(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: -)
نور اليقين في سيرة سيد المرسلين   (محمد الخضري)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: نور اليقين في سيرة سيد المرسلين

المؤلف: محمد بن عفيفي الباجوري، المعروف بالشيخ الخضري (ت 1345هـ)

الناشر: دار الفيحاء - دمشق

الطبعة: الثانية - 1425 هـ

عدد الصفحات: 280

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন   (মুহাম্মদ আল-খুদরী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


কিতাব: নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন

লেখক: মুহাম্মদ বিন আফীফী আল-বাজুরী, যিনি শায়খ আল-খুদরী নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৩৪৫ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল ফায়হা - দামেস্ক

সংস্করণ: দ্বিতীয় - ১৪২৫ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدّمة الطبعة الثالثة

الحمد لله والصلاة والسلام على خير نبي أرسله، لقد بلغ الرسالة، وأدّى الأمانة، ونصح الأمّة، وجاهد في الله حقّ جهاده حتى التقى بالرفيق الأعلى، وعلى الصحابة الذين اقتفوا أثره ومن تبعهم إلى يوم الدين.

وبعد:

إنّ شخصية الرسول الكريم تعد نبراسا لكل من أحبّ أن يهتدي إلى الطريق السوي، هذا الإنسان الذي وهب حياته للخير أين ما كان وأين ما حلّ، ولما كانت الأمة الإسلامية مطالبة بتتبّع أثر الرسول لأنه ترجمان القران ولقوله تعالى:

لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ.

وكانت الصحابة تحرص حرصا شديدا على دراسة حياته لأولادها حتى قال سيدنا سعد بن أبي وقّاص: «كنا نعلّم أولادنا سيرة الرسول ومغازيه كما كنا نعلّمهم القران» لهذا تحتّم على الأمة معرفة حياته من أوّلها إلى اخرها ولا يوجد كتاب يلم بهذا الموضوع ككتاب نور اليقين للشيخ محمد الخضري. فإنه من أكثر الكتب المتداولة في السيرة النبوية في العالم الإسلامي. لقد انتهج المؤلّف منهجا جديدا في شرح سيرة الرسول الأعظم عليه الصلاة والسلام شرحا لم تعرفه كتب السيرة من قبل.

ولكن الكتاب يحتاج إلى بعض تراجم الرجال. وضبط بعض الأسماء.

وتحقيق وتتمة بعض الروايات التاريخية. وتخريج الايات والأحاديث النبوية.

وشرح العناوين والكلمات المبهمة ولهذا قمت بهذا العمل معتمدا على الله راجيا منه التوفيق إنه على ما يشاء قدير، كل ذلك جعلته في ذيل كل صفحة ودفعا للالتباس وضعت كلمة المؤلّف في نهاية كلامه فإذا أدخلت شيئا على كلامه وضعته بين قوسين.
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ নবীর ওপর; যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না তিনি মহান বন্ধুর সাথে মিলিত হয়েছেন। আর তাঁর সেইসব সাহাবীদের ওপরও (সালাম বর্ষিত হোক) যারা তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসারী হবেন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সম্মানিত রাসূলের ব্যক্তিত্ব তাদের প্রত্যেকের জন্য এক আলোকবর্তিকা যারা সরল পথের দিশা পেতে চায়। এই সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর জীবনকে কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেছেন তিনি যেখানেই থাকুন বা অবস্থান করুন না কেন। যেহেতু মুসলিম উম্মাহ রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণে আদিষ্ট, কারণ তিনি ছিলেন কুরআনের বাস্তব ব্যাখ্যাদাতা এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে:

নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

সাহাবীগণ তাঁদের সন্তানদের তাঁর জীবন চরিত শেখানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন, এমনকি আমাদের নেতা সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস বলেছেন: "আমরা আমাদের সন্তানদের রাসূলের সীরাত ও যুদ্ধাভিযানসমূহ শিক্ষা দিতাম যেভাবে আমরা তাদের কুরআন শিক্ষা দিতাম।" এই কারণে উম্মতের ওপর তাঁর জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আর এই বিষয়ে শায়খ মুহাম্মদ খুদরী-র 'নুরুল ইয়াকীন' গ্রন্থের মতো কোনো কিতাব নেই যা বিষয়টিকে এভাবে সামগ্রিকভাবে ধারণ করেছে। কেননা এটি মুসলিম বিশ্বে সীরাতুন্নবী বিষয়ক সর্বাধিক প্রচলিত গ্রন্থগুলোর অন্যতম। লেখক মহান রাসূল (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সীরাত বর্ণনায় এমন এক নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যা পূর্ববর্তী সীরাত গ্রন্থসমূহে পরিচিত ছিল না।

তবে কিতাবটি কিছু ব্যক্তির পরিচিতি এবং কিছু নামের নির্ভুল উচ্চারণের মুখাপেক্ষী ছিল।

সেই সাথে কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনার যাচাই-বাছাই ও পূর্ণতা দান এবং কুরআনের আয়াত ও হাদীসসমূহের উৎস নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল।

অস্পষ্ট শিরোনাম ও শব্দাবলীর ব্যাখ্যাও আবশ্যক ছিল; তাই আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর নিকট তাওফীক প্রার্থনা করে এই কাজে ব্রতী হয়েছি। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম। আমি এই সমস্ত সংযোজন প্রতিটি পৃষ্ঠার পাদটীকায় স্থান দিয়েছি এবং বিভ্রান্তি নিরসনে লেখকের বক্তব্যের শেষে 'লেখক' শব্দটি লিখে দিয়েছি। আর লেখকের বক্তব্যের ভেতর যদি আমি কিছু সংযোজন করে থাকি, তবে তা বন্ধনীভুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৪)
ولمّا وجدت اقبالا على هذا الكتاب، فقد قمت بطبعه مرّة ثالثة.

وتمتاز الطبعة الثالثة عن سابقتها بتحاشي جميع الأخطاء المطبعية السابقة، كما أنها أكثر شرحا للجوانب الهامّة، وأدقّ ضبطا للكلمات والأعلام.

والله وليّ التوفيق.

المحقّق
যেহেতু আমি এই কিতাবটির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করেছি, তাই আমি এটি তৃতীয়বার মুদ্রণ করেছি।

তৃতীয় সংস্করণটি পূর্ববর্তী সকল মুদ্রণপ্রমাদ পরিহার করার মাধ্যমে পূর্বের সংস্করণের তুলনায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছে; তদুপরি এটি গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহের অধিকতর ব্যাখ্যাসম্বলিত এবং শব্দাবলি ও ব্যক্তিনামসমূহের অধিকতর সূক্ষ্ম বিন্যাস দ্বারা পরিমার্জিত।

আর আল্লাহই তাওফীক প্রদানের অভিভাবক।

মুহাক্কিক
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌بسم الله الرّحمن الرّحيم

نحمدك يا من أوضحت لنا سبل الهداية، وأزحت عن بصائرنا غشاوة الغواية، ونصلّي ونسلم على من أرسلته شاهدا ومبشرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا. وعلى الأصحاب الذين هجروا الأوطان يبتغون من الله الفضلى والرضوان، والأنصار الذين اووا ونصروا وبذلوا لإعزاز الدين ما جمعوا وما ادخروا.

أمّا بعد: فيقول محمد الخضري بن المرحوم الشيخ عفيفي الباجوري: كنت أجد من نفسي منذ النشأة الأولى ارتياحا لقراءة تواريخ السّالفين وقصص الغابرين وأجدها لعقل الإنسان أحسن مهذّب وأنصح معلم. وكنت أرى في تاريخ نبيّنا عليه الصلاة والسلام وما لقيه من أذى قومه حينما دعاهم إلى الحقّ وعظيم صبره حتى هجر أوطانه وبلاده أعظم مربّ لأفكار المسلمين، فإنه يدلّهم على ما يجب اتباعه وما يلزم اجتنابه ليسودوا كما ساد سابقوهم، وخصوصا ما يتعلّق بالحكّام من اجتذاب النفوس النافرة والتأليف بين القلوب المختلفة، وما يتعلّق بقواد الجيوش من تأليف الرجال وإحكام المعدّات حتى يتم لهم النصر على أعدائهم، وما يتعلّق بالعامّة من اتحاد قلوبهم وصيرورتهم يدا على من سواهم. فكنت أجد من قراءتها ارتياحا عظيما وكانت نفسي كثيرا ما تأسف على ترك المسلمين لها! فقلّما أجد من يشتغل بها ولكني كنت أقدم لهم العذر بتطويل الكتب المؤلفة في هذا الموضوع. فلمّا قدمت مدينة المنصورة جمعتني النوادي مع محمود بك سالم القاضي بمحكمة المنصورة المختلطة فوجدت منه علما بدينه تقف دونه فحول الرجال وتتأخّر عن مسابقته فيه الأبطال، فقلّما توضع مسألة دينية إلّا وجدته مبرزا فيها مفصحا عن الجواب عنها، أمّا علمه بسيرة الرسول الأكرم صلى الله عليه وسلم فعنده منها الخبر اليقين. وكنت كثيرا ما أسمعه يتشوّف لعمل سيرة خالية من الحشو والتعقيد تنتفع بها عامّة المسلمين فقلت: يا الله! لقد وافق هذا السيد الكريم ما في نفسي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমরা আপনার প্রশংসা করি হে সত্তা! যিনি আমাদের জন্য হেদায়েতের পথসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং আমাদের অন্তর্দৃষ্টি থেকে পথভ্রষ্টতার আবরণ উন্মোচন করেছেন। আমরা সালাত ও সালাম পেশ করি তাঁর প্রতি, যাঁকে আপনি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর (সালাম বর্ষিত হোক) ঐ সকল সাহাবীদের প্রতি যাঁরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণে স্বদেশ ত্যাগ করেছেন, এবং ঐ সকল আনসারদের প্রতি যাঁরা আশ্রয় দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন এবং দ্বীনকে মহিমান্বিত করার জন্য তাঁদের অর্জিত ও সঞ্চিত সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছেন।

অতঃপর: মরহুম শেখ আফিফি আল-বাজুরীর পুত্র মুহাম্মদ আল-খুদরী বলেন: আমি আমার জীবনের প্রারম্ভ থেকেই পূর্ববর্তীদের ইতিহাস এবং গত হওয়া জাতিসমূহের কাহিনী পাঠে এক প্রকার প্রশান্তি অনুভব করতাম। আমি এগুলোকে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির জন্য সর্বোত্তম পরিমার্জক এবং সবচেয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী শিক্ষক হিসেবে মনে করি। আমি আমাদের নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ইতিহাস, সত্যের দিকে আহ্বানের সময় তাঁর কওমের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কষ্টসমূহ এবং তাঁর সেই মহান ধৈর্য—যার ফলে তিনি নিজের মাতৃভূমি ও দেশ ত্যাগ করেছিলেন—এ সবকিছুর মাঝে মুসলমানদের চিন্তা-চেতনার জন্য এক মহান পথপ্রদর্শক দেখতে পাই। কেননা এটি তাঁদেরকে সেই সব বিষয়ের নির্দেশনা দেয় যা অনুসরণ করা উচিত এবং যা বর্জন করা আবশ্যক, যাতে তাঁরা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারেন যেমনটি তাঁদের পূর্বসূরিরা করেছিলেন। বিশেষ করে শাসকদের ক্ষেত্রে—বিমুখ অন্তরগুলোকে আকৃষ্ট করা এবং ভিন্ন ভিন্ন হৃদয়ের মাঝে সংহতি স্থাপন করার বিষয়ে; এবং সেনাপতিদের ক্ষেত্রে—সৈন্য সমাবেশ ও সমর সরঞ্জাম সুসংহত করার বিষয়ে, যাতে শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁদের বিজয় অর্জিত হয়; আর সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে—তাঁদের হৃদয়ের ঐক্য এবং অন্যদের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে। তাই আমি এগুলো পাঠ করে প্রচণ্ড তৃপ্তি পেতাম এবং মুসলমানদের পক্ষ থেকে এর প্রতি অবহেলা দেখে আমার মন প্রায়ই ব্যথিত হতো। আমি খুব কম লোককেই এটি নিয়ে চর্চা করতে দেখতাম, তবে এই বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোর দীর্ঘ কলেবরকে আমি তাঁদের জন্য ওজর হিসেবে গণ্য করতাম। অতঃপর যখন আমি মানসুরা শহরে আসলাম, তখন বিভিন্ন মজলিসে মানসুরা মিশ্র আদালতের বিচারক মাহমুদ বেগ সালেমের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁর মধ্যে স্বীয় দ্বীন সম্পর্কে এমন গভীর জ্ঞান প্রত্যক্ষ করলাম যার সামনে বড় বড় পন্ডিতরাও থমকে দাঁড়ায় এবং তাঁর সাথে প্রতিযোগিতায় বীর পুরুষরাও পিছিয়ে পড়ে। এমন কোনো দ্বীনি মাসআলা উত্থাপিত হতো না যাতে তাঁকে পারদর্শী এবং প্রাঞ্জল উত্তরদাতা হিসেবে না পাওয়া যেত। আর মহান রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত সম্পর্কে তো তাঁর কাছে নিশ্চিত ও গভীর জ্ঞান ছিল। আমি প্রায়ই তাঁকে অতিরিক্ত মেদ ও জটিলতামুক্ত এমন একটি সীরাত গ্রন্থ রচনার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতে শুনতাম যা দ্বারা সাধারণ মুসলমানরা উপকৃত হবে। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ! এই সম্মানিত ব্যক্তি তো আমার মনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিধ্বনি করেছেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৬)
ولكني كنت أرى في عزيمتي قصورا عن تنفيذ رغبته وتتميم أمنيته فإن المقام عظيم وصعوباته أعظم، ولكن لم أر من الأمر بدا تلقاء ما كنت أسمعه من كبار رجال المنصورة، فإنهم أكثروا من الأماني لعمل هذا الكتاب العميم النفع، الجزيل الفائدة. فقمت معتمدا على الله راجيا منه أن يوفقني لما فيه رضاه، وواصلت السير بالسرى حتى بلغت المنى فجاء بحمد الله سهل المنال عذب المورد تنتفع به العامّة وترجع إليه الخاصة. وقد كان موردي في تأليفه القران الشريف وصحيح السّنة ممّا رواه الإمامان البخاري ومسلم، ولم أخرج عنهما إلّا فيما لا بدّ من تفهيم العبارات، فكان يساعدني «الشفاء» للقاضي عياض، و «السيرة الحلبية» ، و «المواهب اللدنية» للقسطلاني، و «إحياء علوم الدين» للغزالي. هذا وأسأل الله من فيض فضله أن يوفق أئمتنا وأمراءنا للاقتداء بسيدنا ومولانا رسول الله صلى الله عليه وسلم وإحياء معالم دينه حتى يؤيدوا بروح من عند الله. وقد ان أن نشرع فيما قصدناه مستعينين بحول الله فنقول:

 

‌‌النسب الشريف

السيد الأكرم الذي شرّف الناس بوجوده هو (محمد بن عبد الله «1» ) من زوجه امنة بنت وهب الزّهرية «2» القرشية (ابن عبد المطلب «3» ) من زوجه فاطمة بنت عمر المخزومية «4» القرشية. وكان عبد المطلب شيخا معظّما في قريش يصدرون عن رأيه في مشكلاتهم ويقدمونه في مهماتهم. (ابن هاشم «5» ) من زوجه سلمى بنت عمرو النجّارية»

الخزرجية (ابن عبد مناف «7» ) من زوجه عاتكة بنت مرّة

--------------------------------------------

(1) فهو أبو رسول الله صلى الله عليه وسلم ويكنى أبا قثم وهو أصغر أولاد عبد المطلب.

(2) من بني زهرة بن كلاب من قريش. المؤلف.

(3) اسمه شيبة وإنما قصد في تسميته بهذا الاسم للتفاؤل يؤثر عنه أنه جاء بسنن قد جاءت في القران والسنة وهو أول من سن دية النفس مائة من الإبل فجرت في قريش، وعاش مائة وأربعين سنة.

(4) من بني مخزوم بن يقظة بن مرّة من قريش. المؤلف.

(5) سمي هاشما لأنه وقعت في قريش مجاعة فهشم لهم كعكا كلّه هشما ودقه دقا ثم صنع للحجاج طعاما شبه الثريد.

(6) من بني النجار من الخزرج والخزرج إحدى القبيلتين اللتين كانتا تقيمان بالمدينة وهما الأوس والخزرج وهما أخوان وسمى رسول الله صلى الله عليه وسلم كلاهما أنصارا. المؤلف.

(7) مناف اسم صنم أضيف عبد إليه كما يقولون: عبد يغوث، وسمي به عبد مناة ثم نظر قصي فراه يوافق عبد مناة ابن كنانة فحوّله عبد مناف. واسم عبد مناف: المغيرة وهو منقول من الوصف، والهاء، فيه
তবে আমি আমার সংকল্পের মধ্যে তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়ন ও আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা অনুভব করছিলাম, কেননা এই মর্যাদা মহান এবং এর অসুবিধাগুলো আরও গুরুতর। কিন্তু মানসুরার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের থেকে যা শুনছিলাম, তার প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে কোনো উপায় দেখিনি; কারণ তাঁরা এই ব্যাপক ও অত্যন্ত উপকারী কিতাবটি রচনার বিষয়ে অনেক আশা প্রকাশ করেছিলেন। অতঃপর আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করে দণ্ডায়মান হলাম, তাঁর কাছে এই প্রার্থনা নিয়ে যে, তিনি আমাকে এমন বিষয়ের তাওফিক দান করবেন যাতে তাঁর সন্তুষ্টি রয়েছে। আমি নিরন্তর পথচলা অব্যাহত রাখলাম যতক্ষণ না লক্ষ্যে পৌঁছলাম। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি সহজলভ্য ও সুমিষ্ট উৎসের রূপ লাভ করল, যা থেকে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে এবং বিশিষ্টজনরা এর দিকে প্রত্যাবর্তন করবেন। এটি সংকলনের ক্ষেত্রে আমার উৎস ছিল মহাগ্রন্থ কুরআন এবং ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত সহীহ সুন্নাহ। বক্তব্য সুস্পষ্ট করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তা ব্যতীত আমি এই দুই কিতাবের বাইরে যাইনি। এক্ষেত্রে আমাকে সহায়তা করেছে কাযী ইয়াজের ‘আশ-শিফা’, ‘আস-সিরাত আল-হালাবিয়্যাহ’, কাসতালানীর ‘আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়াহ’ এবং গাযালীর ‘ইহয়াউ উলুমিদ্দীন’। পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট তাঁর অসীম অনুগ্রহের প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ইমাম ও নেতৃবৃন্দকে আমাদের সায়্যিদ ও মাওলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনসমূহ পুনর্জীবিত করার তাওফিক দান করেন, যাতে তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ শক্তির মাধ্যমে সমর্থিত হন। এখন আল্লাহর শক্তির সাহায্য নিয়ে উদ্দিষ্ট বিষয়ে যাত্রা শুরু করার সময় হয়েছে, সুতরাং আমরা বলছি:

 

‌‌মর্যাদাপূর্ণ বংশপরিচয়

সেই পরম সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, যাঁর অস্তিত্বের মাধ্যমে মানবজাতি গৌরবান্বিত হয়েছে, তিনি হলেন (মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ [১]) তাঁর স্ত্রী জুহরা গোত্রীয় কুরাইশী আমিনা বিনতে ওয়াহাব [২]-এর গর্ভজাত; (ইবনে আবদুল মুত্তালিব [৩]) তাঁর স্ত্রী মাখজুম গোত্রীয় কুরাইশী ফাতিমা বিনতে আমর [৪]-এর গর্ভজাত। আবদুল মুত্তালিব ছিলেন কুরাইশদের মধ্যে একজন সম্মানিত প্রধান, তাঁদের সমস্যাবলিতে তাঁরা তাঁর মতামতের ওপর নির্ভর করত এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁকে অগ্রগণ্য মনে করত। (ইবনে হাশিম [৫]) তাঁর স্ত্রী নাজ্জার গোত্রীয় খাজরাজী সালমা বিনতে আমর [৬]-এর গর্ভজাত; (ইবনে আবদে মানাফ [৭]) তাঁর স্ত্রী আতিকা বিনতে মুররার গর্ভজাত।

--------------------------------------------

(১) তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিতা এবং তাঁর উপনাম ছিল আবু কুসাম। তিনি আবদুল মুত্তালিবের সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন।

(২) কুরাইশ বংশের বনু জুহরা ইবনে কিলাব গোত্র থেকে। — লেখক।

(৩) তাঁর নাম ছিল শাইবা। মূলত কল্যাণের আশায় এই নামে তাঁর নামকরণ করা হয়েছিল। তাঁর থেকে এমন কিছু রীতি বর্ণিত আছে যা কুরআন ও সুন্নাহতে পাওয়া যায়। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি প্রাণের রক্তপণ হিসেবে একশত উট নির্ধারণ করেন এবং তা কুরাইশদের মধ্যে প্রচলিত হয়। তিনি একশত চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন।

(৪) কুরাইশ বংশের বনু মাখজুম ইবনে ইয়াকাজা ইবনে মুররা গোত্র থেকে। — লেখক।

(৫) তাঁকে হাশিম বলা হতো কারণ কুরাইশদের মধ্যে যখন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তখন তিনি তাদের জন্য রুটি চূর্ণ (হাশম) করে খাবার তৈরি করেছিলেন। তিনি হাজীদের জন্য সারিদ জাতীয় খাবার প্রস্তুত করতেন।

(৬) খাজরাজ গোত্রের বনু নাজ্জার থেকে। খাজরাজ ও আওস হলো মদীনার সেই দুটি গোত্র যারা সেখানে বসবাস করত। তারা পরস্পর ভাই এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের উভয়কে ‘আনসার’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। — লেখক।

(৭) মানাফ একটি মূর্তির নাম, যার দিকে সম্বন্ধ করে ‘আব্দ’ শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে, যেমন তারা বলে: আব্দু ইয়াগুস। প্রথমে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল আব্দু মানাত। এরপর কুসাঈ লক্ষ্য করলেন যে এটি কিনানাহ-র পুত্র আব্দু মানাতের নামের সাথে মিলে যায়, তাই তিনি তা পরিবর্তন করে আব্দু মানাফ রাখেন। আব্দু মানাফের প্রকৃত নাম ছিল আল-মুগীরা।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৭)
السلمية «1» ) . (ابن قصيّ «2» ) من زوجه حبّى بنت حليل الخزاعية. وكان إلى قصيّ في الجاهلية حجابة البيت «3» ، وسقاية الحاج، وإطعامه المسمّى بالرفادة، والندوة هي الشورى لا يتم أمر إلّا في بيته، واللواء: لا تعقد راية لحرب إلّا بيده، ولمّا أشرف على الموت جعلها في يد أحد أولاده عبد الدار، لكن بنو عبد مناف أجمعوا رأيهم على ألايتركوا بني عمهم عبد الدار يستأثرون بهذه المفاخر، وكاد يفضي الأمر إلى القتال لولا أن تدارك الأمر عقلاء الفريقين، فأعطوا بني عبد مناف السقاية والرفادة فدامتا فيهم إلى أن انتهتا للعباس بن عبد المطلب ثم لبنيه من بعده، أمّا الحجابة فبقيت بيد بني عبد الدار، وأقرّها لهم الشرع فهي فيهم إلى الان. (وهم بنو شيبة بن عثمان بن أبي طلحة بن عبد العزّى بن عثمان بن عبد الدار) ، وأمّا اللواء «4» فدام فيهم حتى أبطله الإسلام، وجعله حقا للخليفة على المسلمين يضعه فيمن يراه صالحا له وكذلك الندوة، (وقصي بن كلاب «5» ) من زوجه فاطمة بنت سعد وهي يمانية من أزد شنوءة (ابن مرّة «6» ) من زوجه هند بنت سرير من بني فهر بن مالك (ابن كعب «7» ) من زوجه وحشية بنت شيبان من بني فهر أيضا (ابن لؤيّ «8» ) من زوجه أم كعب مارية بنت كعب من قضاعة (ابن غالب «9» ) من زوجه أم لؤي سلمى بنت عمرو الخزاعي (ابن فهر «10» ) من زوجه أم غالب ليلى بنت سعد من هذيل، وفهر هو قريش- في قول الأكثرين- وكانت قريش

--------------------------------------------

للمبالغة أي مغير على الأعداء.

(1) من بني سليم بن منصور إحدى قبائل قيس عيلان بن مضر. المؤلف.

(2) قصي يقال اسمه زيد وهو تصغير قصيّ ويقال اسمه مجمّع ولقب قصيا لأنه أبعد عن أهله ووطنه مع أمه بعد وفاة أبيه.

(3) أن تكون مفاتيح البيت عنده فلا يدخله أحد إلّا باذنه.

(4) يعني في الحرب لأنه كان لا يحمله عندهم إلّا قوم مخصوصون.

(5) اسمه حكيم وقيل عروة ولقب بكلاب لأنه كان يكثر الصيد بالكلاب. أو من كلاب جمع كلب لأنهم يريدون الكثرة.

(6) منقول من وصف الحنظلة والعلقمة وكثيرا ما كانوا يسمونه بحنظلة وعلقمة.

(7) منقول إما من الكعب وهو قطعة من السمن أو من كعب القدم وهو أقرب وهو أول من جمع يوم العروبة ولم تسم العروبة الجمعة إلا منذ جاء الإسلام فكانت تجتمع إليه في هذا اليوم، فيخطبهم ويذكرهم بمبعث النبي صلى الله عليه وسلم.

(8) لؤي تصغير اللأي وهو الثور الوحشي.

(9) لم يذكر السهيلي في نسب الرسول (غالبا) .

(10) الفهر: الحجر الأملس يملأ الكف أو نحوه، وكان كريما.
আস-সুলামিয়্যাহ «১»)। (কুসাই-এর পুত্র «২») তার স্ত্রী হুবা বিনতে হালিল আল-খুজায়িয়্যাহর গর্ভজাত। জাহেলিয়াতের যুগে কুসাই-এর হাতে ছিল কাবার রক্ষণাবেক্ষণ (হাজাবা «৩»), হাজীদের পানি পান করানো (সিকায়া) এবং তাদের আপ্যায়ন করা যা 'রিফাদা' নামে পরিচিত ছিল। 'নাদওয়া' হলো পরামর্শ সভা, তার গৃহ ব্যতীত কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতো না। আর 'লিওয়া' বা যুদ্ধপতাকা: তার হাত ছাড়া যুদ্ধের কোনো পতাকা প্রস্তুত করা হতো না। যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলেন, তখন তিনি এই দায়িত্বগুলো তার অন্যতম পুত্র আবদুদ দারের হাতে অর্পণ করেন। কিন্তু আবদ মানাফের বংশধররা তাদের চাচাতো ভাই আবদুদ দারের সন্তানদের এই গৌরবময় কাজগুলোতে একচেটিয়া অধিকার ভোগ করতে না দেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করল। বিষয়টি যুদ্ধের দিকে মোড় নেওয়ার উপক্রম হয়েছিল, যদি না উভয় পক্ষের জ্ঞানীরা বিষয়টি সমাধান করতেন। ফলে তারা আবদ মানাফের বংশধরদের সিকায়া ও রিফাদার দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং এই দায়িত্বগুলো তাদের মধ্যেই থেকে যায়, যতক্ষণ না তা আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিব এবং পরবর্তীতে তার সন্তানদের হাতে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে হাজাবা বা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনী আবদুদ দারের হাতেই থেকে যায় এবং শরীয়তও তাদের জন্য এই অধিকার বহাল রাখে, যা বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের মধ্যেই বিদ্যমান। (তারা হলেন শায়বা ইবনে উসমান ইবনে আবি তালহা ইবনে আবদিল উজ্জা ইবনে উসমান ইবনে আবদুদ দারের বংশধর)। আর লিওয়া «৪» বা যুদ্ধপতাকা তাদের মধ্যেই বহাল ছিল যতক্ষণ না ইসলাম তা বিলুপ্ত করে এবং একে মুসলমানদের খলিফার অধিকারে ন্যস্ত করে, যা তিনি যাকে উপযুক্ত মনে করেন তাকে প্রদান করেন; নাদওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়। (কুসাই ইবনে কিলাব «৫»): তার স্ত্রী ফাতিমা বিনতে সাদ থেকে, যিনি ইয়ামানের আযদ শানুয়াহ গোত্রের ছিলেন। (মুররাহ ইবনে «৬»): তার স্ত্রী বনী ফিহর ইবনে মালিকের হিন্দা বিনতে সারীর থেকে। (কাব ইবনে «৭»): তার স্ত্রী বনী ফিহর গোত্রেরই ওয়াহাশিয়্যাহ বিনতে শায়বান থেকে। (লুয়াই ইবনে «৮»): তার মা উম্মে কাব মারিয়া বিনতে কাব থেকে, যিনি কুদাআহ গোত্রের। (গালিব ইবনে «৯»): তার স্ত্রী উম্মে লুয়াই সালমা বিনতে আমর আল-খুজায়ি থেকে। (ফিহর ইবনে «১০»): তার স্ত্রী উম্মে গালিব লায়লা বিনতে সাদ থেকে, যিনি হুযায়ল গোত্রের। অধিকাংশের মতে ফিহরই হলেন কুরাইশ—এবং কুরাইশরা ছিল

--------------------------------------------

আধিক্য বুঝাতে, অর্থাৎ শত্রুদের ওপর আক্রমণকারী।

(১) বনী সুলাইম ইবনে মানসুর থেকে, যা কায়েস আয়লান ইবনে মুদারের একটি গোত্র। — লেখক।

(২) বলা হয় কুসাই-এর নাম যায়েদ, যা 'কুসাই' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ। আবার বলা হয় তার নাম মুজাম্মি। তাকে কুসাই উপাধি দেওয়া হয়েছে কারণ বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সাথে তার পরিবার ও দেশ থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন।

(৩) কাবার চাবি তার কাছে থাকা, যাতে তার অনুমতি ছাড়া কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।

(৪) অর্থাৎ যুদ্ধের ক্ষেত্রে, কারণ তাদের মাঝে বিশেষ কিছু লোক ছাড়া এটি কেউ বহন করত না।

(৫) তার নাম হাকিম, কেউ বলেন উরওয়া; তাকে কিলাব উপাধি দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি কুকুর দিয়ে প্রচুর শিকার করতেন। অথবা এটি 'কালব' (কুকুর) শব্দের বহুবচন 'কিলাব' থেকে এসেছে, কারণ তারা প্রাচুর্য বুঝাতে চেয়েছেন।

(৬) এটি হান্তালা ও আলকামা (তিতা ফল) এর গুণাগুণ থেকে সংগৃহীত, তারা প্রায়শই হান্তালা ও আলকামা নাম রাখত।

(৭) এটি হয়তো 'কাব' থেকে নেওয়া যার অর্থ মাখনের টুকরো, অথবা পায়ের গোড়ালি (কাব) থেকে, যা অধিকতর সঠিক। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি 'ইয়াওমুল আরুবাহ' (শুক্রবারের প্রাচীন নাম) তে লোকদের একত্রিত করেছিলেন। ইসলামের আগমনের আগে আরুবাহকে জুমুআ বলা হতো না। এই দিনে তারা তার কাছে সমবেত হতো, আর তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন।

(৮) লুয়াই হলো 'আল-লাই' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ বন্য গরু।

(৯) সুহাইলি রাসূলুল্লাহর বংশপরম্পরায় (গালিব) নাম উল্লেখ করেননি।

(১০) ফিহর: মসৃণ পাথর যা হাতের তালু পূর্ণ করে দেয়; তিনি দানশীল ছিলেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৮)
اثنتي عشرة قبيلة: بنو عبد مناف، وبنو عبد الدار بن قصي، وبنو أسد بن عبد العزّى بن قصي، وبنو زهرة بن كلاب، وبنو مخزوم بن يقظة بن مرّة، وبنو تيم بن مرّة، وبنو عدي بن كعب، وبنو سهم بن هصيص بن عمرو بن كعب، وبنو عامر بن لؤي، وبنو تيم بن غالب، وبنو الحارث بن فهر، وبنو محارب بن فهر، والمقيمون منهم بمكّة يسمون «قريش البطاح» ، والذين بضواحيها «قريش الظواهر» (ابن مالك) من زوجه جندلة بنت الحرث من جرهم (ابن النضر «1» ) من زوجه عاتكة بنت عدوان من قيس عيلان (ابن كنانة) من زوجه برّة بنت مر بن أد (ابن خزيمة) «2» من زوجه عوانة بنت سعد من قيس عيلان (ابن مدركة «3» ) من زوجه سلمى بنت أسلم من قضاعة (ابن إلياس «4» ) من زوجه خندف المضروب بها المثل في الشرف والمنعة. (ابن مضر «5» ) من زوجه الرباب بنت جندة بن معد (ابن نزار «6» ) من زوجه سودة بنت عك. (ابن معد «7» ) من زوجه معانة بنت جوشم من جرهم. (ابن عدنان «8» ) .

