(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: يوسف بن إسماعيل النَّبْهَاني (1265 - 1350 هـ)
الناشر: دار المنهاج، جدة - السعودية
الطبعة: الثانية، 1425 هـ - 2004 م
عدد الصفحات: 400
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) শামায়েল অর্জনের মাধ্যমসমূহ বিভাগ: সিরাতে নববী
গ্রন্থ: রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) শামায়েল অর্জনের মাধ্যমসমূহ
লেখক: ইউসুফ বিন ইসমাইল আন-নাবহানি (১২৬৫ - ১৩৫০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল মিনহাজ، জেদ্দা - সৌদি আরব
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيدبقلم الدكتور محمّد عبد الرحمن شميلة الأهدل (1)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى اله وصحبه أجمعين، وبعد:
لقد حظي تاريخ العظماء بالاهتمام البالغ على امتداد تاريخ الأمم الإنسانيّة، فدوّنت سيرهم وأخبارهم، ورصدت في جبين التّاريخ حياتهم وشمائلهم، وأضاءت في سماء المعالي أخلاقهم، وارتوى التّابعون من مناهلهم الرّويّة، ورأوا أنّ ذلك هو المنهج الأقوم، والسّبيل الّذي لا اعوجاج فيه.
ولا مراء أنّ أعظم عظماء الإنسانيّة على الإطلاق، وأفضل المصطفين.. هو منقذ البشريّة من الضّلالة والعمى؛ من جعله الله تعالى الرّحمة المهداة، وختم به الرّسالات السّماويّة: أبو القاسم محمّد بن عبد الله، النّبيّ الأوّاه صلى الله عليه وسلم.
فهو أولى أن تدوّن شمائله، وأن تقرع الأسماع صفاته الخلقيّة والخلقيّة، وسمته وهديه، وأمره ونهيه.
ভূমিকাডক্টর মুহাম্মদ আবদুর রহমান শুমাইলা আল-আহদাল-এর কলমে (১)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর:
মানবজাতির ইতিহাসের পরিক্রমায় মহীয়ান ব্যক্তিদের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়েছে। ফলে তাঁদের জীবনী ও সংবাদসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, ইতিহাসের ললাটে তাঁদের জীবন ও স্বভাব-চরিত্রসমূহ অঙ্কিত হয়েছে, শ্রেষ্ঠত্বের আকাশে তাঁদের নৈতিকতা প্রজ্জ্বলিত হয়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের সুপেয় প্রস্রবণ থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করেছে। তারা দেখেছে যে, এটাই হলো সর্বোত্তম আদর্শ এবং এমন এক পথ যাতে কোনো বক্রতা নেই।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব এবং মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন সেই সত্তা—যিনি মানবজাতিকে পথভ্রষ্টতা ও অন্ধত্ব থেকে উদ্ধার করেছেন; যাঁকে মহান আল্লাহ উপহারস্বরূপ রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং যাঁর মাধ্যমে আসমানি রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন; তিনি হলেন আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, আল্লাহর অত্যন্ত বিনয়ী ও কোমল হৃদয়ের নবী, আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।
অতএব, তিনিই এর সর্বাধিক যোগ্য যে তাঁর অনুপম বৈশিষ্ট্যসমূহ লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলী, তাঁর চালচলন ও আদর্শ এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ মানুষের কর্ণকুহরে ধ্বনিত হবে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
(2)لذلك دأب أولو العلم على تقييد ذلك كلّه، وعنوا منذ فجر تاريخ الدّعوة الإسلاميّة بكلّ ما يتّصل به صلى الله عليه وسلم من الأمور الشّرعيّة، أو الشّؤون العاديّة، وكان ذلك بطريقة استيعابيّة، وأسلوب استقصائيّ، بحيث إنّ هذه المعارف الوفيرة جلّت لنا تلك الشّخصية الفريدة، بكلّ خصائصها وسماتها، فكانت هذه العلوم منارا تتراءى في ضيائه الشّخصية المحمّديّة تزهو في حلل الكمال والجمال، وينبعث من تلك الذّات أريج الجلال والهيبة والعظمة، وكيف لا تكون كذلك، وقد حلّى التّنزيل الحكيم جيده بعقود المدح والتّكريم، فقال له: وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ.
(3)ولأنّ الرّعيل الأول من الصّحب الكرام هم الجيل المثاليّ؛ لأنّهم خرّيجو مدرسة النّبوّة، الّذين تلقّفوا الفرقان غضّا طريّا من في رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنّهم كانوا أشدّ الخلق هيبة له، وأكثرهم أدبا معه، وأعظمهم إجلالا له وتوقيرا.. من أجل ذلك لم يكونوا يرفعون أبصارهم إلى محيّاه هيبة وإجلالا، وإعظاما وإكبارا.
وإذا تأمّلنا معظم أحاديث الشّمائل التي تحكي صفات رسول الله صلى الله عليه وسلم الخلقيّة.. نجد أن رواتها من الصّحابة أحد اثنين:
(2)এই কারণে ইলম অন্বেষণকারীগণ এই সবকিছু লিপিবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় ব্রতী হয়েছেন এবং ইসলামি দাওয়াতের ইতিহাসের সূচনালগ্ন থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট শরিয়তের বিষয়াদি কিংবা প্রাত্যহিক কার্যাবলীর প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এটি ছিল একটি ব্যাপক ও সূক্ষ্ম অনুসন্ধানমূলক পদ্ধতি, যার ফলে এই পর্যাপ্ত জ্ঞানরাজি আমাদের সামনে সেই অনন্য ব্যক্তিত্বকে তাঁর সকল বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলিসহ স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ফলে এই বিজ্ঞানসমূহ ছিল এক আলোকবর্তিকা, যার আলোতে মুহাম্মাদী ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের পোশাকে উদ্ভাসিত হয় এবং সেই পবিত্র সত্তা থেকে গাম্ভীর্য, মর্যাদা ও মহত্ত্বের সুবাস বিচ্ছুরিত হয়। আর কেনই বা এমন হবে না, যেখানে প্রজ্ঞাপূর্ণ ওহী প্রশংসার হার ও সম্মানের অলঙ্কার দিয়ে তাঁর গ্রীবাকে সজ্জিত করেছে, আর তাঁকে বলেছে: "আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।"
(3)আর যেহেতু সম্মানিত সাহাবীগণের প্রথম দলটি ছিল এক আদর্শ প্রজন্ম; কারণ তাঁরা ছিলেন নবুওয়াতের মাদরাসার স্নাতক, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র মুখ নিঃসৃত কুরআনকে সতেজ ও জীবন্ত অবস্থায় গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা ছিলেন সৃষ্টির মধ্যে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধাশীল, তাঁর সাথে সর্বাধিক শিষ্টাচার প্রদর্শনকারী এবং তাঁকে সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদা প্রদানকারী। এই কারণেই তাঁরা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সম্মান ও মহত্ত্ববোধ থেকে তাঁর পবিত্র চেহারার দিকে চোখ তুলে তাকাতেন না।
আমরা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক গঠন বর্ণনা করা অধিকাংশ শামাইল হাদিসসমূহ পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখতে পাই যে সাহাবীগণের মধ্য থেকে সেগুলোর বর্ণনাকারী দুই শ্রেণীর যেকোনো এক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
إمّا من الصّحابة صغار الأسنان ممّن لم يكونوا يدركون تماما العظمة النبويّة، وما يجب له من الحقوق، فيدفعهم ذلك إلى الحملقة في الذّات المحمّديّة على وجه يمكّنهم من وصفها الوصف الدّقيق.
وإمّا أن يكون من أولئك الّذين هم قريبو عهد بالإسلام، أو من الأعراب الّذين لم يفقهوا بعد اداب الإسلام، وما يجب عليهم تجاه الشخصيّة النّبويّة.
(4)ولا مراء أنّ الصّحابة الكرام ما تركوا شيئا من أخبار المصطفى صلى الله عليه وسلم.. إلا وقيدوه، ولا شيئا عن هيئته وسمته ولبسه وطعامه وشرابه وغير ذلك.. إلا ورووه، ولا صفة تكسب المحبة والاتّباع.. إلا وأذاعوها، ذلك لأنّ محبّته عليه الصلاة والسلام.. عبادة، والتّأسّي به.. علامة على تلك المحبّة. وقديما قيل:
تعصي الحبيب وأنت تزعم حبّه
… إنّ المحبّ لمن يحبّ مطيع
ولقد حملت المحبة الأكيدة الصّادقة أنس بن مالك اتّباع المحبوب فيما كان شرعا أو عادة، بل وفيما أملته الطبيعة البشريّة.
ففي «الصّحيح» وغيره قال أنس: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتتبع الدّبّاء في القصعة فما زلت أحبّ الدّبّاء من يومئذ.
