(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: -)
وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى   (السمهودي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى

المؤلف: علي بن عبد الله بن أحمد الحسني الشافعي، نور الدين أبو الحسن السمهودي (ت 911هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى - 1419

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা   (আস-সামহুদি)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণ কাহিনী


বই: ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা

লেখক: আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হাসানী আশ-শাফিঈ, নূরুদ্দীন আবুল হাসান আস-সামহুদি (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৯

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৩)
الجزء الأول

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام على سيّد ولد آدم محمد بن عبد الله وعلى آله وأصحابه أجمعين.

أمّا بعد.

فهذا كتاب في تاريخ المدينة المنوّرة مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهو كتاب اختصره مؤلّفه من كتاب آخر له بعنوان «اقتفاء الوفا بأخبار دار المصطفى صلى الله عليه وسلم» .

اختصره مع توسّط غير مفرط كما يقول في مقدمة الكتاب.

وقد رتّبه على ثمانية أبواب مفصّلة في المقدمة.

وإذ نعيد- في دار الكتب العلمية- نشر هذا الكتاب، نشير إلى أنّنا لم نثقل حواشيه إلا بما دعت الضرورة إليه، كضبط الغريب وشرحه، وتخريج الآيات الكريمة، وبعض التعاليق الموجزة، ووضع بعض العناوين الفرعية.

راجين من الله سبحانه وتعالى أن يجعل عملنا هذا في سجلّ حسناتنا، وأن ينفع به القرّاء الكرام، إنه على كل شيء قدير.

والحمد لله أولا وآخرا.
প্রথম খণ্ড

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌উপস্থাপনা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদম-সন্তানদের সরদার মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর।

এটি মদীনা মুনাওয়ারা তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের ইতিহাসের ওপর একটি গ্রন্থ। এটি লেখক তাঁর অপর একটি গ্রন্থ ‘ইকতিফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ থেকে সংক্ষেপ করেছেন।

বইটির ভূমিকায় তিনি যেমনটি বলেছেন, তিনি এটি অতিমাত্রায় সংক্ষিপ্ত না করে বরং একটি মধ্যম পন্থায় সংক্ষেপ করেছেন।

তিনি এটি আটটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন, যা ভূমিকায় বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।

আমরা ‘দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ’ থেকে যখন এই গ্রন্থটি পুনর্প্রকাশ করছি, তখন আমরা এ কথা উল্লেখ করছি যে, আমরা এর টীকাগুলোকে অহেতুক ভারাক্রান্ত করিনি, কেবল প্রয়োজনের খাতিরে যতটুকু দরকার ছিল—যেমন দুর্লভ শব্দের বিন্যাস ও ব্যাখ্যা, আয়াতের উৎস নির্দেশ (তাখরিজ), কিছু সংক্ষিপ্ত টীকা এবং উপশিরোনাম সংযোজন—সেগুলোই করা হয়েছে।

আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই কাজকে আমাদের নেক আমলের দফতরে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সম্মানিত পাঠকদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

এবং শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة المصنّف «1»

هو الإمام الحجّة نور الدين أبو الحسن علي بن عبد الله بن أحمد الحسني الشافعي السمهودي. مؤرخ المدينة المنوّرة ومفتيها.

ولد في سمهود (بصعيد مصر) سنة 844 هـ (1440 م) ونشأ في القاهرة، واستوطن المدينة سنة 873 هـ.

من مؤلفاته:

وفاء الوفاء بأخبار دار المصطفى صلى الله عليه وسلم: وهو الكتاب الذي بين أيدينا.

خلاصة الوفاء: اختصر به الأول.

جواهر العقدين: في فضل العلم والنسب.

الفتاوى: وهي مجموع فتاواه.

الغماز على اللماز: رسالة في الحديث.

درّ السموط: رسالة في شروط الوضوء.

الأنوار السنية في أجوبة الأسئلة اليمنية.

العقد الفريد في أحكام التقليد.

وغيرها.

توفي السمهودي في المدينة المنورة سنة 911 هـ (1506 م) .

--------------------------------------------

(1) انظر الأعلام للزركلي 4/ 307.
লেখকের জীবনী «১»

তিনি হলেন ইমাম, হুজ্জাহ, নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হাসানী আশ-শাফিঈ আস-সামহুদী। তিনি মদিনা মুনাওয়ারাহর ইতিহাসবিদ এবং সেখানকার মুফতি ছিলেন।

তিনি ৮৪৪ হিজরি (১৪৪০ খ্রিস্টাব্দ) সালে (উর্ধ্ব মিশরের) সামহুদে জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে বেড়ে ওঠেন। অতঃপর ৮৭৩ হিজরি সালে তিনি মদিনায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি:

ওয়াফাউল ওয়াফা বি-আখবারি দারিল মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): এটি সেই কিতাব যা বর্তমানে আমাদের হাতে রয়েছে।

খুলাসাতুল ওয়াফা: এতে তিনি প্রথমোক্ত গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন।

জাওয়াহিরুল ইক্কদাইন: ইলম ও বংশমর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে।

আল-ফাতাওয়া: এটি তাঁর ফতোয়াগুলোর সংকলন।

আল-গাম্মায আলাল লাম্মায: হাদিস বিষয়ক একটি পুস্তিকা।

দুররুস সুমুত: ওযুর শর্তাবলি বিষয়ক একটি পুস্তিকা।

আল-আনোয়ারুস সানিয়্যাহ ফি আজউয়িবাতিল আসইলাতিল ইয়ামানিইয়াহ।

আল-ইক্কদুল ফারিদ ফি আহকামিত তাকলিদ।

ইত্যাদি।

সামহুদী ৯১১ হিজরি (১৫০৬ খ্রিস্টাব্দ) সালে মদিনা মুনাওয়ারাহতে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আয-যিরিকলি রচিত আল-আ'লাম, ৪/৩০৭।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرّحمن الرّحيم وبه نستعين، وصلّى الله على سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه.

 

‌‌خطبة المؤلف

أما بعد: حمد الله على آلائه «1» ، والصلاة والسلام على سيدنا محمد أشرف أنبيائه، وعلى آله وأصحابه وأصفيائه؛ فقد سألني من طاعته غنم، ومخالفته غرم، أن أختصر تأليفي المسمى ب «اقتفاء الوفا، بأخبار دار المصطفى» صلى الله عليه وسلم! وزاده شرفا وفضلا لديه! - اختصارا مع توسط غير مفرط، هذا مع كونه بعد لم يقدّر إتمامه بتكامل أقسامه؛ لسلوكي فيه طريقة الاستيعاب، وجمع ما افترق من معاني تلك الأبواب، وتلخيص مقاصد جميع تواريخ المدينة التي وقفت عليها، وإضافة ما اقتضى الحال أن يضاف إليها، مع عروض الموانع، وترادف الشواغل والقواطع، فأجبته إلى سؤاله؛ لما رأيت من شغفه «2» بذلك وإقباله، مع ما رأيت في ذلك من الإتحاف بأمور لا توجد في غيره من المختصرات بل ولا المبسوطات، سيما فيما يتعلق بأخبار الحجرة الشريفة، ومعالمها المنيفة، فإني قد استفدته عيانا، وعلمت أخبارها إيقانا، بسبب ما حدث في زماننا من العمارة التي سنشير إليها، ونقف في محلها عليها؛ لاشتمالها على تجديد ما كاد أن يهي «3» في الحجرة الشريفة من الأركان، وإحكام ما أحاط بها من البنيان. وتشرفت بالخدمة في إعادة بنيانها، وتجنبت شهود نقض أركانها، وحظيت بالوقوف على عرصتها، وتمتعت بانتشاق «4» تربتها، ونعمت العين بالاكتحال بأرضها الشريفة، ومحال الأجساد المنيفة، فامتلأ القلب حياء ومهابة، واكتسى من ثياب الذال أثوابه، هذا وقد جبلت القلوب «5» على الشغف بأخبار هذا المحل وأحواله، كما هو دأب كل محب مغرم واله «6» ، ولله درّ القائل:

--------------------------------------------

(1) الآلاء: جمع الألى أي النعم.

(2) شغف به: أحبه وأولع به» .

(3) يهي: يسقط.

(4) انتشق تربتها: شم تربتها.

(5) جبل الله الخلق: خلقهم وطبعهم. وفي الأثر: «جبلت القلوب على حبّ من أحسن إليها» .

(6) الواله: الذي اشتد حنينه حتى ذهب عقله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

‌লেখকের ভূমিকা

অতঃপর: আল্লাহর নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁর প্রশংসা এবং তাঁর নবীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও মনোনীত ব্যক্তিদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছি। জনৈক ব্যক্তি, যার আনুগত্য লাভজনক এবং বিরুদ্ধাচরণ ক্ষতিকর, আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি আমার ‘ইকতিফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামক গ্রন্থটি সংক্ষেপ করি —আল্লাহ তাঁর নিকট এর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করুন!— এমন এক সংক্ষেপন যা হবে নাতিদীর্ঘ এবং ভারসাম্যপূর্ণ। অথচ গ্রন্থটির সমস্ত অধ্যায় তখনও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া নির্ধারিত হয়নি; কারণ আমি এতে সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছি এবং বিভিন্ন অধ্যায়ের ছড়িয়ে থাকা অর্থগুলো একত্রিত করেছি, সেই সাথে মদিনার ইতিহাস সংক্রান্ত যে সকল গ্রন্থ আমি দেখেছি সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যসমূহ সংক্ষেপ করেছি এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে যা যোগ করা আবশ্যক তা যুক্ত করেছি। যদিও অনেক প্রতিবন্ধকতা এবং একের পর এক ব্যস্ততা ও অন্তরায় সামনে এসেছিল। ফলে আমি তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছি; যেহেতু আমি এই বিষয়ের প্রতি তার প্রবল অনুরাগ ও আগ্রহ দেখেছি। সেই সাথে আমি এতে এমন কিছু বিষয় উপহার দেওয়ার সুযোগ দেখেছি যা অন্য কোনো সংক্ষিপ্ত, এমনকি বিস্তারিত গ্রন্থেও পাওয়া যায় না। বিশেষ করে হুজরা শরীফ (নবীজির কক্ষ) এবং এর সুউচ্চ নিদর্শনাবলীর সংবাদের ক্ষেত্রে। কারণ আমি এগুলো স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছি এবং দৃঢ়তার সাথে এর সংবাদ অবগত হয়েছি আমাদের যুগে যে নির্মাণ কাজ হয়েছে তার বদৌলতে, যার দিকে আমরা ইঙ্গিত করব এবং যথাস্থানে তা আলোচনা করব। কারণ এই সংস্কার কাজের অন্তর্ভুক্ত ছিল হুজরা শরীফের স্তম্ভসমূহের জীর্ণ হয়ে যাওয়া অংশগুলোর সংস্কার এবং একে ঘিরে থাকা দেয়াল মজবুত করা। আমি এর পুনঃনির্মাণ কাজে খেদমতের সৌভাগ্য লাভ করেছি এবং এর স্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা থেকে বেঁচে গিয়েছি। আমি এর প্রাঙ্গণে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য পেয়েছি এবং এর মাটির ঘ্রাণ নিয়ে ধন্য হয়েছি। এর পবিত্র ভূমির ধুলোবালি চোখে সুরমার মতো মেখে চোখ ধন্য হয়েছে, যেখানে মহান দেহগুলো শায়িত। ফলে হৃদয় লজ্জা ও সম্ভ্রমে ভরে উঠেছে এবং বিনয়ের পোশাকে আবৃত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের অন্তরসমূহকে এই স্থানের সংবাদ ও অবস্থার প্রতি অনুরাগী করেই সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি প্রতিটি পাগলপারা প্রেমিকের স্বভাব। কবির কথা কতই না চমৎকার:

--------------------------------------------

(১) আল-আলা: এটি আল-ইলা শব্দের বহুবচন, যার অর্থ নেয়ামতসমূহ।

(২) তার প্রতি আসক্ত হওয়া: তাকে ভালোবাসা এবং তার প্রতি অনুরাগী হওয়া।

(৩) ইয়াহি: পড়ে যাওয়া বা ধসে পড়া।

(৪) এর মাটির ঘ্রাণ নেওয়া: এর মাটির সুগন্ধি নেওয়া।

(৫) আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে ‘জাবালা’ করেছেন: অর্থাৎ তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের স্বভাবজাত করেছেন। একটি বর্ণনায় এসেছে: ‘উপকারকারীর প্রতি ভালোবাসা মানুষের অন্তরে স্বভাবজাত করে দেওয়া হয়েছে।’

(৬) আল-ওয়ালিহ: যার ব্যাকুলতা এতো তীব্র যে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৮)
أملياني حديث من سكن الجز … ع ولا تكتباه إلا بدمعي

فاتني أن أرى الدّيار بطرفي … فلعلّي أرى الديار بسمعي

ولعمري إن الاعتناء بذاك وضبطه وإفادته من مهمّات الدين، وإن النظر فيه مما يزيد في الإيمان واليقين؛ لما فيه من معرفة معاهد دار الإيمان، ونشر أعلامها المرغمة للشيطان، وتذكر آياتها الواضحة التبيان، والمرجو من الله تعالى أن يكون كتابنا هذا تحفة لمحبّي دار الأبرار، ومن سكن بها من الأخيار، ووفد عليها من الوفّاد، وقد بذلت الجهد في تهذيبه وتقريبه، رجاء دعوة تمحو الأوزار «1» ، وتقيل العثار، ونظرة قبول من المصطفى المختار، صلى الله عليه وسلم وعلى آله الأطهار، وصحابته الأخيار!

وسميته «وفاء الوفا، بأخبار دار المصطفى» صلى الله عليه وسلم، وشرف وعظم!

ورتّبته على أبواب:

 

‌‌أبواب الكتاب

الباب الأول: في أسماء هذه البلدة الشريفة.

الباب الثاني: في فضائلها، وبدء شأنها، وما يؤول إليه أمرها، وما يتعلق بذلك، وفيه ستة عشر فصلا: الأول: في تفضيلها على غيرها من البلاد، الثاني: في الحث على الإقامة بها، والصبر على لأوائها «2» وشدتها، وكونها تنفي الخبث والذنوب، ووعيد من أرادها وأهلها بسوء أو أحدث بها حدثا أو آوى محدثا، الثالث: في الحديث على حفظ أهلها وإكرامهم، والتحريض على الموت بها، واتخاذ الأصل، الرابع: في بعض دعائه صلى الله عليه وسلم لها ولأهلها، وما كان بها من الوباء، ودعائه بنقله، الخامس: في عصمتها من الدجال والطاعون، السادس: في الاستشفاء بترابها وتمرها، السابع: في سرد خصائصها، الثامن:

في صحيح ما ورد في تحريمها، التاسع: في بيان عير وثور اللذين وقع تحديد الحرم بهما، العاشر: في أحاديث أخر تقتضي زيادة الحرم على ذلك التحديد وأنه مقدر ببريد، الحادي عشر: في بيان ما في هذه الأحاديث من الألفاظ المتعلقة بالتحديد، ومن ذهب إلى مقتضاها، الثاني عشر: في حكمة تخصيص هذا المقدار المعين بالتحريم، الثالث عشر: في أحكام هذا الحرم الكريم، الرابع عشر: في بدء شأنها، وما يؤول إليه أمرها، الخامس عشر: فيما ذكر من وقوع ما ورد من خروج أهلها وتركهم لها، السادس عشر:

--------------------------------------------

(1) الأوزار: جمع وزر: الذنب. والحمل الثقيل.

(2) اللأواء: ضيق المعيشة. وشدة المرض.
আমাকে সেই উপত্যকার অধিবাসীদের কথা শুনিয়ে দাও ... আর তা কেবল আমার অশ্রু দিয়েই লিখে রেখো।

চক্ষু দিয়ে সেই আবাসভূমি দেখা আমার ভাগ্যে জোটেনি ... তাই হয়তো শ্রবণের মাধ্যমে আমি সেই আবাসভূমি দর্শন করব।

আমার জীবনের শপথ! এসব বিষয়ের প্রতি যত্ন নেওয়া, তা সুসংবদ্ধ করা এবং এর প্রচার ও প্রসার ঘটানো দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আর এতে দৃষ্টিপাত করা ঈমান ও একিন বৃদ্ধি করে; কারণ এতে ঈমানের ভূখণ্ডের নিদর্শনাবলির পরিচয় রয়েছে এবং এর ঝাণ্ডা প্রসারের মাধ্যমে শয়তান লাঞ্ছিত হয় এবং এর সুস্পষ্ট দলীলসমূহ স্মরণে আসে। আল্লাহ তাআলার কাছে প্রত্যাশা এই যে, আমাদের এই কিতাবটি পুণ্যবানদের আবাসের (মদিনা) প্রেমিকদের জন্য, সেখানে বসবাসকারী নেককারদের জন্য এবং সেখানে আগমনকারী অভ্যাগতদের জন্য একটি উপঢোকন হবে। আমি একে পরিমার্জিত ও সহজবোধ্য করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, এই আশায় যে—এমন কোনো দুআ পাব যা পাপরাশি মুছে দেবে, পদস্খলন মার্জনা করবে এবং নির্বাচিত মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের কবুলিয়াতের দৃষ্টি লাভ হবে!

আমি এর নামকরণ করেছি 'ওয়াফাউল ওয়াফা বি আখবারি দারিল মুস্তফা' (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আল্লাহ তাকে সম্মানিত ও মহান করুন!

আমি একে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

 

‌‌কিতাবের অধ্যায়সমূহ

প্রথম অধ্যায়: এই মহিমান্বিত নগরীর নামসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এর ফজিলত, এর ইতিহাসের সূচনা, এর ভবিষ্যৎ পরিণতি এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গে। এতে ষোলোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম: অন্যান্য নগরীর ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়: এখানে বসবাস করার উৎসাহ প্রদান, এর কষ্ট ও সংকটে ধৈর্য ধারণ, এটি যে অপবিত্রতা ও গুনাহ দূর করে দেয় সেই প্রসঙ্গে এবং যে ব্যক্তি এর অথবা এর অধিবাসীদের অনিষ্ট করতে চায় কিংবা এখানে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে অথবা বিদআতিকে আশ্রয় দেয় তার প্রতি হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে। তৃতীয়: এর অধিবাসীদের সুরক্ষা ও সম্মান প্রদর্শন এবং এখানে মৃত্যু বরণ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের গুরুত্ব প্রদান প্রসঙ্গে। চতুর্থ: এর জন্য এবং এর অধিবাসীদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কিছু দুআ এবং এখানে যে মহামারি ছিল তা সরিয়ে নেওয়ার দুআ প্রসঙ্গে। পঞ্চম: দাজ্জাল ও প্লেগ রোগ থেকে এর সুরক্ষিত থাকা প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ: এর মাটি ও খেজুরের মাধ্যমে রোগমুক্তি লাভ প্রসঙ্গে। সপ্তম: এর বৈশিষ্ট্যসমূহের বিবরণ প্রসঙ্গে। অষ্টম: এর হারাম (পবিত্র সীমা) হওয়া সংক্রান্ত সহিহ বর্ণনা প্রসঙ্গে। নবম: 'আইর' ও 'সাওর' নামক পাহাড় দুটির বর্ণনা প্রসঙ্গে, যার মাধ্যমে হারামের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। দশম: অন্যান্য হাদিস প্রসঙ্গে যা হারামের সীমানা আরও বৃদ্ধির দাবি রাখে এবং তা এক 'বারিদ' পরিমাণ নির্ধারিত। একাদশ: এই হাদিসগুলোতে সীমানা নির্ধারণী শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং যারা সেই অনুযায়ী অভিমত দিয়েছেন তাদের বর্ণনা প্রসঙ্গে। দ্বাদশ: নির্দিষ্ট এই পরিমাণ স্থানকে হারাম ঘোষণা করার হিকমত প্রসঙ্গে। ত্রয়োদশ: এই সম্মানিত হারামের বিধানাবলি প্রসঙ্গে। চতুর্দশ: এর ইতিহাসের সূচনা এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি প্রসঙ্গে। পঞ্চদশ: এর অধিবাসীদের এটি ত্যাগ করে চলে যাওয়া সংক্রান্ত যে বর্ণনা এসেছে তা বাস্তবে ঘটা প্রসঙ্গে। ষোড়শ:

--------------------------------------------

(১) আওযার: 'ওয়াযার'-এর বহুবচন, যার অর্থ পাপ বা ভারী বোঝা।

(২) লাওয়া: জীবনযাত্রার সংকীর্ণতা ও রোগের তীব্রতা।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৯)
في ظهور نار الحجاز التي أنذر بها النبي صلى الله عليه وسلم فظهرت من أرضها، وانطفائها عند وصولها إلى حرمها.

الباب الثالث: في أخبار سكانها في سالف الزمان، ومقدمه صلى الله عليه وسلم إليها، وما كان من أمره بها في سني الهجرة، وفيه اثنا عشر فصلا. الأول: في سكانها بعد الطوفان، وما ذكر في سبب سكنى اليهود بها، وبيان منازلهم، الثاني: في سبب سكنى الأنصار بها، الثالث:

في نسبهم، الرابع: في ظهورهم على اليهود، وما اتفق لهم مع تبّع، الخامس: في منازلهم بعد إذلال اليهود، وشيء من آطامهم «1» وحروبهم، السادس: في ما كان بينهم من حرب بغاث، السابع: في مبدأ إكرام الله لهم بهذا النبي الكريم، وذكر العقبة الصغرى، الثامن: في العقبة الكبرى وما أفضت إليه «2» ، التاسع: في مبدأ هجرته صلى الله عليه وسلم، العاشر: في دخوله صلى الله عليه وسلم أرض المدينة وتأسيس مسجد قباء، الحادي عشر: في قدومه باطن المدينة المنيفة، وسكناه بدار أبي أيوب الأنصاري، وخبر هذه الدار، ومؤاخاته بين المهاجرين والأنصار، الثاني عشر: في ما كان من أمره صلى الله عليه وسلم في سنين الهجرة.

الباب الرابع: فيما يتعلق بأمور مسجدها الأعظم، والحجرات المنيفات، وما كان مطيفا بها من الدور والبلاط، وسوق المدينة، ومنازل المهاجرين، واتخاذ السور، وفيه سبعة وثلاثون فصلا: الأول: في أخذه صلى الله عليه وسلم لموضع مسجده الشريف، وكيفية بنائه، الثاني: في ذرعه وحدوده التي يتميز بها عن سائر مسجده اليوم، الثالث: في مقامه الذي كان يقوم به قبل تحويل القبلة وبعده، وما جاء في تحويلها، الرابع: في خبر الجذع، واتخاذ المنبر، وما اتفق فيه، الخامس: في فضل المسجد الشريف، السادس:

في فضل المنبر المنيف والروضة الشريفة، السابع: في الأساطين «3» المنيفة، الثامن: في الصّفّة وأهلها، وتعليق الأقناء «4» لهم بالمسجد، التاسع: في حجره صلى الله عليه وسلم، وبيان إحاطتها بمسجده إلا من جهة المغرب، العاشر: في حجرة ابنته فاطمة رضي الله عنها، الحادي عشر: في الأمر بسد الأبواب، وبيان ما استثنى من ذلك، الثاني عشر: في زيادة عمر رضي الله عنه في المسجد، الثالث عشر: في البطيحاء التي بناها بناحيته، ومنعه من إنشاد الشعر ورفع الصوت فيه، الرابع عشر: في زيادة عثمان رضي الله عنه،

--------------------------------------------

(1) الآطام جمع الأطم: الحصن.

(2) أفضت إليه: النتائج التي ترتبت عليه.

(3) الأساطين مفردها الأسطوانة: العمود. والسارية.

