القسم: النحو والصرف
الكتاب: فتح الكريم اللطيف في شرح «باكورة التعريف بالمهمّ من التصريف، للشيخ محمد حماد بن أحمد الشنقيطي»
الشارح: الدكتور محمد بن عبد الله بن حمود المقشي
عدد الصفحات: 75
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442
বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: ফাতহুল কারীমিল লতিফ ফি শারহি «বাকুরাতিত তারিফ বিল মুহিম্মি মিনাত তাসরিফ, শায়খ মুহাম্মদ হাম্মাদ বিন আহমাদ আশ-শানকিতী রচিত»
ব্যাখ্যাকার: ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হামুদ আল-মাকশি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫
[গ্রন্থটি অপ্রকাশিত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২
الشرح قال الناظم تبركاً باسم الله العظيم، واقتداء بكتابه الكريم (بسم الله الرحمن الرحيم) أي: أنظم؛ إذ كل فاعل يبدأ في فعله ببسم الله يُضْمِرُ ما جعل التسمية مبدأً له كما أن المسافر إذا حل أو ارتحل فقال: بسم الله كان المعنى بسم الله أحل، وبسم الله أرتحل، و (الله) عَلَمٌ للذات الواجب الوجود، و (الرحمن الرحيم) اسمان بُنيا للمبالغة من رَحِم، والرحمن ابلغ من الرحيم؛ لأن زيادة البناء تدل على زيادة المعنى (أحمدُ ربي) الحمد لغة: الثناء باللسان على الجميل الاختياري على جهة التعظيم، والربُّ من أسماء الله تعالى (مَنْ لِكَونٍ صرَّفا) أي: الذي صرَّف هذا الكون، فهو المتصرِّف فيه بالخلق والإعدام.وفي قول الناظم: (مَنْ لِكَونٍ صرَّفا) ما يُسمَّى ببراعة الاستهلال، ومعناها عند أهل البلاغة أن يذكر المتكلِّمُ في أول كلامه ما يُشْعِرُ بمقصوده، وهنا قدمَّ الناظم هذه العبارة في أول منظومته ليشير بها إشارة لطيفة إلى ما سيتكلم عنه فيها وهو علم الصرف.
ব্যাখ্যা নাজিম (কাব্যকার) মহান আল্লাহর নামে বরকত লাভের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর সম্মানিত কিতাবের অনুসরণে বলেছেন: (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে)। অর্থাৎ: আমি রচনা করছি; কেননা প্রত্যেক আমলকারী যখন তার কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলেন, তখন তিনি মনে মনে এমন একটি বিষয়কে উহ্য রাখেন যার প্রারম্ভিকা হিসেবে তিনি বিসমিল্লাহকে গ্রহণ করেছেন। যেমন একজন মুসাফির যখন যাত্রাবিরতি করেন কিংবা যাত্রা শুরু করেন এবং বিসমিল্লাহ বলেন, তখন তার অর্থ দাঁড়ায়— আল্লাহর নামে আমি যাত্রাবিরতি করছি এবং আল্লাহর নামে আমি যাত্রা শুরু করছি। আর 'আল্লাহ' শব্দটি হচ্ছে এমন এক সত্তার জন্য নির্ধারিত নাম (علم) যার অস্তিত্ব অপরিহার্য। আর 'আর-রহমান' ও 'আর-রাহিম' হলো অতিশয়োক্তি (مبالغة) বুঝানোর জন্য 'রাহিমা' ধাতু থেকে গঠিত দুটি নাম। 'আর-রহমান' শব্দটি 'আর-রাহিম' অপেক্ষা অধিক অর্থবোধক; কারণ শব্দের কাঠামোর বৃদ্ধি অর্থের আধিক্যের ওপর প্রমাণ দেয়। (আমি আমার রবের প্রশংসা করছি): আভিধানিক অর্থে প্রশংসা (الحمد) হলো— সম্মানের উদ্দেশ্যে কারো স্বেচ্ছায় সম্পাদিত সুন্দর গুণের মৌখিক বর্ণনা। আর 'রব' মহান আল্লাহর নামসমূহের অন্যতম। (যিনি মহাবিশ্বকে পরিচালিত করেন): অর্থাৎ যিনি এই মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করেন; সৃষ্টি করা এবং বিলীন করার মাধ্যমে তিনিই এর সকল বিষয় পরিচালনা করেন।নাজিমের উক্তি— (যিনি মহাবিশ্বকে পরিচালিত করেন)—এর মধ্যে সূচনার চমৎকারিত্ব (براعة الاستهلال) বিদ্যমান। অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের (أهل البلاغة) নিকট এর অর্থ হলো, বক্তা তার বক্তব্যের শুরুতেই এমন কিছু উল্লেখ করবেন যা তার উদ্দেশ্যকে ইঙ্গিত করে। এখানে নাজিম তার কাব্যগ্রন্থের শুরুতে এই বাক্যটি উপস্থাপন করেছেন যাতে তিনি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন অর্থাৎ রূপান্তর বিজ্ঞান (علم الصرف), তার প্রতি একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত প্রদান করা যায়।
الشرح (صلّى) المشهور أن الصلاة من الله تعالى بمعنى الرحمة، ومن الملائكة الاستغفار، ومن الآدمي تضرع ودعاء، واختار الحافظ ابن حجر في فتح الباري أن معنى صلاة الله على نبيه ثناؤه عليه وتعظيمه، وصلاة الملائكة وغيرهم عليه طلب ذلك له من الله تعالى.(وسلّم) من التسليم بمعنى السلام، قال بعضهم: وإثبات الصلاة والسلام بعد البسملة في صدر الكتب والرسائل حَدَث في زمن ولاية بني هاشم، ثم مضى العمل على استحبابه، ومن العلماء من يختم بهما الكتب أيضاً(1).(على اللَّذْ شرَّفَا) أي: على الذي رفع قدره ومنزلته، والشرف: العلو والرفعة، و (اللَّذْ) لغة في الذي.
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা (সাল্লা) প্রসিদ্ধ অভিমত এই যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ‘সালাত’ বা দরুদ এর অর্থ হলো রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে তা হলো ক্ষমা প্রার্থনা, আর মানুষের পক্ষ থেকে তা হলো বিনয় ও দোয়া। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারি গ্রন্থে এই মতটি পছন্দ করেছেন যে, নবীজির ওপর আল্লাহর সালাত প্রদানের অর্থ হলো তাঁর প্রশংসা করা এবং তাঁকে সম্মানিত করা; আর ফেরেশতা ও অন্যদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর সালাত প্রদানের অর্থ হলো মহান আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য সেই মর্যাদা ও সম্মান প্রার্থনা করা।(ওয়াসাল্লাম) এটি ‘তাসলিম’ শব্দ থেকে আগত যার অর্থ হলো ‘সালাম’ বা শান্তি। কেউ কেউ বলেছেন: কিতাব ও চিঠিপত্রের শুরুতে বিসমিল্লাহর পর সালাত ও সালাম উল্লেখ করার বিষয়টি বনু হাশেমের শাসনকালে শুরু হয়েছে, অতঃপর এটি পছন্দনীয় (استحباب) আমল হিসেবে প্রচলিত হয়েছে। আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা কিতাবসমূহ এই দু’টির মাধ্যমেই সমাপ্ত করেন(১)।(আলাল্লায শাররাফা) অর্থাৎ: যাঁর মর্যাদা ও অবস্থানকে তিনি সমুন্নত করেছেন। ‘শরাফ’ (الشرف) শব্দের অর্থ হলো উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব। আর ‘আল-লায’ (اللَّذْ) শব্দটি ‘আল-লাযী’ (الذي)-এর একটি ভাষাগত রূপ।
--------------------------------------------
الشرح (محمدٍ) بدل من (اللَّذْ شرفا)، ومحمدٌ عَلَمٌ على نبينا صلى الله عليه وسلم، سماه به جده عبد المطلب إلهاماً من الله تعالى بأنه يكثر حمد الخلق له لكثرة خصاله الحميدة كما رُوي في السِّيَر.(وآله) هم على الأصح مؤمنو بني هاشم وبني المطلب.(وبعدُ) أي: وبعد ما تقدم من الحمد والصلاة والسلام، وهذه الكلمة سواء كانت بعد "أما" أم لا، يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى آخر، ولا يجوز الإتيان بها في أول الكلام، ويستحب الإتيان بها في الخطب والمكاتبات اقتداء برسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد عقد البخاري لها باباً في صحيحه، وقد اختُلِف في أول من قالها على ثمانية أقوال جمعها بعضهم في بيتين:جرى الخلف "أما بعدُ" من كان بادئاً … بها عُدّ أقوالاً وداودُ أقربُويعقوبُ أيوبُ الصبورُ وآدمٌ … وقسٌّ وسحبانٌ وكعبٌ ويعربُ
ব্যাখ্যা (الشرح) (মুহাম্মদ) শব্দটি (যিনি সম্মানিত করেছেন)-এর স্থলাভিষিক্ত (بدل)। মুহাম্মদ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ নাম (علم)। তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহাম (إلهام) বা প্রেরণা পেয়ে তাঁর এই নামকরণ করেছিলেন, যাতে তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলির আধিক্যের কারণে সৃষ্টির পক্ষ থেকে তাঁর প্রশংসা অধিক হারে হয়, যেমনটি সীরাত (سير) গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।(এবং তাঁর পরিবার-পরিজন) দ্বারা বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মুমিনদের বোঝানো হয়েছে।(অতপর) অর্থাৎ: হামদ (প্রশংসা), সালাত ও সালামের পরে যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে। এই শব্দটি ‘আম্মা’ (أما)-এর পরে হোক বা না হোক, এক প্রসঙ্গের বর্ণনা থেকে অন্য প্রসঙ্গের বর্ণনায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। আলোচনার শুরুতে এটি ব্যবহার করা বৈধ (جائز) নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে খুতবা ও চিঠিপত্রে এটি ব্যবহার করা মুস্তাহাব (مستحب)। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ বুখারিতে এর জন্য একটি অধ্যায় (باب) নির্ধারণ করেছেন। এটি সর্বপ্রথম কে বলেছেন—এ বিষয়ে আটটি ভিন্ন মত রয়েছে, যা কেউ কেউ দুই চরণে এভাবে একত্রিত করেছেন:‘আম্মা বাদ’ কে প্রথম শুরু করেছেন তা নিয়ে মতভেদ ঘটেছে … মতামতগুলো গণনা করো, দাউদ (আ.)-এর মতটিই অধিক নিকটবর্তী (أقرب)।এবং ইয়াকুব, ধৈর্যশীল আইয়ুব ও আদম … আর ক্বুস, সাহবান, কা’ব ও ইয়ারুব।
الشرح (فهاكَ) هاك: اسم فعل أمر بمعنى خُذ (مِن تصْريفِ فِعْلٍ عِقْدُ) شبَّهَ نظمه بالعِقد المنظوم من الجوهر والخرز ونحوهما الذي يُعَلَّق بالرقبة، وخصّ التصريف بالفعل في قوله (مِن تصْريفِ فِعْلٍ) لكونه لم يتكلم في هذه المنظومة إلا عن تصريف الفعل خاصة، والأصالة في التصريف إنما هي للأفعال؛ لكثرة تغييرها، وإنما دخل الأسماءَ حمْلاً لها على الأفعال.(فإنهُ) أي: علم الصرف (فنٌ جليلُ القدرِ) أي: عظيم المنزلة، فهو من أجل العلوم العربية وأعظمها خطراً؛ لأنه يجري في الصميم من الألفاظ العربية، ويجري منها مجرى المعيار والميزان.(وجَهْلُهُ بالمرء حقاً مُزرِ) أي: أن جهْل طالب العلم بعلم الصرف يُلْحِقُ به العيب، ويَنْقُصُ من مرتبته.
