(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: -)
مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار   (أبو مدين الفاسى)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار

المؤلف: أبو مدين بن أحمد بن محمد بن عبد القادر بن علي الفاسي (ت بعد 1132هـ)

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى - 1425 هـ / 2004 م

عدد الصفحات: 447

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসতাযাবুল আখবার বি আতইয়াবিল আখবার   (আবু মাদিয়ান আল-ফাসি)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: মুসতাযাবুল আখবার বি আতইয়াবিল আখবার

লেখক: আবু মাদিয়ান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাদির বিন আলী আল-ফাসি (মৃত্যু ১১৩২ হিজরীর পর)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৫ হিজরী / ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102) «1» .

يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً (1) «2» .

يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) «3» .

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار «4» .

كتاب «مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار» لأبي مدين الفاسي والذي نقدمه اليوم بشرح فيه كتاب «أوجز السير» للإمام أحمد بن فارس العالم اللغوي.

و «أوجز السير» كتاب مختصر في السيرة النبوية ألفه صاحبه، وتحدث فيه باختصار عن: «النسب الشريف، ومولده صلى الله عليه وسلم، ونشأته، وأزواجه، وأولاده، وأعمامه، وعماته..» إلخ.

تحدث فيه عن هذه الأمور بصورة مختصرة، ثم جاء بعده «أبو مدين» مؤلف كتابنا فتوسع فيما اختصره ابن فارس، وأفاض فيه إفاضة واسعة.

وبعد اطلاعي على المخطوط حدثتني نفسي؛ لماذا لا يخرج هذا الكتاب إلى النور؟

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، الاية: 102.

(2) سورة النساء، الاية: 1.

(3) الأحزاب، الايتان: 70، 71.

(4) حديث خطبة الحاجة.
সম্পাদকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ ও আমাদের আমলের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২) «১»।

হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১) «২»।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহা সাফল্য লাভ করবে (৭১) «৩»।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা আর প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম «৪»।

আবু মাদইয়ান আল-ফাসি রচিত ‘মুস্তাদযাবুল ইখবার বি-আতইয়াবিল আখবার’ গ্রন্থটি, যা আমরা আজ উপস্থাপন করছি, এতে ভাষাবিদ ইমাম আহমাদ ইবনে ফারিস-এর ‘আওজাযুস সিয়ার’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এবং ‘আওজাযুস সিয়ার’ হলো নবীজির সীরাত বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যা এর লেখক নিজেই রচনা করেছেন। এতে তিনি সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন: ‘তাঁর সম্মানিত বংশপরম্পরা, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্ম, বেড়ে ওঠা, তাঁর স্ত্রীগণ, তাঁর সন্তানগণ, তাঁর চাচাগণ এবং তাঁর ফুফুগণ...’ ইত্যাদি।

তিনি এই বিষয়গুলো অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন, অতঃপর আমাদের কিতাবের লেখক ‘আবু মাদইয়ান’ আসলেন এবং ইবনে ফারিস যা সংক্ষেপে লিখেছিলেন তা বিস্তারিত বর্ণনা করলেন এবং তাতে ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন।

পাণ্ডুলিপিটি দেখার পর আমার মনে হলো; কেন এই বইটি আলোর মুখ দেখবে না?

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

(২) সূরা নিসা, আয়াত: ১।

(৩) আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১।

(৪) খুতবাতুল হাজাহ-এর হাদিস।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৪)
وبعد هذا الحوار استخرت الله- تعالى- ثم قررت إخراج هذا الكتاب، وقمت بتصويره وإعداده للتحقيق، ليكون من المطبوعات التي ترى النور لأول مرة.

والله أسأل أن ينفع به كل من نظر فيه فسد عيبا جاء فيه، أو رأى خللا فأصلحه، وأن يجعله فاتحة خير لكل مسلم.

وقد اتبعت في تحقيق الكتاب المذكور الأطر الاتية:

1- التعريف بالمؤلف.

2- بين يدي الكتاب.

3- صحة نسبة الكتاب ل «أبي مدين» .

4- وصف المخطوط.

5- عملي في الكتاب.

6- ملحوظات على الكتاب.

أولا: التعريف بالمؤلف:

بحثت كثيرا في المراجع التي تتحدث عن الرجال ومؤلفاتهم، فلم أجد مرجعا تحدث حديثا وافيا عن مؤلف كتابنا «مستعذب الإخبار..» غير «معجم المؤلفين» ل «عمر رضا كحالة» تحدث عنه باختصار فقال: «أبو مدين الفاسي كان حيا (سنة 1132 هجرية) - (1720 ميلادية) وهو «أبو مدين بن أحمد بن محمد بن عبد القادر بن علي الفاسي» .

فاضل من آثاره:

1- شرح سيرة ابن فارس اللغوي المختصرة، فرغ من تأليفه في أواخر شهر رمضان (سنة 1132 هجرية) .

2- تحفة الأريب ونزهة اللبيب، وهو مطبوع، فهرس دار الكتب المصرية 3/ 45، 8/ 167 مكتبة البلدية: فهرس الاداب 21 انتهى. من معجم المؤلفين تراجم مصنفي الكتب العربية «عمر رضا كحالة» بتصرف.
এই আলোচনার পর আমি আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিখারা করি, অতঃপর এই বইটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমি এর পাণ্ডুলিপির ছবি সংগ্রহ করে তা সম্পাদনার জন্য প্রস্তুত করি, যেন এটি প্রথমবারের মতো আলোর মুখ দেখা প্রকাশনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যিনি এতে দৃষ্টিপাত করবেন এবং এতে থাকা কোনো ত্রুটি সংশোধন করবেন অথবা কোনো বিচ্যুতি দেখলে তা শুধরে দেবেন। আর তিনি যেন এটিকে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণের সূচনা করে দেন।

উল্লিখিত বইটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত রূপরেখা অনুসরণ করেছি:

১- লেখকের পরিচিতি।

২- গ্রন্থ পরিচিতি।

৩- বইটি ‘আবু মাদিন’-এর হওয়ার ব্যাপারে সত্যতা যাচাই।

৪- পাণ্ডুলিপির বিবরণ।

৫- বইটিতে আমার সম্পাদিত কাজ।

৬- বইটির উপর বিশেষ পর্যবেক্ষণ।

প্রথমত: লেখকের পরিচিতি:

ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের রচনাবলি সংক্রান্ত তথ্যসূত্রগুলোতে আমি অনেক অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু আমাদের আলোচ্য গ্রন্থ ‘মুসতাজবাবুল আখবার...’-এর লেখক সম্পর্কে ওমর রেজা কাহহালার ‘মু’জামুল মুআল্লিফিন’ ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে পর্যাপ্ত তথ্য খুঁজে পাইনি। তিনি তাঁর সম্পর্কে সংক্ষেপে বলেছেন: “আবু মাদিন আল-ফাসি (১১৩২ হিজরি - ১৭২০ খ্রিস্টাব্দে) জীবিত ছিলেন। তিনি হলেন ‘আবু মাদিন বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কাদির বিন আলি আল-ফাসি’।”

একজন গুণী ব্যক্তি, তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:

১- ভাষাবিদ ইবনে ফারিসের সংক্ষিপ্ত জীবনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ; যা তিনি ১১৩২ হিজরি সনের রমজান মাসের শেষভাগে রচনা সম্পন্ন করেন।

২- তুহফাতুল আরিব ওয়া নুঝহাতুল লাবিব; এটি মুদ্রিত হয়েছে। দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার ক্যাটালগ ৩/৪৫, ৮/১৬৭; মাকতাবাতুল বালাদিয়্যাহ: আদাব বা সাহিত্যের ক্যাটালগ ২১। সমাপ্ত। ওমর রেজা কাহহালার ‘মু’জামুল মুআল্লিফিন: তারাজিমু মুসান্নিফিল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ’ থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৫)
ثانيا: بين يدي الكتاب:

كتاب «مستعذب الإخبار … » ل «أبي مدين» توسع فيه كثيرا، وذلك ببسط الأمور التي اختصرها مؤلف الأصل- ابن فارس- وقد وصل بالكتاب المذكور بخط يده إلى تسع وسبعين لوحة، علما بأن أصله- أوجز السير- لم يزد عن خمس أو ست ورقات في جميع النسخ التي بين يدي، وهي كالاتي:

1- نسخة دار الكتب المصرية (رقم: 1976) تاريخ.

2- نسخة دار الكتب المصرية (رقم: 460) تاريخ.

3- نسخة الأزهر (رقم: 23125) من ورقة (33- 38) مجاميع (482) علم التاريخ، وتقع في خمس ورقات.

4- نسخة مظهر الفاروقي بالجامعة الإسلامية ميكرو فيلم (6802) .

وقد راجعت الأصل- أوجز السير- على صور المخطوطات المشار إليها سابقا ووضعتها بين أقواس هلالية، هكذا ( … ) ، ورمزت لها برموز مختصرة في أول الكتاب، ثم استغنيت عن ذكر هذه الرموز بعد أن قطعت مرحلة في التحقيق، واكتفيت بقولي: (في بعض نسخ الأصل، أو في إحدى النسخ. أو غير ذلك) .

ثالثا: صحة نسبة الكتاب للمؤلف:

حول صحة نسبة الكتاب ل «أبي مدين» انظر التعريف بالمؤلف في قوله: (ثانيا) .

رابعا: وصف المخطوط:

في تحقيقي للكتاب وإخراجه للطبع اعتمدت على نسخة واحدة، بعد عدم تمكني من الحصول على النسخة الموجودة في «الرباط» بالمغرب.

والنسخة الوحيدة التي اعتمدت على الله- سبحانه وتعالى في تحقيقها تحتفظ بها مكتبة معهد المخطوطات التابع لجامعة الدول العربية بالقاهرة، تحت (رقم: 2017) تاريخ، وهي مكتوبة بخط مغربي، وكاتبها مؤلفها- رحمه الله ومقاسها: 14- 20 سم، والورقة من النسخة- التي قمت بنسخها- تقع في صفحتين، وفي كل صفحة 14 سطرا، وفي كل سطر تسع كلمات تقريبا، وتاريخ كتابتها (1132 هجرية) .
দ্বিতীয়: গ্রন্থ পরিচিতি:

‘আবু মাদইয়ান’ তাঁর «মুসতাযউবুল আখবার ...» গ্রন্থটিতে মূল গ্রন্থের লেখক ইবনে ফারেস-এর সংক্ষেপিত বিষয়গুলোকে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে অনেক সম্প্রসারিত করেছেন। বর্ণিত বইটি তাঁর স্বহস্তে লিখিত উনআশিটি পৃষ্ঠায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য যে, এর মূল গ্রন্থ—আওজাযুস সিয়ার—আমার নিকট থাকা সকল পাণ্ডুলিপিতে পাঁচ বা ছয় পাতার বেশি নয়, যা নিম্নরূপ:

১- মিসরীয় দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ১৯৭৬) ইতিহাস।

২- মিসরীয় দারুল কুতুব-এর পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ৪৬০) ইতিহাস।

৩- আল-আযহার-এর পাণ্ডুলিপি (নম্বর: ২৩১২৫) পাতা (৩৩-৩৮), মাজমুআ (৪৮২) ইতিহাস শাস্ত্র, যা পাঁচটি পাতার ওপর বিন্যস্ত।

৪- ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাযহারুল ফারুকী পাণ্ডুলিপির মাইক্রোফিল্ম (৬৮০২)।

আমি মূল গ্রন্থ—আওজাযুস সিয়ার—পূর্বে উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোর কপির সাথে মিলিয়ে পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোকে প্রথম বন্ধনীতে এভাবে ( ... ) রেখেছি। গ্রন্থের শুরুতে সেগুলোর জন্য সংক্ষিপ্ত সংকেত ব্যবহার করেছিলাম, কিন্তু সম্পাদনার একটি পর্যায় পার হওয়ার পর এই সংকেতগুলোর উল্লেখ করা ত্যাগ করেছি এবং কেবল এইটুকু বলাকেই যথেষ্ট মনে করেছি যে: (মূলের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে, অথবা কোনো একটি পাণ্ডুলিপিতে, অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু)।

তৃতীয়: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা:

‘আবু মাদইয়ান’-এর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ সঠিক হওয়ার বিষয়ে লেখকের পরিচিতি অংশে তাঁর বক্তব্য (দ্বিতীয়ত) দ্রষ্টব্য।

চতুর্থ: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

বইটি সম্পাদনা ও মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, কারণ মরক্কোর ‘রাবাত’-এ বিদ্যমান পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

একমাত্র যে পাণ্ডুলিপিটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি আল্লাহ -সুবহানাহু ওয়া তাআলা--এর ওপর ভরসা করেছি, সেটি কায়রোতে অবস্থিত আরব লিগভুক্ত ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস-এর লাইব্রেরিতে (নম্বর: ২০১৭) ইতিহাস শাখায় সংরক্ষিত আছে। এটি মাগরিবী লিপিতে লিখিত এবং এর লেখক স্বয়ং গ্রন্থকার—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন। এর আকার ১৪-২০ সেন্টিমিটার। পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পাতা—যা আমি প্রতিলিপি করেছি—দুই পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় ১৪টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় নয়টি শব্দ রয়েছে। এটি রচনার তারিখ (১১৩২ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৬)
وبعد تصويرها من معهد المخطوطات قمت بنسخها، وقد لاقيت في النسخ الكثير من المشاكل؛ لدقة خطها، وعدم وضوح بعض الكلمات في بعض لوحاتها؛ ولكن بفضل الله- تعالى- تمكنت من الوصول إلى الكثير من الكلمات غير الواضحة أو المطموسة؛ وذلك بالرجوع إلى المصادر والمراجع التي نقل منها المؤلف- رحمه الله تعالى- والنسخة بها ثلاثة تقاريظ لثلاثة من العلماء (انظر اللوحات المرافقة) .

خامسا: عملي في الكتاب:

1- قمت بنسخ الكتاب- المخطوط.

2- وضعت «أوجز السير» أصل كتابنا الذي قام «أبو مدين» بشرحه- تقييده- بين أقواس هلالية، هكذا () مع ضبطه بالشكل للتمييز بينه وبين الشرح.

3- وضعت أول الصفحة وآخرها من كل ورقة هكذا (1/ أ، 1/ ب) .

4- الايات القرآنية الواردة في الأصل وفي التحقيق قمت بعزوها إلى أماكنها في المصحف مع ذكر أرقامها، وبيان كونها آية أو آيات، أو بعض آية.

5- المؤلف وضع بعض العناوين الجانبية للكتاب، وقمت بوضع الباقي بين أقواس معكوفة هكذا [] إكمالا للفائدة، انظر: [الغزوات] مثلا.

6- الأعلام الواردة في الكتاب قمت بتعريف المحتاج منها إلى تعريف، تعريف غير المشهور.

7- الأحاديث الواردة في الصحيحين؛ «البخاري» و «مسلم» اكتفيت بالعزو إليهما.

8- الأحاديث إذا كانت في غيرهما حاولت ذكر آراء علماء الجرح والتعديل فيها حسب الطاقة.

9- قمت بشرح بعض الكلمات غير الواضحة من كتب غريب الحديث، ومن كتب اللغة.

10- الكلمات التي لم أستطع قراءتها وضعتها بين أقواس معكوفة هكذا [] .

11- حاولت الوصول بالكتاب إلى تحقيق ما أراده المؤلف.
পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে এর প্রতিলিপি সংগ্রহের পর আমি তা অনুলিপি করেছি। অনুলিপি করার সময় আমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি; তার সূক্ষ্ম হস্তলিপি এবং এর কিছু পাতার কিছু শব্দের অস্পষ্টতার কারণে। কিন্তু মহান আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে আমি অনেক অস্পষ্ট বা মুছে যাওয়া শব্দ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আর তা সম্ভব হয়েছে লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যেসব উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। এই অনুলিপিতে তিনজন আলেমের তিনটি প্রশংসামূলক ভূমিকা রয়েছে (সংযুক্ত পাতাগুলো দেখুন)।

পঞ্চম: এই বইয়ে আমার কাজ:

১- আমি বইটির পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করেছি।

২- আমি আমাদের বইয়ের মূল পাঠ 'আওজাযুস সিয়ার'—যাকে 'আবু মাদিন' ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন—প্রথম বন্ধনী ()-এর মধ্যে রেখেছি এবং মূল পাঠ ও ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এতে হরকত প্রদান করেছি।

৩- আমি প্রতিটি পাতার শুরু এবং শেষ এভাবে (১/ ক, ১/ খ) চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

৪- মূল পাঠে এবং সম্পাদনায় আসা কুরআনের আয়াতগুলোকে আমি মুসহাফের নিজ নিজ স্থানের উদ্ধৃতিসহ সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করেছি। সেই সাথে এটি একটি পূর্ণ আয়াত নাকি একাধিক আয়াত অথবা আয়াতের অংশ তা স্পষ্ট করেছি।

৫- লেখক বইটিতে কিছু পার্শ্ব-শিরোনাম ব্যবহার করেছেন এবং অবশিষ্টগুলো আমি উপকারের পূর্ণতার জন্য এভাবে তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে বসিয়েছি; উদাহরণস্বরূপ দেখুন: [যুদ্ধসমূহ]।

৬- বইটিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের পরিচয় প্রদানের প্রয়োজন ছিল, তাদের পরিচয় দিয়েছি; বিশেষ করে যারা খুব একটা প্রসিদ্ধ নন।

৭- সহীহাইন অর্থাৎ 'বুখারী' ও 'মুসলিম'-এ বর্ণিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে আমি শুধু সেগুলোর উদ্ধৃতি দেওয়ার ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি।

৮- হাদিসগুলো যদি এই দুই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও থাকে, তবে আমি সাধ্যানুযায়ী সেগুলোর ব্যাপারে জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের আলেমদের মতামত উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি।

৯- আমি 'গারীবুল হাদীস' এবং অভিধান গ্রন্থগুলো থেকে কিছু অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছি।

১০- যে শব্দগুলো আমি পড়তে সক্ষম হইনি, সেগুলো আমি এভাবে তৃতীয় বন্ধনী []-এর মধ্যে রেখেছি।

১১- লেখক যা চেয়েছিলেন, বইটি সম্পাদনার মাধ্যমে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৭)
12- وضعت صورا ل «نماذج» من صورة المخطوط بعد المقدمة، تبين الأمور الاتية:

أ- اسم الكتاب.

ب- إسم المؤلف.

ج- نموذج الصفحة الأولى من الورقة الأولى.

د- نموذج الصفحة الأخيرة من اللوحة الأخيرة من الكتاب.

5- النماذج الخاصة بتقاريظ العلماء للكتاب.

سادسا: ملحوظاتي على الكتاب:

1- نقل المؤلف- رحمه الله تعالى- نصوصا كثيرة من كتب غيره، ولم يشر إلى الكتاب ولا إلى المؤلف كنقله من كتاب «المدخل» ل «ابن الحاج» 2/ 29 م (تتشرف به الأزمنة والأمكنة، لا هو يتشرف بها بل يجعل للزمان أو المكان الذي يباشره- عليه السلام الفضيلة والمزية على غيره … ) إلخ.

2- نقل- رحمه الله من كتاب «الكنز المدفون» المنسوب إلى الإمام السيوطي بالنص من ص 283 فقال: « … لينظر- صلى الله عليه وسلم إذا وصل إلى مدارج عزه وعلو مراقي كرامته، فيعلم أن العزيز من أعز الله … » إلى قوله: «والأيتام» . [انظر الموضوع 1، 2، وغيرهما داخل الكتاب] .

3- ذكر- رحمه الله حديث عائشة- رضي الله عنها: «كان يتختم في يمينه … » . وهو حديث ضعيف، أخرجه ابن عدي في الكامل عن ابن عمر، وابن عساكر في تاريخ دمشق عن عائشة- حديث الباب-[الجامع الصغير للسيوطي 5/ 201 رقم: 6968] وكان الأجدر به أن يذكر الحديث نفسه- «كان يتختم في يمينه» - من البخاري في اللباس، لبس الخاتم، والترمذي في اللباس 16: عن ابن عمر، ومسلم والنسائي في الزينة 48: عن أنس، وأحمد وابن ماجه: عن عبد الله بن جعفر.

وبعد: فهذا ما أردت ذكره ليكون الكتاب في صورة مرضية تحقق الغرض الأسمي، والقصد النبيل من إخراجه في هذه الصورة.

