(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: -)
المسالك والممالك للبكري (أبو عبيد البكري)
القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: المسالك والممالك
المؤلف: أبو عبيد عبد الله بن عبد العزيز بن محمد البكري الأندلسي (ت 487هـ)
الناشر: دار الغرب الإسلامي
عام النشر: 1992 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বাকরির আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক (আবু উবাইদ আল-বাকরি)
বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত
গ্রন্থ: আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক
লেখক: আবু উবাইদ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-বাকরি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৪৮৭ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল গারব আল-ইসলামি
প্রকাশকাল: ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: -)
عبد الله بن عبد العزيز البكري عبد الله بن عبد العزيز بن محمد بن أيوب بن عمرو البكري، أكبر جغرافي عربي في الأندلس وأشهر أديب في القرن الخامس الهجري.اختلف أرباب التراجم في تاريخ ولادته فقال البعض بأنه ولد في سنة 401 هـ والبعض الآخر أنه ولد في 432 هـ.كان من عائلة عربية يرجع أصلها إلى قبيلة بكر بن وائل. ويبدو أنه انتقل مع أبيه إلى قرطبة في سنة 443 هـ وبقي فيها بما فيه الكفاية كي يواصل ثقافته الأدبية والعلمية حتى لُقب بالقرطبي إلا أن أكثر شهرته هي الأندلسي.تتلمذ على يد أبي حيان وأبي العباس أحمد بن عمر العذري وأبي بكر المصحفي وأبي بن عبد البر الحافظ الذي تسلم منه إجازة رواية.لقد تولى أبوه وجده الحكم في ولبة وبشلطيش وهي جزيرة صغيرة على مصبّ الوادي الكبير بالقرب من إشبيلية. وحين استولى المعتضد بن عباد على مقاطعة لبلبة المجاورة، وكان هدفه ابتلاع عدد كبير من المدن وإلحاقها بمملكته تراءى الخطر لعبد العزيز فسلم مدينة ولبة لبني العباد وغادرها مع عائلته إلى قرطبة. فقضى المترجم له وطراً من حياته فيها ثم انتقل إلى المرية بدعوة من أميرها محمد بن معن ولا شك أن سبب هذه الدعوة كانت شهرة الرجل بصفته أديباً واستقبله حاكم المرية بترحاب وجعله من خلانه وانقسمت حياة أبي عبيد بين حياة البلاط والدراسة. وذهب البكري سنة 478 هـ / 1086- 1085 م إلى إشبيلية موفداً من قبل محمد بن معن لدى المعتمد بن عباد. ثم عاد من جديد سنة 483 هـ / 1091- 1090 م إلى قرطبة التي أصبحت عاصمة الأندلس بعد احتلال المرابطين لها والراجح أنه قضى بها بقية حياته بين الدراسة والحياة اللاهية مع أصدقائه وبها توفي أيضاً ودفن بمقبرة أم سلامة. آثارهله تآليف كثيرة منها: الإحصاء لطبقات الشعراء، اشتقاق الأسماء، سمط اللآلئ، المسالك والممالك، معجم ما استعجم، كتاب النبات وغيرها.
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ আল-বাকরি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে আমর আল-বাকরি, আন্দালুসের সর্বশ্রেষ্ঠ আরব ভূগোলবিদ এবং হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যিক।জীবনীকারগণ তাঁর জন্মের তারিখ নিয়ে মতভেদ করেছেন; কেউ বলেছেন তিনি ৪০১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার কেউ বলেছেন তিনি ৪৩২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন।তিনি একটি আরব পরিবারের সদস্য ছিলেন যাদের মূল উৎস বকর ইবনে ওয়াইল গোত্র। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ৪৪৩ হিজরিতে তাঁর পিতার সাথে কর্ডোভায় স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে তাঁর সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতি অব্যাহত রাখার জন্য যথেষ্ট সময় অবস্থান করেন, এমনকি তাঁকে 'আল-কুরতুবি' উপাধিতেও ভূষিত করা হয়, যদিও তাঁর সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধি 'আল-আন্দালুসি' হিসেবে।তিনি আবু হায়য়ান, আবু আব্বাস আহমদ ইবনে ওমর আল-উজরি, আবু বকর আল-মুসহাফি এবং হাফেজ ইবনে আবদুল বার-এর কাছে শিক্ষা লাভ করেন, যার কাছ থেকে তিনি হাদিস বর্ণনার ইজাজত (অনুমতি) প্রাপ্ত হন।তাঁর পিতা এবং পিতামহ উয়েলভা ও সাল্টেস-এ শাসনভার পরিচালনা করেছিলেন, যা সেভিলের নিকটবর্তী ওয়াদি আল-কাবির নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। যখন আল-মুতাদিদ বিন আব্বাদ পার্শ্ববর্তী লিবলা প্রদেশ দখল করেন এবং তাঁর লক্ষ্য ছিল অনেক শহর গ্রাস করে তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা, তখন আবদুল আজিজ বিপদের আশঙ্কা করেন। ফলে তিনি উয়েলভা শহরটি বনু আব্বাদের হাতে তুলে দেন এবং পরিবারসহ কর্ডোভায় চলে যান। জীবনীতে উল্লিখিত এই ব্যক্তি তাঁর জীবনের একটি অংশ সেখানে অতিবাহিত করেন, তারপর আলমেরিয়ার আমির মুহাম্মদ ইবনে মা'নের আমন্ত্রণে সেখানে চলে যান। নিসন্দেহে এই আমন্ত্রণের কারণ ছিল সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি। আলমেরিয়ার শাসক তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁকে তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আবু উবাইদের জীবন রাজদরবার এবং জ্ঞানচর্চার মধ্যে বিভক্ত ছিল। আল-বাকরি ৪৭৮ হিজরি / ১০৮৫-১০৮৬ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ ইবনে মা'নের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে আল-মুতামিদ বিন আব্বাদের কাছে সেভিলে যান। এরপর তিনি ৪৮৩ হিজরি / ১০৯০-১০৯১ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় কর্ডোভায় ফিরে আসেন, যা মুরাবিতুনদের দখলের পর আন্দালুসের রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল। প্রবল ধারণা এই যে, তিনি তাঁর জীবনের অবশিষ্ট সময় সেখানে অধ্যয়ন এবং বন্ধুদের সাথে আমোদ-প্রমোদের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং উম্মু সালামাহ গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর রচনাবলিতাঁর অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আল-ইহসা লি-তাবাকাতুশ শুয়ারা, ইশতিকাকুল আসমা, সিমতুল লায়ালি, আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক, মু'জাম মা ইস্তাজাম, কিতাবুন নাবাত এবং আরও অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৫)
[المجلد الاول]المقدّمةترجمة سعد غرابليس من المفيد هنا أن نطيل في الحديث عن الحالة السياسية في الأندلس في القرن 5 هـ/ 11 م وهي الفترة التي عاش فيها البكري فهي معروفة من قبل كلّ المهتمين من قريب أو بعيد بتاريخ العالم الاسلامي بصفة عامة وبتاريخ المغرب بصورة خاصة فسنقتصر اذن على رسم الخطوط العامة للاطار الذي تكونت فيه ونمت آثار البكري موضوع هذا العمل.إن ارتقاء هشام الثاني عرش الأندلس وهو طفل بعد حكم مستقر ومزدهر للخليفتين عبد الرحمن الثالث (300/912- 350/961) وابنه الحكم الثاني (350/961- 366/976) قد فتح عهدا من الاضطراب والصراعات الداخلية ستؤول بالخلافة الأموية إلى انهيار كلي سريع وسيشهد المرء مطالبين بالحكم يعتلون العرش تباعا أو في نفس الوقت وكل يعتمد على عناصر متعدّدة من عرب وبربر وصقالبة مكونة للجيش.فمن العشرية الأولى للقرن الحادي عشر ظهرت خلافة منافسة هي خلافة الحموديين بمالقة ثمّ بالجزيرة الخضراء وكان حكامها يتعاقبون أو يتزامنون مع ممثلي الخلافة الأموية الأخيرين وستتواصل هذه الحالة الى سنة 442/1031 عندما سينتهي أمر الخلافة الأموية بزوال آخر خلفائها هشام الثالث.وبدأ بذلك في الأندلس عهد جديد أصبح فيه رسميا ما كان يعتبر منذ سنين عديدة أمرا واقعا وأصبح كل حاكم مستقلا بجهته أو مدينته، إنها فترة الفوضى والتشتت المعروفة بقرن ملوك الطوائف وسيحصى منهم في بعض الفترات أكثر من العشرين «1» .
[প্রথম খণ্ড]ভূমিকাসাদ গুরাবের জীবনীএখানে পঞ্চম হিজরি/একাদশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে আন্দালুসের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করা ফলপ্রসূ হবে না। এটি সেই সময়কাল যখন আল-বাকরি জীবিত ছিলেন। সাধারণভাবে ইসলামি বিশ্বের ইতিহাস এবং বিশেষভাবে মাগরিবের ইতিহাসের প্রতি যাদের সামান্যতম আগ্রহ আছে, তাদের সকলের কাছেই এই সময়কালটি সুপরিচিত। তাই আমরা এই গবেষণাকর্মের মূল বিষয় আল-বাকরির রচনাবলি যে প্রেক্ষাপটে গঠিত ও বিকশিত হয়েছে, তার সাধারণ রূপরেখা তুলে ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমান (৩০০/৯১২ - ৩৫০/৯৬১) এবং তাঁর পুত্র দ্বিতীয় আল-হাকাম (৩৫০/৯৬১ - ৩৬৬/৯৭৬)-এর স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ শাসনের পর শিশু অবস্থায় দ্বিতীয় হিশামের আন্দালুসের সিংহাসনে আরোহণ বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের এক যুগের সূচনা করে। এটি উমাইয়া খিলাফতকে দ্রুত এবং সম্পূর্ণ পতনের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় একের পর এক অথবা একই সময়ে একাধিক সিংহাসনের দাবিদারকে দেখা যায়, যারা প্রত্যেকেই সেনাবাহিনীর অংশ হিসেবে আরব, বারবার এবং সাকালিবা (স্লাভ)-এর মতো বিভিন্ন উপাদানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।একাদশ শতাব্দীর প্রথম দশক থেকেই মালাগায় এবং পরবর্তীতে আলজাজিরাত আল-খাদরায় (আলজেসিরাস) হাম্মুদি খিলাফত নামে এক প্রতিদ্বন্দ্বী খিলাফতের আবির্ভাব ঘটে। এর শাসকরা উমাইয়া খিলাফতের শেষ প্রতিনিধিদের সমসাময়িক ছিলেন অথবা পালাক্রমে শাসন করতেন। এই অবস্থা ৪৪২ হিজরি/১০৩১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, যখন উমাইয়া খিলাফতের শেষ খলিফা তৃতীয় হিশামের পতনের মাধ্যমে এই খিলাফতের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।এর মাধ্যমে আন্দালুসে এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যেখানে বহু বছর ধরে যা বাস্তবতায় বিদ্যমান ছিল তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায় এবং প্রতিটি শাসক নিজ নিজ অঞ্চল বা শহরে স্বাধীন হয়ে ওঠেন। এটি বিশৃঙ্খলা ও বিচ্ছিন্নতার কাল, যা 'মুলুকুত তাওয়াইফ' (ক্ষুদ্র রাজন্যবর্গ)-এর শতাব্দী হিসেবে পরিচিত এবং কোনো কোনো সময়ে তাদের সংখ্যা বিশের অধিক হয়ে দাঁড়াত «১»।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৬)
إنه لمن الممل أن يتبع الباحث تاريخ هذه السنوات القاتمة المضطربة، فكتب التاريخ تعج بأخبار الحروب المتتالية لهذه الدويلات وتنعقد التحالفات وتنقطع عبر الأيام وتولد ممالك وتندثر أخرى الى أن تبرز من الخضم وحدات أكثر اتساعا واستقرارا تتمكن من البقاء الى آخر القرن «1» إذ ذاك انتهى الأمر بممالك الشمال مثل طليطلة وسرقسطة الى الانهيار تحت ضربات الأجوار المسيحيين: قشتالة وليون وأرغون.ومن البديهي أن النصارى لم يبقوا مكتوفي الأيدي أمام الحالة المتداعية التي كانت عليها الأندلس في تلك الفترة فلقد استغلّوا كل الامكانيات المتاحة لديهم سواء كانت عنيفة أو سلمية لمدّ تأثيرهم الى جهات أوسع فأوسع من الأندلس نظرا لتشتّت المسلمين وعدم استقرار أمورهم وعجزهم عن الاتحاد والدفاع عن النفس.وبلغ هذا المدّ أوجه سنة 478/1085 عندما احتلّ الفونش السادس ملك ليون وقشتالة مدينة طليطلة. وكان لهذه الكارثة وقع عظيم في كلّ العالم الاسلامي وسببت ردود فعل أندلسية: فلقد وقع الاستنجاد بالمرابطين الموجودين آنذاك بشمال افريقيا، ونزل يوسف بن تاشفين بالأندلس سنة 483/1090 يقود جيوشه لمقاومة مسيحي الشمال ولكن سرعان ما تبيّن له ان ذلك غير ممكن ان لم يحدث تغيير جوهري في وضع الأراضي الاسلامية السياسي، سيقضى اذن على ملوك الطوائف الواحد تلو الآخر وتضمّ ممتلكاتهم إلى الدولة المرابطية. وبذلك أعاد يوسف بن تاشفين وحدة الأندلس السياسية رغم أنف الأندلسيين في الغالب ولفائدة الدولة المرابطية أولا ولكن لفائدة الأندلسيين أيضا ودافع عن الأندلس وتمكن من تمديد حياتها قرنين آخرين.إن القرن 5 هـ/ 11 م يقدم لنا لوحة قاتمة ومحزنة من الناحية السياسية ولكن كل ذلك لا يجب أن ينسينا جانب اللوحة الآخر. إن فترة التدهور السياسي والعسكري هذه تميزت بازدهار عجيب للحياة الثقافية والفنية وليست الأندلس المثال الوحيد لمثل هذا التناقض «2» فإذا ما كانت قرطبة في عهد الأمويين مركزا ثقافيا مزدهرا فلقد
এই অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অস্থির বছরগুলোর ইতিহাস অনুসরণ করা একজন গবেষকের জন্য অত্যন্ত ক্লান্তিকর। ইতিহাস গ্রন্থসমূহ এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার ধারাবাহিক যুদ্ধের খবরে পরিপূর্ণ; সেখানে মৈত্রীর বন্ধন যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি তা সময়ের ব্যবধানে ছিন্ন হয়েছে। কোনো রাজ্যের জন্ম হয়েছে আবার কোনোটি বিলুপ্ত হয়েছে, যতক্ষণ না এই বিশৃঙ্খলার মধ্য থেকে অধিকতর বিস্তৃত ও স্থিতিশীল কিছু সত্তা আত্মপ্রকাশ করেছে এবং শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে (১)। পরিশেষে উত্তরীয় রাজ্যসমূহ যেমন—টলেডো ও সারাগোসা তাদের খ্রিস্টান প্রতিবেশী ক্যাস্টিল, লিওন এবং আরাগনের ক্রমাগত আক্রমণের মুখে পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, সেই যুগে আন্দালুসের জরাজীর্ণ অবস্থার সামনে খ্রিস্টানরা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। বরং তারা তাদের আওতাধীন সকল উপায়-উপকরণ—তা সহিংস হোক বা শান্তিপূর্ণ—ব্যবহার করে আন্দালুসের বৃহত্তর অঞ্চলগুলোতে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সচেষ্ট হয়। এর মূল কারণ ছিল মুসলমানদের বিভক্তি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও আত্মরক্ষায় তাদের অক্ষমতা।এই আধিপত্য বিস্তারের প্রক্রিয়া ১০৮৫ খ্রিস্টাব্দে (৪৭৮ হিজরি) চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে, যখন লিওন ও ক্যাস্টিলের রাজা ষষ্ঠ আলফনসো টলেডো নগরী দখল করে নেন। এই মহাবিপর্যয় সমগ্র মুসলিম বিশ্বে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং আন্দালুসীয়দের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে: ফলে সে সময়ে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থানরত মুরাবিতুনদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। ১০৯০ খ্রিস্টাব্দে (৪৮৩ হিজরি) ইউসুফ বিন তাশফিন উত্তরীয় খ্রিস্টানদের প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তার বাহিনী নিয়ে আন্দালুসে অবতরণ করেন। কিন্তু শীঘ্রই তিনি বুঝতে পারলেন যে, ইসলামি ভূখণ্ডের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন না আনলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ফলশ্রুতিতে একে একে ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর রাজাদের উচ্ছেদ করা হয় এবং তাদের ভূখণ্ডগুলো মুরাবিতুন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ইউসুফ বিন তাশফিন আন্দালুসের রাজনৈতিক ঐক্য ফিরিয়ে আনেন—যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা আন্দালুসীয়দের মর্জির বিরুদ্ধে ছিল। এটি প্রথমত মুরাবিতুন সাম্রাজ্যের স্বার্থে এবং দ্বিতীয়ত স্বয়ং আন্দালুসীয়দের উপকারে আসে। তিনি আন্দালুসকে রক্ষা করেন এবং এর স্থায়িত্বকাল আরও দুই শতাব্দী দীর্ঘায়িত করতে সক্ষম হন।হিজরি পঞ্চম শতাব্দী তথা একাদশ খ্রিস্টীয় শতাব্দী আমাদের সামনে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক অন্ধকার ও বিষাদময় চিত্র তুলে ধরে। তবে এই সবকিছু যেন আমাদের চিত্রের অন্য পিঠটি ভুলিয়ে না দেয়। রাজনৈতিক ও সামরিক অবক্ষয়ের এই সময়টি সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক জীবনের এক বিস্ময়কর উৎকর্ষের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। এ জাতীয় বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে আন্দালুস একমাত্র উদাহরণ নয় (২)। উমাইয়া যুগে কর্ডোভা যদি একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে থাকে, তবে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৭)
كانت وحيدة تقريبا أما في عهد ملوك الطوائف فلقد نشأت العديد من هذه المراكز وكان كل أمير ينافس أجواره وأعداءه ليجلب الى بلاطه الشعراء والأدباء والعلماء من مختلف الاختصاصات، يمكن أن نذكر من هذه الحواضر اشبيلية والمرية وباجة ومالقة وغرناطة فضلا عن طليطلة وسرقسطة قبل احتلالهما من قبل المسيحيين. انها الفترة التي لمع فيها أبرز اعلام الثقافة الأندلسية من أمثال ابن حزم وابن حيان وابن بسام وكثير من الأعلام الآخرين الذين نعرف على الأقلّ اسماءهم إن لم نعرف آثارهم التي اغتالتها عواصف التاريخ.إنّ البكري ينتمي الى هذه الفترة ويساهم كما سنرى في مظهريها: مظهر الانحطاط السياسي ومظهر الازدهار الثقافي. نعم إنّ آثاره ستولد وستنمو في هذه الفترة المتميزة اكثر من غيرها بالاضطراب وسيواصل البكري سنّة المدرسة الجغرافية العربية بعد اندثارها في المشرق وسيبقى دائما من أكبر أعلام الثقافة الأندلسية وأبرز جغرافي المغرب الاسلامي رغم بعض سمات الانحطاط الموجودة في آثاره.ترجمة البكري:«1» هو عبد الله بن عبد العزيز بن محمد بن أيوب بن عمرو البكري المشهور خاصة بكنيته: «أبو عبيد» ولد بلبلة «2» من عائلة عربية يرجع أصلها الى قبيلة بكر وائل تولى الكثير من أفرادها مناصب رسمية بالأندلس ولكن لا نعرف شيئا يذكر عن أوائل هذه العائلة ولا عن الفترة التي استقرت فيها بالأندلس.وأول بكري حفظ لنا التاريخ اسمه هو أحد أجداد أبي عبيد ويسمى أيوب بن عمرو البكري «3» تولى في الربع الأخير من القرن 4 هـ/ 10 م منصب القضاء ببلده ثم