ব্যাখ্যা (ফাহাকা - فهاكَ) 'হাকা': এটি একটি নির্দেশসূচক ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم فعل أمر), যার অর্থ হলো— গ্রহণ করো। (মিন তাসরিফি ফিলিন ইকদুন - مِن تصْريفِ فِعْلٍ عِقْدُ) লেখক তার এই কাব্যবিন্যাসকে মণি-মুক্তা বা পুঁতি দিয়ে গাঁথা সেই মালার সাথে তুলনা করেছেন যা গলায় পরিধান করা হয়। তিনি বিশেষভাবে 'ক্রিয়ার রূপান্তর' (تصريف الفعل) কথাটি উল্লেখ করেছেন, কারণ এই কাব্যে তিনি কেবল ক্রিয়ার রূপান্তর নিয়েই আলোচনা করেছেন। বস্তুত রূপান্তরের (تصريف) বিষয়টি মৌলিকভাবে ক্রিয়ার জন্যই নির্ধারিত; কারণ এতে রূপান্তরের আধিক্য থাকে। আর বিশেষ্যগুলোর (ইসমে) মধ্যে রূপান্তর মূলত ক্রিয়ার অনুসরণে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।(ফাইন্নাহু - فإنهُ) অর্থাৎ: রূপান্তর বিদ্যা (علم الصرف) (ফাননুন জালিলুল কদর - فنٌ جليلُ القدرِ) অর্থাৎ: অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। এটি আরবি ভাষাতত্ত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র; কারণ এটি আরবি শব্দের মূল কাঠামোতে প্রভাব বিস্তার করে এবং শব্দের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মানদণ্ড ও পরিমাপক হিসেবে কাজ করে।(ওয়া জাহলুহু বিল মারয়ি হাক্কান মুজরি - وجَهْلُهُ بالمرء حقاً مُزرِ) অর্থাৎ: ইলম অন্বেষণকারীর জন্য রূপান্তর বিদ্যা (علم الصرف) সম্পর্কে অজ্ঞতা তার মাঝে ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয় এবং তার মর্যাদাকে খর্ব করে।
الشرح (ذَكرتُ منهُ ما تَمَسُّ الحاجةُ إِليهِ) أي: أنه ذَكَر مما يتعلق بتصريف الأفعال ما لا بدّ منه (والربُّ بهِ الإِعانَةُ) أي: أن الإعانة تُطلب من الله سبحانه لا من غيره، فتقديم المعمول في قوله: (والربُّ بهِ) يفيد الحصر.(سمَّيتُهُ باكُورَةَ التعريفِ) أي: أنه سمَّى نظمه هذا (باكورة التعريف) وباكورة الشيء أوَّلُه، فهي أول التعريف بعلم الصرف؛ لأنه ذكر فيها أهم القواعد التي لابد منها لطالب هذا الفن. (بِما يهُمُّنَا مِن التَصْرِيفِ) أي: بالأهم من علم التصريف؛ لأن العلم كثير والعمر قصير فيُقدِّم طالب العلم الأهم فالأهم، ولذا قال ابن الوردي:والعُمْرُ عن تحصيلِ كُلِّ علمِ … يقصرُ فابدأْ منهُ بالأهمّ
ব্যাখ্যা (আমি এর মধ্য থেকে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি যার প্রয়োজন দেখা দেয়) অর্থাৎ: তিনি ক্রিয়ার রূপান্তর (تصريف الأفعال) সংক্রান্ত সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন যা অপরিহার্য। (আর পালনকর্তার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়) অর্থাৎ: সাহায্য কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকটেই চাওয়া হয়, অন্য কারো নিকট নয়। সুতরাং (পালনকর্তার কাছেই) এই বক্তব্যে ‘মামুল’-কে আগে নিয়ে আসা সীমাবদ্ধতা (حصر) প্রকাশ করে।(আমি এর নাম দিয়েছি 'বাকুরাতুত তারিফ') অর্থাৎ: তিনি তাঁর এই কাব্যময় রচনার নাম রেখেছেন 'বাকুরাতুত তারিফ'। আর কোনো বিষয়ের ‘বাকুরা’ মানে হলো তার প্রারম্ভ বা প্রথম অংশ, সুতরাং এটি রূপান্তর (تصريف) শাস্ত্রের প্রথম পরিচিতি; কারণ তিনি এখানে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি উল্লেখ করেছেন যা এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য। (রূপান্তর (تصريف) শাস্ত্রের যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়ে) অর্থাৎ: রূপান্তর (تصريف) শাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ; কারণ ইলম অনেক কিন্তু আয়ু সংক্ষিপ্ত, তাই জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন। এজন্যই ইবনুল ওয়ারদী বলেছেন:আর সকল ইলম অর্জনের তুলনায় আয়ু … ফুরিয়ে যায়, তাই ইলমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দিয়ে শুরু করো।
الشرح والمبنى والوزن والصيغة والهيئة ألفاظ مترادفة، يقال: بنية الكلمة - أي: وزنها- والمراد بالبناء هيئة الكلمة التي يُمكن أن يُشاركها فيها غيرها، وهذه الهيئة عبارة عن عدد حروف الكلمة، وترتيبها، وحركاتها وسكناتها، مع اعتبار الحروف الزائدة والأصلية،فـ"رَجُل" - مثلاً - على هيئةٍ وصفةٍ يمكن أن يشاركه فيها كلمة "عَضُد" ونحوها مما كان على ثلاثة أحرف أولها مفتوح والثاني منها مضموم.فعلم الصرف إنما يُبحثُ فيه عن أحوال أبنية الكلمة التي ليست بإعراب ولا بناء، وعلم النحو يُبحث فيه عن أواخر الكلِم من إعراب وبناء.وموضوعه: الكلمات العربية من حيث البحث عن صحتها واعتلالها، وأصالتها وزيادتها ونحو ذلك، ويختص بالأسماء المتمكنة - المعربة - والأفعال المتصرفة، فالحرف بجميع أنواعه، والأسماء المبنية، والأفعال الجامدة لا يجري البحث عنها في علم الصرف.
ব্যাখ্যা মাবনা, ওজন, সিগাহ এবং হাইয়্যাত শব্দগুলো সমার্থক। বলা হয়: শব্দের গঠন—অর্থাৎ এর ওজন। আর 'বিনা' বা গঠন বলতে শব্দের এমন অবয়বকে বোঝায় যাতে অন্য শব্দও অংশীদার হতে পারে। এই অবয়বটি শব্দের বর্ণসংখ্যা, তাদের বিন্যাস, হরকত ও সুকুন এবং অতিরিক্ত ও মূল বর্ণগুলোর বিবেচনার সমষ্টি।উদাহরণস্বরূপ, "রজুল" শব্দটি এমন একটি অবয়ব ও বৈশিষ্ট্যের ওপর গঠিত যাতে "আদুদ" এবং এই জাতীয় শব্দ অংশীদার হতে পারে—যা তিনটি বর্ণ দ্বারা গঠিত, যার প্রথম বর্ণটি যবরযুক্ত এবং দ্বিতীয় বর্ণটি পেশযুক্ত।ইলমুস সরফ-এ শব্দের গঠনের এমন অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয় যা ইরাব বা মবনি হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর ইলমুন নাহু-তে শব্দের শেষাংশের ইরাব ও মবনি হওয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।এর আলোচ্য বিষয় হলো: আরবি শব্দসমূহ—সেগুলোর সুস্থতা (صحة) ও অসুস্থতা, মৌলিকতা ও অতিরিক্ততা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে। এটি মূলত পরিবর্তনশীল বিশেষ্য—অর্থাৎ মু'রাব—এবং রূপান্তরযোগ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং সকল প্রকার হরফ, মবনি বিশেষ্য এবং জামিদ ক্রিয়া সম্পর্কে ইলমুস সরফ-এ আলোচনা করা হয় না।
الشرح والتصريف لغةً: مطلق التغيير، ومنه تصريف الرياح، أي تغييرها، وتقلّبها.واصطلاحاً: عِلْمٌ يُبحَثُ فيه عن أحوال أبنية الكلمة العربية، وما لحروفها من أصالة وزيادة، وصحة وإعلال ونحو ذلك. والأبنية جمع بناء، والبناء والبِنية والبُنيةوواضعه: معاذ بن مسلم الهرَّاء(1).وثمرته: صون اللسان عن الخطأ في المفردات العربية، وتأديته إلى فهم اللغة الموصلة إلى فهم كتاب الله تعالى، وبمعرفته تُضبط الصِّيَغ وتصغيرها والنسبة إليها.واستمداده: من الكتاب، والسنة، وكلام العرب. وحكمه: الوجوب الكفائي.ومسائله: قضاياه التي تُذكر فيه كقولنا: ضَرَبَ فِعْلٌ مجرّد، وأكْرَمَ فِعْلٌ مزيد، وفَعُلَ بضمِّ العين مضارعه يَفْعُل، إلى غير ذلك.
--------------------------------------------
الشرح
ব্যাখ্যা (الشرح) শাব্দিক অর্থে তাসরিফ (التصريف) হলো: সাধারণ পরিবর্তন; এর থেকেই এসেছে বাতাসের পরিবর্তন (تصريف الرياح), অর্থাৎ তার পরিবর্তন ও আবর্তন।পারিভাষিক অর্থে (اصطلاحاً): এটি এমন এক বিদ্যা যাতে আরবি শব্দের গঠনশৈলী (أبنية الكلمة), এর বর্ণসমূহের মৌলিকত্ব (أصالة) ও অতিরিক্ততা (زيادة), সুস্থতা (صحة) ও রূপান্তর (إعلال) এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। আর 'আবনিইয়াহ' (أبنية) হলো 'বিনা' (بناء)-এর বহুবচন; আর 'বিনা' (بناء), 'বিনইয়াহ' (بِنية) এবং 'বুনইয়াহ' (بُنية) [একই অর্থ প্রকাশ করে]।এর প্রবর্তক হলেন: মুয়ায ইবনে মুসলিম আল-হাররা (১)।এর সার্থকতা হলো: আরবি একক শব্দাবলিতে (المفردات) ভুল করা থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা এবং এটি এমন ভাষা অনুধাবনের দিকে নিয়ে যায় যা মহান আল্লাহর কিতাব বোঝার মাধ্যম। এর জ্ঞানের মাধ্যমেই শব্দের রূপান্তর (الصيغ), এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (تصغير) এবং সম্বন্ধসূচক রূপ (النسبة) যথাযথভাবে আয়ত্ত করা যায়।এর উৎস: কুরআন, সুন্নাহ এবং আরবদের বাকরীতি। এর বিধান হলো: ফরজে কিফায়া (الوجوب الكفائي)।এর মাসআলাসমূহ (مسائله): ঐ সকল বিষয় যা এতে আলোচিত হয়; যেমন আমাদের বলা: ‘দারাবা’ (ضَرَبَ) হলো বৃদ্ধিহীন ক্রিয়া (فعل مجرد), ‘আকরামা’ (أكْرَمَ) হলো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ক্রিয়া (فعل مزيد), এবং আইন বর্ণে পেশ বিশিষ্ট ‘ফা’ুলা’ (فَعُلَ) এর মুদারে (مضارع) হয় ‘ইয়াফ’ুলু’ (يَفْعُلُ) ইত্যাদি।
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা (الشرح)
الشرح (بابُ أَبْنيةِ المجرَّدِ)الأبنية كما تقدم جمع بناء، والمراد بأبنية المجرد الصِّيَغ التي يأتي على وزنها الفعل المجرد.وقبل أن نذكر هذه الأوزان للمجرَّد نبيِّن أن الفعل ينقسم إلى مجرد ومزيد:فالمجرد عن الزيادة هو: الفعل الذي جميع حروفه أصلية.والحرف الأصلي هو: الحرف الذي يلزم الكلمة في جميع تصاريفها.والفعل المزيد هو: الذي فيه حرف زائد أو أكثر.والحرف الزائد هو: الحرف الذي يسقط في بعض تصاريف الكلمة مثل الألف من "قاتَلَ، ضارَبَ" والتاء والألف في "تقاتَلَ، تغافَلَ" والهمزة والسين والتاء في "استغفر، استقام".
