(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الشامل في الصناعة الطبية القسم: الطب
الكتاب: الشامل في الصناعة الطبية، الأدوية والأغذية: كتاب الهمزة
المؤلف: علاء الدين ابن النفيس، علي بن أبي الحزم القرشي (ت 687هـ)
المحقق: يوسف زيدان
الناشر: المجمع الثقافي، أبوظبي - الإمارات العربية المتحدة - ص. ب 2380
الطبعة: الأولى
الجزء: 1، 2000 م
الجزء: 2، 2002 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
চিকিৎসা শিল্পে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ বিভাগ: চিকিৎসা বিজ্ঞান
গ্রন্থ: চিকিৎসা শিল্পে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ، ঔষধ ও খাদ্যসমূহ: হামযা অধ্যায়
লেখক: আলাউদ্দিন ইবনে আল-নাফিস، আলী বিন আবি আল-হাযম আল-কুরাশি (মৃত্যু ৬৮৭ হি.)
গবেষক ও সম্পাদক: ইউসুফ যাইদান
প্রকাশক: কালচারাল ফাউন্ডেশন، আবুধাবি - সংযুক্ত আরব আমিরাত - পি. ও বক্স ২৩৮০
সংস্করণ: প্রথম
খণ্ড: ১، ২০০০ খ্রি.
খণ্ড: ২، ২০০২ খ্রি.
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
شُرُوعٌمثل العنقاء حين تنفضُ عنها غبارَ القرون ناهضةً من سُباتٍ طويل؛ يطلع إلينا اليوم علاءُ الدين القَرَشى (ابن النفيس) بموسوعته الشامل فى الصناعة الطبية بعد وفاته بسبعة قرون.
ومثلما تشرع العنقاءُ أجنحتها الأسطورية الرائعة مُحلِّقةً فى الذرى، بعدما بُعثت من رمادها؛ يفرد العلاءُ أجزاءَ موسوعته الأربعين فيطير مرةً ثانية فى سماوات العلوم وتاريخها، بعد قرونٍ من انطمار الكتاب فى النُّسخ الخطية، وبعد تيهٍ طويل وشتاتٍ بين مكتبات الشرق والغرب.
وكأننى الآن بالعلاء القرشى، يبتسمُ فى عليائه ابتسامةً لا تخلو من اعتدادٍ وابتهاجٍ وسخرية! محدِّثاً نفسه: أَلَمْ أَقُلْ للزَّمَانِ: " لَوْ لَمْ أَعْلَمْ أَنَّ تَصَانِيفى تَبْقَى بَعْدِى عَشْرَةَ آلَافِ سَنَةٍ، مَا وَضَعْتُهَا ". فَلمْ يُصَدِّقْنى أَهْلُ زَمَانِى.. فَأَيْنَ هُمُ الآنَ؟
প্রারম্ভিকাদীর্ঘ নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে যেমন ফিনিক্স পাখি আপন দেহ হতে শত শত বছরের ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলে পুনরুত্থিত হয়, তেমনি মৃত্যুর সাত শতাব্দী পর আজ আমাদের সম্মুখে আবির্ভূত হয়েছেন আলাউদ্দিন আল-কুরাশি (ইবনুন নাফিস), চিকিৎসা শিল্পের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ ‘আশ-শামিল’ নিয়ে।
ভস্ম হতে পুনর্জন্ম লাভ করে ফিনিক্স পাখি যেমন তার বিস্ময়কর ও পৌরাণিক ডানা মেলিয়ে সুউচ্চ শিখরে উড্ডয়ন করে, তেমনি আল-আলা তাঁর বিশ্বকোষের চল্লিশটি খণ্ড উন্মোচন করে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ইতিহাসের আকাশে দ্বিতীয়বারের মতো ডানা মেলেছেন; বহু শতাব্দী ধরে পাণ্ডুলিপির জঠরে বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে থাকার পর এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পাঠাগারগুলোর মাঝে দীর্ঘকাল লক্ষ্যহীন ও বিক্ষিপ্ত অবস্থায় অতিবাহিত করার পর।
আমার নিকট মনে হচ্ছে যেন আলাউদ্দিন আল-কুরাশি তাঁর উচ্চমর্যাদায় উর্ধ্বে আরোহণ হয়ে মুচকি হাসছেন—সেই হাসিতে আত্মগৌরব, আনন্দ আর কিছুটা বিদ্রূপও যেন মিশে আছে! তিনি নিজের মনে বলছেন: আমি কি মহাকালের উদ্দেশ্যে বলিনি যে, "যদি আমি না জানতাম আমার রচনাবলী আমার পরেও দশ হাজার বছর টিকে থাকবে, তবে আমি এগুলো রচনা করতাম না?" আমার সমসাময়িকরা আমাকে সেদিন বিশ্বাস করেনি... তবে আজ তারা কোথায়?
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
وكأننى به.. وقد غلبه الوجدُ الذى، حسب قول الصوفية؛ يكون: عِنْدَ ذِكْرُ مُزْعِجٍ أو خَوْفِ مُقْلِقٍ.. أو أَسَفٍ على فَائِتٍ! فإذا بعينيه وقد اكتستا بسحابةِ أسىً، وبحزنٍ شفيف، لما ضَيَّعه الزمانُ من أجزاء موسوعته الأربعين.. ولا يخلو أساهُ وحزنُهُ، من أملٍ ورجاء فى ظهورها يوماً منزويةً بين جنبات خزانةٍ خطِّيةٍ عتيقة، غفل عنها الأحفاد.
أربعون جزءاً من الشامل ضاعت، وأربعون تخرج اليوم محقَّقةً على يد واحدٍ من أحفادك أيها العلاء.. ليس واحداً، بل هُم نفرٌ من أحفادك وجدوك قطعةً من ذاتٍ مندثرة، حُقَّ لها أن تُبعث ووجودوك ورقةً من كتاب الوعى الغائب، حُقَّ لها أن تُنشر وتُذاع. فها نحن ننشر الأربعين من الشامل ونصبو لخروج الأربعين الأخرى فلا يبقى الشاملُ ناقصاً.
يرد العلاءُ: الشَّامِلُ لَنْ يَكُونَ نَاقِصاً أَبداً! فقد تحسبتُ لأفعال الزمان، فجعلتُ كُلَّ جزءٍ من الشامل منفصلاً عن بقية الأجزاء، قائماً بموضوعه ومُتَّصلاً - فى آنٍ - ببقية الأجزاء، مكمِّلاً لها حتى إذا ظهر جزءٌ واحد، دَلَّ ظهوُره على بقية
এবং আমি যেন তাঁকে দেখতে পাচ্ছি... তাঁর ওপর সেই আধ্যাত্মিক ভাবাবেগ (ওয়াজদ) প্রবল হয়ে উঠেছে, যা সূফীগণের মতে: কোনো বিচলিতকারী যিকর, কিংবা উদ্বেগজনক ভয়, অথবা যা হারিয়ে গেছে তার জন্য আক্ষেপের সময় সৃষ্টি হয়! তখন তাঁর চোখ দুটিতে বিষণ্ণতার মেঘ এবং এক স্বচ্ছ দুঃখের আস্তরণ ছেয়ে গেল, তাঁর সেই চল্লিশ খণ্ডের বিশ্বকোষের যে অংশগুলো মহাকাল বিলীন করে দিয়েছে তার জন্য। তবে তাঁর এই বিমর্ষতা ও দুঃখ, কোনো এক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারের কোণে—যা উত্তরসূরিদের অগোচরে রয়ে গেছে—সেই হারিয়ে যাওয়া অংশগুলো কোনো একদিন খুঁজে পাওয়ার আশা ও প্রত্যাশা থেকে মুক্ত নয়।
'আশ-শামিল'-এর চল্লিশটি খণ্ড হারিয়ে গেছে, আর আজ হে আলা! আপনারই এক উত্তরসূরির হাতে সেই চল্লিশটি খণ্ড সম্পাদিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করছে। শুধু একজন নয়, বরং আপনার একদল উত্তরসূরি আপনাকে খুঁজে পেয়েছে এক বিলুপ্ত সত্তার অংশ হিসেবে, যার পুনরুত্থান হওয়া সংগত ছিল; তারা আপনাকে পেয়েছে বিস্মৃত চেতনার এক গ্রন্থ-পত্র হিসেবে, যা প্রকাশ ও প্রচার হওয়া অত্যাবশ্যক ছিল। তাই আজ আমরা 'আশ-শামিল'-এর এই চল্লিশ খণ্ড প্রকাশ করছি এবং বাকি চল্লিশ খণ্ডের আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা রাখছি, যাতে 'আশ-শামিল' অপূর্ণ না থাকে।
আলা উত্তর দিচ্ছেন: 'আশ-শামিল' কখনোই অপূর্ণ হবে না! আমি মহাকালের পরিবর্তনের কথা বিবেচনায় রেখেছিলাম, তাই আমি আশ-শামিলের প্রতিটি খণ্ডকে অন্যান্য খণ্ড থেকে স্বতন্ত্র করেছি, যা স্বীয় বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং একই সাথে অন্যান্য খণ্ডের সাথে সংযুক্ত ও পরিপূরক; যেন যদি একটি খণ্ডও প্রকাশিত হয়, তবে তার প্রকাশই বাকি খণ্ডগুলোর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الأجزاء، وحدا بكم - من بعدى - إلى التنقيب عنها، والسعى وراء الاكتمال.
ويضيف العلاءُ من عليائه:
لنمض، إذن، قُدُماً فى نشر ما تحت أيدينا من الأجزاء الموجودة، ولْنأمل فى العثور على المفقودة ولْنجعل غايتنا فى ذلك: " نُصْرَةَ الحقِّ وإِعْلاءَ مَنَارِه، وخِذْلَانَ البَاطِلِ وطَمْسَ آثَارِه " كما قلتُ فى ديباجة شرحى على فصول أبقراط ثم أردفتُ: " وَهْوَ أمرٌ التَزَمْنَاهُ فى كُلِّ فَنٍّ ".. فليكن التزام الأحفاد، كالتزام الأجداد من قبلهم ولا يروعكم تعاقبُ الأجيال، ولا يقعد بكم أنكم فى زمنٍ عربىٍّ ردئ، فهذه أمةٌ لن تخلو - أبداً - من قائمٍ بالحجة، وحاملٍ للمشعل.. وقد دَلَّ النظر العقلى، واستقراءُ أحوال الأزمنة، على أنه: إِذَا تَسَاوَتْ العُقُولُ والهِمَمُ، فَمُتَأَخِّرُ كُلِّ صِنَاعِةٍ، خَيْرٌ مِنْ مُتَقَدِّمِها.
.. وتُثير كلماتُ العلاء كوامن النفس، وتهزُّ القلب والعقل.. بل الكيان كله، فيأخذنى الدَّهَشُ لحظةً، فلا أفيقُ إلا والعلاءُ يغيب عن تلك الحضرة البرزخية، وهو يقول بنبرةٍ هادئةٍ، تفيض رجاءً وتحناناً:
অংশসমূহ, যা আমার পরবর্তী সময়ে আপনাদেরকে সেগুলোর সন্ধানে এবং পূর্ণতা অর্জনে ব্রতী হওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।
আল-আলা তাঁর উচ্চাসীন অবস্থান থেকে আরও যোগ করেন:
সুতরাং, আমাদের নিকট বিদ্যমান অংশসমূহ প্রকাশে আমরা যেন অগ্রসর হই এবং হারানো অংশগুলো খুঁজে পাওয়ার আশা রাখি। আর এক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য যেন হয়: "সত্যের বিজয় ও তার আলোকবর্তিকাকে সমুন্নত করা এবং মিথ্যার পরাজয় ও তার চিহ্নসমূহ মুছে ফেলা", যেমনটি আমি হিপোক্রেটিসের ‘ফাসল’ (সূত্র) সমূহের ব্যাখ্যার ভূমিকায় বলেছিলাম এবং এরপর যোগ করেছিলাম: "এটি এমন এক নীতি যা আমরা প্রতিটি শাস্ত্রেই আবশ্যক করে নিয়েছি।" সুতরাং উত্তরসূরিদের অঙ্গীকার যেন তাদের পূর্বসূরিদের অঙ্গীকারের ন্যায় হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্মের এই আবর্তন যেন তোমাদের ভীত না করে, আর তোমরা এক অবক্ষয়িত আরব যুগে আছ—এই চিন্তা যেন তোমাদের উদ্যমকে স্তিমিত না করে। কেননা, এই উম্মাহ কখনোই এমন এক ব্যক্তি থেকে শূন্য হবে না যে অকাট্য দলিলের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠা করবে এবং সত্যের মশাল বহন করবে। বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা এবং কালের বিবর্তনের পর্যালোচনায় এটিই প্রতীয়মান হয় যে: যখন মেধা ও সংকল্প সমান হয়, তখন প্রত্যেক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের তুলনায় শ্রেষ্ঠতর হয়।
...আল-আলার এই কথাগুলো অন্তরের সুপ্ত অনুভূতিকে জাগ্রত করে এবং হৃদয় ও মস্তিষ্ককে—বরং সমগ্র অস্তিত্বকে নাড়া দেয়। মুহূর্তের জন্য আমি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়ি। যখন আমার সংবিত ফিরে আসে, দেখি আল-আলা সেই বারযাখী উপস্থিতি থেকে অন্তর্হিত হচ্ছেন। সে সময় তাঁর শান্ত কণ্ঠস্বর থেকে আশা ও মমতা ঝরে পড়ছিল:
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
أوصيك، أوصيكم جميعاً، بأن تقرأوا كتابيا.. لترون كيف كان عقلكم العربى يفكر.. ولاتحذونى حَذْوَ التكرار، فهذا مستحيلٌ لن يكون.. وإنما انظروا كيف كانت كتابة الأوَّلين.. ثم اكتبوا من بعدها كتابةً أبهى.. ولتعرِّفوا الدنيا بما كتبناه.. ولتضعوا الشامل أمام أعين العالمين.. من الدارسين لتاريخ العلوم.. والمهْتَمِّين بالتراث العربى / الإسلامى.. والنَّاعين على العقل العربى والثقافة الإسلامية، أولئك الذين صاروا فى يومكم هذا: ناعقين بكل وادٍ.
