(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: -)
نساء النبي   (السيد الجميلى)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: نساء النبي صلى الله عليه وآله وسلم

المؤلف: السيد الجميلى

الناشر: دار ومكتبة الهلال - بيروت

عام النشر: - 1416 هـ

عدد الصفحات: 144

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নবীপত্নীগণ   (আস-সাইয়্যিদ আল-জুমাইলি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পত্নীগণ

লেখক: আস-সাইয়্যিদ আল-জুমাইলি

প্রকাশক: দার ও মাকতাবাতুল হিলাল - বৈরুত

প্রকাশকাল: - ১৪১৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[المدخل]

بسم الله الرحمن الرحيم

إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِماتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِناتِ وَالْقانِتِينَ وَالْقانِتاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِراتِ وَالْخاشِعِينَ وَالْخاشِعاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِماتِ وَالْحافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحافِظاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيراً وَالذَّاكِراتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً «1» .

--------------------------------------------

(1) الأحزاب 35. راجع تفسير القرطبي (14/ 185) والطبري (22/ 8) والبحر المحيط لأبي حيان (7/ 230) والفخر الرازي في الكبير (25/ 211) والكشاف للزمخشري (3/ 425) وتفسير البيضاوي (2/ 116) ومختصر ابن كثير (3/ 94) وحاشية الصاوي على الجلالين (3/ 277) وزاد المسير لابن الجوزي (6/ 379) والتسهيل (3/ 138) .
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও বিনয়াবনত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থান হিফজকারী পুরুষ ও হিফজকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন «১» ।

--------------------------------------------

(১) আল-আহযাব ৩৫। দেখুন: তাফসিরে কুরতুবি (১৪/ ১৮৫), তাবারী (২২/ ৮), আবু হাইয়ানের আল-বাহরুল মুহিত (৭/ ২৩০), আল-কাবিরে ফখরুদ্দীন রাজি (২৫/ ২১১), যামাখশারির আল-কাশশাফ (৩/ ৪২৫), তাফসিরে বায়যাভি (২/ ১১৬), মুখতাসার ইবনে কাসির (৩/ ৯৪), জালালাইনের ওপর সাউয়ির হাশিয়া (৩/ ২৭৭), ইবনুল জাওযির যাদুল মাসির (৬/ ৩৭৯) এবং আত-তাসহিল (৩/ ১৩৮)।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌إهداء

إلى حبيبتي الصغيرة … دعاء … أسأل الله أن ينفث فيها الطهارة والتقوى والنجاح والفلاح، وأن يجعلها مناط طهر ونقاء، وأن يعيذها وذريتها من الشيطان الرجيم … وأن يسدد خطاها ويهديها سواء السبيل، وأن يجعلها من المقبولين المرضيين … آمين، آمين.

والحمد لله رب العالمين.

السيد الجميلي
উৎসর্গ

আমার ছোট্ট প্রিয়তমার প্রতি … দুআ … আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তার মাঝে পবিত্রতা, তাকওয়া, সফলতা ও কল্যাণ সঞ্চারিত করেন এবং তাকে পবিত্রতা ও নির্মলতার কেন্দ্রবিন্দু করেন। আর তিনি যেন তাকে ও তার বংশধরকে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় দান করেন … এবং যেন তার পথচলাকে সুদৃঢ় করেন ও তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং তাকে কবুলকৃত ও সন্তোষভাজনদের অন্তর্ভুক্ত করেন … আমীন, আমীন।

আর সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আস-সাইয়্যিদ আল-জুমাইলি
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

إن المرأة هي اللبنة الأساسية في المجتمع، والتي يعوّل عليها، ويقوم بها بناؤه، ومنها يشع دفء الحياة والحركة والحيوية حتى تتواصل ملحمة البقاء والاستمرار للجنس البشري على سطح المعمورة.

وليس مقبولا ولا سائغا ولا متصوّرا أن يقوم صرح اجتماعي؟؟؟؟ الرجال وحدهم من غير اعتبار لمؤازرة النساء، ودفعهن لعزائم الرجال، ورفع هممهم، حيث إن ناموس الحياة يقوم على تكامل الأزواج في ازدواج فطري كالنور والظلمة، وكالذكر والأنثى حيث تتم المخامرة والمخالطة والمداخلة الحسية والوجدانية في كيان واحد يقوم على السكن والمودة والرحمة، وعليه تقوم أسس المجتمع السليم الرصين المتماسك اللبنات.

إن الفطر المستقيمة، والطبائع النقية تجعل من النساء شريكا حيويا في دورة البقاء، وملحمة الاستمرار في عالم الموجودات الإنسانية الراقية.

إن المرأة هي الأم الحنون الرؤوم، والابنة العزيزة الغالية، والزوجة الحليلة الخليلة، والأخت الشفيقة الرقيقة.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই নারী সমাজের মৌলিক ভিত্তিপ্রস্তর, যাঁর ওপর নির্ভর করা হয় এবং যাঁর মাধ্যমে সমাজের কাঠামো বিনির্মাণ হয়। তাঁর থেকেই জীবনের উষ্ণতা, গতিময়তা এবং প্রাণচাঞ্চল্য বিচ্ছুরিত হয়, যাতে পৃথিবীর বুকে মানবজাতির টিকে থাকা এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলার মহাকাব্য অব্যাহত থাকে।

নারীদের সহযোগিতা, পুরুষদের সংকল্পে তাঁদের উৎসাহ প্রদান এবং তাঁদের মনোবল বৃদ্ধি করার বিষয়টি বিবেচনা না করে শুধুমাত্র পুরুষদের মাধ্যমে কোনো সামাজিক সৌধ গড়ে ওঠা গ্রহণযোগ্য নয়, বৈধ নয় এবং কল্পনাও করা যায় না। কেননা জীবনের চিরন্তন নিয়ম হলো আলো ও অন্ধকারের ন্যায় এক প্রাকৃতিক যুগলবন্দীর মাধ্যমে জোড়াসমূহের পরিপূরকতা, যেমন পুরুষ ও নারী; যেখানে প্রশান্তি, সৌহার্দ্য ও দয়ার ওপর ভিত্তি করে এক সত্তার মাঝে ইন্দ্রিয়জাত ও আধ্যাত্মিক সংমিশ্রণ, মেলামেশা ও অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে। আর এর ওপরই একটি সুস্থ, সুদৃঢ় এবং সুসংহত ভিত্তিপ্রস্তর বিশিষ্ট সমাজের বুনিয়াদ স্থাপিত হয়।

নিশ্চয়ই সরল স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং পবিত্র স্বভাবসমূহ নারীদেরকে অস্তিত্ব রক্ষার আবর্তন এবং উন্নত মানবীয় অস্তিত্বের জগতের নিরবচ্ছিন্ন অগ্রযাত্রার মহাকাব্যে এক অত্যাবশ্যকীয় অংশীদারে পরিণত করে।

নিশ্চয়ই নারী হলো স্নেহময়ী মমতাময়ী মা, অতি প্রিয় ও মূল্যবান কন্যা, বৈধ ও প্রিয়তমা স্ত্রী এবং সহমর্মী ও কোমল হৃদয়ের বোন।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৮)
لذلك كان مبدأ الإسلام قائما على إكرامها في كل أطوارها من أم، وابنة، وزوجة، وأخت في النسب، وأخت في الله، مع الحدب عليها، والصبر عليها، والقيام بواجبها خير قيام، وجعل هذا الإكرام واجبا مسنونا أولا، ثم من تمام المروءة والأريحية ثانيا.

ولا تستقر، ولا تستقيم أمور أمة من الأمم إلا بطهارة نسائها، وذكاء فطرهن، وقد كانت المرأة العربية مضربا للأمثال في قوة الشخصية، وعزة النفس، ورجاحة العقل، وقوة الحجة، ولزوم المحجة، بالحرص على طاعة الله، ولزوم سنته، والقيام بأمره في شئونها الخاصة والعامة، بفكر واع مستقيم مستنير.

لكن الجريمة النكراء التي لا ينفع معها تسويغ أو تبرير، كانت وأد البنات، بدفنهن أحياء صغارا، فجاء الإسلام برحمته المسداة فقضى على هذه العادة المرذولة التي لطخت بسوادها صفحة العرب في الجاهلية الجهلاء.

ومن غير المقبول أن يقر الإسلام هذه الهمجية والحمق غير الإنساني الذي كان حيفا وجورا وقع على المرأة، ولم يكن لها ذنب فيه ولا جريرة.

لذلك فقد رفع عنها الإسلام إصر الجاهلية الجائرة، وقصف وثلم سيف الباطل الذي ظل ردحا طويلا من الزمان مشروعا ومصلتا على رقبتها، فرفع الله شأنها، وأحيا مواتها، وانتاشها من كرب الهلاك والهوان، ثم أعطاها حقوقا كانت مغموطة، ومسلوبة منها، فأصبحت مصونة محفوظة مضنونا بها، محتفى بمكانتها.

فلما أعطاها الإسلام كل هذه العطاآت والمنح والهبات، كانت فرحتها به لا توصف، لذلك وقفت لتنافح عنه، وتذب عن حياضه، وتحرس بيضته لقاء وكفاء ما قدم لها، فكان للمسلمات المؤمنات مواقفهن المشهودة المشهورة التي يحفظها التاريخ لهن.
এজন্য ইসলামের মূলনীতি গড়ে উঠেছিল তাকে তার জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সম্মান করার ওপর—মা, কন্যা, স্ত্রী, বংশগত বোন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বোন হিসেবে; সেই সাথে তার প্রতি মমতা রাখা, তার বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং সর্বোত্তম উপায়ে তার অধিকার আদায় করার মাধ্যমে। এই সম্মান প্রদর্শনকে প্রথমত একটি সুন্নাহগত ওয়াজিব এবং দ্বিতীয়ত পূর্ণাঙ্গ মনুষ্যত্ব ও উদারতার পরিচায়ক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

কোনো জাতির পরিস্থিতি সুস্থিত ও সঠিক হয় না যতক্ষণ না সে জাতির নারীদের মধ্যে পবিত্রতা এবং সহজাত বুদ্ধিমত্তা বিদ্যমান থাকে। আরব নারী একদা ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা, আত্মমর্যাদা, বুদ্ধির প্রখরতা, অকাট্য যুক্তি এবং সঠিক পথের অনুসরণে দৃষ্টান্ত ছিল; যা অর্জিত হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি গভীর আগ্রহ, তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ এবং সচেতন, ঋজু ও আলোকিত চিন্তাধারার মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিষয়ে আল্লাহর বিধান পালনের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু সেই জঘন্য অপরাধ, যার পক্ষে কোনো ওজর-আপত্তি বা সাফাই চলে না, তা ছিল কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়া। এরপর ইসলাম তার প্রসারিত রহমত নিয়ে আবির্ভূত হলো এবং এই ঘৃণ্য প্রথার অবসান ঘটাল, যা চরম মূর্খতার যুগে আরবদের ইতিহাসে এক কালো কলঙ্ক লেপন করেছিল।

ইসলামের পক্ষে এমন বর্বরতা এবং অমানবিক নির্বুদ্ধিতাকে সমর্থন করা অসম্ভব ছিল, যা ছিল নারীর প্রতি চরম অন্যায় ও অবিচার; অথচ এতে তার কোনো অপরাধ বা দোষ ছিল না।

সে কারণে ইসলাম তার ওপর থেকে জালেম জাহেলিয়াতের গুরুভার সরিয়ে দিয়েছে এবং বাতিলের সেই তলোয়ারকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে যা দীর্ঘকাল ধরে বৈধতা পেয়ে তার ঘাড়ের ওপর উদ্যত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন, তার মৃতপ্রায় অস্তিত্বকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং ধ্বংস ও লাঞ্ছনার বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করেছেন। এরপর তিনি তাকে এমন সব অধিকার দান করেছেন যা আগে অবহেলিত ও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সে এখন সুরক্ষিতা, সংরক্ষিত এবং অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে, যার মর্যাদা অত্যন্ত সম্মানের সাথে স্বীকৃত।

ইসলাম যখন তাকে এই সকল দান ও নেয়ামত প্রদান করল, তখন ইসলামের প্রতি তার আনন্দ ছিল অবর্ণনীয়। তাই সে ইসলামের প্রতিরক্ষায় দাঁড়িয়ে গেল, এর সীমানা রক্ষায় সচেষ্ট হলো এবং এর অস্তিত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করল তার প্রাপ্তিগুলোর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। এভাবেই মুমিন মুসলিম নারীরা এমন সব অবিস্মরণীয় ও প্রসিদ্ধ ভূমিকা রেখেছেন যা ইতিহাস তাদের জন্য আজ অবধি সংরক্ষণ করে রেখেছে।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৯)
كانت أمهات المؤمنين، والصحابيات الأوليات أعطين نماذج وطرزا فريدة على مكرورة في عالم المثل والقيم العليا النادرة الوجود العزيزة المثال.

وقد عمدنا إلى هذه الدراسة الجادة المتواضعة في شخصيات هؤلاء اللاتي وقفن بقوة وصلابة إلى جوار رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحوله، وقد بذلن كل نفس ونفيس في سبيل الذود عن بيضة الدين حتى كنّ في أتون المعارك، وفي رهج الميدان يسقين المرضى، ويداوين الجرحى، فكنّ لذلك مرضيا عنهن، فقد كنّ- رضوان الله عليهن- طاهرات الذيول، عفيفات الأزر، نظيفات الذيول، مبرآت من المشاين التي تلحق سواد النسوة، بريئات من أرجاس الهوى، وحوب النفس.

وعلى الرغم من ندرة المصادر، وقلة المراجع في هذا الصدد، فإنّ كثيرا من أخبارهن وسيرهن لم يصل إلينا، وهذا يكون كفيلا عادة بالقطيعة التاريخية، وهو ما يكون مسوغا ومبررا للتقاعس والتدابر والتهاون في توفية دراسة وترجمة جامعة دقيقة للقصور الجلي في المصادر الأساسية.

لكننا لما كنا عقدنا العزم الأكيد على ذلك، استعانة بالله، وتوكلا عليه، وثقة بلطفه، لم يفتّ في ساعدنا يأس أو تدابر لصعوبة المسألة مما جعلنا نستسهل الصعب، ونستمرئ الشاق، ولا نكاد نشعر بأدنى حرج أو عنت، وهو المظنون أن يكون من أهم المعوقات لاستيفاء دراسة ندرت مصادرها ومراجعها، وشطّت نواها، ونأت ديار غربتها عن عالم التأليف والتصنيف.

وقد حرصنا على سرد المراجع في الهامش ما وجدنا سبيلا وداعيا إلى ذلك، حتى يرجع من يشاء إليها لمزيد من البسط والتفصيل.

ولئن كانت المصادر بالندرة التي ذكرنا آنفا، فقد كثر تعويلنا على أصول منها معتبرة لها مكانتها العلمية والتاريخية في مجال التراجم.
উম্মুল মুমিনীনগণ এবং প্রথম যুগের নারী সাহাবীগণ অনন্য আদর্শ ও নিদর্শনের এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা সুউচ্চ নৈতিকতা ও দুর্লভ আদর্শের জগতে এক বিরল উদাহরণ।

আমরা সেই মহীয়সী নারীগণের জীবনী নিয়ে এই গম্ভীর অথচ বিনম্র গবেষণার সংকল্প করেছি, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে এবং তাঁর চারপাশে অত্যন্ত শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে দণ্ডায়মান ছিলেন। তাঁরা দ্বীনের অস্তিত্ব রক্ষার তরে নিজেদের প্রাণ ও মহামূল্যবান সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন। এমনকি তাঁরা যুদ্ধের লেলিহান শিখার মাঝে এবং রণক্ষেত্রের ধূলিঝড়ের মধ্যে অসুস্থদের পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। এই কারণেই তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা ছিলেন—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, সতী-সাধ্বী, নিষ্কলঙ্ক এবং সাধারণ নারীদের মধ্যে পরিলক্ষিত দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। তাঁরা প্রবৃত্তির কলুষতা ও অন্তরের পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র ছিলেন।

এ বিষয়ে উৎসের দুষ্প্রাপ্যতা এবং তথ্যসূত্রের স্বল্পতা সত্ত্বেও তাঁদের জীবনের অনেক সংবাদ ও জীবনী আমাদের কাছে পৌঁছেনি। সাধারণত এটি ঐতিহাসিক বিচ্ছিন্নতার জন্য যথেষ্ট ছিল, যা মূল উৎসগুলোর স্পষ্ট সীমাবদ্ধতার কারণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল গবেষণা ও জীবনী সংকলনে অনীহা, বিমুখতা এবং অবহেলার অজুহাত ও যৌক্তিকতা হতে পারত।

কিন্তু আমরা যেহেতু আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে, তাঁর ওপর ভরসা রেখে এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রতি বিশ্বাস রেখে এ বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করেছিলাম, তাই বিষয়ের কঠিনতা আমাদের মনোবলকে দমাতে পারেনি এবং কোনো নিরাশা বা বিমুখতা আমাদের স্পর্শ করেনি। ফলে আমরা কঠিনকে সহজ হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং কষ্টসাধ্যকে সানন্দে বরণ করেছি। আমরা বিন্দুমাত্র সংকীর্ণতা বা ক্লেশ অনুভব করিনি, যদিও মনে করা হয় যে, এমন একটি গবেষণার পূর্ণতা দানে এগুলোই প্রধান অন্তরায় হতে পারত যার উৎস ও তথ্যসূত্র বিরল, যার প্রেক্ষাপট সুদূরপ্রসারী এবং যার অবস্থান রচনা ও সংকলনের জগত থেকে অনেক দূরে।

আমরা যেখানেই প্রয়োজন ও সুযোগ পেয়েছি, সেখানেই টীকায় তথ্যসূত্র উল্লেখ করার বিষয়ে সচেষ্ট হয়েছি, যাতে আগ্রহী পাঠকেরা অধিকতর ব্যাপ্তি ও বিস্তারিত বর্ণনার জন্য সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন।

যদিও তথ্যসূত্রগুলো পূর্বে উল্লিখিত দুষ্প্রাপ্যতার পর্যায়ে ছিল, তথাপি আমরা এমন কিছু নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছি, যেগুলোর জীবনী সাহিত্যের ক্ষেত্রে বিশেষ বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক মর্যাদা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১০)
هذا جهد المقل، ونعتذر لقرائنا عن قلة الحيلة وقصورنا وتقصيرنا عن بلوغ النهمة التي نرجوها ونصبو إليها، فالرحلة شاقة، والطريق وعرة، والزاد قليل، والقضاء عسر، والزمان جديد، وإن في كرم الكريم وسعة الصدر منادح للتجاوز والعفو والمسامحة.

