالها ثلاثا 50 والمتنطعون: هم المتعمقون الغالون المجاوزون الحدود في أقوالهم وأفعالهم 60

وكرر النبي صلى الله عليه وسلم هذه الكلمة ثلاث مرات مبالغة في التعليم والإبلاغ، وتحذيرا من الوقوع فيه لخطره وضرره على العقيدة وحماية لجناب التوحيد0

قال ابن القيم:"فدين الله بين الغالي فيه والجافي عنه، وخير الناس النمط الأوسط، وقد جعل الله سبحانه هذه الأمة وسطا، وهى الخيار العدل لتوسطها

--------------------------------------------

1 فتح المجيد شرح كتاب التوحيد ص 203، 231.

2 يعنى مزدلفة0

3 أي حصى صغارا. انظر لسان العرب جـ9 / 61.

4 أخرجه أحمد في مسنده جـ1/215، 347، والنسائي في كتاب مناسك الحج جـ5 /218، وابن ماجة كتاب المناسك باب 63 جـ2/1008، وابن أبى عاصم في السنة جـ1/46، والحاكم في المستدرك، وقال: صحيح على شرط الشيخين ووافقه الذهبي.

5 صحيح مسلم كتاب العلم باب 4 جـ4 / 2055.

6 شرح النووي على مسلم جـ16 / 220.
শায়খ আব্দুর রহমান বিন হাসান আল-শায়খ হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন: "অর্থাৎ তোমরা আমার প্রশংসা করো না, ফলে আমার প্রশংসায় এমন বাড়াবাড়ি করো না যেমনটি খ্রিস্টানরা ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল এবং তাঁর মাঝে ঈশ্বরত্বের দাবি করেছিল; বরং আমি কেবল আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। সুতরাং তোমরা আমাকে সেভাবেই অভিহিত করো যেভাবে আমার রব আমাকে অভিহিত করেছেন, অর্থাৎ তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল..."১০

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, সাধারণভাবে বাড়াবাড়ি (গুলু) পূর্ববর্তী জাতিসমূহকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তা ছিল তাদের নির্মূল হওয়ার কারণ। এ কারণেই তিনি স্বীয় উম্মতকে এ থেকে সতর্ক করেছেন যাতে তারা তাদের মতো ধ্বংস না হয়ে যায়। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাম' (মুযদালিফা) এর ভোরে আমাকে বললেন, 'এসো, আমার জন্য পাথর কুড়াও'। তখন আমি তাঁর জন্য ছোট ছোট নুড়ি পাথর কুড়ালাম। যখন আমি পাথরগুলো তাঁর হাতে দিলাম, তখন তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, এগুলোর মাধ্যমেই (পাথর নিক্ষেপ করো)। আর তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা থেকে বেঁচে থাকো। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে'।" ৪০

মুসলিমে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "চরমপন্থীরা ধ্বংস হয়ে গেছে।" তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন। ৫০ আর চরমপন্থী (মুতানাত্তিউন) হলো তারাই যারা তাদের কথা ও কাজে সীমালঙ্ঘনকারী, গভীরতা তালাশকারী এবং সীমা অতিক্রমকারী। ৬০

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা প্রদান ও প্রচারের গুরুত্ব বুঝাতে এবং এতে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক করতে এই কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। কারণ আকিদার ওপর এর ভয়াবহ বিপদ ও ক্ষতি রয়েছে এবং তাওহীদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে তিনি এমনটি করেছেন। ০

ইবনুল কায়্যিম বলেছেন: "আল্লাহর দ্বীন হলো বাড়াবাড়িকারী এবং শৈথিল্য প্রদর্শনকারীর মধ্যবর্তী। আর সর্বোত্তম মানুষ হলো মধ্যম পন্থার অনুসারীরা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই উম্মতকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছেন, আর এই মধ্যপন্থা অবলম্বনের কারণেই তারা হলো শ্রেষ্ঠ ও ইনসাফপূর্ণ জাতি।"

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ, পৃষ্ঠা ২০৩, ২৩১।

২ অর্থাৎ মুযদালিফা।

৩ অর্থাৎ ছোট ছোট পাথর। দেখুন: লিসানুল আরব, খণ্ড ৯ / ৬১।

৪ আহমাদ তাঁর মুসনাদে (খণ্ড ১/২১৫, ৩৪৭), নাসাঈ কিতাবুন মানাসিকিল হাজ্জে (খণ্ড ৫/২১৮), ইবনে মাজাহ কিতাবুল মানাসিক অনুচ্ছেদ ৬৩ (খণ্ড ২/১০০৮), ইবনে আবি আসিম আস-সুন্নাহ গ্রন্থে (খণ্ড ১/৪৬), এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

