(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: -)
أحسن التقاسيم في معرفة الأقاليم القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: أحسن التقاسيم في معرفة الأقاليم
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أحمد المقدسي البشاري
الناشر:
1 - ليدن
2 - دار صادر، بيروت
3 - مكتبة مدبولي القاهرة، الطبعة الثالثة، 1411/1991. (كلها نفس النسخة بترقيم صفحاتها)
عدد الصفحات: 498
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আহসানুত তাকাসীম ফী মা'রিফাতিল আকালীম বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: আহসানুত তাকাসীম ফী মা'রিফাতিল আকালীম
লেখক: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মুক্বাদ্দাসী আল-বাশশারী
প্রকাশক:
১ - লাইডেন
২ - দার সাদির، বৈরুত
৩ - মাকতাবাতু মাদবুলী কায়রো، তৃতীয় সংস্করণ، ১৪১১/১৯৯১। (সবগুলোই একই সংস্করণ এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা একই)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: -)
شمس الدين بن أحمد، أبو عبد الله الشاهي المعروف بالبشاري المقدسي. (335- 381 هـ)
ولادته، نشأته ودراساته
ولد تقريبا في سنة 335 هـ، لأنه ألف كتابه أحسن التقاسيم عام 375 هـ، وكان عمره آنذاك أربعين سنة. وأما نشأته فلا نملك معلومات وافية عنها سوى أنه نشأ في الشام.
أخذ منذ طفولته يتلقى العلوم والمعارف على يد العلماء والفقهاء وكان ولعا بعلم الجغرافيا فبدأ برحلته ليصب اهتمامه في هذا المجال. فكان يبقى في بعض البلدان كاليمن سنة كاملة وفي بعضها الآخر أيام ويكتب ما شاهده وينقل عمن كان يثق به وكان خلال رحلته يتصل بجميع طبقات المجتمع من عامة الناس إلى التيارات والمكاتب المختلفة- والحكماء والأمراء وغيرهم.
وكان يعيش المتناقضات في سفره فتارة تلم به النوائب كضنك العيش والطرد والقيام بالأعمال الشاقة وأخرى تحالفه الراحة والاستقرار كالتقرب إلى الأمراء وإمامة المسجد وغيرها ولكنه في كلتا الحالتين لم يفتر عن التأليف والتدوين.
وفاته
لم ترد في المصادر إشارة إلى تاريخ وفاته ولكن بما أنه ذكر الخليفة العباسي الطائع الذي استمرت خلافته ما بين سنتي 364 هـ و 381 هـ، ولم يذكر القادر الذي ورث الخلافة بعده يمكن القول بأن وفاته كانت في حدود سنة 381 هـ.
تم اقتباسه من كتاب «المقدسي البشاري حياته، منهجه» تأليف عدي يوسف المخلص و «تاريخ الكتب الجغرافية في العالم الإسلامي» تأليف كراتشكوفسكي.
শামসুদ্দীন বিন আহমদ, আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাহি, যিনি আল-বাশারি আল-মাকদিসি নামে পরিচিত। (৩৩৫-৩৮১ হিজরি)
তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষা
তিনি আনুমানিক ৩৩৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, কারণ তিনি তাঁর ‘আহসানুত তাকাসিম’ বইটি ৩৭৫ হিজরিতে রচনা করেছিলেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তাঁর বেড়ে ওঠা সম্পর্কে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, কেবল এতটুকু জানা যায় যে তিনি শামে (সিরিয়া অঞ্চলে) বেড়ে উঠেছেন।
শৈশব থেকেই তিনি আলেম ও ফকিহদের কাছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জন করতে শুরু করেন। ভূগোলের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল, তাই তিনি এই বিষয়ে তাঁর আগ্রহ নিবদ্ধ করতে সফর শুরু করেন। তিনি কোনো কোনো দেশে, যেমন ইয়েমেনে, পূর্ণ এক বছর অবস্থান করতেন, আবার অন্য কোথাও কয়েক দিন থাকতেন। তিনি যা দেখতেন তা লিখে রাখতেন এবং যাঁদের ওপর তাঁর আস্থা ছিল তাঁদের থেকে তথ্য গ্রহণ করতেন। সফরের সময় তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখতেন—সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মতাদর্শ ও চিন্তাধারার লোক, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, আমির এবং অন্যান্যদের সাথে।
তাঁর সফরে তিনি বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতেন; কখনো তিনি জীবনযাত্রার সংকীর্ণতা, বিতাড়ন এবং কঠোর পরিশ্রমের মতো বিপদে আক্রান্ত হতেন, আবার কখনো আরাম ও স্থিতিশীলতা তাঁর অনুকূলে আসত, যেমন আমিরদের নৈকট্য লাভ এবং মসজিদের ইমামতি করা ইত্যাদি। তবে উভয় অবস্থাতেই তিনি লেখালেখি ও সংকলনের কাজ থেকে বিরত হননি।
তাঁর মৃত্যু
উৎসগ্রন্থগুলোতে তাঁর মৃত্যুর তারিখ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু তিনি আব্বাসীয় খলিফা আত-তাই‘-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যাঁর খিলাফতকাল ছিল ৩৬৪ হিজরি থেকে ৩৮১ হিজরি পর্যন্ত, এবং তাঁর পরবর্তী খলিফা আল-কাদির-এর কথা উল্লেখ করেননি, তাই বলা যেতে পারে যে তাঁর মৃত্যু ৩৮১ হিজরির কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল।
এটি আদি ইউসুফ আল-মুখলিস রচিত ‘আল-মাকদিসি আল-বাশারি: হায়াতুহু, মানহাজুহু’ এবং ক্রাচকভস্কি রচিত ‘তারিখুল কুতুবিল জুগরাফিয়্যাহ ফিল আলামিল ইসলামি’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم ربّ يسّر وأعن بفضلك يا كريم الحمد للَّه الّذي خلق فقدّر وصوّر فأتقن صنع البريّة بلا مشير يناصره [1] ، ودبّرها بلا معين يعاضده [2] ،، أتقنها اىّ إتقان [3] ، وأحكمها بلا أعوان،، أوتد الأرض بالراسيات لئلّا تميد، واحاطها بالبحر كيلا يغلب ماؤها ويزيد،، وبثّ فيها عباده لينظر كيف يعملون فمنهم من آمن واهتدى، ومنهم من كفر وتولّى،، وصلّى الله على خير البريّة، وأكرم الذريّة،، محمّد وعلى آله وصاحبه وسلّم تسليما كثيرا [4] قال ابو عبد الله محمّد بن احمد المقدسيّ اما بعد فإنه ما زالت العلماء ترغب في تصنيف الكتب لئلّا تدرس [5] آثارهم، ولا تنقطع أخبارهم [6] ،، فأحببت ان اتبع سننهم [7] ، وأقفو سننهم،، وأقيم علما أحيى به ذكرى، ونفعا للخلق أرضى به ربّى،، ووجدت العلماء قد سبقوا الى العلوم فصنّفوا على الابتداء ثم تبعتهم [8] الأخلاف فشرحوا كلامهم واختصروه، فرأيت ان اقصد علما قد [9] اغفلوه، وانفرد بفنّ لم يذكروه،، الّا على الإخلال [10] وهو ذكر الأقاليم الإسلاميّة وما فيها من المفاوز والبحار، والبحيرات والأنهار،، ووصف امصارها المشهورة، ومدنها المذكورة،، ومنازلها المسلوكة وطرقها المستعملة وعناصر [11] العقاقير والآلات، ومعادن الحمل والتجارات،، واختلاف أهل البلدان في كلامهم وأصواتهم وألسنتهم وألوانهم، ومذاهبهم ومكاييلهم واوزانهم،، ونقودهم odexBerolinensis.tantinopolitanus.
--------------------------------------------
উপস্থাপনাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে প্রতিপালক! আপনার অনুগ্রহে সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন, হে মহানুভব। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টি করেছেন ও নির্ধারণ করেছেন, এবং আকৃতি দান করেছেন ও সৃষ্টির গঠনকে সুনিপুণ করেছেন কোনো পরামর্শদাতার সাহায্য ছাড়াই যে তাঁকে সহায়তা করবে [১]; এবং তিনি একে পরিচালিত করেছেন কোনো সাহায্যকারীর সহায়তা ছাড়াই যে তাঁকে সমর্থন জোগাবে [২]। তিনি একে অত্যন্ত নিপুণভাবে তৈরি করেছেন [৩], এবং কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই সুদৃঢ় করেছেন। তিনি জমিনকে সুদৃঢ় পাহাড়ের মাধ্যমে স্থিতিশীল করেছেন যাতে তা নড়ে না যায়, এবং একে সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন যাতে এর পানি উপচে না পড়ে ও বৃদ্ধি না পায়। এবং তিনি এতে তাঁর বান্দাদের ছড়িয়ে দিয়েছেন যাতে দেখেন তারা কেমন আমল করে; ফলে তাদের মধ্যে কেউ ঈমান এনেছে ও পথ পেয়েছে, আর কেউ কুফরি করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এবং দরুদ বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা এবং বংশধরদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত মুহাম্মাদ-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর এবং প্রচুর শান্তি বর্ষিত হোক [৪]। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাকদিসি বলেন: অতঃপর কথা এই যে, আলেমগণ সর্বদা গ্রন্থ রচনায় আগ্রহী ছিলেন যাতে তাঁদের চিহ্নসমূহ বিলীন না হয়ে যায় [৫], এবং তাঁদের সংবাদসমূহ বিচ্ছিন্ন না হয় [৬]। তাই আমিও তাঁদের রীতি অনুসরণ করতে [৭] এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পছন্দ করেছি; আর এমন এক জ্ঞান কায়েম করতে চেয়েছি যার মাধ্যমে আমি আমার স্মৃতিকে জীবিত রাখব এবং সৃষ্টির উপকারের মাধ্যমে আমার রবের সন্তুষ্টি অর্জন করব। আমি দেখেছি যে আলেমগণ জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রণী ছিলেন এবং তাঁরা মৌলিক গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন, এরপর উত্তরসূরিগণ তাঁদের অনুসরণ করেছেন [৮] এবং তাঁদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ও তা সংক্ষেপ করেছেন। তখন আমি এমন এক বিষয়ের সংকল্প করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা তাঁরা উপেক্ষা করেছেন [৯], এবং এমন এক বিদ্যায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে চেয়েছি যা তাঁরা উল্লেখ করেননি, অথবা কেবল ত্রুটিপূর্ণভাবে উল্লেখ করেছেন [১০]। আর তা হলো ইসলামী ভূখণ্ডসমূহের বর্ণনা এবং তাতে বিদ্যমান মরুভূমি ও সাগরসমূহ, হ্রদসমূহ ও নদীসমূহের বিবরণ। এবং এর প্রসিদ্ধ জনপদসমূহ ও উল্লেখযোগ্য শহরসমূহের বর্ণনা, এবং এর ব্যবহৃত মনজিলসমূহ (যাত্রাবিরতি) ও প্রচলিত রাস্তাঘাটসমূহ, এবং ওষধি ভেষজ ও যন্ত্রপাতির উৎসসমূহ [১১], পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের খনিসমূহ, এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের কথা, কণ্ঠস্বর, ভাষা ও বর্ণের পার্থক্য, এবং তাঁদের মাযহাবসমূহ, পরিমাপসমূহ ও ওজনসমূহের ভিন্নতা এবং তাঁদের মুদ্রা (বার্লিন ও কনস্টানটিনোপল পাণ্ডুলিপি অনুসারে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২)
وصروفهم، وصفة طعامهم وشرابهم وثمارهم ومياههم،، ومعرفة مفاخرهم وعيوبهم، وما يحمل من عندهم واليهم،، وذكر مواضع الاخطار في المغازات [1] ، وعدد المنازل في المسافات [2] ،، وذكر السباخ والصلاب والرمال، والتلال والسهول والجبال،، والحواوير [3] والسماق، والسمين منها والرّقاق،، ومعادن السعة والخصب، ومواضع الضيق [4] والجدب،، وذكر المشاهد والمراصد والخصائص والرسوم، والممالك والخدود والمصارد [5] والجروم،، والمخاليف [6] والزموم، والطساسيج والتخوم [7] ، والصنائع والعلوم،، والمباخس والمشاجر، والمناسك والمشاعر [7] ،، وعلمت انه باب لا بدّ منه للمسافرين والتجار، ولا غنى [8] عنده للصالحين والأخيار،، إذ هو علم ترغب [9] فيه الملوك والكبرا [10] ، وتطلبه القضاة والفقهاء، وتحبّه العامّة والرؤساء، وينتفع به كلّ مسافر [11] ، ويحظى به كلّ تاجر [12] ،، وما تمّ لي جمعه. الّا بعد جولانى في البلدان ودخولي أقاليم الإسلام ولقائي العلماء وخدمتي الملوك ومجالستي القضاة ودرسى على الفقهاء، واختلافي الى الأدباء والقرّاء [13] ،، وكتبة الحديث ومخالطة الزّهاد والمتصوّفين، وحضور مجالس القصّاص والمذكّرين [14] ،، مع لزوم التجارة في كلّ بلد، والمعاشرة مع كلّ أحد،، والتفطّن في هذه الأسباب بفهم قوىّ حتّى عرفتها، ومساحة الأقاليم بالفراسخ حتّى أتقنتها [15] ،، ودورانى على التخوم حتّى حرّرتها، وتنقّلى [16] الى الأجناد حتّى عرفتها،، وتفتيشى [17] عن المذاهب حتّى علمتها [18] ، وتفضّنى في الألسن والألوان حتّى رتّبتها،، وتدبّرى في الكور حتّى فصّلتها، وبحثى عن الاخرجة حتّى أحصيتها [19] ،، مع ذوق الهوا، ووزن الما، وشدّة العنا [20] ،، وبذل المال، وطلب الحلال،، وترك المعصية [21] ولزوم النصح للمسلمين بالحسبة، والصبر على الذلّ
--------------------------------------------
এবং তাদের রীতিনীতি, তাদের খাদ্য, পানীয়, ফলমূল ও পানির বিবরণ, এবং তাদের গর্ব ও ত্রুটিসমূহের পরিচিতি, আর যা তাদের নিকট থেকে রপ্তানি করা হয় এবং যা তাদের কাছে আমদানি করা হয়। এবং বিপদসংকুল মরুপ্রান্তরসমূহে [১] ঝুঁকির স্থানসমূহের উল্লেখ, দূরপাল্লার পথে গন্তব্যস্থলের [২] সংখ্যা, এবং লবণাক্ত ভূমি, শক্ত মাটি ও বালুকাময় মরুভূমি, আর টিলা, সমভূমি ও পাহাড়ের বর্ণনা। এবং সাদা মাটি [৩] ও লালচে ভূমি, আর এগুলোর উর্বর ও অনুর্বর অংশ, এবং সচ্ছলতা ও উর্বরতার খনিসমূহ, আর সংকীর্ণতা [৪] ও দুর্ভিক্ষের স্থানসমূহ। এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান, পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, বৈশিষ্ট্য ও রীতিনীতি, এবং রাজ্য, সীমানা, পানির উৎসস্থল [৫] ও উষ্ণ অঞ্চলসমূহ, আর প্রশাসনিক জেলা [৬] ও যাযাবর শিবিরসমূহ, পরগণা ও সীমানা [৭], এবং শিল্প ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনা। এবং করমুক্ত ভূমি ও বৃক্ষবহুল স্থানসমূহ, আর ইবাদতগাহ ও হজের পবিত্র স্থানসমূহ [৭]। আমি জানতে পেরেছি যে, এটি মুসাফির ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অপরিহার্য অধ্যায়, এবং পুণ্যবান ও সজ্জন ব্যক্তিদের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই [৮]। কেননা এটি এমন এক বিদ্যা যার প্রতি রাজা-বাদশাহ ও মহান ব্যক্তিগণ [১০] আগ্রহী হন [৯], এবং বিচারক ও ফকিহগণ এর অনুসন্ধান করেন, সাধারণ মানুষ ও নেতৃবৃন্দ এটি ভালোবাসেন, প্রত্যেক মুসাফির [১১] এর দ্বারা উপকৃত হয় এবং প্রত্যেক ব্যবসায়ী [১২] এর মাধ্যমে সৌভাগ্য লাভ করে। আর আমি এর সংকলন সম্পন্ন করতে পারিনি যতক্ষণ না আমি দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছি, ইসলামের রাজ্যসমূহে প্রবেশ করেছি, ওলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, রাজা-বাদশাহদের খিদমত করেছি, বিচারকদের সাথে মাজলিসে বসেছি, ফকিহদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেছি এবং সাহিত্যিক ও কারীগণের [১৩] কাছে যাতায়াত করেছি। এবং হাদিস লেখকগণের কাছে গমনাগমন, যাহিদ ও সুফিদের সাথে মেলামেশা এবং ওয়ায়েজ ও উপদেশদাতাদের [১৪] মজলিসে উপস্থিতি—এর সাথে প্রতিটি জনপদে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা এবং প্রত্যেকের সাথে মেলামেশা করেছি। আর তীক্ষ্ণ বোধশক্তি দিয়ে এই বিষয়গুলোতে মনোনিবেশ করেছি যতক্ষণ না আমি এগুলো অনুধাবন করতে পেরেছি, এবং ফরসাখের মাপে রাজ্যসমূহের আয়তন পরিমাপ করেছি যতক্ষণ না আমি তাতে পারদর্শী [১৫] হয়েছি। সীমানাসমূহ ঘুরেছি যতক্ষণ না আমি তা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করেছি, এবং সেনানিবাসগুলোতে [১৬] যাতায়াত করেছি যতক্ষণ না সেগুলো চিনে নিয়েছি। এবং বিভিন্ন মাযহাব সম্পর্কে অনুসন্ধান [১৭] চালিয়েছি যতক্ষণ না আমি সেগুলো জানতে [১৮] পেরেছি। বিভিন্ন ভাষা ও বর্ণের লোকদের মধ্যে বিচরণ করেছি যতক্ষণ না আমি তাদের বিন্যস্ত করতে পেরেছি। প্রদেশসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি যতক্ষণ না আমি সেগুলোকে পৃথক পৃথকভাবে বর্ণনা করতে পেরেছি এবং ভূমি রাজস্ব অনুসন্ধান করেছি যতক্ষণ না আমি তা গণনা করতে পেরেছি [১৯]। এর সাথে আবহাওয়ার স্বাদ গ্রহণ, পানির ওজন পরীক্ষা এবং চরম কষ্ট [২০] স্বীকার করেছি। অর্থ ব্যয় করেছি, হালাল জীবিকা অন্বেষণ করেছি এবং পাপ [২১] বর্জন করেছি; আর সওয়াবের আশায় মুসলমানদের হিতাকাঙ্ক্ষী হওয়া এবং লাঞ্ছনার ওপর ধৈর্য ধারণ করাকে নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৩)
