(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
منتهى السؤل على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول القسم: السيرة النبوية
الكتاب: منتهى السؤل على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: عبد الله بن سعيد بن محمد عبادي اللّحجي الحضرميّ الشحاري، ثم المراوعي، ثم المكي (ت 1410 هـ)
الناشر: دار المنهاج - جدة
الطبعة: الثالثة، 1426 هـ - 2005 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শামায়িলে রাসুল অর্জনের মাধ্যমসমূহের ব্যাখ্যায় মুনতাহাস সু'ল বিভাগ: সিরাতে নববী
কিতাব: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লামের শামায়িল অর্জনের মাধ্যমসমূহের ব্যাখ্যায় মুনতাহাস সু'ল
লেখক: আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবাদি আল-লাহজি আল-হাদরামি আশ-শুহারি, অতঃপর আল-মারাওয়ি, অতঃপর আল-মাক্কি (মৃত্যু ১৪১০ হি.)
প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - জেদ্দা
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৬ হি. - ২০০৫ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[منتهى السؤل على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم]ـ
المؤلف: عبد الله بن سعيد بن محمد عبادي اللّحجي الحضرميّ الشحاري، ثم المراوعي، ثم المكي (المتوفى: 1410هـ)
الناشر: دار المنهاج - جدة
الطبعة: الثالثة، 1426 هـ / 2005 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) শামায়িল বা গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমসমূহের ওপর চূড়ান্ত জিজ্ঞাস্য]
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ ইবাদি আল-লাহজি আল-হাদরামি আশ-শুহারি, অতঃপর আল-মারাওয়ি, অতঃপর আল-মাক্কি (মৃত্যু: ১৪১০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - জেদ্দা
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৬ হিজরি / ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: منتهى السؤل على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: عبد الله بن سعيد بن محمد عبادي اللّحجي الحضرميّ الشحاري، ثم المراوعي، ثم المكي (المتوفى: 1410هـ)
الناشر: دار المنهاج - جدة
الطبعة: الثالثة، 1426 هـ / 2005 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
বই: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের শামায়েল অর্জনের মাধ্যমসমূহের ওপর চূড়ান্ত অন্বেষা (মুনতাহাস সূল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামায়িলির রাসূল)
লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ আব্বাদী আল-লাহজি আল-হাদরামি আশ-শাহারি, অতঃপর আল-মারাওয়ায়ি, অতঃপর আল-মাক্কি (মৃত্যু: ১৪১০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - জেদ্দা
সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি / ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأولبسم الله الرحمن الرحيم
كلمة الناشرالحمد لله خالق الثقلين الهادي إلى النجدين، والصلاة والسلام على رحمة الدارين، وعلى آله وصحبه والتابعين بإحسان إلى يوم الدين.
يولد الإنسان على فطرة سليمة، وهيئة قويمة وطريقة مستقيمة، ثم ما يلبث أن يغمس في الفتن ويبلى بالمحن، ويتأرجح في الإحن، ويختلط عليه الحابل بالنابل، فلم يزل مرتبكا وغافلا؛ لا يستطيع أن يمسك بزمام نفسه، ولا يدري إلى أين تقوده، وكيف يكون مصيره إلى أحسن تقويم؟ أم إلى أسفل سافلين؟!.
نعم؛ إن الإنسان في هذه الحياة مثله مثل الغريق السابح في بحر متلاطم يصارع أمواجه، ومن ثمّ تخور قواه، وينتظر طوق نجاة ينشله إلى برّ الأمان، ولكن ما هو طوق النجاة هذا؟ وما هي أحباله؟ إنه الإيمان، وأحباله شمائل الرسول النبي العربي الهاشمي المطّلبي أبي البتول، فإليها ينتهي السّول، وعلى وسائلها يتمّ الوصول إلى كل مأمول، ويكون بها القبول في المعلوم والمجهول، والكيف والكم، والأخص والأعم فيما علم وما لم يعلم؛ من الكنز المطلسم والسرّ المكتّم، والسلسبيل المطمطم، وفيض الله الأعظم؛ يلهمه من يلهم، وكل مغرم بصبابته متيّم، وفي علم الله هام وهيّم.
اللهمّ؛ صلّ وسلم وبارك على سيدنا محمد طوق النجاة، وعلى ذريّاته الطاهرات وزوجاته المطهرات، وأصحابه العدول الثقات، والتابعين من المحسنين والمحسنات، والمؤمنين والمؤمنات، والمسلمين والمسلمات؛ عدد ما في الحياة والممات ويوم الحسرات، مما أنزلته في كتابك، أو علّمته أحدا من خلقك، أو جعلته عندك في الغيبيّات من الخيرات، وعدد ما جرت
প্রথম খণ্ডপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
প্রকাশকের কথাসকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জিন ও ইনসানের স্রষ্টা এবং দুই পথের (হেদায়েত ও গোমরাহি) দিশারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক উভয় জগতের রহমতের প্রতি, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর।
মানুষ ফিতরাতে সালিমা (সহজাত সুস্থ প্রকৃতি), সুঠাম অবয়ব ও সঠিক পথের ওপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর সে ফিতনায় নিমজ্জিত হয়, বিপদে ক্লিষ্ট হয় এবং বিদ্বেষের আবর্তে দোদুল্যমান হয়। তার নিকট সত্য-মিথ্যা ও ভালো-মন্দের পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে যায়, ফলে সে ক্রমাগত বিভ্রান্ত ও গাফেল হতে থাকে; সে নিজের নফসের লাগাম টেনে ধরতে পারে না এবং জানে না তা তাকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার পরিণতি কি সর্বোত্তম গঠন হবে? নাকি সে নিম্নতমদের নিম্নতম স্তরে নিক্ষিপ্ত হবে?!
হ্যাঁ; এই জীবনে মানুষের উপমা হলো উত্তাল সমুদ্রে সন্তরণকারী সেই ডুবন্ত ব্যক্তির মতো, যে ঢেউয়ের সাথে লড়াই করছে। একসময় তার শক্তি ফুরিয়ে আসে এবং সে এমন এক পরিত্রাণের উপায় বা জীবন রক্ষাকারী উপকরণের প্রতীক্ষা করে যা তাকে নিরাপত্তার তীরে পৌঁছে দেবে। কিন্তু সেই পরিত্রাণের উপায়টি কী? আর তার রশিই বা কী? তা হলো ঈমান, আর তার রশি হলো হাশেমি মুত্তালিবি আরব নবী আবু বাতুল (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর অনুপম গুণাবলি। তাঁর কাছেই সকল চাওয়ার সমাপ্তি ঘটে এবং তাঁর অসিলায় সকল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়। তাঁর মাধ্যমেই দৃশ্য-অদৃশ্য, গুণ ও পরিমাণ, বিশেষ ও সাধারণ যা কিছু জানা বা অজানা রয়েছে—সবক্ষেত্রে কবুলিয়ত বা গ্রহণযোগ্যতা অর্জিত হয়; সেই লুকায়িত ধনভাণ্ডার, গুপ্ত রহস্য, প্রবহমান প্রস্রবণ এবং আল্লাহর মহান করুণাধারার মধ্য থেকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ইলহাম দান করেন। আর প্রত্যেক প্রেমানুরাগী তার ভালোবাসায় নিমগ্ন এবং আল্লাহর ইলমে দিশেহারা ও বিমুগ্ধ।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন, যিনি নাজাতের অসিলা; এবং তাঁর পবিত্র বংশধর, পবিত্র সহধর্মিণীগণ, ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য সাহাবায়ে কেরাম, পুণ্যবান তাবেয়ীন ও মুমিন-মুসলিম নর-নারীদের ওপর; জীবন, মৃত্যু ও হাহাকারের দিনে যা কিছু বিদ্যমান তার সমপরিমাণ—যা আপনি আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন, কিংবা আপনার নিকট অদৃশ্যের ভাণ্ডারে যে কল্যাণসমূহ গচ্ছিত রেখেছেন তার সমপরিমাণ; আর যা কিছু অতিবাহিত হয়েছে তার সমপরিমাণ।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৬)
وتجري به الألسن من الدعوات، وما أتت وتأتي به الجوارح من الطاعات، وعدد ما لم تنبس به الشفاه، وما لم يمر بالنفوس من خطرات، وبالعقول من خاطرات؛ بعدد المعلومات والمجهولات، في عالم الأرضين والسماوات، وما بينهما وما فيهما من مخلوقات، صلاة تغفر لي بها الزلّات؛ الكبيرات منها والصغيرات، السابقات منها واللاحقات، وتصلح لي ما مضى من أعمالي وما هو آت، كما توفقني لجميع الخيرات، وتسدّدنا بجميع الصالحات، حتى تشهد ذاتي الفانية ذاتك الباقية؛ يا من بيده الفضل، ومنه الوصل وعليه الوكل، كن لي مخرجا من جميع الضائقات، ومتحمّلا عني جميع التبعات مما قصّرت فيه من التكليفات وأداء الأمانات، بدافع الشهوات أو بعارض السهوات، وانفحني اللهمّ بالنفحات في جميع الأويقات واللحظات، مع لطفك والعفو والعافية والمعافاة؛ من كافة الشرور وجميع الآفات والبليات.
ربي؛ واجعل مثل ذلك لوالديّ ولزوجي وذرّيّتي أزواجا وزوجات، ولمن تعلّق بزمامي من محبين ومحبّات، وكان في خدمتي وكنت في خدمته من الصالحين والصالحات، والصدّيقين والصدّيقات من أهل الأرضين والسماوات.
اللهمّ؛ إني أعوذ بك من شرّ النفس وسيئآتها والموبقات، والكفر والمكفرات؛ من الأقوال والأفعال والنيات.
اللهم؛ بالنبوات المعجزات، والرسالات الباهرات، والولايات المتواصلات، والكلمات التامّات وبالباقيات الصالحات، وبالطاعات المتقبلات، وبالحسنات المضاعفات، وبالأمنيات المتحقّقات، وبالأعطيات الجزيلات، وبالخيرات الكثيرات، وبأهل الكرامات، وبأعلى المقامات للوارثين والوارثات، وبسيّد السادات طوق النجاة.
اللهمّ؛ ألزمنا العروة الوثقى وأحملنا على المحجّة البيضاء، وجمّل
এবং জিহ্বা দ্বারা উচ্চারিত প্রার্থনা, এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা সম্পাদিত ও সম্পাদনযোগ্য আনুগত্যসমূহ, এবং ওষ্ঠদ্বয় দ্বারা অনুচ্চারিত বাক্যসমূহ, এবং অন্তরে উদিত চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কল্পনাসমূহের সংখ্যা পরিমাণ; মহাকাশ ও পৃথিবীর জানা-অজানা জগতসমূহ এবং তাদের মাঝে বিদ্যমান সৃষ্টিরাজি ও বিষয়াবলির সংখ্যা পরিমাণ; (এমন) দরুদ যা দ্বারা আপনি আমার অতীত ও ভবিষ্যতের এবং ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সকল পদস্খলন মার্জনা করবেন। এবং আপনি আমার বিগত ও অনাগত কর্মসমূহ সংশোধন করে দেবেন, যেভাবে আমাকে সকল কল্যাণের তাওফিক দান করেন এবং যাবতীয় সৎকর্মে আমাদের সুদৃঢ় রাখেন, যাতে আমার নশ্বর সত্তা আপনার অবিনশ্বর সত্তার সাক্ষী হয়; হে সেই মহান সত্তা যাঁর হাতে সকল অনুগ্রহ নিহিত, যাঁর পক্ষ থেকেই মিলন ঘটে এবং যাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা; আপনি আমার সকল সংকটে উত্তরণের পথ হোন এবং আমার সকল দায়ভার গ্রহণ করুন—যা আমি কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় কিংবা অসাবধানতাবশত অর্পিত দায়িত্ব পালনে ও আমানত আদায়ে ত্রুটি করেছি। হে আল্লাহ! আপনার লতিফ (স্নিগ্ধ) মেহেরবানি, ক্ষমা, সুস্থতা ও যাবতীয় অনিষ্ট ও আপদ-বিপদ থেকে নিরাপত্তার সাথে সকল মুহূর্ত ও ক্ষণে আপনার করুণার সুবাতাস দ্বারা আমাকে সিক্ত করুন।
হে আমার প্রতিপালক; অনুরূপ দোয়া কবুল করুন আমার পিতা-মাতা, আমার জীবনসঙ্গী ও আমার বংশধরদের স্বামী ও স্ত্রীদের জন্য। আর আমার সাহচর্যে থাকা সকল অনুরাগী নারী ও পুরুষ, এবং আসমান ও জমিনের অধিবাসীদের মধ্যে যারা আমার সেবায় নিয়োজিত ছিল কিংবা আমি যাদের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম এমন সকল সৎকর্মশীল ও সত্যনিষ্ঠ নারী-পুরুষদের জন্যও অনুরূপ ফয়সালা করুন।
হে আল্লাহ; আমি আপনার নিকট নফসের অনিষ্ট ও তার মন্দ প্রভাবসমূহ এবং ধ্বংসাত্মক গুনাহ থেকে, এবং কুফরি ও কুফরিতে নিমজ্জিতকারী কথা, কাজ ও নিয়ত থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ; মুজিজাপূর্ণ নবুওয়াতসমূহ, উজ্জ্বল রিসালাতসমূহ, অবিচ্ছিন্ন বেলায়াতসমূহ, পরিপূর্ণ বাণীসমূহ, চিরস্থায়ী সৎকর্মসমূহ, কবুলযোগ্য আনুগত্যসমূহ, বহুগুণে বর্ধিত পুণ্যসমূহ, বাস্তবায়িত আকাঙ্ক্ষাসমূহ, মহান দানসমূহ, অফুরন্ত কল্যাণসমূহ, কারামতপূর্ণ বুজুর্গগণ এবং উত্তরসূরি নারী ও পুরুষদের সর্বোচ্চ মাকামসমূহ এবং নাজাতের তরী সর্দারদের সর্দারের (রাসূলুল্লাহ ﷺ) উসিলায় প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ; আমাদের মজবুত রজ্জু আঁকড়ে ধরার তাওফিক দিন, আমাদের স্বচ্ছ সরল পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদের ভূষিত করুন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৭)
أحوالنا بالتقوى، وألبسنا حلل السعادات وأكرمنا بدوام المناجاة، وأتحف البصيرة بالمشاهدات والشكر بالعبرات، ولا تجعل لي إلى غيرك التفاتا ولا عنك انفلاتا، لا إله إلّا أنت بك وعليك توكّلت في جميع الحالات.
اللهمّ؛ إن الفوت موت وأنت الوارث الباعث؛ فانظر إلى عبادك وتقبّل منهم القليل يا جليل.
اللهمّ؛ وانظر من عبيدك الحال يا ذا الجلال، ويا من عطاؤه وثوابه ليس بتحصيل حاصل الأعمال، بل بجود جواد وتفضّل مفضال، أكرمنا يا كريم بحسن خواتم الأعمال، وحسن الخاتمة عند دنوّ الآجال.
اللهمّ؛ ولا تجعل في رزقنا حائلا بيننا وبينك يا شديد المحال، إنّ في تدبيرك ما يغنيني عن الحيل، وإنّ في كرمك ما هو فوق الأمل، وإنّ في حلمك ما يسدّ الخلل، وإنّ في عفوك ما يمحو الزلل.
اللهمّ؛ فبقوّة تدبيرك وفيض كرمك وسعة حلمك وعظيم عفوك؛ صلّ وسلم في كلّ حال على سيدنا محمد مزيل الضلال، ودائرة كؤوس السلسال، ويتيمة عقد الآل؛ باب حضرة الجلال، وساقي كؤوس الوصال، وعلى آله وصحبه خير صحب وآل، والتابعين بإحسان إلى يوم المآل، ولك الحمد كما قلت وكما ينبغي أن يقال.
الناشر السيد الدكتور: هاشم محمد علي مهدي
তাকওয়ার মাধ্যমে আমাদের অবস্থা সংশোধন করুন, আমাদের সৌভাগ্যের পোশাক পরিধান করান এবং সর্বদা আপনার সাথে নিভৃতে কথোপকথনের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করুন। আপনার নিদর্শনে আমাদের অন্তর্দৃষ্টিকে সিক্ত করুন এবং অশ্রুর মাধ্যমে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার তৌফিক দিন। আপনি ব্যতীত অন্য কারো দিকে আমার মনোযোগ নিবদ্ধ করবেন না এবং আপনার থেকে আমাকে বিচ্যুত হতে দেবেন না। আপনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; সকল অবস্থায় আমি আপনার মাধ্যমেই এবং আপনার ওপরই ভরসা করছি।
হে আল্লাহ; সুযোগ হারানো তো মৃত্যুর সমান, আর আপনিই হলেন চিরস্থায়ী উত্তরাধিকারী ও পুনরুত্থানকারী; তাই আপনার বান্দাদের প্রতি কৃপাদৃষ্টি দান করুন এবং তাদের সামান্য আমল কবুল করুন, হে মহিমান্বিত।
হে আল্লাহ; আপনার তুচ্ছ বান্দাদের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি দিন, হে মহান প্রতাপশালী! হে সেই সত্তা, যার দান ও প্রতিদান কেবল কর্মের ফলাফল অর্জনের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং পরম দাতা ও পরম অনুগ্রহকারীর বদান্যতার ওপর নির্ভরশীল। হে মহৌদার! কর্মসমূহের সর্বোত্তম সমাপ্তি এবং মৃত্যু নিকটবর্তী হলে শুভ পরিণতির মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করুন।
হে আল্লাহ; আমাদের জীবিকার ক্ষেত্রে আপনার ও আমাদের মাঝে কোনো অন্তরায় সৃষ্টি করবেন না, হে প্রবল পরাক্রমশালী! নিশ্চয়ই আপনার ব্যবস্থাপনার মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা আমাকে কূটকৌশল থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়, আপনার বদান্যতার মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা প্রত্যাশার অতীত, আপনার ধৈর্য ও সহনশীলতার মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে দেয় এবং আপনার ক্ষমার মাঝে এমন কিছু রয়েছে যা পদস্খলন মুছে দেয়।
হে আল্লাহ; আপনার ব্যবস্থাপনার শক্তি, বদান্যতার প্রাচুর্য, সহনশীলতার প্রশস্ততা এবং ক্ষমার বিশালতার উসিলায়; সর্বাবস্থায় আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, যিনি পথভ্রষ্টতা দূরকারী, জান্নাতী সুপেয় সুধার পানপাত্রের আবর্তন এবং মহান বংশধারার মধ্যমণি; তিনি মহান দরবারের প্রবেশদ্বার এবং আল্লাহর সান্নিধ্যের সুধা পরিবেশনকারী। তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক, যারা সর্বোত্তম সঙ্গী ও পরিবার; আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের ওপরও। আপনার জন্য সেই প্রশংসা যা আপনি স্বয়ং বলেছেন এবং যা বলা বাঞ্ছনীয়।
প্রকাশক সাইয়্যিদ ডক্টর: হাশেম মুহাম্মদ আলী মাহদী
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة الشّيخ عبد الله اللحجيبقلم: فضيلة العلامة الدكتور المحدث المسند السيد: محمد بن علوي المالكي من علماء البلد الحرام هو شيخنا العلّامة الفقيه المرجع، المحدّث المسند، العارف بالله الشيخ: عبد الله بن سعيد بن محمد عبادي اللّحجي الحضرميّ الشحاري، ثم المراوعي، ثم المكي.