ব্যাখ্যা (অতিরিক্ত বর্ণহীন ক্রিয়ার গঠনসমূহ (أبنية المجرَّد) পরিচ্ছেদ)'আবনিয়া' (الأبنية) শব্দটি পূর্বে যেমন অতিবাহিত হয়েছে, তা 'বিনা' (بناء) শব্দের বহুবচন। আর অতিরিক্ত বর্ণহীন ক্রিয়ার গঠনসমূহ বলতে ওই সকল রূপ (الصيغ) বোঝানো হয়েছে, যার ছাঁদ বা ওজন (وزن) অনুযায়ী অতিরিক্ত বর্ণহীন ক্রিয়া (الفعل المجرد) গঠিত হয়।অতিরিক্ত বর্ণহীন (المجرد) ক্রিয়ার এই ওজনসমূহ (الأوزان) উল্লেখ করার পূর্বে আমরা স্পষ্ট করছি যে, ক্রিয়া (الفعل) দুই ভাগে বিভক্ত: অতিরিক্ত বর্ণহীন (مجرد) এবং অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত (مزيد):অতিরিক্ত মুক্ত বা সাধারণ (المجرد عن الزيادة) ক্রিয়া হলো: ওই ক্রিয়া যার সকল অক্ষরই মৌলিক (أصلية)।মৌলিক অক্ষর (الحرف الأصلي) হলো: সেই অক্ষর যা শব্দের সকল রূপান্তরের (تصاريف) ক্ষেত্রে অপরিহার্যভাবে বিদ্যমান থাকে।অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত ক্রিয়া (الفعل المزيد) হলো: যাতে এক বা একাধিক অতিরিক্ত অক্ষর (حرف زائد) থাকে।অতিরিক্ত অক্ষর (الحرف الزائد) হলো: সেই অক্ষর যা শব্দের কোনো কোনো রূপান্তরের (تصاريف) ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়ে যায়; যেমন 'কাতলা' (قاتَلَ) ও 'দারাবা' (ضارَبَ) এর 'আলিফ', 'তাকাতালা' (تقاتَلَ) ও 'তাগাফালা' (تغافَلَ) এর 'তা' ও 'আলিফ' এবং 'ইস্তাগফারা' (استغفر) ও 'ইস্তাকামা' (استقام) এর 'হামজা', 'সিন' ও 'তা'।
الشرح والزيادة إما أن تكون تكريراً لأصلٍ أو لا، فإن كانت تكريراً لأصلٍ فلا تختص بأحرف الزيادة، وإن لم تكن تكريراً لأصلٍ فلا تكون إلا من أحد الأحرف العشرة التي يجمعها قولك: "سألتمونيها"، وتسمى هذه الأحرف بأحرف الزيادة، ومعنى تسميتها بأحرف الزيادة أنه لا يزاد لغير التكرير إلا منها، وليس المعنى أن هذه الأحرف لا تقع في الكلام إلا زائدة؛ فإنها قد تقع أصلية نحو "مات، سأل".قال: (وَزْنُ المُجَرَّدِ … إلخ البيت) ذكر الناظم في هذا البيت أوزان الفعل المجرد، وهي أربعة أوزان، ثلاثة منها للماضي الثلاثي، وواحد للماضي الرباعي.أما أوزان الثلاثي فهي:1 - "فَعَلَ" بفتح العين مثل: ضَرَبَ، نَصَرَ، دَخَلَ، خَرَجَ، أَكَلَ.2 - "فَعِلَ" بكسر العين مثل: مَرِضَ، فَرِحَ، عَجِلَ، غَلِطَ، فَشِلَ.3 - "فَعُلَ" بضم العين مثل: عَظُمَ، كَرُمَ، كَبُرَ، صَغُرَ.
ব্যাখ্যা অতিরিক্ত হওয়া (الزيادة) হয়তো মূল (أصل) বর্ণের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হবে অথবা হবে না। যদি তা মূল (أصل) বর্ণের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হয়, তবে তা অতিরিক্ত বর্ণসমূহের (أحرف الزيادة) সাথে সুনির্দিষ্ট নয়। আর যদি তা মূল (أصل) বর্ণের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে না হয়, তবে তা কেবল "সা-আলতুমুনিহা" (سألتمونيها) বাক্যে সংগৃহীত দশটি বর্ণের কোনো একটির মাধ্যমেই হবে। এই বর্ণগুলোকে অতিরিক্ত বর্ণসমূহ (أحرف الزيادة) বলা হয়। এগুলোকে অতিরিক্ত বর্ণসমূহ (أحرف الزيادة) বলার অর্থ হলো, পুনরাবৃত্তি ব্যতিরেকে কেবল এগুলো থেকেই অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হয়। এর অর্থ এই নয় যে, এই বর্ণগুলো বাক্যের মধ্যে কেবল অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়; কারণ এগুলো কখনো মূল (أصلية) বর্ণ হিসেবেও আসতে পারে, যেমন: "মাতা" (مات) এবং "সা-আলা" (سأل)।তিনি বলেছেন: (অতিরিক্ত বর্ণমুক্ত (المجرد) এর ওজন... কাব্যের শেষ পর্যন্ত) গ্রন্থকার এই পঙক্তিতে অতিরিক্ত বর্ণমুক্ত (المجرد) ক্রিয়ার ওজনসমূহ (أوزان) উল্লেখ করেছেন, যা হলো চারটি ওজন (أوزان)। এর মধ্যে তিনটি ওজন তিন অক্ষরবিশিষ্ট (الثلاثي) অতীতকালের (الماضي) জন্য, এবং একটি ওজন চার অক্ষরবিশিষ্ট (الرباعي) অতীতকালের (الماضي) জন্য।তিন অক্ষরবিশিষ্ট (الثلاثي) ক্রিয়ার ওজনগুলো হলো:১ - "ফায়ালা" (فَعَلَ) আইন বর্ণের জবরসহ (بفتح العين), যেমন: দরাবা (ضَرَبَ), নাসারা (نَصَرَ), দাখালা (دَخَلَ), খরাজা (خَرَجَ), আকালা (أَكَلَ)।২ - "ফায়িলা" (فَعِلَ) আইন বর্ণের যেরসহ (بكسر العين), যেমন: মারিদা (مَرِضَ), ফারিহা (فَرِحَ), আজিলা (عَجِلَ), গলাতা (غَلِطَ), ফাশিলা (فَشِلَ)।৩ - "ফায়ুলা" (فَعُلَ) আইন বর্ণের পেশসহ (بضم العين), যেমন: আজুমা (عَظُمَ), কারুমা (كَرُمَ), কাবুরা (كَبُرَ), সাগুরা (صَغُرَ)।
الشرح أما وزن الرباعي فهو: "فَعْلَلَ" بسكون العين وفتح ما عداها، مثل: بَعْثَرَ، حَشْرَجَ، هَذْرَمَ، بَرْطَمَ(1)، عربَدَ(2).ثم شرع الناظم في البيت التالي في التمثيل للأوزان الأربعة المتقدمة فقال: (كَتَبَ مَعْ عَلِمَ ثُمَّ ظَرُفَا دَحْرَجَ).فقوله: "كتَبَ" مثال للوزن الأول "فَعَلَ" بفتح العين.وقوله: "عَلِمَ" مثال للوزن الثاني "فَعِلَ" بكسر العين.وقوله: "ظَرُفَ" مثال للوزن الثالث "فَعُلَ" بضم العين.وقوله: "دَحْرَجَ" مثال لوزن الرباعي "فَعْلَلَ".
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা আর চার বর্ণবিশিষ্ট শব্দের ওজন হলো: "ফাল্লালা" (فَعْلَلَ), যাতে আইন (عين) বর্ণটি সুকুন যুক্ত এবং অবশিষ্ট বর্ণগুলো ফাতহাহ বিশিষ্ট হয়, যেমন: বা'ছারা (بَعْثَرَ), হাশরাজা (حَشْرَجَ), হাযরামা (هَذْرَمَ), বারতামা (بَرْطَمَ)(১), আরবাদা (عربَدَ)(২)।অতঃপর গ্রন্থকার পরবর্তী চরণে পূর্বোক্ত চারটি ওজনের উদাহরণ প্রদান করতে গিয়ে বলেন: (কাতাবা-এর সাথে আলিমা অতঃপর যারুফা দাহরাজা)।তাঁর উক্তি: "কাতাবা" (كَتَبَ) হলো প্রথম ওজন "ফায়ালা" (فَعَلَ)-এর উদাহরণ, যার আইন (عين) বর্ণটি ফাতহাহ বিশিষ্ট।তাঁর উক্তি: "আলিমা" (عَلِمَ) হলো দ্বিতীয় ওজন "ফায়িলা" (فَعِلَ)-এর উদাহরণ, যার আইন (عين) বর্ণটি কাসরাহ বিশিষ্ট।তাঁর উক্তি: "যারুফা" (ظَرُفَ) হলো তৃতীয় ওজন "ফাউলা" (فَعُلَ)-এর উদাহরণ, যার আইন (عين) বর্ণটি দাম্মাহ বিশিষ্ট।তাঁর উক্তি: "দাহরাজা" (دَحْرَجَ) হলো চার বর্ণবিশিষ্ট শব্দের ওজন "ফাল্লালা" (فَعْلَلَ)-এর উদাহরণ।
--------------------------------------------
الشرح ثم قال: (تمثيلٌ بِلَفٍّ قد وفا) اللف والنشر من المحسنات المعنوية وهو: ذِكْرُ متعدِّد على التفصيل أو الإجمال، ثم ذكر ما لكل من غير تعيين(1) اعتماداً على أن السامع الفطِن يردُّ إلى كلٍ منهما ما هو له، فإذا أتى المتكلم بمتعدّدٍ، وبعده جاء بمتعدّد آخر يتعلّق كلّ فرد من أفراده بفرد من أفراد السابق بالتفصيل ودون تعيين سُمِّيَ صَنيعُه هذا "لفَّاً ونشراً"، فإن كان على الترتيب بأن كان الأول للأول والثاني للثاني وهكذا فاللف والنشر على الترتيب، وإلا فعلى غير الترتيب. وهنا حصل اللف على الترتيب فالناظم مثّلَ للأوزان الأربعة المذكورة في البيت السابق على حسب ترتيبها في الذِّكْر، فبدأ بالتمثيل لفَعَلَ بـ"كتَبَ"، ثم مثَّل لِفَعِلَ بـ"عَلِمَ"، ثم مثَّلَ لِفَعُلَ بـ"ظَرُفَ"، ثم مثّلَ لِفَعْلَلَ بـ"دحْرَجَ".وقوله: (قد وفا) يقال: وَفَى الشيء يَفِي أي: تمَّ.
