(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: -)
فتح المجيد شرح كتاب التوحيد القسم: العقيدة
الكتاب: فتح المجيد شرح كتاب التوحيد
المؤلف: عبد الرحمن بن حسن بن محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي (ت 1285 هـ)
المحقق: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ]
الناشر: مطبعة السنة المحمدية، القاهرة، مصر
الطبعة: السابعة، 1377 هـ/1957 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 518
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাতহুল মাজিদ শারহ কিতাবুত তাওহিদ বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: ফাতহুল মাজিদ শারহ কিতাবুত তাওহিদ
লেখক: আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি (মৃ. ১২৮৫ হি.)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকি [মৃ. ১৩৭৮ হি.]
প্রকাশক: মাতবাআতুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ, কায়রো, মিশর
সংস্করণ: সপ্তম, ১৩৭৭ হি./১৯৫৭ খ্রি.
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১৮
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…فتح المجيد شرح كتاب التوحيد
تأليف: عبد الله بن حسن آل الشيخ
تحقيق: محمد حامد الفقي
بسم الله الرحمن الر حيم
مفدمة
الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، ولا عدوان إلا على الظالمين كالمبتدعة والمشركين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، إله الأولين والآخرين، وقيوم السماوات والأرضين. وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، وخيرته من خلقه أجمعين. اللهم صل على محمد وعلى آل محمد وأصحابه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فإن كتاب التوحيد الذي ألفه الإمام شيخ الإسلام "محمد بن عبد الوهاب"1 أجزل الله له الأجر والثواب، وغفر له ولمن أجاب دعوته إلي يوم يقوم الحساب قد جاء بديعا في معناه: من بيان التوحيد ببراهينه، وجمع جملا من أدلته لإيضاحه وتبيينه. فصار علما للموحدين، وحجة على الملحدين. فانتفع به الخلق الكثير، والجم الغفير. فإن هذا الإمام رحمه الله في مبدأ منشئه قد شرح الله صدره للحق المبين، الذي بعث الله به المرسلين: من إخلاص العبادة بجميع أنواعها لله رب العالمين، وإنكار ما كان عليه الكثير من شرك المشركين، فأعلى الله همته، وقوى عزيمته، وتصدى لدعوة أهل نجد إلى التوحيد، الذي هو أساس الإسلام والإيمان، ونهاهم عن عبادة الأشجار والأحجار والقبور، والطواغيت والأوثان، وعن الإيمان بالسحرة والمنجمين والكهان، فأبطل الله بدعوته كل بدعة وضلالة يدعو إليها كل شيطان، وأقام الله به علم الجهاد، وأدحض به شبه المعارضين من أهل الشرك والعناد، ودان بالإسلام أكثر أهل تلك البلاد، الحاضر منهم والباد، وانتشرت دعوته ومؤلفاته في الآفاق، حتى أقر له بالفضل من كان من أهل الشقاق، إلا من استحوذ عليه الشيطان، وكره إليه الإيمان، فأصر على العناد والطغيان. وقد أصبح أهل جزيرة العرب بدعوته، كما قال قتادة رحمه الله عن حال أول هذه الأمة: "إن المسلمين لما قالوا: "لا إله إلا الله" أنكر ذلك المشركون وكبرت عليهم، وضاق بها إبليس وجنوده، فأبى الله إلا أن يمضيها ويظهرها، ويفلجها وينصرها على من ناوأها، إنها كلمة من خاصم بها فلج، ومن قاتل
بها نصر، إنما يعرفها أهل هذه الجزيرة التي يقطعها الراكب في ليال قلائل، ويسير من الدهر في فئام من الناس، لا يعرفونها ولا يقرون بها".
--------------------------------------------
ভূমিকা...ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
রচনায়: আব্দুল্লাহ বিন হাসান আল-শেখ
সম্পাদনা: মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা
সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর সীমালঙ্ঘনকারী—যেমন বিদআতী ও মুশরিকরা—ব্যতীত কারও ওপর কোনো শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের উপাস্য এবং আসমানসমূহ ও জমিনসমূহের নিয়ন্ত্রক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল এবং তাঁর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর, আর যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে। আর তাঁদের ওপর অঢেল সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: নিশ্চয়ই 'কিতাবুত তাওহীদ', যা ইমাম শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব রচনা করেছেন—আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে ও তাঁর দাওয়াতের আহবানে সাড়া দানকারীদের কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ক্ষমা করুন—তা এর মর্মার্থে অনন্যরূপে প্রকাশিত হয়েছে: যেখানে তাওহীদকে এর অকাট্য প্রমাণসহ বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য দলীলসমূহের সমাহার ঘটানো হয়েছে। ফলে এটি তাওহীদপন্থীদের জন্য একটি মাইলফলক এবং সত্যবিমুখদের বিরুদ্ধে একটি দলীলে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে অগণিত মানুষ ও বিশাল জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়েছে। এই ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সূচনালগ্ন থেকেই আল্লাহ তাঁর অন্তরকে সেই সুস্পষ্ট সত্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, যা দিয়ে আল্লাহ রাসূলগণকে পাঠিয়েছিলেন: অর্থাৎ ইবাদতের যাবতীয় প্রকার কেবল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্যই একনিষ্ঠ করা, এবং অনেক মানুষ যে শিরকে লিপ্ত ছিল তার প্রতিবাদ করা। আল্লাহ তাঁর হিম্মতকে সমুন্নত করেছেন এবং তাঁর সংকল্পকে শক্তিশালী করেছেন, ফলে তিনি নজদবাসীদের সেই তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন যা ইসলাম ও ঈমানের মূল ভিত্তি। তিনি তাঁদেরকে গাছপালা, পাথর, কবর, তাগুত ও মূর্তিপূজা থেকে এবং জাদুকর, জ্যোতিষী ও গণকদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন থেকে নিষেধ করেন। আল্লাহ তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে প্রতিটি বিদআত ও ভ্রষ্টতাকে বাতিল করে দেন যার দিকে প্রতিটি শয়তান আহ্বান করে। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে জিহাদের ঝাণ্ডা সমুন্নত করেন এবং এর মাধ্যমে শিরক ও হঠকারিতায় লিপ্ত বিরোধীদের সংশয়সমূহ চূর্ণবিচূর্ণ করেন। সেই অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী, স্থায়ী বাসিন্দা ও মরুবাসী ইসলামের অনুগামী হয় এবং দিগন্তজুড়ে তাঁর দাওয়াত ও রচনাবলী ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি যারা বিরোধিতাকারী ছিল তারাও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়, কেবল তারা ব্যতীত যাদের ওপর শয়তান সওয়ার হয়েছে এবং ঈমানকে তাদের কাছে অপ্রিয় করে দিয়েছে, ফলে তারা হঠকারিতা ও অবাধ্যতার ওপর অটল থাকে। তাঁর দাওয়াতের ফলে আরব উপদ্বীপের বাসিন্দারা এমন হয়ে গেল যেমন কাতাদা (রহিমাহুল্লাহ) এই উম্মতের প্রথম যুগের অবস্থা সম্পর্কে বলেছিলেন: "মুসলিমরা যখন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলল, তখন মুশরিকরা তা অস্বীকার করল এবং এটি তাদের কাছে ভারী মনে হলো। ইবলিস ও তার বাহিনী এতে সংকুচিত হয়ে গেল। কিন্তু আল্লাহ চাইলেন একে কার্যকর ও প্রকাশ করতে এবং একে বিজয়ী করতে ও সাহায্য করতে তাদের বিরুদ্ধে যারা এর বিরোধিতা করে। এটি এমন এক বাণী, যে এর মাধ্যমে বিতর্ক করে সে জয়ী হয়, আর যে এর মাধ্যমে লড়াই
করে সে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। কেবল এই উপদ্বীপের মানুষরাই একে চিনেছিল, যা একজন আরোহী মাত্র কয়েক রাতে অতিক্রম করে ফেলে, অথচ দীর্ঘকাল ধরে বিশাল এক মানবগোষ্ঠী বিচরণ করলেও তারা একে চিনত না এবং এর স্বীকৃতি দিত না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقد شرح الله صدور كثير من العلماء لدعوته، وسروا واستبشروا بطلعته، وأثنوا عليه نثرا ونظما.
فمن ذلك ما قاله عالم صنعاء: محمد بن إسماعيل الأمير1 في هذا الشيخ -رحمه الله تعالى-:
وقد جاءت الأخبار عنه بأنه
… يعيد لنا الشرع الشريف بما يبدي
وينشر جهرا ما طوى كل جاهل
… ومبتدع منه فوافق ما عندي
ويعمر أركان الشريعة هادما
… مشاهد ضل الناس فيها عن الرشد
أعادوا بها معنى سواع ومثله
… يغوث وود بئس ذلك من ود
وقد هتفوا عند الشدائد باسمها
… كما يهتف المضطر بالصمد الفرد
وكم عقروا في سوحها من عقيرة
… أهلت لغير الله جهرا على عمد
وكم طائف حول القبور مقبل
… ومستلم الأركان منهن بالأيدي
وقال شيخنا عالم الأحساء أبو بكر حسين بن غنام -رحمه الله تعالى- فيه: 2
لقد رفع المولى به رتبة الهدى
… بوقت به يعلى الضلال ويرفع
سقاه نمير الفهم مولاه فارتوى
… وعام بتيار المعارف يقطع
فأحيا به التوحيد بعد اندراسه
… وأوهى به من مطلع الشرك مهيع
سما ذروة المجد التي ما ارتقى لها
… سواه ولا حاذى فناها سميذع
وشمر في منهاج سنة أحمد
… يشيد ويحيي ما تعفى ويرفع
يناظر بالآيات والسنة التي
… أمرنا إليها في التنازع نرجع
فأضحت به السمحاء يبسم ثغرها
… وأمسى محياها يضيء ويلمع
--------------------------------------------
আল্লাহ অনেক আলেমের অন্তরকে তাঁর দাওয়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তাঁরা তাঁর আবির্ভাবে আনন্দিত ও সুসংবাদপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং গদ্য ও পদ্যে তাঁর প্রশংসা করেছেন।
এর মধ্যে সানা'র আলেম মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-আমীর১ এই শাইখ -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- সম্পর্কে যা বলেছেন তা অন্যতম:
নিশ্চয়ই তাঁর সম্পর্কে সংবাদ এসেছে যে, তিনি
… যা প্রকাশ করেন তার মাধ্যমে আমাদের নিকট মহিমান্বিত শরীয়তকে ফিরিয়ে আনছেন
এবং তিনি প্রকাশ্যে তা প্রচার করছেন যা প্রত্যেক মূর্খ
… ও বিদআতী গোপন করেছিল, ফলে তা আমার নিকট যা আছে তার সাথে মিলে গেল
তিনি শরীয়তের রুকনসমূহকে আবাদ করছেন ধ্বংস করার মাধ্যমে
… এমন সব মাজার যেগুলোতে মানুষ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে
তারা এগুলোর মাধ্যমে সুওয়া-এর অর্থকে ফিরিয়ে এনেছে এবং তার মতো
… ইয়াগুস ও ওয়াদ্দ-এর; কতই না নিকৃষ্ট সেই প্রীতি
বিপদ-আপদের সময় তারা সেগুলোর নাম ধরে ডাক দেয়
… যেমনটি একজন নিরুপায় ব্যক্তি একক অমুখাপেক্ষী সত্তাকে ডাকে
তারা সেগুলোর প্রাঙ্গণে কতই না পশু বলি দিয়েছে
… যা জেনেবুঝে প্রকাশ্যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছিল
কবরের চারধারে কতই না তাওয়াফকারী রয়েছে যারা চুম্বন করছে
… এবং হাত দিয়ে সেগুলোর কোণা স্পর্শ করছে
আর আমাদের শাইখ আহসা'র আলেম আবু বকর হুসাইন বিন গান্নাম -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ২
নিশ্চয়ই মালিক তাঁর মাধ্যমে হেদায়েতের মর্যাদা বুলন্দ করেছেন
… এমন এক সময়ে যখন পথভ্রষ্টতা মাথাচাড়া দিচ্ছিল এবং সমুন্নত হচ্ছিল
তাঁর মালিক তাঁকে বোধশক্তির নির্মল পানীয় পান করিয়েছেন ফলে তিনি পরিতৃপ্ত হয়েছেন
… এবং জ্ঞানের প্রবাহে সাঁতার কেটে পথ চলছেন
তিনি তাঁর মাধ্যমে তাওহীদকে মিটে যাওয়ার পর পুনরুজ্জীবিত করেছেন
… এবং শিরকের উৎপত্তিস্থল ও পথকে দুর্বল করে দিয়েছেন
তিনি সম্মানের সেই চূড়ায় আরোহণ করেছেন যেখানে
… তিনি ছাড়া আর কেউ পৌঁছাতে পারেনি এবং কোনো বীরও তার আঙ্গিনায় পৌঁছাতে পারেনি
তিনি আহমাদ (সা.)-এর সুন্নাহর মানহাজে তৎপর হয়েছেন
… যা মিটে গিয়েছিল তা পুনরায় নির্মাণ ও জীবিত করছেন এবং বুলন্দ করছেন
তিনি আয়াত এবং সুন্নাহর মাধ্যমে বিতর্ক করেন যেগুলোর দিকে
… বিরোধের সময় ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
তাঁর কারণে সহজ-সরল দ্বীন হাস্যোজ্জ্বল হয়েছে
… এবং তার অবয়ব উজ্জ্বল ও উদ্ভাসিত হয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وعاد به نهج الغواية طامسا
… وقد كان مسلوكا به الناس ترتع
وجرت به نجد ذيول افتخارها
… وحق لها بالألمعي ترفع
فآثاره فيها سوام سوافر
… وأنواره فيها تضيء وتلمع
وأما كتابه المذكور فموضوعه في بيان ما بعث به الله رسله: من توحيد العبادة، وبيانه بالأدلة من الكتاب والسنة، وذكر ما ينافيه من الشرك الأكبر، أو ينافي كماله الواجب من الشرك الأصغر ونحوه، وما يقرب من ذلك أو يوصل إليه.
وقد تصدى لشرحه حفيد المصنف، وهو الشيخ سليمان بن عبد الله -رحمه الله تعالى-1 فوضع عليه شرحا أجاد فيه وأفاد، وأبرز فيه من البيان ما يجب أن يطلب منه ويراد، وسماه "تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب التوحيد".
وحيث أطلق "شيخ الإسلام" فالمراد به أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية، و "الحافظ" فالمراد به أحمد بن حجر العسقلاني.
ولما قرأت شرحه رأيته أطنب في مواضع، وفي بعضها تكرار يستغنى بالبعض منه عن الكل ولم يكمله، فأخذت في تهذيبه وتقريبه وتكميله، وربما أدخلت فيه بعض النقول المستحسنة تتميما للفائدة، وسميته "فتح المجيد بشرح كتاب التوحيد".
وأسأل الله أن ينفع به كل طالب للعلم ومستفيد، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وموصلا من سعى فيه إلى جنات النعيم، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
قال المصنف رحمه الله تعالى:
--------------------------------------------
এবং তার মাধ্যমে বিভ্রান্তির পথ বিলুপ্ত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে গেল
… অথচ একসময় মানুষ তাতে যথেচ্ছ বিচরণ করত।
নাজদ তার মাধ্যমে তার গর্বের আঁচল টেনেছে
… আর এই প্রখর মেধাবীর কারণে তার উচ্চ মর্যাদা লাভ করাটা যথার্থই।
সেখানে তার কর্ম ও স্মৃতিচিহ্নসমূহ সুষ্পষ্ট ও প্রকাশ্য
… এবং সেখানে তার নূরসমূহ প্রজ্জ্বলিত ও বিকিরিত হচ্ছে।
আর তার উল্লিখিত কিতাবটির বিষয়বস্তু হলো—আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা বর্ণনা করা: অর্থাৎ ইবাদতের তাওহীদ; এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করা। এছাড়া তাওহীদের পরিপন্থী শিরকে আকবর (বড় শিরক) এবং ওয়াজিব পূর্ণতার পরিপন্থী শিরকে আসগার (ছোট শিরক) ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ এবং যা এর নিকটবর্তী বা এর দিকে ধাবিত করে, তা উল্লেখ করা।
গ্রন্থকারের পৌত্র শেখ সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—১ এটি ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যাতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা দেখিয়েছেন এবং অনেক ফায়েদা প্রদান করেছেন। এতে তিনি এমন সব বিষয় সুস্পষ্ট করেছেন যা কাম্য ও কাঙ্ক্ষিত। তিনি এর নাম রেখেছেন ‘তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ’।
যেখানেই নিঃশর্তভাবে ‘শাইখুল ইসলাম’ বলা হবে, সেখানে উদ্দেশ্য হবে আবু আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ। আর ‘আল-হাফিয’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী।
যখন আমি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পড়লাম, তখন দেখলাম তিনি কিছু জায়গায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং কিছু স্থানে এমন পুনরাবৃত্তি রয়েছে যা সংক্ষেপ করা সম্ভব ছিল, আর তিনি এটি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। তাই আমি এটি পরিমার্জন, সহজীকরণ ও সম্পন্ন করার কাজ শুরু করলাম। অনেক সময় ফায়েদা পূর্ণ করার লক্ষ্যে এতে কিছু পছন্দনীয় উদ্ধৃতি সংযোজন করেছি। আমি এর নাম দিয়েছি ‘ফাতহুল মাজীদ বিশারহি কিতাবিত তাওহীদ’।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে প্রত্যেক ইলম অন্বেষণকারী ও উপকৃত ব্যক্তিকে ফায়দা দান করেন এবং একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আর এর পেছনে প্রচেষ্টাকারীকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে পৌঁছে দেন। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
গ্রন্থকার —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন— বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
"بسم الله الرحمن الرحيم"
ابتدأ كتابه بالبسملة اقتداء بالكتاب العزيز، وعملا بحديث:
" كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الر حيم فهو أقطع " 1 أخرجه ابن حبان من طريقين. قال ابن الصلاح: " والحديث حسن" 2.
ولأبي داود وابن ماجه: " كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله، أو بالحمد فهو أقطع " 3.
