(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: -)
معجزات النبي من البداية والنهاية - ت السيد إبراهيم   (ابن كثير)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: معجزات النبي صلى الله عليه وسلم (من كتاب البداية والنهاية)

المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (ت 774 هـ)

تحقيق وتعليق: السيد إبراهيم أمين محمد.

الناشر: المكتبة التوفيقية

الطبعة: -

عدد الصفحات: 488

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া হতে নবীর মুজিজাসমূহ - সম্পাদনায় সাইয়্যেদ ইব্রাহিম   (ইবনে কাসীর)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসমূহ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া গ্রন্থ থেকে)

লেখক: আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশি আল-বাসরি অতঃপর আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: সাইয়্যেদ ইব্রাহিম আমিন মুহাম্মদ.

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৮

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[المدخل] ما قالوا عن الإمام الحافظ ابن كثير

قال الذهبى في المعجم المختص: الإمام المفتي المحدث البارع، فقيه متقن، محدث متقن، مفسر نقاد.

قال تلميذه شهاب الدين: كان أحفظ من أدركناه لمتون الأحاديث وأعرفهم بتخريجها ورجالها وصحيحها وسقيمها، وكان أقرانه يعترفون بذلك. وكان يستحضر كثيرا من التفسير والتاريخ، قليل النسيان وكان فقيها جيد الفهم، صحيح الذهن.

قال ابن حجر في الدر الكامنة: وكان كثير الاستحضار، حسن المفاكهة، سارت تصانيفه في البلاد في حياته، وانتفع بها الناس بعد مماته.

قال ابن حبيب فيما نقله ابن العماد في شذرات الذهب: إمام ذوي التسبيح والتهليل، وزعيم أرباب التأويل سمع وجمع، وصنف وأطرب الأسماع بأقواله وشنّف وحدث وأفاد، وطارت فتاويه إلى البلاد واشتهر بالضبط والتحرير وانتهت إليه رياسة العلم في التاريخ والحديث والتفسير.
‌[ভূমিকা] ইমাম হাফেজ ইবনে কাসির সম্পর্কে তারা যা বলেছেন

আল-জাহাবি ‘আল-মু’জাম আল-মুখতাস’-এ বলেছেন: ইমাম, মুফতি, দক্ষ মুহাদ্দিস, সুনিপুণ ফকিহ, সুনিপুণ মুহাদ্দিস এবং সূক্ষ্মদর্শী মুফাসসির।

তাঁর ছাত্র শিহাব উদ্দিন বলেছেন: আমরা যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি, তাদের মধ্যে হাদিসের মূলপাঠ (মতন) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ এবং হাদিসের উৎস বিশ্লেষণ (তাখরিজ), বর্ণনাকারী (রিজাল), সহিহ ও দুর্বলতা সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত। তাঁর সমসাময়িকরা তা স্বীকার করতেন। তিনি তাফসির ও ইতিহাসের অনেক বিষয় স্মৃতিতে ধারণ করতেন, তাঁর বিস্মৃতি ছিল খুব সামান্য। তিনি ছিলেন প্রখর বুঝসম্পন্ন ফকিহ এবং সুস্থ মস্তিস্কের অধিকারী।

ইবনে হাজার ‘আদ-দুরার আল-কামিনাহ’-তে বলেছেন: তিনি স্মৃতিতে অনেক কিছু ধরে রাখতেন, অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর রচনাবলি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর ইন্তেকালের পর মানুষ তা দ্বারা উপকৃত হয়েছে।

ইবনে হাবিব, যা ইবনুল ইমাদ ‘শাজারাতুজ জাহাব’-এ উদ্ধৃত করেছেন, বলেছেন: তিনি তাসবিহ ও তাহলিল পাঠকারীদের ইমাম এবং ব্যাখ্যাদাতাদের নেতা। তিনি ইলম শ্রবণ করেছেন, সংকলন করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রবণেন্দ্রিয়কে আনন্দিত ও সুশোভিত করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং উপকৃত করেছেন। তাঁর ফতোয়া বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি নির্ভুলতা ও গবেষণার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। ইতিহাস, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রে ইলমের নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসেই সমাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ*

 

‌‌مقدمة [المؤلف]

الحمد لله رب العالمين. العلى القدير. باسط الأرض ورافع السموات الذى أيد أنبياءه بالمعجزات الباهرات.

والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين خاتم الأنبياء والمرسلين.

سيدنا محمد وعلى آله وصحابته أجمعين.

وبعد،،، إن لنا شرف عظيم أن نكتب عن معجزات الأنبياء والمرسلين الذين بعثهم الله مبشرين ومنذرين- يدعون إلى توحيد الله ويحاربون الإشراك به. ويرسون للبشرية منهج الخالق سبحانه وتعالى الذى به تصلح الدنيا ويكتب للسالكين به الفوز العظيم فى يوم الدين.

ونحن فى كتابنا سوف نتناول معجزات النبى الخاتم محمد- صلى الله عليه وسلم باعتبار رسالته خاتمة الرسالات ومبعثه لا بعث بعده- فهو رحمة الله للعالمين-.. ولقد وجدنا منشودنا فى كتاب «البداية والنهاية» للإمام الحافظ ابن كثير.. وهو الكتاب الذى شمل الكثير من معجزات النبى صلى الله عليه وسلم. والتى سوف نتحدث عن بعضها وأهمها «إنشقاق القمر» والرد على المنكرين. «نزول المطر» بدعاء النبى صلى الله عليه وسلم على المنبر وطرق إثبات ذلك.. و «نبع الماء من بين أصابعه» وعظمة ذلك ودلالته..

ومن أجمل معجزاته- صلى الله عليه وسلم الحسية.. «وما حدث فى طريق الهجرة وحديث أم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।*

 

‌‌[লেখকের] ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি সুউচ্চ, সর্বশক্তিমান; যিনি যমীনকে বিস্তৃত করেছেন এবং আসমানসমূহকে সমুন্নত করেছেন, আর যিনি তাঁর নবীগণকে সুস্পষ্ট ও বিস্ময়কর মুজিযাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত ব্যক্তি, নবী ও রাসূলগণের সমাপ্তি আনয়নকারীর ওপর।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর, আমাদের জন্য এটি এক মহান সম্মানের বিষয় যে আমরা নবী ও রাসূলগণের মুজিযাসমূহ সম্পর্কে লিখছি, যাদেরকে আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন—যারা আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান করেন এবং তাঁর সাথে শিরক করার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। আর তারা মানবতার জন্য মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এমন এক জীবনবিধান প্রতিষ্ঠা করেন যার মাধ্যমে দুনিয়া সংশোধন হয় এবং বিচার দিবসে এতে বিচরণকারীদের জন্য মহাসাফল্য নির্ধারিত হয়।

আমরা আমাদের এই গ্রন্থে শেষ নবী মুহাম্মাদ—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর মুজিযাসমূহ নিয়ে আলোচনা করব, এই বিবেচনায় যে তাঁর রিসালাত হলো সকল রিসালাতের সমাপ্তি এবং তাঁর প্রেরণের পর আর কোনো নবীর প্রেরণ নেই—কেননা তিনি জগতসমূহের জন্য আল্লাহর রহমত—। আর আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি ইমাম হাফিজ ইবনে কাসীরের ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে খুঁজে পেয়েছি, যা এমন একটি গ্রন্থ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য মুজিযাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া’ এবং এর অস্বীকারকারীদের খণ্ডন; মিম্বরে দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দোয়ার বরকতে ‘বৃষ্টি বর্ষণ’ এবং তা প্রমাণের পদ্ধতিসমূহ; এবং ‘তাঁর আঙুলসমূহের মাঝখান থেকে পানি নির্গত হওয়া’, এর মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য।

এবং তাঁর—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—সবচেয়ে সুন্দর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিযাসমূহের মধ্যে রয়েছে... ‘হিজরতের পথে যা ঘটেছিল এবং উম্মে... এর হাদিস’
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৬)
معبد» و «إحياء الشاة بعد ذبحها» . ونورد أيضا أفضل المعجزات وأبهرها «حديث ذراع الشاة المسمومة» وغير ذلك الكثير والكثير.

ونحن إذ نتناول هذه المعجزات الباهرات. لنوردها بطريق البحث والاستدلال. لا بطريق السرد القصصى فقط- وذلك حتى نستطيع أن نقدم للقارئ العزيز سلسلة هذه المعجزات فى أسلوب شيق وتركيب بليغ يحقق الهدف المنشود والغاية المرجوة.

إن للنبى محمد- صلى الله عليه وسلم من المعجزات ما نعترف بالعجز عن حصرها ولكننا ومن داخل «كتاب البداية والنهاية» . لنقدم ما يروى ظمأنا ويشبع فهمنا وتطمئن به قلوبنا.. ولعلنا بذلك نكون قد أضفنا للمكتبة الإسلامية عملا من نوعه فريد وفى أسلوبه جديد. والله نسأل أن يتقبل منا صالح الأعمال ويغفر لنا الزلات.

إنه سميع قريب مجيب الدعاء.

المؤلف
মা‘বাদ এবং ‘জবেহ করার পর বকরিকে জীবিত করা’। এছাড়া আমরা শ্রেষ্ঠ ও বিস্ময়কর মোজেজাসমূহের মধ্যে ‘বিষমিশ্রিত বকরির সামনের বাহুর হাদীস’ এবং এ ধরনের আরও অনেক অনেক বর্ণনা উল্লেখ করছি।

আমরা যখন এই উজ্জ্বল মোজেজাসমূহ আলোচনা করছি, তখন আমরা তা গবেষণা ও প্রমাণের পদ্ধতিতে উপস্থাপন করছি, কেবল নিছক কাহিনী বর্ণনার ভঙ্গিতে নয়—যাতে আমরা প্রিয় পাঠকের সামনে এই মোজেজাসমূহের ধারাবাহিকতা একটি আকর্ষণীয় শৈলী ও প্রাঞ্জল রচনার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য পূরণ করবে।

নিশ্চয়ই নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এমন অনেক মোজেজা রয়েছে যা গণনা করার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের অক্ষমতা স্বীকার করি। তবে আমরা ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থ থেকে এমন কিছু পেশ করছি যা আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করবে, আমাদের বোধকে পরিতৃপ্ত করবে এবং যার মাধ্যমে আমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করবে। সম্ভবত এর মাধ্যমে আমরা ইসলামী পাঠাগারে নিজস্ব ধারায় একটি অনন্য এবং অভিনব শৈলীর কাজ যুক্ত করেছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের নেক আমলসমূহ কবুল করেন এবং আমাদের বিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা করে দেন।

নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী এবং দোয়া কবুলকারী।

লেখক
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كتاب دلائل النبوة

وهى معنوية وحسية

‌‌[باب دلائل النبوة المعنوية]

‌‌[إنزال القرآن عليه]

فمن المعنوية إنزال القرآن عَلَيْهِ، وَهُوَ أَعْظَمُ الْمُعْجِزَاتِ، وَأَبْهَرُ الْآيَاتِ، وَأَبْيَنُ الْحُجَجِ الْوَاضِحَاتِ، لِمَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ مِنَ التَّرْكِيبِ الْمُعْجِزِ الَّذِي تَحَدَّى بِهِ الْإِنْسَ وَالْجِنَّ أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِهِ فَعَجَزُوا عَنْ ذَلِكَ، مَعَ تَوَافُرِ دَوَاعِي أَعْدَائِهِ عَلَى مُعَارَضَتِهِ. وَفَصَاحَتِهِمْ وَبَلَاغَتِهِمْ، ثُمَّ تحداهم بعشر سور منه فَعَجَزُوا، ثُمَّ تَنَازَلَ إِلَى التَّحَدِّي بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ، فَعَجَزُوا عَنْهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ عَجْزَهُمْ وَتَقْصِيرَهُمْ عَنْ ذَلِكَ، وَأَنَّ هَذَا مَا لَا سَبِيلَ لِأَحَدٍ إِلَيْهِ أَبَدًا، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى:

قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً (88) «1» وَهَذِهِ الْآيَةُ مَكِّيَّةٌ وَقَالَ فِي سُورَةِ الطُّورِ وَهِيَ مَكِّيَّةٌ: أَمْ يَقُولُونَ تَقَوَّلَهُ بَلْ لَا يُؤْمِنُونَ (33) فَلْيَأْتُوا بِحَدِيثٍ مِثْلِهِ إِنْ كانُوا صادِقِينَ (34) «2» أَيْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ فِي أَنَّهُ قَالَهُ مِنْ عِنْدِهِ فَهُوَ بَشَرٌ مَثَلُكُمْ فَأَتَوْا بِمِثْلِ ما جاء به فإنكم مِثْلُهُ.

وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَهِيَ مدينة- مُعِيدًا لِلتَّحَدِّي: وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَداءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (23) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكافِرِينَ (24) «3» . وَقَالَ تَعَالَى: أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا

--------------------------------------------

(1) سورة الإسراء، الآية: 88.

(2) سورة الطور، الآيتان: 33، 34.

(3) سورة البقرة، الآيتان: 23، 24.
নবুওয়াতের প্রমাণাদি বিষয়ক গ্রন্থ

আর তা হলো আধ্যাত্মিক ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য

‌‌[পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতের আধ্যাত্মিক প্রমাণাদি]

‌‌[তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়া]

আধ্যাত্মিক প্রমাণাদির অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়া; আর এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা, অত্যন্ত দীপ্তিময় নিদর্শন এবং সর্বাধিক সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলিল। কারণ এটি এমন এক বিস্ময়কর বাক্যবিন্যাস সম্বলিত যার মাধ্যমে তিনি মানুষ ও জিন জাতিকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, কিন্তু তারা তা করতে অক্ষম হয়েছিল; অথচ তাঁর শত্রুদের মাঝে এটি মোকাবিলা করার প্রবল প্রেরণা বিদ্যমান ছিল এবং তারা ছিল অত্যন্ত সাবলীল ও অলঙ্কারপূর্ণ ভাষার অধিকারী। অতঃপর তিনি তাদেরকে কুরআনের দশটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিলেন, কিন্তু তারা অক্ষম হলো। এরপর তিনি এর মতো মাত্র একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জে অবতীর্ণ হলেন, কিন্তু তারা তা করতেও অক্ষম হলো। তারা তাদের এই অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল এবং তারা জানত যে এটি এমন বিষয় যার সাধ্য কারও কোনোদিন হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন:

বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। (৮৮) এবং এই আয়াতটি মাক্কী। তিনি সূরা আত-তূরে বলেছেন, যা মাক্কী: নাকি তারা বলে যে, সে এটি বানিয়ে নিয়েছে? বরং তারা বিশ্বাস করে না। (৩৩) অতএব তারা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তারা এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক। (৩৪) অর্থাৎ, যদি তোমরা এই দাবিতে সত্যবাদী হও যে তিনি এটি নিজের পক্ষ থেকে বলেছেন, তবে তিনিও তো তোমাদের মতো একজন মানুষ; সুতরাং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তোমরাও তার মতো কিছু নিয়ে আসো, কেননা তোমরাও তাঁর মতোই।

এবং মহান আল্লাহ সূরা আল-বাকারায়—যা মাদানী—চ্যালেঞ্জের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন: আর আমি আমার বান্দার ওপর যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (২৩) অতঃপর যদি তোমরা তা করতে না পারো—আর তোমরা তা কখনোই করতে পারবে না—তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর, যা কাফিরদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। (২৪)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: নাকি তারা বলে যে, সে এটি উদ্ভাবন করেছে? আপনি বলুন, তবে তোমরা নিয়ে আসো...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮৮।

(২) সূরা আত-তূর, আয়াত: ৩৩, ৩৪।

(৩) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩, ২৪।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৮)
بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَياتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (13) فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّما أُنْزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَنْ لَّا إِلهَ إِلَّا هُوَ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (14) «1» . وَقَالَ تَعَالَى: وَما كانَ هذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعالَمِينَ (37) أَمْ يَقُولُونَ افْتَراهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ (38) بَلْ كَذَّبُوا بِما لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كانَعاقِبَةُ الظَّالِمِينَ (39)

«2» فَبَيَّنَ تَعَالَى أَنَّ الْخَلْقَ عَاجِزُونَ عَنْ مُعَارَضَةِ هذا القرآن، بل عن عشر سور عليه، بَلْ عَنْ سُورَةٍ مِنْهُ، وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَطِيعُونَ ذَلِكَ أَبَدًا كَمَا قَالَ تَعَالَى: فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا وَلَنْ تَفْعَلُوا «3» أَيْ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فِي الْمَاضِي وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا ذَلِكَ فِي الْمُسْتَقْبَلِ، وهذا تحدثان وهو أنه لا يمكن معارضتهم له لَا فِي الْحَالِ وَلَا فِي الْمَآلِ وَمِثْلُ هَذَا التَّحَدِّي إِنَّمَا يَصْدُرُ عَنْ وَاثِقٍ بِأَنَّ ما جاء به لا يمكن للبشر مُعَارَضَتُهُ وَلَا الْإِتْيَانُ بِمِثْلِهِ، وَلَوْ كَانَ مِنْ مُتَقَوِّلٍ مِنْ عِنْدِ نَفْسِهِ لَخَافَ أَنْ يُعَارَضَ، فَيَفْتَضِحَ وَيَعُودَ عَلَيْهِ نَقِيضُ مَا قَصَدَهُ مِنْ مُتَابَعَةِ النَّاسِ لَهُ، وَمَعْلُومٌ لِكُلِّ ذِي لُبٍّ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم مِنْ أَعْقَلِ خَلْقِ اللَّهِ بَلْ أَعْقَلُهُمْ وَأَكْمَلُهُمْ عَلَى الْإِطْلَاقِ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، فَمَا كَانَ لِيُقْدِمَ على هذا الأمر إِلَّا وَهُوَ عَالِمٌ بِأَنَّهُ لَا يُمْكِنُ مُعَارَضَتُهُ، وهكذا وقع، فإنه مِنْ لَدُنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِلَى زَمَانِنَا هَذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدٌ أَنْ يَأْتِيَ بِنَظِيرِهِ وَلَا نَظِيرِ سُورَةٍ مِنْهُ وَهَذَا لَا سَبِيلَ إِلَيْهِ أَبَدًا، فَإِنَّهُ كَلَامُ رَبِّ الْعَالَمِينَ الَّذِي لَا يُشْبِهُهُ شَيْءٌ مِنْ خَلْقِهِ لَا فِي ذَاتِهِ وَلَا فِي صِفَاتِهِ وَلَا فِي أَفْعَالِهِ، فَأَنَّى يُشْبِهُ كَلَامُ الْمَخْلُوقِينَ كَلَامَ الْخَالِقِ؟

وَقَوْلُ كُفَّارِ قُرَيْشٍ الَّذِي حَكَاهُ تعالى عنهم فى قوله: وَإِذا تُتْلى عَلَيْهِمْ آياتُنا قالُوا قَدْ سَمِعْنا لَوْ نَشاءُ لَقُلْنا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَّا أَساطِيرُ الْأَوَّلِينَ (31) «4» .. كذب

--------------------------------------------

(1) سورة هود، الآيتان: 13، 14.

(2) سورة يونس، الآيات: 37- 39.

(3) سورة البقرة، الآية: 24.

(4) سورة الأنفال، الآية: 31.
তোমরা এর অনুরূপ দশটি মনগড়া সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (১৩) অতঃপর তারা যদি তোমাদের ডাকে সাড়া না দেয়, তবে জেনে রাখো যে, এটি আল্লাহর জ্ঞান অনুযায়ী অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তবে কি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হবে? (১৪) «১» । এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আর এই কুরআন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও দ্বারা রচিত হওয়া সম্ভব নয়; বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিশদ বিবরণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যা বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে। (৩৭) নাকি তারা বলে যে, সে এটি রচনা করেছে? বলো, ‘তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য যাকে পারো ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ (৩৮) বরং তারা এমন বিষয়কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে যা তারা জ্ঞানের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা এখনও তাদের নিকট পৌঁছেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। অতএব দেখো, জালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল! (৩৯)

«২» অতঃপর আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, সৃষ্টিজগত এই কুরআনের মোকাবিলা করতে অক্ষম, বরং এর অনুরূপ দশটি সূরার ক্ষেত্রেও, এমনকি এর মাত্র একটি সূরার ক্ষেত্রেও তারা অক্ষম। আর তারা তা কখনো করতে পারবে না যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: ‘অতঃপর যদি তোমরা তা না করো—আর তোমরা তা কখনো করতে পারবে না—’ «৩» অর্থাৎ যদি তোমরা অতীতে তা না করে থাকো তবে ভবিষ্যতেও তা করতে পারবে না। এটি একটি চ্যালেঞ্জ যে, বর্তমান বা ভবিষ্যতে কখনো এর মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ কেবল তিনিই দিতে পারেন যিনি নিশ্চিত যে, তিনি যা নিয়ে এসেছেন মানুষ তার মোকাবিলা করতে বা এর সদৃশ কিছু আনতে সক্ষম হবে না। যদি এটি কোনো স্বরচিত দাবিদার ব্যক্তির পক্ষ থেকে হতো, তবে সে মোকাবিলা হওয়ার ভয় করত এবং লাঞ্ছিত হওয়ার ও তার মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ মানুষের অনুসরণ লাভের বিপরীতে ফল পাওয়ার ভয় পেত। আর প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটি স্পষ্ট যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান, বরং তিনি বাস্তবে নিরঙ্কুশভাবে তাদের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও পূর্ণাঙ্গ। সুতরাং তিনি এই কাজে অগ্রসর হতেন না যতক্ষণ না তিনি জানতেন যে এর মোকাবিলা করা অসম্ভব। আর বাস্তবে তা-ই হয়েছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময় থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত কেউই এর অনুরূপ বা এর একটি সূরার অনুরূপ কিছু আনতে সক্ষম হয়নি। আর এটি কখনোই সম্ভব নয়। কারণ এটি বিশ্বজগতের রবের বাণী, যাঁর সত্তা, গুণাবলি বা কার্যাবলির সাথে তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুরই সাদৃশ্য নেই। সুতরাং সৃষ্টির কথা কীভাবে স্রষ্টার কথার সদৃশ হতে পারে?

আর কুরাইশ কাফেরদের কথা যা আল্লাহ তাআলা তাদের পক্ষ থেকে উদ্ধৃত করেছেন: ‘আর যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনেছি, আমরা ইচ্ছা করলে এর মতো বলতে পারতাম; এগুলো তো কেবল প্রাচীনদের উপকথা বৈ নয় (৩১)’ «৪» .. তা ছিল মিথ্যা।

--------------------------------------------

(১) সূরা হূদ, আয়াত: ১৩, ১৪।

(২) সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩৭-৩৯।

(৩) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৪।

(৪) সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৯)
مِنْهُمْ وَدَعْوَى بَاطِلَةٌ بِلَا دَلِيلٍ وَلَا بُرْهَانٍ وَلَا حُجَّةٍ وَلَا بَيَانٍ، وَلَوْ كَانُوا صَادِقِينَ لَأَتَوْا بِمَا يُعَارِضُهُ، بَلْ هُمْ يَعْلَمُونَ كَذِبَ أَنْفُسِهِمْ، كَمَا يَعْلَمُونَ كَذِبَ أَنْفُسِهِمْ فِي قَوْلِهِمْ أَساطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَها فَهِيَ تُمْلى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا (5) «1» قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: قُلْ أَنْزَلَهُ الَّذِي يَعْلَمُ السِّرَّ فِي السَّماواتِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ كانَ غَفُوراً رَحِيماً (6) «2» أى أنزله عالم الخفيات، رب الأرض والسموات، الَّذِي يَعْلَمُ مَا كَانَ وَمَا يَكُونُ وَمَا لَمْ يَكُنْ لَوْ كَانَ كَيْفَ يَكُونُ، فَإِنَّهُ تَعَالَى أَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي كَانَ لَا يُحْسِنُ الْكِتَابَةَ وَلَا يَدْرِيهَا بِالْكُلِّيَّةِ، وَلَا يَعْلَمُ شَيْئًا مِنْ عِلْمِ الْأَوَائِلِ وَأَخْبَارِ الْمَاضِينَ، فَقَصَّ اللَّهُ عَلَيْهِ خَبَرَ مَا كَانَ وَمَا هُوَ كَائِنٌ عَلَى الْوَجْهِ الْوَاقِعِ سَوَاءً بِسَوَاءٍ، وَهُوَ فِي ذَلِكَ يَفْصِلُ بَيْنَ الْحَقِّ وَالْبَاطِلِ الَّذِي اخْتَلَفَتْ فِي إِيرَادِهِ جُمْلَةُ الْكُتُبِ الْمُتَقَدِّمَةِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: تِلْكَ مِنْ أَنْباءِ الْغَيْبِ نُوحِيها إِلَيْكَ مَا كُنْتَ تَعْلَمُها أَنْتَ وَلا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هَذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ (49) «3» وَقَالَ تَعَالَى: كَذلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْباءِ مَا قَدْ سَبَقَ وَقَدْ آتَيْناكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْراً (99) مَنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيامَةِ وِزْراً (100) خالِدِينَ فِيهِ وَساءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيامَةِ حِمْلًا (101) «4» .