ولد سنة: 1343 بقرية نوبة عياض من قرى لحج، ثم سافر إلى المراوعة قبل البلوغ؛ وهو في الثانية عشرة لطلب العلم،
فأخذ عن مشايخها وهم:
السيد عبد الرحمن بن محمد الأهدل، وهو شيخ التخرّج والانتساب في اليمن، فقد لازمه أكثر من عشر سنوات، وقرأ عليه كثيرا من المقروءات، وخدمه وانتفع به، وحضر دروسه وسمع منه، وقرأ عليه؛ في التفسير والحديث والفقه وقواعد الفقه وأصول الفقه والعقائد ومصطلح الحديث والتصوّف والفرائض والنحو والصرف والمعاني والبيان والعروض والمنطق.
وأجازه إجازة عامّة بكلّ ما تجوز له روايته، وفي العلوم الشرعية والعقلية والأحزاب والأوراد والأذكار والصلوات المأثورة وغير المأثورة، وكتب له الإجازة بخطّه الشريف.
ومن شيوخ الشيخ اللحجي في المراوعة: الشيخ العلامة السيد: عبد الرحمن بن حسنبن عبد الله بن محمد معوّضه قاسم الأهدل المروعي، سمع منه وقرأ عليه، وحضر عنده في الفقه والحديث والنحو والصرف والمعاني والبيان والمنطق وقواعد الفقه وغيرها، وأجازه إجازة عامّة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজির জীবনীলিখনে: ফযীলতপূর্ণ আল্লামা, ডক্টর, মুহাদ্দিস, আল-মুসনিদ আস-সায়্যিদ মুহাম্মাদ বিন আলাউয়ী আল-মালিকী, হারামাইনের আলিমগণের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আমাদের শায়খ, আল্লামা, ফকিহ, নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স, মুহাদ্দিস, আল-মুসনিদ, আরিফ বিল্লাহ শায়খ: আবদুল্লাহ বিন সাঈদ বিন মুহাম্মাদ ইবাদি আল-লাহজি আল-হাদরামি আশ-শুহারি, অতঃপর আল-মারওয়ায়ি এবং পরিশেষে আল-মাক্কি।
তিনি ১৩৪৩ হিজরি সালে লাহজ প্রদেশের নওবা আইয়াদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর বালেগ হওয়ার পূর্বে বারো বছর বয়সে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে মারওয়ায়াতে সফর করেন।
অতঃপর তিনি সেখানকার শায়খগণের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন, তাঁরা হলেন:
সায়্যিদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আল-আহদাল, তিনি ছিলেন ইয়েমেনে তাঁর শিক্ষা সমাপন ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সম্পর্কের মূল শায়খ। শায়খ লাহজি দশ বছরেরও বেশি সময় তাঁর সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন, তাঁর নিকট প্রচুর কিতাব পাঠ করেন, তাঁর সেবা করেন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হন। তিনি তাঁর দরসে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর থেকে শুনেছেন ও পড়েছেন: তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ফিকহ শাস্ত্রীয় মূলনীতি, উসুলে ফিকহ, আকাইদ, হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা, তাসাউফ, ফারায়েজ, নাহু, সরফ, মায়ানি, বায়ান, আরুজ এবং মানতিক শাস্ত্রে।
তিনি তাঁকে তাঁর বর্ণিত সকল বর্ণনার জন্য সাধারণ ইজাজত প্রদান করেন। এছাড়া শরয়ী ও আকলি জ্ঞানসমূহ, বিভিন্ন হিজব, আওরাদ, আজকার এবং বর্ণিত ও অবর্ণিত দরুদ পাঠের বিষয়েও ইজাজত দেন। তিনি নিজ বরকতময় হস্তাক্ষরে তাঁর জন্য এই ইজাজতনামা লিখে দিয়েছিলেন।
মারওয়ায়াতে শায়খ লাহজির অন্যান্য শায়খগণের মধ্যে অন্যতম হলেন: শায়খ আল্লামা সায়্যিদ আবদুর রহমান বিন হাসানবিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ মুআওয়াদা কাসিম আল-আহদাল আল-মারওয়ায়ি। তিনি তাঁর থেকে শুনেছেন এবং তাঁর কাছে পড়েছেন। তিনি তাঁর মজলিসে ফিকহ, হাদিস, নাহু, সরফ, মায়ানি, বায়ান, মানতিক, ফিকহ শাস্ত্রীয় মূলনীতি এবং অন্যান্য বিষয়ে উপস্থিত হতেন এবং তিনিও তাঁকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومن شيوخ الشيخ عبد الله اللحجي في اليمن: الشيخ العلّامة الحبر البحر الفهّامة أبو الفضائل عزّ الدين السيد: محمد حسن هند بن عبد الباريبن محمد بن حسن بن عبد الباري الأهدل، حضر دروسه وسمع منه، وقرأ عليه في الفقه والحديث والمنطق والعقائد والأصول والتجويد والعروض وغيرها، ولازمه واستفاد منه وقرأ عليه كثيرا، فله عليه منّة كبرى بعد شيخه السيد عبد الرحمن محمد الأهدل رحمهم الله تعالى. آمين وقد أجازه إجازة عامّة.
رحلته إلى مكة المكرمة:رحل إلى مكة سنة: 1374 هـ، ومكث بها سنة واحدة، ثم عاد إلى اليمن، ثم رجع إلى الحجاز عام: 1377 هـ؛ واستقرّ به المقام في مكة المكرمة إلى وفاته.
اتّصاله بالوالد السيد علوي المالكي:اتصل الشيخ عبد الله اللّحجي بالوالد في أول سنة جاء فيها إلى مكّة؛ وهي سنة: 1374 هـ، فقرأ عليه في المسجد الحرام، وأخذ عنه مدّة أقامته الأولى؛ وهي سنة كاملة. ثم رجع إلى بلاده، ثم جاء إلى مكة المكرمة مرّة ثانية عام: 1377 هـ، واستقرّ بها إلى وفاته؛ ملازما لسيّدي الوالد السيد علوي المالكي ملازمة تامّة. وقرأ عليه في المسجد الحرام بباب السلام، وفي بيته، وبالقرارة ثم بالحلقة، ثم بالعتيبية كتبا عديدة؛ في التفسير والحديث والأصول والمنطق والتاريخ وتاريخ التشريع والقواعد والتصوف.
وممّا قرأه عليه: «موطأ الإمام مالك» ، و «صحيح البخاري» ، و «صحيح مسلم» ، و «سنن أبي داود» ، و «سنن الترمذي» .
وكان الشيخ عبد الله هو القارىء أمام الوالد في الدرس في المسجد الحرام.
وكذلك قرأ عليه كتاب «بلوغ المرام» و «رياض الصالحين» و «الشفا» و «الشمائل» للترمذي بالمسجد النبوي في الروضة الشريفة جوار الحجرة
ইয়েমেনে শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজির উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম হলেন: আল্লামা, মহা পণ্ডিত, জ্ঞানের অগাধ সমুদ্র, আবু আল-ফাদাইল ইজ্জুদ্দিন সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ হাসান হিন্দ ইবনে আবদিল বারিইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাসান ইবনে আবদিল বারি আল-আহদাল। তিনি তাঁর পাঠে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করতেন। তিনি তাঁর নিকট ফিকহ, হাদিস, যুক্তিবিদ্যা, আকাইদ, উসুল, তাজবিদ, ছন্দশাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয়ে অধ্যয়ন করেছেন। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে থেকে ধন্য হয়েছেন, তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর নিকট প্রচুর কিতাব পাঠ করেছেন। তাঁর শায়খ সাইয়্যিদ আবদুর রহমান মুহাম্মাদ আল-আহদালের পর তাঁর প্রতি তাঁর (মুহাম্মাদ হাসানের) অনেক বড় অবদান রয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন। আমিন। আর তিনি তাঁকে একটি সাধারণ অনুমতি (ইজাজাত আম্মাহ) প্রদান করেছিলেন।
মক্কা মুকাররামায় তাঁর সফর:তিনি ১৩৭৪ হিজরি সালে মক্কায় সফর করেন এবং সেখানে এক বছর অবস্থান করেন। এরপর তিনি ইয়েমেনে ফিরে যান। পরবর্তীতে ১৩৭৭ হিজরি সালে পুনরায় হিজাজে ফিরে আসেন এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত মক্কা মুকাররামায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
আমার শ্রদ্ধেয় পিতা সাইয়্যিদ আলাউই আল-মালিকির সাথে তাঁর সম্পর্ক:শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজি মক্কায় আগমনের প্রথম বছরেই শ্রদ্ধেয় পিতার সাথে যোগাযোগ করেন; তা ছিল ১৩৭৪ হিজরি সাল। তিনি মসজিদে হারামে তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং সেখানে তাঁর অবস্থানের প্রথম সময়কাল অর্থাৎ পুরো এক বছর তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেন। এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে যান, অতঃপর ১৩৭৭ হিজরি সালে দ্বিতীয়বার মক্কা মুকাররামায় আগমন করেন এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন; এ সময়ে তিনি আমার শ্রদ্ধেয় পিতা সাইয়্যিদ আলাউই আল-মালিকির সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি মসজিদে হারামের বাবুস সালামে, তাঁর বাড়িতে, কারারা নামক স্থানে, এরপর হালকায়, অতঃপর উতাইবিয়ায় তাঁর নিকট তাফসির, হাদিস, উসুল, যুক্তিবিদ্যা, ইতিহাস, আইন প্রণয়নের ইতিহাস, কাওয়াইদ এবং তাসাউফ শাস্ত্রের বহু কিতাব পাঠ করেছেন।
তিনি তাঁর নিকট যা পাঠ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: ‘মুয়াত্তা ইমাম মালিক’, ‘সহিহ বুখারি’, ‘সহিহ মুসলিম’, ‘সুনানে আবু দাউদ’ এবং ‘সুনানে তিরমিজি’।
মসজিদে হারামের পাঠদানে শায়খ আবদুল্লাহ ছিলেন শ্রদ্ধেয় পিতার সামনে কিতাব পাঠকারী।
অনুরূপভাবে তিনি মসজিদে নববীতে রওজা শরিফের ভেতরে হুজরার পাশে তাঁর নিকট ‘বুলুগুল মারাম’, ‘রিয়াদুস সালিহীন’, ‘আশ-শিফা’ এবং তিরমিজির ‘শামায়েল’ পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১১)
المشرّفة؛ في الدروس الخاصّة.
و «ألفية السيوطي» ، و «طلعة الأنوار» ؛ وشرحها: «رفع الأستار» ، و «نيل المرام في تفسير آيات الأحكام» ؛ في الدروس العامّة بالمسجد الحرام. وكان الشيخ عبد الله هو القارىء فيها.
و «رسالة» جدّي السيّد عبّاس المالكي في الاستعارات، و «رسالة في علم المناظرة» و «رسالة في علم الوضع» وطائفة من «الإتقان» ، وطائفة من «الموافقات» للشاطبي وكتبا كثيرة، ولازمه ملازمة تامّة، وخدمة في كثير من شؤونه العلمية، وكتب له كثيرا من فوائده، وأملى عليه كثيرا من رواياته.
وكنت لا أرى مجلسا من مجالس والدي إلّا وأرى الشيخ عبد الله اللحجي في ذلك المجلس؛ سواء كان مجلس علم، أو مذاكرة، أو ضيافة، أو ذكر، أو دعوة. ونسخ بيده كثيرا من المخطوطات المفيدة، والمجاميع العديدة، والرسائل النادرة باسم سيّدي الوالد. أي: هديّة له.
وكان كلّ منهما يحبّ الآخر وينظر إليه بعين الفضل. وكان الشيخ عبد الله المذكور يقول: أنا لا أشبع من مجالسة شيخنا السيد علوي. وإني إذا أصبحت أفكر في الذهاب إليه وأهيّىء نفسي لذلك، وكان يقول أيضا عنه: هو شيخنا الذي فتح قلوبنا وزكّى نفوسنا، وأمدّنا بما لا ننساه، وعرّفنا بالناس، وأخذنا إلى الأفاضل من أهل الحرمين الشريفين، واجتمعنا عنده وفي رحابه بكبار علماء المسلمين من الوافدين في الحج والعمرة والزيارة. واتّصلنا بهم وأخذنا عنهم واستجزناهم ببركته وإشارته، فعنه أخذنا، وبه تخرّجنا، ولولاه ما كنّا ولا أصبحنا ولا أمسينا. هكذا سمعته منه بلفظه رحمه الله.
وقد كان لسيّدي الوالد الحبيب علوي المالكي عناية خاصّة وتامّة بالشيخ عبد الله اللحجي؛ فقد كان يأخذه معه في أكثر مجالسه واجتماعاته ورحلاته خارج مكّة المكرّمة للوعظ والإرشاد، أو للإصلاح بين الناس، أو لزيارة العلماء والصالحين، أو لحضور مجالس الذكر وقراءة القرآن. فقد حجّ معه
সম্মানিত; বিশেষ পাঠে।
এবং ‘আলফিয়াতুস সুয়ূতী’, ও ‘ত্বলআতুল আনওয়ার’; এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ: ‘রাফউল আস্তার’, ও ‘নাইলুল মারাম ফী তাফসীরি আয়াতিল আহকাম’; যা মসজিদুল হারামের সাধারণ পাঠে পড়ানো হতো। আর শায়খ আবদুল্লাহ ছিলেন সেই পাঠের পাঠক।
এবং রূপক অলঙ্কার (ইস্তিআরাত) বিষয়ে আমার দাদা সাইয়্যিদ আব্বাস মালিনীর ‘রিসালাহ’, ও ‘রিসালাহ ফী ইলমিল মুনাযারা’ (বিতর্ক শাস্ত্রের পুস্তিকা) ও ‘রিসালাহ ফী ইলমিল ওয়াদ’ (উৎপত্তি শাস্ত্রের পুস্তিকা) এবং ‘আল-ইতকান’-এর একাংশ, ও শাতিবীর ‘আল-মুওয়াফাকাত’-এর একাংশ এবং আরও অনেক গ্রন্থ। তিনি তাঁর পূর্ণ সাহচর্য অবলম্বন করেছিলেন, তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বহু কাজে খেদমত করেছিলেন, তাঁর জন্য অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা লিপিবদ্ধ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর অনেক বর্ণনা তাঁর কাছে শ্রুতলিপি করেছিলেন।
আমার পিতার মজলিসগুলোর মধ্যে এমন কোনো মজলিস আমি দেখিনি যেখানে শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজি উপস্থিত ছিলেন না; তা ইলমি মজলিস হোক, মুযাকারা, আতিথেয়তা, যিকির কিংবা দাওয়াতের মজলিস হোক। তিনি নিজ হাতে অনেক উপকারী পাণ্ডুলিপি, বহু সংকলন এবং বিরল পুস্তিকা আমার সম্মানিত পিতার নামে প্রতিলিপি করেছেন। অর্থাৎ: তাঁকে উপহারস্বরূপ।
তাঁরা একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং একে অপরকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখতেন। উল্লিখিত শায়খ আবদুল্লাহ বলতেন: ‘আমি আমাদের শায়খ সাইয়্যিদ আলাভীর মজলিসে বসে তৃপ্ত হই না। যখন সকাল হয়, আমি তাঁর কাছে যাওয়ার চিন্তা করি এবং সেটির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি।’ তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলতেন: ‘তিনিই আমাদের শায়খ যিনি আমাদের অন্তর উন্মুক্ত করেছেন, আমাদের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছেন এবং আমাদের এমন সব দিয়ে সহায়তা করেছেন যা আমরা কখনো ভুলব না। তিনি আমাদের মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, আমাদের হারামাইন শরিফাইনের গুণীজনদের কাছে নিয়ে গেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে ও প্রাঙ্গণে আমরা হজ, উমরাহ ও যিয়ারতে আগত মুসলিম উম্মাহর বড় বড় আলেমদের সাথে মিলিত হয়েছি। তাঁর বরকতে এবং ইশারায় আমরা তাঁদের সাথে যোগাযোগ করেছি, তাঁদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তাঁদের নিকট থেকে ইজাযত লাভ করেছি। সুতরাং তাঁর থেকেই আমরা গ্রহণ করেছি, তাঁর মাধ্যমেই আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি; আর তিনি না হলে আমরা থাকতাম না এবং আমাদের সকাল-সন্ধ্যা এমন হতো না।’ তাঁর থেকেই আমি এভাবেই শব্দে শব্দে শুনেছি, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
আমার সম্মানিত পিতা আল-হাবিব আলাভী মালিনীর শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজির প্রতি বিশেষ ও পূর্ণ মনোযোগ ছিল। তিনি তাঁকে তাঁর অধিকাংশ মজলিস, সভা এবং মক্কা মুকাররমার বাইরের সফরগুলোতে ওয়াজ ও নসিহতের জন্য, মানুষের মাঝে বিবাদ মেটানোর জন্য, আলেম ও নেককারদের যিয়ারতের জন্য কিংবা যিকির ও কুরআন তিলাওয়াতের মজলিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য সাথে নিতেন। এমনকি তিনি তাঁর সাথে হজও করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১২)
مرّات، وزار معه المدينة المنورة مرّات، وسافر معه إلى الطائف وجدّة مرّات. وكان سيّدي الوالد الحبيب علوي المالكي قد أعطاه غرفته الخاصّة التي تسمّى ب (الخلوة) في رباط السليمانية. ثم الخلوة الثانية المطلّة على الحرم من جهة باب السليمانية، والتي كانت تسمّى ب «المدرسة» . ثم خلوة أخرى في مشاريع توسعة الحرم الأولى.