والغربة، والمراقبة للَّه [1] والخشية،، بعد ما رغّبت نفسي [2] في الأجر، وطمّعتها في حسن الذكر،، وخوّفتها من الأتم وتجنّبت الكذب والطغيان، وتحرّزت بالحجج من الطعان،، ولم أودعه المجاز والمحال، ولا سمعت الّا قول الثقات من الرجال،، أعاننا الله [1] على ما قصدناه، ووفّقنا لما يحبّه ويرضاه،، فانّا له عابدون، واليه راجعون [3] ،،
مقدّمات وفصول لا بدّ منهااعلم انى اسّست هذا الكتاب على قواعد محكمة وأسندته بدعائم قويّة وتحرّيت جهدي الصواب، واستعنت بفهم [4] اولى الألباب،، وسألت الله عزّ اسمه [5] ان يجنّبنى الخطأ والزلل، ويبلغني الرجاء والأمل،، فأعلى قواعده [6] وارصف بنيانه ما شاهدته وعقلته، وعرفته وعلّقته،، وعليه رفعت البنيان [7] وعملت الدعائم والأركان،، ومن قواعده أيضا [8] وأركانه، وما استعنت به على تبيانه [9] ،، سؤال ذوى العقول من الناس، ومن لم أعرفهم بالغفلة والالتباس،، عن الكور والأعمال في الاطراف التي بعدت عنها، ولم يتقدّر لي الوصول اليها،، فما وقع عليه اتّفاقهم اثبته، وما اختلفوا فيه نبذته،، وما لم يكن لي بدّ [10] من الوصول اليه والوقوف عليه قصدته وما لم يقرّ في قلبي ولم يقبله عقلي أسندته الى الّذي ذكره أو قلت زعموا [11] وشحنته بفصول وجدتها في خزائن الملوك وكلّ من سبقنا الى هذا العلم لم يسلك الطريق التي قصدتها [12] ولا طلب الفوائد التي أردتها امّا ابو عبد الله الجيهانىّ فإنه [13] كان وزير أمير خراسان وكان صاحب فلسفة ونجوم وهيئة [14] فجمع الغرباء وسألهم عن الممالك ودخلها
--------------------------------------------
এবং নির্জনতা, আল্লাহর [১] প্রতি সদা-সতর্কতা এবং তাঁর ভয়। আমি আমার নফসকে প্রতিদানের প্রতি লালায়িত করেছি [২], সুখ্যাতির ব্যাপারে তাকে আশান্বিত করেছি, গুনাহ থেকে তাকে ভীতি প্রদর্শন করেছি, মিথ্যা ও সীমালঙ্ঘন পরিহার করেছি এবং দলিলের মাধ্যমে বিদ্রূপ থেকে আত্মরক্ষা করেছি। আমি এতে (কিতাবে) কোনো রূপক বা অসম্ভব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করিনি। আমি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কথা ছাড়া আর কিছুই শুনিনি। আমরা যা সংকল্প করেছি তাতে আল্লাহ [১] আমাদের সাহায্য করুন এবং তিনি যা পছন্দ করেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন তাতে আমাদের তাওফিক দান করুন। নিশ্চয় আমরা তাঁরই ইবাদতকারী এবং তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তনকারী [৩]।
অপরিহার্য ভূমিকা ও পরিচ্ছেদসমূহজেনে রাখুন, আমি এই কিতাবটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং শক্তিশালী স্তম্ভের মাধ্যমে একে ঠেস দিয়েছি। আমি সাধ্যমতো সঠিকটি অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি এবং প্রজ্ঞাবানদের [৪] বোধশক্তির সাহায্য নিয়েছি। আমি সুমহান আল্লাহর [৫] কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন আমাকে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং আমাকে আমার প্রত্যাশা ও আশায় পৌঁছে দেন। এর সর্বোচ্চ ভিত্তি [৬] এবং সুসংহত গাঁথুনি হলো যা আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি, অনুধাবন করেছি, জেনেছি এবং লিপিবদ্ধ করেছি। তার ওপরই আমি এই কাঠামো [৭] নির্মাণ করেছি এবং স্তম্ভ ও রুকনগুলো তৈরি করেছি। এর আরও কিছু মূলনীতি [৮] ও স্তম্ভ রয়েছে, যার মাধ্যমে আমি এর বর্ণনায় [৯] সাহায্য নিয়েছি; তা হলো—মানুষদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান এবং যাদের আমি গাফলতি বা বিভ্রান্তির শিকার হিসেবে জানি না তাদের জিজ্ঞাসা করা—এমন সব অঞ্চল ও প্রশাসনিক এলাকা সম্পর্কে যা আমার থেকে দূরে ছিল এবং যেখানে পৌঁছানো আমার জন্য সম্ভব হয়নি। তাদের তথ্যের মধ্যে যা ঐকমত্যপূর্ণ ছিল তা আমি সাব্যস্ত করেছি, আর যা মতভেদপূর্ণ ছিল তা বর্জন করেছি। আর যে স্থানগুলোতে পৌঁছানো [১০] এবং পর্যবেক্ষণ করা আমার জন্য অপরিহার্য ছিল, আমি সেগুলোর সংকল্প করেছি। আর যা আমার হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে বসেনি বা আমার বিবেক গ্রহণ করেনি, তা আমি বর্ণনাকারীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি অথবা বলেছি ‘তারা দাবি করে’ [১১]। আমি একে এমন কিছু পরিচ্ছেদ দিয়ে সমৃদ্ধ করেছি যা আমি রাজকীয় ভাণ্ডারে পেয়েছি। যারা এই বিদ্যায় আমাদের অগ্রগামী ছিলেন তাদের কেউই আমার অনুসৃত পথ [১২] অবলম্বন করেননি এবং আমার উদ্দিষ্ট উপকারিতাগুলো অন্বেষণ করেননি। আবু আব্দুল্লাহ আল-জাইহানি সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি [১৩] ছিলেন খুরাসানের আমিরের উজির এবং তিনি দর্শন, জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাকাশবিজ্ঞানের [১৪] পারদর্শী ছিলেন। তিনি ভিনদেশি মুসাফিরদের একত্রিত করতেন এবং তাদের কাছে বিভিন্ন দেশ ও তার প্রবেশপথ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৪)
وكيف المسالك اليها وارتفاع الخنّس [1] منها وقيام الظلّ فيها ليتوصّل بذلك الى فتوح البلدان ويعرف دخلها ويستقيم له علم [2] النجوم. ودوران الفلك ألا ترى كيف [3] جعل العالم سبعة أقاليم وجعل لكلّ إقليم كوكبا مرّة يذكر النجوم والهندسة وكرّة يورد [4] ما ليس للعوامّ فيه فائدة [5] وتارة ينعت أصنام الهند وطورا يصف عجائب السند وحينا يفصّل الخراج والردّ [6] ورايته ذكر منازل مجهولة ومراحل مهجورة [7] ولم يفصّل الكور ولا رتّب الأجناد [8] ولا وصف المدن ولا استوعب ذكرها [7] بل ذكر الطرق شرقا وغربا وشمالا وجنوبا مع شرح [9] ما فيها من السهول والجبال [7] والاودية والتلال والمشاجر والأنهار وبذلك [10] طال كتابه وغفل عن أكثر طرق الأجناد ووصف المدائن الجياد [11] ، واما أبو زيد البلخيّ فإنه قصد بكتابه الأمثلة وصورة الأرض [12] بعد ما قسمها على عشرين جزءا ثم شرح كلّ مثال واختصر ولم يذكر الأسباب المفيدة ولا أوضح الأمور النافعة في التفصيل والترتيب وترك كثيرا من امّهات المدن فلم يذكرها وما دوّخ [13] البلدان ولا وطئ الأعمال الا ترى ان صاحب خراسان استدعاه الى حضرته ليستعين به فلمّا بلغ جيحون كتب اليه ان كنت استدعيتنى لمّا بلغك من صائب رأيي فانّ رأيي يمنعني من عبور هذا النهر فلمّا قرأ كتابه امره بالخروج الى بلخ، وامّا ابن الفقيه الهمذانيّ فإنه سلك طريقة اخرى ولم يذكر الّا المدائن العظمى ولم يرتّب الكور والأجناد [14] وادخل في كتابه ما لا يليق به من العلوم مرّة يزهد في الدنيا وتارة يرغب فيها ودفعة يبكى وحينا يضحك ويلهى، وامّا الجاحظ [15] وابن خرداذبه فان كتابيهما
--------------------------------------------
সেখানে যাওয়ার পথসমূহ কেমন, সেখান থেকে পশ্চাৎপসরণকারী নক্ষত্ররাজির [১] উত্থান এবং সেখানে ছায়ার অবস্থান—যাতে এর মাধ্যমে দেশসমূহের বিজয় পর্যন্ত পৌঁছানো যায়, সেগুলোর আয় সম্পর্কে জানা যায় এবং তার নিকট জ্যোতির্বিজ্ঞান [২] যথার্থ হয়। আর মহাকাশের আবর্তন। আপনি কি দেখেন না কীভাবে [৩] তিনি বিশ্বকে সাতটি মহাদেশে বিভক্ত করেছেন এবং প্রতিটি মহাদেশের জন্য একটি করে নক্ষত্র নির্ধারণ করেছেন? কখনও তিনি নক্ষত্র ও জ্যামিতির কথা উল্লেখ করেন, আবার কখনও এমন কিছু অবতারণা করেন [৪] যাতে সাধারণ মানুষের কোনো উপকার [৫] নেই। কখনও তিনি ভারতের মূর্তিসমূহের গুণগান করেন, আবার কখনও সিন্ধুর বিস্ময়কর বিষয়াবলি বর্ণনা করেন, আর কখনও ভূমিরাজস্ব ও তার হিসাব [৬] বিস্তারিত আলোচনা করেন। আমি তাকে দেখেছি যে, তিনি কিছু অজ্ঞাত মঞ্জিল ও পরিত্যক্ত মনজিলসমূহের [৭] উল্লেখ করেছেন। তিনি জেলাসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেননি, সৈন্যবাহিনীসমূহকেও [৮] বিন্যস্ত করেননি, শহরগুলোর বর্ণনাও দেননি এবং সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ উল্লেখও [৭] করেননি; বরং তিনি পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ—সবদিকের পথসমূহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে বিদ্যমান সমতল ভূমি, পাহাড় [৭], উপত্যকা, টিলা, বনভূমি ও নদ-নদীর ব্যাখ্যা [৯] প্রদান করেছেন। এর ফলে [১০] তার গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং তিনি অধিকাংশ সামরিক পথ ও উৎকৃষ্ট শহরসমূহের বর্ণনা [১১] সম্পর্কে গাফেল থেকেছেন। আর আবু যায়েদ আল-বালখী প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তিনি তার গ্রন্থে পৃথিবীর মানচিত্র ও উদাহরণের [১২] সংকল্প করেছিলেন, পৃথিবীকে বিশটি ভাগে বিভক্ত করার পর। অতঃপর তিনি প্রতিটি উদাহরণের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং সংক্ষেপ করেছেন। তিনি তথ্যবহুল কারণসমূহ উল্লেখ করেননি এবং বিস্তারিত বিবরণ ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে উপকারী বিষয়গুলো স্পষ্ট করেননি। তিনি অনেক প্রধান শহর ছেড়ে গেছেন এবং সেগুলোর উল্লেখ করেননি। তিনি দেশসমূহ পরিভ্রমণ [১৩] করেননি এবং প্রদেশগুলোতে পদার্পণ করেননি। আপনি কি দেখেন না যে, খোরাসানের অধিপতি তার সাহায্য নেওয়ার জন্য তাকে নিজের দরবারে তলব করেছিলেন? যখন তিনি জাইহুন নদীতে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাকে লিখে পাঠালেন: ‘আপনি যদি আমার সঠিক মতামতের খবর পেয়ে আমাকে ডেকে থাকেন, তবে আমার মত তো আমাকে এই নদী পার হতে বাধা দিচ্ছে।’ যখন তিনি তার পত্রটি পড়লেন, তখন তাকে বালখে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর ইবনুল ফকিহ আল-হামাদানি অন্য পথ অবলম্বন করেছেন; তিনি কেবল বড় বড় শহরগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন এবং জেলা ও সৈন্যবাহিনীর বিন্যাস [১৪] করেননি। তিনি তার গ্রন্থে এমন সব জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা এর সাথে মানানসই নয়; কখনও তিনি দুনিয়াবিমুখতার কথা বলেন, আবার কখনও দুনিয়ার প্রতি আসক্তি তৈরি করেন। একবার তিনি কাঁদেন, আবার কখনও হাসেন ও কৌতুক করেন। আর আল-জাহিয [১৫] এবং ইবনে খুরদাদবিহ প্রসঙ্গে বলা যায় যে, তাদের গ্রন্থদ্বয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مختصران جدّا لا يحصل منهما كثير فائدة [1] ، فهذا ما وقع إلينا من المصنّفات في هذا الباب بعد البحث والطلب وتقليب الخزائن والكتب وقد
--------------------------------------------
অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত দুটি গ্রন্থ, যা থেকে খুব বেশি উপকার লাভ করা যায় না [১]। অনুসন্ধান, অন্বেষণ এবং কিতাবখানা ও গ্রন্থসমূহ তন্নতন্ন করে খোঁজার পর এই বিষয়ে যে সকল রচনা আমাদের হস্তগত হয়েছে তা হলো এই, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৬)
اجتهدنا في ان لا نذكر شيئا قد سطروه، ولا نشرح امرا قد أوردوه [1] ،، الّا عند الضرورة لئلّا نبخس حقوقهم، ولا نسرق من تصانيفهم،، مع انّه لا يعرف فضل كتابنا هذا الّا من نظر في كتبهم أو دوّخ البلدان وكان من أهل العلم والفطنة ثم انّى لا أبرّئ نفسي من الزلل، ولا كتابي من الخلل، ولا اسلّمه من الزيادة والنقصان ولا أفلته من الطعن على [2] كلّ حال، وبعد فانّ شرحنا الأسباب التي شرطناها [3] في الخطبة يتفاوت [4] في الأقاليم ولا يتساوى لانّا انّما نذكر ما نعرف [5] وليس هو علم يطّرد بالقياس فيتساوى، وانّما يدرك بالمعاينة والخبر [6] فينهى،، وفي كتابنا هذا اختصار لفظ يدلّ على معان مثل قولنا لا نظير له نريد
--------------------------------------------
আমরা সচেষ্ট হয়েছি যেন তাঁরা যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা আমরা উল্লেখ না করি এবং তাঁরা যা উপস্থাপন করেছেন তা ব্যাখ্যা না করি, তবে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত; যাতে আমরা তাঁদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না করি এবং তাঁদের সংকলনসমূহ থেকে চৌর্যবৃত্তি না করি। যদিও আমাদের এই গ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল সেই ব্যক্তিই অনুধাবন করতে পারবে যে তাঁদের গ্রন্থসমূহ গভীরভাবে পাঠ করেছে অথবা দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ করেছে এবং যে ছিল জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী। অতঃপর আমি নিজেকে পদস্খলন থেকে মুক্ত ঘোষণা করি না এবং আমার গ্রন্থকে ত্রুটিমুক্ত দাবি করি না। আমি একে হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে নিরাপদ মনে করি না এবং কোনো অবস্থাতেই একে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখি না। এরপর কথা হলো, আমরা ভূমিকার মধ্যে যেসব বিষয়ের শর্তারোপ করেছি তার ব্যাখ্যা অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন হবে এবং তা সমান হবে না। কারণ আমরা কেবল তা-ই উল্লেখ করি যা আমরা জানি, আর এটি এমন কোনো জ্ঞান নয় যা কিয়াসের (অনুমান) ভিত্তিতে সর্বদা একই নিয়মে চলে। বরং এটি প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদের মাধ্যমেই অনুধাবন করা ও সম্পন্ন করা হয়। আমাদের এই গ্রন্থে এমন কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দ রয়েছে যা গভীর অর্থের প্রতি নির্দেশ করে, যেমন আমাদের উক্তি: 'তার কোনো নজির নেই', এর দ্বারা আমরা উদ্দেশ্য করি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ان ليس مثله بتّة مثل معنّقة [1] بيت المقدس ونيدة [2] مصر وليمو [3] البصرة وهذه أشياء لا يرى مثلها وان كانت أجناسا، فان قلنا غاية فإنها تعنى [4] في الجودة من الأجناس مثل اجّاس [5] العمرىّ بشيراز وتين الدمشقيّ بالرملة ومشمش العصلونىّ والريباس بنيسابور، فان قلنا جيّد فقد يكون أجود منه............ [6] الطائفيّ ونيل أريحا خير منه الزّبيدىّ وخوخ مكّة اسرى منه الدارقىّ، وربّما اجملنا القول وتحته شرح مثل قولنا في الأهواز ليس لجامعها حرمة وذلك انه ابدا مملوّ بخلق من الشطّار والسوقة والجهّال يتّعدون اليه ويجتمعون فيه ثم لا يخلو من قوم جلوس والناس في الفريضة وهو بيت الشّحاذين ومركز للفاسقين، وكقولنا ولا أعز من أهل بيت المقدس لأنك لا ترى بها بخسا ولا تطفيفا ولا شربا ظاهرا ولا سكران ولا بها دور فسق سرّا ولا اعلانا مع تعبّد وإخلاص ولقد بلغهم ان الأمير يشرب فتسوّروا عليه داره وفرّقوا أهل مجلسه، ومثل قولنا في شيراز لا مقدار لأهل الطيالسة بها وذلك انه لباس الشريف والوضيع والعالم والجاهل وكم قد رأيت بها من سكارى قد بعثروا بطيالسهم وسحبوها وكنت إذا استأذنت على الوزير وانا مطيلس حجبت الّا إذا عرفت وإذا أتيت بدرّاعة أذن لي، وربّما ذكّرنا وانّثنا في ذكر بلدة واحدة فالتذكير مصروف الى مصر والتأنيث الى قصبة ومدينة مع ان أهل الأدب قد أجازوا ذلك فيما ليس له روح، والبلد يعمّ المصر والقصبة والرستاق والكورة والناحية وإذا وصفنا قصبة في كورتها ذكرناها باسمها مثل الفسطاط ونموجكث [7] واليهوديّة وان ذكرناها في موضع اخر ذكرناها باسمها المعروف عند الناس فقلنا مصر [8] بخارا أصبهان، وكلّما قلنا المشرق فهي دولة آل سامان فان قلنا الشرق أردنا أيضا فارس [9] وكرمان والسند فان قلنا المغرب فهو الإقليم فان قلنا الغرب تبع ذلك مصر والشام وقد اودعناه
