(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: -)
معجم البلدان   (الحموي، ياقوت)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: معجم البلدان

المؤلف: شهاب الدين أبو عبد الله ياقوت بن عبد الله الرومي الحموي (ت 626هـ)

الناشر: دار صادر، بيروت

الطبعة: الثانية، 1995 م

عدد الأجزاء: 7

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মু'জামুল বুলদান   (আল-হামাউয়ী, ইয়াকুত)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: মু'জামুল বুলদান

লেখক: শিহাবুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুমী আল-হামাউয়ী (মৃত্যু ৬২৬ হিজরি)

প্রকাশক: দার সাদির, বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৭

[গ্রন্থের নাম্বারিং মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: -)
أبو عبد الله شهاب الدين ياقوت بن عبد الله الحموي.

 

إن اسم ياقوت يدل على أنه كان من الموالي، إذ كان من المرسوم أن يدعون الموالي باسم الأحجار الكريمة أو العطور العبقة كزمرد وكافور. فأراد ياقوت فيما بعد أن يستبدل اسمه بيعقوب للتشابه فيما بينهما ولكنه لم يوفق لذلك وبقي بين معاصريه والأجيال اللاحقة مشتهراً بهذا الاسم.

ياقوت الحموي رومي الأصل ومن البلاد البيزنطية، ولعله من عرق يوناني. وإنما اشتهر بابن عبد الله لأن أباه مجهول. واشتهر بالحموي أيضاً لأنه مولى لرجل من أهل حماة.

ولد بالإجماع في سنة 575 هـ / 1179 م.

كان غريباً عن لغته الأصلية أو كان لا يجيدها وصارت العربية لغته الرسمية ولكن بما أنه يعود إلى أصول أجنبية لم يصل في هذه اللغة أيضاً إلى كمالها.

ترعرع في بيئة إسلامية وقد سعى مولاه في أمر تعليمه وإرشاده وكان يصطحبه معه في الكثير من الرحلات التجارية وأحياناً يرسله للسفر وحيداً. ومن الرحلات التي أثرت فيه رحلته مكرراً إلى جزيرة كيش الواقعة في الخليج الفارسي حيث كانت آنذاك واحدة من المراكز التجارية في العالم الإسلامي يتقاطر إليها الناس من مختلف أصقاع العالم. وخلال إحدى هذه الرحلات في سنة 596 هـ، أُخبر بوفاة مولاه وتحريره إياه فأقام من حينها في بغداد واشتغل بالاستنساخ وبيع الكتب. ثم بدأ برحلاته منذ عام 610 هـ / 1213 م واستمرت ستة عشر عاماً إلى حين موته بفواصل قليلة.

من أساتذته: العكبري وابن يعيش.

ذكره المؤرخون وأرباب التراجم بأنه مؤرخ ثقة، ومن روّاد علم الجغرافيا، لغوي، أديب، شاعر وكاتب بارع وعالم بصير في تقويم البلدان.

 

آثاره

من آثاره: إرشاد الأريب إلى معرفة الأديب، أخبار الشعراء أو معجم الشعراء، المقتطفات في النسب، معجم البلدان، مراصد الاطلاع (هناك اختلاف في نسبة هذا الكتاب إليه) ، المشترك وضعاً والمفترق صقعاً، أخبار المتنبي، كتاب الأغاني، كتاب الدول وغيرها.
আবু আবদুল্লাহ শিহাবুদ্দিন ইয়াকুত বিন আবদুল্লাহ আল-হামাভি।

 

ইয়াকুত নামটি নির্দেশ করে যে তিনি মুক্তদাসদের (মাওয়ালি) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কারণ তৎকালীন প্রথা ছিল যে তারা মুক্তদাসদের মূল্যবান রত্ন বা সুগন্ধি নামে ডাকতেন, যেমন যমররুদ (পান্না) এবং কাফুর। পরবর্তীতে ইয়াকুত তার নাম পরিবর্তন করে ইয়াকুব রাখার ইচ্ছা করেছিলেন উভয়ের মাঝে সাদৃশ্যের কারণে, কিন্তু তিনি তাতে সফল হননি এবং সমসাময়িক ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি এই নামেই পরিচিত রয়ে গেছেন।

ইয়াকুত আল-হামাভি বংশগতভাবে রোমান এবং বাইজান্টাইন দেশীয় ছিলেন, সম্ভবত তিনি গ্রীক বংশোদ্ভূত ছিলেন। তিনি 'ইবনে আবদুল্লাহ' নামে পরিচিত ছিলেন কারণ তাঁর পিতা ছিলেন অজ্ঞাত। তিনি 'হামাভি' নামেও পরিচিতি লাভ করেন কারণ তিনি হামাত শহরের একজন ব্যক্তির মুক্তদাস ছিলেন।

তিনি সর্বসম্মতিক্রমে হিজরি ৫৭৫ / ১১৭৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি তাঁর মূল ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন অথবা তাতে পারদর্শী ছিলেন না এবং আরবি তাঁর দাপ্তরিক ভাষা হয়ে ওঠে; তবে যেহেতু তিনি বিদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন, তাই এই ভাষাতেও তিনি পূর্ণতা অর্জন করতে পারেননি।

তিনি একটি ইসলামি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন এবং তাঁর মনিব তাঁর শিক্ষা ও নির্দেশনার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি তাকে অনেক বাণিজ্যিক সফরে সাথে নিতেন এবং মাঝে মাঝে তাঁকে একা ভ্রমণে পাঠাতেন। তাঁকে প্রভাবিত করা সফরগুলোর মধ্যে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত কিশ দ্বীপে বারবার ভ্রমণ অন্যতম, যা সে সময় ইসলামি বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল এবং সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সমবেত হতো। হিজরি ৫৯৬ সালের এমনই এক ভ্রমণের সময় তিনি তাঁর মনিবের মৃত্যু এবং তাঁর মুক্তির সংবাদ পান। এরপর থেকে তিনি বাগদাদে বসবাস শুরু করেন এবং বই প্রতিলিপি করা ও বিক্রির কাজে নিয়োজিত হন। অতঃপর ৬১০ হিজরি / ১২১৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে তিনি তাঁর সফর শুরু করেন যা তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্বল্প বিরতিসহ ষোল বছর অব্যাহত ছিল।

তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আল-উকবারী এবং ইবনে ইয়ায়িশ।

ঐতিহাসিকগণ এবং জীবনীকারগণ তাঁকে একজন নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক, ভূগোলবিদ্যার অন্যতম অগ্রদূত, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, কবি, সুদক্ষ লেখক এবং দেশ-বিদেশের বর্ণনায় এক বিচক্ষণ পণ্ডিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

তাঁর রচনাবলি

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ইরশাদুল আরিব ইলা মারিফাতিল আদিব, আখবারুশ শুয়ারা বা মু'জামুশ শুয়ারা, আল-মুকতাতিফাত ফিন নাসাব, মু'জামুল বুলদান, মারাসিদুল ইত্তিলা (এই বইটি তাঁর প্রতি আরোপ করার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে), আল-মুশতারাক ওয়াদআন ওয়াল মুফতারাখ সাকআন, আখবারুল মুতানাব্বি, কিতাবুল আগানি, কিতাবুদ দুওয়াল এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[المجلد الاول]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله الذي جعل الأَرضَ مِهاداً، والجبالَ أَوتاداً، وبَثَّ من ذلك نشوزاً ووهاداً، وصَحارَى وبلاداً، ثم فجَّر خِلال ذلك أَنهاراً، وأَسال أَوديةً وبحاراً، وهدَى عباده إِلى اتخاذ المساكن، وإِحكام الأَبنية والمواطن، فشيَّدوا البُنيان، وعمَّروا البُلْدان، ونحَتوا من الجبال بيوتاً، واستنبطوا آباراً وقُلوتا، وجعل حرصهم على تَشييد ما شيَّدوا، وإحكام ما بَنَوا وعَمَّدُوا، عبرة للغافلين، وتبصرة للغابرين. فقال وهو أَصدق القائلين: «أَفَلَمْ يَسِيرُوا في الْأَرْضِ، فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كانَ عاقِبَةُ الَّذِينَ من قَبْلِهِمْ.

كانُوا أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةً وَآثاراً في الْأَرْضِ، فَما أَغْنى عَنْهُمْ ما كانُوا يَكْسِبُونَ» 40: 82. أَحمَده على ما أَعطى وأَنعم، وهدَى إِلى الرُّشد وأَلهمَ، وبيَّن من السَّداد وأَفهمَ، وصلى الله عليه خِيرته من أَنبيائه والمرسلين، وصفوته من أَصفيائه والصالحين، محمد المبعوث بالهدى والدين المبين، المنعوت بِ «وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ» 21: 107 وعلى آله الكرام البررة، وأصحابه المنتجبين الخيرة، وسلّم تسليما.

أَما بعد، فهذا كتاب في أَسماءِ البُلْدان، والجبال، والأودية، والقيعان، والقُرَى، والمحالّ، والأَوطان، والبحار، والأَنهار، والغُدران، والأصنام، والأنداد، والأَوثان. لم أَقصِدْ بتأْليفه، وأَصمُدْ نفسي لتصنيفه، لهواً ولا لعبا، ولا رَغبة حثَّتني اليه ولا رَهْباً، ولا حنينا استفزَّني إِلى وَطن، ولا طرباً حَفَزَني إِلى ذي ودّ وَسَكَن. ولكن رأَيت التصدّي له واجِباً، والانتدابَ له مع القدرة عليه فرضا لازبا، وفّقني عليه الكتاب العزيز الكريم، وهداني اليه النّبأُ العظيم، وهو قوله عز وجل، حين أراد أن يعرّف عباده آياته ومثلاته، ويقيم الحجة عليهم في إِنزاله بهم أَلِيمَ نَقماته:

«أَفَلَمْ يَسِيرُوا في الْأَرْضِ، فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِها أَوْ آذانٌ يَسْمَعُونَ بِها، فَإِنَّها لا تَعْمَى الْأَبْصارُ، وَلكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي في الصُّدُورِ» 22: 46. فهذا تقريع لمن سار في بلاده ولم يعتبر، ونظر إلى القرون الخالية فلم ينزجر، وقال وهو أصدق القائلين: «قُلْ سِيرُوا في الْأَرْضِ ثُمَّ انْظُرُوا كَيْفَ كانَ عاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ» 6: 11 أَي انظروا إلى ديارهم كيف درست، وإلى آثارهم وأنوارهم كيف انطَمَسَت، عقوبةً لهم على اطّراح أَوامره، وارتكاب زواجره، إلى غير ذلك من الآيات المحكمة، والأَوامر والزواجر المبرَمة.

فالأَول توبيخ لسَبْق النهي عن المعصية شاهراً، والثاني أَمر يقتضي الوجوب ظاهرا. فهذا من كتاب الله الذي لا يأْتيه الباطل من بين يديه ولا من خَلفه، ولا يطرق عليه نقصٌ من إِنشائه وخَلقه، وقد
[প্রথম খণ্ড]

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

 

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জমিনকে করেছেন শয্যা, পাহাড়কে করেছেন পেরেক; এবং তা থেকে বিচ্ছুরিত করেছেন উঁচু ভূমি ও সমতল ভূমি, মরুপ্রান্তর ও জনপদ। অতঃপর তিনি এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করেছেন নদ-নদী এবং বইয়ে দিয়েছেন উপত্যকা ও সমুদ্র। তিনি তাঁর বান্দাদের আবাসস্থল নির্মাণ এবং সুদৃঢ় অট্টালিকা ও বাসভূমি তৈরিতে পথপ্রদর্শন করেছেন। ফলে তারা সৌধ নির্মাণ করেছে, শহরগুলো আবাদ করেছে, পাহাড় কেটে ঘর তৈরি করেছে এবং কুয়া ও জলাধার খনন করেছে। তিনি তাদের এই নবনির্মিত অট্টালিকা সুদৃঢ়করণ এবং যা কিছু তারা নির্মাণ ও স্তম্ভযুক্ত করেছে তার প্রতি আগ্রহকে গাফেলদের জন্য শিক্ষা এবং উত্তরসূরিদের জন্য অন্তর্দৃষ্টির উপকরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আর তিনিই সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী: "তবে কি তারা জমিনে ভ্রমণ করেনি, যাতে তারা দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল? তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক ছিল এবং শক্তিতে ও জমিনে কীর্তিতে ছিল প্রবলতর। অতঃপর তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের কোনো কাজে আসেনি।" (৪০:৮২)। আমি তাঁর প্রশংসা করি তিনি যা দান করেছেন ও নেয়ামত দিয়েছেন তার ওপর, তিনি সুপথের দিকে পরিচালিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সঠিক পথ স্পষ্ট করেছেন ও বুঝিয়েছেন। তাঁর নির্বাচিত নবী ও রাসূলদের ওপর এবং তাঁর মনোনীত ও নেককার বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক; বিশেষত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি হেদায়েত ও সুস্পষ্ট দ্বীনসহ প্রেরিত হয়েছেন, যাঁর গুণাবলি সম্পর্কে বলা হয়েছে: "আমি তো তোমাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" (২১:১০৭)। এবং তাঁর সম্মানিত ও পুণ্যবান পরিবারবর্গ ও মনোনীত শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের ওপর এবং তাঁদের প্রতি বর্ষিত হোক যথাযথ সালাম।

অতঃপর, এটি জনপদ, পাহাড়, উপত্যকা, সমতল ভূমি, গ্রাম, মহল্লা, স্বদেশ, সমুদ্র, নদী, জলাশয়, প্রতিমা, অংশীদার ও মূর্তিসমূহের নাম বিষয়ক একটি গ্রন্থ। এটি সংকলনের মাধ্যমে এবং এর বিন্যাসে নিজেকে নিয়োজিত করে আমি কোনো খেল-তামাশার সংকল্প করিনি, আর কোনো লালসা বা ভয় আমাকে এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেনি। কোনো স্বদেশের প্রতি মমতা আমাকে বিচলিত করেনি, কিংবা কোনো প্রিয়জন বা বাসস্থানের প্রতি আবেগ আমাকে প্ররোচিত করেনি। বরং আমি এর দায়িত্ব গ্রহণ করাকে ওয়াজিব এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও এর প্রতি মনোনিবেশ করাকে একটি অপরিহার্য কর্তব্য বলে মনে করেছি। এ ব্যাপারে মহিমান্বিত ও সম্মানিত কিতাব আমাকে তাওফিক দিয়েছে এবং মহা সংবাদ আমাকে পথ দেখিয়েছে। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী, যখন তিনি তাঁর বান্দাদের তাঁর নিদর্শন ও শিক্ষণীয় দৃষ্টান্তসমূহের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলেন এবং তাদের ওপর তাঁর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির অবতরণ ঘটিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেন:

"তারা কি জমিনে ভ্রমণ করেনি, যাতে তাদের এমন হৃদয় থাকত যা দিয়ে তারা উপলব্ধি করতে পারত অথবা এমন কান থাকত যা দিয়ে তারা শুনতে পারত? বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়।" (২২:৪৬)। এটি তাদের প্রতি তিরস্কার যারা তাঁর দেশে ভ্রমণ করেছে কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করেনি এবং বিগত শতাব্দীগুলোর দিকে তাকিয়েছে কিন্তু সতর্ক হয়নি। তিনি বলেছেন, আর তিনিই সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী: "বলুন, তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো, অতঃপর দেখো মিথ্যাচারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল।" (৬:১১)। অর্থাৎ তাদের গৃহসমূহের দিকে তাকাও কীভাবে সেগুলো বিলীন হয়ে গেছে, এবং তাদের ধ্বংসাবশেষ ও আলোকবর্তিকা কীভাবে মুছে গেছে; এটি ছিল তাঁর আদেশ বর্জন এবং নিষেধসমূহ লঙ্ঘনের কারণে তাদের ওপর প্রদত্ত শাস্তি। এ ছাড়াও রয়েছে আরও অনেক সুদৃঢ় আয়াত এবং অকাট্য আদেশ ও নিষেধ।

সুতরাং প্রথমটি হলো অবাধ্যতা থেকে পূর্বে নিষেধ করা সত্ত্বেও তা করার কারণে প্রকাশ্যে তিরস্কার, আর দ্বিতীয়টি হলো এমন আদেশ যা বাহ্যত ওয়াজিব হওয়াকে দাবি করে। এটি আল্লাহর কিতাব থেকে (উদ্ধৃত), যার সামনে বা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না এবং এর রচনা ও সৃষ্টিতে কোনো ত্রুটি স্পর্শ করতে পারে না। আর...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৮)
وَرَد في الأثر عن السادات ممن عَبر، قول عيسى بن مريم، عليه السلام: الدُّنيا مَحَلُّ مَثُلةٍ، ومنزلُ نَقَلةٍ، فكونوا فيها سَيَّاحين، واعتبروا ببقية آثار الأَولين.

قال قُسُّ بن ساعدة الذي حكم له النبي، صلى الله عليه وآله وسلم، أَنه يُبعَثُ أُمّةَ وحدَه: «أَبلَغُ العظات، السيرُ في الفلوات، والنظرُ إلى محل الأَموات» . وقد مدح الشعراءُ الخُلفاءَ والملوك والأُمراء بالسير في البلاد، وركوب الحُزُون والوهاد. فقال بعضهم يمدح المعتصم:

تناولتَ أَطرافُ البلاد بقدرةٍ، … كأَنك، فيها، تَبتَغي أَثر الخِضْر

وقد تتعذَّر أَسباب النظر، فيتعين التماس الخبر، فوَجب لذلك علينا إعلام المسلمين بما علِمناه، وإرفادُهم بما أَفادناه الله بفضله فأَتْقَنَّاه، إذ كان الافتقار إلى هذا الشأْن يَشترك فيه كلّ من ضَرَب في العِلم بسهم، واختَصَّ منه بنصيب أَو قَسم، أَو أَتَّسمَ منه باسم، أَو ارتسم بفنّ منه او رسم. وعلى ذلك لم أَرَ من طَبَّ سقيمَ أَسمائها، أَو قَوِي على تمتين ضعيف مقاصدها وأَنحائها، فإني رأَيت جُلّ نَقَلة الأَخبار، وأَعيان رُواة الأَشعار والآثار، ممن عُنِي بها دهرَه، وأَنفد فيها عَرضه وعَمْرَه حَسَنَ الاستمرار على الصواب، والجاً حدائق الرشد في كل باب، ضاربا بقداح الفَلْج في أَفانين العلوم والآداب، عند قراءة السنن والآثار، ورواية الأحاديث والأَخبار، لتحصيلهم إياها بالمعاني، واستدلالهم على مغزى أَوائل الكلم بالثّواني، لأخذ بعض الكلام بأهداب بعض، ودلالة أواخره على أوائله، وأَوائله على أَواخره، حتى يمرّ بهم ذكر بقْعة كانت بها وقعة واقعة، فيختلط لاحتياجه إلى النقل لا العقل، والرواية لا الدراية، فتراه إما غالطا، أو مغالطاً، فيَخفِض من صوته بعد رَفْعه، ويَتَكَهَّمُ ماضي لسانه بقدعه. ثم قلما رأَيت الكتب المتْقنَة الخط، المحتاطَ لها بالضبط والنّقط، إِلا وأَسماءُ البقاع فيها مهملة أَو محرّفة، وعن محجّة الصواب منعطفة أَو منحرفة، قد أَهمله كاتبه جهلا، وصورّه على التَّوَهُّم نقلا.

وكم إمام جليل، ووَجْه من الأَعيان نبيل، وأمير كبير، ووزير خطير، يُنسَب إلى مكان مجهول، فتراه عند ترجيم الظنون على كلّ محتمل محمول، فإن سئل عنه أَهل المعارف أخذوا بالنصف الأرْذل من العلم، وهو لا أدري. وبئست الخطة للرجل الفاضل، فإِن التَمس لذلك مَظِنَّةً، أَعضَلَ، أَو أُريغَ له مطلب، أَعوَزَ وأَشكل، لِإغفالهم هذا الفنَّ من العلم الخطير مع جلالته، وإعراضهِم عن هذا المقصد الكبير مع فَخامته. ومن ذا الذي يَستَغني من أولي البصائر عن معرفة اسماء الأَماكن وتصحيحها، وضبط أصقاعها وتنقيحها، والناس في الافتقار إلى علمها سَوَاسية، وسرّ دَوَرانها على الأَلسن في المحافل علانيةٌ، لأَن من هذه الأَماكن ما هي مواقيت للحجاج والزائرين، ومعالم للصحابة والتابعين، رضوان الله عليهم أَجمعين، ومشاهد للأَولياء والصالحين، ومواطن غزوات سرايا سيّد المرسلين، وفتوح الأَئمة من الخلفاء الراشدين.

وقد فُتحت هذه الأماكن صلحا وعنوة، وأَماناً وقوَّةً، ولكلٍّ من ذلك حكم في الشريعة، في قسمة الفيء وأَخذ الجزية، وتناول الخراج واجتناءِ المقاطعات والمصالحات، وإِنالة التَّسْويفات والإِقطاعات،
গত হওয়া মহান ব্যক্তিদের বর্ণনায় ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর একটি উক্তি বর্ণিত হয়েছে: "দুনিয়া হলো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির স্থান এবং গন্তব্য পরিবর্তনের আবাস; সুতরাং তোমরা এখানে ভ্রমণকারী হয়ে যাও এবং পূর্ববর্তীদের অবশিষ্ট নিদর্শনগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো।"

কুস বিন সায়েদা—যাঁর সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) রায় দিয়েছেন যে, তিনি একাই একটি উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন—বলেছেন: "সবচেয়ে প্রভাবশালী উপদেশ হলো মরুপ্রান্তরে বিচরণ করা এবং মৃতদের আবাসস্থলের দিকে দৃষ্টিপাত করা।" কবিরা দেশজুড়ে ভ্রমণ এবং বন্ধুর ও নিম্নভূমি পাড়ি দেওয়ার মাধ্যমে খলিফা, রাজা ও আমিরদের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মুতাসিম-এর প্রশংসা করে বলেছেন:

আপনি নিজ ক্ষমতায় দেশ-দেশান্তরের প্রান্তসমূহ আয়ত্ত করেছেন... যেন আপনি সেখানে খিজিরের পদচিহ্ন তালাশ করছেন।

কখনও কখনও স্বচক্ষে দেখার উপায় রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন সংবাদের অনুসন্ধান করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাই আমরা যা জেনেছি তা মুসলমানদের জানানো এবং আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের যা দান করেছেন ও যা আমরা নিপুণভাবে আয়ত্ত করেছি, তা দিয়ে তাঁদের সাহায্য করা আমাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কেননা জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় যাঁদের কিঞ্চিৎ পদচারণা আছে, অথবা এর কোনো অংশ বা ভাগ যাঁরা লাভ করেছেন, কিংবা এর কোনো বিশেষ নামে বা শিল্পে যাঁরা পরিচিতি লাভ করেছেন, তাঁদের সকলেরই এই বিষয়ের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তদুপরি, আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই নামগুলোর ভুলসমূহ সংশোধন করেছেন, কিংবা এর উদ্দেশ্য ও দিকগুলোর দুর্বলতাকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছেন। কারণ আমি দেখেছি যে, সংবাদ বাহকদের অধিকাংশ এবং কবিতা ও ঐতিহ্যের বিশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ—যাঁরা এতেই স্বীয় জীবন ও সময় ব্যয় করেছেন—যদিও তারা সঠিক পথে চলায় অভ্যস্ত এবং প্রতিটি বিষয়ে হেদায়েতের উদ্যানে প্রবেশকারী, এমনকি সুন্নাহ ও আসারের পাঠ এবং হাদিস ও সংবাদের বর্ণনায় জ্ঞানের নানা শাখায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী—তাঁরা মূলত অর্থের দিকে খেয়াল রেখে এগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং বাক্যের প্রথমাংশ দিয়ে শেষাংশের মর্মার্থ উপলব্ধি করেছেন। এভাবে তাঁরা এক কথার সাথে অন্য কথা গেঁথে নিয়েছেন এবং পরবর্তী অংশ দিয়ে পূর্ববর্তী অংশের ও পূর্ববর্তী অংশ দিয়ে পরবর্তী অংশের নির্দেশনা খুঁজে নিয়েছেন। তবে যখনই তাঁদের সামনে এমন কোনো ভূখণ্ডের নাম আসে যেখানে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল, তখনই তাঁরা বিভ্রান্তিতে পড়েন; কারণ এখানে জ্ঞানের চেয়ে বর্ণনার এবং বুদ্ধিবৃত্তির চেয়ে শ্রুতির প্রয়োজন বেশি। তখন আপনি দেখবেন যে তারা হয় ভুল করছেন, অথবা ভুল পথে চালিত হচ্ছেন; ফলে তারা উচ্চকণ্ঠের পর স্বর নিচু করে ফেলেন এবং জড়তাহীন সাবলীল জিহ্বা তখন তোতলামিতে জড়িয়ে পড়ে। তদুপরি, আমি খুব কমই এমন নির্ভুল হস্তাক্ষরে লিখিত বই দেখেছি—যা অত্যন্ত সতর্কতা ও নুকতার মাধ্যমে সংরক্ষিত—যেখানে স্থানের নামগুলো অবহেলিত বা বিকৃত হয়নি এবং সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত বা বিমুখ হয়নি। লেখক হয়তো অজ্ঞতাবশত তা উপেক্ষা করেছেন অথবা নিছক অনুমানের ভিত্তিতে তা চিত্রিত করেছেন।

কত মর্যাদাপূর্ণ ইমাম, মহান ব্যক্তিত্ব, বিশাল আমির এবং গুরুত্বপূর্ণ উজির রয়েছেন যাঁদের কোনো এক অজানা স্থানের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়; ফলে দেখা যায় অনুমানের ভিত্তিতে তাঁদের সম্পর্কে প্রতিটি সম্ভাব্য মতই গ্রহণ করা হচ্ছে। যদি এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তাঁরা জ্ঞানের নিকৃষ্টতর অর্ধেক তথা "আমি জানি না" শব্দটির আশ্রয় নেন। কোনো গুণী ব্যক্তির জন্য এটি কতই না মন্দ কর্মপন্থা। কারণ তিনি যদি এর কোনো উৎস খুঁজতেন তবে তা জটিল হয়ে পড়ত, অথবা যদি এর কোনো সমাধান অন্বেষণ করতেন তবে তা দুষ্প্রাপ্য ও দুঃসাধ্য মনে হতো। এর কারণ হলো—মর্যাদাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা জ্ঞানের এই গুরুত্বপূর্ণ শাখাকে উপেক্ষা করেছেন এবং মহিমান্বিত হওয়া সত্ত্বেও এই বিশাল উদ্দেশ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। প্রজ্ঞাবানদের মধ্যে এমন কে আছে যার স্থানের নামগুলো জানা, সেগুলোর বিশুদ্ধতা যাচাই করা এবং অঞ্চলগুলোর সীমানা সুনির্দিষ্ট ও পরিমার্জিত করার প্রয়োজন নেই? অথচ এ বিষয়ে জ্ঞানের অভাবের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ সমান স্তরের, আর মজলিসগুলোতে মুখে মুখে এ নিয়ে আলোচনার বিষয়টি সর্বজনবিদিত। কারণ এসকল স্থানের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা হাজি ও যিয়ারতকারীদের জন্য মিকাত (নির্ধারিত স্থান), সাহাবি ও তাবেয়িদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হন) স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শন, আউলিয়া ও নেককারদের স্মৃতিধন্য স্থান এবং আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন সমর অভিযানের রণক্ষেত্র ও খোলাফায়ে রাশেদীনের বিজিত অঞ্চল।

এই স্থানগুলো সন্ধি কিংবা যুদ্ধের মাধ্যমে, নিরাপত্তার আশ্বাসে অথবা শক্তির বলে বিজিত হয়েছে। আর এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য শরিয়তে পৃথক বিধান রয়েছে—যেমন 'ফাই' বণ্টন, জিজিয়া গ্রহণ, খেরাজ আদায়, সন্ধি ও চুক্তির সুফল ভোগ এবং ইনাম ও ইকতা (জমি বরাদ্দ) প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৯)
لا يَسَعُ الفقهاءَ جهلُها، ولا يُعذر الائمة والأُمراءُ إِذا فاتَهُم في طريق العلم حَزْنُها وسهلُها، لأَنها من لوازم فتيا الدين، وضوابط قواعد الإِسلام والمسلمين.

فأَما أهل السير والأخبار، والحديث والتواريخ والآثار، فحاجتُهم إلى معرفتها أَمَسُّ من حاجة الرياض إِلى القطار، غبَّ إِخلاف الأَنواءِ، والمُشفي إِلى العافية بعد يأْس من الشفاء، لأَنه معتمد علمهم الذي قَلَّ أَن تخْلوَ منه صَفْحَةٌ، بل وِجْهَةٌ، بل سطرٌ من كتبهم.

وأَما أَهل الحكمة والتّفهيم، والتطبّب والتّنجيم، فلا تقصُرُ حاجتُهم إِلى معرفته عمّن قدَّمنا، فالأَطباءُ لمعرفة أَمزجة البُلْدان وأَهوائها، والمنجم للاطّلاع على مطالع النجوم وأَنوائها، إذ كانوا لا يحكمون على البلاد إِلا بطوالعها، ولا يقضون لها وعليها بدون معرفة أَقاليمها ومواضعها، ومن كمال المتطبّب أَن يتطلَّع إِلى معرفة مزاجها وهوائها، وصحّة أَو سقم منبتها ومائها، وصارت حاجتهم الى ضبطها ضرورية، وكشفهم عن حقائقها فلسفيَّة، ولذلك صنَّف كثير من القدماء كُتباً سموها جغرافيا، ومعناها صورة الأَرض، وأَلَّفَ آخرون كُتباً في أَمزجة البلدان وأَهوائها، نحو جالينوس، وقبله بُقْراط وغيرهما.

وأما أَهلُ الأَدب فناهيكَ بحاجتهم إِليها، لأنّها من ضوابط اللّغوي ولوازمه، وشواهد النّحوي ودعائمه، ومعتمد الشاعر في تحلية جيد شعره بذكرها، وتزيين عقود لآلئ نظمه بشذرها، فإِن الشعر لا يروق، ونفسَ السامع لا تشوق، حتى يذكر حاجر وزرود، والدهناءَ وهبود، ويتحنّن الى رمال رضوى، فيلزمه تصحيح لفظ الاسم وأَين صَقْعُه، وما اشتقاقُه ونُزهتُه، وقَفْرُه وحَزْنُه وسهولتُه.

