(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: -)
تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب التوحيد الذى هو حق الله على العبيد القسم: العقيدة
الكتاب: تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب التوحيد الذى هو حق الله على العبيد
المؤلف: سليمان بن عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب (ت 1233 هـ)
المحقق: زهير الشاويش [ت 1434 هـ]
الناشر: المكتب الاسلامي، بيروت، دمشق
الطبعة: الأولى، 1423 هـ/2002 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 646
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যায় তাইসীরুল আজিজিল হামিদ, যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার বিভাগ: আকিদাহ
বই: কিতাবুত তাওহীদের ব্যাখ্যায় তাইসীরুল আজিজিল হামিদ, যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার
লেখক: সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (মৃত্যু ১২৩৩ হি.)
সম্পাদক: জুহাইর আল-শাউইশ [মৃত্যু ১৪৩৪ হি.]
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি, বৈরুত, দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হি./২০০২ খ্রি.
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪৬
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب كتاب التّوحيد الذي هو حقّ الله على العبيد
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي رضي الإسلام للمؤمنين دينًا، ونصب الأدلة على صحته وبيّنها تبيينًا، وغرس التوحيد في قلوبهم، فأثمرت بإخلاصه فنونا، وأعانهم على طاعته هداية منه وكفى بربك هاديًا ومعينًا.
{وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَداً وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيراً} ، [الإسراء: 111] .
{وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصِهْراً وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيراً (وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَنْفَعُهُمْ وَلا يَضُرُّهُمْ وَكَانَ الْكَافِرُ عَلَى رَبِّهِ ظَهِيراً} ، [الفرقان: 54-55] .
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له في ربوييته وإلهيته، تعالى عن ذلك {عُلُوّاً كَبِيراً} ، [الإسراء، من الآية: 4] .
{الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمَنُ فَاسْأَلْ بِهِ خَبِيراً} ، [الفرقان: 59] .
وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، {شَاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً (وَدَاعِياً إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجاً مُنِيراً} ، [الأحزاب: 45-46] .
وصلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم تسليما كثيرا.
أمّا بعد، فهذا شرحٌ لكتاب (التوحيد) 1، وافٍ إن شاء الله تعالى بالتنبيه على بعض ما تضمنه من بيان أنواع التوحيد؛ إذ هو المقصود بالأصالة هنا، ولم أخله أيضًا من التنبيه على بعض ما يتضمنه من غير ذلك، إلا أن الأولى بنا هو بيان ما وضع لأجله الكتاب؛ لعموم الضرر والفساد الواقع من مخالفة ما فيه.
--------------------------------------------
ভূমিকা…তায়সীরুল আজিজিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ, যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মুমিনদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন, এর সত্যতার স্বপক্ষে প্রমাণাদি স্থাপন করেছেন ও সেগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদের অন্তরে তাওহীদ রোপণ করেছেন, ফলে তাঁর ইখলাসের মাধ্যমে তা বিভিন্ন ফল দান করেছে। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে হিদায়াতের মাধ্যমে তাদেরকে তাঁর আনুগত্যে সাহায্য করেছেন। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার রবই যথেষ্ট।
{এবং বলুন: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যার কোনো শরিক নেই এবং লাঞ্ছনা থেকে বাঁচার জন্য যার কোনো অভিভাবকের প্রয়োজন নেই। আর আপনি তাঁর মহিমা বর্ণনা করুন।} , [আল-ইসরা: ১১১] ।
{তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তায় আবদ্ধ করেছেন। আর আপনার রব পরম ক্ষমতাশীল। (তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না। আর কাফির তো তার রবের বিরুদ্ধে সাহায্যকারী।)} , [আল-ফুরকান: ৫৪-৫৫] ।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়্যাত (ইলাহ হওয়ার অধিকার)-এ তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি এ থেকে বহুগুণ {ঊর্ধ্বে} , [আল-ইসরা: ৪-এর অংশ] ।
{যিনি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রহমান আরশের উপর উঠেছেন। সুতরাং এ বিষয়ে যিনি খবর রাখেন তাঁকে জিজ্ঞেস করুন।} , [আল-ফুরকান: ৫৯] ।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে (এবং আল্লাহর নির্দেশে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে)} , [আল-আহজাব: ৪৫-৪৬] ।
আল্লাহর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের উপর।
পর সমাচার: এটি (কিতাবুত তাওহীদ) এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ১, যা ইনশাআল্লাহ তাওহীদের প্রকারভেদের বর্ণনার ওপর আলোকপাতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হবে; কারণ মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য। এছাড়াও এর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিষয়ের ওপরও আমি আলোকপাত করা থেকে বিরত থাকিনি। তবে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বিষয়গুলোর বর্ণনা করা যার জন্য এই কিতাবটি রচিত হয়েছে; কারণ এতে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিরুদ্ধাচরণের ফলে ক্ষতি ও বিপর্যয় ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
والأصل في ذلك هو الإعراض عن الهدى والنور الذي أنزله الله تعالى على رسوله محمّد صلى الله عليه وسلم من الكتاب والحكمة، والاستغناء عن ذلك بمتابعة الآباء والأهواء والعادات المخالفة لذلك.
ولهذا كرّر الله تعالى الأمر بمتابعة الكتاب والسنة في مواضعَ كثيرةٍ من القرآن، وضرب الأمثال لذلك، وأكّده وتوعد على الإعراض عنه، وما ذاك إلا لشدّة الحاجة، بل الضرورة إلى ذلك فوق كلّ ضرورة، فإنه لا صلاح للعبد ولا فلاح ولا سعادة في الدنيا والآخرة إلاّ بذلك، ومتى لم يحصل ذلك للعبد فهو ميت.
كما قال تعالى: {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأنعام] فسمّى سبحانه وتعالى الخالي عن هذا الهدى والنور ميتًا، وسمى من حصل له ذلك حيًا، وذلك أنه لا مقصود به في حياة الدنيا إلا توحيد الله تعالى، ومعرفته وخدمته، والإخلاص له، والاستلذاذ بذكره، والتذلّل لعظمته، والانقياد لأوامره، والإنابة إليه، والإسلام له، فإذا حصل هذا للعبد، فهو الحي، يل قد حصلت له الحياة الطيبة في الدارين.
كما قال تعالى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 1.
فإذا فاته هذا المقصود فهو ميّت، بل شرّ من الميت. قال الله تعالى: {اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ}
وقال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 2.
وقال تعالى: {قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 3.
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ
--------------------------------------------
এর মূল ভিত্তি হলো সেই হেদায়াত ও নূর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর কিতাব ও হিকমত স্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন, এবং এর পরিবর্তে পূর্বপুরুষদের অনুসরণ, প্রবৃত্তি ও এর বিরোধী রীতিনীতির ওপর নির্ভর করে তা থেকে বিমুখ থাকা।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনের অনেক স্থানে কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ বারবার প্রদান করেছেন, এর স্বপক্ষে উদাহরণ পেশ করেছেন, একে সুনিশ্চিত করেছেন এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আর তা কেবল এই বিষয়ের তীব্র প্রয়োজনীয়তার কারণেই, বরং এর প্রয়োজনীয়তা অন্য সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে। কেননা, এটি ছাড়া বান্দার কোনো সংশোধন নেই, নেই কোনো সফলতা বা ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য। আর যখন বান্দার এটি অর্জিত হয় না, তখন সে মৃত।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যে ব্যক্তি মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে একটি নূর দান করেছি যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলে ফিরে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের জন্য তাদের আমলসমূহকে সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে।" [আল-আন-আম]। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই হেদায়াত ও নূর বিবর্জিত ব্যক্তিকে মৃত বলে অভিহিত করেছেন এবং যে তা লাভ করেছে তাকে জীবিত বলেছেন। আর তা এই জন্য যে, পার্থিব জীবনে মহান আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর পরিচয় লাভ, তাঁর ইবাদত, তাঁর প্রতি একনিষ্ঠতা, তাঁর যিকিরে আনন্দ লাভ, তাঁর মহত্ত্বের সামনে বিনম্র হওয়া, তাঁর আদেশের আনুগত্য করা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া অন্য কোনো প্রকৃত উদ্দেশ্য নেই। সুতরাং যখন কোনো বান্দার মাঝে এটি অর্জিত হয়, তখন সে-ই জীবিত; বরং সে উভয় জগতেই পবিত্র জীবন লাভ করেছে।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "পুরুষ বা নারীর মধ্যে যে কেউ ঈমানদার অবস্থায় সৎকাজ করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই এক পবিত্র জীবন দান করব এবং অবশ্যই তাদেরকে তাদের সর্বোত্তম কাজের প্রতিদান প্রদান করব।" ১।
অতঃপর যখন কেউ এই উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়, তখন সে মৃত; বরং মৃত ব্যক্তির চেয়েও নিকৃষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো।"
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।" ২।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি নূর ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। যার মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।" ৩।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "হে মানুষ! অবশ্যই তোমাদের কাছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُوراً مُبِيناً} 1.
وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً
… } 2 إلى قوله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّاباً رَحِيماً فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} 3 4.وقال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} 5.وقال تعالى: {وَقَدْ آتَيْنَاكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْراً مَنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وِزْراً خَالِدِينَ فِيهِ وَسَاءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِمْلاً} 6.
وقال تعالى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} 7.
قال ابن عباس: " تكفل الله لِمَن قرأ القرآن وعمل بما فيه ألاّ {يَضِلُّ} في الدنيا، {وَلا يَشْقَى} في الآخرة.
وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلا الأِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 8.
فيا عجبًا مِمَّن يزعم أنّ الهداية والسعادة لا تحصل بالقرآن ولا بالسنة، مع أنّ النبي صلى الله عليه وسلم لم يهتد إلا بذلك.
كما قال تعالى: {قُلْ إِنْ ضَلَلْتُ فَإِنَّمَا أَضِلُّ عَلَى نَفْسِي وَإِنِ اهْتَدَيْتُ فَبِمَا يُوحِي إِلَيَّ رَبِّي إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ} 9، ثم بعد ذلك يحيلها على قول فلان وفلان.
وقال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} 10.
والآيات في هذا المعنى كثيرة، فوجب على كلّ مَن عقل عن الله أن يكون على بصيرة ويقين في دينه.
كما قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 11.
--------------------------------------------
তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক অকাট্য প্রমাণ এসেছে এবং আমি তোমাদের প্রতি এক সুষ্পষ্ট আলো অবতীর্ণ করেছি। ১.
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য হতে উলুল আমরের (নেতৃবৃন্দের)। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর
… } ২ এই পর্যন্ত: {আর আমি কোনো রাসূলই প্রেরণ করিনি কেবল এই উদ্দেশ্যে যে, আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করা হবে। আর যখন তারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা তোমার কাছে আসত এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত। অতএব, তোমার রবের কসম! তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে তোমাকে বিচারক মেনে নেয়, অতঃপর তোমার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} ৩ ৪। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি তোমার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, এবং মুসলিমদের জন্য হেদায়েত, রহমত ও সুসংবাদ।} ৫। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি আমার পক্ষ থেকে তোমাকে দান করেছি এক উপদেশ। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কিয়ামতের দিন সে অবশ্যই এক বিশাল গুনাহের বোঝা বহন করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং কিয়ামতের দিন এই বোঝা তাদের জন্য কতই না মন্দ।} ৬।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যখন কোনো হেদায়েত আসবে, তখন যে ব্যক্তি আমার হেদায়েতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।} ৭।
ইবনে আব্বাস বলেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যে কুরআন পাঠ করবে এবং তাতে যা আছে সে অনুযায়ী আমল করবে যে, সে দুনিয়াতে ‘পথভ্রষ্ট হবে না’ এবং আখেরাতে ‘দুর্ভাগা হবে না’।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এভাবেই আমি আমার নির্দেশে তোমার কাছে ওহী প্রেরণ করেছি। তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি এটিকে এক নূর বানিয়েছি যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করি। আর নিশ্চয়ই তুমি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করছ।} ৮।
অতএব সেই ব্যক্তির ব্যাপারে কতই না বিস্ময়, যে দাবি করে যে হেদায়েত ও সৌভাগ্য কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে অর্জিত হয় না; অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এগুলোর মাধ্যমেই হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছেন।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, আমি যদি পথভ্রষ্ট হই তবে তা আমার নিজের কারণেই হবে, আর যদি আমি হেদায়েত প্রাপ্ত হই তবে তা আমার রব আমার কাছে যা ওহী প্রেরণ করেন তার মাধ্যমেই হবে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।} ৯, অতঃপর এর পরিবর্তে সে একে অমুক এবং অমুকের কথার দিকে ফিরিয়ে দেয়।
এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো।} ১০।
আর এই অর্থের আয়াতসমূহ অনেক। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে জ্ঞান লাভকারী প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক হলো তার দ্বীনের ওপর সুস্পষ্ট জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে অটল থাকা।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা আল্লাহর দিকে ডাকছি সুস্পষ্ট প্রমাণের সাথে। আর আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} ১১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومحال أن يحصل اليقين والبصيرة إلا من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم،
وكيف ينال الهدى والإيمان مَن زعم أن ذلك لا يحصل من القرآن إنّما يحصل من الآراء الفاسدة التي هي زبالة الأذهان. تالله لقد مسخت عقول هذا غاية ما عندها من التحقيق والعرفان.
وهذه المتابعة لكتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم هي حقيقة دين الإسلام، الذي افترضه الله على الخاص والعام، وهو حقيقة الشهادتين الفارقتين بين المؤمنين والكفار، والسعداء أهل الجنة والأشقياء أهل النار، إذ معنى الإله: هو المعبود المطاع، وذلك هو دين الله الذي ارتضاه لنفسه وملائكته ورسله وأنبيائه.
فبه اهتدى المهتدون، وإليه دعا المرسلون. {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 1. {أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ طَوْعاً وَكَرْهاً وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ} 2، فلا يتقبل من أحد دينًا سواه من الأولين والآخرين.
كما قال تعالى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الأِسْلامِ دِيناً فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ} 3.
شهد الله تعالى بأنّه دينه قبل شهادة المخلوقين، وأنزلها تتلى في كتابه إلى يوم الدين. فقال تعالى وهو العزيز العليم: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِماً بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 4.
جعل أهله هم الشهداء على الناس يوم القيامة، لما فضلهم به من الأقوال، والأعمال، والاعتقادات التي توجب إكرامه
فقال تعالى ولم يزل عزيزًا حميدا: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيداً} 5.
وفضله على سائر الأديان، فهو أحسنها حكمًا، وأقومها قيلا. فقال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ دِيناً مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفاً وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً} 6.
--------------------------------------------
আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ ব্যতীত নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকীন) এবং দূরদর্শিতা (বাসীরাত) লাভ করা অসম্ভব।
যে ব্যক্তি মনে করে যে হিদায়াত ও ঈমান কুরআন থেকে অর্জিত হয় না, বরং তা অর্জিত হয় সেই সব ভ্রান্ত মতবাদ থেকে যা মস্তিস্কের আবর্জনা মাত্র, সে কীভাবে হিদায়াত ও ঈমান লাভ করতে পারে? আল্লাহর কসম! তাদের বুদ্ধি বিকৃত হয়ে গেছে যারা মনে করে যে তাদের এসকল গবেষণাই হলো চূড়ান্ত সত্য ও মা’রিফাত।
আল্লাহ তায়ালার কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর এই অনুসরণই হলো ইসলাম ধর্মের হাকীকত বা প্রকৃত রূপ, যা আল্লাহ সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের জন্য আবশ্যক করেছেন। এটিই সেই দুই সাক্ষ্যের (শাহাদাতাইন) প্রকৃত অর্থ যা মুমিন ও কাফিরদের মধ্যে এবং জান্নাতবাসী সৌভাগ্যবান ও জাহান্নামী দুর্ভাগাদের মধ্যে পার্থক্য বিধান করে। কেননা 'ইলাহ' শব্দের অর্থ হলো সেই মা'বুদ বা উপাস্য যাঁর আনুগত্য করা হয়। আর এটাই হলো আল্লাহর সেই দ্বীন যা তিনি নিজের জন্য এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, রাসূলগণ ও নবীগণের জন্য মনোনীত করেছেন।
এর মাধ্যমেই হিদায়াতপ্রাপ্তরা হিদায়াত লাভ করেছেন এবং এর দিকেই রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন। "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকট আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" ১। "তারা কি আল্লাহর দ্বীন ব্যতীত অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তাঁরই অনুগত হয়েছে এবং তাঁর দিকেই তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" ২। সুতরাং পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারো কাছ থেকেই ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন কবুল করা হবে না।
যেমনটি মহান আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তবে তার নিকট থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" ৩।
আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সাক্ষ্য প্রদানের পূর্বেই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে এটিই তাঁর দ্বীন, এবং তিনি তা তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন যা কিয়ামত পর্যন্ত পাঠ করা হবে। মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (একই সাক্ষ্য দিয়েছে)। তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ৪।
তিনি এই দ্বীনের অনুসারীদের কিয়ামতের দিন মানুষের ওপর সাক্ষী বানিয়েছেন, কারণ তিনি তাদেরকে এমন কথা, কাজ এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন যা তাঁর পক্ষ থেকে সম্মান লাভের যোগ্য করে তোলে।
চির পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যমপন্থী জাতি বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন।" ৫।
এবং তিনি একে অন্য সকল ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন; এটি বিধানে সর্বোত্তম এবং বক্তব্যে সর্বাধিক সুদৃঢ়। মহান আল্লাহ বলেন: "ঐ ব্যক্তির চেয়ে দ্বীনের দিক থেকে আর কে বেশি উত্তম হতে পারে, যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সঁপে দেয় এবং একনিষ্ঠভাবে ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ করে? আর আল্লাহ ইবরাহীমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন।" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وكيف لا يميز مَن له بصيرة بين دين {أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى تَقْوَى مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ} ، [التّوبة، من الآية: 109] ، وارتفع بناؤه على طاعة الرحمن، والعمل بما يرضاه في السر والإعلان، وبين دينٍ {أَسَّسَ بُنْيَانَهُ عَلَى شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ} ، [التّوبة، من الآية: 109] ، بصاحبه في النار، أسس على عبادة الأصنام والأوثان، والالتجاء إلى الصالحين وغيرهم من الإنس والجان، عند الشدائد والأحزان، وصرف مخ العبادة لغير الملك الديان، ورجا النفع والعطاء والمنع مِمَّن لا يملك لنفسه نفعًا، ولا ضرا فضلاً عن غيره من نوع الإنسان، ودعوى التصرف في الملك لصالح رميم في التراب والأكفان.
قد عجز عن دفع ما حل به من أمر الله، فكيف يدفع عمَّن دعاه من بعيد الأوطان؟! أو فاسق يشاهدون فسقه وفجوره فهو أبعد الناس من الرحمن، أو ساحر يريهم من سحره ما يحير به الأذهان، فيظن المخذولون أنّها كرامة من الله، وإنّما هي من مخاريق الشيطان، تبًا لهم سدوا على أنفسهم باب العلم والإيمان، وفتحوا عليها باب الجهل والكفران. قابلوا خبر الله بالتكذيب، وأمره بالعصيان.