আমি তোমাকে এবং তোমাদের সকলকে অসিয়ত করছি যে, তোমরা আমার এই গ্রন্থটি পাঠ করো; যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো তোমাদের আরবীয় মেধা কীভাবে চিন্তা করত। আর তোমরা কেবল আমার পুনরাবৃত্তি করো না, কারণ তা অসম্ভব এবং তা হওয়ার নয়। বরং তোমরা প্রত্যক্ষ করো পূর্ববর্তীদের রচনাশৈলী কেমন ছিল, অতঃপর তোমরা তার চেয়েও অধিকতর শ্রীমণ্ডিত ও শ্রেষ্ঠতর কিছু রচনা করো। আমরা যা লিখেছি তার সঙ্গে বিশ্ববাসীকে পরিচয় করিয়ে দাও। বিজ্ঞানের ইতিহাসের গবেষক এবং আরব-ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহীদের সামনে এই পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানভাণ্ডারকে উন্মোচিত করো। একইসঙ্গে তাদের সম্মুখেও ধরো যারা আরবীয় মস্তিস্ক ও ইসলামি সংস্কৃতির নিন্দা করে থাকে—যারা তোমাদের বর্তমান সময়ে প্রতিটি প্রান্তরে উদ্দেশ্যহীন চিৎকার করে বেড়াচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الشامل في الصناعة الطبية القسم: الطب
الكتاب: الشامل في الصناعة الطبية، الأدوية والأغذية: كتاب الهمزة
المؤلف: علاء الدين ابن النفيس، علي بن أبي الحزم القرشي (ت 687هـ)
المحقق: يوسف زيدان
الناشر: المجمع الثقافي، أبوظبي - الإمارات العربية المتحدة - ص. ب 2380
الطبعة: الأولى
الجزء: 1، 2000 م
الجزء: 2، 2002 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
চিকিৎসা শিল্পে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ বিভাগ: চিকিৎসা বিজ্ঞান
গ্রন্থ: চিকিৎসা শিল্পে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ, ঔষধ ও খাদ্যসমূহ: হামজা বর্ণমালা অধ্যায়
লেখক: আলাউদ্দিন ইবনে আন-নাফিস, আলী ইবনে আবিল হাযম আল-কুরাশি (মৃত্যু ৬৮৭ হিজরি)
সম্পাদক: ইউসুফ যাইদান
প্রকাশক: কালচারাল ফাউন্ডেশন (আল-মাজমাউস সাকাফি), আবুধাবি - সংযুক্ত আরব আমিরাত - পি. ও. বক্স ২৩৮০
সংস্করণ: প্রথম
খণ্ড: ১, ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড: ২, ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١)
الشَّامِلُ فى الصِّنَاعَةِ الطِّبِّيَّةِ
دِرَاسَةٌ مُمَهِّدِة
চিকিৎসা শিল্পের পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ
প্রারম্ভিক পর্যালোচনা
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
تأتى هذه الدراسة الممهِّدة لتحقيق موسوعة الشامل فى الصناعة الطبية بعد شهرين من صدور كتابنا: علاء الدين (ابن النفيس) القرشى، إعادة اكتشاف. وهو الكتاب الذى اعتبرناه فاتحةً واختتاماً، فهو ختامٌ لسنوات طوال قضيتها فى دَرْس العلاء، ساعياً لاستكشاف صورة هذا الرجل / العلَاّمة، والتجوال فى مفاوز إبداعاته العلمية، دون النزوع الإختزالى الذى يلخِّصه - ويبتسره - فى عبارة: مكتشف الدورة الدموية الصغرى.. واعتبرتُ الكتاب فاتحةً لتحقيق موسوعة الشامل التى تعد، بعد اكتمال صدورها خلال عامين: أضخم كتاب فى التراث العلمى العربى، تخرجه مطابعنا منذ بدء عصر الطباعة.
ومع ذلك، فلابد لنا هنا، قبل الخوض فى بحار الشامل.. من إلقاء بعض الضوء على هذه الموسوعة، ومؤلِّفها، ومخطوطاتها، وما يتعلَّق بها من التباسٍ فى أذهان الدراسين، وما اتَّبعناه من منهجٍ للتحقيق؛ وغير ذلك من التمهيدات الضرورية.. فنقول، وعلى الله قصد السبيل:
الكِتَابُ ومُؤَلِّفُهُ
الشامل بلا منازع، هو أكبر موسوعة علمية فى التاريخ الإنسانى، يكتبها شخصٌ واحد. فالكتابةُ العلمية اتَّجهت منذ بداياتها الأولى، إلى شكل الرسائل القصار، والفوائد الموجزة؛ وهو ما ظهر مع فجر التاريخ العلمى فى نصوصٍ أوَّلية كما هو الحال فى البرديات المصرية القديمة، التى بقيت منها إلى يومنا هذا بضعة برديات، تُعرف بأسماء مكتشفيها أو أماكن حفظها، مثل: بردية هيرست
চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশ্বকোষ 'আশ-শামিল ফিস সিনাআতিত তিব্বিয়্যাহ' সম্পাদনার এই প্রারম্ভিক গবেষণাটি আমাদের বই 'আলাউদ্দিন (ইবনুন নাফিস) আল-কুরাশি: পুনঃআবিষ্কার' প্রকাশের দুই মাস পরে প্রকাশিত হলো। এটি এমন একটি বই যাকে আমরা প্রারম্ভ এবং সমাপ্তি উভয়ই বিবেচনা করেছি। এটি আলাউদ্দিনের জীবন ও কর্ম অধ্যয়নে আমার ব্যয় করা দীর্ঘ বছরের সমাপ্তি; যেখানে আমি এই মহামনীষীর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনের চেষ্টা করেছি এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক সৃজনশীলতার বিশাল প্রান্তরে বিচরণ করেছি। আমি কেবল তাঁকে 'ফুসফুসীয় রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ার আবিষ্কারক'—এই সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সংকীর্ণ প্রবণতা পরিহার করেছি। আমি এই বইটিকে 'আশ-শামিল' বিশ্বকোষ সম্পাদনার সূচনা হিসেবে গণ্য করেছি, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশিত হলে মুদ্রণ যুগের সূচনার পর থেকে আমাদের ছাপাখানাগুলো থেকে প্রকাশিত আরবি বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তা সত্ত্বেও, 'আশ-শামিল'-এর অথৈ সাগরে অবগাহন করার পূর্বে এই বিশ্বকোষ, এর রচয়িতা, পাণ্ডুলিপি এবং গবেষকদের মনে এটি নিয়ে বিরাজমান সংশয়সমূহ ও আমাদের অনুসৃত সম্পাদনা পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা অপরিহার্য। অতএব আমরা শুরু করছি এবং আল্লাহর কাছেই সঠিক পথের দিশা কামনা করছি:
গ্রন্থ ও গ্রন্থকার
'আশ-শামিল' নিঃসন্দেহে মানব ইতিহাসের বৃহত্তম বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষ, যা একজন মাত্র ব্যক্তির দ্বারা লিখিত। কারণ বৈজ্ঞানিক লেখনী তার আদি লগ্ন থেকেই ক্ষুদ্র পুস্তিকা এবং সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপের রূপ পরিগ্রহ করেছিল; যা বৈজ্ঞানিক ইতিহাসের উষালগ্নে প্রাথমিক পাঠ্যগুলোতে লক্ষ্য করা যায়। যেমনটি প্রাচীন মিশরের প্যাপাইরাসগুলোতে দেখা যায়, যার মধ্যে কয়েকটি আজও টিকে আছে এবং সেগুলো তাদের আবিষ্কারক বা সংরক্ষণের স্থানের নামে পরিচিত, যেমন: হার্স্ট প্যাপাইরাস।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
بردية كاهون بردية برلين.. إلخ، وكلها عبارة عن معلومات طبية مجتزأة ووصْفاتٍ علاجية متتالية، ومعارف من علم التشريح.
وفى الأزمنة الغابرة، كتبت الفرسُ والهندُ والصينُ كتابةً علمية، موجزة عرفناها لما قام بنقلها من أصولها إلى اللغة العربية جماعةٌ من المترجمين، فنقل من الهندية إلى العربية: منكه الهندى، ابن دهن الهندى. ونَقَلَ من الفارسية: ابنُ المقفع، آل نوبخت، البلاذرى. ونَقَلَ من النبطية إلى العربية: ابنُ وحشية النبطى (1) .. فعرف العالم العربىُّ الإسلامى، ومن بعده بقيةُ الدنيا، من كتب الحضارات القديمة، أعمالاً مثل كتاب السموم لشاناق الهندى، وكتاب الفلاحة النبطية لابن وحشية، والأزياج الفلكية الهندية والفارسية.. وغير ذلك كثيرٌ من النصوص العلمية.
ولما تسلَّمت اليونان مشعل الحضارة الإنسانية من مصر القديمة وبلاد الشرق كتب علماءُ اليونان وأطباؤهم نصوصاً على شكل الرسائل، تم جمعها فى عصورٍ لاحقة، فى كتبٍ مثل أصول الهندسة لأُقليدس، الذى كان فى الأصل مجموعة مقالات كتبها أُبولونيوس ثم حرَّرها أُقليدس وأضاف إليها مقالات أخرى، فجُمعت كلها بالإسكندرية القديمة، وتُرجمت فى بغداد، وصارت كتاباً واحداً.. ومثل كتاب المجسطى لبطليموس، الذى كان فى أصله ثلاث عشر مقالة جُمعت معاً ونُقلت إلى العربية بعناية يحيى بن خالد البرمكى. وكذلك الأمر فى كتب أرسطو قبل أُقليدس وبطليموس، فقد وضع هذا المعلم
--------------------------------------------
কাহুন প্যাপিরাস, বার্লিন প্যাপিরাস... ইত্যাদি; এগুলো মূলত খণ্ডিত চিকিৎসা তথ্য, ধারাবাহিক নিরাময় পদ্ধতি এবং ব্যবচ্ছেদবিদ্যার (অ্যানাটমি) জ্ঞানের সমষ্টি।
সুদূর অতীতে পারস্য, ভারত এবং চীন সংক্ষিপ্ত বৈজ্ঞানিক রচনা লিখেছিল, যা সম্পর্কে আমরা জানতে পারি যখন একদল অনুবাদক সেগুলোকে তাদের মূল ভাষা থেকে আরবি ভাষায় স্থানান্তর করেন। হিন্দি থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন: মানকাহ আল-হিন্দি ও ইবনে দাহন আল-হিন্দি। ফারসি থেকে অনুবাদ করেছেন: ইবনুল মুকাফফা, নওবাখত পরিবার ও আল-বালাজুরি। আর নবতী ভাষা থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন: ইবনে ওয়াহশিয়া আন-নবতী (১)... ফলে আরব-ইসলামি বিশ্ব এবং পরবর্তীকালে বিশ্বের অবশিষ্টাংশ প্রাচীন সভ্যতাগুলোর গ্রন্থসমূহ থেকে শানাক আল-হিন্দির 'কিতাব আস-সুমুম' (বিষতত্ত্বের বই), ইবনে ওয়াহশিয়ার 'কিতাব আল-ফালাহাহ আন-নাবাতীয়াহ' (নবতী কৃষিবিদ্যা) এবং ভারতীয় ও ফারসি জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছকসমূহ (যিজ)... ও এমন আরও অনেক বৈজ্ঞানিক পাঠ্য সম্পর্কে জানতে পারে।
যখন গ্রিস প্রাচীন মিশর ও প্রাচ্যের দেশগুলো থেকে মানব সভ্যতার মশাল গ্রহণ করল, তখন গ্রিক পণ্ডিত ও চিকিৎসকরা নিবন্ধের আকারে বিভিন্ন পাঠ্য রচনা করেন। এগুলো পরবর্তী যুগে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়, যেমন ইউক্লিডের 'এলিমেন্টস অব জিওমেট্রি' (জ্যামিতির মূলনীতি), যা মূলত অ্যাপোলোনিয়াসের লেখা কতগুলো প্রবন্ধের সমষ্টি ছিল, পরবর্তীতে ইউক্লিড সেগুলো সম্পাদনা করেন এবং আরও কিছু প্রবন্ধ যোগ করেন। প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়ায় এগুলো একত্রিত করা হয় এবং বাগদাদে অনূদিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থে পরিণত হয়। একইভাবে টলেমির 'আলমাজেস্ট' গ্রন্থটি, যা মূলে তেরটি প্রবন্ধের সমষ্টি ছিল, সেটিও ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ আল-বারমাকির তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত যত্নসহকারে আরবিতে অনূদিত হয়। ইউক্লিড ও টলেমির পূর্বে অ্যারিস্টটলের বইগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, এই শিক্ষক মূলত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
الأول علومه على شكل رسائل وكُتبٍ صغار، جُمعت بعد ذلك على صعيدٍ واحد، فصار لدينا - مثلاً - كتاب المنطق الذى هو مجموعةٌ من الرسائل والكتب القصار: قاطيغورياس بارى أرمنياس، أنالوطيقا.. إلخ، ثم وضع لها فرفوريوس الصورى مدخلاً اشتهر بعنوان: إيساغوجى أو المدخل إلى المنطق.
وفى التراث الطبى، اشتهر من أهل اليونان اثنان من الأطباء المؤلِّفين: أبقراط، جالينوس. وكلاهما كتب بإيجازٍ فى مجالات الطب على اختلافها، ثم جُمع المختلف، فأتلف فى المجموعة الأبقراطية (الاثنى عشر كتاباً) .. وفى (الستة عشر كتاباً) لجالينوس، التى جمعها الإسكندرانيون من رسائله، فصارت تُعرف بعنوان: منتخبات الإسكندرانيين لجالينوس. وكلاهما، أعنى أبقراط وجالينوس سوف يُعرف فى حضارتنا من خلال تلك المؤلَّفات، ويُشهد له بالفضل، فلا يُذكر اسمه إلا مسبوقاً بلقب: الفاضل.
وفى حضارتنا، نحن، سوف تكون أول كتابات علمية موسَّعة، وأول موسوعات علمية فى التاريخ الإنسانى.. ربما لأنها حضارة حفظٍ وتدوين، وربما لأن المعارف كانت قد اتسعت، وربما لأن المسلمين تَشكَّل وعْيُهم من خلال الكتاب أعنى القرآن الكريم.. ومن خلال الحديث الشريف الذى دعا إلى التدوين كما فى قوله r: دوِّنوا العلم بالكتاب.
ودوَّن العربُ المسلمون - أول الأمر - الرسائل الطبية والكنانيش (1) ، ثم عكفوا على كتابة المطوَّلات، فزها تراثنا، وازدان، بموسوعاتٍ طبية مثل: الحاوى.. القانون.. الشامل. ولنتكلم عليها تفصيلاً، لنتعرَّف إلى مكانة الشامل وموضعه من تاريخ الطب العربى / الإسلامى، بل الطبِّ الإنسانى بعامة.
--------------------------------------------
প্রথমত, তাঁর জ্ঞানসমূহ ছোট ছোট রিসালা বা পুস্তিকা আকারে ছিল, যা পরবর্তীতে একীভূত করা হয়। ফলে আমরা পাই—উদাহরণস্বরূপ—যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থটি, যা মূলত কতগুলো পুস্তিকা ও ছোট বইয়ের সমষ্টি: ক্যাটাগরিস, অন ইন্টারপ্রিটেশন, অ্যানালিটিকস... ইত্যাদি। এরপর পোরফারি অফ টায়ার এর জন্য একটি ভূমিকা রচনা করেন যা 'ঈসাগুজি' বা যুক্তিবিদ্যার ভূমিকা শিরোনামে পরিচিতি লাভ করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঐতিহ্যে গ্রিকদের মধ্যে দুইজন প্রখ্যাত লেখক-চিকিৎসক প্রসিদ্ধ ছিলেন: হিপোক্রেটিস ও গ্যালেন। তাঁরা উভয়েই চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সংক্ষেপে লিখেছেন। পরবর্তীতে এই ভিন্ন ভিন্ন রচনাগুলোকে একত্রিত করে 'হিপোক্রেটিক সংকলন' (বারোটি বই) এবং গ্যালেনের 'ষোলোটি বই'-এ বিন্যস্ত করা হয়। গ্যালেনের এই সংকলনটি আলেকজান্দ্রিয়ার পণ্ডিতগণ তাঁর পুস্তিকাগুলো থেকে সংগ্রহ করেছিলেন, যা 'গ্যালেনের আলেকজান্দ্রীয় চয়নিকা' শিরোনামে পরিচিতি লাভ করে। আমাদের সভ্যতায় তাঁরা উভয়েই—অর্থাৎ হিপোক্রেটিস ও গ্যালেন—এই গ্রন্থগুলোর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করবেন এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকৃত হবে; তাই তাঁদের নামের আগে 'গুণী' উপাধি ব্যতিরেকে তাঁদের উল্লেখ করা হয় না।
আর আমাদের সভ্যতায় রচিত হবে মানব ইতিহাসের প্রথম বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক রচনা এবং প্রথম বৈজ্ঞানিক বিশ্বকোষসমূহ। সম্ভবত এর কারণ ছিল এটি সংরক্ষণ ও লিপিবদ্ধকরণের সভ্যতা, অথবা সম্ভবত জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয়েছিল বলে, অথবা সম্ভবত মুসলমানদের চেতনা 'কিতাব' অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল... এবং হাদিস শরিফের মাধ্যমে, যা জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, যেমনটি তাঁর বাণীতে এসেছে: তোমরা লেখনীর মাধ্যমে জ্ঞানকে আবদ্ধ করো।
আরব মুসলমানরা প্রথম দিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত রিসালা এবং কুন্নাশা (১) লিপিবদ্ধ করতেন। এরপর তাঁরা দীর্ঘ ও বিস্তারিত গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। ফলে আমাদের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ ও সুশোভিত হয়েছে এমন সব চিকিৎসা বিশ্বকোষ দ্বারা, যেমন: আল-হাবি, আল-কানুন এবং আল-শামিল। আসুন আমরা এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করি, যাতে আরব-ইসলামি চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস তথা সামগ্রিক মানব চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'আল-শামিল' গ্রন্থের মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
أما الحاوى فهو كتابٌ، كما جاء فى ديباجته: ألَّفه أبو بكر محمد بن زكريا الرازى المتطبِّب، فى طِبِّ جميع الأمراض الكائنة فى بدن الإنسان ومعالجتها، وسمَّاه الحاوى لأنه يحتوى على جميع الكتب وأقاويل القدماء الفضلاء من أهل هذه الصناعة، وقد بدأ بذكر ذلك من رأس الإنسان، وما ينزله من الأمراض (1) .