فما كان من تسديد وتوفيق فمن الله تعالى، ولطفه وبره وإحسانه، وما كان من سهو أو غفلة أو نسيان فمن الشيطان ومني، وأستغفر الله العظيم وأتوب إليه..

السيد الجميلي

المعادي في ربيع الاخر 1414 هـ

أكتوبر 1993 م.

96 ش 105 بالمعادي
এটি আমাদের সামান্য প্রচেষ্টা। আমরা আমাদের পাঠকদের কাছে আমাদের অক্ষমতা এবং সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমাদের সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি যা আমরা আশা করেছিলাম এবং যার প্রতি আমরা আকাঙ্ক্ষী ছিলাম। কেননা এই সফর অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, পথ বন্ধুর, পাথেয় সামান্য, পরিস্থিতি কঠিন এবং সময় নতুন। তবে মহানুভবের করুণা ও প্রশস্ত হৃদয়ের মধ্যে অবশ্যই মার্জনা, ক্ষমা ও সহনশীলতার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

যা কিছু সঠিক ও তাওফিক হয়েছে, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এবং তাঁর দয়া, কল্যাণ ও অনুগ্রহের ফল। আর যা কিছু ভুল, গাফলতি বা বিস্মৃতি হয়েছে, তা শয়তানের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে। আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি।

আস-সাইয়্যেদ আল-জুমায়লি

আল-মাআদি, রবিউস সানি ১৪১৪ হিজরি

অক্টোবর ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ।

৯৬ সড়ক, ১০৫ আল-মাআদি
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌(1) خديجة بنت خويلد «1» (68- 3 ق. هـ.) (556- 620 م.)

«والله ما أبدلني الله خيرا منها، آمنت بي حين كفر الناس، وصدقتني إذ كذبني الناس، وواستني بمالها إذ حرمني الناس، ورزقني الله منها الولد دون غيرها من النساء» «2» .

هي السيدة خديجة بنت خويلد بن أسد بن عبد العزى من أكابر قريش، وهي أم المؤمنين، زوجة رسول الله صلى الله عليه وسلم الأولى، تكبره بخمس عشرة سنة، وكان مولدها سنة ثمان وستين قبل هجرة النبي صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) مصادر ومراجع الترجمة: تاريخ الطبري (2/ 34) صفة الصفوة لابن الجوزي (2/ 2) والطبقات الكبرى لابن سعد (8/ 7) وما بعدها، والإصابة ت (333) وتاريخ الخميس (1/ 301) وأنساب الأشراف للبلاذري (1/ 104) .

(2) مسند الإمام أحمد (6/ 118) و (3/ 89) .
(১) খাদিজা বিনতে খুওয়ায়লিদ «১» (৬৮- ৩ হিজরি পূর্ব) (৫৫৬- ৬২০ খ্রি.)

«আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আমাকে তার চেয়ে উত্তম কোনো বিনিময় দান করেননি। সে আমার ওপর ঈমান এনেছিল যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, সে আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল যখন মানুষ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, সে তার সম্পদ দিয়ে আমাকে সহায়তা করেছিল যখন মানুষ আমাকে বঞ্চিত করেছিল এবং আল্লাহ অন্য কোনো স্ত্রীর মাধ্যমে নয় বরং তার মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দান করেছেন» «২»।

তিনি হলেন সাইয়্যিদা খাদিজা বিনতে খুওয়ায়লিদ বিন আসাদ বিন আবদিল উযযা, যিনি কুরাইশ বংশের অন্যতম সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি মুমিনদের জননী এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম স্ত্রী। তিনি তাঁর চেয়ে পনেরো বছরের বড় ছিলেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের আটষট্টি বছর পূর্বে।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ: তারিখে তাবারি (২/ ৩৪), সিফাতুস সাফওয়াহ ইবনুল জাওজি (২/ ২), আত-তাবাকাতুল কুবরা ইবনে সাদ (৮/ ৭) ও পরবর্তী অংশ, আল-ইসাবাহ ত (৩৩৩), তারিখুল খামিস (১/ ৩০১) এবং আনসাবুল আশরাফ আল-বালাযুরি (১/ ১০৪)।

(২) মুসনাদে ইমাম আহমাদ (৬/ ১১৮) এবং (৩/ ৮৯)।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১২)
وكانت ولادتها بمكة، ونشأت وترعرعت دوحتها في بيت الأشراف، لأنها كانت نسيبة ذات شرف وفخار آباء وأجدادا.

عاشت في بيئة ميسورة لم تعرف الإعسار، ولم تدركها فاقة، فكان ثراؤها معروفا بين بطون العرب، لم يخف عن أحد كالشمس المتألقة في وهج الظهيرة من أموال وتجارة وعروض واسعة.

وقد مات أبوها في حرب الفجار، وقد تزوجت من عتيق بن عائذ بن عبد الله المخزومي فمات وترك لها فتاة في سن الزواج، ثم تزوجت أبا هالة بن زرارة، وتوفي أيضا وترك لها غلاما هو هند بن أبي هالة.

كانت السيدة خديجة- رضي الله عنها تبعث كل عام بتجارة كثيرة إلى بلاد الشام، وكانت تستأجر الرجال ليقوموا على هذه الشئون بأموالها، وكانت- رضي الله عنها ذات بصر بالرجال وتقويمهم ومعرفة مدى دربتهم وخبرتهم بالتجارة مع النزاهة والشرف والقناعة والأمانة وعفة النفس، وارتفاع الهمة والاخلاص في العمل.

ولما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم خمسا وعشرين سنة من عمره، وهو في ريعان الشباب، وصدره الباكر، خرج في تجارتها إلى سوق بصرى بحوران ليتجر لها، ثم عاد غانما رابحا، وكانت هي في ذلك الوقت في الأربعين من عمرها، فلفت نظرها- وهي البصيرة بتقويم الرجال وسبر أغوارهم- ما كان عليه من خلق قويم، وطهارة وعزة نفس، وحياء وأمانة، فمالت نفسها إليه، ورغبت فيه وتمنت أن يكون زوجا لها.

وفي حياء بالغ، عمدت إلى اختبار مشاعره نحوها فبلغها كل خير، وشجعها هذا على الطلب إلى أحد الأقرباء منها أن يعرضها عليه للزواج منها
তাঁর জন্ম হয়েছিল মক্কায়, এবং তাঁর বংশমর্যাদার বৃক্ষ সম্ভ্রান্ত পরিবারে লালিত-পালিত ও বিকশিত হয়েছিল, কারণ তিনি ছিলেন তাঁর পিতৃপুরুষ ও পূর্বপুরুষদের গৌরব ও আভিজাত্যমণ্ডিত এক উচ্চবংশী নারী।

তিনি এক সচ্ছল পরিবেশে বসবাস করতেন যেখানে কোনো অনটন ছিল না এবং অভাব-অনটন তাঁকে স্পর্শ করেনি। তাঁর ধন-সম্পদ আরব গোত্রগুলোর মধ্যে সুবিদিত ছিল, যা দ্বিপ্রহরের প্রখর সূর্যরশ্মির মতো কারো কাছে গোপন ছিল না; তাঁর ছিল প্রচুর অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য এবং ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভার।

তাঁর পিতা ফিজার যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আতিক বিন আইজ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাখজুমীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, অতঃপর তিনি মারা যান এবং তাঁর জন্য বিবাহের উপযুক্ত বয়সের এক কন্যাসন্তান রেখে যান। এরপর তিনি আবু হালা বিন জুরারাকে বিবাহ করেন, তিনিও ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জন্য হিন্দ বিন আবু হালা নামক এক পুত্রসন্তান রেখে যান।

সায়্যিদা খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) প্রতি বছর সিরিয়ার ভূখণ্ডে প্রচুর বাণিজ্যিক কাফেলা পাঠাতেন এবং তাঁর অর্থ দিয়ে এই কার্যাবলী পরিচালনার জন্য পুরুষদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত করতেন। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) পুরুষদের জহুরি ছিলেন এবং তাঁদের মূল্যায়ন করতে পারদর্শী ছিলেন; সততা, আভিজাত্য, অল্পেতুষ্টি, আমানতদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, সুউচ্চ মনোবল এবং কর্মে একনিষ্ঠতার পাশাপাশি ব্যবসায় তাঁদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার গভীরতা সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত ছিলেন।

যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঁচিশ বছর বয়সে পদার্পণ করেন এবং তখন তিনি তাঁর প্রারম্ভিক যৌবনের তেজস্বী অবস্থায় ছিলেন, তিনি খাদিজার ব্যবসার উদ্দেশ্যে হাওরানের বুসরা বাজারে বাণিজ্য করতে বের হন। অতঃপর তিনি সফল ও লাভবান হয়ে ফিরে আসেন। সে সময় সায়্যিদা খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। তিনি পুরুষদের চারিত্রিক মূল্যায়ন ও তাঁদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণে বিচক্ষণ হওয়ার কারণে মহানবীর সুউচ্চ চরিত্র, পবিত্রতা, আত্মমর্যাদাবোধ, লজ্জা এবং আমানতদারি তাঁর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করল। ফলে তাঁর মন মহানবীর প্রতি অনুরক্ত হলো এবং তিনি তাঁকে স্বামী হিসেবে পেতে আগ্রহী হলেন ও কামনা করলেন।

অত্যন্ত লজ্জাশীলতার সাথে তিনি তাঁর প্রতি রাসূলুল্লাহর মনোভাব পরীক্ষার উদ্যোগ নিলেন এবং তিনি কেবল কল্যাণকর সংবাদই প্রাপ্ত হলেন। এই বিষয়টি তাঁকে উৎসাহিত করল যে, তিনি তাঁর এক নিকটাত্মীয়র মাধ্যমে রাসূলুল্লাহর নিকট বিবাহের প্রস্তাব পেশ করেন।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
والبناء عليها، فقوبل هذا العرض الطيب بالموافقة منه صلى الله عليه وسلم، فما كان منها إلا أن أرسلت إلى عمها عمر بن أسعد بن عبد العزى، فحضر، وتم على الفور زواجها منه صلى الله عليه وسلم، وكان ذلك قبل أن يبعث رسولا، وقبل نبوته، وقد رزقه الله منها بالقاسم، وعبد الله، وهو الطاهر والطيب، ثم زينب ورقية، وأم كلثوم، وفاطمة.

وقد كانت تنجب بمعدل كل عام ولدا أو بنتا، أي تضع كل عام، وكانت لذلك تسترضع لأبنائها وبناتها، وقد حظيت بشرف عظيم رفيع حيث صارت أمّا للمؤمنين، إذ إنه لما بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم كانت أول من أسلم من النساء والرجال على حد سواء، بل إنها أول من تلقى خبر الوحي من رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكانت تصلي معه سرا بادئ الرأي.

كانت أنجبت من زوجها الأول جارية ومن الثاني غلاما اسمه هند، وكانت تكنى بأم هند، قبل أن تتزوج من سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وأولاد النبي عليه الصلاة والسلام كلهم منها، ما عدا إبراهيم بن مارية القبطية، وقد توفيت رضي الله عنها بمكة سنة ثلاث قبل الهجرة. فرضي الله عنها وأرضاها.

إن حياة اليتم تجعل اليتيم في غربة من المجتمع والناس، وفي غربة من الأهلين في بعض الأحيان وليس بعد الأم والأب رفيق أو شفيق، إذ إن الأثرة هي الفطر المطبوع عليها أكثر بني البشر. وأجمل شوقي- رحمه الله وأبدع عندما قال:

فإذا رحمت فأنت أم أو أب … هذان في الدنيا هما الرحماء

فاليتيم المحروم من أمه وأبيه، حزين مكتئب مكسور الخاطر، إذ إنه يكون
এবং এর ভিত্তিতে; ফলে এই মহৎ প্রস্তাবটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে সম্মতির মাধ্যমে গৃহীত হয়। তখন তিনি তাঁর চাচা উমর ইবনে আসআদ ইবনে আবদিল উযযার নিকট সংবাদ পাঠান। তিনি উপস্থিত হন এবং তৎক্ষণাৎ তাঁর সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহ সম্পন্ন হয়। এটি ছিল তাঁর রাসূল হিসেবে প্রেরিত হওয়ার এবং তাঁর নবুওয়াতের পূর্বের ঘটনা। আল্লাহ তাঁকে তাঁর গর্ভ থেকে কাসিম এবং আবদুল্লাহকে দান করেন—যিনি ‘তহির’ ও ‘তয়্যিব’ নামে পরিচিত—অতঃপর যয়নব, রুকাইয়্যাহ, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমাকে দান করেন।

তিনি প্রতি বছর গড়ে একটি পুত্র বা একটি কন্যা সন্তান জন্ম দিতেন, অর্থাৎ প্রতি বছরই তিনি সন্তান প্রসব করতেন। এই কারণে তিনি তাঁর পুত্র ও কন্যাদের জন্য স্তন্যদাত্রী নিযুক্ত করতেন। তিনি এক মহান ও সুউচ্চ সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন যখন তিনি মুমিনদের জননী হলেন। কেননা যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হলেন, তখন তিনি নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন। বরং তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট থেকে ওহীর সংবাদ পেয়েছিলেন এবং প্রারম্ভিক পর্যায়ে তিনি তাঁর সাথে গোপনে সালাত আদায় করতেন।

আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে তাঁর প্রথম স্বামীর ঘর থেকে একটি কন্যা এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘর থেকে হিন্দ নামক একটি পুত্র সন্তান ছিল এবং তখন তাঁর উপনাম ছিল উম্মে হিন্দ।

নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর সকল সন্তানই তাঁর গর্ভজাত ছিল, কেবল মারিয়া কিবতিয়্যার পুত্র ইবরাহিম ব্যতীত। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হিজরতের তিন বছর পূর্বে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন।

অনাথ জীবন একজন এতিমকে সমাজ ও মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং কখনো কখনো আত্মীয়-স্বজন থেকেও পরবাসী করে তোলে। মাতা ও পিতার পর কোনো অকৃত্রিম বন্ধু বা সমব্যথী থাকে না; কেননা স্বার্থপরতা হলো এমন এক স্বভাব যা অধিকাংশ মানুষের প্রকৃতিতে মুদ্রিত। শাওকি (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত চমৎকার ও শৈল্পিকভাবে বলেছেন:

যখন আপনি দয়া করেন, তখন আপনি একজন মা অথবা একজন বাবা … পৃথিবীতে এরাই হলো পরম দয়ালু।

সুতরাং যে এতিম তার মাতা ও পিতাকে হারিয়ে বঞ্চিত হয়েছে, সে দুঃখিত, বিষণ্ণ ও ভগ্নহৃদয় হয়, কেননা সে...
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
شاعرا بأنه مزايل للناس وهو بعيد منهم، فلا أحد يمكن أن يسد مسد الأب الرفيق، ولا إنسانة تسد مسد الأم الشفوق، فإن أصاب الابن قذى تقطعت كبد أمه، واحترق قلب أبيه، وليس لأحد من الناس غيرهما هذه الخاصية، وكم تمنى إنسان أن يفقد كل شيء، وأن يضحي بكل نفس ونفيس فداء لابنه لأنه حشاشة القلب....

لقد مات عبد الله بن عبد المطلب وترك السيدة البارة آمنة بنت وهب حاملا برسول الله صلى الله عليه وسلم، فخرج سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الدنيا لم ير أباه، ولم يره أبوه، فتقر به عينه، وليس في الدنيا كلها حنان يعوض حنان الأب، وحدبه، وبره، وإشفاقه.

ثم إن أمه آمنة بنت وهب قد أدركها الموت، فتوفيت هي الآخرى وعمره ست سنوات، فكانت وفاتها ثالثة الأثافي، حيث تظاهرت الظروف القاسية المريرة، وتواترت الهموم على الطفولة البريئة، فبينا يتمارى صبية بني هاشم وغيرهم بين آبائهم وأمهاتهم وذويهم، إذا بالصبي الصغير محمد بن عبد الله لا يجد صدر أب حنون، ولا قلب أم مشفقة تحنو عليه في المساء، وترعاه في الصباح، ويشعر باليد الحانية تربت على وجهه المشرق الوضاء تهدهده وتلاعبه وتداعبه.. افتقد كل هذا، وحرم من كل هذا، ولم يكن هناك بد من إلحاقه وانتقاله إلى جده عبد المطلب، ذلك الشيخ العجوز الفاني. لكن حفاوة الجلد العجوز لا يمكن بحال أن تكون بديلا عن حنان الأب وبره وحدبه … كذلك فإنه لا يزال محروما من حنان الأم التي لا عوض ولا بديل لها أبدا.