أخبر بأن الهدى والنور في كتابه، فقالوا: كان ذاك فيما مضى من
الزمان، وأمرهم باتباع ما {أُنْزِلَ} إليهم {مِنْ} ربهم، ولا يتبعوا {مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاء} [الأعراف، من الآية: 3] ، فقالوا: لا بد لنا من ولي غير القرآن.
إن جئتهم بكتاب الله قالوا: {حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ} ، [المائدة، من الآية: 104] أهل الزمان، أو جئتهم بسنة رسوله صلى الله عليه وسلم قالوا: خالفها الشيخ فلان، وهو أعلم منا ومنكم، فاعتبروا يا أولي الإيمان. عمدوا إلى قبور الأنبياء والصالحين، فبنوا عليها البنيان، ونقشوا سقوفها والحيطان، وحلوها بالغالي من الأثمان، وألبسوها ألوان الستور الحسان، وجعلوا لها السدنة والخدام، فِعْل عباد الأوثان والصلبان، وذبحوا ونذروا لِمَن فيها، وقربّوا لهم القربان، وقالوا: {هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا} ، [يونس، من الآية: 18] في كشف الكروب وغفران الذنوب ودخول الجنان.
যার অন্তর্দৃষ্টি আছে, সে কীভাবে সেই দ্বীনের মাঝে পার্থক্য করবে না যা তার ভিত্তিকে আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির ওপর স্থাপন করেছে, যার সৌধ পরম দয়াময় রহমানের আনুগত্য এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর সন্তোষজনক আমলের ওপর নির্মিত হয়েছে; এবং সেই দ্বীনের মাঝে পার্থক্য করবে না যা তার ভিত্তিকে একটি পতনোন্মুখ গর্তের কিনারায় স্থাপন করেছে, ফলে তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ধসে পড়ল? এই দ্বিতীয় দ্বীনটি মূর্তিপূজা ও প্রতিমা পূজার ওপর এবং বিপদ ও দুঃখের সময় নেককার লোক ও অন্যান্য মানুষ ও জিনের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর সে ইবাদতের মূল নির্যাসকে মালিক ও প্রতিদানদাতা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য নিবেদন করেছে এবং এমন কারও নিকট কল্যাণ, দান ও বারণের আশা করেছে যে নিজেরই কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না, অন্য মানুষের তো দূরের কথা। তদুপরি, সে মাটি ও কাফনের মধ্যে পচে গলে যাওয়া মৃত ব্যক্তির মহাবিশ্ব পরিচালনায় কর্তৃত্বের দাবি করেছে।
সে তো নিজের ওপর আপতিত আল্লাহর ফয়সালা প্রতিরোধ করতেই অক্ষম, তবে সে কীভাবে দূর-দূরান্ত থেকে তাকে আহ্বানকারীর বিপদ দূর করবে?! অথবা এমন কোনো পাপাচারী, যার অবাধ্যতা ও পাপাচার তারা চাক্ষুষ দেখে, অথচ সে পরম দয়াময় রহমান থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরে অবস্থানকারী। অথবা এমন কোনো জাদুকর, যে তার জাদু দিয়ে তাদের এমন কিছু দেখায় যা বুদ্ধিকে বিভ্রান্ত করে দেয়; ফলে লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত লোকগুলো মনে করে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কারামত, অথচ তা শয়তানের ভেলকিবাজি বৈ কিছুই নয়। তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য! তারা নিজেদের ওপর ইলম ও ঈমানের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে এবং মূর্খতা ও কুফরির দরজা উন্মুক্ত করেছে। তারা আল্লাহর সংবাদকে মিথ্যায়ন এবং তাঁর আদেশকে অবাধ্যতার মাধ্যমে মোকাবিলা করেছে।
তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে হেদায়েত ও নূর তাঁর কিতাবের মধ্যে রয়েছে, কিন্তু তারা বলল: ওটা তো অতীত সময়ের বিষয় ছিল। আর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যা তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে তা অনুসরণ করতে এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে অনুসরণ না করতে; কিন্তু তারা বলল: কুরআন ছাড়া আমাদের অবশ্যই অন্য অভিভাবক প্রয়োজন।
যদি আপনি তাদের কাছে আল্লাহর কিতাব নিয়ে আসেন, তবে তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের আমরা যা করতে দেখেছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর যদি আপনি তাদের কাছে তাঁর রাসূলের সুন্নাহ নিয়ে আসেন, তবে তারা বলে: অমুক শায়খ এর বিরোধিতা করেছেন, আর তিনি আমাদের ও আপনাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী; অতএব হে ঈমানদারগণ! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। তারা নবী ও নেককারদের কবরের দিকে ধাবিত হলো এবং তার ওপর ইমারত নির্মাণ করল, তার ছাদ ও দেয়ালে কারুকার্য করল, মূল্যবান সামগ্রী দিয়ে তা সুশোভিত করল, তাতে সুন্দর ও রঙিন পর্দার আবরণ পরিয়ে দিল এবং মূর্তিপূজারী ও ক্রুশপূজারীদের মতো সেখানে খাদেম ও তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করল। তারা কবরে শায়িত ব্যক্তির নামে পশু জবাই করল ও মানত করল এবং তাদের জন্য নজরানা পেশ করল। তারা বলল: বিপদাপদ দূর করতে, গুনাহ মাফ করাতে এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে এরাই আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما مَن قدّره باسم تقديره: باسم الله ابتدائي. فلقوله تعالى: {وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا} 1، ومَن قدّره بالفعل أمرًا أو خبرًا نحو: بدأ باسم الله، وابتدأت باسم الله، فلقوله تعالى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} 2، وكلاهما صحيح، فإنّ الفعل لا بد له من مصدر، فلك أن تقدّر الفعل ومصدره، وذلك بحسب الفعل الذي سَمَّيته قبله إن كان قيامًا أو قعودًا، أو أكلاً، أو شربًا، أو قراءة، أو وضوءًا، أو صلاة.
فالمشروع ذكر اسم الله تعالى في ذلك كله تبركًا وتيمنًا واستعانة على الإتمام والتقبل. وقدّره الزمخشري فعلاً مؤخرًا، أي: باسم الله أقرأ أو أتلو؛ لأن الذي يتلوه مقروء، وكل فاعل يبدأ في فعله باسم الله كان مضمرًا ما تجعل التسمية مبدأ له، كما أن المسافر إذا حلّ أو ارتحل، فقال: بسم الله، كان المعنى بسم الله أحل، وبسم الله أرتحل، وهذا أولى من أن يضمر أبدًا، لعدم ما يطابقه ويدل عليه، أو ابتدائي لزيادة الإضمار فيه، وإنّما قدم المحذوف متأخرًا وقدم المعمول، لأنه أهم وأدل على الاختصاص، وأدخل في التعظيم وأوفق للوجود، فإن اسم الله تعالى مقدَّم على القراءة، كيف وقد جعل آلة لها من حيث إنّ الفعل لا يعتد به شرعًا ما لم يصدر باسمه تعالى.
وأما ظهور فعل القراءة في قوله: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} 3؛ فلأن الأهمّ ثمة القراءة، ولذا قدّم الفعل فيها على متعلقه، بخلاف البسملة فإنّ الأهم فيها الابتداء، قاله البيضاوي.
وهذا القول أحسن الأقوال، وأظنه اختيار شيخ الإسلام، وقد ألم به ابن كثير إلا أنه جعل المحذوف مقدرًا قبل البسملة وذكر ابن القيم لحذف العامل في بسم الله فوائدَ عديدةً:
منها: أنه موطن لا ينبغي أن يتقدم فيه سوى ذكر الله تعالى، فلو
--------------------------------------------
যারা উহ্য শব্দটি বিশেষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন, তাদের মতে এর বিশ্লেষণ হলো: "আল্লাহর নামেই আমার আরম্ভ।" এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {আর তিনি বললেন, তোমরা এতে আরোহণ করো; আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি} ১। আর যারা একে উহ্য ক্রিয়া হিসেবে নির্দেশবাচক বা সংবাদবাচক ধরে থাকেন, যেমন: "আল্লাহর নামে শুরু করো" অথবা "আমি আল্লাহর নামে শুরু করলাম", তাদের সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন} ২। উভয় মতই সঠিক। কারণ, প্রতিটি ক্রিয়ার জন্য একটি মূলক্রিয়া (মাসদার) থাকা আবশ্যক। সুতরাং আপনি ক্রিয়া এবং এর মূলক্রিয়া উভয়ই উহ্য ধরতে পারেন। আর এটি নির্ভর করবে আপনি তার আগে যে কাজটির নাম নিয়েছেন তার ওপর—তা দাঁড়ানো, বসা, খাওয়া, পান করা, তিলাওয়াত করা, অজু করা বা সালাত আদায় করা যা-ই হোক না কেন।
সুতরাং বরকত লাভ, শুভলক্ষণ গ্রহণ এবং কাজ সম্পন্ন ও কবুল হওয়ার জন্য সাহায্য কামনার উদ্দেশ্যে এই সবকিছুর শুরুতে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করা শরিয়তসম্মত। যামাখশারি উহ্য ক্রিয়াটিকে পরবর্তী শব্দ হিসেবে ধরেছেন। অর্থাৎ: "আল্লাহর নামে আমি পড়ছি বা তিলাওয়াত করছি"; কারণ যা তিলাওয়াত করা হয় তা পঠিত বিষয়। প্রত্যেক কর্তা যখন তার কাজের শুরুতে আল্লাহর নাম নেয়, তখন সে মনে মনে সেই কাজটিকে উহ্য রাখে যার শুরুতে সে 'তাসমিয়া' বা বিসমিল্লাহ বলছে। যেমন একজন মুসাফির যখন যাত্রাবিরতি করে বা যাত্রা শুরু করে 'বিসমিল্লাহ' বলে, তখন তার অর্থ হয়: "আল্লাহর নামে আমি যাত্রাবিরতি করছি" এবং "আল্লাহর নামে আমি যাত্রা শুরু করছি।" এটি 'আমি শুরু করছি' উহ্য রাখার চেয়ে বেশি উত্তম; কারণ সেক্ষেত্রে কাজের সাথে সংগতিপূর্ণ ও নির্দেশক শব্দের অভাব থাকে। অথবা 'আমার শুরু' উহ্য রাখার চেয়েও এটি শ্রেয়, কারণ তাতে উহ্যর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মূলত উহ্য অংশটিকে শেষে এবং সংশ্লিষ্ট শব্দটিকে (মামউল) আগে আনা হয়েছে, কারণ এটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সুনির্দিষ্টকরণ বোঝাতে অধিক কার্যকর। এছাড়া এটি সম্মান প্রদর্শনের জন্য অধিক উপযোগী এবং বাস্তব অবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ। কেননা তিলাওয়াতের পূর্বে আল্লাহর নাম আসাই সমীচীন। আর কেনই বা তা হবে না, যখন একে তিলাওয়াতের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এই দিক থেকে যে, আল্লাহর নামে শুরু না করা পর্যন্ত শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো কাজই গ্রহণযোগ্য হয় না।
আর {আপনার রবের নামে পাঠ করুন} ৩—এই বাণীতে 'পাঠ করুন' ক্রিয়াটি প্রকাশিত হওয়ার কারণ হলো, সেখানে পাঠ করা বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেখানে ক্রিয়াটিকে তার সংশ্লিষ্ট শব্দের আগে আনা হয়েছে। অন্যদিকে বিসমিল্লাহর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'শুরু করা'। বায়যাভি এরূপই বলেছেন।
এই মতটিই সকল মতের মধ্যে উত্তম এবং আমার ধারণা এটি শাইখুল ইসলামেরও পছন্দ। ইবনে কাসিরও এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তবে তিনি উহ্য অংশটিকে বিসমিল্লাহর আগে ধরেছেন। ইবনে কাইয়্যিম 'বিসমিল্লাহ'র আমেল (ক্রিয়া) উহ্য রাখার বেশ কিছু উপকারিতা উল্লেখ করেছেন:
তার মধ্যে একটি হলো: এটি এমন একটি স্থান যেখানে মহান আল্লাহর জিকির বা স্মরণ ছাড়া অন্য কিছু আগে আসা উচিত নয়। সুতরাং যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ذكرت الفعل وهو لا يستغني عن فاعله، كان ذلك مناقضًا للمقصود، فكان في حذفه مشاكلة اللفظ للمعنى ليكون المبدوء به اسم الله، كما تقول في الصلاة: الله أكبر، ومعناه: من كل شيء، ولكن لا تقول هذا القدر ليكون اللفظ مطابقًا لمقصود الجنان، وهو أن لا يكون في القلب إلا ذكر الله وحده، فكما تجرد ذكره في قلب المصلي تجرد ذكره في لسانه.
ومنها: أن الفعل إذا حذف صحّ الابتداء بالتسمية في كل عمل وقول وحركة، وليس فعل أولى بها من فعل، فكان الحذف أعم من الذكر، فأي فعل ذكرته كان المحذوف أعم منه.
(الله) : عَلَمٌ على الرب تبارك وتعالى. ذكر سيبويه أنه أعرف المعارف.
ويقال: إنه الاسم الأعظم، لأنه يوصف بجميع الصفات، كما قال تعالى: {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 1، فأجرى الأسماء الباقية كلها صفات له.
واختلفوا هل هو اسم جامد أو مشتق؟ على قولين؛ أصحهما أنه مشتق. قال ابن جرير [الطّبري] : فإنه على ما روي لنا عن ابن عباس قال: "الله ذو الألوهية والعبودية على خلقه أجمعين".
وذكر سيبويه عن الخليل أن أصله إله مثل فعال، فأدخلت الألف واللام بدلاً من الهمزة. قال سيبويه: مثل الناس أصله إناس.
وقال الكسائي والفراء: أصله الإله، حذفوا الهمزة وأدغموا اللام الأولى في الثانية. وعلى هذا فالصحيح أنه مشتق من أله
--------------------------------------------
আপনি যদি ক্রিয়াটি উল্লেখ করতেন অথচ তা তার কর্তাকে ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তবে তা উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হতো। তাই এটি উহ্য রাখার মধ্যে শব্দের সাথে অর্থের এক প্রকার সামঞ্জস্যতা রয়েছে, যাতে প্রারম্ভিক বিষয়টি আল্লাহর নাম হয়। যেমন আপনি সালাতে বলেন: আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), যার অর্থ হলো: সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু আপনি এই পরিমাণ অংশটি বলেন না যাতে শব্দটি অন্তরের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, আর তা হলো অন্তরে কেবল আল্লাহর স্মরণ ব্যতীত অন্য কিছু থাকবে না। সুতরাং মুসল্লির অন্তরে যেভাবে কেবল তাঁরই স্মরণ একনিষ্ঠ থাকে, তেমনি তার জিহ্বাতেও তাঁরই স্মরণ এককভাবে প্রকাশ পায়।
আর এর অন্যতম কারণ হলো: ক্রিয়াটি উহ্য থাকলে প্রতিটি কাজ, কথা ও নড়াচড়ায় আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করা সঠিক হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট ক্রিয়া অপর কোনো ক্রিয়ার চেয়ে এর জন্য অধিক উপযুক্ত নয়। ফলে উহ্য রাখাটি উল্লেখ করার চেয়ে অধিক ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং আপনি যে ক্রিয়াই উল্লেখ করবেন, উহ্য রাখা বিষয়টি তার চেয়ে অধিক ব্যাপক হবে।
(আল্লাহ): এটি বরকতময় ও সুউচ্চ রবের একটি সত্তাগত নাম। সিবওয়াইহ উল্লেখ করেছেন যে, এটি সকল পরিচিত শব্দের (মারেফা) মধ্যে সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট।
আর বলা হয়ে থাকে যে, এটিই ইসমে আজম বা মহানতম নাম, কারণ এর মাধ্যমেই সকল গুণাবলি বর্ণনা করা হয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, তিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদানকারী, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল প্রতাপশালী, অতীব গর্বিত। তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, তাঁরই জন্য রয়েছে সকল সুন্দর নাম। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"১ এখানে তিনি অবশিষ্ট সকল নামকে তাঁর (আল্লাহ নামের) গুণাবলি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
এটি কি কোনো মৌলিক শব্দ নাকি অন্য শব্দ থেকে উদ্ভূত—এ নিয়ে তারা দ্বিমত করেছেন; এক্ষেত্রে দুটি মত রয়েছে। যার মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মতটি হলো এটি একটি উদ্ভূত শব্দ। ইবনে জারির [তবারী] বলেন: ইবনে আব্বাস থেকে আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ হলেন সমগ্র সৃষ্টির ওপর উলুহিয়াত (উপাস্য হওয়ার গুণ) এবং ইবাদত লাভের অধিকারের অধিকারী।"
সিবওয়াইহ খলীল থেকে উল্লেখ করেছেন যে, এর মূল হলো 'ইলাহ', যেমন 'ফি'আল' ছাঁচের শব্দ। অতঃপর হামযার পরিবর্তে আলিফ ও লাম যুক্ত করা হয়েছে। সিবওয়াইহ বলেন: যেমন 'আন-নাস' (মানুষ) শব্দের মূল হলো 'ইনাস'।
কিসাঈ এবং ফাররা বলেন: এর মূল হলো 'আল-ইলাহ', তারা হামযাহটি বিলুপ্ত করে প্রথম লামটিকে দ্বিতীয় লামের সাথে সন্ধি করে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী বিশুদ্ধ মত হলো এটি 'আলাহা' থেকে উদ্ভূত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الرجل: إذا تعبد، كما قرأ ابن عباس: {ويذرك وإلهتك} 1، أي: عبادتك، وأصله الإله، أي: المعبود، فحذفت الهمزة التي هي فاء الكلمة، فالتقت اللام التي هي عينها مع اللام التي للتعريف، فأدغمت إحداهما في الأخرى، فصارتا في اللفظ لامًا واحدة مشددة وفخمت تعظيما، فقيل: الله.
قال ابن القيم: "القول الصحيح أن (الله) ، أصله: (الإله) ، كما هو قول سيبويه وجمهور أصحابه إلا من شذ منهم، وإن اسم الله تعالى هو الجامع لجميع معاني الأسماء الحسنى والصفات العلا. قال: وزعم السهيلي وشيخه أبو بكر بن العربي: "أن اسم الله غير مشتق، لأن الاشتقاق يستلزم مادة يشتق منها، واسمه تعالى قديم، والقديم لا مادة له فيستحيل الاشتقاق"، ولا ريب أنه إن أريد بالاشتقاق هذا المعنى، وأنه مستمد من أصل آخر فهو باطل، ولكن الذين قالوا بالاشتقاق لم يريدوا هذا المعنى، ولا ألم بقلوبهم، وإنما أرادوا أنه دال على صفة له تعالى، وهي الإلهية كسائر أسمائه الحسنى، كالعليم، والقدير، والغفور، والرحيم، والسميع، والبصير. فإن هذه الأسماء مشتقة من مصادرها بلا ريب، وهي قديمة، والقديم لا مادة له، فما كان جوابكم عن هذه الأسماء فهو جواب القائلين باشتقاق اسم الله تعالى، ثم الجواب عن الجميع أنا لا نعني بالاشتقاق إلا أنها ملاقية لمصادرها في اللفظ والمعنى، لا أنها متولدة منه تولد الفرع من أصله. وتسمية النحاة للمصدر والمشتق منه ـ أصلاً وفرعًا ـ ليس معناه أن أحدهما تولد من الآخر، وإنما
هو باعتبار أن أحدهما يتضمن الآخر وزيادة.