ولم يكن الحاوى هو الكتاب الوحيد الذى ألَّفه أبو بكر الرازى (المتوفى 313 هجرية) فقد وضع الرجل من الكتب كثيراً، مثل: المنصورى، منافع الأغذية، كتاب الجدرى والحصبة.. وغيرها من المؤلَّفات التى بلغت 141 كتاباً ورسالة بحسب إحصاء الفهرست (2) وزادت فى عيون الأنباء (3) لتصل إلى 232 مؤلَّفاً.
غير أن الحاوى ظلَّ دائماً: أهم أعمال الرازى الطبية.. وقد نُشر الكتابُ فى أربعة وعشرين مجلداً، بتحقيق لابأس به، قام به جماعةٌ من فضلاء الهند المعاصرين، بإشراف الدكتور عبد المعيد خان. ولاشك فى أن تحقيق الحاوى ونشره،لم يكن بالعمل الهيِّن، فالكتابُ عبارة عن قصاصات من الورق، توفى الرازى ولم يفسح له الأجل أن يحرِّرها (4) . فجمعها تلاميذه بعد موته جمعاً غير
--------------------------------------------
'আল-হাউই' প্রসঙ্গে বলা যায় যে, এটি একটি গ্রন্থ, যার মুখবন্ধে বর্ণিত হয়েছে: এটি চিকিৎসক আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি মানবদেহের সকল রোগ এবং সেগুলোর চিকিৎসা সম্পর্কে রচনা করেছেন। তিনি এর নাম রেখেছেন 'আল-হাউই' (সমগ্রর আধার), কারণ এতে এই শিল্পের প্রাচীন মহৎ পণ্ডিতদের সকল গ্রন্থ ও উক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি এর আলোচনা শুরু করেছেন মানুষের মাথা এবং তাতে আক্রান্ত হওয়া রোগসমূহের বর্ণনা দিয়ে (১)।
আবু বকর আল-রাজি (মৃত্যু ৩১৩ হিজরি) রচিত একমাত্র গ্রন্থ 'আল-হাউই' নয়; বরং তিনি প্রচুর গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, যেমন: 'আল-মানসুরি', 'মানাফিউল আগযিয়া', 'কিতাবুল জুদারি ওয়াল হাসবাহ' (বসন্ত ও হাম বিষয়ক গ্রন্থ) ইত্যাদি। 'আল-ফিহরিস্ত'-এর (২) পরিসংখ্যান অনুযায়ী তাঁর রচনার সংখ্যা ১৪১টি গ্রন্থ ও অভিসন্দর্ভ, যা 'উয়ুনুল আনবা'-তে (৩) বৃদ্ধি পেয়ে ২৩২টি রচনায় পৌঁছেছে।
তবে 'আল-হাউই' সর্বদাই আল-রাজির চিকিৎসা বিষয়ক সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। গ্রন্থটি চব্বিশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যার যথেষ্ট উন্নত মানের সম্পাদনা করেছেন সমকালীন ভারতের একদল বিশিষ্ট পণ্ডিত, ডক্টর আব্দুল মুঈদ খানের তত্ত্বাবধানে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'আল-হাউই' সম্পাদনা ও প্রকাশনা সহজসাধ্য কাজ ছিল না, কারণ গ্রন্থটি ছিল মূলত কিছু কাগজের পাণ্ডুলিপি মাত্র; আল-রাজি মৃত্যুবরণ করায় সময় তাঁকে সেগুলো পরিমার্জিত ও সুবিন্যস্ত করার অবকাশ দেয়নি (৪)। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছাত্ররা সেগুলো অগোছালোভাবে সংগ্রহ করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
محكم، وغير منطقى (1) .
وأما القانون فى الطب للشيخ الرئيس أبى على ابن سينا المتوفى 428 هجرية، فهو أول موسوعة طبية كاملة، بالمعنى العلمى الدقيق للكلمة. بدأها مؤلِّفها بقوله، بعد الحمدلة: التمس منى بعضُ خُلَّص إخوانى، ومَنْ يلزمنى إسعافه بما يسمح به وَسَعى، أن أصنِّف فى الطب كتاباً مشتملاً على قوانينه الكلية والجزئية، اشتمالاً يجمع إلى الشرح الاختصارَ، وإلى إيفاء الأكثر حقه من البيان الإيجازَ، فأسعفته بذلك، ورأيتُ أن أتكلَّم أولاً فى الأمور العامة الكلية فى كلا قسمى الطب، أعنى القسم النظرى والقسم العملى، ثم أتكلَّمُ فى كليات أحكام قوى الأدوية.. فإنى أجمع هذا الكتاب، وأقسِّمه إلى كتبٍ خمسة؛ الكتاب الأول: فى الأمور الكلية فى علم الطِّبِّ. الكتاب الثانى: فى الأدوية المفردة. الكتاب الثالث: فى الأمراض الجزئية الواقعة بأعضاء الإنسان عضوٍ عضو، من الفَرْقِ إلى القَدَم، ظاهرها وباطنها. الكتاب الرابع: فى الأمراض التى إذا وقعت، لم تختص بعضو، وفى الزينة. الكتاب الخامس: فى تركيب الأدوية، وهو الأقراباذين (2) .
وطُبع القانون فى مصر بدون تحقيق، وتوالى تصوير، وتزوير، هذه الطبعة غير المحقَّقة - وإن كانت جيدة - ولم يفكر محقِّقٌ واحد فى إخراجه ونشره محقَّقاً حتى الآن! والمحقِّقون معذورون فى إحجامهم عن تحقيق كتاب مثل القانون فهو علاوة على ضخامته، جامعٌ لشتات المعارف الطبية فى عصره، مما يجعل ملاحقة نصوصه بالضبط والتحرير، عملاً شاقاً فى الجهد، قليلاً فى المجد.. خاصةً فى
--------------------------------------------
সুশৃঙ্খল এবং অযুক্তিসঙ্গত (১)।
আর শাইখুল রাঈস আবু আলি ইবনে সিনা (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি) রচিত 'আল-কানুন ফিত তিব্ব' (চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতিমালা) গ্রন্থটি শব্দের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক অর্থে প্রথম পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বিশ্বকোষ। এর লেখক হামদ বা আল্লাহর প্রশংসার পর এই বলে গ্রন্থটি শুরু করেছেন: “আমার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং যাদের প্রয়োজন পূরণ করা আমার সাধ্যানুযায়ী কর্তব্য, তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি চিকিৎসা শাস্ত্রের ওপর এমন একটি বই রচনা করি যা এর সাধারণ ও বিশেষ নীতিমালাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এই সংকলনটি এমন হবে যা বর্ণনার সাথে সংক্ষিপ্তসার এবং অধিকাংশ বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যার সাথে সংক্ষেপণকে সমন্বয় করবে। আমি তাদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছি। আমি স্থির করেছি যে, প্রথমে চিকিৎসা শাস্ত্রের উভয় বিভাগ—অর্থাৎ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিভাগের সাধারণ ও সামগ্রিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করব। এরপর ওষুধের গুণাগুণের সাধারণ বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করব। আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করছি এবং একে পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত করছি; প্রথম খণ্ড: চিকিৎসা বিজ্ঞানের সামগ্রিক বিষয়াবলি। দ্বিতীয় খণ্ড: একক ওষুধসমূহ। তৃতীয় খণ্ড: মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনুযায়ী প্রতিটি অঙ্গের বিশেষ রোগসমূহ, মাথার সিঁথি থেকে পা পর্যন্ত, তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রোগসমূহ। চতুর্থ খণ্ড: সেই সকল রোগ যা কোনো নির্দিষ্ট অঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং সৌন্দর্যচর্চা বিষয়ক। পঞ্চম খণ্ড: যৌগিক ওষুধ প্রস্তুতি, যা ‘আকরাবাদিন’ বা ভেষজতত্ত্ব নামে পরিচিত (২)।”
‘আল-কানুন’ গ্রন্থটি মিশরে কোনো প্রকার শাস্ত্রীয় সম্পাদনা (তাহকিক) ছাড়াই মুদ্রিত হয়েছিল এবং এই অসম্পাদিত সংস্করণটি—যদিও তা মানসম্মত ছিল—বারবার পুনর্মুদ্রণ ও নকল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো গবেষক বা সম্পাদক একে যথাযথভাবে সম্পাদনা করে প্রকাশ করার কথা ভাবেননি! গবেষকগণ ‘আল-কানুন’-এর মতো একটি বই সম্পাদনা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে যুক্তিসঙ্গত কারণেই অপারগ; কারণ এটি এর বিশাল কলেবরের পাশাপাশি তৎকালীন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমস্ত বিক্ষিপ্ত জ্ঞানভাণ্ডারকে একত্রিত করেছে। যার ফলে এর পাঠ্যসমূহকে যথাযথভাবে যাচাই ও পরিমার্জন করা অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য কাজ, কিন্তু সেই তুলনায় এর জাগতিক খ্যাতি সামান্যই... বিশেষ করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
wm Hov زمننا هذا الذى يشهد تراجعاً عن إنجاز المشروعات الكبرى؛ وتلك قصةٌ أخرى،لها تفصيلٌ يطول، وليس هذا موضعه.ضعه.
وأما الشامل فى الصناعة الطبية فهو ثالث الموسوعات الكبرى فى تاريخ الطب العربى / الإسلامى، بل الطِّبِّ الإنسانى بعامة. تحدَّى بها العلاء القرشى (ابن النفيس) قِصَر الزمان الإنسانى، ومحدودية القدرة الإنسانية! وقد كان العلاءُ امتداداً للتقاليد الطبية التى أرساها مِن قبله أعلامٌ من نوع الرازى وابن سينا وكانت صلته بالأخير أقوى، وشروحه على مؤلَّفاته أكثر (1) . غير أنَّ إقدامه على تأليف موسوعةٍ بحجم الشامل لا يفسِّره - فقط - كونه امتداداً لهؤلاء الأطباء العظام، وإنما لابد من النظر فى السياق التاريخى الذى انتمى إليه العلاء ولابد من تفحُّص اللحظة التاريخية التى عاشها. وفى هذا الإطار نقول:
لما اهتزَّ كرسى الخلافة العباسية تحت وطأة الشيخوخة العباسية، ومؤامرات القصور، وتهديدات المغول.. بدأت المجالسُ العلمية تنسرب من بغداد إلى الشام ومصر. كان ذلك منذ مطلع القرن السابع الهجرى، الذى وُلد العلاءُ فى السنة السابعة منه - بقرية القَرَشِ القريبة من دمشق - ولما كان العام المشئوم فى منتصف هذا القرن، أعنى سنة 656 هجرية.. دخل هولاكو بغداد، فطمس وجهها على نحوٍ،لم يسمح لها باستعادة دورها من بعد ذلك: أبداً.
وازدهر العلمُ فى الشام ومصر، غير أن الشام ابتُليت آنذاك بالوقوع بين شِقَّى الرحى: المغول.. والصليبيين. ولم يكن الحالُ فى مغرب العالم الإسلامى
--------------------------------------------
আমাদের বর্তমান এই যুগ, যা বৃহৎ প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এক ধরনের পশ্চাদپসরণ প্রত্যক্ষ করছে; আর সেটি একটি ভিন্ন ইতিহাস, যার বিস্তারিত বর্ণনা দীর্ঘ, এবং এটি তার উপযুক্ত স্থান নয়।
আর চিকিৎসা বিদ্যায় 'আশ-শামিল' (আল-শামিল ফি আস-সিনাআহ আত-তিব্বিয়াহ) হলো আরব-ইসলামী চিকিৎসার ইতিহাসে, এমনকি সাধারণভাবে মানবীয় চিকিৎসার ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম বিশ্বকোষ। এর মাধ্যমে আলাউদ্দিন আল-কুরাশি (ইবনুন নাফিস) মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনকাল এবং মানবীয় সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন! আলাউদ্দিন ছিলেন সেই চিকিৎসা ঐতিহ্যেরই উত্তরসূরি, যা তাঁর পূর্বে আর-রাজি এবং ইবনে সিনার মতো বরেণ্য মনীষীরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে শেষোক্তজনের (ইবনে সিনা) সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল অধিকতর গভীর এবং তাঁর গ্রন্থসমূহের ওপর ইবনুন নাফিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থও ছিল সংখ্যায় বেশি (১)। তবে 'আশ-শামিল'-এর মতো বিশাল আয়তনের একটি বিশ্বকোষ রচনায় তাঁর উদ্যোগ গ্রহণকে কেবল এই মহান চিকিৎসকদের উত্তরসূরি হওয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আলাউদ্দিনের আবির্ভাব এবং যে ঐতিহাসিক মুহূর্তটি তিনি অতিবাহিত করেছেন, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। এই প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে পারি:
যখন আব্বাসীয় বার্ধক্যের ভার, রাজপ্রাসাদের চক্রান্ত এবং মঙ্গোলদের হুমকির মুখে আব্বাসীয় খেলাফতের সিংহাসন টালমাটাল হয়ে পড়েছিল, তখন বাগদাদ থেকে ইলমি মজলিসগুলো সিরিয়া ও মিসরের দিকে স্থানান্তরিত হতে শুরু করে। এটি ছিল সপ্তম হিজরি শতাব্দীর সূচনালগ্ন, যার সপ্তম বর্ষে আলাউদ্দিন দামেস্কের নিকটবর্তী 'কুরাশ' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর যখন এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সেই অশুভ বছরটি এলো—অর্থাৎ ৬৫৬ হিজরি সাল—তখন হালাকু খান বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং এর চেহারা এমনভাবে মুছে দেন যে, এরপর বাগদাদ কখনোই তার পূর্বের গৌরবময় ভূমিকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি: কখনোই নয়।
সিরিয়া ও মিসরে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উন্নতি সাধিত হয়, তবে সিরিয়া তখন দুই যাতাকলের চাপে পিষ্ট হওয়ার বিপদে নিমজ্জিত ছিল: মঙ্গোল বাহিনী এবং ক্রুসেডার বাহিনী। আর ইসলামী বিশ্বের পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থাও এমন ছিল না যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
بأفضل منه فى الشام، فقد آذنت شمسُ الأندلس بالمغيب، وتهدَّدت بلاد المغرب ووَهَنَ منها عَظْمُ المجد والسلطان، فصارت نهباً لأطماع - وحملات - الإسبان وأحقادهم التاريخية، مما دفع ببلاد المغرب إلى ناحية الانزواء الحضارى.
وفى العقود الأخيرة من القرن السابع الهجرى، وجدت القاهرة نفسها وحيدةً، وسط عالمٍ يرتجُّ؛ فالمشرقُ الإسلامى - بلاد فارس وما بعدها - لايزال يترنَّح من عنف الضربات المغولية، التى توالت طيلة خمسين سنة، ابتدأت بخروج جنكيز خان للثأر من محمد خوارزمشاه، وانتهت بتأسيس الدولة الإسلامية المغولية على يد بركة خان حفيد جنكيز خان، زعيم القبيلة الذهبية، بعد انكسار ابن عمه هولاكو على يديه.. والمغربُ الإسلامى كان قد انزوى، وصار منطقة طردٍ حضارىٍّ واجتماعى، وفزع منه الناسُ إلى مصر والشام، مثلما التجأ العلماءُ والصوفية؛ أمثال: ابن عربى، التلمسانى، الششترى، الشاذلى، المرسى. ومِن قبلهم: موسى بن ميمون الطبيب الفيلسوف، ابن البيطار العَشَّاب المعروف وغيرهما. جاء هؤلاء من المغرب إلى مصر، من الشام جاءها - فى حدود سنة ثلاثين وستمائة - علاءُ الدين القرشى.