فإنه إن زعم أنه وادٍ وكان جبلًا، أَو جبلٌ وكان صحراءَ، أَو صحراءُ وكان نَهَراً، أَو نهرٌ وكان قَرْيَةً، أَو قريةٌ وكان شِعْباً، أَو شعبُ وكان حَزْماً، أَو حزمٌ وكان روضةً، أَو روضةٌ وكان صَفْصَفاً، أَو صفصفٌ وكان مُستَنْقَعاً، أَو مستنقعٌ وكان جَلَداً، أَو جلدٌ وكان سَبْخَةً، أَو سبخةٌ وكان حَرَّةً، أَو حَرَّةٌ وكان سهلا، أَو سهلٌ وكان وَعْراً، أَو يَجعَلُه شرقيّاً وكان غربيّاً، أَو جنوبيّاً وكان شماليّاً، سَفُلَ قدرُه، ونَزُرَ كُثْرُه، وآض ضُحْكةً، ويرى أَنه ضُحكَة، وجُعل هُزْأَة، ويرى أَنه هُزَأَة، واستُخِفَّ وزنُه واستُرذِل، واستُقِلّ فضْلُه واستُجهِلَ، فقد ذكر بعض العلماء أَنهم استدلوا على ان هذا البيت:

إِنَّ بالشعب، الذي دونَ سَلْعٍ، … لقتيلًا، دَمُه ما يُطَلُ

ليس من شعر تَأبَّطَ شرّاً، بأَن سَلْعاً ليس دونه شعبٌ. ولقد صنَّف، في عصرنا هذا، إِمام، من أَهل الأَدب، جليلٌ، وشيخ يُعْتَمَد عليه ويُرجَع في حلِّ المُشكلات إِليه نبيلٌ، كتاباً في شرح المقامات، التي أَنشأَها أَبو محمد القاسم بن علي بن محمد الحريري، فطبَّقَ مَفصِلَ الإِصابة في شرح أفانين ضروبها، وغَبَّرَ في وجه كل من فَرَّغَ بالُه لإِيضاح مُشْكلها وغريبها، فإِنه بَهرَ العقول وأَدهش الأَذهان بما ذكره من أسرار بلاغتها، وأَظهره من مخزون براعتها، وأَوضحه من مكنون معانيها، وأَبانه من فتق الأَلفاظ التي فيها، وأَوْرده من الأشباه والنظائر، والعينون والنواظر، واصطلح الجمهور على تفضيله،
ফকিহগণের জন্য এটি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা সমীচীন নয়, এবং ইমাম ও নেতৃবর্গ যদি ইলমের পথে এর বন্ধুর ও সমতল ভূমি সম্পর্কে জানতে ব্যর্থ হন তবে তারা ক্ষমার অযোগ্য; কেননা এটি দ্বীনি ফতোয়া প্রদানের অন্যতম অনুষঙ্গ এবং ইসলাম ও মুসলিমদের বিধিবিধানের একটি মানদণ্ড।

আর যারা সীরাত, আখবার (সংবাদ), হাদিস, ইতিহাস এবং আসারের পণ্ডিত, তাদের জন্য এটি জানার প্রয়োজনীয়তা বৃষ্টির মৌসুম অতিক্রান্ত হওয়ার পর বাগানের বৃষ্টির প্রতি আকাঙ্ক্ষার চেয়েও বেশি তীব্র, কিংবা আরোগ্য লাভের আশা ছেড়ে দেওয়ার পর মুমূর্ষু রোগীর সুস্থতা কামনার চেয়েও অধিক জরুরি। কেননা এটিই তাদের ইলমের মূল ভিত্তি, যা থেকে তাদের কিতাবসমূহের কোনো পাতা, এমনকি কোনো অংশ বা কোনো পঙ্‌ক্তিও খুব কমই খালি থাকে।

আর হিকমত ও উপলব্ধির অনুসারী এবং চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের পণ্ডিতদের ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজনীয়তা পূর্বোল্লিখিত ব্যক্তিদের চেয়ে কম নয়। চিকিৎসকদের প্রয়োজন বিভিন্ন জনপদের মেজাজ ও আবহাওয়া সম্পর্কে জানার জন্য, আর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রয়োজন নক্ষত্ররাজির উদয়স্থল ও ঝঞ্ঝাবাত সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য। কেননা তারা কোনো দেশ সম্পর্কে নক্ষত্রের উদয় ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত দেন না এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ও স্থান সম্পর্কে জানা ব্যতীত কোনো রায় দেন না। একজন চিকিৎসকের পূর্ণতা হলো জনপদের মেজাজ ও আবহাওয়া এবং সেখানে উৎপন্ন উদ্ভিদের সুস্থতা বা রোগাক্রান্ত অবস্থা ও পানির গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত হওয়া। ফলে এটি সুশৃঙ্খলভাবে আয়ত্ত করা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে এবং এর প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা দার্শনিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। একারণেই প্রাচীনদের অনেকে বহু কিতাব রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘জغرافيا’ (ভূগোল), যার অর্থ হলো পৃথিবীর মানচিত্র। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন জনপদের মেজাজ ও আবহাওয়া সম্পর্কে কিতাব রচনা করেছেন, যেমন গ্যালেন এবং তার পূর্বে হিপোক্রেটিস ও অন্যান্যরা।

আর সাহিত্যিকদের ক্ষেত্রে তো এর আবশ্যকতা বলাই বাহুল্য। কারণ এটি ভাষা তাত্ত্বিকের জন্য মূল ভিত্তি ও অপরিহার্য বিষয়, ব্যাকরণবিদের জন্য সাক্ষ্য ও স্তম্ভ, এবং কবির জন্য তার কবিতার সৌন্দর্য বর্ধনে এসব স্থানের উল্লেখ একটি নির্ভরতা; যা তার পদ্যের মুক্তার মালার মাঝে স্বর্ণকণা হিসেবে শোভা পায়। কেননা কবিতা ততক্ষণ পর্যন্ত চিত্তাকর্ষক হয় না এবং শ্রোতার মনে ব্যাকুলতা সৃষ্টি করে না, যতক্ষণ না হাজের, যারুদ, দাহনা এবং হাবুদ এর কথা উল্লেখ করা হয়, কিংবা রাজওয়া পাহাড়ের বালুরাশির প্রতি মমতা প্রকাশ করা হয়। ফলে কবির জন্য এই নামগুলোর সঠিক উচ্চারণ, তাদের অবস্থান, তাদের বুৎপত্তি, তাদের প্রফুল্লতা, তাদের নির্জনতা কিংবা তাদের বন্ধুরতা বা সমতলতা সম্পর্কে জানা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

কারণ যদি কেউ দাবি করে যে কোনো স্থান একটি উপত্যকা অথচ সেটি পাহাড়, অথবা পাহাড় অথচ সেটি মরুভূমি, অথবা মরুভূমি অথচ সেটি নদী, অথবা নদী অথচ সেটি গ্রাম, অথবা গ্রাম অথচ সেটি গিরিপথ, অথবা গিরিপথ অথচ সেটি উচ্চভূমি, অথবা উচ্চভূমি অথচ সেটি বাগান, অথবা বাগান অথচ সেটি বিজন প্রান্তর, অথবা বিজন প্রান্তর অথচ সেটি জলাভূমি, অথবা জলাভূমি অথচ সেটি শক্ত ভূমি, অথবা শক্ত ভূমি অথচ সেটি লোনা জমি, অথবা লোনা জমি অথচ সেটি কঙ্করময় উত্তপ্ত ভূমি, অথবা কঙ্করময় ভূমি অথচ সেটি সমতল, অথবা সমতল অথচ সেটি দুর্গম, অথবা যদি সে কোনো স্থানকে পূর্ব দিকের বলে অথচ সেটি পশ্চিম দিকের, অথবা দক্ষিণ দিকের বলে অথচ সেটি উত্তর দিকের; তবে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তার অর্জিত যশ কমে যায় এবং সে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়। লোকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে এবং সে বিদ্রূপের লক্ষ্যবস্তু হয়। তার গুরুত্ব লাঘব করা হয়, তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করা হয় এবং তার পাণ্ডিত্যকে খাটো করে তাকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হয়। কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, তারা এই পঙ্‌ক্তিটি দেখে প্রমাণ করেছেন যে:

নিশ্চয়ই সেই গিরিপথে, যা সা’ল পাহাড়ের নিচে অবস্থিত, … এক নিহত ব্যক্তি আছে যার রক্ত বৃথা যাবে না।

এই কবিতাটি ‘তয়াব্বাতা শাররান’-এর নয়; কেননা সা’ল পাহাড়ের নিচে কোনো গিরিপথ নেই। আর আমাদের এই যুগে সাহিত্যের এক মহান ইমাম এবং একজন নির্ভরযোগ্য শায়খ—যিনি জটিল সমস্যার সমাধানে অনন্য ও বরেণ্য—আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-হারীরি রচিত ‘মাকামাত’-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এর বিভিন্ন কলাকৌশল ব্যাখ্যায় নিপুণতা ও নির্ভুলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং যারা এর জটিল ও দুর্লভ বিষয়গুলো স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছিলেন তাদের সকলকে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি তার কিতাবে অলঙ্কারশাস্ত্রের যে সব রহস্য উল্লেখ করেছেন, বাগ্মিতার যে ভাণ্ডার উন্মোচিত করেছেন, নিগূঢ় অর্থসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং শব্দশৈলীর যে মারপ্যাঁচ ফুটিয়ে তুলেছেন, তা বুদ্ধিকে বিমোহিত করে এবং মেধাকে স্তম্ভিত করে দেয়। তিনি এতে যেসব সাদৃশ্যপূর্ণ উদাহরণ ও অনন্য পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, তার ফলে সর্বসাধারণ তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকারে একমত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১০)
واتَّفقوا على إِجادة المصنَّف في جُملَه وتفصيله، ونقله وتعليله، وسارت النُّسخُ في الآفاق سَيْرورةَ ذُكاءَ في الإِشراق، فلم يقدم مِقْدامٌ مَتَعَنِّتٌ، ولا هَجَمَ مِهجامٌ متبكِّتٌ، على مؤاخذته بشيءٍ مما فيه، ولا حدَّث محدَّث نفسَه بحلِّ عقد من مغازيه، حتى ذكر اسماء الأماكن التي أَسس عليها أَبو محمد المقامات، فانبتَّ سِلْكُ دُرِّ عِقْد لآليه، وتداعى ما شيَّدَه فضلُه من مبانيه، وعاد رَوضُه الأَريض مصوَّحاً، وقريب إِحسانه مطوَّحا، وظلّ رَكْبُ فضائله طليحا، وتمامُ خلْق بُرهانه سطيحاً، وأَخذ يخلِّط تارة ويَخلِطُ، ويتعثَّر في عَشواءٍ الجهالة ويخبط. فإِنه قال في المقامة الكرجية: وكَرَجُ بلدة بين همذان وأَذربيجان، وإنما هي بين همذان وأَصفهان، والقاصد من همذان إلى أصفهان يأخذ بين الجنوب والمشرق، والقاصد من همذان إلى أذربيجان يأخذ بين الشمال والمغرب، والقاصد إلى هذه يستدبر القاصِد إلى هذه.

وقال في البَرْقَعيدية: وبَرْقَعيد قصبةُ الجزيرة، وإِنما هي قرية من قُرى بقعاء الموصل، لا تبلغ أَن تكون مدينةً، فكيف قصبةً؟

وقال في التّبْريزية: وتبريز بلدة من عواصم الشام، بينها وبين مَنْبج عشرون فرسخاً، وتبريز بلدة أَشهرُ وأَظهرُ من أَن تخفَى، وهي اليوم قصبة نواحي أَذربيجان، وأَجَلُّ مُدُنها. وإِلى غير ذلك من أغاليط غيره، فصار هذا الإِمام ضُحْكةً للبطالين، وهُزْأَة للساخرين، ووجد الطاعنُ عليه سبيلًا، وإِن كان مع كثرة إحسانه قليلًا، فلو كان له كتابٌ يَرجع إليه، ومَوْئلٌ يَعتمد عليه، خلص من هذه البليَّة نجيّاً، وارتقى من الهبوط في هذه الأَهوية مكانا عليّاً.

وكان من أَول البواعث لجمع هذا الكتاب، أَنني سُئلتُ بَمرْو الشاهجان، في سنة خمس عشرة وستمائة، في مجلس شيخنا الإِمام السعيد الشهيد فخر الدين أَبي المظفّر عبد الرحيم ابن الإِمام الحافظ تاج الإِسلام أَبي سعد عبد الكريم السَّمْعاني، تَغَمَّدَهما الله برحمته ورضوانه، وقد فُعِل الدعاء إِن شاءَ الله، عن حُباشَةَ اسم موضع جاءَ في الحديث النبويّ، وهو سوقٌ من أَسواق العرب في الجاهلية. فقلت: أَرى أَنه حُباشَةُ بضم الحاء، قياساً على أَصل هذه اللفظة في اللغة، لأَنّ الحُباشَةَ: الجماعة من الناس من قبائل شتى، وحبَشْتُ له حُباشَةً أَي جَمعت له شيئاً. فانبرى لي رجلُ من المحدّثين، وقال: انما هو حَباشةُ بالفتح. وصَمَّمَ على ذلك وكابَرَ، وجاهَرَ بالعنِادِ من غير حُجّة وناظَرَ، فأَردْتُ قطعَ الاحتجاج بالنّقْل، إذ لا مُعَوَّل في مثل هذا على اشتقاق ولا عَقْل، فاستعصى كَشْفُه في كتب غرائب الأَحاديث، ودواوين اللغات مع سعة الكتب التي كانت بِمَرْوَ يومئذ، وكثرة وجودها في الوقوف، وسهولة تناولها، فلم أَظْفَر به إِلا بعد انقضاء ذلك الشَّغَب والمِراء، ويأْسٍ من وجوده ببَحْث واقتراء، فكان موافقاً والحمد لله لما قُلْتُه، ومَكيلًا بالصاع الذي كِلتُه، فأُلقَي حينئذ في رُوعي افتقارُ العالم إِلى كتاب في هذا الشأْن مضبوطاً، وبالإتقان وتصحيح الأَلفاظ بالتَّقييد مخطوطاً، ليكون في مثل هذه الظُّلمْة هادياً، وإِلى ضَوءِ الصواب داعياً، ونُبَّهتُ على هذه الفضيلة النبيلة، وشُرِحَ صدري لنيل هذه المنقَبَة التي غفل عنها الأَولون، ولم يَهْتَدِ لها الغابرون. يقول من تَقْرَعُ اسماعَهُ: كم تَركَ الأَول
পণ্ডিতগণ একমত হয়েছেন যে গ্রন্থকার তাঁর গ্রন্থের সারসংক্ষেপ ও বিস্তারিত বিষয়বস্তু, এর বর্ণনা ও কারণ দর্শানোর নিপুণতায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করেছেন। এর অনুলিপিগুলো দিগন্তজুড়ে প্রভাতী সূর্যের কিরণের ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কোনো হঠকারী ব্যক্তি এতে কোনো ত্রুটি ধরার দুঃসাহস দেখায়নি এবং কোনো নিন্দুক এর কোনো বিষয়ে দোষারোপ করতে অগ্রসর হয়নি। এমনকি কেউ মনে মনেও এর কোনো জট খোলার কথা চিন্তা করেনি, যতক্ষণ না আবু মুহাম্মদ সেই স্থানগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর 'মাকামাত' রচনা করেছেন। তখনই তাঁর মুক্তামালা সদৃশ রচনার সুতো ছিঁড়ে গেল, তাঁর মেধার মাধ্যমে নির্মিত অট্টালিকাগুলো ধসে পড়ল এবং তাঁর সুশোভিত কানন শুষ্ক হয়ে গেল। তাঁর উপকারের নৈকট্য দূরে নিক্ষিপ্ত হলো এবং তাঁর গুণাবলির কাফেলা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তাঁর প্রমাণের পূর্ণাঙ্গ গঠন ধূলিসাৎ হয়ে গেল এবং তিনি কখনও ভুল বলতে শুরু করলেন, আবার কখনও সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে ফেলতে লাগলেন; তিনি অজ্ঞতার অন্ধকারে হোঁচট খেতে লাগলেন এবং লক্ষ্যহীনভাবে চলতে থাকলেন। তিনি 'মাকামাহ কারজিয়্যাহ'-তে বলেছেন: "কারজ হলো হামাদান ও আজারবাইজানের মধ্যবর্তী একটি শহর", অথচ এটি হামাদান ও ইসফাহানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। হামাদান থেকে ইসফাহান অভিমুখী ব্যক্তি দক্ষিণ ও পূর্বের মধ্যবর্তী দিক গ্রহণ করে, আর হামাদান থেকে আজারবাইজান অভিমুখী ব্যক্তি উত্তর ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দিক গ্রহণ করে; ফলে একদিকের যাত্রী অন্যদিকের যাত্রীর দিকে পিঠ দিয়ে চলে।

তিনি 'বারকায়িদিয়্যাহ'-তে বলেছেন: "বারকায়িদ হলো জাজিরার প্রধান কেন্দ্র", অথচ এটি মোসেলের বাকআ অঞ্চলের গ্রামগুলোর মধ্যে একটি গ্রাম মাত্র। এটি শহর হওয়ারই যোগ্য নয়, তবে তা প্রধান কেন্দ্র হয় কীভাবে?

তিনি 'তাবরিজিয়্যাহ'-তে বলেছেন: "তাবরিজ হলো শামের রাজধানীগুলোর মধ্যে একটি শহর, যা মানবিজ থেকে বিশ ফারসাখ দূরে অবস্থিত।" অথচ তাবরিজ শহরটি অস্পষ্ট থাকার চেয়ে অনেক বেশি প্রসিদ্ধ ও প্রকাশ্য। এটি বর্তমানে আজারবাইজান অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র এবং সেখানকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর। এছাড়াও তিনি অন্যদের ন্যায় আরও অনেক ভুল করেছেন, যার ফলে এই ইমাম বেকারদের হাসির পাত্র এবং বিদ্রূপকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। নিন্দুকেরা তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার পথ পেয়ে গেল, যদিও তাঁর অজস্র উপকারের তুলনায় সেই ত্রুটি ছিল যৎসামান্য। যদি তাঁর কাছে এমন কোনো গ্রন্থ থাকত যার দিকে তিনি ফিরে তাকাতে পারতেন, অথবা এমন কোনো আশ্রয় থাকত যার ওপর তিনি নির্ভর করতে পারতেন, তবে তিনি এই বিপদ থেকে রক্ষা পেতেন এবং এই অধঃপতন থেকে উচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করতে পারতেন।

এই গ্রন্থটি সংকলন করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এই যে, হিজরি ৬১৫ সালে মার্ভ শাহাজানে আমাদের শাইখ, সৌভাগ্যবান ইমাম, শহীদ ফখরুল দীন আবু মোজাফফর আব্দুর রহিম ইবনুল ইমাম হাফেজ তাজুল ইসলাম আবু সাদ আব্দুল কারীম আস-সামআনী (আল্লাহ তাঁদের উভয়কে রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন, আল্লাহর ইচ্ছায় দোয়াটি কবুল হয়েছে) এর মজলিসে আমাকে 'হুবাসাহ' নামক একটি স্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যার উল্লেখ নবীজির হাদিসে এসেছে। এটি জাহেলিয়াত যুগে আরবদের বাজারগুলোর মধ্যে একটি বাজার ছিল। আমি বললাম: ভাষাবিজ্ঞানের মূল শব্দতত্ত্ব অনুযায়ী আমার মতে এটি হা-বর্ণে পেশ যোগে 'হুবাসাহ'। কারণ 'হুবাসাহ' অর্থ হলো বিভিন্ন গোত্রের মানুষের সমষ্টি; আর আমি যখন কারও জন্য কিছু সংগ্রহ করি তখন এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। তখন মুহাদ্দিসদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: এটি হা-বর্ণে জবর যোগে 'হাবাসাহ'। তিনি এর ওপর অটল থাকলেন এবং কোনো দলিল ছাড়াই হঠকারিতা ও বিতর্কে লিপ্ত হলেন। আমি তখন উদ্ধৃতির মাধ্যমে বিতর্কের অবসান ঘটাতে চাইলাম, কারণ এসব ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত ব্যুৎপত্তি বা যুক্তির ওপর নির্ভর করা যায় না। কিন্তু তৎকালীন মার্ভে কিতাবের প্রাচুর্য এবং সেগুলো সহজে নাগালে পাওয়া সত্ত্বেও হাদিসের দুর্লভ শব্দাবলির কিতাব ও অভিধানগুলোতে তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ল। দীর্ঘ শোরগোল ও বিতর্কের অবসান ঘটার পর এবং অনেক অনুসন্ধানের পর যখন আমি নিরাশ হতে যাচ্ছিলাম, তখন আমি তা খুঁজে পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ, তা আমার বক্তব্যেরই সপক্ষে ছিল। তখনই আমার অন্তরে এই উপলব্ধি এল যে, বর্তমান বিশ্বের এমন একটি নির্ভুল গ্রন্থের প্রয়োজন যেখানে স্থানগুলোর নাম ও উচ্চারণ অত্যন্ত সর্তকতার সাথে লিপিবদ্ধ থাকবে। যেন তা এমন অন্ধকারে পথপ্রদর্শক এবং সঠিক আলোর দিকে আহ্বানকারী হয়। আমাকে এই মহৎ কাজের প্রতি সজাগ করা হলো এবং এই মর্যাদা অর্জনের জন্য আমার অন্তর উন্মোচিত করে দেওয়া হলো, যা পূর্ববর্তীরা অবহেলা করেছিলেন এবং পরবর্তীরা যার পথ খুঁজে পাননি। যার কানে এই কথা পৌঁছে সে বলে: পূর্বসূরিরা উত্তরসূরিদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১১)
للآخر. وما أَحسن ما قال أَبو عثمان: ليس على العلم أَضرُّ من قولهم: لم يَتْرُك الأَول للآخر شيئاً، فإنه يُفْتِرُ الهمة، ويُضْعِفُ المُنَّةَ، أَو نحو هذا القول.

على أَنه قد صنّف المتقدّمون في اسماء الأَماكن كتبا وبهم اقتَدَينا، وبهم اهتَدَينا، وهي صنفان:

منها ما قُصِدَ بتصنيفه ذكر المدن المعمورة والبلدان المسكونة المشهورة، ومنها ما قُصد به ذكر البوادي والقفار، واقتُصِرَ على منازل العرب الواردة في أَخبارهم والأَشعار.

فأَما من قصَدَ ذكر العُمْران، فجماعة وافرةٌ، منهم من القدماء والفلاسفة والحُكماء: أَفلاطُن، وفيثاغورس، وبَطْليموس، وغيرهم كثير من هذه الطبقة، وسَمَّوْا كتبهم في ذلك جَغْرافيا، سمعتُ من يقوله بالغين المعجمة والمهملة، ومعناه: صورة الأَرض. وقد وقفتُ لهم منها على تصانيف عِدَّة جَهِلتُ أَكثر الأماكن التي ذُكرَت فيها، وأُبهِمَ علينا أَمرُها، وعُدِمَتْ لتطاول الزمان، فلا تُعْرَفُ.

وطبقة أخرى اسلاميون سلكوا قريباً من طريقة أُولئك من ذكر البلاد والممالك، وعَيَّنُوا مَسافَةَ الطُّرُق والمسالك، وهم: ابن خُرْداذبه، وأَحمد بن واضح، والجَيْهاني، وابن الفقيه، وأَبو زيد البَلْخي، وأَبو إِسحاق الإِصْطَخْري، وابن حَوْقَل، وأَبو عبد الله البَشّاري، والحسن بن محمد المهلَّبي، وابن أَبي عون البغدادي، وأَبو عُبَيْد البكري، له كتاب سمّاه المسالك والممالك.

وأَما الذين قصدوا ذكر الأَماكن العربية والمنازل البَدَوية فطبقة أَهل الأَدب، وهم أبو سعيد الأَصمعي، ظَفِرْت به رواية لابن دُرَيْد عن عبد الرحمن عن عمه، وأبو عبيد السكوني، والحسن بن أحمد الهمداني، له كتاب جزيرة العرب، وأَبو الأَشعث الكِندي في جبال تِهامَةَ، وأَبو سعيد السيرافي، بلغني أَن له كتاباً في جزيرة العرب، وأَبو محمد الأَسود الغُنْدِجاني، له كتاب في مياه العرب، وأَبو زياد الكلابي، ذكر في نوادره من ذلك صَدْراً صالحاً وقفتُ على أَكثره، ومحمد بن إِدريس بن أَبي حَفصة، وقفتُ له على كتاب سماه مَناهل العرب، وهشام بن محمد الكلبي، وقفت له على كتاب سماه اشتقاق البلدان، وأَبو القاسم الزّمَخْشَري، له كتاب لطيف في ذلك، وأَبو الحسن العِمْراني تلميذ الزمخشري، وقف على كتاب شيخه وزاد عليه رأَيتُه، وأَبو عبيد البكري الأَندُلُسي، له كتاب سماه مُعجم ما اسْتَعْجَمَ من أَسماء البقاع لم أَرهُ بعد البحث عنه والتَّطلُّب له، وأَبو بكر محمد بن موسى الحازمي، له كتاب ما ائتَلف واختلف من أَسمائها، ثم وَقَفَني صديقُنا الحافظ الإِمام أَبو عبد الله محمد ابن محمود بن النَّجَّار، جزاه الله خيراً، على مختصر اختصره الحافظ أَبو موسى محمد بن عمر الأَصفهاني، من كتاب أَلَّفه أَبو الفتح نَصْر بن عبد الرحمن الإسكندري النحوي، فيما ائتَلف واختَلف من أَسماء البقاع، فوجدتُه تأْليفَ رجل ضابط قد أَنفد في تحصيله عمراً وأَحسن فيه عيناً وأَثراً، ووجدت الحازميّ، رحمه الله، قد اختلَسه وادّعاه، واستَجهَل الرّواةَ فرواه، ولقد كنت عند وقوفي على كتابه أَرفَع قَدْرَه من علمه، وأَرى أَن مَرماه يَقصُر عن سهمه، إِلى أَن كشَفَ الله عن خبيته، وتَمحَّضَ المحضُ عن زُبدته، فأَما أَنا فكل ما نَقَلْتُه من كتاب نصر، فقد نسَبْتُه إِليه وأَحَلْتُه عليه، ولم أُضِع نَصَبَه، ولا أَحْمَلْتُ ذكره وتعبه. والله يثيبه ويرحمه.
পরবর্তীদের জন্য। আবু উসমান কত চমৎকারই না বলেছেন: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি"—এই কথার চেয়ে জ্ঞানের জন্য ক্ষতিকর আর কিছু নেই; কারণ এটি উদ্যমকে শিথিল করে দেয় এবং সামর্থ্যকে দুর্বল করে দেয়, অথবা এই জাতীয় কোনো কথা।

যদিও পূর্ববর্তীগণ স্থানের নামসমূহের বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং আমরা তাঁদেরই অনুসরণ করেছি ও তাঁদের মাধ্যমেই পথনির্দেশ লাভ করেছি, আর সেসব গ্রন্থ দুই প্রকারের:

এক প্রকার হলো যা রচনার উদ্দেশ্য ছিল আবাদকৃত শহর এবং প্রসিদ্ধ জনপদসমূহের বর্ণনা প্রদান করা; আর অন্য প্রকার হলো যার উদ্দেশ্য ছিল মরুভূমি ও প্রান্তরসমূহের বর্ণনা এবং যা আরবদের সংবাদ ও কবিতায় বর্ণিত তাদের আবাসস্থলগুলোর বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

যারা জনপদের বর্ণনার সংকল্প করেছিলেন, তাঁরা এক বিশাল গোষ্ঠী; তাঁদের মধ্যে প্রাচীন পণ্ডিত, দার্শনিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: প্লেটো, পিথাগোরাস, টলেমি এবং এই স্তরের আরও অনেকে। তাঁরা এই বিষয়ে তাঁদের গ্রন্থগুলোর নামকরণ করেছেন 'জغرافিয়া' (ভূগোল), আমি কাউকে এটি 'গাইন' বর্ণ দিয়ে আবার কাউকে 'গাইন' ছাড়া উচ্চারণ করতে শুনেছি, যার অর্থ হলো: পৃথিবীর মানচিত্র বা চিত্র। আমি তাঁদের এজাতীয় বেশ কিছু রচনার সন্ধান পেয়েছি, যার মধ্যে উল্লিখিত অধিকাংশ স্থান সম্পর্কেই আমি অবগত ছিলাম না; আমাদের কাছে সেগুলোর পরিচয় অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এবং দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাই এখন আর সেগুলোকে চেনা যায় না।

আর অপর একটি শ্রেণী হলো মুসলিম লেখকগণ, যারা দেশ ও রাজ্যসমূহের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁদের নিকটবর্তী পথই অনুসরণ করেছেন এবং বিভিন্ন পথ ও গন্তব্যের দূরত্ব নির্ধারণ করেছেন; তাঁরা হলেন: ইবনে খুরদাদবিহ, আহমদ বিন ওয়াদিহ, আল-জায়হানি, ইবনুল ফকিহ, আবু জায়েদ আল-বালখি, আবু ইসহাক আল-ইস্তাখরি, ইবনে হাওকাল, আবু আব্দুল্লাহ আল-বাশারি, আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি, ইবনে আবি আউন আল-বাগদাদি এবং আবু উবায়েদ আল-বাকরি, যাঁর 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।

আর যারা আরবীয় স্থানসমূহ এবং যাযাবরদের আবাসস্থলগুলোর বর্ণনার সংকল্প করেছিলেন, তাঁরা হলেন সাহিত্যিকদের শ্রেণী; তাঁরা হলেন: আবু সাঈদ আল-আসমায়ি—আমি তাঁর একটি বর্ণনা ইবনে দুরাইদ থেকে আব্দুর রহমানের সূত্রে তাঁর চাচার মাধ্যমে পেয়েছি—এবং আবু উবায়েদ আস-সুকুনি, আল-হাসান বিন আহমদ আল-হামদানি—তাঁর 'জাজিরাতুল আরব' নামক একটি গ্রন্থ আছে—এবং তেহামা অঞ্চলের পাহাড়সমূহের বিষয়ে আবু আল-আশআস আল-কিন্দি, আবু সাঈদ আস-সিরাফি—আমি সংবাদ পেয়েছি যে আরব উপদ্বীপের ওপর তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে—আবু মুহাম্মদ আল-আসওয়াদ আল-গুনদিজানি—আরবদের জলাশয়সমূহের ওপর তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে—এবং আবু জিয়াদ আল-কিলাবি—তিনি তাঁর 'নাওয়াদির' গ্রন্থে এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উল্লেখ করেছেন যার অধিকাংশের সন্ধান আমি পেয়েছি—এবং মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আবি হাফসাহ—আমি তাঁর 'মানাহিলুল আরব' নামক একটি গ্রন্থ পেয়েছি—এবং হিশাম বিন মুহাম্মদ আল-কালবি—আমি তাঁর 'ইশতিকাকুল বুলদান' নামক একটি গ্রন্থ পেয়েছি—এবং আবুল কাসিম আজ-জামাশারি—এই বিষয়ে তাঁর একটি চমৎকার গ্রন্থ আছে—এবং আজ-জামাখশারির ছাত্র আবুল হাসান আল-ইমরানি—তিনি তাঁর শিক্ষকের গ্রন্থটি দেখেছিলেন এবং তাতে কিছু সংযোজনও করেছিলেন যা আমি দেখেছি—এবং আবু উবায়েদ আল-বাকরি আল-আন্দালুসি—তাঁর 'মু'জাম মা ইস্তাজাম' নামক একটি গ্রন্থ আছে যা আমি অনেক খোঁজাখুঁজি ও অনুসন্ধান করেও পাইনি—এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হাজমি—তাঁর 'মা ইততালাফা ওয়া ইখতালাফা' নামক একটি গ্রন্থ আছে। অতঃপর আমাদের বন্ধু হাফিজ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আন-নাজ্জার (আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন) আমাকে হাফিজ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন উমর আল-আসফাহানি কর্তৃক সংক্ষেপিত একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করেন, যা তিনি ব্যাকরণবিদ আবু আল-ফাতহ নাসর বিন আব্দুর রহমান আল-ইসকান্দারির স্থানসমূহের নামের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিষয়ক গ্রন্থ থেকে তৈরি করেছিলেন। আমি তাঁকে একজন সুশৃঙ্খল ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছি যিনি এটি অর্জনে তাঁর আয়ু ব্যয় করেছেন এবং এতে অত্যন্ত সুন্দর দৃষ্টি ও প্রভাব রেখেছেন। আর আমি আল-হাজমিকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) দেখলাম যে তিনি এটি চুরি করেছেন এবং নিজের বলে দাবি করেছেন, আর বর্ণনাকারীদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে তিনি এটি বর্ণনা করেছেন। আমি যখন তাঁর গ্রন্থটির সন্ধান পাই, তখন আমি তাঁর ইলমের কারণে তাঁর মর্যাদা উচ্চ মনে করতাম এবং মনে করতাম যে তাঁর লক্ষ্য তাঁর তীরের নাগালের চেয়েও বেশি, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর গোপন বিষয় উন্মোচিত করলেন এবং মূল রহস্যটি প্রকাশ পেল। আমি নাসরের গ্রন্থ থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করেছি, তা তাঁর দিকেই নিসবত করেছি এবং তাঁর প্রতিই সোপর্দ করেছি; আমি তাঁর পরিশ্রমকে বিনষ্ট করিনি এবং তাঁর আলোচনা ও কষ্টকে অবহেলা করিনি। আল্লাহ তাঁকে প্রতিদান দিন এবং তাঁর ওপর রহম করুন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১২)
وهذه الكتب المدوّنة في هذا الباب التي نقلت منها، ثم نقلت من دواوين العرب والمحدَثين وتواريخ أهل الأَدب والمحدّثين، ومن أَفواه الرواة، وتفاريق الكتب، وما شاهدتُه في أَسفاري، وحصَّلتُه في تَطْوافي، أَضعاف ذلك، والله الموفق إِن شاءَ الله.

فأَما الطبقة الأُولى، فأَسماء الأَماكن في كتبهم مصحّفة مغيَّرة، وفي حيَّز العدم مصيَّرة، قد مسخها من نسخها.