وأخيرا، وليس آخرا آمل تقديم ما فيه نفع للإسلام والمسلمين.
১২- ভূমিকার পরে পাণ্ডুলিপির ছবির কিছু 'নমুনা' আমি যুক্ত করেছি, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করে:

ক- কিতাবের নাম।

খ- লেখকের নাম।

গ- প্রথম পাতার প্রথম পৃষ্ঠার নমুনা।

ঘ- কিতাবের শেষ পাতার শেষ পৃষ্ঠার নমুনা।

৫- কিতাবটি সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসাসূচক বাণীর (তাকরিজ) বিশেষ নমুনা।

ষষ্ঠত: কিতাবটি সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণসমূহ:

১- লেখক- রাহিমাহুল্লাহ তাআলা- অন্যদের কিতাব থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, কিন্তু তিনি সেই কিতাব বা লেখকের নাম উল্লেখ করেননি। যেমন- ইবনুল হাজ-এর 'আল-মাদখাল' কিতাব (২/২৯) থেকে তাঁর উদ্ধৃতি: (কাল ও স্থান তাঁর মাধ্যমেই সম্মানিত হয়, তিনি এগুলোর মাধ্যমে সম্মানিত হন না; বরং তিনি যে কাল বা স্থানে অবস্থান করেন—আলাইহিস সালাম—তা অন্য সবকিছুর ওপর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে...) ইত্যাদি।

২- তিনি- রাহিমাহুল্লাহ- ইমাম সুয়ূতী-র প্রতি নিসবতকৃত 'আল-কানযুল মাদফুন' কিতাবের ২৮৩ পৃষ্ঠা থেকে হুবহু উদ্ধৃত করে বলেছেন: "...যাতে তিনি—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—লক্ষ্য করেন যখন তিনি তাঁর ইজ্জতের সোপান এবং সম্মানের উচ্চ শিখরে পৌঁছান, তখন তিনি জানতে পারেন যে প্রকৃত সম্মানিত তিনিই যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন..." তাঁর এই উক্তি পর্যন্ত: "এবং এতিমগণ"। [কিতাবের অভ্যন্তরে ১ ও ২ নং বিষয় এবং অন্যান্যগুলো দেখুন]।

৩- তিনি- রাহিমাহুল্লাহ- আয়েশা—রাদিয়াল্লাহু আনহা—বর্ণিত এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "তিনি তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন..."। এটি একটি দুর্বল হাদিস, যা ইবনে আদি 'আল-কামিল'-এ ইবনে উমর থেকে এবং ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক'-এ আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন—অধ্যায়ের হাদিস—[সুয়ূতীর আল-জামেউস সাগির ৫/২০১, নং: ৬৯৬৮]। তাঁর জন্য এই হাদিসটিই—"তিনি তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন"—ইবনে উমর থেকে বুখারির 'আল-লিবাস' অধ্যায়ের 'আংটি পরিধান' অনুচ্ছেদ এবং তিরমিযির 'আল-লিবাস' অধ্যায় (১৬), আনাস থেকে মুসলিম ও নাসাঈর 'আয-যিনাহ' অধ্যায় (৪৮) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর থেকে আহমদ ও ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনা থেকে উল্লেখ করা অধিক সমীচীন ছিল।

অতঃপর: আমি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করতে চেয়েছি যাতে কিতাবটি একটি সন্তোষজনক অবয়বে উপস্থাপিত হয়, যা এর প্রকাশের মহান উদ্দেশ্য ও মহৎ লক্ষ্য পূরণ করে।

পরিশেষে, আমি আশা করি এমন কিছু উপস্থাপন করতে পেরেছি যা ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর হবে।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৮)
والله أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه الكريم، إنه نعم المولى ونعم النصير، وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

كتبه: أحمد عبد الله باجور علي الباحث بمجمع البحوث الإسلامية بالأزهر سابقا والمحقق بدار الخضيري للنشر بالمدينة النبوية حاليا
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই আমলকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সহচরদের ওপর।

লিখেছেন: আহমদ আবদুল্লাহ বাজুর আলী, আল-আজহারের ইসলামি গবেষণা একাডেমির প্রাক্তন গবেষক এবং বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারার দার আল-খুদাইরি প্রকাশনীর গবেষক।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌نماذج من صور المخطوطات
পাণ্ডুলিপির চিত্রসমূহের নমুনা
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১১)
نموذج لاسم الكتاب- مستعذب الإخبار-.. وبيان لوجوده بدار الكتب المصرية ورقمه ومقاسه وبيان أنه بخط المؤلف.

ملحوظة الكتاب مصور من معهد المخطوطات.
গ্রন্থের নামের নমুনা—মুস্তা’যাবুল ইখবার—এবং মিসরীয় দারুল কুতুব-এ এর উপস্থিতি, এর নম্বর ও পরিমাপের বিবরণ এবং এটি যে লেখকের স্বহস্তে লিখিত তার বর্ণনা।

দ্রষ্টব্য: বইটি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে সংগৃহীত চিত্রায়িত অনুলিপি।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১২)
نموذج اللوحة الأولى من صورة المخطوطة، وبحاشيتها يظهر ما نقله عن ابن خلكان.
পাণ্ডুলিপির ছবির প্রথম পাতের নমুনা, এবং এর পার্শ্বটিকায় ইবনে খাল্লিকান থেকে তাঁর কৃত উদ্ধৃতিটি দৃশ্যমান হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১৩)
نموذج اللوحة الأخيرة من صورة المخطوط وبها تظهر نهاية المخطوط وتاريخ الفراغ من تأليفه- وافق الفراغ من تعليقه أواخر رمضان المعظم سنة اثنين وثلاثين ومائة وألف.
পাণ্ডুলিপির প্রতিকৃতির শেষ পৃষ্ঠার নমুনা, যাতে পাণ্ডুলিপির সমাপ্তি এবং এটি রচনার সমাপ্তির তারিখ দৃশ্যমান হয়েছে—এর পাদটীকা রচনার সমাপ্তি এক হাজার একশত বত্রিশ হিজরি সনের মহিমান্বিত রমজান মাসের শেষাংশের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১৪)
صورة نموذج التقريظ الأول للكتاب بقلم الإمام العالم العلامة شيخ/ محمد المسناوي- رحمه الله ورضي عنه- وفيه: الحمد لله وجدت مقيدا على ظهر أول ورقة من الأصل

إن الهلال إذا رأيت نموه … أيقنت أن سيكون بدرا كاملا
ইমাম আলেম আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ আল-মাসনাউয়ী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর লেখনীতে গ্রন্থটির প্রথম প্রশংসামূলক স্তুতিবাক্যের নমুনার চিত্র। এতে রয়েছে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে এটি লিপিবদ্ধ পেয়েছি:

নিশ্চয়ই নবচন্দ্রের যখন তুমি বৃদ্ধি দেখবে … তখন তুমি নিশ্চিত হবে যে তা অচিরেই পূর্ণিমার পূর্ণ চাঁদে পরিণত হবে।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة نموذج التقريظ الثاني للكتاب بخط العالم العلامة البركة شيخ/ محمد بن عبد الرحمن- رضي الله عنه ما نصه:

الحمد لله وحده، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما نظرت بعض المواضع من هذا التقييد المفيد … إلخ.

(1) المراد من قوله أعلاه- التقريظ الأول- للشيخ محمد المسناوي السابق.
বইটির দ্বিতীয় প্রশংসাপত্রের নমুনার অনুলিপি, যা আলেম, প্রাজ্ঞ ও বরকতময় শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এর হস্তাক্ষরে লিখিত; যার পাঠ হলো:

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। আমি এই উপকারী সংকলনের কিছু অংশ দেখেছি... ইত্যাদি।

(১) উপরে উল্লিখিত 'প্রথম প্রশংসাপত্র' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্বোক্ত শাইখ মুহাম্মদ আল-মাসনাউয়ী।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১৬)
صورة نموذج التقريظ الثالث للكتاب بخط العلامة الأفضل شيخ/ محمد بن عبد السلام … أدام الله النفع به، ما نصه: الحمد لله، يقول كاتبه محمد بن عبد السلام...... قد طالعت هذا الشرح العجيب فأعجب.
বইটির তৃতীয় প্রশংসাপত্রের নমুনার চিত্র, যা শ্রেষ্ঠ আল্লামাহ শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আবদিস সালামের হস্তাক্ষরে লিখিত … আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ অব্যাহত রাখুন। যার মূল পাঠ হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এর লেখক মুহাম্মাদ ইবনে আবদিস সালাম বলছেন— আমি এই বিস্ময়কর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করেছি এবং এটি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১৭)
نموذج يوضح ملكية الكتاب
গ্রন্থের মালিকানা নির্দেশক একটি নমুনা।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ১৯)
مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار شرح «أوجز السّير» لابن فارس كتاب يبحث في السيرة العطرة لأشرف الأنبياء والرسل محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم تأليف الإمام أبي مدين بن أحمد بن محمّد الفاسي المتوفى بعد سنة 1132 هـ تحقيق أحمد عبد الله باجور الباحث بمجمع البحوث الإسلاميّة بالأزهر سابقا والمحقّق بدار الخضيري للنشر بالمدينة النبوية حاليا
উত্তম সংবাদের মাধ্যমে সংবাদের মাধুর্য আস্বাদন: ইবন ফারিসের ‘আওজাযুস সিয়ার’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধিময় সীরাত বা জীবনী সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ। এটি রচনা করেছেন ইমাম আবু মাদইয়ান বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ফাসি, যিনি ১১৩২ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেন। সম্পাদনায়: আহমদ আব্দুল্লাহ বাজুর, আল-আযহারের ইসলামিক রিসার্চ একাডেমির প্রাক্তন গবেষক এবং বর্তমানে মদীনা মুনাওয়ারায় দার আল-খুদাইরি প্রকাশনীর গবেষক।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌مقدمة المؤلف/ بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا ومولانا «1» محمد خاتم النبيين وإمام المرسلين، وعلى آله الطيبين، وأصحابه المنتجبين «2» والتابعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

وبعد:

فيقول العبد الفقير إلى الله الغني، أبو مدين بن أحمد بن محمد بن عبد القادر بن علي بن يوسف، كان الله له وليا، وبه حفيا: «3» هذا تقييد قصدت به شرح مختصر الإمام العلامة، أبي الحسين أحمد «4» بن فارس بن زكريا بن محمد بن حبيب الرازي/ اللغوي في السيرة النبوية، وسميته:

--------------------------------------------

(1) من معاني «المولى» : المعتق- بكسر التاء- والمعتق- بفتحها-، وابن العم، والناصر، والجار، والحليف، والمالك، والعبد، والشريك، … إلخ» اه، القاموس.

(2) «المنتجب» : المختار.

(3) و (الحفي) : المبالغ في البر والإلطاف. يقال: حفى به، وتحفى إذا بره. وقال الكسائي: يقال: حفى بي، حفاوة وحفوة. وقال الفراء: إِنَّهُ كانَ بِي حَفِيًّا [سورة مريم، من الاية 47] أي: عالما لطيفا، يجيا بني إذا دعوته. اه. تفسير القرطبي.

(4) في نهاية اللوحة [2/ أ] وفوق لفظ «أحمد» وضع الناسخ علامة الإحالة وفي الحاشية كتب الاتي: قال ابن خلكان: كان- يعني- أحمد بن فارس إماما في علوم [شتى] خصوصا اللغة؛ فإنه أتقنها، وألف كتابه «المجمل» وهو على اختصاره [جمع شيئا كثيرا] ، وله كتاب «حلية الفقهاء» ، وله رسائل أنيقة، وكان مقيما ب «همذان» وعليه اشتغل «بديع الزمان الهمذاني» صاحب «المقامات» وله أشعار جيدة، منها:

وقالوا كيف حالك قلت خير … تقضي حاجة وتفوت حاج

إذا ازدحمت هموم الصدر قلنا … عسى يوما يكون لها انفراج

نديمي هرتي وأنيس نفسي … دفاتر لي ومعشوقي السراج

… بالري في مقابل … القاضي «علي بن عبد العزيز … أبي الحسين أحمد بن فارس صاحب مختصر السيرة» اه، من حاشية اللوحة 2/ أ، مع الاستعانة بكتاب «وفيات الأعيان) للإمام/ أبي العباس شمس الدين أحمد بن محمد بن أبي بكر بن خلكان، المتوفى (681 هـ) 1/ 118- 120 رقم (49) ، تحقيق د/ إحسان عباس. طبع دار صادر بيروت. لبنان.
লেখকের ভূমিকা/ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক «১» মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি নবীগণের মোহর ও রাসূলগণের ইমাম। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর মনোনীত «২» সাহাবীগণ এবং তাবেঈন ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর।

অতঃপর:

অভাবমুক্ত আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা আবু মাদইয়ান ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ—আল্লাহ তাঁর অভিভাবক হোন এবং তাঁর প্রতি দয়াশীল হোন «৩»—বলছেন: এটি একটি টীকা, যার মাধ্যমে আমি ইমাম আল্লামা আবুল হুসাইন আহমাদ «৪» ইবনে ফারিস ইবনে যাকারিয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-রাযী আল-লুগাভী-এর সীরাতুন নবী (সা.) বিষয়ক সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির (মুখতাসার) ব্যাখ্যা করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি:

--------------------------------------------

(১) ‘মাওলা’ শব্দের অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: মুক্তিদানকারী, মুক্ত দাস, চাচাতো ভাই, সাহায্যকারী, প্রতিবেশী, মিত্র, মালিক, দাস, অংশীদার ইত্যাদি। ইতি, আল-কামুস।

(২) ‘আল-মুনতাজাব’: মনোনীত।

(৩) ‘আল-হাফি’: সদাচার ও অনুগ্রহ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত যত্নশীল। বলা হয়: সে তার প্রতি ‘হাফা’ ও ‘তাহাফফা’ করেছে অর্থাৎ সদাচার করেছে। কাসায়ী বলেন: বলা হয়: সে আমার প্রতি ‘হাফা’ করেছে, এর মাসদার হলো হাফাওয়াহ ও হাফওয়াহ। আল-ফাররা বলেন: (নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান [সূরা মারইয়াম, ৪৭ আয়াতের অংশ]) অর্থাৎ: জ্ঞানী ও দয়ালু, যখন আমি তাঁকে ডাকি তখন তিনি উত্তর দেন। ইতি, তাফসীরে কুরতুবী।

(৪) পাণ্ডুলিপির ২/ক পৃষ্ঠার শেষে ‘আহমাদ’ শব্দের উপরে লিপিকার একটি টীকা সংকেত দিয়েছেন এবং হাশিয়ায় নিম্নোক্ত বক্তব্য লিখেছেন: ইবনে খাল্লিকান বলেন: তিনি—অর্থাৎ আহমাদ ইবনে ফারিস—বিভিন্ন শাস্ত্রে, বিশেষ করে ভাষাতত্ত্বে ইমাম ছিলেন; কেননা তিনি এতে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন এবং তাঁর গ্রন্থ ‘আল-মুজমাল’ রচনা করেছিলেন, যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাঁর ‘হিলয়াতুল ফুকাহা’ নামক একটি গ্রন্থ এবং অত্যন্ত চমৎকার কিছু পত্রাবলি রয়েছে। তিনি ‘হামাদান’-এ অবস্থান করতেন। তাঁর নিকট ‘মাকামাত’-এর রচয়িতা ‘বাদিউয যামান আল-হামাদানী’ অধ্যয়ন করেছেন। তাঁর কিছু উন্নত মানের কবিতা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো:

তারা জিজ্ঞেস করলো তোমার অবস্থা কেমন? আমি বললাম ভালো... একটি প্রয়োজন পূর্ণ হয় আর অন্যটি ফুরিয়ে যায়।

যখন হৃদয়ে উদ্বেগের ভীড় জমে তখন আমরা বলি... হয়তো কোনো একদিন এর মুক্তি আসবে।

আমার বিড়ালই আমার সাথী এবং আমার প্রাণের বন্ধু... আমার দফতরগুলোই আমার কাছে এবং আমার প্রিয় হলো প্রদীপ।

... রাই শহরে... বিচারক আলী ইবনে আব্দুল আযীয ... আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে ফারিস, মুখতাসারুস সীরাহ-র লেখক। ইতি, পাণ্ডুলিপির ২/ক পৃষ্ঠার হাশিয়া থেকে গৃহীত, এবং ইমাম আবুল আব্বাস শামসুদ্দিন আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে খাল্লিকান (মৃত্যু ৬৮১ হি.) রচিত ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ ১/১১৮-১২০, নম্বর (৪৯), তাহকিক ড. ইহসান আব্বাস, দার সাদির বৈরুত, লেবানন সংস্করণ থেকে সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২২)
(مستعذب الإخبار بأطيب الأخبار) .

ومن الله- تعالى- أسأل العصمة، والتوفيق، والهداية لأقوم طريق، وبه- تعالى- أستعين؛ لأنه قوي.

قال المؤلف «1» - رحمه الله تعالى-:

هذا ذكر ما يحق «2» على المرء المسلم حفظه، ويجب على ذي الدّين معرفته من نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومولده، ومنشئه، ومبعثه، وذكر أحواله في مغازيه، ومعرفة أسماء ولده «3» ، وعمومته وأزواجه؛ فإن للعارف بذلك رتبة تعلو «4» على رتبة من جهله، كما أن للعلم به حلاوة في الصدور «5» ، ولم تعمر مجالس الخير بعد كتاب الله عز وجل بأحسن من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وقد أتينا «6» في مختصرنا هذا من ذلك ذكرا، والله نستهديه التوفيق، وإياه نسأل الصلاة على زين المرسلين وسيد العالمين، وخاتم النبيين، وإمام المتقين «7» أبي

--------------------------------------------

- ملحوظة: 1- ما بين الأقواس المعكوفة من (الوفيات) لابن خلكان. 2- مكان النقاط كلمات غير واضحة، مع وجود طمس لبعض الكلمات، والله أعلم.

(1) المؤلف هو: الإمام أحمد بن فارس، وسأضع قوله بين أقواس معكوفة هكذا [] من أول الكتاب إلى آخره مع ضبطها بالشكل- إن شاء الله تعالى-.

(2) انفردت نسخة المكتبة الأزهرية- ز- دون بقية النسخ بقوله: « … ما يجب … » بدل قوله: « … ما يحق» وكلاهما صواب.

(3) في «ز» - وهي رمز نسخة الأزهر، وفي نسخة مصطفى الحلبي المطبوعة 1395 هـ/ 1940 م، وسوف أرمز لها برمز «ح» - «أولاده» بدل «ولده» وكلاهما صواب؛ لأن الولد يطلق على الواحد والجمع. انظر: (المواهب اللدنية مع شرحها» (1/ 71) .

(4) في نسخة «أ» ، وهي النسخة المصورة من معهد المخطوطات بالقاهرة، ونسخة «مظهر الفاروقي» بالجامعة الإسلامية، كتب الناسخ: (تعلوا) بألف بعد واو الفعل، وهذا سهو من الناسخ؛ لأن الفعل المضارع المعتل بالواو، لا تقع بعده الألف.

(5) في حاشية نسخة [أ، م] ورد «الصدور» . أما بقية النسخ، وهي: [ب، ز، هـ، ط، ح] فقد جاء فيها لفظ «الصدر» ، وكلاهما صواب.

(6) في النسخ [ب، ز، م، هـ، ط، ح] «أثبتنا» بدل «أتينا» ، والله أعلم.

(7) حول ختمه وإمامته للمتقين صلى الله عليه وسلم، أخرج ابن ماجه في سننه كتاب (إقامة الصلاة) ، باب الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم (1/ 293) رقم: 906: عن عبد الله بن مسعود، قال: «إذا صليتم على رسول-
(সবচেয়ে উত্তম সংবাদ সংবলিত সুমিষ্ট বর্ণনা)।

আর মহান আল্লাহর কাছেই আমি পাপাচার থেকে সুরক্ষা, তাওফিক এবং সরলতম পথের হিদায়াত প্রার্থনা করছি; এবং তাঁরই —যিনি মহান— সাহায্য কামনা করছি, কারণ তিনি শক্তিশালী।

লেখক —আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— বলেছেন:

এটি এমন বিষয়াবলির আলোচনা যা মুখস্থ রাখা একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য যথাযথ এবং যার দ্বীন রয়েছে তার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয়, তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবুওয়াতপ্রাপ্তি, তাঁর যুদ্ধবিগ্রহের ঘটনাবলি এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি, চাচা ও স্ত্রীদের নাম জানা আবশ্যক। কেননা এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনকারীর জন্য এমন এক উচ্চ মর্যাদা রয়েছে যা অজ্ঞ ব্যক্তির মর্যাদার ঊর্ধ্বে। যেমনটি এ বিষয়ক জ্ঞানের জন্য অন্তরে এক মাধুর্য রয়েছে। আর মহান আল্লাহ তাআলার কিতাবের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংবাদের চেয়ে উত্তম আর কোনো কিছু দিয়ে কল্যাণের মজলিসগুলো আবাদ হয়নি।

আমরা আমাদের এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে তারই কিছু বর্ণনা নিয়ে এসেছি। আল্লাহর কাছেই আমরা তাওফিকের হিদায়াত প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছেই সকল রাসূলের সৌন্দর্য, বিশ্বজগতের সরদার, নবীদের সিলমোহর এবং মুত্তাকীদের ইমাম আবী...

