(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: -)
فوائد المستخرجات من خلال مسند أبي عوانة   (نايف بن ناصر المنصور)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: فوائد المستخرجات من خلال مسند أبي عوانة

المؤلف: نايف بن ناصر المنصور

رسالة: ماجستير في الحديث - كلية العلوم الإسلامية - جامعة المدينة العالمية، ماليزيا

إشراف: د عزت روبي الجرحي

العام الجامعي: 1435 هـ - 2014 م

عدد الصفحات: 169

[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442

মুসনাদ আবি আওয়ানার মাধ্যমে মুস্তাখরাজাত (المستخرجات)-এর উপকারিতা   (নায়েফ বিন নাসের আল-মানসুর)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: মুসনাদ আবি আওয়ানার মাধ্যমে মুস্তাখরাজাত (المستخرجات)-এর উপকারিতা

লেখক: নায়েফ বিন নাসের আল-মানসুর

গবেষণাপত্র: হাদিসে মাস্টার্স - ইসলামিক সায়েন্সেস অনুষদ - আল-মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া

তত্ত্বাবধান: ড. ইজ্জাত রুবি আল-জারহি

শিক্ষাবর্ষ: ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৯

[শামেলা নাম্বারিং অনুযায়ী ইলেকট্রনিক বই]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقدّمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضلَّ له، ومن يُضلل فلن تجدَ له وليًّا مرشدًا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، يحيي ويميت، وهو على كل شيء قدير، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، بلَّغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصَح الأمة، وجاهَد في الله حقَّ جِهاده حتى أتاه اليقين، ورضي الله تعالى عن الصحابة الأعلام، وأتباعه الذين قعَّدُوا للسنة وكائد، وحفظوها وحافظوا عليها من الأقارب والأباعد، وبذلوا في تحقيق ذلك كلَّ نفيس من كلّ كريم وماجد، فجزاهم الله خيراً عن الأمة والإسلام، ورزقنا السير على منهاجهم، لبلوغ المرام، أما بعد:

فإن السنة النبوية هي المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي بعد كتاب الله، فهي موضّحة لأحكام القرآن، ومبيّنة لمعانيه، وقد بدأ بجمع السنة النبوية بشكل رسميٍّ من قِبل الخليفة الراشد عمر بن عبد العزيز، وذلك في آخر القرن الأول الهجري، أو أوّل الثاني؛ امتثالاً لِمَا جاء في السنة النبوية من الحث على جمع السنة وطلب الحديث وفضل أهله، قال رسول الله صلى عليه وسلم: «أَوْلَى النَّاسِ بِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرُهُمْ عَلَيَّ صَلَاة»(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي، في أبواب الوتر، باب: ما جاء في فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم (484) وقال: هذا حديث حسن غريب، والبخاري في تاريخه (5/ 177) (559)، والبغوي في "شرح السنة" (3/ 196) (686) وقال: هذا حديث حسن غريب، والخطيب في "شرف أصحاب الحديث" ص (34) وذكره العجلوني في "كشف الخفاء" ص (267)، ومن قبله السخاوي في "المقاصد الحسنة" ص (221) وقال: وفي سنده موسى بن يعقوب الزمعي، وقد تفرد به فيما قاله الدارقطني مع الاختلاف عليه فيه، فقيل عن عبد اللَّه بن شداد عن ابن مسعود بلا واسطة، وهي رواية الترمذي والبخاري في تاريخه الكبير، وابن أبي عاصم وآخرين. وقيل: بإثبات أبيه بينهما. وهي رواية أبي بكر بن أبي شيبة، ومن طريقه ابن حِبان في "صحيحه"، وأبو نُعيم، وابن بشكوال، وآخرون. وهي أكثر وأشهر، والزمعي قال فيه النسائي: إنه ليس بالقوي لكن وثّقه ابن معين فحسبُك به، وكذا وثقه أبو داود، وابن حبان، وابن عَدي، وجماعة، وأشار البخاري في تاريخه إلى أن الزمعي رواه عن ابن كيسان. عن عتبة بن عبد اللَّه عن ابن مسعود. وفيه منقبة لأهل الحديث، فإنهم أكثرُ الناس صلاة عليه.

وقال الحافظ ابن حجر في "فتح الباري" (11/ 167): حسّنه الترمذي، وصححه ابن حبان، وللحديث شاهد من حديث أبي أمامة بلفظ: «صلاة أمتي تعرض علي كل جمعة، فمن كان أكثرهم علي صلاةً كان أقربهم مني منزلة». أخرجه البيهقي في "شعب الإيمان" ولا بأس بسنده. والحديث في السنن الكبرى (3/ 249) (6208)، و"شعب الإيمان" (3/ 1642). وقال الألباني: حسنٌ لغيره، وقال: رواه البيهقي بإسناد حسن إلا أنّ مكحولًا قيل لم يسمع من أبي أمامة. "صحيح الترغيب" (1668).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের কর্মের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শক ও অভিভাবক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব কেবল তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তিনি রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথার্থভাবে জিহাদ করেছেন, যতক্ষণ না তাঁর কাছে মৃত্যু (ইয়াকিন) এসেছে। আল্লাহ তাআলা মহান সাহাবীগণের ওপর সন্তুষ্ট হোন, এবং তাঁর সেইসব অনুসারীদের ওপরও, যারা সুন্নাহর মূলনীতি ও বিধানসমূহ নির্ধারণ করেছেন এবং তা সুসংরক্ষিত করেছেন এবং নিকটাত্মীয় ও দূরাত্মীয় সবার থেকে তা রক্ষা করেছেন। তাঁরা এর সত্যতা যাচাইয়ের কাজে প্রত্যেক মূল্যবান ও মহৎ সম্পদ ব্যয় করেছেন। আল্লাহ তাঁদের ইসলাম ও উম্মাহর পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং আমাদের তাঁদের পথে চলার তাওফীক দিন যেন আমরা উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই সুন্নাহ নববী হলো আল্লাহর কিতাবের পর ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। এটি কুরআনের বিধানসমূহকে ব্যাখ্যা করে এবং এর অর্থসমূহ বর্ণনা করে। খলীফায়ে রাশেদ ওমর বিন আব্দুল আজিজের মাধ্যমে হিজরি প্রথম শতাব্দীর শেষে বা দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্নাহ নববী সংকলনের কাজ শুরু হয়। সুন্নাহ সংকলন, হাদিস অন্বেষণ এবং হাদিসবিদদের ফযিলতের ব্যাপারে বর্ণিত সুন্নাহর উৎসাহ প্রদানের অনুসরণে এটি করা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি হবে সেই, যে আমার ওপর সবচেয়ে বেশি সালাত (দরুদ) পাঠ করে»(১)।

--------------------------------------------

(১) তিরমিযী এটি বিতর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাত পাঠের ফযিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (৪৮৪)। তিনি বলেছেন: এটি একটি সুন্দর ও অনন্য (حسن غريب) হাদিস। ইমাম বুখারী তাঁর তারিখে (৫/১৭৭) (৫৫৯), বাগভী তাঁর "শারহুস সুন্নাহ"-তে (৩/১৯৬) (৬৮৬) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি সুন্দর ও অনন্য (حسن غريب) হাদিস। খতিব "শারাফু আসহাবিল হাদিস" পৃষ্ঠায় (৩৪) এবং আজলুনি "কাশফুল খাফা" পৃষ্ঠায় (২৬৭) এটি উল্লেখ করেছেন। এর আগে সাখাভী "আল-মাকাসিদুল হাসানা" পৃষ্ঠায় (২২১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এর সনদে মুসা বিন ইয়াকুব আল-যামাঈ রয়েছেন। দারাকুতনী যেমনটি বলেছেন, তিনি এটি বর্ণনায় একাকী (تفرد) হয়ে পড়েছেন এবং তাকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, এটি আবদুল্লাহ বিন শাদ্দাদ থেকে ইবনে মাসউদ এর মাধ্যমে সরাসরি (বিচ্ছিন্নতাহীন) বর্ণিত, যা তিরমিযী এবং বুখারী তাঁর তারিখে কাবীর, ইবনে আবি আসিম ও অন্যদের বর্ণনা। আবার কেউ বলেছেন, উভয়ের মাঝে তার পিতার নাম উল্লেখের মাধ্যমে এটি সূত্রবদ্ধ। এটি আবু বকর বিন আবি শায়বার বর্ণনা এবং তাঁর মাধ্যমে ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহে, আবু নুয়াইম, ইবনে বাশকুওয়াল এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনাটিই অধিক এবং প্রসিদ্ধ। যামাঈ সম্পর্কে নাসাঈ বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নয় (ليس بالقوي)। কিন্তু ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, যা আপনার জন্য যথেষ্ট। একইভাবে আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান, ইবনে আদী এবং একদল বিশেষজ্ঞ তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। বুখারী তাঁর তারিখে ইঙ্গিত করেছেন যে, যামাঈ এটি ইবনে কায়সান থেকে, তিনি উতবা বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে হাদিস বিশারদদের মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে, কেননা তাঁরাই তাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি সালাত পাঠকারী।

হাফিয ইবনে হাজার "ফাতহুল বারী"-তে (১১/১৬৭) বলেছেন: তিরমিযী একে সুন্দর (حسن) বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ (صحيح) বলেছেন। আবু উমামাহ বর্ণিত হাদিস থেকে এই হাদিসের একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যার শব্দ হলো: «প্রতি জুমাবারে আমার উম্মতের সালাত আমার কাছে পেশ করা হয়, তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি সালাত পাঠ করবে, সে আমার অবস্থানের সবচেয়ে কাছে থাকবে»। বায়হাকী এটি "শুআবুল ঈমান"-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে কোনো সমস্যা নেই। হাদিসটি সুনানুল কুবরা (৩/২৪৯) (৬২০৮) এবং "শুআবুল ঈমান"-এ (৩/১৬৪২) রয়েছে। আলবানী একে অন্যান্য বর্ণনার কারণে সুন্দর (حسن لغيره) বলেছেন। তিনি আরও বলেন: বায়হাকী এটি সুন্দর (حسن) সনদে বর্ণনা করেছেন, তবে বলা হয়েছে যে মাকহুল আবু উমামাহ থেকে শ্রবণ করেননি। "সহীহুত তারগীব" (১৬৬৮)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وعن ابن مسعود مرفوعًا: «نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا، فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لَيْسَ بِفَقِيهٍ»(1).

قال القاضي أبو بكر بن العربي: قال علماءُ الحديث: (ما مِن رجل يَطلب الحديثَ إلا كان على وجهه نُضْرة)(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه بلفظه أبو داود، كتاب العلم، باب: فضل نشر العلم (3662)، والترمذي، كتاب العلم، باب: ما جاء في الحث على تبليغ السماع (2657) و (2658) وقال: هذا حديث حسن صحيح،، و ابن ماجه، كتاب افتتاح الكتاب في الإيمان … ، باب: من بلغ علماً (232)، وأحمد في "مسنده" (4157) في مسند عبد الله بن مسعود، وأبو يعلى في "مسنده" (5126) و (5296) وقال محققه الأستاذ حسين سليم: إسناده حسن.

قال الحافظ الجورجاني في "الأباطيل والمناكير والمشاهير" (1/ 241) (98): هذا حديث صحيح، رواه عن … عبد الله جماعةٌ. وهو الذي أخرجه الترمذي برقم (2657)، وقال الجورجاني أيضاً عقب حديث (95): هذا حديث مشهور، ورواته ثقات. وهو الذي أخرجه الترمذي برقم (2658).

وعدَّه السيوطي متواترًا في "قطف الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة" ص (28) وذكره بلفظ: «نضّر الله امرأً سمع مقالتي فوعاها، فأداها إلى مَن لم يَسمعها، فرُبَّ حاملِ فقهٍ غير فقيهٍ، ورب حامل فقه إلى مَن هو أفقه منه». وذكر ستة عشر صحابياً قاموا بروايته.

هذا، وقد وصححه الألباني في "صحيح وضعيف ابن ماجه" (304).

(2) في "أحكام القرآن" (4/ 142). وعزا الإدريسي في "نظم المتناثر من الحديث المتواتر" ص (6) لسفيان بن عيينة قوله: "ليس أحد من أهل الحديث إلا وفي وجهه نَضْرة؛ لهذا الحديث" والنضرة: نعيم الوجه.
ইবনে মাসউদ থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোন হাদিস শুনল এবং তা মুখস্থ করল যতক্ষণ না সে তা পৌঁছে দিল। কারণ অনেক ইলমের ধারক এমন আছে যে তার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়, আবার অনেক ইলমের ধারক নিজে বিজ্ঞ (ফকিহ) নয়»(1).

কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি বলেন: হাদিস বিশারদগণ বলেছেন: (যে ব্যক্তিই হাদিস অন্বেষণ করে, তার চেহারায় উজ্জ্বলতা প্রকাশ পায়)(2).

--------------------------------------------

(1) এটি এই শব্দে আবু দাউদ সংকলন করেছেন, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: ইলম প্রচারের ফজিলত (৩৬৬২); তিরমিজি, কিতাবুল ইলম, পরিচ্ছেদ: শ্রবণকৃত বিষয় পৌঁছে দেওয়ার উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে (২৬৫৭) ও (২৬৫৮) এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস; এবং ইবনে মাজাহ, কিতাব ইফতিতাহুল কিতাব ফিল ঈমান ..., পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি ইলম পৌঁছে দিল (২৩২); আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ (৪১৫৭) মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদে; এবং আবু ইয়ালা তাঁর মুসনাদ-এ (৫১২৬) ও (৫২৯৬) এবং এর মুহাক্কিক উস্তাদ হুসাইন সালিম বলেছেন: এর সনদ (إسناده) হাসান (حسن)।

হাফেজ আল-জুরজানি 'আল-আবাতিল ওয়াল মানাকির ওয়াল মাশাহির' (১/ ২৪১) (৯৮)-এ বলেন: এটি সহিহ (صحيح) হাদিস, এটি আবদুল্লাহ থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। আর এটিই তিরমিজি ২৬৫৭ নম্বরে বর্ণনা করেছেন। আল-জুরজানি ৯৫ নম্বর হাদিসের পর আরও বলেছেন: এটি প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আর এটিই তিরমিজি ২৬৫৮ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

আল-সুয়ুতি 'কাতফুল আজহার আল-মুতানাসিরাহ ফিল আখবার আল-মুতাওয়াতিরাহ' (পৃ. ২৮)-এ একে মুতাওয়াতির (متواترًا) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং একে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনল, তা অনুধাবন করল এবং তা পৌঁছে দিল যে ব্যক্তি তা শোনেনি তার কাছে। কেননা ইলমের অনেক ধারক নিজে ফকিহ নয়, আবার ইলমের অনেক ধারক তার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট তা পৌঁছে দেয়»। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন এমন ১৬ জন সাহাবির কথা উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া আলবানি 'সহিহ ওয়া জঈফ ইবনে মাজাহ' (৩০৪)-এ একে সহিহ (صححه) বলে অভিহিত করেছেন।

(2) 'আহকামুল কুরআন' (৪/ ১৪২)-এ। আল-ইদ্রিসি 'নাজমুল মুতানাসিরা মিনাল হাদিসিল মুতাওয়াতির' (পৃ. ৬)-এ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ-এর একটি উক্তি উল্লেখ করেছেন: "আহলে হাদিসদের এমন কেউ নেই যার চেহারায় এই হাদিসের কারণে উজ্জ্বলতা (نضرة) বিদ্যমান নেই।" আর 'নাদ্বরহ' (النضرة) অর্থ হলো চেহারার লাবণ্য বা সজীবতা।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وعن إبراهيم بن عبد الرحمن العُذْري مرفوعًا: «يَحملُ هذا العلمَ مِن كل خَلفٍ عُدولُهُ، يَنفُون عنه تَحْريفَ الغَالِين، وانتحالَ المُبطِلين، وتأويلَ الجاهِلين»(1).

وذلك في جمع السنة.

وفي الصحيح من حديث معاوية بن أبي سفيان: «لا تزالُ طائفة من أمتي ظاهرين على الحقِّ، لا يَضرُّهم مَن خالفَهم»(2).

قال علي بن المديني: "هم أصحاب الحديث"(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن عدي في "الكامل" (1/ 147)، وابن أبي حاتم في "الجرح" (2/ 17)، والبيهقي في "السنن الكبرى" (10/ 209)، والعقيلي في "الضعفاء" (4/ 256)، وابن عبد البر في "التمهيد" (1/ 59)، والخطيب في "شرف أصحاب الحديث" (55) من حديث إبراهيم بن عبد الرحمن العذري معضلاً، قال العقيلي في ترجمة معان بن رفاعة: لا يعرف إلا به، وقد رواه قوم مرفوعًا من جهة لا تثبت. وعدّ رواية إبراهيم عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلة، ورواه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" (7/ 37)، وابن حبان في "الثقات" (4/ 10)، وابن حجر في "الإصابة في تمييز الصحابة" (1/ 429).

قال الذهبي في "الميزان" (1/ 45): رواه غير واحد عن معان بن رفاعة، ومعان ليس بعمدة، ولا سيما أتى بواحد لا يدري من هو.

