(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: -)
سيرة ابن هشام - ت السقا ورفاقه القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السيرة النبوية لابن هشام
المؤلف: عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المعافري، أبو محمد، جمال الدين (ت 213 هـ)
تحقيق: مصطفى السقا [ت 1389 هـ]- إبراهيم الأبياري [ت 1414 هـ]- عبد الحفيظ شلبي
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1375 هـ - 1955 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সীরাত ইবনে হিশাম - আস-সাক্কা ও তাঁর সহযোগীদের সম্পাদনা বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)
গ্রন্থ: ইবনে হিশাম রচিত সীরাতুন নবী (সা.)
রচয়িতা: আব্দুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি আল-মা'আফিরি, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দীন (মৃত্যু ২১৩ হি.)
সম্পাদনা: মুস্তফা আস-সাক্কা [মৃত্যু ১৩৮৯ হি.]- ইবরাহীম আল-আবিয়ারী [মৃত্যু ১৪১৪ হি.]- আব্দুল হাফিজ শালবি
প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রিন্টিং কোম্পানি, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৭৫ হি. - ১৯৫৫ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[السيرة النبوية]ـ
المؤلف: عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المعافري، أبو محمد، جمال الدين (المتوفى: 213هـ)
تحقيق: مصطفى السقا وإبراهيم الأبياري وعبد الحفيظ الشلبي
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1375هـ - 1955 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
-[সীরাতুন্নবী]-
লেখক: আবদুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি আল-মা'আফিরি, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন (মৃত্যু: ২১৩ হিজরি)
তাহকিক: মুস্তফা আস-সাক্কা, ইবরাহিম আল-আবিয়ারি এবং আবদুল হাফিজ আশ-শালবি
প্রকাশক: শারিকাহ মাকতাবাহ ওয়া মাতবাআহ মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবি ওয়া আওলাদুহু, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৭৫ হিজরি - ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المجلد الاول]
مقدّمة [التَّحْقِيق]الْحَمد للَّه على سابغ إفضاله، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد وَآله.
أما بعد، فَهَذَا كتاب «سيرة رَسُول الله» صلى الله عليه وسلم، الّذي استخرجه الإِمَام أَبُو مُحَمَّد عبد الْملك بن هِشَام الْمعَافِرِي، من كتاب «السِّيرَة» لمُحَمد بن إِسْحَاق المطّلبيّ، وَهُوَ أقدم السّير الجامعة وأصحها. [1]
(الْمَغَازِي وَالسير) :لفظتا «الْمَغَازِي والسّير» إِذا أطلقتا، فَالْمُرَاد بهما عِنْد مؤرّخي الْمُسلمين تِلْكَ الصفحة الأولى من تَارِيخ الأمّة الْعَرَبيَّة: صفحة الْجِهَاد فِي إِقَامَة صرح الْإِسْلَام وَجمع الْعَرَب تَحت لِوَاء الرَّسُول مُحَمَّد عليه الصلاة والسلام، وَمَا يُضَاف إِلَى ذَلِك من الحَدِيث عَن نشأة النبيّ، وَذكر آبَائِهِ، وَمَا سبق حَيَاته من أَحْدَاث لَهَا صلَة بِشَأْنِهِ وحياة أَصْحَابه الَّذين أبلوا مَعَه فِي إِقَامَة الدَّين، وحملوا رسَالَته فِي الْخَافِقين.
وَظُهُور الرسَالَة المحمدية أعظم حَادث فِي تَارِيخ الْعَرَب خاصّة، والبشر عامّة:
لِأَن حَيَاة الْعَرَب سادة ودهماء- أَيَّام الرَّسُول- كَانَت لَهُ ولدينه، فَمَا اجْتمع مَلأ مِنْهُم أَو تفرّق إِلَّا فِيهِ، وَلَا تحدثُوا فِي نديّهم إِلَّا عَنهُ، وَلَا تحركت كتائبهم وجيوشهم إِلَّا لَهُ، حَتَّى كَانَ قصارى بلائه فيهم اجْتِمَاعهم على الْإِسْلَام، ونبذهم مَا كَانُوا فِيهِ من الْجَاهِلِيَّة الجهلاء، والضّلالة العمياء.
--------------------------------------------
[প্রথম খণ্ড]
[সম্পাদকের] ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অঢেল অনুগ্রহের ওপর, এবং দরুদ ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর।
অতঃপর, এটি হলো 'সীরাতে রাসূলুল্লাহ' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গ্রন্থ, যা ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম আল-মুয়াফিরি সংকলন করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবির 'আস-সীরাহ' গ্রন্থ থেকে। এটি সীরাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য সংকলন। [১]
(মাগাযী ও সীরাত):'মাগাযী' এবং 'সীরাত' শব্দদ্বয় যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন মুসলিম ঐতিহাসিকদের নিকট এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আরব জাতির ইতিহাসের সেই প্রথম অধ্যায়: ইসলামের ভিত্তি স্থাপনে জিহাদের অধ্যায় এবং রাসূল মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পতাকাতলে আরবদের ঐক্যবদ্ধ করার ইতিহাস। এর সাথে যুক্ত হয় নবীর বেড়ে ওঠা, তাঁর পিতৃপুরুষদের আলোচনা এবং তাঁর জীবনের পূর্ববর্তী সেইসব ঘটনাবলি যার সাথে তাঁর বিষয়াবলির সম্পর্ক রয়েছে, আর সেইসব সাহাবীদের জীবন যারা তাঁর সাথে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন এবং পূর্ব-পশ্চিমে তাঁর রিসালাত বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন।
আর মুহাম্মদী রিসালাতের আবির্ভাব ছিল বিশেষভাবে আরবদের ইতিহাসে এবং সাধারণভাবে মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা:
কারণ রাসূলের যুগে অভিজাত ও সাধারণ—সব শ্রেণীর আরবদের জীবন ছিল তাঁর এবং তাঁর দ্বীনের জন্য। তাদের কোনো মজলিস একত্রিত বা বিচ্ছিন্ন হতো না তাঁকে ছাড়া, তাদের কোনো সভায় কথা হতো না তাঁকে ছাড়া, এবং তাদের কোনো সেনাদল বা বাহিনী পরিচালিত হতো না তাঁকে ছাড়া। এমনকি তাদের মাঝে তাঁর চূড়ান্ত সাফল্য ছিল তাদের ইসলামে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং জাহেলিয়াতের চরম অন্ধকার ও ঘোর বিভ্রান্তি যা তারা আঁকড়ে ধরেছিল, তা বর্জন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
ثمَّ برزت هَذِه الْأمة الْعَرَبيَّة، الَّتِي كَانَت قد أنكرتها الْأُمَم، وتخطّفهم النَّاس من حَولهمْ، إِلَى ميادين الْحَيَاة، تؤدّى رسالتها فِي هِدَايَة الْبشر، وتقيم القسطاس بَين النَّاس، وتضرب الْمثل الْأَعْلَى فِي علوّ الهمة، والبطولة، والإيثار، ونصرة الحقّ، والتعاون على البرّ وَالتَّقوى، والاستمساك بمكارم الْأَخْلَاق.
هَذَا مُجمل مَا تتضمنه سيرة النبيّ صلى الله عليه وسلم والرّعيل الأوّل من صحابته، الَّذين تابعوه على الْهدى وَدين الحقّ، وسبقوا إِلَى تدوين صحف الْمجد والفخار العربىّ بِمَا خلّدوا من أَعْمَالهم على وَجه الزَّمَان.
ثمّ دبّ إِلَى بعض من خلف بعدهمْ من الزعماء التحاسد والتباغض، وقلّة التّناصر والتعاون، فتشعبت بالأمة السبل، وتفرّقت بهم النواحي، فَكَانَ لَهُم إِلَى جَانب ذَلِك التَّارِيخ تَارِيخ، وانقسم هَذَا التَّارِيخ بانقسام الْأمة دولا، كَانَ لكلّ دولة تاريخها الخاصّ فِي موقعها الْجَدِيد، واتصالها بغَيْرهَا من الدول.
(التَّارِيخ عِنْد الْعَرَب) :وَلم يكن للْعَرَب قبل مبعث النبيّ صلى الله عليه وسلم من مادّة التَّارِيخ إِلَّا مَا توارثوه بالرواية، مِمَّا كَانَ شَائِعا بَينهم من أَخْبَار الْجَاهِلِيَّة الأولى، كحديثهم عَن آبَائِهِم وأجدادهم، وأنسابهم، وَمَا فِي حَيَاة الْآبَاء والأجداد من قصَص، فِيهَا البطولة، وفيهَا الْكَرم، وفيهَا الْوَفَاء، ثمَّ حَدِيثهمْ عَن الْبَيْت وزمزم وجرهم، وَمَا كَانَ من أمرهَا، ثمَّ مَا كَانَ من خبر البيوتات الَّتِي تناوبت الإمرة على قُرَيْش، وَمَا جرى لسدّ مأرب، وَمَا تبعه من تفرّق النَّاس فِي الْبِلَاد، إِلَى أَمْثَال هَذَا مِمَّا قَامَت فِيهِ الذاكرة مقَام الْكتاب، وَاللِّسَان مقَام الْقَلَم، يعى النَّاس عَنهُ، ويحفظون، ثمَّ يؤدون.
ثمَّ ظهر مورد جَدِيد بِظُهُور النبيّ صلى الله عليه وسلم وَظُهُور دَعوته، هِيَ أَحَادِيث الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ عَن وِلَادَته صلى الله عليه وسلم وحياته، وَمَا ملئت بِهِ هَذِه الْحَيَاة من جِهَاد فِي سَبِيل الله، واصطدام مَعَ الْمُشْركين، وَمن لَيْسَ على دينه، ودعوة إِلَى التَّوْحِيد، وَمَا كَانَ فِيهَا من أثر للألسنة وَالسُّيُوف. فَهَذَا وَذَاكَ كَانَ مادّة للتاريخ أوّلا، ثمَّ للسيرة ثَانِيًا.
অতঃপর এই আরব উম্মাহর আবির্ভাব ঘটে, যাদেরকে অন্যান্য জাতিসমূহ উপেক্ষা করেছিল এবং চারপাশের মানুষ যাদেরকে ছিনিয়ে নিত। তারা জীবনের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য তাদের মিশন পালন করেছে, মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বীরত্ব, আত্মত্যাগ, সত্যের বিজয়, নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সচ্চরিত্রকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে সর্বোত্তম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রথম প্রজন্মের সীরাতের এটিই সারসংক্ষেপ, যাঁরা হেদায়েত ও সত্য দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসরণ করেছিলেন এবং আরবের গৌরব ও মহিমা গাঁথার পাতায় তাঁদের কার্যাবলীর মাধ্যমে মহাকালের বুকে অমরত্ব লাভ করেছিলেন।
অতঃপর তাঁদের পরবর্তীকালের কিছু নেতার মধ্যে পারস্পরিক হিংসা ও বিদ্বেষের অনুপ্রবেশ ঘটে এবং পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার অভাব দেখা দেয়। ফলে উম্মাহর পথসমূহ বহুধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং তারা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায়। ফলে সেই ইতিহাসের পাশাপাশি তাদের আরও ইতিহাস তৈরি হয় এবং উম্মাহ রাষ্ট্রসমূহে বিভক্ত হওয়ার সাথে সাথে এই ইতিহাসও বিভক্ত হয়ে যায়। প্রতিটি রাষ্ট্রের নতুন ভৌগোলিক অবস্থান ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব ইতিহাস তৈরি হয়।
(আরবদের নিকট ইতিহাস) :নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের পূর্বে আরবদের কাছে ইতিহাসের তেমন কোনো উপকরণ ছিল না, কেবল বংশপরম্পরায় বর্ণিত সেই সব সংবাদ ছাড়া যা তাদের মাঝে প্রথম জাহেলিয়াতের যুগের ঘটনা হিসেবে প্রচলিত ছিল। যেমন: তাদের পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের কথা, তাঁদের বংশপরিচয় এবং পূর্বপুরুষদের জীবনের বীরত্ব, দানশীলতা ও বিশ্বস্ততা সম্পর্কিত কাহিনীসমূহ। এরপর বাইতুল্লাহ, যমযম ও জুরহুম গোত্রের সংবাদ এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কিত আলোচনা। অতঃপর কুরাইশদের ওপর পর্যায়ক্রমে শাসনভার পরিচালনাকারী পরিবারগুলোর সংবাদ, মা’রিব বাঁধের ঘটনা এবং এর ফলশ্রুতিতে মানুষের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার মতো সংবাদসমূহ—যেখানে স্মৃতিশক্তির স্থান ছিল কিতাবের মতো এবং জিহ্বা ছিল কলমের স্থলাভিষিক্ত; মানুষ তা শ্রবণ করত, মুখস্থ রাখত এবং অতঃপর অন্যের নিকট পৌঁছে দিত।
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব ও তাঁর দাওয়াতের সূচনার মাধ্যমে একটি নতুন উৎসের উদ্ভব ঘটে। তা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও তাঁর জীবন সম্পর্কে সাহাবী এবং তাবেয়ীদের বর্ণিত ঘটনাবলী; আর সেই জীবন যা আল্লাহর পথে জিহাদ, মুশরিক ও বিজাতীয়দের সাথে সংঘাত, তাওহীদের দাওয়াত এবং তাতে জিহ্বা ও তরবারির যে প্রভাব ছিল—তাতে পরিপূর্ণ ছিল। সুতরাং এই উভয় বিষয়ই প্রথমে ইতিহাসের এবং পরবর্তীতে সীরাতের উপকরণ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَلم يدوّن فِي تَارِيخ الْعَرَب أَو السِّيرَة شَيْء، إِلَى أَن مَضَت أَيَّام الْخُلَفَاء، بل لم يدوّن فِي هَذِه الْمدَّة غير الْقُرْآن ومبادئ النَّحْو. فقد رَأينَا الْمُسلمين يحفزهم حرصهم على حفظ الْقُرْآن إِلَى كِتَابَته فِي حَيَاة النبيّ وَبعده، كَمَا حفزتهم مخافتهم من تفشي العجمة على الْأَلْسِنَة إِلَى تدوين النَّحْو، وَذَلِكَ لما اخْتَلَط الْعَرَب بغيرهم عِنْد اتساع الرقعة الإسلامية.
(بَدْء التَّأْلِيف فِي السِّيرَة) :وَلما كَانَت أَيَّام مُعَاوِيَة، أحبّ أَن يدوّن فِي التَّارِيخ كتاب، فاستقدم عبيد ابْن شريّة الجرهميّ من صنعاء، فَكتب لَهُ كتاب الْمُلُوك وأخبار الماضين. بعد هَذَا رَأينَا أَكثر من وَاحِد من الْعلمَاء يتجهون إِلَى علم التَّارِيخ من ناحيته الْخَاصَّة لَا الْعَامَّة، وَهِي سيرة الرَّسُول. ولعلهم وجدوا فِي تدوين مَا يتَعَلَّق بِهِ عليه الصلاة والسلام شَيْئا يحقّق مَا فِي أنفسهم من تعلق بِهِ، وحبّ لتخليد آثاره، بعد أَن منعُوا من تدوين أَحَادِيثه إِلَى أَيَّام عمر بن عبد الْعَزِيز، مَخَافَة أَن يخْتَلط الحَدِيث بِالْقُرْآنِ، فجَاء أَكثر من رجل كلهم محدّث، فدوّنوا فِي السِّيرَة كتبا، نذْكر مِنْهُم: عُرْوَة بن الزبير بن العوّام الْفَقِيه المحدّث، الّذي مكّنه نسبه من قبل أَبِيه الزبير وَأمه أَسمَاء بنت أَبى بكر أَن يرْوى الْكثير من الْأَخْبَار وَالْأَحَادِيث عَن النبيّ صلى الله عليه وسلم، وحياة صدر الْإِسْلَام.
وحسبك أَن تعلم أَن ابْن إِسْحَاق، والواقدي والطبري، أَكْثرُوا من الْأَخْذ عَنهُ، وَلَا سِيمَا فِيمَا يتَعَلَّق بِالْهِجْرَةِ إِلَى الْحَبَشَة، وَالْمَدينَة، وغزوة بدر. وَكَانَت وَفَاة عُرْوَة- فِيمَا يظنّ- سنة 92 هـ.
ثمَّ أبان بن عُثْمَان بن عَفَّان المدنيّ الْمُتَوفَّى سنة 105 هـ. فألّف فِي السِّيرَة صحفا جمع فِيهَا أَحَادِيث حَيَاة الرَّسُول.
ثمَّ وهب بن منبّه الْيُمْنَى الْمُتَوفَّى سنة 110 هـ. وَفِي مَدِينَة هيدلبرج بألمانيا قِطْعَة من كِتَابه الّذي ألّفه فِي الْمَغَازِي.
وَغير هَؤُلَاءِ كثير، مِنْهُم من قضى نحبه قرب تَمام الرّبع الأوّل من الْقرن الثَّانِي،
আরবদের ইতিহাস বা সীরাত বিষয়ে খলিফাদের যুগ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই সংকলিত হয়নি; বরং এই দীর্ঘ সময়ে কুরআন এবং নাহুর (ব্যাকরণ) প্রাথমিক নিয়মাবলী ছাড়া আর কিছুই লিপিবদ্ধ হয়নি। আমরা দেখেছি যে, কুরআন হিফজ করার প্রতি মুসলিমদের প্রবল আগ্রহই তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তা লিপিবদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। একইভাবে, ইসলামি ভূখণ্ডের বিস্তৃতির ফলে যখন আরবদের সাথে অনারবদের সংমিশ্রণ ঘটে, তখন রসনায় অনারবীয় প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই তাদের নাহু (ব্যাকরণ) সংকলনে অনুপ্রাণিত করেছিল।
(সীরাত রচনার সূচনা) :মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর শাসনামলে তিনি ইতিহাসের ওপর একটি গ্রন্থ সংকলনের ইচ্ছা পোষণ করেন। এজন্য তিনি সানা থেকে উবাইদ ইবনে শারিয়াহ আল-জুরহুমিকে নিয়ে আসেন। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য রাজন্যবর্গ ও প্রাচীনদের সংবাদ সম্বলিত গ্রন্থ রচনা করেন। এর পরে আমরা একাধিক আলেমকে ইতিহাসের সাধারণ দিকের পরিবর্তে এর বিশেষ দিকটির প্রতি মনোনিবেশ করতে দেখি, যা হলো রাসুলের সীরাত (জীবনী)। সম্ভবত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংকলনের মধ্য দিয়ে তাঁরা তাঁর প্রতি নিজেদের হৃদয়ের গভীর টান এবং তাঁর স্মৃতিচিহ্নগুলোকে অম্লান করে রাখার আকাঙ্ক্ষাকে সার্থক করতে চেয়েছিলেন। কুরআনের সাথে হাদিস মিশে যাওয়ার আশঙ্কায় ওমর ইবনে আবদুল আজিজের সময় পর্যন্ত হাদিস সংকলনে যে বিধিনিষেধ ছিল, তার পরে একাধিক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ করেন যারা সকলেই ছিলেন মুহাদ্দিস। তাঁরা সীরাত বিষয়ে অনেক কিতাব সংকলন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি: ফকীহ ও মুহাদ্দিস উরওয়াহ ইবনুল জুবাইর ইবনুল আওয়াম, যাঁর বংশমর্যাদা—পিতার দিক থেকে জুবাইর এবং মাতার দিক থেকে আসমা বিনতে আবু বকর—তাঁকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের জীবন সম্পর্কে প্রচুর সংবাদ ও হাদিস বর্ণনা করার সুযোগ করে দিয়েছিল।
আপনার জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, ইবনে ইসহাক, ওয়াকিদি এবং তাবারী তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন; বিশেষ করে হাবশা ও মদীনায় হিজরত এবং বদর যুদ্ধ সংক্রান্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে। সম্ভবত ৯২ হিজরীতে উরওয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মৃত্যু হয়।
অতঃপর আবান ইবনে উসমান ইবনে আফফান আল-মাদানী (মৃত্যু ১০৫ হিজরী)। তিনি সীরাত বিষয়ে কিছু পাণ্ডুলিপি রচনা করেন যেখানে রাসুলের জীবন সংক্রান্ত হাদিসগুলো সংগ্রহ করেছিলেন।
এরপর ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ আল-ইয়ামানি (মৃত্যু ১১০ হিজরী)। জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরে তাঁর রচিত 'আল-মাগাজি' কিতাবের একটি অংশ সংরক্ষিত আছে।
তাঁদের ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম এক-চতুর্থাংশ সমাপ্ত হওয়ার কাছাকাছি সময়ে ইন্তেকাল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
كشرحبيل بن سعد الْمُتَوفَّى سنة 123 هـ. وَابْن شهَاب الزهرىّ الْمُتَوفَّى سنة 124 هـ.
وَعَاصِم بن عمر بن قَتَادَة الْمُتَوفَّى سنة 120 هـ. وَمِنْهُم من جاوزه بسنين، كَعبد الله بن أَبى بكر بن حزم الْمُتَوفَّى سنة 135 هـ.
وَكَانَ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَة مِمَّن عنوا بأخبار الْمَغَازِي، وَمَا يتَّصل بهَا.
وَمِنْهُم من عَاشَ حَتَّى أوشك أَن يدْرك منتصف الْقرن الثَّانِي، أَو جاوزه بِقَلِيل، كموسى بن عقبَة الْمُتَوفَّى سنة 141 هـ، ثمَّ معمر بن رَاشد الْمُتَوفَّى سنة 150 هـ، ثمَّ شيخ رجال السِّيرَة مُحَمَّد بن إِسْحَاق الْمُتَوفَّى سنة 152 هـ.