(4) الأقناء جمع قنو: العذق بما فيه من الرطب.
হিজাজের আগুনের আবির্ভাব প্রসঙ্গে, যে বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করেছিলেন এবং তা সে দেশের ভূমি থেকে প্রকাশ পেয়েছিল এবং তার হারাম (পবিত্র সীমানা) এলাকায় পৌঁছানোর পর তা নিভে গিয়েছিল।

তৃতীয় অধ্যায়: অতীত কালে এর অধিবাসীদের বিবরণ, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমন এবং হিজরতের বছরগুলোতে সেখানে তাঁর কার্যাবলি প্রসঙ্গে; আর এতে বারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম: মহাপ্লাবনের পর এর অধিবাসীগণ এবং সেখানে ইহুদিদের বসবাসের কারণ ও তাদের ঘরবাড়ির বর্ণনা প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়: সেখানে আনসারদের বসবাসের কারণ প্রসঙ্গে। তৃতীয়:

তাদের বংশপরিচয় প্রসঙ্গে। চতুর্থ: ইহুদিদের ওপর তাদের বিজয় এবং 'তুব্বা'-এর সাথে তাদের যা ঘটেছিল। পঞ্চম: ইহুদিদের পরাস্ত করার পর তাদের ঘরবাড়ি এবং তাদের কিছু দুর্গ «১» ও যুদ্ধ প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ: তাদের মধ্যকার বুআসের যুদ্ধ প্রসঙ্গে। সপ্তম: এই সম্মানিত নবীর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের সম্মানিত করার সূচনা এবং ক্ষুদ্র আকাবা (বাইআতে আকাবা উলা) প্রসঙ্গে। অষ্টম: বৃহৎ আকাবা (বাইআতে আকাবা সানিয়া) এবং এর পরিণামসমূহ «২» প্রসঙ্গে। নবম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হিজরতের সূচনা প্রসঙ্গে। দশম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মদিনার ভূমিতে প্রবেশ এবং কুবা মসজিদ প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে। একাদশ: মদিনা মুনাওয়ারার মূল অংশে তাঁর আগমন, আবু আইয়ুব আনসারীর ঘরে তাঁর অবস্থান, সেই ঘরের বিবরণ এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে তাঁর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন প্রসঙ্গে। দ্বাদশ: হিজরতের বছরগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কার্যাবলি প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: মদিনার প্রধান মসজিদ (মসজিদে নববী), মর্যাদাপূর্ণ হুজরাসমূহ, এর চারপাশের ঘরবাড়ি ও প্রশস্ত প্রাঙ্গণ, মদিনার বাজার, মুহাজিরদের আবাসস্থল এবং শহরবেষ্টনী প্রাচীর নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রসঙ্গে; এতে সাইত্রিশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তাঁর সম্মানিত মসজিদের স্থান নির্বাচন এবং তা নির্মাণের পদ্ধতি প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়: এর পরিমাপ ও সীমানা প্রসঙ্গে যার দ্বারা বর্তমানের অবশিষ্ট মসজিদ থেকে একে পৃথক করা যায়। তৃতীয়: কিবলা পরিবর্তনের পূর্বে ও পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দাঁড়ানোর স্থান এবং কিবলা পরিবর্তন সংক্রান্ত বর্ণনা প্রসঙ্গে। চতুর্থ: খেজুর গাছের কাণ্ডের সংবাদ, মিম্বর নির্মাণ এবং এ সংক্রান্ত ঘটনাবলি প্রসঙ্গে। পঞ্চম: মসজিদে নববীর ফজিলত প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ:

উন্নত মিম্বর ও রওজা শরীফের ফজিলত প্রসঙ্গে। সপ্তম: সুউচ্চ স্তম্ভসমূহ «৩» প্রসঙ্গে। অষ্টম: সুফফাহ ও সুফফাবাসীদের বর্ণনা এবং মসজিদে তাদের জন্য খেজুরের ছড়া «৪» ঝুলিয়ে রাখা প্রসঙ্গে। নবম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুজরাসমূহ এবং পশ্চিম দিক ব্যতীত তা কীভাবে মসজিদকে পরিবেষ্টন করে ছিল তার বর্ণনা প্রসঙ্গে। দশম: তাঁর কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার হুজরা প্রসঙ্গে। একাদশ: (মসজিদমুখী) দরজাগুলো বন্ধ করার নির্দেশ এবং এর ব্যতিক্রমগুলোর বর্ণনা প্রসঙ্গে। দ্বাদশ: মসজিদে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর অংশ বর্ধিতকরণ প্রসঙ্গে। ত্রয়োদশ: তাঁর নির্মিত পার্শ্ববর্তী প্রশস্ত এলাকা (বাতীহা) এবং সেখানে কবিতা আবৃত্তি ও উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে। চতুর্দশ: উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর অংশ বর্ধিতকরণ প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

(১) আত্বাম হলো উত্বম-এর বহুবচন: এর অর্থ দুর্গ।

(২) আফদ্বাত ইলাইহি: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এর থেকে অর্জিত ফলাফলসমূহ।

(৩) আসাত্বীন হলো উসতুওয়ানা-এর বহুবচন: এর অর্থ স্তম্ভ বা খুঁটি।

(৪) আক্বনা হলো ক্বিনউন-এর বহুবচন: খেজুরের কাঁদি যাতে কাঁচা-পাকা খেজুর থাকে।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১০)
الخامس عشر: في المقصودة التي اتخذها به، السادس عشر: في زيادة الوليد على يد عمر بن عبد العزيز، السابع عشر: فيما اتخذه عمر فيها من المحراب والشرفات والمنارات والحرس، ومنعهم من الصلاة على الجنائز فيه، الثامن عشر: في زيادة المهدي، التاسع عشر: فيما كانت عليه الحجرة المنيفة الحاوية للقبور الشريفة في مبدأ الأمر، العشرون:

في عمارتها بعد ذلك، والحائز الذي أدير عليها، الحادي والعشرون: فيما روي في صفة القبور الشريفة بها، وأنه بقي هناك موضع قبر لعيسى عليه الصلاة والسلام، وتنزل الملائكة حافين بالقبر الشريف، وتعظيمه، والاستسقاء به، الثاني والعشرون: فيما ذكر من صفتها وصفة الحائز الدائر عليها، وما شاهدناه مما يخالف ذلك، الثالث والعشرون: في عمارة اتفقت بها بعدما تقدم، على ما نقله بعضهم، وما نقل من الدخول إليها وتأزيرها بالرخام، الرابع والعشرون: في الصندوق الذي في جهة الرأس الكريم والمسمار الفضة المواجه للوجه الشريف، ومقام جبريل عليه السلام، وكسوة الحجرة وتحليتها، الخامس والعشرون: في قناديلها ومعاليقها، السادس والعشرون: في الحريق الأول القديم المستولي على تلك الزخارف المحدثة بها وبالمسجد وسقفها وما أعيد من ذلك، السابع والعشرون: في اتخاذ القبة الزرقاء تمييزا للحجرة الشريفة والمقصورة الدائرة عليها، الثامن والعشرون: في عمارتها المتجدّدة في زماننا، على وجه لم يخطر قط بأذهاننا، وما حصل من إزالة هدم الحريق من ذلك والمحل الشريف، ومشاهد وضعه المنيف، وتصوير ما استقر عليه أمر الحجرة، التاسع والعشرون: في الحريق الحادث في زماننا بعد العمارة السابقة، وما ترتب عليه ألحقته هنا مع إلحاق ما تقدمت الإشارة إليه في الفصول؛ لحدوثه بعد الفراغ من مسوّدة كتابنا هذا، وفي آخره خاتمة فيما نقل من عمل نور الدين الشهيد لخندق مملوء من الرصاص حول الحجرة، الثلاثون: في تحصيب المسجد «1» ، وأمر البزاق فيه، وتخليقه «2» ، وإجماره، وشيء من أحكامه، الحادي والثلاثون: فيما احتوى عليه من الأروقة والأساطين والبلوعات والسقايات والحواصل، وغير ذلك، الثاني والثلاثون: في أبوابه وخوخاته، وما يميّزها من الدور المحاذية لها، الثالث والثلاثون: في خوخة آل عمر رضي الله عنه، الرابع والثلاثون: فيما كان مطيفا به من الدور، الخامس والثلاثون: في البلاط وما حوله من منازل المهاجرين، السادس والثلاثون: في سوق المدينة، السابع والثلاثون: في منازل القبائل من المهاجرين، وما حدث من اتخاذ السور.

--------------------------------------------

(1) حصّب المسجد: فرشه بصغار الحصى.

(2) الخلاق: ضرب من الطيب، أعظم أجزائه الزعفران. إجماره: تبخيره بالمجمر.
পঞ্চদশ: এতে নির্মিত মাকসুরাহ প্রসঙ্গে, ষোড়শ: ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের মাধ্যমে আল-ওয়ালিদ কর্তৃক সম্পাদিত বর্ধিতকরণ প্রসঙ্গে, সপ্তদশ: ওমর এতে মেহরাব, বারান্দা, মিনার ও পাহারাদারদের জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন এবং এতে জানাজার নামাজ পড়তে নিষেধ করা প্রসঙ্গে, অষ্টাদশ: মাহদীর বর্ধিতকরণ প্রসঙ্গে, ঊনবিংশ: শুরুতে পবিত্র কবরসমূহ ধারণকারী সুউচ্চ কক্ষটি (হুজরাহ) কেমন ছিল, সে প্রসঙ্গে, বিংশ:

পরবর্তীতে এর নির্মাণশৈলী এবং এর চারপাশে যে বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছিল সে প্রসঙ্গে, একবিংশ: এখানকার পবিত্র কবরসমূহের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং সেখানে ঈসা আলাইহিস সালামের কবরের জন্য একটি স্থান অবশিষ্ট থাকা, ফেরেশতাদের পবিত্র কবরের চারপাশে ডানা মেলে অবতরণ, এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এর মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা প্রসঙ্গে, দ্বাবিংশ: এর এবং এর চারপাশের বেষ্টনীর যে বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং আমরা এর বিপরীত যা প্রত্যক্ষ করেছি সে প্রসঙ্গে, ত্রয়োবিংশ: ইতিপূর্বে উল্লেখিত ঘটনার পর এর নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে কারো কারো বর্ণনা এবং এর ভেতরে প্রবেশ করা ও মার্বেল পাথর দিয়ে সজ্জিত করা প্রসঙ্গে, চতুর্বিংশ: সম্মানিত শিয়রের দিকের সিন্দুক এবং পবিত্র চেহারার সম্মুখস্থ রূপালী পেরেক, মাকামে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এবং হুজরার গিলাফ ও অলংকরণ প্রসঙ্গে, পঞ্চবিংশ: এর প্রদীপ এবং ঝুলন্ত সামগ্রী প্রসঙ্গে, ষড়বিংশ: পূর্ববর্তী প্রথম অগ্নিকাণ্ড যা মসজিদ ও এর ছাদের নবনির্মিত কারুকার্যসমূহকে গ্রাস করেছিল এবং এর যা কিছু পুনরায় সংস্কার করা হয়েছিল সে প্রসঙ্গে, সপ্তবিংশ: পবিত্র কক্ষ এবং এর চারপাশের মাকসুরাকে পৃথক করার জন্য নীল গম্বুজ নির্মাণ প্রসঙ্গে, অষ্টবিংশ: আমাদের যুগে এর নতুন নির্মাণশৈলী প্রসঙ্গে, যা আমাদের কল্পনাতেও ছিল না, এবং অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও পবিত্র স্থানটি পরিষ্কার করা, এর সুউচ্চ নির্মাণশৈলী পর্যবেক্ষণ এবং হুজরার চূড়ান্ত অবস্থার চিত্রায়ন প্রসঙ্গে, ঊনবিংশ: পূর্ববর্তী নির্মাণের পর আমাদের সময়ে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড এবং এর ফলে যা কিছু ঘটেছে সে প্রসঙ্গে, যা আমি এখানে সংযুক্ত করেছি এবং ইতিপূর্বেও পরিচ্ছেদগুলোতে এর ইঙ্গিত দিয়েছি; কারণ এটি আমাদের এই বইয়ের খসড়া তৈরির পর সংঘটিত হয়েছে। এর শেষে নূর উদ্দিন শহীদের হুজরার চারপাশে সীসা ঢালা পরিখা নির্মাণের বর্ণনার মাধ্যমে ইতি টানা হয়েছে, ত্রিংশ: মসজিদে কঙ্কর বিছানো, এতে থুথু ফেলার বিধান, সুগন্ধি লাগানো, ধূপ দেওয়া এবং এর কতিপয় আহকাম প্রসঙ্গে, একত্রিংশ: এর অলিন্দ, স্তম্ভ, নর্দমা, পানি পানের ব্যবস্থা, ভাণ্ডার এবং অন্যান্য বিষয়াবলি প্রসঙ্গে, দ্বাত্রিংশ: এর দরজা ও ছোট প্রবেশপথসমূহ এবং পার্শ্ববর্তী ঘরগুলো থেকে একে পৃথককারী বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে, ত্রয়স্ত্রিংশ: ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের ছোট প্রবেশপথ (খাওখা) প্রসঙ্গে, চতুস্ত্রিংশ: একে ঘিরে থাকা ঘরসমূহ প্রসঙ্গে, পঞ্চত্রিংশ: চত্বর এবং এর চারপাশের মুহাজিরদের ঘরসমূহ প্রসঙ্গে, ষটত্রিংশ: মদিনার বাজার প্রসঙ্গে, সপ্তত্রিংশ: মুহাজিরদের বিভিন্ন গোত্রের ঘরসমূহ এবং নগর প্রাচীর নির্মাণ প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

(১) মসজিদ কঙ্করময় করা: ছোট ছোট পাথর বিছিয়ে মসজিদের মেঝে ঢেকে দেওয়া।

(২) খুলুক: এক প্রকার মিশ্র সুগন্ধি, যার প্রধান উপাদান জাফরান। ইজমার: ধূপদানির মাধ্যমে সুগন্ধি ধোঁয়া দেওয়া।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الخامس: في مصلّى النبي صلى الله عليه وسلم في الأعياد، وغير ذلك من مساجد المدينة التي صلى فيها النبي صلى الله عليه وسلم أو جلس مما علمت عينه أو جهته، وفضل مقابرها، ومن سمي ممن دفن بها، وفضل أحد والشهداء به، وفيه سبعة فصول: الأول: في مصلّى الأعياد، الثاني:

في مسجد قباء، وخبر مسجد الضرار، الثالث: في بقية المساجد المعلومة العين في زماننا، الرابع: فيما علمت جهته من ذلك، ولم يعلم عينه، الخامس: في فضل مقابرها، السادس: في تعيين بعض من دفن بالبقيع من الصحابة وأهل البيت رضوان الله عليهم، والمشاهد المعروفة بها، السابع: في فضل أحد والشهداء به.

الباب السادس: في آبارها المباركات، والعين والغراس والصدقات، التي هي للنبي صلى الله عليه وسلم منسوبات، وما يعزى إليه «1» من المساجد التي صلّى فيها في الأسفار والغزوات، وفيه خمسة فصول: الأول: في الآبار المباركات، وفيه تتمة في العين المنسوبة للنبي صلى الله عليه وسلم والعين الموجودة في زماننا، الثاني: في صدقاته صلى الله عليه وسلم وما غرسه بيده الشريفة، الثالث: فيما ينسب إليه من المساجد التي بين مكة والمدينة بالطريق التي كان يسلكها صلى الله عليه وسلم الرابع: في بقية المساجد التي بينهما بطريق ركب الحاج في زماننا، وطريق المشيان، وما قرب من ذلك، الخامس: في بقية المساجد المتعلقة بغزواته وعمره صلى الله عليه وسلم.

الباب السابع: في أوديتها وأحمائها «2» وبقاعها وجبالها وأعمالها ومضافاتها، ومشهور ما في ذلك من المياه والأودية، وضبط أسماء الأماكن المتعلقة بذلك، وفيه ثمانية فصول: الأول: في فضل وادي العقيق وعرصته وحدوده، الثاني: فيما جاء في إقطاعه وابتناء القصور به وطريق أخبارها، الثالث: في العرصة وقصورها، وشيء مما قيل فيها وفي العقيق من الشعر، الرابع: في جماواته، وأرض الشجرة، وثنية الشريد، وغيرها من جهاته، وفيه خاتمة في سرد ما يدفع فيه من الأودية وما به من الغدران، الخامس: في بقية أودية المدينة، السادس: فيما سمي من الأحماء ومن حماها وشرح حال حمى النبي صلى الله عليه وسلم بالنقيع، السابع: في شرح بقية الأحماء، وأخبارها، الثامن: في بقاع المدينة وأعراضها وأعمالها ومضافاتها وأنديتها وجبالها وتلاعها «3» ، ومشهور ما في ذلك من الآبار والمياه والأودية، وضبط أسماء الأماكن المتعلقة بذلك وبالمساجد والآطام والغزوات، وشرح حال ما يتعلق بجهات المدينة وأعمالها من ذلك، على ترتيب حروف الهجاء.

--------------------------------------------

(1) يعزى إليه: يسند إليه.

(2) الأحماء: مواضع فيها كلأ يحمى من الناس أن يرعى.

(3) التلاع: ما ارتفع من الأرض. ومسيل الماء من أعلى إلى أسفل.
পঞ্চম অধ্যায়: ঈদের দিনসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়ের স্থান (ঈদগাহ) এবং মদীনার অন্যান্য মসজিদসমূহ প্রসঙ্গে, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন অথবা অবস্থান করেছেন যার সুনির্দিষ্ট স্থান বা দিক জানা গেছে; এবং মদীনার কবরস্থানসমূহের ফযীলত, সেখানে সমাহিত ব্যক্তিদের নাম, উহুদ পাহাড় এবং সেখানকার শহীদদের ফযীলত। এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম: ঈদের সালাত আদায়ের স্থান প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়:

মসজিদে কুবা এবং মসজিদে দ্বিরার-এর সংবাদ প্রসঙ্গে। তৃতীয়: আমাদের সময়ে সুনির্দিষ্টভাবে পরিচিত অবশিষ্ট মসজিদসমূহ প্রসঙ্গে। চতুর্থ: যার দিক জানা গেছে কিন্তু সুনির্দিষ্ট স্থান জানা যায়নি। পঞ্চম: মদীনার কবরস্থানসমূহের ফযীলত প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ: বাকী’ কবরস্থানে সমাহিত কিছু সাহাবী এবং আহলে বাইত (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পরিচয় এবং সেখানে সুপরিচিত স্মৃতিচিহ্নসমূহ প্রসঙ্গে। সপ্তম: উহুদ পাহাড় এবং সেখানকার শহীদদের ফযীলত প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: মদীনার বরকতময় কূয়াসমূহ, ঝরনা, বাগান এবং সদকাসমূহ প্রসঙ্গে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সম্পৃক্ত; এবং সফর ও যুদ্ধসমূহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব মসজিদে সালাত আদায় করেছেন বলে বর্ণনা করা হয়। এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম: বরকতময় কূয়াসমূহ প্রসঙ্গে; এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত ঝরনা এবং আমাদের সময়ে বিদ্যমান ঝরনা সম্পর্কে পরিশিষ্ট রয়েছে। দ্বিতীয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সদকাসমূহ এবং তিনি নিজ মুবারক হাতে যা রোপণ করেছিলেন তা প্রসঙ্গে। তৃতীয়: মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী পথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যাতায়াতকৃত রাস্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত মসজিদসমূহ প্রসঙ্গে। চতুর্থ: আমাদের সময়ের হাজীদের কাফেলা ও পায়ে হাঁটা পথের মধ্যবর্তী অবশিষ্ট মসজিদসমূহ এবং এর নিকটবর্তী স্থানসমূহ প্রসঙ্গে। পঞ্চম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধ ও উমরাহ সংশ্লিষ্ট অবশিষ্ট মসজিদসমূহ প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: মদীনার উপত্যকা, সংরক্ষিত চারণভূমি, ভূখণ্ড, পাহাড়, প্রশাসনিক এলাকা ও এর অন্তর্ভুক্ত স্থানসমূহ এবং সেখানকার প্রসিদ্ধ জলাশয় ও উপত্যকাসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের নামের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ প্রসঙ্গে। এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম: ওয়াদী আকীক, এর প্রান্তর ও সীমানার ফযীলত প্রসঙ্গে। দ্বিতীয়: সেখানে ভূমি বরাদ্দ, প্রাসাদ নির্মাণ এবং এর সংবাদ বর্ণনার ধারা প্রসঙ্গে। তৃতীয়: আরসাহ ও এর প্রাসাদসমূহ এবং আরসাহ ও আকীক সম্পর্কে রচিত পঙক্তিমালা প্রসঙ্গে। চতুর্থ: এর জামাআত (পাহাড়সমূহ), শাজারাহ ভূমি, সানিয়্যাতুল শারীদ এবং এর অন্যান্য দিকসমূহ প্রসঙ্গে; এতে সেখানে প্রবাহিত উপত্যকা ও জলাশয়সমূহের বর্ণনার একটি উপসংহার রয়েছে। পঞ্চম: মদীনার অবশিষ্ট উপত্যকাসমূহ প্রসঙ্গে। ষষ্ঠ: যে সকল সংরক্ষিত চারণভূমির নামকরণ করা হয়েছে এবং যারা তা সংরক্ষণ করেছেন এবং নাকী’ নামক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংরক্ষিত চারণভূমির অবস্থার বর্ণনা প্রসঙ্গে। সপ্তম: অবশিষ্ট সংরক্ষিত চারণভূমি ও সেগুলোর সংবাদ প্রসঙ্গে। অষ্টম: মদীনার ভূখণ্ডসমূহ, শহরতলী, প্রশাসনিক এলাকা, অন্তর্ভুক্ত স্থানসমূহ, মজলিসসমূহ, পাহাড় ও উচ্চভূমি প্রসঙ্গে; এবং সেখানকার প্রসিদ্ধ কূয়া, জলাশয় ও উপত্যকাসমূহ, এবং মসজিদ, দুর্গ ও যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহের নামের সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ এবং মদীনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও প্রশাসনিক এলাকার অবস্থা বর্ণানুক্রমিকভাবে বর্ণনা।

--------------------------------------------

(১) সম্বন্ধযুক্ত করা হয়: অর্থাৎ তার দিকে নিসবত করা হয়।

(২) আল-আহমা: এমন সব স্থান যেখানে তৃণলতা থাকে এবং সাধারণের পশু চারণ থেকে তা সংরক্ষিত রাখা হয়।

(৩) আত-তিলা’: ভূমির উঁচু অংশ। অথবা উপর থেকে নিচে পানি প্রবাহিত হওয়ার পথ।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১২)
الباب الثامن: في زيارته صلى الله عليه وسلم، وفيه أربعة فصول: الأول: في الأحاديث الواردة في الزيارة نصّا، الثاني: في بقية أدلتها، وبيان تأكد مشروعيتها، وقربها من درجة الوجوب، حتى أطلقه بعضهم عليها، وبيان حياة النبي صلى الله عليه وسلم في قبره، وشدّ الرحال إليه، وصحة نذر زيارته، والاستئجار للسلام عليه، الثالث: في توسّل الزائر، وتشفّعه به صلى الله عليه وسلم إلى ربه تعالى، واستقباله له صلى الله عليه وسلم في سلامه وتوسّله ودعائه، الرابع: في آداب الزيارة والمجاورة، والتبرك بتلك المساجد والآثار، وهذا الباب وإن كان من حقه التقديم، لكنه لما كان كنتيجة الكتاب، ومقدماته ما تقدمه من الأبواب، ختمت به أقسامه؛ ليكون المسك ختامه، وسر الوجود تمامه، وتفاؤلا بأن يفتح لي به ثمانية أبواب الجنة، ويعظم لي بسببه سوابغ المنة «1» ، وبالله لا سواه أعتصم، وأسأله العصمة مما يصم «2» ، فهو حسبي ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

(1) المنة: الإحسان والإنعام.

(2) يصمه وصما: يعيبه.
অষ্টম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যিয়ারত প্রসঙ্গে, এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে: প্রথম: যিয়ারত সম্পর্কে সরাসরি বর্ণিত হাদিসসমূহ প্রসঙ্গে; দ্বিতীয়: এর অন্যান্য দলীলসমূহ, এর শরয়ি বৈধতার তাকিদ বর্ণনা এবং এটি ওয়াজিবের পর্যায়ের নিকটবর্তী হওয়া প্রসঙ্গে, এমনকি আলেমদের কেউ কেউ একে ওয়াজিব বলে অভিহিত করেছেন; এবং কবরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন, তাঁর দিকে সফর করা, তাঁর যিয়ারতের মান্নত সহীহ হওয়া এবং তাঁকে সালাম দেওয়ার জন্য কাউকে নিযুক্ত করা প্রসঙ্গে; তৃতীয়: যিয়ারতকারীর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাধ্যমে তাঁর মহান রবের নিকট অসিলা গ্রহণ ও সুপারিশ প্রার্থনা করা এবং সালাম প্রদান, অসিলা ও দোয়ার সময় তাঁর দিকে অভিমুখী হওয়া প্রসঙ্গে; চতুর্থ: যিয়ারত ও সান্নিধ্যের আদবসমূহ এবং সেই সকল মসজিদ ও নিদর্শনাবলী হতে বরকত লাভ করা প্রসঙ্গে। আর এই পরিচ্ছেদটি যদিও আগে আসার দাবি রাখত, কিন্তু যেহেতু এটি কিতাবের ফলাফল স্বরূপ এবং পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদসমূহ এর ভূমিকা স্বরূপ, তাই আমি কিতাবের বিভাগসমূহকে এটি দিয়েই সমাপ্ত করেছি; যাতে এর সমাপ্তি সুগন্ধময় হয় এবং অস্তিত্বের রহস্য এতে পূর্ণতা পায়, এবং এই শুভকামনায় যে, এর মাধ্যমে আমার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে এবং এর কারণে আমার ওপর পরিপূর্ণ অনুগ্রহরাজি (১) মহান করা হবে। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নিকট আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি না এবং আমি তাঁর নিকট এমন সব কিছু থেকে রক্ষা চাই যা কলঙ্কিত (২) করে; সুতরাং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

(১) অনুগ্রহ: অনুগ্রহ ও নিআমত দান।

(২) কলঙ্কিত করা: তাকে দোষারোপ করা বা ত্রুটিযুক্ত করা।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الباب الأول في أسماء هذه البلدة الشريفة

أعلم أن كثرة الأسماء تدل على شرف المسمى، ولم أجد أكثر من أسماء هذه البلدة الشريفة، وقد استقصيتها بحسب القدرة حتى إني زدت على شيخ مشايخنا المجد الشيرازي اللغوي- وهو أعظم الناس في هذا الباب- نحو ثلاثين اسما، فرقمت على ذلك صورة ليتميزوها، وأنا أوردها مرتّبة على حروف المعجم.