وأَما الطبقة الثانية فإنها وإن وُجدت لها أُصول مضبوطة، وبخطوط العلماء منوطة مربوطة، فإنها غير مرتبة، ولشفاء العليل غير مسببة، لشدة الاختصار، وعدم الضبط والانتشار، لأَن قصدهم منها تصحيح الأَلفاظ، لا الإِبانة عمَّا عدا ذلك من الأَغراض، والبحث عما يعترض فيها من الأَعراض، فاستَخَرتُ الله تعالى، وجمعت ما شَتَّتُوه، وأَضفت اليه ما أهملوه، ورتَّبتُه على حروف المعجم، ووضعته وضع أهل اللغة المحكم، وأَبَنتُ عن كل حرف من الاسم: هل هو ساكن أو مفتوح أَو مضموم أَو مكسور، وأَزَلتُ عنه عوارض الشُّبَه، وجعلته تبرا بعد أن كان من الشّبه، ثم أذكر اشتقاقه إن كان عربيّاً، ومعناه إِن أَحَطْتُ به علما إن كان عجميا، وفي أَيِّ إِقليم هو وأَيُّ شيءٍ طالعه، وما المستولي عليه من الكواكب، ومن بناه، وأَيُّ بلد من المشهورات يجاوره، وكم المسافة بينه وبين ما يقاربه، وبماذا اختص من الخصائص، وما ذُكر فيه من العجائب، وبعض من دُفن فيه من الأَعيان والصالحين والصحابة والتابعين، ونُبَذاً مما قيل فيه من الأَشعار في الحنين إِلى الأَوطان، الشاهدة على صحة ضبطه والإتقان، وفي أَيِّ زمان فتَحهَ المسلمون وكيفية ذلك، ومن كان أميره، وهل فُتح صُلحاً أَو عَنوَة لتَعرف حُكمَه في الفيء والجزية، ومن ملكه في أَيامنا هذه.

على أَنه ليس هذا الاشتراط بمطاوِعٍ لنا في جميع ما نورده، ولا ممكن في قُدْرَة أَحد غيرنا، وإِنما يجيءُ على هذا البُلْدان المشهورة، والأُمهات المعمورة، وربما ذُكر بعض هذه الشروط دون بعض على حَسْب ما أَدَّانا إليه الاجتهاد، وملّكناه الطلب والارتياد.

واستَقصَيتُ لك الفوائد جُلّها أَو كلها، ومَلّكْتك عَفواً صَفواً عَقْدَها وحَلّها، حتى لقد ذَكرتُ أَشياء كثيرة تأْباها العقول، وتَنفِر عنها طباع من له محصول، لبُعدها عن العادات المأْلوفة، وتنافُرها عن المشاهدات المعروفة، وإِن كان لا يُستعظَم شيءٌ مع قُدرة الخالق وحِيَلِ المخلوق، وأَنا مُرتاب بها نافرٌ عنها مُتَبَرِّىءٌ إِلى قارئها من صِحَّتها، لأَنني كتبتها حِرصاً على إحراز الفوائد، وطلباً لتحصيل القلائد منها والفرائد، فإن كانت حقا فقد أَخذنا منها بنصيب المصيب، وإِن كانت باطلًا فلها في الحق شِرك ونصيب، لأَنني نَقَلتُها كما وجدتُها، فأَنا صادق في إيرادها كما أَوردتُها، لتعرف ما قيل في ذلك حقاً كان أَو باطلًا، فإِنّ قائلًا لو قال: سمعتُ زيداً يكذب، لأَحْبَبْت أَن تعرف كيفية كذبه.

وها أَئمة الحُفَّاظ الذين هم القُدْوة في كل زمن، وعليهم الاعتماد في فرائض الشّرْع والسُّنَن، لم يَشْتَرط أَكثرهم في مَسْنَده، وهي أحاديث الرسول التي تَبْتَني عليها الأَحكام، ويُفَرَّق بها بين الحلال والحرام، إيرادَ الصحيح دون السقيم، ونَفيَ المُعوَجِّ وإِثباتَ المستقيم، ولم يُخرجِهْم ذلك عن أَن يُعَدُّوا في أَهل الصدق،
এই বিষয়ে সংকলিত যে সকল গ্রন্থ থেকে আমি উদ্ধৃতি দিয়েছি, অতঃপর আরব কবিদের কাব্যসমগ্র, আধুনিক কবিদের সংকলন, সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিসগণের ইতিহাসগ্রন্থ, বর্ণনাকারীদের মৌখিক বিবরণ, বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত কিতাব এবং আমার সফরে যা প্রত্যক্ষ করেছি এবং পরিভ্রমণে যা অর্জন করেছি—এসবই তার চেয়ে বহু গুণ বেশি। আল্লাহই তাওফিকদাতা, ইনশাআল্লাহ।

প্রথম শ্রেণির কিতাবগুলোর অবস্থা হলো, তাদের কিতাবসমূহে স্থানের নামগুলো বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে; যারা এগুলো অনুলিপি করেছে তারা একে বিকৃত করে ফেলেছে।

আর দ্বিতীয় শ্রেণির কিতাবসমূহ যদিও সেগুলোর নির্ভুল মূল পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় এবং তা আলেমদের হস্তলিপিতে সুবিন্যস্ত, তবুও সেগুলো সুশৃঙ্খল নয় এবং কোনো পিপাসার্তের তৃষ্ণা মেটানোর উপযুক্তও নয়। কারণ সেগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং এতে সঠিক বিন্যাস ও প্রসারের অভাব রয়েছে। কেননা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল শব্দগুলোর উচ্চারণ শুদ্ধ করা, এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা বা এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে অনুসন্ধান করা তাদের লক্ষ্য ছিল না। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তাদের বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করলাম, তারা যা বাদ দিয়েছিলেন তা এতে সংযোজন করলাম এবং একে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজালাম। আমি একে ভাষাবিদদের সুদৃঢ় পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছি এবং নামের প্রতিটি বর্ণের স্বরচিহ্ন বর্ণনা করেছি যে, তা কি সাকিন (স্থির), মাফতুহ (যবরযুক্ত), মযমুম (পেশযুক্ত) নাকি মাকসুর (যেরযুক্ত)। আমি এতে বিদ্যমান অস্পষ্টতার জটিলতা দূর করেছি এবং একে রূপান্তর করেছি খাঁটি সোনায়, অথচ তা আগে ছিল পিতলের মতো। অতঃপর শব্দটি যদি আরবি হয় তবে আমি তার ব্যুৎপত্তি উল্লেখ করব এবং অনারবি শব্দ হলে তার অর্থ—যদি আমার জানা থাকে। এছাড়া স্থানটি কোন জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত, তার উদয়স্থল কী এবং এর ওপর কোন নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে; কে এটি নির্মাণ করেছে এবং পার্শ্ববর্তী প্রসিদ্ধ শহরগুলো কী কী; এক স্থান থেকে অন্যটির দূরত্ব কতটুকু এবং স্থানটি কী কী বৈশিষ্ট্যে অনন্য; সেখানকার আশ্চর্যজনক বিষয়সমূহ কী কী—তাও উল্লেখ করব। সেখানে সমাহিত প্রথিতযশা ব্যক্তি, নেককার মানুষ, আল্লাহর রাসূলের সাহাবী ও তাবিঈদের কথা এবং স্বদেশ প্রেমের সেসব কবিতা উল্লেখ করব যা উক্ত স্থানের নামের সঠিকতা ও বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দেয়। আরও বর্ণনা করব কোন সময়ে মুসলমানরা তা জয় করেছিলেন এবং এর পদ্ধতি কী ছিল; সেখানকার আমির কে ছিলেন এবং তা কি সন্ধির মাধ্যমে নাকি যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত হয়েছিল, যাতে ফায় ও জিযিয়ার বিধান জানা যায়। আর আমাদের এই সময়ে সেখানে কে শাসন করছেন তাও উল্লেখ করব।

তবে এই শর্তাবলি আমাদের জন্য প্রতিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে মানা সম্ভব নয়, আর এটি আমাদের ছাড়া অন্য কারো সক্ষমতাতেও নেই। কেবল প্রসিদ্ধ শহর ও জনবহুল কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেই এগুলো প্রযোজ্য হবে। হয়তো কোনো ক্ষেত্রে গবেষণার ভিত্তিতে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী কিছু শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে এবং কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে।

আমি আপনার জন্য প্রায় সকল উপকারিতা অনুসন্ধান করেছি এবং আপনাকে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই এর মূল রহস্য ও সমাধান দান করেছি। এমনকি আমি এমন অনেক বিষয় উল্লেখ করেছি যা বিবেক গ্রহণ করতে চায় না এবং সংবেদনশীল মানুষের স্বভাব তা থেকে বিমুখ হয়, কারণ সেগুলো আমাদের পরিচিত অভ্যাস থেকে অনেক দূরে এবং দৃশ্যমান অভিজ্ঞতার পরিপন্থী। যদিও মহান স্রষ্টার কুদরত ও সৃষ্টির কৌশলের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। আমি এসব বিষয়ে সন্দিহান ও বিমুখ এবং এগুলোর বিশুদ্ধতার দায়ভার পাঠকের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি; কারণ আমি কেবল উপকারিতাগুলো সংরক্ষণ এবং এর সারমর্ম ও দুর্লভ তথ্যগুলো আহরণের আকাঙ্ক্ষায় এগুলো লিখেছি। তাই যদি তা সত্য হয় তবে আমি সঠিক বিষয়ের অংশীদার হলাম, আর যদি মিথ্যা হয় তবে সত্যের পথেই তার একটি অংশ ও অংশীদারিত্ব রয়ে গেল। কারণ আমি তা যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই বর্ণনা করেছি; সুতরাং আমি তা বর্ণনার ক্ষেত্রে সত্যবাদী। যাতে আপনি জানতে পারেন এ সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, চাই তা সত্য হোক বা মিথ্যা। কেননা কেউ যদি বলে: 'আমি যায়েদকে মিথ্যা বলতে শুনেছি', তবে আপনি অবশ্যই তার মিথ্যার ধরনটিও জানতে চাইবেন।

আর দেখুন, হাফেজুল হাদিস ইমামগণ—যারা প্রতিটি যুগে আমাদের আদর্শ এবং যাদের ওপর শরয়ি ফরজ ও সুন্নতের বিষয়গুলোতে নির্ভর করা হয়—তাদের অধিকাংশও স্বীয় মুসনাদ গ্রন্থে কেবল সহিহ হাদিস বর্ণনার শর্ত আরোপ করেননি। অথচ এগুলো আল্লাহর রাসূলের সেই হাদিস যার ওপর বিধিবিধানের ভিত্তি এবং যার মাধ্যমে হালাল ও হারামের মাঝে পার্থক্য করা হয়। তারা কেবল সহিহ হাদিস বর্ণনা করে দুর্বলগুলোকে বর্জন করেননি, কিংবা কেবল সঠিকটিকে গ্রহণ করে ভুলটিকে প্রত্যাখ্যান করেননি; আর এটি তাদের সত্যবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৩)
أَو يَتزحزحوا عن مراتب الائمة والحق، انهم أَورَدوا ما سمعوه كما وَعَوْه، وإِنما يُسمَّى كذّاباً، إذا وضع حديثاً، أَو حَدَّث عمن لم يَسمع منه، أَو روى عمَّن لم يَرْوِ عنه، فأَما من يروي ما سمع كما سمع، فهو من الصادقين، والعُهدة على من رواه عنه، إِلا أَن يكون من أَهل الاجتهاد فله أَن يَرويه ثم يُزِيّغَه، ولولا ذلك لبطل كثير من الأَحاديث، وعلينا الاقتداءُ بهم، والتمسك بحبلهم. والذي لا يردّه ذو مُسْكة، ولا يردُّ خِلافه ذو حُنْكة، ان المتعنّت تعبان مُتعبٌ، والمُنصِف مستريحٌ مريحٌ، ومن ذا الذي أُعطيَ العِصْمةَ، وأَحاط علماً بكل كلمة؟ ومن طَلب علماً وَجَد، فإِنني أَهلٌ لأَن أَزلّ، وعن دَرْك الصواب بعد الاجتهاد أَضلّ، فمن أراد منّا العِصمةَ، فليَطْلُبها لنفسه أَولا، فإِن أخطأَته فقد أقام عُذره وأصاب، وإِن زعم أَنه زعم أدركها فليس من أهل الخطاب، ولما تطاولت في جمع هذا الكتاب الأعوام، وترادفت في تحصيل فوائده الشهور والأيام، ولم أنته منه إلى غاية أرضاها، وأقف على غلوة مع تواتر الرّشق فأقول: هي إيّاها، ورأيت تعثّر قمر ليل الشباب بأذيال كسوف شمس المشيب وانهزامه، وولوج ربيع العمر على قيظ انقضائه بأمارات الهرم وانهدامه، وقفت ههنا راجيا فيه نيل الأمنيّة، بإهداءِ عروسه إلى الخطاب قبل المنيّة، وخشيت بغتة الموت، فبادرت بإبرازه الفوت، على أنني من اقتحام ليل المنيّة عليّ قبل تبلّج فجره على الآفاق لجدّ حذر، ومن فلول حدّ الحرص لعدم المحرّض عليه والراغب فيه منتظر، فكيف ثقتي بجيش عمر قد بيّتته من كتائب الأمراض المبهمة حواطم المقانب، أو أركن إِلى إصباح ليل اعترضتني فيه العوارض من كل جانب.

وعلى ذلك فإنني أقول ولا أحتشم، وأدعو إلى النزال كل علم في العلم ولا أنهزم، إن كتابي هذا أوحد في بابه، مؤمّر على أضرابه، لا يقوم بإبراز مثله إلا من أيّد بالتوفيق، وركب في طلب فوائده كل طريق، فغار تارة وأنجد، وطوّح لأجله بنفسه فأبعد، وتفرّغ له في عصر الشبيبة وحرارته، وساعده العمر بامتداده وكفايته، وظهرت منه أمارات الحرث وحركته.

نعم، وإن كنت أستصغر هذه الغاية فهي كبيرة، أو استقلّها فهي لعمر الله كثيرة، وأما الاستيعاب فشيء لا يفي به طول الأعمار، ويحول دونه مانعا العجز والبوار، فقطعته والعين طامحة، والهمة إلى طلب الازدياد جامحة، ولو وثقت بمساعدة العمر وامتداده، وركنت إلى توفيقي لرجائي فيه واستعداده، لضاعفت حجمه أضعافا، وزدت في فوائده مئين بل آلافا، ولو التمست نفاق هذا الكتاب وسيرورته، واعتمدت إشاعة ذكره وشهرته، لصغّرته بقدر الهمم العصرية، ورغبات أهل الطلب الدنيَّة، ولكني انقدت فيه لنهمتي، وجرّني رسن الحرص الى بعض بواعث همتي، وسألت الله، جلّ وعزّ، أن لا يحرمنا ثواب التعب فيه، ولا يكلنا إلى نفسنا فيما نحاوله وننويه، وجائزتي على ما أوضعت إليه ركاب خاطري، وأسهرت في تحصيله بدني وناظري، دعاء المستفيدين، وذكر زكيّ من المؤمنين، بأن أحشر في زمرة الصالحين.

ولقد التمس مني الطلاب اختصار هذا الكتاب مرارا، فأبيت ولم أجد لي على قصر هممهم أولياء ولا أنصارا، فما انقدت لهم ولا ارعويت، ولي على ناقل هذا الكتاب والمستفيد منه أن لا يُضيّع نصبي،
অথবা তারা যেন ইমামদের মর্যাদা ও সত্য থেকে বিচ্যুত না হয়; তারা যা শুনেছেন তা সেভাবেই বর্ণনা করেছেন যেভাবে তা অনুধাবন করেছেন। কেবল তাকেই মিথ্যাবাদী বলা হয় যে হাদিস জাল করে, অথবা এমন কারো থেকে বর্ণনা করে যার থেকে সে শোনেনি, অথবা এমন ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করে যে তার কাছে বর্ণনা করেনি। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি যা শুনেছে তা সেভাবেই বর্ণনা করে যেভাবে সে শুনেছে, সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। এর দায়ভার তার উপর বর্তাবে যে তার থেকে বর্ণনা করেছে, যদি না সে ইজতিহাদের যোগ্য হয়; তবে সে তা বর্ণনা করতে পারে এবং তার বিশ্লেষণ করতে পারে। এটি না হলে অনেক হাদিসই বিলুপ্ত হয়ে যেত। আমাদের কর্তব্য হলো তাদের অনুসরণ করা এবং তাদের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি একে প্রত্যাখ্যান করে না এবং কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে না। একগুঁয়ে ব্যক্তি পরিশ্রান্ত ও অন্যকে পরিশ্রান্তকারী, আর ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি স্বস্তিতে থাকে ও অন্যকে স্বস্তি দেয়। কে আছে যাকে নির্ভুলতা দান করা হয়েছে এবং কে প্রতিটি শব্দ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখে? যে ইলম অন্বেষণ করে সে তা পায়। আমি তো হোঁচট খাওয়ার যোগ্য এবং ইজতিহাদের পর সঠিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রাখি। আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি নিজের জন্য নির্ভুলতা চায়, সে যেন তা প্রথমে নিজের জন্য সন্ধান করে। যদি সে তা না পায়, তবে সে তার ওজর পেশ করেছে এবং সঠিক কাজ করেছে। আর যদি সে দাবি করে যে সে তা অর্জন করেছে, তবে সে সম্বোধনের যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যখন এই কিতাব সংকলনে দীর্ঘ বছর অতিবাহিত হলো এবং এর উপযোগিতা অর্জনে মাস ও দিনগুলো একের পর এক আসতে থাকল, তবুও আমি এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি যা আমাকে সন্তুষ্ট করে, আর লক্ষ্যভেদী তীরের অব্যাহত ধারার মাঝেও আমি এমন কোনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনি যে বলতে পারি: এটিই সেই কাঙ্ক্ষিত। আমি দেখলাম যে বার্ধক্যের সূর্যের গ্রহণের আঁচলে যৌবনের রাতের চাঁদ হোঁচট খাচ্ছে এবং পরাজিত হচ্ছে, আর জীবনের বসন্তকাল বার্ধক্যের লক্ষণ ও ভাঙনের মাধ্যমে তার সমাপ্তির দাবদাহে প্রবেশ করছে; তখন আমি এখানেই থামলাম, এই আশায় যে মৃত্যুর আগে এই কিতাবরূপী কনেকে সংবোধনকারীদের কাছে উপহার দিয়ে আমার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হবে। আমি আকস্মিক মৃত্যুর ভয় করলাম, তাই সুযোগ হারিয়ে যাওয়ার আগেই এটি প্রকাশে ত্বরান্বিত হলাম। যদিও দিগন্তে ভোরের আলো উদ্ভাসিত হওয়ার আগে মৃত্যুর রাতের আক্রমণ সম্পর্কে আমি অত্যন্ত সতর্ক ছিলাম, এবং উৎসাহদাতা ও আগ্রহীর অভাবে আগ্রহের ধার কমে যাওয়ার প্রতীক্ষায় ছিলাম। অজ্ঞাত রোগের বাহিনী যখন জীবনকে ঘিরে ধরেছে, তখন আমি কীভাবে আমার আয়ুরূপী সৈন্যবাহিনীর ওপর ভরসা করতে পারি, অথবা কীভাবে আমি এমন এক রাতের ভোরের প্রতীক্ষা করতে পারি যেখানে চারদিক থেকে প্রতিবন্ধকতা আমাকে ঘিরে ধরেছে?

এমতাবস্থায় আমি নির্দ্বিধায় বলছি এবং ইলমের ময়দানে প্রতিটি পতাকাবাহীকে মুকাবিলার আহ্বান জানাচ্ছি এবং আমি পরাজিত হব না। আমার এই কিতাবটি তার নিজ বিষয়ে অনন্য এবং সমজাতীয় গ্রন্থগুলোর ওপর প্রাধান্য লাভের যোগ্য। আল্লাহর তাওফীকপ্রাপ্ত এবং এর উপযোগিতা সন্ধানে প্রতিটি পথ অতিক্রমকারী ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে এর অনরূপ কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সে কখনো নিচু ভূমিতে নেমেছে আবার কখনো উচ্চ ভূমিতে উঠেছে, এর জন্য নিজেকে দূরে নিক্ষেপ করেছে, তার যৌবনকাল ও এর তেজস্বিতা এতেই ব্যয় করেছে, আর দীর্ঘায়ু ও পর্যাপ্ত সময় তাকে সাহায্য করেছে এবং তার শ্রম ও কর্মতৎপরতার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেয়েছে।

হ্যাঁ, যদিও আমি এই লক্ষ্যকে তুচ্ছ মনে করি, তবুও আল্লাহর কসম, তা অনেক বড় এবং মহান। আর পূর্ণাঙ্গ পরিব্যাপ্তি এমন একটি বিষয় যা দীর্ঘ আয়ু দিয়েও সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, অক্ষমতা ও বিনাশ একে বাধাগ্রস্ত করে। তাই আমি এমতাবস্থায় এর সমাপ্তি টেনেছি যখন আমার চোখ এতে নিবদ্ধ এবং আগ্রহ আরও বৃদ্ধির দিকে ধাবিত। যদি আমি জীবনের স্থায়িত্ব ও দীর্ঘায়ুর ব্যাপারে নিশ্চিত হতাম এবং এতে আমার তাওফীক ও প্রস্তুতির ওপর ভরসা করতাম, তবে আমি এর কলেবর কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতাম এবং এর উপযোগিতাকে কয়েক শত নয় বরং কয়েক হাজার গুণ বৃদ্ধি করতাম। যদি আমি এই কিতাবের জনপ্রিয়তা ও প্রচার কামনা করতাম এবং এর সুনাম ও সুখ্যাতির ওপর নির্ভর করতাম, তবে আমি একে বর্তমান যুগের মানুষের মানসিকতা ও তাদের তুচ্ছ চাহিদার উপযোগী করে সংক্ষেপ করতাম। কিন্তু আমি এক্ষেত্রে আমার ইলমি ক্ষুধার অনুগামী হয়েছি এবং আমার আগ্রহের লাগাম আমাকে আমার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় টেনে নিয়ে গেছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এর পেছনের শ্রমের সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করেন এবং আমরা যা করতে চাই ও যে নিয়ত করেছি সে বিষয়ে আমাদের আমাদের নিজেদের ওপর সোপর্দ না করেন। আর আমার চিন্তার বাহনকে যা আমি ক্লান্ত করেছি এবং যা অর্জনে আমার শরীর ও চোখকে বিনিদ্র রেখেছি, তার বিনিময়ে আমার পুরস্কার হলো উপকৃতদের দোয়া এবং মুমিনদের মধ্যে পবিত্র আলোচনা, যেন আমি সৎকর্মশীলদের দলের সাথে পুনরুত্থিত হতে পারি।

ছাত্ররা বারবার আমার কাছে এই কিতাবটি সংক্ষেপ করার অনুরোধ করেছে, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি এবং তাদের স্বল্প হিম্মতের বিষয়ে আমি কোনো সহযোগী বা সাহায্যকারী খুঁজে পাইনি। ফলে আমি তাদের অনুগত হইনি এবং বিরত থাকিনি। আর এই কিতাবটির অনুলিপিকারী ও এর থেকে উপকৃত ব্যক্তির ওপর আমার দাবি হলো সে যেন আমার পরিশ্রমকে বৃথা না দেয়।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৪)
ونصب نفسي له وتعبي، بتبديد ما جمعت، وتشتيت ما لفّقت، وتفريق ملتئم محاسنه، ونفي كل علق نفيس عن معادنه ومكامنه، باقتضابه واختصاره، وتعطيل جيده من حليّه وأنواره، وغصبه إعلان فضله وأسراره، فربّ راغب عن كلمة غيره متهالك عليها، وزاهد عن نكتة غيره مشعوف بها، ينضي الركاب إليها.

فإن أجبتني فقد بررتني، جعلك الله من الأبرار، وإن خالفتني فقد عققتني والله حسيبك في عقبى الدار.

ثم اعلم أن المختصر لكتاب كمن أقدم على خلق سويّ، فقطع أطرافه فتركه أشلّ اليدين، أبتر الرجلين، أعمى العينين، أصلم الأذنين، أو كمن سلب امرأة حليّها فتركها عاطلا، أو كالذي سلب الكميّ سلاحه فتركه أعزل راجلا.

وقد حكي عن الجاحظ أنه صنّف كتابا وبوّبه أبوابا، فأخذه بعض أهل عصره فحذف منه أشياء وجعله أشلاءً، فأحضره وقال له: يا هذا إن المصنّف كالمصوّر وإني قد صوّرت في تصنيفي صورة كانت لها عينان فعوّرتهما، أعمى الله عينيك، وكان لها أذنان فصلّمتهما، صلّم الله أذنيك، وكان لها يدان فقطعتهما، قطع الله يديك، حتى عدّ أعضاء الصورة، فاعتذر اليه الرجل بجهله هذا المقدار، وتاب إليه عن المعاودة إلى مثله.

ثم أهديت هذه النّسخة بخطي إلى خزانة مولانا الصاحب الكبير، العالم الجليل الخطير، ذي الفضل البارع، والإفضال الشائع، والمحتد الأصيل، والمجد الأثيل، والعزّة القعساء، والرتبة الشّمّاء، الفائز من المكارم بالقدح المعلّى، المتقلد من المكارم بالصارم المحلّى، إمام الفضلاء، وسيّد الوزراء، السيّد الأجلّ الأعظم، القاضي جمال الدين الأكرم، أبي الحسن علي بن يوسف بن ابراهيم بن عبد الواحد الشّيباني ثم التّيمي، حرس الله مجده وأسبغ ظلّه وأهلك ندّه ونصر جنده وهزم ضده، إذ كنت منذ وجدت في حلّ وترحال، ومبارزة للزمان ونزال، أسأل منه سلما ولا يزيدني إلا هضما.

فلما قضت نفسي، من السّير، ما قضت، … على ما بلت من شدة وليان

بعد طول مكابدة حرفة الحرفة وانتظار تبلّج ظلام الحظ يوما من سدفة:

علقت بحبل من حبال ابن يوسف، … أمنت به من طارق الحدثان

فردّ عني صرف الدهر والمحسن، ورفّه خاطري عن معاندة الزمن. لمّا:

تغطيّتُ، عن دهري، بظلّ جناحه، … فعيني ترى دهري، وليس يراني

فأصبحت من كنفه في حريز، حريز، ومن إحسانه وتكرّمه في موطن عزيز:

فلو تسأل الأيام عني لما درت، … وأين مكاني، ما عرفن مكاني
এবং আমার প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে আমার সংগৃহীত বিষয়গুলোকে বিনাশ করার মাধ্যমে, আমার একত্রিত বিষয়গুলোকে বিক্ষিপ্ত করে, এর সুসংবদ্ধ সৌন্দর্যের সমন্বয়কে খণ্ডবিখণ্ড করে এবং এর খনি ও নিভৃত স্থান থেকে প্রতিটি মূল্যবান উপাদানকে অপসারিত করে। একে সংক্ষেপ ও কর্তন করার মাধ্যমে এবং এর অলঙ্কার ও জ্যোতিসমূহ থেকে এর শ্রেষ্ঠত্বকে নিরাভরণ করার মাধ্যমে, এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও রহস্যসমূহকে জনসমক্ষে প্রকাশ করার মাধ্যমে জবরদস্তি করে। কারণ অন্যের কোনো বাণীর প্রতি বিমুখ ব্যক্তিও তাতে পাগলপ্রায় হয়ে যায়, আর অন্যের কোনো সূক্ষ্ম বিষয়ে অনীহা প্রকাশকারীও তাতে বিমোহিত হয়ে যায় এবং তার পানে সওয়ারি ছুটিয়ে দেয়।

আপনি যদি আমার আহবানে সাড়া দেন তবে আপনি আমার প্রতি সদাচরণ করলেন, আল্লাহ আপনাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আর যদি আপনি আমার বিরোধিতা করেন তবে আপনি আমার অবাধ্য হলেন এবং পরকালে আল্লাহই আপনার হিসাব গ্রহণকারী।

এরপর জেনে রাখুন যে, কোনো কিতাবের সারসংক্ষেপকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো যে একজন সুঠাম অবয়বের মানুষের ওপর চড়াও হয়ে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে দিল এবং তাকে অসাড় হাতবিশিষ্ট, ছিন্ন পা-বিশিষ্ট, অন্ধ চক্ষুবিশিষ্ট ও কর্ণহীন অবস্থায় ফেলে রাখল। অথবা সে সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো নারীর অলঙ্কার কেড়ে নিয়ে তাকে নিরাভরণ করে দিল, অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো বীর যোদ্ধার অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাকে নিঃস্ব ও পদাতিক করে দিল।

আল-জাহিজ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি একটি কিতাব রচনা করলেন এবং একে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করলেন। তাঁর সমসাময়িক কিছু লোক তা নিয়ে নিল এবং সেখান থেকে কিছু বিষয় মুছে ফেলে একে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলল। তিনি তাকে উপস্থিত করে বললেন: ওহে লোক! গ্রন্থকার হলো একজন রূপকারের মতো। আমি আমার রচনায় একটি রূপ চিত্রিত করেছিলাম যার দুটি চোখ ছিল, কিন্তু তুমি তা অন্ধ করে দিলে; আল্লাহ তোমার দুই চোখ অন্ধ করে দিন। এর দুটি কান ছিল, তুমি তা কেটে ফেললে; আল্লাহ তোমার দুই কান কেটে দিন। এর দুটি হাত ছিল, তুমি তা বিচ্ছিন্ন করলে; আল্লাহ তোমার দুই হাত বিচ্ছিন্ন করুন। এভাবে তিনি সেই রূপের প্রতিটি অঙ্গ গণনা করলেন। তখন লোকটি নিজের এই অজ্ঞতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং এ জাতীয় কাজ পুনরায় না করার তওবা করল।

এরপর আমি আমার নিজ হস্তাক্ষরে এই পাণ্ডুলিপিটি আমাদের সুমহান অধিপতি, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী মহান আলেম, অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী, যার দানশীলতা সর্বজনবিদিত, সুদৃঢ় বংশমর্যাদা ও সুপ্রাচীন আভিজাত্যের অধিকারী, সুউচ্চ সম্মান ও উচ্চ মাকামের অধিকারী, যিনি মহত্ত্বের পাল্লায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, মহত্ত্বের অলঙ্কৃত তরবারি ধারণকারী, গুণীজনদের ইমাম, উজিরদের সর্দার, সুমহান ও মহিমান্বিত নেতা, অতিশয় সম্মানিত কাজি জামাল উদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন ইউসুফ বিন ইব্রাহিম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানী অতঃপর আত-তৈমীর গ্রন্থাগারে উপহার হিসেবে পেশ করলাম—আল্লাহ তাঁর মর্যাদাকে সুরক্ষা দান করুন, তাঁর ছায়া বিস্তৃত করুন, তাঁর শত্রুকে বিনাশ করুন, তাঁর বাহিনীকে সাহায্য করুন এবং তাঁর বিরোধীদের পরাজিত করুন। কারণ আমি যখন থেকে সফরে ও প্রবাসে জীবন অতিবাহিত করছি এবং সময়ের সাথে লড়াই ও সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছি, তখন থেকে তাঁর কাছেই নিরাপত্তা প্রার্থনা করেছি কিন্তু তা আমার জন্য কেবল অবদমনই বৃদ্ধি করেছে।

যখন আমার আত্মা ভ্রমণের ক্লান্তি থেকে তার প্রাপ্য পূর্ণ করল, … সেই কঠোরতা ও কোমলতার ওপর যা আমি পরীক্ষা করেছি।

দীর্ঘকাল জীবিকার কঠোর পরিশ্রমের পর এবং কোনো একদিন অন্ধকার ভাগ্যের অবসানে সুবহে সাদেকের প্রতীক্ষার পর:

আমি ইবনে ইউসুফের রশিগুলোর মধ্য থেকে একটি রশিকে আঁকড়ে ধরলাম, … যার মাধ্যমে আমি কালের বিপর্যয় থেকে নিরাপদ হলাম।

তিনি আমার থেকে কালের প্রতিকূলতাকে ফিরিয়ে দিলেন এবং আমার চিত্তকে সময়ের বৈরিতা থেকে স্বস্তি দিলেন। যখন:

আমি আমার সময় থেকে তাঁর পক্ষপুটের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করলাম, … ফলে আমার চক্ষু কালকে দেখছে কিন্তু কাল আমাকে দেখতে পাচ্ছে না।

ফলে আমি তাঁর আশ্রয়ে এক সুরক্ষিত সুদৃঢ় দুর্গে উপনীত হলাম এবং তাঁর অনুগ্রহ ও মহানুভবতায় এক সম্মানিত আবাসে অবস্থান করলাম:

যদি দিনগুলো আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত তবে তারা জানত না, … এবং আমার অবস্থান কোথায় তাও তারা চিনত না।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৫)
إذ كان، أدام الله علوّه، علم العلم في زماننا، وعين أعيان أهل عصرنا وأواننا، وأعدت إليه ما استفدته منه، وروى عني ما رويته عنه، فأحسن الله عنا جزاءه، وأدام عزّه وعلاءه، بمحمد وآله الكرام.