৫ সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইলম, অনুচ্ছেদ ৪, খণ্ড ৪ / ২০৫৫।

৬ মুসলিমে ইমাম নববীর শারহ (ব্যাখ্যা), খণ্ড ১৬ / ২২০।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ১৯৯)
بين الطرفين المذمومين، والعدل: هو بين طرفي الجور والتفريط، والآفات إنما تتطرق إلى الأطراف والأوساط محمية بأطرافها، فخيار الأمور أوساطها0

قال الشاعر:

كانت هي الوسط المحمى فاكتنفت … بها الحوادث حتى أصبحت طرفا10

وقد كان الغلو هو سبب عبادة الأصنام وحدوث الشرك في الأرض كما جاء في البخارى عن ابن عباس – رضي الله عنه في قول الله تعالى: {وَقَالُوا لا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلا تَذَرُنَّ وَدّاً وَلا سُوَاعاً وَلا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْراً} 2 قال: "أسماء رجال صالحين من قوم نوح، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون أنصابا وسموها بأسمائهم ففعلوا فلم تعبد، حتى إذا هلك أولئك وتنسخ 3 العلم عبدت"40

فهؤلاء كما جاء في الحديث غلوا في هؤلاء الصالحين لماَّ صوروا صورهم ونصبوها في مجالسهم، وكان الدافع لهم إلى ذلك – في زعمهم- أن ينشطوا ويجتهدوا في الطاعة والعبادة ويسلكوا سبيلهم ولكن آل الأمر بعد طول الأمد وغلبة الجهل ووسوسة الشيطان إلى عبادتهم من دون الله عز وجل، وقد ساق ابن جرير الطبري بإسناده إلى محمد بن قيس أنه قال:"كانوا قوما صالحين من بنى آدم، وكان لهم أتباع يقتدون بهم، فلما ماتوا قال أصحابهم الذين كانوا يقتدون بهم: لو صورناهم كان أشوق لنا إلى العبادة إذا ذكرناهم فصوروهم، فلما ماتوا وجاء آخرون دب إليهم إبليس فقال:"إنما كانوا يعبدونهم وبهم يسقون المطر فعبدوهم"50

--------------------------------------------

1 إغاثة اللهفان من مصايد الشيطان جـ1 / 182.

2 نوح / آية: 23.

3 يعنى تحول وتغير ونسى بسبب ذهاب العلماء0

4 البخاري كتاب التفسير جـ8 /667.

5 جامع البيان في تفسير القرآن جـ29 / 62.
দুই নিন্দিত প্রান্তের মাঝে; আর ন্যায়বিচার হলো যুলুম ও শিথিলতার দুই প্রান্তের মাঝে। বিপদ-আপদ সাধারণত প্রান্তসমূহকে আক্রমণ করে, আর মধ্যভাগ তার প্রান্তগুলো দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। তাই সর্বোত্তম বিষয় হলো মধ্যপন্থা।

কবি বলেছেন:

এটি ছিল সুরক্ষিত মধ্যভাগে, অতঃপর একে ঘিরে ধরল … বিপদসমূহ যতক্ষণ না এটি একটি প্রান্তে পরিণত হলো।

আর বাড়াবাড়িই ছিল মূর্তি পূজা এবং পৃথিবীতে শিরক সৃষ্টির কারণ, যেমনটি বুখারীতে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে: {আর তারা বলল, 'তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; আর ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়া‘ঊক ও নাসরকেও ত্যাগ করো না।'} তিনি বলেন: "এগুলো নূহ-এর সম্প্রদায়ের কতিপয় নেককার লোকের নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন শয়তান তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের মনে এই কুমন্ত্রণা দিল যে, তারা যেখানে বসে মজলিস করত সেখানে কিছু ভাস্কর্য স্থাপন করো এবং সেগুলোকে তাদের নামেই নামকরণ করো। তারা তা-ই করল, কিন্তু তখন সেগুলোর ইবাদত করা হতো না। তবে যখন তারা মারা গেল এবং ইলম মিটে গেল, তখন তাদের ইবাদত করা শুরু হলো।"