هذا هو النسب المتّفق على صحته من علماء التاريخ والمحدّثين، أمّا النسب فوق ذلك فلا يصحّ فيه طريق، غاية الأمر أنّهم أجمعوا على أن نسب الرسول صلى الله عليه وسلم ينتهي إلى اسماعيل بن إبراهيم «9» أب العرب المستعربة. نسب شريف كما ترى؛ اباء طاهرون وأمّهات طاهرات، لم يزل عليه الصلاة والسلام ينتقل من أصلاب

--------------------------------------------

(1) الذهب الأحمر ولقب به لنضارته وجماله.

(2) تصغير خزمة وهي واحدة الخزم وقال أبو حنيفة: الخزم مثل الحبال الدّوم تتخذ من سعطه.

(3) لقّب مدركة لأنه أدرك الإبل التي كانت قد ضلّت، والياس أبوه.

(4) الياس مختلف فيه فمنهم من يقول الياس موافق للذي هو خلاف الرجاء وهو مصدر يئس وكان مثله كمثل لقمان الحكيم في قومه. وهو أول من أهدى البدن للبيت.

(5) مضر: مشتق من اللبن الماضر وسمي مضر لبياضه وهو الحامض- وكان جميلا حكيما وهو أول سن للعرب حداء الابل وفي الحديث لا تسبوا مضر ولا ربيع فإنهما كانا مؤمنين. رواه الديلمي في مسند الفردوس.

(6) نزار من النزارة وهي القلة، وهو أجمل أهل زمانه وأرجحهم عقلا. وقال صاحب الأغاني سمي بذلك لأنه كان فريد عصره.

(7) معد: من تمعد إذا اشتد. وأصله من المعد (بسكون العين) وهو القوة ولم يحارب أحدا إلا رجع بالنصر.

(8) عدنان: مأخوذ من عدن في المكان إذا أقام فيه ومنه جنات عدن أي جنات إقامة وخلود.

(9) أمه هاجر ولد اسماعيل بن ابراهيم اثني عشر رجلا فهي بني مرسل أرسله الله إلى أخواله بن جرهم وعمر مائة سنة وثلاثين سنة ثم مات رحمه الله تأثر عليه ودفن في الحجر مع أمه هاجر.
বারোটি গোত্র: বনু আবদ মানাফ, বনু আবদ আদ-দার ইবনে কুসাই, বনু আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই, বনু যুহরা ইবনে কিলাব, বনু মাখযুম ইবনে ইয়াকাজা ইবনে মুররা, বনু তায়িম ইবনে মুররা, বনু আদি ইবনে কাব, বনু সাহাম ইবনে হাসিছ ইবনে আমর ইবনে কাব, বনু আমির ইবনে লুয়াই, বনু তায়িম ইবনে গালিব, বনু হারিস ইবনে ফিহর এবং বনু মুহারিব ইবনে ফিহর। তাদের মধ্যে যারা মক্কায় বসবাস করত তাদের ‘কুরাইশে বিত্বাহ’ বলা হয় এবং যারা মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করত তাদের ‘কুরাইশে যাওয়াহির’ বলা হয়। (ইবনে মালিক) তার স্ত্রী জুরহুম গোত্রের হারিসের কন্যা জানদালা থেকে। (ইবনুন নাদর [১]) তার স্ত্রী কায়েস আয়লান গোত্রের আদওয়ানের কন্যা আতিকা থেকে। (ইবনে কিনানা) তার স্ত্রী মুররা বিন আদ-এর কন্যা বাররা থেকে। (ইবনে খুজাইমা [২]) তার স্ত্রী কায়েস আয়লান গোত্রের সাদের কন্যা আওয়ানা থেকে। (ইবনে মুদরিকাহ [৩]) তার স্ত্রী কুযাআ গোত্রের আসলামের কন্যা সালমা থেকে। (ইবনে ইলিয়াস [৪]) তার স্ত্রী খিন্দিফ থেকে, যার মর্যাদা ও প্রতিরোধের উদাহরণ পেশ করা হয়। (ইবনে মুদার [৫]) তার স্ত্রী জান্দা বিন মা’দ-এর কন্যা রাবাব থেকে। (ইবনে নিযার [৬]) তার স্ত্রী আক-এর কন্যা সাওদা থেকে। (ইবনে মা’দ [৭]) তার স্ত্রী জুরহুম গোত্রের জাওশামের কন্যা মুআনা থেকে। (ইবনে আদনান [৮])।

এটিই সেই বংশধারা যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিসগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এর ঊর্ধ্বের বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে কোনো বিশুদ্ধ সূত্র পাওয়া যায় না। তবে চূড়ান্ত কথা হলো, তারা এ বিষয়ে একমত যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধারা আরবে মুস্তারিবা-র পিতা ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম [৯] পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। আপনি যেমন দেখছেন, এটি একটি অত্যন্ত সম্মানিত বংশধারা; পবিত্র পিতৃপুরুষগণ এবং পবিত্র মাতৃকুল। তিনি (সা.) সর্বদা পবিত্র পৃষ্ঠদেশ থেকে পবিত্র গর্ভে স্থানান্তরিত হয়ে এসেছেন...

--------------------------------------------

(১) লাল স্বর্ণ; তার সজীবতা ও সৌন্দর্যের কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল।

(২) এটি খাজমাহ শব্দের ক্ষুদ্র রূপ, যা খাজাম গাছের একটি। আবু হানিফা বলেন: খাজাম হলো দাউম নামক এক প্রকার দড়ির মতো যা আঁশ থেকে তৈরি করা হয়।

(৩) তাকে মুদরিকাহ (অর্জনকারী) উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি হারিয়ে যাওয়া উটগুলো ফিরে পেয়েছিলেন, আর ইলিয়াস ছিলেন তার পিতা।

(৪) ইলিয়াসের নামের ব্যাপারে মতভেদ আছে। কেউ বলেন এটি ‘ইয়াস’ (নিরাশা) এর বিপরীত অর্থবোধক শব্দ, যা ‘ইয়ায়িসা’ ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত। তিনি তার কওমের মধ্যে লোকমান হাকিমের মতো ছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম কাবার জন্য হাদয় (কুরবানির পশু) উপহার পাঠিয়েছিলেন।

(৫) মুদার: এটি ‘মাদির’ (টক) দুধ থেকে উদ্ভূত। শরীরের শুভ্রতার কারণে তাকে মুদার বলা হতো। তিনি অত্যন্ত সুশ্রী ও প্রজ্ঞাবান ছিলেন। তিনি আরবদের মধ্যে সর্বপ্রথম উট চালনার জন্য ছন্দময় গান (হুদা) শুরু করেন। হাদিসে এসেছে: তোমরা মুদার ও রাবিআকে গালি দিও না, কারণ তারা মুমিন ছিলেন। এটি দাইলামি মুসনাদুল ফিরদাউসে বর্ণনা করেছেন।

(৬) নিযার: এটি ‘নিযারা’ থেকে এসেছে যার অর্থ স্বল্পতা। তিনি তার সময়ের সবচেয়ে সুন্দর এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। ‘আল-আঘানি’ গ্রন্থের লেখক বলেন, তাকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তিনি ছিলেন তার সময়ের অনন্য ব্যক্তি।

(৭) মা’দ: এটি ‘তামা’আদু’ থেকে এসেছে যার অর্থ শক্তিশালী হওয়া। এর মূল হলো ‘মা’দ’ (আইন বর্ণে সুকুন সহ), যার অর্থ শক্তি। তিনি যার সাথেই যুদ্ধ করেছেন বিজয়ী হয়ে ফিরেছেন।

(৮) আদনান: এটি ‘আদান’ থেকে গৃহীত যার অর্থ কোনো স্থানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করা। এখান থেকেই ‘জান্নাতে আদন’ এসেছে, অর্থাৎ চিরস্থায়ী বসবাসের জান্নাত।

(৯) তার মা হলেন হাজেরা। ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিমের বারোজন পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন প্রেরিত নবী যাকে আল্লাহ তার মাতুল বংশ জুরহুম গোত্রের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি একশত ত্রিশ বছর জীবিত ছিলেন, অতঃপর ইন্তেকাল করেন এবং তার মা হাজেরার পাশে হাতীমে (হিজর) সমাহিত হন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৯)
أولئك إلى أرحام هؤلاء حتى اختاره الله هاديا مهديا من أوسط العرب نسبا. فهو من صميم قريش التي لها القدم الأولى في الشرف وعلو المكانة بين العرب، ولا تجد في سلسلة ابائه إلّا كراما ليس فيهم مسترذل بل كلّهم سادة قادة، وكذلك أمهات ابائه من أرفع قبائلهن شأنا، ولا شكّ أن شرف النسب وطهارة المولد من شروط النبوّة، وكل اجتماع بين ابائه وأمهاته كان شرعيّا بحسب الأصول العربية، ولم ينل نسبه شيء من سفاح الجاهلية بل طهّره الله من ذلك والحمد لله.

 

‌‌زواج عبد الله بامنة وحملها

كان عبد الله بن عبد المطلب من أحب ولد أبيه إليه، فزوجه امنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب، وسنه ثماني عشرة سنة، وهي يومئذ من أفضل نساء قريش نسبا وموضعا. ولما دخل عليها حملت بالرسول صلى الله عليه وسلم. ولم يلبث أبوه أن توفي بعد الحمل بشهرين، ودفن بالمدينة عند أخواله بني عدي بن النجار، فإنه كان قد ذهب بتجارة إلى الشام. فأدركته منيته بالمدينة وهو راجع «1» ، ولمّا تمّت مدة حمل امنة وضعت ولدها، فاستبشر العالم بهذا المولود الكريم «2» الذي بثّ في أرجائه روح الاداب وتمّم مكارم الأخلاق. وقد حقّق المرحوم محمود باشا الفلكي أن ذلك كان صبيحة يوم الاثنين تاسع ربيع الأوّل الموافق لليوم العشرين من أبريل سنة 571 من الميلاد، وهو يوافق السنة الأولى من حادثة الفيل «3» .

وكانت ولادته في دار أبي طالب بشعب بني هاشم «4» . وكانت قابلته الشّفاء أم عبد

--------------------------------------------

(1) دفن في دار النابغة في دار الصغرى إذا دخلت الدار على يسارك في البيت وله خمس وعشرون سنة.

(2) روى مسلم في صحيحه أن أعرابيا سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صيام يوم الاثنين فقال: «ذاك يوم ولدت فيه وأنزل عليّ فيه، وروى أحمد في حديث تفرد به أنه ولد يوم الاثنين، واستنبئ يوم الاثنين ورفع الحجر الأسود يوم الاثنين، والجمهور على أنه كان في ربيع الأول ويقول النووي: ونقل ابراهيم بن المنذر الخزاعي شيخ البخاري وخليفة ابن خياط واخرون الإجماع عليه أي على أنه ولد عام الفيل- واتفقوا على أنه ولد يوم الاثنين من شهر ربيع الأول.

(3) حادثة شهيرة حصلت بمكة فأرخت بها العرب كعادتهم وكل أمة في التاريخ بالأمور المهمة وقد ذكر القران هذه الحادثة في سورة الفيل وحاصلها أن ملكا من ملوك الحبشة- الذين امتلكوا اليمن بعد حمير أغار على مكة وقصد هدم كعبتها، وكان معه فيل عظيم لم يكن العرب رأوا مثله، فاكراما للنبي المنتظر وغيرة على بيته الكريم جعل الله كيد الأعداء في تضليل، وأرسل عليهم طيرا أبابيل ترميهم بحجارة من سجيل فجعلهم كعصف مأكول، وأراح قريشا من عناء مقاومتهم أهـ. المؤلف.

(4) في المكان المعروف بسوق الليل في الدار التي صارت تدعى بدار محمد بن يوسف الثقفي أخي
তাঁরা এই সব গর্ভ থেকে স্থানান্তরিত হতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে আরবের সর্বোত্তম বংশ থেকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত হিসেবে মনোনীত করলেন। তিনি কুরাইশ বংশের মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকে আগত, যাদের আরবের মধ্যে মর্যাদা ও উচ্চাসনে অগ্রগণ্য ভূমিকা রয়েছে। আপনি তাঁর পিতৃপুরুষদের বংশপরম্পরায় কেবল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গকেই পাবেন, তাঁদের মধ্যে কোনো অধম ছিল না, বরং তাঁরা সকলেই ছিলেন নেতা ও পথপ্রদর্শক। একইভাবে তাঁর পিতৃপুরুষদের মাতাগণও নিজ নিজ গোত্রে অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বংশীয় মর্যাদা ও জন্মের পবিত্রতা নবুওয়াতের শর্তাবলীর অন্তর্ভুক্ত। তাঁর পিতৃপুরুষ ও মাতাদের মধ্যকার প্রতিটি মিলন আরবীয় রীতি অনুযায়ী বৈধ ছিল। জাহেলিয়াতের কোনো ব্যভিচার তাঁর বংশকে স্পর্শ করেনি, বরং আল্লাহ তাঁকে তা থেকে পবিত্র রেখেছেন এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।

 

‌‌আবদুল্লাহর সাথে আমিনার বিবাহ এবং তাঁর গর্ভধারণ

আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব তাঁর পিতার কাছে তাঁর সন্তানদের মধ্যে সবচাইতে প্রিয় ছিলেন। তাই তিনি তাঁকে ওহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাবের কন্যা আমিনার সাথে বিবাহ দেন, তখন তাঁর বয়স ছিল আঠারো বছর। আর তিনি তখন বংশমর্যাদা ও অবস্থানের দিক থেকে কুরাইশদের শ্রেষ্ঠ নারীদের অন্যতম ছিলেন। যখন তিনি তাঁর সাথে বাসর করলেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গর্ভে ধারণ করলেন। গর্ভধারণের দুই মাস পরেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে মদিনায় তাঁর মাতুল গোষ্ঠী বনু আদি বিন নাজ্জারের কাছে দাফন করা হয়; কেননা তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে শামে গিয়েছিলেন এবং ফিরে আসার পথে মদিনায় তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয় «১»। যখন আমিনার গর্ভকাল পূর্ণ হলো, তখন তিনি তাঁর সন্তান প্রসব করলেন। এই সম্মানিত নবজাতকের আগমনে বিশ্ব আনন্দিত হলো «২», যিনি বিশ্বজুড়ে শিষ্টাচারের প্রাণ সঞ্চার করেছেন এবং উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দিয়েছেন। মরহুম মাহমুদ পাশা আল-ফালাকি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, তা ছিল ৫৭১ খ্রিস্টাব্দের ২০শে এপ্রিল মোতাবেক ৯ই রবিউল আউয়াল সোমবারের সকাল। এটি হস্তী বাহিনীর ঘটনার প্রথম বছরের সমসাময়িক ছিল «৩»।

তাঁর জন্ম হয়েছিল বনু হাশিমের গিরিপথে আবু তালিবের ঘরে «৪»। তাঁর ধাত্রী ছিলেন আশ-শিফা উম্মে আবদ।

--------------------------------------------

(১) তাঁকে দারে নাবিগাহ এর ছোট ঘরে দাফন করা হয়; ঘরে প্রবেশ করলে হাতের বাম দিকের কক্ষে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর।

(২) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: "এটি সেই দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার ওপর (ওহী) অবতীর্ণ হয়েছে।" ইমাম আহমদ একটি একক সূত্রে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন, সোমবার নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছেন এবং সোমবারই হাজরে আসওয়াদ উত্তোলন করেছেন। অধিকাংশের মতে এটি রবিউল আউয়াল মাসে ছিল। ইমাম নববী বলেন: বুখারীর উস্তাদ ইব্রাহিম বিন মুনজির আল-খুজায়ি, খলিফা ইবনে খাইয়াত এবং অন্যান্যরা এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ তিনি হস্তীবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন—এবং তাঁরা একমত হয়েছেন যে তিনি রবিউল আউয়াল মাসের সোমবার জন্মগ্রহণ করেছেন।

(৩) এটি মক্কায় ঘটিত একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা, যা আরবরা তাদের রীতি অনুযায়ী ইতিহাস গণনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিল; ইতিহাসের প্রতিটি জাতিই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দিয়ে সময় গণনা করে। পবিত্র কুরআনের সূরা ফিলে এই ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এর সারসংক্ষেপ হলো—হাবশার রাজাদের মধ্যে একজন রাজা, যারা হিমইয়ার বংশের পর ইয়েমেন দখল করেছিল, সে মক্কা আক্রমণ করে এবং কাবা ঘর ধ্বংসের সংকল্প করে। তার সাথে একটি বিশাল হাতি ছিল যার মতো আরবরা আগে কখনো দেখেনি। অতঃপর প্রতীক্ষিত নবীর সম্মানে এবং তাঁর সম্মানিত ঘরের মর্যাদা রক্ষায় আল্লাহ শত্রুদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিলেন এবং তাদের ওপর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি প্রেরণ করলেন, যারা তাদের ওপর সিজ্জিল পাথর নিক্ষেপ করেছিল। ফলে তিনি তাদের ভক্ষিত চর্বিত ঘাসের মতো করে দিলেন এবং কুরাইশদের তাদের প্রতিরোধের কষ্ট থেকে মুক্তি দিলেন—লেখক।

(৪) সুকে লাইল নামক প্রসিদ্ধ স্থানে, সেই ঘরে যা মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আস-সাকাফির ভাই মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আস-সাকাফির ঘর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১০)
الرحمن بن عوف، ولما ولد أرسلت أمه لجده تبشّره فأقبل مسرورا وسمّاه محمدا «1» ، ولم يكن هذا الاسم شائعا قبل عند العرب، ولكن أراد الله أن يحقّق ما قدره وذكره في الكتب التي جاءت بها الأنبياء كالتوراة والإنجيل، فألهم جدّه أن يسميه بذلك إنفاذا لأمره، وكانت حاضنته أم أيمن بركة الحبشية أمة أبيه عبد الله، وأول من أرضعه ثويبة «2» أمة عمه أبى لهب.

 

‌‌الرضاع «3»

وكان من عادة العرب أن يلتمسوا المراضع لمواليدهم في البوادي ليكون أنجب للولد «4» ، وكانوا يقولون: إن المربّى في المدن يكون كليل الذهن فاتر العزيمة، فجاءت نسوة من بني سعد بن بكر يطلبن أطفالا يرضعنهم، فكان الرضيع المحمود من نصيب حليمة بنت أبي ذؤيب السعدية، واسم زوجها أبو كبشة «5» ، وهو الذي كانت قريش تنسب له الرسول صلى الله عليه وسلم حينما يريدون الاستهزاء به فيقولون:

هذا ابن أبي كبشة يكلّم من السماء! ودرّت البركات على أهل ذاك البيت الذين أرضعوه مدة وجوده بينهم «6» وكانت تربو عن أربع سنوات «7» .

--------------------------------------------

الحجاج بن يوسف وأدخل ذلك البيت في الدار حتى أخرجته الخيرزان أم الهادي والرشيد فجعلته مسجدا يصلى فيه.

(1) لا يعرف في العرب من تسمى بهذا الاسم قبله صلى الله عليه وسلم إلّا ثلاثة طمع اباؤهم حين سمعوا بذكر محمد صلى الله عليه وسلم وبقرب زمانه، وأنه يبعث في الحجاز أن يكون ولدا لهم، وهم محمد بن سفيان بن مجاشع، والثاني محمد بن أحيحة والأخير محمد بن حمران بن ربيعة.

(2) توفيت سنة سبع، قال ابن منده: واختلف في إسلامها وقال أبو نعيم: لا أعلم أحدا ذكره.

(3) مرضعاته ثمان: امنة- ثويبة- خولة- أم أيمن- سعدية- وثلاث نسوة من العواتك.

(4) لينشأ.

(5) اسمه الحارث بن عبد العزى فأسلم بعد ذلك، وحسن إسلامه.

(6) ذكر الواقدي أنهن كن عشرة نسوة من بني سعد بن بكر يلتمس بها الرضعاء في سنة شهباء (مجدبة) فقدمت على أتان (حمار صغير) لي قمراء (القمراء التي يميل لونها إلى الخضراء) كانت قد أذمت (أبطأت عليهم) ومعي صبي لنا، وشارف لنا والله ما تبضّ (ما ترشح) بقطرة وما كنا ننام ليلتنا أجمع مع صبينا الذي معنا من بكائه من الجوع، ما في ثديي ما يغنيه ولا في شارفنا ما يغذيه ولكنا كنا نرجو الغيث والفرج.. فما هو إلّا أن أخذته فجئت به رحلي، فأقبل عليه ثدياي بما شاء من لبن، فشرب حتى روي ثم نام، وشرب أخوه حتى روي، وقام صاحبي إلى شارفنا تلك إنها لحافل، فحلب منها ما شرب، وشربت حتى روينا فبتنا بخير ليلة.

(7) السيرة الحلبية. المؤلف.
আব্দুর রহমান ইবনে আউফ; এবং যখন তিনি জন্মগ্রহণ করলেন, তাঁর মা তাঁর দাদার কাছে সুসংবাদ পাঠিয়ে পাঠালেন। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে এগিয়ে এলেন এবং তাঁর নাম রাখলেন মুহাম্মদ। আরবদের মধ্যে এই নামটি ইতিপূর্বে প্রচলিত ছিল না, কিন্তু আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছিলেন এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলের মতো নবীগণের আনীত কিতাবসমূহে যা উল্লেখ করেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করতে চাইলেন। তাই তাঁর দাদাকে তাঁর আজ্ঞা পালনার্থে এই নামকরণ করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তাঁর লালন-পালনকারিণী ছিলেন উম্মে আয়মান বারাকাহ আল-হাবাশিয়াহ, যিনি তাঁর পিতা আব্দুল্লাহর দাসী ছিলেন। আর তাঁকে সর্বপ্রথম দুগ্ধ পান করান সুওয়াইবাহ, যিনি তাঁর চাচা আবু লাহাবের দাসী ছিলেন।

 

‌‌দুগ্ধপান

আরবদের রীতি ছিল তাদের সন্তানদের জন্য মরুভূমিতে দুগ্ধদানকারী ধাত্রী অনুসন্ধান করা, যাতে সন্তান অধিক সপ্রতিভ ও বলিষ্ঠ হয়ে বেড়ে ওঠে। তারা বলত: শহরে লালিত-পালিতরা স্থূলবুদ্ধি ও দুর্বল সংকল্পের অধিকারী হয়। অতঃপর বনু সা'দ ইবনে বকর গোত্র থেকে একদল মহিলা দুগ্ধপোষ্য শিশুর সন্ধানে এলেন। সেই প্রশংসিত দুগ্ধপোষ্য শিশুটি হালিমা বিনতে আবি জুআইব আস-সা’দিয়াহর ভাগে পড়লেন। তাঁর স্বামীর নাম ছিল আবু কাবশাহ। কুরাইশরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে উপহাস করতে চাইত, তখন তাঁকে এই ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করে বলত:

এই তো আবু কাবশাহর ছেলে, যে আকাশ থেকে কথা বলে! আর ওই পরিবারের ওপর বরকত বর্ষিত হয়েছিল যারা তাঁকে তাদের মাঝে থাকাকালীন সময়ে দুগ্ধ পান করিয়েছিলেন। এই সময়কাল ছিল চার বছরেরও বেশি।

--------------------------------------------

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এবং তিনি সেই ঘরটিকে প্রাসাদের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন যতক্ষণ না আল-হাদি ও আর-রশিদের মা খায়জুরান সেটি বের করে আনেন এবং সেখানে একটি মসজিদ তৈরি করেন যেখানে নামাজ পড়া হয়।

(১) আরবদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আগে এই নামে আর কেউ পরিচিত ছিল না, তবে তিনজন ব্যতীত যাদের পিতারা যখন মুহাম্মদ (সা.)-এর চর্চা এবং তাঁর আগমনের সময় নিকটবর্তী হওয়ার কথা শুনেছিলেন এবং জেনেছিলেন যে তিনি হিজাজে প্রেরিত হবেন, তখন তারা এই আশায় এই নাম রেখেছিলেন যে সম্ভবত তাদের সন্তানই সেই নবী হবে। তারা হলেন মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে মুজাশে’, দ্বিতীয় জন মুহাম্মদ ইবনে উহাইহাহ এবং সর্বশেষ মুহাম্মদ ইবনে হামরান ইবনে রাবিয়াহ।

(২) তিনি সপ্তম হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ইবনে মানদাহ বলেছেন: তাঁর ইসলাম গ্রহণ নিয়ে মতভেদ আছে। আবু নুআইম বলেছেন: আমি কাউকে এটি উল্লেখ করতে দেখিনি।

(৩) তাঁকে দুগ্ধ দানকারিণী ছিলেন আটজন: আমিনা, সুওয়াইবাহ, খাওলাহ, উম্মে আয়মান, সা’দিয়াহ এবং আওয়াতেক গোত্রের তিনজন নারী।

(৪) যাতে বেড়ে ওঠে।

(৫) তাঁর নাম হারিস ইবনে আব্দুল উযযা, তিনি পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর।

(৬) ওয়াকিদি বর্ণনা করেছেন যে, বনু সা'দ ইবনে বকরের দশজন নারী এক দুর্ভিক্ষের বছর দুগ্ধপোষ্য শিশুর সন্ধানে বের হয়েছিলেন। আমি একটি ম্লান রঙের মাদি গাধার পিঠে চড়ে এলাম যা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। আমার সাথে ছিল আমাদের এক ছোট শিশু এবং একটি মাদি উট, আল্লাহর কসম যা থেকে এক ফোঁটা দুধও আসত না। ক্ষুধার জ্বালায় আমাদের সাথে থাকা ছোট শিশুটির কান্নায় আমরা সারা রাত ঘুমাতে পারতাম না; আমার স্তনে তাকে তৃপ্ত করার মতো কিছু ছিল না এবং আমাদের মাদি উটেও তাকে পুষ্ট করার মতো কিছু ছিল না। তবে আমরা বৃষ্টি ও স্বস্তির আশা করছিলাম... তারপর আমি যখন তাঁকে নিলাম এবং আমার বাসস্থানে নিয়ে এলাম, আমার স্তন দুটি দুধের প্লাবনে ভরে গেল। তিনি তৃপ্ত হয়ে পান করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন, আর তাঁর ভাইও তৃপ্ত হয়ে পান করল। আমার স্বামী আমাদের সেই মাদি উটের কাছে গিয়ে দেখলেন সেটি দুধে পরিপূর্ণ। তিনি তা থেকে দোহন করলেন যা তিনি পান করলেন এবং আমিও পান করলাম যতক্ষণ না আমরা তৃপ্ত হলাম। অতঃপর আমরা এক চমৎকার রাত কাটালাম।

(৭) আস-সিরাহ আল-হালাবিয়াহ। লেখক।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌حادثة شق الصدر «1»

وحصل له وهو بينهم حادثة مهمة وهي شق صدره وإخراج حظّ الشيطان منه «2» ، فأحدث ذلك عند حليمة خوفا فردّته إلى أمه وحدثتها قائلة: بينما هو وإخوته في بهم «3» لنا خلف بيوتنا إذ أتى أخوه يعدو فقال لي ولأبيه: ذاك أخي القرشي قد أخذه رجلان عليهما ثياب بيض، فأضجعاه، فشقّا بطنه فهما يسوطانه «4» . فخرجت أنا وأبوه نحوه فوجدناه منتقعا لونه «5» ، فالتزمته والتزمه أبوه، فقلنا له: مالك يا بنيّ؟ فقال: جاءني رجلان عليهما ثياب بيض، فقال أحدهما لصاحبه: أهو هو؟؟ قال نعم. فأقبلا يبتدراني «6» فأضجعاني فشقا بطني، فالتمسا فيه شيئا، فأخذاه وطرحاه «7» ولا أدري ما هو.