وقد قدّمت، أمام الغرض من هذا الكتاب، خمسة أبواب بها يتمّ فضله، ويغزر وبله:

الباب الأول: في ذكر صورة الأرض وحكاية ما قاله المتقدمون في هيئتها، وروينا عن المتأخرين في صورتها.

الباب الثاني: في وصف اختلافهم في الاصطلاح على معنى الإقليم وكيفيته واشتقاقه ودلائل القبلة في كل ناحية.

الباب الثالث: في ذكر ألفاظ يكثر تكرار ذكرها فيه يحتاج إلى معرفتها كالبريد والفرسخ والميل والكورة وغير ذلك.

الباب الرابع: في بيان حكم الأرضين والبلاد المفتتحة في الإسلام وحكم قسمة الفيء والخراج فيما فتح صلحا أو عنوة.

الباب الخامس: في جمل من أخبار البلدان التي لا يختص ذكرها بموضع دون موضع، لتكمل فوائد هذا الكتاب، ويستغنى به عن غيره في هذا الباب.

ثم أعود إلى الغرض فأقسمه ثمانية وعشرين كتابا على عدد حروف المعجم، ثم أقسم كل كتاب إلى ثمانية وعشرين بابا للحرف الثاني للأول، وألتزم ترتيب كل كلمة منه على أول الحرف وثانيه وثالثه ورابعه، وإلى أي غاية بلغ، فأقدّم ما يجب تقديمه بحكم ترتيب: اب ت ث.. على صورته الموضوعة له، من غير نظر إلى أصول الكلمة وزوائدها، لأن جميع ما يرد إنما هي أعلام لمسمّيات مفردة، وأكثرها عجمية ومرتجلة لا مساغ للاشتقاق فيها.

والغرض من هذا الترتيب، تسهيل طريق الفائدة من غير مشقة، والله المعين على ما اعتمدناه، والمرشد إلى سلوك ما قصدناه، من غير حول منا ولا قوة إلا بالله وحده وسمّيته: «معجم البلدان» ، اسم مطابق لمعناه، وحسبنا الله ونعم الوكيل، وكان الشروع في هذا التبييض في ليلة إِحدى وعشرين من محرم سنة خمس وعشرين وستمائة، والله نسأَل المعونة على إتمامه بمنّه وكرمه.
যেহেতু তিনি—আল্লাহ তাঁর উচ্চমর্যাদাকে দীর্ঘস্থায়ী করুন—ছিলেন আমাদের সময়ের জ্ঞানের নিশান এবং আমাদের যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যমণি; আর আমি তাঁর নিকট থেকে যা অর্জন করেছি তা তাঁর কাছেই সোপর্দ করেছি এবং আমি তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছি তিনিও আমার থেকে তা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং মুহাম্মাদ ও তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গের উসিলায় তাঁর সম্মান ও উচ্চতাকে চিরস্থায়ী করুন।

এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য বর্ণনার পূর্বে আমি পাঁচটি অধ্যায় উপস্থাপন করেছি, যার মাধ্যমে এর শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণতা পায় এবং এর বর্ণনা সমৃদ্ধ হয়:

প্রথম অধ্যায়: পৃথিবীর মানচিত্র এবং এর গঠন সম্পর্কে পূর্ববর্তীরা যা বলেছেন তার বর্ণনা, এবং এর রূপ সম্পর্কে পরবর্তীদের থেকে আমরা যা বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: 'ইকলিম' (অঞ্চল) শব্দের পারিভাষিক অর্থ, এর স্বরূপ ও ব্যুৎপত্তি সংক্রান্ত মতভেদ এবং প্রতিটি অঞ্চলের কিবলার নির্দেশকসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: এমন কিছু শব্দের উল্লেখ যা এই গ্রন্থে বারবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং যা জানা প্রয়োজন; যেমন: বারীদ, ফারসাখ, মাইল, কুরাহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ।

চতুর্থ অধ্যায়: ইসলামে বিজিত ভূখণ্ড ও শহরসমূহের বিধান এবং সন্ধি বা যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত অঞ্চলের 'ফাই' ও 'খারাজ' বণ্টনের বিধান প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: শহরসমূহের এমন কিছু সাধারণ সংবাদ প্রসঙ্গে যা কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, যাতে এই কিতাবের উপকারিতা পূর্ণতা পায় এবং এই বিষয়ে অন্য কোনো গ্রন্থের প্রয়োজন না থাকে।

অতঃপর আমি মূল উদ্দেশ্যে ফিরে আসছি এবং একে বর্ণমালার অক্ষর অনুযায়ী আঠাশটি ভাগে বিভক্ত করছি। এরপর প্রতিটি ভাগকে প্রথম অক্ষরের সাথে দ্বিতীয় অক্ষরের সমন্বয়ে আঠাশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করছি। আমি প্রতিটি শব্দের বিন্যাসে তার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ অক্ষর—যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়—তা অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা বজায় রাখছি। সুতরাং বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস (আলিফ, বা, তা, ছা...) অনুযায়ী যা আগে আসা উচিত তাকেই আগে উপস্থাপন করছি, শব্দের মূল অক্ষর বা অতিরিক্ত অক্ষরের বিচার না করে; কারণ এখানে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সবই একক বিশেষ্য (নাম), যার অধিকাংশ অনারবীয় এবং মৌলিক শব্দ, যাতে শব্দতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তির কোনো অবকাশ নেই।

এই বিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো পরিশ্রম ব্যতিরেকে উপকার লাভের পথ সহজ করা। আমরা যা সংকল্প করেছি তার ওপর আল্লাহই সাহায্যকারী এবং আমরা যা লক্ষ্য স্থির করেছি সেই পথে চলার দিশারী। একমাত্র আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমাদের কোনো সামর্থ্য বা শক্তি নেই। আমি এর নামকরণ করেছি 'মুজামুল বুলদান', যা এর অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নাম। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। এই পাণ্ডুলিপি চূড়ান্তকরণের কাজ শুরু হয়েছিল ৬২৫ হিজরি সনের ২১শে মহররম রাতে। আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় এটি সম্পন্ন করার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الباب الاول في صفة الأرض وما فيها من الجبال والبحار وغير ذلك

قال الله عز وجل: ألم نجعل الأرض مهادا والجبال أوتادا. وقال جل وعز: والذي جعل لكم الأرض قرارا والسّماء بناء. وقال سبحانه: والله جعل لكم الأرض بساطا.

قال المفسرون: البساط والمهاد: القرار والتّمكّن منها، والتصرف فيها.

واختلف القدماء في هيئة الأرض وشكلها، فذكر بعضهم أنها مبسوطة التسطيح في أربع جهات:

في المشرق والمغرب والجنوب والشمال، ومنهم من زعم أنها كهيئة التّرس، ومنهم من زعم أنها كهيئة المائدة، ومنهم من زعم أنها كهيئة الطبل، وزعم بعضهم أنها شبيهة بنصف الكرة كهيئة القبّة وأن السماء مركبة على أطرافها، وقال بعضهم: هي مستطيلة كالأسطوانة الحجرية او العمود، وقال قوم:

الأرض تهوي إلى ما لا نهاية له، والسماء ترتفع إلى ما لا نهاية له، وقال قوم: إن الذي يرى من دوران الكواكب إنما هو دور الأرض لا دور الفلك، وقال آخرون: إن بعض الأرض يمسك بعضا، وقال قوم: إنها في خلاء لا نهاية لذلك الخلاء.

وزعم أرسطاطاليس أن خارج العالم من الخلاء مقدار ما تنفس السماء فيه، وكثير منهم يزعم أن دوران الفلك عليها يمسكها في المركز من جميع نواحيها. وأما المتكلمون فمختلفون أيضا: زعم هشام ابن الحكم أن تحت الأرض جسما من شأنه الارتفاع والعلوّ، كالنار والريح، وأنه المانع للأرض من الانحدار، وهو نفسه غير محتاج إلى ما يعمد، لأنه ليس مما ينحدر بل يطلب الارتفاع. وزعم أبو الهذيل: أن الله وقفها بلا عمد ولا علاقة، وقال بعضهم: إن الأرض ممزوجة من جسمين: ثقيل وخفيف، فالخفيف شأنه الصّعود، والثقيل شأنه الهبوط، فيمنع كلّ واحد منهما صاحبه من الذّهاب في جهته لتكافؤ تدافعهما. والذي يعتمد عليه جماهيرهم، أن الأرض مدورة كتدوير الكرة، موضوعة في جوف الفلك كالمحّة في جوف البيضة، والنسيم حول الأرض جاذب لها من جميع جوانبها إلى الفلك، وبينه الخلق على الأرض، وأن النسيم جاذب لما في أبدانهم من الخفّة، والأرض جاذبة لما في أبدانهم من الثقل، لأن الأرض بمنزلة حجر المغناطيس الذي يجتذب الحديد وما فيها من الحيوان، وغيره بمنزلة الحديد.

وقال آخرون من أعيانهم: الأرض في وسط الفلك يحيط بها الفرجار في الوسط على مقدار واحد،
প্রথম পরিচ্ছেদ: পৃথিবীর বিবরণ এবং এতে বিদ্যমান পাহাড়, সমুদ্র ও অন্যান্য বিষয়ের বর্ণনা প্রসঙ্গে

মহান আল্লাহ বলেন: আমি কি পৃথিবীকে শয্যা এবং পাহাড়সমূহকে পেরেক সদৃশ করিনি? তিনি আরও বলেন: আর যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে আবাসস্থল এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ নির্মাণ করেছেন। তিনি আরও বলেন: আর আল্লাহ তোমাদের জন্য পৃথিবীকে প্রশস্ত বিছানা স্বরূপ করেছেন।

মুফাসসিরগণ বলেন: বিছানা ও শয্যা বলতে এখানে স্থিরতা, এতে বসবাস করার সক্ষমতা এবং এতে বিচরণ করার সুযোগকে বোঝানো হয়েছে।

পৃথিবীর রূপ ও আকৃতি সম্পর্কে প্রাচীন পণ্ডিতগণ মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, এটি চার দিকে সমতলভাবে বিস্তৃত:

পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ ও উত্তর—এই চার দিকে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি ঢালের আকৃতি বিশিষ্ট, কেউ দাবি করেছেন এটি দস্তরখানের আকৃতি বিশিষ্ট, কেউ দাবি করেছেন এটি ঢাকের আকৃতি বিশিষ্ট। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন এটি গোলকের অর্ধাংশের মতো গম্বুজাকৃতির এবং আকাশ এর প্রান্তসমূহের ওপর স্থাপিত। কেউ কেউ বলেছেন: এটি পাথরের সিলিন্ডার বা স্তম্ভের মতো দীর্ঘাকৃতি। একদল লোক বলেছেন:

পৃথিবী অসীম পর্যন্ত নিচের দিকে পতিত হচ্ছে এবং আকাশ অসীম পর্যন্ত উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। একদল লোক বলেছেন: নক্ষত্ররাজির যে ঘূর্ণন দেখা যায়, তা আসলে পৃথিবীরই ঘূর্ণন, আকাশের ঘূর্ণন নয়। অন্যরা বলেছেন: পৃথিবীর এক অংশ অন্য অংশকে ধরে রাখে। একদল লোক বলেছেন: এটি এমন এক মহাশূন্যে অবস্থিত যার কোনো শেষ নেই।

এরিস্টটল দাবি করেছেন যে, জগতের বাইরে এই পরিমাণ মহাশূন্য রয়েছে যাতে আকাশ নিঃশ্বাস নিতে পারে। তাদের অনেকে দাবি করেন যে, পৃথিবীর চারদিকে আকাশের ঘূর্ণন একে সব দিক থেকে কেন্দ্রে স্থির রাখে। আর কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে: হিশাম ইবনে হাকাম দাবি করেছেন যে, পৃথিবীর নিচে এমন এক বস্তু রয়েছে যার প্রকৃতি হলো উপরের দিকে ওঠা, যেমন আগুন ও বায়ু; আর এটিই পৃথিবীকে নিচের দিকে পড়ে যাওয়া থেকে বাধা দেয়। এটি নিজে কোনো অবলম্বনের মুখাপেক্ষী নয়, কারণ এটি নিচের দিকে পড়ে যাওয়ার মতো বস্তু নয় বরং তা উপরে উঠতে চায়। আবুল হুযাইল দাবি করেছেন: আল্লাহ তাআলা কোনো খুঁটি বা অবলম্বন ছাড়াই একে স্থির রেখেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: পৃথিবী দুটি উপাদানের মিশ্রণ: একটি ভারী এবং অন্যটি হালকা; হালকাটির প্রকৃতি হলো উপরে ওঠা আর ভারীটির প্রকৃতি হলো নিচে নামা। তাদের উভয়ের মধ্যকার এই পারস্পরিক ভারসাম্য একে অপরকে নিজ দিকে চলে যেতে বাধা দেয়। অধিকাংশের নির্ভরযোগ্য মত হলো, পৃথিবী গোলকের মতো গোলাকার, যা মহাকাশের গর্ভে ডিমের কুসুমের মতো অবস্থিত। বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর চারপাশ থেকে একে সব দিক থেকে আকাশের দিকে আকর্ষণ করে এবং সৃষ্টিজগত পৃথিবীর ওপরে অবস্থান করে। বায়ুমণ্ডল তাদের দেহের হালকা অংশকে আকর্ষণ করে এবং পৃথিবী তাদের দেহের ভারী অংশকে আকর্ষণ করে। কারণ পৃথিবী চুম্বক পাথরের ন্যায় যা লোহাকে আকর্ষণ করে, আর এতে বিদ্যমান প্রাণী ও অন্যান্য বস্তু লোহার স্থলাভিষিক্ত।

তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যরা বলেছেন: পৃথিবী মহাকাশের কেন্দ্রে অবস্থিত, যা চারপাশ থেকে সমান দূরত্বে পরিবেষ্টিত।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৭)
من فوق وأسفل ومن كل جانب، وأجزاء الفلك تجذبها من كل وجه، فلذلك لا تميل إلى ناحية من الفلك دون ناحية، لأن قوة الأجزاء متكافئة، ومثال ذلك: حجر المغناطيس الذي يجتذب الحديد لأن في طبع الفلك أن يجتذب الأرض.

وأصلح ما رأيت في ذلك وأسدّه في رأيي، ما حكاه محمد بن أحمد الخوارزمي، قال: الأرض في وسط السماء، والوسط هو السّفل بالحقيقة، والأرض مدوّرة بالكلية، مضرّسة بالجزئية من جهة الجبال البارزة والوهدات الغائرة، ولا يخرجها ذلك من الكريّة، إذا وقع الحسّ منها على الجملة، لأن مقادير الجبال، وإن شمخت، صغيرة بالقياس إلى كل الأرض، ألا ترى أن الكرة التي قطرها ذراع أو ذراعان إذا نتأ منها كالجاورسات وغار فيها أمثالها، لم يمنع ذلك من إجراء أحكام المدوّر عليها بالتقريب؟ ولولا هذا التّضريس، لأحاط بها الماء من جميع الجوانب وغمرها حتى لم يكن يظهر منها شيء، فإن الماء وإن شارك الأرض في الثّقل وفي الهويّ نحو السفل، فإن بينهما في ذلك تفاضلا يخف به الماء بالإضافة إلى الأرض، ولهذا ترسب الأرض في الماء وتنزل الكدورة إلى القرار، فأما الماء فإنه لا يغوص في نفس الأرض، بل يسوخ فيما تخلخل منها واختلط بالهواء، والماء إذا اعتمد على الهواء المائي للتخلخل نزل فيها وخرج الهواء منها، كما ينزل القطر من السحاب فيه، ولمّا برز من سطح الأرض ما برز، جاز الماء إلى الاعماق، فصار بحارا، وصار مجموع الماء والأرض كرة واحدة يحيط بها الهواء من جميع
উপর, নিচ এবং সকল দিক থেকে, এবং মহাকাশীয় গোলকের অংশসমূহ একে প্রতিটি দিক থেকে আকর্ষণ করে। তাই এটি গোলকের একদিকের তুলনায় অন্য দিকে ঝুঁকে পড়ে না, কারণ এর অংশসমূহের শক্তি সমান। এর উদাহরণ হলো: চুম্বক পাথর যা লোহাকে আকর্ষণ করে, কারণ মহাকাশীয় গোলকের প্রকৃতিই হলো পৃথিবীকে আকর্ষণ করা।

এই বিষয়ে আমি যা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে সঠিক এবং আমার মতে সবচেয়ে সুদৃঢ় হলো যা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাওয়ারিজমি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: পৃথিবী আকাশের কেন্দ্রে অবস্থিত, আর কেন্দ্রই হলো প্রকৃত অর্থে নিম্নদেশ। পৃথিবী সামগ্রিকভাবে গোল, তবে উঁচু পর্বতমালা এবং গভীর গহ্বরের কারণে আংশিকভাবে অসমান। সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করলে এটি তাকে গোলাকার হওয়া থেকে বের করে দেয় না। কারণ পর্বতসমূহের পরিমাপ, যদিও তা সুউচ্চ হয়, সমগ্র পৃথিবীর তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। আপনি কি দেখেন না যে, এক বা দুই হাত ব্যাসবিশিষ্ট একটি গোলক থেকে যদি জোয়ারের দানার মতো কিছু উঁচু হয়ে থাকে এবং অনুরূপ কিছু গর্ত থাকে, তবে তা কি তার ওপর মোটামুটিভাবে গোলাকারের হুকুম প্রয়োগ করতে বাধা দেয়? আর যদি এই অসমতা না থাকত, তবে পানি একে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলত এবং একে নিমজ্জিত করে দিত, ফলে এর কিছুই দেখা যেত না। পানি যদিও ওজন এবং নিচের দিকে পতনের ক্ষেত্রে মাটির সাথে অংশীদার, তবুও এই ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে এমন পার্থক্য রয়েছে যার কারণে মাটির তুলনায় পানি হালকা হয়। আর এই কারণেই মাটি পানিতে তলিয়ে যায় এবং ঘোলাটে আবর্জনা নিচে জমা হয়। পক্ষান্তরে পানি মাটির মূল সত্তার ভেতরে প্রবেশ করে না, বরং তা মাটির সেইসব ছিদ্রযুক্ত অংশে প্রবেশ করে যা বাতাসের সাথে মিশ্রিত। পানি যখন ছিদ্রযুক্ত হওয়ার জন্য জলীয় বাতাসের ওপর নির্ভর করে, তখন তা তাতে প্রবেশ করে এবং বাতাস সেখান থেকে বেরিয়ে যায়, যেমনভাবে মেঘ থেকে বৃষ্টির ফোঁটা তার মধ্যে পড়ে। আর যখন পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে যা প্রকাশ পাওয়ার তা প্রকাশ পেল, তখন পানি গভীর তলদেশের দিকে চলে গেল এবং সমুদ্রে পরিণত হলো। এভাবে পানি ও মাটির সমষ্টি একটি গোলকে পরিণত হলো যা চারদিক থেকে বাতাস দ্বারা পরিবেষ্টিত।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৮)
جهاتها، ثم احتدم من الهواء ما مسّ فلك القمر بسبب الحركة وانسحاج المتماسين، فهو إذا النار المحيطة بالهواء متصاغرة القدر في الفلك الى القطبين لتباطؤ الحركة فيما قرب منهما، وصورة ذلك، الصورة الأولى التي في الصفحة السابقة.

وقال أبو الرّيحان: وسط معدّل النهار، يقطع الأرض بنصفين على دائرة تسمّى خطّ الاستواء، فيكون أحد نصفيها شماليّا والآخر جنوبيّا، فإذا توهّمت دائرة عظيمة على الأرض مارّة على قطب خط الاستواء، قسمت كل واحد من نصفي الأرض بنصفين، فانقسم جملتها أرباعا:

جنوبيّان وشماليّان على ما وجدها المعيّنون، لم يتجاوز حدّ أحد الرّبعين الشماليّين فيسمّى ربعا معمورا أو مسكونا كجزيرة بارزة تحيط بها البحار، وهذا الربع في نفسه مشتمل على ما يعرف ويسلك من الحبار والجزائر والجبال والأنهار والمفاوز المعروفة، ثم البلدان والقرى بينها، على انه بقي منها، نحو قطب الشمال، قطعة غير معمورة من افراط البرد وتراكم الثلوج. وقال مهندسوهم: لو حفر في الوهم وجه الأرض، لأدّي إلى الوجه الآخر، ولو ثقب مثلا بفوشنج لنفذ بأرض الصين. قالوا: والناس على الأرض كالنّمل على البيضة، واحتجوا لقولهم بحجاج كثيرة، منها إثباتيّ ومنها إقناعيّ، وليس ذلك ببعيد من الأرض، لأن البسيط يحتمل نشز الشيء، فالأرض على هذا لمن هي تحته بساط، ولمن هي فوقه غطاء.

واختلفوا في مساحة الأرض: فذكر محمد بن موسى الخوارزمي صاحب الزيج أن الأرض على القصد تسعة آلاف فرسخ، العمران من الأرض نصف سدسها، والباقي ليس فيه عمارة ولا نبات ولا حيوان، والبحار محسوبة من الغمران، والمفاوز التي بين العمران من العمران.

قال أبو الريحان: طول قطر الأرض بالفراسخ الفان ومائة وثلاثة وسنون فرسخا وثلثا فرسخ، ودورها بالفراسخ ستة آلاف وثمانمائة فرسخ.

وعلى هذا تكون مساحة سطحها الخارج متكسّرا أربعة عشر ألف ألف وسبعمائة وأربعة وأربعين ألفا ومائتين واثنين وأربعين فرسخا وخمس فرسخ. وكان عمر بن جيلان يزعم ان الدنيا كلها سبعة وعشرون ألف فرسخ، فبلد السودان اثنا عشر ألف فرسخ، وبلد الروم ثمانية آلاف فرسخ، وبلد فارس ثلاثة آلاف فرسخ، وأرض العرب أربعة آلاف فرسخ.

وحكي عن أزدشير أنه قال: الأرض أربعة أجزاء، فجزء منها أرض التّرك وهي ما بين مغارب الهند الى مشارق الروم، وجزء منها المغرب وهو ما بين مغارب الروم إلى القبط والبربر، وجزء منها أرض السودان وهي ما بين البربر إلى الهند، وجزء منها هذه الأرض التي تنسب إلى فارس ما بين نهر بلخ إلى منقطع اذربيجان وأرمينية الفارسية ثم الى الفرات، ثم بريّة العرب إلى عمان ومكران، ثم إلى كابل وطخارستان.

وقال دورينوس إن الأرض خمسة وعشرون ألف فرسخ، من ذلك: الترك والصين اثنا عشر
এর দিকসমূহ, অতঃপর বায়ুমণ্ডলের সেই অংশ যা গতির কারণে এবং দুটি স্পর্শকারী তলের ঘর্ষণের ফলে চন্দ্রের কক্ষপথের সংস্পর্শে এসে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; সুতরাং এটি হলো বায়ুমণ্ডলকে পরিবেষ্টনকারী আগুন, যা কক্ষপথের মেরুদ্বয়ের দিকে গতির মন্থরতার কারণে ক্ষুদ্রতর হতে থাকে। এর চিত্র হলো পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার প্রথম চিত্রটি।

আবু রায়হান বলেন: দিনমানের মধ্যভাগ পৃথিবীকে একটি বৃত্তের মাধ্যমে দুই ভাগে বিভক্ত করে যাকে নিরক্ষরেখা বলা হয়, ফলে এর একটি অর্ধেক উত্তর গোলার্ধ এবং অন্যটি দক্ষিণ গোলার্ধ হয়। যদি পৃথিবীর ওপর নিরক্ষরেখার মেরুর ওপর দিয়ে একটি বৃহৎ বৃত্ত কল্পনা করা হয়, তবে তা পৃথিবীর প্রতিটি অর্ধেককে আবার দুই ভাগে বিভক্ত করবে, ফলে সমগ্র পৃথিবী চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে:

নির্ধারণকারীদের প্রাপ্তি অনুযায়ী দুটি দক্ষিণ ও দুটি উত্তর ভাগ। উত্তর ভাগ দুটির কোনো একটির সীমা অতিক্রম করা হয়নি, ফলে তাকে জনঅধ্যুষিত বা বসতিপূর্ণ চতুর্থাংশ বলা হয়, যা সমুদ্রবেষ্টিত একটি উদগত দ্বীপের মতো। এই চতুর্থাংশটি পরিচিত ও বিচরণকৃত সমুদ্র, দ্বীপপুঞ্জ, পাহাড়, নদী এবং প্রসিদ্ধ মরুভূমি সমূহের সমন্বয়ে গঠিত। আর এগুলোর মাঝে রয়েছে শহর ও গ্রামসমূহ। তবে উত্তর মেরুর দিকে অত্যধিক শীত ও বরফ জমে থাকার কারণে একটি অংশ জনবসতিহীন রয়ে গেছে। তাদের প্রকৌশলীরা বলেন: যদি কল্পনায় ভূ-পৃষ্ঠ খনন করা হয়, তবে তা অপর প্রান্তে গিয়ে পৌঁছাবে; উদাহরণস্বরূপ যদি ফুশাঞ্জ-এ কোনো ছিদ্র করা হয় তবে তা চীনের ভূখণ্ড দিয়ে বের হবে। তারা বলেন: পৃথিবীর ওপর মানুষ হলো ডিমের ওপর পিঁপড়ার মতো। তারা তাদের এই বক্তব্যের স্বপক্ষে অনেক দলিল পেশ করেছেন, যার কিছু ইতিবাচক ও কিছু সন্তোষজনক। পৃথিবীর ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব নয়, কারণ সমতল তলে কোনো বস্তুর উচ্চতা থাকতে পারে। সুতরাং পৃথিবী তার নিচে থাকাদের জন্য বিছানা স্বরূপ এবং তার উপরে থাকাদের জন্য আচ্ছাদন স্বরূপ।

তারা পৃথিবীর আয়তন নিয়ে মতভেদ করেছেন: যিজ-এর প্রণেতা মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবী আনুমানিকভাবে নয় হাজার ফারসাখ। পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ এলাকা হলো এর এক-ষষ্ঠাংশের অর্ধেক (অর্থাৎ বারো ভাগের এক ভাগ), আর অবশিষ্ট অংশে কোনো জনবসতি, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। সমুদ্রসমূহ জনবসতিপূর্ণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত এবং জনবসতির মধ্যবর্তী মরুভূমিগুলোও জনবসতিপূর্ণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য।

আবু রায়হান বলেন: ফারসাখ হিসেবে পৃথিবীর ব্যাসের দৈর্ঘ্য হলো দুই হাজার একশত তেষট্টি ফারসাখ এবং এক ফারসাখের তিন ভাগের দুই ভাগ। আর ফারসাখ হিসেবে এর পরিধি হলো ছয় হাজার আটশত ফারসাখ।

এই হিসেবে এর বহিঃপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল দাঁড়াবে এক কোটি সাতচল্লিশ লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার দুইশত বিয়াল্লিশ ফারসাখ এবং এক ফারসাখের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। উমর ইবনে جিলান দাবি করতেন যে সমগ্র পৃথিবী সাতাশ হাজার ফারসাখ; তন্মধ্যে সুদান অঞ্চল বারো হাজার ফারসাখ, রোম অঞ্চল আট হাজার ফারসাখ, পারস্য অঞ্চল তিন হাজার ফারসাখ এবং আরব ভূখণ্ড চার হাজার ফারসাখ।

আরদাশির থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: পৃথিবী চার অংশ; এক অংশ তুর্কিদের ভূমি, যা ভারতের পশ্চিমাঞ্চল থেকে রোমের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এক অংশ মাগরিব (পশ্চিম), যা রোমের পশ্চিমাঞ্চল থেকে কিবতি ও বারবারদের অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। এক অংশ সুদান অঞ্চল, যা বারবারদের অঞ্চল থেকে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এক অংশ এই ভূমি যা পারস্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা বালখ নদী থেকে আজারবাইজানের শেষ প্রান্ত এবং পারস্যের আরমেনিয়া হয়ে ফুরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত, অতঃপর আরবের মরুভূমি থেকে ওমান ও মাকরান পর্যন্ত, তারপর কাবুল ও তুখারিস্তান পর্যন্ত।

দোরিনোস বলেন, পৃথিবী পঁচিশ হাজার ফারসাখ; তার মধ্যে তুর্কি ও চীন হলো বারো হাজার...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ১৯)
ألف فرسخ، والروم خمسة آلاف فرسخ، وبابل ألف فرسخ. وحكي أن بطليموس صاحب المجسطي قاس حرّان، وزعم أنّها أرفع الأرض، فوجد ارتفاعها ما عدّد، ثم قاس جبلا من جبال آمد ورجع فمسح من موضع قياسه الأول، إلى موضع قياسه الثاني، على مستو من الأرض، فوجده ستة وستين ميلا، فضربه في دور الفلك وهو ست وستون درجة فبلغ ذلك أربعة وعشرين ألف ميل، يكون ذلك ثمانية آلاف فرسخ، فزعم أن دور الأرض يحيط بثمانية آلاف فرسخ. وقال غير بطليموس ممن يرجع إلى رأيه، إن الأرض مقسومة بنصفين، بينهما خطّ الاستواء، وهو من المشرق إلى المغرب، وهو أطول خطّ في كرة الأرض، كما ان منطقة البروج أطول خطّ في الفلك، وعرض الأرض، من القطب الجنوبي الذي يدور حوله سهيل إلى الشمال الذي تدور حوله بنات نعش، فاستدارة الأرض، بموضع خطّ الاستواء، ثلاثمائة وستون درجة، الدرجة خمسة وعشرون فرسخا، فيكون ذلك تسعة آلاف فرسخ، وبين خط الاستواء وكلّ واحد من القطبين تسعون درجة، واستدارتها عرضا مثل ذلك، لأن العمارة في الأرض بين خطّ الاستواء وكل واحد أربع وعشرون درجة، ثم الباقي قد غمره ماء البحر، فالخلق في الرّبع الشمالي من الأرض والربع الجنوبي خراب، والنصف الذي تحتها لا ساكن فيه، والربعان الظاهران هما أربعة عشر إقليما، منها سبعة عامرة، وسبعة غامرة، لشدّة الحرّ بها.