وكان على مصر وهى الحاضرة الإسلامية الوحيدة التى ظلت مزدهرة، أن تقوم بدور كبير لإنقاذ الكيان الحضارى العربى / الإسلامى، فتعيَّن عليها عسكرياً صَدَّ فلول المغول وجحافل الصليبيين. كما تعيَّن عليها سياسياً إحياء الخلافة الإسلامية، ولو كان إحياءً رمزياً. كما تعيَّن عليها اجتماعياً واقتصادياً أن تستوعب الهجرات الوافدة عليها من المغرب، ومن العراق والشام.
وأدَّت مصرُ ما عليها فى ذلك كله، حتى دخل القرن الثامن الهجرى، وقد استتبَّ الحال فى مصر، وصارت القاهرة - آنذاك - أهم مركز حضارى فى العالم الإسلامى، وأكثر العواصم العربية أمناً وازدهاراً.. حتى أن ابن خلدون، كتب
শাম অপেক্ষা উত্তম কিছু সেখানে ছিল না; কেননা আন্দালুসিয়ার সূর্য তখন অস্তমিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিল, আর মাগরিবের ভূখণ্ড হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল এবং গৌরব ও শাসনের মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে তা স্পেনীয়দের লালসা ও সামরিক অভিযান এবং তাদের ঐতিহাসিক বিদ্বেষের শিকারে পরিণত হয়, যা মাগরিব অঞ্চলকে সভ্যতাগত পশ্চাদপসরণের দিকে ঠেলে দেয়।
সপ্তম হিজরি শতাব্দীর শেষ দশকগুলোতে কায়রো নিজেকে এক টালমাটাল বিশ্বের মাঝে একাকী অবস্থায় দেখতে পায়; কেননা ইসলামি প্রাচ্য—পারস্য ও তৎপরবর্তী ভূখণ্ডসমূহ—দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে চলা মোঙ্গলদের প্রচণ্ড সব আঘাতের ফলে তখনও টলটলায়মান ছিল। যে ধারার সূচনা হয়েছিল মুহাম্মদ খাওয়ারিজম শাহের ওপর প্রতিশোধ নিতে চেঙ্গিস খানের অভিযানের মাধ্যমে, আর সমাপ্তি ঘটেছিল চেঙ্গিস খানের পৌত্র এবং 'গোল্ডেন হোর্ড' বা সোনালী বাহিনীর নেতা বারকা খানের হাতে মোঙ্গল ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে, যিনি তার আপন চাচাতো ভাই হালাকু খানকে পরাজিত করেছিলেন। অপরদিকে ইসলামি মাগরিব তখন নিভৃতবাসে চলে গিয়েছিল এবং সভ্যতাগত ও সামাজিকভাবে একটি জনবিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। ফলে মানুষ সেখান থেকে আতঙ্কিত হয়ে মিশর ও শামের দিকে পলায়ন করে, ঠিক যেমন আলেম ও সুফিগণও সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন; যথা: ইবনুল আরাবি, আত-তিলিমসানি, আশ-শুশতারি, আশ-শাজিলি ও আল-মুরসি। আর তাদের পূর্বে এসেছিলেন: দার্শনিক চিকিৎসক মুসা ইবনে মাইমুন, প্রখ্যাত ভেষজবিদ ইবনুল বাইতার এবং আরও অনেকে। তারা মাগরিব থেকে মিশরে এসেছিলেন; আর শাম থেকে—ছয়শত ত্রিশ হিজরি সনের কাছাকাছি সময়ে—এসেছিলেন আলাউদ্দিন আল-কুরাশি।
তৎকালীন একমাত্র সমৃদ্ধশালী ইসলামি মহানগরী হিসেবে মিশরের ওপর এক বিশাল দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল যেন সে আরবি/ইসলামি সভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে। সামরিকভাবে মোঙ্গলদের অবশিষ্টাংশ এবং ক্রুসেডারদের বিশাল বাহিনীকে প্রতিহত করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। রাজনৈতিকভাবে ইসলামি খিলাফতকে পুনরুজ্জীবিত করাও তার কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়, তা প্রতীকীভাবে হলেও। সামাজিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে মাগরিব, ইরাক ও শাম থেকে আগত অভিবাসীদের আত্মস্থ করার গুরুভারও তাকে বহন করতে হয়েছিল।
মিশর এই সবকয়টি ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছিল, এমনকি যখন অষ্টম হিজরি শতাব্দী শুরু হলো, তখন মিশরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে গিয়েছিল এবং কায়রো তৎকালীন সময়ে ইসলামি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এবং আরব রাজধানীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছিল। এমনকি ইবনে খালদুন লিখেছিলেন...
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
- فى أواخر القرن الثامن الهجرى - قائلاً إن مَنْ أراد أن يرى عِزَّ الإسلام فلْيذهب إلى القاهرة.
وكانت ذاكرةُ الأمة قد هدَّدها الاندثار، فقد ضاعت ألوف المخطوطات التى هى كتاب الحضارة ودُمِّرت المكتباتُ فى المشرق والمغرب. وكان المغولُ والصليبيون يحرصون على طمس التراث العربى / الإسلامى، بالتخريب وإفناء المخطوطات.. وقد اشتهرت فى التاريخ، واقعةُ إفراغ هولاكو لمخطوطات بغداد فى نهر دجلة، لغسل مادوَّنته الأمة، ومحو ما خلَّفته القرون.
من هنا، كان على مصر أن تقوم بدورٍ هائل لحفظ ذاكرة الأمة، وإنقاذ هويتها من الانطماس. فبدأ علماءُ مصر، من بعد سقوط بغداد، فى تدوين المطوَّلات والكتب الضخمة والموسوعات - فى شتى مجالات العلم - مع أنَّ الملاحظ فى كتابات المصريين طيلة القرون السابقة على القرن السابع الهجرى أنها كانت تأتى دوماً، على هيئة كتب صغار، ورسائل، ومساجلات علمية. لكن الحال تغيَّر مع جهود علماء من أمثال علاء الدين القرشى (ابن النفيس) الذى وضع ما يقرب من عشرة شروح على موسوعة ابن سينا (القانون فى الطب) بغية إعادة بعثها مرةً أخرى إلى أذهان المشتغلين بالطب، ومن هنا قال ابن فضل الله العمرى، إن العلاء: هو الذى جَسَّر الناس على قانون ابن سينا.
ومن بعد بعثه للقانون، يعكف العلاء (ابن النفيس) على تدوين موسوعة الشامل فى الصناعة الطبية فيضع المسودات بحيث تأتى فى ثلاثمائة مجلد، بيَّض منها ثمانين ثم وافته المنية - عن ثمانين سنة - سنة 687 هجرية بالقاهرة، وأهدى المجلدات الثمانين، بل كل مكتبته وداره وأمواله، إلى البيمارستان المنصورى بالقاهرة - مستشفى قلاوون حالياً - الذى كان مشرفاً عليه، باعتباره أكبر
অষ্টম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে—তিনি বলতেন যে, যে ব্যক্তি ইসলামের গৌরব প্রত্যক্ষ করতে চায়, সে যেন কায়রোতে যায়।
উম্মাহর স্মৃতি তখন বিলুপ্তির হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল; কারণ সভ্যতার দালিলিক রূপ হাজার হাজার পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গিয়েছিল এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের গ্রন্থাগারগুলো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মোঙ্গল ও ক্রুসেডাররা আরব-ইসলামী ঐতিহ্যকে ধ্বংস ও পাণ্ডুলিপি নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে মিটিয়ে দিতে সচেষ্ট ছিল। ইতিহাসে হালাকু খান কর্তৃক বাগদাদের পাণ্ডুলিপিগুলো দজলা নদীতে নিক্ষেপ করার ঘটনাটি সুবিখ্যাত, যা করা হয়েছিল উম্মাহর লিপিবদ্ধ জ্ঞানকে ধুয়ে ফেলার এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অর্জিত উত্তরাধিকারকে মুছে দেওয়ার লক্ষ্যে।
এই প্রেক্ষাপটেই উম্মাহর স্মৃতি রক্ষা এবং এর আত্মপরিচয়কে বিলুপ্তি থেকে বাঁচাতে মিশরকে এক বিশাল ভূমিকা পালন করতে হয়েছিল। ফলে বাগদাদের পতনের পর মিশরের আলেমগণ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশদ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সুবিশাল গ্রন্থরাজি এবং বিশ্বকোষ সংকলন শুরু করেন—যদিও সপ্তম হিজরি শতাব্দীর পূর্ববর্তী সময়কাল পর্যন্ত মিশরীয়দের রচনায় লক্ষ্য করা যায় যে, সেগুলো সাধারণত ক্ষুদ্রকায় গ্রন্থ, পুস্তিকা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক বিতর্কের আকারেই প্রকাশিত হতো। কিন্তু আলাউদ্দিন আল-কুরাশি (ইবনুন নাফিস)-এর মতো মনীষীদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে, যিনি ইবনে সিনার বিশ্বকোষ ‘আল-কানুন ফিত তিব’ (চিকিৎসা শাস্ত্রের কানুন)-এর ওপর প্রায় দশটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নিয়োজিতদের মাঝে এটি পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। এজন্যই ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি বলেছিলেন যে: ‘আলাউদ্দিনই মানুষকে ইবনে সিনার কানুন পাঠে সাহসী ও আগ্রহী করে তুলেছিলেন।’
কানুনকে পুনরুজ্জীবিত করার পর, আল-আলা (ইবনুন নাফিস) ‘আশ-শামিল ফিস সিনাআতিত তিব্বিয়্যাহ’ নামক বিশ্বকোষ সংকলনে নিবিষ্ট হন। তিনি এর খসড়া এমনভাবে প্রস্তুত করেছিলেন যা প্রায় তিনশত খণ্ডে সমাপ্ত হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে আশিটি খণ্ড তিনি চূড়ান্ত করে যেতে পেরেছিলেন, অতঃপর ৬৮৭ হিজরি সনে কায়রোতে আশি বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি তাঁর সংকলিত আশিটি খণ্ড, এমনকি তাঁর সমগ্র পাঠাগার, বাসস্থান ও ধন-সম্পদ কায়রোর মানসুরি বিমারিস্তানে—যা বর্তমানে কালাউন হাসপাতাল নামে পরিচিত—দান করে যান, যেখানে তিনি প্রধান তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন; এটি ছিল সর্ববৃহৎ...
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
مستشفيات القاهرة آنذاك، ومحل عمل رئيس أطباء مصر وهو المنصب الذى شغله العلاء (ابن النفيس) حتى وفاته فى السنة المذكورة.
وقريبٌ من هذا (النمط) من الكتابة الموسوعية الحافظة للذاكرة، وفى مجالٍ آخر غير الطب؛ سوف يضع ابن فضل الله العمرى - المتوفى 749 هجرية - موسوعته التاريخية (مسالك الأبصار) فيؤرِّخ لكل شئ: الملوك، العلماء، الوقائع ويتحدَّث عن كل شئ: الأقاليم، النبات، الحيوان.. إلخ. وقد كان ابن فضل الله - مثل العلاء القرشى - من أصلٍ شامىٍّ، ثم توطَّن فى مصر وارتبط بها بقية عمره، حتى أن الناصر محمد بن قلاوون لما أراد أن يعاقبه، نفاه إلى الشام.. ولما رضى عنه، بعد حين؛ أعاده إلى القاهرة!
وفى القرن الثامن الهجرى، فى القاهرة؛ سوف يكتب شهاب الدين النويرى المتوفى 732 هجرية، موسوعته الأدبية الهائلة: نهاية الأَرَب فى فنون الأدب. فيقع كتابه فى ثلاثين مجلداً تشتمل على خمسة فنون، الأول: فى السماء والآثار العلوية والأرض والمعالم السفلية. الثانى: فى الإنسان وما يتعلَّق به. الثالث: فى الحيوان الصامت. الرابع: فى النبات. الخامس: فى التاريخ.. وقد لخص النويرى فى كتابه، كتباً متوناً من التراث السابق عليه، منها: إحياء علوم الدين، اللمعة النورانية، الملل والنِّحَل، فقه اللغة، نزهة المشتاق فى اختراق الآفاق، القصيدة العبدونية (قصيدة ابن عبدون فى التاريخ) وشَرْحها لابن بدرون، مباهج العبر.. بالإضافة إلى ديوان الحماسة لأبى تمام ودواوين الشعراء: المتنبى، البحترى، البستى؛ وغيرهم.. وكأنه بذلك، يبعث هذه المتون للحياة مرةً أخرى، مثلما بعث العلاءُ قانون ابن سينا، وجسَّر الناس عليه.
وفى القرن الثامن نفسه، عَاشَ فى القاهرة، وكَتَبَ، واحدٌ من أغزر
সেই সময়ের কায়রোর হাসপাতালসমূহ এবং মিশরের প্রধান চিকিৎসকের কর্মস্থল, যে পদটিতে আলা (ইবনুন নাফিস) তাঁর মৃত্যুর বছর পর্যন্ত অধিষ্ঠিত ছিলেন।
স্মৃতি সংরক্ষণে সক্ষম এই ধরণের বিশ্বকোষীয় রচনার কাছাকাছি, এবং চিকিৎসাশাস্ত্র ব্যতিরেকে অন্য একটি ক্ষেত্রে; ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি—মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি—তাঁর ঐতিহাসিক বিশ্বকোষ (মাসালিকুল আবসার) প্রণয়ন করবেন। যেখানে তিনি প্রতিটি বিষয়ের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন: রাজা-বাদশাহ, আলেম-উলামা, ঘটনাবলী এবং আলোচনা করেছেন প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে: অঞ্চলসমূহ, উদ্ভিদ, প্রাণী... ইত্যাদি। ইবনে ফাদলুল্লাহ—আলা আল-কুরাশি (ইবনুন নাফিস)-এর মতোই—ছিলেন শামী (সিরীয়) বংশোদ্ভূত। অতঃপর তিনি মিশরে বসতি স্থাপন করেন এবং তাঁর অবশিষ্ট জীবন এর সাথে যুক্ত থাকেন। এমনকি সুলতান আন-নাসির মুহাম্মাদ বিন কালাউন যখন তাঁকে শাস্তি দিতে চাইলেন, তখন তাঁকে শামে নির্বাসিত করলেন। আর যখন তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হলেন, তখন কিছুকাল পর তাঁকে পুনরায় কায়রোতে ফিরিয়ে আনলেন!