ولأحمد: " كل أمر ذي بال لا يفتتح بذكر الله، فهو أبتر أو أقطع " 4. وللدارقطني عن أبي هريرة مرفوعا: " كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بذكر الله فهو أقطع " 5.
والمصنف قد اقتصر في بعض نسخه على البسملة، لأنها من أبلغ الثناء والذكر للحديث المتقدم. وكان النبي صلي الله عليه وسلم يقتصر عليها في مراسلاته، كما في كتابه لهرقل عظيم الروم6. ووقع لي نسخة بخطه -رحمه الله تعالى- بدأ فيها بالبسملة، وثنى بالحمد والصلاة على النبي صلي الله عليه وسلم وآله.
وعلى هذا فالابتداء بالبسملة حقيقي، وبالحمدلة نسبي إضافي، أي بالنسبة إلى ما بعد الحمد يكون مبدوءا به.
والباء في "بسم الله" متعلقة بمحذوف، واختار كثير من المتأخرين كونه فعلا خاصا متأخرا.
أما كونه فعلا؛ فلأن الأصل في العمل للأفعال.
وأما كونه خاصا؛ فلأن كل مبتدئ بالبسملة في أمر يضمر ما جعل البسملة مبدأ له.
وأما كونه متأخرا، فلدلالته على الاختصاص، وأدخل في التعظيم، وأوفق للوجود; ولأن أهم ما يبدأ به ذكر الله تعالى.
وذكر العلامة ابن القيم -رحمه الله تعالى- لحذف العامل فوائد، منها: أنه موطن لا ينبغي أن يتقدم فيه غير ذكر الله. ومنها: أن الفعل إذا حذف صح الابتداء بالبسملة في كل عمل وقول وحركة، فكان الحذف أعم. انتهى ملخصا.
وباء "بسم الله" للمصاحبة. وقيل: للاستعانة. فيكون التقدير: بسم الله أؤلف حال
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তিনি তাঁর কিতাবটি মহাগ্রন্থের (কুরআন) অনুসরণ করে এবং এই হাদীসের ওপর আমল করে বাসমালাহ দ্বারা শুরু করেছেন:
"যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম) দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা।" ১ এটি ইবনে হিব্বান দুই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে সালাহ বলেছেন: "হাদীসটি হাসান।" ২।
আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনায় রয়েছে: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা, অথবা আলহামদু দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা।" ৩।
ইমাম আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর জিকির দ্বারা শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ বা লেজকাটা।" ৪। আর দারাকুতনী আবু হুরায়রা থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর জিকির দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা।" ৫।
গ্রন্থকার তাঁর কিছু পাণ্ডুলিপিতে কেবল বাসমালার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, কারণ পূর্বোক্ত হাদীসের প্রেক্ষিতে এটিই আল্লাহর অত্যন্ত উচ্চাঙ্গের প্রশংসা ও জিকির। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চিঠিপত্র আদান-প্রদানে বাসমালার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতেন, যেমন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের নিকট প্রেরিত তাঁর চিঠিতে দেখা যায় ৬। আমি লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি পেয়েছি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- যেখানে তিনি বাসমালাহ দিয়ে শুরু করেছেন এবং দ্বিতীয়ত আল্লাহর প্রশংসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ পাঠ করেছেন।
সেই হিসেবে বাসমালাহ দ্বারা সূচনা করা হলো প্রকৃত সূচনা, আর প্রশংসার মাধ্যমে সূচনা করা হলো আপেক্ষিক বা পরোক্ষ সূচনা; অর্থাৎ প্রশংসার পরবর্তী বিষয়ের তুলনায় একেই সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
"বিসমিল্লাহ" বাক্যে 'বা' অক্ষরটি একটি ঊহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। পরবর্তীকালের অনেক আলিম একে একটি নির্দিষ্ট এবং শেষে অবস্থিত ক্রিয়া হিসেবে পছন্দ করেছেন।
একে 'ক্রিয়া' হিসেবে গণ্য করার কারণ হলো, মূলত ক্রিয়ার মাধ্যমেই কাজ সম্পাদিত হয়।
একে 'নির্দিষ্ট' বলার কারণ হলো, যে ব্যক্তি কোনো কাজের শুরুতে বাসমালাহ পাঠ করেন, তিনি মনে মনে সেই কাজটিকে নির্দিষ্ট করে নেন যার সূচনা তিনি বাসমালাহ দিয়ে করছেন।
একে 'শেষে অবস্থিত' বলার কারণ হলো, এটি কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে, যা সম্মান প্রদর্শনের জন্য অধিক উপযোগী এবং বাস্তব অবস্থার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর জিকির দিয়ে শুরু করা।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- এই ঊহ্য রাখার (হজফ) পেছনে কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আল্লাহর জিকির ছাড়া অন্য কিছু আগে আসা বাঞ্ছনীয় নয়। অন্যটি হলো: ক্রিয়াটি ঊহ্য থাকলে প্রতিটি কাজ, কথা ও নড়াচড়ার ক্ষেত্রে বাসমালাহ দ্বারা শুরু করা শুদ্ধ হয়, তাই ঊহ্য রাখাটাই অর্থগতভাবে অধিক ব্যাপক। সংক্ষেপিত আলোচনা সমাপ্ত।
আর "বিসমিল্লাহ" এর 'বা' অক্ষরটি সাহচর্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ বলেছেন: এটি সাহায্য প্রার্থনার জন্য। সেক্ষেত্রে ভাবার্থ হবে: আল্লাহর নামে আমি এটি সংকলন করছি এমন অবস্থায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
لله در الغانيات المده
… سبحن واسترجعن من تألهي1"
يعني من تعبدي وطلبي الله بعملي. ولا شك أن التأله التفعل، من أله يأله، وأن معنى "أله" إذا نطق به: عبد الله. وقد جاء منه مصدر يدل على أن العرب قد نطقت منه بفعل يفعل بغير زيادة. وذلك ما حدثنا به سفيان بن وكيع وساق السند إلى ابن عباس: "أنه قرأ {وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ} "3" قال: عبادتك. ويقول: إنه كان يعبد ولا يعبد ". وساق بسند آخر عن ابن عباس: "ويذرك وآلهتك. قال: إنما كان فرعون يعبد ولا يعبد". وذكر مثله عن مجاهد، ثم قال: فقد بين قول ابن عباس ومجاهد هذا: أن "أله" "عبد" وأن الإلهة مصدره، وساق حديثا عن أبي سعيد مرفوعا: 2 " أن عيسى أسلمته أمه إلى الكتاب ليعلمه. فقال له المعلم: اكتب بسم الله. فقال عيسى: أتدري ما الله؟ الله إله الآلهة ".
قال العلامة ابن القيم رحمه الله: لهذا الاسم الشريف عشر خصائص لفظية، وساقها. ثم قال: وأما خصائصه المعنوية فقد قال أعلم الخلق صلي الله عليه وسلم:
3 " لا أحصي ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك " وكيف نحصي خصائص اسم لمسماه كل كمال على الإطلاق، وكل مدح وحمد، وكل ثناء وكل مجد، وكل جلال وكل كمال، وكل عز وكل جمال، وكل خير وإحسان وجود وفضل وبر فله ومنه؟ فما ذكر هذا الاسم في قليل إلا كثره، ولا عند خوف إلا أزاله ولا عند كرب إلا كشفه، ولا عند هم وغم إلا فرجه، ولا عند ضيق إلا وسعه، ولا تعلق به ضعيف إلا أفاده القوة، ولا ذليل إلا أناله العز، ولا فقير إلا أصاره غنيا، ولا مستوحش إلا آنسه، ولا مغلوب إلا أيده ونصره، ولا مضطر إلا كشف ضره، ولا شريد إلا آواه. فهو الاسم الذي تكشف به الكربات، وتستنزل به البركات، وتجاب به الدعوات، وتقال به العثرات، وتستدفع به السيئات،
--------------------------------------------
সুন্দরীদের জন্য আল্লাহর কতই না অনুগ্রহ!
… তারা বিস্মিত হলো এবং আমার উপাসনা দেখে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পাঠ করল।"১
অর্থাৎ আমার ইবাদত এবং আমার আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'তাতাল্লুহ' শব্দটি 'তাফা’উল' ছাঁচ থেকে এসেছে, যা 'আলাহা-ইয়া’লাহু' থেকে উদ্ভূত। আর যখন 'আলাহা' উচ্চারণ করা হয়, তার অর্থ হয়: সে আল্লাহর ইবাদত করেছে। এ থেকে এমন একটি ক্রিয়ামূল বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, আরবরা অতিরিক্ত অক্ষর ছাড়াই ‘ফা’আলা-ইয়াফ’আলু’ ওজনে এর ব্যবহার করত। তা হলো যা আমাদের কাছে সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ইবনে আব্বাস পর্যন্ত সনদটি নিয়ে গেছেন: "তিনি পাঠ করেছেন {এবং সে আপনাকে ও আপনার উপাসনাকে বর্জন করবে} ৩। তিনি বললেন: এর অর্থ আপনার ইবাদত। তিনি বলেন: ফেরাউন নিজে উপাসনা করত, তার উপাসনা করা হতো না।" অন্য একটি সনদে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত: "সে আপনাকে ও আপনার উপাসনাকে বর্জন করবে। তিনি বলেন: ফেরাউন কেবল ইবাদত করত কিন্তু তার ইবাদত করা হতো না।" মুজাহিদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তারপর তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস ও মুজাহিদের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, 'আলাহা' অর্থ 'ইবাদত করা' এবং 'ইলাহাহ' হলো তার ক্রিয়ামূল। আবু সাঈদ থেকে মারফু সূত্রে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: ২ "ঈসাকে তাঁর মা মক্তবে পাঠিয়েছিলেন শিক্ষা গ্রহণের জন্য। শিক্ষক তাকে বললেন: লিখুন 'আল্লাহর নামে'। ঈসা বললেন: আপনি কি জানেন 'আল্লাহ' কে? আল্লাহ হলেন সকল ইলাহের ইলাহ।"
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই সম্মানিত নামের দশটি শাব্দিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তিনি তা বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি বলেন: আর এর অর্থগত বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে সৃষ্টির সর্বাধিক জ্ঞানী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
৩ "আমি আপনার প্রশংসার কোনো সীমা নির্ধারণ করতে পারি না; আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।" আর আমরা এমন একটি নামের বৈশিষ্ট্য কীভাবে গণনা করব যার অধিকারীর জন্য নিরঙ্কুশ সকল পূর্ণতা, সকল প্রশংসা ও স্তুতি, সকল মহিমা ও গৌরব, সকল গাম্ভীর্য ও পূর্ণতা, সকল মর্যাদা ও সৌন্দর্য এবং সকল কল্যাণ, অনুগ্রহ, দান ও বদান্যতা সাব্যস্ত? সবকিছুই তাঁর জন্য এবং তাঁরই পক্ষ থেকে। অল্প জিনিসের সাথে এই নাম স্মরণ করা হলে তা বৃদ্ধি পায়, ভয়ের সময় স্মরণ করলে তা অপসারিত হয়, বিপদের সময় স্মরণ করলে তা মোচন হয়, দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের সময় স্মরণ করলে তা প্রশমিত হয় এবং সংকীর্ণতার সময় স্মরণ করলে তা প্রশস্ত হয়ে যায়। কোনো দুর্বল ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরলে সে শক্তি পায়, কোনো লাঞ্ছিত ব্যক্তি একে অবলম্বন করলে মর্যাদা লাভ করে, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি একে ধরলে সে ধনী হয়, কোনো একাকী ব্যক্তি এতে স্বস্তি পায়, কোনো বিজিত ব্যক্তি এর মাধ্যমে সাহায্য ও বিজয় লাভ করে, কোনো নিরুপায় ব্যক্তির কষ্ট এর মাধ্যমে দূরীভূত হয় এবং কোনো আশ্রয়হীন ব্যক্তি এতে আশ্রয় পায়। এটিই সেই নাম যার মাধ্যমে দুঃখ-কষ্ট দূর করা হয়, বরকত নাযিল করা হয়, প্রার্থনা কবুল করা হয়, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করা হয় এবং মন্দসমূহ প্রতিহত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وتستجلب به الحسنات. وهو الاسم الذي قامت به الأرض والسماوات، وبه أنزلت الكتب، وبه أرسلت الرسل، وبه شرعت الشرائع، وبه قامت الحدود، وبه شرع الجهاد، وبه انقسمت الخليقة إلى السعداء والأشقياء، وبه خقت الحاقة، ووقعت الواقعة، وبه وضعت الموازين القسط ونصب الصراط، وقام سوق الجنة والنار، وبه عبد رب العالمين وحمد، وبحقه بعثت الرسل، وعنه السؤال في القبر ويوم البعث والنشور، وبه الخصام وإليه المحاكمة، وفيه الموالاة والمعاداة، وبه سعد من عرفه وقام بحقه،
وبه شقي من جهله وترك حقه; فهو سر الخلق والأمر. وبه قاما وثبتا، وإليه انتهيا، فالخلق به وإليه ولأجله. فما وجد خلق ولا أمر ولا ثواب ولا عقاب إلا مبتدئا منه ومنتهيا إليه. وذلك موجبه ومقتضاه {رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} 1 إلى آخر كلامه -رحمه الله تعالى-.
قوله: {الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} 2 قال ابن جرير: حدثني السري بن يحيى حدثنا عثمان بن زفر سمعت العرزمي يقول: "الرحمن بجميع الخلق، والرحيم بالمؤمنين".
وساق بسنده عن أبي سعيد - يعني الخدري - قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم3 " إن عيسى ابن مريم قال: الرحمن: رحمن الآخرة والدنيا. والرحيم: رحيم الآخرة " 4.
قال ابن القيم -رحمه الله تعالى-: 5 " فاسمه "الله" دل على كونه مألوها معبودا. يألهه الخلائق محبة وتعظيما وخضوعا، ومفزعا إليه في الحوائج والنوائب. وذلك مستلزم لكمال ربوبيته ورحمته، المتضمنين لكمال الملك والحمد، وإلهيته وربوبيته ورحمانيته وملكه مستلزم لجميع صفات كماله؛ إذ يستحيل ثبوت ذلك لمن ليس بحي، ولا سميع، ولا بصير، ولا قادر، ولا متكلم، ولا فعال لما يريد، ولا حكيم في أقواله وأفعاله. فصفات الجلال والجمال أخص باسم "الله"، وصفات الفعل والقدرة والتفرد بالضر والنفع "العطاء والمنع ونفوذ المشيئة وكمال القوة وتدبير أمر الخليقة أخص باسم الرب"، وصفات الإحسان والجود والبر والحنان والمنة والرأفة واللطف أخص باسم "الرحمن".
وقال رحمه الله أيضا: " "الرحمن" دال على الصفة القائمة به سبحانه. "والرحيم" دال
--------------------------------------------
এবং এর মাধ্যমেই নেকি অর্জিত হয়। এটি সেই নাম যার মাধ্যমেই আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার মাধ্যমেই কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, যার মাধ্যমেই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, যার মাধ্যমেই শরীয়তসমূহ প্রবর্তিত হয়েছে, যার মাধ্যমেই দণ্ডবিধি (হুদুদ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমেই জিহাদ বৈধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই সৃষ্টিজগত সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগ্যবান—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমেই মহাসত্য (কিয়ামত) সত্যে পরিণত হয়েছে এবং অনিবার্য ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হয়েছে। এর মাধ্যমেই ন্যায়ের পাল্লাসমূহ স্থাপন করা হয়েছে এবং পুলসিরাত স্থাপন করা হয়েছে। জান্নাত ও জাহান্নামের বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমেই বিশ্বজগতের রবের ইবাদত ও প্রশংসা করা হয়েছে। এর হকের মাধ্যমেই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন। কবর এবং পুনরুত্থান ও হাশরের ময়দানে এই নাম সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর মাধ্যমেই বিতর্ক এবং এর মাধ্যমেই বিচার-ফয়সালা নিষ্পন্ন হয়। এর মাধ্যমেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতা নির্ধারিত হয়। যে একে চিনেছে এবং এর হক আদায় করেছে সে সৌভাগ্যবান হয়েছে,
আর যে একে না চিনে অজ্ঞ থেকেছে এবং এর হক বর্জন করেছে সে দুর্ভাগ্যবান হয়েছে। এটিই সৃষ্টি ও আদেশের নিগূঢ় রহস্য। এই নামের মাধ্যমেই উভয়টি প্রতিষ্ঠিত ও স্থির রয়েছে এবং এই নামের মাধ্যমেই তাদের পরিসমাপ্তি ঘটে। সুতরাং সৃষ্টি এই নামের মাধ্যমেই, এই নামের দিকেই এবং এই নামের জন্যই। তাই যা কিছু সৃষ্টি, আদেশ, সওয়াব কিংবা আজাব অস্তিত্ব লাভ করেছে, তার সবকিছুর শুরু এখান থেকেই এবং শেষও এখানেই। আর এটিই এর আবশ্যকীয় দাবি ও চাহিদা: {হে আমাদের রব! আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র। সুতরাং আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন} ১—তাঁর (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) কথার শেষ পর্যন্ত।
তাঁর উক্তি: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} ২। ইবনে জারীর বলেন: আমাকে আস-সারী ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি উসমান ইবনে জুফার থেকে, তিনি বলেন, আমি আল-আরযামীকে বলতে শুনেছি: "রহমান সমস্ত সৃষ্টির জন্য, আর রহীম কেবল মুমিনদের জন্য"।
তিনি তাঁর সনদে আবু সাঈদ—অর্থাৎ আল-খুদরী—থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ৩ "নিশ্চয়ই ঈসা ইবনে মারইয়াম বলেছেন: রহমান হলেন দুনিয়া ও আখিরাতের রহমান, আর রহীম হলেন আখিরাতের রহীম" ৪।
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: ৫ "তাঁর নাম 'আল্লাহ' নির্দেশ করে তিনি ইলাহ ও মাবুদ হওয়ার ওপর। সৃষ্টিজগত ভালোবাসা, মহিমা ও আনুগত্যের সাথে তাঁর ইবাদত করে এবং প্রয়োজন ও বিপদে তাঁরই শরণাপন্ন হয়। এটি তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও রহমতের (করুণা) পূর্ণতাকে আবশ্যক করে, যা রাজত্ব ও প্রশংসার পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাঁর ইলাহিয়্যাত (উপাস্যতা), রুবুবিয়্যাত, রহমানিয়্যাত এবং রাজত্ব তাঁর সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণের আবশ্যকীয় দাবি; কারণ যে জীবিত নয়, যে শোনে না, দেখে না, সক্ষম নয়, কথা বলে না, নিজের ইচ্ছামতো কিছু করে না এবং যার কথা ও কাজে কোনো হিকমত বা প্রজ্ঞা নেই, তার ক্ষেত্রে এসব সাব্যস্ত হওয়া অসম্ভব। সুতরাং প্রতাপ ও সৌন্দর্যের গুণাবলি 'আল্লাহ' নামের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট। আর কর্ম, ক্ষমতা, ক্ষতি ও উপকারের ক্ষেত্রে একক হওয়া, দান ও বঞ্চিত করা, ইচ্ছার বাস্তবায়ন, শক্তির পূর্ণতা এবং সৃষ্টিজগতের কাজ পরিচালনা করার গুণাবলি 'রব' নামের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট। আর দয়া, দানশীলতা, কল্যাণ, মমতা, অনুগ্রহ, অনুকম্পা ও লতিফ হওয়ার গুণাবলি 'রহমান' নামের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট।"
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "'রহমান' মহান আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট গুণের ওপর দালালত (প্রমাণ) করে, আর 'রহীম' দালালত করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
على تعلقها بالمرحوم. وإذا أردت فهم هذا فتأمل قوله تعالى: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} 1 {إِنَّهُ بِهِمْ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 2 ولم يجئ قط رحمان بهم".