 

‌‌وفاة امنة وكفالة عبد المطلب ووفاته وكفالة أبي طالب

ثم إن أمه أخذته منها، وتوجّهت به إلى المدينة لزيارة أخوال أبيه بني عدي بن النجار، وبينما هي عائدة أدركتها منيتها في الطريق فماتت بالأبواء «8» فحضنته أم

--------------------------------------------

(1) هي في السنة الثالثة وشق صدره أيضا ليلة الإسراء كما رواه البخاري.

(2) يشير إلى ما رواه البخاري ومسلم والترمذي «ما من مولود يولد إلّا نخسه الشيطان، فيستهل صارخا من نخسة الشيطان إلّا ابن مريم وأمه، قال أبو هريرة: اقرؤوا إن شئتم، (وإني أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم) قال عياض: يريد أن الله قبل دعاءها مع أن الأنبياء معصومون، وقال النووي: أشار عياض إلى أن جميع الأنبياء يشاركون عيسى في هذه الخصوصية.

(3) البهم: الصغار من الغنم، واحدتها: بهمة.

(4) يحركانه بسوط. المؤلف.

(5) شبيها بالنقع وهو التراب. المؤلف. أي متغيرا، يقال انتقع وجهه وامتقع (بالبناء للمجهول) إذا تغيّر.

(6) يرعاني.

(7) تتمة: ثم رداه كما كان فرجعنا به معنا، فقال أبوه: يا حليمة لقد خشيت أن يكون ابني أصيب فانطلقي بنا نردّه إلى أهله قبل أن يظهر به ما نتخوف قالت حليمة فاحتملناه فلم ترع أمه إلّا به، فقالت: ما ردّكما به يا ظئر (المرضعة) فقد كنتما عليه حريصين؟ فقالا: لا والله إلّا أن الله قد أدّى عنا وقضينا الذي علينا وقلنا نخشى الاتلاف والأحداث نرده إلى أهله. فقالت: ما ذاك بكما، فأصدقاني شأنكما فلم تدعنا حتى أخبرناها خبره، فقالت: أخشيتما عليه الشيطان؟! كلا والله ما للشيطان عليه من سبيل، والله انه لكائن لابني هذا شأن إلّا أخبركما خبره؟ قلنا: بلى قالت: حملت به فما حملت حملا قط أخف علي منه (يوهم ذلك أنهما حملت بغيره وهو غير ثابت) فأريت في النوم حين حملت به كأنه خرج مني نور أضاءت له قصور الشام، ثم وقع حين ولدته وقوعا ما يقعه المولود، معتمدا على يديه رافعا رأسه إلى السماء فدعاه عنكما. هذا الحديث قد روي من طرق اخر، وهو من الأحاديث المشهورة المتداولة بين السير والمغازي.

(8) قرية بين مكة والمدينة وهي أقرب إلى المدينة (المؤلف) وقد حصل ذلك وهو ابن ست سنين.
বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা«১»

তিনি যখন তাদের (বনু সাদ গোত্রের) মাঝে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে, আর তা হলো তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা এবং তাঁর ভেতর থেকে শয়তানের অংশ বের করে ফেলা। «২» এর ফলে হালিমার মনে ভয়ের সৃষ্টি হয় এবং তিনি তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। তিনি তাঁর কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন: একদিন তিনি এবং তাঁর দুধ-ভাইরা আমাদের ঘরের পেছনে আমাদের ছোট মেষপাল চরাচ্ছিলেন «৩», এমতাবস্থায় তাঁর ভাই দৌড়ে এসে আমাকে এবং তার পিতাকে বলল: আমার সেই কুরাইশি ভাইকে সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক ধরে ফেলেছে। তারা তাঁকে শুইয়ে দিয়ে তাঁর পেট চিরে ফেলেছে এবং তারা সেখানে কিছু একটা নাড়াচাড়া করছে «৪»। তখন আমি এবং তাঁর পিতা তাঁর দিকে দৌড়ে গেলাম এবং তাঁকে বিবর্ণ অবস্থায় পেলাম «৫»। আমি এবং তাঁর পিতা তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম এবং তাঁকে বললাম: হে বৎস! তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন: সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক আমার কাছে এলেন। তাদের একজন তার সঙ্গীকে বললেন: ইনিই কি তিনি? সে বলল: হ্যাঁ। এরপর তারা ক্ষিপ্রতার সাথে আমার দিকে এগিয়ে এলেন «৬» এবং আমাকে শুইয়ে দিয়ে আমার পেট চিরে ফেললেন। তারা সেখানে কিছু একটা খুঁজছিলেন, অতঃপর তা বের করে ফেলে দিলেন «৭»; আমি জানি না সেটি কী ছিল।

 

আমিনার মৃত্যু, আব্দুল মুত্তালিবের তত্ত্বাবধান ও মৃত্যু এবং আবু তালিবের তত্ত্বাবধান

অতঃপর তাঁর মা তাঁকে হালিমার কাছ থেকে নিয়ে নিলেন এবং তাঁর পিতার মামাবাড়ি বনু আদি বিন নাজ্জার গোত্রের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তাঁকে নিয়ে মদিনার অভিমুখে যাত্রা করলেন। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন, পথিমধ্যে তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং তিনি ‘আবওয়া’ নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন «৮»। অতঃপর উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন...

--------------------------------------------

(১) এটি (নবুয়ত পূর্ববর্তী) তৃতীয় বছরে সংঘটিত হয়। এছাড়া ইসরা ও মিরাজের রাতেও তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করা হয়েছিল যেমনটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি বুখারি, মুসলিম ও তিরমিযি বর্ণিত সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে যে, ‘প্রত্যেক নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় শয়তান তাকে স্পর্শ করে, ফলে শয়তানের সেই স্পর্শে শিশুটি চিৎকার করে কেঁদে ওঠে; কেবল মারইয়াম ও তাঁর পুত্র ব্যতীত।’ আবু হুরাইরা বলেন: তোমরা চাইলে পাঠ করতে পার— (আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে দিচ্ছি)। কাজি ইয়াজ বলেন: এর অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা তাঁর দোয়া কবুল করেছেন, যদিও নবীগণ নিষ্পাপ ও সংরক্ষিত। ইমাম নববী বলেন: কাজি ইয়াজ ইঙ্গিত করেছেন যে, সকল নবীই এই বৈশিষ্ট্যে ঈসা (আ.)-এর সাথে শরিক।

(৩) ‘আল-বাহাম’: ছোট মেষ বা ছাগলছানা; এর একবচন হলো ‘বাহমাহ’।

(৪) তারা তাঁকে চাবুক বা দণ্ডের ন্যায় নড়াচড়া করছিল— লেখক।

(৫) ধূলির রঙের মতো বিবর্ণ হওয়া— লেখক। অর্থাৎ চেহারা পরিবর্তিত হওয়া। বলা হয় ‘ইনতাকাআ’ বা ‘উমতাকাআ’ (কর্মবাচ্য) যখন কারো চেহারার রঙ বদলে যায়।

(৬) আমার যত্ন নিচ্ছিলেন/দ্রুত এগিয়ে আসছিলেন।

(৭) পরিশিষ্ট: অতঃপর তারা পেটটিকে আগের মতো জোড়া লাগিয়ে দিলেন এবং আমরা তাঁকে নিয়ে ফিরে এলাম। তাঁর (পালক) পিতা বললেন: হে হালিমা, আমি আশঙ্কা করছি আমার এই পুত্রটি কোনো সংকটে আক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই চলো আমরা একে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আসি। হালিমা বলেন: অতঃপর আমরা তাঁকে নিয়ে গেলাম। তাঁর মা আমাদের দেখে বিস্মিত হলেন এবং বললেন: হে ধাত্রী, তোমরা তো তাঁর প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলে, তবে কেন ফিরিয়ে আনলে? তারা বললেন: না, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় করেছেন এবং আমাদের যা করার ছিল তা আমরা সম্পন্ন করেছি। তবে আমরা তাঁর কোনো ক্ষতি বা অঘটনের আশঙ্কা করছি বিধায় তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনলাম। তিনি (মা আমিনা) বললেন: আসল ব্যাপার এটি নয়, আমাকে সত্য করে বলো তোমাদের কী হয়েছে? তিনি আমাদের ছাড়লেন না যতক্ষণ না আমরা তাঁকে বিস্তারিত সংবাদ দিলাম। তিনি বললেন: তোমরা কি তাঁর ওপর শয়তানের প্রভাবের ভয় পাচ্ছ? কক্ষনোই না, আল্লাহর শপথ, শয়তানের তাঁর ওপর কোনো আধিপত্য নেই। আল্লাহর শপথ, আমার এই পুত্রের এক মহান ভবিষ্যৎ রয়েছে; আমি কি তোমাদের সে সংবাদ দেব না? আমরা বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: যখন আমি গর্ভবতী হলাম, তখন আমার কাছে মনে হয়নি যে আমি কোনো বোঝা বহন করছি (এটি দ্বারা ইঙ্গিত করা হচ্ছে যে তিনি অন্য সন্তানও গর্ভধারণ করেছিলেন, তবে তা প্রমাণিত নয়)। আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমার থেকে একটি নূর বা জ্যোতি নির্গত হলো যার আলোতে শামের প্রাসাদসমূহ উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। অতঃপর যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন, তখন অন্যান্য নবজাতকের মতো স্বাভাবিকভাবে নয় বরং দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে মাথা আকাশের দিকে তুলে অবতীর্ণ হলেন। সুতরাং তোমরা তাঁর ব্যাপারে দুশ্চিন্তা ত্যাগ করো। এই হাদিসটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটি সিরাত ও মাগাযি বিষয়ক গ্রন্থসমূহে অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত হাদিসগুলোর অন্যতম।

(৮) এটি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী একটি গ্রাম, যা মদিনার নিকটবর্তী (লেখক)। এটি সংঘটিত হয়েছিল যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১২)
أيمن، وكفله جدّه عبد المطلب، ورقّ له رقة لم تعهد له في ولده، لما كان يظهر عليه مما يدل على أن له شأنا عظيما في المستقبل، وكان يكرمه غاية الإكرام، ولكن لم يلبث عبد المطلب أن توفي بعد ثماني سنوات من عمر الرسول صلى الله عليه وسلم «1» ، فكفله شقيق أبيه أبو طالب فكان له رحيما وعليه غيورا، وكان أبو طالب مقلّا من المال فبارك الله له في قليله، وكان الرسول صلى الله عليه وسلم في مدة كفالة عمه مثال القناعة، والبعد عن السفاسف التي يشتغل بها الأطفال عادة، كما روت ذلك أم أيمن حاضنته، فكان إذا أقبل وقت الأكل جاء الأولاد يختطفون وهو قانع بما سييسره الله له «2» .

 

‌‌السفر إلى الشام

ولما بلغت سنّه عليه الصلاة والسلام اثنتي عشرة سنة، أراد عمّه وكفيله السفر بتجارة إلى الشام، فاستعظم الرسول صلى الله عليه وسلم فراقه، فرقّ له، وأخذه معه، وهذه هي الرحلة الأولى، ولم يمكثوا فيها إلّا قليلا، وقد أشرف على رجال القافلة وهم بقرب بصرى «3» بحيرى الراهب «4» ، فسألهم عما راه في كتبهم المقدسة من بعثة نبي من العرب في هذا الزمن، فقالوا إنه لم يظهر للان «5» ، وهذه العبارة كثيرا ما كان يلهج بها أهل الكتاب من يهود ونصارى قبل بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا جاءَهُمْ ما عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكافِرِينَ «6» .

 

‌‌حرب الفجار «7»

ولما بلغت سنّه عليه الصلاة والسلام عشرين سنة حضر حرب الفجار، وهي

--------------------------------------------

(1) دفن بالحجون (جبل بأعلى مكة عنده مدافن أهلها عند قبر جده قصي) ولما حضرته الوفاة. أوصى به إلى عمه.

(2) كان يقول في أول الطعام الحمد لله، ولم تر منه كذبة ولا ضحك ولا جاهلية، ولا وقف مع صبيان يلعبون، تفسير الرازي ج 6 ص 568.

(3) قرية على الحدود بين بلاد الشام والأردن (وهي قرية من أعمال حوران) .

(4) اسمه سرجس كان راهبا مسيحيّا وكان ينكر لاهوت المسيح (يقول إن تسميته باله غير جائزة) وكان قسا عالما فلكيّا منجما وقد اتّخذ صومعته بقرب الطريق الموصل إلى الشام وكان يأمر بعبادة الله وينهى عن عبادة الأصنام.

(5) ملخّص القصّة أن بحيرى الراهب صنع طعاما ودعا له كل قريش فاجتمعوا إلّا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم أحضروه بعد إلحاح من بحيرى فلما رأى من أوصافه ما يوافق ذلك ما عنده أقبل على عمه أبي طالب وأوصاه أن يعود بابن أخيه حذرا عليه من اليهود فعمل أبو طالب ما نبهه إليه بحيرى.

(6) سورة البقرة اية 89.

(7) معنى المفاجرة كالقتال والمقاتلة وذلك أن قتالا كان في الشهر الحرام ففجروا فيه وأيام الفجار أربعة
আইমান [উম্মে আইমান] তাঁকে লালন-পালন করেন এবং তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর প্রতি এমন মমতা প্রদর্শন করেন যা তাঁর নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও কখনো দেখা যায়নি। কারণ তাঁর মধ্যে এমন কিছু নিদর্শন প্রকাশ পাচ্ছিল যা ভবিষ্যতে তাঁর এক মহান মর্যাদার ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তিনি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দান করতেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বয়স আট বছর হওয়ার পর আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন [১]। অতঃপর তাঁর বাবার সহোদর ভাই আবু তালিব তাঁর অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত দয়ালু এবং তাঁর বিষয়ে খুবই আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ছিলেন। আবু তালিবের সম্পদ অল্প ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর সেই অল্প সম্পদে বরকত দান করেন। চাচার অভিভাবকত্বে থাকাকালীন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন অল্পেতুষ্টির এক অনন্য দৃষ্টান্ত এবং শিশুদের সাধারণ তুচ্ছ বিষয়াদি থেকে মুক্ত, যা তাঁর ধাত্রী উম্মে আইমান বর্ণনা করেছেন। যখন খাবারের সময় হতো, তখন শিশুরা কাড়াকাড়ি করে খাবার গ্রহণ করত, কিন্তু আল্লাহ তাঁর জন্য যা সহজ করতেন তিনি তাতেই সন্তুষ্ট থাকতেন [২]।

 

‌‌সিরিয়া সফর

যখন তাঁর বয়স বারো বছর হলো, তখন তাঁর চাচা ও অভিভাবক ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া সফরের ইচ্ছা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে চাচার বিচ্ছেদ অত্যন্ত কষ্টকর মনে হলো। ফলে চাচার মনেও দয়া হলো এবং তিনি তাঁকে সাথে নিলেন। এটিই ছিল প্রথম সফর। তাঁরা সেখানে অল্পকাল অবস্থান করেন। তাঁরা যখন বুসরা [৩] নামক স্থানের কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন পাদ্রী বাহিরা [৪] কাফেলার লোকদের প্রতি লক্ষ্য করলেন। তিনি তাঁদের কাছে সেই বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা তিনি তাঁদের পবিত্র কিতাবসমূহে এই সময়ে আরবদের মধ্য থেকে একজন নবীর আবির্ভাবের ব্যাপারে পড়েছিলেন। তাঁরা বললেন যে, এখন পর্যন্ত কারো আবির্ভাব ঘটেনি [৫]। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে ইহুদি ও খ্রিস্টান আহলে কিতাবগণ এই কথাটিই বেশি আলোচনা করত। অতঃপর যখন তাদের কাছে তা আসলো যা তারা চিনত, তারা তা অস্বীকার করল। সুতরাং কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত [৬]।

 

‌‌হারবুল ফিজার [৭]

যখন তাঁর বয়স বিশ বছর হলো, তখন তিনি হারবুল ফিজার যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। এটি...

--------------------------------------------

(১) হাজুন নামক স্থানে দাফন করা হয় (এটি মক্কার উপরের দিকের একটি পাহাড় যেখানে তাঁর দাদা কুসাই-এর কবরের কাছে মক্কাবাসীদের কবরস্থান অবস্থিত)। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন তিনি তাঁর চাচার প্রতি অসিয়ত করে যান।

(২) তিনি খাবারের শুরুতে 'আলহামদুলিল্লাহ' (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলতেন। তাঁর পক্ষ থেকে কখনো কোনো মিথ্যা, অট্টহাসি বা জাহেলিয়াত দেখা যায়নি। তিনি শিশুদের সাথে খেলাধুলায় লিপ্ত হতেন না; তাফসীরে রাযী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫৬৮।

(৩) সিরিয়া ও জর্ডান সীমান্তের একটি গ্রাম (এটি হাওরান অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম)।

(৪) তাঁর নাম ছিল সারজিস। তিনি একজন খ্রিস্টান পাদ্রী ছিলেন এবং মসীহ (আ.)-এর ঈশ্বরত্ব অস্বীকার করতেন (তিনি বলতেন তাঁকে ঈশ্বর বলা বৈধ নয়)। তিনি একজন জ্ঞানী ধর্মযাজক ও জ্যোতির্বিদ ছিলেন। তিনি সিরিয়াগামী রাস্তার পাশে গির্জা তৈরি করেছিলেন। তিনি আল্লাহর ইবাদতের আদেশ দিতেন এবং মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করতেন।

(৫) গল্পের সারসংক্ষেপ হলো এই যে, পাদ্রী বাহিরা খাবার তৈরি করে কুরাইশদের সবাইকে দাওয়াত দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত সবাই সমবেত হলেন। অতঃপর বাহিরার জোরাজুরিতে তাঁকে উপস্থিত করা হলো। যখন তিনি তাঁর গুণাবলি নিজের কাছে থাকা বর্ণনার সাথে মিলে যেতে দেখলেন, তখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের নিকট এসে তাঁকে পরামর্শ দিলেন যে, ইহুদিদের পক্ষ থেকে বিপদের আশঙ্কায় তিনি যেন তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে ফিরে যান। ফলে আবু তালিব বাহিরা যা সতর্ক করেছিলেন সে অনুযায়ী কাজ করলেন।

(৬) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ৮৯।

(৭) 'মুফাজারাহ' শব্দের অর্থ লড়াই বা যুদ্ধ। যেহেতু এই লড়াই নিষিদ্ধ মাসে সংঘটিত হয়েছিল এবং এতে তারা পাপাচার (ফিজার) করেছিল, তাই এর নাম ফিজার। ফিজারের যুদ্ধ হয়েছিল চারদিন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
حرب كانت بين كنانة ومعها قريش، وبين قيس. وسببها أنه كان للنعمان بن المنذر ملك العرب بالحيرة «1» تجارة يرسلها كل عام إلى سوق عكاظ «2» لتباع له، وكان يرسلها في أمان رجل ذي منعة وشرف في قومه ليجيزها «3» ، فجلس يوما وعنده البرّاض بن قيس الكناني وكان فاتكا خليعا خلعه قومه لكثرة شرّه وعروة بن عتبة الرحّال فقال: من يجيز لي تجارتي هذه حتى يبلغها عكاظ؟ فقال البراض: أنا أجيزها على بني كنانة، فقال النعمان: إنّما أريد من يجيزها على الناس كلهم؟

فقال: عروة أبيت اللعن «4» أكلب خليع يجيزها لك؟ أنا أجيزها على أهل الشّيح والقيصوم من أهل نجد «5» وتهامة «6» فقال البرّاض: أو تجيزها عل كنانة يا عروة؟

قال: وعلى الناس كلّهم، فأسرّها في نفسه، وتربّص له حتى إذا خرج بالتجارة، قتله غدرا، ثم أرسلوا رسولا يخبر قومه كنانة بالخبر، ويحذرهم قيسا قوم عروة. وأما قيس فلم تلبث بعد أن بلغها الخبر أن همّت لتدرك ثأرها، حتى أدركوا قريشا وكنانة بنخلة «7» ، فاقتتلوا، ولما اشتدّ البأس، وحميت قيس، احتمت قريش بحرمها، وكان فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم. ثم أن قيسا قالوا لخصومهم: إنّا لا نترك دم عروة، فموعدنا عكاظ العام المقبل، وانصرفوا إلى بلادهم يحرّض بعضهم بعضا، فلما حال الحول جمعت قيس جموعها وكانت معها ثقيف وغيرها، وجمعت قريش جموعها من كنانة والأحابيش (وهم حلفاء قريش) وكان رئيس بني هاشم الزبير بن عبد المطلب ومعه اخوته أبو طالب وحمزة والعباس وابن أخيه النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، وكان على بني أمية حرب بن أمية، وله القيادة العامّة لمكانه في قريش شرفا وسنّا. وهكذا كان على كل

--------------------------------------------

فالفجار الأول كان بين كنانة وهوازن، والثاني بين قريش وكنانة، والثالث بين كنانة وبني نضر بن معاوية والفجار الأخير بين قريش وكنانة كلها.

(1) بلدة غرب الفرات كان يقيم بها ملك العرب من قبل ملوك فارس، فتحها خالد بن الوليد في السنة الثانية عشرة (راجع اتمام الوفاء) المؤلف.

(2) سوق كانت تعقدها العرب كل عام لتعرض فيها تجارتها وما قاله فصحاؤها من قصائد الفخر وما أشبه ذلك من مفاخر العرب، وهي أشبه في ذلك بمعارض أوربا الان. المؤلف.

(3) ليسوغها له (أي يسمح له بذلك) .

(4) تحية عربية ومعناها باعدت كل ما استحق المذمة. المؤلف.

(5) هو المرتفع من بلاد العرب وهو وسطها. المؤلف.

(6) هو ما انخفض من سواحل البلاد العربية والشرقي منها يسمى البحرين الفاصل بين نجد وتهامة الحجاز في الغرب واليمامة في الشرق. المؤلف.

(7) موضع بين مكة والطائف. المؤلف.
এটি একটি যুদ্ধ যা কিনানা (যাদের সাথে কুরাইশ ছিল) এবং কায়স গোত্রের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। এর কারণ ছিল হীরার আরব সম্রাট নুমান বিন মুনজির প্রতি বছর উকায মেলায় বিক্রির উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক পণ্য পাঠাতেন। তিনি এই পণ্যসমূহ তার কওমের এমন একজন প্রভাবশালী ও সম্মানিত ব্যক্তির নিরাপত্তায় পাঠাতেন যেন তা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছায়। একদিন তিনি বসলেন এবং তার নিকট বাররায বিন কায়স আল-কিনানী উপস্থিত ছিল—সে ছিল একজন দুঃসাহসী ও উশৃঙ্খল লোক যাকে তার কওম তার সীমাহীন অপকর্মের কারণে ত্যাজ্য করেছিল—এবং উরওয়াহ বিন উতবাহ আর-রাহহালও সেখানে উপস্থিত ছিল। নুমান বললেন: "কে আমার এই বাণিজ্যিক পণ্যের নিরাপত্তা দেবে যতক্ষণ না তা উকায পৌঁছায়?" বাররায বলল: "আমি বনু কিনানার পক্ষ থেকে এর নিরাপত্তা দেব।" নুমান বললেন: "আমি এমন একজনকে চাচ্ছি যে সমস্ত মানুষের হাত থেকে একে রক্ষা করে পৌঁছে দেবে?"

উরওয়াহ বলল: "হে সম্রাট (আপনি অভিশাপ থেকে মুক্ত থাকুন), একজন ত্যাজ্য কুকুর কি আপনার মালের নিরাপত্তা দেবে? আমি নজদ ও তিহামার শিহ ও কায়সুম (মরু উদ্ভিদ) অঞ্চলের অধিবাসীদের হাত থেকে এর নিরাপত্তা দেব।" বাররায বলল: "হে উরওয়াহ! তুমি কি কিনানার হাত থেকেও একে রক্ষা করবে?"

সে বলল: "হ্যাঁ, সমস্ত মানুষের হাত থেকেই।" বাররায এটি মনে পুষে রাখল এবং তার অপেক্ষায় ওত পেতে থাকল। যখন সে বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে বের হলো, বাররায তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করল। এরপর তারা কিনানা গোত্রের নিকট একজন দূত পাঠিয়ে এই সংবাদ জানাল এবং উরওয়াহর গোত্র কায়স সম্পর্কে তাদের সতর্ক করল। সংবাদ পাওয়ার পর কায়স গোত্র প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিলম্ব করেনি। তারা নাখলা নামক স্থানে কুরাইশ ও কিনানাকে ধরে ফেলল এবং তাদের মধ্যে যুদ্ধ হলো। যখন লড়াই চরম রূপ নিল এবং কায়স আক্রমণাত্মক হলো, তখন কুরাইশরা তাদের পবিত্র হারামে আশ্রয় নিল। তাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন। এরপর কায়স তাদের প্রতিপক্ষকে বলল: "আমরা উরওয়াহর রক্ত বৃথা যেতে দেব না; আগামী বছর উকায মেলায় আমাদের দেখা হবে।" তারা নিজ দেশে ফিরে গেল এবং একে অপরকে উস্কানি দিতে লাগল। বছর ঘুরে এলে কায়স তাদের বাহিনী সংগ্রহ করল, তাদের সাথে সাকিফ ও অন্যান্যরা ছিল। কুরাইশরাও কিনানা ও আহাবিশদের (যারা কুরাইশের মিত্র ছিল) নিয়ে তাদের বাহিনী সংগ্রহ করল। বনু হাশিমের প্রধান ছিলেন যুবাইর বিন আব্দুল মুত্তালিব, তার সাথে ছিলেন তার ভাই আবু তালিব, হামযা, আব্বাস এবং তার ভ্রাতুষ্পুত্র মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর বনু উমাইয়ার নেতৃত্বে ছিলেন হারব বিন উমাইয়া, কুরাইশ বংশে তার মর্যাদা ও বয়সের কারণে তিনি সর্বাধিনায়ক ছিলেন। এভাবেই প্রতিটি গোত্রের জন্য...

--------------------------------------------

প্রথম ফিজার ছিল কিনানা ও হাওয়াযিনের মধ্যে, দ্বিতীয়টি কুরাইশ ও কিনানার মধ্যে, তৃতীয়টি কিনানা ও বনু নাযর বিন মুয়াবিয়ার মধ্যে এবং শেষ ফিজারটি ছিল কুরাইশ ও সমগ্র কিনানার মধ্যে।

(১) এটি ফোরাত নদীর পশ্চিমে অবস্থিত একটি শহর যেখানে পারস্য সম্রাটদের পক্ষ থেকে নিযুক্ত আরব সম্রাটরা বসবাস করতেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ হিজরি বারো সনে এটি জয় করেন (ইতমামুল ওয়াফা দ্রষ্টব্য)। - লেখক।

(২) এটি এমন একটি বাজার যা আরবরা প্রতি বছর আয়োজন করত তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রদর্শন করতে এবং তাদের বাগ্মীরা সেখানে শ্রেষ্ঠত্বের কবিতা ও আরবের গৌরবগাথা বর্ণনা করত। এটি বর্তমান ইউরোপের প্রদর্শনীগুলোর মতো। - লেখক।

(৩) অর্থাৎ তাকে সেটির অনুমতি দেওয়া বা পথ সুগম করে দেওয়া।

(৪) এটি একটি আরবীয় সম্ভাষণ যার অর্থ: আপনি এমন সব কিছু থেকে দূরে থাকুন যা নিন্দার যোগ্য। - লেখক।

(৫) এটি আরব ভূখণ্ডের উঁচু এলাকা যা এর মধ্যভাগে অবস্থিত। - লেখক।

(৬) এটি আরব উপকূলের নিচু এলাকা। এর পূর্বাঞ্চলকে বাহরাইন বলা হয় যা নজদ ও তিহামার মধ্যে বিভাজনকারী এবং পশ্চিমে হিজাযের তিহামা ও পূর্বে ইয়ামামা অবস্থিত। - লেখক।

(৭) মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী একটি স্থান। - লেখক।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
بطن من بطون قريش رئيس ثم تناجزوا «1» الحرب، فكان يوما من أشدّ أيام العرب هولا، ولمّا استحلّ فيه من حرمات مكة التي كانت مقدّسة عند العرب سمي يوم الفجار. وكادت الدائرة تدور على قيس حتى انهزم بعض قبائلها ولكن أدركهم من دعا المتحاربين للصلح «2» على أن يحصوا قتلى الفريقين، فمن وجد قتلاه أكثر أخذ دية الزائد، فكانت لقيس زيادة أخذوا ديتها من قريش، وتعهد بها حرب بن أمية، ورهن لسدادها ولده أبا سفيان. وهكذا انتهت هذه الحرب التي كثيرا ما تشبه حروب العرب تبدؤها صغيرات الأمور حتى ألّف الله بين قلوبهم وأزاح عنهم هذه الضلالات بانتشار نور الإسلام بينهم.