--------------------------------------------

- দ্রষ্টব্য: ১- থার্ড ব্র্যাকেটের [] ভেতরের অংশটুকু ইবনে খাল্লিকানের (আল-ওয়ফায়াত) থেকে নেওয়া। ২- ডট চিহ্নের স্থানগুলোতে শব্দগুলো অস্পষ্ট, কিছু শব্দ মুছে গেছে, আল্লাহই ভালো জানেন।

(১) লেখক হলেন: ইমাম আহমদ বিন ফারিস। আমি তাঁর কথাগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থার্ড ব্র্যাকেটের [] মধ্যে রাখব এবং ইনশাআল্লাহ তাতে হরকত প্রদান করব।

(২) অন্যান্য পাণ্ডুলিপি বাদে কেবল আল-আজহার লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিতে (সংকেত: যাল) 'যা যথাযথ' শব্দের স্থলে 'যা আবশ্যক' বলা হয়েছে; তবে উভয়টিই সঠিক।

(৩) 'যাল' (আজহার পাণ্ডুলিপির সংকেত) এবং মোস্তফা আল-হালাবি মুদ্রিত সংস্করণে (১৩৯৫ হি./ ১৯৪০ খ্রি., যার সংকেত 'হা') 'সন্তান' শব্দের একবচন রূপের পরিবর্তে বহুবচন রূপ ব্যবহার করা হয়েছে। উভয়টিই সঠিক; কারণ আরবিতে 'ওয়ালাদ' (সন্তান) শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। দেখুন: (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যা, ১/৭১)।

(৪) 'আলিফ' পাণ্ডুলিপি (কায়রোর মাখতুতাত ইনস্টিটিউটের অনুলিপি) এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মাযহার আল-ফারুকি' পাণ্ডুলিপিতে লিপিকার 'তা'লু' (উন্নত হওয়া) ক্রিয়াটি লেখার সময় শেষে একটি অতিরিক্ত আলিফ যুক্ত করেছেন। এটি লিপিকারের ভুল; কারণ ওয়াও বর্ণে সমাপ্ত হওয়া বর্তমানকালীন ক্রিয়ার শেষে আলিফ বসে না।

(৫) 'আলিফ' ও 'মীম' পাণ্ডুলিপির টীকায় 'বক্ষসমূহ' শব্দটি এসেছে। তবে অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে [বা, যাল, হা, ত, হা] 'বক্ষ' শব্দটি (একবচনে) এসেছে। উভয়টিই সঠিক।

(৬) [বা, যাল, মীম, হা, ত, হা] পাণ্ডুলিপিগুলোতে 'আমরা বর্ণনা করেছি' শব্দের স্থলে 'আমরা সাব্যস্ত করেছি' শব্দটি এসেছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৭) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি এবং মুত্তাকীদের ইমাম হওয়ার বিষয়ে ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থের (সালাত কায়েম করা) অধ্যায়ে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ) পরিচ্ছেদে (১/২৯৩), হাদিস নং ৯০৬-এ বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন তোমরা রাসূলের ওপর সালাত..."
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৩)
القاسم «1» ) .

 

‌‌كنيته صلى الله عليه وسلم

/ هذه كنيته صلى الله عليه وسلم المشهورة في الأحاديث الصحيحة، وجاء في حديث تكنية

--------------------------------------------

- الله فأحسنوا الصلاة عليه؛ فإنكم لا تدرون لعل ذلك يعرض عليه، قال: فقالوا له: فعلمنا. قال: قولوا: «اللهم اجعل صلاتك ورحمتك وبركاتك على سيد المرسلين، وإمام المتقين، وخاتم النبيين محمد عبدك ورسولك … إلخ» . اه. ابن ماجه.

(1) عن كنية النبي صلى الله عليه وسلم ب أبي القاسم، انظر: (فتح الباري) في المواضع الاتية: أ- كتاب العلم، رقم: 121. ب- كتاب البيوع، 4/ 339 رقمي 2120، 2121. ج- كتاب المناقب 6/ 560، أرقام: 3537، 3538، 3539. وانظر: كتاب، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: «سموا باسمي ولا تكتنوا بكنيتي» 10/ 571- 574 أرقام: 6187، 6188، 6189. وفي شرح بعض الأحاديث المتقدمة قال ابن حجر: الكنية- بضم الكاف وسكون النون- مأخوذة من الكناية، تقول: كنيت عن الأمر بكذا، إذا ذكرته بغير ما يستدل عليه صريحا، وقد اشتهرت الكنى للعرب، حتى ربما غلبت على الأسماء كأبي طالب، وأبي لهب، وغيرهما، وقد يكون للواحد كنية واحدة فأكثر.. إلخ «فتح الباري» . وانظر: صحيح مسلم، كتاب (الاداب) ، باب النهي عن التكني ب «أبي القاسم» (3/ 1683) رقم: 3، 4، 5، 6. وعن حكم التكني ب «أبي القاسم» قال النووي في كتاب (الأذكار) ، باب النهي عن التكني بأبي القاسم، ص 373 بتحقيقنا، طبع الدار المصرية اللبنانية. قلت: اختلف العلماء في التكني بأبي القاسم على ثلاثة مذاهب: مذهب الشافعي- رحمه الله ومن وافقه: إلى أنه لا يحل لأحد أن يتكنى (أبا القاسم) سواء كان اسمه (محمد) أو غيره، وممن روى هذا من أصحابنا، عن الشافعي: الأئمة الحفاظ الأثبات الفقهاء المحدثون: أبو بكر البيهقي، وأبو محمد البغوي، في كتابه «التهذيب» في أول كتاب النكاح، و «أبو القاسم ابن عساكر» في (تاريخ دمشق) . المذهب الثاني: مذهب مالك- رحمه الله تعالى-: أنه يجوز التكني بأبي القاسم؛ لمن اسمه «محمد» ولغيره، ويجعل النهي خاصا بحياة رسول الله صلى الله عليه وسلم. المذهب الثالث: لا يجوز لمن اسمه «محمد» ويجوز لغيره. قال الرافعي من أصحابنا: يشبه أن يكون هذا إنكار. هذا الثالث أصح؛ لأن الناس لم يزالوا يكتنون به في جميع الأعمار من غير إنكار، وهذا الذي قاله صاحب هذا المذهب فيه-
কাসেম (১) ।

 

‌‌তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপনাম (কুনিয়াত)

/ এটি সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রসিদ্ধ উপনাম (কুনিয়াত), এবং উপনাম গ্রহণের হাদিসে এসেছে...

--------------------------------------------

- আল্লাহ, সুতরাং তোমরা তাঁর প্রতি সর্বোত্তমভাবে সালাত (দরুদ) পাঠ করো; কারণ তোমরা জানো না যে হয়তো তা তাঁর নিকট পেশ করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাঁকে বললেন: তবে আমাদের শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: তোমরা বলো: «হে আল্লাহ, আপনার সালাত, রহমত এবং বরকত বর্ষণ করুন রাসুলগণের সরদার, মুত্তাকিদের ইমাম এবং শেষ নবী মুহাম্মাদের ওপর, যিনি আপনার বান্দা ও রাসুল... ইত্যাদি»। সমাপ্ত। ইবনে মাজাহ।

(১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ‘আবুল কাসেম’ উপনাম সম্পর্কে দেখুন: (ফাতহুল বারী) নিম্নোক্ত স্থানসমূহে: ক- ইলম অধ্যায়, নম্বর: ১২১। খ- ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, ৪/ ৩৩৯ নম্বর: ২১২০, ২১২১। গ- মানাকিব (মর্যাদা) অধ্যায় ৬/ ৫৬০, নম্বর: ৩৫৩৭, ৩৫৩৮, ৩৫৩৯। এবং দেখুন: (আদাব) অধ্যায়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী অনুচ্ছেদ: «তোমরা আমার নামে নাম রাখো কিন্তু আমার উপনামে উপনাম গ্রহণ করো না» ১০/ ৫৭১- ৫৭৪ নম্বর: ৬১৮৭, ৬১৮৮, ৬১৮৯। এবং পূর্বোক্ত কিছু হাদিসের ব্যাখ্যায় ইবনে হাজার বলেন: আল-কুনিয়াত (কাফ বর্ণে পেশ এবং নুন বর্ণে সুকুন যোগে)—এটি কিনায়াহ থেকে গৃহীত হয়েছে। আপনি বলবেন: আমি বিষয়টি অমুকভাবে ইঙ্গিত (কিনায়াহ) করেছি, যখন আপনি তা এমনভাবে উল্লেখ করেন যা সরাসরি সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয় না। আরবদের মধ্যে উপনাম (কুনিয়াত) খুব প্রসিদ্ধ ছিল, এমনকি কখনও কখনও তা আসল নামের ওপর প্রবল হয়ে যেত, যেমন আবু তালিব, আবু লাহাব ও অন্যান্য। একজনের একটি বা একাধিক উপনাম থাকতে পারে... ইত্যাদি «ফাতহুল বারী»। এবং দেখুন: সহিহ মুসলিম, (আদাব) অধ্যায়, ‘আবুল কাসেম’ উপনাম গ্রহণে নিষেধাজ্ঞার অনুচ্ছেদ (৩/ ১৬৮৩) নম্বর: ৩, ৪, ৫, ৬। এবং ‘আবুল কাসেম’ উপনাম রাখার বিধান সম্পর্কে ইমাম নববী তাঁর (আল-আযকার) কিতাবে ‘আবুল কাসেম উপনাম গ্রহণে নিষেধাজ্ঞার অনুচ্ছেদ’ শিরোনামে লিখেছেন, পৃ. ৩৭৩ (আমাদের তাহকিককৃত সংস্করণ, দারুল মাসরিয়্যাহ আল-লুবনানিয়্যাহ প্রকাশিত)। আমি বলছি: আবুল কাসেম উপনাম রাখার ব্যাপারে আলেমগণ তিনটি মতে বিভক্ত হয়েছেন: ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) ও তাঁর অনুসারীদের মত: কারো জন্যই ‘আবুল কাসেম’ উপনাম রাখা হালাল নয়, চাই তার নাম (মুহাম্মাদ) হোক বা অন্য কিছু। আমাদের সাথীদের মধ্যে যারা ইমাম শাফেয়ী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তারা হলেন: হাফেজ, নির্ভরযোগ্য ফকিহ ও মুহাদ্দিস ইমামগণ: আবু বকর আল-বাইহাকী, আবু মুহাম্মাদ আল-বাগভী তাঁর «আত-তাহযীব» কিতাবের নিকাহ (বিবাহ) অধ্যায়ের শুরুতে, এবং «আবুল কাসেম ইবনে আসাকির» তাঁর (তারিখে দিমাশক)-এ। দ্বিতীয় মত: ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর মত: যার নাম «মুহাম্মাদ» এবং অন্যদের জন্যও ‘আবুল কাসেম’ উপনাম রাখা জায়েজ; তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশার জন্য নির্দিষ্ট মনে করেন। তৃতীয় মত: যার নাম «মুহাম্মাদ» তার জন্য এটি জায়েজ নয়, তবে অন্যদের জন্য জায়েজ। আমাদের সাথীদের মধ্যে রাফেয়ী বলেন: সম্ভবত এটি একটি অস্বীকৃতি। এই তৃতীয় মতটি অধিকতর বিশুদ্ধ; কারণ মানুষ সব যুগে কোনো অস্বীকৃতি ছাড়াই এটি উপনাম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং এই মতের প্রবক্তা যা বলেছেন তাতে—
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৪)
«جبريل» عليه السلام له صلى الله عليه وسلم ب «أبي إبراهيم» «1» .

ومن كناه صلى الله عليه وسلم «أبو الطاهر» و «أبو الطيب» «2» .

وذكر «ابن دحية» أنه يكنى أيضا ب «أبي الأرامل «3» » ، وذكر غيره أيضا ب «أبي المؤمنين» «4» صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

- مخالفة ظاهرة للحديث، وأما إطباق الناس على فعله، مع إن المتكنين، والمكنين الأئمة الأعلام، وأهل الحل والعقد، والذي يقتدى بهم في مهمات الدين ففيه تقوية لمذهب «مالك» في جوازه مطلقا، ويكونون قد فهموا من النهي الاختصاص بحياته صلى الله عليه وسلم كما هو مشهور من سبب النهي في تكني اليهود بأبي القاسم، ومناداتهم «يا أبا القاسم» للإيذاء، وهذا المعنى قد زال، والله أعلم، وانظر: تهذيب الأسماء واللغات للإمام النووي (1/ 24) . وانظر: تاريخ الإسلام للذهبي- السيرة النبوية- ص 33، حيث قال: (وقد تواتر أن كنيته أبو القاسم) . وانظر: فتح الباري لابن حجر، كتاب (الأدب) (10/ 572، 574) . وانظر: شرح الزرقاني على المواهب اللدنية (3/ 151) . طبع دار المعرفة.

(1) حديث تكنية «جبريل» رسول الله صلى الله عليه وسلم ب «أبي إبراهيم» أخرجه البيهقي في (دلائل النبوة) باب ذكر كنية رسول الله صلى الله عليه وسلم (1/ 163- 164) بلفظ: عن أنس بن مالك؛ أنه لما ولد «إبراهيم» ابن النبي صلى الله عليه وسلم من «مارية» جاريته، كان يقع في نفسي صلى الله عليه وسلم منه شيء حتى أتاه جبريل- عليه السلام فقال: «السلام عليك يا أبا إبراهيم» . وفي رواية: «يا أبا إبراهيم» . اهـ: دلائل النبوة. وانظر: «المواهب اللدنية مع شرحها (3/ 151- 152) .

(2) عن تكنية النبي صلى الله عليه وسلم ب «أبي الطيب» و «أبي الطاهر» ، وهل هما لقبان لعبد الله؟. قال ابن القيم في (زاد المعاد) 1/ 86: «ثم ولد له عبد الله، وهل ولد بعد النبوة، أو قبلها فيه اختلاف؟. وصحح بعضهم أنه ولد بعد النبوة، وهل هو الطيب والطاهر، أو هما غيره؟ على قولين. والصحيح: أنهما لقبان له، والله أعلم» اهـ: زاد المعاد.

(3) و «أبو الأرامل» كنيته في التوراة ذكر ذلك الزرقاني في (شرح المواهب) (3/ 152) . والأرامل: مفردها: أرملة؛ سميت بذلك لشدة حاجتها، وهي العزباء، ولو غنية خلافا للأزهري، ويحتمل أن المراد الفقراء لإطلاق الأرامل على الفقراء اه: الزرقاني.

(4) «أبو المؤمنين» يكنى صلى الله عليه وسلم بذلك أخذا مما ورد في مصحف «أبي بن كعب» رضي الله عنه: (النبي أولى بالمؤمنين من أنفسهم وأزواجه أمهاتهم وهو أب لهم) [سورة الأحزاب من الاية: 6] . وأيضا يؤخذ من قراءة «ابن عباس» رضي الله عنهما ( … من أنفسهم وهو أب لهم وأزواجه) . وقال الإمام النووي في (تهذيب الأسماء واللغات) (1/ 41- 472) : قال البغوي: ويقال للنبي صلى الله عليه وسلم أبو المؤمنين والمؤمنات، ونقل الواحدي عن بعض أصحابنا، أنه لا يقال ذلك لقوله- تعالى- ما كانَ مُحَمَّدٌ أَبا أَحَدٍ مِنْ رِجالِكُمْ [سورة الأحزاب، من الاية: 40] ، قال: ونص الشافعي على-
জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আবু ইব্রাহিম' উপনামে সম্বোধন করেছেন।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুনিয়া বা উপনামসমূহের মধ্যে 'আবু আত-তাহির' এবং 'আবু আত-তইয়িব'-ও রয়েছে।

ইবনে দাহইয়া উল্লেখ করেছেন যে, তাঁকে 'আবু আল-আরামিল' নামেও সম্বোধন করা হতো, আর অন্য অনেকে তাঁকে 'আবু আল-মু'মিনিন' (মু'মিনদের পিতা) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামেও অভিহিত করেছেন।

--------------------------------------------

- এটি হাদিসের প্রকাশ্য বিরোধী। তবে বিশিষ্ট ইমামগণ, নির্ভরযোগ্য আলেমগণ এবং দ্বীনি বিষয়ে যাদের অনুসরণ করা হয়, তাদের এই আমলটি ইমাম মালিকের মাযহাবকে শক্তিশালী করে, যেখানে এটি সাধারণভাবে বৈধ বলা হয়েছে। তারা নিষেধাজ্ঞাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশার জন্য নির্দিষ্ট বলে বুঝেছেন। যেমন ইহুদিরা আবু কাসেম উপনাম গ্রহণ করে তাঁকে কষ্ট দেওয়ার জন্য 'হে আবু কাসেম' বলে ডাকত, যা ছিল এই নিষেধাজ্ঞার কারণ। সেই কারণ এখন আর অবশিষ্ট নেই। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)। দেখুন: ইমাম নববীর তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/২৪)। আরও দেখুন: ইমাম যাহাবীর তারিখুল ইসলাম - সীরাতুন নববী - পৃষ্ঠা ৩৩, যেখানে তিনি বলেছেন: (এটি মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত যে তাঁর উপনাম আবু কাসেম)। আরও দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী, আদব অধ্যায় (১০/৫৭২, ৫৭৪)। আরও দেখুন: মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়ার ওপর যুরকানীর শরহ (৩/১৫১), দারুল মা'রিফাহ সংস্করণ।

(১) জিবরাঈল কর্তৃক রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে 'আবু ইব্রাহিম' উপনামে সম্বোধন করার হাদিসটি ইমাম বায়হাকী 'দালাইলুন নুবুওয়াহ্'-এর 'রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপনাম আলোচনা' পরিচ্ছেদে (১/১৬৩-১৬৪) নিম্নোক্ত শব্দে উদ্ধৃত করেছেন: আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত; যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাসী মারিয়ার গর্ভে পুত্র ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মনে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল, যতক্ষণ না জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে এসে বললেন: "হে আবু ইব্রাহিম, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক"। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "হে আবু ইব্রাহিম"। সমাপ্ত: দালাইলুন নুবুওয়াহ্। আরও দেখুন: মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়ার শরহসহ (৩/১৫১-১৫২)।

(২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে 'আবু আত-তইয়িব' এবং 'আবু আত-তাহির' উপনামে সম্বোধন প্রসঙ্গে, এবং এই দুটি কি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর উপাধি ছিল? ইবনুল কাইয়্যিম 'যাদুল মাআদ' (১/৮৬) গ্রন্থে বলেছেন: "অতঃপর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্ম নবুওয়াত পরবর্তী সময়ে নাকি পূর্ববর্তী সময়ে—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বিশুদ্ধ মনে করেন যে তাঁর জন্ম নবুওয়াতের পরে হয়েছিল। আর 'তইয়িব' ও 'তাহির' কি তাঁরই উপাধি নাকি অন্য কারও নাম? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। বিশুদ্ধ মত হলো, এ দুটি তাঁরই উপাধি ছিল। আল্লাহু আলাম।" সমাপ্ত: যাদুল মাআদ।

(৩) 'আবু আল-আরামিল' ছিল তাওরাত কিতাবে তাঁর উপনাম। যুরকানী এটি 'শারহুল মাওয়াহিব' (৩/১৫২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আরামিল শব্দটি আরমালাহ্-এর বহুবচন; অত্যন্ত অভাবী বা নিঃস্ব হওয়ার কারণে একে এ নামে ডাকা হয়, চাই সে স্বামীহীন নারী হোক—এমনকি সে সম্পদশালী হলেও (আযহারীর মতের বিপরীতে)। আবার এর দ্বারা সাধারণ দরিদ্র ব্যক্তিদেরও বোঝানো হতে পারে, কারণ দরিদ্রদের ক্ষেত্রেও আরামিল শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সমাপ্ত: যুরকানী।

(৪) 'আবু আল-মু'মিনিন' (মু'মিনদের পিতা); রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই উপনামে সম্বোধন করা হয় উবাই ইবনে কাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাসহাফ থেকে গৃহীত বর্ণনা অনুযায়ী: (নবী মু'মিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা এবং তিনি তাদের পিতা) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৬-এর অংশ]। এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর কিরাত থেকেও পাওয়া যায় (...মু'মিনদের নিজেদের চেয়েও এবং তিনি তাদের পিতা আর তাঁর স্ত্রীগণ...)। ইমাম নববী 'তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' (১/৪১, ৪৭২) গ্রন্থে বলেছেন: বাগাবী বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মু'মিন পুরুষ ও নারীদের পিতা বলা হয়। ওয়াহিদী আমাদের কোনো কোনো সাথী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বাণী: "মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন" [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪০]-এর কারণে এমনটি বলা যাবে না। তিনি আরও বলেন: ইমাম শাফেঈ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন—
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[النسب الزكي الطاهر] «1»

(محمد) «2» هذا اسمه الذي سماه به جده «عبد المطلب» ، وهو منقول من الصفة، سمى به صلى الله عليه وسلم لكثرة حمد الخلق له، وكثرة خصاله المحمودة، وقد قيل ل «عبد المطلب» :

--------------------------------------------

- جوازه، أي: أبوهم في الحرمة. قال: ومعنى الاية: ليس أحد من رجالكم ولد صلبه، وفي الحديث الصحيح في سنن أبي داود وغيره: «أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إنما أنا لكم مثل الوالد» . قيل: في الشفقة، وقيل: ألّا تستحيوا من سؤالي عما يحتاجون إليه من أمر العورات وغيره. وقيل: في ذلك كله وغيره، وقد أوضحت ذلك كله في كتاب الاستطابة من شرح المهذب..» اه تهذيب الأسماء. وانظر: المواهب اللدنية مع شرحها (3/ 152) ، وانظر: كتاب (البهجة السوية في الأسماء النبوية) للإمام السيوطي/ بتحقيقنا فصل (الكنى) ص 275- 278. طبع الدار المصرية اللبنانية ط 1، شوال 1421 هـ الموافق يناير 2001 م.

(1) العناوين الموضوعة بين الأقواس المعكوفة هكذا [] من هنا إلى «الغزوات» ليست في أصول الكتاب، وإنما هي من وضعنا تمشيا مع ما هو موجود في بعض حواشي نسخ «أوجز السير» لابن فارس.

