(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: -)
مقدمة ابن الصلاح معرفة أنواع علم الحديث - ت الفحل والهميم   (ابن الصلاح)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: معرفة أنواع علم الحديث

المؤلف: عثمان بن عبد الرحمن، أبوعمرو، تقي الدين المعروف بابن الصلاح (ت 643 هـ)

المحقق: عبد اللطيف الهميم - ماهر ياسين الفحل

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 510

أعده للشاملة: أسامة بن الزهراء

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1432

ইবনে আল-সালাহ-এর মুকাদ্দিমা: হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ পরিচিতি - আল-ফাহল এবং আল-হামিম-এর তাহকিক (تحقيق)   (ইবনে আল-সালাহ)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ পরিচিতি

গ্রন্থকার: উসমান বিন আবদুর রহমান، আবু আমর، তাকিউদ্দীন, যিনি ইবনে আল-সালাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি)

তাহকিককারী (المحقق): আবদুল লতিফ আল-হামিম - মাহির ইয়াসিন আল-ফাহল

প্রকাশনী: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: উসামা বিন আল-জাহরা

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[معرفة أنواع علوم الحديث]ـ

المؤلف: عثمان بن عبد الرحمن، أبوعمرو، تقي الدين المعروف بابن الصلاح (المتوفى: 643هـ)

المحقق: عبد اللطيف الهميم - ماهر ياسين الفحل

الناشر: دار الكتب العلمية

الطبعة: الأولى

سنة النشر: 1423 هـ / 2002 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ومذيل بالحواشي]

أعده للشاملة: أسامة بن الزهراء، فريق عمل المكتبة الشاملة

--------------------------------------------

الكتاب مرتبط بنسخة شاملة أخرى (ت عتر)

ومرتبط بـ 4 نسخ مصورة

1 - الموافقة لترقيمه (ط العلمية، تحقيق ماهر الفحل)

2 - الموافقة لـ ط نور الدين عتر

3 - مقدمة ابن الصلاح والتقييد والإيضاح للعراقي، تعليق محمد راغب الطباخ

4 - مقدمة ابن الصلاح، ومحاسن الاصطلاح للبلقيني، تحقيق بنت الشاطئ
ـ[হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) প্রকারভেদ পরিচিতি]ـ

লেখক: উসমান বিন আব্দুর রহমান, আবু আমর, তাক্বিউদ্দিন যিনি ইবনুল সালাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি)

গবেষক: আব্দুল লতিফ আল-হামিম - মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল

প্রকাশক: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম

প্রকাশকাল: ১৪২৩ হিজরি / ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: উসামা বিন আল-জাহরা, মাকতাবা শামেলার কর্মীবৃন্দ

--------------------------------------------

বইটি শামেলার অন্য একটি সংস্করণের (নূরুদ্দিন ইতর সম্পাদিত) সাথে সংযুক্ত

এবং ৪টি চিত্রিত (স্ক্যান) কপির সাথে যুক্ত

১ - এর নম্বর বিন্যাসের সাথে মিল রয়েছে (দার আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ, মাহের আল-ফাহল সম্পাদিত)

২ - নূরুদ্দিন ইতর সংস্করণের সাথে মিল রয়েছে

৩ - মুকাদ্দিমাহ ইবনুল সালাহ এবং ইরাকির আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ, মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখের টীকা সংবলিত

৪ - মুকাদ্দিমাহ ইবনুল সালাহ এবং বুলক্বিনির মাহাসিনুল ইস্তিলাহ, বিনতুশ শাতি সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.

((ونشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وخيرته من خلقه وسفيره بينه وبين عباده، المبعوث بالدين القويم، والمنهج المستقيم، أرسله الله رحمة للعالمين، وإماماً للمتقين، وحجةً على الخلائق أجمعين)) (1).

{يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوْتُنَّ إِلَاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُوْنَ}.

آل عمران: 102.

{يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً واتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُوْنَ بهِ وَالأَرْحَامِ إنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيْباً}. النساء: 1.

{يا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُوْلُوا قَوْلاً سَدِيْداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ ويَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُوْلَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيْماً}. الأحزاب: 70 - 71.

أما بعد:

فقد اصطفى الله تعالى هذه الأمة، وشرّفها إذ اختار لها هذا الدين القويم، وجعل أساسها المشيد وركنها الركين ((كتابه العزيز))، وهيَّأ هذه الأمة لتضطلع بتلك المهمة، ألا وهي حفظ هذا الكتاب الذي تعهد الله تبارك وتعالى سلفاً بحفظه، فقال:

{إنَّا نَحْنُ نَزَّلنَا الذِّكْرَ وإنَّا لَهُ لَحافِظُونَ}. الحجر: 9، فرزقها جودة الفهم وقوة الحافظة، ووفور الذهن، فلم يتمكن أحد - بحمد الله - من أن يجرأ فيزيد أو ينقص حرفاً أو حركةً منه.

--------------------------------------------

(1) من مقدمة زاد المعاد 1/ 34 للعلامة ابن القيم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।

((আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তিনি তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত। তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথসহ প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ, মুত্তাকিদের ইমাম এবং সকল সৃষ্টির ওপর প্রমাণ (حجة) হিসেবে পাঠিয়েছেন)) (১)।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

আল-ইমরান: ১০২।

{হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু'জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত-সম্পর্কিত আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} আন-নিসা: ১।

{হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।} আল-আহজাব: ৭০-৭১।

অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে মনোনীত করেছেন এবং একে সম্মানিত করেছেন যেহেতু তিনি তাদের জন্য এই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনকে পছন্দ করেছেন। তিনি এর সুদৃঢ় ভিত্তি ও মজবুত স্তম্ভ বানিয়েছেন তাঁর মহান কিতাবকে। তিনি এই উম্মতকে প্রস্তুত করেছেন সেই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য, আর তা হলো এই কিতাবের হিফাজত; যার হিফাজতের দায়িত্ব আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আগেই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেছেন:

{নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশবাণী (الذكر) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।} আল-হিজর: ৯। অতঃপর তিনি এই উম্মতকে দান করেছেন প্রখর অনুধাবন ক্ষমতা, প্রবল মুখস্থ শক্তি এবং মেধার প্রাচুর্য। ফলে আল্লাহর প্রশংসায়—কেউই এর একটি অক্ষর বা একটি হরকতও বাড়ানো বা কমানোর দুঃসাহস দেখাতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রচিত যাদুল মাআদ (১/৩৪) এর ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৬)
ولما تعهَّد الله تعالى بحفظ القرآن الكريم، كان مما احتواه هذا العهد ضمناً حفظ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك حفظ أحاديث المصطفى صلى الله عليه وسلم بأسانيدها فكان الإسناد أحد الخصائص التي اختص الله تعالى بها أمة صفيِّه صلى الله عليه وسلم.

ولقد أدرك الصدر الأول أهمية ذلك، فروى الإمام مسلم (1) وغيره عن محمد ابن سيرين أنه قَالَ: ((إنَّ هذا العلم دين، فانظروا عمن تأخذون دينكم)) وروى (2) عنه أنه قال: ((لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، قالوا: سمّوا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم)).

ومن ثَمَّ افتقر الأمر إلى معرفة ضبط الراوي وصدقه، فكانت الحاجة ماسة إلى استكمال هذا الأمر، فكان نشوء ((علم الجرح والتعديل)) أو ((علم الرجال)).

وعلى الرغم من أن هذا العلم لم يكن فجائي الظهور، إلا أنه لا مناص من القول بأنه كان مبكر الظهور جداً، وينجلي ذلك مما نقلناه سالفاً عن ابن سيرين، وقد كان المسلمون مطمئنين إلى أن الله تعالى يهيئ لهذا الأمر من يقوم به ويتحمل أعباء هذه المهمة الجسيمة، فقد أسند ابن عدي في مقدمة " الكامل " (3)، وابن الجوزي في مقدمة " الموضوعات " (4) أنه قيل لعبد الله بن المبارك: هذه الأحاديث المصنوعة؟ فَقَالَ: تعيش لها الجهابذة، {إنَّا نَحْنُ نَزَّلنَا الذِّكْرَ وإنَّا لَهُ لَحافِظُونَ}.

وعلم الحديث دراية ورواية من أشرف العلوم وأجلِّها، بل هو أجلها عَلَى الإطلاق بعد العلم بالقرآن الكريم الذي هو أصل الدين ومنبع الطريق المستقيم، فالحديث هو المصدر الثاني للتشريع الإسلامي بعضه يستقل بالتشريع، وكثير منه شارح لكتاب الله تَعَالَى مبين له قال تَعَالَى: {وأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (5) وعلم الحديث تتفرع تحته علوم كثيرة ومن تلك العلوم: علم مصطلح الحديث وهو العلم الذي

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح مسلم 1/ 14 طبعة عبد الباقي.

(2) المصدر السابق 1/ 15.

(3) 1/ 192.

(4) 1/ 46.

(5) النحل: 44
মহান আল্লাহ যখন পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের অঙ্গীকার করেছেন, তখন এই অঙ্গীকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সংরক্ষণ। এরই অংশ হিসেবে ছিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহকে সেগুলোর সনদসহ (بأسانيدها) রক্ষা করা। সুতরাং সনদ (الإسناد) ছিল এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতকে বিশেষিত করেছেন।

প্রথম যুগের মুসলিমগণ এর গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন। ইমাম মুসলিম (১) ও অন্যান্যগণ মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দীন; সুতরাং তোমরা লক্ষ্য করো, কাদের কাছ থেকে তোমরা তোমাদের দীন গ্রহণ করছো।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে (২) যে তিনি বলেছেন: "তারা সনদ (الإسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না; কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তারা বলতে লাগল: তোমরা আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। তখন সুন্নাহর অনুসারীদের (أهل السنة) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো; আর বিদআতিদের (أهل البدع) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।"

এরপর থেকেই রাবির (الراوي) স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুলতা (ضبط) এবং তাঁর সততা যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে এই বিষয়টি পূর্ণতা দেওয়ার আবশ্যকতা অনুভূত হয় এবং এভাবেই 'জারহ ও তাদিল' (علم الجرح والتعديل) বা 'রিজাল শাস্ত্রের' (علم الرجال) উদ্ভব ঘটে।

যদিও এই শাস্ত্রটি আকস্মিকভাবে আবির্ভূত হয়নি, তবুও এটি বলা ব্যতিরেকে উপায় নেই যে, এর সূচনা অত্যন্ত দ্রুত হয়েছিল। ইবনে সিরিন থেকে আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা থেকেই এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। মুসলিমগণ এ ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন যে, আল্লাহ তাআলা এই মহান কাজের জন্য এমন ব্যক্তিদের প্রস্তুত করবেন যারা এই গুরুভার বহন করবেন। ইবনে আদি তাঁর আল-কামিল (৩) গ্রন্থের ভূমিকায় এবং ইবনে জাওজি তাঁর আল-মাওদুআত (৪) গ্রন্থের ভূমিকায় বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "এই বানোয়াট (المصنوعة) হাদিসগুলোর কী হবে?" তিনি উত্তর দিলেন: "এগুলোর (ভুল ধরার) জন্য বিজ্ঞ সমালোচকগণ (الجهابذة) সজাগ আছেন। (আল্লাহ বলেছেন:) নিশ্চয়ই আমিই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"

ইলমে হাদিস বিশ্লেষণাত্মক (دراية) এবং বর্ণনাসূত্র (رواية) উভয় দিক থেকেই অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। বরং পবিত্র কুরআনের ইলমের পরেই এটি নিঃসন্দেহে সর্বাধিক মর্যাদাবান, যা দীনের মূল ভিত্তি এবং সরল পথের উৎস। কেননা হাদিস হলো ইসলামি আইনের দ্বিতীয় উৎস; এর কিছু অংশ স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রদান করে এবং এর অধিকাংশ অংশই আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনা প্রদান করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তোমার প্রতি জিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানুষের জন্য তা বর্ণনা করে দাও যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে।" (৫) ইলমে হাদিসের অধীনে অনেক শাখা ইলম রয়েছে; যার মধ্যে অন্যতম হলো হাদিসের পরিভাষা সংক্রান্ত বিদ্যা (علم مصطلح الحديث), যা হলো এমন একটি জ্ঞান যা...

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিমের ভূমিকা, ১/১৪, আবদুল বাকি সংস্করণ।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, ১/১৫।

(৩) ১/১৯২।

(৪) ১/৪৬।

(৫) আন-নাহল: ৪৪
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৭)
يكشف عن مصطلحات المحدِّثين التي يتداولونها في مصنفاتهم ودروسهم، وكتاب ابن الصلاح هذا كان واحداً من أحسن الكُتُب التي أُلِّفَتْ في علم مصطلح الحديث. قال الحافظ العراقي: ((أحسن ما صنف أهل الحديث في معرفة الاصطلاح كتاب علوم الحديث لابن الصلاح)) (1)، وربما كان ذَلِكَ لما حبا الله به ابن الصلاح من فطنة عالية، وجودة ذهن، وحسن قريحة، وسلاسة أسلوب، واستفادته من لَمِّ شتات كتب من سبقه بهذا الباب، قال الحافظ ابن حجر العسقلاني: ((من أول من صنف في ذَلِكَ (2) القاضي أبو مُحَمَّد الرامهرمزي كتابه " الْمُحَدِّث الفاصل " لكنه لَمْ يستوعب، والحاكم أبو عبد الله النيسابوري، لكنه لَمْ يهذب ولم يرتب، وتلاه أبو نعيم الأصبهاني، فعمل عَلَى كتابه مستخرجاً وأبقى أشياء للمتعقب. ثُمَّ جاء بعدهم الخطيب أبو بكر البغدادي، فصنف في قوانين الرواية كتاباً سماه " الجامع لآداب الشَّيْخ والسامع … ، ثُمَّ جاء بعدهم بعض من تأخر عن الخطيب فأخذ من هذا العلم بنصيب: فجمع القاضي عياضٌ كتاباً لطيفاً سماه " الإلماع " وأبو حفص الميانجي جزءاً سماه " مالايسع الْمُحَدِّث جهله " وأمثال ذَلِكَ من التصانيف التي اشتهرت وبسطت ليتوفر علمها واختصرت ليتيسر فهمها إلى أن جاء الحافظ الفقيه تقي الدين أبو عمرو عثمان بن الصلاح عبد الرحمان الشهرزوري نزيل دمشق - فجمع لما ولي تدريس الحديث بالمدرسة الأشرفية - كتابه المشهور، فهذَّب فنونه وأملاه شيئاً بعد شيء؛ فلهذا لَمْ يحصل ترتيبه عَلَى الوضع المتناسب، واعتنى بتصانيف الخطيب المتفرقة فجمع شتات مقاصدها وضمَّ إليها من غيرها نخب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرَّقَ في غيره، فلهذا عكف الناس عليه وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر ومستدرك عليه ومقتصر ومعارض له ومنتصر)) (3).

ونحن نكتفي بقول الحافظ ابن حجر عن سوق أقوال أئمة آخرين في بيان أهمية وجودة هذا الكتاب، وعَلَى الرغم من نفاسة هذا الكتاب وأهميته البالغة فإنه لم يطبع

--------------------------------------------

(1) التقييد والإيضاح: 11.

(2) يعني: المصطلح.

(3) نزهة النظر: 46 - 51، تحقيق: علي الحلبي.
এটি মুহাদ্দিসগণের সেইসব পরিভাষা (مصطلحات) উন্মোচন করে যা তাঁরা তাঁদের গ্রন্থাবলি ও পাঠদানে ব্যবহার করেন। ইবনুস সালাহ-এর এই বইটি 'ইলম মুসতালাহ আল-হাদিস' (হাদিসের পরিভাষা বিজ্ঞান) বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। হাফিজ ইরাকি বলেন: "পরিভাষা (اصطلاح) পরিচিতি বিষয়ে হাদিস বিশারদগণ যা কিছু রচনা করেছেন, তার মধ্যে ইবনুস সালাহ-এর 'উলূমুল হাদিস' গ্রন্থটিই সর্বশ্রেষ্ঠ" (১)। সম্ভবত এটি সম্ভব হয়েছে আল্লাহ তাআলা ইবনুস সালাহ-কে যে উচ্চতর প্রজ্ঞা, তীক্ষ্ণ মেধা, চমৎকার উদ্ভাবনী শক্তি এবং সাবলীল রচনাশৈলী দান করেছেন তার মাধ্যমে। সেই সাথে এই বিষয়ে তাঁর পূর্ববর্তীদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত তথ্যের সদ্ব্যবহারও এর অন্যতম কারণ। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: "এই বিষয়ে (২) প্রথম যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে কাজী আবু মুহাম্মদ আর-রামাহুরমুজি তাঁর 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল' কিতাবটি লিখেছেন, তবে এটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। এরপর আসলেন হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আন-নিশাপুরি, কিন্তু তিনি গ্রন্থটি সুবিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ করেননি। এরপর আসলেন আবু নুআইম আল-আসবাহানি; তিনি হাকিমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে একটি মুস্তাকরাজ (مستخرج) রচনা করেন এবং পরবর্তী পর্যালোচনাকারীদের জন্য কিছু বিষয় বাকি রেখে যান। এরপর তাঁদের পরে আসলেন খতিব আবু বকর আল-বাগদাদি; তিনি বর্ণনার (رواية) নিয়মকানুন সম্পর্কে 'আল-জামি লি আদাবাশ শাইখ ওয়াস সামি' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন... এরপর খতিবের পরবর্তী কিছু আলিম আসলেন যারা এই ইলমে অংশীদার হলেন: কাজী আইয়ায 'আল-ইলমা' নামক একটি চমৎকার কিতাব সংকলন করেন এবং আবু হাফস আল-মায়ানিজি 'মা লা ইয়াসাউল মুহাদ্দিসা জাহলুহু' নামক একটি জুজ (جزء) রচনা করেন। এজাতীয় আরও অনেক গ্রন্থ প্রসিদ্ধি লাভ করে; যার কিছু বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে যাতে জ্ঞান সমৃদ্ধ হয় এবং কিছু সংক্ষেপে লেখা হয়েছে যাতে বুঝা সহজ হয়। অবশেষে হাফিজ ফকিহ তাক্বীউদ্দীন আবু عمرو عثمان ইবনুস সালাহ আব্দুর রহমান আশ-শাহরাযুরি দামেশকে আগমন করেন। যখন তিনি আশরাফিয়া মাদরাসায় হাদিস পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাঁর প্রসিদ্ধ বইটি সংকলন করেন। তিনি এর বিভিন্ন শাস্ত্রকে পরিমার্জিত করেন এবং ধারাবাহিকভাবে তা শ্রুতিলিখনের (إملاء) মাধ্যমে পেশ করেন; ফলে এর বিন্যাস পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ হয়ে ওঠেনি। তিনি খতিব আল-বাগদাদির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রচনাগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যসমূহ একত্রিত করেন। সেই সাথে অন্যান্য উৎস থেকেও বাছাইকৃত ফায়দাগুলো এতে যুক্ত করেন। ফলে যা অন্যান্য গ্রন্থে বিচ্ছিন্ন ছিল, তা তাঁর কিতাবে একত্রিত হয়েছে। একারণেই মানুষ এই কিতাবের প্রতি মনোযোগী হয়েছে এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেছে। অগণিত মানুষ একে কাব্যরূপ (ناظم) দিয়েছেন, এর সংক্ষেপণ (مختصر) করেছেন, এর ওপর মুস্তাদরাক (مستدرك) লিখেছেন, একে সংক্ষিপ্ত করেছেন, কেউ এর বিরোধিতা করেছেন আবার কেউ এর সমর্থন করেছেন" (৩)।

এই গ্রন্থের গুরুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব বয়ানে অন্যান্য ইমামদের বক্তব্য উদ্ধৃত না করে আমরা হাফিজ ইবনে হাজরের কথাকেই যথেষ্ট মনে করছি। অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুরুত্ববহ হওয়া সত্ত্বেও এই কিতাবটি মুদ্রিত হয়নি

--------------------------------------------

(1) আত-তাকয়িদ ওয়াল ইজাহ: ১১।

(2) অর্থাৎ: পরিভাষা (مصطلح)।

(3) নুযহাতুন নাযার: ৪৬ - ৫১, তাহকিক: আলী আল-হালাবি।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৮)
طبعة علمية محققة تتجلى من خلالها نصوص الكتاب، وتضبط بالشكل، ويتكلم في إيضاح مسائله وغوامضه والتنكيت والتعقيب على بعض ما انتقد عَلَى المصنف. من هنا شمّرنا عن ساعد الجدِّ في تحقيق نص الكتاب وضبطه وضبط نص الكتاب عَلَى ثلاث نسخ خطية مع الإفادة من الطبعات المتداولة، وكان من أفضل الطبعات السابقة لهذا الكتاب:

أولاً: طبعة الدكتور الفاضل نور الدين عتر: سنة 1966، نشر المكتبة العلمية بالمدينة المنورة، وهي طبعة جيدة قياساً عَلَى سوابقها، لكن مع الجهد الذي قام به الدكتور الفاضل إلَاّ أنَّهُ حصل في نشرته بعض سقط وزيادات وتصحيفات وراجع عَلَى سبيل المثال تعليقنا على الصفحات الآتية:

71، 73، 74، 76، 95، 232، 244، 250، 263، 264، 271، 286، 290، 297، 298، 306، 309، 313، 319، 320، 321، 323، 325، 326، 329، 331، 333، 334، 335، 337، 339، 340، 347، 351، 353، 354، 355، 367، 384، 392، 395، 401.