সুতরাং হাদীসে যেমনটি এসেছে, তারা এই নেককার লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল যখন তারা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করেছিল এবং তাদের মজলিসে স্থাপন করেছিল। তাদের ধারণামতে এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল আনুগত্য ও ইবাদতে উদ্দীপনা ও প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করা এবং তাদের পথ অনুসরণ করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর, মূর্খতা ছড়িয়ে পড়া এবং শয়তানের কুমন্ত্রণার কারণে শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ ব্যতিরেকে তাদের ইবাদত শুরু হলো। আর ইবনে জারীর তাবারী তার সনদে মুহাম্মদ বিন কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তারা ছিল বনী আদমের কিছু নেককার লোক এবং তাদের অনুসারী ছিল যারা তাদের অনুসরণ করত। যখন তারা মারা গেল, তখন তাদের অনুসারীরা যারা তাদের অনুসরণ করত তারা বলল: ‘যদি আমরা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করতাম, তবে যখন তাদের কথা আমাদের স্মরণে আসত, তখন তা আমাদের ইবাদতের প্রতি অধিক আগ্রহী করত।’ অতঃপর তারা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করল। এরপর যখন তারা মারা গেল এবং অন্যেরা এল, তখন ইবলিস তাদের কাছে এসে বলল: ‘তারা কেবল এদেরই ইবাদত করত এবং এদের অসিলাতেই তাদের বৃষ্টি দান করা হতো।’ অতঃপর তারা তাদের ইবাদত শুরু করল।"

--------------------------------------------

১. ইগাসাতুল লাহফান মিন মাসায়িদিশ শাইতান, খণ্ড ১/ ১৮২।

২. সূরা নূহ / আয়াত: ২৩।

৩. অর্থাৎ উলামাদের চলে যাওয়ার কারণে জ্ঞান পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়েছে এবং বিস্মৃত হয়েছে।

৪. বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, খণ্ড ৮ / ৬৬৭।

৫. জামিউল বায়ান ফী তাফসীরিল কুরআন, খণ্ড ২৯ / ৬২।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ২০০)
قال الشيخ عبد الرحمن بن حسن:"فصارت هذه الأصنام بهذا التصوير على صور الصالحين سُلَّما إلى عبادتها، وكل ما عبد من دون الله من قبر، أو مشهد، أو صنم، أوطاغوت فالأصل في عبادته هو الغلو كما لا يخفى على ذوى البصائر"10

وقال الشيخ حافظ الحكمي بعد ذكره لحديث ابن عباس:"فلو جاءهم اللعين وأمرهم من أول مرة بعبادتهم لم يقبلوا ولم يطيعوه، بل أمر الأولين بنصب الصور لتكون ذريعة للصلاة عندها ممن بعدهم، ثم تكون عبادة الله عندها ذريعة إلى عبادتها ممن يخلفهم"20

وقال الشيخ صديق حسن خان:"ومن أسباب عبادة الأصنام الغلو في المخلوق وإعطاؤه فوق منزلته"30

1- بيان النبي صلى الله عليه وسلم أن الاستغاثة بالله وحده0

الاستغاثة: هي طلب الغوث وهو إزالة الشدة0يقال: استغاثني فلان فأغثته، ولا تجوز بغير الله فيما لا يقدر عليه إلا الله0 قال تعالى مبينا استغاثة الرسول صلى الله عليه وسلم وصحبه الكرام بربهم وحده: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُرْدِفِينَ} 40

وعن عمر بن الخطاب- رضي الله عنه – قال:"لما كان يوم بدر نظر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المشركين وهم ألف وأصحابه ثلاثمائة وتسعة عشر رجلا، فاستقبل نبي الله صلى الله عليه وسلم القبلة، ثم مد يديه فجعل يهتف بربه: "اللهم انجز لي ما وعدتني، اللهم آت ما وعدتني، اللهم إن تهلك هذه العصابة من أهل الإسلام لا تعبد في الأرض"، فمازال يهتف بربه، مادا يديه مستقبل القبلة حتى سقط رداؤه عن

--------------------------------------------

1 فتح المجيد الهامش ص 225.

2 معارج القبول جـ1 / 422.

3 الدين الخالص جـ2/ 445.