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই বাইতুল মাকদিসের মুআন্নাকাহ, মিশরের নিদাহ এবং বসরার লিমুর মতো জিনিসের একেবারেই কোনো তুলনা নেই। এই বস্তুগুলো এমন যে এগুলোর সমতুল্য কিছু দেখা যায় না, যদিও এগুলো নিজ নিজ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। আমরা যখন কোনো কিছুকে 'চরম উৎকর্ষ' (গায়াহ) বলি, তখন এর দ্বারা গুণমানের দিক থেকে সেই শ্রেণির শ্রেষ্ঠত্ব বোঝায়; যেমন শিরাজের উমারি আলুবোখারা, রামলার দামেস্কি ডুমুর, আসালুনি খুবানি এবং নিশাপুরের রিবাস। আর যদি আমরা বলি 'উত্তম', তবে তার চেয়েও উত্তম কিছু থাকতে পারে... যেমন তায়েফের কিশমিশ এবং আরীহার নীল, তবে জুবাইদি তার চেয়ে উত্তম এবং মক্কার পীচ, তবে দারকি তার চেয়ে অগ্রগণ্য। কখনও আমরা সংক্ষেপে বলি কিন্তু তার ভেতরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকে; যেমন আহওয়াজ সম্পর্কে আমাদের উক্তি: 'সেখানকার জামে মসজিদের কোনো মর্যাদা নেই।' এর কারণ হলো, এটি সর্বদা একদল দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী, বাজারী সাধারণ লোক এবং অজ্ঞদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে, যারা সেখানে ভিড় করে এবং একত্রিত হয়। তদুপরি, সেখানে সর্বদা একদল লোক বসে থাকে অথচ মানুষ তখন ফরজ নামাজে মশগুল। এটি ভিক্ষুকদের আবাসস্থল এবং পাপাচারীদের আড্ডাখানা। আবার যেমন আমাদের উক্তি: 'বাইতুল মাকদিসের অধিবাসীদের চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কেউ নেই।' কারণ সেখানে আপনি ওজনে কম দেওয়া, মাপে কারচুপি, প্রকাশ্যে মদ্যপান বা মাতলামি দেখবেন না। সেখানে গোপনে বা প্রকাশ্যে কোনো পাপাচারের আড্ডাখানা নেই। তারা অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও নিষ্ঠাবান। এমনকি তাদের কাছে যখন খবর পৌঁছাল যে আমীর মদ্যপান করেন, তখন তারা তার প্রাসাদের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে তার মজলিসের লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল। শিরাজ সম্পর্কে আমাদের উক্তি: 'সেখানে তয়ালিসা (এক প্রকার চাদর) পরিধানকারীদের কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই।' কারণ এটি সম্ভ্রান্ত-সাধারণ এবং আলেম-অজ্ঞ নির্বিশেষে সকলের পোশাক। আমি সেখানে কত মাতালকে দেখেছি যারা তাদের তয়ালিসা এলোমেলো করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি যখন উজিরের সাথে দেখা করার অনুমতি চাইতাম এবং তয়ালিসা পরিহিত থাকতাম, তখন আমাকে বাধা দেওয়া হতো, যদি না আমি পরিচিত হতাম। আর যখন দুরুআহ (এক প্রকার জামা) পরে আসতাম, তখন আমাকে অনুমতি দেওয়া হতো। কখনও আমরা একই শহরের কথা বলতে গিয়ে পুংলিঙ্গ এবং কখনও স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করি। পুংলিঙ্গ ব্যবহার করা হয় 'মিশর' (দেশ বা ভূখণ্ড) অর্থে আর স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করা হয় 'কাসবাহ' (প্রধান শহর) বা নগরের অর্থে। যদিও ভাষাবিদগণ প্রাণহীন বস্তুর ক্ষেত্রে উভয় লিঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। 'বালাদ' শব্দটি মিশর, কাসবাহ, রুস্তাক, কুরাহ এবং নাহিয়াহ—সবগুলোকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যখন আমরা কোনো কুরাহ-র অন্তর্ভুক্ত কোনো কাসবাহর বর্ণনা দেই, তখন আমরা তাকে তার নিজস্ব নামে উল্লেখ করি, যেমন: ফুসতাত, নামুজকাছ এবং আল-ইয়াহুদীয়াহ। আর যখন অন্য কোনো প্রসঙ্গে তা উল্লেখ করি, তখন মানুষের কাছে পরিচিত নামে উল্লেখ করি, যেমন: মিশর (কায়রো), বুখারা, আসবাহান। যখনই আমরা 'মাশরিক' (পূর্বাঞ্চল) বলি, তখন তা দ্বারা সামানীয়দের রাষ্ট্র বোঝায়। আর যদি 'শারক' (পূর্ব) বলি, তবে তা দ্বারা পারস্য, কিরমান এবং সিন্ধুকেও উদ্দেশ্য করি। আর যদি আমরা 'মাগরিব' (পশ্চিমাঞ্চল) বলি, তবে তা দ্বারা একটি বিশেষ ভূখণ্ড বোঝায়। আর যদি আমরা 'গারব' (পশ্চিম) বলি, তবে তার অনুগামী হিসেবে মিশর ও সিরিয়াও অন্তর্ভুক্ত হয়। আর আমরা এটি গচ্ছিত রেখেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৮)
شيئا من الغوامض والمعاني ليجلّ ويقلّ واوردنا فيه الحجج توثّقا والحكايات تحقّقا والسجع تظرّفا والاخبار تبرّكا وبسطنا أكثره ليقف عليه العوامّ إذا تأمّلوه ورتّبناه على طرق الفقه ليجلّ عند العلماء إذا تدبّروه وذكرنا الاختلافات تبحّرا والنكت تحرّزا وطوّلناه [1] بوصف المدن لمعان شتّى وذكرنا الشؤون لفوائد لا تخفى وأوضحنا الطرق لان الحاجة اليها اشدّ وصوّرنا الأقاليم لان المعرفة بها اروج [2] وفصّلنا الكور لان ذلك أصوب، وقد استخرنا الله تعالى قبل [3] جمعه وسألناه التوفيق والمعونة بعد ما استشرنا صدور الزمان والأئمّة وحملنا محضره الى القاضي المختار عالم خراسان وأوفر قضاة الزمان [4] فكلّ أشار به وقبله وبعث على إحضاره [5] ومدحه [6] وقد ذكرنا ما رأيناه وحكينا ما سمعناه [7] فما صحّ عندنا بالمعاينة واخبار التواتر أرسلنا به القول وما شككنا فيه أو كان من طريق الآحاد اسندناه [8] الى الّذي منه سمعناه [9] ، ولم نذكر في كتابنا الّا صدرا مشهورا أو عالما مذكورا أو سلطانا [10] جليلا الّا عند ضرورة أو خلال حكاية ولو قارة [11] ذلك ان نسمّيه رجلا ونذكر محلّه لئلّا يدخل في جملة الاجلّة [12] ، واعلم. انّى [13] مع هذه الوثائق والشروط [14] لم أظهره حتّى بلغت الأربعين، ووطئت جميع [15] الأقاليم
--------------------------------------------
জটিল বিষয় ও অর্থের কিছু অংশ যাতে তা মর্যাদাপূর্ণ অথচ সংক্ষিপ্ত হয় এবং আমরা এতে নির্ভরযোগ্যতার জন্য প্রমাণাদি, নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘটনাবলী, চারুতার জন্য অনুপ্রাস এবং বরকতের জন্য বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছি। আমরা এর অধিকাংশ বিস্তৃত করেছি যাতে সাধারণ মানুষ যখন এটি নিয়ে চিন্তা করবে তখন তারা তা বুঝতে পারে। আমরা একে ফিকহ শাস্ত্রের পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করেছি যাতে ওলামায়ে কেরাম যখন এটি নিয়ে গবেষণা করবেন তখন তাদের নিকট এটি মর্যাদাপূর্ণ হয়। আমরা গভীর জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে মতভেদসমূহ এবং সতর্কতার জন্য সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উল্লেখ করেছি। আমরা বিভিন্ন কারণে শহরগুলোর বর্ণনায় একে দীর্ঘ করেছি [১] এবং এমন সব উপকারের জন্য বিষয়াবলী উল্লেখ করেছি যা গোপন নয়। আমরা পথসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি কারণ সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রবল এবং অঞ্চলগুলোর চিত্রায়ন করেছি কারণ সেগুলোর জ্ঞান অধিক প্রচলিত [২]। আমরা প্রদেশসমূহকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি কারণ সেটাই অধিক সঠিক। এটি সংকলনের পূর্বে [৩] আমরা মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ইমামগণের সাথে পরামর্শ করার পর তাঁর নিকট তৌফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করেছি। আমরা এর পাণ্ডুলিপি খোরাসানের আলেম এবং সমসাময়িক বিচারপতিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ 'কাযী আল-মুখতার'-এর নিকট উপস্থাপন করেছি [৪]। প্রত্যেকেই এর পক্ষে মত দিয়েছেন, এটি গ্রহণ করেছেন, এটি প্রকাশ করার [৫] তাগিদ দিয়েছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন [৬]। আমরা যা দেখেছি তা উল্লেখ করেছি এবং যা শুনেছি তা বর্ণনা করেছি [৭]। সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের নিকট যা সহীহ বলে প্রমাণিত হয়েছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বর্ণনা করেছি। আর যে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হয়েছে অথবা যা 'আহাদ' (একক) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তা আমরা যার কাছ থেকে শুনেছি [৯] তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেছি [৮]। আমরা আমাদের এই কিতাবে কোনো প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, উল্লেখযোগ্য আলেম অথবা মহান সুলতান [১০] ব্যতীত অন্য কারো উল্লেখ করিনি, যদি না তা একান্ত প্রয়োজন হয় কিংবা কোনো কাহিনীর প্রাসঙ্গিকতায় আসে। যদি অন্য কেউ হয় [১১] তবে তাকে কেবল 'এক ব্যক্তি' হিসেবে নাম দিয়েছি এবং তার স্থান উল্লেখ করেছি, যাতে সে মহান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায় [১২]। জেনে রাখুন, আমি [১৩] এই সকল নির্ভরযোগ্যতা ও শর্তাবলী [১৪] থাকা সত্ত্বেও আমি চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এবং সমস্ত [১৫] অঞ্চল ভ্রমণ করার আগে এটি প্রকাশ করিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وخدمت أهل العلم والدين [1] ،، واتّقف وفاء [2] ذلك بمصر فارس في دولة أمير المؤمنين ابى بكر عبد الكريم الطائع للَّه وعلى المغرب ابو منصور نزار العزيز باللَّه أمير المؤمنين سنة 375 [3] ولم نذكر الّا مملكة الإسلام حسب ولم نتكلّف ممالك [4] الكفّار لأنها لم ندخلها ولم نر فائدة في ذكرها بلى قد ذكرنا مواضع المسلمين منها [5] ، وقد قسمناها اربعة عشر إقليما وأفردنا أقاليم العجم [6] عن أقاليم العرب ثم فصّلنا كور كلّ إقليم ونصبنا امصارها [7] وذكرنا قصباتها ورتّبنا مدنها واجنادها بعد ما مثّلناها ورسمنا حدودها وخططها وحرّرنا طرقها المعروفة [8] بالحمرة وجعلنا رمالها الذهبيّة [9] بالصفرة وبحارها المالحة بالخضرة وأنهارها المعروفة بالزرقة وجبالها المشهورة بالغبرة [10] ليقرب الوصف الى الافهام، ويقف عليه الخاصّ والعامّ [11] ،، والأقاليم العربية جزيرة العرب ثم العراق ثم اقور [12] ثم الشام ثم مصر ثم المغرب وأقاليم العجم أوّلها المشرق ثم الديلم ثم الرحاب [13] ثم الجبال ثم
--------------------------------------------
আমি ইলম ও দ্বীনের অধিকারীদের [১] সেবা করেছি এবং এর সমাপ্তি ঘটেছে পারস্যের একটি প্রধান শহরে আমিরুল মুমিনীন আবু বকর আব্দুল কারীম আত-তায়ি লিল্লাহর শাসনামলে এবং মাগরিবে (পশ্চিমাঞ্চলে) আমিরুল মুমিনীন আবু মনসুর নিযার আল-আজিজ বিল্লাহর শাসনামলে ৩ ৭৫ হিজরি সনে [৩]। আমরা কেবল ইসলামের সাম্রাজ্যসমূহ উল্লেখ করেছি এবং কাফেরদের সাম্রাজ্যগুলোর বর্ণনা দেওয়ার কষ্ট করিনি; কারণ আমরা সেগুলোতে প্রবেশ করিনি এবং সেগুলোর বর্ণনায় কোনো উপকারিতাও দেখিনি। হ্যাঁ, আমরা সেখানের মুসলিম এলাকাগুলো উল্লেখ করেছি [৫]। আমরা একে চৌদ্দটি অঞ্চলে (ইকলিম) বিভক্ত করেছি এবং অনারবদের অঞ্চলগুলোকে [৬] আরবদের অঞ্চলগুলো থেকে পৃথক করেছি। অতঃপর আমরা প্রতিটি অঞ্চলের জেলাসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোর প্রধান শহরগুলো [৭] চিহ্নিত করেছি। আমরা সেগুলোর প্রশাসনিক কেন্দ্রসমূহ উল্লেখ করেছি এবং শহর ও সৈন্যশিবিরগুলোকে বিন্যস্ত করেছি; আগে সেগুলোর মানচিত্র তৈরি করে সীমানা ও নকশা অঙ্কন করার পর। আমরা পরিচিত পথসমূহকে [৮] লাল রঙে, সোনালী বালুচরকে [৯] হলুদ রঙে, লোনা সমুদ্রগুলোকে সবুজ রঙে, পরিচিত নদীগুলোকে নীল রঙে এবং প্রসিদ্ধ পাহাড়গুলোকে ধূসর রঙে [১০] চিহ্নিত করেছি, যাতে বর্ণনাটি সহজে বোধগম্য হয় এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলে এ সম্পর্কে জানতে পারে [১১]। আরবীয় অঞ্চলগুলো হলো— জাযিরাতুল আরব, এরপর ইরাক, এরপর আকুর [১২], এরপর শাম (সিরিয়া), এরপর মিসর, এরপর মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুস)। আর অনারব অঞ্চলগুলোর প্রথমটি হলো মাশরিক (পূর্বাঞ্চল), এরপর দাইলাম, এরপর রিহাব [১৩], এরপর জিবাল (পার্বত্য অঞ্চল), এরপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১০)
خوزستان ثم فارس ثم كرمان ثم السند، وبين أقاليم [1] العرب بادية ووسط أقاليم الأعاجم [2] مفازة لا بدّ من افرادهما والاستقصاء في وصفهما لشدّة الحاجة اليهما وكثرة الطرق فيهما، واما البحار والأنهار فقد أفردنا لهما بابا كافيا لشدّة الحاجة اليه والأشكال فيه [3]
ذكر البحار والأنهاراعلم انّا لم نر في الإسلام الّا بحرين حسب [4] أحدهما يخرج من نحو مشارق الشتاء بين بلد الصين وبلد [5] السودان فإذا بلغ مملكة الإسلام [6] دار على جزيرة العرب كما مثّلناه [7] وله خلجان كثيرة وشعب عدّة وقد اختلف الناس في وصفه والمصوّرون [8] في تمثيله فمنهم من جعله شبه طيلسان يدور ببلد الصين والحبشة وطرف بالقلزم وطرف بعبّادان وابو زيد جعله شبه طير منقاره بالقلزم ولم يذكر شعبة ويلة وعنقه بالعراق وذنبه بين حبشة والصين ورايته ممثّلا على ورقة في خزانة أمير خراسان وعلى كرباسة عند ابى القاسم ابن الانماطىّ بنيسابور وفي خزانة عضد الدولة والصاحب وإذا كلّ مثال يخالف الآخر وإذا في بعضهنّ خلجان وشعب لا أعرفها [9] واما انا فسرت فيه نحو ألفي [10] فرسخ ودرت على الجزيرة كلّها من [11] القلزم الى عبّادان سوى ما توّهت [12] بنا المراكب الى جزائره ولججه وصاحبت مشايخ [13] فيه ولدوا ونشؤا من ربّانيّين واشاتمة [14] ورياضيّين ووكلاء وتجار ورايتهم من أبصر الناس به وبمراسيه وارياحه وجزائره فسألتهم عنه وعن أسبابه وحدوده ورأيت معهم دفاتر في ذلك يتدارسونها ويعوّلون عليها ويعملون بما فيها فعلّقت من
--------------------------------------------
খুজিস্তান, তারপর পারস্য, তারপর কিরমান, তারপর সিন্ধু; আর আরবদের অঞ্চলসমূহের মাঝে মরুপ্রান্তর এবং অনারবদের [২] অঞ্চলসমূহের মাঝে একটি জনমানবহীন মরুভূমি রয়েছে। এই দুটি অঞ্চলকে পৃথকভাবে আলোচনা করা এবং এদের বর্ণনায় গভীর অনুসন্ধান চালানো আবশ্যক, কারণ এই দুটি অঞ্চলের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত বেশি এবং সেগুলোতে যাতায়াতের পথও অনেক। আর সমুদ্র ও নদ-নদী সম্পর্কে আমরা একটি পর্যাপ্ত পরিচ্ছেদ [৩] বরাদ্দ করেছি, কারণ এ বিষয়ে জানার তীব্র প্রয়োজন রয়েছে এবং এতে অনেক জটিলতাও বিদ্যমান।