 

‌‌حلف الفضول «3»

وعند رجوع قريش من حرب الفجار تداعوا لحلف الفضول فتمّ في دار عبد الله بن جدعان التميمي «4» أحد رؤساء قريش، وكان المتحالفون بني هاشم، وبني المطلب ابني عبد مناف، وبني أسد بن عبد العزى، وبني زهرة بن كلاب، وبني تيم بن مرة تحالفوا وتعاقدوا ألا يجدوا بمكة مظلوما من أهلها أو من غيرهم من سائر الناس إلا قاموا معه، حتى تردّ إليه مظلمته، وقد حضر هذا الحلف رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أعمامه، وقال بعد أن شرّفه الله بالرسالة: «لقد شهدت مع عمومتي حلفا في دار عبد الله بن جدعان ما أحب أن لي به حمر النّعم «5» ولو دعيت به في الإسلام لأجبت «6» » وذلك لأنه عليه الصلاة والسلام مبعوث بمكارم الأخلاق وهذا منها وقد أقرّ دين الإسلام كثيرا منها، يرشدك إلى هذا قوله عليه الصلاة والسلام: «بعثت لأتمم مكارم الأخلاق «7» » وقد دعا بهذا الحلف كثيرون فأنصفوا.

--------------------------------------------

(1) أي حضروا الحرب.

(2) هو عتبة بن ربيعة أحد ساداتها.

(3) أي تحالفوا ألا يتركوا عند أحد فضلا بظلمه أحدا إلا أخذوه له منه.

(4) يكنى أبا زهير. وهو ابن عم عائشة رضي الله عنها، وكان بدء أمره صعلوكا. وكان مع ذلك فاتكا حتى أبغضته عشيرته ونفاه أبوه، وحلف ألّا يؤويه أبدا لما أثقله من ديون، ثم أثرى بعد ذلك فأوسع في الكرم فصار أحد الأجواد المشهورين في الجاهلية.

(5) الشيء النفيس من الحيوانات وهي الإبل.

(6) ذكره ابن كثير في البداية والنهاية ج 2 ص 291.

(7) أورده مالك في الموطأ بلاغا عن النبي صلى الله عليه وسلم، وقال ابن عبد البر هو متصل من وجوه صحاح عن أبي هريرة وغيره مرفوعا.
কুরাইশদের এক গোত্রপ্রধান, এরপর তারা যুদ্ধে লিপ্ত হলো «১»। এটি ছিল আরবদের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ এক দিন। যেহেতু এতে মক্কার সেই পবিত্রতা লুণ্ঠিত হয়েছিল যা আরবদের কাছে পবিত্র ছিল, তাই একে 'ফিজার' (পাপাচার) এর যুদ্ধ বলা হয়। কায়েস গোত্র পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল এমনকি তাদের কিছু গোত্র পরাজিত হয়ে পালিয়েও গিয়েছিল, কিন্তু তখন এমন একজন এগিয়ে এলেন যিনি যুদ্ধরত পক্ষদ্বয়কে সন্ধির আহ্বান জানালেন «২» এই শর্তে যে, উভয় পক্ষের নিহতদের গণনা করা হবে। যার নিহত সংখ্যা বেশি হবে সে অতিরিক্ত লাশের রক্তপণ গ্রহণ করবে। কায়েসের নিহত সংখ্যা বেশি ছিল, ফলে তারা কুরাইশদের থেকে এর রক্তপণ গ্রহণ করল। হারব ইবন উমাইয়া এর জিম্মাদার হলেন এবং তা পরিশোধের জন্য নিজের পুত্র আবু সুফিয়ানকে বন্ধক রাখলেন। এভাবেই এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটল যা আরবদের অন্যান্য যুদ্ধের মতোই ছোটখাটো বিষয় থেকে শুরু হয়েছিল; অবশেষে আল্লাহ তাদের অন্তরে মহব্বত সৃষ্টি করে দিলেন এবং ইসলামের নূর বিস্তারের মাধ্যমে তাদের থেকে এই ভ্রষ্টতা দূর করলেন।

 

‌‌হিলফুল ফুদুল «৩»

ফিজারের যুদ্ধ থেকে কুরাইশদের প্রত্যাবর্তনের পর তারা 'হিলফুল ফুদুল'-এর জন্য পরস্পরকে আহ্বান জানাল। এটি কুরাইশ গোত্রপ্রধানদের অন্যতম আব্দুল্লাহ ইবন জুদআন আত-তামিমীর ঘরে «৪» সম্পন্ন হয়। চুক্তিবদ্ধরা ছিল বনু হাশিম, বনু মুত্তালিব (আবদে মানাফের দুই পুত্র), বনু আসাদ ইবন আবদিল উজ্জা, বনু জুহরা ইবন কিলাব এবং বনু তাইম ইবন মুররা। তারা এই মর্মে অঙ্গীকার ও চুক্তিবদ্ধ হলো যে, তারা মক্কায় এর অধিবাসী হোক বা অন্য কোনো মানুষ—কাউকে মজলুম (অত্যাচারিত) অবস্থায় পেলে অবশ্যই তার পাশে দাঁড়াবে, যতক্ষণ না তার পাওনা বা অধিকার তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাদের সাথে এই চুক্তিতে উপস্থিত ছিলেন। নবুওয়াত লাভে ধন্য হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন: “আমি আমার চাচাদের সাথে আব্দুল্লাহ ইবন জুদআনের ঘরে এমন একটি চুক্তিতে উপস্থিত ছিলাম, যার বিনিময়ে আমি লাল উট পাওয়াকেও «৫» পছন্দ করব না। যদি ইসলাম আসার পরেও আমাকে এর জন্য ডাকা হতো, তবে অবশ্যই আমি তাতে সাড়া দিতাম «৬»।” এর কারণ হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছেন এবং এটিও তারই অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম ধর্ম এমন অনেক উত্তম প্রথাকে বহাল রেখেছে। তাঁর বাণী এ দিকেই ইঙ্গিত করে: “আমি প্রেরিত হয়েছি উত্তম চারিত্রিক গুণাবলিকে পূর্ণতা দিতে «৭»।” এই চুক্তির দোহাই দিয়ে অনেকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তারা ইনসাফ লাভ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ তারা যুদ্ধে উপস্থিত হলো।

(২) তিনি হলেন উৎবা ইবন রাবিয়া, কুরাইশ নেতাদের একজন।

(৩) অর্থাৎ তারা এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল যে, তারা কারো ওপর কারো অন্যায় সুযোগ বা আধিপত্য থাকতে দেবে না, বরং মজলুমের অধিকার তার থেকে আদায় করে নেবে।

(৪) তার কুনিয়াত ছিল আবু জুহাইর। তিনি ছিলেন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর চাচাতো ভাই। শুরুতে তিনি নিঃস্ব ছিলেন। এমনকি তিনি সাহসী ও বেপরোয়া ছিলেন যার ফলে তার আত্মীয়রা তাকে অপছন্দ করত এবং তার পিতা তাকে বহিষ্কার করেন। তার ওপর অনেক ঋণ হওয়ার কারণে পিতা তাকে আর আশ্রয় না দেওয়ার শপথ করেন। পরে তিনি ধনী হন এবং প্রচুর দানশীলতা প্রদর্শন করেন, ফলে তিনি জাহেলি যুগের অন্যতম বিখ্যাত দাতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

(৫) পশুর মধ্যে অত্যন্ত মূল্যবান জিনিস, যা হলো লাল উট।

(৬) ইবন কাসীর এটি আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৯১-এ উল্লেখ করেছেন।

(৭) ইমাম মালিক এটি মুয়াত্তায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবন আব্দুল বার বলেন, এটি আবু হুরায়রা ও অন্যদের থেকে বর্ণিত সহীহ মারফূ রেওয়ায়েতগুলোর মাধ্যমে সংযুক্ত।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌رحلته إلى الشام المرّة الثانية

ولما بلغت سنه عليه الصلاة والسلام خمسا وعشرين سنة سافر إلى الشام المرّة الثانية، وذلك أن خديجة بنت خويلد الأسدية كانت سيدة تاجرة ذات شرف ومال، تستأجر الرجال في مالها وتضاربهم «1» إياه، فلما سمعت عن السيد من الأمانة وصدق الحديث ما لم تعرفه في غيره حتى سماه قومه الأمين، استأجرته ليخرج في مالها إلى الشام تاجرا، وتعطيه أفضل ما كانت تعطي غيره، فسافر مع غلامها ميسرة فباعا وابتاعا وربحا ربحا عظيما، وظهر للسيد الكريم في هذه السفرة من البركات ما حبّبه في قلب ميسرة غلام خديجة «2» .

 

‌‌زواجه خديجة

فلمّا قدما مكّة ورأت خديجة ربحها العظيم سرّت من الأمين عليه الصلاة والسلام، وأرسلت إليه تخطبه لنفسها، وكانت سنها نحو الأربعين وهي من أوسط «3» قريش حسبا وأوسعهم مالا. فقام الأمين عليه الصلاة والسلام مع أعمامه حتى دخل على عمّها عمرو بن أسد فخطبها منه بواسطة عمه أبي طالب فزوجها عمها. وقد خطب أبو طالب في هذا اليوم فقال: الحمد لله الذي جعلنا من ذرية إبراهيم، وزرع إسماعيل، وضئضيء «4» معدّ وعنصر مضر وجعلنا حضنة بيته وسوّاس حرمه وجعله لنا بيتا محجوجا، وحرما امنا، وجعلنا حكّام الناس. ثم إن ابن أخي هذا محمد بن عبد الله لا يوزن به رجل شرفا ونبلا وفضلا، وإن كان في المال قلّ، فإنّ المال ظل زائل، وأمر حائل، وعارية مستردّة، وهو والله بعد هذا له نبأ عظيم، وخطر جليل، وقد خطب إليكم رغبة في كريمتكم خديجة، وقد بذل لها من الصّداق (كذا) «5» وعلى ذلك تمّ الأمر. وقد كانت متزوجة قبله بأبي هالة

--------------------------------------------

(1) المضاربة: شركة تكون بين طرفين، من أحدهما المال، ومن الاخر العمل بالتجارة.

(2) كانت خديجة امرأة حازمة لبيبة شريفة مع ما أراد الله بها من كرامة، فلما أخبرها به غلامها ميسرة بعثت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت له: يا ابن عم إني قد رغبت فيك لقرابتك، وشرفك في قومك وأمانتك وحسن خلقك، وكانت خديجة يومئذ أوسط نساء قريش نسبا وأعظمهن شرفا وأكثرهن مالا، كل قومها كان حريصا على ذلك منها لو يقدر عليه.

(3) الوسط من أوصاف المدح والتفضيل فكان الوسط من أجل هذا مدحا في النسب.

(4) أصل. «المؤلف» .

(5) أصدقها رسول الله صلى الله عليه وسلم اثنتي عشرة أوقية ونصفا من الذهب والأوقية أربعون درهما شرعيّا.
‌সিরিয়ায় তাঁর দ্বিতীয় সফর

যখন তাঁর (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বয়স পঁচিশ বছর হলো, তখন তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সিরিয়া সফর করেন। ঘটনাটি ছিল এই যে, খুওয়াইলিদ আল-আসাদিয়ার কন্যা খাদিজা ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী নারী এবং বিপুল সম্পদের মালিক। তিনি তাঁর সম্পদের ব্যবসায় পুরুষদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করতেন এবং মুদারাবা (অংশীদারিত্ব) চুক্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। যখন তিনি সেই মহান ব্যক্তির (রাসূল) বিশ্বস্ততা ও সত্যবাদিতা সম্পর্কে এমন সব গুণের কথা শুনলেন যা অন্য কারও মাঝে শোনেননি—এমনকি তাঁর কওমের লোকেরা তাঁকে ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) বলে ডাকত—তখন তিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়ায় যাওয়ার জন্য তাঁকে নিয়োগ করলেন। তিনি তাঁকে অন্যদের তুলনায় উত্তম পারিশ্রমিক প্রদানের প্রস্তাব দিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর গোলাম মাইসারার সঙ্গে সফর করেন। তাঁরা সেখানে ক্রয়-বিক্রয় করেন এবং প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। এই সফরে সেই মহান ও সম্মানিত ব্যক্তির মাঝে এমন সব বরকত প্রকাশিত হলো যা খাদিজার গোলাম মাইসারার অন্তরে তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি করল।

 

‌খাদিজার সাথে তাঁর বিবাহ

অতঃপর যখন তাঁরা মক্কায় ফিরে এলেন এবং খাদিজা তাঁর বিপুল মুনাফা দেখতে পেলেন, তখন তিনি ‘আল-আমিন’ (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন। তিনি নিজে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাঁর নিকট লোক পাঠালেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় চল্লিশ বছর এবং তিনি বংশমর্যাদায় কুরাইশদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অধিক সম্পদের অধিকারী ছিলেন। অতঃপর আল-আমিন (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) তাঁর চাচাদের সঙ্গে নিয়ে খাদিজার চাচা আমর ইবনে আসাদের নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁর চাচা আবু তালিবের মধ্যস্থতায় তিনি বিয়ের প্রস্তাব পেশ করলে তাঁর চাচা (আমর ইবনে আসাদ) এই বিবাহ সম্পন্ন করেন। সেই দিন আবু তালিব এক ভাষণ প্রদান করেন এবং বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইব্রাহিমের বংশধর, ইসমাইলের সন্তান, মাআদ-এর বংশধারা এবং মুদারের মূল উৎস থেকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের তাঁর গৃহের তত্ত্বাবধায়ক এবং তাঁর পবিত্র হারামের সেবক বানিয়েছেন। তিনি এই গৃহকে আমাদের জন্য মানুষের হজ পালনের স্থান এবং একটি নিরাপদ অভয়ারণ্য করেছেন এবং আমাদের মানুষের ওপর শাসক নিযুক্ত করেছেন। এরপর কথা হলো, আমার এই ভ্রাতুষ্পুত্র মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহর সঙ্গে যদি আভিজাত্য, মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে অন্য কোনো মানুষের তুলনা করা হয়, তবে কেউই তাঁর সমকক্ষ হতে পারবে না। সম্পদের দিক থেকে যদিও তাঁর কিছু স্বল্পতা রয়েছে, তবে সম্পদ তো এক ক্ষণস্থায়ী ছায়া, এক পরিবর্তনশীল বিষয় এবং এমন এক গচ্ছিত বস্তু যা অবশ্যই ফেরত দিতে হয়। আল্লাহর কসম, এরপর নিশ্চয়ই তাঁর এক মহান ভবিষ্যৎ এবং সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তিনি আপনাদের মহীয়সী নারী খাদিজার পাণিগ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেছেন এবং তিনি তাঁর জন্য এই পরিমাণ মোহরানা নির্ধারণ করেছেন।" এর মাধ্যমেই বিষয়টি সুসম্পন্ন হলো। রাসূলুল্লাহর সাথে বিবাহের পূর্বে তিনি আবু হালার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) মুদারাবা: এটি দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত একটি অংশীদারি ব্যবসা; যেখানে এক পক্ষ থেকে পুঁজি সরবরাহ করা হয় এবং অন্য পক্ষ শ্রম বা ব্যবসা পরিচালনা করে।

(২) আল্লাহ তাআলা খাদিজার জন্য যে মর্যাদা ও সম্মান লিখে রেখেছিলেন, তার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা, বুদ্ধিমতী ও সম্ভ্রান্ত নারী। যখন তাঁর গোলাম মাইসারা তাঁকে সফরের বিস্তারিত ঘটনা জানালেন, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট লোক পাঠিয়ে বললেন: "হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আপনার নিকটাত্মীয়তা, আপনার বংশমর্যাদা, আপনার বিশ্বস্ততা এবং আপনার সুন্দর চরিত্রের কারণে আমি আপনার প্রতি আগ্রহী হয়েছি।" খাদিজা তখন বংশমর্যাদায় কুরাইশ নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সম্মানে মহান এবং সম্পদে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ছিলেন। তাঁর সম্প্রদায়ের প্রত্যেক ব্যক্তিই এমন মর্যাদা অর্জনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল, যদি তারা তা লাভ করতে পারত।

(৩) 'ওয়াসাত' শব্দটি প্রশংসা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; এ কারণে বংশমর্যাদার ক্ষেত্রে 'ওয়াসাত' দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব বোঝানো হয়েছে।

(৪) উৎস বা মূল। (লেখক)।

(৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে মোহরানা হিসেবে সাড়ে বারো উকিয়া সোনা প্রদান করেছিলেন। এক উকিয়া হলো শরয়ি হিসেবে চল্লিশ দিরহাম।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
توفي عنها وله منها ولد اسمه هالة وهو ربيب «1» المصطفى عليه الصلاة والسلام.

 

‌‌بناء البيت «2»

ولما بلغت سنه عليه الصلاة والسلام خمسا وثلاثين سنة. جاء سيل جارف فصدّع جدران الكعبة بعد توهينها من حريق كان أصابها قبل، فأرادت قريش هدمها ليرفعوها ويسقفوها. فإنها كانت رضيمة «3» فوق القامة، فاجتمعت قبائلهم لذلك. ولكنهم هابوا هدمها لمكانها في قلوبهم. فقال لهم الوليد بن المغيرة:

أتريدون بهدمها الإصلاح أم الإساءة؟ قالوا: بل الإصلاح، قال: إن الله لا يهلك المصلحين. وشرع يهدم فتبعوه وهدموا حتى وصلوا إلى أساس إسماعيل «4» .

وهناك وجدوا صحافا نقش فيها كثير من الحكم «5» على عادة من يضعون أساس بناء شهير ليكون تذكرة للمتأخرين بعمل المتقدّمين. ثم ابتدؤوا في البناء وأعدّوا لذلك نفقة ليس فيها مهر بغيّ ولا بيع ربا «6» ، وجعل الأشراف من قريش يحملون الحجارة على أعناقهم، وكان العباس ورسول الله صلى الله عليه وسلم فيمن يحمل، وكان الذي يلي البناء نجار رومي اسمه باقوم «7» ، وقد خصّص لكل ركن جماعة من العظماء ينقلون إليه الحجارة، وقد ضاقت بهم النفقة الطيبة عن إتمامه على قواعد اسماعيل، فأخرجوا منها الحجر «8» ، وبنوا عليه جدارا قصيرا علامة على أنه من

--------------------------------------------

(1) ابن امرأة الرجل من غيره.

(2) كان بناؤها في الدهر خمس مرّات الأولى: حين بناها شيث بن ادم والثانية: حين بناها ابراهيم على القواعد الأولى. والثالثة: حين بنتها قريش قبل الاسلام. والرابعة: حين احترقت في عهد ابن الزبير. والخامسة: في عهد أبي جعفر المنصور.

(3) الرضم: أن تنضد الحجارة بعضها على بعض من غير طين.

(4) في ابن هشام أساس ابراهيم.

(5) مما وجدوا حجرا مكتوبا فيه «من يزرع خيرا، يحصد غبطة ومن يزرع شرّا يحصد ندامة. تعملون السيئات وتجزون الحسنات. أجل كما لا يجتنى من الشّوك العنب.

(6) كان محرما عليهم في الجاهلية يعلمون ذلك ببقية من بقايا شرع ابراهيم عليه السلام كما بقي عليهم وشيء من أحكام الطلاق والعتق وغير ذلك وفي قوله سبحانه (وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا) دليل على تقدم التحريم.

(7) يا قوم وقيل يا قوم أو يا قول.

(8) قال عليه السلام لعائشة لولا حدثان عهد قومك بالجاهلية لهدمتها، وجعلت لها خلفا وألصقت بابها بالأرض، وأدخلت فيها الحجر أو كما قال وردت في معناه أحاديث رواها الشيخان وأحمد وأبو داود والنسائي والترمذي.
তিনি তার থেকে ইন্তেকাল করেন এবং তার গর্ভজাত হালাহ নামক এক পুত্র ছিল, যে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পালিত পুত্র ছিল।

 

‌‌কাবা ঘর নির্মাণ

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর হলো, তখন এক বিধ্বংসী বন্যা এল যা কাবার দেয়ালগুলোতে ফাটল ধরিয়ে দিল। এর আগে একটি অগ্নিকাণ্ডের ফলে দেয়ালগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাই কুরাইশরা তা ভেঙে পুনর্নির্মাণ করতে চাইল যাতে তারা সেটিকে আরও উঁচু করতে পারে এবং তাতে ছাদ দিতে পারে। কেননা তখন সেটি ছিল মানুষের উচ্চতার চেয়ে সামান্য উঁচু পাথর সাজিয়ে রাখা দেয়ালের মতো। এ কাজের জন্য তাদের গোত্রগুলো সমবেত হলো। কিন্তু কাবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে তারা তা ভাঙতে ভয় পেল। তখন ওয়ালীদ ইবনুল মুগীরা তাদের বললেন:

তোমরা কি তা ভাঙার মাধ্যমে সংস্কার করতে চাও নাকি ক্ষতি করতে চাও? তারা বলল: বরং সংস্কার করতে চাই। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সংস্কারকারীদের ধ্বংস করেন না। অতঃপর তিনি ভাঙা শুরু করলেন এবং অন্যরাও তাকে অনুসরণ করল। তারা ভাঙতে ভাঙতে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তি পর্যন্ত পৌঁছে গেল।

সেখানে তারা কিছু শিলালিপি দেখতে পেল যাতে অনেক প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা উৎকীর্ণ ছিল, যেমনটি বিখ্যাত ইমারতের ভিত্তি স্থাপনের সময় উত্তরসূরিদের জন্য পূর্বসূরিদের কাজের স্মারক হিসেবে রাখার রীতি ছিল। এরপর তারা নির্মাণ কাজ শুরু করল এবং এর জন্য এমন অর্থ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিল যাতে কোনো ব্যভিচারিণীর উপার্জনকে বা সুদের ব্যবসার টাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ তাদের কাঁধে করে পাথর বহন করতে লাগলেন। আব্বাস এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-ও পাথর বহনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নির্মাণ কাজের দায়িত্বে ছিলেন বাকুম নামক একজন রোমান সূত্রধর। প্রতিটি কোণের জন্য একদল বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পাথর স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু পবিত্র অর্থের সংকুলান না হওয়ায় ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর ভিত্তির ওপর পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ সম্পন্ন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ল। তাই তারা হিজর অংশটি কাবার বাইরে রেখে দিল এবং এর ওপর একটি ছোট দেয়াল নির্মাণ করে দিল যাতে বুঝা যায় এটি কাবারই অংশ।

--------------------------------------------

(১) কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর অন্য স্বামীর ঘরের সন্তান।

(২) ইতিহাসে কাবা পাঁচবার নির্মিত হয়েছিল। প্রথমবার: যখন শীষ ইবনে আদম তা নির্মাণ করেন। দ্বিতীয়বার: যখন ইব্রাহিম আদি ভিত্তির ওপর তা নির্মাণ করেন। তৃতীয়বার: যখন ইসলামের পূর্বে কুরাইশরা তা নির্মাণ করে। চতুর্থবার: যখন ইবনে জুবায়েরের আমলে তা পুড়ে গিয়েছিল। পঞ্চমবার: আবু জাফর মানসুরের আমলে।

(৩) রাদম: মাটি বা চুন ছাড়াই পাথরের ওপর পাথর সাজিয়ে রাখা।

(৪) ইবনে হিশামের বর্ণনায় এটি ইব্রাহিমের ভিত্তি।

(৫) তারা যে পাথরগুলো পেয়েছিল তার একটিতে লেখা ছিল: "যে কল্যাণের বীজ বপন করবে, সে আনন্দের ফসল ঘরে তুলবে; আর যে মন্দের বীজ বপন করবে, সে অনুতাপের ফসল কাটবে। তোমরা কি মন্দ কাজ করবে আর ভালো প্রতিদানের আশা রাখবে? হ্যাঁ, যেমন কাঁটাগাছ থেকে আঙুর আহরণ করা যায় না।"

(৬) জাহেলিয়াত যুগেও এটি তাদের কাছে নিষিদ্ধ ছিল। তারা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর শরীয়তের অবশিষ্ট অংশ থেকে এটি জানত, যেমন তাদের মধ্যে তালাক, দাসমুক্তি এবং অন্যান্য কিছু বিধান অবশিষ্ট ছিল। মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন) এতে এই হারামের প্রাচীনত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।

(৭) বাকুম, কেউ বলেছেন ইয়াকুম অথবা ইয়াকুল।

(৮) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাযি.)-কে বলেছিলেন: "যদি তোমার সম্প্রদায় জাহেলিয়াত থেকে নতুন ইসলাম গ্রহণকারী না হতো, তবে আমি কাবা ভেঙে দিতাম এবং এর একটি পিছনের দরজা তৈরি করতাম, এর প্রবেশপথ মাটির সাথে মিশিয়ে দিতাম এবং হিজর অংশটিকে কাবার ভেতরে ঢুকিয়ে দিতাম।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন। এই মর্মে বুখারি, মুসলিম, আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিজি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
الكعبة. ولمّا تمّ البناء ثماني عشرة ذراعا بحيث زيد فيه عن أصله تسعة أذرع ورفع الباب عن الأرض بحيث لا يصعد إليها إلّا بدرج أرادوا وضع الحجر الأسود موضعه، فاختلف أشرافهم فيمن يضعه، وتنافسوا في ذلك حتى كادت تشبّ بينهم نار الحرب، ودام بينهم هذا الخصام أربع ليال، وكان أسنّ رجل في قريش إذ ذاك أبو أمية بن المغيرة المخزومي عم خالد بن الوليد فقال لهم: يا قوم لا تختلفوا وحكّموا بينكم من ترضون بحكمه. فقالوا: نكل الأمر لأوّل داخل، فكان هذا الداخل هو الأمين المأمون عليه الصلاة والسلام، فاطمأن الجميع له لما يعهدونه فيه من الأمانة وصدق الحديث وقالوا: هذا الأمين رضيناه، هذا محمد لأنهم كانوا يتحاكمون إليه إذ كان لا يداري ولا يماري. فلما أخبروه الخبر بسط رداءه، وقال: لتأخذ كل قبيلة بناحية من الثوب، ثم وضع فيه الحجر «1» وأمرهم برفعه حتى انتهوا إلى موضعه فأخذه ووضعه فيه. وهكذا انتهت هذه المشكلة التي كثيرا ما يكون أمثالها سببا في انتشار حروب هائلة بين العرب لولا أن يمنّ الله عليهم بعاقل مثل أبي أمية يرشدهم إلى الخير، وحكيم مثل الرسول صلى الله عليه وسلم يقضي بينهم بما يرضي جميعهم، ولا يستغرب من قريش تنافسهم هذا لأن البيت قبلة العرب وكعبتهم التي يحجون إليها فكل عمل فيه عظيم به الفخر والسيادة وهو أول بيت وضع للعبادة بشهادة القران الكريم قال تعالى في سورة ال عمران: إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبارَكاً وَهُدىً لِلْعالَمِينَ فِيهِ آياتٌ بَيِّناتٌ مَقامُ إِبْراهِيمَ وَمَنْ دَخَلَهُ كانَ آمِناً «2» وكان يلي أمره بعد ولد اسماعيل قبيلة جرهم فلما بغوا وظلموا من دخل مكة اجتمعت عليهم خزاعة وأجلوهم عن البيت، ووليته خزاعة حينا من الدهر.

ثم أخذته منهم قريش في عهد قصي بن كلاب وبسببه أمنوا في بلادهم فكانت قبائل العرب تهابهم. وإذا احتموا به كان حصنا أمينا من اعتداء العادين، وامتنّ الله عليهم بذلك في تنزيله فقال في سورة العنكبوت: أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا جَعَلْنا حَرَماً آمِناً وَيُتَخَطَّفُ النَّاسُ مِنْ حَوْلِهِمْ «3» .

--------------------------------------------

(1) عن ابن عباس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أنزل الحجر الأسود من الجنة أشد بياضا من اللبن فسوّدته خطايا بني ادم. رواه الترمذيّ.

(2) اية 96- 97.