4 الأنفال / آية: 9.
শেখ আব্দুর রহমান বিন হাসান বলেন: "নেককার ব্যক্তিদের এই প্রতিকৃতি বা ছবির মাধ্যমেই এই মূর্তিগুলো তাদের উপাসনার সোপানে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ ব্যতীত কবরের উপাসনা, মাজার, মূর্তি বা তাগুত—যাই হোক না কেন, এগুলোর ইবাদতের মূলে রয়েছে অতিরঞ্জন (গুলু), যা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছে গোপন নয়।" ১০

শেখ হাফেজ আল-হাকামী ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন: "যদি সেই অভিশপ্ত (শয়তান) তাদের কাছে এসে প্রথমবারেই তাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিত, তবে তারা তা গ্রহণ করত না এবং তার আনুগত্য করত না। বরং সে প্রথম প্রজন্মের লোকদের প্রতিকৃতি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিল যাতে সেটি তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেখানে সালাত আদায়ের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়, অতঃপর সেখানে আল্লাহর ইবাদত করাটাই তাদের উত্তরসূরিদের জন্য সেই প্রতিকৃতিগুলোর ইবাদত করার অসিলায় পরিণত হয়।" ২০

শেখ সিদ্দিক হাসান খান বলেন: "মূর্তি পূজার অন্যতম কারণ হলো সৃষ্টি বা মাখলুকের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা এবং তাকে তার যথাযোগ্য মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া।" ৩০

১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা যে, সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসাহ) কেবল আল্লাহর কাছেই করতে হবে। ০

ইস্তিগাসাহ: এটি হলো সাহায্য প্রার্থনা করা, যার অর্থ হলো বিপদ দূর করা। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে, আর আমি তাকে সাহায্য করেছি। যে বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সক্ষম নন, সে বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা জায়েজ নয়। মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীদের কেবল তাঁদের রবের কাছেই সাহায্য প্রার্থনার বিষয়টি বর্ণনা করে বলেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন এবং বললেন, আমি তোমাদের সাহায্য করব এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে যারা একের পর এক আসবে} ৪০

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন বদরের দিন উপস্থিত হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকালেন, তাদের সংখ্যা ছিল এক হাজার আর তাঁর সাহাবীদের সংখ্যা ছিল তিনশত উনিশ জন। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন, অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত প্রসারিত করলেন এবং উচ্চস্বরে তাঁর রবকে ডাকতে লাগলেন: 'হে আল্লাহ! আমাকে দেওয়া আপনার ওয়াদা পূরণ করুন। হে আল্লাহ! আমাকে যা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা দান করুন। হে আল্লাহ! যদি ইসলামের এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে জমিনে আপনার ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না।' তিনি কিবলামুখী হয়ে তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে অবিরত তাঁর রবকে ডেকে যাচ্ছিলেন, এমনকি তাঁর কাঁধ থেকে চাদরটি পড়ে গেল..."

--------------------------------------------

১ ফাতহুল মাজিদ, টীকা, পৃ. ২২৫।

২ মাআরিজুল কবুল, খণ্ড ১ / ৪২২।

৩ আদ-দীনুল খালিস, খণ্ড ২ / ৪৪৫।

৪ আল-আনফাল / আয়াত: ৯।
(খণ্ড: ১) সাদ্দুয যারায়ি ফী মাসাইলিল আকীদা (পৃষ্ঠা: ২০১)
منكبيه، فأتاه أبو بكر فأخذ رداءه فألقاه على منكبيه، ثم التزمه من ورائه، وقال: يا نبي الله كفاك مناشدتك ربك فإنه سينجز لك ما وعدك فأنزل الله عز وجل: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُرْدِفِينَ} ، فأمده الله بالملائكة"10

وروى الطبراني عن عبادة بن الصامت – رضي الله عنه – قال: قال أبو بكر: قوموا بنا نستغيث برسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا المنافق، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنه لا يستغاث بي وإنما يستغاث بالله عز وجل" 20

قال الشيخ عبد الرحمن بن حسن بعد ذكره للحديث:"فيه النص على أنه لا يستغاث بالنبي صلى الله عليه وسلم ولا بمن دونه0 كره النبي صلى الله عليه وسلم أن يستعمل هذا اللفظ في حقه، وإن كان مما يقدر عليه في حياته، حماية لجناب التوحيد وسدا لذرائع الشرك وأدبا وتواضعا لربه وتحذيرا للأمة من وسائل الشرك في الأقوال والأفعال، فإذا كان هذا فيما يقدر عليه صلى الله عليه وسلم في حياته، فكيف يجوز أن يستغاث به بعد وفاته"0

وقال في قرة العيون: "وقيل إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقدر أن يغيثهم من ذلك المنافق فيكون نهيه صلى الله عليه وسلم عن الاستغاثة به حماية لجناب التوحيد، وسدا لذرائع الشرك كنظائره مما للمستغاث به قدرة عليه مما كان يستعمل لغة وشرعا مخافة أن يقع من أمته استغاثة بمن لا يضر ولا ينفع"30قلت: ويظهر بذلك أن الاستغاثة نوعان:

--------------------------------------------

1 مسلم كتاب الجهاد باب 18 جـ3 /1384، وأحمد في مسنده جـ1 / 30، 32.