كان كلما خلا بنفسه صلى الله عليه وسلم، شعر بالحزن العميق، والأسى البالغ، والنار المحرقة التي ترعى الكبد من لوعة فراق الأبوين في فجر الحياة ومع
তিনি অনুভব করছিলেন যে তিনি মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তাদের থেকে দূরে রয়েছেন। কেননা সহমর্মী পিতার অভাব কেউ পূরণ করতে পারে না, আর দয়াবতী মায়ের শূন্যস্থান কোনো নারীই পূর্ণ করতে পারে না। যদি সন্তানের সামান্যতম কষ্ট হয়, তবে মায়ের কলিজা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং পিতার হৃদয় দগ্ধ হয়। এই বৈশিষ্ট্য বাবা-মা ছাড়া অন্য কারো মাঝে নেই। কত মানুষই না নিজের সব কিছু হারিয়ে ফেলতে এবং প্রিয় সব কিছু বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে নিজের সন্তানের জন্য, কারণ সন্তান তো তার হৃদয়ের নির্যাস...

আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব মৃত্যুবরণ করেন এবং পুণ্যবতী মহীয়সী আমিনা বিনতে ওয়াহাবকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গর্ভধারিণী অবস্থায় রেখে যান। আমাদের সাইয়্যিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পৃথিবীতে পদার্পণ করলেন অথচ তিনি তার পিতাকে দেখেননি এবং তার পিতাও তাকে দেখেননি যার দ্বারা তার চোখ জুড়াত। আর পুরো পৃথিবীতে এমন কোনো মমতা নেই যা পিতার স্নেহ, মমতা, দয়া ও সহমর্মিতার বিকল্প হতে পারে।

অতঃপর তার মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব মৃত্যুর মুখোমুখি হলেন এবং তিনি যখন ছয় বছর বয়সের ছিলেন তখন তিনিও ইন্তেকাল করলেন। তার এই মৃত্যু ছিল চরম বিপদের ওপর মহাবিপদ, কারণ কঠোর ও তিক্ত পরিস্থিতি ঘনীভূত হয়েছিল এবং নিষ্পাপ শৈশবে দুশ্চিন্তা একের পর এক আসছিল। যখন বনু হাশিম ও অন্যান্যদের বালকেরা তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে ছোটাছুটি করত, তখন বালক মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ কোনো দয়ালু পিতার বক্ষ বা কোনো মমতাময়ী মায়ের হৃদয় খুঁজে পেতেন না, যারা তাকে সন্ধ্যায় স্নেহ করবে আর সকালে তার যত্ন নেবে। তিনি অনুভব করতেন না সেই মমতাময়ী হাত যা তার উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত চেহারার ওপর আলতো করে বুলিয়ে দেওয়া হয়, তাকে দোলানো হয় এবং তার সাথে খেলা ও কৌতুক করা হয়। তিনি এই সব কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন এবং এই সব কিছুই হারিয়েছিলেন। এরপর তার দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে তার স্থানান্তরিত হওয়া ও আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, যিনি ছিলেন একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। কিন্তু একজন বৃদ্ধ দাদার সমাদর কোনোভাবেই পিতার স্নেহ, মমতা ও দয়ার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না … তেমনিভাবে তিনি মায়ের স্নেহ থেকেও বঞ্চিতই রয়ে গেলেন, যার কোনো প্রতিদান বা বিকল্প কখনোই সম্ভব নয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখনই নির্জনে থাকতেন, তখনই তিনি গভীর দুঃখ, চরম শোক এবং সেই দহনকারী যন্ত্রণা অনুভব করতেন যা জীবনের প্রভাতবেলায় পিতা-মাতার বিচ্ছেদের বিরহে কলিজাকে দগ্ধ করত এবং
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
بداية أنفاس الحياة الأولى، لكنها إرادة الله تعالى ومشيئته، فإذا أراد الله تعالى شيئا لا يمكن أن يمنعه شيء.

إن الصبي لم تبرح مخيلته طرفة عين صوت أبيه الذي لم يره، وكم كان يود أن يراه، وأن يكون عونا له على الأيام، وأن يحظى بحنان الأبوة، ودفئها.

كما أن صدره النقي البريء تتصارع فيه مواجيد الشوق منذ ثماني عشرة سنة، حيث لم ينس بل لا يزال ماثلا بإزائه في كل لحظة ذلك المنظر الرهيب المروع، وهو يودع حشاه وفلذة كبده أمه في حفرة بالأبواء، ومنذ تلك اللحظة وهو مكسور الخاطر، مهيض الجناح، مشغول بالهموم والأتراح، تزايله الأفراح ولا تقاربه تسرية أو سلوان، وهو في شرخ الصبا الذي يكون عادة محصنا ضد الهموم والأنكاد.

ولذلك ولهذه الأسباب كان كثيرا ما يخلد إلى نفسه، ويسرح بخواطره إلى تلك الأيام الخوالي الدارسة المنصرمة في حقبة منصرمة حيث كان في حضن أمه الدافىء بمكة، ثم إذا به يصير في ديوان الحياة وحيدا كريشة في مهب الريح.

ثم إن جده عبد المطلب كان شفوقا عليه، مهموما لأجله، إذ إنه كان يدرك تماما ما يجول بخاطر حفيده، ويحتوي كيانه ويستولي عليه من أنكاد تصارعه ويصارعها، وكم حاول الجد العجوز أن يمسح عن جبين حفيده لفحات الحزن والكابة، بنفحات الود والحدب والحنان، وكم حاول أن يمسح عبرة الأشجان من عينيه الواكفتين اللتين قد كحلهما السهاد والأرق.

لكن لم تقدر عاطفة الشيخ الطاعن على مدافعة هذه الهموم التي تدهم، والنوائب التي تنوب، والنوازل التي تنزل بعقوته، وتلم بحجزته، فقد كان الجرح غائرا، والألم مبرحا ممضا، لكن شبح المنية رفرف بجناحيه مرة أخرى على بيت
জীবনের প্রথম নিঃশ্বাসগুলোর শুরু, তবে এটি মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও অভিপ্রায়; মহান আল্লাহ যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন কোনো কিছুই তা রোধ করতে পারে না।

সেই বালকের কল্পনা থেকে তার পিতার কণ্ঠস্বর এক পলকের জন্যও বিদায় নেয়নি, যাকে সে কখনো দেখেনি। সে কতই না আকাঙ্ক্ষা করত যদি তাকে দেখতে পেত, যদি তিনি দিনাতিপাতে তার সহায় হতেন এবং যদি সে পিতৃত্বের মমতা ও উষ্ণতা লাভ করতে পারত।

তেমনিভাবে তার পবিত্র ও নিষ্পাপ বক্ষে আঠারো বছর ধরে বিরহের তীব্র আবেগ প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছে। সে ভুলে যায়নি, বরং প্রতি মুহূর্তে তার সামনে ভেসে ওঠে সেই ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য—যখন সে তার কলিজার টুকরা জননীকে 'আবওয়া' নামক স্থানের এক কবরে বিদায় দিচ্ছিল। সেই মুহূর্ত থেকেই সে ভগ্নহৃদয় ও অসহায়; দুঃখ-কষ্টে নিমজ্জিত। আনন্দ তাকে ছেড়ে চলে গেছে, আর সান্ত্বনা বা প্রবোধ তার ধারেকাছেও ঘেঁষে না—যদিও সে ছিল কৈশোরের সেই প্রারম্ভে, যা সাধারণত দুশ্চিন্তা ও সংকটের ঊর্ধ্বে থাকে।

এ কারণে এবং এই সকল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সে প্রায়ই নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকত এবং তার চিন্তাগুলো হারিয়ে যেত অতীতের সেই বিলীন হয়ে যাওয়া দিনগুলোতে, যখন সে মক্কায় তার মায়ের উষ্ণ কোলে ছিল। এরপর হঠাৎ করেই জীবনের এই বিশাল আঙিনায় সে বাতাসের তোড়ে উড়ে যাওয়া একটি পালকের মতো একাকী হয়ে পড়ল।

এরপর তার দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন এবং তাকে নিয়ে সর্বদা চিন্তিত থাকতেন। কারণ তিনি পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে পারতেন তার নাতির মনে কী ঝড় বয়ে যাচ্ছে এবং কী ধরনের সংকট তার অস্তিত্বকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে ও যার সাথে সে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছে। বৃদ্ধ দাদা কতবার চেষ্টা করেছেন তার নাতির ললাট থেকে শোক ও বিষণ্নতার তপ্ত লু-হাওয়াকে ভালোবাসা, মমতা ও স্নেহের পরশে মুছে দিতে। তিনি কতবার চেষ্টা করেছেন সেই অশ্রুসজল চোখ দুটি থেকে বেদনার অশ্রু মুছে দিতে, যা বিনিদ্র রজনী ও নির্ঘুম প্রহর কাটানোর কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু সেই জরাগ্রস্ত বৃদ্ধের মমতা সেই অতর্কিত দুশ্চিন্তা, আপতিত বিপদ এবং তার আঙিনায় নেমে আসা ও তাকে পরিবেষ্টনকারী দুর্যোগসমূহকে প্রতিহত করতে সক্ষম ছিল না। কারণ ক্ষতটি ছিল অত্যন্ত গভীর এবং বেদনা ছিল অসহনীয় ও দাহক। তবে মৃত্যুর কালো ছায়া আবারও তার ডানা মেলল সেই গৃহের ওপর...
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الجد الكبير والشيخ العجوز ليلم به، وشعر عبد المطلب بقرب الأجل، ودنو ساعة الرحيل، وأحس بأن ساعة الفراق صارت وشيكة، فكان شغله الشاغل حفيده محمد، فدعا ابنه «أبا طالب» ليوصيه بمحمد ابن أخيه «عبد الله» خيرا.

ثم كانت ثالثة الأثافي، ونازلة النوازع، هي موت الجد، وتركه ابن ابنه وحيدا وقد فقد ثالث الأحبة الثلاثة جده بعد أبيه وأمه.

ترحل الصبي إلى بيت عمه، وانضم إلى أسرته، لكن وجدانه كان مشحونا، وضميره كان مشدودا إلى الذكريات القديمة الخالية في رعاية أمه، ثم ضياع أمله، وفقد القلب الحنون الذي أدرج في شق محدود في الأبواء، فانطفأ به شهاب السعادة وأظلمت شمس هنائه وفرحه ومرحه في طور الطفولة، ثم إنه بموت جده تنطوي صفحة أخرى من حياته، وهو في كل هذه الأطوار من التحولات الدقيقة تتحول أجواؤه النفسية من سوء إلى سوء حيث صار محوطا بالإحباط، ومكتنفا بالضيق، بينما يلهو الصبيان من حوله، ويتمارون فرحين في ملاعب حداثتهم …

ظل في رعاية عمه مع أبناء عمه سبع عشرة سنة، وعمه كان أمينا عليه حسبما أوصاه أبوه به، فكان يتعهد ابن أخيه كواحد من أبنائه ضنينا به، حريصا عليه، لم يقصر في جانبه في قليل أو كثير..

لكن أبا طالب كان عائلا لأسرة كبيرة، يشقى ويكدح في سبيل لقمة العيش، فما إن وجد ابن أخيه قد بلغ مبلغ الرجال، وأصبح اعتماده على نفسه ممكنا، بل وواجبا لمن هو في مثل سنه، فإذا به يناديه ذات يوم في مطلع الشمس عن رحلة مرجوة الخير تعمد الى بلاد الشام، ويرجو أن ينشط ويطرق أسباب
বৃদ্ধ পিতামহ এবং জরাগ্রস্ত প্রবীণ ব্যক্তি বার্ধক্যে উপনীত হলেন। আবদুল মুত্তালিব তাঁর মৃত্যুর সান্নিধ্য এবং বিদায়ের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসার বিষয়টি অনুভব করলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন যে বিচ্ছেদের সময় আসন্ন। তখন তাঁর প্রধান চিন্তা হয়ে দাঁড়ালেন তাঁর নাতি মুহাম্মদ। তাই তিনি তাঁর পুত্র আবু তালিবকে ডাকলেন যাতে তাঁকে তাঁর ভাই আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদের প্রতি সদয় ও কল্যাণকর অসিয়ত করতে পারেন।

অতঃপর এল সেই চরম বিপর্যয় ও মহাবিপদ, আর তা হলো তাঁর পিতামহের মৃত্যু। তিনি তাঁর নাতিকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় রেখে বিদায় নিলেন। এভাবে তিনি তাঁর পিতা ও মাতার পর তাঁর তিন প্রিয়জনের তৃতীয়জন অর্থাৎ তাঁর পিতামহকেও হারালেন।

বালকটি তাঁর চাচার ঘরে স্থানান্তরিত হলেন এবং তাঁর পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হলেন। কিন্তু তাঁর অন্তর ছিল ভারাক্রান্ত এবং তাঁর মানসপটে সর্বদা তাঁর মায়ের স্নেহছায়ায় কাটানো অতীত স্মৃতিগুলো ভেসে উঠত। অতঃপর তাঁর আশাভঙ্গ হওয়া এবং সেই মায়াবী হৃদয়কে হারানো যা আবওয়ার এক সংকীর্ণ গহ্বরে সমাহিত হয়েছিল। এর মাধ্যমে তাঁর সুখের প্রদীপ নিভে গিয়েছিল এবং শৈশবে তাঁর আনন্দ, উল্লাস ও চপলতার সূর্য অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। এরপর তাঁর পিতামহের মৃত্যুর মাধ্যমে তাঁর জীবনের আরও একটি অধ্যায় সমাপ্ত হলো। এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর মানসিক অবস্থা এক দুঃখ থেকে অন্য দুঃখের দিকে মোড় নিচ্ছিল। ফলে তিনি হতাশা ও সংকীর্ণতায় পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছিলেন, অথচ তাঁর চারপাশের বালকরা ক্রীড়া-কৌতুক করত এবং তাদের শৈশবের ক্রীড়াঙ্গনে আনন্দচিত্তে বিচরণ করত …

তিনি তাঁর চাচার তত্ত্বাবধানে তাঁর চাচাতো ভাইদের সাথে সতেরো বছর অবস্থান করলেন। তাঁর চাচা তাঁর পিতার অসিয়ত অনুযায়ী তাঁর প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে নিজের সন্তানদের মতো পরম যত্নে আগলে রাখতেন এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন; তাঁর কোনো প্রয়োজনেই তিনি বিন্দুমাত্র অবহেলা করেননি।

কিন্তু আবু তালিব ছিলেন এক বিশাল পরিবারের অভিভাবক, যিনি জীবিকার অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম ও সংগ্রাম করতেন। যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর ভাতিজা যৌবনে পদার্পণ করেছেন এবং এখন তাঁর পক্ষে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, বরং তাঁর সমবয়সীদের জন্য যা একান্তই আবশ্যক, তখন একদিন সূর্যোদয়ের সময় তিনি তাঁকে সিরিয়া অভিমুখী এক কল্যাণময় সফরের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করলেন। তিনি আশা করলেন যে তিনি উদ্যমী হয়ে উপার্জনের উপায় অন্বেষণ করবেন।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
العمل في التجارة حتى ينتقل إلى عالم الحياة الرحب الفسيح المأهول، ويشق سبيل الكفاح الذي لا بد له منه. وقد قال عمه أبو طالب له فيما قال:

«يا بن أخي، أنا رجل لا مال لي، وقد اشتد علينا الزمان، وألحّت علينا سنون منكرة، وليس لنا مال ولا تجارة، وهذه عير قومك قد حضر خروجها إلى الشام، وخديجة تبعث رجالا يتجرون في مالها، ويصيبون منافع، فلو جئتها لفضلتك على غيرك لما يبلغها عنك من أمانتك وطهارتك، وإن كنت أكره أن تأتي الشام، وأخاف عليك من يهود … !!

وقد بلغني أنها استأجرت فلانا ببكرين، ولسنا نرضى لك بمثل ما أعطته، فهل لك في أن أكلمها؟»

قال محمد: ما أحببت يا عم …

وفي رواية الإمام الطبري في تاريخه المشهور الذي هو أثبت التواريخ وأجمعها وأدقها أن السيدة خديجة رضي الله عنها هي التي عرضت عليه ذلك.

وقد ورد في الطبقات الكبرى «1» أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بلغ خمسا وعشرين سنة قال له أبو طالب: أنا رجل لا مال لي، وقد اشتد الزمان علينا، وهذه عير قومك، وقد حضر خروجها إلى الشام وخديجة بنت خويلد تبعث رجالا من قومك في عيراتها، فلو جئتها فعرضت نفسك عليها لأسرعت إليك، وبلغ خديجة ما كان من محاورة عمه له، فأرسلت إليه في ذلك، وقالت له: أنا أعطيك ضعف ما أعطي رجلا من قومك. أه. بتصرف.