وإذا كان هذا حالهم في شؤون العادات، فكيف يكون حالهم في أمور الشّرع والعبادات؟
তারা হয়তো ছিল অল্পবয়স্ক সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত যারা নববী মহিমা এবং তাঁর পাওনা অধিকারগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলেন না; ফলস্বরূপ এই বিষয়টিই তাঁদেরকে মুহাম্মাদী সত্তার প্রতি এমনভাবে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে উৎসাহিত করেছিল, যা তাঁদেরকে তাঁর অত্যন্ত নিখুঁত বর্ণনা প্রদানে সক্ষম করে তুলেছিল।
অথবা তারা ছিল সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা নব্য মুসলিম ছিল, কিংবা সেই সকল মরুবাসী আরবদের অন্তর্ভুক্ত যারা ইসলামের আদব-কায়দা এবং নববী ব্যক্তিত্বের প্রতি তাঁদের কী করণীয় সেই সম্পর্কে তখনও সম্যক জ্ঞান লাভ করেনি।
(৪)এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সম্মানিত সাহাবীগণ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খবরাখবরের কোনো কিছুই লিপিবদ্ধ করা ছাড়া ছাড়েননি; তাঁর দেহাবয়ব, স্বভাব-চরিত্র, পোশাক-আশাক, পানাহার এবং অন্যান্য বিষয়াবলির কোনো কিছুই বর্ণনা করা ছাড়া বাদ দেননি; এবং এমন কোনো গুণ যা মহব্বত ও অনুসরণের উদ্রেক করে তা প্রচার করা ছাড়া ক্ষান্ত হননি। কারণ, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা ইবাদত এবং তাঁর অনুসরণ করা সেই ভালোবাসারই লক্ষণ। অতীতে বলা হয়েছে:
তুমি প্রিয়তমের অবাধ্য হচ্ছ অথচ তুমি তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করছ
… নিশ্চয়ই প্রেমিক তার প্রিয়তমের প্রতি অনুগত থাকে।
নিশ্চয়ই সুদৃঢ় ও সত্য মহব্বত আনাস বিন মালিককে শরীয়ত কিংবা অভ্যাসগত বিষয়াবলি, এমনকি মানবীয় স্বভাবজাত বিষয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রিয়তমের অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
‘সহীহ’ গ্রন্থ ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আনাস বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বড় পাত্রের চারপাশ থেকে লাউ খুঁজে নিয়ে খেতে দেখেছি; ফলে সেই দিন থেকে আমিও লাউ ভালোবাসতে শুরু করি।
আর অভ্যাসগত বিষয়ে যদি তাঁদের অবস্থা এমন হয়, তবে শরীয়ত ও ইবাদতের বিষয়াবলিতে তাঁদের অবস্থা কেমন হতে পারে?
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
لا شكّ أنّهم كانوا أشدّ تمسّكا بالهدي النّبويّ، وتطبيقه بحذافيره وكذلك كان الأمر.
وهذا أبو أيّوب الأنصاريّ لما رأى رد رسول الله صلى الله عليه وسلم الطّعام الّذي فيه الثّوم، كره هذه الشّجرة وعاداها حتّى الممات، وما هذا إلّا لما أشرب قلبه من حبّ الصّادق المصدوق صلى الله عليه وسلم، فتولّد عن ذلك التّأسّي به في كلّ صغيرة وكبيرة.
(5)وبناء على ذلك: فإنّ من لازم المحبّة.. الاتّباع الكامل، والاقتفاء الشّامل لمن جاءنا بالشّرع المطهّر، والتأسّي بشخصيّته في شؤون الحياة جميعها، هذا هو الاتّباع.
أمّا من يزعم محبّته ويدّعي ذلك، وهو مخالف لسيرته، متراخ عن أمره، واقع في نهيه.. فهذا الصّنيع علامة على زيف دعواه، ودليل صريح على تخبّطه في ظلام العصيان، فالسفينة لا تجري على أرض يابسة.
ترجو النّجاة ولم تسلك مسالكها
… إنّ السّفينة لا تجري على اليبس
(6)وإذا كنّا في عصرنا الحاضر المتموّج بالغرائب والعجائب نشاهد كثيرا من المعنيّين بالتّراث يعرضون شمائل شخصيّات لا خلاق لها، وليس لها في ميزان الفضائل مثقال حبّة من خير، ويعظّمون اثارهم الّتي تركوها،
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁরা নববী হিদায়াতকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতেন এবং তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতেন; আর বিষয়টি তেমনই ছিল।
আর এই যে আবু আইয়ুব আনসারী, যখন তিনি দেখলেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রসুনযুক্ত খাবার ফিরিয়ে দিয়েছেন, তখন তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই গাছটিকে অপছন্দ করতেন এবং এর প্রতি বিমুখতা পোষণ করতেন। এটি ছিল কেবল সাদিক আল-মাসদুক (সত্যবাদী ও যাঁর সত্যবাদিতা সমর্থিত) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাঁর হৃদয়ে প্রোথিত ভালোবাসার কারণে, যা থেকে প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়ে তাঁর অনুসরণের স্পৃহা জন্মেছিল।
(৫)আর এরই ভিত্তিতে: নিশ্চয়ই ভালোবাসার অনিবার্য দাবি হলো—যিনি আমাদের কাছে পবিত্র শরীয়ত নিয়ে এসেছেন তাঁর পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ এবং সামগ্রিক অনুগমন করা, এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিত্বের অনুকরণ করা; এটাই হলো প্রকৃত অনুসরণ।
পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করে অথচ তাঁর সীরাতের বিপরীত পথে চলে, তাঁর আদেশ পালনে শিথিলতা প্রদর্শন করে এবং তাঁর নিষেধকৃত কাজে লিপ্ত হয়—তবে তার এই আচরণ তার দাবির অসারতার চিহ্ন এবং অবাধ্যতার অন্ধকারে তার লক্ষ্যহীন চ্যুতির সুস্পষ্ট প্রমাণ। কারণ, নৌকা কখনো শুকনো ভূমিতে চলে না।
তুমি মুক্তি আশা করো অথচ মুক্তির পথে চলো না
… নিশ্চয়ই নৌকা শুকনো ভূমিতে চলে না।
(৬)আর বর্তমান যুগে, যা অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয়ে টালমাটাল, আমরা দেখছি যে ঐতিহ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকেই এমন সব ব্যক্তিত্বের গুণাবলি উপস্থাপন করছেন যাদের পরকালে কোনো অংশ নেই এবং ফযীলতের পাল্লায় যাদের তিল পরিমাণ কল্যাণও নেই, আর তারা তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতিচিহ্নগুলোকে মহিমান্বিত করছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ويذيعون ذلك في الرّائي وغيره، ويثيرون الضّجيج الإعلاميّ حول هذه الشّخصيات؛ مع أنها ليس لها وزن، ولا قيمة أخلاقيّة، وقد تكون شخصيّة ملحدة، لا تؤمن بخالقها، وليس عندها ذرّة من إيمان.. ألا يجدر بنا معشر الأمّة الإسلاميّة أن نستعرض شمائل المصطفى صلى الله عليه وسلم، ونكرّر ذكرها كلّما عنّت فرصة أو سنح وقت؟! فإنّ ذلك أدعى إلى حسن الاقتداء، وباعث على جميل الاقتفاء.
وإذا كان المولى تقدست أسماؤه قد قال لرسوله صلى الله عليه وسلم على إثر ذكر سير المصطفين الأخيار: وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْباءِ الرُّسُلِ ما نُثَبِّتُ بِهِ فُؤادَكَ، فما أحرانا ونحن الخطّاؤون أن نستعرض شمائل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وسمته، وهديه؛ فإنّ في ذلك تثبيتا لأفئدتنا، وازديادا لإيماننا، وتقوية لمحبّتنا، وإنارة لأفكارنا.
لذلك كلّه.. فإنّ فنّ (الشّمائل المحمّديّة) الّذي يرسل الضّوء على صفاته البهيّة، ومحاسنه العليّة، وأخلاقه الزّكية.. من الفنون المباركة العظيمة، والعلوم الشريفة الثّمينة؛ لأنّه وسيلة من وسائل ازدياد الإيمان، وطريق مؤدّ إلى امتلاء القلب بتعظيمه ومحبّته، واقتفاء هديه وسنّته، وتعظيم شعائر ملّته، وفي ذلك السّعادة في الدّارين.
هذا وإنّ من أجمع ما ألّف في الشّمائل، وأوسع ما وصلنا في هذا الباب كتاب: (وسائل الوصول إلى شمائل الرّسول صلى الله عليه وسلم .. إذ هو سفر عظيم المقدار، كثير النّفع، متّسم بالاستيعاب، مشتمل على ما يصبو إليه الأحباب.