وقال: "" إن أسماء الرب تعالى هي أسماء ونعوت.، فإنها دالة على صفات كماله، فلا تنافي فيها بين العلمية والوصفية، فالرحمن اسمه تعالى ووصفه، فمن حيث هو صفة
جرى تابعا لاسم الله ومن حيث هو اسم ورد في القرآن غير تابع; بل ورد الاسم العلم كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 3". انتهى ملخصا.
الحمد لله، وصلى الله على محمد وعلى آله وسلم4.
قوله {الْحَمْدُ لِلَّهِ} معناه الثناء بالكلام على الجميل الاختياري على وجه التعظيم. فمورده: اللسان والقلب. والشكر يكون باللسان والجنان والأركان. فهو أعم من الحمد متعلقا، وأخص منه سببا; لأنه يكون في مقابلة النعمة، والحمد أعم سببا وأخص متعلقا; لأنه يكون في مقابلة النعمة وغيرها. فبينهما عموم وخصوص وجهي، يجتمعان في مادة وينفرد كل واحد عن الآخر في مادة.
قوله: "وصلى الله على محمد وعلى آله وسلم" أصح ما قيل في معنى صلاة الله على عبده: ما ذكره البخاري -رحمه الله تعالى- عن أبي العالية قال: " صلاة الله على عبده ثناؤه عليه عند الملائكة ". وقرره ابن القيم رحمه الله ونصره في كتابيه: "جلاء الأفهام"، و"بدائع الفوائد".
قلت: وقد يراد بها الدعاء، كما في المسند عن علي مرفوعا: " الملائكة تصلي على أحدكم ما دام في مصلاه: اللهم اغفر له الله ارحمه "5.
قوله: "وعلى آله" أي أتباعه على دينه، نص عليه الإمام أحمد هنا وعليه أكثر الأصحاب. وعلى هذا فيشمل الصحابة وغيرهم من المؤمنين 6.
--------------------------------------------
এর সম্পর্ক রহমতপ্রাপ্তের সাথে। তুমি যদি এটি বুঝতে চাও তবে মহান আল্লাহর বাণী নিয়ে চিন্তা করো: "তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু" এবং "নিশ্চয় তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত মমতাশীল ও পরম দয়ালু"। আর কখনোই তাদের জন্য 'রহমান' শব্দটি এভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসেনি।
তিনি বলেন: "নিশ্চয় মহান রবের নামসমূহ একইসাথে নাম এবং গুণ। কারণ তা তাঁর পূর্ণতার গুণাবলির ওপর প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং এতে নাম হওয়া এবং গুণ হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। অতএব, 'আর-রহমান' মহান আল্লাহর নাম এবং গুণ। গুণের দিক থেকে তা 'আল্লাহ' নামের অনুগামী হিসেবে এসেছে, আর নামের দিক থেকে তা কুরআনে স্বতন্ত্রভাবে এসেছে; বরং এটি সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবেও এসেছে যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন'।" সংক্ষেপিত সমাপ্ত।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
তাঁর কথা "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য" এর অর্থ হলো সম্মানের সাথে ঐচ্ছিক সুন্দরের ওপর মৌখিক প্রশংসা করা। এর প্রয়োগক্ষেত্র হলো জিহ্বা ও অন্তর। আর শুকর (কৃতজ্ঞতা) প্রকাশ করা হয় জিহ্বা, অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে। সুতরাং বিষয়বস্তুর দিক থেকে 'শুকর' শব্দটি 'হামদ' এর চেয়ে ব্যাপক, কিন্তু কারণের দিক থেকে তা বেশি সুনির্দিষ্ট; কারণ তা নেয়ামতের বিনিময়ে হয়। অন্যদিকে 'হামদ' কারণের দিক থেকে ব্যাপক এবং বিষয়ের দিক থেকে সুনির্দিষ্ট; কারণ তা নেয়ামত ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও হতে পারে। সুতরাং এ দুটির মধ্যে একদিক থেকে সাধারণ ও অন্যদিক থেকে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান; তারা এক ক্ষেত্রে একত্রিত হয় এবং অন্য ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে যায়।
তাঁর কথা: "এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন" - বান্দার ওপর আল্লাহর সালাত (রহমত বর্ষণ) এর অর্থ সম্পর্কে সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো যা ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) আবুল আলিয়া থেকে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "বান্দার ওপর আল্লাহর সালাত হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা।" ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এটি নিশ্চিত করেছেন এবং তাঁর 'জালাউল আফহাম' ও 'বাদায়িউল ফাওয়াইদ' কিতাবদ্বয়ে এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
আমি (লেখক) বলছি: এর দ্বারা কখনও দোয়াও উদ্দেশ্য হয়, যেমনটি মুসনাদে আলী (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "ফেরেশতারা তোমাদের কারো জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে অবস্থান করে: হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তাকে দয়া করুন।"
তাঁর কথা: "এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর" অর্থাৎ তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের ওপর। ইমাম আহমাদ এখানে এটিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং অধিকাংশ অনুসারীগণ এর ওপর রয়েছেন। এই মত অনুযায়ী এটি সাহাবীগণ এবং অন্যান্য মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
باب: كتاب التوحيد…كتاب التوحيد
كتاب: مصدر كتب يكتب كتابا وكتابة وكتبا، ومدار المادة على الجمع. ومنه: تكتب بنو فلان، إذا اجتمعوا. والكتيبة لجماعة الخيل، والكتابة بالقلم لاجتماع الكلمات والحروف. وسمي الكتاب كتابا: لجمعه ما وضع له.
والتوحيد نوعان: توحيد في المعرفة والإثبات، وهو توحيد الربوبية والأسماء والصفات. وتوحيد في الطلب والقصد، وهو توحيد الإلهية والعبادة.
قال العلامة ابن القيم رحمه الله: " وأما التوحيد الذي دعت إليه الرسل ونزلت به الكتب فهو نوعان: توحيد في المعرفة والإثبات، وتوحيد في الطلب والقصد. فالأول: هو إثبات حقيقة ذات الرب تعالى وصفاته وأفعاله وأسمائه وتكلمه بكتبه وتكليمه لمن شاء من عباده، وإثبات عموم قضائه وقدره وحكمته، وقد أفصح القرآن عن هذا النوع جد الإفصاح; كما في أول سورة الحديد، وسورة طه، وآخر الحشر، وأول تنزيل السجدة، وأول آل عمران، وسورة الإخلاص بكمالها، وغير ذلك.
النوع الثاني: ما تضمنته سورة: {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} 1، وقوله تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئاً وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضاً أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} 2. وأول سورة تنزيل الكتاب وآخرها. وأول سورة المؤمن ووسطها وآخرها، وأول سورة الأعراف وآخرها، وجملة سورة الأنعام، وغالب سور القرآن. بل كل سورة في القرآن فهي متضمنة لنوعي التوحيد، شاهدة به داعية إليه.
فإن القرآن إما خبر عن الله وأسمائه وصفاته وأفعاله وأقواله، فهو التوحيد العلمي الخبري. وإما دعوة إلى عبادته وحده لا شريك له وخلع ما يعبد من دونه، فهو التوحيد الإرادي الطلبي. وإما أمر ونهي، وإلزام بطاعته وأمره ونهيه، فهو حقوق التوحيد ومكملاته. وإما خبر عن إكرام أهل التوحيد وما فعل بهم في الدنيا وما يكرمهم به في الآخرة، فهو
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: তাওহীদ অধ্যায়...তাওহীদ অধ্যায়
কিতাব: এটি কাতাবা-ইয়াক্তুবু-কিতাবান-ওয়া-কিতাবাতান-ওয়া-কুতবান ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি মাসদার (ক্রিয়াবিশেষ্য); এই মূল ধাতুর অর্থ হলো একত্রিত করা। এ থেকেই বলা হয়: অমুক গোত্রের লোকেরা একত্রিত হয়েছে। ঘোড়সওয়ার বাহিনীর দলকে 'কাতিবাহ' বলা হয়। আর কলম দিয়ে লেখাকে 'কিতাবাত' বলা হয় কারণ এতে বর্ণ ও শব্দাবলি একত্রিত করা হয়। আর গ্রন্থকে 'কিতাব' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি তার আলোচ্য বিষয়বস্তুকে একত্রিত করে।
তাওহীদ দুই প্রকার: জ্ঞান ও স্বীকৃতির তাওহীদ (তাওহীদ ফিল মা’রিফাতি ওয়াল ইসবাত), যা হলো রুবুবিয়্যাহ এবং নাম ও গুণাবলির (আসমা ও সিফাত) তাওহীদ। আর প্রার্থনা ও সংকল্পের তাওহীদ (তাওহীদ ফিত তালাবি ওয়াল কাসদ), যা হলো উলুহিয়্যাহ এবং ইবাদতের তাওহীদ।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাসূলগণ যে তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং যা নিয়ে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, তা দুই প্রকার: জ্ঞান ও স্বীকৃতির তাওহীদ এবং প্রার্থনা ও সংকল্পের তাওহীদ। প্রথমটি হলো: মহান রবের সত্তার বাস্তবতা, তাঁর গুণাবলি, তাঁর কার্যাবলি, তাঁর নামসমূহ, তাঁর কিতাবসমূহের মাধ্যমে তাঁর কথা বলা এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর সাথে কথা বলা, এবং তাঁর সামগ্রিক ফয়সালা, তাকদীর ও হিকমতের (প্রজ্ঞা) স্বীকৃতি প্রদান করা। কুরআন এই প্রকারের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে; যেমনটি রয়েছে সূরা আল-হাদীদ-এর শুরুতে, সূরা ত্বহা-তে, সূরা আল-হাশর-এর শেষে, সূরা আস-সাজদাহ-এর শুরুতে, সূরা আলে ইমরান-এর শুরুতে এবং সম্পূর্ণ সূরা আল-ইখলাস ও অন্যান্য সূরায়।
দ্বিতীয় প্রকার: যা সূরা 'বলুন, হে কাফিরগণ!' ১ এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: 'বলুন, হে আহলে কিতাবগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করব না এবং আমাদের কেউ আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কাউকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, তোমরা সাক্ষী থাকো যে আমরা মুসলিম।' ২। এছাড়া সূরা তানজীল আল-কিতাব (সূরা আয-যুমার)-এর শুরুতে ও শেষে, সূরা আল-মু'মিন (সূরা গাফির)-এর শুরুতে, মাঝে ও শেষে, সূরা আল-আ’রাফ-এর শুরুতে ও শেষে, সম্পূর্ণ সূরা আল-আন’আম এবং কুরআনের অধিকাংশ সূরায় এটি বর্ণিত হয়েছে। বরং কুরআনের প্রতিটি সূরাই তাওহীদের উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, এর সাক্ষ্য দেয় এবং এর দিকে আহ্বান জানায়।
কারণ কুরআন হয় আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি, তাঁর কার্যাবলি ও তাঁর বাণী সম্পর্কে সংবাদ দেয়, যা হলো জ্ঞান ও সংবাদ বিষয়ক তাওহীদ। অথবা তা কেবল তাঁরই ইবাদত করার এবং তিনি ছাড়া অন্য যাদের ইবাদত করা হয় তাদের বর্জন করার আহ্বান জানায়, যা হলো সংকল্প ও প্রার্থনা বিষয়ক তাওহীদ। অথবা তা হলো আদেশ ও নিষেধ এবং তাঁর আনুগত্য ও আদেশ-নিষেধ মানার আবশ্যকতা, যা হলো তাওহীদের অধিকারসমূহ ও এর পরিপূরক বিষয়াবলি। অথবা তা হলো তাওহীদপন্থীদের সম্মান প্রদান এবং দুনিয়াতে তাঁদের সাথে কী করা হয়েছে ও আখিরাতে তাঁদেরকে কী দিয়ে সম্মানিত করা হবে সে সম্পর্কে সংবাদ, যা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
جزاء توحيده. وإما خبر عن أهل الشرك وما فعل بهم في الدنيا من النكال، وما يحل بهم في العقبى من العذاب، فهو جزاء من خرج عن حكم التوحيد. فالقرآن كله في التوحيد، وحقوقه وجزائه، وفي شأن الشرك وأهله وجزائهم". انتهى. قال شيخ الإسلام: " التوحيد الذي جاءت به الرسل إنما يتضمن إثبات الإلهية لله وحده بأن يشهد أن لا إله إلا الله، لا يعبد إلا إياه، ولا يتوكل إلا عليه، ولا يوالي إلا له، ولا يعادي إلا فيه، ولا يعمل إلا لأجله. وذلك يتضمن إثبات ما أثبته لنفسه من الأسماء والصفات. قال تعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ} 1، وقال تعالى: {وَقَالَ اللَّهُ لا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} 2، وقال تعالى: {وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ لا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ} 3، وقال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} 4. وأخبر عن كل نبي من الأنبياء أنهم دعوا الناس إلى عبادة الله وحده لا شريك له. وقال: {قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِي إِبْرَاهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَداً حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ} 5، وقال عن المشركين: " {إِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا قِيلَ لَهُمْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ} 6، {وَيَقُولُونَ أَإِنَّا لَتَارِكُو آلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَجْنُونٍ} 7 وهذا في القرآن كثير.
وليس المراد بالتوحيد: مجرد توحيد الربوبية. وهو اعتقاد أن الله وحده خلق العالم، كما يظن ذلك من يظنه من أهل الكلام والتصوف. ويظن هؤلاء أنهم إذا أثبتوا ذلك بالدليل فقد أثبتوا غاية التوحيد. وأنهم إذا شهدوا هذا وفنوا فيه فقد فنوا في غاية التوحيد، فإن الرجل لو أقر بما يستحقه الرب تعالى من الصفات، ونزهه عن كل ما ينزه عنه، وأقر بأنه وحده خالق كل شيء، لم يكن موحدا حتى يشهد أن لا إله إلا الله وحده، فيقر بأن الله وحده هو الإله المستحق للعبادة، ويلتزم بعبادة الله وحده لا شريك له، و"الإله" هو المألوه المعبود الذي يستحق العبادة. وليس هو الإله بمعنى القادر على الاختراع.
فإذا فسر المفسر "الإله" بمعنى القادر على الاختراع واعتقد أن هذا المعنى هو أخص وصف الإله. وجعل
--------------------------------------------
তার তাওহীদের প্রতিদান। অথবা এটি শিরককারীদের সংবাদ এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে যে শাস্তিমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং আখিরাতে তাদের ওপর যে আযাব আপতিত হবে তার সংবাদ; আর তা হলো সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে তাওহীদের বিধান থেকে বিচ্যুত হয়েছে। সুতরাং পুরো কুরআনই তাওহীদ, এর হকসমূহ ও এর প্রতিদান সম্পর্কে, এবং শিরক, শিরককারী ও তাদের প্রতিদান প্রসঙ্গে।" সমাপ্ত। শাইখুল ইসলাম বলেন: "রাসূলগণ যে তাওহীদ নিয়ে এসেছেন তা মূলত আল্লাহর একত্বের (ইলাহিয়্যাতের) সাব্যস্তকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে। তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত করা হবে না, তিনি ছাড়া আর কারো ওপর ভরসা করা হবে না, কেবল তাঁর জন্যই বন্ধুত্ব করা হবে, কেবল তাঁর জন্যই শত্রুতা করা হবে এবং কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই আমল করা হবে। আর এটি আল্লাহ নিজের জন্য যেসব নাম ও গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন তার সাব্যস্তকরণকেও অন্তর্ভুক্ত করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু} ১, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আল্লাহ বলেছেন, তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না; তিনিই তো একমাত্র ইলাহ। সুতরাং তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো} ২, মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে, যার পক্ষে তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই, তার হিসাব তো তার রবের কাছেই। নিশ্চয়ই কাফিররা সফলকাম হবে না} ৩, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার আগে আমি যে সব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নির্ধারণ করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হবে?} ৪। এবং তিনি প্রত্যেক নবী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁরা মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত করার দিকে আহ্বান করেছেন যাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি বলেন: {তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তাঁর সাথীদের মধ্যে এক চমৎকার আদর্শ রয়েছে, যখন তাঁরা তাঁদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যার ইবাদত করো তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর ওপর ঈমান আনো} ৫, এবং তিনি মুশরিকদের সম্পর্কে বলেন: {নিশ্চয়ই যখন তাদেরকে বলা হতো যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তখন তারা অহংকার করত} ৬, {এবং তারা বলত: আমরা কি এক পাগল কবির কথায় আমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করব?} ৭। কুরআনে এ সংক্রান্ত আয়াত অনেক রয়েছে।
তাওহীদ দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল রুবুবিয়্যাতের তাওহীদ (সৃষ্টিকর্তা হিসেবে একত্ববাদ) নয়; অর্থাৎ আল্লাহ একাই এই বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন—এমন বিশ্বাস রাখা, যেমনটি ইলমুল কালাম (দর্শনতত্ত্ব) ও তাসাউফপন্থীদের মধ্যকার যারা মনে করে তারা মনে করে থাকে। তারা মনে করে যে, যখন তারা দলীল দ্বারা এটি সাব্যস্ত করে ফেলে, তখনই তারা তাওহীদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে। আর যখন তারা এই সাক্ষ্য দেয় এবং এতে লীন (ফানা) হয়ে যায়, তখন তারা তাওহীদের চূড়ান্ত পর্যায়ে লীন হয়ে যায়। অথচ একজন মানুষ যদি মহান রবের প্রাপ্য গুণাবলি স্বীকার করে এবং তাঁকে সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ঘোষণা করে, আর এটিও স্বীকার করে যে তিনি একাই সবকিছুর স্রষ্টা, তবুও সে ততক্ষণ পর্যন্ত মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী) হতে পারবে না যতক্ষণ না সে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। অর্থাৎ সে এটি স্বীকার করবে যে আল্লাহ একাই ইবাদতের যোগ্য ইলাহ, এবং সে কোনো শরিক ছাড়া একমাত্র আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিবদ্ধ করবে। আর 'ইলাহ' হলেন তিনি যাকে ভালোবাসা ও ভক্তিভরে ইবাদত করা হয় এবং যিনি ইবাদতের যোগ্য। 'ইলাহ' শব্দের অর্থ সৃষ্টি করতে সক্ষম কোনো সত্তা নয়।
সুতরাং যদি কোনো মুফাসসির 'ইলাহ' শব্দের অর্থ 'সৃষ্টির উদ্ভাবনে সক্ষম' হিসেবে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে এই অর্থটিই ইলাহের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, এবং এটিকে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إثبات هذا هو الغاية في التوحيد - كما يفعل ذلك من يفعله من متكلمة الصفاتية، وهو الذي يقولونه عن أبي الحسن وأتباعه - لم يعرفوا حقيقة التوحيد الذي بعث الله به رسوله صلي الله عليه وسلم، فإن مشركي العرب كانوا مقرين بأن الله وحده خالق كل شيء.