এটি প্রায় অনন্য ছিল; তবে 'মুলুকুত তাওয়ায়েফ' বা উপদলীয় রাজন্যবর্গের যুগে এই ধরনের অনেক কেন্দ্র গড়ে ওঠে। প্রত্যেক আমির তার প্রতিবেশী ও শত্রুদের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন যাতে তিনি তার দরবারে বিভিন্ন বিষয়ের কবি, সাহিত্যিক ও পণ্ডিতদের আকৃষ্ট করতে পারেন। এ সকল নগরীর মধ্যে সেভিল, আলমেরিয়া, বেজা, মালাগা ও গ্রানাডার নাম উল্লেখ করা যায়। এছাড়া খ্রিস্টানদের দখলে যাওয়ার পূর্বে টলেডো ও সারাগোসাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এটি এমন এক সময় যখন আন্দালুসিয়ার সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম নক্ষত্রদের আবির্ভাব ঘটেছিল, যেমন ইবনে হাজম, ইবনে হাইয়ান, ইবনে বাসসাম এবং আরও অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তি, যাদের কাজ ইতিহাসের ঝড়ে হারিয়ে গেলেও অন্ততপক্ষে আমরা তাদের নাম জানি।আল-বাকরি এই যুগেরই অন্তর্ভুক্ত এবং আমরা যেমনটা দেখব, তিনি এর দুটি দিকেই অবদান রাখেন: রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি। হ্যাঁ, তার কর্মসমূহ অস্থিরতা দ্বারা চিহ্নিত এই বিশেষ যুগেই জন্ম নিয়েছিল ও বিকশিত হয়েছিল। আল-বাকরি প্রাচ্যে বিলুপ্ত হওয়ার পর আরবি ভৌগোলিক ধারার ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যান। তার কাজের মধ্যে অবক্ষয়ের কিছু ছাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি সর্বদা আন্দালুসিয়ার সংস্কৃতির অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামি মাগরেবের শ্রেষ্ঠ ভূগোলবিদ হিসেবে পরিচিত থাকবেন।আল-বাকরির জীবনী:«১» তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন আমর আল-বাকরি, যিনি বিশেষভাবে তার উপনাম ‘আবু উবায়েদ’ নামে পরিচিত। তিনি লাবলায় এক আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যাদের মূল শিকড় বকর বিন ওয়ায়েল গোত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পরিবারের অনেক সদস্য আন্দালুসিয়ায় উচ্চপদস্থ সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন, তবে এই পরিবারের আদি পুরুষদের সম্পর্কে কিংবা তারা ঠিক কোন সময়ে আন্দালুসিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন সে সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কিছু আমাদের জানা নেই।ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত নাম সম্বলিত প্রথম ‘বাকরি’ হলেন আবু উবায়েদের অন্যতম পূর্বপুরুষ, যার নাম আইয়ুব বিন আমর আল-বাকরি। «৩» তিনি চতুর্থ হিজরি শতকের শেষ চতুর্থাংশে (দশম খ্রিস্টাব্দ) নিজ শহরের বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, এরপর...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولي خطة الرد (أي ردّ المظالم) بقرطبة ويبدو أنه كان له تأثير كبير إذ نجده مع أخيه محمد يلعب دورا هاما في المصالحة بين الخليفة هشام II ووزيره المنصور بن أبي عامر سنة 387/997.وبعد ذلك بقليل نجد العائلة مستقرة بولبة ثمّ بشلطيش وهي جزيرة صغيرة على مصبّ الوادي الكبير بالقرب من اشبيلية ولكن لا نعلم بالضبط متى كان ذلك الاستقرار.ويبدو حسب ابن الأبار الذي يستشهد بابن حيان «1» ان محمد بن أيوب قد تولى حكم تلك الجهة وبقي على ذلك الى وفاته المحتمل حدوثها حوالي سنة 433/1040. فهل يمكن أن نعتبره أميرا مستقلا بتلك الرقعة الصغيرة؟ إنه من العسير أن نجزم بشيء في الموضوع ولكن يظهر أنه استقل سنة 402/1011- 1012 والمؤكد على كلّ حال هو أن العائلة كانت من أنصار المنصور بن أبي عامر أي انها معارضة للخليفة الأموي وكانت لها علاقات متينة باسماعيل بن عباد «2» وهو من أوائل الذين استقلوا باشبيلية عن الحكم المركزي. فلا يستبعد اذن أن يكون محمد بن أيوب قد اتبع مثال اسماعيل بن عباد.وتولى الأمر بعد وفاة أبي زيد محمد ابنه أبو مصعب عبد العزيز بن محمد فسير مقاطعته الصغيرة المتكونة من ولبة وشلطيش في استقلالية كاملة وكان ثاني أمير لها حسب بعض الآراء والأول والوحيد حسب بعض الآراء الأخرى. ودام له الأمر الى سنة 443/1051 حين استولى المعتضد بن عباد صاحب اشبيلية على مقاطعة لبلبة المجاورة، نعم لقد تمكنت قوّة المعتضد المتصاعدة منذ حوالي عشر سنوات من ابتلاع عدد كبير من المدن- الدويلات- والحاقها بمملكته التي كان يريد أن يكوّن حولها من جديد وحدة الأندلس. ولم تغير الروابط التي جمعت من القديم بين عائلة البكري وبني العباد من المشروع شيئا وتراءى الخطر لعبد العزيز فسلم مدينة ولبة لبني
তিনি কর্ডোবায় 'রদ্দ' (অর্থাৎ অন্যায় প্রতিকার) পদের দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রতীয়মান হয় যে তার ব্যাপক প্রভাব ছিল; কারণ আমরা তাকে তার ভাই মুহাম্মাদের সাথে ৩৮৭ হিজরি/৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে খলিফা হিশাম দ্বিতীয় এবং তার উজির আল-মনসুর ইবন আবি আমিরের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখি।এর কিছুকাল পরে আমরা পরিবারটিকে উয়েলভা, অতঃপর শালতিশ-এ স্থিতিশীল দেখতে পাই; যা সেভিলের নিকটবর্তী ওয়াদিউল কাবির নদীর মোহনায় অবস্থিত একটি ছোট দ্বীপ। তবে এই বসতি স্থাপন ঠিক কখন হয়েছিল তা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না।ইবনুল আব্বার—যিনি ইবনে হাইয়্যানের «১» উদ্ধৃতি দিয়েছেন—তার মতে প্রতীয়মান হয় যে, মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব সেই অঞ্চলের শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন এবং সম্ভবত ৪৩৩ হিজরি/১০৪০ খ্রিস্টাব্দের দিকে তার মৃত্যু পর্যন্ত সেই পদে বহাল ছিলেন। তবে আমরা কি তাকে সেই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের একজন স্বাধীন আমির হিসেবে গণ্য করতে পারি? এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন, তবে মনে হয় যে তিনি ৪০২ হিজরি/১০১১-১০১২ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। যাই হোক, এটি নিশ্চিত যে এই পরিবারটি আল-মনসুর ইবন আবি আমিরের সমর্থক ছিল, অর্থাৎ তারা উমাইয়া খলিফার বিরোধী ছিল এবং ইসমাইল ইবনে আব্বাদের «২» সাথে তাদের দৃঢ় সম্পর্ক ছিল, যিনি কেন্দ্রীয় শাসন থেকে সেভিলের স্বাধীনতা ঘোষণাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। সুতরাং এটি অসম্ভব নয় যে, মুহাম্মাদ ইবনে আইয়ুব ইসমাইল ইবনে আব্বাদের উদাহরণ অনুসরণ করেছিলেন।আবু যায়েদ মুহাম্মাদের মৃত্যুর পর তার পুত্র আবু মুসআব আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি উয়েলভা এবং শালতিশ সমন্বয়ে গঠিত তার ক্ষুদ্র প্রদেশটি পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালনা করেন। কিছু মতানুসারে তিনি এর দ্বিতীয় আমির ছিলেন, আবার অন্য কিছু মতানুসারে তিনি ছিলেন এর প্রথম এবং একমাত্র আমির। ৪৪৩ হিজরি/১০৫১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তার শাসনকাল স্থায়ী ছিল, যখন সেভিলের অধিপতি আল-মুতাদিদ ইবনে আব্বাদ পার্শ্ববর্তী লাবলা প্রদেশটি দখল করে নেন। হ্যাঁ, বিগত প্রায় দশ বছর ধরে আল-মুতাদিদের ক্রমবর্ধমান শক্তি অসংখ্য নগর-রাষ্ট্রকে (দৌলত) গ্রাস করতে এবং সেগুলোকে তার রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল, যার মাধ্যমে তিনি আন্দালুসের ঐক্য পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলেন। বকরী পরিবার এবং বনু আব্বাদের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এই পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। আব্দুল আজিজ যখন বিপদ আঁচ করতে পারলেন, তখন তিনি উয়েলভা শহরটি বনু... এর নিকট সমর্পণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৯)
العباد وبقي مدّة في جزيرة شلتيش واضطرّ في نهاية الأمر الى التفريط فيها مقابل عشرة آلاف مثقال وغادرها مع عائلته وأمواله.وكان لعبد العزيز اذاك ابن ما هو الّا صاحبنا عبد الله، ولا يذكر لنا أي مصدر تاريخ ولادة هذا الذي سيكنّى من بعد بأبي عبيد ولكن يمكن لنا أن نحاول ضبط هذا التاريخ ببعض الدقة.يقترح قاينقوش في ترجمته لنفح الطيب للمقري «1» سنة 1040 م (431- 432 هـ) بدون أن يذكر المصادر التي يعتمدها ويشير بروكلمان إلى نفس السنة «2» ويستحيل في رأينا قبول هذا التاريخ وذلك لعدّة أسباب.ان ولد أبو عبيد سنة 432/1040 م فإن ذلك يقتضي أن يكون سنه حوالي 11 سنة عندما أطردت عائلته من شلطيش الا أن ابن الأبار يتحدّث عنه وهو من «الفتيان بذ الأقران جمالا وبهاء وسرورا وأدبا ومعرفة» «3» وهي تعابير يعسر اطلاقها على طفل في مثل تلك السن. هذا وتؤكد ترجمات البكري على انه توفي سنة 487/1094 «عن سن متقدمة» ولا تسمح 54 سنة التي قد يكون عاشها ان افترضنا ولادته سنة 1040 باعتباره قد توفي. «عن سنّ متقدّمة» حتّى في عهده.يذكر لنا الفتح بن خاقان انه التقى به وهو ما زال غلاما والبكري إذ ذاك في سن الثمانين «4» .ويستنتج من كلّ هذا ان ولادة البكري يجب أن توضع حوالي سنة 400/1010 أو بعد ذلك بقليل وانه كان له عندما غادر مسقط رأسه 37 أو 38 سنة.
আল-ইবাদ এবং তিনি কিছুকাল শালতিশ দ্বীপে অবস্থান করেন এবং পরিশেষে দশ হাজার মিসকালের বিনিময়ে তা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং তিনি তার পরিবার ও ধন-সম্পদ নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করেন।সেই সময় আব্দুল আজিজের একজন পুত্র ছিল যে আর কেউ নয় বরং আমাদের পরিচিত আব্দুল্লাহ। কোনো ঐতিহাসিক উৎসই আমাদের নিকট এই ব্যক্তির জন্মের তারিখ উল্লেখ করে না, যাকে পরবর্তীতে আবু উবাইদ উপনামে ডাকা হবে; তবে আমরা কিছুটা সূক্ষ্মতার সাথে এই তারিখটি নির্ধারণ করার চেষ্টা করতে পারি।কায়েনকোশ আল-মাক্কারীর ‘নাফহুত তীব’-এর অনুবাদে «১» ১০৪০ খ্রিস্টাব্দ (৪৩১-৪৩২ হিজরি) প্রস্তাব করেছেন, তিনি যে উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন তা উল্লেখ করা ছাড়াই, এবং ব্রোকলম্যানও একই বছরের দিকে ইঙ্গিত করেছেন «২»; কিন্তু আমাদের মতে বেশ কিছু কারণে এই তারিখটি গ্রহণ করা অসম্ভব।যদি আবু উবাইদ ৪৩২/১০৪০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তবে তার পরিবার যখন শালতিশ থেকে বহিষ্কৃত হয় তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১১ বছর; অথচ ইবনুল আব্বার তার সম্পর্কে বলেন যে, তিনি ছিলেন সেইসব «যুবকদের অন্তর্ভুক্ত যারা সৌন্দর্য, দীপ্তি, আনন্দ, শিষ্টাচার ও জ্ঞানে সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন» «৩»। এমন বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে এই জাতীয় অভিব্যক্তি প্রয়োগ করা কঠিন। তাছাড়া আল-বাকরীর জীবনীগুলো নিশ্চিত করে যে, তিনি ৪৮৭/১০৯৪ সালে «উন্নত বয়সে» মৃত্যুবরণ করেন। আমরা যদি তার জন্ম ১০৪০ সালে ধরি, তবে তার আয়ু হয় ৫৪ বছর, যা তার যুগেও «উন্নত বয়সে» মৃত্যু হিসেবে গণ্য করার অবকাশ দেয় না।আল-ফাতহ বিন খাকান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন যখন তিনি নিজে তখনও কিশোর ছিলেন এবং আল-বাকরীর বয়স তখন আশি বছর «৪»।এই সব থেকে এটিই অনুমিত হয় যে, আল-বাকরীর জন্ম সম্ভবত ৪০০ হিজরি/১০১০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি বা তার কিছু পরে হয়েছিল এবং যখন তিনি তার জন্মভূমি ত্যাগ করেন তখন তার বয়স ছিল ৩৭ বা ৩৮ বছর।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويوجد أيضا بعض الغموض حول المكان الذي انتقل اليه عبد العزيز وعائلته عندما خلعه المعتضد: فابن الأبار وابن عذارى «1» وغيرهما يذهبون الى أنه انتقل الى قرطبة ليضع نفسه تحت حماية أبي الوليد محمد بن جوهر حاكم المدينة. الّا أن ابن عذارى نفسه يرى في موضع آخر من كتابه «انه صيره الى اشبيلية وأجرى عليه الرزق الى أن مات» «2» .ومن العسير أن يفضّل المرء إحدى الروايتين عن الأخرى فهل يمكن التأليف بينهما بافتراض ان عبد العزيز قد أقام مدّة قصيرة باشبيلية ولما شعر بتغير موقف المعتضد إزاءه انتقل بعائلته الى قرطبة وعلى كل فإننا لا نجد أي حديث عن عبد العزيز بعد هذه الفترة ويمكن أن يفترض ان موته لم يتأخر كثيرا عن ذلك.ولا نعلم كم بقي أبو عبيد بقرطبة وهل تركها في حياة والده أم بعد وفاته والذي لا شك فيه هو أنه بقي بما فيه الكفاية كي يواصل ثقافته الأدبية والعلمية فابن بشكوال يعلمنا أنه تابع دروس ابي مروان ودروس المؤرخ الكبير أبي حيان «3» والمؤكد انه اتبع أيضا بقرطبة دروس أبي بكر المشعفي وابن عبد البرّ «4» ولا يمكن أن نعرف أي تآليفه ألّف (ان كان قد ألف) مدة هذا المقام الأول بقرطبة لأن تواريخ تآليفه غير معروفة ولكن الكثير من القرائن تبين انه لم يكن عديم الشغل وان الكثير من تآليفه قد تكون ظهرت في تلك الفترة ويبدو حسب خبر لابن حيان نقله الفتح بن خاقان وحكاه أيضا ابن الأبار في شيء من الاحتراز «5» ان البكري قد انتقل من بعد الى المرية بدعوة من أميرها محمد ابن معن ولا شك أن سبب هذه الدعوة كانت شهرة الرجل بصفته أديبا واستقبله حاكم المرية بترحاب وجعله من خلانه وانقسمت حياة أبي عبيد بين حياة البلاط والدراسة وتابع في المرية دروس العذري «6» ولا يستبعد
আব্দুল আজিজ ও তাঁর পরিবারকে যখন আল-মু’তাদিদ পদচ্যুত করেন, তখন তাঁরা কোথায় স্থানান্তরিত হয়েছিলেন সে বিষয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ইবনুল আব্বার, ইবনু ইযারি «১» এবং অন্যান্যদের মতে, তিনি কর্ডোভায় চলে গিয়েছিলেন যাতে সেই শহরের শাসক আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ ইবনে জাওহারের আশ্রয়ে নিজেকে সমর্পণ করতে পারেন। তবে ইবনু ইযারি নিজেই তাঁর কিতাবের অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, «তিনি তাঁকে সেভিলে পাঠিয়েছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবিকার ব্যবস্থা করেছিলেন» «২»।উভয় বর্ণনার একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া বেশ কঠিন। সুতরাং এই দুই বর্ণনার মধ্যে কি এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, আব্দুল আজিজ অল্প সময়ের জন্য সেভিলে অবস্থান করেছিলেন এবং যখন তিনি তাঁর প্রতি আল-মু’তাদিদের মনোভাবের পরিবর্তন অনুভব করলেন, তখন সপরিবারে কর্ডোভায় চলে গেলেন? যা-ই হোক না কেন, এই সময়ের পরে আব্দুল আজিজ সম্পর্কে আর কোনো আলোচনা পাওয়া যায় না এবং ধারণা করা যায় যে, এর কিছুকাল পরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।আবু উবাইদ কর্ডোভায় কতদিন অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি কি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় নাকি মৃত্যুর পর সেখান থেকে প্রস্থান করেছিলেন, তা আমাদের জানা নেই। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সেখানে তাঁর সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখার জন্য পর্যাপ্ত সময় অবস্থান করেছিলেন। ইবনু বাশকুওয়াল আমাদের জানান যে, তিনি আবু মারওয়ান এবং প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবু হাইয়ানের «৩» পাঠসমূহে উপস্থিত হতেন। এটিও নিশ্চিত যে, তিনি কর্ডোভায় আবু বকর আল-মুশাফি এবং ইবনু আব্দিল বাররের «৪» নিকটও পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। কর্ডোভায় এই প্রথম অবস্থানের সময় তিনি কোনো গ্রন্থ রচনা করেছিলেন কি না (যদি করে থাকেন), তা জানা সম্ভব নয়; কারণ তাঁর রচনাবলির তারিখসমূহ অজ্ঞাত। কিন্তু অনেক আলামত বা প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তখন কর্মহীন ছিলেন না এবং তাঁর অনেক গ্রন্থ সম্ভবত সেই সময়েই প্রকাশিত হয়েছিল। ফাতহ ইবনে খাকান কর্তৃক বর্ণিত ইবনু হাইয়ানের একটি বিবরণ অনুযায়ী—যা ইবনুল আব্বারও কিছুটা সতর্কতার সাথে উল্লেখ করেছেন «৫»—আল-বাকরি পরবর্তীতে আলমেরিয়ার আমীর মুহাম্মাদ ইবনে মা’নের আমন্ত্রণে সেখানে চলে যান। নিঃসন্দেহে এই আমন্ত্রণের কারণ ছিল সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর খ্যাতি। আলমেরিয়ার শাসক তাঁকে অত্যন্ত উষ্ণতার সাথে গ্রহণ করেন এবং তাঁকে তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। আবু উবাইদের জীবন রাজদরবার এবং জ্ঞানচর্চার মধ্যে বিভক্ত ছিল এবং আলমেরিয়ায় তিনি আল-উযরির «৬» নিকট শিক্ষা গ্রহণ অব্যাহত রাখেন। এটি অসম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১১)
أن يكون هذا الشيخ قد أثر في الاتجاه الذي ستتخذه دراسة تلميذه فلقد كان العذري جغرافيا وقد يكون جلب أبا عبيدة نحو هذه الوجهة فهل من الجرأة أن يفترض أن تأليفه لكتبه الجغرافية: معجم ما استعجم وكتاب المسالك والممالك يرجع إلى هذه الفترة ويتأكد هذا الافتراض أكثر إذا ما علمنا انه انتهى من تأليف الكتاب الثاني حوالي سنة 460/1058 اعتمادا على الكثير من الملاحظات المتناثرة التي وردت فيه.ولم تكن حياة البكري بالمرية مضطربة حسب الظاهر فمترجموه لا يذكرون لنا أشياء عديدة تتعلق به وتراجمه مقتضبة أشدّ الاقتضاب لا يتجاوز غالبها بضعة أسطر.وذهب البكري سنة 478/1085- 1086 الى اشبيلية موفدا من قبل محمد بن معن لدى المعتمد بن عباد عندما ذهب الى المغرب الأقصى يستنجد بعون المرابطين ضدّ التهديد النصراني «1» فهل بقي البكري باشبيلية أم رجع الى المرية. نحن مضطرّون مرة أخرى الى الافتراضات، ونجده من جديد سنة 483/1090- 1091 بقرطبة التي أصبحت عاصمة الأندلس بعد احتلال المرابطين لها والراجح انه قضى بها بقية حياته بين الدراسة والحياة اللاهية مع أصدقائه وبها توفي أيضا ودفن بمقبرة أم سلامة.تآليف البكري:لم يتخصص البكري في أي فرع من فروع المعرفة الانسانية شأنه في ذلك شأن جلّ العلماء المسلمين في القرون الوسطى. لقد كان تكوين الرجل المثقف في تلك الفترة يشتمل دائما على دعامة متينة من العلوم الدينية، فقه، علوم قرآنية، علم كلام، ثم يأتي الأدب واللغة والفلسفة ومواد أخرى حسب الإمكانيات والأذواق الشخصية فلا غرابة إذن ان نجد ضمن تآليف البكري مصنفات تبحث في مواضيع مختلفة.