তারা এগুলো টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার করে এবং এই সকল ব্যক্তিত্বদের নিয়ে মিডিয়াতে শোরগোল তোলে; যদিও তাদের কোনো ওজন নেই এবং নেই কোনো নৈতিক মূল্যবোধ। এমনকি তারা হতে পারে নাস্তিক ব্যক্তিত্ব, যারা তাদের স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে না এবং যাদের সামান্যতম ঈমান নেই। আমরা মুসলিম উম্মাহর কি উচিত নয় যে, মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ পর্যালোচনা করি এবং যখনই সুযোগ বা সময় আসে বারবার তা স্মরণ করি?! নিশ্চয়ই এটি উত্তম অনুসরণের পথে আহ্বানকারী এবং সুন্দর অনুকরণের প্রেরণা যোগায়।
আর যখন মহান রব—যাঁর নামসমূহ পবিত্র—নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ রাসূলদের জীবনী আলোচনার পর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: 'আর রাসূলগণের সংবাদের মধ্য থেকে এমন সব কিছু আমি আপনার কাছে বর্ণনা করছি, যার মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি', তবে পাপিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের জন্য আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শামায়িল (চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য), চলন-বলন ও হিদায়াত পর্যালোচনা করা কতটা যে জরুরি! নিশ্চয়ই এর মধ্যে আমাদের অন্তরের দৃঢ়তা, ঈমানের বৃদ্ধি, মহব্বতের শক্তি এবং আমাদের চিন্তাধারার আলোকবর্তিকা নিহিত রয়েছে।
এই সকল কারণেই, 'শামায়িলে মুহাম্মাদিয়া' শাস্ত্র—যা তাঁর দীপ্তিময় গুণাবলি, মহান সৌন্দর্য ও পবিত্র চরিত্রের ওপর আলোকপাত করে—তা একটি মহান বরকতময় শাস্ত্র এবং অত্যন্ত সম্মানিত ও মূল্যবান জ্ঞান; কারণ এটি ঈমান বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম এবং অন্তরকে তাঁর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসায় পূর্ণ করা, তাঁর হিদায়াত ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পথ। আর এতেই নিহিত রয়েছে উভয় জগতের সৌভাগ্য।
আর শামায়িল বিষয়ে রচিত সবচেয়ে সংকলিত এবং আমাদের কাছে পৌঁছানো এই বিষয়ের সবচেয়ে বিস্তৃত গ্রন্থ হলো: 'ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামায়িলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম'। এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এক কিতাব, যার উপকারিতা অপরিসীম। এটি বিষয়বস্তুর পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তিতে ভাস্বর এবং প্রিয়জনদের কাঙ্ক্ষিত সকল বিষয়ে সমৃদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أشرقت من سطوره أنوار التّحقيق، وسالت من صفحاته أعذب الصّفات لسيّد السّادات صلى الله عليه وسلم.
كيف لا، ومؤلّفه صاحب القلم السّيّال، والسّحر الحلال:
أبو المحاسن يوسف بن إسماعيل النّبهانيّ، الّذي طارت بمؤلّفاته الرّكبان، ووقف نشاطه على خدمة السّيرة المحمّديّة والسنّة الغرّاء، وفاز بالشّرف المؤبّد، والأجر الّذي لا ينفد.
وبعد: فإليكم أحبّاءنا الأكارم الشّمائل المحمّديّة، تتبختر في حللها القشيبة، وتشعّ منها الأنوار المحمّديّة، وتجلّي لنا أحاديثه الشّخصيّة الّتي اختارها الله تعالى لتكون أعظم هديّة إلى الإنسانيّة جمعاء، إنّها تكشف لنا عن سمات وهيئة صاحب اللّواء المحمود، والحوض المورود، والشّفاعة والجود، صلّى الله وسلّم عليه وعلى اله وصحبه ما ارتفع إلى السّماء أذان، وما لهج بكلمة التّوحيد مسلم.
وقد دأبت دار المنهاج على إخراج التّراث الإسلاميّ سليما محقّقا، وحملت على عاتقها أمانة نشر العلم النّافع، ورفع لوائه؛ تبصيرا للنّاس، ومساهمة في نشر الدّعوة، وتقريبا للعلوم الشّرعية. والله تعالى من وراء القصد.
د. محمّد عبد الرحمن شميلة الأهدل
এর পঙ্ক্তিমালা থেকে সূক্ষ্ম গবেষণার আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হয়েছে এবং এর পৃষ্ঠাসমূহ থেকে নেতাকুল শিরোমণি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুমধুর গুণাবলি বিচ্ছুরিত হয়েছে।
তা হবেই না কেন, অথচ এর রচয়িতা হলেন সাবলীল লেখনী ও অনুপম বাগ্মিতার অধিকারী:
আবুল মাহাসিন ইউসুফ বিন ইসমাইল আন-নাভহানি, যাঁর গ্রন্থাবলি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি লাভ করেছে এবং যাঁর সকল কর্মতৎপরতা মুহাম্মাদি সিরাত ও উজ্জ্বল সুন্নাহর খিদমতে নিবেদিত ছিল; আর তিনি লাভ করেছেন চিরন্তন মর্যাদা ও অফুরন্ত প্রতিদান।
অতঃপর: হে আমাদের সম্মানিত সুহৃদগণ! আপনাদের সম্মুখে পেশ করছি ‘শামাইলে মুহাম্মাদিয়া’, যা তার নবসজ্জিত অবয়বে সুশোভিত হয়ে আবির্ভূত হয়েছে এবং এ থেকে মুহাম্মাদি নূর বিচ্ছুরিত হচ্ছে। এটি আমাদের সামনে তাঁর সেই ব্যক্তিগত গুণাবলি সম্পর্কিত হাদিসসমূহকে মূর্ত করে তোলে, যা মহান আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে মনোনীত করেছেন। এটি আমাদের সামনে প্রশংসিত পতাকার অধিকারী, আগমনস্থল স্বরূপ হাউজ, সুপারিশ ও মহানুভবতার অধিকারীর বৈশিষ্ট্য ও দৈহিক অবয়বকে উন্মোচিত করে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, যতক্ষণ আকাশে আজান ধ্বনিত হবে এবং যতক্ষণ কোনো মুসলিম তাওহিদের বাণী উচ্চারণ করবে।
দারুল মিনহাজ সর্বদা ইসলামী ঐতিহ্যকে বিশুদ্ধ ও সম্পাদিতরূপে প্রকাশ করার ধারা বজায় রেখেছে এবং মানুষের মাঝে অন্তর্দৃষ্টি সৃষ্টি, দাওয়াহর প্রসারে অবদান রাখা ও শরিয়তের জ্ঞানসমূহকে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে উপকারী ইলম প্রচার ও তার ঝাণ্ডা সমুন্নত করার আমানত নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে। আর আল্লাহ তায়ালাই হলেন প্রকৃত উদ্দেশ্যের লক্ষ্যস্থল।
ড. মুহাম্মদ আবদুর রহমান শুমাইলা আল-আহদাল
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ترجمة الشيخ يوسف بن إسماعيل بن النبهاني رحمه الله تعالىهو الأديب الشّاعر المفلق، العلّامة المتقن الورع، الحجّة التّقي العابد، المحبّ الصّادق، المتفاني في حبّ رسول الله صلى الله عليه واله وسلم، المكثر من مدائحه؛ تأليفا ونقلا ورواية وإنشاء وتدوينا.
ناصر الدّين، أبو الفتوح وأبو المحاسن يوسف بن إسماعيل بن يوسف إسماعيل بن محمّد بن ناصر الدّين النّبهاني؛ نسبة لبني نبهان «1» .
وكانت ولادته في قرية (اجزم) يوم الخميس سنة (1265 هـ) .
حفظ القران على والده، وكان شيخا معمّرا بلغ الثمانين، وكان والده مراة للقدوة الصالحة، فقد كان يختم كل ثلاثة أيام ختمة، مع محافظة على ضروب الطاعات، واستغراق الأوقات في القربات، مما كان له أبلغ الأثر في تكوين هذا الناشئ الذي تغذى بلبان الهدى والتقى بين يدي والده الصالح، في تلك البيئة النقية الطاهرة.
--------------------------------------------
শায়খ ইউসুফ ইবনে ইসমাইল ইবনে নাবহানি রহমতুল্লাহি আলাইহির জীবনীতিনি ছিলেন এক অসাধারণ সাহিত্যিক ও কবি, সুনিপুণ ও পরহেজগার আল্লামা, খোদাভীরু ও ইবাদতগুজার এক প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রেমে আত্মনিবেদিত এক সত্যনিষ্ঠ প্রেমিক। তিনি তাঁর বিন্যাস, উদ্ধৃতি, বর্ণনা, রচনা ও সংকলনের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহর প্রশংসাগীতি রচনায় প্রাচুর্য অর্জন করেছিলেন।
নাসিরুদ্দিন, আবুল ফুতুহ এবং আবুল মাহাসিন ইউসুফ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইউসুফ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসিরুদ্দিন আন-নাবহানি; বনু নাবহানের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে নাবহানি বলা হয় «১»।
তাঁর জন্ম হয়েছিল ১২৬৫ হিজরি সালের এক বৃহস্পতিবার ‘ইজজিম’ নামক গ্রামে।
তিনি তাঁর পিতার কাছে কুরআন হিফজ করেন, যিনি ছিলেন আশি বছর বয়সী একজন দীর্ঘজীবী শায়খ। তাঁর পিতা ছিলেন নেককার আদর্শের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। তিনি প্রতি তিন দিনে একবার কুরআন খতম করতেন এবং সর্বদা বিবিধ ইবাদত পালনে সচেষ্ট থেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে মগ্ন থাকতেন। পিতার এই গুণাবলি এই নবীন উত্তরসূরির চরিত্রে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যিনি তাঁর নেককার পিতার তত্ত্বাবধানে সেই নির্মল ও পবিত্র পরিবেশে হিদায়াত ও তাকওয়ার সুধা পান করে বড় হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولمّا أتمّ حفظ القران الكريم وحفظ بعض المتون.. أرسله والده إلى مصر- وكان عمره إذ ذاك سبع عشرة سنة- فالتحق بالأزهر الشريف في غرّة محرم الحرام سنة (1283 هـ) ، وجاور في رواق الشوام، ودأب على الدرس والتحصيل، وتلقّى العلم من كبار الأئمة وجهابذة علماء الأمة، وكان موفقا حسن الاختيار والاهتداء إلى الراسخين في العلم المحققين في المعقول والمنقول، الذين لا يشق لهم غبار أمثال:
الشيخ إبراهيم السقا الشافعي (ت 1298 هـ) .