 

‌‌أثرب

الأول: أثرب- كمسجد، بفتح الهمزة وسكون المثلاثة وكسر الراء وباء موحدة- لغة في «يثرب» الآتي، وأحد الأسماء كألملم ويلملم، قيل: سميت بذلك لأنه اسم من سكنها عند تفرّق ذرية نوح عليه السلام في البلاد، وهل هو اسم للناحية التي منها مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم أو للمدينة نفسها، أو لموضع مخصوص من أرضها؟ أقوال، الأول لأبي عبيدة، والثاني عن ابن عباس رضي الله عنهما، ومشى عليه الزمخشري، والثالث هو المعني بقول محمد بن الحسن أحد أصحاب مالك ويعرف بابن زبالة: وكانت يثرب أم قرى المدينة، وهي ما بين طرف قناة إلى طرف الجرف، وما بين المال الذي يقال له البرني إلى زبالة، وقد نقل ذلك الجمال المطري عنه، وزاد في النقل أنه كان بها ثلاثمائة صائغ من اليهود، وابن زبالة إنما ذكر أن ذلك كان بزهوة، وقد غاير بينها وبين يثرب، وكأن الجمال فهم اتحادهما، وقد قال عقب نقله لذلك عنه: وهو يعني يثرب معروفة اليوم بهذا الاسم، وفيها نخيل كثيرة ملك لأهل المدينة وأوقاف للفقراء وغيرهم، وهي غربي مشهد سيدنا حمزة، وشرقي الموضع المعروف بالبركة مصرف عين الأزرق، ينزلها الحاج الشامي في وروده وصدوره، وتسميها الحجاج عيون حمزة، وهي إلى اليوم معروفة بهذا الاسم، أعني يثرب، وربما قالوا فيها «أثارب» بصيغة الجمع، وبه عبر البرهان ابن فرحون في مناسكه، فلك أن تعده اسما آخر، وهذا الموضع يثرب قال المطري: كان به منازل بني حارثة بطن ضخم من الأوس، قال: وفيهم نزل قوله تعالى في يوم الأحزاب: وَإِذْ قالَتْ طائِفَةٌ مِنْهُمْ يا أَهْلَ يَثْرِبَ لا مُقامَ لَكُمْ فَارْجِعُوا [الأحزاب: 13] ورجح به القول الثالث، وذلك أن قريشا
‌এই মহান শহরের নামসমূহ সম্পর্কে প্রথম পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, নামের আধিক্য নামধারী বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। এই সম্মানিত শহরের নামের চেয়ে অধিক নাম আমি আর কোনো কিছুর পাইনি। আমি আমার সাধ্যমতো এই নামগুলো অনুসন্ধান করেছি, এমনকি আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ প্রখ্যাত ভাষাবিদ মাজদ আশ-শিরাজী—যিনি এই বিষয়ে শ্রেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ—তার চেয়েও প্রায় ত্রিশটি নাম বেশি উল্লেখ করেছি। আমি সেই নামগুলোকে চিহ্নিত করেছি যাতে সেগুলো আলাদাভাবে চেনা যায় এবং আমি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে উপস্থাপন করছি।

 

‌‌আসরিব

প্রথমটি হলো: আসরিব—'মাসজিদ' শব্দের ওজনে, হামজার উপরে ফাতহা, ছা সাকিন, র-এর নিচে কাসরা এবং একক বা সহযোগে—এটি পরবর্তীতে আসা 'ইয়াসরিব' শব্দের একটি ভাষাগত রূপান্তর। এটি 'আলামলাম' ও 'ইয়ালামলাম'-এর মতো একটি নাম। বলা হয়ে থাকে যে, নূহ আলাইহিস সালামের বংশধররা যখন বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন যারা এখানে বসবাস করেছিল তাদের একজনের নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। এখন এটি কি সেই অঞ্চলের নাম যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর অবস্থিত, নাকি শহরের নিজের নাম, নাকি সেই ভূমির কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নাম? এই বিষয়ে তিনটি বক্তব্য রয়েছে। প্রথমটি আবু উবাইদাহর, দ্বিতীয়টি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত এবং যামাখশারী একে অনুসরণ করেছেন। তৃতীয়টি হলো মালিকের অন্যতম সঙ্গী মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের (যিনি ইবনে জাবালাহ নামে পরিচিত) বক্তব্যের উদ্দেশ্য: ইয়াসরিব ছিল মদিনার গ্রামসমূহের কেন্দ্রবিন্দু, যা কানাত প্রান্ত থেকে জুরফ প্রান্ত পর্যন্ত এবং আল-বারনী নামক সম্পদ থেকে জাবালাহ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। জামাল আল-মাতারি এটি তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং বর্ণনায় অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে, সেখানে ইহুদিদের তিনশ স্বর্ণকার ছিল। অথচ ইবনে জাবালাহ উল্লেখ করেছেন যে, সেটি যাহওয়া নামক স্থানে ছিল এবং তিনি যাহওয়া ও ইয়াসরিবের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। সম্ভবত আল-মাতারি তাদের এক ও অভিন্ন মনে করেছেন। তিনি তার থেকে এটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: এটি অর্থাৎ ইয়াসরিব বর্তমানে এই নামেই পরিচিত। সেখানে মদিনাবাসীদের মালিকানাধীন অনেক খেজুর বাগান এবং ফকীর ও অন্যদের জন্য অনেক ওয়াকফ রয়েছে। এটি সাইয়্যিদুনা হামজার মাশহাদের পশ্চিমে এবং বারাকাহ নামক পরিচিত স্থানের পূর্বে অবস্থিত, যা আইনুল আজরাকের নির্গমন পথ। সিরীয় হাজিরা আসা-যাওয়ার পথে সেখানে অবতরণ করেন এবং হাজিরা একে 'উয়ুনু হামজা' বলে ডাকেন। আজও এটি এই নামেই অর্থাৎ ইয়াসরিব নামেই পরিচিত। সম্ভবত তারা একে বহুবচনের রূপে 'আসারিব' বলে থাকে। বুরহান ইবনে ফারহুন তার মানাসিক গ্রন্থে এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন, সুতরাং আপনি একে অন্য একটি নাম হিসেবে গণ্য করতে পারেন। ইয়াসরিবের এই স্থান সম্পর্কে আল-মাতারি বলেন: এখানে আউস গোত্রের একটি বিশাল শাখা বনু হারিসার বসতি ছিল। তিনি বলেন: তাদের ব্যাপারেই আহজাব যুদ্ধের দিন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়েছিল: "এবং যখন তাদের একদল বলেছিল, হে ইয়াসরিববাসী! তোমাদের জন্য কোনো অবস্থানের জায়গা নেই, সুতরাং তোমরা ফিরে যাও।" [আল-আহজাব: ১৩]। এর মাধ্যমে তিনি তৃতীয় মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, আর তা হলো যে কুরাইশরা
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن معهم نزلوا يوم الأحزاب ويوم أحد أيضا على ما ذكره المطري برومة وما والاها بالقرب من منازل بني حارثة من الأوس ومنازل بني سلمة من الخزرج، وكان الفريقان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في مركز الحرب، ولذلك خافوا على ذراريهم وديارهم العدو يوم أحد؛ فنزل فيها: إِذْ هَمَّتْ طائِفَتانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلا وَاللَّهُ وَلِيُّهُما [آل عمران: 122] قال عقلاؤهم: ما كرهنا نزولها لتولي الله إيانا، ودفع الله عنهم ببركة النبي صلى الله عليه وسلم وصدق نياتهم، وقيل: إن القائل لبني حارثة: «يا أهل يثرب لا مقام لكم» هو أوس بن قيظي ومن معه، وقيل: غير ذلك.

قلت: ويرجح القول الثالث أيضا قول الحافظ عمر بن شبّة النميري «1» : قال أبو غسان: وكان بالمدينة في الجاهلية سوق بزبالة في الناحية التي تدعى يثرب، انتهى. ولا شك في إطلاق يثرب على المدينة نفسها، كما ثبت في الصحيح، وشواهده أشهر من أن تذكر، وسيأتي في الفصل الرابع عشر من الباب الثاني ما يقتضي أن الله تعالى سماها قبل أن تعمر وتسكن، فإما أن يكون موضوعا لها، أو هو من باب إطلاق اسم البعض على الكل، أو من باب عكسه على الخلاف المتقدم.

وروى ابن زبالة وابن شبة نهيه صلى الله عليه وسلم عن تسمية المدينة يثرب، وفي تاريخ البخاري حديث: من قال يثرب مرة فليقل المدينة عشر مرات» ، وروى أحمد وأبو يعلى حديثا:

«من سمى المدينة يثرب فليستغفر الله، وهي طابة» ورجاله ثقات، وفي رواية «فليستغفر الله ثلاثا» ولهذا قال عيسى بن دينار: من سمى المدينة يثرب كتبت عليه خطيئة، وكره بعض العلماء تسميتها بذلك، وما وقع في القرآن من تسميتها به إنما هو حكاية عن قول المنافقين، ووجه كراهة ذلك إما لأنه مأخوذ من الثّرب- بالتحريك- وهو الفساد، أو لكراهة التثريب وهو المؤاخذة بالذنب، أو لتسميتها باسم كافر، وقد ينازع في الكراهة بما في حديث الهجرة في الصحيحين من قوله صلى الله عليه وسلم: «فذهب وهلي «2» إلى اليمامة أو هجر، فإذا هي المدينة يثرب» وحديث مسلم: «إنه وجهت إلى أرض ذات نخل لا أراها إلا يثرب» وكذا جاء في غيرهما من الأحاديث، وقد يجاب بأن ذلك كان قبل النبي.

 

‌‌أرض الله

الثاني: «أرض الله» قال الله تعالى: أَلَمْ تَكُنْ أَرْضُ اللَّهِ واسِعَةً فَتُهاجِرُوا فِيها [النساء:

--------------------------------------------

(1) عمر بن شبة النميري له ترجمة في تهذيب التهذيب (7/ 460) وفي خلاصة الخزرجي (283 بولاق) وثّقه الدارقطني، مات سنة 262 من الهجرة.

(2) ذهب وهلي: ذهب وهمي.
যারা তাদের সাথে ছিল তারা আহজাবের যুদ্ধে এবং ওহুদের যুদ্ধেও অবতীর্ণ হয়েছিল, যেমনটি আল-মাতারী বর্ণনা করেছেন রুমা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায়, যা আউস গোত্রের বনু হারিসার বসতি এবং খাজরাজ গোত্রের বনু সালামার বসতির নিকটবর্তী। উভয় দলই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধের কেন্দ্রে ছিল। এ কারণে ওহুদের যুদ্ধে তারা তাদের পরিবার-পরিজন এবং ঘরবাড়ির ব্যাপারে শত্রুর পক্ষ থেকে আশঙ্কিত হয়েছিল। তখন এই আয়াত নাজিল হয়: "যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুই দল সাহস হারাবার উপক্রম করেছিল, অথচ আল্লাহ ছিলেন তাদের অভিভাবক।" [আল ইমরান: ১২২]। তাদের বুদ্ধিমান লোকেরা বলতেন: আল্লাহ আমাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন বলেই আমাদের মাঝে এই আয়াত নাজিল হওয়াকে আমরা অপছন্দ করিনি। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বরকতে এবং তাদের নিয়তের সততার কারণে আল্লাহ তাদের থেকে বিপদ দূর করে দিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, বনু হারিসাকে লক্ষ্য করে— "হে ইয়াসরিববাসী! তোমাদের দাঁড়ানোর কোনো স্থান নেই"— এই কথাটি আউস বিন কাইজি এবং তার সঙ্গীরা বলেছিল। আবার এ সম্পর্কে অন্য মতও রয়েছে।

আমি বলি: তৃতীয় মতটিকে হাফেজ উমর ইবনে শাব্বা আন-নুমাইরির উক্তিও জোরালো করে। আবু গাসসান বলেন: জাহেলি যুগে মদিনার 'জাবালা' নামক স্থানে একটি বাজার ছিল, যে এলাকাটিকে ইয়াসরিব বলা হতো। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। মদিনাকেই যে ইয়াসরিব বলা হতো তাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা সহিহ হাদিসে প্রমাণিত এবং এর প্রমাণাদি এতই প্রসিদ্ধ যে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। দ্বিতীয় অধ্যায়ের চতুর্দশ পরিচ্ছেদে এমন কিছু বিষয় আসবে যার দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তাআলা মদিনা আবাদ হওয়ার এবং এখানে জনবসতি গড়ে ওঠার আগেই এর নামকরণ করেছিলেন। হতে পারে এটি এই জায়গার জন্য নির্ধারিত নাম, অথবা এটি পুরো মদিনার ওপর এর একটি অংশের নাম প্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত, অথবা পূর্বোল্লিখিত মতভেদের ভিত্তিতে এর বিপরীতও হতে পারে।

ইবনে জাবালা এবং ইবনে শাব্বা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনাকে ইয়াসরিব বলতে নিষেধ করেছেন। বুখারির ইতিহাসে একটি হাদিস রয়েছে: "যে ব্যক্তি একবার ইয়াসরিব বলবে, সে যেন দশবার মদিনা বলে।" আহমদ এবং আবু ইয়ালা একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন:

"যে ব্যক্তি মদিনাকে ইয়াসরিব বলবে সে যেন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আর এটি হলো তাবা (পবিত্র)।" এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। অন্য এক বর্ণনায় আছে, "সে যেন তিনবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়।" এই কারণেই ঈসা বিন দিনার বলেছেন: যে ব্যক্তি মদিনাকে ইয়াসরিব বলবে তার আমলনামায় একটি গুনাহ লেখা হবে। কোনো কোনো আলেম একে ইয়াসরিব নামকরণ করা অপছন্দ করেছেন। আর কুরআনে যে ইয়াসরিব নামটি এসেছে, তা কেবল মুনাফিকদের উক্তির উদ্ধৃতি হিসেবে এসেছে। এই নামকরণের অপছন্দনীয়তার কারণ হতে পারে যে, এটি 'সারব' শব্দ থেকে উদ্ভূত— যার অর্থ বিপর্যয় বা ফাসাদ, অথবা 'তাশরীীব' থেকে যা অপছন্দনীয়— যার অর্থ হলো গুনাহের জন্য তিরস্কার বা পাকড়াও করা, অথবা কোনো কাফিরের নামে এর নামকরণ হওয়ার কারণে। তবে অপছন্দনীয় হওয়ার বিষয়ে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর হিজরত বিষয়ক হাদিস দ্বারা দ্বিমত করা যেতে পারে, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার ধারণা ইয়ামামা বা হাজর-এর দিকে গিয়েছিল, কিন্তু দেখা গেল সেটি মদিনা অর্থাৎ ইয়াসরিব।" মুসলিমের হাদিসে আছে: "আমাকে খেজুর গাছ বিশিষ্ট একটি ভূমির দিকে পথ দেখানো হয়েছিল, যা ইয়াসরিব ছাড়া অন্য কিছু বলে আমি মনে করি না।" একইভাবে অন্যান্য হাদিসেও এটি এসেছে। এর জবাবে বলা যেতে পারে যে, তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (নিষেধাজ্ঞার) আগের ঘটনা।

 

‌আল্লাহর জমিন

দ্বিতীয়: "আল্লাহর জমিন"। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে তোমরা সেখানে হিজরত করতে? [নিসা:

--------------------------------------------

(১) উমর ইবনে শাব্বা আন-নুমাইরির জীবনী তাহযীবুত তাহযীব (৭/৪৬০) এবং খুলাসাতুল খাজরাজি (২৮৩ বুলাক) গ্রন্থে রয়েছে। আদ-দারা কুতনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি হিজরি ২৬২ সনে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) জাহাবা ওয়াহলি: আমার ধারণা বা কল্পনা সেদিকে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৫)
97] ذكر مقاتل والثعلبي وغيرهما أن المراد به المدينة، وفي هذه الإضافة من مزيد التعظيم ما لا يخفى.

 

‌‌الهجرة

الثالث: «أرض الهجرة» كما في حديث «المدينة قبّة الإسلام» .

 

‌‌أكالة البلدان

الرابع: «أكالة البلدان» لتسلطها على جميع الأمصار، وارتفاعها على سائر بلدان الأقطار، وافتتاحها منها على أيدي أهلها فغنموها وأكلوها.

 

‌‌أكالة القرى

الخامس: «أكالة القرى» لحديث الصحيحين «أمرت بقرية تأكل القرى» وقد استدل به مثبتو الاسم قبله، وهو أصرح في هذا؛ للفرق بين البلدة والقرية.

 

‌‌الإيمان

السادس: «الإيمان» قال الله تعالى مثنيا على الأنصار وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هاجَرَ إِلَيْهِمْ [الحشر: 9] وأسند ابن زبالة عن عثمان بن عبد الرحمن وعبد الله بن جعفر قالا: سمّى الله المدينة الدار والإيمان، وأسند ابن شبة عن الثاني فقط. وقال البيضاوي في تفسيره، قيل سمى الله المدينة بالإيمان لأنها مظهره ومصيره.

وروى أحمد الدينوري في كتابه المجالسة في قصة طويلة عن أنس بن مالك «أن ملك الإيمان قال: أنا أسكن المدينة، فقال ملك الحياء: وأنا معك» فأجمعت الأمة على أن الإيمان والحياء ببلد رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيأتي في حديث «الإيمان يأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها» «1» .

 

‌‌البارة والبرة

السابع: «البارة» ، الثامن «البرة» هما من قولك: امرأة بارة وبرة، أي: كثيرة البر، سميت بذلك لكثرة برها إلى أهلها خصوصا وإلى جميع العالم عموما؛ إذ هي منبع الأسرار وإشراق الأنوار، وبها العيشة الهنية، والبركات النبوية.

 

‌‌البحرة والبحيرة

التاسع: «البحرة» بفتح أوله وسكون المهملة. العاشر: «البحيرة» تصغير ما قبله.

--------------------------------------------

(1) أرز أرزا وأروزا: لجأ. ولاذ.
97] মুকাতিল, ছালাবী এবং অন্যান্যেরা উল্লেখ করেছেন যে, এর দ্বারা মদীনা উদ্দেশ্য। আর এই সম্বন্ধের মাঝে যে অতিরিক্ত সম্মান নিহিত রয়েছে তা গোপন নয়।

 

‌‌হিজরত

তৃতীয়: ‘আুরদুল হিজরাহ’ (হিজরতের ভূমি), যেমনটি ‘মদীনা ইসলামের গম্বুজ’ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌আক্কালতুল বুলদান

চতুর্থ: ‘আক্কালতুল বুলদান’ (শহরসমূহ গ্রাসকারী), কারণ এটি সমস্ত শহরের ওপর কর্তৃত্বশীল, পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের শহরের চেয়ে উন্নত এবং এর অধিবাসীদের হাতে ওইসব শহর বিজিত হয়েছে, ফলে তারা গনিমত লাভ করেছে ও তা ভোগ করেছে।

 

‌‌আক্কালতুল কুরা

পঞ্চম: ‘আক্কালতুল কুরা’ (জনপদসমূহ গ্রাসকারী), সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীসের কারণে: “আমাকে এমন এক জনপদের আদেশ দেওয়া হয়েছে যা অন্য সব জনপদকে গ্রাস করবে।” যারা পূর্বোক্ত নামটি প্রমাণ করেছেন তারা এটি দিয়েই দলিল দিয়েছেন, তবে শহর ও জনপদের পার্থক্যের বিচারে এই নামটি অধিকতর স্পষ্ট।

 

‌‌ঈমান

ষষ্ঠ: ‘আল-ঈমান’। আল্লাহ তাআলা আনসারদের প্রশংসা করে এরশাদ করেন: “আর যারা তাদের পূর্বে এই আবাস ও ঈমানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা তাদের কাছে হিজরত করে আসা লোকদের ভালোবাসে” [হাশর: ৯]। ইবনে জাবালাহ, উসমান বিন আবদুর রহমান এবং আবদুল্লাহ বিন জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা উভয়ে বলেছেন: আল্লাহ তাআলা মদীনার নাম রেখেছেন ‘আদ-দার’ (আবাস) এবং ‘আল-ঈমান’। ইবনে শাব্বাহ শুধু দ্বিতীয় ব্যক্তি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। বায়জাবী তার তাফসিরে বলেছেন, বলা হয়ে থাকে যে আল্লাহ তাআলা মদীনাকে ‘ঈমান’ নামে অভিহিত করেছেন কারণ এটি ঈমানের বহিঃপ্রকাশের স্থল এবং এর গন্তব্য।

আহমদ আদ-দিনাওয়ারী তার ‘আল-মুজালাসা’ গ্রন্থে আনাস বিন মালিক থেকে একটি দীর্ঘ বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, “ঈমানের ফেরেশতা বলল: আমি মদীনায় বসবাস করব। তখন লজ্জার ফেরেশতা বলল: আমিও তোমার সাথে থাকব।” অতঃপর উম্মত একমত হয়েছে যে, ঈমান ও লজ্জা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহরেই রয়েছে। অচিরেই এই হাদীসটি আসবে যে, “ঈমান মদীনার দিকে সংকুচিত হয়ে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে সংকুচিত হয়ে ফিরে আসে।” (১)।

 

‌‌আল-বাররাহ ও আল-বাররাহ

সপ্তম: ‘আল-বাররাহ’, অষ্টম: ‘আল-বাররাহ’। এগুলো ‘পুণ্যবতী নারী’ বলার মতো, অর্থাৎ যে অধিক পুণ্যময়ী। মদীনার এই নামকরণ করা হয়েছে এর অধিবাসীদের প্রতি বিশেষভাবে এবং সমগ্র বিশ্বের প্রতি সাধারণভাবে এর অধিক কল্যাণের কারণে; কেননা এটি হলো রহস্যের উৎস ও নূরের উদ্ভাসস্থল, এবং এখানেই রয়েছে আনন্দময় জীবন ও নববী বরকতসমূহ।

 

‌‌আল-বাহরাহ ও আল-বুহাইরাহ

নবম: ‘আল-বাহরাহ’, প্রথম বর্ণে জবর এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন যোগে। দশম: ‘আল-বুহাইরাহ’, যা পূর্বোক্ত শব্দেরই ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ।

--------------------------------------------

(১) আরজা, আরজান, আরুজান: আশ্রয় নেওয়া বা ফিরে আসা।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৬)
الحادي عشر: «البحيرة» بفتح أوله- نقلت ثلاثتها عن منتخب كراع، والأولان عن معظم ياقوت، والاستبحار: السعة، ويقال: هذه بحرتنا، أي: أرضنا أو بلدتنا، سميت بذلك لكونها في متسع من الأرض، وفي الصحيح قول سعد في قصة ابن أبيّ «1» «ولقد اصطلح أهل هذه البحيرة على أن يتوجوه» رواه ابن شبة بلفظ «أهل هذه البحيرة» وقال عياض في المشارق: البحرة مدينة النبي صلى الله عليه وسلم ويروى البحرة، والبحيرة: بضم الباء مصغرا وبفتحها على غير التصغير، وهي الرواية هنا، ويقال «البحر» أيضا بغير تاء ساكن الحاء، وأصله القرآن وكل قرية بحرة. انتهى.

الثاني عشر: «البلاط» بالفتح- نقل عن كتاب ليس لابن خالويه، وهو لغة الحجارة التي تفرش على الأرض، والأرض المفروش بها والمستوية الملساء، فكأنها سميت به لكثرته فيها، أو لاشتمالها على مواضع تعرف به كما سيأتي في الباب الرابع إن شاء الله تعالى.

 

‌‌البلد

الثالث عشر: «البلد» قال تعالى: لا أُقْسِمُ بِهذَا الْبَلَدِ [البلد: 1] قال الواسطي فيما نقله عن عياض: أي: يحلف لك بهذا البلد الذي شرفته بمكانك فيه حيا وببركتك ميتا، يعني المدينة، وقيل: المراد مكة، ونقل عن ابن عباس، وبه استدل من ذكره في أسمائها، ورجّحه عياض لكون السورة مكية، والبلد لغة صدر القرى.