قال الحافظ ابن حجر في "لسان الميزان" (1/ 77): حديثه قد رواه ابن عدي في "الكامل" من رواية الوليد بن مسلم عن معان ابن رفاعة، عن إبراهيم بن عبد الرحمن، ثنا الثقة من أشياخنا فذكره. وقال مهنا بن يحيى: قلت لأحمد: حديث معان بن رفاعة كأنه كلام موضوع!! قال: لا. بل هو صحيح،

فقلت له: ممن سمعتَه أنت؟ قال: مِن غير واحد. قلتُ: مَن هم؟ قال: حدثني به مِسكين، إلا أنه يقول: معان عن القاسم ابن عبد الرحمن. قال أحمد: معان بن رفاعة: لا بأس به.

قال الحافظ العلائي في "بغية الملتمس" (1/ 34) في حديث أسامة: هذا حديث حسن غريب صحيح تفرد به من هذا الوجه معان بن رفاعة، وقد وثقه علي بن المديني ودحيم، وقال فيه أحمد بن حنبل: لا بأس به.

قلت: تعدًّدُ طرقه يقضي بحُسنه، وقد جمع ابن عبد البر طرقه في " التمهيد" (1/ 28) و (1/ 59)، وابن القيم في "مفتاح دار السعادة" (1/ 206)، وابن مفلح في " الآداب الشرعية" (2/ 148). انظر " الحطة في ذكر الصحاح الستة" ص:70 و 71، و"شرف أصحاب الحديث"ص 11 ـ 28 ـ 29.

(2) أخرجه البخاري (71) و (3116) و (7312)، ومسلم (1037) (100) وأحمد (16912).

(3) "شرف أصحاب الحديث" (1/ 127) و"فتح الباري" (13/ 293) وقال الحافظ: أخرج الحاكم في علوم الحديث بسند صحيح عن أحمد: إن لم يكونوا أهل الحديث فلا أدري من هم!.
ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান আল-উজরি থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত: «প্রতিটি প্রজন্ম থেকে তাদের মধ্যে যারা নির্ভরযোগ্য (عدل), তারা এই ইলম বহন করবে। তারা একে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে মুক্ত রাখবে»(১)।

আর তা সুন্নাহ সংকলনের ক্ষেত্রে।

সহিহ গ্রন্থে মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না»(২)।

আলি ইবনুল মাদিনি বলেন: "তারা হলেন হাদিসের অনুসারী (أصحاب الحديث)"(৩)।

--------------------------------------------

(১) এটি ইবনে আদি 'আল-কামিল' (১/১৪৭), ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ'-তে (২/১৭), বায়হাকি 'আস-সুনান আল-কুবরা'-তে (১০/২০৯), উকায়লি 'আদ-দুয়াফা'-তে (৪/২৫৬), ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ'-এ (১/৫৯) এবং খতিব 'শরাফ আসহাব আল-হাদিস'-এ (৫৫) ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান আল-উজরি থেকে বিচ্ছিন্ন (معضل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উকায়লি মুয়ান বিন রিফাআ-র জীবনীতে বলেছেন: তিনি ছাড়া এটি আর কেউ জানে না, আর এক দল লোক এটিকে এমন এক পক্ষ থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা প্রমাণিত নয়। তিনি ইব্রাহিমের বর্ণনাকে নবি (সা.) থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে গণ্য করেছেন। এটি ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক'-এ (৭/৩৭), ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত'-এ (৪/১০) এবং ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ'-তে (১/৪২৯) বর্ণনা করেছেন।

জাহাবি 'আল-মিজান'-এ (১/৪৫) বলেছেন: মুয়ান বিন রিফাআ থেকে একাধিক ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মুয়ান নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ (عمدة) নন, বিশেষ করে তিনি এমন একজনের উদ্ধৃতি দিয়েছেন যাকে চেনা যায় না।

হাফিজ ইবনে হাজার 'লিসান আল-মিজান'-এ (১/৭৭) বলেছেন: তার হাদিসটি ইবনে আদি 'আল-কামিল'-এ ওয়ালিদ বিন মুসলিমের সূত্রে মুয়ান বিন রিফাআ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইব্রাহিম বিন আবদুর রহমান থেকে, (তিনি বলেন) আমাদের শাইখদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) একজন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন...। মুহান্না বিন ইয়াহইয়া বলেন: আমি আহমদকে বললাম: মুয়ান বিন রিফাআর হাদিসটি যেন বানোয়াট (موضوع) কথা!! তিনি বললেন: না, বরং এটি সহিহ (صحيح)।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি কার থেকে এটি শুনেছেন? তিনি বললেন: একাধিক ব্যক্তি থেকে। আমি বললাম: তারা কারা? তিনি বললেন: মিসকিন আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেন: মুয়ান কাসিম বিন আবদুর রহমান থেকে। আহমদ বলেন: মুয়ান বিন রিফাআ-র মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)।

হাফিজ আলাই 'বুগইয়াত আল-মুলতামিস'-এ (১/৩৪) উসামার হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) বিরল (غريب) সহিহ (صحيح) হাদিস যা মুয়ান বিন রিফাআ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আলি ইবনুল মাদিনি এবং দুহাইম তাকে নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেছেন, আর আহমদ বিন হাম্বল তার সম্পর্কে বলেছেন: কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)।

আমি বলছি: এর সূত্রের আধিক্য এর হাসান (حسن) হওয়ার দাবি রাখে। ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ'-এ (১/২৮ ও ১/৫৯), ইবনুল কায়্যিম 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ'-তে (১/২০৬) এবং ইবনে মুফলিহ 'আল-আদাব আশ-শারইয়্যাহ'-তে (২/১৪৮) এর সূত্রগুলো জমা করেছেন। দেখুন: 'আল-হিত্তাহ ফি জিকরিস সিহাহ আস-সিত্তাহ', পৃষ্ঠা: ৭০-৭১ এবং 'শরাফ আসহাব আল-হাদিস' পৃষ্ঠা: ১১, ২৮, ২৯।

(২) এটি বুখারি (৭১, ৩১১৬ ও ৭৩১২), মুসলিম (১০৩৭, ১০০) এবং আহমদ (১৬৯১২) বর্ণনা করেছেন।

(৩) 'শরাফ আসহাব আল-হাদিস' (১/১২৭) এবং 'ফাতহুল বারি' (১৩/২৯৩)। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: হাকেম 'উলুমুল হাদিস'-এ সহিহ (صحيح) সনদে আহমদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: যদি তারা হাদিসের অনুসারী না হন, তবে আমি জানি না তারা কারা!
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقد عُني أئمة الحديث بجمعهِ في مصنفات، وكتب، وجوامع، تتفاوتُ دقة وصحة في الرواية، وفي ضبط الرواة، ومن هذه المصنفات: (المستخرجات)، فما هي هذه المستخرجات؟ ولماذا أُفرِدتْ تصنيفاً؟ وما أشهر هذه المستخرجات؟ هذه الأسئلة وغيرها هي ما كانت دوافع لنا في عقد هذه الرسالة حيث سنعرِّف بـ (المستخرجات) ومصنفيها، والفائدة التي ذكرها أهل العلم من تصنيفها .....

نسأل الله العلي القدير التوفيقَ والسداد، وأن يجعل عملنا هذا ــ وغيره ــ خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفع به.

وكتبه

نايف بن ناصر المنصور

عام 1435
হাদিসের ইমামগণ বিভিন্ন মুসান্নাফ, গ্রন্থ এবং জামি-তে হাদিস সংগ্রহে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, যা বর্ণনার সূক্ষ্মতা ও বিশুদ্ধতা (صحة) এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভুলভাবে ধারণ করার (ضبط) সক্ষমতার বিচারে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের। এই সংকলনগুলোর অন্যতম হলো মুস্তাখরাজাত। এই মুস্তাখরাজাত বলতে কী বোঝায়? কেন এগুলোকে স্বতন্ত্র সংকলন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে? আর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মুস্তাখরাজাতসমূহ কী কী? এই প্রশ্নসমূহ এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই আমাদের এই গবেষণাপত্রটি রচনার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল, যেখানে আমরা মুস্তাখরাজাত ও এর সংকলকগণ এবং বিজ্ঞ আলেমগণ এগুলো সংকলনের যে সকল উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা করব .....

আমরা সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট তাওফিক এবং সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের এই আমল—এবং অন্যান্য আমলগুলোকেও—একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন।

লিখন সমাপ্ত

নায়েফ বিন নাসের আল-মানসুর

১৪৩৫ হিজরি
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌هدف البحث والدافع إليه:

إن الغرض من بحثنا هذا هو: التعريف بـ (المُستخرجات)، حيث لم يفرد الكلام عنها في مصنف مستقل!! ويجهلها بعض أهل العلم، وبعض المهتمين بكتب السنة ورواية الحديث، من هنا كان اهتمامنا بذكر بعض التفاصيل العلمية، وإجراء تطبيقات عملية على أحد هذه المصنفات وهو " مستخرج أبي عوانة"؛ حتى يسهُل الرجوع إليها والإفادة منها، ولا نزعم أننا أتينا بما لم يأت به الأولون! بل حسبنا أن نزعم ــ واثقين ــ أن بحثنا تميّز بعرض وافٍ، وإيضاح كافٍ، والله من وراء القصد.

 

‌‌دراسات سبقت بحثنا:

تناول أهل العلم في مصطلح الحديث كتب السنة ومصادرها بالنقد والإيضاح، وعملوا على دراسة الأحاديث رواية ودراية، وميَّزوا صحيحها من سقيمها، وتكلموا على (المستخرجات)، ولكن لم يُفرد كتابٌ! أو تطبيق برأسه لهذه الفوائد على حدِّ عِلمي إلا مجرد بحث عن (المستخرجات) من حيث نشأتها وتطورها قام به الدكتور موفق بن عبد اللَّه بن عبد القادر، وذلك في جامعة أم القرى في مكة المكرمة،

ولكن بحثه هذا لم يفِ بالغرض المرجوّ، حيث اقتصَرَ على ذكر فوائدها، وكان حديثه عاماً!، ولم يُفرد مستخرجًا بعينه يتم تطبيق الفوائد عليها.
গবেষণার উদ্দেশ্য ও এর নেপথ্যের প্রেরণা:

আমাদের এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো: ‘মুস্তাখরাজাত’ (المستخرجات)-এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যেহেতু স্বতন্ত্র কোনো গ্রন্থে এটি নিয়ে এককভাবে আলোচনা করা হয়নি!! এমনকি একদল আলেম এবং সুন্নাহর কিতাব ও হাদিস বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গ এ সম্পর্কে সম্যক অবগত নন। এ কারণেই আমাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কিছু ইলমি খুটিনাটি উল্লেখ করা এবং এই বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্য হতে ‘মুস্তাখরাজ আবি আওয়ানা’-এর ওপর একটি প্রায়োগিক অনুশীলন পরিচালনা করা; যাতে এগুলো অনুধাবন করা এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আমরা এমন দাবি করছি না যে, আমরা এমন কিছু নিয়ে এসেছি যা পূর্ববর্তীরা করতে পারেননি! বরং আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে এই দাবি করতে পারি যে, আমাদের গবেষণাটি পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। আর আল্লাহই প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত।

 

আমাদের গবেষণার পূর্ববর্তী কাজসমূহ:

হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث)-এর বিজ্ঞ আলেমগণ সুন্নাহর কিতাবসমূহ ও এর উৎসগুলোকে সমালোচনা ও স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন এবং তারা হাদিসের রেওয়ায়েত (رواية) ও দিরায়েত (دراية) উভয় দিক থেকে গবেষণার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। তারা হাদিসের সহিহ (صحيح) এবং রুগ্ন (سقيم) বর্ণনাগুলোকে পৃথক করেছেন এবং ‘মুস্তাখরাজাত’ (المستخرجات) সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন। কিন্তু আমার জানামতে, এই উপযোগিতাগুলোর বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র কিতাব! অথবা একক কোনো প্রায়োগিক কাজ রচিত হয়নি; কেবল ড. মুয়াফফাক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল কাদির কর্তৃক মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পাদিত ‘মুস্তাখরাজাত’ (المستخرجات)-এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিষয়ক একটি গবেষণা ব্যতীত।

কিন্তু তার এই গবেষণাটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট ছিল না, কারণ তিনি কেবল এর উপকারিতাগুলো উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং তার আলোচনাটি ছিল সাধারণ প্রকৃতির! তিনি কোনো নির্দিষ্ট মুস্তাখরাজ (مستخرج)-কে চিহ্নিত করে সেটির ওপর এই উপকারিতাগুলোর প্রয়োগ দেখাননি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌سبب اختيار الموضوع:

(المستخرجات) عامة، ومستخرج أبي عوانة نموذجاً، لها من الفوائد العلمية والحديثية الحظّ الكبير، ونظراً إلى أن هذا الجانب لم يُخدَمْ علمياً في العصر الحديث، أحببت في بحثي هذا أن أُعرِّف بهذا الجزء غير المهتم به من قِبَل طلاب العلم في الجامعات والمراكز العلمية، وهو نواة أرجو أن تُتْبَعَ بأبحاثٍ ورسائلَ علميةٍ أخرى؛ لِمَا نعلم مِن أن هذه المستخرجات مُلِئَتْ فوائدَ حديثيةً، وعلينا أن نجلّيَها.

 

‌‌منهج البحث:

قسِّم البحثُ إلى أربعةِ فصول، وفي كل فصلٍ مباحثُ، ثم خاتمةٌ للبحث ،

ثم كان سردٌ منهجي في العمل.

أما الفصل الأول: فتناول التعريف بالسنة.

والفصل الثاني: التعريف بالمستخرجات.

وتضمنت مباحث الفصلين:

المبحث الأول: تعريف المستخرجات

المبحث الثاني: حكم الأحاديث الواردة في المستخرجات.

المبحث الثالث: أصول الاستخراج.

المبحث الرابع: المؤلفات في المستخرجات.
‌বিষয় নির্বাচনের কারণ:

সাধারণভাবে মুস্তাখরাজাত (المستخرجات), এবং উদাহরণস্বরূপ আবু আওয়ানার মুস্তাখরাজ, বৈজ্ঞানিক ও হাদিস শাস্ত্রীয় উপকারের ক্ষেত্রে বিশাল গুরুত্ব বহন করে। যেহেতু আধুনিক যুগে এই দিকটি নিয়ে জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে তেমন কোনো কাজ হয়নি, তাই আমি আমার এই গবেষণায় সেই অংশটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছি যা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর জ্ঞানান্বেষীদের নিকট অবহেলিত রয়ে গেছে। এটি একটি প্রাথমিক প্রয়াস যা আমি আশা করি অন্যান্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অভিসন্দর্ভ দ্বারা অনুসৃত হবে; কারণ আমরা জানি যে এই মুস্তাখরাজাত (المستخرجات) সমূহ হাদিস শাস্ত্রীয় উপকারে পরিপূর্ণ এবং আমাদের কর্তব্য হলো সেগুলোকে সুস্পষ্ট করা।

 

‌‌গবেষণা পদ্ধতি:

গবেষণাটিকে চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে একাধিক পরিচ্ছেদ, এরপর রয়েছে গবেষণার উপসংহার।

অতঃপর কাজের ক্ষেত্রে একটি পদ্ধতিগত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: সুন্নাহর পরিচিতি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মুস্তাখরাজাত (المستخرجات) এর পরিচিতি।

উভয় অধ্যায়ের পরিচ্ছেদসমূহে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজাত (المستخرجات)-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজাতে বর্ণিত হাদিসসমূহের বিধান (حكم)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিখরাজ (الاستخراج)-এর মূলনীতি (أصول)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজাত (المستخرجات) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
والفصل الثالث: اختيار (مسند أبي عوانة)، وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف مختصر بصحيح مسلم الذي هو أصل الكتاب.

المبحث الثاني: التعريف بمسند أبي عوانة. وذلك من خلال:

أولاً - المؤلف.

- نسبته.

- سيرته.

ثانيًا: مستخرج أبي عوانة.

ثالثًا: أقوال أهل العلم في مستخرجه.

رابعًا: طبعات الكتاب والتحقيقات.

المبحث الثالث: منهج أبي عَوانة في مُستخرجه.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুসনাদ আবি আওয়ানাহ নির্বাচন, এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সহীহ মুসলিম-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, যা এই গ্রন্থের মূল (أصل) ভিত্তি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুসনাদ আবি আওয়ানাহ-এর পরিচিতি। আর তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে:

প্রথমত - গ্রন্থকার।

- তাঁর বংশীয় সম্বন্ধ (نسبة)।

- তাঁর জীবনী।

দ্বিতীয়ত: আবু আওয়ানাহ-এর মুস্তাখরাজ (مستخرج)।

তৃতীয়ত: তাঁর মুস্তাখরাজ (مستخرج) সম্পর্কে আলেমগণের (أهل العلم) অভিমত।

চতুর্থত: গ্রন্থটির মুদ্রণ ও তাহকিকসমূহ (التحقيقات)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর মুস্তাখরাজ (مستخرج)-এ আবু আওয়ানাহ-এর মানহাজ (منهج)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والفصل الرابع: في فوائد المستخرجات ، حيث اشتملت على

ست عشرة فائدة:

(الفائدة الأولى): علو الإسناد.

