(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
استخراج الجدال من القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: استخراج الجدال من القرآن الكريم
المؤلف: عبد الرحمن بن نجم بن عبد الوهاب الجزري السعدي العبادي، أبو الفرج، ناصح الدين ابن الحنبلي (ت 634هـ)
المحقق: الدكتور زاهر بن عواض الألمعي
الناشر: مطابع الفرزدق التجارية
الطبعة: الثانية، 1401 هـ
عدد الصفحات: 132
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআনুল কারীম থেকে বিতর্কের মূলনীতি উদ্ঘাটন বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর
গ্রন্থ: কুরআনুল কারীম থেকে বিতর্কের মূলনীতি উদ্ঘাটন
লেখক: আব্দুর রহমান বিন নাজম বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-জাজারী আস-সাদী আল-আব্বাদী, আবুল ফারাজ, নাসিহ উদ্দীন ইবনুল হাম্বলী (মৃত্যু ৬৩৪ হিজরী)
তাহকীককারী: ডক্টর জাহের বিন আওয়াদ আল-আলমাঈ
প্রকাশক: মাতাবি আল-ফারাযদাক আল-তিজারিয়্যাহ
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০১ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
اللهمَّ يسرْ وأعنْ يا كريمُ
مقدمة المؤلفقال الشيخ الإمام ناصح الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن نجم بن عبد الوهاب الأنصاري ابن الحنبلي، الحمد لله الحاوي كتابه أنواع العلوم، الدالَّ أمره على الموجود والمعدوم، المشرِّفُ خطابه لذوي العقول والحلوم، الضارب الأمثال لأرباب الألباب والفهوم، القاضي بالحق والفاصل بين الظالم والمظلوم يوم اجتماع الخصوم، مبرم الأمور بقضاءٍ محتومٍ، منزل الماءَ بقدرٍ معلومٍ، ومعلم الإنسان البيان في الأمر المظنون والحكم المجزوم، شارع السبيل المأمون من الكتاب المصون على لسان النبي المعصوم، أحمده حمداً غير منقوص ولا مهضوم، وأؤمنُ به إيماناً غير مظنونٍ ولا موهومٍ، وأشهد أن لَاّ إله إلا اللهُ وحده لا شريك له شهادةً تقي حر
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ! আপনি সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব।
লেখকের ভূমিকাশাইখ ইমাম নাসিহুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান ইবনে নাজমু ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আল-আনসারী ইবনুল হাম্বলী (রহ.) বলেন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর কিতাব বিবিধ জ্ঞানকে ধারণ করে আছে; যাঁর নির্দেশ বিদ্যমান ও অবিদ্যমান সকল বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে; যাঁর সম্বোধন বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবানদের সম্মানিত করে; যিনি জ্ঞানবান ও বোধসম্পন্নদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশকারী; বিবাদীদের সমাবেশের দিনে যিনি হকের সাথে বিচারকারী এবং জালিম ও মাজলুমের মাঝে পার্থক্যকারী; যিনি অমোঘ ফয়সালার মাধ্যমে বিষয়সমূহ সুসংহতকারী; সুনির্দিষ্ট পরিমাপে পানি বর্ষণকারী এবং যিনি মানুষকে ধারণাভিত্তিক (المظنون) বিষয় ও অকাট্য (المجزوم) বিধানের বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন; যিনি নিষ্পাপ (المعصوم) নবীর যবানে সংরক্ষিত কিতাব হতে নিরাপদ পথ প্রবর্তন করেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত নয় এবং তাঁর প্রতি এমন ঈমান পোষণ করছি যা ধারণাভিত্তিক (مظنون) বা কল্পনাপ্রসূত (موهوم) নয়। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন সাক্ষ্য যা (জাহান্নামের) উত্তাপ থেকে রক্ষা করবে...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
نار السموم، وتفي تكفير ذنب المأثوم، وأشهدُ أن محمداً عبدهُ ورسولُه الحاكم بشرعه على كل حاكم من البرية ومحكوم، المفضل جمعه على كل مفردٍ من الخلق وملموم، صلى اللهُ عليهِ وعلى آله وأصحابه الذين لا تحصى فضائلهم بمنثورٍ ولا منظومٍ، ولا تُجهلُ مآثرهم إلى يوم الوقت المعلوم.
" وبعد " فإن الفقهاءَ رضي الله عنهم أرباب النظر والمحرزين أدلة العبر، قد ألَّفُوا في مذاهب الجدال ما يتضمن تحرير الاستدلال وتقرير الجواب والسؤال ألَاّ أن الأمر الاصطلاحي منقوض بمثله وربما نُسِخَ اصطلاحاً اصطلاح بوعره عند قومٍ أو بسهله، والمذهب الذي يرسخ ولا ينسخُ ويعلو فرعه ويشمخ ما كان مجناه من حبات القلوب، وسُقْيَاهُ من الشراب الطهور المنقى من العيوب، الكاشف لأسرار الغيوب (لا يَأْتِيهِ الباطِلُ مِنْ بَيْنِ
জাহান্নামের বিষাক্ত অগ্নি হতে রক্ষাকারী এবং পাপাচারীদের পাপমোচনের জন্য যথেষ্ট। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি সৃষ্টির প্রতিটি শাসক ও শাসিতের ওপর তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে বিচারক। তিনি সৃষ্টির প্রতিটি একক ও সমষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁদের ফযীলতসমূহ গদ্য বা পদ্যের মাধ্যমে গণনা করা সম্ভব নয় এবং যাঁদের অবদানসমূহ নির্দিষ্ট প্রলয়কাল পর্যন্ত অজানা থাকবে না।
"অতঃপর", নিশ্চয়ই ফকীহগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন), যাঁরা সূক্ষ্ম গবেষণার অধিকারী এবং উপদেশমূলক দলীলসমূহ সংরক্ষণকারী; তাঁরা বিতর্কশাস্ত্রের পদ্ধতিসমূহে এমন সব গ্রন্থ রচনা করেছেন যা দলীলসমূহের বিন্যাস এবং প্রশ্ন ও উত্তরের স্বরূপ নির্ধারণকে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে পরিভাষাগত (اصطلاحي) বিষয়টি তার সমরূপ বিষয়ের মাধ্যমে খণ্ডিত হয় এবং কোনো এক সম্প্রদায়ের নিকট তার কাঠিন্য বা সহজতার কারণে সম্ভবত এক পরিভাষা (اصطلاح) অন্য পরিভাষা দ্বারা রহিত (نسخ) হয়। আর সেই মতাদর্শই সুদৃঢ় থাকে এবং রহিত (ينسخ) হয় না, যার শাখা সুউচ্চ ও সমুন্নত হয়; যার ফসল অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আহরিত এবং যা সকল দোষত্রুটি থেকে মুক্ত পবিত্র পানীয় দ্বারা সিক্ত, যা অদৃশ্যের রহস্য উন্মোচনকারী; (যার সম্মুখ থেকে কোনো বাতিল আসতে পারে না...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
يَدَيْهِ وَلَا مِنْ خَلْفِهِ تنزيلٌ مِنْ حَكيمٍ حَميد) . وقد استخرت الله تعالى في استنباط طريقٍ من طرقه، وإسكان بعض القاصدين لهذا الفن غرفةً من غرفهِ، وهذا الكتاب يشتمل على ثمانية أبواب، لكل بابٍ فضل في فصل الخطاب، ولكنه وقف على ذوي الحلوم والألباب، ومشارع هذه الأبواب من الكتاب المعصوم من الزلل والارتياب.
"
الباب الأول ": في ذكر الجدل في الكتاب العزيز والممدوح منه والمذموم.
" الباب الثاني ": أول من سن الجدال.
" الباب الثالث ": جدال الأنبياء صلوات الله عليهم وسلامه للأمم.
" الباب الرابع ": ذكر الأدلة وأنواعها على وجود الصانع سبحانه.
" الباب الخامس ": ذكر الأدلة على أنه واحدٌ.
" الباب السادس ": ذكر أدلة البعث.
"
(...তার সম্মুখ থেকেও নয় এবং তার পেছন থেকেও নয়; এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ)। আমি এই বিদ্যার একটি পথ উদ্ভাবন করতে এবং এই শাস্ত্রের অন্বেষণকারীদের জন্য এর একটি কক্ষে স্থান দেওয়ার বিষয়ে মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি। এই গ্রন্থটি আটটি অধ্যায়ের ওপর বিন্যস্ত, যার প্রতিটি অধ্যায় চূড়ান্ত ফয়সালার ক্ষেত্রে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী; তবে এটি কেবল প্রাজ্ঞ ও বুদ্ধিমানদের জন্যই নির্ধারিত। এই অধ্যায়গুলোর উৎস হলো সেই কিতাব যা বিচ্যুতি ও সন্দেহ (ارتياب) থেকে সুরক্ষিত।
"
প্রথম অধ্যায় ": মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বিতর্ক (الجدل) এবং এর প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় দিক প্রসঙ্গে।
" দ্বিতীয় অধ্যায় ": সর্বপ্রথম কে বিতর্কের (الجدال) সূচনা করেছেন।
" তৃতীয় অধ্যায় ": জাতিসমূহের সাথে নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বিতর্ক (جدال) প্রসঙ্গে।
" চতুর্থ অধ্যায় ": মহান স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণাদি (الأدلة) এবং এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা।
" পঞ্চম অধ্যায় ": তিনি যে এক ও অদ্বিতীয়, সে বিষয়ের প্রমাণাদি (الأدلة) প্রসঙ্গে।
" ষষ্ঠ অধ্যায় ": পুনরুত্থানের (البعث) প্রমাণাদি প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الباب السابع ": ذكر الأدلة على رسالة محمد صلى الله عليه وسلم من القرآن العزيز.