والشيخ محمد الدمنهوري الشافعي (ت 1286 هـ) .
والشيخ إبراهيم الزرو الخليلي الشافعي (ت 1287 هـ) .
والشيخ أحمد الأجهوري الضرير الشافعي (ت 1293 هـ) .
والشيخ عبد الهادي نجا الأبياري الشافعي (ت 1305 هـ) .
والشيخ أحمد راضي الشرقاوي الشافعي.
والشيخ مصطفى الإشراقي الشافعي.
والشيخ صالح أجباوي الشافعي.
والشيخ محمد العشماوي الشافعي.
والشيخ محمد شمس الدين الأنبابي الشافعي (شيخ الجامع الأزهر) .
والشيخ عبد الرحمن الشربيني الشافعي.
والشيخ أحمد البابي الحلبي الشافعي.
এবং যখন তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ এবং কিছু মূলপাঠ মুখস্থ করা সমাপ্ত করলেন, তখন তাঁর পিতা তাঁকে মিশরে পাঠালেন—সে সময় তাঁর বয়স ছিল সতেরো বছর—অতঃপর তিনি ১২৮৩ হিজরি সনের পহেলা মহররম আল-হারামে আল-আজহার আল-শরীফে যোগদান করেন। তিনি রুওয়াক আল-শাওয়ামে অবস্থান করেন এবং জ্ঞানার্জন ও অধ্যয়নে নিমগ্ন হন। তিনি উম্মাহর মহান ইমামগণ ও প্রথিতযশা আলিমদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। ইলমে রাসিখ (সুগভীর জ্ঞানসম্পন্ন) এবং যৌক্তিক ও শ্রুতিগত জ্ঞানে পারদর্শী সত্যসন্ধানীদের খুঁজে পেতে ও তাঁদের অনুসরণে তিনি সৌভাগ্যবান ছিলেন, যাঁদের সমকক্ষ হওয়া অন্যদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল, যেমন:
শেখ ইব্রাহিম আস-সাক্কা আশ-শাফিঈ (ওফাত ১২৯৮ হিজরি)।
এবং শেখ মুহাম্মদ আদ-দামানহুরি আশ-শাফিঈ (ওফাত ১২৮৬ হিজরি)।
এবং শেখ ইব্রাহিম আজ-জাররু আল-খলিলি আশ-শাফিঈ (ওফাত ১২৮৭ হিজরি)।
এবং শেখ আহমদ আল-আজহুরি আদ-দারির আশ-শাফিঈ (ওফাত ১২৯৩ হিজরি)।
এবং শেখ আব্দুল হাদি নাজা আল-আবিয়ারি আশ-শাফিঈ (ওফাত ১৩০৫ হিজরি)।
এবং শেখ আহমদ রাজি আশ-শারকাওয়ি আশ-শাফিঈ।
এবং শেখ মুস্তফা আল-ইশরাকি আশ-শাফিঈ।
এবং শেখ সালেহ আজবাওয়ি আশ-শাফিঈ।
এবং শেখ মুহাম্মদ আল-আশমাওয়ি আশ-শাফিঈ।
এবং শেখ মুহাম্মদ শামসুদ্দিন আল-আনবাবি আশ-শাফিঈ (আল-আজহারের প্রধান শায়খ)।
এবং শেখ আব্দুর রহমান আশ-শিরবিনি আশ-শাফিঈ।
এবং শেখ আহমদ আল-বাবি আল-হালাবি আশ-শাফিঈ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- والشيخ شريف الحلبي الحنفي.
والشيخ فخر الدين اليانيه وي الحنفي.
والشيخ عبد القادر الرافعي الطرابلسي الحنفي (شيخ رواق الشوام) .
والشيخ حسن العدوي المالكي (ت 1298 هـ) .
والشيخ محمد روبه المالكي.
والشيخ حسن الطويل المالكي.
والشيخ محمد البسيوني المالكي.
والشيخ يوسف البرقاوي الحنبلي (شيخ رواق الحنابلة) .
رحمهم الله تعالى وجزاهم عن الأمة المحمدية أحسن الجزاء.
ثم بدا لصاحب الترجمة أن يسافر من مصر ليساهم في خدمة الإسلام، وقد علا كعبه، وبزغ نجمه ورسخ في علمي المعقول والمنقول في أسلوب عال، هو السحر الحلال.. يخاله الناظر فيه سهلا وهو بعيد المنال.. فرجع في رجب سنة (1289 هـ) ، وأقام في مدينة عكا ينشر العلم، فأفاد المسلمين، وأعلى منار الدين.
ثم في سنة (1292 هـ) رحل إلى الشام واجتمع على جماعة من العلماء؛ من أجلهم الإمام الفقيه المحدث البارع مفتي الشام السيد محمود أفندي الحمزاوي، فأجازه بإجازة مطولة بجميع مروياته بعد أن قرأ عليه في منزله بحضور جملة من طلبة العلم الشريف.
এবং শায়খ শরিফ আল-হালাবি আল-হানাফি।
এবং শায়খ ফখর উদ্দিন আল-ইয়ানিউই আল-হানাফি।
এবং শায়খ আব্দুল কাদির আর-রাফিঈ আত-তরাবুলুসি আল-হানাফি (শাওয়াদের বারান্দার প্রধান)।
এবং শায়খ হাসান আল-আদাউয়ি আল-মালিকি (মৃত্যু ১২৯৮ হিজরি)।
এবং শায়খ মুহাম্মাদ রুবাহ আল-মালিকি।
এবং শায়খ হাসান আত-তাবিল আল-মালিকি।
এবং শায়খ মুহাম্মাদ আল-বাসিউনি আল-মালিকি।
এবং শায়খ ইউসুফ আল-বারকাবি আল-হানবালি (হানবালিদের বারান্দার প্রধান)।
আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন এবং উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
অতঃপর জীবনীকারের মনে মিশর থেকে সফর করার ইচ্ছা জাগল যাতে তিনি ইসলামের খিদমতে অবদান রাখতে পারেন। ততদিনে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছিল, তাঁর খ্যাতির নক্ষত্র উদিত হয়েছিল এবং তিনি এক অনন্য শৈলীতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক উভয় বিদ্যায় সুগভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন, যা ছিল ‘সেহর হালাল’ বা বৈধ জাদুর মতো। পাঠক সেটিকে সহজ মনে করলেও আদতে তা অর্জন করা ছিল অত্যন্ত দুঃসাধ্য। অতঃপর তিনি ১২৮৯ হিজরি সালের রজব মাসে প্রত্যাবর্তন করেন এবং আক্কা শহরে অবস্থান করে ইলম প্রচার করতে থাকেন; ফলে তিনি মুসলমানদের উপকৃত করেন এবং দ্বীনের মিনারকে সমুন্নত করেন।
এরপর ১২৯২ হিজরি সালে তিনি শাম (সিরিয়া) অভিমুখে সফর করেন এবং একদল উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ করেন; তাঁদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিজ্ঞ ইমাম, ফকিহ ও মুহাদ্দিস এবং শামের মুফতি আস-সায়্যিদ মাহমুদ এফেন্দি আল-হামজাউয়ি। তিনি তাঁর বাসভবনে ইলমে শরীফের একদল শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তাঁর কাছে পাঠ করার পর, তাঁর সমস্ত বর্ণনার জন্য তাঁকে একটি বিস্তারিত ইজাজত বা অনুমতিপত্র প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وجال في بلاد الشرق العربي ثم دخل الأستانة والموصل وحلب وديار بكر وشهرزور وبغداد وسامرّا وبيت المقدس والحجاز.
وتقلد القضاء في ولايات الشام، حتى صار رئيسا في محكمة الحقوق العليا ببيروت وذلك سنة (1305 هـ) .
وحج عام ألف وثلاثمئة وعشرة، ثم دخل الحجاز بعد ذلك وأقام بالمدينة المنورة مدة.
وألف المؤلفات النافعة التي سارت بها الركبان وانتشرت في سائر البلدان، وقد فاقت على الستين كتابا في مختلف الفنون والعلوم.. وقد عظم ذكره بما صنف وابتكر، ونظم ونثر، وطبع ونشر، خصوصا في الجانب المحمدي الأعظم؛ فقد خدم السيرة المحمدية والجناب النبوي أرفع الخدمات ووقف حياته على ذلك، فنشر وكتب ما لم يتيسر لغيره في عصرنا هذا ولا عشر معشاره.. وذلك لإخلاصه رحمه الله تعالى..
ولما أحيل إلى المعاش.. شدّ أزره وشمر عن ساعد الجد، وأقبل على العبادة بهمة عالية وعزيمة صادقة، وقلب دائب على الذكر وتلاوة القران وكثرة الصلاة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأحيا ليله ونهاره بإقامة الفرائض ونوافل الطاعات، لا يفتر ولا يسأم، حتى عدّ ما يقوم به من خوارق العادات.