আর অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে কায়রোতে, শিহাবুদ্দিন আন-নুওয়াইরি (মৃত্যু ৭৩২ হিজরি) তাঁর বিশাল সাহিত্যিক বিশ্বকোষ 'নিহায়াতুল আরাব ফি ফুনুনিল আদাব' রচনা করবেন। তাঁর কিতাবটি ত্রিশটি খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে যা পাঁচটি শাস্ত্র (ফুনুন) অন্তর্ভুক্ত করে; প্রথমটি: আকাশ ও ঊর্ধ্বজগত এবং পৃথিবী ও নিম্নজগতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে। দ্বিতীয়টি: মানুষ এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে। তৃতীয়টি: নির্বাক প্রাণী সম্পর্কে। চতুর্থটি: উদ্ভিদ সম্পর্কে। পঞ্চমটি: ইতিহাস সম্পর্কে। আন-নুওয়াইরি তাঁর কিতাবে পূর্ববর্তী ঐতিহ্যের অনেক মূল পাঠ্য (মুতুন) সংক্ষিপ্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ইহয়াউ উলুমিদ্দিন, আল-লুম'আতুন নূরানিয়্যাহ, আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল, ফিকহুল লুগাহ, নুযহাতুল মুশতাক ফি ইখতিরাকিল আফাক, আল-কাসিদাতুল আবদুনিয়্যাহ (ইতিহাসের ওপর ইবনে আবদুনের কাসিদা) এবং ইবনে বাদরুন কৃত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মাবাহিজুল ইবার... এর পাশাপাশি আবু তাম্মামের 'দিওয়ানুল হামাসাহ' এবং কবি আল-মুতানাব্বি, আল-বুহতুতি, আল-বুস্তি ও অন্যান্যদের কাব্যসমগ্র (দিওয়ান); আর এর মাধ্যমে তিনি যেন এই মূল পাঠ্যগুলোকে পুনরায় জীবন দান করেছেন, ঠিক যেমন আলা (ইবনুন নাফিস) ইবনে সিনার 'কানুন'কে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন এবং মানুষের জন্য এর পথ সুগম করেছিলেন।
আর সেই একই অষ্টম শতাব্দীতে কায়রোতে বসবাস করেছেন এবং লিখেছেন অন্যতম এক প্রাচুর্যময় ও উর্বর লেখনীর অধিকারী একজন ব্যক্তিত্ব।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
المؤلِّفين فى تاريخ الإسلام: ابن حجر العسقلانى. وكلنا نعرف ضخامة وأهمية، مؤلَّفاته فى التاريخ وعلوم الدين، وقد كانت لأعماله أصداءً واسعة فى أرجاء الأرض. وقد حكى لنا المقريزى أنه حين انتهى ابن حجر من (فتح البارى بشرح صحيح البخارى) عُمل حفلٌ خارج سور القاهرة، أُنفقت فيه على الذبائح وحدها: خمسمائة دينار! ويوم الحفل وصلت وفودٌ من ملوك الأرض تطلب نسخاً من الكتاب.. وهكذا صارت القاهرة هى المركز الثقافى الأول فى المنطقة الإسلامية الممتدَّة الأرجاء، تلبيةً لحاجة حضارية مُلحَّة، شارك بالاستجابة لها علماءٌ من كل فن.. كان منهم العلاء القرشى، الذى اشتهر بين معاصرينا بلقب: ابن النفيس (1) .
وأخيراً.. فلابد من إشارةٍ إلى عدم توقف هذا الدور المصرى، التدوينى الحافظ للذاكرة؛ عند حدود القرن الثامن الهجرى، فقد تعدَّاه إلى القرن التاسع الهجرى، الذى عاش فيه بمصر مؤلِّفٌ من أغزر المؤلفين مادةً - فى التاريخ الإنسانىكله - أعنى به: جلال الدين السيوطى المتوفى 911 هجرية. ذلك الرجل كتب فى علوم اللغة المزهر وفى علوم الدين جمع الجوامع وفى التاريخ حُسن المحاضرة.. وكلها مجلدات كبار، وله بجانب ذلك مؤلَّفاتٌ صغار الحجم جاءت على شكل رسائل حافظة للملامح الثقافية فى تفصيلاتها، وفى طرافتها فكتب: منهل اللطائف فى الكنافة والقطائف، در الغمامة فى الطيلسان والعمامة، الدوران الفلكى على ابن الكركى.. ولم يتحرَّج، وهو العالم الجليل عن كتابة أعمالٍ عنوانها: الوشاح فى فوائد النكاح، الجواهر الثمينة فى فضائل السمينة، نواضر الأيك فى نوادر ال (..) !
--------------------------------------------
ইসলামী ইতিহাসের লেখকগণ: ইবনে হাজার আল-আসকালানি। তাঁর ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থরাজির বিশালতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। তাঁর কর্মসমূহ পৃথিবীর চারপ্রান্তে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। আল-মাকরিজি আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে হাজার যখন (ফাতহুল বারী বি-শারহি সহিহিল বুখারি) সমাপ্ত করলেন, তখন কায়রোর প্রাচীরের বাইরে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যাতে কেবল ভোজের পশুর পেছনেই ব্যয় হয়েছিল পাঁচশত দিনার! অনুষ্ঠানের দিন পৃথিবীর বিভিন্ন রাজন্যবর্গের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল এসেছিল গ্রন্থটির অনুলিপি সংগ্রহের জন্য... এভাবেই কায়রো এক জরুরি তمد্বনী প্রয়োজনে সাড়া দিয়ে সুদূরপ্রসারী ইসলামী ভূখণ্ডের প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হলো। প্রতিটি শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ এই জ্ঞানতাত্ত্বিক আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন... তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন আল-আলা আল-কুরাশি, যিনি আমাদের সমসাময়িকদের নিকট 'ইবনুন নাফিস' (১) উপাধিতে পরিচিত।
পরিশেষে, ঐতিহ্যের স্মৃতি রক্ষাকারী মিশরের এই লেখনী ও সংকলন-ভিত্তিক ভূমিকা অষ্টম হিজরি শতাব্দীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা নবম হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। সেই সময়ে মিশরে এমন একজন লেখক বাস করতেন, যিনি সমগ্র মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রধান ও বিপুল সংখ্যক রচনার কারিগর ছিলেন—আমি জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতির কথা বলছি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)। সেই মহীয়ান ব্যক্তি ভাষাবিজ্ঞানে 'আল-মুযহির', ধর্মীয় বিজ্ঞানে 'জামউল জাওয়ামি' এবং ইতিহাসে 'হুসনুল মুহাদারা'র মতো গ্রন্থ রচনা করেছেন... এবং এর প্রতিটিই ছিল বৃহদাকার খণ্ডে বিন্যস্ত। এর পাশাপাশি তাঁর কিছু ক্ষুদ্রাকার রচনাও রয়েছে, যা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের সূক্ষ্ম বিবরণ ও বৈচিত্র্য সংরক্ষক পুস্তিকা আকারে রচিত। তিনি লিখেছেন: 'মানহালুল লাতায়েফ ফিল কুনাফা ওয়া কাতাইফ' (মিষ্টান্ন বিষয়ক সূক্ষ্ম রসের উৎস), 'দুররুল গামামা ফিত তাইলাসান ওয়াল ইমামাহ' (পরিধেয় বস্ত্র ও পাগড়ি বিষয়ক মেঘমালার মুক্তো), 'আদ-দাওরানুল ফালাকি আলা ইবনিল কারকি'... এমনকি এই মহান পণ্ডিত এমন সব শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি যেমন: 'আল-উশাহ ফি ফাওয়াইদিন নিকাহ', 'আল-জাওয়াহিরুস সামিনা ফি ফাদায়িলিস সামিনা', এবং 'নাওয়াদিরুল আইক ফি নাওয়াদিরিল (..)'!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وهكذا كان السيوطى حلقةً من حلقات المشروع المصرى لحفظ ذاكرة الأمة وتدوين ثقافتها - فى أَجَلِّ الصفات وأدق التفصيلات - وهو ما نجح علماءُ مصر فى تحقيقه، بجهودٍ تأليفية جبارة.. لولاها، لكان تراثنا قد انطمس.
جاء الشاملُ إذن، كحلقة كبرى من حلقات مشروع حضارىٍّ كبير تبنَّته مصر منذ أواسط القرن السابع الهجرى، سعياً لحفظ ذاكرة الأمة وتدوين علومها.. ومن هنا، كان على العلاء - رئيس الأطباء - أن يصوغ المعرفة الطبية فى عصره، صياغتها الأخيرة، المكتملة، بعد خمسة قرون من تطور الطب العربى / الإسلامى، وعلى نحوٍ لم يتم تجاوزه، ولو بعد قرونٍ من حياة العلاء.
مَخْطُوَطاتُ الشَّامِلِبدأتُ قبل عشر سنوات، فى جمع مخطوطات الشامل من مكتبات العالم وكان ظَنِّى المتفاءل، يرجِّح أن تكون أغلب النسخ الخطية من الكتاب محفوظةً بمصر، خاصةً مع ما ذكره ابن فضل الله العمرى من أنه: شاهد المجلدات الثمانين فى البيمارستان المنصورى بالقاهرة. غير أنها لم تكن سوى أُمنية والأمانى كما يقولون: خوادع! إذ لم يكن بمصر غير جزئين فقط من الكتاب كلاهما محفوظ بدار الكتب المصرية، التى ذكر فهرسها البدائى المعمول به حالياً خمس مخطوطات من الشامل ثم اتضح لى أن ثلاثة منها، مصورات. فكان رصيد دار الكتب المصرية من مخطوطات موسوعتنا، هو الآتى:
1 - مخطوطة رقم 6057/ل، ناقصة من أولها وآخرها، ومنسوبة فى الفهرس لغياث الغيث - وسوف نعود للكلام عنه بعد قليل - وتضم مقدمة الشامل، والكتب الثلاثة الأولى من الفن الأول.
এভাবে সুয়ূতী ছিলেন উম্মাহর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং এর সংস্কৃতিকে - অত্যন্ত মহিমান্বিত বৈশিষ্ট্য ও সূক্ষ্মতম বিশদ বিবরণে - লিপিবদ্ধ করার মিশরীয় প্রকল্পের অন্যতম এক যোগসূত্র। আর এটিই মিশরের উলামায়ে কেরাম তাঁদের বিশাল সংকলন প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সেই প্রচেষ্টা না থাকলে আমাদের ঐতিহ্য হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যেত।
সুতরাং 'আশ-শামিল' গ্রন্থটি একটি বৃহৎ সভ্যতা বিনির্মাণ প্রকল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল, যা সপ্তম হিজরি শতকের মধ্যভাগ থেকে মিশর গ্রহণ করেছিল; যার লক্ষ্য ছিল উম্মাহর স্মৃতি রক্ষা এবং এর জ্ঞান-বিজ্ঞান লিপিবদ্ধ করা। এ কারণেই প্রধান চিকিৎসক আল-আলা'র ওপর তাঁর যুগের চিকিৎসাশাস্ত্রীয় জ্ঞানকে চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল, যা আরবীয়/ইসলামী চিকিৎসাশাস্ত্রের পাঁচ শতকের বিবর্তনের ফলস্বরূপ ছিল এবং এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল যা আল-আলা'র ইনতিকালের কয়েক শতাব্দী পরেও অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি।
আশ-শামিলের পাণ্ডুলিপিসমূহদশ বছর আগে আমি বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরি থেকে 'আশ-শামিল'-এর পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ শুরু করি। আমার আশাবাদী ধারণা ছিল যে, বইটির অধিকাংশ হস্তলিপি সংস্করণ হয়তো মিশরেই সংরক্ষিত থাকবে; বিশেষ করে ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারির বর্ণনামতে তিনি কায়রোর আল-বিমারিস্তান আল-মানসুরি-তে আশিটি খণ্ড দেখেছিলেন। কিন্তু তা কেবল একটি আকাঙ্ক্ষাই ছিল, আর যেমনটি বলা হয়: আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় প্রতারণা করে! কারণ মিশরে বইটির মাত্র দুটি অংশ পাওয়া গেছে, যার উভয়ই 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে সংরক্ষিত। সেখানে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রাথমিক তালিকায় আশ-শামিলের পাঁচটি পাণ্ডুলিপির উল্লেখ ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আমার কাছে স্পষ্ট হয় যে তার মধ্যে তিনটি ছিল ফটোকপি। ফলে আমাদের এই বিশ্বকোষের পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-র সংগ্রহে যা ছিল তা নিম্নরূপ:
১ - পাণ্ডুলিপি নং ৬০৫৭/লাম, এর শুরু ও শেষাংশ অপূর্ণ, এবং ক্যাটালগে একে 'গিয়াসুল গাইস'-এর সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে - আমরা একটু পরেই এ বিষয়ে আলোচনায় ফিরব - এটি আশ-শামিলের ভূমিকা এবং প্রথম শিল্পের প্রথম তিনটি গ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
2 - مخطوطة رقم 681/طب، بدون تاريخ. وهى تحتوى على الكتاب الثالث والعشرين من الجزء الثانى من الفن الثالث من الشامل وهو كتاب اللام من كتاب الأغذية والأدوية. والمخطوطة أوراقها 138 ورقة، الورقة صفحتان.
3 - مخطوطة رقم 3/4، طب
4 - مخطوطة رقم 423/طب تيمور.
5 - مخطوطة رقم 620/طب طلعت.
والنسخ الثلاث الأخيرة، ليست سوى مصورات من كتاب اللام الذى احتوت عليه المخطوطة المحفوظة بالدار تحت رقم 681/ طب.
ومع أننى قمت بفهرسة عدد كبير من المكتبات الخطية فى مصر، حتى بلغ عدد ما فهرسته حوالى 18.000 مخطوطة، موزَّعة على تسع مكتبات؛ غير أننى لم أجد مخطوطةً واحدة من الشامل، بين هذه الألوف من المخطوطات! وفى غير مصر، وجدتُ من مخطوطات الشامل ما يلى:
1 - نسخة مخطوطة بمتحف الآثار العامة (بغداد) برقم 1271، تقع فى 1045 ورقة (الورقة صفحتان) وتضم هذه المجموعة ما يلى:
* الكتاب السابع من الجزء الثانى من الفن الثالث فى الأدوية والأغذية المفردتين التى تبدأ بحرف الخاء وهو يقع فى 10 مقالات وخاتمة.
* الكتاب الثامن فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف الدال يقع فى 6 مقالات وخاتمة.
* الكتاب التاسع فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف الذال يقع فى 3 مقالات.
২ - পাণ্ডুলিপি নম্বর ৬৮১/তিব্ব (চিকিৎসাবিজ্ঞান), তারিখবিহীন। এতে আল-শামিল-এর তৃতীয় ফনের দ্বিতীয় খণ্ডের তেইশতম কিতাবটি রয়েছে, যা হলো খাদ্য ও ওষুধের কিতাবের 'লাম' অক্ষর সম্পর্কিত অধ্যায়। পাণ্ডুলিপিটি ১৩৮টি পত্র বিশিষ্ট, প্রতিটি পত্র দুই পৃষ্ঠা সম্বলিত।
৩ - পাণ্ডুলিপি নম্বর ৩/৪, তিব্ব।
৪ - পাণ্ডুলিপি নম্বর ৪২৩/তিব্ব তয়মুর।
৫ - পাণ্ডুলিপি নম্বর ৬২০/তিব্ব তালাত।
শেষোক্ত তিনটি পাণ্ডুলিপি মূলত 'লাম' অধ্যায়ের প্রতিলিপি মাত্র, যা ৬৮১/তিব্ব নম্বরে উক্ত প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটির অন্তর্ভুক্ত।
যদিও আমি মিশরের বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি পাঠাগারের সূচিপত্র প্রণয়ন করেছি এবং আমার সূচিবদ্ধ করা পাণ্ডুলিপির সংখ্যা নয়টি পাঠাগারে বিন্যস্ত প্রায় ১৮,০০০-এ পৌঁছেছে; তবুও এই হাজার হাজার পাণ্ডুলিপির মধ্যে আমি আল-শামিল-এর একটি পাণ্ডুলিপিও খুঁজে পাইনি! মিশরের বাইরে আমি আল-শামিল-এর নিম্নোক্ত পাণ্ডুলিপিগুলো খুঁজে পেয়েছি:
১ - প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে (বাগদাদ) সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি সংস্করণ, নম্বর ১২৭১, যা ১০৪৫টি পত্র সম্বলিত (প্রতিটি পত্র দুই পৃষ্ঠা বিশিষ্ট)। এই সংকলনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
* তৃতীয় ফনের দ্বিতীয় খণ্ডের সপ্তম কিতাব, যা 'খা' অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া একক ওষুধ ও খাদ্যাদি বিষয়ক। এটি ১০টি প্রবন্ধ এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।
* অষ্টম কিতাব, যা 'দাল' অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যাদি বিষয়ক। এটি ৬টি প্রবন্ধ এবং একটি উপসংহারের সমন্বয়ে গঠিত।
* নবম কিতাব, যা 'যাল' অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যাদি বিষয়ক। এটি ৩টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
* الكتاب العاشر فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف الراء يقع فى 10 مقالات وخاتمة.