وكان الشيخ عبد الله متفرّغا للعلم والتعليم؛ يعيش مع طلبة العلم ويسكن معهم وينام، فكانت أوقاته كلّها مصروفة للعلم والدرس والتدريس والطلاب.
وكان سيّدي الوالد يقضي أكثر أوقاته التي لا ارتباط فيها بمدرسة أو موعد في هذه الخلوة مع الشيخ عبد الله ومن معه من الطلاب في دروس خاصّة عالية، ومذاكرات وفوائد سامية.
وعناية الوالد السيّد علوي المالكي بالوافدين معلومة وظاهرة للجميع ويعتبرها من وظائفه المهمة التي أوجبها هو على نفسه. يقول فضيلة الأخ الشيخ أحمد جمهوري البنجري- فيما كتب إليّ بخطه-:
قال شيخنا العلّامة المحقق الشيخ إسماعيل «1» : إنه (أي السيد علوي المالكي) علّامة زمانه، فخر أوانه والمقدّم بين أقرانه المتفننين بشتّى فنون المنقول والمعقول، والقائم على هدي جدّه المصطفى الرسول صلى الله عليه وسلم إلى أن قال- وله عليّ وعلى غيري من أهل العلم الوافدين إلى بلد الله الأمين للإقامة به منّة عظمى ونعمة كبرى؛ حيث إنّه يقوم برعاية الغرباء من الطلاب، ويسدي إليهم كلّ جميل، وساعدهم بكلّ ما في وسعه مما يحتاجونه مما يسهّل لهم سبيل الإقامة. فجزاه الله عنا أحسن الجزاء.
ومن شيوخ الشيخ عبد الله اللحجي بمكّة المكرمة: الإمام العلّامة المحدّث شيخنا الشيخ: حسن بن محمد المشّاط المكّي المالكي،
--------------------------------------------
অনেকবার, এবং তাঁর সাথে মদীনা মুনাওয়ারা অনেকবার যিয়ারত করেছেন, এবং তাঁর সাথে তায়েফ ও জেদ্দায় অনেকবার সফর করেছেন। আর আমার শ্রদ্ধেয় পিতা প্রিয় আলওয়ী আল-মালিকী তাঁকে রিবাত আস-সুলাইমানিয়াহতে তাঁর নিজস্ব কামরাটি দিয়েছিলেন যাকে 'আল-খালওয়াহ' (নির্জন কক্ষ) বলা হতো। অতঃপর বাব আস-সুলাইমানিয়ার দিক থেকে হারামের দিকে মুখ করা দ্বিতীয় নির্জন কক্ষটি, যাকে 'আল-মাদরাসা' বলা হতো। অতঃপর হারামের প্রথম সম্প্রসারণ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি নির্জন কক্ষ।
শায়খ আব্দুল্লাহ ইলম ও শিক্ষাদানে একনিষ্ঠ ছিলেন; তিনি ইলম অন্বেষণকারী ছাত্রদের সাথেই বসবাস করতেন এবং তাদের সাথেই রাত যাপন করতেন। তাঁর সকল সময় জ্ঞানার্জন, পাঠ গ্রহণ, পাঠদান এবং ছাত্রদের পেছনে ব্যয় হতো।
আমার শ্রদ্ধেয় পিতা তাঁর সেই সময়ের অধিকাংশ ভাগ—যাতে কোনো মাদরাসা বা অন্য কোনো সাক্ষাৎসূচি থাকতো না—এই নির্জন কক্ষে শায়খ আব্দুল্লাহ এবং তাঁর সাথে থাকা ছাত্রদের সাথে উচ্চতর বিশেষ পাঠদান, আলোচনা ও সূক্ষ্ম জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতেন।
আগন্তুকদের প্রতি শ্রদ্ধেয় পিতা সাইয়্যেদ আলওয়ী আল-মালিকীর যত্ন ও মনোযোগ সবার কাছে সুপরিচিত ও সুস্পষ্ট ছিল এবং তিনি একে তাঁর এমন এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করতেন যা তিনি স্বয়ং নিজের ওপর অবধারিত করে নিয়েছিলেন। মাননীয় ভাই শায়খ আহমাদ জুমহুরী আল-বানজারী তাঁর নিজ হাতে লেখা পত্রে আমাকে যা জানিয়েছেন তা হলো:
আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাক্কিক শায়খ ইসমাইল (১) বলেছেন: তিনি (অর্থাৎ সাইয়্যেদ আলওয়ী আল-মালিকী) তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম, তাঁর সময়ের গৌরব এবং বর্ণিত ও যৌক্তিক শাস্ত্রের বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগণ্য। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন—এ কথা বলা পর্যন্ত—এবং আল্লাহর নিরাপদ জনপদে থাকার জন্য আগত আমার ওপর এবং অন্যান্য আলেমদের ওপর তাঁর অনেক বড় ইহসান ও মহান নিয়ামত রয়েছে; যেহেতু তিনি বিদেশী ছাত্রদের দেখাশোনা করতেন, তাদের প্রতি সব ধরণের উত্তম আচরণ করতেন এবং তাদের বসবাসের পথ সুগম করার জন্য যা যা প্রয়োজন সে ব্যাপারে তিনি তাঁর সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করতেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
মক্কাতুল মোকাররমায় শায়খ আব্দুল্লাহ আল-লাহজীর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন: ইমাম আল্লামা মুহাদ্দিস আমাদের শায়খ হাসান বিন মুহাম্মাদ আল-মাশশাত আল-মাক্কী আল-মালিকী,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حضر دروسه وسمع منه، وقرأ عليه أشياء كثيرة في الحديث وغيره، ك «صحيح البخاري» ، و «صحيح مسلم» ، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، و «موطأ الإمام مالك» ، و «مسند الإمام أحمد» ، و «مسند الشافعي» ، و «سنن الشافعي» ، و «سنن البيهقي» ، و «شمائل الترمذي» ، و «الشفاء» للقاضي عياض، و «الأوائل» السّنبلية بكمالها، وقرأ عليه كثيرا من المسلسلات والأثبات، كثبت الشيخ محمد بن علي الشنواني، وحسن الوفا بثبت الشيخ فالح الظاهري الحجازي.
وثبت السيد حسين بن محمد الحبشي المكي ( «فتح القوي» ) ، وثبت الشيخ وليّ الله أحمد بن عبد الرحيم الدهلوي، وثبت الشيخ محمد ضمّا بن حسن البناني الفاسي، وقرأ عليه «رفع الأستار» ، و «شرح طلعة الأنوار» ، و «شرح البيقونية» كلاهما تأليفه، وغير ذلك من مقروءات ومسموعات، فله عليّ منّة كبرى. ولازمه مدّة طويلة واستفاد منه فوائد جمّة جزاه الله عنه خيرا، وأجازه إجازة عامة مرّات متعدّدة، وكتب ذلك بخطّه الشريف وألبسه الخرقة، وأسمعه حديث الرحمة المسلسل بالأولية.
ومن مشايخ الشيخ عبد الله اللحجي بمكة المكرمة العلّامة الإمام المؤرّخ المحقق شيخ المشايخ السيد الشيخ محمد العربيابن التبّاني الواحدي الجزائري المكي، سمع منه وحضره وقرأ عليه كتاب «الجامع الصغير في أحاديث البشير النذير» للحافظ السيوطي، وطائفة من «تفسير الجلالين» ، وطائفة من كتاب «زاد المعاد في هدي خير العباد» للحافظ ابن القيم، وطائفة من «رياض الصالحين» للإمام النووي، وطائفة من «سيرة ابن هشام» ، وأوائل كتاب «وسائل الوصول إلى شمائل الرسول» صلى الله عليه وسلم للعلامة الشيخ يوسف النبهاني، وقرأ عليه تأليفه «محادثة أهل الأدب في أنساب العرب» واستفاد منه وقد أجازه إجازه إجازة عامّة.
তাঁর পাঠে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর থেকে শুনেছেন, আর তাঁর নিকট হাদিস ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক কিছু পাঠ করেছেন, যেমন- ‘সহিহ বুখারি’, ‘সহিহ মুসলিম’, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ‘ইমাম মালিকের মুওয়াত্তা’, ‘ইমাম আহমদের মুসনাদ’, ‘শাফিয়ির মুসনাদ’, ‘শাফিয়ির সুনান’, ‘বায়হাকির সুনান’, ‘তিরমিজির শামায়েল’, কাজি ইয়াজের ‘আশ-শিফা’, পূর্ণাঙ্গ ‘আল-আওয়াইল আস-সুনবুলিয়্যাহ’ এবং তাঁর নিকট অনেক মুসালসালাত ও আসবাত (সনদগ্রন্থ) পাঠ করেছেন, যেমন- শায়খ মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শানওয়ানির সাবাত, শায়খ ফালিহ আজ-জাহিরি আল-হিজাজির সাবাত ‘হুসনুল ওয়াফা’।
এবং সায়্যিদ হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-হাবাশি আল-মাক্কির সাবাত (‘ফাতহুল কাবি’), শায়খ ওয়ালিউল্লাহ আহমদ বিন আব্দুর রহিম আদ-দেহলভীর সাবাত, শায়খ মুহাম্মদ দম্মাহ বিন হাসান আল-ব্যানানি আল-ফাসির সাবাত। তাঁর নিকট ‘রাফউল আস্তার’ এবং ‘শারহু তালআতিল আনওয়ার’ ও ‘শারহুল বাইকুনিয়্যাহ’ পাঠ করেছেন, যেগুলোর উভয়টি তাঁরই রচনা। এছাড়াও আরও অনেক পঠিত ও শ্রুত বিষয় রয়েছে। তাঁর আমার ওপর বিশাল অনুগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘ সময় তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর ফায়দা হাসিল করেছেন—আল্লাহ তাঁকে এর উত্তম প্রতিদান দান করুন। তিনি তাঁকে একাধিকবার সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন এবং তা তাঁর সম্মানিত হস্তলিপিতে লিখে দিয়েছেন। তিনি তাঁকে খিরকা পরিয়েছেন এবং তাঁকে ‘হাদিসে রাহমাত’ (মুসালসাল বিল-আউয়ালিয়্যাহ) শুনিয়েছেন।
মক্কা মুকাররমায় শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজির মাশায়েখদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞ ইমাম, ঐতিহাসিক, গবেষক এবং মাশায়েখদের শায়খ সায়্যিদ শায়খ মুহাম্মদ আল-আরাবিইবনুত তাব্বানি আল-ওয়াহিদি আল-জাজায়েরি আল-মাক্কি। তিনি তাঁর নিকট শুনেছেন, তাঁর পাঠে উপস্থিত হয়েছেন এবং তাঁর নিকট হাফেজ সুয়ুতির ‘আল-জামি আস-সগির ফি আহাদিসিল বাশিরিন নাজির’, ‘তাফসিরে জালালাইন’-এর একটি অংশ, হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিমের ‘জাদুল মা’আদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ’-এর একটি অংশ, ইমাম নববীর ‘রিয়াদুস সালেহীন’-এর একটি অংশ, ‘সিরাতে ইবনে হিশাম’-এর একটি অংশ এবং আল্লামা শায়খ ইউসুফ আন-নাবহানির ‘ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামায়েলির রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’-এর শুরুর অংশ পাঠ করেছেন। এছাড়া তাঁর নিকট তাঁর রচিত ‘মুহাদাসাতু আহলিল আদাব ফি আনসাবিল আরব’ পাঠ করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি তাঁকে সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن مشايخ عبد الله اللحجي بمكة المكرمة العلّامة المسند الشيخ: محمد ياسين بن عيسى الفاداني المكّي،
قرأ عليه كتاب «آداب البحث والمناظرة» لطاش كبري زاده، و «الرسالة الشريفة في آداب البحث والمناظرة» ، ورسالته المسماة «تشنيف السمع في علم الوضع» ، وسمع عليه كثيرا من المسلسلات بأعمالها القولية والفعلية، وأضافه على الأسودين التمر والماء. وأجازه إجازة عامّة.
ومن مشايخ الشيخ عبد الله اللحجي من أهل مكة المكرمة العلامة السيد: محمد أمين الكتبي المكيّ الحنفي،
سمع منه وحضر لديه في درس التفسير والحديث والعربية ك «شرح ابن عقيل» ، و «شرح الأشموني على ألفية ابن مالك» في النحو والصرف، وكتاب «العزّي» في الصرف، و «شرح الجوهر المكنون في الثلاثة الفنون» ، و «دلائل الإعجاز» للشيخ عبد القاهر الجرجاني.
ومن مشايخ الشيخ عبد الله اللحجي بمكّة المكرّمة العلّامة الشيخ: محمد يحيى أمان المكّيّ الحنفيالقاضي بالمحكمة الشرعية الكبرى بمكة المكرمة، وقرأ عليه من أوّل «سنن الترمذي» ، ومن أوّل «تفسير الجلالين» ، وأجازه إجازة عامّة في كلّ ما تجوز له روايته.
ومن مشايخ الشيخ عبد الله اللّحجي من أهل المدينة المنوّرة العلّامة الشيخ: أمين بن أحمد الطرابلسي- طرابلس الغرب- المالكيّالمدرّس بالمعهد العلمي بالمدينة المنورة، اجتمع به كثيرا في المدينة المنوّرة ومكّة المكرمة في منزله وغيره، واستفاد منه فوائد جمّة، وقد قرأ عليه شيئا من «المنظومة الشاطبية» المسمّاة «حرز الأماني» في علم القراءات السبع، وشيئا من شرحها لأبي شامة، وتعلّم منه شيئا من علم الفرائض، وأجازه بما تجوز له روايته.
ومن مشايخ الشيخ عبد الله اللحجي بمكّة المكرّمة العلّامة الشيخ: إسحاق بن إبد بن محمد نور الصامولي،
قرأ عليه كتابا في علم الصرف، وأجازه بماله من مرويّات ومقروءات ومسموعات إجازة عامّة.