ثانياً: طبعة الدكتورة الفاضلة عائشة عبد الرحمان (بنت الشاطئ): فقد حققت الدكتورة الفاضلة عائشة كتاب "محاسن الاصطلاح" للبلقيني سنة 1974 م، وطبعت معه كتاب "معرفة أنواع علم الحديث" لابن الصلاح، وجعلته متناً في الأعلى وجعلت المحاسن في الحاشية، وهذه الطبعة دون الطبعة السابقة، وقد حصل فيها كسابقتها بعض سقط وتصحيف وزيادات، راجع على سبيل المثال الصفحات الآتية:

71، 73، 74، 75، 76، 77، 78، 82، 85، 87، 97، 242، 246، 253، 256، 258، 262، 265، 266، 267، 268، 271، 274، 275، 278، 279، 281، 282، 283، 284، 287، 288، 293، 294، 297، 303، 304، 305، 307، 309، 311، 312، 314، 316، 317، 318، 322، 324، 326، 329، 332، 334، 336، 345، 348، 352، 362، 365، 367، 369، 372، 373، 375، 377، 382، 385، 389، 391، 392، 395، 398، 401، 409.
এটি একটি তাত্ত্বিক ও সম্পাদিত সংস্করণ যার মাধ্যমে গ্রন্থের মূল পাঠসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং তা যথাযথ স্বরচিহ্ন দ্বারা বিন্যস্ত করা হয়েছে। এতে গ্রন্থের বিভিন্ন মাসয়ালা ও জটিল বিষয়াবলির ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে এবং গ্রন্থকারের ওপর করা কিছু সমালোচনার বিষয়ে সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক টীকা (تنكيت) ও পর্যালোচনা (تعقيب) যুক্ত করা হয়েছে। এখান থেকেই আমরা গ্রন্থের মূল পাঠ সম্পাদনা ও তিনটি পাণ্ডুলিপির আলোকে তা বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি, পাশাপাশি প্রচলিত মুদ্রণগুলো থেকেও উপকৃত হয়েছি। এই গ্রন্থের পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিল:

প্রথমত: শ্রদ্ধেয় ডক্টর নূরুদ্দীন ইতর-এর সংস্করণ: ১৯৬৬ সালে মদিনা মুনাওয়ারার আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত। এটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় একটি উন্নতমানের সংস্করণ; তবে শ্রদ্ধেয় ডক্টরের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর এই প্রকাশনায় কিছু বাদ পড়া (سقط), অতিরিক্ত সংযোজন (زيادات) এবং বর্ণবিকৃতি (تصحيفات) ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ নিম্নোক্ত পৃষ্ঠাগুলোতে আমাদের টীকাগুলো দেখুন:

৭১, ৭৩, ৭৪, ৭৬, ৯৫, ২৩২, ২৪৪, ২৫০, ২৬৩, ২৬৪, ২৭১, ২৮৬, ২৯০, ২৯৭, ২৯৮, ৩০৬, ৩০৯, ৩১৩, ৩১৯, ৩২০, ৩২১, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩২৯, ৩৩১, ৩৩৩, ৩৩৪, ৩৩৫, ৩৩৭, ৩৩৯, ৩৪০, ৩৪৭, ৩৫১, ৩৫৩, ৩৫৪, ৩৫৫, ৩৬৭, ৩৮৪, ৩৯২, ৩৯৫, ৪০১।

দ্বিতীয়ত: শ্রদ্ধেয় ডক্টরা আয়েশা আবদুর রহমান (বিনতুশ শাতি)-এর সংস্করণ: ডক্টরা আয়েশা ১৯৭৪ সালে আল-বুলকিনী রচিত "মাহাসিনুল ইস্তিলাহ" গ্রন্থটি সম্পাদনা করেন এবং এর সাথে ইবনুস সালাহ রচিত "মা'রিফাতু আনওয়াঈ ইলমিল হাদিস" গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন। তিনি পরবর্তী কিতাবটিকে উপরের অংশে মূলপাঠ (متن) হিসেবে রেখেছেন এবং "মাহাসিন" কিতাবটিকে পাদটীকা (حاشية) হিসেবে নিচে স্থান দিয়েছেন। এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় নিম্নমানের। এতেও আগেরটির মতো কিছু বাদ পড়া (سقط), বর্ণবিকৃতি (تصحيفات) ও অতিরিক্ত সংযোজন (زيادات) ঘটেছে। উদাহরণস্বরূপ নিম্নোক্ত পৃষ্ঠাগুলো দেখুন:

৭১, ৭৩, ৭৪, ৭৫, ৭৬, ৭৭, ৭৮, ৮২, ৮৫, ৮৭, ৯৭, ২৪২, ২৪৬, ২৫৩, ২৫৬, ২৫৮, ২৬২, ২৬৫, ২৬৬, ২৬৭, ২৬৮, ২৭১, ২৭৪, ২৭৫, ২৭৮, ২৭৯, ২৮১, ২৮২, ২৮৩, ২৮৪, ২৮৭, ২৮৮, ২৯৩, ২৯৪, ২৯৭, ৩০৩, ৩০৪, ৩০৫, ৩০৭, ৩০৯, ৩১১, ৩১২, ৩১৪, ৩১৬, ৩১৭, ৩১৮, ৩২২, ৩২৪, ৩২৬, ৩২৯, ৩৩২, ৩৩৪, ৩৩৬, ৩৪৫, ৩৪৮, ৩৫২, ৩৬২, ৩৬৫, ৩৬৭, ৩৬৯, ৩৭২, ৩৭৩, ৩৭৫, ৩৭৭, ৩৮২, ৩৮৫, ৩৮৯, ৩৯১, ৩৯২, ৩৯৫, ৩৯৮, ৪০১, ৪০৯।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৯)
كان هذا وأمثاله هو الدافع الوحيد الذي جعلنا نعيد تحقيق الكتاب عَلَى أحسن الطرق العصرية في تحقيق النص وضبطه مزداناً بالشكل التام للكلمات مع التخريج الوافر والتعليق النافع مع تتبع من عقَّب ونكَّت على ابن الصلاح، بالإضافة إلى تحلية الكتاب بالفهارس المتنوعة المتقنة.

وقد رأينا أن نقدَّم لهذا الكتاب بدراسة متوسطة دالة على سيرة ابن الصلاح ومنهجه في هذا الكتاب، وقد جعلناها في أربعة فصول:

تكلمنا في الفصل الأول عن سيرته، وتناولنا في الفصل الثاني ثقافته، وذكرنا في الفصل الثالث دراسة وافية عن الكتاب، وختمناه بالفصل الرابع الذي تكلمنا فيه عن تحقيق الكتاب والمنهج الذي سرنا عليه.

وبعد:

فهذا كتاب " معرفة أنواع علم الحديث " لابن الصلاح، نقدمه لمحبي المصطفى صلى الله عليه وسلم السائرين على هديه الراجين شفاعته يوم القيامة، قد خدمناه الخدمة التي توازي تعلقنا بسيدنا المصطفى صلى الله عليه وسلم، بذلنا فيه ما وسعنا من جهد ومال ووقت، ولم نبخل عليه

بشيء، وكان الوقت الذي قضّيناه فيه كله مباركاً.

وآخِر دعوانا أن الحمد لله ربِّ العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين

 

المحققان

1/ 9 / 2001
এটি এবং এর সমরূপ বিষয়গুলোই ছিল আমাদের জন্য একমাত্র প্রেরণা, যা আমাদের এই কিতাবটিকে আধুনিক সর্বোত্তম পদ্ধতিতে পুনরায় সম্পাদনা (تحقيق) এবং পাঠ্য বিন্যস্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যেখানে শব্দের পূর্ণ স্বরচিহ্ন প্রদানের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) ও উপকারী টীকা প্রদান করা হয়েছে এবং ইবনুল সালাহর ওপর যারা পরবর্তীকালে পর্যালোচনা (عقب) ও সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক মন্তব্য (نكت) করেছেন, তাও অনুসরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কিতাবটিকে বিভিন্ন ধরণের সুবিন্যস্ত সূচিপত্র দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে।

আমরা এই কিতাবটির ভূমিকারূপে ইবনুল সালাহর জীবনী এবং এই কিতাবে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) নির্দেশক একটি নাতিদীর্ঘ অধ্যয়ন উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা আমরা চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদে আমরা তাঁর জীবনী সম্পর্কে আলোচনা করেছি, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক পটভূমি নিয়ে আলোচনা করেছি, তৃতীয় পরিচ্ছেদে কিতাবটি সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ আলোচনা উল্লেখ করেছি এবং চতুর্থ পরিচ্ছেদের মাধ্যমে আমরা এটি শেষ করেছি, যেখানে কিতাবটির সম্পাদনা (تحقيق) এবং আমরা যে পদ্ধতির (منهج) ওপর চলেছি সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

অতঃপর:

এটি ইবনুল সালাহ রচিত কিতাব "মা'রিফাতু আনওয়াই ইলমিল হাদিস", যা আমরা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমিকদের সমীপে পেশ করছি, যারা তাঁর হেদায়েতের ওপর চলেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশের প্রত্যাশা করেন। আমরা এর পেছনে এমনভাবে শ্রম দিয়েছি যা সায়্যিদিনা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমাদের ভালোবাসার সমতুল্য। আমরা এতে আমাদের সাধ্যমতো প্রচেষ্টা, অর্থ ও সময় ব্যয় করেছি এবং এর পেছনে কোনো কার্পণ্য করিনি

কোনো কিছুতেই, আর এতে আমরা যে সময় ব্যয় করেছি তার পুরোটাই ছিল বরকতময়।

আমাদের শেষ প্রার্থনা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের সায়্যিদিনা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

সম্পাদকদ্বয়

১/ ৯ / ২০০১
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول: سيرته

‌‌المبحث الأول: اسمه ونسبه وكنيته

هو تقي الدين أبو عمرو عثمان بن صلاح الدين أبي القاسم عبد الرحمان بن عثمان ابن موسى بن أبي نصر النصري الكردي الشرخاني الشهرزوري الأصل، الموصلي النشأة، الدمشقي الموطن والوفاة، الشافعي المذهب (1).

والنَّصْري: بفتح النون وسكون الصاد المهملة وبعدها راء مهملة أيضاً؛ نسبة إلى جدِّه ((أبي نصر)) (2).

والشَّرَخاني: بفتح الشين المعجمة والراء المهملة والخاء المعجمة؛ نسبة إلى

((شرخان)) قرية من قرى شهرزور (3).

والشَّهْرَزُوري: بفتح الشين المعجمة وسكون الهاء وفتح الراء وضم الزاي وسكون الواو وفي آخرها راء مهملة. وهي كورة واسعة بين إربل وهمدان، تنسب إلى بانيها

(زور بن الضحاك) (4).

--------------------------------------------

(1) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243، وسير أعلام النبلاء 23/ 140، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430، والعبر 5/ 177، ومرآة الجنان 4/ 84 - 85، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 326، وطبقات الشافعية للإسنوي 2/ 133، والبداية والنهاية 13/ 142، والنجوم الزاهرة 6/ 354، وطبقات الحفاظ: 499، والدارس 1/ 16، وطبقات المفسرين للداوودي 1/ 377، وطبقات الشافعية لابن هداية الله: 220، وشذرات الذهب 5/ 221، والأعلام 4/ 407.

(2) انظر: اللباب 3/ 311، ووفيات الأعيان 3/ 245.

(3) وفيات الأعيان 3/ 245.

(4) انظر: اللباب 2/ 216، ومعجم البلدان 3/ 375، ومراصد الاطلاع 2/ 822.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনী

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম

তিনি হলেন তকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে সালাহউদ্দীন আবুল কাসিম আবদুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মুসা ইবনে আবু নাসর আন-নাসরি আল-কুর্দি আশ-শারখানি। তিনি মূলত শাহরাজুরি বংশোদ্ভূত, মসুলে বেড়ে উঠেছেন এবং দামেস্কে বসবাস করেছেন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন (১)।

‘আন-নাসরি’: 'নুন' বর্ণে ফাতহ (যবর) এবং বিন্দুহীন 'সদ' বর্ণে সুকুন (যযম) সহকারে, এরপর একটি বিন্দুহীন 'রা' বর্ণ রয়েছে; এটি তাঁর দাদা ‘আবু নাসর’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (২)।

‘আশ-শারখানি’: বিন্দুযুক্ত ‘শিন’ বর্ণে ফাতহ, বিন্দুহীন ‘রা’ বর্ণে ফাতহ এবং বিন্দুযুক্ত ‘খা’ বর্ণে ফাতহ সহকারে; এটি শাহরাজুরের অন্তর্ভুক্ত ‘শারখান’ নামক একটি গ্রামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (৩)।

‘আশ-শাহরাজুরি’: বিন্দুযুক্ত ‘শিন’ বর্ণে ফাতহ, ‘হা’ বর্ণে সুকুন, বিন্দুহীন ‘রা’ বর্ণে ফাতহ, ‘যা’ বর্ণে দম্মাহ (পেশ) এবং ‘ওয়াও’ বর্ণে সুকুন সহকারে, যার শেষে একটি বিন্দুহীন ‘রা’ বর্ণ রয়েছে। এটি ইরবিল ও হামাদানের মধ্যবর্তী একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যা এর নির্মাতা (যুর বিন দাহহাক)-এর নামে নামাঙ্কিত (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩; সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০; তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০; আল-ইবার ৫/১৭৭; মিরাতুল জানান ৪/৮৪-৮৫; তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাতিল কুবরা ৮/৩২৬; ইসনাবি রচিত তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যা ২/১৩৩; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৪২; আন-নুজুমুয যাহিরা ৬/৩৫৪; তাবাকাতুল হুফফাজ: ৪৯৯; আদ-দারিস ১/১৬; দাউদি রচিত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/৩৭৭; ইবনে হিদায়াতুল্লাহ রচিত তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যা: ২২০; শাযারাতুয যাহাব ৫/২২১ এবং আল-আলাম ৪/৪০৭।

(২) দেখুন: আল-লুবাব ৩/৩১১ এবং ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৫।

(৩) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৫।

(৪) দেখুন: আল-লুবাব ২/২১৬; মুজামুল বুলদান ৩/৩৭৫ এবং মারাসিদুল ইত্তিলা ২/৮২২।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثاني: مولده

اتفق كل مَنْ ترجم لابن الصلاح على أن مولده كان سنة (577 هـ) (1)، لا خلاف بينهم في ذلك، وإنما الخلاف كان في مكان ولادته، فالجمهور على أن ولادته كانت في مدينة ((شهرزور)) (2).

وانفرد تلميذه ابن خلّكان (3) بالقول أن مولده كان في ((شرخان))، وعلى الرغم من أن هذا الاختلاف ليس بذي بالٍ في إظهار خلافٍ ما، إلَاّ أن هذا الاختلاف - على تقدير وجوده - لا يلبث أن يزول إذا ما علمنا أن ((شرخان)) قرية تابعة إلى ((شهرزور))، فمَنْ نَسَبَ إلى الأول فقد دقق، ومَنْ نَسَبَ إلى الثاني فقد اكتفى بذكر القطر الأعم، والله أعلم.

 

‌‌المبحث الثالث: أسرته ونشأته وطلبه للعلم

لَمْ توفّر المصادر التي بين أيادينا مادة علمية عن أفراد أسرة مترجمنا، بل قصارى ما عرفناه عنهم: ما كان يتبؤه والده من المكانة الاجتماعية والمركز العلمي المرموق. ولا ضير في أن نتعرض لترجمة مقتضبة لوالده فنقول: لَمْ يكن والده صلاح الدين أبو القاسم عبد الرحمان يعرف تاريخ مولده على وجه الدقة، بل كان يخمن أنه ولد سنة

(539 هـ) (4)، وطلب العلم لاسيما الفقه، وبرع فيه حتَّى ((كان من جلة مشايخ

--------------------------------------------

(1) انظر: وفيات الأعيان 3/ 224، وسير أعلام النبلاء 23/ 140، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430، والعبر 5/ 177، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 326، والنجوم الزاهرة 6/ 354، والدارس 1/ 16، وشذرات الذهب 5/ 221.

(2) انظر: المصادر السابقة.

(3) وفيات الأعيان 3/ 244، وتابعه الزركلي في الأعلام 4/ 207.

(4) انظر: وفيات الأعيان 3/ 244 - 245.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম

ইবনে আস-সালাহ-এর জীবনী (ترجمة) রচয়িতা সকলেই একমত হয়েছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল ৫৭৭ হিজরি সনে (১)। এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে মতভেদ রয়েছে তাঁর জন্মস্থানের ব্যাপারে; অধিকাংশ (جمهور) ঐতিহাসিকের মতে তাঁর জন্ম হয়েছিল "শাহরাজুর" (২) শহরে।

তাঁর ছাত্র ইবনে খাল্লিকান (৩) এককভাবে (انفرد) উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল "শারখান" নামক স্থানে। যদিও এই মতভেদটি বিশেষ কোনো বিরোধ প্রকাশের ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ববহ নয়, তবুও এই মতভেদ—তার অস্তিত্বের ধরুন—থাকলেও তা শীঘ্রই দূরীভূত হয়ে যায় যখন আমরা জানতে পারি যে, "শারখান" হলো "শাহরাজুর"-এরই অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম। সুতরাং, যিনি প্রথমটির (গ্রামের) দিকে সম্বন্ধ করেছেন তিনি সূক্ষ্মতা বজায় রেখেছেন, আর যিনি দ্বিতীয়টির (শহরের) দিকে সম্বন্ধ করেছেন তিনি কেবল বৃহত্তর অঞ্চলের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর পরিবার, বেড়ে ওঠা এবং ইলম অন্বেষণ

আমাদের হাতে থাকা উৎসসমূহ আমাদের আলোচিত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক তথ্য সরবরাহ করে না। বরং তাঁদের সম্পর্কে আমরা বড়জোর যা জানতে পেরেছি তা হলো: তাঁর পিতা যে সামাজিক মর্যাদা ও উচ্চতর ইলমি মাকামের অধিকারী ছিলেন। তাঁর পিতার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করায় কোনো অসুবিধা নেই, আমরা বলছি: তাঁর পিতা সালাহুদ্দীন আবুল কাসিম আবদুর রহমান তাঁর সঠিক জন্ম তারিখ জানতেন না। বরং তিনি ধারণা করতেন যে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন

(৫৩৯ হিজরি) সনে (৪)। তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন, বিশেষ করে ফিকহ (فقه), এবং এতে তিনি এমন পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন যে "তিনি বিশিষ্ট মাশায়েখ (مشايخ) সমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২২৪, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০, আল-ইবার ৫/১৭৭, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/৩২৬, আন-নুজুমুয যাহিরা ৬/৩৫৪, আদ-দারিস ১/১৬, শাযারাতুয যাহাব ৫/২২১।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।

(৩) ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪, এবং যারকালি 'আল-আলাম' ৪/২০৭ গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ (تابعة) করেছেন।

(৪) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪ - ২৪৫।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الأكراد المشار إليهم)) (1)، ومن ثَمَّ تقلبت به صروف الدهر ما بين موطنه والموصل، حتَّى استقر به الأمر في حلب (2)، فتولَّى هناك التدريس في المدرسة الأسدية (3)، حَتَّى تُوفِّي بحلب في ذي القعدة سنة (618هـ) (4).