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা অতঃপর তিনি বললেন: (ভাঁজ করার মাধ্যমে উদাহরণ পেশ করা হয়েছে যা পূর্ণাঙ্গ) ভাঁজ করা ও ছড়ানো (اللف والنشر) হলো অর্থগত অলঙ্কারসমূহের (المحسنات المعنوية) অন্তর্ভুক্ত। আর তা হলো: বিস্তারিত বা সংক্ষিপ্তভাবে একাধিক বিষয়ের উল্লেখ করা, অতঃপর সুনির্দিষ্ট (تعيين) না করেই প্রত্যেকের জন্য যা প্রযোজ্য তা উল্লেখ করা, এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে যে, বিচক্ষণ শ্রোতা তাদের প্রত্যেকের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি মিলিয়ে নেবেন। সুতরাং বক্তা যখন একাধিক বিষয় উল্লেখ করেন এবং তারপরে আরও একাধিক বিষয় নিয়ে আসেন যার প্রতিটি অংশ পূর্ববর্তী অংশের একেকটি বিষয়ের সাথে বিস্তারিতভাবে এবং সুনির্দিষ্টকরণ (تعيين) ছাড়াই সংশ্লিষ্ট হয়, তখন তাঁর এই কাজকে 'লফ ও নশর' (لفاً ونشراً) বলা হয়। যদি তা ক্রমানুসারে হয়—অর্থাৎ প্রথমটি প্রথমটির জন্য এবং দ্বিতীয়টি দ্বিতীয়টির জন্য—এভাবে, তবে তা ধারাবাহিক লফ ও নশর (اللف والنشر على الترتيب)। অন্যথায় তা ধারাবাহিকতাহীন (على غير الترتيب)। আর এখানে ভাঁজ করার বিষয়টি ধারাবাহিকতা অনুযায়ী হয়েছে। কেননা গ্রন্থকার (নাযিম) পূর্ববর্তী চরণে উল্লিখিত চারটি ওযনের (الأوزان) জন্য তাদের বর্ণনাক্রম অনুযায়ী উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি 'ফায়ালা' (فَعَلَ)-এর উদাহরণ হিসেবে 'কাতাবা' (كَتَبَ) দিয়ে শুরু করেছেন, অতঃপর 'ফায়িলা' (فَعِلَ)-এর জন্য 'আলিমা' (عَلِمَ), তারপর 'ফায়ুলা' (فَعُلَ)-এর জন্য 'যারুফা' (ظَرُفَ), এবং সবশেষে 'ফায়লালা' (فَعْلَلَ)-এর উদাহরণ হিসেবে 'দাহরাজা' (دَحْرَجَ) পেশ করেছেন।আর তাঁর কথা: (পূর্ণ হয়েছে - قد وفا) বলা হয়: কোনো বস্তু পূর্ণ হয়েছে (وَفَى الشيء يَفِي), অর্থাৎ তা সমাপ্ত বা পূর্ণ (تمَّ) হয়েছে।
--------------------------------------------
الشرح فصلٌ في تصريفِ المضارعِلمّا انتهى الناظم من الكلام على أوزان الفعل المجرد شرع في الكلام على مضارِع كل وزن من الأوزان الأربعة المتقدِّمة فقال:(فَعُلَ بالضَمِّ اللُّزُومَ تَلْزَمُ) أي: أن "فَعُلَ" بضم العين تُلازِم اللزوم، فلا يأتي فعلُها إلا لازماً.والفعل اللَاّزم هو: الذي يلزم فاعله، أي: يكتفي به فليس له مفعول نحو: قام زيد، قعد عمرو، خرج بكرٌ، أو له مفعول ولكن لا يتعدَّى إليه إلا بواسطة حرف الجر نحو: مررت بزيدٍ.والفعل المتعدِّي هو: الذي يصل إلى المفعول به بغير حرف جر نحو: ضربتُ زيداً، أكرمتُ عمراً.
ব্যাখ্যা মুদারে’ (المضارع) এর রূপান্তর বিষয়ক পরিচ্ছেদযখন গ্রন্থকার (নাজিম) মৌলিক ক্রিয়ার (الفعل المجرد) ওজনসমূহ নিয়ে আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি পূর্বে বর্ণিত চারটি ওজনের প্রত্যেকটির মুদারে’ (المضارع) নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। অতঃপর তিনি বললেন:(‘ফা-উ-লা’ পেশ যোগে অকর্মকতাকে আবশ্যক করে নেয়) অর্থাৎ: আইন বর্ণে (العين) পেশ-বিশিষ্ট "ফা-উ-লা" (فَعُلَ) ওজনটি অকর্মকতা (اللزوم) বা লুজুমকে আবশ্যক করে। সুতরাং এই ওজনের ক্রিয়া অকর্মক (لازم) ছাড়া অন্য কোনো অবস্থায় আসে না।আর অকর্মক ক্রিয়া (الفعل اللازم) হলো: যা তার কর্তার (الفاعل) ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে, অর্থাৎ তাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে (বাক্য পূর্ণ করে); এর কোনো কর্ম (المفعول) থাকে না। যেমন: যায়েদ দাঁড়াল (قام زيد), আমরু বসল (قعد عمرو), বকর বের হলো (خرج بكرٌ)। অথবা এর কর্ম থাকতে পারে কিন্তু তা অব্যয় (حرف الجر) ব্যতিরেকে সেখানে পৌঁছাতে পারে না। যেমন: আমি যায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম (مررت بزيدٍ)।এবং সকর্মক ক্রিয়া (الفعل المتعدي) হলো: যা অব্যয় (حرف الجر) ছাড়াই কর্ম (المفعول به) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যেমন: আমি যায়েদকে প্রহার করলাম (ضربت زيداً), আমি আমরুকে সম্মানিত করলাম (أكرمت عمراً)।
الشرح وعلامته: أن تتصل به هاء ضمير لا ترجع إلى المصدر، نحو: "البابُ أغلقتُهُ". فالضمير - الهاء - مفعول به يرجع إلى الباب وهو غير مصدر.فـ"فَعُلَ" بضم العين لا يكون إلا لازماً، نحو: " كَرُمَ، شَجُعَ، حَسُنَ، قَبُحَ، قَصُرَ، فَظُعَ".قال: (وَضَمُّ ما ضَارعَ مِنها يُعْلَمُ) أي: أن كل فِعْلٍ على وزن "فَعُل" يأتي المضارع منه دائماً على وزن"يَفْعُل" بضم العين، نحو: " كَرُمَ يكْرُم، حَسُنَ يحْسُن، قَبُحَ يقْبُح، قَصُرَ يقْصُر، عَظُمَ يعْظُم، شرُفَ يشرُفُ" وهكذا.قال: (وافْتَحْ لَهُ) أي: للمضارع (مِنْ ذاتِ كَسْرِ الماضِيْ) أي: من "فَعِلَ" بكسر العين، فكلُّ فِعْلٍ على وزن "فَعِلَ" بكسر العين فإن المضارع منه يأتي على وزن "يَفْعَل" بفتح العين، نحو: "فرِحَ يفْرَح، حزِن يَحْزَن، عطِش يعطَش، شَرِب يشرَب، شبِع يشبَع، علِم يعلَم، رضِي يرضَى، سكِر يسكَر، غضِب يغضَب" وهكذا.
ব্যাখ্যা এবং এর চিহ্ন হলো: এর সাথে এমন একটি 'হা' সর্বনাম (দমির) যুক্ত হওয়া যা ক্রিয়ামূলের (মাসদার) দিকে ফিরে যায় না; যেমন: "আল-বাবু আগলাকতুহু" (দরজাটি, আমি তা বন্ধ করেছি)। এখানে 'হা' সর্বনামটি হলো কর্ম (মাফউল বিহি) যা দরজার দিকে ফিরে যাচ্ছে এবং এটি কোনো ক্রিয়ামূল (মাসদার) নয়।সুতরাং 'আইন' বর্ণে পেশ বিশিষ্ট "ফাউলা" ওজনটি কেবল অকর্মক (লাজিম) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়; যেমন: "কারুমা, শাজুআ, হাসুনা, ক্বাবুহা, কাসুরা, ফাযুআ"।তিনি বলেছেন: (এবং সেগুলোর বর্তমান রূপের পেশ হওয়া সুবিদিত) অর্থাৎ: "ফাউলা" ওজনের প্রতিটি ক্রিয়ার বর্তমানকাল (মাজারে) সর্বদা 'আইন' বর্ণে পেশসহ "ইয়াফউলু" ওজনে আসে; যেমন: "কারুমা-ইয়াকুরুমু, হাসুনা-ইয়াহসুনু, ক্বাবুহা-ইয়াক্ববুহু, কাসুরা-ইয়াকসুরু, আজুমা-ইয়া’জুমু, শারাফা-ইয়াশরুফু" ইত্যাদি।তিনি বলেছেন: (এবং তার জন্য জবর দাও) অর্থাৎ: বর্তমানকালের (মাজারে) জন্য (অতীতকালের যের-বিশিষ্ট রূপ থেকে) অর্থাৎ: 'আইন' বর্ণে যের বিশিষ্ট "ফায়িলা" ওজন থেকে। সুতরাং 'আইন' বর্ণে যের বিশিষ্ট "ফায়িলা" ওজনের প্রতিটি ক্রিয়ার বর্তমানকাল 'আইন' বর্ণে জবরসহ "ইয়াফআলু" ওজনে আসে; যেমন: "ফারিহা-ইয়াফরাহু, হাজিনা-ইয়াহজানু, আতিশা-ইয়া’তাশু, শারিবা-ইয়াশরাবু, সাবিআ-ইয়াসবাউ, আলিমা-ইয়া’লামু, রাদিয়া-ইয়ারদা, সাকিরা-ইয়াসকারু, গাদ্বিবা-ইয়াগদ্বাবু" ইত্যাদি।
الشرح وقوله: (تَغْلِبُ في الألوانِ والأعراضِ) أي: أن صيغة "فَعِل" بكسر العين الغالب عليها أنها تأتي دالّةً على الألوان والأعراض.والأعراض: هي الصفات التي لا تلازم الذات، بل تأتي وتزول كالمرض، والفرح.مثال ما دلّ على الألوان: حَمِرَ، سَوِدَ، خَضِرَ، صَفِرَ.ومثال ما دل على الأعراض: فَرِحَ، حَزِنَ، مَرِضَ، بَرِصَ، جَرِبَ، نَشِطَ، شَبِعَ، عَطِشَ، تَعِبَ.قال: (واكْسِرْهُ فِي "وَرِثْ" "وَرِمْ" … إلخ البيت) تقدم في البيت السابق أن المضارع من "فَعِلَ" بكسر العين الأصل فيه أن يأتي مفتوحاً كـ"يَفْرَح"، وهناك أفعال على وزن "فعِلَ" بكسر العين لم يُسمع في مضارعها إلا الكسر الشاذ، وعددها ثلاثة عشر، ذكر الناظم منها ثمانية أفعال، وهي: "وَرِثَ يَرِثُ، وَرِمَ الجرحُ يَرِمُ، وَلِيَ يلِي، وَثِقَ يثِقُ، وَرِيَ.