وَجَاء بعد هَؤُلَاءِ غَيرهم، نذْكر مِنْهُم زيادا البكائيّ الْمُتَوفَّى سنة 183 هـ، والواقدي صَاحب الْمَغَازِي الْمُتَوفَّى سنة 207 هـ، وَمُحَمّد بن سعد صَاحب الطَّبَقَات الْكُبْرَى الْمُتَوفَّى سنة 230 هـ. وَقبل أَن تستأثر الْمنية بِابْن سعد عدت على ابْن هِشَام فِي سنة 218 هـ. وَابْن هِشَام هُوَ الرجل الّذي انْتَهَت إِلَيْهِ سيرة ابْن إِسْحَاق، فَعرفت بِهِ وشاع ذكره بهَا.
(علم السِّيرَة فِي أدواره الْمُخْتَلفَة) :وَلم تَنْقَطِع الْعِنَايَة بالتأليف فِي السِّيرَة إِلَى يَوْمنَا هَذَا. إِلَّا أَن الْمَوْضُوع فِي ذَاته لَيْسَ أمرا يقوم على التجارب، أَو فكرة يقيمها برهَان وينفضها برهَان، شَأْن النظريات العلمية الَّتِي نرى اتِّصَال الْعلمَاء بهَا اتِّصَال تَجْدِيد وتغيير على مرّ السنين، وَإِنَّمَا هُوَ أَمر عماده النَّقْل وَالرِّوَايَة.
فَكَانَ المشتغلون بِهِ أوّلا محدّثين ناقلين، ثمَّ رَأينَا من جَاءَ بعدهمْ جامعين مبوّبين، وَلما اسْتَوَى للمتأخرين مَا جمع المتقدمون، جَاءَ طور النَّقْد وَالتَّعْلِيق، كَمَا فعل ابْن هِشَام فِي سيرة ابْن إِسْحَاق.
فَكَانَ هَذَا التراث بَين أَيدي من جَاءَ بعدهمْ شَيْئا غير قَابل لجديد فِي جوهره، كلّ مجهود فِيهِ كَانَ فِي الشكل وَالصُّورَة لَا يمسّ الْجَوْهَر إِلَّا بِمِقْدَار. وَقد رَأينَا المؤلّفين فِيهِ على ضَرْبَيْنِ: فريق عَاشَ فِي ظلّ كتب الأوّلين، يَتَنَاوَلهَا بالشرح، أَو الِاخْتِصَار، أَو النّظم ليسهل حفظهَا. وفريق صبغ نَفسه بِصفة الْمُؤلف المبتدع،
শুরাহবিল ইবনে সা'দ (মৃত্যু ১২৩ হিজরি) এবং ইবনে শিহাব আল-জুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি)-এর মতো।
এবং আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ (মৃত্যু ১২০ হিজরি)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ সময় অতিক্রম করে আরও কয়েক বছর জীবিত ছিলেন, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাযম (মৃত্যু ১৩৫ হিজরি)।
এই চারজন ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং তৎসংশ্লিষ্ট সংবাদসমূহের প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছিলেন।
আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন যারা দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত অথবা তার সামান্য পর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। যেমন মুসা ইবনে উকবা (মৃত্যু ১৪১ হিজরি), অতঃপর মা'মার ইবনে রাশিদ (মৃত্যু ১৫০ হিজরি), অতঃপর সিরাতশাস্ত্রবিদদের প্রধান পুরুষ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (মৃত্যু ১৫২ হিজরি)।
তাঁদের পরে আরও অনেকে এসেছেন, যাদের মধ্যে আমরা উল্লেখ করছি যিয়াদ আল-বুকাইয়ি (মৃত্যু ১৮৩ হিজরি), মাগাজি রচয়িতা আল-ওয়াকিদি (মৃত্যু ২০৭ হিজরি) এবং আত-তাবাকাতুল কুবরা-এর লেখক মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (মৃত্যু ২৩০ হিজরি)। ইবনে সা'দ মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই ২১৮ হিজরিতে ইবনে হিশামের জীবনাবসান ঘটে। ইবনে হিশাম হলেন সেই ব্যক্তি যাঁর কাছে ইবনে ইসহাকের সিরাত গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে, ফলে এটি তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছে এবং তাঁর নামেই এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
(বিভিন্ন পর্যায়ে সিরাত বিজ্ঞান):সিরাত রচনার প্রতি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগ আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। তবে বিষয়টি প্রকৃতিগতভাবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষালব্ধ বিষয় নয়, কিংবা এমন কোনো ধারণা নয় যা প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় আবার প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রত্যাখ্যাত হয়, যেমনটি আমরা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের ক্ষেত্রে দেখি যেগুলোর সাথে বিজ্ঞানীদের সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে সংস্কার ও পরিবর্তনের মাধ্যমে বজায় থাকে। বরং এটি এমন একটি বিষয় যার মূল স্তম্ভ হলো বর্ণনা (নাকল) এবং রেওয়াত।
ফলে এ বিষয়ে যারা প্রথমে নিয়োজিত ছিলেন তারা ছিলেন হাদিস বর্ণনাকারী ও সংকলক; অতঃপর আমরা তাঁদের পরবর্তী সময়ে এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যারা সংকলক ও বিন্যাসকারী ছিলেন। যখন পূর্ববর্তীদের সংকলিত বিষয়গুলো পরবর্তীদের নিকট সুসংহত হলো, তখন সমালোচনা ও টীকাভাষ্য প্রদানের পর্যায় শুরু হলো, যেমনটি ইবনে হিশাম ইবনে ইসহাকের সিরাতের ক্ষেত্রে করেছিলেন।
সুতরাং এই ঐতিহ্যটি তাঁদের পরবর্তীদের হাতে এমন একটি বস্তুরূপে ছিল যা এর মূলে কোনো নতুন কিছু গ্রহণের অবকাশ রাখত না। এর পেছনে যাবতীয় শ্রম ছিল কেবল অবয়ব ও কাঠামোগত রূপদানের ক্ষেত্রে, যা সামান্য পরিমাণ ব্যতিরেকে এর মূল সত্তাকে স্পর্শ করত না। আমরা এ বিষয়ের লেখকদের দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত দেখেছি: একদল যারা পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহের ছায়াতলে থেকেছেন, সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন অথবা সংক্ষিপ্ত করেছেন অথবা মুখস্থ করার সুবিধার্থে কাব্যাকারে রূপান্তর করেছেন। আর অন্য একদল নিজেদেরকে মৌলিক রচয়িতার গুণে রঞ্জিত করেছেন,
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
فَجمع بَين يَدَيْهِ كتب السِّيرَة، وَخرج مِنْهَا بِكِتَاب هُوَ فِي ظَاهره لَهُ، وَفِي حَقِيقَته أَنه لغير وَاحِد مِمَّن سَبَقُوهُ.
نذْكر من الْفَرِيق الثَّانِي ابْن فَارس [1] اللّغَوِيّ الْمُتَوفَّى بالريّ سنة 395 هـ، وَمُحَمّد ابْن عليّ بن يُوسُف الشافعيّ الشَّامي الْمُتَوفَّى سنة 600 هـ، وَابْن أَبى طىّ يحيى بن حميد الْمُتَوفَّى سنة 630 هـ، وظهير الدَّين على بن مُحَمَّد كازروني الْمُتَوفَّى سنة 694 هـ وعلاء الدَّين عليّ بن مُحَمَّد الخلاطى الْحَنَفِيّ الْمُتَوفَّى سنة 708 هـ، وَابْن سيد النَّاس [2] الْبَصْرِيّ الشافعيّ الْمَوْلُود سنة 661 هـ، والمتوفى سنة 734 هـ، وشهاب الدَّين الرّعينى الغرناطي [3] الْمُتَوفَّى سنة 779 هـ، وَأَبا عبد الله مُحَمَّد بن أَحْمد ابْن عليّ بن جَابر الأندلسيّ [4] الْمُتَوفَّى سنة 780 هـ. ثمَّ مُحَمَّد بن يُوسُف الصَّالِحِي صَاحب السِّيرَة الشامية [5] الْمُتَوفَّى سنة 942 هـ، وعليّ بن برهَان الدَّين صَاحب السِّيرَة الحلبية [6] الْمَوْلُود بِمصْر سنة 975 هـ والمتوفى سنة 1044 هـ، وَغير هَؤُلَاءِ نقتصر مِنْهُم على مَا أوردنا.
وَنَذْكُر من رجال الْفَرِيق الأوّل: السّهيليّ، وَأَبا ذرّ، وَكِلَاهُمَا شرح سيرة ابْن هِشَام، وقطب الدَّين عبد الْكَرِيم الجماعيلىّ [7] الْمُتَوفَّى سنة 735 هـ، الّذي شرح سيرة مُحَمَّد بن على بن يُوسُف، وقاسم بن قطلوبغا ملخص سيرة مغلطاى [8] ،
--------------------------------------------
সুতরাং তিনি তাঁর সম্মুখে সীরাতগ্রন্থসমূহ একত্রিত করলেন এবং তা থেকে এমন একটি গ্রন্থ সংকলন করলেন যা বাহ্যত তাঁর নিজস্ব মনে হলেও বাস্তবে তা তাঁর পূর্বসূরীদের অনেকেরই অবদান।
আমরা দ্বিতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ভাষাবিদ ইবনে ফারিস [১]-এর কথা উল্লেখ করছি, যিনি ৩৯৫ হিজরিতে রয় নগরে মৃত্যুবরণ করেন; মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ শাফিঈ শামী (মৃত্যু ৬০০ হিজরি); ইবনে আবি তাই ইয়াহইয়া ইবনে হুমাইদ (মৃত্যু ৬৩০ হিজরি); জহিরুদ্দিন আলী ইবনে মুহাম্মদ কাযরুনী (মৃত্যু ৬৯৪ হিজরি); আলাউদ্দিন আলী ইবনে মুহাম্মদ খালাতী হানাফী (মৃত্যু ৭০৮ হিজরি); ইবনে সাইয়্যিদুন নাস [২] আল-বসরী আল-শাফিঈ (জন্ম ৬৬১ হিজরি, মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি); শিহাবুদ্দিন রুআইনী আল-গারনাতি [৩] (মৃত্যু ৭৭৯ হিজরি); এবং আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আলী ইবনে জাবির আল-আন্দালুসী [৪] (মৃত্যু ৭৮০ হিজরি)। অতঃপর সীরাতে শামীয়ার লেখক মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-সালিহী [৫] (মৃত্যু ৯৪২ হিজরি); সীরাতে হালাবিয়ার লেখক আলী ইবনে বুরহানুদ্দিন [৬] (যিনি ৯৭৫ হিজরিতে মিসরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন)। এ ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছি।
আর আমরা প্রথম দলের ব্যক্তিদের মধ্য থেকে উল্লেখ করছি: সুহাইলি ও আবু যাররকে—তারা উভয়েই সীরাতে ইবনে হিশামের ব্যাখ্যা লিখেছেন; কুতুবুদ্দিন আবদুল কারিম আল-জুমাইলি [৭] (মৃত্যু ৭৩৫ হিজরি), যিনি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফের সীরাত গ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখেছেন; এবং কাসেম ইবনে কুতলুবুগা, যিনি মুগলতায়-এর সীরাতের সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন [৮],
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
وَعز الدَّين ابْن عمر الْكِنَانِي، وَكَانَ لَهُ فِيهَا مُخْتَصر، ثمَّ أَبَا الْحسن عليّ بن عبد الله ابْن أَحْمد المَسْعُودِيّ الْمُتَوفَّى بِالْمَدِينَةِ سنة 911 هـ.
وَمِمَّنْ نظم السِّيرَة وصاغها شعرًا عبد الْعَزِيز بن أَحْمد الْمَعْرُوف بِسَعْد الديري الْمُتَوفَّى فِي حُدُود سنة 607، هـ وَأَبُو الْحسن فتح بن مُوسَى القصري الْمُتَوفَّى سنة 668 هـ. وَابْن الشَّهِيد الْمُتَوفَّى سنة 793 هـ.
(نشأة الموالد) :وثمّ ضرب آخر من التَّأْلِيف فِي السِّيرَة، هُوَ من نوع التَّلْخِيص، إِلَّا أَنه تَلْخِيص لناحية خَاصَّة من نواحي الرَّسُول: عَن مولده وَمَا يتَعَلَّق بِهَذَا المولد الْكَرِيم، وَمَا يسْبقهُ من إرهاصات، وَعَن نشأته فِي طفولته، وَمَا إِلَى تِلْكَ الطفولة من خوارق يرتبط حدوثها بِهِ صلى الله عليه وسلم، ثمَّ حَيَاته من شبابه إِلَى بُلُوغه السنّ الَّتِي حمل فِيهَا النبوّة، واضطلع بعبء الرسَالَة، وَمَا طبع عَلَيْهِ من خلق طيب وصفات حميدة، وَبعد عَمَّا كَانَ يألفه الشّبان فِي أَيَّامه.
هَذَا الْعَمَل سمّه إِن شِئْت تَرْجَمَة مختصرة للصدر الأوّل من حَيَاة الرَّسُول، ولمحة سريعة عَن تَارِيخه بعد الرسَالَة. وَقد يُسَمِّيه بعض النَّاس «المولد النَّبَوِيّ» ، وَهُوَ من قبيل مَا يُعِدّه الْعلمَاء الدينيون ليلقوه فِي الْمَوْسِم الرسمى الْعَام بعد الْعَام فِي الْمَسَاجِد أَو فِي غَيرهَا. وَقد زخرت بِهَذَا النَّوْع خزانَة التَّأْلِيف، حَتَّى أَصبَحت الرسائل الَّتِي وضعت فِيهَا لَا تدخل تَحت حصر.
(السّير والنقد) :وَلَعَلَّ النّظر إِلَى تراث السالفين وَلَا سِيمَا مَا يتَّصل مِنْهُ بِعلم السّير، نظرة فِيهَا الْكثير من التَّقْدِيس، هُوَ الّذي حَال دون هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء من أَن يقفوا من هَذَا الْعلم موقفا فقدناه فِي جَمِيع المؤلفين الْمُتَقَدِّمين، على اخْتِلَاف طبقاتهم. فَلم نر مِنْهُم من عرض لما تحمله السّير بَين دفتيها. من أَخْبَار تتصف بالبعد عَن الْحَقِيقَة، فنقدها وأتى على مَوَاضِع الضعْف مِنْهَا.
এবং ইযযুদ্দীন ইবনে উমর আল-কিনানি, এতে তাঁর একটি সংক্ষিপ্তসার ছিল, এরপর আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-মাসউদী, যিনি ৯১১ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
আর যারা সীরাতকে পদ্যরূপে সংকলন করেছেন এবং একে কাব্যিক রূপ দান করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আজিজ বিন আহমদ, যিনি সা'দ আদ-দাইরি নামে পরিচিত এবং আনুমানিক ৬০৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; এবং আবুল হাসান ফাতহ বিন মুসা আল-কাসরি, যিনি ৬৬৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন; এবং ইবনে আশ-শাহিদ, যিনি ৭৯৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(মাওলিদ সাহিত্যের উদ্ভব):এখানে সীরাত রচনার আরেকটি ধরন রয়েছে, যা মূলত সংক্ষিপ্তকরণের অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি রাসূলের জীবনের একটি বিশেষ দিকের সংক্ষিপ্তসার: তাঁর জন্ম এবং এই সম্মানিত জন্ম সংক্রান্ত বিষয়াদি, তাঁর জন্মের পূর্বে প্রকাশিত অলৌকিক পূর্ব-নিদর্শনসমূহ, তাঁর শৈশবের বেড়ে ওঠা, এবং তাঁর শৈশবের সাথে সম্পৃক্ত সেই সব অলৌকিক ঘটনাবলী যা তাঁর (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল; এরপর তাঁর যৌবনকাল থেকে শুরু করে নবুয়ত প্রাপ্তির বয়স পর্যন্ত তাঁর জীবনকাল, এবং যখন তিনি রিসালাতের গুরুভার গ্রহণ করেন; সেই সাথে তাঁর সেই উত্তম স্বভাব ও প্রশংসনীয় গুণাবলী যার ওপর তিনি স্বভাবজাত ছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িক যুবকরা যা করতে অভ্যস্ত ছিল তা থেকে তাঁর দূরত্ব বজায় রাখা।
এই কাজটিকে আপনি চাইলে রাসূলের জীবনের প্রথমাংশের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী বলতে পারেন, এবং রিসালাত পরবর্তী তাঁর ইতিহাসের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাতও বলতে পারেন। কিছু মানুষ একে ‘মাওলিদ আন-নববী’ বলে অভিহিত করেন, এটি ঐ সব রচনার অন্তর্ভুক্ত যা ধর্মীয় পণ্ডিতগণ প্রতি বছর নির্দিষ্ট ঋতুতে মসজিদে বা অন্য কোথাও পাঠ করার জন্য প্রস্তুত করেন। গ্রন্থ রচনার ভাণ্ডার এই ধরনে পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, এমনকি এই বিষয়ে রচিত পুস্তিকাগুলো গণনার বাইরে চলে গেছে।
(সীরাত ও সমালোচনা):সম্ভবত পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যের প্রতি, বিশেষ করে সীরাত শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতি অতিশয় শ্রদ্ধাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই লেখকগণের বিভিন্ন স্তরের মাঝে এমন এক অবস্থান গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা আমরা সকল পূর্ববর্তী লেখকদের মাঝে অনুপস্থিত দেখতে পাই। আমরা তাদের মধ্যে কাউকে এমন দেখিনি যিনি সীরাত গ্রন্থগুলোর ভেতরে থাকা সত্য থেকে দূরবর্তী সংবাদগুলোর ওপর আলোকপাত করেছেন, সেগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং সেগুলোর দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولعلّ الَّذين تناولوا السّير بالتلخيص والاختصار، حِين استبعدوا بعض هَذِه الْأَخْبَار، استبعدوها غير مُؤمنين بِصِحَّتِهَا، لَا تَخْفِيفًا من ثقل الْكتاب.
هَذَا مَا حرمه هَذَا الْعلم فِي جَمِيع أدواره السالفة إِلَى مَا قبل أيامنا هَذِه بِقَلِيل، إِذْ رَأينَا الْإِيمَان بِأَن فِي السِّيرَة أَخْبَارًا لَا تتصل بالحقّ فِي قَلِيل وَلَا كثير، تصحبه الجرأة ثمَّ الْإِقْدَام، ورأينا فكرة جَدِيدَة تجرى بهَا أَقْلَام مجدّدة، يتَنَاوَل أَصْحَابهَا الْخَبَر أَو الْخَبَرَيْنِ من السِّيرَة، مِمَّا كَانَ يتَّخذ مطعنا علينا فِي شخص النبيّ صلى الله عليه وسلم، أَو مَا يتَّصل بِهِ، فخلصوه مِمَّا لصق بِهِ مِمَّا لَيْسَ مِنْهُ، وَأَقَامُوا حوله سياجا من الْحجَج والبراهين، صحّ بهَا وَأصْبح حجَّة على الطاعنين فِيهِ، وَمثل هَذَا مَا فعله الْأُسْتَاذ الإِمَام الشَّيْخ مُحَمَّد عَبده فِي قصَّة النبيّ صلى الله عليه وسلم، وتزويجه زَيْنَب بنت جحش من زيد بن حَارِثَة، ثمَّ مَا كَانَ من تزوّج الرَّسُول صلى الله عليه وسلم إِيَّاهَا بعد تطليق زيد لَهَا مِمَّا أرجف فِيهِ الطاعنون ولغوا لَغوا كثيرا.
وَمِنْهُم من عرض للْكتاب فِي قصَّة أَو قصتين مِنْهُ، فصاغها فِي أسلوب جَدِيد، ومثّل للنَّاس الْخَبَر فِي قالب قصصى، خرج بِهِ عَن أسانيده وَذكر رُوَاته، تِلْكَ الطَّرِيقَة الَّتِي هِيَ سرّ تقديس هَذِه الْأَخْبَار فِي هَذِه الْكتب، فبدت الْمعَانِي فِي هَذَا القالب الْجَدِيد كَمَا يَبْدُو الْجَسَد فِي الغلالة الرقيقة لَا تكَاد تخفى مِنْهُ شَيْئا، وَهَذَا الأسلوب الْجَدِيد بِمَا يتَضَمَّن من التهكم بالفكرة السقيمة وَالْخَبَر الغثّ، يخلق بِهِ الْمُؤلف فِي الْقَارئ روح التحفظ فِي قبُول الأفكار وتسلمها.
وَمِنْهُم من جرى مَعَ ابْن إِسْحَاق فِي شوطه، فَتَنَاول السِّيرَة كَمَا تنَاولهَا ابْن إِسْحَاق مبتدئا بميلاد الرَّسُول وَمَا سبقه أَو عاصره من حوادث، ثمَّ جرى يذكر حَيَاة الرَّسُول إِلَى أَن قَبضه الله إِلَى جواره، نَاقِلا من الْأَخْبَار مَا يرى فِيهَا الْقرب من الْحق، ومستبعدا مَا لَا يجرى فِي ذَلِك مَعَ فكرته وَمَا يعْتَقد، مفندا مزاعم الطاعنين، رادّا على المكذّبين.
فجَاء كِتَابه سيرة للرسول، جَدِيدَة فِي أسلوبها، نقية من اللّغو والهراء.
وَنحن إِذْ نخرج للنَّاس سيرة ابْن هِشَام، نخرجها بِمَا فِيهَا من هَذَا وَذَاكَ، لَا نبغى إِلَّا أَن نضع بَين يَدي الْعلمَاء نصا صَحِيحا لأقدم كتاب جَامع بَين سيرته ومغازيه صلى الله عليه وسلم.