وَقَالَ تَعَالَى: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ «5» الآية وقال تعالى: وَما كُنْتَ تَتْلُوا مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتابٍ وَلا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذاً لَارْتابَ الْمُبْطِلُونَ (48) بَلْ هُوَ آياتٌ بَيِّناتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَما يَجْحَدُ بِآياتِنا إِلَّا الظَّالِمُونَ (49) وَقالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ آياتٌ مِنْ رَبِّهِ قُلْ إِنَّمَا الْآياتُ عِنْدَ اللَّهِ وَإِنَّما أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ (50) أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنا عَلَيْكَ الْكِتابَ يُتْلى عَلَيْهِمْ إِنَّ فِي ذلِكَ لَرَحْمَةً وَذِكْرى لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (51) قُلْ كَفى بِاللَّهِ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ

--------------------------------------------

(1) سورة الفرقان، الآية: 5.

(2) سورة الفرقان، الآية: 6.

(3) سورة هود، الآية: 49.

(4) سورة طه، الآيات: 99- 101.

(5) سورة المائدة، الآية: 48.
তাদের পক্ষ থেকে এটি একটি বাতিল দাবি যার কোনো দলীল নেই, কোনো প্রমাণ নেই, কোনো যুক্তি নেই এবং কোনো ব্যাখ্যা নেই। আর তারা যদি সত্যবাদী হতো তবে এর বিরোধপূর্ণ কিছু নিয়ে আসত; বরং তারা তাদের নিজেদের মিথ্যা সম্পর্কে জানে, যেমনটি তারা তাদের নিজেদের মিথ্যা সম্পর্কে জানে তাদের এই কথায় যে, "এগুলো তো প্রাচীনদের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে, অতঃপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার কাছে পাঠ করা হয়।" (৫) «১» আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, এটি তিনি অবতীর্ণ করেছেন যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের রহস্য জানেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (৬) «২» অর্থাৎ এটি অবতীর্ণ করেছেন গোপন বিষয়ের পরিজ্ঞাতা, আসমান ও জমিনের রব, যিনি জানেন যা হয়েছে, যা হবে এবং যা হয়নি তা যদি হতো তবে কেমন হতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল নিরক্ষর নবীর প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন, যিনি লিখতে জানতেন না এবং লেখার ব্যাপারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন, আর পূর্ববর্তীদের জ্ঞান ও অতীত সংবাদ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। অতঃপর আল্লাহ তাঁর কাছে যা ঘটেছে এবং যা ঘটবে তার সংবাদ হুবহু বাস্তব অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এর মাধ্যমে সত্য ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করে দেন যা ইতিপূর্বেকার কিতাবসমূহের বর্ণনায় মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "এগুলো গায়েবের সংবাদ, যা আমি আপনার প্রতি ওহী করছি; এর আগে এগুলো আপনি জানতেন না এবং আপনার কওমও জানত না। সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। নিশ্চয়ই শেষ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।" (৪৯) «৩» আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "এভাবেই আমি আপনার কাছে ইতিপূর্বে যা ঘটে গেছে তার সংবাদ বর্ণনা করি। আর আমি আপনাকে আমার পক্ষ থেকে দান করেছি উপদেশ। যে ব্যক্তি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কিয়ামতের দিন সে অবশ্যই এক গুরুভার বহন করবে। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য এই বোঝা কতই না মন্দ!" (৯৯-১০১) «৪» ।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর রক্ষক..." «৫» আয়াত। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আপনি তো এর আগে কোনো কিতাব পাঠ করতেন না এবং আপনার ডান হাত দিয়ে তা লিখতেন না যে, মিথ্যার অনুসারীরা সন্দেহ পোষণ করবে। বরং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের অন্তরে এটি সুস্পষ্ট নিদর্শন। আর যালিমরা ছাড়া অন্য কেউ আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে না। আর তারা বলে, 'তার রবের পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন অবতীর্ণ করা হলো না কেন?' বলুন, 'নিদর্শন তো আল্লাহর কাছে। আর আমি তো কেবল একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।' তাদের জন্য কি এটাই যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা তাদের কাছে পাঠ করা হয়? এতে অবশ্যই মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য রহমত ও উপদেশ রয়েছে। বলুন, 'আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই যথেষ্ট'..."

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৫।

(২) সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬।

(৩) সূরা হুদ, আয়াত: ৪৯।

(৪) সূরা ত্বহা, আয়াত: ৯৯-১০১।

(৫) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৮।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১০)
شَهِيداً يَعْلَمُ مَا فِي السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَالَّذِينَ آمَنُوا بِالْباطِلِ وَكَفَرُوا بِاللَّهِ أُولئِكَ هُمُ الْخاسِرُونَ (52) «1» . فَبَيَّنَ تَعَالَى أَنَّ نَفْسَ إِنْزَالِ هَذَا الْكِتَابِ الْمُشْتَمِلِ عَلَى عِلْمِ مَا كَانَ وَمَا يَكُونُ وَحَكَمِ مَا هُوَ كَائِنٌ بَيْنَ النَّاسِ عَلَى مثل هذا النبى الأمى وجده، كان من الدلالة على صدقه، وقال تعالى: وَإِذا تُتْلى عَلَيْهِمْ آياتُنا بَيِّناتٍ قالَ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقاءَنَا ائْتِ بِقُرْآنٍ غَيْرِ هَذَا أَوْ بَدِّلْهُ قُلْ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أُبَدِّلَهُ مِنْ تِلْقاءِ نَفْسِي إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحى إِلَيَّ إِنِّي أَخافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ (15) قُلْ لَوْ شاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلا أَدْراكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُراً مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ (16) فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَوْ كَذَّبَ بِآياتِهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ (17) «2» يَقُولُ لَهُمْ: إِنِّي لَا أُطِيقُ تَبْدِيلَ هَذَا مِنْ تِلْقَاءِ نَفْسِي، وَإِنَّمَا اللَّهُ عز وجل هُوَ الَّذِي يَمْحُو مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وَأَنَا مُبَلِّغٌ عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ صِدْقِي فِيمَا جِئْتُكُمْ بِهِ؛ لِأَنِّي نَشَأْتُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ نَسَبِي وَصِدْقِي وَأَمَانَتِي، وَأَنِّي لَمْ أَكْذِبْ عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ يَوْمًا مِنَ الدَّهْرِ، فَكَيْفَ يَسَعُنِي أَنْ أَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ عز وجل، مَالِكِ الضُّرِّ وَالنَّفْعِ، الَّذِي هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَبِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ؟ وَأَيُّ ذَنْبٍ عِنْدَهُ أعظم عِنْدَهُ أَعْظَمُ مِنَ الْكَذِبِ عَلَيْهِ، وَنِسْبَةِ مَا لَيْسَ مِنْهُ إِلَيْهِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنا بَعْضَ الْأَقاوِيلِ (44) لَأَخَذْنا مِنْهُ بِالْيَمِينِ (45) ثُمَّ لَقَطَعْنا مِنْهُ الْوَتِينَ (46) فَما مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حاجِزِينَ (47) »

أَيْ لَوْ كَذَبَ عَلَيْنَا لَانْتَقَمْنَا مِنْهُ أَشَدَّ الِانْتِقَامِ، وَمَا اسْتَطَاعَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ أن يحجزنا عنه ويمنعنا مِنْهُ، وَقَالَ تَعَالَى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَوْ قالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قالَ سَأُنْزِلُ مِثْلَ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَوْ تَرى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَراتِ الْمَوْتِ وَالْمَلائِكَةُ باسِطُوا أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذابَ الْهُونِ بِما كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آياتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ (93) «4»

--------------------------------------------

(1) سورة العنكبوت، الآيات: 48- 52.

(2) سورة يونس، الآيات: 15- 17.

(3) سورة الحاقة، الآيات: 44- 47.

(4) سورة الأنعام، الآية: 93.
সাক্ষী হিসেবে। তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব জানেন। আর যারা মিথ্যায় বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর সাথে কুফরি করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। (৫২) «১»। সুতরাং মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, এই কিতাব নাযিল হওয়াই—যা অতীত ও ভবিষ্যতের জ্ঞান এবং মানুষের মধ্যে বিদ্যমান বিষয়ের ফয়সালাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে—এমন একজন উম্মী নবীর প্রতি যাঁর মাঝে এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তা তাঁর সত্যতার অন্যতম প্রমাণ। এবং মহান আল্লাহ বলেন: আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না তারা বলে, ‘এটি ছাড়া অন্য কোনো কুরআন নিয়ে এসো অথবা এটিকে পরিবর্তন করো।’ বলো, ‘আমার পক্ষ থেকে এটিকে নিজে থেকে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। আমার প্রতি যা ওহী করা হয় আমি শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি এক ভয়াবহ দিনের আজাবের ভয় করি।’ (১৫) বলো, ‘আল্লাহ চাইলে আমি তোমাদের কাছে এটি তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনি তোমাদের এটি জানাতেনও না। এর আগে আমি তোমাদের মাঝে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছি। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?’ (১৬) তবে তার চেয়ে বড় জালেম কে, যে আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ রটনা করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে? নিশ্চয়ই অপরাধীরা সফলকাম হবে না। (১৭) «২» তিনি তাদের বলেন: আমি নিজে থেকে এটি পরিবর্তন করার সামর্থ্য রাখি না; বরং মহান আল্লাহই যা চান মুছে দেন এবং যা চান বহাল রাখেন। আমি কেবল তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারকারী। আর আমি তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছি, তার সত্যতা সম্পর্কে তোমরা জানো; কারণ আমি তোমাদের মাঝেই বেড়ে উঠেছি এবং তোমরা আমার বংশপরিচয়, সত্যবাদিতা ও আমানতদারি সম্পর্কে জানো। আমি জীবনের কোনো দিনই তোমাদের কারো নামে মিথ্যা বলিনি, তবে আমি কীভাবে মহান আল্লাহ—যিনি ক্ষতি ও উপকারের মালিক, যিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং সর্ববিষয়ে জ্ঞাত—তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করতে পারি? আর আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বড় গুনাহ আর কী হতে পারে যে, তাঁর নামে মিথ্যা বলা এবং তাঁর নয় এমন কিছুকে তাঁর দিকে নিসবত করা? যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: যদি সে (রাসূল) আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, (৪৪) তবে অবশ্যই আমি আল্লাহর হাত দিয়ে তাকে পাকড়াও করতাম, (৪৫) এরপর অবশ্যই আমি তার হৃদপিণ্ডের শিরা কেটে দিতাম। (৪৬) তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তাকে রক্ষা করতে পারত। (৪৭) »

অর্থাৎ, সে যদি আমাদের ওপর মিথ্যা আরোপ করত, তবে আমরা অবশ্যই তার থেকে কঠোরতম প্রতিশোধ নিতাম এবং পৃথিবীবাসীদের কেউ আমাদের থেকে তাকে রক্ষা করতে বা বাধা দিতে পারত না। এবং মহান আল্লাহ বলেন: আর তার চেয়ে বড় জালেম কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে অথবা বলে, ‘আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে’, অথচ তার প্রতি কিছুই ওহী পাঠানো হয়নি; এবং যে বলে, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন আমিও তেমন নাযিল করব’। আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণার মধ্যে থাকে এবং ফেরেশতারা তাদের হাত বাড়িয়ে দেয় (এবং বলে), ‘তোমাদের প্রাণ বের করো। আজ তোমাদের অপমানজনক আজাব দেওয়া হবে, কারণ তোমরা আল্লাহর নামে সত্যহীন কথা বলতে এবং তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে অহংকার করতে।’ (৯৩) «৪»

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৮-৫২।

(২) সূরা ইউনুস, আয়াত: ১৫-১৭।

(৩) সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৪৪-৪৭।

(৪) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৯৩।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১১)
وَقَالَ تَعَالَى: قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ «1» وَهَذَا الْكَلَامُ فِيهِ الْإِخْبَارُ بِأَنَّ اللَّهَ شَهِيدٌ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، وَأَنَّهُ تَعَالَى أَعْظَمُ الشُّهَدَاءِ، وَهُوَ مُطَّلِعٌ عَلَيَّ وَعَلَيْكُمْ فِيمَا جِئْتُكُمْ بِهِ عَنْهُ، وَتَتَضَمَّنُ قُوَّةُ الْكَلَامِ قَسَمًا بِهِ أَنَّهُ قَدْ أَرْسَلَنِي إِلَى الْخَلْقِ لِأُنْذِرَهُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ، فَمَنْ بَلَغَهُ مِنْهُمْ فَهُوَ نَذِيرٌ لَهُ كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَمَنْ يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ فَلا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِنْهُ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ وَلكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لا يُؤْمِنُونَ (17) «2» فَفِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنَ الْأَخْبَارِ الصَّادِقَةِ عَنِ الله وملائكته وعرشه ومخلوقاته العلوية والسفلية كالسموات وَالْأَرْضِينَ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا فِيهِنَّ أُمُورٌ عَظِيمَةٌ كَثِيرَةٌ مُبَرْهَنَةٌ بِالْأَدِلَّةِ الْقَطْعِيَّةِ الْمُرْشِدَةِ إِلَى الْعِلْمِ بِذَلِكَ مِنْ جِهَةِ الْعَقْلِ الصَّحِيحِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَلَقَدْ صَرَّفْنا لِلنَّاسِ فِي هذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُوراً (89) «3» وَقَالَ تَعَالَى: وَتِلْكَ الْأَمْثالُ نَضْرِبُها لِلنَّاسِ وَما يَعْقِلُها إِلَّا الْعالِمُونَ (43) «4» وَقَالَ تَعَالَى وَلَقَدْ ضَرَبْنا لِلنَّاسِ فِي هذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (27) قُرْآناً عَرَبِيًّا غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ (28) «5» وَفِي الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ الْإِخْبَارُ عَمَّا مَضَى عَلَى الْوَجْهِ الْحَقِّ وَبُرْهَانُهُ مَا فِي كُتُبِ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ ذَلِكَ شَاهِدًا لَهُ مَعَ كَوْنِهِ نَزَلَ عَلَى رَجُلٍ أُمِّيٍّ لَا يَعْرِفُ الْكِتَابَةَ وَلَمْ يُعَانِ يَوْمًا مِنَ الدَّهْرِ شَيْئًا مِنْ عُلُومِ الْأَوَائِلِ، وَلَا أَخْبَارِ الْمَاضِينَ، فَلَمْ يُفْجَأَ النَّاسُ إِلَّا بِوَحْيٍ إِلَيْهِ عَمَّا كَانَ مِنَ الْأَخْبَارِ النَّافِعَةِ، الَّتِي يَنْبَغِي أَنْ تُذْكَرَ لِلِاعْتِبَارِ بها من أخبار الأمم مع الأنبياء، وكان منهم مِنْ أُمُورِهِمْ مَعَهُمْ، وَكَيْفَ نَجَّى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وأهلك الكافرين، بعبارة لا يتسطيع بَشَرٌ أَنْ يَأْتِيَ بِمِثْلِهَا أَبَدَ الْآبِدِينَ، وَدَهْرَ الداهرين، ففى مكان تقص القصة

--------------------------------------------

(1) سورة الأنعام، الآية: 19.

(2) سورة هود، الآية: 17.

(3) سورة الإسراء، الآية: 89.

(4) سورة العنكبوت، الآية: 43.

(5) سورة الزمر، الآيتان: 27- 28.
এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: বলুন, সাক্ষ্য হিসেবে সবচেয়ে বড় কী? বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যাতে আমি তোমাদের এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাকে এর মাধ্যমে সতর্ক করি। «১» আর এই বাণীর মধ্যে সংবাদ রয়েছে যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সাক্ষী এবং তিনি মহান আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষী। তাঁর পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কাছে যা কিছু নিয়ে এসেছি সে বিষয়ে তিনি আমার এবং তোমাদের ব্যাপারে অবগত। এই বাণীর শক্তি একটি শপথকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে, নিশ্চয়ই তিনি আমাকে সৃষ্টিজীবের কাছে এই কুরআনের মাধ্যমে সতর্ক করার জন্য পাঠিয়েছেন। সুতরাং তাদের মধ্যে যার নিকটই এটি পৌঁছাবে, তার জন্য এটি সতর্ককারী হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: বিভিন্ন দলের মধ্যে যারা একে অস্বীকার করে, জাহান্নামই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। অতএব আপনি এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহে থাকবেন না; নিশ্চয়ই এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না। (১৭) «২» সুতরাং এই কুরআনে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর আরশ এবং তাঁর ঊর্ধ্বজগত ও নিম্নজগতের মাখলুকাত যেমন আসমানসমূহ, জমিনসমূহ এবং তাদের মাঝখানে যা কিছু রয়েছে এবং তাদের ভেতরে যা কিছু আছে, সে সম্পর্কে এমন অনেক মহা ও সত্য সংবাদ রয়েছে যা সুস্থ বিবেকের বিচারে সেই ইলমের দিকে পথপ্রদর্শনকারী অকাট্য দলিলাদির মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: এবং অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে প্রতিটি উদাহরণ বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ অস্বীকার করা ছাড়া অন্য কিছু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। (৮৯) «৩» এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আর এই সব উদাহরণ আমি মানুষের জন্য বর্ণনা করি, কিন্তু জ্ঞানীগণ ছাড়া কেউ তা বোঝে না। (৪৩) «৪» এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: এবং অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে প্রতিটি উদাহরণ বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। (২৭) আরবি ভাষায় কুরআন, যাতে কোনো বক্রতা নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে। (২৮) «৫» মহান কুরআনে অতীতের ঘটনাপ্রবাহ সত্য রূপে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর প্রমাণ হলো আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহে এর স্বপক্ষে বিদ্যমান সাক্ষ্যসমূহ; অথচ এই কুরআন এমন একজন নিরক্ষর মানুষের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে যিনি লিখতে জানতেন না এবং তাঁর সারা জীবনে কখনো পূর্ববর্তীদের জ্ঞান বা বিগতদের সংবাদ নিয়ে কোনো চর্চা করেননি। সুতরাং মানুষ হঠাৎ তাঁর কাছে আসা ওহীর মাধ্যমেই সেই সব উপকারী সংবাদ জানতে পেরেছে, যা নবিদের সাথে বিভিন্ন উম্মতের সংবাদ থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য স্মরণ করা আবশ্যক। নবিদের সাথে তাদের যা কিছু ঘটেছিল এবং কীভাবে আল্লাহ মুমিনদের মুক্তি দিয়েছেন ও কাফেরদের ধ্বংস করেছেন—তা এমন ভাষায় বর্ণিত যা কোনো মানুষ কোনোদিন তার অনুরূপ নিয়ে আসতে সক্ষম হবে না। সুতরাং কোনো এক স্থানে কোনো কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১৯।

(২) সূরা হুদ, আয়াত: ১৭।

(৩) সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮৯।

(৪) সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৪৩।

(৫) সূরা আজ-জুমার, আয়াত: ২৭-২৮।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১২)
مُوجَزَةً فِي غَايَةِ الْبَيَانِ وَالْفَصَاحَةِ، وَتَارَةً تُبْسَطُ، فَلَا أَحْلَى وَلَا أَجْلَى وَلَا أَعْلَى مِنْ ذلك السياق حتى كأن التالى أو السامع مُشَاهِدٌ لِمَا كَانَ، حَاضِرٌ لَهُ، مُعَايِنٌ لِلْخَبَرِ بِنَفْسِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَما كُنْتَ بِجانِبِ الطُّورِ إِذْ نادَيْنا وَلكِنْ رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْماً مَا أَتاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (46) «1»

وَقَالَ تَعَالَى: وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ (44) «2» وَقَالَ تَعَالَى فِي سُورَةِ يُوسُفَ: ذلِكَ مِنْ أَنْباءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَما كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ أَجْمَعُوا أَمْرَهُمْ وَهُمْ يَمْكُرُونَ (102) وَما أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ (103) وَما تَسْئَلُهُمْ عَلَيْهِ مِنْ أَجْرٍ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعالَمِينَ (104) «3» إِلَى أَنْ قَالَ فِي آخِرِهَا لَقَدْ كانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبابِ مَا كانَ حَدِيثاً يُفْتَرى وَلكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدىً وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ (111) «4» وَقَالَ تَعَالَى: وَقالُوا لَوْلا يَأْتِينا بِآيَةٍ مِنْ رَبِّهِ أَوَلَمْ تَأْتِهِمْ بَيِّنَةُ مَا فِي الصُّحُفِ الْأُولى (133) «5» وَقَالَ تَعَالَى: قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كانَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ ثُمَّ كَفَرْتُمْ بِهِ مَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ هُوَ فِي شِقاقٍ بَعِيدٍ 52 سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ (53) «6» وعد تعالى أنه سيظهر الآيات: القرآن وصدقه مَنْ جَاءَ بِهِ بِمَا يَخْلُقُهُ فِي الْآفَاقِ مِنَ الْآيَاتِ الدَّالَّةِ عَلَى صِدْقِ هَذَا الْكِتَابِ وَفِي نَفْسِ الْمُنْكِرِينَ لَهُ الْمُكَذِّبِينَ مَا فِيهِ حُجَّةٌ عَلَيْهِمْ وَبُرْهَانٌ قَاطِعٌ لِشُبَهِهِمْ، حَتَّى يَسْتَيْقِنُوا أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ عَلَى لِسَانِ الصَّادِقِ، ثُمَّ أَرْشَدَ إِلَى دَلِيلٍ مُسْتَقِلٍّ بِقَوْلِهِ: أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ أى فى العلم بأن الله يطلع عَلَى هَذَا الْأَمْرِ كِفَايَةٌ فِي صِدْقِ هَذَا المخبر عنه؛ إذ لو

--------------------------------------------

(1) سورة القصص، الآية: 46.

(2) سورة آل عمران، الآية: 44.

(3) سورة يوسف، الآيات: 102- 104.

(4) سورة يوسف، الآية: 111.

(5) سورة طه، الآية: 133.