এটা সম্ভব যে, এই শাইখ তাঁর ছাত্রের অধ্যয়নের গতিপথের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। কারণ আল-উযরি ছিলেন একজন ভূগোলবিদ এবং হতে পারে তিনিই আবু উবাইদাহকে এই দিকে ধাবিত করেছিলেন। সুতরাং তাঁর ভৌগোলিক গ্রন্থসমূহ: 'মুজাম মা ইস্তাজাম' এবং 'কিতাবুল মাসালিক ওয়াল মামালিক' রচনার কাল এই সময়কার বলে ধারণা করা কি দুঃসাহস হবে? এই ধারণাটি আরও সুদৃঢ় হয় যখন আমরা জানতে পারি যে, বইটিতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য বিচ্ছিন্ন পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিনি আনুমানিক ৪৬০ হিজরি/১০৫৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ দ্বিতীয় গ্রন্থটির রচনা সমাপ্ত করেছিলেন।বাহ্যত আল-মেরিয়াতে আল-বাকরির জীবন অশান্ত ছিল না। তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি তথ্য প্রদান করেননি এবং তাঁর জীবনী সংক্রান্ত আলোচনাগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যার অধিকাংশই কয়েক লাইনের বেশি নয়।আল-বাকরি ৪৭৮ হিজরি/১০৮৫-১০৮৬ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মাদ ইবনে মা'নের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে সেভিলে আল-মুতামিদ ইবনে আব্বাদের নিকট গমন করেন, যখন তিনি খ্রিস্টান হুমকির বিরুদ্ধে মুরাবিতুনদের সাহায্য প্রার্থনা করতে সুদূর মাগরিবের (মরক্কো) উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। আল-বাকরি কি সেভিলে অবস্থান করেছিলেন নাকি আল-মেরিয়াতে ফিরে এসেছিলেন? আমাদের পুনরায় অনুমানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমরা তাঁকে পুনরায় ৪৮৩ হিজরি/১০৯০-১০৯১ খ্রিস্টাব্দে কর্ডোভাতে দেখতে পাই, যা মুরাবিতুনদের দখলের পর আন্দালুসের রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল। সম্ভবত তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় সেখানেই অধ্যয়ন এবং বন্ধুদের সাথে আমোদ-প্রমোদের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছিলেন এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন ও উম্মে সালামা কবরস্থানে সমাহিত হন।আল-বাকরির রচনাবলি:আল-বাকরি মানবীয় জ্ঞানের কোনো একটি নির্দিষ্ট শাখায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন না, যেমনটি ছিল মধ্যযুগের অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিতের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। সেই যুগে একজন শিক্ষিত ব্যক্তির জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠন সর্বদা ধর্মীয় বিজ্ঞানের এক মজবুত স্তম্ভের ওপর নির্মিত হতো, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল ফিকহ, কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও ইলমুল কালাম। এরপর আসত সাহিত্য, ভাষা, দর্শন এবং ব্যক্তিগত সামর্থ্য ও রুচি অনুযায়ী অন্যান্য বিষয়। সুতরাং আল-বাকরির রচনাবলির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গবেষণামূলক গ্রন্থ পাওয়া যাওয়াটা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১২)
فالبكري لغوي وأديب قبل كلّ شيء رغم أنه اشتهر بصفته جغرافيا في المشرق والمغرب ويكفي للتفطن الى ذلك أن يستعرض القارئ عناوين الكتب التي تنسب اليه فالأدب له دور كبير في أكبر آثاره الجغرافية أما معجمه الجغرافي فهو كتاب لغة قبل كلّ شيء.إن الكثير من تآليفه قد ضاعت ولا نعرف منها الّا العناوين، نكتفي إذن بتقديم قائمتها «1» (عدا شعره الذي لم تصلنا منه الا بعض الأبيات- وقيمتها هزيلة- المتناثرة خلال تراجمه) .1) في اللغة والأدب:- كتاب الإحصاء لطبقات الشعراء- كتاب اشتقاق الأسماء- التنبيه على أغلاط أبي علي في أماليه- شفاء عليل العربية- كتاب صلة المفصول في شرح أبيات الغريب المصنف (لأبي عبيد القاسم بن سلام) - فصل المقال في شرح كتاب الأمثال (لابن سلام أيضا) .- اللآلي في شرح أمالي القالي.2) الجغرافية- معجم ما استعجم- كتاب المسالك والممالك3) موضوعات مختلفة- اعلام نبوة نبينا محمّد- التدريب والتهذيب في دروب أحوال الحروب- كتاب النبات
আল-বাকরি সর্বোপরি একজন ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন, যদিও তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে একজন ভূগোলবিদ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। পাঠক যদি তাঁর প্রতি নিসবতকৃত গ্রন্থসমূহের শিরোনামগুলো পর্যালোচনা করেন, তবে তা অনুধাবন করার জন্য তা-ই যথেষ্ট হবে। তাঁর সর্ববৃহৎ ভৌগোলিক কর্মসমূহে সাহিত্যের একটি বিরাট ভূমিকা রয়েছে। আর তাঁর ভৌগোলিক অভিধানটি তো সর্বোপরি একটি ভাষাতাত্ত্বিক গ্রন্থ।তাঁর অনেক রচনাবলী হারিয়ে গিয়েছে এবং আমরা সেগুলোর শিরোনাম ব্যতীত অন্য কিছু জানি না। তাই আমরা এগুলোর একটি তালিকা উপস্থাপনেই সীমাবদ্ধ থাকব (তাঁর কবিতা ব্যতীত, যা থেকে কেবল কিছু পঙক্তি—যার মান অত্যন্ত নগণ্য—আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং সেগুলো তাঁর জীবনীমূলক আলোচনার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে)।১) ভাষা ও সাহিত্যে:- কিতাবুল ইহসা লি-তাবাকাতুশ শুয়ারা (কবিদের শ্রেণীবিভাগ সংক্রান্ত গ্রন্থ)
- কিতাবু ইশতিকাকিল আসমা (নামসমূহের ব্যুৎপত্তি সংক্রান্ত গ্রন্থ)
- আত-তানবিহ আলা আগলাতি আবি আলি ফি আমালিহি (আবু আলীর আমালি গ্রন্থের ভুলত্রুটির ব্যাপারে সতর্কীকরণ)
- শিফাউ আলিলিল আরাবিয়্যাহ (আরবি ভাষার দুর্বলতা নিরাময়)
- কিতাবু সিলাতিল মাফসুল ফি শারহি আবিয়াতিল গারিবিল মুসান্নাফ (আবু উবায়েদ কাসেম ইবনে সালাম রচিত গ্রন্থের পঙক্তিগুলোর ব্যাখ্যা)
- ফাসলুল মাকাল ফি শারহি কিতাবিল আমসাল (ইবনে সালামেরই প্রবাদ গ্রন্থের ব্যাখ্যা)।- আল-লাআলি ফি শারহি আমালিল কালি।২) ভূগোল- মুজামু মাসতা'জাম
- কিতাবুল মাসালিক ওয়াল মামালিক৩) বিবিধ বিষয়- আলামু নুবুওয়াতি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ (আমাদের নবী মুহাম্মাদ-এর নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ)
- আত-তাদরিব ওয়াত তাহজিব ফি দুরুবি আহওয়ালিল হুরুব (যুদ্ধের কলাকৌশল ও নিয়মাবলি)
- কিতাবুন নাবাত (উদ্ভিদ বিষয়ক গ্রন্থ)
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المسالك والممالك:- صيغة التأليف ومحتواهمما لا شك فيه أن كتاب المسالك والممالك كانت له المساهمة الكبرى في شهرة البكري. وهذا الكتاب لا يشبه أي كتاب آخر من نفس الفن رغم تداول هذا الاسم في الأدب العربي. فليس هو مجرد سرد للمسالك كما هو الشأن بالنسبة الى سميه كتاب ابن خرداذبه ولا هو مجموعة ملح وغرائب وأساطير بدون تنظيم «1» مثل كتاب البلدان لابن الفقيه ولا هو أيضا حوصلة لرحلات كاتبه مثلما هو الشأن بالنسبة الى المقدسي والاصطخري.ولا يمكن لمسالك البكري أن يصنف في فن العجائب ولا في نوع كتب الهيئة وانما يجمع كتاب البكري كل ذلك فتتوالى فيه المسالك ووصف البلدان والشعوب والمدن وتمتزج بالملح والأساطير والاستطرادات التاريخية ويبقى انتباه القارئ دائم اليقظة.ولا يوجد مع الأسف أي واحد من المخطوطات العشرة كاملا وحتى إذا ما أضفناها الى بعضها البعض فانها لا تسمح بالحصول على نسخة تامة وان بعض النقول التي أخذناها عن بعض المؤلفين الذين أتوا بعد البكري تهدف- كما سنبين ذلك- الى ابراز محتوى التأليف كما كانت عليه حالته الأصلية.ويشتمل كتاب المسالك على قسمين متقاربي الحجم.والراجح ان القسم الأول كان يحتوي مقدمة عامة أو تمهيدا يعتبر اليوم ضائعا ويستهلّ هذا القسم بمقدمة تاريخية طويلة تبدا بمبدأ الخلق وتتعرض لتاريخ الأنبياء من آدم إلى محمد (ص) .ويتعلق الفصل الموالي بالمعتقدات الدينية وأوهام قدماء العرب يليه وصف لأهم الهياكل الدينية الموجودة أو التي وجدت عند أمم مختلفة: اليونان والرومان والفرس (معابد النار) والصقالبة والصينيون الخ …
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক:- রচনার ধরন ও এর বিষয়বস্তুএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ গ্রন্থটি আল-বাকরির খ্যাতির পেছনে প্রধান অবদান রেখেছিল। আরবি সাহিত্যে এই নামের প্রচলন থাকা সত্ত্বেও এই বইটি একই বিষয়ের অন্য কোনো বইয়ের মতো নয়। এটি ইবনে খুরদাদবিহর সমনামীয় গ্রন্থের মতো কেবল পথের সাধারণ বর্ণনা নয়, আবার এটি ইবনে আল-ফকিহ-এর ‘কিতাব আল-বুলদান’-এর মতো সুশৃঙ্খল বিন্যাসহীন নিছক লতিফা, অদ্ভুত বিষয় ও উপকথার সংকলনও নয়। এমনকি এটি আল-মাকদিসি এবং আল-ইস্তাখরি-র বইয়ের মতো লেখকের নিজস্ব ভ্রমণের সারাংশও নয়।আল-বাকরির মাসালিক গ্রন্থটিকে কেবল আজায়েব (অদ্ভুত বিষয়াদি) বা ইলমুল হায়আহ (জ্যোতির্বিজ্ঞান/ভূগোল) বিষয়ক বইয়ের শ্রেণিতে ফেলা যায় না; বরং আল-বাকরির বই এই সবকিছুরই সমন্বয়। এতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পথ এবং দেশ, জাতি ও শহরগুলোর বর্ণনা এসেছে, যা লতিফা, উপকথা ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের সাথে মিশে গিয়ে পাঠকের মনোযোগকে সর্বদা ধরে রাখে।দুঃখজনকভাবে, বিদ্যমান দশটি পাণ্ডুলিপির একটিও পূর্ণাঙ্গ নয়। এমনকি সেগুলো একত্রিত করলেও একটি সম্পূর্ণ কপি পাওয়া সম্ভব হয় না। আল-বাকরির পরবর্তী লেখকদের থেকে প্রাপ্ত কিছু উদ্ধৃতি—যা আমরা পরে দেখাব—রচনার মূল রূপটি কেমন ছিল তার বিষয়বস্তু তুলে ধরতে সাহায্য করে।‘আল-মাসালিক’ গ্রন্থটি প্রায় সমান আকারের দুটি খণ্ডে বিভক্ত।সম্ভবত প্রথম খণ্ডে একটি সাধারণ মুখবন্ধ বা ভূমিকা ছিল যা বর্তমানে বিলুপ্ত বলে গণ্য করা হয়। এই খণ্ডটি একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ভূমিকা দিয়ে শুরু হয়েছে যা সৃষ্টির সূচনা থেকে শুরু করে আদম থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত নবীদের ইতিহাস তুলে ধরে।পরবর্তী অধ্যায়টি প্রাচীন আরবদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কিত। এরপর বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিদ্যমান বা অতীতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর বর্ণনা দেওয়া হয়েছে: গ্রীক, রোমান, পারসিক (অগ্নি মন্দির), স্লাভ, চীনা ইত্যাদি ...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ويبدأ القسم الجغرافي الحقيقي بفصول عديدة في الجغرافية العامة:الأراضي- البحار- الأنهار- الأقاليم السبعة.ويستعرض المؤلف بعد ذلك البحار السبعة وأهمّ الأنهار، وبعنوان: ابتداء الممالك نبدأ في القسم الذي تسمّى به كل الكتاب ويتمثل في وصف العالم بلدا بلدا وجهة جهة ومدينة مدينة. ونجد دائما نفس التخطيط: مقدّمة تاريخية- وصف عام للبلاد والسكان والمنتوجات وصف للمسالك (وهذا القسم ضائع في الكثير من الأحيان مثلما هو الشأن بالنسبة إلى الأندلس) ووصف للبلدان مع قسم تاريخي في الغالب، ويتخلّل كل ذلك بعض الحكايات الغريبة تتصل بأدب العجائب.والتدرج العام ينطلق من المشرق الى المغرب ويبدأ بالهند فالصين فالترك ثمّ ينتقل الى الشام والتبت والسند ويخصص للفرس فصلا كبيرا مقسما الى قسمين يتعلق الأول بالعائلة المالكة الأولى والثاني بالثانية. ويتبع ذلك بصورة منطقية تاريخ الاسكندر الأكبر ثمّ تاريخ ملوك الاغريق بمصر والشام وتاريخ الروم ويلي ذلك ملوك السودان ثمّ البربر وبلاد واحات افريقيا ثمّ أوروبا فيتحدّث البكري عن الصقالبة والافرنج والجلالقة والنورمان ويختم بفصل عن الأكراد.ويتعلّق كلّ ما سبق بغير العرب ويبدأ القسم الخاص بهؤلاء بتاريخ ممالك العرب القدامى في اليمن والحيرة. ويلي ذلك وصف الجزيرة العربية بصفة اجمالية ثم جهة جهة بداية باليمن. وفي هذا القسم يخصص المؤلف فصلا طويلا لمكة، المدينة المقدسة، تاريخها وأماكنها المقدّسة والجبال التي تحيط بها، ونجد تحاليل متشابهة بالنسبة الى يثرب أو المدينة وينتهي هذا القسم: بالطريق من مدينة النبي الى مصر.ويبدأ في العراق أيضا بوصف العراق وأهم مدنه وهنا يختلط الترتيب شيئا ما فنرجع الى المشرق بعد العراق: الى فارس أولا ثم الى بابل فخراسان ونواحيها ثمّ الى ما وراء النهر.ونجد في آخر الجزء الأول بعض المقالات عن بعض الشعوب التركية:لبجاناكية والخزر والمجغر وبلاد سرير وبرداس وبرجان ويقدم لنا أحد المخطوطات فهرس الفصول انطلاقا من ملوك الحيرة إلى آخر الجزء وكأنه يتمّم فهرسا آخر من
প্রকৃত ভৌগোলিক বিভাগটি সাধারণ ভূগোলের বিভিন্ন অধ্যায়ের মাধ্যমে শুরু হয়:ভূখণ্ডসমূহ- সাগরসমূহ- নদ-নদীসমূহ- সপ্ত জলবায়ু অঞ্চল।এরপর লেখক সাতটি সমুদ্র এবং প্রধান নদ-নদীসমূহ পর্যালোচনা করেন। 'রাজ্যসমূহের সূচনা' শিরোনামে আমরা সেই অংশে প্রবেশ করি যেটির নামে পুরো গ্রন্থটির নামকরণ করা হয়েছে এবং এতে বিশ্বকে দেশ অনুযায়ী, অঞ্চল অনুযায়ী এবং শহর অনুযায়ী বর্ণনা করা হয়েছে। আমরা সর্বদা একই বিন্যাস দেখতে পাই: ঐতিহাসিক ভূমিকা- দেশ, জনবসতি ও উৎপাদিত পণ্যের সাধারণ বর্ণনা, পথঘাটের বর্ণনা (এই অংশটি অনেক ক্ষেত্রে হারিয়ে গেছে, যেমনটি আন্দালুসের ক্ষেত্রে ঘটেছে), এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অংশসহ দেশগুলোর বর্ণনা; আর এই সবকিছুর মাঝে 'আদাবুল আজায়িব' বা বিস্ময়কর সাহিত্যের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু অদ্ভুত গল্প স্থান পেয়েছে।সাধারণ ক্রমধারাটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে অগ্রসর হয় এবং তা হিন্দুস্তান থেকে শুরু হয়ে চীন ও তুর্কিদের বর্ণনায় যায়। অতঃপর তা শাম, তিব্বত ও সিন্ধুর দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং পারস্যবাসীদের জন্য একটি বৃহৎ অধ্যায় বরাদ্দ করা হয় যা দুটি অংশে বিভক্ত; প্রথমটি প্রথম রাজবংশের সাথে এবং দ্বিতীয়টি দ্বিতীয় রাজবংশের সাথে সংশ্লিষ্ট। এর ধারাবাহিকতায় যৌক্তিকভাবে মহাবীর আলেকজান্ডারের ইতিহাস, এরপর মিশর ও শামে গ্রীক রাজাদের ইতিহাস এবং রোমকদের ইতিহাস আসে। এরপর সুদান অঞ্চলের রাজাদের বর্ণনা, তারপর বারবার জাতি এবং আফ্রিকার মরূদ্যান সমূহের বর্ণনা, এরপর ইউরোপের বর্ণনা আসে; যেখানে আল-বাকরি স্লাভ, ফ্রাঙ্ক, গালেসীয় এবং নরম্যানদের সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং কুর্দিদের বিষয়ক একটি অধ্যায়ের মাধ্যমে এটি সমাপ্ত করেন।পূর্বোক্ত সবকিছুই অনারবদের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং আরবদের জন্য নির্ধারিত বিভাগটি ইয়েমেন ও হিরার প্রাচীন আরব রাজ্যগুলোর ইতিহাসের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর সামগ্রিকভাবে আরব উপদ্বীপের বর্ণনা এবং তারপর ইয়েমেন থেকে শুরু করে অঞ্চলভিত্তিক বর্ণনা আসে। এই অংশে লেখক পবিত্র শহর মক্কার ইতিহাস, এর পবিত্র স্থানসমূহ এবং একে বেষ্টন করে থাকা পাহাড়গুলোর জন্য একটি দীর্ঘ অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন। আমরা ইয়াছরিব বা মদিনার ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিশ্লেষণ দেখতে পাই এবং এই অংশটি নবীর শহর থেকে মিশর পর্যন্ত পথের বর্ণনার মাধ্যমে শেষ হয়।ইরাক অংশেও ইরাক এবং এর প্রধান শহরগুলোর বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়; এখানে ক্রমবিন্যাস কিছুটা মিশ্রিত হয়ে গেছে, ফলে আমরা ইরাকের পর আবার প্রাচ্যের দিকে ফিরে যাই: প্রথমে পারস্যে, তারপর বাবিল, খোরাসান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ এবং এরপর মা ওয়ারাউন নাহরের দিকে।আমরা প্রথম খণ্ডের শেষে কিছু তুর্কি জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কে কিছু প্রবন্ধ পাই:পেচেনেগ, খাজার, মাজগার, সারির দেশ, বুরতাস এবং বুরজান। একটি পাণ্ডুলিপি আমাদের সামনে হিরার রাজাদের থেকে শুরু করে খণ্ডের শেষ পর্যন্ত অধ্যায়গুলোর সূচিপত্র উপস্থাপন করে, যেন এটি অন্য একটি সূচিপত্রকে পূর্ণ করছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المفروض انه مسح الجزء الأول وهذا الفهرس بخط مخالف لخط المخطوط ويمكن أن نتساءل هل انه يرجع للبكري أم أنه من إضافات بعض النساخ.ويبدأ القسم الثاني بوصف حائط ياجوج وماجوج ورحلة سلام الترجمان. ثمّ يرجع المؤلف الى الشرق الأوسط ويقدم لنا معلومات عن العواصم وعن الشام نفسه بمدنه الرئيسية: دمشق، حمص، انطاكية الخ … ثمّ يتحدّث عن فلسطين ويأتي بوصف طويل لبيت المقدس. وتتواصل الرحلة في بلاد الروم: مدينة رومة وجزر البحر الأبيض المتوسط وبعض جهات جنوب شرقي أوروبا: طراقية، وطشالية، ومقدونية، وبلاد الانقلش، وينتهي هذا القسم بوصف بلاد الروس.ثمّ يضمّن المؤلف بعض الفصول التي ليست لها صلة ظاهرة بما يحيط بها وتأتي في مرتبة أولى خصائص عدد من البلاد مثل الشام والعراق ومصر ثم تعداد لكلّ البلاد تقريبا مع ذكر مساحاتها ثمّ يستعرض بتفصيل كل مناطق أرنشهر وينتهي بحساب خراج تلك الجهات.وتتواصل بعد هذا الانقطاع الرحلة نحو المغرب بفصل طويل عن مصر ينتقل فيه المؤلف من وصف البلاد عامة مع ذكر بعض الخصائص، الى استعراض تاريخها حتّى الفتح الاسلامي. ويعير القسم المخصص للتاريخ القديم قيمة كبرى للعجائب.ويلي وصف مصر قائمة كور البلاد ثمّ يهتم الكاتب بصفة خاصة ببعض المدن وبعض المسالك وينتهي الفصل بوصف الاسكندرية، وتستأثر المنارة باهتمام كبير.ويقودنا طريق الاسكندرية- افريقية الى شمال افريقيا، وتتوالى المعلومات عن المسالك ووصف المدن بشيء من التطويل أو التقصير ونجد تحليلات تاريخية طويلة عن الأدارسة وبرغواطة والمرابطين. إنها نفس الطريقة المتبعة بالنسبة الى المشرق.وعند وصولنا الى أقصى الجنوب المغربي (سجلماسة- أغمات) نتجه الى الجنوب ونخترق الصحراء ونزور بلاد السودان: غانة ومالي الخ …ويهتم القسم الأخير من الكتاب بأوروبا الغربية ويبدأ بوصف عام للأندلس ثمّ لتقسيماته فجباله فخصائصه ثمّ تستعرض بعض المدن بداية من قرطبة واشبيلية وتتبع ذلك مقالات عن جليقة وبلاد الافرنج البوتونيين ومن المؤسف انه لم تحفظ الا أجزاء