সম্ভবত যারা সীরাতকে সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ আকারে উপস্থাপন করেছেন, তারা যখন এই সংবাদগুলোর কিছু বর্জন করেছেন, তখন তারা সেগুলো বর্জন করেছেন এগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর বিশ্বাস না থাকার কারণে, কিতাবের ভার কমানোর জন্য নয়।
এই বিষয়টিই এই ইলম বা শাস্ত্র তার বিগত সমস্ত যুগে বরণ করে নিয়েছে—আমাদের বর্তমান সময়ের কিছুকাল আগ পর্যন্ত। যখন আমরা দেখতে পেলাম যে সীরাতের মধ্যে এমন কিছু বর্ণনা রয়েছে যা সত্যের সাথে সামান্যতমও সম্পৃক্ত নয়, তখন সাহসিকতা এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে এক নতুন চিন্তাধারা সৃষ্টি হলো যা সংস্কারপন্থী কলমগুলো বয়ে নিয়ে চলছে। এর প্রণেতারা সীরাতের এমন এক বা একাধিক বর্ণনা গ্রহণ করেন যা ইতিপূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এরপর তারা সেগুলোকে এমন সব জঞ্জাল থেকে মুক্ত করেন যা তার অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং সেগুলোর চারপাশে এমন সব দলিল ও প্রমাণের বেষ্টনী তৈরি করেন যার মাধ্যমে সেগুলো বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয় এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে এক অকাট্য দলিলে পরিণত হয়। এর উদাহরণ হলো উস্তাদ ইমাম শেখ মুহাম্মদ আবদু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাহিনী এবং জয়নব বিনতে জাহাশের সাথে জায়েদ ইবনে হারিসার বিয়ে, এবং পরবর্তীতে জায়েদ তাকে তালাক দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাকে বিবাহ করার বিষয়ে যা করেছেন; যে বিষয়ে নিন্দুকেরা অনেক গুজব ছড়িয়েছিল এবং অনর্থক কথাবার্তা বলেছিল।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ কিতাবটির একটি বা দুটি কাহিনীকে উপস্থাপন করেছেন এবং তা এক নতুন শৈলীতে লিপিবদ্ধ করেছেন। তারা মানুষের সামনে সেই বর্ণনাকে একটি গল্প আকারে পেশ করেছেন এবং তা করতে গিয়ে এর সনদ ও বর্ণনাকারীদের উল্লেখ থেকে সরে এসেছেন—যে পদ্ধতিটিই ছিল এই কিতাবগুলোতে এই সংবাদগুলোকে পবিত্র জ্ঞান করার মূল রহস্য। ফলে এই নতুন কাঠামোতে ভাবার্থগুলো এমনভাবে ফুটে উঠেছে যেন একটি শরীর অতি সূক্ষ্ম পোশাকের আড়ালে রয়েছে যার কোনো কিছুই প্রায় ঢাকা থাকে না। এই নতুন শৈলী, যা ত্রুটিপূর্ণ ধারণা এবং অসার বর্ণনার প্রতি উপহাস ধারণ করে, লেখকের মাধ্যমে পাঠকের মনে যেকোনো ধারণা গ্রহণ ও বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে সতর্কতা বা বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগের মনোভাব তৈরি করে।
আবার তাদের মধ্যে কেউ ইবনে ইসহাকের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। ফলে তিনি সীরাতকে ইবনে ইসহাকের মতোই বর্ণনা করেছেন; শুরু করেছেন রাসূলের জন্ম এবং এর পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক ঘটনাবলি দিয়ে, তারপর রাসূলের জীবন বর্ণনা করে গিয়েছেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে তাঁর সান্নিধ্যে নিয়ে নিয়েছেন। তিনি সেই সংবাদগুলোই উদ্ধৃত করেছেন যা সত্যের নিকটবর্তী মনে হয়েছে এবং তার চিন্তা ও বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন বিষয়গুলো বর্জন করেছেন। এভাবে তিনি নিন্দুকদের ভিত্তিহীন দাবিগুলো খণ্ডন করেছেন এবং মিথ্যাবাদীদের জবাব দিয়েছেন।
ফলে তার কিতাবটি রাসূলের এমন এক সীরাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল যা শৈলীতে নতুন এবং অসার ও নিরর্থক কথাবার্তা থেকে মুক্ত।
আর আমরা যখন মানুষের সামনে ইবনে হিশামের সীরাত প্রকাশ করছি, তখন এতে যা কিছু আছে তার সবটুকুসহই প্রকাশ করছি। আমাদের উদ্দেশ্য কেবল আলেমদের সামনে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং যুদ্ধের বিবরণ সম্বলিত প্রাচীনতম ও সংকলিত কিতাবটির একটি নির্ভুল পাঠ তুলে ধরা।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
(مؤلفون جمعُوا بَين السِّيرَة والتاريخ) :وثمّ مؤلفون آخَرُونَ، وصلوا سيرة الرَّسُول بِمَا بعْدهَا من الْحَوَادِث وَالْأَخْبَار، فِي الْأَزْمَان الَّتِي تعاقبت، والسنين الَّتِي توالت، فَجَاءَت سيرة الرَّسُول فِي كتبهمْ أمرا غير مَقْصُود لذاته: بل حَلقَة من حلقات التَّارِيخ الْعَام الّذي بدأه بَعضهم من بَدْء الْوُجُود، كَابْن جرير الطَّبَرِيّ، وبدأه فريق آخر بحياة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم كَالْإِمَامِ الْحَافِظ أَبى شُجَاع شيرويه صَاحب كتاب رياض الْأنس، الْمُتَوفَّى سنة 509 هـ.
[سيرة ابْن إِسْحَاق]
(سَبَب وضع سيرة ابْن إِسْحَاق) :كَانَ ابْن إِسْحَاق من بَين أَعْلَام الْقرن الثَّانِي، وَكَانَ لَهُ علمه الْوَاسِع، واطلاعه الغزير فِي أَخْبَار الماضين، وشاءت الْمَقَادِير أَن يدْخل ابْن إِسْحَاق على الْمَنْصُور بِبَغْدَاد- وَقيل بِالْحيرَةِ- وَبَين يَدَيْهِ ابْنه الْمهْدي، فَقَالَ لَهُ الْمَنْصُور: أتعرف هَذَا يَا بن إِسْحَاق؟ قَالَ: نعم، هَذَا ابْن أَمِير الْمُؤمنِينَ، قَالَ: اذْهَبْ فصنف لَهُ كتابا مُنْذُ خلق الله تَعَالَى آدم عليه السلام إِلَى يَوْمك هَذَا.
فَذهب ابْن إِسْحَاق، فصنّف لَهُ هَذَا الْكتاب، فَقَالَ لَهُ: لقد طوّلته يَا بن إِسْحَاق، اذْهَبْ فَاخْتَصَرَهُ. فَاخْتَصَرَهُ، وَألقى الْكتاب الْكَبِير فِي خزانَة أَمِير الْمُؤمنِينَ [1] .
وَلَكِن بعض الدارسين يرى أَن ابْن إِسْحَاق لم يؤلّف كِتَابه بِأَمْر من الْخَلِيفَة [2] ، وَلَا فِي بَغْدَاد أَو الْحيرَة، وَإِنَّمَا أَلفه فِي الْمَدِينَة قبل إِقَامَته لَدَى العباسيين. ويستدلّ على ذَلِك بِأَن جَمِيع من روى عَنْهُم مدنيون ومصريون وَلَيْسَ فيهم أحد من الْعرَاق، وَأَن إِبْرَاهِيم بن سعد تِلْمِيذه الْمدنِي روى الْكتاب عَنهُ. بل نرى فِي الْكتاب حوادث مَا كَانَ العباسيون ليرضوا عَنْهَا، مثل اشْتِرَاك الْعَبَّاس مَعَ الْكفَّار فِي غَزْوَة بدر، وَأسر الْمُسلمين إِيَّاه، ذَلِك الْخَبَر الّذي حذفه ابْن هِشَام بعد خوفًا من العباسيين.
--------------------------------------------
(এমন লেখকগণ যারা সীরাত ও ইতিহাসকে একত্রিত করেছেন) :আর অন্যান্য কিছু লেখক রয়েছেন, যারা রাসূলুল্লাহর সীরাতকে তাঁর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও সংবাদসমূহের সাথে যুক্ত করেছেন, যা একের পর এক সময় ও বছরগুলোতে আবর্তিত হয়েছে। ফলে তাদের কিতাবসমূহে রাসূলুল্লাহর সীরাত কোনো স্বতন্ত্র উদ্দেশ্য হিসেবে আসেনি; বরং এটি সাধারণ ইতিহাসের একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে এসেছে। তাদের কেউ কেউ অস্তিত্বের শুরু থেকে ইতিহাস আরম্ভ করেছেন, যেমন ইবনে জারীর আত-তাবারী। আবার একদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে ইতিহাস শুরু করেছেন, যেমন ইমাম হাফেয আবু শুজা শিরওয়াইহ, যিনি 'রিয়াযুল উনস' কিতাবের লেখক এবং ৫০৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
[ইবনে ইসহাকের সীরাত]
(ইবনে ইসহাকের সীরাত রচনার কারণ) :ইবনে ইসহাক ছিলেন দ্বিতীয় শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী। অতীত জাতিসমূহের সংবাদ সম্পর্কে তাঁর ছিল অগাধ জ্ঞান ও ব্যাপক পাণ্ডিত্য। ভাগ্যক্রমে ইবনে ইসহাক বাগদাদে—মতান্তরে হীরায়—আল-মানসুরের দরবারে উপস্থিত হলেন। তখন তাঁর সামনে তাঁর পুত্র আল-মাহদী বসা ছিলেন। আল-মানসুর তাকে বললেন: হে ইবনে ইসহাক, আপনি কি একে চেনেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ইনি আমিরুল মুমিনীনের পুত্র। তিনি বললেন: যান, আল্লাহ তাআলা কর্তৃক আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির শুরু থেকে আপনার বর্তমান সময় পর্যন্ত একটি কিতাব ওর জন্য সংকলন করুন।
অতঃপর ইবনে ইসহাক চলে গেলেন এবং তাঁর জন্য এই কিতাবটি সংকলন করলেন। আল-মানসুর তাঁকে বললেন: হে ইবনে ইসহাক, আপনি তো এটি অনেক দীর্ঘ করে ফেলেছেন, যান এবং একে সংক্ষেপ করুন। অতঃপর তিনি একে সংক্ষেপ করলেন এবং বড় কিতাবটি আমিরুল মুমিনীনের গ্রন্থাগারে রেখে দেওয়া হলো [১]।
কিন্তু কোনো কোনো গবেষক মনে করেন যে, ইবনে ইসহাক তাঁর কিতাবটি খলীফার নির্দেশে রচনা করেননি [২], আর এটি বাগদাদ বা হীরায়ও রচিত হয়নি। বরং তিনি এটি আব্বাসীয়দের নিকট অবস্থানের পূর্বে মদীনায় থাকাকালীন রচনা করেছিলেন। এর স্বপক্ষে দলিল এই যে, তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন তারা সকলেই মদীনা ও মিশরের অধিবাসী এবং তাদের মধ্যে ইরাকের কেউ নেই। এছাড়া তাঁর মদীনার ছাত্র ইব্রাহীম ইবনে সাদ তাঁর থেকে এই কিতাবটি বর্ণনা করেছেন। এমনকি আমরা এই কিতাবের মধ্যে এমন সব ঘটনা দেখতে পাই যা আব্বাসীয়রা সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করত না, যেমন বদর যুদ্ধে কাফেরদের সাথে আব্বাসের অংশগ্রহণ এবং মুসলিমদের হাতে তাঁর বন্দী হওয়ার ঘটনা। এই সংবাদটি পরবর্তীতে ইবনে হিশাম আব্বাসীয়দের ভয়ে বাদ দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَتبين من سيرة ابْن هِشَام، وَمَا اقتطفه الطَّبَرِيّ وَغَيره من سيرة ابْن إِسْحَاق أَنَّهَا كَانَت أصلا مقسمة إِلَى ثَلَاثَة أَجزَاء: المبتدإ، والمبعث، والمغازي. أما الْمُبْتَدَأ فَيتَنَاوَل التَّارِيخ الجاهلي، وينقسم إِلَى أَرْبَعَة فُصُول: يتَنَاوَل أَولهَا تَارِيخ الرسالات السَّابِقَة على الْإِسْلَام، وَثَانِيها تَارِيخ الْيمن فِي الْجَاهِلِيَّة، وَثَالِثهَا تَارِيخ الْقَبَائِل الْعَرَبيَّة وعباداتها، وَالرَّابِع تَارِيخ مَكَّة وأجداد الرَّسُول صلى الله عليه وسلم. وَلَا يعْنى ابْن إِسْحَاق فِي هَذَا الْجُزْء بأسانيد أخباره إِلَّا نَادرا، ويستقى من الأساطير والإسرائيليات.
أما المبعث، فَيشْمَل حَيَاة النبيّ عليه الصلاة والسلام فِي مَكَّة وَالْهجْرَة. ونرى الْمُؤلف فِيهِ يصدر الْأَخْبَار الفردية بموجز حاولها، ويدوّن مجموعات كَامِلَة من القوائم فقائمة لمن أسلم من الصَّحَابَة بدعوة أَبى بكر، وَأُخْرَى بالمهاجرين إِلَى أَرض الْحَبَشَة، وثالثة لمن عَاد من أَرض الْحَبَشَة لمّا بَلغهُمْ إِسْلَام أهل مَكَّة، وَغَيرهَا. ويعنى بالترتيب الزمنى للحوادث، كَمَا تزداد عنايته بأسانيد الْأَخْبَار.
وَأما الْمَغَازِي، فتتناول حَيَاة النبيّ فِي الْمَدِينَة، وأجرى فِيهَا على أَن يبْدَأ الْخَبَر بموجز حاد لمحتوياته ثمَّ يتبعهُ بِخَبَر من جَمِيع الْأَقْوَال الَّتِي أَخذهَا من رُوَاته ثمَّ يكمله بِمَا جمعه هُوَ نَفسه من المصادر الْمُخْتَلفَة. وتكثر القوائم أَيْضا، من الْغَزَوَات الْمُخْتَلفَة.
ويلتزم إِيرَاد الْأَسَانِيد، وَالتَّرْتِيب الزمنى.
(أثر ابْن هِشَام فِي سيرة ابْن إِسْحَاق) :ثمَّ قيّض الله لهَذَا المجهود- مجهود ابْن إِسْحَاق- رجلا لَهُ شَأْنه، هُوَ ابْن هِشَام، المعافريّ فَجمع هَذِه السِّيرَة ودوّنها، وَكَانَ لَهُ فِيهَا قلم لم يَنْقَطِع عَن تعقّب ابْن إِسْحَاق الْكثير مِمَّا أورد بالتحرير، والاختصار، والنقد أَو بِذكر رِوَايَة أُخْرَى فَاتَ ابْن إِسْحَاق ذكرهَا، هَذَا إِلَى تَكْمِلَة أضافها، وأخبار أَتَى بهَا. وَفِي هَذِه الْعبارَة الَّتِي صدّر بهَا ابْن هِشَام كتاب السِّيرَة مَا يكْشف لَك عَن دستور ابْن هِشَام ونهجه، قَالَ:
«وَأَنا إِن شَاءَ الله مبتدئ هَذَا الْكتاب بِذكر إِسْمَاعِيل بن إِبْرَاهِيم، وَمن ولد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من وَلَده، وَأَوْلَادهمْ لأصلابهم، الأوّل فالأوّل، من إِسْمَاعِيل إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وَمَا يعرض من حَدِيثهمْ،
ইবনে হিশামের সীরাত এবং তাবারী ও অন্যান্যদের ইবনে ইসহাকের সীরাত থেকে সংগৃহীত অংশসমূহ থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত ছিল: আল-মুবতাদা (সূচনা), আল-মাবআস (নবুওয়াতপ্রাপ্তি) এবং আল-মাগাযী (যুদ্ধাভিযান)। আল-মুবতাদা অংশটি জাহেলী যুগের ইতিহাস নিয়ে রচিত এবং এটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত: প্রথম অধ্যায়ে ইসলামের পূর্ববর্তী রিসালাতসমূহের ইতিহাস, দ্বিতীয় অধ্যায়ে জাহেলী যুগে ইয়ামেনের ইতিহাস, তৃতীয় অধ্যায়ে আরব গোত্রসমূহ ও তাদের উপাসনার ইতিহাস এবং চতুর্থ অধ্যায়ে মক্কা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। ইবনে ইসহাক এই অংশে খুব কম ক্ষেত্রেই বর্ণনার সনদ বা সূত্রের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেছেন এবং তিনি উপকথা ও ইসরাঈলী বর্ণনাসমূহ থেকে তথ্য আহরণ করেছেন।
আল-মাবআস অংশে মক্কায় নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের জীবন ও হিজরত অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমরা দেখি যে, লেখক প্রতিটি পৃথক সংবাদকে একটি সারসংক্ষেপ দিয়ে শুরু করেছেন এবং বেশ কিছু পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংকলন করেছেন; যেমন: আবু বকরের দাওয়াতে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন সেসব সাহাবীদের তালিকা, আবিসিনিয়ায় হিজরতকারীদের তালিকা এবং যখন মক্কাবাসীদের ইসলাম গ্রহণের খবর পৌঁছল তখন যারা আবিসিনিয়া থেকে ফিরে এসেছিলেন তাদের তালিকা ইত্যাদি। তিনি ঘটনার কালানুক্রমিক বিন্যাসের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন এবং খবরের সনদের প্রতিও তাঁর যত্ন বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর আল-মাগাযী অংশে মদীনায় নবীজির জীবন আলোচনা করা হয়েছে। এখানে তিনি এমন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যে, প্রথমে সংবাদটির বিষয়বস্তুর একটি সারসংক্ষেপ পেশ করেন, এরপর বর্ণনাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সকল উক্তির একটি সমন্বিত রূপ উপস্থাপন করেন এবং সবশেষে তিনি নিজে বিভিন্ন উৎস থেকে যা সংগ্রহ করেছেন তা দিয়ে সংবাদটি পূর্ণ করেন। বিভিন্ন যুদ্ধাভিযানের ক্ষেত্রেও এখানে প্রচুর তালিকা দেখা যায়।
তিনি এখানে সনদ উল্লেখ এবং কালানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছেন।
(ইবনে ইসহাকের সীরাতের ওপর ইবনে হিশামের প্রভাব) :অতঃপর আল্লাহ তাআলা ইবনে ইসহাকের এই প্রচেষ্টার জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বকে মনোনীত করেন, তিনি হলেন ইবনে হিশাম আল-মুআফিরী। তিনি এই সীরাত সংগ্রহ ও সংকলন করেন। ইবনে ইসহাকের অনেক বর্ণনা পরিমার্জন, সংক্ষেপণ, সমালোচনা অথবা ইবনে ইসহাক যা বাদ দিয়েছেন এমন অন্য কোনো বর্ণনা উল্লেখ করার মাধ্যমে তাঁর লেখনী ইবনে ইসহাকের বর্ণনাসমূহকে অনুসরণ করেছে। এর পাশাপাশি তিনি কিছু পরিপূরক বিষয় এবং সংবাদও যুক্ত করেছেন। সীরাত গ্রন্থের শুরুতে ইবনে হিশাম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে তাঁর কর্মপদ্ধতি ও নীতি ফুটে ওঠে। তিনি বলেন:
«ইনশাআল্লাহ, আমি এই কিতাবটি ইব্রাহীমের পুত্র ইসমাইলের বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বংশের যাদের সন্তান ছিলেন এবং তাদের ঔরসজাত সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইল থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে যারা ছিলেন তাদের আলোচনা করব এবং তাদের সংক্রান্ত যেসব সংবাদ পাওয়া যায়...
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
وتارك ذكر غَيرهم من ولد إِسْمَاعِيل، على هَذِه الْجِهَة للاختصار، إِلَى حَدِيث سيرة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وتارك بعض مَا يذكرهُ ابْن إِسْحَاق فِي هَذَا الْكتاب مِمَّا لَيْسَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيهِ ذكر، وَلَا نزل فِيهِ من الْقُرْآن شَيْء، وَلَيْسَ سَببا لشَيْء من هَذَا الْكتاب، وَلَا تَفْسِيرا لَهُ، وَلَا شَاهدا عَلَيْهِ، لما ذكرت من الِاخْتِصَار، وأشعارا ذكرهَا لم أر أحدا من أهل الْعلم بالشعر يعرفهَا، وَأَشْيَاء بَعْضهَا يشنع الحَدِيث بِهِ، وَبَعض يسوء بعض النَّاس ذكره، وَبَعض لم يقرّ لنا البكّائيّ بروايته، ومستقص إِن شَاءَ الله تَعَالَى مَا سوى ذَلِك مِنْهُ بمبلغ الرِّوَايَة لَهُ، وَالْعلم بِهِ-.
فترى أَنه استبعد من عمل ابْن إِسْحَاق تَارِيخ الْأَنْبِيَاء من آدم إِلَى إِبْرَاهِيم، وَغير هَذَا من ولد إِسْمَاعِيل، مِمَّن لَيْسُوا فِي العمود النَّبَوِيّ، كَمَا حذف من الْأَخْبَار مَا يسوء وَمن الشّعْر مَا لم يثبت لَدَيْهِ، ثمَّ استقصى وَزَاد بِمَا يملك من علم، ويسترشد من فكرة فَجَاءَت السِّيرَة على مَا ترى مَعْرُوفَة بِهِ، منسوبة إِلَيْهِ، حَتَّى ليكاد النَّاس ينسون مَعَه مؤلفها الأول: ابْن إِسْحَاق.
(السهيليّ وَغَيره من شرَّاح سيرة ابْن هِشَام) :وَجَاء أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن السّهيليّ الْمُتَوفَّى سنة 581 هـ، فعنى بِهَذَا الْكتاب، وتناوله على نَحْو جَدِيد ونهج آخر، وَهُوَ بِمَنْزِلَة الشَّرْح وَالتَّعْلِيق عَلَيْهِ. فَوضع كِتَابه «الرَّوْض الْأنف» فِي ظلّ مجهودي ابْن إِسْحَاق وَابْن هِشَام، يتعقبهما فِيمَا أخبرا بالتحرير والضبط، ثمَّ بالشرح وَالزِّيَادَة، فجَاء عمله هَذَا كتابا آخر فِي السِّيرَة بحجمه وَكَثْرَة مَا حواه من آراء، تشهد لصَاحِبهَا بطول الباع، وسعة الِاطِّلَاع.