وكانوا مع هذا مشركين. قال تعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلا وَهُمْ مُشْرِكُونَ} 1. قالت طائفة من السلف: "تسألهم من خلق السماوات والأرض؟ فيقولون:
الله. وهم مع هذا يعبدون غيره2 ". قال تعالى: {قُلْ لِمَنِ الأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلا تَذَكَّرُونَ قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلا تَتَّقُونَقُلْ مَنْ بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ يُجِيرُ وَلا يُجَارُ عَلَيْهِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ فَأَنَّى تُسْحَرُونَ} 3، فليس كل من أقر بأن الله تعالي رب كل شيء وخالقه يكون عابدا له دون ما سواه، داعيا له دون ما سواه، راجيا له خائفا منه دون ما سواه، يوالي فيه ويعادي فيه، ويطيع رسله ويأمر بما أمر به، وينهى عما نهى عنه. وعامة المشركين أقروا بأن الله خالق كل شيء، وأثبتوا الشفعاء الذين يشركونهم به، وجعلوا له أندادا. قال تعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لا يَمْلِكُونَ شَيْئاً وَلا يَعْقِلُون قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعاً لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ} 4، وقال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} 5، وقال تعالى: {وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ} 6، وقال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ} 7. ولهذا كان أتباع هؤلاء8 من يسجد
--------------------------------------------
এই বিষয়টি সাব্যস্ত করাকেই তাওহীদের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করা—যেমনটি সিফাতিয়া কালামশাস্ত্রবিদদের একদল করে থাকেন এবং যা তারা আবুল হাসান ও তাঁর অনুসারীদের পক্ষ থেকে বলে থাকেন—আসলে তারা সেই তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারেননি যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠিয়েছেন। কেননা আরবের মুশরিকরাও স্বীকার করত যে আল্লাহ একাই সবকিছুর স্রষ্টা।
তা সত্ত্বেও তারা মুশরিক ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, তবে মুশরিক অবস্থায়।" ১। সালাফদের একটি দল বলেছেন: "তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো যে আসমান ও যমীন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা বলবে:
আল্লাহ। তা সত্ত্বেও তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করে।" ২। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলো, এই পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো? তারা বলবে, আল্লাহর। বলো, তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? বলো, সাত আসমানের রব কে এবং মহান আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহর। বলো, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? বলো, কার হাতে সবকিছুর রাজত্ব, যিনি আশ্রয় দেন কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কাউকে আশ্রয় দেওয়া যায় না, যদি তোমরা জানো? তারা বলবে, আল্লাহর। বলো, তাহলে তোমরা কোথা থেকে যাদুগ্রস্ত হচ্ছো?" ৩। সুতরাং যে ব্যক্তি স্বীকার করে যে আল্লাহ তাআলা সবকিছুর রব ও স্রষ্টা, সে যে তাঁর ইবাদতকারী হবে অন্যকে বাদ দিয়ে, তাঁকে আহ্বানকারী হবে অন্যকে বাদ দিয়ে, তাঁর নিকট আশাবাদী ও তাঁকে ভয়কারী হবে অন্যকে বাদ দিয়ে, তাঁর জন্য বন্ধুত্ব ও তাঁর জন্য শত্রুতা করবে এবং তাঁর রাসূলগণের আনুগত্য করবে ও তাঁর আদেশ পালন করবে এবং নিষেধ করা বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকবে—এমনটি আবশ্যক নয়। সাধারণ মুশরিকরা স্বীকার করত যে আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, এবং তারা সুপারিশকারী সাব্যস্ত করেছিল যাদের তারা আল্লাহর সাথে শরীক করত, এবং তারা তাঁর সমকক্ষ নির্ধারণ করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলো, যদিও তারা কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং তারা না বোঝে? বলো, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই অধিকারে, আসমান ও যমীনের রাজত্ব তাঁরই।" ৪। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তারা আল্লাহকে ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে, 'এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।' বলো, তোমরা কি আল্লাহকে এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি আসমানসমূহে ও যমীনে জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরীক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।" ৫। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা তো আমার কাছে একা একা এসেছ, যেমন আমি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম এবং আমি তোমাদের যা দান করেছিলাম তা তোমরা পেছনে ছেড়ে এসেছ। আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখছি না যাদের তোমরা মনে করতে যে তোমাদের (সৃষ্টির) বিষয়ে তারা অংশীদার। তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করতে তা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে।" ৬। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদের ভালোবাসে যেভাবে আল্লাহকে ভালোবাসতে হয়।" ৭। একারণেই এদের অনুসারীরা৮ সেজদা করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
للشمس والقمر والكواكب ويدعوها، ويصوم وينسك لها ويتقرأ إليها1. ثم يقول: إن هذا ليس بشرك، إنما الشرك إذا اعتقدت أنها المدبرة لي، فإذا جعلتها سببا وواسطة لم أكن مشركا، ومن المعلوم بالاضطرار من دين الإسلام أن هذا شرك"". انتهى كلامه.
وقول الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} 2
قوله: " وقول الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} " بالجر عطف على التوحيد؛ ويجوز الرفع على الابتداء.
قال شيخ الإسلام: " العبادة هي طاعة الله بامتثال ما أمر الله به على ألسنة الرسل".
وقال أيضا: " العبادة اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة".
قال ابن القيم: " ومدارها على خمس عشرة قاعدة، من كملها كمل مراتب العبودية".
وبيان ذلك: أن العبادة منقسمة على القلب واللسان والجوارح. والأحكام التي للعبودية خمسة: واجب ومستحب وحرام ومكروه ومباح. وهن لكل واحد من القلب واللسان والجوارح.
وقال القرطبي: " أصل العبادة التذلل والخضوع، وسميت وظائف الشرع على المكلفين عبادات؛ لأنهم يلتزمونها ويفعلونها خاضعين متذللين لله تعالى"".
ومعنى الآية: أن الله تعالى أخبر أنه ما خلق الجن والإنس إلا لعبادته، فهذا هو الحكمة في خلقهم.
قلت: وهي الحكمة الشرعية الدينية.
قال العماد ابن كثير: " وعبادته هي طاعته بفعل المأمور وترك المحظور. وذلك هو حقيقة دين الإسلام؛ لأن معنى الإسلام: الاستسلام لله تعالى، المتضمن غاية الانقياد والذل والخضوع". انتهى.
وقال أيضا في تفسير هذه الآية: ومعنى الآية أن الله خلق الخلق ليعبدوه وحده لا شريك له. فمن أطاعه جازاه أتم الجزاء، ومن عصاه عذبه أشد العذاب، وأخبر أنه غير
--------------------------------------------
সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্ররাজির জন্য এবং সেগুলোকে ডাকে, তাদের উদ্দেশ্যে রোজা রাখে এবং কোরবানি করে এবং তাদের নৈকট্য প্রার্থনা করে। তারপর সে বলে: "নিশ্চয়ই এটি শিরক নয়, বরং শিরক কেবল তখনই হয় যখন আমি বিশ্বাস করব যে এগুলোই আমার পরিচালক; সুতরাং আমি যখন সেগুলোকে কেবল উপায় ও মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করি, তখন আমি মুশরিক নই।" অথচ ইসলাম ধর্ম থেকে অকাট্যভাবে জানা যায় যে এটি শিরক।" তাঁর কথা শেষ হলো।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} ২
তাঁর উক্তি: "এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি}" এখানে শব্দটির শেষে কাসরা (জের) হওয়া তাওহীদের ওপর আতফ (সমন্বয়) হওয়ার কারণে; আর শুরুতে পেশ (রাফা) দিয়ে পড়াও জায়েয।
শাইখুল ইসলাম বলেন: "ইবাদত হলো আল্লাহর রাসূলগণের মুখে যা তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তা পালনের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা।"
তিনি আরও বলেন: "ইবাদত হলো এমন একটি ব্যাপক নাম, যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সকল প্রকাশ্য ও গোপন কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।"
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "এর ভিত্তি পনেরটি মূলনীতির ওপর; যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করবে, সে দাসত্বের (উবুদিয়্যাহ) স্তরসমূহ পূর্ণ করবে।"
এর ব্যাখ্যা হলো: ইবাদত অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর বিভক্ত। আর দাসত্বের বিধান পাঁচটি: ওয়াজিব (আবশ্যক), মুস্তাহাব (পছন্দনীয়), হারাম (নিষিদ্ধ), মাকরুহ (অপছন্দনীয়) এবং মুবাহ (বৈধ)। এগুলোর প্রতিটি অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট।
আল-কুরতুবী বলেন: "ইবাদতের মূল অর্থ হলো হীনতা ও বশ্যতা প্রকাশ করা। শরীয়তের অর্পিত দায়িত্বসমূহকে ইবাদত বলা হয় কারণ মুকাল্লাফরা (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিরা) মহান আল্লাহর প্রতি বিনয়ী ও অনুগত হয়ে সেগুলো পালন ও সম্পাদন করে।"
আয়াতের অর্থ হলো: মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি জিন ও মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন; আর এটিই তাদের সৃষ্টির হিকমত (অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য)।
আমি বলি: এটি হলো শরয়ী ও দ্বীনি হিকমত।
আল-ইমাদ ইবনে কাসীর বলেন: "তাঁর ইবাদত হলো আদিষ্ট কাজগুলো করার এবং নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করার মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা। আর এটিই হলো ইসলাম ধর্মের হাকিকত (প্রকৃত রূপ); কারণ ইসলামের অর্থ হলো মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, যা চরম আনুগত্য, বিনয় এবং বশ্যতাকে অন্তর্ভুক্ত করে।" শেষ হলো।
তিনি আরও এই আয়াতের তাফসীরে বলেন: আয়াতের অর্থ হলো আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা তাঁর একত্বের ইবাদত করে, যার কোনো শরিক নেই। সুতরাং যে তাঁর আনুগত্য করবে, তিনি তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেবেন, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে, তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
محتاج إليهم، بل هم الفقراء في جميع أحوالهم وهو خالقهم ورازقهم. وقال علي ابن أبي طالب رضي الله عنه في الآية: " إلا لآمرهم أن يعبدوني وأدعوهم إلى عبادتي"?. وقال مجاهد: "إلا لآمرهم وأنهاهم" اختاره الزجاج وشيخ الإسلام. قال:
ويدل على هذا قوله: {أَيَحْسَبُ الأِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدىً} 1. قال الشافعي: "لا يؤمر ولا ينهى". وقال في القرآن في غير موضع: {اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} {اتَّقُوا رَبَّكُمُ} ، فقد أمرهم بما خلقوا له وأرسل الرسل بذلك. وهذا المعنى هو الذي قصد بالآية قطعا، وهو الذي يفهمه جماهير المسلمين ويحتجون بالآية عليه.
قال: وهذه الآية تشبه قوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ} 2. ثم قد يطاع وقد يعصى. وكذلك ما خلقهم إلا لعبادته، ثم قد يعبدون وقد لا يعبدون، وهو سبحانه لم يقل: إنه فعل الأول: وهو خلقهم ليفعل بهم كلهم. الثاني: وهو عبادته، ولكن ذكر أنه فعل الأول ليفعلوا هم الثاني، فيكونوا هم الفاعلين له، فيحصل لهم بفعله سعادتهم ويحصل ما يحبه ويرضاه منه ولهم. انتهى. ويشهد لهذا المعنى: ما تواترت به الأحاديث.
فمنها: ما أخرجه مسلم في صحيحه عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم قال:
" يقول الله تعالى لأهون أهل النار عذابا: لو كانت لك الدنيا وما فيها ومثلها معها أكنت مفتديا بها؟ فيقول: نعم. فيقول: قد أردت منك أهون من هذا وأنت في صلب آدم، أن لا تشرك - أحسبه قال: ولا أدخلك النار - فأبيت إلا الشرك " 3 فهذا المشرك قد خالف ما أراده الله تعالى منه: من توحيده وأن لا يشرك به شيئا، فخالف ما أراده الله منه فأشرك به غيره. وهذه هي الإرادة الشرعية الدينية كما تقدم.
فبين الإرادة الشرعية الدينية والإرادة الكونية القدرية عموم وخصوص مطلق، يجتمعان في حق المخلص المطيع، وتنفرد الإرادة الكونية القدرية في حق العاصي. فافهم ذلك تنج من جهالات أرباب الكلام وتابعيهم.
وقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 4. قال: وقوله: " {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} "
--------------------------------------------
তাঁর প্রতি তাদের কোনো প্রয়োজন নেই, বরং তারাই সকল অবস্থায় তাঁর মুখাপেক্ষী এবং তিনিই তাদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতা। আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "কেবল এজন্য যে, আমি তাদের নির্দেশ দেব যেন তারা আমার ইবাদত করে এবং আমি তাদের আমার ইবাদতের প্রতি আহ্বান জানাব।" মুজাহিদ বলেন: "কেবল এজন্য যে, আমি তাদের আদেশ দেব ও নিষেধ করব।" ইমাম যাজ্জাজ ও শাইখুল ইসলাম এটিকেই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন:
এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষ কি মনে করে যে তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেওয়া হবে?} ১। ইমাম শাফেয়ী বলেন: "তাকে কোনো আদেশও করা হবে না এবং কোনো নিষেধও করা হবে না।" তিনি কুরআনের একাধিক স্থানে বলেছেন: {তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো}, {তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো}, সুতরাং তিনি তাদের সেই কাজেরই নির্দেশ দিয়েছেন যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এ উদ্দেশ্যেই রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন। আর এই অর্থটিই নিশ্চিতভাবে এই আয়াতের উদ্দেশ্য এবং এটিই জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মুসলিমগণ বোঝেন ও এর স্বপক্ষে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেন।
তিনি বলেন: এই আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সদৃশ: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই কেবল এ উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছি যেন আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর আনুগত্য করা হয়} ২। অতঃপর কখনো তাঁর আনুগত্য করা হয়, আবার কখনো তাঁর অবাধ্যতা করা হয়। অনুরূপভাবে তিনি তাদের কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, এরপর কেউ ইবাদত করে আবার কেউ করে না। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ কথা বলেননি যে, তিনি প্রথম কাজটি (অর্থাৎ সৃষ্টি করা) করেছেন যেন তাদের সকলের মাধ্যমেই দ্বিতীয় কাজটি (অর্থাৎ ইবাদত) সম্পন্ন করেন। বরং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি প্রথমটি করেছেন যেন তারা দ্বিতীয়টি করে, অর্থাৎ তারাই যেন তা সম্পাদনকারী হয়। ফলে তাদের কর্মের মাধ্যমেই তাদের সৌভাগ্য অর্জিত হয় এবং তাদের নিকট থেকে ও তাদের জন্য সেটিই হাসিল হয় যা তিনি পছন্দ করেন ও যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট। সমাপ্ত। আর বহু সংখ্যক মুতাওয়াতির হাদিস এই অর্থের সাক্ষ্য প্রদান করে।
তার মধ্যে একটি হলো: ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
"মহান আল্লাহ জাহান্নামিদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা আজাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বলবেন: যদি তোমার কাছে পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার সবটুকু এবং সমপরিমাণ আরও কিছু থাকত, তবে কি তুমি এর বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করতে চাইতে? সে বলবে: হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন: আমি তোমার কাছে এর চেয়েও সহজ কিছু চেয়েছিলাম যখন তুমি আদমের পৃষ্ঠদেশে ছিলে, আর তা হলো—তুমি আমার সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না—আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: এবং আমি তোমাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব না—কিন্তু তুমি শিরক করা ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করলে না।" ৩ সুতরাং এই মুশরিক ব্যক্তি মহান আল্লাহ তার কাছে যা চেয়েছিলেন তার বিরোধিতা করেছে; আর তা হলো তাঁর তাওহিদ এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা। ফলে সে আল্লাহর কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বিপরীত কাজ করেছে এবং তাঁর সাথে অন্যকে শরিক করেছে। আর এটিই হলো শরয়ি দ্বীনি ইচ্ছা, যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।
সুতরাং শরয়ি দ্বীনি ইচ্ছা এবং কাউনি কদরি (তাকদিরি) ইচ্ছার মধ্যে 'উমুম ওয়া খুসুস মুতলাক' (নিরঙ্কুশ সাধারণ ও বিশেষ) সম্পর্ক বিদ্যমান। অনুগত মুখলিস (একনিষ্ঠ) ব্যক্তির ক্ষেত্রে উভয় ইচ্ছা একত্রিত হয়, আর অবাধ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে কেবল কাউনি কদরি ইচ্ছা পাওয়া যায়। এটি ভালোভাবে অনুধাবন করো, তবেই তুমি ইলমুল কালামের প্রবক্তা ও তাদের অনুসারীদের মূর্খতা থেকে মুক্তি পাবে।
আর আল্লাহর বাণী: {আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ৪। তিনি বলেন: এবং তাঁর বাণী: "{আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো}"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الطاغوت: مشتق من الطغيان، وهو مجاوزة الحد. قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "الطاغوت الشيطان"1. وقال جابر رضي الله عنه: "الطاغوت كهان كانت تنزل عليهم الشياطين" رواهما ابن أبي حاتم. وقال مالك: "الطاغوت كل ما عبد من دون الله".