(الفائدة الثانية): زيادة الثقات.

(الفائدة الثالثة): بيانُ أحكامٍ فِقْهِيَّةٍ في الحديث.

(الفائدة الرابعة): توضيح المقصود في الحديث وشرح غريبه.

(الفائدة الخامسة): القوة بكثرة الطرق.

(الفائدة السادسة): الزيادة في قدر الصحيح.

(الفائدة السابعة): تمييز رواية المختلط.

(الفائدة الثامنة): التصريح بالسماع عند ورود عنعنة المدلس.

(الفائدة التاسعة): التصريح بالأسماء المبهمة في الإسناد، أو المتن.

(الفائدة العاشرة): تعيين الأسماء المهملة في الإسناد، أو في المتن.

(الفائدة الحادية عشرة): التمييز للمتن المحال به على المتن المحال عليه.

(الفائدة الثانية عشرة): تعيين الإدراج في الإسناد، أو في المتن.

(الفائدة الثالثة عشرة): وصل المعلقات.

(الفائدة الرابعة عشرة): رفع الموقوف.

(الفائدة الخامسة عشرة): تصحيح بعض الأسماء في السند.

(الفائدة السادسة عشرة): الفوائد التي يذكرها المستخرج إذا كان إمامًا حافظًا.

ومنها ما يكون:

من مسائل العقيدة

من المسائل الفقهية.

من مسائل الحديث وعلومه.

وأخيراً .... الخاتمة
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজ (مستخرجات)-এর উপকারিতা সম্পর্কে, যা ষোলোটি উপকারিতা সংবলিত:

(প্রথম উপকারিতা): সনদের উচ্চমান (علو الإسناد)।

(দ্বিতীয় উপকারিতা): নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة الثقات)।

(তৃতীয় উপকারিতা): হাদিসের ফিকহি বিধানসমূহের বর্ণনা।

(চতুর্থ উপকারিতা): হাদিসের উদ্দেশ্য স্পষ্টীকরণ এবং এর দুর্বোধ্য শব্দের (غريب) ব্যাখ্যা।

(পঞ্চম উপকারিতা): সূত্রের আধিক্যের (طرق) মাধ্যমে শক্তি অর্জন।

(ষষ্ঠ উপকারিতা): সহিহ (صحيح) হাদিসের পরিমাণের বৃদ্ধি।

(সপ্তম উপকারিতা): বিভ্রান্ত বর্ণনাকারীর (مختلط) বর্ণনা পৃথক করা।

(অষ্টম উপকারিতা): মুদাল্লিস (مدلس) ব্যক্তির 'আন-আনা' (عنعنة) যুক্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণের (سماع) স্পষ্ট উল্লেখ।

(নবম উপকারিতা): সনদ (إسناد) অথবা মতন (متن)-এ অস্পষ্ট নামসমূহের (مبهم) স্পষ্টীকরণ।

(দশম উপকারিতা): সনদ (إسناد) অথবা মতন (متن)-এ অনির্দিষ্ট নামসমূহ (مهمل) নির্দিষ্ট করা।

(একাদশ উপকারিতা): যে মতনের (متن) দিকে সংকেত করা হয়েছে এবং যে মতন থেকে সংকেত করা হয়েছে, তার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা।

(দ্বাদশ উপকারিতা): সনদ (إسناد) অথবা মতন (متن)-এ ইদরাজ (إدراج) বা অনুপ্রবিষ্ট অংশ চিহ্নিত করা।

(ত্রয়োদশ উপকারিতা): মুআল্লাক (معلقات) বর্ণনাগুলোর সূত্র সংযুক্ত করা।

(চতুর্দশ উপকারিতা): মাওকুফ (موقوف) বর্ণনাকে মারফু হিসেবে সাব্যস্ত করা।

(পঞ্চদশ উপকারিতা): সনদের (سند) কিছু নামের শুদ্ধিকরণ।

(ষোড়শ উপকারিতা): মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচয়িতা যদি ইমাম হাফেজ (حافظ) হন, তবে তাঁর উল্লিখিত অন্যান্য উপকারিতা।

তার মধ্যে রয়েছে:

আকিদাহ সংক্রান্ত বিষয়াবলি

ফিকহি মাসআলাসমূহ।

হাদিস ও এর বিজ্ঞান (علوم) সংক্রান্ত বিষয়াবলি।

এবং পরিশেষে .... উপসংহার
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌عملي في البحث:

1 - عزوت الآيات القرآنية الكريمة إلى أماكنها بذكر اسم السورة ورقم الآية فقط على الشكل التالي: [البقرة:122].

2 - تخريج الأحاديث الواردة في البحث، وذلك ضمن توجه محدد؛ فما كان في الصحيحين أو أحدهما اكتفيتُ بالعزو إلى الصحيح، وإن لم يكن فيهما، عزوته إلى مصادره، وذكرت كلامَ العلماء على ذلك الحديث قبولاً ورفضاً.

3 - الاعتماد على أفضل طبعة لمسند أبي عوانة، وهي طبعة (دار المعرفة) بتحقيق أيمن عارف الدمشقي، مع الإضافة التي أكملها أحمد الخضري من خلال جمعه لباقي المسند من كتاب "إتحاف المهرة" لابن حجر العسقلاني.

4 - ضبط الألفاظ المُشْكِلَةِ التي لا تُقرأ على وجهها الصحيح.

5 - قمتُ باستعراض كتب علم مصطلح الحديث، وجمعت ما يناسب البحث في المستخرجات، وأحكامها، والمصنفات فيها، وقد حدَّدنا "مستخرج أبي عوانة" على صحيح مسلم، لشهرته وإمامته.

6 - قمتُ بانتخاب الأمثلة على فوائد المستخرجات منه.

7 ــ استخرجتُ بعض الفوائد الفقهية والعقدية منه.
‌গবেষণায় আমার কর্মপদ্ধতি:

১ - আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোকে সেগুলোর সূরার নাম এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দেশ করেছি, যা নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে: [আল-বাকারা: ১২২]।

২ - গবেষণায় আসা হাদিসগুলোর উৎস নির্ণয় (تخريج) করেছি একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে; যে হাদিসগুলো সহিহাইন বা এর যেকোনো একটিতে রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি কেবল সহিহ গ্রন্থের রেফারেন্স প্রদান করেছি। আর যদি সেগুলোতে না থাকে, তবে আমি হাদিসটি অন্যান্য মূল উৎসের দিকে নিসবত করেছি এবং হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা (قبول) ও বর্জনযোগ্যতা (رفض) নিয়ে আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।

৩ - মুসনাদ আবি আওয়ানাহ-এর সর্বোত্তম মুদ্রণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, আর তা হলো আইমান আরিফ আদ-দিমাশকি এর সম্পাদনা (تحقيق) করা 'দারুল মা'রিফাহ' সংস্করণ। এর সাথে আহমদ আল-খুদরি কর্তৃক পূর্ণকৃত সংযোজনীটিও রাখা হয়েছে, যা তিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানির 'ইতহাফুল মাহারা' গ্রন্থ থেকে মুসনাদের অবশিষ্ট অংশ সংগ্রহের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন।

৪ - আমি সেই জটিল (المشكلة) শব্দগুলোর নির্ভুল পাঠ নির্ধারণ (ضبط) করেছি যা সঠিকভাবে পাঠ করা যায় না।

৫ - আমি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করেছি এবং মুস্তাখরাজসমূহ (المستخرجات), এগুলোর বিধান (أحكام) ও এই বিষয়ক রচনাবলি থেকে গবেষণার উপযোগী তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমরা সহিহ মুসলিম-এর ওপর রচিত 'মুস্তাখরাজ আবি আওয়ানাহ' গ্রন্থটিকে এর প্রসিদ্ধি ও ইমামতের কারণে নির্দিষ্ট করেছি।

৬ - আমি উক্ত গ্রন্থ থেকে মুস্তাখরাজসমূহের (المستخرجات) বৈশিষ্ট্য বা উপকারিতাগুলোর উদাহরণ নির্বাচন করেছি।

৭ ــ আমি এটি থেকে কিছু ফিকহ ও আকিদাহ বিষয়ক শিক্ষা বা ফায়দা বের করেছি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
8 - ترجمتُ لبعض الأعلام وبينت حالهم وكلام أبي عَوانة فيهم.

فكان البحث ممزوجًا بالفوائدِ الحديثية والفقهية والعقدية.

9 - التنبيه على أخطاء وقعت في مستخرج أبي عوانة.

10 - وضع فهارس عامة:

أ- فهرس الآيات القرآنية.

ب- فهرس الأحاديث النبوية.

ج- فهرس الآثار.

د- فهرس القواعد والضوابط الفقهية.

هـ - فهرس الأعلام المترجم لهم.

و - فهرس الأماكن والبلدان.

ز - فهرس المراجع والمصادر.

ح - فهرس الموضوعات.

والله الموفق.
8 - আমি কতিপয় মনীষীর (أعلام) জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি এবং তাদের অবস্থা (حال) ও তাদের সম্পর্কে আবু আওয়ানার বক্তব্য স্পষ্ট করেছি।

ফলে গবেষণাটি হাদিসশাস্ত্রীয়, ফিকহশাস্ত্রীয় এবং আকিদাহ বিষয়ক নানাবিধ শিক্ষণীয় বিষয়ের (فوائد) সমন্বয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে।

9 - আবু আওয়ানার মুস্তাখরাজ (مستخرج)-এ সংঘটিত ভুলত্রুটিগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

10 - সাধারণ নির্ঘণ্ট (فهارس) সংযোজন করা হয়েছে:

ক- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট (فهرس)।

খ- হাদিসসমূহের নির্ঘণ্ট (فهرس)।

গ- আসার (آثار)-এর নির্ঘণ্ট (فهرس)।

ঘ- ফিকহশাস্ত্রীয় মূলনীতি (قواعد) ও বিধানসমূহের (ضوابط) নির্ঘণ্ট (فهرس)।

ঙ- যাদের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করা হয়েছে, সেই মনীষীদের নির্ঘণ্ট (فهرس)।

চ- স্থান ও দেশসমূহের নির্ঘণ্ট (فهرس)।

ছ- তথ্যসূত্র ও উৎসগ্রন্থসমূহের নির্ঘণ্ট (فهرس)।

জ- বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট (فهرس)।

আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول التعريف بالسنة النبوية ومكانتها

السنة النبوية في ميزان الشرع

هي الأصل الثاني بعد القرآن الكريم، والتطبيق العملي لِمَا جاء فيه، وهي الكاشفة لغوامضه، المجلِّيَة لمعانيه، الشارحة لألفاظه ومبانيه، وإذا كان القرآن قد وضع القواعد والأسس العامة للتشريع والأحكام، فإن السنة قد عُنيت بتفصيل هذه القواعد، وبيان تلك الأسس، ولذا فإنه لا يمكن للدين أن يكتمل وأن يتم إلا بأخذ السنة جنبًا إلى جنب مع القرآن، وقد جاءت الآيات الكثيرة والأحاديث المتواترة آمرة بطاعة الرسول صلى الله عليه وسلم، والاحتجاج بسنته والعمل بها، وقد أمر سبحانه وتعالى باتّباع السنة والتمسك بها، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59]، وقوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7].
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর পরিচয় এবং এর গুরুত্ব ও মর্যাদা

শরীয়তের মানদণ্ডে সুন্নাহর অবস্থান

এটি পবিত্র কুরআনের পর দ্বিতীয় উৎস এবং কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ। এটি কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ উম্মোচনকারী, এর অর্থসমূহ স্পষ্টকারী এবং এর শব্দাবলি ও কাঠামোর ব্যাখ্যাকারী। কুরআন যদি বিধান ও আহকামের সাধারণ মূলনীতি এবং ভিত্তি স্থাপন করে থাকে, তবে সুন্নাহ এই মূলনীতিসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা এবং সেই ভিত্তিগুলোর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দায়িত্ব পালন করেছে। তাই কুরআনের পাশাপাশি সুন্নাহকে গ্রহণ করা ব্যতিরেকে দ্বীন পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। অসংখ্য আয়াত এবং বহু সূত্রে বর্ণিত (متواترة) হাদিসসমূহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা, তাঁর সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা এবং তদনুযায়ী আমল করার নির্দেশ প্রদান করেছে। মহান আল্লাহ সুন্নাহর অনুসরণ এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার আদেশ দিয়ে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের অন্তর্ভুক্ত উলুল আমরদের (কর্তৃত্বশীলদের)। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} [আন-নিসা: ৫৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} [আল-হাশর: ৭]।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وجاء في الحديث الصحيح عن العرباض بن سارية رضي الله عنه قال: وعظنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موعظة وَجلتْ منها القلوبُ، وذرَفتْ منها العُيونُ، فقلنا: يا رسولَ الله، كأنها مَوعظةُ مُودِّع، فأوصِنَا، فقال: أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللَّهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ، وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا، فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الخُلَفَاءِ المَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا، وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُم وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ(1)».

رواه أحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه.

--------------------------------------------

(1) أبو داود في كتاب السنة، باب: في لزوم السنة (4607)، و الترمذي في كتاب العلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم باب: ما جاء في الأخذ بالسُّنّة واجتناب البدع (2676)، وقال الترمذي: هذا حديث صحيح، وابن ماجة في المقدمة (42). و البغوي في "شرح السنة" (1/ 205) وقال: هذا حديث حسن، وأحمد (17142)، (17144)، (17145)، والجوزجاني في "الأباطيل والمناكير والصحاح والمشاهير" (288) وقال: هذا حديث صحيح ثابت مشهور، حدَّث به الإمام أحمد بن حنبل، عن أبي عاصم مثله.

وقد روى هذا الحديث عن العرباض بن سارية جماعة من التَّابعين، منهم: حَجَرُ بن حَجَرٍ، ويحيى بن أبي مطاع، وجبير بن نفير وعبد الله بن أبي بلال، والمهاجر بن حبيب وغيرهم، بعضهم مطوَّلاً، وبعضهم مختصرًا. =

= وفي "بيان الوهم والإيهام" (4/ 88) لأبي الحسن ابن القطان قال: "فأما عبد الرَّحمن بن عمرو السّلمِيّ فترجم البخاريّ وابن أبي حاتم باسمه؛ فأما ابن أبي حاتم فلم يقل فيه شيئًا. وأما البخاريّ، فإنه ذكر روايته عن العرباض، ورواية خالد بن معدان وضمرة بن حبيب، وعبد الأعلى بن هلال عنه، ولم يزدْ.

فالرجل مجهول الحال، والحديث من أجله لا يصح.

وَقد روى هَذَا الحَدِيث الْوَلِيد بن مُسلم بِإِسْنَاد آخر قَالَ: حَدثنَا عبد الله بن العَلَاء بن زبر عَن يحيى بن أبي المطاع، عَن العِرْبَاض مثله.

ذكره البَزَّار واختاره، وهو أيضًا لا يصح، فإن يحيى بن أبي المطاع لا يعرف بغيره، وهو في شيءٍ من أهل الشَّام". …

وقال ابن حجر في "التقريب " ص (347) في شأن عبد الرَّحمن بن عمرو السّلمِيّ: مقبول.

والحديث قال فيه الشيخ الألباني: صحيح. كما في تعليقه على حديث أبي داود وابن ماجه.

وقال حسين سليم في حكمه على حديث الدارمي: صحيح.