ধারণা করা হয় যে প্রথম অংশটি মুছে ফেলা হয়েছে এবং এই সূচিপত্রটি পাণ্ডুলিপির লিপির চেয়ে ভিন্ন হস্তাক্ষরে লেখা। প্রশ্ন জাগতে পারে যে, এটি কি বকরির রচিত নাকি কোনো নকলনবিশের (অনুলিপিকারীর) সংযোজন।দ্বিতীয় অংশটি ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীরের বর্ণনা এবং সালাম আত-তারজুমানের সফরের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর লেখক মধ্যপ্রাচ্যে ফিরে আসেন এবং আমাদের রাজধানীগুলো ও শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের প্রধান শহরগুলো যেমন: দামেস্ক, হিমস, আনতাকিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন … তারপর তিনি ফিলিস্তিন সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বায়তুল মাকদিসের একটি দীর্ঘ বর্ণনা প্রদান করেন। সফরটি রোমীয় ভূখণ্ডে চলতে থাকে: রোম শহর, ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কিছু অঞ্চল: থ্রেস, থেসালি, মেসিডোনিয়া ও ইংল্যান্ডের ভূখণ্ড এবং এই অংশটি রুশ অঞ্চলের বর্ণনার মাধ্যমে শেষ হয়।এরপর লেখক এমন কিছু অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যার সাথে পার্শ্ববর্তী বিষয়গুলোর কোনো প্রকাশ্য সম্পর্ক নেই। প্রথমেই শাম, ইরাক ও মিশরের মতো বেশ কিছু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যসমূহ আসে। তারপর প্রায় সবকটি দেশের আয়তনসহ সেগুলোর তালিকা দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি ইরানশাহরের সকল অঞ্চলের বিস্তারিত বর্ণনা পেশ করেন এবং ঐসব অঞ্চলের খাজনার হিসাবের মাধ্যমে তা শেষ করেন।এই বিরতির পর মাগরিবের (পাশ্চাত্যের) দিকে সফরটি পুনরায় মিশরের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে লেখক দেশটির সাধারণ বর্ণনা ও কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করে ইসলামী বিজয় পর্যন্ত এর ইতিহাসের পর্যালোচনায় চলে যান। প্রাচীন ইতিহাসের জন্য বরাদ্দকৃত অংশে তিনি আশ্চর্যজনক ঘটনাবলীকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন।মিশরের বর্ণনার পর বিভিন্ন প্রশাসনিক অঞ্চলের একটি তালিকা আসে, এরপর লেখক বিশেষ করে কিছু শহর ও কিছু পথ নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যায়টি আলেকজান্দ্রিয়ার বর্ণনার মাধ্যমে শেষ হয় এবং বাতিঘরটি সেখানে ব্যাপক গুরুত্ব পায়।আলেকজান্দ্রিয়া-আফ্রিকা পথটি আমাদের উত্তর আফ্রিকার দিকে নিয়ে যায়। পথঘাট সম্পর্কে তথ্য এবং শহরগুলোর বর্ণনা কমবেশি বিস্তারিতভাবে একের পর এক আসতে থাকে এবং আমরা ইদ্রিসীয়, বারঘাওয়াতা ও মুরাবিতুন রাজবংশ সম্পর্কে দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ খুঁজে পাই। এটি মাশরিকের (প্রাচ্যের) ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতির অনুরূপ।যখন আমরা সুদূর দক্ষিণ মাগরিবে (সিজিলমাসা-আঘমাত) পৌঁছাই, তখন আমরা দক্ষিণের দিকে যাত্রা করি, মরুভূমি পাড়ি দিই এবং সুদান অঞ্চল সফর করি: ঘানা, মালি ইত্যাদি …বইটির শেষ অংশটি পশ্চিম ইউরোপ নিয়ে আলোচনা করে এবং আন্দালুসের সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে তা শুরু হয়। এরপর এর প্রশাসনিক বিভাজন, পর্বতমালা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করা হয়। তারপর কর্ডোভা ও সেভিল থেকে শুরু করে কিছু শহরের বর্ণনা দেওয়া হয়। এরপর গ্যালিসিয়া ও ফ্রাঙ্কিশদের ভূখণ্ড এবং পোয়েটোভিনদের সম্পর্কে প্রবন্ধগুলো অনুসরণ করে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এর মাত্র কিছু অংশই সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
من هذا القسم الأخير وكما سنذكر ذلك من بعد فإنه من الممكن أن نتمم العديد من ثغرات مسالك البكري باستغلال محكم لكتاب الحميري: الروض المعطار ولكن ذلك لا يسمح لنا بترميم مرضي إذ أن صاحب الروض قد جزأ أوصاف المدن لكي يرتبها ترتيبا أبجديا أما الاطار الذي كانت تندرج فيه أي المسالك فإنه قد ضاع نهائيا اللهم إلّا إذا ما عثرنا على نسخ جديدة من كتاب البكري.المصادر:نستنتج مما سبق أن عديد المعلومات الجغرافية والتاريخية والأتنوغرافية والاقتصادية قد تراكمت في كتاب المسالك وان تلك المعلومات تتعلق بكلّ العالم المعروف لدى العرب في تلك الفترة. ان هذا الثراء لا يجب أن ينسينا عيب الكتاب الأكبر: البكري لا يحدثنا أبدا عما يشاهده بنفسه وليست له تجربة مباشرة تتعلق بالبلاد التي يصفها وذلك خلافا لأبرز سابقيه من أعلام العصر الكلاسيكي المشرقي أمثال: ابن حوقل والاصطخري والمسعودي ولا يستنتج من أي ترجمة من تراجم البكري انه غادر وطنه بل ان حياته في ذلك الوطن قد انحصرت في رقعة ضيقة بين ولبة واشبيلية وقرطبة والمرية. فلقد كان مضطرا إذن لكي يؤلف كتابه أن يراجع مصادر. نعم لقد كانت تآليف سابقة في متناوله الّا أن ما ينتج عن ذلك هو ان العالم الذي نتصوره من خلال قراءة مسالك البكري ليس عالم القرن 5 هـ/ 11 م بل هو عالم أسبق بقرن أو قرنين الّا إذا تعلق الأمر بمعلومات استقاها البكري مباشرة من رحالة عرفهم أو من مصادر معاصرة له على أن هذه الحالات قليلة وتنحصر في بعض التحليلات المتعلقة بالمغرب والسودان «1» . وبالنسبة إلى ما عدا ذلك فإن البكري اقتبس من مصادر مكتوبة تاريخية وجغرافية وأدبية يمكن أن يفترض أنه كان يمتلكها بصورة شخصية إذ من المعروف عنه انه كان يحب الكتب ويروى عنه انه كان يلفها في «سباني الشرب وغيرها اكراما لها» «2» وأدّى هذا المنهج الى نتيجتين: واحدة ايجابية والثانية سلبية. أما النتيجة الايجابية فإن كتاب المسالك يشترك فيها مع الكتب الأخرى التي تعتمد النقل وتتعلق
এই শেষোক্ত অংশ থেকে এবং যেমনটি আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব, আল-হিমইয়ারির গ্রন্থ 'আর-রাওদ আল-মিতার'-এর যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে আল-বাকরির 'আল-মাসালিক'-এর বহু শূন্যস্থান পূরণ করা সম্ভব। তবে এটি আমাদের জন্য সন্তোষজনক কোনো পুনঃর্গঠনের সুযোগ দেয় না; কারণ 'আর-রাওদ'-এর লেখক শহরগুলোর বর্ণনাকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানোর জন্য খণ্ডিত করেছেন। আর যে কাঠামোর অধীনে সেই পথসমূহ (আল-মাসালিক) অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে, যদি না আমরা আল-বাকরির গ্রন্থের নতুন কোনো পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাই।উৎসসমূহ:পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, 'আল-মাসালিক' গ্রন্থে প্রচুর ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, নৃতাত্ত্বিক এবং অর্থনৈতিক তথ্য পুঞ্জীভূত হয়েছে এবং সেই তথ্যগুলো তৎকালীন আরবদের কাছে পরিচিত সমগ্র বিশ্বের সাথে সম্পর্কিত। এই প্রাচুর্য যেন আমাদের এই গ্রন্থের সবচেয়ে বড় ত্রুটির কথা ভুলিয়ে না দেয়: আল-বাকরি নিজে যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা নিয়ে কখনও আমাদের কিছু বলেন না এবং তিনি যে দেশগুলোর বর্ণনা দিচ্ছেন সেগুলোর সাথে তার কোনো সরাসরি অভিজ্ঞতা নেই। এটি তার পূর্বসূরি প্রাচ্যের ধ্রুপদী যুগের শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের বিপরীত, যেমন: ইবনে হাওকাল, আল-ইস্তাখরি এবং আল-মাসউদি। আল-বাকরির কোনো জীবনী থেকেই এমনটি জানা যায় না যে তিনি তার স্বদেশ ত্যাগ করেছিলেন; বরং সেই স্বদেশে তার জীবন উয়েলভা, সেভিল, কর্ডোভা এবং আলমেরিয়ার মধ্যবর্তী এক সংকীর্ণ ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ ছিল। সুতরাং, তার গ্রন্থটি সংকলনের জন্য তিনি বিভিন্ন উৎসের শরণাপন্ন হতে বাধ্য ছিলেন। হ্যাঁ, পূর্ববর্তী অনেক রচনা তার নাগালের মধ্যে ছিল, তবে এর ফলাফল এই দাঁড়িয়েছে যে, আল-বাকরির 'আল-মাসালিক' পাঠের মাধ্যমে আমরা যে বিশ্বের কল্পনা করি, তা হিজরি ৫ম শতাব্দী বা ১১শ খ্রিস্টাব্দের বিশ্ব নয়, বরং তার চেয়ে এক বা দুই শতাব্দী আগের বিশ্ব। তবে সেই তথ্যের কথা ভিন্ন, যা আল-বাকরি সরাসরি তার পরিচিত পর্যটকদের কাছ থেকে অথবা তার সমসাময়িক উৎস থেকে সংগ্রহ করেছেন। অবশ্য এই ধরনের ক্ষেত্র খুবই কম এবং তা মাগরিব ও সুদান সংক্রান্ত কিছু বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ «১»। এছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আল-বাকরি বিভিন্ন লিখিত ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক ও সাহিত্যিক উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ধারণা করা যেতে পারে যে, এই উৎসগুলো ব্যক্তিগতভাবে তার মালিকানায় ছিল, কারণ তিনি বই ভালোবাসতেন বলে সুপরিচিত ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি বইয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে সেগুলোকে «সাবানি আল-শারব এবং অন্যান্য কাপড়ে পেঁচিয়ে রাখতেন» «২»। তার এই পদ্ধতির ফলে দুটি ফলাফল পাওয়া যায়: একটি ইতিবাচক এবং অন্যটি নেতিবাচক। ইতিবাচক ফলাফলটির ক্ষেত্রে 'আল-মাসালিক' গ্রন্থটি উদ্ধৃতি বা বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য গ্রন্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তা সম্পর্কিত...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بحفظ كتب كادت تتلاشى تماما لولا تلك الطريقة ونذكر هنا مثال ابراهيم بن يعقوب الطرطوشي. أما الناحية السلبية فتتمثل في انعدام الطرافة فأغلب نصّ المسالك الحالي معروف من مصادر أخرى ونجد غالبه في طبعات المسعودي وابن رسته وابن عبد الحكم والطبري …وينتج عن المنهج النقلي عيب آخر: فلقد تمنّى لفي بروفنصال في المقال الذي خصصه للبكري في دائرة المعارف الاسلامية «1» لو يقع القيام بدراسة لغته حتّى تستخرج جدولا للألفاظ المستعملة والتي فيها تأثير للغة الأندلسية. ونحن لا نعتقد ان مثل هذه الدراسة يمكن أن تؤدي الى نتائج ايجابية اذ من المحتمل أن نجد تلك التأثيرات عندما يستعمل المؤلف مصادر أندلسية الا أنها تبقى لغة المصادر لا لغة البكري وان ملاحظات المؤلف الخاصة من الندرة بحيث يعسر استخلاص نتائج مقنعة.ويصرح البكري في الغالب بالمصادر التي يستعملها الى حدّ أنه من الميسور اعداد قائمة في مؤلفيه المفضلين والدراسة المدققة للمسالك تبين لنا منهجه في استعمال مصادره: انه في بعض الأحيان يذكرها حرفيا ويستشهد حتّى بالصفحات العديدة لكنه في الغالب يحوصلها ويمزج بينها فيخرج منها نص مؤلف تأليفا جديدا ويسبب هذا المنهج بعض المشاكل لدى تحقيق النص سنلمح اليها من بعد.ومن المفروغ منه أن تنوع المواضيع المطروقة وكثرة البلاد الموصوفة تجعل الناقل يتخلّى مؤقتا عن هذا المصدر أو ذاك وقد يرجع اليه من بعد. وبعض المصادر مستغلة استغلالا مطولا وبعضها مقتبس منها اقتباسات متواضعة تحوم حول مواضيع محددة ومن المستحيل تفصيل القول في هذا الموضوع في اطار هذه المقدمة ويعسر ذكر المصدر بالنسبة إلى كل فصل وكلّ فقرة فنكتفي اذن بذكر الخطوط العامة.إن لكتاب المسالك خصائص مميزة تجعل المعلومات الجغرافية دائمة الامتزاج بالمعلومات ذات الصبغة التاريخية لذا ارتأينا أن نعرض المصادر الجغرافية منفصلة عن المصادر التاريخية رغم ان خصائص هذه التآليف التي نجد فيها مواضيع متنافرة لا
এমন কিছু গ্রন্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে যা সেই পদ্ধতিটি না থাকলে প্রায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেত এবং আমরা এখানে ইবরাহীম বিন ইয়াকুব আল-তারতুশির উদাহরণ উল্লেখ করছি। নেতিবাচক দিকটি হলো মৌলিকত্বের অভাব, কারণ বর্তমান ‘মাসালিক’-এর অধিকাংশ পাঠ অন্যান্য উৎস থেকে সুপরিচিত এবং আমরা এর বেশিরভাগই আল-মাসউদি, ইবন রুস্তাহ, ইবন আবদিল হাকাম এবং আল-তাবারির সংস্করণগুলোতে পাই ...এই সংকলনমূলক পদ্ধতির ফলে আরও একটি ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়: লেভি-প্রোভেনসাল ‘ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া’র আল-বাকরি সংক্রান্ত প্রবন্ধে (১) আশা প্রকাশ করেছিলেন যেন তার ভাষার ওপর একটি গবেষণা পরিচালিত হয়, যাতে ব্যবহৃত শব্দাবলীর একটি তালিকা প্রস্তুত করা যায় যেখানে আন্দালুসীয় ভাষার প্রভাব রয়েছে। আমরা মনে করি না যে এ ধরনের গবেষণা কোনো ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে; কারণ যখন লেখক আন্দালুসীয় উৎসসমূহ ব্যবহার করেন তখন সেই প্রভাবগুলো পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সেগুলো মূলত মূল উৎসের ভাষাই থেকে যায়, আল-বাকরির নিজস্ব ভাষা নয়। আর লেখকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ এতই নগণ্য যে সেখান থেকে কোনো সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া দুষ্কর।আল-বাকরি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার ব্যবহৃত উৎসগুলো স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যার ফলে তার প্রিয় লেখকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করাও সহজসাধ্য। ‘মাসালিক’-এর সূক্ষ্ম পর্যালোচনায় আমাদের কাছে তার উৎস ব্যবহারের পদ্ধতিটি পরিস্ফুট হয়: কখনও কখনও তিনি সেগুলো হুবহু উল্লেখ করেন এবং এমনকি দীর্ঘ কয়েক পৃষ্ঠার উদ্ধৃতিও প্রদান করেন, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি সেগুলোকে সংক্ষেপিত করেন এবং একে অপরের সাথে মিশ্রিত করেন, যার ফলে একটি নতুন ঢঙের পাঠ্য তৈরি হয়। এই পদ্ধতিটি পাঠ্য সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি করে, যা আমরা পরবর্তীতে আলোচনা করব।এটি সুনিশ্চিত যে, আলোচিত বিষয়ের বৈচিত্র্য এবং বর্ণিত দেশের প্রাচুর্যের কারণে সংকলককে সাময়িকভাবে কোনো নির্দিষ্ট উৎস বর্জন করতে হয় এবং পরবর্তী সময়ে হয়তো আবার সেটিতে ফিরে আসতে হয়। কিছু উৎস দীর্ঘ পরিসরে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কিছু উৎস থেকে সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কিঞ্চিৎ উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে। এই ভূমিকার সংক্ষিপ্ত পরিসরে এ বিষয়ে বিশদ বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব এবং প্রতিটি অধ্যায় ও প্রতিটি অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রে উৎস নির্দেশ করাও অত্যন্ত কঠিন; তাই আমরা কেবল সাধারণ রূপরেখা তুলে ধরাকেই যথেষ্ট মনে করছি।‘আল-মাসালিক’ গ্রন্থের এমন কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ভৌগোলিক তথ্যের সাথে ঐতিহাসিক তথ্যের নিরন্তর সংমিশ্রণ ঘটায়। তাই আমরা ঐতিহাসিক উৎসগুলো থেকে ভৌগোলিক উৎসগুলোকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদিও এই রচনাগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এতে আমরা পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সমাবেশ দেখতে পাই যা...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تجعل من هذا التمييز أمرا ميسورا. فإننا رأينا من المفيد أن نلتجئ إلى هذا التمييز حتّى ندرس الموضوع دراسة أولية.الف) المصادر التاريخيةيعترضنا اسم الطبري منذ الأسطر الأولى لكتاب المسالك وسيتكرر ذكره خلال القسم الأول خاصة في الفصل المتعلّق بالأنبياء وملوك الفرس وملوك اليمن وسنجد الاسم أيضا في فقرات متعددة مخصصة لمدن أو بلاد مثل كرمان والمدائن. ونجد أمثال هذه الاستشهادات في حوالي 130 فقرة وتبدأ باحدى العبارات التالية:الطبري- أبو جعفر- محمد بن جرير- أو بحرف: ط فقط «1» .ويستشهد بمؤلف آخر مشهور- هو المسعودي- أكثر من الاستشهاد بالطبري.وهما بالتداول مصدرا الحديث عن تاريخ الأنبياء وملوك اليمن. والمسعودي هو المصدر الأساسي في العديد من الفقرات التي تتناول البحار والأنهار وتاريخ ملوك الحيرة وأهل الشام والنبطيين والأكراد والسودان وتاريخ مصر القديمة. وكل الفصل المتعلق بمعتقدات العرب مقتبس مباشرة من المروج وكذلك الأمر بالنسبة الى ملوك مصر اليونانيين وملوك الروم الأولين وبعض الفقرات المتعلقة بالصقالبة وشعوب القوقاز، وفي الجملة فإن حوالي 330 فقرة تعدّ مقتبسة من المسعودي بصورة موجزة، وعندما يذكر المسعودي صراحة فإنه يذكره بالصيغ التالية: المسعودي أو أبو الحسن أو بحرف س «2» .وبالاضافة الى هذين المصدرين الأساسيين فإن البكري يستعمل عديد المصادر الأخرى في فصل معين أو مسألة مخصصة فلقد استشهد بكتاب المعارف لابن قتيبة حوالي عشرين مرة في الفصل المتعلّق بالأنبياء ويرمز اليه عندما يذكره بحرف:ق «3» ويستشهد في نفس هذا الفصل بالقرظي «4» أو بأبي حفص القرظي «5»