ومن مشايخ الشيخ عبد الله اللحجي بمكّة المكرّمة العلامة الشيخ: حسن بن
মক্কাতুল মোকাররমায় আব্দুল্লাহ লাহজির অন্যতম শাইখ হলেন আল্লামা আল-মুসনিদ শাইখ: মুহাম্মাদ ইয়াসিন বিন ঈসা আল-ফাদানি আল-মাক্কি,
তিনি তাঁর নিকট তাশ কুবরি জাদাহ বিরচিত «আদাবুল বাহাস ওয়াল মুনাজারা», «আর-রিসালাতুশ শারিফাহ ফি আদাবিল বাহাস ওয়াল মুনাজারা» এবং «তাশনিফুল সাময় ফি ইলমিল ওয়াজ» নামক তাঁর রিসালাহটি পাঠ করেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে অনেকগুলো মুসালসালাত (পরম্পরাগত বর্ণনা) তার মৌখিক ও ব্যবহারিক আমলসহ শ্রবণ করেন এবং তিনি তাঁকে আসওয়াদাইন অর্থাৎ খেজুর ও পানি দ্বারা আপ্যায়ন করেন। তিনি তাঁকে সাধারণ অনুমতি (ইজাজাহ আম্মাহ) প্রদান করেন।
মক্কাতুল মোকাররমার অধিবাসীদের মধ্য থেকে শাইখ আব্দুল্লাহ লাহজির অন্যতম শাইখ হলেন আল্লামা আস-সাইয়্যিদ: মুহাম্মাদ আমিন আল-কুতুবি আল-মাক্কি আল-হানাফি,
তিনি তাঁর নিকট শ্রবণ করেন এবং তাফসির, হাদিস ও আরবি সাহিত্যের দরসে উপস্থিত হন, যেমন নাহু ও সরফ শাস্ত্রে «শারহু ইবনে আকিল», «আলফিয়্যাতু ইবনে মালিকের ওপর আশমুনি-কৃত শারহ», সরফ শাস্ত্রের কিতাব «আল-ইজ্জি», «শারহুল জাওহারিল মাকনুন ফিস সালাসাতি ফুনুন» এবং শাইখ আব্দুল কাহির আল-জুরজানি বিরচিত «দালাইলুল ইজাজ»।
মক্কাতুল মোকাররমায় শাইখ আব্দুল্লাহ লাহজির অন্যতম শাইখ হলেন আল্লামা শাইখ: মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া আমান আল-মাক্কি আল-হানাফিতিনি মক্কাতুল মোকাররমার উচ্চতর শরয়ি আদালতের বিচারক ছিলেন। তিনি তাঁর নিকট «সুনানে তিরমিজি»র শুরু থেকে এবং «তাফসিরুল জালালাইন» এর শুরু থেকে পাঠ করেন। তিনি তাঁকে তাঁর বর্ণিত সকল বর্ণনার জন্য সাধারণ অনুমতি প্রদান করেন।
মদিনা মুনাওয়ারার অধিবাসীদের মধ্য থেকে শাইখ আব্দুল্লাহ লাহজির অন্যতম শাইখ হলেন আল্লামা শাইখ: আমিন বিন আহমদ আত-তারাবুলুসি -ত্রিপোলি, লিবিয়া- আল-মালিকিতিনি মদিনা মুনাওয়ারার আল-মা'হাদুল ইলমির শিক্ষক ছিলেন। তাঁর সাথে মদিনা মুনাওয়ারা এবং মক্কাতুল মোকাররমায় তাঁর বাসভবন ও অন্যান্য স্থানে বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং তিনি তাঁর থেকে প্রচুর ফায়দা হাসিল করেছেন। তিনি তাঁর নিকট সাত কিরাআত শাস্ত্রের «হিরজুল আমানি» নামক «মানজুমাহ আশ-শাতিবিয়্যাহ» এর কিছু অংশ এবং আবু শামাহ-কৃত এর শারহের কিছু অংশ পাঠ করেন। তিনি তাঁর নিকট মিরাস শাস্ত্রের (ইলমুল ফারায়েজ) কিছু অংশ শিক্ষা করেন এবং তিনি তাঁকে তাঁর বর্ণিত সকল বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেন।
মক্কাতুল মোকাররমায় শাইখ আব্দুল্লাহ লাহজির অন্যতম শাইখ হলেন আল্লামা শাইখ: ইসহাক বিন ইবাদ বিন মুহাম্মাদ নুর আস-সামুলি,
তিনি তাঁর নিকট সরফ শাস্ত্রের একটি কিতাব পাঠ করেন এবং তিনি তাঁকে তাঁর সকল বর্ণনা, পঠিত ও শ্রবণকৃত বিষয়ের জন্য সাধারণ অনুমতি প্রদান করেন।
মক্কাতুল মোকাররমায় শাইখ আব্দুল্লাহ লাহজির অন্যতম শাইখ হলেন আল্লামা শাইখ: হাসান বিন
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سعيد بن محمد بن أحمد اليماني المكيّ الشافعي، اجتمع به في داره بمكّة مرارا وتردّد إليه، وحضر دروسه في المسجد الحرام؛ في «صحيح مسلم» ، و «شرح المحلي» في الفقه، و «الأشباه والنظائر» للسيوطي، وسمع من فوائده كثيرا، وقد أجازه بكلّ ما تجوز له روايته؛ من منقول ومعقول، وأوراد وأذكار.
روايته وأسانيده:يروي الشيخ عبد الله اللّحجي عن كثير من العلماء المحققين. ويأتي في الدرجة الأولى شيوخه الذين قرأ عليهم وجلس بين يديهم، فقد استجازهم وروى عنهم، وأخذ عمن اعتنى منهم بالإسناد والرواية المسلسلات القولية والفعلية؛ كالمسلسل بالأولية وصنّف فيه جزءا خاصّا سمّاه: «إعانة ربّ البرية على جمع تراجم رجال الحديث المسلسل بالأوّلية» ، وإضافة إلى ذلك فقد استجاز جملة من أئمة الحديث، واستفاد من مواسم الحج والعمرة والزيارة بلقاء العلماء وزيارتهم، واستجازتهم والرواية عنهم.
ومنهم الشيخ أحمد بن عبد الباري بن علي عاموه اليماني الحديدي الحنفي، والشيخ محمد بن أحمد السالمي الزبيدي، والسيد علي بن عبد الرحمن بن إسماعيل بن أبكر الأهدل الزبيدي، والسيد أبكر مهادن بن عبد الرحمن بن إسماعيل الأهدل الزبيدي، والسيد محمد بن سليمان إدريسي الأهدل الزبيدي، والسيد محمد بن يحيى دوم الأهدل (قاضي الزهرة باليمن) ، والشيخ عبد الله بن علي المعمودي الشافعي (قاضي أبي عريش) ، والشيخ محمد إبراهيم بن الملّا سعد الله الفضلي الختني، والمشهور ب «البخاري» وهو ليس من بخارا، والشيخ محمد يوسف البنّوري بن محمد زكريا الباكستاني، والشيخ محمد خير بن يار محمد الباكستاني ثم المكي، والسيد محمد المكي ابن السيد محمد بن جعفر الكتاني الفاسي ثم الشامي، والشيخ محمد زكريا بن محمد يحيى الكاندهلوي السهار نفوري؛ ثم المدني، والسيد سالم بن أحمد بن جندان آل الشيخ أبي بكر بن سالم، والسيد عبد الله بن أحمد الهدار آل الشيخ أبي بكر بن سالم، والشيخ سلامة العزّامي
সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-ইয়ামানি আল-মাক্কি আল-শাফিঈ; মক্কায় তাঁর বাসভবনে তাঁর সাথে বহুবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর নিকট যাতায়াত করেছেন। তিনি মসজিদে হারামে তাঁর দরসসমূহে উপস্থিত হয়েছেন; বিশেষত ‘সহীহ মুসলিম’, ফিকহ শাস্ত্রের ‘শারহুল মাহাল্লি’ এবং সুয়ুতির ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’ পাঠে। তিনি তাঁর থেকে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ ফায়েদা অর্জন করেছেন। তিনি তাঁকে বর্ণিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক (মানকুল ও মাকুল) জ্ঞান এবং আওরাদ ও আযকারের ক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণনা করার বৈধতা তাঁর আছে, সে সবকিছুরই ইজাযত বা অনুমতি প্রদান করেছেন।
তাঁর বর্ণনা ও সনদসমূহ:শায়খ আব্দুল্লাহ আল-লাহজি বহু সংখ্যক মুহাক্কিক আলেম থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রথম সারিতে রয়েছেন তাঁর ঐ সকল উস্তাদগণ, যাঁদের নিকট তিনি পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং যাঁদের সামনে তিনি উপবিষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে ইজাযত প্রার্থনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁদের মধ্য থেকে ঐ সকল ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন যাঁরা সনদ এবং 'মুসালসালাত' (পরস্পরাগত) কথা ও কাজের বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন; যেমন: 'আল-মুসালসাল বিল আউয়ালিয়্যাহ' (প্রথমত্বের সিলসিলা)। এ বিষয়ে তিনি একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন: ‘ইয়ানাতু রাব্বিল বারিয়্যাহ আলা জাময়ি তারাজিমি রিজালিল হাদিসিল মুসালসাল বিল আউয়ালিয়্যাহ’। এর পাশাপাশি তিনি একদল হাদিস বিশারদদের থেকেও ইজাযত গ্রহণ করেছেন। তিনি হজ, উমরাহ এবং যিয়ারতের মৌসুমগুলোতে উলামায়ে কেরামের সাথে সাক্ষাৎ, তাঁদের যিয়ারত, তাঁদের নিকট থেকে ইজাযত গ্রহণ এবং বর্ণনা করার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: শায়খ আহমদ ইবনে আব্দুল বারী ইবনে আলী আমুহ আল-ইয়ামানি আল-হাদীদী আল-হানাফী, শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ আল-সালিমী আল-যাবিদী, সাইয়্যিদ আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাইল ইবনে আবকার আল-আহদাল আল-যাবিদী, সাইয়্যিদ আবকার মুহাদিন ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাইল আল-আহদাল আল-যাবিদী, সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ইদ্রিসী আল-আহদাল আল-যাবিদী, সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া দাওম আল-আহদাল (ইয়ামানের যাহরা অঞ্চলের বিচারক), শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে আলী আল-মামুদী আল-শাফিঈ (আবি আরিশের বিচারক), শায়খ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম ইবনুল মোল্লা সা’দুল্লাহ আল-ফাদলী আল-খাতনী—যিনি ‘আল-বুখারী’ নামে সুপ্রসিদ্ধ হলেও তিনি বুখারা অঞ্চলের নন—শায়খ মুহাম্মাদ ইউসুফ আল-বান্নুরী ইবনে মুহাম্মাদ যাকারিয়া আল-পাকিস্তানি, শায়খ মুহাম্মাদ খায়ের ইবনে ইয়ার মুহাম্মাদ আল-পাকিস্তানি অতঃপর আল-মাক্কি, সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ আল-মাক্কি ইবনে সাইয়্যিদ মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-কাত্তানী আল-ফাসী অতঃপর আল-শামী, শায়খ মুহাম্মাদ যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া আল-কান্ধলভী আল-সাহারানপুরী অতঃপর আল-মাদানী, সাইয়্যিদ সালিম ইবনে আহমদ ইবনে জিন্দান আলে শায়খ আবু বকর ইবনে সালিম, সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-হাদ্দার আলে শায়খ আবু বকর ইবনে সালিম এবং শায়খ সালামাহ আল-আযযামী।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القضاعي الشافعي المصري، والشيخ عبد السلام بن عبد القادر الفاسي.
وأكثر هؤلاء اجتمع بهم في مواسم الحج في رحاب شيخه السيد علوي بن عبّاس المالكي الذي كان مجمعا للوفود من الحجاج والمعتمرين من علماء العالم الإسلامي. وقد صنف ثبتا صغيرا في حجمه؛ كبيرا في علمه، ضمّنه شيوخه ومرويّاتهم باختصار وختمه بفوائد نفيسة، وذكر فيه أنّه أجاز أهل عصره؛ فقال: هذا؛ وإني قد أجزت من أدرك حياتي ممن أراد الرواية عني، وقبل الإجازة مني؛ اقتداء بالأئمة الذين فعلوا ذلك وأجازوه.
قال الشيخ العلامة المحقق محمد بن علي ابن علّان الصدّيقي المكي المتوفى سنة: 1057 هـ رحمه الله تعالى في آخر «شرح الأذكار» المسمّى «الفتوحات الربانية» ، قال الإمام النووي في «الإشاد» : (إذا أجاز لغير معين بوصف العموم؛ كقوله: أجزت للمسلمين، أو لكلّ أحد، أو لمن أدرك زماني، وما أشبهه.. ففيه خلاف للمتأخّرين المجوّزين لأصل الإجازة. فإن كان مقيّدا بوصف خاصّ فهو إلى الجواز أقرب، وجوّز جميع ذلك الخطيب، وجوّز القاضي أبو الطيّب، الإمام المحقّق الإجازة لجميع المسلمين الموجودين عندها، ثمّ قال: وأجاز أبو عبد الله بن منده لمن قال: لا إله إلّا الله، وأجاز أبو عبد الله بن عتّاب وغيره من أهل المغرب لمن دخل قرطبة من طلبة العلم، وقال أبو بكر الحازمي الحافظ: الذين أدركتهم من الحفّاظ، كأبي العلاء وغيره، كانوا يميلون إلى جواز هذه الإجازة العامّة.
قال الشيخ ابن الصلاح رحمه الله تعالى: ولم يسمع عن أحد يقتدى به أنّه استعمل هذه الإجازة فروى بها، ولا عن الشرذمة الّتي سوّغتها، وفي أصل الإجازة ضعف فتزداد بهذا ضعفا كثيرا لا ينبغي احتماله.
وهذا الذي قاله الشيخ ابن الصلاح خلاف ظاهر كلام الأئمّة المحقّقين والحفّاظ المتقنين، وخلاف مقتضى صحّة هذه الإجازة، وأيّ فائدة إذا لم يرو بها) . انتهى كلام الإمام النووي رحمه الله تعالى «1» .
--------------------------------------------
কুদায়ী শাফিঈ আল-মিসরি এবং শায়খ আবদুস সালাম বিন আব্দুল কাদির আল-ফাসি।
তাদের অধিকাংশের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল হজের মৌসুমে তাঁর শায়খ সাইয়্যেদ আলাউই বিন আব্বাস আল-মালিকির সান্নিধ্যে, যিনি ছিলেন মুসলিম বিশ্বের উলামাদের মধ্য থেকে আগত হাজি ও উমরাহ পালনকারীদের বিভিন্ন প্রতিনিধিদলের মিলনস্থল। তিনি আকারে ছোট কিন্তু ইলমে সমৃদ্ধ একটি 'ছাবাত' (সনদ গ্রন্থ) সংকলন করেছেন, যেখানে তিনি সংক্ষেপে তাঁর শায়খদের নাম ও তাঁদের থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং শেষভাগে মূল্যবান কিছু উপকারিতা যোগ করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িকদের 'ইজাজত' (অনুমতি) প্রদান করেছেন; তিনি বলেন: "এটিই সেই কথা; আমি আমার জীবনকাল যারা পেয়েছেন তাদের মধ্য থেকে যারা আমার নিকট থেকে বর্ণনা করতে চান এবং আমার পক্ষ থেকে ইজাজত গ্রহণ করেন, তাদেরকে ইজাজত প্রদান করছি; সেই সব ইমামদের অনুসরণে যারা এটি করেছেন এবং এর অনুমতি দিয়েছেন।"
আল্লামা মুহাক্কিক শায়খ মুহাম্মদ বিন আলী ইবনে আল্লান আস-সিদ্দিকি আল-মাক্কি (মৃত্যু: ১০৫৭ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) 'আল-ফুতুহাত আর-রব্বানিয়্যাহ' নামক 'শারহুল আজকার'-এর শেষে বলেন, ইমাম নববী 'আল-ইরশাদ'-এ বলেছেন: "যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্ধারণ না করে সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে ইজাজত প্রদান করা হয়; যেমন তাঁর কথা: 'আমি সকল মুসলিমের জন্য ইজাজত দিলাম', অথবা 'প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য', অথবা 'যারা আমার সময়কাল পেয়েছে তাদের জন্য' এবং এর অনুরূপ কিছু... তবে ইজাজতের মূল বৈধতাদানকারী পরবর্তী আলেমদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। যদি এটি কোনো বিশেষ গুণের সাথে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা বৈধতার অধিক নিকটবর্তী। আল-খতিব এ সবই বৈধ বলেছেন। মুহাক্কিক ইমাম কাজী আবু তয়্যিব তৎকালে বিদ্যমান সকল মুসলিমের জন্য ইজাজত প্রদান বৈধ বলেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ তাঁদের জন্য ইজাজত দিয়েছেন যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে। আবু আব্দুল্লাহ বিন আত্তাব এবং মাগরিবের অন্যান্য আলেমগণ সেই সব ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য ইজাজত দিয়েছেন যারা কর্ডোভায় প্রবেশ করবে। হাফেজ আবু বকর আল-হাজিমি বলেছেন: আমি আবু আল-আলা এবং অন্যদের মতো যেসব হাফেজদের পেয়েছি, তারা এই সাধারণ ইজাজত বৈধ হওয়ার প্রতি ঝুঁকেছিলেন।
শায়খ ইবনুস সালাহ (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন: 'অনুসরণযোগ্য এমন কারোর কাছ থেকে শোনা যায়নি যে তিনি এই ইজাজত ব্যবহার করেছেন এবং এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, এমনকি যারা এটি বৈধ করেছেন সেই ক্ষুদ্র দলের কাছ থেকেও এমনটি শোনা যায়নি। ইজাজতের মূল ভিত্তিই দুর্বল, আর এর ফলে তা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে যা গ্রহণ করা উচিত নয়।'
শায়খ ইবনুস সালাহ যা বলেছেন তা মুহাক্কিক ইমাম এবং পারদর্শী হাফেজদের বক্তব্যের প্রকাশ্য রূপের বিপরীত, এবং এই ইজাজতের বিশুদ্ধতার যুক্তিরও বিপরীত। আর যদি এর মাধ্যমে বর্ণনাই না করা হয় তবে এর ফায়দা কী?" ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ তাআলা)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم قال الشيخ اللحجي في آخر ثبته «المرقاة» : وأنا الفقير إلى الله عبد الله بن سعيد محمد عبادي اللحجي أجزت من أدرك حياتي بما أجاز به الحافظ ابن الدبيع رحمه الله تعالى، ورجوت ما رجاه من فضل الله وكرمه.
ذا سندي؛ فإن قبلت حبّذا
… أو لم يناسب خلف ظهرك انبذا
حرر في 28 شعبان المعظم سنة: 1398 هـ بمكة المكرمة بمنزلي في جبل الحفاير المطل على الشّبيكة سنة ثمان وتسعين وثلثمائة وألف من هجرة من له العزّ والشرف، كتبه مؤلّفه الفقير إلى الله عز وجل: عبد الله بن سعيد اللحجي بن محمد عبادي اللحجي الحضرمي المكي؛ فتح الله عليه فتوح العارفين، وألحقه بالقوم الصالحين، وغفر ذنوبه أجمعين بمنه وكرمه. آمين.
والشيخ عبد الله عالم فقيه نحويّ مشارك، له عناية كاملة بالحديث الشريف، يبذل في شراء كتبه ما يملك، وينقب عن نوادره، ويتصيّد نفائسه، يسعى للقاء الرجال والأخذ عنهم، حسن الاعتقاد فيهم، عفيف النفس، صادق العزم، عالي الهمة، بعيد عن المداراة والمجاملة.
اشتغل بالتدريس في المراوعة في الجامع الكبير، وتصدّى لإفادة الطلاب ونشر العلم، وأقبل عليه الطلاب وكان هو خليفة الشيخ السيد عبد الرحمن هناك.
وفي مكّة المكرّمة كان بجانب ملازمته لسيّدي الوالد وصحبته له وحضوره مجالسه ودروسه واشتغاله بكتابة رسائله وفتاويه وبحوثه حريصا على نفع الطلاب وإرشادهم بتدريسهم في المسجد الحرام في أوقاته الأخرى، وتدريسه في عدة مدارس؛ منها المدرسة الصولتية، ومدرسة دار العلوم الدينية، والفخرية.