وقال بعضهم: العمران في الجانب الشمالي من الأرض، أكثر منه في الجانب الجنوبي، ويقال إن في الشمالي أربعة آلاف مدينة، وإن كل نصف من الأرض ربعان، فالربعان الشماليان هما النصف المعمور، وهو من العراق إلى الجزيرة، والشام، ومصر، والروم، والفرنجة، ورومية، والسوس، وجزيرة السعادات، فهذا الربع غربي شمالي، ومن العراق إلى الأهواز، والجبال، وخراسان، وتبّت، إلى الصين، إلى واق واق، فهذا الربع شرقي شمالي، وكذلك النصف الجنوبي، فهو ربعان: شرقي جنوبي، فيه بلاد الحبشة والزنج، والنوبة، وربع غربي لم يطأه أحد ممن على وجه الأرض، وهو متاخم للسودان الذين يتاخمون البربر، مثل كوكو وأشباههم. وحكى آخرون أن بطليموس الملك اليوناني، وأحسبه غير صاحب المجسطي، لم يكن ملكا ولا في أيام الملوك البطالسة، إنما كان بعدهم، بعث إلى هذا الربع قوما حكماء منجمين، فبحثوا عن البلاد وألطفوا النظر والاستخبار من علماء تلك الأمم التي تقاربها ومن هو على تخومها، فانصرفوا إليه فأخبروه أنه خراب يباب ليس فيه ملك ولا مدينة ولا عمارة، وهذا الربع يسمّى المحترق، ويسمّى أيضا الربع الخراب، ثم إن بطليموس أراد أن يعرف عظم الأرض وعمرانها وخرابها، فبدأ فأخذ ذلك من طلوع الشمس إلى غروبها من العدد، وذلك يوم وليلة، ثم قسم ذلك على أربعة وعشرين جزءا، الساعات المستوية خمسة عشر جزءا، وضرب أربعة وعشرين في خمسة عشر، فصار ثلاثمائة وستين جزءا، فأراد أن يعرف كم ميلا يكون الجزء، فأخذ ذلك من خسوف القمر وكسوف الشمس، فنظر كم ما بين مدينة الى مدينة من ساعة، وكم بين المدينة إلى الأخرى، فقسم الأميال على أجزاء الساعة، فوجد الجزء الواحد منها خمسة وسبعين ميلا، فضرب خمسة وسبعين في ثلاثمائة وستين جزءا من أجزاء البروج، فبلغ ذلك سبعة وعشرين ألف ميل،
এক হাজার ফরসাখ, রোম পাঁচ হাজার ফরসাখ এবং ব্যাবিলন এক হাজার ফরসাখ। বর্ণিত আছে যে, আল-মাজিস্টির লেখক টলেমি হাররান পরিমাপ করেছিলেন এবং তিনি দাবি করেছিলেন যে এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থান। তিনি এর উচ্চতা ততটুকুই পেয়েছিলেন যা তিনি গণনা করেছিলেন। এরপর তিনি আমেদের পাহাড়গুলোর একটি পাহাড় পরিমাপ করলেন এবং ফিরে এসে সমতল ভূমিতে তাঁর প্রথম পরিমাপের স্থান থেকে দ্বিতীয় পরিমাপের স্থান পর্যন্ত দূরত্ব জরিপ করলেন। তিনি তা ছেষট্টি মাইল পেলেন। এরপর তিনি একে আসমানের পরিধি দিয়ে গুণ করলেন যা ছেষট্টি ডিগ্রি। ফলে তা চব্বিশ হাজার মাইল হলো, যা আট হাজার ফরসাখের সমান। তিনি দাবি করেন যে পৃথিবীর পরিধি আট হাজার ফরসাখ পরিবেষ্টন করে আছে। টলেমি ছাড়া অন্য যারা তাঁর মতের অনুসারী তারা বলেন যে, পৃথিবী দুই অর্ধাংশে বিভক্ত, যার মাঝখানে রয়েছে বিষুবরেখা। এটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত এবং এটি ভূপৃষ্ঠের দীর্ঘতম রেখা, যেমন রাশিচক্রের বলয় আসমানের দীর্ঘতম রেখা। আর পৃথিবীর প্রস্থ দক্ষিণ মেরু থেকে (যার চারপাশে সোহাইল নক্ষত্র ঘোরে) উত্তর মেরু পর্যন্ত (যার চারপাশে বানাতুন নাশ বা সপ্তর্ষিমণ্ডল ঘোরে)। বিষুবরেখার অবস্থানে পৃথিবীর পরিধি হলো তিনশত ষাট ডিগ্রি। প্রতি ডিগ্রি পঁচিশ ফরসাখ, ফলে তা নয় হাজার ফরসাখ হয়। বিষুবরেখা ও দুই মেরুর প্রত্যেকটির মধ্যবর্তী দূরত্ব নব্বই ডিগ্রি এবং প্রস্থেও এর পরিধি তদ্রূপ। কারণ পৃথিবীর আবাদি এলাকা বিষুবরেখা ও মেরুদ্বয়ের মাঝে মাত্র চব্বিশ ডিগ্রি পর্যন্ত, এরপর বাকি অংশ সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত। ফলে মানববসতি পৃথিবীর উত্তর চতুর্থাংশে রয়েছে এবং দক্ষিণ চতুর্থাংশ জনশূন্য। আর এর নিচের অর্ধাংশে কোনো অধিবাসী নেই। দৃশ্যমান দুটি চতুর্থাংশ হলো চৌদ্দটি ইকলিম (অঞ্চল), যার মধ্যে সাতটি আবাদি এবং সাতটি অনাবাদী—সেখানকার প্রচণ্ড উত্তাপের কারণে।

কেউ কেউ বলেন: পৃথিবীর উত্তর ভাগে জনবসতি দক্ষিণ ভাগের তুলনায় বেশি। বলা হয় যে উত্তর ভাগে চার হাজার শহর রয়েছে। পৃথিবীর প্রতিটি অর্ধাংশ আবার দুটি চতুর্থাংশে বিভক্ত। উত্তর চতুর্থাংশ দুটি হলো জনবসতিপূর্ণ অর্ধাংশ, যা ইরাক থেকে জাজিরা, শাম, মিশর, রোম, ফ্রাঙ্ক, রুমিয়া, সুস এবং জাজিরাতুস সা’আদাত পর্যন্ত বিস্তৃত। এই চতুর্থাংশটি হলো উত্তর-পশ্চিম। আর ইরাক থেকে আহওয়াজ, জিবাল, খোরাসান, তিব্বত থেকে চীন এবং ওয়াক ওয়াক পর্যন্ত এলাকাটি হলো উত্তর-পূর্ব চতুর্থাংশ। একইভাবে দক্ষিণ অর্ধাংশও দুটি চতুর্থাংশ: একটি হলো দক্ষিণ-পূর্ব, যাতে হাবাশা, জাঞ্জ ও নুবিয়া অবস্থিত। আর অন্যটি হলো পশ্চিম চতুর্থাংশ, যাতে পৃথিবীর কোনো মানুষ পা রাখেনি এবং এটি সেই সুদানীদের সংলগ্ন যারা বারবারদের প্রতিবেশী, যেমন কুকু ও তাদের সদৃশ জাতিসমূহ। অন্যরা বর্ণনা করেছেন যে গ্রিক রাজা টলেমি—আমার ধারণায় তিনি আল-মাজিস্টির লেখক নন, তিনি রাজা ছিলেন না এবং টলেমি রাজবংশের যুগেও ছিলেন না বরং তাদের পরে ছিলেন—তিনি এই চতুর্থাংশে একদল বিজ্ঞ জ্যোতির্বিজ্ঞানী পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা দেশসমূহ সম্পর্কে অনুসন্ধান করলেন এবং নিকটবর্তী জাতিসমূহের পণ্ডিতদের ও যারা সীমান্তে বসবাস করে তাদের কাছ থেকে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহ করলেন। তাঁরা তাঁর কাছে ফিরে এসে সংবাদ দিলেন যে সেটি সম্পূর্ণ বিরাণ ও জনশূন্য, সেখানে কোনো রাজা, শহর বা জনবসতি নেই। এই চতুর্থাংশটিকে ‘দগ্ধ এলাকা’ বলা হয় এবং একে ‘জনশূন্য চতুর্থাংশ’ও বলা হয়। এরপর টলেমি পৃথিবীর বিশালতা, এর আবাদি ও অনাবাদী অংশ সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তাই তিনি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় গণনার মাধ্যমে এর পরিমাপ শুরু করলেন, আর তা হলো একদিন ও এক রাত। এরপর তিনি একে চব্বিশ ভাগে ভাগ করলেন। সমান ঘণ্টাগুলো পনেরো অংশ। তিনি চব্বিশকে পনেরো দিয়ে গুণ করলেন, ফলে তা তিনশত ষাট অংশ হলো। তিনি জানতে চাইলেন প্রতি অংশ কত মাইল হয়। তিনি চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ থেকে এর পরিমাপ নিলেন। তিনি দেখলেন এক শহর থেকে অন্য শহরের সময়ের পার্থক্য কত এবং এক শহর থেকে অন্য শহরের দূরত্ব কত। অতঃপর তিনি মাইলগুলোকে ঘণ্টার অংশ অনুযায়ী ভাগ করলেন এবং প্রতি অংশ পঁচাত্তর মাইল পেলেন। এরপর তিনি পঁচাত্তরকে রাশিচক্রের তিনশত ষাট অংশ দিয়ে গুণ করলেন এবং তা সাতাশ হাজার মাইল হলো।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২০)
فقال إن الأرض مدورة متعلّقة بالهواء، فيكون ما يدور بها من الأميال سبعة وعشرين ألف ميل.

ثم نظر في العمران فوجد من الجزيرة العامرة التي في المغرب إلى البحر الأخضر إلى أقصى عمران الصين، إذا طلعت الشمس في الجزائر التي سمّيناها، غابت بالصين، وإذا غابت في هذه الجزائر طلعت بالصين، فذلك نصف دوّارة الأرض، وذلك ثلاثة عشر ألف ميل وخمسمائة ميل طول العمران. ثم نظر أيضا في العمران فوجد عمران الأرض من ناحية الجنوب إلى ناحية الشمال: أعني من دوّارة الأرض حيث استوى الليل والنهار في الصيف إلى عشرين ساعة، والليل أربع ساعات، وفي الشتاء خلاف ذلك، الليل عشرون ساعة والنهار أربع ساعات، فقال إن استواء الليل والنهار في جزيرة بين الهند والحبشة من ناحية الجنوب التي من التيمن وهو ستّون جزءا، ما يكون له أربعة آلاف وخمسمائة ميل، فإذا ضربت السدس في النصف الذي هو نصف دوّارة الأرض من حيث استوى الليل والنهار، تجد العمران الذي يعرف، نصف سدس جميع الأرض.

واختلف آخرون في مبلغ الأرض وكميّتها، فروي عن مكحول أنه قال: مسيرة ما بين أدنى الأرض إلى أقصاها خمسمائة سنة، مائتان من ذلك قد غمرهما البحر، ومائتان ليس يسكنهما أحد، وثمانون يأجوج ومأجوج، وعشرون فيها سائر الخلق. وعن قتادة، قال: الدنية أربعة وعشرون ألف فرسخ، فملك السودان منها اثنا عشر ألف فرسخ، وملك العجم ثلاثة آلاف فرسخ، وملك الروم ثمانية آلاف فرسخ، وملك العرب ألف فرسخ. ورواية أخرى عن بطليموس أنّه خرّج مقدار الدنيا واستدارتها من المجسطي بالتقريب، فقال: استدارة الأرض مائة ألف وثمانون ألف إسطاديون، والإسطاديون مساحة أربعمائة ذراع، وهي أربعة وعشرون ألف ميل، فيكون ثمانية آلاف فرسخ بما فيها من الجبال والبحار والفيافي والغياض. قال: وغلظ الأرض، وهو قطرها، سبعة آلاف وستمائة وثلاثون ميلا، تكون ألفين وخمسمائة فرسخ وأربعين فرسخا وثلثي فرسخ. قال: فتكسير جميع بسيط الأرض مائة واثنان وثلاثون ألف ألف وستمائة ألف ميل، يكون مائتي ألف وثمانية وثمانين ألف فرسخ.

واختلفوا أيضا في كيفية عدد الأرضين، قال الله عز وجل: «الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَماواتٍ وَمن الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ» 65: 12. فاحتمل هذا أن يكون في العدد والاطباق فروي في بعض الأخبار أن بعضها فوق بعض، وغلظ كل أرض مسيرة خمسمائة عام، وقد عدّد بعضهم لكل أرض أهلا على صفة وهيئة عجيبة، وسمّى كل أرض باسم خاص كما سمّى كل سماء باسم خاصّ. وعن عطاء بن يسار في قول الله عز وجل: «الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَماواتٍ وَمن الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ» 65: 12 قال: في كل أرض آدم كآدمكم، ونوح كنوحكم، وإبراهيم كابراهيكم، والله أعلم.

وقالت القدماء إن الأرض سبع على المجاورة والملاصقة، فافتراق الأقاليم على المطابقة والمكابسة، والمعتزلة من المسلمين يميلون إلى هذا القول، ومنهم من يرى أن الأرض سبع على الارتفاع والانخفاض، كدرج المراقي.
তিনি বলেছেন যে পৃথিবী গোলাকার এবং তা শূন্যে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে, ফলে এর পরিধি সাতাশ হাজার মাইল।

এরপর তিনি জনবসতির দিকে লক্ষ্য করলেন এবং মরক্কোর জনবসতিপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ থেকে শুরু করে সবুজ সাগর হয়ে চীনের দূরতম জনপদ পর্যন্ত দেখলেন যে, যখন আমাদের উল্লিখিত দ্বীপপুঞ্জে সূর্য উদিত হয়, তখন চীনে তা অস্ত যায়; আবার যখন এই দ্বীপপুঞ্জে সূর্য অস্ত যায়, তখন চীনে উদিত হয়। এটি পৃথিবীর পরিধির অর্ধেক, যা তেরো হাজার পাঁচশ মাইল এবং এটিই জনবসতির দৈর্ঘ্য। এরপর তিনি আরও লক্ষ্য করলেন এবং দক্ষিণ থেকে উত্তর দিক পর্যন্ত পৃথিবীর বসতি দেখতে পেলেন: অর্থাৎ পৃথিবীর সেই পরিধি থেকে যেখানে গ্রীষ্মকালে দিন ও রাত সমান হওয়ার স্থানে দিন বিশ ঘণ্টা এবং রাত চার ঘণ্টা হয়, আর শীতকালে এর বিপরীত, অর্থাৎ রাত বিশ ঘণ্টা এবং দিন চার ঘণ্টা হয়। তিনি বললেন যে, দক্ষিণ দিক থেকে ভারত ও হাবশার মধ্যবর্তী একটি দ্বীপে দিন ও রাত সমান হয়, যা ষাটতম অংশে অবস্থিত এবং এর দৈর্ঘ্য সাড়ে চার হাজার মাইল। সুতরাং আপনি যখন পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকে যেখানে দিন ও রাত সমান হয় সেখানে এক-ষষ্ঠাংশ গুণ করবেন, তখন আপনি পরিচিত জনবসতি পাবেন যা সমগ্র পৃথিবীর এক-ষষ্ঠাংশের অর্ধেক।

অন্যদের মধ্যে পৃথিবীর আয়তন ও পরিধি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মাকহুল থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত যাত্রাপথ পাঁচশ বছরের, যার মধ্যে দুইশ বছর সমুদ্রে নিমজ্জিত, দুইশ বছর জনশূন্য যেখানে কেউ বাস করে না, আশি বছর ইয়াজুজ ও মাজুজের অধিকারে এবং বিশ বছর বাকি সৃষ্টির জন্য। কাতাদা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: পৃথিবী চব্বিশ হাজার ফারসাখ; তার মধ্যে সুদানীদের রাজত্ব বারো হাজার ফারসাখ, পারস্যের রাজত্ব তিন হাজার ফারসাখ, রোমকদের রাজত্ব আট হাজার ফারসাখ এবং আরবদের রাজত্ব এক হাজার ফারসাখ। বতলেমিউস থেকে অন্য এক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, তিনি আল-মাজিসতী গ্রন্থ থেকে পৃথিবীর পরিমাণ ও এর পরিধি আনুমানিকভাবে বের করেছেন। তিনি বলেছেন: পৃথিবীর পরিধি এক লক্ষ আশি হাজার ইস্তাদিউন, আর এক ইস্তাদিউন হলো চারশ হাতের সমান, যা চব্বিশ হাজার মাইলের সমান হয়। এতে পাহাড়, সমুদ্র, মরুভূমি ও বনাঞ্চলসহ মোট আট হাজার ফারসাখ রয়েছে। তিনি বলেছেন: পৃথিবীর পুরুত্ব তথা এর ব্যাস হলো সাত হাজার ছয়শ ত্রিশ মাইল, যা দুই হাজার পাঁচশ চল্লিশ ফারসাখ এবং এক ফারসাখের দুই-তৃতীয়াংশ। তিনি আরও বলেছেন: পৃথিবীর উপরিভাগের মোট ক্ষেত্রফল তেরো কোটি ছাব্বিশ লক্ষ মাইল, যা দুই লক্ষ আষ্টাশি হাজার ফারসাখ।

তারা পৃথিবীর সংখ্যার ধরন নিয়েও মতভেদ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তিনিই সেই সত্তা যিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও তদ্রূপ" (৬৫:১২)। এটি সংখ্যা এবং স্তরের ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, সেগুলো একটির উপর একটি অবস্থিত এবং প্রতিটি পৃথিবীর পুরুত্ব পাঁচশ বছরের পথ। কেউ কেউ প্রতিটি পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্য বিচিত্র বৈশিষ্ট্য ও আজব আকৃতির বর্ণনা দিয়েছেন এবং প্রতিটি আসমানের ন্যায় প্রতিটি পৃথিবীরও আলাদা আলাদা নাম উল্লেখ করেছেন। আতা বিন ইয়াসার থেকে আল্লাহর বাণী "যিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও তদ্রূপ" (৬৫:১২) এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: প্রতিটি পৃথিবীতে তোমাদের আদমের মতো আদম, তোমাদের নূহের মতো নূহ এবং তোমাদের ইব্রাহিমের মতো ইব্রাহিম রয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

প্রাচীন পণ্ডিতগণ বলেছেন যে, পৃথিবীগুলো পাশাপাশি ও সংলগ্ন সাতটি ভূখণ্ড; আর অঞ্চলগুলোর ভিন্নতা একে অপরের সাথে সংলগ্ন ও পর্যায়ক্রমিক অবস্থানের ভিত্তিতে। মুসলমানদের মধ্যে মুতাজিলারা এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে পৃথিবীগুলো সিঁড়ির ধাপের মতো উঁচু-নিচু বিন্যাসে সাতটি স্তর।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২১)
واختلفوا في البحار والمياه والأنهار فروى المسلمون أن الله خلق البحر مرّا زعاقا، وأنزل من السماء الماء العذب كما قال الله تعالى: «وَأَنْزَلْنا من السَّماءِ ماءً بِقَدَرٍ فَأَسْكَنَّاهُ في الْأَرْضِ» 23: 18. وكل ماء عذب من بئر أو نهر، من ذلك، فإذا اقتربت الساعة بعث الله ملكا معه طشت، فجمع تلك المياه فردّها إلى الجنّة. ويزعم أهل الكتاب أن أربعة أنهار تخرج من الجنة: الفرات وسيحون وجيحون ودجلة، وذلك أنهم يزعمون أن الجنة في مشارق الأرض.

وأما كيفية وضع البحار في المعمورة، فأحسن ما بلغني فيه ما حكاه ابو الريحان البيروني، فقال أما البحر الذي في مغرب المعمورة وعلى ساحل بلاد طنجة والأندلس، فإنه سمّي البحر المحيط، وسمّاه اليونانيّون أوقيانوس، ولا يلجّج فيه، إنما يسلك بالقرب من ساحله، وهو يمتدّ من عند هذه البلاد نحو الشمال على محاذاة أرض الصقالبة، ويخرج منه خليج عظيم في شمال الصقالبة، ويمتدّ إلى قرب أرض بلغار بلاد المسلمين، ويعرفونه ببحر ورنك، وهم أمة على ساحله، ثم ينحرف وراءهم نحو المشرق، وبين ساحله وبين أقصى أرض التّرك أرضون وجبال مجهولة خربة غير مسلوكة. وأما امتداد البحر المحيط الغربي من أرض طنجة نحو الجنوب، فإنه ينحرف على جنوب أرض سودان المغرب وراء الجبال المعروفة بجبال القمر التي تنبع منها عيون نيل مصر، وفي سلوكه غزر لا تنجو منه سفينة.

وأما البحر المحيط من جهة الشرق وراء أقاصي أرض الصين، فإنه أيضا غير مسلوك ويتشعّب منه خليج يكون منه البحر الذي يسمّى في كل موضع من الأرض التي تحاذيه، فيكون ذلك أوّلا بحر الصين، ثم الهند، وخرج منه خلجان عظام يسمّى كل واحد منها بحرا على حدة، كبحر فارس والبصرة، الذي على شرقيّة تيز ومكران، وعلى غربيّه في حياله فرضة عمان، فإذا جاوزها بلغ بلاد الشّحر التي يجلب منها الكندر، ومرّ إلى عدن، وانشعب منه هناك خليجان عظيمان، أحدهما المعروف بالقلزم، وهو ينعطف فيحيط بأرض العرب حتى تصير به كجزيرة، ولأنّ الحبشة عليه بحذاء اليمن فإنه يسمّى بهما، فيقال لجنوبيّه بحر الحبشة، وللشمالي بحر اليمن، ولمجموعهما بحر القلزم، وإنما اشتهر بالقلزم لأن القلزم مدينة على منقطعه في أرض الشام حيث يستدقّ ويستدير عليه السائر على الساحل نحو أرض البجة. والخليج الآخر المقدّم ذكره، هو المعروف ببحر البربر، يمتدّ من عدن إلى سفالة الزنج، ولا يتجاوزها مركب لعظم المخاطرة فيه ويتّصل بعدها ببحر أوقيانوس المغربي، وفي هذا البحر من نواحي المشرق جزائر الرانج، ثم جزائر الديبجات، وقمير، ثم جزائر الزابج، ومن أعظم هذه الجزائر، الجزيرة المعروفة بسر نديب، ويقال لها بالهندية سنكاديب، ومنها تجلب أنواع اليواقيت جميعها، ومنها يجلب الرصاص القلعي، وسربزه ومنها يجلب الكافور. ثم في وسط المعمورة في أرض الصقالبة والروس، بحر يعرف ببنطس عند اليونانيين، وعندنا يعرف ببحر طرابزندة، لأنها فرضة عليه، ويخرج منه خليج يمرّ على سو مدينة القسطنطينية، ولا يزال يتضايق حتى يقع في بحر الشام الذي على جنوبيّه بلاد المغرب إلى الإسكندرية ومصر، وبجذائها في الشمال أرض الأندلس والروم، وينصبّ إلى البحر المحيط عند الأندلس في مضيق يذكر في الكتب بمعبرة هيرقلس،
সমুদ্র, পানি ও নদ-নদী নিয়ে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিমগণ বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ সমুদ্রকে লবণাক্ত ও বিস্বাদ সৃষ্টি করেছেন এবং আকাশ থেকে মিষ্টি পানি বর্ষণ করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি আকাশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে পানি বর্ষণ করি, অতঃপর তা জমিনে সংরক্ষণ করি।" (২৩:১৮)। কূপ বা নদীর যাবতীয় মিষ্টি পানি এখান থেকেই এসেছে। যখন কিয়ামত ঘনিয়ে আসবে, আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠাবেন যার সাথে একটি পাত্র থাকবে। তিনি সেই সমস্ত পানি একত্রিত করে জান্নাতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। আহলে কিতাবগণ দাবি করে যে, জান্নাত থেকে চারটি নদী প্রবাহিত হয়: ফুরাত, সিহুন, জিহুন ও দজলা; কারণ তারা মনে করে জান্নাত পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত।

আর জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীতে সমুদ্রের অবস্থানের ধরন সম্পর্কে আমার কাছে সবচাইতে উত্তম যে বর্ণনাটি পৌঁছেছে তা হলো আবু রাইহান আল-বিরুনির বর্ণিত বিবরণ। তিনি বলেছেন, জনবসতির পশ্চিমে তানজাহ ও আন্দালুস উপকূলে যে সমুদ্র রয়েছে, তাকে মহাসাগর বলা হয় এবং গ্রীকরা একে ওশেনাস বলত। এর গভীর সমুদ্রে কেউ প্রবেশ করে না, বরং এর উপকূলের পাশ দিয়ে যাতায়াত করা হয়। এটি এই দেশগুলো থেকে উত্তরের দিকে সাকালিবা ভূমির সমান্তরালে বিস্তৃত এবং সাকালিবা ভূমির উত্তরে এটি থেকে একটি বিশাল উপসাগর বের হয়েছে যা মুসলমানদের দেশ বুলগার পর্যন্ত বিস্তৃত। তারা একে ওয়ারঙ্ক সাগর নামে চেনে, যারা এর উপকূলে বসবাসকারী একটি জাতি। এরপর এটি তাদের পেছন দিক দিয়ে পূর্ব দিকে মোড় নেয়। এর উপকূল এবং তুর্কিদের শেষ প্রান্তের মাঝখানে জনমানবহীন ও অগম্য কিছু পাহাড় ও অজ্ঞাত ভূমি রয়েছে। আর পশ্চিম মহাসাগর তানজাহ থেকে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মাগরেবের সুদান ভূমির দক্ষিণে জাবালুল কামার নামক পাহাড়ের পেছনে মোড় নিয়েছে, যেখান থেকে মিশরের নীল নদের উৎসগুলো প্রবাহিত হয়। এর পথে এমন প্রবল ঢেউ বা গভীরতা রয়েছে যেখান থেকে কোনো জাহাজ রক্ষা পায় না।

আর পূর্ব দিকের মহাসাগর যা চীনের শেষ সীমান্তের ওপারে অবস্থিত, সেটিও নৌ-চলাচলের অযোগ্য। সেখান থেকে একটি উপসাগর শাখা হিসেবে বের হয়েছে যা সংলগ্ন ভূখণ্ডের নাম অনুসারে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত হয়। প্রথমে এটি চীন সাগর, এরপর ভারত সাগর। এটি থেকে বড় বড় কিছু উপসাগর বের হয়েছে যার প্রতিটিকে পৃথক সাগর বলা হয়, যেমন পারস্য ও বসরা সাগর, যার পূর্বে তিজ ও মকরান এবং পশ্চিমে ওমান বন্দর অবস্থিত। এটি অতিক্রম করলে শাহর দেশে পৌঁছানো যায় যেখান থেকে লোবান আনা হয় এবং এটি আদন পর্যন্ত বিস্তৃত। সেখান থেকে দুটি বিশাল উপসাগর বের হয়েছে। একটি কুলজুম সাগর নামে পরিচিত, যা আরব ভূমিকে বেষ্টন করে মোড় নিয়েছে ফলে আরব ভূখণ্ড একটি উপদ্বীপে পরিণত হয়েছে। যেহেতু হাবশা ও ইয়ামেন এর মুখোমুখি অবস্থিত, তাই একে এ দুটি দেশের নামেও ডাকা হয়। এর দক্ষিণ অংশকে হাবশা সাগর এবং উত্তর অংশকে ইয়ামেন সাগর বলা হয় এবং একত্রে এদের কুলজুম সাগর বলা হয়। এর নাম কুলজুম হওয়ার কারণ হলো, কুলজুম হলো শাম দেশের সীমান্তের একটি শহর যেখানে সাগরটি সরু হয়ে এসেছে এবং এর উপকূল ধরে বেজা ভূমির দিকে পথচারীরা ঘুরে যেতে পারে। অন্য যে উপসাগরটির কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বারবার সাগর নামে পরিচিত। এটি আদন থেকে জাঞ্জ-এর সুফালা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং অত্যধিক ঝুঁকির কারণে কোনো জাহাজ এটি অতিক্রম করতে পারে না। এরপর এটি পশ্চিমের ওশেনাস বা মহাসাগরের সাথে যুক্ত হয়েছে। এই সাগরের পূর্ব দিকে রাঞ্জ দ্বীপপুঞ্জ, এরপর দিবজাত, কুমায়র এবং তারপর জাবাজ দ্বীপপুঞ্জ অবস্থিত। এই দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচাইতে বড় হলো সারান্দীপ দ্বীপ, যাকে হিন্দিতে সংহালদ্বীপ বলা হয়। এখান থেকে সব ধরনের ইয়াকুত পাথর আনা হয় এবং এখান থেকেই কলাই করা সিসা, সারবাজা ও কর্পূর সংগৃহীত হয়। অতঃপর জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীর মধ্যভাগে সাকালিবা ও রুশদের ভূমিতে একটি সাগর রয়েছে যা গ্রীকদের কাছে পন্টাস নামে পরিচিত এবং আমাদের কাছে এটি ত্রাবজোন সাগর নামে পরিচিত, কারণ এটি সেখানকার একটি বন্দর। এটি থেকে একটি উপসাগর বের হয়ে কনস্টান্টিনোপল শহরের দেয়াল ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে এবং এটি সংকীর্ণ হতে হতে শাম সাগরে গিয়ে পড়েছে। এই শাম সাগরের দক্ষিণে মাগরেব থেকে শুরু করে আলেকজান্দ্রিয়া ও মিশর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর উত্তরে আন্দালুস ও রোম অবস্থিত। এটি আন্দালুসের কাছে একটি প্রণালীর মাধ্যমে মহাসাগরে গিয়ে মিশেছে, যা কিতাবসমূহে হারকিউলিসের স্তম্ভ নামে পরিচিত।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২২)
ويعرف الآن بالزّقاق، يجري فيه ماؤه إلى البحر المحيط، وفيه من الجزائر المعروفة قبرس، وسامس، ورودس، وصقلية، وأمثالها. وبالقرب من طبرستان بحر فرضة جرجان، عليه مدينة آبسكون وبها يعرف، ثم يمتدّ إلى طبرستان، وأرض الديلم، وشروان، وباب الأبواب، وناحية اللّان، ثم الخزر، ثم نهر أتل الآتي إليه، ثم ديار الغزية، ثم يعود إلى آبسكون وقد سمّي باسم كل بقعة حاذاها، ولكن اشتهاره عندنا بالخزر، وعند الأوائل بجرجان، وسماه بطليموس بحر أرقانيا، وليس يتّصل ببحر آخر. فأما سائر المياه المجتمعة في مواضع من الأرض، فهي مستنقعات وبطائح، وربّما سمّيت بحيرات، كبحيرة أفامية، وطبرية، وزغر بأرض الشام، وكبحيرة خوارزم وآبسكون بالقرب من برسخان.

وسترى من هذه الدائرة في الصورة التالية ما يدل على صورة ما ذكرناه بالتقريب.

واختلفوا في سبب ملوحة ماء البحر، فزعم قوم أنه لما طال مكثه وألحّت الشمس عليه بالإحراق، صار مرّا ملحا، واجتذب الهواء ما لطف من أجزائه فهو بقيّة ما صفّته الأرض من الرطوبة فغلظ.

وزعم آخرون أن في البحر عروقا تغيّر ماء البحر، فلذلك صار مرّا زعاقا، وزعم بعضهم أن الماء من
এটি বর্তমানে 'জুাক' (প্রণালী) নামে পরিচিত, এর পানি পরিবেষ্টিত মহাসাগরের (বাহরুল মুহিত) দিকে প্রবাহিত হয় এবং এতে সাইপ্রাস, সামোস, রোডস, সিসিলি এবং এর মতো সুপরিচিত দ্বীপসমূহ অবস্থিত। তাবারস্তানের নিকটে জুরজান বন্দরের সমুদ্র অবস্থিত, এর তীরে আবাসকুন শহর অবস্থিত এবং এই নামেই এটি পরিচিত। অতঃপর এটি তাবারস্তান, দাইলাম ভূখণ্ড, শিরওয়ান, বাব আল-আবওয়াব, লান অঞ্চল, তারপর খাজার এবং এর দিকে প্রবাহিত আতিল নদী পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর গুযিয়া জনপদ হয়ে পুনরায় আবাসকুনে ফিরে আসে। এর পার্শ্ববর্তী প্রতিটি অঞ্চলের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে, তবে আমাদের নিকট এটি খাজার (কাস্পিয়ান) সাগর হিসেবে এবং প্রাচীনদের নিকট জুরজান সাগর হিসেবে পরিচিত। টলেমি একে হারকানিয়া সাগর বলে অভিহিত করেছেন। এটি অন্য কোনো সমুদ্রের সাথে যুক্ত নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সঞ্চিত অবশিষ্ট পানিগুলো হলো জলাভূমি ও প্লাবনভূমি; কখনও কখনও এগুলোকে হ্রদ বলা হয়, যেমন সিরিয়ার আফামিয়া, তাবারিয়া ও জুগার হ্রদ এবং বারসাখানের নিকটবর্তী খাওয়ারিজম ও আবাসকুন হ্রদ।

আপনি পরবর্তী চিত্রের এই বৃত্তে এমন কিছু দেখতে পাবেন যা আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলোর একটি আনুমানিক রূপ নির্দেশ করে।

সমুদ্রের পানি লবণাক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তারা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। একদল মনে করেন যে, দীর্ঘকাল অবস্থান এবং সূর্যের প্রখর তাপের প্রভাবে এটি তিক্ত ও লবণাক্ত হয়ে গেছে। বাতাস এর সূক্ষ্ম অংশগুলোকে শোষণ করে নিয়েছে, ফলে এটি পৃথিবীর শোধনকৃত আর্দ্রতার অবশিষ্টাংশ হিসেবে ঘনীভূত হয়েছে।

অন্যরা মনে করেন যে, সমুদ্রে এমন কিছু শিরা বা উৎস রয়েছে যা সমুদ্রের পানিকে পরিবর্তিত করে দেয়, যার ফলে এটি তিক্ত ও অত্যন্ত লবণাক্ত হয়ে পড়ে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে, এই পানি...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৩)
الاستحالات، فطعم كل ماء على طعم تربته.