ثم يقول بعد ذلك: فخرج إليها- أي أبو طالب- فقال: هل لك يا خديجة

--------------------------------------------

(1) الطبقات الكبرى لابن سعد (1/ 129) بتحقيق الدكتور إحسان عباس طبعة دار صادر بيروت.
thought) text into formal, scholarly Bangla. * *Input:* HTML containing Arabic text about Prophet Muhammad's (peace be upon him) involvement in trade and his uncle Abu Talib's conversation regarding working for Khadijah (may Allah be pleased with her). 1. No Arabic in output (except names/places as needed, but text itself must be Bangla). 2. Pure translation (translate everything). 3. Output format: RAW HTML only (No Markdown). 4. Preserve structure: Keep tags (`

`, ``, ``, `

`, etc.). 5. Theological Terms: * "Istiwa" -> "উঠা" (Not applicable in this specific text). * "Attributes" -> Literal (Hand -> আল্লাহর হাত, Foot -> আল্লাহর পা) (Not applicable in this specific text). 6. Style: Formal, scholarly Bangla. * *Segment 1:* العمل في التجارة حتى ينتقل إلى عالم الحياة الرحب الفسيح المأهول، ويشق سبيل الكفاح الذي لا بد له منه. * *Bangla:* ব্যবসার কাজে লিপ্ত হওয়া, যাতে তিনি জীবনের সেই প্রশস্ত, উন্মুক্ত ও জনবহুল জগতে প্রবেশ করতে পারেন এবং সেই সংগ্রামের পথ প্রশস্ত করতে পারেন যা তাঁর জন্য অপরিহার্য ছিল। * *Segment 2:* وقد قال عمه أبو طالب له فيما قال: «يا بن أخي، أنا رجل لا مال لي، وقد اشتد علينا الزمان، وألحّت علينا سنون منكرة، وليس لنا مال ولا تجارة...» * *Bangla:* তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে অন্যান্য কথার মাঝে বলেছিলেন: “হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি এমন এক ব্যক্তি যার কোনো ধন-সম্পদ নেই। আমাদের ওপর সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আমরা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর সম্মুখীন হয়েছি। আমাদের কোনো সম্পদ নেই এবং কোনো ব্যবসাও নেই...” * *Segment 3:* «وهذه عير قومك قد حضر خروجها إلى الشام، وخديجة تبعث رجالا يتجرون في مالها، ويصيبون منافع، فلو جئتها لفضلتك على غيرك لما يبلغها عنك من أمانتك وطهارتك...» * *Bangla:* “তোমার কওমের এই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সমাগত। খাদিজা তাঁর পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করার জন্য লোক পাঠাচ্ছেন এবং তারা সেখান থেকে মুনাফা অর্জন করে। তুমি যদি তাঁর কাছে যেতে, তবে তোমার আমানতদারী ও পবিত্রতা সম্পর্কে তাঁর কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে, তার কারণে তিনি তোমাকে অবশ্যই অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিতেন...” * *Segment 4:* «وإن كنت أكره أن تأتي الشام، وأخاف عليك من يهود … !!» * *Bangla:* “যদিও আমি তোমার সিরিয়া যাওয়া পছন্দ করছি না এবং তোমার ব্যাপারে ইয়াহুদিদের পক্ষ থেকে ভয় পাচ্ছি...!!” * *Segment 5:* «وقد بلغني أنها استأجرت فلانا ببكرين، ولسনা نرضى لك بمثل ما أعطته، فهل لك في أن أكلمها؟» * *Bangla:* “আমি সংবাদ পেয়েছি যে, তিনি অমুক ব্যক্তিকে দুটি উটের বিনিময়ে নিযুক্ত করেছেন। তিনি তাকে যা দিয়েছেন, আমরা তোমার জন্য তেমন অল্পতে সন্তুষ্ট নই। আমি কি তাঁর সাথে এই বিষয়ে কথা বলব?” * *Segment 6:* قال محمد: ما أحببت يا عم … * *Bangla:* মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “আপনি যা পছন্দ করেন, হে চাচা...।” * *Segment 7:* وفي رواية الإمام الطبري في تاريخه المشهور الذي هو أثبت التواريخ وأجمعها وأدقها أن السيدة خديجة رضي الله عنها هي التي عرضت عليه ذلك. * *Bangla:* ইমাম তাবারির তাঁর প্রসিদ্ধ ইতিহাসে—যা ইতিহাসের গ্রন্থসমূহের মধ্যে অধিক নির্ভরযোগ্য, পূর্ণাঙ্গ ও সূক্ষ্মতম—একটি বর্ণনায় এসেছে যে, সাইয়্যেদাহ খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নিজেই তাঁর কাছে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। * *Segment 8:* وقد ورد في الطبقات الكبرى «1» أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بلغ خمسا وعشرين سنة قال له أبو طالب... * *Bangla:* ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স পঁচিশ বছর পূর্ণ হলো, তখন আবু তালিব তাঁকে বললেন... (Repeated context from above). * *Segment 9:* «أنا أعطيك ضعف ما أعطي رجلا من قومك. أه. بتصرف.» * *Bangla:* “আমি তোমাকে তোমার কওমের কোনো পুরুষকে যা দিই, তার দ্বিগুণ প্রদান করব।” সমাপ্ত। ভাবার্থ সংক্ষেপিত। * *Footnote:* (1) الطبقات الكبرى لابن سعد (1/ 129) بتحقيق الدكتور إحسان عباس طبعة دار صادر بيروت. * *Bangla:* (১) ইবনে সা’দ প্রণীত ‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ (১/১২৯), ড. ইহসান আব্বাস কর্তৃক সম্পাদিত, দার সাদির বৈরুত সংস্করণ। * Ensure formal grammar (Cholitobhasha in a scholarly tone). * Translate honorifics (Sallallahu Alaihi Wasallam, Radiyallahu Anha). * Handle "اه. بتصرف" as concluding markers. * No Arabic? Yes. * Pure translation? Yes. * Raw HTML? Yes. * Preserve structure? Yes. * Istiwa/Attributes terms? (None found in text, but checked). ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া, যতক্ষণ না তিনি জীবনের সেই প্রশস্ত ও জনবহুল জগতে প্রবেশ করেন এবং সংগ্রামের সেই পথে অগ্রসর হন যা তাঁর জন্য অপরিহার্য ছিল। তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁকে অন্যান্য কথার মাঝে বলেছিলেন:

«হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি এমন এক ব্যক্তি যার কোনো ধন-সম্পদ নেই। আমাদের ওপর সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে এবং আমরা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর সম্মুখীন হয়েছি। আমাদের কোনো সম্পদ নেই এবং কোনো ব্যবসাও নেই। তোমার কওমের এই বাণিজ্য কাফেলাটি সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সমাগত। খাদিজা তাঁর পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করার জন্য লোক পাঠাচ্ছেন এবং তারা সেখান থেকে মুনাফা অর্জন করে। তুমি যদি তাঁর কাছে যেতে, তবে তোমার আমানতদারী ও পবিত্রতা সম্পর্কে তাঁর কাছে যে সংবাদ পৌঁছেছে, তার কারণে তিনি তোমাকে অবশ্যই অন্যদের ওপর প্রাধান্য দিতেন। যদিও আমি তোমার সিরিয়া যাওয়া অপছন্দ করছি এবং তোমার ব্যাপারে ইয়াহুদিদের পক্ষ থেকে ভয় পাচ্ছি … !!

আমি সংবাদ পেয়েছি যে, তিনি অমুক ব্যক্তিকে দুটি তরুণ উটের বিনিময়ে নিযুক্ত করেছেন। তিনি তাকে যা দিয়েছেন, আমরা তোমার জন্য তেমন অল্পতে সন্তুষ্ট নই। আমি কি তোমার পক্ষ থেকে তাঁর সাথে কথা বলব?»

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আপনি যা পছন্দ করেন, হে চাচা …»

ইমাম তাবারির তাঁর প্রসিদ্ধ ইতিহাসে—যা ইতিহাসের গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, পূর্ণাঙ্গ ও সূক্ষ্মতম—একটি বর্ণনায় এসেছে যে, সাইয়্যেদাহ খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নিজেই তাঁর কাছে এই প্রস্তাব পেশ করেছিলেন।

‘আত-তাবাকাতুল কুবরা’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পঁচিশ বছরে পদার্পণ করলেন, তখন আবু তালিব তাঁকে বললেন: আমি এমন এক ব্যক্তি যার কোনো সম্পদ নেই, সময় আমাদের ওপর কঠিন হয়ে পড়েছে। এই যে তোমার কওমের কাফেলা, সিরিয়ার দিকে এদের যাত্রার সময় উপস্থিত হয়েছে। খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ তাঁর কাফেলাগুলোতে তোমার কওমের লোকদের পাঠাচ্ছেন। তুমি যদি তাঁর কাছে যেতে এবং নিজের আগ্রহ প্রকাশ করতে, তবে তিনি দ্রুত তোমাকে গ্রহণ করে নিতেন। চাচার সাথে তাঁর এই কথোপকথনের সংবাদ খাদিজার কাছে পৌঁছালে তিনি এ বিষয়ে তাঁর কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন: আমি আপনাকে আপনার কওমের অন্য যে কোনো পুরুষকে যা দিই, তার দ্বিগুণ প্রদান করব। সমাপ্ত। ভাবার্থ সংক্ষেপিত।

অতঃপর তিনি বলেন: এরপর তিনি—অর্থাৎ আবু তালিব—তাঁর কাছে বের হয়ে গেলেন এবং বললেন: হে খাদিজা, আপনার কি কোনো...

--------------------------------------------

(১) ইবনে সা’দ প্রণীত আত-তাবাকাতুল কুবরা (১/১২৯), ডক্টর ইহসান আব্বাস সম্পাদিত, দার সাদির বৈরুত সংস্করণ।

(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
أن تستأجري محمدا؟ فقد بلغنا أنك استأجرت فلانا ببكرين، ولسنا نرضى لمحمد دون أربع بكار، قال: فقالت خديجة: لو سألت ذلك لبعيد بغيض فعلنا، فكيف وقد سألت لحبيب قريب «1» ؟.

وروي أن أبا طالب قال لابن أخيه: هذا رزق ساقه الله إليك.

ثم انطلق محمد صلى الله عليه وسلم ومعه غلامها ميسرة، حتى قدما (بصرى) من بلاد الشام فنزلا في ظل شجرة، فقال نسطور الراهب: ما نزل تحت هذه الشجرة قط إلا نبي «2» . ثم قال لميسرة: أفي عينيه حمرة؟

قال: نعم، لا تفارقه، قال: هو نبي، وهو آخر الأنبياء.

ثم يذكر لنا ابن سعد في طبقاته، أن محمدا صلى الله عليه وسلم كان باع سلعة له، فوقع بينه وبين رجل تلاح فقال له: احلف باللات والعزى، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما حلفت بهما قط، وإني لأمر فأعرض عنهما، فقال الرجل: القول قولك، ثم قال لميسرة: هذا والله نبي تجده أحبارنا منعوتا في كتبهم.

ذلك أنه عليه الصلاة والسلام كان منعوتا وموصوفا بأجمل وأكرم النعوت وأطيب الصفات.

ثم إن هناك من المعجزات ما وقع له صلى الله عليه وسلم ورآه ميسرة رأي العين، لما كانت الهاجرة، ويشتد الحرّ، يرى ميسرة ملكين يظلان رسول الله صلى الله عليه وسلم من الشمس.

--------------------------------------------

(1) الطبقات الكبرى لابن سعد (1/ 130) .

(2) وكان نسطور الراهب عالما بالكتب القديمة وبالكتاب المقدس، ولذلك كان قوله هذا إرهاصا وتبشيرا بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم وبعثته.
আপনি কি মুহাম্মদকে নিয়োগ দেবেন? আমরা জানতে পেরেছি যে আপনি অমুক ব্যক্তিকে দুটি তরুণ উটের বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছেন, আর আমরা মুহাম্মদের জন্য চারটি তরুণ উটের নিচে সন্তুষ্ট নই। বর্ণনাকারী বলেন: তখন খাদিজাহ বললেন: আপনি যদি এই দাবি কোনো অপ্রিয় অনাত্মীয়ের জন্য করতেন তবেই আমি তা পূরণ করতাম, তাহলে এমন এক প্রিয় নিকটাত্মীয়ের ক্ষেত্রে কেন করব না যার জন্য আপনি সুপারিশ করেছেন (১)?

বর্ণিত হয়েছে যে, আবু তালিব তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রকে বললেন: এটি একটি রিযিক যা আল্লাহ তোমার দিকে ধাবিত করেছেন।

অতঃপর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর (খাদিজার) ভৃত্য মায়সারাকে নিয়ে যাত্রা করলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা শাম দেশের বুসরা নামক স্থানে পৌঁছালেন এবং একটি গাছের ছায়ায় অবস্থান নিলেন। তখন নাসতূরা নামক পাদ্রি বললেন: এই গাছের নিচে ইতিপূর্বে কোনো নবী ছাড়া আর কেউ অবতরণ করেনি (২)। এরপর তিনি মায়সারাকে জিজ্ঞেস করলেন: তাঁর চোখে কি লাল আভা আছে?

তিনি (মায়সারা) বললেন: হ্যাঁ, তা কখনোই তাঁকে ছেড়ে যায় না। তিনি (পাদ্রি) বললেন: তিনিই নবী এবং তিনিই শেষ নবী।

অতঃপর ইবনে সাদ তাঁর ‘ত্বাবাকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর একটি পণ্য বিক্রয় করেছিলেন, ফলে তাঁর ও এক ব্যক্তির মধ্যে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। তখন সেই ব্যক্তি তাঁকে বলল: লাত ও উযযার নামে শপথ করুন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি কখনোই তাদের নামে শপথ করিনি, বরং আমি যখন তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করি তখন তাদের থেকে বিমুখ হয়ে চলি। তখন লোকটি বলল: আপনার কথাই ঠিক। এরপর সে মায়সারাকে বলল: আল্লাহর শপথ, ইনিই সেই নবী যাঁর গুণাবলি আমাদের পণ্ডিতগণ তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণিত পেয়েছেন।

তা এজন্য যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) অত্যন্ত সুন্দর ও সম্মানিত গুণাবলি এবং পবিত্রতম বৈশিষ্ট্যে ভূষিত ছিলেন।

অধিকন্তু সেখানে এমন কিছু মুজিযা সংঘটিত হয়েছিল যা মায়সারা স্বচক্ষে দেখেছিলেন; যখন মধ্যাহ্ন হতো এবং গরম তীব্রতর হতো, তখন মায়সারা দেখতেন যে দুজন ফেরেশতা আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যের তাপ থেকে ছায়া প্রদান করছেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে সাদের কিতাবুত ত্বাবাকাতিল কুবরা (১/ ১৩০)।

(২) পাদ্রি নাসতূরা প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ ও পবিত্র কিতাবসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন, তাই তাঁর এই উক্তিটি ছিল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত ও প্রেরণের একটি প্রাক-সংকেত এবং সুসংবাদ।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم إن تجارتهم كانت رابحة ضعف ما كانوا يربحون، فلما أن فرغوا من تجارتهم، وقضوا نهمتهم، وانتهوا منها، أزمعوا العودة، ثم قفلوا راجعين.

ثم انهم لما رجعوا فكانوا بحر الظهران قال ميسرة: يا محمد، انطلق إلى خديجة فأخبرها بما صنع الله على وجهك، فإنها تعرف لك ذلك.

لقد كان ميسرة مقودا لرسول الله صلى الله عليه وسلم من شدة حبه له وتعلقه به، فقد ألقى الله على محمد المحبة من ميسرة فكأنه عبد له أو خادم يأتمر بأمره، وذلك لما رآه ميسرة من صبوح وجهه، وكريم عنصره، ومرضي أخلاقه صلى الله عليه وسلم.

وتقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى دخل مكة في ساعة الظهيرة، وكانت خديجة وقتذاك في علّية لها، فرأته وهو على بعيره، ونظرت بعينيها ملكين يظلان عليه، فأرته نساءها، فعجبن لذلك.

وكان لقاء جليلا لما أن دخل عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم حدثها بما كان من أمر الرحله، وخبرها بما ربحوا من تلك الرحلة، فسرت بذلك سرورا عظيما.

ثم إن غلامها ميسرة دخل عليها وأخبرها بما رأى من دماثة أخلاقه، وكريم عنصره، وحلمه واتزانه وحصافته، وأخبرته هي الآخرى بما رأت، فقال ميسرة:

قد رأيت هذا منذ خرجنا من الشام.

ثم أخبرها ميسرة بما قال الراهب نسطور، كذلك فقد أخبرها بما قاله الرجل الاخر الذي خالفه في البيع، وقد أبدت إعجابها بذلك، ولا سيما بعد أن وجدته قد ربح في تجارتها ضعف ما كانت تربح، ولذلك فقد أضعفت له ما سمت له من الأجر.