[مناقبه]ومن مناقبه الحميدة وخصاله المجيدة: أنه كان حريصا كلّ الحرص على اقتناء الكتب النفيسة عامّة، وخصوصا كتب الحديث والتاريخ والسيرة النبوية والتصوف، ويبذل في شرائها كلّ ما يملك، وقد يكون محتاجا إلى ثمنها؛ ولكنه كان رحمه الله يقدّم حاجة الروح على حاجة الجسم.
ومن مناقبه الحميدة التي شهدناها ورأيناها فيه: حرصه العظيم على لقاء
এরপর শেখ লাহজি তাঁর সনদ সংকলন ‘আল-মিরকাত’-এর শেষে বলেছেন: “আমি আল্লাহর মুখাপেক্ষী আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ মুহাম্মদ আবাদী আল-লাহজি, আমার জীবদ্দশা যারা পেয়েছেন তাদের সবাইকে সেই অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করলাম যার মাধ্যমে হাফেজ ইবনুদ দাব্বি (রহমাতুল্লাহি তাআলা) অনুমতি প্রদান করেছিলেন। আর আমি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া থেকে সেই প্রত্যাশাই করি যা তিনি করেছিলেন।”
এটিই আমার সনদ; যদি তুমি গ্রহণ করো তবে কতই না উত্তম
… আর যদি উপযোগী না হয় তবে তা তোমার পেছনের দিকে নিক্ষেপ করো।
এটি ২৮ শাবানুল মুয়াজ্জাম, ১৩৯৮ হিজরি সনে মক্কাতুল মোকাররমায় আশ-শাবাইকা অঞ্চলের সন্নিকটে জাবালে হাফায়িরে অবস্থিত আমার নিজ বাসভবনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এটি লেখা হয়েছে সেই সত্তার হিজরতের এক হাজার তিনশত আটানব্বইতম বছরে যাঁর রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা। এটি লিখেছেন এর লেখক, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী: আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-লাহজি ইবনে মুহাম্মদ আবাদী আল-লাহজি আল-হাদরামি আল-মাক্কি; আল্লাহ তাঁর জন্য আরিফদের বিজয় উন্মোচন করে দিন, তাঁকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাঁর সকল গুনাহ নিজ অনুগ্রহ ও দয়ায় ক্ষমা করে দিন। আমিন।
শেখ আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন আলেম, ফকিহ এবং ব্যাকরণশাস্ত্রে পারদর্শী পণ্ডিত। হাদিস শরিফের প্রতি তাঁর পূর্ণ মনোযোগ ছিল। হাদিসের কিতাবাদি ক্রয়ে তিনি তাঁর সর্বস্ব ব্যয় করতেন, এর দুর্লভ পাণ্ডুলিপিগুলো অনুসন্ধান করতেন এবং এর মূল্যবান রত্নগুলো আহরণ করতেন। তিনি গুণী ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এবং তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করতে সচেষ্ট থাকতেন। তাঁদের প্রতি তাঁর সুধারণা ছিল। তিনি ছিলেন পবিত্রাত্মা, সত্যনিষ্ঠ সংকল্পের অধিকারী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং তোষামোদ ও কৃত্রিমতা থেকে বিমুখ।
তিনি আল-মারাওয়াআহ অঞ্চলের জামে মসজিদে শিক্ষকতায় নিযুক্ত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের উপকার সাধনে ও ইলম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। শিক্ষার্থীরা তাঁর প্রতি ধাবিত হতো এবং তিনি সেখানে শেখ সাইয়্যেদ আব্দুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত ছিলেন।
মক্কাতুল মোকাররমায় আমার শ্রদ্ধেয় পিতার সাহচর্যে থাকা, তাঁর মজলিস ও দরসে উপস্থিত হওয়া এবং তাঁর রিসালাহ, ফতোয়া ও গবেষণাপত্রগুলো লেখার কাজে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি তিনি অন্যান্য সময়ে মাসজিদুল হারামে শিক্ষার্থীদের দরস দান ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের উপকারে সচেষ্ট থাকতেন। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন; যার মধ্যে মাদরাসাতুস সওলাতিয়াহ, মাদরাসা দারুল উলুম আদ-দ্বীনিয়াহ এবং ফখরিয়াহ উল্লেখযোগ্য।
[তাঁর গুণাবলি]তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলি ও মহৎ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি হলো: তিনি সাধারণভাবে মূল্যবান কিতাবাদি সংগ্রহে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, বিশেষ করে হাদিস, ইতিহাস, সিরাত এবং তাসাউফের কিতাব। এগুলো ক্রয়ে তিনি তাঁর মালিকানাধীন সবকিছু ব্যয় করতেন, এমনকি অনেক সময় ওই অর্থের প্রয়োজন তাঁর নিজেরও থাকত; কিন্তু তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) দৈহিক প্রয়োজনের চেয়ে আত্মিক প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতেন।
তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলি যা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি এবং তাঁর মধ্যে দেখেছি তা হলো: গুণীজনদের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে তাঁর প্রবল আগ্রহ...
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرجال من أئمة العلم (ذوي الأسانيد العالية) ، ومن العارفين بالله المشهورين بالولاية والصلاح. وكان ممّا يوصيني به عند سفري إلى مصر؛ أو المغرب؛ أو باكستان أو غيرها من البلاد: أن أستجيز له ممّن أستجيزه، ويقول لي: أشركني معك في إجازاتك. وقد طلبت له الإجازة من جملة من علماء العصر، ومنهم الشيخ عبد السلام بن عبد القادر ابن سودة الفاسي، والشيخ محمد عبد الله العربي العقوري، لكن الأخير لم يذكره في أسانيده فلعلّه نسيه!!.
ومن مناقبه العظيمة وخصاله الكريمة رحمه الله: اعتناؤه العظيم بالنسخة التي يدرسها؛ أو يدرّسها، فيبحث عن النسخ الصحيحة القديمة، ويقابلها بالنسخة المطبوعة الجديدة، ويضبطها ضبطا متقنا معتنى به، ولمّا كنّا نقرأ «سنن أبي داود» ، و «الترمذي» على سيّدي الوالد في المسجد الحرام بعد العشاء، ويشكل علينا لفظ أو ضبط اسم، أو نشكّ في كلمة هل هي ساقطة أو زائدة؟؟ كان كثيرا ما يقول سيّدي الوالد للشيخ عبد الله في الدرس: (ماذا عندك في نسختك؛ يا شيخ عبد الله) ، فكان يقول قولا مفيدا يحلّ الإشكال ويزيل اللبس. وأحيانا كان سيّدي الوالد يقول له: (راجع لنا هذه المسألة؛ يا شيخ عبد الله) ، فكان يأتينا اليوم الثاني بالمفيد.
ومن مناقبه الشريفة رحمه الله: أنّ أوقاته كلّها كانت مملؤة بالوظائف والواجبات بين علم وتعليم، ودرس وتدريس، وملازمة لدروس الوالد؛ والشيخ حسن المشاط.
وهو مع جلالة قدره وعظيم رتبته وعلوّ مقامه وسعة علمه؛ إلّا أنه كان عظيم المواظبة على حضور دروس الوالد ومجالسه في الدرجة الأولى، ودروس الشيخ حسن المشاط.
فقد كان يقضي مع سيّدي الوالد كلّ يوم من بعد العصر في ما بين المنزل والحرم إلى ما بعد العشاء بساعة فيما عدا قبل العشاء.
فقد كان يذهب إلى درس الشيخ حسن المشاط (في الحديث)
…
তিনি ছিলেন ইলমের ইমামগণের মধ্য থেকে (যাঁরা উচ্চতর সনদধারী), এবং আল্লাহর এমন আরিফগণের মধ্য থেকে যারা বেলায়েত ও নেককারিতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। মিশর, মরক্কো, পাকিস্তান বা অন্যান্য দেশে ভ্রমণের সময় তিনি আমাকে যে বিষয়টি অসিয়ত করতেন তা হলো: আমি যার থেকে ইজাজত (অনুমতি) প্রার্থনা করি, তাঁর থেকে যেন তাঁর জন্যও ইজাজত গ্রহণ করি। তিনি আমাকে বলতেন: "তোমার ইজাজতসমূহে আমাকেও তোমার সাথে শরিক করো।" আমি সমসাময়িক একদল উলামায়ে কিরামের কাছে তাঁর জন্য ইজাজত প্রার্থনা করেছিলাম; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ আবদুস সালাম বিন আব্দুল কাদির ইবনে সুদা আল-ফাসি এবং শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-আরবি আল-আকুরি। তবে শেষোক্ত ব্যক্তি তাঁর সনদসমূহে তাঁকে উল্লেখ করেননি, সম্ভবত তিনি তা ভুলে গিয়েছিলেন!!
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর সুমহান গুণাবলি ও মহৎ চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল: তিনি যে পাণ্ডুলিপি পড়তেন বা পড়াতেন তার প্রতি তাঁর সুগভীর মনোযোগ ও যত্ন। তিনি প্রাচীন ও বিশুদ্ধ পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান করতেন এবং আধুনিক মুদ্রিত কপির সাথে তা মিলিয়ে দেখতেন। তিনি অত্যন্ত নিপুণ ও যত্ন সহকারে তা সংকলন ও বিন্যস্ত করতেন। যখন আমরা ইশার পর মসজিদে হারামে সায়্যিদি ওয়ালিদ (আমার শ্রদ্ধেয় পিতা)-এর কাছে 'সুনানে আবু দাউদ' এবং 'তিরমিযী' পাঠ করতাম, আর আমাদের সামনে কোনো শব্দের উচ্চারণ বা নামের নির্ভুলতার ব্যাপারে অস্পষ্টতা তৈরি হতো, কিংবা কোনো শব্দ কি বাদ পড়েছে নাকি অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে সে বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিত, তখন সায়্যিদি ওয়ালিদ পাঠ চলাকালীন প্রায়ই শেখ আব্দুল্লাহকে বলতেন: "হে শেখ আব্দুল্লাহ, আপনার কপিতে কী আছে?" তখন তিনি অত্যন্ত উপকারী কথা বলতেন যা অস্পষ্টতা দূর করতো এবং সংশয় মিটিয়ে দিত। মাঝে মাঝে সায়্যিদি ওয়ালিদ তাঁকে বলতেন: "হে শেখ আব্দুল্লাহ, এই মাসআলাটি আমাদের জন্য একটু দেখে দিন।" ফলে তিনি পরের দিন আমাদের কাছে উপকারী তথ্য নিয়ে আসতেন।
আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ ছিল: তাঁর পুরো সময় ইলম অর্জন ও শিক্ষাদান, পাঠ গ্রহণ ও পাঠদান এবং ওয়ালিদ ও শেখ হাসান আল-মাশশাতের দরসে নিয়মিত উপস্থিত থাকাসহ বিভিন্ন দ্বীনি ব্যস্ততা ও কর্তব্যে পরিপূর্ণ থাকতো।
তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা, সুমহান পদমর্যাদা, উচ্চস্থান এবং ইলমের ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি সায়্যিদি ওয়ালিদের দরস ও মজলিসসমূহে এবং শেখ হাসান আল-মাশশাতের দরসে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান ও নিয়মিত ছিলেন।
তিনি প্রতিদিন আসরের পর থেকে ইশার এক ঘণ্টা পর পর্যন্ত সময় সায়্যিদি ওয়ালিদের সাথে অতিবাহিত করতেন—যা বাড়ি থেকে হারাম শরিফ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, শুধুমাত্র মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়টুকু ছাড়া।
কেননা তিনি (সেই সময়টুকুতে) শেখ হাসান আল-মাশশাতের (হাদিসের) দরসে যেতেন
…
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مواظبا على هذا الترتيب لا يكاد يتركه إلّا لعذر طارىء، أو لتوقّف الدروس في الصيف؛ أو رمضان. ومع توقّف الدروس العامة في الحرم إلّا أنه لا يترك الحضور عند الوالد في مجلسه يوميا بعد العصر إلى انقضاء المجلس في مواسم الحجّ. وقد كتبت عنه «جريدة المدينة» بعد وفاته تحقيقا بقلم الأستاذ المؤرخ عبد الرحمن مغربي جاء فيه: كان رائدنا من العلماء الأفاضل عالما ضليعا، وفقيها متمكّنا، وعاملا صالحا، هو واحد من العلماء الذين كرّسوا حياتهم لطلب العلم درسا وتدريسا؛ يجود بعلمه على العامّة والخاصّة.
كان رحمه الله محبّا لطلابه ومحبّا لأساتذته ومشايخه قبل ذلك، إذ يعدّ مرجعا قويّا للكتابة عن العلماء بمكّة، وبعد حضور مجالس وحلقات العلم بالمسجد الحرام تصدّى للتدريس بالمسجد الحرام بعد أن أخذ الإجازة من علماء الحرم المكي؛ فعقد حلقته العلمية والدينية تحت أروقة المسجد الحرام، وكانت تكتظّ بالطلاب الذين انتفعوا بعلمه؛ فأقبل عليه عامّة الطلبة وخاصّتهم ينهلون من مورده العذب في كثير من علوم الشريعة وعلوم اللغة العربية.
وقد درّس شيخنا في حلقته بالحرم الشريف «الصحيحين» ، وكتب:
«منهاج الطالبين» في فقه الشافعية، و «متن الغاية والتقريب» ، وعلوم اللغة العربية بفروعها، وقد أخذ عنه كثير من طلبة العلم الذين ينتمون إلى كثير من البلدان العربية، وأصبح لهم مكانة علمية مرموقة «1» .
صلتي بالشيخ اللّحجيأما اتصالي بالشيخ عبد الله اللحجي؛ فقد كان اتصالا وثيقا وقويّا وعظيما.
فقد لازمته بأمر والدي، وله عليّ فضل عظيم ومنّة كبرى؛ قرأت عليه وأخذت عنه، وحفظت عليه متونا كثيرة، ورافقته في خلوته برباط السليمانية؛ إذ كنت أذهب إليه كلّ يوم في الظهر ونقرأ ونذاكر ونحفظ تحت
--------------------------------------------
তিনি এই বিন্যাসের ওপর অবিচল ছিলেন, কোনো আকস্মিক ওজর অথবা গ্রীষ্মকালীন বা রমজানের ছুটির কারণে পাঠদান বন্ধ হওয়া ছাড়া তিনি এটি প্রায় কখনোই ছাড়তেন না। হারামে সাধারণ পাঠদান বন্ধ থাকলেও, হজ মৌসুমগুলোতে প্রতিদিন আসরের পর থেকে মজলিস শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর পিতার মজলিসে উপস্থিত থাকা ত্যাগ করতেন না। তাঁর ইন্তেকালের পর ঐতিহাসিক উস্তাদ আবদুর রহমান মাগরিবীর কলমে ‘জারীদাতুল মাদিনা’ পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যাতে বলা হয়েছে: আমাদের এই অগ্রপথিক শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন একজন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী বিশেষজ্ঞ আলেম, সুপ্রতিষ্ঠিত ফকিহ এবং একজন নেক আমলকারী সালেহ ব্যক্তি। তিনি সেই সকল আলেমদের একজন যারা জ্ঞান অর্জন এবং শিক্ষাদানের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন; তিনি সাধারণ ও বিশেষ (উভয় শ্রেণির) মানুষের নিকট তাঁর জ্ঞান অকাতরে বিলিয়ে দিতেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর ছাত্রদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং এর আগে তিনি তাঁর উস্তাদ ও মাশায়েখদের প্রতিও অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও অনুরাগী ছিলেন। মক্কার আলেমদের সম্পর্কে জীবনী বা তথ্য লেখার ক্ষেত্রে তাঁকে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। মসজিদে হারামের ইলমি মজলিস ও হালকাসমূহে উপস্থিত থাকার পর, তিনি মক্কার হারাম শরিফের আলেমদের নিকট থেকে ইজাজত (অনুমতি) লাভ করে মসজিদে হারামে পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি মসজিদে হারামের বারান্দার নিচে তাঁর ইলমি ও দ্বীনি হালকা প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর ইলম দ্বারা উপকৃত ছাত্রদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ থাকত। ফলে সাধারণ ও বিশেষ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে ছুটে আসত এবং শরিয়তের বহু শাখা ও আরবি ভাষার নানাবিধ জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর সুমিষ্ট প্রস্রবণ থেকে জ্ঞান আহরণ করত।
আমাদের শায়খ হারাম শরিফের তাঁর সেই হালকায় ‘সহীহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম) এবং নিম্নোক্ত কিতাবসমূহ পড়িয়েছেন:
শাফেয়ি ফিকহের ওপর ‘মিনহাজুত তালিবীন’, ‘মাতনুল গায়াহ ওয়াত তাকরীব’ এবং আরবি ভাষা ও এর বিভিন্ন শাখা। তাঁর নিকট অনেক জ্ঞানান্বেষী ছাত্র পাঠ গ্রহণ করেছেন যারা বিভিন্ন আরব দেশ থেকে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে তারা মর্যাদাপূর্ণ ইলমি অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
শায়খ লাহজীর সাথে আমার সম্পর্কশায়খ আবদুল্লাহ লাহজীর সাথে আমার যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, সুদৃঢ় ও গভীর।
পিতার নির্দেশে আমি তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম। আমার ওপর তাঁর বিশাল অবদান ও মহান অনুগ্রহ রয়েছে। আমি তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছি, তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছি এবং তাঁর নিকট বহু মূলপাঠ (মাতন) মুখস্থ করেছি। সুলাইমানিয়া রিবাতের নির্জনতায় আমি তাঁর সঙ্গী হয়েছি; আমি প্রতিদিন জোহরের সময় তাঁর নিকট যেতাম এবং আমরা সেখানে পাঠ নিতাম, পরস্পর আলোচনা করতাম এবং মুখস্থ করতাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২০)
إرشاده، ثمّ نخرج معه إلى المسجد الحرام لصلاة العصر وتسميع بعض المتون، ثم نمشي معه إلى مجلس سيّدي الوالد السيّد علوي بعد العصر؛ حيث كان الشيخ اللحجي يحضر يوميا بعد العصر إليه؛ فيجلسان في مذاكرة ومدارسة وكتابة وإرشاد للناس، ثم نخرج جميعا معه في معيّة سيّدي الوالد إلى المسجد الحرام فنحضر جميعا الدرس الأول بعد المغرب.