(6) سورة فصلت: الآيتان: 52- 53.
অত্যন্ত স্পষ্টতা ও প্রাঞ্জলতার সাথে সংক্ষিপ্তভাবে, আবার কখনও বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেই প্রসঙ্গের চেয়ে মধুর, উজ্জ্বল ও মহান আর কিছুই নেই, এমনকি পাঠক বা শ্রোতা যেন যা ঘটেছিল তা প্রত্যক্ষ করছে, সেখানে উপস্থিত রয়েছে এবং সংবাদটি নিজেই অবলোকন করছে; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর আপনি তূর পর্বতের পার্শ্বে ছিলেন না যখন আমি আহ্বান করেছিলাম, কিন্তু আপনার রবের পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ (তা জানানো হয়েছে), যাতে আপনি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পারেন যাদের কাছে আপনার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।" (৪৬) «১»

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল যে, তাদের মধ্যে কে মারিয়ামের দায়িত্ব নেবে, আর আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা বিবাদ করছিল।" (৪৪) «২» এবং মহান আল্লাহ সূরা ইউসুফে বলেন: "এটি গায়বের সংবাদ যা আমি আপনার প্রতি ওহী হিসেবে প্রেরণ করছি, আর আপনি তাদের নিকট ছিলেন না যখন তারা তাদের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছিল এবং তারা ষড়যন্ত্র করছিল। (১০২) আর অধিকাংশ মানুষই মুমিন হওয়ার নয়, যদিও আপনি তা গভীরভাবে কামনা করেন। (১০৩) আর আপনি তাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চান না, এটি তো বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছু নয়। (১০৪)" «৩» সূরার শেষ দিকে তিনি বলেছেন: "অবশ্যই তাদের কাহিনীতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এটি এমন কোনো কথা নয় যা মিথ্যা উদ্ভাবন করা হয়েছে, বরং এটি তার সামনে থাকা কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।" (১১১) «৪» এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা বলে, সে কেন তার রবের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসে না? তাদের কাছে কি আগের কিতাবসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি?" (১৩৩) «৫» এবং মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার করো, তবে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে যে চরম বিরোধিতায় লিপ্ত? (৫২) আমি শীঘ্রই তাদের দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য। আপনার রবের বিষয়ে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?" (৫৩) «৬» মহান আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি নিদর্শনাবলী প্রকাশ করবেন: কুরআন এবং এর আনয়নকারীর সত্যতা সম্পর্কে এমন নিদর্শন যা তিনি দিগন্তসমূহে সৃষ্টি করবেন যা এই কিতাবের সত্যতার প্রমাণ দেবে, এবং যারা এটি অস্বীকার করে ও এর বিষয়বস্তুকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের নিজেদের মধ্যে এমন কিছু প্রকাশ করবেন যা তাদের বিরুদ্ধে দলিল এবং তাদের সংশয় নিরসনে অকাট্য প্রমাণ হবে, যতক্ষণ না তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে এটি সত্যবাদীর মুখে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এরপর তিনি স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দলিলের দিকে নির্দেশ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আপনার রবের বিষয়ে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী?" অর্থাৎ, আল্লাহ যে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন—সেই জ্ঞানই এই সংবাদদাতার সত্যতার জন্য যথেষ্ট; কেননা যদি

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৪৬।

(২) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৪৪।

(৩) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০২-১০৪।

(৪) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১১১।

(৫) সূরা ত্বহা, আয়াত: ১৩৩।

(৬) সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৫২-৫৩।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
كَانَ مُفْتَرِيًا عَلَيْهِ لَعَاجَلَهُ بِالْعُقُوبَةِ الْبَلِيغَةِ كَمَا تَقَدَّمَ بَيَانُ ذَلِكَ. وَفِي هَذَا الْقُرْآنِ إِخْبَارٌ عَمَّا وَقَعَ فِي الْمُسْتَقْبَلِ طِبْقَ مَا وَقَعَ سَوَاءً بِسَوَاءٍ، وَكَذَلِكَ فِي الْأَحَادِيثِ حَسَبَ مَا قَرَّرْنَاهُ فِي كِتَابِنَا التَّفْسِيرِ وَمَا سَنَذْكُرُهُ مِنَ الملاحم والفتن كقوله تعالى:

عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَؤُا ما تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ عَلِمَ أَنْ سَيَكُونُ مِنْكُمْ مَرْضى وَآخَرُونَ يَضْرِبُونَ فِي الْأَرْضِ يَبْتَغُونَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَآخَرُونَ يُقاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ «1» وَهَذِهِ السُّورَةُ مِنْ أَوَائِلِ مَا نَزَلَ بِمَكَّةَ. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى فِي سُورَةِ اقْتَرَبَتْ وَهِيَ مَكِّيَّةٌ بِلَا خِلَافٍ: سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ (45) بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهى وَأَمَرُّ (46) «2» وَقَعَ مِصْدَاقُ هَذِهِ الْهَزِيمَةِ يَوْمَ بَدْرٍ بَعْدَ ذَلِكَ. إِلَى أَمْثَالِ هَذَا مِنَ الْأُمُورِ الْبَيِّنَةِ الْوَاضِحَةِ، وَسَيَأْتِي فَصْلٌ فِيمَا أَخْبَرَ بِهِ مِنَ الأمور التى وقعت بعده عليه السلام طِبْقَ مَا أَخْبَرَ بِهِ. وَفِي الْقُرْآنِ الْأَحْكَامُ العادلة أمرا ونيها، الْمُشْتَمِلَةُ عَلَى الْحِكَمِ الْبَالِغَةِ الَّتِي إِذَا تَأَمَّلَهَا ذُو الْفَهْمِ وَالْعَقْلِ الصَّحِيحِ قَطَعَ بِأَنَّ هَذِهِ الْأَحْكَامَ إِنَّمَا أَنْزَلَهَا الْعَالِمُ بِالْخَفِيَّاتِ، الرَّحِيمُ بِعِبَادِهِ، الَّذِي يُعَامِلُهُمْ بِلُطْفِهِ وَرَحْمَتِهِ، وَإِحْسَانِهِ، قَالَ تَعَالَى وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقاً وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِماتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (115) «3» أَيْ صِدْقًا فِي الْأَخْبَارِ وَعَدْلًا فِي الْأَوَامِرِ وَالنَّوَاهِي، وَقَالَ تَعَالَى الر كِتابٌ أُحْكِمَتْ آياتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ (1) «4» أَيْ: أُحْكِمَتْ أَلْفَاظُهُ وَفُصِّلَتْ مَعَانِيهِ، وَقَالَ تَعَالَى هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ* «5» أَيِ الْعِلْمِ النَّافِعِ وَالْعَمَلِ الصَّالِحِ. وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ لِكُمَيْلِ بْنِ زِيَادٍ: هُوَ كِتَابُ اللَّهِ فِيهِ خَبَرُ مَا قَبْلَكُمْ، وَحُكْمُ مَا بَيْنَكُمْ، وَنَبَأُ مَا بَعْدَكُمْ. وَقَدْ بَسَطْنَا هَذَا كُلِّهِ فِي كِتَابِنَا التَّفْسِيرِ بِمَا فِيهِ كِفَايَةٌ (وَلِلَّهِ الْحَمْدُ وَالْمِنَّةُ) فَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ مُعْجِزٌ من وجوه كثيرة: من فصاحته،

--------------------------------------------

(1) سورة المزمل، الآية: 20.

(2) سورة القمر، الآيتان: 45، 46.

(3) سورة الأنعام، الآية: 115.

(4) سورة هود، الآية: 1.

(5) سورة الفتح، الآية: 28.
যদি তিনি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপকারী হতেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাঁকে দ্রুত কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করতেন, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই কুরআনে ভবিষ্যতে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সংবাদ রয়েছে যা ঠিক সেভাবেই সংঘটিত হয়েছে, তেমনিভাবে হাদিসসমূহের মধ্যেও রয়েছে যেমনটি আমরা আমাদের তাফসীর গ্রন্থে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছি এবং অচিরেই মহাযুদ্ধ ও ফিতনাসমূহ সম্পর্কে যা আলোচনা করব। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:

“তিনি জানেন যে তোমরা তা আয়ত্ত করতে পারবে না, তাই তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন। সুতরাং তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজসাধ্য ততটুকু পাঠ কর। তিনি জানেন যে তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়বে, কেউ কেউ আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানে পৃথিবীতে বিচরণ করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে।” (১) আর এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হওয়া প্রথমদিকের সূরাসমূহের অন্যতম। তেমনিভাবে সূরা ইকরাতাত (সূরা আল-ক্বামার)-এ আল্লাহ তাআলার বাণী—যা কোনো মতভেদ ছাড়াই একটি মক্কী সূরা: “শীঘ্রই এই দলটি পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পলায়ন করবে। বরং কিয়ামত তাদের নির্ধারিত সময় এবং কিয়ামত অত্যন্ত ভয়াবহ ও তিক্ততর।” (২) এর পরবর্তী সময়ে বদরের দিন এই পরাজয়ের সত্যতা বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। এ জাতীয় আরও অনেক সুস্পষ্ট বিষয় রয়েছে। অচিরেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিরোধানের পর যে সকল ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁর দেওয়া সংবাদ অনুসারে একটি পৃথক পরিচ্ছেদ আসবে। আর কুরআনে আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠ বিধানাবলি রয়েছে, যা গভীর প্রজ্ঞাপূর্ণ। কোনো সুস্থ বিবেক ও বোধসম্পন্ন ব্যক্তি যখন এ নিয়ে চিন্তা করেন, তখন তিনি নিশ্চিত হন যে, এই বিধানসমূহ অবশ্যই অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে, যিনি তাদের সাথে স্বীয় করুণা, দয়া ও অনুগ্রহের আচরণ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণতা লাভ করেছে। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (৩) অর্থাৎ সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে সত্য এবং আদেশ ও নিষেদাজ্ঞার ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠ। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে এবং এরপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।” (৪) অর্থাৎ এর শব্দসমূহ সুদৃঢ় এবং এর অর্থসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: “তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন।” (৫) অর্থাৎ উপকারী জ্ঞান ও সৎ আমলসহ। অনুরূপভাবে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কুমাইল ইবনে জিয়াদকে বলেছিলেন: “এটি আল্লাহর কিতাব; এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পারস্পরিক বিবাদের মীমাংসা এবং তোমাদের পরবর্তীদের খবর রয়েছে।” আমরা আমাদের তাফসীর গ্রন্থে এই সব বিষয়ে পর্যাপ্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছি (সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই)। সুতরাং এই মহান কুরআন বহু দিক থেকে অলৌকিক: এর ভাষাশৈলীর দিক থেকে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ২০।

(২) সূরা আল-ক্বামার, আয়াত: ৪৫, ৪৬।

(৩) সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১১৫।

(৪) সূরা হুদ, আয়াত: ১।

(৫) সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৮।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَبَلَاغَتِهِ، وَنَظْمِهِ، وَتَرَاكِيبِهِ، وَأَسَالِيبِهِ، وَمَا تَضَمَّنَهُ مِنَ الأخبار الْمَاضِيَةِ وَالْمُسْتَقْبَلَةِ، وَمَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ مِنَ الْأَحْكَامِ المحكمة الجلية، والتحدى بِبَلَاغَةِ أَلْفَاظِهِ يَخُصُّ فُصَحَاءَ الْعَرَبِ، وَالتَّحَدِّي بِمَا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ مِنَ الْمَعَانِي الصَّحِيحَةِ الْكَامِلَةِ- وَهِيَ أَعْظَمُ فِي التَّحَدِّي عِنْدَ كَثِيرٍ مِنَ الْعُلَمَّاءِ- يَعُمُّ جَمِيعَ (أَهْلِ الْأَرْضِ) مِنَ الْمِلَّتَيْنِ أَهْلِ الكتاب وَغَيْرِهِمْ مِنْ عُقَلَاءِ الْيُونَانِ وَالْهِنْدِ وَالْفَرَسِ وَالْقِبْطِ وَغَيْرِهِمْ مِنْ أَصْنَافِ بَنِي آدَمَ فِي سَائِرِ الأقطار والأمصار. وَأَمَّا مَنْ زَعَمَ مِنَ الْمُتَكَلِّمِينَ أَنَّ الْإِعْجَازَ إِنَّمَا هُوَ مَنْ صَرْفِ دَوَاعِي الْكَفَرَةِ عَنْ معارضته مع إنكار ذلك، أو هو سلب قدرتهم عَلَى ذَلِكَ، فَقَوْلٌ بَاطِلٌ وَهُوَ مُفَرَّعٌ عَلَى اعْتِقَادِهِمْ أَنَّ الْقُرْآنَ مَخْلُوقٌ، خَلَقَهُ اللَّهُ فِي بَعْضِ الْأَجْرَامِ، وَلَا فَرْقَ عِنْدَهُمْ بَيْنَ مَخْلُوقٍ ومخلوق، وقولهم: هذا كفر وباطل وليس مطابقا لِمَا فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، بَلِ الْقُرْآنُ كَلَامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، تَكَلَّمَ بِهِ كَمَا شَاءَ تَعَالَى وَتَقَدَّسَ وَتَنَزَّهَ عَمَّا يَقُولُونَ عُلُوًّا كَبِيرًا، فالخلق كلهم عاجزون حقيقة وفى نَفْسِ الْأَمْرِ عَنِ الْإِتْيَانِ بِمِثْلِهِ وَلَوْ تَعَاضَدُوا وتناصروا عَلَى ذَلِكَ، بَلْ لَا تَقْدِرُ الرُّسُلُ الَّذِينَ هم أفصح الخلق وأعظم الْخَلْقِ وَأَكْمَلُهُمْ، أَنْ يَتَكَلَّمُوا بِمِثْلِ كَلَامِ اللَّهِ وَهَذَا الْقُرْآنُ (الَّذِي) يُبَلِّغُهُ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم عن الله، أسلوب كلامه لَا يُشْبِهُ أَسَالِيبَ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وأساليب كلامه عليه السلام الْمَحْفُوظَةُ عَنْهُ بِالسَّنَدِ الصَّحِيحِ إِلَيْهِ لَا يَقْدِرُ أَحَدٌ مِنَ الصَّحَابَةِ وَلَا مَنْ بَعْدَهُمْ أَنْ يَتَكَلَّمَ بِمِثْلِ أَسَالِيبِهِ فِي فَصَاحَتِهِ وَبَلَاغَتِهِ، فِيمَا يرويه من المعانى بألفاظه الشريفة، بل وأسلوب كلام الصحابة أَعْلَى مِنْ أَسَالِيبِ كَلَامِ التَّابِعِينَ، وَهَلُمَّ جَرًّا إلى زماننا، (و) علماء السلف أفصح وأعلم، وأقل تكلفا، فيما يرونه مِنَ الْمَعَانِي بِأَلْفَاظِهِمْ مِنْ عُلَمَاءِ الْخَلَفِ وَهَذَا يَشْهَدُهُ مَنْ لَهُ ذَوْقٌ بِكَلَامِ النَّاسِ كَمَا يُدْرَكُ تَفَاوُتُ مَا بَيْنَ أَشْعَارِ الْعَرَبِ فِي زَمَنِ الْجَاهِلِيَّةِ، وَبَيْنَ أَشْعَارِ الْمُوَلَّدِينَ الَّذِينَ كَانُوا بَعْدَ ذَلِكَ، وَلِهَذَا جَاءَ الْحَدِيثُ الثَّابِتُ فِي هَذَا الْمَعْنَى وَهُوَ فِيمَا رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ قَائِلًا:

(حَدَّثَنَا) حَجَّاجٌ، ثَنَا لَيْثٌ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَا مِنَ الْأَنْبِيَاءِ نَبِيٌّ إِلَّا قَدْ أُعْطِيَ مِنَ الْآيَاتِ
এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্র, শব্দবিন্যাস, গঠনশৈলী, প্রকাশভঙ্গি এবং এতে অন্তর্ভুক্ত অতীত ও ভবিষ্যতের সংবাদসমূহ, আর এটি যেসব সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট বিধানাবলি ধারণ করে আছে। আর এর শব্দের অলঙ্কার দিয়ে চ্যালেঞ্জ করাটি আরব বাগ্মীদের জন্য নির্দিষ্ট, এবং এটি যেসব সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ অর্থ ধারণ করে আছে তা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করাটি—যা অনেক পণ্ডিতের মতে চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে অধিকতর মহান—সারা বিশ্বের সকল মানুষের জন্য ব্যাপক; চাই তারা আহলে কিতাব দুই ধর্মাবলম্বী হোক কিংবা গ্রিস, ভারত, পারস্য, কিবতি ও অন্যান্য অঞ্চলের আদমসন্তানদের অন্তর্ভুক্ত বিবেকবান ব্যক্তিবর্গ হোক। আর কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে যারা দাবি করেন যে, আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব হলো কেবল কাফেরদের একে মোকাবিলা করার ইচ্ছা থেকে বিমুখ করে রাখা অথবা তাদের সক্ষমতা কেড়ে নেওয়া, তবে তা একটি বাতিল কথা। এটি তাদের এই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত যে, কুরআন সৃষ্টি; আল্লাহ একে কোনো জড়বস্তুর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। তাদের নিকট এক সৃষ্টি ও অন্য সৃষ্টির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাদের এই বক্তব্য কুফরি ও বাতিল এবং এটি বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। বরং কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি সৃষ্টি নয়। আল্লাহ যেভাবে চেয়েছেন সেভাবেই এটি ব্যক্ত করেছেন; তিনি সুউচ্চ ও পবিত্র এবং তারা যা বলে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে। প্রকৃতপক্ষে সকল সৃষ্টিই এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম, যদিও তারা এ কাজে একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করে। এমনকি রাসুলগণও—যাঁরা সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাগ্মী, শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ—তাঁরাও আল্লাহর কালামের সদৃশ কথা বলতে সক্ষম নন। আর এই কুরআন যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে পৌঁছে দিচ্ছেন, এর বাচনভঙ্গি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাচনভঙ্গির সাথে সদৃশ নয়। আর তাঁর (আলাইহিস সালাম) বাচনভঙ্গি যা সহিহ সনদে সংরক্ষিত আছে, সাহাবী বা তাঁদের পরবর্তী কেউ তাঁর বাচনভঙ্গির মতো বাগ্মিতা ও অলঙ্কার দিয়ে কথা বলতে সক্ষম নন, যেখানে তিনি তাঁর সম্মানিত শব্দাবলিতে অর্থের বর্ণনা দেন। এমনকি সাহাবীদের বাচনভঙ্গি তাবেয়ীদের বাচনভঙ্গির চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আর এভাবেই আমাদের সময় পর্যন্ত। পূর্ববর্তী উলামায়ে কেরাম পরবর্তী উলামাদের তুলনায় অধিক বাগ্মী, অধিক জ্ঞানী এবং নিজ শব্দে অর্থের বর্ণনার ক্ষেত্রে কৃত্রিমতামুক্ত ছিলেন। মানুষের কথার ব্যাপারে যাদের সূক্ষ্ম রুচিবোধ আছে তারা এটি প্রত্যক্ষ করেন, যেমনটি জাহেলি যুগের আরবদের কবিতা এবং পরবর্তী যুগের কবিদের কবিতার মধ্যকার পার্থক্য অনুভূত হয়। এ কারণেই এই মর্মে একটি সাব্যস্ত হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন এভাবে:

(হাজ্জাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন), লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী নেই যাঁকে এমন কোনো নিদর্শন দেওয়া হয়নি...
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ وَحَيًّا أَوْحَاهُ اللَّهُ إِلَيَّ، فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» وَقَدْ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ بِهِ، وَمَعْنَى هَذَا أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ عليهم السلام كُلٌّ مِنْهُمْ قَدْ أُوتِيَ مِنَ الْحُجَجِ وَالدَّلَائِلِ عَلَى صِدْقِهِ وَصِحَّةِ مَا جَاءَ بِهِ عَنْ رَبِّهِ مَا فِيهِ كِفَايَةٌ وَحُجَّةٌ لِقَوْمِهِ الَّذِينَ بُعِثَ إِلَيْهِمْ سَوَاءٌ آمَنُوا بِهِ فَفَازُوا بِثَوَابِ إِيمَانِهِمْ أَوْ جَحَدُوا فَاسْتَحَقُّوا الْعُقُوبَةَ، وَقَوْلُهُ: وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتُ، أَيْ جُلُّهُ وَأَعْظَمُهُ، الْوَحْيُ الَّذِي أَوْحَاهُ إِلَيْهِ، وَهُوَ الْقُرْآنُ، الْحَجَّةُ الْمُسْتَمِرَّةُ الدَّائِمَةُ الْقَائِمَةُ فِي زَمَانِهِ وَبَعْدَهُ فَإِنَّ الْبَرَاهِينَ الَّتِي كَانَتْ لِلْأَنْبِيَاءِ انْقَرَضَ زَمَانُهَا فِي حَيَاتِهِمْ وَلَمْ يَبْقَ مِنْهَا إِلَّا الْخَبَرُ عَنْهَا، وَأَمَّا الْقُرْآنُ فَهُوَ حُجَّةٌ قَائِمَةٌ كَأَنَّمَا يَسْمَعُهُ السَّامِعُ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَحُجَّةُ اللَّهِ قَائِمَةٌ بِهِ فِي حَيَّاتِهِ عليه السلام وبعد وفاته، ولهذا قال: فأرجوا أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، أَيْ لِاسْتِمْرَارِ مَا آتَانِيَ اللَّهُ مِنَ الْحُجَّةِ الْبَالِغَةِ وَالْبَرَاهِينِ الدَّامِغَةِ، فَلِهَذَا يَكُونُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَكْثَرَ الأنبياء تبعا.