نظرا لأن السيدة خديجة بنت خويلد بن أسد بن عبد العزى بن قصي
অতঃপর তাদের ব্যবসায় তারা সাধারণত যা লাভ করত তার দ্বিগুণ লাভ হলো। যখন তারা তাদের বাণিজ্য সমাপ্ত করল, তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করল এবং তা থেকে অবসর হলো, তখন তারা প্রত্যাবর্তনের দৃঢ় সংকল্প করল এবং ফিরে এল।

অতঃপর তারা যখন ফিরে আসছিল এবং মাররুজ জাহরানে পৌঁছাল, তখন মাইসারা বলল: হে মুহাম্মদ, আপনি খাদিজার কাছে যান এবং আল্লাহ আপনার জন্য যা করেছেন তা তাঁকে অবহিত করুন; কেননা তিনি আপনার এই বিশেষত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।

মাইসারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি প্রবল ভালোবাসা ও গভীর আসক্তির কারণে তাঁর অত্যন্ত অনুগত হয়ে পড়েছিল। আল্লাহ তাআলা মাইসারার অন্তরে মুহাম্মদের প্রতি এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন যে, সে তাঁর জন্য এমন দাসের মতো বা ভৃত্যের মতো হয়ে গিয়েছিল যে কি না তাঁর আদেশ পালনের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে। মাইসারা তাঁর উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, উন্নত বংশমর্যাদা এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় চরিত্র দেখেই এমনটি করেছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্রসর হলেন এবং দ্বিপ্রহরের সময় মক্কায় প্রবেশ করলেন। খাদিজা সে সময় তাঁর একটি উচ্চকক্ষে অবস্থান করছিলেন। তিনি তাঁকে তাঁর উটের পিঠে আসীন অবস্থায় দেখলেন এবং নিজ চোখে লক্ষ্য করলেন যে দুজন ফেরেশতা তাঁর ওপর ছায়া দিচ্ছে। তিনি এটি তাঁর নিকটস্থ নারীদেরও দেখালেন, এতে তারা অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হলো।

যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন এক মহিমান্বিত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হলো। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে সফরের ঘটনাবলি বর্ণনা করলেন এবং এই সফরে তারা যা মুনাফা করেছিলেন সে সম্পর্কে তাঁকে সংবাদ দিলেন। এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।

এরপর তাঁর গোলাম মাইসারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে মুহাম্মদের অমায়িক চরিত্র, উন্নত বংশমর্যাদা, ধৈর্য, গাম্ভীর্য ও প্রজ্ঞার যা কিছু সে দেখেছিল তা বর্ণনা করল। অন্যদিকে তিনিও (খাদিজা) নিজে যা দেখেছিলেন তা তাকে জানালেন। তখন মাইসারা বলল:

আমরা সিরিয়া থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমি এটি লক্ষ্য করছি।

তারপর মাইসারা তাঁকে পাদ্রী নাসতুরের বক্তব্য এবং কেনাবেচায় দ্বিমত পোষণকারী সেই অন্য লোকটির কথা জানাল। তিনি (খাদিজা) এসব শুনে তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন, বিশেষ করে যখন দেখলেন যে তিনি তাঁর ব্যবসায় পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করেছেন। তাই তিনি তাঁর জন্য পূর্বে নির্ধারিত পারিশ্রমিক দ্বিগুণ করে দিলেন।

যেহেতু সায়্যিদা খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে কুসাই...
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২০)
كانت امرأة حازمة، جلدة، شريفة مع ما أراد الله تعالى بها من الخير والرفعة والكرامة، فهي أوسط قريش نسبا، وأعظمهم شرفا، وأكثرهم مالا، وكان رجال قومها حريصين على نكاحها لو كان ذلك مقدورا عليه، لقد رغبوا فيها جميعا لسري خلقها وشرفها وحسبها ونسبها في قومها، فضلا عن يسارها وثرائها من تجاراتها الرابحة، لكنها رغبت عنهم جميعا ورغبت في محمد بن عبد الله.

لذلك فقد أرسلت إليه نفيسة بنت منبه لتكلمه في هذا الأمر وندعها تتحدث بنفسها عما جرى في هذا الصدد. تقول نفيسة بنت منبه مبعوثة السيدة خديجة: - «فأرسلتني (أي خديجة) دسيا إلى محمد بعد أن رجع في عيرها من الشام، فقلت: يا محمد، ما يمنعك أن تزوّج؟ فقال: ما بيدي ما أتزوج به، قلت: فإن كفيت ذلك، ودعيت إلى الجمال والمال والشرف والكفاءة، ألا تجيب؟

فقال: فمن هي؟ قلت: خديجة، قال: وكيف لي بذلك؟ قالت: قلت:

عليّ، قال: فأنا أفعل، فذهبت فأخبرتها، فأرسلت إليه أن ائت الساعة كذا وكذا، وأرسلت إلى عمها عمرو بن أسد ليزوجها فحضر، ودخل رسول الله صلى الله عليه وسلم في عمومته، فزوجه أحدهم، فقال عمرو بن أسد: هذا البضع لا يقرع أنفه، وتزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو ابن خمس وعشرين سنة، وكانت هي رضي الله عنها بنت أربعين سنة، حيث كانت ولدت قبل الفيل بخمس عشرة سنة «1» .

--------------------------------------------

(1) الطبقات الكبرى لابن سعد (1/ 132) وفيه أيضا أن عمرا بن أسد بن عبد العزى بن قصي زوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن أباها مات قبل حرب الفجار، وكان عمرو بن أسد شيخا كبيرا لم يبق لأسد لصلبه يومئذ غيره، ولم يلد هو شيئا، وفي رواية ابن إسحاق عن الزهري أن أباها هو الذي زوجها. وهذه الرواية مرجوحة.
তিনি ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, ধৈর্যশীল এবং মহীয়সী নারী, যার জন্য মহান আল্লাহ কল্যাণ, উচ্চমর্যাদা ও সম্মান নির্ধারণ করেছিলেন। বংশগতভাবে তিনি ছিলেন কুরাইশদের মধ্যে সর্বোত্তম, সম্মানে শ্রেষ্ঠ এবং সম্পদে সবচেয়ে বিত্তশালী। যদি সম্ভব হতো, তবে তাঁর স্বগোত্রীয় পুরুষেরা তাঁকে বিবাহ করার জন্য অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। তাঁর উন্নত চরিত্র, মর্যাদা, আভিজাত্য এবং নিজ গোত্রে তাঁর বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তারা সবাই তাঁকে কামনা করত, তাছাড়া তাঁর লাভজনক ব্যবসার প্রাচুর্য ও ধন-সম্পদ তো ছিলই। কিন্তু তিনি তাদের সকলের থেকে বিমুখ হলেন এবং আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদের প্রতি আগ্রহী হলেন।

এ উদ্দেশ্যে তিনি নাফিসা বিনতে মুনাব্বিহকে তাঁর কাছে পাঠালেন এ বিষয়ে কথা বলার জন্য, আর এ প্রসঙ্গে যা ঘটেছিল তা আমরা তাঁর নিজের মুখ থেকেই শুনি। সায়্যিদা খাদিজার দূতী নাফিসা বিনতে মুনাব্বিহ বলেন: - "খাদিজা যখন মুহাম্মাদকে সিরিয়া থেকে তাঁর বাণিজ্যিক কাফেলা নিয়ে ফিরে আসতে দেখলেন, তখন আমাকে গোপনে তাঁর কাছে পাঠালেন। আমি বললাম: হে মুহাম্মাদ, আপনাকে বিবাহ করা থেকে কোন জিনিস বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন: আমার হাতে এমন কিছু নেই যা দিয়ে আমি বিবাহ করব। আমি বললাম: যদি এ ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় এবং আপনাকে সৌন্দর্য, সম্পদ, মর্যাদা ও উপযুক্ততার দিকে আহ্বান জানানো হয়, তবে কি আপনি সাড়া দেবেন না?

তিনি বললেন: তিনি কে? আমি বললাম: খাদিজা। তিনি বললেন: আমার পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? আমি বললাম:

সেটি আমার দায়িত্ব। তিনি বললেন: তবে আমি রাজি আছি। এরপর আমি গিয়ে তাঁকে খবর দিলাম। তখন খাদিজা তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ে আসার জন্য সংবাদ পাঠালেন এবং তাঁর চাচা আমর ইবনে আসাদকে বিবাহের দায়িত্ব পালনের জন্য খবর দিলেন। ফলে তিনি উপস্থিত হলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাদের সাথে উপস্থিত হলেন এবং তাদের একজন তাঁকে বিবাহ করিয়ে দিলেন। তখন আমর ইবনে আসাদ বললেন: এই বর এমন এক পাত্র যার নাসিকা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বিবাহ করলেন যখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং সায়্যিদা খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন চল্লিশ বছর বয়সী। তিনি হাতির ঘটনার পনের বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে সা’দের কিতাবুত তাবাকাতুল কুবরা (১/১৩২)। সেখানে আরও উল্লেখ আছে যে, আমর ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন, কারণ তাঁর পিতা ফিজার যুদ্ধের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আমর ইবনে আসাদ ছিলেন একজন প্রবীণ ব্যক্তি, আসাদ ইবনে আবদিল উযযার সন্তানদের মধ্যে সেদিন তিনি ছাড়া আর কেউ জীবিত ছিলেন না এবং তাঁর নিজের কোনো সন্তান ছিল না। ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় যুহরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, খাদিজার পিতাই তাঁর বিবাহ দিয়েছিলেন। তবে এই বর্ণনাটি দুর্বল বা অপ্রধান।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২১)
صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم عمّيه أبا طالب وحمزة، ابنا عبد المطلب، وكان لقاء رائعا جميلا في مناسبة جليلة كريمة.

تحدث أبو طالب قائلا:

«أما بعد، فإن محمدا ممن لا يوازن به فتى من قريش إلا رجح به شرفا ونبلا وفضلا وعقلا، وإن كان في المال قل، فإن المال ظل زائل، وعارية مسترجعة، وله في خديجة بنت خويلد رغبة، ولها فيه مثل ذلك … » .

وقد أثنى عمرو بن أسد بن عبد العزى بن قصي على محمد صلى الله عليه وسلم، وأنكحها منه «1» .

كان صلى الله عليه وسلم في ذلك الطور من حياته محتاجا إلى عاطفة دافقة فياضة، وأمومة حانية، وحدب وإشفاق وتحنن، ولم تكن مثل هذه المطلوبات لتتوفر في غير خديجة رضي الله عنها.

لذلك كان اختيار الله تعالى له موافقا لمختلف ومتباين الظروف النفسية والاجتماعية، فإن خديجة رضي الله عنها كانت على درجة كبيرة من الجمال والغنى والثراء واليسار، ثم إنها من علية القوم من أشراف مكة سواء من جهة أبيها أو من جهة أمها. «2»

من ثم كانت له صدرا حنونا، وقلبا كبيرا، وفؤادا رؤوفا، بددت عن سماء وجدانه سحابات الشقاء، ومسحت عن محاجر عينيه دموع الشقاء وعبرات الهموم والأنكاد، فكان كنفها ملاذا لروحه ونفسه ووجدانه.

--------------------------------------------

(1) وكان صداقها منه صلى الله عليه وسلم عشرين بكرة.

(2) إذ إن أباها كان يعود نسبه إلى قصي، وأمها كانت تنتهي في نسبها إلى زائدة بن الأصم بن هرم بن رواحة. راجع قصة الزواج تفصيلا في السيرة النبوية لابن هشام (1/ 114- 116) .
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই চাচা আবু তালিব ও হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সঙ্গী হলেন। এটি ছিল এক মহান ও মর্যাদাপূর্ণ উপলক্ষে এক চমৎকার ও সুন্দর মিলন।

আবু তালিব এই বলে বক্তব্য রাখলেন:

«অতঃপর, কুরাইশ বংশের এমন কোনো যুবক নেই যার সাথে মুহাম্মাদের তুলনা করলে সে শ্রেষ্ঠত্ব, আভিজাত্য, মর্যাদা ও বুদ্ধিমত্তায় তাকে ছাড়িয়ে না যাবে। যদিও তার ধন-সম্পদ কম, তবে সম্পদ হলো একটি ক্ষণস্থায়ী ছায়া এবং এমন এক ধার যা ফেরতযোগ্য। খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদের প্রতি তার আগ্রহ রয়েছে এবং খাদিজারও তার প্রতি অনুরূপ আগ্রহ আছে … » ।

আমর বিন আসাদ বিন আব্দুল উজ্জা বিন কুসাই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর সাথে তাঁর (খাদিজার) বিয়ে দিলেন «১» ।

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের সেই পর্যায়ে এক উপচে পড়া আবেগ, মমতাভরা মাতৃত্ব, স্নেহ, দয়া ও অনুকম্পার মুখাপেক্ষী ছিলেন। আর এই চাহিদাগুলো খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছাড়া অন্য কারও মাঝে পাওয়া সম্ভব ছিল না।

তাই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য করা এই নির্বাচন ছিল বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী, সম্পদশালী ও সচ্ছল। তদুপরি তিনি ছিলেন মক্কার অভিজাত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তা বাবার দিক থেকেই হোক কিংবা মায়ের দিক থেকে। «২»

ফলে তিনি তাঁর জন্য ছিলেন এক মমতাময়ী বক্ষ, এক বিশাল হৃদয় এবং এক দয়ালু অন্তঃকরণ। তিনি তাঁর চেতনার আকাশ থেকে দুঃখ-কষ্টের মেঘমালা দূর করে দিয়েছিলেন এবং তাঁর চোখের কোণ থেকে কষ্টের অশ্রু ও দুশ্চিন্তা-ক্লান্তির ফোটাগুলো মুছে দিয়েছিলেন। তাই তাঁর সান্নিধ্য ছিল তাঁর রুহ, নফস ও চেতনার জন্য এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

--------------------------------------------

(১) তাঁর পক্ষ থেকে মোহরানা ছিল বিশটি উষ্ট্রী।

(২) যেহেতু তাঁর পিতার বংশপরম্পরা কুসাই পর্যন্ত এবং তাঁর মাতার বংশপরম্পরা যায়িদা বিন আল-আসাম বিন হারাম বিন রাওয়াহা পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে। বিবাহের বিস্তারিত ঘটনা জানার জন্য সীরাতে ইবনে হিশাম (১/ ১১৪-১১৬) দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২২)
قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم معها وعاش في كنفها أربعا وعشرين سنة، وطوال هذه العشرة الطيبة، والألفة الصافية، والمتعة الضافية وحبه صلى الله عليه وسلم لها يزداد رسوخا ووثوقا وتمكينا يوما بعد يوم، فهي لم تأل جهدا، ولم تدخر وسعا في سبيل إرضائه وإزاحة كل منغصات الحياة وأشواكها عن طريقه، لذلك فإنه صلى الله عليه وسلم لم يتزوج عليها في حياتها، لأنه لم يكن في حياته أدنى فراغ ينشد أو يريد امتلاء وتعويضا عن غائب أو فائت أو متروك.

انتقلت إلى بارئها، وعوجلت إلى ربها راضية مرضيا عنها، عن عمر بلغ أربعا وستين سنة، وستة أشهر.

كانت وفاتها خسارة جسيمة، وكارثة فادحة، ولم يكن هناك بد من التفويض وتسليم الأمر لله سبحانه وتعالى، فإن أمره تعالى كان مقضيا، لكنها لوعة الفراق، وحرقة البعاد، وتباريح المزايلة لا سيما بين المحبين، لكن مقدور الله غير مدفوع.

وقد أنجبت «1» من رسول الله صلى الله عليه وسلم ستة أولاد، وقد توفي منهم القاسم وعبد الله في طفولتهما، وقد ماتا في حياتها، ثم تركت له أربع بنات: زينب، ورقية، وأم كلثوم، وفاطمة رضي الله عنهن.

--------------------------------------------

(1) السيرة النبوية لابن هشام (1/ 115، 116) .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে চব্বিশ বছর অতিবাহিত করেছেন এবং তাঁর আশ্রয়ে জীবন যাপন করেছেন। এই দীর্ঘ সুন্দর সাহচর্য, নির্মল হৃদ্যতা ও গভীর আনন্দের সময়ে তাঁর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা দিন দিন আরও সুদৃঢ়, বিশ্বস্ত ও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি তাঁকে সন্তুষ্ট রাখতে এবং তাঁর পথ থেকে জীবনের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট ও কণ্টক দূর করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেননি। একারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় আর কোনো বিবাহ করেননি। কেননা তাঁর জীবনে এমন কোনো সামান্যতম শূন্যতাও ছিল না যা পূরণের প্রয়োজন ছিল, কিংবা কোনো বিয়োগ বা অভাবের ক্ষতিপূরণের আকাঙ্ক্ষা ছিল।

তিনি তাঁর স্রষ্টার সান্নিধ্যে চলে গেলেন এবং সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায় দ্রুত তাঁর রবের দিকে পাড়ি জমালেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল চৌষট্টি বছর ছয় মাস।

তাঁর ইন্তেকাল ছিল এক বিরাট ক্ষতি এবং এক অপূরণীয় বিপর্যয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট বিষয়টি সোপর্দ করা এবং তাঁর ফয়সালা মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কেননা আল্লাহর নির্দেশ সুনিশ্চিতভাবে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। তবে বিচ্ছেদের বেদনা, বিরহের দহন এবং বিদায়ের যন্ত্রণা অত্যন্ত পীড়াদায়ক, বিশেষ করে তা যখন প্রিয়জনদের মধ্যে ঘটে। তবে আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা অনড়।

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছয়টি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কাসিম ও আবদুল্লাহ শৈশবেই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁরা তাঁর জীবদ্দশাতেই মারা যান। অতঃপর তিনি তাঁর জন্য চারজন কন্যা রেখে যান: যয়নব, রুকাইয়্যাহ, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমা (রাদিআল্লাহু আনহুন্না)।

--------------------------------------------

(১) আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ লি-ইবনে হিশাম (১/ ১১৫, ১১৬)।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
نزول القرآن الكريم «1»

في ليلة القدر التي جعلها الله تعالى خيرا من ألف شهر وفي إحدى الليالي العشر الأخيرة، فتحت السماء أبواب الخير والرحمات إلى دنيا الأرض، وإلى عالم الأحياء، وكان محمد صلى الله عليه وسلم قد اختير لهذه المهمة الشاقة، ولهذا الشرف العظيم، والمجد الأثيل، فقد كان مخلوقا لهذا الحدث الجلل، ولم يكن غيره مؤهلا لشرف الاختيار …

كانت رسالة الإسلام قد بدأت بنزول القرآن الكريم في ليلة القدر على قلب النبي صلى الله عليه وسلم في ليلة مباركة مشهودة، وكان هذا إيذانا بحياة جديدة، منوط بها الجهاد والكفاح والأذى والاضطهاد، والعنت المتصل.