وعَلى شاكلة مجهود السهيليّ جَاءَ- فِيمَا يظنّ- مجهود بدر الدَّين مُحَمَّد بن أَحْمد الْعَيْنِيّ الْحَنَفِيّ، فَوضع عَلَيْهِ كِتَابه «كشف اللثام» ، وَكَانَ فَرَاغه مِنْهُ سنة 805 هـ.
وَلَيْسَ بَين أَيْدِينَا من هَذَا الْكتاب نُسْخَة حَتَّى نحكم لصَاحبه، ونتعرّف عمله.
ثمَّ لَا ننسى مجهود أَبى ذرّ الخشنيّ، فقد تصدّى للْكتاب، فشرح غَرِيبه، وَلم ينس أَن يعرض لما فِيهِ من أخطاء، فجَاء عمله مَعَ عمل السّهيليّ متممين لمجهود عَظِيم، سبق بِهِ ابْن إِسْحَاق وَابْن هِشَام.
আমি সংক্ষেপ করার প্রয়োজনে ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে অন্যদের আলোচনা বর্জন করেছি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত পর্যন্ত পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে। আমি ইবনে ইসহাক তাঁর এই কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয় বাদ দিয়েছি যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উল্লেখ নেই, সে বিষয়ে কুরআনের কোনো আয়াত অবতীর্ণ হয়নি, যা এই কিতাবের কোনো বিষয়ের কারণ নয়, তার ব্যাখ্যাও নয় এবং তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণও নয়; আর এটি আমি করেছি সংক্ষেপ করার স্বার্থে। এছাড়া তিনি এমন কিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন যা কবিতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কাউকে জানতে দেখিনি। এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যার বর্ণনা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ এবং কিছু বিষয় এমন যা উল্লেখ করা কিছু মানুষের কাছে অপ্রীতিকর মনে হতে পারে। আবার কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-বুক্কায়ী আমাদের কাছে তা বর্ণনা করার স্বীকৃতি দেননি। তবে ইনশাআল্লাহ তাআলা, আমি বর্ণনার সামর্থ্য ও অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী এগুলি ব্যতীত বাকি সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।
আপনি লক্ষ্য করবেন যে, তিনি ইবনে ইসহাকের কর্ম থেকে আদম থেকে ইবরাহিম পর্যন্ত নবীদের ইতিহাস এবং ইসমাঈলের বংশধরদের মধ্য থেকে যারা নববী বংশপরম্পরার অন্তর্ভুক্ত নন তাদের ইতিহাস বাদ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অপ্রীতিকর সংবাদসমূহ এবং সেই সব কবিতা বর্জন করেছেন যা তাঁর নিকট প্রমাণিত ছিল না। অতঃপর তিনি স্বীয় জ্ঞান ও চিন্তাশক্তির আলোকে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ করেছেন এবং অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছেন। ফলে সীরাত গ্রন্থটি এমন এক অবয়বে আত্মপ্রকাশ করেছে যা তাঁর নামেই সুপরিচিত ও তাঁর দিকেই সম্পর্কিত হয়েছে, এমনকি মানুষ এর আদি রচয়িতা ইবনে ইসহাকের কথা প্রায় ভুলতে বসেছে।
(আস-সুহাইলি ও ইবনে হিশামের সীরাতের অন্যান্য ব্যাখ্যাকারগণ):৫৮১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান আস-সুহাইলি এই কিতাবটির প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং একে এক নতুন আঙ্গিকে ও ভিন্ন পদ্ধতিতে গ্রহণ করেন। এটি মূলত এর ব্যাখ্যা ও টীকা স্বরূপ। তিনি ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশামের কর্মতৎপরতাকে ভিত্তি করে তাঁর ‘আর-রাওদুল উনুফ’ গ্রন্থটি সংকলন করেন। তিনি তাঁদের বর্ণিত বিষয়াদিকে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও প্রমিতকরণের মাধ্যমে অনুসরণ করেন এবং সাথে ব্যাখ্যা ও পরিমার্জন যোগ করেন। ফলে তাঁর এই কর্মটি এর কলেবর ও এতে বিদ্যমান মতামতের প্রাচুর্যের কারণে সীরাত বিষয়ের ওপর একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে গণ্য হয়েছে, যা লেখকের সুগভীর পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক জ্ঞান-গবেষণার সাক্ষ্য দেয়।
সুহাইলির প্রচেষ্টার অনুরূপে—যেমনটি ধারণা করা হয়—বদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আইনী আল-হানাফীও সচেষ্ট হয়েছিলেন। তিনি এর ওপর তাঁর ‘কাশফুল লিসাম’ নামক কিতাবটি রচনা করেন এবং ৮০৫ হিজরিতে তা সম্পন্ন করেন।
আমাদের নিকট এই কিতাবটির কোনো পাণ্ডুলিপি নেই যার মাধ্যমে আমরা এর লেখক সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি বা তাঁর কাজ সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে পারি।
অতঃপর আমরা আবু যার আল-খুশানীর প্রচেষ্টার কথা বিস্মৃত হই না। তিনি এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করেছেন এবং এর জটিল শব্দাবলির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি এতে বিদ্যমান ভুলত্রুটিগুলো নির্দেশ করতেও ভুলেননি। ফলে তাঁর এই কর্মটি সুহাইলির কর্মের পাশাপাশি এক মহান প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দান করেছে, যার পথ প্রদর্শন করেছিলেন ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশাম।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(مُخْتَصر وسيرة ابْن إِسْحَاق) :وَلم نر بعد هَؤُلَاءِ رجلا فِي علمهمْ تنَاول الْكتاب بجديد فِي الشَّرْح وَالتَّعْلِيق، بل رَأينَا الهمم تَنْصَرِف من هَذَا إِلَى الِاخْتِصَار، فجَاء برهَان الدَّين إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد المرحّل الشافعيّ، فاختصر كتاب السِّيرَة، وَزَاد عَلَيْهِ أمورا، ورتبه فِي ثَمَانِيَة عشر مَجْلِسا. وَسَماهُ: «الذّخيرة، فِي مُخْتَصر السِّيرَة» . وَكَانَ فَرَاغه مِنْهُ سنة 611 هـ.
ثمَّ جَاءَ بعده عماد الدَّين أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن الوَاسِطِيّ، فَاخْتَصَرَهُ فِي كتاب سَمَّاهُ: «مُخْتَصر سيرة ابْن هِشَام» ، وَفرغ مِنْهُ- فِيمَا يُقَال- سنة 711 هـ.
(ناظمو سيرة ابْن إِسْحَاق) :ثمَّ رَأينَا بعد هَؤُلَاءِ فِئَة النظاميين الَّذين لم يكن هَمهمْ إِلَّا أَن يصبوها فِي قالب جَدِيد هُوَ الشّعْر. فنظمها أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَزِيز بن مُحَمَّد بن سعيد الدَّمِيرِيّ الدّيرينىّ الْمُتَوفَّى فِي حُدُود سنة 607 هـ، وَأَبُو نصر الْفَتْح بن مُوسَى بن مُحَمَّد نجم الدَّين المغربي الخضراوى الْمُتَوفَّى سنة 663 هـ، كَمَا نظمها أَبُو بكر مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد النابلسي الْمَعْرُوف بِابْن الشَّهِيد، والمتوفى سنة 793 هـ. وسمّى كِتَابه «الْفَتْح الْقَرِيب» ، ثمَّ أَبُو إِسْحَاق الْأنْصَارِيّ التلمساني.
هَذَا هُوَ حظّ كتاب ابْن إِسْحَاق، تناولته يَد بعد يَد، مرّة بِالْجمعِ والتعقيب كَمَا رَأَيْت، وَأُخْرَى بالشرح وَالتَّفْصِيل، وثالثة بالاختصار، ورابعة بِوَضْعِهِ فِي ثوب جَدِيد هُوَ النّظم.
فَابْن إِسْحَاق- فِي الْحَقِيقَة- هُوَ عُمْدَة المؤلّفين الَّذين اشتغلوا بِوَضْع السّير بعده، حَتَّى يمكننا أَن نقُول: مَا من كتاب وضع فِي السِّيرَة بعد ابْن إِسْحَاق إِلَّا وَهُوَ غرفَة من بحرة. هَذَا إِذا استثنينا رجلا أَو اثْنَيْنِ كالواقدى وَابْن سعد.
ابْن إِسْحَاق
(نسبه) :هُوَ مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن يسَار بن خِيَار، وَيُقَال: ابْن كوثان، أَبُو بكر، وَيُقَال أَبُو عبد الله، المدنيّ القرشيّ، مولى قيس بن مخرمَة بن المطّلب بن عبد منَاف.
(ইবনে ইসহাকের সীরাতের সংক্ষিপ্তসার):এঁদের পরে আমরা ইলমের ক্ষেত্রে এমন কাউকে দেখিনি যিনি ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে কিতাবটি নিয়ে নতুন কিছু করেছেন, বরং আমরা দেখেছি মানুষের আগ্রহ এই বিষয়ের পরিবর্তে সংক্ষিপ্তকরণের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে বুরহানুদ্দীন ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ আল-মুরাহহিল আশ-শাফিঈ আগমন করেন, তিনি সীরাত গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেন এবং এতে কিছু বিষয় যোগ করেন এবং আঠারোটি মজলিসে বিন্যস্ত করেন। তিনি এর নামকরণ করেন: «আয-যাখীরা, ফী মুখতাসারি আস-সীরা»। তিনি ৬১১ হিজরিতে এটি সমাপ্ত করেন।
তারপর তাঁর পরে আসলেন ইমাদুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আব্দুর রহমান আল-ওয়াসিতী, তিনি একে একটি কিতাবে সংক্ষেপ করেন যার নাম দেন: «মুখতাসারু সীরাতি ইবনে হিশাম», এবং কথিত আছে যে তিনি এটি ৭১১ হিজরিতে সমাপ্ত করেন।
(ইবনে ইসহাকের সীরাতের কাব্যরূপ দানকারীগণ):এরপর আমরা এঁদের পরে একদল কাব্যানুরাগীদের দেখতে পাই যাদের লক্ষ্য ছিল বিষয়বস্তুটিকে কবিতার নতুন ছাঁচে ঢেলে দেওয়া। তাই এটি পদ্যে রূপান্তর করেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আদ-দামিরি আদ-দাইরিনি, যিনি ৬০৭ হিজরির কাছাকাছি সময়ে ইন্তেকাল করেন, এবং আবু নাসর আল-ফাতহ ইবনে মুসা ইবনে মুহাম্মদ নাজমুদ্দীন আল-মাগরিবি আল-খাদরাউয়ি, যিনি ৬৬৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। একইভাবে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ আন-নাবুলুসি যিনি ইবনে শাহীদ নামে পরিচিত এবং ৭৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, এটি পদ্যে রূপান্তর করেন। তিনি তাঁর কিতাবের নাম রাখেন «আল-ফাতহুল কারীব», এরপর আসেন আবু ইসহাক আল-আনসারী আত-তিলিমসানি।
এটিই হলো ইবনে ইসহাকের কিতাবের মর্যাদা, যা একের পর এক হাত পরিক্রম করেছে—কখনো সংকলন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে যেমনটি আপনি দেখেছেন, কখনো ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনার মাধ্যমে, তৃতীয়ত সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে এবং চতুর্থত একে কবিতার নতুন অবয়বে উপস্থাপনের মাধ্যমে।
বস্তুত ইবনে ইসহাকই হলেন পরবর্তী সীরাত রচয়িতাদের প্রধান অবলম্বন। এমনকি আমরা বলতে পারি যে, ইবনে ইসহাকের পরে সীরাত বিষয়ক যে কিতাবই রচিত হয়েছে, তা যেন তাঁর সমুদ্র থেকে নেওয়া এক অঞ্জলি পানি মাত্র। তবে আমরা যদি ওয়াকিদী এবং ইবনে সাআদের মতো দু-একজনকে ব্যতিক্রম ধরি।
ইবনে ইসহাক
(তাঁর বংশপরিচয়):তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার ইবনে খিয়ার, মতান্তরে ইবনে কুসান। উপনাম আবু বকর, অন্য মতে আবু আব্দুল্লাহ; তিনি মাদানী কুরাশী এবং কায়েস ইবনে মাখরামা ইবনে আল-মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফের মুক্তদাস।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كَانَ جدّه يسَار من سبى عين التَّمْر، وَهِي بَلْدَة قديمَة قريبَة من الأنبار، غربي الْكُوفَة، على طرف الْبَريَّة، افتتحها الْمُسلمُونَ أَيَّام أَبى بكر سنة 12 هـ، على يَد خَالِد ابْن الْوَلِيد، وبكنيسة عين التَّمْر وجد خَالِد بن الْوَلِيد جدّ ابْن إِسْحَاق هَذَا بَين الغلمة الَّذين كَانُوا رهنا فِي يَد كسْرَى، وَكَانَ مَعَه جدّ عبد الله بن أَبى إِسْحَاق الحضرميّ النحويّ، وجدّ الْكَلْبِيّ الْعَالم، فجيء بيسار إِلَى الْمَدِينَة.
(مولده ووفاته) :ولد ابْن إِسْحَاق فِي الْمَدِينَة، وترجح كتب التَّارِيخ أَن مولده كَانَ سنة 85 هـ.
أما وَفَاته فالأقوال فِيهَا محصورة بَين سنة 150 وَبَين 153 لَا تكَاد تعدو هَذِه السنين الْأَرْبَع.
(نشأته وحياته) :وَلَيْسَ من شكّ فِي أَن ابْن إِسْحَاق خلع بِالْمَدِينَةِ ثوب شبابه، ويحدّثنا الرّواة عَنهُ بِأَنَّهُ كَانَ فَتى جميلا، جذّاب الْوَجْه، فارسىّ الْخلقَة، لَهُ شَعْرَة حَسَنَة. وَمِمَّا يتَّصل بشبابه ومجونه- إِن صحّ مَا يُقَال عَنهُ- مَا حَكَاهُ ابْن النديم من أَن أَمِير الْمَدِينَة رقى إِلَيْهِ أَن مُحَمَّدًا يغازل النِّسَاء، فَأمر بإحضاره وضربه أسواطا، وَنَهَاهُ عَن الْجُلُوس فِي مُؤخر الْمَسْجِد.
وَترك ابْن إِسْحَاق الْمَدِينَة ورحل إِلَى غَيرهَا منتقلا فِي أَكثر من بلد، وَفِي ظننا أَن رحلته إِلَى الْإسْكَنْدَريَّة- الَّتِي كَانَت سنة 115 هـ- هِيَ أولى رحلاته الَّتِي بَدَأَ بهَا.
وَفِي الْإسْكَنْدَريَّة حدث عَن جمَاعَة من أهل مصر. مِنْهُم: عبيد الله بن الْمُغيرَة، وَيزِيد بن حبيب، وثمامة بن شفىّ، وَعبيد الله بن أَبى جَعْفَر، وَالقَاسِم بن قزمان، والسّكن بن أَبى كَرِيمَة. وَانْفَرَدَ ابْن إِسْحَاق بِرِوَايَة أَحَادِيث عَنْهُم لم يروها لَهُم غَيره ثمَّ كَانَت رحلته إِلَى الْكُوفَة، والجزيرة، والرّيّ، والحيرة، وبغداد، وَفِي بَغْدَاد- على الْأَرْجَح- ألْقى عَصا التّرحال، والتقى بالمنصور، وصنّف لِابْنِهِ الْمهْدي كتاب السِّيرَة كَمَا أسلفنا. ورواة ابْن إِسْحَاق من هَذِه الْبلدَانِ أَكثر مِمَّن رووا عَنهُ من أهل الْمَدِينَة، بل الْمَعْرُوف أَنه لم يرو لَهُ من أهل الْمَدِينَة غير إِبْرَاهِيم بن سعد وعاش بِبَغْدَاد مَا عَاشَ حَتَّى وافته منيته بهَا، فَدفن فِي مَقْبرَة الخيزران.
তাঁর দাদা ইয়াসার ছিলেন আইনুত তামর থেকে বন্দি হওয়া ব্যক্তিদের একজন। এটি একটি প্রাচীন শহর যা আনবারের নিকটবর্তী, কুফার পশ্চিমে মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত। আবু বকর (রা.)-এর যুগে ১২ হিজরিতে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের হাতে মুসলমানরা এটি জয় করেন। আইনুত তামরের গির্জায় খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ এই ইবনে ইসহাকের দাদাকে সেই কিশোরদের মধ্যে পেয়েছিলেন যারা কিসরার হাতে জিম্মি ছিল। তাঁর সাথে নাহুবিদ আব্দুল্লাহ ইবনে আবি ইসহাক আল-হাদরামীর দাদা এবং আলিম আল-কালবীর দাদাও ছিলেন। এরপর ইয়াসারকে মদীনায় নিয়ে আসা হয়।
(তাঁর জন্ম ও মৃত্যু) :ইবনে ইসহাক মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ইতিহাস গ্রন্থগুলোর প্রবল মতানুসারে তাঁর জন্ম ৮৫ হিজরিতে হয়েছিল।
আর তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারে মতামতসমূহ ১৫০ হিজরি থেকে ১৫৩ হিজরির মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মূলত এই চার বছরের বাইরে যায় না।
(তাঁর লালন-পালন ও জীবন) :এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইবনে ইসহাক তাঁর যৌবনকাল মদীনায় অতিবাহিত করেছেন। বর্ণনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে বলেন যে, তিনি ছিলেন একজন সুশ্রী যুবক, তাঁর চেহারা ছিল আকর্ষণীয়, পারস্যদেশীয় শারীরিক গঠন এবং তাঁর সুন্দর চুল ছিল। তাঁর যৌবন ও চপলতা সম্পর্কে—যদি তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত কথা সত্য হয়—ইবনে নাদীম বর্ণনা করেছেন যে, মদীনার আমীরের কাছে খবর পৌঁছেছিল যে মুহাম্মাদ (ইবনে ইসহাক) নারীদের সাথে চপলতা করেন। ফলে তিনি তাঁকে হাজির করার নির্দেশ দেন এবং তাঁকে চাবুক মারেন, আর মসজিদের পেছনের অংশে বসতে তাঁকে নিষেধ করেন।
ইবনে ইসহাক মদীনা ত্যাগ করেন এবং একের পর এক বিভিন্ন শহর ভ্রমণ করেন। আমাদের ধারণা মতে, ১১৫ হিজরি সনে আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সফরটিই ছিল তাঁর শুরু করা সফরগুলোর মধ্যে প্রথম।
আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি মিসরের একদল আলিমের নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: উবাইদুল্লাহ ইবনুল মুগীরা, ইয়াযীদ ইবনে হাবীব, সুমামাহ ইবনে শাফী, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি জাফর, কাসিম ইবনে কুযমান এবং আস-সাকান ইবনে আবি কারীমাহ। ইবনে ইসহাক তাঁদের নিকট থেকে এমন কিছু হাদীস এককভাবে বর্ণনা করেছেন যা অন্য কেউ বর্ণনা করেননি। এরপর তিনি কুফা, জাজিরা, রায়, হীরা এবং বাগদাদে সফর করেন। বাগদাদেই সম্ভবত তিনি তাঁর সফরের ইতি টানেন এবং খলীফা মনসুরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি তাঁর পুত্র মাহদীর জন্য ‘সীরাত’ গ্রন্থটি রচনা করেন যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। মদীনার অধিবাসীদের তুলনায় এই সকল শহরগুলোতে ইবনে ইসহাকের বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। বরং এটিই প্রসিদ্ধ যে, ইবরাহীম ইবনে সা'দ ব্যতীত মদীনার অন্য কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। তিনি বাগদাদেই তাঁর অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করেন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে খায়যুরান গোরস্থানে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
(مَنْزِلَته ومكانته) :إِن المتتبع لأخبار الروَاة عَن ابْن إِسْحَاق يجد إِلَى جَانب الْإِسْرَاف فِي النّيل مِنْهُ، الْإِسْرَاف فِي مدحه، فتجد عَالما جَلِيلًا كَالْإِمَامِ مَالك بن أنس، وَآخر كهشام بن عُرْوَة بن الزبير، يكادان يخرجانه من حَظِيرَة المحدّثين، أهل الصدْق والثّقة، وَلَا يدّخران وسعا فِي اتهامه بِالْكَذِبِ والدّجل. ذَلِك إِلَى اتهامات أُخْرَى رمى بهَا ابْن إِسْحَاق، كالتدليس، وَالْقَوْل بِالْقدرِ، والتشيع، وَالنَّقْل عَن غير الثّقات، وصنع الشّعْر وَوَضعه فِي كِتَابه، وَالْخَطَأ فِي الْأَنْسَاب.
كَمَا أَنَّك تَجِد غير وَاحِد من الْأَئِمَّة الْأَعْلَام، كَابْن شهَاب الزهرىّ، وَشعْبَة بن الحجّاج وسُفْيَان الثوريّ، وَزِيَاد البكّائيّ، يوثقونه وَلَا يَتَّهِمُونَهُ بِشَيْء من هَذَا.
وَفِي الحقّ أَن جملَة الحاملين عَلَيْهِ لم تكن مبرأة عَن الْغَايَة، وَلم تكن من الحقّ فِي شَيْء. فانا نعلم عَن ابْن إِسْحَاق أَنه كَانَ يطعن فِي نسب مَالك بن أنس، وَفِي علمه، وَيَقُول: ائْتُونِي بِبَعْض كتبه حَتَّى أبين عيوبه، أَنا بيطار كتبه. فانبرى لَهُ مَالك، وفتّش هُوَ الآخر عَن عيوبه، وَسَماهُ دجالًا، وَكَانَت بَينهمَا هَذِه الْحَرْب الكلامية.