قلت: وذلك المذكور بعض أفراده، وقد حده العلامة ابن القيم حدا جامعا فقال: الطاغوت كل ما تجاوز به العبد حده: من معبود أو متبوع أو مطاع. فطاغوت كل قوم: من يتحاكمون إليه غير الله ورسوله، أو يعبدونه من دون الله، أو يتبعونه على غير بصيرة من الله، أو يطيعونه فيما لا يعلمون أنه طاعة لله. فهذه طواغيت العال، م إذا تأملتها وتأملت أحوال الناس معها، رأيت أكثرهم أعرض عن عبادة الله تعالى إلى عبادة الطاغوت، وعن طاعة رسول الله صلي الله عليه وسلم إلى طاعة الطاغوت ومتابعته.
وأما معنى الآية: فأخبر تعالى أنه بعث في كل طائفة من الناس رسولا بهذه لكلمة: {أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} أي أعبدوا الله وحده واتركوا عبادة ما سواه، كما قال تعالى: {فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لا انْفِصَامَ لَهَا} 2. وهذا معنى "لا إله إلا الله" فإنها هي العروة الوثقى.
قال العماد ابن كثير في هذه الآية: "" كلهم - أي الرسل - يدعو إلى عبادة الله وينهى عن عبادة ما سواه، فلم يزل سبحانه يرسل إلى الناس الرسل بذلك منذ حدث الشرك في بني آدم في قوم نوح الذين أرسل إليهم، وكان أول رسول بعثه الله تعالى إلى أهل الأرض إلى أن ختمهم بمحمد صلي الله عليه وسلم، الذي طبقت دعوته الإنس والجن في المشارق والمغارب، وكلهم كما قال الله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 3، وقال تعالى في هذه الآية الكريمة: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ
--------------------------------------------
তাগুত: এটি তুগইয়ান শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সীমা লঙ্ঘন করা। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তাগুত হলো শয়তান"। এবং জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তাগুত হলো সেই সব গণক যাদের ওপর শয়তানরা অবতীর্ণ হতো।" ইবন আবি হাতিম উভয়টি বর্ণনা করেছেন। এবং মালিক বলেন: "আল্লাহ ব্যতীত যারই ইবাদত করা হয়, তা-ই তাগুত।"
আমি বলি: উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা তাগুতের কিছু প্রকার মাত্র। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম এর একটি পূর্ণাঙ্গ ও সারগর্ভ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: বান্দা যাকে ইবাদত করা, অনুসরণ করা বা আনুগত্য করার মাধ্যমে নিজের সীমা অতিক্রম করে, তা-ই তাগুত। সুতরাং প্রত্যেক জাতির তাগুত হলো সেই সত্তা, যার কাছে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ছেড়ে বিচার নিয়ে যায়, অথবা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার ইবাদত করে, অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো দলিল ছাড়াই যার অনুসরণ করে, অথবা এমন বিষয়ে তার আনুগত্য করে যে বিষয়ে তারা জানে না যে তা আল্লাহর আনুগত্য কি না। এগুলোই হলো জগতের তাগুতসমূহ। আপনি যদি এগুলোর দিকে এবং এগুলোর সাথে মানুষের অবস্থার দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে তাদের অধিকাংশ আল্লাহর ইবাদত বিমুখ হয়ে তাগুতের ইবাদতে লিপ্ত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য ছেড়ে তাগুতের আনুগত্য ও অনুসরণে লিপ্ত হয়েছে।
আর আয়াতের অর্থের ব্যাপারে বলা যায়: আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মানুষের প্রতিটি দলের নিকট এই বাণীসহ একজন রাসূল পাঠিয়েছেন যে: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো}। অর্থাৎ তোমরা কেবল আল্লাহর ইবাদত করো এবং তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা ত্যাগ করো, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করবে এবং আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে, সে এমন এক মজবুত হাতল ধারণ করল যা কখনো ছিঁড়ে যাওয়ার নয়।} আর এটাই "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থ, কারণ এটিই হলো সেই মজবুত হাতল।
ইমাম ইমাদউদ্দীন ইবন কাসীর এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন: "তারা সকলে—অর্থাৎ রাসূলগণ—আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করতেন এবং তিনি ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করতে নিষেধ করতেন। আদম সন্তানদের মধ্যে নূহের কওমের সময় যখন থেকে শিরক শুরু হয়েছে, তখন থেকেই সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের কাছে এই দাওয়াত নিয়ে রাসূল পাঠাতে থাকেন। নূহ ছিলেন পৃথিবীবাসীর কাছে প্রেরিত প্রথম রাসূল। এই ধারা চলতে থাকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত, যার মাধ্যমে এই সিলসিলার সমাপ্তি ঘটে। তাঁর দাওয়াত পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত জিন ও ইনসান সবার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁরা সবাই তেমনটিই ছিলেন যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই ওহী নাযিল করিনি যে—আমি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} এবং আল্লাহ তাআলা এই সম্মানিত আয়াতে বলেছেন: {আর আমি প্রতিটি জাতির মধ্যে একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 1 فكيف يسوغ لأحد من المشركين بعد هذا أن يقول: {لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ} 2 فمشيئة الله تعالى الشرعية عنهم منفية؛ لأنه نهاهم عن ذلك على ألسن رسله، وأما مشيئته الكونية - وهي تمكينهم من ذلك قدرا - فلا حجة لهم فيها؛ لأنه تعالى خلق النار وأهلها من الشياطين والكفرة، وهو لا يرضى لعباده الكفر، وله في ذلك الحجة البالغة والحكمة القاطعة، ثم إنه تعالى قد أخبر أنه أنكر عليهم بالعقوبة في الدنيا بعد إنذار الرسل، فلهذا قال: {فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} انتهى.
قلت: وهذه الآية تفسير الآية التي قبلها. وذلك قوله: {فَمِنْهُمْ مَنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُمْ مَنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلالَةُ} فتدبر.
ودلت هذه الآية على أن الحكمة في إرسال الرسل، دعوتهم أممهم إلى عبادة الله وحده، والنهي عن عبادة ما سواه، وأن هذا هو دين الأنبياء والمرسلين وإن اختلفت شريعتهم. كما قال تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجاً} 3، وأنه لا بد في الإيمان من عمل القلب والجوارح.
قال: قوله تعالى: {وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} 4 قال مجاهد: "قضى" يعني وصى. وكذا قرأ أبي بن كعب وابن مسعود وغيرهم. ولابن جرير عن ابن عباس: "وقضى ربك، يعني أمر".
وقوله تعالى: {أَلا تَعْبُدُوا إِلا إِيَّاهُ} المعنى، أن تعبدوه وحده دون ما سواه، وهذا معنى "لا إله إلا الله".
قال ابن القيم -رحمه الله تعالى-: والنفي المحض ليس توحيدا، وكذلك الإثبات بدون النفي، فلا يكون التوحيد إلا متضمنا للنفي والإثبات. وهذا هو حقيقة التوحيد.
وقوله: " {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} " أي وقضى أن تحسنوا بالوالدين إحسانا، كما قضى، بعبادته وحده لا شريك له. كما قال تعالى في الآية الأخرى {إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً َاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً} 5.
{أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ} 6.
--------------------------------------------
তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।} ১ তবে এরপর মুশরিকদের মধ্য থেকে কারো জন্য এটি বলা কীভাবে বৈধ হয় যে: {আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে আমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদত করতাম না} ২ কেননা তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর শরিয়তগত ইচ্ছা (মাশিয়াত শারইয়্যাহ) অস্বীকৃত; কারণ তিনি তাঁর রাসুলদের মুখে তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করেছেন। আর তাঁর সৃষ্টিগত ইচ্ছা (মাশিয়াত কাউনিয়্যাহ) - যা হলো তাদেরকে তাকদিরিভাবে তা করার সামর্থ্য প্রদান করা - এতে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই; কারণ মহান আল্লাহ জাহান্নাম এবং এর অধিবাসী শয়তান ও কাফিরদের সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরিতে সন্তুষ্ট নন। এতে তাঁরই জন্য রয়েছে চূড়ান্ত দলিল ও অকাট্য প্রজ্ঞা। অতঃপর মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসুলদের সতর্কবার্তার পর দুনিয়াতে শাস্তির মাধ্যমে তাদের কৃতকর্মকে অস্বীকার করেছেন (শাস্তি দিয়েছেন), তাই তিনি বলেছেন: {অতএব তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল যাদের আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছিল} সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এই আয়াতটি তার পূর্ববর্তী আয়াতের তাফসির। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল যাদের আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছিল} সুতরাং তা নিয়ে চিন্তা করো।
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, রাসুলদের প্রেরণের হিকমত বা মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের উম্মতদের এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদত করা থেকে নিষেধ করা। আর এটিই হলো নবী ও রাসুলগণের দ্বীন, যদিও তাঁদের শরিয়ত ভিন্ন ভিন্ন ছিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করে দিয়েছি} ৩। আর ঈমানের ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্তরের আমল এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল থাকা অপরিহার্য।
তিনি বলেন: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার রব ফয়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে} ৪। মুজাহিদ বলেন: "ক্বাযা" (ফয়সালা করেছেন) মানে অসিয়ত করেছেন (নির্দেশ দিয়েছেন)। উবাই বিন কাব, ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্যগণ এভাবেই পাঠ করেছেন। ইবনে জারির ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমার রব ক্বাযা করেছেন, অর্থাৎ আদেশ করেছেন"।
মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না} এর অর্থ হলো, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল তাঁরই ইবাদত করবে। আর এটাই হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর অর্থ।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: কেবলমাত্র না-বোধক (নফি) তাওহিদ নয়, আবার না-বোধক ছাড়া কেবল হ্যাঁ-বোধকও (ইসবাত) তাওহিদ নয়। সুতরাং তাওহিদ ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না যতক্ষণ না তা না-বোধক ও হ্যাঁ-বোধক উভয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটাই হলো তাওহিদের প্রকৃত রূপ।
তাঁর বাণী: "{পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে}" অর্থাৎ তিনি ফয়সালা করেছেন যেন তোমরা পিতামাতার প্রতি সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার করো, যেভাবে তিনি কোনো শরিক ছাড়া কেবল তাঁরই ইবাদত করার ফয়সালা করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন: {তাদের একজন বা উভয়ই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে 'উফ' বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা পেতে দাও এবং বলো: হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন} ৫।
{আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো; প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে} ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقوله: " {إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلاهُمَا فَلا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلا تَنْهَرْهُمَا} " أي لا تسمعهما قولا سيئا، حتى ولا التأفيف الذي هو أدنى مراتب القول السيء {وَلا تَنْهَرْهُمَا} أي لا يصدر منك إليهما فعل قبيح، كما قال عطاء ابن أبي رباح: " لا تنفض يديك عليهما".
ولما نهاه عن الفعل القبيح والقول القبيح أمره بالفعل الحسن والقول الحسن فقال: {وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَرِيماً} أي لينا طيبا بأدب وتوقير. وقوله: {اخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ} أي تواضع لهما {وَقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا} أي في كبرهما وعند وفاتهما {كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً} .
وقد ورد في بر الوالدين أحاديث كثيرة، منها:
الحديث المروي من طرق عن أنس وغيره " أن رسول الله صلي الله عليه وسلم لما صعد المنبر قال: آمين، آمين، آمين. فقالوا: يا رسول الله على ما أمنت؟ قال: أتاني جبريل فقال: يا محمد، رغم أنف امرئ ذكرت عنده فلم يصل عليك قل: آمين، فقلت: آمين. ثم قال: رغم أنف امرئ دخل عليه شهر رمضان ثم خرج ولم يغفر له، قل: آمين، فقلت: آمين. ثم قال: رغم أنف امرئ أدرك أبويه أو أحدهما فلم يدخلاه الجنة، قل: آمين، فقلت آمين " 1. وروى الإمام
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: "যদি তোমার নিকট তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তুমি তাদের উদ্দেশ্যে 'উফ' বলো না এবং তাদের ধমক দিও না।" অর্থাৎ তুমি তাদের কোনো মন্দ কথা শুনিও না, এমনকি 'উফ' শব্দটিও নয় যা মন্দ কথার সর্বনিম্ন পর্যায়। "এবং তাদের ধমক দিও না" অর্থাৎ তোমার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি যেন কোনো অশোভন আচরণ প্রকাশ না পায়, যেমনটি আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেছেন: "তাদের ওপর তোমার হাত ঝাড়া দিও না (বিরক্তি প্রকাশ করো না)।"
যখন তিনি তাকে মন্দ কাজ ও মন্দ কথা হতে নিষেধ করলেন, তখন তাকে উত্তম কাজ ও উত্তম কথার আদেশ দিয়ে বললেন: "এবং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো।" অর্থাৎ শিষ্টাচার ও শ্রদ্ধার সাথে নরম ও সুন্দর কথা। এবং তাঁর বাণী: "অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়ের ডানা অবনমিত করো" অর্থাৎ তাদের প্রতি বিনয়ী হও "এবং বলো, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন" অর্থাৎ তাদের বার্ধক্যে ও তাদের মৃত্যুর সময় "যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।"
পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:
আনাস এবং অন্যান্যদের সূত্রে বিভিন্ন পথে বর্ণিত হাদিস যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিম্বরে আরোহণ করলেন, তখন বললেন: আমিন, আমিন, আমিন। তারা বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কিসের ওপর আমিন বললেন? তিনি বললেন: জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যার নিকট আপনার নাম উল্লেখ করা হলো কিন্তু সে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করল না। আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যার নিকট রমজান মাস আসলো অতঃপর তা চলে গেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না। আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন। অতঃপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তির নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক যে তার পিতামাতা অথবা তাদের একজনকে পেল কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না। আপনি বলুন: আমিন। তখন আমি বললাম: আমিন।" ১। এবং ইমাম বর্ণনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أحمد من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلي الله عليه وسلم: " رغم أنف، ثم رغم أنف، ثم رغم أنف رجل أدرك والديه، أحدهما أو كلاهما، لم يدخل الجنة " 1. قال العماد ابن كثير: صحيح من هذا الوجه عن أبي بكرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: " ألا أنبئكم بأكبر الكبائر; قلنا: بلى يا رسول الله، قال: الإشراك بالله، وعقوق الوالدين. وكان متكئا فجلس فقال: ألا وقول الزور، ألا وشهادة الزور، فما زال يكررها حتى قلنا: ليته سكت " 2 رواه البخاري ومسلم. وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم:
" رضى الرب في رضى الوالدين، وسخطه في سخط الوالدين " 3 رواه الترمذي وصححه ابن حبان والحاكم. عن أسيد الساعدي رضي الله عنه قال: " بينا نحن جلوس عند النبي صلي الله عليه وسلم إذ جاءه رجل من بني سلمة فقال: يا رسول الله، هل بقي من بر أبوي شيء أبرهما به بعد موتهما؟ فقال: نعم، الصلاة عليهما والاستغفار لهما، وإنفاذ عهدهما من بعدهما، وصلة الرحم التي لا توصل إلا بهما، وإكرام صديقهما " 5 رواه أبو داود وابن ماجه. والأحاديث في هذا المعنى كثيرة جدا.
وقوله: {اعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 6?قال العماد ابن كثير رحمه الله
--------------------------------------------
আহমদ বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন: "নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক, অতঃপর নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক, অতঃপর নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক সেই ব্যক্তির, যে তার পিতামাতাকে বার্ধক্যে পেল—তাদের একজনকে অথবা উভয়কে—অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।" 1. ইমাদ ইবনে কাসির বলেন: আবু বাকরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত এই সূত্রটি সহিহ। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে জানাব না? আমরা বললাম: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, এরপর সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন: সাবধান! আর মিথ্যা কথা বলা, সাবধান! আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। তিনি এটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা (মনে মনে) বললাম: যদি তিনি থামতেন।" 2 বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"পিতামাতার সন্তুষ্টিতে রবের সন্তুষ্টি এবং পিতামাতার অসন্তুষ্টিতে রবের অসন্তুষ্টি নিহিত।" 3 তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহিহ বলেছেন। উসাইদ আল-সা’ঈদি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বসা ছিলাম, তখন বনু সালামাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতামাতার মৃত্যুর পর কি তাঁদের সাথে সদাচরণ করার এমন কিছু অবশিষ্ট আছে যার মাধ্যমে আমি তাঁদের সাথে সদাচরণ করতে পারি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাঁদের জন্য দোয়া করা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা, তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের অঙ্গীকার পূর্ণ করা, সেই আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা যা তাঁদের মাধ্যম ছাড়া যুক্ত হয় না এবং তাঁদের বন্ধুদের সম্মান করা।" 5 আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন। এবং এই মর্মে হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক।
এবং আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না} 6? ইমাদ ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
في هذه الآية: "" يأمر الله تعالى عباده بعبادته وحده لا شريك له فإنه الخالق الرازق المتفضل على خلقه في جميع الحالات، وهو المستحق منهم أن يوحدوه ولا يشركوا به شيئا من مخلوقاته"". انتهى.