«এমন বিষয় যার ওপর মানুষ ঈমান আনে, আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা কেবল ওহী যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে আমার অনুসারীর সংখ্যাই সর্বাধিক হবে।’ ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি লাইস ইবনে সা'দ বর্ণিত হাদীস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। এর অর্থ হলো, সকল নবী আলাইহিমুস সালামকেই তাদের সত্যতা এবং তাদের রবের পক্ষ থেকে আনীত বাণীর যথার্থতার সপক্ষে এমন পর্যাপ্ত দলিল ও নিদর্শন প্রদান করা হয়েছিল যা তাদের কওমের জন্য যথেষ্ট ছিল—যাদের নিকট তাদের প্রেরণ করা হয়েছিল; চাই তারা ঈমান এনে সফলকাম হয়ে সওয়াব অর্জন করুক কিংবা অস্বীকার করে শাস্তির উপযুক্ত হোক। আর তাঁর বাণী: ‘আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা কেবল...’ অর্থাৎ এর অধিকাংশ ও সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ হলো সেই ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, আর তা হলো কুরআন; যা তাঁর সময়ে এবং তাঁর পরবর্তী সময়েও একটি চিরস্থায়ী ও অটল দলিল। কেননা অন্য নবীদের নিকট যে সকল প্রমাণ ছিল, তাদের জীবদ্দশাতেই সেগুলোর সময় শেষ হয়ে গিয়েছে এবং এখন কেবল সেগুলোর সংবাদই অবশিষ্ট আছে। পক্ষান্তরে কুরআন হলো এমন এক বিদ্যমান দলিল যে, শ্রবণকারী যেন তা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখনিঃসৃত অবস্থায় শুনতে পাচ্ছে। অতএব আল্লাহর এই দলিল তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ওফাতের পরেও এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এই কারণেই তিনি বলেছেন: ‘আমি আশা করি যে কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে আমার অনুসারীর সংখ্যাই সর্বাধিক হবে।’ অর্থাৎ আল্লাহ আমাকে যে সুদূরপ্রসারী দলিল ও অখণ্ডনীয় প্রমাণাদি প্রদান করেছেন তার ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের কারণে। আর এ কারণেই কিয়ামতের দিন তিনি সকল নবীর তুলনায় সর্বাধিক অনুসারীর অধিকারী হবেন।

(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌فصل [أخلاقه]

ومن الدلائل المعنوية أخلاقه عليه السلام الطَّاهِرَةُ، وَخُلُقُهُ الْكَامِلُ، وَشَجَاعَتُهُ وَحِلْمُهُ وَكَرَمُهُ وَزُهْدُهُ وَقَنَاعَتُهُ وَإِيثَارُهُ وَجَمِيلُ صُحْبَتِهِ، وَصِدْقُهُ وَأَمَانَتُهُ وَتَقْوَاهُ وعبادته وكرم أَصْلِهِ وَطِيبُ مَوْلِدِهِ وَمَنْشَئِهِ وَمُرَبَّاهُ كَمَا قَدَّمْنَاهُ مَبْسُوطًا فِي مَوَاضِعِهِ، وَمَا أَحْسَنَ مَا ذَكَرَهُ شَيْخُنَا الْعَلَّامَةُ أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ تَيْمِيَةَ رحمه الله فِي كِتَابِهِ الَّذِي رَدَّ فِيهِ عَلَى فرق النصارى واليهود وما أَشْبَهَهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَغَيْرِهِمْ، فَإِنَّهُ ذَكَرَ فِي آخِرِهِ دَلَائِلَ النُّبُوَّةِ، وَسَلَكَ فِيهَا مَسَالِكَ حسنة صحيحة منتجة بِكَلَامٍ بَلِيغٍ يَخْضَعُ لَهُ كُلُّ مَنْ تَأَمَّلَهُ وفهمه. قال فى آخر هذا الكتاب المذكور:

 

‌‌فصل [سيرته]

وَسِيرَةُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم وَأَخْلَاقُهُ وَأَقْوَالُهُ وَأَفْعَالُهُ مِنْ آيَاتِهِ، أَيْ مِنْ دَلَائِلِ نُبُوَّتِهِ. قَالَ وَشَرِيعَتُهُ مِنْ آيَاتِهِ، وَأُمَّتُهُ مِنْ آيَاتِهِ، وَعِلْمُ أُمَّتِهِ مِنْ آيَاتِهِ، وَدِينُهُمْ مِنْ آيَاتِهِ، وَكَرَامَاتُ صَالِحِي أُمَّتِهِ مِنْ آيَاتِهِ، وَذَلِكَ يَظْهَرُ بِتَدَبُّرِ سِيرَتِهِ مِنْ حِينَ وُلِدَ إِلَى أَنْ بُعِثَ، وَمِنْ حِينَ بُعِثَ إِلَى أَنْ مَاتَ، وَتَدَبُّرِ نَسَبِهِ وَبَلَدِهِ وَأَصْلِهِ وَفَصْلِهِ، فَإِنَّهُ كَانَ مِنْ أَشْرَفِ أَهْلِ الْأَرْضِ نَسَبًا مِنْ صَمِيمِ سُلَالَةِ إِبْرَاهِيمَ الَّذِي جَعَلَ اللَّهُ فِي ذُرِّيَّتِهِ النُّبُوَّةَ وَالْكِتَابَ، فَلَمْ يَأْتِ بَعْدَ إِبْرَاهِيمَ نَبِيٌّ إِلَّا مِنْ ذُرِّيَّتِهِ، وَجَعَلَ اللَّهُ لَهُ ابْنَيْنِ: إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ، وَذَكَرَ فِي التَّوْرَاةِ هَذَا وَهَذَا، وَبَشَّرَ فِي التَّوْرَاةِ بِمَا يَكُونُ مِنْ ولد إسماعيل، ولم يكن من وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ مَنْ ظَهَرَ فِيهِ مَا بَشَّرَتْ بِهِ النُّبُوَّاتُ غَيْرُهُ، وَدَعَا إِبْرَاهِيمُ لِذُرِّيَّةِ إِسْمَاعِيلَ بأن يبعث الله فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ. ثُمَّ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم من قريش صفوة بنى إِبْرَاهِيمَ، ثُمَّ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ صَفْوَةِ قُرَيْشٍ، وَمِنْ مَكَّةَ أُمِّ الْقُرَى وَبَلَدِ الْبَيْتِ
পরিচ্ছেদ [তাঁর চরিত্র]

আধ্যাত্মিক প্রমাণসমূহের মধ্যে রয়েছে তাঁর (আলাইহিস সালাম) পবিত্র চরিত্র, তাঁর পূর্ণাঙ্গ আচরণ, তাঁর বীরত্ব, সহনশীলতা, উদারতা, দুনিয়াবিমুখতা, অল্পেতুষ্টি, অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া, তাঁর সুন্দর সাহচর্য, তাঁর সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, তাকওয়া, ইবাদত এবং তাঁর বংশীয় মর্যাদা, তাঁর পবিত্র জন্ম, বেড়ে ওঠা ও লালন-পালন—যেমনটি আমরা পূর্বে বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছি। আমাদের শায়খ আল্লামা আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সেই কিতাবে কতই না চমৎকার বর্ণনা করেছেন, যাতে তিনি খ্রিস্টান ও ইহুদিদের বিভিন্ন দল এবং তাদের সদৃশ আহলে কিতাব ও অন্যদের খণ্ডন করেছেন। তিনি সেই কিতাবের শেষে নবুয়তের প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন এবং এতে অত্যন্ত সুন্দর, সঠিক ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। তিনি এমন সাবলীল ভাষায় তা ব্যক্ত করেছেন যে, যে কেউ তা নিয়ে চিন্তা করবে এবং বুঝবে, সে তাঁর কাছে নতি স্বীকার করবে। তিনি এই কিতাবের শেষে বলেছেন:

 

পরিচ্ছেদ [তাঁর সীরাত]

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত, তাঁর চরিত্র, তাঁর কথা ও কাজ সবই তাঁর নিদর্শনাদির অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ তাঁর নবুয়তের প্রমাণসমূহের অংশ। তিনি আরও বলেন, তাঁর শরীয়ত তাঁর অন্যতম নিদর্শন, তাঁর উম্মত তাঁর অন্যতম নিদর্শন, তাঁর উম্মতের জ্ঞান তাঁর অন্যতম নিদর্শন, তাদের দ্বীন তাঁর অন্যতম নিদর্শন এবং তাঁর উম্মতের নেককারদের কারামতসমূহও তাঁর অন্যতম নিদর্শন। আর এটি ফুটে ওঠে তাঁর জন্মের সময় থেকে নবুয়ত প্রাপ্তি পর্যন্ত এবং নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সীরাত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে। আরও চিন্তা করলে তাঁর বংশমর্যাদা, তাঁর শহর, তাঁর উৎস ও বংশধারা নিয়ে। কেননা তিনি ছিলেন বংশের দিক থেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন, ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর খাঁটি বংশধর, যাঁর বংশে আল্লাহ নবুয়ত ও কিতাব দান করেছেন। ফলে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর পর তাঁর বংশধর ছাড়া অন্য কেউ নবী হয়ে আসেননি। আল্লাহ তাঁকে দুই পুত্র দান করেছিলেন: ইসমাইল ও ইসহাক। তাওরাতে উভয়ের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাওরাতে ইসমাইলের বংশ থেকে যা ঘটবে সে সম্পর্কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। আর ইসমাইলের সন্তানদের মধ্যে তাঁর (রাসুলুল্লাহ) ব্যতীত এমন কেউ ছিলেন না যার মধ্যে নবুয়তের সেই সুসংবাদসমূহ প্রকাশিত হয়েছিল। আর ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) ইসমাইলের বংশধরদের জন্য দোয়া করেছিলেন যেন আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল প্রেরণ করেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন কুরাইশ বংশের, যারা ছিল ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মধ্যে মনোনীত। এরপর তিনি ছিলেন বনু হাশিম গোত্রের, যারা ছিল কুরাইশদের মধ্যে মনোনীত। আর তিনি ছিলেন মক্কা নগরীর অধিবাসী, যা হলো জনপদসমূহের জননী এবং বায়তুল্লাহর শহর।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
الَّذِي بَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ وَدَعَا النَّاسَ إِلَى حَجِّهِ، وَلَمْ يَزَلْ مَحْجُوجًا مِنْ عَهْدِ إِبْرَاهِيمَ، مَذْكُورًا فى كتب الأنبياء بأحسن وصف. وكان صلى الله عليه وسلم مَنْ أَكْمَلِ النَّاسِ تَرْبِيَةً وَنَشْأَةً، لَمْ يَزَلْ مَعْرُوفًا بِالصِّدْقِ وَالْبِرِّ (وَمَكَارِمِ الْأَخْلَاقِ) وَالْعَدْلِ وَتَرْكِ الْفَوَاحِشِ وَالظُّلْمِ وَكُلِّ وَصْفٍ مَذْمُومٍ، مَشْهُودًا لَهُ بِذَلِكَ عِنْدَ جَمِيعِ مَنْ يَعْرِفُهُ قَبْلَ النُّبُوَّةِ. وَمَنْ آمَنَ بِهِ وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ النُّبُوَّةِ، وَلَا يُعْرَفُ لَهُ شَيْءٌ يُعَابُ بِهِ لَا فِي أَقْوَالِهِ وَلَا فى أفعاله ولا فى أخلاقه، ولا جرب عَلَيْهِ كِذْبَةٌ قَطُّ، وَلَا ظُلْمٌ وَلَا فَاحِشَةٌ، وقد كان صلى الله عليه وسلم خَلْقُهُ وَصُورَتُهُ مِنْ أَحْسَنِ الصُّوَرِ وَأَتَمِّهَا وَأَجْمَعِهَا لِلْمَحَاسِنِ الدَّالَّةِ عَلَى كَمَالِهِ، وَكَانَ أُمِّيًّا مِنْ قَوْمٍ أُمِّيِّينَ لَا يعرف هُوَ وَلَا هُمْ مَا يَعْرِفُهُ أَهْلُ الْكِتَابِ (من) التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَلَمْ يَقْرَأْ شَيْئًا مِنْ عُلُومِ النَّاسِ، وَلَا جَالَسَ أَهْلَهَا، وَلَمْ يَدَّعِ نُبُوَّةً إِلَى أَنْ أَكْمَلَ (اللَّهُ) لَهُ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَأَتَى بِأَمْرٍ هُوَ أَعْجَبُ الْأُمُورِ وَأَعْظَمُهَا، وَبِكَلَامٍ لَمْ يَسْمَعِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ بِنَظِيرِهِ، وَأَخْبَرَ بِأَمْرٍ لَمْ يَكُنْ فِي بَلَدِهِ وَقَوْمِهِ مَنْ يَعْرِفُ مِثْلَهُ، ثُمَّ اتَّبَعَهُ أَتْبَاعُ الْأَنْبِيَاءِ وَهُمْ ضُعَفَاءُ النَّاسِ، وَكَذَّبَهُ أَهْلُ الرِّيَاسَةِ وَعَادَوْهُ، وَسَعَوْا فِي هَلَاكِهِ وَهَلَاكِ مَنِ اتَّبَعَهُ بِكُلِّ طَرِيقٍ، كَمَا كَانَ الْكَفَّارُ يَفْعَلُونَ بِالْأَنْبِيَاءِ وَأَتْبَاعِهِمْ، وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُ لَمْ يَتَّبِعُوهُ لِرَغْبَةٍ وَلَا لِرَهْبَةٍ فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ مَالٌ يُعْطِيهِمْ وَلَا جِهَاتٌ يُوَلِّيهِمْ إِيَّاهَا، وَلَا كَانَ لَهُ سَيْفٌ، بَلْ كَانَ السيف والجاه والمال مَعَ أَعْدَائِهِ وَقَدْ آذَوْا أَتْبَاعَهُ بِأَنْوَاعِ الْأَذَى وَهُمْ صَابِرُونَ مُحْتَسِبُونَ لَا يَرْتَدُّونَ عَنْ دِينِهِمْ، لِمَا خَالَطَ قُلُوبَهُمْ مِنْ حَلَاوَةِ الْإِيمَانِ وَالْمَعْرِفَةِ، وَكَانَتْ مَكَّةُ يَحُجُّهَا الْعَرَبُ مِنْ عَهْدِ إِبْرَاهِيمَ فَيَجْتَمِعُ فِي الْمَوْسِمِ قَبَائِلُ الْعَرَبِ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ يُبَلِّغُهُمُ الرِّسَالَةَ وَيَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ صَابِرًا عَلَى مَا يَلْقَاهُ مِنْ تَكْذِيبِ الْمُكَذِّبِ، وَجَفَاءِ الْجَافِي، وَإِعْرَاضِ الْمُعْرِضِ، إِلَى أَنِ اجْتَمَعَ بِأَهْلِ يَثْرِبَ وكانوا جبران الْيَهُودِ، وَقَدْ سَمِعُوا أَخْبَارَهُ مِنْهُمْ وَعَرَفُوهُ فَلَمَّا دَعَاهُمْ عَلِمُوا أَنَّهُ النَّبِيُّ الْمُنْتَظَرُ الَّذِي يُخْبِرُهُمْ به اليهود، وكانوا سَمِعُوا مِنْ أَخْبَارِهِ أَيْضًا مَا عَرَفُوا بِهِ مَكَانَتَهُ فَإِنَّ أَمْرَهُ كَانَ قَدِ انْتَشَرَ وَظَهَرَ فِي بِضْعِ عَشْرَةَ سَنَةً، فَآمَنُوا بِهِ وَبَايَعُوهُ عَلَى هِجْرَتِهِ وَهِجْرَةِ أَصْحَابِهِ إِلَى بَلَدِهِمْ، وَعَلَى الْجِهَادِ مَعَهُ، فَهَاجَرَ هُوَ وَمَنِ اتَّبَعَهُ إِلَى

যা ইব্রাহিম নির্মাণ করেছিলেন এবং মানুষকে এর হজ্জের দিকে আহ্বান করেছিলেন। ইব্রাহিমের যুগ থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে হজ্জের স্থান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে এবং নবীদের কিতাবসমূহে সর্বোত্তম বর্ণনায় এর উল্লেখ রয়েছে। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লালন-পালন ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ছিলেন। তিনি সর্বদা সত্যবাদিতা, পুণ্য, সচ্চরিত্রতা, ন্যায়বিচার এবং অশ্লীলতা, জুলুম ও যাবতীয় নিন্দনীয় গুণাবলি পরিহারের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। নবুওয়াতের পূর্বে যারা তাঁকে চিনতেন, তারা সকলেই তাঁর এই গুণাবলির সাক্ষ্য দিতেন। নবুওয়াতের পরে যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে এবং যারা কুফরি করেছে, তাদের কেউ তাঁর কথা, কাজ বা চরিত্রে ত্রুটিযুক্ত কোনো কিছুই পায়নি। তাঁর ক্ষেত্রে কখনও কোনো মিথ্যা, জুলুম বা অশ্লীলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গঠন ও আকৃতিতে ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর, নিখুঁত এবং যাবতীয় সৌন্দর্যের আধার, যা তাঁর পূর্ণতার প্রমাণ বহন করে। তিনি ছিলেন নিরক্ষর জাতির মধ্য থেকে একজন নিরক্ষর ব্যক্তি। তিনি বা তাঁর সম্প্রদায় আহলে কিতাবদের তাওরাত ও ইঞ্জিলের জ্ঞান সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি মানুষের কোনো জাগতিক বিজ্ঞান বা জ্ঞান পাঠ করেননি এবং সেই জ্ঞানীদের সংসর্গেও বসেননি। আল্লাহ তাঁর বয়স চল্লিশ বছর পূর্ণ না করা পর্যন্ত তিনি নবুওয়াতের দাবি করেননি। এরপর তিনি এমন এক বিষয় নিয়ে আসলেন যা সবচেয়ে বিস্ময়কর ও মহান, এবং এমন এক বাণী নিয়ে আসলেন যার নজির পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কেউ কখনও শোনেনি। তিনি এমন কিছু সংবাদ দিলেন যা তাঁর দেশ বা সম্প্রদায়ের কেউ জানত না। অতঃপর নবীদের অনুসারীদের মতো সমাজের দুর্বল শ্রেণির লোকেরা তাঁর অনুসরণ করল, আর প্রভাবশালীরা তাঁকে অস্বীকার করল ও তাঁর শত্রুতা করল। তারা সর্বতোভাবে তাঁকে এবং তাঁর অনুসারীদের ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাল, যেমনটি পূর্ববর্তী কাফেররা নবীদের এবং তাঁদের অনুসারীদের সাথে করেছিল। আর যারা তাঁর অনুসরণ করেছিল, তারা কোনো লোভ বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে তা করেনি। কারণ তাদের দেওয়ার মতো তাঁর কাছে কোনো ধন-সম্পদ ছিল না, না ছিল কোনো পদমর্যাদা যা তিনি তাদের অর্পণ করবেন। এমনকি তাঁর কোনো শক্তি বা তরবারিও ছিল না; বরং তরবারি, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং সম্পদ সবই ছিল তাঁর শত্রুদের হাতে। তারা তাঁর অনুসারীদের নানাভাবে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু তারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং সওয়াবের আশা রেখেছে। ঈমানের মাধুর্য ও মারেফত তাদের অন্তরে মিশে যাওয়ার কারণে তারা তাদের দ্বীন থেকে ফিরে যায়নি। ইব্রাহিমের যুগ থেকেই আরবরা মক্কায় হজ্জ করতে আসত। হজ্জের মৌসুমে আরবের বিভিন্ন গোত্র সেখানে সমবেত হতো। তিনি তাদের কাছে গিয়ে রিসালাত পৌঁছে দিতেন এবং আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতেন। মিথ্যাচারীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, কঠোরদের রূঢ়তা এবং বিমুখদের অবজ্ঞার মুখেও তিনি ধৈর্য ধারণ করতেন। অবশেষে তিনি ইয়াসরিববাসীর সাথে মিলিত হলেন। তারা ছিল ইহুদিদের প্রতিবেশী এবং তাদের কাছ থেকে তারা তাঁর সংবাদ শুনেছিল ও তাঁকে চিনতে পেরেছিল। ফলে তিনি যখন তাদের দাওয়াত দিলেন, তারা বুঝতে পারল যে, তিনিই সেই প্রতীক্ষিত নবী যার কথা ইহুদিরা তাদের বলত। তারা তাঁর সম্পর্কে এমন অনেক সংবাদও শুনেছিল যার মাধ্যমে তারা তাঁর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পেরেছিল। বিগত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কথা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং প্রকাশ পেয়েছিল। ফলে তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনল এবং তাঁর ও তাঁর সাহাবীদের তাদের শহরে হিজরত করার বিষয়ে এবং তাঁর সাথে জিহাদ করার বিষয়ে বায়আত গ্রহণ করল। অতঃপর তিনি এবং তাঁর অনুসারীরা হিজরত করলেন...

(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
الْمَدِينَةِ، وَبِهَا الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ لَيْسَ فِيهِمْ مَنْ آمَنَ بِرَغْبَةٍ دُنْيَوِيَّةٍ، وَلَا بِرَهْبَةٍ إِلَّا قَلِيلًا مِنَ الْأَنْصَارِ أَسْلَمُوا فِي الظَّاهِرِ ثُمَّ حَسُنَ إِسْلَامُ بَعْضِهِمْ، ثُمَّ أُذِنَ لَهُ فِي الْجِهَادِ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ، وَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا بِأَمْرِ اللَّهِ عَلَى أَكْمَلِ طَرِيقَةٍ وَأَتَمِّهَا، مِنَ الصِّدْقِ وَالْعَدْلِ وَالْوَفَاءِ لَا يُحْفَظُ لَهُ كِذْبَةٌ وَاحِدَةٌ، وَلَا ظُلْمٌ لِأَحَدٍ، وَلَا غَدْرٌ بِأَحَدٍ، بَلْ كَانَ أَصْدَقَ النَّاسِ وَأَعْدَلَهُمْ وَأَوْفَاهُمْ بِالْعَهْدِ مَعَ اختلاف بالأحوال، مِنْ حَرْبٍ وَسِلْمٍ، (وَأَمْنٍ) وَخَوْفٍ، وَغِنًى وَفَقْرٍ، وَقُدْرَةٍ وَعَجْزٍ، وَتَمَكُّنٍ وَضَعْفٍ، وَقِلَّةٍ وَكَثْرَةٍ، وَظُهُورٍ عَلَى الْعَدُوِّ تَارَةً. وَظُهُورِ الْعَدُوِّ تَارَةً، وَهُوَ عَلَى ذَلِكَ كُلِّهِ لَازِمٌ لِأَكْمَلِ الطُّرُقِ وَأَتَمِّهَا، حَتَّى ظَهَرَتِ الدَّعْوَةُ فِي جَمِيعِ أَرْضِ الْعَرَبِ الَّتِي كَانَتْ مَمْلُوءَةً مِنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ، وَمِنْ أَخْبَارِ الْكُهَّانِ، وَطَاعَةِ الْمَخْلُوقِ فِي الْكُفْرِ بِالْخَالِقِ، وسفك الدماء المحرمة، وقطيعة الأرحام، ولا يَعْرِفُونَ آخِرَةً وَلَا مَعَادًا، فَصَارُوا أَعْلَمَ أَهْلِ الْأَرْضِ وَأَدْيَنَهُمْ وَأَعْدَلَهُمْ وَأَفْضَلَهُمْ، حَتَّى إِنَّ النَّصَارَى لَمَّا رَأَوْهُمْ حِينَ قَدِمُوا الشَّامَ قَالُوا: مَا كان الذين صحبوا المسيح أفضل مِنْ هَؤُلَاءِ. وَهَذِهِ آثَارُ عِلْمِهِمْ وَعَمَلِهِمْ فِي الأرض وآثار غيرهم تعرف الْعُقَلَاءُ فَرْقَ مَا بَيْنَ الْأَمْرَيْنِ. وَهُوَ صلى الله عليه وسلم مَعَ ظُهُورِ أَمْرِهِ، وَطَاعَةِ الْخَلْقِ لَهُ، وَتَقْدِيمِهِمْ لَهُ عَلَى الْأَنْفُسِ وَالْأَمْوَالِ، مَاتَ وَلَمْ يَخْلُفْ دِرْهَمًا وَلَا دِينَارًا، وَلَا شَاةً وَلَا بَعِيرًا، إِلَّا بَغْلَتَهُ وَسِلَاحَهُ وَدِرْعَهُ مَرْهُونَةً عِنْدَ يَهُودِيٍّ عَلَى ثَلَاثِينَ وَسْقًا «1» مِنْ شَعِيرٍ ابْتَاعَهَا لِأَهْلِهِ، وَكَانَ بِيَدِهِ عَقَارٌ يُنْفِقُ مِنْهُ عَلَى أَهْلِهِ، وَالْبَاقِي يَصْرِفُهُ فِي مَصَالِحِ الْمُسْلِمِينَ، فَحَكَمَ بِأَنَّهُ لَا يُورَثُ وَلَا يَأْخُذُ وَرَثَتُهُ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ وَهُوَ فِي كُلِّ وَقْتٍ يُظْهِرُ مِنْ عَجَائِبِ الْآيَاتِ وَفُنُونِ الْكَرَامَاتِ مَا يَطُولُ وَصْفُهُ.، وَيُخْبِرُهُمْ بِمَا كَانَ وَمَا يَكُونُ، وَيَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ، وَيَشْرَعُ الشَّرِيعَةَ شَيْئًا بَعْدَ شَيْءٍ، حَتَّى أَكْمَلَ اللَّهُ دِينَهُ الَّذِي بَعَثَهُ بِهِ، وَجَاءَتْ شَرِيعَتُهُ أَكْمَلَ شَرِيعَةٍ، لَمْ يَبْقَ مَعْرُوفٌ تَعْرِفُ الْعُقُولُ أَنَّهُ مَعْرُوفٌ إِلَّا أَمَرَ بِهِ وَلَا مُنْكَرٌ تَعْرِفُ الْعُقُولُ أَنَّهُ مُنْكَرٌ إِلَّا نَهَى عَنْهُ، لَمْ يَأْمُرْ بشىء