واختلفوا في الجبال، قال الله تعالى: وَأَلْقى في الْأَرْضِ رَواسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ 16: 15، وقال: أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهاداً وَالْجِبالَ أَوْتاداً 78: 6- 7. وحكي عن بعض اليونان أن الأرض كانت في الابتداء تكفأ لصغرها، وعلى طول الزمان تكاثفت وثبتت، وهذا القول يصدّقه القرآن لو أنه زاد فيه أنها تثبت بالجبال، ومنهم من زعم أن الجبال عظام الأرض وعروقها.

واختلفوا فيما تحت الأرض، فزعم بعض القدماء أن الأرض يحيط بها الماء، والماء يحيط به الهواء، والهواء يحيط به النار، والنار يحيط بها السماء الدنيا، ثم الثانية، ثم الثالثة، إلى السابعة، ثم يحيط بها فلك الكواكب الثابتة، ثم فوق ذلك الفلك الأعظم المستقيم، ثم فوقه عالم النفس، وفوق عالم النفس عالم العقل، وفوق عالم العقل الباري، جلّت عظمته، ليس وراءه شيء.

فعل هذا الترتيب ان السماء تحت الأرض كما هي فوقها. وفي أخبار قصّاص المسلمين أشياء عجيبة تضيق بها صدور العقلاء، أنا أحكي بعضها غير معتقد لصحّتها: رووا أن الله تعالى خلق الأرض تكفأ كما تكفأ السفينة، فبعث الله ملكا حتى دخل تحت الأرض، فوضع الصخرة على عاتقه، ثم أخرج يديه:

إحداهما بالمشرق، والأخرى بالمغرب، ثم قبض على الأرضين السبع فضبطها، فاستقرّت، ولم يكن لقدمه قرار، فأهبط الله ثورا من الجنّة له أربعون ألف قرن وأربعون ألف قائمة، فجعل قرار قدمي الملك على سنامه، فلم تصل قدماه إليه، فبعث الله ياقوتة خضراء من الجنة، مسيرها كذا ألف عام، فوضعها على سنام الثور، فاستقرّت عليها قدماه، وقرون الثور خارجة من أقطار الأرض، مشبّكة تحت العرش، ومنخر الثور في ثقبين من تلك الصخرة تحت البحر، فهو يتنفّس كل يوم نفسين، فإذا تنفّس مدّ البحر وإذا ردّه جزر، ولم يكن لقوائم الثور قرار، فخلق الله تعالى كمكما كغلظ سبع سموات وسبع أرضين، فاستقرّت عليها قوائم الثور، ثم لم يكن للكمكم مستقرّ فخلق الله تعالى حوتا يقال له: بلهوت، فوضع الكمكم على وبر ذلك الحوت، والوبر الجناح الذي يكون في وسط ظهر السمكة، وذلك الحوت على ظهر الريح العقيم، وهو مزموم بسلسلة، كغلظ السموات والأرضين، معقودة بالعرش. قالوا ثم إن إبليس انتهى إلى ذلك الحوت، فقال له: إن الله لم يخلق خلقا أعظم منك، فلم لا تزلزل الدنيا؟ فهمّ بشيء من ذلك، فسلّط الله عليه بقّة في عينيه فشغلته، وزعم بعضهم أن الله سلّط عليه سمكة كالشطبة، فهو مشغول بالنظر إليها ويهابها.

قالوا: وأنبت الله تعالى من تلك الياقوتة التي على سنام الثور، جبل قاف، فأحاط بالدنيا، فهو من ياقوتة خضراء، فيقال، والله أعلم، إن خضرة السماء منه، ويقال إن بينه وبين السماء قامة رجل، وله رأس ووجه ولسان، وأنبت الله تعالى من قاف الجبال، وجعلها أوتادا للأرض كالعروق للشجر، فإذا أراد الله، عز وجل، أن يزلزل بلدا، أوحى الله إلى ذلك الملك: أن زلزل ببلد كذا، فيحرّك عرقا مما تحت ذلك البلد، فيتزلزل، وإذا أراد أن يخسف ببلد أوحى الله إليه: أن اقلب العرق الذي تحته، فيقلبه فيخسف البلد. وزعم وهب بن منبّه، أن الثور والحوت يبتلعان ما ينصبّ
রূপান্তরসমূহ, তাই প্রত্যেক পানির স্বাদ তার মাটির স্বাদের ওপর নির্ভরশীল।

আর পাহাড়সমূহের বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে" (১৬: ১৫), এবং তিনি বলেছেন: "আমি কি ভূমিকে শয্যা এবং পাহাড়সমূহকে পেরেক সদৃশ করিনি?" (৭৮: ৬-৭)। কোনো কোনো গ্রিক দার্শনিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, পৃথিবী সূচনালগ্নে তার ক্ষুদ্রতার কারণে দুলত, অতঃপর দীর্ঘকাল পর তা ঘন ও স্থির হয়েছে। কুরআন এই বক্তব্যকে সমর্থন করে যদি তাতে যোগ করা হতো যে তা পাহাড়ের মাধ্যমে স্থির হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে পাহাড় হলো পৃথিবীর হাড় ও তার শিরা-উপশিরা।

আর মাটির নিচে যা আছে সে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। প্রাচীনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে পৃথিবীকে পানি বেষ্টন করে আছে, পানিকে বাতাস বেষ্টন করে আছে, বাতাসকে আগুন বেষ্টন করে আছে, আর আগুনকে দুনিয়ার আসমান বেষ্টন করে আছে, অতঃপর দ্বিতীয়, তারপর তৃতীয়, এভাবে সপ্তম আসমান পর্যন্ত। এরপর তাকে স্থির নক্ষত্ররাজির গোলক বেষ্টন করে আছে, অতঃপর তার ওপরে রয়েছে মহান ঋজু গোলক, এরপর তার উপরে নফসের জগৎ, নফসের জগতের উপরে আকল বা বুদ্ধির জগৎ, আর বুদ্ধির জগতের উপরে রয়েছেন স্রষ্টা, যাঁর মহিমা অতি মহান, যাঁর ঊর্ধ্বে আর কিছু নেই।

এই বিন্যাস অনুযায়ী আসমান পৃথিবীর নিচেও আছে যেভাবে তা উপরে রয়েছে। মুসলিম কিসসা-কাহিনীকারদের বর্ণনায় এমন কিছু অদ্ভুত বিষয় রয়েছে যা জ্ঞানীদের অন্তরকে সংকুচিত করে তোলে। আমি সেগুলোর কিছু বর্ণনা করছি তবে এগুলোর বিশুদ্ধতায় বিশ্বাস না রেখেই: তারা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যা নৌকার মতো টলমল করত। অতঃপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠালেন যিনি মাটির নিচে প্রবেশ করলেন এবং একটি বিশাল পাথর নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। এরপর তিনি নিজের দুই হাত বের করলেন:

যার একটি পূর্বে এবং অন্যটি পশ্চিমে। অতঃপর তিনি সাতটি জমিনকে মুষ্টিবদ্ধ করে নিয়ন্ত্রণ করলেন এবং সেগুলো স্থির হলো। কিন্তু তাঁর পায়ের কোনো স্থির ভিত্তি ছিল না। তখন আল্লাহ জান্নাত থেকে একটি ষাঁড় নামালেন যার চল্লিশ হাজার শিং এবং চল্লিশ হাজার পা ছিল। তিনি ফেরেশতার দুই পায়ের অবস্থান নির্ধারণ করলেন সেই ষাঁড়ের কুঁজের ওপর। কিন্তু তাঁর পা সেখানে পৌঁছাল না। তখন আল্লাহ জান্নাত থেকে একটি সবুজ ইয়াকুত পাথর পাঠালেন, যার পথ অতিক্রম করতে কয়েক হাজার বছর লাগে। তিনি তা ষাঁড়ের কুঁজের ওপর রাখলেন, তখন ফেরেশতার দুই পা তার ওপর স্থির হলো। আর ষাঁড়ের শিংগুলো পৃথিবীর প্রান্তভাগ ছাড়িয়ে আরশের নিচে জালের মতো ছড়িয়ে আছে। ষাঁড়ের নাসারন্ধ্র সমুদ্রের নিচের সেই পাথরের দুটি ছিদ্রে অবস্থিত। সে প্রতিদিন দুবার নিঃশ্বাস নেয়। সে যখন নিঃশ্বাস ছাড়ে তখন সমুদ্রে জোয়ার হয় আর যখন তা ফিরিয়ে নেয় তখন ভাঁটা হয়। ষাঁড়ের পাগুলোরও কোনো স্থির ভিত্তি ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা সাত আসমান ও সাত জমিনের সমান পুরুত্বের একটি বিশাল আধার সৃষ্টি করলেন, যার ওপর ষাঁড়ের পাগুলো স্থির হলো। এরপর সেই আধারেরও কোনো স্থিরতা ছিল না, তাই আল্লাহ তাআলা 'বালহুত' নামক একটি মাছ সৃষ্টি করলেন। তিনি সেই আধারটিকে সেই মাছের পিঠের পাখনার ওপর রাখলেন। (আর পাখনা হলো মাছের পিঠের মাঝখানে যে ডানা থাকে)। আর সেই মাছটি রয়েছে প্রলয়ংকারী বায়ুর পিঠের ওপর। সেটি একটি শিকল দিয়ে বাঁধা, যা আসমান ও জমিনের সমান পুরু এবং আরশের সাথে সংযুক্ত। তারা বলেন, অতঃপর ইবলিস সেই মাছটির কাছে পৌঁছাল এবং তাকে বলল: আল্লাহ তোমার চেয়ে বড় কোনো সৃষ্টি করেননি, তবে তুমি কেন দুনিয়াকে প্রকম্পিত করছ না? তখন মাছটি সেরূপ কিছু করার ইচ্ছা করল। তখন আল্লাহ তার চোখের ওপর একটি মশা চাপিয়ে দিলেন যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলল। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন যে, আল্লাহ তার ওপর একটি খড়গের মতো ছোট মাছ চাপিয়ে দিয়েছেন, সে সেটির দিকে তাকিয়েই মগ্ন থাকে এবং সেটিকে ভয় পায়।

তারা বলেন: আল্লাহ তাআলা ষাঁড়ের কুঁজের ওপর থাকা সেই ইয়াকুত পাথর থেকে কাফ পাহাড় উৎপাদন করেছেন যা দুনিয়াকে বেষ্টন করে আছে। এটি সবুজ ইয়াকুত পাথর দিয়ে তৈরি। বলা হয়ে থাকে—আল্লাহই ভালো জানেন—আসমানের নীলিমা মূলত এ থেকেই এসেছে। আরও বলা হয় যে, এর এবং আসমানের মাঝখানে একজন মানুষের উচ্চতা সমান ব্যবধান রয়েছে। এর মাথা, মুখ ও জিহ্বা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা কাফ পাহাড় থেকে অন্যান্য পাহাড়গুলো উৎপন্ন করেছেন এবং সেগুলোকে জমিনের পেরেক বানিয়েছেন যেমন গাছের শেকড় থাকে। মহান আল্লাহ যখন কোনো জনপদকে প্রকম্পিত করতে চান, তখন তিনি সেই ফেরেশতাকে ওহি পাঠান: অমুক জনপদকে প্রকম্পিত করো। তখন তিনি সেই জনপদের নিচের একটি শিরাকে নাড়া দেন, ফলে তা প্রকম্পিত হয়। আর যখন তিনি কোনো জনপদকে ধসিয়ে দিতে চান, তখন তিনি তাকে ওহি পাঠান: তার নিচের শিরাটি উল্টে দাও। তখন তিনি তা উল্টে দেন এবং জনপদটি ধসে যায়। ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ দাবি করেছেন যে, ষাঁড় ও মাছ তা গিলে ফেলে যা ঢালা হয়...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৪)
من مياه الأرض، فإذا امتلأت أجوافهما قامت القيامة. وقال آخرون إن الأرض على الماء، والماء على الصخرة، والصخرة على سنام الثور، والثور على كمكم من الرمل متلبّد، والكمكم على ظهر الحوت، والحوت على الريح العقيم، والريح على حجاب من الظّلمة، والظلمة على الثّرى، وإلى الثرى ينتهي علم الخلائق، ولا يعلم ما وراء ذلك إلا الله. قال الله تعالى: لَهُ ما في السَّماواتِ وَما في الْأَرْضِ وَما بَيْنَهُما وَما تَحْتَ الثَّرى 20: 6.

قال عبيد الله الفقير إليه مؤلّف الكتاب: قد كتبنا قليلا من كثير مما حكي من هذا الباب، وههنا اختلاف وتخليط لا يقف عند حدّ غير ما ذكرنا لا يكاد ذو تحصيل يسكن إليه، ولا ذو رأي يعوّل عليه، وإنما هي أشياء تكلّم بها القصّاص للتهويل على العامّة، على حسب عقولهم، لا مستند لها من عقل ولا نقل، وليس في هذا ما يعتمد عليه إلا خبر رواه أبو هريرة عن النبي، صلى الله عليه وسلم، وهو ما أخبرنا به حنبل بن عبد الله بن الفرج بن سعادة أبو علي المكبّر البغدادي، إذنا، قال: أخبرنا أبو القاسم هبة الله بن الحصين، قال: حدّثنا أبو علي الحسن بن علي بن محمد بن المذهّب، قال: حدّثنا أبو بكر أحمد بن جعفر بن حمدان بن مالك القطيعي، قراءة عليه، فأقرأ به في سنة ست وستين وثلاثمائة، قال: حدّثنا أبو عبد الرحمن عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل، رحمه الله، قال: حدّثنا أبي، حدثنا شريح، حدثنا الحكم بن عبد الملك، عن قتادة، عن الحسن، عن أبي هريرة، قال: بينما نحن عند رسول الله، صلى الله عليه وسلم، إذ مرّت سحابة، فقال: أتدرون ما هذه فوقكم؟ قلنا:

الله ورسوله أعلم. قال: هذه العنان، وروايا الأرض، يسوقه إلى من لا يشكره من عباده، ولا يدعونه ربّا. أتدرون ما هذه فوقكم؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: الرقيع موج مكفوف، وسقف محفوظ، أتدرون كم بينكم وبينها؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: مسيرة خمسمائة عام.

ثم قال: أتدرون ما الذي فوقها؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: سماء أخرى، أتدرون كم بينكم وبينها؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: مسيرة خمسمائة عام، حتى عدّ سبع سموات، ثم قال:

أتدرون ما فوق ذلك؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: العرش. ثم قال: أتدرون كم بينكم وبين السماء السابعة؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: مسيرة خمسمائة عام. ثم قال: أتدرون ما هذه تحتكم؟

قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: الأرض، أتدرون ما تحتها؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: أرض أخرى، أتدرون كم بينكم وبينها؟ قلنا: الله ورسوله أعلم. قال: مسيرة سبعمائة عام، حتى عدّ سبع أرضين. ثم قال: وايم الله لو دليّتم أحدكم بحبل إلى الأرض السابعة السّفلى، لهبط بكم على الله. ثم قرأ: «هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْباطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ» 57: 3. قلت: وهذا حديث صحيح، أخرجه أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي، عن عبد بن حميد، عن يونس، عن شيبان بن عبد الرحمن، عن قتادة، عن الحسن البصري، عن أبي هريرة، رضي الله عنه، وفي لفظ الخبر اختلاف والمعنى واحد. انتهى.
পৃথিবীর পানিসমূহ থেকে, যখন তাদের গহ্বরসমূহ পূর্ণ হবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে। অন্যান্যরা বলেছেন যে, পৃথিবী পানির উপরে, পানি পাথরের উপরে, পাথর ষাঁড়ের কুঁজের উপরে, ষাঁড় স্তূপীকৃত বালুর উপরে, বালু তিমি মাছের পিঠের উপরে, তিমি মাছ বন্ধ্যা বায়ুর উপরে, বায়ু অন্ধকারের পর্দার উপরে, এবং অন্ধকার সিক্ত মাটির উপরে অবস্থিত। আর সিক্ত মাটি পর্যন্তই সৃষ্টিজগতের জ্ঞানের সমাপ্তি, এবং এর পেছনে কী আছে তা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আসমানসমূহে যা কিছু আছে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে, এ দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানে যা কিছু আছে এবং সিক্ত মাটির নিচে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। (সূরা ত্বহা ২০:৬)।

গ্রন্থের লেখক আল্লাহর মুখাপেক্ষী উবায়দুল্লাহ বলেন: এই অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে আমরা তার মধ্য হতে অতি সামান্যই লিখেছি। এখানে এমন কিছু মতভেদ ও অসংলগ্নতা রয়েছে যার কোনো সীমা নেই। যা আমরা উল্লেখ করেছি তা ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনায় কোনো গবেষক প্রশান্তি পায় না এবং কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি তার ওপর নির্ভর করে না। এগুলো কেবল সাধারণ মানুষের মনে ভীতির উদ্রেক করার জন্য তাদের বুদ্ধি অনুযায়ী গল্পকারদের বলা কথা, যার পেছনে যুক্তি বা বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কিছু নেই কেবল আবু হুরায়রা কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিস ছাড়া। আর এটি হলো সেই সংবাদ যা হানবাল বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-ফারাজ বিন সাআদাহ আবু আলী আল-মুকাব্বির আল-বাগদাদী আমাদের অনুমতিসূত্রে জানিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুজাহহিব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আবু বকর আহমদ বিন জাফর বিন হামদান বিন মালিক আল-কাতিয়ী আমাদের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন—এটি তিনশত ছেষট্টি হিজরি সনে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল—তিনি বলেন: আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। শুরাইহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন। হাকাম বিন আব্দুল মালিক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, তখন একটি মেঘখণ্ড অতিক্রম করল। তিনি বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের উপরে এটি কী? আমরা বললাম:

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: এটি মেঘমালা, পৃথিবীর বারিবাহক, আল্লাহ তাআলা এটিকে তাঁর এমন বান্দাদের দিকে পরিচালিত করেন যারা তাঁর শুকরিয়া আদায় করে না এবং তাঁকে রব হিসেবে ডাকে না। তোমরা কি জানো তোমাদের উপরে এটি কী? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: এটি 'রাকী' (আসমান), একটি সংরক্ষিত তরঙ্গ এবং একটি সুরক্ষিত ছাদ। তোমরা কি জানো তোমাদের ও এর মাঝে কতটুকু দূরত্ব? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: পাঁচশত বছরের পথ।

এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো এর উপরে কী আছে? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: অন্য একটি আসমান। তোমরা কি জানো তোমাদের ও তার মাঝে কতটুকু দূরত্ব? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: পাঁচশত বছরের পথ। এভাবে তিনি সাত আসমান পর্যন্ত গণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন:

তোমরা কি জানো তার উপরে কী আছে? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: আরশ। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের ও সপ্তম আসমানের মাঝে কতটুকু দূরত্ব? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: পাঁচশত বছরের পথ। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো তোমাদের নিচে এটি কী?

আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: এটি পৃথিবী। তোমরা কি জানো এর নিচে কী আছে? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: অন্য একটি পৃথিবী। তোমরা কি জানো তোমাদের ও তার মাঝে কতটুকু দূরত্ব? আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: সাতশত বছরের পথ। এভাবে তিনি সাতটি জমিন গণনা করলেন। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, যদি তোমরা তোমাদের মধ্য হতে কাউকে একটি রশি দিয়ে সর্বনিম্ন সপ্তম জমিনের দিকে ঝুলিয়ে দাও, তবে সেটি আল্লাহর ওপর গিয়েই পতিত হতো। এরপর তিনি পাঠ করলেন: "তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই গোপন; আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" (সূরা আল-হাদিদ ৫৭:৩)। আমি বলছি: এটি একটি সহিহ হাদিস। এটি আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিজি বর্ণনা করেছেন আবদ বিন হুমাইদ থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি শাইবান বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান বসরী থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনার শব্দে কিছু পার্থক্য থাকলেও অর্থ অভিন্ন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الباب الثاني في ذكر الأقاليم السبعة واشتقاقها والاختلاف في كيفيتها

نبدأ، أولا، فنورد عنهم قولا مجملا، يكون عمادا وبيانا لما نأتي به بعد، وهو أشدّ ما سمعت في معناه وألخصه، قالوا: جميع مسافة دوران الأرض، بالقياس المصطلح عليه، مائة ألف ألف وستمائة ألف ميل، كل ميل أربعة آلاف ذراع، الذراع أربعة وعشرون إصبعا، كل ثلاثة أميال منها فرسخ، والأرض التي هي المساحة مقدار دورها، ثلاثة أرباعها مغمورة بالماء، والربع الباقي مكشوف، والمعمورة هي المسكون من هذا الربع المكشوف ثلثه وثلث عشره، والباقي خراب، وهذا المقدار من الربع المسكون مساحته ثلاثة وثلاثون ألف ألف ومائة وخمسون ألف ميل، وهذا العمران هو ما بين خطّ الاستواء إلى القطب الشمالي، وينقسم إلى سبعة أقاليم، واختلفوا في كيفيتها على ما نبيّنه.

واختلف قوم في هذه الأقاليم السبعة: في شمالي الأرض وجنوبيّها، أم في الشمال دون الجنوب، فذهب هرمس إلى أن في الجنوب سبعة أقاليم كما في الشمال. قالوا وهذا لا يعوّل عليه لعدم البرهان، وذهب الأكثرون إلى أن الأقاليم السبعة في الشمال دون الجنوب، لكثرة العمارة في الشمال وقلّتها في الجنوب، ولذلك قسموها في الشمال دون الجنوب. وأما اشتقاق الأقاليم فذهبوا إلى أنها كلمة عربية، واحدها إقليم، وجمعها أقاليم، مثل إخريط وأخاريط، وهو نبت، فكأنه إنما سمّي إقليما، لأنه مقلوم من الأرض التي تتاخمه، أي مقطوع، والقلم في أصل اللغة القطع، ومنه قلمت ظفري، وبه سمي القلم لأنه مقلوم، أي مقطوع مرّة بعد مرّة، وكلما قطعت شيئا بعد شيء فقد قلمته.

وقال محمد بن أحمد أبو الرّيحان البيروني: الإقليم على ما ذكر أبو الفضل الهروي في المدخل الصاحبي هو الميل، فكأنهم يريدون بها المساكن المائلة عن معدّل النهار. قال: وأما على ما ذكر حمزة بن الحسن الأصفهاني، وهو صاحب لغة ومعنيّ بها، فهو الرستاق، بلغة الجرامقة سكّان الشام والجزيرة، يقسمون بها المملكة، كما يقسم أهل اليمن بالمخاليف، وغيرهم بالكور والطساسيج وأمثالها. قال:

وعلى ما ذكر أبو حاتم الرازي في كتاب الزينة، هو النصيب، مشتقّ من القلم بإفعيل، إذ كانت مقاسمة الأنصباء بالمساهمة بالأقلام مكتوبا عليها أسماء السهام كما قال الله تعالى: إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ» 3: 44.

وقال حمزة الأصفهاني: الأرض مستديرة الشكل، المسكون منها دون الربع، وهذا الربع ينقسم
দ্বিতীয় অধ্যায়: সাতটি জলবায়ু অঞ্চল (ইকলিম), সেগুলোর বুৎপত্তি এবং সেগুলোর প্রকৃতি বিষয়ক মতভেদ প্রসঙ্গে

আমরা প্রথমে তাঁদের থেকে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা উল্লেখ করছি, যা পরবর্তী আলোচনার জন্য ভিত্তি ও ব্যাখ্যা স্বরূপ হবে। এই বিষয়টি আমি যা শুনেছি তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে জোরালো ও সংক্ষিপ্ত সার। তাঁরা বলেন: পরিমাপের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী পৃথিবীর পরিধির সম্পূর্ণ ঘূর্ণনপথের দূরত্ব হচ্ছে দশ কোটি ছয় লক্ষ মাইল। প্রতি মাইল চার হাজার হাত। এক হাত চব্বিশ আঙুল। প্রতি তিন মাইলে এক ফরসাখ। যে ভূমণ্ডলটি পরিমাপযোগ্য আয়তনভুক্ত, তার তিন-চতুর্থাংশ পানিতে নিমজ্জিত এবং অবশিষ্ট এক-চতুর্থাংশ উন্মুক্ত। এই উন্মুক্ত এক-চতুর্থাংশের মধ্য হতে জনবসতিপূর্ণ এলাকা হলো এর এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-তৃতীয়াংশের দশমাংশ; বাকি অংশ বিরাণ বা জনশূন্য। বসতিপূর্ণ এই এক-চতুর্থাংশ এলাকার আয়তন হলো তিন কোটি একত্রিশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মাইল। এই জনবসতি বিষুবরেখা থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি সাতটি জলবায়ু অঞ্চলে (ইকলিম) বিভক্ত। সেগুলোর প্রকৃতি নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন, যা আমরা বর্ণনা করব।

একদল বিশেষজ্ঞ এই সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন: এগুলো কি পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ উভয় গোলার্ধেই অবস্থিত, নাকি কেবল উত্তর গোলার্ধে, দক্ষিণ গোলার্ধে নয়? হেরমেস মনে করেন, উত্তরের ন্যায় দক্ষিণ গোলার্ধেও সাতটি জলবায়ু অঞ্চল রয়েছে। অন্যান্যরা বলেন, প্রমাণের অভাবে এই মতের ওপর নির্ভর করা যায় না। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, উত্তর গোলার্ধে জনবসতি অধিক হওয়ার কারণে এই সাতটি অঞ্চল দক্ষিণ গোলার্ধ বাদ দিয়ে কেবল উত্তর গোলার্ধেই অবস্থিত। আর একারণেই তাঁরা এগুলোকে কেবল উত্তরে বিভক্ত করেছেন। 'ইকলিম' শব্দের বুৎপত্তি সম্পর্কে তাঁরা মনে করেন যে, এটি একটি আরবি শব্দ, যার একবচন হলো 'ইকলিম' এবং বহুবচন হলো 'আকালিম', যেমন 'ইখরীত' ও 'আখারীত' (এক প্রকার উদ্ভিদ)। একে ইকলিম নামকরণ করা হয়েছে সম্ভবত এজন্য যে, এটি তার সংলগ্ন ভূমি থেকে 'মাকলুম' অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন বা কর্তিত। মূল ভাষায় 'কলম' শব্দের অর্থ হলো কেটে ফেলা বা বিচ্ছিন্ন করা। সেখান থেকেই বলা হয় 'আমি আমার নখ কেটেছি' (কলামতু জুফরি)। আর লেখনীকে 'কলম' বলা হয় কারণ একে বারবার কাটা বা ছাঁটা হয়। যখনই আপনি কোনো কিছু একটির পর একটি কাটবেন, তখন আপনি সেটি 'কলম' করলেন।

মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আবু রাইহান আল-বিরুনি বলেন: আবু ফজল আল-হারাউই তাঁর 'আল-মাদখাল আস-সাহেবি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, 'ইকলিম' হলো বিচ্যুতি বা ঢাল। সম্ভবত তাঁরা এর দ্বারা এমন সব জনপদকে বুঝিয়েছেন যা বিষুবরেখা (নিরক্ষরেখা) থেকে হেলে বা দূরে অবস্থিত। তিনি বলেন: হামজাহ ইবনুল হাসান আল-ইসফাহানি—যিনি একজন ভাষাতত্ত্ববিদ এবং এই বিষয়ে বিশেষ অনুরাগী—তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী এর অর্থ হলো 'রুস্তাক' (জনপদ বা গ্রাম)। এটি সিরিয়া ও জাজিরা অঞ্চলের অধিবাসী জারামিকাহদের ভাষা। তারা এর মাধ্যমে রাজ্য বিভক্ত করে, যেমনটি ইয়েমেনবাসীরা 'মাখালিফ' এবং অন্যরা 'কুরা' ও 'তাসাসিজ' ইত্যাদির মাধ্যমে বিভক্ত করে। তিনি বলেন:

আবু হাতেম আল-রাজি তাঁর 'কিতাবুয যিনাহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, সেই অনুযায়ী এটি হলো 'নসিব' বা অংশ, যা 'ইফঈল' ওজনে 'কলম' শব্দ থেকে উদ্ভূত। যেহেতু তীরের (কলম) মাধ্যমে লটারি করে অংশ বণ্টন করা হতো এবং সেই তীরের ওপর অংশীদারদের নাম লেখা থাকত, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে, তাদের মধ্যে কে মারইয়ামের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে।" (৩:৪৪)।

হামজাহ আল-ইসফাহানি বলেন: পৃথিবী গোলাকার। এর চার ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম অংশ জনবসতিপূর্ণ। আর এই এক-চতুর্থাংশ বিভক্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৬)
قسمين: برا وبحرا، ثم ينقسم هذا الربع سبعة اقسام، يسمّى كل قسم منها بلغة الفرس كشخر، وقد استعارت العرب من السّريانيين للكشخر اسما، وهو الإقليم، والإقليم اسم للرستاق، فهذا في اشتقاق الإقليم ومعناه كاف شاف إن شاء الله تعالى.

ثم للأمم في هيئة الأقاليم وصفاتها اصطلاحات أربعة:

الاصطلاح الأول: اصطلاح العامة وجمهور الأمّة، وهو جار على ألسنة الناس دائما، وهو أن يسمّوا كل ناحية مشتملة على عدّة مدن وقرى إقليما، نحو الصين، وخراسان، والعراق، والشام، ومصر، وإفريقية، ونحو ذلك. فالأقاليم، على هذا، كثيرة لا تحصى.

الاصطلاح الثاني: لأهل الأندلس خاصّة، فإنهم يسمّون كل قرية كبيرة جامعة إقليما، وربما لا يعرف هذا الاصطلاح إلا خواصّهم، وهذا قريب مما قدّمنا حكايته عن حمزة الأصفهاني، فإذا قال الأندلسي: أنا من إقليم كذا، فإنما يعني بلدة، أو رستاقا بعينه.

الاصطلاح الثالث: للفرس قديما، وأكثر ما يعتمد عليه الكتّاب، قال أبو الريحان: قسم الفرس الممالك المطيفة بايرانشهر، في سبع كشورات، وخطّوا حول كل مملكة دائرة، وسمّوها كشورا وكشخرا، اشتقاقهما على ما قيل من كشسته، وهو اسم الخطّ في لغتهم، ومعلوم أن الدوائر المتساوية لا تحيط بواحدة منها متماسّة إلا إذا كانت سبعا تحيط ستّ منها بواحدة فقسموا إيرانشهر إلى كشورات ستّ، والمعمورة بأسرها إلى سبع، والأصل في هذه القسمة ما أخبر به زرادشت، صاحب ملّتهم، من حال الأرض، وأنها مقسومة بسبعة أقسام، كهيئة ما ذكرنا، أوسطها هنيرة، وهو الذي نحن فيه، ويحيط بها ستة. قال أبو الريحان: وأما الحقيقة لم جعلوها سبعا، فما أجدني واجده بالطريق البرهاني، فإن الكافّة لم يتسارعوا إلا إلى عدد الكواكب السيّارة، مستدلّين عليه بأيام الأسبوع التي لا يختلف فيها، ولا في المبدإ الموضوع لها من يوم الأحد، مختلفو الأمم. وصورة الكشورات الداخلة في كشخر هنيرة على ما نقلته من كتاب أبي الريحان وخطّ يده، الصورة على الصفحة المقابلة. قال أبو الريحان: وبهذه القسمة قال هرمس ما أسند إليه محمد بن ابراهيم الفزاري في زيجه، إذ كان هرمس من القدماء، فكأنه لم يستعمل في زمانه غيرها، وإلا فالأمور الرياضية النجومية بهرمس أولى. قال: وزاد الفزاري أن كل كشور سبعمائة فرسخ في مثلها. وقرأت في غير كتاب أبي الريحان أن كل إقليم من هذه السبعة التي قدّمنا وصفها، طول أرضه سبعمائة فرسخ، إلا السابع، فإنه مائتان وعشرون فرسخا، والله أعلم.