كانت جزيرة العرب ترزح تحت نير الوثنية الصارخة المقبوحة، وطقوسها المرذولة، من عبادة الطواطم والتقرب إليها وترك عبادة الله وحده. وكانت ثمة إرهاصات شتى لنبي مرتقب ورسالة سماوية منتظرة وكان يترقبها علماء النصارى وأحبار اليهود، لما كان مخطوطا بين أيديهم من الكتب المقدسة غير المحرفة.

ثم إن اليهود كانوا مذعورين من النبي الرسول المرتقب، ويتربصون به الدوائر قبل معرفته وبعثته لشكوكهم وظنونهم من أنه سيأتي على دولتهم، ويستأصل شأفتهم.

وكان على طرف النقيض من اليهود علماء النصارى الذين كانوا متشوقين ظهور النبي المرتقب حتى يخلصم من مادية اليهود المحصنة.

--------------------------------------------

(1) السيرة النبوية لابن هشام (1/ 149) وما بعدها.
আল-কুরআনুল কারীমের অবতরণ «১»

কদরের রাতে, যাকে আল্লাহ তাআলা এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ করেছেন এবং যা শেষ দশকের রাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত, আকাশসমূহ পৃথিবীর দুনিয়ায় এবং প্রাণিজগতে কল্যাণ ও রহমতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কঠিন দায়িত্ব, এই মহান সম্মান এবং সুউচ্চ মর্যাদার জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিশ্চয়ই তিনি এই সুমহান ঘটনার জন্যই সৃষ্ট হয়েছিলেন এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এই নির্বাচনের সম্মানের জন্য উপযুক্ত ছিল না ...

এক বরকতময় ও ঐতিহাসিক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে কদরের রাতে কুরআনুল কারীম অবতরণের মাধ্যমেই ইসলামের রিসালাতের সূচনা হয়েছিল। আর এটি ছিল এক নতুন জীবনের ঘোষণা, যার সাথে জিহাদ, সংগ্রাম, কষ্ট, নিগ্রহ এবং অবিরাম প্রতিকূলতা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল।

আরব উপদ্বীপ তখন জঘন্য ও বীভৎস মূর্তিপূজার জোয়াল এবং এর নিন্দনীয় আচার-অনুষ্ঠানের নিচে পিষ্ট ছিল, যা ছিল দেবদেবীর পূজা, তাদের নৈকট্য লাভ এবং এক আল্লাহর ইবাদত বর্জনের নামান্তর। সেখানে আগত নবীর এবং প্রতীক্ষিত আসমানী বার্তার বিভিন্ন পূর্বাভাস বিদ্যমান ছিল, যার অপেক্ষায় খ্রিস্টান আলেমগণ এবং ইহুদি পণ্ডিতগণ প্রহর গুনছিলেন; কারণ তাদের নিকট সংরক্ষিত পবিত্র কিতাবসমূহের পাণ্ডুলিপিতে তা লিপিবদ্ধ ছিল।

অতঃপর ইহুদিরা প্রতীক্ষিত নবী ও রাসূলকে নিয়ে আতঙ্কিত ছিল এবং তাঁর পরিচয় লাভ ও নবুওয়াত প্রকাশের পূর্বেই তারা তাঁর অকল্যাণের প্রতীক্ষায় ছিল; কেননা তাদের সন্দেহ ও ধারণা ছিল যে, তিনি তাদের আধিপত্য বিলুপ্ত করবেন এবং তাদের শিকড় উপড়ে ফেলবেন।

ইহুদিদের সম্পূর্ণ বিপরীতে ছিলেন খ্রিস্টান আলেমগণ, যারা প্রতীক্ষিত নবীর আবির্ভাবের জন্য ব্যাকুল ছিলেন, যাতে তিনি তাদের ইহুদিদের গেঁড়ে বসা বস্তুবাদিতা থেকে মুক্তি দেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ইবন হিশাম (১/ ১৪৯) ও পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
لذلك ولهذه الأسباب مع استشراء كثير من الفساد والتحلل الوثني كان متوقعا ومترقبا سرعة بعث رسول ونبي آخر الزمان.. من ثم كانت منتديات العرب وأسمارها، ونبوآت الكهان، وإرهاصات الحنفاء، وأغاني الحداة الشادين في الفيافي والمفاوز والصحارى كلها تنذر بقرب الفرج ودنو ساعة الخلاص، فقد آن الأوان للتحرر، والإفلات من ربقة وأسر ومراس الوثنية والعبودية لغير الله. فإن لكل ظلم نهاية، ولكل جور دولة وإدالة.

كل الناس كانوا مترقبين اللحظة الحاسمة، لكن متى على وجه التحديد، وأين ومن المبعوث المرتقب؟ لا أحد يعلم …

وبانبلاج النور، تحررت شهادة وفاة فورية لأصنام مكة، وكان محمد صلى الله عليه وسلم قد شارف وأناف على الأربعين، وكان ألف الخلوة في غار حراء في جبل ثور، وفي هذه الخلوة كانت تطيب نفسه، وتستجم روحه في رياضة روحية سامية، ونقاء وصفاء لا مزيد عليه … في سكون الليل، وامتداد الصمت الرهيب والهدوء الساجي على المدى البعيد الشطون في إطار تعاقب الفتيان (الليل والنهار) تعاقبا مكرورا منتظما متناسقا لا يمكن أن يكون من صنع البشر أو تقديرهم.

في خلوته الرائعه عاشت روعة الكون، وسحر الطبيعه في دخيلته وطويته، وأخذ التفكير في الكون البعيد المترامي الأطراف منه كل مأخذ وهو يفكر ويفكر ويتأمل، ويتدبر ويسرح ببصره عبر الأفق البعيد.

وفي الليله المباركه الميمونة، وفي الموعد المنتظر نزل الوحي، وكانت مكة هي البقعة المباركه التي اختيرت لشرف هذا التنزيل، ففيها البيت العتيق الذي جعله الله تعالى مثابة للناس وأمنا، وإليه كان يحج الناس من قديم الزمان،

তাই এবং এই সকল কারণে, বহুবিদ ফাসাদ এবং মূর্তিপূজার অবক্ষয় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে, শেষ জামানার একজন রাসূল ও নবীর দ্রুত আগমনের প্রতীক্ষা ও প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। অতঃপর আরবদের মজলিস ও সান্ধ্য আড্ডাগুলো, গণকদের ভবিষ্যদ্বাণী, হানিফদের পূর্বাভাস এবং প্রান্তর, মরুভূমি ও সাহারায় উটচালকদের গাওয়া গান—সবই মুক্তির আসন্ন আগমন ও পরিত্রাণের মুহূর্ত ঘনিয়ে আসার জানান দিচ্ছিল। কারণ মুক্তি লাভের এবং মূর্তিপূজার শৃঙ্খল, বন্দিত্ব ও প্রথা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের দাসত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার সময় উপস্থিত হয়েছিল। কেননা প্রতিটি জুলুমেরই একটি সমাপ্তি আছে এবং প্রতিটি অবিচারেরই পতন ও পরিবর্তন আছে।

সকল মানুষ সেই চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিল, কিন্তু ঠিক কখন, কোথায় এবং কে সেই প্রত্যাশিত প্রেরিত পুরুষ? তা কেউ জানত না …

আর আলো উদ্ভাসিত হওয়ার সাথে সাথে মক্কার মূর্তিগুলোর তাৎক্ষণিক মৃত্যু পরোয়ানা জারি হয়ে গেল। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বয়স তখন চল্লিশের কাছাকাছি বা এর সামান্য বেশি ছিল। তিনি জাবালে সাওর-এর হেরা গুহায় নির্জনতা পছন্দ করতেন। এই নির্জনতায় তাঁর মন প্রশান্ত হতো এবং তাঁর আত্মা এক উচ্চতর আধ্যাত্মিক সাধনায় এবং চরম পবিত্রতা ও নির্মলতায় বিশ্রাম লাভ করত … রাতের নিস্তব্ধতায়, সুদূরপ্রসারী গম্ভীর নীরবতা এবং স্থবির প্রশান্তির মাঝে, দিন ও রাতের সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিত পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের কাঠামোর মধ্যে—যা কোনো মানুষের সৃষ্টি বা পরিকল্পনা হওয়া অসম্ভব।

তাঁর সেই চমৎকার নির্জনতায় মহাবিশ্বের মহিমা এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য তাঁর অন্তরে ও অস্তিত্বে মিশে গিয়েছিল। সুদূর বিস্তৃত এই মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তাভাবনা তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল এবং তিনি গভীর চিন্তা ও ধ্যানে মগ্ন হতেন, অনুধাবন করতেন এবং দূর দিগন্তে দৃষ্টি প্রসারিত করতেন।

অতঃপর সেই বরকতময় ও কল্যাণকর রাতে এবং নির্ধারিত সময়ে ওহী অবতীর্ণ হলো। আর মক্কা ছিল সেই বরকতময় স্থান যা এই ওহী নাযিলের সম্মানের জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। কারণ সেখানেই রয়েছে সেই প্রাচীন ঘর (বাইতুল আতিক), যাকে আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রত্যাবর্তনের স্থান ও নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছেন এবং প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সেখানে হজ করতে আসত।

(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي غار حراء نزل أمين السماء على أمين الأرض «1» ، ولم يكن في تلك اللحظه يدري محمد صلى الله عليه عن حقيقه الأمر شيئا، حيث لم يعرف ماذا يراد منه، ومن هو هذا الهاتف ناداه وألقى عليه روائع الكلم.

لم يكن يعرف أنه صار مرسلا اليه، وأصبح مبعوثا لقومه خاصة وللبشرية عامة، فأخذ منه الروع والفزع والفرق كل مأخذ، فانطلق في غبش الفجر مروّعا مأخوذا ترعد فرائصه، ويرجف فؤاده، ويخفق قلبه، وقد امتقع لونه، وشحب وجهه، ثم دلف بيته وهو يقول:

«زمّلوني زمّلوني …

لقد خشيت على نفسي» . «2»

وأخبر السيدة خديجة رضي الله عنها بما جرى له، فما كان منها إلا أن ضمته إلى صدرها «3» ، ووضعت يدها على جبينه، وهي تهدىء من روعه قائلة له:

«الله يرعانا يا أبا القاسم، أبشر يا بن عم واثبت فو الذي نفس خديجة بيده، إني لأرجو أن تكون نبي هذه الأمة، والله لا يخزيك الله أبدا....

--------------------------------------------

(1) أمين السماء: جبريل عليه السلام، وهو ملك الوحي، وهو الناموس الأكبر الذي كان ينزل على موسى وعيسى، وأمين الأرض هو محمد صلى الله عليه وسلم.

(2) راجع الحديث في صحيح البخاري. وانظر التفسير الكبير للفخر الرازي (30/ 171) وتفسير القرطبي (19/ 33) والبحر المحيط لأبي حيان (8/ 358)

(3) در منجم في كتابه «حياة محمد» ص 58 ترجمة الأستاذ عادل زعيتر، وفيه يقول: عندما جاء محمد صلى الله عليه وسلم خديجة خائفا مقرورا أشعث الشعر واللحية غريب النظرات فإذا بها ترد إليه السكينة والأمن» أه. بتصرف.
এবং হেরা গুহায় আসমানের আমানতদার যমীনের আমানতদারের কাছে অবতরণ করলেন «১», আর সেই মুহূর্তে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়টির হাকীকত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কারণ তিনি বুঝতে পারছিলেন না তাঁর কাছ থেকে কী চাওয়া হচ্ছে, আর কে এই অদৃশ্য আহ্বানকারী যিনি তাঁকে ডাকলেন এবং তাঁর ওপর এই চমৎকার কথাগুলো অর্পণ করলেন।

তিনি জানতেন না যে তিনি একজন রাসূল মনোনীত হয়েছেন এবং বিশেষভাবে তাঁর কওমের জন্য ও সাধারণভাবে সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। ফলে প্রচণ্ড ভয়, আতঙ্ক ও ভীতি তাঁকে আষ্টেপৃষ্টে আঁকড়ে ধরল। তিনি ভোরের আবছা অন্ধকারে ভীত-সন্ত্রস্ত ও অভিভূত অবস্থায় রওনা হলেন; তাঁর কাঁধের মাংসপেশি কাঁপছিল, তাঁর অন্তর প্রকম্পিত হচ্ছিল এবং হৃদপিণ্ড সজোরে স্পন্দিত হচ্ছিল। তাঁর শরীরের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল এবং মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন এবং বলতে লাগলেন:

«আমাকে বস্ত্রাবৃত করো, আমাকে বস্ত্রাবৃত করো …

আমি নিজের জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি»। «২»

আর তিনি সায়্যিদা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে তাঁর সাথে যা ঘটেছিল তা জানালেন। তখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাঁকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরা ছাড়া আর কিছুই করার পেলেন না «৩», এবং তিনি তাঁর কপালে নিজের হাত রাখলেন। তিনি তাঁকে শান্ত করতে করতে বলছিলেন:

«হে আবুল কাসিম! আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন। হে চাচাতো ভাই! সুসংবাদ গ্রহণ করুন এবং অবিচল থাকুন। যাঁর হাতে খাদিজার প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, আমি অবশ্যই আশা করি যে আপনিই এই উম্মতের নবী হবেন। আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না....

--------------------------------------------

(১) আসমানের আমানতদার: জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, যিনি ওহীর ফেরেশতা এবং তিনিই সেই মহান দূত যিনি মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের কাছে অবতরণ করতেন। আর যমীনের আমানতদার হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

(২) সহীহ বুখারীর হাদীসটি দেখুন। আরও দেখুন ফখর রাযীর আত-তাফসীর আল-কাবীর (৩০/ ১৭১), কুরতুবীর তাফসীর (১৯/ ৩৩) এবং আবু হাইয়ানের আল-বাহরুল মুহীত (৮/ ৩৫৮)।

(৩) ডোর মানজেম তাঁর ‘হায়াতে মুহাম্মাদ’ কিতাবের ৫৮ পৃষ্ঠায় (উস্তাদ আদিল জুয়াইতারের অনুবাদ) উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে বলেন: "যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজার কাছে আসলেন, তখন তিনি ভীত, কম্পমান, আলুথালু চুল ও দাড়ি এবং বিমূঢ় দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন। এরপর তিনি (খাদিজা) তাঁর মাঝে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিলেন।" সমাপ্ত। কিছুটা পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
إنك لتصل الرحم، وتصدق الحديث، وتحمل الكل، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق» «1» .

كان لهذه الكلمات أبلغ الأثر، فكانت تترسل على صدره مع نسمة الفجر المتبلج بردا وسلاما. وما إن استسلم لأمواج النوم الهادئ «2» حتى أسرعت قبل إسفار الشمس، وهي محجوبة في الأفق البعيد، سارعت بالاختلاف الى ابن عمها ورقة بن نوفل «3» ، وكان حكيما جاهليا اعتزل الأوثان قبل الإسلام، وكان عالما بالكتب السماوية، وكان شيخا ضريرا.

حدثته خديجة حديث محمد صلى الله عليه وسلم وما جرى له في غار حراء، وما إن فرغت من سردها للقصة حتى انتفض الشيخ على الرغم من وهنه وضعف قواه قائلا:

«قدوس … قدوس، والذي نفس ورقة بيده، لئن كنت صدقتني يا خديجة، لقد جاءه الناموس الأكبر الذي كان يأتي موسى وعيسى، وإنه لنبي هذه الأمة، فقولي له فليثبت» «4» .

وانطلقت إلى محمد صلى الله عليه وسلم لتبشره بما قال ابن عمها ورقة ابن نوفل.

--------------------------------------------

(1) الروض الأنف للسهيلي (1/ 214) والطبقات الكبرى لابن سعد (1/ 194) وتاريخ الطبري (2/ 49) بنحوه.

(2) وقيل في رواية عائشة: إن خديجة انطلقت بمحمد صلى الله عليه وسلم إلى ابن عمها ورقة بن نوفل.

(3) راجع تاريخ الإسلام (1/ 68) والإصابة (9133) .