--------------------------------------------

(1) وسقا: حملا.
মদিনা, যেখানে মুহাজির ও আনসারগণ ছিলেন; তাদের মধ্যে এমন কেউ ছিল না যারা পার্থিব লালসায় ঈমান এনেছে, কিংবা ভয়েও নয়—কেবল অল্প কিছু আনসার ব্যতীত যারা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে কারও কারও ইসলাম সুন্দর হয়েছিল। এরপর তাঁকে জিহাদের অনুমতি দেওয়া হলো, তারপর এর আদেশ দেওয়া হলো। আর তিনি সর্বদা অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত পদ্ধতিতে আল্লাহর আদেশের ওপর অটল ছিলেন; সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও বিশ্বস্ততার সাথে। তাঁর ক্ষেত্রে একটি মিথ্যাও সংরক্ষিত নেই, না কোনো একজনের প্রতি জুলুম, আর না কারও সাথে বিশ্বাসঘাতকতা। বরং তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সত্যবাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং পরিস্থিতির বিভিন্নতা সত্ত্বেও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সবচেয়ে অগ্রগামী; তা যুদ্ধ ও শান্তি, (নিরাপত্তা) ও ভয়, সচ্ছলতা ও দারিদ্র্য, সক্ষমতা ও অক্ষমতা, প্রতিষ্ঠা ও দুর্বলতা, সংখ্যাস্বল্পতা ও সংখ্যাধিক্য, এবং কখনও শত্রুর ওপর বিজয় লাভ আবার কখনও শত্রুর বিজয় লাভ—এ সকল অবস্থাতেই। এতসব কিছুর মাঝেও তিনি সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ পন্থায় অবিচল ছিলেন, শেষ পর্যন্ত সমগ্র আরব ভূখণ্ডে দাওয়াত জয়যুক্ত হলো, যা ইতিপূর্বে মূর্তিপূজায়, গণকদের সংবাদে, স্রষ্টাকে অস্বীকার করে সৃষ্টির আনুগত্যে, নিষিদ্ধ রক্তপাতে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাতে পূর্ণ ছিল। তারা পরকাল বা পুনরুত্থান সম্পর্কে কিছুই জানত না। ফলে তারা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে জ্ঞানী, ধার্মিক, ন্যায়পরায়ণ ও শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হলেন। এমনকি খ্রিস্টানরা যখন সিরিয়ায় তাদের আগমন দেখল, তখন তারা বলল: "মসীহ (ঈসা)-এর সাথীরাও এদের চেয়ে উত্তম ছিলেন না।" পৃথিবীতে এটিই তাদের ইলম ও আমলের প্রভাব, আর অন্যদের প্রভাবও দৃশ্যমান; বুদ্ধিমানেরা এই দুইয়ের পার্থক্য বুঝতে পারেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কর্তৃত্বের প্রকাশ, সৃষ্টির আনুগত্য লাভ এবং মানুষ তাঁকে নিজেদের জান ও মালের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া সত্ত্বেও; এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করলেন যে তিনি কোনো দিরহাম বা দিনার, কোনো বকরি বা উট রেখে যাননি; কেবল তাঁর খচ্চর, অস্ত্র এবং তাঁর বর্মটি রেখে গিয়েছিলেন যা একজন ইহুদির কাছে ত্রিশ 'ওয়াসক' (১) যব ক্রয়ের বিনিময়ে বন্ধক ছিল, যা তিনি তাঁর পরিবারের জন্য ক্রয় করেছিলেন। তাঁর অধীনে কিছু স্থাবর সম্পত্তি ছিল যেখান থেকে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য ব্যয় করতেন এবং অবশিষ্ট অংশ মুসলমানদের জনকল্যাণে ব্যয় করতেন। তিনি এই ফয়সালা করেছিলেন যে, তাঁর কোনো উত্তরাধিকার রাখা হবে না এবং তাঁর উত্তরাধিকারীরা তা থেকে কিছুই গ্রহণ করবে না। তিনি প্রতিটি সময়ে এমন সব বিস্ময়কর নিদর্শন এবং বিভিন্ন প্রকার মুজিজা প্রদর্শন করতেন যার বর্ণনা অত্যন্ত দীর্ঘ হবে। তিনি তাঁদের অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সংবাদ দিতেন, তাঁদের সৎ কাজের আদেশ দিতেন এবং অসৎ কাজে নিষেধ করতেন, তাঁদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করতেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করতেন। তিনি একের পর এক শরিয়তের বিধান প্রবর্তন করতে থাকলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর প্রেরিত দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলেন। আর তাঁর প্রবর্তিত শরিয়ত সর্বশ্রেষ্ঠ শরিয়ত হিসেবে আবির্ভূত হলো। এমন কোনো নেক কাজ অবশিষ্ট নেই যা বুদ্ধি সৎ কাজ হিসেবে বিবেচনা করে অথচ তিনি তার নির্দেশ দেননি, আর এমন কোনো মন্দ কাজ নেই যা বুদ্ধি অসৎ কাজ হিসেবে বিবেচনা করে অথচ তিনি তা থেকে নিষেধ করেননি। তিনি এমন কোনো বিষয়ের আদেশ দেননি...

--------------------------------------------

(১) ওয়াসক: এক বোঝা।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২০)
فَقِيلَ: لَيْتَهُ لَمْ يَأْمُرْ بِهِ، وَلَا نَهَى عَنْ شَيْءٍ فَقِيلَ: لَيْتَهُ لَمْ يَنْهَ عَنْهُ، وأحل لهم الطيبات لم يحرم منها شيئا كما حرم فى شريعة غيره، وحرم والخبائث لم يحل منها شيئا كما استحل غَيْرُهُ، وَجَمَعَ مَحَاسِنَ مَا عَلَيْهِ الْأُمَمُ، فَلَا يُذْكَرُ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالزَّبُورِ نَوْعٌ مِنَ الْخَبَرِ عَنِ اللَّهِ وَعَنِ الْمَلَائِكَةِ وَعَنِ الْيَوْمِ الْآخِرِ إِلَّا وَقَدْ جَاءَ بِهِ عَلَى أَكْمَلِ وجه، وأخبر بآشياء ليست فى الكتب وليس فِي الْكُتُبِ إِيجَابٌ لِعَدْلٍ وَقَضَاءٌ بِفَضْلٍ وَنَدْبٌ إِلَى الْفَضَائِلِ وَتَرْغِيبٌ فِي الْحَسَنَاتِ إِلَّا وَقَدْ جَاءَ بِهِ وَبِمَا هُوَ أَحْسَنُ مِنْهُ، وَإِذَا نَظَرَ اللَّبِيبُ فِي الْعَبَّادَاتِ الَّتِي شَرَعَهَا وَعِبَادَاتِ غيره من الأمم ظهر له فَضْلُهَا وَرُجْحَانُهَا. وَكَذَلِكَ فِي الْحُدُودِ وَالْأَحْكَامِ وَسَائِرِ الشَّرَائِعِ، وَأُمَّتُهُ أَكْمَلُ الْأُمَمِ فِي كُلِّ فَضِيلَةٍ، وَإِذَا قِيسَ عِلْمُهُمْ بِعِلْمِ سَائِرِ الْأُمَمِ ظَهَرَ فَضْلُ عِلْمِهِمْ، وَإِنْ قِيسَ دِينُهُمْ وَعِبَادَتُهُمْ وَطَاعَتُهُمْ لِلَّهِ بِغَيْرِهِمْ ظَهَرَ أَنَّهُمْ أَدْيَنُ مِنْ غَيْرِهِمْ، وَإِذَا قِيسَ شَجَاعَتُهُمْ وَجِهَادُهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَصَبْرُهُمْ عَلَى الْمَكَارِهِ فِي ذَاتِ اللَّهِ، ظَهَرَ أَنَّهُمْ أَعْظَمُ جِهَادًا وَأَشْجَعُ قُلُوبًا، وَإِذَا قِيسَ سخاؤهم وبرهم وَسَمَاحَةُ أَنْفُسِهِمْ بِغَيْرِهِمْ:

ظَهَرَ أَنَّهُمْ أَسْخَى وَأَكْرَمُ مِنْ غَيْرِهِمْ. وَهَذِهِ الْفَضَائِلُ بِهِ نَالُوهَا، وَمِنْهُ تعلموها، وهو الذى أرهم بها، لم يكونوا قبا مُتَّبِعِينَ لِكِتَابٍ جَاءَ هُوَ بِتَكْمِيلِهِ، كَمَا جَاءَ المسيح بِتَكْمِيلِ شَرِيعَةِ التَّوْرَاةِ، فَكَانَتْ فَضَائِلُ أَتْبَاعِ الْمَسِيحِ وَعُلُومُهُمْ بَعْضُهَا مِنَ التَّوْرَاةِ وَبَعْضُهَا مِنَ الزَّبُورِ وَبَعْضُهَا مِنَ النُّبُوَّاتِ وَبَعْضُهَا مِنَ الْمَسِيحِ وَبَعْضُهَا ممن بعده من الحواريين ومن بعض الْحَوَارِيِّينَ، وَقَدِ اسْتَعَانُوا بِكَلَامِ الْفَلَاسِفَةِ وَغَيْرِهِمْ حَتَّى أدخلوا- لما غيروا (من) دِينَ الْمَسِيحِ- فِي دِينِ الْمَسِيحِ أُمُورًا مِنْ أُمُورِ الْكُفَّارِ الْمُنَاقِضَةِ لِدِينِ الْمَسِيحِ. وَأَمَّا أُمَّةُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَكُونُوا قبله يقرؤن كِتَابًا، بَلْ عَامَّتُهُمْ مَا آمَنُوا بِمُوسَى وَعِيسَى وَدَاوُدَ وَالتَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالزَّبُورِ إِلَّا مِنْ جِهَتِهِ، وَهُوَ الَّذِي أَمَرَهُمْ أَنْ يُؤْمِنُوا بِجَمِيعِ الْأَنْبِيَاءِ، وَيُقِرُّوا بِجَمِيعِ الْكُتُبِ الْمُنَزَّلَةِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ، ونهاهم عن أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ أَحَدٍ مِنَ الرُّسُلِ، فَقَالَ تَعَالَى فِي الْكِتَابِ الَّذِي جَاءَ بِهِ قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَما أُنْزِلَ إِلَيْنا وَما أُنْزِلَ إِلى إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْباطِ وَما
সুতরাং বলা হয়: হায়! যদি তিনি এর আদেশ না দিতেন, এবং কোনো বিষয়ে নিষেধ করা হলে বলা হয়: হায়! যদি তিনি তা থেকে নিষেধ না করতেন। এবং তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো কিছুকে হারাম করেননি যেমনটি তাঁর পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহে হারাম করা হয়েছিল। এবং তিনি অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেছেন, সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো কিছুকে হালাল করেননি যেমনটি অন্যরা হালাল করেছিল। এবং তিনি জাতিসমূহের নিকট বিদ্যমান উত্তম বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন। সুতরাং তাওরাত, ইনজিল এবং যাবূরে আল্লাহ সম্পর্কে, ফেরেশতাদের সম্পর্কে এবং পরকাল সম্পর্কে এমন কোনো সংবাদ আলোচিত হয়নি যা তিনি পূর্ণাঙ্গতম পন্থায় নিয়ে আসেননি। এবং তিনি এমন বিষয়সমূহ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যা কিতাবসমূহে ছিল না। এবং কিতাবসমূহে ন্যায়বিচারের কোনো আবশ্যকতা, অনুগ্রহের ফয়সালা, শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি আহ্বান এবং নেক কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির এমন কোনো বিষয় নেই যা তিনি নিয়ে আসেননি এবং তার চেয়েও যা উত্তম তা-ও তিনি নিয়ে এসেছেন। এবং যখন কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি তাঁর প্রবর্তিত ইবাদতসমূহ এবং অন্যান্য জাতিসমূহের ইবাদতের প্রতি লক্ষ্য করে, তখন তার কাছে এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য প্রকাশ পায়। অনুরূপভাবে দণ্ডবিধি, বিধানাবলী এবং অন্যান্য শরীয়তি বিষয়ের ক্ষেত্রেও। এবং তাঁর উম্মত প্রতিটি মর্যাদার ক্ষেত্রে সকল জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ। এবং যখন তাদের জ্ঞানকে অন্যান্য জাতিসমূহের জ্ঞানের সাথে তুলনা করা হয়, তখন তাদের জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায়। আর যদি তাদের দ্বীনদারী, ইবাদত এবং আল্লাহর আনুগত্যকে অন্যদের সাথে তুলনা করা হয়, তবে প্রকাশ পায় যে তারা অন্যদের চেয়ে অধিক দ্বীনদার। এবং যখন আল্লাহর পথে তাদের সাহসিকতা ও জিহাদ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে তাদের ধৈর্যের তুলনা করা হয়, তখন প্রকাশ পায় যে তারা জিহাদের ক্ষেত্রে মহান এবং অন্তরের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা সাহসী। এবং যখন তাদের দানশীলতা, কল্যাণকামিতা এবং মনের উদারতাকে অন্যদের সাথে তুলনা করা হয়:

তখন প্রকাশ পায় যে তারা অন্যদের চেয়ে অধিক দানশীল ও সম্মানিত। এবং এই মর্যাদাগুলো তারা তাঁর মাধ্যমেই লাভ করেছে, এবং তাঁর থেকেই তা শিখেছে। এবং তিনিই তাদের এগুলোর পথ দেখিয়েছেন। তারা এর আগে এমন কোনো কিতাবের অনুসারী ছিল না যার পূর্ণতা দিতে তিনি এসেছিলেন, যেমনটি মসীহ তাঁর আগমনে তাওরাতের শরীয়ত পূর্ণ করেছিলেন। সুতরাং মসীহের অনুসারীদের মর্যাদা ও জ্ঞানসমূহের কিছু অংশ ছিল তাওরাত থেকে, কিছু যাবূর থেকে, কিছু নবুওয়াতসমূহ থেকে, কিছু মসীহ থেকে, এবং কিছু তাঁর পরবর্তী হাওয়ারী (শিষ্য) ও তাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে। এবং তারা দার্শনিক ও অন্যদের কথাবার্তার সাহায্য নিয়েছিল, এমনকি তারা যখন মসীহের দ্বীনকে পরিবর্তন করে ফেলেছিল—তখন তারা মসীহের দ্বীনের মধ্যে কাফেরদের এমন অনেক বিষয় অনুপ্রবেশ করিয়েছিল যা মসীহের দ্বীনের পরিপন্থী। পক্ষান্তরে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মত তাঁর আগে কোনো কিতাব পাঠ করত না। বরং তাদের সাধারণ মানুষ মূসা, ঈসা, দাউদ এবং তাওরাত, ইনজিল ও যাবূরের প্রতি ঈমান এনেছে কেবল তাঁরই মাধ্যমে। এবং তিনিই তাদের আদেশ করেছেন যেন তারা সকল নবী-রাসূলের প্রতি ঈমান আনে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিলকৃত সকল কিতাবকে স্বীকার করে নেয়। এবং তিনি তাদের নিষেধ করেছেন যেন তারা রাসূলদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য না করে। সুতরাং তিনি যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তাতে মহান আল্লাহ বলেছেন: “তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা...”
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২১)
أُوتِيَ مُوسى وَعِيسى وَما أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ (136) فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّما هُمْ فِي شِقاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (137) «1» وَقَالَ تَعَالَى: آمَنَ الرَّسُولُ بِما أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ وَقالُوا سَمِعْنا وَأَطَعْنا غُفْرانَكَ رَبَّنا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ (285) لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَّا وُسْعَها لَها ما كَسَبَتْ وَعَلَيْها مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنا لا تُؤاخِذْنا إِنْ نَسِينا أَوْ أَخْطَأْنا رَبَّنا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنا إِصْراً كَما حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنا رَبَّنا وَلا تُحَمِّلْنا ما لا طاقَةَ لَنا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنا وَارْحَمْنا أَنْتَ مَوْلانا فَانْصُرْنا عَلَى الْقَوْمِ الْكافِرِينَ (286) «2» الآية. وأمته عليه السلام لا يستحلون أن يوجدوا اشيئا مِنَ الدِّينِ غَيْرَ مَا جَاءَ بِهِ، وَلَا يَبْتَدِعُونَ بِدَعَةً مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ، وَلَا يَشْرَعُونَ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ، لَكِنَّ مَا قَصَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ أَخْبَارِ الْأَنْبِيَاءِ وَأُمَمِهِمُ، اعْتَبَرُوا بِهِ، وَمَا حدثهم أَهْلُ الْكِتَابِ مُوَافِقًا لِمَا عِنْدَهُمْ صَدَّقُوهُ، وَمَا لم يعلم صِدْقَهُ وَلَا كَذِبَهُ أَمْسَكُوا عَنْهُ، وَمَا عَرَفُوا بأنه بَاطِلٌ كَذَّبُوهُ، وَمَنْ أَدْخَلَ فِي الدِّينِ مَا ليس منه من أقوال متفلسفة الهند والفرس واليونان أَوْ غَيْرِهِمْ، كَانَ عِنْدَهُمْ مِنْ أَهْلِ الْإِلْحَادِ وَالِابْتِدَاعِ. وَهَذَا هُوَ الدِّينُ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعُونَ، وَهُوَ الَّذِي عَلَيْهِ أَئِمَّةُ الدِّينِ الَّذِينَ لَهُمْ فِي الْأُمَّةِ لِسَانُ صِدْقٍ، وَعَلَيْهِ جَمَاعَةُ المسلمين وعامتهم، ومن خرج من ذَلِكَ كَانَ مَذْمُومًا مَدْحُورًا عِنْدَ الْجَمَاعَةِ، وَهُوَ مذهب أهل السنة والجماعة، الظاهرين إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ، الَّذِينَ قَالَ فِيهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ وَلَا مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ» وَقَدْ يَتَنَازَعُ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ مَعَ اتِّفَاقِهِمْ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ الَّذِي هُوَ دِينُ الرُّسُلِ عُمُومًا، وَدِينُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم خُصُوصًا، وَمَنْ خَالَفَ فِي هَذَا الْأَصْلِ كَانَ عِنْدَهُمْ مُلْحِدًا مَذْمُومًا، لَيْسُوا كَالنَّصَارَى الَّذِينَ ابتدعوا دينا

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآيتان: 136- 137.

(2) سورة البقرة: الآيتان: 285- 286.
মূসা ও ঈসাকে যা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের রবের পক্ষ থেকে নবীগণকে যা দেওয়া হয়েছে, আমরা তাঁদের কারও মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম (১৩৬)। অতঃপর তোমরা যেভাবে ঈমান এনেছ, তারা যদি তদ্রূপ ঈমান আনে, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধেই লিপ্ত। সুতরাং তাদের বিপরীতে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা (১৩৭) «১» এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: রাসূল তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি। আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কারও মাঝে কোনো পার্থক্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল (২৮৫)। আল্লাহ কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা উপার্জন করেছে তা তারই জন্য এবং সে যা কামাই করেছে তা তারই ওপর বর্তাবে। হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন ভারী বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আপনি আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেবেন না যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আপনি আমাদের মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন (২৮৬) «২» আয়াত। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মত দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভাবন করা বৈধ মনে করে না যা তিনি নিয়ে আসেননি। তারা এমন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে না যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো দলিল অবতীর্ণ করেননি। তারা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছুর বিধান দেয় না যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। বরং নবীগণের এবং তাঁদের উম্মতগণের যে সংবাদ আল্লাহ তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তা থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। আর আহলে কিতাবগণ তাদের নিকট এমন কিছু বর্ণনা করলে যা তাদের নিকট বিদ্যমান বিষয়ের অনুকূল হয়, তবে তারা তা সত্য বলে গ্রহণ করে। আর যার সত্যতা বা মিথ্যা হওয়া সম্পর্কে জানা যায় না, সে বিষয়ে তারা মৌনতা অবলম্বন করে। আর যা বাতিল বলে তারা জানতে পারে, তাকে তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর যারা দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত করে যা দ্বীনের অংশ নয়—যেমন ভারত, পারস্য ও গ্রিসের দার্শনিকদের বা অন্যদের মতামত—তারা তাদের নিকট ধর্মত্যাগী ও বিদআতি বলে গণ্য। এটাই সেই দ্বীন যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ এবং তাবিঈগণ ছিলেন। এই দ্বীনের ওপরই রয়েছেন দ্বীনের সেই ইমামগণ উম্মতের মধ্যে যাদের সুখ্যাতি রয়েছে। এর ওপরই মুসলিম জামাত ও সাধারণ জনগণ প্রতিষ্ঠিত। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হয়, সে জামাতের নিকট নিন্দিত ও বিতাড়িত। আর এটাই হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মাযহাব, যারা কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে। যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে কিংবা যারা তাদের সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবে তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না»। কোনো কোনো মুসলিম কখনও কখনও এই মূলনীতির ক্ষেত্রে মতপার্থক্য করতে পারে, যদিও তারা সাধারণভাবে রাসূলগণের দ্বীন এবং বিশেষভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীনের এই মূলনীতির ওপর একমত। আর যে ব্যক্তি এই মূলনীতির বিরোধিতা করে, সে তাদের নিকট নিন্দিত ধর্মত্যাগী। তারা নাসারাদের মতো নয় যারা একটি দ্বীন উদ্ভাবন করেছে

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৩৬-১৩৭।

(২) সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত: ২৮৫-২৮৬।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২২)
ما قَامَ بِهِ أَكَابِرُ عُلَمَائِهِمْ وَعُبَّادِهِمْ وَقَاتَلَ عَلَيْهِ مُلُوكُهُمْ، وَدَانَ بِهِ جُمْهُورُهُمْ، وَهُوَ دِينٌ مُبْتَدَعٌ لَيْسَ هُوَ دِينَ الْمَسِيحِ وَلَا دِينَ غَيْرِهِ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ، وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ أَرْسَلَ رُسُلَهُ بِالْعِلْمِ النَّافِعِ، وَالْعَمَلِ الصَّالِحِ، فَمَنِ اتَّبَعَ الرُّسُلَ حَصَلَ لَهُ سَعَادَةُ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَإِنَّمَا دَخَلَ فِي الْبِدَعِ مَنْ قَصَّرَ فِي اتِّبَاعِ الْأَنْبِيَاءِ عِلْمًا وَعَمَلًا. وَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ، تَلَقَّى ذَلِكَ عنه المسلمون (من أُمَّتُهُ) ، فَكُلُّ عِلْمٍ نَافِعٍ وَعَمَلٍ صَالِحٍ عَلَيْهِ أمة محمد، أخذوه عن نبيهم كما ظهر لِكُلِّ عَاقِلٍ أَنَّ أُمَّتَهُ أَكْمَلُ الْأُمَمِ فِي جَمِيعِ الْفَضَائِلِ، الْعِلْمِيَّةِ وَالْعَمَلِيَّةِ، وَمَعْلُومٌ أَنَّ كُلَّ كَمَالٍ فِي الْفَرْعِ الْمُتَعَلِّمِ هُوَ فِي الْأَصْلِ المعلم، وهذا يقتضى أنه عليه السلام كَانَ أَكْمَلَ النَّاسِ عِلْمًا وَدِينًا. وَهَذِهِ الْأُمُورُ تُوجِبُ الْعِلْمَ الضَّرُورِيَّ بِأَنَّهُ كَانَ صَادِقًا فِي قوله: «إنى رسول الله إليكم جميعا» لَمْ يَكُنْ كَاذِبًا مُفْتَرِيًا، فَإِنَّ هَذَا الْقَوْلَ لَا يَقُولُهُ إِلَّا مَنْ هُوَ مِنْ خِيَارِ النَّاسِ وَأَكْمَلِهِمْ، إِنْ كَانَ صَادِقًا، أَوْ مَنْ هُوَ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ وَأَخْبَثِهِمْ إِنْ كَانَ كَاذِبًا، وَمَا ذُكِرَ مِنْ كَمَالِ عِلْمِهِ وَدِينِهِ يُنَاقِضُ الشَّرَّ وَالْخُبْثَ وَالْجَهْلَ؛ فَتَعَيَّنَ أَنَّهُ مُتَّصِفٌ بِغَايَةِ الْكَمَالِ فِي الْعِلْمِ وَالدِّينِ، وَهَذَا يَسْتَلْزِمُ أَنَّهُ كَانَ صَادِقًا فِي قَوْلِهِ:

إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعاً «1» لِأَنَّ الَّذِي لَمْ يَكُنْ صَادِقًا إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُتَعَمِّدًا لِلْكَذِبِ أَوْ مُخْطِئًا وَالْأَوَّلُ يُوجِبُ أَنَّهُ كَانَ ظَالِمًا غَاوِيًا، وَالثَّانِي يَقْتَضِي أَنَّهُ كَانَ جَاهِلًا ضَالًّا، وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم كان عِلْمِهِ يُنَافِي جَهْلَهُ، وَكَمَالُ دِينِهِ يُنَافِي تَعَمُّدَ الْكَذِبِ، فَالْعِلْمُ بِصِفَاتِهِ يَسْتَلْزِمُ الْعِلْمَ بِأَنَّهُ لَمْ يكن يتعمد الكذب وَلَمْ يَكُنْ جَاهِلًا يَكْذِبُ بِلَا عِلْمٍ، وَإِذَا انْتَفَى هَذَا وَذَاكَ تَعَيَّنَ أَنَّهُ كَانَ صَادِقًا عَالِمًا بِأَنَّهُ صَادِقٌ وَلِهَذَا نَزَّهَهُ اللَّهُ عَنْ هَذَيْنَ الْأَمْرَيْنِ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: وَالنَّجْمِ إِذا هَوى (1) مَا ضَلَّ صاحِبُكُمْ وَما غَوى (2) وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحى (4)

«2» وَقَالَ تَعَالَى عَنِ الْمَلَكِ الَّذِي جَاءَ بِهِ إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (19) ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ (20) مُطاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف، الآية: 158.