ولقد رعى الوالد ولده وأحسن تربيته، فلقَّن ابنه - الذي ظهرت عليه مخايل النباهة وعلوُّ الهمة وعظيم النشاط - الفقه، ومما يدل على ذلك ما روي عنه أنه أعاد قراءة كتاب " المهذب " على والده أكثر من مرة ولم يختط شاربه بعد (5).

والذي يبدو لنا: أن الوالد لما أحسَّ بنهم ولده للعلم، اكتفى بأن أعطاه مبادئ العلوم الأولية، ومن ثم ترك لولده مهمة اختيار طبيعة دروسه، فلم يهمل الولد تنويع مصادر معرفته، فطلب على مشايخ بلده الذين كان غالبهم من الأكراد (6).

وبعد أن أدرك أبو القاسم أن تطلّعات ولده تسمو به عن أن يفي بها معلمو قريته الصغيرة، فسافر به إلى مدينة الموصل (7) - إحدى أكبر حواضر الإسلام - ولم يطل المقام به كثيراً فيها (8)، فما هو إلَاّ أن اشتدَّ عوده وقوي على تحمّل أعباء الحياة، حَتَّى يمَّم وجهه صوب قبلة العلم وجوهرة الشرق دار السلام "بغداد" (9)، التي كانت آنذاك تعجّ بمظاهر العِلْم، وصنوف أرباب المعرفة وطلابهم، فوردها تقي الدين وسمع بها من جملة من

--------------------------------------------

(1) وفيات الأعيان 3/ 243.

(2) انظر: تاريخ الإسلام وفيات (618 هـ) ص: 364، الترجمة (532).

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 22/ 148. وهذه المدرسة منسوبة إلى بانيها أسد الدين شيركوه بن شاذي. ولم يبقَ منها اليوم سوى قبلتها وقبة، وقد رمّمت فيها سنة (1316هـ) ثماني حجرات. انظر: وفيات الأعيان 3/ 243، وخطط الشام 6/ 104.

(4) انظر: تاريخ الإسلام وفيات (618 هـ)، وسير أعلام النبلاء 22/ 148.

(5) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243.

(6) انظر: مقدمتنا لشرح التبصرة والتذكرة 1/ 11.

(7) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140.

(8) انظر: تذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(9) انظر: الدارس 1/ 16، وتاريخ علماء بغداد: 140.
উল্লিখিত কুর্দিগণ)) (১), অতঃপর তাঁর জন্মভূমি ও মোসেলের মধ্যবর্তী স্থানে সময়ের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি অতিবাহিত করেন, পরিশেষে তিনি আলেপ্পোতে স্থিতু হন (২)। সেখানে তিনি মাদরাসা আসাদিয়ায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন (৩), এমনকি ৬১৮ হিজরীর যিলকদ মাসে আলেপ্পোতে তাঁর মৃত্যু হয় (৪)।

পিতা তাঁর সন্তানকে দেখাশোনা করেন এবং তাঁর উত্তম প্রতিপালন নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর পুত্রকে—যার মধ্যে প্রখর মেধা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং প্রবল কর্মতৎপরতার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেয়েছিল—ফিকহ শিক্ষা দেন। এর প্রমাণস্বরূপ তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি তাঁর পিতার কাছে ‘আল-মুহাযযাব’ কিতাবটি একাধিকবার পাঠ সম্পন্ন করেছিলেন, অথচ তখন পর্যন্ত তাঁর গোঁফ গজায়নি (৫)।

আমাদের কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো: পিতা যখন ইলমের প্রতি তাঁর সন্তানের প্রবল আগ্রহ অনুভব করলেন, তখন তিনি তাঁকে কেবল প্রাথমিক জ্ঞানের মূলনীতিগুলো শিখিয়েই ক্ষান্ত হলেন। এরপর তিনি তাঁর সন্তানের ওপরই পাঠের বিষয়বস্তু নির্বাচনের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। ফলে পুত্র তাঁর জ্ঞানের উৎসসমূহ বৈচিত্র্যময় করতে অবহেলা করেননি এবং তিনি নিজ অঞ্চলের শায়খদের কাছে জ্ঞান অন্বেষণ করেন, যাঁদের অধিকাংশ ছিলেন কুর্দি (৬)।

যখন আবু আল-কাসিম উপলব্ধি করলেন যে, তাঁর সন্তানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁর ছোট গ্রামের শিক্ষকদের সামর্থ্যের চেয়েও অনেক উচ্চে, তখন তিনি তাঁকে নিয়ে মোসেল (৭) শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন—যা ছিল ইসলামের অন্যতম প্রধান মহানগরী। সেখানে তিনি দীর্ঘকাল অবস্থান করেননি (৮)। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সুঠাম ও পরিপক্ব হয়ে ওঠেন এবং জীবনের প্রতিকূলতা ও দায়িত্বভার বহনে সক্ষম হন। এরপর তিনি ইলমের কিবলা ও প্রাচ্যের রত্ন ‘দারুস সালাম’ বাগদাদের (৯) দিকে যাত্রা করেন, যা তৎকালীন সময়ে ইলমের নানাবিধ চর্চা এবং বিভিন্ন স্তরের জ্ঞানতপস্বী ও শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। তকিউদ্দীন সেখানে পৌঁছান এবং একদল আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেন...

--------------------------------------------

(১) ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩।

(২) দেখুন: তারিখুল ইসলাম, ওফাত (৬১৮ হি.) পৃষ্ঠা: ৩৬৪, জীবনী (৫৩২)।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১৪৮। এই মাদরাসাটি এর প্রতিষ্ঠাতা আসাদউদ্দীন শিরকুহ ইবনে শাযির নামে পরিচিত। বর্তমানে এর কিবলা ও একটি গম্বুজ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ১৩১৬ হিজরীতে এর আটটি কক্ষ সংস্কার করা হয়েছিল। দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩ এবং খুতাতুশ শাম ৬/১০৪।

(৪) দেখুন: তারিখুল ইসলাম, ওফাত (৬১৮ হি.), এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১৪৮।

(৫) দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩।

(৬) দেখুন: শারহুত তাবসিরা ওয়াত তাযকিরা-র জন্য আমাদের মুকাদ্দিমা ১/১১।

(৭) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০।

(৮) দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফায ৪/১৪৩০।

(৯) দেখুন: আদ-দারিস ১/১৬ এবং তারিখু উলামাই বাগদাদ: ১৪০।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
المشايخ (1)، ثُمَّ بعد أن أحسَّ أن الرحلة سنة من يطلب هذا الشأن (الحديث)، شدَّ رحاله إلى بلاد العجم، ولزم فيها الإمام الرافعي (2) وبه تفقه وبرع في مذهب الشافعي (3).

ثُمَّ أجاب أبو عمرو داعي العلم في خراسان حيث الأسانيد العالية التي يرغب فيها أهل الحديث، فدخل نيسابور، ومرو، وهمذان، إلَاّ أن أبرز مَنْ لَقِيَ من المشايخ هناك: الإمام أبا الْمُظَفَّر السمعاني (4)، وبعد أن سمع وحصّل ((الكثير بالموصل وبغداد ودنيسر (5) ونيسابور ومرو وهمذان ودمشق وحران)) (6)، وتأهّل لأن يكون إماماً يشار إليه بالبنان. عاد أدراجه بعد رحلة طويلة جال فيها أهم مراكز العلم في بلاد المشرق الإسلامي، فدخل دمشق وقد ناهز السادسة والثلاثين من عمره الذي كانت عدد سنواته (ستة وستين عاماً)، وكان ذلك في حوالي سنة (613 هـ) (7).

ثُمَّ قصد القدس فأقام بها (8)، ودرَّس في المدرسة الصلاحية وتسمى الناصرية أيضاً (9)، ثُمَّ لما أمر الملك المعظم بهدم سور القدس (10)، نزح إلى دمشق مستقرّاً بها (11)، وذلك في حدود سنة (630 هـ) (12).

ولا نُغْفِل أن أبا عمرٍو سافر إلى الحرمين حاجّاً، - قَبْلَ استقراره في دمشق وبعدها - وهو لَمْ يعدم في سفرته هذه علماً يضيفه إلى مخزون علمه (13).

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(2) ستأتي ترجمته في مبحث: شيوخه.

(3) انظر: طبقات الشافعية لابن هداية الله: 221.

(4) ستأتي ترجمته في مبحث: شيوخه.

(5) بضم أوله: بلدة عظيمة مشهورة من نواحي الجزيرة، وتدعى: قوج حصار. معجم البلدان 2/ 478.

(6) طبقات الشافعية للإسنوي: 2/ 113.

(7) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 142.

(8) انظر: الأنس الجليل 2/ 104.

(9) انظر: مرآة الجنان 4/ 85، والبداية والنهاية 13/ 142.

(10) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(11) انظر: شذرات الذهب 5/ 221.

(12) انظر: طبقات الشافعية للإسنوي 2/ 133.

(13) انظر: مقدمتنا لشرح التبصرة والتذكرة 1/ 12.
শায়খগণ (১), এরপর যখন তিনি অনুভব করলেন যে, সফর করা এই বিষয়ের (হাদিস) অন্বেষণকারীদের একটি রীতি, তখন তিনি অনারব দেশসমূহে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং সেখানে ইমাম রাফেয়ির (২) সান্নিধ্যে অবস্থান করলেন। তাঁর নিকট তিনি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং শাফেয়ি মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করেন (৩)।

এরপর আবু আমর খোরাসানে ইলমের আহ্বানে সাড়া দিলেন যেখানে সেই উচ্চমানের সনদ (الأسانيد العالية) বিদ্যমান ছিল যা হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) আকাঙ্ক্ষা করেন। ফলে তিনি নিশাপুর, মার্ভ ও হামাদানে প্রবেশ করলেন। তবে সেখানে তিনি যেসব শায়খদের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: ইমাম আবুল মুজাফফর আস-সামআনী (৪)। এবং মসুল, বাগদাদ, দুনাইসার (৫), নিশাপুর, মার্ভ, হামাদান, দামেস্ক ও হাররানে "প্রচুর ইলম শ্রবণ ও অর্জন" করার পর (৬), তিনি একজন ইমাম হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন যাঁর দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হতো (অর্থাৎ অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করলেন)। ইসলামি প্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইলমি মারকাযগুলোতে দীর্ঘ ভ্রমণের পর তিনি ফিরে আসলেন। দামেস্কে যখন তিনি প্রবেশ করেন তখন তাঁর বয়স ৩৬ বছরের কাছাকাছি ছিল, আর তাঁর মোট আয়ুষ্কাল ছিল (৬৬ বছর)। এটি ছিল আনুমানিক (৬১৩ হিজরি) সনের ঘটনা (৭)।

অতঃপর তিনি কুদস অভিমুখে যাত্রা করে সেখানে অবস্থান করেন (৮), এবং মাদরাসায়ে সালাহিয়াতে পাঠদান করেন যা নাসেরিয়া নামেও পরিচিত (৯)। পরবর্তীতে যখন আল-মালিকুল মুয়াযযাম কুদসের প্রাচীর ধ্বংস করার নির্দেশ দেন (১০), তখন তিনি দামেস্কে চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ী হন (১১)। এটি ছিল আনুমানিক (৬৩০ হিজরি) সনের দিকে (১২)।

আমরা এ বিষয়টিও উপেক্ষা করতে পারি না যে, আবু আমর হজের উদ্দেশ্যে হারাইমাইন সফর করেছিলেন - দামেস্কে স্থায়ী হওয়ার আগে এবং পরে - এবং এই সফরেও তিনি তাঁর অর্জিত ইলমের ভাণ্ডারে নতুন জ্ঞান যোগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন (১৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪১।

(২) তাঁর জীবনী "তাঁর শায়খগণ" পরিচ্ছেদে সামনে আসবে।

(৩) দেখুন: ইবনে হিদায়াতুল্লাহর তাবাকাতুশ শাফেয়িয়া: ২২১।

(৪) তাঁর জীবনী "তাঁর শায়খগণ" পরিচ্ছেদে সামনে আসবে।

(৫) প্রথম অক্ষরে পেশ যোগে: এটি জাযিরা অঞ্চলের একটি সুপ্রসিদ্ধ বড় শহর, একে কুজ হিসার বলা হয়। মুজামুল বুলদান ২/ ৪৭৮।

(৬) এসনোভির তাবাকাতুশ শাফেয়িয়া: ২/ ১১৩।

(৭) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪২।

(৮) দেখুন: আল-উনসুল জলিল ২/ ১০৪।

(৯) দেখুন: মিরাত আল-জিনান ৪/ ৮৫, এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/ ১৪২।

(১০) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪১।

(১১) দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৫/ ২২১।

(১২) দেখুন: এসনোভির তাবাকাতুশ শাফেয়িয়া ২/ ১৩৩।

(১৩) দেখুন: শারহুত তাবসিরা ওয়াত তাযকিরার আমাদের ভূমিকা ১/ ১২।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الرابع: وفاته

بعد ستة وستين من الأعوام، جاءت سكرة الموت بالحق، فاختار الله تعالى ابن الصلاح إلى جواره الكريم، ففاضت روحه في صباح (1) يوم الأربعاء الخامس والعشرين من شهر ربيع الآخر (2).

وقيل: ستة وعشرون (3)، في حين اكتفى بعض المؤرخين بذكر الشهر من غير تعيين يوم منه (4).

وعلى كل التقديرات فإنهم متّفقون على أن وفاته كانت سنة (643 هـ) (5)، وكثر التأسف عليه وحمل نعشه على رؤوس الناس، وازدحم على سريره الخلق، وكان على جنازته هيبة وخشوع، فَصُلِّي عليه بجامع دمشق بعد الظهر، وشُيِّع إلى داخل باب الفرج وصُلِّي عليه هناك ثانية، ولم يقدر الناس على الخروج لدفنه؛ لأن دمشق كانت محاصرة من الخوارزمية (6)، وَلَمْ يخرج مَعَهُ إلَاّ نحو عشرة أَنْفُس مخاطرين حَتَّى دفنوه في مقابر الصوفية خارج باب النصر (7)، فرحمه الله (8).

--------------------------------------------

(1) وقال الذهبي: ((في السحر)). سير أعلام النبلاء 23/ 143، وقال ابن كثير: ((ليلة الأربعاء)). البداية والنهاية 13/ 142.

(2) انظر: وفيات الأعيان 3/ 244، وتذكرة الحفاظ 4/ 1431، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 327، وطبقات الشافعية للإسنوي 2/ 134، والبداية والنهاية 13/ 142، وطبقات الحفاظ: 503، وطبقات الشافعية لابن هداية الله: 221، وشذرات الذهب 5/ 222.

(3) انظر: الذيل على الروضتين: 175، والعبر 5/ 178، والدارس 1/ 17.

(4) انظر: مرآة الجنان 4/ 85، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 115، والنجوم الزاهرة 6/ 354.

(5) انظر: المصادر السابقة جميعها.

(6) هم أقوام ينسبون إلى ((خوارزم))، وهي سلطنة نشأة في القرون الوسطى، وكان دخولهم إلى الإسلام بواسطة السلاجقة الأتراك، وقد استعان بهم الملك الصالح أيوب صاحب مصر لأخذ دمشق من يد عمِّهِ الملك الصالح إسماعيل. انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 143، ومرآة الجنان 4/ 83 - 84.

(7) قال السبكي: ((قبره على الطريق في طرفها الغربي، ظاهر يزار ويتبرك به)). طبقات الشافعية الكبرى 8/ 328.

قال شعيب الأرناؤوط: ((وقد درست، وقام مكانها عمائر ومستشفى ومسجد)). هامش سير أعلام النبلاء 23/ 143.

(8) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243، وسير أعلام النبلاء 23/ 143، وتذكرة الحفاظ 4/ 1431 والعبر 5/ 178، ومرآة الجنان 4/ 85، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 327، وطبقات الشافعية =

=للإسنوي 2/ 134، والبداية والنهاية 13/ 142، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 115، والنجوم الزاهرة 6/ 354، وطبقات الحفاظ: 503، والدارس 1/ 17، وطبقات المفسرين للداوودي 1/ 377، وطبقات الشافعية لابن هداية الله: 221، وشذرات الذهب 5/ 222، والأعلام 4/ 207.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল

৬৬ বছর পর যখন অবধারিত মৃত্যু উপস্থিত হলো, তখন আল্লাহ তাআলা ইবনুল সালাহকে তাঁর সান্নিধ্যে তুলে নিলেন। ফলে ২৫শে রবিউস সানি (২) বুধবার সকালে (১) তাঁর রূহ দেহত্যাগ করল।

কারো কারো মতে ২৬ তারিখ (৩), আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক নির্দিষ্ট দিন উল্লেখ না করে কেবল মাস উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন (৪)।

সকল হিসাব অনুযায়ী তাঁরা একমত যে তাঁর ইন্তেকাল ৬৪৩ হিজরি (৫) সনে হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুতে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তাঁর কফিন মানুষের মাথায় বহন করা হয়। তাঁর জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল এবং সেখানে এক গাম্ভীর্য ও বিনম্রতা বিরাজ করছিল। যোহরের পর দামেস্ক জামে মসজিদে তাঁর জানাজা আদায় করা হয় এবং ‘বাবুল ফরাজ’-এর ভেতরে নিয়ে গিয়ে সেখানে দ্বিতীয়বার জানাজা পড়া হয়। দামেস্ক শহর খাওয়ারিজমীয়দের (৬) দ্বারা অবরুদ্ধ থাকার কারণে লোকজন দাফনের জন্য বাইরে বের হতে পারছিল না। কেবল প্রায় দশজন লোক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁর সাথে বের হন এবং তাঁরা তাঁকে ‘বাবুন নাসর’-এর বাইরে সুফিয়া গোরস্থানে দাফন করেন (৭)। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন (৮)।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি বলেন: "সেহরির সময়"। সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪৩; ইবনে কাসির বলেন: "বুধবার রাত"। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৪২।

(২) দেখুন: ওফায়াতুল আ'য়ান ৩/২৪৪, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩১, তাবাকাতুশ শাফিইয়াতিল কুবরা ৮/৩২৭, ইজনাবি প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/১৩৪, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৪২, তাবাকাতুল হুফফাজ: ৫০৩, ইবনে হেদায়াতুল্লাহ প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ২২১, শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২।

(৩) দেখুন: আয-যাইলু আলার রওযাতাইন: ১৭৫, আল-ইবার ৫/১৭৮, আদ-দারিস ১/১৭।

(৪) দেখুন: মিরআতুল জিনান ৪/৮৫, ইবনে কাদি শুহবাহ প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/১১৫, আন-নুজুমুয যাহিরাহ ৬/৩৫৪।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত সকল উৎস।

(৬) তারা এমন এক জনগোষ্ঠী যারা ‘খাওয়ারিজম’-এর সাথে সম্পৃক্ত, যা মধ্যযুগে প্রতিষ্ঠিত একটি সালতানাত ছিল। তুর্কি সেলজুকদের মাধ্যমে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। মিশরের অধিপতি আল-মালিকুস সালিহ আইয়ুব তাঁর চাচা আল-মালিকুস সালিহ ইসমাইলের কাছ থেকে দামেস্ক দখল করার জন্য তাদের সাহায্য নিয়েছিলেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪৩, মিরআতুল জিনান ৪/৮৩-৮৪।

(৭) আস-সুবকি বলেন: "তাঁর কবর রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত, যা দৃশ্যমান এবং মানুষ সেখানে জিয়ারত ও বরকত লাভের জন্য যায়"। তাবাকাতুশ শাফিইয়াতিল কুবরা ৮/৩২৮। শুয়াইব আল-আরনাউত বলেন: "বর্তমানে এটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সেখানে দালানকোঠা, হাসপাতাল ও মসজিদ তৈরি হয়েছে"। সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর টীকা ২৩/১৪৩।

(৮) দেখুন: ওফায়াতুল আ'য়ান ৩/২৪৩, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪৩, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩১, আল-ইবার ৫/১৭৮, মিরআতুল জিনান ৪/৮৫, তাবাকাতুশ শাফিইয়াতিল কুবরা ৮/৩২৭, ইজনাবি প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/১৩৪, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৪২, ইবনে কাদি শুহবাহ প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/১১৫, আন-নুজুমুয যাহিরাহ ৬/৩৫৪, তাবাকাতুল হুফফাজ: ৫০৩, আদ-দারিস ১/১৭, আদ-দাউদি প্রণীত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/৩৭৭, ইবনে হেদায়াতুল্লাহ প্রণীত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ: ২২১, শাযারাতুয যাহাব ৫/২২২, আল-আলাম ৪/২০৭।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الفصل الثاني: ثقافته

‌‌المبحث الأول: شيوخه

حرص المترجَم على أن يتلقى العلم من أفواه الرجال على ما جرت به عادة أهل الإسلام، فرحل في سبيل ذلك - كما قدّمنا - إلى كثير من الأقطار، فبعد إقامته بالموصل ((دخل بغداد، وطاف البلاد، وسمع من خلق كثير وجمٍّ غفير ببغداد، وهمذان، ونيسابور، ومرو، وحران، وغير ذلك، ودخل الشام مرتين)) (1).