وكانت أنوار العبادة وتعظيم السنة والعمل بها ظاهرة على وجهه المبارك.. ولم يزل على الحال المرضي حتى دعاه مولاه.. فأجابه ولباه..
তিনি আরব প্রাচ্যের দেশগুলো ভ্রমণ করেন, অতঃপর ইস্তাম্বুল, মোসুল, আলেপ্পো, দিয়ারবাকির, শাহরাজোর, বাগদাদ, সামাররা, বাইতুল মুকাদ্দাস এবং হিজাজে প্রবেশ করেন।
তিনি শামের বিভিন্ন প্রদেশে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, এমনকি ১৩০৫ হিজরিতে তিনি বৈরুতের উচ্চতর দেওয়ানি আদালতের প্রধান নিযুক্ত হন।
তিনি তেরশ দশ (১৩১০) হিজরি সালে হজ পালন করেন। এরপর তিনি পুনরায় হিজাজে গমন করেন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় কিছুকাল অবস্থান করেন।
তিনি অত্যন্ত উপকারী সব গ্রন্থ রচনা করেন, যা কাফেলার মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রসার লাভ করে। বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের শাখায় তার গ্রন্থের সংখ্যা ষাটটিরও অধিক। তার রচিত ও উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, গদ্য ও পদ্য এবং ছাপানো ও প্রকাশিত কাজের কারণে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষত মহান মুহাম্মাদী দিকটি নিয়ে। তিনি সীরাতে মুহাম্মাদী এবং নববী শানের সর্বোচ্চ খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন এবং এর পেছনেই নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি এমন সব লেখা প্রকাশ করেছেন যা আমাদের এই যুগে অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি, এমনকি এর দশভাগের একভাগও নয়। আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহম করুন, এটা ছিল তার একনিষ্ঠতারই ফল।
যখন তিনি অবসর গ্রহণ করেন, তখন তিনি কোমর বেঁধে পূর্ণ উদ্যমে ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি উচ্চ মনোবল ও সত্য সংকল্প নিয়ে যিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অধিকহারে দরূদ পাঠের মাধ্যমে সর্বদা অন্তরের সাথে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। তিনি ফরয ইবাদত ও নফল আনুগত্যের মাধ্যমে স্বীয় দিবা-রাত্রিকে জীবিত রাখতেন; তিনি ক্লান্ত হতেন না বা বিরক্তি বোধ করতেন না। এমনকি তার এই কর্মতৎপরতা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে গণ্য হতে লাগল।
তার মোবারক চেহারায় ইবাদতের নূর এবং সুন্নাহর প্রতি সম্মান ও তার ওপর আমলের প্রতিফলন স্পষ্ট ফুটে উঠত। তিনি এই সন্তোষজনক অবস্থাতেই অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না তার মাওলা তাকে আহ্বান করলেন; অতঃপর তিনি সেই আহ্বানে সাড়া দিলেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكانت وفاته في بيروت في أوائل شهر رمضان الكريم سنة (1350 هـ) عن عمر يناهز الخمس والثمانين، وهو قوي البدن، تام الصحة، مستوف لقراءة أوراده، وما اعتاده من الطاعات وأعمال الخير.
أجزل الله ثوابه، وألحقنا به على الإيمان الكامل في غير ضراء مضرة، ولا فتنة مضلة، بفضله ورحمته.. امين.
১৩৫০ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে বৈরুতে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন তাঁর বয়স পঁচাশি বছরের কাছাকাছি ছিল এবং তিনি সুঠাম শরীর ও পূর্ণ স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর প্রাত্যহিক ওযীফা পাঠ এবং অভ্যস্ত ইবাদত ও নেক আমলসমূহ যথাযথভাবে পালন করতেন।
আল্লাহ তাঁকে বিপুল প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে কোনো ক্ষতিকর বিপদ কিংবা পথভ্রষ্টকারী ফিতনা ব্যতিরেকেই পূর্ণ ঈমানের সাথে আমাদের তাঁর অনুগামী করুন। আমীন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
توطئةلقد توافرت الدواعي لخدمة هذا الكتاب المبارك، لكونه من أجلّ ما ألف في شمائل سيد الأنام محمد صلى الله عليه واله وسلم، إلا أنه ينبغي لنا أن ننبه على ما يلي:
1- لقد أضربنا عن تخريج الأحاديث النبوية والأخبار والاثار المروية في هذا الكتاب.. وذلك لأمرين:
أولهما: أن ذلك سيقطع متعة القراءة المركزة المتواصلة على القارئ، فالتخريج موضوع متخصص له رجاله وأهله.
الأمر الثاني: إحالة القارئ الكريم إلى كتاب «منتهى السول» للشيخ عبد الله اللّحجي الذي شرح فيه هذا الكتاب «وسائل الوصول» أيما شرح، وفي أربعة مجلّدات ضخام؛ ويكفي أن نعلم أن اللحجي رحمه الله تعالى قد استغرق في تأليفه (25 سنة) ، فضبط عباراته، وشرح كلماته، وخرج أحاديثه، بتفصيل وبسط، مع إضافة فوائد، وتقييد شوارد، وكذلك بإتمام مباحثه، وتوسيع دائرته.
2- ولأننا نريد أن يستفيد الجميع من هذا الكتاب بحول الله وقوته..
ضبطنا الكتاب بالشكل الكامل، مع وضع علامات الترقيم المناسبة، وكذلك شرحنا العبارات الغريبة أو الغامضة حتى يستوعب المعنى، ويتضح المبنى.
ভূমিকাএই বরকতময় কিতাবটির খিদমতের জন্য বহুবিধ প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, কেননা এটি সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামায়েল বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর অন্যতম। তবে আমাদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সতর্ক করা প্রয়োজন:
১- আমরা এই কিতাবে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস, সংবাদ ও আসারের তাখরিজ (সূত্র নির্দেশ) করা থেকে বিরত থেকেছি... এর কারণ দুটি:
প্রথমত: এটি পাঠকের নিরবচ্ছিন্ন ও মনোযোগপূর্ণ পঠনের আনন্দকে বিঘ্নিত করবে; কারণ তাখরিজ একটি বিশেষায়িত শাস্ত্র এবং এর জন্য নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।
দ্বিতীয়ত: সম্মানিত পাঠককে শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজির রচিত ‘মুনতাহাস সুল’ কিতাবের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যেখানে তিনি এই কিতাব ‘ওয়াসায়েলুল উসুল’-এর চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন যা চারটি বিশাল খণ্ডে বিভক্ত। আমাদের জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল-লাহজি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) এর রচনায় দীর্ঘ ২৫ বছর সময় ব্যয় করেছেন; ফলে তিনি এর শব্দাবলি বিন্যস্ত করেছেন, এর শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এর হাদিসগুলোর বিস্তারিত ও বিস্তৃত তাখরিজ করেছেন। পাশাপাশি তিনি এতে অনেক প্রয়োজনীয় টীকা যোগ করেছেন, দুর্লভ বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন এবং এর গবেষণাকে পূর্ণতা দান ও এর পরিধি বিস্তৃত করেছেন।
২- যেহেতু আমরা চাই আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা করে সকলে এই কিতাব থেকে উপকৃত হোক...
তাই আমরা কিতাবটিকে পূর্ণরূপে হরকত প্রদান করেছি, যথাযথ বিরামচিহ্ন স্থাপন করেছি এবং কঠিন বা অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি যাতে অর্থ অনুধাবন করা সহজ হয় এবং কিতাবের মূল গঠন সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا كله.. بالإضافة إلى أناقة الطبع، وحسن الإخراج.
وعليه: فإن البداية لمن أراد التحليق عاليا في شمائل الرسول صلى الله عليه واله وسلم.. في كتابنا هذا «وسائل الوصول» ، والنهاية في «منتهى السول» للشيخ عبد الله بن سعيد اللحجي، وهو أيضا من منشورات دار المنهاج.
وفي الختام: الله تعالى نسأل وهو صاحب الإحسان أن يتمم لنا الإحسان، وأن يشملنا بالغفران، وأن يصلح لنا كل شأن.
وصلى الله على سيدنا محمد واله وصحبه ومن تبعهم بإحسان.