الاصطلاح الرابع: وعليه اعتماد أهل الرياضة والحكمة والتنجيم، وهو عندهم يمتدّ طولا من المشرق إلى المغرب على الشكل الذي نصوّره بعد قال أبو الريحان: عقيب ما ذكره من اصطلاح أهل فارس ومن خطّه نقلته: وأما من زاول صناعة التنجيم وكلف بعلم هيئة العالم، فإنه أتى هذه القسمة من مأتى آخر، لأنه لما نظر إلى الأولى ولم يجد لها نظاما تطرّد عليه من الأسباب الطبيعية دون الوضعيّة التي بحسبها تختلف المساكن في الكرة من الحرّ والبرد وسائر الكيفيات، أعرض عن تلك
দুই ভাগে: স্থল ও জল। অতঃপর এই চতুর্থাংশ সাতটি অংশে বিভক্ত হয়, যার প্রতিটি অংশকে পারস্য ভাষায় ‘কাশখার’ বলা হয়। আর আরবরা সিরীয়দের কাছ থেকে কাশখারের পরিবর্তে একটি শব্দ ধার করেছে, যা হলো ‘ইকলিম’ (অঞ্চল)। ইকলিম শব্দটি মূলত গ্রামীণ জনপদ বা ‘রুসতাক’-এর নাম। ইকলিমের বুৎপত্তি ও অর্থের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ এই ব্যাখ্যাই যথেষ্ট।

অতঃপর ইকলিম বা অঞ্চলসমূহের রূপরেখা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনায় জাতিসমূহের মাঝে চারটি পরিভাষা প্রচলিত রয়েছে:

প্রথম পরিভাষা: সাধারণ মানুষ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর পরিভাষা। এটিই মানুষের মুখে মুখে সর্বদা প্রচলিত। তারা সেই প্রতিটি এলাকাকে ইকলিম বা অঞ্চল বলে অভিহিত করে, যা বেশ কিছু শহর ও গ্রাম নিয়ে গঠিত। যেমন—চীন, খোরাসান, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, আফ্রিকা এবং এই জাতীয় অন্যান্য দেশ। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ইকলিম বা অঞ্চল অসংখ্য, যা গণনা করা অসম্ভব।

второй পরিভাষা: এটি বিশেষ করে আন্দালুসীয়দের মাঝে প্রচলিত। তারা প্রতিটি বড় ও জনবহুল গ্রামকে ইকলিম বলে ডাকে। সম্ভবত তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্যরা এই পরিভাষা সম্পর্কে অবগত নয়। এটি আমরা ইতিপূর্বে হামজা আল-ইসফাহানির বরাতে যা বর্ণনা করেছি তার কাছাকাছি। যখন কোনো আন্দালুসীয় বলে: ‘আমি অমুক ইকলিম থেকে এসেছি’, তখন সে মূলত একটি নির্দিষ্ট শহর বা গ্রামীণ জনপদকেই বুঝিয়ে থাকে।

তৃতীয় পরিভাষা: এটি প্রাচীন পারস্যবাসীদের পরিভাষা এবং লেখকরা এর ওপরই সর্বাধিক নির্ভর করে থাকেন। আবু রাইহান আল-বিরুনি বলেছেন: পারস্যবাসীরা ইরানশাহরকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোকে সাতটি ‘কিশওয়ার’-এ বিভক্ত করেছিলেন। তারা প্রতিটি রাজ্যের চারপাশে একটি করে বৃত্ত অঙ্কন করেছিলেন এবং সেগুলোকে ‘কিশওয়ার’ বা ‘কাশখার’ নামে অভিহিত করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, এই শব্দ দুটির বুৎপত্তি ‘কিশাসতে’ শব্দ থেকে, যা তাদের ভাষায় ‘রেখা’ বা ‘লাইন’-এর নাম। এটি সর্বজনবিদিত যে, সমমাপের বৃত্তসমূহ কেবল তখনই একটি বৃত্তকে স্পর্শ করে পরিবেষ্টন করতে পারে যখন তাদের সংখ্যা সাতটি হয়—অর্থাৎ ছয়টি বৃত্ত একটিকে কেন্দ্র করে অবস্থান করে। সে অনুযায়ী তারা ইরানশাহরকে ছয়টি কিশওয়ারে এবং সমগ্র বাসযোগ্য পৃথিবীকে সাতটি কিশওয়ারে বিভক্ত করেছিলেন। এই বিভাজনের মূলে রয়েছে তাদের ধর্মপ্রবর্তক জরথুস্ত্র কর্তৃক পৃথিবীর অবস্থা সম্পর্কে প্রদত্ত বর্ণনা। তিনি বলেছিলেন যে, পৃথিবী আমাদের বর্ণিত পদ্ধতির ন্যায় সাতটি অংশে বিভক্ত। এর মধ্যবর্তী অংশটি হলো ‘হানিরাহ’, যেখানে আমরা বসবাস করি এবং একে অন্য ছয়টি অংশ পরিবেষ্টন করে আছে। আবু রাইহান আরও বলেন: তারা কেন একে সাতটি ভাগে বিভক্ত করলেন, তার প্রকৃত কারণ আমি কোনো যৌক্তিক বা প্রামাণিক পদ্ধতিতে খুঁজে পাইনি। তবে সাধারণ মানুষ সম্ভবত সাতটি গ্রহের সংখ্যার ভিত্তিতেই এটি গ্রহণ করেছে। তারা এর প্রমাণ হিসেবে সপ্তাহের সাত দিনের কথা উল্লেখ করে, যে ব্যাপারে পৃথিবীর কোনো জাতির মাঝেই কোনো মতভেদ নেই এবং সপ্তাহের শুরুর দিন হিসেবে রবিবারের ব্যাপারেও সবাই একমত। কাশখার হানিরাহর অন্তর্গত কিশওয়ারসমূহের চিত্র আবু রাইহান আল-বিরুনির কিতাব এবং তার স্বহস্তে অঙ্কিত পাণ্ডুলিপি থেকে আমি পরবর্তী পৃষ্ঠায় হুবহু নকল করেছি। আবু রাইহান বলেন: হারমিসও এই বিভাজনের কথাই বলেছেন, যা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-ফাজারি তার ‘জিজ’ (নক্ষত্র সারণি) গ্রন্থে হারমিসের বরাতে উল্লেখ করেছেন। যেহেতু হারমিস প্রাচীনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাই মনে হয় তাঁর যুগে এটি ছাড়া অন্য কোনো বিভাজন প্রচলিত ছিল না। অন্যথায়, গাণিতিক ও জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে হারমিসের সিদ্ধান্তই অধিক গ্রহণযোগ্য হতো। তিনি আরও বলেন: আল-ফাজারি অতিরিক্ত তথ্য দিয়েছেন যে, প্রতিটি কিশওয়ার সাতশ ফারসাখ দীর্ঘ ও প্রস্থে সমপরিমাণ। আবু রাইহানের কিতাব ছাড়াও অন্যান্য কিতাবে আমি পড়েছি যে, আমরা পূর্বে যে সাতটি ইকলিমের বর্ণনা দিয়েছি, তার প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য সাতশ ফারসাখ, কেবল সপ্তমটি ব্যতীত—সেটি মাত্র দুইশ বিশ ফারসাখ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

চতুর্থ পরিভাষা: গণিতবিদ, দার্শনিক এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট এই পরিভাষাটিই নির্ভরযোগ্য। তাদের মতে, ইকলিম বা অঞ্চলসমূহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত আকারে থাকে, যার চিত্র আমরা পরে অঙ্কন করব। আবু রাইহান আল-বিরুনি পারস্যবাসীদের পরিভাষা উল্লেখ করার পর তার স্বহস্তে লিখিত বর্ণনা থেকে আমি নকল করছি: যারা জ্যোতির্বিদ্যা এবং মহাবিশ্বের গঠনতত্ত্ব নিয়ে কাজ করেন, তারা এই বিভাজনকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন। কারণ যখন তারা প্রথমোক্ত বিভাজনটি পর্যবেক্ষণ করলেন, তখন তারা এর মাঝে এমন কোনো সুশৃঙ্খল নিয়ম খুঁজে পেলেন না যা কেবল অবস্থানগত কারণ নয় বরং প্রাকৃতিক কারণসমূহের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যার মাধ্যমে ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের তাপমাত্রা (তীব্র গরম বা শীত) ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। ফলে তারা সেই পদ্ধতি থেকে বিমুখ হলেন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৭)
القسمة ولم يلتفت إليها. ثم قال: نحن إذا تأمّلنا الاختلافات التي تلحق الليل والنهار من ولوج أحدهما على الآخر، على طرفي الصيف والشتاء، فالذي يحدث في الهواء من احتدام الحرّ وكلب البرد وما يتبع ذلك من تأثير الأرض والماء بهما، وجدناها بحسب الإمعان، في جهتي الشمال والجنوب فقط، وإننا متى لزمنا نحو المشرق والمغرب مدارا واحدا لا يقرّبنا سلوكه من شمال أو جنوب، لم يختلف علينا شيء مما وجوده بالإضافة إلى الآفاق بتّة، اللهم إلا الانتقال من صرود إلى جروم، أو عكسه مما لا يوجبه ذلك السّمت، إنما يتّفق من جهة الأنجاد والأغوار، وأوضاع أحدهما من الآخر فيه وتقدّم الطلوع والغروب وتأخّرهما، إلا أنه ليس بمعلوم بالاحساس وإنما يتوصّل إليه بالنظر والقياس، فإذا قسمنا المعمورة عرضا بحسب الاختلاف والتغاير، على أقسام متوازية في طول الأرض، ليتّفق كل قسم في المشارق والمغارب على حال واحدة بالتقريب، كان أصوب من أن نقسمهما بغير ذلك من الخطوط. ثم تأمل النهار الأطول والأقصر، فإن النظر فيهما، لتكافئهما، واحد.

فوجده من جهة الشمال حيث الناس متمدّنون، وعلى قضايا الاعتدال خلقا وخلقا مجتمعون، دون
সেই বিভাজন এবং তিনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। অতঃপর তিনি বললেন: আমরা যখন গ্রীষ্ম ও শীতের দুই প্রান্তে রাত ও দিনের একটির ওপর অন্যটির প্রবেশের ফলে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে তা নিয়ে চিন্তা করি, এবং এর ফলে বায়ুমণ্ডলে তীব্র উত্তাপ ও প্রচণ্ড শীতের যে প্রকোপ সৃষ্টি হয় এবং ভূমি ও পানির ওপর এর যে প্রভাব পড়ে, নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করলে আমরা তা কেবল উত্তর ও দক্ষিণ অভিমুখেই দেখতে পাই। আর আমরা যখন পূর্ব ও পশ্চিম অভিমুখে এমন একটি কক্ষপথ ধরে চলি যা আমাদের উত্তর বা দক্ষিণের নিকটবর্তী করে না, তখন দিগন্তের প্রেক্ষিতে বিদ্যমান কোনো কিছুরই আমাদের ওপর বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটে না; তবে শীতল অঞ্চল থেকে উষ্ণ অঞ্চলে স্থানান্তর কিংবা এর বিপরীত হওয়া ছাড়া—যা সেই নির্দিষ্ট দিকপথের কারণে আবশ্যক হয় না, বরং তা ঘটে উচ্চভূমি ও নিম্নভূমির পার্থক্যের কারণে এবং এ ক্ষেত্রে একটির সাপেক্ষে অন্যটির অবস্থান এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অগ্রগমন ও বিলম্বের কারণে। তবে বিষয়টি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, বরং তা কেবল পর্যবেক্ষণ ও অনুমানের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। সুতরাং আমরা যদি জনবসতিপূর্ণ পৃথিবীকে তার ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য অনুযায়ী পৃথিবীর দৈর্ঘ্য বরাবর সমান্তরাল খণ্ডে অক্ষাংশ অনুসারে বিভক্ত করি, যাতে পূর্ব ও পশ্চিমের প্রতিটি অংশ মোটামুটি একই অবস্থায় থাকে, তবে তা অন্য কোনো রেখা দ্বারা বিভক্ত করার চেয়ে অধিকতর সঠিক হবে। অতঃপর দীর্ঘতম এবং সংক্ষিপ্ততম দিনের বিষয়টি লক্ষ্য করুন, কারণ সে দুটির ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ার কারণে সেগুলোতে পর্যবেক্ষণ অভিন্ন।

ফলে তিনি একে উত্তর দিকেই পেয়েছেন যেখানে মানুষ সভ্য এবং তারা সৃষ্টিগত স্বভাব ও চারিত্রিক ভারসাম্যের ওপর সুসংহত, যা ব্যতিরেকে...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৮)
المتوحشين المختفين في الغياض والقفار، الذين يفترسون من وجدوه من الناس، ويأكلونه ثلاث عشرة ساعة، فجعل الحدّ الجنوبي وسط الإقليم الأول، ثم الحدّ الشمالي وسط الإقليم السابع، وسائر الأقاليم تتزايد نصف ساعة في النهار الأطول في أوساط الإقليم. وأما ما وراء الإقليم السابع منها، فأرضون يعرض البرد في قيظها، ويهلك من شتائها الذي هو أطول فصول السنة فيها، فيقلّ قاطنوها، وتنزر عقولهم، حتى ربما اجتووا ببهيميّتهم مخالطة الناس، كما يراها من وراء الإقليم السابع بسبعيتهم.

فإذا قسمت المعمور بالأقاليم، على هذه الجهة، فصورتها تكون قريبا من الصورة التالية:

 

‌‌فالاقليم الأول:

أوله حيث يكون الظلّ نصف النهار، إذا استوى الليل والنهار قدما واحدة ونصفا وعشرا وسدس عشر قدم، وآخره حيث يكون ظلّ الاستواء فيه نصف النهار قدمين وثلاثة أخماس قدم، فهو من المشرق يبتدئ من أقصى بلاد الصين ويمرّ على ما يلي الجنوب من الصين، وفيه جزيرة سرنديب، وعلى سواحل البحر في جنوب بلاد السند، ثم يقطع البحر إلى جزيرة العرب وأرض اليمن، ويقطع بحر القلزم إلى بلاد الحبشة، ويقطع نيل مصر وينتهي إلى بحر المغرب فوقع
বন্য মানুষ যারা বনজঙ্গল এবং মরুভূমিতে আত্মগোপন করে থাকে, যারা মানুষের দেখা পেলে তাদের শিকার করে এবং ভক্ষণ করে। [দিনের দৈর্ঘ্য] তেরো ঘণ্টা হলে তিনি দক্ষিণ সীমানা নির্ধারণ করেছেন প্রথম জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যভাগে, অতঃপর সপ্তম জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যভাগে উত্তর সীমানা। অন্যান্য প্রতিটি জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যভাগে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য আধা ঘণ্টা করে বৃদ্ধি পায়। আর সপ্তম জলবায়ু অঞ্চলের পরবর্তী ভূখণ্ডগুলোর অবস্থা এমন যে, সেখানে গ্রীষ্মকালেও তীব্র শীত অনুভূত হয় এবং সেখানকার শীতকাল—যা বছরের দীর্ঘতম ঋতু—তাতে প্রাণহানি ঘটে। ফলে সেখানে অধিবাসীদের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং তাদের বুদ্ধি-বিবেচনাও নগণ্য। এমনকি তারা তাদের পশুসুলভ আচরণের কারণে মানুষের সাথে মেলামেশাকে ঘৃণা করতে পারে, যেমনটি সপ্তম জলবায়ু অঞ্চলের পরবর্তী অংশে তাদের হিংস্র প্রকৃতির মধ্যে দেখা যায়।

সুতরাং যদি জনবসতিপূর্ণ এলাকাকে এই পদ্ধতিতে জলবায়ু অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়, তবে তার রূপরেখা নিচের চিত্রের কাছাকাছি হবে:

 

‌‌প্রথম জলবায়ু অঞ্চল:

এর শুরু সেখানে যেখানে দিনের মধ্যভাগে ছায়া হবে এক ফুট এবং এর অর্ধেক, দশমাংশ ও এক-ষষ্ঠমাংশ পরিমাণ, যখন দিন ও রাত সমান হয়। আর এর সমাপ্তি সেখানে যেখানে মধ্যাহ্নের বিষুবীয় ছায়া হবে দুই ফুট এবং এক ফুটের তিন-পঞ্চমাংশ পরিমাণ। এটি পূর্ব দিকে চীনের দূরতম প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে চীনের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করে। এতে লঙ্কাদ্বীপ অবস্থিত এবং এটি সিন্ধু দেশের দক্ষিণের সমুদ্র উপকূল দিয়ে অতিবাহিত হয়। এরপর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আরব উপদ্বীপ ও ইয়ামেন ভূখণ্ডে পৌঁছায় এবং লোহিত সাগর অতিক্রম করে হাবশা দেশে যায়। এরপর মিশরের নীল নদ অতিক্রম করে পশ্চিম সাগরে গিয়ে শেষ হয়। ফলে এটি অবস্থিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ২৯)
وسطه قريبا من أرض صنعاء وحضرموت، ووقع طرفه الذي يلي الجنوب قريبا من أرض عدن، ووقع طرفه الذي يلي الشمال بتهامة قريبا من مكّة، ووقع فيه من المدن المعمورة مدينة ملك الصين، وجنوب السند، وجزيرة الكرك، وجنوب الهند، ومن اليمن: صنعاء وعدن وحضرموت ونجران وجرش وجيشان وصعدة وسبا وظفار ومهرة وعمان، ومن بلاد المغرب:

تبالة، ومدينة صاحب الحبشة جرمى، ومدينة النوبة دمقلة، وجنوب البرابر، وغانة من بلاد سودان المغرب إلى البحر الأخضر، ويكون أطول نهار لهؤلاء الذين ذكرناهم، اثنتي عشرة ساعة ونصفا في ابتدائه، وفي وسطه ثلاث عشرة ساعة، وفي آخره ثلاث عشرة ساعة وربع، وطوله من المشرق إلى المغرب تسعة آلاف ميل وسبعمائة واثنان وسبعون ميلا وإحدى وأربعون دقيقة، وعرضه أربعمائة ميل واثنان وأربعون ميلا واثنتان وعشرون دقيقة وأربعون ثانية ومساحته بها مكسّرا أربعة آلاف ألف وثلاثمائة وعشرون ألف ميل وثمانمائة وسبعة وسبعون ميلا وإحدى وعشرون دقيقة، وهو إقليم زحل، باتّفاق من الفرس والروم، ويقال له بالفارسية «كيوان» وله من البروج، الجدي والدّلو.

 

‌‌الإقليم الثاني:

حيث يكون ظلّ الاستواء في أوله نصف النهار، إذا استوى الليل والنهار، قدمين وثلاثة أخماس قدم، وآخره حيث يكون ظلّ الاستواء فيه نصف النهار ثلاثة أقدام ونصفا وعشر سدس قدم، ويبتدئ في المشرق، فيمرّ على بلاد الصين وبلاد الهند وعلى شماليها جبال قامرون وكنوج والسّند ويمرّ بملتقى البحر الأخضر، وبحر البصرة، ويقطع جزيرة العرب في أرض نجد وتهامة والبحرين، ثم يقطع بحر القلزم ونيل مصر إلى أرض المغرب، وفيه من المدن: مدن بلاد الصين، والهند، ومن السند المنصورة، وبلاد التتر، والدّيبل ويقطع البحر إلى أرض العرب، إلى عمان، فيقع في وسطه مدينة الرسول، صلى الله عليه وسلم، يثرب، ووقع في أقصاه الذي يلي الجنوب وراء مكّة قليلا، ووقع في طرفه الأدنى الذي يلي الشمال بقرب الثّعلبية، وكل واحد من مكة والثعلبية من إقليمين، وكذلك كل ما كان في سمتهما، ووقع في هذا الإقليم من مشهور المدن: مكة، والمدينة، وفيد، والثعلبية، واليمامة، وهجر، وتبالة، والطائف، وجدّة، ومملكة الحبشة، وأرض البجة، ومن أرض النيل: قوص، وأخميم، وأنصنا، وأسوان، ومن المغرب: إفريقية، وجبال من البربر إلى أرض المغرب، ويكون أطول نهار هؤلاء في أول الإقليم، ثلاث عشرة ساعة وربعا، وآخره ثلاث عشرة ساعة وثلاثة أرباع الساعة، وأوسطه ثلاث عشرة ساعة ونصف، وطوله من المشرق إلى المغرب تسعة آلاف وثلاثمائة واثنا عشر ميلا واثنتان وأربعون دقيقة، وعرضه أربعمائة ميل وميلان وإحدى وخمسون دقيقة، ومساحته مكسرا ثلاثة آلاف ألف وستمائة ألف وتسعون ألف ميل وثلاثمائة وأربعون ميلا وأربع وخمسون دقيقة، وهو للمشتري في قول الفرس، وللشمس في قول الروم، واسمه بالفارسية «هرمز» وله من البروج: القوس، والحوت، وكل ما كان على خطّه شرقا وغربا، فهو داخل فيه.

 

‌‌الإقليم الثالث:

أوله حيث يكون الظلّ نصف النهار إذا استوى الليل والنهار ثلاثة أقدام ونصفا وعشرا
এর মধ্যভাগ সানা ও হাজরামাউত ভূমির নিকটবর্তী এবং এর যে প্রান্তটি দক্ষিণের দিকে অবস্থিত তা এডেন ভূমির নিকটবর্তী। আর এর উত্তরের প্রান্তটি মক্কার নিকটবর্তী তিহামাহ অঞ্চলে অবস্থিত। এতে জনবহুল শহরগুলোর মধ্যে চীনের রাজার শহর, দক্ষিণ সিন্ধু, কারাক দ্বীপ এবং দক্ষিণ ভারত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইয়েমেনের অন্তর্ভুক্ত শহরগুলো হলো: সানা, এডেন, হাজরামাউত, নাজরান, জারাস, জাইশান, সাদা, সাবা, জোফার, মাহরা ও ওমান। আর মাগরিব বা পশ্চিমদিকের দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:

তাবালাম, হাবশার অধিপতির শহর জারমি, নূবা অঞ্চলের শহর দুনকুলা, বারবারদের দক্ষিণাঞ্চল এবং মাগরিবের সুদান অঞ্চলের ঘানা থেকে সবুজ সাগর পর্যন্ত। আমরা যাদের উল্লেখ করেছি তাদের দীর্ঘতম দিন এর শুরুতে সাড়ে বারো ঘণ্টা, মধ্যভাগে তেরো ঘণ্টা এবং শেষে সোয়া তেরো ঘণ্টা হয়ে থাকে। এর দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে নয় হাজার সাতশ বাহাত্তর মাইল এবং একচল্লিশ মিনিট। এর প্রস্থ চারশ বিয়াল্লিশ মাইল, বাইশ মিনিট এবং চল্লিশ সেকেন্ড। এর বর্গীয় ক্ষেত্রফল তেতাল্লিশ লক্ষ বিশ হাজার আটশ সাতাশি মাইল এবং একুশ মিনিট। পারস্য ও রোমীয়দের ঐকমত্য অনুযায়ী এটি শনি গ্রহের মন্ডল, যাকে ফারসিতে 'কাইওয়ান' বলা হয়। রাশিচক্রের মধ্যে মকর ও কুম্ভ রাশি এর অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌দ্বিতীয় অঞ্চল:

যেখানে এই অঞ্চলের শুরুতে মধ্যাহ্নের ছায়া—যখন দিন ও রাত সমান হয়—দুই ফুট এবং এক ফুটের তিন-পঞ্চমাংশ হয়। আর এর শেষে মধ্যাহ্নের ছায়া হয় সাড়ে তিন ফুট এবং এক ফুটের ছয় ভাগের এক ভাগের দশমাংশ। এটি প্রাচ্য থেকে শুরু হয়ে চীন ও ভারত ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে এবং এর উত্তর দিকে কামরুন পর্বতমালা, কনৌজ ও সিন্ধুর ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছে। এটি সবুজ সাগর ও বসরা সাগরের সংযোগস্থলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং আরব উপদ্বীপের নজদ, তিহামাহ ও বাহরাইন অঞ্চলকে ছেদ করেছে। এরপর এটি কুলজুম সাগর এবং মিশরের নীল নদ অতিক্রম করে মাগরিব বা পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অঞ্চলের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে: চীন ও ভারতের শহরসমূহ, সিন্ধুর মানসুরাহ, তাতারদের ভূখণ্ড ও দাইবাল। এটি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আরব ভূমির ওমান পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর মধ্যভাগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর ইয়াসরিব অবস্থিত। এর দূরবর্তী দক্ষিণ প্রান্তটি মক্কার সামান্য পেছনে অবস্থিত এবং এর নিকটবর্তী উত্তর প্রান্তটি সালাবিয়ার কাছে অবস্থিত। মক্কা ও সালাবিয়া উভয়েই দুটি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, তেমনিভাবে তাদের সমান্তরালে যা কিছু আছে তাও। এই অঞ্চলের বিখ্যাত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে: মক্কা, মদিনা, ফায়দ, সালাবিয়া, ইয়ামামাহ, হাজার, তাবালাম, তায়েফ, জেদ্দা, হাবশা সাম্রাজ্য, বাজা ভূমি এবং নীল নদের তীরবর্তী কুস, আখমিম, আনসিনা ও আসওয়ান। মাগরিবের অন্তর্ভুক্ত হলো: আফ্রিকা এবং বারবারদের পাহাড় থেকে মাগরিবের ভূমি পর্যন্ত। এই অঞ্চলের শুরুতে দীর্ঘতম দিন সোয়া তেরো ঘণ্টা, শেষে পৌনে চৌদ্দ ঘণ্টা এবং মধ্যভাগে সাড়ে তেরো ঘণ্টা হয়। এর দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে নয় হাজার তিনশ বারো মাইল এবং বিয়াল্লিশ মিনিট। এর প্রস্থ চারশ দুই মাইল এবং একান্ন মিনিট। এর বর্গীয় ক্ষেত্রফল ছত্রিশ লক্ষ নব্বই হাজার তিনশ চল্লিশ মাইল এবং চুয়ান্ন মিনিট। পারসিকদের মতে এটি বৃহস্পতি গ্রহের এবং রোমীয়দের মতে সূর্যের মন্ডল। ফারসিতে এর নাম 'হুরমুজ'। রাশিচক্রের ধনু ও মীন রাশি এর অন্তর্ভুক্ত। এর পূর্ব-পশ্চিম রেখায় যা কিছু আছে তা এর ভেতরেই গণ্য হবে।

 

‌‌তৃতীয় অঞ্চল:

এর শুরু সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় মধ্যাহ্নের ছায়া সাড়ে তিন ফুট এবং এক ফুটের দশমাংশ হয়।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৩০)
وسدس عشر قدم، وآخره حيث يكون ظل الاستواء فيه نصف النهار أربعة أقدام ونصفا وثلث عشر قدم، فيبلغ النهار في وسطه أربع عشرة ساعة، وهو يبتدئ من المشرق، فيمرّ على شمال بلاد الصين، ثم الهند، ثم السند، ثم كابل، وكرمان، وسجستان، وفارس، والأهواز، والعراقين، والشام، ومصر، والاسكندرية، وفيه من المدن بعد بلاد الصين في وسطه بالقرب من مدين في شقّ الشام، واقصة في شقّ العراق، وصارت الثعلبية وما كان في سمتها، شرقا وغربا، في طرفه الأقصى الذي يلي الجنوب، وصارت مدينة السلام وفارس وقندهار والهند، ومن أرض السند الملتان، ونهاية، وكرور، وجبال الأفغانية، وصور الشام، وطبرية، وبيروت، في حدّه الأدنى الذي يلي الشمال، وكذلك كل ما كان في سمت ذلك شرقا وغربا بين إقليمين، ووقع في هذا الإقليم من المدن المعروفة: غزنة، وكابل، والرّخّج، وجبال زبلستان، وسجستان، وأصفهان، وبست، وزرنج، وكرمان، ومن فارس: إصطخر، وجور، وفسا، وسابور، وشيراز، وسيراف، وجنّابة، وسينيز، ومهروبان، وكور الأهواز كلها، ومن العراق: البصرة، وواسط، والكوفة، وبغداد، والأنبار، وهيت، والجزيرة، ومن الشام: حمص في بعض الروايات، ودمشق، وصور، وعكا، وطبرية، وقيسارية، وأرسوف، والرملة، والبيت المقدس، وعسقلان، وغزّة، ومدين، والقلزم، ومن أرض مصر: فرما، وتنّيس، ودمياط، والفسطاط، والاسكندرية، والفيوم، ومن المغرب: برقة، وإفريقية، والقيروان، وقبائل البربر في أرض الغرب، وتاهرت، والسوس، وبلاد طنجة، وينتهي إلى البحر المحيط. وأطول نهار هؤلاء، في أول الإقليم، ثلاث عشرة ساعة ونصف وربع، وفي أوسطه أربع عشرة ساعة، وفي آخره أربع عشرة ساعة وربع، وطوله من المشرق إلى المغرب ثمانمائة ألف وسبعمائة وأربعة وسبعون ميلا وثلاث وعشرون دقيقة، وعرضه ثلاثمائة وثمانية وأربعون ميلا وخمس وأربعون دقيقة، وتكسيره مساحة ثلاثمائة ألف ألف وستة آلاف وأربعمائة وثمانية وخمسون ميلا وتسع وعشرون دقيقة. وهو في قول الفرس، للمريخ، وفي قول الروم، لعطارد، واسمه بالفارسية «بهرام» . وله من البروج:

الحمل، والعقرب، وكل ما كان في سمت ذلك، فهو داخل فيه. والله الموفق للصواب.