وهذه الآية هي التي تسمى آية الحقوق العشرة، وفي بعض النسخ المعتمدة من نسخ هذا الكتاب تقديم هذه الآية على آية الأنعام، ولهذا قدمتها لمناسبة كلام ابن مسعود الآتي لآية الأنعام، ليكون ذكره بعدها أنسب.
وقوله تعالى: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} 1 الآيات2.
--------------------------------------------
এই আয়াতে: "আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করে, যার কোনো শরিক নেই। কেননা তিনিই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং সকল অবস্থায় তাঁর সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহকারী। তিনিই তাদের নিকট থেকে এই পাওনা রাখেন যে, তারা তাঁকে একত্বে স্বীকার করবে এবং তাঁর সাথে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুকে শরিক করবে না।" সমাপ্ত।
আর এই আয়াতটিকেই দশটি হকের আয়াত বলা হয়। এই বইটির কিছু নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিতে এই আয়াতটি সূরা আনআমের আয়াতের পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কারণে ইবনে মাসউদের (রা.) আগামী বক্তব্য যা সূরা আনআমের আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট, তার সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য আমি এটি আগে উল্লেখ করেছি, যাতে তাঁর উল্লেখটি এর পরে আসা অধিক মানানসই হয়।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, এসো আমি তোমাদের ওপর তোমাদের রব যা হারাম করেছেন তা তিলাওয়াত করে শুনাই যে, তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো...} ১ আয়াতসমূহ ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال العماد ابن كثير رحمه الله: " يقول تعالى لنبيه ورسوله محمد صلي الله عليه وسلم: " قل " لهؤلاء المشركين الذين عبدوا غير الله، وحرموا ما رزقهم الله، " تعالوا " أي هلموا وأقبلوا " أتل " أقص عليكم {ما حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ} 1 حقا، لا تخرصا ولا ظنا، بل وحيا منه وأمرا من عنده {ما حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ} وكان في الكلام محذوفا دل عليه السياق تقديره: وصاكم ألا تشركوا به شيئا، ولهذا قال في آخر الآية {ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ} اهـ.
قلت: فيكون المعنى: حرم عليكم ما وصاكم بتركه من الإشراك به، وفي المغني لابن هشام في قوله تعالى: " ألا تشركوا به شيئا" سبعة أقوال: أحسنها: هذا الذي ذكره ابن كثير، ويليه: بين لكم ذلك لئلا تشركوا، فحذفت الجملة من أحدهما، وهي " وصاكم " وحرف الجر وما قبله من الأخرى. ولهذا إذا سئلوا عما يقول لهم رسول الله صلي الله عليه وسلم قالوا: يقول: " اعبدوا الله ولا تشركوا به شيئا واتركوا ما يقول آباؤكم "2 كما قال أبو سفيان لهرقل3 وهذا هو الذي فهمه أبو سفيان وغيره من قول رسول الله صلي الله عليه وسلم لهم!: " قولوا لا إله إلا الله تفلحوا " 4.
وقوله تعالى: {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} قال القرطبي: الإحسان إلى الوالدين برهما وحفظهما وصيانتهما وامتثال أمرهما، وإزالة الرق عنهما، وترك السلطنة عليهما، و " إحسانا " نصب على المصدرية، وناصبه فعل من لفظه تقديره: وأحسنوا بالوالدين إحسانا.
وقوله: {وَلا تَقْتُلُوا أَوْلادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ} 5 الإملاق: الفقر،
--------------------------------------------
আল-ইমাদ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মহান আল্লাহ তাঁর নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলছেন: 'বলুন' ওইসব মুশরিকদের যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করত এবং আল্লাহ তাদের যে রিযিক দিয়েছিলেন তা হারাম করত, 'এসো' অর্থাৎ তোমরা হাযির হও এবং এগিয়ে এসো, 'আমি পাঠ করি' অর্থাৎ আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করি {তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন} ১ সত্যরূপে, কোনো অনুমান বা ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়, বরং তাঁর পক্ষ থেকে আসা ওহী এবং নির্দেশের মাধ্যমে {তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন}। আর এই বাক্যে কিছু শব্দ উহ্য রয়েছে যা প্রসঙ্গের মাধ্যমে বোঝা যায়, যার অর্থ দাঁড়ায়: তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, এই কারণেই আয়াতের শেষে তিনি বলেছেন {তিনি তোমাদের এই নির্দেশই দিয়েছেন}। সমাপ্ত।"
আমি বলি: তাহলে অর্থটি হবে: তিনি তোমাদের ওপর তা হারাম করেছেন যা পরিহার করতে তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আর তা হলো তাঁর সাথে শিরক করা। ইবনে হিশামের 'আল-মুগনী' গ্রন্থে আল্লাহ তাআলার বাণী "যাতে তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করো" সম্পর্কে সাতটি অভিমত রয়েছে: তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো ইবনে কাসীর যা উল্লেখ করেছেন। এরপর দ্বিতীয়টি হলো: তিনি তোমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন যাতে তোমরা শিরক না করো; এক্ষেত্রে কোনো এক পক্ষ থেকে একটি বাক্য উহ্য রাখা হয়েছে, যা হলো 'তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন', এবং অন্যটি থেকে অব্যয় ও তার পূর্বের অংশ উহ্য রাখা হয়েছে। এই কারণেই, যখন তাদের জিজ্ঞেস করা হতো যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের কী বলেন, তখন তারা বলত: তিনি বলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলে তা বর্জন করো" ২ যেমনটি আবু সুফিয়ান হিরাক্লিয়াসকে বলেছিলেন ৩। আর এটাই হলো সেই বিষয় যা আবু সুফিয়ান ও অন্যরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী থেকে বুঝেছিলেন: "তোমরা বলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', তবেই তোমরা সফলকাম হবে" ৪।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো}। আল-কুরতুবী বলেন: পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার হলো তাদের প্রতি সদাচরণ করা, তাদের হেফাজত করা, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করা, তাদের আদেশ পালন করা, তাদের থেকে দাসত্বের বোঝা দূর করা এবং তাদের ওপর কর্তৃত্ব খাটানো ত্যাগ করা। আর 'ইহসানান' (সদ্ব্যবহার) শব্দটি ক্রিয়া-মূল হিসেবে জবর প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর আমলকারী হলো এর সমজাতীয় একটি উহ্য ক্রিয়া, যার রূপ হলো: এবং তোমরা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো।
আর তাঁর বাণী: {এবং দারিদ্র্যের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমরাই তাদের এবং তোমাদের রিযিক দেই} ৫। ইমলাক অর্থ: দারিদ্র্য,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أي لا تئدوا بناتكم خشية العيلة والفقر، فإني رازقكم وإياهم، وكان منهم من يفعل ذلك بالذكور خشية الفقر، ذكره القرطبي. وفي الصحيحين عن ابن مسعود رضي الله عنه: " قلت: يا رسول الله، أي الذنب أعظم عند الله؟ قال: أن تجعل لله ندا وهو خلقك. قلت: ثم أي؟ قال: أن تقتل ولدك خشية أن يطعم معك. قلت: ثم أي؟ قال: أن تزاني بحليلة جارك " 1 ثم تلا رسول الله صلي الله عليه وسلم {وَالَّذِينَ لا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلا بِالْحَقِّ وَلا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا يُضَاعَفْ لَهُ الْعَذَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَخْلُدْ فِيهِ مُهَانًا إِلا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا} 2.
وقوله: {وَلا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} 3 قال ابن عطية: " نهي عام عن جميع أنواع الفواحش، وهي المعاصي. و "ظهر" و "بطن" حالتان تستوفيان أقسام ما جعلتا له من الأشياء". انتهى.
وقوله: {وَلا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلا بِالْحَقِّ} في الصحيحين.
عن ابن مسعود رضي الله عنه مرفوعا: " لا يحل دم امرئ مسلم يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله إلا بإحدى ثلاث: الثيب الزاني، والنفس بالنفس، والتارك لدينه المفارق للجماعة " 4
وقوله: {ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} 5 قال ابن عطية: " ذلكم " إشارة إلى هذه المحرمات والوصية الأمر المؤكد المقرر. وقوله: {لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} {لعل} للتعليل أي إن الله تعالى وصانا بهذه الوصايا لنعقلها عنه ونعمل بها، وفي تفسير الطبري الحنفي: ذكر أولا " تعقلون " ثم " تذكرون " ثم " تتقون "؛ لأنهم إذا عقلوا تذكروا فخافوا واتقوا.
وقوله: {وَلا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ} 6 قال ابن عطية: هذا نهي عام عن القرب الذي يعم وجوه التصرف، وفيه سد الذريعة، ثم استثنى ما يحسن وهو السعي في نمائه. قال مجاهد: التي هي أحسن: التجارة فيه. وقوله: {حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ} قال مالك وغيره: هو الرشد وزوال السفه مع البلوغ،
--------------------------------------------
অর্থাৎ দারিদ্র্য ও অভাবের আশঙ্কায় তোমরা তোমাদের কন্যাদের জীবন্ত কবর দিও না; কারণ আমিই তোমাদের এবং তাদের জীবিকা দান করি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দারিদ্র্যের ভয়ে পুত্রসন্তানদের ক্ষেত্রেও এমনটি করত, যা আল-কুরতুবী উল্লেখ করেছেন। আর সহীহাইন-এ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে কোন গুনাহটি সবচেয়ে বড়? তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: তোমার সাথে আহার করবে এই ভয়ে তোমার সন্তানকে হত্যা করা। আমি বললাম: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।" ১ এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: "এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না, আর আল্লাহ যার হত্যা হারাম করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং তারা ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি তা করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে। কিয়ামতের দিন তার আযাব দ্বিগুণ করা হবে এবং সে সেখানে লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। তবে যে তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপসমূহকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন এবং আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" ২।
এবং তাঁর বাণী: "তোমরা অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হয়ো না, চাই তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য।" ৩ ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: "এটি সকল প্রকার অশ্লীলতা তথা নাফরমানি থেকে একটি সাধারণ নিষেধ। আর 'প্রকাশ্য' ও 'অপ্রকাশ্য' হলো এমন দুটি অবস্থা যা সেই সব বিষয়ের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে যার জন্য এই অবস্থা দুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।" (সমাপ্ত)।
এবং তাঁর বাণী: "আর যথার্থ কারণ ছাড়া তোমরা সেই আত্মাকে হত্যা করো না যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন।" এটি সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্ত (তাকে হত্যা করা) তিনটি কারণ ছাড়া বৈধ নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী, প্রাণের বদলে প্রাণ এবং নিজের দ্বীন পরিত্যাগকারী যে জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।" ৪
এবং তাঁর বাণী: "এভাবেই তিনি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝতে পারো।" ৫ ইবনে আতিয়য়াহ বলেন: "এটি" (এভাবেই) দ্বারা এই সকল নিষিদ্ধ বিষয়সমূহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং নির্দেশ (ওসিয়ত) হলো সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত আদেশ। আর তাঁর বাণী: "যেন তোমরা বুঝতে পারো" — এখানে "যেন" (লা-আল্লা) কারণ দর্শানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ মহান আল্লাহ আমাদের এই সব নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা তাঁর পক্ষ থেকে তা বুঝতে পারি এবং সে অনুযায়ী আমল করি। তাবারি আল-হানাফির তাফসিরে রয়েছে: তিনি প্রথমে "তোমরা বুঝতে পারো" এরপর "তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো" এবং সবশেষে "তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো" উল্লেখ করেছেন; কারণ তারা যখন বুঝতে পারে, তখন তারা শিক্ষা গ্রহণ করে এবং ফলে তারা ভীত হয় ও তাকওয়া অবলম্বন করে।
এবং তাঁর বাণী: "আর তোমরা এতিমের মালের নিকটবর্তী হয়ো না উত্তম পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে (যৌবনে) পৌঁছায়।" ৬ ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: এটি সেই সব নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ নিষেধ যা ব্যবহারের সকল দিককে শামিল করে, এবং এতে অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। এরপর তিনি যা উত্তম সেটিকে ব্যতিক্রম হিসেবে রেখেছেন, আর তা হলো এতিমের সম্পদ বৃদ্ধিতে সচেষ্ট হওয়া। মুজাহিদ বলেন: 'উত্তম পন্থা' হলো তা দিয়ে ব্যবসা করা। আর তাঁর বাণী: "যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছায়" — ইমাম মালিক ও অন্যান্যরা বলেন: এটি হলো সাবালক হওয়ার সাথে সাথে বিবেকবুদ্ধি লাভ করা এবং নির্বুদ্ধিতা দূর হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
روي نحو هذا عن زيد بن أسلم والشعبي وربيعة وغيرهم.
وقوله: {وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ} قال ابن كثير: يأمر تعالى بإقامة العدل في الأخذ والإعطاء {لا نُكَلِّفُ نَفْساً إِلا وُسْعَهَا} أي من اجتهاد بأداء الحق وأخذه، فإن أخطأ بعد استفراغ الوسع وبذل جهده فلا حرج عليه.
وقوله: {وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى} هذا أمر بالعدل في القول والفعل على القريب والبعيد. قال الحنفي: العدل في القول في حق الولي والعدو لا يتغير في الرضى والغضب، بل يكون على الحق وإن كان ذا قربى فلا يميل إلى الحبيب والقريب {وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} 1.
وقوله: {وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا} قال ابن جرير: وبوصية الله تعالى التي وصاكم بها فأوفوا. وإيفاء ذلك بأن يطيعوه بما أمرهم به ونهاهم عنه. وأن يعملوا بكتابه وسنة رسوله صلي الله عليه وسلم، وذلك هو الوفاء بعهد الله. وكذا قال غيره.
وقوله: {ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} تتعظون وتنتهون عما كنتم فيه.
وقوله: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} 2 قال القرطبي: "" هذه آية عظيمة عطفها على ما تقدم. فإنه نهى وأمر وحذر عن اتباع غير سبيله على ما بينته الأحاديث الصحيحة وأقاويل السلف. و " أن " في موضع نصب. أي أتلو أن هذا صراطي، عن الفراء والكسائي. ويجوز أن يكون خفضا. أي وصاكم به وبأن هذا صراطي. قال: والصراط الطريق الذي هو دين الإسلام. " مستقيما " نصب على الحال ومعناه مستويا قيما لا اعوجاج فيه. فأمر باتباع طريقه الذي طرقه على لسان محمد صلي الله عليه وسلم وشرعه، ونهايته الجنة، وتشعبت منه طرق، فمن سلك الجادة نجا، ومن خرج إلى تلك الطرق أفضت به إلى النار. قال الله تعالى: {وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} أي تميل". انتهى.
--------------------------------------------
অনুরূপ বর্ণনা জায়েদ ইবনে আসলাম, শাবী, রাবিআ এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা ওজন ও পরিমাপ ইনসাফের সাথে পূর্ণ করো।} ইবনে কাসীর বলেন: মহান আল্লাহ লেনদেনের ক্ষেত্রে ইনসাফ কায়েমের নির্দেশ দিচ্ছেন। {আমি কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দিই না} অর্থাৎ হক আদায় করা এবং গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধ্যমতো চেষ্টার পর; যদি কেউ তার সামর্থ্য বিলিয়ে দেয়ার ও প্রচেষ্টা ব্যয় করার পর ভুল করে ফেলে, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা কোনো কথা বলবে, তখন ইনসাফ করবে, যদিও তা নিকটাত্মীয়ের ব্যাপারে হয়।} এটি নিকটবর্তী এবং দূরবর্তী সকলের ক্ষেত্রে কথা ও কাজে ইনসাফের নির্দেশ। আল-হানাফী বলেন: বন্ধু ও শত্রু উভয়ের হকের ক্ষেত্রে কথার ইনসাফ সন্তুষ্টি কিংবা রাগের সময় পরিবর্তিত হবে না; বরং তা সত্যের ওপর অবিচল থাকবে। এমনকি যদি সে নিকটাত্মীয়ও হয়, তবুও প্রিয়জন বা আত্মীয়ের দিকে ঝুঁকে পড়বে না। {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ ত্যাগ করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।} ১।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো।} ইবনে জারীর বলেন: আল্লাহ তাআলা তোমাদের যে অসিয়ত (নির্দেশ) দিয়েছেন তা পূর্ণ করো। আর তা পূর্ণ করা হলো তিনি যা আদেশ করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন সে ব্যাপারে তাঁর আনুগত্য করার মাধ্যমে; এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। আর এটিই আল্লাহর অঙ্গীকার পূরণ। অন্যরাও অনুরূপ বলেছেন।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।} অর্থাৎ তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো এবং যা কিছুতে লিপ্ত ছিলে তা থেকে বিরত থাকো।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর এটিই আমার সোজা পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় সেসব পথ তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।} ২ আল-কুরতুবী বলেন: "এটি একটি মহান আয়াত যা পূর্ববর্তী আয়াতের সাথে সংযুক্ত। কেননা এতে সহীহ হাদীসসমূহ এবং সালাফদের বক্তব্য অনুযায়ী তাঁর পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে। আল-ফাররা এবং আল-কিসাঈর মতে এখানে 'আন্না' (নিশ্চয়ই) শব্দটি নসব (উদ্দেশ্যপদ) এর স্থানে রয়েছে। অর্থাৎ আমি তিলাওয়াত করছি যে, এটিই আমার পথ। এটি জর (সম্বন্ধপদ) হওয়াও সম্ভব। অর্থাৎ তিনি তোমাদের এর অসিয়ত করেছেন এবং নিশ্চয়ই এটি আমার পথ এর অসিয়ত করেছেন। তিনি বলেন: 'সিরাত' হলো সেই পথ যা হলো ইসলাম ধর্ম। 'মুস্তাকিমান' শব্দটি হাল (অবস্থা) হিসেবে নসব হয়েছে এবং এর অর্থ হলো সোজা ও সুদৃঢ় যাতে কোনো বক্রতা নেই। সুতরাং তিনি তাঁর সেই পথের অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন যা তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানে এবং শরীয়তে পরিষ্কার করেছেন, যার শেষ গন্তব্য জান্নাত। এ থেকে অনেকগুলো রাস্তা বের হয়েছে; যে ব্যক্তি মূল পথে চলবে সে মুক্তি পাবে, আর যে ঐসব রাস্তায় বের হয়ে যাবে তা তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় সেসব পথ তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} অর্থাৎ তোমরা বিচ্যুত হবে।" সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وروى الإمام أحمد والنسائي والدارمي وابن أبي حاتم والحاكم - وصححه - عن ابن مسعود رضي الله عنه قال:
" خط رسول الله صلي الله عليه وسلم خطا بيده، ثم قال: هذا سبيل الله مستقيما، ثم خط خطوطا عن يمين ذلك الخط وعن شماله ثم قال: وهذه سبل ليس منها سبيل إلا وعليه شيطان يدعو إليه " 1 ثم قرأ {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} الآية.