وذكر ابن القيم لهذا الاسم الشريف عشر خصائص لفظية ثم قال: وأما خصائصه المعنوية فقد قال فيها أعلم الخلق به صلى الله عليه وسلم:
--------------------------------------------
মানুষ যখন ইবাদত করে; যেমন ইবনে আব্বাস পাঠ করেছেন: {এবং তিনি আপনাকে ও আপনার উপাসনাকে বর্জন করবেন} ১, অর্থাৎ: আপনার ইবাদতকে। এর মূল হলো 'আল-ইলাহ', অর্থাৎ: মাবুদ বা উপাস্য। এরপর হামযাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে যা শব্দের 'ফা' বর্ণ (প্রথম মূলবর্ণ)। অতঃপর এর 'আইন' বর্ণ (দ্বিতীয় মূলবর্ণ) হিসেবে থাকা 'লাম' এবং সংজ্ঞাবাচক 'লাম' (আলিফ-লাম) একত্রিত হয়েছে। ফলে উচ্চারণে তারা একটি মাত্র তাসদীদযুক্ত 'লাম'-এ পরিণত হয়েছে এবং মাহাত্ম্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে একে মোটা করে উচ্চারণ করা হয়। ফলে বলা হয়েছে: আল্লাহ।
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "সঠিক অভিমত হলো, 'আল্লাহ' শব্দের মূল হলো 'আল-ইলাহ', যেমনটি সিবওয়াইহ এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীদের মত—কেবল যারা ব্যতিক্রমী মত পোষণ করেছেন তারা ব্যতীত। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার এই নামটি তাঁর সকল সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলির যাবতীয় অর্থের সংকলক।" তিনি আরও বলেন: সুহায়লী এবং তাঁর উস্তাদ আবু বকর ইবনুল আরাবী দাবি করেছেন যে: "আল্লাহর নাম কোনো শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন নয়, কারণ ব্যুৎপত্তির জন্য এমন একটি মূল উপাদানের প্রয়োজন যা থেকে শব্দটি নির্গত হবে। অথচ আল্লাহ তাআলার নাম অনাদি, আর যা অনাদি তার কোনো মূল উপাদান থাকে না, ফলে ব্যুৎপত্তি অসম্ভব।" এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যদি ব্যুৎপত্তি দ্বারা এই অর্থ উদ্দেশ্য করা হয় যে এটি অন্য কোনো মূল থেকে উৎপন্ন, তবে তা বাতিল। কিন্তু যারা ব্যুৎপত্তির কথা বলেছেন তারা এই অর্থ উদ্দেশ্য করেননি এবং এটি তাদের অন্তরে উদিতও হয়নি। বরং তারা বুঝাতে চেয়েছেন যে, এটি আল্লাহ তাআলার একটি গুণের ওপর প্রমাণবহ, আর তা হলো 'ইলাহিয়্যাত' বা উপাস্য হওয়ার গুণ; যেমনটি তাঁর অন্যান্য সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়—যেমন সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। নিঃসন্দেহে এই নামগুলো তাদের ক্রিয়ামূল থেকে ব্যুৎপন্ন এবং এগুলো অনাদি। আর যা অনাদি তার কোনো মূল উপাদান নেই। সুতরাং এসব নামের ব্যাপারে আপনাদের যে উত্তর হবে, 'আল্লাহ' নামের ব্যুৎপত্তির প্রবক্তাদের উত্তরও তাই হবে। অতঃপর সবার পক্ষ থেকে মূল উত্তর হলো, আমরা ব্যুৎপত্তি বলতে কেবল এটাই বুঝি যে এগুলো শব্দ ও অর্থের দিক থেকে তাদের ক্রিয়ামূলের সাথে সম্পৃক্ত; এটি এমন নয় যে শাখা যেভাবে মূল থেকে জন্ম নেয়, সেভাবে এগুলো উৎপন্ন হয়েছে। ব্যাকরণবিদরা মাসদার (ক্রিয়ামূল) ও তা থেকে গঠিত শব্দকে 'মূল' ও 'শাখা' হিসেবে যে নামকরণ করেছেন, তার অর্থ এই নয় যে একটি অন্যটি থেকে জন্ম লাভ করেছে, বরং
এটি এই বিবেচনায় যে একটির মাঝে অন্যটির অর্থ ও অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ইবনুল কাইয়্যিম এই সম্মানিত নামের দশটি শাব্দিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আর এর অর্থগত বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাঁকে (আল্লাহকে) সবচেয়ে বেশি জানেন এমন ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
فبالله صِفْ لي شرك المشركين، هل هو بعينه إلا هذا كما نطق به القرآن في سورة يونس، والزمر [3] ، وغيرهما من محكمات الفرقان.
1- إن غرّك أنّ الأكثر عليه، فقد حكم الله بأنهم {أَضَلُّ سَبِيلاً} ، [الفرقان، من الآية: 144] ، من الأنعام، إذ استبدلوا الشرك بالتوحيد، والضلال بالهدى، والكفر بالإسلام، نعوذ بالله من موجبات غضبه وأليم عقابه فهو السلام.
2- أو غرّك أنّ بعض مَنْ تعظمه قد رأى شيئًا من هذا أو قاله، فالخطأ جائز على مَنْ سوى الرسول من الأنام. فعليك بالرجوع إلى العصمة الذي لا سبيل إلى تطرق الخطأ إليه، وهو كلام ذي الجلال والإكرام، وسنة رسوله ـ عليه أفضل الصلاة والسلام ـ، مع ما قاله العلماء الأعلام، الذين نطقوا بكلمة التوحيد وحققوها بالأعمال والكلام.
ولم يزل الحال على ما وصفنا لك من الأمور العِظام منتشرًا في أهل البلدان المنتسبين إلى الإسلام، المارقين منه كما تمرق الرمية من السهام،
إلى أن أراد الله إزالة تلك الظلمات، وكشف البدع والضلالات، ونفي الشبهات والجهالات، وتصديق بشارة رسول رب الأرض والسموات، في قوله صلى الله عليه وسلم "إن الله يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدد لها دينها"1، رواه أبو داود (4291) ، والحاكم (4/522) ، والبيهقي في (المعرفة 52) وإسناده صحيح - على يدي مَن أقامه هذا المقام، ومنحه جزيل الفضل والإنعام، أعني به: الشيخ الإمام خلف السلف الكرام، المتبع لهدي سيد الأنام، المنافح عن دين الله في كلّ مقام، شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب، ـ أحسن الله له المآب، وضاعف له الثواب ـ، فدعا إلى الله ليلاً ونهارًا، وسرًا وجهارًا، وقام بأمر الله في الدعوة إليه، وما حابى أحدًا فيه ولا دارى، فعظم على الأكثرين وأنفوا استكبارًا، ولم يثنه ذلك عن أمر الله حتى قيض الله له أعوانًا وأنصارًا، فرفعوا ألويته وأعلامه حتى انتشرت في الخافقين انتشارًا.
--------------------------------------------
আল্লাহর কসম, আপনি আমার কাছে মুশরিকদের শিরকের বর্ণনা দিন; এটি কি হুবহু তা-ই নয় যা কুরআন সূরা ইউনুস, যুমার [৩] এবং ফুরকানের অন্যান্য সুস্পষ্ট আয়াতসমূহে বর্ণনা করেছে?
১- যদি আপনাকে এটি প্রলুব্ধ করে যে অধিকাংশ লোকই এর ওপর রয়েছে, তবে আল্লাহ তো তাদের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়েছেন যে তারা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও "অধিক পথভ্রষ্ট" [সূরা ফুরকান, ৪৪ নম্বর আয়াতের অংশ], যেহেতু তারা তাওহীদের পরিবর্তে শিরককে, হিদায়াতের পরিবর্তে পথভ্রষ্টতাকে এবং ইসলামের পরিবর্তে কুফরকে গ্রহণ করে নিয়েছে। আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর ক্রোধের কারণসমূহ এবং তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; আর তিনিই শান্তিদানকারী।
২- অথবা যদি আপনাকে এটি প্রলুব্ধ করে যে আপনার শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তি এমন কিছু দেখেছেন বা বলেছেন, তবে জেনে রাখুন যে রাসূল ব্যতীত অন্য সব মানুষের ক্ষেত্রেই ভুল হওয়া সম্ভব। সুতরাং আপনার জন্য আবশ্যক হলো সেই "নিষ্পাপ" উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা যাতে ভুল প্রবেশের কোনো পথ নেই; আর তা হলো মহিমান্বিত ও দয়াবান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ—তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—সেই সাথে বরেণ্য আলেমগণের বক্তব্য, যারা তাওহীদের বাণী উচ্চারণ করেছেন এবং তা কথা ও কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন।
আমরা আপনার কাছে যে সকল গুরুতর বিষয়ের বর্ণনা দিয়েছি, ইসলামের দাবিদার বিভিন্ন দেশের অধিবাসীদের মাঝে তা সর্বদা ছড়িয়ে ছিল, অথচ তারা ইসলাম থেকে সেভাবেই বেরিয়ে গিয়েছিল যেভাবে ধনুক থেকে তীর বেরিয়ে যায়।
অবশেষে আল্লাহ চাইলেন সেই অন্ধকারসমূহ দূর করতে, বিদআত ও পথভ্রষ্টতা উন্মোচন করতে, এবং সন্দেহ ও অজ্ঞতাকে দূরীভূত করতে; আর এর মাধ্যমে আসমান ও যমীনের রবের রাসূলের সেই সুসংবাদকে সত্যে পরিণত করতে, যাতে তিনি (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রতি শতাব্দীর শুরুতে এই উম্মতের জন্য এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন" ১। এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৪২৯১), হাকেম (৪/৫২২) এবং বায়হাকী 'আল-মা'রিফা' গ্রন্থে (৫২) এবং এর সনদ সহীহ। আর এটি সম্পন্ন হয়েছে এমন একজনের হাতে যাকে আল্লাহ এই মর্যাদায় আসীন করেছেন এবং যাকে প্রচুর অনুগ্রহ ও নিআমত দান করেছেন; আমি উদ্দেশ্য করছি: শাইখ ইমাম, সম্মানিত পূর্বসূরিদের উত্তরসূরি, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের হিদায়াতের অনুসারী, প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বীনের অতন্দ্র প্রহরী, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবকে—আল্লাহ তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল সুন্দর করুন এবং তাঁর সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করুন। তিনি দিনে ও রাতে, সংগোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি আল্লাহর দাওয়াতের কাজে আল্লাহর নির্দেশ পালন করেছেন, আর এ ক্ষেত্রে তিনি কাউকে তোষামোদ বা ছাড় দেননি। ফলে অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি অসহনীয় মনে হলো এবং তারা অহংকারের বশবর্তী হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করল। কিন্তু এটি তাঁকে আল্লাহর নির্দেশ পালনে বিরত রাখতে পারেনি, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর জন্য সাহায্যকারী ও আনসারদের নির্ধারিত করে দিলেন। তারা তাঁর পতাকাসমূহ সমুন্নত করলেন এবং তা দিগন্তজুড়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وصنف ـ رحمه الله تعالى ـ التصانيف في توحيد الأنبياء والمرسلين، والرّدّ على مَن خالفه من المشركين، ومن جملتها: كتاب (التوحيد) ، وهو كتاب فرد في معناه، لم يسبقه إليه سابق، ولا لحقه فيه لاحق، وهو الذي قصدت الكلام عليه إن شاء الله تعالى، وإن كنتُ لستُ مِمَّن يتصدّى لهذا الشأن، لكن لما رأيتُ الكتاب لم يتعرض للكلام عليه أحد يعتد به، ورأيتُ تشوق الطلبة والإخوان إلى شرح يفي ببعض ما فيه من المقاصد، أحببت أن أسعفهم بمرادهم على حسب طاقتي، "والله في عون العبد ما كان العبد في عون أخيه"1؛ ولذلك يسر الله الكلام عليه، ومنّ به من عنده
وحده لا شريك له بحوله وقوته، لا بحولي وقوتي، فناسب أن يسمى:
(تيسير العزيز الحميد في شرح كتاب التوحيد) .
وحيث أطلقت:
شيخ الإسلام، فالمراد به الإمام أبو العباس بن تيمية.
والحافظ، فالمراد به أبو الفضل بن حجر العسقلاني، صاحب (فتح الباري) وغيره ـ رحمهما الله تعالى ـ.
وأسأل الله تعالى أن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، وسببًا للفوز بجنات النعيم، إنه جواد كريم، رؤوف رحيم.
--------------------------------------------
তিনি —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— নবী ও রাসূলগণের তাওহীদ বিষয়ে এবং তাঁর বিরোধিতাকারী মুশরিকদের খণ্ডন প্রসঙ্গে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসবের অন্তর্ভুক্ত হলো: 'কিতাবুত তাওহীদ'; এটি এর ভাব ও অর্থের দিক থেকে এক অনন্য কিতাব, যার পূর্বে এর মতো কোনো কিতাব রচিত হয়নি এবং পরবর্তীতেও কেউ এর সমকক্ষ হতে পারেনি। এটি সেই কিতাব যার ওপর আমি আলোচনা করার ইচ্ছা করেছি ইনশাআল্লাহ তাআলা। যদিও আমি এই বিষয়ের উপযুক্ত ব্যক্তি নই, তবুও যখন দেখলাম এই কিতাবটির ওপর নির্ভরযোগ্য কেউ কোনো আলোচনা করেননি এবং শিক্ষার্থীরা ও দ্বীনি ভাইয়েরা এর উদ্দেশ্যসমূহ পূরণ করে এমন একটি ব্যাখ্যার জন্য গভীর আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছেন, তখন আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পছন্দ করলাম। আর "আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে"১। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা এর ওপর আলোচনা করা সহজ করে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দান করেছেন
যিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এটি তাঁরই শক্তি ও সামর্থ্যে সম্পন্ন হয়েছে, আমার কোনো শক্তি বা সামর্থ্যে নয়। তাই এর নামকরণ উপযুক্ত মনে হয়েছে:
(তিয়সীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ)।
আর যখনই আমি উল্লেখ করব:
শায়খুল ইসলাম, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ।
আর হাফিয, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে 'ফাতহুল বারী' ও অন্যান্য কিতাবের রচয়িতা আবু ফযল ইবনে হাজার আল-আসকালানী —আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—।
আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন এবং একে জান্নাতুন নাঈম লাভের অসিলা বানিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা, পরম দয়ালু ও অতিশয় করুণাময়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
افتتح المصنِّف رحمه الله كتابه بالبسملة، اقتداء بالكتاب العزيز، وعملاً بالحديث: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه ببسم الله الرحمن الرحيم فهو أقطع"1. رواه الحافظ عبد القادر الرهاوي في (الأربعين) من حديث أبي هريرة مرفوعًا، وأخرجه الخطيب في (الجامع 12/10) بنحوه.
فإن قلت: هلا جمع المصنف بين البسملة والحمدلة، لِمَا روى ابن ماجه (1894) ، والبيهقي (3/208) عن أبي هريرة مرفوعًا: " كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه بالحمد لله فهو أقطع" 2. وفي رواية لأحمد (8686) :" لا يفتح بذكر الله فهو أبتر وأقطع " 3.
قيل: المراد الافتتاح بما يدل على المقصود مِن حمد الله والثناء عليه، لأن الحمد متعين، لأن القدر الذي يجمع ذلك هو ذكر الله وقد حصل بالبسملة.
وأيضا فليس في الحديث ما يدلّ على أنه تتعين كتابتها مع النطق بها، فقد يكون المصنِّف نطق بذلك في نفسه4.
واتفق العلماء على أن الجار والمجرور متعلق بمحذوف قدّره الكوفيون فعلاً مقدمًا، والتقدير: أبدأ، وقدّره البصريون اسمًا مقدمًا، والتقدير: ابتدائي كائن، أو مستقر. قال: فالجار والمجرور في موضع نصب على الأوّل، وعلى الثّاني في موضع رفع. وذكر ابن كثير أن القولين متقاربان، وكلٌّ قد ورد به القرآن.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) মহাগ্রন্থের (কুরআন) অনুসরণ করে এবং হাদিসের ওপর আমল করে তাঁর কিতাবটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর নামে (বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম) শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।"১ হাফেজ আব্দুল কাদির আর-রাহাবি তাঁর (আল-আরবাঈন) গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং খতিব (আল-বাগদাদি) তাঁর (আল-জামিউ ১২/১০) কিতাবে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন: গ্রন্থকার কেন বিসমিল্লাহ এবং হামদালাহকে (আল্লাহর প্রশংসা) একত্রে আনলেন না? যেহেতু ইবনে মাজাহ (১৮৯৪) এবং বায়হাকি (৩/২০৮) আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা।"২ আর আহমাদ-এর (৮৬৮৬) এক বর্ণনায় আছে: "যা আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে শুরু করা হয় না, তা অসম্পূর্ণ ও লেজকাটা।"৩
উত্তরে বলা হয়েছে: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান নির্দেশ করে এমন বিষয় দিয়ে শুরু করা; কারণ প্রশংসা তো সুনির্দিষ্ট, আর যে মূল বিষয়টি এই সবকিছুকে শামিল করে তা হলো আল্লাহর জিকির, আর তা বিসমিল্লাহর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।
এছাড়া হাদিসে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা নির্দেশ করে যে, মুখে পাঠ করার পাশাপাশি তা লেখাও আবশ্যক হওয়া; হতে পারে গ্রন্থকার তা মনে মনে উচ্চারণ করেছেন।৪
উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, 'জার' ও 'মাজরুর' (অব্যয় ও তার পরবর্তী শব্দ) একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। কুফাবাসীরা একে একটি উহ্য ক্রিয়াপদ হিসেবে গণ্য করেছেন, যার উহ্য রূপ হলো: 'আমি শুরু করছি'। আর বসরার ব্যাকরণবিদগণ একে একটি উহ্য বিশেষ্য পদ হিসেবে গণ্য করেছেন, যার উহ্য রূপ হলো: 'আমার শুরু করা হচ্ছে' বা 'স্থির রয়েছে'। তিনি বলেন: প্রথম মত অনুযায়ী জার-মাজরুর 'নসব'-এর স্থলে এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী 'রাফা'-এর স্থলে রয়েছে। ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে, এই উভয় মতই কাছাকাছি এবং কুরআনে উভয়েরই প্রয়োগ বা নজির রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"لا أحصي ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك" 1، وكيف تحصى خصائص اسم مسمَّاه؛ كل كمال على الإطلاق وكل مدح وكل حمد وكل ثناء وكل مجد وكل جلال وكل إكرام وكل عز وكل جمال وكل خير وإحسان وجود وبر وفضل فله ومنه؟! فما ذكر هذا الاسم في قليل إلا كثّره، ولا عند خوف إلا أزاله، ولا عند كرب إلا كشفه، ولا عند هم وغم إلا فرّجه، ولا عند ضيق إلا وسعه، ولا تعلق به ضعيف إلا أفاده القوة، ولا ذليل إلا أناله العز، ولا فقير إلا أصاره غنيًا، ولا مستوحش إلا آنسه، ولا مغلوب إلا أيده ونصره، ولا مضطر إلا كشف ضره، ولا شريد إلا آواه. فهو الاسم الذي تكشف به الكربات، وتستنْزل به البركات والدعوات، وتقال به العثرات، وتستدفع به السيئات، وتستجلب به الحسنات. وهو الاسم الذي به قامت السموات والأرض، وبه أنزلت الكتب، وبه أرسلت الرسل، وبه شرعت الشرائع، وبه قامت الحدود، وبه شرع الجهاد، وبه انقسمت الخليقة إلى السعداء والأشقياء، وبه حقت {الْحَاقَّةُ} ، و {وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ} ، وبه وضعت {الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ} ، ونصب الصراط، وقام سوق الجنة والنار، وبه عبد رب العالمين وحمد، وبحقه بعثت الرسل، وعنه السؤال في القبر ويوم البعث والنشور، وبه الخصام، وإليه المحاكمة، وفيه الموالاة والمعاداة، وبه سعد مَنْ عرفه وقام بحقه، وبه شقي مَنْ جهله وترك حقه، فهو سر الخلق والأمر، وبه قاما وثبتا، وإليه انتهيا، فالخلق والأمر به وإليه ولأجله، فما وجد خلق ولا أمر ولا ثواب ولا عقاب إلا مبتدئًا منه، منتهيًا إليه، وذلك موجبه ومقتضاه، {رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} 2 إلى آخر كلامه رضي الله عنه.