كَمَا غاظ هِشَام بن عبد الْملك من ابْن إِسْحَاق أَنه كَانَ يدعى رِوَايَته عَن امْرَأَته، وَالرِّوَايَة فِي ظنّ هِشَام لَا بدّ أَن تصحبها الرُّؤْيَة، وَهُوَ ضنين بزوجه أَن يَرَاهَا أحد. - وَلَقَد فَاتَ هشاما أَن الرِّوَايَة قد تكون من وَرَاء حجاب، أَو أَن ابْن إِسْحَاق حمل عَنْهَا صَغِيرا. ثمَّ مَا لهشام يُؤْذِيه هَذَا، وَقد كَانَت سنّ زوجه يَوْم يصحّ أَن يحمل عَنْهَا ابْن إِسْحَاق لَا تقلّ عَن خمسين سنة، فَهِيَ تسبقه فِي الْوُجُود بِمَا يقرب من 37 عَاما، ذَلِك إِلَى أَنه لم يكن غَرِيبا فِي ذَلِك الْعَصْر أَن يرْوى رجل عَن امْرَأَة.
وَأما مَا رمى بِهِ ابْن إِسْحَاق من التَّدْلِيس وَغَيره، فقد عقد فِي ذَلِك الْخَطِيب فِي كِتَابه «تَارِيخ بَغْدَاد» ، وَابْن سيد النَّاس فِي كِتَابه «عُيُون الْأَثر» فصلين عرضا فيهمَا لتفنيد جَمِيع المطاعن الَّتِي وجهت إِلَيْهِ، نلخص مِنْهُمَا مَا يأتى:
وَأما مَا رمى بِهِ من التَّدْلِيس وَالْقدر والتشيّع فَلَا يُوجب ردّ رِوَايَته، وَلَا يُوقع فِيهَا كَبِير وَهن. أما التَّدْلِيس فَمِنْهُ القادح وَغَيره، وَلَا يحمل مَا وَقع هَاهُنَا من مُطلق
(তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান) :ইবনে ইসহাক সম্পর্কে বর্ণনাকারীদের সংবাদগুলো যারা অনুসরণ করেন, তারা দেখতে পাবেন যে তাঁর সমালোচনা করার ক্ষেত্রে যেমন অতিশয়োক্তি রয়েছে, তেমনি তাঁর প্রশংসার ক্ষেত্রেও অতিশয়োক্তি রয়েছে। আপনি ইমাম মালিক ইবনে আনাসের মতো একজন মহান আলেম এবং হিশাম ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইরের মতো আরেকজনকে পাবেন, যারা তাঁকে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুহাদ্দিসদের গণ্ডি থেকে প্রায় বের করে দেওয়ার উপক্রম করেছিলেন এবং তাঁকে মিথ্যাচার ও প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি। এর পাশাপাশি ইবনে ইসহাকের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ তোলা হয়েছে, যেমন— তাদলীস করা, তাকদিরে বিশ্বাস (কাদারিয়া মতবাদ), শিয়া মতাবলম্বী হওয়া, অবিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা, কবিতা তৈরি করে তা নিজ কিতাবে ঢুকিয়ে দেওয়া এবং বংশবৃত্তান্ত বর্ণনায় ভুল করা।
আবার আপনি অনেক প্রখ্যাত ইমামকে পাবেন, যেমন— ইবনে শিহাব আজ-জুহরি, শু'বাহ ইবনে হাজ্জাজ, সুফিয়ান আস-সাওরি এবং জিয়াদ আল-বাক্কায়ী, যারা তাঁকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এসবের কোনো কিছুই উত্থাপন করেননি।
প্রকৃতপক্ষে, যারা তাঁর ওপর আক্রমণাত্মক ছিলেন তাদের সবার উদ্দেশ্য একেবারেই নিষ্কলুষ ছিল না এবং তা সব ক্ষেত্রে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। আমরা জানি যে, ইবনে ইসহাক ইমাম মালিক ইবনে আনাসের বংশপরিচয় ও তাঁর ইলম নিয়ে সমালোচনা করতেন এবং বলতেন: "তোমরা আমার কাছে তাঁর কিছু কিতাব নিয়ে এসো যাতে আমি তাঁর ত্রুটিগুলো প্রকাশ করে দিতে পারি; আমি তো তাঁর কিতাবসমূহের চিকিৎসক (বিশারদ)।" ফলে মালিক তাঁর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন এবং তিনিও তাঁর দোষ খুঁজে বের করতে শুরু করলেন এবং তাঁকে 'দাজ্জাল' (প্রতারক) বলে অভিহিত করলেন। তাঁদের মধ্যে মূলত এই বাকযুদ্ধ বিদ্যমান ছিল।
তেমনি হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে ইসহাকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এই কারণে যে, সে (ইবনে ইসহাক) তাঁর স্ত্রীর পক্ষ থেকে বর্ণনা করার দাবি করত। হিশামের ধারণা ছিল যে, বর্ণনার জন্য অবশ্যই সরাসরি দেখার প্রয়োজন রয়েছে, আর তিনি তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল ছিলেন যাতে অন্য কেউ তাকে না দেখে। —হিশাম এটা ভুলে গিয়েছিলেন যে, বর্ণনা পর্দার আড়াল থেকেও হতে পারে অথবা ইবনে ইসহাক হয়তো শৈশবে তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছিলেন। তাছাড়া হিশামের এতে বিরক্ত হওয়ার কী ছিল, অথচ ইবনে ইসহাক যখন তাঁর থেকে বর্ণনা করার যোগ্য বয়সে পৌঁছেছিলেন, তখন তাঁর স্ত্রীর বয়স অন্তত পঞ্চাশ বছরের কম ছিল না; অর্থাৎ তিনি ইবনে ইসহাকের চেয়ে প্রায় ৩৭ বছরের বড় ছিলেন। এছাড়া সেই যুগে কোনো পুরুষ কোনো মহিলার থেকে বর্ণনা করাটা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না।
আর ইবনে ইসহাকের ওপর তাদলীস ও অন্যান্য যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে খতীব (আল-বাগদাদী) তাঁর ‘তারীখ বাগদাদ’ গ্রন্থে এবং ইবনে সাইয়্যিদুন নাস তাঁর ‘উয়ূনুল আসার’ গ্রন্থে দুটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যেখানে তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগের খণ্ডন উপস্থাপন করেছেন। আমরা সেই আলোচনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরছি:
তাঁর ওপর আরোপিত তাদলীস, তাকদির (কাদারিয়া মতবাদ) ও শিয়া মতবাদের অভিযোগগুলো তাঁর বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করাকে আবশ্যক করে না এবং এর ফলে তাঁর বর্ণনায় বড় কোনো দুর্বলতাও তৈরি হয় না। তাদলীসের বিষয়টি হলো— এর মধ্যে কিছু আপত্তিকর এবং কিছু অনাপত্তিকর; তাই এখানে যা ঘটেছে তাকে ঢালাওভাবে...
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
التَّدْلِيس على التَّدْلِيس الْمُقَيد بالقادح فِي الْعَدَالَة، وَكَذَلِكَ الْقدر والتشيّع لَا يقتضيان الردّ إِلَّا بضميمة أُخْرَى، وَلم نجدها هَاهُنَا.
ثمَّ عرضا بعد ذَلِك للردّ على طعن الطاعنين وَاحِدًا وَاحِدًا، كَقَوْل مكي بن إِبْرَاهِيم، إِنَّه ترك حَدِيث ابْن إِسْحَاق وَلم يعد إِلَيْهِ، وكقول يزِيد بن هَارُون: إِنَّه حدث أهل الْمَدِينَة عَن قوم، فَلَمَّا حَدثهمْ عَنهُ (يُرِيد ابْن إِسْحَاق) أَمْسكُوا. وكقول ابْن نمير: إِنَّه يحدّث عَن المجهولين أَحَادِيث بَاطِلَة، إِلَى كثير غير هَذَا نجتزئ مِنْهُ بِمَا ذكرنَا، ونردفه بِمَا قيل فِي الردّ عَلَيْهِ، فَالْكَلَام فِي هَذَا متشابه، والإكثار مِنْهُ مملول، وجلّ مَا لنا عَن الرجل أَن الحكم لَهُ أرجح من الحكم عَلَيْهِ، قَالَا: وَأما قَول مكي بن إِبْرَاهِيم: إِنَّه ترك حَدِيثه وَلم يعد إِلَيْهِ، فقد علل ذَلِك بِأَنَّهُ سَمعه يحدّث أَحَادِيث فِي الصِّفَات فنفر مِنْهُ، وَلَيْسَ فِي ذَلِك كَبِير أَمر، فقد ترخص قوم من السّلف فِي رِوَايَة الْمُشكل من ذَلِك، وَلَا يحْتَاج إِلَى تَأْوِيله، وَلَا سِيمَا إِذا تضمن الحَدِيث حكما أَو أمرا آخر، وَلَقَد تكون هَذِه الْأَحَادِيث من هَذَا الْقَبِيل. وَأما الْخَبَر عَن يزِيد بن هَارُون أَنه حدث أهل الْمَدِينَة عَن قوم، فَلَمَّا حَدثهمْ عَنهُ أَمْسكُوا، فَلَيْسَ فِيهِ ذكر لمقْتَضى الْإِمْسَاك، وَإِذا لم يذكر لم يبْق إِلَّا أَن يجول فِيهِ الظنّ، وَلَيْسَ لنا أَن نعارض عَدَالَة منقولة بِمَا قد نظنه جرحا.
وَأما قَول ابْن نمير: إِنَّه يحدث عَن المجهولين أَحَادِيث بَاطِلَة، فَلَو لم ينْقل توثيقه وتعديله لتردّد الْأَمر فِي التُّهْمَة بِمَا بَينه وَبَين من نقلهَا عَنهُ، وَأما مَعَ التوثيق وَالتَّعْدِيل فالحمل فِيهَا على المجهولين الْمشَار إِلَيْهِم لَا عَلَيْهِ.
بقيت مَسْأَلَة، وَهِي اتهام ابْن إِسْحَاق بِأَنَّهُ كَانَت تعْمل لَهُ الْأَشْعَار، وَيُؤْتى بهَا، وَيسْأل أَن يدخلهَا فِي كِتَابه فِي السِّيرَة، فيفعل.
وَفِي الحقّ أَن هَذَا مَأْخَذ على ابْن إِسْحَاق، إِن لم يكن فِي طَريقَة النَّقْل والتحمّل، فَهُوَ مطْعن فِي مِقْدَار علمه بالشعر، وَأَنه يقبل الْأَشْعَار عَنْهَا وسمينها، باطلها وصحيحها وَلَو أَن ابْن إِسْحَاق حكّم ذوقه، ووقف من هَذِه الْأَشْعَار وَقْفَة النَّاقِد، لخلّص كِتَابه من أشعار أَكثر الظنّ فِيهَا أَنَّهَا مَوْضُوعَة، ولخلّص نَفسه من مطْعن جارح يسجله الْكتاب عَلَيْهِ على مرّ السنين.
বিশ্বস্ততা বা আদিল হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর এমন তাদলিস (তাদলিসে মুকায়্যাদ), অনুরূপভাবে কদর ও তাশায়্যু-ও অন্য কোনো কারণ যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্জনের দাবি রাখে না; আর এখানে আমরা তেমন কিছু খুঁজে পাইনি।
এরপর তাঁরা সমালোচকদের সমালোচনার জবাব একে একে প্রদানের প্রয়াস পেয়েছেন। যেমন মাক্কি ইবনে ইব্রাহিমের বক্তব্য—তিনি ইবনে ইসহাকের হাদিস বর্জন করেছেন এবং তা আর গ্রহণ করেননি; এবং ইয়াজিদ ইবনে হারুনের বক্তব্য—তিনি মদিনাবাসীদের কাছে একদল লোক থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, কিন্তু যখনই তিনি তাঁর (ইবনে ইসহাক) পক্ষ থেকে বর্ণনা করতেন, তারা বিরত থাকতেন। আর ইবনে নুমাইরের বক্তব্য—তিনি অপরিচিত (মাজহুল) ব্যক্তিদের থেকে ভিত্তিহীন হাদিস বর্ণনা করেন। এ জাতীয় আরও অনেক বক্তব্যের মধ্যে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট মনে করছি এবং এর জবাবে যা বলা হয়েছে তা এর সাথে যুক্ত করছি। মূলত এ সংক্রান্ত আলোচনাগুলো পরস্পর সদৃশ এবং এর আধিক্য বিরক্তির উদ্রেক করে। এই ব্যক্তি সম্পর্কে আমাদের বড় কথা হলো, তাঁর পক্ষে দেওয়া সিদ্ধান্ত তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া সিদ্ধান্তের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। তাঁরা উভয়ে বলেছেন: মাক্কি ইবনে ইব্রাহিমের বক্তব্য—তিনি তাঁর হাদিস ত্যাগ করেছেন এবং আর গ্রহণ করেননি—এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁকে আল্লাহর গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত কিছু হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছেন, যার ফলে তিনি তাঁর প্রতি বিরাগভাজন হন। তবে এটি তেমন বড় কোনো বিষয় নয়। কেননা পূর্বসূরিগণের (সালাফ) একদল এই ধরনের জটিল হাদিসগুলো বর্ণনা করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন; এগুলো ব্যাখ্যা করার (তাবিল) প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে যখন হাদিসটি কোনো বিধান বা অন্য কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। হতে পারে এই হাদিসগুলোও সেই পর্যায়ের। আর ইয়াজিদ ইবনে হারুনের সেই বর্ণনা—তিনি মদিনাবাসীদের কাছে একদল লোক থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, কিন্তু যখনই তাঁর (ইবনে ইসহাক) থেকে বর্ণনা করতেন তারা বিরত থাকতেন—এতে বিরত থাকার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আর কারণ উল্লেখ না থাকলে সেখানে কেবল অনুমানেরই অবকাশ থাকে। আর কোনো ব্যক্তির বর্ণিত নির্ভরযোগ্যতাকে (আদালাত) আমরা কেবল অনুমিত সমালোচনার (জারহ) মাধ্যমে খণ্ডন করতে পারি না।
আর ইবনে নুমাইরের বক্তব্য—তিনি অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে ভিত্তিহীন হাদিস বর্ণনা করেন—যদি তাঁর নির্ভরযোগ্যতা ও সততা প্রমাণিত না হতো, তবে এই অভিযোগের দায়ভার তাঁর এবং যাঁর থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে দোদুল্যমান থাকত। কিন্তু যেহেতু তাঁর নির্ভরযোগ্যতা ও সততা প্রমাণিত, তাই এই ভিত্তিহীনতার দায় উক্ত অপরিচিত ব্যক্তিদের ওপরই বর্তাবে, তাঁর ওপর নয়।
একটি বিষয় বাকি থেকে যায়, আর তা হলো ইবনে ইসহাকের প্রতি এই অভিযোগ যে, তাঁর জন্য কবিতা তৈরি করে আনা হতো এবং তাঁকে অনুরোধ করা হতো যেন তিনি সেগুলো তাঁর সিরাত গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন, আর তিনি তা করতেন।
প্রকৃতপক্ষে এটি ইবনে ইসহাকের একটি ত্রুটি। এটি যদি হাদিস বর্ণনা ও গ্রহণের পদ্ধতির ক্ষেত্রে ত্রুটি না-ও হয়, তবে কবিতা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানের গভীরতার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রশ্ন। তিনি ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা সব ধরণের কবিতাই গ্রহণ করতেন। ইবনে ইসহাক যদি তাঁর কাব্যিক রুচি প্রয়োগ করতেন এবং এই কবিতাগুলোর ব্যাপারে একজন সমালোচকের ভূমিকা নিতেন, তবে তিনি তাঁর গ্রন্থকে এমন সব কবিতা থেকে মুক্ত রাখতে পারতেন যেগুলোর অধিকাংশ সম্পর্কেই ধারণা করা হয় যে সেগুলো জাল; এবং তিনি নিজেকেও একটি গুরুতর সমালোচনা থেকে রক্ষা করতে পারতেন যা এই গ্রন্থটি বছরের পর বছর ধরে তাঁর নামের সাথে জড়িয়ে রেখেছে।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَإِذا كُنَّا قد انتهينا إِلَى هَذَا من حَيَاة ابْن إِسْحَاق، فَلَا نجد بَين أَيْدِينَا مَا نختم بِهِ هَذَا الْمقَال خيرا من عبارَة ابْن عدىّ، إِذْ يَقُول:
«وَلَو لم يكن لِابْنِ إِسْحَاق من الْفضل إِلَّا أَنه صرف الْمُلُوك عَن الِاشْتِغَال بكتب لَا يحصل مِنْهَا شَيْء للاشتغال بمغازي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، ومبعثه، ومبتدأ الْخلق، لكَانَتْ هَذِه فَضِيلَة سبق بهَا ابْن إِسْحَاق، وَقد فتشت أَحَادِيثه الْكَثِيرَة فَلم أجد مَا تهَيَّأ أَن يقطع عَلَيْهِ بالضعف، وَرُبمَا أَخطَأ واتهم فِي الشَّيْء بعد الشَّيْء كَمَا يُخطئ غَيره.
وَلم يتخلّف فِي الرِّوَايَة عَنهُ الثّقات وَالْأَئِمَّة، أخرج لَهُ مُسلم فِي المبايعات، وَاسْتشْهدَ بِهِ البُخَارِيّ فِي مَوَاضِع، وروى لَهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة»
ابْن هِشَام
(نسبه) :هُوَ أَبُو مُحَمَّد عبد الْملك بن هِشَام بن أَيُّوب الحميرىّ، وَمن الرِّوَايَة من يردّه إِلَى معافر بن يعفر، وهم قبيل كَبِير، نزح إِلَى مصر مِنْهُم جمهرة كَبِيرَة، وَمِنْهُم من يردّه إِلَى ذهل، كَمَا يردّه آخَرُونَ إِلَى سدوس. لَا تكَاد تَجِد فِي ذَلِك رَأيا فاصلا. وَهَذَا شَأْن كل رجل تنازعه أَكثر من بلد، وَلم يَعش حَيْثُ نَشأ بَيته، وقرّت أسرته، ثمَّ لم يكن بَيته- فَوق هَذَا- من النّسَب بالمنزلة الَّتِي يحرص النَّاس على حفظهَا وروايتها.
(نشأته) :نَشأ ابْن هِشَام بِالْبَصْرَةِ، ثمَّ نزل مصر. هَكَذَا يحدثنا الروَاة عَنهُ، وَلَا يذكرُونَ لَهُ حَيَاة فِي غير هذَيْن البلدين، ولكننا نظن أَن حَيَاة ابْن هِشَام لم تكن محصورة فِي هذَيْن المصرين، وخاصّة فِي عصر كَانَ الْعلم فِيهِ يُؤْخَذ سَمَاعا، وَكَانَت الرحلة فِي طلبه ديدن الْعلمَاء.
(مولده ووفاته) :وَالْقَوْل فِي وَفَاة ابْن هِشَام غير مَقْطُوع فِيهِ بِرَأْي، فَبَيْنَمَا يذهب فريق إِلَى أَن وَفَاته كَانَت سنة 218 هـ. إِذا بفريق آخر يحدثك أَن وَفَاته كَانَت سنة 213 هـ.
যখন আমরা ইবনে ইসহাকের জীবনের এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছি, তখন ইবনে আদীর বক্তব্যের চেয়ে উত্তম কোনো কথা আমাদের সামনে নেই যা দিয়ে এই নিবন্ধটি শেষ করা যায়, যেখানে তিনি বলেন:
«ইবনে ইসহাকের যদি অন্য কোনো শ্রেষ্ঠত্ব না-ও থাকতো যে তিনি রাজাদের অর্থহীন গ্রন্থাবলীতে লিপ্ত হওয়া থেকে সরিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযান (মাগাযি), তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং সৃষ্টির আদি ইতিহাস সংক্রান্ত বিষয়ে নিবিষ্ট করেছেন, তবে ইবনে ইসহাকের জন্য এটিই একটি অগ্রগামী ফযীলত হিসেবে গণ্য হতো। আমি তাঁর প্রচুর হাদিস অনুসন্ধান করেছি এবং এমন কিছু পাইনি যার ভিত্তিতে তাঁকে সুনিশ্চিতভাবে দুর্বল বলা যায়। হয়তো তিনি মাঝেমধ্যে ভুল করেছেন এবং কিছু বিষয়ে তাঁর ওপর অভিযোগ আনা হয়েছে, যেমনটি অন্যদের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী এবং ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করতে পিছপা হননি। ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম বুখারী বিভিন্ন স্থানে তাঁকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন। এছাড়া আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।»
ইবনে হিশাম
(তাঁর বংশপরিচয়) :তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি। কিছু বর্ণনায় তাঁকে মুআফির বিন ইয়াফুরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যারা একটি বিশাল গোত্র এবং যাদের একটি বড় অংশ মিশরে স্থানান্তরিত হয়েছিল। কেউ কেউ তাঁকে যুহলের দিকে, আবার কেউ সাদূসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন। এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া দুষ্কর। এটি এমন প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঘটে যাদের নিয়ে একাধিক গোত্র বা অঞ্চল দাবি করে এবং যিনি সেখানে তাঁর বংশের উৎপত্তি ও পরিবার থিতু হয়েছে সেখানে বসবাস করেননি। অধিকন্তু, তাঁর পরিবার বংশমর্যাদার দিক থেকে এমন পর্যায়ে ছিল না যা সংরক্ষণ ও বর্ণনা করার ব্যাপারে মানুষ খুব বেশি আগ্রহী হতো।
(তাঁর লালন-পালন) :ইবনে হিশাম বসরায় বেড়ে ওঠেন, এরপর মিশরে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণনাকারীরা এভাবেই আমাদের জানান এবং এই দুটি শহর ছাড়া অন্য কোথাও তাঁর জীবনের কথা উল্লেখ করেন না। তবে আমাদের ধারণা হলো, ইবনে হিশামের জীবন কেবল এই দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বিশেষ করে এমন এক যুগে যখন জ্ঞান সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে অর্জন করা হতো এবং ইলম অন্বেষণে সফর করা ছিল আলেমদের চিরন্তন অভ্যাস।
(তাঁর জন্ম ও মৃত্যু) :ইবনে হিশামের মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো সুনিশ্চিত মত নেই। এক দল মনে করেন যে, তাঁর মৃত্যু ২১৮ হিজরিতে হয়েছিল; অন্যদিকে অপর এক দল জানায় যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ২১৩ হিজরিতে।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَإِذا كَانَ هَذَا حَدِيث وَفَاته، فَمَا بالك بِالْحَدِيثِ عَن مِيلَاد رجل نازح، أقرب الظنّ أَنه عرّج على غير بلد قبل أَن ينزل مصر. من أجل هَذَا ظلّ مِيلَاد ابْن هِشَام سرّا دَفِينا فِي ضمير الْأَيَّام.