" الباب الثامن ": في السؤال والجواب ونكتٍ من الجدال فهذه ثمانية أبوابٍ، وعلى توفيق الله سبحانه وتعالى الإحالة بالصواب.
সপ্তম পরিচ্ছেদ ": মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের প্রমাণাদির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
" অষ্টম পরিচ্ছেদ ": প্রশ্নোত্তর এবং বিতর্কের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে; এই হলো আটটি পরিচ্ছেদ, আর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তাওফিকের ওপরই সঠিক দিশা পাওয়ার বিষয়টি সমর্পিত।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الباب الأول في ذكر الجدل والحُجَّةاعلم أن الله سبحانه ذكر لفظة الجدل وما تصرف منها في كتابه العزيز في تسعة وعشرين موضعاً - ولفظه الحجة وما تصرف منها في سبعة وعشرين موضعاً ولفظة السلطان أيضاً في ثلاثةٍ وثلاثين موضعاً الجميع المراد به الحجةُ سوى
প্রথম অধ্যায় তর্ক (جدل) ও প্রমাণ (حجة) প্রসঙ্গেজেনে রাখুন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে 'তর্ক' (جدل) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত রূপসমূহ উনত্রিশটি স্থানে উল্লেখ করেছেন—এবং 'প্রমাণ' (حجة) শব্দ ও এর থেকে উদ্ভূত রূপসমূহ সাতাশটি স্থানে, আর 'প্রমাণ' (سلطان) শব্দটিও তেত্রিশটি স্থানে। এর সবগুলোর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'প্রমাণ' (حجة), ব্যতীত ওনলি
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫১)
موضعٍ واحدٍ في الحاقة: (هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانْيَةْ) وقيل: المراد به الحجة، فأما الجدل فهو مذمومٌ في كل موضعٍ ذكر إلا في ثلاثة مواضع: " أحدها ": في النحلِ: (ادعُ إلى سبيلِ ربٍّكَ بالحكمةِ والموعظةِ الحسنةِ وجادِلْهم بالتي هَي أحسن) . "
সূরা আল-হাক্কাহ-এর একটি স্থানে: (আমার ক্ষমতা আমা হতে বিলুপ্ত হয়েছে)। আর বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল প্রমাণ (حجة)। পক্ষান্তরে বিতর্ক (الجدل) প্রতিটি স্থানেই নিন্দনীয় (مذموم) যেখানেই তা উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল তিনটি স্থান ব্যতীত: "তার একটি": সূরা আন-নাহলে: (আপনি আপনার রবের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক (جادلهم) করুন সর্বোত্তম পন্থায়)।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الموضعُ الثاني ": في العنكبوتِ: (ولا تُجادِلُوا أهلَ الكتابِ إلَاّ بالتي هَي أحسنُ) . " الموضعُ الثالث " ُ: في المجادلةِ: (قَدْ سمِعَ اللهُ قولَ الّتي تجادلكَ في زَوْجِها) ، وهذه المرأةُ هي خولةُ بنتُ ثعلبةَ الأنصارية، كانت تحتَ زوجِها أوسِ بنِ الصامتِ والقصةُ مشهورةُ. فأما قوله سبحانه: (وَجَادِلْهُمْ بالتي هيَ أحسنُ) فيحتمل أن يكون المرادُ بالأحسن الأظهر من الأدلة. ويحتمل
দ্বিতীয় স্থানটি ": সূরা আল-আনকাবুত-এ: (আর তোমরা কিতাবধারীদের সাথে উত্তম পন্থা ব্যতীত বিতর্ক করো না) । " তৃতীয় স্থানটি " ু: সূরা আল-মুজাদিলাহ-য়: (নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল) , আর এই নারী হলেন খাওলা বিনতে ছালাবা আল-আনসারিয়া, তিনি তাঁর স্বামী আউস ইবনে সামিতের বিবাহাধীনে ছিলেন এবং এই ঘটনাটি সুপ্রসিদ্ধ (مشهورة)। আর মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তাদের সাথে উত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন) এর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে, 'উত্তম' দ্বারা দলীলসমূহের (الأدلة) মধ্যে সর্বাধিক সুস্পষ্ট দলীলকে বোঝানো হয়েছে। এবং সম্ভাবনা রয়েছে
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
التعجيز عن الإتيان بمثل القرآن، لأنه أحسن الأدلة نظاماً وبياناً وأكملها حسناً وإحساناً وأرجحها من الثواب ميزاناً وأوضحها على اختلاف مدلولاتها كشفاً وبرهاناً. ويحتمل الإصغاءُ إلى شُبههم والرفق بهم في حلها ودحضها. ويحتمل بترك الغلظة عليهم في حال جدالهم لتكون عليهم الحجة أظهر والجحد منهم أنكد وهي سنة الأنبياءِ عليهم السلام، مع الأمم عند الدعوة. والمجادلة من ذلك لما قالوا لمحمدٍ (مجنونٌ. قال:) وَمَا مَسَّنِي السُّوءُ (، أي: جنونٌ من غير أن يقابلهم على ذلك بقولٍ خشنٍ مع
কুরআনের অনুরূপ কিছু আনয়নে অক্ষমতা প্রতিপন্ন করা (تعجيز); কারণ এটি বিন্যাস ও বর্ণনার দিক থেকে সর্বোত্তম দলিল, সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গতম, সওয়াবের পাল্লায় সর্বাপেক্ষা ভারী এবং এর বিভিন্ন অর্থ ও নির্দেশনার মাঝে সত্য উন্মোচন ও প্রমাণের দিক থেকে সবচেয়ে স্পষ্ট। এর একটি দিক হতে পারে তাদের সংশয়গুলোর (شبهة) প্রতি কর্ণপাত করা এবং সেগুলো সমাধান ও খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা। আরেকটি দিক হতে পারে তাদের সাথে বিতর্কের সময় রূঢ়তা পরিহার করা, যাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (حجة) অধিকতর স্পষ্ট হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে সত্য অস্বীকার করা আরও গ্লানিকর হয়; আর দাওয়াতের ক্ষেত্রে উম্মতদের সাথে এটিই নবীগণের সুন্নাহ। আর সেই বাদানুবাদও এর অন্তর্ভুক্ত যখন তারা মুহাম্মাদ-কে বলেছিল: (পাগল। তিনি বললেন:) "আর কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করেনি", অর্থাৎ: উন্মাদনা; তাদের সাথে কোনো রূঢ় বাক্য ব্যবহার না করেই... সাথে
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
النخوة العربية والعزة الهاشمية. وقالوا لنوح عليه السلام:) إنْ هُوَ إلا رَجُلٌ بهِ جِنَّةٌ … قالَ رَبِّ انصُرْني بما كذَّبُون (، وقالوا له:) إنَّا لنراكَ في ضَلَالٍ مُبينٍ قالَ يا قومِ ليسَ بي ضَلالةٌ ولكنِّي رسولٌ مِنْ رَبِّ العالمين (. وقالوا لصالح:) إنْ هُوَ إلَاّ رَجُلٌ افْتَرَى على اللهِ كذباً … قالَ رَبِّ انصُرْني بما كذَّبون (، وقالوا لهودٍ:) إنَّا لنراكَ في سَفَاهةٍ وإنَا لنظُنُّكَ مِنَ الكَاذِبينَ. قالَ يا قومِ ليس بي سَفَاهَةٌ ولكنِّي رُسولٌ مِنْ رَبِّ العالمينَ (فلو قابلهم الأنبياءُ بغلظةٍ لنفرت طباعهم وانصرفت عقولهم عن التسديد لما قالوا والتدبر لما جاؤوا به من البينات، فلم تتضح لهم المحجة، ولم تقم عليهم الحجة،
আরবীয় শৌর্য-বীর্য ও হাশেমী আভিজাত্য। তারা নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিল: (সে কেবল এমন একজন লোক যার মধ্যে উন্মাদনা রয়েছে … তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! তারা আমাকে যে মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) করছে, সে বিষয়ে আপনি আমাকে সাহায্য করুন)। তারা তাকে আরও বলেছিল: (নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: হে আমার কওম! আমার মাঝে কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং আমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসুল)। তারা সালেহ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিল: (সে কেবল এমন একজন লোক যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা (كذب) আরোপ করেছে … তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! তারা আমাকে যে মিথ্যা প্রতিপন্ন (تكذيب) করছে, সে বিষয়ে আপনি আমাকে সাহায্য করুন)। তারা হূদ (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিল: (নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দেখছি এবং আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের (كاذبين) অন্তর্ভুক্ত মনে করি। তিনি বললেন: হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই, বরং আমি বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসুল)। আম্বিয়ায়ে কেরাম যদি তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করতেন, তবে তাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যেত এবং তারা যা বলতেন তার সঠিকতা নিরূপণ ও যেসব সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে তারা এসেছিলেন তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা থেকে তাদের বুদ্ধিবৃত্তি বিমুখ হয়ে যেত। ফলে তাদের নিকট সত্যের পথ স্পষ্ট হতো না এবং তাদের বিরুদ্ধে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হতো না।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وشاهدُ هذه الحالة قوله تعالى:) وإِذَا قِيلَ لَهُ اتَّقِ اللهَ أَخَذَتْهُ العِزَّةُ بالإثمِ) .