وعن مجاهد: ولا تتبعوا السبل، قال: البدع والشهوات.
قال ابن القيم رحمه الله: ولنذكر في الصراط المستقيم قولا وجيزا، فإن الناس قد تنوعت عباراتهم عنه بحسب صفاته ومتعلقاته، وحقيقته شيء واحد، وهو طريق الله الذي نصبه لعباده موصلا لهم إليه، ولا طريق إليه سواه، بل الطرق كلها مسدودة على الخلق إلا طريقه الذي نصبه على ألسن رسله، وجعله موصلا لعبادة الله، وهو إفراده بالعبادة، وإفراد رسله بالطاعة، فلا يشرك به أحدا في عبادته ولا يشرك برسوله صلي الله عليه وسلم أحدا في طاعته. فيجرد التوحيد، ويجرد متابعة الرسول صلي الله عليه وسلم وهذا كله
قال ابن مسعود: من أراد أن ينظر إلى وصية محمد صلي الله عليه وسلم التي عليها خاتمه فليقرأ قوله تعالى: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} إلى قوله: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً} 2 الآية.
مضمون "شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله" فأي شيء فسر به الصراط المستقيم فهو داخل في هذين الأصلين. ونكتة ذلك، أن تحبه بقلبك وترضيه بجهدك كله، فلا يكون في قلبه موضع إلا معمورا بحبه، ولا يكون لك إرادة إلا متعلقة بمرضاته. فالأول يحصل بتحقيق شهادة أن لا إله إلا الله، والثاني يحصل بتحقيق شهادة أن محمدا رسول الله. وهذا هو الهدى ودين الحق، وهو معرفة الحق والعمل به، وهو معرفة ما بعث الله به رسوله والقيام به، وقل ما شئت من العبارات التي هذا آخيتها3 وقطب رحاها. قال: وقال سهل بن عبد الله: " عليكم بالأثر والسنة، فإني أخاف أنه سيأتي عن قليل زمان إذا ذكر إنسان النبي صلي الله عليه وسلم والاقتداء به في جميع أحواله ذموه ونفروا عنه وتبرءوا منه وأذلوه وأهانوه " اهـ4.
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ, নাসায়ি, দারিমি, ইবনে আবি হাতিম এবং হাকিম - তিনি একে সহিহ বলেছেন - ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে একটি রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন: এটি আল্লাহর সোজা পথ। এরপর তিনি সেই রেখার ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: এগুলো হলো অনেকগুলো পথ, যার প্রতিটি পথেই একজন শয়তান দাঁড়িয়ে সেদিকে ডাকছে।" ১ অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "আর এটিই আমার সহজ-সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না।" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: "আর তোমরা অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না", তিনি বলেন: (এর অর্থ হলো) বিদআত এবং কুপ্রবৃত্তি।
ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল পথ) সম্পর্কে আমরা একটি সংক্ষিপ্ত কথা উল্লেখ করব। কেননা মানুষেরা এর গুণাবলী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীর প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে, তবে এর হাকিকত বা বাস্তবতা এক। আর তা হলো আল্লাহর পথ যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন তাদের তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। আর তিনি ব্যতীত তাঁর কাছে পৌঁছানোর কোনো পথ নেই; বরং তাঁর নির্ধারিত পথ যা তিনি তাঁর রাসূলদের মুখে পাঠিয়েছেন তা ব্যতীত সৃষ্টির জন্য সমস্ত পথ রুদ্ধ। তিনি একে আল্লাহর ইবাদতের দিকে পৌঁছানোর মাধ্যম বানিয়েছেন; আর তা হলো ইবাদতে তাঁকে একক করা এবং আনুগত্যে তাঁর রাসূলদের একক করা। সুতরাং তাঁর ইবাদতে কাউকে শরিক করবে না এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যেও কাউকে শরিক করবে না। অতএব সে তাওহিদকে বিশুদ্ধ করবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণকে একনিষ্ঠ করবে। আর এ সবই হলো
ইবনে মাসউদ বলেন: যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই অসিয়তনামা দেখতে চায় যাতে তাঁর মোহর লাগানো আছে, সে যেন মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করে: "বলুন, এসো আমি তোমাদের ওপর তোমাদের রব যা হারাম করেছেন তা তিলাওয়াত করি; তা এই যে, তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না..." মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: "আর এটিই আমার সহজ-সরল পথ।" ২ (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" সাক্ষ্য দেওয়ার সারমর্ম। সুতরাং সিরাতুল মুস্তাকিমের যে ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, তা এই দুটি মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। এর মূল রহস্য হলো, আপনি তাঁকে আপনার অন্তর দিয়ে ভালোবাসবেন এবং আপনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁকে সন্তুষ্ট করবেন। ফলে আপনার অন্তরে তাঁর ভালোবাসা ব্যতীত আর কোনো কিছুর স্থান থাকবে না এবং আপনার কোনো ইচ্ছাই তাঁর সন্তুষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ছাড়া থাকবে না। প্রথমটি অর্জিত হয় "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-এর সাক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে, আর দ্বিতীয়টি অর্জিত হয় "মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ"-এর সাক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। আর এটিই হলো হিদায়াত এবং সত্য দ্বীন। আর তা হলো সত্যকে জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা; আল্লাহ তাঁর রাসূলকে যা দিয়ে পাঠিয়েছেন তা জানা এবং তা প্রতিষ্ঠা করা। আপনি এ সংক্রান্ত যা ইচ্ছা শব্দ ব্যবহার করুন না কেন, তার মূল ভিত্তি ৩ ও অক্ষতত্ত্ব এটাই। তিনি বলেন: সাহল বিন আবদুল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আছার (সালাফদের বর্ণনা) ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। কেননা আমি ভয় পাচ্ছি যে, অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ করলে এবং তাঁর সমস্ত অবস্থায় তাঁর অনুসরণের কথা বললে মানুষ তাকে নিন্দা করবে, তার থেকে দূরে সরে যাবে, তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে, তাকে অপদস্থ করবে এবং তাকে অপমানিত করবে।" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قوله: "قال ابن مسعود: من أراد أن ينظر إلى وصية محمد صلي الله عليه وسلم التي عليها خاتمه فليقرأ " {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ} - إلى قوله-: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً} الآية".
قوله: "ابن مسعود" هو عبد الله بن مسعود بن غافل - بمعجمة وفاء - ابن حبيب الهذلي أبو عبد الرحمن، صحابي جليل من السابقين الأولين، وأهل بدر وأحد والخندق وبيعة الرضوان ومن كبار علماء الصحابة، أمره عمر على الكوفة، ومات سنة اثنتين وثلاثين رضي الله عنه.
وهذا الأثر رواه الترمذي وحسنه، وابن المنذر وابن أبي حاتم والطبراني بنحوه.
وقال بعضهم: معناه من أراد أن ينظر إلى الوصية التي كأنها كتبت وختم عليها فلم تغير ولم تبدل فليقرأ " قل تعالوا " إلى آخر الآيات، شبهها بالكتاب الذي كتب ثم ختم فلم يزد فيه ولم ينقص. فإن النبي صلي الله عليه وسلم لم يوص إلا بكتاب الله، كما قال فيما رواه مسلم: " وإني تارك فيكم ما إن تمسكتم به لن تضلوا: كتاب الله " 1، وقد روى عبادة بن الصامت قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: "أيكم يبايعني على هؤلاء الآيات الثلاث؟ ثم تلا قوله: " {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ} 2 حتى فرغ من الثلاث الآيات". ثم قال: " من وفى بهن فأجره على الله، ومن انتقص منهن شيئا فأدركه الله به في الدنيا كانت عقوبته، ومن أخره إلى الآخرة كان أمره إلى الله إن شاء آخذه وإن شاء عفا عنه " 3. رواه ابن أبي حاتم والحاكم وصححه ومحمد بن نصر في الاعتصام4.
قلت: ولأن النبي صلي الله عليه وسلم لم يوص أمته إلا بما وصاهم الله تعالى به على لسانه. وفي كتابه الذي أنزله {تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} 5 وهذه الآيات وصية الله تعالى ووصية رسوله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: "ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই অসিয়ত বা উপদেশনামা দেখতে চায় যার ওপর তাঁর মোহর রয়েছে, সে যেন পাঠ করে: 'বলুন, এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা আমি তিলাওয়াত করি'—আল্লাহর এই বাণী থেকে: 'আর এটিই আমার সরল পথ'—আয়াতের এই অংশ পর্যন্ত।"
তাঁর উক্তি: "ইবনে মাসউদ" তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ইবনে গাফিল—গাইন এবং ফা বর্ণসহ—ইবনে হাবিব আল-হুযালি আবু আব্দুর রহমান। তিনি একজন সুমহান সাহাবী, যিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত, এবং বদর, উহুদ, খন্দক ও বায়আতুর রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী। তিনি সাহাবীদের মধ্যকার শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একজন ছিলেন। উমর (রা.) তাঁকে কুফার শাসক নিযুক্ত করেছিলেন এবং তিনি ৩২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
এই বর্ণনাটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন। এছাড়া ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং তাবারানিও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
উলামাদের কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি এমন অসিয়ত বা নির্দেশনামা দেখতে চায় যা যেন লিখে তার ওপর মোহর এঁটে দেওয়া হয়েছে, ফলে তাতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন ঘটেনি, সে যেন 'বলুন, এসো' থেকে আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করে। তিনি একে এমন একটি লিখিত কিতাবের সাথে তুলনা করেছেন যা লিখে মোহর করা হয়েছে, ফলে তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি বা হ্রাস করার অবকাশ নেই। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর কিতাব ছাড়া অন্য কিছুর অসিয়ত করে যাননি, যেমনটি তিনি ইমাম মুসলিম বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না, আর তা হলো আল্লাহর কিতাব।" উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কে এই তিনটি আয়াতের ওপর আমার কাছে বায়আত গ্রহণ করবে? এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: 'বলুন, এসো, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন তা আমি তিলাওয়াত করি'—এই আয়াত থেকে তিনটি আয়াত শেষ করা পর্যন্ত।" অতঃপর তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করবে তার প্রতিদান আল্লাহর জিম্মায়। আর যে ব্যক্তি এ থেকে কোনো কিছুতে ত্রুটি করবে এবং আল্লাহ দুনিয়াতেই তাকে পাকড়াও করবেন, তবে সেটিই তার শাস্তি। আর যাকে পরকাল পর্যন্ত অবকাশ দেবেন, তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন অথবা চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন।" এটি ইবনে আবি হাতিম, হাকেম (তিনি একে সহিহ বলেছেন) এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসর 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে কেবল সেই বিষয়েরই অসিয়ত করেছেন যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা নবীর জবানে এবং তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে দিয়েছেন, যা "প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং মুসলিমদের জন্য হিদায়াত, রহমত ও সুসংবাদ।" আর এই আয়াতগুলো হলো আল্লাহ তাআলার অসিয়ত এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এরও অসিয়ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قوله: " وعن معاذ بن جبل قال: "كنت رديف النبي صلي الله عليه وسلم على حمار، فقال لي: " يا معاذ أتدري ما حق الله على العباد؟ وما حق العباد على الله؟ قلت: الله ورسوله أعلم. قال: حق الله على العباد: أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا. وحق العباد على الله أن لا يعذب من لا يشرك به شيئا قلت: يا رسول الله، أفلا أبشر الناس؟ قال: لا تبشرهم فيتكلوا " أخرجاه في الصحيحين".
هذا الحديث في الصحيحين من طرق. وفي بعض رواياته نحو مما ذكره المصنف.
و"معاذ بن جبل" رضي الله عنه هو ابن عمرو بن أوس الأنصاري الخزرجي أبو عبد الرحمن، صحابي مشهور من أعيان الصحابة، شهد بدرا وما بعدها. وكان إليه المنتهى في العلم والأحكام والقرآن رضي الله عنه. وقال النبي صلي الله عليه وسلم: " معاذ يحشر يوم القيامة أمام العلماء برتوة " 1. 2 أي بخطوة، قال في القاموس: "" والرتوة الخطوة وشرف من الأرض، وسويعة من الزمان، والدعوة، والفطرة، ورمية بسهم أو نحو ميل أو مدى البصر. والراتي العالم الرباني". انتهى.
وقال في النهاية: إنه يتقدم العلماء برتوة أي برمية سهم. وقيل: بميل. وقيل: مد البصر. وهذه الثلاثة أشبه بمعنى الحديث. مات معاذ سنة ثماني عشرة بالشام في طاعون عمواس. وقد استخلفه النبي صلي الله عليه وسلم على أهل مكة يوم الفتح يعلمهم دينهم.
قوله: "كنت رديف النبي صلى الله عليه وسلم" فيه جواز الإرداف على الدابة، وفضيلة معاذ رضي الله عنه.
قوله: "على حمار" في رواية: اسمه عفير، قلت: أهداه إليه المقوقس صاحب مصر.
وفيه: تواضعه صلي الله عليه وسلم لركوب الحمار والإرداف عليه، خلافا لما عليه أهل الكبر.
قوله: "أتدري ما حق الله على العباد" أخرج السؤال بصيغة الاستفهام؛ ليكون أوقع
--------------------------------------------
তার উক্তি: "মু'আয বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে মু'আয! তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী? আর আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন: বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। আর আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো তিনি এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: তাদের সুসংবাদ দিও না, কারণ তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে। এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।"
এই হাদীসটি সহীহায়নে (বুখারী ও মুসলিম) বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর কিছু বর্ণনায় গ্রন্থকার যা উল্লেখ করেছেন তার কাছাকাছি শব্দ এসেছে।
আর "মু'আয বিন জাবাল" (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হলেন আমর বিন আউস আল-আনসারী আল-খাজরাজীর পুত্র, উপনাম আবু আব্দুর রহমান। তিনি একজন প্রসিদ্ধ সাহাবী এবং বিশিষ্ট সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বদর এবং পরবর্তী সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ইলম, আহকাম (বিধান) এবং কুরআনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের অধিকারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মু'আয আলিমদের সামনে এক 'রতওয়া' পরিমাণ দূরত্বে থেকে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবে।" ১. ২ অর্থাৎ এক ধাপ। 'আল-কামুস' অভিধানে বলা হয়েছে: "রতওয়া হলো ধাপ, ভূমির উঁচু স্থান, সময়ের সামান্য অংশ, আহ্বান, ফিতরাত, তীরের এক নিক্ষেপ দূরত্ব অথবা প্রায় এক মাইল বা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত দূরত্ব। আর 'আর-রাতী' অর্থ হলো রব্বানী আলিম।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
'আল-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি আলিমদের অগ্রভাগে থাকবেন এক 'রতওয়া' অর্থাৎ এক তীর নিক্ষেপ দূরত্ব পরিমাণ। কেউ বলেছেন: এক মাইল পরিমাণ। আবার কেউ বলেছেন: দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত। এই তিনটি অর্থই হাদীসের প্রসঙ্গের সাথে অধিকতর সাদৃশ্যপূর্ণ। মু'আয (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হিজরী আঠারো সনে শামে আমওয়াসের মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন। মক্কা বিজয়ের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে মক্কাবাসীদের দ্বীন শেখানোর জন্য তাদের ওপর প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছিলেন।
তাঁর উক্তি: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলাম"—এতে পশুর পিঠে আরোহীর পেছনে অন্য কাউকে বসানোর বৈধতা এবং মু'আয (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।
তাঁর উক্তি: "একটি গাধার পিঠে"—একটি বর্ণনায় এসেছে: এর নাম ছিল 'উফাইর'। আমি বলছি: মিসরের অধিপতি মুকাউকিস এটি তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন।
এতে গাধায় আরোহণ এবং পেছনে কাউকে বসানোর ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিনয় প্রকাশ পায়, যা অহংকারী ব্যক্তিদের আচরণের বিপরীত।
তাঁর উক্তি: "তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী"—এখানে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসাসূচক বাক্যে করা হয়েছে যাতে তা অধিক প্রভাব বিস্তার করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
في النفس وأبلغ في فهم المتعلم. و"حق الله على العباد" هو ما يستحقه عليهم. و " حق العباد على الله " معناه أنه متحقق لا محالة؛ لأنه قد وعدهم ذلك جزاء لهم على توحيده {وَعْدَ اللَّهِ لا يُخْلِفُ اللَّهُ وَعْدَهُ} 1.
قال شيخ الإسلام: كون المطيع يستحق الجزاء هو استحقاق إنعام وفضل، ليس هو استحقاق مقابلة، كما يستحق المخلوق على المخلوق، فمن الناس من يقول: لا معنى للاستحقاق، إلا أنه أخبر بذلك ووعده صدق، ولكن أكثر الناس يثبتون استحقاقا زائدا على هذا، كما دل عليه الكتاب والسنة. قال تعالى: {وَكَانَ حَقّاً عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ} 2 لكن أهل السنة يقولون: هو الذي كتب على نفسه الرحمة وأوجب على نفسه الحق، لم يوجبه عليه مخلوق. والمعتزلة يدعون أنه واجب عليه بالقياس على المخلوق، وأن العباد هم الذين أطاعوه بدون أن يجعلهم مطيعين له، وأنهم يستحقون الجزاء بدون أن يكون هو الموجب، وغلطوا في ذلك، وهذا الباب غلطت فيه الجبرية والقدرية أتباع جهم، والقدرية النافية.