لذا رأينا أن نذكرهم على حسب بلدانهم التي سمع فيها منهم المترْجَم:

الموصل:

1. عماد الدين أبو حامد مُحَمَّد بن يونس بن منعة الإربلي ثُمَّ الموصلي الفقيه الشافعي، ت (608 هـ) (2).

2. أبو جعفر عبيد الله بن أحمد المشهور بـ: ابن السَّمين (3)، ت (588 هـ) (4)، وهو أقدم شيخ له (5).

3. نصر بن سلامة الهيتي (6).

--------------------------------------------

(1) مرآة الجنان 4/ 85 - 86، وانظر: طبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 113، والدارس 1/ 16.

(2) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430، وترجمته في: الكامل لابن الأثير 12/ 143، والتكملة لوفيات النقلة ترجمة (1198)، ووفيات الأعيان 4/ 253، وسير أعلام النبلاء 21/ 498، وطبقات الشافعية الكبرى 5/ 45، والبداية والنهاية 13/ 62.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 326.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء 21/ 229.

(5) انظر: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 326.

(6) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 326.
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর পাণ্ডিত্য

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ (شيوخ)

যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে (المترجَم), তিনি মুসলিমদের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সরাসরি বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—অনেক দেশ সফর করেছেন। মোসলে (মসুল) অবস্থানের পর তিনি "বাগদাদে প্রবেশ করেন, বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বাগদাদ, হামাদান, নিশাপুর, মার্ভ, হাররান ও অন্যান্য স্থানে অগণিত ও বিশাল সংখ্যক মানুষের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন। এছাড়া তিনি দুইবার সিরিয়ায় (শাম) প্রবেশ করেন।" (১)।

তাই আমরা তাঁর সেই শিক্ষকদের কথা তাঁদের দেশ অনুযায়ী উল্লেখ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাঁদের নিকট থেকে তিনি (হাদিস) শ্রবণ করেছেন:

মোসল (মসুল):

১. ইমাদ উদ্দিন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন ইউনুস বিন মানআ আল-ইরবিলি, পরবর্তীতে আল-মাওসিলি; শাফেয়ি ফকিহ (فقيه), মৃত্যু (৬০৮ হিজরি) (২)।

২. আবু জাফর উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ, যিনি 'ইবনুল সামীন' (৩) নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু (৫৮৮ হিজরি) (৪); তিনি ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠতম শায়খ (شيخ) (৫)।

৩. নাসর বিন সালামাহ আল-হিতি (৬)।

--------------------------------------------

(১) মিরআতুল জিনান ৪/ ৮৫ - ৮৬; আরও দেখুন: ইবনে কাদি শুহবাহ রচিত তবাকাতুশ শাফেয়িয়া ২/ ১১৩ এবং আদ-দারিস ১/ ১৬।

(২) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৩/ ২৪৩, তাদকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১৪৩০; এবং তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনুল আসির রচিত আল-কামিল ১২/ ১৪৩, আত-তাকমিলা লি-ওফায়াতিন নাকলা-র (১১৯৮) নম্বর জীবনী, ওফায়াতুল আইয়ান ৪/ ২৫৩, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/ ৪৯৮, তবাকাতুশ শাফেয়িয়া আল-কুবরা ৫/ ৪৫ এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/ ৬২।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪০ এবং তবাকাতুশ শাফেয়িয়া আল-কুবরা ৮/ ৩২৬।

(৪) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/ ২২৯।

(৫) দেখুন: তবাকাতুশ শাফেয়িয়া আল-কুবরা ৮/ ৩২৬।

(৬) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪০ এবং তবাকাতুশ শাফেয়িয়া আল-কুবরা ৮/ ৩২৬।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
4. محمود بن علي الموصلي (1).

5. عبد المحسن بن الطوسي (2).

6. أبو الْمُظَفَّر بن البرني (3).

بغداد:

7. أبو أحمد ضياء الدين عبد الوهاب بن أبي منصور علي بن عبيد الله بن سكينة البغدادي الصوفي الشافعي (4)، شيخ الشيوخ الإمام العالم الفقيه المحدِّث الثقة المعمر القدوة الكبير شيخ الإسلام مفخرة العراق، ت (607 هـ) (5).

8. أبو حفص عمر بن مُحَمَّد بن مُعَمَّر بن أحمد البغدادي الدارقزي المؤدب المشهور بـ: ابن طَبَرْزَذ (6) الشَّيْخ المسند الكبير الرحلة، ت (607 هـ) (7).

بلاد العجم:

9. أبو القاسم عبد الكريم بن أبي الفضل محمد بن عبد الكريم بن الفضل بن الحسين الرافعي القزويني (8) شيخ الشافعية عالم العجم والعرب إمام الدين، ت (623 هـ) (9).

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 326.

(2) انظر: المصدرين السابقين.

(3) انظر: ما سبق.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(5) ترجمته في: الكامل 12/ 122، والتكملة (1146)، وسير أعلام النبلاء 21/ 502، والبداية والنهاية 13/ 61.

(6) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(7) ترجمته في: الكامل 12/ 122، والتكملة (1158)، ووفيات الأعيان 3/ 452، وسير أعلام النبلاء 21/ 507، والبداية والنهاية 13/ 61، والنجوم الزاهرة 6/ 201، وشذرات الذهب 5/ 26.

(8) انظر: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 283.

(9) ترجمته في: تهذيب الأسماء واللغات 2/ 264، وسير أعلام النبلاء 22/ 252، والعبر 5/ 94، وفوات الوفيات 2/ 7، ومرآة الجنان 4/ 45، والنجوم الزاهرة 6/ 266.
৪. মাহমুদ বিন আলী আল-মাওসিলি (১)।

৫. আব্দুল মুহসিন বিন আত-তুসি (২)।

৬. আবুল মুজাফফর বিন আল-বারনি (৩)।

বাগদাদ:

৭. আবু আহমদ জিয়াউদ্দিন আব্দুল ওয়াহাব বিন আবি মনসুর আলী বিন উবায়দুল্লাহ বিন সাকিনা আল-বাগদাদি আস-সুফি আশ-শাফিঈ (৪), শায়খুশ শুয়ুখ, ইমাম (الإمام), পণ্ডিত (العالم), ফকিহ (الفقيه), হাদিস বিশারদ (المحدِّث), নির্ভরযোগ্য (الثقة), দীর্ঘজীবী (المعمر), বড় আদর্শ ব্যক্তিত্ব, শায়খুল ইসলাম, ইরাকের গৌরব, মৃত্যু (৬০৭ হিজরি) (৫)।

৮. আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন মুয়াম্মার বিন আহমদ আল-বাগদাদি আদ-দারাকাজি আল-মুয়াদ্দিব, যিনি ইবন তাবারজাদ (৬) নামে প্রসিদ্ধ; বড় মুসনিদ (المسند) শায়খ, প্রখ্যাত পর্যটক (الرحلة), মৃত্যু (৬০৭ হিজরি) (৭)।

পারস্য (আজম) দেশসমূহ:

৯. আবুল কাসিম আব্দুল কারিম বিন আবিল ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম বিন আল-ফজল বিন আল-হুসাইন আর-রাফেয়ি আল-কাজউইনি (৮), শাফিঈদের শায়খ, আজম ও আরবের পণ্ডিত (العالم), দ্বীনের ইমাম (الإمام), মৃত্যু (৬২৩ হিজরি) (৯)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০ এবং তাবাকাতুশ শাফিঈয়াতিল কুবরা ৮/৩২৬।

(২) দেখুন: পূর্বোক্ত দুটি উৎস।

(৩) দেখুন: পূর্ববর্তী উদ্ধৃতি।

(৪) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০ এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(৫) তাঁর জীবনী রয়েছে: আল-কামিল ১২/১২২, আত-তাকমিলা (১১৪৬), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৫০২ এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৬১।

(৬) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০ এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(৭) তাঁর জীবনী রয়েছে: আল-কামিল ১২/১২২, আত-তাকমিলা (১১৫৮), ওফায়াতুল আইয়ান ৩/৪৫২, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৫০৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৬১, আন-নুজুমুজ জাহেরা ৬/২০১ এবং শাজারাতুজ জাহাব ৫/২৬।

(৮) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিঈয়াতিল কুবরা ৮/২৮৩।

(৯) তাঁর জীবনী রয়েছে: তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ২/২৬৪, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/২৫২, আল-ইবার ৫/৯৪, ফাওয়াতুল ওফায়াত ২/৭, মিরআতুল জিনান ৪/৪৫ এবং আন-নুজুমুজ জাহেরা ৬/২৬৬।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
مرو:

10. أبو الْمُظَفَّر فخر الدين عبد الرحيم بن الحافظ الكبير أبي سعد عبد الكريم بن محمد ابن منصور السمعاني المروزي الشافعي (1) الشَّيْخ الإمام العلَاّمة المفتي المحدِّث،

ت (617 هـ) أو (618 هـ) (2).

11. محمد بن عمر المسعودي (3).

12. مُحَمَّد بن إسماعيل الموسوي (4).

13. أبو جعفر مُحَمَّد بن مُحَمَّد السنجي (5).

نيسابور:

14. أبو بكر، وأبو الفتح، وأبو القاسم: منصور بن مسند وقته أبي المعالي عبد المنعم ابن المحدِّث أبي البركات عبد الله بن فقيه الحرم أبي عبد الله مُحَمَّد بن الفضل بن أحمد الصاعدي الفراوي ثُمَّ النيسابوري (6). الشَّيْخ الجليل العدل المسند، ت (608 هـ) (7).

15. رضي الدين أبو الحسن المؤيد بن مُحَمَّد بن علي بن حسن الطُّوسي ثُمَّ النيسابوري (8) الشَّيْخ الإمام المقرئ الْمُعَمَّر مسند خراسان، ت (617 هـ) (9).

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430. وانظر: معرفة أنواع علم الحديث: 314 من هذه الطبعة.

(2) انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء 22/ 107، والعبر 5/ 68، وميزان الاعتدال 2/ 606، ولسان الميزان 4/ 6، وشذرات الذهب 5/ 75.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 142، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 326.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 142.

(5) انظر: المصدر السابق.

(6) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140 - 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(7) ترجمته في: التكملة (1202)، وتاريخ الإسلام وفيات (608)، وسير أعلام النبلاء 21/ 494، والنجوم الزاهرة 6/ 204، وشذرات الذهب 5/ 34.

(8) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140 - 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430، وتاريخ الإسلام وفيات (617).

(9) ترجمته في: التكملة (1765)، ووفيات الأعيان 5/ 345، وتاريخ الإسلام وفيات

(617)، وسير أعلام النبلاء 22/ 104 - 105، والنجوم الزاهرة 6/ 251، وشذرات الذهب 5/ 78.
মার্ভ:

১০. আবুল মুজাফফর ফখরুদ্দীন আব্দুর রহীম ইবনুল হাফিজ (الحافظ) আল-কাবীর আবু সা’দ আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ ইবনে মনসুর আস-সামআনি আল-মারওয়াযি আশ-শাফি’ঈ (১) শাইখ, ইমাম, আল্লামা, মুফতি, হাদিস বিশারদ (المحدِّث),

মৃত্যু (৬১৭ হিজরি) অথবা (৬১৮ হিজরি) (২)।

১১. মুহাম্মদ বিন উমর আল-মাসউদী (৩)।

১২. মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-মুসাউয়ী (৪)।

১৩. আবু জাফর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আস-সানজী (৫)।

নিশাপুর:

১৪. আবু বকর, আবুল ফাতাহ এবং আবুল কাসিম: মনসুর বিন নিজ সময়ের মুসনিদ (مسند) আবুল মা’আলী আব্দুল মুন’ইম ইবনুল হাদিস বিশারদ (المحدِّث) আবু বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন ফকিহুল হারাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফজল বিন আহমাদ আস-সা’ঈদী আল-ফারাউয়ী অতঃপর আন-নিশাপুরি (৬)। সুমহান শাইখ, ন্যায়নিষ্ঠ (العدل) মুসনিদ (المسند), মৃত্যু (৬০৮ হিজরি) (৭)।

১৫. রযিউদ্দীন আবুল হাসান আল-মুয়াইয়্যাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাসান আত-তুসি অতঃপর আন-নিশাপুরি (৮) শাইখ, ইমাম, কারী (المقرئ), দীর্ঘজীবী (المعمر) খোরাসানের মুসনিদ (مسند), মৃত্যু (৬১৭ হিজরি) (৯)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১ এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০। এবং দেখুন: মা’রিফাতু আনওয়াই ইলমিল হাদিস: এই সংস্করণের ৩১৪ পৃষ্ঠা।

(২) তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১০৭, আল-ইবার ৫/৬৮, মিযানুল ইতিদাল ২/৬০৬, লিসানুল মিযান ৪/৬ এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৭৫।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪২ এবং তাবাকাতুশ শাফি’ঈয়াহ আল-কুবরা ৮/৩২৬।

(৪) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪২।

(৫) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস।

(৬) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০ - ১৪১ এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(৭) তাঁর জীবনী: আত-তাকমিলা (১২০২), তারিখুল ইসলাম ওফাত (৬০৮), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৪৯৪, আন-নুজুমুয যাহিরা ৬/২০৪ এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৩৪।

(৮) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪০ - ১৪১, তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০ এবং তারিখুল ইসলাম ওফাত (৬১৭)।

(৯) তাঁর জীবনী: আত-তাকমিলা (১৭৬৫), ওফায়াতুল আইয়ান ৫/৩৪৫, তারিখুল ইসলাম ওফাত (৬১৭), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১০৪ - ১০৫, আন-নুজুমুয যাহিরা ৬/২৫১ এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৭৮।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
16. حُرَّة ناز أم المؤيد زينب بنت أبي القاسم عبد الرحمان بن الحسن بن أَحْمَد الجرجانية الأصل النيسابورية الشعرية (1) الشيخة الجليلة مسندة خراسان،

ت (615 هـ) (2).

17. شهاب الدين أبو بكر القاسم بن الشَّيْخ أبي سعد عبد الله بن الفقيه عمر بن أَحْمَد النيسابوري ابن الصفَّار (3) الإمام الفقيه الشافعي المسند الجليل مفتي خراسان،

ت (618 هـ) (4).

18. مُحَمَّد بن الحسن الصرَّام (5).

19. أبو المعالي بن ناصر الأنصاري (6).

20. إسماعيل بن عثمان بن إسماعيل بن أبي القاسم بن أبي بكر (7)، أبو النجيب القارئ النيسابوري، ت (617 هـ) أو (618 هـ) (8).

همذان:

21. أبو الفضل عبد الرحمان بن عبد الوهاب بن أبي زيد الْمُعَزِّم الهمذاني

الفقيه (9)، ت (609 هـ) (10).

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 140، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(2) ترجمتها في: التكملة (1648)، ووفيات الأعيان 2/ 344، وتاريخ الإسلام وفيات

(615)، وسير أعلام النبلاء 22/ 85، والنجوم الزاهرة 6/ 226، وشذرات الذهب 5/ 63.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(4) ترجمته في: التكملة (1860)، وتاريخ الإسلام وفيات (618)، وسير أعلام النبلاء 22/ 109، وطبقات الشافعية الكبرى 5/ 148، والنجوم الزاهرة 6/ 253، وشذرات الذهب 5/ 81 - 82.

(5) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(6) انظر: المصدرين السابقين.

(7) انظر: المصدرين نفسيهما.

(8) ترجمته في تاريخ الإسلام وفيات (617 هـ)، ص: 297 - 298 الترجمة (437).

(9) انظر: تذكرة الحفاظ 4/ 1430، وطبقات المفسرين للداوودي 1/ 377.

(10) ترجمته في: التكملة (1236)، وتاريخ الإسلام وفيات (609 هـ)، وسير أعلام النبلاء 22/ 20، وشذرات الذهب 5/ 37.
১৬. হুররা নাজ উম্মুল মুয়াইয়্যাদ যাইনাব বিনতে আবিল কাসিম আবদুর রহমান বিন আল-হাসান বিন আহমাদ আল-জুরজানি আল-আসল আন-নাইসাবুরি আশ-শা’রিয়াহ (১), মহীয়সী শায়খাহ (شيخة), খুরাসানের হাদিস বর্ণনাকারী (مسندة),

মৃত্যু (৬১৫ হিজরি) (২)।

১৭. শিহাবুদ্দিন আবু বকর আল-কাসিম বিন আশ-শায়খ আবু সা’দ আব্দুল্লাহ বিন আল-ফকিহ উমর বিন আহমাদ আন-নাইসাবুরি ইবনুল সাফফার (৩), ইমাম, ফকিহ (فقيه), শাফেয়ি, মহান হাদিস বর্ণনাকারী (مسند), খুরাসানের মুফতি,

মৃত্যু (৬১৮ হিজরি) (৪)।

১৮. মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান আস-সাররাম (৫)।

১৯. আবুল মা’আলি বিন নাসির আল-আনসারি (৬)।

২০. ইসমাইল বিন উসমান বিন ইসমাইল বিন আবিল কাসিম বিন আবি বকর (৭), আবু নাজিব আল-কারি আন-নাইসাবুরি, মৃত্যু (৬১৭ হিজরি) অথবা (৬১৮ হিজরি) (৮)।

হামাদান:

২১. আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আবি যাইদ আল-মুআজ্জিম আল-হামাদানি

ফকিহ (فقيه) (৯), মৃত্যু (৬০৯ হিজরি) (১০)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২৩/১৪০, এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(২) তাঁর জীবনী রয়েছে: আত-তাকমিলাহ (১৬৪৮), ওফায়াতুল আইয়ান ২/৩৪৪, তারিখুল ইসলাম মৃত্যু

(৬১৫), সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২২/৮৫, আন-নজুমুয যাহিরাহ ৬/২২৬, এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৬৩।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২৩/১৪১, এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(৪) তাঁর জীবনী রয়েছে: আত-তাকমিলাহ (১৮৬০), তারিখুল ইসলাম মৃত্যু (৬১৮), সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২২/১০৯, তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৫/১৪৮, আন-নজুমুয যাহিরাহ ৬/২৫৩, এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৮১ - ৮২।

(৫) দেখুন: সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২৩/১৪১, এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(৬) দেখুন: পূর্বোক্ত দুই উৎস।

(৭) দেখুন: উক্ত একই উৎসদ্বয়।

(৮) তাঁর জীবনী রয়েছে তারিখুল ইসলাম মৃত্যু (৬১৭ হিজরি), পৃষ্ঠা: ২৯৭ - ২৯৮, জীবনী নং (৪৩৭)।

(৯) দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০, এবং দাওউদি প্রণীত তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/৩৭৭।

(১০) তাঁর জীবনী রয়েছে: আত-তাকমিলাহ (১২৩৬), তারিখুল ইসলাম মৃত্যু (৬০৯ হিজরি), সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ২২/২০, এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৩৭।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২০)
حران:

22. أبو مُحَمَّد عبد القادر بن عبد الله بن عبد الرحمان الرُّهاوي الحنبلي السفار (1) الإمام الحافظ المحدِّث الرَّحَّال الجوَّال محدِّث الجزيرة، ت (612هـ) (2).