الناشر في ربيع الأنور (1423 هـ)
এই সবকিছুই... মুদ্রণের পরিপার্শ্বিক সৌন্দর্য এবং সুচারু প্রকাশশৈলী সহযোগে।
অতএব: যারা আল্লাহর রাসূল (তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পবিত্র গুণাবলির উচ্চতর দিগন্তে বিচরণ করতে চান, তাদের জন্য সূচনা হলো আমাদের এই গ্রন্থ ‘ওয়াসায়েলুল উসুল’, আর সমাপ্তি হলো শায়খ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ আল-লাহজীর ‘মুনতাহাস সুল’ গ্রন্থ; এটিও দারুল মিনহাজ-এর প্রকাশনা।
পরিশেষে: আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি—যিনি পরম করুণাময়—তিনি যেন আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন, আমাদের তাঁর ক্ষমার অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাদের সকল বিষয় সংশোধন করে দেন।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
প্রকাশক, রবিউল আনওয়ার (১৪২৩ হিজরি)
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
صورة عن المخطوط المستعان به في إخراج الكتاب
গ্রন্থটি সম্পাদনায় ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপির চিত্র
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
راموز الورقة الأولى لمخطوطة مكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة
মদীনা মুনাওয়ারাহর আরিফ হিকমত লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির প্রথম পত্রের সংকেত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
راموز الورقة الأخيرة لمخطوطة مكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة
মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার সংকেত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وسائل الوصول إلى شمائل الرّسول صلى الله عليه وسلم تأليف الشّيخ العالم العلّامة المحدّث يوسف بن إسماعيل النّبهانيّ رحمه الله تعالى 1265 هـ- 1350 هـ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামাইল বা বৈশিষ্ট্যসমূহ অর্জনের মাধ্যমসমূহ; শায়খ, আলিম, আল্লামা ও মুহাদ্দিস ইউসুফ বিন ইসমাইল আন-নাবাহানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) কর্তৃক বিরচিত। ১২৬৫ হিজরী - ১৩৫০ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله ربّ العالمين، حمدا يوافي نعمه، ويكافىء مزيده، ويضاهي كرمه.
وأشهد ألاإله إلّا الله الملك الحقّ المبين، وأشهد أنّ سيّدنا محمّدا عبده ورسوله سيّد الخلق أجمعين.
اللهمّ؛ صلّ أفضل صلاة وأكملها، وأدومها، وأشملها، على سيّدنا محمّد عبدك الّذي خصّصته بالسّيادة العامّة، فهو سيّد العالمين على الإطلاق، ورسولك الّذي بعثته بأحسن الشّمائل وأوضح الدّلائل؛ ليتمّم مكارم الأخلاق.
صلاة تناسب ما بينك وبينه من القرب الّذي ما فاز به أحد، وتشاكل ما لديكما من الحبّ الّذي انفرد به في الأزل والأبد.
صلاة لا يعدّها ولا يحدّها قلم ولا لسان، ولا يصفها ولا يعرفها ملك ولا إنسان.
صلاة تسود كافّة الصّلوات كسيادته على كافّة المخلوقات. صلاة يشملني نورها من جميع جهاتي في جميع أوقاتي، ويلازم ذرّاتي في حياتي وبعد مماتي.
وعلى اله الأطهار، وأصحابه الأخيار، وسلّم تسليما كثيرا.
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতসমূহের সমতুল্য, তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহের উপযুক্ত এবং তাঁর মহত্ত্বের সদৃশ।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, চিরন্তন সত্য ও সুস্পষ্ট অধিপতি আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।
হে আল্লাহ; আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ-এর ওপর সর্বোত্তম, পূর্ণাঙ্গতম, চিরস্থায়ী এবং সবচেয়ে ব্যাপক দরুদ বর্ষণ করুন, যিনি আপনার সেই বান্দা যাকে আপনি নিরঙ্কুশ শ্রেষ্ঠত্ব দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। ফলে তিনি নিঃশর্তভাবে জগতসমূহের নেতা এবং তিনি আপনার সেই রাসূল যাকে আপনি সর্বোত্তম চরিত্র ও স্পষ্টতম প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছেন; যাতে তিনি সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দান করেন।
এমন দরুদ যা আপনার ও তাঁর মধ্যকার সেই নৈকট্যের উপযোগী যা অন্য কেউ লাভ করতে পারেনি, এবং যা আপনাদের মধ্যকার সেই ভালোবাসার সদৃশ যাতে তিনি অনাদি ও অনন্তকাল ধরে অদ্বিতীয়।
এমন দরুদ যা কোনো কলম বা জিহ্বা গণনা করতে পারে না এবং তার কোনো সীমা নির্ধারণ করতে পারে না, এবং কোনো ফেরেশতা বা মানুষ যার বর্ণনা দিতে পারে না ও তা উপলব্ধি করতে পারে না।
এমন দরুদ যা সকল দরুদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, যেমন তিনি সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠ। এমন দরুদ যার নূর আমার সকল সময়ে এবং সকল দিক থেকে আমাকে বেষ্টন করে রাখে এবং যা আমার জীবনের প্রতিটি অণু-পরমাণুতে ও মৃত্যুর পরেও অবিচ্ছেদ্য থাকে।
এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও তাঁর চয়নকৃত সাহাবীবর্গের ওপরও (দরুদ বর্ষিত হোক), আর আপনি তাঁদের ওপর অফুরন্ত সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أمّا بعد:
فقد خطر لي أن أجمع كتابا أجعله وسيلة لبلوغي من رضا الله تعالى ورسوله المرام، وذريعة للانتظام في سلك «1» خدّامه عليه الصلاة والسلام.
ثمّ نظرت إلى قلّة علمي، وضعف فهمي، وكثرة ذنوبي، ووفرة عيوبي.. فأحجمت «2» إحجام من عرف حدّه فوقف عنده، ثمّ تخطّرت «3» سعة الكرم، وكوني من أمّة هذا النّبيّ الكريم.. فأقدمت إقدام الطّفل على الأب الشّفيق الحليم، بعد أن سمعت قول الله تعالى: لَقَدْ جاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ ما عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُفٌ رَحِيمٌ [التوبة: 128] .
فكم من أعرابيّ فدم «4» ، لا أدب له ولا فهم، ولا عقل له ولا علم، ولا كرم ولا حلم.. قابل جنابه الشّريف بما غضب له المكان والزّمان، وخاطبه بما عبس له وجه السّيف واحتدّ له لسان السّنان «5» فكان جوابه الإغضاء «6» ، والعفو عمّن أساء، بل أدناه وقرّبه، وما لامه وما أنّبه، بل
--------------------------------------------
অতঃপর:
আমার মনে এই সংকল্প উদয় হলো যে, আমি এমন একটি কিতাব সংকলন করব যা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম হবে এবং তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) খাদেমদের সারিতে [১] অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অসিলা হবে।
অতঃপর আমি আমার ইলমের স্বল্পতা, বুঝের দুর্বলতা, গুনাহের আধিক্য এবং ত্রুটির প্রাচুর্যের দিকে তাকালাম; ফলে আমি সে ব্যক্তির মতো নিবৃত্ত হলাম [২], যে নিজের সীমানা সম্পর্কে জানে এবং সেখানেই থেমে যায়। অতঃপর আমার স্মৃতিতে উদিত হলো [৩] আল্লাহর দয়ার প্রশস্ততার কথা এবং এই সম্মানিত নবীর উম্মত হওয়ার বিষয়টি। ফলে আমি স্নেহশীল ও ধৈর্যশীল পিতার প্রতি শিশুর মতো অগ্রসর হলাম, যখন আমি মহান আল্লাহর বাণী শুনলাম: "তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর নিকট অসহনীয়। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী এবং মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু।" [সূরা তওবা: ১২৮]।
কতই না অর্বাচীন [৪] বেদুঈন ছিল, যাদের না ছিল আদব, না ছিল বোধশক্তি; না ছিল কোনো বুদ্ধি, না ছিল কোনো জ্ঞান; না ছিল কোনো মহানুভবতা, না ছিল কোনো সহিষ্ণুতা। তারা তাঁর (রাসূলের) শান বা মর্যাদার সাথে এমন আচরণ করেছিল যাতে কাল ও স্থান রাগান্বিত হয় এবং তাঁকে এমনভাবে সম্বোধন করেছিল যাতে তলোয়ারের চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং বর্শার ফলা [৫] প্রখর হয়ে ওঠে। তবুও তাঁর উত্তর ছিল উপেক্ষা করা [৬] এবং অপরাধীকে ক্ষমা করে দেওয়া। বরং তিনি তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন ও নিকটবর্তী করেছিলেন এবং তাকে তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করেননি। বরং—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أفرغته أخلاقه المحمّديّة في قالب كيمياء بأيادي الإحسان «1» ، حتّى اضمحلّت حدّة ذلك الوحش وانقلبت حديدته جوهرة إنسان، فتبدّل بغضه بالحبّ، وبعده بالقرب، وحربه بالسّلم، وجهله بالعلم.
واستحال إنسانا بعد أن كان ثعبانا، وصار حبيبا بعد أن كان ذيبا.
فهذا وأمثاله من شواهد مكارم أخلاقه صلى الله عليه وسلم..
أطمعني بإمكان قبولي في جملة خدمه، ودخولي في عداد حشمه، ولا يبعد عن سعة كرم الله تعالى أن يهب لي إكراما لرسوله فوق ما أمّلته من الرّضا والقبول.
وها أنا قد توكّلت عليه سبحانه، وقبضت قبضة من أثر الرّسول، فجمعت هذا الكتاب من اثاره في شمائله الشّريفة صلى الله عليه وسلم، وأدخلت فيه جميع الشّمائل الّتي رواها الإمام الحافظ أبو عيسى محمّد بن عيسى التّرمذيّ رضي الله تعالى عنه بعد حذف مكرّرها وأسانيدها، ولم أتقيّد بترتيبه وتبويبه، بل سلكت أسلوبا غير أسلوبه، وأضفت إليها من كتب الأئمّة الاتي ذكرهم أكثر منها بكثير، وألحقت بغريب الألفاظ ما تدعو إليه الحاجة من ضبط أو تفسير. فجاء كتابا حافلا ليس له في بابه نظير.