وقال شعيب الأرناؤوط في حكمه على حديث أحمد (17142): "حديث صحيح بطرقه وشواهده، وهذا إسناد حسن، عبد الرحمن بن عمرو السلمي روى عنه جمع، وذكره ابن حبان في " الثقات"، وقال الذهبي في

"الكاشف": صدوق، وقد صحّح حديثه الترمذي، والحاكم، والذهبي، وأبو نعيم فيما نقله ابن رجب في "جامع العلوم والحكم" (2/ 109)، والبزار فيما نقله ابن عبد البر في "جامع بيان العلم" ص (483)،، وقد تابع عبد الرحمن بن عمرو السُّلَمي هذا حُجر بن حجر الكلاعي فيما سيرد برقم (17145)، وعبدُ الله بن أبي بلال الخزاعي فيما سيرد (17146)، وثمة طرق أخرى للحديث تأتي في موضعها في التخريج، وباقي رجاله ثقات ".
সহিহ (صحيح) হাদিসে ইরবায ইবন সারিয়াহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন যাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো এবং চোখসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি যেন বিদায়ী ব্যক্তির উপদেশ, অতএব আমাদের কিছু ওসিয়ত করুন। তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতির ওসিয়ত করছি, এবং (নেতার আদেশ) শোনার ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশি গোলাম হয়। কেননা আমার পরে তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে তারা অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তা মজবুতভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা"(১)।

এটি আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ 'কিতাবুস সুন্নাহ', অধ্যায়: সুন্নাহর আবশ্যকতা (৪৬০৭); তিরমিজি 'কিতাবুল ইলম', অধ্যায়: সুন্নাহ গ্রহণ ও বিদআত বর্জন সংক্রান্ত (২৬৭৬)। তিরমিজি বলেছেন: এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। ইবন মাজাহ 'মুকাদ্দিমা' অংশে (৪২)। বাগাবী 'শারহুস সুন্নাহ' (১/২০৫)-এ বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। আহমদ (১৭১৪২, ১৭১৪৪, ১৭১৪৫)। জাওযাজানি 'আল-আবাতিল ওয়াল মানাকির ওয়াস সিহাহ ওয়াল মাশাহির' (২৮৮)-এ বলেছেন: এটি একটি সহিহ (صحيح), সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) ও প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস; ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল এটি আবু আসিম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

একদল তাবিঈ ইরবায ইবন সারিয়াহ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: হুজর ইবন হুজর, ইয়াহইয়া ইবন আবি মুতা', জুবাইর ইবন নুফায়র, আবদুল্লাহ ইবন আবি বিলাল, মুহাজির ইবন হাবিব এবং আরও অনেকে। তাদের কেউ এটি বিস্তারিত এবং কেউ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। =

= আবু হাসান ইবনুল কাত্তান 'বায়ানুল ওয়াহম ওয়াল ইহাম' (৪/৮৮)-এ বলেছেন: "আবদুর রহমান ইবন আমর আস-সুলামি সম্পর্কে বুখারি ও ইবন আবি হাতিম তাঁর নামে পরিচিতি উল্লেখ করেছেন। ইবন আবি হাতিম তাঁর সম্পর্কে কিছুই বলেননি। আর বুখারি তাঁর থেকে ইরবায, খালিদ ইবন মা'দান, দামরা ইবন হাবিব এবং আবদুল আ'লা ইবন হিলালের বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর বেশি কিছু যোগ করেননি।

সুতরাং লোকটির অবস্থা অজ্ঞাত (مجهول الحال), আর তাঁর কারণে হাদিসটি সহিহ (لا يصح) নয়।"

ওয়ালিদ ইবন মুসলিম এই হাদিসটি অন্য একটি সনদে (بإسناد) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল আলা ইবন জাবর আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবন আবি মুতা'র সূত্রে ইরবায থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

বাযযার এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে গ্রহণ করেছেন; তবে এটিও সহিহ (لا يصح) নয়। কারণ ইয়াহইয়া ইবন আবি মুতা' অন্য কারো মাধ্যমে পরিচিত নন এবং তিনি শামের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। …

ইবন হাজার 'তাকরিব' (পৃ. ৩৪৭)-এ আবদুর রহমান ইবন আমর আস-সুলামি সম্পর্কে বলেছেন: গ্রহণযোগ্য (مقبুল)।

শাইখ আলবানি এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: এটি সহিহ (صحيح)। যেমনটি আবু দাউদ ও ইবন মাজাহর হাদিসের ওপর তাঁর টীকায় উল্লেখ করেছেন।

হুসাইন সালিম দারেমির হাদিসের ওপর তাঁর বিচারে বলেছেন: সহিহ (صحيح)।

শুআইব আরনাউত আহমদ (১৭১৪২)-এর বিচারে বলেছেন: "হাদিসটি এর বিভিন্ন সূত্র ও সমর্থক বর্ণনার (شواهده) ভিত্তিতে সহিহ (صحيح)। আর এই সনদটি (إسناد) হাসান (حسن)। আবদুর রহমান ইবন আমর আস-সুলামি থেকে একদল রাবি বর্ণনা করেছেন এবং ইবন হিব্বান তাঁকে 'আত-সিকাত'-এ উল্লেখ করেছেন। যাহাবি 'আল-কাশিফ'-এ বলেছেন: সত্যবাদী (صدوق)। তিরমিজি, হাকিম এবং যাহাবি তাঁর হাদিসকে সহিহ (صحّح) বলেছেন। আবু নুয়াইমও অনুরূপ বলেছেন যা ইবন রজব 'জামি উল উলুম ওয়াল হিকাম' (২/১০৯)-এ উদ্ধৃত করেছেন এবং বাযযার যা ইবন আবদিল বার 'জামি বায়ানিল ইলম' (পৃ. ৪৮৩)-এ উদ্ধৃত করেছেন। আবদুর রহমান ইবন আমর আস-সুলামির অনুসরণ (تابع) করেছেন হুজর ইবন হুজর আল-কালা'য়ি যা ১৭১৪৫ নম্বরে আসবে, এবং আবদুল্লাহ ইবন আবি বিলাল আল-খুজায়ি যা ১৭১৪৬ নম্বরে আসবে। হাদিসটির আরও অন্যান্য সূত্র (طرق) রয়েছে যা তাহরিজ (التخريج) করার সময় যথাস্থানে আসবে। এর বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)।"
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال صلى الله عليه وسلم: «كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبَى»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ يَأْبَى؟ قَالَ: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى»(1) رواه البخاري. إضافة إلى ما ورد من إجماع الأمة وأقوال الأئمة في إثبات حُجيتها ووُجوب الأخذ بها.

--------------------------------------------

(1) البخاري (7280)، وأحمد (8728)، والحاكم (1/ 55) من حديث أبي هريرة. وفي الباب من حديث أبي أمامة عند أحمد (22226)، ومن حديث أبي سعيد الخدري عند الطبراني في الأوسط (812). وقوله: أطاعني .. أي: بقبول دعوتي.

এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করবে? তিনি বললেন: «যে আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই অস্বীকার করল»(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। এর পাশাপাশি উম্মাহর ঐক্যমত (إجماع) এবং ইমামগণের বক্তব্যও এর দলীলযোগ্যতা (حجية) প্রমাণে এবং এটি গ্রহণ করা যে আবশ্যক (وجوب الأخذ بها), সে বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৭২৮০), আহমাদ (৮৭২৮), আল-হাকিম (১/৫৫), আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে। এই অনুচ্ছেদে আহমাদ-এ (২২২২৬) আবু উমামাহ বর্ণিত হাদিস এবং তাবারানির আল-আওসাত-এ (৮১২) আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। এবং তাঁর বাণী: 'আমার আনুগত্য করল'... অর্থাৎ: আমার দাওয়াত কবুল করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌تعريف السنة:

السنة في اللغة: هي الطريقة والسيرة، سواء أكانت محمودة أم مذمومة، وقد ورد استعمالها في القرآن الكريم، وفي الحديث النبوي بهذا المعنى(1).

ففي القرآن يقول تعالى: {قُل لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغَفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ وَإِنْ يَعُودُوا فَقَدْ مَضَتْ سُنَّةُ الأَوَّلِينِ} [الأنفال: 38].

ويقول تعالى: {سُنَّةَ مَن قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِن رُّسُلِنَا وَلَا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلاً}

[الإسراء: 77].

وفي الحديث يقول صلى الله عليه وسلم: «لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ، وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ، حَتَّى لَوْ سَلَكُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَسَلَكْتُمُوهُ»، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اليَهُودَ، وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: «فَمَنْ»؟(2).

وأما تعريف السنة عند الفقهاء: فهو ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير وجوبٍ. فهي أحدُ الأحكام التكليفية الخمسة: الواجب، والحرام، والسنة، والمكروه، والمباح. وقد يستعملونها في مقابل البدعة فيقولون: طلاقُ السنة كذا، وطلاق البدعة كذا.

أما تعريف السنة عند الأصوليين فهو: ما يُثاب فاعله، ولا يعاقب تاركه.

وعند المحدثين: ما أُثِرَ عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفةٍ، أو سِيرة. وهي بهذا المعنى مرادفة للحديث النبوي عند أكثرهم(3).

--------------------------------------------

(1) "لسان العرب" مادة: سنن. " تيسير الوصول إلى قواعد الأصول" للإمام عبد المؤمن بن عبد الحقّ (ص 27)، "الإبهاج في شرح المنهاج" لتقي الدين وابنه تاج الدين السبكي (2/ 263)، "مذكرة أصول الفقه" للشيخ الأمين الشنقيطي ص (113)، " تاريخ التشريع الإسلامي" مناع القطان ص (71).

(2) البخاري في أحاديث الأنبياء، باب: ما ذكر عن بني إسرائيل (3456) و (7320)، ومسلم في العلم، باب: اتِّباع سنن اليهود والنصارى (2669)، وأحمد (11880) من حديث أبي سعيد الخدري.

(3) انظر " البحر المحيط في أصول الفقه" للزركشي (3/ 236) و "شرح الكوكب المنير" للفتوحي (2/ 160) … و"الإبهاج شرح المنهاج" للسبكي (2/ 263)، و "تاريخ التشريع الإسلامي" (72).
সুন্নাহর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ: এটি হলো রীতি ও পথ (الطريقة والسيرة), চাই তা প্রশংসনীয় হোক কিংবা নিন্দনীয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এই অর্থেই এর ব্যবহার বর্ণিত হয়েছে(১)।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন: {কাফিরদের বলে দিন, যদি তারা বিরত হয়, তবে যা গত হয়ে গেছে তা তাদের জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যদি তারা পুনরায় লিপ্ত হয়, তবে পূর্ববর্তীদের রীতি (سنة) অতিক্রান্ত হয়েছে} [আল-আনফাল: ৩৮]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদের ক্ষেত্রেও এটিই ছিল রীতি (سنة) এবং আপনি আমার রীতিতে (لسنتنا) কোনো পরিবর্তন পাবেন না}

[আল-ইসরা: ৭৭]।

হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতি-নীতি (سنن) বিঘত-বিঘত ও হাত-হাত মেপে অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি গোসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে», আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কি ইহুদি ও নাসারা? তিনি বললেন: «তবে আর কারা?»(২)।

আর ফকিহগণের নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞা: তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত এমন বিষয় যা আবশ্যকীয়তা (وجوب) পর্যায়ের নয়। এটি পাঁচটি শরয়ি বিধানের (الأحكام التكليفية الخمسة) একটি: ওয়াজিব (الواجب), হারাম (الحرام), সুন্নাহ (السنة), মাকরুহ (المكروه) এবং মুবাহ (المباح)। তারা কখনও এটি বিদআতের (البدعة) বিপরীতেও ব্যবহার করেন, যেমন তারা বলেন: সুন্নাহসম্মত তালাক (طلاق السنة) এমন, আর বিদআতি তালাক (طلاق البدعة) এমন।

আর উসুলবিদগণের নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞা হলো: যার পালনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না।

আর হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) নিকট: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বাণী (قول), কর্ম (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير), গুণাবলি (صفة) অথবা জীবনী (سيرة)। আর এই অর্থে এটি তাদের অধিকাংশের নিকট হাদিস-এর সমার্থক(৩)।

--------------------------------------------

(১) "লিসানুল আরব" শব্দমূল: সিন-নুন-নুন (سنن)। ইমাম আব্দুল মুমিন ইবন আব্দুল হকের "তaysিরুল উসুল ইলা কাওয়াইদিল উসুল" (পৃ. ২৭), তাকিউদ্দীন ও তাঁর পুত্র তাজউদ্দীন সুবকির "আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ" (২/ ২৬৩), শেখ আল-আমিন শিনকিতি-র "মুযাক্কিরাতু উসুলিল ফিকহ" পৃ. (১১৩), মান্না আল-কাত্তানের "তারিখুত তাশরিয়িল ইসলামি" পৃ. (৭১)।

(২) বুখারি, আম্বিয়া অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: বনি ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে (৩৪৫৬) ও (৭৩২০), এবং মুসলিম, ইলম অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ইহুদি ও নাসারাদের রীতিনীতি অনুসরণ (২৬৬৯), এবং আহমদ (১১৮৮০), আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত হাদিস থেকে।

(৩) দেখুন যারকাশি-র "আল-বাহরুল মুহিত ফি উসুলিল ফিকহ" (৩/ ২৩৬), ফুতুহি-র "শারহুল কাওকাবিল মুনির" (২/ ১৬০) … এবং সুবকির "আল-ইবহাঝ শারহিল মিনহাজ" (২/ ২৬৩), এবং "তারিখুত তাশরিয়িল ইসলামি" (৭২)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الثاني

المبحث الأول: تعريف المستخرجات

المبحث الثاني: حكم الأحاديث الواردة في المستخرجات

المبحث الثالث: أصول الاستخراج

المبحث الرابع: المؤلفات في المستخرجات
দ্বিতীয় অধ্যায়

প্রথম পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজাত-এর সংজ্ঞা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজাত-এ বর্ণিত হাদিসসমূহের বিধান (حكم)

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইস্তিখরাজ (الاستخراج)-এর মূলনীতি (أصول)

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজাত সংক্রান্ত রচনাবলি
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الأول: تعريف المستخرجات

(المستخرج) في اللغة: هو اسمٌ مفعول، مُشتق من الفعل: اسْتَخْرَجَ المزيد من الثلاثيّ خَرَجَ، والخرُوج نَقِيض الدّخُول، وخارج كل شيء ظاهرُه، والاستخراج كالاستنباط، واستخرجتُ الشيء من المعدِن: خلصته من ترابه(1).

وفي الاصطلاح

قال الإمام العراقي: المستخرجُ موضوعُه: أن يأتي المصنف إلى كتاب البخاري، أو مسلم .. فيخرِّج أحاديثه بأسانيدَ لنفسه من غير طريق البخاري، أو مسلم، فيجتمع إسنادُ المصنّف مع إسناد البخاري أو مسلم في شيخه، أو مَن فوقه(2).

وقال السخاوي: والاستخراج: أن يَعمد حافظ إلى"صحيح البخاري" مثلاً فيُورد أحاديثه حديثًا حديثًا بأسانيدَ لنفسه غير ملتزم فيها ثقة الرواة، وإن شذّ بعضُهم حيث جعله شرطًا من غير طريق البخاري إلى أن يلتقي معه في شيخه أو في شيخ شيخهِ، هكذا ولو في الصحابي، كما صرّح به بعضهم. لكن لا يَسوغُ للمُخَرِّج العُدول عن الطريق التي يقرب اجتماعه مع مصنف الأصل فيها إلى البَعيدة إلا لغرض من علو، أو زيادة حكم مُهم، أو نحو ذلك، ومقتضى الاكتفاء بالالتقاء في الصحابي أنهما لو اتفقا في الشيخ مثلاً ولم يتحد سنده عندهما، ثم اجتمع في الصحابي إدخاله فيه، وإن صرّح بعضهم بخلافهِ.

--------------------------------------------

(1) "المصباح المني" مادة: خرج.

(2) "التبصرة والتذكرة" (1/ 56، 57) للحافظ العراقي.
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজ-এর সংজ্ঞা

আভিধানিক অর্থে (মুস্তাখরাজ (المستخرج)): এটি একটি কর্মবাচ্য বিশেষ্য (اسم مفعول), যা ‘ইস্তাখরাজ’ (استخرج) ক্রিয়া থেকে ব্যুৎপন্ন; যা তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূল ধাতু ‘খরাজ’ (خرج)-এর অতিরিক্ত রূপ। ‘খুরুজ’ (خروج) বা বের হওয়া হলো ‘দুখুল’ (دخول) বা প্রবেশের বিপরীত। কোনো বস্তুর বহিরাংশই হলো তার বাহির। ‘ইস্তিখরাজ’ (استخراج) হলো ‘ইস্তিনবাত’ (استنباط) বা নিগূঢ় অর্থ উদঘাটনের মতো। “আমি খনি থেকে বস্তুটি নিষ্কাশন (استخرجت) করেছি” অর্থাৎ আমি একে তার ধূলিময় মাটি থেকে পৃথক করেছি(১)।

পারিভাষিক অর্থে (اصطلاح)

ইমাম ইরাকি বলেন: মুস্তাখরাজ-এর মূল প্রতিপাদ্য হলো: গ্রন্থকার বুখারি বা মুসলিমের কোনো কিতাবকে গ্রহণ করবেন... অতঃপর তিনি বুখারি বা মুসলিমের পথ ব্যতিরেকে নিজস্ব বর্ণনা-সূত্রের (أسانيد) মাধ্যমে উক্ত কিতাবের হাদিসসমূহ বর্ণনা করবেন। এতে গ্রন্থকারের বর্ণনা-সূত্র (إسناد) এবং বুখারি বা মুসলিমের বর্ণনা-সূত্র (إسناد) তাঁদের উস্তাদ (شيخ) বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো স্তরের বর্ণনাকারীর নিকট গিয়ে মিলিত হয়(২)।

সাখাভি বলেন: আল-ইস্তিখরাজ (استخراج) হলো কোনো হাফিজ কর্তৃক উদাহরণস্বরূপ "সহিহ বুখারি" গ্রন্থকে লক্ষ্য করে তার হাদিসসমূহকে একে একে নিজস্ব বর্ণনা-সূত্রের (أسانيد) মাধ্যমে উপস্থাপন করা। এতে তিনি বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা (ثقة الرواة)-এর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন না, যদিও কেউ কেউ একে শর্ত হিসেবে গণ্য করার মাধ্যমে বিরল মত ব্যক্ত করেছেন। এটি বুখারির পথ ব্যতিরেকে হতে হবে যতক্ষণ না তিনি তাঁর উস্তাদ (شيخ) বা উস্তাদের উস্তাদের স্তরে গিয়ে মিলিত হন; এমনকি সাহাবি (صحابي) পর্যন্তও হতে পারে, যেমনটি কেউ কেউ স্পষ্ট করেছেন। তবে মুস্তাখরাজ প্রস্তুতকারীর (مخرِّج) জন্য এমন কোনো নিকটবর্তী মিলনস্থল বা বর্ণনা-সূত্র ত্যাগ করে দূরবর্তী বর্ণনা-সূত্র গ্রহণ করা বৈধ নয় যেখানে মূল কিতাবের লেখকের সাথে মিলিত হওয়া সম্ভব, যদি না সেখানে উচ্চতর সূত্র (علو), বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো অতিরিক্ত বিধান (زيادة حكم) অথবা এই জাতীয় কোনো উদ্দেশ্য থাকে। সাহাবি (صحابي)-র স্তরে মিলিত হওয়া যথেষ্ট হওয়ার দাবি হলো—যদি তাঁরা উস্তাদের (شيخ) স্তরে একমত হন কিন্তু তাঁদের উভয়ের নিকট বর্ণনা-সূত্রটি (سند) অভিন্ন না হয়, অতঃপর সাহাবি (صحابي)-র স্তরে গিয়ে মিলিত হন, তবে তাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হবে; যদিও কেউ কেউ এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) "আল-মিসবাহুল মুনির", মূল শব্দ: খ-র-জ (خرج)।

(২) হাফিজ ইরাকি রচিত "আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ" (১/ ৫৬, ৫৭)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال الحافظ الشيخ أحمد بن الصّديق الغماري (ت:1380 هـ): وأما الاستخراج، فهو أن يقصد الحافظ إلي مصنف مسند لغيره، فيخرِّج أحاديثه بأسانيد نفسه، من غير طريق صاحب الكتاب، فيَجتمع معه في شيخهِ، أو شيخ شيخهِ،

وهكذا إلي صحابيّ الحديث(1).