(3) اية 67.
কাবা। যখন নির্মাণ কাজ আঠারো হাত পর্যন্ত সম্পন্ন হলো, যেখানে এর মূল ভিত্তির ওপর নয় হাত বৃদ্ধি করা হয়েছিল এবং এর দরজা মাটি থেকে উঁচুতে রাখা হয়েছিল যাতে সিঁড়ি ছাড়া সেখানে আরোহণ করা না যায়, তখন তারা হাজরে আসওয়াদকে তার স্বস্থানে স্থাপন করার ইচ্ছা করল। অতঃপর তাদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ এটি কে স্থাপন করবে তা নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ল এবং এ নিয়ে তাদের মধ্যে এমন প্রতিযোগিতা শুরু হলো যে প্রায় যুদ্ধের আগুন জ্বলে ওঠার উপক্রম হয়েছিল। তাদের মধ্যে এই বিবাদ চার রাত পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। সে সময় কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালীদের চাচা আবু উমাইয়া বিন মুগীরা মাখজুমী। তিনি তাদের বললেন: হে সম্প্রদায়! তোমরা মতভেদ করো না; বরং তোমাদের মধ্যে এমন একজনকে বিচারক মানো যার ফয়সালায় তোমরা সন্তুষ্ট হতে পারো। তারা বলল: আমরা বিষয়টি যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম প্রবেশ করবেন তার ওপর ন্যস্ত করব। অতঃপর সেই প্রবেশকারী ব্যক্তিটি ছিলেন আল-আমীন আল-মামুন (যাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। তাঁর বিশ্বস্ততা এবং সত্যভাষিতার কথা সবার জানা থাকায় প্রত্যেকেই তাঁর ওপর আশ্বস্ত হলেন এবং বললেন: ইনিই সেই আমীন (বিশ্বস্ত), আমরা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। ইনি মুহাম্মদ। কারণ তারা তাঁর কাছেই বিচারপ্রার্থনা করত যেহেতু তিনি তোষামোদ করতেন না এবং বিতর্কও করতেন না। যখন তারা তাঁকে বিষয়টি অবহিত করল, তখন তিনি তাঁর চাদর বিছিয়ে দিলেন এবং বললেন: প্রত্যেক গোত্র যেন এই চাদরের এক একটি প্রান্ত ধারণ করে। অতঃপর তিনি তাতে পাথরটি রাখলেন এবং তাদের সেটি তুলতে আদেশ দিলেন। যখন তারা যথাস্থানে পৌঁছাল, তখন তিনি তা স্বহস্তে গ্রহণ করে সেখানে স্থাপন করলেন। এভাবেই এই সমস্যার সমাধান হলো, যার সদৃশ ঘটনাগুলো প্রায়শই আরবদের মাঝে ভয়াবহ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতো; যদি না আল্লাহ আবু উমাইয়ার মতো একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ করতেন যিনি তাদের কল্যাণের পথ দেখান এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মতো একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির মাধ্যমে ফয়সালা না করে দিতেন যা তাদের সকলকে সন্তুষ্ট করেছিল। আর কুরাইশদের পক্ষ থেকে এই প্রতিযোগিতা কোনো বিস্ময়কর বিষয় ছিল না, কারণ এই গৃহটি হলো আরবদের কিবলা এবং তাদের কাবা যেখানে তারা হজ্জ করতে আসত। তাই সেখানে সম্পাদিত যেকোনো কাজই ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং তা গর্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক। কুরআনুল কারীমের সাক্ষ্য অনুযায়ী এটিই ইবাদতের জন্য নির্মিত প্রথম গৃহ। আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানে ইরশাদ করেন: নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে গৃহটি নির্ধারিত হয়েছে, তা হচ্ছে সেটিই যা বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত; যা বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত স্বরূপ। তাতে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ রয়েছে, যেমন মাকামে ইবরাহীম। আর যে সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ হয়। ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরদের পর জুরহুম গোত্র এই গৃহের দায়িত্ব পালন করত। অতঃপর যখন তারা সীমালঙ্ঘন করল এবং মক্কায় প্রবেশকারীদের ওপর জুলুম করল, তখন খুযাআ গোত্র তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হলো এবং তাদের এই গৃহ থেকে বহিষ্কার করল। এক সময় খুযাআ গোত্র এর দায়িত্ব পালন করল।

অতঃপর কুসাই বিন কিলাবের যুগে কুরাইশরা তাদের কাছ থেকে এর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং এর কারণে তারা তাদের জনপদে নিরাপদ হয়েছিল, ফলে আরবের গোত্রগুলো তাদের ভয় পেত। যখন তারা সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করত, তখন তা আক্রমণকারীদের হাত থেকে এক নিরাপদ দুর্গে পরিণত হতো। আল্লাহ তাআলা তাঁর নাযিলকৃত কিতাবে এর মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি সূরা আল-আনকাবূতে ইরশাদ করেছেন: তারা কি দেখে না যে, আমি একটি নিরাপদ হারাম (পবিত্র স্থান) তৈরি করেছি, অথচ তাদের চারপাশ থেকে মানুষদের ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে?

--------------------------------------------

(১) ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: 'হাজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, যা দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল, অতঃপর আদম সন্তানের গুনাহসমূহ একে কালো করে দিয়েছে।' তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) আয়াত ৯৬-৯৭।

(৩) আয়াত ৬৭।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌معيشته عليه الصلاة والسلام قبل البعثة

لم يرث عليه الصلاة والسلام من والده شيئا. بل ولد يتيما عائلا «1» فاسترضع في بني سعد. ولما بلغ مبلغا يمكّنه أن يعمل عملا كان يرعى الغنم مع إخوته من الرضاع في البادية، وكذلك لما رجع إلى مكة كان يرعاها لأهلها على قراريط كما ذكر ذلك البخاري في صحيحه «2» . ووجود الأنبياء في حال التجرّد عن الدنيا ومشاغلها أمر لا بد منه، لأنهم لو وجدوا أغنياء لألهتهم الدنيا وشغلوا بها عن السعادة الأبدية. ولذلك ترى جميع الشرائع الإلهية متفقة على استحسان الزهد فيها والتباعد عنها، وحال الأنبياء السالفين أعظم شاهد على ذلك، فكان عيسى عليه الصلاة والسلام أزهد الناس في الدنيا، وكذلك كان موسى وابراهيم. وكانت حالتهم في صغرهم ليست سعة بل كلهم سواء، تلك حكمة بالغة أظهرها الله على أنبيائه ليكونوا نموذجا لمتّبعيهم في الامتناع عن التكالب على الدنيا والتهافت عليها، وذلك سبب البلايا والمحن. وكذلك رعاية الغنم، فما من نبي إلا رعاها كما أخبر عن ذلك الصادق المصدوق في حديث للبخاري، وهذه أيضا من بالغ الحكم، فإن الإنسان إذا استرعى الغنم وهي أضعف البهائم سكن قلبه الرأفة واللطف تعطفا، فإذا انتقل من ذلك إلى رعاية الخلق كان لما هذّب أولا من الحدّة الطبيعية والظلم الغريزي، فيكون في أعدل الأحوال. ولما شبّ عليه الصلاة والسلام كان يتجر، وكان شريكه السائب بن أبي السائب. وذهب بالتجارة لخديجة رضي الله عنها، إلى الشام على جعل «3» يأخذه، ولما شرّفت خديجة بزواجه، وكانت ذات يسار عمل في مالها وكان يأكل من نتيجة عمله. وحقّق الله ما امتنّ عليه به في سورة الضحى بقوله جل ذكره: أَلَمْ يَجِدْكَ يَتِيماً فَآوى وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدى وَوَجَدَكَ عائِلًا فَأَغْنى «4» بالإيواء والإغناء قبل النبوة والهداية بالنبوة، هداه للكتاب والإيمان ودين إبراهيم عليه السلام ولم يكن يدري ذلك قبل. قال تعالى في سورة الشورى: وَكَذلِكَ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ رُوحاً مِنْ أَمْرِنا ما كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتابُ وَلَا

--------------------------------------------

(1) فقيرا لا مال له.

(2) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما بعث الله نبيا إلّا رعى الغنم. فقال أصحابه: وأنت؟ قال: نعم، كنت أرعاها على قراريط لأهل مكة وقراريط جمع قيراط وهو أحد أجزاء الدينار.

(3) ما جعل للانسان من شيء على فعل يقوم به.

(4) اية 6- 8.
‌নবুয়তের পূর্বে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনযাত্রা

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো কিছু লাভ করেননি। বরং তিনি একজন দরিদ্র এতিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন «১», অতঃপর বনু সা’দ গোত্রে তাঁর দুধপানের ব্যবস্থা করা হয়। যখন তিনি কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি মরুভূমিতে তাঁর দুধ-ভাইদের সাথে বকরি চরাতেন। একইভাবে যখন তিনি মক্কায় ফিরে এলেন, তখন তিনি মক্কাবাসীদের জন্য কিছু কিরাতের বিনিময়ে বকরি চরাতেন, যেমনটি ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন «২»। নবীদের জন্য দুনিয়া ও দুনিয়াবী ব্যস্ততা থেকে মুক্ত থাকা একটি অপরিহার্য বিষয়; কারণ তাঁরা যদি সম্পদশালী হতেন তবে দুনিয়া তাঁদের মোহাচ্ছন্ন করে রাখত এবং তাঁরা এর মাধ্যমে চিরস্থায়ী সৌভাগ্য থেকে বিমুখ হতেন। এই কারণে আপনি দেখতে পাবেন যে, সকল ঐশী বিধান দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি (যুহদ) এবং তা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার প্রশংসনীয়তার বিষয়ে একমত। পূর্ববর্তী নবীদের অবস্থা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ; ঈসা (আলাইহিস সালাম) দুনিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনাসক্ত ছিলেন, আর মূসা ও ইব্রাহিম (আলাইহিমাস সালাম)-ও তদ্রূপ ছিলেন। শৈশবে তাঁদের অবস্থা সচ্ছল ছিল না, বরং তাঁরা সবাই সমান ছিলেন। এটি এক সুগভীর প্রজ্ঞা যা আল্লাহ তাঁর নবীদের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যাতে তাঁরা দুনিয়ার প্রতি অন্ধ আসক্তি ও এর পেছনে ছুটে চলা থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে তাঁদের অনুসারীদের জন্য আদর্শ হতে পারেন, যা মূলত সকল বিপদ ও পরীক্ষার কারণ। অনুরূপভাবে বকরি চরানোর বিষয়টি; এমন কোনো নবী নেই যিনি বকরি চরাননি, যেমনটি সত্যবাদী ও প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত (রাসূল) বুখারীর এক হাদীসে সংবাদ দিয়েছেন। এটিও সুগভীর হিকমতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা মানুষ যখন চতুষ্পদ প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল প্রাণী বকরি চরায়, তখন সহমর্মিতার কারণে তার অন্তরে দয়া ও কোমলতা স্থান পায়। এরপর যখন সে সেখান থেকে সৃষ্টির লালন-পালন ও পরিচালনার দিকে অগ্রসর হয়, তখন সে ইতিপূর্বেই তার স্বভাবজাত রূঢ়তা ও সহজাত অন্যায় থেকে পরিশোধিত হয়ে থাকে, ফলে সে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় উপনীত হয়। যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন তিনি ব্যবসা করতেন এবং সায়েব ইবনে আবু সায়েব তাঁর অংশীদার ছিলেন। তিনি খাদীজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ব্যবসার মালামাল নিয়ে পারিশ্রমিকের «৩» বিনিময়ে সিরিয়ার দিকে যেতেন। যখন খাদীজাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর সাথে বিবাহের মাধ্যমে সম্মানিত হলেন এবং তিনি অত্যন্ত সম্পদশালী ছিলেন, তখন তিনি (রাসূল) তাঁর সম্পদের মাধ্যমে কাজ করতেন এবং নিজের পরিশ্রমের লব্ধ ফল থেকে আহার করতেন। আল্লাহ তা’আলা সূরা আদ্ব-দোহায় তাঁর প্রতি যে অনুগ্রহের বর্ণনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়িত করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: "তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি, অতঃপর আশ্রয় দান করেছেন? তিনি আপনাকে পথনির্দেশহীন অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন। আর তিনি আপনাকে নিঃস্ব অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর অভাবমুক্ত করেছেন।" «৪» অর্থাৎ নবুয়তের পূর্বেই আশ্রয় দান ও অভাবমুক্ত করার মাধ্যমে এবং নবুয়তের মাধ্যমে হিদায়েত প্রদানের মাধ্যমে। তিনি তাঁকে কিতাব, ঈমান এবং ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীনের প্রতি হিদায়েত দিয়েছেন, যা তিনি ইতিপূর্বে জানতেন না। আল্লাহ তা’আলা সূরা আশ-শূরায় বলেন: "এভাবেই আমি আপনার নিকট আমার পক্ষ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং..."

--------------------------------------------

(১) দরিদ্র যার কোনো সম্পদ নেই।

(২) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি বকরি চরাননি। তাঁর সাহাবীগণ বললেন: আর আপনি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি মক্কাবাসীদের জন্য কিছু কিরাতের বিনিময়ে বকরি চরাতাম। কিরাত হলো ‘ক্বিরাত’-এর বহুবচন, যা দীনারের একটি অংশ।

(৩) কোনো কাজের বিনিময়ে মানুষের জন্য যা নির্ধারিত করা হয়।

(৪) আয়াত ৬-৮।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْإِيمانُ وَلكِنْ جَعَلْناهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشاءُ مِنْ عِبادِنا «1» .

 

‌‌سيرته في قومه قبل البعثة

كان عليه الصلاة والسلام أحسن قومه خلقا، وأصدقهم حديثا، وأعظمهم أمانة، وأبعدهم عن الفحش والأخلاق التي تدنس الرجال، حتى كان أفضل قومه مروءة، وأكرمهم مخالطة، وخيرهم جوارا، وأعظمهم حلما، وأصدقهم حديثا، فسمّوه الأمين لما جمع الله فيه من الأمور الصالحة الحميدة، والفعال السديدة من الحلم، والصبر، والشكر، والعدل، والتواضع، والعفّة، والجود، والشجاعة، والحياء. حتى شهد له بذلك ألد أعدائه النضر بن الحارث «2» من بني عبد الدار حيث يقول: قد كان محمد فيكم غلاما حدثا، أرضاكم فيكم وأصدقكم حديثا وأعظمكم أمانة، حتى إذا رأيتم في صدغيه الشيب وجاءكم بما جاءكم قلتم:

ساحر! لا والله ما هو بساحر، قال ذلك في معرض الاتفاق على ما يقولونه للعرب الذين يحضرون الموسم حتى يكونوا متفقين على قول مقبول يقولونه. ولما سأل هرقل ملك الروم أبا سفيان قائلا: هل كنتم تتهمونه بالكذب قبل أن يقول ما قال؟ قال: لا، فقال هرقل: ما كان ليدع الكذب على الناس ويكذب على الله.

ورد ذلك في أول صحيح البخاري. وقد حفظه الله في صغره من كل أعمال الجاهلية التي جاء شرعه الشريف بضدها «3» وبغّضت إليه الأوثان بغضا شديدا حتى ما كان يحضر لها احتفالا أو عيدا ممّا يقوم به عبّادها. وقال عليه الصلاة والسلام: «لما نشأت بغّضت إليّ الأوثان، وبغّض إليّ الشعر، ولم أهمّ بشيء ممّا كانت الجاهلية تفعله إلّا مرتين، كل ذلك يحول الله بيني وبين ما أريد من ذلك.

ثم ما هممت بسوء بعدهما حتى أكرمني الله برسالته. قلت ليلة لغلام كان يرعى معي: لو أبصرت لي غنمي حتى أدخل مكة فأسمر كما يسمر الشباب، فخرجت لذلك حتى جئت أول دار من مكة أسمع عزفا بالدفوف والمزامير لعرس بعضهم، فجلست لذلك فضرب الله على أذنيّ فنمت فما أيقظني إلّا مسّ الشمس ولم أقض شيئا، ثم عراني مرّة أخرى مثل ذلك» . وكان عليه الصلاة والسلام لا يأكل ما ذبح

--------------------------------------------

(1) اية 52.

(2) قتل يوم بدر كافرا قتله علي بن أبي طالب.

(3) الشفاء للقاضي عياض. المؤلف.
...ঈমান কী তাও তুমি জানতে না; কিন্তু আমি একে করেছি একটি আলো, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করি।

 

‌‌নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে স্বজাতির মাঝে তাঁর জীবনচরিত

তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ছিলেন তাঁর কওমের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, কথায় সবচেয়ে সত্যবাদী, আমানতদারিতে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং অশ্লীলতা ও এমন সব স্বভাব থেকে সবচেয়ে দূরে যা মানুষকে কলঙ্কিত করে। এমনকি তিনি ছিলেন তাঁর কওমের মধ্যে পৌরুষে শ্রেষ্ঠ, মেলামেশায় সর্বাপেক্ষা সম্মানিত, প্রতিবেশী হিসেবে সর্বোত্তম, সহিষ্ণুতায় মহান এবং কথাবার্তায় সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ। আল্লাহ তাঁর মাঝে সহিষ্ণুতা, ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, ন্যায়বিচার, বিনয়, পবিত্রতা, উদারতা, বীরত্ব ও লজ্জার মতো নানাবিধ সৎ ও প্রশংসনীয় গুণাবলি এবং সঠিক কর্মতৎপরতার সমাবেশ ঘটানোর কারণে তাঁরা তাঁকে ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) বলে সম্বোধন করত। এমনকি তাঁর ঘোর শত্রু বনী আবদুদ্দারের নযর ইবনে হারিসও তাঁর ব্যাপারে এই সাক্ষ্য দিয়েছিল, যখন সে বলেছিল: মুহাম্মাদ তোমাদের মাঝে যখন এক যুবক ছিল, সে ছিল তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সন্তোষভাজন, কথায় সবচেয়ে সত্যবাদী এবং আমানতদারিতে সবচেয়ে মহান। অতঃপর যখন তার কপালে বার্ধক্যের শুভ্রতা দেখা দিল এবং সে যা নিয়ে আসার তা নিয়ে তোমাদের কাছে আসল, তখন তোমরা বললে:

জাদুকর! না, আল্লাহর কসম, সে জাদুকর নয়। সে এ কথা বলেছিল হজের মৌসুমে আগত আরবদের কাছে কী বলতে হবে তা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে, যাতে তারা সকলে একটি গ্রহণযোগ্য কথার ওপর একমত হতে পারে। যখন রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলেন: সে যা দাবি করেছে তা বলার আগে তোমরা কি কখনো তাকে মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করতে? তিনি বললেন: না। তখন হিরাক্লিয়াস বললেন: যে ব্যক্তি মানুষের ওপর মিথ্যা বলা পরিহার করে, সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা বলতে পারে না।

এটি সহিহ বুখারীর শুরুতে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা শৈশবেই তাঁকে জাহিলিয়াতের সকল কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করেছিলেন, যার বিপরীতে তাঁর পবিত্র শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁর অন্তরে মূর্তির প্রতি চরম ঘৃণা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছিল, ফলে তিনি মূর্তিপূজকদের কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন না। নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) বলেছেন: যখন আমি বড় হলাম, তখন মূর্তিসমূহ আমার কাছে অত্যন্ত ঘৃণ্য হয়ে উঠল এবং কবিতাও আমার কাছে অপ্রিয় হয়ে গেল। জাহিলিয়াতের লোকেরা যা করত, তার কোনো কিছুরই ইচ্ছা আমি করিনি মাত্র দুই বার ছাড়া, আর উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহ আমার এবং আমার সেই ইচ্ছার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

এরপর থেকে আল্লাহ আমাকে তাঁর রিসালাত দিয়ে সম্মানিত করা পর্যন্ত আমি আর কখনো কোনো মন্দ কাজের ইচ্ছা করিনি। এক রাতে আমি আমার সাথে মেষ চড়ানো এক কিশোরকে বললাম: যদি তুমি আমার মেষগুলো দেখে রাখতে তবে আমি মক্কায় প্রবেশ করতাম এবং যুবকরা যেভাবে রাতের বেলা গল্পগুজব করে আমিও সেভাবে গল্পগুজব করতাম। আমি সেই উদ্দেশ্যে বের হলাম এবং মক্কার প্রথম ঘরে পৌঁছাতেই দফ ও বাঁশির বাদ্যধ্বনি শুনতে পেলাম যা ছিল কারো বিয়ের অনুষ্ঠান। আমি তা শোনার জন্য বসলাম, অমনি আল্লাহ আমার কানে নিদ্রা চাপিয়ে দিলেন এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সূর্যের তাপ ছাড়া আর কিছুই আমাকে জাগাতে পারেনি এবং আমি আমার সংকল্প পূরণ করতে পারিনি। এরপর অন্য একবারও আমার সাথে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। আর তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) মূর্তির উদ্দেশ্যে জবাই করা পশু আহার করতেন না...

--------------------------------------------

(১) আয়াত ৫২।

(২) বদরের দিন কাফির অবস্থায় নিহত হয়, তাকে আলী বিন আবি তালিব হত্যা করেন।

(৩) কাযী আয়াযের আশ-শিফা। লেখক।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২০)
على النصب «1» وحرّم شرب الخمر على نفسه مع شيوعه في قومه شيوعا عظيما.

وذلك كلّه من الصفات التي يحلّي الله بها أنبياءه ليكونوا على تمام الاستعداد لتلقّي وحيه، فهم معصومون من الأدناس قبل النبوة وبعدها: أمّا قبل النبوة فليتأهّلوا للأمر العظيم الذي سيسند إليهم. وأمّا بعدها فليكونوا قدوة لأممهم.

عليهم من الله أفضل الصلوات وأتم التسليمات.

 

‌‌ما أكرمه الله به قبل النبوّة

أوّل منحة من الله ما حصل من البركات على ال حليمة الذين كان مسترضعا فيهم. فقد كانوا قبل حلوله بناديهم مجدبين «2» فلمّا صار بينهم صارت غنيماتهم تؤوب من مرعاها وإن أضراعها لتسيل لبنا ويرحم الله البوصيري حيث يقول في همزيته:

وإذا سخّر الإله أناسا … لسعيد فإنّهم سعداء

ثمّ أعقب ذلك ما حصل من شق صدره وإخراج حظّ الشيطان منه «3» ، وليس هذا بالعجيب على قدرة الله تعالى، فمن استبعد ذلك كان قليل النظر. لا يعرف من قوّة الله شيئا، لأن خرق العادات للأنبياء ليس بالأمر المستحدث ولا المستغرب.

ومن المكرمات الإلهية تسخير الغمامة له في سفره إلى الشام حتى كانت تظله في اليوم الصائف لا يشترك معه أحد في القافلة، كما روى ذلك ميسرة غلام خديجة الذي كان مشاركا له في سفره وهذا ما حبّبه إلى خديجة حتى خطبته لنفسها، وتيقّنت أن له في المستقبل شأنا. ولذلك لما جاءته النبوّة كانت أسرع الناس إيمانا به، ولم تنتظر اية أخرى زيادة على ما علمته من مكارم الأخلاق، وما سمعته من خوارق العادت.

ومن منن الله عليه ما كان يسمعه من السلام عليه من الأحجار والأشجار «4» ،

--------------------------------------------

(1) هي حجارة تنصب وتصب عليها دماء الذبائح وتعبد. المؤلف.

(2) الجدب ضد الخصب، وهي الأرض لا تكاد تخصب لاحتباس الماء عنها.

(3) أي من قلبه.

(4) السيرة الحلبية. المؤلف.
মূর্তির বেদীর সামনে (১) এবং তিনি নিজের জন্য মদ পান করা হারাম করেছিলেন, যদিও তা তাঁর জাতির মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

আর এ সবই সেই গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীদের সুশোভিত করেন যাতে তাঁরা তাঁর ওহী গ্রহণের জন্য পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে পারেন। সুতরাং তাঁরা নবুয়তের আগে এবং পরে সকল প্রকার অপবিত্রতা থেকে নিষ্পাপ। নবুয়তের আগে নিষ্পাপ থাকার উদ্দেশ্য হলো—যাতে তাঁরা সেই মহান কাজের জন্য যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন যা তাঁদের ওপর অর্পণ করা হবে। আর নবুয়তের পরে নিষ্পাপ থাকার উদ্দেশ্য হলো—যাতে তাঁরা তাঁদের উম্মতের জন্য আদর্শ হতে পারেন।

তাঁদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম রহমত এবং পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক।

 

‌‌নবুয়তের পূর্বে আল্লাহ তাঁকে যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন

আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম অনুদান ছিল সেই বরকতসমূহ যা হালীমার পরিবারের ওপর বর্ষিত হয়েছিল, যাঁদের কাছে তিনি দুগ্ধপোষ্য হিসেবে ছিলেন। তাঁর আগমনের পূর্বে তাঁদের এলাকা ছিল দুর্ভিক্ষপীড়িত (২)। কিন্তু তিনি যখন তাঁদের মাঝে এলেন, তখন তাঁদের ছোট ছোট বকরীগুলো চারণভূমি থেকে যখন ফিরত, তখন সেগুলোর ওলান থেকে দুধ ঝরত। আল্লাহ আল-বুসিরীর ওপর রহম করুন, তিনি তাঁর 'হামজিয়া' কবিতায় বলেছেন:

আর যখন আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়কে... কোনো সৌভাগ্যবানের জন্য নিয়োজিত করেন, তখন তাঁরাও সৌভাগ্যবান হয়ে যান।

এরপর যা ঘটেছিল তা হলো—তাঁর বক্ষ বিদারণ এবং তা থেকে শয়তানের অংশ বের করে ফেলা (৩)। আল্লাহর কুদরতের সামনে এটি কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় নয়; সুতরাং যে ব্যক্তি একে অসম্ভব মনে করবে, তার দৃষ্টি অত্যন্ত সংকীর্ণ। সে আল্লাহর শক্তি সম্পর্কে কিছুই জানে না। কারণ নবীদের জন্য অলৌকিক ঘটনা ঘটা কোনো নতুন বা আশ্চর্যজনক বিষয় নয়।

ঐশ্বরিক সম্মানসমূহের মধ্যে আরেকটি ছিল তাঁর সিরিয়া সফরের সময় মেঘের ছায়া দান করা; এমনকি গ্রীষ্মের প্রখর দিনেও সেই মেঘ তাঁর ওপর ছায়া দিত, কাফেলার আর কেউ তাতে অংশীদার ছিল না। খাদীজার গোলাম মাইসারা এ কথা বর্ণনা করেছেন, যিনি সেই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন। এই বিষয়গুলোই তাঁকে খাদীজার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল, এমনকি তিনি নিজেই তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং নিশ্চিত হন যে, ভবিষ্যতে তাঁর বিশেষ মর্যাদা থাকবে। এই কারণেই যখন তাঁর কাছে নবুয়ত এল, তখন তিনি সবার আগে তাঁর ওপর ঈমান আনলেন। তিনি তাঁর উত্তম চরিত্র এবং অলৌকিক ঘটনাবলি সম্পর্কে যা জেনেছিলেন ও শুনেছিলেন, তার অতিরিক্ত অন্য কোনো নিদর্শনের অপেক্ষা করেননি।

তাঁর ওপর আল্লাহর অনুগ্রহসমূহের মধ্যে এটিও ছিল যে, তিনি পাথর ও গাছপালা থেকে তাঁর প্রতি সালাম শুনতে পেতেন (৪),

--------------------------------------------

(১) এগুলো হলো এমন পাথর যা স্থাপন করা হতো এবং সেগুলোর ওপর যবাই করা পশুর রক্ত ঢালা হতো এবং পূজা করা হতো। - লেখক।

(২) 'জাদব' হলো উর্বরতার বিপরীত, যা এমন ভূমি যেখানে পানি না থাকায় ফসল ফলে না।

(৩) অর্থাৎ তাঁর হৃদয় থেকে।

(৪) সীরাতে হালাবিয়্যাহ। - লেখক।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২১)
فكان إذا خرج لحاجته أبعد حتى لا يرى ببناء ويفضي إلى الشعاب وبطون الأودية فلا يمرّ بحجر ولا شجر إلا سمع: الصلاة والسلام عليك يا رسول الله «1» ، وكان يلتفت عن يمينه وشماله وخلفه فلا يرى أحدا وقد حدث بذلك عن نفسه. وليس في ذلك كبير اشكال فقد سخر الله الجمادات للأنبياء قبله، فعصا موسى التقمت ما صنع سحرة فرعون بعد أن تحوّلت حية تسعى ثم رجعت كما كانت، ولما ضرب بها الحجر نبع منه الماء اثنتي عشرة عينا، لكل سبط «2» من أسباط بني اسرائيل عين. وكذلك غيره من الأنبياء سخر الله لهم ما شاء من أنواع الجمادات لتدل العقلاء على عظيم قدرهم وخطارة شأنهم.

 

‌‌تبشير التوراة به

أنزل الله التوراة على موسى محتوية على الشرائع التي تناسب أهل ذاك الزمن، ونوّه فيها بذكر كثير من الأنبياء الذين علم الله أنّه سيرسلهم، فممّا جاء فيها تبشيرا برسولنا الكريم صلى الله عليه وسلم خطابا لسيّدنا موسى عليه السلام «3» (وسوف أقيم لهم نبيّا مثلك من بين إخوتهم وأجعل كلامي في فمه ويكلّمهم بكل شيء امره به، ومن لم يطع كلامه الذي يتكلم به باسمي فأنا الذي أنتقم منه، فأما النبي الذي يجترئ عليّ بالكبرياء ويتكلّم باسمي بما لم امره به أو باسم الهة أخرى فليقتل، وإذا أحببت أن تميز بين النبي الصادق والكاذب فهذه علامتك أن ما قاله ذلك النبي باسم الربّ ولم يحدث فهو كاذب يريد تعظيم نفسه ولذلك لا تخشاه) .

ويقول اليهود: أن هذه البشارة ليوشع بن نون خليفة موسى عليه السلام، مع أنّهم كانوا ينتظرون في مدّة المسيح نبيّا اخر غير المسيح، فإنهم «4» أرسلوا ليوحنا المعمدان (يحيى) يسألونه عن نفسه فقالوا له: أنت إيليا؟ «5» فقال: لا فقالوا أنت المسيح؟ فقال: لا فقالوا: أنت النبي؟ فقال: لا فقالوا: ما بالك إذا تعمّد إذا

--------------------------------------------

(1) الأحاديث التي وردت في تكلم الأحجار مع الرسول الكريم كثيرة منها ما رواه مسلم أن رسول صلى الله عليه وسلم قال: اني لأعرف حجرا بمكة كان يسلم عليّ قبل أن أبعث إني لأعرفه الان.

(2) القبيلة من اليهود.

(3) الاصحاح الثامن: سفر التثنية. «المؤلف» .

(4) الاصحاح الأول من انجيل يوحنا، اية 46. المؤلف.