(2) «محمد» : كما في (الاشتقاق) لابن دريد 1/ 8 «مشتق من الحمد، وهو مفعّل، ومفعّل: صفة تلزم من كثر منه ذلك الشيء، وسمي صلى الله عليه وسلم «محمدا» ؛ لأنه حمد مرة بعد مرة، كما تقول: كرمته فهو مكرم، وعظمته فهو معظم، إذا فعلت به مرارا … إلخ» اه: الاشتقاق، تحقيق الأستاذ عبد السلام هارون، طبع ونشر مكتبة الخانجي. وقال الإمام ابن القيم في كتابه (جلاء الأفهام في فضل الصلاة والسلام على محمد خير الأنام) - الفصل الثالث- في معنى اسم النبي صلى الله عليه وسلم، واشتقاقه (1/ 133، 134) : «هذا الاسم- يعني محمدا- هو أشهر أسمائه- صلى الله عليه وسلم، وهو اسم منقول من الحمد، وهو في الأصل اسم مفعول من الحمد، وهو يتضمن الثناء على المحمود، ومحبته وإجلاله وتعظيمه، هذا هو حقيقة الحمد، وبنى على زنة «مفعل» … لأن هذا البناء موضوع للتكثير؛ فإن اشتق منه اسم الفاعل، فمعناه من كثر صدور الفعل منه مرة بعد مرة كمعلم … وإن اشتق منه اسم مفعول فمعناه من كثر تكرر وقوع الفعل عليه مرة بعد أخرى، إما استحقاقا، أو وقوعا. محمد هو الذي كثر حمد الحامدين له مرة بعد أخرى، أو الذي يستحق أن يحمد مرة بعد أخرى … وهذا علم وصفة اجتمع فيه الأمران في حقه صلى الله عليه وسلم، وإن كان علما مختصا في حق كثير ممن تسمى به غيره. وهذا شأن أسماء الرب تعالى، وأسماء كتابه، وأسماء أسماء نبيه هي أعلام دالة على معان هي بها أوصاف فلا تضاد فيها العلمية الوصف بخلاف غيرها من أسماء المخلوقين … إلخ» اه: جلاء الأفهام … تحقيق محيى الدين مستو. طبع دار التراث بالمدينة النبوية. انظر ص 147 من نفس المرجع. وانظر: زاد المعاد لابن القيم بحاشية لمواهب اللدنية للزرقاني (1/ 68) .
[পবিত্র ও নির্মল বংশপরিচয়] «১»

(মুহাম্মদ) «২» এটি তাঁর সেই নাম যা তাঁর দাদা ‘আব্দুল মুত্তালিব’ রেখেছিলেন। এটি একটি গুণবাচক শব্দ থেকে গৃহীত। সৃষ্টির পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি প্রচুর প্রশংসা এবং তাঁর অসংখ্য প্রশংসনীয় গুণের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আব্দুল মুত্তালিবকে বলা হয়েছিল:

--------------------------------------------

- এর বৈধতা, অর্থাৎ: সম্মানের ক্ষেত্রে তিনি তাদের পিতা। তিনি বলেন: আয়াতের অর্থ হলো: তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কেউ তাঁর ঔরসজাত সন্তান নয়। সুনানে আবু দাউদ ও অন্যান্য কিতাবের সহীহ হাদীসে এসেছে: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি তোমাদের জন্য একজন পিতার ন্যায়।”» বলা হয়েছে: এটি দয়া ও মমতার ক্ষেত্রে, আবার বলা হয়েছে: যাতে তোমরা তাঁর কাছে লজ্জাস্থান সংক্রান্ত বিষয় বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জিত না হও। আরও বলা হয়েছে: এই সকল ক্ষেত্রে এবং এর বাইরেও। আমি ‘তাহযীবুল আসমা’ গ্রন্থে ‘শরহুল মুহাযযাব’-এর ‘কিতাবুল ইস্তিতাবাহ’ অংশে এই সমস্ত বিষয় বিস্তারিত স্পষ্ট করেছি..» সমাপ্ত—তাহযীবুল আসমা। দেখুন: আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ ও এর ব্যাখ্যা (৩/১৫২), এবং দেখুন: ইমাম সুয়ূতী রচিত ‘আল-বাহজাতুস সানিয়্যাহ ফিল আসমাউন নাবাবিয়্যাহ’ কিতাব/ আমাদের তাহকীককৃত ‘আল-কুনা’ (উপনাম) পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ২৭৫-২৭৮। দারুল মাসরিয়্যাহ আল-লুবনানিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত, ১ম প্রকাশ, শাওয়াল ১৪২১ হিজরী মোতাবেক জানুয়ারি ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ।

(১) এখান থেকে শুরু করে ‘আল-গাযাওয়াত’ (যুদ্ধসমূহ) পর্যন্ত থার্ড ব্র্যাকেট [] এর মাঝে দেওয়া শিরোনামগুলো কিতাবের মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই। বরং ইবনে ফারিসের ‘আওজাযুস সিয়ার’-এর কোনো কোনো সংস্করণের পার্শ্বটীকায় যা বিদ্যমান ছিল, তার সাথে মিল রেখে আমরা এগুলো যোগ করেছি।

(২) «মুহাম্মদ»: যেমনটি ইবনে দুরিদ-এর ‘আল-ইশতিকাক’ ১/৮ এ বর্ণিত আছে, «এটি ‘হামদ’ (প্রশংসা) শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন। এটি ‘মুফাউয়াল’ ওযন। আর ‘মুফাউয়াল’ হলো এমন একটি বিশেষণ যা সেই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যার থেকে উক্ত বিষয়টি বারবার ও অধিকহারে প্রকাশ পায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘মুহাম্মদ’ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ তিনি বারবার প্রশংসিত হয়েছেন। যেমন আপনি বলেন: ‘কাররামতুহু ফাহুওয়া মুকাররাম’ (আমি তাকে বারবার সম্মানিত করেছি, তাই তিনি অত্যন্ত সম্মানিত), ‘আযযামতুহু ফাহুওয়া মুআযযাম’ (আমি তাকে বারবার মহিমান্বিত করেছি, তাই তিনি অত্যন্ত মহিমান্বিত), যখন আপনি বারবার কাজটি করেন ... ইত্যাদি।» সমাপ্ত: আল-ইশতিকাক, অধ্যাপক আব্দুল সালাম হারুন কর্তৃক তাহকীককৃত, মাকতাবাতুল খানজী কর্তৃক মুদ্রিত ও প্রকাশিত। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘জালাউল আফহাম ফী ফাদলিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা মুহাম্মাদিন খাইরিল আনাম’ কিতাবের তৃতীয় পরিচ্ছেদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের অর্থ ও ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে (১/১৩৩, ১৩৪) বলেছেন: «এই নাম—অর্থাৎ মুহাম্মদ—এটি তাঁর নামসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। এটি ‘হামদ’ শব্দ থেকে গৃহীত এবং এটি মূলত ‘ইসমুল মাফউল’ (কর্মবাচক বিশেষ্য)। এটি প্রশংসিত ব্যক্তির প্রশংসা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে; আর এটাই প্রশংসার প্রকৃত অর্থ। এটি ‘মুফাউয়াল’ ওযনে গঠন করা হয়েছে ... কারণ এই শব্দকাঠামোটি আধিক্য (তাকসীর) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যদি এখান থেকে ‘ইসমুল ফায়েল’ (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) গঠন করা হয়, তবে এর অর্থ হবে—যার থেকে বারবার ক্রিয়াটি প্রকাশ পায়, যেমন ‘মুআল্লিম’ (শিক্ষক) ... আর যদি ‘ইসমুল মাফউল’ গঠন করা হয়, তবে এর অর্থ হবে—যার উপর বারবার ক্রিয়াটি পতিত হয়েছে, তা যোগ্যতার কারণেই হোক বা বাস্তব ঘটার কারণেই হোক। ‘মুহাম্মদ’ হলেন তিনি, যাঁর প্রশংসাকারীদের পক্ষ থেকে বারবার প্রশংসা করা হয়েছে, অথবা যিনি বারবার প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য ... এটি একইসাথে নাম (আলাম) এবং গুণ (সিফাত), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে উভয় অর্থেই প্রযোজ্য; যদিও অন্যদের ক্ষেত্রে এটি কেবল নাম হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলার নামসমূহ, তাঁর কিতাবের নামসমূহ এবং তাঁর নবীর নামসমূহ—সবই এমন নাম যা বিশেষ অর্থের দিকে নির্দেশ করে এবং সেগুলো একইসাথে গুণও বটে। তাই এর নামবাচকতা ও গুণবাচকতার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, যা সৃষ্টিজগতের অন্যদের নামের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে ... ইত্যাদি।» সমাপ্ত: জালাউল আফহাম ... মুহিউদ্দীন মুস্তো কর্তৃক তাহকীককৃত। মদীনা নববীয়্যাহর দারুত তুরাস থেকে মুদ্রিত। একই সূত্রের ১৪৭ পৃষ্ঠা দেখুন। আরও দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের ‘যাদুল মাআদ’, যারকানি কর্তৃক ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ’র পার্শ্বটীকা (১/৬৮)।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৬)
لم سميت ابنك «محمدا» ، ولم يكن من أسماء آبائك ولا قومك؟ قال: رجوت أن يكون محمودا في السماء والأرض. وقد حقق الله رجاءه كما سبق في علمه «1» . وورد أن «آمنة» «2» أمه صلى الله عليه وسلم سمعت قائلا يقول لها:

--------------------------------------------

- وانظر: شرح الزرقاني على المواهب- المقصد الأول- (1/ 71، 126) . وانظر: المواهب أيضا- المقصد الثاني- (3/ 151- 154) . وانظر: التعريف والإعلام فيما أبهم من الأسماء والأعلام في القرآن الكريم، للإمام/ أبي القاسم السهيلي (ت 581 هـ) من سورة الحواريين- الصف- تحقيق/ الأستاذ عبدا علي مهنا، طبع دار الكتب العلمية، بيروت ط/ 1407 هـ 1987 م.

(1) قوله: «وقد قيل لعبد المطلب: … إلخ» ذكره الإمام ابن دريد (المتوفى 321 هـ) في كتابه (الاشتقاق) (1/ 8) فقال: «روى بعض نقلة العلم، أن النبي صلى الله عليه وسلم لما ولد أمر «عبد المطلب» بجزور فنحرت، ودعا رجال قريش، وكانت سنتهم في المولود إذا ولد في استقبال الليل كفأوا عليه قدرا حتى يصبح، ففعلوا ذلك بالنبي صلى الله عليه وسلم، فأصبحوا، وقد انشقت عنه القدر، وهو شاخص إلى السماء، فلما حضرت رجال قريش وطعموا قالوا ل «عبد المطلب» : ما سميت ابنك هذا؟. قال: سميته «محمدا» . قالوا: ما هذا من أسماء آبائك؟ قال: أردت أن يحمد في السماوات والأرض» اه: الاشتقاق. وانظر: (الروض الأنف) للإمام/ السهيلي 1/ 182. وانظر: (إتحاف الورى بأخبار أم القرى) (1/ 56) للإمام النجم عمر بن فهد (ت 885 هـ) - ذكر ولادة النبي صلى الله عليه وسلم تحقيق/ فهيم محمد شلتوت- الكتاب العشرون- نشر جامعة أم القرى. مركز البحث العلمي وإحياء التراث. وعزاه الإمام حسين بن محمد الديار بكري (ت 966 هـ) في كتابه (تاريخ الخميس في أحوال أنفس نفيس) 1/ 204 إلى المنتقى للإمام ابن الجارود.

(2) و «أمه» صلى الله عليه وسلم «آمنة» ، بنت وهب، بن عبد مناف، بن زهرة، بن كلاب إلى آخر نسب النبي صلى الله عليه وسلم، وذلك لاجتماعهما في «كلاب» … اه: السيرة النبوية لابن هشام (1/ 133) . وحول «أمه» صلى الله عليه وسلم انظر أيضا المصادر والمراجع الاتية: أ- (تاريخ الطبري) للإمام الطبري (2/ 244، 246) . ب- (الثقات) للإمام ابن حبان (1/ 26) . ج- (الروض الأنف) للإمام أبي القاسم عبد الرحمن بن عبد الله بن أحمد بن أبي الحسن الخثعني (ت 582 هـ) المشهور بالسهيلي (1/ 133) . د- (الدرة المضية في السيرة النبوية) للإمام عبد الغني المقدسي (ت 600 هـ) ص 17. هـ- (الاشتقاق) لابن دريد (ت 321 هـ) وفيه قال: «آمنة … : فاعلة من الأمن، ووهب: من قولهم: وهبت له هبة، ووهبا، فأنا واهب، والشيء موهوب، والرجل موهوب له» . و «عبد مناف» اشتقاق العبد من الطريق المعبد، وهو المذلل الموطوء … إلخ.
কেন আপনি আপনার পুত্রের নাম ‘মুহাম্মদ’ রেখেছেন, অথচ এটি আপনার পূর্বপুরুষ বা আপনার সম্প্রদায়ের নামগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল না? তিনি বললেন: আমি আশা করেছি যে আকাশ ও পৃথিবীতে সে প্রশংসিত হবে। আর আল্লাহ তাঁর আশা পূর্ণ করেছেন যেমনটি তাঁর জ্ঞানে পূর্বনির্ধারিত ছিল (১)। এবং বর্ণিত আছে যে, তাঁর মাতা ‘আমিনা’ (২) (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজনকে বলতে শুনেছেন যে:

--------------------------------------------

- দেখুন: শারহুল জারকানি আলাল মাওয়াহিব—আল-মাকসাদুল আওয়াল—(১/ ৭১, ১২৬)। আরও দেখুন: আল-মাওয়াহিব—আল-মাকসাদুত থানি—(৩/ ১৫১- ১৫৪)। আরও দেখুন: ইমাম আবুল কাসিম আস-সুহাইলি (মৃত্যু ৫৮১ হিজরি) রচিত আল-তারিফ ওয়াল ইলাম ফিমা উবহামা মিনাল আসমায়ি ওয়াল আলাম ফিল কুরআনিল কারীম, সূরা আল-হাওয়ারিয়্যিন—আস-সাফ—সম্পাদনা: উস্তাদ আবদা আলী মুহান্না, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, প্রকাশকাল: ১৪০৭ হিজরি ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ।

(১) তাঁর উক্তি: ‘আবদুল মুত্তালিবকে বলা হয়েছিল: ... ইত্যাদি’ এটি ইমাম ইবনে দুরাইদ (মৃত্যু ৩২১ হিজরি) তাঁর (আল-ইশতিকাক) (১/ ৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: ‘জ্ঞানের এক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্মগ্রহণ করেন, তখন আবদুল মুত্তালিব একটি উট জবাই করার নির্দেশ দেন এবং তা করা হয়, আর তিনি কুরাইশ পুরুষদের দাওয়াত দেন। তাদের প্রথা ছিল যখন কোনো নবজাতক রাতের বেলা জন্মগ্রহণ করত, তখন তারা তার ওপর একটি হাঁড়ি উপুড় করে রাখত সকাল হওয়া পর্যন্ত। তারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ষেত্রেও তা-ই করল। যখন সকাল হলো, তারা দেখল হাঁড়িটি তার ওপর থেকে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে এবং তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। যখন কুরাইশ পুরুষরা উপস্থিত হলো এবং খাবার গ্রহণ করল, তারা আবদুল মুত্তালিবকে জিজ্ঞাসা করল: আপনি আপনার এই পুত্রের নাম কী রেখেছেন? তিনি বললেন: আমি তার নাম ‘মুহাম্মদ’ রেখেছি। তারা বলল: এটি তো আপনার পিতৃপুরুষদের নাম নয়? তিনি বললেন: আমি চেয়েছি সে আসমান ও জমিনে প্রশংসিত হোক।’ সমাপ্ত: আল-ইশতিকাক। আরও দেখুন: (আল-রওদুল উনুফ) ইমাম সুহাইলি ১/ ১৮২। আরও দেখুন: (ইতিহাফুল ওয়ারা বি-আখবারি উম্মিল কুরা) (১/ ৫৬) ইমাম নাজমুদ্দিন উমর বিন ফাহাদ (মৃত্যু ৮৮৫ হিজরি) - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্মবৃত্তান্ত উল্লেখ—সম্পাদনা: ফাহিম মুহাম্মদ শালতুত—২০তম খণ্ড—উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র। আর ইমাম হুসাইন বিন মুহাম্মদ আদ-দিয়ার বকরী (মৃত্যু ৯৬৬ হিজরি) তাঁর (তারিখুল খামিস ফি আহওয়ালি আনফাসি নাফিস) ১/ ২০৪ গ্রন্থে এটিকে ইমাম ইবনুল জারুদের আল-মুনতাকা গ্রন্থের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

(২) এবং ‘তাঁর মাতা’ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হলেন ‘আমিনা’, বিনতে ওয়াহব, বিন আবদে মানাফ, বিন জুহরাহ, বিন কিলাব—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বংশপরম্পরার শেষ পর্যন্ত, কারণ তারা উভয়েই ‘কিলাব’-এ গিয়ে মিলিত হয়েছেন... সমাপ্ত: সীরাতে ইবনে হিশাম (১/ ১৩৩)। তাঁর মাতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে আরও দেখুন নিম্নোক্ত উৎস ও গ্রন্থসমূহ: ক- (তারিখে তাবারী) ইমাম তাবারী (২/ ২৪৪, ২৪৬)। খ- (আস-সিকাত) ইমাম ইবনে হিব্বান (১/ ২৬)। গ- (আল-রওদুল উনুফ) ইমাম আবুল কাসিম আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আবুল হাসান আল-খাসআমি (মৃত্যু ৫৮২ হিজরি) যিনি সুহাইলি নামে পরিচিত (১/ ১৩৩)। ঘ- (আদ-দুররাতুল মুদিয়্যাহ ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ) ইমাম আবদুল গনি আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬০০ হিজরি) পৃ. ১৭। ঙ- (আল-ইশতিকাক) ইবনে দুরাইদ (মৃত্যু ৩২১ হিজরি), এতে তিনি বলেছেন: ‘আমিনা...: এটি আমন (নিরাপত্তা) শব্দ থেকে ফায়িলা (কর্ত্রী)। আর ওয়াহব: তাদের এই কথা থেকে এসেছে: আমি তাকে দান (হিবাতান ও ওয়াহবান) করেছি, তাই আমি দাতা (ওয়াহিব), আর বস্তুটি দানকৃত (মাওহুব), আর ব্যক্তিটি যার প্রতি দান করা হয়েছে (মাওহুবু লাহু)।’ আর ‘আবদে মানাফ’ হলো আবদ (দাস) শব্দটি আল-তারিকুল মুআব্বাদ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ সহজগম্য বা পদদলিত পথ... ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৭)
«إنك حملت بسيد هذه الأمة؛ فإذا وضعتيه فسميه محمدا» «1» .

وأمرت أيضا في رؤيا أخرى/ أن تسميه أحمد «2» . قال سيدي العربي الفاسي في سيرته:

قال ابن إسحاق:

ولما ولد أو قد بدا من نوره ما قد بدا.

أرسلت أمه لجده فجاء حتى رآه فرأى ما قد رجا.

--------------------------------------------

- و «مناف» (صنم) ، واشتقاقه من ناف ينوف، وأناف ينيف إذا ارتفع وعلا … وبنو مناف: بطن من بني تميم، وهو مناف بن دارم … إلخ. و «ابن زهرة» (فعلة) من الزهر: زهر الروض، وما أشبهه، ويمكن أن يكون اشتقاق: (زهرة) من الشيء الزاهر المضيء من قولهم: «أزهر النهار، إذا أضاء، وأما (الزهرة) التي في السماء- وهي النجم- فمتحركة في وزن (فعلة) ، ومن قال (الزهرة) - بإسكان الهاء- فقد أخطأ» اه: الاشتقاق بتصرف. وسيأتي- إن شاء الله تعالى، بيان بقية الأسماء في أسماء آباء الرسول صلى الله عليه وسلم.

(1) قوله: «سمعت قائلا يقول … إلخ» ذكره ابن إسحاق فقال: «فلما وضعته أمه صلى الله عليه وسلم أرسلت إلى جده عبد المطلب أنه قد ولد لك غلام فأته فانظر إليه، فأتاه فنظر إليه، وحدّثته بما رأت حين حملت به، وما قيل لها فيه، وما أمرت أن تسميه» اه: السيرة النبوية لابن هشام (1/ 180) . وانظر: (إتحاف الورى بأخبار أم القرى) 10/ 52، 56 للإمام ابن فهد.

(2) حول تسميته صلى الله عليه وسلم ب (أحمد) قال الإمام الزرقاني في (شرح المواهب اللدنية) (3/ 153- 154) : «أحمد هو اسمه- عليه الصلاة والسلام الذي سمى به على لسان «عيسى» و «موسى» عليهما السلام؛ فإنه منقول أيضا من الصفة التي معناها التفضيل، فمعنى «أحمد» أحمد الحامدين لربه، وكذلك هو في المعنى فاسمه مطابق لمعناه … ثم إنه لم يكن «محمدا» ، أي: لم يثبت له ذلك الوصف، حتى كان «أحمد» ؛ لأنه حمد ربه فنبأه وشرفه، فلذلك تقدم اسم «أحمد» على الاسم الذي هو «محمد» فذكره «عيسى» عليه السلام فقال: وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ [سورة الصف، من الاية: 6] . وقال الراغب: خص «عيسى» عليه السلام به، ولم يصفه بغيره تنبيها على أنه (أحمد) منه وممن قبله لما اشتمل عليه من الخصال الجميلة، والأخلاق الحميدة التي لم تكمل لغيره. وذكره موسى- عليه السلام في حديث مناجاته الطويل حين قال له ربه: «تلك أمة أحمد» . - قال: حمده لربه كان قبل حمد الناس له تعالى؛ لأنه أول من أجاب يوم: أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ! بقوله: بَلى [سورة الأعراف، من الاية: 172] . وقد خالف الإمام ابن القيم القول بأسبقيه «أحمد» على «محمد» .
«নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের নেতার গর্ভধারণ করেছেন; সুতরাং যখন আপনি তাঁকে প্রসব করবেন তখন তাঁর নাম রাখবেন মুহাম্মদ» (১)।

আর আপনাকে অন্য একটি স্বপ্নেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আপনি তাঁর নাম রাখবেন আহমদ (২)। সায়্যিদী আল-আরাবী আল-ফাসি তাঁর সীরাত গ্রন্থে বলেছেন:

ইবনে ইসহাক বলেন:

আর যখন তিনি ভূমিষ্ঠ হলেন, তখন তাঁর নূর থেকে যা প্রকাশিত হওয়ার ছিল তা প্রকাশিত হলো।

তাঁর মা তাঁর দাদার নিকট সংবাদ পাঠালেন, অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাঁকে দেখলেন, ফলে তিনি তাই দেখতে পেলেন যার তিনি আশা করেছিলেন।

--------------------------------------------

- আর «মানাফ» (একটি প্রতিমা), এর ব্যুৎপত্তি হলো 'নাফা ইয়ানুফু' এবং 'আনাফা ইয়ানিফু' থেকে, যখন কোনো কিছু উচ্চ হয় ও উপরে উঠে … আর বনু মানাফ: বনু তামীমের একটি শাখা, তিনি হলেন মানাফ ইবনে দারিম … ইত্যাদি। আর «ইবনে জুহরাহ» (ফু'আলাহ ওজনে) 'জুহর' শব্দ থেকে এসেছে: বাগানের ফুল ও তার সদৃশ বিষয়। আর হতে পারে যে «জুহরাহ» শব্দের ব্যুৎপত্তি কোনো উজ্জ্বল আলোকিত বস্তু থেকে হয়েছে, যেমন তাদের উক্তি: «দিনটি উজ্জ্বল হয়েছে», যখন তা আলোকিত হয়। আর আকাশে যে «জুহরাহ» (শুক্র গ্রহ) রয়েছে—যা একটি নক্ষত্র—তা «ফু'আলাহ» ওজনে (হা বর্ণে) হরকত যুক্ত; আর যে একে «জুহরাহ» (হা বর্ণে সুকুন দিয়ে) বলে, সে ভুল করেছে। সমাপ্ত: 'আল-ইশতিকাক' হতে পরিমার্জিত। আর ইনশাআল্লাহ তাআলা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিতৃপুরুষদের নামের বর্ণনায় অবশিষ্ট নামগুলোর ব্যাখ্যা সামনে আসবে।

(১) তাঁর উক্তি: «আমি একজন ঘোষণাকারীকে বলতে শুনলাম … ইত্যাদি» এটি ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «অতঃপর যখন তাঁর মা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রসব করলেন, তিনি আব্দুল মুত্তালিবের নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আপনার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে, সুতরাং আপনি আসুন এবং তাকে দেখুন। অতঃপর তিনি আসলেন এবং তাকে দেখলেন। আর তিনি (মা) তাঁর গর্ভকালীন সময়ে যা দেখেছিলেন এবং তাঁকে যা বলা হয়েছিল, আর তাঁকে কী নাম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন» সমাপ্ত: ইবনে হিশামের সীরাতুন নবী (১/১৮০)। আর দেখুন: ইমাম ইবনে ফাহদ কৃত (ইতহাফুল ওয়ারা বি আখবারিল উম্মিল কুরা) ১০/৫২, ৫৬।

(২) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাম «আহমদ» রাখার বিষয়ে ইমাম যারকানী (শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুননিয়াহ) (৩/১৫৩-১৫৪) গ্রন্থে বলেন: «আহমদ হলো তাঁর নাম—তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—যেই নামে ঈসা ও মূসা আলাইহিমাস সালাম-এর জবানে নামকরণ করা হয়েছে; কেননা এটিও এমন একটি সিফাত (গুণবাচক শব্দ) থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্ব। সুতরাং «আহমদ» শব্দের অর্থ হলো স্বীয় রবের সর্বাধিক প্রশংসাকারী। তদ্রূপ এটি অর্থগত দিক থেকেও সঠিক, অর্থাৎ তাঁর নাম তাঁর অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ … অতঃপর তিনি «মুহাম্মদ» হওয়ার পূর্বে, অর্থাৎ সেই গুণটি তাঁর জন্য সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বেই তিনি «আহমদ» ছিলেন; কারণ তিনি তাঁর রবের প্রশংসা করেছেন, ফলে আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন। এই কারণেই «আহমদ» নামটি সেই নামের পূর্বে এসেছে যা হলো «মুহাম্মদ»। তাই ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: ‘এবং এমন একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা হিসেবে যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম আহমদ’ [সূরা আস-সাফ, আয়াত: ৬ থেকে]। রাগিব (আল-ইসফাহানী) বলেন: ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর জন্য এই নামটি নির্দিষ্ট করেছেন এবং অন্য কোনো গুণে তাঁকে বিশেষিত করেননি এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, তিনি (আহমদ) তাঁর নিজের চেয়ে এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের চেয়েও অধিক প্রশংসাকারী। কারণ তাঁর মধ্যে এমন সুন্দর বৈশিষ্ট্য ও প্রশংসনীয় চরিত্র রয়েছে যা অন্য কারো মধ্যে পূর্ণতা পায়নি। আর মূসা আলাইহিস সালাম তাঁর দীর্ঘ মুনাজাতের হাদীসে তাঁকে উল্লেখ করেছেন যখন তাঁর রব তাঁকে বলেছিলেন: ‘এটি আহমদের উম্মত’। তিনি বলেন: মানুষের পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রশংসা করার পূর্বেই তাঁর পক্ষ থেকে রবের প্রশংসা নিবেদিত হয়েছিল; কারণ তিনিই প্রথম সত্তা যিনি ‘আমি কি তোমাদের রব নই!’—এই প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন: ‘হ্যাঁ’ [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ১৭২ থেকে]। অবশ্য ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম «মুহাম্মদ» নামের ওপর «আহমদ» নামের অগ্রগণ্যতার মতের বিরোধিতা করেছেন।»
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৮)
فأخبرته بالذي قبل رأت في حمله.

وأنها قد أمرت أن تسميه محمدا أعظم بها من تسمية.

وجاء أيضا أنه رأى سلسلة «1» من فضة لها رأى.

قد خرجت من ظهره لها طرف في الشرق والاخر للغرب انصرف.

وطرف آخر في السماء وطرف في الأرض أيضا نشا.

ثمت عادت بعد في الفيافي شجرة مورفة الأفنان.

والنور باد فوق كل ورقة لامعة أنوارها مؤتلفة.

إذا بأهل مشرق ومغرب هناك استمسكوا بسبب.

وقصّها فعبرت بولد من صلبه ممجد محمد.

يحمده لفضله أهل السماء والأرض إذ عظم قدرا وسما.

يتبعه جميع أهل الشرق والغرب والتعبير عين الحق.

/ لأجل ذا وما قريب قد مضى سماه باسمه الشريف المرتضى.

--------------------------------------------

(1) حديث رؤية «عبد المطلب» للسلسلة ذكره السيوطي في (الروض الأنف) - شرح سيرة ابن هشام- (1/ 182) فقال: «وقد ذكرها- أي السلسلة- على القيرواني العابر في كتاب (البستان) قال: كان «عبد المطلب» قد رأى في منامه كأن سلسلة من فضة خرجت من ظهره لها طرف في السماء، وطرف في الأرض، وطرف في المشرق، وطرف في المغرب، ثم عادت كأنها شجرة، على كل ورقة منها نور، وإذا أهل المشرق والمغرب كأنهم يتعلقون بها، فقصها؛ فعبرت له بمولود يكون من صلبه يتبعه أهل المشرق والمغرب، ويحمده أهل السماء والأرض؛ فلذلك سماه «محمدا» ، مع ما حدثته به أمه حين قيل لها: إنك حملت بسيد هذه الأمة؛ فإذا وضعتيه فسميه «محمدا» اه: الروض الأنف. وانظر أيضا: قصة السلسلة في كتاب (إتحاف الورى بأخبار أم القرى) للنجم عمر بن فهد (ت 885 هـ) (1/ 56) . وانظر: كتاب (الاكتفاء في مغازي رسول الله والثلاثة الخلفاء) للإمام/ أبي الربيع الكلاعي (1/ 168) . وانظر: كتاب (الأثر في فنون المغازي والشمائل والسيرة) للإمام/ ابن سيد الناس ص 45.

অতঃপর তিনি তাঁকে গর্ভধারণকালে যা দেখেছিলেন সে সম্পর্কে ইতিপূর্বেই সংবাদ দিলেন।

এবং তাঁকে আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যেন তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মাদ; কতই না মহান এই নামকরণ!

আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (আবদুল মুত্তালিব) রূপার একটি শিকল স্বপ্নে দেখেছিলেন।

যা তাঁর পিঠ থেকে নির্গত হয়েছে, যার এক প্রান্ত পূর্ব দিকে এবং অন্য প্রান্তটি পশ্চিম দিকে ধাবিত হয়েছে।

তার অন্য এক প্রান্ত আকাশে এবং একটি প্রান্ত পৃথিবীতেও বিস্তৃত হয়েছে।

অতঃপর তা সুবিস্তৃত প্রান্তরে পল্লবিত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট একটি বৃক্ষে পরিণত হলো।

এবং প্রতিটি পাতার উপরে আলো প্রকাশিত ছিল, যার উজ্জ্বল নূরসমূহ ছিল সুসংবদ্ধ।

এমতাবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিমের অধিবাসীরা সেখানে একটি অবলম্বন হিসেবে তা আঁকড়ে ধরল।

তিনি স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন, তখন এর ব্যাখ্যা করা হলো তাঁর বংশজাত একজন মহিমান্বিত পুত্র দ্বারা, যাঁর নাম মুহাম্মাদ।

আসমান ও যমীনের অধিবাসীরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁর প্রশংসা করবে, যেহেতু তাঁর মর্যাদা ও উচ্চতা সুমহান।

পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মানুষ তাঁর অনুসরণ করবে এবং এই ব্যাখ্যাটিই ছিল ধ্রুব সত্য।

এই কারণে এবং নিকট অতীতে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার প্রেক্ষিতে তিনি তাঁর সেই পছন্দনীয় ও সম্মানিত নাম রাখলেন।

--------------------------------------------

(১) আবদুল মুত্তালিবের শিকল দেখার হাদীসটি সুয়ূতী ‘আর-রাওদুল উনুফ’ গ্রন্থে (ইবনে হিশামের সীরাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ) উল্লেখ করেছেন (১/১৮২)। তিনি বলেন: “স্বপ্ন বিশারদ আল-কাইরাওয়ানী এটি ‘আল-বুস্তান’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: আবদুল মুত্তালিব স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন তাঁর পিঠ থেকে রূপার একটি শিকল বের হয়েছে যার এক প্রান্ত আকাশে, এক প্রান্ত যমীনে, এক প্রান্ত প্রাচ্যে এবং অন্য প্রান্ত পাশ্চাত্যে। অতঃপর তা যেন একটি বৃক্ষে রূপ নিল, যার প্রতিটি পাতায় নূর রয়েছে। আর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিবাসীরা যেন তা আঁকড়ে ধরছে। তিনি স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন; তখন তাঁর ব্যাখ্যা করা হলো এমন এক সন্তান দ্বারা যে তাঁর বংশ থেকে জন্ম নেবে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের অধিবাসীরা যাঁর অনুসরণ করবে এবং আসমান ও যমীনের অধিবাসীরা যাঁর প্রশংসা করবে। এই কারণেই তিনি তাঁর নাম রেখেছেন ‘মুহাম্মাদ’। এর সাথে সেই সংবাদটিও যুক্ত ছিল যা তাঁর মা তাঁকে শুনিয়েছিলেন যখন তাঁকে বলা হয়েছিল: নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের সর্দারের গর্ভধারণ করেছেন; সুতরাং যখন আপনি তাঁকে প্রসব করবেন তখন তাঁর নাম রাখবেন ‘মুহাম্মাদ’।” সমাপ্ত: আর-রাওদুল উনুফ। আরও দেখুন: নাজমুদ্দীন উমর বিন ফাহাদ (মৃত্যু ৮৮৫ হিজরী) রচিত ‘ইতহাফুল ওয়ারা বি আখবারিল উম্মিল কুরা’ গ্রন্থে শিকলের কাহিনী (১/৫৬)। আরও দেখুন: ইমাম আবুল রাবী‘ আল-কালা‘ঈ রচিত ‘আল-ইকতিফা ফী মাগাযী রাসূলিল্লাহ ওয়াস সালাসাতিল খুলাফা’ (১/১৬৮)। আরও দেখুন: ইমাম ইবনে সায়্যিদিন নাস রচিত ‘আল-আসার ফী ফুনুনিল মাগাযী ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সীয়ার’, পৃষ্ঠা ৪৫।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال «كعب الأحبار» «1» : اسم النبي صلى الله عليه وسلم عند أهل الجنة «عبد الكريم» ، وعند أهل النار «عبد الجبار» ، وعند أهل العرش «عبد المجيد» ، وعند سائر الملائكة «عبد الحميد» ، وعند الأنبياء «عبد الوهاب» ، وعند الشياطين «عبد القهار» ، وعند الجن «عبد الرحيم» ، وفي الجبال «عبد الخالق» ، وفي البراري «عبد القادر» ، وفي البحار «عبد المهيمن» *، وعند الحيتان «عبد القدوس» ، وعند الهوام «عبد الغياث» ، وعند الوحوش «عبد الرزاق» ، وعند السباع «عبد السلام» ، وعند البهائم «عبد المؤمن» ، وعند الطيور «عبد الغفار» .

وفي التوراة «مود مود» «2» .

--------------------------------------------

(1) هو كعب الأحبار بن ماتع- بالفوقية- أبو إسحاق الحميري التابعي المخضرم، أدرك المصطفى صلى الله عليه وسلم وما رآه المتفق على علمه وتوثيقه، سمع عمر رضي الله عنه وجماعة، وروى عنه العبادلة الأربعة وأبو هريرة، وأنس، ومعاوية، وهذا من رواية الأكابر عن الأصاغر- وكان يهوديا يسكن اليمن زمن الصديق رضي الله عنه وقيل: عمر، وشهر، وقيل: زمن المصطفى على يد علي رضي الله عنه حكاه- أي القسطلاني-. سكن الشام، وتوفي فيما ذكره ابن الجوزي والحفاظ سنة اثنين وثلاثين في خلافة عثمان رضي الله عنه وقد جاوز المائة، روى له الستة إلا البخاري فإنما له فيه حكاية معاوية عنه اه: الزرقاني على المواهب (1/ 42) . وأثر «كعب الأحبار» «اسم النبي عند أهل الجنة … إلخ» ذكره كل من: أ- الحافظ ابن الجوزي في (التبصرة) . ب- الإمام السخاوي في (القول البديع في الصلاة على الحبيب الشفيع) ص 77 ذكره تحت عنوان (لطيفة) ، فقال: «ذكر الحسين بن محمد الدامغاني في كتابه (شوق العروس وأنس النفوس) نقلا عن (كعب الأحبار) أنه قال: «اسم النبي صلى الله عليه وسلم عند أهل الجنة عبد الكريم» … إلى قوله: «يقسم الجنة بين أهلها، وسلم تسليما» اه: القول البديع. وانظر: شرح الزرقاني على المواهب (3/ 190- 191) .

(*) في «المواهب اللدنية» للقسطلاني مع شرحها للزرقاني (3/ 162) ، قال: «ولما كانت البحار هي الماحية للأدران، كان اسمه- عليه السلام فيها الماحي … فاستفيد منها أن فيها اسمين» اه: المواهب.

(2) «مود … » هكذا جاء في الأصل، وفي «ص 74 من كتاب «هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى) لابن القيم الجوزية جاء «موذ موذ» . وفي كتاب «جلاء الأفهام … » ص 153 لابن القيم جاء «مماد باد» . وقال القسطلاني في (المواهب اللدنية) (3/ 191) : «وفي التوراة موذ موذ بالتكرير، ويروى بالألف «ماذ ماذ» ، وبالياء «ميذ ميذ» و «مود، مود» و «موذ … إلخ» أصبحت «ماد» أو «ماذ» لتحرك الواو وانفتاح ما قبلها. وسواء كان القول «مود مود … إلخ» فإن هذا يدل على أن-
এবং «কাআব আল-আহবার» (১) বলেন: জান্নাতবাসীদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম হলো «আবদুল কারীম», জাহান্নামবাসীদের নিকট «আবদুল জাব্বার», আরশবাসীদের নিকট «আবদুল মাজীদ», অন্যান্য সমস্ত ফেরেশতাদের নিকট «আবদুল হামীদ», নবীদের নিকট «আবদুল ওয়াহহাব», শয়তানদের নিকট «আবদুল কাহহার», জিনদের নিকট «আবদুল রহীম», পর্বতমালায় «আবদুল খালিক», মরুপ্রান্তরে «আবদুল কাদির», সমুদ্রে «আবদুল মুহাইমিন» *, মাছদের নিকট «আবদুল কুদ্দুস», কীটপতঙ্গের নিকট «আবদুল গিয়াস», বন্যপ্রাণীদের নিকট «আবদুল রাজ্জাক», হিংস্র প্রাণীদের নিকট «আবদুল সালাম», চতুষ্পদ জন্তুদের নিকট «আবদুল মুমিন» এবং পাখিদের নিকট «আবদুল গাফফার»।

এবং তৌরাতে এসেছে «মুদ মুদ» (২)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন কাআব আল-আহবার ইবনে মাতি—‘তা’ বর্ণযোগে—আবু ইসহাক আল-হিময়ারী, যিনি একজন ‘মুখাদরাম’ তাবেয়ী। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ পেয়েছেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি। তাঁর জ্ঞান ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়ে সকলে একমত। তিনি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং একদল সাহাবী থেকে হাদিস শুনেছেন। তাঁর থেকে চার আবদুল্লাহ (ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, ইবনে আমর ও ইবনে যুবায়ের), আবু হুরায়রা, আনাস ও মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন—আর এটি বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের থেকে বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। তিনি সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ইয়ামেনে বসবাসকারী একজন ইহুদি ছিলেন, বলা হয় তিনি ওমরের যুগেও ছিলেন; আরও বলা হয় যে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—এটি কাসতালানী বর্ণনা করেছেন। তিনি সিরিয়ায় বসবাস করতেন এবং ইবনুল জাওযী ও হাফেজগণের বর্ণনা অনুযায়ী উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে ৩২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স একশ বছর অতিক্রম করেছিল। সিহাহ সিত্তার ছয়জন ইমামের মধ্যে ইমাম বুখারী ব্যতীত বাকিরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; ইমাম বুখারী কেবল মুয়াবিয়ার মাধ্যমে তাঁর একটি কাহিনী উল্লেখ করেছেন—সমাপ্ত: মাওয়াহিবের ওপর যুরকানী (১/৪২)। আর কাআব আল-আহবারের এই বর্ণনাটি—«জান্নাতবাসীদের নিকট নবীর নাম … ইত্যাদি»—নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গ উল্লেখ করেছেন: ক- হাফেজ ইবনুল জাওযী (আত-তাবসিরাহ) গ্রন্থে। খ- ইমাম সাখাভী (আল-কাওলুল বাদী ফি আস-সালাতি আলাল হাবীব আশ-শাফী) গ্রন্থের ৭৭ পৃষ্ঠায় এটি ‘লাতিফাহ’ শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: «হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামেগানী তাঁর (শওকুল আরুস ওয়া উনসুল নুফূস) গ্রন্থে কাআব আল-আহবার থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: জান্নাতবাসীদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম আবদুল কারীম … তাঁর এই কথা পর্যন্ত: তিনি জান্নাতবাসীদের মধ্যে জান্নাত বণ্টন করবেন এবং তাঁর ওপর পূর্ণ সালাম বর্ষিত হোক» সমাপ্ত: আল-কাওলুল বাদী। আরও দেখুন: আল-মাওয়াহিবের ওপর যুরকানীর ব্যাখ্যা (৩/১৯০-১৯১)।

(*) কাসতালানীর «আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ» এবং যুরকানীর ব্যাখ্যায় (৩/১৬২) বলা হয়েছে: «যেহেতু সমুদ্রসমূহ অপবিত্রতা মোচনকারী, তাই সেখানে তাঁর নাম—আলাইহিস সালাম—হলো আল-মাহি … এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে সেখানে দুটি নাম রয়েছে» সমাপ্ত: আল-মাওয়াহিব।

(开) «মুদ মুদ … » মূলে এভাবেই এসেছে। ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়্যাহর «হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা» গ্রন্থের ৭৪ পৃষ্ঠায় «মুয মুয» এসেছে। ইবনুল কাইয়িমের «জালাউল আফহাম … » গ্রন্থের ১৫৩ পৃষ্ঠায় এসেছে «ম্মাদ বাদ»। কাসতালানী (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ) গ্রন্থে (৩/১৯১) বলেন: «তৌরাতে পুনরাবৃত্তি সহকারে মুয মুয এসেছে, আবার আলিফ যোগে «মায মায», ইয়া যোগে «মীয মীয» এবং «মুদ মুদ» ও «মুয … ইত্যাদি» ও বর্ণিত হয়েছে; ওয়াও হরকতপ্রাপ্ত হওয়া এবং তার পূর্বের অক্ষরটি ফাতহাযুক্ত হওয়ায় এগুলো «মাদ» বা «মায»-এ পরিণত হয়েছে। চাই শব্দটি «মুদ মুদ … ইত্যাদি» যাই হোক না কেন, এটি নির্দেশ করে যে—
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৩০)
وفي «الإنجيل» «طاب، طاب» «1» .

وفي «الصحف «2» » «عافية» . وفي «الزبور» «فاروق» ، وعند الله «طه، ويس» ، وعند المؤمنين «محمد» ، وكنيته «أبو القاسم» ؛ لأنه يقسم الجنة بين أهلها «3» .

ونقل بعضهم «4» : أنه لما شاع قبل مولده صلى الله عليه وسلم أن نبيا يبعث في الحجاز يسمى «محمدا»

--------------------------------------------

- التوراة فيها ذكر محمد صلى الله عليه وسلم. قال ابن الجوزي في كتابه (جلاء الأفهام في فضل الصلاة والسلام على محمد خير الأنام) ص 155- 156: «فتأمل هذا التناسب بين الرسولين- محمد وموسى- عليهما السلام والكتابين: القرآن، والتوراة، والشريعتين- أعني- الشريعة الصحيحة التي لم تبدل، والأمتين، واللغتين؛ فإذا نظرت في حروف «محمد» ، وحروف «مما باد» وجدت الكلمتين كلمة واحدة؛ فإن الميمين فيهما والهمزة والحاء من مخرج واحد، والدال كثيرا ما تجد موضعها «ذالا» في لغتهم: يقولون: «إيحاذ» للواحد، ويقولون: «قوذش» في القدس، والدال، والذال متقاربتان فمن تأمل اللغتين: - العربية، والعبرية- لم يشك أنهم واحد، ولهذا نظائر في اللغتين: مثل «موسى» ؛ فإنه في اللغة العبرانية «موشى» ، وأصله: الماء والشجر؛ فإنهم يقولون: للماء «مو» و «شا» هو «الشجر» و «موسى» التقطه آل «فرعون» من بين الماء والشجر، فالتفاوت الذي بين «موسى وموشى» كالتفاوت بين «محمد» و «مماد باد» واقتران التوراة بالقرآن في غير موضع من الكتاب. انظر: سورة القصص: الايتان: 48، 49، وسورة الأنعام: الايات: 91، 92، 154، 155، وسورة آل عمران: الايتان: 1، 2، وسورة الأنبياء: الايات: 48- 50» اه: جلاء الأفهام …

(1) «طاب طاب» بالتكرار- ولا يأتي إلا مفتوح التاء- قال عنه الزرقاني في (شرح المواهب) (3/ 137) : قال العزفي: «من أسمائه في التوراة» ، ومعناه: طيب، وقيل: معناه ما ذكر بين قوم إلا طاب ذكره بينهم. اه. شرح المواهب.

(1) «طاب طاب» بالتكرار- ولا يأتي إلا مفتوح التاء- قال عنه الزرقاني في (شرح المواهب) (3/ 137) : قال العزفي: «من أسمائه في التوراة» ، ومعناه: طيب، وقيل: معناه ما ذكر بين قوم إلا طاب ذكره بينهم. اهـ. شرح المواهب.

(2) قوله: «و» «في الصحف» المراد بها التي أنزلت على موسى- عليه السلام قبل التوراة، و «صحف إبراهيم» ذكر ذلك الزرقاني في (شرح المواهب) (3/ 191) . وانظر «القول البديع..» للإمام السخاوي ص 77. وانظر: ص 406 من (التوراة السامرية) لأبي إسحاق الصوري تحت عنوان: اسم محمد صلى الله عليه وسلم. نشر الدكتور/ أحمد حجازي. طبع دار الأنصار بالقاهرة.

(3) انظر: ما نقلناه بعد ترجمة كعب الأحبار المتقدمة تحت رقم 1.

(4) حول عدد الذين تسموا باسم «محمد» نذكر ما قاله بعض العلماء، ونخص بالذكر كلا من: أولا: القاضي عياض حيث ذكرهم في (الشفا) 1/ 299 ستة رجال، وقد خصّه في «محمد بن مسلمة» الحافظ ابن حجر كما سيأتي، والقسطلاني في المواهب. ثانيا: ذكر الإمام السهيلي (الروض الأنف) (1/ 182) ثلاثة رجال فقط. ثالثا: أما الخمسة عشر الذين أشار إليهم المؤلف في كتابنا فقد ذكرهم الإمام ابن حجر في-

- (فتح الباري بشرح صحيح البخاري) (6/ 556) - حديث محمد بن جبير بن مطعم- حيث قال: «قال عياض (الشفاء) (1/ 182) : «حمى الله هذه الأسماء- محمدا، وأحمد- أن يسمى بها أحد قبله، وإنما تسمى بعض العرب «محمدا» قرب ميلاده لما سمعوا من الكهان والأحبار؛ أن نبيا سيبعث في ذلك الزمان يسمى «محمدا» فرجوا أن يكونوا هم؛ فسموا أبناءهم بذلك. قال: وهم ستة لا سابع لهم» كذا قال، وسبق السهيلي إلى القول أبو عبد بن خالويه في كتابه (ليس من كلام العرب) وهو حصر مردود، وقد جمعت أسماء من تسمى بذلك في جزء مفرد فبلغوا نحو العشرين؛ لكن مع تكرار في بعضهم، ووهم في بعض، فيتلخص منهم خمسة عشر، وأشهرهم: محمد بن عدي بن ربيعة بن سواءة بن جشم بن سعد بن زيد مناة بن تميم السعدي» روى حديثه البغوي، وابن سعد، وابن شاهين، وابن السكن، وغيرهم من طريق العلاء بن الفضل، عن أبيه عن جده- عبد الملك بن سوية- عن أبيه، عن أبي سوية، عن أبيه خليفة بن عبدة المنقري قال: سألت محمد بن عدي بن ربيعة كيف سماك أبوك في الجاهلية «محمدا» ؟! قال: سألت أبي عما سألتني، فقال: خرجت رابع أربعة، من بني تميم أنا أحدهم، و «سفيان ابن مجاشع» ، و «يزيد بن عمر وابن ربيعة» و «أسامة بن مالك بن حبيب بن العنبر» ، نريد «ابن جفنة» الغساني» بالشام، فنزلنا على «غدير» ، عند «دير» فأشرف علينا الديراني فقال لنا: إنه يبعث منكم وشيكا «نبي» فسارعوا إليه، فقلنا: ما اسمه؟ قال: «محمد» ، فلما انصرفنا ولد لكل واحد منا ولد فسماه «محمدا» لذلك» . انتهى. وقال ابن سعد: أخبرنا علي بن محمد، عن مسلمة بن محارب، عن قتادة بن السكن، قال: كان في بني تميم: «محمد بن سفيان بن مجاشع» قيل لأبيه: إنه سيكون «نبي» في العرب اسمه «محمد» ، فسمى ابنه «محمدا» . فهؤلاء أربعة ليس في السياق ما يشعر بأن فيهم من له صحبة، إلا «محمد بن عدي» . وقد قال ابن سعد: لما ذكره في الصحابة، عداده في أهل الكوفة. وذكر عبد الله المروزي أن «محمد بن أحيحة بن الجلاح» أول من تسمى في الجاهلية «محمدا» وكأنه تلقى ذلك من قصة «تبع» لما حاصر المدينة، وخرج إليه المذكور، وهو الحبر الذي كان عندهم ب «يثرب» فأخبره الحبر إن هذا بلد «نبي» يبعث يسمى «محمدا» فسمى ابنه «محمدا» . وذكر البلاذري منهم: «محمد بن عقبة بن أحيحة» فلا أدري أهما واحد نسب مرة إلى جده، أم هما اثنان؟. ومنهم: «محمد برّ» بتشديد الراء ليس بعدها- ابن طريف بن عتوارة بن عامر بن ليث بن بكر بن عبد مناة بن كنانة «ولهذا نسبوه أيضا العتواري. وغفل ابن دحية فعد فيهم «محمد بن عتوارة» ، وهو نسب لجده الأعلى، ومنهم «محمد بن اليحمد حرماز بن مالك اليعمري» ذكره أبو موسى في الذيل، ومنهم «محمد بن حمران بن أبي حمران» واسمه: «ربيعة بن مالك الجعفي» المعروف بالشويعر. ذكره «المرزباني» فقال: هو أحد من سمى «محمدا» في الجاهلية، وله قصة مع امرئ القيس، ومنهم: «محمد بن خزاعي بن علقمة بن حرابة السلمي» من بني ذكوان، ذكره ابن سعد، عن علي بن محمد بن الفضل، عن محمد بن إسحاق، قال: سمي «محمد بن-
এবং «ইনজিল»-এ (তাঁর নাম) «ত্বাব, ত্বাব» «১»।

এবং «সুহুফ «২»»-এ (তাঁর নাম) «আফিয়া»। এবং «যাবুর»-এ (তাঁর নাম) «ফারুক», আল্লাহর নিকট «ত্বহা ও ইয়াসিন», মুমিনদের নিকট «মুহাম্মাদ» এবং তাঁর উপনাম «আবুল কাসিম»; কারণ তিনি জান্নাতের অধিবাসীদের মধ্যে তা বণ্টন করবেন «৩»।

কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন «৪»: যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্মের পূর্বে এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল যে, হিজাজে একজন নবী প্রেরিত হবেন যার নাম হবে «মুহাম্মাদ»

--------------------------------------------

- তাওরাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ রয়েছে। ইবনুল জাওযী তাঁর কিতাব (জালাউল আফহাম ফি ফাদলিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা মুহাম্মাদি খাইরিল আনাম) পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৬ এ বলেছেন: “মুহাম্মাদ ও মূসা (আলাইহিমাস সালাম)- এই দুই রাসূল, কুরআন ও তাওরাত- এই দুই কিতাব, দুই শরীয়ত—অর্থাৎ সেই সঠিক শরীয়ত যা বিকৃত হয়নি—উভয় উম্মত এবং উভয় ভাষার মধ্যবর্তী এই সামঞ্জস্যের প্রতি লক্ষ্য করুন। আপনি যদি ‘মুহাম্মাদ’ এর অক্ষরসমূহ এবং ‘মুম্মাদ বাদ’ এর অক্ষরগুলোর প্রতি লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন শব্দ দুটি আসলে একই। কারণ উভয় শব্দের মীম দুটি এবং হামযা ও হা-এর উচ্চারণস্থল একই। হিব্রু ভাষায় দালের স্থলে প্রায়ই ‘যাল’ ব্যবহৃত হয়; যেমন তারা একের জন্য ‘ইয়াহায’ বলে এবং কুদসের জন্য ‘কুযশ’ বলে। দাল ও যাল একে অপরের নিকটবর্তী। সুতরাং যে ব্যক্তি আরবি ও হিব্রু এই উভয় ভাষার প্রতি লক্ষ্য করবে, সে সন্দেহ করবে না যে এই শব্দ দুটি এক ও অভিন্ন। উভয় ভাষায় এর আরও উদাহরণ রয়েছে, যেমন: ‘মূসা’; হিব্রু ভাষায় একে ‘মোশে’ বলা হয়। এর মূল হলো: পানি ও গাছ। কারণ তারা পানির জন্য ‘মো’ এবং গাছের জন্য ‘শে’ বলে। আর মূসাকে ফিরআউনের পরিবার পানি ও গাছের মধ্য থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিল। সুতরাং ‘মূসা’ ও ‘মোশে’ এর মধ্যকার ব্যবধান ঠিক তেমনই যেমন ‘মুহাম্মাদ’ ও ‘মুম্মাদ বাদ’ এর মধ্যকার ব্যবধান। আর কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তাওরাত ও কুরআনকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। দেখুন: সূরা আল-কাসাস: আয়াত ৪৮, ৪৯, সূরা আল-আনআম: আয়াত ৯১, ৯২, ১৫৪, ১৫৫, সূরা আলে ইমরান: আয়াত ১, ২ এবং সূরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৪৮-৫০।” সমাপ্ত: জালাউল আফহাম …

(১) ‘ত্বাব ত্বাব’ পুনরুক্তিসহ—এটি শুধুমাত্র ‘তা’ বর্ণে ফাতহা দিয়ে পড়তে হবে—যারকানি ‘শারহুল মাওয়াহিব’ (৩/১৩৭) গ্রন্থে এর সম্পর্কে বলেছেন: আযাফি বলেছেন, “এটি তাওরাতে তাঁর নামসমূহের একটি”। এর অর্থ হলো: পবিত্র। আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো: কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে তাঁর নাম আলোচিত হলে তাদের মাঝে সেই আলোচনা পবিত্র বা সুগন্ধিময় হয়ে যায়। সমাপ্ত: শারহুল মাওয়াহিব।

(১) ‘ত্বাব ত্বাব’ পুনরুক্তিসহ—এটি শুধুমাত্র ‘তা’ বর্ণে ফাতহা দিয়ে পড়তে হবে—যারকানি ‘শারহুল মাওয়াহিব’ (৩/১৩৭) গ্রন্থে এর সম্পর্কে বলেছেন: আযাফি বলেছেন, “এটি তাওরাতে তাঁর নামসমূহের একটি”। এর অর্থ হলো: পবিত্র। আবার কেউ বলেছেন এর অর্থ হলো: কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে তাঁর নাম আলোচিত হলে তাদের মাঝে সেই আলোচনা পবিত্র বা সুগন্ধিময় হয়ে যায়। সমাপ্ত: শারহুল মাওয়াহিব।

(২) তাঁর বক্তব্য: «এবং» «সুহুফ-এ», এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সহীফাসমূহ যা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর তাওরাতের পূর্বে নাযিল হয়েছিল এবং ‘ইব্রাহীমের সহীফাসমূহ’। যারকানি ‘শারহুল মাওয়াহিব’ (৩/১৯১) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আরও দেখুন ইমাম সাখাভী রচিত ‘আল-কাওলুল বাদী..’ পৃষ্ঠা ৭৭। আরও দেখুন আবু ইসহাক আস-সুরি রচিত ‘আত-তাওরাত আস-সামিরিয়্যাহ’ এর ৪০৬ পৃষ্ঠা, শিরোনাম: ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম’। ডক্টর আহমাদ হিজাযী কর্তৃক সম্পাদিত এবং কায়রোর দারুল আনসার থেকে প্রকাশিত।

(৩) দেখুন: ইতোপূর্বে কাব আল-আহবার এর জীবনী আলোচনার পর ১ নম্বর ক্রমিকের অধীনে আমরা যা বর্ণনা করেছি।

(৪) যাদের নাম «মুহাম্মাদ» রাখা হয়েছিল তাদের সংখ্যা সম্পর্কে আমরা কিছু আলিমের বক্তব্য উল্লেখ করছি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন: প্রথমত: কাযী ইয়ায, তিনি (আশ-শিফা) ১/২৯৯ গ্রন্থে ছয়জন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। এদের মধ্যে «মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা» এর কথা হাফিয ইবনে হাজার বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যা পরবর্তীতে আসবে, এবং কাসতালানি ‘আল-মাওয়াহিব’ গ্রন্থেও তা উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত: ইমাম সুহাইলি (আর-রওযুল উনফ) (১/১৮২) গ্রন্থে মাত্র তিনজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। তৃতীয়ত: আমাদের কিতাবে লেখক যে পনেরো জনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, ইমাম ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন—

— (ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী) (৬/৫৫৬) গ্রন্থে—মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতয়িম এর হাদীসের অধীনে—যেখানে তিনি বলেন: «ইয়ায (আশ-শিফা) (১/১৮২) গ্রন্থে বলেছেন: ‘আল্লাহ তায়ালা এই নাম দুটিকে—মুহাম্মাদ ও আহমাদ—তাঁর পূর্বে অন্য কারো নাম রাখা থেকে হেফাযত করেছেন। তবে আরবের কিছু লোক তাঁর জন্মের নিকটবর্তী সময়ে যখন গণক ও আহবারদের (ধর্মীয় পন্ডিত) নিকট থেকে শুনল যে, এই সময়ে হিজাজে ‘মুহাম্মাদ’ নামে একজন নবী প্রেরিত হবেন, তখন তারা এই আশায় তাদের সন্তানদের নাম ‘মুহাম্মাদ’ রাখল যে হয়তো তাদের সন্তানই সেই নবী হবে। তিনি বলেন: তারা ছয়জন ছিল, সপ্তম কেউ ছিল না’—তিনি এমনই বলেছেন। সুহাইলি-এর পূর্বে আবু আবদ ইবনে খালওয়াই তাঁর কিতাব (লাইসা মিন কালামিল আরব)-এ একই কথা বলেছেন। তবে এই সীমাবদ্ধকরণ সঠিক নয়, এবং আমি তাদের নাম একটি পৃথক অংশে সংগ্রহ করেছি যারা এই নামে নামাঙ্কিত হয়েছিল এবং তাদের সংখ্যা প্রায় বিশ জনে পৌঁছেছে; তবে তাদের কারো কারো নামের পুনরাবৃত্তি রয়েছে এবং কারো ক্ষেত্রে বিভ্রম ঘটেছে। ফলে তাদের মধ্য থেকে পনেরো জনের নাম সুনির্দিষ্ট হয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আদী ইবনে রাবিয়া ইবনে সাওয়ায়াহ ইবনে জুশাম ইবনে সা’দ ইবনে যায়েদ মানাত ইবনে তামীম আস-সা’দী»। বাগাভী, ইবনে সা’দ, ইবনে শাহীন, ইবনুল সাকান প্রমুখ আলা ইবনে ফাদল-এর সূত্রে তাঁর পিতা ও দাদা—আব্দুল মালিক ইবনে সাওয়ায়াহ—এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর পিতা ও দাদা হয়ে খালিফা ইবনে আবদাহ আল-মানকারি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদ ইবনে আদী ইবনে রাবিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম, জাহেলিয়াত যুগে আপনার পিতা কেন আপনার নাম «মুহাম্মাদ» রেখেছিলেন?! তিনি বললেন: তুমি আমাকে যা জিজ্ঞাসা করলে, আমি আমার পিতাকেও তা জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন: আমি বনু তামীমের চারজনের একজন হয়ে সফরে বের হয়েছিলাম। আমি নিজে, «সুফিয়ান ইবনে মুজাশে», «ইয়াযীদ ইবনে আমর ইবনে রাবিয়া» এবং «উসামা ইবনে মালিক ইবনে হাবীব ইবনে আল-আম্বার»। আমরা শামে «ইবনে জাফনা» আল-গাসসানির নিকট যাচ্ছিলাম। পথে আমরা একটি «গির্জার» নিকট একটি «জলাশয়ের» ধারে অবস্থান করলাম। তখন গির্জার পাদ্রী আমাদের ওপর উঁকি দিয়ে বললেন: অচিরেই তোমাদের মধ্য থেকে একজন «নবী» প্রেরিত হবেন, তোমরা তাঁর দিকে দ্রুত ধাবিত হয়ো। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: তাঁর নাম কী? তিনি বললেন: «মুহাম্মাদ»। আমরা যখন সফর থেকে ফিরে এলাম, তখন আমাদের প্রত্যেকের একটি করে পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করল এবং আমরা প্রত্যেকেই সেই কারণে তাদের নাম রাখলাম «মুহাম্মাদ»। সমাপ্ত। ইবনে সা’দ বলেছেন: আলী ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলামা ইবনে মুহারিব-এর সূত্রে, তিনি কাতাদা ইবনে আস-সাকান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু তামীমের মধ্যে «মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে মুজাশে» নামে একজন ছিল। তাঁর পিতাকে বলা হয়েছিল যে, আরবদের মধ্যে «মুহাম্মাদ» নামে একজন «নবী» হবেন, তাই তিনি তাঁর পুত্রের নাম «মুহাম্মাদ» রেখেছিলেন। এঁরা হলেন চারজন, যাদের বর্ণনার প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায় না যে তাদের মধ্যে সাহাবী হওয়ার মতো কেউ আছেন, কেবল «মুহাম্মাদ ইবনে আদী» ছাড়া। ইবনে সা’দ তাঁকে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করে কূফাবাসীদের তালিকায় গণ্য করেছেন। আব্দুল্লাহ আল-মারওয়াযী উল্লেখ করেছেন যে, «মুহাম্মাদ ইবনে উহাইহা ইবনুল জুলাইহ» হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি জাহেলিয়াত যুগে «মুহাম্মাদ» নাম ধারণ করেছিলেন। মনে হয় তিনি এটি «তুব্বা» এর ঘটনা থেকে গ্রহণ করেছেন যখন সে মদীনা অবরোধ করেছিল। তখন উক্ত ব্যক্তি তার নিকট বেরিয়ে আসেন, যিনি «ইয়াসরিবে» ইহুদী পন্ডিত ছিলেন। পন্ডিত ব্যক্তি তাকে খবর দিয়েছিলেন যে, এটি একজন «নবী»র হিজরতের শহর যিনি «মুহাম্মাদ» নামে প্রেরিত হবেন। তাই তিনি তাঁর পুত্রের নাম «মুহাম্মাদ» রেখেছিলেন। বালাযুরি তাদের মধ্য থেকে «মুহাম্মাদ ইবনে উকবা ইবনে উহাইহা» এর নাম উল্লেখ করেছেন। আমি জানি না তারা কি একই ব্যক্তি যাদের নাম কখনো দাদার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, নাকি তারা দুইজন ভিন্ন ব্যক্তি? তাদের মধ্যে আরও আছেন: «মুহাম্মাদ বার»—রা বর্ণে তাশদীদসহ—ইবনে তারিফ ইবনে আতওয়ারা ইবনে আমির ইবনে লাইস ইবনে বকর ইবনে আবদ মানাত ইবনে কিনানা। এজন্য তারা তাকে আতওয়ারি হিসেবেও সম্বন্ধ করেন। ইবনে দাহইয়া অসতর্কবশত তাদের মধ্যে «মুহাম্মাদ ইবনে আতওয়ারা»কে গণ্য করেছেন, যা আসলে তাঁর ঊর্ধ্বপন দাদার নাম। তাদের মধ্যে আরও আছেন: «মুহাম্মাদ ইবনুল ইয়াহমাদ হারমায ইবনে মালিক আল-ইয়ামুরি», আবু মূসা আয-যাইল গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে আরও আছেন: «মুহাম্মাদ ইবনে হামরান ইবনে আবি হামরান», যাঁর আসল নাম: «ربيعة بن مالك الجعفي» (রাবিয়া ইবনে মালিক আল-জু'ফী), যিনি শুআইর নামে পরিচিত। মারযুবানি তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি জাহেলিয়াত যুগে «মুহাম্মাদ» নাম ধারণকারীদের একজন, ইমরুল কায়েসের সাথে তাঁর একটি ঘটনা রয়েছে। তাদের মধ্যে আরও আছেন: «মুহাম্মাদ ইবনে খুযায়ী ইবনে আলকামা ইবনে হারাবাহ আস-সুলামী», তিনি বনু যাকওয়ান গোত্রের। ইবনে সা’দ তাঁর উল্লেখ করেছেন আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল এর সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: নাম রাখা হয়েছিল «মুহাম্মাদ ইবনে—
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৩২)
سمى قوم/ من العرب أبناءهم بذلك، وعدتهم خمسة عشر؛ منهم «محمد بن سفيان بن مجاشع» «1» جد الفرزدق «2» الشاعر، و «محمد بن أحيحة بن الجلاح الأوسي «3» » ، و «محمد

--------------------------------------------

- خزاعي» طمعا في النبوة، وذكر الطبري أن «أبرهة الحبشي» توجّه وأمره أن يغزو بني كنانة، فقتلوه؛ فكان ذلك من أسباب قصة الفيل. وذكره «محمد بن سليمان الهروي في كتاب «الدلائل» فيمن تسمى «محمدا» في الجاهلية. وذكر ابن سعد لأخيه «قيس بن خزاعي» يذكره من أبيات يقول فيها:

فذلكم ذو التاج منا محمد … ورايته في حومة الموت تخفق

ومنهم «محمد بن عمرو بن مغفل» - بضم أوله وسكون المعجمة وكسر الفاء ثم لام-، وهو والد «هبيب» - بموحدتين مصغر- وهو على شرط المذكورين؛ فإن لولده صحبة، ومات هو في الجاهلية. ومنهم: «محمد بن الحارث بن حديج بن حويص» ذكره أبو حاتم السجستاني في كتاب المعمرين، وذكر له قصة مع «عمر» رضي الله عنه، وقال: «إنه أحد من سمى في الجاهلية» محمدا. ومنهم: «محمد الفقيمي» و «محمد الأسيدي» ذكرهما ابن سعد، ولم ينسبهما بأكثر من ذلك، فعرف بهذا، وجه الرد على الحصر الذي ذكره السهيلي، وكذا الذي ذكره القاضي عياض، وعجب من السهيلي، كيف لم يقف على ما ذكره عياض مع كونه كان قبله، وقد تحرر لنا من أسمائهم قدر الذي ذكره عياض مرتين بل ثلاث مرات؛ فإنه ذكر في الستة الذين جزم بهم «محمد ابن مسلمة» ، وهو غلط؛ فإنه ولد بعد ميلاد النبي صلى الله عليه وسلم بمدة ففضل له خمسة، وقد خلص لنا خمسة عشر. والله المستعان اه: فتح الباري. وانظر: الإصابة لابن حجر- القسم الرابع- ترجمة محمد بن سفيان (10/ 67- 68) ، وفيها ذكر أسماء الذين تسموا بمحمد.

(1) «محمد بن سفيان» ترجم له ابن حجر في (الإصابة) - القسم الرابع- (10/ 67- 68) . رقم: (8515) فقال: «ذكره أبو نعيم في الصحابة، وذكر قصة والده مع الراهب، وذكر أسماء الذين سموا بمحمد … » إلخ: اه. الإصابة.

(2) في (الروض الأنف) للسهيلي (1/ 82) «محمد بن سفيان» جد جد الفرزدق.

(3) «محمد بن أحيحة» ترجم له ابن حجر في (الإصابة) - القسم الرابع- (10/ 57- 58) رقم: 8492، فقال: «محمد بن أحيحة» - بمهملتين- مصغرا ابن الجلاح- بضم الجيم وتخفيف اللام- الأنصاري.. ذكره «عبدان» في الصحابة. وقال: بلغني أنه أول من سمى «محمدا» ، وأظنه أحد الأربعة الذين سموا «محمدا» قبل مولد النبي صلى الله عليه وسلم، وأبوه كان زوج «سلمى» أم عبد المطلب. قال ابن الأثير: من يكون أبوه زوج أم «أم عبد المطلب» مع طول عمر عبد المطلب كيف يكون ابنه مع النبي صلى الله عليه وسلم؟ هذا بعيد، ولعله «محمد بن المنذر بن عقبة بن أحيحة بن الجلاح» الذي ذكروا أباه فيمن شهد «بدرا» .
আরবদের একটি দল তাদের সন্তানদের এই নাম রেখেছিলেন এবং তাদের সংখ্যা ছিল পনের জন; তাদের মধ্যে রয়েছেন 'মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান বিন মুজাশে', যিনি কবি ফারাযদাক-এর দাদা, এবং 'মুহাম্মাদ বিন উহাইহা বিন আল-জুলাহ আল-আউসি', এবং 'মুহাম্মাদ

--------------------------------------------

- খুযাই' নবুওয়াতের লোভে; তাবারী উল্লেখ করেছেন যে 'আবরাহা আল-হাবাশি' অগ্রসর হলেন এবং তাকে বনু কিনানা আক্রমণ করার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু তারা তাকে হত্যা করে; এটিই হস্তিবাহিনীর ঘটনার অন্যতম কারণ ছিল। মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আল-হারাভী তাঁর 'আদ-দালায়িল' গ্রন্থে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের নাম জাহিলিয়াত যুগে 'মুহাম্মাদ' রাখা হয়েছিল। ইবনে সাদ তাঁর ভাই 'কাইস বিন খুযাই'-এর বর্ণনায় কিছু পঙক্তি উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেন:

আমাদের মধ্য থেকে সেই মুকুটধারী হলেন মুহাম্মাদ … এবং তাঁর পতাকা মৃত্যুর প্রান্তরে পতপত করে উড়ছে।

তাদের মধ্যে রয়েছেন 'মুহাম্মাদ বিন আমর বিন মুগাফফাল' - প্রথম অক্ষরে পেশ, বর্ণটি সুকুনযুক্ত, ফা-এ যের এবং এরপর লাম - তিনি 'হুবাইবে'র পিতা - দুই 'বা' যুক্ত ছোট নাম - এবং তিনি উল্লেখিত শর্তানুযায়ী অন্তর্ভুক্ত; কেননা তাঁর সন্তানদের সাহাবিত্ব রয়েছে এবং তিনি জাহিলিয়াত যুগে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন: 'মুহাম্মাদ বিন আল-হারিস বিন হুদাইজ বিন হুওয়াইস', আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি তাঁর 'আল-মুয়াম্মারিন' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে তাঁর একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি তাদের একজন যাদের নাম জাহিলিয়াত যুগে 'মুহাম্মাদ' রাখা হয়েছিল।" তাদের মধ্যে আরও আছেন: 'মুহাম্মাদ আল-ফুকাইমি' এবং 'মুহাম্মাদ আল-আসায়িদি', ইবনে সাদ তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন তবে এর বেশি কিছু বর্ণনা করেননি। এর মাধ্যমেই সুহাইলির উল্লেখ করা সীমাবদ্ধতা এবং তেমনিভাবে কাজী আইয়াযের উল্লেখ করা সীমাবদ্ধতা খণ্ডন করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। সুহাইলির ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়েছে যে, কাজী আইয়ায তাঁর পূর্বে হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর উল্লিখিত তথ্যের ওপর অবগত হতে পারেননি। আমাদের কাছে তাঁদের নামের তালিকা কাজী আইয়াযের উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণ বরং তিনগুণ বেশি প্রমাণিত হয়েছে; কারণ তিনি যে ছয়জনের নাম নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে 'মুহাম্মাদ বিন মাসলামা'র নামও ছিল, যা ভুল; কেননা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্মের বেশ কিছু সময় পর জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে তাঁর তালিকায় অবশিষ্ট থাকেন পাঁচজন, আর আমাদের কাছে পনের জনের নাম নিশ্চিত হয়েছে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। ইতি: ফাতহুল বারী। দেখুন: ইবনে হাজারের 'আল-ইসাবাহ' - চতুর্থ খণ্ড - মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ানের জীবনী (১০/৬৭-৬৮), সেখানে তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাঁদের নাম মুহাম্মাদ রাখা হয়েছিল।

(১) 'মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান', ইবনে হাজার তাঁর 'আল-ইসাবাহ' - চতুর্থ খণ্ড - (১০/৬৭-৬৮) নং ৮৫১৫-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আবু নুয়াইম সাহাবীদের তালিকায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর পিতার সাথে পাদ্রীর ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন যাঁদের নাম মুহাম্মাদ রাখা হয়েছিল..." ইতি। আল-ইসাবাহ।

(২) সুহাইলির 'আর-রওদুল উনুফ' (১/৮২) গ্রন্থে 'মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান' ফারাযদাকের দাদার দাদা।

(৩) 'মুহাম্মাদ বিন উহাইহা', ইবনে হাজার তাঁর 'আল-ইসাবাহ' - চতুর্থ খণ্ড - (১০/৫৭-৫৮) নং ৮৪৯২-এ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "মুহাম্মাদ বিন উহাইহা - দুই 'হা' বিশিষ্ট ছোট নাম - বিন আল-জুলাহ - জীম-এ পেশ এবং লাম-এ তাশদীদ ছাড়া - আল-আনসারী। 'আবদান' সাহাবীদের তালিকায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমার কাছে পৌঁছেছে যে তিনি প্রথম ব্যক্তি যাঁর নাম 'মুহাম্মাদ' রাখা হয়েছিল। আমার ধারণা তিনি সেই চারজনের একজন যাঁদের নাম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্মের পূর্বে 'মুহাম্মাদ' রাখা হয়েছিল। তাঁর পিতা 'সালমা'র স্বামী ছিলেন যিনি আব্দুল মুত্তালিবের মা ছিলেন। ইবনে আল-আসীর বলেন: আব্দুল মুত্তালিবের দীর্ঘ হায়াত সত্ত্বেও যাঁর পিতা আব্দুল মুত্তালিবের মায়ের স্বামী ছিলেন, তাঁর সন্তান কীভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে থাকতে পারেন? এটি অসম্ভব। সম্ভবত তিনি 'মুহাম্মাদ বিন আল-মুনযির বিন উকবা বিন উহাইহা বিন আল-জুলাহ', যাঁর পিতাকে তাঁরা বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ابن مسلمة الأنصاري» «1» ، و «محمد بن عدي بن ربيعة بن سواءة بن جشم بن سعد بن زيد بن مناة بن تميم» التميمي السعدي «2» و «محمد بن أسامة بن مالك ابن حبيب بن العنبر» «3» ، و «محمد بن البراء» «4» ، و «محمد بن الحارث بن صبح بن حويص «5» » ، فعلوا ذلك رجاء أن يكون أحد أولادهم، و: اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسالَتَهُ «6» وقد منع الله- تعالى- كل

--------------------------------------------

- قلت: لم يعله ابن الأثير بغير استبعاد طول عمر، وفيما جوز نظر؛ لأنهم لم يذكروا للمنذر ولد اسمه «محمدا» ، وما ظنه «عبدان» ليس بجيد، فقد سماهم ابن خزيمة في روايته، كما بينت ذلك في ترجمة «محمد بن عدي» - القسم الأول- وليس فيهم «محمد بن المنذر» . وقد ذكر السهيلي في (الروض الأنف) (1/ 182) : أنه لا يعرف في العرب من سمى «محمدا» قبل النبي صلى الله عليه وسلم إلا ثلاثة؛ فذكر فيهم «محمد بن أحيحة» ومعه «محمد بن سفيان» … و «محمد بن حمران» ، وسبقه إلى هذا الحصر «الحسن بن خالويه» في كتابه «ليس … » ، وقد تعقبه الحافظ مغلطاي- انظر الإشارة ص 62- فأبلغ. اه الإصابة.

(1) و «محمد بن مسلمة» ترجم له ابن عبد البر في (الاستيعاب) (10/ 44- 45) ، فقال: «محمد بن مسلمة الأنصاري الحارثي، يكنى أبا عبد الرحمن، ويقال: أبا عبد الله … حليف لبني عبد الأشهل. شهد بدرا والمشاهد كلها ومات بالمدينة، وكانت وفاته بها في صفر سنة ثلاث وأربعين، وقيل غير ذلك، وهو ابن سبع وسبعين سنة، وكان من فضلاء الصحابة، وهو أحد الذين قتلوا «كعب بن الأشرف» … إلخ اه: الاستيعاب. وانظر (الإصابة) لابن حجر (9/ 131- 133) ، رقم: (7800) .

(2) انظر: ترجمته في (الإصابة) لابن حجر (9/ 123) - القسم الأول- رقم: (7787) .

(3) انظر: ترجمته في (الإصابة) لابن حجر- القسم الرابع- (10/ 58) رقم: (8498) حيث قال: لا صحبة له؛ لأنه مات قبل البعثة بدهر.

(4) ترجم له الحافظ ابن حجر في (الإصابة) - القسم الرابع- (10/ 61) رقم: (8494) فقال: هو «محمد بن البراء الكناني ثم الليثي، ثم العتواري- بالمهملة ثم المثناة الساكنة- ذكره أبو موسى، ونقل عن بعض الحفاظ؛ أنه ممن سمى «محمدا» في الجاهلية، وضبط البلاذري: أباه بتشديد الراء بلا ألف، وهو ابن ظريف بن عتوارة بن عامر بن ليث بن بكر بن عبد مناة، ونسبه أبو خطاب إلى جده الأعلى، فقال: فيمن سمي «محمدا» في الجاهلية «محمد بن عتوارة الليثي» فنسبه إلى جده، وذكر محمد بن حبيب: البراء البكري، فيمن سمي «محمدا قبل الإسلام» اه. الإصابة.

(5) و «محمد بن الحارث بن حديج- بمهملة ثم جيم مصغرا- ابن حويص الحارثي. ذكره أبو حاتم السجستاني في النوادر، ونقل عن أبي عبيدة: معمر بن المثنى. قال: قدم المعرم الحارثي على «عمر بن الخطاب رضي الله عنه يريد الإسلام، ومعه رجال من قومه منهم: الربيع بن زياد بن أنس بن الديان، ومحمد بن الحارث بن حديج، وهو أحد من سمي «محمدا» في الجاهلية … إلخ» . اه: الإصابة لابن حجر (10/ 14) رقم: (8366) - القسم الثالث.

(6) سورة الأنعام الاية: 124.
ইবনে মাসলামা আল-আনসারি» «১» , এবং «মুহাম্মদ ইবনে আদি ইবনে রাবিআ ইবনে সাওয়াহ ইবনে জুশাম ইবনে সাদ ইবনে যায়েদ ইবনে মানাত ইবনে তামীম» আত-তামীমি আস-সাদি «২» এবং «মুহাম্মদ ইবনে উসামা ইবনে মালিক ইবনে হাবিব ইবনে আল-আনবার» «৩» , এবং «মুহাম্মদ ইবনে আল-বারা» «৪» , এবং «মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস ইবনে সুব্হ ইবনে হুয়াইস «৫» » , তারা এটি করেছিলেন এই আশায় যে, যেন তাদের সন্তানদের মধ্যে কেউ একজন (নবী) হন; আর: আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন «৬»। আর আল্লাহ তাআলা প্রতিটি

--------------------------------------------

- আমি বলছি: ইবনুল আসীর দীর্ঘ হায়াতকে অসম্ভব মনে করা ছাড়া এটিকে ত্রুটিযুক্ত বলেননি, তবে তিনি যা জায়েজ মনে করেছেন তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ তারা মুনজিরের মুহাম্মদ নামের কোনো সন্তানের কথা উল্লেখ করেননি। আর 'আবদান' যা ধারণা করেছেন তা সঠিক নয়; ইবনে খুযাইমা তাঁর বর্ণনায় তাদের নাম উল্লেখ করেছেন, যেমনটি আমি 'মুহাম্মদ ইবনে আদি'র জীবনীতে—প্রথম অংশ—স্পষ্ট করেছি এবং তাদের মধ্যে 'মুহাম্মদ ইবনে মুনজির' নেই। আস-সুহাইলি 'আর-রাওদুল উনুফ' (১/১৮২)-এ উল্লেখ করেছেন: আরবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগে মুহাম্মদ নাম রাখা হয়েছে এমন কেবল তিনজনকে চেনা যায়; তিনি তাদের মধ্যে 'মুহাম্মদ ইবনে উহাইহা'কে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সাথে 'মুহাম্মদ ইবনে সুফিয়ান' … ও 'মুহাম্মদ ইবনে হুমরান'কে। আল-হাসান ইবনে খালুওয়াইহি তাঁর 'লাইসা' গ্রন্থে এই সীমাবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রবর্তী ছিলেন। হাফিজ মুগলতায়ি তাঁর অনুসরণ করেছেন—দেখুন আল-ইশারাহ, পৃষ্ঠা ৬২—যা অত্যন্ত চমৎকার। সমাপ্ত। আল-ইসাবাহ।

(১) এবং 'মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা', ইবনে আব্দুল বার 'আল-ইস্তিআব' (১০/৪৪-৪৫)-এ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন এবং বলেছেন: «মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা আল-আনসারি আল-হারিসি, তাঁর উপনাম আবু আবদুর রহমান, আবার বলা হয় আবু আব্দুল্লাহ … বনু আব্দুল আশহালের মিত্র। তিনি বদর এবং সমস্ত যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল হিজরি ৪৩ সালের সফর মাসে, অন্যমতে ভিন্ন কথা আছে। তখন তাঁর বয়স ছিল সাতাত্তর বছর। তিনি শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাদের একজন যারা কাব ইবনে আশরাফকে হত্যা করেছিলেন … ইত্যাদি»। সমাপ্ত: আল-ইস্তিআব। এবং দেখুন ইবনে হাজারের 'আল-ইসাবাহ' (৯/১৩১-১৩৩), নম্বর: (৭৮০০)।

(২) দেখুন: তাঁর জীবনী ইবনে হাজারের 'আল-ইসাবাহ' (৯/১২৩)-তে—প্রথম অংশ—নম্বর: (৭৭৮৭)।

(৩) দেখুন: তাঁর জীবনী ইবনে হাজারের 'আল-ইসাবাহ'-তে—চতুর্থ অংশ—(১০/৫৮) নম্বর: (৮৪৯৮), যেখানে তিনি বলেছেন: তিনি সাহাবী নন; কারণ তিনি নবুয়ত প্রাপ্তির অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন।

(৪) হাফিজ ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ'-তে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন—চতুর্থ অংশ—(১০/৬১) নম্বর: (৮৪৯৪) এবং বলেছেন: তিনি হলেন «মুহাম্মদ ইবনে আল-বারা আল-কিনানি অতপর আল-লাইসি, তারপর আল-আতুওয়ারি—আইন বর্ণে নুক্তা ছাড়া এবং তা বর্ণে সুকুন—আবু মুসা তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং কোনো কোনো হাফিজ থেকে উদ্ধৃত করেছেন; তিনি জাহেলিয়াত যুগে যাদের নাম 'মুহাম্মদ' রাখা হয়েছিল তাদের একজন। আল-বালাজুরি তাঁর পিতার নাম আলিফ ছাড়া র বর্ণে তাশদিদ দিয়ে লিখেছেন। তিনি হলেন ইবনে জারিফ ইবনে আতুওয়ারা ইবনে আমির ইবনে লাইস ইবনে বকর ইবনে আব্দ মানাত। আবু খাত্তাব তাঁকে তাঁর ঊর্ধ্বপুরুষের দিকে সম্বন্ধ করে বলেছেন: জাহেলিয়াত যুগে যাদের নাম 'মুহাম্মদ' রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন 'মুহাম্মদ ইবনে আতুওয়ারা আল-লাইসি', তিনি তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধ করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-বারা আল-বাকরিকে ইসলাম পূর্ব যুগে 'মুহাম্মদ' নামধারী ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন»। সমাপ্ত। আল-ইসাবাহ।

(৫) এবং «মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস ইবনে হুদাইজ—হা বর্ণে নুক্তা ছাড়া এবং জিম বর্ণসহ ক্ষুদ্রার্থে—ইবনে হুয়াইস আল-হারিসি। আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি 'আন-নাওয়াদির' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং আবু উবাইদা মুয়াম্মার ইবনে আল-মুসান্না থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: মুয়াম্মার আল-হারিসি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাঁর গোত্রের কিছু লোকসহ আগমন করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন রাবিআ ইবনে যিয়াদ ইবনে আনাস ইবনে আদ-দাইয়ান এবং মুহাম্মদ ইবনে আল-হারিস ইবনে হুদাইজ। তিনি জাহেলিয়াত যুগে যাদের নাম 'মুহাম্মদ' রাখা হয়েছিল তাদের একজন … ইত্যাদি»। সমাপ্ত: ইবনে হাজারের আল-ইসাবাহ (১০/১৪) নম্বর: (৮৩৬৬)—তৃতীয় অংশ।

(৬) সূরা আল-আনআম আয়াত: ১২৪।
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من تسمى بذلك أن يدعي النبوة، أو يدعيها أحد له. انتهى «1» .

قال في (المواهب) «2» : وفيمن ذكره عياض «محمد بن مسلمة الأنصاري» ، وليس ذكره بجيد؛ فإنه ولد بعد النبي صلى الله عليه وسلم بأزيد من عشرين سنة.

وأما أحمد «3» فلم يتسم به أحد قبله، حسبما في حديث

--------------------------------------------

(1) حول قول الإمام القاضي أبي الفضل عياض اليحصبي انظر: (الشفا بتعريف حقوق المصطفى) - فصل في أسمائه صلى الله عليه وسلم وما تضمنته من فضيلته- (1/ 230) طبع دار الكتب العلمية. بيروت، لبنان. وانظر: (مزيل الخفا في حل ألفاظ الشفا) للعلامة/ أحمد بن محمد بن محمد الشمني.

(2) قول المواهب للقسطلاني: ذكره في المواهب (كنيته صلى الله عليه وسلم من الفصل الأول في ذكر أسمائه الشريفة (3/ 159- 161) فقال: «وفيمن ذكره عياض «محمد بن مسلمة» وليس ذكره بجيد؛ فإنه ولد بعد ميلاد النبي صلى الله عليه وسلم بأزيد من عشرين سنة، والكلام فيمن تسمى قبل ولادته فلا يصح ذكره، وهكذا تعقبه مغلطاي في الزهر الباسم؛ لكنه قال: بأزيد من خمس عشرة سنة، وهو أنسب بقول الإصابة، ولد قبل البعثة باثنتين وعشرين سنة في قول الواقدي، وهو ممن سمي «محمدا» في الجاهلية. انتهى. فتكون ولادته بعد المولد النبوي بثمان عشرة سنة فهي أزيد من خمسة عشر لا عشرون، وأجيب بأن مراد «عياض» من ولد في الجاهلية وسمي «محمدا» . انتهى. و «ابن مسلمة» منهم، وهو جواب ليّن يأباه قول «عياض» ..... اه/ المواهب للقسطلاني مع شرحها للزرقاني. وانظر: ما نقلناه من الفتح عن الحافظ ابن حجر فيما تقدم. وانظر: فيمن سمي بمحمد قبل ولادته صلى الله عليه وسلم، في كتاب (الإشارة إلى سيرة المصطفى وتاريخ من بعده من الخلفاء) للحافظ مغلطاي بن قليج (ت 762 هـ) . وانظر: فيمن تسمى «محمدا» في كتاب (الاكتفا في مغازي المصطفى..) للإمام الكلاعي (1/ 168- 169) .

(3) عن تسميته صلى الله عليه وسلم ب «أحمد» ، زيادة على ما ذكرناه سابقا نذكر هنا ما قاله «ابن القيم» في كتابه (زاد المعاد في هدي خير العباد) بحاشية المواهب اللدنية (1/ 68- 74) قال- رحمه الله: «وأما أحمد فهو اسم على زنة «أفعل التفضيل» مشتق أيضا من الحمد … أي: حمده لله أكثر من حمد غيره، فمعناه أحمد الحامدين لربه، وأحق الناس وأولاهم بأن يحمد فيكون كمحمد في المعنى إلا أن الفرق بينهما أن «محمدا» هو كثير الخصال التي يحمد عليها، و «أحمد» هو الذي يحمد أفضل مما يحمد غيره ف «محمد» في الكثرة والكمية، و «أحمد» في الصفة والكيفية فيستحق من الحمد أكثر مما يستحق غيره، وأفضل مما يستحق غيره فيحمد أكثر حمد، وأفضل حمد حمده البشر … » اه: زاد المعاد. وقال ابن القيم أيضا- رحمه الله في كتابه (جلاء الأفهام في فضل الصلاة والسلام على محمد خير الأنام) ص 151: « … وأحمد صلى الله عليه وسلم فهو الذي يحمده أهل الدنيا وأهل الاخرة، ويحمده أهل السماء والأرض؛ فلكثرة خصائله المحمودة التي تفوق عدد العادّين، وسمي باسمين: «محمد» و «أحمد» من أسماء الحمد يقتضيان التفضيل، والزيادة في القدر، والصفة، -
যারা এই নামে নাম রেখেছে তারা যেন নবুওয়াত দাবি না করে, অথবা অন্য কেউ তাদের জন্য এটি দাবি না করে। সমাপ্ত। (১)

‘আল-মাওয়াহিব’ গ্রন্থে (২) বলা হয়েছে: ইয়ায যাদের উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে ‘মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা আল-আনসারী’ রয়েছেন, তবে তাঁর উল্লেখ করা সঠিক নয়; কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের বিশ বছরেরও বেশি সময় পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আর ‘আহমাদ’ (৩) নামটির ক্ষেত্রে, হাদীসে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী তাঁর আগে অন্য কেউ এই নামে নাম রাখেনি।

--------------------------------------------

(১) ইমাম কাযী আবু ফযল ইয়ায আল-ইয়াহসুবি-এর বক্তব্য সম্পর্কে দেখুন: (আশ-শিফা বি-তা'রিফি হুকুকিল মুস্তাফা) - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহ এবং এতে তাঁর যে ফযীলত নিহিত রয়েছে সেই পরিচ্ছেদ - (১/ ২৩০) দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ মুদ্রণ। বৈরুত, লেবানন। আরও দেখুন: আল্লামা আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শামানি রচিত (মুযিলুল খাফা ফি হাল্লি আলফাযিশ শিফা)।

(২) কাসতাল্লানির মাওয়াহিব-এর বক্তব্য: তিনি এটি মাওয়াহিবে উল্লেখ করেছেন (তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপনাম, তাঁর পবিত্র নামসমূহের আলোচনার প্রথম পরিচ্ছেদ থেকে (৩/ ১৫৯-১৬১)। তিনি বলেন: ‘ইয়ায যাদের উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা রয়েছেন, তবে তাঁর উল্লেখ করা সঠিক নয়; কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের বিশ বছরেরও বেশি সময় পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অথচ আলোচনা হচ্ছে তাদের সম্পর্কে যারা তাঁর জন্মের আগে নাম রেখেছে, তাই তাঁর উল্লেখ সঠিক নয়। এভাবেই মুগলতাঈ আয-যাহরুল বাসিম গ্রন্থে তাঁর সমালোচনা করেছেন; তবে তিনি বলেছেন: পনেরো বছরেরও বেশি সময় পরে। আর এটি আল-ইসাবার বর্ণনার সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, ওয়াকিদির বর্ণনা অনুযায়ী তিনি নবুওয়াতের তেইশ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি জাহেলী যুগে মুহাম্মাদ নাম রাখা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সমাপ্ত। ফলে তাঁর জন্ম নবীজীর জন্মের আঠারো বছর পরে হচ্ছে, যা পনেরো বছরের বেশি কিন্তু বিশ বছর নয়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ইয়ায-এর উদ্দেশ্য হলো যারা জাহেলী যুগে জন্মগ্রহণ করেছে এবং যাদের নাম মুহাম্মাদ রাখা হয়েছিল। সমাপ্ত। আর ইবনে মাসলামা তাদেরই একজন। তবে এটি একটি দুর্বল উত্তর যা ইয়ায-এর বক্তব্যের বিরোধী... সমাপ্ত/ কাসতাল্লানি রচিত আল-মাওয়াহিব, সাথে যারকানির ব্যাখ্যা। আরও দেখুন: ইতিপূর্বে হাফিয ইবনে হাজার থেকে আল-ফাতহ সূত্রে আমরা যা উদ্ধৃত করেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের পূর্বে যাদের নাম মুহাম্মাদ রাখা হয়েছিল তাদের সম্পর্কে দেখুন: হাফিয মুগলতাঈ বিন কুলীজ (মৃত্যু ৭৬২ হি.) রচিত (আল-ইশারা ইলা সিরাতিল মুস্তাফা ওয়া তারিখি মান বাদাহু মিনাল খুলাফা) গ্রন্থে। আরও দেখুন: ‘মুহাম্মাদ’ নাম রাখা ব্যক্তিদের সম্পর্কে ইমাম আল-কালাঈ রচিত (আল-ইকতিফা ফি মাগাযিল মুস্তাফা) গ্রন্থে (১/ ১৬৮-১৬৯)।

(৩) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ‘আহমাদ’ নাম রাখা প্রসঙ্গে পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তার অতিরিক্ত এখানে আমরা ইবনুল কায়্যিম তাঁর ‘যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ’ গ্রন্থে (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়ার টীকায় (১/ ৬৮-৭৪)) যা বলেছেন তা উল্লেখ করছি। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘আর আহমাদ হলো আফআলুত তাফদিল-এর ওজনে একটি নাম, যা আল-হামদ থেকে উৎপন্ন... অর্থাৎ: আল্লাহর প্রতি তাঁর প্রশংসা অন্যদের প্রশংসার চেয়ে বেশি। তাই এর অর্থ হলো তাঁর রবের জন্য সমস্ত প্রশংসাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রশংসাকারী। আর তিনি প্রশংসা পাওয়ার জন্য মানুষের মধ্যে সর্বাধিক যোগ্য ও উপযুক্ত, তাই এটি অর্থের দিক থেকে মুহাম্মাদ-এর মতোই। তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো ‘মুহাম্মাদ’ হলেন তিনি যার অনেকগুলো প্রশংসনীয় গুণ রয়েছে যার জন্য তাঁর প্রশংসা করা হয়, আর ‘আহমাদ’ হলেন তিনি যিনি অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠভাবে প্রশংসা করেন। সুতরাং ‘মুহাম্মাদ’ শব্দটি আধিক্য বা পরিমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর ‘আহমাদ’ শব্দটি বৈশিষ্ট্য বা গুণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। ফলে তিনি অন্যের তুলনায় অধিক প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য এবং অন্যের তুলনায় উত্তম প্রশংসার যোগ্য। তাই তাঁকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক এবং সর্বোত্তম প্রশংসা করা হয়...’ সমাপ্ত: যাদুল মাআদ। ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘জালাউল আফহাম ফি ফাদলিস সালাতি ওয়াস সালাম আলা মুহাম্মাদ খাইরিল আনাম’ গ্রন্থের ১৫১ পৃষ্ঠায় আরও বলেন: ‘...আর আহমাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন তিনি যাঁর প্রশংসা দুনিয়া ও আখেরাতবাসী এবং আসমান ও জমিনবাসী করে থাকে। তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলীর আধিক্যের কারণে যা গণনাকারীদের গণনাকে ছাড়িয়ে যায়। তাঁর দুটি নাম রাখা হয়েছে: ‘মুহাম্মাদ’ ও ‘আহমাদ’, যা প্রশংসাসূচক নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদার আধিক্য ও গুণ নির্দেশ করে -
(খণ্ড: ১) মুসতাযবাবুল ইখবার বি-আতয়াবিল আখবার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
«مسلم» «1» و «أحمد» «2» و «الترمذي الحكيم «3» » في «نوادر الأصول» .

(ابن عبد الله «4» ) يكنى أبا «قثم «5» » . و «قثم» - كزفر- من أسمائه عليه السلام، ومعناه لغة: الكثير العطاء والجموع للخير «6» ، وقيل: كنيته/ أبو محمد. وقيل: أبو أحمد «7» ،

--------------------------------------------

- والله أعلم» اه: جلاء الأفهام لابن القيم. وحول أسبقية «أحمد» أو «محمد» في التسمية انظر: (الروض الأنف) للإمام/ السهيلي (1/ 182) القائل بأسبقية «أحمد» ، وانظر: «الرد عليه بأسبقية اسم «محمد» للإمام/ ابن قيم الجوزية في (جلاء الأفهام … ) ص 152. وانظر: شرح الزرقاني على المواهب (3/ 153- 154) .

(1) حديث مسلم أخرجه في صحيحه كتاب (الفضائل) ، باب في أسمائه صلى الله عليه وسلم رقم: (2354) بلفظ: « … عن محمد بن جبير، عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أنا محمد، وأنا أحمد … إلخ» و (تحت رقم: 2355) بلفظ: … عن أبي موسى الأشعري قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمى لنا نفسه أسماء، فقال: «أنا محمد، وأحمد … » اه: صحيح مسلم.

(2) وحديث الإمام/ أحمد أخرجه في مسنده في موضعين: الأول: حديث «جبير بن مطعم» (4/ 81، 84) . الثاني: حديث «حذيفة» (5/ 405) .

(3) و «الحكيم الترمذي» صاحب النوادر ترجم له الإمام الذهبي في (تذكرة الحفاظ) (2/ 645) فقال: «هو أبو عبد الله محمد بن علي بن الحسن الترمذي المعروف بالحكيم الترمذي» . اختلف في تاريخ وفاته، ولم يذكر أحد تاريخ ميلاده، فاختلف في تاريخ وفاته على أقوال منها: 255، 285، 320، وأرجحها الأخير؛ للنص على التحديث عنه في سنة 318 هـ، ولمعرفة المزيد عنه انظر: كتاب الحكيم الترمذي ونظريته في الولاية للدكتور/ عبد الفتاح بركة. الأمين الأسبق لمجمع البحوث الإسلامية بالأزهر الشريف.

(4) «ابن عبد الله» : «العبد» قال عنها الإمام ابن دريد في (الاشتقاق) (1/ 11) : من الطريق المعبد، وهو المذلل الموطوء … ، وربما كان المعبد في المعنى الكرم. قال حاتم: «.....*** أرى المال عند الباخلين معبدا. أي: معظما» اه: الاشتقاق.

(5) و «عبد الله» والد الرسول صلى الله عليه وسلم يكنى «أبا قثم» ، وقيل: «أبو محمد» وقيل: «أبو أحمد» اه: الكامل في التاريخ للإمام ابن الأثير (1/ 544) . تحقيق/ أبي الفدا عبد الله القاضي. طبع. دار الكتب العلمية. بيروت. لبنان.

(6) وعن اسمه «قثم» قال القاضي عياض في كتابه (الشفا) (1/ 232- 233) فصل في أسمائه صلى الله عليه وسلم قال: «وروى الحربي في حديثه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أتاني ملك فقال لي: أنت قثم» أي: مجتمع. قال: والقثوم: الجامع للخير، وهو اسم في أهل بيته معلوم «اه: الشفا/ عياض.

(7) عن كنيته صلى الله عليه وسلم ب «أبي أحمد» انظر: «التعليق السابق [رقم: 5] » .
‘মুসলিম’ [১], ‘আহমদ’ [২] এবং ‘নওয়াদিরুল উসুল’ গ্রন্থে ‘তিরমিযী আল-হাকীম’ [৩] এটি বর্ণনা করেছেন।

(আবদুল্লাহর পুত্র [৪]) তাঁর উপনাম ছিল আবু ‘কুসাম’ [৫]। আর ‘কুসাম’—‘যুফার’-এর ওজনে—এটি তাঁর (আলাইহিস সালাম) নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ভাষাগতভাবে এর অর্থ হলো: অধিক দানকারী এবং কল্যাণ চয়নকারী [৬]। বলা হয়ে থাকে: তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ। আবার বলা হয়েছে: আবু আহমদ [৭]।

--------------------------------------------

—আর আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত: ইবনুল কাইয়্যিম রচিত জালাউল আফহাম। আর ‘আহমদ’ নাকি ‘মুহাম্মাদ’ নাম রাখার ক্ষেত্রে কোনটি অগ্রবর্তী ছিল, সে বিষয়ে দেখুন: ইমাম আস-সুহাইলি রচিত (আর-রওদুল উনুফ) (১/১৮২), যিনি ‘আহমদ’ নামটির অগ্রবর্তিতার কথা বলেছেন। এবং দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ কর্তৃক এর খণ্ডন ও ‘মুহাম্মাদ’ নামটির অগ্রবর্তিতার সপক্ষে আলোচনা (জালাউল আফহাম ...) পৃষ্ঠা ১৫২। এবং দেখুন: আল-মাওয়াহিব-এর ওপর আয-যারকানি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৩/১৫৩-১৫৪)।

(১) মুসলিমের হাদিসটি তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থের ‘ফাযায়েল’ (মর্যাদা) অধ্যায়ে সংকলন করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, নম্বর: ২৩৫৪, এই শব্দে: “... মুহাম্মাদ ইবনে জুবায়ের তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‘আমি মুহাম্মাদ এবং আমি আহমদ ... ইত্যাদি’।” এবং (নম্বর: ২৩৫৫-এর অধীনে) এই শব্দে: “... আবু মুসা আল-আশআরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে নিজের নামগুলো উল্লেখ করতেন, তিনি বলতেন: ‘আমি মুহাম্মাদ এবং আহমদ ...’ সমাপ্ত: সহিহ মুসলিম।

(২) ইমাম আহমদের হাদিসটি তিনি তাঁর মুসনাদে দুটি স্থানে উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি: ‘জুবায়ের ইবনে মুত-ইম’-এর হাদিস (৪/৮১, ৮৪)। দ্বিতীয়টি: ‘হুযাইফা’-এর হাদিস (৫/৪০৫)।

(৩) ‘নওয়াদির’ গ্রন্থের রচয়িতা ‘হাকীম তিরমিযী’-এর জীবনী ইমাম আয-যাহাবী (তাযকিরাতুল হুফফায) গ্রন্থে (২/৬৪৫) প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: “তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান তিরমিযী, যিনি হাকীম তিরমিযী নামে পরিচিত।” তাঁর মৃত্যু সন নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং কেউ তাঁর জন্ম সাল উল্লেখ করেননি। তাঁর মৃত্যু সনের বিষয়ে বিভিন্ন মতের মধ্যে রয়েছে: ২৫৫, ২৮৫, ৩২০ হিজরি; এর মধ্যে শেষোক্তটিই অধিক গ্রহণযোগ্য, কারণ ৩১৮ হিজরিতে তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণের প্রমাণ রয়েছে। তাঁর সম্পর্কে আরও জানতে দেখুন: ড. আবদ আল-ফাত্তাহ বারাকাহ রচিত ‘হাকীম তিরমিযী ও তাঁর বেলায়েত তত্ত্ব’ গ্রন্থ। তিনি আল-আযহার আশ-শরীফের ইসলামী গবেষণা একাডেমির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক।

(৪) ‘ইবনে আবদুল্লাহ’: ‘আল-আবদ’ শব্দ সম্পর্কে ইমাম ইবনে দুরিদ (আল-ইশতিকাক) গ্রন্থে (১/১১) বলেন: এটি ‘তরীকুন মুয়াব্বদ’ থেকে এসেছে, যার অর্থ সুগম বা পদদলিত পথ ... এবং কখনো কখনো ‘মুয়াব্বদ’ শব্দটির অর্থ আভিজাত্য বা মহানুভবতাও হয়। হাতেম বলেন: “... আমি কৃপণদের কাছে সম্পদকে মুয়াব্বদ (অর্থাৎ অত্যন্ত সম্মানিত) হিসেবে দেখি।” সমাপ্ত: আল-ইশতিকাক।

(৫) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতা ‘আবদুল্লাহ’-এর উপনাম ছিল ‘আবু কুসাম’। আবার বলা হয়েছে: ‘আবু মুহাম্মাদ’ এবং ‘আবু আহমদ’। সমাপ্ত: ইমাম ইবনুল আসির রচিত আল-কামিল ফিত-তারিখ (১/৫৪৪)। তাহকিক: আবুল ফিদা আবদুল্লাহ আল-কাজী। প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন।

(৬) তাঁর ‘কুসাম’ নাম সম্পর্কে কাযী আয়াজ তাঁর (আশ-শিফা) গ্রন্থে (১/২৩২-২৩৩), রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামসমূহ বিষয়ক পরিচ্ছেদে বলেন: “আল-হারবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ‘আমার কাছে একজন ফেরেশতা এলেন এবং আমাকে বললেন: আপনি কুসাম।’ অর্থাৎ সকল গুণের সমষ্টি। তিনি বলেন: ‘আল-কাসুম’ অর্থ কল্যাণের আধার, আর এটি তাঁর পরিবারে একটি সুপরিচিত নাম।” সমাপ্ত: আশ-শিফা/আয়াজ।

(৭) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপনাম ‘আবু আহমদ’ হওয়ার বিষয়ে দেখুন: “পূর্ববর্তী টীকা [নম্বর: ৫]”।