(2) سورة النجم، الآيات: 1- 4.
যা তাদের বড় বড় আলেম ও ইবাদতকারীরা পালন করেছে, যার জন্য তাদের রাজারা যুদ্ধ করেছে এবং তাদের আপামর জনসাধারণ যা গ্রহণ করেছে—তা মূলত একটি উদ্ভাবিত ধর্ম (বিদআত); এটি মসীহের ধর্ম নয় এবং অন্য কোনো নবীর ধর্মও নয়। আর মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমলসহ প্রেরণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলদের অনুসরণ করবে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করবে। আর বিদআতের মধ্যে মূলত তারাই প্রবেশ করেছে, যারা জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে নবীদের অনুসরণে অবহেলা করেছে। যখন আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করলেন, তখন মুসলিমরা (তাঁর উম্মত) তা তাঁর কাছ থেকে গ্রহণ করল। ফলে মুহাম্মাদের উম্মতের নিকট যে সকল উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল রয়েছে, তা তারা তাদের নবীর নিকট থেকেই লাভ করেছে। যেমনটি প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে স্পষ্ট যে, তাঁর উম্মত জ্ঞানগত ও আমলগত সকল মর্যাদার ক্ষেত্রে সমস্ত উম্মতের মধ্যে সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ। আর এটি সুবিদিত যে, শিক্ষার্থী বা অনুসারী শাখার মধ্যে যে পূর্ণতা থাকে, তা মূলত শিক্ষক বা মূল উৎসের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে। এটি এটাই দাবি করে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) জ্ঞান ও দ্বীনের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ছিলেন। আর এই বিষয়গুলো অকাট্যভাবে এই জ্ঞান দান করে যে, তিনি তাঁর এই উক্তিতে সত্যবাদী ছিলেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল।" তিনি মিথ্যাবাদী বা অপবাদকারী ছিলেন না। কারণ, এই কথাটি হয় মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ কোনো ব্যক্তিই বলতে পারে—যদি সে সত্যবাদী হয়, অথবা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও পাপিষ্ঠ কোনো ব্যক্তি বলতে পারে—যদি সে মিথ্যাবাদী হয়। আর তাঁর জ্ঞান ও দ্বীনের যে পূর্ণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মন্দত্ব, পঙ্কিলতা ও মূর্খতার বিপরীত। সুতরাং এটি সুনিশ্চিত যে, তিনি জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। আর এটি অপরিহার্য করে দেয় যে, তিনি তাঁর এ বাণীতে সত্যবাদী ছিলেন:

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর রাসূল «১» কারণ, যে ব্যক্তি সত্যবাদী নয়, সে হয় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাবাদী অথবা সে ভুলকারী। প্রথমটি তাকে যালিম ও বিপথগামী সাব্যস্ত করে এবং দ্বিতীয়টি তাকে মূর্খ ও পথভ্রষ্ট হিসেবে প্রমাণ করে। অথচ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জ্ঞান তাঁর মূর্খতাকে নাকচ করে এবং তাঁর দ্বীনের পূর্ণতা ইচ্ছাকৃত মিথ্যা বলাকে নাকচ করে। সুতরাং তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এটি জানাকে অপরিহার্য করে দেয় যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলেননি এবং তিনি এমন মূর্খও ছিলেন না যে জ্ঞান ছাড়াই মিথ্যা বলবেন। যখন এই উভয় সম্ভাবনা বাতিল হয়ে গেল, তখন এটি সুনিশ্চিত হলো যে তিনি সত্যবাদী ছিলেন এবং তিনি জানতেন যে তিনি সত্যবাদী। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা এই দুটি বিষয় থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করে মহান আল্লাহর বাণী দ্বারা ইরশাদ করেছেন: শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয় (১) তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি (২) আর তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না (৩) এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয় (৪)

«২» আর মহান আল্লাহ সেই ফেরেশতা সম্পর্কে বলেছেন যিনি এটি (ওহী) নিয়ে এসেছেন: নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী (১৯) যিনি শক্তিশালী এবং আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাবান (২০) সেখানে তিনি মান্যবর ও বিশ্বস্ত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৮।

(২) সূরা আন-নাজম, আয়াত: ১-৪।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
(21) «1» ثُمَّ قَالَ عَنْهُ: وَما صاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ (22) وَلَقَدْ رَآهُ بِالْأُفُقِ الْمُبِينِ (23) وَما هُوَ عَلَى الْغَيْبِ بِضَنِينٍ (24) وَما هُوَ بِقَوْلِ شَيْطانٍ رَجِيمٍ (25) فَأَيْنَ تَذْهَبُونَ (26) إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ لِلْعالَمِينَ (27) لِمَنْ شاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ (28) وَما تَشاؤُنَ إِلَّا أَنْ يَشاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعالَمِينَ (29) «2» وَقَالَ تَعَالَى: وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعالَمِينَ (192) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ (193) عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ (194) «3» إِلَى قَوْلِهِ: هَلْ أُنَبِّئُكُمْ عَلى مَنْ تَنَزَّلُ الشَّياطِينُ (221) تَنَزَّلُ عَلى كُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ (222) يُلْقُونَ السَّمْعَ وَأَكْثَرُهُمْ كاذِبُونَ (223) «4» بَيَّنَ سُبْحَانَهُ أَنَّ الشَّيْطَانَ إِنَّمَا يَنْزِلُ عَلَى مَنْ يُنَاسِبُهُ لِيَحْصُلَ بِهِ غَرَضُهُ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَقْصِدُ الشَّرَّ، وَهُوَ الْكَذِبُ وَالْفُجُورُ، وَلَا يَقْصِدُ الصِّدْقَ وَالْعَدْلَ، فَلَا يَقْتَرِنُ إِلَّا بِمَنْ فِيهِ كذب إما عمدا وإما خطأ وفجورا أَيْضًا فَإِنَّ الْخَطَأَ فِي الدِّينِ هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ أَيْضًا كَمَا قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ لَمَّا سئل عن مسألة: أقول فيها برأيي فَإِنْ يَكُنْ صَوَابًا فَمِنَ اللَّهِ، وَإِنْ يَكُنْ خَطَأً فَمِنِّي وَمِنَ الشَّيْطَانِ، وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ بَرِيئَانِ منه، فإن رسول الله برىء من تنزل الشياطين عَلَيْهِ فِي الْعَمْدِ وَالْخَطَأِ، بِخِلَافِ غَيْرِ الرَّسُولِ فإنه قد يخطىء وَيَكُونُ خَطَؤُهُ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَإِنْ كَانَ خَطَؤُهُ مغفورا له، فإذا لم يعرف له خبرا أخبر به كان فيه مخطئا، ولا أمرا أَمَرَ بِهِ كَانَ فِيهِ فَاجِرًا عُلِمَ أَنَّ الشَّيْطَانَ لَمْ يَنْزِلْ عَلَيْهِ وَإِنَّمَا يَنْزِلُ عَلَيْهِ مَلَكٌ كَرِيمٌ، وَلِهَذَا قَالَ فِي الْآيَةِ الْأُخْرَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ (40) وَما هُوَ بِقَوْلِ شاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ (41) وَلا بِقَوْلِ كاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ (42) تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعالَمِينَ (43) «5» انتهى ما ذكره، وهذا عين ما أورده بحروفه.

--------------------------------------------

(1) سورة التكوير، الآيات: 19- 21.

(2) سورة التكوير، الآيات: 22- 27.

(3) سورة الشعراء، الآيات: 192- 195.

(4) سورة الشعراء، الآيات: 221- 223.

(5) سورة الحاقة، الآيات: 40- 43.
(২১) «১» অতঃপর তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তোমাদের সাথী পাগল নন (২২) তিনি অবশ্যই তাঁকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন (২৩) তিনি অদৃশ্যের সংবাদ দানে কৃপণ নন (২৪) আর এটি বিতাড়িত শয়তানের কথা নয় (২৫) অতএব তোমরা কোথায় যাচ্ছ? (২৬) এটি বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয় (২৭) তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য (২৮) আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না, যদি না বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন (২৯) «২» এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (১৯২) তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বস্ত আত্মা (১৯৩) আপনার অন্তরে, যেন আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন (১৯৪) «৩» তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: আমি কি তোমাদের সংবাদ দেব যে কার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়? (২২১) তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট (২২২) তারা কান পেতে শুনে এবং তাদের অধিকাংশ মিথ্যাবাদী (২২৩) «৪» আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বর্ণনা করেছেন যে, শয়তান কেবল তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যক্তিদের নিকটই অবতীর্ণ হয় যাতে তার উদ্দেশ্য সফল হতে পারে। কেননা শয়তান অকল্যাণ তথা মিথ্যা ও পাপাচারের ইচ্ছা করে, সত্য ও ন্যায়ের ইচ্ছা সে করে না। তাই সে কেবল এমন ব্যক্তির সাথেই যুক্ত হয় যার মধ্যে মিথ্যা রয়েছে—তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত হোক—এবং পাপাচারও। কেননা দীনের বিষয়ে ভুল করাও শয়তানের পক্ষ থেকে হয়, যেমন ইবনে মাসউদ (রা.)-কে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "আমি এ বিষয়ে আমার নিজস্ব মত প্রদান করছি; যদি তা সঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এ থেকে মুক্ত।" কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোনো ক্ষেত্রে শয়তান অবতীর্ণ হওয়া থেকে তিনি মুক্ত। রাসূল ছাড়া অন্যদের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তারা ভুল করতে পারেন এবং তাদের ভুল শয়তানের পক্ষ থেকে হতে পারে, যদিও সেই ভুল তাদের জন্য ক্ষমাযোগ্য। সুতরাং যখন তাঁর থেকে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি যাতে তিনি ভুল করেছেন, কিংবা এমন কোনো নির্দেশ যা পাপাচার ছিল, তখন প্রমাণিত হলো যে তাঁর ওপর শয়তান অবতীর্ণ হয়নি, বরং তাঁর ওপর একজন সম্মানিত ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়েছেন। এই কারণেই তিনি নবী (সা.) সম্পর্কে অন্য আয়াতে বলেছেন: নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী (৪০) এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস কর (৪১) আর এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর (৪২) এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪৩) «৫» তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা সমাপ্ত হলো, এবং এটিই হুবহু তাঁর বর্ণিত পাঠ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাকভীর, আয়াত: ১৯-২১।

(২) সূরা আত-তাকভীর, আয়াত: ২২-২৭।

(৩) সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ১৯২-১৯৫।

(৪) সূরা আশ-শুআরা, আয়াত: ২২১-২২৩।

(৫) সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৪০-৪৩।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌باب دلائل النبوة الحسيّة

‌‌[فصل المعجزات السماوية]

‌‌[انشقاق القمر]

وَمِنْ أَعْظَمِ ذَلِكَ كُلِّهِ انْشِقَاقُ الْقَمَرِ الْمُنِيرِ فِرْقَتَيْنِ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ (1) وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ (2) وَكَذَّبُوا وَاتَّبَعُوا أَهْواءَهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُسْتَقِرٌّ (3) وَلَقَدْ جاءَهُمْ مِنَ الْأَنْباءِ مَا فِيهِ مُزْدَجَرٌ (4) حِكْمَةٌ بالِغَةٌ فَما تُغْنِ النُّذُرُ (5) «1» وَقَدِ اتَّفَقَ الْعُلَمَّاءُ مَعَ بَقِيَّةِ الْأَئِمَّةِ عَلَى أَنَّ انْشِقَاقَ الْقَمَرِ كَانَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ وَرَدَتِ الْأَحَادِيثُ بِذَلِكَ مِنْ طُرُقٍ تُفِيدُ الْقَطْعَ عِنْدَ الْأُمَّةِ.

 

‌‌رِوَايَةُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ

قَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ:

سَأَلَ أَهْلُ مَكَّةَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم آيَةً فَانْشَقَّ القمر بمكة فرقتين فَقَالَ: اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ (1) «2» .

وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ.

وَقَالَ الْبُخَارِيُّ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بن عبد الوهاب، ثنا بشر ابن الْمُفَضَّلِ، ثَنَا سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ أنس ابن مَالِكٍ أَنَّ أَهْلَ مَكَّةَ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُرِيَهُمْ آيَةً فَأَرَاهُمُ القمر شقين، حَتَّى رَأَوْا حِرَاءَ بَيْنَهُمَا.

وَأَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْ حَدِيثِ شَيْبَانَ عَنْ قَتَادَةَ، وَمُسْلِمٍ مِنْ

--------------------------------------------

(1) سورة القمر الآيات: 1- 5.

(2) سورة القمر، الآية: 1. والحديث أخرجه أحمد في مسنده (1/ 377، 413، 447) .
নবুওয়তের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণাদির অধ্যায়

‌‌[আসমানি মুজিজাসমূহের পরিচ্ছেদ]

‌‌[চন্দ্র দ্বিধাবিভক্ত হওয়া]

এ সবকিছুর মধ্যে অন্যতম মহান বিষয় হলো উজ্জ্বল চন্দ্রের দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। (১) তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, 'এ তো এক চিরন্তন জাদু।' (২) তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেছে; আর প্রতিটি বিষয়ই চূড়ান্ত পরিণতির দিকে স্থির। (৩) তাদের কাছে এমন সব সংবাদ এসেছে যাতে (পাপ হতে) বিরত হওয়ার উপাদান রয়েছে— (৪) যা এক পরিপূর্ণ হিকমত; তবে সতর্কবাণী কোনো কাজে আসে না (৫)।" উলামায়ে কেরাম এবং অন্যান্য আইম্মায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগেই সংঘটিত হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে এমন সব সূত্রে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা উম্মতের কাছে অকাট্য ও নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে।

 

‌‌আনাস ইবনে মালিকের বর্ণনা

ইমাম আহমাদ বলেন: আমাদের কাছে আব্দুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে মা'মার কাতাদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

মক্কাবাসীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট একটি নিদর্শনের দাবি করল, তখন মক্কায় চাঁদ দুই টুকরো হয়ে বিভক্ত হলো। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।" (১)।

ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে রাফি'র সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারি বলেন: আমার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে সাঈদ ইবনে আবি আরূবাহ কাতাদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কাবাসীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো নিদর্শন দেখানোর আবেদন করল। তখন তিনি তাদেরকে চাঁদ দুই ভাগে বিভক্ত করে দেখালেন, এমনকি তারা সেই দুই ভাগের মাঝখানে হিরা পাহাড়কে দেখতে পাচ্ছিল।

তাঁরা উভয়েই সহিহাইন গ্রন্থে শায়বানের হাদিস থেকে কাতাদাহর সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন, আর মুসলিম...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কামার, আয়াত: ১-৫।

(২) সূরা আল-কামার, আয়াত: ১। হাদিসটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে (১/ ৩৭৭, ৪১৩, ৪৪৭) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
حَدِيثِ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ.

 

‌‌رِوَايَةُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ

قَالَ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، ثنا سليمان بن بكير، عن حصين ابن عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَارَ فِرْقَتَيْنِ: فِرْقَةً عَلَى هَذَا الْجَبَلِ وَفِرْقَةً عَلَى هَذَا الْجَبَلِ، فَقَالُوا: سَحَرَنَا مُحَمَّدٌ، فَقَالُوا: إِنْ كَانَ سَحَرَنَا فَإِنَّهُ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يسحر الناس. تفرد به أحمد. ورواية ابْنُ جَرِيرٍ وَالْبَيْهَقِيُّ مِنْ طُرُقٍ عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِهِ.

 

‌‌رِوَايَةُ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ

قَالَ أَبُو جَعْفَرِ بْنُ جَرِيرٍ: حَدَّثَنِي يعقوب، حدثنى ابن علية، أنا عطاء ابن السَّائِبِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ قَالَ: نَزَلْنَا الْمَدَائِنَ فَكُنَّا مِنْهَا عَلَى فَرْسَخٍ فَجَاءَتِ الْجُمُعَةُ فَحَضَرَ أَبِي وَحَضَرْتُ مَعَهُ، فَخَطَبَنَا حُذَيْفَةُ فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ «1» أَلَا وَإِنَّ السَّاعَةَ قَدِ اقْتَرَبَتْ، أَلَا وَإِنَّ الْقَمَرَ قَدِ انْشَقَّ، أَلَا وَإِنَّ الدُّنْيَا قَدْ آذَنَتْ بِفِرَاقٍ، أَلَا وَإِنَّ الْيَوْمَ الْمِضْمَارُ وَغَدًا السِّبَاقُ. فَقُلْتُ لِأَبِي: أَتَسْتَبِقُ النَّاسُ غدا؟ فقال: يا بنى إنك الجاهل، إِنَّمَا هُوَ السِّبَاقُ بِالْأَعْمَالِ، ثُمَّ جَاءَتِ الْجُمُعَةُ الأخرى فحضرها فَخَطَبَ حُذَيْفَةُ، فَقَالَ: أَلَا إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ ألا وإن الدنيا قد آذنت بفراق، وَرَوَاهُ أَبُو زُرْعَةَ الرَّازِيُّ فِي كِتَابِ دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ حُذَيْفَةَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ، وَقَالَ: أَلَا وَإِنَّ الْقَمَرَ قَدِ انْشَقَّ عَلَى عَهْدِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَلَا وإن اليوم المضمار وغدا يالسباق، ألا وإن الغاية النار، والسباق من سبق إلى الجنة.

--------------------------------------------

(1) سورة القمر، الآية: 1.
শু’বার হাদীস কাতাদাহ হতে।

 

‌‌জুবায়ের ইবনে মুতঈম-এর বর্ণনা

আহমাদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতঈম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল এবং দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল: এক ভাগ এই পাহাড়ের ওপর এবং অন্য ভাগ ওই পাহাড়ের ওপর। তখন তারা বলল: মুহাম্মদ আমাদের ওপর জাদু করেছে। এরপর তারা বলল: সে যদি আমাদের ওপর জাদু করে থাকে, তবে সে তো সব মানুষের ওপর জাদু করতে পারবে না। আহমাদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর এবং বায়হাকীও বিভিন্ন সূত্রে হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান হতে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান-এর বর্ণনা

আবু জাফর ইবনে জারীর বলেন: ইয়াকুব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে উলাইয়্যাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে সাইব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী থেকে, তিনি বলেন: আমরা মাদায়েন শহরে অবতরণ করেছিলাম এবং সেখান থেকে এক ফারসাখ দূরত্বে ছিলাম। জুমুআর দিন উপস্থিত হলে আমার পিতা উপস্থিত হলেন এবং আমিও তাঁর সাথে উপস্থিত হলাম। তখন হুযাইফা আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: 'কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে' (১)। জেনে রেখো, কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে; জেনে রেখো, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে; জেনে রেখো, দুনিয়া বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছে; জেনে রেখো, আজ হলো প্রস্তুতির দিন আর আগামীকাল হলো প্রতিযোগিতার দিন। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: আগামীকাল কি মানুষ দৌড় প্রতিযোগিতা করবে? তিনি বললেন: হে বৎস, তুমি তো নির্বোধ; মূলত এটি আমলের প্রতিযোগিতা। এরপর পরবর্তী জুমুআ আসলে তিনি তাতে উপস্থিত হলেন এবং হুযাইফা খুতবা দিলেন। তিনি বললেন: জেনে রেখো, আল্লাহ বলেন: 'কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে'। জেনে রেখো, দুনিয়া বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছে। আবু যুরআ আর-রাযী তাঁর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে আতা ইবনে সাইব থেকে আবু আবদুর রহমান ও হুযাইফার সূত্রে এটি বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন: জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। জেনে রেখো, আজ হলো প্রস্তুতির দিন এবং আগামীকাল হলো প্রতিযোগিতার দিন। জেনে রেখো, শেষ গন্তব্য হলো জাহান্নাম, আর বিজয়ী সেই যে জান্নাতের দিকে অগ্রগামী হয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কামার, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌رِوَايَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ

قَالَ الْبُخَارِيُّ: ثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، ثَنَا بَكْرٌ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُبَيْدِ الله ابن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرِ فِي زَمَانِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم «1» .

وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ أَيْضًا وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ بِهِ.

طَرِيقٌ أُخْرَى عَنْهُ- قَالَ ابْنُ جَرِيرٍ: ثَنَا ابْنُ مُثَنَّى، ثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى، ثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدَ عَنْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ:

اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ (1) وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ»

قَالَ: قَدْ مَضَى ذَلِكَ، كَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ انْشَقَّ الْقَمَرُ حَتَّى رَأَوْا شِقَّيْهِ.

وَرَوَى الْعَوْفِيُّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوًا مِنْ هَذَا. وَقَدْ رُوِيَ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ أبو القاسم الطبرانى: ثنا أحمد بن عمر والبزار، ثنا محمد بن يحيى القطيعى، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بُكَيْرٍ، ثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كَسَفَ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا: سَحَرَ الْقَمَرَ، فَنَزَلَتْ: اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ (1) وَإِنْ يَرَوْا آيَةً يُعْرِضُوا وَيَقُولُوا سِحْرٌ مُسْتَمِرٌّ وَهَذَا سِيَاقٌ غَرِيبٌ. وَقَدْ يَكُونُ حَصَلَ لِلْقَمَرِ مَعَ انْشِقَاقِهِ كُسُوفٌ فَيَدُلُّ عَلَى أَنَّ انْشِقَاقَهُ إِنَّمَا كَانَ فِي لَيَالِي إِبْدَارِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

--------------------------------------------

(1) البخاري في كتاب التفسير (4866) (13/ 601) .