(4) تاريخ الطبري (2/ 49) ط. الأعلمي- بيروت. وانظر إسلام خديجة بنت خويلد في السيرة النبوية لابن هشام (1/ 150) .
নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন» «১»।

এই শব্দগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল; এগুলো তাঁর বক্ষস্থলে ভোরের স্নিগ্ধ বাতাসের মতো শীতলতা ও প্রশান্তি বর্ষণ করছিল। যখনই তিনি প্রশান্ত ঘুমের ঢেউয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন «২», তখনই সূর্যোদয়ের আগে, যখন সূর্য দূর দিগন্তে ঢাকা ছিল, খাদিজা (রা.) দ্রুত তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা বিন নওফলের «৩» কাছে গেলেন। তিনি (ওরাকা) ছিলেন জাহেলি যুগের একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, যিনি ইসলামের আগে মূর্তিপূজা বর্জন করেছিলেন এবং আসমানি কিতাবসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন; তিনি ছিলেন একজন অন্ধ বৃদ্ধ।

খাদিজা (রা.) তাঁকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা এবং হেরা গুহায় তাঁর সাথে যা ঘটেছিল তা জানালেন। যখনই তিনি ঘটনা বর্ণনা শেষ করলেন, তখন সেই বৃদ্ধ লোক নিজের দুর্বলতা ও শক্তিহীনতা সত্ত্বেও উত্তেজিত হয়ে দাঁড়িয়ে বললেন:

«পবিত্র … অতি পবিত্র! যাঁর হাতে ওরাকার প্রাণ তাঁর কসম, হে খাদিজা, যদি তুমি আমাকে সত্য বলে থাকো, তবে তাঁর কাছে সেই মহা ফেরেশতা (নামূসুল আকবার) এসেছেন যিনি মূসা ও ঈসার কাছে আসতেন। নিশ্চয়ই তিনি এই উম্মতের নবী। তাঁকে বলো, তিনি যেন অবিচল থাকেন» «৪»।

এরপর তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ফিরে গেলেন তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা বিন নওফলের বলা সুসংবাদটি দেওয়ার জন্য।

--------------------------------------------

(১) আস-সুহাইলী প্রণীত আর-রাওদুল উনুফ (১/ ২১৪), ইবনে সা'দ প্রণীত আত-তাবাকাতুল কুবরা (১/ ১৯৪) এবং তারিখুত তাবারী (২/ ৪৯), অনুরূপ বর্ণনা।

(২) আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে: খাদিজা (রা.) মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাথে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা বিন নওফলের কাছে গিয়েছিলেন।

(৩) দেখুন: তারিখুল ইসলাম (১/ ৬৮) এবং আল-ইসাবাহ (৯১৩৩)।

(৪) তারিখুত তাবারী (২/ ৪৯), আল-আ'লামী সংস্করণ- বৈরুত। এবং ইবনে হিশাম প্রণীত আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ-তে খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ-এর ইসলাম গ্রহণ অংশটি দেখুন (১/ ১৫০)।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
لكن ورد في الصحيحين، في الحديث المتفق عليه عن السيدة عائشة رضي الله عنها عن بدء الوحي، قالت: فانطلقت به خديجة حتى أتت به ورقة بن نوفل ابن أسد بن عبد العزى، وكان امرآ تنصر في الجاهلية … يكتب الإنجيل بالعبرانية، وكان شيخا كبيرا قد عمي، فقالت له خديجة: يا بن عم، اسمع من ابن أخيك، فأخبره صلى الله عليه وسلم بخبر ما رأى وسمع، فقال له ورقة:

هذا الناموس الأكبر الذي نزل على موسى وعيسى، يا ليتني فيها جذع، ليتني أكون حيّا إذ يخرجك قومك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

«أو مخرجيّ هم؟» قال: نعم، لم يأت أحد بمثل ما جئت به إلا عودي، وإن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزرا» «1» .

وانطلق الزوجان إلى بيتهما، وهما يدركان تماما خطورة المرحلة المقبلة عليهما، وظلت سنوات عديدة تتحمل إلى جواره ضروب الأذى، والاستطالة وغير المحتمل وغير المطاق من الاضطهاد والمعاناة من أرباب الكفر ورؤوس الشرك الوثنيين الذين رأوا في الدين الجديد تهديدا لمكانتهم في الجاهلية، وتقويضا لمراكزهم ومراسهم وأصنامهم الهالكة.

تجشمت خديجة مع محمد صلى الله عليه وسلم صنوفا من الإيذاء، وهي تذبّ عنه، وتحامي عن زوجها الذي كانت ملاذا له، وصدرا حنونا في وقت عزّ فيه النصير والمشايع.

بعاطفة الزوجية الحبيبة، وقلب الأم المشفقة شملته بحدب وإشفاق ينفض عن جبينه أتراح وهموم العنت الذي يكابده ويعتوره من أجلاف المشركين، الذين لم تأخذهم به رحمة ولا شفقة وقد ضربت عليه قريش سياجا منيعا من الحصار،

--------------------------------------------

(1) تاريخ الطبري (2/ 50) والسيرة النبوية (1/ 148) .
তবে সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ ওহীর সূচনা সম্পর্কে সায়্যিদাহ আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: খাদিজা তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবনে নওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযার কাছে গেলেন। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন … তিনি হিব্রু ভাষায় ইঞ্জিল লিখতেন। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তখন খাদিজা তাঁকে বললেন: হে চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা দেখেছিলেন ও শুনেছেন সে সম্পর্কে তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন ওরাকা তাঁকে বললেন:

ইনি সেই মহান বার্তাবাহক (ফেরেশতা), যাকে মূসা ও ঈসার নিকট অবতীর্ণ করা হয়েছিল। হায়, সেদিন যদি আমি যুবক থাকতাম! হায়, আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম যেদিন আপনার কওম আপনাকে বের করে দেবে! তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:

«তারা কি আমাকে বের করে দেবে?» তিনি বললেন: হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে যে কেউ এসেছেন, তাঁর সাথেই শত্রুতা করা হয়েছে। যদি আমি আপনার সেই দিনটি পাই, তবে আমি আপনাকে সর্বাত্মক সাহায্য করব। «১» ।

অতঃপর এই দম্পতি তাঁদের ঘরের দিকে রওয়ানা হলেন এবং তাঁরা তাঁদের সামনে আগত পর্যায়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে পুরোপুরি সজাগ ছিলেন। এরপর বহু বছর ধরে তিনি তাঁর পাশে থেকে নানা প্রকার কষ্ট, নিপীড়ন এবং কুফরের ধারক ও মূর্তিপূজারী শিরকের হোতাদের পক্ষ থেকে অসহ্য ও দুঃসহ যাতনা ও কষ্টের বোঝা বহন করে গেছেন; যারা এই নতুন দ্বীনকে তাদের জাহেলি মর্যাদার প্রতি হুমকি এবং তাদের অবস্থান, প্রভাব ও ধ্বংসশীল প্রতিমাগুলোর মূলে আঘাত হিসেবে দেখেছিল।

খাদিজা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বিভিন্ন প্রকার কষ্ট বরণ করে নিয়েছিলেন, তিনি তাঁকে হেফাযত করতেন এবং তাঁর স্বামীর পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা করতেন; তিনি তাঁর জন্য ছিলেন এক আশ্রয়স্থল এবং এক মমতাভরা হৃদয়, এমন এক সময়ে যখন সাহায্যকারী ও সমর্থকের বড় অভাব ছিল।

প্রিয়তমা স্ত্রীর অনুরাগ এবং মমতাভরা মায়ের হৃদয় দিয়ে তিনি তাঁকে পরম শ্রদ্ধা ও মমতায় আগলে রাখতেন, যা তাঁর কপাল থেকে সেই সব দুঃখ ও কষ্টের চিন্তা মুছে দিত যা তিনি কর্কশ হৃদয়ের মুশরিকদের থেকে লাভ করতেন এবং যা তাঁকে ঘিরে ধরত। সেই সব মুশরিকদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি কোনো দয়া বা অনুকম্পা ছিল না এবং কুরাইশরা তাঁর ওপর অবরোধের এক অভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিল।

--------------------------------------------

(১) তারীখুত তাবারী (২/ ৫০) এবং আস-সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ (১/ ১৪৮)।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
والمقاطعة، مسجلة هذا القرار الصارم الظالم الجائر في صحيفة وعلقوها على جدار الكعبة أو في جوفها.

وكانت خديجة وزوجها وبنو هاشم وبنو عبد المطلب قد أخرجهم الكفار والمشركون من مكة وأحصروهم وألجأوهم إلى اللواذ بشعب أبي طالب، وظلوا على هذه الحال سنوات ثلاث متدرعين بالصبر، شعارهم الإيمان، ودثارهم اليقين …

لوعة الفراق

أصعب وأشق شيء على النفس هو فراق الأحبة ومزايلة الحلائل، بعد العشرة الطيبة، والمخالطة والمودة والحب المحصن الصريح الخالص.

إن الروحين عندما ينزلان في جسد واحد، أو عندما ينقسم الروح بين جسدين يكون ذلك دليلا على أن أحدهما متمم للاخر مكمل له، فلا سعادة تامة ولا هناء في غياب أحدهما عن شريكه.

من ثم كان الموت مصيبة لا تعدلها مصيبة، لأنه يصرم المودة، ويباعد تماما المحبين في الدنيا، ويكون نزوله صعبا وأليما عندما يأتي على أحد الزوجين المتوافقين اللذين يعيشان في رغد وهناء وليان من العيش … حتى إن الحيّ منهما يكون كأنه هو الميت لشعوره بالانهيار، وكأنه يعيش في غير الزمان والمكان أو أنه لا يعيش في الزمان والمكان، وكأنه جسد بلا روح أو بدن بلا قلب.

بينا كانت المواجهة على أشدها بين الحق الواضح الأبلج وبين الباطل اللجوج، وبينا استعرت حدة المدافعة وحمي الوطيس، وقد أراد الله سبحانه
এবং এই বয়কট, এই কঠোর, জুলুমবাজ ও অন্যায্য সিদ্ধান্তটি একটি সনদে লিপিবদ্ধ করে তারা কাবার দেয়ালে অথবা তার অভ্যন্তরে ঝুলিয়ে দিয়েছিল।

খাদিজা, তাঁর স্বামী, বনু হাশিম এবং বনু আব্দুল মুত্তালিবকে কাফের ও মুশরিকরা মক্কা থেকে বের করে দিয়েছিল এবং তাদেরকে অবরুদ্ধ করে শিআবে আবু তালিবে আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছিল। তাঁরা এই অবস্থায় তিন বছর অতিবাহিত করেন ধৈর্যের ঢাল ধারণ করে; ঈমান ছিল তাঁদের মূলমন্ত্র আর ইয়াকীন ছিল তাঁদের আবরণ …

বিচ্ছেদের দহন

মানুষের আত্মার জন্য সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টকর বিষয় হলো প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ এবং জীবনসঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া—দীর্ঘদিনের উত্তম সাহচর্য, হৃদ্যতা এবং সুরক্ষিত ও নিছক অকৃত্রিম ভালোবাসার পর।

নিশ্চয়ই দুটি আত্মা যখন একটি দেহে লীন হয়, অথবা একটি আত্মা যখন দুই দেহের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন তা এই বিষয়ের প্রমাণ দেয় যে, তাদের একজন অপরজনের পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী। তাই জীবনসঙ্গীর অনুপস্থিতিতে কোনো পূর্ণ সুখ বা প্রশান্তি অবশিষ্ট থাকে না।

এ কারণেই মৃত্যু এমন এক মুসিবত যার সমতুল্য কোনো মুসিবত নেই, কারণ এটি হৃদ্যতাকে ছিন্ন করে দেয় এবং দুনিয়াতে প্রিয়জনদের একে অপর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগমন অত্যন্ত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক হয় যখন তা এমন এক সুসংগত দম্পতির কোনো একজনের ওপর আপতিত হয় যারা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও সুখ-শান্তিতে জীবন অতিবাহিত করছিলেন … এমনকি তাদের মধ্যে যে জীবিত থাকেন, তিনি ভেঙে পড়ার অনুভূতির কারণে যেন নিজেই মৃত হয়ে যান; মনে হয় যেন তিনি কাল ও স্থানের ঊর্ধ্বে কোনো জগতে বাস করছেন অথবা তিনি কোনো কাল বা স্থানেই নেই। যেন তিনি রূহহীন এক দেহ বা হৃদয়হীন এক শরীর।

যখন স্পষ্ট ও উজ্জ্বল সত্য এবং হঠকারী মিথ্যার মধ্যে সংঘর্ষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, এবং যখন প্রতিরোধের তীব্রতা প্রজ্জ্বলিত হয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা চাইলেন...
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتعالى أن يستأصل شأفة الضلال والريب، ويظهر رسوله وصحبه، إذا بالسيدة الشريفة الفاضلة العجوز التي بلغت خمسا وستين سنة قد صارت خائرة القوى، واهية الجسم، متهالكة الأعضاء، وقد أخذ منها الجهد كل مأخذ، وفعل الزمن بها الأفاعيل، فلم يستطع جسمها المكدود مقاومة ولا دفعا لما لا يطاق، ولما لا يستطاع من الهموم والنوازل.

لم يمر على كسر حلقة الحصار وانهياره غير ستة أشهر حتى مات أبو طالب عم النبي صلى الله عليه وسلم، وكافله بعد جده عبد المطلب، وراعيه في غدواته وروحاته، في وروده وصدوره، في حله وترحاله، وظعنه وإقامته.

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مستهدفا من أعدائه وخصومه إذ كان هدفا ودريئة وغرضا لأذاهم، فلما مات عمه الذي كان يذب عنه، ويحامي عنه ويمانع من حريمه، ويدفع عنه كل مكروه، شعر عليه الصلاة والسلام بانهيار ركن شديد كان يأوي إليه، فكأن بعضه قد ضاع منه، فكان حزنه على عمه لذلك شديدا لا يكاد يوصف، ولا يحتمل بحال.

إبّان رحيل عمّه إلى عالم الآخرة كانت الشريفة العفيفة المصون، زكية الذيل، طاهرة الأردان تعالج آلاما مبرحة غير مقدور عليها، وقد لاذت بالفراش تودع الحياة والأحياء، وتتأهب لساعة الرحيل، ومفارقة الحبيب الحليل الصابر المجاهد المحتسب المبعوث رحمة للعالمين، وهي مثقلة بالهموم إذ ترحل عنه وتترك له بناتها الأربع في تلك الظروف الحرجة، والتي كان محتاجا إليها فيها أشد الاحتياج، لكن الله سبحانه وتعالى أرفق وأرحم به.

لم يطل رقاد خديجة في فراشها طويلا إذ سرعان ما غشيتها المنية، وحلت بساحتها، وزارها الحتم المجاب بعد ثلاثة أيام فقط، وكانت وفاتها بين يدي الزوج
...এবং মহান আল্লাহ যেন গোমরাহি ও সন্দেহের মূলোৎপাটন করেন এবং তাঁর রাসূল ও তাঁর সঙ্গীদের বিজয়ী করেন। এমতাবস্থায় পঁয়ষট্টি বছর বয়সে উপনীত সেই মহীয়সী, বিদুষী ও বৃদ্ধা নারী নিস্তেজ হয়ে পড়লেন, তাঁর শরীর দুর্বল হয়ে গেল এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ভেঙে পড়ল। কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তি তাঁকে সর্বদিক থেকে গ্রাস করে নিয়েছিল এবং সময়ের পরিক্রমা তাঁর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ফলে তাঁর জীর্ণ-শীর্ণ দেহটি অসহনীয় এবং অসাধ্য উদ্বেগ ও বিপদের মোকাবিলা বা প্রতিরোধ করতে পারছিল না।

অবরোধের শৃঙ্খল ভাঙার এবং তা ধসে পড়ার মাত্র ছয় মাস অতিবাহিত হতে না হতেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আবু তালিব ইন্তেকাল করলেন। তিনি তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের পর তাঁর লালন-পালনকারী ছিলেন এবং তাঁর সকাল-সন্ধ্যা, যাতায়াত, অবস্থান ও ভ্রমণ এবং প্রস্থান ও আবাসের সবক্ষেত্রে তাঁর অভিভাবক ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শত্রু ও বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন; তিনি ছিলেন তাদের যাতনার মূল লক্ষ্য ও নিশানা। যখন তাঁর সেই চাচা মারা গেলেন, যিনি তাঁকে রক্ষা করতেন, তাঁর পক্ষ হয়ে লড়তেন এবং তাঁর পরিবার ও মর্যাদা হেফাযত করতেন এবং তাঁর থেকে সকল অনিষ্ট দূর করতেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক শক্তিশালী স্তম্ভের পতন অনুভব করলেন যার আশ্রয় তিনি নিতেন। মনে হচ্ছিল যেন তাঁর শরীরেরই একটি অংশ হারিয়ে গিয়েছে। ফলে তাঁর চাচার মৃত্যুতে তাঁর শোক এতটাই তীব্র ছিল যা বর্ণনা করা দুঃসাধ্য এবং কোনোভাবেই সহ্য করার মতো ছিল না।

তাঁর চাচার পরকাল গমনের সময়েই সেই মহীয়সী, সতী-সাধ্বী, সংরক্ষিত এবং নিষ্কলঙ্ক নারী এমন অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর ছিলেন যা সহ্য করা সাধ্যাতীত ছিল। তিনি শয্যাশায়ী হয়ে ইহকাল ও জীবিতদের থেকে বিদায় নিচ্ছিলেন এবং প্রস্থানের ক্ষণটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি সেই প্রিয়তম স্বামী, ধৈর্যশীল, মুজাহিদ, সওয়াবের প্রত্যাশী এবং জগতসমূহের রহমত হিসেবে প্রেরিত ব্যক্তির থেকে বিচ্ছেদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি দুশ্চিন্তায় ভারাক্রান্ত ছিলেন কারণ তিনি এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর নিকট নিজের চার কন্যাকে রেখে বিদায় নিচ্ছিলেন, যখন তিনি (নবীজি) তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী ছিলেন। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রতি অধিক কোমল ও দয়ালু।

খদীজার শয্যাশায়ী অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, বরং দ্রুতই মৃত্যু তাঁকে আচ্ছন্ন করল এবং তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। মাত্র তিন দিন পরেই সেই অবধারিত মৃত্যু এসে উপস্থিত হলো এবং স্বামীর সান্নিধ্যেই তাঁর ইন্তেকাল হলো।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحبيب الذي لم يكن رجلا كالرجال، ولا زوجا كالأزواج ولكنه كان ملاكا في صورة إنسان، وقد كانت له الرفيق الشفيق، والأنيس والملاذ.