 

‌‌الإقليم الرابع:

وهو حيث يكون الظلّ إذا استوى الليل والنهار في أذار نصف النهار أربعة أقدام وثلاثة أخماس قدم وثلث خمس قدم، وآخره حيث يكون الظل نصف النهار في الاستواء خمسة أقدام وثلاثة أخماس قدم وثلث خمس قدم، ويبتدئ من أرض الصين والتّبّت والختن، وما بينهما من المدن، ويمرّ على جبال كشمير، وبلوّر، وبرجان، وبذخشان، وكابل، وغور، وهراة، وبلخ، وطخارستان، ومرو، وقوهستان، ونيسابور، وقومس، وجرجان، وطبرستان، والري، وقمّ، وقاشان، وهمذان، واذربيجان، والموصل، وحرّان، وعزاز، والثغور، وجزيرة قبرس، ورودس، وصقلية، إلى البحر المحيط على الزقاق بين الأندلس وبلاد المغرب، فوقع طرف هذا الإقليم الأدنى الذي يلي العراق، بالقرب من بغداد وما كان على سمتها شرقا وغربا، ووقع طرفه الأدنى الذي يلي الشمال، بالقرب من قاليقلا وساحل طبرستان إلى أردبيل وجرجان، وما كان في هذا السّمت،

এবং এক ফুটের দশমাংশের এক ষষ্ঠাংশ। এর শেষ সীমা সেখানে, যেখানে মধ্যাহ্নে বিষুবীয় ছায়া হয় সাড়ে চার ফুট এবং এক ফুটের দশমাংশের এক তৃতীয়াংশ। এর মধ্যভাগে দিনের দৈর্ঘ্য চৌদ্দ ঘণ্টায় পৌঁছায়। এটি পূর্ব দিক থেকে শুরু হয় এবং চীনের উত্তরাঞ্চল, অতঃপর ভারত, সিন্ধু, কাবুল, কিরমান, সিজিস্তান, পারস্য, আহওয়াজ, দুই ইরাক, সিরিয়া (শাম), মিসর ও আলেকজান্দ্রিয়ার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। এতে চীন দেশের পরবর্তী শহরগুলোর মধ্যে এর মধ্যভাগে সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী মাদইয়ান এবং ইরাকের পার্শ্ববর্তী আকসাহ্ অবস্থিত। সালাবিয়াহ এবং এর সমান্তরালে পূর্ব ও পশ্চিমে যা কিছু আছে, তা এর দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমায় পড়েছে। আর মদিনাতুস সালাম (বাগদাদ), পারস্য, কান্দাহার, ভারত এবং সিন্ধু অঞ্চলের মুলতান, নিহায়াহ্, কারুর, আফগান পর্বতমালা, শামদেশের সুর, তাবারিয়া ও বৈরুত এর উত্তর প্রান্তের নিম্ন সীমায় অবস্থিত। একইভাবে দুই অঞ্চলের মধ্যবর্তী পূর্ব ও পশ্চিমে এর সমান্তরালে যা কিছু আছে তাও এর অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলে অবস্থিত সুপরিচিত শহরগুলো হলো: গজনি, কাবুল, রুখ্খাজ, জাবুলিস্তান পর্বতমালা, সিজিস্তান, ইসফাহান, বুস্ত, যারাঞ্জ ও কিরমান। পারস্যের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইস্তাখর, জুর, ফাসা, সাবুর, শিরাজ, সিরাফ, জান্নাবাহ, সিনিজ, মাহরুবান এবং আহওয়াজের সকল জেলা। ইরাকের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে: বসরা, ওয়াসিত, কুফা, বাগদাদ, আনবার, হীত ও জাজিরা। শামদেশের শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে: কিছু বর্ণনা অনুযায়ী হিমস, দামেস্ক, সুর, আক্কা, তাবারিয়া, কায়সারিয়া, আরসুফ, রামাল্লাহ, বাইতুল মুকাদ্দাস, আসকালান, গাজা, মাদইয়ান ও কুলজুম। মিসরীয় ভূমির মধ্যে রয়েছে: ফারামা, তিন্নীস, দিময়াত, ফুস্তাত, আলেকজান্দ্রিয়া ও ফাইয়ুম। মাগরিবের (উত্তর আফ্রিকা) মধ্যে রয়েছে: বারকাহ, ইফ্রিকিয়া, কাইরাওয়ান, পশ্চিমাঞ্চলের বারবার গোত্রসমূহ, তাহেরাত, সুস ও তানজাহ শহর এবং এটি মহাসাগর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। এই অঞ্চলের শুরুতে দীর্ঘতম দিন হয় সাড়ে তেরো ঘণ্টা ও পনেরো মিনিট, এর মধ্যভাগে চৌদ্দ ঘণ্টা এবং এর শেষ প্রান্তে সোয়া চৌদ্দ ঘণ্টা। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর দৈর্ঘ্য আট লক্ষ সাতশত চুয়াত্তর মাইল ও তেইশ মিনিট। এর প্রস্থ তিনশত আটচল্লিশ মাইল ও পঁয়তাল্লিশ মিনিট। এর মোট ক্ষেত্রফল ত্রিশ কোটি ছয় হাজার চারশত আটান্ন মাইল ও ঊনত্রিশ মিনিট। পারসিকদের মতে এটি মঙ্গলের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর রোমানদের মতে এটি বুধের সাথে সংশ্লিষ্ট; ফারসি ভাষায় এর নাম ‘বাহরাম’। রাশিচক্রের মধ্যে এর সাথে সংশ্লিষ্ট রাশি হলো:

মেষ ও বৃশ্চিক এবং এর সমান্তরালে যা কিছু আছে তা এর অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

 

‌‌চতুর্থ অঞ্চল:

এটি সেখানে অবস্থিত যেখানে মার্চ মাসে দিবা-রাত্রি সমান হওয়ার সময় মধ্যাহ্নের ছায়া হয় চার ফুট এবং এক ফুটের পাঁচ ভাগের তিন ভাগ ও এক পঞ্চমাংশের এক তৃতীয়াংশ। এর শেষ সীমা সেখানে যেখানে বিষুবকালে মধ্যাহ্নের ছায়া হয় পাঁচ ফুট এবং এক ফুটের পাঁচ ভাগের তিন ভাগ ও এক পঞ্চমাংশের এক তৃতীয়াংশ। এটি চীন, তিব্বত ও খোতান ভূমি এবং এর মধ্যবর্তী শহরসমূহ থেকে শুরু হয়। অতঃপর এটি কাশ্মীর পর্বতমালা, বালুর, বুর্জান, বাদাখশান, কাবুল, ঘুর, হেরাত, বলখ, তুখারিস্তান, মার্ভ, কুহিস্তান, নিশাপুর, কুমিস, জুরজান, তাবারিয়া, রায়, কোম, কাশান, হামাদান, আজারবাইজান, মসুল, হাররান, আজাজ, সীমান্ত এলাকা, সাইপ্রাস দ্বীপ, রোডস ও সিসিলির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে আন্দালুস ও মাগরিবের মধ্যবর্তী প্রণালীর নিকটবর্তী মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অঞ্চলের ইরাক সংলগ্ন নিম্ন প্রান্তটি বাগদাদ ও এর সমান্তরালে পূর্ব ও পশ্চিমে অবস্থিত স্থানগুলোর কাছাকাছি পড়েছে। আর এর উত্তর সংলগ্ন নিম্ন প্রান্তটি কালিকালা এবং তাবারিয়া উপকূল থেকে আরদাবিল ও জুরজান এবং এই সমান্তরালে অবস্থিত স্থানগুলোর কাছাকাছি পড়েছে,
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৩১)
وفيه من مشاهير المدن غير ما ذكر: نصيبين، ودارا، والرّقّتان، ورأس عين، وسميساط، والرهاء، ومنبج، وحلب، وقنسرين، وأنطاكية، وحمص في رواية، والمصّيصة، وأذنة، وطرسوس، وسرّ من رأى، وحلوان، وشهر زور، وماسبذان، والدينور، ونهاوند، وأصفهان، ومراغة، وزنجان، وقزوين، والكرخ، وسرخس، وإصطخر، وطوس، ومرو الروذ، وصيدا، والكنيسة السوداء، وعمّورية، واللاذقية، وأطول نهار هؤلاء في أول الإقليم، أربع عشرة ساعة وربع، وأوسطه أربع عشرة ساعة ونصف، وآخره أربع عشرة ساعة ونصف وربع، وطوله من المشرق إلى المغرب ثمانية آلاف ومائتان وأربعة عشر ميلا وأربع عشرة دقيقة، وعرضه مائتان وتسعة وتسعون ميلا وأربع دقائق، وتكسيره ألف ألف وأربعمائة ألف وثلاثة وسبعون ألفا واثنان وسبعون ميلا واثنتان وعشرون دقيقة، وهو للشمس على رأي الفرس، وللمشتري على رأي الروم، واسمه بالفارسية «خرشاذ وله من البروج الأسد، والله ولي الإعانة.

 

‌‌الإقليم الخامس:

أوله حيث يكون الظلّ نصف النهار، إذا استوى الليل والنهار، خمسة أقدام وثلاثة أخماس قدم وسدس خمس قدم، وأوسطه حيث يكون الظلّ نصف النهار، إذا استوى الليل والنهار، ستة أقدام، وآخره حيث يكون الظلّ نصف النهار شرقا أو غربا ستة أقدام ونصف عشر وسدس عشر قدم، والذي بين طرفيه عرضا نحوا من مائة وثلاثين ميلا في رواية. ويبتدئ من أرض الترك المشرقين ويأجوج المسدودين، ويمرّ على أجناس الترك المعروفين بقبائلهم إلى كاشغر، والإصيفون، وزاشت، وفرغانة، وأسبيجاب، وشاش، وأشروسنة، وسمرقند، وبخارا، وخوارزم، وبحر الخزر، إلى باب الأبواب، وبرذعة، وميافارقين، وأرمينية، ودروب الروم، وبلادهم، وعلى رومية الكبرى، وأرض الجلالقة، وبلاد الأندلس، وينتهي إلى البحر المحيط، ووقع في وسطه بالقرب من أرض تفليس من بلاد أرمينية، ومن جرجان، وكل ما كان في هذا السمت من البلدان شرقا وغربا، ووقع طرفه الذي يلي الجنوب، بالقرب من خلاط، ودبيل، وسميساط، وملطية، وعمورية، وما كان في سمت هذا من البلدان شرقا وغربا، ووقع طرفه الأقصى الذي يلي الشمال، بالقرب من دبيل، وفي سمته بلدان يأجوج ومأجوج، وأطول نهار هؤلاء في أول الإقليم أربع عشرة ساعة ونصف وربع، وفي أوسطه خمس عشرة ساعة، وفي آخره خمس عشرة ساعة وربع، وطول وسطه من المشرق إلى المغرب سبعة آلاف ميل وستمائة وسبعون ميلا وبضع عشرة دقيقة، وعرضه مائتان وأربعة وخمسون ميلا وثلاثون دقيقة، ومساحته مكسّرا ألف ألف وثمانية وأربعون ألفا وخمسمائة وأربعة وثمانون ميلا واثنتا عشرة دقيقة، وهو للزهرة باتفاق من الفرس والروم، واسمه بالفارسية أناهيد، وله من البروج الثور والميزان.

 

‌‌الإقليم السادس:

أوله حيث يكون الظل نصف النهار في الاستواء سبعة أقدام وستّة أعشار وسدس عشر قدم، يفضل آخره على أوله بقدم واحد فقط، يبتدئ من مساكن ترك المشرق، من قاني وقون وخرخيز وكيماك والتغزغز وأرض التركمانية وفاراب وبلاد الخزر، وشمال بحرهم واللان والسرير بين هذا البحر وبحر طرابزندة، ويمرّ على القسطنطينية وأرض الفرنجة وشمال الأندلس، حتى ينتهي إلى بحر
এতে উল্লেখিত শহরগুলো ছাড়াও আরও যেসব বিখ্যাত শহর রয়েছে: নুসায়বিন, দারা, রাক্কাতান, রাস আইন, সুমাইসাত, রুহা, মানবিজ, হালাব, কিননাসরিন, আন্তাকিয়া, এক বর্ণনা মতে হিমস, মাসিসা, আদানা, তারসুস, সামাররা, হুলওয়ান, শাহরযুর, মাসাবযান, দিনাওয়ার, নিহাওয়ান্দ, ইসফাহান, মারাগা, যানজান, কাযউইন, কারখ, সারাখস, ইস্তাখর, তুস, মারওয়ুর রূদ, সাইদা, কানিসাতুল সাওদা, আম্মুরিয়া এবং লাযিকিয়া। এই অঞ্চলের শুরুতে দীর্ঘতম দিন চৌদ্দ ঘণ্টা পনের মিনিট, মধ্যভাগে চৌদ্দ ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট এবং শেষভাগে চৌদ্দ ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর দৈর্ঘ্য আট হাজার দুইশত চৌদ্দ মাইল এবং চৌদ্দ মিনিট, এর প্রস্থ দুইশত নিরানব্বই মাইল এবং চার মিনিট। এর ক্ষেত্রফল চৌদ্দ লক্ষ তেহাত্তর হাজার বাহাত্তর মাইল এবং বাইশ মিনিট। পারসিকদের মতে এটি সূর্যের অধীনে এবং রোমানদের মতে এটি বৃহস্পতির অধীনে। ফারসি ভাষায় এর নাম 'খুরশাদ' এবং রাশিচক্রের মধ্যে এটি সিংহ রাশির অন্তর্গত। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

 

‌‌পঞ্চম অঞ্চল:

এর শুরু সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় দ্বিপ্রহরের ছায়া হয় পাঁচ ফুট, এক ফুটের তিন-পঞ্চমাংশ এবং এক ফুটের পাঁচ ভাগের এক ভাগের ছয় ভাগের এক ভাগ। এর মধ্যভাগ সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় দ্বিপ্রহরের ছায়া হয় ছয় ফুট। এর শেষভাগ সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় পূর্ব বা পশ্চিমে দ্বিপ্রহরের ছায়া হয় ছয় ফুট এবং এক ফুটের দশ ভাগের এক ভাগের অর্ধেক ও এক ফুটের দশ ভাগের এক ভাগের ছয় ভাগের এক ভাগ। এক বর্ণনা মতে এর দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী প্রস্থ প্রায় একশত ত্রিশ মাইল। এটি পূর্ব প্রান্তের তুর্কি ভূমি এবং অবরুদ্ধ ইয়াজুজদের ভূমি থেকে শুরু হয়েছে। এটি তুর্কিদের বিভিন্ন পরিচিত গোত্রের এলাকা হয়ে কাশগড়, ইসাইফুন, যাশত, ফারগানা, আসবিজাব, শাশ, উশরুছানা, সমরকন্দ, বুখারা, খাওয়ারিজম এবং খাযার সাগর হয়ে বাবুল আবওয়াব, বারযাআ, মিয়াফারিকিন, আরমিনিয়া, রোমান গিরিপথ ও তাদের দেশসমূহ এবং মহান রোম, জালালিকা ভূমি ও আন্দালুস ভূখণ্ড অতিক্রম করে মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর মধ্যভাগে আরমেনিয়ার তিফলিস ও জুরজানের নিকটবর্তী এলাকা এবং এই সমান্তরালে পূর্ব ও পশ্চিমে অবস্থিত সকল শহর অবস্থিত। এর দক্ষিণ প্রান্ত খিলাত, দাবিল, সুমাইসাত, মালাতিয়া ও আম্মুরিয়ার নিকটবর্তী এলাকা এবং এর সমান্তরালে পূর্ব ও পশ্চিমে অবস্থিত শহরগুলোর ওপর পড়েছে। এর উত্তর প্রান্ত দাবিলের নিকটবর্তী এলাকা এবং এর সমান্তরালে ইয়াজুজ ও মাজুজদের দেশগুলোর ওপর পড়েছে। এই অঞ্চলের শুরুতে দীর্ঘতম দিন চৌদ্দ ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিট, মধ্যভাগে পনের ঘণ্টা এবং শেষভাগে পনের ঘণ্টা পনের মিনিট। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর মধ্যভাগের দৈর্ঘ্য সাত হাজার ছয়শত সত্তর মাইল এবং দশের কিছু বেশি মিনিট, প্রস্থ দুইশত চুয়ান্ন মাইল এবং ত্রিশ মিনিট। এর মোট ক্ষেত্রফল দশ লক্ষ আটচল্লিশ হাজার পাঁচশত চুরাশি মাইল এবং বারো মিনিট। পারসিক ও রোমানদের ঐকমত্যে এটি শুক্র গ্রহের অধীনে, ফারসিতে এর নাম আনাহিদ এবং রাশিচক্রের মধ্যে এটি বৃষ ও তুলা রাশির অন্তর্গত।

 

‌‌ষষ্ঠ অঞ্চল:

এর শুরু সেখানে যেখানে দিন ও রাত সমান হওয়ার সময় দ্বিপ্রহরের ছায়া হয় সাত ফুট এবং এক ফুটের দশ ভাগের ছয় ভাগ ও দশ ভাগের এক ভাগের ছয় ভাগের এক ভাগ। এর শেষ প্রান্ত শুরুর চেয়ে মাত্র এক ফুট বেশি। এটি পূর্ব তুর্কিদের আবাসস্থল কানি, কুন, খিরখিজ, কিমাক, তাগুযগুয, তুর্কমেন ভূমি, ফারাব, খাযারদের দেশ এবং তাদের সাগরের উত্তর দিক এবং আলান ও সারির অঞ্চল (যা এই সাগর ও ত্রাবজোন সাগরের মধ্যবর্তী) থেকে শুরু হয়। এটি কুস্তুনতুনিয়া, ফ্রাঙ্কদের ভূমি এবং উত্তর আন্দালুস হয়ে সাগর পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৩২)
المغرب، وعرض هذا الإقليم، في بعض الروايات: نحو من مائتي ميل ونيف، طرفه الأدنى الذي يلي الجنوب، حيث وقع طرفه الأقصى الذي يلي الشمال، فوقع بالقرب من أرض خوارزم ووراءها من طرابزندة الشاش، مما يلي الترك، ووقع وسطه بالقرب من القسطنطينية، ومن آمل: خراسان، وفرغانة، وقد وقع في هذا الإقليم، في رواية بعضهم، كثير من المدن المذكورة في الإقليم الخامس وغيرها، منها:

سمرقند، وباب الخزر، والجيل، وأطراف بلاد الأندلس التي تلي الشمال، وأطراف بلاد الصقالبة التي تلي الجنوب، وهرقلة، وأطول نهار هؤلاء في أول الإقليم خمس عشرة ساعة ونصف، وآخره خمس عشرة ساعة ونصف وربع، وطول وسطه من المشرق إلى المغرب سبعة آلاف ميل ومائة وخمسة وسبعون ميلا وثلاث وستون دقيقة، وعرضه مائتا ميل وخمسة عشر ميلا وتسع وثلاثون دقيقة، وتكسيره ألف ألف ميل وستة وأربعون ألف ميل وسبعمائة وواحد وعشرون ميلا وكذا دقيقة، وهو على رأي الفرس العطارد، وعلى رأي الروم للقمر، واسمه بالفارسية «تير» وله من البروج الجوزاء والسّنبلة.

 

‌‌الإقليم السابع:

أوله حيث يكون النهار في الاستواء سبعة أقدام ونصفا وعشرا وسدس عشر قدم، كما هو في الإقليم السادس، لأن آخره أول هذا، وآخره حيث يكون الظلّ نصف النهار في الاستواء ثمانية أقدام ونصفا ونصف عشر قدم، وليس فيه كثير عمران، إنما هو في المشرق غياض وجبال يأوي إليها فرق من الترك كالمستوحشين، ويمرّ على جبال باشغرد، وحدود البجناكية، وبلدي سرار، وبلغار، والروس، والصقالبة، والبلغرية، وينتهي إلى البحر المحيط، وقليل من وراء هذا الإقليم من الأمم مثل أيسو، وورانك، ويورة، وأمثالهم، ووقع في طرفه الأدنى الذي يلي الجنوب، حيث وقع الطرف الأقصى الشمالي من الإقليم الخامس، وطرفه الأقصى في الإقليم السادس الذي يليه، وذلك سمت خوارزم، وطرابزندة شرقا وغربا، ووقع في طرفه الأقصى الذي يلي الشمال، في أقاصي أراضي الصقالبة شرقا وأطراف الترك الذين يلون خوارزم في الشمال، ووقع في وسطه في اللان، ولم يقع فيه مدن معروفة فتذكر، وأطول نهار هؤلاء في أول الإقليم خمس عشرة ساعة ونصف وربع ساعة، وأوسطه ست عشرة ساعة وآخره ست عشرة ساعة وربع، وطول وسطه من المشرق إلى المغرب ستة آلاف ميل وسبعمائة وثمانون ميلا وأربع وخمسون دقيقة، وعرضه مائة وخمسة وثمانون ميلا وعشرون دقيقة، وتكسيره ألف ألف ميل ومائتا ألف ميل وأربعة وعشرون ألف ميل وثمانمائة وأربعة وعشرون ميلا وتسع وأربعون دقيقة، وهو على رأي الفرس للقمر، وعلى رأي الروم للمريخ، واسمه بالفارسية ماه، وله من البروج السرطان، وآخر هذا الإقليم هو آخر العمارة، ليس وراءه إلا قوم لا يعبأ بهم، وهم في ضيق العيش وقلّة الرياضة بالوحش أشبه، والله الموفق للصواب.

 

‌‌ذكر ما لكل واحد من البروج الاثني عشر من البلدان

أما الحمل: فله بابل، وفارس، وأذربيجان، واللان، وفلسطين.
পশ্চিম, এবং এই অঞ্চলের প্রস্থ কোনো কোনো বর্ণনায়: প্রায় দুইশ মাইল ও কিছু বেশি; এর নিম্ন প্রান্ত যা দক্ষিণের দিকে অবস্থিত, সেখানে এর উত্তর প্রান্তের শেষ সীমা অবস্থিত, ফলে তা খাওয়ারিজম ভূখণ্ডের নিকটে এবং তার পেছনে তারাবজান্দা থেকে শাশ পর্যন্ত যা তুর্কিদের নিকটবর্তী এলাকা। এর মধ্যভাগ কনস্টান্টিনোপল এবং আমুল: খোরাসান ও ফারগানার নিকটবর্তী। কোনো কোনো বর্ণনায় এই অঞ্চলে পঞ্চম জলবায়ু ও অন্যান্য অঞ্চলে উল্লিখিত অনেক শহর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

সমরকন্দ, বাবুল খাজার, জিল, আন্দালুসিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রান্তসমূহ, সাকালেবা অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রান্তসমূহ এবং হেরাক্লিয়া। এই অঞ্চলের শুরুতে দীর্ঘতম দিন সাড়ে পনেরো ঘণ্টা এবং এর শেষে পৌনে ষোলো ঘণ্টা। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর মধ্যভাগের দৈর্ঘ্য সাত হাজার একশ পঁচাত্তর মাইল ও তেষট্টি মিনিট, এবং প্রস্থ দুইশ পনেরো মাইল ও উনচল্লিশ মিনিট। এর ক্ষেত্রফল দশ লক্ষ ছেচল্লিশ হাজার সাতশ একুশ মাইল ও কয়েক মিনিট। পারসিকদের মতে এটি বুধ গ্রহের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং রোমানদের মতে এটি চাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট। ফারসিতে এর নাম ‘তির’ এবং রাশিচক্রের মধ্যে এর অন্তর্ভুক্ত হলো মিথুন ও কন্যা রাশি।

 

‌‌সপ্তম জলবায়ু:

এর শুরু সেখান থেকে যেখানে বিষুবকালে মধ্যাহ্নের ছায়া হয় সাড়ে সাত কদম, এক দশমাংশ এবং এক কদমের ষোলো ভাগের এক ভাগ, যেমনটি ষষ্ঠ জলবায়ু অঞ্চলে ছিল; কারণ ষষ্ঠের শেষই সপ্তমের শুরু। আর এর শেষ সেখানে যেখানে বিষুবকালে মধ্যাহ্নের ছায়া হয় সাড়ে আট কদম এবং এক কদমের বিশ ভাগের এক ভাগ। এখানে খুব বেশি জনবসতি নেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে বনভূমি ও পাহাড় যেখানে তুর্কিদের কিছু দল বন্য মানুষের মতো বসবাস করে। এটি বাশঘিরদ পাহাড়, বাজনাকিয়াহ-র সীমানা, সারার, বুলগার, রুশ, সাকালেবা ও বুলঘারিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে এবং পরিবেষ্টনকারী মহাসাগরে গিয়ে শেষ হয়। এই অঞ্চলের পেছনে আইসু, ওরানক, ইউরাহ ও তাদের মতো অল্প কিছু জাতি বসবাস করে। এর নিম্ন প্রান্ত যা দক্ষিণের দিকে অবস্থিত, সেখানে পঞ্চম জলবায়ু অঞ্চলের উত্তর প্রান্ত অবস্থিত এবং এর উত্তর প্রান্ত ষষ্ঠ জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত যা এর নিকটবর্তী। এটি পূর্ব ও পশ্চিমে খাওয়ারিজম ও তারাবজান্দার দিক। এর উত্তর প্রান্ত সাকালেবা অঞ্চলের শেষ প্রান্তে এবং উত্তরে খাওয়ারিজমের নিকটবর্তী তুর্কিদের প্রান্তসীমায় অবস্থিত। এর মধ্যভাগ আল-লান অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে কোনো প্রসিদ্ধ শহর নেই যা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই অঞ্চলের শুরুতে দীর্ঘতম দিন পৌনে ষোলো ঘণ্টা, মধ্যভাগে ষোলো ঘণ্টা এবং শেষে সোয়া ষোলো ঘণ্টা। পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর মধ্যভাগের দৈর্ঘ্য ছয় হাজার সাতশ আশি মাইল ও চুয়ান্ন মিনিট, এবং প্রস্থ একশ পঁচাশি মাইল ও বিশ মিনিট। এর ক্ষেত্রফল বারো লক্ষ চব্বিশ হাজার আটশ চব্বিশ মাইল ও ঊনপঞ্চাশ মিনিট। পারসিকদের মতে এটি চাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং রোমানদের মতে এটি মঙ্গলের সাথে সংশ্লিষ্ট। ফারসিতে এর নাম ‘মাহ’ এবং রাশিচক্রের মধ্যে এর অন্তর্ভুক্ত হলো কর্কট রাশি। এই জলবায়ু অঞ্চলের শেষ সীমানাই হলো জনবসতির শেষ সীমা। এর পেছনে এমন কিছু লোক ছাড়া কেউ নেই যাদের কোনো গুরুত্ব নেই। তারা অত্যন্ত সংকীর্ণ জীবনযাপন করে এবং শিষ্টাচারের অভাবে তারা বন্য প্রাণীর মতো। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।

 

‌‌বারোটি রাশির প্রত্যেকের সাথে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের বর্ণনা

মেষ রাশি: এর সাথে সংশ্লিষ্ট হলো ব্যাবিলন, পারস্য, আজারবাইজান, আল-লান এবং ফিলিস্তিন।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الثور: له الماهان، وهمذان، والأكراد الجبليون، ومدين، وجزيرة قبرس، والاسكندرية، والقسطنطينية، وعمان، والري، وفرغانة، وله شركة في هراة وسجستان.

الجوزاء: له جرجان، وجيلان، وأرمينية، وموقان، ومصر، وبرقة، وبرجبان، وله شركة في أصفهان وكرمان.

السرطان: له أرمينية الصغرى، وشرقي خراسان، وبعض إفريقية، وهجر، والبحرين، والديبل، ومرو الروذ وله شركة في أذربيجان وبلخ.

الأسد: له الترك إلى يأجوج، ونهاية العمران التي تليها، وعسقلان، والبيت المقدس، ونصيبين، وملطية، وميسان، ومكران، والديلم، وايرانشهر، وطوس، والصعيد، وترمذ.

السنبلة: له الأندلس، وجزيرة أقريطش، ودار مملكة الحبشة، والجرامقة، والشام، والفرات، والجزيرة، وديار بكر، وصنعاء، والكوفة وما بين كرمان من بلاد فارس، وسجستان، إلى تخوم السند.

الميزان: له الروم وما بين تخومها الى إفريقية، وسجستان، وكابل، وقشمير، وصعيد مصر، إلى تخوم الحبشة، وبلخ، وهراة، وانطاكية، وطرطوس، ومكة، والطالقان، وطخارستان، والصين.

3. معجم البلدان دار صادر
বৃষ রাশি: এর অধীনে রয়েছে মাহান দ্বয়, হামদান, পাহাড়ী কুর্দি অঞ্চল, মাদইয়ান, সাইপ্রাস দ্বীপ, আলেকজান্দ্রিয়া, কনস্টান্টিনোপল, ওমান, রায় এবং ফারগানা। এছাড়া হেরাত ও সিজিস্তানে এর অংশীদারিত্ব রয়েছে।

মিথুন রাশি: এর অধীনে রয়েছে জুরজান, জিলান, আর্মেনিয়া, মুকান, মিশর, বারকা এবং বারজাবান। এছাড়া ইসফাহান ও কিরমানে এর অংশীদারিত্ব রয়েছে।

কর্কট রাশি: এর অধীনে রয়েছে ক্ষুদ্রতর আর্মেনিয়া, পূর্ব খোরাসান, আফ্রিকার কিছু অংশ, হাজার, বাহরাইন, দাইবাল এবং মার্ভ আর-রুদ। এছাড়া আজারবাইজান ও বালখে এর অংশীদারিত্ব রয়েছে।

সিংহ রাশি: এর অধীনে রয়েছে তুর্কিস্থান থেকে ইয়াজুজ পর্যন্ত এবং তৎসংলগ্ন জনবসতির শেষ সীমা পর্যন্ত, আসকালান, বাইতুল মুকাদ্দাস, নাসিবিন, মালাতিয়া, মাইসান, মাকরান, দাইলাম, ইরানশাহর, তুস, উচ্চ-মিশর এবং তিরমিয।

কন্যা রাশি: এর অধীনে রয়েছে আন্দালুস, ক্রিট দ্বীপ, হাবশা সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল, জারামিকা, শাম, ফোরাত, আল-জাজিরা, দিয়ার বাকর, সানা, কুফা এবং পারস্যের কিরমান থেকে সিজিস্তান হয়ে সিন্ধুর সীমানা পর্যন্ত এলাকা।

তুলা রাশি: এর অধীনে রয়েছে রোম এবং এর সীমানা থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত এলাকা, সিজিস্তান, কাবুল, কাশ্মীর, উচ্চ-মিশর থেকে হাবশার সীমানা পর্যন্ত, বালখ, হেরাত, আনতাকিয়া, তারতুস, মক্কা, তালকান, তুখারিস্তান এবং চীন।

৩. মুজামুল বুলদান, দার সাদির।
(খণ্ড: ১) মুজামুল বুলদান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
العقوب: له الحجاز، والمدينة، وبادية العرب ونواحيها إلى اليمن، وقومس، والري، وطنجة، والخزر، وآمل، وسارية، ونهاوند، والنهروان، وله شركة في الصغد.

القوس: له الجبال، والدينور، وأصفهان، وبغداد، ودنباوند، وباب الأبواب، وجندي سابور، وله شركة في بخارا، وجرجان، وشواطئ بحر أرمينية وبربر إلى المغرب.

الجدي: له مكران، والسند، ونهر مهران، ووسط بحر عمان إلى الهند، والصين، وشرقي أرض الروم، والأهواز، وإصطخر.

الدلو: له السواد إلى ناحية الجيل، والكوفة وناحيتها، وظهر الحجاز، وأرض القبض من مصر، وغربي أرض السند، وله شركة في فارس.

الحوت: له طبرستان، وناحية الشمال من أرض جرجان، وبخارا وسمرقند وقاليقلا إلى الشام، والجزيرة، ومصر، والاسكندرية، وبحر اليمن، وشرقي أرض الهند، وله شركة في الروم.

هكذا وجدت هذا في بعض الأزياج، وفيه تكرار باختلاف اللفظ في عدّة مواضع، نحو قوله:

بابل والعراق والسواد وبغداد والنهروان والكوفة، كل هذا من السواد، وكل هذا من أرض بابل، وكل هذا من العراق وبغداد والنهروان والكوفة فمضمومة إلى ذلك. وفيما تقدّم أمثال لهذا، والله أعلم بحقيقة ذلك، وفي الصورة السابقة رسم بسيط الأرض، وهيئة البيت الحرام، واستقبال الناس إياه من جميع جهات الأرض على وجه التقريب، وفيه نظر.
বৃশ্চিক: তার জন্য রয়েছে হিজায, মদিনা, আরব মরুভূমি ও এর আশপাশের ইয়েমেন পর্যন্ত অঞ্চলসমূহ, কুমিস, রাই, তানজাহ, খাযার, আমুল, সারিয়াহ, নিহাওয়ান্দ ও নাহরাওয়ান এবং সগদ অঞ্চলে তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।

ধনু: তার জন্য রয়েছে জিবাল অঞ্চল, দিনাওয়ার, ইসফাহান, বাগদাদ, দামাওয়ান্দ, বাবুল আবওয়াব ও জুনদাই শাপুর এবং বুখারা, জুরজান, আর্মেনীয় সাগরের উপকূলভাগ ও মরক্কো পর্যন্ত বারবার অঞ্চলে তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।

মকর: তার জন্য রয়েছে মাকরান, সিন্ধু, মেহরান নদী, ওমান সাগরের মধ্যভাগ থেকে ভারত পর্যন্ত, চীন, রোম ভূখণ্ডের পূর্বাঞ্চল, আহওয়াজ এবং ইস্তাখর।

কুম্ভ: তার জন্য রয়েছে জিল অভিমুখী সাওয়াদ অঞ্চল, কুফা ও এর আশপাশ, হিজাযের উপরিভাগ, মিশরের কিবত ভূমি এবং সিন্ধু ভূখণ্ডের পশ্চিমাঞ্চল এবং পারস্যে তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।

মীন: তার জন্য রয়েছে তাবারিস্তান, জুরজান ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চল, বুখারা, সমরকন্দ এবং কালিকালা থেকে সিরিয়া পর্যন্ত, জাজিরা, মিশর, আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়েমেন সাগর ও ভারত ভূখণ্ডের পূর্বাঞ্চল এবং রোমে তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।

কিছু জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণীতে (যীজ) আমি এটি এভাবেই পেয়েছি, যাতে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি ঘটেছে, যেমন তাঁর কথা:

বাবেল, ইরাক, সাওয়াদ, বাগদাদ, নাহরাওয়ান এবং কুফা; এই সবই সাওয়াদের অন্তর্ভুক্ত, এবং এই সবই বাবেল ভূমির অন্তর্ভুক্ত, আর এই সবই ইরাকের অন্তর্ভুক্ত, এবং বাগদাদ, নাহরাওয়ান ও কুফাও এর সাথে সংযুক্ত। ইতিপূর্বে এ ধরণের আরও উদাহরণ অতিবাহিত হয়েছে এবং আল্লাহই এর প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত। পূর্ববর্তী চিত্রে পৃথিবীর মানচিত্র, বায়তুল হারামের আকৃতি এবং পৃথিবীর সকল দিক থেকে মানুষের সেদিকে মুখ করার আনুমানিক অবস্থা অঙ্কিত হয়েছে, তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।