সমুদ্র ও নদ-নদীর বর্ণনাজেনে রাখুন যে, আমরা ইসলামি বিশ্বে কেবল দুটি সমুদ্রই দেখতে পাই [৪]। তাদের একটি শীতকালীন উদয়স্থলের দিক থেকে চীন দেশ ও সুদান [৫] দেশের মাঝখান দিয়ে বের হয়েছে। যখন এটি ইসলামি সাম্রাজ্যে [৬] পৌঁছেছে, তখন এটি আরব উপদ্বীপকে পরিবেষ্টন করেছে যেমনটি আমরা চিত্রিত করেছি [৭]। এর অনেকগুলো উপসাগর এবং শাখা রয়েছে। মানুষ এর বর্ণনা দিতে গিয়ে এবং মানচিত্রকররা [৮] এর চিত্রায়নে মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ এটিকে একটি 'তাইলসান' (এক প্রকার চাদর)-এর সদৃশ মনে করেন যা চীন ও আবিসিনিয়া দেশগুলোকে ঘিরে রেখেছে, যার এক প্রান্ত কুলজুম (লোহিত সাগর) এবং অন্য প্রান্ত আবাদানে। আবু জায়েদ এটিকে একটি পাখির সদৃশ মনে করেছেন যার ঠোঁট কুলজুমে (তিনি আয়লা শাখাটির কথা উল্লেখ করেননি), এর ঘাড় ইরাকে এবং লেজ আবিসিনিয়া ও চীনের মধ্যবর্তী স্থানে। আমি খুরাসানের আমিরের গ্রন্থাগারে একটি কাগজে, নিশাপুরে আবুল কাসিম ইবনুল আনমাতির কাছে একটি কাপড়ে এবং আযুদুদ দাওলা ও সাহিবের গ্রন্থাগারে এর চিত্রায়ন দেখেছি। অথচ প্রতিটি চিত্র একে অপরের থেকে ভিন্ন এবং কোনো কোনো চিত্রে এমন সব উপসাগর ও শাখা রয়েছে যা আমার পরিচিত নয় [৯]। আর আমি নিজে এতে প্রায় দুই হাজার [১০] ফারসাখ ভ্রমণ করেছি এবং কুলজুম থেকে আবাদান [১১] পর্যন্ত সমগ্র উপদ্বীপ প্রদক্ষিণ করেছি; এছাড়া জাহাজ আমাদের যেখানে যেখানে [১২] এর দ্বীপপুঞ্জ ও গভীর সমুদ্রে নিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল সেগুলো তো আছেই। আমি সেখানে এমন সব অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের [১৩] সঙ্গ পেয়েছি যারা সেখানেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন—যাদের মধ্যে ছিলেন দক্ষ নাবিক, জাহাজ চালক [১৪], গণিতবিদ, প্রতিনিধি ও বণিকগণ। আমি তাদেরকে এই সমুদ্র, এর বন্দর, বাতাস ও দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হিসেবে পেয়েছি। তাই আমি তাদেরকে সমুদ্র ও এর অবস্থা ও সীমানা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং তাদের কাছে এ সংক্রান্ত কিছু পাণ্ডুলিপি দেখেছি যা তারা পড়াশোনা করেন, যার ওপর নির্ভর করেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন। ফলে আমি সেখান থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ذلك صدرا صالحا [1] بعد ما ميّزت وتدبّرت ثم قابلته بالصور التي ذكرت وبينا انا يوما [2] جالس مع ابى عليّ بن حازم انظر في البحر ونحن [3] بساحل عدن إذ قال لي ما لي أراك متفكّرا قلت أيّد الله الشيخ قد حار عقلي [4] في هذا البحر لكثرة الاختلاف فيه والشيخ اليوم من اعلم الناس به لانه امام التجار ومراكبه ابدا تسافر الى اقاصيه فان رأى ان يصفه لي صفة اعتمد عليها [5] وارجع من الشّك اليها فعل [3] فقال على الخبير بها سقطت [6] ثم مسح الرمل بكفّه ورسم البحر عليه [7] لا طيلسان ولا طير وجعل له معارج [8] متلسّنة وشعبا عدّة [9] ثم قال هذه [10] صفة هذا البحر [11] لا صورة له غيرها، وانا أصوّره ساذجا وأدع الشعب والخلجان الّا شعبة ويلة لشهرتها وشدّة الحاجة الى معرفتها وكثرة الاسفار فيها وأدع ما اختلفوا فيه وارسم ما اتّفقوا عليه وعلى الأحوال كلّها لا شكّ انه يدور على ثلاثة أرباع جزيرة العرب وان له لسانين كما ذكرنا [12] من نحو مصر يفترقان على طرف الحجاز بموضع يسمّى فاران [13] وعظم هذا البحر وامتناعه بين عدن وعمان حتّى يصير اتّساعه نحو ستّمائة فرسخ ثم يصير لسان الى عبّادان، ومواضع [14] الخوف في المملكة جبيلان [15] موضع غرق فرعون وهي لجّة القلزم وفيها تسير المراكب في العراض لترجع من البرّ الغامر الى البرّ العامر ثم فاران وهو موضع تهبّ فيه الرياح من مصر والشام فتتحاذيان [16] وفيه هلاك المراكب ومن رسمهم ان يبعثوا رجالا يرقبون الريح فإذا سكنت الرياح أو غلبت التي هم من نحوها ساروا والّا
--------------------------------------------
এটি ছিল একটি উত্তম পাণ্ডুলিপি [১], আমি এটি পার্থক্য ও চিন্তা-ভাবনা করার পর যে চিত্রগুলো উল্লেখ করেছি তার সাথে মিলিয়েছি। একদিন আমি [২] যখন আবু আলী ইবনে হাজিমের সাথে বসে সাগরের দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং আমরা [৩] আদনের উপকূলে ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, কী ব্যাপার আমি তোমাকে চিন্তিত দেখছি কেন? আমি বললাম, আল্লাহ শায়খকে সাহায্য করুন, এই সাগরের বিষয়ে মতভেদের আধিক্যের কারণে আমার বুদ্ধি বিভ্রান্ত [৪] হয়ে পড়েছে। আর শায়খ আজ এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, কারণ তিনি বণিকদের নেতা এবং তাঁর জাহাজগুলো সর্বদা এর দূর-দূরান্তে যাতায়াত করে। তাই তিনি যদি মনে করেন যে আমার জন্য এর এমন একটি বর্ণনা দেবেন যার ওপর আমি নির্ভর করতে পারি [৫] এবং সন্দেহ থেকে মুক্ত হয়ে যার দিকে ফিরে আসতে পারি, তবে তিনি তা যেন করেন [৩]। তিনি বললেন, তুমি একজন বিশেষজ্ঞের কাছেই এসেছ [৬]। তারপর তিনি তাঁর হাতের তালু দিয়ে বালু সমতল করলেন এবং তার ওপর সাগরের চিত্র আঁকলেন [৭], যা কোনো চাদর বা পাখির মতো ছিল না। তিনি এর জন্য জিহ্বাকৃতির কিছু খাঁড়ি [৮] এবং বেশ কিছু শাখা [৯] তৈরি করলেন। এরপর তিনি বললেন, এটিই [১০] এই সাগরের বৈশিষ্ট্য [১১], এটি ছাড়া এর আর কোনো রূপ নেই। আমি এটি সাধারণভাবে চিত্রিত করছি এবং এর শাখা ও উপসাগরগুলো বাদ দিচ্ছি, শুধু ওয়াইলাহ শাখাটি ছাড়া; কারণ এর খ্যাতি, এটি জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা এবং এতে অধিক সফরের কারণে। আর তারা যে বিষয়ে মতভেদ করেছে তা আমি ছেড়ে দিচ্ছি এবং তারা যে বিষয়ে একমত হয়েছে তা আঁকছি। সর্বাবস্থায় এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি আরব উপদ্বীপের তিন-চতুর্থাংশ ঘিরে রয়েছে এবং এর দুটি খাঁড়ি বা জিহ্বা রয়েছে যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি [১২]। এগুলো মিসরের দিক থেকে এসে হিজাজের প্রান্তে ফারান [১৩] নামক স্থানে বিভক্ত হয়েছে। এই সাগরের বিশালতা এবং দুর্গমতা আদান ও ওমানের মধ্যবর্তী স্থানে, এমনকি এর প্রশস্ততা প্রায় ছয়শ ফারসাখ পর্যন্ত হয়ে থাকে, অতঃপর একটি খাঁড়ি আব্বাদান পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই রাজ্যের মধ্যে ভয়ের স্থানগুলো [১৪] হলো জুবাইলান [১৫], যা ফেরাউনের ডুবে মরার স্থান এবং এটি কুলজুমের গভীর জলরাশি। সেখানে জাহাজগুলো আড়াআড়িভাবে চলে যাতে জলমগ্ন স্থলভাগ থেকে আবাদি স্থলভাগের দিকে ফিরে আসতে পারে। এরপর ফারান, এটি এমন এক স্থান যেখানে মিসর ও শাম (সিরিয়া) থেকে বাতাস প্রবাহিত হয় এবং সেগুলো একে অপরের মুখোমুখি হয় [১৬], আর এখানেই জাহাজগুলো ধ্বংস হয়। আর তাদের নিয়ম হলো তারা এমন লোকদের পাঠায় যারা বাতাসের ওপর নজর রাখে, অতঃপর যখন বাতাস শান্ত হয় অথবা তাদের অনুকূল বাতাস প্রবল হয় তখন তারা যাত্রা করে, অন্যথায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أقاموا المدّة الطويلة الى وقت الفرج ثم مرسى الحوراء [1] كثير العرى تغترّ [2] فيه المراكب عند دخوله، ومن القلزم الى الجار عرى صعبة من أجلها لا يسيرون الّا بالنهار والربّان على الجخوار [3] منكبّ يطّلع في البحر فإذا ظهرت عراة صلح يمينا وشمالا وقد رتّب صبيّان يصرخان بذلك وصاحب السكّان بيده حبلان يجذبهما يمينا وشمالا إذا سمع النداء وان غفلوا عن ذلك صدم العرى المركب فاعطبته [4] ثم عن جزيرة الصلاب مضيق يتّقى فيه للمراكب ويوجل [5] فمن أخذ ذات الشمال كان في سعة [6] البحر ثم جابر [7] وهو موضع سوء يرى [8] فيه قعر البحر وذلك القصير كثيرا ما يعطب فيه [9] المراكب وعند دخول كمران خوف وشدّة والمندم [10] مضيق صعب لا يسلك الّا في شباب الريح وقوّتها ثم يتلجلج البحر الى عمان وترى ما ذكر الله امواجا كالجبال الراسيات [11] الّا انه سليم في الذهاب مخوف في الرجعة من العطب والغرق جميعا ولا بدّ في كلّ مركب من مقاتلة ونفّاطين ثم مرسى عمان ردىّ مهلك ثم فم السّبع [12] مصيق مخوف ثم الخشبات التي تنسب الى [13] البصرة وهي الطامّة الكبرى مضيق وبحر رقيق وقد نصب في البحر جذوع عليها بيوت ورتّب فيها قوم يوقدون بالليل حتّى يتباعد [14] عنهم المراكب من رقّة تلك المواضع وسمعت شيخا يقول وقد لحقتنا ثمّ شدّة وضرب المركب الأرض عشر مرّات هذا موضع يسافر فيه أربعون مركبا فيرجع واحد، ولا أحبّ ان أطوّل هذا الأصل والّا ذكرت مراسى هذا البحر والطرق فيه [15] ولهذا البحر الصينىّ زيادات في وسط الشهر واطرافه [16] وفي كلّ يوم
--------------------------------------------
তারা মুক্তির সময় পর্যন্ত দীর্ঘকাল অবস্থান করেছিল, তারপর আল-হাওরা বন্দর [১], যেখানে প্রচুর সমুদ্রতলের পাথর রয়েছে যেখানে প্রবেশের সময় জাহাজগুলো ধোঁকায় পড়ে যায় [২]। কুলজুম থেকে আল-জার পর্যন্ত কঠিন পাথর রয়েছে, যে কারণে তারা কেবল দিনের বেলাই চলাচল করে এবং নাবিক জাহাজের সামনের মাস্তুলের [৩] ওপর ঝুঁকে পড়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকে। যখনই কোনো পাথর দেখা দেয়, তখন সে ডানে বা বামে নির্দেশনা দেয়। এ জন্য উচ্চস্বরে ঘোষণা দেওয়ার জন্য বালকদের নিযুক্ত করা হয়েছে এবং যখনই কোনো ডাক শোনা যায়, হাল চালনাকারী তার হাতে থাকা দুটি দড়ি ডানে বা বামে টেনে ধরে। যদি তারা এ বিষয়ে উদাসীন হয়, তবে পাথর জাহাজটিকে আঘাত করে এবং সেটিকে ধ্বংস করে দেয় [৪]। এরপর আস-সিলাব দ্বীপের কাছে একটি সংকীর্ণ জলপথ রয়েছে যেখানে জাহাজগুলো সাবধানে থাকে এবং ভীত হয় [৫]। যে ব্যক্তি বাম দিক বেছে নেয়, সে সমুদ্রের প্রশস্ততায় [৬] অবস্থান করে। এরপর জাবির [৭], যা একটি খারাপ স্থান যেখানে সমুদ্রের তলদেশ দেখা যায় [৮]। এবং সেই আল-কাসীর স্থানে প্রায়ই জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায় [৯]। কামারানে প্রবেশের সময় ভয় ও কঠোরতা থাকে। আর আল-মানদাম [১০] একটি কঠিন সংকীর্ণ পথ, যা বাতাসের তীব্রতা ও শক্তির সময় ছাড়া অতিক্রম করা যায় না। এরপর সমুদ্র ওমানের দিকে আন্দোলিত হয় এবং সেখানে আপনি তা-ই দেখতে পান যা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন— সুউচ্চ পাহাড়ের ন্যায় তরঙ্গমালা [১১]। তবে যাওয়ার সময় এটি নিরাপদ হলেও ফেরার পথে ধ্বংস ও নিমজ্জন উভয়ের ভয়ে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রতিটি জাহাজে অবশ্যই যোদ্ধা এবং অগ্নি-ক্ষেপক (নাফাতীন) থাকতে হয়। এরপর ওমান বন্দরটি মন্দ ও ধ্বংসাত্মক। তারপর ফাম আস-সাবি' [১২] হলো একটি ভয়ংকর সংকীর্ণ পথ। এরপর আল-খাশাবাত যা বসরার [১৩] দিকে সম্বন্ধযুক্ত; এটি এক মহা বিপদ, একটি সংকীর্ণ পথ ও অগভীর সমুদ্র। সমুদ্রে কিছু কাষ্ঠখণ্ড স্থাপন করা হয়েছে যার ওপর ঘর রয়েছে এবং সেখানে কিছু লোক নিযুক্ত থাকে যারা রাতে আগুন জ্বালায় যাতে সেই স্থানগুলোর অগভীরতার কারণে জাহাজগুলো দূরে সরে থাকে [১৪]। আমি এক বৃদ্ধকে বলতে শুনেছি, যখন সেখানে আমরা বিপদে পড়েছিলাম এবং জাহাজটি দশবার মাটিতে আঘাত করেছিল: 'এটি এমন এক জায়গা যেখানে চল্লিশটি জাহাজ যাত্রা করলে কেবল একটি ফিরে আসে।' আমি এই মূল পাঠটিকে দীর্ঘ করতে চাই না, নতুবা আমি এই সমুদ্রের বন্দরসমূহ এবং এর মধ্যকার পথগুলো নিয়ে আলোচনা করতাম [১৫]। আর এই চীন সাগরে মাসের মাঝামাঝি ও শেষভাগে [১৬] এবং প্রতিদিন জোয়ার-ভাটা হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وليلة [1] مرّتين ومنه جزر البصرة ومدّها إذا زاد دفع دجلة فانقلبت [2] في أفواه الأنهار وسقت [3] الضياع فإذا نقص جزر [4] الماء، وقد اختلف الناس في سببه [5] فقال قوم ملك يغمس فيه إصبعه كلّ يوم فيمدّ فإذا رفع إصبعه جزر [6] وقال كعب الأحبار لقي الخضر ملكا فقال أخبرني عن المدّ والجزر فقال الملك ان الحوت يتنفّس [7] فينساب الماء الى منخريه فذلك الجزر ثم يتنفّس فيخرجه من منخريه [8] فذلك المدّ، وروى لنا فيه وجه آخر اذكره في إقليم العراق [9] وفيه ضيق وعمق أحرجه [10] راس الجمجمة الى [11] الدّيبل ثم بعده بحر لا يدرك عمقه وفيه من الجزائر ما لا يحصى كثرة فيها [12] ملك من العرب يقال ان بها الفا وسبعمائة جزيرة تملكهنّ امرأة وزعم من دخل مملكتها انها تجلس لرعيّتها على سرير عريانة وعليها تاج وعلى رأسها اربعة آلاف وصيفة قياما عراة [13] ثم بحر هركند وهو قاموس فيه مرنديب تكون ثمانين [14] فرسخا في مثلها فيها جبل آدم الّذي اهبط فيه اسمه الرهن [15] يرى من مسيرة أيّام عليه اثر قدم قد غرقت [16] نحو سبعين ذراعا والأخرى على مسيرة يوم وليلة في البحر يرى عليه كلّ ليلة نور وثمّ يوجد الياقوت [17] أجوده ما أحدره الريح [18] وفيه ريحان شبه المسك وفيها ثلاثة ملوك وثمّ شجر كافور لا يرى
--------------------------------------------
এবং রাতে [১] দুইবার। এর অন্তর্ভুক্ত হলো বসরার জোয়ার ও ভাটা; যখন দজলা (টাইগ্রিস) নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, তখন তা নদীর মোহনাগুলোতে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয় [২] এবং শস্যক্ষেত্রসমূহকে [৩] সিক্ত করে। আর যখন পানি কমে যায়, তখন ভাটা [৪] হয়। মানুষ এর কারণ সম্পর্কে [৫] মতভেদ করেছে। একদল বলেছে, একজন ফেরেশতা প্রতিদিন এতে তাঁর আঙুল ডুবিয়ে দেন, ফলে জোয়ার হয়; আর যখন তিনি আঙুল তুলে নেন, তখন ভাটা হয় [৬]। কা'ব আল-আহবার বর্ণনা করেন যে, খিযির (আ.) জনৈক ফেরেশতার সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে জোয়ার-ভাটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ফেরেশতাটি উত্তর দেন: নিশ্চয়ই বড় মাছ (তিমি) নিশ্বাস গ্রহণ করে [৭], ফলে পানি তার নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করে—আর তাই হলো ভাটা। এরপর সে নিশ্বাস ত্যাগ করে এবং তা তার নাসারন্ধ্র থেকে বের করে দেয় [৮]—আর তা-ই হলো জোয়ার। এ বিষয়ে আমাদের কাছে আরও একটি মত বর্ণিত হয়েছে যা আমি ইরাক অঞ্চলের [৯] বর্ণনায় উল্লেখ করব। সেখানে সমুদ্রের গভীরতা ও সংকীর্ণতা রাস আল-জুমজুমাহ থেকে [১০] দাইবাল পর্যন্ত [১১] বিস্তৃত। এরপর এমন এক সমুদ্র রয়েছে যার গভীরতা পরিমাপ করা যায় না। তাতে অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে [১২]। বলা হয় যে, সেখানে এক হাজার সাতশত দ্বীপ রয়েছে যা একজন নারী শাসন করেন। যে ব্যক্তি তার রাজ্যে প্রবেশ করেছে সে দাবি করেছে যে, সে (রাণী) তার প্রজাদের বিচারকার্যের জন্য একটি সিংহাসনে অনাবৃত অবস্থায় বসে থাকে, তবে তার মাথায় একটি মুকুট থাকে। তার চারপার্শ্বে চার হাজার পরিচারিকা নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে [১৩]। এরপর হারকান্দ সাগর, যা একটি গভীর সমুদ্র; সেখানে সারান্দ্বীপ (শ্রীলঙ্কা) অবস্থিত, যা দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে আশি [১৪] ফারসাখ। সেখানে আদমের পাহাড় রয়েছে যেখানে তাঁকে অবতরণ করানো হয়েছিল; এর নাম আর-রাহুন [১৫]। কয়েক দিনের পথ দূর থেকেও এটি দেখা যায়। এর ওপর একটি পায়ের ছাপ রয়েছে যা প্রায় সত্তর হাত দেবে [১৬] গেছে। আর অন্যটি সমুদ্রের মাঝে এক দিন ও এক রাতের দূরত্বের পথে অবস্থিত। সেখানে প্রতি রাতে আলো দেখা যায় এবং সেখানেই ইয়াকুত (চুনি) পাওয়া যায় [১৭]। এর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হলো সেটি, যা প্রবল বাতাস উড়িয়ে আনে [১৮]। সেখানে কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধি রায়হান রয়েছে। সেখানে তিনজন রাজা রয়েছেন এবং সেখানে কর্পূর গাছ রয়েছে যা সচরাচর দেখা যায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أطول من شجرته بيضاء [1] تظلّ أكثر من مائتي رجل ينقر أسفلها فينساب عليه الكافور كالصمغ ثم تبطل الشجرة، تليها جزيرة الكلب فيها معادن الذهب طعامهم النارجيل بيض عراة حسان يتّصل بها جزيرة الرّمى [2] فيها أشجار البقّم تغرس غرسا ثمرها يشبه الخرنوب مرّ وعروقها شفاء من سمّ ساعة، وجزيرة أسقوطرة كأنها صومعة في البحر المظلم وهي سدّ البوارج [3] ومنهم تخاف المراكب ولم تزل في هلع حتّى جاوزنها [4] ، وهو ابرك البحرين واحمدهما عاقبة [5] والبحر الآخر [6] خروجه من أقصى المغرب بين السوس الأقصى [7] والأندلس يخرج من [8] المحيط عريضا [9] ثم ينخرط ثم يعود فيعظم الى تخوم الشام وسمعت بعض مشايخ المغرب يفسّر هذه الآية [10] رَبُّ الْمَشْرِقَيْنِ وَرَبُّ الْمَغْرِبَيْنِ 55: 17 قال المغربان هذان الوجهان من هذا البحر مغرب الصيف عن يمينه ومغرب الشتاء عن يساره [11] وسمعت جماعة منهم يذكرون انه يضيق في حدود طنجة حتّى يكون......... [12] واتّفقوا على انه عند معابر الأندلس إذا عاينت هذا البرّ تراءى [13] لك البرّ الآخر، وذكر ابن الفقيه ان طول بحر الروم الدبورىّ ألفان وخمسمائة فرسخ من انطاكية الى جزائر السعادة وعرضه في مكان خمسمائة فرسخ وفي مكان مائتا [14] فرسخ، فما كان من ناحية [15] القبلة من طرسوس الى