 

‌‌بيت الرسول

الرابع عشر: «بيت الرسول» صلى الله عليه وسلم قال تعالى: كَما أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ [الأنفال: 5] ، قال المفسرون: أي: من المدينة لأنها مهاجره ومسكنه فهي في اختصاصها به كاختصاص البيت بساكنه، أو المراد بيته بها.

 

‌‌ندد وتندر

الخامس عشر: «تندد» بالمثناة الفوقية والنون وإهمال الدالين.

السادس عشر: «تندر» براء بدل الدال الأخيرة مما قبله، وسيأتي دليلهما في يندد ويندر بالمثناة التحتية، وأن المجد صوّب حذف ما عدا يندر بالتحتية.

 

‌‌الجابرة

السابع عشر: «الجابرة» لعده في حديث «للمدينة عشرة أسماء» سميت به لأنها تجبر

--------------------------------------------

(1) هو عبد الله بن أبيّ ابن سلول، أبوه أبيّ، وسلول أمه، وهو رأس المنافقين، وكان أهل المدينة قد أجمعوا قبل هجرة الرسول صلى الله عليه وسلم على أن يجعلوه ملكا عليهم.
এগারোতম: ‘আল-বুহাইরা’ প্রথম বর্ণের ফাতহা যোগে—তিনটি নামই কুরা-এর মুনতাখাব থেকে উদ্ধৃত, এবং প্রথম দুটি ইয়াকুতের মু’জাম থেকে। ‘আল-ইস্তিবহার’ অর্থ প্রশস্ততা। বলা হয়: এটি আমাদের ‘বাহরাহ’, অর্থাৎ আমাদের ভূমি বা আমাদের শহর। ভূমির প্রশস্ততার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। সহীহ বর্ণনায় ইবনে উবাই-এর ঘটনায় সা’দ-এর উক্তি রয়েছে: “এই বুহাইরার অধিবাসীরা তাকে মুকুট পরানোর বিষয়ে একমত হয়েছিল।” ইবনে শাব্বাহ ‘এই বুহাইরার অধিবাসী’ শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। কাদী ইয়াদ ‘আল-মাশারিক’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘আল-বাহরাহ’ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শহর। এটি ‘আল-বাহরাহ’ এবং ‘আল-বুহাইরা’ উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে—প্রথমটিতে বা-এর উপর পেশ দিয়ে তাসগীর (ক্ষুদ্রত্ববাচক) হিসেবে এবং দ্বিতীয়টিতে ফাতহা বা যবর যোগে যা তাসগীর নয়, আর এখানে এই বর্ণনাটিই রয়েছে। তা-বিহীন এবং হা-এর সুকুন যোগে ‘আল-বাহর’ শব্দটিও বলা হয়ে থাকে। এর মূল উৎস হলো কুরআন এবং প্রতিটি জনপদই হলো এক একটি ‘বাহরাহ’। সমাপ্ত।

বারোতম: ‘আল-বালাত’ ফাতহা যোগে—এটি ইবনে খালওয়াইহ-এর নয় এমন একটি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত। এটি মূলত জমিনে বিছানো পাথর, অথবা বিছানো সমতল ও মসৃণ ভূমিকে বোঝায়। সম্ভবত সেখানে এর আধিক্যের কারণে অথবা সেখানে এটি নামে পরিচিত কিছু স্থান থাকার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ চতুর্থ অধ্যায়ে আসবে।

 

‌‌আল-বালাদ

তেরোতম: ‘আল-বালাদ’। আল্লাহ তাআলা বলেন: “আমি এই শহরের শপথ করছি” [আল-বালাদ: ১]। আল-ওয়াসিতি কাদী ইয়াদ থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তাতে বলেছেন: অর্থাৎ, আপনার সম্মানে তিনি এই শহরের শপথ করছেন, যা আপনার সেখানে জীবিত অবস্থায় অবস্থান এবং মৃত্যুর পর আপনার বরকতের মাধ্যমে সম্মানিত হয়েছে, অর্থাৎ মদীনা। কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা মক্কা উদ্দেশ্য, যা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। যারা মক্কার নামসমূহের মধ্যে এটি উল্লেখ করেছেন তারা এর দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। সূরাটি মক্কী হওয়ার কারণে কাদী ইয়াদ একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। আভিধানিক অর্থে ‘আল-বালাদ’ হলো জনপদসমূহের প্রধান কেন্দ্র।

 

‌‌রাসূলের ঘর

চৌদ্দতম: ‘রাসূলের ঘর’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যেভাবে আপনার প্রতিপালক আপনাকে আপনার ঘর থেকে হকের সাথে বের করেছেন” [আল-আনফাল: ৫]। মুফাসসিরগণ বলেন: অর্থাৎ মদীনা থেকে, কারণ এটি তাঁর হিজরতস্থল ও বাসস্থান। সুতরাং মদীনার সাথে তাঁর বিশেষত্ব তেমন, যেমন ঘরের সাথে তার বাসিন্দার বিশেষত্ব থাকে। অথবা এর দ্বারা সেখানে অবস্থিত তাঁর ঘর উদ্দেশ্য।

 

‌‌তানদাদ ও তানদার

পনেরোতম: ‘তানদাদ’, উপরের তা, নুন এবং দুটি দাল যোগে।

ষোলোতম: ‘তানদার’, শেষ দালের স্থলে রা যোগে। এ দুটির দলিল সামনে ‘ইয়ানদাদ’ ও ‘ইয়ানদার’ (নিচের ইয়া যোগে) আলোচনায় আসবে। আল-মাজদ নিচের ইয়া যুক্ত ‘ইয়ানদার’ ব্যতীত অন্যগুলো বাদ দেওয়াকে সঠিক বলেছেন।

 

‌‌আল-জাবিরাহ

সতেরোতম: ‘আল-জাবিরাহ’। এটি “মদীনার দশটি নাম রয়েছে” শীর্ষক হাদীসে গণ্য হওয়ার কারণে। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অভাব মোচন বা সংশোধন করে

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন উবাই ইবনে সালুল। তার পিতা উবাই এবং সালুল তার মাতা। তিনি মুনাফিকদের প্রধান ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের পূর্বে মদীনার অধিবাসীরা তাকে তাদের রাজা হিসেবে বরণ করার বিষয়ে একমত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৭)
الكسير، وتغني الفقير، وتجبر «1» على الإذعان لمطالعة بركاتها، وشهود آياتها: وجبرت البلاد على الإسلام.

 

‌‌جبار

الثامن عشر: «جبار» كحذام، رواه ابن شبة بدل الجابرة في الحديث المذكور.

 

‌‌الجبارة

التاسع عشر: «الجبارة» نقله صاحب كتاب أخبار النواحي مع الجابرة والمجبورة عن التوراة.

 

‌‌جزيرة العرب

العشرون: «جزيرة العرب» قال ابن زبالة: كان ابن شهاب يقول: جزيرة العرب المدينة، وسيأتي في حديث ابن عباس: «خرجت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم من المدينة، فالتفت إليها وقال: إن الله برّأ هذه الجزيرة من الشرك» ونقل الهروي عن مالك أن المراد من حديث «أخرجوا المشركين من جزيرة العرب» المدينة خاصة، والصحيح عن مالك كقولنا أن المراد الحجاز.

 

‌‌الجنة الحصينة

الحادي والعشرون: «الجنة الحصينة» بضم الجيم، وهي الوقاية؛ لما حكاه بعضهم من قوله صلى الله عليه وسلم في غزوة أحد «أنا في جنة حصينة- يعني المدينة- دعوهم يدخلون نقاتلهم» وروى أحمد برجال الصحيح حديث: «رأيت كأني في درع حصينة، ورأيت بقرا تنحر، فأولت الدرع الحصينة المدينة» وهذا هو المذكور في كتب السير.

 

‌‌الحبيبة

الثاني والعشرون: «الحبيبة» لحبه لها صلى الله عليه وسلم وقال: «اللهم حبّب إلينا المدينة كحبنا مكة أو أشد» وسيأتي مزيد بيان لذلك في اسمها المحبوبة.

 

‌‌الحرم

الثالث والعشرون: «الحرم» بالفتح بمعنى الحرام؛ لتحريمها، وفي حديث مسلم «المدينة حرم» وفي رواية «إنها حرم آمن» .

 

‌‌حرم رسول الله

الرابع والعشرون: «حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم» لأنه الذي حرمها، وفي الحديث: «من

--------------------------------------------

(1) تجبر على الإذعان: تكره على الخضوع.
ভগ্নকে জোড়া দেয়, দরিদ্রকে অভাবমুক্ত করে এবং এর বরকত অবলোকন ও এর নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করার প্রতি আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করে; আর দেশসমূহকে ইসলামের প্রতি বশীভূত করেছে।

 

‌জব্বার

আঠারোতম: ‘জব্বার’, এটি ‘হাযাম’ এর ওজনে; ইবনে শাব্বাহ উল্লেখিত হাদিসে ‘আল-জাবিরাহ’ এর পরিবর্তে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌আল-জব্বারাহ

উনিশতম: ‘আল-জব্বারাহ’; এটি ‘আখবারুন নাওয়াহি’ কিতাবের লেখক তাওরাত থেকে ‘আল-জাবিরাহ’ এবং ‘আল-মাজবুরাহ’ নামের সাথে বর্ণনা করেছেন।

 

‌জাজিরাতুল আরব

বিশতম: ‘জাজিরাতুল আরব’ (আরব উপদ্বীপ); ইবনে জাবালাহ বলেন: ইবনে শিহাব বলতেন, জাজিরাতুল আরব হলো মদিনা। ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর হাদিসে সামনে আসবে: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মদিনা থেকে বের হলাম, তখন তিনি সেটির দিকে ফিরে তাকালেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উপদ্বীপকে শিরক থেকে মুক্ত রেখেছেন।” আল-হারাবি ইমাম মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘জাজিরাতুল আরব থেকে মুশরিকদের বের করে দাও’—এই হাদিসে মদিনাকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। তবে ইমাম মালিক থেকে সহিহ মত হলো আমাদের বক্তব্যের অনুরূপ যে, এর দ্বারা হিজাজকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

 

‌আল-জুন্নাতুল হাসিনাহ

একুশতম: ‘আল-জুন্নাতুল হাসিনাহ’ (সুরক্ষিত বর্ম), ‘জিম’ বর্ণে পেশসহ, যার অর্থ হলো ঢাল বা সুরক্ষা। কেননা কেউ কেউ ওহুদ যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই উক্তি বর্ণনা করেছেন: “আমি একটি সুরক্ষিত বর্মের মধ্যে রয়েছি—অর্থাৎ মদিনা—তাদেরকে প্রবেশ করতে দাও, আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব।” ইমাম আহমাদ সহিহ বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: “আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি একটি সুরক্ষিত বর্মের মধ্যে আছি এবং দেখলাম যে কিছু গাভী জবাই করা হচ্ছে; অতঃপর আমি সেই সুরক্ষিত বর্মের ব্যাখ্যা মদিনা দ্বারা করেছি।” আর সীরাত গ্রন্থসমূহে এটিই উল্লিখিত হয়েছে।

 

‌আল-হাবিুবাহ

বাইশতম: ‘আল-হাবিুবাহ’ (প্রিয়তমা), মদিনার প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালোবাসার কারণে। তিনি বলতেন: “হে আল্লাহ! মদিনাকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দিন, যেমন আপনি মক্কাকে আমাদের কাছে প্রিয় করেছেন বা তার চেয়েও বেশি।” ‘আল-মাহবুুবাহ’ নামের অধীনে এর আরও বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।

 

‌আল-হারাম

তেইশতম: ‘আল-হারাম’, ‘হা’ ও ‘রা’ বর্ণে যবরসহ, যার অর্থ হলো নিষিদ্ধ বা পবিত্র; কারণ একে হারাম (সম্মানিত/নিষিদ্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলিম শরীফের হাদিসে এসেছে, “মদিনা হলো হারাম (পবিত্র এলাকা)।” অন্য এক বর্ণনায় আছে, “নিশ্চয়ই এটি নিরাপদ হারাম।”

 

‌হারাম রাসূলুল্লাহ

চব্বিশতম: ‘হারাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’; কেননা তিনিই একে হারাম সাব্যস্ত করেছেন। হাদিসে এসেছে: “যে ব্যক্তি

--------------------------------------------

(১) আনুগত্যে বাধ্য করা: বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করা।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৮)
أخاف أهل حرمي أخافه الله» ، وروى ابن زبالة حديث: «حرم إبراهيم مكة وحرمي المدينة» .

 

‌‌حسنة

الخامس والعشرون: «حسنة» بلفظ مقابل السيئة، قال تعالى: لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِي الدُّنْيا حَسَنَةً [النحل: 41] قال المفسرون: مباءة حسنة»

، وهي المدينة، وقيل: حسنة اسم المدينة، وقد اشتملت على الحسن الحسي والمعنوي.

 

‌‌الخيرة

السادس والعشرون: «الخيّرة» بتشديد المثناة التحتية كالنيرة.

السابع والعشرون: «الخيرة» كالذي قبله إلا أن الياء مخففة، تقول: رجل خيّر وخير، وامرأة خيّرة وخيرة، بالتشديد والتخفيف، بمعنى، وهو الكثير الخير، وإذا أردت التفضيل قلت: فلان خير الناس، وفي الحديث: «والمدينة خير لهم لو كانوا يعلمون» وسيأتي حديث «المدينة خير من مكة» .

 

‌‌الدار

الثامن والعشرون: «الدار» لقوله تعالى: وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمانَ [الحشر: 9] على ما سبق في الإيمان، سميت به لأمنها والاستقرار بها وجمعها البناء والعرصة.

 

‌‌دار الأبرار

التاسع والعشرون: «دار الأبرار» . الثلاثون «دار الأخيار» لأنها دار المصطفى المختار، والمهاجرين والأنصار، ولأنها تنفي شرارها ومن أقام بها منهم فليست في الحقيقة له بدار، وربما نقل منها بعد الدفن على ما جاء في بعض الأخبار.

 

‌‌دار الإيمان

الحادي والثلاثون: «دار الإيمان» كما في حديث «المدينة قبة الإسلام ودار الإيمان» إذ منها ظهوره وانتشاره، وسيأتي في حديث «الإيمان يأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها» .

 

‌‌دار السنة ونحوها

الثاني والثلاثون: «دار السنة» . الثالث والثلاثون: «دار السلامة» . الرابع والثلاثون:

«دار الفتح» . الخامس والثلاثون: «دار الهجرة» ؛ ففي صحيح البخاري قول عبد الرحمن لعمر رضي الله عنهما «حتى تقدم المدينة فإنها دار الهجرة والسنة» وفي رواية الكشميهني

--------------------------------------------

(1) المباءة: المنزل. وتبوأ المكان: نزله وأقام به.
যে ব্যক্তি আমার হারামের (মদীনার) অধিবাসীদের ভয় দেখাবে, আল্লাহ তাকে আতঙ্কিত করবেন। ইবনে জুবাল্লাহ এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: "ইব্রাহিম (আ.) মক্কাকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং আমি মদীনাকে পবিত্র করেছি।"

 

‌‌হাসানাহ (উত্তম স্থান)

পঁচিশতম: মন্দ বা অমঙ্গলের বিপরীত শব্দ হিসেবে 'হাসানাহ' ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম স্থান দান করব।" [নাহল: ৪১] মুফাসসিরগণ বলেন: (এর অর্থ) একটি উত্তম আবাস।

আর তা হলো মদীনা। কেউ কেউ বলেছেন: 'হাসানাহ' মদীনার একটি নাম। এটি বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ সকল সৌন্দর্যকে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

‌‌আল-খাইয়্যিরাহ

ছাব্বিশতম: 'আল-খাইয়্যিরাহ', নিচের দুই নুকতাওয়ালা হরফ 'ইয়া'-তে তাশদীদ সহকারে, যেমন 'নাইয়্যিরাহ' শব্দে হয়ে থাকে।

সাতাশতম: 'আল-খাইরাহ', এটি পূর্বের শব্দটির মতোই, তবে এখানে 'ইয়া' বর্ণটি সাকিন বা হালকাভাবে উচ্চারিত হবে। বলা হয়ে থাকে: 'রজুলুন খাইয়্যিরুন' এবং 'খাইরুন' (উত্তম ব্যক্তি), এবং 'ইমরাআতুন খাইয়্যিরাতুন' এবং 'খাইরাতুন' (উত্তম নারী)—তাশদীদযুক্ত বা তাশদীদহীন উভয় রূপই একই অর্থ বহন করে, যার অর্থ হলো অধিক কল্যাণময়। আর যখন আপনি শ্রেষ্ঠত্ব বুঝাতে চাইবেন, তখন বলবেন: 'অমুক ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম'। হাদিসে এসেছে: "মদীনা তাদের জন্য উত্তম ছিল, যদি তারা তা জানত।" সামনে এই হাদিসটি আসবে যে, "মদীনা মক্কার চেয়েও উত্তম।"

 

‌‌আদ-দার (আবাসস্থল)

আটাশতম: 'আদ-দার'; আল্লাহ তাআলার বাণী অনুযায়ী: "এবং যারা এই আবাসে (মদীনায়) ঈমানসহ বসবাস স্থাপন করেছে..." [হাশর: ৯], যা ঈমানের আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে এর নিরাপত্তা, স্থিরতা এবং এর দালানকোঠা ও প্রাঙ্গণসমূহের একত্রীকরণের কারণে।

 

‌‌দারুল আবরার (পুণ্যবানদের আবাস)

উনত্রিশতম: 'দারুল আবরার'। ত্রিশতম: 'দারুল আখইয়ার' (শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের আবাস)। কারণ এটি হলো নবী মোস্তফা আল-মুখতার (সা.), মুহাজির এবং আনসারদের আবাস। আর এই কারণে যে, এটি এর মধ্য থেকে মন্দ লোকদের দূর করে দেয়; তাই তাদের মধ্যে যারা সেখানে মন্দ উদ্দেশ্য নিয়ে অবস্থান করে, প্রকৃতপক্ষে এটি তাদের জন্য প্রকৃত আবাস নয়। কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর হয়তো তাদের সেখান থেকে (অন্যত্র) সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

‌‌দারুল ঈমান (ঈমানের আবাস)

একত্রিশতম: 'দারুল ঈমান'; যেমনটি হাদিসে এসেছে: "মদীনা হলো ইসলামের গম্বুজ এবং ঈমানের আবাস।" কারণ এখান থেকেই ঈমানের প্রকাশ ও প্রচার ঘটেছে। সামনে এই হাদিসটি আসবে: "ঈমান মদীনার দিকে ফিরে আসবে, যেভাবে সাপ তার গর্তের দিকে ফিরে আসে।"

 

‌‌দারুস সুন্নাহ ও অনুরূপ নামসমূহ

বত্রিশতম: 'দারুস সুন্নাহ'। তেত্রিশতম: 'দারুস সালামাহ' (নিরাপত্তার আবাস)। চৌত্রিশতম: 'দারুল ফাতহ' (বিজয়ের আবাস)। পঁয়ত্রিশতম: 'দারুল হিজরত' (হিজরতের আবাস)। সহীহ বুখারীতে ওমর (রা.)-এর প্রতি আব্দুর রহমানের এই উক্তি বর্ণিত হয়েছে: "যতক্ষণ না আপনি মদীনায় পৌঁছান, কেননা তা হিজরত ও সুন্নাহর আবাস।" কিশমিহানির বর্ণনায়...

--------------------------------------------

(১) আল-মাবায়াহ: আবাসস্থল। কোনো স্থানে আবাস গ্রহণ করার অর্থ হলো সেখানে অবতরণ করা এবং অবস্থান করা।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ১৯)
«والسلامة» وقد فتحت منها مكة وسائر الأمصار، وكانت بها عصابة الأنصار، ومهاجرة النبي المختار صلى الله عليه وسلم والمهاجرين الأبرار، ومنها انتشرت السنة في الأقطار.

 

‌‌ذات الحجر

السادس والثلاثون: «ذات الحجر» لاشتمالها عليها، قال أبو بكر رضي الله عنه مثنيا على الأنصار: ما وجدت لنا ولهذا الحيّ من الأنصار مثلا إلا ما قال طفيل الغنوي:

أبوا أن يملّونا ولو أنّ أمّنا … تلاقي الّذي يلقون منّا لملّت

هم خلطونا بالنّفوس وأولجوا … إلى حجرات أدفأت وأظلّت

 

‌‌ذات الحرار

السابع والثلاثون: «ذات الحرار» لكثرة الحرار بها، وفي قصة خنافر بن التوأم الحميري الكاهن عن رئيه من الجن وقد وصف له دين الإسلام، فقال له خنافر: من أين أبغى هذا الدين؟ قال: من ذات الأحرين، والنفر الميامين، أهل الماء والطين، قلت: أوضح، قال:

الحق بيثرب‌‌ ذات النخل والحرة ذات النعل، قال الأصمعي: أحرون وحرار جمع حرة.

ذات النخل

الثامن والثلاثون: «ذات النخل» وهو وذات الحجر مما استعمله المتأخرون في أشعارهم، وقد نسجت على منوالهم حيث قلت في مطلع قصيدة:

أشجان قلبي بذات النّخل والحجر … وأختها تلك ذات الحجر والحجر

تقسّم القلب بين البلدتين؛ فلا … أنفك من لهب الأشواق في سعر

وفي أحاديث الهجرة «أريت دار هجرتي ذات نخل وحرة» «1» ، وقال عمران بن عامر الكاهن يصف البلاد لقومه: ومن كان منكم يريد الراسخات في الوحل، المطعمات في المحل «2» ، فليلحق بالحرة ذات النخل. وروي كما سيأتي بيثرب ذات النخل

 

‌‌السلقة

التاسع والثلاثون: «السلقة» ذكره أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أمين الإقشهري في أسمائها المنقولة عن التوراة، ولم نضبطه، وهو محتمل لفتح اللام وكسرها، والسّلق بالتحريك: القاع الصفصف «3» ، وسلقت البيض: أغليته بالنار، والمسلاق: الخطيب البليغ،

--------------------------------------------

(1) الحرّة: أرض ذات حجارة سود كأنها أحرقت (ج) حرار.

(2) المحل: انقطاع المطر ويبس الأرض من الكلإ.