وقال الكتاني رحمه الله تعالى: وقد يطلق المستخرَج عندهم على كتاب استخرَجَه مؤلفه؛ أي: جمعَه من كتب مخصوصة، كمُستخرَج الحافظ أبي القاسم عبد الرحمن بن محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن مَنْدَهْ، وسماه: "المستخرج من كتب الناس للتذكرة والمستطرف من أحوال الناس للمعرفة"، جمع فيه فأوعَى. وكثيرًا ما ينقل عن مستخرَجه المذكور الحافظ ابنُ حجر في كتبه، فيقول: ذكر ابنُ مَنْدَهْ في" مستخرجه "، وتارة يقول: في "تذكرته". والله أعلم(2).

--------------------------------------------

(1) "حصول التفريج بأصول التخريج" الصديق الغماري ص (15).

(2) "الرسالة المستطرفة" الكتاني ص (31 ــ 32).
হাফেজ শেখ আহমদ ইবনে আস-সিদ্দিক আল-গুমারি (মৃত্যু: ১৩৮০ হিজরি) বলেন: আর ইস্তিখরাজ (الاستخراج) হলো, কোনো হাফেজ কর্তৃক অন্য কারো সংকলিত একটি মুসনাদ গ্রন্থের হাদিসসমূহ মূল কিতাবের লেখকের সূত্র ব্যতিরেকে নিজস্ব সনদের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণনা করার সংকল্প করা। ফলে তিনি মূল লেখকের সাথে তার উস্তাদ (شيخ) বা উস্তাদের উস্তাদের (شيخ شيخه) পর্যায়ে মিলিত হন, এবং এভাবেই হাদিসের সাহাবি (صحابي) পর্যন্ত পৌঁছে যান(১)।

আল-কাত্তানি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: মুহাদ্দিসগণের নিকট মুস্তাখরাজ (المستخرج) শব্দটি কখনো এমন কিতাবের ওপরও প্রয়োগ করা হয় যা তার লেখক চয়ন করেছেন; অর্থাৎ নির্দিষ্ট কিছু কিতাব থেকে তিনি তা সংগ্রহ করেছেন। যেমন হাফেজ আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মান্দাহ-এর মুস্তাখরাজ, যার নাম তিনি রেখেছেন: "আল-মুস্তাখরাজ মিন কুতুবিন নাস লিত-তাযকিরাহ ওয়াল মুস্তাতরাফ মিন আহওয়ালিন নাস লিল-মা'রিফাহ"; এতে তিনি ব্যাপক সংগ্রহ সংকলন করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর কিতাবসমূহে প্রায়শই উল্লিখিত এই মুস্তাখরাজ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন; তিনি কখনো বলেন: "ইবনে মান্দাহ তাঁর মুস্তাখরাজে (مستخرجه) উল্লেখ করেছেন", আবার কখনো বলেন: "তাঁর তাযকিরাহ-তে"। আল্লাহই সর্বজ্ঞ(২)।

--------------------------------------------

(১) "হুসুলুত তাফরিজ বি-উসুলিত তাখরিজ", আস-সিদ্দিক আল-গুমারি, পৃষ্ঠা (১৫)।

(২) "আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ", আল-কাত্তানি, পৃষ্ঠা (৩১-৩২)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الثاني: شروط المستخرج

ينبني العمل على تخريج أحاديث الكتاب المستخرج عليه بأسانيدَ خاصة، ومجانبة طريق مؤلف الكتاب ما أمكن، والاجتماع مع صاحب الكتاب في بعض طبقات الإسناد

وهذه الأصول، قد لا يطرد وقوعُها للمستخرج، إذ ربما أسقط أحاديث لم يجد له بها سندًا يَرتضيهِ، وربما ذكَرها من طريق صاحبِ الكتاب لكن لا يَسوغُ للمستخرج العدولُ عن الطريق التي يقرُب اجتماعه مع مصنفِ الأصل فيها، إلي الطريق البعيدة، إلا لغرض من عُلُوٍّ، أو زيادة حُكم مهمّ. ذكر ذلك ابنُ حجر(1).

--------------------------------------------

(1) "النكت الوفية بما في شرح الألفية" للبقاعيّ (1/ لوحة 23). و"فتح المغيث"للسخاوي (1/ 57).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজ (المستخرج)-এর শর্তাবলি

এই কর্মটি যে কিতাবের ওপর মুস্তাখরাজ (المستخرج) করা হচ্ছে তার হাদিসসমূহকে নিজস্ব সনদ (أسانيد)-এর মাধ্যমে তাখরিজ (تخريج) করা, যথাসম্ভব মূল কিতাবের লেখকের অনুসৃত পথ এড়িয়ে চলা এবং সনদের (إسناد) কোনো এক স্তরে উক্ত লেখকের সাথে মিলিত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

এই মূলনীতিগুলো মুস্তাখরাজ (المستخرج) রচয়িতার ক্ষেত্রে সবসময় একইভাবে কার্যকর নাও হতে পারে; কেননা কখনও কখনও তিনি এমন কিছু হাদিস বাদ দিয়ে দেন যার জন্য তিনি সন্তোষজনক কোনো সনদ (سند) খুঁজে পান না, আবার কখনও কখনও তিনি সেগুলো মূল লেখকের মাধ্যমেই উল্লেখ করে থাকেন। কিন্তু মুস্তাখরাজ (المستخرج) রচয়িতার জন্য এমন কোনো পথ পরিহার করে দূরবর্তী পথ অবলম্বন করা বৈধ নয় যেখানে মূল কিতাবের লেখকের সাথে তার মিলনস্থলটি নিকটবর্তী হওয়া সম্ভব; তবে যদি সনদটি উচ্চতর (علو) করার উদ্দেশ্য থাকে অথবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত বিধান (حكم) লাভের বিষয় থাকে তবে তা ভিন্ন কথা। ইবনে হাজার(১) এটি উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(1) আল-বিক্বায়ি রচিত "আন-নুকাতি আল-ওয়াফিয়্যাহ বিমা ফি শারহিল আলফিয়্যাহ" (১/ পৃষ্ঠা ২৩)। এবং আস-সাখাবি রচিত "ফাতহুল মুগিস" (১/ ৫৭)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الثالث: حكم الأحاديث الواردة في المُستخرَجات

قال السَّخَاوي: والكتب المخرَّجة لم يلتزم فيها موافقتها للكتب المخرجة عليها في الألفاظ، فحصَل فيها تفاوت في اللفظ والمعنى(1).

وقال ابن الصلاح: صنَّف على"صحيح مسلم" قوم من الحفاظ، وأدركوا الأسانيد العالية، وفيهم مَن أدرك بعض شيوخ مسلم، فخرَّجُوا أحاديثه في تصانيفِهم تلك، فالتحقتْ به في أن لها سِمَة الصحيح، وإن لم تلتحق به في خصائصه … ، ثم إنهم لم يلتزموا فيها الموافقة في ألفاظ الأحاديث من غير زيادة ولا نقص، لكونهم يروونها بأسانيد أُخر، فأوجب ذلك بعض التفاوت في بعض الألفاظ.

فلا يجوز أن تنقل منها حديثًا وتقول: هو كذا فيهما إلا أن تقابله بهما، أو أن يقول المصنف: أخرجاه بلفظه(2).

--------------------------------------------

(1) "فتح المغيث" (1/ 38).

(2) "صيانة صحيح مسلم" للإمام ابن الصلاح ص (88).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজ (المستخرجات) গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হাদিসসমূহের বিধান

আল-সাখাবি বলেছেন: মুস্তাখরাজ (المخرَّجة) গ্রন্থসমূহে মূল গ্রন্থগুলোর (যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজ রচিত) শব্দের সাথে হুবহু মিল রাখার বাধ্যবাধকতা রক্ষা করা হয়নি, ফলে এতে শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

ইবনুস সালাহ বলেছেন: হাদিস বিশারদগণের (الحفاظ) একটি দল সহিহ মুসলিম-এর ওপর ভিত্তি করে মুস্তাখরাজ গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং তারা উচ্চতর সনদ (الأسانيد العالية) লাভ করেছিলেন। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা ইমাম মুসলিমের কোনো কোনো উস্তাদকে পেয়েছিলেন। তারা তাদের সেই সংকলনগুলোতে ইমাম মুসলিমের হাদিসগুলো সংকলন করেছেন। ফলে এগুলো সহিহ (صحيح) হওয়ার বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যদিও তা এর বিশেষ গুণাবলির ক্ষেত্রে মূলের সমপর্যায়ভুক্ত হতে পারেনি... তদুপরি তারা এতে হাদিসের শব্দগুলোর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কম-বেশি না করে হুবহু মিল রাখার বাধ্যবাধকতা রক্ষা করেননি; কারণ তারা এগুলো ভিন্ন ভিন্ন সনদের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর এ কারণেই কিছু শব্দের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য দেখা দিয়েছে।

সুতরাং সেগুলো থেকে কোনো হাদিস উদ্ধৃত করে এমনটি বলা বৈধ হবে না যে: "হাদিসটি উভয় গ্রন্থে এভাবেই আছে", যতক্ষণ না আপনি একে মূল গ্রন্থ দুটির সাথে মিলিয়ে দেখবেন, অথবা যদি গ্রন্থকার বলেন যে: "তাঁরা উভয়েই এটি এই শব্দেই বর্ণনা (أخرجاه) করেছেন"।

--------------------------------------------

(১) "ফাতহুল মুগিস" (১/ ৩৮)।

(২) ইমাম ইবনুস সালাহ রচিত "সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম" পৃষ্ঠা (৮৮)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وحيث إنّ رجال المستخرَجات ليسُوا ثقات كلُّهم، ففيهم الثقة والصَّدُوق ومَن دونهما، بل وُجِدَ فيهم الضعيفُ والمتهم والوضَّاع، وعلى ذلك فإن الزياداتِ التي تفرَّد بها هؤلاء لا يُحكم لها بالصِّحة مطلقًا.

ويرجع تفاوت أصحاب المستخرجات إلى أسبابٍ، منها أنه ليس كلُّ رجال المستخرجات رجالَ الصحيح. قال الحافظ ابن حجر في "النكت" (1/ 293): (بل ورأيت في"مُستخرَج أبي نُعيم" وغيره الرّواية عن جماعةٍ من الضعفاء).

وقال السخاوي في "فتح المغيث" (1/ 40): (فرُبَّ حديثٍ أخرجه البخاري من طريق بعض أصحاب الزهري عنه مثلاً، فأورده المخرِّجُ من طريق آخر ممن تُكُلِّمَ فيه عن الزهري بزيادة، فلا يحكم لها حينئذ بالصحة، وقد خرَّج الإسماعيلي في "مُستخرجه"لإبراهيم بن الفضل المخزومي، وهو ضعيفٌ عندهم، وأبو نُعيم لمحمد بن زُبَالة، وقد اتهَّمُوه).

فهؤلاء رجال المُستخرجات كما رأيت يتدرجون من الثقة إلى الاتّهام، ولازمُ ذلك أن تكون زيادات بعض المستخرجات ضعيفة أو دون ذلك، وفي المُستخرجات أحاديث معلَّقة وموقوفة، وفي بعضها نقصُ أحاديث عن الصحيح، وأخرى زائدة.

وربما عزَّ على المصنف - يعني صاحب المستخرج - وجودُ حديث يعني من أحاديث" الصحيح " فيتركه أصلاً، أو يُعلقه على بعض رواته.
যেহেতু মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন, বরং তাদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقة), সত্যবাদী (صدوق) এবং তাদের চেয়ে নিম্নস্তরের বর্ণনাকারী যেমন আছেন, তেমনি তাদের মধ্যে দুর্বল (ضعيف), অভিযুক্ত (متهم) এবং জাল হাদিস প্রস্তুতকারী (وضاع) বর্ণনাকারীরও অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আর এ কারণে এই বর্ণনাকারীদের এককভাবে বর্ণিত অতিরিক্ত অংশগুলোর (زيادات) ওপর নিঃশর্তভাবে বিশুদ্ধতার (صحة) হুকুম লাগানো যাবে না।

মুস্তাখরাজ সংকলকদের স্তরের পার্থক্যের পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে, যার একটি হলো মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের সকল বর্ণনাকারী সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী নন। হাফিজ ইবনে হাজার আন-নুকাত গ্রন্থে (১/২৯৩) বলেছেন: "বরং আমি মুস্তাখরাজ আবু নুআয়ম ও অন্যান্য গ্রন্থে একদল দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীর বর্ণনা দেখেছি।"

ইমাম সাখাবী ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে (১/৪০) বলেন: "অনেক সময় এমন হয় যে, ইমাম বুখারি ইমাম যুহরীর কোনো ছাত্রের সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু মুস্তাখরাজ রচয়িতা অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে সেই হাদিসটি যুহরী থেকে অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করেছেন যার (বর্ণনাকারীর) ব্যাপারে সমালোচনা (تكلم فيه) রয়েছে। এমতাবস্থায় সেই অতিরিক্ত অংশের ওপর বিশুদ্ধতার (صحة) হুকুম দেওয়া যাবে না। যেমন ইমাম ইসমাইলি তার মুস্তাখরাজ গ্রন্থে ইব্রাহিম বিন ফজল মাখজুমির বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, অথচ তিনি তাদের নিকট দুর্বল (ضعيف)। আর আবু নুআয়ম মুহাম্মদ বিন জুবালার হাদিস উল্লেখ করেছেন, অথচ মুহাদ্দিসগণ তাকে অভিযুক্ত (متهم) করেছেন।"

সুতরাং মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহের বর্ণনাকারীদের মান যেমনটি দেখা গেল—নির্ভরযোগ্য (ثقة) থেকে অভিযুক্ত (اتهام) হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের হতে পারে। এর অনিবার্য ফলাফল হলো, কিছু মুস্তাখরাজ গ্রন্থের অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো দুর্বল (ضعيفة) অথবা তার চেয়েও নিম্নমানের হওয়া। এছাড়াও মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহে ঝুলন্ত (معلقة) এবং মাওকুফ (موقوفة) হাদিস রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সহিহ গ্রন্থের তুলনায় হাদিসের সংখ্যা কম, আবার কিছু ক্ষেত্রে বেশি।

আর কখনো কখনো সংকলকের—অর্থাৎ মুস্তাখরাজ রচয়িতার—জন্য সহিহ গ্রন্থের কোনো একটি হাদিস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে তিনি তা পুরোপুরি বাদ দেন অথবা তার কোনো বর্ণনাকারীর সূত্রে ঝুলন্ত (معلق) অবস্থায় উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الرابع: المؤلَّفات في المُستخرَجات

[أولاً]: المستخرجات على "الصحيحين" حيث إنها من الأهمية بمكان بالنسبة لأهل العلم، وذلك لفضل الشيخين وقدرهما إذا اجتمعَا خاصةً. وهذه المؤلفات هي:

1 - "المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ المتقِن الحجّة، أبي عبد الله محمد بن يعقوب بن يوسف الشيبانيّ النيسابُوريّ، المعروف بابن الأخرم، ويُعرَف قديمًا بابن الكرمانيّ (ت:344 ه)(1).