(5) قال ابن كثير في البداية والنهاية ذكر ابن قتيبة في المعارف عن وهب ابن منبه أن اسم الخضر بليا. ويقال ايليا بن بلكان ج 1 ص 326.
তিনি যখন তাঁর প্রয়োজনে বাইরে বের হতেন, তখন লোকালয় থেকে অনেক দূরে চলে যেতেন যাতে কোনো দালানকোঠা দৃষ্টিগোচর না হয় এবং তিনি গিরিপথ ও উপত্যকার অভ্যন্তরে পৌঁছে যেতেন। তখন তিনি কোনো পাথর বা গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেই শুনতে পেতেন: "আপনার ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর রাসূল।" তিনি ডানে, বামে এবং পেছনে ফিরে তাকাতেন কিন্তু কাউকে দেখতে পেতেন না। তিনি নিজে এ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। আর এতে বড় কোনো জটিলতা নেই, কারণ আল্লাহ তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের জন্যও জড় পদার্থসমূহকে অনুগত করে দিয়েছিলেন। মূসার লাঠিটি একটি চলন্ত সাপে রূপান্তরিত হয়ে ফেরাউনের জাদুকরদের বানোয়াট বস্তুসমূহকে গিলে ফেলেছিল, অতঃপর তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছিল। আর যখন তিনি সেই লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করলেন, তখন তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো, বনী ইসরাঈলের প্রতিটি গোত্রের জন্য একটি করে প্রস্রবণ। একইভাবে অন্যান্য নবীদের জন্যও আল্লাহ জড় পদার্থের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা অনুগত করে দিয়েছিলেন, যাতে তা বুদ্ধিমানদের কাছে তাঁদের সুমহান মর্যাদা ও গুরুত্বের প্রমাণ দেয়।

 

‌‌তওরাতে তাঁর আগমনের সুসংবাদ

আল্লাহ মূসার ওপর তওরাত নাযিল করেছিলেন যা সেই সময়ের মানুষের উপযোগী বিধানসমূহ ধারণ করেছিল। তাতে তিনি এমন অনেক নবীর কথা উল্লেখ করেছিলেন যাদেরকে আল্লাহ ভবিষ্যতে পাঠাবেন বলে জানতেন। আমাদের সম্মানিত রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সম্পর্কে সুসংবাদ হিসেবে হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি সম্বোধন করে যা এসেছে তা হলো: (এবং আমি তাদের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবী দাঁড় করাব এবং আমার বাণী তাঁর মুখে অর্পণ করব, আর আমি তাঁকে যা আদেশ করব তিনি তাদের কাছে তার সবকিছুই বলবেন। আর যে ব্যক্তি আমার নামে বলা তাঁর কথা শুনবে না, আমিই তার থেকে প্রতিশোধ নেব। তবে যে নবী আমার নামে এমন কোনো কথা অহংকারের সাথে বলার ধৃষ্টতা দেখাবে যা আমি তাঁকে আদেশ করিনি, অথবা অন্য কোনো উপাস্যের নামে কথা বলবে, তাকে হত্যা করা হবে। আর যদি তুমি সত্য নবী ও মিথ্যা নবীর মধ্যে পার্থক্য করতে চাও, তবে তোমার জন্য চিহ্ন হলো এই যে, সেই নবী রবের নামে যা বলেছেন তা যদি না ঘটে বা বাস্তবায়িত না হয়, তবে তিনি মিথ্যাবাদী, তিনি নিজের মহিমা প্রকাশ করতে চেয়েছেন, তাই তাকে ভয় পেয়ো না)।

ইহুদিরা বলে: এই সুসংবাদটি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর স্থলাভিষিক্ত ইউশা ইবনে নূন-এর জন্য। যদিও তারা মাসীহ-এর যুগে মাসীহ ছাড়া অন্য একজন নবীর প্রতীক্ষায় ছিল। তারা ইউহান্না আল-মামাদান (ইয়াহইয়া)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে তাঁকে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল এবং বলেছিল: আপনি কি ইলিয়া? তিনি বললেন: না। তারা বলল: আপনি কি মাসীহ? তিনি বললেন: না। তারা বলল: তবে আপনি কি সেই নবী? তিনি বললেন: না। তারা বলল: তবে আপনি কেন বাপ্তিস্ম দিচ্ছেন যদি...

--------------------------------------------

(১) পাথরের আল্লাহর রাসূলের সাথে কথা বলার বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: আমি মক্কার এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবী হিসেবে প্রেরিত হওয়ার আগে আমাকে সালাম দিত, আমি তাকে এখনও চিনি।

(২) বনী ইসরাঈলের গোত্র বা গোষ্ঠী।

(৩) অধ্যায় আঠারো: দ্বিতীয় বিবরণ। «লেখক»।

(৪) ইউহান্না লিখিত ইঞ্জিলের প্রথম অধ্যায়, আয়াত ৪৬। লেখক।

(৫) ইবনে কাসীর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে বলেছেন, ইবনে কুতাইবা ‘আল-মাআরিফ’ গ্রন্থে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, খিজিরের নাম বালইয়া। আর বলা হয় ইলিয়া ইবনে বালকান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২৬।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২২)
كنت لست إيليا ولا المسيح ولا النّبي فهذه تدل على أن التوراة تبشر بإيليا والمسيح ونبي لم يأت حتى زمن المسيح، ثم إن التوراة تقول في صفة النبي: أنه مثل موسى، وقد نصّت في اخر سفر التثنية على أنه لم يقم في بني اسرائيل نبي مثل موسى «1» ، وورد في هذه البشارة أن النبي الذي يفتري على الله يقتل ويشبه ذلك في القران قوله تعالى في سورة الحاقة وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنا بَعْضَ الْأَقاوِيلِ لَأَخَذْنا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنا مِنْهُ الْوَتِينَ «2» . ونبينا صلى الله عليه وسلم مكث بين أعدائه الألداء من مشركين ويهود ثلاثا وعشرين سنة يدعوهم فيها إلى الله، ومع ذلك عصمه الله منهم وأنزل عليه تطمينا لخاطره في سورة المائدة وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ «3» أكان يعجز الله، وهو القادر على كل شيء، أن يعاقب من ينسب إليه ما لم يقله وهو الذي قال في سورة الشورى أَمْ يَقُولُونَ افْتَرى عَلَى اللَّهِ كَذِباً فَإِنْ يَشَإِ اللَّهُ يَخْتِمْ عَلى قَلْبِكَ وَيَمْحُ اللَّهُ الْباطِلَ وَيُحِقُّ الْحَقَّ بِكَلِماتِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذاتِ الصُّدُورِ «4» وقد أخبرتنا هذه البشارة عن العلامة التي تعرف بها صدق النبي من كذبه وهي الأخبار بما سيأتي. وقد أخبر النبي عليه الصلاة والسلام عن أشياء كثيرة فحدثت كما أخبر عنها. ومنها ما لا ينفع معه الحدس والتخمين كالإخبار بأن الروم سيغلبون بعد أن قهرهم الفرس قهرا شديدا حتى كادوا يحتلّون القسطنطينية عاصمة ملكهم، فالإخبار إذا بأن الروم سيردّون ما فقد منهم بعد بضع سنين لا يكون إلّا من عند الله، ولذلك استغربه جدا بعض المشركين من قريش وراهن على ذلك أبا بكر الصديق رضي الله عنه. وقد حقّق الله الخبر فاستحق الصديق الرهن. وهذا قليل من كثير سيأتيك تفصيله إن شاء الله تعالى.

وروى القاضي عياض في الشفاء أن عطاء بن يسار سأل عبد الله بن عمرو بن العاص عن صفة رسول الله عليه الصلاة والسلام فقال: أجل والله إنه لموصوف في التوراة ببعض صفته في القران: يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْناكَ شاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً «5» : «وحرزا للأميين أنت عبدي ورسولي سميتك المتوكّل ليس بفظ ولا

--------------------------------------------

(1) هذه النصوص المذكورة في التوراة والإنجيل ناطقة برسالة سيدنا محمد عليه الصلاة والسلام وقد أخبر برسالته عليه الصلاة والسلام ورقة بن نوفل ابن عم خديجة.

(2) عرق في القلب إذا انقطع مات صاحبه. المؤلف. الاية من 44- 46.

(3) اية 67.

(4) اية 24.

(5) سورة الأحزاب اية 45.
আপনি ইলিয়াস নন, মসীহ নন এবং সেই নবীও নন - এটি প্রমাণ করে যে তাওরাত ইলিয়াস, মসীহ এবং এমন একজন নবীর সুসংবাদ প্রদান করে যিনি মসীহ-এর সময়কাল পর্যন্ত আসেননি। অতঃপর তাওরাত সেই নবীর গুণাবলীতে বলে: তিনি মূসার ন্যায় হবেন। তাওরাতের দ্বিতীয় বিবরণ (ডিউটেরোনমি) পুস্তকের শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে মূসার ন্যায় কোনো নবী আবির্ভূত হননি «১»। এই সুসংবাদে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, যে নবী আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করবে সে নিহত হবে। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হাক্কাহ-তে আল্লাহর বাণীর সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে: "যদি সে আমার নামে কোনো কথা রচনা করত, তবে অবশ্যই আমি আল্লাহর হাত দিয়ে (ডান হাত দ্বারা) তাকে ধরে ফেলতাম, অতঃপর আমি তার জীবনধমনী কেটে দিতাম" «২»। আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কট্টর শত্রু মুশরিক ও ইহুদীদের মাঝে তেইশ বছর অবস্থান করেছেন এবং তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন; তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাঁকে তাদের থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাঁর চিত্তের প্রশান্তির জন্য সূরা আল-মায়িদাহ-তে অবতীর্ণ করেছেন: "আল্লাহ আপনাকে মানুষের থেকে রক্ষা করবেন" «৩»। আল্লাহ কি অক্ষম হতেন—অথচ তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান—এমন ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে যে তাঁর প্রতি এমন কিছু আরোপ করে যা তিনি বলেননি? অথচ তিনি সূরা আশ-শূরা-তে বলেছেন: "নাকি তারা বলে যে, সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে? যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আপনার অন্তরে মোহর মেরে দিতেন। আল্লাহ মিথ্যাকে মুছে দেন এবং তাঁর বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত" «৪»। এই সুসংবাদ আমাদের সেই নিদর্শন সম্পর্কেও অবহিত করেছে যার মাধ্যমে নবীর সত্যতা ও মিথ্যার পার্থক্য জানা যায়, আর তা হলো ভবিষ্যৎ সংবাদ প্রদান করা। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম অনেক বিষয় সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যা তাঁর বর্ণনার মতোই সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কেবল অনুমান বা ধারণার দ্বারা সম্ভব নয়, যেমন রোমানদের বিজয়ী হওয়ার সংবাদ প্রদান করা যখন পারস্যবাসী তাদের চরমভাবে পরাজিত করেছিল, এমনকি তারা তাদের সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল দখলের উপক্রম হয়েছিল। সুতরাং রোমানরা কয়েক বছরের মধ্যে তাদের হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পাবে—এমন সংবাদ প্রদান করা আল্লাহ ছাড়া আর কারও পক্ষ থেকে হওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই কুরাইশদের কিছু মুশরিক একে অত্যন্ত আশ্চর্যজনক মনে করেছিল এবং আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে এ নিয়ে বাজি ধরেছিল। আল্লাহ সেই সংবাদ সত্যে পরিণত করেছিলেন এবং সিদ্দিক (রা.) বাজির দাবি পাওয়ার যোগ্য হয়েছিলেন। এটি তো অগণিত নিদর্শনের মধ্যে সামান্য কিছু মাত্র যার বিস্তারিত বর্ণনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

কাযী আইয়ায 'আশ-শিফা' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আতা ইবনে ইয়াসার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসকে রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই তাওরাতে তাঁর এমন কিছু গুণের বর্ণনা রয়েছে যা কুরআনেও বর্ণিত হয়েছে: হে নবী! আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে «৫»: এবং নিরক্ষরদের জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে। আপনি আমার বান্দা ও রাসূল, আমি আপনার নাম রেখেছি মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী)। তিনি কর্কশভাষী নন এবং..."

--------------------------------------------

(১) তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত এই পাঠগুলো আমাদের নেতা মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করে। খাদীজা (রা.)-এর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফলও তাঁর রিসালাতের সংবাদ দিয়েছিলেন।

(২) হৃদপিণ্ডের এমন একটি ধমনী যা ছিঁড়ে গেলে মানুষ মারা যায়। (লেখক)। আয়াত নং ৪৪-৪৬।

(৩) আয়াত ৬৭।

(৪) আয়াত ২৪।

(৫) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৫।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
غليظ ولا صخاب «1» في الأسواق، ولا يدفع السيئة بالسيئة ولكن يعفو ويغفر، ولن يقبضه الله حتى يقيم به الملة العوجاء بأن يقولوا: لا إله إلّا الله ويفتح به أعينا عميا واذانا صمّا وقلوبا غلفا» «2» .

وروي مثله عن عبد الله بن سلام «3» رضي الله عنه وهو الذي كان رئيس اليهود فلم تعمه الرياسة حتى يترك الدين القويم، وكذلك كعب الأحبار «4» وفي بعض طرق الحديث: ولا صخّاب في الأسواق ولا قوّال للخنا، أسدّده لكل جميل، وأهب له كل خلق كريم، وأجعل السكينة لباسه، والبرّ شعاره، والتقوى ضميره، والحكمة مقوله، والصدق والوفاء طبيعته، والعفو والمعروف خلقه، والعدل سيرته، والحق شريعته، والهدى أمامه، والإسلام ملّته، أحمد اسمه، أهدي به بعد الضلالة، وأعلّم به بعد الجهالة، وأرفع به بعد الخمالة. وأسمّي به بعد النكرة، وأكثّر به بعد القلة، وأغني به بعد العيلة، وأجمع به بعد الفرقة، وأؤلف به بين قلوب مختلفة، وأهواء متشتّتة، وأمم متفرّقة، وأجعل أمّته خير أمّة أخرجت للناس. وقد أخبر عليه الصلاة والسلام عن صفته في التوراة فقال وهو الصادق الأمين: عبدي أحمد المختار مولده مكّة ومهاجره بالمدينة- أو قال طيبة- وأمته الحمّادون الله على كل حال.

 

‌‌تبشير الإنجيل

بشر عيسى عليه السلام قومه في الإنجيل بالفارقليط «5» ومعناه قريب من

--------------------------------------------

(1) شديد الصوت. المؤلف.

(2) رواه البخاري.

(3) هو ولد يوسف بن يعقوب بن اسحق بن ابراهيم الخليل وكان من يهود المدينة واسمه الحصين وسماه النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله لما أسلم وكنيته أبو يوسف كني بابنه وهو من بني قينقاع. ونزل في فضله (وشهد شاهد من بني اسرائيل على مثله فامن واستكبرتم) روي له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خمسة وعشرون حديثا، وقد بشره الرسول صلى الله عليه وسلم بالجنة وتوفي سنة 43 هـ بالمدينة.

(4) هو التابعي المشهور وهو ابن مانع بن هينوع أدرك زمن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره وأسلم في خلافة أبي بكر وصحب عمر وأكثر الرواية عنه، وكان يسكن حمص، واتفقوا على كثرة علمه وتوثيقه، وكان قبل إسلامه على دين اليهود، وكان يسكن اليمن، توفي سنة 32 هـ ودفن في حمص.

(5) جاء في قول يوحنا حكاية عن المسيح عليه السلام (ص 14 ف 25) ما يأتي: (إن كنتم تحبوني فاحافظوا وصاياي، فأنا أطلب من الاب فيعطيكم فارقليطا ليمكث معكم إلى الأبد روح الحق الذي لا يستطيع العالم أن يقبله لأنه لا يراه ولا يعرفه، وأما أنتم فتعرفونه لأنه ماكث معكم ومنكم.
তিনি কঠোর স্বভাবের নন এবং বাজারে উচ্চকণ্ঠকারী নন ১। তিনি মন্দের বদলে মন্দ দেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু ঘটাবেন না, যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র জাতিকে সোজা করে দেন এই মর্মে যে, তারা বলবে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই’; এবং এর মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরযুক্ত অন্তরসমূহ খুলে দেবেন ২।

আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ৩ (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, যিনি ইয়াহুদিদের নেতা ছিলেন। নেতৃত্ব তাঁকে সঠিক দ্বীন গ্রহণ করা থেকে অন্ধ করে দেয়নি। তেমনিভাবে কা’ব আল-আহবার ৪ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। হাদিসের কোনো কোনো সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: তিনি বাজারে উচ্চকণ্ঠকারী নন এবং অশালীন কথা বলেন না। আমি তাঁকে প্রতিটি সুন্দর কাজের তাওফিক দেব, তাঁকে দান করব যাবতীয় মহান চরিত্র। প্রশান্তিকে করব তাঁর পোশাক, পুণ্যকে তাঁর বৈশিষ্ট্য, তাকওয়াকে তাঁর বিবেক, প্রজ্ঞাকে তাঁর কথা, সত্যবাদিতা ও অঙ্গীকার পূর্ণ করাকে তাঁর প্রকৃতি, ক্ষমা ও সদাচারকে তাঁর স্বভাব, ন্যায়বিচারকে তাঁর কর্মপদ্ধতি, সত্যকে তাঁর শরিয়ত, হিদায়াতকে তাঁর অগ্রগামী এবং ইসলামকে তাঁর ধর্ম। আহমদ তাঁর নাম। তাঁর মাধ্যমে আমি পথভ্রষ্টতার পর পথ প্রদর্শন করব, মূর্খতার পর শিক্ষা দান করব এবং অখ্যাত হওয়ার পর সুখ্যাতি দান করব। আমি তাঁর মাধ্যমে অপরিচিত হওয়ার পর পরিচিত করব, অল্প হওয়ার পর সংখ্যাবৃদ্ধি করব, দরিদ্র হওয়ার পর সচ্ছলতা দান করব এবং বিচ্ছিন্নতার পর একত্রিত করব। আমি তাঁর মাধ্যমে বিভিন্ন অন্তরের মাঝে সম্প্রীতি স্থাপন করব, বিক্ষিপ্ত খেয়াল-খুশি এবং বিভক্ত জাতিসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করব এবং তাঁর উম্মতকে মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত বানাব। নবী (সা.) তাওরাতে বর্ণিত তাঁর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তিনি সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হিসেবে বলেছেন: ‘আমার বান্দা আহমদ আল-মুখতার (মনোনীত), তাঁর জন্মস্থান মক্কা এবং হিজরতস্থল মদিনা—অথবা বলেছেন তায়্যিবা—এবং তাঁর উম্মত হচ্ছে তারা, যারা সকল অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করে।’

 

‌‌ইঞ্জিলের সুসংবাদ

ঈসা (আ.) ইঞ্জিলে তাঁর সম্প্রদায়কে ‘ফারাকলিত’ ৫ এর সুসংবাদ দিয়েছেন, যার অর্থ এর নিকটবর্তী...

--------------------------------------------

(১) উচ্চকণ্ঠ। লেখক।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) তিনি ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম খলিলের বংশধর এবং মদিনার ইয়াহুদিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর নাম ছিল আল-হুসাইন, ইসলাম গ্রহণের পর নবী (সা.) তাঁর নাম রাখেন আবদুল্লাহ। তাঁর উপনাম আবু ইউসুফ। তাঁর মর্যাদায় অবতীর্ণ হয়েছে: ‘বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী যখন এর অনুরূপ সাক্ষ্য দিল এবং ঈমান আনল, অথচ তোমরা অহংকার করলে’। তাঁর সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে ২৫টি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি ৪৩ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

(৪) তিনি একজন প্রসিদ্ধ তাবিঈ। তিনি হলেন ইবনে মানি’ ইবনে হাইনু’। তিনি নবী (সা.)-এর সময়কাল পেয়েছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি। তিনি আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং উমর (রা.)-এর সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁর থেকে অধিক বর্ণনা করেন। তিনি হিমসে বসবাস করতেন। তাঁর অগাধ জ্ঞান ও বিশ্বস্ততার বিষয়ে সকলে একমত। ইসলাম গ্রহণের আগে তিনি ইয়াহুদি ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং ইয়ামেনে বসবাস করতেন। তিনি ৩২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং হিমসে সমাহিত হন।

(৫) যোহনের বর্ণনায় মসীহ (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ১৪, অনুচ্ছেদ ২৫): ‘যদি তোমরা আমাকে ভালোবাসো তবে আমার আদেশগুলো পালন করো। আমি পিতার কাছে প্রার্থনা করব, তিনি তোমাদের জন্য একজন ফারাকলিত (প্যারাক্লিট) পাঠাবেন, যাতে তিনি তোমাদের সাথে চিরকাল থাকেন; অর্থাৎ সত্যের আত্মা, যাকে জগত গ্রহণ করতে পারে না, কারণ সে তাঁকে দেখে না এবং জানেও না। কিন্তু তোমরা তাঁকে চেনো, কারণ তিনি তোমাদের সাথে অবস্থান করেন এবং তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
محمد أو أحمد ويصدّقه في القران قول الله تعالى في سورة الصف: وَإِذْ قالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يا بَنِي إِسْرائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْراةِ وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ «1» وقد وصف المسيح هذا الفارقليط بأوصاف لا تنطبق إلّا على نبيّنا فقال: إنه يوبخ العالم على خطيئته وإنه يعلمهم جميع الحق لأنه ليس ينطق من عنده بل يتكلم بكل ما يسمع، وهذا ما ورد في القران الكريم في سورة النجم: وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى «2» وقد ورد في إنجيل برنابا الذي ظهر منذ زمن قريب وأخفته حجب «3» الجهالة ذكر اسم الرسول عليه الصلاة والسلام صراحة.

 

‌‌حركة الأفكار قبل البعثة

وهذا يسهّل لك فهم الحركة العظيمة من الأحبار والرهبان قبيل البعثة فكان اليهود يستفتحون على عرب المدينة برسول منتظر. فقد حدّث عاصم بن عمرو بن قتادة عن رجال من قومه قالوا: إنما دعانا للإسلام مع رحمة الله تعالى لنا ما كنا نسمع من أحبار يهود، كنا أهل شرك وأصحاب أوثان وكانوا أهل كتاب عندهم علم ليس لنا وكانت لا تزال بيننا وبينهم شرور، فإذا نلنا منهم بعض ما يكرهون قالوا لنا: قد تقارب زمان نبي يبعث الان نقتلكم معه قتل عاد وإرم. فكثيرا ما نسمع ذلك منهم. فلمّا بعث الله رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم أجبنا حين دعانا إلى الله وعرفنا ما كانوا يتوعدوننا به، فبادرناهم إليه فامنا وكفروا، وإنما قال لهم اليهود: نقتلكم معه قتل عاد وإرم لأن من صفته عليه الصلاة والسلام في كتبهم أن هذا النبي يستأصل المشركين بالقوة، ولم يكونوا يظنون أن الحسد والبغي سيتمكنان من أفئدتهم فينبذون الدين القيم فيحقّ عليهم العذاب في الدنيا والاخرة. وكان أمية بن أبي الصلت «4» المتنصر العربي كثيرا ما يقول: إني لأجد في الكتب صفة نبي يبعث في بلادنا. وحدّث سلمان الفارسي رضي الله عنه عن نفسه أنه صحب قسيسا «5»

--------------------------------------------

(1) اية 6.

(2) اية 3- 4.

(3) ترجم إلى العربية وهو الان مطبوع بمصر، المؤلف.

(4) قاله ابن اسحاق.

(5) صاحب عمورية، والذين صحبوا سلمان من النصارى كانوا على الحق على دين عيسى بن مريم وكانوا بضعة عشر. وفي البخاري تداول سلمان بضعة عشر من رب إلى رب.
মুহাম্মাদ বা আহমাদ; আর কুরআনে সূরা আস-সাফে আল্লাহর এই বাণী তার সত্যতা নিশ্চিত করে: “স্মরণ করো, যখন মারিয়ামের পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার সম্মুখস্থ তাওরাতের আমি সত্যয়নকারী এবং আমার পরে আগমনকারী একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যাঁর নাম হবে আহমাদ।” (১) মসীহ (ঈসা আ.) এই পারাকলিটকে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা আমাদের নবী ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি বলেছিলেন: তিনি জগতকে তার পাপের জন্য তিরস্কার করবেন এবং তিনি তাদেরকে পূর্ণ সত্য শিক্ষা দেবেন, কারণ তিনি নিজের পক্ষ থেকে কিছু বলবেন না, বরং যা শুনবেন তাই বলবেন। আর এটিই পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাজমে বর্ণিত হয়েছে: “এবং তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়।” (২) সম্প্রতি প্রকাশিত বার্নাবাসের ইঞ্জিলেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যা দীর্ঘকাল অজ্ঞতার আবরণে (৩) ঢাকা ছিল।

 

‌‌নবুওয়াত লাভের পূর্বের চিন্তাচেতনা

এটি আপনাকে নবুওয়াত লাভের প্রাক্কালে ইহুদি পণ্ডিত ও খ্রিস্টান পাদ্রিদের মধ্যকার সেই মহান তৎপরতা বুঝতে সাহায্য করবে। ইহুদিরা মদিনার আরবদের বিরুদ্ধে একজন প্রতীক্ষিত রাসূলের মাধ্যমে বিজয় প্রার্থনা করত। আসিম বিন আমর বিন কাতাদাহ তার গোত্রের কিছু লোকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: আল্লাহর রহমতের পর আমাদের ইসলাম গ্রহণের মূল কারণ ছিল ইহুদি পণ্ডিতদের থেকে যা আমরা শুনতাম। আমরা ছিলাম শিরককারী ও মূর্তিপূজারী, আর তারা ছিল আহলে কিতাব, তাদের কাছে এমন জ্ঞান ছিল যা আমাদের ছিল না। আমাদের ও তাদের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ লেগে থাকত। যখন আমরা তাদের সাথে এমন কিছু করতাম যা তারা অপছন্দ করত, তখন তারা আমাদের বলত: “সেই নবীর আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে যাকে এখন পাঠানো হবে, আমরা তাঁর সাথে মিলে তোমাদেরকে আদ ও ইরাম জাতির মতো হত্যা করব।” আমরা প্রায়ই তাদের কাছ থেকে এটি শুনতাম। অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠালেন, তখন তিনি যখন আমাদের আল্লাহর দিকে ডাকলেন আমরা তাতে সাড়া দিলাম এবং তারা আমাদের যা দিয়ে হুমকি দিত তা আমরা চিনতে পারলাম। ফলে আমরা তাদের আগেই তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম আর তারা কুফরি করল। ইহুদিরা তাদের মূলত একারণেই বলেছিল যে ‘আমরা তাঁর সাথে মিলে তোমাদের আদ ও ইরামের মতো হত্যা করব’, কারণ তাদের কিতাবসমূহে নবীর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, এই নবী মুশরিকদের শক্তি দিয়ে নির্মূল করবেন। তারা ভাবতেও পারেনি যে হিংসা ও বিদ্বেষ তাদের হৃদয়ে এমনভাবে চেপে বসবে যে তারা সঠিক দ্বীনকে পরিত্যাগ করবে, ফলে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের ওপর আজাব অবধারিত হবে। উমাইয়া বিন আবি আল-সালত (৪), যিনি আরবের একজন খ্রিস্টধর্মাবলম্বী ছিলেন, তিনি প্রায়ই বলতেন: “আমি কিতাবসমূহে এমন এক নবীর বৈশিষ্ট্য পাচ্ছি যিনি আমাদের এই ভূখণ্ডে প্রেরিত হবেন।” সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একজন পাদ্রির (৫) সাহচর্য গ্রহণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) আয়াত ৬।

(২) আয়াত ৩-৪।

(৩) এটি আরবিতে অনূদিত হয়েছে এবং বর্তমানে মিশরে মুদ্রিত, লেখক।

(৪) ইবনে ইসহাক এটি উল্লেখ করেছেন।

(五) আম্মুরিয়াহর পাদ্রি; আর যারা সালমানের সঙ্গী হয়েছিলেন তারা খ্রিস্টানদের মধ্যে সত্যের ওপর এবং ঈসা ইবনে মারিয়ামের দ্বীনের ওপর অটল ছিলেন এবং তারা দশজনের অধিক ছিলেন। বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে যে, সালমান সত্যের সন্ধানে দশজনেরও অধিক প্রভুর (মালিক/শিক্ষক) হাত বদল হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
فكان يقول له: يا سلمان إن الله يبعث رسولا اسمه أحمد يخرج من جبال تهامة، علامته أن يأكل الهدية ولا يأكل الصدقة، وهذا الحديث كان من أسباب إسلام سلمان. ولما راسل عليه الصلاة والسلام ملوك الأرض لم يهن كتابه إلّا كسرى الذي ليس عنده علم من الكتاب، وأما جميع ملوك النصارى كالنجاشي ملك الحبشة، والمقوقس ملك مصر، وقيصر ملك الروم، فأكرموا وفادة رسله. ومنهم من امن كالنجاشي، ومنهم من ردّ ردّا لطيفا وكاد يسلم لولا غلبة الملك كقيصر، ومنهم من هادى كالمقوقس ولم يكن عليه السلام في قوّة يرهب بها هؤلاء الملوك اللهم ما ذاك إلّا لأنهم يعلمون أن المسيح عليه الصلاة والسلام بشّر برسول يأتي من بعده. ووافقت صفات رسولنا ما عندهم فأجابوا بالتي هي أحسن، وأما ما سمع من الهواتف والكهان قبيل زمنه فهو ما لا يدخل تحت حصر.. وليس بعد ما ذكرته لك زيادة لمستكثر. ومع ذلك كله فالأعمال التي جاد الله بها على يديه والأقوال التي أتانا بها أعظم مقوّ لحجته ومؤيد لدعوته. وسيأتي عليك بيان ذلك كله بأجلى بيان فتأمله ترشد هداك الله إلى الصراط السويّ.