(3) الصفصف: المستوي من الأرض لا نبات فيه. والأرض المنبسطة بين الجبال.
«আস-সালামাহ» (নিরাপত্তা)। এখান থেকেই মক্কা ও অন্যান্য শহরসমূহ বিজিত হয়েছিল, এবং এতেই ছিল আনসারদের দল এবং মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও পুণ্যবান মুহাজিরদের হিজরতস্থল, আর এখান থেকেই দিগন্তজুড়ে সুন্নাহ ছড়িয়ে পড়েছিল।

 

‌‌যাতুল হিজর

ছত্রিশতম: «যাতুল হিজর» (পাথর বেষ্টিত ভূমি) কারণ এটি পাথর দ্বারা পরিবেষ্টিত। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আনসারদের প্রশংসা করে বলেছিলেন: আমি আমাদের এবং আনসারদের এই গোত্রের জন্য এমন কোনো উদাহরণ পাইনি যা তুফাইল আল-গানাবি বলেছিলেন তার চেয়ে উত্তম:

তারা আমাদের প্রতি বিরক্ত হতে অস্বীকার করেছে, এমনকি আমাদের মাও যদি … সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেন যা তারা আমাদের পক্ষ থেকে পেয়েছে, তবে তিনিও বিরক্ত হতেন।

তারা আমাদের নিজেদের প্রাণের সাথে মিশিয়ে নিয়েছে এবং প্রবেশ করিয়েছে … এমন কক্ষসমূহে যা উষ্ণতা ও ছায়া দান করেছে।

 

‌‌যাতুল হাররার

সাঁইত্রিশতম: «যাতুল হাররার» কারণ সেখানে হাররার (কালো পাথুরে ভূমি) আধিক্য রয়েছে। খুনাফির ইবনে আত-তাউয়াম আল-হিময়ারি কাহিনের বর্ণনায় তার জিন সঙ্গীর নিকট থেকে বর্ণিত, যখন সে তাকে ইসলাম ধর্মের বর্ণনা দিয়েছিল। তখন খুনাফির তাকে জিজ্ঞাসা করল: আমি এই দ্বীন কোথায় খুঁজব? সে বলল: যাতুল আহরাইন (দুই হাররা বিশিষ্ট স্থান) থেকে, এবং কল্যাণময় এক দল থেকে, যারা পানি ও মাটির অধিবাসী। আমি বললাম: আরও স্পষ্ট করে বল। সে বলল:

ইয়াসরিবের সাথে যুক্ত হও ‌‌যা খেজুর বাগান বিশিষ্ট এবং হাররা (পাথুরে ভূমি) বিশিষ্ট। আসমায়ী বলেছেন: 'আহরাইন' এবং 'হাররার' হলো 'হাররা' এর বহুবচন।

যাতুন নাখল

আটত্রিশতম: «যাতুন নাখল» (খেজুর বাগান বিশিষ্ট)। এটি এবং 'যাতুল হিজর' পরবর্তী যুগের কবিগণ তাদের কবিতায় ব্যবহার করেছেন। আমি তাদের পথ অনুসরণ করে একটি কবিতার শুরুতে বলেছিলাম:

আমার হৃদয়ের দুঃখ-বেদনা যাতুন নাখল ও আল-হিজরে … এবং তার বোন সেই যাতুল হিজর ও হিজরে।

দুই শহরের মাঝে হৃদয় বিভক্ত; সুতরাং … অনুরাগের অগ্নিকুণ্ডের দহন থেকে তোমার নিষ্কৃতি নেই।

হিজরত সংক্রান্ত হাদিসসমূহে এসেছে: "আমাকে আমার হিজরতস্থল দেখানো হয়েছে যা খেজুর বাগান ও হাররা বিশিষ্ট।" «১», এবং ইমরান বিন আমির কাহিন তার সম্প্রদায়ের নিকট এই ভূখণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কাদা মাটিতে সুদৃঢ় এবং দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য দানকারী বাগান পেতে চায় «২», সে যেন খেজুর বাগান বিশিষ্ট হাররায় চলে যায়। আর সামনে যেমনটি আসবে তা 'ইয়াসরিব যাতুন নাখল' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌আস-সালকাহ

ঊনচল্লিশতম: «আস-সালকাহ» (মসৃণ ভূমি)। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আমিন আল-ইকশাহরি তাওরাত থেকে উদ্ধৃত মদিনার নামসমূহের মধ্যে এটি উল্লেখ করেছেন। আমরা এর হরকত (স্বরচিহ্ন) নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করিনি, তবে এতে লাম বর্ণে ফাতহাহ (যবর) বা কাসরাহ (যের) উভয়ই হতে পারে। আর 'আস-সালক' যবর সহকারে অর্থ হলো: উদ্ভিদহীন সমতল ভূমি «৩»। আমি ডিম সিদ্ধ করেছি (সালকতু) মানে আমি তা আগুনে ফুটিয়েছি। আর 'আল-মিসলাক' অর্থ সুবক্তা বা বাগ্মী খতিব।

--------------------------------------------

(১) আল-হাররা: এমন ভূমি যেখানে কালো পাথর রয়েছে, মনে হয় যেন সেগুলো পুড়ে গেছে। (বহুবচন) হাররার।

(২) আল-মাহল: বৃষ্টি বন্ধ হওয়া এবং ঘাসবিহীন ভূমি শুষ্ক হয়ে যাওয়া।

(৩) আস-সাফসাফ: ভূমির সমতল অংশ যেখানে কোনো উদ্ভিদ নেই। এবং পাহাড়ের মধ্যবর্তী বিস্তৃত সমতল ভূমি।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২০)
وربما قيل للمرأة السليطة: سلقة- بكسر اللام- فتسميتها بذلك لاتساعها وبعدها عن جبالها، أو للأوائها، أو لشدة حرها وما كان بها من الحمى الشديدة، أو لأن الله تعالى سلط أهلها على سائر البلاد فافتتحوها.

 

‌‌سيدة البلدان

الأربعون: «سيدة البلدان» لما أسنده الديلمي من الحلية لأبي نعيم عن ابن عمر مرفوعا «يا طيبة يا سيدة البلدان» .

 

‌‌الشافية

الحادي والأربعون: «الشافية» لحديث «ترابها شفاء من كل داء» وذكر الجذام والبرص، ولقد شاهدنا من استشفى بترابها من الجذام فنفعه الله به، والاستشفاء بتربة صعيب من الحمى مشهور، كما سيأتي، ولما صح في الاستشفاء بتمرها، وذكر ابن مسدي الاستشفاء من الحمى بكتابة أسمائها وتعليقها على المحموم، وسيأتي أنها تنفي الذنوب فتشفى من دائها.

 

‌‌طابة وطيبة

الثاني والأربعون: «طابة» بتخفيف الموحدة. الثالث والأربعون: «طيبة» بسكون المثناة التحتية.

الرابع والأربعون: «طيّبة» بتشديدها. الخامس والأربعون: «طائب» ككاتب، وهذه الأربعة مع اسمها المطيبة أخوات لفظا ومعنى، مختلفات صيغة ومبنى، وقد صح حديث «إن الله سمى المدينة طابة» وفي رواية «إن الله أمرني أن أسمي المدينة طابة» وروى ابن شبة وغيره: كانوا يسمون يثرب، فسماها رسول الله صلى الله عليه وسلم طيبة، وفي حديث «للمدينة عشرة أسماء هي المدينة وطيبة وطابة» ورواه صاحب النواحي بلفظ طابت بدل طيبة، وعن وهب بن منبه: والله إن اسمها في كتاب الله- يعني التوراة- طيبة وطابة، ونقل عن التوراة تسميتها بالمطيبة أيضا، وكذا بطابة والطيبة، وتسميتها بهذه الأسماء إما من الطيب بتشديد المثناة، وهو الطاهر؛ لطهارتها من أدناس الشرك، أو لموافقتها من قوله تعالى: بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ [يونس: 22] أو لحلول الطيب بها صلى الله عليه وسلم أو لكونها كالكير تنفي خبثها وينصع طيبها، وإما من الطيب- بسكون المثناة- لطيب أمورها كلها، وطيب رائحتها، ووجود ريح الطيب بها، قال ابن بطّال: من سكنها يجد من ترتبها وحيطانها رائحة حسنة، وقال الإشبيلي: لتربة المدينة نفحة، ليس طيبها كما عهد من الطيب، بل هو عجب من الأعاجيب، وقال ياقوت:
কখনও কখনও কটুভাষী নারীকে 'সালকা' (লাম অক্ষরে কাসরা বা 'ই' কার যোগে) বলা হয়। মদিনাকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হতে পারে এর প্রশস্ততা এবং এর পাহাড়সমূহ থেকে এর দূরত্ব, অথবা এর সংকীর্ণতার কারণে, অথবা এর প্রচণ্ড উত্তাপ এবং এতে বিদ্যমান তীব্র জ্বরের কারণে, অথবা এজন্য যে আল্লাহ তাআলা এর অধিবাসীদের অন্যান্য ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন এবং তারা সেগুলো জয় করেছিলেন।

 

‌‌শহরসমূহের নেত্রী

চল্লিশতম: 'শহরসমূহের নেত্রী' (সাইয়্যেদাতুল বুলদান); কেননা আদ-দাইলামি আবু নুয়াইমের 'হিলয়া' গ্রন্থ থেকে ইবনে উমরের সূত্রে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "হে ত্বইবাহ, হে শহরসমূহের নেত্রী।"

 

‌‌আরোগ্যদানকারী

একচল্লিশতম: 'আরোগ্যদানকারী' (আশ-শাফিয়াহ); কারণ হাদিসে এসেছে: "এর মাটি প্রতিটি রোগের নিরাময়" এবং সেখানে কুষ্ঠ ও শ্বেতী রোগের উল্লেখ রয়েছে। আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখেছি যারা এর মাটি দ্বারা কুষ্ঠ রোগ থেকে আরোগ্য চেয়েছেন এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে তাদের উপকৃত করেছেন। সুআইব নামক স্থানের মাটি দিয়ে জ্বরের চিকিৎসা করার বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ, যা সামনে আলোচিত হবে। এছাড়া এর খেজুরের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের বিষয়টি বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। ইবনে মাসদি মদিনার নামসমূহ লিখে জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তির ওপর ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে জ্বরের চিকিৎসার কথা উল্লেখ করেছেন। সামনে আরও আসবে যে, এই শহর গুনাহসমূহ দূর করে দেয়, ফলে এটি গুনাহের ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করে।

 

‌‌ত্বাবাহ এবং ত্বইবাহ

বিয়াল্লিশতম: 'ত্বাবাহ' (এক নুকতা বিশিষ্ট বা-কে হালকাভাবে পড়ার মাধ্যমে)। তেতাল্লিশতম: 'ত্বইবাহ' (নিচের দুই নুকতা বিশিষ্ট ইয়া-তে সুকুন দিয়ে)।

চুয়াল্লিশতম: 'ত্বইয়্যিবাহ' (তাশদীদ দিয়ে)। পঁয়তাল্লিশতম: 'ত্বয়িব' (কাতিব-এর ওজনে)। এই চারটি নাম এর 'আল-মুতাইয়্যাবাত' নামের সাথে শব্দ এবং অর্থের দিক থেকে ভ্রাতৃপ্রতিম, তবে এগুলোর গঠন ও রূপ ভিন্ন। হাদিসে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, "নিশ্চয় আল্লাহ মদিনার নাম রেখেছেন ত্বাবাহ।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, "নিশ্চয় আল্লাহ আমাকে মদিনার নাম ত্বাবাহ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।" ইবনে শাব্বাহ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন যে: মানুষ একে ইয়াছরিব বলত, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাম রাখলেন ত্বইবাহ। এক হাদিসে রয়েছে, "মদিনার দশটি নাম রয়েছে, সেগুলো হলো— আল-মদিনা, ত্বইবাহ এবং ত্বাবাহ।" 'আল-নাওয়াহি'র লেখক এটি 'ত্বইবাহ'-এর পরিবর্তে 'ত্বাবাত' শব্দে বর্ণনা করেছেন। ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত: আল্লাহর কসম, আল্লাহর কিতাবে—অর্থাৎ তাওরাতে—এর নাম ত্বইবাহ এবং ত্বাবাহ। তাওরাত থেকে এর নাম 'আল-মুতাইয়্যাবাত' হওয়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে, একইভাবে 'ত্বাবাহ' এবং 'আত-ত্বইবাহ'ও। এই নামগুলো রাখার কারণ হতে পারে 'ত্বীব' (ইয়া-তে তাশদীদসহ) শব্দ থেকে যার অর্থ পবিত্র; কারণ শিরকের আবর্জনা থেকে এটি পবিত্র। অথবা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর সাথে সামঞ্জস্য হওয়ার কারণে: "একটি পবিত্র বাতাসের মাধ্যমে" [সূরা ইউনুস: ২২]। অথবা পবিত্র সত্তার (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এখানে অবস্থানের কারণে। অথবা এটি কামারের হাপরের মতো হওয়ার কারণে, যা এর ভেতরের ময়লা দূর করে দেয় এবং এর পবিত্রতা প্রকাশ পায়। আর যদি এটি 'ত্বীব' (ইয়া-তে সুকুনসহ) শব্দ থেকে উৎপন্ন হয়, তবে এর কারণ হলো এর যাবতীয় বিষয়ের উত্তমতা, এর সুগন্ধি এবং এখানে পবিত্র সুবাস বিদ্যমান থাকা। ইবনে বাত্তাল বলেন: "যারা এখানে বসবাস করে তারা এর মাটি এবং দেয়াল থেকে উত্তম সুঘ্রাণ পায়।" আল-ইশবিলি বলেন: "মদিনার মাটির একটি বিশেষ সুবাস রয়েছে, এর সুঘ্রাণ প্রচলিত কোনো সুগন্ধির মতো নয়, বরং এটি এক পরম বিস্ময়।" ইয়াকুত বলেন:
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২১)
من خصائصها طيب ريحها، وللمطر فيها رائحة لا توجد في غيرها، وما أحسن قول أبي عبد الله العطار:

بطيب رسول الله طاب نسيمها … فما المسك ما الكافور ما المندل الرّطب

 

‌‌ظباب

السادس والأربعون: «ظباب» ذكره ياقوت، ولم يضبطه، وهو إما بكسر المهملة أو بفتح المعجمة؛ فالأول بمعنى القطعة المستطيلة من الأرض، والثاني من ظبب وظبظب إذا حمّ؛ لأنها كانت لا يدخلها أحد إلا حمّ، قاله المجد.

 

‌‌العاصمة

السابع والأربعون: «العاصمة» لأنها عصمت المهاجرين ووقتهم أذى المشركين، ولما تقدم في «الجنة الحصينة» ويحتمل: أن يكون بمعنى المعصومة لعصمتها قديما بجيوش موسى وداود عليهما السلام المبعوث إلى من كان بها من الجبابرة، وحفظها حديثا نبي الرحمة صلى الله عليه وسلم حتى صارت حرما آمنا، لا يدخلها الدجال ولا الطاعون، ومن أرادها بسوء أذابه الله.

 

‌‌العذراء

الثامن والأربعون: «العذراء» بإهمال أوله وإعجام ثانيه، منقول عن التوراة، سميت به لحفظها من وطء العدو القاهر في سالف الزمان، إلى أن تسلمها مالكها الحقيقي سيد الأنام، مع صعوبتها وامتناعها على الأعداء، ولذلك سميت البكر بالعذراء.

‌‌العرّاء

التاسع والأربعون: «العرّاء» بإهمال أوله وثانيه وتشديده، بمعنى الذي قبله، قال أئمة اللغة: العراء الجارية العذراء، كأنها شبهت بالناقة العراء التي لا سنام لها وصغر سنامها كصغر نهد العذراء أو عدمه؛ فيجوز أن يكون تسمية المدينة بذلك لعدم ارتفاع أبنيتها في السماء.

 

‌‌العروض

الخمسون: «العروض» كصبور، وقيل: هو اسم لها ولما حولها؛ لانخفاض مواضع منها ومسايل أودية فيها، وقال الخليل: العروض: طريق في عرض الجبل، وعرض الرجل إذا أتى المدينة؛ فإن المدينة سميت عروضا لأنها من بلاد نجد، ونجد كلها على خط مستقيم طولاني والمدينة معترضة عنها ناحية على أنها نجدية.
এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সুগন্ধি বাতাস, এবং এখানে বৃষ্টির এমন এক ঘ্রাণ রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আবু আব্দুল্লাহ আল-আত্তারের কথাটি কতই না সুন্দর:

আল্লাহর রাসূলের পবিত্র সুঘ্রাণে এর বায়ু হয়েছে সুবাসিত … কস্তুরী, কর্পূর বা সিক্ত চন্দনকাঠের সুগন্ধও এর সমতুল্য নয়।

 

‌‌জিবাব

ছেচল্লিশতম: 'জিবাব'। ইয়াকুত এটি উল্লেখ করেছেন, তবে এর সঠিক উচ্চারণ নির্ধারণ করেননি। এটি হয় 'দাল' সদৃশ বর্ণে কাসরা (যিবাব) অথবা 'য' বর্ণে ফাতহা (জাবাব) দিয়ে হতে পারে। প্রথমটির অর্থ হচ্ছে ভূমির দীর্ঘায়িত অংশ, আর দ্বিতীয়টি 'যবাবা' বা 'যবযাবা' থেকে এসেছে যার অর্থ জ্বর হওয়া; কারণ আগে এখানে কেউ প্রবেশ করলে সে জ্বরে আক্রান্ত হতো। আল-মাজদ এটি বলেছেন।

 

‌‌আল-আসিমা

সাতচল্লিশতম: 'আল-আসিমা' (সুরক্ষাকারী)। কারণ এটি মুহাজিরদের সুরক্ষা দিয়েছিল এবং মুশরিকদের কষ্ট থেকে তাদের রক্ষা করেছিল। এছাড়া 'আল-জান্নাতুল হাসিনা' (সুরক্ষিত ঢাল) অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে তার কারণেও এই নামকরণ। সম্ভবত এর অর্থ 'আল-মাসুমা' (সুরক্ষিত), কারণ প্রাচীনকালে মুসা ও দাউদ (আলাইহিমাস সালাম)-এর সেনাবাহিনীর মাধ্যমে এটি সুরক্ষিত ছিল, যারা সেখানকার অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়েছিলেন। আর পরবর্তীকালে রহমতের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটিকে রক্ষা করেছেন যতক্ষণ না এটি একটি নিরাপদ হারামে পরিণত হয়েছে, যেখানে দাজ্জাল বা প্লেগ প্রবেশ করতে পারে না; আর যে ব্যক্তি এর অমঙ্গল চাইবে, আল্লাহ তাকে গলিয়ে দেবেন।

 

‌‌আল-আজরা

আটচল্লিশতম: 'আল-আজরা' (কুমারী/অস্পৃশ্য)। এটি তাওরাত থেকে উদ্ধৃত। অতীতকালে কোনো শক্তিশালী বিজয়ী শত্রুর পদদলন থেকে সুরক্ষিত থাকার কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে, যতক্ষণ না সৃষ্টির সেরা ও এর প্রকৃত মালিক এটি গ্রহণ করেছেন; শত্রুদের জন্য এটি ছিল দুর্ভেদ্য ও অগম্য। এই কারণেই কুমারী মেয়েকে 'আজরা' বলা হয়।

‌‌আল-আররা

উনপঞ্চাশতম: 'আল-আররা'। এর অর্থ আগেরটির মতোই। ভাষাবিদগণ বলেন: 'আররা' অর্থ কুমারী কিশোরী। একে সেই উটনীর সাথে তুলনা করা হয়েছে যার কুঁজ নেই বা যার কুঁজের ক্ষুদ্রতা কুমারী কিশোরীর স্তনের ক্ষুদ্রতার মতো। সুতরাং মদিনার আকাশচুম্বী সুউচ্চ অট্টালিকা না থাকার কারণে শহরটিকে এই নামে নামকরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

 

‌‌আল-আরুজ

পঞ্চাশতম: 'আল-আরুজ'। বলা হয়ে থাকে এটি শহর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নাম; কারণ এর কিছু অংশ নিচু এবং এতে উপত্যকার জলধারা রয়েছে। খলিল বলেছেন: 'আরুজ' হলো পাহাড়ের পাশের রাস্তা। আর কোনো ব্যক্তি যখন মদিনায় আসে তখন বলা হয় সে 'আরুজ' করেছে। মদিনাকে 'আরুজ' বলা হয় কারণ এটি নজদ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, আর পুরো নজদ এলাকা একটি দীর্ঘ সরলরেখায় অবস্থিত, কিন্তু মদিনা তার একপাশে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এটি নজদ অঞ্চলেরই অংশ।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الغرّاء

الحادي والخمسون: «الغرّاء» بالغين المعجمة- تأنيث الأغر، وهو ذو الغرة من الخيل:

أي: البياض في مقدم وجهه، والغرة أيضا: خيار كل شيء، وغرة الإنسان: وجهه، والأغر: الأبيض من كل شيء، والذي أخذت اللحية جميع وجهه إلا القليل، ومن الأيام الشديد الحر، والرجل الكريم، والغراء: نبت طيب الرائحة، والسيدة الكبيرة في قبيلتها؛ فسميت المدينة بذلك لشرف معالمها، ووضوح مكارمها، واشتهارها، وسطوع نورها، وبياض نورها، وطيب رائحتها، وكثرة نخلها، وسيادتها على القرى، وكرم أهلها، ورفعة محلها.

 

‌‌غلبة

الثاني والخمسون: «غلبة» محركة بمعنى الغلب؛ لظهورها واستيلائها على سائر البلاد، وهو اسم قديم جاهلي، قال ابن زبالة: حدثني داود بن مسكين الأنصاري عن مشيخته قالوا: كانت يثرب في الجاهلية تدعى غلبة، نزلت اليهود على العماليق فغلبتهم عليها، ونزلت الأوس والخزرج على اليهود فغلبوهم عليها، ونزل الأعاجم على المهاجرين فغلبوهم عليها، كذا في النسخة التي وقفت عليها من كتاب ابن زبالة، ونقله المجد عن الزبير بن بكار راوي كتاب ابن زبالة، وقال فيه بدل قوله ونزل الأعاجم: ونزل المهاجرون على الأوس والخزرج فغلبوهم عليها.

 

‌‌الفاضحة

الثالث والخمسون: «الفاضحة» بالفاء والضاد المعجمة والحاء المهملة- نقله بعضهم عن كراع، ومأخذها ما سيأتي في معنى كونها تنفي خبثها من أنها تميزه وتظهره فلا يبطن بها أحد عقيدة فاسدة أو يضمر أمرا إلا ظهر عليه، وافتضح به، بخلاف غيرها من البلاد، وقد شاهدنا ذلك كثيرا بها.

 

‌‌القاصمة

الرابع والخمسون: «القاصمة» بالقاف والصاد المهملة- نقل عن التوراة سميت به لقصمها كل جبار عناها «1» ، وكسر كل متمرد أتاها، ومن أرادها بسوء أذابه الله.

 

‌‌قبة الإسلام

الخامس والخمسون: «قبة الإسلام» لحديث «المدينة قبة الإسلام» .

 

‌‌قرية الأنصار

السادس والخمسون: «قرية الأنصار» قال ابن سيدة: القرية- بفتح القاف وكسرها-

--------------------------------------------

(1) عناها: أرادها. وقصدها بسوء.
‌‌আল-গাররা

৫১তম: «আল-গাররা» (বিন্দুযুক্ত গাইন সহযোগে)—এটি ‘আগার’ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ। ঘোড়ার ক্ষেত্রে যার কপালে শুভ্রতা রয়েছে তাকে ‘আগার’ বলা হয়:

অর্থাৎ: এর অর্থ চেহারার সামনের অংশের শুভ্রতা। ‘গুররাহ’ বলতে সবকিছুর উৎকৃষ্ট অংশকেও বোঝানো হয়। মানুষের ‘গুররাহ’ হলো তার চেহারা। ‘আগার’ অর্থ যেকোনো সাদা বা উজ্জ্বল বস্তু। যার দাড়ি সামান্য অংশ ব্যতীত পুরো মুখমণ্ডল আবৃত করে রেখেছে তাকেও ‘আগার’ বলা হয়। এছাড়া এটি তীব্র গরমের দিন এবং সম্মানিত ব্যক্তিকে বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। ‘গাররা’ এক প্রকার সুগন্ধি উদ্ভিদ এবং নিজ গোত্রের মহীয়সী নারীকেও বলা হয়। মদীনাকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো এর নিদর্শনগুলোর মর্যাদা, এর গুণাবলির স্পষ্টতা, এর প্রসিদ্ধি, এর আলোর বিচ্ছুরণ ও শুভ্রতা, এর সুগন্ধি, এর প্রচুর খেজুর গাছ, অন্যান্য জনপদের উপর এর শ্রেষ্ঠত্ব, এর অধিবাসীদের মহানুভবতা এবং এর উচ্চ মর্যাদা।

 

‌‌গালাবাহ

৫২তম: «গালাবাহ» (সব বর্ণে হরকত বিশিষ্ট), এর অর্থ বিজয়; অন্য সকল শহরের উপর এর প্রাধান্য ও কর্তৃত্বের কারণে এই নামকরণ। এটি একটি প্রাচীন জাহেলি নাম। ইবনে জাবালাহ বলেন: দাউদ ইবনে মিসকিন আনসারি তার উস্তাদদের সূত্রে আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা বলেন: জাহেলি যুগে ইয়াসরিবকে ‘গালাবাহ’ বলা হতো। ইয়াহুদিরা আমালিকা সম্প্রদায়ের নিকট অবতরণ করে তাদের উপর জয়লাভ করেছিল। অতঃপর আউস ও খাজরাজ গোত্র ইয়াহুদিদের নিকট অবতরণ করে তাদের উপর জয়লাভ করেছিল। এরপর অনারবরা মুহাজিরদের নিকট অবতরণ করে তাদের উপর জয়লাভ করেছিল—ইবনে জাবালার কিতাবের যে পাণ্ডুলিপিটি আমি দেখেছি তাতে এভাবেই আছে। আল-মাজদ এটি ইবনে জাবালার কিতাবের বর্ণনাকারী যুবাইর ইবনে বাক্কার থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং সেখানে "অনারবরা অবতীর্ণ হয়েছে" এর পরিবর্তে বলা হয়েছে: "মুহাজিরগণ আউস ও খাজরাজদের নিকট অবতীর্ণ হয়ে তাদের ওপর জয়লাভ করেন।"

 

‌‌আল-ফাদিহাহ

৫৩তম: «আল-ফাদিহাহ» (ফা, বিন্দুযুক্ত দদ এবং বিন্দুহীন হা সহযোগে)—কেউ কেউ এটি কুরা' থেকে বর্ণনা করেছেন। এর নামকরণের উৎস হলো পরবর্তীতে যা আসবে যে, মদীনা তার অপবিত্রতাকে দূর করে দেয়; অর্থাৎ এটি অপবিত্রতাকে পৃথক ও প্রকাশ করে দেয়। ফলে সেখানে কেউ কোনো ভ্রান্ত আকিদা পোষণ করলে বা কোনো কিছু গোপন করলে তা প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং সে লাঞ্ছিত হয়, যা অন্য শহরের ক্ষেত্রে ঘটে না। আমরা সেখানে এমনটি অনেক প্রত্যক্ষ করেছি।

 

‌‌আল-কাসিমা

৫৪তম: «আল-কাসিমা» (কাফ এবং বিন্দুহীন সদ সহযোগে)—তাওরাত থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি তার অনিষ্টকারী প্রত্যেক স্বৈরাচারীকে ধ্বংস করে দেয়, এবং সেখানে আগত প্রত্যেক অবাধ্যকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। যে কেউ এর অনিষ্টের ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে গলিয়ে দেবেন।

 

‌‌কুব্বাতুল ইসলাম

৫৫তম: «কুব্বাতুল ইসলাম» (ইসলামের গম্বুজ); হাদীসে এসেছে: "মদীনা হলো ইসলামের গম্বুজ"।

 

‌‌কারইয়াতুল আনসার

৫৬তম: «কারইয়াতুল আনসার» (আনসারদের জনপদ)। ইবনে সিদাহ বলেন: আল-কারইয়াহ (ক্বাফ বর্ণে ফাতহা বা কাসরা যোগে)—

--------------------------------------------

(১) অনিষ্টকারী: অর্থাৎ যে তার ক্ষতি করতে চায় এবং মন্দ উদ্দেশ্যে তার সংকল্প করে।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৩)
المصر الجامع، من قريت الماء في الحوض، إذا جمعته، وقال أبو هلال العسكري:

العرب تسمي كل مدينة صغرت أو كبرت قرية، قلت: وسيأتي في معنى «المدينة» ما يقتضي أنه يعتبر في مسماها زيادتها على القرية ونقصها على المصر، وقيل: يطلق عليه، والأنصار: واحدهم ناصر، سموا بذلك لنصرهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وإيوائهم له وللمهاجرين، فمدحهم الله بقوله: وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا [الأنفال: 72] فسماهم رسول الله صلى الله عليه وسلم الأنصار، وكان يقال لهم قبل ذلك الأوس والخزرج، وفي الحديث عن غيلان بن جرير قال: قلت لأنس بن مالك: أرأيتم اسم الأنصار، كنتم تسمون به أم سماكم الله؟ قال: بل سمانا الله. وسيأتي في حديث «إن الله قد طهر هذه القرية من الشرك» فلك أن تعده اسما آخر.