* الكتاب الحادى عشر فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف الزاى يقع فى 19 مقالة وخاتمة.
* الكتاب الثانى عشر فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف السين يقع فى 13 مقالة وخاتمة (ناقص من أوله) .
* الكتاب الحادى والعشرون فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف القاف يقع فى 25 مقالة.
* الكتاب الثانى والعشرون فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف الكاف يقع فى 30 مقالة.
وفى نهاية الكتاب الأخير، كتب ناسخ المخطوطة عمر بن أبى بكر البدراوى الشافعى ما نصُّه: وكان الفراغ منه يوم الإثنين السابع من شهر رجب سنة ثمان وستين وتسعمائة.. ثم تتوالى بعد ذلك بقية الكتبُ التالية:
* الكتاب الثالث والعشرون: حرف اللام يقع فى 11 مقالة.
* الكتاب الرابع والعشرون: حرف الميم يقع فى 22 مقالة.
* الكتاب الخامس والعشرون: حرف النون يقع فى 11 مقالة.
* الكتاب السادس والعشرون: حرف الهاء يقع فى 3 مقالات.
* الكتاب السابع والعشرون: حرف الواو يقع فى 5 مقالات.
* الكتاب الثامن والعشرون: حرف الياء يقع فى مقالتين وخاتمة
দশম গ্রন্থ: ‘রা’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক; যা ১০টি প্রবন্ধ এবং একটি পরিশিষ্টের সমন্বয়ে গঠিত।
একাদশ গ্রন্থ: ‘ঝা’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক; যা ১৯টি প্রবন্ধ এবং একটি পরিশিষ্টের সমন্বয়ে গঠিত।
দ্বাদশ গ্রন্থ: ‘সিন’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক; যা ১৩টি প্রবন্ধ এবং একটি পরিশিষ্টের সমন্বয়ে গঠিত (এর প্রথমাংশ অসম্পূর্ণ)।
একবিংশ গ্রন্থ: ‘ক্বাফ’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক; যা ২৫টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
দ্বাবিংশ গ্রন্থ: ‘কাফ’ বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক; যা ৩০টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
সর্বশেষ গ্রন্থের সমাপ্তিতে পাণ্ডুলিপিটির অনুলিপিকার উমর বিন আবু বকর আল-বাদরাভি আল-শাফিঈ যা লিখেছেন তার মূল পাঠ নিম্নরূপ: “এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে ৯৬৮ হিজরি সনের সাতই রজব, সোমবার।” এরপর অবশিষ্ট গ্রন্থগুলো পর্যায়ক্রমে বর্ণিত হলো:
ত্রয়োবিংশ গ্রন্থ: ‘লাম’ বর্ণ; যা ১১টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
চতুর্বিংশ গ্রন্থ: ‘মিম’ বর্ণ; যা ২২টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
পঞ্চবিংশ গ্রন্থ: ‘নুন’ বর্ণ; যা ১১টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
ষড়বিংশ গ্রন্থ: ‘হা’ বর্ণ; যা ৩টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
সপ্তবিংশ গ্রন্থ: ‘ওয়াও’ বর্ণ; যা ৫টি প্রবন্ধের সমন্বয়ে গঠিত।
অষ্টবিংশ গ্রন্থ: ‘ইয়া’ বর্ণ; যা দুটি প্রবন্ধ এবং একটি পরিশিষ্টের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وبانتهاء كتاب الياء ينتهى: الجزءُ الثانى من الفن الثالث من كتاب الشامل فى الصناعة الطبية
2 - نسخة مخطوطة بمكتبة ليدن (هولندا) برقم Mcccxv III God 81 Col وتضم كتب الأدوية المفردة من الضاد إلى العين على المنوال الذى ذكرناه فى مخطوطة بغداد السابقة.
3 - نسخة مخطوطة بمكتبة الظاهرية بدمشق، حالياً: مكتبة الأسد محفوظة تحت رقم 8547. تقع فى 319 من القطع الكبير، وهى مشكولة بالكامل، وتضم الكتب: من الهمزة إلى الزاى على المنوال السابق ذكره. أى أنها جزءٌ من الجزء الثانى من الفن الثالث من كتاب الشامل.
ومع أن هذه المخطوطة ناقصة من أولها بمقدار عدة أوراق، إلا أنها عالية الأهمية نظراً لدقتها.. وسوف نَصِفُها بعد قليل، عند الكلام عن النسخ التى استخرجنا منها هذا الجزء (الأول) من الشامل.
4 - مجموعة مخطوطة بمكتبة بودليان بأكسفورد تحت أرقام Pococke 290 - 291 - 292 مجموع أوراقها 1659 ورقة، مؤرَّخة بسنة 983 هجرية. وتضم المجموعة: من الكتاب الأول إلى الكتاب الثامن والعشرين من الجزء الثانى من الفن الثالث من الشامل.. وقد اعتمدنا عليها فى التحقيق، وسوف نصفها بعد قليل.
5 - مجموعة أخرى بالمكتبة نفسها، محفوظة تحت أرقام Pococke 248 - 356 - 539 وتشتمل على ثلاثة كتب من الجزء الرابع من الفن الأول وهى على الترتيب: كتاب أسباب الوجع كتاب النبض كتاب البول. والمجموعة مؤرَّخة بسنة 687 هجرية، وهى سنة وفاة علاء الدين (ابن النفيس) .
‘ইয়া’ বর্ণের পরিচ্ছেদের সমাপ্তির মাধ্যমে ‘কিতাবুল শামিল ফিস সিনাআতিত তিব্বিয়্যাহ’ (চিকিৎসা শিল্পের পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ) এর তৃতীয় শাস্ত্রের দ্বিতীয় খণ্ডটি সমাপ্ত হলো।
২ - নেদারল্যান্ডসের লাইডেন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি (নম্বর: Mcccxv III God 81 Col); এতে ‘দাদ’ থেকে ‘আইন’ বর্ণ পর্যন্ত একক ভেষজ ওষুধের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পূর্বে বর্ণিত বাগদাদ পাণ্ডুলিপির অনুরূপ বিন্যাসে সাজানো।
৩ - দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির একটি পাণ্ডুলিপি, যা বর্তমানে ‘মাকতাবাতুল আসাদ’-এ ৮৫৪৭ নম্বরে সংরক্ষিত। ৩১৯ পৃষ্ঠার বৃহৎ আকারের এই পাণ্ডুলিপিটি সম্পূর্ণ স্বরচিহ্নযুক্ত (হরকতযুক্ত)। এতে ‘হামজা’ থেকে ‘যা’ বর্ণ পর্যন্ত পূর্বোক্ত বিন্যাসে পরিচ্ছেদগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। অর্থাৎ এটি ‘কিতাবুল শামিল’-এর তৃতীয় শাস্ত্রের দ্বিতীয় খণ্ডের একটি অংশ।
যদিও এই পাণ্ডুলিপিটির শুরু থেকে কয়েক পৃষ্ঠা অবর্তমান, তবুও এর নির্ভুলতার কারণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘শামিল’ গ্রন্থের এই (প্রথম) খণ্ডটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা যেসব পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছি, সেগুলোর বর্ণনার সময় অচিরেই আমরা এর বিস্তারিত বর্ণনা দেব।
৪ - অক্সফোর্ডের বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে Pococke 290 - 291 - 292 নম্বরে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি সংকলন। এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬৫৯ এবং এটি ৯৮৩ হিজরিতে প্রতিলিপিত। এই সংকলনটি ‘শামিল’-এর তৃতীয় শাস্ত্রের দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম থেকে আটাশতম পরিচ্ছেদ পর্যন্ত বিস্তৃত। পাণ্ডুলিপি যাচাই ও সম্পাদনার কাজে আমরা এর ওপর নির্ভর করেছি এবং অচিরেই আমরা এর বিবরণ প্রদান করব।
৫ - একই লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত অন্য একটি সংকলন, যা Pococke 248 - 356 - 539 নম্বরে সংরক্ষিত। এটি প্রথম শাস্ত্রের চতুর্থ খণ্ডের তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত, যা যথাক্রমে: ব্যথার কারণ বিষয়ক গ্রন্থ, নাড়ি স্পন্দন বিষয়ক গ্রন্থ এবং মূত্র বিষয়ক গ্রন্থ। এই সংকলনটি ৬৮৭ হিজরিতে প্রতিলিপিত, যা আলাউদ্দিন ইবনুন নাফিসের মৃত্যুসাল।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
6 - مجموعة مخطوطة بمكتبة لاين Lean الطبية، بجامعة ستانفورد، تحت رقم Z،276 مؤرَّخة بسنة 641 هجرية، جاء فيها أنها كُتبت على المؤلِّف.. بعد فحص المجموعة، تبين أنها تحتوى على ثلاثة مجلدات، كالتالى:
* المجلد الأول يحمل العنوان مقالة فى النبات، المجلد الثانى بعد الأربعين من كتاب الشامل وهذه المخطوطة تبدأ بالمقالة الثانية والعشرين فى أحكام البقلة الحمقاء تليها مقالة فى البلسان مما يعنى أنه الجزء الخاص بالأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف الباء وبذلك يكون هذا الجزء هو: الكتاب الثانى من الجزء الثانى من الفن الثالث من كتاب الشامل.. وهو كما بدا من العنوان الذى يحمله، يمثل المجلد 42 من الشامل بحسب هذه النسخة التى كُتبت فى حياة مؤلفها.
* المجلد الثانى يحتوى على الكتاب الثالث من الجزء الثانى من الفن الثالث فى الأدوية والأغذية التى تبدأ بحرف التاء؛ يليه كتاب الثاء ثم كتاب الحاء.
* المجلد الثالث يبدأ بالنمط الأول من الجزء الثانى من الفن الثانى من كتاب الشامل.. ويتناول هذا النمط: الأصول الكلية فى صناعة الطب.
ونظراً لسوء حالة المجموعة، فهناك العديد من آثار الترميم والإصلاح بها ويُلاحظ أن أحدهم أعاد كتابة الكلمات الباهتة، والتى كادت تختفى بفعل الزمن.
7 - نسخة مخطوطة بجامعة كامبردج (إنجلترا) برقم 1546 Or؟ 10؟ ، تبدأ بالباب التاسع فى علامات البول وهى بدون تاريخ، ويرجِّح فهرس المكتبة أن تكون قد كُتبت فى القرن الثامن الهجرى.. ونرجِّح، نحن، أنها بخط المؤلِّف.
৬ - স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেন (Lean) মেডিকেল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি সংকলন, যার নম্বর Z,276 এবং এটি ৬৪১ হিজরিতে অনুলিপিত। এতে উল্লেখ আছে যে এটি লেখকের উপস্থিতিতে অনুলিখিত হয়েছে। সংকলনটি পরীক্ষার পর দেখা গেছে যে এটি তিনটি খণ্ড নিয়ে গঠিত, যা নিম্নরূপ:
* প্রথম খণ্ডটির শিরোনাম হলো 'উদ্ভিদ বিষয়ক প্রবন্ধ', যা কিতাব আল-শামিল-এর ৪২তম খণ্ড। এই পাণ্ডুলিপিটি 'বাকলা হামকা' (লাল শাক) এর বৈশিষ্ট্য বিষয়ক ২২তম প্রবন্ধ দিয়ে শুরু হয়েছে, যার পরে রয়েছে 'বালসান' (বালসাম) বিষয়ক একটি প্রবন্ধ। এর অর্থ হলো, এটি সেই অংশ যা 'বা' বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য সম্পর্কিত। সেই অনুযায়ী এই অংশটি হলো: কিতাব আল-শামিল-এর তৃতীয় ফন-এর দ্বিতীয় জুয-এর দ্বিতীয় কিতাব। শিরোনাম থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, লেখকের জীবদ্দশায় লিখিত এই অনুলিপি অনুযায়ী এটি আল-শামিল-এর ৪২তম খণ্ড।
* দ্বিতীয় খণ্ডটিতে তৃতীয় ফন-এর দ্বিতীয় জুয-এর তৃতীয় কিতাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা 'তা' বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্য বিষয়ক; এরপর রয়েছে 'সা' অধ্যায় এবং তারপর 'হা' অধ্যায়।
* তৃতীয় খণ্ডটি কিতাব আল-শামিল-এর দ্বিতীয় ফন-এর দ্বিতীয় জুয-এর প্রথম 'নামাত' (পদ্ধতি) দিয়ে শুরু হয়েছে। এই অংশে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সার্বিক মূলনীতিসমূহ আলোচিত হয়েছে।
সংকলনটির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে এতে অনেক মেরামতের চিহ্ন বিদ্যমান এবং লক্ষ্য করা যায় যে, কেউ একজন অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া শব্দগুলো পুনরায় লিখেছেন, যা সময়ের বিবর্তনে প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল।
৭ - ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি সংস্করণ যার নম্বর Or. 1546 (অথবা ১০?), এটি মূত্রলক্ষণ বিষয়ক নবম অধ্যায় দিয়ে শুরু হয়েছে। এতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই, তবে লাইব্রেরি ক্যাটালগ অনুযায়ী এটি সম্ভবত অষ্টম হিজরি শতাব্দীতে অনুলিপিত। তবে আমাদের প্রবল ধারণা যে এটি স্বয়ং লেখকের স্বহস্তে লিখিত।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وكانت رحلة جمع هذه المخطوطات رحلةً شاقة، وشائقة! وقد حكيتُ طرفاً منها فى مقالةٍ نشرتها بمناسبة مرور 727 سنة على وفاة العلاء (ابن النفيس) منها قولى:
لم أجد فى كافة مكتبات مصر العريقة إلا قطعة من الكتاب تقع فى 194 ورقة مخطوطة بدار الكتب المصرية. أما مكتبة بودليان بأُكسفورد (إنجلترا) فهى تحتوى على مجموعتين من الكتاب المجموعة الأولى مخطوطة تضم 1659 ورقة من الشامل والمجموعة الأخرى تضم عدداً أقل من الأوراق. ولقد أرسلت للمكتبة خطاباً فى منتهى التلطُّف والتزلُّف، أطلب فيه تصوير المجموعتين وإبلاغى بالمصروفات المطلوبة. فطلبوا مبلغاً عظيماً بالجنيهات الإسترلينية، فعاودت الكتابة لمديرة المكتبة (آن نيكلسون) وقلت لها فى خطابى أن الجنيهات الإسترلينية التى طلبتها تساوى رقما كبيراً بالجنيهات المصرية، وأن احتياجى لهذه المخطوطات هو لعملٍ علمى وليس لعمل تجارى، وأن هذا التراث فى الحقيقة ملك لنا فى الأصل! ولقد كانت السيدة غاية فى الظرف، فردَّت على خطابى، قائلةً ما ترجمته: بخصوص الفاتورة الأولى، فيمكنك أن تدمرها! ولقد وجدت لك حلاً فنحن نصنع كل بضعة أعوام نسخة ميكروفيلمية احتياطية لجميع المخطوطات التى نحتفظ بها ولسوف أرسل لك هذه النسخة القديمة، ونقوم بعمل غيرها وفى هذه الحالة سيكون المطلوب دفعه، مبلغاً قليلاً.. وبالفعل دفعتُ هذا المبلغ القليل (حوالى ثلاثة آلاف جنيه) وحصلت على هذه الأجزاء المهمة من الشامل.