دمشق:

23. فخر الدين أبو منصور عبد الرحمان بن مُحَمَّد بن الحسين بن هبة الله بن عبد الله الدمشقي الشافعي (3) بن عساكر، الشَّيْخ الإمام العالم القدوة المفتي شيخ الشافعية، ت (620 هـ) (4).

24. موفق الدين أبو مُحَمَّد عبد الله بن أحمد بن مُحَمَّد بن قدامة المقدسي الجَمَّاعيلي ثُمَّ الدمشقي الصالحي الحنبلي (5)، الشَّيْخ الإمام القدوة العلَاّمة المجتهد شيخ الإسلام، ت (620 هـ) (6).

25. جمال الدين أبو القاسم عبد الصمد بن مُحَمَّد بن أبي الفضل بن علي الأنصاري الدمشقي الشافعي ابن الحرستاني (7)، الشَّيْخ الإمام العالم المفتي المعمَّر الصالح مسند الشام شيخ الإسلام قاضي القضاة، ت (624 هـ) (8).

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(2) ترجمته في: التكملة (1399)، وتذكرة الحفاظ 4/ 1387، وتاريخ الإسلام وفيات

(612 هـ)، وسير أعلام النبلاء 22/ 71، والبداية والنهاية 13/ 69، وذيل طبقات الحنابلة … 2/ 82 - 86، وشذرات الذهب 5/ 50 - 51.

(3) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(4) ترجمته في: الكامل 12/ 172، والتكملة لوفيات النقلة (1935)، ووفيات الأعيان 3/ 135، وتاريخ الإسلام وفيات (620 هـ)، وسير أعلام النبلاء 22/ 187، وطبقات الشافعية الكبرى 5/ 66، والبداية والنهاية 13/ 101.

(5) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(6) ترجمته في: معجم البلدان 2/ 113، والتكملة (1944)، وتاريخ الإسلام وفيات

(620)، وسير أعلام النبلاء 22/ 165، والبداية والنهاية 13/ 99، وذيل طبقات الحنابلة 2/ 133، وشذرات الذهب 5/ 88.

(7) انظر: تذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(8) ترجمته في: معجم البلدان 2/ 241، والتكملة (1568)، وتاريخ الإسلام وفيات

(624)، وسير أعلام النبلاء 22/ 80، والبداية والنهاية 13/ 78، والنجوم الزاهرة 6/ 220، وشذرات الذهب 5/ 60.
হাররান:

২২. আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আর-রুহাবি আল-হানবালি আস-সাফফার (১), ইমাম (إمام), হাফিজ (حافظ), মুহাদ্দিস (محدث), দীর্ঘ সফরকারী (رحال), পর্যটক (جوال), জাজিরা অঞ্চলের মুহাদ্দিস (محدث), মৃত্যু: (৬১২ হিজরি) (২)।

দামেস্ক:

২৩. ফখরুদ্দীন আবু মনসুর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি (৩) ইবনে আসাকির; শায়খ (شيخ), ইমাম (إمام), আলেম (عالم), আদর্শ (قدوة), মুফতি (مفتي), শাফিয়ি মাযহাবের প্রধান শায়খ (شيخ الشافعية), মৃত্যু: (৬২০ হিজরি) (৪)।

২৪. মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি আল-জাম্মাইলি অতঃপর আদ-দিমাশকি আস-সালিহি আল-হানবালি (৫); শায়খ (شيخ), ইমাম (إمام), আদর্শ (قدوة), আল্লামা (علامة), মুজতাহিদ (مجتهد), শায়খুল ইসলাম (شيخ الإسلام), মৃত্যু: (৬২০ হিজরি) (৬)।

২৫. জামালুদ্দীন আবু আল-কাসিম আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফাদল বিন আলি আল-আনসারি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি ইবনুল হারাসতানি (৭); শায়খ (شيخ), ইমাম (إمام), আলেম (عالم), মুফতি (مفتي), দীর্ঘজীবী (معمر), সৎকর্মশীল (صالح), শাম অঞ্চলের মুসনিদ, শায়খুল ইসলাম (شيخ الإسلام), প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة), মৃত্যু: (৬২৪ হিজরি) (৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১ এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(২) তার জীবনী দেখুন: আত-তাকমিলা (১৩৯৯), তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৩৮৭, তারিখুল ইসলাম (৬১২ হিজরির মৃত্যু তালিকা), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/৭১, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৩/৬৯, যাইলু তাবাকাতির হানাবিলা ২/৮২-৮৬ এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৫০-৫১।

(৩) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১।

(৪) তার জীবনী দেখুন: আল-কামিল ১২/১৭২, আত-তাকমিলা লি-ওয়াফায়াতিন নাকলাহ (১৯৩৫), ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/১৩৫, তারিখুল ইসলাম (৬২০ হিজরির মৃত্যু তালিকা), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১৮৭, তাবাকাতুশ শাফিয়্যাহ আল-কুবরা ৫/৬৬ এবং আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৩/১০১।

(৫) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১।

(৬) তার জীবনী দেখুন: মুজামুল বুলদান ২/১১৩, আত-তাকমিলা (১৯৪৪), তারিখুল ইসলাম (৬২০ হিজরির মৃত্যু তালিকা), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/১৬৫, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৩/৯৯, যাইলু তাবাকাতির হানাবিলা ২/১৩৩ এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৮৮।

(৭) দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(৮) তার জীবনী দেখুন: মুজামুল বুলদান ২/২৪১, আত-তাকমিলা (১৫৬৮), তারিখুল ইসলাম (৬২৪ হিজরির মৃত্যু তালিকা), সিয়ারু আলামিন নুবালা ২২/৮০, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৩/৭৮, আন-নুজুমুজ যাহেরা ৬/২২০ এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৬০।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২১)
حلب:

26. زين الدين أبو مُحَمَّد عبد الله بن عبد الرحمان بن عبد الله بن علوان الأسدي الشافعي (1) الشهير بـ: ابن الأستاذ، قاضي حلب. ت (635 هـ) (2). وغيرهم أعرضنا عن ذكرهم اختصاراً للمقام.

 

‌‌المبحث الثاني: تلامذته

ما كاد ابن الصلاح يلقي عصا ترحاله مستقراً بالقدس أوَّلاً، ثُمَّ دمشق ثانياً، حَتَّى تقاطر عليه طلبة العلم من كل صوب، يحدوهم أمل أن يفوزوا بالتَّتلمذ على يديه، والاغتراف من معين علمه. وما كان ابن الصلاح ليتمتَّع بهذا الفضل الذي يشهد به العدو قبل الصديق، والفضل ما شهدت به الأعداء - كما يقولون - لولا صفات أهَّلته لأن يكون مَوْئِل الباحثين عن الحقيقة الناشدين عن المعرفة؛ فبات من العسير علينا أن نحصيَ تلامذة إمام بهذا المستوى؛ لذا ارتأينا الاقتصار عَلَى أشهرهم، وهم:

1. شمس الدين أبو العباس أَحْمَد بن مُحَمَّد بن إبراهيم بن أبي بكر بن خلكان البرمكي الإربلي الشَّافِعِيّ (3) قاضي القضاة، ت (681 هـ) صاحب الكِتَاب المَشْهُوْر

" وفيات الأعيان " (4).

2. عبد الرحمان بن نوح بن مُحَمَّد شمس الدين التركماني المقدسي ثُمَّ الدمشقي، أخذ عن ابن الصلاح (5)، وكان أعرف تلاميذه بمذهب الشافعي، مولده سنة (597 هـ)، سمع الكثير من الحديث، ودرَّس بالرواحية، وكان ذا هيبة ووقار وسمت حسن وخشوع، توفي سنة (654 هـ)، وكان قد بلغ الخمسة والثمانين عاماً (6).

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(2) ترجمته في: تاريخ الإسلام وفيات (635 هـ)، ص: 220 - 221، الترجمة (333).

(3) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243.

(4) ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى 2/ 166، والبداية والنهاية 13/ 38، والنجوم الزاهرة 7/ 353.

(5) انظر: تذكرة الحفاظ 4/ 1471.

(6) ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 188، والبداية والنهاية 13/ 195، والدارس 1/ 49، وشذرات الذهب 5/ 265.
হালাব:

২৬. জাইনউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আলওয়ান আল-আসাদি আল-শাফিঈ (১), যিনি ইবনুল উস্তাদ নামে পরিচিত, হালাবের বিচারপতি। মৃত্যু (৬৩৫ হিজরি) (২)। এছাড়া আরও অনেকে রয়েছেন, সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তাঁদের উল্লেখ করা থেকে বিরত রইলাম।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ

ইবনুস সালাহ যখন তাঁর সফরের বিরতি দিয়ে প্রথমে জেরুজালেম এবং পরবর্তীতে দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেন, তখন থেকে তাঁর কাছে চারদিক থেকে ইলম অন্বেষণকারীদের ঢল নামতে শুরু করল। তাঁদের মাঝে এই আশা কাজ করছিল যে, তাঁরা তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণের সৌভাগ্য অর্জন করবেন এবং তাঁর ইলমের প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করবেন। ইবনুস সালাহ এমন এক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন যার সাক্ষ্য বন্ধুর আগে শত্রু প্রদান করত—আর বলা হয়ে থাকে, প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তাই যার সাক্ষ্য শত্রুরাও প্রদান করে—যদি না তাঁর মধ্যে এমন সব গুণাবলি থাকত যা তাঁকে সত্যের অনুসন্ধানী ও জ্ঞানপিপাসুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছিল। এই পর্যায়ের একজন ইমামের ছাত্রসংখ্যার পরিসংখ্যান তৈরি করা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ; তাই আমরা কেবল তাঁদের মধ্য থেকে প্রসিদ্ধতমদের আলোচনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাঁরা হলেন:

১. শামসুদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আবু বকর ইবনে খিল্লিকান আল-বারমাকি আল-ইরবিলি আল-শাফিঈ (৩), প্রধান বিচারপতি, মৃত্যু (৬৮১ হিজরি), প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "ওয়াফায়াতুল আইয়ান" (৪)-এর লেখক।

২. আবদুর রহমান ইবনে নুহ ইবনে মুহাম্মদ শামসুদ্দীন আল-তুর্কমানি আল-মাকদিসি অতঃপর আদ-দিমাশকি; তিনি ইবনুস সালাহ থেকে ইলম অর্জন করেছেন (৫)। তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে শাফিঈ মাজহাব সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর জন্ম ৫৯৭ হিজরিতে। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ (سماع) করেছেন এবং রাওয়াহিয়্যাহ মাদরাসায় অধ্যাপনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, মর্যাদাবান, উত্তম স্বভাব ও বিনয়ী (خشوع) গুণের অধিকারী ছিলেন। তিনি ৬৫৪ হিজরিতে পঁচাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন (৬)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১ এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩০।

(২) তাঁর জীবনী (ترجمة): তারিখুল ইসলাম, ওফাত (৬৩৫ হিজরি), পৃষ্ঠা: ২২০-২২১, জীবনী (ترجمة) নং (৩৩৩)।

(৩) দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩।

(৪) তাঁর জীবনী (ترجمة): তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ২/১৬৬, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৩৮ এবং আন-নুজুমুজ জাহিরা ৭/৩৫৩।

(৫) দেখুন: তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৭১।

(৬) তাঁর জীবনী (ترجمة): তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা ৮/১৮৮, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৯৫, আদ-দারিস ১/৪৯ এবং শাজারাতুজ জাহাব ৫/২৬৫।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২২)
3. كمال الدين أبو الفضائل سلار بن الحسن بن عمر الإربلي، أخذ عن ابن الصلاح (1)، قال النووي: ((هو شيخنا المجمع على إمامته وجلالته وتقدمه في علم المذهب عَلَى أهل عصره، والمرجع إليه في حلِّ مشكلاته)) (2). كان مفتي الشام، وتوفي سنة (670 هـ) عن بضع وستين سنة (3).

4. كمال الدين أبو إبراهيم إسحاق بن أحمد بن عثمان المغربي ثُمَّ المقدسي، أخذ العلم عن الفخر بن عساكر ثُمَّ عن ابن الصلاح (4)، وأعاد بعد ابن الصلاح بالرواحية عشرين سنة، توفي سنة (650 هـ)، ودفن إلى جانب ابن الصلاح (5).

5. أبو الفتح عمر بن بندار بن عمر التفليسي الشافعي القاضي، أخذ عن ابن الصلاح (6)، وسمع الحديث وتفقه في مذهب الشافعي وبرع فيه، ولي قضاء دمشق نيابة، ثُمَّ ترك الشام وتوجه إلى مصر فأدركته المنية هناك سنة (672 هـ) (7).

6. شمس الدين أحمد بن علي بن الزبير بن سليمان القاضي الجيلي الدمشقي الشافعي الشاهد الصوفي، سمع عَلَى ابن الصلاح (8)، توفي سنة (724 هـ) (9).

7. رشيد الدين إسماعيل بن عثمان بن مُحَمَّد بن عبد الكريم الحنفي، المعروف بـ: ابن المعلّم، كَانَ فاضلاً في مذهب الحنفية، سَمِعَ ابن الصَّلَاح (10) قَالَ الذهبي: كَانَ ديِّناً

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141، وتذكرة الحفاظ 4/ 1431.

(2) تهذيب الأسماء واللغات 1/ 18، وانظر: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 149.

(3) ترجمته في: العبر 5/ 293، وطبقات الشافعية الكبرى 8/ 149، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 132، وتهذيب الأسماء واللغات 1/ 18، وشذرات الذهب 5/ 331.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(5) ترجمته في: العبر 5/ 227، وطبقات الشافعية الكبرىللإسنوي 1/ 141 - 142، والبداية والنهاية 13/ 213، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 102.

(6) انظر: شذرات الذهب 5/ 337.

(7) ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 309، والبداية والنهاية 13/ 267، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 2/ 143، وشذرات الذهب 5/ 337.

(8) انظر: الدرر الكامنة 1/ 209.

(9) ترجمته في: الدرر الكامنة 1/ 209، وشذرات الذهب 3/ 63.

(10) انظر: الدرر الكامنة 1/ 469.
৩. কামালুদ্দিন আবুল ফাদায়িল সালার বিন আল-হাসান বিন উমর আল-ইরিবলি, তিনি ইবনুস সালাহ (১) থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আন-নওয়াবী বলেছেন: "তিনি আমাদের এমন শায়খ যার ইমামত (إمامة), মহিমা এবং তার সমসাময়িকদের ওপর মাজহাবী জ্ঞানে শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে এবং মাজহাবের জটিল বিষয়সমূহ সমাধানের ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন মূল আশ্রয়স্থল।" (২) তিনি শামের মুফতি ছিলেন এবং ৬৭০ হিজরি সনে ষাটোর্ধ্ব বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। (৩)

৪. কামালুদ্দিন আবু ইব্রাহিম ইসহাক বিন আহমাদ বিন উসমান আল-মাগরিবী অতঃপর আল-মাকদিসি, তিনি ফখর বিন আসাকির এবং পরবর্তীকালে ইবনুস সালাহ (৪) থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি ইবনুস সালাহর পর রাওয়াহিয়্যাহ মাদরাসায় বিশ বছর পুনরাবৃত্তিকারী বা সহ-শিক্ষক (معيد) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৬৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং ইবনুস সালাহর পাশেই তাকে দাফন করা হয়। (৫)

৫. আবুল ফাতহ উমর বিন বুন্দার bin উমর আত-তিফলিসি আশ-শাফিয়ি আল-কাদি, তিনি ইবনুস সালাহ (৬) থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং শাফিয়ি মাজহাবে ব্যুৎপত্তি অর্জন করে তাতে পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি দামেস্কের নায়েবে কাদি বা উপ-বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর শাম ত্যাগ করে মিশরের দিকে রওনা হন এবং ৬৭২ হিজরি সনে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। (৭)

৬. শামসুদ্দিন আহমাদ বিন আলী বিন আজ-জুবায়ের বিন সুলাইমান আল-কাদি আল-জিলি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি আশ-শাহিদ আস-সুফি, তিনি ইবনুস সালাহ (৮) এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং ৭২৪ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। (৯)

৭. রশিদুদ্দিন ইসমাইল বিন উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আল-হানাফি, যিনি ইবনুল মুয়াল্লিম নামে পরিচিত। তিনি হানাফি মাজহাবের একজন বিজ্ঞ (فاضل) ব্যক্তি ছিলেন এবং ইবনুস সালাহ (১০) থেকে শ্রবণ করেছেন। আয-যাহাবি বলেছেন: তিনি ধার্মিক (دين) ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১ এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৪৩১।

(২) তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/১৮ এবং দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা ৮/১৪৯।

(৩) তার জীবনী দেখুন: আল-ইবার ৫/২৯৩, তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা ৮/১৪৯, তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ লি-ইবনি কাজি শুহবা ২/১৩২, তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/১৮ এবং শাজারাতুজ জাহাব ৫/৩৩১।

(৪) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪১।

(৫) তার জীবনী দেখুন: আল-ইবার ৫/২২৭, তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা লিল-এসনাভি ১/১৪১-১৪২, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/২১৩ এবং তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ লি-ইবনি কাজি শুহবা ২/১০২।

(৬) দেখুন: শাজারাতুজ জাহাব ৫/৩৩৭।

(৭) তার জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাতিল কুবরা ৮/৩০৯, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/২৬৭, তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ লি-ইবনি কাজি শুহবা ২/১৪৩ এবং শাজারাতুজ জাহাব ৫/৩৩৭।

(৮) দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/২০৯।

(৯) তার জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/২০৯ এবং শাজারাতুজ জাহাব ৩/৬৩।

(১০) দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/৪৬৯।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
مقتصداً في لباسه متزهِّداً، غادر دمشق ودخل القاهرة وظل فِيْهَا حَتَّى توفي سنة (714 هـ) (1).

8. زين الدين أبو مُحَمَّد عبد الله بن مروان بن عبد الله بن فيروز الفارقي خطيب دمشق وشيخ دار الحديث، سمع ابن الصلاح (2)، قال الذهبي: ((كان فصيحاً متقناً متحرّياً لديه فضيلة جيدة مع دين وصيانة وقوة في الحق))، توفي سنة (703 هـ) (3).

9. ناصر الدين مُحَمَّد بن يوسف بن مُحَمَّد بن عبد الله المصري الأصل الدمشقي، المشهور بـ: ابن المهتار، سَمِعَ ابن الصَّلَاح (4)، توفي سنة (715 هـ) (5).

10. عماد الدين يَحْيَى بن أَحْمَد بن يوسف بن كامل الحسيني البصروي، سَمِعَ ابن الصَّلَاح (6)، وكان خيّراً متواضعاً سنيّاً شافعيّاً، توفي سنة (705هـ) (7). وغيرهم كثير.