 

‌‌قرية رسول الله

السابع والخمسون: «قرية رسول الله صلى الله عليه وسلم» لما سيأتي في عصمتها من الدجال من قوله صلى الله عليه وسلم: «ثم يسير حتى يأتي المدينة، ولا يأذن له فيها؛ فيقول: هذه قرية ذاك الرجل» يعني النبي صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌قلب الإيمان

الثامن والخمسون: «قلب الإيمان» أورده ابن الجوزي في الوفاء في حديث «المدينة قبة الإسلام» .

 

‌‌المؤمنة

التاسع والخمسون: «المؤمنة» إما لتصديقها بالله حقيقة كذوي العقول؛ إذ لا بعد في خلق الله تعالى قوة في الجماد قابلة للتصديق والتكذيب، وقد سمع تسبيح الحصى في كفه صلى الله عليه وسلم أو مجازا لاتصاف أهلها بذلك، ولانتشار الإيمان منها، واشتمالها على أوصاف المؤمن من النفع والبركة وعدم الضرر والمسكنة، وإما لإدخالها أهلها في الأمان من الأعداء، وأمنهم من الدجال والطاعون، وروى ابن زبالة في حديث «والذي نفسي بيده إن ترتبها لمؤمنة» وروى «أنها مكتوبة في التوراة مؤمنة» .

 

‌‌المباركة

الستون: «المباركة» ؛ لأن الله تعالى بارك فيها بدعائه صلى الله عليه وسلم لحديث «اللهم اجعل
একত্রকারী নগরী; যা হাউজে পানি জমা করার শব্দ ‘ক্বারাইতু’ থেকে এসেছে যখন আপনি তা একত্রিত করেন। আবু হিলাল আল-আসকারি বলেন:

আরবরা ছোট বা বড় যে কোনো শহরকেই ‘ক্বরইয়াহ’ (জনপদ) নামে অভিহিত করত। আমি বলি: ‘মদীনা’ শব্দের সংজ্ঞায় সামনে এমন কিছু আসবে যা দাবি করে যে, এর নামকরণের ক্ষেত্রে এটি জনপদের (ক্বরইয়াহ) চেয়ে বড় হওয়া এবং বড় নগরীর (মিসর) চেয়ে ছোট হওয়াকে বিবেচনা করা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন: এটি সবগুলোর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। আর আনসার: এর একবচন হলো নাসির (সাহায্যকারী), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করার কারণে এবং তাঁকে ও মুহাজিরদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে তাঁদের এই নামকরণ করা হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: ‘আর যারা আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে’ [আনফাল: ৭২]। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের ‘আনসার’ নাম দেন, এর আগে তাঁদেরকে আউস ও খাজরাজ বলা হতো। গাইলান ইবনে জারীর থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: আমি আনাস ইবনে মালিককে বললাম: আপনারা কি ‘আনসার’ নাম সম্পর্কে ভেবেছেন যে এটি কি আপনারা নিজেরাই রেখেছিলেন নাকি আল্লাহ আপনাদের এই নাম দিয়েছেন? তিনি বললেন: বরং আল্লাহই আমাদের এই নামকরণ করেছেন। আর সামনে হাদিসে আসবে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এই জনপদকে শিরক থেকে পবিত্র করেছেন’, তাই আপনি একে অন্য একটি নাম হিসেবে গণ্য করতে পারেন।

 

‌‌রাসূলুল্লাহর জনপদ

সাতান্নতম: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনপদ’; যেহেতু দাজ্জাল থেকে এর সুরক্ষা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী সামনে আসবে: ‘অতঃপর সে ভ্রমণ করবে যতক্ষণ না সে মদীনার সন্নিকটে আসবে, কিন্তু তাকে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না; তখন সে বলবে: এটি সেই ব্যক্তির জনপদ’ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

 

‌‌ঈমানের কেন্দ্রবিন্দু

আটান্নতম: ‘ঈমানের কেন্দ্রবিন্দু’ (ক্বলবুল ঈমান)। ইবনুল জাওযি ‘আল-ওয়াফা’ গ্রন্থে ‘মদীনা ইসলামের গম্বুজ’ সম্পর্কিত হাদিসে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌আল-মুমিনাহ (বিশ্বাসী)

উনষাটতম: ‘আল-মুমিনাহ’; হয় বুদ্ধিমান সত্তার ন্যায় এর প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের কারণে; কেননা আল্লাহ তাআলা জড় পদার্থের মধ্যেও বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের ক্ষমতা সৃষ্টি করবেন এটা অসম্ভব কিছু নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের তালুতে পাথরের তাসবিহ পাঠ করার কথা শোনা গেছে। অথবা রূপক অর্থে এর অধিবাসীদের এই গুণে গুণান্বিত হওয়ার কারণে এবং এখান থেকে ঈমান বিচ্ছুরিত হওয়ার কারণে। এছাড়াও এতে মুমিনের বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন কল্যাণ, বরকত, ক্ষতিকর না হওয়া এবং বিনয় বিদ্যমান থাকার কারণেও হতে পারে। অথবা এর অধিবাসীদের শত্রুদের থেকে নিরাপত্তা দান এবং দাজ্জাল ও প্লেগ রোগ থেকে নিরাপদ রাখার কারণেও হতে পারে। ইবনে জাবালাহ হাদিসে বর্ণনা করেছেন, ‘সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এর মাটি অবশ্যই বিশ্বাসী (মুমিনাহ)।’ আরও বর্ণিত হয়েছে যে, ‘তাওরাতে এটি মুমিনাহ হিসেবে লিখিত আছে।’

 

‌‌আল-মুবারাকাহ (বরকতময়)

ষাটতম: ‘আল-মুবারাকাহ’; কারণ আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার বরকতে একে বরকতময় করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘হে আল্লাহ! আপনি দান করুন...’

(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৪)
بالمدينة ضعفي ما جعلت بمكة من البركة» وغيره من الأحاديث الصحيحة الكثيرة، وآثار تلك الدعوات من الأمور الظاهرات.

 

‌‌مبوأ الحلال والحرام

الحادي والستون: «مبوّأ الحلال والحرام» رواه الطبراني في حديث «المدينة قبة الإسلام» والتبوؤ: التمكن والاستقرار، سميت به لأنها محل تمكن هذين الحكمين واستقرارهما، وفي بعض النسخ «مثوى» بالمثلاثة الساكنة بدل الموحدة، والأول هو الذي رأيته بخط الحافظ أبي الفتح المراغي.

 

‌‌مبين الحلال والحرام

الثاني والستون: «مبين الحلال والحرام» رواه ابن الجوزي والسيد أبو العباس القرافي في حديث «المدينة قبة الإسلام» بدل الذي قبله، سميت به لأنها المحل الذي ابتدأ فيه ببيان الحلال والحرام.

 

‌‌المجبورة

الثالث والستون: «المجبورة» بالجيم- ذكره في حديث «للمدينة عشرة أسماء» ونقل عن الكتب المتقدمة، وسميت به لأن الله تعالى جبرها بسكنى نبيه وصفيه صلى الله عليه وسلم حيا وضمها لأعضائه الشريفة ميتا بعد نقل حمّاها، وتطييب مغناها، والحث على سكناها، وتنزل البركات بمدها وصاعها؛ فهي بهذا السر الشريف مسرورة، وبهذه المنح العظيمة محبورة، تسحب ذيل الفخار، على سائر الأقطار.

 

‌‌المحبه

الرابع والستون: «المحبة» بضم الميم وبالحاء المهملة وتشديد الموحدة- نقل عن الكتب المتقدمة.

‌‌المحبّبة

الخامس والستون: «المحببة» بزيادة موحدة على ما قبله.

 

‌‌المحبوبة

السادس والستون: «المحبوبة» نقل عن الكتب المتقدمة أيضا، وهذه ثلاثة مع ما تقدم من اسمها الحبيبة من مادة واحدة، سميت بذلك لما تقدم من حبه صلى الله عليه وسلم لها ودعائه بذلك، وجاء ما يقتضي أنها أحب البقاع إلى الله تعالى، ويؤيده أنه تعالى اختارها لحبيبه صلى الله عليه وسلم حيّا وميتا؛ فهي محبوبة إلى الله تعالى ورسوله وسائر المؤمنين، ولهذا ترتاح النفوس لذكرها، وتهيم القلوب لشهود سرها.
"মদিনায় মক্কায় রাখা বরকতের দ্বিগুণ দান করুন" এবং অন্যান্য অনেক সহীহ হাদিস; আর এই দোয়াগুলোর প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্ট বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

 

‌‌হালাল ও হারামের আবাসস্থল

একষট্টিতম: "হালাল ও হারামের আবাসস্থল"। তাবারানি এটি "মদিনা ইসলামের গম্বুজ" হাদিসে বর্ণনা করেছেন। "তাবাউ" অর্থ হলো থিতু হওয়া এবং স্থির হওয়া। এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে কারণ এটি এই দুই বিধানের (হালাল ও হারামের) থিতু হওয়া ও স্থির হওয়ার স্থান। কিছু পাণ্ডুলিপিতে "মুবাউ" (এক নুকতাওয়ালা 'বা' বর্ণ)-এর পরিবর্তে "মাসওয়া" (তিন নুকতাওয়ালা 'সা' বর্ণ সহযোগে) এসেছে। তবে প্রথমটিই (মুবাউ) আমি হাফেজ আবুল ফাতহ আল-মারগির হস্তলিপিতে দেখেছি।

 

‌‌হালাল ও হারামের বর্ণনাকারী

বাষট্টিতম: "হালাল ও হারামের বর্ণনাকারী"। ইবনুল জাওজি এবং সায়্যিদ আবুল আব্বাস আল-কারাফি এটি পূর্ববর্তী নামের পরিবর্তে "মদিনা ইসলামের গম্বুজ" হাদিসে বর্ণনা করেছেন। এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে কারণ এটি সেই স্থান যেখানে হালাল ও হারামের বর্ণনা শুরু হয়েছিল।

 

‌‌আল-মাজবুরাহ (মর্যাদাপ্রাপ্ত)

তেষট্টিতম: "আল-মাজবুরাহ" (জীম বর্ণযোগে)। এটি "মদিনার দশটি নাম রয়েছে" হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে এবং প্রাচীন কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী ও মনোনীত বান্দা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবিত অবস্থায় সেখানে বসবাসের মাধ্যমে একে মর্যাদাবান করেছেন এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পবিত্র অঙ্গসমূহ সেখানে সমাহিত করে একে ধন্য করেছেন; এর জ্বর স্থানান্তরিত করার পর, এর পরিবেশকে সুবাসিত করার পর, সেখানে বসবাসের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার পর এবং এর 'মুদ' ও 'সা' (পরিমাপ যন্ত্র)-এ বরকত নাজিল করার পর। সুতরাং এই মহান রহস্যের কারণে মদিনা আনন্দিত এবং এই মহান অনুগ্রহের কারণে অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট; এটি অন্যান্য সকল অঞ্চলের ওপর তার গর্বের আঁচল টেনে চলে।

 

‌‌আল-মুহিব্বাহ (অনুরাগিণী)

চৌষট্টিতম: "আল-মুহিব্বাহ" (মীম বর্ণে পেশ, নুকতাহীন 'হা' এবং 'বা' বর্ণে তাশদিদ সহযোগে)। এটি প্রাচীন কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে।

‌‌আল-মুহাব্বাবাহ (প্রিয়তমা)

পঁয়ষট্টিতম: "আল-মুহাব্বাবাহ", পূর্ববর্তী নামের সাথে অতিরিক্ত একটি 'বা' বর্ণ যোগে।

 

‌‌আল-মাহবুবা (পছন্দনীয়)

ছেষট্টিতম: "আল-মাহবুবা"। এটিও প্রাচীন কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত। এই তিনটি নাম এবং পূর্বে উল্লিখিত "আল-হাবিবা" একই মূল ধাতু থেকে এসেছে। এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে ভালোবাসতেন এবং এর জন্য দোয়া করেছেন। এমন বর্ণনাও পাওয়া যায় যা ইঙ্গিত করে যে এটি আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় ভূখণ্ড। এর সমর্থন এতেও পাওয়া যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয়তম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবিত ও মৃত অবস্থায় অবস্থানের জন্য একেই মনোনীত করেছেন। সুতরাং এটি আল্লাহ তাআলা, তাঁর রাসূল এবং সকল মুমিনের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। আর এ কারণেই এর স্মরণে মনে প্রশান্তি জাগে এবং এর রহস্য অবলোকন করতে হৃদয়ে ব্যাকুলতা সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المحبورة

السابع والستون: «المحبورة» من الحبر، وهو السرور، وكذلك الحبر والحبور والحبرة، لما تقدم في الحبورة، أو هو من الحبرة بمعنى النعمة، والحبرة أيضا المبالغة فيما وصف بجميل، والمحبار من الأرض: السريعة النبات الكثيرة الخيرات.

 

‌‌المحرمة

الثامن والستون: «المحرمة» لما سيأتي في تحريمها.

 

‌‌المحفوفة

التاسع والستون: «المحفوفة» لأنها محفوفة بالبركات، وملائكة السموات، محفوظة من المخاوف والأوجال، وعلى أبوابها وأنقابها «1» الملائكة يحرسونها من الطاعون والدجال، وسيأتي حديث «المدينة ومكة محفوفتان بالملائكة، على كل نقب منها ملك، لا يدخلها الدجال ولا الطاعون» .

 

‌‌المحفوظة

السبعون: «المحفوظة» لأن الله تعالى حفظها من الدجال والطاعون وغيرهما، وفي حديث «القرى المحفوظة أربع» وذكر المدينة منها، وفي حديث آخر رويناه في فضائل المدينة للمفضل الجندي «المدينة مشتبكة بالملائكة، على كل نقب منها ملك يحرسها» فلك أن تسميها المحروسة أيضا.

 

‌‌المختارة

الحادي والسبعون: «المختارة» لأن الله تعالى اختارها للمختار من خلقه في حياته ومماته.

 

‌‌مدخل صدق

الثاني والسبعون: «مدخل صدق» قال الله تعالى: وَقُلْ رَبِّ أَدْخِلْنِي مُدْخَلَ صِدْقٍ [الإسراء: 80] ، قال بعض المفسرين: مدخل صدق: المدينة، ومخرج صدق: مكة،

--------------------------------------------

(1) الأنقاب: جمع نقب. الطريق الضيق في الجبل.
আল-মাহবুরাহ

৬৭তম: «আল-মাহবুরাহ» এটি আল-হিবর থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ আনন্দ। অনুরূপভাবে আল-হিবর, আল-হুবুর এবং আল-হিবরাহ শব্দগুলোও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি আল-হুবুরাহ প্রসঙ্গে পূর্বে আলোচিত হয়েছে। অথবা এটি নেয়ামত বা অনুগ্রহ অর্থে আল-হিবরাহ থেকে গৃহীত। আল-হিবরাহ বলতে কোনো সুন্দর গুণের আধিক্যকেও বোঝানো হয়। আর ভূমির ক্ষেত্রে «আল-মিহবার» হলো দ্রুত উদ্ভিদ জন্মানো অধিক কল্যাণময় জমি।

 

আল-মুহাররামাহ

৬৮তম: «আল-মুহাররামাহ» যেহেতু এর পবিত্রতা ও নিষিদ্ধতা সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

 

আল-মাহফুফাহ

৬৯তম: «আল-মাহফুফাহ» কারণ এটি বরকতসমূহ এবং আসমানের ফেরেশতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত। এটি সকল ভয় ও আতঙ্ক থেকে সুরক্ষিত। এর প্রবেশদ্বারসমূহ ও গিরিপথসমূহে «১» ফেরেশতাগণ একে মহামারি ও দাজ্জাল থেকে পাহারা দেন। অচিরেই হাদীস আসবে যে, «মদিনা ও মক্কা ফেরেশতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, এর প্রতিটি গিরিপথে একজন ফেরেশতা রয়েছেন; দাজ্জাল এবং মহামারি সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না»।

 

আল-মাহফুজাহ

৭০তম: «আল-মাহফুজাহ» কারণ আল্লাহ তায়ালা একে দাজ্জাল, মহামারি এবং অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন। হাদীসে এসেছে: «সুরক্ষিত জনপদ চারটি», মদিনা তার অন্যতম। আল-মুফাদদাল আল-জুন্দি বর্ণিত ‘মদিনার মর্যাদা’ শীর্ষক অপর এক হাদীসে আমরা বর্ণনা করেছি যে, «মদিনা ফেরেশতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, এর প্রতিটি গিরিপথে একজন ফেরেশতা একে পাহারা দিচ্ছেন»; সুতরাং আপনি একে «আল-মাহরুসাহ» (পাহারাকৃত) নামেও অভিহিত করতে পারেন।

 

আল-মুখতারাহ

৭১তম: «আল-মুখতারাহ» কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত ব্যক্তির জন্য তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর (থাকার স্থান হিসেবে) একে নির্বাচন করেছেন।

 

মাদখালা সিদক

৭২তম: «মাদখালা সিদক» (সত্যের প্রবেশস্থল)। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “এবং আপনি বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করান সত্যের প্রবেশস্থলে” [আল-ইসরা: ৮০]। জনৈক মুফাসসির বলেন: সত্যের প্রবেশস্থল হলো মদিনা, আর সত্যের প্রস্থানস্থল হলো মক্কা।

--------------------------------------------

(১) আনকাব: নাকব শব্দের বহুবচন। পাহাড়ের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ পথ।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৬)
وسلطانا نصيرا: الأنصار، وروي ذلك عن زيد بن أسلم، ويدل له ما رواه الترمذي وصححه في سبب نزول الآية.

 

‌‌المدينة

الثالث والسبعون: «المدينة» . الرابع والسبعون: «مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم» من مدن بالمكان إذا أقام، أو من دان إذا أطاع، فالميم زائدة؛ لأن السلطان يسكن المدن فتقام له طاعة فيها، أو لأن الله تعالى يطاع فيها، والمدينة: أبيات مجتمعة كثيرة تجاوز حد القرى كثرة وعمارة، ولم تبلغ حد الأمصار، وقيل: يقال لكل مصر. والمدينة وإن أطلق على أماكن كثيرة فهو علم مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم وهجر كونه علما في غيرها، بحيث إذا أطلق لا يتبادر إلى الفهم غيرها؛ ولا يستعمل فيها إلا معرفة، قيل: لأنه صلى الله عليه وسلم سكنها، وله دانت الأمم ولأمته، والنكرة اسم لكل مدينة، وقد نسبوا للكل مديني، وإلى مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم مدني، للفرق، وتسميتها بذلك متكررة في القرآن العظيم، ونقل عن التوراة.

 

‌‌المرحومة

الخامس والسبعون: «المرحومة» نقل عن التوراة، سميت به لأنها دار المبعوث رحمة للعالمين، ومحل تنزيل الرحمة من أرحم الراحمين، وأول بلد رحمت بسيد المرسلين صلى الله عليه وسلم.

 

‌‌المرزوقة

السادس والسبعون: «المرزوقة» لأن الله تعالى رزقها أفضل الخلق فسكنها، أو المرزوق أهلها أرزاقا حسية ومعنوية ومن فوقهم ومن تحت أرجلهم، ولا يخرج أحد منها رغبة عنها إلا أبدلها الله خيرا منه كما جاء في الحديث.

 

‌‌مسجد الأقصى

السابع والسبعون: «مسجد الأقصى» نقله التادلي في منسكه عن صاحب المطالع.

 

‌‌المسكينة

الثامن والسبعون: «المسكينة» نقل عن التوراة، وذكر في حديث «للمدينة عشرة أسماء» وروي عن علي يرفعه «إن الله تعالى قال للمدينة: يا طيبة، يا طابة، يا مسكينة، لا تقبلي الكنوز، أرفع أجاجيرك على أجاجير «1» القرى» عن كعب أنه وجد ذلك في التوراة،

--------------------------------------------

(1) الأجاجير: السطوح التي لا سترة عليها.
সাহায্যকারী শক্তি বলতে আনসারদের বোঝানো হয়েছে; এটি জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম তিরমিযী আয়াতটির অবতরণের কারণ সম্পর্কে যে হাদিস বর্ণনা করে সহীহ বলেছেন, তা এর প্রমাণ দেয়।

 

‌‌আল-মদীনা

তেহাত্তরতম: ‘আল-মদীনা’। চুয়াত্তরতম: ‘মদীনাতুর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’। এটি ‘মাদানা বিল মাকান’ (কোনো স্থানে অবস্থান করা) থেকে উদ্ভূত, অথবা ‘দানা’ (আনুগত্য করা) থেকে এসেছে; সেক্ষেত্রে ‘মীম’ বর্ণটি অতিরিক্ত। কারণ সুলতান বা শাসক শহরে বসবাস করেন এবং সেখানে তাঁর আনুগত্য করা হয়, অথবা এই কারণে যে সেখানে মহান আল্লাহর আনুগত্য করা হয়। মদীনা হলো অনেকগুলো ঘরবাড়ির এমন সমষ্টি যা জনবসতি ও অবকাঠামোর প্রাচুর্যের দিক থেকে গ্রামের সীমা অতিক্রম করেছে, কিন্তু বড় বড় মহানগরের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আবার বলা হয়ে থাকে, প্রতিটি বড় শহরকেই মদীনা বলা হয়। যদিও মদীনা শব্দটি অনেক স্থানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহরের জন্য একটি বিশেষায়িত নাম (আলম) হয়ে গেছে এবং অন্য কোনো শহরের ক্ষেত্রে এর বিশেষায়িত ব্যবহার পরিত্যক্ত হয়েছে, যার ফলে শব্দটি উচ্চারণ করা মাত্রই অন্য কোনো শহরের কথা মনে আসে না। এই শহরের ক্ষেত্রে এটি কেবল নির্দিষ্ট (মারিফা) রূপেই ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, যেহেতু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে বসবাস করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের কাছে সকল জাতি আনুগত্য স্বীকার করেছে, তাই একে এই নামে ডাকা হয়। সাধারণ বিশেষ্য হিসেবে এটি প্রতিটি শহরের নাম। পার্থক্য করার জন্য প্রতিটি শহরের অধিবাসীদের ‘মাদিনী’ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শহরের অধিবাসীদের ‘মাদানী’ বলা হয়। পবিত্র কুরআনে এই নামে এর বারবার উল্লেখ এসেছে এবং তাওরাত থেকেও এটি উদ্ধৃত হয়েছে।

 

‌‌আল-মারহুমাহ (রহমতপ্রাপ্ত)

পঁচাত্তরতম: ‘আল-মারহুমাহ’। এটি তাওরাত থেকে উদ্ধৃত। একে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো এটি ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে প্রেরিত রাসূলের আবাসস্থল, পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত নাযিলের স্থান এবং এটিই প্রথম জনপদ যা সাইয়্যেদুল মুরসালীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে রহমতপ্রাপ্ত হয়েছে।

 

‌‌আল-মারযুক্বাহ (রিযিকপ্রাপ্ত)

ছিয়াত্তরতম: ‘আল-মারযুক্বাহ’। কারণ মহান আল্লাহ একে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার রিযিক হিসেবে দান করেছেন এবং তিনি এখানে বসবাস করেছেন। অথবা এর অর্থ হলো এর অধিবাসীরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আত্মিক রিযিক দ্বারা ধন্য এবং তাঁদের উপর থেকে ও তাঁদের পায়ের নিচ থেকে (রিযিক আসে)। আর হাদিসে যেমনটি এসেছে, যে ব্যক্তিই একে অপছন্দ করে মদীনা থেকে বেরিয়ে যায়, আল্লাহ তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম কাউকে সেখানে দান করেন।

 

‌‌মাসজিদুল আক্বসা

সাতাত্তরতম: ‘মাসজিদুল আক্বসা’। আত-তাদালী তাঁর ‘মানাসিক’ গ্রন্থে ‘সাহিবুল মাতালি’ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

 

‌‌আল-মিসকীনাহ

আটাত্তরতম: ‘আল-মিসকীনাহ’। এটি তাওরাত থেকে উদ্ধৃত। ‘মদীনার দশটি নাম আছে’ শীর্ষক হাদিসেও এটি উল্লিখিত হয়েছে। হযরত আলী (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ মদীনাকে বলেছেন: হে তাইয়্যেবাহ, হে ত্বাবাহ, হে মিসকীনাহ! তুমি ধন-সম্পদ গ্রহণ করো না; আমি তোমার ছাদগুলোকে অন্যান্য জনপদের ছাদগুলোর ওপর উঁচু করব।” কাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাওরাতে এটি পেয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আজাজীর: এমন ছাদ যার কোনো প্রাচীর বা বেষ্টনী নেই।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৭)
والأجاجير: السطوح، وأصل المسكنة الخضوع، فسميت بذلك إما لأن الله تعالى خلق فيها الخضوع والخشوع له، وإما لأنها مسكن المساكين، سكنها كل خاضع وخاشع، وفي الحديث «اللهم أحيني مسكينا، وأمتني مسكنيا، واحشرني في زمرة المساكين» .