এই পার্থক্যকরণ প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করে তোলে। কেননা আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনার জন্য এই পার্থক্যকরণের আশ্রয় নেওয়াকে উপকারী মনে করেছি।ক) ঐতিহাসিক উৎসসমূহ'কিতাবুল মাসালিক'-এর প্রাথমিক ছত্রগুলো থেকেই তাবারির নাম আমাদের সামনে আসে এবং প্রথম অংশ জুড়ে তাঁর নামের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়; বিশেষ করে নবীগণের কাহিনী, পারস্যের সম্রাটগণ এবং ইয়ামেনের সম্রাটগণের সাথে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে। এছাড়া কিরমান ও মাদায়েনের মতো বিভিন্ন শহর বা দেশ বিষয়ক অনুচ্ছেদগুলোতেও আমরা তাঁর নামের উল্লেখ পাই। এই ধরনের উদ্ধৃতিসমূহ প্রায় ১৩০টি অনুচ্ছেদে পাওয়া যায় এবং সেগুলো নিচের যেকোনো একটি শব্দসমষ্টি দিয়ে শুরু হয়:তাবারি- আবু জাফর- মুহাম্মদ ইবনে জারির- অথবা কেবল 'ত্ব' বর্ণ দ্বারা «১»।এছাড়া তাবারির চেয়েও অধিক পরিমাণে মাসউদি নামক অপর এক প্রসিদ্ধ লেখকের উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে।তাঁরা উভয়েই পর্যায়ক্রমে নবীগণের ইতিহাস ও ইয়ামেনের সম্রাটদের বর্ণনার উৎস। মাসউদি হলেন সমুদ্র, নদ-নদী, হিরার সম্রাটদের ইতিহাস, শামের অধিবাসী, নাবাতী, কুর্দি, সুদান এবং প্রাচীন মিসরের ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু অনুচ্ছেদের প্রধান উৎস। আরবদের বিশ্বাস সম্পর্কিত পুরো অধ্যায়টি সরাসরি 'মুরুজ' (মুরুজুয যাহাব) থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। একইভাবে মিসরের গ্রিক সম্রাট, রোমের প্রাচীন সম্রাটগণ এবং স্লাভ ও ককেশাস অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কিত কিছু অনুচ্ছেদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রায় ৩৩০টি অনুচ্ছেদ মাসউদি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে গৃহীত হয়েছে। যখন মাসউদিকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, তখন তা নিম্নোক্ত রূপে করা হয়: মাসউদি অথবা আবুল হাসান অথবা 'সিন' বর্ণ দ্বারা «২»।এই দুইটি মৌলিক উৎস ছাড়াও বাকরি নির্দিষ্ট কোনো অধ্যায় বা বিশেষ কোনো বিষয়ে অন্যান্য অনেক উৎস ব্যবহার করেছেন। তিনি নবীগণের কাহিনী সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে ইবনে কুতায়বার 'কিতাবুল মাআরিফ' থেকে প্রায় বিশবার উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তাঁর উল্লেখ করার সময় এই সংকেতটি ব্যবহার করেছেন:'ক্বাফ' «৩» এবং তিনি এই একই অধ্যায়ে কুরাজি «৪» অথবা আবু হাফস কুরাজি «৫» থেকেও উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والتأليف الذي يذكر في المرة الأولى هو التاريخ وفي المرة الثانية هو: الديوان. ويشير فؤاد سيزكين «1» إلى تفسير لا نعرف عنه شيئا يذكر منسوبا إلى محمد بن كعب القرطبي فيمكن أن نتساءل هل ان المقصود هو نفس الشخص وهل ان التأليفين المذكورين هما لمؤلف واحد أم لا؟.ونجد في نفس الفصل المخصص للأنبياء ذكرا لشخص يسمى القوطي «2» .ويختفي في الحقيقة وراء هذه النسبة المؤرخ بولس أوروزيوس Orosius Paul الذي ألف كتابه «سبعة كتب تاريخية ضدّ الوثنية» بطلب من القديس أغوستينيوس Augustin Saint +ونحن نعلم ان كتاب هذا الراهب الأندلسي قد ترجم الى العربية في البلاط الأموي بقرطبة وعلى الراجح في عهد عبد الرحمن الثالث «3» . وبرجوعنا الى المخطوط الوحيد المعروف من هذه الترجمة والمحفوظ في جامعة كولبيا بنييورك أمكن العثور على الفقرات التي استشهد بها البكري في صيغتها الحرفية تقريبا واقتبس البكري من أوروزيوس أيضا في تحريره للفصول المتعلقة بالاسكندر الأكبر ومن تولى بعده وبأباطرة الرومان (الفقرة رقم 468 وما تلاها) وقد تمكنا في هذا المضمار أيضا من العثور على عديد الاستشهادات الحرفية. ويستشهد البكري في القسم الأول من المسالك بمؤلف آخر يتردد اسمه بكثرة في تاريخ مصر القديمة ويسمى الوصيفي وكثيرا ما يكتب اسمه الوصفي «4» . والراجح أن هذا الشخص هو إبراهيم وصيف شاه صاحب كتاب العجائب الذي ترجمه كارادي فو. أما النص العربي فإن ناشره نسبه خطأ إلى المسعودي بعنوان أخبار الزمان «5» .وقد وجدنا استشهادا منسوبا صراحة إلى صاحب كتاب العجائب (انظر الفقرة 311) في الطبعة الثانية للنص العربي ص ص 45- 46. وقد لاحظنا هذه الاقتباسات على الأقل بالنسبة إلى 120 فقرة من المسالك خاصة الفقرات 304- 328
প্রথমবার উল্লেখিত গ্রন্থটি হলো ইতিহাস এবং দ্বিতীয়বার হলো: দিওয়ান। ফুয়াদ সেজগিন (১) মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরতুবীর নামে একটি তাফসীরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না। এমতাবস্থায় আমরা প্রশ্ন তুলতে পারি যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কি একই ব্যক্তি এবং উল্লেখিত গ্রন্থ দুটি কি একই লেখকের কি না? নবীদের জন্য নির্ধারিত একই পরিচ্ছেদে আমরা আল-কুতি (২) নামক এক ব্যক্তির উল্লেখ পাই। প্রকৃতপক্ষে এই নিসবতের আড়ালে ইতিহাসবিদ পল ওরোসিয়াস (Orosius Paul) রয়েছেন, যিনি সেন্ট অগাস্টিনের (Augustin Saint) অনুরোধে ‘পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে সাতটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ’ রচনা করেছিলেন। আমরা জানি যে এই আন্দালুসী সন্ন্যাসীর গ্রন্থটি কর্ডোভার উমাইয়া রাজদরবারে আরবিতে অনূদিত হয়েছিল এবং সম্ভবত তৃতীয় আবদুর রহমানের শাসনামলে (৩) তা সম্পন্ন হয়েছিল। এই অনুবাদের একমাত্র পরিচিত পাণ্ডুলিপি, যা নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে, তা পর্যালোচনা করে আল-বাকরি কর্তৃক উদ্ধৃত অনুচ্ছেদগুলো প্রায় হুবহু পাঠসহ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। আল-বাকরি মহামতি আলেকজান্ডার এবং তার পরবর্তী শাসক ও রোমান সম্রাটদের সম্পর্কিত পরিচ্ছেদগুলো সম্পাদনার ক্ষেত্রেও ওরোসিয়াস থেকেও উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন (অনুচ্ছেদ নম্বর ৪৬৮ এবং পরবর্তী)। এই ক্ষেত্রেও আমরা অনেকগুলো হুবহু উদ্ধৃতি খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছি। আল-বাকরি ‘আল-মাসালিক’-এর প্রথম অংশে প্রাচীন মিসরের ইতিহাসে বারবার উল্লেখিত অন্য একজন লেখকের উদ্ধৃতি দিয়েছেন যার নাম আল-ওসিফি এবং প্রায়শই তার নাম আল-ওসিফি (৪) হিসেবে লেখা হয়। প্রবল ধারণা অনুযায়ী এই ব্যক্তিটি হলেন ইবরাহিম ওসিফ শাহ, যিনি ‘কিতাবুল আজায়েব’-এর লেখক যা কারাদি ভো অনুবাদ করেছেন। আরবি পাঠের ক্ষেত্রে প্রকাশক ভুলবশত একে আল-মাসউদির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং এর শিরোনাম দিয়েছেন ‘আখবারুজ জামান’ (৫)। আমরা আরবি পাঠের দ্বিতীয় সংস্করণের ৪৫-৪৬ পৃষ্ঠায় সরাসরি কিতাবুল আজায়েবের লেখকের নামে উদ্ধৃতি পেয়েছি (অনুচ্ছেদ ৩১১ দ্রষ্টব্য)। আমরা আল-মাসালিক-এর অন্তত ১২০টি অনুচ্ছেদে এই উদ্ধৃতিগুলো লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে ৩০৪ থেকে ৩২৮ নম্বর অনুচ্ছেদগুলোতে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২০)
و 914- 991. الّا أن نص البكري هو في الغالب أطول من نص واصف شاه مما يجعلنا نفترض انه كان بين يدي البكري النص الكامل وان ما وصلنا هو مختصر.وبالنسبة إلى تاريخ مكة في الجاهلية فإن البكري يعتمد كثيرا أخبار مكة للأزرقي وتتعلّق الاقتباسات خاصة بالفقرات 646- 676 والتعرف على مصادر البكري بالنسبة إلى القسم المتعلق بالمدينة أعسر، فكثير من الفقرات نجدها في كتابي السمهودي: وفاء الوفاء في أخبار دار المصطفى. وخلاصة الوفاء بأخبار دار المصطفى فالراجح اذن ان البكري والسمهودي قد اعتمدا نفس المصادر خاصة ابن زبالة (القرن 2/8 م) .ويمكن أن نلاحظ نفس الملاحظة بالنسبة الى وصف بيت المقدس وتاريخها ففي المسالك الكثير من الفقرات المشابهة لما ورد في كتاب: الأنس الجليل بتاريخ القدس والخليل لمجيز الدين (860/1456- 928/1522) .ويعتمد البكري في جزء كبير من تاريخه لفتح مصر (الفقرات 992- 1014) وفي بعض ما يتعلق بفتح المغرب (الفقرة 1093 وما يليها) على ابن عبد الحكم في كتابه فتوح مصر وأخبارها.أما المقال الموجز المخصص لمدينة البصرة فإنه مستمدّ مباشرة من فتوح البلدان للبلاذري (الفقرة 730) ونجد استشهادا واحدا من كتاب يغتبر الآن مفقودا هو تاريخ ابن خرداذبه (الفقرة 132) وسنعود أسفله إلى هذا المؤلف وتأليفه الجغرافي.ويعتبر كتاب المسالك والممالك لمحمد بن يوسف الوراق أحد مصادر البكري الأساسية بالنسبة الى كلّ ما يتعلّق بالمغرب سواء كان مادة تاريخية أو جغرافية ويذكر الوراق عادة باسم محمد بن يوسف «1» .لقد سبق لنا أن أشرنا الى أن البكري لم يسافر قط وان أفقه بقي محدودا لا يتجاوز جهته وإنه التجأ إلى المصادر المكتوبة عوضا عن تجربته المباشرة حتى بالنسبة إلى وصف الأندلس. إن مخبره الأساسي سواء بالنسبة إلى المادة التاريخية أو الجغرافية هو أحمد بن محمد الرازي المؤرخ والجغرافي الأندلسي الكبير الذي يعتمده كل المؤلفين
৯১৪-৯৯১। তবে আল-বাকরীর পাঠ্যটি সাধারণত ওয়াসিফ শাহ-এর পাঠ্যের চেয়ে দীর্ঘ, যা আমাদের ধারণা করতে বাধ্য করে যে, আল-বাকরীর কাছে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যটি ছিল এবং আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা একটি সংক্ষিপ্তসার।জাহেলিয়াত যুগে মক্কার ইতিহাসের ক্ষেত্রে আল-বাকরী আল-আযরকীর ‘আখবার মক্কা’র ওপর অনেক বেশি নির্ভর করেছেন এবং উদ্ধৃতিগুলো বিশেষ করে ৬৪৬-৬৭৬ অনুচ্ছেদগুলোর সাথে সম্পর্কিত। মদীনা সংশ্লিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে আল-বাকরীর উৎসগুলো চিহ্নিত করা আরও কঠিন, কারণ অনেক অনুচ্ছেদ আমরা সামহুদীর দুটি কিতাবে পাই: ‘ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা’ এবং ‘খুলাসাতুল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা’। সুতরাং প্রবল ধারণা এই যে, আল-বাকরী এবং সামহুদী একই উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে ইবনে যাবালা (২য় হিজরী/৮ম খ্রিষ্টাব্দ)।বাইতুল মুকাদ্দাসের বর্ণনা এবং এর ইতিহাসের ক্ষেত্রেও আমরা একই পর্যবেক্ষণ লক্ষ করতে পারি। কারণ ‘আল-মাসালিক’-এ এমন অনেক অনুচ্ছেদ রয়েছে যা মুজীরুদ্দীন (৮৬০/১৪৫৬-৯২৮/১৫২২) রচিত ‘আল-উনসুল জলীল বি তারিখিল কুদসি ওয়াল খালীল’ গ্রন্থে বর্ণিত বিষয়ের অনুরূপ।আল-বাকরী তার মিশর বিজয়ের ইতিহাসের একটি বড় অংশে (৯৯২-১০১৪ অনুচ্ছেদ) এবং মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) বিজয়ের সাথে সম্পর্কিত কিছু অংশে (১০৯৩ অনুচ্ছেদ এবং এর পরবর্তী) ইবনে আবদিল হাকামের ‘ফুতুহু মিসর ওয়া আখবারুহা’ কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন।আর বসরা শহরের জন্য বরাদ্দকৃত সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধটি সরাসরি আল-বালাযুরীর ‘ফুতুহুল বুলদান’ (৭৩০ অনুচ্ছেদ) থেকে নেওয়া হয়েছে এবং আমরা এমন একটি কিতাব থেকে একটি উদ্ধৃতি পাই যা বর্তমানে নিখোঁজ বলে বিবেচিত, আর তা হলো ইবনে খুরদাদবিহ-এর ‘তারিখ’ (১৩২ অনুচ্ছেদ)। আমরা নিচে এই লেখক এবং তার ভৌগোলিক রচনা সম্পর্কে আলোচনায় ফিরে আসব।মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ওয়াররাকের ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ কিতাবটি মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বা ভৌগোলিক সব বিষয়ের ক্ষেত্রে আল-বাকরীর অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আল-ওয়াররাককে সাধারণত মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ «১» নামে উল্লেখ করা হয়।আমরা ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছি যে, আল-বাকরী কখনোই ভ্রমণ করেননি এবং তার দিগন্ত সীমিত ছিল যা তার নিজের অঞ্চলের বাইরে বিস্তৃত হয়নি। এমনকি আন্দালুসের বর্ণনার ক্ষেত্রেও তিনি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার পরিবর্তে লিখিত উৎসের আশ্রয় নিয়েছেন। ঐতিহাসিক বা ভৌগোলিক উপাত্তের ক্ষেত্রে তার প্রধান তথ্যদাতা হলেন মহান আন্দালুসীয় ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আর-রাযী, যার ওপর সমস্ত লেখকই নির্ভর করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২১)
الموالين لكن من العسير أن نتبين هل انه استعمله مباشرة أم عن طريق شيخه العذري.ولنذكر في نهاية حديثنا عن المصادر التاريخية رأى لفي بروفنصال القائل إن البكري قد اعتمد بقرطبة على وثائق الأرشيف الرسمي «1» لكتابة بعض الفصول خاصة منها المتعلقة بالأدارسة وبرغواطة. ان الأمر راجح لكن لا يمكن أن نتجاوز الترجيح طالما لم نعثر على معطيات اضافية.ب) المصادر الجغرافيةلقد أشرنا الى العديد من المؤلفين والكتب خلال عرضنا للمصادر التاريخية فلن نعود الى ذلك هنا وينطبق الأمر على ابراهيم وصيف شاه وعلى مروج المسعودي ويذكر البكري مرة على الأقل كتابا آخر من كتب المسعودي هو: التنبيه والاشراف: (الفقرة 342) .ويعتمد البكري مؤلفين آخرين سبق أن ذكرناهم وهم الأزرقي بالنسبة الى القسم المتعلق بوصف مكة وجهاتها وابن زبالة بالنسبة الى المدينة أما فيما يتعلق بجغرافية شمال افريقيا والأندلس فإننا نجد مرّة أخرى أبا يوسف الوراق والرازي.وبالاضافة الى هؤلاء المؤلفين الذين سبق أن قدمناهم يستمدّ البكري جانبا هاما من معلوماته من جغرافيين بأتم معنى الكلمة: ويجدر بنا أن نذكر في البداية ابن رسته وكتابه الاعلاق النفيسة الذي يمثل بدون أي شك مصدرا هاما للمسالك خاصة في قسمه الأول ويرمز اليه عادة في الاستشهادات بحرف د «2» وهو أمر غريب حتى أن ناشره الأول كولسن قد قرأ اسمه ابن دستة «3» ونحن مدينون له بالفصول المتعلقة بالأرضين والأنهار والبحار والبيوت المعظمة في الجاهلية بمكة والمدينة وأقسام أرنشهر وكذلك وصف بعض جهات الهند وفقرات تتصل بشعوب أوروبا مثل وصف القسطنطينية ورومة وتعاليق تهم الصقالبة والبلغار.. وفي الجملة فإن حوالي 60 فقرة ترجع كلها أو في جزء منها الى هذا المؤلف.