 

‌‌المبحث الثالث: نشره للعلم

مرَّ بنا أن ابن الصلاح استوطن أولاً القدس، ومن ثم نزح إلى دمشق متخذاً مِنْهَا مستقرّاً وموطناً، وكان المترْجَم منذ نعومة أظفاره قد تعوّد الدرس والتدريس، فعندما كان في مقتبل عمره ولا يزال غضّ العود طري البنية، وفي أول سفر له إلى الموصل،

--------------------------------------------

(1) ترجمته في: الدرر الكامنة 1/ 469.

(2) انظر: الدرر الكامنة 2/ 304 - 305.

(3) ترجمته في: طبقات الشافعية الكبرى 10/ 44، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة

2/ 215، والدرر الكامنة 2/ 304 - 305، وشذرات الذهب 3/ 8.

(4) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(5) ترجمته في: الدرر الكامنة 4/ 313.

(6) انظر: الدرر الكامنة 4/ 413.

(7) ترجمته في: المصدر السابق.
তিনি তাঁর পোশাকে মিতব্যয়ী ও দুনিয়াবিমুখ (متزهد) ছিলেন। তিনি দামেস্ক ত্যাগ করে কায়রোতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ৭১৪ হিজরি সনে মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন (১)।

৮. জয়নুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মারওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ফিরোজ আল-ফারিকী; দামেস্কের খতিব এবং দারুল হাদিসের শায়খ। তিনি ইবনে আল-সালাহ-এর নিকট হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন (২)। ইমাম আল-জাহাবী বলেন: “তিনি ছিলেন বাগ্মী, অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য (متقن), সত্যানুসন্ধানী (متحري); তাঁর চমৎকার পাণ্ডিত্য এবং সেই সাথে দ্বীনদারি, আত্মরক্ষা (صيانة) ও সত্যের ওপর অবিচলতা ছিল।” তিনি ৭০৩ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৩)।

৯. নাসিরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মিসরি আল-আসল আদ-দিমাশকি, যিনি ‘ইবনুল মুহতার’ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি ইবনে আল-সালাহ-এর নিকট হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন (৪)। তিনি ৭১৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৫)।

১০. ইমাদুদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে কামিল আল-হুসাইনি আল-বাসরাভি। তিনি ইবনে আল-সালাহ-এর নিকট হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন (৬)। তিনি ছিলেন নেককার, বিনয়ী, সুন্নি ও শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী। তিনি ৭০৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন (৭)। এবং আরও অনেকে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞান প্রচার

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ইবনে আল-সালাহ প্রথমে জেরুজালেমে বসবাস শুরু করেন এবং পরে দামেস্কে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে স্থায়ী বসতি ও আবাসস্থল গড়ে তোলেন। যার জীবনী আলোচনা করা হচ্ছে (المترجم), তিনি শৈশব থেকেই অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় অভ্যস্ত ছিলেন। যখন তিনি তাঁর জীবনের প্রারম্ভে ছিলেন এবং তখনও নবীন ও প্রাণবন্ত ছিলেন, তখন তাঁর প্রথম মসুল সফরে...

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দুরার আল-কামিনাহ ১/ ৪৬৯।

(২) দেখুন: আদ-দুরার আল-কামিনাহ ২/ ৩০৪ - ৩০৫।

(৩) তাঁর জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিঈয়াহ আল-কুবরা ১০/ ৪৪, ইবনে কাদি শুহবার তাবাকাতুশ শাফিঈয়াহ ২/ ২১৫, আদ-দুরার আল-কামিনাহ ২/ ৩০৪ - ৩০৫ এবং শাযারাতুয যাহাব ৩/ ৮।

(৪) দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ২৩/ ১৪১।

(৫) তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/ ৩১৩।

(৬) দেখুন: আদ-দুরার আল-কামিনাহ ৪/ ৪১৩।

(৭) তাঁর জীবনী দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولَاّه شيخه عماد الدين بن يونس الإعادة في درسه (1)، ثُمَّ لما اشتدّ عوده وصلب وبعد أن جمع شتات العلوم وأصبح علماً يشار إليه، أسندت إليه مهمة التدريس في المدارس التي كانت بمثابة جامعات تُخَرِّج علماء في مختلف التخصصات، ومن تلك المدارس التي درَّس فيها أبو عمرو هي:

1. المدرسة الصلاحية (2): وتسمَّى الناصرية أيضاً (3)، تقع في القدس وتنسب إلى بانيها السلطان الملك الناصر صلاح الدين أبو الْمُظَفَّر يوسف بن أيوب ابن شاذي الدويني الكردي الأصل التكريتي المولد (4)، وكان إنشاؤها سنة (583 هـ) للشافعية، وكانت كنيسة فهدمها وبناها مدرسة (5)، وهي الآن كنيسة للنصارى (6).

2. المدرسة الرواحية (7): وتنسب إلى بانيها زكي الدين أبي القاسم هبة الله ابن مُحَمَّد بن رواحة الحموي التاجر المعدَّل، ت (622 هـ) (8)، وابن الصلاح أوَّل مَنْ درَّس فيها (9)، وتقع شرقي مسجد ابن عروة بالجامع الأموي ولصيقه، شمالي جيرون، وغربي الدولعية، وقبلي السيفية الحنبلية (10)، وهي الآن دار (11).

--------------------------------------------

(1) انظر: وفيات الأعيان 3/ 243، وتذكرة الحفاظ 4/ 1430.

(2) انظر: وفيات الأعيان 3/ 244، والدارس 1/ 251.

(3) انظر: البداية والنهاية 12/ 289، وفي المطبوع من شذرات الذهب 5/ 221: ((النظامية))، وهو خطأ طباعي.

(4) انظر: العبر 4/ 270.

(5) انظر: البداية والنهاية 12/ 289.

(6) انظر: خطط الشام 6/ 121.

(7) انظر: طبقات الشافعية للإسنوي 2/ 133، والدارس 1/ 21.

(8) انظر: الدارس 1/ 265، وترجمته في: العبر 5/ 92، وتاريخ الإسلام وفيات (622 هـ) ص: 126، الترجمة (148).

(9) انظر: طبقات الشافعية للإسنوي 2/ 133، والدارس 1/ 21.

(10) انظر: الدارس 1/ 265 - 266.

(11) انظر: خطط الشام 6/ 79.
তাঁর উস্তাদ ইমাদ উদ্দীন ইবন ইউনুস তাঁকে তাঁর পাঠদানে সহকারী শিক্ষক (الإعادة) হিসেবে নিযুক্ত করেন (১)। অতঃপর যখন তিনি পূর্ণতা লাভ করলেন ও পরিপক্ক হলেন এবং জ্ঞানের বিবিধ শাখা আয়ত্ত করার পর এমন এক ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন যাঁর দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয়, তখন তাঁর ওপর সেইসব মাদরাসায় অধ্যাপনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় যা ছিল বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী আলেম তৈরি করার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমতুল্য। আবু আমর যেসব মাদরাসায় অধ্যাপনা করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১. আল-মাদরাসা আল-সালাহিয়্যাহ (২): একে আল-নাসিরিয়্যাহও বলা হয় (৩)। এটি জেরুজালেমে অবস্থিত এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সুলতান আল-মালিক আল-নাসির সালাহউদ্দীন আবু আল-মুজাফফর ইউসুফ ইবন আইয়ুব ইবন শাজি আদ-দাওয়িনি আল-কুর্দি আল-আসলি আল-তিকরিতি আল-মাওলিদ (৪) এর দিকে সম্পৃক্ত। এটি ৫৮৩ হিজরি সালে শাফিঈদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি মূলত একটি গির্জা ছিল, যা তিনি ভেঙে মাদরাসা হিসেবে নির্মাণ করেন (৫)। বর্তমানে এটি খ্রিস্টানদের একটি গির্জা (৬)।

২. আল-মাদরাসা আল-রাওয়াহিয়্যাহ (৭): এটি এর প্রতিষ্ঠাতা জাকি উদ্দীন আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইবন রাওয়াহাহ আল-হামাউয়ি নামক মূল্যায়নকৃত নির্ভরযোগ্য (المعدَّل) ব্যবসায়ীর দিকে সম্পৃক্ত, মৃত্যু (৬২২ হি.) (৮)। ইবন আল-সালাহ প্রথম ব্যক্তি যিনি সেখানে অধ্যাপনা করেন (৯)। এটি উমাইয়া মসজিদের ইবন উরওয়াহ মসজিদের পূর্ব দিকে এবং তার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত; জায়রুন এর উত্তরে, আদ-দাওলাইয়্যাহ এর পশ্চিমে এবং আল-সাইফিয়্যাহ আল-হানবালিয়্যাহ এর দক্ষিণ দিকে (১০)। বর্তমানে এটি একটি বাসভবন (১১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওফায়াতুল আ’ইয়ান ৩/ ২৪৩, এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১৪৩০।

(২) দেখুন: ওফায়াতুল আ’ইয়ান ৩/ ২৪৪, এবং আদ-দারিস ১/ ২৫১।

(৩) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/ ২৮৯, এবং শাজারাতুজ জাহাব-এর মুদ্রিত কপিতে ৫/ ২২১: ((আল-নিজামিয়্যাহ)) রয়েছে, যা একটি মুদ্রণজনিত ভুল।

(৪) দেখুন: আল-ইবার ৪/ ২৭০।

(৫) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/ ২৮৯।

(৬) দেখুন: খুতাতুশ শাম ৬/ ১২১।

(৭) দেখুন: আল-ইসনাবি রচিত তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ২/ ১৩৩, এবং আদ-দারিস ১/ ২১।

(৮) দেখুন: আদ-দারিস ১/ ২৬৫, এবং তাঁর জীবনী: আল-ইবার ৫/ ৯২, এবং তারিখুল ইসলাম, মৃত্যু (৬২২ হি.) পৃষ্ঠা: ১২৬, জীবনী নং (১৪৮)।

(৯) দেখুন: আল-ইসনাবি রচিত তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ ২/ ১৩৩, এবং আদ-দারিস ১/ ২১।

(১০) দেখুন: আদ-দারিস ১/ ২৬৫ - ২৬৬।

(১১) দেখুন: খুতাতুশ শাম ৬/ ৭৯।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
3. دار الحديث الأشرفية (1): تقع بجوار باب القلعة الشرقي غربي المدرسة العصرونية وشمالي المدرسة القايمازية (2)، تنسب إلى بانيها الملك الأشرف مظفر الدين موسى بن الملك العادل بن أيوب، ت (635 هـ)، وافتتحت سنة (630هـ)، بعد أن استغرق بناؤها سنتين، ووقف عليها أوقافاً، وأول من ولي مشيختها أبو عمرو بن الصلاح، وبقي فيها ثلاث عشرة سنة (3)، وهي لا تزال مدرسة حَتَّى اليوم (4).

4. مدرسة ست الشام زمرد خاتون (5): وتسمَّى الشامية الجوَّانية (6) والشامية الصغرى (7)، وتقع قبلي المارستان النوري، تنسب إلى منشئتها ست الشام زمرد خاتون بنت نجم الدين أيوب بن شاذي بن مروان، ت (616هـ) (8)، قال مُحَمَّد كرد علي: ((وقد خربت هذه المدرسة ولم يبقَ فيها سوى بابها وواجهتها الحجرية واتخذت داراً)) (9).

 

‌‌المبحث الرابع: آثاره العلمية

على الرغم من كل الظروف العصيبة والمهمات العديدة التي كانت تقع على عاتق ابن الصلاح؛ فإنه قد ترك لنا ثروة علمية لا يستهان بها، يمكن من خلالها أن نتصور ما كان يتمتع به هذا الإمام من عقلية صلبة وفكر فسيح، خصب الزرع وارق النتاج. ولم يكن لمشاغله المتعددة بَيْنَ تدريس في المدارس الثلاث والإفتاء ومراعاة أحوال الناس عائق

--------------------------------------------

(1) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(2) انظر: الدارس 1/ 19.

(3) انظر: العبر 5/ 178، طبقات الشافعية للإسنوي 2/ 133، والدارس 1/ 21.

(4) انظر: خطط الشام 6/ 72.

(5) انظر: سير أعلام النبلاء 23/ 141.

(6) انظر: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 327، والبداية والنهاية 13/ 168، وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة 1/ 445.

(7) انظر: تذكرة الحفاظ 4/ 1430، وسير أعلام النبلاء 23/ 141، وطبقات المفسرين 1/ 377.

(8) انظر: وفيات الأعيان 3/ 244، والدارس 1/ 301.

(9) خطط الشام 6/ 79.
৩. দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়া (১): এটি দুর্গের পূর্ব তোরণ সংলগ্ন আল-আসরুনিয়া মাদরাসার পশ্চিমে এবং আল-কায়মাজিয়া মাদরাসার (২) উত্তরে অবস্থিত। এটি এর প্রতিষ্ঠাতা মালিকুল আশরাফ মুযাফফারুদ্দিন মুসা ইবনুল মালিকুল আদিল ইবনে আইয়ুবের (মৃত্যু ৬৩৫ হি.) প্রতি সম্বন্ধিত। দুই বছর ব্যাপী নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ৬৩০ হিজরিতে এটি উদ্বোধন করা হয়। তিনি এর জন্য কিছু সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। সর্বপ্রথম যিনি এর মাশায়েখিয়াত (প্রধান শায়খ পদ) লাভ করেন, তিনি হলেন আবু আমর ইবনুল সালাহ এবং তিনি সেখানে তেরো বছর অবস্থান করেন (৩)। এটি আজ অবধি একটি মাদরাসা হিসেবে বিদ্যমান (৪)।

৪. মাদরাসা সিত্তুশ শাম যুমুররুদ খাতুন (৫): একে শামিয়া আল-জাওয়ানিয়া (৬) এবং শামিয়া আস-সুগরা (৭) বলা হয়। এটি মারিস্তান আন-নুরির দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এটি এর প্রতিষ্ঠাত্রী সিত্তুশ শাম যুমুররুদ খাতুন বিনতে নাজমুদ্দিন আইয়ুব ইবনে শাযি ইবনে মারওয়ানের (মৃত্যু ৬১৬ হি.) (৮) প্রতি সম্বন্ধিত। মুহাম্মদ কুরদ আলি বলেছেন: "এই মাদরাসাটি ধ্বংস হয়ে গেছে, বর্তমানে এর প্রবেশদ্বার ও পাথরের সম্মুখভাগ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং এটিকে একটি বাসতবাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে" (৯)।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত নিদর্শনসমূহ

ইবনুল সালাহর ওপর অর্পিত সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং বহুবিধ দায়িত্ব সত্ত্বেও তিনি আমাদের জন্য এক বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন যা উপেক্ষা করার মতো নয়। এর মাধ্যমে এই ইমামের বলিষ্ঠ মানসিকতা এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারার ধারণা করা সম্ভব, যা ছিল অত্যন্ত উর্বর ও ফলপ্রসূ। তিনটি মাদরাসায় অধ্যাপনা, ফতোয়া প্রদান এবং জনগণের অবস্থা তদারকি সংক্রান্ত তাঁর নানাবিধ ব্যস্ততা কোনো বাধা হতে পারেনি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪১।

(২) দেখুন: আদ-দারিস ১/ ১৯।

(৩) দেখুন: আল-ইবার ৫/ ১৭৮, আল-ইসনাবি রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/ ১৩৩ এবং আদ-দারিস ১/ ২১।

(৪) দেখুন: খিতাতুশ শাম ৬/ ৭২।

(৫) দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪১।

(৬) দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/ ৩২৭, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/ ১৬৮ এবং ইবনে কাজি শুহবা রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ১/ ৪৪৫।

(৭) দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১৪৩০, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪১ এবং তাবাকাতুল মুফাসসিরিন ১/ ৩৭৭।

(৮) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৩/ ২৪৪ এবং আদ-দারিস ১/ ৩০১।

(৯) খিতাতুশ শাম ৬/ ৭৯।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৬)
في وجه شلال فكره الهادر، فكانت ثماره عظيمة أغنت المكتبة الإسلامية ببحوث إن لَمْ تكن مستوفية، فإنها كانت ذات جدة وأصالة في أكثر موضوعاتها، ففتحت الباب لمن جاء بعده لتكون تلك الآثار محور تدور في فلكه كثير من المؤلفات.

واستطعنا أن نقف له على ما يربو على العشرين مؤلفاً، هي:

1. أحاديث في فضل الإسكندرية وعسقلان (1).

2. الأحاديث الكلية (2).

3. أدب المفتي والمستفتي (3).

4. الأمالي (4).

5. حديث الرحمة (5).

6. حكم صلاة الرغائب (6).

7. حلية الإمام الشافعي (7).

8. شرح معرفة علوم الحديث، للحاكم النيسابوري (8).

9. شرح الورقات لإمام الحرمين في أصول الفقه (9).

10. صلة الناسك في صفة المناسك (10).

11. صيانة صحيح مسلم من الإخلال والغلط وحمايته من الإسقاط والسقط (11).

--------------------------------------------

(1) توجد منه نسخة خطية في برلين برقم (?????? spr). انظر: الفهرس الشامل للتراث الإسلامي (قسم الحديث) 3/ 1457.

(2) ذكره ابن رجب في جامع العلوم والحكم: 3.

(3) طبع بتحقيق الدكتور: موفق بن عبد الله بن عبد القادر.

(4) منه نسخة في المكتبة الأزهرية برقم [(3749) 9030]. انظر: الفهرس الشامل 1/ 241.

(5) انظر: صلة الخلف بموصول السلف: 398.

(6) انظر: صلة الخلف بموصول السلف: 215.

(7) منه نسخة خطية في الظاهرية (مجموع 59). انظر: الفهرس الشامل 1/ 633.

(8) ملء العيبة 3/ 218.

(9) توجد منه نسخ خطية. انظر: تاريخ الأدب العربي لبروكلمان 6/ 211.

(10) منه نسخة خطية في دار الكتب المصرية برقم (219 م مجاميع). انظر: الفهرس الشامل 2/ 1052.

(11) طبع بتحقيق الدكتور: موفق بن عبد الله بن عبد القادر.
তাঁর প্রখর চিন্তাধারার প্রবল স্রোতধারার সম্মুখে এর ফলসমূহ ছিল মহান, যা ইসলামি পাঠাগারকে এমন সব গবেষণার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছে যেগুলি পূর্ণাঙ্গ না হলেও অধিকাংশ বিষয়েই ছিল অভিনব ও মৌলিক। এটি তাঁর পরবর্তীদের জন্য এক নব দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে, যার ফলে সেই জ্ঞানগর্ভ কর্মসমূহ এমন এক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে যাকে আবর্তন করেই পরবর্তী বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে।

আমরা তাঁর বিশটিরও অধিক রচনার সন্ধান পেতে সক্ষম হয়েছি, সেগুলি হলো:

1. আলেকজান্দ্রিয়া ও আসকালানের শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক হাদিসসমূহ (১)।

2. আল-আহাদিস আল-কুল্লিয়্যাহ (২)।

3. আদাবুল মুফতি ওয়াল মুস্তাফতি (৩)।

4. আল-আমালি (৪)।

5. হাদিসুর রাহমাহ (৫)।

6. হুকুমু সালাতির রাগায়িব (৬)।

7. হিলইয়াতুল ইমাম আশ-শাফিঈ (৭)।

8. হাকিম নিশাপুরি রচিত মারিফাতু উলুমিল হাদিস-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) (৮)।

9. উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে ইমামুল হারামাইনের আল-ওয়ারাখাত-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) (৯)।

10. সিলাতুন নাসিক ফি সিফাতিল মানাসিক (১০)।

11. সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম মিনাল ইখলাল ওয়াল গালাত ওয়া হিমায়াতুহু মিনাল ইসকাত ওয়াস সাকাত (১১)।

--------------------------------------------

(১) বার্লিনে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর (?????? spr)। দেখুন: আল-ফিহরিস আল-শামিল লিত-তুরাছিল ইসলামি (হাদিস বিভাগ) ৩/ ১৪৫৭।

(২) ইবনে রজব একে জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম: ৩-এ উল্লেখ করেছেন।

(৩) এটি ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল কাদিরের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

(৪) আল-আজহার লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর [(৩৭৪৯) ৯০৩০]। দেখুন: আল-ফিহরিস আল-শামিল ১/ ২৪১।

(৫) দেখুন: সিলাতুল খালাফ বি-মাওসুলিস সালাফ: ৩৯৮।

(৬) দেখুন: সিলাতুল খালাফ বি-মাওসুলিস সালাফ: ২১৫।

(৭) জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে (মাজমু' ৫৯)। দেখুন: আল-ফিহরিস আল-শামিল ১/ ৬৩৩।

(৮) মিলউল আইবাহ ৩/ ২১৮।

(৯) এর একাধিক পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। দেখুন: ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাব আল-আরাবি ৬/ ২১১।

(১০) দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর (২১৯ ম মাজামি)। দেখুন: আল-ফিহরিস আল-শামিল ২/ ১০৫২।

(১১) এটি ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল কাদিরের সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
12. طبقات فقهاء الشافعية (1).