(مَنْزِلَته) :وَقد كَانَ رحمه الله إِمَامًا فِي النَّحْو واللغة والعربية. ويحدثنا عَنهُ الذَّهَبِيّ وَابْن كثير، أَنه حِين جَاءَ إِلَى مصر اجْتمع بِهِ الشافعيّ، وتناشدا من أشعار الْعَرَب أَشْيَاء كَثِيرَة. وغريب أَن نسْمع هَذَا، وَنحن نعلم أَن ابْن هِشَام كَانَ حِين ينْقل عَن ابْن إِسْحَاق أشعارا فِي هَذَا الْكتاب، ظَاهِرَة الْوَضع فَاسِدَة، لَا يَسْتَطِيع أَن يقطع فِيهَا بِرَأْي وَيَقُول: هَكَذَا حَدثنَا أهل الْعلم بالشعر، نَاقِلا عَنْهُم، غير مُحكم ذوقا اكْتَسبهُ من هَذَا شَأْنه فِي اسْتِيعَاب الْأَشْعَار.
(آثاره) :وَلابْن هِشَام أَكثر من مؤلف فِي أَكثر من فنّ، فَلهُ غير أَثَره فِي سيرة ابْن إِسْحَاق: شرح مَا وَقع فِي أشعار السّير من الْغَرِيب، وَكتاب التّيجان، لمعْرِفَة مُلُوك الزَّمَان، وَقد طبع حَدِيثا.
هَذِه كلمتنا عَنهُ، وَقد أسلفنا عَنهُ كلمة أُخْرَى خلال الحَدِيث عَن السّير، وَأَنه كَانَ رجل السِّيرَة الّذي انْتَهَت إِلَيْهِ سيرة ابْن إِسْحَاق، وَغلب اسْمه عَلَيْهَا فَعرفت بِهِ، وَأَن فَضله فِيهَا كَانَ لَا يقلّ عَن فضل ابْن إِسْحَاق.
السهيليّ
(اسْمه ولقبه) :هُوَ عبد الرَّحْمَن بن عبد الله بن أَحْمد بن أصبغ بن الْحُسَيْن بن سعدون بن رضوَان بن فتوح، الإِمَام الحبر أَبُو الْقَاسِم، وَأَبُو زيد، وَيُقَال: أَبُو الْحسن، بن الْخَطِيب أَبى مُحَمَّد بن الْخَطِيب أَبى عَمْرو بن أَبى الْحسن الخثعميّ السّهيليّ الأندلسى المالقي.
আর যদি এটি তাঁর মৃত্যুর বিবরণ হয়, তবে এমন একজন প্রবাসী ব্যক্তির জন্ম নিয়ে আলোচনার কী অবস্থা হতে পারে, যার সম্পর্কে প্রবল ধারণা এই যে তিনি মিশরে আসার পূর্বে অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করেছিলেন। এই কারণেই ইবনে হিশামের জন্ম কালপরিক্রমায় সময়ের গর্ভে এক নিভৃত রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।
(তাঁর মর্যাদা) :তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নাহু, লুগাত ও আরবি ভাষার একজন ইমাম ছিলেন। আয-যাহাবি ও ইবনে কাসির আমাদের বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন মিশরে আসেন তখন ইমাম শাফেঈ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁরা একে অপরকে প্রচুর আরবি কবিতা শুনিয়েছিলেন। এটি শোনা আশ্চর্যজনক মনে হয়, কারণ আমরা জানি যে ইবনে হিশাম যখন এই গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের বরাতে এমন কিছু কবিতা বর্ণনা করতেন যা সুস্পষ্টভাবেই জাল ও ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তখন তিনি সে বিষয়ে কোনো সুনিশ্চিত মত দিতে পারতেন না; বরং বলতেন: "কবিতা বিশারদগণ আমাদের কাছে এভাবেই বর্ণনা করেছেন"। তিনি কেবল তাঁদের উদ্ধৃতিই দিতেন, অথচ কবিতা শাস্ত্রে তাঁর যে ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল, তা থেকে অর্জিত সূক্ষ্ম রুচিবোধকে তিনি সেখানে যথাযথভাবে প্রয়োগ করেননি।
(তাঁর রচনাবলি) :একাধিক শাস্ত্রে ইবনে হিশামের একের অধিক গ্রন্থ রয়েছে। ইবনে ইসহাকের সীরাতের ওপর তাঁর অবদানের বাইরেও তাঁর রয়েছে: 'শারহু মা ওয়াকাআ ফী আশআরিস সিয়ারি মিনাল গারিব' (সীরাতের কবিতাসমূহে ব্যবহৃত দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যা), এবং 'কিতাবুত তিজান' (তৎকালীন রাজন্যবর্গের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থ), যা সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে।
এটিই ছিল তাঁর সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য। ইতিপূর্বে সীরাত বিষয়ক আলোচনার সময়ও আমরা তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা বলেছিলাম যে, তিনি ছিলেন সীরাত শাস্ত্রের এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর নিকট ইবনে ইসহাকের সীরাত এসে সমাপ্ত হয়েছে এবং এই সীরাতের ওপর তাঁর নাম এমনভাবে প্রাধান্য পেয়েছে যে এটি তাঁর নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। আর এই সীরাত সংকলনে তাঁর অবদান ইবনে ইসহাকের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না।
আস-সুহাইলি
(তাঁর নাম ও উপাধি) :তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আসবাগ বিন আল-হুসাইন বিন সাদুন বিন রিদওয়ান বিন ফুতুহ। তিনি প্রাজ্ঞ ইমাম আবুল কাসিম ও আবু যাইদ, এবং বলা হয় আবুল হাসান বিন খতীব আবু মুহাম্মদ বিন খতীব আবু আমর বিন আবুল হাসান আল-খাসআমি আস-সুহাইলি আল-আন্দালুসি আল-মালাকি।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(موطنه والبلاد الَّتِي تنقل فِيهَا) :وَسُهيْل الّذي ينْسب إِلَيْهِ عبد الرَّحْمَن، وَاد بالأندلس من كورة مالقة، فِيهِ قرى، وَفِي إِحْدَى هَذِه الْقرى ولد عبد الرَّحْمَن [1] . وَأقَام فِي الأندلس عمرا طَويلا نهل من بحار الْعلم مَا نهل، وتزوّد من المعارف مَا تزوّد، وأصبحت لَهُ مكانة عالية وسعى إِلَيْهِ النَّاس يطْلبُونَ الْعلم عَلَيْهِ، فطارت شهرته إِلَى مرّاكش، فَطَلَبه واليها، وَأحسن إِلَيْهِ، وَأَقْبل عَلَيْهِ. وولّاه قَضَاء الْجَمَاعَة، وَحسنت سيرته، وَأقَام السّهيليّ بمرّاكش أعواما ثَلَاثَة، ثمَّ وافته منيته، فَمَاتَ بهَا.
(مولده ووفاته) :تحدثنا المراجع بِأَن السّنة الَّتِي ولد فِيهَا أَبُو الْقَاسِم كَانَت سنة 508 هـ، وتحدّثنا أَيْضا بِأَنَّهُ توفى سنة 581 هـ. وَيذكر ابْن الْعِمَاد الْحَنْبَلِيّ فِي كِتَابه «شذرات الذَّهَب» أَن أَبَا الْقَاسِم مِمَّن توفّوا سنة 581، وَيذكر إِلَى جَانب هَذَا أَن وَفَاته كَانَت فِي شعْبَان من تِلْكَ السّنة، وَأَنه عَاشَ اثْنَتَيْنِ وَسبعين سنة.
(مؤلفاته وَعلمه وأخلاقه) :أشهر تواليف السّهيليّ كِتَابه: الرّوض الْأنف، قَالَ الصّفدى فِي نكت الْهِمْيَان: «وَهُوَ كتاب جليل جوّد فِيهِ مَا شَاءَ، وَذكر فِي أوّله أَنه استخرجه من نَيف وَعشْرين وَمِائَة ديوَان» . وَله كتاب التَّعْرِيف والإعلام بِمَا فِي الْقُرْآن من الْأَسْمَاء الْأَعْلَام، وَكتاب نتائج النّظر، وَمَسْأَلَة رُؤْيَة الله عز وجل ورؤية النبيّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَام، وَمَسْأَلَة السرّ فِي عور الدَّجَّال. وَشرح آيَة الْوَصِيَّة، وَشرح الْجمل- وَلم يتمّ- ومسائل كَثِيرَة غير هَذِه اكْتفى المترجمون بِالْإِشَارَةِ إِلَيْهَا دون التَّصْرِيح بأسمائها.
وَلم يَقع فِي أَيْدِينَا للسّهيلى غير الرّوض الْأنف، الّذي ألّفه فِي مالقة قبل رحلته إِلَى مرّاكش، إِذْ كَانَ بَدْء إمْلَائِهِ لَهُ فِي شهر المحرّم عَام 569 هـ، وَكَانَ الْفَرَاغ مِنْهُ فِي جُمَادَى الأولى من ذَلِك الْعَام.
وبحسب السّهيليّ هَذَا الْكتاب، فقد دلّ فِيهِ على إِلْمَام وَاسع، واطلاع غزير
--------------------------------------------
(তাঁর আবাসস্থল এবং যেসব জনপদে তিনি ভ্রমণ করেছেন) :সুহায়েল, যাঁর দিকে আব্দুর রহমানকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, এটি আন্দালুসের মালাকা প্রদেশের একটি উপত্যকা। এতে বেশ কিছু গ্রাম রয়েছে এবং এই গ্রামগুলোর একটিতে আব্দুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন [১]। তিনি আন্দালুসে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন এবং ইলমের সমুদ্র থেকে জ্ঞান আহরণ করেন ও নিজেকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর একটি উচ্চ মর্যাদা তৈরি হয় এবং মানুষ তাঁর কাছে ইলম অর্জনের জন্য আসতে থাকে। তাঁর খ্যাতি মারাক্কাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সেখানকার শাসক তাঁকে তলব করেন, তাঁর প্রতি সদয় হন এবং তাঁকে সমাদর করেন। তিনি তাঁকে 'কাযা আল-জামাআহ' (প্রধান বিচারক) পদে নিয়োগ দেন এবং তাঁর কর্মজীবন অত্যন্ত সুন্দর ছিল। সুহায়েলি মারাক্কাশে তিন বছর অবস্থান করেন, এরপর তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
(তাঁর জন্ম ও মৃত্যু) :তথ্যসূত্রগুলো আমাদের জানায় যে, যে বছর আবুল কাসিম জন্মগ্রহণ করেছিলেন তা ছিল ৫০৮ হিজরি। সেগুলো আমাদের আরও জানায় যে, তিনি ৫৮১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি তাঁর ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবুল কাসিম ৫৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর মৃত্যু সেই বছরের শাবান মাসে হয়েছিল এবং তিনি বাহাত্তর বছর জীবিত ছিলেন।
(তাঁর রচনাবলি, ইলম ও চরিত্র) :সুহায়েলির রচনাবলির মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো তাঁর গ্রন্থ: ‘আর-রাওযুল উনুফ’। আল-সাফাদি ‘নুকাতুল হিমইয়ান’ গ্রন্থে বলেন: “এটি একটি মহান গ্রন্থ যাতে তিনি তাঁর ইচ্ছানুযায়ী শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছেন। তিনি এর শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি একশ বিশটিরও বেশি দিওয়ান (সংকলন) থেকে চয়ন করেছেন।” এছাড়াও তাঁর ‘আত-তারিফ ওয়াল ইলাম’ নামক গ্রন্থ রয়েছে যা কুরআনে বর্ণিত নামসমূহ সম্পর্কিত; ‘নাতায়িজুন নাযার’ গ্রন্থ; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে দেখা এবং স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার মাসআলা বিষয়ক গ্রন্থ; এবং দাজ্জালের এক চোখ কানা হওয়ার রহস্য বিষয়ক মাসআলা। এছাড়া ওসিয়তের আয়াতের ব্যাখ্যা এবং ‘আল-জুমাল’-এর ব্যাখ্যা (যা পূর্ণ হয়নি), এবং এগুলো ছাড়াও আরও অনেক মাসআলা রয়েছে যেগুলোর প্রতি জীবনীকারগণ নাম উল্লেখ না করেই কেবল ইঙ্গিত করেছেন।
সুহায়েলির রচনাবলির মধ্য থেকে আমাদের হাতে ‘আর-রাওযুল উনুফ’ ছাড়া আর কিছু পৌঁছেনি, যা তিনি মারাক্কাশে সফরের পূর্বে মালাকাতে থাকাকালীন রচনা করেছিলেন। কেননা তিনি এটি শ্রুতলিখন (ইমলা) করতে শুরু করেছিলেন ৫৬৯ হিজরির মুহাররম মাসে এবং তা সমাপ্ত হয়েছিল সেই বছরের জুমাদাল উলা মাসে।
সুহায়েলির জন্য এই একটি গ্রন্থই যথেষ্ট, এতে তিনি তাঁর ব্যাপক জ্ঞান ও গভীর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
بمناح مُخْتَلفَة، وتمكّن فِي ألوان كَثِيرَة من الْعُلُوم، فَكَانَ فِيهِ المؤرّخ واللغوي والأديب والنحويّ والأخباري والعالم بالقراءات. وَكَانَ السّهيليّ فَوق هَذَا شَاعِرًا، يُؤثر لَهُ أبياته الْمَشْهُورَة فِي الْفرج:
قَالَ ابْن دحْيَة عَن السهيليّ: «أنشدنيها وَقَالَ: مَا يسْأَل الله بهَا فِي حَاجَة إِلَّا قَضَاهُ إِيَّاهَا» . وَهِي:
يَا من يرى مَا فِي الضَّمِير وَيسمع
… أَنْت المعدّ لكلّ مَا يتوقّع
يَا من يرجّى للشّدائد كلهَا
… يَا من إِلَيْهِ المشتكى والمفزع
يَا من خَزَائِن رزقه فِي قَول كن
… اُمْنُنْ فانّ الْخَيْر عنْدك أجمع
مَا لي سوى قرعى لبابك حِيلَة
… فلئن رددت فأىّ بَاب أَقرع
مَا لي سوى فقري إِلَيْك وَسِيلَة
… وبالافتقار إِلَيْك فقري أدفَع
من ذَا الّذي أَدْعُو وأهتف باسمه
… إِن كَانَ فضلك عَن فقيرك يمْنَع
حاشا لمجدك أَن تقنّط عَاصِيا
… الْفضل أجزل والمواهب أوسع
وَله غير هَذِه أشعار كَثِيرَة، ذكر ذَلِك ابْن الْعِمَاد، وَلم يزدنا على أبياته فِي الْفرج شَيْئا. وَذكر الصّفدىّ «فِي نكت الْهِمْيَان» ، والمقري فِي «نفح الطيّب» بعض مقطوعات لَهُ.
وَإِن نظرة وَاحِدَة إِلَى مؤلفات السهيليّ كفيلة بِأَن تعطيك فكرة عَن اتجاهه الخلقي وَإِن رجلا عَاشَ للدّين، فوهب لَهُ حَيَاته: مَا بَين درس لَهُ، وتأليف فِيهِ، لخليق بِأَن يعرف بَين النَّاس بالصلاح، ويشتهر بالورع والتّقوى، وَهَكَذَا كَانَ السّهيليّ.
وَكَانَ فَوق هَذَا عفّا قنوعا يرضى بالكفاف.
وَمِمَّا يعرف عَنهُ أَنه كَانَ مالكي الْمَذْهَب، وَأَنه كَانَ ضريرا، أضرّ فِي السَّابِعَة عشرَة من عمره، وَأخذ الْقرَاءَات عَن جمَاعَة، وروى عَن أَبى بكر بن العربيّ وكبار رجالات الْعلم بالأندلس فِي أَيَّامه، وَأخذ اللُّغَة والآداب عَن ابْن الطّراوة، وناظره فِي كتاب سِيبَوَيْهٍ.
তিনি বিভিন্ন দিকে পারদর্শী ছিলেন এবং বহুবিধ জ্ঞানে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে ঐতিহাসিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, সংবাদ বিশারদ এবং কিরাত শাস্ত্রে পণ্ডিত। এর বাইরে সুহাইলি ছিলেন একজন কবি। সংকট মুক্তির বিষয়ে তার প্রসিদ্ধ কবিতাগুলো উদ্ধৃত করা হয়ে থাকে:
ইবনে দিহয়া সুহাইলি থেকে বর্ণনা করে বলেন: "তিনি আমাকে এগুলো পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন: যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজনে দোয়া করবে, তিনি তার সেই প্রয়োজন পূর্ণ করে দেবেন।" কবিতাগুলো হলো:
হে সত্তা! যিনি মনের গহীন কোণের খবর দেখেন এবং শোনেন
… আসন্ন সকল বিষয়ের জন্য আপনিই একমাত্র প্রস্তুতিস্থল।
হে সত্তা! সকল বিপদে যার আশা করা হয়
… হে সত্তা! যার কাছেই ফরিয়াদ করা হয় এবং আশ্রয় নেওয়া হয়।
হে সত্তা! যার রিজিকের ভাণ্ডার রয়েছে 'কুন' (হও) শব্দের মধ্যে
… আমার ওপর অনুগ্রহ করুন, কেননা সকল কল্যাণ আপনার কাছেই পুঞ্জীভূত।
আপনার দরজায় কড়া নাড়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই
… যদি আপনি ফিরিয়ে দেন, তবে আমি কার দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ব?
আপনার কাছে আমার অভাবী হওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উসিলা নেই
… আর আপনার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার মাধ্যমেই আমি আমার দারিদ্র্য দূর করি।
আমি আর কাকে ডাকব এবং কার নাম ধরে আর্তনাদ করব
… যদি আপনার অনুগ্রহ আপনার এই মুখাপেক্ষী বান্দা থেকে রুদ্ধ হয়ে যায়?
আপনার মহিমা থেকে এটি সুদূরপরাহত যে আপনি কোনো গুনাহগারকে নিরাশ করবেন
… আপনার অনুগ্রহ অতি মহান এবং আপনার দান অতি প্রশস্ত।
এ ছাড়াও তার অনেক কবিতা রয়েছে; ইবনুল ইমাদ তা উল্লেখ করেছেন, তবে মুক্তি বিষয়ক এই কবিতাগুলো ছাড়া তিনি আর অধিক কিছু যোগ করেননি। সাফাদি তার 'নুকাতুল হিমইয়ান' গ্রন্থে এবং মাক্কারি 'নাফহুত তীব' গ্রন্থে তার কবিতার কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন।
সুহাইলির রচনাবলির দিকে একবার তাকালেই তার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য যথেষ্ট হবে যে, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি দ্বীনের জন্য বেঁচে ছিলেন এবং দ্বীনের জন্যই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। পাঠদান এবং গ্রন্থ রচনার মাঝেই অতিবাহিত হওয়া তার এই জীবন মানুষের মাঝে তার নেককার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এবং খোদাভীতি ও তাকওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ হওয়ারই যোগ্য ছিল; আর সুহাইলি এমনই ছিলেন।
এর বাইরে তিনি ছিলেন পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং অল্পে তুষ্ট, যিনি সামান্য জীবিকাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন।
তার সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো, তিনি মালেকি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন। সতেরো বছর বয়সে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তিনি একদল উস্তাদের কাছ থেকে কিরাত শিক্ষা করেন। তিনি আবু বকর ইবনুল আরাবি এবং তৎকালীন আন্দালুসের বড় বড় আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইবনুত তারওয়াহর কাছ থেকে ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা করেন এবং সিবাওয়াইহ-র কিতাবের বিষয়ে তার সাথে বিতর্ক ও আলোচনা করেন।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَبُو ذَر الخشنيّ
(نسبه) :هُوَ مُصعب بن مُحَمَّد بن مَسْعُود بن عبد الله بن مَسْعُود الجيّانى الخشنيّ، الْمَعْرُوف أَيْضا بِابْن أَبى الرّكب.
والجيّانىّ: نِسْبَة إِلَى كورة وَاسِعَة بالأندلس، تجمع قرى كَثِيرَة، وتتصل بكورة إلبيرة، مائلة عَنْهَا إِلَى نَاحيَة الْجوف، فِي شرقى قرطبة، وَبَينهمَا وَبَين قرطبة سَبْعَة عشر فرسخا. والخشنيّ: نِسْبَة إِلَى خشين كقريش قَرْيَة بالأندلس، وقبيلة من قضاعة، وَهُوَ خشين بن النمر بن وبرة بن تغلب [1] .
وَالْمَعْرُوف أَن أَبَا ذرّ بَقِي بجيان حَتَّى شبّ، وَقد سمع على أَبِيه، وَأخذ عَنهُ، وَأَنه لم يتْرك جيّان إِلَّا بعد أَن تحوّل أَبوهُ إِلَى غرناطة فِي آخر أَيَّامه، وَأَن سنه عِنْد ذَاك كَانَت سنّ غُلَام إِن أدْرك الْعَاشِرَة فَلَا يعدوها إِلَّا بِقَلِيل- فالمدّة بَين مِيلَاد أَبى ذرّ ووفاة أَبِيه أحد عشر عَاما تَقْرِيبًا- ثمَّ رَحل إِلَى فاس يسمع بهَا عَن أَبى عبيد الله النميري وأبى الْحسن بن حُسَيْن وأبى عبد الله بن الرمامة، ثمَّ إِلَى تلمسان يسمع بهَا عَن أَبى الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن يحيى بن الْحسن الْقرشِي، وأبى مَرْوَان عبيد الله بن هِشَام الحضرميّ، ثمَّ إِلَى بجاية يسمع بهَا عَن أَبى بكر بن رزق وأبى الْعَبَّاس الخرّوبى وأبى إِسْحَاق بن ملكون وأبى مُحَمَّد عبد الحقّ بن عبد الرَّحْمَن الإشبيلي.