অনুসারীদের ক্ষেত্রে, তবে এটি নির্ধারণ করা কঠিন যে তিনি এটি সরাসরি ব্যবহার করেছেন নাকি তাঁর শায়খ আল-উযরির মাধ্যমে।আমাদের ঐতিহাসিক উৎসসমূহ সম্পর্কিত আলোচনার শেষে আমরা লেভি প্রোভেনসালের মতটি উল্লেখ করি, যিনি বলেছেন যে আল-বাকরি কর্ডোভায় কিছু অধ্যায় রচনার জন্য, বিশেষ করে ইদ্রিসি এবং বারঘাওয়াতা সম্পর্কিত অংশগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি নথিপত্রের «১» ওপর নির্ভর করেছিলেন। বিষয়টি প্রবলভাবে সম্ভাব্য, তবে অতিরিক্ত কোনো তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কেবল সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব।খ) ভৌগোলিক উৎসসমূহআমরা ঐতিহাসিক উৎসসমূহ আলোচনার সময় অসংখ্য লেখক ও গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছি, তাই আমরা এখানে পুনরায় সেদিকে ফিরে যাব না। ইব্রাহিম ওয়াসিফ শাহ এবং আল-মাসউদির 'মুরুজ'-এর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আল-বাকরি অন্তত একবার আল-মাসউদির আরেকটি গ্রন্থ 'আত-তানবিহ ওয়াল-ইশরাফ'-এর উল্লেখ করেছেন (অনুচ্ছেদ ৩৪২)।আল-বাকরি আরও কিছু লেখকের ওপর নির্ভর করেছেন যাঁদের নাম আমরা আগে উল্লেখ করেছি; মক্কার বর্ণনা এবং এর আশপাশের অঞ্চল সংক্রান্ত অংশের জন্য আল-আযরাকি এবং মদিনার জন্য ইবনে যাবালা। উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুসের ভূগোলের ক্ষেত্রে আমরা আবারও আবু ইউসুফ আল-ওয়াররাক এবং আর-রাযিকে দেখতে পাই।পূর্বে উপস্থাপিত এই লেখকদের পাশাপাশি আল-বাকরি আক্ষরিক অর্থেই ভূগোলবিদদের থেকে তাঁর তথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে শুরুতে ইবনে রুস্তাহ এবং তাঁর গ্রন্থ 'আল-আ'লাক আন-নাফিসা'-এর কথা উল্লেখ করা উচিত, যা নিঃসন্দেহে পথঘাট সম্পর্কিত আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, বিশেষ করে এর প্রথম অংশে। উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে সাধারণত একে 'দ' «২» বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়, যা বেশ আশ্চর্যজনক; এমনকি এর প্রথম প্রকাশক কুলসেন তাঁর নাম 'ইবনে দাস্তাহ' «৩» হিসেবে পড়েছিলেন। আমরা তাঁর কাছে সেই সব অধ্যায়ের জন্য ঋণী যেগুলো ভূমি, নদ-নদী, সমুদ্র, জাহেলি যুগে মক্কা ও মদিনার সম্মানিত গৃহসমূহ এবং ইরানশাহর-এর বিভিন্ন অঞ্চল সংক্রান্ত। সেইসাথে ভারতের কিছু অঞ্চলের বর্ণনা এবং ইউরোপীয় জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কিত অনুচ্ছেদসমূহ, যেমন কনস্টান্টিনোপল ও রোমের বর্ণনা এবং স্লাভ ও বুলগারদের সম্পর্কে মন্তব্যও এতে অন্তর্ভুক্ত। সামগ্রিকভাবে প্রায় ৬০টি অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে এই লেখকের রচনার অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২২)
ونجد من بين الجغرافيين الكلاسيكيين ابن خرداذبه وقد ذكر البكري كتابه المسالك والممالك عديد المرات «1» لكن بعض الاشارات تبين انه لا يقتبس منه مباشرة ولكن من خلال ابن رستة.ويعتمد البكري على الاصطخري وابن حوقل في بعض التفاصيل المتعلّقة بالسند وكرمان وخراسان «2» ويحيل مرات عديدة على شخص اسمه الجيهاني (فقرات 190- 363- 368 … ) ونحن نعرف ان جغرافيا- يحمل هذا الاسم- قد ألف في القرن الرابع هـ/ العاشر م كتاب المسالك والممالك لا نعلم عنه الا بعض الاستشهادات حفظها مؤلفون متأخرون عنه «3» ويسمى هذا الجغرافي عادة: أبو عبد الله محمد بن أحمد بينما يذكره البكري مرّة (الفقرة 190) في شيء من الدقّة فيسميه أبا نصر سعيد بن غالب الجيهاني. وعلى كلّ فإن بعض الاستشهادات توجد عند ابن رسته ولنترك جانبا مشكل العلاقة بين ابن رستة وابن خرداذبة والجيهاني «4» ولنتساءل هل أن البكري رجع مباشرة الى المصدر أم اقتبس من خلال كتاب آخر وهذه بعض معطيات تسمح باجابة أولية: يذكر البكري الجيهاني على الأقل مرّة واحدة من خلال مصدر آخر يسميه أحمد «5» فمن المقصود؟ نعلم أن ابن رستة اسمه أحمد ولكن البكري لا يسميه بهذا الاسم قط في المواضع الأخرى فمن المستبعد اذن أن يكون صاحب الاعلاق النفيسة. ويعرف البكري حقّ المعرفة شخصا آخر اسمه أحمد هو العذري شيخه بالمرية فهل من المجازفة أن نفترض أن البكري قد تعرف على الجيهاني من خلال تأليف شيخه الذي يسمى هو أيضا المسالك والممالك؟ومن المرجح أيضا أن حكاية ابراهيم بن يعقوب التي يذكرها البكري مستمدة من تآليف العذري ومن غير المستبعد أن تكون الكثير من المعلومات التي يوردها، بدون ذكر مصدر، مستمدة من نفس الأصل فيكون العذري بهذه الصورة من
আমরা ধ্রুপদী ভূগোলবিদদের মধ্যে ইবনে খুরদাদবিহকে পাই এবং আল-বাকরি তাঁর আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক গ্রন্থটি বহুবার উল্লেখ করেছেন «১», তবে কিছু ইঙ্গিত থেকে প্রতীয়মান হয় যে তিনি এটি থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি গ্রহণ করেননি বরং ইবনে রুস্তার মাধ্যমে করেছেন।আল-বাকরি সিন্ধ, কারমান এবং খুরাসান সংক্রান্ত কিছু বিবরণে আল-ইসতাখরি এবং ইবনে হাওকালের ওপর নির্ভর করেন «২» এবং তিনি আল-জয়হানি নামক এক ব্যক্তির বরাত বহুবার দেন (অনুচ্ছেদ ১৯০- ৩৬৩- ৩৬৮ … )। আমরা জানি যে এই নামের একজন ভূগোলবিদ চতুর্থ হিজরি/দশম খ্রিস্টীয় শতাব্দীতে আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন, যার সম্পর্কে আমরা কেবল পরবর্তী লেখকদের দ্বারা সংরক্ষিত কিছু উদ্ধৃতি ছাড়া আর কিছুই জানি না «৩»। এই ভূগোলবিদকে সাধারণত আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ নামে ডাকা হয়, তবে আল-বাকরি একবার (অনুচ্ছেদ ১৯০) কিছুটা সুনির্দিষ্টভাবে তাকে আবু নাসর সাঈদ বিন গালিব আল-জয়হানি নামে উল্লেখ করেছেন। যাই হোক, কিছু উদ্ধৃতি ইবনে রুস্তার কাছে পাওয়া যায়; তবে ইবনে রুস্তা, ইবনে খুরদাদবিহ এবং আল-জয়হানির মধ্যকার সম্পর্কের সমস্যাটি একপাশে রাখা যাক «৪»। আমরা বরং প্রশ্ন করি যে, আল-বাকরি কি সরাসরি মূল উৎসের দিকে ফিরে গিয়েছিলেন নাকি অন্য কোনো গ্রন্থের মাধ্যমে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন? এখানে কিছু তথ্য রয়েছে যা একটি প্রাথমিক উত্তরের সুযোগ দেয়: আল-বাকরি অন্তত একবার অন্য একটি উৎসের মাধ্যমে আল-জয়হানিকে উল্লেখ করেছেন যাকে তিনি আহমদ নামে ডাকেন «৫»। তবে এই আহমদ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? আমরা জানি যে ইবনে রুস্তার নাম আহমদ, কিন্তু আল-বাকরি অন্য কোনো স্থানে তাকে এই নামে ডাকেননি, তাই এটি অসম্ভাব্য যে তিনি আল-আ'লাক আন-নাফিসা গ্রন্থের লেখক হবেন। আল-বাকরি আহমদ নামক অন্য এক ব্যক্তিকে খুব ভালো করেই চেনেন, তিনি হলেন আল-উদরি, যিনি আল-মেরিয়ায় তাঁর উস্তাদ ছিলেন। তবে কি এটা ধরে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে যে আল-বাকরি তাঁর উস্তাদের রচনার মাধ্যমেই আল-জয়হানির সাথে পরিচিত হয়েছিলেন, যার গ্রন্থের নামও ছিল আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক?এছাড়াও এটি প্রবলভাবে ধারণা করা হয় যে, আল-বাকরি ইব্রাহিম বিন ইয়াকুবের যে কাহিনী বর্ণনা করেছেন তা আল-উদরির রচনা থেকে সংগৃহীত এবং এটাও অসম্ভব নয় যে, তিনি কোনো উৎস উল্লেখ না করে যেসব তথ্য প্রদান করেছেন তার অনেকগুলোই একই উৎস থেকে প্রাপ্ত। ফলে আল-উদরি এই রূপে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مصادر كتاب المسالك الأساسية خاصة فيما يتعلق بأوروبا (مجدونية وطشالية وطراقية الخ..) والبحر الأبيض المتوسط ورومة …وفي الختام يبدو لنا أنه توجد آثار كتاب البلدان لليعقوبي (مثلا في جزء كبير من الأخبار المتعلقة ببغداد) وبعض الاستشهادات من ابن الفقيه ومن كتاب الأمصار للجاحظ ولئن لم تكن هذه اللمحة عن مصادر البكري شاملة فانها تقدم لنا فكرة عن تنوع المادة التي تمكن من جمعها لتأليف كتابه الرئيسي هذا.المخطوطاتإن عدد مخطوطات المسالك المعروفة إلى يومنا هذا عشرة وهي موزعة في مكتبات مختلفة بالمشرق والمغرب ولا يوجد أي مخطوط بخط المؤلف أو يرجع إلى نسخته بالاضافة إلى أن جلّ هذه المخطوطات مبتوره سواء من البداية أو النهاية مما يجعل تأريخها عسيرا. على أننا نعلم أن إحداها متأخرة نسخت في القرن التاسع عشر وان اثنتين مؤرختين وهما مخطوطتا استنبول. ولا تقدم لنا أية مخطوطة من هذه المخطوطات النص كاملا فهي مقتطفات تختلف طولا وقصرا وتتكامل جزئيا ولكنها إذا ما رتبت لا توفر النص كاملا ولزيادة الايضاح فاننا نقدم في أواخر هذه المقدمة جدولا مختزلا يسمح بالتعرف على مادة كل مخطوط وترتيبها وتبين ما تشترك فيه بعض المخطوطات ولقد استعملنا كل هذه المخطوطات لاعداد هذا التحقيق وهذه قائمتها:1) ل: مخطوط مكتبة الآلي باستنبول رقم 2144 2) ن: مخطوط مكتبة نور عثمانية باستنبول رقم 3034 3) ب: مخطوط المكتبة الوطنية بباريس رقم 5905 4) م: مخطوط مكتبة الأكاديمية الملكية بمدريد مجموعة قاينقوس رقم 13 5) ق: مخطوط مكتبة القرويين بفاس رقم ل 390/80 6) ر: مخطوط المكتبة الوطنية بالرباط رقم ق 488 7) س: مخطوط المكتبة الوطنية بباريس رقم 2218 8) ص: مخطوط المتحف البريطاني بلندن رقم 9577.9) ط: مخطوط مكتبة الاسكوريال مدريد رقم 1625 10) ج: مخطوط المكتبة الوطنية بالجزائر رقم 1548
'আল-মাসালিক' গ্রন্থের মূল উৎসসমূহ, বিশেষ করে ইউরোপ (ম্যাসেডোনিয়া, থেসালি এবং থ্রেস ইত্যাদি), ভূমধ্যসাগর এবং রোম সংক্রান্ত বিষয়াদি …পরিশেষে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এখানে ইয়াকুবির 'কিতাবুল বুলদান'-এর প্রভাব রয়েছে (উদাহরণস্বরূপ বাগদাদ সংক্রান্ত সংবাদের একটি বড় অংশে) এবং ইবনুল ফাকিহ ও জাহিজের 'কিতাবুল আমসার' থেকে কিছু উদ্ধৃতি রয়েছে। যদিও আল-বাকরীর উৎসসমূহ সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি পূর্ণাঙ্গ নয়, তবুও এটি তার এই প্রধান গ্রন্থটি রচনার জন্য তিনি যে বৈচিত্র্যময় উপাদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা প্রদান করে।পাণ্ডুলিপিসমূহআজ পর্যন্ত পরিচিত 'আল-মাসালিক'-এর পাণ্ডুলিপির সংখ্যা দশটি এবং সেগুলো প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন পাঠাগারে ছড়িয়ে আছে। লেখকের স্বহস্তে লিখিত কোনো পাণ্ডুলিপি নেই অথবা তার মূল কপির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত কোনো পাণ্ডুলিপিও পাওয়া যায় না। অধিকন্তু, এই পাণ্ডুলিপিগুলোর অধিকাংশেরই শুরু অথবা শেষ অংশ অসম্পূর্ণ, যার ফলে সেগুলোর সময়কাল নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আমরা জানি যে, এগুলোর মধ্যে একটি পরবর্তী সময়ের, যা উনবিংশ শতাব্দীতে অনুলিপি করা হয়েছিল এবং দুটির তারিখ উল্লেখ আছে যা ইস্তাম্বুলের পাণ্ডুলিপিদ্বয়। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর কোনটিই আমাদের সামনে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য তুলে ধরে না; বরং সেগুলো সংক্ষিপ্ত বা দীর্ঘ উদ্ধৃতি মাত্র এবং আংশিকভাবে একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু সেগুলোকে বিন্যস্ত করলেও তা পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য প্রদান করে না। আরও স্পষ্ট করার জন্য, আমরা এই ভূমিকার শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সারণী প্রদান করছি যা প্রতিটি পাণ্ডুলিপির বিষয়বস্তু ও বিন্যাস জানতে এবং কিছু পাণ্ডুলিপির মধ্যে সাধারণ মিলগুলো বুঝতে সাহায্য করবে। এই সম্পাদনাটি প্রস্তুত করার জন্য আমরা এই সমস্ত পাণ্ডুলিপি ব্যবহার করেছি এবং নিচে সেগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:১) ল: ইস্তাম্বুলের আল-আলী লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর ২১৪৪ ২) ন: ইস্তাম্বুলের নূর উসমানিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর ৩০৩৪ ৩) ব: প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর ৫৯০৫ ৪) ম: মাদ্রিদের রয়্যাল একাডেমি লাইব্রেরির গায়াংগোস সংগ্রহ নম্বর ১৩ ৫) ক: ফেজের আল-কারাওয়াইন লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর এল ৩৯০/৮০ ৬) র: রাবাতের ন্যাশনাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর কা ৪৮৮ ৭) স: প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর ২২১৮ ৮) স্ব: লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পাণ্ডুলিপি নম্বর ৯৫৭৭।৯) ত: মাদ্রিদের এস্কোরিয়াল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর ১৬২৫ ১০) জ: আলজেরিয়ার ন্যাশনাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নম্বর ১৫৪৮
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
1) المخطوط: ل:مقاس كبير 125 ورقة أوراقه مرقمة من 1 إلى 77 والترقيم بنفس خط المخطوط، 31 سطرا بكل صفحة وبكل سطر معدل 15 كلمة: ليس فيه احالات بأسفل الصفحات، جاء بورقته الأولى:«كتاب الممالك والمسالك تأليف الشيخ الامام العالم المحقق أبي عبيد عبد الله بن عبد العزيز البكري القرطبي، أثابه الله الجنة ورضي عنه برسم الخزانة العالية … بسم الله الرحمن الرحيم وما توفيقي الا [به] عليه توكلت» وجاء في آخره: «كمل بحمد الله وعونه ولطفه ومنّه وجوده على يد يوسف بن عبد الله بن يوسف ابن محمد بن احمد بن عبد الله بن محمد العمري السعدي نسبا الشافعي مذهبا في يوم الأحد 21 رجب سنة 737.»والخط دقيق واضح وحالة النص طيبة في الجملة وهي أحسن من المخطوط الموالي الذي يرجح انه نسخ عنه.2) المخطوط: نمقاس كبير، مرقم من 1 إلى 246 بنفس خط النص، بكلّ صفحة 15 سطرا ومعدل كلمات كل سطر 9 ليس به احالات بالأسفل والصفحة الأولى مزركشة باطار فيه عنوان الكتاب واسم المؤلف ويبدأ الكتاب بدون أي تقديم بقوله: القول في مدة عمارة الأرض.وجاء بآخره:«كمل بحمد الله وعونه ولطفه ومنّه وفضله وتوفيقه وحوله وتوتده وكرمه وحسن توفيقه وذلك يوم السبت المبارك الحادي والعشرين من شهر شعبان المكرم من شهور سنة 851، أحسن الله عاقبتها، محمد وآله وصحبه وسلم، وصلاة الله وسلامه الأتمان والأكملان على سيدنا محمد وآله» .والخط مشرقي مثل السابق متسع وسهل القراءة وجل النص مشكول وحالته طيبة ما عدا الاعلام (والملاحظة صالحة لكل المخطوطات تقريبا) وكلّ القرائن تدل
১) পাণ্ডুলিপি: ল (লাম):বড় আকারের ১২৫ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট, এর পৃষ্ঠাগুলো ১ থেকে ৭৭ পর্যন্ত সংখ্যায়িত এবং এই সংখ্যায়ন পাণ্ডুলিপির মূল লিপিকারের হস্তাক্ষরেই করা। প্রতি পৃষ্ঠায় ৩১টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১৫টি শব্দ রয়েছে। পৃষ্ঠার নিচের অংশে কোনো টীকা বা উদ্ধৃতি নেই। এর প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে:“কিতাবুল মামালিক ওয়াল মাসালিক; গ্রন্থনায়: শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলেম ও গবেষক আবু উবায়েদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-বাকরি আল-কুরতুবি, আল্লাহ তাকে জান্নাত দ্বারা পুরস্কৃত করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এটি মহামান্য রাজকীয় গ্রন্থাগারের সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতকৃত ... পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমার তাওফিক তো কেবল [তাঁর] সাহায্যেই সম্ভব, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি।” এবং এর শেষে এসেছে: “আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য, অনুকম্পা, কৃপা ও বদান্যতায় এটি সমাপ্ত হয়েছে ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-উমারি আল-সাদি (বংশসূত্রে) আল-শাফেয়ি (মাযহাবগতভাবে)-এর হাতে, রবিবার ২১শে রজব, ৭৩৭ হিজরি সনে।”হস্তাক্ষরটি সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট এবং পাণ্ডুলিপির অবস্থা সামগ্রিকভাবে ভালো। এটি পরবর্তী পাণ্ডুলিপিটির তুলনায় অধিকতর উন্নত মানের, যেটির ব্যাপারে প্রবল ধারণা করা হয় যে তা এই অনুলিপি থেকেই নকল করা হয়েছে।২) পাণ্ডুলিপি: ন (নুন)বড় আকারের, মূল পাঠ্যের একই হস্তাক্ষরে ১ থেকে ২৪৬ পর্যন্ত সংখ্যায়িত। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫টি লাইন এবং প্রতি লাইনে শব্দের গড় সংখ্যা ৯টি। নিচে কোনো টীকা বা উদ্ধৃতি নেই। প্রথম পৃষ্ঠাটি একটি অলঙ্কৃত ফ্রেম দ্বারা সুশোভিত, যেখানে গ্রন্থের শিরোনাম এবং লেখকের নাম রয়েছে। বইটি কোনো প্রকার ভূমিকা ছাড়াই সরাসরি লেখকের এই উক্তি দিয়ে শুরু হয়েছে: পৃথিবী আবাদের সময়কাল সংক্রান্ত আলোচনা।এবং এর শেষে এসেছে:“আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য, লুতফ (অনুকম্পা), দান, ফজল (কৃপা), তাওফিক, শক্তি, দৃঢ়তা, মহানুভবতা এবং উত্তম তাওফিকের মাধ্যমে এটি সমাপ্ত হয়েছে। আর তা ছিল ৮৫১ হিজরি সালের সম্মানিত শাবান মাসের ২১ তারিখ বরকতময় শনিবার। আল্লাহ এর পরিণাম শুভ করুন। মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।”হস্তাক্ষরটি পূর্ববর্তীটির ন্যায় মাশরিকি রীতির, প্রশস্ত এবং পাঠোদ্ধার করা সহজ। মূল পাঠ্যের অধিকাংশ শব্দই হরকতযুক্ত এবং এর অবস্থা ভালো, শুধু নামসমূহ (ব্যক্তিনাম ও স্থাননাম) ব্যতীত (আর এই পর্যবেক্ষণটি প্রায় সকল পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য)। সমস্ত আলামত ও প্রমাণাদি একথাই নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
على ان ن: قد نسخ عن: ل: فالنص واحد تماما وبه نفس النقص ونفس الأخطاء مع بعض الثغرات الاضافية بالنسبة إلى: ن.3) المخطوط: ب:مقاس متوسط مرقم من 1 إلى 186 بكل صفحة 17 سطرا وبكل سطر معدل 12 كلمة والترقيم بنفس خط النص ولا توجد احالات والخط مشرقي من النسخي العصري سهل القراءة الّا أنّه قليل الشكل. وحالة النص سقيمة فكثير من الكلمات بل الجمل ناقصة تماما فضلا عن اخطاء الناسخ العديدة وقد نسخت هذه المخطوطة لشيفر Schefer باستنبول انطلاقا على الراجح من المخطوطتين السابقتين. ولم نعتمد على هذه المخطوطة في تحقيق النص لأنه ليس لها قيمة من الناحية النقدية ولم نشر الا لبعض الخلافات القليلة عندما تكون لها فائدة في تحقيق قراءة بعض الكلمات.وهذه المخطوطات الثلاث تغطي بالضبط نفس أقسام المسالك والفارق في عدد الصفحات بينها راجع إلى الاختلاف في المقاس والخط.4) المخطوط: ممقاس متوسط، 113 ورقة مرقمة بخط مخالف بكل صفحة 15 سطرا وبكلّ سطر معدل 10 كلمات ولا توجد احالات بأسفل الصفحات. الخط مشرقي نسخي ميسور القراءة مشكول ولكن ليس دائما بصورة صحيحة، وحالة النص طيبة وبالصفحة الأولى اشارة إلى أن المخطوط هو الجزء الثاني من المسالك ولكن جاء في آخره: «انتهى الجزء الأول» ثمّ يلي فهرس الجزء الأول. وهذا التضارب جعل البعض يفترض ان ذلك ناتج عن خطأ من الناسخ أو انه اضافة متأخرة ولكن الأمر في الحقيقة راجع فحسب إلى تسفير فاسد فالورقة 97 تبدأ بلفظي: «حتّى تفضي» : ويتطابق النص بعد ذلك مع الورقات الأخيرة من المخطوطات الثلاث السابقة وتمثل حقا نهاية الجزء الأول من المسالك وكان يجب أن يكون موضعها في البداية.