ثم يقوم الشيخ اللحجي بعد الدرس إلى مجلس شيخنا الشيخ حسن المشاط؛ وكنت أقوم معه إلى درس الشيخ حسن المشاط.
ثم نرجع بعد العشاء إلى سيدي الوالد فنحضر معه درس الحديث لمدّة ساعة، وكان هو المقرىء، وقد حضرت بقراءته كتبا كثيرة بين يديّ سيدي الوالد (السّرّاد) منها: «سنن الترمذي» ، و «سنن أبي داود» ، وفي آخر «سنن أبي داود» هو الذي اقترح على سيّدي الوالد أن أقوم أنا بسرد الحديث والقراءة بين يديه، فبدأت بإرشاده واقتراحه بالقراءة بين يدي والدي؛ وحضور كبار تلاميذه في ذلك الدرس وو كنت أراجع الدّرس وأطالعه قبل القراءة مسترشدا بالشيخ عبد الله في كلّ مشكل من الأسماء؛ أو ضبط القراءة واستمر الحال على هذا إلى وفاة الوالد السيد علوي المالكي سنة 1391 هـ.
صلة خاصة:ومما أعتزّ به وأفتخر تلك السنة التي تركت فيها مدرسة الفلاح وعزمت على التفرّغ لطلب العلم وحفظ المتون تفرّغا كاملا؛ بعيدا عن النظام المدرسي والمنهج المقرّر وجوّ الاختبارات، وكان سيّدي الوالد مشغولا بمدرسة الفلاح يوميّا.
وكان من حسن الحظ والسعد أنّ الشيخ عبد الله اللحجي ترك التدريس بدار العلوم بتلك السنة فوقع الاتفاق بينه وبين سيّدي الوالد على أن يقوم بتدريسي يوميا من الصباح إلى الظهر، والالتزام بمنهج معين مرتّب، وجدول منظم؛ يشتمل الحديث والتفسير والمصطلح وأصول الفقه والقواعد والنحو والصرف والفرائض والفقه المالكي والتوحيد في يوم دراسيّ كامل. وقد اختار هو بنفسه
তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী, এরপর আমরা আসরের সালাতের জন্য এবং কিছু মূল পাঠ (মুতুন) শোনানোর জন্য তাঁর সাথে মসজিদে হারামে যেতাম। এরপর আসরের পর আমরা আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা সাইয়্যিদ আলভির মজলিসে তাঁর সাথে হেঁটে যেতাম; যেখানে শেখ লাহজি প্রতিদিন আসরের পর আসতেন। তাঁরা উভয়ে আলোচনা, অধ্যয়ন, লেখালেখি এবং মানুষকে পথনির্দেশনা প্রদানের কাজে বসতেন। এরপর আমরা সকলে আমার পিতার সাথে মসজিদে হারামে যেতাম এবং মাগরিবের পর সকলে প্রথম দরসে (পাঠে) শরিক হতাম।
তারপর দরস শেষে শেখ লাহজি আমাদের শায়খ শেখ হাসান আল-মাশশাতের মজলিসে যেতেন; আমিও তাঁর সাথে শেখ হাসান আল-মাশশাতের দরসে যেতাম।
এরপর এশার পর আমরা আমার শ্রদ্ধেয় পিতার কাছে ফিরে আসতাম এবং তাঁর সাথে এক ঘণ্টা হাদিসের দরসে উপস্থিত থাকতাম। তিনি (শেখ লাহজি) ছিলেন পাঠক। আমার শ্রদ্ধেয় পিতার সম্মুখে তাঁর পাঠের মাধ্যমে আমি অনেক কিতাব শ্রবণ করেছি, যার মধ্যে রয়েছে: «সুনানুত তিরমিযী» এবং «সুনানু আবি দাউদ»। «সুনানু আবি দাউদ»-এর শেষ দিকে তিনিই আমার পিতাকে প্রস্তাব দেন যেন আমি হাদিস পাঠ করি এবং তাঁর সামনে পাঠ করি। তাঁর নির্দেশনা ও প্রস্তাবে আমি আমার পিতার সামনে পাঠ করা শুরু করি; সেই মজলিসে বড় বড় ছাত্ররা উপস্থিত থাকতেন। আমি পাঠ করার আগে পাঠ্য অংশটি পুনরালোচনা করতাম এবং অধ্যয়ন করতাম, আর নামের জটিলতা বা পাঠের শুদ্ধতার ক্ষেত্রে শেখ আবদুল্লাহর পরামর্শ নিতাম। ১৩৯১ হিজরিতে পিতা সাইয়্যিদ আলভি আল-মালিকির মৃত্যু পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল।
বিশেষ সম্পর্ক:আমি যে বিষয়টি নিয়ে গৌরব ও গর্ব করি তা হলো সেই বছরটি, যখন আমি মাদরাসাতুল ফালাহ ত্যাগ করি এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল পদ্ধতি, নির্ধারিত পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষার পরিবেশ থেকে দূরে থেকে ইলম অর্জন ও মূল পাঠসমূহ (মুতুন) মুখস্থ করার জন্য পূর্ণ সময় মনোনিবেশ করার সংকল্প করি। সে সময় আমার শ্রদ্ধেয় পিতা প্রতিদিন মাদরাসাতুল ফালাহ-র কাজে ব্যস্ত থাকতেন।
এটি ছিল সৌভাগ্য ও আনন্দের বিষয় যে, শেখ আবদুল্লাহ লাহজি সেই বছর দারুল উলুমে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে তাঁর ও আমার শ্রদ্ধেয় পিতার মধ্যে এই মর্মে ঐকমত্য হলো যে, তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আমাকে পাঠদান করবেন। এটি একটি নির্দিষ্ট সুবিন্যস্ত পাঠ্যক্রম এবং সুশৃঙ্খল সময়সূচী অনুযায়ী চলত; যার মধ্যে হাদিস, তাফসির, পরিভাষা শাস্ত্র (মুসতালাহ), উসুলে ফিকহ, কাওয়ায়িদ (মূলনীতি), নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), মালিকি ফিকহ এবং তাওহিদ—সবই একটি পূর্ণ শিক্ষা দিবসে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি নিজেই এটি নির্বাচন করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২১)
أن يأتي إلى دارنا في الحلقة القديمة المعروفة ب «حارة النقا» وهي ليست ببعيدة عن محل سكناه إذ ذاك، لأنه كان يسكن قريبا منا في بيت (الملاه) المعروف (جهة الراقوبة) .
وقد قرأت عليه في تلك السنة كتبا كثيرة وحفظت متونا كثيرة، وكلّ ذلك مفصّل في محله من كتبي في الأسانيد والتراجم والإجازات، وقد استمرّ الحال على هذا الترتيب (سنة ونصفا) وهي سنة (98/ 99 هـ) ، وتأهّلت بعدها لدخول اختبار كلية الشريعة بالأزهر الشريف مع من كان أكبر منّي سنّا وأعلى شهادة بفضل الله تعالى، ثم بفضل والدي السيّد علوي، وشيخي الشيخ عبد الله اللحجي.
مؤلفاته:له مؤلفات مفيدة في بابها، ونافعة لطلابها منها ما طبع في حياته وهي:
1- إيضاح القواعد الفقهية لطلاب المدرسة الصولتية.
2- إعانة ربّ البرية على جمع تراجم رجال الحديث المسلسل بالأولية.
3- المرقاة إلى الرواية والرواة. ذكر فيه شيوخه ومقروءاته عليهم.
4- رسالة جمع فيها أربعين حديثا. وهذه طبعت في حياته.
5- وله «منتهى السول على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول» شرح فيه كتاب «الشمائل» للشيخ يوسف النبهاني، وهو الذي نقدّمه للقرّاء اليوم، والذي تبرّع بطبعه بعض المحسنين جزاهم الله خيرا، وجعل ذلك في ميزان حسناتهم.
6- وله «إسعاف أهل الخبرة بحكم استعمال الصائم للإبرة» .
7- وله «فتح المنان في شمائل شيخنا عبد الرحمن» .
8- وله عدّة مناظيم منها: نظمه للقيلات المعتمدة في «المنهاج» للنووي.
9- وله «نظم في الغزوات» .
10- وله «حديقة الأبرار شرح بهجة الأنوار» .
তিনি আমাদের বাড়িতে আসতেন, যা 'হারাতুন নাকা' নামে পরিচিত পুরাতন এলাকায় অবস্থিত। তৎকালীন সময়ে সেটি তাঁর বাসস্থান থেকে বেশি দূরে ছিল না, কারণ তিনি আমাদের নিকটবর্তী সুপরিচিত 'মলাহ' বাড়িতে (রাকুবা অভিমুখে) বসবাস করতেন।
সেই বছর আমি তাঁর নিকট অনেক কিতাব পড়েছি এবং অনেক মূলপাঠ (মতন) মুখস্থ করেছি। এই সবকিছুর বিবরণ আমার সনদ (আসানিদ), জীবনী (তারাজিম) ও অনুমতিপত্র (ইজাযাত) বিষয়ক কিতাবসমূহে যথাস্থানে বিস্তারিত রয়েছে। এই ধারাটি (দেড় বছর) অব্যাহত ছিল, যা ছিল (৯৮/৯৯ হিজরি) সাল। এরপর আমি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে, অতপর আমার পিতা সাইয়্যেদ আলবি এবং আমার উস্তাদ শাইখ আব্দুল্লাহ আল-লাহজীর বদৌলতে আমার চেয়ে বয়সে বড় এবং উচ্চতর সনদধারী ব্যক্তিদের সাথে আল-আযহার আশ-শরীফের শরিয়াহ অনুষদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করি।
তাঁর রচনাবলি:স্বীয় বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু উপকারী ও ছাত্রদের জন্য কল্যাণকর গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে কিছু তাঁর জীবদ্দশায় মুদ্রিত হয়েছে, সেগুলো হলো:
১- মাদরাসা সওলতিয়ার ছাত্রদের জন্য ফিকহি মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যা (ঈযাহুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ)।
২- 'আল-হাদিসুল মুসালসাল বিল আওওয়ালিয়্যাহ'-এর বর্ণনাকারীদের জীবনী সংকলনে সৃষ্টিকুলের রবের সাহায্য (ইআনাতু রাব্বিল বারিয়্যাহ)।
৩- বর্ণনা ও বর্ণনাকারীদের সোপান (আল-মিরকাতু ইলার রিওয়ায়াতি ওয়ার রুওয়াত)। এতে তিনি তাঁর শাইখগণ এবং তাঁদের নিকট পঠিত বিষয়াদি উল্লেখ করেছেন।
৪- একটি পুস্তিকা যাতে তিনি চল্লিশটি হাদিস সংকলন করেছেন। এটি তাঁর জীবদ্দশায় মুদ্রিত হয়েছে।
৫- তাঁর অপর একটি গ্রন্থ হলো 'মুনতাহাস সূল আলা ওয়াসাঈলিল উসূল ইলা শামাইলির রাসূল'। এতে তিনি শাইখ ইউসুফ আন-নাবহানির 'আশ-শামাইল' কিতাবটির ব্যাখ্যা করেছেন। এটিই আজ আমরা পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করছি, যার মুদ্রণ ব্যয় কিছু পুণ্যবান ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বহন করেছেন। আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং একে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করুন।
৬- তাঁর আরও রয়েছে 'ইসআফু আহলিল খিবরাতি বি হুকমি ইসতি'মালিস সায়িমি লিল ইবরাহ' (রোজাদারের ইনজেকশন ব্যবহারের বিধান বিষয়ে অভিজ্ঞদের সহযোগিতা)।
৭- তাঁর আরও রয়েছে 'ফাতহুল মান্নান ফী শামাইলি শাইখিনা আব্দুর রহমান'।
৮- তাঁর বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে ইমাম নববীর 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে উল্লিখিত নির্ভরযোগ্য দুর্বল মতসমূহের (ক্বিলাত) কাব্যরূপ অন্যতম।
৯- তাঁর আরও রয়েছে 'নাযমুন ফিল গাযাওয়াত' (যুদ্ধবিগ্রহ বিষয়ক কাব্য)।
১০- তাঁর আরও রয়েছে 'হাদিকাতুল আবরার শারহু বাহজাতিল আনওয়ার'।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২২)
وفاته:بعد حياة حافلة بالخير وطلب العلم والتدريس تحت أروقة الحرم المكي الشريف؛ انتقل شيخنا الشيخ عبد الله اللحجي إلى رحمة الله تعالى ليلة الأحد الموافق للسادس والعشرين جمادى الأولى: 1410 هـ بمكّة المكرمة بعد مرض خفيف استمرّ يومين؛ أو ثلاثة.
وصلّي عليه يوم الأحد بالمسجد الحرام وشيعت جنازته التي حضرها حشد كبير من العلماء والطلاب ومحبّيه رحمه الله رحمة الأبرار والصالحين.
ودفن بمقبرة المعلاه بجانب شيوخه الكرام السيد علوي المالكي، والشيخ محمد العربي، والشيخ حسن المشاط وغيرهم.
وقد ترك ولدين هما أحمد ومحمد، وثلاث بنات. وخلّف مكتبة قيّمة سعى في تكوينها وزيادتها واعتنى بها، وفيها الكثير من كتب التراث والعلوم الدينية.
وبعد؛ فهذه كلمات مختارة مما كتبته عن شيخنا الشيخ عبد الله اللحجي في ثبتي الكبير، وضمن تراجم شيوخي وسيظهر إن شاء الله في وقته. والله يتولّى الجميع برعايته.
وكتبه خادم العلم الشريف ببلد الله الحرام السيد محمد بن علوي بن عبّاس المالكي الحسني المكّي في ليلة الجمعة: 18 جمادى الأولى 1418 هـ مكة المكرمة
তাঁর ইন্তেকাল:কল্যাণময় জীবন, জ্ঞান অন্বেষণ এবং পবিত্র মক্কার হারামের প্রাঙ্গণে শিক্ষকতার এক কর্মমুখর জীবনের পর; আমাদের শায়খ, শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজী দুই বা তিন দিনের সামান্য অসুস্থতার পর মক্কাতুল মোকাররমায় ১৪১০ হিজরি সনের ২৬শে জুমাদাল উলা রবিবার দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর রহমতের দিকে পাড়ি জমিয়েছেন।
রবিবার মসজিদে হারামে তাঁর জানাযার নামাজ আদায় করা হয় এবং তাঁর জানাযার মিছিলে আলেম, শিক্ষার্থী এবং তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের এক বিশাল সমাবেশ উপস্থিত ছিল। আল্লাহ তাঁকে পুণ্যবান ও নেককার বান্দাদের ন্যায় রহমত দান করুন।
তাঁকে জান্নাতুল মুয়াল্লা কবরস্থানে তাঁর সম্মানিত শায়খগণ যথা—সাইয়্যেদ আলওয়ী আল-মালিকী, শায়খ মুহাম্মদ আল-আরাবী, শায়খ হাসান আল-মাশশাত এবং অন্যদের পাশে দাফন করা হয়।
তিনি আহমদ ও মুহাম্মদ নামে দুই পুত্র এবং তিন কন্যা রেখে গেছেন। এছাড়াও তিনি একটি মূল্যবান লাইব্রেরি রেখে গেছেন যা গড়ে তোলা ও বৃদ্ধিতে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং যার বিশেষ যত্ন নিয়েছেন; সেখানে অনেক ঐতিহ্যবাহী কিতাব এবং ধর্মীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বহু গ্রন্থ রয়েছে।
অতঃপর, এগুলো আমাদের শায়খ শায়খ আবদুল্লাহ আল-লাহজী সম্পর্কে আমার রচিত বৃহৎ ‘ছাবাত’ (শিক্ষক-তালিকা ও জীবনী) এবং আমার উস্তাদগণের জীবনীগ্রন্থ থেকে সংকলিত কিছু নির্বাচিত কথা, যা ইনশাআল্লাহ যথাসময়ে প্রকাশিত হবে। আর আল্লাহ তাঁর অভিভাবকত্ব ও দয়ায় সকলকে রক্ষা করেন।
এটি লিখেছেন আল্লাহর পবিত্র শহরের ইলমে শরীফের খাদেম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আলওয়ী বিন আব্বাস আল-মালিকী আল-হাসানী আল-মাক্কী, শুক্রবার দিবাগত রাত: ১৮ই জুমাদাল উলা ১৪১৮ হিজরি, মক্কাতুল মোকাররমা।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تعريف بكتاب منتهى السول على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وسلمبسم الله الرحمن الرحيم
كتاب (منتهى السول على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وسلم ، تأليف العالم العلّامة البحر الفهّامة، خاتمة المحققين، شهاب الملّة والدين، قطب زمانه، وسيّد أوانه؛ الشيخ عبد الله بن سعيد اللّحجي، ت 1410 هـ.
بدأت معرفتي بهذا الكتاب في منتصف عام 1407 هـ حينما كنت جالسا مع شيخي الأجل مؤلّف الكتاب، وقال لي: نريد أن نقرأ هذا الكتاب وناولني الجزء الأوّل منه، وإذا به الكتاب الّذي كنت أسمع أنّ شيخنا رحمه الله تعالى ألّفه، في حقّ الجناب النّبويّ، ولكنّه كان يخفيه ولا يبديه.. فلبّيت مسرعا في إجابته؛ لأنّ ذلك ما كنت أبغي.