(الرحمن الرحيم) ، قال ابن كثير: اسمان مشتقان من الرحمة على وجه المبالغة، و (رحمن) أشد مبالغة من (رحيم) . قال ابن عباس: " وهما اسمان رقيقان؛ أحدهما أرق من الآخر ". أي: أوسع رحمة. وقال
--------------------------------------------
আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারছি না; আপনি তেমন, যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন। ১ আর এমন এক সত্তার নামের বৈশিষ্ট্য কীভাবে গণনা করা সম্ভব, যাঁর জন্য এবং যাঁর পক্ষ থেকে সকল নিরঙ্কুশ পূর্ণতা, সকল স্তুতি, সকল প্রশংসা, সকল গুণগান, সকল গৌরব, সকল মহিমা, সকল সম্মান, সকল প্রতাপ, সকল সৌন্দর্য, সকল কল্যাণ, ইহসান, দানশীলতা, পুণ্য ও অনুগ্রহ নিবেদিত?! এই নাম সামান্য জিনিসের সাথে যুক্ত হলে তা বৃদ্ধি পায়, ভয়ের সময় পঠিত হলে তা দূর হয়ে যায়, সংকটের সময় পঠিত হলে তা মোচন হয়, দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগের সময় পঠিত হলে তা লাঘব হয়, সংকীর্ণতার সময় পঠিত হলে তা প্রশস্ত হয়। কোনো দুর্বল ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তাকে শক্তি দান করে, কোনো লাঞ্ছিত ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তাকে সম্মান দান করে, কোনো অভাবী ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তাকে অভাবমুক্ত করে, কোনো একাকী ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তাকে সঙ্গ দান করে, কোনো পরাজিত ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তাকে সাহায্য ও বিজয় দান করে, কোনো নিরুপায় ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তার কষ্ট দূর করে এবং কোনো আশ্রয়হীন ব্যক্তি এর আশ্রয় নিলে তা তাকে আশ্রয় দান করে। এটিই সেই নাম যার মাধ্যমে বিপদ-আপদ দূর হয়, যার উসিলায় বরকত ও দোয়ার কবুলিয়াত অবতীর্ণ হয়, যার মাধ্যমে স্খলনসমূহ ক্ষমা করা হয়, যার মাধ্যমে পাপসমূহ প্রতিহত করা হয় এবং নেকিসমূহ অর্জিত হয়। এটিই সেই নাম যার ওপর আসমান ও জমিন দণ্ডায়মান, যার মাধ্যমে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, যার মাধ্যমে রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছেন, যার মাধ্যমে শরিয়ত নির্ধারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে দণ্ডবিধি (হুদুদ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমে জিহাদ বিধিবদ্ধ হয়েছে। এর মাধ্যমেই সৃষ্টিজগত সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগ্যবান—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে, এর মাধ্যমেই ‘অবশ্যম্ভাবী বিষয়’ (আল-হাক্কাহ) অনিবার্য হয়েছে এবং ‘মহাঘটনা’ (আল-ওয়াকিয়াহ) সংঘটিত হয়েছে, এর মাধ্যমেই ‘ন্যায়বিচারের তুলাদণ্ডসমূহ’ (আল-মাওয়াযিনুল কিসত) স্থাপন করা হয়েছে, সিরাত (পুলসিরাত) স্থাপন করা হয়েছে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমেই রব্বুল আলামীনের ইবাদত ও প্রশংসা করা হয়, এর হকের মাধ্যমেই রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছেন, কবর এবং পুনরুত্থান ও হাশরের ময়দানে এ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, এর মাধ্যমেই বিতর্ক হয়, এর কাছেই বিচার সোপর্দ করা হয়, এর ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব ও শত্রুতা নির্ধারিত হয়। যে ব্যক্তি এই নামকে চিনেছে এবং এর হক আদায় করেছে সে সৌভাগ্যবান হয়েছে, আর যে ব্যক্তি এর ব্যাপারে অজ্ঞ থেকেছে এবং এর হক বর্জন করেছে সে দুর্ভাগা হয়েছে। এটিই সৃষ্টি ও আদেশের রহস্য, এ দুটির মাধ্যমেই স্থায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে এবং এ দুটির পরিসমাপ্তিও এর দিকেই। সুতরাং সৃষ্টি ও আদেশ এর মাধ্যমে, এর দিকে এবং এরই জন্য। অতএব সৃষ্টি, আদেশ, সওয়াব কিংবা আজাব—যাই বিদ্যমান রয়েছে তার প্রতিটিই তাঁর থেকে শুরু হয়েছে এবং তাঁর কাছেই শেষ হবে; আর এটাই তার কারণ ও দাবি। “হে আমাদের রব! আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র; সুতরাং আপনি আমাদের আগুনের আজাব থেকে রক্ষা করুন।” ২—তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আলোচনার শেষ পর্যন্ত।
(আর-রাহমান আর-রাহীম), ইবনে কাসীর বলেন: নাম দুটি অতিশয়ার্থবোধক শব্দ হিসেবে ‘রহমত’ (দয়া) শব্দ থেকে উৎপন্ন। আর ‘রাহমান’ শব্দটি ‘রাহীম’ অপেক্ষা অধিকতর অতিশয়ার্থবোধক। ইবনে আব্বাস বলেন: “এ দুটি অতি কোমল নাম; যার একটি অপরটির চেয়ে বেশি কোমল।” অর্থাৎ: অধিকতর প্রশস্ত রহমতপূর্ণ। এবং তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن المبارك: " الرحمن إذا سئل أعطى، والرحيم إذا لم يسأل يغضب".
قلت: كأن فيه إشارة إلى معنى كلام ابن عباس؛ لأن رحمته تعالى تغلب غضبه، وعلى هذا فالرحمن أوسع معنى من الرحيم كما يدل عليه زيادة البناء.
وقال أبو علي الفارسي: (الرحمن) اسم عام في جميع أنواع الرحمة يختص به الله تعالى، و (الرحيم) إنما هو في جهة المؤمنين. قال الله تعالى: {وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَحِيماً} 1، ونحوه قال بعض السلف. ويشكل عليه قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 2. وقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث: " رحمن الدنيا والآخرة ورحيمهما ".
فالصواب ـ إن شاء الله تعالى ـ ما قاله ابن القيم أن الرحمن دال على الصفة القائمة به سبحانه، والرحيم دال على تعلقها بالمرحوم، فكان الأول للوصف والثاني للفعل، فالأول دال على أن الرحمة صفته، والثاني دال على أنه يرحم خلقه برحمته. وإذا أردت فهم هذا فتأمل قوله تعالى: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيماً} {نَّهُ بِهِمْ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 3 4 ولم يجئ قط (رحمن بهم) ، فعلم أن رحمن هو الموصوف بالرحمة، و (رحيم) ، هو الراحم برحمته. والرحمن الرحيم نعتان لله تعالى.
واعترض بورود اسم الرحمن غير تابع لاسم قبله. قال تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 5 فهو علم فكيف ينعت به؟
والجواب ما قاله ابن القيم: إن أسماء الرب تعالى هي أسماء ونعوت؛ فإنها دالة على صفات كماله، فلا تنافي فيها بين العلمية والوصفية، فـ (الرحمن) اسمه تعالى ووصفه تعالى لا ينافي اسميته، فمن حيث هو صفة جرى تابعًا لاسم الله تعالى، ومن حيث هو اسم ورد في القرآن غير تابع، بل ورد الاسم العلم. ولما كان هذا الاسم مختصًا به سبحانه حسن مجيئه مفردًا غير تابع كمجيء اسم الله، وهذا لا ينافي دلالته على صفة الرحمة كاسم الله، فإنه دال
--------------------------------------------
ইবনুল মুবারক বলেন: "আর-রাহমান তিনি, যাঁর কাছে চাওয়া হলে তিনি দান করেন; আর আর-রাহীম তিনি, যাঁর কাছে না চাইলে তিনি রাগান্বিত হন।"
আমি বলছি: এতে ইবনে আব্বাসের কথার অর্থের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে হয়; কারণ মহান আল্লাহর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর প্রবল থাকে। আর এই হিসেবে ‘আর-রাহমান’ শব্দটি ‘আর-রাহীম’ অপেক্ষা অধিক প্রশস্ত অর্থবোধক, যেমনটি শব্দের গঠনশৈলী বৃদ্ধি পাওয়াও নির্দেশ করে।
আবু আলী আল-ফারিসী বলেন: ‘আর-রাহমান’ সকল প্রকার দয়ার ক্ষেত্রে একটি ব্যাপক নাম যা মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, আর ‘আর-রাহীম’ শব্দটি কেবল মুমিনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} ১, আর একদল সালাফও অনুরূপ কথা বলেছেন। তবে মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত দয়াপরবশ ও পরম দয়ালু} ২ এবং হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী "দুনিয়া ও আখেরাতের রহমান এবং সেই উভয়ের রহীম"—এই অভিমতের ওপর জটিলতা সৃষ্টি করে।
অতএব সঠিক অভিমত হলো—ইনশাআল্লাহ—ইবনুল কাইয়্যিম যা বলেছেন: ‘আর-রাহমান’ মহান আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর ‘আর-রাহীম’ দয়াযোগ্য পাত্রের সাথে সেই গুণের সম্পর্কের ওপর প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং প্রথমটি গুণের বর্ণনায় আর দ্বিতীয়টি কর্মের বর্ণনায়। প্রথমটি প্রমাণ করে যে রহমত বা দয়া তাঁর গুণ, আর দ্বিতীয়টি প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর দয়া করেন। আপনি যদি বিষয়টি বুঝতে চান তবে মহান আল্লাহর এই বাণীগুলো গভীরভাবে চিন্তা করুন: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু} {নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াপরবশ ও পরম দয়ালু} ৩ ৪। কুরআনে কখনোই ‘তাদের প্রতি রহমান’ হিসেবে আসেনি, ফলে জানা গেল যে, ‘আর-রাহমান’ হলেন তিনি যিনি দয়ার গুণে গুণান্বিত, আর ‘আর-রাহীম’ হলেন তিনি যিনি তাঁর দয়ার মাধ্যমে করুণা করেন। আর আর-রাহমান ও আর-রাহীম হলো মহান আল্লাহর দুটি গুণবাচক নাম।
তবে একটি আপত্তি উত্থাপন করা হয় যে, ‘আর-রাহমান’ নামটি পূর্ববর্তী কোনো নামের অনুসারী না হয়েও ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর-রাহমান আরশের উপর উঠেছেন} ৫। সুতরাং এটি যদি একটি মূল নাম হয়, তবে তা দিয়ে কীভাবে গুণ বর্ণনা করা যায়?
এর উত্তর হলো ইবনুল কাইয়্যিম যা বলেছেন: মহান রবের নামসমূহ একইসাথে নাম এবং গুণ; কেননা এগুলো তাঁর পূর্ণতা প্রকাশক গুণাবলির ওপর প্রমাণ পেশ করে। সুতরাং এতে বিশেষ্য হওয়া এবং গুণবাচক হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। অতএব ‘আর-রাহমান’ তাঁর নাম এবং তাঁর গুণ; তাঁর গুণ হওয়া তাঁর নাম হওয়াকে অস্বীকার করে না। সুতরাং গুণ হিসেবে এটি ‘আল্লাহ’ নামের অনুসারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আবার নাম হিসেবে এটি কুরআনে অনুসারী না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে এসেছে, বরং মূল নাম হিসেবেই এসেছে। যেহেতু এই নামটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট, তাই এটি ‘আল্লাহ’ নামের মতো কোনো নামের অনুসারী না হয়ে এককভাবে আসা সমীচীন হয়েছে। আর এটি দয়ার গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না, যেমনটি ‘আল্লাহ’ নামটিও গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে, কেননা এটি প্রমাণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
على صفة الألوهية فلم يجئ قط تابعا لغيره بل متبوعًا، وهذا بخلاف العليم والقدير والسميع والبصير ونحوها، ولهذا لا تجيء هذه مفردة بل تابعة.
قلت: قوله عن اسم الله: (ولم يجئ قط تابعًا لغيره) ، بل لقد جاء في قوله تعالى: {إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيد اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَ [مَا فِي] الأَرْضِ} 1، على قراءة الجر، وجواب ذلك من كلامه المتقدم، فيقال فيه ما قاله في اسم الرحمن.
--------------------------------------------
এটি উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার গুণের কারণে, তাই এটি কখনো অন্য কোনো শব্দের অনুসারী হয়ে আসেনি বরং এটিই সর্বদা অনুসৃত হয়েছে। এটি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা এবং সর্বদ্রষ্টা ও এই জাতীয় অন্যান্য নামের বিপরীত; কারণ এই নামগুলো স্বতন্ত্রভাবে আসে না বরং অনুসারী হিসেবে আসে।
আমি বলি: আল্লাহর নাম সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি: (এটি কখনো অন্য কোনো শব্দের অনুসারী হয়ে আসেনি), বরং এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে এসেছে: {পরাক্রমশালী, প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে, যাঁর মালিকানাধীন যা কিছু আসমানে রয়েছে এবং যা কিছু জমিনে রয়েছে} ১, যেখানে শব্দটি 'জের' যোগে পঠিত হয়েছে। এর উত্তর তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকেই দেওয়া যায়; অর্থাৎ এক্ষেত্রে তাই বলা হবে যা তিনি 'আর-রাহমান' নাম সম্পর্কে বলেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[كتاب التوحيد]أنواع التوحيد:
(النوع الأول) : توحيد الربوبية والملك.
الـ (كتاب) مصدر كتب يكتب كتابًا وكتابة وكتبًا، ومدار المادة على الجمع. ومنه تكتب بنو فلان: إذا اجتمعوا. والكتيبة لجماعة الخيل، والكتابة بالقلم لاجتماع الكلمات والحروف، وسمي الكتاب كتابًا لجمعه ما وضع له، ذكره غير واحد.
و (التوحيد) : مصدر وحد يوحد توحيدًا، أي: جعله واحدًا، وسمي دين الإسلام توحيدًا؛ لأن مبناه على أن الله واحد في ملكه وأفعاله لا شريك له، وواحد في ذاته وصفاته لا نظير له، وواحد في إلهيته وعبادته لا ند له، وإلى هذه الأنواع الثلاثة ينقسم توحيد الأنبياء، والمرسلين الذين جاؤوا به من عند الله، وهي متلازمة، كل نوع منها لا ينفك عن الآخر، فمن أتى بنوع منها ولم يأت بالآخر، فما ذاك إلا أنه لم يأت به على وجه الكمال المطلوب. وإن شئت قلت: التوحيد نوعان: توحيد في المعرفة والإثبات ـ وهو توحيد الربوبية والأسماء والصفات ـ، وتوحيد في الطلب والقصد؛ وهو توحيد الإلهية والعبادة. ذكره شيخ الإسلام، وابن القيم وذكر معناه غيرهما.
(النوع الأول) : توحيد الربوبية والملك:
وهو: الإقرار بأن الله تعالى رب كل شيء ومالكه وخالقه ورازقه، وأنه المحيي المميت النافع الضار المتفرد بإجابة الدعاء عند الاضطرار، الذي له الأمر كله، وبيده الخير كله، القادر على ما يشاء، ليس له في ذلك شريك، ويدخل في ذلك الإيمان بالقدر، وهذا التوحيد لا يكفي العبد في حصول الإسلام، بل لا بد أن يأتي مع ذلك بلازمه من توحيد الإلهية، لأن الله تعالى حكى عن المشركين أنهم مقرون بهذا التوحيد لله وحده، قال تعالى: {قُلْ مَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ أَمَّنْ يَمْلِكُ السَّمْعَ
[তাওহীদের কিতাব]তাওহীদের প্রকারভেদ:
(প্রথম প্রকার) : তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ এবং রাজত্ব।
'কিতাব' শব্দটি 'কাতাবা-ইয়াকতুবু-কিতাবান-কিতাবাতান-কুতবান' এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর এই শব্দমূলের মূল অর্থ হলো একত্রিত করা। এ থেকেই বলা হয় 'তাকাত্তাবা বানু ফুলান' (অমুক গোত্র একত্রিত হয়েছে), যখন তারা একত্রিত হয়। আর অশ্বারোহী বাহিনীকে 'কাতিবাহ' বলা হয় তাদের একত্রিত হওয়ার কারণে। কলম দিয়ে লেখাকে 'কিতাবাত' বলা হয় শব্দ ও অক্ষরের সমষ্টি হওয়ার কারণে। আর কিতাবকে 'কিতাব' নামকরণ করা হয়েছে যা এর অন্তর্ভুক্ত তার সমষ্টি হওয়ার কারণে। একাধিক আলিম একথাই উল্লেখ করেছেন।
আর 'তাওহীদ' শব্দটি 'ওয়াহ্হাদা-ইউওয়াহ্হিডু-তাওহীদুন' এর মাসদার, যার অর্থ: কোনো কিছুকে এক বানানো। ইসলাম ধর্মকে তাওহীদ বলা হয়; কারণ এর ভিত্তি হলো আল্লাহ তাঁর রাজত্ব ও কার্যাবলীতে এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে এক, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই; এবং তিনি তাঁর উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) ও ইবাদতে এক, তাঁর কোনো সমতুল্য নেই। আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা নবী ও রাসূলগণের তাওহীদ এই তিন প্রকারে বিভক্ত। এগুলো একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্য; এক প্রকার অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না। কেউ যদি এর কোনো এক প্রকার পালন করে এবং অন্যটি বর্জন করে, তবে সে কাঙ্ক্ষিত পূর্ণাঙ্গরূপে তা নিয়ে আসেনি। আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: তাওহীদ দুই প্রকার: পরিচয় ও স্বীকৃতির তাওহীদ—যা হলো তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ এবং আল-আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলী)—এবং অন্বেষণ ও সংকল্পের তাওহীদ; যা হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং ইবাদত। শাইখুল ইসলাম এবং ইবনুল কাইয়্যিম এটি উল্লেখ করেছেন এবং অন্যরাও এর অর্থ বর্ণনা করেছেন।
(প্রথম প্রকার) : তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ এবং রাজত্ব:
তা হলো: এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক, মালিক, স্রষ্টা এবং রিযিকদাতা। তিনি জীবনদানকারী, মৃত্যুদানকারী, উপকারকারী ও অপকারকারী। তিনি চরম বিপদে দুআ কবুলের ক্ষেত্রে একক। সমস্ত বিষয় তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন, যাবতীয় কল্যাণ তাঁরই হাতে, তিনি যা ইচ্ছা তা করতে সক্ষম, এতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। এর মধ্যে তাকদীরের প্রতি ঈমানও অন্তর্ভুক্ত। বান্দার ইসলাম গ্রহণের জন্য শুধুমাত্র এই তাওহীদ যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে এর অনিবার্য দাবি তাওহীদুল উলুহিয়্যাহও নিয়ে আসতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তারা আল্লাহর জন্য এই তাওহীদের স্বীকৃতি দিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দান করেন? অথবা কে শ্রবণশক্তির মালিক..."