ব্যাখ্যা তাঁর উক্তি: (রঙ এবং আপতিক গুণাবলির ক্ষেত্রে এটি প্রাধান্য পায়) অর্থাৎ: ‘আইন’ বর্ণে কাসরা বিশিষ্ট "ফা-ইলা" ওজনটির ক্ষেত্রে এটিই প্রবল যে, তা রঙ এবং আপতিক গুণাবলি নির্দেশক হিসেবে আসে।আর আপতিক গুণাবলি হলো: সেইসব বৈশিষ্ট্য যা সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য নয়, বরং আসে এবং চলে যায়; যেমন অসুস্থতা এবং আনন্দ।রঙ নির্দেশক শব্দের উদাহরণ: লাল হওয়া, কালো হওয়া, সবুজ হওয়া, হলুদ হওয়া।আপতিক গুণাবলি নির্দেশক শব্দের উদাহরণ: আনন্দিত হওয়া, চিন্তিত হওয়া, অসুস্থ হওয়া, শ্বেতী হওয়া, খোস-পাঁচড়া হওয়া, উদ্যমী হওয়া, পরিতৃপ্ত হওয়া, তৃষ্ণার্ত হওয়া, ক্লান্ত হওয়া।তিনি বলেছেন: (এবং কাসরা প্রদান করো "ওয়ারিছা", "ওয়ারিমা" ... কবিতার শেষ পর্যন্ত)। পূর্ববর্তী চরণে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ‘আইন’ বর্ণে কাসরা বিশিষ্ট "ফা-ইলা" এর মুদারে বা বর্তমানকালীন রূপটি মূলত "ইয়াফরাহু" এর মতো ফাতহা বা জবর বিশিষ্ট হওয়া। তবে "ফা-ইলা" ওজনের এমন কিছু ক্রিয়া রয়েছে যেগুলোর বর্তমানকালে কেবল অনিয়মিত (شاذ) কাসরাই শোনা গিয়েছে, আর এগুলোর সংখ্যা তেরোটি। লেখক এখানে আটটি ক্রিয়া উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো: "ওয়ারিছা-ইয়ারিছু", "ক্ষত ফুলে যাওয়া (ওয়ারিমা-ইয়ারিমু)", "ওয়ালিয়া-ইয়ালিলু", "নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া এবং বর্তমানকালে হওয়া", "ওয়ারিয়া"।
الشرح المخُّ يَرِي، وَرِعَ الرجلُ يرِعُ، وَفِقَ الفرسُ يفِقُ، وَمِقَ يمِقُ"، فهذه الأفعال الثمانية لم ترد في اللغة العربية إلا بكسر المضارع، مع أن القياس في مضارعها الفتح.ومعنى وَرِمَ أي: انتفخ، ووَرِيَ المخّ أي: كَثُر، ووَرِعَ أي: ترك الشبهات خشية الوقوع في الحرام، ووَفِقَ الفرس أي: حَسُنَ، ووفِقتَ أمرك أي: وجدتَه موافقاً، ووَمِقَ أي: أَحَبَّ.قال: (وجْهانِ منْهُ في "حَسِبْ" "نَعِمْ" … إلخ البيت) بعد أن ذكر الناظم ما سُمِع فيه الكسر فقط من مضارع "فَعِلَ"، شرع في الكلام على الأفعال التي سُمِعَ فيها الوجهان الفتح المقيس، والكسر الشاذ وهي اثنا عشر فعلاً ذكر منها الناظم في هذا البيت تسعة وهي: حسِب يحسَب ويحسِب، نَعِمَ ينعَم وينعِم، بَئِس يبأَس ويبئِس، وَغِرَ يَوغَرُ ويغِرُ، وَحِرَ يَوحَرُ ويحِرُ، وَلِهَ يولَه ويلِه، وَهِلَ يوهَل ويهِلُ، يبِسَ ييبَس وييبِس، يَئِس ييأَس وييئِس".ومعنى حسِبَ أي: ظَنَّ، ونَعِمَ الرجلُ أي: حسنت حاله، وبئِس إذا ساءت حاله، ووَغِرَ صدرهُ أي: توقَّد غيظاً، ووحِرَ أي: امتلأ حقداً، وَوَلِهَ فهو وَالِهٌ ووَلْهَانُ إذا كاد أن يذهب عقله لفقد محبوب من أهل ومال، وَوَهِلَ عن الشيء نَسِيَهُ، ويَبِسَ الشجر ذهبت نداوته - رطوبته-، ويَئِسَ إذا انقطع رجاؤه.ولما انتهى من الكلام على مضارع "فَعُلَ"بضم العين، و"فَعِلَ" بكسر العين، انتقل إلى الكلام على مضارع "فَعَلَ" بفتح العين
ব্যাখ্যা "মগজ পুষ্ট হওয়া, ব্যক্তিটির পরহেযগার হওয়া, ঘোড়াটি উপযুক্ত হওয়া, অত্যন্ত ভালোবাসা" - এই আটটি ক্রিয়া আরবী ভাষায় কেবল মুদারি-তে আইন কালিমায় কাসরাহ সহকারেই বর্ণিত হয়েছে, যদিও এগুলোর মুদারি-তে নিয়মসিদ্ধ (قياس) রূপটি ছিল ফাতহাহ।আর 'ওয়ারিমা' এর অর্থ হলো: ফুলে যাওয়া; 'ওয়ারিয়া' মগজের ক্ষেত্রে অর্থ: পুষ্ট হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া; 'ওয়ারি'আ' এর অর্থ: হারামে লিপ্ত হওয়ার ভয়ে সন্দেহজনক বিষয়গুলো বর্জন করা; 'ওয়াফিকা' ঘোড়ার ক্ষেত্রে অর্থ: সুন্দর হওয়া; 'ওয়াফিকতা আমুরাকা' এর অর্থ: তুমি তোমার কাজটিকে অনুকূল হিসেবে পেয়েছ; এবং 'ওয়ামিকা' এর অর্থ: ভালোবাসা।তিনি বলেছেন: ("হাসিবা", "না'ইমা"... কবিতার শেষ পর্যন্ত)। মুসান্নিফ "ফাইলা" ওযনের মুদারি-তে যেগুলোতে কেবল কাসরাহ শোনা গেছে তা উল্লেখ করার পর, এখন সেই ক্রিয়াগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন যেগুলোতে উভয় রূপই শোনা গেছে: নিয়মসিদ্ধ (قياس) ফাতহাহ এবং বিরল (شاذ) কাসরাহ। এই ক্রিয়াগুলো মোট বারোটি, যার মধ্যে মুসান্নিফ এই চরণে নয়টি উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো: হাসিবা—মুদারি ইয়াহসাব ও ইয়াহসিব, না'ইমা—মুদারি ইয়ান'আম ও ইয়ান'ইম, বায়িসা—মুদারি ইয়াবআস ও ইয়াবইস, ওয়াগিরা—মুদারি ইয়াওগার ও ইয়াগির, ওয়াহিরা—মুদারি ইয়াওহার ও ইয়াহির, ওয়ালিহা—মুদারি ইয়াওলাহ ও ইয়ালিহ, ওয়াহিলা—মুদারি ইয়াওহাল ও ইয়াহিল, ইয়াবিসা—মুদারি ইয়াইবাস ও ইয়াইবিস এবং ইয়াইসা—মুদারি ইয়াইআস ও ইয়াইইস।হাসিবা এর অর্থ: ধারণা করা; না'ইমা ব্যক্তির ক্ষেত্রে অর্থ: তার অবস্থা ভালো হওয়া; বায়িসা অর্থ: যখন তার অবস্থা শোচনীয় হয়; ওয়াগিরা বক্ষ এর ক্ষেত্রে অর্থ: প্রচণ্ড রাগে প্রজ্জ্বলিত হওয়া; ওয়াহিরা অর্থ: বিদ্বেষে পরিপূর্ণ হওয়া; ওয়ালিহা এর অর্থ হলো পাগলপ্রায় হওয়া, যখন পরিবার বা সম্পদের মধ্য থেকে কোনো প্রিয়জনকে হারিয়ে তার বিবেক লোপ পাওয়ার উপক্রম হয়; ওয়াহিলা কোনো কিছু থেকে অর্থ: তা ভুলে যাওয়া; ইয়াবিসা গাছের ক্ষেত্রে অর্থ: তার সজীবতা বা আর্দ্রতা চলে যাওয়া; এবং ইয়াইসা অর্থ: যখন তার আশা ছিন্ন হয়ে যায়।যখন তিনি আইন কালিমায় যম্মাহ বিশিষ্ট "ফাউলা" এবং আইন কালিমায় কাসরাহ বিশিষ্ট "ফাইলা" ওযনের মুদারি সম্পর্কে আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি আইন কালিমায় ফাতহাহ বিশিষ্ট "ফা'আলা" ওযনের মুদারি সম্পর্কে আলোচনার দিকে অগ্রসর হলেন।
الشرح فقال: (يُكْسَرُ آتِي فَعَلَ) أي: مضارعها؛ لأن المضارع يطلق عليه "الآتِي" (المفتوحِ) أي: مفتوح العين (في وَاوِيِّ فا أو لازِمٍ مُضَعَّفِ أوْ يائِياً في عينِهِ أوْ لامِهْ) أي: أن "فَعَلَ" بفتح العين يُكسر عين مضارعها فيقال: "يَفْعِل" إذا وُجِد جالب(2) من جوالب الكسر الأربعة المذكورة في النظم وهي:1 - أن تكون فاءُ "فَعَلَ" واواً(3)، وإلى ذلك أشار الناظم بقوله: (في وَاوِيِّ فا)، ومن أمثلته: "وعَدَ يعِدُ، وَجَدَ يجِدُ، وصَفَ يصِفُ، وصَلَ يصِلُ، وعَظَ يعِظُ"(4)، ويشترطون أن لا تكون لامُه ُحرفاً من حروف الحلق(5)، فإن كانت كذلك فُتِحَت عينُ مضارعه نحو: "وقَع يقَعُ، وَدَعَ يَدَعُ، وَضَعَ يَضَعُ".
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা তিনি বলেছেন: (‘ফায়ালা’ এর আগত রূপটি কাসরা-যুক্ত হয়) অর্থাৎ: এর মুদারি (المضارع); কারণ মুদারি-কে ‘আগত’ (الآتي) হিসেবে অভিহিত করা হয়। (ফাতাহ-যুক্ত) অর্থাৎ: যার ‘আইন’ বর্ণ ফাতাহ-যুক্ত। (ওয়াও-বিশিষ্ট ‘ফা’ বর্ণে অথবা অকর্মক (لازم) দ্বিত্ব (مضعف) শব্দে অথবা যার ‘আইন’ বা ‘লাম’ বর্ণে ‘ইয়া’ থাকে) অর্থাৎ: ‘আইন’ বর্ণে ফাতাহ-যুক্ত ‘ফায়ালা’ ক্রিয়ার মুদারি-তে ‘আইন’ বর্ণটি কাসরা-যুক্ত হয়, ফলে বলা হয়: ‘ইয়াফ’ইলু’, যদি কবিতায় উল্লিখিত কাসরা বা জের হওয়ার চারটি কারণের (جالب) (২) কোনো একটি পাওয়া যায়। আর সেগুলো হলো:১ - ‘ফায়ালা’ এর ‘ফা’ বর্ণটি ‘ওয়াও’ (৩) হওয়া। নাযিম (কবিতা রচয়িতা) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: (ওয়াও-বিশিষ্ট ‘ফা’ বর্ণে)। এর কিছু উদাহরণ হলো: "ওয়াআদা ইয়াইদু, ওয়াজাদা ইয়াজিদু, ওয়াসাফা ইয়াসিফু, ওয়াসালা ইয়াসিলু, ওয়াআযা ইয়াইযু" (৪)। এক্ষেত্রে তারা শর্তারোপ করেন যে, তার ‘লাম’ বর্ণটি যেন কণ্ঠনালীর বর্ণ (حروف الحلق) (৫) না হয়। যদি সেটি কণ্ঠনালীর বর্ণ হয়, তবে তার মুদারি-র ‘আইন’ বর্ণটি ফাতাহ-যুক্ত হবে। যেমন: "ওয়াকা’আ ইয়াকা’উ, ওয়াদা’আ ইয়াদা’উ, ওয়াদ’আ ইয়াদা’উ"।
--------------------------------------------
الشرح 2 - أن تكون "فَعَلَ" مضعّفة(1) لازمة، وإلى ذلك أشار الناظم بقوله: (أو لازِمٍ مُضَعَّفِ) ومن أمثلته: "دبَّ يدِبُّ، فرّ يفِرُّ، خفَّ يخِفُّ، ضلَّ يضِلّ، حَنَّ يحِنُّ، قَلَّ الشيءُ يقِلُّ، طنَّ يطِنُّ، أَنَّ يئِنُّ، رَنَّ يرِنُّ".3 - أن تكون "فَعَلَ" يائية العين، نحو: "جاء يجِيءُ، قاءَ يقِيءُ، غاب يغِيب، قال يقِيلُ قيلولةً، خاب يخِيب، زاد يزِيدُ، عاشَ يعِيشُ، مالَ يمِيلُ".4 - أن تكون "فَعَلَ" يائية اللام، نحو: " أتى يأتِي، بكى يبكِي، بنى يبنِي، رمى يرمِي، زنى يزنِي، هذى يهذِي، عصى يعصِي، جرى يجرِي"، إلا أنه يُشترط أن لا تكون عينه حرفاً من حروف الحلق، فإن كانت من حروف الحلق فُتِحت عين المضارع، نحو: "رأى يرَى، رعى يرعَى، سعى يسعَى، نهى ينهَى".وإلى الجالب الثالث والرابع من جوالب الكسر أشار الناظم بقوله: (أوْ يائِياً في عينِهِ أوْ لامِهْ).