 

‌‌المسلمة

التاسع والسبعون: «المسلمة» كالمؤمنة، وقد قدمناه، والإسلام يطلق على الانقياد والانقطاع إلى الله تعالى، فسميت بذلك إما لأن الله تعالى خلق فيها الانقياد والانقطاع إليه، وإما لانقياد أهلها بالطاعة والاستسلام، وفتح بلدهم بالقرآن، لا بالسيف والسهام، وانقطاعهم إلى الله ورسوله، وتبتلهم لنصره وتحصيل سوله «1» .

 

‌‌مضجع الرسول

الثمانون: «مضجع رسول الله صلى الله عليه وسلم» لما سيأتي في حفظ أهلها وإكرامهم من قوله صلى الله عليه وسلم «المدينة مهاجري ومضجعي في الأرض» .

 

‌‌المطيبة

الحادي والثمانون: «المطيّبة» بضم أوله وفتح ثانيه- تقدم مع أخواته في الطيبة.

 

‌‌المقدسة

الثاني والثمانون: «المقدسة» لتنزّهها ولطهارتها من الشرك والخبائث، ولأنها يتبرك بها ويتطهر عن أرجاس الذنوب والآثام.

 

‌‌المقر

الثالث والثمانون: «المقرّ» بالقاف: من القرار كما رأيته في بعض كتب اللغة وسيأتي في دعائه صلى الله عليه وسلم لها قوله: «اللهم اجعل لنا بها قرارا ورزقا حسنا» .

 

‌‌المكتان

الرابع والثمانون: «المكّتان» قال سعد بن أبي سرح في حصار عثمان:

أرى الأمر لا يزداد إلّا تفاقما … وأنصارنا بالمكّتين قليل

وقال نصر بن حجاج فيما كتب به إلى عمر رضي الله عنه بعد نفيه إياه من المدينة لما سمع امرأة تترنم به في شعرها لجماله:

حقّقت بي الظّنّ الذي ليس بعده … مقام؛ فما لي بالنّديّ كلام

--------------------------------------------

(1) سوله: سؤاله. وفي التنزيل الكريم: قالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يا مُوسى [سورة طه: الآية 36] .
আর আজাজীর অর্থ হলো ছাদসমূহ। মাসকানাহ-এর মূল অর্থ হলো বিনয় ও আনুগত্য। এই শহরের নাম এমন রাখার কারণ হলো, হয় আল্লাহ তাআলা এতে তাঁর প্রতি আনুগত্য ও বিনম্রতা সৃষ্টি করেছেন, অথবা এটি মিসকিনদের আবাসস্থল হওয়ার কারণে, যেখানে প্রত্যেক বিনয়ী ও অনুগত ব্যক্তি বসবাস করেন। হাদীসে এসেছে: "হে আল্লাহ! আমাকে মিসকিন হিসেবে জীবিত রাখুন, মিসকিন হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে মিসকিনদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করুন।"

 

‌‌আল-মুসলিমা

উনআশি: 'আল-মুসলিমা' শব্দটি 'আল-মু’মিনা'র মতো, যা আমরা আগে আলোচনা করেছি। ইসলাম শব্দটি আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠ হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ আল্লাহ তাআলা এতে তাঁর প্রতি আনুগত্য ও একনিষ্ঠতা সৃষ্টি করেছেন, অথবা এর অধিবাসীদের আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের কারণে। তাদের শহর তলোয়ার বা তীরের মাধ্যমে নয়, বরং কুরআনের মাধ্যমে বিজিত হয়েছে এবং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি একনিষ্ঠ হয়েছে এবং তাঁর সাহায্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে।

 

‌‌রাসূলের শয্যাস্থল

আশি: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শয্যাস্থল'। এর কারণ মদীনার অধিবাসীদের সুরক্ষা ও সম্মান সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে যা বর্ণিত হয়েছে: "মদীনা হলো আমার হিজরতস্থল এবং জমিনে আমার শয্যাস্থল।"

 

‌‌আল-মুত্বায়্যিবা

একাশি: 'আল-মুত্বায়্যিবা' (প্রথম অক্ষরে পেশ ও দ্বিতীয় অক্ষরে যবর যোগে)। এর সমজাতীয় নামগুলোর সাথে 'ত্বায়্যিবা' পরিচ্ছেদে এটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

‌‌আল-মুকাদ্দাসা

বিরাশি: 'আল-মুকাদ্দাসা' (পবিত্র)। শিরক ও পঙ্কিলতা থেকে এর পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার কারণে এবং যেহেতু এর মাধ্যমে বরকত লাভ করা যায় এবং এটি গুনাহ ও পাপাচারের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করে, তাই একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।

 

‌‌আল-মাকার

তিরাশি: 'আল-মাকার' (ক্বাফ অক্ষর যোগে): এটি 'কারার' (স্থায়িত্ব) শব্দ থেকে আগত, যেমনটি আমি কিছু অভিধান গ্রন্থে দেখেছি। শীঘ্রই মদীনার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ায় এই শব্দটি আসবে: "হে আল্লাহ! আমাদের জন্য এখানে স্থায়িত্ব এবং উত্তম রিযিক দান করুন।"

 

‌‌আল-মাক্কাতান

চুরাশি: 'আল-মাক্কাতান' (উভয় মক্কা)। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর অবরোধের সময় সাদ ইবনে আবি সারহ বলেছিলেন:

আমি দেখছি বিষয়টি কেবল জটিলই হচ্ছে … আর দুই মক্কায় আমাদের সাহায্যকারীরা সংখ্যায় অতি অল্প।

এবং নাসর ইবনে হাজ্জাজকে তার সৌন্দর্যের কারণে এক মহিলার কবিতায় তার নাম শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মদীনা থেকে নির্বাসিত করার পর তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট চিঠিতে লিখেছিলেন:

আপনি আমার সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করেছেন যার পরে আর কোনো … অবস্থান নেই; তাই মজলিসে আমার আর কোনো কথা বলার নেই।

--------------------------------------------

(১) সুলাহু অর্থ: তার প্রার্থনা। পবিত্র কুরআনে এসেছে: "তিনি বললেন, হে মূসা! তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর করা হলো।" [সূরা ত্বহা: আয়াত ৩৬]।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৮)
فأصبحت منفيّا على غير ريبة … وقد كان لي بالمكّتين مقام

والظاهر: أن المراد المدينة؛ لأن قصة عثمان ونصر بن حجاج كانتا بها، وأطلق ذلك لانتقال أهل مكة أو غالبهم إليها وانضمامهم إلى أهلها، وقد ذكر البرهان القيراطي المكتين في أسماء مكة، قال التقي الفاسي: ولعله أخذه من قول ورقة بن نوفل:

ببطن المكتين على رجائي

قال السهيلي: ثنّى مكة- وهي واحدة- لأن لها بطاحا وظواهر «1» ، وإنما مقصد العرب في هذه الإشارة إلى جانبي كل بلدة، أو أعلى البلد وأسفلها، فيجعلونها اثنين على هذا المعنى، انتهى. ويحتمل أن تكون التثنية فيما استشهدنا به من قبيل التغليب وأن المراد مكة والمدينة، فيسقط الاستشهاد به.

 

‌‌المكينة

الخامس والثمانون: «المكينة» لتمكنها في المكانة والمنزلة عند الله تعالى.

 

‌‌مهاجر الرسول

السادس والثمانون: «مهاجر رسول الله صلى الله عليه وسلم» ؛ لقوله: «المدينة مهاجري» .

 

‌‌الموفية

السابع والثمانون: «الموفّية» بتشديد الفاء- من التوفية، ويجوز تخفيفها، إذ التوفية والإيفاء بمعنى؛ سميت به لتوفيتها حق الواردين، وإحسانها نزل الوافدين حسّا ومعنى، أو لأن سكانها من الصحابة الموفون بما عاهدوا الله عليه.

 

‌‌الناجية

الثامن والثمانون: «الناجية» بالجيم من نجا إذا خلص أو أسرع، أو من نجاه وناجاه سارّه، أو من النّجوة للأرض العالية، سميت بذلك لنجاتها من العتاة والطاعون والدجال، ولإسراعها في الخيرات، وسبقها إلى حيازة السبق بأشرف المخلوقات، ولارتفاع شأنها بين الورى، ورفع أجاجيرها على أجاجير القرى.

 

‌‌نبلاء

التاسع والثمانون: «نبلاء» نقل من كراع، وأظنه بفتح النون وسكون الموحدة ممدودا، من النبل- بالضم والسكون- وهو الفضل والنجابة، ويقال: امرأة نبيلة في الحسن، بينة النبالة، وأنبل النخل: أرطب، والنّبلة- بالضم- الثواب والجزاء والعطية.

--------------------------------------------

(1) البطاح: الباطن. الظواهر: الظاهر.
ফলে আমি কোনো সন্দেহ ছাড়াই নির্বাসিত হলাম … অথচ দুই মক্কায় আমার আবাস ছিল।

আর প্রকাশ্যত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মদিনা; কারণ উসমান এবং নাসর বিন হাজ্জাজের ঘটনা সেখানেই ঘটেছিল। মক্কার অধিবাসী বা তাদের অধিকাংশ সেখানে স্থানান্তরিত হওয়া এবং মদিনাবাসীদের সাথে তাদের যুক্ত হওয়ার কারণে এই নাম প্রয়োগ করা হয়েছে। বুরহান আল-কিরাতি 'আল-মাক্কাতাইন' (দুই মক্কা) নামটিকে মক্কার নামসমূহের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। তাকি আল-ফাসি বলেন: সম্ভবত তিনি এটি ওরাকা বিন নাওফালের কথা থেকে গ্রহণ করেছেন:

আমার প্রত্যাশায় দুই মক্কার অভ্যন্তরে।

সুহাইলি বলেন: তিনি মক্কাকে দ্বিবচন করেছেন—যদিও তা একটিই—কারণ এর নিচু ভূমি (বিতাহ) এবং উঁচু ভূমি (জাওয়াহির) রয়েছে। আরবদের উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে শহরের দুই পাশ, অথবা শহরের উচ্চভাগ ও নিম্নভাগ নির্দেশ করা; এই অর্থের ভিত্তিতেই তারা এটিকে দ্বিবচন করে থাকে। (উদ্ধৃতি শেষ)। আর সম্ভাবনা রয়েছে যে, আমরা যেটির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছি তাতে দ্বিবচন হওয়াটি 'তাগলিব' (একটি নাম দিয়ে দুটিকে বোঝানো) এর অন্তর্ভুক্ত, যার দ্বারা মক্কা ও মদিনা উদ্দেশ্য; সেক্ষেত্রে এর দ্বারা দলিল পেশ করা বাতিল হয়ে যাবে।

 

‌‌আল-মাকিনাহ

পঁচাশিতম: 'আল-মাকিনাহ' (সুদৃঢ় বা মর্যাদাপূর্ণ); কারণ মহান আল্লাহর নিকট এর সুদৃঢ় অবস্থান ও মর্যাদা রয়েছে।

 

‌‌মুহাজিরুর রাসুল

ছিয়াশিতম: 'মুহাজিরু রাসুলিল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'; তাঁর বাণীর কারণে: 'মদিনা আমার হিজরতস্থল'।

 

‌‌আল-মুফিয়্যাহ

সাতাশিতম: 'আল-মুফিয়্যাহ' (ফা বর্ণে তাশদিদসহ)—এটি 'তাওফিয়াহ' থেকে উদ্ভূত। এটি তাশদিদ ছাড়াও পড়া বৈধ, যেহেতু 'তাওفিয়াহ' ও 'ইফা' একই অর্থ বহন করে। এর দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি আগমনকারীদের অধিকার পূর্ণ করে এবং বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিক থেকেই মেহমানদের যথাযথ আপ্যায়ন করে। অথবা এজন্য যে, এর অধিবাসী সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছিলেন।

 

‌‌আন-নাজিয়াহ

আটাশিতম: 'আন-নাজিয়াহ' (জিম বর্ণের সাথে)—এটি 'নাজা' শব্দ থেকে এসেছে যখন কেউ মুক্তি পায় বা দ্রুত চলে; অথবা 'নাজাহু' এবং 'নাজাহু' (গোপন কথা বলা) থেকে; অথবা উঁচু ভূমির অর্থে 'নাজওয়াহ' থেকে। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অবাধ্য জাতিসমূহ, মহামারি এবং দাজ্জাল থেকে নিরাপদ (নাজাতপ্রাপ্ত); এবং কল্যাণের কাজে এর দ্রুততা, সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় অগ্রগামী হওয়া, সৃষ্টিজগতের মাঝে এর উচ্চ মর্যাদা এবং অন্যান্য জনপদের তুলনায় এর গৃহের ছাদসমূহের উচ্চতার কারণে।

 

‌‌নুবলা

উননব্বইতম: 'নুবলা'—এটি কুরা' থেকে উদ্ধৃত। আমার ধারণা এটি নুন বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং বা বর্ণে সুকুনসহ দীর্ঘায়িত (মাদ) আকারে; এটি 'নুবল' (পেশ ও সুকুনসহ) থেকে এসেছে, যার অর্থ শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য। বলা হয়: 'সুন্দরী নারী' (নাবিলাতুন ফিল হুসনি), যার আভিজাত্য স্পষ্ট। আর 'আনবালা আন-নাখলু' অর্থ হলো খেজুর পেকেছে। এবং 'নুবলাহ' (পেশসহ) অর্থ হলো সওয়াব, প্রতিদান ও উপহার।

--------------------------------------------

(১) বিত্বাহ: অভ্যন্তরীণ বা নিচু ভূমি। জাওয়াহির: বাহ্যিক বা উঁচু ভূমি।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌النحر

التسعون: «النحر» بفتح النون وسكون الحاء المهملة- سميت به إما لشدة حرها، كما يقال: نحر الظهيرة، ولذا شاركتها مكة فيه، وإما لإطلاق النحر على الأصل، وهما أساس بلاد الإسلام وأصلها.

 

‌‌الهذراء

الحادي والتسعون: «الهذراء» ذكره ابن النجار بدل العذراء نقلا عن التوراة، وتبعه جماعة كالمطري؛ فلذلك أثبتناه، وإن كان الصواب إسقاطه كما بيناه في الأصل، وقد رويناه في كلام من أثبته بالذال المعجمة، فالتسمية به لشدة حرها، يقال: يوم هاذر شديد الحر، أو لكثرة مياهها وسوانيها المصوّتة عند سوقها، يقال: هذر في كلامه، إذا أكثره، والهذر- محركا- الكثير الرديء، ويحتمل أن يكون بالمهملة من «هدر الحمام» إذا صوّت، والماء انصب وانهمر، والعشب طال، وأرض هادرة: كثيرة النبات.

 

‌‌يثرب

الثاني والتسعون: «يثرب» لغة في أثرب، وقد تقدم الكلام عليه فيه، وليست المذكورة في قول الشاعر:

وعدت وكان الخلف منك سجيّة … مواعيد عرقوب أخاه بيترب «1»

لأن المجد قال: أجمعوا فيه على تثنية التاء وفتح الراء، وقال: هي مدينة بحضرموت، قيل: كان بها عرقوب صاحب المواعيد، مع أن المجد صحّح أنه من قدماء يهود مدينة النبي صلى الله عليه وسلم وفي مشارق عياض قيل: إن يثرب المذكورة في البيت مثل يثرب المدينة النبوية، وقيل: قرية باليمامة، وقيل: إنما هي يترب بمثناة فوقية وراء مفتوحة اسم تلك القرية، وقيل: اسم قرية من بلاد بني سعد من تميم، كما اختلف في عرقوب هذا؛ فقيل: رجل من الأوس من أهل المدينة، وقيل: من العماليق أهل اليمامة، وقيل: من بني سعد المذكورين اه. وأما قول هند بنت عتبة:

لنهبطنّ يثربه … بغارة منشعبه

فالظاهر أن الهاء فيه للسكت، فلس اسما آخر.

 

‌‌يندد

الثالث والتسعون: «يندد» ذكره كراع هكذا بالمثناة التحتية ودالين، وهو إما من النّدّ

--------------------------------------------

(1) السجيّة: الخلق والطبيعة. (ج) سجايا.
আন-নাহর

নব্বইতম: ‘আন-নাহর’ নুন-এর ফাতহা (যবর) এবং নুকতাহীন হা-এর সুকুন (জজম) সহকারে—এর নামকরণ করা হয়েছে হয় এর তীব্র উত্তাপের কারণে, যেমনটি বলা হয়ে থাকে: ‘নাহরুয জুহিরা’ (মধ্যাহ্নের প্রচণ্ড উত্তাপ), আর এই কারণেই মক্কাও এই নামে অংশীদার। অথবা ‘নাহর’ শব্দটি মূল বা উৎসের অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে; আর এই উভয় শহর (মক্কা ও মদিনা) হলো ইসলামের দেশসমূহের ভিত্তি ও উৎস।

 

আল-হাযরা

একানব্বইতম: ‘আল-হাযরা’ (ذ সহযোগে); ইবনে নাজ্জার একে ‘আল-আযরা’-এর পরিবর্তে তাওরাত থেকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেছেন এবং একদল আলেম যেমন আল-মাতারি তাঁর অনুসরণ করেছেন; তাই আমরা এটি লিপিবদ্ধ করেছি, যদিও সঠিক হলো একে বাদ দেওয়া যেমনটি আমরা মূলে বর্ণনা করেছি। আর যারা একে নুকতাহযুক্ত ‘যাল’ (ذ) দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তাদের নিকট এর নামকরণের কারণ হলো এর প্রচণ্ড উত্তাপ; বলা হয়: ‘ইয়াওমুন হাযির’ অর্থাৎ প্রচণ্ড উত্তপ্ত দিন। অথবা এর পানির প্রাচুর্য এবং পানি উত্তোলনের সময় চাকাগুলোর শব্দের কারণে; বলা হয়: ‘হাযারা ফী কালামিহি’ যখন কেউ অনেক কথা বলে। আর ‘হাযার’ (হরকত সহকারে) অর্থ অধিক ও মন্দ কথা। আর সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি নুকতাহীন ‘হা’ (ح) সহযোগে ‘হাদারাল হামাম’ (কবুতরের ডাক) থেকে এসেছে যখন সে শব্দ করে, অথবা পানির সশব্দ প্রবাহ ও ঝরা, কিংবা ঘাস লম্বা হওয়া; আর ‘আরদুন হাদিরাহ’ মানে প্রচুর উদ্ভিদপূর্ণ ভূমি।

 

ইয়াসরিব

বিরানব্বইতম: ‘ইয়াসরিব’ এটি ‘আসরিব’-এর একটি ভাষান্তর, যা নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে। আর এটি কবির এই উক্তিতে বর্ণিত স্থানটি নয়:

তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করাই ছিল তোমার স্বভাব... যেমন ইয়াতরাবে আরকুব তার ভাইয়ের সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল। (১)

কেননা আল-মাজদ বলেছেন: ভাষাবিদগণ এই শব্দটিতে ‘তা’ (ت) এর উপর যবর এবং ‘রা’ (ر) এর উপর যবরের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি বলেন: এটি হাজরামাউতের একটি শহর; বলা হয় যে, প্রবাদপ্রতিম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী আরকুব সেখানে ছিল। যদিও আল-মাজদ এটিই সঠিক বলেছেন যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহরের প্রাচীন ইহুদিদের একজন ছিল। আর ‘মাশারিকু ইয়ায’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, কবিতায় উল্লেখিত ইয়াসরিব হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর মদিনার মতো। আবার কেউ বলেছেন এটি ইয়ামামার একটি গ্রাম। কেউ বলেছেন এটি মূলত ‘ইয়াতরাব’ (ত এবং র-এর উপর যবর সহ)—এটি ওই গ্রামের নাম। আবার কেউ বলেছেন এটি বনী সাদ বিন তামীম-এর জনপদগুলোর একটি গ্রাম। যেমন এই আরকুব সম্পর্কেও মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন সে মদিনার আউস গোত্রের এক ব্যক্তি ছিল, কেউ বলেছেন ইয়ামামার আমালিক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল, আবার কেউ বলেছেন সে উল্লেখিত বনী সাদ গোত্রের ছিল। আর হিন্দ বিনতে উতবার উক্তি:

আমরা অবশ্যই ইয়াসরিবে অবতরণ করব... একটি ছড়িয়ে পড়া অতর্কিত আক্রমণের সাথে।

এখানে বাহ্যত ‘হা’ (ه) অক্ষরটি সাকিন করার জন্য (সাখত) এসেছে, এটি স্বতন্ত্র কোনো নাম নয়।

 

ইয়ানদাদ

তিরানব্বইতম: ‘ইয়ানদাদ’; কুরা’ একে এভাবে ‘ইয়া’ এবং দুটি ‘দাল’ সহকারে উল্লেখ করেছেন। এটি হয় ‘নিদ’ শব্দ থেকে...

--------------------------------------------

(১) আস-সাজিয়্যাহ: চরিত্র ও প্রকৃতি। (বহুবচন) সাজায়া।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وهو الطيب المعروف، وقيل: العنبر، أو من النّد للتل المرتفع، أو من الناد وهو الرزق.