এই অবস্থার সপক্ষে প্রমাণ বা সাক্ষী (شاهد) হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর যখন তাকে বলা হয়, আল্লাহকে ভয় কর, তখন আত্মাভিমান তাকে পাপে লিপ্ত করে)।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
الباب الثانيفي أول من سن الجدَالأول من سن الجدال الملائكة صلوات الله عليهم حيث قالوا: (أَتْجَعلُ فيها مَنْ يُفْسِدُ فيها وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ ونحنُ نُسَبِّحُ بحمدِكَ ونُقَدِّسُ لكَ قالَ إني أعْلَمُ ما لا تعلمونَ) . وهذا منهم استدلال بالترجيح والأولوية، أي: من سبح وقدس لك هو أولى بالإيجاد والجعل فيها ممن يفسد فيها ويسفك الدماء، وكان جواب الله لهم الترجيح أيضاً من جهةٍ أُخرى ولهذا لم يرد عليهم قولهم، إذ قد علم سبحانه أن الذي ظنوه فيهم ووصفوهم به كائن بل عدل الله سبحانه إلى أمر مجملٍ فقال: (إنِّي أَعْلَمُ ما لَا تَعْلَمُونَ) من ترتيب خلقي وتدبير صنعي المحوط بالحكمة
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদতর্কের সূচনা যারা প্রথম করেছিলেন তাঁদের প্রসঙ্গেতর্কের প্রথা সর্বপ্রথম ফেরেশতাগণ (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) প্রবর্তন করেছিলেন, যখন তাঁরা বলেছিলেন: (আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ তাসবিহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি তা জানি যা তোমরা জানো না)। এটি ছিল তাঁদের পক্ষ থেকে প্রাধান্য প্রদান (ترجيح) এবং অগ্রাধিকারের (أولوية) ভিত্তিতে একটি দলিল পেশ (استدلال); অর্থাৎ: যারা আপনার তাসবিহ ও পবিত্রতা ঘোষণা করে, তারা সেখানে সৃষ্টি হওয়া ও স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের চেয়ে অধিক যোগ্য যারা সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেও তাঁদের প্রতি উত্তরটি ছিল অন্য একটি দিক থেকে প্রাধান্য প্রদানের (ترجيح) মাধ্যমে, আর এই কারণেই তিনি তাঁদের কথাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জানতেন যে, তাঁরা মানুষের ব্যাপারে যা ধারণা করেছিলেন এবং যে বৈশিষ্ট্যে তাঁদের ভূষিত করেছিলেন তা বাস্তবে সংঘটিত হবে। বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একটি সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের দিকে ফিরে গেলেন এবং বললেন: (নিশ্চয়ই আমি তা জানি যা তোমরা জানো না); যা আমার সৃষ্টির বিন্যাস এবং হিকমত দ্বারা পরিবেষ্টিত নির্মাণ কৌশলের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
الدال على القدرة فإني خلقت الملائكة من نورٍ لا ظلمة فيه، فكان منهم الخير المحض بإرادتي، وخلقت الشياطين من ظلمة نار السموم وهو المارج، فكان منهم الشر المحض بإرادتي، وخلقت آدم وذريته من نور وظلمةٍ، فكان منهم الخير والشر بإرادتي، ووضعت فيهم عقلاً يرشد إلى المصالح،
যা মহান কুদরতের পরিচায়ক; নিশ্চয়ই আমি ফেরেশতাদের এমন নূর থেকে সৃষ্টি করেছি যাতে কোনো অন্ধকার নেই, ফলে আমার ইচ্ছায় তাদের দ্বারা কেবল নিরঙ্কুশ কল্যাণই সাধিত হয়। আর আমি শয়তানদের সৃষ্টি করেছি বিষাক্ত আগুনের অন্ধকার থেকে, যা হলো অগ্নিশিখা; ফলে আমার ইচ্ছায় তাদের থেকে কেবল নিরঙ্কুশ অকল্যাণই প্রকাশ পায়। আর আমি আদম ও তাঁর বংশধরদের নূর ও অন্ধকার থেকে সৃষ্টি করেছি, ফলে আমার ইচ্ছায় তাদের মাঝে কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়ই বিদ্যমান। আর আমি তাদের মধ্যে এমন বিচারবুদ্ধি স্থাপন করেছি যা তাদের হিতকর বিষয়ের দিকে পরিচালিত করে।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
ونفساً ميالةً إلى الهوى المُردي، وأمددت الفريقين بجندينِ يسوقان العقل والنفس إلى ما سبق من التقدير الناشئ عن علم التدبير، وكان حكمي في هذين الفريقين أَنَّ من غلب عقله على هواه فهو من الناجين، ومن غلب هواه على عقله فهو من الهالكين وهذا ما اشتمل عليه قوله تعالى: (إنِّي أعْلَمُ ما لا تعلَمُونَ) . ومما اشتمل عليه (إنِّي أعْلَمُ ما لا تعلَمُونَ) أن اختلاف الصنائع أول دليلٍ على قدرة الصانع، ومما اشتمل عليه (إنِّي أعْلَمُ ما لا تعلَمُونَ) أني ركبتُ فيهمْ منَ الشهوةِ ما لو ركَّبته فيكم لفعلتمُ فِعلهم أو لم تطيقوا صَبْرهم على أنهم قد أحبوني محبةً بذلوا فيها أبدانهم للتمزيق، ودماءهم للإراقةِ، وأرواحهم للذهاب، ومنهم الصابرونَ على أنواع المكارهِ، والصائمونَ في الهواجرِ، والعابدونَ على ضعف القوى، والناهون نفوسهم مع قوةِ الهوى، ويرونَ ذلكَ المرّ حلواً في رضائي، وتسليماً لقضائي وقدري، يسابقُ كلُّ وليٍّ منْهم بالعبادةِ أجلهُ، يؤتونَ ما أُتوا وقلوبهم وَجِلةُ، فظهرت حكمة الله عز وجل في خلقهم، ورجحت حجة الله سبحانه على الملائكة في قدحهم.
এবং ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তির প্রতি অতিশয় অনুরাগী এক নফস, আর আমি উভয় দলকে এমন দুই বাহিনী দ্বারা সাহায্য করেছি যা আকল ও নফসকে সেই পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যের দিকে পরিচালিত করে যা খোদায়ী ব্যবস্থাপনার জ্ঞান হতে উদ্ভূত। এই উভয় দলের ক্ষেত্রে আমার ফয়সালা ছিল এই যে, যার আকল তার প্রবৃত্তির ওপর জয়ী হবে, সে নাজাতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে; আর যার প্রবৃত্তি তার আকলের ওপর জয়ী হবে, সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটিই মহান আল্লাহর এই বাণীর নিহিত অর্থ: 'নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।' এই বাণীর ('নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না') অন্তর্ভুক্ত একটি বিষয় হলো—শিল্পনৈপুণ্যের বৈচিত্র্যই হলো কারিগরের কুদরতের প্রথম দলিল। এর অন্তর্ভুক্ত আরও বিষয় হলো—আমি তাদের মাঝে এমন প্রবৃত্তি ও লালসা সঞ্চার করেছি যে, যদি আমি তা তোমাদের মাঝে সঞ্চার করতাম তবে তোমরাও তাদের মতোই আচরণ করতে অথবা তাদের মতো ধৈর্য ধারণে সক্ষম হতে না। অথচ তারা আমাকে এমন ভালোবাসায় ভালোবেসেছে যে, তাতে তারা তাদের দেহকে ছিন্নভিন্ন হতে দিয়েছে, রক্ত বিসর্জন দিয়েছে এবং প্রাণ উৎসর্গ করেছে। তাদের মধ্যে একদল নানাবিধ প্রতিকূলতায় ধৈর্যশীল, একদল প্রখর উত্তাপে রোজা পালনকারী এবং একদল শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও ইবাদতকারী। তারা প্রবল প্রবৃত্তি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের নফসকে নিবৃত্ত রাখে এবং আমার সন্তুষ্টির কামনায় ও আমার ফয়সালা ও তকদিরের প্রতি আত্মসমর্পিত হয়ে সেই তিক্ততাকে মিষ্ট জ্ঞান করে। তাদের প্রত্যেক অলি ইবাদতের মাধ্যমে নিজ নিজ আয়ুর সাথে প্রতিযোগিতা করেন; তারা যা কিছু প্রদান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে প্রদান করে। ফলে তাদের সৃজনে মহান আল্লাহর হিকমত প্রকাশিত হয়েছে এবং ফেরেশতাদের সমালোচনার (قدح) বিপরীতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দলিল (حجة) শক্তিশালী হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فأما إبليس فهو أول من اظهر الخلاف وركب العناد وسار به في البلاد. والفرق بينه وبين الملائكة أن الملائكة لم يظهر منهم خلاف ولا عصيان، بل طلبوا بسؤَالهم الإيضاح والبيان. وإبليس أفتى ودلَّ في مسألته فانقطع في مجادلته وخسر في كَرَّته وبيان فساد تعليله، وإزاغته عن الصواب في تأويله. أنه قال: (خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ) ومعناه: أن النار جوهرٌ لطيفٌ شفافٌ له قوة الإشراق وسلطان الإحراق، والطين جسمٌ مظلمٌ كثيفٌ، ليس باللطيف ولا الخفيف. والسجود خدمة يتضمن تعظيم المسجود له والأَوْلى بها الأعلى منهما، هذا منتهى كلامه ومضمون قوله وهو مردودٌ عليه من وجوه: " منها ": أنه عارض النص بالقياس وهو فساد في الاعتبار وعدم استبصار؛ لأن العمل بالنص مقدم على القياس؛ لأن سهام القياس تصيب مرة وتخطئ أُخرى. وكلام المعصوم المنزه عن الغلط والزلل لا يخطىُْ. " ومنها ": أن الماء والتراب والهواء والنار أصول الأجسام وموادُّ المركبات. فلا يقوم جسم إلَاّ باجتماعها، وإذا كانت متكافئة في