2 - "المستخرج على الصحيحين":للإمام الحافظ أبي علي الحسين بن محمد بن أحمد الماسرسجي (ت:365 ه)(2).

3 - "المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ، المعمّر الثقة، شيخ الأهواز أبي بكر، أحمد بن عبدان بن محمد بن الفرَج، الشِّيرازيّ (ت:388 ه)(3).

4 - " المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ، العلامة الثقة، شيخ الفقهاء والمحدثين، أبي بكر، أحمد بن محمد بن أحمد بن غالب، الخوارزمي، ثم البَرْقاني (ت:425 ه)(4).

5 ــ"المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ المجوّد، أبي بكر، أحمد بن علي بن محمد بن إبراهيم بن مَنْجَويه، اليزديّ، الأصبهانيّ (ت:428 ه)(5).

--------------------------------------------

(1) قال الحاكم: صنف كتاب "المستخرج على الصحيحين"، وصنف "المسند الكبير"، وسأله أبو العباس السراج أن يخرج له كتابًا على "صحيح مسلم" ففعل.

وسمعتُ أبا عبد الله بن يعقوب غير مرة، يقول: ذهب عُمري في جمع هذا الكتاب، يعني "المستخرج" على كتاب مسلم، وسمعته تندَّم على تصنيفهِ "المُختصر الصحيح المتفق عليه"، ويقول: مِن حقنا أن نجهد في زيادة الصحيح. "سير أعلام النبلاء " (15/ 466).

(2) ذكره الكتاني فيمن صنّف على كل منهما. " الرسالة المستطرفة" ص (29،30).

(3) المرجع السابق نفسه.

(4) قال الخطيب البغدادي: وصنف مسندًا ضمّنه ما اشتمل عليه صحيح البخاري ومسلم."تاريخ بغداد" (4/ 374). وقال الكتاني: (على كل منهما). "الرسالة المستطرفة" ص (30).

(5) نزيل نيسابور، قال الذهبي: (قد صنف ابن منجويه على "الصحيحين" مستخرجًا، وعلى "جامع أبي عيسى"،

و " سنن أبي داود". " سير أعلام النبلاء" (17/ 438).
‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুস্তাখরাজ (المستخرجات) বিষয়ক গ্রন্থাবলি

[প্রথমত]: "সহীহাইন"-এর ওপর রচিত মুস্তাখরাজ (المستخرجات)সমূহ। ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট এগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষত শায়খাইনের (ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম) মর্যাদা এবং তাঁদের উভয়ের ঐক্যমত্যের উচ্চস্থানের কারণে। এই গ্রন্থগুলো হলো:

১ - "মুস্তাখরাজ আলাল সহীহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ), সুনিপুণ (المتقن), অকাট্য প্রমাণস্বরূপ (الحجة) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ আল-শায়বানি আল-নিশাপুরি, যিনি ইবনুল আখরাম নামে পরিচিত এবং প্রাচীনকালে ইবনুল কিরমানি (মৃত্যু: ৩৪৪ হিজরী) নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর রচিত।(১)

২ - "মুস্তাখরাজ আলাল সহীহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ) আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাসারসিজি (মৃত্যু: ৩৬৫ হিজরী) রচিত।(২)

৩ - "মুস্তাখরাজ আলাল সহীহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ), দীর্ঘজীবী (المعمر), নির্ভরযোগ্য (الثقة), আহওয়াজের শায়খ আবু বকর আহমদ বিন আবদান বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফারাজ আল-শিরাজি (মৃত্যু: ৩৮৮ হিজরী) রচিত।(৩)

৪ - "মুস্তাখরাজ আলাল সহীহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ), প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة), নির্ভরযোগ্য (الثقة), ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের শায়খ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন গালিব আল-খাওয়ারিজমি, অতঃপর আল-বারকানি (মৃত্যু: ৪২৫ হিজরী) রচিত।(৪)

৫ ــ"মুস্তাখরাজ আলাল সহীহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ), মুজাওয়িদ (المجود), আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মানজুওয়াইহ আল-ইয়াজদি আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৪২৮ হিজরী) রচিত।(৫)

--------------------------------------------

(১) আল-হাকিম বলেন: তিনি "মুস্তাখরাজ আলাল সহীহাইন" এবং "মুসনাদ আল-কাবির" সংকলন করেছেন। আবু আব্বাস আল-সাররাজ তাঁকে সহীহ মুসলিমের ওপর একটি গ্রন্থ বের করে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি তা করেন।

আমি আবু আব্দুল্লাহ বিন ইয়াকুবকে একাধিকবার বলতে শুনেছি: এই গ্রন্থটি অর্থাৎ মুসলিমের ওপর "মুস্তাখরাজ" (المستخرج) সংকলন করতে আমার জীবন অতিবাহিত হয়েছে। আমি তাঁকে তাঁর রচিত "আল-মুক্তাসার আস-সহীহ আল-মুত্তাফাক আলাইহি" সংকলনের জন্য অনুশোচনা করতে শুনেছি; তিনি বলতেন: সহীহ (الصحيح) হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হওয়া আমাদের জন্য বাঞ্ছনীয়। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৫/৪৬৬)।

(২) আল-কাত্তানি সেই সকল ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁকে উল্লেখ করেছেন যারা উভয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন। "আল-রিসালাহ আল-মুসতাতরাফাহ" পৃষ্ঠা (২৯, ৩০)।

(৩) একই উৎস।

(৪) আল-খতিব আল-বাগদাদী বলেন: তিনি একটি মুসনাদ রচনা করেছেন যাতে সহীহ বুখারী ও মুসলিমের অন্তর্ভুক্ত হাদিসগুলো স্থান পেয়েছে। "তারিখে বাগদাদ" (৪/৩৭৪)। আল-কাত্তানি বলেন: (উভয়ের ওপর)। "আল-রিসালাহ আল-মুসতাতরাফাহ" পৃষ্ঠা (৩০)।

(৫) নিশাপুরের অধিবাসী। আয-যাহাবী বলেন: (ইবনে মানজুওয়াইহ "সহীহাইন"-এর ওপর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرجًا) এবং "জামি আবি ঈসা" ও "সুনান আবি দাউদ"-এর ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন)।

"সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৭/৪৩৮)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
6 - "المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ، الثقة العلامة، أبي نُعيم، أحمد بن عبد الله ابن إسحاق المهرانيّ، الأصبهانيّ (ت:430 ه)(1).

7 - "المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ المجود، شيخ الحرم، أبي ذر، عبد بن أحمد بن محمد، المعروف ببلده بابن السمّاك، الأنصاريّ، الخراسانيّ، الهرويّ، المالكيّ (ت:434 ه)(2).

8 - " المستخرج على الصحيحين": للإمام الحافظ المجود، محدث العراق، أبي محمد، الحسن بن محمد بن الحسن بن علي، البغداديّ الخلال (ت:439 ه)(3).

9 - "المستخرج على الصحيحين": للإمام المحدث الثقة، أبي الحسن، أحمد بن محمد بن أحمد بن منصور، البغداديّ، العتيقيّ (ت:441 ه)(4).

10 - "المستخرج على الصحيحين": للحافظ العالم المفيد، أبي مَسعود، سليمان بن إبراهيم ابن محمد بن سليمان الأصبهانيّ، الملنجيّ (ت:486 ه)(5).

--------------------------------------------

(1) الصوفي، الأحول، ذكره الإمام الذهبي، وسماه: "المستخرج على الصحيحين". "سير أعلام النبلاء" (17/ 455).

(2) قال القاضي عياض: ولأبي بكر كتابه الكبير في المسند الصحيح المخرج على البخاري ومسلم. "ترتيب المدارك" (4/ 697)، وسماه الحافظ الذهبي: " الصحيح المسند المخرَّج على الصحيحين". "سير أعلام النبلاء" (17/ 560).

(3) قال الخطيب البغدادي: وخرج المسند على " الصحيحين". " تاريخ بغداد" (7/ 425).

(4) قال ابن ماكولا: خرج على " الصحيحين ". "الوافي بالوفيات" (7/ 379).

(5) قال السمعاني: خرج على " الصحيحين". " سير أعلام النبلاء" (19/ 21).
6 - "আল-মুস্তাখরাজ আলাস সাহিহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ), নির্ভরযোগ্য (الثقة) আল্লামা, আবু নুয়াইম, আহমদ বিন আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক আল-মিহরানি, আল-আসবেহানি (মৃত্যু: ৪৩০ হিজরি) এর রচিত।(১).

7 - "আল-মুস্তাখরাজ আলাস সাহিহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ) পারদর্শী (المجود), শায়খুল হারাম, আবু যার, আব্দ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ, যিনি নিজ ভূখণ্ডে ইবনুল সাম্মাক নামে পরিচিত, আল-আনসারি, আল-খুরাসানি, আল-হারাউয়ি, আল-মালিকি (মৃত্যু: ৪৩৪ হিজরি) এর রচিত।(২).

8 - "আল-মুস্তাখরাজ আলাস সাহিহাইন": ইমাম হাফিজ (الحافظ) পারদর্শী (المجود), ইরাকের মুহাদ্দিস (المحدث), আবু মুহাম্মদ, আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আলি, আল-বাগদাদি আল-খাল্লাল (মৃত্যু: ৪৩৯ হিজরি) এর রচিত।(৩).

9 - "আল-মুস্তাখরাজ আলাস সাহিহাইন": ইমাম মুহাদ্দিস (المحدث) নির্ভরযোগ্য (الثقة), আবু আল-হাসান, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মানসুর, আল-বাগদাদি, আল-আতিকি (মৃত্যু: ৪৪১ হিজরি) এর রচিত।(৪).

10 - "আল-মুস্তাখরাজ আলাস সাহিহাইন": হাফিজ (الحافظ) আলেম (العالم) তথ্যবহুল (المفيد), আবু মাসউদ, সুলাইমান বিন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-আসবেহানি, আল-মালানজি (মৃত্যু: ৪৮৬ হিজরি) এর রচিত।(৫).

--------------------------------------------

(১) আস-সুফি, আল-আহওয়াল; ইমাম আয-যাহাবি তাকে উল্লেখ করেছেন এবং কিতাবটির নাম দিয়েছেন: "আল-মুস্তাখরাজ আলাস সাহিহাইন"। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৭/ ৪৫৫)।

(২) কাজি আইয়াদ বলেন: আবু বকরের আল-মুসনাদ আস-সাহিহ আল-মুখরাজ আলাল বুখারি ওয়া মুসলিম নামক একটি বৃহৎ গ্রন্থ রয়েছে। "তারতিবুল মাদারিক" (৪/ ৬৯৭), এবং হাফিজ (الحافظ) আয-যাহাবি একে "আস-সাহিহুল মুসনাদ আল-মুখরাজ আলাস সাহিহাইন" নামে অভিহিত করেছেন। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৭/ ৫৬০)।

(৩) খতিব আল-বাগদাদি বলেন: তিনি "সাহিহাইন"-এর ওপর ভিত্তি করে মুসনাদ সংকলন (خرج) করেছেন। "তারিখ বাগদাদ" (৭/ ৪২৫)।

(৪) ইবনে মাকুলা বলেন: তিনি "সাহিহাইন"-এর ওপর ভিত্তি করে হাদিস সংকলন (خرج) করেছেন। "আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত" (৭/ ৩৭৯)।

(৫) আস-সামআনি বলেন: তিনি "সাহিহাইন"-এর ওপর ভিত্তি করে হাদিস সংকলন (خرج) করেছেন। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৯/ ২১)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
[ثانيًا]: المستخرجات على صحيح البخاري:

1 - "المستخرج على صحيح البخاري": للإمام الحافظ أبي العباس محمد بن أحمد بن حمدان بن علي الحيريّ النيسابوريّ (ت:360 ه)(1).

2 - "المستخرج على صحيح البخاريّ": للحافظ الكبير الثبت الجوّال، الإمام أبي علي، الحسين ابن محمد بن الحسين بن عيسى بن ماسرجس الماسرجسي، النيسابوري (ت:365 ه)(2).

3 - "المستخرج على صحيح البخاري": للإمام الحافظ الرحالة النحوي أبي محمد، وأبي القاسم، عبد الصمد بن محمد بن حيويه البخاري (ت 368 ه)(3).

4 - "المستخ(4) 71 ه)(5).

--------------------------------------------

(1) قال الذهبي: وقد سمع بمنصورة - وهي أم بلاد خوارزم - بعض "صحيح البخاري" من الفِرَبْري، فوجده نازلًا، فصنف على مثاله مُستخرَجًا له. "سير أعلام النبلاء" (16/ 195).

(2) قال أبو عبد الله الحاكم في " تاريخه": وخرج على "صحيح البخاري" كتابًا، وعلى "صحيح مسلم". "سِير أعلام النبلاء" (16/ 288).

(3) قال أبو عبد الله الحاكم: استخرج على " صحيح البخاري" وجَوَّدَهُ. "سير أعلام النبلاء" (16/ 291).

(4) قال الذهبي في "سير أعلام النبلاء" (16/ 293)، وابن كثير في " البداية والنهاية" (11/ 298): يقع في أربعة مجلدات. وقد ذكر المباركفوري في مقدمة "تحفة الأحوذي" (1/ 330) أن منه نسخة مكتوبة بخط الحافظ ابن حجر محفوظة في الخزانة الجرمنية، وأن الحافظ اختصر هذا الكتاب ولخصه وسماه: "المنتقى". وقد استفاد الحافظ ابن حجر من هذا الكتاب في شرحهِ للبخاري.

(5) أخرج على صحيح البخاري": للإمام الحافظ الحجة الفقيه، شيخ الإسلام، أبي بكر أحمد بن إبراهيم بن إسماعيل الجرجاني

الإسماعيلي (3
[দ্বিতীয়তঃ]: সহিহ বুখারীর ওপর রচিত মুস্তাকরাজসমূহ (المستخرجات):

১ - "মুস্তাকরাজ আলা সহিহ বুখারী": ইমাম হাফিজ আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন হামদান বিন আলী আল-হাইরি আন-নিসাবুরি (মৃত্যু: ৩৬০ হি.)(১)।

২ - "মুস্তাকরাজ আলা সহিহ বুখারী": মহান হাফিজ, সুদৃঢ় (الثبت) এবং পরিব্রাজক ইমাম আবু আলী হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন ঈসা বিন মাসারজিস আল-মাসারজিসি আন-নিসাবুরি (মৃত্যু: ৩৬৫ হি.)(২)।

৩ - "মুস্তাকরাজ আলা সহিহ বুখারী": ইমাম হাফিজ, পর্যটক এবং ব্যাকরণবিদ আবু মুহাম্মদ ও আবুল কাসিম আবদুস সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়ুওয়াহ আল-বুখারী (মৃত্যু: ৩৬৮ হি.)(৩)।

৪ - "মুস্তাক(৪) ৭১ হি.)(৫)।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি বলেন: তিনি মানসুরাহ—যা খাওয়ারিজমের প্রধান শহর—সেখানে ফিরিবরির নিকট থেকে "সহিহ বুখারী"-র কিছু অংশ শ্রবণ করেছিলেন। তিনি একে নিম্ন পর্যায়ের (نازلًا) সূত্রে পেয়েছিলেন, তাই তিনি এর আদলে একটি মুস্তাকরাজ (مستخرج) রচনা করেন। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৬/১৯৫)।

(২) আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর "তারিখ"-এ বলেন: তিনি "সহিহ বুখারী" এবং "সহিহ মুসলিম"-এর ওপর একটি গ্রন্থ তাখরিজ (خرج) করেছেন। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৬/২৮৮)।

(৩) আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: তিনি "সহিহ বুখারী"-র ওপর মুস্তাকরাজ (استخرج) রচনা করেছেন এবং একে অত্যন্ত নিখুঁত করেছেন। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৬/২৯১)।

(৪) আয-যাহাবি "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৬/২৯৩) গ্রন্থে এবং ইবনে কাসির "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" (১১/২৯৮) গ্রন্থে বলেন: এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত। মুবারকপুরী "তুহফাতুল আহওয়াযি"-র (১/৩৩০) ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এর একটি পাণ্ডুলিপি হাফিজ ইবনে হাজার-এর স্বহস্তে লিখিত এবং তা জার্মান গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হাফিজ এই গ্রন্থটিকে সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: "আল-মুন্তাকা"। হাফিজ ইবনে হাজার সহিহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার সময় এই কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছেন।

(৫) "সহিহ বুখারীর ওপর তাখরিজ করেছেন (أخرج)": ইমাম হাফিজ, দলিল (الحجة), ফকিহ (الفقيه), শায়খুল ইসলাম আবু বকর আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন ইসমাইল আল-জুরজানি আল-ইসমাঈলি (৩
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - "المستخرج على صحيح البخاري": للإمام الحافظ المجود الرحالة، أبي أحمد محمد بن أحمد بن حسين العبدي، الغطريفي، الجرجاني (ت:377 ه)(1).