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالأَبْصَارَ وَمَنْ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَمَنْ يُدَبِّرُ الأَمْرَ فَسَيَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلا تَتَّقُونَ} 1. وقال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَهُمْ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} 2.وقال: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} 3.وقال تعالى: {أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلاً مَا تَذَكَّرُونَ} 4. فهم كانوا يعلمون أن جميع ذلك لله وحده ولم يكونوا بذلك مسلمين بل قال تعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَاّ وَهُمْ مُشْرِكُونَ} 5. قال مجاهد في الآية: إيمانهم بالله قولهم: إن الله خلقنا ويرزقنا ويميتنا، فهذا إيمان مع شرك عبادتهم غيره. رواه ابن جرير وابن أبي حاتم.
وعن ابن عباس وعطاء والضحاك نحو ذلك، فتبين أن الكفار يعرفون الله ويعرفون ربوبيته، وملكه وقهره، وكانوا مع ذلك يعبدونه ويخلصون له أنواعًا من العبادات كالحج والصدقة والذبح والنذر والدعاء وقت الاضطرار ونحو ذلك.
ويدّعون أنهم على ملة إبراهيم عليه السلام، فأنزل الله تعالى: {مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيّاً وَلا نَصْرَانِيّاً وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفاً مُسْلِماً وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 6 وبعضهم يؤمن بالبعث والحساب، وبعضهم يؤمن بالقدر.
كما قال زهير:
يؤخّر فيوضع في كتاب فيدخر
ليوم الحساب أو يعجل فينقم.
وقال عنترة:
يا عبل أين من المنية مهرب
إن كان ربي في السماء قضاها.
ومثل هذا يوجد في أشعارهم، فوجب على كل من عقل عن الله تعالى أن ينظر ويبحث عن السبب الذي أوجب سفك دمائهم، وسبي نسائهم، وإباحة أموالهم، مع هذا الإقرار والمعرفة، وما ذاك إلا لإشراكهم في توحيد العبادة الذي هو معنى لا إله إلا الله.
--------------------------------------------
...এবং দৃষ্টিসমূহ, আর কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন, আর কে সকল বিষয় পরিচালনা করেন? তখন তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ। তবে আপনি বলুন, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?} ১. এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন কে তাদের সৃষ্টি করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ} ২. এবং তিনি বলেন: {আর আপনি যদি তাদের জিজ্ঞেস করেন কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং তা দিয়ে জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে আল্লাহ} ৩. এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কষ্ট দূর করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করেন? আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো} ৪. সুতরাং তারা জানত যে এ সমস্ত কিছু একমাত্র আল্লাহর জন্য, তবুও তারা এর মাধ্যমে মুসলিম হয়ে যায়নি। বরং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না তবে এমতাবস্থায় যে তারা শিরককারী} ৫. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন: আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান হলো তাদের এই কথা বলা যে: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিজিক দেন এবং আমাদের মৃত্যু দান করেন। সুতরাং এটি হচ্ছে অন্যের ইবাদত করার মাধ্যমে শিরকের সাথে মিশ্রিত ঈমান। ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবনে আব্বাস, আতা এবং দাহহাক থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে কাফেররা আল্লাহকে চিনত এবং তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব), রাজত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে জানত। তা সত্ত্বেও তারা তাঁর ইবাদত করত এবং তাঁর জন্য বিভিন্ন প্রকার ইবাদত একনিষ্ঠভাবে পালন করত যেমন হজ্জ, সাদাকা, কোরবানি, মানত এবং বিপদের সময় দোয়া ও এই জাতীয় অন্যান্য ইবাদত।
তারা দাবি করত যে তারা ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের ওপর রয়েছে। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {ইব্রাহিম ইয়াহুদি ছিলেন না এবং নাসারাও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না} ৬ এবং তাদের কেউ কেউ পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশে বিশ্বাস করত এবং কেউ কেউ তাকদিরে বিশ্বাস করত।
যেমনটি জুহাইর বলেছেন:
বিলম্বিত করা হয় এবং একটি কিতাবে রাখা হয়, ফলে তা সঞ্চিত থাকে
হিসাব দিবসের জন্য, অথবা ত্বরান্বিত করা হয় এবং প্রতিশোধ নেয়া হয়।
এবং আনতারা বলেছেন:
হে আবলা, মৃত্যু থেকে পলায়নের পথ কোথায়
যদি আকাশে আমার রব তা ফয়সালা করে থাকেন।
তাদের কবিতায় এই ধরণের অনেক উদাহরণ পাওয়া যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বোধসম্পন্ন, তার জন্য আবশ্যক হলো সেই কারণটি দেখা ও অনুসন্ধান করা যা এই স্বীকৃতি ও জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও তাদের রক্তপাত করা, তাদের নারীদের বন্দি করা এবং তাদের ধন-সম্পদ বৈধ করাকে অবধারিত করেছিল। আর তা কেবল ছিল ইবাদতের তাওহিদের ক্ষেত্রে তাদের শিরক করার কারণে, যা হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর মূল অর্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
(النوع الثاني) : توحيد الأسماء والصفات:
وهو الإقرار بأن {الله بكل شيء عليم} ، و {على كل شيء قدير} ، وأنه {الحي القيوم الذي لا تأخذه سنة ولا نوم} ، له المشيئة النافذة، والحكمة البالغة، وأنه {سميع بصير} ، {رؤوف رحيم} ، {على العرش استوى} ، وعلى الملك احتوى، وأنه {الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ} ، [الحشر، من الآية: 23] . إلى غير ذلك من الأسماء الحسنى، والصفات العلى.
وهذا أيضًا لا يكفي في حصول الإسلام، بل لا بد مع ذلك من الإتيان بلازمه، من توحيد الربوبية والإلهية. والكفار يقرون بجنس هذا النوع، وإن كان بعضهم قد ينكر بعض ذلك، إما جهلاً، وإما عنادًا، كما قالوا: لا نعرف الرحمن إلا رحمن اليمامة، فأنزل الله فيهم: {وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ} 1.
قال الحافظ ابن كثير: والظاهر أن إنكارهم هذا، إنما هو جحود وعناد وتعنت في كفرهم، فإنه قد وجد في بعض أشعار الجاهلية تسمية الله بالرحمن.
قال الشاعر:
وما يشأ الرحمن يعقد ويطلق
وقال الآخر:
ألا قضب الرحمن ربي يمينها
وهما جاهليان.
وقال زهير:
فلا تكتمن الله ما في نفوسكم ليخفى
ومهما يكتم الله يعلم
قلت: ولم يعرف عنهم إنكار شيء من هذا التوحيد إلا في اسم الرحمن خاصة، ولو كانوا ينكرونه لردّوا على النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، كما ردّوا عليه توحيد الإلهية. فقالوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجابٌ} 2، لاسيما السور المكية مملوءة بهذا التوحيد.
[ (النوع الثالث) : توحيد الإلهية:]
المبني على إخلاص التأله لله تعالى، من المحبة والخوف، والرجاء والتوكل، والرغبة والرهبة، والدعاء لله وحده. وينبني على ذلك إخلاص العبادات كلها ظاهرها
--------------------------------------------
(দ্বিতীয় প্রকার): নাম ও গুণাবলির তাওহিদ:
তা হলো এই স্বীকৃতি প্রদান করা যে, {আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ} এবং {তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান}। আর তিনি হলেন {চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক, যাকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না}। তাঁরই রয়েছে কার্যকর ইচ্ছা এবং সুনিপুণ প্রজ্ঞা। আর তিনি হলেন {সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা}, {অত্যন্ত দয়ালু, পরম করুণাময়}। তিনি {আরশের উপর উঠেছেন} এবং সমগ্র রাজত্বের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছেন। আর তিনি হলেন {রাজাধিরাজ, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল প্রতাপান্বিত, অতীব মহিমান্বিত। তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।} [সুরা হাশর, আয়াত: ২৩-এর অংশ]। এ ছাড়াও আরও অনেক সুন্দর নাম ও উচ্চতর গুণাবলি রয়েছে।
আর এটিও ইসলাম অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এর সাথে এর অপরিহার্য দাবি—রবুবিয়াত ও উলুহিয়াতের তাওহিদ নিয়ে আসাও আবশ্যক। আর কাফিররা এই প্রকারের মূল বিষয়গুলো স্বীকার করত, যদিও তাদের কেউ কেউ এর কিছু অংশ অস্বীকার করত—হয় অজ্ঞতাবশত নতুবা হঠকারিতাবশত। যেমন তারা বলেছিল: ‘আমরা ইয়ামামার রহমান ছাড়া অন্য কোনো রহমানকে চিনি না।’ তখন আল্লাহ তাদের সম্পর্কে অবতীর্ণ করেন: {অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে।} ১।
হাফেজ ইবনে কাসির বলেন: স্পষ্টত তাদের এই অস্বীকার মূলত তাদের কুফরির ক্ষেত্রে অবাধ্যতা, হঠকারিতা ও জেদবশত ছিল। কেননা জাহেলি যুগের কিছু কবিতায় আল্লাহকে ‘রহমান’ নামে অভিহিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
কবি বলেছেন:
রহমান যা চান তা-ই তিনি আবদ্ধ করেন এবং মুক্ত করেন।
অন্য একজন বলেছেন:
জেনে রেখো, আমার রব রহমান তার ডান হাতটি কেটে দিয়েছেন।
তারা দুজনেই জাহেলি যুগের কবি।
জুহাইর বলেছেন:
তোমাদের অন্তরে যা আছে তা আল্লাহর কাছে গোপন করো না যাতে তা লুকিয়ে থাকে,
আর যা কিছুই আল্লাহর কাছে গোপন করা হোক না কেন তিনি তা জানেন।
আমি বলছি: বিশেষ করে ‘রহমান’ নাম ছাড়া এই তাওহিদের অন্য কোনো কিছু তারা অস্বীকার করেছে বলে জানা যায় না। যদি তারা এটি অস্বীকার করত, তবে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এর প্রতিবাদ করত, যেমনটি তারা উলুহিয়াতের তাওহিদের ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করেছিল। তারা বলেছিল: {সে কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? এটি তো এক আশ্চর্যের বিষয়!} ২। বিশেষ করে মক্কি সুরাগুলো এই তাওহিদের বর্ণনায় ভরপুর।
[(তৃতীয় প্রকার): উলুহিয়াতের তাওহিদ:]
যা মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয়, আশা, ভরসা, আগ্রহ, ভীতি এবং শুধুমাত্র আল্লাহর নিকট দোয়ার মাধ্যমে একনিষ্ঠভাবে দাসত্ব করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এর ওপর ভিত্তি করেই সমস্ত প্রকাশ্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وباطنها لله وحده لا شريك له، لا يجعل فيها شيئًا لغيره، لا لملك مقرَّب، ولا لنبي مرسّل، فضلاً عن غيرهما. وهذا التوحيد هو الذي تضمنه قوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} 1. وقوله تعالى: {فَاعْبُدْهُ وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} 2. وقوله تعالى: {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} 3. وقوله تعالى: {رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلمُ لَهُ سَمِيّاً} 4. وقوله تعالى: {عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} 5. وقوله تعالى: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لا يَمُوتُ وَسَبِّحْ بِحَمْدِهِ وَكَفَى بِهِ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيراً} 6. وقوله: {وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ} 7. وهذا التوحيد هو أول الدين وآخره، وباطنه وظاهره، وهو أول دعوة الرسل وآخرها، وهو معنى قول: لا إله إلا الله. فإن الإله هو المألوه المعبود بالمحبة، والخشية، والإجلال، والتعظيم، وجميع أنواع العبادة، ولأجل هذا التوحيد خلقت الخليقة، وأرسلت الرسل، وأنزلت الكتب، وبه افترق الناس إلى مؤمنين وكفار، وسعداء أهل الجنة وأشقياء أهل النار. قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} 8. فهذا أول أمر في القرآن. وقال تعالى: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحاً إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 9.
فهذا دعوة أول رسول بعد حدوث الشرك. وقال هود لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 10. وقال صالح لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 11. وقال شعيب لقومه: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 12. وقال إبراهيم عليه السلام لقومه: {إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 13. وقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} 14 وقال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ
--------------------------------------------
এবং এর অভ্যন্তরীণ দিক কেবল আল্লাহর জন্য, যাঁর কোনো শরিক নেই। এতে তিনি অন্য কারো জন্য কোনো অংশ রাখেন না, তা কোনো নিকটতম ফেরেশতা হোক বা প্রেরিত নবী—অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এই তাওহীদই আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।" ১। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁরই ওপর তাওয়াক্কুল করুন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে তোমার রব গাফেল নন।" ২। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন, 'আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর তাওয়াক্কুল করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব'।" ৩। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব। অতএব আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্যশীল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমকক্ষ কাউকে জানেন?" ৪। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তাঁরই ওপর তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি।" ৫। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর তাওয়াক্কুল করুন যিনি কখনো মরবেন না এবং তাঁর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করুন। নিজ বান্দাদের পাপ সম্পর্কে খবরদার হিসেবে তিনিই যথেষ্ট।" ৬। এবং তাঁর বাণী: "আর আপনি আপনার রবের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) উপস্থিত হয়।" ৭। আর এই তাওহীদই হলো দ্বীনের শুরু এবং শেষ, এর ভেতর এবং বাহির। এটিই ছিল রাসূলগণের দাওয়াতের শুরু এবং শেষ। আর এটিই হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বাণীর অর্থ। কেননা 'ইলাহ' হলেন তিনি—যিনি ভালোবাসা, ভীতি, মহিমা এবং সম্মানের সাথে ইবাদতকৃত হন এবং সব ধরনের ইবাদত তাঁরই প্রাপ্য। এই তাওহীদের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়েছে, রাসূলদের পাঠানো হয়েছে এবং কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমেই মানুষ মুমিন ও কাফেরে বিভক্ত হয়েছে এবং জান্নাতবাসী সৌভাগ্যবান ও জাহান্নামী দুর্ভাগাদের মাঝে পার্থক্য সূচিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।" ৮। কুরআনে এটিই হলো প্রথম আদেশ। আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন: "আর আমি অবশ্যই নূহকে তার কওমের কাছে পাঠিয়েছি। অতঃপর সে বলেছিল, 'হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই'।" ৯।
শিরক সংঘটিত হওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম রাসূলের দাওয়াত। আর হুদ তার কওমকে বলেছিলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই।" ১০। এবং সালেহ তার কওমকে বলেছিলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই।" ১১। এবং শুআইব তার কওমকে বলেছিলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই।" ১২। এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তার কওমকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠভাবে আমার চেহারা তাঁর দিকে ফেরালাম যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" ১৩। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী পাঠাইনি যে, নিশ্চয়ই আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো।" ১৪। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার পূর্বে আমি আমার যে সকল রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের আপনি জিজ্ঞেস করুন, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া আর কারো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} 1. وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} 2.
وقال (هرقل) لأبي سفيان ـ لما سأله عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يقول لكم؟ ـ قال: يقول: "اعبدوا الله، ولا تشركوا به شيئًا، واتركوا ما يقول آباؤكم"3. وقال النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ: "إنك تأتي قومًا أهل كتاب فليكن أول ما تدعوهم إليه شهادة أن لا إله إلا الله"4. وفي رواية:"أن يوحدوا الله".
وهذا التوحيد هو أول واجب على المكلف، لا النظر ولا القصد إلى النظر ولا الشك في الله، كما هي أقوال لِمَن لم يدر ما بعث الله به رسول الله صلى الله عليه وسلم من معاني الكتاب والحكمة، فهو أول واجب وآخر واجب، وأوّل ما يدخل به الإسلام، وآخر ما يخرج به من الدنيا، كما قال صلى الله عليه وسلم: "مَنْ كان آخر كلامه (لا إله إلا الله) دخل الجنة"5. حديث صحيح. وقال: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله"6 متفق عليه.
وقد أفصح القرآن عن هذا النوع كل الإفصاح وأبدأ فيه وأعاد، وضرب لذلك الأمثال، بحيث إن كل سورة في القرآن ففيها الدلالة على هذا
التوحيد، ويسمى هذا النوع:
1- توحيد الإلهية؛ لأنه مبني على إخلاص التأله، وهو أشد المحبة لله وحده، وذلك يستلزم إخلاص العبادة.
2- وتوحيد العبادة لذلك.
3- وتوحيد الإرادة، لأنه مبني على إرادة وجه الله بالأعمال.
4- وتوحيد القصد، لأنه مبني على إخلاص القصد المستلزم لإخلاص العبادة لله وحده.