 

‌‌بدء الوحي

لما بلغ عليه الصلاة والسلام سن الكمال وهي أربعون سنة «1» أرسله الله للعالمين بشيرا ونذيرا ليخرجهم من ظلمات الجهالة إلى نور العلم وكان ذلك في أول فبراير سنة 610 من الميلاد كما أوضحه المرحوم محمود باشا الفلكي تبيّن بعد دقّة البحث أن ذلك كان في 17 رمضان سنة 13 قبل الهجرة وذلك يوافق يوليو سنة 610 وأول ما بدىء به الوحي الرؤيا الصادقة فكان لا يرى رؤيا إلّا جاءت مثل فلق الصبح «2» وذلك لما جرت به عادة الله في خلقه من التدريج في

--------------------------------------------

(1) وفي الفتح: فعلى الصحيح المشهور أنه مولود في ربيع الأول يكون حين أنزل عليه ابن أربعين سنة وستة أشهر، وفي حديث رواه الشيخان والترمذي أنه بعث لأربعين سنة، ومكث بمكة ثلاث عشرة سنة يوحى إليه.

(2) الرؤيا كانت قبل نزول جبريل على النبي صلى الله عليه وسلم بالقران وقد يمكن الجمع بين الحديثين بأن النبي صلى الله عليه وسلم جاءه جبريل في المنام قبل أن يأتيه في اليقظة توطئة وتيسيرا عليه ورفقا به لأن أمر النبوّة عظيم، وعبؤها ثقيل والبشر ضعيف وكان نزول الوحي عليه صلى الله عليه وسلم في أحوال مختلفة فمنها النوم ومنها أن ينفث في روعه الكلام ومنها في مثل صلصلة الجرس ومنها أن يمثل له الملك رجلا ومنها أن يتراءى له جبريل في صورته ومنها أن يكلمه الله من وراء حجاب إما في اليقظة كما كان في ليلة الإسراء وإما في النوم فهي ستة أحوال. وفلق الصبح: أي كضبائه وإنارته.
তিনি তাকে বলতেন: হে সালমান, নিশ্চয়ই আল্লাহ একজন রসূল পাঠাবেন যাঁর নাম হবে আহমদ, তিনি তিহামার পাহাড় থেকে বের হবেন। তাঁর নিদর্শন হলো তিনি হাদিয়া (উপহার) গ্রহণ করবেন কিন্তু সদকা ভক্ষণ করবেন না। এই হাদিসটি সালমান (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের অন্যতম কারণ ছিল। যখন তিনি (সা.) পৃথিবীর রাজাদের কাছে পত্র পাঠালেন, তখন পারস্য সম্রাট কিসরা ব্যতীত আর কেউ তাঁর পত্রকে অবজ্ঞা করেনি, যার কাছে কিতাব বা আসমানি কোনো জ্ঞান ছিল না। পক্ষান্তরে খ্রিস্টান রাজাদের সবাই, যেমন আবিসিনিয়ার রাজা নাজ্জাশি, মিশরের রাজা মুকাওকিস এবং রোম সম্রাট কায়সার—তাঁরা তাঁর প্রেরিত দূতদের সসম্মানে আপ্যায়ন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ ঈমান এনেছিলেন যেমন নাজ্জাশি, কেউ অত্যন্ত নম্রভাবে উত্তর দিয়েছিলেন এবং রাজত্বের মোহ না থাকলে প্রায় ইসলাম গ্রহণই করে ফেলতেন যেমন কায়সার। আবার কেউ কেউ হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন যেমন মুকাওকিস। অথচ তখন তিনি (সা.) এমন জাগতিক শক্তিতে ছিলেন না যে এই রাজারা তাঁকে ভয় পেতেন; এর কারণ কেবল এটাই ছিল যে, তাঁরা জানতেন ঈসা (আ.) তাঁর পরে একজন রসূল আসার সুসংবাদ দিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে থাকা বর্ণনার সাথে আমাদের রসূলের বৈশিষ্ট্যাবলি মিলে যাওয়ায় তাঁরা উত্তম পন্থায় উত্তর দিয়েছিলেন। আর তাঁর আবির্ভাবের ঠিক পূর্বমুহূর্তে গায়েবি আওয়াজ ও গণকদের থেকে যা শোনা গিয়েছিল তা গণনা করে শেষ করা যাবে না। আমি আপনার কাছে যা উল্লেখ করেছি তার চেয়ে অধিক কিছু জানার আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তির জন্য আর বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। তা সত্ত্বেও, আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে যেসব কর্ম সম্পাদন করেছেন এবং তিনি আমাদের কাছে যে বাণী নিয়ে এসেছেন, তা তাঁর সত্যতার প্রমাণকে শক্তিশালী করার এবং তাঁর দাওয়াতকে সমর্থন করার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। অচিরেই আপনার কাছে এই সবকিছুর বর্ণনা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আসবে, সুতরাং তা নিয়ে চিন্তা করুন; আল্লাহ আপনাকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করুন।

 

‌ওহীর সূচনা

যখন তিনি (সা.) পূর্ণতার বয়সে অর্থাৎ চল্লিশ বছরে পৌঁছালেন, তখন আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠালেন, যাতে তিনি তাঁদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে ইলমের আলোর দিকে বের করে আনেন। এটি ছিল ৬১০ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারির শুরুতে, যেমনটি মরহুম মাহমুদ পাশা ফালাকি স্পষ্ট করেছেন। তবে গভীর গবেষণার পর প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটি ছিল হিজরতের ১৩ বছর আগে ১৭ই রমজান, যা ৬১০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসের সাথে মিলে যায়। ওহীর প্রথম সূচনা হয়েছিল সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা প্রভাতের স্পষ্ট আলোর মতো প্রকাশিত হতো। এটি ছিল সৃষ্টিজগতে আল্লাহর চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো বিষয়ে পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হওয়ার অংশ...

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারীতে আছে: প্রসিদ্ধ ও সহীহ মত অনুযায়ী তিনি রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই যখন তাঁর ওপর ওহী নাজিল হয় তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর ছয় মাস। বুখারী ও মুসলিম এবং তিরমিজীর বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে যে, তিনি চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত লাভ করেন এবং মক্কায় তেরো বছর অবস্থান করেন যে সময়কাল তাঁর ওপর ওহী নাজিল হতো।

(২) নবী (সা.)-এর ওপর কুরআনের সাথে জিবরাঈল (আ.)-এর সরাসরি অবতরণের পূর্বেই স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল। উভয় হাদিসের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, নবী (সা.)-এর নিকট জাগ্রত অবস্থায় জিবরাঈল আসার আগে স্বপ্নে এসেছিলেন, যাতে বিষয়টি তাঁর জন্য সহজ ও সহনীয় হয় এবং তাঁর প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা হয়; কারণ নবুওয়াতের বিষয়টি অত্যন্ত মহান এবং এর ভার অত্যন্ত ভারী, অথচ মানুষ স্বভাবগতভাবে দুর্বল। নবী (সা.)-এর ওপর বিভিন্ন অবস্থায় ওহী নাজিল হতো: যার মধ্যে রয়েছে স্বপ্নাবস্থা, তাঁর অন্তরে কথা ফুঁকে দেওয়া, ঘণ্টার ধ্বনির মতো শব্দ হওয়া, ফেরেশতা মানুষের রূপ ধারণ করে আসা, জিবরাঈল (আ.)-এর নিজের আসল আকৃতিতে দেখা দেওয়া এবং পর্দার আড়াল থেকে আল্লাহর সরাসরি কথা বলা—তা জাগ্রত অবস্থায় হোক যেমন মিরাজ রজনীতে হয়েছিল অথবা ঘুমের মধ্যে হোক; এই মোট ছয়টি অবস্থা। ‘ফালাকুস সুব্হ’ অর্থ: প্রভাতের শুভ্রতা ও তার আলোকচ্ছটা।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
الأمور كلها حتى تصل إلى درجة الكمال. ومن الصعب جدا على البشر تلقّى الوحي من الملك لأول مرة، ثم حبّب إليه عليه الصلاة والسلام الخلاء «1» ليبتعد عن ظلمات هذا العالم وينقطع عن الخلق إلى الله فإن في العزلة صفاء السريرة.

وكان يخلو بغار حراء «2» فيتعبد فيه الليالي ذوات العدد، فتارة عشرا. وتارة أكثر إلى شهر. وكانت عبادته على دين أبيه إبراهيم عليه الصلاة والسلام ويأخذ لذلك زاده، فإذا فرغ رجع إلى خديجة فيتزود لمثلها حتى جاءه الحقّ وهو في غار حراء: فبينما هو قائم في بعض الأيام على الجبل إذ ظهر له شخص وقال: أبشر يا محمد أنا جبريل وأنت رسول الله إلى هذه الأمة. ثم قال له: اقرأ، قال: ما أنا بقارىء، فإنه عليه الصلاة والسلام أمي لم يتعلم القراءة قبلا. فأخذه فغطه «3» بالنمط الذي كان ينام عليه حتى بلغ منه الجهد ثم أرسله فقال: اقرأ «4» قال: ما أنا بقارىء، فأخذه فغطّه ثانية ثم أرسله، فقال: اقرأ. قال: ما أنا بقارىء، فأخذه فغطه الثالثة، ثم أرسله فقال: اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الْإِنْسانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الْإِنْسانَ ما لَمْ يَعْلَمْ «5» فرجع بها عليه الصلاة والسلام يرجف فؤاده ممّا ألمّ به من الرّوع «6» الذي استلزمته مقابلة الملك لأول مرة فدخل على خديجة زوجه، فقال: زمّلوني «7» زمّلوني، لتزول عنه هذه القشعريرة «8» فزمّلوه حتى ذهب عنه الرّوع فقال لخديجة وأخبرها الخبر: لقد خشيت على نفسي «9» لأن الملك غطّه حتى كاد يموت، ولم يكن له عليه الصلاة والسلام علم قبل ذلك

--------------------------------------------

(1) الانفراد.

(2) جبل على مقربة من مكة. المؤلف. والغار ثقب فيه، وهو أول موضع نزل فيه القران.

(3) ذكر السهيلي أن الغط ثلاث إشارة إلى أن النبي صلى الله عليه وسلم يحصل له شدائد ثلاث ثم يحصل له التدرج بعد ذلك، فكانت الأولى ادخال قريش له صلى الله عليه وسلم في الشعب والتضييق عليه، والثانية، اتفاقهم على الاجتماع على قتله، والثالثة خروجه من أحب البلاد إليه. فغطه ضمه وعصره.

(4) (اقرأ) هو أول ما نزل عليه من القران وهو الصواب الذي عليه جمهور السلف والخلف.

(5) سورة الفلق اية 6.

(6) الفزع.

(7) لفوني في ثوبي (المؤلف) (من شدة ما حصل له، وعادة ما تخف الرعدة بالتلفف) .

(8) أي رعدة.

(9) تكلم العلم في هذه الخشية منها أي خشيتها ألا أنهض بأعباء النبوة وأن أضعف عنها فذهب أبو بكر الاسماعيلي إلى أن هذه الخشية كانت منه قبل أن يحصل له العلم بأن الذي جاءه ملك من عند الله، وكان أشق شيء عليه أن يقال عنه: مجنون.
সবকিছু পূর্ণতার স্তরে পৌঁছানো পর্যন্ত। মানুষের জন্য ফেরেশতার নিকট থেকে প্রথমবারের মতো ওহী গ্রহণ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। অতঃপর তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নিকট নির্জনতা (১) প্রিয় করে দেওয়া হলো যাতে তিনি এই জগতের অন্ধকার থেকে দূরে থাকেন এবং সৃষ্টিজগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহর প্রতি অভিনিবিষ্ট হন; কেননা নির্জনতায় অন্তরের স্বচ্ছতা নিহিত।

তিনি হেরা গুহায় (২) নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে টানা বেশ কয়েক রাত ইবাদতে মগ্ন থাকতেন; কখনো দশ রাত, আবার কখনো এক মাস পর্যন্ত। তাঁর ইবাদত ছিল তাঁর পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর দ্বীনের আদর্শে এবং তিনি এর জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সাথে নিতেন। পাথেয় শেষ হয়ে গেলে তিনি খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং পুনরায় সমপরিমাণ পাথেয় গ্রহণ করতেন। এভাবে হেরা গুহায় থাকাবস্থায় তাঁর নিকট সত্যের (ওহী) আগমন হলো: একদিন যখন তিনি পাহাড়ের ওপর অবস্থান করছিলেন, তখন হঠাৎ তাঁর সামনে এক ব্যক্তি আবির্ভূত হয়ে বললেন: "হে মুহাম্মদ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আমি জিবরাঈল এবং আপনি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর রাসূল।" অতঃপর তিনি তাঁকে বললেন: "পাঠ করুন।" তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না।" কারণ তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ছিলেন উম্মী, ইতিপূর্বে তিনি পাঠ করা শেখেননি। তখন জিবরাঈল তাঁকে ধরে সেই চাদর দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন (৩) যার ওপর তিনি ঘুমাতেন, এমনকি তাঁর খুব কষ্ট অনুভূত হলো। অতঃপর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: "পাঠ করুন।" (৪) তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না।" তখন তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন এবং ছেড়ে দিয়ে বললেন: "পাঠ করুন।" তিনি বললেন: "আমি পাঠ করতে জানি না।" তখন তিনি তাঁকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে সজোরে চাপ দিলেন এবং ছেড়ে দিয়ে বললেন: "পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট রক্ত) থেকে। পাঠ করুন এবং আপনার প্রতিপালক পরম দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।" (৫) অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সেই ওহী নিয়ে ফিরে এলেন এমতাবস্থায় যে, ফেরেশতার সাথে প্রথম সাক্ষাতের ফলে সৃষ্ট ভীতির (৬) কারণে তাঁর অন্তর কাঁপছিল। তিনি তাঁর স্ত্রী খাদিজার নিকট প্রবেশ করে বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো (৭), আমাকে বস্ত্রাবৃত করো!" যেন তাঁর এই কম্পন (৮) দূরীভূত হয়। তারা তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন যতক্ষণ না তাঁর ভীতি দূর হলো। অতঃপর তিনি খাদিজাকে সব ঘটনা জানালেন এবং বললেন: "আমি আমার জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি (৯)।" কারণ ফেরেশতা তাঁকে এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন যে তিনি প্রায় মৃত্যুর উপক্রম হয়েছিলেন। ইতিপূর্বে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না।

--------------------------------------------

(১) নির্জনতা অবলম্বন।

(২) মক্কার নিকটবর্তী একটি পাহাড়। (গ্রন্থকার)। আর গুহা হলো পাহাড়ের একটি ছিদ্র বা গর্ত, যা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রথম স্থান।

(৩) সুহাইলি উল্লেখ করেছেন যে, তিনবার জড়িয়ে ধরা এই ইঙ্গিত বহন করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটি কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন এবং এরপর পর্যায়ক্রমে উন্নতি লাভ করবেন। প্রথমটি ছিল কুরাইশদের পক্ষ থেকে তাঁকে শিয়াবে আবু তালিবে অবরুদ্ধ করা ও সংকীর্ণতায় ফেলা। দ্বিতীয়টি ছিল তাঁকে হত্যার বিষয়ে তাদের ঐকমত্য পোষণ করা এবং তৃতীয়টি ছিল তাঁর প্রিয়তম শহর থেকে তাঁর প্রস্থান। অতএব 'গাত্তাহু' অর্থ তাকে জড়িয়ে ধরা ও সজোরে চাপ দেওয়া।

(৪) 'ইকরা' (পাঠ করুন) হলো কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ অংশ এবং এটিই সঠিক অভিমত যার ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলিম ঐক্যমত পোষণ করেছেন।

(৫) সূরা আল-ফালাক আয়াত ৬।

(৬) আতঙ্ক বা ভীতি।

(৭) আমাকে আমার কাপড়ে জড়িয়ে দাও (গ্রন্থকার)। (তীব্র ভীতির কারণে এমন হয়েছিল, সাধারণত কাপড় মুড়ি দিলে কম্পন প্রশমিত হয়)।

(৮) অর্থাৎ কম্পন।

(৯) আলিমগণ এই ভীতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, অর্থাৎ নবুওয়াতের গুরুভার বহনে অক্ষম হওয়া বা তাতে দুর্বল হয়ে পড়ার ভীতি। আবু বকর আল-ইসমাঈলি মনে করেন, এই ভীতিটি তাঁর মনে তখনই জেগেছিল যখন তিনি নিশ্চিতভাবে জানতেন না যে তাঁর কাছে আগত সত্তাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত ফেরেশতা। আর তাঁর নিকট সবচেয়ে কষ্টদায়ক বিষয় ছিল তাঁকে 'মজনুন' বা পাগল বলা হওয়া।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
بجبريل ولا بشكله فقالت: كلا والله ما يخزيك الله أبدا إنك لتصل الرحم وتحمل الكلّ وتكسب المعدوم «1» وتقري الضيف «2» وتعين على نوائب الحق «3» ، فلا يسلط الله عليك الشياطين والأوهام ولا مراء أن الله اختارك لهداية قومك، ولتتأكّد خديجة مما ظنته أرادت أن تتثبت ممّن لهم علم بحال الرّسل ممن اطّلعوا على كتب الأقدمين، فانطلقت به حتى أتت ورقة بن نوفل ابن عم خديجة، وكان أمرأ قد تنصّر في الجاهلية، وكان يكتب الكتاب العبراني فيكتب من الإنجيل بالعبرانية ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخا كبيرا قد عمي «4» ، فقالت له خديجة: يا ابن عم اسمع من ابن أخيك «5» ، فقال يا ابن أخي ماذا ترى؟ فأخبره عليه الصلاة والسلام خبر ما رأى. فقال له ورقة: هذا الناموس «6» الذي نزّل الله على موسى، لأنه يعرف أن رسول الله إلى أنبيائه هو جبريل، ثم قال: يا ليتني فيها جذعا (شابا جلدا) إذ يخرجك قومك من بلادك التي نشأت بها لمعاداتهم إيّاك وكراهيتهم لك حينما تطالبهم بتغيير اعتقادات وجدوا عليها اباءهم، فاستغرب عليه الصلاة والسلام ما نسب مع ما يعلمه من حبّهم له لاتّصافه بمكارم الأخلاق وصدق القول حتى سمّوه الأمين، وقال: أو مخرجيّ هم «7» ؟ قال: لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلّا عودي. وقد نطق بذلك القران الكريم. قال تعالى في سورة إبراهيم

--------------------------------------------

(1) الذي لا مال له.

(2) أي تهيء له الضيافة.

(3) شدائد الأمور.

(4) وهم أربعة تفرقوا في البلدان يلتمسون الحنيفية دين ابراهيم ورقه بن نوفل وعبيد الله بن جحش أسلم ثم هاجر إلى الحبشة مع امرأته حبيبة بنت أبي سفيان مسلمة فتنصر وعثمان بن الحويرث فقدم على قيصر ملك الروم فتنصر زيد بن عمر وبن نفيل وكان على ملة ابراهيم وعن أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنه قالت رأيت زيد بن عمرو بن نفيل قائما مسندا ظهره إلى الكعبة، يقول: يا معشر قريش، والله ما منكم على دين إبراهيم غيري، وكان يحيى المؤودة يقول للرجل إذا أراد أن يقتل ابنته: لا تقتلها، أكفيك مؤنتها، فيأخذها رواه البخاري وقد ثبت إيمان ورقة بمحمد صلى الله عليه وسلم وقد ورد في حديث الترمذي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أوتي المنام وعليه ثياب بيض إلى اخر الحديث.

(5) قالت ذلك على سبيل الاحترام.

(6) صاحب الوحي أي هو جبريل عليه السلام وهو صاحب سر الملك.

(7) لا بد من تشديد الياء في مخرجي لأنه جمع الأصل مخرجوي فأدغمت الواو في الياء قال في المواهب واصله مخرجون حذفت اللام تخفيفا ونون الجمع للاضافة إلى ياء المتكلم، فصار: أو مخرجوي اجتمعت الواو والياء وسبقت الواو السكون فكانت ياء ثم أدغمت في ياء المتكلم وقلبت الضمة كسرة لمناسبة الياء.
জিবরাঈল বা তাঁর আকৃতি নিয়ে। তখন তিনি বললেন: "কখনো নয়, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে আগত বিপদে সাহায্য করেন। সুতরাং আল্লাহ আপনার ওপর শয়তান বা অমূলক ধারণাকে আধিপত্য দেবেন না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ আপনাকে আপনার জাতির হেদায়েতের জন্য মনোনীত করেছেন।" খাদিজা যা ভেবেছিলেন তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি এমন কারও মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করতে চাইলেন, যাঁদের পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে রাসুলগণের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান ছিল। তাই তিনি তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবন নওফলের কাছে গেলেন, যিনি খাদিজার চাচাতো ভাই ছিলেন। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিব্রু ভাষায় লিখতেন। তিনি ইনজিল থেকে হিব্রু ভাষায় যা আল্লাহ চাহেন তা লিখতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: "হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।" তিনি বললেন: "হে ভাতিজা! তুমি কী দেখেছ?" রাসুলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যা দেখেছিলেন তা বর্ণনা করলেন। তখন ওরাকা তাঁকে বললেন: "ইনি হলেন সেই রাজদূত (জিবরাঈল), যাঁকে আল্লাহ মূসার নিকট পাঠিয়েছিলেন।" কেননা তিনি জানতেন যে, নবীদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত দূত হলেন জিবরাঈল। অতঃপর তিনি বললেন: "হায়! আমি যদি সেদিন শক্তিশালী যুবক থাকতাম, যখন আপনার জাতি আপনাকে আপনার স্বদেশ থেকে বের করে দেবে।" তিনি এই দেশেই বড় হয়েছেন, কিন্তু যখন তিনি তাদের সেই বিশ্বাস পরিবর্তনের আহ্বান জানাবেন যাতে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের পেয়েছিল, তখন তারা শত্রুতা ও ঘৃণাবশত তাঁকে বের করে দেবে। রাসুলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এই কথায় আশ্চর্যান্বিত হলেন, কারণ তিনি জানতেন যে তাঁর উন্নত চরিত্র ও সত্যবাদিতার কারণে তাঁরা তাঁকে কতটা ভালোবাসেন, এমনকি তাঁরা তাঁকে 'আল-আমিন' (বিশ্বস্ত) বলে ডাকতেন। তিনি বললেন: "তারা কি তবে আমাকে বের করে দেবে?" ওরাকা বললেন: "আপনি যা নিয়ে এসেছেন, তা নিয়ে যখনই কোনো ব্যক্তি এসেছে, তখনই তার সাথে শত্রুতা করা হয়েছে।" পবিত্র কুরআনও এ কথা ব্যক্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা সূরা ইবরাহিমে বলেন—

--------------------------------------------

(১) যার কোনো সম্পদ নেই।

(২) অর্থাৎ তাঁর আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।

(৩) কঠিন বিষয়াবলি।

(৪) তাঁরা ছিলেন চারজন যারা ইবরাহিম (আ.)-এর একত্ববাদী ধর্মের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা হলেন ওরাকা ইবন নওফল এবং উবাইদুল্লাহ ইবন জাহশ—যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরে তাঁর স্ত্রী হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ানের সাথে আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন; কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। আর উসমান ইবনুল হুওয়াইরিস—যিনি রোম সম্রাটের কাছে গিয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। এবং যায়িদ ইবন আমর ইবন নুফাইল—যিনি ইবরাহিমি ধর্মের ওপর অটল ছিলেন। আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যায়িদ ইবন আমর ইবন নুফাইলকে কাবার দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তিনি বলছিলেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আল্লাহর শপথ, আমি ছাড়া তোমাদের কেউ ইবরাহিমি ধর্মের ওপর নেই।" তিনি জীবন্ত কবরস্থ হতে যাওয়া কন্যাদের রক্ষা করতেন। যখন কোনো লোক তার কন্যাকে হত্যা করতে চাইত, তিনি বলতেন: "তাকে হত্যা করো না, আমিই তার লালন-পালনের ভার নিচ্ছি।" অতঃপর তিনি তাকে নিয়ে নিতেন। এটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ওরাকার ঈমান আনয়নও সাব্যস্ত হয়েছে। তিরমিজিতে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বপ্নে তাঁকে সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখেছেন... হাদিসের শেষ পর্যন্ত।

(৫) তিনি সম্মানের খাতিরে এ কথা বলেছিলেন।

(৬) ওহীবাহক অর্থাৎ তিনি হলেন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম), যিনি বাদশাহর (আল্লাহর) গোপনীয় বিষয়ের অধিকারী।

(৭) "মুকরিজিয়্যা" শব্দে ইয়া-এর ওপর তাশদিদ হওয়া আবশ্যক, কারণ এটি বহুবচন। এর মূল শব্দ ছিল "মুকরিজুইয়া", অতঃপর 'ওয়াও' কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করে 'ইয়া' এর সাথে সন্ধি করা হয়েছে। মাওয়াহিব কিতাবে বলা হয়েছে যে, এর মূল শব্দ ছিল "মুকরিজুনা", লাঘব করার জন্য 'লাম' এবং 'ইয়া মুতাকাল্লিম'-এর দিকে সম্বন্ধের (ইজাফতের) কারণে 'নুন' বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে তা "মুকরিজুই" হয়েছিল। সেখানে 'ওয়াও' ও 'ইয়া' একত্র হওয়ায় এবং 'ওয়াও' সাকিন হওয়ায় তা 'ইয়া' তে পরিণত হয় এবং 'ইয়া মুতাকাল্লিম'-এর সাথে সন্ধি করা হয়। আর 'ইয়া' এর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য পূর্ববর্তী অক্ষরের পেশ-কে যের দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِرُسُلِهِمْ لَنُخْرِجَنَّكُمْ مِنْ أَرْضِنا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنا «1» ولتمام تصديق ورقة برسالة الرسول الأكرم عليه الصلاة والسلام قال: وأن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزّرا «2» (معضدا) ثم لم يلبث ورقة أن توفي.

 

‌‌فترة الوحي «3»

وفتر الوحي مدّة لم يتّفق عليها المؤرخون، وأرجح أقوالهم فيها أربعون يوما، ليشتدّ شوق الرسول صلى الله عليه وسلم للوحي، وقد كان، فإن الحال اشتدّ به عليه الصلاة والسلام حتى صار كلّما أتى ذروة جبل بدا له أن يرمي نفسه منها حذرا من قطيعة الله له بعد أن أراه نعمته الكبرى، وهي اختياره لأن يكون واسطة بينه وبين خلقه، فيتبدّى له الملك قائلا: أنت رسول الله حقا، فيطمئن خاطره ويرجع عما عزم عليه، حتى أراد الله أن يظهر للوجود نور الدين فعاد إليه الوحي.

 

‌‌عود الوحي

فبينما هو يمشي إذ سمع صوتا من السماء فرفع إليه بصره، فإذا الملك الذي جاءه بحراء جالس بين السماء والأرض، فرعب منه لتذكر ما فعله في المرة الأولى فرجع وقال: دثروني دثروني، فأنزل الله تعالى عليه يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ حذر الناس من عذاب الله إن لم يرجعوا عن غيّهم وما كان يعبد اباؤهم وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ خصه بالتعظيم ولا تشرك معه في ذلك غيره وَثِيابَكَ فَطَهِّرْ لتكون مستعدا للوقوف بين يدي الله إذ لا يليق بالمؤمن أن يكون مستقذرا نجسا وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ أي اهجر أسباب الرّجز وهو العذاب بأن تطيع الله وتنفذ أمره وَلا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ ولا تهب أحدا هبة وأنت تطمع أن تستعيض من الموهوب أكثر مما وهبت، فهذا ليس من شأن الكرام وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ «4» على ما سيلحقك من أذى قومك حينما

--------------------------------------------

(1) اية (13) .

(2) شديدا.

(3) أي عدم نزوله على الرسول عليه الصلاة والسلام. وكانت مدة الفترة هذه سنتين، أو سنتين ونصفا. فمن هنا يتفق ما قاله أنس بن مالك أن مكثه بمكة كان عشر سنين، وقول ابن عباس ثلاث عشرة سنة، وكان قد ابتدئ بالرؤيا الصادقة ستة أشهر فمن عد مدة الفترة، وأضاف إليه الأشهر التي كانت كما قال ابن عباس، ومن عدها من حين حمي الوحي وتتابع كما في حديث جابر كانت عشر سنين.