পক্ষান্তরে ইবলিশ হলো সেই প্রথম সত্তা যে বিরোধের সূচনা করেছিল এবং অবাধ্যতা বেছে নিয়েছিল এবং দেশ-দেশান্তরে তা ছড়িয়ে দিয়েছিল। তার এবং ফেরেশতাদের মধ্যে পার্থক্য হলো, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে কোনো বিরোধ বা অবাধ্যতা প্রকাশ পায়নি; বরং তারা তাদের প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্টিকরণ ও বিশদ বিবরণ (بيان) কামনা করেছিল। আর ইবলিশ তার বিষয়ে নিজের মত ব্যক্ত করেছিল এবং দলিল পেশ করেছিল; ফলে সে তার বিতর্কে পরাস্ত হয়েছিল, তার অপচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং তার কারণ দর্শানোর (تعليل) অসারতা ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সত্য থেকে তার বিচ্যুতি প্রকাশ পেয়েছিল। সে বলেছিল: "আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।" এর অর্থ হলো: আগুন হলো একটি সূক্ষ্ম ও স্বচ্ছ সারসত্তা (جوهر), যার রয়েছে আলোকচ্ছটা ছড়ানোর শক্তি এবং দহন করার ক্ষমতা; আর মাটি হলো একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন ও স্থূল পিণ্ড, যা সূক্ষ্মও নয় এবং হালকাও নয়। সেজদা হলো এমন এক আনুগত্য যা যাকে সেজদা করা হয় তার মহিমা প্রকাশকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাদের মধ্যে যে উচ্চতর সে-ই এর অধিক যোগ্য—এটিই ছিল তার কথার সারমর্ম ও বক্তব্য, যা কয়েকটি কারণে প্রত্যাখ্যানযোগ্য (مردود): তন্মধ্যে একটি হলো, সে অকাট্য দলিলের (نص) বিপরীতে কিয়াস (قياس) পেশ করেছে, যা বিচারবুদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বিচ্যুতি এবং অন্তর্দৃষ্টির অভাব; কারণ অকাট্য দলিলের (نص) ওপর আমল করা কিয়াসের (قياس) ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য। কেননা কিয়াসের তীর কখনো লক্ষ্যভেদ করে আবার কখনো ভুল করে। পক্ষান্তরে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে পবিত্র নিষ্পাপ (معصوم) সত্তার কথা কখনো ভুল হয় না। আরেকটি কারণ হলো, পানি, মাটি, বায়ু ও আগুন হলো দেহের মূল উপাদান এবং যৌগিক পদার্থের উপকরণ। সুতরাং এই উপাদানগুলোর সমন্বয় ছাড়া কোনো দেহ গঠিত হয় না এবং যখন তারা সমপর্যায়ের...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬১)
التأثير فاختصاص أحدها بالأفضلية لا دليل عليه. " ومنها ": أن الطين اشتمل على أصلين من الأصول الأربعة وهما: الماء والتراب، فكيف يكون اصل واحدٍ منهما خيراً من أصلين متكافئين. وعلى تقدير تسليم التفاضل فالماء افضل؛ لأن سلطانه يقهر سلطان النار إذا التقيا. " ومنها ": على تقدير صحة قياسه فالترجيح للسجود من وجهين: " أحدهما ": أن مصلحة امتثال الأمر راجحةٌ على الامتناع؛ لأن امتثال الأمر آمن من العقاب المرتب على المخالفة. " الوجه الثاني ": أن الامتناع من السجود بهذا التعليل المذكور من جهته يلزم منه تخطئة الأمر إلى وضع الشيء في غير موضعه، وذلك في غاية الجناية على الإله الحكيم. وقد قال بعض المتكلمين: إن كل شبهةٍ وقعت في الملل فأصلها من شبهتي إبليس. قال المصنف: بل هي شبهةٌ واحدةٌ مطردةٌ في كل مذهب فاسدٍ وقد ذكرنا ذلك في كتاب البروق.
প্রভাবের ক্ষেত্রে, এগুলোর কোনো একটিকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় নির্দিষ্ট করার স্বপক্ষে কোনো দলীল নেই। "অন্যতম কারণ হলো": মাটি চারটি মৌলিক উপাদানের মধ্যে দুটি—পানি ও মৃত্তিকাকে অন্তর্ভুক্ত করে; এমতাবস্থায় একটি একক উপাদান কীভাবে দুটি সমপর্যায়ের উপাদানের চেয়ে উত্তম হতে পারে? আর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি মেনে নেওয়ার নিরিখে পানিই অধিকতর উত্তম; কেননা পানি ও আগুন যখন একত্রিত হয়, তখন পানির শক্তি আগুনের শক্তিকে পরাভূত করে। "আরও একটি দিক হলো": তার অনুমান (قياس)-এর সঠিকতা (صحة) স্বীকার করে নিলেও দুটি কারণে সিজদাহ করার বিষয়টিই প্রাধান্য পাবে: "প্রথমত": আদেশ পালনের কল্যাণ (مصلحة) তা থেকে বিরত থাকার চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য; কারণ আদেশ পালন করা অবাধ্যতাজনিত শাস্তি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। "দ্বিতীয়ত": তার পক্ষ থেকে প্রদর্শিত এই কার্যকারণ ব্যাখ্যার (تعليل) প্রেক্ষিতে সিজদাহ থেকে বিরত থাকার ফলে আদেশদাতার নির্দেশকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করা এবং কোনো বিষয়কে তার অনুপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা প্রজ্ঞাময় ইলাহের শানে চরম ধৃষ্টতা। কতিপয় কালামশাস্ত্রবিদ (المتكلمون) বলেছেন: বিভিন্ন ধর্মাদর্শে যত সংশয় (شبهة) পরিলক্ষিত হয়, তার মূলে রয়েছে ইবলিসের দুটি সংশয়। গ্রন্থকার (المصنف) বলেন: বরং এটি একটি অবিচ্ছিন্ন সংশয় (شبهة) যা প্রতিটি ভ্রান্ত মতবাদের (مذهب) ক্ষেত্রে বিদ্যমান, আর আমরা আল-বুরুক গ্রন্থে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وأما الحجة فهي عبارة عن دليل الدعوى وقد تطلق على الشبهة أيضاً؛ لأنها مستند المخالفة. قال الله تعالى: (حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِنْدَ رَبِّهْم) ، وقال تعالى:) لِئَلَاّ يُكونَ
لِلنَّاسِ عَلَى الله حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ (، وقوله تعالى:) فللَّهِ الحجةُ البالغةُ (أي الدليل القاطع الذي لا يعارضه معارض، وذلك قوله تعالى:) وَتِلْكَ حُجَّتُنَا آتيناهَا إبراهيمَ عَلَى قومِهِ (، وقد قيل في قوله تعالى إخباراً عن إبليس) ومَا كانَ لي عليكُم مِنْ سُلْطَانٍ (أي حجةٍ وإنما غرهم بالشبهةِ فالحجة حقيقةٌ في الدليل مجازٌ في الشبهةِ. َّاسِ عَلَى الله حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ) ، وقوله تعالى: (فللَّهِ الحجةُ البالغةُ) أي الدليل القاطع الذي لا يعارضه معارض، وذلك قوله تعالى: (وَتِلْكَ حُجَّتُنَا آتيناهَا إبراهيمَ عَلَى قومِهِ) ، وقد قيل في قوله تعالى إخباراً عن إبليس (ومَا كانَ لي عليكُم مِنْ سُلْطَانٍ) أي حجةٍ وإنما غرهم بالشبهةِ فالحجة حقيقةٌ في الدليل مجازٌ في الشبهةِ.