5- وتوحيد العمل، لأنه مبني على إخلاص العمل لله وحده. قال الله تعالى: {فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ} 7. وقال: {قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَعْبُدَ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّين وَأُمِرْتُ لأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ} 8. {قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصاً لَهُ دِينِي فَاعْبُدُوا مَا شِئْتُمْ مِنْ دُونِهِ
… } 9،
--------------------------------------------
দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য আছে কি যাদের ইবাদত করা হয়?} ১। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} ২।
এবং (হিরাক্লিয়াস) আবু সুফিয়ানকে বললেন—যখন তিনি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তিনি তোমাদের কী বলেন?—তিনি বললেন: তিনি বলেন: "তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলে তা বর্জন করো" ৩। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজকে বললেন: "তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ, তাই তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই" ৪। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "যাতে তারা আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ) স্বীকার করে"।
আর এই তাওহীদই হলো একজন মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য; এটি তাত্ত্বিক চিন্তা (নযর), কিংবা তাত্ত্বিক চিন্তার সংকল্প (কাসদ ইলাল নাযার), কিংবা আল্লাহর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা নয়—যেমনটি সেই ব্যক্তিদের অভিমত যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিতাব ও হিকমতের যে মর্মবাণী দিয়ে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন তা জানে না। সুতরাং এটিই প্রথম ওয়াজিব এবং এটিই শেষ ওয়াজিব; এটিই প্রথম বিষয় যার মাধ্যমে ইসলামে প্রবেশ করা হয় এবং এটিই শেষ বিষয় যার মাধ্যমে দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়া হয়। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার শেষ কথা হবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" ৫। এটি একটি সহীহ হাদীস। এবং তিনি বলেছেন: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল" ৬। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।
কুরআন এই প্রকারের তাওহীদকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে এবং বারবার বিভিন্নভাবে এটি উপস্থাপন করেছে, এর জন্য অসংখ্য উদাহরণ পেশ করেছে; এমনকি কুরআনের প্রতিটি সূরায় এই তাওহীদের প্রমাণ বিদ্যমান। এই প্রকারকে নামকরণ করা হয়:
১- তাওহীদে উলুহিয়্যাহ; কারণ এটি ইবাদতে একনিষ্ঠতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা কেবল আল্লাহর জন্যই গভীরতম ভালোবাসা; আর এটি ইবাদতে একনিষ্ঠতাকে অপরিহার্য করে তোলে।
২- এবং একে তাওহীদে ইবাদতও বলা হয় এই একই কারণে।
৩- এবং তাওহীদে ইরাদাহ (ইচ্ছার একত্ব), কারণ এটি আমলের মাধ্যমে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
৪- এবং তাওহীদে কাসদ (সংকল্পের একত্ব), কারণ এটি সংকল্পের একনিষ্ঠতার ওপর প্রতিষ্ঠিত যা কেবল আল্লাহর জন্য ইবাদতে একনিষ্ঠতাকে অপরিহার্য করে তোলে।
৫- এবং তাওহীদে আমল (কর্মের একত্ব), কারণ এটি কেবল আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আল্লাহর ইবাদত করো তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে} ৭। এবং তিনি বলেন: {বলো, আমি আদিষ্ট হয়েছি আল্লাহর ইবাদত করতে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং আমি আদিষ্ট হয়েছি মুসলিমদের মধ্যে প্রথম হওয়ার জন্য} ৮। {বলো, আমি আল্লাহরই ইবাদত করি আমার দ্বীনকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করে। অতএব তোমরা তাঁর পরিবর্তে যার ইচ্ছা ইবাদত করো...} ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
إلى قوله: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلاً رَجُلاً فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلاً سَلَماً لِرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلاً الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ
… } 1، إلى قوله: {قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ
… } 2 الآية، إلى قوله: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لا يَمْلِكُونَ شَيْئاً وَلا يَعْقِلُونَ قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعاً
… } 3، إلى قوله: {وَأَنِيبُوا إِلَى رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لا تُنْصَرُونَ
… } 4 إلى قوله: {قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُونَ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ
… } 5 إلى آخر سورة الزّمر.
فكل هذه السور في الدعاء إلى هذا التوحيد، والأمر به، والجواب عن الشبهات والمعارضات، وذكر ما أعد الله لأهله من النعيم المقيم، وما أعد لِمَن خالفه من العذاب الأليم. وكل سورة في القرآن بل كل آية في القرآن، فهي داعية إلى هذا التوحيد، شاهدة به، متضمنة له، لأن القرآن:
1- إما خبر عن الله تعالى وأسمائه وصفاته وأفعاله، وهو توحيد الربوبية، وتوحيد الصفات فذاك مستلزم لهذا، متضمن له.
2- وإما دعاء إلى عبادته وحده لا شريك له، وخلع ما يعبد من دونه أو أمر بأنواع من العبادات، ونهي عن المخالفات، فهذا هو توحيد الإلهية والعبادة، وهو مستلزم للنوعين الأولين، متضمن لهما أيضًا.
3- وإما خبر عن إكرامه لأهل توحيده وطاعته، وما فعل بهم في الدنيا، وما يكرمهم به في الآخرة، فهو جزاء توحيده.
4- وإما خبر عن أهل الشرك وما فعل بهم في الدنيا من النكال، وما يحل بها في العقبى من الوبال، فهو جزاء من خرج عن حكم التوحيد.
وهذا التوحيد هو حقيقة دين الإسلام الذي لا يقبل الله من أحد سواه، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: "بني الإسلام على خمس: شهادة أن
--------------------------------------------
তাঁর কথা পর্যন্ত: {আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন: একজন লোক, যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী একাধিক অংশীদার; আর একজন লোক, যে পূর্ণরূপে একজনের অনুগত। এই দুই ব্যক্তি কি তুলনার দিক থেকে সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না
… } ১, তাঁর কথা পর্যন্ত: {বলুন, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করতে চান, তবে তারা কি তাঁর সেই অনুগ্রহ আটকে রাখতে পারবে?’
… } ২ আয়াতটি, তাঁর কথা পর্যন্ত: {তবে কি তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, ‘যদিও তারা কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং তারা কিছু না বোঝে তবুও কি?’ বলুন, ‘সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই অধিকারে’
… } ৩, তাঁর কথা পর্যন্ত: {তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো তোমাদের কাছে আযাব আসার আগে, তারপর তোমাদের আর সাহায্য করা হবে না
… } ৪ তাঁর কথা পর্যন্ত: {বলুন, ‘হে মূর্খরা, তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ করছ?’ আর অবশ্যই আপনার কাছে এবং আপনার পূর্ববর্তীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, ‘যদি আপনি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। বরং আপনি আল্লাহরই ইবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হোন’
… } ৫, সূরা আজ-জুমারের শেষ পর্যন্ত।
এই সমস্ত সূরাই এই তাওহীদের দিকে আহ্বান, এর নির্দেশ প্রদান, সন্দেহ ও বিরোধিতার উত্তর দান এবং এই তাওহীদপন্থীদের জন্য আল্লাহ যে চিরস্থায়ী নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং এর বিরোধীদের জন্য যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন, তার বর্ণনায় পূর্ণ। কুরআনের প্রতিটি সূরা, বরং কুরআনের প্রতিটি আয়াতই এই তাওহীদের দিকে আহ্বানকারী, এর সাক্ষ্য প্রদানকারী এবং একে অন্তর্ভুক্তকারী। কারণ কুরআন:
১- হয় আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে সংবাদ, যা তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ ও তাওহীদে সিফাত; আর তা এই (তাওহীদে উলুহিয়্যাহ) তাওহীদকে অপরিহার্য করে এবং একে অন্তর্ভুক্ত করে।
২- অথবা তাঁর একনিষ্ঠ ইবাদতের দিকে আহ্বান করা যার কোনো শরীক নেই এবং তিনি ছাড়া অন্য যা কিছুর ইবাদত করা হয় তা বর্জন করা, অথবা বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের নির্দেশ দান এবং অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করা; আর এটিই হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহ ও তাওহীদে ইবাদত, যা পূর্বোক্ত প্রথম দুই প্রকারকেও অপরিহার্য করে এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত করে।
৩- অথবা তাঁর তাওহীদপন্থী ও অনুগত বান্দাদের প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শনের সংবাদ এবং দুনিয়াতে তিনি তাদের সাথে কেমন আচরণ করেছেন এবং আখেরাতে তাদের কীভাবে সম্মানিত করবেন তার বর্ণনা; আর এটি তাঁর তাওহীদের পুরস্কার।
৪- অথবা শিরককারীদের সংবাদ এবং দুনিয়াতে তাদের ওপর যে কঠোর শাস্তি নেমে এসেছে এবং পরকালে যে ভয়াবহ পরিণাম তাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার সংবাদ; আর এটি তাওহীদের বিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিনিময়।
আর এই তাওহীদই হলো ইসলাম ধর্মের প্রকৃত রূপ যা আল্লাহ অন্য কারো কাছ থেকে কবুল করেন না। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت"1. رواه البخاري ومسلم، فأخبر أن دين الإسلام مبني على هذه الأركان الخمسة وهي الأعمال، فدل على أن الإسلام هو عباد ة الله وحده لا شريك له، بفعل المأمور، وترك المحظور، والإخلاص في ذلك لله.
وقد تضمن ذلك جميع أنواع العبادة، فيجب إخلاصها لله تعالى، فَمَنْ أشرك بين الله تعالى وبين غيره في شيء فليس بمسلم.
1- فمنها: المحبة، فمن أشرك بين الله تعالى وبين غيره في المحبة التي لا تصلح إلا لله، فهو مشرك
كما قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ
… } إلى قوله تعالى: {وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنَ النَّارِ} 2.
ومنها: التوكل، فلا يتوكل على غير الله فيما لا يقدر عليه إلا الله، قال الله تعالى: {وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} 3. {وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ} 4. والتوكل على غير الله فيما يقدر عليه شرك أصغر.
2- ومنها: الخوف، فلا يخاف خوف السر إلا من الله. ومعنى خوف السر، هو أن يخاف العبد من غير الله تعالى أن يصيبه مكروه بمشيئته وقدرته وإن لم يباشره، فهذا شرك أكبر، لأنه اعتقادٌ للنفع والضر في غير الله. قال الله تعالى: {فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} 5. وقال تعالى: {فَلا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ} 6. وقال تعالي: {وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَاّ هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} 7.
3- ومنها: الرجاء فيما لا يقدر عليه إلا الله؛ كمَنْ يدعو الأموات أو غيرهم راجيًا حصول مطلوبه من جهتهم فهذا شرك أكبر.
--------------------------------------------
আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বায়তুল্লাহর হজ করা। ১। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তিনি (রাসূল) জানিয়েছেন যে, ইসলাম ধর্ম এই পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং এগুলো হচ্ছে আমল বা কর্ম। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা যাঁর কোনো শরিক নেই, নির্দেশিত বিষয়সমূহ পালন করার মাধ্যমে, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করার মাধ্যমে এবং এই সবকিছুতে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা বজায় রাখার মাধ্যমে।
আর এটি ইবাদতের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং মহান আল্লাহর জন্য তা একনিষ্ঠ করা ওয়াজিব। অতএব, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে মহান আল্লাহ ও অন্য কারো মধ্যে শিরক করল, সে মুসলিম নয়।
১- তার মধ্যে একটি হলো: ভালোবাসা। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ ও অন্য কারো মধ্যে এমন ভালোবাসায় শিরক করল যা একমাত্র আল্লাহর জন্যই প্রযোজ্য, সে মুশরিক।
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদেরকে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে ...} মহান আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং তারা আগুন থেকে বহির্গত হতে পারবে না} ২।
আর তার মধ্যে অপর একটি হলো: তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা)। সুতরাং এমন বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ওপর তাওয়াক্কুল করা যাবে না যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ করতে সক্ষম নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা মুমিন হও} ৩। {আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করা} ৪। আর যা সৃষ্টি করতে সক্ষম এমন বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ওপর তাওয়াক্কুল করা ছোট শিরক।
২- তার মধ্যে অপর একটি হলো: ভয়। সুতরাং 'খওফে সির' বা গোপন ভয় একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে করা যাবে না। গোপন ভয়ের অর্থ হলো, বান্দা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ব্যাপারে এই ভয় পোষণ করা যে, সে তার ইচ্ছা ও ক্ষমতার মাধ্যমে তার কোনো অনিষ্ট করবে যদিও সে সরাসরি তা না করে। এটি বড় শিরক, কারণ এতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নিকট উপকার ও অপকার করার ক্ষমতা রয়েছে বলে আকিদা বা বিশ্বাস পোষণ করা হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো} ৫। তিনি আরও বলেছেন: {অতএব তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো} ৬। তিনি আরও বলেছেন: {আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো কষ্টের স্পর্শ দেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী আর কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমার জন্য কোনো কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} ৭।
৩- তার মধ্যে অপর একটি হলো: এমন বিষয়ে আশা পোষণ করা যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ করতে সক্ষম নয়; যেমন কেউ মৃত ব্যক্তি বা অন্য কারো কাছে দুআ করে এই আশায় যে তাদের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ হবে, এটি বড় শিরক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال الله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ} 1. وقال علي رضي الله عنه: "لا يرجونّ عبد إلا ربَّه".
ومنها: الصلاة والركوع والسجود. قال الله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} 2. وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ
… } 3.
4- ومنها: الدعاء فيما لا يقدر عليه إلا الله، سواء كان طلبًا للشفاعة أو غيرها من المطالب.
قال الله تعالى: {وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِنْ قِطْمِيرٍ إِنْ تَدْعُوهُمْ لا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ} 4.
وقال تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ} 5. وقال تعالى: {وَلا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَنْفَعُكَ وَلا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذاً مِنَ الظَّالِمِينَ} 6. وقال تعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لا يَمْلِكُونَ شَيْئاً وَلا يَعْقِلُونَ قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعاً} 7.
5- ومنها: الذبح، قال الله تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} 8. والنسك: الذبح.
6- ومنها: النذر، قال الله تعالى: {وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ} 9. وقال تعالى: {يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْماً كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيراً} 10.
7- ومنها: الطواف، فلا يطاف إلا ببيت الله. قال الله تعالى: {وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} 11.
8- ومنها: التوبة، فلا يتاب إلا لله. قال الله تعالى: {وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَاّ اللَّهُ} 12. وقال تعالى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} 13.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের আশা রাখে} ১। এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "কোনো বান্দা যেন তার রব ছাড়া অন্য কারো কাছে আশা না করে।"
এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: সালাত, রুকু এবং সাজদাহ। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যেই সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন} ২। তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো, সাজদাহ করো এবং তোমাদের রবের ইবাদত করো
… } ৩।
৪- এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: এমন বিষয়ে দুআ করা যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সক্ষম নয়, চাই তা শাফাআত (সুপারিশ) প্রার্থনা হোক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য হোক।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকো, তারা খেজুরের আঁটির সামান্য আবরণেরও মালিক নয়। তোমরা যদি তাদেরকে ডাকো, তবে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। আর সম্যক পরিজ্ঞাত আল্লাহর মতো কেউ আপনাকে সংবাদ দেবে না} ৪।
তিনি আরও বলেন: {তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা শীঘ্রই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে} ৫। তিনি আরও বলেন: {এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডেকো না যে তোমার কোনো উপকার করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না। যদি তুমি তা করো, তবে তুমি নিশ্চিতভাবেই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ৬। তিনি আরও বলেন: {তবে কি তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, যদিও তারা কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং কিছু না বোঝে তবুও কি? বলুন, সমস্ত সুপারিশ কেবল আল্লাহরই জন্য} ७।
৫- এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: জবেহ (পশু বলিদান), মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি (জবেহ), আমার জীবন ও আমার মরণ বিশ্বজগতের রব আল্লাহরই জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি আর আমিই প্রথম মুসলিম} ৮। আর 'নুসুক' হলো জবেহ।
৬- এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: মানত, মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তারা যেন তাদের মানতসমূহ পূর্ণ করে} ৯। তিনি আরও বলেন: {তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে যার অকল্যাণ হবে সুদূরপ্রসারী} ১০।
৭- এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাওয়াফ, সুতরাং আল্লাহর ঘর (কাবা) ব্যতীত অন্য কিছুর তাওয়াফ করা যাবে না। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তারা যেন প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে} ১১।
৮- এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাওবাহ, তাই একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে তাওবাহ করা যাবে না। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ ছাড়া গুনাহসমূহ কে ক্ষমা করবে?} ১২। তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর দিকে তাওবাহ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} ১৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
9- ومنها: الاستعاذة فيما لا يقدر عليه إلا الله. قال الله تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ} 1. وقال تعالى: {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} 2.
10- ومنها: الاستغاثة فيما لا يقدر عليه إلا الله. قال الله تعالى: {إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ} 3.
فمن أشرك بين الله تعالى وبين مخلوق ـ فيما يختص بالخالق تعالى من هذه العبادات أو غيرها ـ، فهو مشرك. وإنما ذكرنا هذه العبادات خاصة؛ لأن عباد القبور صرفوها للأموات من دون الله تعالى، أو أشركوا بين الله تعالى وبينهم فيها، وإلا فكل نوع من أنواع العبادة، مَنْ صرفه لغير الله، أو شرك ـ بين الله تعالى وبين غيره فيه ـ، فهو مشرك. قال الله تعالى: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 4.
وهذا الشرك في العبادة هو الذي كفر الله به المشركين، وأباح به دماءهم وأموالهم ونساءهم، وإلا فهم يعلمون أن الله هو الخالق الرازق المدبر، ليس له شريك في ملكه، وإنما كانوا يشركون به في هذه العبادات ونحوها، وكانوا يقولون في تلبيتهم:
لبيك لا شريك لك
إلا شريكًا هو لك تملكه وما ملّك
فأتاهم النبي صلى الله عليه وسلم بالتوحيد ـ الذي هو معنى لا إله إلا الله الذي مضمونه: أن لا يُعْبَدَ إلا الله، لا ملك مقرب، ولا نبي مرسل، فضلاً عن غيرهما ـ فقالوا: {أَجَعَلَ الآلِهَةَ إِلَهاً وَاحِداً إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} 5.