--------------------------------------------
এর গাছগুলোর চেয়ে দীর্ঘতর এবং সাদা [১], যা দুইশতেরও বেশি মানুষের ওপর ছায়া দান করে। এর নিচে গর্ত করলে আঠার মতো কর্পূর চুইয়ে পড়ে, এরপর গাছটি অকেজো হয়ে যায়। এর পাশেই আল-কালব (কুকুর) দ্বীপ, যেখানে সোনার খনি রয়েছে। তাদের খাদ্য হলো নারিকেল। তারা ফর্সা, নগ্ন এবং সুদর্শন। এর সাথে আর-রামী [২] দ্বীপটি সংযুক্ত, যেখানে বক্কম গাছ রোপণ করা হয়। এর ফল দেখতে ক্যারোব (খোরনুব) ফলের মতো এবং তিতা। এর শিকড় তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়ার মহৌষধ। আর সুকুত্রা দ্বীপটি অন্ধকার সমুদ্রে যেন একটি গির্জার নির্জন কক্ষ (সাওমাহ)। এটি জলদস্যুদের (বওয়ারেজ) বাধা বা আস্তানা [৩]। জাহাজগুলো তাদের ভয় করে এবং যতক্ষণ না সেগুলো অতিক্রম করে, ততক্ষণ আতঙ্কে থাকে [৪]। এটি দুই সমুদ্রের মধ্যে অধিক বরকতময় এবং পরিণতির দিক থেকে অধিক প্রশংসনীয় [৫]। আর অন্য সমুদ্রটি [৬] সুদূর পশ্চিম (মাগরিবুল আকসা) থেকে বের হয়েছে, যা সুদূর সুস [৭] এবং আন্দালুসের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি মহাসাগর [৮] থেকে প্রশস্তভাবে [৯] বের হয়, এরপর এটি সংকীর্ণ হয়ে যায়, তারপর পুনরায় প্রশস্ত হয়ে শামের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। আমি মাগরিবের (পশ্চিমের) জনৈক শায়খকে এই আয়াতের [১০] ব্যাখ্যা করতে শুনেছি: "তিনি দুই উদয়াচলের রব এবং দুই অস্তাচলের রব" (৫৫:১৭)। তিনি বলেন, দুই অস্তাচল হলো এই সমুদ্রের দুই দিক; ডানদিকে গ্রীষ্মকালীন অস্তাচল এবং বামদিকে শীতকালীন অস্তাচল [১১]। আমি তাদের একদল লোকের কাছে শুনেছিলাম, তারা উল্লেখ করেন যে এটি তানজাহ (তানজিয়ার) সীমান্তে এতটাই সংকুচিত হয়ে যায় যে......... [১২]। তারা একমত হয়েছেন যে, আন্দালুসের পারাপারের স্থানে আপনি যখন এই ভূখণ্ডটি দেখবেন, তখন অন্য ভূখণ্ডটিও [১৩] আপনার কাছে দৃশ্যমান হবে। ইবনুল ফকিহ উল্লেখ করেছেন যে, রুম (ভূমধ্যসাগর) বা দাবুরি সমুদ্রের দৈর্ঘ্য আনতাকিয়া থেকে জাযায়িরুস সা’আদাহ (সুখ দ্বীপপুঞ্জ) পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশত ফারসাখ। কোনো স্থানে এর প্রস্থ পাঁচশত ফারসাখ এবং কোনো স্থানে দুইশত [১৪] ফারসাখ। ক্বিবলার দিকে তারসুস থেকে যা রয়েছে... [১৫]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
دمياط ثم الى السوس كلّهم مسلمون [1] وما كان من الجهة الأخرى يعنى يسار البحر فنصارى [2] ، وفيه ثلاث جزائر عامرة آهلة اصقليّة تقابل المغرب واقريطش تقابل مصر وقبرص تقابل الشام وله خلجان [3] معروفة وعلى حافته بلدان كثيرة وثغور جليلة ورباطات فاضلة وجهة منه على تخوم الروم الى حدود الأندلس والغالب عليه الروم وهو مخوف منهم جدّا وهم وأهل اصقليّة [4] والأندلس أخبر الناس به وحدوده وخلجانه لانهم يسافرون فيه ويغزون من هو يليهم [5] وفيه طرقهم الى مصر والشام وقد ركبت معهم المدّة الطويلة ابدا أسائلهم عنه وعن أسبابه واعرض عليهم ما سمعت فيه فقلّ ما رايتهم يختلفون فيه وهو بحر صعب هائج تسمع له ابدا جلبة خاصّة [6] ليالي الجمع، أخبرنا الفقيه ابو الطيّب عبد الله بن محمّد الجلال [7] بالريّ قال حدّثنا احمد بن محمّد بن يزيد [8] الأستراباذيّ قال حدّثنا العبّاس بن محمّد قال حدّثنا ابو سلمة قال حدّثنا سعيد بن زيد [8] قال حدّثنا ابن يسار [8] عن عبد الله بن عمرو قال ان الله لمّا [9] خلق بحر الشام اوحى اليه انّى خلقتك وانّى حامل فيك. عبادا لي [10] يبتغون من فضلي يسبّحوننى ويقدّسوننى ويكبّروننى ويهلّلوننى [11] فكيف أنت صانع بهم قال ربّ إذا أغرقهم قال اذهب فقد لعنتك وسأقلّ حليتك وصيدك واوحى الى بحر العراق مثل ذلك فقال ربّ إذا احملهم
--------------------------------------------
দামিয়েত্তা থেকে সুস পর্যন্ত তারা সবাই মুসলিম [১] এবং অপর দিক থেকে অর্থাৎ সমুদ্রের বাম পাশে যারা আছে তারা খ্রিস্টান [২]। এতে তিনটি জনবহুল ও আবাদি দ্বীপ রয়েছে: সিসিলি যা মাগরিবের (পশ্চিম) বিপরীতে, ক্রিট যা মিসরের বিপরীতে এবং সাইপ্রাস যা শামের বিপরীতে। এর সুপরিচিত কিছু উপসাগর [৩] রয়েছে এবং এর তীরে অনেক শহর, মহান সীমান্ত দুর্গ ও মর্যাদাপূর্ণ রিবাত (প্রতিরক্ষা কেন্দ্র) রয়েছে। এর এক প্রান্ত রোমানদের সীমান্ত থেকে আন্দালুসের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ওপর রোমানদের আধিপত্য বেশি এবং তাদের কারণে এটি অত্যন্ত ভয়ানক। তারা এবং সিসিলি [৪] ও আন্দালুসের অধিবাসীরা এই সমুদ্র, এর সীমানা ও উপসাগর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ, কারণ তারা এতে ভ্রমণ করে এবং তাদের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আক্রমণ পরিচালনা করে [৫]। এতে মিসর ও শামের দিকে তাদের পথ রয়েছে। আমি দীর্ঘকাল তাদের সাথে আরোহণ করেছি, সর্বদা তাদের কাছে এই সমুদ্র ও এর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি এবং যা শুনেছি তা তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমি খুব কমই দেখেছি যে তারা এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে। এটি একটি কঠিন ও উত্তাল সমুদ্র, যেখানে সর্বদা একটি বিশেষ গর্জন শোনা যায় [৬], বিশেষ করে জুমার রাতে। ফকিহ আবু তৈয়ব আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-জালাল [৭] আমাদের রায় শহরে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ [৮] আল-আস্তারাবাদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু সালামা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সাঈদ ইবনে যায়েদ [৮] বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবনে ইয়াসার [৮] বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহ যখন [৯] শামের সমুদ্র সৃষ্টি করলেন, তখন তার প্রতি ওহি প্রেরণ করলেন যে, "নিশ্চয়ই আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি এবং আমি তোমার মধ্যে আমার এমন কিছু বান্দাকে বহন করব [১০] যারা আমার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে, তারা আমার তাসবিহ পাঠ করবে, আমার পবিত্রতা বর্ণনা করবে, আমার তাকবির পাঠ করবে এবং আমার তাহলিল ঘোষণা করবে [১১]।" তখন তুমি তাদের সাথে কেমন আচরণ করবে? সে (সমুদ্র) বলল, "হে রব, তাহলে আমি তাদের ডুবিয়ে দেব।" তিনি (আল্লাহ) বললেন, "যাও, আমি তোমাকে অভিশাপ দিলাম এবং আমি তোমার অলঙ্কার ও মৎস্য শিকার কমিয়ে দেব।" এবং তিনি ইরাকের সমুদ্রের প্রতিও অনুরূপ ওহি পাঠালেন, তখন সেটি বলল, "হে রব, তাহলে আমি তাদের বহন করব।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
على ظهري فإذا سبّحوك سبّحتك معهم وإذا قدّسوك قدّستك معهم [1] وإذا كبّروك كبّرتك معهم قال اذهب فقد باركت فيك سأكثر حليتك [2] وصيدك، وهذا دليل على ان ليس الّا بحران [3] ولا أدرى هذان البحران يقلبان في المحيط أم يخرجان منه [4] وقرأت في بعض الكتب انهما يخرجان منه وهما الى القلب فيه أقرب [5] لانّك إذا خرجت من فرغانة لا تزال تنحدر الى مصر ثم الى أقصى المغرب وأهل العراق يسمّون العجم أهل فوق وأهل الغرب [6] أهل أسفل فهذا يؤيّد ما ذهبنا اليه ويدلّ على انّها انهار اجتمعت فصبّت في المحيط والله اعلم، وجعل ابو زيد البحار ثلاثة زاد المحيط ولم ندخله نحن في الجملة لانه كما يقال مستدير بالعالم كالحلقة لا يعرف له غاية ولا نهاية، واما الجيهانىّ فإنه جعلها خمسة زاد بحر الخزر وخليج القسطنطينيّة ونحن اقتصرنا على ما انبأ الله في كتابه حيث يقول [7] مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيانِ بَيْنَهُما بَرْزَخٌ لا يَبْغِيانِ 55: 19- 20 يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجانُ 55: 22 والبرزخ من الفرما الى القلزم مسيرة ثلاثة أيّام، فان قيل انّما أراد الله تعالى بالبحرين العذب والمالح لأنهما [8] لا يختلطان كما قال [9] وهو الّذي مرج البحرين الآية فالجواب ان اللؤلؤ والمرجان لا يخرجان من الحلو والله [9] يقول منهما ولا خلاف بين أهل العلم [10] ان اللؤلؤ يخرج من الصينىّ [11] والمرجان من الرومىّ فعرفنا انه انّما أراد [12] هذين البحرين، فان قيل البحار سبعة لان الله قال عز وجل [13] وَلَوْ أَنَّ ما في 31: 27
--------------------------------------------
আমার পিঠের ওপর, সুতরাং যখন তারা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করবে, আমি তাদের সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করব; যখন তারা আপনাকে মহিমান্বিত করবে, আমি তাদের সাথে আপনাকে মহিমান্বিত করব; [১] এবং যখন তারা আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করবে, আমি তাদের সাথে আপনার শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করব। তিনি বললেন, যাও, আমি তোমার মধ্যে বরকত দান করেছি। আমি তোমার অলঙ্কার [২] এবং তোমার শিকারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেব। এবং এটি এই বিষয়ের প্রমাণ যে, কেবল দুটি সাগর রয়েছে [৩]। আমি জানি না এই সাগরদ্বয় কি মহাসমুদ্রে পতিত হয় নাকি তা থেকে নির্গত হয় [৪]। আমি কোনো কোনো কিতাবে পড়েছি যে, তারা তা থেকে নির্গত হয় এবং সেগুলো এর কেন্দ্রের অধিক নিকটবর্তী [৫]। কেননা আপনি যখন ফারগানা থেকে বের হবেন, তখন আপনি ক্রমাগত মিসরের দিকে, অতঃপর দূর পশ্চিমের দিকে অবতরণ করতে থাকবেন। ইরাকবাসীগণ অনারবদের 'উপরের অধিবাসী' এবং পশ্চিমের অধিবাসীগণকে [৬] 'নিচের অধিবাসী' বলে অভিহিত করেন। এটি আমাদের মতকেই সমর্থন করে এবং নির্দেশ করে যে এগুলো মূলত নদ-নদী যা একত্রিত হয়ে মহাসমুদ্রে পতিত হয়েছে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আবু যায়েদ সাগরসমূহকে তিনটি সাব্যস্ত করেছেন এবং মহাসমুদ্রকে যুক্ত করেছেন। কিন্তু আমরা সেটিকে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করিনি, কারণ যেমনটি বলা হয়—সেটি একটি বলয়ের ন্যায় বিশ্বকে পরিবেষ্টন করে আছে, যার কোনো সীমা বা প্রান্ত জানা নেই। পক্ষান্তরে আল-জাইহানি সেগুলোকে পাঁচটি সাব্যস্ত করেছেন এবং কাস্পিয়ান সাগর ও কনস্টান্টিনোপল প্রণালীকে যুক্ত করেছেন। আমরা কেবল আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি, যেখানে তিনি বলেন: [৭] "তিনি প্রবাহিত করেন দুই সমুদ্র যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তাদের উভয়ের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করে না।" (৫৫: ১৯-২০) "উভয় সমুদ্র হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।" (৫৫: ২২)। আর আল-ফারামা থেকে আল-কুলযুম পর্যন্ত সেই অন্তরাল তিন দিনের পথ। যদি বলা হয় যে, আল্লাহ তাআলা দুই সমুদ্র দ্বারা কেবল মিষ্টি ও লোনা পানি বুঝিয়েছেন কারণ তারা [৮] পরস্পরের সাথে মিশে যায় না, যেমনটি তিনি বলেছেন: [৯] "আর তিনিই সেই সত্তা যিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন..." (আয়াত)। তবে এর উত্তর হলো, মুক্তা ও প্রবাল মিষ্টি পানি থেকে উৎপন্ন হয় না, অথচ আল্লাহ [৯] বলছেন, 'উভয়টি থেকে'। আর আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই [১০] যে, মুক্তা চীন সাগর [১১] হতে এবং প্রবাল রোম সাগর হতে আহরিত হয়। ফলে আমরা জানতে পারলাম যে তিনি মূলত [১২] এই দুই সাগরকেই বুঝিয়েছেন। যদি বলা হয় সাগর হলো সাতটি, কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: [১৩] "আর যদি যা কিছু আছে..." (৩১: ২৭)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الْأَرْضِ من شَجَرَةٍ أَقْلامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ من بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ 31: 27 [1] وزاد المقلوبة والخوارزميّة فالجواب لم يقل الله تعالى ان [2] البحار سبعة وانّما ذكر بحر العرب [3] وقال ولو ان سبعة مثله جعلت أيضا مدادا كما قال [4] ولو أنّ للّذين ظلموا ما في الأرض جميعا ومثله معه مع [5] انّه يجب بهذا الدعوى ان تكون ثمانية وأيضا فانّا نلتزم هذا السؤال وننتصب فيه [6] فنقول ان البحر هو بحر الحجاز والسبعة بحر القلزم وبحر اليمن وبحر عمان وبحر مكران وبحر كرمان وبحر فارس وبحر هجر فهذه ثمانية كما نطقت الآية فان قيل يلزمك بهذا التأويل ان تكون أكثر من عشرة لأنك تركت بحر الصين وبحر الهند وبحر الزنج فالجواب من وجهين أحدهما ان الله تعالى خاطب العرب بما يعرفونه ويعاينونه ليوكّد [7] عليهم الحجّة وما كانت أسفارهم الّا في هذه البحار الا ترى ان هذا [8] البحر بهذه الأسامي يدور على دبار العرب من القلزم الى عبّادان والوجه الآخر لا ننكر ان يكون البحار كثيرة وذكر الله تعالى منها [8] في هذه الآية ثمانية فان قيل هذا يرجع عليك ويلزمك ان البحار تجوز [9] ان تكون سبعة وانّما ذكر الله منها في تلك الآية [8] بحرين فالجواب هذا لا يشبه ذلك لان الله تعالى قال في تلك مرج البحرين يلتقيان فاشار الى بحرين معهودين والالف واللام إذا لم يكونا للجنس فانّما هما للتعريف وقال في هذه يمدّه من بعده سبعة أبحر ولم يدخل فيه حرف [10] التعريف فيجوز ان يكون أراد به سبعة من جماعة كما قال [11] سخّرها عليهم سبع ليال وثمانية أيّام حسوما [8] وأيّام الله كثيرة وقال في آية اخرى [12] وعلى الثّلثة الّذين خلّفوا فلا يجوز بان [13] يقال انهم كانوا أكثر فان قيل لمّا [14] وقع الاختلاف في تفسير هذه الآية ورأينا بحر الصين لا يلقى [15] الرومىّ سقط الاحتجاج بها وسلمت لنا الآية الأخرى فوجب ان تكون البحار سبعة [16] فالجواب