وفاضت الروح إلى بارئها لهذه النفس المطمئنة راضية مرضية إلى رحاب الله ورضوانه.

وقد انتقلت إلى رحاب بارئها مرضيا عنها قبل الهجرة بثلاث سنين، ولقد أقوت الدار بعدها من الأنيس، وأمحلت من الحبيب، فأصبحت عطلا وخلاء موحشة تنبو بالزوج المحب عن آفاق المكان ومحدود الزمان، وقد دفنها صلى الله عليه وسلم بالحجون.

كان بين مصيبة عمه ومصيبة فقد خديجة شهر وخمسة أيام فقط، فكانت هاتان الضربتان مؤثرتين في نفسه صلى الله عليه وسلم، فكان احتمالهما صعبا قاسيا، فقد فتّ في ساعده، وأنهك قواه، ونزل بساحته المكروه وحلت بعقوته المصاعب والمصائب من كل سبيل، وقد زاد الفجار الفسقة من القرشيين من إيذائهم له وهو مكدود الأوصال مهموم البال.

لذلك فقد أطبقت الظلمات من حوله بعضها فوق بعض، وقد أغرى المجرمين هذه الظروف القاسية فوهموا وظنوا أن انتصارهم عليه صار وشيكا بين عشية أو ضحاها، أو بين لحظة وأخرى … وقد أعماهم وضللهم الحقد الدفين، والوغر المكتوم، والحزازة التي تأكل أكبادهم وتحرق صدورهم، وقد ردّ الله تعالى كيدهم إلى نحورهم، وأفلج حجته، ورفع درجته، وكسر شوكتهم، وألان عريكتهم، فكان حشدهم هو الخاسر المغبون، وتدابروا بقضهم وقضيضهم مدحورين مغلولين.

لذلك كان ذلك العام الذي توفي فيه أبو طالب وخديجة جديرا بأن يسمى
সেই প্রিয়তম, যিনি সাধারণ পুরুষদের মতো কোনো পুরুষ ছিলেন না এবং সাধারণ স্বামীদের মতো কোনো স্বামী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন মানবাকৃতিতে এক ফেরেশতাতুল্য। আর খাদিজা ছিলেন তাঁর জন্য পরম মমতাময়ী সঙ্গিনী, একনিষ্ঠ সুহৃদ এবং নিরাপদ আশ্রয়।

অতপর এই প্রশান্ত আত্মার রূহ তার স্রষ্টার সমীপে সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন অবস্থায় আল্লাহর প্রশস্ত রহমত ও সন্তুষ্টির পানে উড্ডীন হলো।

হিজরতের তিন বছর পূর্বে তিনি তাঁর স্রষ্টার সান্নিধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত অবস্থায় পাড়ি জমান। তাঁর প্রস্থানের পর ঘরটি অন্তরঙ্গ বন্ধুহীন হয়ে পড়ে এবং প্রিয়জনের অভাবে শ্রীহীন হয়ে যায়। ফলে তা শূন্য ও জনশূন্য এক বিরাণভূমিতে পরিণত হয়, যা প্রেমময় স্বামীকে স্থানের দিগন্ত ও সময়ের সীমাবদ্ধতা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাজুন নামক স্থানে দাফন করেন।

তাঁর চাচার মৃত্যু এবং খাদিজার বিয়োগান্তক ঘটনার মাঝে মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের ব্যবধান ছিল। এই দুটি আঘাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্তরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং তা সহ্য করা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর। এটি তাঁর বাহুবলকে দুর্বল করে দিয়েছিল, তাঁর শক্তি নিঃশেষ করে ফেলেছিল এবং তাঁর আঙ্গিনায় অপ্রিয় পরিস্থিতি নেমে এসেছিল। চারপাশ থেকে বিপদ-আপদ ও মুসিবত তাঁকে ঘিরে ধরেছিল। কুরাইশদের পাপাচারী ও ফাসেকরা তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছিল, অথচ তখন তিনি ছিলেন শারীরিকভাবে ক্লান্ত এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত চিন্তিত।

একই কারণে তাঁর চারপাশ অন্ধকারের পর অন্ধকার ছেয়ে গিয়েছিল। এই কঠোর পরিস্থিতি অপরাধীদের প্রলুব্ধ করেছিল, তাই তারা ধারণা ও কল্পনা করেছিল যে তাঁর ওপর তাদের বিজয় অতি সন্নিকটে—হয়তো আজ বা কাল, অথবা এক মুহূর্ত থেকে অন্য মুহূর্তের মধ্যে … তাদের অন্তরের প্রোথিত ঘৃণা, লুকায়িত ক্ষোভ এবং তাদের কলিজা দহনকারী ও বক্ষ প্রজ্জ্বলনকারী হিংসা তাদেরকে অন্ধ ও বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল। মহান আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিলেন, তাঁর দলিলকে বিজয়ী করলেন, তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করলেন, শত্রুদের প্রতাপ চূর্ণ করলেন এবং তাদের স্বভাবকে নমনীয় হতে বাধ্য করলেন। ফলে তাদের সমাবেশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বঞ্চিত হলো এবং তারা সর্বস্ব নিয়ে লাঞ্ছিত ও পরাজিত অবস্থায় পলায়ন করল।

একই কারণে যে বছর আবু তালিব ও খাদিজা ইন্তেকাল করেন, সে বছরটি এই নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য ছিল যে—
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
«عام الحزن» لأن الحزن نزل برسول الله صلى الله عليه وسلم نزولا صعبا قاسيا حيث قلّ ناصره، وعزّ معينه، ووقف في حلبة الصراع، وأتون المعركة وحيدا مكسور الخاطر، مهيض الجناح، يكاد يهوى مغشيا عليه لولا لطف الله تعالى، ورعايته وكلاءته.

إن خديجة أول من أسلم من النساء، ولم يرد في ذكر فضلها ومناقبها أجل ولا أجمل من قوله صلى الله عليه وسلم: «والله ما أبدلني الله خيرا منها، آمنت بي حين كفر الناس، وصدقتني إذ كذبني الناس، وواستني بمالها إذ حرمني الناس، ورزقني الله منها الولد دون غيرها من النساء» «1» .

ولئن كانت صفحة خديجة قد انطوت إلا أن عبقها وذكرها وذكراها لا تزال باقية حية في روح النبي صلى الله عليه وسلم وفي وجدانه، فلم تبرح مخيلته ولم تفارق خياله، ولم تزايل وجدانه طرفة عين أو برهة من زمان.

لقد كانت روحها معه تشاركه همومه، وتقاسمه أتراحه وأفراحه، وتشاطره أحزانه ومواجيده، وكأنها لم تبرح الدنيا للعالم الاخر، وكأنها لم يكن في الدنيا امرأة سواها رضي الله عنها وأرضاها.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام أحمد في المسند (6/ 118) و (3/ 89) .
«শোকের বছর» কারণ শোক আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অত্যন্ত কঠিন ও কঠোরভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল, যেখানে তাঁর সাহায্যকারী কমে গিয়েছিল এবং তাঁর সহায় বিরল হয়ে পড়েছিল। তিনি সংগ্রামের ময়দানে এবং যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে একাকী, ভগ্নহৃদয় ও অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়েছিলেন; মহান আল্লাহর অনুগ্রহ, তত্ত্বাবধান ও হিফাযত না থাকলে তিনি প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে যেতেন।

নিশ্চয়ই খাদিজা মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলি বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর চেয়ে মহান ও সুন্দর আর কিছু বর্ণিত হয়নি: «আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনো বিকল্প দান করেননি। তিনি আমার প্রতি ঈমান এনেছিলেন যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করেছিল, তিনি আমাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তিনি আমাকে তাঁর সম্পদ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন যখন মানুষ আমাকে বঞ্চিত করেছিল এবং আল্লাহ অন্য কোনো স্ত্রীর পরিবর্তে কেবল তাঁর মাধ্যমেই আমাকে সন্তান দান করেছেন» «১»।

যদিও খাদিজার জীবনের অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছিল, তথাপি তাঁর সুবাস, তাঁর আলোচনা এবং তাঁর স্মৃতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রূহ ও তাঁর অন্তরে আজও জীবন্ত হয়ে আছে। তিনি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর কল্পনা থেকে সরে যাননি, তাঁর চিন্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হননি এবং চোখের পলক বা সময়ের ক্ষুদ্রতম অংশের জন্যও তাঁর অন্তর থেকে দূরীভূত হননি।

তাঁর রূহ যেন সর্বদা তাঁর সাথেই ছিল; তাঁর দুশ্চিন্তাগুলোতে অংশগ্রহণ করত, তাঁর দুঃখ ও সুখ ভাগ করে নিত এবং তাঁর শোক ও অনুভূতির অংশীদার হতো; যেন তিনি এই দুনিয়া ছেড়ে পরকালের উদ্দেশ্যে চলে যাননি, আর যেন দুনিয়াতে তিনি ছাড়া আর কোনো নারীই ছিল না। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ (৬/১১৮) ও (৩/৮৯)-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌(2) سودة بنت زمعة «1» المهاجرة أرملة المهاجر ( … - 54 هـ) ( … - 674 م)

تداعيات المحن

لم تكن تداعيات المحن تترفق برهة واحدة أو طرفة عين، إذ إنها كانت ثقيلة الوطأة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، كانت تلك التداعيات تداعب وجدانه بين حين وحين …

وفيها ما فيها من الألم والمرارة والأشجان القاسية. فإن موت أبي طالب لم يكن أمرا هينا، ولم تكن وفاة خديجة أيضا بالنائبة المقدور عليها، والمطاق

--------------------------------------------

(1) مصادر ومراجع الترجمة: - تاريخ الطبري (2/ 411) ، الطبقات الكبرى لابن سعد (8/ 35) والإصابة، كتاب النساء (ت 603) وذيل المذيل للطبري (69) . والاستيعاب لابن عبد البر (4/ 1867) وأنساب الأشراف للبلاذري (1/ 400 و 407- 10) وفي مواضع متفرقة أيضا منه.
‌(২) সাওদাহ বিনতে জামআ «১» হিজরতকারিণী, মুহাজিরের বিধবা ( … - ৫৪ হিজরি) ( … - ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দ)

বিপদের অনুবর্তী প্রভাবসমূহ

কঠিন পরীক্ষার এই অনুবর্তী প্রভাবগুলো একটি মুহূর্ত বা চোখের পলকের জন্যও শিথিল হয়নি, কারণ তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল। এই ঘটনাপ্রবাহ ক্ষণে ক্ষণে তাঁর অন্তরকে নাড়া দিচ্ছিল …

যার মধ্যে নিহিত ছিল যাতনা, তিক্ততা এবং কঠোর শোকের দহন। কেননা আবু তালিবের মৃত্যু কোনো সহজ বিষয় ছিল না, আর খাদিজার প্রয়াণও সহ্য করার মতো বা ধৈর্য ধারণ করার মতো কোনো সাধারণ বিপদ ছিল না।

--------------------------------------------

(১) জীবনীর উৎস ও তথ্যসূত্র: - তারীখুত তাবারী (২/ ৪১১), ইবন সা’দ-এর আত-তবাকাতুল কুবরা (৮/ ৩৫), আল-ইসাবাহ: কিতাবুন নিসা (অনুগল্প ৬০৩) এবং তাবারীর যাইলুল মুযাইল (৬৯)। ইবন আবদিল বার-এর আল-ইস্তিয়াব (৪/ ১৮৬৭) এবং বালাযুরীর আনসাবুল আশরাফ (১/ ৪০০ ও ৪০৭-১০) এবং এর বিভিন্ন স্থানেও।
(খণ্ড: ১) নিসাউন নবী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
تجشمها، ومع تلاحق أحداث العنف والاضطهاد من القرشيين لم تكن هذه الأحداث الجارية بالممكن نسيانه أو التحرر من مراسه وسطوته وسلطانه على الضمير وعلى الوجدان.

إن حياة الوحدة، وأشغال البيت والبنات، وهموم الدعوة، مع ذكريات السعادة والهناء في كنف خديجة المؤمنة الصابرة المحتسبة مما يجعل الألم مبرحا ممضا عنيفا … قاتل الله الهموم … !!

لكن أحدا من صحابته صلى الله عليه وسلم لم يستطع ولم يجرؤ أن يتحدث معه في موضوع الزواج تحرجا من ذلك حتى لا يثير عنده كوامن الشجن … لكن أقبلت خولة بنت حكيم السلمية «1» واقتربت من المنطقة المحظورة التي لم يقترب منها أحد، وصارحت رسول الله صلى الله عليه وسلم بما يخالجها ويخامرها، ويعتمل في صدرها حتى تدفع عنه تلك الهموم والأنكاد والأحزان التي تروح وتغدو وتتظاهر عليه وتنال منه، وهو لا يستطيع لها دفعا، ولا منها تحررا.

عرضت خولة على رسول الله صلى الله عليه وسلم واقترحت عليه أن يتزوج … فأطرق عليه الصلاة والسلام مليا ثم سألها من تقصد بذلك؟ قالت خولة: «عائشة … بنت أحب الناس إليك» .

إنها عائشة بنت أبي بكر الصديق «2» ، أول من صدق به وآمن من الرجال، وقد بذل من نفسه وماله ما لم يستطع أحد غيره أن يبذله.

--------------------------------------------

(1) زوج عثمان بن مظعون الجمحي- رضي الله عنهما.

(2) هو عبد الله بن أبي قحافة، عثمان بن عامر بن كعب التيمي القرشي، أبو بكر. ثاني اثنين إذ هما في الغار، كان صديقا صدوقا لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان منه بمنزلة سمعه وبصره. توفي سنة ثلاث عشرة للهجرة. راجع ترجمته في تاريخ اليعقوبي (2/ 106) وصفة الصفوة لابن الجوزي (1/ 88) ومروج الذهب (2/ 304) .
তিনি তা সহ্য করেছিলেন; কুরাইশদের পক্ষ থেকে ক্রমাগত সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে চলমান এই ঘটনাপ্রবাহ ভুলে যাওয়া অথবা বিবেক ও হৃদয়ের ওপর এগুলোর প্রভাব, আধিপত্য ও কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব ছিল না।

একাকী জীবন, ঘর ও কন্যাদের কাজ, এবং দাওয়াতের চিন্তার সাথে মুমিন, ধৈর্যশীল ও পুণ্যপ্রত্যাশী খাদীজার সান্নিধ্যের সুখ ও আনন্দের স্মৃতিগুলো মিলে ব্যথাকে অত্যন্ত তীব্র, যন্ত্রণাদায়ক ও প্রখর করে তুলেছিল … আল্লাহ দুশ্চিন্তাকে ধ্বংস করুন … !!

কিন্তু তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো সাহাবী সংকোচবশত তাঁর সাথে বিবাহের বিষয়ে কথা বলার সাহস করেননি বা পারেননি, যাতে তাঁর মনের লুকানো দুঃখগুলো জেগে না ওঠে … তবে খাওলা বিনতে হাকিম আস-সুলামিয়্যাহ (১) এগিয়ে এলেন এবং সেই স্পর্শকাতর বিষয়ে পদক্ষেপ নিলেন যা অন্য কেউ করেনি। তিনি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে তাঁর মনের সংশয় ও চিন্তাগুলো স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করলেন, যাতে তাঁর সেই দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও দুঃখগুলো দূর করা যায় যা দিনরাত তাঁকে ঘিরে ধরছিল এবং তাঁর ওপর চেপে বসছিল, অথচ তিনি সেগুলো প্রতিহত করতে বা তা থেকে মুক্ত হতে পারছিলেন না।

খাওলা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে প্রস্তাব পেশ করলেন এবং তাঁকে বিবাহের পরামর্শ দিলেন … তখন তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, তারপর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাকে উদ্দেশ্য করছ? খাওলা বললেন: «আয়িশা … আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষের কন্যা»।

তিনি হলেন আবু বকর সিদ্দিকের (২) কন্যা আয়িশা; যিনি পুরুষদের মধ্যে প্রথম তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেছেন ও ঈমান এনেছেন, এবং তিনি নিজের জীবন ও সম্পদ দিয়ে এমন ত্যাগ স্বীকার করেছেন যা অন্য কেউ করতে পারেনি।

--------------------------------------------

(১) উসমান ইবনে মাজউন আল-জুমাহীর স্ত্রী - আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন।

(২) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফা, উসমান ইবনে আমির ইবনে কাব আত-তাইমি আল-কুরাশি, আবু বকর। গুহায় থাকাকালীন সেই দুইজনের মধ্যে দ্বিতীয়জন, তিনি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন পরম সত্যবাদী বন্ধু ছিলেন এবং তাঁর নিকট তাঁর শ্রবণ ও দৃষ্টির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি হিজরি ১৩ সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখ আল-ইয়াকুবি (২/১০৬), সিফাতুস সাফওয়াহ ইবনুল জাওজি (১/৮৮) এবং মুরুজুজ জাহাব (২/৩০৪)।