'ন' পাণ্ডুলিপিটি 'ল' পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে: ফলে মূল পাঠটি হুবহু এক এবং এতে একই ধরনের অপূর্ণতা ও ভুল রয়েছে, সাথে 'ন' পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত ত্রুটিও বিদ্যমান।৩) পাণ্ডুলিপি: ব:মাঝারি আকারের, ১ থেকে ১৮৬ পর্যন্ত সংখ্যায়িত, প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৭টি লাইন এবং প্রতিটি লাইনে গড়ে ১২টি শব্দ রয়েছে। সংখ্যায়ন মূল পাঠের একই লিপিতে করা এবং কোনো পার্শ্বটীকা নেই। লিপিটি আধুনিক নসখরীতির মাশরিকি লিপি যা পড়া সহজ, তবে এতে হরকত বা স্বরচিহ্ন খুব কম। মূল পাঠের অবস্থা দুর্বল; অনুলিপিকারীর অসংখ্য ভুল ছাড়াও অনেক শব্দ এমনকি বাক্য সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এই পাণ্ডুলিপিটি ইস্তাম্বুলে শেফার (Schefer)-এর জন্য অনুলিপি করা হয়েছিল, যা সম্ভবত পূর্বোক্ত দুটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে তৈরি। মূল পাঠ সম্পাদনায় আমরা এই পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করিনি কারণ পাঠ-সমালোচনার দৃষ্টিতে এর কোনো মূল্য নেই। কিছু শব্দের পাঠোদ্ধারে উপকারী মনে হলে আমরা কেবল সামান্য কিছু পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি।এই তিনটি পাণ্ডুলিপি 'আল-মাসালিক'-এর ঠিক একই অংশগুলোকে ধারণ করে এবং এদের মধ্যে পৃষ্ঠাসংখ্যার পার্থক্য মূলত আকার ও লিপির ভিন্নতার কারণে।৪) পাণ্ডুলিপি: মমাঝারি আকারের, ১১৩টি পত্র ভিন্ন হস্তাক্ষরে সংখ্যায়িত, প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৫টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১০টি শব্দ রয়েছে। পৃষ্ঠার নিচে কোনো পার্শ্বটীকা নেই। লিপিটি মাশরিকি নসখ যা পড়া সহজ এবং স্বরচিহ্নযুক্ত, তবে সর্বদা তা সঠিক নয়। মূল পাঠের অবস্থা ভালো এবং প্রথম পৃষ্ঠায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে পাণ্ডুলিপিটি 'আল-মাসালিক'-এর দ্বিতীয় খণ্ড, কিন্তু এর শেষে এসেছে: "প্রথম খণ্ড সমাপ্ত," এরপর প্রথম খণ্ডের সূচিপত্র রয়েছে। এই বৈপরীত্যের কারণে কেউ কেউ ধারণা করেছেন যে এটি অনুলিপিকারীর ভুলের ফল অথবা এটি পরবর্তীতে সংযোজিত হয়েছে। তবে প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি কেবল ত্রুটিপূর্ণ বাঁধাইয়ের কারণে হয়েছে। ৯৭ নম্বর পৃষ্ঠাটি "যতক্ষণ না পৌঁছায়" শব্দদ্বয় দিয়ে শুরু হয়েছে: এরপরের পাঠটি পূর্ববর্তী তিনটি পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠাগুলোর সাথে মিলে যায় এবং এটি প্রকৃতপক্ষে 'আল-মাসালিক'-এর প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি নির্দেশ করে, যা মূলত শুরুতে থাকার কথা ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
5) المخطوط: ق:مقاس صغير، 131 ورقة مرقمة بخط مخالف بكل صفحة 17 سطرا وبكل سطر معدل 10 كلمات. لا توجد احالات، الخط مغربي واضح لكنه عسير القراءة. انه المخطوط الوحيد الذي نجد به صورة: انه تخطيط مسجد بيت المقدس، ويجب أن نلاحظ أيضا أنه المخطوط الوحيد الذي به النص المقابل (وصف مسجد بيت المقدس) وبقية الفصول مضطربة (انظر الجدول الاختزالي) حتّى لكأنها مجموعة قطع ضمت إلى بعضها بدون ترتيب يذكر.6) المخطوط: ر:مقاس متوسط، 165 ورقة صفحاتها مرقمة من 1 إلى 330 بنفس الخط بكل صفحة 25 سطرا وبكل سطر معدل 13 كلمة وفي أسفل كل ورقة احالة. الخط مغربي قليل الشكل لكنه واضح سهل القراءة وحالة النصّ طيبة في الغالب.7) المخطوط: س:مقاس متوسط، ترقيم الصفحات من 1 إلى 256 بخط مخالف وأرقام عربية حديثة بكل صفحة 21 سطرا وبكل سطر معدل 11 كلمة وبالورقات احالات.الخط مشرقي نسخي قديم تقلّ فيه الحركات وتعوزه في بعض الأحيان النقط مما يجعل القراءة- وخاصة قراءة الاعلام- عسيرة بل مستحيلة. في بعض الأحيان سقطت من هذا المخطوط الكثير من الأوراق الداخلية. ومن الملاحظ أن هذا المخطوط هو الوحيد الذي يقدم عنوانا يختلف بعض الشيء عن الأخرى فيسمى الكتاب: «كتاب أخبار الزمان في الممالك والمسالك» ، ويرجح أن هذا التحريف قد تسرب من التفكير في كتاب المسعودي المفقود الآن: «أخبار الزمان» . وهذا المخطوط هو الذي حلّله كاترمار Quatremere وكان أول من نسبه إلى البكري.8) المخطوط: ص:مقاس متوسط أوراقه مرقمة من 1 إلى 119 (مع نفس الملاحظة التي ذكرت بالنسبة إلى المخطوط السابق) بكلّ صفحة 19 سطرا وبكلّ سطر معدل 11 كلمة وبالنص إحالات، والخط مغربي سهل القراءة، الحركات قليلة فالكثير من الأعلام
৫) পাণ্ডুলিপি: ক্বাফ:ছোট আকৃতি, ভিন্ন হস্তাক্ষরে সংখ্যায়িত ১৩১টি পত্র, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৭টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১০টি শব্দ। কোনো নির্দেশিকা নেই, মাগরিবি লিপিটি স্পষ্ট হলেও পাঠ করা কঠিন। এটিই একমাত্র পাণ্ডুলিপি যাতে একটি চিত্র পাওয়া যায়: এটি হলো বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের নকশা। আরও লক্ষ্য করা উচিত যে, এটিই একমাত্র পাণ্ডুলিপি যাতে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যটি (বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের বর্ণনা) বিদ্যমান এবং বাকি অধ্যায়গুলো বিশৃঙ্খল (সংক্ষিপ্ত সারণী দেখুন), এমনকি সেগুলো যেন কোনো উল্লেখযোগ্য ক্রম ছাড়াই একত্রিত করা কতগুলো খণ্ডাংশের সমষ্টি।৬) পাণ্ডুলিপি: রা:মাঝারি আকৃতি, ১৬৫টি পত্র যার পৃষ্ঠাগুলো একই হস্তাক্ষরে ১ থেকে ৩৩০ পর্যন্ত সংখ্যায়িত, প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১৩টি শব্দ এবং প্রতিটি পত্রের নিচে নির্দেশিকা রয়েছে। মাগরিবি লিপি, স্বরচিহ্ন (হরকত) কম হলেও স্পষ্ট ও পাঠ করা সহজ এবং পাঠ্যের অবস্থা সাধারণত ভালো।৭) পাণ্ডুলিপি: সিন:মাঝারি আকৃতি, ভিন্ন হস্তাক্ষরে এবং আধুনিক আরবি সংখ্যায় ১ থেকে ২৫৬ পর্যন্ত পৃষ্ঠা সংখ্যায়িত, প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১১টি শব্দ এবং পত্রগুলোতে নির্দেশিকা রয়েছে।লিপিটি প্রাচীন মাশরিকি নাসখ যাতে স্বরচিহ্নের স্বল্পতা রয়েছে এবং কখনও কখনও নুকতারও (বিন্দু) অভাব দেখা যায়, যা পাঠ করা—বিশেষ করে নামসমূহ পাঠ করা—কঠিন এমনকি অসম্ভব করে তোলে। কোনো কোনো সময় এই পাণ্ডুলিপি থেকে অনেক অভ্যন্তরীণ পত্র হারিয়ে গেছে। এটি লক্ষ্যণীয় যে, এই পাণ্ডুলিপিটিই একমাত্র যা অন্যদের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন শিরোনাম প্রদান করে, বইটির নাম দেওয়া হয়েছে: «কিতাব আখবারুজ জামান ফিল মামালিক ওয়াল মাসালিক», এবং ধারণা করা হয় যে, এই বিকৃতিটি আল-মাসউদির বর্তমানে বিলুপ্ত বই: «আখবারুজ জামান» এর কথা চিন্তা করার ফলে অনুপ্রবেশ করেছে। এটিই সেই পাণ্ডুলিপি যা কোয়াত্রেমের (Quatremere) বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এটি আল-বকরির রচনা বলে চিহ্নিত করেছিলেন।৮) পাণ্ডুলিপি: সাদ:মাঝারি আকৃতি, এর পত্রগুলো ১ থেকে ১১৯ পর্যন্ত সংখ্যায়িত (পূর্ববর্তী পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে উল্লিখিত একই মন্তব্যসহ), প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১১টি শব্দ এবং পাঠ্যে নির্দেশিকা রয়েছে। মাগরিবি লিপিটি পাঠ করা সহজ, স্বরচিহ্ন কম, ফলে অনেক নাম...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مشكولة وان كانت بصورة خاطئة في بعض الأحيان وحالة النص طيبة بالنسبة إلى القسم المتعلّق بشمال افريقيا والراجح انه أحسن النسخ في هذا المجال وكان دي سلان Slane De قد اعتمده في القسم الذي نشره وترجمه (انظر المرجع عدد 64) وتنقص المخطوط ورقة واحدة.9) المخطوط: ط:مقاس كبير، يتكوّن المخطوط من 110 ورقات مرقمة بصورة لا تخلو من اعتباطية. ليس في الورقات احالات، بكلّ ورقة 19 سطرا وبكل سطر معدل 10 كلمات والخط أندلسي جميل جدّا، واضح سهل القراءة نسبيا. تضررت بعض الأوراق- خاصة الأولى- من الرطوبة وانفسخت الكتابة تقريبا من الزوايا العليا ولئن قدم لنا النص بعض القراءات الجيدة فمن المؤسف أن النساخ قد وقعوا في بعض السهو. اضطرب ترتيب كثير من الأوراق.10) المخطوط: ج:مقاسه 182/139 مم، صفحاته مرقمة من 1 إلى 235 ومن العسير الجزم بأنه نفس الخط لا وجود لاحالات وتتراوح الأسطر بين 20 و 23 في الصفحة ومعدل الكلمات بالسطر الواحد: 9. والخط مغربي غير معتنى به وعسير القراءة ويبدو أنه قد تداول عليه عديد النساخ ويذهب دي سلان Slane -De بدون أن يقدم أي دليل- إلى أن المخطوط قد نسخ بالقيروان وعلى كلّ فواضح أنه متين الصلة بالمخطوط رقم 8 إذ بهما نفس القراءات ونفس النقص ونفس الأخطاء الرسمية على ان حالة المخطوط رقم 10 هي أكثر تدهورا من حالة المخطوط رقم 8 وقد يكون نسخة منه أو نسخا معا عن أصل واحد، وتنقص من داخل المخطوط عديد الورقات.
এটি হরকতযুক্ত, যদিও কখনো কখনো ভুলভাবে দেওয়া হয়েছে। উত্তর আফ্রিকা সংশ্লিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিটির অবস্থা বেশ ভালো এবং প্রবল ধারণা অনুযায়ী এই ক্ষেত্রে এটিই সর্বোত্তম অনুলিপি। ডি স্লেন (Slane De) তার প্রকাশিত এবং অনূদিত অংশে এটিই ব্যবহার করেছিলেন (দেখুন সূত্র নম্বর ৬৪)। এই পাণ্ডুলিপিতে একটি পৃষ্ঠা কম রয়েছে।৯) পাণ্ডুলিপি: ত্ব:বড় আকারের, পাণ্ডুলিপিটি ১১০টি পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত যা কিছুটা বিশৃঙ্খলভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে। পৃষ্ঠাগুলোতে কোনো রেফারেন্স বা উদ্ধৃতি নেই, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৯টি লাইন এবং প্রতি লাইনে গড়ে ১০টি শব্দ রয়েছে। লিপিটি অত্যন্ত সুন্দর আন্দালুসি রীতির, যা স্পষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে পড়া সহজ। কিছু পৃষ্ঠা—বিশেষ করে প্রথম দিকের পৃষ্ঠাগুলো—আর্দ্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উপরের কোণগুলোর লেখা প্রায় মুছে গেছে। যদিও এই পাঠ্যটি আমাদের কিছু ভালো পাঠ প্রদান করে, তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, অনুলিপিকারকগণ কিছু ভুল করে ফেলেছেন। অনেক পৃষ্ঠার ক্রম এলোমেলো হয়ে গেছে।১০) পাণ্ডুলিপি: জিম:এর আকার ১৮২/১৩৯ মিলিমিটার, এর পৃষ্ঠাগুলোতে ১ থেকে ২৩৫ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া আছে এবং এটি একই হাতের লেখা কি না তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এতে কোনো রেফারেন্স নেই এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা ২০ থেকে ২৩ এর মধ্যে এবং প্রতি লাইনে গড়ে ৯টি শব্দ রয়েছে। লিপিটি মাগরিবি রীতির, যা অযত্নে লেখা এবং পড়া বেশ কষ্টসাধ্য। মনে হয় এটি অনেক অনুলিপিকারকের হাত বদল হয়েছে। ডি স্লেন (Slane De)—কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই—মনে করেন যে পাণ্ডুলিপিটি কাইরুয়ানে অনুলিপি করা হয়েছিল। যাই হোক, এটি স্পষ্ট যে ৮ নম্বর পাণ্ডুলিপির সাথে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে, কারণ দুটিতেই একই পাঠ, একই অসম্পূর্ণতা এবং বর্ণবিন্যাসে একই ভুল রয়েছে। তবে ১০ নম্বর পাণ্ডুলিপির অবস্থা ৮ নম্বর পাণ্ডুলিপির চেয়ে বেশি জীর্ণ। এটি হয়তো ৮ নম্বর থেকে অনুলিপি করা হয়েছে অথবা উভয়ই কোনো একটি মূল কপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটির ভেতর থেকে অনেকগুলো পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
استعمال نص المسالك والنقل عنه1) مقتطفات نقلها كتاب قدامىنقتصر هنا على تقديم عينات من الكتاب الذين نقلوا عن المسالك ولا نعطي قائمة شاملة لهم ونعتني خاصة بالتآليف التي مكنتنا من إصلاح أو إتمام نص مخطوطاتنا السقيم.- لنذكر في البداية كتاب الاستبصار وهو تأليف من القرن السادس هـ/ 12 م «1» مجهول الكاتب مقتبس في غالبه من البكري «2» وهذا النص نشره بالقاهرة سعد زغلول وترجم فانيان «3» fagan إلى الفرنسية القسم المتعلق بشمال افريقيا سنة 1899.- وفي: مسالك الأبصار في ممالك الأمصار: للعمري الذي نشر جزءه الأول أحمد زكي بالقاهرة سنة 1924 استشهادات عديدة من البكري مقتبسة خاصة من القسم المتعلق بالأرضين والأقاليم: والنشرة الكاملة للقسم الجغرافي، المعلن على وشك صدورها ببيروت ستسمح بالتثبت في مدى استعمال العمري لسابقه.- نجد غالبا فصل البكري المتعلق بالمرابطين في كتاب البيان المغرب في أخبار الأندلس والمغرب لابن عذارى المراكشي.- نجد استشهادات أخرى أقل أهمية في آثار البلاد للقزويني ونخبة الدهر في عجائب البر والبحر للدمشقي والفهارس الملحقة بهذين الكتابين تسمح بالعثور بسرعة على الفقرات المنقولة.- وفي كتاب: معجم ما استعجم، الأثر الجغرافي الآخر للبكري مقتطفات من وصف الجزيرة العربية الموجودة بالمسالك إلا أننا لا نعرف أيهما الأصل لأن تاريخ تأليفهما مجهول ولكن نميل إلى اعتبار المعجم أقدم.
আল-মাসালিক গ্রন্থের পাঠের ব্যবহার এবং তা থেকে উদ্ধৃতি১) প্রাচীন লেখকদের দ্বারা সংগৃহীত উদ্ধৃতাংশআমরা এখানে সেই সকল লেখকদের থেকে নমুনা উপস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যারা 'আল-মাসালিক' থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তবে আমরা তাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিচ্ছি না। আমরা বিশেষ করে সেই সব রচনার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করছি যা আমাদের পাণ্ডুলিপির ত্রুটিপূর্ণ পাঠ সংস্কার বা পূর্ণাঙ্গ করতে সহায়তা করেছে।- শুরুতে কিতাবুল ইসতিবসার-এর কথা উল্লেখ করা যাক। এটি ষষ্ঠ হিজরি/দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দ (১) সময়ের একটি রচনা, যার লেখক অজ্ঞাত। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আল-বাকরি (২) থেকে সংগৃহীত। কায়রোতে সাদ যাগলুল এই পাঠটি প্রকাশ করেছেন এবং ফাগান (৩) ১৮৯৯ সালে এর উত্তর আফ্রিকা সংক্রান্ত অংশটি ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেছেন।- এবং আল-উমারি রচিত 'মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার' গ্রন্থে, যার প্রথম খণ্ড ১৯২৪ সালে কায়রোতে আহমদ জাকি প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে আল-বাকরি থেকে অসংখ্য উদ্ধৃতি রয়েছে। এগুলো বিশেষ করে দেশ ও অঞ্চল সংক্রান্ত বিভাগ থেকে নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক অংশের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ, যা বৈরুত থেকে শীঘ্রই প্রকাশিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করতে সাহায্য করবে যে আল-উমারি তার পূর্বসূরিকে ঠিক কতটা ব্যবহার করেছেন।- আমরা প্রায়শই ইবন উযারি আল-মাররাকুশি রচিত 'আল-বায়ানুল মুগরিব ফি আখবারিল আন্দালুস ওয়াল মাগরিব' গ্রন্থে মুরাবিতুন রাজবংশ সম্পর্কিত আল-বাকরির অধ্যায়টি খুঁজে পাই।- আল-কাযউইনির 'আসারুল বিলাদ' এবং আদ-দিমাশকির 'নুখবাতুদ দাহর ফি আজাইবুল বাররি ওয়াল বাহর' গ্রন্থে আমরা আরও কিছু তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধৃতি পাই। এই দুই গ্রন্থের সাথে সংযুক্ত সূচিপত্রগুলো উদ্ধৃত অনুচ্ছেদগুলো দ্রুত খুঁজে পেতে সহায়ক।- আল-বাকরির অন্য এক ভৌগোলিক কাজ 'মু'জাম মা ইসতা'জাম' গ্রন্থে 'আল-মাসালিক'-এ বিদ্যমান আরব উপদ্বীপের বর্ণনার উদ্ধৃতাংশ পাওয়া যায়। তবে আমাদের জানা নেই যে এর মধ্যে কোনটি মূল উৎস, কারণ উভয়ের রচনার তারিখ অজ্ঞাত; তবে আমরা 'মু'জাম' গ্রন্থটিকে প্রাচীনতর বিবেচনা করার দিকেই ঝুঁকে আছি।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
- ان بعض الاستشهادات الأخرى ليست مقتبسة من البكري ولكنها مأخوذة من نفس مصادره ولقد أشرنا من قبل إلى السمهودي ومحي الدين ويمكن أن نضيف صبح الأعشى للقلقشندي وخطط المقريزي اللذين يعتمدان كتاب ابراهيم وصيف شاه وسمحت النصوص المستشهد بها باصلاح نص البكري في بعض الأحيان.- الروض المعطار في أخبار الأقطار للحميري: من المفيد أن نتوقف أكثر عند هذا القاموس الجغرافي الذي يعتبر من أواخر ما وصلنا من المؤلفات في هذا الفن ولن نتحدّث هنا عن المؤلف نفسه ولا عن المشاكل التي أثارتها شخصيته وكتابه «1» ونودّ أن نشير إلى علاقة الروض بالمسالك. لقد لاحظ لفي بروفنصال أن الكثير من المقالات المتصلة بالأندلس ترجع إلى المسالك لكن الأمر لا يتعلق في الحقيقة بالأندلس فقط فإذا ما نظرنا إلى النص كلّه فإننا نلاحظ أن جلّ المادة الجغرافية مأخوذة من البكري إذا ما استثنينا الاقتباسات المستمدة من الادريسي ومن ابن جبير.ملاحظة هامة: ان استشهادات المسالك في مخطوطات الروض المعطار تبدو في الغالب أصوب وأشمل من نص البكري المنقوص وذلك يصح بصورة خاصة في وصف بعض جزر البحر الأبيض المتوسط مثال مالطة وصقلية فعوض بعض الأسطر عند البكري نجد في الروض الصفحة وأكثر ولا نتحدث عن وصف صردينية الغائب تماما من المسالك. ونجد نفس الشيء في وصف بعض أجزاء أوروبا والشام (مدن دمشق- حلب- حمص- أنطاكية) وينحصر وصف الجزيرة في سطر في مخطوطاتنا بينما هو مستفيض أكثر في الروض فواضح أن الحميري كان بين يديه نص أشمل بالنسبة إلى هذه الجهات وسنوضح من بعد كيف استفدنا في تحقيقنا للنص من العلاقة الموجودة بين هذين النصين الجغرافيين.2) قطع نشرها كتاب محدثونلقد نشرت كثير من قطع المسالك في الشرق والغرب بعد أن فتح كاترمير الباب بنشر تحليل وترجمة جزئية للمخطوط رقم 7. انها في الغالب أهم القطع لأنها لم تكن معروفة من جهات أخرى.