--------------------------------------------
পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে যদি আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয় (৩১:২৭)। [১] এবং মাকলুবিয়্যাহ ও খাওয়ারিজমিয়্যাহ সংযোজন করেছে। এর উত্তর হলো: আল্লাহ তাআলা এটি বলেননি যে সমুদ্র সাতটি, বরং তিনি কেবল আরব সমুদ্রের কথা উল্লেখ করেছেন [৩] এবং বলেছেন যে, যদি এর মতো আরও সাতটি সমুদ্রকেও কালি হিসেবে নির্ধারণ করা হতো, যেমন তিনি অন্য আয়াতে বলেছেন [৪]: 'যদি যালিমদের কাছে পৃথিবীর সবকিছু এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও কিছু থাকত' [৫]। তদুপরি এই দাবি অনুযায়ী সমুদ্রের সংখ্যা আটটি হওয়া আবশ্যক। আর আমরা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দায়বদ্ধ এবং এতে প্রবৃত্ত হয়ে [৬] বলছি যে, মূল সমুদ্রটি হলো হিজাযের সমুদ্র, আর বাকি সাতটি হলো কুলযুম সাগর, ইয়েমেন সাগর, ওমান সাগর, মকরান সাগর, কিরমান সাগর, পারস্য সাগর এবং হাজার সাগর। সুতরাং এগুলো সংখ্যায় আটটি, যেমনটি আয়াতে ব্যক্ত হয়েছে। যদি বলা হয়, আপনার এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী সমুদ্রের সংখ্যা দশের অধিক হওয়া আবশ্যক, কারণ আপনি চীন সাগর, ভারত সাগর এবং যানজ (জাঞ্জিবার) সাগর বাদ দিয়েছেন। এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, আল্লাহ তাআলা আরবদের সাথে তাদের পরিচিত এবং প্রত্যক্ষ করা বিষয়গুলোর মাধ্যমেই সম্বোধন করেছেন যাতে তাদের ওপর [৭] দলিল সুদৃঢ় হয়। আর তাদের সফর কেবল এই সমুদ্রগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল। আপনি কি দেখছেন না যে, এই [৮] সমুদ্রটিই বিভিন্ন নামে আরব ভূখণ্ডের চতুর্দিকে কুলযুম থেকে আবাদান পর্যন্ত পরিবেষ্টন করে আছে? দ্বিতীয়ত, আমরা এটি অস্বীকার করি না যে সমুদ্র অনেক হতে পারে, তবে আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকে [৮] এই আয়াতে আটটি উল্লেখ করেছেন। যদি বলা হয়, এটি আপনার বিপক্ষেই যায় এবং আপনার ওপর এটি আবশ্যক করে যে সমুদ্রসমূহ [৯] সাতটি হওয়াও সম্ভব, আর আল্লাহ সেই আয়াতে [৮] কেবল দুটি সমুদ্র উল্লেখ করেছেন। এর উত্তর হলো, এটি ওই বিষয়ের সদৃশ নয়, কারণ আল্লাহ তাআলা সেখানে বলেছেন, 'তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়'। এখানে তিনি দুটি পরিচিত সমুদ্রের দিকে ইশারা করেছেন। আর আলিফ ও লাম (ال) যখন ‘জিনস’ বা শ্রেণির জন্য হয় না, তখন তা পরিচিতকরণের (তারিফ) জন্য ব্যবহৃত হয়। আর এই আয়াতে তিনি বলেছেন 'তার সাথে আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়', এতে কোনো নির্দিষ্টকারী বর্ণ [১০] (আলিফ-লাম) প্রবেশ করেনি। সুতরাং হতে পারে তিনি এর দ্বারা একটি দলের মধ্য থেকে সাতটি বুঝিয়েছেন [১১], যেমন তিনি বলেছেন: 'তিনি তাদের ওপর সাত রাত ও আট দিন তা চাপিয়ে দিয়েছিলেন' [৮], অথচ আল্লাহর দিনসমূহ অনেক। তিনি অন্য আয়াতে [১২] বলেছেন: 'এবং সেই তিনজনের ওপর যাদের পেছনে রাখা হয়েছিল (যাদের তওবা স্থগিত ছিল)'। এমতাবস্থায় এটি বলা বৈধ নয় যে [১৩] তারা সংখ্যার অধিক ছিল। যদি বলা হয়, যেহেতু [১৪] এই আয়াতের তাফসিরে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে চীন সাগর রোম সাগরের সাথে মিলিত [১৫] হয় না, সেহেতু এর দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে গেল এবং আমাদের জন্য অন্য আয়াতটিই সঠিক রইল, ফলে সমুদ্র সাতটি হওয়াই আবশ্যক [১৬]। এর উত্তর হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قد ارتفع الاختلاف بقوله يخرج منهما اللّؤلؤ والمرجان وامّا الالتقاء فحدّثني جماعة من مشايخ مصر ان النيل كان يفيض في بحر الصين الى قريب [1] فان قيل تأويلك يوجب التناقض لان فيه انهما يلتقيان وان بينهما على ما ذكرت ثلاثة أيّام وحاشى كتاب الله من التناقض وما تأوّلناه مستقيم لان التقاءهما جريان الحلو فوق المالح والبرزخ المنع من اختلاطهما فالجواب تأويلنا أيضا مستقيم لان أعطينا كلّ معنى حقّه فقلنا الالتقاء ما ذكرناه من صبّ النيل في الصينىّ وطرف النيل اليوم يفيض في الرومىّ فبالنيل التقيا ويقال ان امّ موسى عمّ انّما طرحت تابوته في بحر القلزم فخرج في النيل الى مصر مع ان الالتقاء غير الاجتماع لان الملتقيين يكون بينهما فصل [2] ومسافة وما ذهبوا اليه يسمّى اختلاء لا التقاء، فان قيل لم جعلت بحار الأعاجم من السبعة بعد ما قلت ان الله خاطبهم بما يعرفونه فالجواب فيه من وجهين أحدهما ان العرب قد كانت تسافر الى فارس الا ترى ان عمر بن الخطّاب رضي الله عنه قال انّى تعلّمت العدل من كسرى وذكر خشيته وسيرته والآخر ان من سار الى هجر وعبّادان لا بدّ له من بحر فارس وكرمان وتيز [3] مكران أولا ترى الى كثير من الناس يسمّونه الى حدود اليمن بحر فارس وان أكثر صنّاع المراكب وملّاحيها فرس وهو من عمان الى عبّادان قليل العرض لا يجهل المسافر فيه جهته فان قيل فهلّا قلت هذا في بحر القلزم الى موضع الاتّساع فالجواب قد قلنا ان من القلزم الى عيذاب وما وراءها مفاوز خالية لم يسمع ان
--------------------------------------------
তার বাণী "উভয় হতে মুক্তা ও প্রবাল নির্গত হয়" দ্বারা মতভেদ দূর হয়েছে। আর মিলনস্থলের ব্যাপারে মিশরের একদল শায়খ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, নীল নদ নিকট অতীত পর্যন্ত চীন সাগরে প্রবাহিত হতো। যদি বলা হয় যে, আপনার ব্যাখ্যা বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, কারণ এতে আছে তারা উভয়ে মিলিত হয়, অথচ আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা অনুযায়ী তাদের মাঝে তিন দিনের দূরত্ব রয়েছে। আল্লাহর কিতাব বৈপরীত্য থেকে মুক্ত। এবং আমরা যা ব্যাখ্যা করেছি তা সঠিক, কেননা তাদের মিলন হলো লোনা পানির ওপর মিষ্টি পানির প্রবাহ, আর 'বারযাখ' তাদের মিশ্রণে বাধা দেয়। এর উত্তর হলো, আমাদের ব্যাখ্যাও সঠিক কারণ আমরা প্রতিটি অর্থের হক আদায় করেছি। সুতরাং আমরা বলেছি, মিলন বলতে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো নীল নদ চীন সাগরে পতিত হওয়া, আর বর্তমানে নীল নদের প্রান্ত রোম সাগরে পতিত হয়, ফলে নীল নদের মাধ্যমে তারা মিলিত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জননী তাঁর সিন্দুকটি কুলজুম সাগরে নিক্ষেপ করেছিলেন, অতঃপর তা নীল নদের মাধ্যমে মিশরে পৌঁছেছিল। তা সত্ত্বেও মিলন আর একত্রে থাকা এক নয়, কারণ পরস্পর মিলনকামী দুটির মধ্যে বিচ্ছেদ ও দূরত্ব থাকে। এবং তারা যে মত গ্রহণ করেছে তাকে নিভৃত মিলন বলা হয়, التقاء (মিলন) নয়। যদি বলা হয়, আল্লাহ তাদের পরিচিত বিষয় নিয়ে সম্বোধন করেছেন বলার পর কেন আপনি অনারবদের সাগরসমূহকে সাত সাগরের অন্তর্ভুক্ত করলেন? এর উত্তরে দুটি দিক রয়েছে: প্রথমত, আরবরা পারস্যে সফর করত। আপনি কি দেখেন না যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন, "আমি কিসরার কাছ থেকে ইনসাফ শিখেছি" এবং তিনি তার সতর্কতা ও জীবনচরিত উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি হাজার ও আব্বাদান অভিমুখে চলে, তাকে অবশ্যই পারস্য সাগর, কিরমান ও তীজ মকরান অতিক্রম করতে হয়। আপনি কি দেখেন না যে, অনেক মানুষ একে ইয়ামেনের সীমান্ত পর্যন্ত পারস্য সাগর বলে থাকে এবং অধিকাংশ জাহাজ নির্মাতা ও নাবিক ছিল পারসিক। ওমান থেকে আব্বাদান পর্যন্ত এর প্রস্থ কম, তাই ভ্রমণকারী এতে দিকভ্রান্ত হয় না। যদি বলা হয়, কেন আপনি কুলজুম সাগর সম্পর্কে তার প্রশস্ত হওয়ার স্থান পর্যন্ত এমনটি বললেন না? উত্তর হলো, আমরা বলেছি যে কুলজুম থেকে আইযাব এবং এর পরবর্তী এলাকাগুলো জনশূন্য মরুভূমি, যার সম্পর্কে শোনা যায়নি যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
هذا البحر ينسب الى شيء منها مع انّا قد انفصلنا عن هذا في بعض الجوابات، فان قيل كيف يجوز ان تجعل بحرا واحدا ثمانية أبحر فالجواب ان هذا مشهور عند كلّ من ركب البحر الا ترى كيف سمّى الله بحر الروم بحرين حيث يقول [1] وإذ قال موسى لفتاه لا أبرح حتّى أبلغ مجمع البحرين أو أمضى حقبا فلمّا بلغا مجمع بينهما الآية وكان هذا كلّه بسواحل الشام واعلام ذلك ظاهرة وصخرة موسى ثمّ بيّنة، فان قيل فلم لا قلت ان معنى قوله مرج البحرين هو بحر واحد أيضا فالجواب هذا لا يجوز لان الله تعالى قال بينهما برزخ والبرزخ حاجر مع انّا نقول لهذا المخالف ان كان الأمر على ما تزعم فأرنا ثمانية بحار في الإسلام فان ذكر المحيط قيل له ذلك على تخوم العالم بغير نهاية تعرف وان ذكر القسطنطينيّ قيل ذاك خليج من الرومىّ يخرج خلف اصقليّة الا ترى انهم ابدا يغزون فيه فان ذكر الخزرىّ قيل له تلك بحيرة الا ترى ان أكثر الناس يسمّونها بحيرة طبرستان أو لم تر الى قرب اطرافها فان قال المقلوبة والخوارزميّة قيل له من جعل هاتين من هذه الجملة لزمه ان يجعل بحيرات الرحاب وفارس وتركستان فيجاوز العشرين فان أنصف رجع الى قولنا والله اعلم واما الأنهار الفائضة في المملكة [2] فالمشهور منها فيها رأيت وميّزت اثنا عشر دجلة والفرات والنيل وجيحون ونهر الشاش وسيحان وجيحان وبردان ومهران ونهر الرّسّ [3] ونهر الملك ونهر الأهواز يجرى فيها [4] السفن ودونها خمسة عشر اخرى نهر المروين ونهر هراة ونهر سجستان ونهر بلخ ونهر الصغد [5] وطيفورى وزندرود ونهر العبّاس وبردي [6] ونهر الاردنّ والمقلوب [7] ونهر انطاكية ونهر ارّجان
--------------------------------------------
এই সমুদ্রকে সেগুলোর কিছুর সাথে সম্পর্কিত করা হয়, যদিও আমরা ইতিপূর্বে কিছু উত্তরে এ থেকে পৃথক আলোচনা করেছি। যদি প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে একটি সমুদ্রকে আটটি সমুদ্র বানানো বৈধ হতে পারে? তবে উত্তর হলো, সমুদ্র ভ্রমণকারী প্রত্যেকের নিকট এটি সুপ্রসিদ্ধ। আপনি কি দেখেন না, আল্লাহ কীভাবে রোম সাগরকে দুটি সাগর হিসেবে অভিহিত করেছেন যেখানে তিনি বলেন [১] "এবং যখন মূসা তাঁর যুবক সঙ্গীকে বলেছিলেন, আমি দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামব না বা আমি দীর্ঘকাল চলতে থাকব। অতঃপর যখন তারা উভয়ের মধ্যবর্তী সঙ্গমস্থলে পৌঁছালেন" (আয়াত)। এ সব কিছুই ছিল শামের উপকূলে, আর এর চিহ্নসমূহ প্রকাশ্য এবং মূসার পাথরটি সেখানে সুষ্পষ্ট। যদি প্রশ্ন করা হয়, তবে কেন আপনি বললেন না যে তাঁর বাণী "দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন" এর অর্থও একটি সমুদ্র? উত্তর হলো, এটি বৈধ নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন "উভয়ের মাঝে এক অন্তরায় রয়েছে", আর 'বারযাখ' হলো প্রতিবন্ধক। সেই সাথে আমরা এই বিরোধিতাকারীকে বলব, বিষয়টি যদি আপনার দাবি অনুযায়ী হয়, তবে আমাদের ইসলামি ভূখণ্ডের মধ্যে আটটি সমুদ্র দেখান। যদি মুহিত (মহাসাগর) এর কথা উল্লেখ করা হয়, তবে তাকে বলা হবে সেটি বিশ্বের প্রান্তসীমায় অবস্থিত যার কোনো পরিচিত শেষ সীমানা নেই। যদি কুস্তুনতুনিয়ার (কনস্টান্টিনোপল) সাগরের কথা বলা হয়, তবে বলা হবে সেটি রোম সাগরের একটি উপসাগর যা সিসিলির পেছন দিক থেকে নির্গত হয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে তারা সর্বদা সেখানে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করে? যদি খাজার (কাস্পিয়ান) সাগরের কথা বলা হয়, তবে তাকে বলা হবে সেটি একটি হ্রদ। আপনি কি দেখেন না যে অধিকাংশ লোক একে তাবারিস্তান হ্রদ বলে ডাকে? অথবা আপনি কি এর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোর নৈকট্য দেখেন না? যদি তিনি মাকলুবা ও খাওয়ারিজমিয়া সাগরের কথা বলেন, তবে তাকে বলা হবে যে ব্যক্তি এই দুটিকে এই সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত করবে, তার জন্য রিহাব, পারস্য এবং তুর্কিস্তানের হ্রদগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়বে, ফলে সংখ্যা বিশ ছাড়িয়ে যাবে। যদি তিনি ইনসাফ করেন তবে আমাদের মতের দিকেই ফিরে আসবেন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর সাম্রাজ্যের [২] প্রবহমান নদীসমূহের মধ্যে যেগুলো আমি দেখেছি এবং চিহ্নিত করেছি তার মধ্যে বারোটি প্রসিদ্ধ: দজলা, ফোরাত, নীল, জাইহুন, শাশ নদী, সাইহান, জাইহান, বারদান, মেহরান, রাস নদী [৩], নহরে মালিক এবং আহওয়াজ নদী যাতে [৪] জাহাজ চলাচল করে। এ ছাড়া আরও পনেরটি নদী রয়েছে: মারওয়াইন নদী, হারাত নদী, সিজিস্তান নদী, বলখ নদী, সোগদ নদী [৫], তাইফুরি, জিন্দারুদ, আব্বাস নদী, বারদা [৬], জর্ডান নদী, মাকলুব নদী [৭], আন্তাকিয়া নদী এবং আররাজান নদী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ونهر شيرين [1] ونهر سمندر [2] ثم ما بعدهنّ صغار نذكر بعضهنّ في الأقاليم مثل نهر طاب والنهروان والزاب [3] ونظائرهنّ فامّا دجلة فإنها عين تخرج من تحت رباط ذي القرنين عند باب الظلمات باقليم أقور [4] فوق الموصل ثم يلقاها عدّة انهار منها الزاب الى ان يلقاها الفرات وشعب النهروان ببغداد [5] واما الفرات فإنه يخرج [6] من بلد الروم [7] ثم يتقوّس [8] على إقليم اقور ويتشعّب اليه الخابور ثم يدخل العراق ويتبطّح خلف الكوفة ويلقى دجلة منه اربع شعب [9] واما النيل فمخرجه من بلد النوبة ثم يشقّ إقليم مصر فيتشعّب خلف الفسطاط فنهر يفيض بالإسكندريّة ونهر بدمياط، وذكر الجيهانىّ انه يخرج من جبل القمر ثم ينصبّ في بحيرتين خلف خطّ الاستواء ويطيف بأرض النوبة وقال غيره لا يعرف له أوّل ولا يدرى أحد من اين يقبل [10] ،
--------------------------------------------
এবং শিরিন নদী [১] ও সমন্দর নদী [২], এরপর সেগুলোর পরে ছোট নদীসমূহ রয়েছে যেগুলোর কয়েকটির কথা আমরা বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ণনায় উল্লেখ করব, যেমন তাব নদী, নাহরাওয়ান, যাব [৩] এবং এগুলোর সদৃশ নদীসমূহ। আর দজলা (টাইগ্রিস) নদীর কথা বলতে গেলে, এটি একটি ঝরণা যা আকুর অঞ্চলের অন্ধকারাচ্ছন্ন দরজার (বাবুজ জুলুমাত) কাছে যুল-কারনাইনের রিবাতের (দুর্গ বা ঘাঁটি) নিচ থেকে নির্গত হয়েছে [৪], যা মসুলের উপরে অবস্থিত। এরপর বেশ কিছু নদী এর সাথে মিলিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে যাব নদী, যতক্ষণ না এটি ফোরাত (ইউফ্রেটিস) এবং বাগদাদের নাহরাওয়ানের শাখাগুলোর সাথে মিলিত হয় [৫]। আর ফোরাত নদী সম্পর্কে কথা হলো, এটি রোম (বাইজেন্টাইন) ভূখণ্ড থেকে নির্গত হয় [৬][৭], অতঃপর আকুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাঁক নেয় [৮] এবং খাবুর নদী এর সাথে এসে মিশেছে। এরপর এটি ইরাকে প্রবেশ করে এবং কুফার পেছনে ছড়িয়ে পড়ে এবং দজলার সাথে এর চারটি শাখা মিলিত হয় [৯]। আর নীল নদের উৎস হলো নুবা (নুবিয়া) ভূখণ্ড, এরপর এটি মিসর অঞ্চলকে চিরে প্রবাহিত হয় এবং ফুসতাতের পেছনে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি শাখা আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে পড়ে এবং অন্যটি দামিয়েতে। আল-জায়হানি উল্লেখ করেছেন যে, এটি জাবালুল কামার (চাঁদের পাহাড়) থেকে উৎপন্ন হয়েছে, অতঃপর বিষুবরেখার (ইস্তিউয়া রেখা) পেছনে অবস্থিত দুটি হ্রদে পতিত হয় এবং নুবা ভূমিকে প্রদক্ষিণ করে। অন্যান্যের মতে, এর শুরু কোথায় তা জানা যায় না এবং এটি কোথা থেকে আসে তাও কেউ জানে না [১০] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২১)