وسمّيته:
«وسائل الوصول إلى شمائل الرسول»
--------------------------------------------
তাঁর মুহাম্মাদী চরিত্র তাঁকে অনুগ্রহের হাতের মাধ্যমে কিমিয়ার ছাঁচে ঢেলে দিয়েছে [১], ফলে সেই বন্যতার উগ্রতা বিলীন হয়ে গেছে এবং তার লৌহখণ্ড মানবিক রত্নে রূপান্তরিত হয়েছে। অতঃপর তার ঘৃণা ভালোবাসায়, দূরত্ব নৈকট্যে, যুদ্ধ শান্তিতে এবং অজ্ঞতা জ্ঞানে পরিবর্তিত হয়েছে।
সে সর্প হওয়ার পর মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে এবং নেকড়ে হওয়ার পর বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।
সুতরাং এটি এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহান চরিত্রের মাহাত্ম্যের নিদর্শন...
যা আমাকে তাঁর খাদেমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এবং তাঁর অনুসারীদের মধ্যে গণ্য হওয়ার আশায় আশান্বিত করেছে। আর আল্লাহ তাআলার অসীম করুণার নিকট এটি অসম্ভব নয় যে, তিনি তাঁর রাসূলের সম্মানে আমাকে সন্তুষ্টি ও কবুলিয়তের ক্ষেত্রে আমার প্রত্যাশার অতীত দান করবেন।
আর এখন আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করেছি এবং রাসূলের পদাঙ্ক হতে এক মুষ্টি গ্রহণ করেছি। অতঃপর আমি তাঁর মহান গুণাবলি বা শামায়েল সম্পর্কিত তাঁর ঐতিহ্যসমূহ থেকে এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি। এতে আমি ইমাম হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) বর্ণিত সকল শামায়েল বা গুণাবলি অন্তর্ভুক্ত করেছি—সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ও সনদসমূহ বিলোপ করার পর। আমি তাঁর বিন্যাস ও অধ্যায়ক্রমের অনুবর্তী হইনি, বরং তাঁর পদ্ধতি থেকে ভিন্নতর পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। এর সাথে আমি পরবর্তীতে উল্লিখিত ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকে আরও বহু বর্ণনা যোগ করেছি। আর অপরিচিত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী শব্দবিন্যাস বা ব্যাখ্যা যুক্ত করে দিয়েছি। ফলে এটি একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থে পরিণত হয়েছে, নিজ বিষয়ে যার কোনো নজির নেই।
আর আমি এর নামকরণ করেছি:
«ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাঈলির রাসূল»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وهذا بيان الكتب الّتي نقلته منها، ورويته عنها:
1- «كتاب الشّمائل» للإمام التّرمذيّ.
2- «المصابيح» للإمام البغويّ.
3- «الإحياء» للإمام الغزاليّ.
4- «الشّفا» للقاضي عياض.
5- «التهذيب» للإمام النّوويّ.
6- «الهدي النّبويّ» «1» للإمام محمّد ابن أبي بكر الشّهير بابن قيّم الجوزيّة.
7- «الجامع الصّغير» للإمام السّيوطيّ.
8- و «شرحه» للإمام العزيزيّ «2» .
9- «المواهب» للإمام القسطلّانيّ «3» .
10- «كشف الغمّة» للإمام الشّعرانيّ.
11- «طبقات الأولياء» «4» .
12- و «كنوز الحقائق» للإمام المناويّ.
--------------------------------------------
এটি সেই কিতাবসমূহের বিবরণ যেখান থেকে আমি উদ্ধৃত করেছি এবং বর্ণনা করেছি:
১- ইমাম তিরমিযীর «কিতাবুশ শামায়িল»।
২- ইমাম বাগাভীর «আল-মাসাবীহ»।
৩- ইমাম গাজালীর «আল-ইহয়া»।
৪- কাযী আয়াযের «আশ-শিফা»।
৫- ইমাম নববীর «আত-তাহযীব»।
৬- ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ, তাঁর «আল-হাদিউন নাবাবী» «১»।
৭- ইমাম সুয়ূতী-র «আল-জামেউস সগীর»।
৮- এবং ইমাম আজিযীর এর «শারহ» (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) «২»।
৯- ইমাম কাসতালানীর «আল-মাওয়াহিব» «৩»।
১০- ইমাম শারানীর «কাশফুল গুম্মাহ»।
১১- «তাবাকাতুল আউলিয়া» «৪»।
১২- এবং ইমাম মুনাবীর «কুনুযুল হাকায়িক»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
13- «حاشية الشّمائل» «1» لشيخ مشايخي، أستاذ الأستاذين، خاتمة العلماء العاملين: الشّيخ إبراهيم الباجوريّ رضي الله تعالى عنهم أجمعين.
فهذه أصوله، لم يخرج عنها شيء منه. اللهمّ إلّا أن يكون ذلك في تفسير الغريب، فإنّي راجعت فيما لم أجده فيها كتب اللّغة، وذلك نزر يسير.
وقد ذكرت في بعض «الشّمائل» اسم الصّحابيّ راوي الحديث والإمام المخرّج له، وفي بعضها اسم الصّحابيّ فقط، ولم أذكر في بعضها غير متن الحديث تابعا في جميع ذلك الأصول المذكورة.
وقد رتّبته على مقدّمة «2» ، وثمانية أبواب، وخاتمة.
المقدّمة تشتمل على تنبيهين:
التّنبيه الأوّل: في معنى لفظ الشّمائل.
والتّنبيه الثّاني: في الفوائد المقصودة من جمع شمائله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
১৩- আমার শায়খদের শায়খ, উস্তাদদের উস্তাদ, আমলকারী আলেমদের সমাপনী সত্তা: শায়খ ইব্রাহিম আল-বাজুরি (আল্লাহ তাঁদের সবার উপর সন্তুষ্ট হোন)-এর ‘হাশিয়া আশ-শামায়িল’ [১]।
এগুলোই এর মূল উৎস, এর কোনো কিছুই এই উৎসসমূহের বাইরে নয়। তবে কোনো দুর্লভ শব্দের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে, কেননা আমি সেগুলোর জন্য (যা মূল উৎসগুলোতে পাইনি) অভিধানগ্রন্থগুলোর শরণাপন্ন হয়েছি, আর তা অত্যন্ত নগণ্য।
আমি ‘শামায়িল’-এর কোনো কোনো বর্ণনায় হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীর নাম এবং হাদিস সংকলনকারী ইমামের নাম উল্লেখ করেছি, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে শুধু সাহাবীর নাম উল্লেখ করেছি, আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখিত মূল উৎসগুলোর অনুসরণ করে শুধু হাদিসের মূল পাঠ ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করিনি।
আমি গ্রন্থটিকে একটি ভূমিকা [২], আটটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারের ওপর বিন্যস্ত করেছি।
ভূমিকাটি দুটি সতর্কবাণী সম্বলিত:
প্রথম সতর্কবাণী: ‘শামায়িল’ শব্দের অর্থের বর্ণনায়।
দ্বিতীয় সতর্কবাণী: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শামায়িল বা গুণাবলি সংকলনের উদ্দেশ্য ও উপকারিতা সম্পর্কে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الباب الأوّل: في نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسمائه الشّريفة، وفيه فصلان:
الفصل الأوّل: في نسبه الشّريف صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثّاني: في أسمائه الشّريفة صلى الله عليه وسلم.
الباب الثّاني: في صفة خلقة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وما يناسبها من أوصافه الشّريفة، وفيه عشرة فصول:
الفصل الأوّل: في جمال صورته صلى الله عليه وسلم، وما شاكلها.
الفصل الثّاني: في صفة بصره صلى الله عليه وسلم واكتحاله.
الفصل الثّالث: في صفة شعره صلى الله عليه وسلم وشيبه وخضابه، وما يتعلّق بذلك.
الفصل الرّابع: في صفة عرقه صلى الله عليه وسلم ورائحته الطّبيعيّة «1» .
الفصل الخامس: في صفة طيبه صلى الله عليه وسلم وتطيّبه.
الفصل السادس: في صفة صوته صلى الله عليه وسلم.
الفصل السّابع: في صفة غضبه صلى الله عليه وسلم وسروره.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারা এবং তাঁর সম্মানিত নামসমূহ প্রসঙ্গে, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানিত বংশধারা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানিত নামসমূহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন এবং তাঁর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য সম্মানিত বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে, এবং এতে দশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবয়বের সৌন্দর্য এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দৃষ্টির বৈশিষ্ট্য এবং সুরমা ব্যবহার প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুল, সাদা চুল ও খেজাব এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘাম এবং স্বাভাবিক সুগন্ধি প্রসঙ্গে «১»।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুঘ্রাণ এবং সুগন্ধি মাখা প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কণ্ঠস্বর প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ এবং আনন্দ প্রকাশ প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
- الفصل الثّامن: في صفة ضحكه صلى الله عليه وسلم وبكائه وعطاسه.
الفصل التّاسع: في صفة كلامه صلى الله عليه وسلم وسكوته.
الفصل العاشر: في صفة قوّته صلى الله عليه وسلم.