13. معرفة أنواع علم الحديث (2).

14. الفتاوى (3).

15. فوائد الرحلة (4).

16. مختصر في أحاديث الأحكام (5).

17. مشكل الوسيط (6).

18. مشكلات البخاري (7).

18. المؤتلف والمختلف في أسماء الرجال (8).

19. النكت على المهذب (9).

20. وصل بلاغات الموطأ (10).

21. وقف دار الحديث الأشرفية (11).

--------------------------------------------

(1) فُقِدَ ولم يبقَ سوى مختصره للنووي.

(2) وهو كتابنا هذا، وسنفصل القول فيه فيما يأتي.

(3) طبع بتحقيق الطبيب: عبد المعطي أمين قلعجي، وكان قد طبع من قبل في إدارة المطبعة المنيرية ضمن مجموعة الرسائل المنيرية.

(4) انظر: طبقات الشافعية الكبرى 8/ 327، والتقييد والإيضاح: 39، والنكت على كتاب ابن الصلاح 2/ 573.

(5) توجد نسخته الخطية في مكتبة راغب باشا برقم (1470 مجاميع). انظر: الفهرس الشامل 3/ 1408.

(6) انظر: وفيات الأعيان 3/ 244، وسير أعلام النبلاء 23/ 142.

(7) منه نسخة خطية فريدة في مكتبة جلبي عبد الله أفندي برقم (76). انظر: الفهرس الشامل 3/ 1486.

(8) توجد منه نسخة في المكتبة الظاهرية برقم (عام 6897). انظر: الفهرس الشامل 3/ 1540.

(9) انظر: طبقات الشافعية للإسنوي 2/ 134، والأنس الجليل 2/ 101.

(10) وهو مطبوع بعناية أبي الفضل عبد الله بن محمد بن الصديق الغماري. وطبع مرة أخرى في آخر توجيه النظر مع تعليقات الشيخ عبد الفتاح أبو غدة - يرحمه الله -.

(11) انظر: البداية والنهاية 13/ 168.
12. শাফেয়ী ফুকাহাদের স্তরসমূহ (১)।

13. হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ পরিচিতি (২)।

14. আল-ফাতাওয়া (৩)।

15. সফরের শিক্ষণীয় বিষয়াবলি (৪)।

16. বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহের সংক্ষিপ্তসার (৫)।

17. আল-ওয়াসিত গ্রন্থের জটিল বিষয়সমূহ (৬)।

18. বুখারির জটিল বিষয়সমূহ (৭)।

18. রাবিদের নামের ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ (المؤتلف والمختلف) বিষয় (৮)।

19. আল-মুহাযযাব গ্রন্থের সূক্ষ্ম টীকা (৯)।

20. মুয়াত্তার সনদবিহীন বর্ণনা (بلاغات) সমূহের সংযোগসূত্র স্থাপন (১০)।

21. দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যার ওয়াকফনামা (১১)।

--------------------------------------------

(১) এটি হারিয়ে গেছে এবং ইমাম নববী কর্তৃক কৃত এর সংক্ষিপ্তসার ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

(২) এটি আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থ, যা নিয়ে আমরা সামনে বিস্তারিত আলোচনা করব।

(৩) এটি গবেষক ডক্টর আবদুল মু’তি আমিন কাল’আজি-র সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। ইতিপূর্বে এটি ইদারাতুল মাতবাআ আল-মুনিরিয়া থেকে ‘মাজমুআতুর রাসায়িল আল-মুনিরিয়া’-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছিল।

(৪) দেখুন: তবকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা ৮/৩২৭, আত-তাকিয়িদ ওয়াল ইজাহ: ৩৯, এবং আন-নুকাত আলা কিতাব ইবনুস সালাহ ২/৫৭৩।

(৫) এর একটি পাণ্ডুলিপি রাগিব পাশা লাইব্রেরিতে (১৪৭০ মাজামিউ) নম্বরে সংরক্ষিত আছে। দেখুন: আল-ফিহরিস আশ-শামিল ৩/১৪০৮।

(৬) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৪ এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪২।

(৭) এর একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি চেলেবি আবদুল্লাহ এফেন্দি লাইব্রেরিতে (৭৬) নম্বরে বিদ্যমান। দেখুন: আল-ফিহরিস আশ-শামিল ৩/১৪৮৬।

(৮) এর একটি অনুলিপি জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে (সাধারণ ৬৮৯৭) নম্বরে বিদ্যমান। দেখুন: আল-ফিহরিস আশ-শামিল ৩/১৫৪০।

(৯) দেখুন: আল-এসনবি রচিত তবকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ২/১৩৪ এবং আল-উনসুল জলিল ২/১০১।

(১০) এটি আবুল ফজল আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সিদ্দিক আল-গুমারি-র তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত। এটি পুনরায় শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.)-এর টীকা সম্বলিত ‘তাওজিহুন নাজার’-এর শেষে মুদ্রিত হয়েছে।

(১১) দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/১৬৮।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الخامس: مكانته العلمية وثناء العلماء عليه

أطنب العلماء في الثناء عَلَى ابن الصلاح ثناءً منقطع النظير، يدل على ما تمتع به هذا الرجل من مكانة في قلوب الناس، وما تبوَّأه من المكانة المرموقة عندهم. ويتضح هذا جليّاً من أقوالهم التي نوردها، ومنها:

1. قول أبي عمرو بن الحاجب: ((إمام ورع، وافر العقل، حسن السمت متبحر في الأصول والفروع، بالغ في الطلب حَتَّى صار يضرب به المثل، وأجهد نفسه في الطاعة والعبادة)) (1).

2. وقول شمس الدين بن خلكان: ((كان أحد فضلاء عصره في التفسير والحديث والفقه وأسماء الرجال، وما يتعلق بعلم الحديث ونقل اللغة، وكانت له مشاركة في فنون عديدة، وكانت فتاويه مسددة)) (2).

3. وثناء صفي الدين المراغي بقوله: ((أحد الأئمة المشهورين، والعلماء العاملين، والحفاظ المذكورين، جمع بَيْنَ علوم متعددة: علم الفقه وعلم أصوله وعلم الحديث وعلم العربية، مع ما أوتي من التحري والإتقان، مضافاً إلى سلوك طريقة السلف، معظماً عند الخاص والعام)) (3).

4. وأطنب الذهبي في مدحه فقال: ((الإمام الحافظ العلاّمة شيخ الإسلام … كان ذا جلالة عجيبة ووقار وهيبة، وفصاحة، وعلم نافع، وكان متين الديانة، سلفي الجُمْلة، صحيح النحلة، كافاً عن الخوض في مزلات الأقدام، مؤمناً بالله وبما جاء عن الله من أسمائه ونعوته، حسن البزة، وافر الحرمة، معظَّماً عند السلطان … وكان مع تبحّره في

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 23/ 142.

(2) وفيات الأعيان 3/ 243.

(3) تاريخ علماء بغداد: 132.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা

আলেমগণ ইবনে আস-সালাহ-এর প্রশংসায় অসামান্য ও অতুলনীয় বাক্য ব্যয় করেছেন, যা মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান এবং তাদের কাছে তাঁর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের প্রমাণ বহন করে। তাঁদের বর্ণিত উক্তিগুলো থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, যার মধ্য হতে কয়েকটি হলো:

১. আবু আমর ইবনুল হাজিব-এর উক্তি: ((একজন পরহেযগার ইমাম, প্রখর বুদ্ধিমান, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, উসুল (الأصول) ও ফুরু (الفروع) শাস্ত্রে পারদর্শী, ইলম অন্বেষণে চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন এমনকি এ বিষয়ে তিনি প্রবাদে পরিণত হন এবং ইবাদত ও আনুগত্যে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন)) (১)।

২. শামসুদ্দিন বিন খাল্লিকান-এর উক্তি: ((তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং আসমাউর রিজাল (أسماء الرجال) শাস্ত্রে এবং হাদিস বিজ্ঞান ও ভাষা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। বিভিন্ন শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক পদচারণা ছিল এবং তাঁর ফতোয়াসমূহ ছিল অত্যন্ত সঠিক ও নির্ভুল)) (২)।

৩. সফিউদ্দিন আল-মারাগী-এর প্রশংসা বাক্য: ((তিনি ছিলেন অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম, আমলকারী আলেম এবং খ্যাতিমান হাফেজ (الحفاظ)। তিনি একাধিক শাস্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন: ফিকহ শাস্ত্র, উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه), হাদিস শাস্ত্র এবং আরবী ভাষা। এর সাথে ছিল তাঁর সূক্ষ্ম বিচার বিশ্লেষণ ও পারদর্শিতা এবং সালফে সালেহীনদের পথ অনুসরণ। তিনি সাধারণ ও বিশেষ—সকল স্তরের মানুষের নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন)) (৩)।

৪. আয-যাহাবী তাঁর প্রশংসায় অনেক কথা বলেছেন, তিনি বলেন: ((ইমাম, হাফেজ (الحافظ), আল্লামা, শাইখুল ইসলাম … তিনি ছিলেন এক বিস্ময়কর মর্যাদা, গাম্ভীর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী। তিনি ছিলেন বাগ্মী এবং উপকারী ইলমের অধিকারী। তিনি ছিলেন দ্বীনদারিতে অবিচল, সামগ্রিকভাবে সালাফী (سلفي) ভাবধারার অনুসারী, বিশুদ্ধ মতাদর্শের অধিকারী এবং পদস্খলন হতে পারে এমন বিষয়ে জড়ানো থেকে বিরত থাকতেন। তিনি আল্লাহ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত তাঁর নাম ও গুণাবলীর প্রতি বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ছিলেন পরিপাটি পোশাকধারী, অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং সুলতানের নিকট বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত … তিনি অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/১৪২।

(২) ওফায়াতুল আইয়ান ৩/২৪৩।

(৩) তারিখু উলামা বাগদাদ: ১৩২।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
الفقه مجوِّداً لما ينقله، قوي المادة من اللغة والعربية، متفنّناً في الحديث، متصوناً مُكِباً على العلم، عديم النظير في زمانه)) (1).

5. ونقل اليافعي عن بعضهم أنه قال فيه: ((كان إماماً بارعاً حجة متبحراً في العلوم الدينية بصيراً بالمذهب وأصوله وفروعه، له يد طولى في العربية والحديث والتفسير، مع عبادة وتهجد وورع ونسك وتعبد، وملازمة للخير على طريقة السلف في الاعتقاد)) (2).

6. وقال السبكي: ((الشَّيْخ العلاّمة تقي الدين أحد أئمة المسلمين علماً وديناً … وتفقه عليه خلائق، وكان إماماً كبيراً فقيهاً محدِّثاً زاهداً ورعا، مفيداً معلماً استوطن دمشق يعيد زمان السالفين ورعا، ويزيد بهجتها بروضة علم جنى كل طالب جناها ورعا، ويفيد أهلها فما مِنْهُم إلَاّ من اغترف من بحره واعترف بدُرِّهِ وحفظ جانب مثله

ورعا)) (3).

7. واختصر الإسنوي وصفه فقال: ((كان إماماً في الفقه والحديث، عارفاً بالتفسير والأصول والنحو، ورعاً زاهداً، ملازماً لطريقة السلف الصالح)) (4).

8. وقال ابن كثير: ((الإمام العلاّمة مفتي الشام ومحدّثها … وكان ديّناً زاهداً ورعاً ناسكاً، على طريقة السلف الصالح، كما هو طريقة متأخري أكثر المحدِّثين مع الفضيلة التامة في فنون كثيرة، ولم يزل على طريقة جيدة حَتَّى كانت وفاته)) (5).

9. وقال ابن قاضي شهبة: ((الإمام العلاّمة مفتي الإسلام … الإمام

البارع)) (6).

10. وقال السيوطي: ((الإمام الحافظ شيخ الإسلام … يضرب به المثل، سلفياً زاهداً حسن الاعتقاد وافر الجلالة)) (7).

--------------------------------------------

(1) سير أعلام النبلاء 23/ 140 - 142.

(2) مرآة الجنان 4/ 85.

(3) طبقات الشافعية الكبرى 8/ 326 - 327.

(4) طبقات الشافعية 2/ 133.

(5) البداية والنهاية 13/ 142.

(6) طبقات الشافعية 2/ 113.

(7) طبقات الحفاظ: 503.
ফিকহ শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন এবং যা বর্ণনা করতেন তাতে পারদর্শী ছিলেন, ভাষা ও আরবি সাহিত্যে শক্তিশালী ভিত্তির অধিকারী ছিলেন, হাদিস শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ ছিলেন, অত্যন্ত সংযমী ও ইলম অর্জনে নিমগ্ন ছিলেন এবং নিজ যুগে তিনি ছিলেন অতুলনীয় (১)।

৫. আল-ইয়াফি অনেকের থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম, প্রামাণ্য দলিল (حجة), দ্বীনি ইলমে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, মাজহাবের মূলনীতি ও আনুষঙ্গিক মাসয়ালাসমূহে বিশেষ প্রজ্ঞাবান। আরবি ভাষা, হাদিস এবং তাফসির শাস্ত্রে তাঁর ব্যাপক পারদর্শিতা ছিল। এর পাশাপাশি তিনি ছিলেন ইবাদতগুজার, তাহাজ্জুদগুজার, মুত্তাকী ও পরহেজগার। তিনি আকিদার ক্ষেত্রে সালাফদের অনুসৃত পদ্ধতিতে কল্যাণের ওপর অবিচল ছিলেন" (২)।

৬. আস-সুবকি বলেছেন: "শাইখ আল্লামা তাকিউদ্দিন ইলম ও দ্বীনদারিতে মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে অন্যতম... বহু লোক তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছে। তিনি ছিলেন একজন মহান ইমাম, ফকিহ, হাদিস বিশারদ (محدث), দুনিয়াবিমুখ ও মুত্তাকী। তিনি একজন উপকারী শিক্ষক হিসেবে দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং তাকওয়ার মাধ্যমে পূর্বসূরিদের স্বর্ণযুগকে ফিরিয়ে আনেন। তিনি ইলমের বাগিচা দিয়ে এর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করেন, যেখান থেকে প্রতিটি জ্ঞানান্বেষী তাকওয়ার ফল সংগ্রহ করেছে। তিনি শহরবাসীকে ইলম দান করেছেন, ফলে তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যে তাঁর (ইলমের) সমুদ্র থেকে উপকৃত হয়নি, তাঁর (জ্ঞানের) মুক্তাকে স্বীকার করেনি এবং তাঁর মতো ব্যক্তির সম্মান ও তাকওয়া রক্ষা করেনি" (৩)।

৭. আল-এজনবি সংক্ষেপে তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি ছিলেন ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের ইমাম, তাফসির, উসুল ও নাহু শাস্ত্রে বিজ্ঞ, অত্যন্ত মুত্তাকী ও দুনিয়াবিমুখ এবং সালাফে সালেহীনদের আদর্শের ওপর অবিচল" (৪)।

৮. ইবনে কাসির বলেছেন: "ইমাম আল্লামা, শামের মুফতি এবং সেখানকার হাদিস বিশারদ (محدث)... তিনি ছিলেন দ্বীনদার, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার ও ইবাদতগুজার, যা সালাফে সালেহীনদের পথ এবং পরবর্তীকালের অধিকাংশ হাদিস বিশারদগণেরও (محدثين) পথ ছিল। সেই সাথে বহু শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ পাণ্ডিত্য ছিল। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই উত্তম আদর্শের ওপর অটল ছিলেন" (৫)।

৯. ইবনে কাজি শুহবা বলেছেন: "ইমাম আল্লামা, ইসলামের মুফতি... সুদক্ষ ইমাম" (৬)।

১০. আস-সুয়ূতী বলেছেন: "ইমাম, হাফেজ (حافظ), শাইখুল ইসলাম... তিনি ছিলেন প্রবাদতুল্য ব্যক্তিত্ব, সালাফি মতাদর্শী, দুনিয়াবিমুখ, বিশুদ্ধ আকিদার অধিকারী এবং অত্যন্ত মর্যাদাবান" (৭)।

--------------------------------------------

(১) সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৩/ ১৪০ - ১৪২।

(২) মিরআতুল জানান ৪/ ৮৫।

(৩) তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৮/ ৩২৬ - ৩২৭।

(৪) তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/ ১৩৩।

(৫) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/ ১৪২।

(৬) তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/ ১১৩।

(৭) তাবাকাতুল হুফফাজ: ৫০৩।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الفصل الثالث: دراسة الكتاب

‌‌المبحث الأول: أهمية الكتاب

لَمْ تعد أهمية كتاب ابن الصلاح أمراً خافياً أو شيئاً غامضاً يحتاج إلى إيضاح وتفصيل، ولنا أن نجزم بأن كتابه هو المحور الذي دارت في فلكه تصانيف كل مَنْ أتى بعده، وأنه واسطةُ عقدِها، ومصدر ما تفرع عنها. ولم يكن لمن بعده سوى إعادة الترتيب في بعض الأحيان، أو التسهيل عن طريق الاختصار أو النظم، أو إيضاح بعض مقاصده التي قد تخفى عَلَى بعض المطالعين عن طريق التنكيت.

وقد رزق الله تَعَالَى كتاب ابن الصلاح القبول بَيْنَ الناس، حَتَّى صار مدرس مَنْ يروم الدخول في هذا الشأن، ولا يتوصّل إليه إلَاّ عن طريقه، فهو الفاتح لما أغلق من معانيه والشارح بما أجمل من مبانيه.

ولم تقتصر قيمة الكتاب العلمية عَلَى جانب تفرده في مصطلح الحديث وبيان مبادئه، وإنما عُدّت من بدايات الكتابات في علمٍ نعتقد أنه ظهر عند الغرب في وقت متأخر، ألَا وهو علم تحقيق النصوص وتوثيق المرويات، ولعلنا لا نبالغ إذا قلنا: إنه لا يزال متفرداً بخصائصه التي تتصل بهذا الموضوع. وما دام تخصصه قد امتدَّ إلى هذا الباب فليس غريباً أن تكون له مباحثات فيما يتصل بعلم التاريخ.

ولعل المؤلف ابن الصلاح عنى ذلك بقوله: ((فحينَ كادَ الباحثُ عنْ مُشْكلِهِ لا يُلْفِي لهُ كاشفاً، والسائلُ عنْ علمِهِ لا يَلْقى بهِ عارفاً، مَنَّ اللهُ الكريمُ تبارك وتعالى عليَّ - ولَهُ الحمدُ - أجمعُ بكتابٍ " معرفةَ أنواعِ علمِ الحديثِ "، هذا الذي باحَ بأسرارهِ الخفيَّةِ، وكشفَ عَنْ مشكلاتِهِ الأبيَّةِ، وأحكمَ معاقدَهُ، وقعَّدَ قواعدَهُ، وأنارَ معالِمَهُ، وبيَّنَ أحكامَهُ، وفصَّلَ أقسامَهُ، وأوضحَ أصولَهُ، وشرحَ فروعَهُ وفصولَهُ، وجمعَ شتاتَ علومِهِ وفوائدَهُ، وقنصَ شواردَ نُكتِهِ وفرائدَهُ)) (1).