وحدّثنا ابو الحسن [1] الخليل بن الحسن السرخسىّ بنيسابور [2] قال حدّثنا ابو الحسن عليّ [3] بن محمّد القنطريّ قال حدّثنا المأمون بن احمد السلمىّ [2] قال حدّثنا محمّد بن خلف [4] قال أخبرنا ابو صالح كاتب الليث بن سعد عن الليث [2] قال ذكروا والله اعلم انه كان رجل [5] من بنى العيص يقال له حائذ [6] بن ابى شالوم بن العيص وانه خرج هاربا من ملك من ملوكهم حتّى دخل ارض مصر فأقام بها سنين فلمّا رأى عجائب نيلها وما ياتى به جعل للَّه على نفسه ان لا يفارق ساحلها حتّى [7] يبلغ منتهاه من حيث يخرج أو يموت قبل ذلك فسار حتّى انتهى الى بحر أخضر فنظر الى النيل يشقّ البحر (قال المقدسيّ هذا البحر هو المخيط [8] قال فصعد على البحر فإذا هو برجل قائم يصلّى تحت شجرة تفّاح فلمّا رآه استأنس اليه وسلّم عليه [2] فسأله من أنت قال حائذ بن ابى شالوم بن العيص بن إسحاق صلى الله عليه وسلم فمن أنت قال انا عمران بن العيص بن إسحاق عم [9] قال فما الّذي جاء بك يا عمران قال جاء بى الّذي جاء بك حتّى انتهيت الى هذا الموضع فأوحى الله تعالى الىّ [2] ان قف في هذا الموضع حتّى يأتيك أمري قال فقال له يا عمران أخبرني عن النيل فقال [7] لست بمخبرك دون ان تفعل ما اسألك قال وما ذاك [7] قال إذا رجعت الىّ [7] وانا حىّ أقمت عندي حتّى يوحى الله الىّ [10] بأمر أو يتوفّانى فتدفننى [11] قال ذاك لك قال له [7] سمر كما أنت على هذا البحر فانّك ستأتي دابّة مقاربة [12] للشمس إذا طلعت أهوت اليها لتبتلعها [13] فلا يهولنّك أمرها فأركبها فإنها [14] تذهب بك الى جانب البحر فسر عليه راجعا حتّى تنتهي الى النيل فسر عليه فإنك ستبلغ أرضا من حديد جبالها وشجرها
--------------------------------------------
আবু হাসান [১] খলীল ইবনুল হাসান আস-সারখাসি নিশাপুরে [২] আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু হাসান আলী [৩] ইবনু মুহাম্মাদ আল-কান্তারি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-মামুন ইবনু আহমাদ আস-সুলামি [২] আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু খালাফ [৪] আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, লাইস ইবনু সা'দের লেখক আবু সালিহ লাইস [২] থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা উল্লেখ করেছেন—আর আল্লাহই ভালো জানেন—বনু আল-আইসের এক ব্যক্তি ছিল যাকে হাইজ [৬] ইবনু আবি শালুম ইবনু আল-আইস বলা হতো। সে তাদের রাজাদের একজনের নিকট থেকে পালিয়ে বের হয়ে মিসর দেশে প্রবেশ করে এবং সেখানে কয়েক বছর অবস্থান করে। যখন সে নীলনদের বিস্ময়কর বিষয়াদি এবং এটি যা বহন করে আনে তা দেখল, তখন সে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের ওপর এই মানত করল যে, সে এর তীর ত্যাগ করবে না যতক্ষণ না [৭] এর উৎপত্তিস্থলে পৌঁছায় যেখান থেকে এটি নির্গত হয় অথবা এর আগেই তার মৃত্যু না হয়। অতঃপর সে চলতে থাকল যতক্ষণ না একটি সবুজ সাগরে গিয়ে পৌঁছাল এবং দেখল যে নীলনদ সাগরকে চিরে প্রবাহিত হচ্ছে (আল-মাকদিসি বলেন, এই সাগরটি হলো মুহিত [৮])। তিনি বলেন, সে সাগরের ওপর দিয়ে চলল, হঠাৎ সে এক ব্যক্তিকে দেখতে পেল যে একটি আপেল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে। যখন সে তাকে দেখল, তখন তার প্রতি আশ্বস্ত বোধ করল এবং তাকে সালাম দিল [২]। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে? সে বলল, আমি হাইজ ইবনু আবি শালুম ইবনু আল-আইস ইবনু ইসহাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তবে আপনি কে? তিনি বললেন, আমি ইমরান ইবনু আল-আইস ইবনু ইসহাক, চাচা [৯]। সে বলল, হে ইমরান! কিসে আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে? তিনি বললেন, যে বিষয় আপনাকে নিয়ে এসেছে সেই বিষয়ই আমাকে নিয়ে এসেছে, এমনকি আমি এই স্থানে এসে পৌঁছেছি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমার কাছে ওহি পাঠালেন [২] যে, তুমি এই স্থানে অবস্থান করো যতক্ষণ না তোমার কাছে আমার নির্দেশ আসে। তিনি বলেন, সে তাঁকে বলল, হে ইমরান! আমাকে নীলনদ সম্পর্কে সংবাদ দিন। তিনি বললেন [৭], আমি আপনাকে সংবাদ দেব না যতক্ষণ না আপনি আমি যা চাই তা পূরণ করেন। সে বলল, সেটি কী? [৭] তিনি বললেন, যখন আপনি আমার কাছে ফিরে আসবেন [৭] এবং আমি জীবিত থাকব, তখন আমার কাছে অবস্থান করবেন যতক্ষণ না আল্লাহ আমার কাছে কোনো নির্দেশের ওহি পাঠান [১০] অথবা আমার মৃত্যু দান করেন এবং আপনি আমাকে দাফন করেন [১১]। সে বলল, আপনার জন্য তা-ই হবে। তিনি তাকে বললেন [৭], আপনি এই সাগরের ওপর দিয়ে আপনার গন্তব্যে অবিচলভাবে চলতে থাকুন। শীঘ্রই আপনি এমন এক প্রাণীর কাছে পৌঁছাবেন যা সূর্যের নিকটবর্তী হয় [১২]। যখন সূর্য উদিত হয়, তখন প্রাণীটি সেটিকে গিলে ফেলার জন্য [১৩] সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার বিষয়টি যেন আপনাকে ভীত না করে। আপনি তার পিঠে চড়ুন, কেননা সেটি [১৪] আপনাকে সাগরের অন্য প্রান্তে নিয়ে যাবে। অতঃপর আপনি তার ওপর চড়ে ফিরে যেতে থাকুন যতক্ষণ না নীলনদে গিয়ে পৌঁছান। আপনি এর ওপর দিয়ে চলুন, তবে নিশ্চয়ই আপনি এমন এক ভূমিতে পৌঁছাবেন যার পাহাড় এবং গাছসমূহ লোহার তৈরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وسهولها من [1] ارض ذهب الى ان تنتهي وإذا بقيّة من ذهب فيها ينتهى إليك علم النيل فسار حتّى بلغ القبّة فإذا ماء ينحدر من السور [2] الى القبّة ثم يفترق في الأبواب الأربعة [3] فلمّا ثلاثة فتغيض في الأرض واما واحد فيشقّ على وجه الأرض وهو النيل فشرب منه واستراح وأهوى الى السور ليصعد [4] فأتاه ملك فقال له يا حائذ قف مكانك فقد انتهى إليك علم النيل وهذه الجنّة وذكر الحديث بطوله [5] واما جيحون فان ابتداءه من بلاد وخّان يمدّ الى الختّل [6] ثم يتّسع ويعظم ويقع اليه ستّة انهار نهر هلبك [7] ثم نهر بربان [8] ثم نهر فارغر [9] ثم نهر انذيجاراغ [10] ثم نهر وخشاب وهو اعمقهنّ ثم يلقاه نهر القواديان [11] ثم انهار الصغانيان كلّ ذلك من جانب هيطل ثم ينحدر متبحّرا الى خوارزم فيقرّ في بحيرة مرّة وقد سقى عدّة من المدن مع مدن خوارزم كلّها شرقا وغربا واما نهر الشلش فإنه يخرج عن يمين بلد الترك ويمدّ الى بحيرة خوارزم أيضا وهو يقارب جيحون في العظم الّا انه شبه الميّت [12] واما سيحان وجيحان وبردان [13] فانّهنّ انهار طرسوس وأذنة والمصّيصة يخرجن من بلد الروم ثم يفضن [14] في البحر وكذلك سائر انهار الشام الّا نهر بردي والاردنّ فإنهما يفيضان في البحيرة المقلوبة وبردي يتفجّر [15] من جبال فوق دمشق ويشقّ القصبة ويسقى الكورة ثم ينقسم فضلته فبعض يتبحّر في أقصى الكورة وبعض ينحدر الى الاردنّ [16] واما نهر مهران فإنه يخرج من الهند ثم يفيض
--------------------------------------------
এবং এর সমতল ভূমিগুলো [১] স্বর্ণভূমি থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। আর সেখানে যতটুকু স্বর্ণ অবশিষ্ট থাকে, তাতেই নীল নদ সম্পর্কে তোমার জ্ঞানের সমাপ্তি ঘটে। অতঃপর তিনি পথ চললেন যতক্ষণ না গম্বুজ পর্যন্ত পৌঁছালেন; সেখানে দেখলেন প্রাচীর [২] থেকে গম্বুজের দিকে পানি নেমে আসছে। অতঃপর তা চারটি দরজায় [৩] বিভক্ত হয়ে যায়। যখন তার তিনটি অংশ মাটির নিচে হারিয়ে যায়, আর একটি অংশ ভূপৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়—আর সেটিই হলো নীল নদ। অতঃপর তিনি সেখান থেকে পান করলেন, বিশ্রাম নিলেন এবং আরোহণ করার জন্য [৪] প্রাচীরের দিকে ঝুঁকলেন। তখন একজন ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বললেন, 'হে হাইজ! তোমার স্থানেই থেমে যাও, কারণ নীল নদ সম্পর্কে তোমার জ্ঞান এখানেই শেষ হয়েছে এবং এটিই জান্নাত।' এরপর তিনি দীর্ঘ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন [৫]। আর জাইহুন নদীর কথা বলতে গেলে, এর উৎপত্তি ওয়াখ্খান অঞ্চল থেকে, যা খুত্তাল [৬] পর্যন্ত বিস্তৃত। অতঃপর এটি প্রশস্ত ও বিশাল হয় এবং এতে ছয়টি নদী এসে মিলিত হয়: হালবাক নদী [৭], তারপর বারবান নদী [৮], তারপর ফারগার নদী [৯], তারপর আনদিজারাগ নদী [১০], তারপর ওয়াখশাব নদী—যা তাদের মধ্যে গভীরতম। এরপর এর সাথে কুওয়াদিয়ান নদী [১১] মিলিত হয়, অতঃপর সাগানিয়ান নদীসমূহ; এ সবই হাইতাল পাশ থেকে আসে। এরপর এটি সমুদ্রের মতো বিস্তৃত হয়ে খাওয়ারিজমের দিকে নেমে আসে এবং একটি তিক্ত হ্রদে স্থিতি লাভ করে। এটি খাওয়ারিজমের সমস্ত শহরসহ পূর্ব ও পশ্চিমের বেশ কিছু শহরকে সিক্ত করেছে। আর শাশ নদীটি তুর্কদের দেশের ডান দিক থেকে বের হয়ে খাওয়ারিজম হ্রদ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এটি বিশালতায় জাইহুনের কাছাকাছি, তবে এটি প্রায় নিথর বা মৃতপ্রায় [১২]। আর সাইহান, জাইহান এবং বারাদান [১৩] হলো তারসুস, আদানা ও মাস্সিসাহর নদী। এগুলো রোম দেশ থেকে উৎপন্ন হয়ে সমুদ্রে পতিত হয় [১৪]। সিরিয়ার অন্যান্য নদীর অবস্থাও অনুরূপ, তবে বারাদা ও জর্ডান নদী ব্যতিরেকে; কারণ এ দুটি 'বিপরীত হ্রদে' (মৃত সাগর) পতিত হয়। বারাদা নদী দামেস্কের উপরের পাহাড়গুলো থেকে উৎসারিত হয় [১৫], শহরের কেন্দ্রভাগ অতিক্রম করে এবং জেলাকে সিক্ত করে। অতঃপর এর অবশিষ্টাংশ বিভক্ত হয়ে যায়; কিছু অংশ জেলার শেষ প্রান্তে জলাভূমির রূপ নেয় এবং কিছু অংশ জর্ডান নদীর দিকে নেমে যায় [১৬]। আর মেহরান নদীর কথা হলো, এটি হিন্দুস্তান থেকে বের হয়ে প্রবাহিত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في بحر الصين بعد ما يلقاه [1] عدّة انهار في الأقاليم وطعم مائه ولونه وزيادته وكون التماسيح فيه كالنيل [2] واما نهر الرسّ والملك والكرّ فانهنّ يخرجن [3] من بلاد الروم فيسقين إقليم الرحاب ثم يفضن [4] في بحيرة الخزر [5] واما انهار [6] الأهواز فإنها عدّة انهار تنحدر [7] على الإقليم من الجبال ثم تجتمع بحصن مهدىّ وتفيض في بحر الصين عند عبّادان [8] ، ووجدت في كتاب 5 بالبصرة اربعة انهار من الجنّة في الدنيا النيل وجيحون والفرات والرسّ واربعة من انهار النار الزّبدانيّ والكرّ وسنجة [9] والسم واما نهر المروين وهراة وسجستان وبلخ فإنها تخرج من اربعة [10] جوانب بلد الغور ثم تنحدر الى هذه الكور فتسقيها [11] واما طيفورى [12] فإنه ينحدر من جبال جرجان فيسقى [13] الكورة، ونهر الرىّ يخرج من فوق البلد من شبه فوّارة ثم ينشعب [14] وينحدر 10 على البلد، وزندرود ينحدر من جبال أصفهان ثم يدخل اليهوديّة [15] ويسقى الكورة [16] ، واما انهار فارس فإنها [17] تفيض في خمس بحيرات في الإقليم [18] ونهر
--------------------------------------------
চীনের সমুদ্রে বেশ কিছু আঞ্চলিক নদ-নদী মিলিত হওয়ার পর [১], এর পানির স্বাদ, রঙ, বৃদ্ধি এবং এতে নীল নদের ন্যায় কুমিরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় [২]। আর রাস, মালিক ও কুর নদী সম্পর্কে বলা যায় যে, সেগুলো রোম দেশ থেকে নির্গত হয়েছে [৩], অতঃপর রিহাব অঞ্চলকে সিক্ত করে খাজার হ্রদে (কাস্পিয়ান সাগর) গিয়ে পড়েছে [৪, ৫]। আর আহওয়াজের নদ-নদীগুলো [৬] হলো বেশ কিছু নদী যা পাহাড় থেকে অঞ্চলের দিকে নেমে এসেছে [৭], অতঃপর হিসনে মাহদীতে একত্রিত হয়ে আবাদানের নিকট চীন সাগরে গিয়ে মিশেছে [৮]। এবং আমি বসরার একটি কিতাবে পেয়েছি যে, দুনিয়াতে জান্নাতের চারটি নদী রয়েছে: নীল, জাইহুন, ফুরাত এবং রাস; আর জাহান্নামের চারটি নদী হলো: জাবদানি, কুর, সাঞ্জাহ [৯] এবং সাম। আর দুই মার্ভ, হারাত, সিজিস্তান ও বালখের নদীগুলোর কথা বললে, সেগুলো গুর দেশের চার [১০] প্রান্ত থেকে নির্গত হয়, অতঃপর এই জেলাগুলোর দিকে নেমে এসে সেগুলোকে সিক্ত করে [১১]। আর তাইফুরী [১২] নদীটি জুরজান পাহাড় থেকে নেমে এসে জেলাটিকে সিক্ত করে [১৩]। রাই-এর নদীটি শহরের উপরিভাগ থেকে একটি ঝরনার মতো নির্গত হয়, অতঃপর শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে [১৪] শহরের দিকে নেমে যায়। জিন্দারুদ ইসফাহানের পাহাড় থেকে নেমে এসে ইয়াহুদিয়্যাহতে প্রবেশ করে [১৫] এবং জেলাটিকে সিক্ত করে [১৬]। আর পারস্যের নদ-নদীগুলো [১৭] ওই অঞ্চলের পাঁচটি হ্রদে গিয়ে পড়ে [১৮] এবং নদী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
طاب يقبل من البرج قبل [1] سميرم ثم يمدّ على تخوم فارس ثم يفيض في بحر الصين عند سينيز [2] ، ونهر ارّجان يتفجّره [3] من جبال فارس ويقع فيه ماء مالح تحت العقبة ويسقى الكورة بالقسمة
ذكر الأسامي واختلافها5 اعلم ان في الإسلام بلدانا وكورا وقرى تتّفق اسماءها وتتباين مواضعها ويشكل على الناس أمرها والمنسوبون اليها [4] فرأينا ان تقدّم [5] هذا الباب ونفرده لها ونذكر أيضا الأسامي التي يختلف [6] فيها أهل الأقاليم فان ذلك يفيد من دخلها لا محالة [7] ، السوس كورة بأقصى المغرب ومدينة بأوّله واخرى بهيطل وكورة بخوزستان [8] وبالمغرب سوسة أيضا، أطرابلس [9] مدينة على ساحل 10 دمشق واخرى على ساحل برقة، بيروت مدينة بدمشق ومدينة [10] بخوزستان، عسقلان مدينة على ساحل فلسطين ومنبر [11] ببلخ، ورمادة [12] مدينة بالمغرب وقرية ببلخ واخرى بنيسابور واخرى بالرملة، طبران مدينة على تخوم قومس ورستاق سرخس [7] وطابران قصبة طوس وطبرستان كورة وطبرية قصبة الاردنّ وطواران كورة بالسند [13] وطبرك موضع بالريّ، قوهستان كورة بخراسان ومدينة 15 بكرمان، طبس التمر وطبس العنّاب مدينتان [7] بقوهستان، دهستان مدينة بكرمان وناحية [14] بجرجان وناحية ببادغيس، نسا مدينة بخراسان واخرى بفارس واخرى بكرمان [15] ، البيضاء نسا فارس وكورة [16] بالمغرب ومدينة بالخزر [17] ،
--------------------------------------------
তাব নদী বুরজ থেকে সামীরামের আগে প্রবাহিত হয়, তারপর পারস্যের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং সিনীজ নামক স্থানে চীন সাগরে গিয়ে পতিত হয়। আররাজান নদী পারস্যের পাহাড় থেকে উৎসারিত হয় এবং এর মধ্যে আকাবার নিচে লোনা পানি এসে মেশে। এই নদীটি বন্টন অনুযায়ী অঞ্চলকে সিক্ত করে।