وَيظْهر أَن رحلاته إِلَى هَذِه الْبِلَاد الثَّلَاثَة كَانَت على التَّرْتِيب الّذي سقناه، لَا يرجح هَذَا لدينا مُرَجّح، غير أَن ابْن الْأَبَّار هَكَذَا سَاقهَا مرتبَة على هَذَا النَّحْو، عِنْد الْكَلَام على شُيُوخ أَبى ذرّ، فَبَدَأَ بفاس، ثمَّ ثنى بتلمسان، ثمَّ ختم ببجاية.
وَسَوَاء أَكَانَ هَذَا أم غَيره، فقد عرفنَا أَن هَذِه الْبِلَاد الثَّلَاثَة نزلها أَبُو ذرّ. ثمَّ نزل بعْدهَا إشبيلية، لَا مستمعا، وَلَكِن خَطِيبًا لمسجدها، وَبَقِي فِيهَا مُدَّة، وَكَانَ إِلَى جَانب الخطابة يقوم بتدريس الْعَرَبيَّة، ويقصده الطلاب الكثيرون. ثمَّ ترك إشبيلية إِلَى جيان
--------------------------------------------
আবু যার আল-খুশানি
(তাঁর বংশপরিচয়) :তিনি হলেন মুসআব বিন মুহাম্মদ বিন মাসউদ বিন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ আল-জায়ানি আল-খুশানি, যিনি ইবন আবিল রাকিব নামেও পরিচিত।
আর আল-জায়ানি: এটি আন্দালুসের একটি বিশাল অঞ্চলের (কুরাহ) দিকে সম্বন্ধিত, যা অনেকগুলো গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এটি ইলবিরা অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত। এটি কর্ডোবা (কুরতুবা) এর পূর্ব দিকে জাওফ এলাকার দিকে হেলে অবস্থিত এবং কর্ডোবা থেকে এর দূরত্ব সতেরো ফারসাখ। আর আল-খুশানি: এটি খুশাইনের দিকে সম্বন্ধিত (কুরাইশ শব্দের ওজনে), যা আন্দালুসের একটি গ্রাম এবং কুদাআ গোত্রের একটি শাখা। আর তিনি হলেন খুশাইন বিন আন-নামির বিন ওয়াবারা বিন তাগলিব [১]।
প্রসিদ্ধ মত হলো, আবু যার বড় হওয়া পর্যন্ত জায়ানেই অবস্থান করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট হাদীস শুনেছেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন। তিনি তাঁর পিতার জীবনের শেষ সময়ে গ্রানাডায় (গারনাতাহ) চলে যাওয়ার আগে জায়ান ত্যাগ করেননি। সে সময় তাঁর বয়স ছিল কিশোরকাল—যদি দশ বছর পূর্ণ করে থাকেন তবে তার চেয়ে সামান্য কিছু বেশি হবে—সুতরাং আবু যারের জন্ম এবং তাঁর পিতার মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময় প্রায় এগারো বছর। এরপর তিনি ফেজে (ফাস) ভ্রমণ করেন এবং সেখানে আবু উবায়দুল্লাহ আন-নুমাইরি, আবুল হাসান বিন হুসাইন এবং আবু আবদুল্লাহ বিন আল-রামানাহ-এর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিলিমসানে গিয়ে সেখানে আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া বিন আল-হাসান আল-কুরাশি এবং আবু মারওয়ান উবায়দুল্লাহ বিন হিশাম আল-হাদরামি-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। অতঃপর বিজায়ায় গিয়ে সেখানে আবু বকর বিন রিযক, আবুল আব্বাস আল-খাররুবি, আবু ইসহাক বিন মালকুন এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল হক বিন আবদুর রহমান আল-ইশবিলি-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।
এটি প্রতীয়মান হয় যে, এই তিনটি দেশে তাঁর ভ্রমণ আমাদের বর্ণিত এই ক্রমধারা অনুযায়ীই ছিল। আমাদের কাছে এর পক্ষে অকাট্য কোনো দলিল নেই, তবে ইবনুল আব্বার আবু যারের শায়েখদের আলোচনা করার সময় এভাবেই ক্রমানুসারে বর্ণনা করেছেন; তিনি ফেজ দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর তিলিমসান এবং শেষে বিজায়ার উল্লেখ করেছেন।
বিষয়টি এমন হোক বা অন্যরকম, তবে আমরা জানতে পেরেছি যে আবু যার এই তিনটি দেশে অবস্থান করেছেন। এরপর তিনি সেভিলে (ইশবিলিয়া) অবতীর্ণ হন, তবে ছাত্র হিসেবে নয় বরং সেখানকার মসজিদের খতিব হিসেবে। সেখানে তিনি বেশ কিছুকাল অবস্থান করেন। খতিব হওয়ার পাশাপাশি তিনি আরবি ভাষা শিক্ষা দিতেন এবং অনেক ছাত্র তাঁর কাছে আসত। অতঃপর তিনি সেভিল ছেড়ে জায়ানে চলে যান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
بعد أَن غَابَ عَنْهَا هَذَا الْعُمر الطَّوِيل، فولى قضاءها وَجلسَ فِيهَا للحكومة بَين النَّاس، والفصل فِي خصوماتهم. ثمَّ حنّ إِلَى فاس ثَانِيَة، فَترك جيّان إِلَيْهَا، وَأقَام بهَا، وَكَانَ فِيهَا شيخ الْعَرَبيَّة والْحَدِيث يَأْخُذ عَنهُ النَّاس، حَتَّى وافته منيته بهَا.
(مَنْزِلَته ومؤلفاته وَشَيْء عَنهُ) :علّك، وَقد حدثناك عَن شُيُوخ أَبى ذرّ الَّذين سمع عَنْهُم، وَكلهمْ من جلة الْعلمَاء، ورحلته إِلَيْهِم، قد عرفت طموح هَذِه النَّفس إِلَى الاستزادة من الْعلم والتمكن فِيهِ، وَأَن صَاحبهَا لم يقنع مِنْهُ بِقَلِيل، وَأَنت إِذْ عرفت الْمَرَاتِب الَّتِي تقلّب فِيهَا أَبُو ذرّ بعد الْحَيَاة الأولى، حَيَاة الدَّرْس والتحصيل، تدْرك مَعنا أَنه وصل من الْعلم إِلَى غَايَة رفعته إِلَى تولى خطابة جَامع إشبيلية أَولا، ثمَّ قَضَاء جيان ثَانِيًا، ثمَّ إِلَى أَن يجلس مَجْلِسه الْأَخير فِي فاس يتمتع بصيت بعيد، وَذكر وَاسع.
وَلَقَد نَعته رجال التراجم فِيمَا نعتوه بِهِ بِأَنَّهُ صَاحب التصانيف الَّتِي سَارَتْ بهَا الركْبَان، وَمثل هَذَا لَيْسَ بِكَثِير على أَبى ذرّ، إِلَّا أَنا لم نظفر لَهُ إِلَّا بكتابه المطبوع فِي شرح غَرِيب سيرة ابْن إِسْحَاق، الّذي سَمعه ابْن فرتون عَلَيْهِ، وَكتاب آخر فِي الْعرُوض، ذكره ابْن الْآبَار وَلم يسمّه، وَكتاب ثَالِث ذكره السُّيُوطِيّ فِي البغية فِي أثْنَاء حَدِيثه عَن أَبى ذرّ، فَقَالَ: «
… تكرّر فِي جمع الْجَوَامِع من تصانيفه الْإِمْلَاء على سيرة ابْن هِشَام» .
هَذَا كلّ مَا عَرفْنَاهُ عَن مؤلفات أَبى ذرّ، إِلَّا أَنا لَا ننسى أَنه كَانَ حَامِل لِوَاء الْعَرَبيَّة بالأندلس، وَأَنه كَانَ عَارِفًا بالآداب واللغات، وَأَنه أحد من قرض الشّعْر، وَكَانَ لَهُ نقادا، كَمَا كَانَ مُطلق الْعَنَان فِي معرفَة أَخْبَار الْعَرَب وأيامها وَأَشْعَارهَا ولغاتها، مُتَقَدما فِي كل ذَلِك، وَأَنه لم يكن فِي وقته أضبط مِنْهُ، وَلَا أتقن فِي جَمِيع الْعُلُوم، حفظا وقلما.
وَأما أَخْلَاق أَبى ذرّ الْمَالِكِي الْمَذْهَب، فقد كَانَ ذَا سمت ووقار، وَفضل وَدين ومروءة، كثير الْحيَاء، وقور الْمجْلس، مَعْرُوفا بِالْهدى على سنَن السّلف. يحْكى عَنهُ أَنه كَانَ يمْنَع تلاميذه من التبسط فِي الأسئلة، وَأَنه كَانَ يقصرهم على مَا يلقى إِلَيْهِم وَلم يكن ذَلِك لأحد من عصره، هَيْبَة لَهُ، وخشية مِنْهُ.
দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকার পর তিনি সেখানে ফিরে আসেন, এরপর সেখানকার বিচারকার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মানুষের মাঝে শাসনকার্য পরিচালনা ও তাদের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বসেন। অতপর তিনি পুনরায় ফেজের প্রতি টান অনুভব করেন, তাই জাইয়ান ছেড়ে সেখানে চলে যান এবং সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। সেখানে তিনি আরবি ভাষা ও হাদিসের শায়খ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং মানুষ তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করত, পরিশেষে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
(তাঁর মর্যাদা, রচনাবলি এবং তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা) :আমরা আপনাকে আবু যর-এর শায়খদের সম্পর্কে বলেছি যাদের থেকে তিনি শুনেছেন এবং তাঁরা সকলেই ছিলেন বরেণ্য আলেম। তাঁদের কাছে তাঁর শিক্ষা সফর সম্পর্কে জানার পর আপনি নিশ্চয়ই জ্ঞান বৃদ্ধির এবং তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জনের প্রতি এই আত্মার উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন যে, এর অধিকারী ব্যক্তি অল্প জ্ঞানে সন্তুষ্ট ছিলেন না। আর যখন আপনি আবু যর-এর জীবনের সেই ধাপগুলো সম্পর্কে জানলেন যা তিনি প্রাথমিক জীবন অর্থাৎ শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের পর অতিবাহিত করেছেন, তখন আপনি আমাদের সাথে উপলব্ধি করবেন যে, তিনি জ্ঞানের এমন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন যা তাঁকে প্রথমে সেভিলের জামে মসজিদের খতিব পদে, এরপর জাইয়ানের বিচারকের পদে এবং সবশেষে ফেজে তাঁর চূড়ান্ত অবস্থানে আসীন করেছিল, যেখানে তিনি সুদূরপ্রসারী খ্যাতি ও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
জীবনীকারগণ তাঁর গুণগান বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁকে এমন সব গ্রন্থাবলির রচয়িতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা দেশ-বিদেশে খ্যাতি লাভ করেছিল। আবু যর-এর মতো ব্যক্তিত্বের জন্য এটি কোনো অত্যুক্তি নয়; তবে আমরা ইবনে ইসহাকের সীরাতের কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা সংক্রান্ত তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থটি ছাড়া অন্য কিছু পাইনি, যা ইবনে ফারতুন তাঁর নিকট শ্রবণ করেছিলেন। এছাড়াও ছন্দশাস্ত্র (আরুদ) বিষয়ে তাঁর আরেকটি গ্রন্থের কথা ইবনুল আব্বার উল্লেখ করেছেন তবে সেটির নাম বলেননি। তৃতীয় আরেকটি গ্রন্থের কথা সুয়ূতী 'আল-বুগইয়াহ' গ্রন্থে আবু যর সম্পর্কে আলোচনা করার সময় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: «
… জামি'উল জাওয়ামি' গ্রন্থে তাঁর রচনাবলির মধ্যে ইবনে হিশামের সীরাতের ওপর শ্রুতিলিপি প্রদানের বিষয়টি বারবার এসেছে।»
আবু যর-এর রচনাবলি সম্পর্কে এটুকুই আমাদের জানা। তবে আমরা এ কথা ভুলে যাই না যে, তিনি আন্দালুসে আরবি ভাষার ঝাণ্ডাবাহী ছিলেন এবং তিনি সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী ছিলেন। তিনি কবিতা রচয়িতাদের অন্যতম ছিলেন এবং কবিতার দক্ষ সমালোচকও ছিলেন। তেমনিভাবে তিনি আরবদের ইতিহাস, তাদের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিগ্রহ, তাদের কবিতা ও ভাষাজ্ঞানে ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী এবং এসব ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। তাঁর সময়ে তাঁর চেয়ে অধিক নিখুঁত স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন এবং সকল জ্ঞানে তাঁর চেয়ে অধিক দক্ষ কোনো ব্যক্তি পাণ্ডুলিপি লিখন বা জ্ঞান সংরক্ষণে ছিল না।
আর মালেকি মাজহাবের অনুসারী আবু যর-এর চরিত্রের ব্যাপারে বলা যায় যে, তিনি ছিলেন গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাবান ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠত্ব, ধার্মিকতা ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ, অত্যন্ত লাজুক এবং তাঁর মজলিস ছিল অতি গম্ভীর। তিনি সালাফদের আদর্শ অনুযায়ী হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর ছাত্রদের প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিস্তার ঘটানো থেকে বিরত রাখতেন এবং তিনি তাদের কেবল সেই বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ রাখতেন যা তিনি তাদের কাছে উপস্থাপন করতেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভীতির কারণে সে যুগে অন্য কারো ক্ষেত্রে ছাত্ররা এমনটি করত না।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(مولده ووفاته) :يذكر المستشرق بولس برونله أَن أَبَا ذرّ ولد سنة 533- أَي قبل موت أَبِيه بِأحد عشر عَاما، إِذْ كَانَت وَفَاة أَبِيه سنة 544- وَأَن وَفَاة أَبى ذرّ كَانَت سنة 604 هـ وَيُوَافِقهُ ابْن الْأَبَّار على السّنة الَّتِي توفى فِيهَا أَبُو ذرّ، وَيزِيد عَلَيْهِ بِأَن الْوَفَاة كَانَت ضحى يَوْم الِاثْنَيْنِ الْحَادِي عشر من شوّال، وَأَنه دفن لصَلَاة الْعَصْر من الْيَوْم نَفسه بعدوة الْقرَوِيين فِي فاس.
وَأما ميلاده فَيَقُول فِيهِ ابْن الْأَبَّار: «
… ومولده سنة خمس، وَقيل سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وَخمْس مائَة، وَالْأول أصح» .
وَنحن نَمِيل إِلَى قَول ابْن الْأَبَّار فِي مِيلَاد أَبى ذرّ، فقد ذكر ابْن الْعِمَاد أَن أَبَا ذرّ مَاتَ عَن سبعين عَاما، وَإِذا صحّ هَذَا وصحّ عندنَا أَن أَبَا ذرّ- كَمَا قَالَ ابْن الْأَبَّار- مَاتَ فِي شوّال من سنة 604 هـ، كَانَ مَا ذهب إِلَيْهِ ابْن الْأَبَّار فِي مِيلَاد أَبى ذرّ انه كَانَ سنة 535 هـ أقرب إِلَى الصَّوَاب.
عَملنَا فِي السِّيرَةهَا هُوَ ذَا كتاب السِّيرَة بَين أَيدي القرّاء فِي ثَوْبه الْجَدِيد يحدّث عَمَّا بذلنا من جهد فِي إِخْرَاجه.
لقد كَانَ هَمنَا الأوّل أَن نعارض النُّسْخَة المصرية الَّتِي بَين أَيْدِينَا بِجَمِيعِ النّسخ الْأُخْرَى، خطية أَو مطبوعة، وجرينا فِي الرَّمْز إِلَى هَذِه النّسخ بالحرف الْآتِيَة:
أ- للنسخة المطبوعة بِمَدِينَة جوتنجن بألمانيا سنة 1276 هـ سنة 1862 م.
وَقد اعْتمد ناشرها الْعَلامَة المستشرق «وستنفلد» ، على نُسْخَة السهيليّ المخطوطة، الَّتِي أَخذهَا عَن أستاذه أَبى بكر بن العربىّ الإشبيليّ.
ب- للنسخة المطبوعة فِي بولاق سنة 1259 هـ.
ت- لنسخة خطية بالمكتبة التيمورية، مَوْجُود مِنْهَا الْجُزْء الأول، وَهُوَ نَاقص من الأول وَرَقَات، وينتهى إِلَى شعر عُثْمَان بن مَظْعُون فِي عتاب أُميَّة بن خلف.
ر- للنسخة المطبوعة على هَامِش الرّوض الْأنف بالمطبعة الجمالية بِمصْر سنة 1332 هـ، سنة 1914 ميلادية.
(তাঁর জন্ম ও মৃত্যু):প্রাচ্যবিদ পল ব্রুনলে উল্লেখ করেছেন যে, আবু যার ৫৩৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন—অর্থাৎ তাঁর পিতার মৃত্যুর এগারো বছর পূর্বে, যেহেতু তাঁর পিতার মৃত্যু হয়েছিল ৫৪৪ হিজরিতে। আর আবু যার-এর মৃত্যু হয়েছিল ৬০৪ হিজরিতে। ইবনুল আব্বারও আবু যার-এর মৃত্যুর সালের ব্যাপারে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং অতিরিক্ত তথ্য যোগ করেছেন যে, মৃত্যু হয়েছিল ১১ই শাওয়াল সোমবার চাশতের সময় (পূর্বাহ্নে), এবং একই দিনে আসরের নামাজের সময় তাঁকে মরক্কোর ফাস নগরের আদওয়াতুল কারাওয়্যিনে দাফন করা হয়।
আর তাঁর জন্মের ব্যাপারে ইবনুল আব্বার বলেন: «
... তাঁর জন্ম (পাঁচশত) পঁচিশ সালে, আবার বলা হয়েছে পাঁচশত তেত্রিশ সালে; প্রথম মতটিই অধিকতর সঠিক।»
আমরা আবু যার-এর জন্মের ব্যাপারে ইবনুল আব্বারের মতের দিকেই ঝুঁকেছি। কারণ ইবনুল ইমাদ উল্লেখ করেছেন যে, আবু যার সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আর যদি এটি সঠিক হয় এবং আমাদের নিকট যদি এটি প্রমাণিত হয় যে—যেমনটি ইবনুল আব্বার বলেছেন—আবু যার ৬০৪ হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেছেন, তবে আবু যার-এর জন্ম ৫৩৫ হিজরিতে হওয়ার ব্যাপারে ইবনুল আব্বার যে মত দিয়েছেন, সেটিই অধিকতর সঠিক বলে গণ্য হবে।
সীরাত গ্রন্থে আমাদের কর্মপদ্ধতিএই যে সীরাত গ্রন্থটি পাঠকদের হাতে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হলো, যা এর প্রকাশে আমাদের ব্যয়িত শ্রমের কথা তুলে ধরে।
আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল আমাদের কাছে থাকা মিশরীয় সংস্করণটিকে অন্য সকল পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করা, চাই তা হাতে লেখা হোক বা মুদ্রিত। এই সংস্করণগুলোকে নির্দেশ করতে আমরা নিম্নোক্ত বর্ণগুলো প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছি:
আলিফ- জার্মানির গটিংজেন শহরে ১২৭৬ হিজরি মোতাবেক ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত সংস্করণের জন্য।
এর প্রকাশক প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ ‘উস্টেনফেল্ড’ সুহাইলি-এর পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, যা তিনি তাঁর শিক্ষক আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-ইশবিলির নিকট থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
বা- ১২৫৯ হিজরিতে বুলাকে মুদ্রিত সংস্করণের জন্য।
তা- তৈমুরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির জন্য, যার কেবল প্রথম খণ্ডটি বিদ্যমান। এর শুরুর দিকের কয়েকটি পাতা হারিয়ে গেছে এবং এটি উমাইয়া বিন খালাফকে ভর্ৎসনা করে উসমান বিন মাজউনের কবিতার চরণে গিয়ে শেষ হয়েছে।
রা- ১৩৩২ হিজরি মোতাবেক ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে মিশরের জামালিয়া প্রেস থেকে প্রকাশিত ‘আর-রাওদুল উনুফ’-এর টীকায় মুদ্রিত সংস্করণের জন্য।
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ط- للنسخة المخطوطة بِخَط الْقَاسِم بن زيد المتَوَكل على الله إِسْمَاعِيل بن الْقَاسِم، وَالَّتِي فرغ من كتَابَتهَا سنة 1144 هـ، وَهِي مَحْفُوظَة بدار الْكتب.
ع- للنسخة المخطوطة بِخَط مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن عبد الرَّحْمَن الشافعيّ الدمشقيّ الْمُتَوفَّى سنة 749 هـ. وَهِي نَاقِصَة من الأوّل والأثناء. وأوّل مَا فِيهَا من قبيل أَسمَاء من شهد الْعقبَة الْأَخِيرَة، وَهِي مَحْفُوظَة بدار الْكتب.
م- للنسخة المطبوعة فِي مصر بالمطبعة الْخَيْرِيَّة سنة 1329 هـ.
ن- لنسخة خطية لَا يعرف كاتبها، وَلَا السّنة الَّتِي كتبت فِيهَا، وَلَا يُوجد مِنْهَا إِلَّا الجزءان، الأول وَالثَّانِي. وينتهيان إِلَى آخر مَا قيل من الْأَشْعَار فِي غَزْوَة أحد، وَهِي مَحْفُوظَة بدار الْكتب.