এই পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহের সফরটি ছিল যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি রোমাঞ্চকর! আল-আলা (ইবনে আন-নাফিস)-এর প্রয়াণের ৭২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে আমি এই সফরের কিয়দাংশ বর্ণনা করেছি, যেখানে আমি বলেছিলাম:
মিশরের সকল ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারের মধ্যে আমি কিতাবটির কেবল একটি খণ্ডই খুঁজে পেয়েছি, যা ১৯৪ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-তে সংরক্ষিত রয়েছে। অন্যদিকে, অক্সফোর্ডের (ইংল্যান্ড) বোডলিয়ান লাইব্রেরিতে কিতাবটির দুটি সংকলন রয়েছে; প্রথম সংকলনটি 'আশ-শামিল'-এর ১৬৫৯টি পত্র সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি এবং দ্বিতীয় সংকলনটিতে পত্র সংখ্যা আরও কম। আমি অত্যন্ত বিনয় ও শিষ্টাচারের সাথে লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষকে একটি পত্র লিখেছিলাম, যাতে উভয় সংকলনের অনুলিপি চেয়েছিলাম এবং প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পরিমাণ জানাতে অনুরোধ করেছিলাম। তারা ব্রিটিশ পাউন্ডে একটি বিশাল অংকের অর্থ দাবি করে। আমি পুনরায় লাইব্রেরি ডিরেক্টর (অ্যান নিকোলসন)-এর কাছে চিঠি লিখি এবং জানাই যে, তারা যে পাউন্ড দাবি করেছে তা মিশরীয় পাউন্ডের হিসেবে অনেক বড় অংক। আরও উল্লেখ করি যে, এই পাণ্ডুলিপিগুলো আমার প্রয়োজন কেবল গবেষণামূলক কাজের জন্য, কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে নয়; এবং এই ঐতিহ্য প্রকৃতপক্ষে মূলত আমাদেরই সম্পদ! ভদ্রমহিলা অত্যন্ত সদয় ও মার্জিত ছিলেন, তিনি আমার চিঠির উত্তরে যা লিখেছিলেন তার অনুবাদ হলো: প্রথম ইনভয়েসটির ব্যাপারে বলব যে, আপনি তা ছিঁড়ে ফেলতে পারেন! আমি আপনার জন্য একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছি; আমরা প্রতি কয়েক বছর অন্তর আমাদের সংরক্ষিত সকল পাণ্ডুলিপির একটি ব্যাকআপ মাইক্রোফিল্ম কপি তৈরি করি। আমি আপনাকে সেই পুরনো কপিটি পাঠিয়ে দেব এবং আমরা নিজেদের জন্য নতুন আরেকটি তৈরি করে নেব। এক্ষেত্রে আপনাকে অত্যন্ত সামান্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে আমি সেই সামান্য অর্থই (প্রায় তিন হাজার পাউন্ড) পরিশোধ করি এবং 'আশ-শামিল'-এর এই গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সংগ্রহ করতে সক্ষম হই।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
وفى مكتبة لاين الطبية بجامعة ستانفورد الأمريكية، ثلاثة مجلدات من الكتاب مؤرَّخة بسنة 641 هجرية، فأرسلت فى طلبها وإعلامى بالمصروفات، فجاء خطابٌ لطيف يشكرنى على اهتمامى بهذا التراث! ويدلنى على بعض البحوث فى هذا الموضوع، ومع الخطاب صورة من مقال نشرته الصحافة الأمريكية فى الثلاثينيات عن هذه المخطوطات الثلاث بالذات عنوانه: كنوز المخطوطات الطبية هنا. وطلبت المكتبة مبلغاً معقولاً بالدولارات، ولم تكن السوق المصرفية المصرية قد افتتحت بعد، ورفضت البنوك تحويل المبلغ (حفاظاً على اقتصاد الوطن) فرحت أتسكع فى ميدان المنشية بالإسكندرية، حتى صادفنى تاجرُ عملة، حصلت منه على المبلغ المطلوب، وأرسلته نقداً فى خطابٍ مسجل، وأنا أرتجف، فوصل المبلغ ووصلنى طردٌ صغير به صورة ميكروفيلمية من المخطوطات، فى نفس الوقت الذى وصلتنى فيه ميكروفيلمات البودليان.. فكانت الواقعة.
أرسلت لى هيئة البريد خطاباً مستعجلا فذهبت أدور على المكاتب وأُواجه تحقيقا إدارياً غبياً من الموظفين: ما هذه الأشرطة؟ وما هى صلتك بانجلترا وأمريكا؟ وهل حصلت على تصريح خاص من المخابرات؟ وإلى ماذا تهدف من الحصول على هذه الميكروفيلمات؟ .. وظللت أشرح وأشرح، حتى بدأ لى أنهم اقتنعوا. لكنهم طلبوا تصريحاً من جهاز المراقبة على المصنفات الفنية، كى يسلِّموها لى! ثم كان الزمان كريماً، فوقعت على
আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লেন মেডিকেল লাইব্রেরিতে হিজরি ৬৪১ সালের এই গ্রন্থের তিনটি খণ্ড সংরক্ষিত রয়েছে। আমি সেগুলো সংগ্রহের আবেদন জানালাম এবং খরচের পরিমাণ জানতে চাইলাম। বিনিময়ে একটি সৌজন্যমূলক পত্র এল, যাতে এই ঐতিহ্যের প্রতি আমার আগ্রহের জন্য আমাকে ধন্যবাদ জানানো হলো এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কিছু গবেষণার হদিস দেওয়া হলো। চিঠির সাথে ত্রিশের দশকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এই তিনটি পাণ্ডুলিপিকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের অনুলিপিও ছিল, যার শিরোনাম ছিল: "এখানেই রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাণ্ডুলিপির ভাণ্ডার।" লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ ডলারের হিসেবে একটি পরিমিত অর্থ দাবি করল। তখনো মিসরের ব্যাংকিং বাজার উন্মুক্ত হয়নি এবং দেশের অর্থনীতি রক্ষার অজুহাতে ব্যাংকগুলো সেই অর্থ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাল। অগত্যা আমি আলেকজান্দ্রিয়ার মানশিয়া চত্বরে ঘোরাঘুরি করতে লাগলাম, অবশেষে এক মুদ্রা ব্যবসায়ীর দেখা পেলাম। তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করে অত্যন্ত বিচলিত অবস্থায় একটি রেজিস্ট্রি করা চিঠিতে নগদ টাকা পাঠিয়ে দিলাম। অর্থ পৌঁছে গেল এবং আমার কাছেও পাণ্ডুলিপিগুলোর মাইক্রোফিল্ম সমৃদ্ধ একটি ছোট পার্সেল চলে এল। ঠিক একই সময়ে বোডলিয়ান লাইব্রেরি থেকেও মাইক্রোফিল্মগুলো এসে পৌঁছাল। এভাবেই ঘটনাটি সংঘটিত হলো।
ডাক বিভাগ থেকে আমাকে একটি জরুরি পত্র পাঠানো হলো। আমি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে লাগলাম এবং কর্মকর্তাদের নির্বোধ প্রশাসনিক জেরার সম্মুখীন হলাম: "এসব কিসের ফিতা? ইংল্যান্ড ও আমেরিকার সাথে আপনার সম্পর্ক কী? আপনি কি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়েছেন? এই মাইক্রোফিল্মগুলো সংগ্রহের পেছনে আপনার উদ্দেশ্য কী?" আমি অবিরাম ব্যাখ্যা দিতে থাকলাম, যতক্ষণ না মনে হলো তারা সন্তুষ্ট হয়েছে। কিন্তু সেগুলো হস্তান্তরের জন্য তারা 'শৈল্পিক কর্ম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা'র অনুমতিপত্র দাবি করে বসল! এরপর সময় সুপ্রসন্ন হলো এবং আমি সন্ধান পেলাম...
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
موظَّفٍ متفهِّم، اقتنع بأن الأشرطة (الميكروفيلمات) تحتوى على صور كتاب، ولا علاقة لها بالفن ولا الرقابة! لكنه عاد وأفهمنى أن هناك مشكلة فى تحديد الرسوم المطلوبة جمركياً على تلك البضائع المستوردة. وبعدما أظلمت الدنيا فى وجهى، استطاع الموظَّفُ العبقرىُّ أن يجد حلا للمشكلة، إذ أفرج عن الميكروفيلمات، وسلَّمها لى، باعتبارها (عينات) وبالتالى فلا رسوم جمركية عليها!
وفى مكتبة المتحف العراقى ببغداد توجد مجموعة خطية من الشامل تقع فى 1034 ورقة فسعيتُ للحصول على صورة منها كان الأوان أوان حرب الخليج (الأولى) بين العراق وإيران فأردت السفر إلى بغداد - ولم أكن قد خرجت قبل ذلك من مصر - فحذَّرنى بعض الإخوان من رداءة أحوال بغداد، ومن صواريخ إيران بعيدة المدى، ومن احتمال أن يكون المتحف العراقى قد أغلق أبوابه وانتقلت مخطوطاته خشية القصف.. وأسقط فى يدى ثم هدأت الأحوال، وأوصيت صديقاً يعمل فى العراق، بأن يحصل لى على صورة من المخطوطة، ولقد حصل عليها بالفعل وأرسل لى ليبلغنى بذلك، ففرحت ثم حزنت حين صودرت منه فى مطار بغداد!
وفى أحد المؤتمرات تعرَّفت إلى أستاذٍ جامعى من العراق كانت زوجته تعمل فى المتحف العراقى، فوعد بتصوير المخطوطة وإرسالها فى أقرب فرصة، ورجع من مصر إلى العراق. وبعد
একজন সংবেদনশীল কর্মকর্তা বুঝতে পারলেন যে, এই ফিতাগুলো (মাইক্রোফিল্ম) একটি বইয়ের চিত্র ধারণ করছে এবং শিল্পকলা বা সেন্সরশিপের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি আমাকে বুঝিয়ে বললেন যে, এই আমদানিকৃত পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক নির্ধারণে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। যখন আমার সামনে সব পথ রুদ্ধ হয়ে আসছিল, তখন সেই বিচক্ষণ কর্মকর্তা একটি সমাধান খুঁজে বের করলেন; তিনি মাইক্রোফিল্মগুলোকে 'নমুনা' হিসেবে গণ্য করে খালাস করে দিলেন এবং আমার হাতে তুলে দিলেন, যার ফলে এর ওপর কোনো শুল্ক ধার্য হলো না!
বাগদাদের ইরাকি জাদুঘরের লাইব্রেরিতে 'আশ-শামিল'-এর একটি পাণ্ডুলিপি সংকলন রয়েছে যা ১০৩৪ পৃষ্ঠা সম্বলিত। আমি সেটির একটি অনুলিপি সংগ্রহের চেষ্টা করি। সময়টি ছিল ইরাক ও ইরানের মধ্যকার (প্রথম) উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়। আমি বাগদাদে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলাম—যদিও এর আগে আমি কখনো মিশরের বাইরে যাইনি—তবে কিছু ভাই আমাকে বাগদাদের শোচনীয় অবস্থা, ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমাবর্ষণের ভয়ে জাদুঘরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বা পাণ্ডুলিপিগুলো অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কার ব্যাপারে সতর্ক করলেন। আমি অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়লাম। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে আমি ইরাকে কর্মরত এক বন্ধুকে পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি সংগ্রহ করে দেওয়ার অনুরোধ জানালাম। তিনি সফলভাবে সেটি সংগ্রহ করলেন এবং আমাকে জানানোর জন্য সংবাদ পাঠালেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত হলাম, কিন্তু পরক্ষণেই অত্যন্ত মর্মাহত হলাম যখন শুনলাম যে, বাগদাদ বিমানবন্দরে তার কাছ থেকে সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে!
একটি সম্মেলনে আমার ইরাকের একজন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের সাথে পরিচয় হলো, যাঁর স্ত্রী ইরাকি জাদুঘরে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাণ্ডুলিপিটি ছবি তুলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং মিশর থেকে ইরাকে ফিরে গেলেন। এরপর
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
رجوعه إلى هناك بأيام سبعة اجتاح صدَّامُ الكويت.. وقامت حربُ الخليج الثانية.
وكان معهد المخطوطات العربية بالقاهرة يمتلك صورة مخطوطة بغداد، لكنه كان مغلقاً. فلما انفتحت أبوابه، فتح الله علينا بتصوير المخطوطة، ثم سمح الزمان أيضاً بالحصول على مخطوطة كامبردج (انجلترا) التى تضم أجزاءاً أُخرى من الكتاب وعلى المخطوطة إشارات تدل على أنها بخط مؤلِّفها.. وهكذا اكتملت العدة، واجتمعت صور المخطوطات الباقية من هذه الموسوعة الهائلة.
وفى اللحظة التى وضعت فيها هذا الكم من المخطوطات معا (حوالى عشرة آلاف صفحة من كتابٍ واحدٍ مخطوط) شعرت بعظمة (ابن النفيس) وشعرت أيضاً بأن: العمر قصير والعلم طويل!
وها أنا أشرع اليوم فى تحقيق هذا الكتاب، أو بالأحرى تحقيق الأربعين مجلداً التى بقيت منه، ولأننى لا أضمن امتداد العمر حتى الانتهاء من التحقيق، فقد جمعت الميكروفيلمات كلها - بعد تصويرها على الورق - فاحتفظت بالصورة الورقية وأهديت النسخ الميكروفيلمية إلى معهد المخطوطات العربية بالقاهرة، وأوصيتهم أن يصوروها لمن يأتى من بعدى، فى حالة موتى أو عدم إنجازى لتحقيق الكتاب، حتى يتمكَّن باحثٌ آخر
সেখানে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সাত দিন পর সাদ্দাম কুয়েত আক্রমণ করেন.. এবং দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু হয়।
কায়রোস্থ ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস (মাহাদ আল-মাখতুতা আল-আরাবিয়্যাহ)-এর নিকট বাগদাদ পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি সংরক্ষিত ছিল, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তখন বন্ধ ছিল। যখন এর দ্বার উন্মোচিত হলো, তখন আল্লাহ আমাদের জন্য পাণ্ডুলিপিটির আলোকচিত্র গ্রহণের পথ প্রশস্ত করে দিলেন। অতঃপর সময়ের পরিক্রমায় কেমব্রিজ (ইংল্যান্ড) পাণ্ডুলিপিটিও হস্তগত হলো, যাতে এই গ্রন্থের আরও কিছু অংশ বিদ্যমান এবং পাণ্ডুলিপিটিতে এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি খোদ লেখকের স্বহস্তে লিখিত। এভাবেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো এবং এই বিশাল বিশ্বকোষের অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর প্রতিলিপিগুলো একত্রিত হলো।
যে মুহূর্তে আমি পাণ্ডুলিপির এই সুবিশাল সংকলনটি (একটি মাত্র পাণ্ডুলিপি গ্রন্থের প্রায় দশ হাজার পৃষ্ঠা) একত্রিত করলাম, আমি ইবনে আন-নাফিসের মহানুভবতা ও পাণ্ডিত্যের গভীরতা উপলব্ধি করলাম এবং আমি আরও অনুভব করলাম যে: জীবন সংক্ষিপ্ত আর জ্ঞান সুদূরপ্রসারী!
আজ আমি এই গ্রন্থটির সম্পাদনা ও গবেষণার (তাহকীক) কাজ শুরু করছি, অথবা আরও স্পষ্টভাবে বললে—এর যে চল্লিশটি খণ্ড অবশিষ্ট রয়েছে সেগুলোর সম্পাদনার কাজ। যেহেতু এই সম্পাদনা শেষ হওয়া পর্যন্ত আমার জীবন দীর্ঘ হওয়ার কোনো সুনিশ্চিত গ্যারান্টি নেই, তাই আমি সমস্ত মাইক্রোফিল্ম সংগ্রহ করে সেগুলো কাগজে মুদ্রণ করার পর কাগজের অনুলিপিগুলো নিজের কাছে রেখেছি এবং মাইক্রোফিল্মের অনুলিপিগুলো কায়রোস্থ ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টসকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছি। আমি তাঁদেরকে এই মর্মে অসিয়ত করেছি যে, আমার মৃত্যু হলে বা আমি এই গ্রন্থের সম্পাদনা সম্পন্ন করতে না পারলে, তারা যেন আমার পরবর্তী গবেষকদের জন্য এগুলো প্রতিলিপি করার সুযোগ করে দেন, যাতে অন্য কোনো গবেষক এটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
من إتمام المهمة، دون المرور بهذه الرحلة الشاقة التى قطعتها بحثاً عن: كتاب واحد مخطوط (1) .