وكانوا يجعلون {مِنَ الْحَرْثِ وَالأَنْعَامِ نَصِيباً} ، [الأنعام، من الآية: 136] ، لله وللآلهة مثل ذلك، فإذا صار شيء من الذي لله إلى الذي للآلهة تركوه لها، وقالوا: الله غني، وإذا صار شيء من الذي للآلهة إلى الذي لله تعالى ردّوه، وقالوا: الله غني، والآلهة فقيرة
فأنزل الله تعالى: {وَجَعَلُوا لِلَّهِ
--------------------------------------------
৯- তার মধ্য থেকে একটি হলো: এমন বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করা যাতে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ সক্ষম নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি উষার রবের কাছে।} ১। এবং তিনি আরও বলেন: {বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে।} ২।
১০- তার মধ্য থেকে আরেকটি হলো: এমন বিষয়ে আর্তপ্রার্থনা করা যাতে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ সক্ষম নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট আর্তপ্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন।} ৩।
সুতরাং যে ব্যক্তি ইবাদতের এই সকল বিষয় বা অন্য কোনো বিষয়ে—যা কেবল স্রষ্টা মহান আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট—তাতে আল্লাহ এবং কোনো সৃষ্টির মাঝে শিরক করবে, সে মুশরিক। আমরা বিশেষভাবে এই ইবাদতগুলোর কথা উল্লেখ করেছি; কারণ কবরপূজারীরা আল্লাহ তাআলাকে বাদ দিয়ে এগুলো মৃতদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করে থাকে, অথবা এসব বিষয়ে তারা আল্লাহ তাআলা ও তাদের মাঝে শিরক করে থাকে। অন্যথায়, ইবাদতের প্রতিটি প্রকারের মধ্য থেকে যে কোনো প্রকার যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করবে, অথবা তাতে আল্লাহ তাআলা ও অন্য কারো মাঝে শিরক করবে, তবে সে মুশরিক। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না।} ৪।
আর ইবাদতের ক্ষেত্রে এই শিরকই হলো সেই শিরক যার কারণে আল্লাহ মুশরিকদের কাফির সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের রক্ত, ধন-সম্পদ ও নারীসমূহকে বৈধ করেছেন। নতুবা তারা তো জানত যে আল্লাহই স্রষ্টা, রিযিকদাতা ও পরিচালক, তাঁর রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই। তারা তো কেবল এই সকল ইবাদত ও অনুরূপ বিষয়ে তাঁর সাথে শিরক করত। তারা তাদের তালবিয়ায় বলত:
আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই
কেবল সেই শরিক ব্যতীত যে আপনারই; আপনি তার এবং তার মালিকানাধীন সবকিছুর মালিক
অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিকট তাওহীদ নিয়ে আসলেন—যা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর মর্মার্থ, যার মূল কথা হলো: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না, না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতার, আর না কোনো প্রেরিত নবীর, অন্য কারো তো প্রশ্নই আসে না। তখন তারা বলেছিল: {সে কি বহু উপাস্যকে এক উপাস্যে পরিণত করেছে? এটি তো এক অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয়!} ৫।
তারা ‘শস্য ও গবাদি পশু থেকে একটি অংশ’ [আল-আনআম, আয়াত: ১৩৬-এর অংশ] আল্লাহর জন্য এবং অনুরূপ অংশ উপাস্যদের জন্য নির্ধারণ করত। যদি আল্লাহর নির্ধারিত অংশের কিছু উপাস্যদের অংশের সাথে মিলে যেত, তবে তারা তা উপাস্যদের জন্যই ছেড়ে দিত এবং বলত: আল্লাহ অভাবমুক্ত। আর যখন উপাস্যদের অংশের কিছু আল্লাহ তাআলার অংশের সাথে মিলে যেত, তখন তারা তা ফিরিয়ে দিত এবং বলত: আল্লাহ অভাবমুক্ত আর উপাস্যরা অভাবগ্রস্ত।
তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: {তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالأَنْعَامِ نَصِيباً فَقَالُوا هَذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَذَا لِشُرَكَائِنَا فَمَا كَانَ لِشُرَكَائِهِمْ فَلا يَصِلُ إِلَى اللَّهِ وَمَا كَانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَى شُرَكَائِهِمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ} 1.
وهذا بعينه يفعله عباد القبور، بل يزيدون على كل ذلك فيجعلون للأموات نصيبًا من الأولاد.
إذا تبين هذا، فاعلم أن الشرك ينقسم ثلاثة أقسام بالنسبة إلى أنواع التوحيد، ـ وكل منها قد يكون أكبر وأصغر مطلقًا، وقد يكون أكبر بالنسبة إلى ما هو أصغر منه، ويكون أصغر بالنسبة إلى ما هو أكبر منه ـ.
القسم الأول: الشرك في الربوبية:
أحدهما: شرك التعطيل، وهو أقبح أنواع الشرك، كـ:
1- شرك فرعون. إذ قال: {وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ} ؟
2- ومن هذا شرك الفلاسفة القائلين بقدم العالم وأبديته، وأنه لم يكن معدومًا أصلاً، بل لم يزل ولا يزال، والحوادث بأسرها مستندة عندهم إلى أسباب ووسائط اقتضت إيجادها، يسمونها: العقول، والنفوس.
3- ومن هذا شرك طائفة أهل وحدة الوجود، كابن عربي، وابن سبعين، والعفيف التلمساني، وابن الفارض، ونحوهم من الملاحدة الذين كسوا الإلحاد حلية الإسلام، ومزجوه بشيء من الحق، حتى راج أمرهم على خفافيش البصائر.
4- ومن هذا شرك من عطّل أسماء الرب وأوصافه، من غلاة الجهمية، والقرامطة.
النوع الثاني: شرك من جعل معه إلهًا آخر ولَمْ يعطل أسماءه وصفاته
وربوبيته، كشرك النصارى الذين جعلوه ثالث ثلاثة، وشرك المجوس القائلين بإسناد حوادث الخير إلى النور وحوادث الشر إلى الظلمة.
ومن هذا شرك كثير مِمَّن يشرك بالكواكب العلويات، ويجعلها مدبرة لأمر هذا العالم، كما هو مذهب مشركي الصابئة وغيرهم.
--------------------------------------------
আল্লাহ যে শস্য ও গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা আল্লাহর জন্য এক অংশ নির্ধারণ করে এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে, ‘এটি আল্লাহর জন্য এবং এটি আমাদের অংশীদারদের (উপাস্যদের) জন্য।’ অতঃপর যা তাদের অংশীদারদের জন্য তা আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, কিন্তু যা আল্লাহর জন্য তা তাদের অংশীদারদের কাছে পৌঁছায়। তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না নিকৃষ্ট! ১.
কবরপূজারীরা হুবহু এই কাজটিই করে থাকে, বরং তারা এই সবকিছুর চেয়েও আরও বাড়িয়ে করে; তারা মৃতদের জন্য সন্তানদের মধ্যেও একটি অংশ নির্ধারণ করে।
যখন এটি স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন জেনে রাখুন যে, তাওহীদের প্রকারভেদের নিরিখে শিরক তিন ভাগে বিভক্ত। এর প্রতিটিই নিরঙ্কুশভাবে বড় বা ছোট হতে পারে; আবার তার চেয়ে ছোট বিষয়ের তুলনায় সেটি বড় হতে পারে এবং তার চেয়ে বড় বিষয়ের তুলনায় সেটি ছোট হতে পারে।
প্রথম ভাগ: রুবুবিয়্যাতে শিরক (আল্লাহর প্রভুত্বে অংশীদারিত্ব):
প্রথমটি: তা’তীল বা অস্বীকারমূলক শিরক, যা শিরকের নিকৃষ্টতম প্রকার, যেমন:
১- ফেরাউনের শিরক। যখন সে বলেছিল: ‘আর জগতসমূহের রব কে?’
২- এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই দার্শনিকদের শিরক যারা জগতের অনাদিত্ব ও অমরত্বের কথা বলে। তাদের মতে, এটি মোটেও অস্তিত্বহীন ছিল না, বরং তা অনাদি কাল থেকে আছে এবং অনন্তকাল থাকবে। তাদের নিকট যাবতীয় ঘটনাবলী সম্পূর্ণরূপে এমন কিছু মাধ্যম ও কার্যকরণের ওপর নির্ভরশীল যা এগুলোর অস্তিত্বকে আবশ্যক করে তুলেছে; তারা সেগুলোকে ‘আকল’ (বুদ্ধিবৃত্তি) ও ‘নফস’ (আত্মা) নামে অভিহিত করে।
৩- এর অন্তর্ভুক্ত হলো ওয়াহদাতুল উজুদপন্থী (সর্বেশ্বরবাদী) সম্প্রদায়ের শিরক; যেমন ইবনে আরাবী, ইবনে সাবঈন, আফীফ আল-তিলিমসানী, ইবনুল ফারিদ এবং তাদের ন্যায় অন্যান্য নাস্তিকরা, যারা নাস্তিকতাকে ইসলামের আবরণে আবৃত করেছে এবং এর সাথে কিছু সত্যের মিশ্রণ ঘটিয়েছে, যার ফলে তাদের বিষয়টি অন্তর্দৃষ্টিহীনদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
৪- এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের শিরক যারা রবের নাম ও গুণাবলিকে অস্বীকার করেছে; যেমন চরমপন্থী জাহমিয়া ও কারামিতা সম্প্রদায়।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন ব্যক্তির শিরক যে আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য সাব্যস্ত করেছে কিন্তু তাঁর নাম, গুণাবলি এবং রুবুবিয়্যাতকে অস্বীকার করেনি।
যেমন নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) শিরক যারা তাঁকে তিনের এক সাব্যস্ত করেছে; এবং মজুসদের (অগ্নিপূজকদের) শিরক যারা কল্যাণের ঘটনাগুলোকে নূরের (আলোর) দিকে এবং অকল্যাণের ঘটনাগুলোকে অন্ধকারের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাদের অনেকের শিরক যারা ঊর্ধ্বাকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে শিরক করে এবং সেগুলোকে এই জগতের বিষয়াবলি পরিচালনাকারী মনে করে; যেমনটি সাবেয়ী মুশরিক ও অন্যদের অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قلت: ويلتحق به من وجه شرك غلاة عباد القبور الذين يزعمون أن أرواح الأولياء تتصرف بعد الموت، فيقضون الحاجات، ويفرجون الكربات، وينصرون من دعاهم، ويحفظون مَنْ التجأ إليهم، ولاذ بحماهم، فإنّ هذه من خصائص الربوبية، كما ذكره بعضهم في هذا النوع.
القسم الثاني: الشرك في توحيد الأسماء والصفات.
وهو أسهل مما قبله، وهو نوعان:
أحدهما: تشبيه الخالق بالمخلوق، كمَنْ يقول: يد كيدي، وسمع كسمعي، وبصر كبصري، واستواء كاستوائي، وهو شرك المشبهة.
الثاني: اشتقاق أسماء للآلهة الباطلة من أسماء الإله الحق. قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 1.
قال ابن عباس: {يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ} ، [الأعراف، من الآية: 180] : يشركون، وعنه: سموا اللات من الإله، والعُزَّى من العزيز.
القسم الثالث: الشرك في توحيد الإلهية والعبادة.
قال القرطبي: أصل الشرك المحرَّم اعتقاد شريكٍ لله تعالى في الإلهية، وهو الشرك الأعظم، وهو شرك الجاهلية، ويليه في الرتبة اعتقاد شريكٍ لله تعالى في الفعل، وهو
قول مَنْ قال: إن موجودًا ما غير الله تعالى يستقل بإحداث فعلٍ وإيجاده وإن لم يعتقد كونَه إلهًا، هذا كلام القرطبي.
وهو نوعان:
أحدهما: أن يجعل لله ندًا يدعوه كما يدعو الله، ويسأله الشفاعة كما يسأل الله، ويرجوه كما يرجو الله، ويحبه كما يحب الله، ويخشاه كما يخشى الله. وبالجملة فهو أن يجعل الله ندًا يعبده كما يعبد الله،
--------------------------------------------
আমি বলি: একদিক থেকে এর সাথে সেই চরমপন্থী কবর পূজারীদের শিরক অন্তর্ভুক্ত হবে যারা দাবি করে যে, ওলিদের রূহ মৃত্যুর পর সবকিছুর পরিচালনা করে, ফলে তারা প্রয়োজন পূরণ করে, বিপদ-আপদ দূর করে, যারা তাদের ডাকে তাদের সাহায্য করে এবং যারা তাদের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে ও তাদের আশ্রয়ে থাকতে চায় তাদের হেফাযত করে। কারণ এগুলো রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্ব) অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি তাদের কেউ কেউ এই প্রকারের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় বিভাগ: আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলির) তাওহীদে শিরক।
এটি আগেরটির তুলনায় লঘু এবং তা দুই প্রকার:
প্রথমটি: স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা, যেমন কেউ বলে: আল্লাহর হাত আমার হাতের মতো, তাঁর শ্রবণ আমার শ্রবণের মতো, তাঁর দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মতো এবং আল্লাহর উঠা আমার উঠার মতো। এটি হলো মুশাব্বিহাদের শিরক।
দ্বিতীয়টি: সত্য ইলাহের নাম থেকে বাতিল উপাস্যদের জন্য নাম গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো; আর যারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি ঘটায় তাদের বর্জন করো। তারা যা করে তার প্রতিফল শীঘ্রই তাদের প্রদান করা হবে} ১।
ইবনে আব্বাস বলেন: {তারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি ঘটায়}, [আল-আরাফ, ১৮০ নম্বর আয়াতের অংশ]: অর্থাৎ তারা শিরক করে। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: তারা 'ইলাহ' থেকে 'লাত' এবং 'আযীয' থেকে 'উযযা' নামকরণ করেছে।
তৃতীয় বিভাগ: উলুহিয়্যাত ও ইবাদতের তাওহীদে শিরক।
কুরতুবী বলেন: হারাম শিরকের মূল ভিত্তি হলো উলুহিয়্যাতে আল্লাহ তাআলার কোনো শরিক আছে বলে বিশ্বাস করা; এটিই সবচেয়ে বড় শিরক এবং এটি জাহেলিয়াতের শিরক। এর পরের স্তরে রয়েছে আল্লাহর কার্যাবলীতে শরিক আছে বলে বিশ্বাস করা, যা হলো—
সেই ব্যক্তির বক্তব্য যে বলে: আল্লাহ তাআলা ব্যতিরেকে অন্য কোনো অস্তিত্ব কোনো কাজ সৃষ্টি ও সম্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, যদিও সে তাকে ইলাহ বলে বিশ্বাস না করে। এটি কুরতুবীর বক্তব্য।
এটি দুই প্রকার:
প্রথমটি: আল্লাহর জন্য এমন সমকক্ষ সাব্যস্ত করা যাকে সে সেভাবেই আহ্বান করে যেভাবে আল্লাহকে আহ্বান করে, তার কাছে সেভাবেই সুপারিশ প্রার্থনা করে যেভাবে আল্লাহর কাছে করে, তার কাছে সেভাবেই প্রত্যাশা করে যেভাবে আল্লাহর কাছে করে, তাকে সেভাবেই ভালোবাসে যেভাবে আল্লাহকে ভালোবাসে এবং তাকে সেভাবেই ভয় পায় যেভাবে আল্লাহকে ভয় পায়। মোটকথা হলো, আল্লাহর জন্য এমন সমকক্ষ স্থির করা যার ইবাদত সে সেভাবেই করে যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهذا هو الشرك الأكبر، وهو الذي قال الله فيه: {وَاعْبُدُوا اللَّهَ وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً} 1. وقال: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 2. وقال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لا يَضُرُّهُمْ وَلا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ هَؤُلاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُون} 3.
وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلا شَفِيعٍ أَفَلا تَتَذَكَّرُونَ} 4. والآيات في النهي عن هذا الشرك وبيان بطلانه كثيرة جدًا.
الثاني: الشرك الأصغر، كيسير الرياء والتصنع للمخلوق، وعدم الإخلاص لله تعالى في العبادة، بل يعمل لحظ نفسه تارة، ولطلب الدنيا تارة، ولطلب المنْزلة والْجاه عند الخلق تارة، فله من عمله نصيب، ولغيره منه نصيب، ويتبع هذا النوعَ الشركُ بالله في الألفاظ، كالْحلفِ بغير الله وقول: ما شاء الله وشئت، ومالي إلا الله وأنت، وأنا في حسب الله وحسبك، ونحوه. وقد يكون ذلك شركا أكبر بحسب حال قائله ومقصده. هذا حاصل كلام ابن القيم وغيره.
وقد استوفى المصنف رحمه الله بيان جنس العبادة التي يجب إخلاصها لله بالتنبيه على بعض أنواعها، وبيان ما يضادُّها من الشرك بالله تعالى في العبادات والإرادات والألفاظ، كما سيمر بك ـ إن شاء الله تعالى ـ مفصلا في هذا الكتاب، فالله تعالى يرحمه ويرضى عنه.
فإن قلت: هلا أتى المصنف رحمه الله بخطبة تنبئ عن مقصده، كما صنع غيره؟
قيل: كأنه - والله أعلم - اكتفى بدلالة الترجمة الأولى على مقصوده، فإنه صدره بقوله: (كتاب التوحيد) وبالآيات التي ذكرها وما يتبعها، مما يدل على مقصوده، فكأنه قال: قصدت جمعَ أنواع توحيد الإلهية التي وقع أكثر الناس في الإشراك فيها وهم لا يشعرون، وبيان شيء مما يضاد ذلك من أنواع الشرك، فاكتفى
--------------------------------------------
আর এটিই হলো বড় শিরক, যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না} ১। তিনি আরও বলেছেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ২। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে যে, এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহকে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এমন কিছুর সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে} ৩।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আল্লাহ, যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} ৪। এই শিরক থেকে নিষেধ করা এবং এর অসারতা বর্ণনার ক্ষেত্রে আয়াতসমূহ অত্যন্ত অসংখ্য।
দ্বিতীয়ত: ছোট শিরক, যেমন সামান্য লোকদেখানো (রিয়া) এবং সৃষ্টির নিকট কৃত্রিমতা প্রদর্শন, আর ইবাদতে আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ না হওয়া; বরং কখনো নিজের প্রবৃত্তির জন্য, কখনো দুনিয়া হাসিলের জন্য এবং কখনো সৃষ্টির নিকট মান-মর্যাদা লাভের জন্য কাজ করা। ফলে তার আমলের একটি অংশ তার নিজের জন্য এবং আরেকটি অংশ অন্য কারো জন্য হয়ে যায়। এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো কথা বা শব্দের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করা, যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর শপথ করা এবং এই কথা বলা যে: "আল্লাহ যা চেয়েছেন এবং আপনি যা চেয়েছেন", "আমার আল্লাহ ও আপনি ছাড়া কেউ নেই", "আমি আল্লাহর ও আপনার জিম্মায় আছি" এবং এই জাতীয় শব্দ। আর বক্তার অবস্থা ও উদ্দেশ্য ভেদে এগুলো বড় শিরকও হতে পারে। ইবনুল কায়্যিম ও অন্যদের আলোচনার সারসংক্ষেপ এটাই।
আর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সেই ইবাদতের প্রকারভেদ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন যা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করা ওয়াজিব। তিনি ইবাদতের কিছু প্রকারের প্রতি সতর্ক করেছেন এবং ইবাদত, উদ্দেশ্য ও শব্দের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করার মাধ্যমে যা এর পরিপন্থী হয় তা স্পষ্ট করেছেন, যা এই কিতাবে আপনার সামনে বিস্তারিতভাবে আসবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।
যদি আপনি বলেন: লেখক (রহিমাহুল্লাহ) কেন অন্যদের মতো তাঁর উদ্দেশ্য প্রকাশ করে কোনো ভূমিকা বা খুতবা আনলেন না? বলা হবে: সম্ভবত তিনি—আর আল্লাহই ভালো জানেন—প্রথম অধ্যায়ের শিরোনামের মাধ্যমেই তাঁর উদ্দেশ্যের ব্যাপারে যথেষ্ট মনে করেছেন। কেননা তিনি এর সূচনা করেছেন 'কিতাবুত তাওহীদ' (তাওহীদের কিতাব) বলে এবং সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ ও যা এর অনুগামী তা উল্লেখ করার মাধ্যমে, যা তাঁর উদ্দেশ্যের প্রতিই নির্দেশ করে। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: আমি উলুহিয়্যাত বা ইবাদতের তাওহীদের সেই প্রকারসমূহ একত্র করার ইচ্ছা করেছি যেগুলোতে অধিকাংশ মানুষ অজান্তেই শিরকে লিপ্ত হয়েছে, এবং শিরকের এমন কিছু প্রকার বর্ণনা করতে চেয়েছি যা এর পরিপন্থী। ফলে তিনি একেই যথেষ্ট মনে করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بالتلويح عن التصريح. والألف واللام في التوحيد للعَهْدِ الذِّهْنِي.