6 - "المستخرج على صحيح البخاري": للإمام الحافظ، رئيس أصبهان، أبي عبد الله، محمد بن أحمد بن محمد بن عصم ابن أبي ذهل العصمي الضبي الهروي (ت:378 ه)(2).

7 - "المستخرج على صحيح البخاري": للحافظ المجوّد العلامة، محدث أصبهان، أبي أيوب، أحمد بن موسى بن مردويه بن فورك الأصبهانيّ (ت:410 ه)(3).

8 - "المستخرج على البخاري": للإمام الحافظ، الثقة العلامة، أبي نعيم، أحمد بن عبد الله بن إسحاق المهرانيّ، الأصبهانيّ (ت:430 ه)(4).

--------------------------------------------

(1) قال الإمام السمعاني: صنف"المسند الصحيح على كتاب البخاري". " سير أعلام النبلاء" (16/ 355).

(2) قال الذهبي: لابن أبي ذهل صحيح خرجه على "صحيح البخاري". " سير أعلام النبلاء" (16/ 381).

(3) قال الذهبي: ومن تصانيفه: كتاب "المستخرج على صحيح البخاري" بعلو في كثير من أحاديث الكتاب حتى كأنه لقي البخاري. " سير أعلام النبلاء" (17/ 310).

(4) ذكره الذهبي في "سير أعلام النبلاء" (19/ 306)، و ابن حجر في "المجمع المؤسس" (2/ 94) برقم (623). ويعد هذا الكتاب أحد المراجع التي أكثر الإمام ابن حجر الاقتباس منها في كتابه " فتح الباري". انظر"معجم المصنفات الواردة في فتح الباري" (363) برقم (1167) مشهور حسن آل سلمان و رائد صبري.
5 - "আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ আল-বুখারি": হাফিজ (الحافظ), সুনিপুণ (المجود) ও মহান পর্যটক ইমাম আবু আহমদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হুসাইন আল-আবদি, আল-গাতরিফি, আল-জুরজানি (মৃ: ৩৭৭ হি.)(১).

6 - "আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ আল-বুখারি": ইমাম হাফিজ (الحافظ) ও ইসফাহানের প্রধান আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আসিম ইবনে আবি যুহল আল-আসমি আদ-দাব্বি আল-হারাউয়ি (মৃ: ৩৭৮ হি.)(২).

7 - "আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ আল-বুখারি": হাফিজ (الحافظ), সুনিপুণ (المجود) ও আল্লামা, ইসফাহানের মুহাদ্দিস আবু আইয়ুব আহমদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ বিন ফুরাক আল-ইসবাহানি (মৃ: ৪১০ হি.)(৩).

8 - "আল-মুস্তাখরাজ আলা আল-বুখারি": ইমাম হাফিজ (الحافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও আল্লামা আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-মিহরানি আল-ইসবাহানি (মৃ: ৪৩০ হি.)(৪).

--------------------------------------------

(১) ইমাম সামআনি বলেন: তিনি "আল-মুসনাদ আস-সহিহ আলা কিতাব আল-বুখারি" রচনা করেছেন। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/ ৩৫৫)।

(২) আয-যাহাবি বলেন: ইবনে আবি যুহলের একটি সহিহ গ্রন্থ রয়েছে যা তিনি "সহিহ আল-বুখারি"-এর আদলে সংকলন (تخريج) করেছেন। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/ ৩৮১)।

(৩) আয-যাহাবি বলেন: তার সংকলনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: "আল-মুস্তাখরাজ আলা সহিহ আল-বুখারি" গ্রন্থটি; এতে বইটির অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে উচ্চ সনদ (علو) বিদ্যমান, এমনকি মনে হয় যেন তিনি (সরাসরি) ইমাম বুখারির সাক্ষাৎ পেয়েছেন। "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৭/ ৩১০)।

(৪) আয-যাহাবি এটি "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৯/ ৩০৬) গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার "আল-মাজমাউল মুয়াসসিস" (২/ ৯৪, নং ৬২৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এই গ্রন্থটি সেই সকল মূল উৎসের অন্যতম যেখান থেকে ইমাম ইবনে হাজার তার "ফাতহুল বারি" গ্রন্থে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। দেখুন "মুজামুল মুসান্নাফাত আল-ওয়ারিদাহ ফি ফাতহিল বারি" (৩৬৩), নং: ১১৬৭, মাশহুর হাসান আল সালমান ও রায়িদ সাবরি।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
[ثالثًا]: المستخرجات على " صحيح مسلم":

1 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ أبي بكر، محمد بن محمد بن رجاء الأَسْفَرايِينيّ (ت:286 ه)(1).

2 - " المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ الحجة، أبي الفضل، أحمد بن سلمة النيسابوري، البزاز (ت:286 ه)(2).

3 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ الزاهد شيخ الإسلام، أبي جعفر،

أحمد بن حمدان بن علي الحيريّ النيسابوريّ (ت:311 ه)(3).

4 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ أبي عوانة، يعقوب بن إسحاق بن

إبراهيم بن يزيد النيسابوري الأصل، الأَسْفَرايِينيّ(4).

5 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الكبير، شيخ الإسلام، أبي عِمران، موسى بن العباس، الخُراساني، الجويني (ت:323 ه)(5).

--------------------------------------------

(1) قال ابن الصلاح في معرض حديثه عن المستخرجات على " صحيح مسلم": ومنها: " المسند الصحيح" المصنَّف على شرط مسلم، وهو متقدمٌ يُشارك مسلمًا في أكثر شيوخه. "صيانة صحيح مسلم" ص (89).

(2) وهو رفيق مسلم في الرحلة إلى بلخ وإلى البصرة، قال الذهبي: له مستخرج كهيئة "صحيح مسلم". " سير أعلام النبلاء" (13/ 373). وقال الشيخ أبو القاسم النصرأباذي: رأيت أبا علي الثقفي في النوم، فقال لي: عليكَ بصحيح

أحمد بن سلمة."تذكرة الحفاظ" (2/ 156).

(3) قال الخطيب البغدادي: ولم يزل يطلب الصحيح على شرط مسلم حتى صنّفه. وقال ابن الصلاح: "المخرج على صحيح مسلم" للعبد الصالح أبي جعفر أحمد بن حمدان. "صيانة صحيح مسلم" ص (88).

(4) وهو موضوع هذا البحث وستأتي تفاصيل عنه في الفصول القادمة.

(5) قال الحاكم النيسابوري: خرّج على كتاب "مسلم". "سير أعلام النبلاء" (15/ 235).
[তৃতীয়ত]: সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ (المستخرجات) গ্রন্থসমূহ:

১ - "সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে রাজা আস-সাফরায়িনি (মৃত্যু: ২৮৬ হি.)(১)।

২ - "সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম হাফেজ প্রামাণিক (الحجة) আবু ফজল আহমদ ইবনে সালামা আন-নিশাপুরি আল-বাযযায (মৃত্যু: ২৮৬ হি.)(২)।

৩ - "সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম হাফেজ দুনিয়াবিমুখ (الزاهد) শায়খুল ইসলাম আবু জাফর আহমদ ইবনে হামদান ইবনে আলী আল-হিরি আন-নিশাপুরি (মৃত্যু: ৩১১ হি.)(৩)।

৪ - "সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম হাফেজ আবু আওয়ানা ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াযিদ আন-নিশাপুরি আল-আসলি আল-আসফরায়িনি(৪)।

৫ - "সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ": মহান ইমাম, শায়খুল ইসলাম আবু ইমরান মুসা ইবনে আব্বাস আল-খুরাসানি আল-জুয়াইনি (মৃত্যু: ৩২৩ হি.)(৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আস-সালাহ সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ (المستخرجات) গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে আলোচনার প্রাক্কালে বলেছেন: "তার মধ্যে রয়েছে: মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সংকলিত 'আল-মুসনাদ আস-সহিহ', যা একটি অগ্রগণ্য গ্রন্থ এবং এর লেখক মুসলিমের অধিকাংশ উস্তাদের সাথে হাদিস বর্ণনায় শরিক হয়েছেন।" সিয়ানাহ সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা (৮৯)।

(২) তিনি বলখ ও বসরা সফরের পথে মুসলিমের সফরসঙ্গী ছিলেন। আজ-জাহাবি বলেছেন: "তাঁর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রয়েছে যা সহিহ মুসলিম এর আদলে রচিত।" সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/৩৭৩)। শেখ আবু কাসেম আন-নাসরাবাদি বলেছেন: "আমি স্বপ্নে আবু আলী আস-সাকাফিকে দেখেছি, তিনি আমাকে বললেন: তোমার জন্য আহমদ ইবনে সালামার সহিহ গ্রন্থটি অনুসরণ করা আবশ্যক।" তাযকিরাতুল হুফফাজ (২/১৫৬)।

(৩) আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "তিনি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (الصحيح) হাদিস অন্বেষণ অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না তিনি তা সংকলন করেন।" ইবনে আস-সালাহ বলেন: "নেককার বান্দা আবু জাফর আহমদ ইবনে হামদানের সহিহ মুসলিমের ওপর মুস্তাখরাজ (المخرج)।" সিয়ানাহ সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা (৮৮)।

(৪) এটিই এই গবেষণার মূল বিষয় এবং আগামী পরিচ্ছেদগুলোতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আসবে।

(৫) আল-হাকিম আন-নিশাপুরি বলেছেন: "তিনি মুসলিমের গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে হাদিস চয়ন (خرّج) করেছেন।" সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/২৩৫)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
6 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ المفيد، أبي محمد أحمد بن محمد بن إبراهيم الطوسي البلاذريّ (ت:339 ه)(1).

7 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ العلامة محدث الأندلس، أبي محمد، قاسم ابن أصبَغ بن محمد القرطبيّ (ت:340 ه)(2).

8 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ الفقيه القُدوة شيخ الإسلام، أبي النضر، محمد بن محمد بن يوسف، الطوسيّ، الشافعيّ (ت:344 ه)(3).

9 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ المتقن الحجة، أبي عبد الله محمد بن يعقوب ابن يوسف الشيبانيّ النيسابوريّ، المعروف بابن الأخْرَم، ويعرف قديمًا بابن الكِرْمَاني (ت:344 ه)(4)

10 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ المفتي، شيخ خراسان أبي الوليد حسان بن محمد بن أحمد بن هارون النيسابوري، الشافعي(5).

--------------------------------------------

(1) قال الحاكم أبو عبد الله: وحكي عن أبي محمد البلاذريّ أنه قال: لم تكن لي همة في سماع الحديث أكبر من التخريج على كتاب "مسلم"، فلما انصرفت من الرحلة أخذت في التخريج عليه، وأفنيت عمري في جمعه."سير أعلام النبلاء" (16/ 36).

(2) مولى بني أمية، قال الذهبي: وَفَاتَهُ السماع من أبي داود، فصنف سننًا على وضع سننه، و" صحيح مسلم" فاته أيضًا فخرّج صحيحًا على هيئته. "سير أعلام النبلاء" (14/ 473).

(3) قال الإمام الذهبي: وعمل مستخرجًا على "صحيح مسلم". "سير أعلام النبلاء" (15/ 490).

(4) قال الحاكم: صنف كتاب "المستخرج على الصحيحين"، وصنف ""المسند الكبير"، وسأله أبو العباس السراج أن يخرِّج له كتابًا على "صحيح مسلم" ففعل.

(و) سمعت أبا عبد الله بن يعقوب غيرَ مرة، يقول: ذهَب عُمري في جمع هذا الكتاب، يعني " المستخرج" على كتاب مسلم، وسمعته تندم على تصنيفه "المختصر الصحيح المتفق عليه"، ويقول: من حقنا أن نجهد في زيادة الصحيح. "سير أعلام النبلاء" (15/ 467، 468).

(5) نعته في "السير" (5/ 492) بالفقيه الإمام الأوحد الحافظ المفتي، ولد بعد 270 هـ، قال الحاكم: صنَّف أبو الوليد

"المستخرج على صحيح مسلم"، تُوفِّيَ سنة 349 هـ. وانظر" الرسالة المستطرفة" ص (28).
6 - "সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), উপকারী (المفيد) আবু মুহাম্মদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-তুসি আল-বালাজুরি (মৃত্যু: ৩৩৯ হি.)-এর রচিত(1)।

7 - "সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), সুপণ্ডিত (العلامة), আন্দালুসের হাদিস বিশারদ (محدث) আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন আসবাগ বিন মুহাম্মদ আল-কুরতুবি (মৃত্যু: ৩৪০ হি.)-এর রচিত(2)।

8 - "সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), ফকিহ (الفقيه), অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব (القدوة), শায়খুল ইসলাম (شيخ الإسلام) আবু আন-নাজর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-তুসি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু: ৩৪৪ হি.)-এর রচিত(3)।

9 - "সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), সুনিপুণ (المتقن), অকাট্য প্রমাণ (الحجة) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন ইউসুফ আশ-শায়বানি আন-নিসাবুরি, যিনি ইবনুল আখরাম নামে পরিচিত এবং প্রাচীনকালে ইবনুল কিরমানি নামে পরিচিত ছিলেন (মৃত্যু: ৩৪৪ হি.)-এর রচিত(4)

10 - "সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুস্তাখরাজ": ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ), মুফতি (المفتي), খুরাসানের শায়খ আবু আল-ওয়ালিদ হাসসান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হারুন আন-নিসাবুরি আশ-শাফেয়ি-এর রচিত(5)।

--------------------------------------------

(1) আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আল-বালাজুরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে মুসলিম-এর কিতাবের ওপর তাখরিজ (التخريج) করার চেয়ে বড় কোনো আকাঙ্ক্ষা আমার ছিল না। সুতরাং আমি যখন সফর থেকে ফিরলাম, তখন এর ওপর তাখরিজ (التخريج) শুরু করলাম এবং এটি সংকলন করতেই আমার জীবন ব্যয় করলাম।" 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৬/৩৬)।

(2) বনু উমাইয়ার মুক্তদাস, আয-যাহাবি বলেছেন: আবু দাউদ থেকে সরাসরি হাদিস শোনার সুযোগ তিনি পাননি, ফলে তিনি তাঁর সুনান-এর আদলে একটি সুনান রচনা করেন। সহিহ মুসলিম-এর সরাসরি পাঠও তিনি পাননি, ফলে তিনি এর আদলে একটি সহিহ (صحيح) গ্রন্থ সংকলন (خرّج) করেন। 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৪/৪৭৩)।

(3) ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি সহিহ মুসলিম-এর ওপর একটি মুস্তাখরাজ সংকলন করেছিলেন। 'সিয়ারu আলামিন নুবালা' (১৫/৪৯০)।

(4) আল-হাকিম বলেছেন: তিনি 'সহিহাইন'-এর ওপর মুস্তাখরাজ গ্রন্থটি রচনা করেন এবং 'আল-মুসনাদ আল-কাবির' রচনা করেন। আবুল আব্বাস আস-সাররাজ তাকে সহিহ মুসলিম-এর ওপর একটি কিতাব তাখরিজ (يخرِّج) করে দিতে অনুরোধ করলে তিনি তা সম্পাদন করেন।

(এবং) আমি আবু আবদুল্লাহ বিন ইয়াকুবকে একাধিকবার বলতে শুনেছি: এই কিতাব অর্থাৎ মুসলিম-এর কিতাবের ওপর মুস্তাখরাজ সংকলন করতেই আমার জীবন শেষ হয়েছে। আমি তাকে তার রচিত 'আল-মুক্তাসার আস-সহিহ আল-মুত্তাফাক আলাইহি' সংকলনের জন্য অনুশোচনা করতে শুনেছি, তিনি বলতেন: সহিহ (صحيح) হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হওয়া আমাদের জন্য কর্তব্য ছিল। 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৫/৪৬৭, ৪৬৮)।

(5) 'আস-সিয়ার' (৫/৪৯২) গ্রন্থে তাকে ফকিহ (الفقيه), ইমাম (الإمام), অনন্য (الأوحد), হাফিজ (الحافظ), মুফতি (المفتي) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি ২৭০ হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেন। আল-হাকিম বলেন: আবু আল-ওয়ালিদ সহিহ মুসলিম-এর ওপর মুস্তাখরাজ রচনা করেন। তিনি ৩৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: 'আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ' পৃষ্ঠা (২৮)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
11 - "المستخرج على صحيح مسلم": للحافظ المجود، أبي سعيد، أحمد بن محمد بن

سعيد بن إسماعيل الحيريّ النيسابوريّ الشهيد(1).

12 - "المستخرج على صحيح مسلم": للعلامة الحافظ أبي حامد، أحمد بن محمد بن شارك، الهروي، الشافعي (ت:358 ه)(2).

13 - "المستخرج على صحيح مسلم": للحافظ الكبير الثبت الجوال الإمام أبي علي، الحسين بن محمد بن أحمد بن الحسين بن عيسى بن ماسرجس الماسرجسي النيسابوري (ت:365 ه)(3).

14 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ الصادق، محدث أصبهان، أبي محمد عبد الله بن محمد بن جعفر بن حيان، المعروف بأبي الشيخ (ت:369 ه)(4).