আর 'হুজ্জাত' (حجة) হলো কোনো দাবির সপক্ষের প্রমাণ (دليل) স্বরূপ; কখনো এটি সংশয়ের (شبهة) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি বিরোধিতার ভিত্তি। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: (তাদের প্রমাণ (حجة) তাদের রবের নিকট অসার), এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: (যাতে রাসূলগণের আগমনের পর
আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো প্রমাণ (حجة) না থাকে), এবং মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব আল্লাহর জন্যই রয়েছে চূড়ান্ত প্রমাণ (الحجة البالغة)) অর্থাৎ এমন অকাট্য প্রমাণ (الدليل القاطع) যার কোনো বিরোধিতাকারী নেই, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর এটিই আমার প্রমাণ (حجة) যা আমি ইব্রাহিমকে তাঁর কওমের বিরুদ্ধে প্রদান করেছিলাম), এবং ইবলিস সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: (তোমাদের ওপর আমার কোনো আধিপত্য বা প্রমাণ (سلطان) ছিল না) অর্থাৎ কোনো প্রমাণ (حجة) ছিল না, বরং সে তাদের সংশয় (شبهة) দ্বারা প্রতারিত করেছিল। সুতরাং 'হুজ্জাত' শব্দটি দলিলের (الدليل) ক্ষেত্রে আক্ষরিক (حقيقة) এবং সংশয়ের (شبهة) ক্ষেত্রে রূপক (مجاز) অর্থে ব্যবহৃত হয়। (যাতে) আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো প্রমাণ (حجة) না থাকে), এবং মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব আল্লাহর জন্যই রয়েছে চূড়ান্ত প্রমাণ (الحجة البالغة)) অর্থাৎ এমন অকাট্য প্রমাণ (الدليل القاطع) যার কোনো বিরোধিতাকারী নেই, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (আর এটিই আমার প্রমাণ (حجة) যা আমি ইব্রাহিমকে তাঁর কওমের বিরুদ্ধে প্রদান করেছিলাম), এবং ইবলিস সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: (তোমাদের ওপর আমার কোনো আধিপত্য বা প্রমাণ (سلطان) ছিল না) অর্থাৎ কোনো প্রমাণ (حجة) ছিল না, বরং সে তাদের সংশয় (شبهة) দ্বারা প্রতারিত করেছিল। সুতরাং 'হুজ্জাত' শব্দটি দলিলের (الدليل) ক্ষেত্রে আক্ষরিক (حقيقة) এবং সংশয়ের (شبهة) ক্ষেত্রে রূপক (مجاز) অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الباب الثالثفي جدال الأنبياء عليهم السلام للأممفي جدال الأنبياء عليهم الصلاة والسلام للأمم أولهم: جدال نوح عليه السلام: قال: (استغفِرُوا رَبِّكُم إنَّه كانَ غفاراً. يرسلِ السماءَ عليكُم مدراراً. ويمددكم بأموال وبنينَ ويجعلْ لكُم جناتٍ ويجعلْ لكم أنْهاراً. ما لكُم لا ترجونَ للَّهِ وقاراً. وقد خلقكُمْ أطواراً. ألمْ تَرَوا كيفَ خلقَ اللُهُ سبعَ سماواتٍ طباقاً. وجعل القَمر فيهنَّ نوراً وَجَعَلَ الشمسَ سِرَاجاً. واللهُ أنَبَتكُم مِنَ الأرضِ نباتاً. ثم يُعيدُكم فيها ويخرِجُكُم إخراجاً. والُلهُ جَعَلَ لكُم الأرض
তৃতীয় অধ্যায়জাতিসমূহের প্রতি নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) বিতর্ক প্রসঙ্গেজাতিসমূহের প্রতি নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) বিতর্ক প্রসঙ্গে; তাঁদের মধ্যে প্রথম: নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর বিতর্ক: তিনি বললেন: (তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। এবং তোমাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সমৃদ্ধ করবেন এবং তোমাদের জন্য উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করবেন ও প্রবাহিত করবেন নদীসমূহ। তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের পরোয়া করছো না? অথচ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। তোমরা কি লক্ষ্য করোনি যে, আল্লাহ কীভাবে সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে? এবং সেখানে চন্দ্রকে করেছেন আলো এবং সূর্যকে করেছেন প্রদীপ। আর আল্লাহ তোমাদেরকে মাটি হতে উদ্ভিদরূপে উদগত করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে তাতে ফিরিয়ে নেবেন এবং পুনরায় বের করবেন। আর আল্লাহ তোমাদের জন্য জমিনকে করেছেন
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
بِسَاطاً لِتسلكُوا منها سُبُلاً فِجاجاً) ، وقال تعالى: (ولقدْ أرسلْنَا نوحاً إلى قومِهِ إني لكُم نذيرٌ مبينٌ. أن لا تعبُدُوا إلَاّ الله إني أخَافُ عليكُم عَذَابَ يومٍ أليم. فقال الملأ الذينَ كفرُوا مِنْ قومِهِ ما نراكَ إلا بَشَراً مِثْلَنَا وما نَرَاكَ اتِّبعكَ إلَاّ الذينَ هُمْ أراذِلُنَا باديَ الرأي وما نَرَى لكُم عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ بلْ نَظُنٌّكُم كاذبين) أجابهم نوح عليه السلام بالحجةِ العظمى فقال: (يا قومِ أرأيتُم إنْ كنتُ على بيِّنةٍ من ربِّي) إلى هنا هي الحجة العظمى، وهذه الحجة العظمى هي التي أضافها الله عز وجل إلى نفسه في قوله: (وتلكَ حُجَّتُنَا آتَيْنَاهَا إبراهيمَ على قومِهِ) وقد أشبعنا القول فيها في كتاب الحجة العظمى. (قالوا يَا نوحُ قد جادلْتَنَا فأكثرتَ جدالَنَا فأتِنا بِمَا
...বিছানা স্বরূপ যাতে তোমরা সেখানে প্রশস্ত পথে চলতে পারো), এবং মহান আল্লাহ বলেন: (আর অবশ্যই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছিলাম, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ওপর এক যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আজাবের আশঙ্কা করছি। অতঃপর তাঁর সম্প্রদায়ের কাফির নেতৃবৃন্দ বলল: আমরা তো তোমাকে আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে আমাদের মধ্যে যারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে নিচ কেবল তারাই তোমার অনুসরণ করেছে এবং আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী (كاذبين) মনে করি)। নূহ আলাইহিস সালাম মহা প্রমাণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের উত্তর দিলেন এবং বললেন: (হে আমার কওম, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি) - এ পর্যন্তই হলো মহা প্রমাণ। আর এই মহা প্রমাণটিই মহান আল্লাহ তাঁর নিজের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তাঁর এই বাণীতে: (আর ওটিই ছিল আমার দলিল যা আমি ইবরাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রদান করেছিলাম)। আমরা এ বিষয়ে 'কিতাবুল হুজ্জাতুল উজমা' গ্রন্থে সবিস্তারে আলোচনা করেছি। (তারা বলল: হে নূহ, তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছ এবং আমাদের সাথে তোমার বিতর্ক অনেক দীর্ঘায়িত করেছ, অতএব তুমি আমাদের জন্য তা নিয়ে এসো যা...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
تَعِدُنَا إنْ كُنْتَ مِنَ الصادِقين) . جدالُ إبراهيمَ وحجاجه وله ثلاثة مقامات " الأول ": مع نفسه. " الثاني ": مع أبيه. " الثالث ": مع نمرود وقومه. " الأول ": رَأَى كوكباً قالَ هذا ربي إلى آخر القصة. وجه ُاستدلاله أنه رأى إنارةَ الكوكب وحسنهُ وعُلوّ مكانه ولم ير قبله مثله، فقال: هذا ربي، بناء على أن الرب لا ينبغي أن يكون له مثل، فلما أفل أدرك نقصهُ وعيبه؛ لان الأفول تغير، والتغيرُ حدوثُ والكامل لا يجوز عليه الحدوث؛ لأنه صانع الحدوث وطرد القياس في الإثبات والنفي على باقي الكواكب بالاعتبار الأول، ومن حيث علم أنها مكونة مصنوعة علم أنها لا بد لها من صانع هو أكملُ منها فقالَ: (وَجَّهْتُ وَجهيَ للذي فَطَرَ السمواتِ والأرضَ) ليدخل في ذلك الكواكب التي اعترضته في طريق الاستدلال. "
...আমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, যদি আপনি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হন)। ইব্রাহিম (আ.)-এর বিতর্ক ও যুক্তিপ্রদর্শন এবং এর তিনটি পর্যায় রয়েছে। "প্রথম": নিজের সাথে। "দ্বিতীয়": তাঁর পিতার সাথে। "তৃতীয়": নমরুদ ও তাঁর সম্প্রদায়ের সাথে। "প্রথম": তিনি একটি নক্ষত্র দেখলেন এবং বললেন এটিই আমার প্রতিপালক—ঘটনার শেষ পর্যন্ত। তাঁর যুক্তিপ্রদর্শনের (استدلال) দিকটি হলো, তিনি নক্ষত্রের ঔজ্জ্বল্য, সৌন্দর্য ও সুউচ্চ অবস্থান প্রত্যক্ষ করেন এবং ইতিপূর্বে এর সদৃশ কিছু দেখেননি; ফলে তিনি বললেন: এটিই আমার প্রতিপালক। এর ভিত্তি ছিল এই যে, প্রতিপালকের কোনো সদৃশ থাকা সমীচীন নয়। অতঃপর যখন সেটি অস্তমিত হলো, তিনি এর অপূর্ণতা ও ত্রুটি অনুধাবন করলেন; কারণ অস্তমিত হওয়া হলো পরিবর্তন, আর পরিবর্তন হলো নব্যতা বা নতুন করে সৃষ্টি হওয়া (حدوث), এবং যিনি পূর্ণ তাঁর ক্ষেত্রে নব্যতা বা সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব; কারণ তিনি নিজেই নব্যতার (الحدوث) স্রষ্টা। তিনি প্রথম বিবেচনার ভিত্তিতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রমাণের ক্ষেত্রে বাকি নক্ষত্রগুলোর ওপর এই অনুমান (قياس) প্রয়োগ করেন। আর যেহেতু তিনি জানতেন যে এগুলো সুসংগঠিত ও নির্মিত, তাই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে এগুলোর জন্য অবশ্যই একজন স্রষ্টা রয়েছেন যিনি এগুলোর চেয়েও অধিকতর পূর্ণ। অতঃপর তিনি বললেন: (আমি তাঁরই অভিমুখে আমার চেহারা ফেরালাম যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন), যাতে সেই নক্ষত্রগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যা তাঁর যুক্তিপ্রদর্শনের (استدلال) পথে এসেছিল।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