2 قال الهيثمي في مجمع الزوائد جـ10 / 159: رواه الطبراني ورجاله رجال الصحيح غير ابن لهيعة وهو حسن الحديث0 قلت: ابن لهيعة ضعيف مختلط إلا في رواية العبادلة عنه، وهذه ليست منها، وقد ذكر بعض العلماء هذا الحديث في كتبهم كابن تيمية وغيره وسقته هناك كشاهد على موضوع سد الذرائع التي أنا بصدد الحديث عنها0

3 فتح المجيد / 184، 185، وبها مشه كلامه في قرة العيون0
তাঁর কাঁধ (থেকে চাদরটি পড়ে গিয়েছিল), তখন আবু বকর তাঁর কাছে এলেন এবং তাঁর চাদরটি নিয়ে তাঁর কাঁধের ওপর রেখে দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর নবী, আপনার রবের কাছে আপনার এই আকুতিই যথেষ্ট, কারণ তিনি আপনার সাথে যে ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই পূর্ণ করবেন।" তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিলেন (এবং বললেন), ‘আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করব, যারা একের পর এক আসবে’}। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করলেন। ১০

তাবারানি উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর বললেন: "আমাদের সাথে উঠুন, আমরা এই মুনাফিকের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যায় না, বরং কেবল মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা যায়।" ২০

শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেন: "এতে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা তাঁর নিচের স্তরের কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যাবে না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ক্ষেত্রে এই শব্দের ব্যবহার অপছন্দ করেছেন, যদিও তা এমন বিষয় ছিল যা তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে ছিল; আর এটি ছিল তাওহিদের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য, শিরকের পথসমূহ বন্ধ করার জন্য, তাঁর রবের প্রতি আদব ও বিনয় প্রদর্শনের জন্য এবং উম্মতকে কথা ও কাজের মাধ্যমে শিরকের মাধ্যমগুলো থেকে সতর্ক করার জন্য। সুতরাং যদি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সামর্থ্যের বিষয়ের ক্ষেত্রে এমনটি হয়, তবে তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা কীভাবে বৈধ হতে পারে?"

এবং তিনি 'কুররাতুল উয়ুন' গ্রন্থে বলেছেন: "বলা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই মুনাফিকের হাত থেকে তাদের সাহায্য করতে সক্ষম ছিলেন, তাই তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে তাঁর নিষেধ করাটি ছিল তাওহিদের মর্যাদা রক্ষার জন্য এবং শিরকের পথসমূহ বন্ধ করার জন্য। এটি সেই সব বিষয়ের মতো যেখানে যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে তার সক্ষমতা থাকে এবং যা আভিধানিক ও শরয়ি উভয় দিক থেকে ব্যবহৃত হতো। তিনি এমনটি করেছেন এই ভয়ে যাতে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে এমন কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার বিষয় না ঘটে যে ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না।" ৩০ আমি বলি: এর দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) দুই প্রকার:

--------------------------------------------

১. মুসলিম, জিহাদ অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ১৮, খণ্ড ৩/১৩৮৪; এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে খণ্ড ১/৩০, ৩২।

২. হাইসামি 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে (খণ্ড ১০/১৫৯) বলেন: তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ 'সহিহ' গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে ইবনে লাহিয়াহ ছাড়া, আর তাঁর বর্ণিত হাদিস 'হাসান' পর্যায়ের। আমি বলি: ইবনে লাহিয়াহ দুর্বল ও সংমিশ্রণকারী (মুখতালিত), কেবল 'আবাদিলাহ' (চার আব্দুল্লাহ)-দের বর্ণনা ব্যতীত, আর এটি সেই বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে কিছু আলেম এই হাদিসটি তাঁদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যেমন ইবনে তাইমিয়াহ এবং অন্যান্যরা। আর আমি এটি এখানে শিরকের পথ বন্ধ করার (সাদ্দুদ যারায়ি) বিষয়ের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছি যা নিয়ে আমি এখন আলোচনা করছি।

৩. ফাতহুল মাজিদ/১৮৪, ১৮৫; এবং এখানেই 'কুররাতুল উয়ুন'-এর বক্তব্যের অংশ রয়েছে।