(4) سورة المدثر لايات 1- 7.
কাফিররা তাদের রাসূলদের বলেছিল, "আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে আমাদের ভূখণ্ড থেকে বের করে দেব অথবা তোমাদেরকে অবশ্যই আমাদের ধর্মাদর্শে ফিরে আসতে হবে।" আর রাসূল আকরাম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের প্রতি ওয়ারাআকা (ইবনে নাওফাল)-এর পূর্ণ সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ তিনি বলেছিলেন: "যদি তোমার সেই (দাওয়াতের) দিনটি আমি পাই, তবে আমি তোমাকে জোরালোভাবে (সাহায্যকারী হিসেবে) সাহায্য করব।" এর কিছুকাল পরেই ওয়ারাআকা ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌ওহী স্থগিত থাকার কাল

ওহী আসা কিছুকাল বন্ধ ছিল, যে সময়সীমার ব্যাপারে ঐতিহাসিকগণ একমত হতে পারেননি। তাদের মধ্যে অধিক গ্রহণযোগ্য মত হলো তা ছিল চল্লিশ দিন, যাতে ওহীর প্রতি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যাকুলতা বৃদ্ধি পায়। আর বাস্তবে তাই হয়েছিল; পরিস্থিতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে, তিনি যখনই কোনো পাহাড়ের চূড়ায় যেতেন, তখন সেখান থেকে নিজেকে নিচে ফেলে দেওয়ার সংকল্প করতেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অশেষ নেয়ামত অর্থাৎ তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে মাধ্যম হিসেবে তাঁকে মনোনীত করার পর আল্লাহ তাঁকে ত্যাগ করেছেন—এই আশঙ্কায় তিনি এমনটি করতেন। তখন ফেরেশতা তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন: "আপনি নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর রাসূল।" এতে তাঁর মন শান্ত হতো এবং তিনি তাঁর সংকল্প থেকে ফিরে আসতেন। অবশেষে যখন আল্লাহ দ্বীনের নূরকে জগতের সামনে প্রকাশ করতে চাইলেন, তখন ওহী পুনরায় ফিরে এলো।

 

‌‌ওহী পুনরায় শুরু হওয়া

তিনি যখন পথ চলছিলেন, তখন আকাশ থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং দেখলেন সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় তাঁর কাছে এসেছিলেন, আকাশ ও জমিনের মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট। প্রথমবারের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি তাঁকে দেখে ভীত হয়ে পড়লেন এবং ফিরে এসে বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো।" তখন মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করলেন: "হে বস্ত্রাবৃত! উঠুন, অতঃপর সতর্ক করুন" (অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহর আজাব সম্পর্কে সতর্ক করুন যদি তারা তাদের ভ্রষ্টতা এবং তাদের পিতৃপুরুষদের উপাস্যদের উপাসনা ত্যাগ না করে)। "এবং আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন" (অর্থাৎ কেবল তাঁকেই মহান হিসেবে নির্দিষ্ট করুন এবং এতে তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবেন না)। "এবং আপনার পোশাক পবিত্র রাখুন" (যাতে আপনি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন, কারণ মুমিনের জন্য অপবিত্র ও নোংরা হওয়া সমীচীন নয়)। "এবং অপবিত্রতা বর্জন করুন" (অর্থাৎ আজাবের কারণসমূহ থেকে দূরে থাকুন এবং আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তা করুন)। "এবং অধিক পাওয়ার আশায় দান করবেন না" (কাউকে কিছু উপহার দেবেন না এই প্রত্যাশায় যে আপনি গ্রহীতার কাছ থেকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি বিনিময় পাবেন, কারণ এটি মহৎ ব্যক্তিদের কাজ নয়)। "এবং আপনার রবের জন্য ধৈর্য ধারণ করুন" সেই কষ্টের ওপর যা আপনার কওমের পক্ষ থেকে আপনার ওপর আসবে যখন

--------------------------------------------

(১) আয়াত (১৩)।

(২) প্রবল বা শক্তিশালী।

(৩) অর্থাৎ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ওহী নাযিল না হওয়া। এই বিরতির সময়কাল ছিল দুই বছর অথবা আড়াই বছর। এখান থেকেই আনাস বিন মালিকের বক্তব্যের সাথে মিল পাওয়া যায় যে, মক্কায় তাঁর অবস্থান ছিল দশ বছর এবং ইবনে আব্বাসের উক্তি অনুযায়ী তেরো বছর। ওহীর সূচনা হয়েছিল ছয় মাসব্যাপী সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে; ফলে ইবনে আব্বাসের বর্ণনা অনুযায়ী যারা ওহী বিরতির সময়কাল গণনা করেছেন তারা ঐ মাসগুলোকেও এর সাথে যুক্ত করেছেন। আর যারা জাবির (রা.)-এর হাদীস অনুযায়ী ওহীর পূর্ণ ধারাবাহিকতা শুরু হওয়া থেকে গণনা করেছেন, তাদের মতে তা ছিল দশ বছর।

(৪) সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত ১-৭।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
تدعوهم إلى الله..

 

‌‌الدعوة سرا

فقام عليه الصلاة والسلام بالأمر ودعا لعبادة الله أقواما جفاة لا دين لهم، إلّا أن يسجدوا لأصنام لا تنفع ولا تضرّ، ولا حجة لهم إلّا أنهم متّبعون لما كان يعبد اباؤهم، وليس عندهم من مكارم الأخلاق إلّا ما كان مرتبطا بالعزّة والأنفة وهو الذي كان كثيرا ما كان سببا في الغارات والحروب وإهراق الدماء فجاءهم رسول الله بما لا يعرفونه. فذوو العقول السليمة بادروا إلى التصديق وخلع الأوثان، ومن أعمته الرياسة أدبر واستكبر كيلا تسلب منه عظمته.

وكان أول من سطع عليه نور الإسلام خديجة بنت خويلد زوجه «1» وعلي ابن أبي طالب ابن عمه «2» وكان مقيما عنده يطعمه ويسقيه ويقوم بأمره، لأن قريشا كانوا قد أصابوا مجاعة وكان أبو طالب مقلا كثير الأولاد، فقال عليه الصلاة والسلام لعمه العباس بن عبد المطلب: إن أخاك أبا طالب كثير العيال، والناس فيما ترى من الشدّة، فانطلق بنا لنخفّف من عياله تأخذ واحدا وأنا واحدا، فانطلقا وعرضا عليه الأمر، فأخذ العباس جعفر بن أبي طالب، وأخذ عليه الصلاة والسلام عليّا، فكان في كفالته كأحد أولاده إلى أن جاءت النبوّة وقد ناهز الاحتلام، فكان تابعا للنبي في كل أعماله، ولم يتدنس بدنس الجاهلية من عبادة الأوثان واتباع الهوى، وأجاب أيضا زيد بن حارثة بن شرحبيل الكلبي مولاه عليه الصلاة والسلام، وكان يقال له زيد بن محمّد، لأنه لما اشتراه أعتقه وتبنّاه، وكان المتبنى معتبرا كابن حقيقي يرث ويورث، وأجابت أيضا أم أيمن حاضنته التي زوجها لمولاه زيد. وأول من أجابه من غير أهل بيته أبو بكر بن أبي قحافة بن

--------------------------------------------

(1) فهي أول الناس إيمانا على الاطلاق.

(2) أسلم علي رضي الله عنه وهو ابن عشر سنين ويقص ابن اسحق كيفية اسلامه فيقول: كان علي عند النبي، فجاء بعد ذلك بيوم والنبي يصلي مع خديجة، فقال علي: يا محمد ما هذا؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: دين الله الذي اصطفاه لنفسه، وبعث به رسله فأدعوك إلى الله واحده لا شريك له وإلى عبادته وأن تكفر باللات والعزى. فقال علي: هذا أمر لم أسمع به قبل اليوم فلست بقاض أمرا حتى أحدث به أبا طالب. فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يفشي عليه سره قبل أن يستعلن أمره. فقال له: يا علي إذا لم تسلم فاكتم. فمكث علي تلك الليلة ثم أن الله أوقع في قلبه الاسلام.
আপনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন..

 

‌‌গোপন দাওয়াত

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আদেশে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আল্লাহর ইবাদতের দিকে এমন এক কঠোর মেজাজের লোকদের দাওয়াত দিতে শুরু করলেন যাদের কোনো ধর্ম ছিল না; তারা শুধু এমন সব মূর্তিকে সিজদা করত যারা কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। তাদের কাছে কোনো দলিল ছিল না, কেবল এটাই যে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ইবাদতের অনুসরণ করছে। তাদের মধ্যে আভিজাত্য ও আত্মমর্যাদার সাথে সম্পর্কিত গুণাবলী ছাড়া অন্য কোনো উন্নত চরিত্র ছিল না, আর এই আত্মমর্যাদাই ছিল ঘনঘন আক্রমণ, যুদ্ধ ও রক্তপাতের অন্যতম প্রধান কারণ। অতঃপর আল্লাহর রাসূল তাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে আসলেন যা তাদের অপরিচিত ছিল। সুস্থ বিবেকের অধিকারীগণ দ্রুত তা বিশ্বাস করলেন এবং মূর্তিপূজা ত্যাগ করলেন। আর যাদেরকে নেতৃত্ব অন্ধ করে রেখেছিল, তারা বিমুখ হলো এবং অহংকার প্রদর্শন করল, যাতে তাদের বড়ত্ব হাতছাড়া না হয়।

ইসলামের নূরে সর্বপ্রথম যারা উদ্ভাসিত হলেন তারা হলেন তাঁর সহধর্মিণী খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (১) এবং তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালিব (২)। আলী তাঁর কাছেই অবস্থান করতেন, তিনি তাকে পানাহার করাতেন এবং তার সব দায়দায়িত্ব পালন করতেন। কারণ কুরাইশদের মধ্যে তখন দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল এবং আবু তালিব অভাবগ্রস্ত ছিলেন অথচ তাঁর সন্তান সংখ্যা ছিল অনেক। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবকে বললেন: আপনার ভাই আবু তালিবের পরিবার অনেক বড়, আর মানুষ এখন যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা তো আপনি দেখছেনই। চলুন আমরা তাঁর সন্তানদের দায়িত্ব কিছুটা ভাগ করে নিই, যাতে তাঁর কষ্ট লাঘব হয়। আপনি একজনকে নিন আর আমি একজনকে নিই। অতঃপর তারা উভয়ে গেলেন এবং বিষয়টি আবু তালিবের কাছে পেশ করলেন। আব্বাস জাফর ইবনে আবু তালিবকে নিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে নিলেন। আলী তাঁর তত্ত্বাবধানে তাঁর নিজ সন্তানের মতোই বড় হতে থাকলেন যতক্ষণ না নবুওয়াত আসল এবং তিনি সাবালকত্বের কাছাকাছি পৌঁছালেন। তিনি তাঁর প্রতিটি কাজে নবীজির অনুসারী ছিলেন এবং মূর্তিপূজা বা প্রবৃত্তির অনুসরণের মতো জাহেলিয়াতের কোনো কলুষতায় তিনি কলুষিত হননি। আরও সাড়া দিলেন তাঁর আজাদ করা গোলাম জায়েদ ইবনে হারিসা ইবনে শুরাহবিল আল-কালবি, যাঁকে জায়েদ ইবনে মুহাম্মাদ বলা হতো, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিনে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তখন পালক পুত্রকে প্রকৃত পুত্রের মতোই বিবেচনা করা হতো, তারা উত্তরাধিকারী হতো এবং তাদের থেকেও মিরাস পাওয়া যেত। আরও সাড়া দিয়েছিলেন তাঁর ধাত্রী উম্মে আয়মান, যাঁকে তিনি তাঁর গোলাম জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন। আর তাঁর পরিবারের বাইরের লোকদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলেন তিনি হলেন আবু বকর ইবনে আবু কুহাফা বিন...

--------------------------------------------

(১) তিনি সর্বসম্মতিক্রমে সর্বপ্রথম ঈমান আনয়নকারী ব্যক্তি।

(২) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু দশ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইবনে ইসহাক তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন: আলী নবীজির কাছে ছিলেন। একদিন পর তিনি আসলেন এবং দেখলেন নবীজি খাদিজার সাথে সালাত আদায় করছেন। আলী বললেন: হে মুহাম্মাদ, এটা কী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এটা আল্লাহর দ্বীন যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং যা দিয়ে তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন। আমি তোমাকে একক আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিচ্ছি যাঁর কোনো শরিক নেই, এবং তাঁর ইবাদত করার ও লাত-উজ্জাকে অস্বীকার করার আহ্বান জানাচ্ছি। আলী বললেন: এ এমন এক কথা যা আমি আজকের আগে শুনিনি, তাই আমি আবু তালিবের সাথে আলোচনা না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াতের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার আগে গোপন বিষয়টি জানাজানি হওয়া অপছন্দ করলেন। তিনি তাকে বললেন: হে আলী, যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না করো, তবে বিষয়টি গোপন রেখো। আলী সেই রাতটি অতিবাহিত করলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁর অন্তরে ইসলামের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
عامر بن كعب بن سعد بن تيم بن مرّة التيمي القرشي «1» كان صديقا لرسول الله صلى الله عليه وسلم قبل النبوّة يعلم ما اتّصف به من مكارم الأخلاق ولم يعهد عليه كذبا منذ اصطحبا، فأوّل ما أخبره برسالة الله أسرع بالتصديق «2» وقال: بأبي أنت وأمي، أهل الصدق أنت، أشهد ألاإله إلّا الله وأنك رسول الله، كان رضي الله عنه صدرا معظّما في قريش على سعة من المال وكرم الأخلاق، وكان من أعفّ الناس، سخيا، يبذل المال، محبّبا في قومه حسن المجالسة، ولذلك كله كان من رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنزلة الوزير، فكان يستشيره في أموره كلها، وقال في حقه: (ما دعوت أحد إلى الإسلام إلّا كانت له كبوة غير أبي بكر) «3» . وكانت الدعوة إلى الإسلام سرّا حذرا من مفاجأة العرب بأمر شديد كهذا، فيصعب استسلامهم فكان عليه الصلاة والسلام لا يدعو إلّا من يثق به. ودعا أبو بكر إلى الإسلام من يثق به من رجال قريش، فأجابه جمع منهم:

عثمان بن عفّان «4» بن أبي العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف الأموي القرشي، ولمّا علم عمه الحكم بإسلامه، أوثقه كتافا وقال: ترغب عن دين ابائك إلى دين مستحدث!!! والله لا أحلّك حتى تدع ما أنت عليه، فقال عثمان: والله لا أدعه ولا أفارقه. فلمّا رأى الحكم صلابته في الحقّ تركه، وكان كهلا يناهز الثلاثين من عمره.

(ومنهم) : الزبير بن العوام «5» بن خويلد بن أسد بن عبد العزّى بن قصيّ القرشي، وأمه صفية بنت عبد المطلب، وكان عم الزبير يرسل الدخان عليه وهو

--------------------------------------------

(1) ولد أبو بكر سنة 573 م، وهو أوّل الخلفاء الراشدين وصاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم في الغار والهجرة، كني بأبي بكر لابتكاره الخصال الحميدة وكانت له في الإسلام مواقف رفيعة منها قصته ليلة الاسراء وهجرته مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم كلامه يوم الحديبة ثم ثباته في وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم اهتمامه وثباته في بعث جيش أسامة، ثم قيامه في قتال أهل الردة ثم تجهيزه الجيوش إلى الشام وأجل فضائله وهو استخلافه على المسلمين عمر بن الخطاب وكم للصديق مواقف عظيمة لا يحصيها إلا الله.

(2) كان من أسباب توفيق الله إياه- فيما ذكر رؤيا راها قبل ذلك، وذلك أنه رأى القمر ينزل إلى مكة، ثم راه قد تفرق على جميع منازل مكة وبيوتها، فدخل في كل بيت منه شعبة، ثم كأنه جمع في حجره، فنصها على بعض الكتابيين، فعبرها له بأن النبي المنتظر الذي قد أظل زمانه تتبعه.

(3) أخرجه ابن الأثير الجزري في جامع الأصول من زيادات رزين بن معاوية في فضائل أبي بكر.

(4) ولد في السنة السادسة بعد الفيل، هاجر إلى الحبشة مع زوجته رقية، ولم يشهد بدرا لتخلّفه على تمريض زوجته رقية بأمر الرسول عليه الصلاة والسلام. وهو أحد العشرة المشهود لهم بالجنة.

(5) ولد هو وعلي وطلحة وسعد في عام واحد. وقتل رحمه الله في موقعة الجمل وكان عمره سبعا وستين سنة.
আমির বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররাহ আত-তাইমি আল-কুরাশি «১» নবুওয়াতের পূর্বে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বন্ধু ছিলেন। তিনি জানতেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী কী চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন এবং তাদের বন্ধুত্বের পর থেকে তিনি কখনো তাঁকে মিথ্যা বলতে শোনেননি। সুতরাং যখনই তিনি (রাসূল) তাঁকে আল্লাহর বার্তার কথা জানালেন, তিনি অত্যন্ত দ্রুত তা বিশ্বাস করলেন «২» এবং বললেন: আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি সত্যবাদী হওয়ারই যোগ্য ব্যক্তি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরাইশদের মধ্যে একজন সম্মানিত নেতা ছিলেন এবং তাঁর প্রচুর সম্পদ ও উন্নত চরিত্র ছিল। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সংযমী, দানশীল, অকাতরে অর্থ ব্যয়কারী, নিজ কওমের নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং চমৎকার মজলিসী স্বভাবের অধিকারী। এ সব কারণেই তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উজিরের পদমর্যাদায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে সকল বিষয়ে পরামর্শ করতেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: (আমি যাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি তার মধ্যেই কিছু দ্বিধা বা সংকোচ দেখেছি, আবু বকর ব্যতীত) «৩»। ইসলামের দাওয়াত ছিল অত্যন্ত গোপনীয় ও সতর্কতা অবলম্বনকারী, যাতে আরবদের হঠাৎ কোনো কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি করে বিব্রত হতে না হয়, যা মেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তাদেরই দাওয়াত দিতেন যাদের তিনি বিশ্বাস করতেন। আবু বকর কুরাইশ পুরুষদের মধ্যে যাদের বিশ্বাস করতেন তাদের ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং তাদের মধ্য থেকে একটি দল তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল:

উসমান বিন আফফান «৪» বিন আবুল আস বিন উমাইয়া বিন আবদে শামস বিন আবদে মানাফ আল-উমাবী আল-কুরাশি। যখন তাঁর চাচা হাকাম তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পারল, তখন সে তাঁকে শক্ত করে বেঁধে ফেলল এবং বলল: তুমি তোমার পিতৃপুরুষের ধর্ম ত্যাগ করে এক নতুন উদ্ভাবিত ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়ছ!!! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ততক্ষণ মুক্ত করব না যতক্ষণ না তুমি তোমার বর্তমান পথ ত্যাগ করো। উসমান বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এটি ত্যাগ করব না এবং তা থেকে বিচ্যুত হব না। যখন হাকাম সত্যের পথে তাঁর অনমনীয়তা দেখল, তখন সে তাঁকে ছেড়ে দিল। তিনি তখন প্রায় তিরিশ বছর বয়সের এক সুঠাম যুবক ছিলেন।

(এবং তাদের মধ্যে ছিলেন): জুবায়ের বিন আল-আওয়াম «৫» বিন খুওয়াইলিদ বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা বিন কুসাই আল-কুরাশি। তাঁর মা ছিলেন সাফিয়া বিনতে আব্দুল মুত্তালিব। জুবায়েরের চাচা তাঁর উপর ধোঁয়া প্রয়োগ করতেন যখন তিনি...

--------------------------------------------

(১) আবু বকর ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খোলাফায়ে রাশেদীনের প্রথম খলিফা এবং গুহা ও হিজরতের সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী ছিলেন। প্রশংসনীয় গুণাবলি অর্জনে অগ্রগামী হওয়ার কারণে তাঁকে আবু বকর উপাধি দেওয়া হয়। ইসলামে তাঁর অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার অবস্থান রয়েছে, যার মধ্যে ইসরা'র রাতের ঘটনা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর হিজরত, হুদায়বিয়ার দিনে তাঁর বক্তব্য, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময় তাঁর অটল থাকা, উসামার বাহিনী প্রেরণে তাঁর গুরুত্বারোপ ও দৃঢ়তা, মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাঁর অবস্থান এবং সিরিয়ায় বাহিনী প্রেরণের প্রস্তুতির বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। তাঁর শ্রেষ্ঠতম ফযিলত হলো মুসলমানদের খলিফা হিসেবে উমর বিন খাত্তাবকে স্থলাভিষিক্ত করা। সিদ্দিকের এমন অনেক মহান অবস্থান রয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারবে না।

(২) আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে তাওফিক দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল—যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে—একটি স্বপ্ন যা তিনি ইতিপূর্বে দেখেছিলেন। তিনি দেখেছিলেন যে মক্কায় চাঁদ নেমে আসছে, তারপর তিনি দেখলেন তা মক্কার সমস্ত বাড়িঘর ও আবাসস্থলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রতিটি ঘরে তার একটি অংশ প্রবেশ করছে। তারপর যেন সেটি তাঁর কোলে জমা হলো। তিনি এটি আহলে কিতাবদের একজনের কাছে বর্ণনা করলেন, তিনি এর ব্যাখ্যা দিলেন যে, যে নবীর প্রতীক্ষা করা হচ্ছে যার সময় ঘনিয়ে এসেছে, তিনি তাঁর অনুসরণ করবেন।

(৩) ইবনুল আসির আল-জাযারি এটি 'জামি আল-উসুল'-এ রাযিন বিন মুয়াবিয়ার বর্ধিত অংশ থেকে আবু বকরের ফযিলত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(৪) তিনি হস্তী বর্ষের ষষ্ঠ বছরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর স্ত্রী রুকাইয়ার সাথে হাবশায় হিজরত করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশে অসুস্থ স্ত্রী রুকাইয়ার সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে তিনি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি সেই দশজন ব্যক্তির একজন যাদের জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

(৫) তিনি, আলী, তালহা এবং সাদ একই বছরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জঙ্গে জামাল বা উটের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এবং তখন তাঁর বয়স ছিল সাতষট্টি বছর।
(খণ্ড: ১) নূরুল ইয়াকীন ফী সীরাতি সাইয়্যিদিল মুরসালীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
مقيد ليرجع إلى دين ابائه فقواه الله بالثبات وكان شابا لا يتجاوز سن الاحتلام.

(ومنهم) : عبد الرحمن بن عوف «1» بن عبد عوف بن الحارث بن زهرة بن كلاب القرشي الهاشمي، وكان اسمه في الجاهلية عبد عمرو فسمّاه عليه الصلاة والسلام عبد الرحمن.

(ومنهم) : سعد بن أبي وقاص «2» مالك بن أهيب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب القرشي. ولما علمت أمه حمنة بنت أبي سفيان بن أمية بإسلامه قالت له:

يا سعد بلغني أنك قد صبأت «3» فو الله لا يظلّني سقف من الحر والبرد وإنّ الطعام والشراب عليّ حرام حتى تكفر بمحمّد، وبقيت كذلك ثلاثة أيام فجاء سعد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وشكا إليه أمر أمّه فنزل في ذلك تعليما، قول الله تعالى في سورة العنكبوت وَوَصَّيْنَا الْإِنْسانَ بِوالِدَيْهِ حُسْناً وَإِنْ جاهَداكَ لِتُشْرِكَ بِي ما لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلا تُطِعْهُما إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُمْ بِما كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ «4» وصاه جلّ ذكره بوالديه وأمره بالإحسان إليهما مؤمنين كانا أو كافرين، أما إذا دعواه للإشراك فالمعصية متحتمة.

لأن كل حق، وإن عظم، ساقط هنا فلا طاعة لمخلوق في معصية الخالق «5» : ثم قال: إليّ مرجعكم من امن منكم ومن أشرك فأجازيكم حق جزائكم. وفي ختام هذه الاية فائدتان: التنبيه على أن الجزاء إلى الله فلا تحدّث نفسك بجفوتهما لإشراكهما، والحضّ على الثبات في الدين لئلا ينال شرّ جزاء في الاخرى.

(ومنهم) : طلحة بن عبيد الله «6» بن عثمان بن عمرو بن كعب بن سعد بن تيم

--------------------------------------------

(1) ولد بعد عام الفيل بعشر سنين وكان من السابقين الأولين وقد جمع الهجرتين جميعا، شهد بدرا والمشاهد كلها ومن مناقبه أن الرسول صلى الله عليه وسلم صلى وراءه في غزوة تبوك حين أدركه وجرح يوم أحد إحدى وعشرين جراحة، وقد تصدق على عهد الرسول بشطر ماله، وتوفي بالمدينة سنة إحدى وثلاثين ودفن بالبقيع. وهو ابن اثنين وسبعين.

(2) يكنى بأبي اسحق وهو أحد العشرة، دعا له النبي صلى الله عليه وسلم أن يسدد سهمه وأن تجاب دعوته. وفي الحديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: احذروا دعوة سعد، مات في خلافة معاوية.

(3) خرج من دين إلى دين اخر.

(4) اية (8) .

(5) من حديث رواه أحمد والحاكم عن عمران بن حصين.

(6) يكنى أبا محمد الفياض، وهو أحد العشرة المبشرين بالجنة، وأحد الستة أصحاب الشورى، وهو من المهاجرين الأولين ولم يشهد بدرا ولكن ضرب له رسول الله بسهم وشهد أحدا وما بعدها من المشاهد وكان أبو بكر رضي الله عنه إذا ذكر أحدا قال: ذلك يوم كان كله لطلحة، قتل يوم الجمل، وكان عمره أربعا وستين سنة، ودفن بالبصرة.
তাকে বন্দি করা হয়েছিল যাতে সে তার পূর্বপুরুষদের ধর্মে ফিরে যায়, কিন্তু আল্লাহ তাকে দৃঢ়তার মাধ্যমে শক্তি প্রদান করেছিলেন; তিনি তখন এমন এক যুবক ছিলেন যিনি সাবালকত্বের বয়স অতিক্রম করেননি।

(তাদের মধ্যে রয়েছেন): আবদুর রহমান ইবনে আউফ (১) ইবনে আবদ আউফ ইবনে হারিস ইবনে জুহরা ইবনে কিলাব আল-কুরাশি আল-হাশেমি। জাহেলিয়াত যুগে তার নাম ছিল আবদ আমর, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখেন আবদুর রহমান।

(তাদের মধ্যে রয়েছেন): সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (২) মালেক ইবনে উহাইব ইবনে আবদ মানাফ ইবনে জুহরা ইবনে কিলাব আল-কুরাশি। যখন তার মা হামনাহ বিনতে আবি সুফিয়ান ইবনে উমাইয়া তার ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাকে বললেন:

হে সা'দ, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি ধর্মত্যাগ করেছ (৩)। আল্লাহর কসম, কোনো ছাদ আমাকে গরম বা ঠান্ডা থেকে আড়াল করবে না এবং আমার জন্য পানাহার হারাম, যতক্ষণ না তুমি মুহাম্মদকে অস্বীকার করো। তিনি এ অবস্থায় তিন দিন অতিবাহিত করলেন। অতঃপর সা'দ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে তার মায়ের বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তখন শিক্ষার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সুরা আনকাবুতে নাজিল হলো: "আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তবে তারা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন কিছু শরিক করতে বাধ্য করে যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের আনুগত্য করো না। আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসা, অতঃপর আমি তোমাদের জানিয়ে দেব যা তোমরা করতে।" (৪) তাঁর সুমহান জিকির (আল্লাহ) তাকে তার পিতামাতার ব্যাপারে ওসিয়ত করেছেন এবং তাদের সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা মুমিন হোক বা কাফের। কিন্তু যদি তারা শিরক করার আহ্বান জানায়, তবে অবাধ্য হওয়া অনিবার্য।

কারণ প্রতিটি হক বা অধিকার, তা যতই বড় হোক না কেন, এখানে রহিত হয়ে যায়। কেননা স্রষ্টার নাফরমানি করে সৃষ্টির কোনো আনুগত্য নেই (৫)। অতঃপর তিনি বললেন: "আমারই কাছে তোমাদের ফিরে আসা," তোমাদের মধ্যে যে ঈমান এনেছে এবং যে শিরক করেছে, অতঃপর আমি তোমাদের যথাযথ প্রতিদান দেব। এই আয়াতের শেষে দুটি উপকারিতা রয়েছে: এই বিষয়ে সতর্ক করা যে প্রতিদান আল্লাহর কাছে, তাই তাদের শিরকের কারণে তাদের প্রতি কঠোরতা করার কথা মনে স্থান দিও না; এবং দ্বীনের ওপর অটল থাকার উৎসাহ প্রদান করা যাতে আখিরাতে মন্দ প্রতিদান পেতে না হয়।

(তাদের মধ্যে রয়েছেন): তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (৬) ইবনে উসমান ইবনে আমর ইবনে কা'ব ইবনে সা'দ ইবনে তাইম

--------------------------------------------

(১) হস্তী বছরের দশ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম পর্যায়ের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং উভয় হিজরতেই শরিক ছিলেন। তিনি বদর ও অন্যান্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তার অন্যতম গুণ হলো, তাবুক যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পেছনে সালাত আদায় করেছিলেন যখন তিনি তাকে (সালাতরত) পেয়েছিলেন। ওহুদ যুদ্ধে তিনি একুশটি আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহর যুগে তার অর্ধেক সম্পদ সদকা করেছিলেন। তিনি একত্রিশ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন এবং বাকিতে তাকে দাফন করা হয়। তিনি তখন বাহাত্তর বছর বয়সী ছিলেন।

(২) তার কুনিয়াত ছিল আবু ইসহাক এবং তিনি দশজন সুসংবাদপ্রাপ্তদের একজন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দোয়া করেছিলেন যেন তার তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয় এবং তার দোয়া কবুল হয়। হাদিসে এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সা'দের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো।" তিনি মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে চলে যাওয়া।

(৪) আয়াত (৮)।

(৫) ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে আহমদ ও হাকেম কর্তৃক বর্ণিত হাদিস থেকে।

(৬) তার কুনিয়াত ছিল আবু মুহাম্মদ আল-ফায়্যাজ। তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন এবং পরামর্শ সভার (শুরা) ছয় সদস্যের একজন। তিনি প্রথম হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য গণিমতের অংশ নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ওহুদ ও পরবর্তী সকল যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন ওহুদ যুদ্ধের কথা বলতেন, তখন বলতেন: "সেই দিনটি পুরোটাই ছিল তালহার।" তিনি উটের যুদ্ধে (জামাল) শাহাদাত বরণ করেন এবং তখন তার বয়স ছিল চৌষট্টি বছর। তাকে বসরায় দাফন করা হয়।