 

‌‌يندر

الرابع والتسعون: «يندر» بإبدال الدال الأخيرة من الاسم قبله راء، ذكره المجد عند سرد الأسماء، ولم يتكلم عليه بعد، لما سنذكره، وإنباته لوقوعه كذلك في حديث «للمدينة عشرة أسماء» في بعض الكتب، وفي بعضها بمثناة فوقية ودالين، وفي بعضها كذلك مع إبدال الدال الأخيرة راء؛ فتحرر من مجموع ذلك أربعة أسماء: اثنان بالمثناة التحتية، واثنان بالفوقية، وذلك المستند في تقديمها في محلها، وقال المجد: إن ذلك كله تصحيف، وإن الصواب يندد بالمثناة التحتية ودالين، وفيه نظر؛ لأن الزركشي عند ذكر أسماء المدينة جمع بين اثنين من هذه الأربعة وقال: ذكرهما البكري؛ فيحتمل ثبوت الأخيرين، وحديث «للمدينة عشرة أسماء» رواه ابن شبة من طريق عبد العزيز بن عمران، وسردها فيه ثمانية فقط، ثم روى من طريقه أيضا عن عبد الله بن جعفر بن أبي طالب سمى الله المدينة الدار والإيمان، قال: وجاء في الحديث الأول ثمانية أسماء، وجاء في هذا اسمان، فالله أعلم أهما تمام العشرة أم لا اه. ورواه ابن زبالة كذلك إلا أنه سرد تسعة فزاد اسم الدار، وأسقط العاشر، ونقل ابن زبالة أن عبد العزيز بن محمد الدراوردي قال: بلغني أن للمدينة في التوراة أربعين اسما، والله أعلم.
আর এটি প্রসিদ্ধ সুগন্ধি; এবং বলা হয়েছে: এটি আম্বর, অথবা এটি উঁচু টিলার অর্থে 'নাদ' থেকে এসেছে, অথবা এটি রিযিক বা জীবিকার অর্থে 'নাদ' থেকে এসেছে।

 

‌‌ইয়ান্দার

চুরানব্বইতম: «ইয়ান্দার»—এর পূর্ববর্তী নামের শেষ 'দাল' বর্ণটিকে 'রা' দ্বারা পরিবর্তনের মাধ্যমে; মাজদ নামসমূহ উল্লেখ করার সময় এটি উল্লেখ করেছেন, তবে এর সম্পর্কে পরে কোনো আলোচনা করেননি সেই কারণে যা আমরা উল্লেখ করব। আর এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে কারণ কিছু কিতাবে "মদীনার দশটি নাম রয়েছে" শীর্ষক হাদিসে এটি এভাবেই এসেছে। কোনো কোনো কিতাবে এটি 'তা' এবং দুটি 'দাল' যোগে এসেছে, আবার কোনো কোনোটিতে অনুরূপভাবে শেষ 'দাল'টিকে 'রা' দ্বারা পরিবর্তন করে এসেছে। সুতরাং এই সমষ্টি থেকে চারটি নাম স্পষ্ট হয়: দুটি 'ইয়া' দিয়ে এবং দুটি 'তা' দিয়ে; আর এটিই তাদের স্ব স্ব স্থানে উপস্থাপনের ভিত্তি। মাজদ বলেন: এই সবগুলিই হলো শব্দপ্রমাদ, সঠিক শব্দটি হলো 'ইয়ান্দাদ' যা 'ইয়া' এবং দুটি 'দাল' যোগে গঠিত। তবে এতে আপত্তি আছে; কারণ যারকাশী মদীনার নামসমূহ উল্লেখ করার সময় এই চারটির মধ্যে দুটিকে একত্রে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আল-বাকরী এই দুটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং শেষোক্ত দুটি সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর "মদীনার দশটি নাম রয়েছে" হাদিসটি ইবনে শাব্বাহ আব্দুল আজিজ বিন ইমরানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি মাত্র আটটি নাম উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি তার সূত্রেই আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা মদীনার নাম রেখেছেন 'আদ-দার' এবং 'আল-ঈমান'। তিনি বলেন: প্রথম হাদিসে আটটি নাম এসেছে এবং এতে এসেছে দুটি নাম; আল্লাহই ভালো জানেন এই দুটি মিলেই দশটি পূর্ণ হয় কি না। ইবনে যুবালাও একইভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি নয়টি নাম উল্লেখ করেছেন যেখানে 'আদ-দার' নামটি বৃদ্ধি করেছেন এবং দশমটি বাদ দিয়েছেন। ইবনে যুবালা আরও উদ্ধৃত করেছেন যে, আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দী বলেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তাওরাত কিতাবে মদীনার চল্লিশটি নাম রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الباب الثاني

في فضائلها، وبدء شأنها وما يؤول إليه أمرها، وظهور النار المنذر بها من أرضها، وانطفائها عند الوصول إلى حرمها، وفيه ستة عشر فصلا.

 

‌‌الفصل الأول في تفضيلها على غيرها من البلاد

 

‌‌مكة أفضل أم المدينة

قد انعقد الإجماع على تفضيل ما ضم الأعضاء الشريفة، حتى على الكعبة المنيفة، وأجمعوا بعد على تفضيل مكة والمدينة على سائر البلاد، واختلفوا أيهما أفضل؛ فذهب عمر بن الخطاب وابنه عبد الله ومالك بن أنس وأكثر المدنيين إلى تفضيل المدينة، وأحسن بعضهم فقال: محل الخلاف في غير الكعبة الشريفة، فهي أفضل من المدينة ما عدا ما ضم الأعضاء الشريفة إجماعا، وحكاية الإجماع على تفضيل ما ضم الأعضاء الشريفة نقله القاضي عياض، وكذا القاضي أبو الوليد الباجي قبله كما قال الخطيب ابن جملة، وكذا نقله أبو اليمن ابن عساكر وغيرهم، مع التصريح بالتفضيل على الكعبة الشريفة، بل نقل التاج السبكي عن ابن عقيل الحنبلي أن تلك البقعة أفضل من العرش.

وقال التاج الفاكهي: قالوا: لا خلاف أن البقعة التي ضمت الأعضاء الشريفة أفضل بقاع الأرض على الإطلاق حتى موضع الكعبة، ثم قال: وأقول أنا: أفضل بقاع السموات أيضا، ولم أر من تعرض لذلك، والذي أعتقده أن ذلك لو عرض على علماء الأمة لم يختلفوا فيه، وقد جاء أن السموات تشرفت بمواطئ قدميه صلى الله عليه وسلم بل لو قال قائل: إن جميع بقاع الأرض أفضل من جميع بقاع السماء شرفها لكون النبي صلى الله عليه وسلم حالّا فيها لم يبعد، بل هو عندي الظاهر المتعين.

 

‌‌الأرض أفضل أم السماء؟

قلت: وقد صرح بما بحثه من تفضيل الأرض على السماء ابن العماد نقلا عن الشيخ تاج الدين إمام الفاضلية.

قال: وقالوا: إن الأكثرين عليه؛ لأن الأنبياء خلقوا من الأرض وعبدوا الله فيها، ودفنوا بها اه.
দ্বিতীয় অধ্যায়

এর ফযীলতসমূহ, এর মর্যাদার সূচনা, এর পরিণাম, এর ভূমি থেকে নির্গত সতর্ককারী আগুনের প্রকাশ এবং হারামের সীমানায় পৌঁছে তা নির্বাপিত হওয়া প্রসঙ্গে; এতে ষোলোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

 

‌প্রথম পরিচ্ছেদ: অন্যান্য শহরের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে

 

‌মক্কা শ্রেষ্ঠ নাকি মদিনা?

রাসুলুল্লাহর পবিত্র অঙ্গসমূহ ধারণকারী স্থানটি সুউচ্চ কাবার চেয়েও শ্রেষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর তাঁরা মক্কা ও মদিনাকে অন্যান্য সকল শহরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন; তবে এই দুইটির মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ তা নিয়ে মতভেদ করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ, মালিক ইবনে আনাস এবং মদিনার অধিকাংশ আলিম মদিনাকে শ্রেষ্ঠত্বের দেওয়ার দিকে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি আরও সুন্দরভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন যে, মতভেদের বিষয়টি পবিত্র কাবা ব্যতীত অন্য স্থান নিয়ে; কেননা রাসুলুল্লাহর পবিত্র অঙ্গসমূহ ধারণকারী স্থানটি ছাড়া কাবা মদিনার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে। পবিত্র অঙ্গসমূহ ধারণকারী স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে ইজমার বর্ণনা কাজী ইয়াজ নকল করেছেন। একইভাবে তাঁর পূর্বে কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-বাজিও এটি নকল করেছেন যেমনটি খতিব ইবনে জুমলা বলেছেন। তদ্রূপ আবু ইয়েমেন ইবনে আসাকির এবং অন্যরাও সুউচ্চ কাবার ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে এটি বর্ণনা করেছেন। এমনকি তাজ আল-সুবকি, ইবনে আকিল আল-হাম্বলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সেই ভূখণ্ডটি আরশের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

তাজ আল-ফাকিহি বলেন: আলেমগণ বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহর পবিত্র অঙ্গসমূহ ধারণকারী ভূখণ্ডটি নিঃসন্দেহে জমিনের শ্রেষ্ঠতম অংশ, এমনকি কাবার স্থানের চেয়েও। তারপর তিনি বলেন: আমি বলি, এটি আসমানসমূহেরও শ্রেষ্ঠতম অংশ। আমি কাউকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে দেখিনি। আমার বিশ্বাস হলো, যদি এটি উম্মতের আলেমদের সামনে পেশ করা হতো, তবে তাঁরা এ নিয়ে দ্বিমত করতেন না। বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আল্লাহর রাসূলের পা রাখার দ্বারা আসমানসমূহ ধন্য হয়েছে। এমনকি কেউ যদি বলে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে অবস্থান করার কারণে জমিনের সমস্ত অংশ আসমানের সমস্ত অংশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ, তবে তা অসম্ভব নয়; বরং আমার কাছে এটিই প্রকাশ্য ও সুনিশ্চিত।

 

‌জমিন শ্রেষ্ঠ নাকি আসমান?

আমি বলি: আসমানের ওপর জমিনের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তিনি যে আলোচনা করেছেন, ইবনে আল-ইমাদ শায়খ তাজউদ্দীন ইমাম আল-ফাজিলিয়ার বরাতে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন: আলেমগণ বলেছেন যে, অধিকাংশ আলিম এই মতের ওপর রয়েছেন; কারণ নবীদের মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাঁরা সেখানে আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং সেখানেই তাঁদের দাফন করা হয়েছে। ইতি।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال النووي: المختار الذي عليه الجمهور أن السموات أفضل من الأرض، وقيل:

إن الأرض أشرف؛ لأنها مستقر «1» الأنبياء ومدفنهم، وهو ضعيف.

قلت: وكأن وجه تضعيفه للثاني أن الكلام عن مطلق الأرض، ولا يلزم من تفضيل بعضها لكونها مدفن الأنبياء تفضيل كلها، وضعف ايضا بأن أرواح الأنبياء في السموات والأرواح أفضل من الأجساد، وجوابه ما سنحققه إن شاء الله تعالى من حياة الأنبياء في قبورهم، صلوات الله وسلامه عليهم.

وقال شيخنا المحقق ابن إمام الكاملية في تفسير سورة الصف: والحق أن مواضع الأنبياء وأرواحهم أشرف من كل ما سواها من الأرض والسماء، ومحل الخلاف في غير ذلك كما كان يقرره شيخ الإسلام البلقيني.

قال الزركشي: وتفضيل ما ضم الأعضاء الشريفة للمجاورة، ولهذا يحرم للمحدث مس جلد المصحف.

 

‌‌عود لتفضيل مكة أو المدينة

قال القرافي: ولما خفي هذا المعنى على بعض الفضلاء أنكر حكاية الإجماع على تفضيل ما ضم الأعضاء الشريفة، وقال: التفضيل إنما هو بكثرة الثواب على الأعمال، والعمل على قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم محرم، قال: ولم يعلم أن أسباب التفضيل أعم من الثواب، والإجماع منعقد على التفضيل بهذا الوجه لا بكثرة الثواب، ويلزمه ألايكون جلد المصحف- بل ولا المصحف نفسه- أفضل من غيره لتعذر العمل فيه، وهو خرق للإجماع.

قلت: وما ذكره من التفضيل بالمجاورة مسلّم، لكن ما اقتضاه من عدم التفضيل لكثرة الثواب في ذلك ممنوع لما سنحققه.

 

‌‌كلام للعز بن عبد السلام

وأصل الإشكال لابن عبد السلام فإنه قال في أماليه: تفضيل مكة على المدينة أو عكسه معناه أن الله يرتب على العمل في إحداهما من الثواب أكثر مما يرتبه على العمل في الآخرى؛ فيشكل قول القاضي عياض: أجمعت الأمة على أن موضع القبر الشريف أفضل؛ إذ لا يمكن أحد أن يعبد الله فيه.

--------------------------------------------

(1) مستقر الأنبياء: موطن دعوتهم في حياتهم، ومدفنهم بها بعد وفاتهم.
ইমাম নববী বলেন: জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট মনোনীত মত হলো আসমানসমূহ জমিন অপেক্ষা উত্তম। কেউ কেউ বলেছেন: জমিন অধিক মর্যাদাপূর্ণ; কেননা তা নবীদের অবস্থানস্থল এবং তাঁদের সমাধিস্থল, তবে এ মতটি দুর্বল।

আমি বলি: দ্বিতীয় মতটি তিনি দুর্বল বলার কারণ সম্ভবত এই যে, এখানে আলোচনা হচ্ছে সাধারণ জমিন নিয়ে। জমিনের কিছু অংশ নবীদের সমাধিস্থল হওয়ার কারণে তা উত্তম হলেও তার অর্থ এই নয় যে পুরো জমিনই উত্তম। একে এ কারণেও দুর্বল বলা হয়েছে যে, নবীদের রূহসমূহ আসমানে রয়েছে আর রূহ দেহের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এর উত্তর হলো সেই বিষয়টি যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে নবীদের কবরে জীবিত থাকার বিষয়ে সাব্যস্ত করব, তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আমাদের শাইখ মুহাক্কিক ইবনে ইমাম আল-কামিলিয়্যাহ সূরা আস-সাফের তাফসীরে বলেছেন: সত্য এই যে, নবীদের (দেহের) স্থানসমূহ এবং তাঁদের রূহসমূহ জমিন ও আসমানের অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। আর মতপার্থক্যের ক্ষেত্রটি হলো এর বাইরে, যেমনটি শাইখুল ইসলাম আল-বুলকিনী স্থির করেছেন।

যারকাশী বলেন: পবিত্র অঙ্গসমূহ ধারণকারী স্থানের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় সান্নিধ্যের কারণে। এই কারণেই অপবিত্র ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরআনের মলাট স্পর্শ করা হারাম।

 

‌‌মক্কা নাকি মদিনা কোনটি অধিক উত্তম সেই আলোচনায় প্রত্যাবর্তন

কারাফী বলেন: যখন কতিপয় বিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট এই বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে গেল, তখন তারা পবিত্র অঙ্গসমূহ ধারণকারী স্থানের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর বর্ণিত ইজমাকে অস্বীকার করলেন। তিনি বললেন: শ্রেষ্ঠত্ব তো নির্ধারিত হয় আমলের সওয়াবের আধিক্যের মাধ্যমে, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের ওপর আমল করা নিষিদ্ধ। তিনি বলেন: তিনি জানতেন না যে শ্রেষ্ঠত্বের কারণসমূহ সওয়াবের চেয়েও ব্যাপক। আর এই দিক থেকেই শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ইজমা হয়েছে, সওয়াবের আধিক্যের কারণে নয়। নতুবা আবশ্যক হয়ে পড়বে যে কুরআনের মলাট—বরং খোদ কুরআন শরীফও—অন্য কিছুর চেয়ে উত্তম হবে না, কারণ তাতে আমল করা অসম্ভব, যা মূলত ইজমা পরিপন্থী।

আমি বলি: সান্নিধ্যের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের যে কথা তিনি উল্লেখ করেছেন তা স্বীকৃত। তবে সওয়াবের আধিক্যের কারণে শ্রেষ্ঠত্ব না থাকার যে বিষয়টি তিনি দাবি করেছেন তা প্রত্যাখ্যাত, যা আমরা সামনে সাব্যস্ত করব।

 

‌‌ইজ্জুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালামের বক্তব্য

এই সংশয়ের মূল সূত্রপাত ইবনে আব্দুস সালামের পক্ষ থেকে। কারণ তিনি তাঁর আমালি গ্রন্থে বলেছেন: মদিনার ওপর মক্কার শ্রেষ্ঠত্ব অথবা তার বিপরীতের অর্থ হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা এ দুটির কোনো একটিতে আমলের ওপর অন্যটির তুলনায় অধিক সওয়াব প্রদান করেন। ফলে কাজী আইয়াজের এই উক্তিটি নিয়ে সংশয় দেখা দেয় যে: উম্মত একমত হয়েছে যে পবিত্র কবরের স্থানটি সর্বোত্তম; কারণ সেখানে কারো পক্ষে আল্লাহর ইবাদত করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) নবীদের অবস্থানস্থল: তাঁদের জীবদ্দশায় তাঁদের দাওয়াতের ক্ষেত্র এবং মৃত্যুর পর তাঁদের সমাধিস্থল।
(খণ্ড: ১) ওয়াফাউল ওয়াফা বিআখবারি দারিল মুস্তফা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌كلام للتقي السبكي

قال التقي السبكي: وقد رأيت جماعة يستشكلون نقل هذا الإجماع، وقال لي قاضي القضاة السروجي الحنفي: طالعت في مذهبنا خمسين تصنيفا فلم أجد فيها تعرضا لذلك، قال السبكي: وقد وقفت على ما ذكره ابن عبد السلام من أن الأزمان والأماكن كلها متساوية، ويفضلان بما يقع فيهما، لا بصفات قائمة بها، ويرجع تفضيلها إلى ما ينيل الله العباد فيهما، وأن التفضيل الذي فيهما أن الله يجود على عباده بتفضيل أجر العاملين فيهما، قال السبكي: وأنا أقول: قد يكون التفضيل لذلك، وقد يكون لأمر آخر فيهما، وإن لم يكن عمل؛ فإن القبر الشريف ينزل عليه من الرحمة والرضوان والملائكة، وله عند الله من المحبة، ولساكنه ما تقصر العقول عن إدراكه، وليس ذلك لمكان غيره، فكيف لا يكون أفضل الأماكن؟ وليس محل عمل لنا، فهذا معنى غير تضعيف الأعمال فيه، وأيضا فباعتبار ما قيل: إن كل أحد يدفن بالموضع الذي خلق منه، وأيضا فقد تكون الأعمال مضاعفة فيها باعتبار أن النبي صلى الله عليه وسلم حي، وأن أعماله مضاعفة أكثر من كل أحد؛ فلا يختص التضعيف بأعمالنا نحن.

قلت: وهذا من النفاسة بمكان، على أني أقول: الرحمات والبركات النازلة بذلك المحل يعم فيضها الأمة، وهي غير متناهية؛ لدوام ترقياته عليه الصلاة والسلام، وما تناله الأمة بسبب نبيها هو الغاية في الفضل، ولذا كانت خير أمة بسبب كون نبيها خير الأنبياء، فكيف لا يكون القبر الشريف أفضل البقاع مع كونه منبع فيض الخيرات؟ ألا ترى أن الكعبة على رأي من منع الصلاة فيها ليست محل عملنا، أفيقول عاقل بتفضيل المسجد حولها عليها لأنه محل العمل مع أن الكعبة هي السبب في إنالة تلك الخيرات؟ وأيضا فاهتمامه صلى الله عليه وسلم بأمر أمته معلوم، وإقبال الله عليه دائم، وهو بهذا المحل الشريف، فتكثر شفاعته فيه لأمته وأمداده إياهم، وقد ورد في حديث «وفاتي خير لكم» وجاء بيان ذلك بأن «أعمالكم تعرض عليّ؛ فإن رأيت خيرا حمدت الله، وإن رأيت غير ذلك استغفرت لكم» وفي رواية «استوهبت الله ذنوبكم» وله شواهد تقويه، وسيأتي في الباب الثامن أن المجيء المذكور في قوله تعالى: وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جاؤُكَ [النساء: 64] الآية حاصل بالمجيء إلى قبره الشريف أيضا، فزيارته والمجاورة عنده من أفضل القربات، وعنده تجاب الدعوات، وتحصل الطلبات، فقد جعله الله تعالى سببا في ذلك أيضا، فهو روضة من رياض الجنة، بل أفضل رياضها، وقد قال صلى الله عليه وسلم: «لقاب قوس
‌‌তাকিউদ্দীন আস-সুবকীর বক্তব্য

তাকি আস-সুবকী বলেন: আমি একদল লোককে দেখেছি যারা এই ইজমা (ঐক্যমত্য) বর্ণনার ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপন করেন। হানাফী মাযহাবের কাযিউল কুযাত আস-সারুজী আমাকে বলেছেন: আমি আমাদের মাযহাবের পঞ্চাশটি কিতাব অধ্যয়ন করেছি কিন্তু সেগুলোর কোনোটিতেই এই বিষয়ের কোনো উল্লেখ খুঁজে পাইনি। আস-সুবকী বলেন: ইবনে আব্দুস সালাম যা উল্লেখ করেছেন আমি তা অবগত হয়েছি যে, সময় এবং স্থানসমূহ মূলত সবই সমান; সেগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে সেগুলোতে যা সংঘটিত হয় তার ওপর, সেগুলোর নিজস্ব কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়। সেগুলোর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি ফিরে যায় আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সেগুলোতে যা দান করেন তার দিকে। আর সেগুলোতে যে শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত রয়েছে তা হলো, আল্লাহ তাআলা সেখানে আমলকারীদের সাওয়াব বৃদ্ধি করে দিয়ে বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেন। আস-সুবকী বলেন: আমি বলি—শ্রেষ্ঠত্ব কখনো এই কারণে হতে পারে, আবার কখনো আমল না থাকলেও সেখানে বিদ্যমান অন্য কোনো বিষয়ের কারণে হতে পারে। কেননা সেই পবিত্র কবরের ওপর রহমত, সন্তুষ্টি এবং ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন। আল্লাহর কাছে এর যে ভালোবাসা রয়েছে এবং এর বাসিন্দার জন্য যা বরাদ্দ রয়েছে, তা অনুধাবন করতে মানুষের বুদ্ধি অক্ষম। এটি অন্য কোনো স্থানের জন্য নয়, তবে কেন এটি শ্রেষ্ঠতম স্থান হবে না? আর এটি আমাদের আমল করার জায়গা নয়, সুতরাং এটি সেখানে আমলের সাওয়াব বহুগুণ হওয়ার বাইরে অন্য একটি তাৎপর্য। এছাড়া যেমন বলা হয়ে থাকে: প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেই স্থান থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছে যেখানে তাকে দাফন করা হয়। আবার আমল সেখানে বহুগুণ হতে পারে এই বিবেচনায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত আছেন এবং তাঁর আমলসমূহ অন্য সকলের তুলনায় অনেক বেশি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়; সুতরাং আমল বহুগুণ হওয়ার বিষয়টি কেবল আমাদের আমলের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়।

আমি (গ্রন্থকার) বলি: এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি আলোচনা। তবে আমি বলি: সেই পবিত্র স্থানে অবতীর্ণ রহমত ও বরকতসমূহের প্রবাহ পুরো উম্মতকে পরিবেষ্টন করে থাকে, আর তা অসীম; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মর্যাদা ও নৈকট্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া চিরস্থায়ী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উসিলায় উম্মত যা লাভ করে তা শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পর্যায়। এ কারণেই তাঁর উম্মত শ্রেষ্ঠ উম্মত হয়েছে, কারণ তাদের নবী হলেন শ্রেষ্ঠ নবী। সুতরাং সেই পবিত্র কবর কেন শ্রেষ্ঠতম ভূখণ্ড হবে না, অথচ তা হলো সকল কল্যাণ প্রবাহের উৎস? আপনি কি দেখেন না যে, কাবার অভ্যন্তরে যারা নামায পড়তে নিষেধ করেন তাদের মতে সেটি আমাদের আমলের স্থান নয়; তবে কোনো বুদ্ধিমান কি বলবেন যে কাবার চারপাশের মসজিদ কাবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কারণ তা আমলের স্থান, অথচ কাবাই হলো সেই কল্যাণসমূহ লাভের মূল কারণ? এছাড়া তাঁর উম্মতের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ মনোযোগ সবার জানা এবং তাঁর ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ সর্বদা বর্ষিত হয়। আর তিনি এই পবিত্র স্থানেই অবস্থান করছেন, ফলে সেখানে তাঁর উম্মতের জন্য তাঁর শাফায়াত এবং তাদের প্রতি তাঁর সাহায্য ও কল্যাণ অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, "আমার মৃত্যু তোমাদের জন্য কল্যাণকর।" এর ব্যাখ্যায় এসেছে যে, "তোমাদের আমলসমূহ আমার কাছে পেশ করা হয়; যদি আমি ভালো দেখি তবে আল্লাহর প্রশংসা করি, আর যদি মন্দ কিছু দেখি তবে তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে, "আমি তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে আবেদন করি।" এই হাদীসের এমন অনেক সাক্ষী রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। অষ্টম অধ্যায়ে সামনে আসবে যে, আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যদি তারা যখন নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল, তখন তোমার কাছে আসত" [আন-নিসা: ৬৪]—এই আয়াতে উল্লেখিত আসার বিষয়টি তাঁর পবিত্র কবরের কাছে আসার মাধ্যমেও অর্জিত হয়। সুতরাং তাঁর যিয়ারত এবং তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করা শ্রেষ্ঠ ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত, সেখানে দোয়া কবুল হয় এবং প্রার্থনা পূরণ হয়। আল্লাহ তাআলা এটিকেও তার একটি কারণ সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং সেটি জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান, বরং জান্নাতের বাগানগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাগান। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "ধনুকের দুই প্রান্তের দূরত্ব পরিমাণ..."