المقام الثاني مع أبيه ": قال الله تعالى: (وَاذْكُر في الكتابِ إبراهيمَ إنَّهُ كان صدِّيقاً نبياً. إذ قالَ لأبيهِ يا أبَتِ لِمَ تَعْبُدُ مَالا يسمعُ ولا يُبْصِرُ ولا يُغْنِي عنكَ شيئاً. يا أبتِ إنِّي قدْ جاءني مِنَ العلمِ ما لم يأتكَ فاتَّبِعْني أهدكَ صراطاً سَوِياً. يا أبتِ لا تعبدِ الشيطانَ إنَّ الشيطانَ كان للرحمنِ عَصِياً. يا أبتِ إني أخافُ أنْ يَمسَّكَ عذابُ مِنَ الرحمنِ فتكونَ للشيطانِ وَلِيّاً. قال أراغِبٌ أنت عَنْ آلهتي يا
"দ্বিতীয় পর্যায়: তাঁর পিতার সাথে": মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর আপনি এই কিতাবে ইব্রাহীমের কথা স্মরণ করুন; নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যনিষ্ঠ (صِدِّيق) নবী (نَبِي)। যখন তিনি তাঁর পিতাকে বললেন: হে আমার পিতা! কেন আপনি এমন কিছুর ইবাদত করেন যা শোনে না, দেখে না এবং আপনার কোনো উপকারে আসে না? হে আমার পিতা! নিশ্চয়ই আমার নিকট এমন জ্ঞান এসেছে যা আপনার নিকট আসেনি, সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করব। হে আমার পিতা! আপনি শয়তানের ইবাদত করবেন না; নিশ্চয়ই শয়তান পরম দয়াময় আল্লাহর অবাধ্য (عَصِي)। হে আমার পিতা! আমি আশঙ্কা করছি যে, পরম দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আজাব আপনাকে স্পর্শ করবে, ফলে আপনি শয়তানের বন্ধু (وَلِي) হয়ে পড়বেন। তিনি বললেন: হে ইব্রাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? হে...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
إبراهيم لئن لم تنته لأرجُمَنَّكَ واهجُرني مَلِيّاً) . فكان جواب أبيهِ جوابَ جاهلٍ، لانه قابله على نُصحه لهُ بالرجمِ والهجر أشبه جواب قومه، وما كانَ جوابَ قومه إلا أن (قَالُوا حَرِّقُوُه وانصُروا آلهتكم) . " المقام الثالث ": مع النمرودِ وقومه وهوَ قوله تعالى: (أَلَمْ تَرَ إلى الذي حاجَّ إبراهيمَ في رَبِّهِ أَنْ آتَاهُ الُلهُ الملكَ إذ قَالَ إبراهيمُ رَبِّيَ الذي يُحي ويميتُ قالَ أنا أحيي وأميتُ قالَ إبراهيمُ فإنَّ الله يأتي بالشمسِ مِنَ المشْرِقِ فأتِ بها من المغْربِ فَبُهِتَ الذي كَفَرَ واللهُ لا يهدي القومَ الظالمينَ) . فالصادرُ مْن خَصْمه معارضة إلا أنها فاسدة، لانَّ حقيقةَ الإحياء والإماتة التي فسرها خصمه غير الذي قَصده إبراهيم، فلا يخلو حال نمرود إما أن يكونَ ما فهم حقيقة الإحياء والإماتة، أو فهم إلا أنه قصد المصادمة والمباهتة، وكلاهما يوجب العدولَ إلى
"...ইব্রাহিম! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে পাথর ছুড়ে মারব; তুমি দীর্ঘ সময়ের জন্য আমার কাছ থেকে দূরে চলে যাও।" সুতরাং তার পিতার উত্তর ছিল একজন অজ্ঞ ব্যক্তির উত্তরের ন্যায়; কেননা সে ইব্রাহিমের নসিহতের বিনিময়ে পাথর নিক্ষেপ ও বর্জনের হুমকি দিয়েছিল, যা ছিল তার সম্প্রদায়ের উত্তরের সদৃশ। আর তার সম্প্রদায়ের উত্তর এছাড়া আর কিছুই ছিল না যে, (তারা বলেছিল, "একে পুড়িয়ে ফেলো এবং তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য করো")। "তৃতীয় পর্যায়": নমরুদ ও তার সম্প্রদায়ের সাথে; আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখনি, যে ইব্রাহিমের সাথে তার প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করেছিল এ কারণে যে, আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইব্রাহিম বলল, "আমার প্রতিপালক তিনি, যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান"; সে বলল, "আমিও জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।" ইব্রাহিম বলল, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত করো।" তখন সেই কাফির ব্যক্তিটি হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দান করেন না)। অতএব, তার প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছিল তা ছিল একটি আপত্তি (معارضة), তবে তা ছিল অসার (فاسدة); কারণ জীবন ও মৃত্যু প্রদানের যে হাকিকত বা প্রকৃত রূপ তার প্রতিপক্ষ ব্যাখ্যা করেছিল, তা ইব্রাহিমের উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন ছিল। সুতরাং নমরুদের অবস্থা এমন হওয়া থেকে খালি নয় যে— হয় সে জীবন ও মৃত্যুর প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেনি, অথবা সে বুঝেছিল কিন্তু তার উদ্দেশ্য ছিল কেবল বিবাদ ও বিভ্রান্ত করা; আর এ উভয় অবস্থাই বাধ্য করে [পরবর্তী যুক্তির দিকে] প্রত্যাবর্তন করতে...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
دليلٍ يفضحُ معارضته ويقطعُ حجاجه، ومتى كان الخصم بهذه الصفة جاز لخصمه الانتقال إلى دليلٍ آخر أقرب إلى الفهم وأفلج للحجة، وسيأتي نظيره في قصة موسى عليه السلام، قال الله تعالى: (وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ قالَ أَتُحَاجونِّي في اللهِ وَقَدْ هَدَانِ) وذكر الحجة العظمى فقال: (وَكَيْفَ أَخَافُ) إلى قوله: (فأيُّ الفَريقينِ أَحَقُّ بالأمْنِ) وقد شرحنا هذا في كتاب الحجة العظمى. فإن قيل ما الحكمة أنه جادل الملك بالإحياء والإماتة والإتيان بالشمس من المشرق وكل ذلك يمكن دعوى المعارضة له
والكلام عليه، ولم يدعه بالحجة العظمى وجادل
এমন একটি প্রমাণ (دليل) যা তার বিরোধিতাকে (معارضة) উন্মোচিত করে এবং তার অকাট্য যুক্তিকে (حجاج) খণ্ডন করে। যখন কোনো প্রতিপক্ষ এই প্রকৃতির হয়, তখন তার প্রতিপক্ষের জন্য অধিকতর সহজবোধ্য এবং অকাট্যতর প্রমাণের (حجة) দিকে স্থানান্তরিত হওয়া বৈধ। মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে এর অনুরূপ দৃষ্টান্ত আসবে; আল্লাহ তাআলা বলেন: "তার সম্প্রদায় তার সাথে বিতর্ক করল। সে বলল, তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে বিতর্ক করছ, অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন?" আর তিনি ‘মহা প্রমাণ’ (الحجة العظمى) উল্লেখ করে বললেন: "আমি কেন ভয় পাব?" থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: "তবে দুই দলের মধ্যে কোনটি নিরাপত্তার অধিক হকদার?"। আমরা এটি ‘কিতাবুল হুজ্জাতিল উজমা’ গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, এর পেছনে কী হিকমত ছিল যে তিনি বাদশাহর সাথে জীবনদান, মৃত্যুদান এবং পূর্ব দিক থেকে সূর্য আনয়ন করা নিয়ে বিতর্ক করলেন—অথচ এই সবকয়টি বিষয়েই বিরোধিতার (معارضة) দাবি
এবং সে বিষয়ে কথা বলার অবকাশ থাকা সম্ভব ছিল—কেন তিনি তাকে ‘মহা প্রমাণ’ (الحجة العظمى) দিয়ে আহ্বান করেননি এবং বিতর্ক...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
قومه بالحجة العظمى، فالجواب أن الملك كان يدَّعي الربوبية، فلا يقال انه لا يخلو إما أن يكون لنا إله أو لا بخلاف حال قومه فإنَّهم لم يدَّعُوا ربوبيةً. لام عليه، ولم يدعه بالحجة العظمى وجادل قومه بالحجة العظمى، فالجواب أن الملك كان يدَّعي الربوبية، فلا يقال انه لا يخلو إما أن يكون لنا إله أو لا بخلاف حال قومه فإنَّهم لم يدَّعُوا ربوبيةً.
جدال موسى عليه السلام قال الله سبحانه: (فَأْتِيا فِرْعَونَ فقولَا إِنَّا رسولُ رَبِّ العالمينَ) إلى أن قال سبحانه: (قَالَ فِرْعَونَ وَمَا رَبُّ
নিজ সম্প্রদায়ের সাথে তিনি মহান প্রমাণ দ্বারা বিতর্ক করেছেন। এর উত্তর হলো, সেই রাজা প্রভুত্ব দাবি করেছিল, তাই এ কথা বলা চলে না যে বিষয়টি কেবল আমাদের একজন উপাস্য থাকা বা না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, অথচ তাঁর সম্প্রদায়ের অবস্থা ছিল এর বিপরীত; কারণ তারা প্রভুত্ব দাবি করেনি। তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে এবং তিনি তাকে মহান প্রমাণ দ্বারা আহ্বান করেননি, বরং তিনি নিজ সম্প্রদায়ের সাথে মহান প্রমাণ দ্বারা বিতর্ক করেছেন। এর উত্তর হলো, সেই রাজা প্রভুত্ব দাবি করেছিল, তাই এ কথা বলা চলে না যে বিষয়টি কেবল আমাদের একজন উপাস্য থাকা বা না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা তাঁর সম্প্রদায়ের অবস্থার পরিপন্থী ছিল; কারণ তারা প্রভুত্ব দাবি করেনি।
মূসা আলাইহিস সালামের বিতর্ক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: (তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও এবং বলো, আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল) যে পর্যন্ত না মহান আল্লাহ বলেন: (ফেরাউন বলল, আর বিশ্বজগতের রব কে?)