(2) سورة القمر، الآيتان: 1- 2.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বর্ণনা

বুখারী বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বাকর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর থেকে, তিনি ইরাক ইবনে মালিক থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল (১)।

ইমাম বুখারী এবং মুসলিম এটি বাকর ইবনে মুদার থেকে, তিনি জাফর ইবনে রাবিআহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি সূত্র—ইবনে জারীর বলেছেন: ইবনুল মুসান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল আলা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে আবি হিন্দ আমাদের কাছে আলী ইবনে আবি তালহা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন:

"কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে (১)। আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, 'এ তো এক চলমান জাদু'।"

তিনি বলেন: তা অতিবাহিত হয়েছে, হিজরতের আগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল এমনকি তারা এর দুই খণ্ড দেখেছিল।

আওফী ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস থেকে অন্য একটি সূত্রেও এটি বর্ণিত হয়েছে, আবুল কাসেম আত-তাবারানী বলেছেন: আহমদ ইবনে আমর আল-বাযযার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কাতিয়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে জুরাইজ আমাদের কাছে আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল, তখন তারা বলল: তিনি চাঁদের ওপর জাদু করেছেন। তখন অবতীর্ণ হলো: "কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে (১)। আর তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, 'এ তো এক চলমান জাদু'।" এই বর্ণনাভঙ্গিটি বিরল। হতে পারে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সাথে সাথে চন্দ্রগ্রহণও হয়েছিল, যা নির্দেশ করে যে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনাটি পূর্ণিমার রাতগুলোতেই ঘটেছিল। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) বুখারী, কিতাবুত তাফসীর (৪৮৬৬) (১৩/ ৬০১)।

(২) সূরা আল-কামার, আয়াত: ১-২।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌رِوَايَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ

قَالَ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ الْبَيْهَقِيُّ: أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَأَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْأَصَمُّ، ثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ:

ثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ شُعْبَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ (عَنْ مُجَاهِدٍ) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فِي قَوْلِهِ: اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ.

قَالَ: وَقَدْ كَانَ ذَلِكَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْشَقَّ فِلْقَتَيْنِ فِلْقَةً مِنْ دُونِ الْجَبَلِ وَفِلْقَةً مِنْ خَلْفِ الْجَبَلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: اللَّهُمَّ اشْهَدْ.

وَهَكَذَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ مِنْ طُرُقٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: مُسْلِمٌ كَرِوَايَةِ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَسَنٌ صَحِيحٌ.

 

‌‌رِوَايَةُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مسعود

قال الإمام أحمد: ثنا سفيان بن أَبِي نَجِيحٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شِقَّتَيْنِ حَتَّى نَظَرُوا إِلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْهَدُوا «1» ، وَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ ومسلم من حديث سفيان ابن عُيَيْنَةَ، وَأَخْرَجَاهُ مِنْ حَدِيثِ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ عبد الله ابن سَخْبَرَةَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ بِهِ.

قَالَ الْبُخَارِيُّ: وَقَالَ أَبُو الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بِمَكَّةَ، وَهَذَا الَّذِي عَلَّقَهُ الْبُخَارِيُّ قَدْ أَسْنَدَهُ أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ فِي مُسْنَدِهِ، فَقَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عن مسروق بن عبد الله بن مسعود قال:

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في مسنده (1/ 377) ، والبخاري في كتاب التفسير (4864) (13/ 600) .
আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব-এর বর্ণনা

হাফিজ আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু বকর আহমদ বিন হাসান আল-কাজী। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-আসাম্ম, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্বাস বিন মুহাম্মদ আদ-দুরী:

আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ওয়াহাব বিন জারীর, শু'বা থেকে, তিনি আমাশ থেকে, (তিনি মুজাহিদ থেকে), তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে আল্লাহর বাণী: "কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে" প্রসঙ্গে।

তিনি বলেন: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ঘটেছিল। চন্দ্র দুই খণ্ডে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল; এক খণ্ড পাহাড়ের এপাশে এবং অন্য খণ্ড পাহাড়ের ওপাশে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।

ইমাম মুসলিম এবং তিরমিযীও শু'বা থেকে আমাশের সূত্রে মুজাহিদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম বলেন: এটি আবু মা’মার এর সূত্রে ইবনে মাসউদ থেকে মুজাহিদের বর্ণনার অনুরূপ। ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি হাসান সহীহ।

 

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণনা

ইমাম আহমদ বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান বিন আবু নাজীয়াহ, মুজাহিদ থেকে, তিনি আবু মা’মার থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ চিরে দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা সাক্ষী থাক (১)। ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে এটি আমাশের সূত্রে ইবরাহীম থেকে, তিনি আবু মা’মার আবদুল্লাহ ইবনে সাখবারাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারী বলেন: আবু দুহা মাসরুকের সূত্রে আবদুল্লাহ থেকে মক্কায় (এই ঘটনা ঘটার কথা) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী যে বর্ণনাটি মুআল্লাক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবু দাউদ আত-তায়ালিসী তাঁর মুসনাদে তা মুসনাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আওয়ানা, মুগীরা থেকে, তিনি আবু দুহা থেকে, তিনি মাসরুক বিন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে (১/৩৭৭) এবং বুখারী তাফসীর অধ্যায়ে (৪৮৬৪) (১৩/৬০০) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ قُرَيْشٌ: هَذَا سِحْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ، قَالَ: فَقَالُوا: انْظُرُوا مَا يأتينا بِهِ السُّفَّارُ فَإِنَّ مُحَمَّدًا لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْحَرَ النَّاسَ كُلَّهُمْ، قَالَ: فَجَاءَ السُّفَّارُ فَقَالُوا ذَلِكَ.

وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ عَنِ الْحَاكِمِ عَنِ الْأَصَمِّ عَنْ ابن عباس الدورى عن سعيد ابن سليمان عن هشام عَنْ مُغِيرَةُ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرُ بِمَكَّةَ حَتَّى صار فرقتين، فقالت كُفَّارُ قُرَيْشٍ أَهْلُ مَكَّةَ: هَذَا سِحْرٌ سَحَرَكُمْ بِهِ ابْنُ أَبِي كبشة انظروا المسافرين فَإِنْ كَانُوا رَأَوْا مَا رَأَيْتُمْ فَقَدْ صَدَقَ، وَإِنْ كَانُوا لَمْ يَرَوْا مَا رَأَيْتُمْ فَهُوَ سِحْرٌ سَحَرَكُمْ بِهِ، قَالَ: فَسُئِلَ السُّفَّارُ- وَقَدِمُوا من كل وجه- فقالوا: رأيناه.

وَرَوَاهُ ابْنُ جَرِيرٍ مِنْ حَدِيثِ الْمُغِيرَةِ وَزَادَ: فَأَنْزَلَ اللَّهُ: اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ.

وَقَالَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ: حَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ عَنْ إِسْرَائِيلُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى رَأَيْتُ الْجَبَلَ بين فرقتى الْقَمَرِ.

وَرَوَى ابْنُ جَرِيرٍ عَنْ يَعْقُوبَ الدُّورِيِّ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ مُحَمَّدِ ابن سِيرِينَ قَالَ: نُبِّئْتُ أَنَّ ابْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ: لَقَدِ انْشَقَّ الْقَمَرُ، فَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: خَمْسٌ قَدْ مَضَيْنَ: الرُّومُ، وَاللِّزَامُ، وَالْبَطْشَةُ، وَالدُّخَانُ، وَالْقَمَرُ، فِي حَدِيثٍ طَوِيلٍ عَنْهُ مَذْكُورٍ فِي تَفْسِيرِ سُورَةِ الدُّخَانِ.

(وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ فِي الدَّلَائِلِ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الوليد، عن الأوزاعى عن ابن بكير قَالَ: انْشَقَّ الْقَمَرُ بِمَكَّةَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ الْهِجْرَةِ فَخَرَّ شِقَّتَيْنِ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ: سَحَرَهُ ابْنُ أَبِي كَبْشَةَ، وَهَذَا مُرْسَلٌ مِنْ هَذَا الوجه) .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হলো। তখন কুরাইশরা বলল: এটি ইবনে আবি কাবশার জাদু। তারা বলল: মুসাফিররা আমাদের কাছে কী খবর নিয়ে আসে তা দেখ, কারণ মুহাম্মদ সমস্ত মানুষকে জাদু করতে সক্ষম হবে না। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মুসাফিররা এল এবং তারাও একই কথা বলল।

বায়হাকি হাকেম থেকে, তিনি আসম্ম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস আদ-দুরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি হিশাম থেকে, তিনি মুগিরা থেকে, তিনি আবু দুহা থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মক্কায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেল। তখন মক্কার কুরাইশ কাফেররা বলল: এটি জাদু যা দিয়ে ইবনে আবি কাবশা তোমাদের জাদু করেছে। তোমরা মুসাফিরদের প্রতীক্ষা কর; যদি তারা তোমাদের মতো একই দৃশ্য দেখে থাকে তবে সে সত্য বলেছে। আর যদি তারা তোমাদের মতো দৃশ্য না দেখে থাকে তবে এটি জাদু যা দিয়ে সে তোমাদের জাদু করেছে। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর মুসাফিরদের জিজ্ঞাসা করা হলো—আর তারা সব দিক থেকেই আসছিল—তারা বলল: আমরা তা দেখেছি।

ইবনে জারির এটি মুগিরার হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে।

ইমাম আহমাদ রহ. বলেন: আমাদের নিকট মুআম্মাল বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হলো, এমনকি আমি চাঁদের দুই খণ্ডের মাঝখানে পাহাড় দেখতে পেলাম।

ইবনে জারির ইয়াকুব আদ-দুরি থেকে, তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে যে, ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: নিশ্চয়ই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। সহিহ বুখারিতে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: পাঁচটি নিদর্শন অতিবাহিত হয়েছে: রোম, লিজাম, বাতশাহ, দুখান এবং চাঁদ। এটি তার বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশ যা সূরা আদ-দুখানের তাফসিরে উল্লেখ করা হয়েছে।

(আবু জুরআ আদ-দালায়েল গ্রন্থে বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন আওজায়ি থেকে, তিনি ইবনে বুকাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিজরতের পূর্বে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মক্কায় ছিলেন তখন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে দুই ভাগে পড়ে গেল। তখন মুশরিকরা বলল: ইবনে আবি কাবশা একে জাদু করেছে। এই সূত্রে হাদিসটি মুরসাল।)
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَهَذِهِ طُرُقٌ عَنْ هَؤُلَاءِ الْجَمَاعَةِ مِنَ الصَّحَابَةِ، وَشُهْرَةُ هَذَا الْأَمْرِ تُغْنِي عَنْ إِسْنَادِهِ مَعَ وُرُودِهِ فِي الْكِتَابِ الْعَزِيزِ.

وَمَا يَذْكُرُهُ بَعْضُ الْقُصَّاصِ مِنْ أَنَّ الْقَمَرَ دَخَلَ فِي جَيْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ مِنَ كُمِّهِ، وَنَحْوَ هَذَا الْكَلَامِ فَلَيْسَ لَهُ أَصْلٌ يُعْتَمَدُ عَلَيْهِ، وَالْقَمَرُ فِي حَالِ انْشِقَاقِهِ لَمْ يُزَايِلِ السَّمَاءَ بَلِ انْفَرَقَ بِاثْنَتَيْنِ وَسَارَتْ إِحْدَاهُمَا حَتَّى صَارَتْ وَرَاءَ جَبَلِ حِرَاءَ، وَالْأُخْرَى مِنَ النَّاحِيَةِ الْأُخْرَى، وَصَارَ الْجَبَلُ بَيْنَهُمَا، وَكِلْتَا الْفِرْقَتَيْنِ فِي السَّمَاءِ وَأَهْلُ مَكَّةَ يَنْظُرُونَ إِلَى ذَلِكَ، وَظَنَّ كَثِيرٌ مِنْ جَهْلَتِهِمْ أَنَّ هَذَا شَيْءٌ سُحِرَتْ بِهِ أَبْصَارُهُمْ، فَسَأَلُوا مَنْ قَدِمَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْمُسَافِرِينَ فَأَخْبَرُوهُمْ بِنَظِيرِ مَا شَاهَدُوهُ، فَعَلِمُوا صِحَّةَ ذَلِكَ وَتَيَقَّنُوهُ.

فَإِنْ قِيلَ: فَلِمَ لَمْ يُعْرَفْ هَذَا فِي جَمِيعِ أَقْطَارِ الْأَرْضِ؟ فَالْجَوَابُ وَمَنْ يَنْفِي ذَلِكَ، وَلَكِنْ تَطَاوَلَ الْعَهْدُ وَالْكَفَرَةُ يَجْحَدُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ، وَلَعَلَّهُمْ لَمَّا أُخْبِرُوا أَنَّ هَذَا كَانَ آيَةً لِهَذَا النَّبِيِّ الْمَبْعُوثِ،

تَدَاعَتْ آراؤهم الفاسدة على كمانة وَتَنَاسِيهِ. عَلَى أَنَّهُ قَدْ ذَكَرَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمُسَافِرِينَ أَنَّهُمْ شَاهَدُوا هَيْكَلًا بِالْهِنْدِ مَكْتُوبًا عليه أنه نبى فِي اللَّيْلَةِ الَّتِي انْشَقَّ الْقَمَرُ فِيهَا، ثُمَّ لَمَّا كَانَ انْشِقَاقُ الْقَمَرِ لَيْلًا قَدْ يَخْفَى أَمْرُهُ عَلَى كَثِيرٍ مِنَ النَّاسِ لِأُمُورٍ مَانِعَةٍ مِنْ مُشَاهَدَتِهِ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ، مِنْ غُيُومٍ مُتَرَاكِمَةٍ كَانَتْ تِلْكَ اللَّيْلَةَ فِي بُلْدَانِهِمْ، وَلِنَوْمِ كَثِيرٍ مِنْهُمْ، أَوْ لَعَلَّهُ كَانَ فِي أَثْنَاءِ اللَّيْلِ حَيْثُ يَنَامُ كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْأُمُورِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَقَدْ حَرَّرْنَا هذا فيما تقدم فى كتابنا التفسير.

 

‌‌[معجزة رد الشمس بعد مغيبها]

فَأَمَّا حَدِيثُ رَدِّ الشَّمْسِ بَعْدَ مَغِيبِهَا فَقَدْ أَنْبَأَنِي شَيْخُنَا الْمُسْنِدُ الرُّحْلَةُ بَهَاءُ الدِّينِ الْقَاسِمُ بن المظفر ابن تاج الأمناء بن عساكر (إذنا و) قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ ابن عساكر المشهور بالنسابة، قال:

أخبرنا أبو المظفر ابن الْقُشَيْرِيِّ وَأَبُو الْقَاسِمِ الْمُسْتَمْلِي قَالَا: ثَنَا أَبُو عثمان المحبر أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الحسن الدنايعانى بِهَا، أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ
সাহাবায়ে কিরামের এই দল থেকে বর্ণিত এগুলোই হলো (বর্ণনার) সূত্রসমূহ, এবং এই বিষয়টি এতই প্রসিদ্ধ যে এর জন্য নতুন কোনো সনদের প্রয়োজন পড়ে না, বিশেষ করে যখন এটি মহান কিতাবে (কুরআনে) বর্ণিত হয়েছে।

কোনো কোনো কিচ্ছাকার (গল্পকার) যা উল্লেখ করে থাকে যে, চাঁদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জামার পকেটে প্রবেশ করেছিল এবং তাঁর হাতা দিয়ে বেরিয়ে এসেছিল—এই জাতীয় কথার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সময় আকাশ থেকে সরে যায়নি, বরং এটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল। এর একটি অংশ হেরা পাহাড়ের পেছনে চলে গিয়েছিল এবং অন্যটি অপর পাশে ছিল, আর পাহাড়টি তাদের মাঝখানে অবস্থান করছিল। উভয় খণ্ডই আসমানে ছিল এবং মক্কাবাসী তা প্রত্যক্ষ করছিল। তাদের মধ্যকার অনেক মূর্খ লোক মনে করেছিল যে এটি যাদু, যার মাধ্যমে তাদের চোখে ধাঁধা লাগানো হয়েছে। তাই তারা আগত মুসাফিরদের জিজ্ঞাসা করল, তখন তারা যা দেখেছিল মুসাফিররাও তাদের অনুরূপ খবর দিল। ফলে তারা এর সত্যতা জানতে পারল এবং এ ব্যাপারে নিশ্চিত হলো।

যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে কেন এটি পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তে জানা গেল না? উত্তর হলো—কে এটি অস্বীকার করে? তবে দীর্ঘকাল অতিবাহিত হয়েছে এবং কাফেররা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করে থাকে। সম্ভবত যখন তাদের জানানো হয়েছিল যে এটি প্রেরিত নবীর একটি নিদর্শন ছিল,

তখন তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ এটিকে গোপন করতে এবং বিস্মৃত করে দিতে প্ররোচিত করেছিল। তবে অনেক মুসাফির উল্লেখ করেছেন যে, তারা ভারতে এমন একটি ভবন দেখেছেন যাতে লেখা ছিল যে, এটি সেই রাতে নির্মিত হয়েছিল যে রাতে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। তাছাড়া, যেহেতু চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনাটি রাতে ঘটেছিল, সেহেতু অনেক মানুষের কাছে তা অজানা থেকে যেতে পারে। কারণ সেই মুহূর্তে তা দেখার পথে অনেক বাধা থাকতে পারে, যেমন সেই রাতে তাদের জনপদে ঘন মেঘের উপস্থিতি, অথবা তাদের অনেকের ঘুমিয়ে থাকা, অথবা হয়তো ঘটনাটি রাতের এমন এক সময়ে ঘটেছিল যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে কিংবা এ জাতীয় অন্যান্য কারণ। আর আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা ইতিপূর্বে আমাদের তাফসীর গ্রন্থে এটি সবিস্তারে বর্ণনা করেছি।

 

‌‌[সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তা ফিরিয়ে আনার মুজিজা]

সূর্য অস্ত যাওয়ার পর তা ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাপারে আমাদের শায়খ, মুসনিদ, পর্যটক বাহাউদ্দিন কাসিম বিন আল-মুজাফফর ইবনে তাজুল উমানা ইবনে আসাকির আমাদের (অনুমতি সাপেক্ষে) সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ ইবনে আসাকির, যিনি 'নাসসাবাহ' হিসেবে পরিচিত, তিনি বলেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুজাফফর ইবনুল কুশায়রী এবং আবুল কাসিম আল-মুস্তামলী, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উসমান আল-মুহাব্বির। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আদ-দানায়িকানী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন...
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩১)
أَحْمَدَ بْنِ مَحْبُوبٍ، وَفِي حَدِيثِ ابْنِ الْقُشَيْرِيِّ: ثنا أبو العباس المحبوبى، ثنا سعيد ابن مَسْعُودٍ ح، قَالَ الْحَافِظُ أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ عَسَاكِرَ وَأَنَا أَبُو الْفَتْحِ الْمَاهَانِيُّ، أَنَا شُجَاعُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ منده، أنا عثمان بن أحمد الننسى، أَنَا أَبُو أُمَيَّةَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، ثَنَا فُضَيْلُ بن مرزوق عن إبراهيم ابن الْحَسَنِ، زَادَ أَبُو أُمَيَّةَ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يوحى إليه ورأسه في حجر علي فَلَمْ يُصَلِّ الْعَصْرَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّيْتَ الْعَصْرَ؟ وَقَالَ أَبُو أُمَيَّةَ: صَلَّيْتَ يَا عَلِيُّ؟ قَالَ: لَا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ أَبُو أُمَيَّةَ: فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ فِي طَاعَتِكَ وَطَاعَةِ نَبِيِّكَ، وَقَالَ أَبُو أُمَيَّةَ: رَسُولِكَ، فَارْدُدْ عَلَيْهِ الشَّمْسَ، قَالَتْ أَسْمَاءُ: فَرَأَيْتُهَا غَرَبَتْ ثُمَّ رَأَيْتُهَا طَلَعَتْ بَعْدَ مَا غَرَبَتْ.

وقد رواه الشيخ أبو الفرج ابن الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ مِنْ طَرِيقِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَنْدَهْ كَمَا تَقَدَّمَ.

وَمِنْ طَرِيقِ أبى جعفر العقيلى: ثنا أحمد ابن دَاوُدَ، ثَنَا عَمَّارُ بْنُ مَطَرٍ، ثَنَا فَضِيلُ بْنُ مَرْزُوقٍ فَذَكَرَهُ.

ثُمَّ قَالَ: وَهَذَا حَدِيثٌ مَوْضُوعٌ، وَقَدِ اضْطَرَبَ الرُّوَاةُ فِيهِ فَرَوَاهُ سَعِيدُ ابن مسعود عن عبيد الله ابن مُوسَى عَنْ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دينار عن عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ عَلِيٍّ عَنْ أَسْمَاءَ، وَهَذَا تَخْلِيطٌ فِي الرِّوَايَةِ. قَالَ: وَأَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ لَيْسَ بِشَيْءٍ، قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ مَتْرُوكٌ كَذَّابٌ، وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ كَانَ يَضَعُ الْحَدِيثَ، وَعَمَّارُ بْنُ مَطَرٍ قَالَ فِيهِ الْعُقَيْلِيُّ:

كَانَ يُحَدِّثُ عَنِ الثِّقَاتِ بِالْمَنَاكِيرِ «1» ، وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ: مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ. قَالَ:

وَفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَدْ ضَعَّفَهُ يَحْيَى، وَقَالَ ابْنُ حِبَّانَ: يَرْوِي الموضوعات ويخطىء عن الثقات.