ثمَّ استعنا بعد ذَلِك على تَبْيِين المغلق، وتوضيح الْمُبْهم، بالكتب الَّتِي عرضت للسيرة بِمثل هَذَا، كالروض الْأنف للسهيلى، وَشرح السِّيرَة لأبى ذرّ الخشنيّ.
وَفِي كثير من المواطن الَّتِي كُنَّا نفقد فِيهَا بغيتنا فِي مثل هذَيْن المرجعين كُنَّا نلجأ إِلَى المراجع الَّتِي أَشَرنَا إِلَيْهَا فِي حَاشِيَة الْكتاب.
وَقد كُنَّا نترجم للأعلام الْوَارِدَة، ونتتبّعها بالتصحيح والضبط. بَقِي بعد ذَلِك تبويب الْكتاب، وَوَضعه أبوابا تَحت هَذِه العناوين الَّتِي أثبتناها. وَحين رَأينَا مُعظم النّسخ قد أغفلت مِنْهَا الْكثير، إِذا بالنسخة الأوربية قد أسرفت فِي ذَلِك، فسلكنا نَحن نهجا وسطا، فأخذنا من العناوين مَا يصحّ أَن يُمَيّز بَابا مُسْتقِلّا عَن غَيره، ونفينا مِنْهَا مَا لَا يجرى مَعَ هَذِه الفكرة، ووضعنا العناوين الَّتِي بالحرف الصَّغِير بَين الأقواس فَوق كلّ فكرة جَدِيدَة. لتَكون عونا لنا على عمل الفهرس التفصيلي العامّ، الّذي ألحقناه بِالْكتاب.
وَهَا نَحن أولاء، بعد أَن بذلنا قصارى الْجهد فِي السِّيرَة نقدّم الطبعة الثَّانِيَة مِنْهَا فِي هَذِه الْحلَّة القشيبة راجين أَن نَكُون أقرب إِلَى التَّوْفِيق، وَأدنى إِلَى الصَّوَاب.
مصطفى السقا/ إِبْرَاهِيم الابيارى/ عبد الحفيظ ثلبى
ত্ব- আল-কাসেম বিন জায়েদ আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইসমাইল বিন আল-কাসেমের হস্তাক্ষরে লিখিত পাণ্ডুলিপির সংকেত, যার অনুলিপি তিনি ১১৪৪ হিজরিতে সম্পন্ন করেছিলেন এবং এটি বর্তমানে দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত।
আইন- মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আব্দুর রহমান আশ-শাফিয়ী আদ-দিমাশকির হস্তাক্ষরে লিখিত পাণ্ডুলিপির সংকেত, যিনি ৭৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। এটি শুরু এবং মধ্যভাগ থেকে অসম্পূর্ণ। এর সূচনা হয়েছে শেষ আকাবায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের নামের তালিকা থেকে এবং এটি দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত।
মীম- ১৩২৯ হিজরিতে মিশরের মাতবাআতুল খাইরিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত সংস্করণের সংকেত।
নুন- এমন একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির সংকেত যার লেখক এবং অনুলিপি করার বছর অজ্ঞাত। এর কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড বিদ্যমান। খণ্ডদ্বয় উহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণিত কবিতার শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে এবং এটি দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত।
অতঃপর আমরা জটিল বিষয়সমূহের ব্যাখ্যা এবং অস্পষ্ট স্থানসমূহ স্পষ্ট করার জন্য সিরাত বিষয়ক অন্যান্য গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি, যেমন সুহাইলির 'আর-রাওদুল উনুফ' এবং আবু যর আল-খুশানির 'শারহুস সিরাহ'।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে যখন আমরা উক্ত দুটি উৎসগ্রন্থে আমাদের উদ্দিষ্ট বিষয় খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছি, তখন আমরা সেই সব তথ্যসূত্রের শরণাপন্ন হয়েছি যা কিতাবের পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আমরা কিতাবে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান করেছি এবং তাদের নাম ও তথ্য যাচাই ও সংশোধনের কাজ করেছি। এরপর অবশিষ্ট ছিল কিতাবটিকে পরিচ্ছেদসমূহে বিন্যস্ত করা এবং আমাদের নির্ধারিত শিরোনামগুলোর অধীনে তা স্থাপন করা। যখন আমরা লক্ষ্য করলাম যে অধিকাংশ অনুলিপিতে শিরোনামের ক্ষেত্রে ব্যাপক অবহেলা করা হয়েছে, তখন দেখলাম ইউরোপীয় সংস্করণটি আবার এ ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছে। তাই আমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছি; আমরা এমন সব শিরোনাম গ্রহণ করেছি যা একটি অধ্যায়কে অন্যটি থেকে পৃথক করতে সক্ষম এবং যা এই ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় তা বর্জন করেছি। প্রতিটি নতুন প্রসঙ্গের উপর ছোট অক্ষরে বন্ধনীযুক্ত শিরোনাম স্থাপন করেছি, যাতে তা কিতাবের সাথে সংযুক্ত আমাদের বিস্তারিত সাধারণ সূচিপত্র তৈরিতে সহায়ক হয়।
সিরাত গ্রন্থের কাজে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করার পর, এখন আমরা এই মনোজ্ঞ অবয়বে এর দ্বিতীয় সংস্করণটি পেশ করছি। আমরা আশা করি যে আমরা সফলতার অধিক নিকটবর্তী এবং সঠিকতার নিকটতম হতে পেরেছি।
মোস্তফা আস-সাক্কা / ইবরাহিম আল-আবিয়ারি / আব্দুল হাফিজ শালবি
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: -)
سيرة ابن هشام - ت السقا ورفاقه القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السيرة النبوية لابن هشام
المؤلف: عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المعافري، أبو محمد، جمال الدين (ت 213 هـ)
تحقيق: مصطفى السقا [ت 1389 هـ]- إبراهيم الأبياري [ت 1414 هـ]- عبد الحفيظ شلبي
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثانية، 1375 هـ - 1955 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সীরাতে ইবনে হিশাম - সাক্কা ও তাঁর সহযোগীদের তাহকীক বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: ইবনে হিশাম রচিত সীরাতুন নবী
লেখক: আব্দুল মালেক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিমইয়ারি আল-মাআফিরি, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন (মৃত্যু ২১৩ হিজরি)
তাহকীক: মুস্তফা আল-সাক্কা [মৃত্যু ১৩৮৯ হিজরি]- ইবরাহিম আল-আবিয়ারি [মৃত্যু ১৪১৪ হিজরি]- আব্দুল হাফিজ শালবি
প্রকাশক: শরীকাহ মাকতাবাহ ওয়া মাতবাআহ মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী ওয়া আওলাদুহু, মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৭৫ হিজরি - ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ১)
ذِكْرُ سَرْدِ النَّسَبِ الزَّكِيِّ مِنْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم، إلَى آدَمَ عليه السلامبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ للَّه رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَجْمَعِينَ قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ (النَّحْوِيُّ) [1] :
هَذَا كِتَابُ سِيرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم. قَالَ: مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ابْن عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَاسْمُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ: شَيْبَةُ [2] بْنُ هَاشِمٍ، وَاسْمُ هَاشِمٍ: عَمْرُو بْنُ عَبْدِ مَنَافٍ، وَاسْمُ عَبْدِ مَنَافٍ: الْمُغِيرَةُ بْنُ قُصَيٍّ، (وَاسْمُ قُصَيٍّ: زَيْدُ) [1] بْنُ كِلَابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كَعْبِ بْنِ لُؤَيِّ بْنِ غَالِبِ بْنِ فِهْرِ [3] بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْرِ [4]
--------------------------------------------
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত পবিত্র বংশপরম্পরা বর্ণনার উল্লেখপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর সকল পরিবারের ওপর। আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম (নাহবি) [১] বলেছেন:
এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত গ্রন্থ। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব; আর আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল: শায়বাহ [২] ইবনে হাশিম; এবং হাশিমের নাম ছিল: আমর ইবনে আব্দে মানাফ; এবং আব্দে মানাফের নাম ছিল: আল-মুগীরা ইবনে কুসাই; (আর কুসাইয়ের নাম ছিল: যাইদ) [১] ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুআই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর [৩] ইবনে মালিক ইবনে আন-নাদর [৪]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ২)
ابْن كِنَانَةَ بْنِ خُزَيْمَةَ بْنِ مُدْرِكَةَ، وَاسْمُ مُدْرِكَةَ: عَامِرُ [1] بْنُ إلْيَاسَ بْنِ مُضَرَ بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ [2] بْنِ (أُدٍّ، وَيُقَالُ) [3] : أُدَدُ [4] بْنُ مُقَوِّمِ [5] بْنِ نَاحُورَ بْنِ تَيْرَحَ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ نَابِتِ [6] بْنِ إسْمَاعِيلَ بْنِ إبْرَاهِيمَ- خَلِيلِ الرَّحْمَنِ- بْنِ تَارِحٍ [7] ، وَهُوَ آزَرُ [8] بْنُ نَاحُورَ بْنِ سَارُوغَ [9] بْنِ رَاعُو [10] بْنِ فَالَخٍ [11]
--------------------------------------------
কিনানা বিন খুজাইমা বিন মুদরিকা-এর পুত্র; আর মুদরিকার নাম হলো: আমির [১] বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাআদ বিন আদনান [২] বিন (উদ, আর বলা হয়) [৩]: উদাদ [৪] বিন মুকাউয়িম [৫] বিন নাহুর বিন তাইরাহ বিন ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব বিন নাবিত [৬] বিন ইসমাইল বিন ইবরাহিম—যিনি দয়াময় আল্লাহর বন্ধু—বিন তারিখ [৭], আর তিনিই হলেন আজর [৮] বিন নাহুর বিন সারুগ [৯] বিন রাউ [১০] বিন ফালিখ [১১]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
ابْن عَيْبَرِ [1] بْنِ شالَخٍ [2] بْنِ أرْفَخْشَذَ [3] بْنِ سَامِ بْنِ نُوحِ بْنِ لَمْكَ [4] بْنِ مُتَوَشْلِخَ [5] ابْن أَخْنُوخَ، وَهُوَ إدْرِيسُ النَّبِيُّ- فِيمَا يَزْعُمُونَ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ، وَكَانَ أَوَّلَ بَنِي آدَمَ أُعْطَى النُّبُوَّةَ، وَخَطَّ بِالْقَلَمِ- ابْنِ يَرْدِ بْنِ مُهْلَيِلِ [6] بْنِ قَيْنَنَ [7] بْنِ يانِشَ بْنِ شِيثِ بْنِ آدَمَ صلى الله عليه وسلم.
قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ هِشَامٍ: حَدَّثَنَا زِيَادُ [8] بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إسْحَاقَ [9] الْمُطَّلِبِيِّ بِهَذَا الَّذِي ذَكَرْتُ مِنْ نَسَبِ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم إلَى آدَمَ عليه السلام، وَمَا فِيهِ مِنْ حَدِيثِ إدْرِيسَ وَغَيْرِهِ.
قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَحَدَّثَنِي خَلَّادُ بْنُ قُرَّةَ بْنِ خَالِدٍ السَّدُوسِيُّ، عَنْ شَيْبَانَ ابْن زُهَيْرِ بْنِ شَقِيقِ بْنِ ثَوْرٍ عَنْ قَتَادَةَ بْنِ دُعَامةَ، أَنَّهُ قَالَ:
إسْمَاعِيلُ بْنُ إبْرَاهِيمَ- خَلِيلِ الرَّحْمَنِ- ابْن تَارِحٍ، وهُوَ آزَرُ بْنُ نَاحُورَ بْنِ أَسْرَغَ [10]
--------------------------------------------
আইবার [১] ইবনে শালাখ [২] ইবনে আরফাখশায [৩] ইবনে সাম ইবনে নূহ ইবনে লামক [৪] ইবনে মুতুশলাখ [৫] ইবনে আখনুখ—যিনি নবী ইদ্রিস, যেমনটি তারা ধারণা করেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তিনিই আদম সন্তানদের মধ্যে প্রথম নবুওয়াত লাভ করেন এবং কলম দ্বারা লেখেন—ইবনে ইয়ারদ ইবনে মুহলায়িল [৬] ইবনে কাইনান [৭] ইবনে ইয়ানিশ ইবনে শীস ইবনে আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম বলেন: জিয়াদ [৮] ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক [৯] আল-মুত্তালিবী থেকে বর্ণনা করেছেন—আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বংশপরম্পরা থেকে আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত আমি যা উল্লেখ করেছি, এবং এতে ইদ্রিস ও অন্যদের বিষয়ে যা আলোচিত হয়েছে সে সম্পর্কে।
ইবনে হিশাম বলেন: খাল্লাদ ইবনে কুররাহ ইবনে খালিদ আস-সাদুসী আমাকে বর্ণনা করেছেন শায়বান ইবনে যুহাইর ইবনে শাকীক ইবনে সাওর থেকে, তিনি কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম—যিনি রাহমানের খলিল (বন্ধু)—ইবনে তারিহ, আর তিনি হলেন আজর ইবনে নাহুর ইবনে আসরাগ [১০]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
ابْن أَرْغُو بْنِ فَالَخٍ بْنِ عَابِرِ بْنِ شَالَخٍ بْنِ أرْفخْشَذَ [1] بْنِ سَامِ بْنِ نُوحِ بْنِ لَمْكِ بْنِ مَتُّوشَلَخِ بْنِ أَخْنُوخَ بْنِ يَرْدِ بْنِ مِهْلَائِيلَ بْنِ قَايِنَ [2] بْنِ أَنُوشَ بْنِ شِيثِ بْنِ آدَمَ صلى الله عليه وسلم.
(نَهْجُ ابْنِ هِشَامٍ فِي هَذَا الْكِتَابِ) :قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَأَنَا إنْ شَاءَ اللَّهُ مُبْتَدِئٌ هَذَا الْكِتَابَ بِذِكْرِ إسْمَاعِيلَ بْنِ إبْرَاهِيمَ، وَمَنْ وَلَدَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم مِنْ وَلَدِهِ، وَأَوْلَادِهِمْ لِأَصْلَابِهِمْ، الْأَوَّلَ فَالْأَوَّلَ، مِنْ إسْمَاعِيلَ إلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم، وَمَا يَعْرِضُ مِنْ حَدِيثهِمْ، وَتَارِكٌ ذِكْرَ غَيْرِهِمْ مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ، عَلَى هَذِهِ الْجِهَةِ لِلِاخْتِصَارِ، إلَى حَدِيثِ سِيرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتَارِكٌ بَعْضَ مَا ذَكَرَهُ ابْنُ إسْحَاقَ فِي هَذَا الْكِتَابِ، مِمَّا لَيْسَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم فِيهِ ذِكْرٌ، وَلَا نَزَلَ فِيهِ مِنْ الْقُرْآنِ شَيْءٌ، وَلَيْسَ سَبَبًا لِشَيْءِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ، وَلَا تَفْسِيرًا لَهُ، وَلَا شَاهِدًا عَلَيْهِ، لِمَا ذَكَرْتُ مِنْ الِاخْتِصَارِ، وَأَشْعَارًا ذَكَرَهَا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالشِّعْرِ يَعْرِفُهَا، وَأَشْيَاءَ بَعْضُهَا يَشْنُعُ الْحَدِيثُ بِهِ، وَبَعْضٌ يَسُوءُ بَعْضَ النَّاسِ ذِكْرُهُ، وَبَعْضٌ لَمْ يُقِرَّ لَنَا الْبَكَّائِيُّ بِرِوَايَتِهِ، وَمُسْتَقْصٍ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مَا سِوَى ذَلِكَ مِنْهُ بِمَبْلَغِ الرِّوَايَةِ لَهُ، وَالْعِلْمِ بِهِ.
سِيَاقَةُ النَّسَبِ مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ عليه السلام
(أَوْلَادُ إسْمَاعِيلَ عليه السلام وَنَسَبُ أُمِّهِمْ) :قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إسْحَاقَ الْمُطَّلِبِيِّ قَالَ:
وَلَدَ إسْمَاعِيلُ بْنُ إبْرَاهِيمَ عليهما السلام اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا: نَابِتًا، وَكَانَ أَكْبَرَهُمْ،
--------------------------------------------
আরঘু বিন ফালখ বিন আবির বিন শালাখ বিন আরফাখশায [১] বিন সাম বিন নূহ বিন লামক বিন মাত্তুশালাখ বিন আখুনুখ বিন ইয়ারদ বিন মিহলাইল বিন কায়িন [২] বিন আনুশ বিন শীষ বিন আদম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
(এই গ্রন্থে ইবনে হিশামের অনুসৃত পদ্ধতি):ইবনে হিশাম বলেন: ইনশাআল্লাহ, আমি এই গ্রন্থটি ইব্রাহীমের পুত্র ইসমাইলের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি, এবং তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বপুরুষ ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বংশপরম্পরা অনুযায়ী—প্রথমজন থেকে শুরু করে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত—পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করব। সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে আমি ইসমাইলের অন্যান্য সন্তানদের বর্ণনা এই পদ্ধতিতে বর্জন করছি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের বর্ণনায় চলে যাব। এছাড়াও আমি ইবনে ইসহাক তাঁর গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয় বাদ দিয়েছি যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো উল্লেখ নেই, কিংবা সে সম্পর্কে কুরআনে কিছু অবতীর্ণ হয়নি, অথবা যা এই গ্রন্থের কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, কিংবা তার কোনো ব্যাখ্যা বা প্রমাণ নয়—সংক্ষিপ্তকরণের যে কারণ আমি উল্লেখ করেছি তার ভিত্তিতে। এছাড়া এমন কিছু কবিতা আমি বর্জন করেছি যা কাব্যবিশারদদের কাউকে আমি চিনতে বা জানতে দেখিনি, এবং এমন কিছু বিষয় যার বর্ণনা অত্যন্ত শ্রুতিকটু, এবং কিছু বিষয় যা উল্লেখ করলে কিছু মানুষ কষ্ট পেতে পারে, এবং কিছু বর্ণনা যা আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনার স্বীকৃতি দেননি। তবে ইনশাআল্লাহ তাআলা, এ বিষয়গুলো ছাড়া বাকি সব বিষয় আমি আমার বর্ণনার সীমা ও জ্ঞান অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরব।
ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর বংশধরদের মধ্য থেকে বংশপরম্পরার বর্ণনা
(ইসমাইল আলাইহিস সালাম-এর সন্তানগণ এবং তাঁদের মাতার বংশপরিচয়):ইবনে হিশাম বলেন: যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-মুত্তালিবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
ইব্রাহীম-পুত্র ইসমাইল (আলাইহিমাস সালাম)-এর বারোজন পুত্র জন্মলাভ করেছিলেন: নাবিত, এবং তিনি ছিলেন তাঁদের মাঝে জ্যেষ্ঠ,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিরাতে ইবনে হিশাম - ত আস-সাক্কা ওয়া রিফাকুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقَيْذَرُ [1] ، وَأَذْبُلَ [2] ، وَمُبِشًّا [3] ، وَمِسْمَعًا، وَمَاشِي [4] ، وَدِمَّا [5] ، وَأَذَرُ [6] ، وَطَيْمَا [7] ، وَيَطُورَ [8] ، ونَبِشَ [9] ، وقَيْذُما [10] . وَأُمُّهُمْ (رَعْلَةُ) [11] بِنْتُ مُضَاضِ بْنِ عَمْرٍو الْجُرْهُمِيُّ- قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَيُقَالُ: مِضَاضٌ. وَجُرْهُمُ بْنُ قَحْطَانَ، وَقَحْطَانُ أَبُو الْيَمَنِ كلهَا، وَإِلَيْهِ تَجْتَمِع نَسَبُهَا- ابْنُ عَامِرِ بْنِ شالَخِ بْنِ أرْفَخْشَذَ بْنِ سَامِ بْنِ نُوحٍ. قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: جُرْهُمُ بْنُ يَقْطَنَ بْنِ عَيْبَرِ بْنِ شَالَخٍ. و (يَقْطَنُ هُوَ) [12] قَحْطَانُ بْنُ عَيْبَرِ بْنِ شالَخٍ.
(عُمْرُ إسْمَاعِيلَ عليه السلام وَمَدْفِنُهُ) :قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَكَانَ عُمْرُ إسْمَاعِيلَ- فِيمَا يذكرُونَ مائَة سَنَةٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً، ثُمَّ مَاتَ رَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْهِ، وَدُفِنَ فِي الْحِجْرِ [13] مَعَ أُمِّهِ هَاجَرَ، رَحِمَهُمْ اللَّهُ تَعَالَى
--------------------------------------------
এবং কাইদার [১], আযবুল [২], মুবিশা [৩], মিসমা, মাশি [৪], দিম্মা [৫], আযার [৬], তাইমা [৭], ইয়াতুর [৮], নাবিশ [৯] ও কাইদুমা [১০]। এবং তাঁদের মা হলেন (রা’লাহ) [১১] বিনতে মুদাদ বিন আমর আল-জুরুহুমি। ইবনে হিশাম বলেন: কারো মতে নাম ‘মিদাদ’। আর জুরহুম বিন কাহতান; আর কাহতান হলেন সমগ্র ইয়ামেনের পিতা এবং তাঁর দিকেই তাদের বংশধারা মিলিত হয়—তিনি আমের বিন শালাখ বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ। ইবনে ইসহাক বলেন: জুরহুম বিন ইয়াকতান বিন আইবার বিন শালাখ। এবং (এই ইয়াকতানই হলেন) [১২] কাহতান বিন আইবার বিন শালাখ।
(ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর বয়স ও তাঁর সমাধিস্থল):ইবনে ইসহাক বলেন: বর্ণনাকারীদের বর্ণনা মতে ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর বয়স ছিল একশ ত্রিশ বছর। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। তাঁকে তাঁর মা হাজেরা (রা.)-এর সাথে হিজর-এ [১৩] সমাহিত করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন।
--------------------------------------------