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭০)
العالمين. قالَ ربُّ السمواتِ والأرضِ وَمَا بينهُما إنْ كُنتم مُوقنينَ. قالَ لمن حَوْلَهُ أَلا َتستمعُون. قالَ رَبَّكُم وربُّ آبائِكُمْ الأولين. قالَ إنَّ رسولَكُم الذي أُرْسِلَ إليكُم لمجنُونُ. قالَ رَبُّ والمشرقِ والمغربِ وَمَا بَينهُمَا إنْ كنتم تعِقُلون. َ قال لئِنِ اتخذْت إلهاً غَيْرِي لاجعلنَّكَ مِنَ المسجُونيَنَ. قالَ أَوَ لَوْ جئتكَ بشيءٍ مُبينٍ. قالَ فأتِ بهِ إن كنْتَ مِنَ الصَّادقينَ فَألقى عَصَاهُ فإذا هَي ثُعْبانٌ مبينٌ وَنَزَعَ يَدَهُ فإذا هيَ بيْضَاءُ للناظرينَ) والإشارةُ إلىَ وجْهِ الدلالةِ منْ ذلكَ أنَّ فرعونَ لما قال: (وَمَا رَبُّ العالمينَ) علمَ موسى أنهُ سؤالُ عنْ ماهية ربَّ العالمينَ، وربُّ العالمين لا ماهية لهُ، لانهُ الأول فلا شيءَ قبله فيكونُ منهُ، بلْ هوَ مكِّونُ ما تتكونُ الأشياء منهُ، فلمْ يشتغلْ مُوسى برِّد سؤاِلِهِ وبيانِ فسادِهِ، وكانَ المقصودُ تعريفَ الربَّ جلَّ وعلَاّ بصفتهِ فقال: (رَبُّ السمواتِ والأرض وماَ بينَهما)
বিশ্বজগত। (মূসা) বললেন, "তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।" (ফিরআউন) তার চারপাশের লোকদের বলল, "তোমরা কি শুনছো না?" (মূসা) বললেন, "তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।" (ফিরআউন) বলল, "তোমাদের কাছে প্রেরিত এই রাসূল তো নিশ্চিতভাবেই একজন পাগল।" (মূসা) বললেন, "তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা অনুধাবন করো।" (ফিরআউন) বলল, "যদি তুমি আমি ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাবন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব।" (মূসা) বললেন, "আমি যদি আপনার কাছে কোনো সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে আসি, তবুও কি?" (ফিরআউন) বলল, "তবে তুমি তা উপস্থাপন করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।" অতঃপর তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা এক সুষ্পষ্ট অজগরে পরিণত হলো এবং তিনি তাঁর হাত বের করলেন, অমনি তা দর্শকদের নিকট শুভ্র উজ্জ্বল প্রতীয়মান হলো। আর এর দ্বারা দলিলের দিক (وجه الدلالة) নির্দেশ করা হচ্ছে যে, ফেরাউন যখন বলল: (বিশ্বজগতের প্রতিপালক কী?), তখন মূসা বুঝতে পারলেন যে এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের স্বরূপ (ماهية) সম্পর্কে একটি প্রশ্ন। অথচ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কোনো স্বরূপ (ماهية) নেই; কারণ তিনি অনাদি (الأول), তাঁর পূর্বে কোনো কিছুই ছিল না যা থেকে তাঁর অস্তিত্ব হতে পারে, বরং বস্তুসমূহ যা থেকে গঠিত হয় তিনি তারই স্রষ্টা। তাই মূসা তার প্রশ্নের সরাসরি খণ্ডন বা তার অসারতা বর্ণনায় লিপ্ত হননি, বরং উদ্দেশ্য ছিল মহান রবের পরিচয় তাঁর গুণাবলির মাধ্যমে প্রদান করা। তাই তিনি বললেন: (আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক)।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭১)
فحصرَ الكائناتِ في ثلاث كلماتٍ فلما قال: (أَلا تستَمعونَ. قالَ ربكُم وربّ آبائِكم الأولين) رداً على فرعونَ قوله (أنا ربُكُم الأعلى) فلما قالَ: (إن رسولَكم الذي أُرسِلَ إليكم لمجنون) أردفَ ما ُذِكرَ بشاهديْنِ آخرينِ فقالَ: (رَبُّ المشرِق والمغربِ ومَاَ بينَهما) ؛ لانَّ المشرق والمغربَ آيتانِ عظيمتانِ لا يقدرُ فرعونُ على ادُّعائِهما، فلَّما اندحضتْ حُجَّتُهُ قال: (لئن اتَّخَذْتَ إلهاً غَيْرِي لاجعلنَّكَ مِنَ المسجُونيَنَ. قالَ أَوَ لَوْ جئتكَ بشيءٍ مُبينٍ. قالَ فأتِ بهِ إن كنْتَ مِنَ الصَّادقينَ فَألقى عَصَاهُ فإذا هَي ثُعْبانٌ مبينٌ وَنَزَعَ يَدَهُ فإذا هيَ بيْضَاءُ للناظرينَ) آيتان عظيمتان في انقلاب اعيانهما، وإنما كانت الآية في العصا؛ لأنها أنزلت على آدم بسبب الكلب لما نبح عليه لما تعاظمت دعوى فرعون قوبل بها إهانةً له واستحقاراً، وكونها ظهرت في صورة
তিনি সৃষ্টিজগতকে তিনটি বাক্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। সুতরাং যখন তিনি ফেরাউনের উক্তি—‘আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠ পালনকর্তা’—এর জবাবে বললেন: (তোমরা কি শুনছ না? তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও পালনকর্তা); যখন সে (ফেরাউন) বলল: (তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল নিশ্চয়ই উন্মাদ), তখন তিনি উল্লিখিত বিষয়ের সাথে আরও দু’টি সাক্ষ্য (شاهد) যুক্ত করে বললেন: (তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা); কেননা পূর্ব ও পশ্চিম এমন দু’টি মহান নিদর্শন যা দাবি করার সামর্থ্য ফেরাউনের ছিল না। যখন তার যুক্তি খণ্ডিত হলো, তখন সে বলল: (যদি তুমি আমি ব্যতীত অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব)। মূসা বললেন: (আমি যদি তোমার কাছে কোনো সুস্পষ্ট বিষয় নিয়ে আসি, তবুও কি?) সে বলল: (তবে তা নিয়ে এসো, যদি তুমি সত্যবাদী (صادق) হয়ে থাকো)। অতঃপর তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা এক সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হলো। আর তিনি নিজের হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের নিকট উজ্জ্বল শুভ্র প্রতীয়মান হলো। বস্তুদ্বয়ের মৌলিক সত্তা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এ দু’টি ছিল মহান নিদর্শন। আর নিদর্শনটি বিশেষভাবে লাঠির মাধ্যমে হওয়ার কারণ ছিল এই যে, কুকুরের ঘেউঘেউ করার কারণে আদমের ওপর এটি অবতীর্ণ হয়েছিল। যখন ফেরাউনের দাবি সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন তাকে লাঞ্ছিত ও তুচ্ছ করার উদ্দেশ্যে এর মাধ্যমে তার মোকাবিলা করা হলো, এবং এর যে রূপ প্রকাশ পেয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭২)
ثعبانٍ مناسب لحاله؛ لأن مسها لين وفعلها قاتل. وفرعون بإظهار كرمهِ وعدلهِ لينٌ وفعله قاتلٌ لنفسهِ وغيرهِ. فأما يدهُ البيضاءُ فالإشارة فيها جئتكَ بالشرع النير الأبيض الذي لا ظلمةَ فبه، كما قال رسول الله (جئتكم بها بيضاءَ نقية) ولما كانت آية موسى عليه السلام حِسِّيةً، ومعجزاتهُ مرئيةً لم يخاطبهمْ بالحجةِ العظمى؛ لأنها عقلية، ولما همُّوا بقتلهِ الهم اللهُ سبحانهُ مؤمنَ آلِ فرعون الحجة العظمى فقال: (أتقتلونَ رجلاً أنْ يقولَ رَبِّيَ اللهُ وقدْ جَاءَكُمْ بالبيناتِ من رَبِّكُم وإنْ يَك كاذباً فعليهِ كَذِبُهُ وَإنْ يَكُُ صادِقاً يِصبْكُمْ بعضُ الذي يعدُكُم) وقد شرحنا ذلك في كتاب الحجة العظمى. وأما جدال رسول الله (لكفار قريش واليهود فسيأتي في ذكر الأدلة الدالة على صِدْق رسالته.