الباب الثّالث: في صفة لباس رسول الله صلى الله عليه وسلم وفراشه وسلاحه، وفيه ستّة فصول:
الفصل الأوّل: في صفة لباسه صلى الله عليه وسلم؛ من قميص وإزار ورداء وقلنسوة «1» وعمامة ونحوها.
الفصل الثّاني: في صفة فراشه صلى الله عليه وسلم وما يناسبه.
الفصل الثّالث: في صفة خاتمه صلى الله عليه وسلم.
الفصل الرّابع: في صفة نعله صلى الله عليه وسلم وخفّه.
الفصل الخامس: في صفة سلاحه صلى الله عليه وسلم.
الفصل السّادس: كان من خلقه صلى الله عليه وسلم أن يسمّي سلاحه ودوابّه ومتاعه.
الباب الرّابع: في صفة أكل رسول الله صلى الله عليه وسلم وشربه ونومه، وفيه ستّة فصول:
--------------------------------------------
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসি, কান্না এবং হাঁচির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কথা বলা এবং নীরবতার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দশম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শক্তির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাক, বিছানা এবং অস্ত্রের বর্ণনা প্রসঙ্গে, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পোশাকের বর্ণনা প্রসঙ্গে; যেমন জামা, লুঙ্গি, চাদর, টুপি «১» এবং পাগড়ি ও এই জাতীয় বিষয়াবলি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিছানা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আংটির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুতা এবং মোজার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অস্ত্রের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে তিনি তাঁর অস্ত্র, পশু এবং আসবাবপত্রের নামকরণ করতেন।
চতুর্থ অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পানাহার এবং ঘুমের বর্ণনা প্রসঙ্গে, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
- الفصل الأوّل: في صفة عيشه صلى الله عليه وسلم وخبزه.
الفصل الثّاني: في صفة أكله صلى الله عليه وسلم وإدامه «1» .
الفصل الثّالث: فيما كان يقوله صلى الله عليه وسلم قبل الطّعام وبعده.
الفصل الرّابع: في صفة فاكهته صلى الله عليه وسلم.
الفصل الخامس: في صفة شرابه صلى الله عليه وسلم وقدحه.
الفصل السّادس: في صفة نومه صلى الله عليه وسلم.
الباب الخامس: في صفة خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم وحلمه، وعشرته مع نسائه، وأمانته وصدقه، وحيائه ومزاحه، وتواضعه وجلوسه، وكرمه وشجاعته، وفيه ستّة فصول:
الفصل الأوّل: في صفة خلقه صلى الله عليه وسلم وحلمه.
الفصل الثّاني: في صفة عشرته صلى الله عليه وسلم مع نسائه رضي الله تعالى عنهنّ.
الفصل الثّالث: في صفة أمانته صلى الله عليه وسلم وصدقه.
الفصل الرّابع: في صفة حيائه صلى الله عليه وسلم ومزاحه.
الفصل الخامس: في صفة تواضعه صلى الله عليه وسلم وجلوسه.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনযাত্রা ও রুটির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আহার ও তরকারির (১) বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আহারের পূর্বে ও পরে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা বলতেন সেই প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফলের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানীয় ও পানপাত্রের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম অধ্যায়: রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্র ও সহনশীলতা, স্ত্রীদের সাথে তাঁর মেলামেশা, তাঁর আমানতদারি ও সত্যবাদিতা, তাঁর লজ্জা ও হাস্যরস, তাঁর বিনয় ও উপবেশন এবং তাঁর উদারতা ও সাহসিকতার বর্ণনা প্রসঙ্গে; এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্র ও সহনশীলতার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর স্ত্রীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্নাহ) সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেলামেশার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমানতদারি ও সত্যবাদিতার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লজ্জা ও হাস্যরসের বর্ণনা প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিনয় ও বসার ভঙ্গির বর্ণনা প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
- الفصل السّادس: في صفة كرمه صلى الله عليه وسلم وشجاعته.
الباب السّادس: في صفة عبادة رسول الله صلى الله عليه وسلم وصلاته. وصومه، وقراءته، وفيه ثلاثة فصول.
الفصل الأوّل: في صفة عبادته صلى الله عليه وسلم وصلاته.
الفصل الثّاني: في صفة صومه صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثّالث: في صفة قراءته صلى الله عليه وسلم.
الباب السّابع: في أخبار شتّى من أحوال رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعض أذكار وأدعية كان يقولها في أوقات مخصوصة، وثلاث مئة وثلاثة عشر حديثا من جوامع كلمه صلى الله عليه وسلم، وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأوّل: في أخبار شتّى من أحواله صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثّاني: في بعض أذكار وأدعية كان يقولها صلى الله عليه وسلم في أوقات مخصوصة.
الفصل الثّالث: في ثلاث مئة وثلاثة عشر حديثا من جوامع كلمه صلى الله عليه وسلم.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উদারতা ও বীরত্বের বর্ণনায়।
ষষ্ঠ অধ্যায়: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদত, সালাত, সিয়াম ও কিরাতের বর্ণনায়। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবাদত ও সালাতের বর্ণনায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিয়ামের বর্ণনায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিরাতের বর্ণনায়।
সপ্তম অধ্যায়: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবিধ অবস্থা, তাঁর পঠিত বিশেষ সময়ের কিছু যিকর ও দুআ এবং তাঁর জাওয়ামিউল কালিম (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবহ বাণী) থেকে তিনশ তেরোটি হাদিস প্রসঙ্গে। এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবিধ অবস্থা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিশেষ সময়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঠিত কিছু যিকর ও দুআ প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাওয়ামিউল কালিম থেকে তিনশ তেরোটি হাদিস প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الباب الثّامن: في طبّه صلى الله عليه وسلم، وسنّه ووفاته، ورؤيته في المنام، وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأوّل: في طبّه صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثّاني: في سنّه صلى الله عليه وسلم ووفاته.
الفصل الثّالث: في رؤيته صلى الله عليه وسلم في المنام.
الخاتمة: تشتمل على خمسين حديثا، أكثرها صحاح وحسان من أدعيته صلى الله عليه وسلم «1» .
وأسأل الله العظيم ربّ العرش الكريم أن يجعل هذا الكتاب من أفضل الحسنات الجاري نفعها في الحياة وبعد الممات، بجاه نبيّه سيّد الرّسل الكرام، عليه وعليهم الصّلاة والسّلام.
--------------------------------------------
অষ্টম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চিকিৎসা পদ্ধতি, তাঁর বয়স ও ইন্তেকাল এবং স্বপ্নে তাঁকে দেখা প্রসঙ্গে, এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চিকিৎসা পদ্ধতি প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বয়স ও ইন্তেকাল প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বপ্নে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দেখা প্রসঙ্গে।
উপসংহার: এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুয়াসমূহ থেকে পঞ্চাশটি হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার অধিকাংশ সহিহ ও হাসান।
আর আমি সুমহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যিনি সম্মানিত আরশের রব, তিনি যেন এই কিতাবটিকে সেই সব সর্বোত্তম নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত করেন যার উপকারিতা জীবনে এবং মৃত্যুর পরেও জারি থাকে, তাঁর নবী তথা সম্মানিত রাসুলগণের সরদারের সম্মানে, তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مقدّمة الكتابوهي تشتمل على تنبيهين
গ্রন্থের ভূমিকাএবং এটি দুটি সতর্কবার্তা সম্বলিত।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
التنبيه الأوّل في معنى لفظ الشمائلهي في الأصل: الأخلاق والطّبائع.
قال في «القاموس» : (الشّمال: الطّبع، والجمع: شمائل) اهـ وقال في «لسان العرب» : (مفردها: شمال؛ بكسر الشّين.
قال جرير:
...............
… وما لومي أخي من شماليا «1»
وقال صخر أخو الخنساء:
أبا الشّتم إنّي قد أصابوا كريمتي
… وأن ليس إهداء الخنا من شماليا «2»
وقال اخر «3» :
هم قومي وقد أنكرت منهم
… شمائل بدّلوها من شمالي
أي: أنكرت أخلاقهم) .
--------------------------------------------
‘শামায়িল’ শব্দের অর্থের বিষয়ে প্রথম সতর্কবার্তাএর মূল অর্থ হলো: চরিত্র ও স্বভাবজাত প্রকৃতি।
‘আল-কামুস’-এ বলা হয়েছে: (শিমাল: স্বভাব, এর বহুবচন: শামায়িল)। আর ‘লিসানুল আরব’-এ বলা হয়েছে: (এর একবচন হলো: শিমাল; শীন বর্ণে কাসরা বা যের যোগে)।
জারির বলেন:
...............
… আর আমার ভাইকে তিরস্কার করা আমার স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত নয় «১»
খানসার ভাই সাখর বলেন:
হে গালি প্রদানকারী, তারা আমার সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করেছে
… আর অশ্লীল কথা উপহার দেওয়া আমার স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত নয় «২»
অপর একজন কবি বলেন «৩» :
তারা আমার সম্প্রদায়, অথচ আমি তাদের সেই
… স্বভাবসমূহকে অপছন্দ করেছি যা তারা আমার স্বভাবের বিপরীতে পরিবর্তন করে নিয়েছে
অর্থাৎ: আমি তাদের চরিত্রকে অপছন্দ করেছি।
--------------------------------------------