--------------------------------------------

(1) المناكير: الأمور المستهجنة.
আহমাদ ইবনে মাহবুবের সূত্রে বর্ণিত, এবং ইবনুল কুশাইরীর হাদিসে রয়েছে: আবু আল-আব্বাস আল-মাহবুবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে মাসউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ), হাফিয আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির বলেন, আবু আল-ফাতহ আল-মাহানি আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, শুজা ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উসমান ইবনে আহমাদ আন-নানসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উমাইয়া মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের সংবাদ দিয়ে বলেন: উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনুল হাসান থেকে, আবু উমাইয়া ইবনুল হাসান থেকে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন ফাতিমা বিনতে আল-হুসাইন থেকে, তিনি আসমা বিনতে উমাইস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহী আসছিল এমতাবস্থায় যে তাঁর মাথা আলীর কোলে ছিল, ফলে তিনি আসরের সালাত আদায় করতে পারেননি যতক্ষণ না সূর্য ডুবে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি কি আসর পড়েছ?" আবু উমাইয়া বলেন: "হে আলী, আপনি কি সালাত আদায় করেছেন?" তিনি বললেন: "না।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আর আবু উমাইয়া বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই সে আপনার আনুগত্যে এবং আপনার নবীর (আবু উমাইয়া বলেন: আপনার রাসূলের) আনুগত্যে ছিল, সুতরাং তার জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে দিন।" আসমা বলেন: "আমি সূর্যকে ডুবতে দেখলাম, অতঃপর তা ডুবে যাওয়ার পর পুনরায় উদিত হতে দেখলাম।"

শায়খ আবু আল-ফারাজ ইবনুল জাওযী এটি 'আল-মাওদুআত' (জাল হাদিসসমূহ) গ্রন্থে আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এবং আবু জাফর আল-উকাইলীর সূত্রে: আহমাদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আম্মার ইবনে মাতার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।

অতঃপর তিনি বলেন: এটি একটি জাল হাদিস, এবং বর্ণনাকারীরা এতে বিশৃঙ্খলা (ইযতিরাব) করেছেন। সাঈদ ইবনে মাসউদ এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা থেকে, তিনি ফুযাইল ইবনে মারযুক থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আলী ইবনুল হাসান থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে আলী থেকে, তিনি আসমা থেকে বর্ণনা করেছেন; আর এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি সংমিশ্রণ বা গোলমাল। তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে দাউদ নির্ভরযোগ্য কিছু নয়। আদ-দারাকুতনী বলেন: সে পরিত্যক্ত ও চরম মিথ্যাবাদী। ইবনে হিব্বান বলেন: সে হাদিস জাল করত। আর আম্মার ইবনে মাতার সম্পর্কে আল-উকাইলী বলেন:

সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বিষয় বর্ণনা করত, এবং ইবনে আদী বলেন: সে হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত। তিনি বলেন:

আর ফুযাইল ইবনে মারযুককে ইয়াহইয়া দুর্বল বলেছেন। ইবনে হিব্বান বলেন: সে জাল হাদিস বর্ণনা করে এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিতে ভুল করে।

--------------------------------------------

(১) আল-মুনাকির: অত্যন্ত আপত্তিকর বা ঘৃণ্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩২)
وبه قال الحافظ بن عساكر، قال: وأخبرنا أبو محمد عن طاوس، أنا عاصم ابن الحسن أنا أبو عمرو بْنُ مَهْدِيٍّ، أَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ بْنُ عُقْدَةَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شَرِيكٍ، حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ عُرْوَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُشَيْرٍ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ عَلِيٍّ فَرَأَيْتُ فِي عُنُقِهَا خَرَزَةً، وَرَأَيْتُ فِي يَدَيْهَا مَسَكَتَيْنِ غَلِيظَتَيْنِ- وَهِيَ عَجُوزٌ كَبِيرَةٌ- فَقُلْتُ لَهَا: مَا هَذَا؟ فَقَالَتْ: إِنَّهُ يُكْرَهُ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَتَشَبَّهَ بِالرِّجَالِ، ثُمَّ حَدَّثَتْنِي أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ عُمَيْسٍ حَدَّثَتْهَا أَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ دَفَعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْهِ فَجَلَّلَهُ بِثَوْبِهِ فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى أَدْبَرَتِ الشمس يقول: غَابَتْ أَوْ كَادَتْ أَنْ تَغِيبَ، ثُمَّ إِنْ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُرِّيَ عَنْهُ فَقَالَ: أَصَلَّيْتَ يَا عَلِيُّ؟ قَالَ:

لَا، فقال النبى ص اللهم ردّ على علي الشمس، فرجعت حَتَّى بَلَغَتْ نِصْفَ الْمَسْجِدِ، قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: وَقَالَ أَبِي حَدَّثَنِي مُوسَى الْجُهَنِيُّ نَحْوَهُ، ثُمَّ قَالَ الْحَافِظُ ابْنُ عَسَاكِرَ: هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ، وَفِيهِ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْمَجَاهِيلِ.

وَقَالَ الشَّيْخُ أَبُو الْفَرَجِ بْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْمَوْضُوعَاتِ: وَقَدْ رَوَى ابْنُ شَاهِينَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ عُقْدَةَ فَذَكَرَهُ، ثُمَّ قَالَ: وَهَذَا بَاطِلٌ، وَالْمُتَّهَمُ بِهِ ابْنُ عُقْدَةَ، فَإِنَّهُ كَانَ رَافِضِيًّا يُحَدِّثُ بِمَثَالِبِ الصَّحَابَةِ.

قَالَ الْخَطِيبُ: ثَنَا عَلِيُّ بْنُ محمد بن نصر، سمعت حمزة ابن يُوسُفَ يَقُولُ: كَانَ ابْنُ عُقْدَةَ بِجَامِعِ بَرَاثَا «1» يُمْلِي مَثَالِبَ الصَّحَابَةِ أَوْ قَالَ: الشَّيْخَيْنِ فَتَرَكْتُهُ، وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: كَانَ ابْنُ عُقْدَةَ رَجُلَ سُوءٍ، وَقَالَ ابْنُ عَدِيٍّ:

سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ أَبِي غَالِبٍ يَقُولُ: ابْنُ عُقْدَةَ لَا يَتَدَيَّنُ بِالْحَدِيثِ لِأَنَّهُ كَانَ يَحْمِلُ شُيُوخًا بِالْكُوفَةِ عَلَى الْكَذِبِ فَيُسَوِّي لَهُمْ نُسَخًا وَيَأْمُرُهُمْ أَنْ يَرْوُوهَا، وقد بينا كذبه من عند شَيْخٍ بِالْكُوفَةِ.

وَقَالَ الْحَافِظُ أَبُو بِشْرٍ الدُّولَابِيُّ فِي كِتَابِهِ «الذُّرِّيَّةِ الطَّاهِرَةِ» : حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُونُسَ، ثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، ثَنَا الْمُطَّلِبُ بن زياد عن إبراهيم بن

--------------------------------------------

(1) براثا: اسم محلة كانت بطرف العراق.
হাফেজ ইবনে আসাকির এই কথা বলেছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাউস থেকে, আসিম ইবনুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আমর বিন মাহদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্বাস বিন উকদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আস-সুফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন শারিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা উরওয়াহ বিন আব্দুল্লাহ বিন কুশাইর থেকে আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলীর কন্যা ফাতিমার নিকট প্রবেশ করলাম এবং তার গলায় একটি পুতির মালা দেখলাম। আর আমি তার হাতে দুটি মোটা কঙ্কণ দেখলাম—তিনি তখন একজন বৃদ্ধা নারী ছিলেন। আমি তাকে বললাম: এটি কী? তিনি বললেন: কোনো মহিলার জন্য পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা অপছন্দনীয়। এরপর তিনি আমার নিকট বর্ণনা করলেন যে, আসমা বিনতে উমাইস তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আলী বিন আবি তালিব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছিল। আলী তাঁকে তাঁর কাপড় দিয়ে ঢেকে দিলেন এবং এভাবেই চলতে থাকল যতক্ষণ না সূর্য চলে গেল। রাবী বলেন: সূর্য ডুবে গিয়েছিল অথবা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (ওহীর অবস্থা) অবসান হলো, তখন তিনি বললেন: হে আলী, তুমি কি সালাত আদায় করেছ? তিনি বললেন:

না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে আল্লাহ, আলীর জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে দিন। তখন সূর্য ফিরে আসলো এমনকি তা মসজিদের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছালো। আব্দুর রহমান বলেন: আমার পিতা বলেছেন যে, মুসা আল-জুহানি আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এরপর হাফেজ ইবনে আসাকির বলেছেন: এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদীস এবং এতে একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছে।

এবং শায়খ আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজি 'আল-মাওদুআত' গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে শাহীন এই হাদীসটি ইবনে উকদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: এটি বাতিল এবং এর জন্য ইবনে উকদাহ অভিযুক্ত। কেননা তিনি ছিলেন একজন রাফেজি এবং তিনি সাহাবীগণের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করতেন।

খতিব বলেন: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমি হামজাহ বিন ইউসুফকে বলতে শুনেছি: ইবনে উকদাহ বারাথা জামে মসজিদে (১) সাহাবীগণের—অথবা তিনি বলেছেন—শাইখাইনের (আবু বকর ও উমর রা.) দোষ-ত্রুটি পাঠ করে শোনাতেন, তাই আমি তাঁকে বর্জন করেছি। আদ-দারাকুতনি বলেছেন: ইবনে উকদাহ একজন মন্দ লোক ছিলেন। আর ইবনে আদি বলেছেন:

আমি আবু বকর বিন আবি গালিবকে বলতে শুনেছি: ইবনে উকদাহ হাদীসের ক্ষেত্রে দ্বীনদার ছিলেন না, কারণ তিনি কুফার শায়খদের মিথ্যা বলতে প্ররোচিত করতেন এবং তাদের জন্য পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দিতেন ও তাদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা সেগুলো বর্ণনা করে। কুফার একজন শায়খের পক্ষ থেকে তার মিথ্যা আমরা স্পষ্ট করেছি।

এবং হাফেজ আবু বিশর আদ-দুলাবি তাঁর 'আয-যুররিয়্যাহ আত-তাহিরাহ' গ্রন্থে বলেছেন: ইসহাক বিন ইউনুস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুয়াইদ বিন সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুত্তালিব বিন যিয়াদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহিম বিন... থেকে।

--------------------------------------------

(১) বারাথা: ইরাকের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি এলাকার নাম।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حبان عن عبد الله بن حسن عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْحُسَيْنِ عَنِ الْحُسَيْنِ قَالَ: كَانَ رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حِجْرِ عَلِيٍّ وَهُوَ يُوحَى إِلَيْهِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ مَا تَقَدَّمَ، إِبْرَاهِيمُ بْنُ حبان هَذَا تَرَكَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ وَغَيْرُهُ، وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ نَاصِرٍ الْبَغْدَادِيُّ الْحَافِظُ: هَذَا الْحَدِيثُ مَوْضُوعٌ، قَالَ شَيْخُنَا الْحَافِظُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الذَّهَبِيُّ: وَصَدَقَ ابْنُ نَاصِرٍ، وَقَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ: وَقَدْ رَوَاهُ ابن مردويه من طريق حديث داود بن واهج عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَأَسُهُ فِي حَجْرِ عَلِيٍّ وَلَمْ يَكُنْ صَلَّى الْعَصْرَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعَا لَهُ فَرُدَّتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ حَتَّى صَلَّى ثُمَّ غَابَتْ ثَانِيَةً، ثُمَّ قَالَ:

وَدَاوُدُ ضَعَّفَهُ شُعْبَةُ، ثُمَّ قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ وَمِنْ تَغْفِيلِ وَاضِعِ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ نَظَرَ إلى صورة فضله وَلِمَ يَتَلَمَّحْ عَدَمَ الْفَائِدَةِ فَإِنَّ صَلَاةَ الْعَصْرِ بِغَيْبُوبَةِ الشَّمْسِ صَارَتْ قَضَاءً فَرُجُوعُ الشَّمْسِ لَا يُعِيدُهَا أَدَاءً، وَفِي الصَّحِيحِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أن الشمس لم تُحْبَسْ عَلَى أَحَدٍ إِلَّا لِيُوشَعَ.

قُلْتُ: هَذَا الْحَدِيثُ ضَعِيفٌ وَمُنْكَرٌ مِنْ جَمِيعِ طُرُقِهِ فَلَا تَخْلُو وَاحِدَةٌ مِنْهَا عَنْ شِيعِيٍّ وَمَجْهُولِ الْحَالِ وَشِيعِيٍّ وَمَتْرُوكٍ وَمِثْلُ هَذَا الْحَدِيثِ لَا يُقْبَلُ فِيهِ خَبَرٌ وَاحِدٌ إِذَا اتَّصَلَ سَنَدُهُ؛ لِأَنَّهُ مِنْ بَابِ مَا تَتَوَفَّرُ الدَّوَاعِي عَلَى نَقْلِهِ فَلَا بُدَّ مِنْ نَقْلِهِ بِالتَّوَاتُرِ وَالِاسْتِفَاضَةِ لَا أَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ، وَنَحْنُ لَا نُنْكِرُ هَذَا فِي قُدْرَةِ اللَّهِ تَعَالَى وَبِالنِّسْبَةِ إِلَى جَنَابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَدْ ثَبَتَ فِي الصَّحِيحِ أَنَّهَا رُدَّتْ لِيُوشَعَ بْنِ نُونٍ، وَذَلِكَ يَوْمَ حَاصَرَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ، وَاتَّفَقَ ذَلِكَ فِي آخِرِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَكَانُوا لَا يُقَاتِلُونَ يَوْمَ السَّبْتَ فَنَظَرَ إِلَى الشَّمْسِ وَقَدْ تنصفت لِلْغُرُوبِ فَقَالَ: إِنَّكِ مَأْمُورَةٌ، وَأَنَا مَأْمُورٌ، اللَّهُمَّ احْبِسْهَا عَلَيَّ، فَحَبَسَهَا اللَّهُ عَلَيْهِ حَتَّى فَتَحُوهَا، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْظَمُ جَاهًا وَأَجَلُّ مَنْصِبًا وَأَعْلَى قَدْرًا مِنْ يُوشَعَ ابن نُونٍ، بَلْ مِنْ سَائِرِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَى الْإِطْلَاقِ وَلَكِنْ لَا نَقُولُ إِلَّا مَا صَحَّ عِنْدَنَا (عَنْهُ) وَلَا نُسْنِدُ إِلَيْهِ مَا لَيْسَ بِصَحِيحٍ، وَلَوْ صَحَّ لَكُنَّا مِنْ أَوَّلِ الْقَائِلِينَ بِهِ، وَالْمُعْتَقِدِينَ لَهُ وَبِاللَّهِ الْمُسْتَعَانُ.
হিব্বান আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে হুসাইন থেকে, তিনি হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাথা আলী (রা.)-এর কোলে ছিল এমতাবস্থায় যে তাঁর ওপর ওহী নাযিল হচ্ছিল—অতঃপর তিনি পূর্বের ন্যায় হাদীসটি উল্লেখ করেন। এই ইব্রাহিম ইবনে হিব্বানকে দারা কুতনী এবং অন্যান্যরা বর্জন করেছেন। হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে নাসির আল-বাগদাদী বলেছেন: এই হাদীসটি জাল (মাওজু)। আমাদের উস্তাদ হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবী বলেছেন: ইবনে নাসির সত্য বলেছেন। ইবনুল জাওযী বলেছেন: ইবনে মারদুইয়াহ এটি দাউদ ইবনে ওয়াহিজ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তাঁর মাথা ছিল আলীর কোলে, আর তিনি (আলী) তখনও আসরের সালাত আদায় করেননি, এমতাবস্থায় সূর্য ডুবে গেল। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জাগ্রত হলেন, তিনি তাঁর জন্য দুআ করলেন। ফলে তাঁর জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে আনা হলো এবং তিনি সালাত আদায় করলেন, এরপর তা পুনরায় অস্তমিত হলো। এরপর তিনি (ইবনুল জাওযী) বলেন: শু'বাহ এই দাউদকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।

অতঃপর ইবনুল জাওযী বলেন: এই হাদীস জালকারীর মূর্খতা হলো এই যে, সে কেবল ফজিলতের দিকটি লক্ষ্য করেছে কিন্তু এর অসারতা অনুধাবন করেনি। কেননা সূর্য অস্তমিত হওয়ার মাধ্যমে আসরের সালাত কাযা হয়ে গেছে, সুতরাং সূর্যের পুনরাগমন তাকে আর 'আদা' (যথাসময়ে আদায়) হিসেবে ফিরিয়ে আনবে না। আর সহীহ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: ইউশা (আলাইহিস সালাম) ব্যতীত আর কারো জন্য সূর্যকে আটকে রাখা হয়নি।

আমি (লেখক) বলছি: এই হাদীসটি এর সকল সূত্রেই দুর্বল ও মুনকার (অস্বীকৃত)। এর কোনো সূত্রই শিয়া, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি কিংবা পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী থেকে মুক্ত নয়। আর এই ধরনের হাদীসের ক্ষেত্রে কেবল একজন বর্ণনাকারীর খবর গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তার সনদ মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হয়; কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা বর্ণনা করার মতো যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান ছিল। সুতরাং এটি মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) বা ইস্তিফাযাহ (ব্যাপক প্রসিদ্ধি) সূত্রে বর্ণিত হওয়া আবশ্যক ছিল, এর কম কিছু নয়। আমরা মহান আল্লাহর কুদরত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদার ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে অসম্ভব মনে করি না। কেননা সহীহ হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যে, ইউশা ইবনে নূনের জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। আর তা ছিল বাইতুল মাকদিস অবরোধের দিন। ঘটনাটি ছিল জুমুআর দিনের শেষ ভাগে, আর তাঁরা শনিবার যুদ্ধ করতেন না। তখন তিনি সূর্যের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে এটি অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। হে আল্লাহ! একে আমার জন্য আটকে দিন।" তখন আল্লাহ তাঁর জন্য সূর্যকে আটকে রাখলেন যতক্ষণ না তাঁরা বিজয় লাভ করলেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইউশা ইবনে নূন অপেক্ষা, বরং নিঃশর্তভাবে সমস্ত নবীগণের অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান, শ্রেষ্ঠ পদের অধিকারী এবং উচ্চ সম্মানের অধিকারী। কিন্তু আমরা তাঁর সম্পর্কে কেবল তা-ই বলি যা আমাদের নিকট সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে এবং যা সহীহ নয় তা তাঁর প্রতি নিসবত (আরোপ) করি না। যদি এটি সহীহ হতো, তবে আমরাই সর্বপ্রথম এর প্রবক্তা ও বিশ্বাসী হতাম। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মুজিজাতুন নবী মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া - তা সাইয়্যিদ ইব্রাহীম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَقَالَ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ زَنْجَوَيْهِ الْبُخَارِيُّ فِي كِتَابِهِ «إِثْبَاتِ إِمَامَةِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ» فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ مِنَ الرَّوَافِضِ: إِنَّ أَفْضَلَ فَضِيلَةٍ لِأَبِي الْحَسَنِ وَأَدَلَّ (دَلِيلٍ) عَلَى إِمَامَتِهِ مَا رُوِيَ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ قَالَتْ:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يوحى إليه فِي حِجْرِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَلَمْ يُصَلِّ الْعَصْرَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ: صَلَّيْتَ؟ قال: لا، فقال رسول الله: اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانَ فِي طَاعَتِكَ وَطَاعَةِ رَسُولِكَ فَارْدُدْ عَلَيْهِ الشَّمْسَ، قَالَتْ أَسْمَاءُ: فَرَأَيْتُهَا غَرَبَتْ ثُمَّ رَأَيْتُهَا طَلَعَتْ بَعْدَ مَا غَرَبَتْ. قِيلَ له: كيف لنا لو صح هذا الحديث فنحتج على مخالفتنا من اليهود والنصارى، ولكن الحديث ضعيف حدا لَا أَصْلَ لَهُ، وَهَذَا مِمَّا كَسَبَتْ أَيْدِي الرَّوَافِضِ، وَلَوْ رُدَّتِ الشَّمْسُ بَعْدَ مَا غَرَبَتْ لَرَآهَا الْمُؤْمِنُ وَالْكَافِرُ وَنَقَلُوا إِلَيْنَا أَنَّ فِي يَوْمِ كَذَا مِنْ شَهْرِ كَذَا فِي سَنَةِ كَذَا رُدَّتِ الشَّمْسُ بَعْدَ مَا غَرَبَتْ. ثُمَّ يُقَالُ لِلرَّوَافِضِ:

أَيَجُوزُ أَنْ تُرَدَّ الشَّمْسُ لِأَبِي الْحَسَنِ حِينَ فَاتَتْهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ، وَلَا تُرَدَّ لِرَسُولِ اللَّهِ وَلِجَمِيعِ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَعَلِيٌّ فِيهِمْ حِينَ فَاتَتْهُمْ صَلَاةُ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ يَوْمَ الخندق؟ قال: وأيضا مرة أخرج عَرَّسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ خَيْبَرَ، فَذَكَرَ نَوْمَهُمْ عَنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَصَلَاتَهُمْ لَهَا بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، قَالَ: فَلَمْ يُرَدَّ اللَّيْلُ على رسول الله وَعَلَى أَصْحَابِهِ، قَالَ: وَلَوْ كَانَ هَذَا فَضْلًا أعطيه رسول الله وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَمْنَعَ رَسُولَهُ شَرَفًا وَفَضْلًا- يَعْنِي أُعْطِيَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ- ثُمَّ قَالَ: وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ الْجُوزَجَانِيُّ: قُلْتُ لِمُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيِّ مَا تَقُولُ فِيمَنْ يَقُولُ: رَجَعَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ حَتَّى صَلَّى الْعَصْرَ؟ فَقَالَ:

مَنْ قَالَ هَذَا فَقَدَ كَذَبَ، وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ: سَأَلْتُ يَعْلَى بْنَ عُبَيْدٍ الطَنَافِسِيَّ قُلْتُ: إِنَّ نَاسًا عِنْدَنَا يَقُولُونَ: إِنَّ عَلِيًّا وَصِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَعَتْ عَلَيْهِ الشمس، فقال: كذب هذا كله.

***
হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে হাতেম ইবনে জানজুয়াহ আল-বুখারি তার 'ইসবাতু ইমামতি আবি বকর আস-সিদ্দিক' গ্রন্থে বলেছেন: যদি রাফেজিদের পক্ষ থেকে কেউ বলে যে, আবুল হাসানের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা এবং তার ইমামতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হলো আসমা বিনতে উমাইস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আলী ইবনে আবি তালিবের কোলে মাথা রেখে ওহী অবতীর্ণ হচ্ছিল, এমতাবস্থায় তিনি আসরের সালাত আদায় করতে পারেননি যতক্ষণ না সূর্য ডুবে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি সালাত আদায় করেছ? তিনি বললেন: না। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন: হে আল্লাহ! সে আপনার এবং আপনার রাসূলের আনুগত্যে নিয়োজিত ছিল, তাই তার জন্য সূর্যকে ফিরিয়ে দিন। আসমা বলেন: আমি সূর্যকে ডুবতে দেখেছি, অতঃপর তা ডুবে যাওয়ার পর পুনরায় উদিত হতে দেখেছি। এর উত্তরে বলা হয়: এই হাদিসটি যদি সহিহ হতো তবে আমাদের জন্য কতই না ভালো হতো যে আমরা আমাদের বিরোধী ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করতে পারতাম। কিন্তু হাদিসটি অত্যন্ত দুর্বল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। এটি রাফেজিদের স্বহস্তে রচিত মিথ্যাচার। যদি সূর্য ডুবে যাওয়ার পর পুনরায় ফিরে আসত, তবে মুমিন-কাফির নির্বিশেষে সবাই তা দেখত এবং তারা আমাদের নিকট বর্ণনা করত যে, অমুক বছরের অমুক মাসের অমুক দিনে সূর্য অস্ত যাওয়ার পর পুনরায় ফিরে এসেছিল। অতঃপর রাফেজিদের বলা হবে:

এটা কি সম্ভব যে, আবুল হাসানের আসরের সালাত ক্বাজা হওয়ার কারণে সূর্য ফিরিয়ে দেওয়া হবে, অথচ খন্দকের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সকল মুহাজির ও আনসারদের—যাদের মধ্যে আলীও ছিলেন—যোহর, আসর এবং মাগরিবের সালাত ক্বাজা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য তা ফিরিয়ে দেওয়া হলো না? তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের নিয়ে খায়বার যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে রাতের শেষাংশে বিশ্রাম নিতে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে ঘুমের কারণে তাদের ফজরের সালাত ছুটে যাওয়া এবং সূর্য ওঠার পর সালাত আদায়ের কথা উল্লেখ আছে। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ এবং তার সাহাবীদের জন্য রাতকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন: যদি এটি এমন কোনো মর্যাদা হতো যা রাসূলুল্লাহকে দেওয়া যেত, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সেই সম্মান ও মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করতেন না যা আলী ইবনে আবি তালিবকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অতঃপর তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে ইয়াকুব আল-জুযজানি বলেছেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসিকে জিজ্ঞেস করলাম, যে ব্যক্তি বলে যে আলী ইবনে আবি তালিবের জন্য সূর্য ফিরে এসেছিল যাতে তিনি আসরের সালাত আদায় করতে পারেন, তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন:

যে এটি বলেছে সে মিথ্যা বলেছে। ইবরাহিম ইবনে ইয়াকুব বলেন: আমি ইয়ালা ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসিকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আমাদের এখানে কিছু মানুষ বলে যে আলী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসী এবং তার জন্য সূর্য ফিরে এসেছিল। তিনি বললেন: এই সবই মিথ্যা।

***