তার অবস্থার উপযোগী একটি সর্প; কারণ তার স্পর্শ কোমল হলেও তার কাজ প্রাণঘাতী। আর ফেরাউন তার উদারতা ও ন্যায়বিচার প্রদর্শনের মাধ্যমে ছিল কোমল, কিন্তু তার কর্মকাণ্ড ছিল নিজের এবং অন্যদের জন্য প্রাণঘাতী। আর তার শুভ্র হস্তের বিষয়টি হলো এই সংকেত যে, আমি তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছি এক উজ্জ্বল শুভ্র শরিয়ত যাতে কোনো অন্ধকার নেই; যেমনটি আল্লাহর রাসূল বলেছেন, 'আমি তোমাদের নিকট তা স্বচ্ছ ও শুভ্র অবস্থায় নিয়ে এসেছি।' যেহেতু মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিদর্শনসমূহ ছিল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এবং তাঁর অলৌকিক ঘটনাসমূহ (মোজেজা) ছিল দৃশ্যমান, তাই তিনি তাদের সাথে 'মহা প্রমাণ' দিয়ে সম্বোধন করেননি; কারণ তা ছিল বুদ্ধিভিত্তিক। যখন তারা তাঁকে হত্যা করার সংকল্প করল, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরাউন বংশের মুমিন ব্যক্তিকে মহা প্রমাণের ইলহাম দান করলেন, তখন সে বলল: 'তোমরা কি এমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করবে যে বলে আমার রব আল্লাহ, অথচ সে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? সে যদি মিথ্যাবাদী (كاذب) হয়, তবে তার মিথ্যার পরিণাম তার ওপরই বর্তাবে; আর যদি সে সত্যবাদী (صادق) হয়, তবে সে তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তার কিছু তোমাদের ওপর আপতিত হবে।' আমরা এ বিষয়টি 'কিতাবুল হুজ্জাতিল উজমা' নামক গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি। আর কুরাইশ কাফের ও ইহুদিদের সাথে আল্লাহর রাসূলের বিতর্কের বিষয়টি তাঁর রিসালাতের সত্যতা প্রমাণের দলীলসমূহের আলোচনায় সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
الباب الرابعفي ذكر الأدلة على وجود الصانع سبحانهفي ذكر الأدلة على وجود الصانع سبحانه: أعلم أنها لا تحصى لأن كل موجودٍ عن عدم فهو دليل على وجود موجدٍ كما قال سبحانه:) وَإنْ مِنْ شيءٍ إلَاّ يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ) وذلك التسبيح إذعان لموجده وعبادةٌ لربه كما قيل:
وفي كلِّ شيءٍ لهُ آيةٌ
… تدلُّ على أنهُ الواحدُ
فأما أدلة الكتاب العزيز فمنها قوله تعالى: (
চতুর্থ পরিচ্ছেদমহিমান্বিত স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণাদি বর্ণনায়মহিমান্বিত স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণাদি বর্ণনায়: অবগত হোন যে, সেগুলো অগণিত; কেননা অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব লাভ করা প্রতিটি বস্তুই একজন অস্তিত্বদানকারীর অস্তিত্বের প্রমাণ, যেমনটি মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: "এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে না।" আর এই পবিত্রতা ঘোষণা হলো তাঁর অস্তিত্বদানকারীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এবং তাঁর প্রতিপালকের ইবাদত, যেমনটি বলা হয়েছে:
প্রতিটি বস্তুর মাঝেই তাঁর এক নিদর্শন রয়েছে
… যা প্রমাণ করে যে তিনি এক ও অদ্বিতীয়
মহাগ্রন্থের প্রমাণাদির মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: (
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
أفَلَا يَنْظُرُونَ إلى الإبلِ كيفَ خُلِقَتْ. وإلى السَّمَاءِ كيفَ رُفِعَتْ. وإلى الجبالِ كيفَ نُصبتْ. وإلى الأرضِ كيفَ سُطِحَتْ. فَذَكِّرْ إنما أنتَ مُذَكِّرٌ) ، وقال تعالى: (ألم نجعلِ الأرضَ مِهَاداً. والجبالَ أوْتَاداً. وَخَلَقْنَاكمْ أزواجاً. وجعلنا نومَكُمْ سُبَاتاً. وجعلْنَا الليلَ لباساً. وجعلْنَا النهارَ معاشاً. وَبَنَيْنَا فَوْقَكمْ سَبْعاً شِدَاداً. وجعلْنَا سِرَاجاً وَهَّاجاً. وأنزلْنَا من المعصِرَاتِ مَاءٍ ثجاجاً. لنُخرِجَ بِهِ حَبّاً ونباتاً. وجَنَّاتٍ ألفافاً) وصرف سبحانه هذه الكلمات في كتابه العزيز وصرف هذه الأدلة منها الدلالة على
তারা কি উটের দিকে লক্ষ করে না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের দিকে, তা কীভাবে সমুন্নত করা হয়েছে? এবং পাহাড়গুলোর দিকে, তা কীভাবে স্থাপন করা হয়েছে? এবং জমিনের দিকে, তা কীভাবে সমতল করা হয়েছে? সুতরাং আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা মাত্র। এবং আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: (আমি কি জমিনকে শয্যা এবং পাহাড়গুলোকে পেরেক বানাইনি? আমি তোমাদের জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম। রাতকে করেছি আবরণ এবং দিনকে করেছি জীবিকা অন্বেষণের সময়। তোমাদের উপরে নির্মাণ করেছি সুদৃঢ় সাত আকাশ। এবং আমি সৃষ্টি করেছি একটি অত্যুজ্জ্বল প্রদীপ। আর মেঘমালা থেকে বর্ষণ করেছি প্রচুর বারিধারা। যাতে তা দিয়ে উৎপন্ন করি শস্য ও উদ্ভিদ এবং ঘন নিবিড় বাগান।) আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে এই বাণীসমূহ ও প্রমাণাদি বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন; যার মধ্য থেকে একটি নির্দেশনা (الدلالة) হলো...
(খণ্ড: ১)
ইস্তিখরাজুল জিদাল মিনাল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
وجوده وقدرته وحكمته، وأنه لا مشارك له ولا معاضد ولا مغالب فقال: (أأنُتمْ أشدُّ خلقاً أم السَّماءُ بناهَا. رَفَعَ سَمْكَهَا فَسَوَّاها. وأغْطَشَ لَيْلَها وأخرَجَ ضُحَاهَا. والأرضَ بعدَ ذلكَ دحاهَا. أخرجَ منها ماءَهَا ومرعَاهَا. والجبالَ أرسَاهَا متاعاً لكم ولأنعامِكم) ، وقال تعالى: (وهوَ الذي مَدَّ الأرضَ وجعلَ فيها رواسِيَ وأَنْهاراً ومِنْ كُلِّ الثمراتِ جعلَ فيها زوجَيْنِ اثنينِ يُغْشي الليلَ النهارَ إنَّ في ذلكَ لآياتٍ لقومٍ يتفكرونَ. وفي الأرضِ قِطَعٌ متجاوراتٌ وجناتٌ مِنْ أعنابٍ وزرعٌ ونخيلٌ صنوانٌ وغيرُ صِنوانٍ يُسقى بماءٍ واحدٍ ونفضّلُ بعضَها على بعضٍ في الأُكُلِ إنَّ في ذلكَ لآياتٍ لقومٍ يعقلونَ) ، وقال تعالى: (إنَّ في خلقِ السمواتِ والأرضِ واختلافِ الليل والنهارِ والفُلْكِ التي تَجْري في البحْرِ بما ينفعُ النَّاسَ وما أنزلَ الُلهُ مِنَ السماءِ من ماءٍ فأحيا بِهِ الأرضَ بعدَ موتِهَا وبثَّ فيها من كُلِّ دابةٍ وتصريفِ الرياحِ والسحاب المسخَّرِ بينَ السماءِ والأرضِ لآياتٍ لقومٍ يعقلونَ) ، وقال تعالى: (هوَ الذي جعلَ الشمسَ ضياءً والقمرَ نوراً وقَدَّرَهُ منازلَ
তাঁর অস্তিত্ব, ক্ষমতা এবং প্রজ্ঞা, এবং নিশ্চয়ই তাঁর কোনো অংশীদার নেই, কোনো সাহায্যকারী নেই এবং কোনো পরাভূতকারী নেই। অতঃপর তিনি বললেন: (তোমাদের সৃষ্টি করা কি অধিক কঠিন নাকি আসমান? যা তিনি নির্মাণ করেছেন। তিনি এর ছাদকে সুউচ্চ করেছেন এবং একে সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর সূর্যালোক প্রকাশিত করেছেন। আর এরপর তিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন। তিনি তা থেকে পানি ও চারণভূমি নির্গত করেছেন। আর পাহাড়সমূহকে তিনি সুদৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছেন—তোমাদের এবং তোমাদের গবাদিপশুর জীবনোপকরণের জন্য।) এবং মহান আল্লাহ বলেন: (তিনিই সেই সত্তা যিনি জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পাহাড় ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন। আর প্রত্যেক প্রকার ফল তিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে। আর জমিনে রয়েছে পাশাপাশি অবস্থিত বিভিন্ন ভূখণ্ড, আঙ্গুরের বাগান, শস্যক্ষেত এবং খেজুর গাছ—যার কিছু একই মূল থেকে উৎপন্ন আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে। এগুলি একই পানি দ্বারা সিক্ত করা হয়। আর আমি ফলন ও স্বাদে এগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করি। নিশ্চয়ই এতে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।) এবং মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, সমুদ্রে চলাচলকারী মানুষের উপকারী নৌযানসমূহে, আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত পানিতে—যা দ্বারা তিনি মৃত জমিনকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং তাতে সকল প্রকার প্রাণের বিস্তার ঘটিয়েছেন—আর বায়ুর প্রবাহে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় অবশ্যই বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।) এবং মহান আল্লাহ বলেন: (তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে দীপ্তিময় এবং চন্দ্রকে আলোকময় করেছেন এবং তার মঞ্জিলসমূহ নির্ধারণ করেছেন...)