فألفيت الكتاب كنيفا ملىء علما، إذ لم يؤلّف في زمانه مثله علما وتحقيقا..
شرح فيه وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وسلم للشيخ يوسف بن إسماعيل النّبهانيّ ت 1350 هـ.
دعاه إلى وضع هذا الشّرح عليه: أنّ هذا الكتاب من أجلّ ما ألّف في محاسن قطب الوسائل، ومنبع الفضائل، الحائز لكل المفاخر الفاخرة، وسيّد أهل الدّنيا والآخرة، سيّدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإنّه جمع شمائله من متفرّقات كتب
'মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামায়িলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' কিতাবটির পরিচিতিপরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামায়িলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিতাবটি মহান আলেম, অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী মহাজ্ঞানী, গবেষকগণের শেষ স্মৃতিচিহ্ন, মিল্লাত ও দ্বীনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বীয় জামানার কুতুব এবং নিজ সময়ের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব; শাইখ আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আল-লাহজীর (মৃত্যু ১৪১০ হিজরী) একটি রচনা।
এই কিতাবটির সাথে আমার পরিচিতি শুরু হয় ১৪০৭ হিজরীর মাঝামাঝি সময়ে, যখন আমি এই কিতাবটির লেখক আমার পরম শ্রদ্ধেয় শাইখের সাথে বসা ছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: "আমরা এই কিতাবটি পড়তে চাই" এবং তিনি আমাকে এর প্রথম খণ্ডটি বাড়িয়ে দিলেন। এটি সেই কিতাব যার কথা আমি শুনেছিলাম যে আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) এটি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে রচনা করেছেন, কিন্তু তিনি তা গোপন রাখতেন এবং প্রকাশ করতেন না। আমি দ্রুত তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলাম; কারণ এটাই ছিল আমার পরম কাঙ্ক্ষিত।
আমি কিতাবটিকে ইলম বা জ্ঞানে ভরপুর একটি ভাণ্ডার হিসেবে পেলাম, যার জ্ঞান ও গবেষণার সমপর্যায়ের কোনো কিতাব তাঁর সময়ে রচিত হয়নি।
এতে তিনি শাইখ ইউসুফ বিন ইসমাইল আন-নাবহানী (মৃত্যু ১৩৫০ হিজরী) রচিত 'ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামায়িলির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' কিতাবটির ব্যাখ্যা করেছেন।
তাঁকে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি রচনার প্রতি যা উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো: এই কিতাবটি সকল মাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দু, সকল শ্রেষ্ঠত্বের উৎস, অনন্য সব গৌরবের অধিকারী এবং দুনিয়া ও আখেরাতের অধিপতি আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সৌন্দর্য ও গুণাবলি সম্পর্কে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর একটি। কেননা তিনি বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তাঁর গুণাবলি এতে একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
علماء الإسلام، ورتّبها أحسن ترتيب، ونظمها أحسن نظام، بحيث إنّ القارىء لهذا الكتاب كأنّه يشاهد طلعة ذلك الجناب، ويرى محاسنه الشريفة في كلّ باب..
فأراد شيخنا الشارح أن يشرح لفظه ويجلّي معناه، ويوضّح مقصوده ومرماه.
وذلك بإتمام مباحثه، وتوسيع دائرته، وإضافة فوائد، وتقييد شوارد..
فجاء بهذا الحجم الّذي بين يديك- أربعة أسفار كبار بينما متنه يقع في 208 صفحة من القطع الوسط.
فهو بحقّ لم تكتحل عين زماننا بمثله، إذ خلا من الحشو الزائد، وجمع ما تطمح إليه نفوس مبتغي الفوائد، مع دقة تعبير، وسلامة أسلوب وجودة تحقيق، بأسلوب لا يقدر عليه في زماننا غيره، وهو أسلوب سبك عبارة المؤلف مع الشرح في قالب واحد، وكأنّها كتبت بقلم واحد، ولسان واحد، إذ كيف تجتمع موارد أفهامهما في أربعة أسفار ضخام إلّا لمثل هذا الشيخ الأجل، الّذي كان العلم قد مزج بلحمه ودمه، فكان منه ذلك الإبداع.
ولا غرابة في ذلك، فمع ما كان عليه شيخنا من إمامة في العلم في سائر فنونه المعقولة والمنقولة.. إلّا أنّه مع ذلك ظلّ في تأليفه وتنقيحه نحوا من خمس وعشرين سنة تقريبا، حيث ابتدأ تأليفه في الخامس والعشرين من شهر صفر لسنة 1376 هـ وفرغ من تنقيحه وتبييضه في الخامس عشر من شهر محرم 1400 هـ.
ولا عجب في أن يظل في تأليفه هذه الفترة كلّها؛ فإنّ الموضوع يتناول الجناب النّبويّ، الّذي يتعيّن أن تكون الكتابة فيه لائقة بعظمته، ومعتمدة على نصوص الكتاب المنزل عليه، ونصوص سنّته، وعبارات علماء أمته، ومستوحاة من كمال محبته وعظيم منزلته..
وإنّك إن أنعمت نظرك في عبارات هذا الكتاب، ستجد أنّ المؤلّف رحمه الله تعالى قد كتبه من ضوء ذلك، وأتى بما لا مزيد عليه لراغب وسالك، لذلك كان حريصا عليه ضنينا به، لأنّه مهجة روحه، وأعظم نسليه..
ولقد كلّفني في آخر سني حياته بتصويره، وكان ذلك في شهر ذي الحجّة
ইসলামের ওলামায়ে কেরাম; তিনি একে সর্বোত্তম ক্রমে বিন্যস্ত করেছেন এবং একে চমৎকার নিয়মে সাজিয়েছেন, যাতে এই কিতাবের পাঠক যেন সেই মহান সত্তার পবিত্র চেহারার আলোকচ্ছটা অবলোকন করেন এবং প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর মহৎ গুণাবলি প্রত্যক্ষ করেন।
অতঃপর আমাদের শাইখ, যিনি ব্যাখ্যাকার, তিনি এর শব্দাবলি ব্যাখ্যা করতে, এর অর্থকে উদ্ভাসিত করতে এবং এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।
আর তা সম্পন্ন হয়েছে এর আলোচনাগুলোর পূর্ণতা প্রদানের মাধ্যমে, এর পরিধিকে প্রশস্ত করার মাধ্যমে এবং নতুন নতুন ফায়দা সংযোজন ও বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে।
ফলে এটি আপনার সম্মুখে থাকা এই বিশাল অবয়বে প্রকাশিত হয়েছে—চারটি বড় খণ্ডে, অথচ এর মূল পাঠ (মাতন) মাঝারি আকারের ২০৮ পৃষ্ঠার ছিল।
এটি প্রকৃতপক্ষেই এমন একটি কাজ, যার দৃষ্টান্ত আমাদের বর্তমান সময়ের চোখ খুব একটা দেখেনি। কারণ এটি বাহুল্য বর্জন করেছে এবং জ্ঞানপিপাসুরা যা কিছু কামনা করে তার সবকিছুই এখানে একত্রিত করা হয়েছে; সেই সাথে এতে রয়েছে সূক্ষ্ম প্রকাশভঙ্গি, সাবলীল শৈলী এবং উন্নতমানের গবেষণা। এটি এমন এক পদ্ধতিতে রচিত যা আমাদের যুগে তিনি ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না—আর তা হলো মূল লেখকের বক্তব্য এবং ব্যাখ্যাকে একই ছাঁচে এমনভাবে গেঁথে দেওয়া যেন মনে হয় তা একই কলমে এবং একই ভাষায় লেখা হয়েছে। কারণ, এই মহান শাইখ ছাড়া আর কার পক্ষেই বা এভাবে চিন্তা-চেতনার মিলন ঘটিয়ে চারটি বিশাল খণ্ড রচনা করা সম্ভব হতো, যাঁর রক্ত ও মাংসে জ্ঞান মিশে গিয়েছিল এবং যাঁর থেকে এই সৃজনশীলতার উদ্ভব ঘটেছে।
আর এতে বিস্ময়ের কিছু নেই; কারণ আমাদের শাইখ বুদ্ধিবৃত্তিক এবং বর্ণিত যাবতীয় বিদ্যায় ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তিনি এর রচনা ও পরিমার্জনের কাজে প্রায় পঁচিশ বছর সময় ব্যয় করেছেন। তিনি ১৩৭৬ হিজরীর ২৫শে সফর তারিখে এর রচনা শুরু করেন এবং ১৪০০ হিজরীর ১৫ই মহররম তারিখে এর সংশোধন ও চূড়ান্ত অনুলিপি তৈরির কাজ সমাপ্ত করেন।
এই দীর্ঘ সময়ব্যাপী এর রচনায় মগ্ন থাকাতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ বিষয়টি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র সত্তাকে কেন্দ্র করে। আর তাঁর শানে লেখাটি অবশ্যই তাঁর সুমহান মর্যাদার উপযোগী হওয়া অপরিহার্য এবং তা তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব, তাঁর সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ ও উম্মতের উলামায়ে কেরামের উক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়া এবং তাঁর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও তাঁর সুউচ্চ মকামের অনুপ্রেরণা থেকে হওয়া জরুরি ছিল।
আপনি যদি এই কিতাবের বাক্যগুলোর প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেন, তবে দেখতে পাবেন যে লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সেই আলোকেই এটি লিখেছেন এবং একজন আগ্রহী ও জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তির জন্য যা প্রয়োজন তার কোনো কিছুই তিনি বাদ রাখেননি। এই কারণেই তিনি এর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং একে প্রাণের চেয়েও প্রিয় মনে করতেন; কারণ এটি ছিল তাঁর হৃদয়ের নির্যাস এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
তিনি তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে আমাকে এটি অনুলিপি করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, আর সেটি ছিল জিলহজ মাসে।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحرام من عام 1409 هـ، وكان يعطيني كل يوم جزءا، ويقول لي: لا تعد إلّا به.
وذات يوم وأنا أقرأ لديه فيه، قال لي بعد فراغي من قراءتي عليه وهو يسمع: أنّى لي بهذا الكتاب أن يطبع؟!
ففهمت أنّه يشير لي أن أقوم بهذا الدّور بعد وفاته، فتبسّمت في وجهه، وتبسّم لي كذلك، غير أنّي لم أستطع التّعبير بالاستعداد مهابة له وإجلالا، فقد كان والله كما قيل في الإمام مالك رحمه الله تعالى:
يأبى الجواب فلا يراجع هيبة
… والسّائلون نواكس الأذقان
أدب الوقار وعزّ سلطان التّقى
… فهو المهيب وليس ذا سلطان
فما هو والله ببعيد عن حقيقة مضمون هذين البيتين، ويشهد لذلك كلّ من عرف الشيخ من قريب وبعيد.
أخيرا ها هي الأمنية قد تحقّقت اليوم بعد عشر سنين، والحمد لله الّذي بنعمته تتمّ الصالحات.
وكتبه الفقير إلى الله تعالى د/ أحمد بن عبد العزيز بن قاسم الحدّاد مدير إدارة الإفتاء والبحوث دائرة الأوقاف والشؤون الإسلاميّة- دبي في 16 من شهر شعبان المكرّم لعام 1418 هـ الموافق 16 من شهر ديسمبر لعام 1997 م
১৪০৯ হিজরি সনের হারাম মাস থেকে, তিনি আমাকে প্রতিদিন একটি করে অংশ প্রদান করতেন এবং আমাকে বলতেন: "এটি ব্যতীত ফিরে আসবে না।"
একদিন আমি যখন তাঁর নিকট পাঠ করছিলাম, তখন আমার পাঠ সমাপ্তির পর তিনি তা শ্রবণ করে আমাকে বললেন: "এই কিতাবটি মুদ্রিত হওয়া আমার জন্য কীভাবে সম্ভব?!"
আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি আমাকে তাঁর মৃত্যুর পর এই দায়িত্ব পালনের প্রতি ইঙ্গিত করছেন। তখন আমি তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম এবং তিনিও আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তবে তাঁর প্রতি অত্যধিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের কারণে আমি নিজের প্রস্তুতির কথা ব্যক্ত করতে পারিনি। আল্লাহর শপথ, ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তিনি ঠিক তেমনই ছিলেন:
তিনি উত্তর দিতে অস্বীকার করেন না, কিন্তু গাম্ভীর্যের কারণে তাঁকে পুনরায় প্রশ্ন করা হয় না
… আর প্রশ্নকারীরা তাদের চিবুক নিচু করে থাকে।
গাম্ভীর্যের শিষ্টাচার এবং তাকওয়ার রাজকীয় প্রভাব
… তিনি অত্যন্ত প্রভাবশলী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন অথচ তিনি কোনো পার্থিব ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন না।
আল্লাহর শপথ, তিনি এই দুই পংক্তির মর্মার্থের প্রকৃত সত্য থেকে মোটেও দূরে ছিলেন না। যারা শাইখকে নিকট থেকে বা দূর থেকে চিনেছেন, তারা প্রত্যেকেই এর সাক্ষ্য দেবেন।
অবশেষে দশ বছর পর আজ সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।
এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী ড. আহমদ বিন আব্দুল আজিজ বিন কাসিম আল-হাদ্দাদ, পরিচালক, ইফতা ও গবেষণা বিভাগ, আওকাফ ও ইসলামিক বিষয়াবলি বিভাগ - দুবাই। ১৬ই শাবান মুকাররম, ১৪১৮ হিজরি, মোতাবেক ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
صورة الصفحة الأولى من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
صورة الصفحة الثانية من المخطوطة
পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় পৃষ্ঠার ছবি।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
منتهى السّول على وسائل الوصول إلى شمائل الرسول صلى الله عليه وسلم تأليف العلّامة الفقيه الشّيخ المؤرّخ عبد الله بن سعيد محمّد عبّادي اللّحجيّ (1344- 1410 هـ) رحمه الله تعالى
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমসমূহের ওপর আকাঙ্ক্ষার চরম সীমা। রচনা: প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, ফকিহ, শায়খ ও ইতিহাসবিদ আবদুল্লাহ বিন সাঈদ মুহাম্মদ আব্বাদী আল-লাহজী (১৩৪৪- ১৪১০ হিজরি), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
اصطلاح: حيث قلت: انتهى مناوي، ونحوه، فهو مما كتبه على «الشمائل» فإن كان من (شرح «الجامع الصغير» ) بيّنته بقولي: (مناوي على «الجامع» ) .
والنقل عن ابن علّان هو من (شرح «الأذكار» ) و (شرح «رياض الصالحين» ) .
والنقل عن الباجوري من (حاشيته على «الشمائل» ) والقليل من (حاشية ابن قاسم) ، و (حاشية الشنشوري)
পরিভাষা: যেখানে আমি বলেছি: "মানাওয়ি সমাপ্ত", অথবা অনুরূপ কিছু, তবে তা তিনি ‘শামায়েল’-এর ওপর যা লিখেছেন তা থেকে সংগৃহীত। আর যদি তা (শারহু ‘জামিউস সগির’) থেকে হয়, তবে আমি তা আমার এই উক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি: (জামি’-এর ওপর মানাওয়ি)।
ইবনে আল্লান থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলো হলো (শারহুল আজকার) এবং (শারহু রিয়াদিস সলিহিন) থেকে।
বাজুরি থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতিগুলো (শামায়েলের ওপর তার হাশিয়া) থেকে নেওয়া, আর সামান্য কিছু (ইবনে কাসিমের হাশিয়া) এবং (শানশুরির হাশিয়া) থেকে নেওয়া।
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
[مقدمة المؤلف]بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين على أمور الدنيا والدين الحمد لله الّذي جعل حظّنا «1» نبيّه وحبيبه؛ سيدنا محمّدا الذي أدّبه فأحسن تأديبه، وزكّى أوصافه وأخلافه ووفّر نصيبه، ووفّق للاقتداء به من أراد تهذيبه، وحرم عن التخلّق بأخلاقه من أراد تخييبه، صلوات الله تعالى عليه وسلامه، وتحيّاته وبركاته وإكرامه، وعلى آله أجمعين، وأصحابه والتابعين، ما ذكرت محاسنه وفضائله وسرّت السامعين؛ صلاة دائمة على تعاقب الأوقات والسنين.
أمّا بعد؛ فيقول الفقير إلى رحمة العظيم الباري؛ عبد الله بن سعيد محمد عبادي اللحجي الحضرمي الشحاري، غفر الله ذنوبه، وستر بفضله عيوبه:
إنّه يتعيّن على كلّ مؤمن أن يثابر على ما يتقرّب به إلى مولاه، ويبادر إلى اتّباع أوامره في سرّه ونجواه، ويقتفي في سيره آثار نبيّه المصطفى، ويقتدي به في أخلاقه التي تكسبه في الدارين شرفا، إذ هو الميزان الراجح الذي بأقواله وأعماله وأخلاقه توزن الأخلاق والأعمال والأقوال، وبمتابعته والاقتداء به يتميّز أهل الهدى من أهل الضلال، وهو قطب السعادة التي مدارها عليه، وباب الطريق التي جعلها سبحانه موصلة إليه، فلا نجاة لأحد إلّا به، ولا فلاح له في الدارين إلّا بالتعلّق بسببه، والوصول إلى الله سبحانه وإلى رضوانه بدونه محال، وطلب الهدى من غير طريقه عين الخسران والوبال.