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা ২ - "ফায়ালা" (فَعَلَ) ছাঁচটি দ্বিত্ববর্ণবিশিষ্ট (مضعف) অকর্মক (لازم) হওয়া। মূল রচয়িতা (নাজিম) তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: (অথবা অকর্মক দ্বিত্ববর্ণবিশিষ্ট)। এর উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে: "দাব্বা ইয়াদিব্বু, ফাররা ইয়াফিররু, খাফ্ফা ইয়াখিফ্ফু, দাল্লা ইয়াদিল্লু, হান্না ইয়াহিননু, কাল্লাশ শাইউ ইয়াকিল্লু, তান্না ইয়াতিননু, আন্না ইয়া’ইন্নু, রান্না ইয়ারিননু"।৩ - "ফায়ালা" (فَعَلَ) ছাঁচটি আইন বর্ণে ইয়া বিশিষ্ট (يائية العين) হওয়া, যেমন: "জা-আ ইয়াজি-উ, ক-আ ইয়াকি-উ, গবা-ইয়াগিবু, ক-লা ইয়াকিলু (কাইলুলাহ বা দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম), খ-বা ইয়াখিবু, য-দা ইয়াজি-দু, আ-শা ইয়াইশু, মা-লা ইয়ামিলু"।৪ - "ফায়ালা" (فَعَلَ) ছাঁচটি লাম বর্ণে ইয়া বিশিষ্ট (يائية اللام) হওয়া, যেমন: "আতা-ইয়াতি, বাকা-ইয়াবকি, বানা-ইয়াবনি, রমা-ইয়ারমি, যানা-ইয়াযনি, হাযা-ইয়াহযি, আসা-ইয়া’সি, জারা-ইয়াজরি"। তবে শর্ত হলো যে, এর আইন বর্ণটি কণ্ঠনালীর বর্ণসমূহের (حروف الحلق) কোনোটি হতে পারবে না। যদি আইন বর্ণটি কণ্ঠনালীর কোনো বর্ণ হয়, তবে মুদারি (مضارع)-এর আইন বর্ণে ফাতহাহ (জবর) প্রদান করা হবে, যেমন: "র-আ ইয়ার-অ, র-আ ইয়ার-আ, সা-আ ইয়াস-আ, নাহা-ইয়ানহা"।জের বা কাসরা প্রদানের তৃতীয় ও চতুর্থ কারণের (جوالب الكسر) দিকে লেখক তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (অথবা তার আইন বর্ণে বা লাম বর্ণে ইয়া থাকলে)।
--------------------------------------------
الشرح ثم لما انتهى من جوالب كسر مضارع "فَعَلَ" بفتح العين، شرع في الكلام على جوالب ضمّ المضارع وهي أربعة أيضاً فقال:(وَاوِيْهِما لا ريب في انْضِمامِهْ، كذاكَ ما جاءَ لِبَذِّ الفَخْرِ، أوْ مُضَعَّفٌ إنْ يَتَعَدَّى) أي: أنَّ فَعَلَ بفتح العين يُضَمّ عين مضارعها فيقال: "يفْعُل" إذا وُجد فيها جالبٌ - داعٍ- من جوالب الضم الأربعة المذكورة في النظم، وهي:1 - أن تكون عينُ "فَعَلَ" واواً، نحو: " قال يقولُ، ذاب يذُوبُ، فات يفُوتُ، ناءَ ينُوء، جاد يجُودُ، فاز يفُوزُ، خاضَ يخُوضُ، جاعَ يجُوعُ، طافَ يطوفُ"(1).2 - أن تكون لامُ "فَعَلَ" واواً، نحو: "دعا يدعو، بدا يبدُو، زكا يزكو، رشاه يرشُوه، صبا يصبو، عفا يعفو، عدا يعدو، غزا يغزو، فشا يفشو، هجا يهجو، هفا يهفو"(2). وإلى هذا الجالب والذي قبله أشار الناظم بقوله: (وَاوِيْهِما لا ريب في انْضِمامِهْ) أي: أن "فَعَلَ" بفتح العين إذا كانت واويّة العين أو اللام لا ريب - أي: لا شك - في ضم عين مضارعها.
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা অতঃপর যখন তিনি ফাতহা বিশিষ্ট আইন বর্ণ যুক্ত "ফায়ালা" (فَعَلَ) এর মুদারিতে কাসরা বা যের হওয়ার কারণগুলো আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি মুদারিতে যম্মাহ বা পেশ হওয়ার কারণগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। আর সেগুলোও চারটি। তিনি বললেন:(সে দুটির 'ওয়াও' হওয়ার ক্ষেত্রে সেটির পেশ হওয়াতে কোনো সন্দেহ নেই, অনুরূপভাবে যা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য আসে, অথবা দুর্বলকৃত (مُضَعَّفٌ) যদি তা সকর্মক হয়) অর্থাৎ: ফাতহা বিশিষ্ট আইন যুক্ত "ফায়ালা" (فَعَلَ) এর মুদারির আইন বর্ণে যম্মাহ বা পেশ প্রদান করা হয়, তখন বলা হয়: "ইয়াফউলু", যখন তাতে কবিতায় উল্লিখিত পেশ হওয়ার চারটি কারণের কোনো একটি পাওয়া যায়। আর সেগুলো হলো:১ - "ফায়ালা" এর আইন বর্ণটি 'ওয়াও' হওয়া, যেমন: "ক্বালা ইয়াক্বুলু, যাবা ইয়াযুবু, ফাতা ইয়াফুতু, না-আ ইয়ানু-উ, জাদা ইয়াজুদু, ফাযা ইয়াফুযু, খদা ইয়াখুদু, জা-আ ইয়াজু-উ, তফা ইয়াতুফু"(১)।২ - "ফায়ালা" এর লাম বর্ণটি 'ওয়াও' হওয়া, যেমন: "দাআ ইয়াদউ, বাদা ইয়াবদু, যাকা ইয়াযকু, রশাহু ইয়ারশুহু, সবা ইয়াসবু, আফা ইয়াফউ, আদা ইয়াদউ, গযা ইয়াগযু, ফাশা ইয়াফশু, হাজা ইয়াহজু, হাফা ইয়াহফু"(২)। এই কারণটি এবং এর পূর্ববর্তী কারণটির দিকেই গ্রন্থকার তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ইশারা করেছেন: (সে দুটির 'ওয়াও' হওয়ার ক্ষেত্রে সেটির পেশ হওয়াতে কোনো সন্দেহ নেই) অর্থাৎ: ফাতহা বিশিষ্ট আইন যুক্ত "ফায়ালা" যদি 'ওয়াও' বিশিষ্ট আইন অথবা লাম বর্ণ যুক্ত হয়, তবে তার মুদারির আইন বর্ণে যম্মাহ হওয়াতে কোনো সন্দেহ—অর্থাৎ কোনো সংশয়—নেই।
--------------------------------------------
الشرح 3 - أن تكون "فَعَلَ" دالة على الغلبة في الفخر، نحو: صارعني فصرعتُهُ فأنا أصرُعُهُ، تضاربنا فضربتُهُ فأنا أضرُبُهُ، تناصرنا فنصرتُهُ فأنا أنصُرُهُ"، فكلّ فِعْلٍ قُصِد به الدلالة على أن اثنين تفاخرا في أمر فغلب أحدهما الآخر فيه فإن المضارع منه مضموم العين، وهذا هو المراد بقول الناظم: (كذاكَ ما جاءَ لِبَذِّ الفَخْرِ). وقوله: (لِبَذِّ الفَخْرِ) أي: للغلبة في المفاخرة، وليس (البذُّ) لغةً في "البَذل" كما يُتوهم.4 - أن تكون "فَعَلَ" بفتح العين مضعَّفة متعدية، نحو: "سبَّ يسُبُّ، مدَّ يمُدُّ، صبَّ يصُبُّ، فتّ يفُتُّ، حجَّ البيت يحُجُّه، ردَّ يرُدُّ، حثَّ يحُثُّ، بثَّ الخبر يبُثُّه، ضرَّهُ يضُرُّه،رشَّ يرُشُّ، دكّ يدّكُّ، زفّ العروس يزُفُّها"، وإلى هذا الجالب أشار الناظم بقوله: (أوْ مُضَعَّفٌ إنْ يَتَعَدَّى) أي: أنَّ من جوالب ضم مضارع "فَعَلَ" بفتح العين أن يأتي مضعَّفاً متعدياً.
ব্যাখ্যা ৩ - "ফা'আলা" (فَعَلَ) রূপটি শ্রেষ্ঠত্ব বা গর্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে বিজয় নির্দেশ করা, যেমন: "সে আমার সাথে কুস্তি লড়েছে আর আমি তাকে আছাড় দিয়েছি, ফলে আমি তাকে আছাড় দিচ্ছি; আমরা পরস্পর প্রহারের প্রতিযোগিতা করেছি এবং আমি তাকে প্রহার করেছি, তাই আমি তাকে প্রহার করছি; আমরা একে অপরের ওপর সাহায্যের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের প্রতিযোগিতা করেছি এবং আমি তাকে জয় করেছি, তাই আমি তাকে জয় করছি (সাহায্য করছি)"। সুতরাং এমন প্রতিটি ক্রিয়া (فعل) যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি বোঝানো যে, দুইজন ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের একজন অপরজনের ওপর জয়লাভ করেছে, তবে তার মুদারি (مضارع) বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপের আইন (عين) বর্ণটি পেশযুক্ত হবে। আর কাব্যকার (ناظم)-এর উক্তি: (অনুরূপভাবে যা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য আসে) দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। এবং তাঁর বক্তব্য: (শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য) অর্থাৎ: শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করা। এখানে "বিজয়" (البذُّ) শব্দটি "দান করা" (البذل) অর্থে ব্যবহৃত কোনো শব্দ নয়, যেমনটি ভুল ধারণা করা হতে পারে।৪ - আইন (عين) বর্ণে জবর বিশিষ্ট "ফা'আলা" (فَعَلَ) রূপটি দ্বিত্ব (مضعف) এবং সকর্মক (متعدي) হওয়া। যেমন: "গালি দেওয়া - সে গালি দেয়, প্রসারিত করা - সে প্রসারিত করে, ঢালা - সে ঢালে, চূর্ণ করা - সে চূর্ণ করে, বায়তুল্লাহর হজ করা - সে তা হজ করে, ফিরিয়ে দেওয়া - সে ফিরিয়ে দেয়, উৎসাহিত করা - সে উৎসাহিত করে, সংবাদ প্রচার করা - সে তা প্রচার করে, তার ক্ষতি করা - সে তার ক্ষতি করে,ছিটানো - সে ছিটায়, চূর্ণবিচূর্ণ করা - সে চূর্ণবিচূর্ণ করে, কনেকে বাসর ঘরে পাঠানো - সে তাকে পাঠাচ্ছে"। আর এই কারণটির দিকেই কাব্যকার (ناظم) তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: (অথবা দ্বিত্ব (مضعف) যদি তা সকর্মক (متعدي) হয়)। অর্থাৎ: আইন (عين) বর্ণে জবর বিশিষ্ট "ফা'আলা" (فَعَلَ) এর মুদারি (مضارع) রূপে পেশ হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি দ্বিত্ব (مضعف) ও সকর্মক (متعدي) হিসেবে আসা।
الشرح قال: (وَرَوَوا سماعاً الكسرَ، وفي حَبَّ انفَرَدْ) تقدم أنَّ القياس في "فَعَلَ" بفتح العين المضعفة المتعدية أن يأتي مضارعها مضموم العين، إلا أنه شذّ من ذلك أفعال، والشاذ على قسمين:1 - ما سُمِعَ فيه الضم المقيس، والكسر الشاذ، وهي تسعة أفعال، منها: "شدَّهُ يشُدّه ويشِدّه، نمَّ الحديث ينُمُّهُ وينِمُّه، شجَّهُ يشُجُّه ويشِجّه، بتَّهُ يبُتُّهُ ويبِتُّه"، وهذا هو المراد بقول الناظم: (وَرَوَوا) أي: في مضارع فَعَلَ المضعفة المتعدية (سماعاً الكسرَ) أي: مع الضم، وذلك في الأفعال التسعة.2 - ما لم يُسمع فيه إلا الكسر الشاذ لا غير، وذلك في فعْلٍ واحد، وهو: " حَبَّ" فمضارعه يحِبُّ بكسر الحاء(1)، وهذا هو المراد بقول الناظم: (وفي حَبَّ انفَرَدْ) أي: انفرد الكسر، ولم يُسمَع فيه الضمُّ على القياس.