الشامل للشيرازيأثناء الرحلة الطويلة التى قطعتها باحثاً عن مخطوطات الشامل هنا وهناك ظل يخايلنى كتابٌ آخر بالعنوان نفسه، لمؤلفٍ آخر غير العلاء. وبلغت المخايلة غايتها فى دار الكتب المصرية، حيث تحتفظ الدار بمخطوطةٍ من الشامل الذى أبحثُ عنه، منسوبةً فى فهرس الدار - وهو فهرسٌ بدائىٌّ أقرب إلى القائمة الحصرية منه إلى الفهرس بمعناه العلمى - إلى مؤلِّفٍ اسمه: أبو سعيد بن أبى مسلم بن أبى الخير، الملقَّب بغيات الغيث.
وقبل الدخول فى تفاصيل هذا الإشكال الذى ألمحتُ إليه فى كتابى السابق دون الوصول إلى رأىٍّ حاسمٍ حوله (2) . أقول، قبل الدخول إلى ذلك، تجدر الإشارة إلى أن المفهرس التراثى العظيم: حاجى خليفة (مصطفى بن عبد الله القسطنطينى، المعروف بملا كاتب جلبى، المتوفى 1067 هجرية) كان قد ذكر فى كتابه الرائد: كشف الظنون (3) .. أربعةَ عشر كتاباً بعنوان الشامل منها كتابان فى الطب! والكتب الأربعة عشر، هى:
* شَامِلُ التفاسير (4) .
--------------------------------------------
...একটি পাণ্ডুলিপি গ্রন্থের (১) সন্ধানে যে ক্লান্তিকর যাত্রা আমি পাড়ি দিয়েছি, তা অতিক্রম না করেই এই দায়িত্ব সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।
শিরাজীর আশ-শামিলএখানে সেখানে আশ-শামিল-এর পাণ্ডুলিপি খুঁজে বেড়ানোর দীর্ঘ যাত্রাপথে একই শিরোনামের অন্য এক লেখকের বই আমার কল্পনায় ভাসছিল, যিনি আল-আলা ব্যতীত অন্য কেউ। এই সংশয় পূর্ণতা পায় মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ (মিশরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার); সেখানে আমার অন্বেষিত শামিল-এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে, যা লাইব্রেরির ক্যাটালগে—যা অত্যন্ত সেকেলে এবং বিজ্ঞানসম্মত তালিকার চেয়ে সাধারণ তালিকারই বেশি নিকটবর্তী—জনৈক লেখকের নামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার নাম: আবু সাঈদ বিন আবি মুসলিম বিন আবি আল-খাইর, যিনি গিয়াসুল গাইস উপাধিতে ভূষিত।
এই জটিলতার বিস্তারিত বর্ণনায় যাওয়ার আগে—যার প্রতি আমি আমার পূর্ববর্তী গ্রন্থে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ছাড়াই ইঙ্গিত দিয়েছিলাম (২)—এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রখ্যাত ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থতালিকা প্রণয়নকারী হাজি খলিফা (মুস্তফা বিন আবদুল্লাহ আল-কুস্তুনতিনী, যিনি মোল্লা কাতিব চালাবি নামে পরিচিত, মৃত্যু ১০৬৭ হিজরি) তাঁর যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘কাশফুয যুনুন’ (৩)-এ ‘আশ-শামিল’ শিরোনামে চৌদ্দটি গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে দুটি ছিল চিকিৎসাশাস্ত্র বিষয়ক! সেই চৌদ্দটি গ্রন্থ হলো:
* শামিলুত তাফাসীর (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
* الشَّامِلُ فى الأصول (1) .
* الشَّامِلُ فى أصول الدين، للجوينى.
* الشَّامِلُ من البحر الكامل (2) ، للطبسى.
* الشَّامِلُ فى تهذيب الذوات الإنسانية (فى التصوف) لعبد الخالق ابن أبى قاسم المصرى.
* الشَّامِلُ فى الجبر والمقابلة، لابن أسلم
* الشَّامِلُ فى علم الحرف، للسكَّاكى.
* الشَّامِلُ فى فروع الحنفية، للبيهقى.
* الشَّامِلُ فى فروع الشافعية، لابن الصباغ.
* الشَّامِلُ فى فروع المالكية، لبهرام الدميرى.
* الشَّامِلُ فى القراءات، للنيسابورى.
* الشَّامِلُ، لأبى الفضل محمد بن أبى جعفر المنذرى (3) .
* الشَّامِلُ فى الطِّبِّ، لأبى سعيد بن أبى مسلم بن أبى الخير الملقب بغيات الطبيب.
--------------------------------------------
* আশ-শামিল ফিল উসুল (১)।
* আশ-শামিল ফি উসুলিদ দ্বীন, ইমাম জুওয়াইনি বিরচিত।
* আশ-শামিল মিনাল বাহরিল কামিল (২), তাবাসি বিরচিত।
* আশ-শামিল ফি তাহজিবিল যাওয়াতিল ইনসানিয়্যাহ (তাসাউউফ শাস্ত্রীয়), আব্দুল খালিক ইবনে আবি কাসিম আল-মিসরি বিরচিত।
* আশ-শামিল ফিল জাবর ওয়াল মুকাবালা, ইবনে আসলাম বিরচিত।
* আশ-শামিল ফি ইলমিল হারফ, সাক্কাকি বিরচিত।
* আশ-শামিল ফি ফুরুউল হানাফিয়্যাহ, বায়হাকি বিরচিত।
* আশ-শামিল ফি ফুরুউশ শাফিইয়্যাহ, ইবনুস সাব্বাগ বিরচিত।
* আশ-শামিল ফি ফুরুউল মালিকিয়্যাহ, বাহরাম আদ-দামিরি বিরচিত।
* আশ-শামিল ফিল কিরাআত, নাইসাবুরি বিরচিত।
* আশ-শামিল, আবুল ফজল মুহাম্মাদ বিন আবি জাফর আল-মুনজিরি (৩) বিরচিত।
* আশ-শামিল ফিত তিব্ব (চিকিৎসা শাস্ত্র), আবু সাঈদ বিন আবি মুসলিম বিন আবিল খায়ের, যাঁর উপাধি ছিল গিয়াসুত তবিব, বিরচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
* الشَّامِلُ فى الطِّبِّ، للشيخ علاء الدين (على بن أبى الحزم القرشى ابن النفيس، الطبيب، المصرى، صاحب الموجز)
وفى تذييله على كشف الظنون أورد إسماعيل باشا البغدادى مزيداً من الكتب التى حملت عنوان الشامل.. بحيث صار لدينا عشرون كتاباً بهذا العنوان. وما أورده البغدادى، هو العناوين التالية:
* الشَّامِلُ فى علم القرآن، لأبى بكر الصولى.
* الشَّامِلُ فى فضائل الكامل، لابن خلف المصرى.
* الشَّامِلُ فى فقه الزيدية، ليحيى بن حمزة.
* الشَّامِلُ فى اللغة، لأبى منصور الأصبهانى.
* شَامِلُ اللغة، لعماد الدين القرَّه حصارى.
* الشَّامِلُ للعوامل، لمحمد البرزنجى (1) .
ومع وجود هذا العدد الكبير من الكتب التى تحمل عنوان الشامل ومع هذا (التداخل) الذى أحدثه مفهرس دار الكتب المصرية، حينما نسب المخطوطة إلى أبى سعيد مسلم بن أبى الخير.. وهو لم يكن يتوهَّم - فى واقع الأمر - وَهْماً كبيراً، فقد أورد المفهرسُ الكبير حاجى خليفة ما يدعم مفهرس الدار.. المهم أن الأمر اقتضى مزيداً من البحث، والحسم، لهذا الموضوع المتعلِّق تعلُّقا مباشراً بالموسوعة التى نحن بصدد نشرها محققةً. وقد انتهى بحثنا، إلى الآتى:
--------------------------------------------
চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'আশ-শামিল', শেখ আলাউদ্দিন (আলী বিন আবিল হাজম আল-কুরাশি ইবনে আন-নাফিস, চিকিৎসক, মিশরীয়, 'আল-মুজিজ' গ্রন্থের লেখক)-এর রচনা।
এবং 'কাশফ উজ-জুনুন'-এর পরিশিষ্টে ইসমাইল পাশা আল-বাগদাদি 'আশ-শামিল' শিরোনামের আরও কিছু কিতাব উল্লেখ করেছেন... যার ফলে আমাদের নিকট এই শিরোনামের বিশটি কিতাব জমা হয়েছে। আল-বাগদাদি যে শিরোনামগুলো উল্লেখ করেছেন তা হলো নিম্নরূপ:
* কুরআন বিজ্ঞানে 'আশ-শামিল', আবু বকর আস-সুলির রচনা।
* 'আশ-শামিল ফি ফাদাইলিল কামিল', ইবনে খালাফ আল-মিসরির রচনা।
* যাইদি ফিকহে 'আশ-শামিল', ইয়াহইয়া বিন হামজার রচনা।
* ভাষাতত্ত্বে 'আশ-শামিল', আবু মনসুর আল-আসবাহানির রচনা।
* 'শামিলুল লুগাহ', ইমাদ উদ্দিন আল-কারাহ হিসারির রচনা।
* 'আশ-শামিলু লিল আওয়ামিল', মুহাম্মদ আল-বারজানজির (১) রচনা।
'আশ-শামিল' শিরোনামের কিতাবের এই বিশাল সংখ্যা এবং 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ'-এর সূচিপত্র প্রস্তুতকারকের সৃষ্ট এই (জটিলতা) থাকা সত্ত্বেও, যখন তিনি পাণ্ডুলিপিটিকে আবু সাঈদ মুসলিম বিন আবিল খায়েরের প্রতি নিসবত করেছেন... বাস্তবপক্ষে তিনি খুব একটা ভুল ধারণা করেননি, কারণ প্রখ্যাত সূচিপত্র প্রস্তুতকারক হাজি খলিফা এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা উক্ত প্রতিষ্ঠানের সূচিপত্র প্রস্তুতকারকের দাবিকে সমর্থন করে। মূল কথা হলো যে, আমাদের প্রকাশিতব্য এই সম্পাদিত বিশ্বকোষের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত এই বিষয়টি আরও গবেষণা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দাবি রাখে। আমাদের গবেষণা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আশ-শামিল ফিস সিনআতিত তিব্বিয়াহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
أولاً: بصدد مخطوطة دار الكتب المنسوبة إلى أبى سعيد مسلم بن أبى الخير وهى المحفوظة بالدار تحت رقم 6057/ ل؛ ظهر أنها تضم الثلاثة أجزاء الأولى من موسوعة العلاء (ابن النفيس) وأنها تطابق طريقة الشامل فى الصناعة الطبية من حيث الأسلوب ونظام التقسيم الداخلى.. إلخ.
كما وجدنا مخطوطة أخرى منها، محفوظة بالظاهرية تحت رقم 7170/طب، ومنسوبةً هناك صراحةً للعلاء (ابن النفيس) .. وقد قدَّمتُ نماذج متطابقة من المخطوطتين، فى ملحق كتابى الأخير، حيث أوردتُ مجموعةً من المخطوطات النادرة التى ألَّفها العلاءُ، أو ارتبطت به (1) .
ثانياً: بالتنقيب وراء الكتاب (الآخر) الذى بعنوان الشامل تبيَّن أن هناك مخطوطتين منه. الأولى محفوظة بدار الكتب المصرية، ذاتها، تحت رقم 602/طب طلعت. والأخرى محفوظة بمكتبة أحمد الثالث باسطنبول، تحت رقم 2108 وقد جاء بأولها أنها: كتاب الشامل لابن الصورى! وجاء على بطاقة فهرستها: الشامل فى الطب، لأبى سعيد بن أبى الإمام أبى مسلم الشيرازى.
ثالثاً: بخصوص اسم المؤلِّف، ليس هناك طبيبٌ يكنَّى غياث الغيث وإنما وجدنا: غياث الدين أبا المعالى، العز بن أبى الفضل بن أبى العباس الأبرقوهى الشيرازى. ووجدنا: ابن الصورى رشيد الدين أبا المنصور بن أبى الفضل بن على الصورى. والأخير منهما، طبيبٌ عَشَّابٌ من أهل الشام، ولد سنة 573 بمدينة صور، ونشأ بها، ثم انتقل عنها، واشتغل بصناعة الطب ووضع من الكتب: الأدوية المفردة، الرد على كتاب التاج فى الأدوية المفردة. وكانت وفاته، وفق ما ذكره مواطنه ومعاصره ابن أبى أصيبعة: يوم الأحد، أول شهر
--------------------------------------------
প্রথমত: দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত ৬০৫৭/লাম নম্বরভুক্ত এবং আবু সাঈদ মুসলিম বিন আবি আল-খায়েরের প্রতি আরোপিত পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি মূলত আল-আলা (ইবনে আন-নাফিস) রচিত বিশ্বকোষের প্রথম তিনটি অংশ ধারণ করে এবং এটি শৈলী ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন পদ্ধতির দিক থেকে 'আশ-শামিল ফি আস-সিনাআত আত-তিব্বিয়্যাহ' এর রীতির সাথে হুবহু মিলে যায় ইত্যাদি।
এছাড়াও আমরা এই কিতাবটির আরেকটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি যা জাহিরিয়া গ্রন্থাগারে ৭১৭০/তিব্ব নম্বরে সংরক্ষিত এবং সেখানে এটি স্পষ্টভাবে আল-আলার (ইবনে আন-নাফিস) প্রতি সাব্যস্ত করা হয়েছে। আমি আমার শেষ গ্রন্থের পরিশিষ্টে এই উভয় পাণ্ডুলিপি থেকে কিছু হুবহু নমুনা পেশ করেছি, যেখানে আমি আল-আলা কর্তৃক রচিত অথবা তাঁর সাথে সম্পর্কিত কিছু দুর্লভ পাণ্ডুলিপির সংকলন তুলে ধরেছি (১)।
দ্বিতীয়ত: 'আশ-শামিল' শিরোনামের (অন্য) কিতাবটির অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে যে, এর দুইটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। প্রথমটি মিসরের দারুল কুতুব-এই ৬০২/তিব্ব তালাত নম্বরে সংরক্ষিত। আর অন্যটি ইস্তাম্বুলের সুলতান তৃতীয় আহমদ পাঠাগারে ২১০৮ নম্বরে সংরক্ষিত। এর শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে যে: এটি ইবনে আস-সুরির কিতাব 'আশ-শামিল'! আবার এর ক্যাটালগ কার্ডে লেখা আছে: 'আশ-শামিল ফি আত-তিব্ব', লেখক আবু সাঈদ বিন আবি আল-ইমাম আবি মুসলিম আশ-শিরাজি।
তৃতীয়ত: লেখকের নামের ব্যাপারে বলা যায় যে, 'গিয়াছুল গাইস' উপনামের কোনো চিকিৎসকের অস্তিত্ব নেই। বরং আমরা পেয়েছি: গিয়াছউদ্দিন আবাল মাআলি আল-ইজ্জ বিন আবি আল-ফাদল বিন আবি আল-আব্বাস আল-আবরকুহি আশ-শিরাজিকে। এবং আমরা পেয়েছি: ইবনে আস-সুরি রশিদউদ্দিন আবাল মানসুর বিন আবি আল-ফাদল বিন আলী আস-সুরিকে। তাদের মধ্যে পরবর্তীজন ছিলেন শাম অঞ্চলের একজন চিকিৎসক ও ভেষজতত্ত্ববিদ, যিনি ৫৭৩ হিজরিতে সুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে চলে যান এবং চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি 'আল-আদউইয়াহ আল-মুফরাদাহ' এবং 'আর-রাদ্দু আলা কিতাবিত তাজ ফিল আদউইয়াহ আল-মুফরাদাহ' নামক গ্রন্থসমূহ রচনা করেন। তাঁর স্বদেশী ও সমসাময়িক লেখক ইবনে আবি উসাইবিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু হয়: রবিবার, মাসের প্রথম দিন...
--------------------------------------------