وأنت باب الله أيّ امرىء
… أتاه من غيرك لا يدخل
لذلك كان أولى ما صرفت إليه العناية، وجرى المتسابقون في ميدانه إلى أفضل غاية؛ فنّ الشمائل المحمّدية؛ المشتمل على صفاته السنية، ونعوته البهيّة، وأخلاقه الزكيّة، التي هي وسيلة إلى امتلاء القلب بتعظيمه ومحبّته، وذلك سبب
--------------------------------------------
[লেখকের ভূমিকা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং দুনিয়া ও দ্বীনের সকল বিষয়ে আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের সৌভাগ্য বা অংশ (১) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তাঁর নবী ও প্রিয়তমকে; আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে, যাকে তিনি শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাঁর শিষ্টাচারকে করেছেন সর্বোত্তম। তিনি তাঁর বৈশিষ্ট্য ও চরিত্রকে পবিত্র করেছেন এবং তাঁর অংশকে করেছেন পরিপূর্ণ। আর যাকে তিনি সংশোধন করতে চেয়েছেন, তাকে তাঁর অনুসরণের তাওফিক দান করেছেন; এবং যাকে তিনি ব্যর্থ করতে চেয়েছেন, তাকে তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া থেকে বঞ্চিত করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও তাবেয়ীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি, অভিবাদন, বরকত ও সম্মান বর্ষিত হোক, যতক্ষণ তাঁর মহিমা ও ফজিলত আলোচিত হবে এবং শ্রোতাদের আনন্দিত করবে; এমন দরুদ যা সময় ও বছরের আবর্তনে চিরস্থায়ী হয়।
অতঃপর, মহান সৃষ্টিকর্তার রহমতের ভিখারি আবদুল্লাহ বিন সাঈদ মুহাম্মদ আবাদী আল-লাহজি আল-হাদরামি আশ-শিহারি বলছেন—আল্লাহ তাঁর গুনাহ ক্ষমা করুন এবং তাঁর অনুগ্রহে তাঁর ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখুন:
নিশ্চয়ই প্রত্যেক মুমিনের জন্য এটি অপরিহার্য যে, সে সেই সব কাজে অবিচল থাকবে যার মাধ্যমে সে তার রবের নৈকট্য লাভ করতে পারে। সে যেন গোপনে ও প্রকাশ্যে তাঁর নির্দেশ পালনে তৎপর হয় এবং চলার পথে তাঁর মনোনীত নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে। সে যেন তাঁর সেই চরিত্রে আদর্শ গ্রহণ করে যা উভয় জগতে তাকে সম্মান এনে দেবে। কেননা তিনিই হলেন সেই প্রামাণ্য মানদণ্ড, যার কথা, কাজ এবং চরিত্রের মাধ্যমে অন্যান্য চরিত্র, কর্ম ও কথা পরিমাপ করা হয়। তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমেই বিভ্রান্তদের থেকে হেদায়েতপ্রাপ্তদের আলাদা করা যায়। তিনিই হলেন সৌভাগ্যের কেন্দ্রবিন্দু যাকে কেন্দ্র করেই সবকিছু আবর্তিত হয়। তিনিই সেই পথের তোরণ যা মহান আল্লাহ তাঁর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তাঁকে ছাড়া কারো মুক্তি নেই এবং তাঁর নিসবা বা সম্পর্কের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়া উভয় জগতে কারো সফলতা নেই। তাঁকে ছাড়া মহান আল্লাহ ও তাঁর সন্তুষ্টির নিকট পৌঁছানো অসম্ভব এবং তাঁর পথ ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত খোঁজা নিছক ক্ষতি ও ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই নয়।
আর আপনি আল্লাহর তোরণ; যে ব্যক্তিই
... আপনার পথ ব্যতীত অন্য পথ দিয়ে আসবে, সে প্রবেশ করতে পারবে না।
এ কারণেই সবচেয়ে উত্তম বিষয় যাতে মনোযোগ নিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এই ময়দানের প্রতিযোগীরা শ্রেষ্ঠ লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়েছে, তা হলো ‘শামাইলে মুহাম্মাদিয়া’ (মুহাম্মাদী বৈশিষ্ট্যসমূহ) বিষয়ক জ্ঞান; যা তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি, মনোহর বৈশিষ্ট্য এবং পবিত্র চরিত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে। যা অন্তরকে তাঁর সম্মান ও মহব্বতে পরিপূর্ণ করার মাধ্যম এবং এটিই হলো পরকালীন সফলতার কারণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لاتّباع هديه وسنّته، ووسيلة إلى تعظيم شرعه وملّته، تعظيم الشريعة واحترامها وسيلة إلى العمل بها والوقوف عند حدودها، والعمل بها وسيلة إلى السعادة الأبديّة والسيادة السرمدية، والفوز برضا ربّ العالمين؛ الذي هو غاية رغبة الراغبين، ونهاية آمال المؤمّلين.
ولمّا كان كتاب «وسائل الوصول إلى شمائل الرسول» من أجلّ ما ألّف في محاسن قطب الوسائل ومنبع الفضائل؛ الحائز لكل المفاخر الفاخرة، وسيّد أهل الدنيا والآخرة، فإنه جمع شمل شمائل سيّد الأنام؛ من متفرقات كتب علماء الإسلام، ورتّبها أحسن ترتيب ونظمها أحسن نظام؛ بحيث إنّ مطالع هذا الكتاب كأنه يشاهد طلعة ذلك الجناب، ويرى محاسنه الشريفة في كل باب.
دعاني حبّ سيّد الأحباب إلى وضع تعليقات على هذا المجموع المستطاب؛ تكون مرجعا لي في تفهّم عبارته عند إقرائه وقراءته؛ راجيا أن أفوز بقسط من التعلّق بجناب الرسول الأعظم، وأن أكون معدودا من جملة خادميه وحزبه؛ صلى الله عليه وسلم، وأن أنخرط في سلك المحبّين لسيّد المرسلين، وأن أدلي بدلوي معهم في بحر فضل خاتم النبيين، إذ الخوض في جداول بحاره يكسب الإنسان شرفا وفخرا، والتعلّق بشيء من أسبابه فيه سعادة الدنيا والأخرى، مستمدّا ذلك مما كتبه الأئمة الأعلام على أصوله المأخوذة من دواوين الإسلام، ك «حاشية الباجوري» ، وشروح «المواهب» ، و «الإحياء» ، و «الجامع الصغير» ، وقليلا ما عرّجت على غيرها ك «شرح القاموس» ، و «نهاية» ابن الأثير؛ معتمدا عليها في عزو الأحاديث ومالها من تفسير، وربّما تصرّفت في النزر النادر بالتقديم والتأخير، أو راجعت لتخريج الأحاديث من الأمهات وغيرها وذلك شيء يسير، وسمّيته:
«منتهى السّول على وسائل الوصول إلى شمائل الرّسول»
وأنا أسأل الله العظيم، ربّ العرش الكريم؛ أن يجعله سببا لمحبّته ومحبّة رسوله الرؤوف الرحيم، وأن ينفعني والمسلمين به كما نفع بأصله الأصيل، وأن يتقبّله مني ويعفو به عني، وهو حسبي ونعم الوكيل.
قال المصنف- رحمه الله تعالى- في ذيل كتابه «وسائل الوصول» :
তাঁর হেদায়েত ও সুন্নাহর অনুসরণের জন্য এবং তাঁর শরীয়ত ও মিল্লাতকে সম্মান করার মাধ্যম হিসেবে। শরীয়তের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন হলো এর ওপর আমল করার এবং এর সীমারেখার ভেতরে অবস্থান করার একটি মাধ্যম। আর এর ওপর আমল করা হলো অনন্ত সুখ ও চিরস্থায়ী শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের পথ; যা হলো আগ্রহীদের পরম আকাঙ্ক্ষা এবং আশাবাদীদের আশা-আকাঙ্ক্ষার শেষ সীমানা।
যেহেতু 'ওয়াসাইলুল উসুল ইলা শামাইলির রাসুল' কিতাবটি সমস্ত মাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দু এবং শ্রেষ্ঠত্বের উৎসের সৌন্দর্যের বর্ণনায় রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ; যিনি সমস্ত গৌরবময় আভিজাত্যের অধিকারী এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সরদার। এই কিতাবটি সৃষ্টিজগতের সরদারের বৈশিষ্ট্যসমূহকে ইসলামি উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন কিতাব থেকে একত্র করেছে এবং সেগুলোকে অতি উত্তম বিন্যাসে সজ্জিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়েছে; ফলে এই কিতাবের পাঠক যেন সেই মহান সত্তার পবিত্র অবয়ব প্রত্যক্ষ করেন এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদে তাঁর মহান সৌন্দর্য দেখতে পান।
প্রিয়তমদের সরদারের প্রতি ভালোবাসা আমাকে এই উত্তম সংকলনের ওপর কিছু টীকা লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে; যা এটি পড়ানোর এবং পড়ার সময় এর বক্তব্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমার জন্য রেফারেন্স হবে। আমি আশা করি মহান রাসুলের পবিত্র সত্তার সাথে সম্পৃক্ততার এক অংশ লাভে ধন্য হবো এবং তাঁর খাদেম ও দলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—এবং রাসূলগণের সরদারের প্রেমিকদের সারিতে নিজেকে যুক্ত করতে পারব এবং নবীগণের মোহরের ফজিলতের সমুদ্রে তাদের সাথে আমার বালতি নামাতে পারব। কেননা তাঁর সমুদ্রের নহরগুলোতে অবগাহন করা মানুষকে সম্মান ও গৌরব দান করে এবং তাঁর কোনো উপকরণের সাথে সম্পৃক্ত থাকা দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য বয়ে আনে। আমি এ ক্ষেত্রে বরেণ্য ইমামগণ ইসলামের মূল উৎসসমূহ থেকে যা লিখেছেন তার সাহায্য নিয়েছি, যেমন 'হাশিয়াতুল বাজুরি', 'মাওয়াহিব'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন', এবং 'জামেউস সগীর'। আর খুব অল্প ক্ষেত্রেই আমি অন্যান্য উৎসের দিকে ফিরেছি যেমন 'শরহুল কামুস' এবং ইবনুল আসীরের 'নিহায়া'; হাদিসসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান এবং সেগুলোর ব্যাখ্যায় আমি এগুলোর ওপর নির্ভর করেছি। আর হয়তো বিরল ক্ষেত্রে আমি আগে-পিছে করার মাধ্যমে সামান্য পরিবর্তন করেছি, অথবা মূল উৎসসমূহ থেকে হাদিসের উৎস নির্ণয়ের জন্য সেগুলোতে ফিরে গিয়েছি এবং তা ছিল যৎসামান্য। আর আমি এর নামকরণ করেছি:
«মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসুল»
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, যিনি সম্মানিত আরশের রব; তিনি যেন এটিকে তাঁর এবং তাঁর পরম করুণাময় ও দয়ালু রাসুলের ভালোবাসার মাধ্যম বানিয়ে দেন এবং এর দ্বারা আমাকে ও মুসলমানদের উপকৃত করেন যেমনটি তিনি এর মূল কিতাব দ্বারা করেছেন। তিনি যেন আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমাকে ক্ষমা করেন। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক!
গ্রন্থকার—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর 'ওয়াসাইলুল উসুল' কিতাবের পরিশিষ্টে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মুনতাহাস সুল আলা ওয়াসাইলিল উসুল ইলা শামাইলির রাসূল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قال جامعه الفقير: يوسف بن إسماعيل بن يوسف بن إسماعيل بن محمد ناصر الدين النّبهاني؛ عفا الله عنه:
لمّا كان هذا الكتاب الشريف الفائق، المشتمل على الكثير الطيّب من شمائل خير الخلائق؛ متفرّعا عن كتاب «الشمائل» للإمام أبي عيسى الترمذي، وأصول كتب الحديث المعتمدة التي أجلّها وأشهرها الكتب الستّة؛ وهي دواوين الإسلام.
«صحيحا البخاري ومسلم» ، و «سنن أبي داود» ، و «جامع الترمذي» ، و «سنن النسائي» ، و «سنن ابن ماجه» ؛ رأيت من الصواب أن أذكر أسانيدي فيها إلى مؤلّفيها؛
فأقول: إنّي أروي هذه الكتب وغيرها بالإجازة عن علّامة عصره الإمام الكبير سيّدي الشيخ: إبراهيم السقا المصري الشافعي شيخ مشايخ الجامع الأزهر، وقد ذكرت إجازته لي في ذيل كتابي «الشرف المؤبّد لآل محمد» في ضمن ترجمة لي، اقتصرت فيها على بيان بعض ما تمسّ الحاجة إليه من التعريف بي، وهو رحمه الله تعالى يرويها عن عدّة أشياخ أجلّاء؛
منهم الأستاذ العلّامة وليّ الله تعالى الشيخ ثعيلب، عن شيخيه الإمامين:
الشهاب أحمد الملوي، والشهاب أحمد الجوهري؛ عن شيخهما مسند عصره وفريد زمانه الشيخ: عبد الله بن سالم البصري صاحب الثبت الشهير.
ومنهم الأستاذ محمد بن محمود الجزائري، عن شيخه علي بن عبد القادر بن الأمين، عن شيخه أحمد الجوهري، عن شيخه: عبد الله بن سالم البصري.
ومنهم الأستاذ العلّامة المحقّق الشيخ: محمد صالح البخاري، عن شيخه رفيع الدين القندهاري، عن الشريف الإدريسي، عن عبد الله بن سالم البصري رحمهم الله تعالى.
قال عبد الله بن سالم بن محمد بن محمد بن عيسى البصري منشأ، المكيّ مولدا وإقامة وإفادة، الشافعي مذهبا: أخذت كتاب «الشمائل» للترمذي عن الحافظ البابلي؛ عن سالم السنهوري، عن النجم الغيطي، عن القاضي زكريا، عن الحافظ ابن حجر بسماعه؛ عن أبي محمد عبد الله بن محمد بن إبراهيم المقدسي؛
এর সংকলক মুখাপেক্ষী ইউসুফ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইউসুফ ইবনে ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আন-নাবহানি (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) বলেন:
যেহেতু এই সুমহান ও শ্রেষ্ঠ কিতাবটি, যা সৃষ্টির সেরা সত্তার উত্তম গুণাবলির প্রচুর বর্ণনায় সমৃদ্ধ; এটি ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী রহ.-এর ‘আশ-শামায়েল’ কিতাব এবং হাদিসের নির্ভরযোগ্য মূল গ্রন্থসমূহ হতে সংকলিত হয়েছে—যেগুলোর মধ্যে সর্বাধিক মহান ও প্রসিদ্ধ হলো ‘কুতুবে সিত্তাহ’ (ছয়টি কিতাব); আর এগুলোই ইসলামের মূল সনদ বা দফতর।
‘সহিহ বুখারি’ ও ‘সহিহ মুসলিম’, ‘সুনানে আবু দাউদ’, ‘জামে তিরমিযী’, ‘সুনানে নাসায়ি’ এবং ‘সুনানে ইবনে মাজাহ’। আমি এ কিতাবগুলোর রচয়িতা পর্যন্ত আমার সনদসমূহ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি।
সুতরাং আমি বলছি: আমি এই কিতাবগুলো এবং অন্যান্য কিতাব আমার সময়ের শ্রেষ্ঠ আল্লামা, মহান ইমাম, আমার সাইয়্যেদ ও শাইখ ইব্রাহিম আস-সাক্কা আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি—যিনি জামে আল-আজহারের শাইখুল মাশায়িখ ছিলেন—তাঁর ইজাযত ক্রমে বর্ণনা করছি। তিনি আমাকে যে ইজাযত প্রদান করেছেন তা আমি আমার ‘আশ-শারাফুল মুয়াব্বাদ লি-আলি মুহাম্মদ’ কিতাবের পরিশিষ্টে আমার জীবনীর অধীনে উল্লেখ করেছি; সেখানে আমি নিজের পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি। তিনি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) এই কিতাবগুলো বেশ কয়েকজন মহান উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদুল আল্লামা ওলিউল্লাহ শাইখ থুআইলিব। তিনি তাঁর দুই উস্তাদ ও ইমাম থেকে বর্ণনা করেছেন: আশ-শিহাব আহমদ আল-মাল্লাভি এবং আশ-শিহাব আহমদ আল-জাওহারি। তাঁরা উভয়ে তাঁদের শাইখ, সমকালের শ্রেষ্ঠ মুসনিদ ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরি—যিনি প্রসিদ্ধ সনদগ্রন্থের রচয়িতা—তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের মধ্যে আরও আছেন উস্তাদ মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ আল-জাযাইরি, তিনি তাঁর শাইখ আলি ইবনে আব্দুল কাদির ইবনুল আমিন থেকে, তিনি তাঁর শাইখ আহমদ আল-জাওহারি থেকে, আর তিনি তাঁর শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরি থেকে বর্ণনা করেছেন।
তাঁদের মাঝে আরও রয়েছেন বিজ্ঞ গবেষক আল্লামা শাইখ মুহাম্মদ সালিহ আল-বুখারি, তিনি তাঁর শাইখ রফিউদ্দিন আল-কান্দাহারি থেকে, তিনি আশ-শরিফ আল-ইদ্রিসি থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সালিম আল-বাসরি (রহমতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন) থেকে বর্ণনা করেছেন।
আবদুল্লাহ ইবনে সালিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আল-বাসরি (বংশসূত্রে বাসরি; জন্ম, বসবাস ও জ্ঞানদানের দিক থেকে মক্কি; এবং মাযহাবের দিক থেকে শাফেয়ি) বলেন: আমি ইমাম তিরমিযীর ‘আশ-শামায়েল’ কিতাবটি হাফেজ আল-বাবিলি থেকে গ্রহণ করেছি; তিনি সালিম আস-সানহুরি থেকে, তিনি আন-নাজম আল-গাইতি থেকে, তিনি কাজী জাকারিয়া থেকে এবং তিনি হাফেজ ইবনে হাজার থেকে শ্রবণের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন; আর তিনি আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসি থেকে বর্ণনা করেছেন।