قوله: وقول الله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُون} 1.
يجوز في (قول الله) الرفع والجر، وهكذا حكم ما يمر بك من هذا الباب.
قال شيخ الإسلام: العبادة هي طاعة الله بامتثال ما أمر به على ألسنة الرسل.
وقال أيضًا: العبادة: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه، من الأقوال، والأعمال الباطنة والظاهرة.
قال ابن القيم: ومدارها على خمس عشر قاعدة، من كملها كمل
مراتب العبودية، وبيان ذلك أن العبادة منقسمة على القلب، واللسان، والجوارح.
والأحكام التي للعبودية خمسة: واجب، ومستحب، وحرام، ومكروه، ومباح. وهن لكل واحد من القلب واللسان والجوارح.
وقال القرطبي: أصل العبادة: التذلل والخضوع، وسُمِّيَتْ وظائف الشرع على المكلفين عبادات، لأنهم يلتزمونها ويفعلونها خاضعين متذللين لله تعالى.
وقال ابن كثير [عند الفاتحة آية: 5] : العبادة في اللغة من الذلة، يقال: طريق معبَّد وغير معبَّدٍ، أي: مذلّل. وفي الشرع: عبارة عما يجمع كمال المحبة والخضوع والخوف، وهكذا ذكر غيرهم من العلماء.
ومعنى الآية: أن الله تعالى أخبر أنه ما خلق الإنس والجن إلا لعبادته، فهذا هو الحكمة في خلقهم، ولم يرد منهم ما تريده السادة من عبيدها من الإعانة لهم بالرزق والإطعام، بل هو الرازق ذو القوة المتين، الذي يطعم ولا يطعم، كما قال تعالى: {قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيّاً فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلا يُطْعَمُ قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ
--------------------------------------------
ইঙ্গিতের মাধ্যমে স্পষ্ট করার বদলে। আর তাওহীদ শব্দের 'আলিফ-লাম' শব্দটি মানসিক প্রতিশ্রুতির (আহদ যিহনি) জন্য।
তাঁর বক্তব্য: আর আল্লাহ তাআলার বাণী: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" ১।
'আল্লাহর বাণী' (কওলুল্লাহ) শব্দগুচ্ছে রফ (পেশ) এবং জর (যের) উভয়ই বৈধ, আর এই অধ্যায়ে আপনার সামনে যা আসবে তার বিধানও অনুরূপ।
শাইখুল ইসলাম বলেন: ইবাদত হলো রাসূলগণের মুখে যা নির্দেশিত হয়েছে তা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করা।
তিনি আরও বলেন: ইবাদত হলো এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং সন্তুষ্ট হন এমন সকল কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন।
ইবনুল কায়্যিম বলেন: এর ভিত্তি পনেরটি মূলনীতির ওপর, যে ব্যক্তি এগুলো পূর্ণ করবে সে দাসত্বের স্তরসমূহ পূর্ণ করল। এর ব্যাখ্যা হলো, ইবাদত অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাঝে বিভক্ত।
আর দাসত্বের বিধান পাঁচটি: ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হারাম, মাকরূহ এবং মুবাহ। আর এই বিধানগুলো অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—প্রত্যেকটির জন্যই প্রযোজ্য।
আল-কুরতুবী বলেন: ইবাদতের মূল অর্থ হলো হীনতা প্রকাশ এবং বিনয়াবনত হওয়া। শরীয়তের অর্পিত দায়িত্বসমূহকে ইবাদত বলা হয়, কারণ মুকাল্লাফরা (যাদের ওপর বিধান কার্যকর) আল্লাহর প্রতি অনুগত ও বিনীত হয়ে এগুলো পালন ও সম্পাদন করে।
ইবনে কাসীর [সূরা ফাতিহার ৫ নং আয়াতের অধীনে] বলেন: আভিধানিক অর্থে ইবাদত শব্দটি হীনতা থেকে এসেছে। বলা হয়: সুগম পথ (তরীকুন মুয়াব্বাদ), অর্থাৎ যা পদদলিত ও সহজ করা হয়েছে। আর শরীয়তের পরিভাষায়: এটি এমন এক অভিব্যক্তি যা পূর্ণ ভালোবাসা, বিনয় এবং ভয়কে একত্রিত করে। অন্যান্য আলেমগণও একইভাবে উল্লেখ করেছেন।
আয়াতের অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জিন ও মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এটাই তাদের সৃষ্টির হিকমত বা উদ্দেশ্য। তিনি তাদের কাছে তা চাননি যা মনিবরা তাদের দাসদের কাছে চেয়ে থাকে—যেমন রিজিক বা খাবারের মাধ্যমে সাহায্য করা। বরং তিনি নিজেই রিজিকদাতা এবং প্রবল শক্তির অধিকারী, যিনি আহার দান করেন কিন্তু নিজে আহার গ্রহণ করেন না। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, আমি কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করব, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা? অথচ তিনি আহার দান করেন এবং তাঁকে আহার করানো হয় না। বলুন, আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি প্রথম ব্যক্তি হই যে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَسْلَمَ وَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 1.
وعبادته هي طاعته بفعل المأمور، وترك المحظور، وذلك هو حقيقة دين الإسلام، لأن معنى الإسلام هو: الاستسلام لله المتضمن غاية الانقياد، في غاية الذل والخضوع.
قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه في الآية: إلا لآمُرَهم أن يعبدوني، وأدعوهم إلى عبادتي.
وقال مجاهد: إلا لآمُرَهم وأنْهاهم، واختاره الزجاج وشيخ الإسلام. قال: ويدل على هذا قوله: {أَيَحْسَبُ الأِنْسَانُ أَنْ يُتْرَكَ سُدىً} 2. قال الشافعي: لايؤمر ولا ينهى.
وقوله: {قُلْ مَا يَعْبَأُ بِكُمْ رَبِّي لَوْلا دُعَاؤُكُمْ} 3، أي: لولا عبادتكم إياه.
وقد قال في القرآن في غير موضع: {اعْبُدُوا رَبَّكُمُ} ، {اتَّقُوا رَبَّكُمُ} ، فقد أمرهم بما خلقوا له، وأرسل الرسل إلى الجن والإنس بذلك، وهذا المعنى هو الذي قصد الآية قطعًا، وهو الذي يفهمه جماهير المسلمين، ويحتجون بالآية عليه، ويقرون أن الله إنما خلقهم ليعبدوه العبادة الشرعية ـ وهي طاعته وطاعة رسله ـ، لا ليضيعوا حقه الذي خلقهم له.
قال: وهذه الآية تشبه قوله تعالى: {وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ} 4. وقوله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} 5. ثم قد يطاع وقد يعصى. وكذلك ما خلقهم إلا للعبادة، ثم قد يعبدون وقد لا يعبدون. وهو سبحانه لم يقل: إنه فعل الأول وهو خلقهم ليفعل بهم كلهم الثاني وهو عبادته، ولكن ذكر الأول ليفعلوا هم الثاني فيكونوا هم الفاعلين له، فيحصل لهم بفعله سعادتهم، ويحصل ما يحبه ويرضاه منهم ولهم. انتهى.
والآية دالة على وجوب اختصاص الخالق تعالى بالعبادة، لأنه سبحانه:
1- هو ابتدأك بخلقك والإنعام عليك بقدرته ومشيئته ورحمته من غير سبب منك أصلاً، وما فعله بك لا يقدر عليه غيره، ثم إذا احتجت إليه في جلب رزق أو دفع ضر، فهو الذي يأتي بالرزق لا يأتي به غيره، وهو الذي يدفع الضر لا يدفعه غيره.
كما قال تعالى: {أَمَّنْ
--------------------------------------------
"...আত্মসমর্পণ করি এবং আপনি কখনোই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।" ১।
আর তাঁর ইবাদত হলো আদিষ্ট বিষয়সমূহ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য করা; আর এটাই ইসলাম ধর্মের প্রকৃত রূপ। কারণ ইসলামের অর্থ হলো: আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা যা চূড়ান্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।
আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এই আয়াতের বিষয়ে বলেন: এর অর্থ হলো—যাতে আমি তাদেরকে আমার ইবাদত করার নির্দেশ দেই এবং তাদেরকে আমার ইবাদতের দিকে আহ্বান করি।
মুজাহিদ বলেন: যাতে আমি তাদেরকে আদেশ করি এবং নিষেধ করি। ইমাম যাজ্জাজ এবং শায়খুল ইসলাম এটিকেই পছন্দ করেছেন। তিনি (শায়খুল ইসলাম) বলেন: আল্লাহর এই বাণী এর ওপর প্রমাণ বহন করে: "মানুষ কি মনে করে যে তাকে নিরর্থক ছেড়ে দেওয়া হবে?" ২। ইমাম শাফেয়ী বলেন: অর্থাৎ তাকে আদেশও দেওয়া হবে না এবং নিষেধও করা হবে না (এমনটা কি সে মনে করে?)।
এবং তাঁর বাণী: "বলুন, আমার রব তোমাদের কোনো পরওয়াই করতেন না যদি না তোমরা তাঁর ইবাদত করতে।" ৩। অর্থাৎ: যদি না তোমরা তাঁর ইবাদত করতে।
কুরআনের একাধিক স্থানে তিনি বলেছেন: "তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো", "তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো"। সুতরাং তিনি তাদেরকে সেই কাজেরই নির্দেশ দিয়েছেন যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই উদ্দেশ্যেই তিনি জিন ও মানুষের নিকট রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। আর এই অর্থই নিশ্চিতভাবে এই আয়াতের উদ্দেশ্য এবং এটিই সাধারণ মুসলিমগণ বোঝেন ও এর স্বপক্ষেই এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন। তারা স্বীকার করেন যে, আল্লাহ তাদেরকে কেবল তাঁর শরয়ি ইবাদত—যা হলো তাঁর এবং তাঁর রাসূলদের আনুগত্য—করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা আল্লাহর সেই হক নষ্ট না করে যার জন্য তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বলেন: এই আয়াতটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সদৃশ: "যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করো এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সেজন্য তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো।" ৪। এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে কেবল আনুগত্য করার জন্যই আমরা রাসূল প্রেরণ করেছি।" ৫। অতঃপর কখনো আনুগত্য করা হয় আবার কখনো অবাধ্যতা করা হয়। অনুরূপভাবে, তিনি তাদেরকে ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেননি, এরপর কখনো তারা ইবাদত করে আবার কখনো করে না। আর তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) এটি বলেননি যে, তিনি প্রথম কাজটি অর্থাৎ তাদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের সবার দ্বারা দ্বিতীয়টি অর্থাৎ তাঁর ইবাদত কার্যকর করান; বরং তিনি প্রথমটির কথা উল্লেখ করেছেন যাতে তারা নিজেরাই দ্বিতীয়টি সম্পাদন করে এবং তারাই হয় তার সম্পাদনকারী। ফলে তা সম্পাদনের মাধ্যমে তাদের সৌভাগ্য অর্জিত হয় এবং তাদের পক্ষ থেকে ও তাদের জন্য আল্লাহ যা পছন্দ করেন ও যার প্রতি সন্তুষ্ট হন তা বাস্তবায়িত হয়। সমাপ্ত।
আর এই আয়াতটি ইবাদতে কেবল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলাকেই নির্দিষ্ট করার আবব্যকতা নির্দেশ করে, কারণ তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা):
১- তিনিই কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর কুদরত, ইচ্ছা ও রহমতের মাধ্যমে আপনাকে সৃষ্টি করে এবং আপনার প্রতি নেয়ামত দান করে আপনার সূচনা করেছেন। তিনি আপনার সাথে যা করেছেন তা অন্য কেউ করতে সক্ষম নয়। এরপর যখন আপনি রিজিক লাভ বা ক্ষতি দূর করার ক্ষেত্রে তাঁর মুখাপেক্ষী হন, তখন তিনিই রিজিক নিয়ে আসেন, অন্য কেউ তা আনতে পারে না; আর তিনিই ক্ষতি দূর করেন, অন্য কেউ তা সরাতে পারে না।
যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নাকি তিনি যিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাইসীরুল আযীযিল হামীদ ফী শারহি কিতাবিত তাওহীদ আল্লাযী হুওয়া হাক্কুল্লাহি আলাল ইবাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
هَذَا الَّذِي هُوَ جُنْدٌ لَكُمْ يَنْصُرُكُمْ مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَاّ فِي غُرُورٍ أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَلْ لَجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ} 1
2- وهو سبحانه ينعم عليك، ويحسن إليك بنفسه، فإن ذلك موجب ما تَسَمَّى به، ووصف به نفسه، إذ هو الرحمن الرحيم، الودود المجيد، وهو قادر بنفسه، وقدرته من لوازم ذاته، وكذلك رحمته وعلمه وحكمته، لا يحتاج إلى خلقه بوجهٍ من الوجوه، بل هو الغني عن العالمين {وَمَنْ شَكَرَ فَإِنَّمَا يَشْكُرُ لِنَفْسِهِ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ رَبِّي غَنِيٌّ كَرِيمٌ} 2. فالرب سبحانه غني بنفسه، وما يستحقه من صفات الكمال ثابت له بنفسه، واجب له من لوازم ذاته، لا يفتقر في شيء من ذلك إلى غيره، ففعله وإحسانه وجوده من كماله، لا يفعل شيئًا لحاجة إلى غيره بوجه من الوجوه، بل كل ما يريد فعله فإنه {فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ} ، [هود: من الآية: 107، والبروج، من الآية: 16] .
وهو سبحانه {بَالِغُ أَمْرِهِ} ، [الطلاق، من الآية: 3] ، فكل ما يطلبه فهو يبلغه ويناله ويصل إليه وحده، ولا يعينه أحد، ولا يعوقه أحد، لا يحتاج في شيء من أموره إلى مُعِيْنٍ، وما له من المخلوقين {مِنْ ظَهِيرٍ} ، [سبأ، من الآية: 22] ، وليس {له ولي من الذل} ، قاله شيخ الإسلام.
الأمر بعبادة الله واجتناب عبادة الطاغوت.
قال: وقوله: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 3.
قالوا: {الطاغوت} ؛ مشتق من الطغيان وهو مجاوزة الحد. وقد فسَّره السلف ببعض أفراده. قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: الطاغوت: الشيطان. وقال جابر رضي الله عنه "الطواغيت: كهان كانت تنْزل عليهم الشياطين". رواهما ابن أبي حاتم. وقال مجاهد: "الطاغوت: الشيطان في صورة الإنسان، يتحاكمون إليه وهو صاحب أمرهم". وقال مالك: الطاغوت: كل ما عبد من دون الله.
قلت: وهو صحيح، لكن لا بد فيه من استثناء مَنْ لا يرضى بعبادته.
--------------------------------------------
{দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের এমন কোনো বাহিনী আছে কি, যারা তোমাদের সাহায্য করবে? কাফেররা কেবল বিভ্রান্তিতে রয়েছে। অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদের রিযিক দান করবে যদি তিনি তাঁর রিযিক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অবাধ্যতা ও সত্যবিমুখতায় নিমগ্ন রয়েছে} ১
২- আর তিনি সুবহানাহু নিজেই আপনার ওপর নেয়ামত দান করেন এবং আপনার প্রতি অনুগ্রহ করেন। কেননা এটি তাঁর ঐ সকল নামেরই দাবি যা তিনি নিজের জন্য রেখেছেন এবং ঐ সকল গুণের দাবি যার মাধ্যমে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। যেহেতু তিনি পরম দয়াময় (আর-রাহমান), অতি দয়ালু (আর-রাহিম), পরম স্নেহময় (আল-ওয়াদুদ), মহিমান্বিত (আল-মাজিদ)। তিনি স্বয়ং ক্ষমতাবান, এবং তাঁর ক্ষমতা তাঁর সত্তার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। তদ্রূপ তাঁর রহমত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। তিনি কোনোভাবেই তাঁর সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নন, বরং তিনি সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ অভাবমুক্ত। {আর যে ব্যক্তি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, সে তো নিজের মঙ্গলের জন্যই তা করে; আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, তবে আমার পালনকর্তা অভাবমুক্ত ও অতি মহান} ২। সুতরাং রব সুবহানাহু স্বয়ং অভাবমুক্ত, এবং তাঁর পূর্ণতার যে সকল গুণাবলি তাঁর প্রাপ্য, তা তাঁর সত্তার মাধ্যমেই সাব্যস্ত এবং তাঁর সত্তার জন্য অপরিহার্য। এগুলোর কোনো কিছুতেই তিনি অন্য কারো মুখাপেক্ষী নন। তাঁর কর্ম, অনুগ্রহ ও দানশীলতা তাঁরই পূর্ণতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি কোনোভাবেই অন্য কারো প্রয়োজনের কারণে কোনো কিছু করেন না; বরং তিনি যা করতে চান তা-ই করেন— {তিনি যা চান তা করতে সক্ষম}, [হূদ: আয়াত ১০৭, এবং আল-বুরূজ: আয়াত ১৬] ।
আর তিনি সুবহানাহু {নিজের কাজ সম্পন্নকারী}, [আত-তালাক, আয়াত ৩] , সুতরাং যা কিছু তিনি চান, তিনি তা অর্জন করেন, লাভ করেন এবং তাতে উপনীত হন তিনি একাই; কেউ তাঁকে সাহায্য করে না এবং কেউ তাঁকে বাধা দিতে পারে না। তিনি তাঁর কোনো কাজে কোনো সাহায্যকারীর মুখাপেক্ষী নন। আর তাঁর সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাঁর কোনো {সাহায্যকারী নেই}, [সাবা, আয়াত ২২] , এবং তাঁর {হীনতা হেতু কোনো অভিভাবক নেই}, শাইখুল ইসলাম এটিই বলেছেন।
আল্লাহর ইবাদত করার এবং তাগুতের ইবাদত পরিহার করার নির্দেশ।
তিনি বলেন: আর তাঁর বাণী: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} ৩।
তাঁরা বলেন: 'তাগুত' শব্দটি 'তুগইয়ান' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সীমা লঙ্ঘন করা। সালাফগণ এর কতিপয় উদাহরণ দিয়ে একে ব্যাখ্যা করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "তাগুত হলো শয়তান"। জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "তাগুতসমূহ হলো ঐ সকল গণক যাদের নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হতো"। ইবনে আবি হাতিম এ দুটি বর্ণনা করেছেন। মুজাহিদ বলেন: "তাগুত হলো মানুষের রূপধারী শয়তান, যার কাছে মানুষ বিচার নিয়ে যায় এবং সে তাদের বিষয়ের ফয়সালাকারী হয়"। ইমাম মালিক বলেন: "তাগুত হলো আল্লাহ ব্যতীত যারই ইবাদত করা হয়"।
আমি বলছি: এটি সঠিক, তবে এতে ওই ব্যক্তিকে বাদ দিতে হবে যে নিজের ইবাদত করা হলে তাতে সন্তুষ্ট নয়।
--------------------------------------------