অন্য কিছু উদ্ধৃতি সরাসরি আল-বাকরি থেকে গৃহীত নয়, বরং তাঁর ব্যবহৃত একই উৎসগুলো থেকে নেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে আস-সামহুদি এবং মুহিউদ্দিনের কথা উল্লেখ করেছি। এর সাথে আল-কালকাশান্দির 'সুবহুল আ'শা' এবং আল-মাকরিজির 'খিতাত' গ্রন্থ দুটি যুক্ত করা যেতে পারে, যা ইব্রাহিম ওয়াসিফ শাহ-এর গ্রন্থের ওপর নির্ভর করে রচিত। এই উদ্ধৃত পাঠগুলো অনেক সময় আল-বাকরির পাঠ সংশোধনে সহায়তা করেছে।- আল-হিমইয়ারির আর-রওদুল মিতার ফি আখবারিল আক্তার: এই ভৌগোলিক অভিধানটি নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা ফলপ্রসূ হবে, যা এই শাস্ত্রে আমাদের কাছে পৌঁছানো সর্বশেষ রচনাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। আমরা এখানে লেখক সম্পর্কে অথবা তাঁর ব্যক্তিত্ব ও গ্রন্থ নিয়ে উদ্ভূত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করব না। তবে আমরা 'আর-রওদ' এবং 'আল-মাসালিক'-এর মধ্যকার সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করতে চাই। লেভি প্রোভেনসাল লক্ষ্য করেছেন যে, আন্দালুস সংক্রান্ত অনেক নিবন্ধই 'আল-মাসালিক' থেকে গৃহীত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি কেবল আন্দালুসের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; আমরা যদি পুরো পাঠটি পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখতে পাই যে—আল-ইদ্রিসি এবং ইবন জুবাইর থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিগুলো বাদ দিলে—ভৌগোলিক তথ্যের সিংহভাগই আল-বাকরি থেকে সংগৃহীত।গুরুত্বপূর্ণ নোট: আর-রওদুল মিতার-এর পাণ্ডুলিপিগুলোতে আল-মাসালিক-এর উদ্ধৃতিগুলো প্রায়শই আল-বাকরির অসম্পূর্ণ পাঠের চেয়ে অধিকতর সঠিক ও ব্যাপক বলে প্রতীয়মান হয়। ভূমধ্যসাগরীয় কিছু দ্বীপের বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে সত্য, যেমন মাল্টা এবং সিসিলি। আল-বাকরির কাছে যেখানে মাত্র কয়েক লাইন পাওয়া যায়, আর-রওদ-এ সেখানে এক পৃষ্ঠা বা তারও বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া সার্ডিনিয়ার বর্ণনার কথা তো বলাই বাহুল্য, যা আল-মাসালিক থেকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ইউরোপ এবং শামের কিছু অংশের বর্ণনার ক্ষেত্রেও (দামেস্ক, আলেপ্পো, হিমস, আন্তাকিয়া শহরগুলো) একই বিষয় লক্ষ্য করা যায়। আমাদের পাণ্ডুলিপিগুলোতে আল-জাজিরার বর্ণনা মাত্র এক লাইনে সীমাবদ্ধ, অথচ আর-রওদ-এ এটি অনেক বেশি বিস্তারিত। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, এই অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে হিমইয়ারির কাছে একটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ পাঠ ছিল। আমরা পরবর্তীতে ব্যাখ্যা করব যে, পাঠ সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে এই দুটি ভৌগোলিক পাঠের মধ্যকার সম্পর্ক থেকে আমরা কীভাবে উপকৃত হয়েছি।২) আধুনিক লেখকদের দ্বারা প্রকাশিত অংশসমূহকোয়াট্রেমের ৭ নম্বর পাণ্ডুলিপির একটি বিশ্লেষণ এবং আংশিক অনুবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দ্বার উন্মোচন করার পর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে আল-মাসালিক-এর অনেক অংশ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এগুলো অন্য কোনো উৎস থেকে জানা ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
- ان القسم الذي نشر وترجم وشرح بكثرة هو بدون شك حكاية ابراهيم بن يعقوب الاسرائيلي عن الصقالبة. لقد ظهرت أول مرّة بسان بيترزبورق سنة 1878 مع ترجمة وشرح لكونيك A.Kunik وروزن V.Rosen وصدر كوفالسكي A.Kowalskiنشرة أخرى وترجمة وتعاليق سنة 1946 بكراكوفي Cracovie ونشر هذا النص أخيرا الحجي ببيروت سنة 1968 في كتابه: جغرافية الأندلس وأوروبا. وأصدر دي خوي Goeje De ترجمة هولندية بآمستردام.- أما النص الآخر الذي لا يقلّ عن السابق شهرة وان نشر أقل منه فهو:وصف افريقيا: وكان دي سلان Slane De أول من نشره وترجمه إلى الفرنسية ثم ترجم منه مونتايل V.Monteil قسما ونشره بمجلة المعهد الفرنسي بافريقيا السوداء B.I.F.A.N وترجم منه كيوك j.Cuoq قطعا أخرى تتعلق بافريقيا السوداء ونشرها في كتاب: مجموع المصادر العربية المتعلقة بافريقيا من القرن 8 إلى القرن 16 (المرجع رقم 71) .- نشر حجي في الكتاب الذي ذكرناه آنفا كل ما يتعلق بالأندلس وأوروبا- ونشر سيبل A.Seippel سنة 1896 و 1928 نص الصفحات المتعلقة بالنورمان وترجمتها (المرجع 176) .- نشر لفي بروفنصال في طبعته للروض المعطار بعض المقتطفات المتعلقة بالأندلس اعتمادا على المخطوط رقم 5.- نشر ديفريمري Defremery في المجلة الإيساوية سنة 1849 النص المتعلق بالبجاناكية والخزر والبلغار وبلاد سرير وأضاف اليه ترجمة فرنسية- نشر بلاشير R.Blachere ودارمون H.Darmaun في مقتطفاتهما عن الجغارفة العرب (المرجع 65) النص المتعلق بوصف سجلماسة.- وفي نطاق شهادة ختم دروس الأستاذية ببوردو سنة 1981 قدم كليمون F.Clementترجمة مرفقة بتعاليق ثرية للمقتطفات المتعلقة بالأندلس وأوروبا (انظر نسخة مراجعة ومصلحة، سنة 1983، 137 صفحة مرقونة) .
নিঃসন্দেহে যে অংশটি সর্বাধিক প্রকাশিত, অনূদিত এবং ব্যাখ্যায়িত হয়েছে তা হলো স্লাভদের (সকালিবা) সম্পর্কে ইবরাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-ইসরাঈলির বর্ণনা। এটি প্রথম ১৮৭৮ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে এ. কুনিিক (A. Kunik) এবং ভি. রোজেন (V. Rosen)-এর অনুবাদ ও ব্যাখ্যাসহ আত্মপ্রকাশ করে এবং এ. কোয়ালস্কি (A. Kowalski) কর্তৃক প্রকাশিত১৯৪৬ সালে ক্রাকোভে (Cracovie) এর অন্য একটি সংস্করণ, অনুবাদ ও টীকা প্রকাশিত হয়। সবশেষে ১৯৬৮ সালে বৈরুতে আল-হাজ্জি তার 'জুগরাফিয়াত আল-আন্দালুস ওয়া উরুব্বা' (আন্দালুস ও ইউরোপের ভূগোল) গ্রন্থে এই পাঠটি প্রকাশ করেন। আর ডি গোয়ে (De Goeje) আমস্টারডামে একটি ওলন্দাজ অনুবাদ প্রকাশ করেন।- অন্য পাঠ্যটি, যা খ্যাতির দিক থেকে পূর্ববর্তীটির চেয়ে কম নয়, যদিও তা তুলনামূলকভাবে কম প্রকাশিত হয়েছে, সেটি হলো:আফ্রিকার বর্ণনা: ডি স্লােন (De Slane) ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি এটি প্রকাশ করেন এবং ফরাসিতে অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে ভি. মন্টেইল (V. Monteil) এর একটি অংশ অনুবাদ করেন এবং ফরাসি ইনস্টিটিউট অফ ব্ল্যাক আফ্রিকা (B.I.F.A.N)-এর সাময়িকীতে প্রকাশ করেন। জে. কিউয়ক (J. Cuoq) কৃষ্ণ আফ্রিকা সংশ্লিষ্ট আরও কিছু অংশ অনুবাদ করেন এবং 'মাজমু আল-মাসাদির আল-আরাবিয়্যাহ আল-মুতাআল্লিকা বি-আফ্রিকিয়া মিনাল করনি আস-সামিন ইলাল করনি আস-সাদিস আশার' (৮ম থেকে ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত আফ্রিকা বিষয়ক আরবি উৎসসমূহের সংকলন, সূত্র নং ৭১) গ্রন্থে প্রকাশ করেন।- আল-হাজ্জি তার পূর্বে উল্লেখিত গ্রন্থে আন্দালুস ও ইউরোপ সংশ্লিষ্ট সবকিছু প্রকাশ করেছেন। এ. সিপেল (A. Seippel) ১৮৯৬ এবং ১৯২৮ সালে নরম্যানদের সম্পর্কিত পৃষ্ঠাগুলোর পাঠ্য ও অনুবাদ প্রকাশ করেন (সূত্র ১৭৬)।- লেভি প্রোভেনসাল তার 'আর-রাওদ আল-মিতার'-এর সংস্করণে ৫ নম্বর পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে আন্দালুস সংশ্লিষ্ট কিছু উদ্ধৃতি প্রকাশ করেন।- ডিফ্রেমারি (Defremery) ১৮৪৯ সালে 'জার্নাল এশিয়াটিক'-এ পেচেনেগ, খাজার, বুলগার এবং সারির দেশ সংক্রান্ত পাঠ্যটি প্রকাশ করেন এবং এর সাথে একটি ফরাসি অনুবাদ যুক্ত করেন। আর. ব্লাশিয়ার (R. Blachere) এবং এইচ. ডারমুন (H. Darmaun) আরব ভূগোলবিদদের সম্পর্কে তাদের সংকলনে (সূত্র ৬৫) সিজিলমাসা বর্ণনা সংক্রান্ত পাঠ্যটি প্রকাশ করেন।- এবং ১৯৮১ সালে বোর্দোতে মাস্টার্স থিসিসের অংশ হিসেবে এফ. ক্লেমেন্টআন্দালুস ও ইউরোপ বিষয়ক উদ্ধৃতিগুলোর একটি সমৃদ্ধ টীকাসম্বলিত অনুবাদ উপস্থাপন করেন (দেখুন সংশোধিত সংস্করণ, ১৯৮৩, ১৩৭ টাইপ করা পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تحقيق النص1) المصادرهذا التحقيق قد أعد بالاعتماد على عشر نسخ معروفة وبما انه لا توجد أي واحدة من هذه النسخ تامة فان العديد منها قد اعتبرت بالتوالي نسخا أصلية حسب أقسام المخطوط:فالبنسبة إلى القسم الذي تغطيه المخطوطات 1، 2، 3 (الفقرات 1 إلى 713) اعتبرنا المخطوط 1 هو الأصل وأحلنا في الهامش على صفحاته.بالنسبة إلى القسم المشترك بين المخطوطين 4 و 5 (الفقرات 714- 825) اعتبرنا المخطوط 4 هو الأصلي وأتممنا التحقيق بالمخطوط 5 وأحلنا على ترقيم المخطوط 5 لأنه أكمل ومسترسل.ومن الفقرة 826 إلى آخر النص فإنا أحلنا على ترقيم صفحات المخطوط 6.لقد أمكن لكراتشكوفسكي أن يقول في تاريخ الأدب الجغرافي العربي متحدثا عن الحميري ومصادره واقتباساته من الادريسي: «انها ظاهرة هامة لأننا نجد أنفسنا أمام نص جديد للإدريسي يمكن أن تكون له قيمة كبرى في تحقيق نص نزهة المشتاق واعداده للنشر «1» » . ويمكن لنا أن نقول نفس الشيء بالنسبة إلى البكري بعدما قارنا بين مخطوطات المسالك ومخطوطات الروض. ولقد كنا في المرحلة الأولى من اعدادنا لهذا العمل اعتمدنا مخطوطتي الروض المحفوظتين باستنبول والمدينة وفي الأثناء صدرت طبعة هذا الكتاب كاملة ومحققة بالاعتماد على المخطوطتين المذكورتين «2» ونحن نحيل على هذه الطبعة في الهوامش التي نذكر بها اسم الحميري.ونظرا للاقتباسات المتعددة التي يقوم بها البكري عن متقدميه فاننا قد رجعنا إلى آثارهم المطبوعة خاصة في المواضع التي يكون فيها نص المسالك مخطئا ومنقوصا.وتطبيق هذا المنهج سهل نسبيا عند ما ينقل البكري نقلا حرفيا لكنه في الغالب
পাঠ-সম্পাদনা১) উৎসসমূহএই সম্পাদনাটি দশটি পরিচিত পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। যেহেতু এই পাণ্ডুলিপিগুলোর কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ নয়, তাই পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন অংশ অনুযায়ী সেগুলোর মধ্য থেকে একাধিক পাণ্ডুলিপিকে পর্যায়ক্রমে মূল পাঠ (Original Text) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।১, ২ এবং ৩ নম্বর পাণ্ডুলিপি দ্বারা আবৃত অংশগুলোর (অনুচ্ছেদ ১ থেকে ৭১৩) ক্ষেত্রে আমরা ১ নম্বর পাণ্ডুলিপিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং পাদটীকায় এর পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।৪ এবং ৫ নম্বর পাণ্ডুলিপির মধ্যকার সাধারণ অংশের (অনুচ্ছেদ ৭১৪-৮২৫) জন্য আমরা ৪ নম্বর পাণ্ডুলিপিকে মূল হিসেবে গণ্য করেছি এবং ৫ নম্বর পাণ্ডুলিপির মাধ্যমে সম্পাদনা সম্পন্ন করেছি। আমরা ৫ নম্বর পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরের রেফারেন্স ব্যবহার করেছি, কারণ এটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ এবং ধারাবাহিক।অনুচ্ছেদ ৮২৬ থেকে টেক্সটের শেষ পর্যন্ত আমরা ৬ নম্বর পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বরের রেফারেন্স প্রদান করেছি।ক্রাচকভস্কি 'আরবি ভৌগোলিক সাহিত্যের ইতিহাস'-এ হিময়ারি, তার উৎসসমূহ এবং ইদ্রিসি থেকে তার উদ্ধৃতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলতে সক্ষম হয়েছেন যে: "এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ আমরা ইদ্রিসির একটি নতুন পাঠের সম্মুখীন হচ্ছি যা 'নুজহাতুল মুশতাক'-এর পাঠ সম্পাদনা এবং প্রকাশের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে [১]।" 'মাসালিক' এবং 'রাওদ'-এর পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে তুলনা করার পর আমরা বাকরির ক্ষেত্রেও একই কথা বলতে পারি। এই কাজটি প্রস্তুত করার প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ইস্তাম্বুল এবং মদিনায় সংরক্ষিত 'রাওদ'-এর দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলাম। ইতোমধ্যে উল্লিখিত পাণ্ডুলিপি দুটির ওপর ভিত্তি করে এই গ্রন্থটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে [২]। আমরা পাদটীকায় এই সংস্করণের উদ্ধৃতি দিচ্ছি যেখানে আমরা হিময়ারির নাম উল্লেখ করেছি।বাকরি তার পূর্বসূরিদের কাছ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি গ্রহণ করার কারণে, আমরা তাদের মুদ্রিত রচনাবলির সাহায্য গ্রহণ করেছি, বিশেষ করে সেইসব স্থানে যেখানে 'মাসালিক'-এর পাঠ ভুল অথবা অসম্পূর্ণ ছিল।যখন বাকরি হুবহু উদ্ধৃতি প্রদান করেন তখন এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা তুলনামূলক সহজ, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল বাকরি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
يحوصل ويغيّر ترتيب الكلمات والجمل ويعوض الكلمة بمرادفها بل قد يمزج بين مصادر مختلفة ويؤلف نصا جديدا بالاضافة إلى ما قلناه من قبل من أن بعض الأقسام منقوصة واختصرت إلى حدّ أنها أصبحت مبهمة. فهل كان يجب أن يترك النص على حاله أم نحاول إرجاعه إلى صيغته الأولى ان لم يكن بصورة كاملة فعلى الأقلّ بصورة جزئية؟ولقد اخترنا هذا الحل الأخير وبيّنا بصورة واضحة الإضافات التي اضطررنا إلى إدخالها بوضعها بين معقفين أو بكتابتها بأحرف أصغر. وفضلنا في بعض الأحيان أن نترك نص المخطوطات كما هو إذ أنه حرّف إلى حد يعسر معه الاهتداء إلى الصيغة الأصلية ومثال ذلك التحليلات المتعلقة بتكوّن الجنين وبالتبت والصين المستمدّة من مروج المسعودي «1» وكذلك الأمر بالنسبة إلى ما يتعلق بجبال مكة ونجد، أصله في أخبار مكة للأزرقي أو ما يتصل بوصف الأندلس.أما بالنسبة إلى الاستشهادات الشعرية فإن البكري يختلف في الغالب عن المصادر من حيث الألفاظ ونقص الأبيات أو تغيّر ترتيبها والمزج بين أقسام مختلفة من أبيات الشعر في بيت واحد الخ.. فهل ترجع هذه التغييرات إلى البكري أم إلى النساخ؟ لقد اتبعنا في التحقيق القاعدة التالية: إصلاح حالات الخطأ الواضح: نص غير مفهوم أو بحر غير مستقيم، أما فيما عدا ذلك فاننا اتبعنا قراءة مخطوطات المسالك وأحلنا في الهوامش على قراءة الأصول.2) الرسم والنحو:بالاضافة إلى ما ذكرناه من اختلافات بين الأصول والنص المأخوذ عنها وجدنا صعوبات أخرى تتمثل في اختلاف المخطوطات وأخطاء النحو والرسم وبما أن عملنا يهدف إلى الوصول إلى نص واضح ومقروء للمسالك لا إلى دراسة وضعية للغة العربية في الفترات التي نسخت فيها المخطوطات فإننا رأينا من الصالح أن نهمل عديد القراءات وأخطاء النسخ خاصة الرسمية منها حتّى لا نثقل الهوامش بصورة مبالغ فيها، وهذه الأخطاء الأكثر ترددا والتي لم نشر اليها في التعاليق:
তিনি শব্দ ও বাক্যের বিন্যাস পরিবর্তন ও সংক্ষেপ করেন এবং শব্দের স্থলে তার সমার্থক শব্দ ব্যবহার করেন, এমনকি তিনি বিভিন্ন উৎসের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে একটি নতুন পাঠ্য রচনা করেন। এর সাথে আমরা ইতিপূর্বে যা বলেছি তা হলো, কিছু অংশ অসম্পূর্ণ এবং এতটাই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যে তা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় পাঠ্যটিকে কি তার বর্তমান অবস্থায় রেখে দেওয়া উচিত ছিল, নাকি আমরা একে তার আদি রূপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব, যদি তা পূর্ণাঙ্গভাবে সম্ভব না হয় তবে অন্তত আংশিকভাবে?আমরা এই শেষোক্ত সমাধানটিই বেছে নিয়েছি এবং যেসব সংযোজন আমরা করতে বাধ্য হয়েছি, তা তৃতীয় বন্ধনীতে রেখে অথবা ছোট অক্ষরে লিখে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছি। কিছু ক্ষেত্রে আমরা পাণ্ডুলিপির পাঠ্যকে তার বর্তমান অবস্থায় রেখে দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছি, কারণ তা এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিল যে তার মূল রূপটি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। উদাহরণস্বরূপ, আল-মাসউদির 'মুরুজ' থেকে গৃহীত ভ্রূণ গঠন এবং তিব্বত ও চীন সংক্রান্ত বিশ্লেষণসমূহ, একইভাবে মক্কা ও নজদ পর্বতমালা সম্পর্কিত বিষয়াদি—যার মূল উৎস আল-আজরাকির 'আখবার মক্কা'—কিংবা আন্দালুসের বর্ণনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো।কাব্যিক উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আল-বাকরি প্রায়শই শব্দের ব্যবহার, চরণের অনুপস্থিতি কিংবা বিন্যাসের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মূল উৎসগুলোর চেয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন এবং বিভিন্ন চরণের অংশবিশেষ মিশিয়ে একটি চরণে রূপান্তর করেন ইত্যাদি। এই পরিবর্তনগুলো কি আল-বাকরির করা নাকি অনুলিপিকারদের? আমরা সম্পাদনার (তাহকীক) ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নীতি অনুসরণ করেছি: সুস্পষ্ট ভুলের সংশোধন করা, যেমন—দুর্বোধ্য পাঠ বা অনিয়মিত ছন্দ; এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আমরা 'আল-মাসালিক'-এর পাণ্ডুলিপির পাঠই অনুসরণ করেছি এবং পাদটীকায় মূল উৎসের পাঠগুলো উল্লেখ করেছি।২) লিখনরীতি ও ব্যাকরণ:মূল উৎস এবং তা থেকে সংগৃহীত পাঠ্যের মধ্যে ইতিপূর্বে বর্ণিত পার্থক্যগুলো ছাড়াও আমরা আরও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যেমন—পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার ভিন্নতা এবং ব্যাকরণ ও লিখনরীতির ভুলসমূহ। যেহেতু আমাদের কাজের লক্ষ্য হলো 'আল-মাসালিক'-এর জন্য একটি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য পাঠ্য প্রস্তুত করা, পাণ্ডুলিপিগুলো যে সময়ে অনুলিপি করা হয়েছিল সেই সময়ের আরবি ভাষার অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা নয়; তাই আমরা অনেক ভিন্ন ভিন্ন পাঠ এবং অনুলিপির ভুল—বিশেষ করে লিখনরীতি সংক্রান্ত ভুলগুলো—উপেক্ষা করাকে সমীচীন মনে করেছি, যাতে পাদটীকাগুলো অতিরিক্ত ভারাক্রান্ত না হয়। সচরাচর সংঘটিত সেই ভুলগুলো যা আমরা টীকায় উল্লেখ করিনি, তা হলো: