(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: -)
مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار القسم: السيرة النبوية
الكتاب: مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار
المؤلف: أبو مدين بن أحمد بن محمد بن عبد القادر بن علي الفاسي (ت بعد 1132هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى - 1425 هـ / 2004 م
عدد الصفحات: 447
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসতাযাবুল আখবার বি আতইয়াবিল আখবার বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: মুসতাযাবুল আখবার বি আতইয়াবিল আখবার
লেখক: আবু মাদিয়ান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাদির বিন আলী আল-ফাসি (মৃত্যু ১১৩২ হিজরীর পর)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৫ হিজরী / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة التحقيقإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102) «1» .
يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً (1) «2» .
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) «3» .
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار «4» .
كتاب «مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار» لأبي مدين الفاسي والذي نقدمه اليوم بشرح فيه كتاب «أوجز السير» للإمام أحمد بن فارس العالم اللغوي.
و «أوجز السير» كتاب مختصر في السيرة النبوية ألفه صاحبه، وتحدث فيه باختصار عن: «النسب الشريف، ومولده صلى الله عليه وسلم، ونشأته، وأزواجه، وأولاده، وأعمامه، وعماته..» إلخ.
تحدث فيه عن هذه الأمور بصورة مختصرة، ثم جاء بعده «أبو مدين» مؤلف كتابنا فتوسع فيما اختصره ابن فارس، وأفاض فيه إفاضة واسعة.
وبعد اطلاعي على المخطوط حدثتني نفسي؛ لماذا لا يخرج هذا الكتاب إلى النور؟
--------------------------------------------
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের আমলের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২) «১»।
হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১) «২»।
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করবে (৭১) «৩»।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম «৪»।
আবু মাদইয়ান আল-ফাসি রচিত ‘মুস্তাদযাবুল ইখবার বি-আতইয়াবিল আখবার’ গ্রন্থটি, যা আমরা আজ উপস্থাপন করছি, এতে ভাষাবিদ ইমাম আহমাদ ইবনে ফারিস-এর ‘আওজাযুস সিয়ার’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এবং ‘আওজাযুস সিয়ার’ হলো নবীজির সীরাত বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যা এর লেখক নিজেই রচনা করেছেন। এতে তিনি সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন: ‘তাঁর সম্মানিত বংশপরম্পরা, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্ম, বেড়ে ওঠা, তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর সন্তানগণ, তাঁর চাচাগণ এবং তাঁর ফুফুগণ...’ ইত্যাদি।
তিনি এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন, অতঃপর আমাদের কিতাবের লেখক ‘আবু মাদইয়ান’ আসলেন এবং ইবনে ফারিস যা সংক্ষেপে লিখেছিলেন তা বিস্তারিত বর্ণনা করলেন এবং তাতে ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন।
পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর আমার মনে হলো; কেন এই বইটি আলোর মুখ দেখবে না?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد هذا الحوار استخرت الله- تعالى- ثم قررت إخراج هذا الكتاب، وقمت بتصويره وإعداده للتحقيق، ليكون من المطبوعات التي ترى النور لأول مرة.
والله أسأل أن ينفع به كل من نظر فيه فسد عيبا جاء فيه، أو رأى خللا فأصلحه، وأن يجعله فاتحة خير لكل مسلم.
وقد اتبعت في تحقيق الكتاب المذكور الأطر الاتية:
1- التعريف بالمؤلف.
2- بين يدي الكتاب.
3- صحة نسبة الكتاب ل «أبي مدين» .
4- وصف المخطوط.
5- عملي في الكتاب.
6- ملحوظات على الكتاب.
أولا: التعريف بالمؤلف:
بحثت كثيرا في المراجع التي تتحدث عن الرجال ومؤلفاتهم، فلم أجد مرجعا تحدث حديثا وافيا عن مؤلف كتابنا «مستعذب الإخبار..» غير «معجم المؤلفين» ل «عمر رضا كحالة» تحدث عنه باختصار فقال: «أبو مدين الفاسي كان حيا (سنة 1132 هجرية) - (1720 ميلادية) وهو «أبو مدين بن أحمد بن محمد بن عبد القادر بن علي الفاسي» .
فاضل من آثاره:
1- شرح سيرة ابن فارس اللغوي المختصرة، فرغ من تأليفه في أواخر شهر رمضان (سنة 1132 هجرية) .
2- تحفة الأريب ونزهة اللبيب، وهو مطبوع، فهرس دار الكتب المصرية 3/ 45، 8/ 167 مكتبة البلدية: فهرس الاداب 21 انتهى. من معجم المؤلفين تراجم مصنفي الكتب العربية «عمر رضا كحالة» بتصرف.
এই আলোচনার পর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করি, অতঃপর এই বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমি এর পাণ্ডুলিপির ছবি সংগ্রহ করে তা সম্পাদনার জন্য প্রস্তুত করি, যেন এটি প্রথমবারের মতো আলোর মুখ দেখা প্রকাশনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যিনি এতে দৃষ্টিপাত করবেন এবং এতে থাকা কোনো ত্রুটি সংশোধন করবেন অথবা কোনো বিচ্যুতি দেখলে তা শুধরে দেবেন। আর তিনি যেন এটিকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণের সূচনা করে দেন।
উল্লিখিত বইটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত রূপরেখা অনুসরণ করেছি:
১- লেখকের পরিচিতি।
২- গ্রন্থ পরিচিতি।
৩- বইটি ‘আবু মাদিন’-এর হওয়ার ব্যাপারে সত্যতা যাচাই।
৪- পাণ্ডুলিপির বিবরণ।
৫- বইটিতে আমার সম্পাদিত কাজ।
৬- বইটির উপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ।
প্রথমত: লেখকের পরিচিতি:
ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের রচনাবলি সংক্রান্ত তথ্যসূত্রগুলোতে আমি অনেক অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু আমাদের আলোচ্য গ্রন্থ ‘মুসতাজবাবুল আখবার...’-এর লেখক সম্পর্কে ওমর রেজা কাহহালার ‘মু’জামুল মুআল্লিফিন’ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে পর্যাপ্ত তথ্য খুঁজে পাইনি। তিনি তাঁর সম্পর্কে সংক্ষেপে বলেছেন: “আবু মাদিন আল-ফাসি (১১৩২ হিজরি - ১৭২০ খ্রিস্টাব্দে) জীবিত ছিলেন। তিনি হলেন ‘আবু মাদিন বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাদির বিন আলি আল-ফাসি’।”
একজন গুণী ব্যক্তি, তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
১- ভাষাবিদ ইবনে ফারিসের সংক্ষিপ্ত জীবনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যা তিনি ১১৩২ হিজরি সনের রমজান মাসের শেষভাগে রচনা সম্পন্ন করেন।
২- তুহফাতুল আরিব ওয়া নুঝহাতুল লাবিব; এটি মুদ্রিত হয়েছে। দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার ক্যাটালগ ৩/৪৫, ৮/১৬৭; মাকতাবাতুল বালাদিয়্যাহ: আদাব বা সাহিত্যের ক্যাটালগ ২১। সমাপ্ত। ওমর রেজা কাহহালার ‘মু’জামুল মুআল্লিফিন: তারাজিমু মুসান্নিফিল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ’ থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৫)
ثانيا: بين يدي الكتاب:
كتاب «مستعذب الإخبار
… » ل «أبي مدين» توسع فيه كثيرا، وذلك ببسط الأمور التي اختصرها مؤلف الأصل- ابن فارس- وقد وصل بالكتاب المذكور بخط يده إلى تسع وسبعين لوحة، علما بأن أصله- أوجز السير- لم يزد عن خمس أو ست ورقات في جميع النسخ التي بين يدي، وهي كالاتي:
1- نسخة دار الكتب المصرية (رقم: 1976) تاريخ.
2- نسخة دار الكتب المصرية (رقم: 460) تاريخ.
3- نسخة الأزهر (رقم: 23125) من ورقة (33- 38) مجاميع (482) علم التاريخ، وتقع في خمس ورقات.
4- نسخة مظهر الفاروقي بالجامعة الإسلامية ميكرو فيلم (6802) .
وقد راجعت الأصل- أوجز السير- على صور المخطوطات المشار إليها سابقا ووضعتها بين أقواس هلالية، هكذا (
… ) ، ورمزت لها برموز مختصرة في أول الكتاب، ثم استغنيت عن ذكر هذه الرموز بعد أن قطعت مرحلة في التحقيق، واكتفيت بقولي: (في بعض نسخ الأصل، أو في إحدى النسخ. أو غير ذلك) .
ثالثا: صحة نسبة الكتاب للمؤلف:
حول صحة نسبة الكتاب ل «أبي مدين» انظر التعريف بالمؤلف في قوله: (ثانيا) .
رابعا: وصف المخطوط:
في تحقيقي للكتاب وإخراجه للطبع اعتمدت على نسخة واحدة، بعد عدم تمكني من الحصول على النسخة الموجودة في «الرباط» بالمغرب.
والنسخة الوحيدة التي اعتمدت على الله- سبحانه وتعالى في تحقيقها تحتفظ بها مكتبة معهد المخطوطات التابع لجامعة الدول العربية بالقاهرة، تحت (رقم: 2017) تاريخ، وهي مكتوبة بخط مغربي، وكاتبها مؤلفها- رحمه الله ومقاسها: 14- 20 سم، والورقة من النسخة- التي قمت بنسخها- تقع في صفحتين، وفي كل صفحة 14 سطرا، وفي كل سطر تسع كلمات تقريبا، وتاريخ كتابتها (1132 هجرية) .
দ্বিতীয়: গ্রন্থ পরিচিতি:
‘আবু মাদইয়ান’ তাঁর «মুসতাযউবুল আখবার ...» গ্রন্থটিতে মূল গ্রন্থের লেখক ইবনে ফারেস-এর সংক্ষেপিত বিষয়গুলোকে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে অনেক সম্প্রসারিত করেছেন। বর্ণিত বইটি তাঁর স্বহস্তে লিখিত উনআশিটি পৃষ্ঠায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য যে, এর মূল গ্রন্থ—আওজাযুস সিয়ার—আমার নিকট থাকা সকল পাণ্ডুলিপিতে পাঁচ বা ছয় পাতার বেশি নয়, যা নিম্নরূপ:
১- মিসরীয় দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ১৯৭৬) ইতিহাস।
২- মিসরীয় দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ৪৬০) ইতিহাস।
৩- আল-আযহার-এর পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ২৩১২৫) পাতা (৩৩-৩৮), মাজমুআ (৪৮২) ইতিহাস শাস্ত্র, যা পাঁচটি পাতার ওপর বিন্যস্ত।
৪- ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাযহারুল ফারুকী পাণ্ডুলিপির মাইক্রোফিল্ম (৬৮০২)।
আমি মূল গ্রন্থ—আওজাযুস সিয়ার—পূর্বে উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর কপির সাথে মিলিয়ে পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোকে প্রথম বন্ধনীতে এভাবে ( ... ) রেখেছি। গ্রন্থের শুরুতে সেগুলোর জন্য সংক্ষিপ্ত সংকেত ব্যবহার করেছিলাম, কিন্তু সম্পাদনার একটি পর্যায় পার হওয়ার পর এই সংকেতগুলোর উল্লেখ করা ত্যাগ করেছি এবং কেবল এইটুকু বলাকেই যথেষ্ট মনে করেছি যে: (মূলের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে, অথবা কোনো একটি পাণ্ডুলিপিতে, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু)।
তৃতীয়: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা:
‘আবু মাদইয়ান’-এর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার বিষয়ে লেখকের পরিচিতি অংশে তাঁর বক্তব্য (দ্বিতীয়ত) দ্রষ্টব্য।
চতুর্থ: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:
বইটি সম্পাদনা ও মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, কারণ মরক্কোর ‘রাবাত’-এ বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
একমাত্র যে পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি আল্লাহ -সুবহানাহু ওয়া তাআলা--এর ওপর ভরসা করেছি, সেটি কায়রোতে অবস্থিত আরব লিগভুক্ত ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এর লাইব্রেরিতে (নম্বর: ২০১৭) ইতিহাস শাখায় সংরক্ষিত আছে। এটি মাগরিবী লিপিতে লিখিত এবং এর লেখক স্বয়ং গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন। এর আকার ১৪-২০ সেন্টিমিটার। পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পাতা—যা আমি প্রতিলিপি করেছি—দুই পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৪টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় নয়টি শব্দ রয়েছে। এটি রচনার তারিখ (১১৩২ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৬)
وبعد تصويرها من معهد المخطوطات قمت بنسخها، وقد لاقيت في النسخ الكثير من المشاكل؛ لدقة خطها، وعدم وضوح بعض الكلمات في بعض لوحاتها؛ ولكن بفضل الله- تعالى- تمكنت من الوصول إلى الكثير من الكلمات غير الواضحة أو المطموسة؛ وذلك بالرجوع إلى المصادر والمراجع التي نقل منها المؤلف- رحمه الله تعالى- والنسخة بها ثلاثة تقاريظ لثلاثة من العلماء (انظر اللوحات المرافقة) .
خامسا: عملي في الكتاب:
1- قمت بنسخ الكتاب- المخطوط.
2- وضعت «أوجز السير» أصل كتابنا الذي قام «أبو مدين» بشرحه- تقييده- بين أقواس هلالية، هكذا () مع ضبطه بالشكل للتمييز بينه وبين الشرح.
3- وضعت أول الصفحة وآخرها من كل ورقة هكذا (1/ أ، 1/ ب) .
4- الايات القرآنية الواردة في الأصل وفي التحقيق قمت بعزوها إلى أماكنها في المصحف مع ذكر أرقامها، وبيان كونها آية أو آيات، أو بعض آية.
5- المؤلف وضع بعض العناوين الجانبية للكتاب، وقمت بوضع الباقي بين أقواس معكوفة هكذا [] إكمالا للفائدة، انظر: [الغزوات] مثلا.
6- الأعلام الواردة في الكتاب قمت بتعريف المحتاج منها إلى تعريف، تعريف غير المشهور.
7- الأحاديث الواردة في الصحيحين؛ «البخاري» و «مسلم» اكتفيت بالعزو إليهما.
8- الأحاديث إذا كانت في غيرهما حاولت ذكر آراء علماء الجرح والتعديل فيها حسب الطاقة.
9- قمت بشرح بعض الكلمات غير الواضحة من كتب غريب الحديث، ومن كتب اللغة.
10- الكلمات التي لم أستطع قراءتها وضعتها بين أقواس معكوفة هكذا [] .
11- حاولت الوصول بالكتاب إلى تحقيق ما أراده المؤلف.
পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে এর প্রতিলিপি সংগ্রহের পর আমি তা অনুলিপি করেছি। অনুলিপি করার সময় আমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি; তার সূক্ষ্ম হস্তলিপি এবং এর কিছু পাতার কিছু শব্দের অস্পষ্টতার কারণে। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে আমি অনেক অস্পষ্ট বা মুছে যাওয়া শব্দ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আর তা সম্ভব হয়েছে লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যেসব উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। এই অনুলিপিতে তিনজন আলেমের তিনটি প্রশংসামূলক ভূমিকা রয়েছে (সংযুক্ত পাতাগুলো দেখুন)।
পঞ্চম: এই বইয়ে আমার কাজ:
১- আমি বইটির পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেছি।
২- আমি আমাদের বইয়ের মূল পাঠ 'আওজাযুস সিয়ার'—যাকে 'আবু মাদিন' ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন—প্রথম বন্ধনী ()-এর মধ্যে রেখেছি এবং মূল পাঠ ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এতে হরকত প্রদান করেছি।
৩- আমি প্রতিটি পাতার শুরু এবং শেষ এভাবে (১/ ক, ১/ খ) চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
৪- মূল পাঠে এবং সম্পাদনায় আসা কুরআনের আয়াতগুলোকে আমি মুসহাফের নিজ নিজ স্থানের উদ্ধৃতিসহ সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করেছি। সেই সাথে এটি একটি পূর্ণ আয়াত নাকি একাধিক আয়াত অথবা আয়াতের অংশ তা স্পষ্ট করেছি।
৫- লেখক বইটিতে কিছু পার্শ্ব-শিরোনাম ব্যবহার করেছেন এবং অবশিষ্টগুলো আমি উপকারের পূর্ণতার জন্য এভাবে তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে বসিয়েছি; উদাহরণস্বরূপ দেখুন: [যুদ্ধসমূহ]।
৬- বইটিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের পরিচয় প্রদানের প্রয়োজন ছিল, তাদের পরিচয় দিয়েছি; বিশেষ করে যারা খুব একটা প্রসিদ্ধ নন।
৭- সহীহাইন অর্থাৎ 'বুখারী' ও 'মুসলিম'-এ বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে আমি শুধু সেগুলোর উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি।
৮- হাদিসগুলো যদি এই দুই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও থাকে, তবে আমি সাধ্যানুযায়ী সেগুলোর ব্যাপারে জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের আলেমদের মতামত উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।
৯- আমি 'গারীবুল হাদীস' এবং অভিধান গ্রন্থগুলো থেকে কিছু অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছি।
১০- যে শব্দগুলো আমি পড়তে সক্ষম হইনি, সেগুলো আমি এভাবে তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে রেখেছি।
১১- লেখক যা চেয়েছিলেন, বইটি সম্পাদনার মাধ্যমে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৭)
12- وضعت صورا ل «نماذج» من صورة المخطوط بعد المقدمة، تبين الأمور الاتية:
أ- اسم الكتاب.
ب- إسم المؤلف.
ج- نموذج الصفحة الأولى من الورقة الأولى.
د- نموذج الصفحة الأخيرة من اللوحة الأخيرة من الكتاب.
5- النماذج الخاصة بتقاريظ العلماء للكتاب.
سادسا: ملحوظاتي على الكتاب:
1- نقل المؤلف- رحمه الله تعالى- نصوصا كثيرة من كتب غيره، ولم يشر إلى الكتاب ولا إلى المؤلف كنقله من كتاب «المدخل» ل «ابن الحاج» 2/ 29 م (تتشرف به الأزمنة والأمكنة، لا هو يتشرف بها بل يجعل للزمان أو المكان الذي يباشره- عليه السلام الفضيلة والمزية على غيره
… ) إلخ.
2- نقل- رحمه الله من كتاب «الكنز المدفون» المنسوب إلى الإمام السيوطي بالنص من ص 283 فقال: «
… لينظر- صلى الله عليه وسلم إذا وصل إلى مدارج عزه وعلو مراقي كرامته، فيعلم أن العزيز من أعز الله
… » إلى قوله: «والأيتام» . [انظر الموضوع 1، 2، وغيرهما داخل الكتاب] .
3- ذكر- رحمه الله حديث عائشة- رضي الله عنها: «كان يتختم في يمينه
… » . وهو حديث ضعيف، أخرجه ابن عدي في الكامل عن ابن عمر، وابن عساكر في تاريخ دمشق عن عائشة- حديث الباب-[الجامع الصغير للسيوطي 5/ 201 رقم: 6968] وكان الأجدر به أن يذكر الحديث نفسه- «كان يتختم في يمينه» - من البخاري في اللباس، لبس الخاتم، والترمذي في اللباس 16: عن ابن عمر، ومسلم والنسائي في الزينة 48: عن أنس، وأحمد وابن ماجه: عن عبد الله بن جعفر.
وبعد: فهذا ما أردت ذكره ليكون الكتاب في صورة مرضية تحقق الغرض الأسمي، والقصد النبيل من إخراجه في هذه الصورة.
وأخيرا، وليس آخرا آمل تقديم ما فيه نفع للإسلام والمسلمين.
১২- ভূমিকার পরে পাণ্ডুলিপির ছবির কিছু 'নমুনা' আমি যুক্ত করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করে:
ক- কিতাবের নাম।
খ- লেখকের নাম।
গ- প্রথম পাতার প্রথম পৃষ্ঠার নমুনা।
ঘ- কিতাবের শেষ পাতার শেষ পৃষ্ঠার নমুনা।
৫- কিতাবটি সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসাসূচক বাণীর (তাকরিজ) বিশেষ নমুনা।
ষষ্ঠত: কিতাবটি সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণসমূহ:
১- লেখক- রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- অন্যদের কিতাব থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, কিন্তু তিনি সেই কিতাব বা লেখকের নাম উল্লেখ করেননি। যেমন- ইবনুল হাজ-এর 'আল-মাদখাল' কিতাব (২/২৯) থেকে তাঁর উদ্ধৃতি: (কাল ও স্থান তাঁর মাধ্যমেই সম্মানিত হয়, তিনি এগুলোর মাধ্যমে সম্মানিত হন না; বরং তিনি যে কাল বা স্থানে অবস্থান করেন—আলাইহিস সালাম—তা অন্য সবকিছুর ওপর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে...) ইত্যাদি।
২- তিনি- রাহিমাহুল্লাহ- ইমাম সুয়ূতী-র প্রতি নিসবতকৃত 'আল-কানযুল মাদফুন' কিতাবের ২৮৩ পৃষ্ঠা থেকে হুবহু উদ্ধৃত করে বলেছেন: "...যাতে তিনি—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—লক্ষ্য করেন যখন তিনি তাঁর ইজ্জতের সোপান এবং সম্মানের উচ্চ শিখরে পৌঁছান, তখন তিনি জানতে পারেন যে প্রকৃত সম্মানিত তিনিই যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন..." তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত: "এবং এতিমগণ"। [কিতাবের অভ্যন্তরে ১ ও ২ নং বিষয় এবং অন্যান্যগুলো দেখুন]।
৩- তিনি- রাহিমাহুল্লাহ- আয়েশা—রাদিয়াল্লাহু আনহা—বর্ণিত এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "তিনি তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন..."। এটি একটি দুর্বল হাদিস, যা ইবনে আদি 'আল-কামিল'-এ ইবনে উমর থেকে এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক'-এ আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন—অধ্যায়ের হাদিস—[সুয়ূতীর আল-জামেউস সাগির ৫/২০১, নং: ৬৯৬৮]। তাঁর জন্য এই হাদিসটিই—"তিনি তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন"—ইবনে উমর থেকে বুখারির 'আল-লিবাস' অধ্যায়ের 'আংটি পরিধান' অনুচ্ছেদ এবং তিরমিযির 'আল-লিবাস' অধ্যায় (১৬), আনাস থেকে মুসলিম ও নাসাঈর 'আয-যিনাহ' অধ্যায় (৪৮) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে আহমদ ও ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করা অধিক সমীচীন ছিল।
অতঃপর: আমি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করতে চেয়েছি যাতে কিতাবটি একটি সন্তোষজনক অবয়বে উপস্থাপিত হয়, যা এর প্রকাশের মহান উদ্দেশ্য ও মহৎ লক্ষ্য পূরণ করে।
পরিশেষে, আমি আশা করি এমন কিছু উপস্থাপন করতে পেরেছি যা ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর হবে।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৮)
والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، إنه نعم المولى ونعم النصير، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
كتبه: أحمد عبد الله باجور علي الباحث بمجمع البحوث الإسلامية بالأزهر سابقا والمحقق بدار الخضيري للنشر بالمدينة النبوية حاليا
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই আমলকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর।
লিখেছেন: আহমদ আবদুল্লাহ বাজুর আলী, আল-আজহারের ইসলামি গবেষণা একাডেমির প্রাক্তন গবেষক এবং বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারার দার আল-খুদাইরি প্রকাশনীর গবেষক।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৯)
نماذج من صور المخطوطات
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহের নমুনা
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১১)
نموذج لاسم الكتاب- مستعذب الإخبار-.. وبيان لوجوده بدار الكتب المصرية ورقمه ومقاسه وبيان أنه بخط المؤلف.
ملحوظة الكتاب مصور من معهد المخطوطات.
গ্রন্থের নামের নমুনা—মুস্তা’যাবুল ইখবার—এবং মিসরীয় দারুল কুতুব-এ এর উপস্থিতি, এর নম্বর ও পরিমাপের বিবরণ এবং এটি যে লেখকের স্বহস্তে লিখিত তার বর্ণনা।
দ্রষ্টব্য: বইটি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে সংগৃহীত চিত্রায়িত অনুলিপি।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১২)
نموذج اللوحة الأولى من صورة المخطوطة، وبحاشيتها يظهر ما نقله عن ابن خلكان.
পাণ্ডুলিপির ছবির প্রথম পাতের নমুনা, এবং এর পার্শ্বটিকায় ইবনে খাল্লিকান থেকে তাঁর কৃত উদ্ধৃতিটি দৃশ্যমান হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
نموذج اللوحة الأخيرة من صورة المخطوط وبها تظهر نهاية المخطوط وتاريخ الفراغ من تأليفه- وافق الفراغ من تعليقه أواخر رمضان المعظم سنة اثنين وثلاثين ومائة وألف.
পাণ্ডুলিপির প্রতিকৃতির শেষ পৃষ্ঠার নমুনা, যাতে পাণ্ডুলিপির সমাপ্তি এবং এটি রচনার সমাপ্তির তারিখ দৃশ্যমান হয়েছে—এর পাদটীকা রচনার সমাপ্তি এক হাজার একশত বত্রিশ হিজরি সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের শেষাংশের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
صورة نموذج التقريظ الأول للكتاب بقلم الإمام العالم العلامة شيخ/ محمد المسناوي- رحمه الله ورضي عنه- وفيه: الحمد لله وجدت مقيدا على ظهر أول ورقة من الأصل
إن الهلال إذا رأيت نموه
… أيقنت أن سيكون بدرا كاملا
ইমাম আলেম আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ আল-মাসনাউয়ী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর লেখনীতে গ্রন্থটির প্রথম প্রশংসামূলক স্তুতিবাক্যের নমুনার চিত্র। এতে রয়েছে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে এটি লিপিবদ্ধ পেয়েছি:
নিশ্চয়ই নবচন্দ্রের যখন তুমি বৃদ্ধি দেখবে
… তখন তুমি নিশ্চিত হবে যে তা অচিরেই পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদে পরিণত হবে।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة نموذج التقريظ الثاني للكتاب بخط العالم العلامة البركة شيخ/ محمد بن عبد الرحمن- رضي الله عنه ما نصه:
الحمد لله وحده، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما نظرت بعض المواضع من هذا التقييد المفيد
… إلخ.
(1) المراد من قوله أعلاه- التقريظ الأول- للشيخ محمد المسناوي السابق.
বইটির দ্বিতীয় প্রশংসাপত্রের নমুনার অনুলিপি, যা আলেম, প্রাজ্ঞ ও বরকতময় শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর হস্তাক্ষরে লিখিত; যার পাঠ হলো:
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আমি এই উপকারী সংকলনের কিছু অংশ দেখেছি... ইত্যাদি।
(১) উপরে উল্লিখিত 'প্রথম প্রশংসাপত্র' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্বোক্ত শাইখ মুহাম্মদ আল-মাসনাউয়ী।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
صورة نموذج التقريظ الثالث للكتاب بخط العلامة الأفضل شيخ/ محمد بن عبد السلام … أدام الله النفع به، ما نصه: الحمد لله، يقول كاتبه محمد بن عبد السلام...... قد طالعت هذا الشرح العجيب فأعجب.
বইটির তৃতীয় প্রশংসাপত্রের নমুনার চিত্র, যা শ্রেষ্ঠ আল্লামাহ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আবদিস সালামের হস্তাক্ষরে লিখিত … আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ অব্যাহত রাখুন। যার মূল পাঠ হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এর লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আবদিস সালাম বলছেন— আমি এই বিস্ময়কর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করেছি এবং এটি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
نموذج يوضح ملكية الكتاب
গ্রন্থের মালিকানা নির্দেশক একটি নমুনা।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار شرح «أوجز السّير» لابن فارس كتاب يبحث في السيرة العطرة لأشرف الأنبياء والرسل محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم تأليف الإمام أبي مدين بن أحمد بن محمّد الفاسي المتوفى بعد سنة 1132 هـ تحقيق أحمد عبد الله باجور الباحث بمجمع البحوث الإسلاميّة بالأزهر سابقا والمحقّق بدار الخضيري للنشر بالمدينة النبوية حاليا
উত্তম সংবাদের মাধ্যমে সংবাদের মাধুর্য আস্বাদন: ইবন ফারিসের ‘আওজাযুস সিয়ার’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধিময় সীরাত বা জীবনী সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ। এটি রচনা করেছেন ইমাম আবু মাদইয়ান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ফাসি, যিনি ১১৩২ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। সম্পাদনায়: আহমদ আব্দুল্লাহ বাজুর, আল-আযহারের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির প্রাক্তন গবেষক এবং বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারায় দার আল-খুদাইরি প্রকাশনীর গবেষক।
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقدمة المؤلف/ بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا ومولانا «1» محمد خاتم النبيين وإمام المرسلين، وعلى آله الطيبين، وأصحابه المنتجبين «2» والتابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فيقول العبد الفقير إلى الله الغني، أبو مدين بن أحمد بن محمد بن عبد القادر بن علي بن يوسف، كان الله له وليا، وبه حفيا: «3» هذا تقييد قصدت به شرح مختصر الإمام العلامة، أبي الحسين أحمد «4» بن فارس بن زكريا بن محمد بن حبيب الرازي/ اللغوي في السيرة النبوية، وسميته:
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকা/ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক «১» মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি নবীগণের মোহর ও রাসূলগণের ইমাম। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর মনোনীত «২» সাহাবীগণ এবং তাবেঈন ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।
অতঃপর:
অভাবমুক্ত আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আবু মাদইয়ান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ—আল্লাহ তাঁর অভিভাবক হোন এবং তাঁর প্রতি দয়াশীল হোন «৩»—বলছেন: এটি একটি টীকা, যার মাধ্যমে আমি ইমাম আল্লামা আবুল হুসাইন আহমাদ «৪» ইবনে ফারিস ইবনে যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-রাযী আল-লুগাভী-এর সীরাতুন নবী (সা.) বিষয়ক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির (মুখতাসার) ব্যাখ্যা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২২)
(مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار) .
ومن الله- تعالى- أسأل العصمة، والتوفيق، والهداية لأقوم طريق، وبه- تعالى- أستعين؛ لأنه قوي.
قال المؤلف «1» - رحمه الله تعالى-:
هذا ذكر ما يحق «2» على المرء المسلم حفظه، ويجب على ذي الدّين معرفته من نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومولده، ومنشئه، ومبعثه، وذكر أحواله في مغازيه، ومعرفة أسماء ولده «3» ، وعمومته وأزواجه؛ فإن للعارف بذلك رتبة تعلو «4» على رتبة من جهله، كما أن للعلم به حلاوة في الصدور «5» ، ولم تعمر مجالس الخير بعد كتاب الله عز وجل بأحسن من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وقد أتينا «6» في مختصرنا هذا من ذلك ذكرا، والله نستهديه التوفيق، وإياه نسأل الصلاة على زين المرسلين وسيد العالمين، وخاتم النبيين، وإمام المتقين «7» أبي
--------------------------------------------
(সবচেয়ে উত্তম সংবাদ সংবলিত সুমিষ্ট বর্ণনা)।
আর মহান আল্লাহর কাছেই আমি পাপাচার থেকে সুরক্ষা, তাওফিক এবং সরলতম পথের হিদায়াত প্রার্থনা করছি; এবং তাঁরই —যিনি মহান— সাহায্য কামনা করছি, কারণ তিনি শক্তিশালী।
লেখক —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— বলেছেন:
এটি এমন বিষয়াবলির আলোচনা যা মুখস্থ রাখা একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য যথাযথ এবং যার দ্বীন রয়েছে তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয়, তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবুওয়াতপ্রাপ্তি, তাঁর যুদ্ধবিগ্রহের ঘটনাবলি এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি, চাচা ও স্ত্রীদের নাম জানা আবশ্যক। কেননা এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনকারীর জন্য এমন এক উচ্চ মর্যাদা রয়েছে যা অজ্ঞ ব্যক্তির মর্যাদার ঊর্ধ্বে। যেমনটি এ বিষয়ক জ্ঞানের জন্য অন্তরে এক মাধুর্য রয়েছে। আর মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদের চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছু দিয়ে কল্যাণের মজলিসগুলো আবাদ হয়নি।
আমরা আমাদের এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে তারই কিছু বর্ণনা নিয়ে এসেছি। আল্লাহর কাছেই আমরা তাওফিকের হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছেই সকল রাসূলের সৌন্দর্য, বিশ্বজগতের সরদার, নবীদের সিলমোহর এবং মুত্তাকীদের ইমাম আবী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القاسم «1» ) .
كنيته صلى الله عليه وسلم/ هذه كنيته صلى الله عليه وسلم المشهورة في الأحاديث الصحيحة، وجاء في حديث تكنية
--------------------------------------------
কাসেম (১) ।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপনাম (কুনিয়াত)/ এটি সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রসিদ্ধ উপনাম (কুনিয়াত), এবং উপনাম গ্রহণের হাদিসে এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
«جبريل» عليه السلام له صلى الله عليه وسلم ب «أبي إبراهيم» «1» .
ومن كناه صلى الله عليه وسلم «أبو الطاهر» و «أبو الطيب» «2» .
وذكر «ابن دحية» أنه يكنى أيضا ب «أبي الأرامل «3» » ، وذكر غيره أيضا ب «أبي المؤمنين» «4» صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আবু ইব্রাহিম' উপনামে সম্বোধন করেছেন।
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুনিয়া বা উপনামসমূহের মধ্যে 'আবু আত-তাহির' এবং 'আবু আত-তইয়িব'-ও রয়েছে।
ইবনে দাহইয়া উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে 'আবু আল-আরামিল' নামেও সম্বোধন করা হতো, আর অন্য অনেকে তাঁকে 'আবু আল-মু'মিনিন' (মু'মিনদের পিতা) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামেও অভিহিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[النسب الزكي الطاهر] «1»
(محمد) «2» هذا اسمه الذي سماه به جده «عبد المطلب» ، وهو منقول من الصفة، سمى به صلى الله عليه وسلم لكثرة حمد الخلق له، وكثرة خصاله المحمودة، وقد قيل ل «عبد المطلب» :
--------------------------------------------
[পবিত্র ও নির্মল বংশপরিচয়] «১»
(মুহাম্মদ) «২» এটি তাঁর সেই নাম যা তাঁর দাদা ‘আব্দুল মুত্তালিব’ রেখেছিলেন। এটি একটি গুণবাচক শব্দ থেকে গৃহীত। সৃষ্টির পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি প্রচুর প্রশংসা এবং তাঁর অসংখ্য প্রশংসনীয় গুণের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আব্দুল মুত্তালিবকে বলা হয়েছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لم سميت ابنك «محمدا» ، ولم يكن من أسماء آبائك ولا قومك؟ قال: رجوت أن يكون محمودا في السماء والأرض. وقد حقق الله رجاءه كما سبق في علمه «1» . وورد أن «آمنة» «2» أمه صلى الله عليه وسلم سمعت قائلا يقول لها:
--------------------------------------------
কেন আপনি আপনার পুত্রের নাম ‘মুহাম্মদ’ রেখেছেন, অথচ এটি আপনার পূর্বপুরুষ বা আপনার সম্প্রদায়ের নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল না? তিনি বললেন: আমি আশা করেছি যে আকাশ ও পৃথিবীতে সে প্রশংসিত হবে। আর আল্লাহ তাঁর আশা পূর্ণ করেছেন যেমনটি তাঁর জ্ঞানে পূর্বনির্ধারিত ছিল (১)। এবং বর্ণিত আছে যে, তাঁর মাতা ‘আমিনা’ (২) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজনকে বলতে শুনেছেন যে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
«إنك حملت بسيد هذه الأمة؛ فإذا وضعتيه فسميه محمدا» «1» .
وأمرت أيضا في رؤيا أخرى/ أن تسميه أحمد «2» . قال سيدي العربي الفاسي في سيرته:
قال ابن إسحاق:
ولما ولد أو قد بدا من نوره ما قد بدا.
أرسلت أمه لجده فجاء حتى رآه فرأى ما قد رجا.
--------------------------------------------
«নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের নেতার গর্ভধারণ করেছেন; সুতরাং যখন আপনি তাঁকে প্রসব করবেন তখন তাঁর নাম রাখবেন মুহাম্মদ» (১)।
আর আপনাকে অন্য একটি স্বপ্নেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আপনি তাঁর নাম রাখবেন আহমদ (২)। সায়্যিদী আল-আরাবী আল-ফাসি তাঁর সীরাত গ্রন্থে বলেছেন:
ইবনে ইসহাক বলেন:
আর যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন, তখন তাঁর নূর থেকে যা প্রকাশিত হওয়ার ছিল তা প্রকাশিত হলো।
তাঁর মা তাঁর দাদার নিকট সংবাদ পাঠালেন, অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাঁকে দেখলেন, ফলে তিনি তাই দেখতে পেলেন যার তিনি আশা করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فأخبرته بالذي قبل رأت في حمله.
وأنها قد أمرت أن تسميه محمدا أعظم بها من تسمية.
وجاء أيضا أنه رأى سلسلة «1» من فضة لها رأى.
قد خرجت من ظهره لها طرف في الشرق والاخر للغرب انصرف.
وطرف آخر في السماء وطرف في الأرض أيضا نشا.
ثمت عادت بعد في الفيافي شجرة مورفة الأفنان.
والنور باد فوق كل ورقة لامعة أنوارها مؤتلفة.
إذا بأهل مشرق ومغرب هناك استمسكوا بسبب.
وقصّها فعبرت بولد من صلبه ممجد محمد.
يحمده لفضله أهل السماء والأرض إذ عظم قدرا وسما.
يتبعه جميع أهل الشرق والغرب والتعبير عين الحق.
/ لأجل ذا وما قريب قد مضى سماه باسمه الشريف المرتضى.
--------------------------------------------
অতঃপর তিনি তাঁকে গর্ভধারণকালে যা দেখেছিলেন সে সম্পর্কে ইতিপূর্বেই সংবাদ দিলেন।
এবং তাঁকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যেন তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মাদ; কতই না মহান এই নামকরণ!
আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (আবদুল মুত্তালিব) রূপার একটি শিকল স্বপ্নে দেখেছিলেন।
যা তাঁর পিঠ থেকে নির্গত হয়েছে, যার এক প্রান্ত পূর্ব দিকে এবং অন্য প্রান্তটি পশ্চিম দিকে ধাবিত হয়েছে।
তার অন্য এক প্রান্ত আকাশে এবং একটি প্রান্ত পৃথিবীতেও বিস্তৃত হয়েছে।
অতঃপর তা সুবিস্তৃত প্রান্তরে পল্লবিত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট একটি বৃক্ষে পরিণত হলো।
এবং প্রতিটি পাতার উপরে আলো প্রকাশিত ছিল, যার উজ্জ্বল নূরসমূহ ছিল সুসংবদ্ধ।
এমতাবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীরা সেখানে একটি অবলম্বন হিসেবে তা আঁকড়ে ধরল।
তিনি স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন, তখন এর ব্যাখ্যা করা হলো তাঁর বংশজাত একজন মহিমান্বিত পুত্র দ্বারা, যাঁর নাম মুহাম্মাদ।
আসমান ও যমীনের অধিবাসীরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর প্রশংসা করবে, যেহেতু তাঁর মর্যাদা ও উচ্চতা সুমহান।
পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মানুষ তাঁর অনুসরণ করবে এবং এই ব্যাখ্যাটিই ছিল ধ্রুব সত্য।
এই কারণে এবং নিকট অতীতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে তিনি তাঁর সেই পছন্দনীয় ও সম্মানিত নাম রাখলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال «كعب الأحبار» «1» : اسم النبي صلى الله عليه وسلم عند أهل الجنة «عبد الكريم» ، وعند أهل النار «عبد الجبار» ، وعند أهل العرش «عبد المجيد» ، وعند سائر الملائكة «عبد الحميد» ، وعند الأنبياء «عبد الوهاب» ، وعند الشياطين «عبد القهار» ، وعند الجن «عبد الرحيم» ، وفي الجبال «عبد الخالق» ، وفي البراري «عبد القادر» ، وفي البحار «عبد المهيمن» *، وعند الحيتان «عبد القدوس» ، وعند الهوام «عبد الغياث» ، وعند الوحوش «عبد الرزاق» ، وعند السباع «عبد السلام» ، وعند البهائم «عبد المؤمن» ، وعند الطيور «عبد الغفار» .
وفي التوراة «مود مود» «2» .
--------------------------------------------
এবং «কাআব আল-আহবার» (১) বলেন: জান্নাতবাসীদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম হলো «আবদুল কারীম», জাহান্নামবাসীদের নিকট «আবদুল জাব্বার», আরশবাসীদের নিকট «আবদুল মাজীদ», অন্যান্য সমস্ত ফেরেশতাদের নিকট «আবদুল হামীদ», নবীদের নিকট «আবদুল ওয়াহহাব», শয়তানদের নিকট «আবদুল কাহহার», জিনদের নিকট «আবদুল রহীম», পর্বতমালায় «আবদুল খালিক», মরুপ্রান্তরে «আবদুল কাদির», সমুদ্রে «আবদুল মুহাইমিন» *, মাছদের নিকট «আবদুল কুদ্দুস», কীটপতঙ্গের নিকট «আবদুল গিয়াস», বন্যপ্রাণীদের নিকট «আবদুল রাজ্জাক», হিংস্র প্রাণীদের নিকট «আবদুল সালাম», চতুষ্পদ জন্তুদের নিকট «আবদুল মুমিন» এবং পাখিদের নিকট «আবদুল গাফফার»।
এবং তৌরাতে এসেছে «মুদ মুদ» (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي «الإنجيل» «طاب، طاب» «1» .
وفي «الصحف «2» » «عافية» . وفي «الزبور» «فاروق» ، وعند الله «طه، ويس» ، وعند المؤمنين «محمد» ، وكنيته «أبو القاسم» ؛ لأنه يقسم الجنة بين أهلها «3» .
ونقل بعضهم «4» : أنه لما شاع قبل مولده صلى الله عليه وسلم أن نبيا يبعث في الحجاز يسمى «محمدا»
--------------------------------------------
এবং «ইনজিল»-এ (তাঁর নাম) «ত্বাব, ত্বাব» «১»।
এবং «সুহুফ «২»»-এ (তাঁর নাম) «আফিয়া»। এবং «যাবুর»-এ (তাঁর নাম) «ফারুক», আল্লাহর নিকট «ত্বহা ও ইয়াসিন», মুমিনদের নিকট «মুহাম্মাদ» এবং তাঁর উপনাম «আবুল কাসিম»; কারণ তিনি জান্নাতের অধিবাসীদের মধ্যে তা বণ্টন করবেন «৩»।
কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন «৪»: যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মের পূর্বে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল যে, হিজাজে একজন নবী প্রেরিত হবেন যার নাম হবে «মুহাম্মাদ»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
سمى قوم/ من العرب أبناءهم بذلك، وعدتهم خمسة عشر؛ منهم «محمد بن سفيان بن مجاشع» «1» جد الفرزدق «2» الشاعر، و «محمد بن أحيحة بن الجلاح الأوسي «3» » ، و «محمد
--------------------------------------------
আরবদের একটি দল তাদের সন্তানদের এই নাম রেখেছিলেন এবং তাদের সংখ্যা ছিল পনের জন; তাদের মধ্যে রয়েছেন 'মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান বিন মুজাশে', যিনি কবি ফারাযদাক-এর দাদা, এবং 'মুহাম্মাদ বিন উহাইহা বিন আল-জুলাহ আল-আউসি', এবং 'মুহাম্মাদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ابن مسلمة الأنصاري» «1» ، و «محمد بن عدي بن ربيعة بن سواءة بن جشم بن سعد بن زيد بن مناة بن تميم» التميمي السعدي «2» و «محمد بن أسامة بن مالك ابن حبيب بن العنبر» «3» ، و «محمد بن البراء» «4» ، و «محمد بن الحارث بن صبح بن حويص «5» » ، فعلوا ذلك رجاء أن يكون أحد أولادهم، و: اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسالَتَهُ «6» وقد منع الله- تعالى- كل
--------------------------------------------
ইবনে মাসলামা আল-আনসারি» «১» , এবং «মুহাম্মদ ইবনে আদি ইবনে রাবিআ ইবনে সাওয়াহ ইবনে জুশাম ইবনে সাদ ইবনে যায়েদ ইবনে মানাত ইবনে তামীম» আত-তামীমি আস-সাদি «২» এবং «মুহাম্মদ ইবনে উসামা ইবনে মালিক ইবনে হাবিব ইবনে আল-আনবার» «৩» , এবং «মুহাম্মদ ইবনে আল-বারা» «৪» , এবং «মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস ইবনে সুব্হ ইবনে হুয়াইস «৫» » , তারা এটি করেছিলেন এই আশায় যে, যেন তাদের সন্তানদের মধ্যে কেউ একজন (নবী) হন; আর: আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন «৬»। আর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
من تسمى بذلك أن يدعي النبوة، أو يدعيها أحد له. انتهى «1» .
قال في (المواهب) «2» : وفيمن ذكره عياض «محمد بن مسلمة الأنصاري» ، وليس ذكره بجيد؛ فإنه ولد بعد النبي صلى الله عليه وسلم بأزيد من عشرين سنة.
وأما أحمد «3» فلم يتسم به أحد قبله، حسبما في حديث
--------------------------------------------
যারা এই নামে নাম রেখেছে তারা যেন নবুওয়াত দাবি না করে, অথবা অন্য কেউ তাদের জন্য এটি দাবি না করে। সমাপ্ত। (১)
‘আল-মাওয়াহিব’ গ্রন্থে (২) বলা হয়েছে: ইয়ায যাদের উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে ‘মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা আল-আনসারী’ রয়েছেন, তবে তাঁর উল্লেখ করা সঠিক নয়; কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের বিশ বছরেরও বেশি সময় পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
আর ‘আহমাদ’ (৩) নামটির ক্ষেত্রে, হাদীসে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর আগে অন্য কেউ এই নামে নাম রাখেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
«مسلم» «1» و «أحمد» «2» و «الترمذي الحكيم «3» » في «نوادر الأصول» .
(ابن عبد الله «4» ) يكنى أبا «قثم «5» » . و «قثم» - كزفر- من أسمائه عليه السلام، ومعناه لغة: الكثير العطاء والجموع للخير «6» ، وقيل: كنيته/ أبو محمد. وقيل: أبو أحمد «7» ،
--------------------------------------------
‘মুসলিম’ [১], ‘আহমদ’ [২] এবং ‘নওয়াদিরুল উসুল’ গ্রন্থে ‘তিরমিযী আল-হাকীম’ [৩] এটি বর্ণনা করেছেন।
(আবদুল্লাহর পুত্র [৪]) তাঁর উপনাম ছিল আবু ‘কুসাম’ [৫]। আর ‘কুসাম’—‘যুফার’-এর ওজনে—এটি তাঁর (আলাইহিস সালাম) নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ভাষাগতভাবে এর অর্থ হলো: অধিক দানকারী এবং কল্যাণ চয়নকারী [৬]। বলা হয়ে থাকে: তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ। আবার বলা হয়েছে: আবু আহমদ [৭]।
--------------------------------------------