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা (الشرح) তিনি বলেছেন: (এবং তারা শ্রবণলব্ধভাবে (سماعاً) কাসরা (الكسر) বর্ণনা করেছেন, আর "হাব্বা" (حَبَّ) ক্রিয়ায় এটি এককভাবে এসেছে) ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, আইন-কালিমায় ফাতহাযুক্ত সকর্মক (المتعدية) দ্বিত্ব (المضعفة) "ফা-আলা" (فَعَلَ) ওযনের ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মানুগ (القياس) বিধান হলো, এগুলোর বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন রূপ (مضارع) আইন-কালিমায় দাম্মা (الضم) যুক্ত হয়ে আসবে। তবে এর ব্যতিক্রম (شذ) হিসেবে কিছু ক্রিয়া রয়েছে, আর এই ব্যতিক্রমগুলো (الشاذ) দুই প্রকার:1 - যেগুলোতে নিয়মানুগ (القياس) দাম্মা (الضم) এবং ব্যতিক্রমী (شاذ) কাসরা (الكسر) উভয়টিই শ্রুত হয়েছে। এমন ক্রিয়া নয়টি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: "শাদদাহু (شدَّهُ)" যার বর্তমান রূপ ইয়াশুদ্দুহু (يشُدّه) এবং ইয়াশিদ্দুহু (يشِدّه); "হাদিস প্রচার করা (نمَّ الحديث)" যার বর্তমান রূপ ইয়ানুম্মুহু (ينُمُّهُ) এবং ইয়ানিম্মুহু (ينِمُّه); "মাথা ফাটিয়ে দেওয়া (شجَّهُ)" যার বর্তমান রূপ ইয়াশুজজুহু (يشُجُّه) এবং ইয়াশিজজুহু (يشِجّه); "কর্তন করা (بتَّهُ)" যার বর্তমান রূপ ইয়াবুততুহু (يبُتُّهُ) এবং ইয়াবিত্তুহু (يبِتُّه)"। আর মূল রচয়িতার (الناظم) উক্তি "তারা বর্ণনা করেছেন (وَرَوَوا)" দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ: সকর্মক (المتعدية) দ্বিত্ব (المضعفة) "ফা-আলা" (فَعَلَ) ওযনের বর্তমান কালীন রূপে (مضارع) শ্রবণলব্ধভাবে (سماعاً) কাসরা (الكسر) বর্ণিত হয়েছে; অর্থাৎ দাম্মা (الضم) এর পাশাপাশি কাসরা বর্ণিত হয়েছে এবং তা এই নয়টি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।2 - যে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী (شاذ) কাসরা (الكسر) ছাড়া অন্য কিছু শ্রুত হয়নি। এটি মাত্র একটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর তা হলো: "হাব্বা (حَبَّ)"। এর বর্তমান রূপ হলো ইয়াহিব্বু (يحِبُّ) - 'হা' বর্ণে কাসরা (الكسر) যোগে। আর পদকর্তার (الناظم) উক্তি "আর 'হাব্বা' (حَبَّ) ক্রিয়ায় এটি এককভাবে এসেছে (وفي حَبَّ انفَرَدْ)" দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য। অর্থাৎ: এখানে কেবল কাসরাই (الكسر) এককভাবে এসেছে এবং এতে নিয়মানুগ (القيাস) দাম্মা (الضم) শ্রুত হয়নি।
--------------------------------------------
الشرح قال: (وَضَمُّ لازمٍ سماعاً قدْ وَرَدْ) تقدَّم أن القياس كسر العين من مضارع فَعَلَ - بفتح العين- إذا كانت لازمة كـ"فَرَّ يَفِرُّ"، إلا أنه شذَّ من ذلك أفعال سُمِع فيها ضم مضارعها، وهذا الشاذ على قسمين:1 - ما سُمِعَ فيه الكسر المقيس، والضمّ الشاذ، وهي أفعال كثيرة، منها: "صدَّ يصِدُّ ويصُدُّ(1)، خرَّ الحجرُ يخِرُّ ويخُرُّ، حَدَّتِ المرأة تحِدُّ وتحُدُّ، شذّ يشِذُّ ويشُذُّ، شحَّ يشِحُّ ويشُحُّ".2 - ما سُمِعَ فيه الضم الشاذ فقط، وهي أفعال كثيرة أيضاً منها: "هبّتِ الريحُ تهُبُّ، همَّ بالأمر يَهُمُّ، مرَّ يمُرُّ، شكَّ -أي: ظنّ - يشُكُّ، جنَّ الظلام يجُنُّ، رشَّ يرُشُّ، طشَّ يطُشُّ، ثجَّ يثُجُّ".
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা তিনি বলেছেন: (وَضَمُّ لازمٍ سماعاً قدْ وَرَدْ) অর্থাৎ অকর্মক (لازم) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে শ্রুত (سماعاً) দাম্মা (ضم) এর ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়েছে। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, নিয়মসিদ্ধ পদ্ধতি (قياس) হলো ‘ফায়ালা’ (فَعَلَ) —আইন বর্ণে ফাতহা (فتح) বিশিষ্ট— ওজনের ক্রিয়াটি যদি অকর্মক (لازم) হয়, তবে তার বর্তমানকালীন ক্রিয়ার (مضارع) আইন বর্ণে কাসরা (كسر) প্রদান করা, যেমন: "ফাল্লা ইয়াফিররু" (فَرَّ يَفِرُّ)। তবে এর ব্যতিক্রম (شذَّ) হিসেবে এমন কিছু ক্রিয়া রয়েছে যেগুলোর বর্তমানকালীন রূপে দাম্মা (ضم) হওয়ার বিষয়টি লোকমুখে শ্রুত (سُمِع) হয়েছে। আর এই ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয়টি দুই প্রকার:১ - যে সকল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিয়মসিদ্ধ (قياس) কাসরা (كسر) এবং ব্যতিক্রমী (شاذ) দাম্মা (ضم) উভয়ই শ্রুত (سُمِع) হয়েছে। এ জাতীয় ক্রিয়া অনেক, যার মধ্যে রয়েছে: "সাদ্দা ইয়াসিদ্দু এবং ইয়াসুদ্দু"(১), "পাথরটি গড়িয়ে পড়ল (খাররা) ইয়াখিররু এবং ইয়াখুররু", "নারীটি শোক পালন করল (হাদ্দাত) তাহিদ্দু এবং তাহুদ্দু", "বিচ্যুত হওয়া (শায্যা) ইয়াশিয্যু এবং ইয়াশুয্যু", "কৃপণতা করা (শাহ্হা) ইয়াশিহ্হু এবং ইয়াশুহ্হু" ।২ - যে সকল ক্রিয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী (شاذ) দাম্মা (ضم) শ্রুত (سُمِع) হয়েছে। এ জাতীয় ক্রিয়াও অনেক, যেমন: "বায়ু প্রবাহিত হলো (হাব্বাত) তাহুব্বু", "সংকল্প করল (হাম্মাল আমরি) ইয়াহুম্মু", "অতিক্রম করল (মাররা) ইয়ামুররু", "সন্দেহ করল (শাক্কা) অর্থাৎ ধারণা করল, ইয়াশুক্কু", "অন্ধকার আচ্ছন্ন করল (জান্নাল যালামু) ইয়াজুন্নু", "ছিটিয়ে দিল (রাশশা) ইয়ারুশশু", "গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ল (তাশশা) ইয়াতুশশু", "প্রবাহিত হলো (থাজ্জা) ইয়াথুজ্জু" ।
--------------------------------------------
الشرح ولمّا انتهى الناظم من الكلام على جوالب الكسر والضم، شرع في الكلام على جوالب الفتح فقال:(والفتحُ في حَلْقِيِّ عَينٍ واجبُ أوْ لامٍ) فذكر أنه يجب فتح عين مضارع "فَعَلَ" إذا وُجِد فيها جالب من جوالب الفتح، وهي اثنان:1 - أن تكون عينُ "فَعَلَ" حرفاً من حروف الحلق، ولذا قال الناظم: (والفتحُ في حَلْقِيِّ عَينٍ واجبُ) أي: ويجب فتح عين مضارع "فَعَلَ" إذا كانت العين حلقية، فقوله: (الفتحُ) مبتدأ، و (واجبٌ) خبره، ومن أمثلة ذلك: "سأل يسأَلُ، بحَثَ يبحَثُ، بعثَ يبعَثُ، بَهَتَ يبهَتُ، لهثَ يلهَثُ، نحرَ ينحَرُ، شغرَ المكان يشغَرُ، نهشَ ينهَشُ".2 - أن تكون لامُ " فَعَلَ" حرفاً من حروف الحلق، ولذا قال الناظم: (أوْ لامٍ) أي: ويجب فتح عين مضارع "فَعَلَ" إذا كانت حلقية اللام كما يجب إذا كانت حلقية العين، نحو: "خشعَ يخشَعُ، خضعَ يخضَعُ، بدأَ يبدَأُ، هدأَ يهدَأُ، شرحَ يشرحُ، ركعَ يركَعُ، خلعَ يخلَعُ، رفعَ يرفَعُ، زرعَ يزرَعُ، رقعَ يرقَعُ، نصحَ ينصَحُ، شرَعَ في الأمرِ يشرَعُ، لَعَنَ يلعَنُ، فتحَ يفتحُ".