নামের বর্ণনা ও এগুলোর পার্থক্য সংক্রান্ত আলোচনা৫ জেনে রাখুন যে, ইসলামি ভূখণ্ডে এমন অনেক শহর, অঞ্চল এবং গ্রাম রয়েছে যেগুলোর নাম এক হলেও অবস্থান ভিন্ন। এতে মানুষের কাছে বিষয়টি এবং ওই স্থানগুলোর দিকে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় অস্পষ্ট হয়ে যায়। তাই আমি এই অধ্যায়টিকে আগে উপস্থাপনের এবং বিষয়টিকে পৃথকভাবে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া আমি সেই নামগুলোও উল্লেখ করব যেগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; কেননা এটি পর্যটকদের জন্য অবশ্যই উপকারী হবে। 'সুস' হলো দূরবর্তী মাগরেবের একটি অঞ্চল, মাগরেবের শুরুতে অবস্থিত একটি শহর, হাইতালের একটি শহর এবং খুজিস্তানের একটি অঞ্চল। এছাড়া মাগরেবে 'সুসা' নামক একটি শহরও রয়েছে। 'ত্রিপোলি' দামেস্কের উপকূলে অবস্থিত একটি শহর এবং বারকার উপকূলে অবস্থিত অপর একটি শহর। 'বৈরুত' দামেস্কের একটি শহর এবং খুজিস্তানের একটি শহর। 'আসকালান' ফিলিস্তিনের উপকূলে অবস্থিত একটি শহর এবং বল্খ অঞ্চলের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র। 'রামাদাহ' মাগরেবের একটি শহর, বল্খের একটি গ্রাম, নিশাপুরের একটি গ্রাম এবং রামলার একটি গ্রাম। 'তাবারান' কুমিসের সীমানায় অবস্থিত একটি শহর এবং সারাখসের একটি পল্লী অঞ্চল। 'তাবারান' (আলিফসহ) তুসের প্রধান শহর। 'তাবারিস্তান' একটি অঞ্চল। 'তাবারিয়া' জর্ডানের প্রধান শহর। 'তুয়ারান' সিন্ধুর একটি অঞ্চল। 'তাবারাক' রাই নামক স্থানে অবস্থিত একটি জায়গা। 'কুহিস্তান' খোরাসানের একটি অঞ্চল এবং কিরমানের একটি শহর। 'তাবাস আত-তামর' ও 'তাবাস আল-উন্নাব' কুহিস্তানের দুটি শহর। 'দিহিস্তান' কিরমানের একটি শহর, জুরজানের একটি এলাকা এবং বাদগিসের একটি এলাকা। 'নাসা' খোরাসানের একটি শহর, পারস্যের একটি শহর এবং কিরমানের একটি শহর। 'আল-বাইদা' হলো পারস্যের নাসা শহর, মাগরেবের একটি অঞ্চল এবং খাজারের একটি শহর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
البصرة بالعراق [1] ومدينة بالمغرب، الحيرة مدينة كانت بالكوفة وقرية بفارس ومنزل بسجستان [2] ومحلّة بنيسابور، الجور مدينة بفارس والجور محلّة بنيسابور [3] ، حلوان كورة بالعراق ومدينة بمصر وقرية بنيسابور واخرى بقوهستان [4] ، كرخ مدينة بسامرّاء [5] ومحلّة ببغداد ومنبر بالرحاب [6] وقرية ببغداد وكرخة مدينة بخوزستان كروخ مدينة بهراة، الشاش كورة بهيطل وقرية بالريّ، أستراباد مدينة بجرجان وقرية [7] بنسا خراسان، كرج ناحية ومدينة لهمذان [8] وقرية بالريّ، دستجرد [9] مدينة بالصغانيان وقرى بالريّ ونيسابور ودستجرد مدينة بكرمان، مغون مدينة بقومس واخرى بكرمان [10] ، باسند مدينة بالصغانيان واخرى بالسند، أوه [11] مدينتان بالجبال، الأهواز مصر خوزستان [12] وقرية بالريّ، الرقة بأثور [13] ومدينة بقوهستان، خوار [14] مدينة بالريّ 10 واخرى على تخوم قومس وخور ببلخ [15] وخور بقوهستان، نوقان مدينة بطوس وقرية بنيسابور وموقان مدينة بالرحاب ومنوقان مدينة بكرمان، الكوفة بالعراق [16] وكوفا مدينة ببادغيس وكوفن رباط أبيورد، خانقين مدينة بحلوان العراق [17] والخانقين بالكوفة [18] وخانوقة باثور [19] والخانقه متعبّد الكرّاميّين بإيليا، الحديثة مدينة على دجلة [20] واخرى على الفرات باقور [17] والحدث مدينة 15
--------------------------------------------
ইরাকের বসরা [১] এবং মরক্কোর একটি শহর; হিরা হলো এমন এক শহর যা কুফায় অবস্থিত ছিল, পারস্যের একটি গ্রাম, সিজিস্তানের একটি বিশ্রামস্থল [২], এবং নিশাপুরের একটি মহল্লা; জুর পারস্যের একটি শহর এবং জুর নিশাপুরের একটি মহল্লা [৩]; হুলওয়ান ইরাকের একটি জেলা, মিশরের একটি শহর, নিশাপুরের একটি গ্রাম এবং কুহিস্তানের আরেকটি গ্রাম [৪]; কারখ সামাররার একটি শহর [৫], বাগদাদের একটি মহল্লা, রিহাবের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র (মিনবার) [৬] এবং বাগদাদের একটি গ্রাম; কারখাহ খুজিস্তানের একটি শহর; কারুখ হেরাতের একটি শহর; শাশ হায়তালের একটি জেলা এবং রাইয়ের একটি গ্রাম; আস্তারাবাদ জুরজানের একটি শহর এবং খোরাসানের নাসার একটি গ্রাম [৭]; কারাজ হামাদানের একটি পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও শহর [৮] এবং রাইয়ের একটি গ্রাম; দাস্তাজিরদ [৯] সাগানিয়ানের একটি শহর এবং রাই ও নিশাপুরের কিছু গ্রাম, এবং দাস্তাজিরদ কিরমানের একটি শহর; মাগুন কুমিসের একটি শহর এবং কিরমানের আরেকটি শহর [১০]; বাসান্দ সাগানিয়ানের একটি শহর এবং সিন্ধুর আরেকটি শহর; আওহ [১১] জিবাল অঞ্চলের দুটি শহর; আহওয়াজ খুজিস্তানের রাজধানী [১২] এবং রাইয়ের একটি গ্রাম; রাক্কাহ আউসুরে [১৩] এবং কুহিস্তানের একটি শহর; খাওয়ার [১৪] রাইয়ের একটি শহর এবং কুমিসের সীমান্তে আরেকটি শহর, এবং খুর বালখে [১৫] এবং খুর কুহিস্তানে; নুমান তুসের একটি শহর এবং নিশাপুরের একটি গ্রাম; মুকান রিহাবের একটি শহর এবং মানুকান কিরমানের একটি শহর; ইরাকের কুফা [১৬]; কুফা বাদগিসের একটি শহর; কুফান আবিওয়ার্দের একটি রিবাত (সীমান্ত চৌকি); খানিকিন ইরাকের হুলওয়ান অঞ্চলের একটি শহর [১৭]; আল-খানিকাইন কুফায় [১৮]; খানুকা আউসুরে [১৯]; এবং খানকাহ হলো ইলিয়াতে কাররামিয়াদের উপাসনালয়; হাদিসা দজলা নদীর তীরের একটি শহর [২০] এবং ফোরাত নদীর তীরের আরেকটি শহর যা আকুরে অবস্থিত [১৭]; এবং হাদাস ১৫ নম্বর শহর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بقنّسرين والمحدثة [1] منزل ببريّة تيماء، النبك والعونيد مدينتان بالحجاز ومنزلان ببريّة تيماء، الزرقاء قرية في طريق الرىّ وموضع في طريق دمشق [2] ، عكا مدينة على ساحل الاردنّ وعك قبيلة [3] باليمن، اليهودية قصبة أصفهان وقصبة جوزجان، الأنبار مدينة لبغداد [4] وأنبار مدينة بجوزجان [5] ، أصفهان كورة [6] وقرية أصفهانك في طريقها والاصبهانات مدينة [7] بفارس، مدينة مدينة النبيّ صلى الله عليه وسلم ومدينة الرىّ ومدينة أصفهان ومدينة السلام والمدائن بالعراق، كوتا ربّا وكوتا الطريق مدينة وقرية بالعراق [8] ، الدسكرة بخوزستان ودسكرة العراق، باراب [9] رستاق بلسبيجاب وفارياب بجوزجان، الطالقان مدينة [10] بالديلم وطالقان جوزجان، ابشين حضرة الشار ومدينة بغزنين [11] ، هراة خراسان ومدينة لاصطخر [12] ، بغلان العليا والسفلى مدينتان [13] بطخارستان، اسداواذ [14] مدينة بالجبال [15] وقرية بنيسابور، بيار [16] شبه مدينة بقومس وقرية بنسا خراسان [17] ، ووذار رستاق لسمرقند، جرجان كورة بالديلم [18] والجرجانية
--------------------------------------------
কিননাসরীন এবং আল-মুহদ্দাসাহ [১] হলো তাইমা মরুভূমির একটি বিশ্রামস্থল, আন-নাবক এবং আল-আওনীদ হলো হিজাজের দুটি শহর এবং তাইমা মরুভূমির দুটি বিশ্রামস্থল। আজ-জারকা হলো রায় অভিমুখী রাস্তার একটি গ্রাম এবং দামেস্কের রাস্তার একটি স্থান [২]। আক্কা হলো জর্ডান উপকূলের একটি শহর এবং আক্ক হলো ইয়ামেনের একটি গোত্র [৩]। আল-ইয়াহুদিয়্যাহ হলো ইসফাহানের প্রধান শহর এবং জাওযজানেরও প্রধান শহর। আল-আনবার হলো বাগদাদের একটি শহর [৪] এবং আনবার হলো জাওযজানের একটি শহর [৫]। ইসফাহান একটি প্রশাসনিক অঞ্চল [৬] এবং এর পথে ইসফাহানক নামক একটি গ্রাম রয়েছে এবং আল-আসবাহানাত হলো পারস্যের একটি শহর [৭]। মদিনা বলতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহর, রায়ের শহর, ইসফাহানের শহর, মাদিনাতুস সালাম (বাগদাদ) এবং ইরাকের আল-মাদাইনকে বোঝায়। কুতা রাব্বা এবং কুতা আত-তারীক ইরাকের একটি শহর ও একটি গ্রাম [৮]। আদ-দাসকারাহ খুজিস্তানে এবং ইরাকের দাসকারাহও রয়েছে। বারাব [৯] হলো ইসফিজাবের একটি জেলা (রুস্তাক) এবং ফারইয়াব জাওযজানে অবস্থিত। আত-তালিকান হলো দাইলামের একটি শহর [১০] এবং জাওযজানের তালিকান। আবশীন হলো আশ-শারের রাজধানী এবং গজনীর একটি শহর [১১]। খুরাসানের হিরাত এবং ইস্তাখরের একটি শহর [১২]। উচ্চ ও নিম্ন বাঘলান তুখারিস্তানের দুটি শহর [১৩]। আসাদাওয়ায [১৪] পাহাড়ী অঞ্চলের (আল-জাবাল) একটি শহর [১৫] এবং নিশাপুরের একটি গ্রাম। বিয়ার [১৬] কুমিসের একটি উপ-শহর এবং খুরাসানের নাসার একটি গ্রাম [১৭]। উযার সমরকন্দের একটি জেলা। জুরজান দাইলামের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল [১৮] এবং আল-জুরজানিয়্যাহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مدينة [1] بخوارزم، بلخ وبلخان مدينة خلف أبيورد [2] ، قزوين مدينة للرىّ [3] وقزوينك قرية بالدينور، فلسطين الشام [4] وقرية بالعراق، الرملة قصبة فلسطين وقرية بالعراق [5] وقرية الرمل مدينة بخوزستان، فربر مدينة على جيحون وفره مدينة لسجستان [6] وافراوه رباط نسا [7] ، أمل مدينة على جيحون وقصبة طبرستان [8] واتل قصبة الخزر، بكراباذ شبه مدينة بجرجان ومنزل بسجستان، النيل نهر مصر ومدينة بالعراق، جبلة مدينة لحمص [9] وجبيل على ساحل دمشق، قبا مدينة بفرغانة [10] وقرية بيثرب [11] ومنزل بالبادية، وقومس [12] كورة بالديلم وقومسة قرية [13] بأصبهان، الشامات نواحي الشام ومدينة بكرمان وربع من سواد نيسابور، جرش [14] مدينة باليمن وجبل جرش بالاردنّ [15] ، سنجان مدينة بالرحاب واخرى بمرو وقرية بنيسابور وسنجار مدينة بأثور [16] وزنجان مدينة للرىّ [17] ، مرو الشاهجان ومروالروذ [18] ، سقيا يزيد [19] مدينة ومنزل بالحجاز سقيا بنى غفار [20] ، حضرموت مدينة بالأحقاف ومحلّة بالموصل، الرصافة ربع بغداد وقرية بأرّجان [21] ، نينوى القديمة والحديثة بالموصل، عسكر ابى جعفر بجانب [22] بغداد الشرقىّ وقرية بالبصرة وعسكر مكرم كورة بخوزستان وعسكر بنجهير [23] ناحية ببلخ والعسكر محلّة بالرملة واخرى بنيسابور وقرية ببخارا [13] ، الدورق كورة ومدينة وقرية بخوزستان، الزبيدية [24] منزل بالجبال وآخر بالبطائح وماء بالبادية والزبدانى مدينة بدمشق [13] ،
--------------------------------------------
খোয়ারেজমের একটি শহর [১], বালখ এবং বালখান হলো আবিওয়ার্দের পেছনের একটি শহর [২], কাজভিন রেই-এর একটি শহর [৩] এবং কাজভিনাক হলো দিনাওয়ারের একটি গ্রাম, ফিলিস্তিন শামের একটি প্রদেশ [৪] এবং ইরাকের একটি গ্রাম, রামলা হলো ফিলিস্তিনের প্রধান শহর এবং ইরাকের একটি গ্রাম [৫] এবং রামল গ্রামটি খুজিস্তানের একটি শহর, ফারাবার জাইহুন তীরের একটি শহর এবং ফাররাহ সিজিস্তানের একটি শহর [৬] এবং আফ্রাওয়া হলো নাসার একটি সীমান্ত ফাঁড়ি [৭], আমুল জাইহুন তীরের একটি শহর এবং তাবারিস্তানের প্রধান শহর [৮] এবং আতিল হলো খাজারের প্রধান শহর, বকরাবাদ জুরজানের একটি উপশহর এবং সিজিস্তানের একটি মঞ্জিল, নীল মিশরের একটি নদী এবং ইরাকের একটি শহর, জাবলা হিমসের একটি শহর [৯] এবং জুবাইল দামেস্কের উপকূলে অবস্থিত, কুবা ফারগানার একটি শহর [১০] এবং ইয়াসরিবের একটি গ্রাম [১১] এবং মরুভূমির একটি মঞ্জিল, এবং কুমিস [১২] দাইলামের একটি প্রদেশ এবং কুমিসাহ ইসফাহানের একটি গ্রাম [১৩], আশ-শামাত হলো শামের আশপাশের অঞ্চল এবং কিরমানের একটি শহর এবং নিশাপুরের গ্রামাঞ্চলের একটি অংশ, জারশ [১৪] ইয়েমেনের একটি শহর এবং জারশ পাহাড় জর্ডানে অবস্থিত [১৫], সিনজান রিহাবের একটি শহর এবং আরেকটি মার্ভে অবস্থিত এবং নিশাপুরের একটি গ্রাম, আর সিনজার আসুর অঞ্চলের একটি শহর [১৬] এবং জানজান রেই-এর একটি শহর [১৭], মার্ভ আশ-শাহজান এবং মার্ভ আর-রুদ [১৮], সুকয়া ইয়াজিদ [১৯] হিজাজের একটি শহর ও মঞ্জিল এবং সুকয়া বনু গিফার [২০], হাদরামাউত আহকাফ অঞ্চলের একটি শহর এবং মসুলের একটি পাড়া, রুসাফা বাগদাদের একটি অংশ এবং আররাজানের একটি গ্রাম [২১], প্রাচীন ও আধুনিক নিনাওয়া মসুলে অবস্থিত, আসকার আবু জাফর বাগদাদের পূর্ব পার্শ্বে [২২] এবং বসরার একটি গ্রাম, আসকার মুকাররাম খুজিস্তানের একটি প্রদেশ এবং আসকার বানজাহির বালখের একটি অঞ্চল এবং আল-আসকার রামলার একটি পাড়া এবং আরেকটি নিশাপুরে এবং বুখারার একটি গ্রাম [১৩], দাওরাক খুজিস্তানের একটি প্রদেশ, শহর ও গ্রাম, জুবাইদিয়া [২৪] পার্বত্য অঞ্চলের একটি মঞ্জিল এবং অন্যটি বাতাইহ-এ এবং মরুভূমির একটি পানির উৎস, আর জাবাদানি দামেস্কের একটি শহর [১৩],
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহসানুত তাকাসিম ফী মারিফাতিল আকালীম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الحدادة [1] قرية بقومس والحدادية قرية [2] بالبطائح، نيسابور وسابور وجنديسابور ثلاث [3] كور بناهنّ سابور [4] وبنى بأرّجان مدينة بلا سابور وبإصطخر ارسابور [5] ، كرمان إقليم [6] وكرمان شاهان مدينة بالجبال وكرمينية [7] مدينة [8] ببخارا وبيت كرما [9] قرية بابليا، عمان كورة بالجزيرة [10] وعمّان مدينة بفلسطين، الزاب ناحية بالمغرب ونهر بأقور، إسكاف العليا والسفلى ببغداد [11] ، جيلان بالديلم التي تسمّيها العامّة كيلان [3] والجيل مدينة بالعراق، جزيرة العرب إقليم [12] وجزيرة ابن عمر بأقور وجزيرة بنى زغنّاية [13] وجزيرة ابى شريك بإفريقية والجزيرة مدينة بالفسطاط [14] وجزيرة بنى حدّان ببحر القلزم، قلعة الصراط وقلعة القوارب وقلعة برجمة وقلعة النسور وقلعة شميت [15] وقلعة ابن الهرب وقلعة ابى ثور وقلعة البلّوط بالمغرب والقلعة بالرحاب كلّهنّ مدن [8] ، حصن مهدىّ مدينة بالأهواز [16] وحصن السودان وحصن البرار [17] وحصن ابن صالح مدن [18] بسجلماسة حصن بلكونة [19] مدينة بالأندلس حصن الخوابي بالشام حصن منصور بالثغور، قصر ابن هبيرة وقصر الجصّ بالعراق وقصر الفلوس مدينة [8] بتاهرت قصر الافريقىّ ومدينة القصور [20] بإفريقية قصر الريح
--------------------------------------------
আল-হাদ্দাদাহ [১] কুউমিসের একটি গ্রাম এবং আল-হাদ্দাদিয়্যাহ বাত্বইহ-এর একটি গ্রাম [২]। নিশাপুর, সাবুর এবং জুন্দিসাবুর হলো তিনটি প্রদেশ [৩] যা সাবুর নির্মাণ করেছিলেন [৪]। তিনি আররাজানে 'বিলা সাবুর' নামে একটি শহর নির্মাণ করেন এবং ইস্তাখরে আরসাবুর [৫] নির্মাণ করেন। কিরমান একটি অঞ্চল [৬] এবং কিরমান শাহান জাবাল (পার্বত্য) অঞ্চলের একটি শহর। কারমিনিয়্যাহ [৭] বুখারার একটি শহর [৮] এবং বায়ত কারমা [৯] বিলিয়ার একটি গ্রাম। উমান জাজীরার একটি প্রদেশ [১০] এবং আম্মান ফিলিস্তিনের একটি শহর। আল-যাব মাগরিবের একটি এলাকা এবং আকুরে একটি নদী। বাগদাদে উচ্চ ইসকাফ ও নিম্ন ইসকাফ [১১]। দাইলামে জিলান, যাকে সাধারণ মানুষ কিলান [৩] বলে ডাকে এবং আল-জিল ইরাকের একটি শহর। জাজিরাতুল আরব একটি অঞ্চল [১২] এবং আকুরে জাজিরাত ইবনে উমর, জাজিরাত বনি যাগনাইয়্যাহ [১৩], আফ্রিকায় জাজিরাত আবি শারিক, ফুসতাতে আল-জাজিরা শহর [১৪] এবং কুলজুম সাগরে জাজিরাত বনি হাদ্দান। মাগরিবে অবস্থিত সিরাত দুর্গ, কাওয়ারিব দুর্গ, বারজামাহ দুর্গ, নুসুর দুর্গ, শামিত দুর্গ [১৫], ইবনে হারব দুর্গ, আবু সাওর দুর্গ এবং বাল্লুত দুর্গ এবং রিহাবে অবস্থিত আল-কালআ; এই সবগুলিই শহর [৮]। হিসনে মাহদি আহওয়াজের একটি শহর [১৬], আর হিসনুস সুদান, হিসনুল বারার [১৭] এবং হিসন ইবনে সালিহ হলো সিজিলমাসার শহরসমূহ [১৮]। হিসনে বালকুনা [১৯] আন্দালুসের একটি শহর। সিরিয়ায় হিসনুল খাওয়াবি এবং সীমান্তে হিসন মানসুর। ইরাকে কাসর ইবনে হুবাইরাহ এবং কাসরুল জাস। তাহেরতের একটি শহর [৮] হলো কাসরুল ফুলুস। আফ্রিকায় কাসরুল ইফরিকি এবং মাদিনাতুল কুসুর [২০]। কাসরুর রিহ।
--------------------------------------------