قوله: "قلت: الله ورسوله أعلم" فيه حسن الأدب من المتعلم، وأنه ينبغي لمن سئل عما لا يعلم أن يقول ذلك، بخلاف أكثر المتكلفين.
قوله: "أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا" أي يوحدوه بالعبادة. ولقد أحسن العلامة ابن القيم رحمه الله حيث عرف العبادة بتعريف جامع فقال:
وعبادة الرحمن غاية حبه
… مع ذل عابده هما قطبان
وعليهما فلك العبادة دائر
… ما دار حتى قامت القطبان
"ومداره بالأمرأمر رسوله
… لا بالهوى والنفس والشيطان6 "
--------------------------------------------
আত্মার ওপর অধিকতর প্রভাব বিস্তারকারী এবং শিক্ষার্থীর উপলব্ধির জন্য অধিকতর স্পষ্ট। আর "বান্দার ওপর আল্লাহর হক" হলো যা তিনি তাদের থেকে পাওনা। আর "আল্লাহর ওপর বান্দার হক" এর অর্থ হলো এটি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে; কারণ তিনি তাদের তাওহীদের প্রতিদানস্বরূপ এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। {এটি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতির খেলাফ করেন না} ১।
শাইখুল ইসলাম বলেন: আনুগত্যকারীর প্রতিদান পাওয়ার বিষয়টি হলো নিয়ামত ও অনুগ্রহের হকদার হওয়া, এটি বিনিময় হিসেবে পাওনা নয়—যেমনটি এক মাখলুক (সৃষ্টি) অন্য মাখলুকের কাছে পাওনা থাকে। কিছু লোক বলে: এই পাওনা হওয়ার কোনো অর্থ নেই, কেবল এতটুকু যে তিনি এর সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এর অতিরিক্ত একটি হক সাব্যস্ত করেন, যেমনটি কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব} ২। কিন্তু আহলুস সুন্নাহ বলেন: তিনিই নিজের ওপর রহমত লিখে নিয়েছেন এবং নিজের ওপর এই হক আবশ্যক করেছেন, কোনো মাখলুক তাঁর ওপর এটি আবশ্যক করেনি। মুতাযিলাদের দাবি হলো, এটি মাখলুকের সাথে তুলনা করে তাঁর ওপর ওয়াজিব হয়েছে, এবং বান্দারাই তাঁকে আনুগত্যকারী বানানোর পরিবর্তে নিজেরাই আনুগত্য করেছে এবং তিনিই এটি আবশ্যককারী না হওয়া সত্ত্বেও তারা প্রতিদানের হকদার হয়েছে; তারা এই বিষয়ে ভুল করেছে। জাবরিয়া, জাহমিয়াদের অনুসারী কাদারিয়া এবং নাফিয়া কাদারিয়াগণ এই বিষয়ে ভুল করেছে।
তাঁর উক্তি: "আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত" এতে শিক্ষার্থীর শিষ্টাচার প্রকাশ পায়। এবং যে ব্যক্তি এমন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হয় যা সে জানে না, তার উচিত এটিই বলা; অনর্থক পাণ্ডিত্য প্রদর্শনকারীদের বিপরীত।
তাঁর উক্তি: "তারা যেন কেবল তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে" অর্থাৎ ইবাদতে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করা। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) চমৎকার বলেছেন যেখানে তিনি ইবাদতের একটি পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন:
রহমানের ইবাদত হলো তাঁর প্রতি ভালোবাসার চূড়ান্ত সীমা
… সাথে ইবাদতকারীর চূড়ান্ত বিনয়, এই দুটিই হলো মেরু
আর এদের ওপরই ইবাদতের আকাশ আবর্তিত হয়
… এই মেরুদ্বয় প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তা আবর্তিত হয় না
"আর এর আবর্তন রাসূলের আদেশের মাধ্যমে
… প্রবৃত্তি, নফস ও শয়তানের মাধ্যমে নয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قوله: "ولا يشركوا به شيئا" أي يوحدوه بالعبادة، فلا بد من التجرد من الشرك في العبادة، من لم يتجرد من الشرك لم يكن آتيا بعبادة الله وحده، بل هو مشرك قد جعل لله ندا. وهذا معنى قول المصنف رحمه الله:
"وفيه أن العبادة هي التوحيد؛ لأن الخصومة فيه، وفي بعض الآثار الإلهية: " إني والجن والإنس في نبأ عظيم، أخلق ويعبد غيري، وأرزق ويشكر سواي، خيري إلى العباد نازل، وشرهم إلي صاعد، أتحبب إليهم بالنعم، ويتبغضون إلي بالمعاصي ".
قوله: " وحق العباد على الله ألا يعذب من لا يشرك به شيئا " قال الحافظ: " اقتصر على نفي الإشراك؛ لأنه يستدعي التوحيد بالاقتضاء، ويستدعي إثبات الرسالة
باللزوم؛ إذ من كذب رسول الله صلي الله عليه وسلم فقد كذب الله، ومن كذب الله فهو مشرك، وهو مثل قول القائل: ومن توضأ صحت صلاته، أي مع سائر الشروط". اهـ.
قوله: "أفلا أبشر الناس" فيه استحباب بشارة المسلم بما يسره، وفيه ما كان عليه الصحابة من الاستبشار بمثل هذا. قاله المصنف رحمه الله.
قوله: "لا تبشرهم فيتكلوا" أي يعتمدوا على ذلك فيتركوا التنافس في الأعمال. وفي رواية: "فأخبر بها معاذ عند موته تأثما" أي تحرجا من الإثم. قال الوزير أبو المظفر: "لم يكن يكتمها إلا عن جاهل يحمله جهله على سوء الأدب بترك الخدمة في الطاعة، فأما الأكياس الذين إذا سمعوا بمثل هذا زادوا في الطاعة، ورأوا أن زيادة النعم تستدعي زيادة الطاعة، فلا وجه لكتمانها عنهم".
তাঁর বাণী: "এবং তারা যেন তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে" অর্থাৎ তারা যেন ইবাদতে তাঁকে একক সাব্যস্ত করে। সুতরাং ইবাদতে শিরক থেকে মুক্ত হওয়া অনিবার্য। যে ব্যক্তি শিরক থেকে মুক্ত হয়নি, সে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতকারী হিসেবে গণ্য নয়; বরং সে একজন মুশরিক যে আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করেছে। আর এটিই গ্রন্থকারের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বক্তব্যের মর্মার্থ:
"এতে প্রমাণিত হয় যে, ইবাদত হলো তাওহীদ; কারণ বিরোধ ছিল এই বিষয়েই। আর কিছু ঐশী বর্ণনায় (আসার) এসেছে: 'আমি এবং জিন ও মানব জাতি এক মহা সংবাদের মধ্যে রয়েছি; আমি সৃষ্টি করি আর ইবাদত করা হয় অন্যের, আমি রিজিক দেই আর শুকরিয়া আদায় করা হয় অন্যের। আমার পক্ষ থেকে কল্যাণ বান্দাদের দিকে অবতীর্ণ হয়, আর তাদের পক্ষ থেকে মন্দ আমার দিকে আরোহণ করে। আমি নেয়ামত দিয়ে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করি, আর তারা পাপাচারের মাধ্যমে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে'।"
তাঁর বাণী: "এবং আল্লাহর উপর বান্দাদের হক হলো, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না যে তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না।" হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "এখানে কেবল শিরক নাকচ করার ওপরই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে; কারণ এটি পরোক্ষভাবে তাওহীদকে দাবি করে এবং অনিবার্যভাবে রিসালাতের সত্যতা সাব্যস্ত করাকেও
দাবি করে। কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করল, সে আল্লাহকেই অস্বীকার করল। আর যে আল্লাহকে অস্বীকার করল, সে মুশরিক। এটি কোনো ব্যক্তির এই কথার মতো যে: 'যে ওযু করেছে তার সালাত বিশুদ্ধ হয়েছে', অর্থাৎ অন্যান্য শর্তাবলি পূরণ হওয়ার সাথে।" সমাপ্ত।
তাঁর বাণী: "আমি কি মানুষকে সুসংবাদ দেব না?" এতে মুসলিমকে এমন সংবাদ প্রদান করা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে যা তাকে আনন্দিত করে। আর এতে সাহাবীগণ এ জাতীয় সংবাদে যেভাবে আনন্দিত হতেন তার প্রমাণও রয়েছে। এটি গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) উল্লেখ করেছেন।
তাঁর বাণী: "তাদের সুসংবাদ দিও না, পাছে তারা এর ওপর ভরসা করে বসে।" অর্থাৎ তারা কেবল এর ওপর নির্ভর করে সৎকাজে একে অপরের অগ্রগামী হওয়া ছেড়ে দেবে। অন্য এক বর্ণনায় আছে: "মুয়াজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহের ভয়ে এটি প্রকাশ করেছিলেন।" অর্থাৎ গুনাহ থেকে বাঁচার সতর্কতাস্বরূপ। উজির আবু মুজাফফর বলেন: "তিনি এটি কেবল এমন মূর্খ ব্যক্তি থেকে গোপন রাখতেন যাকে তার অজ্ঞতা ইবাদত বর্জনের মতো শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজে প্ররোচিত করত। পক্ষান্তরে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ যারা এ জাতীয় সংবাদ শুনলে আনুগত্যে আরও বৃদ্ধি পায় এবং মনে করে যে নেয়ামতের বৃদ্ধি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আনুগত্য বৃদ্ধির দাবি রাখে, তাদের কাছে এটি গোপন রাখার কোনো কারণ নেই।"
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي الباب من الفوائد غير ما تقدم: الحث على إخلاص العبادة لله، وأنها لا تنقع مع الشرك، بل لا تسمى عبادة. والتنبيه على عظمة حق الوالدين، وتحريم عقوقهما. والتنبيه على عظمة الآيات المحكمات في سورة الأنعام. وجواز كتمان العلم للمصلحة.
قوله: "أخرجاه" أي البخاري ومسلم. و"البخاري" رحمه الله هو الإمام محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن بردزبه الجعفي مولاهم، الحافظ الكبير صاحب الصحيح والتاريخ والأدب المفرد وغير ذلك من مصنفاته. روى عن الإمام أحمد بن حنبل والحميدي وابن المديني وطبقتهم. وروى عنه مسلم والنسائي والترمذي والفربري راوي الصحيح. ولد سنة أربع وتسعين ومائة، ومات سنة ست وخمسين ومائتين.
و"مسلم" رحمه الله هو ابن حجاج بن مسلم أبو الحسين القشيري النيسابوري، صاحب الصحيح والعلل والوجدان وغير ذلك. روى عن أحمد بن حنبل ويحيي بن معين وأبي خيثمة وابن أبي شيبة وطبقتهم، وروى عن البخاري. وروى عنه الترمذي وإبراهيم بن محمد بن سفيان راوي الصحيح وغيرهما، ولد سنة أربع ومائتين ومات سنة إحدى وستين ومائتين بنيسابور رحمهما الله.
এই অধ্যায়ে ইতিপূর্বে আলোচিত বিষয়গুলো ছাড়াও আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে: আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান, এবং শিরকের উপস্থিতিতে তা কোনো উপকারে আসে না, বরং তাকে ইবাদতই বলা যায় না। পিতা-মাতার হকের মাহাত্ম্য এবং তাঁদের অবাধ্য হওয়ার হারম বা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ। সূরা আল-আন'আমে বর্ণিত সুদৃঢ় (মুহকাম) আয়াতসমূহের মাহাত্ম্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ এবং বিশেষ জনকল্যাণে ইলম বা জ্ঞান গোপন রাখার বৈধতা।
তাঁর উক্তি: "তারা উভয়ে এটি বর্ণনা করেছেন" অর্থাৎ ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম। "বুখারি" (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হলেন ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বিন বারদিজবাহ আল-জু'ফী (তাদের আযাদকৃত দাস), মহান হাফেজ, সহিহ (বুখারি), আত-তারিখ, আল-আদাবুল মুফরাদ এবং তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, আল-হুমায়দী, ইবনুল মাদীনী এবং তাঁদের সমপর্যায়ের উলামাগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী এবং সহিহ-এর বর্ণনাকারী আল-ফারাবরী। তিনি একশত চুরানব্বই হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুইশত ছাপ্পান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
আর "মুসলিম" (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) হলেন ইবনুল হাজ্জাজ বিন মুসলিম আবুল হুসাইন আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী, সহিহ (মুসলিম), আল-ইলাল, আল-উইজদান এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আহমাদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আবু খাইসামাহ, ইবনু আবি শাইবাহ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের উলামাগণের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বুখারি থেকেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তিরমিযী, সহিহ-এর বর্ণনাকারী ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি দুইশত চার হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুইশত একষট্টি হিজরিতে নিশাপুরে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الخامسة: أن الرسالة عمت كل أمة.
السادسة: أن دين الأنبياء واحد.
السابعة: المسألة الكبيرة أن عبادة الله لا تحصل إلا بالكفر بالطاغوت، ففيه معنى قوله: " {مَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى} 1.
الثامنة: أن الطاغوت عام في كل ما عبد من دون الله.
التاسعة: عظم شأن ثلاث الآيات المحكمات في سورة الأنعام عند السلف وفيها عشر مسائل2. أولها: النهي عن الشرك.
العاشرة: الآياث المحكمات في سورة الإسراء وفيها ثمانية عشر مسألة بدأها الله بقوله: " {لا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ فَتَقْعُدَ مَذْمُوماً مَخْذُولاً} 3 وختمها بقوله: {وَلا تَجْعَلْ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ فَتُلْقَى فِي جَهَنَّمَ مَلُوماً مَدْحُوراً} 4 ونبهنا الله سبحانه على عظم شأن هذه المسائل بقوله: {ذَلِكَ مِمَّا أَوْحَى إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ} .
الحادية عشرة: آية سورة النساء التي تسمى آية الحقوق العشرة، بدأها الله تعالى بقوله: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 5.
الثانية عشرة: التنبيه على وصية رسول الله صلي الله عليه وسلم عند موته.
الثالثة عشرة: معرفة حق الله علينا.
الرابعة عشرة: معرفة حق العباد عليه إذا أدوا حقه.
الخامسة عشرة: أن هذه المسألة لا يعرفها6 أكثر الصحابة.
السادسة عشرة: جواز كتمان العلم للمصلحة.
السابعة عشرة: استحباب بشارة المسلم بما يسره.
--------------------------------------------
পঞ্চম: রিসালাত (আল্লাহর বার্তা) প্রতিটি উম্মতের জন্য ব্যাপক ছিল।
ষষ্ঠ: নবীদের দ্বীন এক ও অভিন্ন।
সপ্তম: অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত আল্লাহর ইবাদত সম্পন্ন হয় না। এতে আল্লাহর এই বাণীর অর্থ নিহিত রয়েছে: "{যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, সে অবশ্যই এক মজবুত হাতল ধারণ করে} ১।"
অষ্টম: আল্লাহ ছাড়া যারই ইবাদত করা হয়, 'তাগুত' শব্দটি সেই সবকিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
নবম: সালাফদের নিকট সূরা আল-আনআমে বর্ণিত তিনটি মুহকাম (সুস্পষ্ট) আয়াতের মর্যাদা অত্যন্ত মহান; এতে দশটি মাসয়ালা রয়েছে ২। তার প্রথমটি হলো: শিরক থেকে নিষেধাজ্ঞা।
দশম: সূরা আল-ইসরা-তে বর্ণিত মুহকাম আয়াতসমূহ, যাতে আঠারোটি মাসয়ালা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তা শুরু করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "{তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ স্থির করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও অবহেলিত অবস্থায় বসে পড়বে} ৩।" আর শেষ করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "{এবং আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ স্থির করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও বিতাড়িত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে} ৪।" আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই মাসয়ালাগুলোর গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "{এটি সেই হিকমতের অন্তর্ভুক্ত, যা তোমার রব তোমার প্রতি ওহী করেছেন}।"
একাদশ: সূরা আন-নিসার সেই আয়াত যাকে 'দশটি হকের আয়াত' বলা হয়। আল্লাহ তাআলা এটি শুরু করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "{তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না} ৫।"
দ্বাদশ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের সময় যে অসিয়ত (নির্দেশনা) দিয়েছিলেন সে বিষয়ে সতর্ক করা।
ত্রয়োদশ: আমাদের ওপর আল্লাহর হক কী তা জানা।
চতুর্দশ: বান্দারা যদি আল্লাহর হক আদায় করে, তবে আল্লাহর ওপর তাদের হক কী তা জানা।
পঞ্চদশ: অধিকাংশ সাহাবী এই মাসয়ালাটি জানতেন না ৬।
ষোড়শ: বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে ইলম (জ্ঞান) গোপন রাখার বৈধতা।
সপ্তদশ: মুসলিমকে আনন্দদায়ক সংবাদ প্রদান করা মুস্তাহাব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الثامنة عشرة: الخوف من الاتكال على سعة رحمة الله.
التاسعة عشرة: قول المسئول عما لا يعلم: "الله ورسوله أعلم".
العشرون: جواز تخصيص بعض الناس بالعلم1 دون بعض.
الحادية والعشرون: تواضعه صلي الله عليه وسلم لركوب الحمار، مع الإرداف عليه.
الثانية والعشرون: جواز الإرداف على الدابة.
الثالثة والعشرون: فضيلة معاذ بن جبل.
الرابعة والعشرون: عظم شأن هذه المسألة.
--------------------------------------------
আঠারোতম: আল্লাহর রহমতের প্রশস্ততার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ভয়।
উনিশতম: কোনো কিছু জানা না থাকলে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির এ কথা বলা যে: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত"।
বিশতম: অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল কিছু বিশেষ ব্যক্তিকে জ্ঞান প্রদানের১ বৈধতা।
একুশতম: গাধার পিঠে আরোহণ এবং পেছনে অন্যকে বসিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিনয় প্রকাশ।
বাইশতম: পশুর পিঠে আরোহীর পেছনে অন্যকে বসিয়ে নেওয়ার বৈধতা।
তেইশতম: মুয়ায ইবনে জাবাল-এর মর্যাদা।
চব্বিশতম: এই মাসআলাটির গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য।
--------------------------------------------