ব্যাখ্যা যখন গ্রন্থকার কাসরাহ (জের) এবং দাম্মাহ (পেশ) প্রদানকারী কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি ফাতহাহ (জবর) প্রদানকারী কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন:('আইন' বর্ণটি কণ্ঠনালীয় (حلقي) হলে ফাতহাহ হওয়া আবশ্যিক (واجب), অথবা 'লাম' বর্ণটি)। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, 'ফায়ালা' (فَعَلَ) ওজনের ক্রিয়ার মুদারি (অনতিীতকাল) এর 'আইন' বর্ণে ফাতহাহ প্রদান করা আবশ্যিক (واجب), যদি সেখানে ফাতহাহ প্রদানকারী কোনো কারণ পাওয়া যায়। আর তা হলো দুটি:1 - 'ফায়ালা' (فَعَلَ) এর 'আইন' বর্ণটি কণ্ঠনালীয় (حلقي) বর্ণসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি হওয়া। এই কারণেই গ্রন্থকার বলেছেন: (এবং 'আইন' বর্ণটি কণ্ঠনালীয় হলে ফাতহাহ হওয়া আবশ্যিক)। অর্থাৎ: 'ফায়ালা' (فَعَلَ) এর মুদারি এর 'আইন' বর্ণে ফাতহাহ দেয়া আবশ্যিক (واجب) যখন তার 'আইন' বর্ণটি কণ্ঠনালীয় (حلقي) হয়। এখানে গ্রন্থকারের উক্তি: 'আল-ফাতহু' (الفتح) হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ), এবং 'ওয়াজিবুন' (واجب) হলো তার বিধেয় (خبر)। এর উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: "সাআলা ইয়াসআলু, বাহাসা ইয়াবহাসু, বাআসা ইয়াবআসু, বাহাতা ইয়াবহাতু, লাহাসা ইয়ালহাসু, নাহারা ইয়ানহারু, শাগারা আল-মাকানু ইয়াশগারু, নাহাশা ইয়ানহাশু"।2 - 'ফায়ালা' (فَعَلَ) এর 'লাম' বর্ণটি কণ্ঠনালীয় (حلقي) বর্ণসমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি হওয়া। এই কারণেই গ্রন্থকার বলেছেন: (অথবা 'লাম' বর্ণটি)। অর্থাৎ: 'ফায়ালা' (فَعَلَ) এর মুদারি এর 'আইন' বর্ণে ফাতহাহ দেয়া আবশ্যিক (واجب) যখন তার 'লাম' বর্ণটি কণ্ঠনালীয় (حلقي) হয়, যেমনটি 'আইন' বর্ণ কণ্ঠনালীয় (حلقي) হওয়ার ক্ষেত্রে আবশ্যিক (واجب) হয়। যেমন: "খাশাআ ইয়াখশাআ, খাদাআ ইয়াখদাআ, বাদাআ ইয়াবদাউ, হাদাআ ইয়াহদাউ, শারাহা ইয়াশরাহু, রাকাআ ইয়ারকাউ, খালাআ ইয়াখলাউ, রাফাআ ইয়ারফাউ, যারাআ ইয়াজরাউ, রাকাআ ইয়ারকাউ, নাসাহা ইয়ানসাহু, শারাআ ফিল আমরি ইয়াশরাউ, লাআনা ইয়ালআনু, ফাতাহা ইয়াফতাহু"।
الشرح إلا أنه يشترط في فتح مضارع فَعَلَ أن لا يوجد جالب من جوالب الكسر أو الضمّ، ولذا قال الناظم: (إِنْ عُدِمَ فيهِ الجالِبُ) أي: جالب الكسر والضم، أما إذا وُجِد جالب من جوالب الكسر أو الضم فإنه يُغلَّبُ ويُقدَّمُ على جالب الفتح إلا فيما استثني سابقاً؛ لأن جالب الفتح أضعف الجوالب، نحو: دَعّ، يقال: دعَّهُ - أي: رماه بعنف - يدُعُّهُ -.بضم العين(1)، مع أن عينها ولامها حلقية، فعينها حرف العين، ولامها عينٌ أيضاً؛ لأن أصلها"دَععَ"، ومع ذلك قُدِّم جالب الضم، وهو كون "فَعَلَ" مضعَّفة متعدية.ومن أمثلة ذلك أيضاً: "بغى" فيقال في مضارعها: " يبغِي" بالكسر، مع أنّه وُجِد فيها جالب من جوالب الفتح، وهو كون عين الكلمة حرفاً من حروف الحلق، إلا أنه عارضه جالب من جوالب الكسر وهو كون اللام يائياً، فقُدِّم جالب الكسر على جالب الفتح.
--------------------------------------------
ব্যাখ্যা তবে শর্ত হলো যে, ফা‘আলা ওজনের মুদারে-এর আইন বর্ণে ফাতহা হওয়ার জন্য কাসরা বা দাম্মার কোনো প্রভাবক উপস্থিত না থাকা; আর এই কারণেই গ্রন্থকার বলেছেন: (যদি তাতে প্রভাবক অনুপস্থিত থাকে) অর্থাৎ: কাসরা এবং দাম্মার প্রভাবক। তবে যদি কাসরা বা দাম্মার কোনো প্রভাবক পাওয়া যায়, তবে সেটিকে প্রবল বিবেচনা করা হবে এবং ফাতহার প্রভাবকের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে, পূর্বে যা ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যতীত। কারণ ফাতহার প্রভাবক হলো প্রভাবকসমূহের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। যেমন: দা-আ, বলা হয়: দা-আহু—অর্থাৎ সে তাকে সজোরে ধাক্কা দিল—ইয়াদু-উহু।আইন বর্ণে দাম্মা যোগে, যদিও এর আইন এবং লাম বর্ণ কণ্ঠনালীয়, কারণ এর আইন বর্ণটি হলো 'আইন' বর্ণ এবং লাম বর্ণটিও 'আইন' বর্ণ; যেহেতু এর মূল রূপ ছিল 'দা-আ-আ', তা সত্ত্বেও দাম্মার প্রভাবককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, আর সেটি হলো ফা‘আলা ওজনের শব্দটি মুদাআফ মুতাআদ্দি হওয়া।এর উদাহরণগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: 'বাগা', এর মুদারেতে বলা হয়: 'ইয়াবগি' কাসরা যোগে, যদিও এতে ফাতহার একটি প্রভাবক বিদ্যমান ছিল, আর তা হলো শব্দের আইন বর্ণটি কণ্ঠনালীয় বর্ণের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। কিন্তু এর বিপরীতে কাসরার একটি প্রভাবক এসে উপস্থিত হয়েছে, যা হলো এর লাম বর্ণটি 'ইয়া' হওয়া। ফলে ফাতহার প্রভাবকের ওপর কাসরার প্রভাবককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
الشرح ثم قال: (معْ شُهْرَةٍ) أي: ويشترطُ أيضاً في فتح مضارع فَعَلَ أن لا تُوجد شُهرة، فإذا اشتهر الفعلُ عند العرب بالكسر أو الضم فالشهرة مقدَّمة ومغلَّبة على جالب الفتح؛ لأن الشهرة تقوى على الجالب، ومن أمثلة ذلك: "قعَدَ، زعمَ، أخذ، دخَلَ، سعَلَ، نَخَلَ" فإن هذه الأمثلة القياس فيها فتح عين مضارعها؛ لكون عينها حرفاً من حروف الحلق، إلا أنه اشتُهِر في مضارعها الضم فيقال: "يقعُدُ، يزعُمُ، يأخُذُ، يدخُلُ، يسعُلُ، ينخُلُ". ومن أمثلة ذلك أيضاً: "نَفخَ، صَرخَ، بلغَ الصبي، طلعتِ الشمس" فإن هذه الأمثلة القياس فيها فتح عين مضارعها؛ لكون لامها حرفاً من حروف الحلق، إلا أنه اشتُهِر في مضارعها الضم فيقال: "ينفُخُ، يصرُخُ، يبلُغُ، تطلُعُ".ومن أمثلة ذلك أيضاً: "شَخَرَ - أي: صوَّت من حلقه وأنفه -" فإن القياس فيها فتح عين مضارعها؛ لكون عينها حرفاً من حروف الحلق، إلا أنه اشتُهِر في مضارعها الكسر فيقال: "يشْخِرُ".ومن أمثلة ذلك أيضاً: "رجَعَ، نَزَعَ" فإن القياس فيها فتح عين مضارعها؛ لكون لامها حرفاً من حروف الحلق، إلا أنه اشتُهِر في مضارعها الكسر فيقال: " يرجِعُ، ينزِعُ".
ব্যাখ্যা অতঃপর তিনি বলেন: (প্রসিদ্ধি (شهرة) সহকারে) অর্থাৎ: ‘ফাতহা’ (فتح) বিশিষ্ট ‘মুদারে’ (مضارع) বা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এটিও শর্ত যে, সেখানে কোনো প্রসিদ্ধি (شهرة) থাকবে না। সুতরাং যখন আরবদের নিকট কোনো ক্রিয়া ‘কাসরা’ (كسر) অথবা ‘দাম্মা’ (ضم) দিয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করে, তখন সেই প্রসিদ্ধি (شهرة) ‘ফাতহা’ (فتح) আনয়নকারী প্রভাবকের (جالب) ওপর প্রাধান্য পায় এবং তাকে পরাভূত করে; কারণ প্রসিদ্ধি (شهرة) উক্ত প্রভাবকের (جالب) তুলনায় অধিক শক্তিশালী। এর উদাহরণসমূহ হলো: "বসা (قعَدَ), ধারণা করা (زعمَ), গ্রহণ করা (أخذ), প্রবেশ করা (دخَلَ), কাশি দেওয়া (سعَلَ), চালনি দিয়ে চালা (نَخَلَ)"। এই উদাহরণগুলোতে নিয়ম (قياس) অনুযায়ী এগুলোর ‘মুদারে’ (مضارع)-এর ‘আইন’ (عين) বর্ণে ‘ফাতহা’ (فتح) হওয়া আবশ্যক ছিল; যেহেতু এগুলোর ‘আইন’ (عين) বর্ণটি কণ্ঠনালীয় বর্ণসমূহের (حروف الحلق) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এগুলোর ‘মুদারে’ (مضارع) রূপে ‘দাম্মা’ (ضم) প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, ফলে বলা হয়: "يقعُدُ, يزعُمُ, يأخُذُ, يدخُلُ, يسعُلُ, ينخُلُ"। এর আরও কিছু উদাহরণ হলো: "ফুঁ দেওয়া (نَفخَ), চিৎকার করা (صَرخَ), বালকটির প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া (بلغَ الصبي), সূর্য উদিত হওয়া (طلعتِ الشمس)"। এই উদাহরণগুলোতেও নিয়ম (قياس) অনুযায়ী এগুলোর ‘মুদারে’ (مضارع)-এর ‘আইন’ (عين) বর্ণে ‘ফাতহা’ (فتح) হওয়ার কথা ছিল; কারণ এগুলোর ‘লাম’ (لام) বর্ণটি কণ্ঠনালীয় বর্ণসমূহের (حروف الحلق) অন্তর্ভুক্ত। তবে এগুলোর ‘মুদারে’ (مضارع) রূপে ‘দাম্মা’ (ضم) প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তাই বলা হয়: "ينفُخُ, يصرُخُ, يبلُغُ, تطلُعُ"।এর আরও উদাহরণ হলো: "নাসিকাগর্জন করা (شَخَرَ) — অর্থাৎ: কণ্ঠ ও নাক দিয়ে শব্দ করা —"। এখানে নিয়ম (قياس) অনুযায়ী এর ‘মুদারে’ (مضارع)-এর ‘আইন’ (عين) বর্ণে ‘ফাতহা’ (فتح) হওয়ার কথা ছিল; কারণ এর ‘আইন’ (عين) বর্ণটি একটি কণ্ঠনালীয় বর্ণ (حرف من حروف الحلق)। কিন্তু এর ‘মুদারে’ (مضارع) রূপে ‘কাসরা’ (كسر) প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তাই বলা হয়: "يشْخِرُ"।এর আরও উদাহরণ হলো: "ফিরে আসা (رجَعَ), ছিনিয়ে নেওয়া (نَزَعَ)"। এক্ষেত্রেও নিয়ম (قياس) অনুযায়ী এদের ‘মুদারে’ (مضارع)-এর ‘আইন’ (عين) বর্ণে ‘ফাতহা’ (فتح) হওয়ার কথা ছিল; কারণ এগুলোর ‘লাম’ (لام) বর্ণটি একটি কণ্ঠনালীয় বর্ণ (حرف من حروف الحلق)। কিন্তু এগুলোর ‘মুদারে’ (مضارع) রূপে ‘কাসরা’ (كسر) প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তাই বলা হয়: "يرجِعُ, ينزِعُ"।