--------------------------------------------

(1) انظر: 74 من طبعتنا هذه.
তৃতীয় অধ্যায়: গ্রন্থটি পর্যালোচনা

প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির গুরুত্ব

ইবনে আস-সালাহ-এর গ্রন্থের গুরুত্ব এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয় বা এমন কোনো অস্পষ্ট বিষয় নয় যার জন্য বিশদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, তাঁর গ্রন্থটিই হলো সেই কেন্দ্রবিন্দু যাকে আবর্তন করে তাঁর পরবর্তী সকল লেখকের রচনাবলি আবর্তিত হয়েছে। এটি তাদের গ্রন্থরাজির মধ্যমণি এবং সেগুলোর শাখা-প্রশাখার মূল উৎস। তাঁর পরবর্তী লেখকদের কাজ কখনো কেবল বিন্যাস পুনর্গঠন করা, কখনো সংক্ষেপন বা ছন্দবদ্ধ রূপ (نظم)-এর মাধ্যমে সহজবোধ্য করা, অথবা টিকা বা টীকাটিপ্পনী (تنكيت)-এর মাধ্যমে এমন কিছু উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা যা কোনো কোনো পাঠকের কাছে অস্পষ্ট থেকে থাকতে পারে।

আল্লাহ তাআলা ইবনে আস-সালাহ-এর গ্রন্থটিকে মানুষের মাঝে এমন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন যে, এটি এই শাস্ত্রে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের জন্য পাঠ্যবইয়ে পরিণত হয়েছে; তাঁর এই গ্রন্থের মাধ্যম ছাড়া সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এটিই সেই গ্রন্থ যা এই শাস্ত্রের গূঢ় অর্থসমূহের রুদ্ধ দ্বার উন্মোচনকারী এবং সংক্ষিপ্ত (أجمل) কাঠামোর বিশদ ব্যাখ্যা প্রদানকারী।

গ্রন্থটির জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্য কেবল হাদিস শাস্ত্রীয় পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং এর নীতিমালা বর্ণনার অনন্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি এমন এক বিজ্ঞানের প্রাথমিক রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের বিশ্বাস মতে পাশ্চাত্যে অনেক পরে আবির্ভূত হয়েছে; আর তা হলো পাঠ্য-সম্পাদনা (تحقيق النصوص) এবং বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق المرويات) বিজ্ঞান। আমরা হয়তো অতু্যক্তি করব না যদি বলি যে, এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এটি এখনও অনন্য। যেহেতু তাঁর এই বিশেষত্ব এই ক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই ইতিহাসের বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়েও এতে আলোচনা থাকা আশ্চর্যজনক নয়।

সম্ভবত লেখক ইবনে আস-সালাহ তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: ((যখন অস্পষ্ট (مشكل) বিষয়াবলির অনুসন্ধানকারী তার কোনো রহস্য উন্মোচনকারী পাচ্ছিল না এবং এই ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসু কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তিকে খুঁজে পাচ্ছিল না, তখন মহান দয়াময় আল্লাহ—সকল প্রশংসা তাঁরই—আমাকে 'মারিফাত আনওয়া ইলম আল-হাদিস' নামক গ্রন্থটি সংকলনের তাওফিক দিলেন। এটিই সেই গ্রন্থ যা গোপন রহস্যসমূহ উন্মোচন করেছে, এর কঠিন জটিলতা (مشكلات) প্রকাশ করেছে, এর গ্রন্থিসমূহ মজবুত করেছে, এর মূলনীতিসমূহ (قواعد) নির্ধারণ করেছে, এর নিদর্শনসমূহ আলোকিত করেছে, এর বিধানসমূহ (أحكام) বর্ণনা করেছে, এর শ্রেণীবিভাগসমূহ (أقسام) বিস্তারিত করেছে, এর মূলনীতি (أصول) স্পষ্ট করেছে, এর শাখাসমূহ (فروع) ও পরিচ্ছেদসমূহ ব্যাখ্যা করেছে, এর বিক্ষিপ্ত জ্ঞান ও উপকারিতাগুলো একত্রিত করেছে এবং এর দুর্লভ সূক্ষ্ম তথ্যাদি (نكت) ও অনন্য বিষয়গুলো আয়ত্ত করেছে।)) (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আমাদের এই সংস্করণের ৭৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومما يجلِّي الأمر أكثر ويجعلنا أمام صورة واضحة عن أهمية هذا التصنيف أن ننقل جملة من أقوال العلماء فيه:

1. فقد قال الإمام النووي (ت676هـ): ((هو كتاب كثير الفوائد، عظيم العوائد، قد نبَّه المصنِّف رحمه الله في مواضع من الكتاب وغيره، عَلَى عظم شأنه، وزيادة حسنه وبيانه، وكفى بالمشاهدة دليلاً قاطعاً، وبرهاناً صادعاً)) (1).

2. وقال الخويي (2) (ت 693 هـ) في منظومته (3):

وخير ما صنف فيها واشتهر … كتاب شيخنا الإمام المعتبر

وهو الذي بابن الصلاح يعرف … فليس من مثله مصنف (4)

3. وقال ابن رشيد (ت 721 هـ):

((الذي وقفت عليه وتحصل عندي من تصانيف هذا الإمام الأوحد أبي عمرو ابن الصلاح رحمه الله كتابه البارع في معرفة أنواع علم الحديث وإنّه كلّما كتبت عليه متمثلاً:

لكل أناس جوهر متنافس … وأنت طراز الآنسات الملائح)) (5)

4. وقال ابن جماعة (ت733 هـ):

((واقتفى آثارهم الشَّيْخ الإمام الحافظ تقي الدين أبو عمرو بن الصلاح بكتابه

الذي أوعى فيه الفوائد وجمع، وأتقن في حسن تأليفه ما صنع)) (6).

--------------------------------------------

(1) إرشاد طلاب الحقائق 1/ 108.

(2) نسبة إلى خوي، بلدة من بلاد أذربيجان. انظر: الأنساب 2/ 479، والمراصد 1/ 493.

(3) انظر: مقدمتنا لشرح التبصرة والتذكرة 1/ 21.

(4) نقلا عن مقدمة محاسن الاصطلاح: 33.

(5) ملء العيبة 3/ 211.

(6) المنهل الروي: 26.
বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করতে এবং এই রচনার গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের সামনে একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরতে আমরা এ বিষয়ে আলেমদের একগুচ্ছ উক্তি উদ্ধৃত করছি:

১. ইমাম নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) বলেছেন: ((এটি বহুবিধ ফায়েদা বা উপকারিতা সম্বলিত এক মহান গ্রন্থ। গ্রন্থকার (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এবং অন্যান্য জায়গায় এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং এর সৌন্দর্য ও প্রাঞ্জলতার শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। একে চাক্ষুষ দেখাই এর সপক্ষে অকাট্য দলিল এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।)) (১)।

২. আল-খুয়ি (২) (মৃত্যু ৬৯৩ হি.) তাঁর কাব্যগ্রন্থে (৩) বলেছেন:

এই বিষয়ে যা কিছু রচিত ও প্রসিদ্ধ হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো... আমাদের শায়খ নির্ভরযোগ্য (معتبر) ইমামের কিতাব।

এটি সেটিই যা ইবনুল সালাহ নামে পরিচিত... তাঁর রচনার মতো আর কোনো সংকলন নেই (৪)।

৩. ইবনে রুশাইদ (মৃত্যু ৭২১ হি.) বলেছেন:

((এই অনন্য ইমাম আবু আমর ইবনুল সালাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলির মধ্য থেকে যা আমি দেখেছি এবং যা আমার হস্তগত হয়েছে, তা হলো হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ পরিচিতি বিষয়ক তাঁর অনন্য সাধারণ কিতাব। আমি যখনই এর ওপর কিছু লিখেছি তখন এই কাব্যটি উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছি:

প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট একে অপরের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো মূল্যবান রত্ন থাকে... আর আপনি হলেন রূপবতী সুন্দরীদের অলঙ্কার স্বরূপ)) (৫)।

৪. ইবনে জামাআহ (মৃত্যু ৭৩৩ হি.) বলেছেন:

((তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন শায়খ, ইমাম, হাফেজ (حافظ) তাকিউদ্দীন আবু আমর ইবনুল সালাহ তাঁর সেই কিতাবের মাধ্যমে, যাতে তিনি যাবতীয় ফায়েদা সংকলিত ও পুঞ্জীভূত করেছেন এবং তাঁর এই সুন্দর রচনার শৈল্পিক নৈপুণ্যকে অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পন্ন করেছেন)) (৬)।

--------------------------------------------

(১) ইর্শাদুল তুল্লাবিল হাকায়িক ১/১০৮।

(২) আজারবাইজানের খুয়ি নামক শহরের সাথে সম্পর্কিত। দেখুন: আল-আনসাব ২/৪৭৯, আল-মারাসিদ ১/৪৯৩।

(৩) দেখুন: শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ-র প্রতি আমাদের ভূমিকা ১/২১।

(৪) محاسن الاصطلاح (মাহাসিনুল ইসতিলাহ)-এর ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত: ৩৩।

(৫) মিলউল আইবাহ ৩/২১১।

(৬) আল-মানহালুর রাবী: ২৬।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
5. قال ابن كثير (ت 774 هـ):

((ولما كان الكتاب الذي اعتنى بتهذيبه الشَّيْخ الإمام العلَاّمة أبو عمرو بن الصلاح - تغمَّده الله برحمته - من مشاهير المصنفات في ذلك بَيْنَ الطلبة لهذا الشأن وربَّما عني بحفظه بعض المهرة من الشبَّان، سلكت وراءه واحتذيت حذاءه)) (1).

6. وقال الزركشي (ت 794 هـ):

((وجاء بعدهم الإمام أبو عَمْرو بن الصَّلَاح فجمع مفرّقهم، وحقّق طرقهم، وأجلب بكتابه بدائع العجب، وأتى بالنكت والنخب، حَتَّى استوجب أن يكتب بذوب الذهب)) (2).

7. وقال الأبناسي (ت 802 هـ):

((وأحسن تصنيف فِيْهِ وأبدع، وأكثر فائدة وأنفع: " علوم الْحَدِيْث " للشيخ العلاّمة الحافظ تقي الدين أبي عمرو بن الصلاح فإنّه فتح مغلق كنوزه، وحلّ مشكل رموزه)) (3).

8. وقال ابن الملقن (ت 804 هـ):

((ومن أجمعها: كتاب العلامة الحافظ تقي الدين أبي عمرو بن الصلاح -سقى الله ثراه، وجعل الجنة مأواه - فإنه جامع لعيونها ومستوعب لفنونها)) (4).

9. وقال العراقي (ت 806 هـ):

((أحسن ما صنف أهل الْحَدِيْث في مَعْرِفَة الاصطلاح كتاب " علوم الْحَدِيْث " لابن الصَّلَاح، جمع فِيْهِ غرر الفوائد فأوعى، ودعا لَهُ زمر الشوارد فأجابت طوعاً)) (5).

--------------------------------------------

(1) اختصار علوم الحديث 1/ 95 - 96.

(2) النكت على مقدمة ابن الصلاح 1/ 9 - 10.

(3) الشذا الفياح 1/ 63.

(4) المقنع في علوم الحديث 1/ 39.

(5) التقييد والإيضاح: 11.
5. ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী) বলেন:

((যেহেতু শেখ, ইমাম, আল্লামা আবু আমর ইবনুল সালাহ — আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন — যে গ্রন্থটির পরিমার্জন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন তা এই বিষয়ের ছাত্রদের নিকট সুপ্রসিদ্ধ রচনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং সম্ভবত দক্ষ যুবকদের কেউ কেউ এটি মুখস্থ করার ব্যাপারেও যত্নশীল ছিল, তাই আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি এবং তাঁর পন্থাই অবলম্বন করেছি)) (১)।

6. আল-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরী) বলেন:

((তাঁদের পরে ইমাম আবু আমর ইবনুল সালাহ আগমন করেন এবং তিনি তাঁদের বিক্ষিপ্ত আলোচনাগুলোকে একত্রিত করেন, তাঁদের সূত্রসমূহ (طرق) যাচাই-বাছাই করেন এবং তাঁর কিতাবে বিস্ময়কর চমৎকারিত্ব নিয়ে আসেন ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ ও সারনির্যাস উপস্থাপন করেন, এমনকি কিতাবটি স্বর্ণের নির্যাস দিয়ে লেখার যোগ্য হয়েছে)) (২)।

7. আল-আবনাদী (মৃত্যু ৮০২ হিজরী) বলেন:

((এই বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ, সুনিপুণ, অধিক ফায়দাপূর্ণ ও উপকারী রচনা হলো শেখ, আল্লামা, হাফিজ তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুল সালাহ-এর "উলূমুল হাদিস"; কারণ তিনি এর রুদ্ধ জ্ঞানভাণ্ডার উন্মুক্ত করেছেন এবং এর জটিল রহস্যগুলোর সমাধান করেছেন)) (৩)।

8. ইবনুল মুলাক্কিন (মৃত্যু ৮০৪ হিজরী) বলেন:

((আর এই বিষয়ের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হলো আল্লামা হাফিজ তাকিউদ্দিন আবু আমর ইবনুল সালাহ-এর কিতাব — আল্লাহ তাঁর কবর সিক্ত করুন এবং জান্নাতকে তাঁর আবাস বানান — কেননা এটি এর মূল নির্যাসসমূহকে একত্রিত করেছে এবং এর শাখাসমূহকে (فنون) পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করেছে)) (৪)।

9. আল-ইরাকী (মৃত্যু ৮০৬ হিজরী) বলেন:

((হাদিস বিশারদগণ পরিভাষা (اصطلاح) পরিচিতি বিষয়ে যা কিছু রচনা করেছেন তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো ইবনুল সালাহ-এর "উলূমুল হাদিস" গ্রন্থটি, এতে তিনি শ্রেষ্ঠ ফায়দাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে একত্রিত করেছেন এবং দুর্লভ বিষয়গুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন আর সেগুলোও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে)) (৫)।

--------------------------------------------

(১) ইখতিসার উলূমুল হাদিস ১/৯৫-৯৬।

(২) আন-নুকাত আলা মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ ১/৯-১০।

(৩) আশ-শাযা আল-ফাইয়্যাহ ১/৬৩।

(৪) আল-মুকনি ফি উলূমুল হাদিস ১/৩৯।

(৫) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইদাহ: ১১।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ মা’রিফাতু আনওয়ায়ি উলুমিল হাদিস - ত আল-ফাহল ওয়াল হামিম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
10. وقال ابن حجر (ت 852 هـ):

((فجمع شتات مقاصدها، وضمَّ إليها من غيرها نخب فوائدها، فاجتمع في كتابه ما تفرق في غيره، فلهذا عكف الناس عليه وساروا بسيره، فلا يحصى كم ناظم له ومختصر، ومستدرك عليه ومقتصر، ومعارض له ومنتصر)) (1).

11. وقال السيوطي (ت 911 هـ):

((عكف الناس عليه، واتخذوه أصلاً يرجع إليه)) (2).

وبهذا نكاد أن ننقل إجماع الأئمة، منذ أن رأى كتاب "معرفة أنواع علم الحديث" النور إلى يوم الناس هذا، دليلاً على مكانته، وغزارة علمه وفوائده شاهداً على علوِّ كعبه ونصرة حزبه، فرحم الله مؤلفه وجامعه، وأسبل عليه نعمه وفضائله، إنّه سميع مجيب.

 

‌‌المبحث الثاني: سمات منهج ابن الصلاح

عَلَى الرغم من أن المؤلفين القدامى لا سيَّما المتأخرون الذين يصنفون لا عَلَى الأسانيد منهم لا يفصحون بمناهجهم التأليفية إلَاّ قليلاً، لكن المتتبع لتصرفاتهم في تصانيفهم لا يعدم وصفاً تقريبياً لسمات مناهجهم التأليفية، وابن الصلاح ليس استثناءً من هذه القاعدة التي أوشكت أن تكون عامة.

وقد استطعنا - بحمد الله - أن نحدد بعض الملامح لمنهج ابن الصلاح في تصنيفه هذا وسنعرضها مدعمة بالأمثلة:

1. إتيانه بالتعريفات للأنواع التي هو بصدد توضيحها، واهتمامه بهذا الجانب جداً، ولعل ذلك راجع إلى تأثره بالنَّزعة الأصولية التي تهتم بضبط التعاريف، وأيّاً ما يكون الدافع فقد بدا هذا الأمر واضحاً جلياً في كتابته، إلَاّ أن منهجه في هذا الجانب قد تنوع عَلَى النحو الآتي:

--------------------------------------------

(1) نزهة النظر: 51.

(2) البحر الذي زخر 1/ 235.
১০. এবং ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী) বলেন:

((তিনি এর উদ্দেশ্যগুলোর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং এর সাথে অন্যান্য উৎস থেকে উপাদেয় সারসংক্ষেপ যোগ করেছেন। ফলে তাঁর কিতাবে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা অন্য কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। একারণেই মানুষ এর প্রতি নিবিষ্ট হয়েছে এবং তাঁর পথ অনুসরণ করেছে। কত মানুষ যে একে ছন্দবদ্ধ করেছেন, সংক্ষিপ্ত (مختصر) করেছেন, এর ওপর পরিপূরক (مستدرك) লিখেছেন, বিষয়বস্তু সংকুচিত করেছেন, এর সমালোচনা করেছেন কিংবা এর স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছেন—তার ইয়ত্তা নেই)) (১)।

১১. এবং আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী) বলেন:

((মানুষ এর প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেছে এবং একে এমন একটি মূল (أصل) হিসেবে গ্রহণ করেছে যার দিকে সকলে প্রত্যাবর্তন করে)) (২)।

এর মাধ্যমে আমরা প্রায় ইমামগণের ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করতে পারি, যখন থেকে "মা'রিফাতু আনওয়া'ই ইলমিল হাদিস" গ্রন্থটি আলোর মুখ দেখেছে আজ পর্যন্ত—যা তাঁর সুউচ্চ অবস্থান এবং তাঁর অগাধ ইলম ও উপকারের প্রমাণ বহন করে, যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর মতাদর্শের সহযোগিতার সাক্ষ্য দেয়। আল্লাহ তাআলা এর লেখক ও সংকলকের প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ওপর নেয়ামত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দোয়া কবুলকারী।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে আস-সালাহর কর্মপদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ

যদিও প্রাচীন লেখকগণ, বিশেষ করে পরবর্তী যুগের (المتأخرون) সেইসব লেখক যারা সনদ (الأسانيد) ভিত্তিক বিন্যাস ব্যতিরেকে গ্রন্থ রচনা করতেন, তারা তাদের রচনাপদ্ধতি সম্পর্কে খুব সামান্যই আলোকপাত করতেন; তবে তাদের রচনাবলির গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করলে তাদের লিখন পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে একটি আনুমানিক বর্ণনা প্রদান অসম্ভব নয়। ইবনে আস-সালাহ এই নিয়মের ব্যতিক্রম নন, যা প্রায় একটি সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।

আমরা - আল্লাহর শুকরিয়া - ইবনে আস-সালাহর এই গ্রন্থ রচনার পদ্ধতির কিছু বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি এবং উদাহরণসহ তা উপস্থাপন করছি:

১. তিনি যেসব প্রকার নিয়ে আলোচনা করছেন সেগুলোর সংজ্ঞা (تعريفات) প্রদান করেছেন এবং এই দিকের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্ভবত এটি উসুল (أصول) শাস্ত্রীয় প্রবণতার প্রভাবের কারণে হয়েছে, যা সংজ্ঞা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রতি বিশেষ যত্নবান। প্রেষণা যাই হোক না কেন, তাঁর লেখনীতে এই বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তবে এই ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি নিম্নোক্তভাবে বৈচিত্র্যময় হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) নুঝহাতুন নাযার: ৫১।

(২) আল-বাহরুল্লাযী জাখার ১/২৩৫।