--------------------------------------------

(1) نعته في "السير" (16/ 29) بقوله: الحافظ المجود، أحد الأئمة، وقال: وصنَّف (التَّفسير الكبير)، و"المستخرج على صحيح مسلم"، والأبواب، وغير ذلك. تُوفِّي سنة 353 هـ.

(2) قال السبكي: وللحافظ أبي حامد الشاركي كتاب"المخرج على صحيح مسلم" لم أقف عليه. "طبقات الشافعية الكبرى" (3/ 45). وذكره ابن الصلاح في "صيانة صحيح مسلم" ص (89).

(3) قال أبو عبد الله الحاكم في "تاريخه": وخرّج على "صحيح البخاري" كتابًا، وعلى "صحيح مسلم".

"سير أعلام النبلاء" (16/ 288).

(4) ذكره الإمام السمعاني ضمن مروياته وسماه: "المسند المنتخب على الأبواب المستخرج من كتاب مسلم بن الحجاج"، وسماه ابن الصلاح " المخرج على مسلم صيانة صحيح مسلم" ص (161). "شرح مسلم" للنووي (1/ 193، 194).

"سير أعلام النبلاء" (19/ 419).
11 - "সহীহ মুসলিমের উপর মুস্তাখরাজ": হাফিজ (الحافظ) ও মুজাওয়িদ (المجود) আবু সাঈদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন ইসমাইল আল-হিরি আন-নাইসাবুরি আশ-শাহিদ এর রচিত।

12 - "সহীহ মুসলিমের উপর মুস্তাখরাজ": আল্লামা (العلامة) ও হাফিজ (الحافظ) আবু হামিদ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন শারিক আল-হারাউয়ি আশ-শাফিয়ি (ওফাত: ৩৫৮ হিজরি) এর রচিত।

13 - "সহীহ মুসলিমের উপর মুস্তাখরাজ": হাফিজ (الحافظ), সুমহান নির্ভরযোগ্য (الثبت), পরিব্রাজক (الجوال) এবং ইমাম (الإمام) আবু আলি হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন হুসাইন বিন ঈসা বিন মাসারজিস আল-মাসারজিসি আন-নাইসাবুরি (ওফাত: ৩৬৫ হিজরি) এর রচিত।

14 - "সহীহ মুসলিমের উপর মুস্তাখরাজ": ইমাম (الإمام), হাফিজ (الحافظ) ও সত্যবাদী (الصادق), আসবাহানের মুহাদ্দিস (محدث) আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন জাফর বিন হাইয়ান, যিনি আবুশ শাইখ (ওফাত: ৩৬৯ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত।

--------------------------------------------

(1) 'আস-সিয়ার' (১৬/২৯) গ্রন্থে তাঁকে হাফিজ (الحافظ) ও মুজাওয়িদ (المجود) এবং অন্যতম ইমাম (الأئمة) হিসেবে বিশেষিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন: তিনি 'আত-তাফসির আল-কাবির', 'সহীহ মুসলিমের উপর মুস্তাখরাজ', 'আল-আবওয়াব' এবং অন্যান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ৩৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(2) সুবকি বলেন: হাফিজ (الحافظ) আবু হামিদ আশ-শারিকি-এর 'সহীহ মুসলিমের উপর মুখরাজ' নামক একটি কিতাব রয়েছে যা আমি দেখিনি। 'তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা' (৩/৪৫)। ইবনুস সালাহ এটি 'সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম' পৃষ্ঠা (৮৯)-এ উল্লেখ করেছেন।

(3) আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে বলেন: তিনি 'সহীহ বুখারি' এবং 'সহীহ মুসলিমের' উপর ভিত্তি করে পৃথক গ্রন্থ (মুস্তাখরাজ) সংকলন করেছেন।

'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৬/২৮৮)।

(4) ইমাম (الإمام) সামআনি তাঁর বর্ণিত হাদিস সংকলনসমূহের মধ্যে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: "আল-মুসনাদ আল-মুনতাখাব আলাল আবওয়াব আল-মুস্তাখরাজ মিন কিতাব মুসলিম বিন হাজ্জাজ"। আর ইবনুস সালাহ একে 'সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম' পৃষ্ঠা (১৬১)-এ "আল-মুখরাজ আলা মুসলিম" নামে অভিহিত করেছেন। নববী রচিত 'শারহু মুসলিম' (১/১৯৩, ১৯৪)।

'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১৯/৪১৯)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
15 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ الحجة الفقيه، شيخ الإسلام، أبي بكر أحمد بن إبراهيم بن إسماعيل الجرجاني الإسماعيلي الشافعي (ت:371 ه)(1).

16 - "المستخرج على صحيح مسلم": للمحدث الحافظ الجوال، أبي عبد الله، الحسين بن أحمد ابن محمد الشماخي، الهروي، الصفار (372 ه)(2).

17 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ المجود، أبي بكر، محمد بن عبد الله بن محمد بن زكريا الشيباني الخراساني الجوزقي (ت:388 ه)(3).

18 - "المستخرج على صحيح مسلم": للإمام الحافظ، الثقة العلامة، أبي نعيم، أحمد بن

عبد الله بن إسحاق المهراني، الأصبهاني، الصوفي(4).

--------------------------------------------

(1) قال الإمام البرقاني: عندي عن الشَّمَّاخِي رزمة، وكان قد أخرج كتابًا على "صحيح مسلم" ولا أخرج عنه في الصحيح حرفًا واحدًا. وقال الذهبي: صاحب "المستخرج على صحيح مسلم". "تاريخ بغداد" (4/ 9)، و" سير أعلام النبلاء" (16/ 360).

(2) قال أبو عبد الله الحاكم: صنف المسند الصحيح على كتاب مسلم. وذكر المباركفوري أن منه نسخة مكتوبة بخط الحافظ ابن حجر، موجودة في الخزانة الجرمنية بألمانيا، وأن الحافظ ابن حجر اختصَر هذا الكتابَ وسمّاهُ " المنتقى"، وكذا سماه ابن الصلاح في "صيانة صحيح مسلم" ص (90)، " مقدمة تحفة الأحوذي" (1/ 230) ومجلة جامعة أم القرى (1/ 220).

(3) "صيانة صحيح مسلم"ص (90)،وقد طبع تحت عنوان "المسند المستخرج على صحيح مسلم" بتحقيق محمد حسن.

(4) قال الذهبي: صنَّف كتابًا في السنن، خرّجه على "سنن أبي داود". قاله في "سير أعلام النبلاء" (15/ 241)، وقريباً منه قاله في "تاريخ الإسلام" (7/ 596)، و انظر "تاريخ علماء الأندلس" (2/ 50)، و" الرسالة المستطرفة" ص (30).
১৫ - "মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম": ইমাম, হাফিজ (حافظ), হুজ্জাহ (حجة), ফকিহ (فقيه), শাইখুল ইসলাম আবু বকর আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন ইসমাইল আল-জোরজানি আল-ইসমাঈলি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৩৭১ হিজরী)-এর রচিত।(১).

১৬ - "মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম": মুহাদ্দিস (محدث), ভ্রমণকারী হাফিজ (حافظ), আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শম্মাকি আল-হারাবি আস-সাফফার (৩৭২ হিজরী)-এর রচিত।(২).

১৭ - "মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম": ইমাম, হাফিজ (حافظ), পারদর্শী (مجود), আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া আশ-শাইবানি আল-খুরাসানি আল-জাওজাকি (মৃত্যু: ৩৮৮ হিজরী)-এর রচিত।(৩).

১৮ - "মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম": ইমাম, হাফিজ (حافظ), নির্ভরযোগ্য (ثقة), আল্লামা (علامة) আবু নুআইম আহমাদ বিন

আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-মিহরানি আল-আসবাহানি আস-সুফি-এর রচিত।(৪).

--------------------------------------------

(১) ইমাম আল-বারকানি বলেন: আমার নিকট আশ-শম্মাকির সূত্রে একগুচ্ছ পাণ্ডুলিপি রয়েছে; তিনি "সহীহ মুসলিম"-এর ওপর ভিত্তি করে একটি কিতাব সংকলন (أخرج) করেছিলেন, তবে আমি আমার সহীহ গ্রন্থে তাঁর থেকে একটি অক্ষরও উদ্ধৃত (أخرج) করিনি। আয-যাহাবী বলেন: (তিনি) "মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম"-এর লেখক। "তারিখ বাগদাদ" (৪/৯) এবং "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৬/৩৬০)।

(২) আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: তিনি মুসলিম-এর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে আল-মুসনাদ আস-সহীহ সংকলন করেছেন। আল-মুবারকপুরী উল্লেখ করেছেন যে, হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার-এর হস্তলিপিতে এটির একটি কপি রয়েছে, যা জার্মানির একটি গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে; এবং হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার এই কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন "আল-মুনতাকা"। একইভাবে ইবনে আস-সালাহ "সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম" এর ৯০ পৃষ্ঠায় একে এই নামেই অভিহিত করেছেন। "মুকাদ্দিমা তুহফাতুল আহওয়াযী" (১/২৩০) এবং উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী (১/২২০)।

(৩) "সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম" পৃষ্ঠা (৯০); এটি মুহাম্মদ হাসানের সম্পাদনায় "আল-মুসনাদ আল-মুস্তাখরাজ আলা সহীহ মুসলিম" শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) আয-যাহাবী বলেন: তিনি সুনান বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করেছেন, যা তিনি "সুনানে আবু দাউদ"-এর বিন্যাসে সংকলন (خرّجه) করেছেন। তিনি এটি "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৫/২৪১)-এ উল্লেখ করেছেন এবং এর কাছাকাছি কথা "তারিখুল ইসলাম" (৭/৫৯৬)-এ বলেছেন। আরও দেখুন: "তারিখু উলামাইল আন্দালুস" (২/৫০) এবং "আর-রিসালাহ আল-মুসতাতরাফাহ" পৃষ্ঠা (৩০)।
(খণ্ড: ১) ফাওয়াইদুল মুস্তাখরাজাত মিন খিলালি মুসনাদি আবি আওয়ানাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
[رابعًا]: المستخرجات على السنن وغيرها:

1 - "المستخرج على سنن أبي داود": للإمام الحافظ العلّامة، شيخ الأندلس ومسندها، أبي عبد الله محمد بن عبد الملك بن أيمن بن فرج القرطبي(1).

2 - "المستخرج على سنن أبي داود": للإمام الحافظ المجود، أبي بكر، أحمد بن علي بن محمد بن إبراهيم بن مَنْجَويه، اليَزدِي، الأصبهاني(2).

3 - "المستخرج على سنن أبي داود": للإمام الحافظ العلّامة محدّث الأندلس، أبي محمد،

قاسم بن أصبَغ بن مُحمد القرطبي (ت:430 ه)(3).

4 - "المستخرج على جامع الترمذي": للإمام الحافظ المجود، أبي علي، الحسن بن علي بن نصر ابن منصور، الطوسي، المعروف بمكردش (ت:312 ه)(4).

5 - "المستخرج على جامع الترمذي": للإمام الحافظ المجود، أبي بكر، أحمد بن علي بن محمد بن إبراهيم بن مَنجُويه، اليزدي، الأصبهاني (ت:428 ه)(5).

--------------------------------------------

(1)

(2) قال يحيى بن منده: كتب عنه عمِّي عبد الرَّحمن بن منده كتاب "السُّنَن" له، الَّذي عمله على هيئة "سنن أبي داودَ"، وَكَانَ يُثنِي عَلَيْهِ كَثِيْراً. ذكره الذهبي، وقال: قُلْتُ: قد صَنَّف ابن مَنْجُوَيْه على ((الصَّحِيْحَيْنِ)) مُسْتَخْرَجًا، وعلى " جامع أبي عيسى"، و "سنن أبي داود". "سير أعلام النبلاء" (17/ 439)، "الرسالة المستطرفة" ص (30).

(3) قال الذهبي: وفاتَهُ السماعُ من أبي داود، فصنف سُنَنًا على وضع سُنَنِهِ. قال الكتاني: ثم اختَصر قاسم بن أصبغ كتابه وسماه "المجتنى" (بالنون)، فيه من الحديث المسند: ألف وأربعمائة وتسعون حديثًا، في سبعة أجزاء."سير أعلام النبلاء" (14/ 473)، وقال ابن فرحون: وصنف في الحديث مصنفات حسنة، منها: مصنفه المخرّج على كتاب أبي داود "الديباج المذهب" (2/ 146) ، و "الرسالة المستطرفة" ص (30).

(4) ذكر الكتاني أن له مستخرجًا على الترمذي، وأضاف قائلاً: لقد شارك الترمذي في كثير من شيوخه. "سير أعلام النبلاء" (14/ 287)، "الرسالة المستطرفة" ص (31).

(5) قال الذهبي: قد صنف ابن منجويه مستخرجًا على جامع أبي عيسى. " سير أعلام النبلاء" (17/ 440).
[চতুর্থত]: সুনান ও অন্যান্য গ্রন্থের মুস্তাখরাজ (مستخرج) সমূহ:

১ - "সুনান আবি দাউদ-এর মুস্তাখরাজ (مستخرج)": ইমাম, হাফিজ, আল্লামা, আন্দালুসের শায়খ এবং সেখানকার মুসনিদ (مسند), আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আয়মান বিন ফারাজ আল-কুরতুবি-এর রচিত(১)।

২ - "সুনান আবি দাউদ-এর মুস্তাখরাজ (مستخرج)": ইমাম, হাফিজ, নিপুণ বর্ণনাকারী (مجود), আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মানজুওয়াইহ, আল-ইয়াযদি, আল-আসফাহানি-এর রচিত(২)।

৩ - "সুনান আবি দাউদ-এর মুস্তাখরাজ (مستخرج)": ইমাম, হাফিজ, আল্লামা, আন্দালুসের মুহাদ্দিস (محدث), আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন আসবাগ বিন মুহাম্মদ আল-কুরতুবি (মৃত্যু: ৪৩০ হিজরি)-এর রচিত(৩)।

৪ - "জামি তিরমিযি-এর মুস্তাখরাজ (مستخرج)": ইমাম, হাফিজ, নিপুণ বর্ণনাকারী (مجود), আবু আলী হাসান বিন আলী বিন নাসর ইবনে মানসুর আত-তুসি, যিনি মুকারদিশ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩১২ হিজরি)-এর রচিত(৪)।

৫ - "জামি তিরমিযি-এর মুস্তাখরাজ (مستخرج)": ইমাম, হাফিজ, নিপুণ বর্ণনাকারী (مجود), আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মানজুওয়াইহ, আল-ইয়াযদি, আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৪২৮ হিজরি)-এর রচিত(৫)।

--------------------------------------------

(১)

(২) ইয়াহইয়া বিন মানদাহ বলেন: আমার চাচা আব্দুর রহমান বিন মানদাহ তাঁর নিকট থেকে তাঁর "সুনান" গ্রন্থটি লিখে নিয়েছেন, যা তিনি "সুনান আবি দাউদ"-এর আদলে সংকলন করেছিলেন এবং তিনি তাঁর অনেক প্রশংসা (ثناء) করতেন। আয-যাহাবি এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমি বলি: ইবনে মানজুওয়াইহ "সহীহাইন", "জামি আবি ঈসা" এবং "সুনান আবি দাউদ"-এর ওপর মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচনা করেছেন। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৭/৪৩৯), "আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ" পৃষ্ঠা (৩০)।

(৩) আয-যাহাবি বলেন: তাঁর পক্ষে আবু দাউদ থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার সুযোগ হয়নি, তাই তিনি তাঁর সুনানের বিন্যাস অনুযায়ী একটি সুনান গ্রন্থ রচনা করেন। আল-কাত্তানি বলেন: এরপর কাসিম বিন আসবাগ তাঁর গ্রন্থটি সংক্ষেপ করেন এবং এর নাম দেন "আল-মুজতানা" (নুন দিয়ে), এতে সাত খণ্ডে এক হাজার চারশ নব্বইটি মুসনাদ (مسند) হাদিস রয়েছে। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৪/৪৭৩)। ইবনে ফারহুন বলেন: তিনি হাদিস শাস্ত্রে উত্তম কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে আবু দাউদের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে তাঁর মুস্তাখরাজ (مستخرج) গ্রন্থটি অন্যতম। "আদ-দিবাজ আল-মুদহাহাব" (২/১৪৬), এবং "আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ" পৃষ্ঠা (৩০)।

(৪) আল-কাত্তানি উল্লেখ করেছেন যে, তিরমিযি-এর ওপর তাঁর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রয়েছে এবং তিনি আরও বলেছেন: তিনি অনেক শায়খের (شيوخ) ক্ষেত্রে ইমাম তিরমিযির সাথে অংশীদার ছিলেন। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৪/২৮৭), "আর-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ" পৃষ্ঠা (৩১)।

(৫) আয-যাহাবি বলেন: ইবনে মানজুওয়াইহ জামি আবি ঈসা-এর ওপর একটি মুস্তাখরাজ (مستخرج) রচনা করেছেন। "সিয়ারু আ'লামিন নুবালা" (১৭/৪৪০)।